(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: -)
تخريج أحاديث الكشاف القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: تخريج الأحاديث والآثار الواقعة في تفسير الكشاف للزمخشري
المؤلف: جمال الدين أبو محمد عبد الله بن يوسف بن محمد الزيلعي (ت 762 هـ)
اعتنى به: سلطان بن فهد الطبيشي
قدم له: عبد الله بن عبد الرحمن السعد
الناشر: دار ابن خزيمة - الرياض
الطبعة: الأولى، 1414 هـ
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কাশশাফের হাদিসসমূহের তাখরিজ বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ
কিতাব: যামাখশারি প্রণীত তাফসির আল-কাশশাফে বর্ণিত হাদিস ও আসারসমূহের তাখরিজ
লেখক: জামালুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আয-যাইলায়ি (মৃত্যু ৭৬২ হিজরি)
সম্পাদনায়: সুলতান বিন ফাহাদ আত-তুবাইশি
মুখবন্ধ লিখেছেন: আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আস-সা'দ
প্রকাশক: দার ইবনে খুযাইমা - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৪ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[تخريج الأحاديث والآثار الواقعة في تفسير الكشاف للزمخشري]ـ
المؤلف: جمال الدين أبو محمد عبد الله بن يوسف بن محمد الزيلعي (المتوفى: 762هـ)
المحقق: عبد الله بن عبد الرحمن السعد
الناشر: دار ابن خزيمة - الرياض
الطبعة: الأولى، 1414هـ
عدد الأجزاء: 4
[الكتاب مدقق إملائيا وترقيمه موافق للمطبوع]
[জামাখশারির তাফসিরে কাশশাফ-এ বর্ণিত হাদিস ও আসারসমূহের তাখরিজ]
লেখক: জামালুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ আজ-যাইলায়ি (মৃত্যু: ৭৬২ হিজরি)
তাহকিক: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আস-সাদ
প্রকাশক: দার ইবনে খুজাইমা - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৪ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[গ্রন্থটির বানান শুদ্ধি করা হয়েছে এবং এর নম্বরসমূহ মূল মুদ্রণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: -)
تَخْرِيج الْأَحَادِيث والْآثَار
হাদিস ও আছারসমূহের উৎস-নির্দেশ
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
بسم الله الرحمن الرحيم
رب أعن يَا كريم لَا قُوَّة إِلَّا بك آمين آمين آمين
سُورَة الْفَاتِحَة
1 - قَوْله
عَن ابْن عَبَّاس من ترك الْبَسْمَلَة فقد ترك مائَة وَأَرْبع عشرَة آيَة من كتاب الله
قلت غَرِيب وَالَّذِي وجدته عَن ابْن عَبَّاس أَنه قَالَ من ترك الْبَسْمَلَة فقد ترك آيَة من كتاب الله رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي كِتَابه شعب الْإِيمَان فِي الْبَاب التَّاسِع
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে প্রতিপালক, আমাকে সাহায্য করুন হে মহানুভব, আপনার সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই। আমীন আমীন আমীন
সূরা আল-ফাতিহা১ - তাঁর কথা
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহ ছেড়ে দিল, সে আল্লাহর কিতাব থেকে একশত চৌদ্দটি আয়াত ছেড়ে দিল।
আমি বলি, এটি গরীব (অপরিচিত)। ইবনে আব্বাস থেকে আমি যা পেয়েছি তা হলো, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহ ছেড়ে দিল, সে আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত ছেড়ে দিল।" বায়হাকী এটি তাঁর ‘শুআবুল ঈমান’ গ্রন্থের নবম অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
عشر مِنْهُ عَن الإِمَام أبي عبد الله الْحَاكِم بِسَنَدِهِ إِلَى ابْن الْمُبَارك أَنا حَنْظَلَة بن عبد الله عَن شهر بن حَوْشَب عَن ابْن عَبَّاس قَالَ من ترك بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم فقد ترك آيَة من كتاب الله تَعَالَى انْتَهَى
وَحكي عَن ابْن الْحَاجِب أَنه وهم الزَّمَخْشَرِيّ فِي قَوْله مائَة وَأَرْبع عشرَة آيَة وَقَالَ صَوَابه مائَة وَثَلَاث عشرَة آيَة قَالَ لِأَن سُورَة بَرَاءَة غير مبسملة
وَرَأَيْت حَاشِيَة بِخَط بعض الْفُضَلَاء حَكَى الإِمَام أَبُو الْكَرم الْمُبَارك الشهروزي فِي كِتَابه الْمُسَمَّى بِالْمِصْبَاحِ الزَّاهِر عَن ابْن عَبَّاس أَنه قَالَ من ترك الْبَسْمَلَة فقد ترك مائَة وَثَلَاث عشرَة آيَة من كتاب الله وَقَالَ إِنَّمَا لم يقل أَربع عشرَة لِأَن بَرَاءَة لَا بَسْمَلَة فِيهَا انْتَهَى
قلت وَقد رَوَى الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان فِي كِتَابه الْمَذْكُور عَن الْحَاكِم بِسَنَدِهِ إِلَى الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل أَنه قَالَ من لم يقْرَأ مَعَ كل سُورَة بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم فقد ترك مائَة وَثَلَاث عشرَة آيَة من كتاب الله انْتَهَى
2 - الحَدِيث الأول
عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَالَ كل أَمر ذِي بَال لم يبْدَأ فِيهِ باسم الله فَهُوَ أَبتر
এর দশমটি ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম হতে তাঁর সনদে ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হানজালা বিন আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন শাহর বিন হাওশাব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' বর্জন করল, সে মহান আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াতকে বর্জন করল।" সমাপ্ত।
ইবনুল হাজিব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যামাখশারিকে তাঁর 'একশ চৌদ্দটি আয়াত' উক্তির জন্য ভ্রমাত্মক সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন যে, এর সঠিক বক্তব্য হলো 'একশ তেরোটি আয়াত'। তিনি বলেছেন, এর কারণ হলো সূরা বারাআতে বিসমিল্লাহ নেই।
আমি জনৈক গুণী ব্যক্তির হস্তাক্ষরে একটি টীকা দেখেছি যেখানে ইমাম আবুল কারাম আল-মুবারক আশ-শাহরুযি তাঁর 'আল-মিসবাহুজ জাহির' নামক গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ) ছেড়ে দিল, সে আল্লাহর কিতাবের একশ তেরোটি আয়াত বর্জন করল।" তিনি বলেছেন, তিনি 'একশ চৌদ্দ' বলেননি কারণ সূরা বারাআতে কোনো বিসমিল্লাহ নেই। সমাপ্ত।
আমি বলি, বায়হাকি তাঁর উল্লিখিত গ্রন্থ 'শুয়াবুল ঈমান'-এ হাকিম থেকে তাঁর সনদে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি প্রত্যেক সূরার সাথে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' পাঠ করল না, সে আল্লাহর কিতাবের একশ তেরোটি আয়াত বর্জন করল।" সমাপ্ত।
২ - প্রথম হাদিস
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর নাম দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)।"
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قلت رُوِيَ من حَدِيث أبي هُرَيْرَة وَمن حَدِيث كَعْب بن مَالك
أما حَدِيث أبي هُرَيْرَة فَأخْرجهُ أَبُو دَاوُد فِي سنته فِي كتاب الْأَدَب وَالنَّسَائِيّ فِي الْيَوْم وَاللَّيْلَة وَابْن ماجة فِي النِّكَاح من حَدِيث قُرَّة بن عبد الرَّحْمَن عَن الزُّهْرِيّ عَن أبي سَلمَة عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ كل أَمر ذِي بَال لم يبْدَأ فِيهِ باسم الله فَهُوَ أَبتر انْتَهَى
وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه فِي موضِعين مِنْهُ فِي النَّوْع الثَّانِي وَالتسْعين من الْقسم الأول وَأَعَادَهُ فِي النَّوْع السَّادِس وَالسِّتِّينَ من الْقسم الثَّالِث بِالْإِسْنَادِ الْمَذْكُور وَلَفظه كل أَمر ذِي بَال لَا يبْدَأ فِيهِ بِحَمْد الله أقطع
وَرَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده وَابْن أبي شَيْبه فِي مُصَنفه فِي كتاب الْآدَاب وَفِي مُسْنده وَكَذَلِكَ رَوَاهُ الْبَزَّار فِي مُسْنده وَقَالَ لَا نعلمهُ رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ إِلَّا من هَذَا الْوَجْه انْتَهَى
وَرَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيّ فِي سنَنه فِي أَوَائِل كتاب الصَّلَاة وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان فِي الْبَاب الثَّالِث وَالثَّلَاثِينَ عَن الْحَاكِم بِسَنَدِهِ إِلَى قُرَّة بن عبد الرَّحْمَن بِهِ سَوَاء وَلَفظه كل أَمر لَا يبْدَأ فِيهِ بِالْحَمْد لله فَهُوَ أقطع
وَرَوَاهُ إِسْحَاق بن رَاهَوَيْه فِي مُسْنده كَذَلِك وَلَفظه كل أَمر ذِي بَال لَا يبْدَأ فِيهِ بِذكر الله فَهُوَ أقطع وَهِي رِوَايَة الدَّارَقُطْنِيّ وَأحمد وَالنَّسَائِيّ
والْحَدِيث فِيهِ رِوَايَات فَروِيَ كل أَمر وَرُوِيَ كل كَلَام وَهِي عِنْد أَحْمد وَالنَّسَائِيّ وَرُوِيَ لم يبْدَأ وَقد تقدم وَرُوِيَ لم يفْتَتح وَهِي عِنْد أَحْمد أَيْضا وَرُوِيَ بِحَمْد الله وَقد تقدم وَرُوِيَ بِذكر الله وَقد تقدم وَرُوِيَ فَهُوَ أقطع وَقد تقدم وَرُوِيَ فَهُوَ أَبتر وَقد تقدم وَرُوِيَ فَهُوَ أَجْزم وَرُوِيَ فَهُوَ أَكْتَع بِالْكَاف رَوَاهُ الإِمَام إِسْحَاق بن
আমি বলছি, এটি আবু হুরায়রা এবং কাব ইবনে মালিকের হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে।
আবু হুরায়রার হাদিসটি আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থের আদব অধ্যায়ে, নাসায়ী 'আল-ইয়াউমু ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থে এবং ইবনে মাজাহ বিবাহ অধ্যায়ে কুররা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর নামে শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)।" সমাপ্ত।
ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থের দুটি স্থানে এটি বর্ণনা করেছেন: প্রথম অংশের ৯২তম প্রকারে এবং এটিই আবার উল্লেখ করেছেন তৃতীয় অংশের ৬৬তম প্রকারে উক্ত সনদে। এর শব্দ হলো: "যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ।"
ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে, ইবনে আবি শায়বা তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থের আদব অধ্যায়ে ও তাঁর মুসনাদে এবং একইভাবে বাজ্জার তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি (বাজ্জার) বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই সূত্র ব্যতীত অন্য কোনোভাবে এটি বর্ণিত হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।" সমাপ্ত।
দারা কুতনী তাঁর সুনান গ্রন্থে সালাত অধ্যায়ের শুরুতে এটি বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী 'শুয়াবুল ঈমান' গ্রন্থের ৩৩তম অধ্যায়ে হাকিম থেকে তাঁর সনদে কুররা ইবনে আব্দুর রহমানের সূত্রে হুবহু বর্ণনা করেছেন। এর শব্দ হলো: "যে কোনো কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ।"
ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ তাঁর মুসনাদে একইভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। এর শব্দ হলো: "যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর জিকির দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ।" এটি দারা কুতনী, আহমাদ এবং নাসায়ীর বর্ণনা।
এই হাদিসটির বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে: 'প্রতিটি কাজ' শব্দে বর্ণিত হয়েছে, আবার 'প্রতিটি কথা' শব্দেও বর্ণিত হয়েছে যা আহমাদ ও নাসায়ীর নিকট রয়েছে। 'শুরু করা হয়নি' শব্দে বর্ণিত হয়েছে যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, আবার 'উদ্বোধন করা হয়নি' শব্দেও বর্ণিত হয়েছে যা আহমাদের নিকট রয়েছে। 'আল্লাহর প্রশংসার সাথে' শব্দে বর্ণিত হয়েছে যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, আবার 'আল্লাহর জিকিরের সাথে' শব্দে বর্ণিত হয়েছে যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। 'তা অসম্পূর্ণ' শব্দে বর্ণিত হয়েছে যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, আবার 'তা লেজকাটা' শব্দে বর্ণিত হয়েছে যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। 'তা ত্রুটিযুক্ত' শব্দে বর্ণিত হয়েছে, আবার 'তা বিচ্ছিন্ন' (কাফ বর্ণসহ) শব্দে ইমাম ইসহাক ইবনে... বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
رَاهَوَيْه فِي مُسْنده حَدثنَا بَقِيَّة بن الْوَلِيد ثَنَا شُعَيْب بن أبي حَمْزَة عَن الزُّهْرِيّ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ كل أَمر ذِي بَال لَا يبْدَأ فِيهِ بِحَمْد الله أَكْتَع قَالَ بَقِيَّة والأكتع الَّذِي ذهبت أَصَابِعه وَبَقِي كَفه انْتَهَى بِحُرُوفِهِ وَهَذَا معضل
وَفِيه رِوَايَة أُخْرَى رَوَاهُ الإِمَام أَبُو بكر الْخَطِيب الْبَغْدَادِيّ فِي كِتَابه الْجَامِع لِآدَابِ الرَّاوِي وَالسَّامِع من حَدِيث مُبشر بن إِسْمَاعِيل عَن الزُّهْرِيّ عَن أبي سَلمَة عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ كل أَمر ذِي بَال لَا يبْدَأ فِيهِ بِبسْم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم أقطع انْتَهَى
وَهَذَا الحَدِيث أعل من وَجْهَيْن
أَنه قد رُوِيَ مُرْسلا أخرجه كَذَلِك أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ عَن أبي سَلمَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ لَيْسَ فِيهِ أَبُو هُرَيْرَة قَالَ النَّسَائِيّ والمرسل أولَى بِالصَّوَابِ انْتَهَى
وَالثَّانِي فِي إِسْنَاده قُرَّة بن عبد الرَّحْمَن بن حَيْوِيل الْمعَافِرِي وَفِيه مقَال قَالَ الْحَاكِم فِي مُسْتَدْركه فِي أَوَاخِر الصَّلَاة وَقد اسْتشْهد مُسلم رحمه الله بقرة بن عبد الرَّحْمَن فِي مَوْضُوعَيْنِ من صَحِيحه انْتَهَى
أما حَدِيث كَعْب بن مَالك فَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي مُعْجَمه حَدثنَا أَحْمد بن الْمُعَلَّى الدِّمَشْقِي حَدثنَا عبد الله بن يزِيد الدِّمَشْقِي حَدثنَا صَدَقَة بن عبد الله عَن مُحَمَّد ابْن عبد الْوَلِيد الزبيدِيّ عَن الزُّهْرِيّ عَن عبد الله بن كَعْب بن مَالك عَن أَبِيه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَالَ كل أَمر ذِي بَال لَا يبْدَأ فِيهِ بِالْحَمْد لله فَهُوَ أقطع انْتَهَى وَهَذَا الْإِسْنَاد
রাহাউয়াহ তার মুসনাদে বর্ণনা করেছেন, বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন শুআইব ইবনে আবু হামযা আমাদের নিকট যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা (হামদ) দ্বারা শুরু করা হয় না, তা 'আকতা' (অসম্পূর্ণ)।" বাকিয়্যাহ বলেন, 'আকতা' হলো সেই ব্যক্তি যার আঙুলগুলো পড়ে গিয়েছে এবং কেবল হাতের তালু অবশিষ্ট আছে। এটি শব্দে শব্দে শেষ হলো এবং এটি একটি 'মুদাল' (সনদবিচ্ছিন্ন) হাদিস।
এতে আরেকটি বর্ণনা রয়েছে যা ইমাম আবু বকর আল-খতিব আল-বাগদাদি তার 'আল-জামি লি আদাবির রাওয়ি ওয়াস সামি' গ্রন্থে মুবাশশির ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' দ্বারা শুরু করা হয় না, তা 'আকতা' (বিচ্ছিন্ন বা অসম্পূর্ণ)।" সমাপ্ত।
এই হাদিসটি দুটি দিক থেকে ত্রুটিযুক্ত (মু'আল্লাল) সাব্যস্ত হয়েছে।
প্রথমত: এটি 'মুরসাল' হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। আবু দাউদ ও নাসায়ি একইভাবে আবু সালামাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; এতে আবু হুরায়রার উল্লেখ নেই। নাসায়ি বলেছেন, 'মুরসাল' বর্ণনাটিই সঠিক হওয়ার অধিকতর যোগ্য। সমাপ্ত।
দ্বিতীয়ত: এর সনদে কুররাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হাইওয়িল আল-মু'আফিরি রয়েছেন, যার সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে। আল-হাকিম তার 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থের সালাত অধ্যায়ের শেষ দিকে বলেছেন, ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) তার সহিহ গ্রন্থের দুটি স্থানে কুররাহ ইবনে আব্দুর রহমানকে সমর্থনমূলক বর্ণনা (ইস্তিশহাদ) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সমাপ্ত।
আর কা'ব ইবনে মালিকের হাদিসটি তাবারানি তার মু'জাম গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; আহমদ ইবনুল মু'আল্লা আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযিদ আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, সাদাকা ইবনে আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়ালিদ আজ-যুবাইদি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে কা'ব ইবনে মালিক থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসার (হামদ) মাধ্যমে শুরু করা হয় না, তা 'আকতা' (বিচ্ছিন্ন)।" সমাপ্ত। আর এই সনদটি...
