(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: -)
الفتح السماوي (عبد الرؤوف المناوي)
القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: الفتح السماوي بتخريج أحاديث القاضي البيضاوي
المؤلف: زين الدين محمد المدعو بعبد الرؤوف بن تاج العارفين بن علي المناوي (ت 1031 هـ)
المحقق: أحمد مجتبى
الناشر: دار العاصمة - الرياض
عدد الأجزاء: 3 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ফাতহ আস-সামাবি (আবদুর রউফ আল-মুনাউই)
বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ (হাদিসের উৎস নির্ণয় ও বিন্যাস)
কিতাব: আল-ফাতহ আস-সামাবি বি তাখরিজ আহাদিস আল-কাদি আল-বাইদাউই
লেখক: জাইনুদ্দিন মুহাম্মদ, যিনি আবদুর রউফ বিন তাজুল আরিফিন বিন আলি আল-মুনাউই নামে পরিচিত (মৃত্যু ১০৩১ হিজরি)
গবেষক: আহমদ মুজতবা
প্রকাশক: দারুল আসিমাহ - রিয়াদ
খণ্ড সংখ্যা: ৩ (ধারাবাহিক নম্বরযুক্ত)
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[الفتح السماوي بتخريج أحاديث القاضي البيضاوي]ـالمؤلف: زين الدين محمد المدعو بعبد الرؤوف بن تاج العارفين بن علي المناوي (المتوفى: 1031هـ)المحقق: أحمد مجتبىالناشر: دار العاصمة - الرياضعدد الأجزاء: 3 أجزاء في ترقيم واحد مسلسل[الكتاب مدقق إملائيا وترقيمه موافق للمطبوع]
[আল-ফাতহুল সামাউয়ি বি তাখরিজি আহাদিসি আল-কাদি আল-বাইদাউয়ি]গ্রন্থকার: জয়নুদ্দিন মুহাম্মদ, যিনি আব্দুর রউফ ইবনে তাজুল আরিফিন ইবনে আলী আল-মুনাভি নামে পরিচিত (মৃত্যু: ১০৩১ হিজরি)তাহকিক: আহমদ মুজতবাপ্রকাশক: দারুল আসিমা - রিয়াদখণ্ড সংখ্যা: ৩টি খণ্ড, একই ক্রমিক নাম্বারে বিন্যস্ত[বইটির বানান সংশোধিত এবং এর নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
المقدمةبسم الله الرحمن الرحيمالله أَحْمد أَن جعلني من خدام أهل الْكتاب وَالسّنة النَّبَوِيَّة، وجبلني عَلَى الاعتناء بتمييز صَحِيح الحَدِيث وسقيمه من غير تحامل وَلَا عصبية.وَالصَّلَاة وَالسَّلَام عَلَى خير الْبَريَّة، وَعَلَى آله وَصَحبه ذَوي المناقب الْعلية.وَبعد.. فَيَقُول العَبْد المقصر الْقَاصِر، الراجي عَفْو الرءوف الْقَادِر:إِنَّنِي قد وقفت عَلَى عدَّة تخاريج للأحاديث الْوَاقِعَة فِي الْكَشَّاف وَلم أَقف عَلَى من أفرد تَخْرِيج الْأَحَادِيث الْوَاقِعَة فِي تَفْسِير
ভূমিকাপরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।আমি আল্লাহর প্রশংসা করি যে, তিনি আমাকে কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহর খাদেমদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং কোনো প্রকার সংকীর্ণতা বা গোঁড়ামি ছাড়াই হাদীসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা নিরূপণে মনোনিবেশ করার স্বভাব দান করেছেন।এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন গুণাবলির অধিকারী সাহাবীগণের প্রতি।অতঃপর... অক্ষম ও ত্রুটিপূর্ণ বান্দা, যে পরম দয়ালু ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর ক্ষমা প্রত্যাশী, সে বলছে:নিশ্চয়ই আমি আল-কাশশাফ গ্রন্থে বর্ণিত হাদীসসমূহের বেশ কিছু তাখরীজ (উৎস বিশ্লেষণ) পর্যবেক্ষণ করেছি, কিন্তু তাফসীরে বর্ণিত হাদীসসমূহের তাখরীজকে যিনি এককভাবে সংকলন করেছেন এমন কাউকে আমি খুঁজে পাইনি...
