(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: -)
الأشباه والنظائر - السبكي   (تاج الدين ابن السبكي)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: الأشباه والنظائر

المؤلف: تاج الدين عبد الوهاب بن علي بن عبد الكافي السبكي (ت 771 هـ)

تحقيق: عادل أحمد عبد الموجود - علي محمد معوض

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت

الطبعة: الأولى 1411 هـ - 1991 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - আস-সুবকী   (তাজউদ্দীন ইবন আস-সুবকী)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতি


গ্রন্থ: আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর

লেখক: তাজউদ্দীন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আলী বিন আব্দুল কাফী আস-সুবকী (মৃত্যু ৭৭১ হিজরী)

সম্পাদনা: আদিল আহমদ আব্দুল মওজুদ - আলী মুহাম্মদ মুআওয়াদ

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ، বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম ১৪১১ হিজরী - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা পাঠাগারে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مقدمة التحقيق

 

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، من يهد الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله

وبعد

فإن من المعلوم أن الفقه الإسلامي هو أسمى العلوم الشرعية قدرا وأعظمها نفعا فهو نظام الحياة الإنسانية وقوامها ووسيلة السعادة في الدنيا والآخرة وهو عين الرسالة المحمدية وتأمل ما قاله ابن نجيم في أشباهه ونظائره ممتدحا الفقه فقال:

إن الفقه أشرف العلوم قدرا وأعظمها أجرا وأتمها عائدة وأعمها فائدة وأعلاها مرتبة وأسناها منقبة يملأ العيون نورا والقلوب سرورا، والصدور انشراحا ويفيد الأمور اتساعا وانفتاحا هذا لأن ما بالخاص والعام من الاستقرار على سنن النظام والاستمرار على وتيرة الاجتماع والالتئام، إنما هو بمعرفة الحلال من الحرام والتمييز بين الجائز والفاسد في وجوه الأحكام. بحوره زاخرة ورياضه ناضرة ونجومه زاهرة وأصوله ثابتة وفروعه نابتة لا يفني بكثرة الإنفاق کنزه ولا يبلى على طول الزمان عزه.

وكفى بذلك شرفا له وللمشتغلين به ويحسن بنا في تقدماتنا على الأشباه والنظائر أن نذكر خطاب سيدنا عمر رضي الله عنه الموجه إلى أبي موسى الأشعري بما اشتمل عليه من مسائل وإشارات هي عمدة ذلك الفن من تتبع النظائر وحفظها ليقاس عليها غيرها وغير ذلك من الفوائد الجليلة فإليك بيانه:

عن أبي المليح الهذلي قال كتب عمر بن الخطاب إلى أبي موسى الأشعري أما بعد فإن القضاء فريضة محكمة وسنة متبعة فافهم إذا أدلي إليك بحجة وأنفذ الحق إذا
সম্পাদকের ভূমিকা

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের মন্দ কাজগুলো থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

অতঃপর,

নিশ্চয়ই এটি সর্বজনবিদিত যে, ইসলামী ফিকহ হলো মর্যাদার দিক থেকে শরয়ী জ্ঞানসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং উপকারের দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ। এটি মানবজীবনের এক সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা ও ভিত্তি এবং দুনিয়া ও আখেরাতে সুখের মাধ্যম। এটি মুহাম্মাদী রিসালাতের সারকথা। ইবনে নুজাইম তাঁর 'আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর' গ্রন্থে ফিকহের প্রশংসা করে যা বলেছেন তা লক্ষ্য করুন, তিনি বলেন:

নিশ্চয়ই ফিকহ মর্যাদার দিক থেকে সর্বাধিক সম্মানজনক ইলম, এর সওয়াব মহান, এর প্রতিদান পূর্ণাঙ্গ, এর উপকারিতা ব্যাপক, এর মর্তবা সর্বোচ্চ এবং এর গৌরব অত্যন্ত দীপ্তিময়। এটি চোখকে আলোয় এবং অন্তরকে খুশিতে ভরে দেয়, বক্ষকে প্রশান্ত করে এবং বিষয়সমূহকে বিস্তৃত ও উন্মুক্ত করে। এর কারণ হলো, সাধারণ ও বিশেষ মানুষের মধ্যে নিয়মের ধারায় স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক সংহতি ও ঐক্য বজায় থাকা কেবল হালাল-হারামের পরিচয় এবং বিধিবিধানের ক্ষেত্রে বৈধ ও অবৈধের মধ্যে পার্থক্যের মাধ্যমেই সম্ভব। এর সমুদ্রসমূহ উত্তাল, এর উদ্যানগুলো সজীব, এর নক্ষত্রগুলো উজ্জ্বল, এর মূলসমূহ সুদৃঢ় এবং শাখাগুলো বর্ধনশীল। এর ভাণ্ডার অধিক ব্যয়েও ফুরিয়ে যায় না এবং দীর্ঘ কাল অতিবাহিত হলেও এর মর্যাদা মলিন হয় না।

ফিকহের জন্য এবং যারা এতে নিয়োজিত তাদের জন্য এতটুকুই সম্মান হিসেবে যথেষ্ট। 'আল-আশবাহ ওয়ান-নাজাইর'-এর প্রারম্ভিকতায় আমাদের সাইয়্যেদেনা উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক আবু মুসা আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট প্রেরিত সেই পত্রটি উল্লেখ করা আমাদের জন্য সমীচীন হবে, যাতে এমন কিছু মাসয়ালা ও সংকেত রয়েছে যা এই শাস্ত্রের মূল ভিত্তি; অর্থাৎ সাদৃশ্যপূর্ণ মাসয়ালাগুলোর অনুসন্ধান ও সেগুলো সংরক্ষণ করা যাতে অন্যান্য মাসয়ালাকে তার ওপর কিয়াস বা অনুমান করা যায়। এছাড়াও এতে আরও অনেক মহৎ উপকারিতা রয়েছে, যার বিবরণ নিম্নরূপ:

আবু মালিহ আল-হুজালী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব আবু মুসা আশআরীর কাছে লিখেছিলেন: অতঃপর, বিচারকার্য পরিচালনা একটি সুনিশ্চিত ফরয এবং একটি অনুসৃত সুন্নাত। সুতরাং যখন তোমার কাছে কোনো দলিল উপস্থাপন করা হবে তখন তা গভীরভাবে উপলব্ধি করো এবং সত্য প্রকাশিত হলে তা কার্যকর করো।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ২)
وضح فإنه لا ينفع تكلم بحق لا نفاذ له، وآس بين الناس في وجهك ومجلسك وعدلك حتى لا ييأس الضعيف من عدلك ولا يطمع الشريف في حيفك. البينة على من ادعى واليمين على من أنكر. والصلح جائز بين المسلمين إلا صلحًا أحل حرامًا أو حرم حلالًا لا يمنعك قضاء قضية بالأمس راجعت فيه نفسك وهديت فيه لرشدك أن تراجع الحق؛ فإن الحق قديم ومراجعة الحق خير من التمادي في الباطل. الفهم الفهم فيما يختلج في صدرك ما لم يبلغك في الكتاب أو السنة "اعرف الأمثال والأشباه ثم قس الأمور عند ذلك"، "فاعمد إلى أحبها عند الله وأشبهها بالحق فيما ترى"، واجعل لمن ادعى بينة أمدا ينتهي إليه؛ فإن أحضر بينة أخذ بحقه وإلا وجهت القضاء عليه؛ فإن ذلك أجلى للعمى وأبلغ في العذر، المسلمون عدول بعضهم على بعض إلا مجلودا في حد أو مجرَّب في شهادة زور أو ضنين في ولاء أو قرابة. إن الله تولى منكم السرائر ودرأ عنكم بالبينات، وإياك والفلق والضجر والتأذي بالناس والتنكر للخصوم في مواطن الحق التي يوجب الله بها الأجر ويحسن بها الذخر؛ فإنه من يصلح نيته فيما بينه وبين الله ولو على نفسه يكفه الله ما بينه وبين الناس، ومن تزين للناس بما يعلم الله منه غير ذلك يشنه الله فما ظنك بثواب غير الله عز وجل في عاجل رزقه وخزائن رحمته.

والسلام عليك.