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
3 - الحَدِيث الثَّانِي
عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ أَنه قَالَ الْحَمد رَأس الشُّكْر مَا شكر الله عبد لم يحمده
قلت رُوِيَ من حَدِيث عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ وَمن حَدِيث عبد الله ابْن عَبَّاس
أما حَدِيث ابْن الْعَاصِ فَرَوَاهُ عبد الرَّزَّاق فِي تَفْسِيره أخبرنَا معمر عَن قَتَادَة عَن عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ
… فَذكره
وَمن طَرِيق عبد الرَّزَّاق رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ الْحَكِيم أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن عَلّي فِي كِتَابه نَوَادِر الْأُصُول فِي الأَصْل الرَّابِع وَالْخمسين بعد الْمِائَة وَكَذَلِكَ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان فِي الْبَاب الثَّالِث وَالثَّلَاثِينَ مِنْهُ وَكَذَلِكَ الثَّعْلَبِيّ فِي تَفْسِيره
وَأما حَدِيث ابْن عَبَّاس فَرَوَاهُ الْبَغَوِيّ فِي تَفْسِيره فِي آخر سُورَة بني إِسْرَائِيل فَقَالَ أخبرنَا الإِمَام أَبُو عَلّي الْحُسَيْن بن مُحَمَّد القَاضِي ثَنَا الإِمَام أَبُو الطّيب سهل ابْن مُحَمَّد بن سُلَيْمَان ثَنَا أَبُو الْعَبَّاس الْأَصَم ثَنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق ثَنَا نصر بن حَمَّاد أَبُو الْحَارِث الْوراق ثَنَا شُعْبَة عَن حبيب بن أبي ثَابت سَمِعت سعيد بن جُبَير يحدث عَن ابْن عَبَّاس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ
… فَذكره
4 - وَمِنْه قَول صَفْوَان لأبي سُفْيَان
لِأَن يربنِي رجل من قُرَيْش أحب إِلَيّ من أَن يربنِي رجل من هوَازن
قلت هَذَا رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه فِي النَّوْع الثَّالِث من الْقسم الْخَامِس من حَدِيث مُحَمَّد بن إِسْحَاق ثني عَاصِم بن عمر بن قَتَادَة عَن عبد الرَّحْمَن بن جَابر بن عبد الله عَن أَبِيه قَالَ أَقبلنَا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فَاسْتقْبلنَا وَادي
৩ - দ্বিতীয় হাদীস
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "আলহামদুলিল্লাহ (আল্লাহর প্রশংসা) হলো কৃতজ্ঞতার শিরোমণি; যে বান্দা আল্লাহর প্রশংসা করে না, সে তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করে না।"
আমি বলছি: এটি আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস এবং আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর হাদীস থেকে বর্ণিত হয়েছে।
ইবনুল আস-এর হাদীসটি আবদুর রাজ্জাক তাঁর তাফসীরে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন... অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন।
আবদুর রাজ্জাকের সূত্র ধরে এটি বর্ণনা করেছেন হাকীম তিরমিযী আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী তাঁর ‘নাওয়াদিরুল উসুল’ কিতাবের ১৫৪তম উসুলের মধ্যে। একইভাবে বায়হাকী তাঁর ‘শুআবুল ঈমান’-এর ৩৩তম অধ্যায়ে এবং সা'লাবী তাঁর তাফসীরে এটি বর্ণনা করেছেন।
ইবনে আব্বাসের হাদীসটি আল-বাগাবী তাঁর তাফসীরে সূরা বনী ইসরাঈলের শেষে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইমাম আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-কাজী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইমাম আবু তাইয়্যিব সাহল বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু আব্বাস আল-আসাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন নাসর বিন হাম্মাদ আবু আল-হারিস আল-ওয়াররাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন শু'বাহ হাবীব বিন আবু সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, আমি সাঈদ বিন জুবায়েরকে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন... অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন।
৪ - এর অন্তর্ভুক্ত আবু সুফিয়ানকে দেওয়া সাফওয়ানের উক্তি:
"কুরাইশ বংশের কোনো লোক আমাকে প্রতিপালন করবে, এটি হাওয়াজিন বংশের কোনো লোক আমাকে প্রতিপালন করার চেয়ে আমার নিকট অধিক প্রিয়।"
আমি বলছি: ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে পঞ্চম পরিচ্ছেদের তৃতীয় প্রকারে এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাকের হাদীস থেকে; তিনি বলেন আসিম বিন ওমর বিন কাতাদাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান বিন জাবির বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে আসছিলাম, তখন আমরা একটি উপত্যকার সম্মুখীন হলাম।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
حنين
… فَذكر الْقِصَّة إِلَى أَن قَالَ فَقَالَ صَفْوَان بن أُميَّة وَالله لِأَن يربنِي رجل من قُرَيْش أحب إِلَيّ من أَن يربنِي رجل من هوَازن انْتَهَى
وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي دَلَائِل النُّبُوَّة فِي بَاب غَزْوَة حنين من حَدِيث ابْن إِسْحَاق بِهِ
وَرَوَاهُ الدَّارقطني فِي كِتَابه الْمُسَمَّى غرائب مَالك فَقَالَ حَدثنَا أَبُو بكر الشَّافِعِي ثَنَا معَاذ بن الْمثنى ثني عبد الله بن مُحَمَّد بن أَسمَاء ثَنَا جوَيْرِية عَن مَالك عَن الزُّهْرِيّ قَالَ جَاءَ صَفْوَان بن أُميَّة يسْعَى حِين هزم النَّاس بحنين فَقَالَ لَهُ ابْن أَخِيه وَالله يَا أَبَا وهب لَا نَرْتَد أبدا فَقَالَ صَفْوَان وَالله لِأَن يربنِي رب من قُرَيْش أحب إِلَيّ من أَن يربنِي رب من هوَازن لَا أعلمهُ انْتَهَى
وَبِسَنَد ابْن حبَان وَمَتنه رَوَاهُ أَبُو يعْلى الْموصِلِي فِي مُسْنده
5 - الحَدِيث الثَّالِث
قَالَ المُصَنّف رحمه الله وَمِنْه قَوْلهم كَمَا تدين تدان
قلت أوردهُ هَكَذَا مثلا وَلم يُورِدهُ حَدِيثا وَهُوَ حَدِيث مَرْفُوع رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي كِتَابه الْأَسْمَاء وَالصِّفَات عِنْد كَلَامه عَن الديَّان من أَسمَاء الله تَعَالَى وَكَذَلِكَ فِي كتاب الزّهْد لَهُ من طَرِيق عبد الرَّزَّاق أَنا معمر عَن أَيُّوب عَن أبي قلَابَة قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ الذَّنب لَا ينسَى وَالْبر لَا يبْلَى وَالديَّان لَا يَمُوت فَكُن كَمَا شِئْت فَكَمَا تدين تدان انْتَهَى ثمَّ قَالَ هَذَا مُرْسل انْتَهَى
وَرَوَاهُ ابْن عدي فِي كِتَابه الْكَامِل من حَدِيث مُحَمَّد بن عبد الْملك الْأنْصَارِيّ الْمدنِي عَن نَافِع عَن ابْن عمر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَالَ الذَّنب لَا ينسَى
… إِلَى آخِره ثمَّ أسْند ابْن عدي إِلَى البُخَارِيّ أَنه قَالَ مُحَمَّد بن عبد الْملك هَذَا مُنكر الحَدِيث وَإِلَى النَّسَائِيّ قَالَ مَتْرُوك الحَدِيث وَوَافَقَهُمَا ابْن عدي وَقَالَ
হুনাইন
… এরপর তিনি কাহিনীটি উল্লেখ করলেন যতক্ষণ না তিনি বললেন, অতঃপর সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া বললেন, আল্লাহর কসম, কুরাইশ বংশীয় জনৈক ব্যক্তি আমার মালিক হওয়া আমার নিকট হাওয়াজিন বংশীয় জনৈক ব্যক্তি আমার মালিক হওয়ার চেয়ে অধিক প্রিয়। সমাপ্ত।
আর ইমাম বায়হাকী এটি তাঁর 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থের হুনাইন যুদ্ধের অধ্যায়ে ইবনে ইসহাকের হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর ইমাম দারা কুতনী তাঁর 'গারাইব মালিক' নামক গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু বকর আশ-শাফিঈ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুআয ইবনুল মুসান্না আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আসমা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, জুয়াইরিয়াহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মালিক থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি বলেন, হুনাইনে যখন লোকজন পরাজিত হলো তখন সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া দৌড়ে আসলেন। তখন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র তাঁকে বললেন, আল্লাহর কসম হে আবু ওয়াহাব! আমরা কখনোই ফিরে আসব না। তখন সাফওয়ান বললেন, আল্লাহর কসম, কুরাইশ বংশীয় কোনো প্রভু আমার মালিক হওয়া আমার নিকট হাওয়াজিন বংশীয় কোনো প্রভু আমার মালিক হওয়ার চেয়ে অধিক প্রিয়, যা আমি জানি না। সমাপ্ত।
আর ইবনে হিব্বানের সনদ ও মূলপাঠ অনুযায়ী আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন।
৫ - তৃতীয় হাদীস
মুসান্নিফ (গ্রন্থকার) রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো মানুষের এ কথা: "যেমন কর্ম তেমন ফল"।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি, তিনি এটি এভাবে প্রবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং একে হাদীস হিসেবে আনেননি। অথচ এটি একটি মারফূ হাদীস। ইমাম বায়হাকী এটি তাঁর 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত' কিতাবে মহান আল্লাহর অন্যতম নাম ‘আদ-দাইয়ান’ সম্পর্কে আলোচনার সময় উল্লেখ করেছেন। অনুরূপভাবে তাঁর 'কিতাবুয যুহদ'-এ আব্দুর রাজ্জাক-এর সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: গুনাহ বিস্মৃত হয় না, নেকি পুরাতন বা ক্ষয় হয় না এবং দাইয়ান (প্রতিদানদাতা আল্লাহ) মৃত্যুবরণ করেন না। সুতরাং তুমি যেমন ইচ্ছা তেমন হও, কারণ যেমন কর্ম তেমন ফল। সমাপ্ত। এরপর তিনি বললেন, এটি মুরসাল। সমাপ্ত।
আর ইবনে আদি এটি তাঁর 'আল-কামিল' কিতাবে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক আল-আনসারী আল-মাদানী থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: গুনাহ বিস্মৃত হয় না
… শেষ পর্যন্ত। এরপর ইবনে আদি ইমাম বুখারী পর্যন্ত সনদ পেশ করেছেন যে তিনি বলেছেন: এই মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক ‘মুনকারুল হাদীস’ (অগ্রহণযোগ্য হাদীস বর্ণনাকারী) এবং ইমাম নাসায়ী থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি তাকে ‘মাতরুকুল হাদীস’ (পরিত্যক্ত হাদীস বর্ণনাকারী) বলেছেন। ইবনে আদি তাঁদের উভয়ের সাথে একমত হয়েছেন এবং বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
هُوَ ضَعِيف جدا وكل أَحَادِيثه لَا يُتَابع عَلَيْهَا الثِّقَات انْتَهَى كَلَامه
وَرَوَاهُ الإِمَام أَحْمد فِي كتاب الزّهْد لَهُ مَوْقُوفا عَلَى أبي الدَّرْدَاء فَقَالَ حَدثنَا عبد الرَّزَّاق أَنا معمر عَن أَيُّوب عَن أبي قلَابَة قَالَ أَبُو الدَّرْدَاء الْإِثْم لَا ينسَى
… إِلَى آخِره
6 - الحَدِيث الرَّابِع
عَن ابْن عَبَّاس سَأَلت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ عَن مَعْنَى آمين فَقَالَ افْعَل
قلت رَوَاهُ الثَّعْلَبِيّ فِي تَفْسِيره أخبرنَا أَبُو الْقَاسِم الْحسن بن مُحَمَّد بن جَعْفَر أخبرنَا أَبُو الْعَبَّاس مُحَمَّد بن إِسْحَاق بن أَيُّوب أَنا الْحسن بن عَلّي بن زِيَاد ثَنَا عبيد بن يعِيش عَن مُحَمَّد بن الْفضل عَن الْكَلْبِيّ عَن أبي صَالح عَن ابْن عَبَّاس قَالَ سَأَلت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ
… الحَدِيث
7 - الحَدِيث الْخَامِس
عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَالَ لَقَّنَنِي جِبْرِيل آمين عِنْد فراغي من قِرَاءَة الْفَاتِحَة وَقَالَ إِنَّه كالختم عَلَى الْكتاب
قلت غَرِيب بِهَذَا اللَّفْظ وَبِمَعْنَاهُ مَا رَوَاهُ ابْن أبي شيبَة فِي مُصَنفه فِي كتاب الدُّعَاء ثَنَا وَكِيع ثَنَا إِسْرَائِيل عَن أبي إِسْحَاق عَن أبي ميسرَة أَن جِبْرِيل
তিনি অত্যন্ত দুর্বল এবং তাঁর কোনো হাদিসই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সমর্থিত নয়। তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত।
ইমাম আহমাদ তাঁর কিতাবুয যুহদ-এ এটি আবুদ্দারদা থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবুদ্দারদা বলেছেন: পাপ বিস্মৃত হয় না
… শেষ পর্যন্ত।
৬ - চতুর্থ হাদিস
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘আমীন’-এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: (হে আল্লাহ!) আপনি কবুল করুন।
আমি বলছি, এটি সা'লাবী তাঁর তাফসীরে বর্ণনা করেছেন। আবুল কাসিম আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে জিয়াদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উবাইদ ইবনে ইয়াঈশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ফাদল থেকে, তিনি কালবী থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলাম
… হাদিসটির শেষ পর্যন্ত।
৭ - পঞ্চম হাদিস
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমার সূরা ফাতিহা পাঠ শেষ করার সময় জিবরাঈল আমাকে ‘আমীন’ পড়তে শিখিয়েছেন এবং বলেছেন যে, এটি কিতাবের উপর মোহরের মতো।
আমি বলছি, এই শব্দে হাদিসটি গারীব (অপ্রসিদ্ধ)। তবে একই অর্থে ইবনে আবি শাইবা তাঁর মুসান্নাফ-এর দোয়া অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট ওয়াকি বর্ণনা করেছেন, ইসরাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু মাইসারা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জিবরাঈল
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أَقرَأ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فَاتِحَة الْكتاب فَلَمَّا قَالَ وَلَا الضَّالّين قَالَ لَهُ قل آمين فَقَالَ آمين انْتَهَى
8 - الحَدِيث السَّادِس
رَوَى أنس وَعبد الله بن الْمُغَفَّل عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ الْإخْفَاء بآمين
قلت غَرِيب جدا
9 - الحَدِيث السَّابِع عَن وَائِل بن حجر أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ كَانَ إِذا قَرَأَ وَلَا الضَّالّين قَالَ آمين وَرفع بهَا صَوته
قلت رَوَاهُ أَبُو دَاوُد فِي سنَنه من حَدِيث سُفْيَان الثَّوْريّ عَن سَلمَة بن كهيل عَن حجر بن عَنْبَس عَن وَائِل بن حجر أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ
… الحَدِيث وَفِيه كَلَام طَوِيل اسْتَوْفَيْته فِي كتابي عَلَى أَحَادِيث الْهِدَايَة فَمن أَرَادَ الْوُقُوف عَلَيْهِ فليسارع إِلَيْهِ إِن شَاءَ الله تَعَالَى
10 - الحَدِيث الثَّامِن
عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ أَنه قَالَ لأبي بن كَعْب أَلا أخْبرك بِسُورَة لم تنزل فِي التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل وَالْقُرْآن مثلهَا قلت بلَى يَا رَسُول الله قَالَ فَاتِحَة الْكتاب إِنَّهَا السَّبع المثاني وَالْقُرْآن الْعَظِيم الَّذِي أُوتِيتهُ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিহাতুল কিতাব পাঠ করলেন। যখন তিনি 'ওয়ালাদ দল্লিন' বললেন, তাঁকে বলা হলো 'আমিন বলুন', তখন তিনি 'আমিন' বললেন। সমাপ্ত।
৮ - ষষ্ঠ হাদিস
আনাস এবং আবদুল্লাহ ইবনুল মুগাফফাল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে 'আমিন' নিচু স্বরে বলার কথা বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি, এটি অত্যন্ত গরিব (অপ্রসিদ্ধ)।
৯ - সপ্তম হাদিস: ওয়াইল ইবনে হুজর থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন 'ওয়ালাদ দল্লিন' পাঠ করতেন, তখন 'আমিন' বলতেন এবং এতে নিজের আওয়াজ উঁচু করতেন।
আমি বলছি, এটি ইমাম আবু দাউদ তাঁর সুনানে সুফিয়ান সাওরি থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি হুজর ইবনে আমবাস থেকে, তিনি ওয়াইল ইবনে হুজর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...