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
القَاضِي ـ طيب الله ثراه وَجعل الْجنَّة مثواه ـ بتأليف مُسْتَقل، مَعَ دُعَاء الْحَاجة بل الضَّرُورَة إِلَى ذَلِك أَشد، إِذْ مِنْهَا الصَّحِيح،
বিচারপতি — আল্লাহ তাঁর মাটিকে সুগন্ধিময় করুন এবং জান্নাতকে তাঁর আবাসস্থল করুন — একটি স্বতন্ত্র রচনার মাধ্যমে, যার প্রয়োজনীয়তা বরং আবশ্যকতা আরও তীব্র, যেহেতু এগুলোর মধ্যে সহীহ (বিশুদ্ধ বিষয়াদি) রয়েছে,
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
والضعيف والموضوع ـ وَمَا لَا أصل لَهُ، وَلم يُوقف لَهُ عَلَى خبر
এবং দুর্বল ও বানোয়াট — এবং যার কোনো ভিত্তি নেই এবং যার কোনো বর্ণনা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৯০)
بِالْكُلِّيَّةِ.فأفردت لذَلِك هَذِه العجالة، مَعَ شغل البال وَسُوء الْحَال، وَكَثْرَة الهموم، وترادف المصائب والغموم حَتَّى أَصبَحت القريحة قريحة والجوارح جريحة، والدمع منهمل، والخاطر منكسر:(إِلَى الله أَشْكُو صدعة أذهبت بالي … فَمن هولها ربع اصْطِبَارِي غَدا بالي)وسميته (الْفَتْح السماوي بتخريج أَحَادِيث القَاضِي الْبَيْضَاوِيّ) وَمن ممد الْكَوْن أَسْتَمدّ العون، وَهُوَ حسبي، وَنعم الْوَكِيل.
সম্পূর্ণভাবে।তাই আমি এই সংক্ষিপ্ত সংকলনটি স্বতন্ত্রভাবে প্রস্তুত করেছি, মনের অস্থিরতা, শোচনীয় অবস্থা, দুশ্চিন্তার আধিক্য এবং একের পর এক বিপদ ও দুঃখের ধারাবাহিকতা সত্ত্বেও; এমনকি মেধা হয়ে পড়েছিল নিস্তেজ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিল ব্যথিত, অশ্রু ছিল বিগলিত এবং অন্তর ছিল ভগ্ন:(আমি আল্লাহর নিকট সেই যন্ত্রণার অভিযোগ করি যা আমার প্রশান্তি হরণ করেছে … যার ভয়াবহতায় আমার ধৈর্যের সামর্থ্য আজ জীর্ণ হয়ে গেছে।)আমি এর নামকরণ করেছি ‘আল-ফাতহুস সামাভী বি-তাখরিজি আহাদিসিল কাযি আল-বাইযাভী’। আমি বিশ্বজগতের সাহায্যদাতার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি, আর তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৯১)
[1 ـ سُورَة الْفَاتِحَة]وَهَذَا أَوَان الشُّرُوع فِي الْمَقْصُود، فَأَقُول بعون الْملك المعبود:1 ـ قَول القَاضِي رحمه الله:لقَوْله صلى الله عليه وسلم َ: (هِيَ شِفَاء من كل دَاء) .رُوَاة الدَّارمِيّ فِي مُسْنده وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي الشّعب عَن عبد الْملك بن عُمَيْر مُرْسلا.
[১- সূরা আল-ফাতিহা]আর এটাই উদ্দিষ্ট বিষয় শুরুর সময়, তাই আমি ইবাদতযোগ্য অধিপতির সাহায্যে বলছি:১- কাজী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এর উক্তি: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর কারণে: (এটি প্রতিটি রোগের উপশম)।দারেমি এটি তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন এবং বায়হাকি শুআবুল ইমান-এ আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
2 - مِنْهَا مَا رَوَى أَبُو هُرَيْرَة عَنهُ صلى الله عليه وسلم َ أَنه قَالَ: فَاتِحَة الْكتاب سبع آيَات أولَاهُنَّ (بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم) …الحَدِيث.
২ - এর মধ্যে রয়েছে যা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ফাতিহাতুল কিতাব সাতটি আয়াত, সেগুলোর প্রথমটি হলো (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) …হাদিস।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
أخرجه ابْن مرْدَوَيْه فِي تَفْسِيره، وَرَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيّ بِمَعْنَاهُ بِلَفْظ آخر.3 - قَوْله: وَقَول أم سَلمَة: قَرَأَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ
ইবনে মারদুওয়াইহ এটি তাঁর তাফসিরে বর্ণনা করেছেন এবং দারা কুতনী একই অর্থে ভিন্ন শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন।৩ - তাঁর বক্তব্য: এবং উম্মে সালামাহর বক্তব্য: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
«الْفَاتِحَة» وعد (بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم الْحَمد لله رب الْعَالمين) [آيَة] .رَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه،وَلكنه بِلَفْظ: إِن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ - قَرَأَ الْبَسْمَلَة فِي أول الْفَاتِحَة فِي الصَّلَاة [2/ب] وعدها آيَة.وَهُوَ يُخَالف مَا يَقْتَضِيهِ إِيرَاد الْمُؤلف.