وقد قال السيوطي في أشباهه ونظائره: "إن فن الأشباه والنظائر فن عظيم به يطلع على حقائق الفقه ومداركه ومآخذه وأسراره ويتمهد في فهمه واستحضاره ويقتدر على الإلحاق والتخريج ومعرفة أحكام المسائل التي ليست بمسطورة والحوادث والوقائع التي لا تنقص على ممر الزمان ولهذا قال بعض أصحابنا: "الفقه معرفة النظائر".

وهذا ما نبه عليه الشيخ السبكي رحمه الله في مواضع عديدة من كتابه فدونك أيها القارئ بيان منهجه في أشباهه ونظائره.

ولقد شرع المؤلف في كتابه بخطبة للكتاب بيَّن فيها أهمية الفقه وأنواعه وأهمية القواعد الفقهية، وأثنى على كتاب القواعد لابن عبد السلام وكتاب الأشباه والنظائر لابن المرحل وأنه كان الدافع للمؤلف في تأليفه كتابه فأخذ في تحريره وإتمامه بإشارة والده له ولقد أضاف إليه الكثير قسم الناس تجاه كتابه إلى ثلاث فرق أثنى على الفرقة الثالثة وهي التي تقرأ وتستفيد وتعترف بالفضل فهذه الطريقة هي التي مدحها في كتابه بقوله:
পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করো, কারণ এমন সত্য কথা বলে কোনো লাভ নেই যা কার্যকর হয় না। মানুষের মাঝে তোমার দৃষ্টিভঙ্গি, তোমার মজলিস এবং তোমার ইনসাফের ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখো, যাতে দুর্বল ব্যক্তি তোমার ইনসাফ থেকে নিরাশ না হয় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি তোমার পক্ষপাতের লালসা না করে। প্রমাণ পেশ করা দাবিদারের দায়িত্ব এবং শপথ করা তার দায়িত্ব যে অস্বীকার করে। মুসলমানদের মাঝে সন্ধি জায়েজ, তবে এমন সন্ধি ব্যতীত যা হারামকে হালাল করে বা হালালকে হারাম করে। গতকাল তুমি কোনো বিচার করেছ, তারপর সে বিষয়ে পুনরায় চিন্তা করে তুমি সঠিক পথের দিশা পেয়েছ—এ বিষয় যেন তোমাকে সত্যের দিকে ফিরে আসতে বাধা না দেয়; কেননা সত্য চিরন্তন এবং বাতিলের ওপর অটল থাকার চেয়ে সত্যের দিকে ফিরে আসা উত্তম। তোমার অন্তরে যা খটকা সৃষ্টি করে কিন্তু সে বিষয়ে কুরআন বা সুন্নাহ থেকে কিছু পাওনি, সে ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা ও বোধশক্তির প্রয়োগ করো। অনুরূপ দৃষ্টান্ত ও সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলো চিনে নাও এবং সে অনুযায়ী বিষয়গুলোকে বিচার করো। তোমার দৃষ্টিতে যা আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় এবং সত্যের অধিক নিকটবর্তী মনে হয়, তারই অনুসরণ করো। যে ব্যক্তি প্রমাণের দাবি করে, তার জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দাও। সে যদি প্রমাণ উপস্থিত করতে পারে তবে তাকে তার হক বুঝিয়ে দাও, অন্যথায় তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করো। কারণ এটিই বিভ্রান্তি দূর করার জন্য অধিক স্পষ্ট এবং ওজর পেশ করার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর। মুসলমানরা একে অপরের জন্য নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়নিষ্ঠ, তবে এমন ব্যক্তি ব্যতীত যার ওপর হদ (শাস্তি) কার্যকর হয়েছে অথবা যার মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে অথবা যে আনুগত্য বা আত্মীয়তার বিষয়ে অভিযুক্ত। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের অন্তরের খবর জানেন এবং প্রমাণের মাধ্যমে তোমাদের থেকে সন্দেহ দূর করেছেন। সত্য প্রতিষ্ঠার স্থানগুলোতে—যেখানে আল্লাহ সওয়াব অবধারিত করেন এবং সঞ্চয়কে সুন্দর করেন—সেখানে বিরক্তি, অস্থিরতা, মানুষকে কষ্ট দেওয়া এবং বিবাদমান পক্ষগুলোর প্রতি বিরূপ আচরণ করা থেকে সতর্ক থাকো। কারণ যে ব্যক্তি নিজের ও আল্লাহর মাঝখানের বিষয়টি সংশোধন করে নেয়, যদিও তা তার নিজের বিপক্ষে যায়, আল্লাহ তার ও মানুষের মাঝখানের বিষয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি মানুষের কাছে নিজেকে এমনভাবে সৌন্দর্যমন্ডিত করে যা আল্লাহ তার অন্তরে নেই বলে জানেন, আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করেন। সুতরাং আল্লাহর নগদ রিযিক ও তাঁর রহমতের ভাণ্ডারসমূহ বাদ দিয়ে অন্য কারো সওয়াব বা পুরস্কার সম্পর্কে তোমার কী ধারণা?

তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

সুয়ূতী তাঁর 'আশবাত ওয়ান নাযাইর' গ্রন্থে বলেছেন: "নিশ্চয়ই সাদৃশ্য ও তুল্য বিষয়ের জ্ঞান (আল-আশবাত ওয়ান নাযাইর) একটি মহান শাস্ত্র। এর মাধ্যমে ফিকহ শাস্ত্রের হাকিকত, এর উৎস, ভিত্তি ও রহস্যসমূহ অবগত হওয়া যায়। এটি ফিকহ বুঝা এবং স্মরণে রাখার পথকে সুগম করে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে নতুন বিষয়ের সংযোজন (ইলহাক), মাসয়ালা উদ্ভাবন (তাখরিজ) এবং ওই সকল মাসয়ালার হুকুম জানার যোগ্যতা অর্জিত হয় যা কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই, আর সেই সব ঘটনা ও পরিস্থিতির বিধান জানা যায় যা সময়ের আবর্তনে শেষ হয় না। এই কারণেই আমাদের মাশায়েখদের কেউ কেউ বলেছেন: 'ফিকহ হলো সদৃশ বিষয়সমূহ চিনে নেওয়ার নাম'।"

আর এটিই সেই বিষয় যার প্রতি শায়খ সুবকী রহ. তাঁর কিতাবের বহু স্থানে ইঙ্গিত করেছেন। সুতরাং হে পাঠক, আপনার সামনে তাঁর 'আশবাত ওয়ান নাযাইর' গ্রন্থের মানহাজ বা কর্মপদ্ধতির বর্ণনা তুলে ধরা হলো।

লেখক তাঁর কিতাবটি একটি ভূমিকা (খুতবা) দিয়ে শুরু করেছেন, যেখানে তিনি ফিকহ শাস্ত্রের গুরুত্ব, এর প্রকারভেদ এবং ফিকহি মূলনীতিসমূহের গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। তিনি ইবনে আব্দুস সালামের 'আল-কাওয়ায়িদ' এবং ইবনুল মুরাহহালের 'আল-আশবাত ওয়ান নাযাইর' গ্রন্থ দুটির প্রশংসা করেছেন। এটিই লেখককে তাঁর গ্রন্থ রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল। অতঃপর তিনি তাঁর পিতার নির্দেশনায় এটি পরিমার্জন ও সম্পন্ন করার কাজে হাত দেন এবং এতে অনেক কিছু সংযোজন করেন। তিনি তাঁর কিতাবের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন এবং তৃতীয় দলের প্রশংসা করেছেন—যারা এটি পড়ে, উপকৃত হয় এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে। এটিই সেই পদ্ধতি যার প্রশংসা তিনি তাঁর কিতাবে নিম্নোক্ত বাণীর মাধ্যমে করেছেন:
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৩)
"وهذه طريقة قلَّ سالكوها وبعد أن يوجد في حياة المصنف أهلوها، فعليهم سلام الله أحسن الناس وجوها … ". ثم تكلم بعد ذلك عن تمهيد عاب فيه على من يقتصر على حفظ الفروع دون القواعد، وبين رأي إمام الحرمين في أهمية القواعد وبين الفرق بين القاعدة وبين المدرك، والضابط وأوضح رأي القاضي حسين في أهم القواعد التي ترجع إليها الفقه فبين هذا الأمر غاية البيان وأوضح كذلك رأي العز بن عبد السلام في إرجاع الفقه كله إلى قاعدة المصلحة المشهورة.