… হাদিস। এই বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে যা আমি 'আহাদিসুল হিদায়া' বিষয়ক আমার গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি। সুতরাং কেউ যদি এ সম্পর্কে অবহিত হতে চায়, তবে সে যেন দ্রুত সেটির দিকে ফিরে যায়, ইনশাআল্লাহ তাআলা।
১০ - অষ্টম হাদিস
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি উবাই ইবনে কাবকে বললেন, "আমি কি তোমাকে এমন একটি সূরা সম্পর্কে অবহিত করব না, যার সদৃশ কোনো সূরা তাওরাত, ইনজিল কিংবা কুরআনে অবতীর্ণ হয়নি?" আমি বললাম, "অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন, "তা হলো ফাতিহাতুল কিতাব; নিশ্চয়ই এটি সাবউল মাসানি (বারবার পঠিত সাতটি আয়াত) এবং মহান কুরআন যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قلت رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ فِي فَضَائِل الْقُرْآن وَالنَّسَائِيّ فِي التَّفْسِير من حَدِيث عبد الحميد بن جَعْفَر عَن الْعَلَاء بن عبد الرَّحْمَن عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ خرج عَلَى أبي بن كَعْب فَقَالَ لَهُ يَا أبي وَهُوَ يُصَلِّي فَلم يجبهُ فَخفف ثمَّ انْصَرف إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فَقَالَ السَّلَام عَلَيْك يَا رَسُول الله إِنِّي كنت فِي الصَّلَاة قَالَ ألم تَجِد فِيمَا أُوحِي اسْتجِيبُوا لله وَلِلرَّسُولِ إِذا دعَاكُمْ لما يُحْيِيكُمْ قَالَ بلَى وَلَا أَعُود إِن شَاءَ الله قَالَ تحب أَن أعلمك سُورَة لم تنزل فِي التَّوْرَاة وَلَا فِي الْإِنْجِيل وَلَا فِي الزبُور وَلَا فِي الْفرْقَان مثلهَا قَالَ نعم قَالَ كَيفَ تقْرَأ فِي الصَّلَاة فَقَرَأَ أم الْقُرْآن فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ مَا أنزل فِي التَّوْرَاة وَلَا فِي الْإِنْجِيل وَلَا فِي الزبُور وَلَا فِي الْقُرْآن مثلهَا وَإِنَّهَا سبع من المثاني وَالْقُرْآن الْعَظِيم الَّذِي أَعْطيته انْتَهَى قَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسن صَحِيح انْتَهَى
وَرَوَاهُ الْحَاكِم فِي مُسْتَدْركه كَذَلِك وَقَالَ حَدِيث صَحِيح عَلَى شَرط مُسلم وَلم يخرجَاهُ انْتَهَى
وَعَن الْحَاكِم رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان فِي الْبَاب التَّاسِع عشر وَرَوَاهُ أَحْمد فِي مُسْنده كَذَلِك وَرَوَاهُ الْبَزَّار فِي مُسْنده وَسكت عَنهُ ذكره فِي مُسْند أبي سعيد الْخُدْرِيّ اسْتِطْرَادًا
وَرَوَاهُ مَالك فِي موطئِهِ عَن الْعَلَاء بن عبد الرَّحْمَن أَن أَبَا سعيد مولَى عَامر ابْن كريز أخبرهُ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ نَادَى أبي بن كَعْب
… فَذكره وَهَذَا ظَاهره أَنه مُنْقَطع إِن لم يكن أَبُو سعيد هَذَا سَمعه من أبي بن كَعْب فَإِن كَانَ سَمعه مِنْهُ فَهُوَ عَلَى شَرط مُسلم وَالله أعلم
وَوهم صَاحب جَامع الْأُصُول فِي أبي سعيد هَذَا فَجعله ابْن الْمُعَلَّى وَلَيْسَ كَمَا قَالَ فَإِن أَبَا سعيد بن الْمُعَلَّى صَحَابِيّ أَنْصَارِي وَهَذَا تَابِعِيّ من موَالِي خُزَاعَة
আমি বলছি, ইমাম তিরমিযী ‘ফাযায়িলুল কুরআন’ অধ্যায়ে এবং ইমাম নাসাঈ ‘তাফসীর’ অধ্যায়ে আব্দুল হামিদ ইবনে জাফর থেকে, তিনি আলা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনে কাবের নিকটে আসলেন যখন তিনি নামায পড়ছিলেন। তিনি তাকে ডাকলেন, “হে উবাই!” কিন্তু তিনি সাড়া দিলেন না। তিনি নামায সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত শেষ করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে ফিরে আসলেন। তিনি বললেন, “আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, হে আল্লাহর রাসূল।” তিনি বললেন, “আমি যা ওহী করেছি তার মধ্যে কি তুমি পাওনি যে—‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যখন তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদেরকে জীবন দান করে, তখন তোমরা তাতে সাড়া দাও’?” উবাই বললেন, “হ্যাঁ, ইনশাআল্লাহ আমি আর এমন করব না।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তুমি কি পছন্দ করো যে আমি তোমাকে এমন একটি সূরা শিখিয়ে দেব, যার মতো সূরা তাওরাত, ইনজীল, যাবুর কিংবা ফুরকানে (কুরআনে) নাযিল হয়নি?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” নবীজি বললেন, “তুমি নামাযে কীভাবে পাঠ করো?” তখন তিনি উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাওরাত, ইনজীল, যাবুর কিংবা কুরআনে এর মতো আর কিছুই নাযিল করা হয়নি। এটি সেই সাতটি বারবার পঠিত আয়াত (সাবউল মাছানি) এবং মহান কুরআন যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে।” সমাপ্ত। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। সমাপ্ত।
হাকেম তাঁর মুস্তাদরাকে একইভাবে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, হাদীসটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ কিন্তু তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এটি সংকলন করেননি। সমাপ্ত।
হাকেমের সূত্র ধরে বাইহাকী এটি ‘শুআবুল ঈমান’-এর উনবিংশ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদেও একইভাবে বর্ণনা করেছেন এবং বাযযার তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করে এ বিষয়ে নীরব থেকেছেন। তিনি এটি আবু সাঈদ খুদরী-এর মুসনাদে প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ করেছেন।
ইমাম মালিক তাঁর মুয়াত্তায় আলা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমির ইবনে কুরাইযের মুক্তদাস আবু সাঈদ তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনে কাবকে ডাকলেন
… এরপর পূর্ণ হাদীস উল্লেখ করেছেন। এটি বাহ্যত একটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি) বর্ণনা, যদি না এই আবু সাঈদ উবাই ইবনে কাবের নিকট থেকে এটি শুনে থাকেন। তবে তিনি যদি এটি তাঁর থেকে শুনে থাকেন, তবে তা মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ হিসেবে গণ্য হবে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
‘জামিউল উসুল’ প্রণেতা এই আবু সাঈদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং তাঁকে ইবনুল মুআল্লা বানিয়ে ফেলেছেন। বিষয়টি আসলে তেমন নয়, কারণ আবু সাঈদ ইবনুল মুআল্লা হলেন একজন আনসারী সাহাবী, আর এই আবু সাঈদ হলেন খুযাআ গোত্রের একজন তাবিঈ।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وَاعْلَم أَن هَذَا الحَدِيث رَوَاهُ البُخَارِيّ فِي صَحِيحه من حَدِيث أبي سعيد بن الْمُعَلَّى أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ مر بِهِ وَهُوَ يُصَلِّي فَدَعَاهُ
… الحَدِيث بِعَيْنِه سَوَاء وَلم يخرج مُسلم فِي صَحِيحه لأبي سعيد بن الْمُعَلَّى شَيْئا وَلَا أخرج لَهُ البُخَارِيّ إِلَّا هَذَا الحَدِيث
قَالَ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان وَيُشبه أَن يكون هَذَا صدر من النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ لِكِلَا الرجلَيْن أبي بن كَعْب وَأبي سعيد بن الْمُعَلَّى إِلَّا أَن حَدِيث ابْن الْمُعَلَّى رِجَاله أحفظ انْتَهَى كَلَامه
11 - الحَدِيث التَّاسِع
عَن حُذَيْفَة بن الْيَمَان أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَالَ إِن الْقَوْم ليَبْعَث الله عَلَيْهِم الْعَذَاب حتما مقضيا فَيقْرَأ صبي من صبيانهم فِي الْكتاب الْحَمد لله رب الْعَالمين فيسمعه الله تَعَالَى فيرفع عَنْهُم بذلك الْعَذَاب أَرْبَعِينَ سنة
قلت رَوَاهُ الثَّعْلَبِيّ فِي تَفْسِيره من حَدِيث أبي مُعَاوِيَة الضَّرِير عَن أبي مَالك الْأَشْجَعِيّ عَن ربعي بن حِرَاش عَن حُذَيْفَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ
… فَذكره سَوَاء
জেনে রাখুন যে, এই হাদিসটি ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু সাঈদ ইবনুল মুআল্লা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন, তখন তিনি তাঁকে ডাকলেন
… হুবহু একই হাদিস এবং ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু সাঈদ ইবনুল মুআল্লার কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি, আর ইমাম বুখারিও তাঁর থেকে এই হাদিসটি ব্যতীত অন্য কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি।
ইমাম বায়হাকি শুআবুল ঈমান গ্রন্থে বলেছেন যে, সম্ভবত এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে উবাই ইবনে কাব এবং আবু সাঈদ ইবনুল মুআল্লা—উভয় ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রকাশ পেয়েছে, তবে ইবনুল মুআল্লার হাদিসের বর্ণনাকারীরা অধিক নির্ভরযোগ্য মুখস্থকারী। তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত।
১১ - নবম হাদিস
হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির ওপর চূড়ান্ত ও অবধারিত আজাব প্রেরণ করেন, অতঃপর তাদের শিশুদের মধ্য থেকে কোনো এক শিশু কিতাবে ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ (সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য) পাঠ করে, তখন আল্লাহ তাআলা তা শোনেন এবং তার বিনিময়ে তাদের থেকে চল্লিশ বছর আজাব তুলে নেন।
আমি বলছি, এটি আস-সালাবি তাঁর তাফসির গ্রন্থে আবু মুআবিয়া আদ-দারির থেকে, তিনি আবু মালিক আল-আশজায়ি থেকে, তিনি রিবয়ি ইবনে হিরাশ থেকে, তিনি হুজাইফা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন
… অতঃপর তিনি হুবহু এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
سُورَة الْبَقَرَة
সূরা আল-বাকারাহ
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
سُورَة الْبَقَرَةوَذكر فِيهَا مائَة وَثَلَاثَة وَأَرْبَعين حَدِيثا
12 - قَوْله
قَالَ قَاتل مُحَمَّد بن طَلْحَة السَّجَّاد وَهُوَ شُرَيْح بن أبي أَوْفَى الْعَنسِي
(يذكرنِي حَامِيم وَالرمْح شَاجر
… فَهَلا تَلا حَامِيم قبل التَّقَدُّم)
قلت ذكره البُخَارِيّ فِي صَحِيحه مُعَلّقا فِي التَّفْسِير فِي سُورَة الْمُؤمن قَالَ وَيُقَال إِن حم اسْم لقَوْل شُرَيْح بن أبي أَوْفَى الْعَنسِي
(يذكرنِي حَامِيم وَالرمْح شَاجر
… فَهَلا تَلا حَامِيم قبل التَّقَدُّم) انْتَهَى
وَوجدت فِي مُسْتَدْرك الْحَاكِم أَن قَاتل مُحَمَّد بن طَلْحَة وَقَائِل هَذَا الشّعْر غير شُرَيْح بن أبي أَوْفَى رَوَاهُ فِي كتاب الْفَضَائِل فِي بَاب فَضَائِل مُحَمَّد بن طَلْحَة بن السَّجَّاد رضي الله عنه من طَرِيق مُحَمَّد بن عمر الْوَاقِدِيّ حَدثنِي مُحَمَّد بن الضَّحَّاك ابْن عُثْمَان الْحزَامِي عَن أَبِيه قَالَ كَانَ مُحَمَّد بن طَلْحَة بن عبيد الله السَّجَّاد يَوْم الْجمل مَعَ عَلّي بن أبي طَالب وَنَهَى عَلّي عَن قَتله وَقَالَ من رَأَى صَاحب الْبُرْنُس الْأسود فَلَا يقْتله يَعْنِي مُحَمَّد بن طَلْحَة فَقَالَ مُحَمَّد يَوْمئِذٍ لعَائِشَة يَا أُمَّاهُ مَا تَأْمُرِينِي قَالَت أرَى أَن يكون لخير ابْن آدم أَن تكف يدك فَكف يَده فَقتله رجل من بني أَسد بن خُزَيْمَة يُقَال لَهُ طَلْحَة بن مُدْلِجَة من بني مُنْقد بن طريف وَيُقَال قَتله شَدَّاد بن مُعَاوِيَة الْقَيْسِي وَيُقَال قَتله عِصَام بن مُقْشَعِر الْبَصْرِيّ وَعَلِيهِ أَكثر الحَدِيث وَهُوَ الَّذِي يَقُول فِي قَتله حِين قَالَ لَهُ مُحَمَّد
সূরা আল-বাকারাহএতে একশত তেতাল্লিশটি হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে।
১২ - তাঁর উক্তি
মুহাম্মদ বিন তালহা আস-সাজ্জাদের হত্যাকারী বলেছেন, আর তিনি হলেন শুরাইহ বিন আবি আওফা আল-আনসি
(সে আমাকে হা-মীম স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যখন বল্লম বিদ্ধ হচ্ছে... তবে কেন সে অগ্রসর হওয়ার পূর্বেই হা-মীম পাঠ করল না?)
আমি বলছি, বুখারি তাঁর সহীহ গ্রন্থে সূরা আল-মু'মিনের তাফসীরে এটি মুআল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, বলা হয়ে থাকে যে 'হা-মীম' হলো শুরাইহ বিন আবি আওফা আল-আনসির উক্তির নাম
(সে আমাকে হা-মীম স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যখন বল্লম বিদ্ধ হচ্ছে... তবে কেন সে অগ্রসর হওয়ার পূর্বেই হা-মীম পাঠ করল না?) সমাপ্ত
আর আমি আল-হাকিমের মুস্তাদরাক গ্রন্থে পেয়েছি যে, মুহাম্মদ বিন তালহার হত্যাকারী এবং এই কবিতার রচয়িতা শুরাইহ বিন আবি আওফা ব্যতীত অন্য কেউ। তিনি এটি ফাযাইল গ্রন্থে মুহাম্মদ বিন তালহা বিন আস-সাজ্জাদ রাযিয়াল্লাহু আনহুর মর্যাদা পরিচ্ছেদে মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াকিদির সূত্রে বর্ণনা করেছেন; মুহাম্মদ বিন আদ-দাহহাক ইবনে উসমান আল-হিযামি তাঁর পিতা থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জুমালের যুদ্ধের দিন মুহাম্মদ বিন তালহা বিন উবাইদুল্লাহ আস-সাজ্জাদ আলী বিন আবি তালিবের সাথে ছিলেন। আলী তাকে হত্যা করতে নিষেধ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, যে ব্যক্তি কালো টুপির পরিধানকারীকে দেখবে সে যেন তাকে হত্যা না করে—অর্থাৎ মুহাম্মদ বিন তালহা। সেদিন মুহাম্মদ আয়েশাকে বলেছিলেন, হে মা, আপনি আমাকে কী আদেশ করেন? তিনি বলেছিলেন, আমি মনে করি তুমি আদমের শ্রেষ্ঠ সন্তানের মতো হও যে নিজের হাত গুটিয়ে রাখে। ফলে তিনি নিজের হাত গুটিয়ে নিলেন। অতঃপর বনী আসাদ বিন খুযাইমার এক ব্যক্তি তাকে হত্যা করে যাকে তালহা বিন মুদলিজাহ বলা হয়, সে বনী মুনকিজ বিন তারিফ গোত্রের। আবার বলা হয় তাকে শাদ্দাদ বিন মুয়াবিয়া আল-কাইসি হত্যা করেছে। আরও বলা হয় যে তাকে ইসাম বিন মুকশা’ইর আল-বাসরি হত্যা করেছে এবং অধিকাংশ বর্ণনা একথাই বলে। আর সেই ব্যক্তিই তাকে হত্যার সময় এই কবিতাটি বলেছিল যখন মুহাম্মদ তাকে বলেছিল—
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
أذكرك حم فطعنه ثمَّ قَالَ
(وَأَشْعَث قوام بآيَات ربه
… قَلِيل الْأَذَى فِيمَا يرَى النَّاس مُسلم)
(ذلقت لَهُ بِالرُّمْحِ من تَحت
… بزه فَخر صَرِيعًا لِلْيَدَيْنِ وَلِلْفَمِ)
(شَككت إِلَيْهِ بِالسِّنَانِ قَمِيصه
… فأرديته عَن ظهر طرف مُسَوَّم)
(يذكرنِي حَامِيم وَالرمْح شَاجر
… فَهَلا تَلا حَامِيم قبل التَّقَدُّم)
(عَلَى غير شَيْء غير أَن لَيْسَ تَابعا
… عليا وَمن لَا يتبع الْحق ينْدَم)
وَكَذَلِكَ ذكره ابْن سعد فِي الطَّبَقَات عَن الْوَاقِدِيّ وَزَاد قَالَ وَأَفْرج النَّاس يَوْم الْجمل عَن ثَلَاثَة عشر ألف قَتِيل وَقَالَ عَلّي حِين قَالَ لَهُ ابْنه الْحسن مَا كَانَ أَغْنَاك عَن هَذَا ود أَبوك لَو مَاتَ قبل هَذَا الْيَوْم بِعشْرين سنة انْتَهَى
13 - قَوْله
عَن ابْن عَبَّاس أقسم الله بِهَذِهِ الْحُرُوف يَعْنِي آلم وَأَخَوَاتهَا
قلت رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي كتاب الْأَسْمَاء وَالصِّفَات من طَرِيق عُثْمَان بن سعيد الدَّارمِيّ ثَنَا عبد الله بن صَالح عَن عَلّي بن أبي طَلْحَة عَن ابْن عَبَّاس أَنه قَالَ فِي الْحُرُوف الْمُقطعَة فِي أَوَائِل السُّور كلهَا أَقسَام أقسم الله بهَا انْتَهَى
وَرَوَاهُ ابْن مرْدَوَيْه فِي تَفْسِيره فِي سُورَة طه فَقَالَ ثَنَا عبد الله بن جَعْفَر ثَنَا إِسْمَاعِيل بن عبد الله ثَنَا أَبُو صَالح عبد الله بن صَالح حَدثنِي مُعَاوِيَة بن صَالح عَن عَلّي بن أبي طَلْحَة عَن ابْن عَبَّاس قَالَ طه وَأَشْبَاه ذَلِك قسم أقسم الله بهَا وَهِي من أَسمَاء الله تَعَالَى انْتَهَى
14 - الحَدِيث الأول
عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ أَنه قَالَ حم لَا ينْصرُونَ
قلت رُوِيَ من حَدِيث الْبَراء بن عَازِب وَمن حَدِيث أنس وَمن حَدِيث شيبَة بن عُثْمَان الحَجبي وَمن حَدِيث أبي دُجَانَة الْأنْصَارِيّ
আমি তোমাকে 'হা-মীম' স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, তারপর তিনি তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করলেন এবং বললেন
(এবং কতই না উস্কোখুস্কো চুলওয়ালা ব্যক্তি, যে তার রবের আয়াতসমূহ নিয়ে দণ্ডায়মান
… মানুষের দৃষ্টিতে সে অল্প কষ্টদায়ক একজন মুসলিম)
(আমি তার বর্মের নিচ দিয়ে বর্শা বিদ্ধ করলাম
… ফলে সে তার হাত ও মুখের ওপর উপুড় হয়ে লুটিয়ে পড়ল)
(আমি বর্শার ফলক দিয়ে তার জামা ছিদ্র করে দিলাম
… এবং তাকে একটি সুচিহ্নিত ঘোড়ার পিঠ থেকে নিচে ফেলে দিলাম)
(সে আমাকে 'হা-মীম' স্মরণ করাচ্ছিল যখন বর্শাগুলো বিদ্ধ হচ্ছিল
… তবে কেন সে অগ্রসর হওয়ার আগেই 'হা-মীম' পাঠ করল না?)