«আল-ফাতিহা» এবং (পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য)-কে [একটি আয়াত] হিসেবে গণনা করা।ইবনে খুজায়মাহ তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে এর শব্দরূপ হলো: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতে আল-ফাতিহার শুরুতে বিসমিল্লাহ পাঠ করেছেন [২/খ] এবং একে একটি আয়াত হিসেবে গণ্য করেছেন।আর এটি লেখকের উপস্থাপনার চাহিদার পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
4 - قَوْله:لقَوْله صلى الله عليه وسلم َ:كل أَمر ذِي بَال لَا يبْدَأ فِيهِ باسم الله فَهُوَ أَبتر.
৪ - তাঁর উক্তি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে: প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর নামে শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
أخرجه الْخَطِيب الْبَغْدَادِيّ عَن أبي سَلمَة عَن أبي هُرَيْرَة مَرْفُوعا بِلَفْظ: كل [أَمر] ذِي بَال لَا يبْدَأ فِيهِ بـ (بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم) أقطع.وَرَوَاهُ بِهَذَا اللَّفْظ أَيْضا:الرهاوي فِي الْأَرْبَعين من طَرِيق الْخَطِيب.
খতীব আল-বাগদাদী আবু সালামার সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে এই শব্দে এটি উদ্ধৃত করেছেন: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে) দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ।"আর-রাহাবীও তাঁর 'আল-আরবাঈন' গ্রন্থে খতীবের সূত্র ধরে এটি এই শব্দেই বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
والْحَدِيث فِي أبي دَاوُد لَكِن فِي الْبدَاءَة بِحَمْد الله وبلفظ: «فَهُوَ أَجْذم» .وَفِي ابْن ماجة بِلَفْظ: «لَا يبْدَأ فِيهِ بِالْحَمْد، أقطع» ،وَفِي صَحِيح ابْن حبَان: «لَا يبْدَأ فِيهِ بِحَمْد الله أقطع» ، وَفِي مُسْند أَحْمد: «لَا يفتح بِذكر الله فَهُوَ أَبتر» .
হাদিসটি আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে, তবে তা আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করার বিষয়ে এবং শব্দসমূহ হলো: "তা লেজকাটা (বিচ্ছিন্ন)"।এবং ইবনে মাজাহ-তে এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "যাতে প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা বিচ্ছিন্ন", এবং সহিহ ইবনে হিব্বানে বর্ণিত হয়েছে: "যাতে আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা বিচ্ছিন্ন", এবং মুসনাদে আহমদে বর্ণিত হয়েছে: "যা আল্লাহর জিকির দ্বারা আরম্ভ করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ"।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
والأبتر لُغَة: مَا كَانَ من ذَوَات الذَّنب وَلَا ذَنْب لَهُ، والأقطع مَا قطعت يَدَاهُ أَو إِحْدَاهَا، والأجذم: مَا ذهبت أَصَابِع كفيه.أطلق كل مِنْهَا فِي الحَدِيث عَلَى مَا فقد الْبركَة تَشْبِيها لَهُ بِمَا فقد ذَنبه الَّذِي بِهِ تكمل خلقته، أَو بِمن فقد يَدَيْهِ اللَّتَيْنِ يعتمدهما فِي الْبَطْش ومحاولة التَّحْصِيل، أَو بِمن فقد أَصَابِعه الَّتِي يتَوَصَّل بهَا إِلَى تَحْصِيل مَا يروم تَحْصِيله.فإطلاق كل مِنْهَا عَلَيْهِ عَلَى وَجه التَّشْبِيه، أَو الِاسْتِعَارَة عَلَى الْقَوْلَيْنِ فِيمَا حذفت فِيهِ أَدَاة التَّشْبِيه وَجعل الْمُشبه بِهِ جُزْءا من الْمُشبه، وَالْمُخْتَار مِنْهُمَا الأول.5 - قَوْله: والعمدة فِيهِ قَوْله صلى الله عليه وسلم َ: «الْحَمد رَأس الشُّكْر، مَا شكر الله من لم يحمده» .
শাব্দিক অর্থে ‘আল-আবতার’ হলো: যে প্রাণীর লেজ থাকার কথা অথচ তার লেজ নেই। ‘আল-আকতা’ হলো: যার উভয় হাত অথবা একটি হাত কাটা। আর ‘আল-আজযাম’ হলো: যার উভয় হাতের আঙুলসমূহ বিলীন হয়ে গেছে।হাদিসে এগুলোর প্রত্যেকটি এমন বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে যা বরকতশূন্য। একে তুলনা করা হয়েছে এমন বিষয়ের সাথে যার লেজ নেই—যা দ্বারা তার শারীরিক গঠন পূর্ণতা পায়; অথবা এমন ব্যক্তির সাথে যে তার উভয় হাত হারিয়েছে—যার ওপর সে কোনো কিছু পাকড়াও করতে ও উপার্জনের প্রচেষ্টায় নির্ভর করত; অথবা এমন ব্যক্তির সাথে যে তার আঙুলসমূহ হারিয়েছে—যার মাধ্যমে সে যা অর্জন করতে চায় তা অর্জনের উপায় খুঁজে পেত।সুতরাং এগুলোর প্রত্যেকটি তার ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে রূপক (তাশবিহ) হিসেবে অথবা ইস্তিয়ারা (মেটাফোর) হিসেবে—সেই দুই মতানুসারে যেখানে উপমার অব্যয় উহ্য থাকে এবং উপমানকে উপমেয়-এর অংশ গণ্য করা হয়। আর এ দুটির মধ্যে প্রথম মতটিই পছন্দনীয়।৫ - তাঁর বক্তব্য: আর এক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আল-হামদু (প্রশংসা) হলো শুকরিয়ার (কৃতজ্ঞতার) মস্তক; যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করল না, সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করল না।"
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১০০)
رَوَاهُ عبد الرَّزَّاق فِي مُصَنفه عَن ابْن عَمْرو، والحكيم التِّرْمِذِيّ فِي نوادره، وَالْبَيْهَقِيّ فِي الشّعب والخطابي، والديلمي، كلهم من حَدِيث قَتَادَة مَرْفُوعا بِلَفْظ: «الْحَمد رَأس الشُّكْر، مَا شكر الله عبد لَا يحمده» .وَرِجَاله ثِقَات، لكنه مُنْقَطع بَين قَتَادَة وَابْن عَمْرو.
আব্দুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফে ইবনে আমর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, এবং আল-হাকিম আত-তিরমিযী তাঁর নাওয়াদিরে, আল-বাইহাকী শুআবুল ঈমানে, আল-খাত্তাবী এবং আদ-দাইলামী—তাঁরা সকলেই কাতাদাহ থেকে মারফূ সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «আল-হামদু (আল্লাহর প্রশংসা) হলো শোকরের (কৃতজ্ঞতা) প্রধান অংশ; কোনো বান্দা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল না যে তাঁর প্রশংসা করল না।» এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে কাতাদাহ ও ইবনে আমরের মাঝে সনদটি বিচ্ছিন্ন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১০১)
قَالَ التَّفْتَازَانِيّ: وَقَوله: مَا شكر الله عبد لَا يحمده،مَعْنَاهُ: أَن من لم يعْتَرف بالمنعم،وَلم يجْهر بالثناء عَلَيْهِ لم يعد شاكرا، وَلم يظْهر مِنْهُ ذَاك،وَإِن أَتَى بِالْعَمَلِ والاعتقاد،وَأَن المنبئ عَمَّا فِي الضَّمِير وضعا، والمظهر لَهُ حَقًا هُوَ النُّطْق.وَحَقِيقَة مَعْنَى الشُّكْر:إِشَاعَة النِّعْمَة والإبانة عَنْهَا ونقيضه ـ وَهُوَ الْكفْرـ أَن يُنبئ عَن السّتْر والتغطية.[3 /أ] وَقَالَ السَّيِّد الْجِرْجَانِيّ:إِذا لم يعْتَرف العَبْد بالمنعم
আল-তাফতাজানি বলেছেন: তাঁর বাণী: "যে বান্দা আল্লাহর প্রশংসা করে না, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করেনি", এর অর্থ হলো: যে ব্যক্তি নিআমত প্রদানকারীকে স্বীকৃতি দেয় না এবং প্রকাশ্যে তাঁর প্রশংসা করে না, তাকে কৃতজ্ঞ হিসেবে গণ্য করা হয় না এবং তার থেকে তা প্রকাশ পায় না, যদিও সে কর্ম ও বিশ্বাসের মাধ্যমে তা সম্পাদন করে। আর যা অন্তরের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ভাষাগতভাবে সংবাদ দেয় এবং যা প্রকৃতপক্ষেই তা প্রকাশ করে, তা হলো মৌখিক উচ্চারণ।শুকর বা কৃতজ্ঞতার প্রকৃত অর্থ হলো: নিআমতকে প্রচার করা ও তা প্রকাশ করা; আর এর বিপরীত—যা হলো কুফর—তা হলো গোপন করা ও ঢেকে রাখার বার্তা দেওয়া।[৩/অ] আর সাইয়্যিদ আল-জুরজানি বলেছেন: যখন বান্দা নিআমত প্রদানকারীকে স্বীকৃতি দেয় না...