(অন্য কোনো কারণে নয়, কেবল সে আলীর অনুসারী না হওয়ার কারণে
… আর যে সত্যের অনুসরণ করে না, সে লজ্জিত হয়)
অনুরূপভাবে ইবনে সাদ তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে ওয়াকিদি থেকে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বর্ধিতভাবে বলেছেন যে, জঙ্গে জামালের দিন তেরো হাজার নিহত ব্যক্তির মধ্য থেকে মানুষ সরে গিয়েছিল। আলী যখন তাঁর পুত্র হাসান তাঁকে বলেছিলেন, "আপনার কি এর কোনো প্রয়োজন ছিল?" তখন আলী বলেছিলেন, "তোমার পিতা যদি এই দিনের বিশ বছর আগেই মারা যেত (তবে কতই না ভালো হতো)!" সমাপ্ত।
১৩ - তাঁর উক্তি
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, আল্লাহ এই বর্ণগুলোর শপথ করেছেন, অর্থাৎ 'আলিফ-লাম-মীম' এবং এর সমজাতীয় অক্ষরসমূহ।
আমি বলছি, ইমাম বায়হাকি তাঁর 'কিতাবুল আসমা ওয়াস-সিফাত' গ্রন্থে উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ, তিনি আলী ইবনে আবু তালহা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি সূরাগুলোর শুরুতে ব্যবহৃত বিচ্ছিন্ন বর্ণসমূহ সম্পর্কে বলেছেন: "এগুলো সব শপথ, যা দ্বারা আল্লাহ শপথ করেছেন।" সমাপ্ত।
ইবনে মারদুওয়াইহ তাঁর তাফসির গ্রন্থে সূরা ত্বহা-এর আলোচনায় এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন—আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাইল ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আবু সালিহ আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে, তিনি আলী ইবনে আবু তালহা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "ত্ব-হা এবং এর সদৃশ অক্ষরগুলো শপথ বাক্য, আল্লাহ এগুলোর শপথ করেছেন এবং এগুলো আল্লাহ তাআলার নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত।" সমাপ্ত।
১৪ - প্রথম হাদিস
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "হা-মীম, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।"
আমি বলছি, এটি বারা ইবনে আজিব, আনাস, শায়বা ইবনে উসমান আল-হাজাবি এবং আবু দুজানা আল-আনসারী-এর হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
أما حَدِيث الْبَراء بن عَازِب رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ فِي كتاب الْجِهَاد من حَدِيث الْمُهلب بن أبي صفرَة عَمَّن سمع النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ يَقُول إِن بَيتكُمْ الْعَدو فَلْيَكُن شِعَاركُمْ حم لَا ينْصرُونَ
وَرَوَاهُ أَحْمد فِي مُسْنده وَالْحَاكِم فِي مُسْتَدْركه فِي كتاب الْجِهَاد وَقَالَ إِنَّه صَحِيح عَلَى شَرط الشَّيْخَيْنِ وَلم يخرجَاهُ إِلَّا أَن فِيهِ إرْسَالًا قَالَ وَالرجل الَّذِي لم يسمه الْمُهلب بن أبي صفرَة هُوَ الْبَراء بن عَازِب
ثمَّ أخرجه عَن شريك عَن أبي إِسْحَاق عَن الْمُهلب بن أبي صفرَة عَن الْبَراء بن عَازِب عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَالَ إِنَّكُم تلقونَ عَدوكُمْ غَدا فَلْيَكُن شِعَاركُمْ حم لَا ينْصرُونَ انْتَهَى وَسكت عَنهُ
قَالَ التِّرْمِذِيّ فِي الْبَاب عَن سَلمَة بن الْأَكْوَع وَهَكَذَا رَوَاهُ غير الثَّوْريّ عَن أبي إِسْحَاق وَرُوِيَ عَنهُ عَن الْمُهلب بن أبي صفرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ مُرْسلا انْتَهَى
وَهَذَا الْمُرْسل الَّذِي أَشَارَ إِلَيْهِ التِّرْمِذِيّ رَوَاهُ النَّسَائِيّ فِي الْيَوْم وَاللَّيْلَة عَن زُهَيْر عَن أبي إِسْحَاق عَن الْمُهلب بن أبي صفرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ مُرْسلا
وَرَوَاهُ النَّسَائِيّ أَيْضا من حَدِيث الْأَجْلَح عَن أبي إِسْحَاق عَن الْبَراء بن عَازِب قَالَ قَالَ لنا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ إِنَّكُم سَتَلْقَوْنَ الْعَدو غَدا وَإِن شِعَاركُمْ حم لَا ينْصرُونَ انْتَهَى
وَكَذَلِكَ رَوَاهُ أَحْمد فِي مُسْنده وَالْحَاكِم فِي مُسْتَدْركه وَسكت عَنهُ قَالَ النَّسَائِيّ وَالْأَجْلَح لَيْسَ بِقَوي كَانَ مُسْرِفًا فِي التَّشَيُّع انْتَهَى
وَأخرجه النَّسَائِيّ أَيْضا عَن شَيبَان عَن أبي إِسْحَاق عَن الْبَراء مَرْفُوعا نَحوه
বারা ইবনে আযিব (রা.) বর্ণিত হাদিসটি আবু দাউদ, তিরমিজি এবং নাসায়ি ‘কিতাবুল জিহাদ’-এ মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরাহ-এর সূত্রে এমন এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন যে: “যদি রাতে শত্রু তোমাদের আক্রমণ করে, তবে তোমাদের রণধ্বনি হোক ‘হা-মীম, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না’।”
ইমাম আহমদ তার মুসনাদে এবং হাকিম তার মুস্তাদরাকের ‘কিতাবুল জিহাদ’-এ এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি (হাকিম) বলেছেন যে, এটি শায়খাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্ত অনুযায়ী সহিহ, যদিও তারা এটি উদ্ধৃত করেননি; তবে এতে ‘ইরসাল’ (সূত্রবিচ্ছিন্নতা) রয়েছে। তিনি আরও বলেছেন যে, মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরাহ যে ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি, তিনি হলেন বারা ইবনে আযিব (রা.)।
অতঃপর তিনি এটি শারিক-এর সূত্রে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরাহ থেকে, তিনি বারা ইবনে আযিব (রা.) থেকে এবং তিনি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: “আগামীকাল তোমরা তোমাদের শত্রুর মুখোমুখি হবে, তখন তোমাদের রণধ্বনি হোক ‘হা-মীম, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না’।” কথাটি এখানেই শেষ এবং তিনি এ বিষয়ে নীরব থেকেছেন।
তিরমিজি বলেছেন, এই অধ্যায়ে সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রা.) থেকেও বর্ণনা রয়েছে। সাওরি ব্যতীত অন্যরাও আবু ইসহাক থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আবার তার (আবু ইসহাক) সূত্রে মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরাহ থেকে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে ‘মুরসাল’ হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। কথাটি এখানেই শেষ।
তিরমিজি যে ‘মুরসাল’ বর্ণনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা নাসায়ি ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে জুহাইর-এর সূত্রে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরাহ থেকে এবং তিনি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে ‘মুরসাল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
নাসায়ি এটি আজলাহ-এর হাদিস থেকেও বর্ণনা করেছেন, যা আবু ইসহাক-এর সূত্রে এবং বারা ইবনে আযিব (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি (বারা) বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বলেছেন, “নিশ্চয়ই আগামীকাল তোমরা শত্রুর মোকাবিলা করবে এবং তোমাদের রণধ্বনি হবে ‘হা-মীম, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না’।” কথাটি এখানেই শেষ।
একইভাবে ইমাম আহমদ তার মুসনাদে এবং হাকিম তার মুস্তাদরাকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এ বিষয়ে নীরব থেকেছেন। নাসায়ি বলেছেন: আজলাহ শক্তিশালী (বর্ণনাকারী) নন, তিনি চরমপন্থী শিয়া মতাবলম্বী ছিলেন। কথাটি এখানেই শেষ।
নাসায়ি এটি শায়বান-এর সূত্রে, তিনি আবু ইসহাক থেকে এবং তিনি বারা (রা.) থেকে ‘মারফু’ হিসেবে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
أما حَدِيث أنس فَرَوَاهُ الْحَافِظ أَبُو نعيم الْأَصْبَهَانِيّ فِي كِتَابه دَلَائِل النُّبُوَّة فِي الثَّامِن وَالْعِشْرين فِي غَزْوَة حنين حَدثنَا سُلَيْمَان بن أَحْمد ثَنَا عَلّي بن سعيد الرَّازِيّ ثَنَا ابْن أبي بزَّة ثَنَا مُؤَمل بن إِسْمَاعِيل ثَنَا عمَارَة بن زَاذَان عَن ثَابت عَن أنس قَالَ انهزم الْمُسلمُونَ بحنين وَرَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ عَلَى بغلته الشَّهْبَاء وَكَانَ يُقَال لَهَا دُلْدُل فَقَالَ لَهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ دُلْدُل الْبَدِيِّ فَأَلْصَقَتْ بَطنهَا بِالْأَرْضِ فَأخذ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ حفْنَة من تُرَاب فَرَمَى بهَا فِي وُجُوههم وَقَالَ حم لَا تنْصرُونَ فَانْهَزَمَ الْقَوْم وَمَا رمينَا بِسَهْم وَلَا طَعنا بِرُمْح انْتَهَى
وَعَن الطَّبَرَانِيّ أَيْضا رَوَاهُ ابْن مرْدَوَيْه فِي تَفْسِيره بِسَنَدِهِ وَمَتنه وَسَمَّى ابْن أبي بزَّة أَحْمد بن مُحَمَّد بن الْقَاسِم بن أبي بزَّة ذكره فِي الْأَنْفَال
وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي مُعْجَمه الْوسط بالسند والمتن الْمَذْكُورين وَسَمَّى ابْن أبي بزَّة كَمَا سَمَّاهُ ابْن مرْدَوَيْه
وَأما حَدِيث شيبَة بن عُثْمَان الحَجبي فَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي مُعْجَمه من طَرِيق ابْن الْمُبَارك عَن أبي بكر الْهُذلِيّ عَن عِكْرِمَة قَالَ قَالَ شيبَة بن عُثْمَان الحَجبي لما غزا النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ يَوْم حنين
… فَذكر الْقِصَّة بِطُولِهَا إِلَى أَن قَالَ فَتَنَاول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ من الْحَصْبَاء فَنفخ فِي وُجُوههم وَقَالَ شَاهَت الْوُجُوه حم لَا ينْصرُونَ انْتَهَى
وَأما حَدِيث أبي دُجَانَة الْأنْصَارِيّ واسْمه سماك بن خَرشَة فَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي آخر كِتَابه دَلَائِل النُّبُوَّة من حَدِيث عبد الله بن زيد بن خَالِد ثَنَا أبي زيد ابْن خَالِد ثَنَا أبي خَالِد بن أبي دُجَانَة سَمِعت أَبَا دُجَانَة يَقُول شَكَوْت إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فَقلت يَا رَسُول الله بَينا أَنا مَضْجَع فِي فِرَاشِي إِذْ سَمِعت صَرِيرًا كَصَرِيرِ الرَّحَى ودويا كَدَوِيِّ النَّحْل ولمعا كَلمعِ الْبَرْق فَرفعت رَأْسِي فَزعًا مَرْعُوبًا فَإِذا أَنا بِظِل أسود يَعْلُو وَيطول بِصَحْنِ دَاري فَأَهْوَيْت إِلَيْهِ بيَدي فَإِذا
আনাসের বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে বলা যায়, হাফিজ আবু নুয়াইম আল-আসফাহানি তাঁর 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' কিতাবের আটাশতম অধ্যায়ে হুনায়নের যুদ্ধ প্রসঙ্গে তা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুলাইমান ইবনে আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবনে সাইদ আর-রাজি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে আবি বায্যাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুয়াম্মাল ইবনে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উমারাহ ইবনে যাযান বর্ণনা করেছেন সাবিত থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হুনায়নের যুদ্ধে মুসলিমরা পরাজিত হয়ে পিছু হটছিল এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাদা রঙের খচ্চরের পিঠে আরোহণ করেছিলেন, যাকে 'দুলদুল' বলা হতো। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে লক্ষ্য করে বললেন: হে দুলদুল, বসে যাও! তখন সেটি তার পেট মাটির সাথে লাগিয়ে দিল। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মুঠো মাটি নিলেন এবং তা তাদের মুখের দিকে নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন: হা-মীম, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। এরপর সেই কওম পরাজিত হয়ে পালিয়ে গেল এবং আমাদের একটি তীরও ছুঁড়তে হয়নি, কিংবা কোনো বর্শা দিয়ে আঘাত করতে হয়নি। সমাপ্ত।
তাবারানি থেকেও বর্ণিত হয়েছে। ইবনে মারদুবাইহ তাঁর তাফসিরে নিজস্ব সনদ ও মতনসহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ইবনে আবি বায্যাহর নাম আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কাসিম ইবনে আবি বায্যাহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি এটি সূরা আনফালের আলোচনায় উল্লেখ করেছেন।
তাবারানি তাঁর 'আল-মু'জামুল আওসাত' গ্রন্থেও উল্লিখিত সনদ ও মতনসহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আবি বায্যাহর নাম সেভাবেই উল্লেখ করেছেন যেভাবে ইবনে মারদুবাইহ করেছেন।
আর শাইবা ইবনে উসমান আল-হাজাবির হাদিসটি তাবারানি তাঁর মু'জাম গ্রন্থে ইবনুল মুবারকের সূত্রে আবু বকর আল-হুজালি থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: শাইবা ইবনে উসমান আল-হাজাবি বলেছেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়নের দিন যুদ্ধ করলেন
… এরপর তিনি দীর্ঘ ঘটনাটি বর্ণনা করেন, এক পর্যায়ে তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু কঙ্কর হাতে নিলেন এবং তাদের মুখের দিকে ফুঁ দিলেন এবং বললেন: চেহারাগুলো বিকৃত হোক, হা-মীম, তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। সমাপ্ত।
আর আবু দুজানা আল-আনসারির হাদিস সম্পর্কে—যার নাম সিমাক ইবনে খারশাহ—বায়হাকি তাঁর 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' কিতাবের শেষে আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ ইবনে খালিদের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার পিতা যায়েদ ইবনে খালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার পিতা খালিদ ইবনে আবি দুজানা বর্ণনা করেছেন, আমি আবু দুজানাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অভিযোগ করে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যখন আমার বিছানায় শুয়ে ছিলাম, হঠাৎ জাঁতাকলের শব্দের মতো ঘর্ষণের শব্দ এবং মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ শুনতে পেলাম এবং বিজলীর চমকের মতো উজ্জ্বল আলোকচ্ছটা দেখতে পেলাম। আমি আতঙ্কিত ও ভীত হয়ে মাথা তুললাম, তখন দেখলাম আমার আঙিনায় একটি কালো ছায়া উঁচু হচ্ছে এবং লম্বা হচ্ছে। আমি আমার হাত দিয়ে তার দিকে এগিয়ে গেলাম, তখন দেখলাম
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
جلده كَجلْد الْقُنْفُذ فَرمي فِي وَجْهي مثل شرر النَّار فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ وَمثلك يُؤْذَى يَا أَبَا دُجَانَة هَذَا عَامر الدَّار عَامر سوء ثمَّ قَالَ ائْتُونِي بِدَوَاةٍ وَقِرْطَاس فَأَتَى بهما فناولهما عَلّي بن أبي طَالب وَقَالَ اكْتُبْ يَا أَبَا الْحسن قَالَ وَمَا أكتب يَا رَسُول الله قَالَ اكْتُبْ بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم من مُحَمَّد رَسُول رب الْعَالمين إِلَى من طرق الدَّار من الْعمار وَالزُّوَّارِ وَالصَّالِحِينَ إِلَّا طَارِقًا يطْرق بِخَير يَا رَحْمَن أما بعد
… فَإنَّا وَلكم فِي الْحق سَعَة فَإِن تَكُ عَاشِقًا مُولَعا أَو فَاجِرًا مُقْتَحِمًا أَو مدعي حق مُبْطلًا هَذَا كتاب الله ينْطق علينا وَعَلَيْكُم بِالْحَقِّ إِنَّا كُنَّا نَسْتَنْسِخ مَا كُنْتُم تَعْمَلُونَ وَرُسُلنَا يَكْتُبُونَ مَا تَمْكُرُونَ اتْرُكُوا صَاحب كتابي هَذَا وَانْطَلَقُوا إِلَى عَبدة الْأَصْنَام وَإِلَى من يزْعم أَن مَعَ الله إِلَهًا آخر لَا إِلَه إِلَّا هُوَ كل شَيْء هَالك إِلَّا وَجهه لَهُ الحكم وَإِلَيْهِ ترجعون يغلبُونَ حم لَا ينْصرُونَ حم عسق تفرق أَعدَاء الله وَبَلغت حجَّة الله وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه فَسَيَكْفِيكَهُم الله وَهُوَ السَّمِيع الْعَلِيم قَالَ أَبُو دُجَانَة فَأخذت الْكتاب فَأَخْرَجته وَحَمَلته إِلَى دَاري وَجَعَلته تَحت رَأْسِي وَبت لَيْلَتي فَمَا انْتَبَهت إِلَّا من صُرَاخ صارخ يَقُول يَا أَبَا دُجَانَة أَحْرَقَتْنَا بالنَّار فَبِحَق صَاحبك إِلَّا مَا رفعت عَنَّا هَذَا الْكتاب فَلَا عود لنا فِي دَارك وَلَا فِي مَوضِع يكون فِيهِ هَذَا الْكتاب فَقلت لَا وَحقّ صَاحِبي رَسُول الله لَا رفعته حَتَّى أَستَأْمر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ قَالَ أَبُو دُجَانَة فَلَقَد طَالَتْ عَلّي لَيْلَتي بِمَا سَمِعت من أَنِين الْجِنّ وبكائهم حَتَّى أَصبَحت فَغَدَوْت إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فَأَخْبَرته بِمَا تمّ لي مَعَهم فَقَالَ يَا أَبَا دُجَانَة ارْفَعْ عَن الْقَوْم فوالذي بَعَثَنِي بِالْحَقِّ إِنَّهُم ليجدون ألم الْعَذَاب إِلَى يَوْم الْقِيَامَة انْتَهَى