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১০২)
وإنعام الْمولى، وَلم يثن عَلَيْهِ بِمَا يدل عَلَى تَعْظِيمه، وإكرامه، لم يظْهر مِنْهُ شكر ظهورا كَامِلا، وَإِن اعْتقد وَعمل. فَلم يعد شاكرا لِأَن حَقِيقَة الشُّكْر إِشَاعَة النِّعْمَة والكشف عَنْهَا، كَمَا أَن كفرانها إِخْفَاؤُهَا وسترها.والاعتقاد أَمر خَفِي فِي نَفسه، وَعَلَى الْجَوَارِح وَإِن كَانَ ظَاهرا لكنه يحْتَمل خلاف مَا قصد بِهِ) .6 - قَوْله: «كَمَا تدين تدان» .هَذَا مثل مَشْهُور، وَحَدِيث مَرْفُوع أخرجه الْبَيْهَقِيّ فِي «الْأَسْمَاء وَالصِّفَات» بِسَنَد ضَعِيف، وَله شَاهد
এবং প্রতিপালকের অনুগ্রহ; আর যদি এমন কিছু দ্বারা তাঁর প্রশংসা না করা হয় যা তাঁর মহিমা ও সম্মান প্রদর্শন করে, তবে তার পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা পূর্ণাঙ্গরূপে প্রকাশিত হবে না, যদিও সে বিশ্বাস পোষণ করে এবং আমল করে। তাকে কৃতজ্ঞ হিসেবে গণ্য করা হবে না, কেননা কৃতজ্ঞতার প্রকৃত স্বরূপ হলো নিআমতের প্রচার ও তা প্রকাশ করা, যেমন অকৃতজ্ঞতা হলো তা গোপন করা ও ঢেকে রাখা।আর বিশ্বাস হলো এমন বিষয় যা সত্তাগতভাবে গোপন, এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্ম যদিও প্রকাশ্য, তবুও এতে যা উদ্দেশ্য করা হয়েছে তার বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।৬ - তাঁর উক্তি: "যেমন কর্ম তেমন ফল"।এটি একটি প্রসিদ্ধ প্রবাদ এবং একটি মারফু হাদিস যা বায়হাকী তাঁর 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত' গ্রন্থে দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন এবং এর সপক্ষে সমর্থক বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
مُرْسل.وَمَعْنَاهُ: كَمَا تجازي تجازى.7 - قَوْله:وَلذَلِك [قَالَ] ابْن عَبَّاس: مَعْنَاهُ: نعبدك، وَلَا نعْبد غَيْرك.أخرجه ابْن جرير،وَابْن أبي حَاتِم، من طَرِيق
মুরসাল।আর এর অর্থ হলো: যেমন তুমি প্রতিদান প্রদান করবে, তেমনই প্রতিদানপ্রাপ্ত হবে।৭ - তাঁর উক্তি: আর এই কারণেই ইবনে আব্বাস [বলেছেন]: এর অর্থ হলো: আমরা আপনারই ইবাদত করি এবং আপনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করি না।এটি ইবনে জারীর এবং ইবনে আবি হাতিম নিম্নোক্ত সূত্রে বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
الضَّحَّاك وَعنهُ.8 - وَقَوله «وَقيل: المغضوب عَلَيْهِم: الْيَهُود» إِلَى قَوْله: وَقد رُوِيَ مَرْفُوعا.وَيرد ذَلِك فِي حَدِيث صَحِيح أَو حسن، وَهُوَ مَا رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ ـ وَحسنه، وَابْن حبَان فِي صَحِيحه.
আদ-দাহহাক এবং তাঁর সূত্রে বর্ণিত।8 - এবং তাঁর উক্তি «বলা হয়েছে: যাদের ওপর ক্রোধ বর্ষিত হয়েছে তারা হলো ইয়াহুদি» তাঁর এই উক্তি পর্যন্ত: এবং এটি মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।এটি একটি সহিহ অথবা হাসান হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আর তা হলো যা আহমদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন—এবং তিনি (তিরমিজি) এটিকে হাসান বলেছেন—এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
وَهَكَذَا فسره ابْن عَبَّاس، وَابْن مَسْعُود، وَزيد بن أسلم كَمَا رَوَاهُ ابْن جرير عَنْهُم، وَعَن غَيرهم من الصحب وَالتَّابِعِينَ فالعدول عَنهُ إِلَى الآخر بِالرَّأْيِ غير قويم.
আর এভাবেই ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ এবং জায়েদ ইবনে আসলাম এর ব্যাখ্যা করেছেন, যেমনটি ইবনে জারীর তাঁদের থেকে এবং অন্যান্য সাহাবী ও তাবেয়ীদের থেকে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং একে বর্জন করে নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে অন্যটির দিকে ধাবিত হওয়া সঠিক নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
9 -[قَوْله] : وَرَوَى عَن ابْن عَبَّاس: سَأَلت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ عَن مَعْنَاهُ؟ فَقَالَ: افْعَل.رَوَاهُ الثَّعْلَبِيّ، من طَرِيق الْكَلْبِيّ عَن أبي صَالح عَنهُ، قَالَ ابْن حجر،وَإِسْنَاده واه، وَسَاقه ابْن كثير من رِوَايَة جُوَيْبِر،عَن الضَّحَّاك عَنهُ بِلَفْظ:مَا مَعْنَى «آمين» ؟ قَالَ: رب افْعَل.
৯ -[তাঁর বক্তব্য]: ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "তুমি (তা) করো।"এটি আস-সা'লাবী, কালবীর সূত্রে আবু সালেহ থেকে তাঁর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজার বলেন, এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। ইবনে কাসীর একে জুওয়াইবিরের বর্ণনা থেকে আদ-দাহহাক-এর সূত্রে তাঁর মাধ্যমে নিম্নোক্ত শব্দে উল্লেখ করেছেন: "'আমীন' এর অর্থ কী?" তিনি বললেন: "হে প্রতিপালক, আপনি কবুল করুন।"
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
10 -[قَوْله:] لقَوْله عليه السلام:عَلمنِي جِبْرِيل «آمين» عِنْد فراغي من قِرَاءَة الْفَاتِحَة.11 - وَقَالَ:إِنَّه كالختم عَلَى الْكتاب.قَالَ الزَّيْلَعِيّ:لم أَجِدهُ هَكَذَا، وَفِي الدُّعَاء لِابْنِ أبي شيبَة،وَالْبَيْهَقِيّ فِي الدَّلَائِل عَن أبي ميسرَة أَن جِبْرِيل أَقرَأ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ الْفَاتِحَة،فَلَمَّا قَالَ (وَلَا الضَّالّين) قَالَ لَهُ: قل «آمين» قَالَ: آمين.وَرَوَى أَبُو دَاوُد عَن أبي زُهَيْر النميري:آمين مثل الطابع
১০ -[তাঁর বক্তব্য:] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: জিবরাঈল আমাকে ‘আমীন’ শিখিয়েছেন যখন আমি সূরা ফাতিহা পাঠ সম্পন্ন করি।১১ - এবং তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই এটি কিতাবের ওপর মোহর স্বরূপ।যায়লায়ী বলেন: আমি এটি এভাবে (এই শব্দে) খুঁজে পাইনি। তবে ইবনে আবি শায়বার 'আদ-দুআ' এবং বায়হাকীর 'আদ-দালাইল' গ্রন্থে আবু মায়সারা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, জিবরাঈল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সূরা ফাতিহা পাঠ করিয়েছিলেন; অতঃপর তিনি যখন ‘ওয়ালাদ-দ্বাল্লীন’ বললেন, তখন জিবরাঈল তাঁকে বললেন: বলুন ‘আমীন’। তিনি বললেন: আমীন।আবু দাউদ আবু যুহাইর আন-নুমায়রী থেকে বর্ণনা করেছেন: আমীন হলো মোহরের মতো।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
عَلَى الصَّحِيفَة، أخْبركُم عَن ذَلِك، خرجنَا مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ فأتينا عَلَى رجل قد ألح فِي الْمَسْأَلَة فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ:أوجب إِن ختم بآمين.وَبِذَلِك عرف أَن القَاضِي أورد حديثين لَا حَدِيثا وَاحِدًا وَالضَّمِير فِي «فعل» و «قَالَ» للنَّبِي صلى الله عليه وسلم َ لَا لجبريل.وَوجه تشبيهه بالختم عَلَى الْكتاب أَنه سَبَب يتَأَكَّد بِهِ حُصُول مَقْصُود الدُّعَاء من الْإِجَابَة، كَمَا أَن الْخَتْم لكتمه مَا فِي الْكتاب عَن غير مرسله، والمرسل إِلَيْهِ سَبَب يتَأَكَّد بِهِ حُصُول مَقْصُوده لصيانته عَن
সহিফার ওপর; আমি তোমাদের এ বিষয়ে অবহিত করছি। আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বের হলাম এবং এমন এক ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হলাম যিনি দোয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত অনুনয়-বিনয় করছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'সে (কবুল হওয়াকে) অবধারিত করে নিল, যদি সে আমীন বলার মাধ্যমে সমাপ্ত করে।'এর মাধ্যমে জানা গেল যে, কাজী এখানে দুটি হাদিস উল্লেখ করেছেন, একটি হাদিস নয়। আর ‘করেছেন’ এবং ‘বলেছেন’ ক্রিয়াপদদ্বয়ের সর্বনাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি প্রযোজ্য, জিবরাঈল-এর প্রতি নয়।একে পত্রের ওপর মোহর মারার সাথে তুলনা করার কারণ হলো, এটি এমন এক মাধ্যম যার দ্বারা দোয়ার উদ্দেশ্য তথা কবুলিয়ত নিশ্চিত হয়। যেমন চিঠিতে মোহর মারা হয় প্রেরক ও প্রাপক ব্যতীত অন্য সবার থেকে এর বিষয়বস্তু গোপন রাখার জন্য; আর এটি এমন এক মাধ্যম যার দ্বারা চিঠির উদ্দেশ্য পূরণ হওয়া সুনিশ্চিত হয়, যেন তা রক্ষা পায়...