قَالَ الْبَيْهَقِيّ وَقد رُوِيَ فِي حزر أبي دُجَانَة حَدِيث مَوْضُوع لَا تحل رِوَايَته انْتَهَى
وَهَذَا الَّذِي أَشَارَ إِلَيْهِ رَوَاهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات وَقَالَ لَيْسَ فِي الصَّحَابَة من اسْمه مُوسَى انْتَهَى
قَالَ الْمُنْذِرِيّ فِي حَوَاشِي السّنَن الشعار الْعَلامَة كَانُوا يَتَعَارَفُونَ بهَا فِي الْحَرْب ليعرف الرجل بهَا رَفِيقه قَالَ وَقَالَ ثَعْلَب فِي قَوْله لَا ينْصرُونَ أَنه
তার চামড়া ছিল সজারুর চামড়ার মতো এবং সে আমার চেহারার দিকে আগুনের স্ফুলিঙ্গের মতো কিছু ছুঁড়ে মারল। তখন আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বললেন, "হে আবু দুজানা, তোমার মতো ব্যক্তিকেও কি কষ্ট দেওয়া হচ্ছে? এ হলো ঘরের অধিবাসী, এক মন্দ অধিবাসী।" অতঃপর তিনি বললেন, "আমার কাছে একটি দোয়াত ও কাগজ নিয়ে এসো।" সেগুলো আনা হলে তিনি তা আলী বিন আবি তালিবকে দিলেন এবং বললেন, "হে আবুল হাসান, লেখো।" তিনি বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল, আমি কী লিখব?" তিনি বললেন, "লেখো: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। বিশ্বজগতের প্রতিপালকের রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে ঘরের সেই সব অধিবাসী, আগন্তুক এবং পুণ্যবানদের প্রতি, তবে কল্যাণ নিয়ে আসা আগন্তুক ব্যতীত, হে পরম দয়ালু। অতঃপর... সত্যের মধ্যে আমাদের ও তোমাদের জন্য প্রশস্ততা রয়েছে। যদি তুমি অতি আসক্ত প্রেমিক হও, কিংবা আক্রমণকারী পাপিষ্ঠ হও, অথবা বাতিল বা মিথ্যা দাবিকারী হও, তবে এটি আল্লাহর কিতাব যা আমাদের ও তোমাদের বিরুদ্ধে সত্যসহ কথা বলছে। নিশ্চয়ই তোমরা যা করতে আমরা তা লিখে রাখতাম এবং আমাদের প্রেরিত ফেরেশতারা তোমরা যা ষড়যন্ত্র করতে তা লিখে রাখত।
… তোমরা আমার এই পত্রের বাহককে ছেড়ে দাও এবং মূর্তিপূজকদের কাছে চলে যাও এবং তাদের কাছে যারা দাবি করে যে আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহ আছে। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তাঁর চেহারা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল। সমস্ত ফয়সালা তাঁরই এবং তোমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাবে। তারা পরাজিত হবে। হা-মীম। তাদের সাহায্য করা হবে না। হা-মীম, আইন, সীন, ক্বফ। আল্লাহর শত্রুরা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং আল্লাহর দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। অতঃপর আল্লাহই তাদের বিরুদ্ধে আপনার জন্য যথেষ্ট হবেন এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।" আবু দুজানা বললেন, আমি পত্রটি গ্রহণ করলাম এবং তা বের করে আমার বাড়িতে নিয়ে গেলাম। আমি তা আমার মাথার নিচে রাখলাম এবং রাত কাটালাম। হঠাৎ এক চিৎকারকারীর চিৎকারে আমার ঘুম ভেঙে গেল, যে বলছিল, "হে আবু দুজানা! তুমি আমাদের আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছ। তোমার সঙ্গীর দোহাই দিয়ে বলছি, তুমি আমাদের ওপর থেকে এই পত্রটি সরিয়ে নাও। আমরা আর কখনো তোমার বাড়িতে ফিরব না এবং এমন কোনো স্থানেও থাকব না যেখানে এই পত্র থাকবে।" আমি বললাম, "না, আমার সঙ্গী আল্লাহর রাসূলের শপথ! আমি এটি সরাব না যতক্ষণ না আমি আল্লাহর রাসূলের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) অনুমতি গ্রহণ করি।" আবু দুজানা বললেন, জিনদের সেই আর্তনাদ ও কান্নাকাটির কারণে রাতটি আমার কাছে অনেক দীর্ঘ মনে হলো। সকাল হলে আমি আল্লাহর রাসূলের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) কাছে গেলাম এবং তাদের সাথে আমার যা ঘটেছিল তা তাঁকে জানালাম। তিনি বললেন, "হে আবু দুজানা, তাদের ওপর থেকে এটি সরিয়ে নাও। যাঁর হাতে আমার প্রাণ এবং যিনি আমাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ! তারা কিয়ামত পর্যন্ত এই আজাবের যন্ত্রণা ভোগ করতে থাকবে।" (সমাপ্ত)
ইমাম বায়হাকী বলেন, আবু দুজানার রক্ষাকবচ সম্পর্কে একটি বানোয়াট হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যা বর্ণনা করা বৈধ নয়। (সমাপ্ত)
তিনি যেদিকে ইশারা করেছেন, সেটি ইবনুল জাওযী তাঁর 'আল-মাওযুআত' (বানোয়াট হাদিসসমূহ) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, সাহাবীদের মধ্যে মূসা নামে কেউ ছিলেন না। (সমাপ্ত)
আল-মুনযিরী 'হাওয়াশিস সুনান'-এ বলেন, 'শিআর' হলো এমন চিহ্ন যার মাধ্যমে তারা যুদ্ধের ময়দানে একে অপরকে চিনতে পারত, যাতে একজন ব্যক্তি তার সঙ্গীকে শনাক্ত করতে পারে। তিনি বলেন, সা'লাব 'তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না'—এই বাক্যাংশ সম্পর্কে বলেন যে, এটি...
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
خبر وَلَو كَانَ دُعَاء لَكَانَ مَجْزُومًا أَي قُولُوا حم فَإِنَّهُم لَا ينْصرُونَ وَاخْتَارَ أَبُو عبيد أَن يرْوَى بِالْجَزْمِ جَوَابا لِلْأَمْرِ أَي إِن قُلْتُمْ حم لَا تنصرُوا انْتَهَى وَهَذَا الَّذِي نَقله عَن أبي عبيد ذكره أَبُو عبيد وَهُوَ الْقَاسِم بن سَلام فِي كتاب فَضَائِل الْقُرْآن فَقَالَ المحدثون يَقُولُونَهُ لَا ينْصرُونَ بالنُّون وَإِعْرَابه لَا ينصرُوا انْتَهَى
15 - الحَدِيث الثَّانِي
عَن الْحسن بن عَلّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يَقُول دع مَا يريبك إِلَى مَا لَا يريبك فَإِن الشَّك رِيبَة وَإِن الصدْق طمأنينة
قلت رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ فِي آخر كتاب الطِّبّ من حَدِيث شُعْبَة عَن بريد بن أبي مَرْيَم عَن أبي الْحَوْرَاء السَّعْدِيّ عَن الْحسن بن عَلّي عَن جده النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ أَنه قَالَ دع مَا يريبك إِلَى مَا لَا يريبك فَإِن الصدْق طمأنينة وَإِن الْكَذِب رِيبَة انْتَهَى قَالَ وَفِي الحَدِيث قصَّة هَذَا حَدِيث صَحِيح انْتَهَى
وَرَوَاهُ أَحْمد فِي مُسْنده بالسند والمتن الْمَذْكُورين وَكَذَلِكَ إِسْحَاق بن رَاهَوَيْه فِي مُسْنده وَأَبُو يعْلى الْموصِلِي وَالْحَاكِم فِي مُسْتَدْركه فِي كتاب الْأَحْكَام وَالطَّيَالِسِي فِي مُسْنده وَمن طَرِيقه الْبَزَّار وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه فِي النَّوْع الثَّالِث وَالْعِشْرين من الْقسم الثَّانِي مَعَه بِالْإِسْنَادِ الْمَذْكُور وَقَالَ فِيهِ فَإِن الْخَيْر طمأنينة وَإِن الشَّك رِيبَة
وَرَوَاهُ الْحَاكِم فِي مُسْتَدْركه بِالْإِسْنَادِ الْمَذْكُور وَقَالَ فِيهِ فَإِن الْخَيْر طمأنينة وَإِن الشَّرّ رِيبَة ذكره فِي الْبيُوع
وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان فِي الْبَاب التَّاسِع وَالثَّلَاثِينَ من حَدِيث الْحسن ابْن عبيد الله عَن بريد بن أبي مَرْيَم عَن أبي الْحَوْرَاء عَن الْحسن بن عَلّي قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يَقُول لرجل أَتَاهُ دع مَا يريبك إِلَى مَا لَا يريبك فَإِن الشَّرّ رِيبَة وَالْخَيْر طمأنينة ثمَّ قَالَ وَرَوَاهُ شُعْبَة عَن بريد بن أبي مَرْيَم فَقَالَ فِيهِ فَإِن الصدْق طمأنينة وَإِن الْكَذِب رِيبَة انْتَهَى
এটি একটি সংবাদ (খবর); যদি এটি দুআ হতো তবে তা জজম (মাজজুম) যুক্ত হতো। অর্থাৎ, তোমরা বলো 'হা-মীম', তবে তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। আবু উবাইদ আমরের জবাব হিসেবে একে জজমের সাথে বর্ণনা করাকে পছন্দ করেছেন। অর্থাৎ, যদি তোমরা 'হা-মীম' বলো তবে তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। সমাপ্ত। আবু উবাইদ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা আবু উবাইদ তথা আল-কাসিম বিন সাল্লাম তার 'ফাদায়িলুল কুরআন' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, মুহাদ্দিসগণ একে নুনসহ 'লা ইউনসারুন' বলেন, অথচ এর ব্যাকরণিক রূপ হলো 'লা ইউনসারু'। সমাপ্ত।
১৫ - দ্বিতীয় হাদিস
হাসান ইবনে আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "সন্দেহযুক্ত বিষয় ত্যাগ করে যাতে সন্দেহ নেই তাতে মনোনিবেশ করো। কেননা সন্দেহ হলো দ্বিধা, আর সত্য হলো প্রশান্তি।"
আমি বলি, তিরমিজি 'কিতাবুত তিব্ব'-এর শেষে শু'বা এর হাদিস থেকে বুরাইদ ইবনে আবি মারইয়াম সূত্রে আবু আল-হাওরা আস-সাদি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি হাসান ইবনে আলী থেকে এবং তিনি তার নানা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "সন্দেহযুক্ত বিষয় ত্যাগ করে যাতে সন্দেহ নেই তাতে মনোনিবেশ করো। কেননা সত্য হলো প্রশান্তি এবং মিথ্যা হলো দ্বিধা।" সমাপ্ত। তিনি বলেন, হাদিসটিতে একটি ঘটনা রয়েছে। এটি একটি সহিহ হাদিস। সমাপ্ত।
আহমদ তার মুসনাদে উল্লেখিত সনদ ও মতনসহ এটি বর্ণনা করেছেন। একইভাবে ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ তার মুসনাদে, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি, হাকেম তার মুসতাদরাকের 'কিতাবুল আহকাম'-এ এবং তায়ালিসি তার মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন। তায়ালিসির সূত্র ধরে আল-বাজজারও এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডের তেইশতম প্রকারে উল্লেখিত সনদসহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বলেছেন: "কেননা কল্যাণ হলো প্রশান্তি এবং সন্দেহ হলো দ্বিধা।"
হাকেম তার মুসতাদরাকে উল্লেখিত সনদসহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বলেছেন: "কেননা কল্যাণ হলো প্রশান্তি এবং অকল্যাণ হলো দ্বিধা।" তিনি এটি ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।
বায়হাকি 'শুআবুল ইমান'-এর উনচল্লিশতম অধ্যায়ে হাসান ইবনে উবাইদুল্লাহ এর হাদিস থেকে বুরাইদ ইবনে আবি মারইয়াম সূত্রে আবু আল-হাওরা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি হাসান ইবনে আলী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর কাছে আসা এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি: "সন্দেহযুক্ত বিষয় ত্যাগ করে যাতে সন্দেহ নেই তাতে মনোনিবেশ করো। কেননা অকল্যাণ হলো দ্বিধা এবং কল্যাণ হলো প্রশান্তি।" অতঃপর তিনি বলেন, শু'বা বুরাইদ ইবনে আবি মারইয়াম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বলেছেন: "কেননা সত্য হলো প্রশান্তি এবং মিথ্যা হলো দ্বিধা।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَرَوَاهُ بِلَفْظ المُصَنّف الطَّبَرَانِيّ فِي مُعْجَمه من حَدِيث شُعْبَة بِالْإِسْنَادِ الْمُتَقَدّم وَقَالَ فِيهِ فَإِن الشَّك رِيبَة وَإِن الصدْق طمأنينة
وَكَذَلِكَ رَوَاهُ الْبَزَّار فِي مُسْنده وَزَاد فِيهِ قنوت الْوتر وَتَمْرَة الصَّدَقَة وَالله أعلم
وَكَذَلِكَ رَوَاهُ ابْن سعد فِي الطَّبَقَات فِي تَرْجَمَة الْحسن بن عَلّي وَهِي الطَّبَقَة الْخَامِسَة فِيمَن مَاتَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ وهم أَحْدَاث الْأَسْنَان وَالله الْمُوفق
16 - الحَدِيث الثَّالِث
قَالَ المُصَنّف رحمه الله وَمِنْه أَنه مر بِظَبْيٍ حَاقِف فَقَالَ لَا يربه أحد بِشَيْء
قلت رَوَى الْبَزَّار فِي سننيه الْكُبْرَى وَالصُّغْرَى فِي كتاب الْحَج من حَدِيث عِيسَى بن طَلْحَة عَن عُمَيْر بن سَلمَة الضمرِي عَن الْبَهْزِي أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ خرج يُرِيد مَكَّة وَهُوَ محرم حَتَّى إِذا كَانَ بِالْإِثَابَةِ بَين الرُّوَيْثَة وَالْعَرج إِذا ظَبْي حَاقِف فِي ظلّ وَفِيه سهم فَأمر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ رجلا أَن يقف عِنْده لَا يرِيبهُ أحد من النَّاس حَتَّى تجَاوزُوهُ
وَكَذَلِكَ رَوَاهُ مَالك فِي موطئِهِ فِي الْحَج أخبرنَا يَحْيَى بن سعيد عَن مُحَمَّد ابْن إِبْرَاهِيم التَّيْمِيّ عَن عِيسَى بن طَلْحَة بِهِ
وَمن طَرِيق مَالك رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه فِي أول النَّوْع الثَّالِث من الْقسم الرَّابِع
وَرَوَاهُ إِسْحَاق بن رَاهَوَيْه فِي مُسْنده أخبرنَا جرير عَن يَحْيَى بن سعيد عَن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم التَّيْمِيّ عَن عِيسَى بن طَلْحَة بِهِ وَلَفظه فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ لبَعض الْقَوْم قف حَتَّى يمر النَّاس وَلَا يرِيبهُ أحد بِشَيْء
وَرَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيّ فِي كِتَابه الْعِلَل من حَدِيث حَمَّاد بن زيد عَن يَحْيَى بن
তাবারানি তাঁর মু'জামে মুসান্নিফের (গ্রন্থকারের) শব্দে শু'বার হাদিস থেকে পূর্বোক্ত সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বলেছেন: নিশ্চয়ই সংশয় হলো দ্বিধা আর সত্য হলো প্রশান্তি।
একইভাবে বাযযার তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বিতরের কুনুত ও সদকার খেজুরের কথা বৃদ্ধি করেছেন। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
একইভাবে ইবনে সাদ 'তাবাকাত'-এ হাসান ইবনে আলীর জীবনীতে এটি বর্ণনা করেছেন; আর এটি হলো সেই পঞ্চম স্তর (তাবাকা) যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের সময় অল্পবয়সী ছিলেন। আল্লাহ-ই তাওফিকদাতা।
১৬ - তৃতীয় হাদিস
মুসান্নিফ (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: তার মধ্য থেকে একটি হলো এই যে, তিনি কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে থাকা একটি হরিণের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন: কেউ যেন একে কোনোভাবে বিরক্ত না করে।
আমি বলছি, বাযযার তাঁর সুনানে কুবরা ও সুনানে সুগরায় হজ অধ্যায়ে ঈসা ইবনে তালহার হাদিস থেকে, তিনি উমাইর ইবনে সালামাহ আদ-দামরি থেকে, তিনি আল-বাহযি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন। যখন তিনি রুওয়াইসাহ ও আল-আরজের মধ্যবর্তী আল-ইসাবাহ নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন ছায়ায় কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে থাকা একটি হরিণ দেখতে পেলেন যার গায়ে একটি তীর বিদ্ধ ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে যেন লোকেরা তাকে অতিক্রম করে চলে যাওয়া পর্যন্ত কেউ তাকে বিরক্ত না করে।
একইভাবে ইমাম মালিক তাঁর মুওয়াত্তায় হজ অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে, তিনি ঈসা ইবনে তালহা থেকে উক্ত সনদে।
আর মালিকের সূত্রে ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ্-তে চতুর্থ পরিচ্ছেদের তৃতীয় প্রকারের শুরুতে এটি বর্ণনা করেছেন।
আর ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারীর, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে, তিনি ঈসা ইবনে তালহা থেকে উক্ত সনদে। এর শব্দ হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে বললেন, দাঁড়াও যতক্ষণ না মানুষ অতিক্রম করে যায় এবং কেউ যেন একে কোনোভাবে বিরক্ত না করে।
আর দারা কুতনি তাঁর 'আল-ইলাল' গ্রন্থে হাম্মাদ ইবনে যাইদের হাদিস থেকে ইয়াহইয়া ইবনে... এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
سعيد عَن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم التَّيْمِيّ عَن عِيسَى بن طَلْحَة بِهِ وَلَفظه فَقَالَ إِن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ خرج من الْمَدِينَة حَتَّى أَتَى الروحاء
… إِلَى أَن قَالَ فجَاء رجل من بهز فَذكره ثمَّ تكلم عَلَيْهِ كلَاما طَويلا وَمُلَخَّصه أَن جمَاعَة جعلُوا الحَدِيث من رِوَايَة الْبَهْزِي عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ وَإِنَّمَا هُوَ من رِوَايَة عُمَيْر بن سَلمَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ وَمِنْهُم هشيم وَحَمَّاد بن زيد قَالَ وَالَّذين قَالُوا فِيهِ عَن الْبَهْزِي إِنَّمَا هُوَ لكَونه صَاحب الْقِصَّة لَا أَن عُمَيْر بن سَلمَة رَوَاهُ عَنهُ قَالَ وَرَأَيْت سُلَيْمَان ابْن حَرْب يَقُول الحَدِيث من رِوَايَة عُمَيْر بن سَلمَة انْتَهَى كَلَامه مُلَخصا
وَذكر عبد الْحق فِي أَحْكَامه هَذَا الحَدِيث فِي كتاب الصَّيْد من جِهَة مَالك وَسكت عَنهُ وَأقرهُ ابْن الْقطَّان عَلَيْهِ فَهُوَ صَحِيح عِنْدهمَا وَالله أعلم
وَمن طَرِيق مَالك أَيْضا رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي الْمعرفَة
وَرَأَيْت فِي مُسْند أَبَى يعْلى الْموصِلِي رَوَى عَن مخول الْبَهْزِي حَدِيثا قَرِيبا من هَذَا وَلم أعرف هَل هُوَ هَذَا الْبَهْزِي أَو غَيره وَلَفظه قَالَ نصبت حبائل لي فَوَقع فِيهَا ظَبْي فَأَفلَت وَالْحَبل فِي رجله فَخرجت أَقْفُوهُ فَسَبَقَنِي إِلَيْهِ رجل فَاخْتَصَمْنَا ثمَّ ترافعنا إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فَجعله بَيْننَا نِصْفَيْنِ
وَقَالَ ابْن عبد الْبر فِي التَّقَصِّي وَمن أَصْحَاب يَحْيَى بن سعيد من يَجْعَل هَذَا الحَدِيث عَن عُمَيْر بن سَلمَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ لَا يذكر فِيهِ الْبَهْزِي وَعُمَيْر بن سَلمَة من الصَّحَابَة انْتَهَى كَلَامه
17 - الحَدِيث الرَّابِع
قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ من قتل قَتِيلا فَلهُ سلبه
قلت رَوَاهُ الْجَمَاعَة خلا النَّسَائِيّ من حَدِيث أبي قَتَادَة قَالَ خرجنَا مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ عَام حنين فَلَمَّا الْتَقَيْنَا كَانَت للْمُسلمين جَوْلَة إِلَى أَن قَالَ وَجلسَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فَقَالَ من قتل قَتِيلا لَهُ عَلَيْهِ بَيِّنَة فَلهُ سلبه مُخْتَصر ذَكرُوهُ فِي الْجِهَاد
সাঈদ, মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে, তিনি ঈসা ইবনে তালহা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তার শব্দচয়ন হলো, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনা থেকে বের হলেন যতক্ষণ না তিনি রাওহা নামক স্থানে পৌঁছালেন
... এরপর তিনি বলেন, বাহয গোত্রের এক ব্যক্তি আসলেন এবং বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তারপর তিনি এর ওপর দীর্ঘ আলোচনা করলেন যার সারমর্ম হলো, একদল বর্ণনাকারী হাদীসটিকে বাহযী থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণনা হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, অথচ এটি মূলত উমাইর ইবনে সালামাহ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণনা। তাদের মধ্যে হুশাইম এবং হাম্মাদ ইবনে যাইদ রয়েছেন। তিনি বলেন, যারা এতে বাহযীর বর্ণনা বলেছেন, তা কেবল তিনি এই ঘটনার মূল ব্যক্তি হওয়ার কারণে, উমাইর ইবনে সালামাহ তার থেকে এটি বর্ণনা করার কারণে নয়। তিনি বলেন, আমি সুলাইমান ইবনে হারবকে বলতে দেখেছি যে হাদীসটি উমাইর ইবনে সালামাহর বর্ণনা থেকে। তার সারসংক্ষেপিত বক্তব্য এখানেই শেষ।
আব্দুল হক তার ‘আহকাম’ গ্রন্থে শিকার অধ্যায়ে ইমাম মালিকের সূত্র থেকে এই হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এবং এ ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন। ইবনুল কাত্তান একে সমর্থন করেছেন, ফলে এটি তাদের উভয়ের নিকট সহীহ। আল্লাহই ভালো জানেন।
ইমাম মালিকের সূত্রেই ইমাম বাইহাকী ‘আল-মা’রিফাহ’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
আমি আবু ইয়ালা আল-মাওসিলির মুসনাদে দেখেছি যে, তিনি মাখুল আল-বাহযী থেকে এর কাছাকাছি একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমি নিশ্চিত নই যে তিনি এই বাহযী নাকি অন্য কেউ। এর শব্দগুলো হলো: তিনি বললেন, আমি আমার জন্য শিকারের জাল পেতেছিলাম, তাতে একটি হরিণ পড়ল কিন্তু তা পালিয়ে গেল, আর রশিটি ছিল তার পায়ে। আমি তার পদচিহ্ন অনুসরণ করে বের হলাম, তবে আমার আগেই এক ব্যক্তি সেটির নিকট পৌঁছে গেল। ফলে আমরা বিতর্কে লিপ্ত হলাম, তারপর আমরা বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পেশ করলাম। তিনি এটি আমাদের মাঝে দুই ভাগে ভাগ করে দিলেন।
ইবনে আব্দুল বার ‘আত-তাকাসসি’ গ্রন্থে বলেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের সাথীদের মধ্যে কেউ কেউ এই হাদীসটিকে উমাইর ইবনে সালামাহ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণনা হিসেবে সাব্যস্ত করেন, সেখানে বাহযীর উল্লেখ করেন না। আর উমাইর ইবনে সালামাহ সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত। তার বক্তব্য সমাপ্ত।
১৭ - চতুর্থ হাদীস
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো শত্রুকে হত্যা করবে, সে তার লুণ্ঠিত মালামাল পাবে।
আমি বলি, ইমাম নাসাঈ ব্যতীত বর্ণনাকারীদের পুরো জামাত এটি আবু কাতাদার হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা হুনাইন যুদ্ধের বছর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বের হলাম। যখন আমরা শত্রুর মুখোমুখি হলাম, তখন মুসলিমদের মধ্যে সাময়িক বিশৃঙ্খলা দেখা দিল
... এরপর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসলেন এবং বললেন: যে ব্যক্তি কোনো শত্রুকে হত্যা করবে এবং তার সপক্ষে প্রমাণ থাকবে, সে তার লুণ্ঠিত মালামাল পাবে। এটি সংক্ষেপে জিহাদ অধ্যায়ে তারা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وَعَزاهُ الطَّيِّبِيّ لأبي دَاوُد من حَدِيث ابْن عَبَّاس وَهُوَ غلط لِأَن الَّذِي فِي أبي دَاوُد عَن ابْن عَبَّاس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَالَ يَوْم بدر من قتل قَتِيلا فَلهُ كَذَا وَكَذَا لم يقل فِيهِ فَلهُ سلبه هَذَا مَعَ ذُهُوله عَن الصَّحِيحَيْنِ وَفِيهِمَا لفظ الحَدِيث
18 - الحَدِيث الْخَامِس
عَن ابْن عَبَّاس إِذا أَرَادَ أحدكُم الْحَج فَليَتَعَجَّل فَإِنَّهُ يمرض الْمَرِيض وَتضِل الضَّالة وَتلف الْحَاجة
قلت هَكَذَا ذكره المُصَنّف مَوْقُوفا وَهُوَ حَدِيث مَرْفُوع رَوَاهُ ابْن مَاجَه فِي سنَنه فِي أول كتاب الْحَج عَن وَكِيع ثَنَا أَبُو إِسْرَائِيل عَن فُضَيْل بن عَمْرو عَن سعيد بن جُبَير عَن ابْن عَبَّاس عَن الْفضل أَو أَحدهمَا عَن الآخر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ من أَرَادَ الْحَج فَليَتَعَجَّل فَإِنَّهُ قد يمرض الْمَرِيض وَتضِل الضَّالة وَتعرض الْحَاجة انْتَهَى
وَرَوَاهُ أَحْمد فِي مُسْنده وَكَذَلِكَ إِسْحَاق بن رَاهَوَيْه فِي مُسْنده
وَذهل الطَّيِّبِيّ أَيْضا فَعَزاهُ لأبي دَاوُد فَقَط وَقَالَ لَيْسَ فِيهِ الزِّيَادَات يَعْنِي قَوْله فَإِنَّهُ قد يمرض الْمَرِيض إِلَى آخِره وَلَيْسَ فِيهِ فَائِدَة لِأَن المُصَنّف احْتج بِهِ وَبِحَدِيث من قتل قَتِيلا عَلَى تَسْمِيَة الشَّيْء بِاعْتِبَار مَا يؤول إِلَيْهِ وَأَبُو دَاوُد رَوَاهُ من حَدِيث مهْرَان عَن ابْن عَبَّاس بِهِ مُخْتَصرا وَأَبُو إِسْرَائِيل الْملَائي اسْمه إِسْمَاعِيل ابْن أبي إِسْحَاق رَوَى عَنهُ جمَاعَة مِنْهُم وَكِيع قَالَ أَحْمد يكْتب حَدِيثه وَقَالَ ابْن معِين صَالح وَقَالَ أَبُو حَاتِم يكْتب حَدِيثه وَلَا يحْتَج بِهِ فَإِنَّهُ سيئ الْحِفْظ وَقَالَ أَبُو زرْعَة كُوفِي صَدُوق انْتَهَى من الإِمَام
তিবী এটিকে ইবনে আব্বাসের হাদিস থেকে আবু দাউদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, যা একটি ভুল; কারণ আবু দাউদে ইবনে আব্বাস থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বদরের দিন বলেছিলেন: "যে ব্যক্তি কোনো শত্রুকে হত্যা করবে, তার জন্য এই এই পুরস্কার রয়েছে।" তিনি সেখানে "তার জন্য তার ব্যবহৃত সরঞ্জাম (সালব) রয়েছে" কথাটি বলেননি। এটি সহীহাইন সম্পর্কে তিবীর অসতর্কতার কারণে হয়েছে, অথচ সেই দুই গ্রন্থেই হাদিসটির শব্দাবলি বিদ্যমান রয়েছে।
১৮ - পঞ্চম হাদিস
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তোমাদের কেউ যখন হজের সংকল্প করে, সে যেন তা দ্রুত সম্পাদন করে। কারণ অসুস্থ ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ে, বাহন হারিয়ে যায় এবং হাজত বা প্রয়োজন দেখা দেয়।
আমি বলছি, লেখক এটিকে এভাবেই মাওকুফ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, অথচ এটি একটি মারফু হাদিস। ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে হজের কিতাবের শুরুতে ওকি’ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসরাঈল থেকে, তিনি ফুদায়েল বিন আমর থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি ফদল থেকে (অথবা তাদের একজন অন্যজন থেকে) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি হজের ইচ্ছা করে সে যেন তাড়াহুড়ো করে, কারণ অসুস্থ ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, বাহন হারিয়ে যেতে পারে এবং নতুন কোনো প্রয়োজন সামনে আসতে পারে।" সমাপ্ত।
ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে এবং তদ্রূপ ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন।
তিবী এখানেও অসতর্ক হয়েছেন এবং এটিকে শুধুমাত্র আবু দাউদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন এবং বলেছেন যে, এতে অতিরিক্ত অংশটুকু নেই—অর্থাৎ তাঁর উক্তি "কারণ অসুস্থ ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে..." শেষ পর্যন্ত। কিন্তু এতে কোনো ফায়দা নেই, কারণ লেখক এটি এবং "যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করবে" হাদিসটি দ্বারা কোনো জিনিসের নামকরণ তার পরিণতির বিচারে হওয়ার ক্ষেত্রে দলিল পেশ করেছেন। আবু দাউদ এটি মেহরানের হাদিস থেকে ইবনে আব্বাসের সূত্রে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। আর আবু ইসরাঈল আল-মুলাইয়ি-এর নাম হলো ইসমাইল ইবনে আবি ইসহাক। ওকি’ সহ একদল রাবী তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আহমদ বলেছেন, তাঁর হাদিস লিখে রাখা যাবে। ইবনে মাঈন বলেছেন, তিনি সৎ। আবু হাতিম বলেছেন, তাঁর হাদিস লেখা যাবে কিন্তু তা দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না, কারণ তিনি দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। আবু জুরআ বলেছেন, তিনি কুফার অধিবাসী ও সত্যবাদী। 'আল-ইমাম' থেকে সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
19 - الحَدِيث السَّادِس وَالسَّابِع وَالثَّامِن
قَالَ وَسَمَّى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ الصَّلَاة عماد الدَّين وَجعل الْفَاصِل بَين الْإِسْلَام وَالْكفْر ترك الصَّلَاة وَسَمَّى الزَّكَاة قنطرة الْإِسْلَام
قلت الحَدِيث الأول رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان فِي الْبَاب الْعشْرين مِنْهُ عَن أبي عبد الله الْحَاكِم بِسَنَدِهِ إِلَى عِكْرِمَة عَن عمر قَالَ جَاءَ رجل فَقَالَ يَا رَسُول الله أَي شَيْء أحب عِنْد الله فَقَالَ الصَّلَاة لوَقْتهَا وَمن ترك الصَّلَاة فَلَا دين لَهُ وَالصَّلَاة عماد الدَّين انْتَهَى ثمَّ قَالَ الْبَيْهَقِيّ وَعِكْرِمَة لم يسمع من عمر وَأرَاهُ عَن ابْن عمر انْتَهَى كَلَامه
قلت الظَّاهِر أَن عِكْرِمَة هَذَا هُوَ عِكْرِمَة بن خَالِد بن سعيد بن الْعَاصِ لَا عِكْرِمَة مولَى ابْن عَبَّاس وَهُوَ أوثق من مولَى ابْن عَبَّاس وَرَوَى ابْن أبي حَاتِم فِي مراسيله عَن أَحْمد بن حَنْبَل أَنه قَالَ لم يسمع عِكْرِمَة بن خَالِد من عمر إِنَّمَا سمع من ابْن عمر بل قَالَ أَبُو زرْعَة عِكْرِمَة بن خَالِد عَن عُثْمَان مُرْسل فضلا عَن عمر انْتَهَى
وَقَالَ ابْن الْقطَّان فِي كِتَابه الْوَهم وَالْإِيهَام عِكْرِمَة بن خَالِد رجلَانِ وَكِلَاهُمَا مخزوميان
أَحدهمَا عِكْرِمَة بن خَالِد بن سعيد بن الْعَاصِ وَهُوَ تَابِعِيّ يروي عَن ابْن عمر وَابْن عَبَّاس وَرَوَى عَنهُ عَمْرو بن دِينَار وَإِبْرَاهِيم بن مهَاجر وَابْن جريج وعامر الْأَحول وحَنْظَلَة بن أبي سُفْيَان وَثَّقَهُ النَّسَائِيّ وَابْن معِين وَأَبُو زرْعَة وَلم يسمع فِيهِ بِتَضْعِيف قطّ وَقد أخرج لَهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
وَالْآخر عِكْرِمَة بن خَالِد بن سَلمَة يروي عَن أَبِيه وَعنهُ مُسلم بن إِبْرَاهِيم وَنصر بن عَلّي ذكره إلْيَاس فِي الضُّعَفَاء قَالَ البُخَارِيّ وَأَبُو حَاتِم هُوَ مُنكر الحَدِيث
وَرَوَى أَبُو الْقَاسِم الْأَصْبَهَانِيّ فِي كِتَابه التَّرْغِيب والترهيب عَن أبي إِسْحَاق عَن الْحَارِث عَن عَلّي قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ الصَّلَاة عماد الْإِسْلَام
১৯ - ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম হাদীস
তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতকে দ্বীনের খুঁটি হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং ইসলাম ও কুফরের মাঝে পার্থক্যকারী হিসেবে সালাত পরিত্যাগ করাকে নির্ধারণ করেছেন, আর তিনি জাকাতকে ইসলামের সেতু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
আমি বলি: প্রথম হাদীসটি ইমাম বায়হাকী তাঁর ‘শুআবুল ইমান’ গ্রন্থের বিংশতম অধ্যায়ে আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম থেকে তাঁর সনদে ইকরিমা-এর সূত্রে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় বিষয় কোনটি? তিনি বললেন: ওয়াক্তমতো সালাত আদায় করা; আর যে সালাত পরিত্যাগ করে তার কোনো দ্বীন নেই, এবং সালাত হলো দ্বীনের খুঁটি। (সমাপ্ত)। অতঃপর বায়হাকী বলেন: ইকরিমা উমর (রা.) থেকে সরাসরি শোনেননি, আমার মতে তিনি এটি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। (তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত)।
আমি বলি: প্রকাশ্যত এই ইকরিমা হলেন ইকরিমা বিন খালিদ বিন সাঈদ বিন আল-আস, ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমা নন। তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাসের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। ইবনে আবি হাতিম তাঁর ‘মারাসিল’ গ্রন্থে আহমদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ইকরিমা বিন খালিদ উমর (রা.) থেকে শোনেননি, বরং তিনি ইবনে উমর থেকে শুনেছেন। এমনকি আবু যুরআ বলেছেন: ইকরিমা বিন খালিদ কর্তৃক উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসই মুরসাল, উমর (রা.)-এর কথা তো বলাই বাহুল্য। (সমাপ্ত)।
ইবনুল কাত্তান তাঁর ‘আল-ওয়াহমু ওয়াল ইহাম’ গ্রন্থে বলেছেন: ইকরিমা বিন খালিদ নামে দুইজন ব্যক্তি রয়েছেন এবং তাঁরা উভয়ই মাখযুমী গোত্রের।
তাঁদের একজন হলেন ইকরিমা বিন খালিদ বিন সাঈদ বিন আল-আস। তিনি একজন তাবিঈ, যিনি ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আমর বিন দীনার, ইব্রাহিম বিন মুহাজির, ইবনে জুরাইজ, আমির আল-আহওয়াল এবং হানজালা বিন আবু সুফিয়ান। ইমাম নাসাঈ, ইবনে মাঈন এবং আবু যুরআ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং তাঁর ব্যাপারে কখনও কোনো দুর্বলতার কথা শোনা যায়নি। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম তাঁর হাদীস গ্রহণ করেছেন।