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
التطرق إِلَى إبِْطَال مَا فِيهِ.12 -[قَوْله:] وَفِي مَعْنَاهُ قَول عَلّي: آمين خَاتم رب العاملين،ختم بِهِ دُعَاء عَبده.لم يرد عَن عَلّي، وَالْمَعْرُوف مَا رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الدُّعَاء وَابْن عدي فِي الْكَامِل، وَابْن مرْدَوَيْه فِي تَفْسِيره، عَن أبي هُرَيْرَة بِسَنَد ضَعِيف مَرْفُوعا: آمين خَاتم رب الْعَالمين عَلَى لِسَان عباده الْمُؤمنِينَ» .
এতে যা রয়েছে তার অসারতা প্রমাণের অবতারণা।১২ -[তাঁর উক্তি:] এবং এরই অর্থে আলীর বক্তব্য রয়েছে: "আমীন হলো বিশ্বজগতের প্রতিপালকের মোহর, এর মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দার দোয়া মোহরাঙ্কিত করেছেন।"এটি আলী থেকে বর্ণিত হয়নি। সুপরিচিত বিষয় হলো যা তাবারানি 'আদ-দোয়া' গ্রন্থে, ইবনে আদি 'আল-কামিল' গ্রন্থে এবং ইবনে মারদাওয়াইহ তাঁর 'তাফসির' গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে একটি দুর্বল সনদে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "আমীন হলো বিশ্বজগতের প্রতিপালকের মোহর যা তাঁর মুমিন বান্দাদের জিহ্বায় উচ্চারিত হয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১১০)
13 -[قَوْله] لما رَوَى عَن وَائِل بن حجر: أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ كَانَ إِذا قَرَأَ (وَلَا الضَّالّين) قَالَ:آمين «وَرفع بهَا صَوته.رَوَاهُ أَبُو دَاوُد،وَالتِّرْمِذِيّ، وَالدَّارَقُطْنِيّ،قَالَ ابْن حجر:وَإِسْنَاده حسن.وهَذَا هُوَ الْمَعْرُوف، وَهُوَ رِوَايَة سُفْيَان الثَّوْريّ عَن سَلمَة بن كهيل.وَرَوَاهُ عَنهُ شُعْبَة فَاخْتلف عَلَيْهِ فِيهِ، فَرَوَاهُ أَبُو الْوَلِيد الطَّيَالِسِيّ عَن شُعْبَة كَذَلِك، وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد الطَّيَالِسِيّ عَنهُ فَقَالَ:خفض بهَا صَوته.
১৩ -[তাঁর বক্তব্য] যেহেতু তিনি ওয়াইল ইবন হুজর থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ‘ওয়ালাদ-দ্বল্লিন’ পাঠ করতেন, তখন বলতেন: ‘আমিন’ এবং এর মাধ্যমে তিনি তাঁর স্বর উচ্চ করতেন।এটি আবু দাউদ, তিরমিযী এবং দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন। ইবন হাজার বলেছেন: এর সনদ হাসান।আর এটিই হলো প্রসিদ্ধ, এবং এটি সালামাহ ইবন কুহাইল থেকে সুফিয়ান সওরীর বর্ণনা।শুবাও তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর বর্ণনায় মতভেদ হয়েছে; আবু ওয়ালীদ তায়ালিসী শুবা থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন, আর আবু দাউদ তায়ালিসী তাঁর থেকে বর্ণনা করে বলেছেন: তিনি এর মাধ্যমে তাঁর স্বর নিচু করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১১১)
وَهُوَ خلاف الْمَعْرُوف من رِوَايَة من رَوَاهُ عَن سَلمَة.وَقد رَوَى أَبُو دَاوُد،وَالدَّارَقُطْنِيّ بِإِسْنَاد
এটি সালামাহ থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের সুপ্রসিদ্ধ বর্ণনার পরিপন্থী।আর আবু দাউদ ও দারা কুতনী একটি সনদসহ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১১২)
حسن من حَدِيث أبي هُرَيْرَة: كَانَ النَّبِي عليه الصلاة والسلام إِذا فرغ من قِرَاءَة أم الْكتاب رفع صَوته وَقَالَ: آمين.وَفِي رِوَايَة أبي دَاوُد:كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ إِذا تَلا (غير المغضوب عَلَيْهِم وَلَا الضَّالّين) قَالَ آمين: حَتَّى يسمع من يَلِيهِ من الصَّفّ الأول.رَوَاهُ ابْن ماجة وَزَاد: فيرتج بهَا الْمَسْجِد.14 -[قَوْله:] وَالْمَشْهُور عَنهُ أَنه يخفيه كَمَا رَوَاهُ عبد الله بن مُغفل وَأنس.