আর অন্যজন হলেন ইকরিমা বিন খালিদ বিন সালামাহ। তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন এবং তাঁর থেকে মুসলিম বিন ইব্রাহিম ও নাসর বিন আলী বর্ণনা করেছেন। ইলিয়াস তাঁকে দুর্বল বর্ণনাকারীদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারী ও আবু হাতিম বলেছেন: তিনি ‘মুনকারুল হাদীস’।
আবুল কাসিম আল-আসবাহানী তাঁর ‘আত-তারগীব ওয়াত তারহীব’ গ্রন্থে আবু ইসহাক থেকে, তিনি হারিস থেকে এবং তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: সালাত হলো ইসলামের খুঁটি।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
وَالْجهَاد سَنَام الْعَمَل انْتَهَى والْحَارث ضَعِيف جدا
وَذهل ابْن صَلَاح فِي كِتَابه مُشكل الْوَسِيط فَقَالَ إِن هَذَا الحَدِيث غير صَحِيح وَلَا مَعْرُوف فقد رُوِيَ من وَجْهَيْن كَمَا بَيناهُ وَكَأَنَّهُ لم يظفر بِهِ أصلا
الحَدِيث الثَّانِي من الثَّلَاثَة أَحَادِيث الْمَذْكُورَة رَوَاهُ مُسلم فِي صَحِيحه فِي كتاب الْإِيمَان من حَدِيث أبي سُفْيَان طَلْحَة بن نَافِع عَن جَابر بن عبد الله انه سمع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ يَقُول بَين الرجل وَبَين الْكفْر ترك الصَّلَاة انْتَهَى
الحَدِيث الثَّالِث رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان فِي الْبَاب الْحَادِي وَالْعِشْرين مِنْهُ عَن بَقِيَّة بن الْوَلِيد عَن الضَّحَّاك بن حمرَة عَن حطَّان بن عبد الله الرقاشِي عَن أبي الدَّرْدَاء قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ الزَّكَاة قنطرة الْإِسْلَام انْتَهَى
وَرَوَاهُ إِسْحَاق بن رَاهَوَيْه فِي مُسْنده أخبرنَا بَقِيَّة بن الْوَلِيد بِهِ سندا ومتنا
وَمن طَرِيق ابْن رَاهَوَيْه رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي مُعْجَمه وَرَوَاهُ ابْن عدي فِي كِتَابه الْكَامِل وَمن طَرِيق ابْن عدي رَوَاهُ ابْن الْجَوْزِيّ فِي كِتَابه الْعِلَل المتناهية وَأَعلاهُ بِالضحاكِ بن حمرَة قَالَ ابْن عدي ضعفه النَّسَائِيّ وَابْن معِين وَمَشاهُ ابْن عدي وَقَالَ إِن أَحَادِيثه حسان غرائب
وَرَوَاهُ كَذَلِك الْقُضَاعِي فِي مُسْند الشهَاب وَأَبُو الْقَاسِم الْأَصْبَهَانِيّ فِي كِتَابه التَّرْغِيب والترهيب
20 - قَوْله
رُوِيَ أَن أَصْحَاب عبد الله بن مَسْعُود ذكرُوا أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ وَإِيمَانهمْ فَقَالَ عبد الله بن مَسْعُود إِن أَمر مُحَمَّد كَانَ أمرا بَينا لمن رَآهُ وَالَّذِي لَا إِلَه إِلَّا هُوَ مَا آمن مُؤمن أفضل من إِيمَان بِغَيْب ثمَّ قَرَأَ الَّذين يُؤمنُونَ بِالْغَيْبِ الْآيَة
আর জিহাদ হলো আমলের কুঁজ (সর্বোচ্চ শিখর)। সমাপ্ত। আর আল-হারিস অত্যন্ত দুর্বল।
ইবনে সালাহ তাঁর কিতাব 'মুশকিলাল ওয়াসীত'-এ বিভ্রমে পতিত হয়েছেন, তিনি বলেছেন যে এই হাদিসটি সহিহ নয় এবং এটি পরিচিতও নয়। অথচ এটি দুটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যেমনটি আমরা স্পষ্ট করেছি, মনে হচ্ছে তিনি এটি আদৌ পাননি।
উল্লেখিত তিনটি হাদিসের মধ্যে দ্বিতীয়টি ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থের ঈমান অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন; এটি আবু সুফিয়ান তালহা বিন নাফে'র সূত্রে জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "ব্যক্তি এবং কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ ত্যাগ করা।" সমাপ্ত।
তৃতীয় হাদিসটি ইমাম বায়হাকী তাঁর 'শুআবুল ঈমান'-এর একুশতম অধ্যায়ে বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ থেকে, তিনি যাহহাক বিন হামরা থেকে, তিনি হিত্তান বিন আবদুল্লাহ আর-রাকাশী থেকে, তিনি আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জাকাত হলো ইসলামের সেতুবন্ধ।" সমাপ্ত।
আর ইসহাক বিন রাহওয়াইহি তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের কাছে এই হাদিসটি এর সনদ ও মতনসহ বর্ণনা করেছেন।
ইবনে রাহওয়াইহির সূত্রে তাবারানী তাঁর মু'জাম-এ এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আদি তাঁর 'আল-কামিল' কিতাবে এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে আদির সূত্রে ইবনুল জাওযী তাঁর 'আল-ইলালুল মুতানাহিয়্যাহ' কিতাবে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি যাহহাক বিন হামরাকে এর দুর্বলতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইবনে আদি বলেন: ইমাম নাসাঈ এবং ইবনে মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন, তবে ইবনে আদি তাকে সমর্থন করেছেন এবং বলেছেন যে তার হাদিসগুলো সুন্দর ও বিরল (হাসান গরীব)।
অনুরূপভাবে কুযায়ী 'মুসনাদুশ শিহাব'-এ এবং আবুল কাসিম আল-আসবাহানী তাঁর 'আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব' কিতাবে এটি বর্ণনা করেছেন।
২০ - তাঁর উক্তি
বর্ণিত আছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের সাথীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবায়ে কেরাম এবং তাঁদের ঈমান সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বললেন: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিষয়টি তো তাঁদের জন্য সুস্পষ্ট ছিল যারা তাঁকে দেখেছিলেন। কিন্তু সেই সত্তার কসম, যাঁর ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, অদৃশ্যের (গায়েবের) প্রতি ঈমান আনার চেয়ে উত্তম ঈমান কোনো মুমিনই আনেনি। এরপর তিনি তেলাওয়াত করলেন: "যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে" (আয়াতটি)।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
قلت رَوَاهُ الْحَاكِم فِي مُسْتَدْركه من حَدِيث عبد الرَّحْمَن بن يزِيد قَالَ ذكرُوا عِنْد عبد الله بن مَسْعُود
… إِلَى آخِره سَوَاء وَقَالَ حَدِيث صَحِيح عَلَى شَرط الشَّيْخَيْنِ وَلم يخرجَاهُ انْتَهَى
21 - الحَدِيث التَّاسِع
عَن سعد بن عبَادَة أَنه قَالَ لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فِي حق عبد الله ابْن أبي يَا رَسُول الله اعْفُ عَنهُ وَاصْفَحْ فوَاللَّه لقد أَعْطَاك الله الَّذِي أَعْطَاك وَلَقَد اصْطلحَ أهل هَذِه الْبحيرَة أَن يعصبوه بِالْعِصَابَةِ فَلَمَّا رد الله ذَلِك بِالْحَقِّ الَّذِي أَعْطَاك شَرق بذلك
قلت رَوَاهُ البُخَارِيّ فِي التَّفْسِير وَفِي الْأَدَب وَفِي الطِّبّ وَمُسلم فِي الْمَغَازِي كِلَاهُمَا من حَدِيث عُرْوَة بن الزُّبَيْر عَن أُسَامَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ ركب عَلَى حمَار عَلَى قطيفة فَدَكِيَّة وَأَرْدَفَ أُسَامَة بن زيد وَرَاءه يعود سعد بن عبَادَة فِي بني الْحَارِث بن الْخَزْرَج
… فَذكره بِطُولِهِ إِلَى أَن قَالَ فَقَالَ عليه السلام لسعد ألم تسمع مَا يَقُول أَبُو حباب يُرِيد عبد الله بن أبي قَالَ كَذَا وَكَذَا فَقَالَ سعد بن عبَادَة يَا رَسُول الله اعْفُ عَنهُ وَاصْفَحْ فوَاللَّه الَّذِي أنزل عَلَيْك الْكتاب لقد جَاءَ الله بِالْحَقِّ الَّذِي أنزل عَلَيْك وَلَقَد اصْطلحَ أهل هَذِه الْبحيرَة عَلَى أَن يُتَوِّجُوهُ فَيعصبُونَهُ بِالْعِصَابَةِ فَلَمَّا أَبَى الله ذَلِك بِالْحَقِّ الَّذِي أَعْطَاك الله شَرق بذلك فَعَفَا عَنهُ صلى الله عليه وسلم َ مُخْتَصر
وَرَوَاهُ أَحْمد فِي مُسْنده وَقَالَ فِيهِ فوَاللَّه لقد أَعْطَاك الله الَّذِي أَعْطَاك وَكَذَلِكَ الْبَزَّار فِي مُسْنده
22 - الحَدِيث الْعَاشِر
قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ نصرت بِالرُّعْبِ مسيرَة شهر
আমি বলছি, হাকীম তাঁর মুস্তাদরাকে আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত হাদিসে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের নিকট জনৈক ব্যক্তি উল্লেখ করলেন
… শেষ পর্যন্ত হুবহু। তিনি বলেছেন, হাদিসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ, তবে তাঁরা এটি তাঁদের গ্রন্থে সংকলন করেননি। সমাপ্ত।
২১ - নবম হাদিস
সা'দ ইবনে উবাদাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল, তাকে ক্ষমা করুন এবং উপেক্ষা করুন। আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে যা দান করার তা দান করেছেন। অথচ এই জনপদের অধিবাসীরা তাকে রাজমুকুট পরানোর ব্যাপারে একমত হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ আপনাকে যে সত্য দান করেছেন তার মাধ্যমে যখন তা প্রতিহত করলেন, তখন সে তাতে ঈর্ষান্বিত হয়ে উঠল।
আমি বলছি, বুখারী এটি তাফসীর, আদাব ও তিব্ব অধ্যায়ে এবং মুসলিম মাগাযী অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ই উরওয়াহ ইবনে যুবাইর থেকে, তিনি উসামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাদাকি মখমলের চাদর বিছানো একটি গাধার পিঠে আরোহণ করলেন এবং উসামাহ ইবনে যায়েদকে নিজের পিছনে বসালেন। তিনি বনু হারিস ইবনুল খাযরাজ গোত্রে সা'দ ইবনে উবাদাহকে দেখতে যাচ্ছিলেন
… অতঃপর তিনি দীর্ঘ হাদিসটি উল্লেখ করলেন। পরিশেষে তিনি বলেন, নবী আলাইহিস সালাম সা'দকে বললেন, আবু হুবাব (অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই) যা বলেছে তা কি তুমি শোননি? সে এই এই কথা বলেছে। তখন সা'দ ইবনে উবাদাহ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তাকে ক্ষমা করুন এবং উপেক্ষা করুন। সেই আল্লাহর কসম যিনি আপনার ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, আল্লাহ যে সত্য আপনার ওপর অবতীর্ণ করেছেন তা নিয়ে এসেছেন। আর এই জনপদের অধিবাসীরা তাকে মুকুট পরানোর এবং রাজকীয় শিরস্ত্রাণ বাঁধার বিষয়ে একমত হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ যখন আপনাকে প্রদত্ত সত্যের মাধ্যমে তা প্রত্যাখ্যান করলেন, তখন সে তাতে ঈর্ষান্বিত হলো। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ক্ষমা করে দিলেন। (সংক্ষেপিত)
আহমদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে যা দান করার তা দান করেছেন। অনুরূপভাবে বাযযারও তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন।
২২ - দশম হাদিস
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এক মাসের দূরত্ব পর্যন্ত শত্রুর অন্তরে ত্রাস সৃষ্টি করার মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
قلت رَوَاهُ الْأَئِمَّة السِّتَّة فِي كتبهمْ من حَدِيث جَابر بن عبد الله قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ أَعْطَيْت خمْسا لم يُعْطهنَّ أحد من الْأَنْبِيَاء قبلي نصرت بِالرُّعْبِ مسيرَة شهر وَجعلت لي الأَرْض مَسْجِدا وَطهُورًا فأيما رجل من أمتِي أَدْرَكته الصَّلَاة فَليصل وَأحلت لي الْغَنَائِم وَلم تحل لأحد قبلي وَأعْطيت الشَّفَاعَة وَكَانَ النَّبِي يبْعَث إِلَى قومه وَبعثت إِلَى النَّاس عَامَّة انْتَهَى
23 - قَوْله
وَخُوَيصة أحدكُم
قلت رَوَاهُ مُسلم فِي صَحِيحه فِي كتاب الْفِتَن من حَدِيث زِيَاد بن رَبَاح عَن أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ بَادرُوا بِالْأَعْمَالِ سِتا الدُّخان والدجال ودابة الأَرْض وطلوع الشَّمْس من مغْرِبهَا وَأمر الْعَامَّة وَخُوَيصة أحدكُم انْتَهَى
وَزَاد أَحْمد فِي مُسْنده قَالَ قَتَادَة أَمر الْعَامَّة أَي أَمر السَّاعَة
24 - الحَدِيث الْحَادِي عشر
رُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَالَ إِن إِبْرَاهِيم كذب ثَلَاث كذبات
قلت رَوَاهُ الْجَمَاعَة إِلَّا ابْن ماجة فَرَوَاهُ البُخَارِيّ فِي كتاب بَدْء الْخلق فِي بَاب قَوْله تَعَالَى وَاتخذ الله إِبْرَاهِيم خَلِيلًا وَمُسلم فِي كتاب الْفَضَائِل وَأَبُو دَاوُد فِي كتاب الطَّلَاق وَالنَّسَائِيّ فِي كتاب المناقب كلهم من حَدِيث مُحَمَّد ابْن سِيرِين عَن أبي هُرَيْرَة وَاللَّفْظ للْبُخَارِيّ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ لم يكذب إِبْرَاهِيم إِلَّا ثَلَاث كذبات ثِنْتَيْنِ مِنْهُنَّ فِي ذَات الله عز وجل قَوْله إِنِّي سقيم وَقَوله بل فعله كَبِيرهمْ هَذَا 4 قَالَ وَبينا هُوَ ذَات يَوْم وَسَارة إِذْ أَتَيَا عَلَى جَبَّار من الْجَبَابِرَة فَقيل لَهُ إِن هَاهُنَا رجلا مَعَه امْرَأَة من أحسن النَّاس فَأرْسل إِلَيْهِ فَسَأَلَهُ عَنْهَا فَقَالَ من هَذِه قَالَ أُخْتِي ثمَّ أَتَى سارة فَقَالَ لَهَا يَا سارة إِنَّه لَيْسَ عَلَى وَجه الأَرْض مُؤمن غَيْرِي وَغَيْرك وَإِن
আমি বলি, ছয়জন ইমাম তাঁদের কিতাবসমূহে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর বর্ণিত হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আমাকে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কোনো নবীকে প্রদান করা হয়নি; এক মাসের দূরত্বের পথ পর্যন্ত (শত্রুর মনে) ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে; আমার জন্য সমগ্র জমিনকে সিজদাহর স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে, তাই আমার উম্মতের যে কোনো ব্যক্তির যখন সালাতের সময় হবে সে যেন সেখানেই সালাত আদায় করে নেয়; আমার জন্য গনিমত (যুদ্ধের লব্ধ মাল) হালাল করা হয়েছে যা আমার পূর্বে কারো জন্য হালাল ছিল না; আমাকে শাফায়াত (সুপারিশ করার অধিকার) প্রদান করা হয়েছে; এবং পূর্বেকার নবীগণ কেবল তাঁদের নিজ সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরিত হতেন, আর আমি প্রেরিত হয়েছি সমগ্র মানবজাতির নিকট। সমাপ্ত।
২৩ - তাঁর উক্তি
এবং তোমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত বিষয় (মৃত্যু)
আমি বলি, ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে 'কিতাবুল ফিতান'-এ যিয়াদ ইবনে রাবাহ এর সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ছয়টি বিষয় আসার পূর্বেই তোমরা নেক আমলের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও: ধোঁয়া, দাজ্জাল, জমিনের প্রাণী, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, সর্বজনীন ফিতনা এবং তোমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত বিষয় (মৃত্যু)। সমাপ্ত।
ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে আরও বর্ণনা করেছেন যে, কাতাদাহ বলেছেন: 'সর্বজনীন ফিতনা' অর্থ হলো কিয়ামত।
২৪ - একাদশ হাদিস
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই ইব্রাহিম তিনটি মিথ্যা বলেছিলেন।
আমি বলি, ইবনে মাজাহ ব্যতীত হাদিসের প্রধান ইমামগণ এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি তাঁর 'কিতাব বাদউল খালক'-এর "আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিমকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন" নামক অনুচ্ছেদে, মুসলিম তাঁর 'কিতাবুল ফাযায়িল'-এ, আবু দাউদ তাঁর 'কিতাবুত তালাক'-এ এবং নাসাঈ তাঁর 'কিতাবুল মানাকিব'-এ বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সবাই মুহাম্মদ ইবনে সিরীন এর সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। শব্দসমূহ ইমাম বুখারির; তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) মাত্র তিনটি মিথ্যা বলেছিলেন। এর মধ্যে দুটি ছিল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে; তাঁর এই উক্তি: 'নিশ্চয়ই আমি অসুস্থ' এবং তাঁর উক্তি: 'বরং এই কাজটি এদের বড় মূর্তিটিই করেছে'। তিনি বলেন: একদিন তিনি এবং সারা পথ চলাকালে এক স্বৈরাচারী শাসকের এলাকায় পৌঁছালেন। তখন সেই শাসককে বলা হলো যে, এখানে একজন লোক এসেছে যার সাথে অত্যন্ত সুন্দরী একজন নারী রয়েছে। শাসক তাঁর নিকট লোক পাঠিয়ে সারা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, 'এ কে?' তিনি বললেন, 'এ আমার বোন'। অতঃপর তিনি সারার নিকট এসে বললেন, 'হে সারা! এই জমিনে আমি আর তুমি ছাড়া আর কোনো মুমিন নেই। আর...'