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীসটি হাসান: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন উম্মুল কিতাবের পাঠ শেষ করতেন, তখন উচ্চস্বরে আওয়াজ করে বলতেন: আমীন।আবু দাউদের বর্ণনায় রয়েছে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন পাঠ করতেন (যাদের ওপর ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্ট নয়), তখন আমীন বলতেন; এমনকি তাঁর নিকটবর্তী প্রথম কাতারের মুসল্লিরা তা শুনতে পেতেন।এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বর্ধিত অংশ রয়েছে: যার ফলে মসজিদ প্রকম্পিত হয়ে উঠত।১৪ - [তাঁর বক্তব্য:] তাঁর থেকে প্রসিদ্ধ বর্ণনা এই যে, তিনি তা নিচু স্বরে বলতেন, যেমনিভাবে আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল এবং আনাস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
قَالَ الْوَلِيّ الْعِرَاقِيّ: لم أَقف عَلَيْهِ وَرَوَى الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير عَن أبي وَائِل: كَانَ عَلّي وَعبد الله ـ يَعْنِي ابْن مَسْعُود ـ لَا يجهران بالتأمين.15 - قَوْله: لقَوْله عليه السلام إِذا قَالَ الإِمَام: (وَلَا الضَّالّين) فَقولُوا:آمين «فَإِن الْمَلَائِكَة تَقول: آمين» وَإِن الإِمَام يَقُول «آمين» فَمن وَافق تأمينه تَأْمِين الْمَلَائِكَة غفر لَهُ مَا تقدم من ذَنبه.رَوَاهُ الشَّيْخَانِ عَن أبي هُرَيْرَة، زَاد
ওয়ালী আল-ইরাকি বলেন: আমি এটি খুঁজে পাইনি। তাবারানি 'আল-কাবীর'-এ আবু ওয়াইল থেকে বর্ণনা করেছেন: আলী এবং আবদুল্লাহ — অর্থাৎ ইবনে মাসউদ — সজোরে 'আমীন' বলতেন না।১৫ - তাঁর উক্তি: নবী (আলাইহিস সালাম)-এর বাণীর কারণে যে, যখন ইমাম বলবেন: (ওয়ালাদ-দ্বল্লীন), তখন তোমরা বলো: আমীন; «কেননা ফেরেশতারা বলেন: আমীন» এবং ইমামও বলেন «আমীন»। সুতরাং যার আমীন বলা ফেরেশতাদের আমীন বলার সাথে মিলে যাবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।শায়খাইন এটি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আরও উল্লেখ করেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১১৪)
الْجِرْجَانِيّ فِي «أَمَالِيهِ» «وَمَا تَأَخّر» وَعَلِيهِ اعْتمد الْغَزالِيّ فِي الْوَسِيط.
আল-জুরজানি তাঁর 'আমালি' ও 'যা পরবর্তীতে এসেছে' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর ওপরই আল-গাজ্জালি 'আল-ওয়াসিত' গ্রন্থে নির্ভর করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফাতহুস সামাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
وَأولَى مَا فسر بِهِ الحَدِيث: مَا رَوَاهُ عبد الرَّزَّاق، عَن عِكْرِمَة: «صُفُوف أهل الأَرْض عَلَى صُفُوف أهل السَّمَاء، فَإِذا وَافق «آمين» فِي الأَرْض «آمين» فِي السَّمَاء غفر لَهُ «ضَعِيف» قَالَ ابْن حجر: مثله لَا يُقَال بِالرَّأْيِ.16 - قَوْله:وَعَن أبي هُرَيْرَة [4/أ] أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم َ قَالَ لأبي: أَلا أخْبرك بِسُورَة لم ينزل فِي التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل وَالْقُرْآن مثلهَا؟ قَالَ: بلَى يَا رَسُول الله! قَالَ فَاتِحَة الْكتاب،إِنَّهَا السَّبع المثاني،وَالْقُرْآن الْعَظِيم،
এবং হাদিসটির সর্বোত্তম ব্যাখ্যা হলো যা আবদুর রাজ্জাক ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন: "জমিনবাসীদের কাতারসমূহ আসমানবাসীদের কাতারসমূহের সমান্তরাল হয়; সুতরাং যখন জমিনের 'আমীন' আসমানের 'আমীন'-এর সাথে মিলে যায়, তখন তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।" (বর্ণনাটি দুর্বল)। ইবনে হাজার বলেন: এই ধরণের কথা ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে বলা সম্ভব নয়।১৬ - তাঁর উক্তি: আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত [৪/আ] যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাইকে বললেন: "আমি কি তোমাকে এমন একটি সূরা সম্পর্কে সংবাদ দেব না যার সদৃশ তাওরাত, ইনজীল ও কুরআনের অন্য কোথাও অবতীর্ণ হয়নি?" তিনি বললেন: "অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন: "তা হলো ফাতিহাতুল কিতাব; এটি সাবউল মাছানী এবং মহান কুরআন।"