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
هَذَا سَأَلَني عَنْك فَأَخْبَرته أَنَّك أُخْتِي فَلَا تكذبِينِي فَأرْسل إِلَيْهَا فَلَمَّا دخلت عَلَيْهِ ذهب فَتَنَاولهَا بِيَدِهِ فَأخذ فَقَالَ لَهَا ادعِي الله لي وَأَنا لَا أَضرّك فدعَتْ الله فَأطلق ثمَّ تنَاولهَا الثَّانِيَة فَأخذ مثلهَا أَو أَشد فَقَالَ أَدعِي الله لي وَأَنا لَا أَضرّك فدعَتْ الله فَأطلق فَدَعَا بعض حَجَبته فَقَالَ إِنَّكُم لم تَأْتُونِي بِإِنْسَان إِنَّمَا أَتَيْتُمُونِي بِشَيْطَان فَأَخْدَمَهَا هَاجر فَأَتَت إِبْرَاهِيم وَهُوَ قَائِم يُصَلِّي فَأَوْمَى بِيَدِهِ مَهيم قَالَت رد الله كيد الْكَافِر أَو الْفَاجِر فِي نَحره وَأَخْدَم هَاجر قَالَ أَبُو هُرَيْرَة تِلْكَ أمكُم يَا بني مَاء السَّمَاء انْتَهَى
وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ فِي التَّفْسِير فِي سُورَة الْأَنْبِيَاء من حَدِيث أبي الزِّنَاد عَن الْأَعْرَج عَن أبي هُرَيْرَة فَذكره
25 - الحَدِيث الثَّانِي عشر
عَن أبي بكر قَالَ وَرُوِيَ مَرْفُوعا إيَّاكُمْ وَالْكذب فَإِنَّهُ مُجَانب الْإِيمَان
قلت أما الْمَرْفُوع فَرَوَاهُ ابْن عدي فِي أول كِتَابه الْكَامِل من طَرِيقين دائرين عَلَى إِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد عَن قيس بن أبي حَازِم عَن أبي بكر الصّديق قَالَ سَمِعت النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ يَقُول الْكَذِب مُجَانب الْإِيمَان انْتَهَى
وَأما الْمَوْقُوف فَرَوَاهُ أَحْمد فِي مُسْنده وَابْن أبي شيبَة فِي مُصَنفه فِي كتاب الْأَدَب ثَنَا وَكِيع ثَنَا إِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد عَن قيس بن أبي حَازِم عَن أبي بكر الصّديق قَالَ إيَّاكُمْ وَالْكذب فَإِن الْكَذِب مُجَانب الْإِيمَان
وَكَذَلِكَ رَوَاهُ ابْن الْمُبَارك فِي كتاب الزّهْد وَالرَّقَائِق وَفِي كتاب الْبر والصلة
قَالَ الدَّارقطني فِي كِتَابه الْعِلَل هَذَا الحَدِيث لم يرفعهُ إِلَّا إِسْمَاعِيل بن أبي خَالِد وَاخْتلف عَنهُ فرفعه عَنهُ يَحْيَى بن عبد الْملك وجعفر بن زِيَاد الْأَحْمَر
এই ব্যক্তি আমাকে তোমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল, তখন আমি তাকে বলেছিলাম যে তুমি আমার বোন; সুতরাং তুমি আমাকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করো না। এরপর সে তার (সারার) কাছে লোক পাঠাল। যখন তিনি তার কাছে প্রবেশ করলেন, তখন সে তার দিকে হাত বাড়িয়ে তাকে স্পর্শ করতে উদ্যত হলো, কিন্তু সে (আড়ষ্ট হয়ে) আক্রান্ত হলো। তখন সে তাকে বলল, "আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করো, আমি তোমার কোনো ক্ষতি করব না।" তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন এবং সে মুক্তি পেল। এরপর সে দ্বিতীয়বার তাকে স্পর্শ করতে চাইল এবং আগের মতোই বা তার চেয়েও কঠোরভাবে আক্রান্ত হলো। সে বলল, "আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করো, আমি তোমার কোনো ক্ষতি করব না।" তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন এবং সে মুক্তি পেল। তখন সে তার কয়েকজন প্রহরীকে ডেকে বলল, "তোমরা আমার কাছে কোনো মানুষ নিয়ে আসোনি, বরং তোমরা আমার কাছে এক শয়তান নিয়ে এসেছ।" এরপর সে হাজেরাকে তাঁর সেবিকা হিসেবে দান করল। এরপর তিনি (সারা) ইবরাহিমের কাছে আসলেন, এমতাবস্থায় যে তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তিনি তাঁর হাতের ইশারায় জিজ্ঞাসা করলেন, "কী খবর?" তিনি বললেন, "আল্লাহ কাফির বা পাপিষ্ঠের চক্রান্ত তার নিজের ঘাড়েই ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং হাজেরাকে সেবিকা হিসেবে দিয়েছেন।" আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, "হে আসমানের পানির সন্তানগণ, ইনিই তোমাদের মা।" সমাপ্ত।
ইমাম তিরমিযী এটি সূরা আল-আম্বিয়ার তাফসির অধ্যায়ে আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তা উল্লেখ করেছেন।
২৫ - দ্বাদশ হাদিস
আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আর এটি মারফু হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে— "তোমরা মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা তা ঈমানের পরিপন্থী।"
আমি বলি: মারফু বর্ণনাটি ইবনে আদি তাঁর 'আল-কামিল' কিতাবের শুরুতে দুই সূত্রে বর্ণনা করেছেন যা ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে আবর্তিত হয়েছে, তিনি কাইস ইবনে আবি হাজিম থেকে, তিনি আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, "মিথ্যা ঈমানের পরিপন্থী।" সমাপ্ত।
আর মাওকুফ বর্ণনাটি ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এবং ইবনে আবি শাইবা তাঁর মুসান্নাফের 'কিতাবুল আদব'-এ বর্ণনা করেছেন। (তিনি বলেন) আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ওয়াকি', তিনি ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে, তিনি কাইস ইবনে আবি হাজিম থেকে, তিনি আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে। তিনি বলেন: "তোমরা মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা মিথ্যা ঈমানের পরিপন্থী।"
একইভাবে ইবনুল মুবারক তাঁর 'কিতাবুয যুহদ ওয়ার রাকায়েক' এবং 'কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ'-তে এটি বর্ণনা করেছেন।
আদ-দারাকুতনি তাঁর 'আল-ইলাল' কিতাবে বলেছেন: এই হাদিসটি কেবল ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে; তাঁর থেকে এটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল মালিক এবং জাফর ইবনে যিয়াদ আল-আহমার।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَعَمْرو بن ثَابت وَوَقفه عَنهُ غَيرهم وَهُوَ أصح وَرُوِيَ عَن أبي أُسَامَة وَيزِيد ابْن هَارُون أَنَّهُمَا رَفَعَاهُ وَلَا يثبت عَنْهُمَا انْتَهَى
وَاسْتشْهدَ الطَّيِّبِيّ لِلْمَرْفُوعِ بِحَدِيث رَوَاهُ مَالك فِي أَوَاخِر الْمُوَطَّأ عَن صَفْوَان ابْن سليم قُلْنَا يَا رَسُول الله الْمُؤمن يكون جَبَانًا قَالَ نعم قُلْنَا أَيكُون بَخِيلًا قَالَ نعم قُلْنَا أَيكُون كذابا قَالَ لَا انْتَهَى وَهُوَ مُرْسل وَلَيْسَ بِلَفْظ الْكتاب
26 - الحَدِيث الثَّالِث عشر
قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ مثل الْمُنَافِق مثل الشَّاة العايرة بَين الْغَنَمَيْنِ تعير إِلَى هَذِه مرّة وَإِلَى هَذِه مرّة
قلت رَوَاهُ مُسلم فِي صَحِيحه فِي كتاب الْمُنَافِقين من حَدِيث مُوسَى بن عقبَة عَن نَافِع عَن ابْن عمر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ قَالَ مثل الْمُنَافِق
… إِلَى آخِره سَوَاء وَفِي رِوَايَة لمُسلم تكر بِكَسْر الْكَاف قَالَ الْجَوْهَرِي وَالْكر هُوَ الرُّجُوع وَتعير بِالْعينِ الْمُهْملَة أَي تَتَرَدَّد وَتذهب
27 - الحَدِيث الرَّابِع عشر
قَالَ المُصَنّف وَمِنْه زَعَمُوا مَطِيَّة الْكَذِب
قلت ذكره المُصَنّف فِي التغابن حَدِيثا مَرْفُوعا عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ وَلم أَجِدهُ بِهَذَا اللَّفْظ وَالَّذِي وجدته بئس مَطِيَّة الرجل زَعَمُوا رَوَاهُ البُخَارِيّ فِي كِتَابه الْمُفْرد فِي الْأَدَب حَدثنَا يَحْيَى بن مُوسَى ثَنَا عمر بن يُونُس اليمامي ثَنَا يَحْيَى بن عبد الْعَزِيز عَن يَحْيَى بن أبي كثير عَن أبي قلَابَة عَن أبي الْمُهلب أَن عبد الله ابْن عَامر قَالَ يَا أَبَا مَسْعُود مَا سَمِعت رَسُول صلى الله عليه وسلم َ يَقُول فِي زَعَمُوا قَالَ سمعته يَقُول بئس مَطِيَّة الرجل زَعَمُوا
আমর ইবনে সাবিত এবং অন্যরা তাঁর থেকে এটিকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটিই অধিকতর সঠিক। আবু উসামা ও ইয়াযিদ ইবনে হারুন থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তারা উভয়ই একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে তাদের পক্ষ থেকে এটি প্রমাণিত নয়। সমাপ্ত।
আল-তিয়িবি মারফু বর্ণনার সপক্ষে ইমাম মালিক কর্তৃক মুয়াত্তার শেষাংশে সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে বর্ণিত একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মুমিন কি ভীরু হতে পারে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমরা বললাম, সে কি কৃপণ হতে পারে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমরা বললাম, সে কি মিথ্যাবাদী হতে পারে? তিনি বললেন: না। সমাপ্ত। এটি মুরসাল এবং গ্রন্থের শব্দাবলির সাথে হুবহু এক নয়।
২৬ - ত্রয়োদশ হাদিস
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: মুনাফিকের উদাহরণ হলো সেই উদ্দেশ্যহীন ভেড়ার মতো যা দুই পালের মাঝে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে ছোটাছুটি করে; একবার এই পালের দিকে যায়, আবার অন্য পালের দিকে যায়।
আমি বলি, এটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থের 'মুনাফিকদের বিবরণ' অধ্যায়ে মূসা ইবনে উকবা, নাফি এবং ইবনে উমর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: মুনাফিকের উদাহরণ... শেষ পর্যন্ত হুবহু। মুসলিমের একটি বর্ণনায় 'তাকিররু' (কাফ বর্ণে কাসরা সহ) শব্দ এসেছে। আল-জাওহারী বলেছেন: 'আল-কার' অর্থ ফিরে আসা। আর 'তাঈরু' (আইন বর্ণ সহ) অর্থ দ্বিধাদ্বন্দ্বে ঘুরে বেড়ানো এবং যাওয়া।
২৭ - চতুর্দশ হাদিস
গ্রন্থকার বলেন: এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'তারা ধারণা করে' হলো মিথ্যার বাহন।
আমি বলি, গ্রন্থকার এটি তাগাবুন অধ্যায়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে মারফু হাদিস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে আমি এই শব্দে তা পাইনি। আমি যা পেয়েছি তা হলো: কোনো ব্যক্তির জন্য 'তারা ধারণা করে' (বলাটি) কতই না মন্দ বাহন। এটি ইমাম বুখারী তাঁর আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উমর ইবনে ইউনুস আল-ইয়ামামী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি আবুল মুহাল্লাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে আমির বলেন: হে আবু মাসউদ! আপনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে 'তারা ধারণা করে' সম্পর্কে কী বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: কোনো ব্যক্তির জন্য 'তারা ধারণা করে' (বলাটি) কতই না মন্দ বাহন।
(খণ্ড: ১)
তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
وَرَوَاهُ ابْن الْمُبَارك فِي كتاب الزّهْد أخبرنَا الْأَوْزَاعِيّ عَن يَحْيَى بن أبي كثير عَن أبي قلَابَة عَن أبي مَسْعُود الْأنْصَارِيّ
… فَذكره
وَمن طَرِيق ابْن الْمُبَارك رَوَاهُ أَبُو يعْلى الْموصِلِي وَأحمد فِي مُسْنده بِسَنَدِهِ وَمَتنه
وَرَوَاهُ إِسْحَاق بن رَاهَوَيْه فِي مُسْنده أخبرنَا وَكِيع ثَنَا الْأَوْزَاعِيّ بِهِ قَالَ قَالَ أَبُو مَسْعُود الْأنْصَارِيّ لِحُذَيْفَة بن الْيَمَان أَو حُذَيْفَة بن الْيَمَان لأبي مَسْعُود مَا سَمِعت من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فِي زَعَمُوا فَقَالَ سمعته يَقُول بئس مَطِيَّة الرجل زَعَمُوا
وَرَوَاهُ الْقُضَاعِي فِي مُسْند الشهَاب من طَرِيق الإِمَام أبي جَعْفَر الطَّحَاوِيّ ثَنَا مُحَمَّد بن عبد الله بن مَيْمُون الْبَغْدَادِيّ ثَنَا الْوَلِيد بن مُسلم عَن الْأَوْزَاعِيّ عَن يَحْيَى بن أبي كثير عَن أبي قلَابَة حَدثنِي أَبُو عبد الله قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ بئس مَطِيَّة الرجل زَعَمُوا انْتَهَى قَالَ الْقُضَاعِي وَأَبُو عبد الله هَذَا أَظُنهُ حُذَيْفَة بن الْيَمَان انْتَهَى
وَالْمُصَنّف رحمه الله اسْتشْهد بِالْحَدِيثِ عَلَى الْإِسْنَاد إِلَى لفظ الْفِعْل نَحْو قَامَ فعل مَاض وَفِي مَا ذَكرْنَاهُ مَقْصُوده وَإِن كَانَ خِلَافه
وَرَوَى ابْن سعد فِي الطَّبَقَات فِي تَرْجَمَة شُرَيْح أخبرنَا مُحَمَّد بن عبد الله الْأَسدي ثَنَا سُفْيَان عَن الْأَعْمَش عَن شُرَيْح أَنه قَالَ زَعَمُوا كنية الْكَذِب انْتَهَى
28 - قَوْله
رُوِيَ أَن عبد الله بن أبي وَأَصْحَابه خَرجُوا ذَات يَوْم فَاسْتَقْبَلَهُمْ نفر من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فَقَالَ عبد الله انْظُرُوا كَيفَ أرد هَؤُلَاءِ السُّفَهَاء عَنْكُم فَأخذ بيد أبي بكر رضي الله عنه وَقَالَ مرْحَبًا بِالصديقِ سيد بني تيم وَشَيخ الْإِسْلَام وَثَانِي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ فِي الْغَار الْبَاذِل نَفسه وَمَاله لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ ثمَّ أَخذ بيد عمر وَقَالَ
এবং ইবনুল মুবারক এটি 'কিতাবুয যুহদ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আওযাঈ, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি আবু মাসউদ আনসারী থেকে
… অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।
এবং ইবনুল মুবারকের সূত্র ধরে আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি এবং আহমদ তাঁর মুসনাদে এটি এর সনদ ও মতনসহ বর্ণনা করেছেন।
এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন অকী’, আমাদের বর্ণনা করেছেন আওযাঈ এর মাধ্যমে, তিনি বলেন: আবু মাসউদ আনসারী হুযাইফা ইবনুল ইয়ামানকে বলেছিলেন অথবা হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান আবু মাসউদকে বলেছিলেন, 'তারা ধারণা করে' (যা-আমু) কথাটি সম্পর্কে আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কী শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: মানুষের জন্য 'তারা ধারণা করে' কথাটি কতই না মন্দ বাহন।
এবং কুদায়ী 'মুসনাদুশ শিহাব' গ্রন্থে ইমাম আবু জাফর আত-তাহাবীর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাইমুন আল-বাগদাদী, আমাদের বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম, আওযাঈ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, আমাকে আবু আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মানুষের জন্য 'তারা ধারণা করে' কথাটি কতই না মন্দ বাহন। সমাপ্ত। কুদায়ী বলেন, এই আবু আব্দুল্লাহ সম্পর্কে আমার ধারণা তিনি হলেন হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান। সমাপ্ত।
এবং গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি দ্বারা ক্রিয়াবাচক শব্দের প্রতি পদের অন্বয়ের (ইসনদ) ওপর দলিল দিয়েছেন, যেমন 'কামা' (সে দাঁড়িয়েছে) একটি অতীতকালীন ক্রিয়া; এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তাতে তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়, যদিও তা এর বিপরীত হয়।
এবং ইবনে সাদ 'তাবাকাত' গ্রন্থে শুরাইহের জীবনীতে বর্ণনা করেছেন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আসাদী, আমাদের বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আমাশ থেকে, তিনি শুরাইহ থেকে যে, তিনি বলেছেন: 'তারা ধারণা করে' কথাটি হলো মিথ্যার উপনাম। সমাপ্ত।
২৮ - তাঁর উক্তি
বর্ণিত আছে যে, একদিন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ও তার সঙ্গীরা বের হলো, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবীর সাথে তাদের সাক্ষাৎ হলো। তখন আব্দুল্লাহ বলল, দেখো আমি কীভাবে এই নির্বোধদের তোমাদের থেকে সরিয়ে দিই। অতঃপর সে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাত ধরল এবং বলল, স্বাগতম হে সিদ্দীক, বনু তাইম গোত্রের সর্দার, ইসলামের শাইখ এবং গুহায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বিতীয় সাথী, যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নিজের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করেছেন। এরপর সে উমরের হাত ধরল এবং বলল