ثم شرع المؤلف رحمه الله إلى تقسيم كتابه إلى أبواب:

الباب الأول: في القواعد الخمسة المشهورة التي هي أساس لغيرها.

الباب الثاني: في القواعد العامة التي تأتي في درجة بعد القواعد الخمسة وقد تكلم الشيخ في هذا الباب عن سبع وعشرين قاعدة كلية.

الباب الثالث: القواعد الخاصة لكل باب من أبواب الفقه. تكلم الشيخ في هذا الباب عن خمس وثمانين ومائة قاعدة، وقسمها إلى أربعة أقسام:

القسم الأول: في قواعد ربع العبادات.

القسم الثاني: في قواعد ربع البيع.

القسم الثالث: في قواعد ربع الإقرار.

القسم الرابع: في قواعد ربع المناكحات.

الباب الرابع: "في أصول كلامية ينبني عليها فروع فقهية".

وفي هذا الباب تحدث الشيخ عن السعادة والشقاوة وعن حقيقة العلم وعن الفرق بين الاسم والمسمى وعن حقيقة الكلام والفرق بين الملجأ والمضطر وشروط الإكراه الذي به ترتفع الأحكام وعن الخلاف في حقيقة العقد وتكلم في ذلك عن الحسن والقبح وكونهما شرعيين لا عقليين وبين الخلاف في ذلك وتحدث عن حقيقة الحياة وعن العلاقة بين الممكن والمؤثر وتكلم عن السبب والعلة وبين الفرق بيهما وبين الحكم فيما إذا دخل الشرط على السبب كما تكلم عن منع اجتماع علتين على معلول واحد ثم تكلم عن أحكام يضطر الفقيه إلى الحكم بتقدمها على أسبابها وغير ذلك من المسائل المهمات.

الباب الخامس: "في مسائل أصولية يتخرج عليها فروع فقهية تكلم الشيخ في
“আর এটি এমন এক পথ যার পথিকের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য, আর গ্রন্থকারের জীবদ্দশায় এর উপযুক্ত ব্যক্তিদের অস্তিত্ব পাওয়া বিরল; সুতরাং তাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম বর্ষিত হোক, যারা মানুষের মাঝে সর্বোত্তম চেহারার অধিকারী … । অতঃপর তিনি একটি উপক্রমণিকা বা ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করেন, যেখানে তিনি সেই সব ব্যক্তিদের সমালোচনা করেছেন যারা মূলনীতি (কাওয়াইদ) বর্জন করে কেবল শাখা-প্রশাখা (ফুরু) মুখস্থ করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকে। তিনি মূলনীতির গুরুত্ব বিষয়ে ইমামুল হারামাইনের অভিমত বর্ণনা করেছেন এবং মূলনীতি (কায়েদাহ), উৎস (মাদরাক) ও উপ-মূলনীতির (দাবিত) মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন। কাজী হুসাইনের মতে ফিকহের প্রত্যাবর্তনস্থল হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিগুলোর বিষয়টি তিনি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তদ্রূপ তিনি সম্পূর্ণ ফিকহ শাস্ত্রকে প্রসিদ্ধ 'মাসলাহাত' বা জনকল্যাণমূলক মূলনীতির দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ইজ্জ বিন আব্দুস সালামের অভিমতও স্পষ্ট করেছেন।

অতঃপর গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) তার কিতাবকে কয়েকটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা শুরু করেন:

প্রথম অধ্যায়: পাঁচটি প্রসিদ্ধ মূলনীতি প্রসঙ্গে, যা অন্য সবকিছুর ভিত্তি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: সাধারণ মূলনীতি প্রসঙ্গে, যেগুলোর মর্যাদা ওই পাঁচটি মূলনীতির পরেই। শায়খ এই অধ্যায়ে সাতাশটি সর্বজনীন মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তৃতীয় অধ্যায়: ফিকহের প্রতিটি অধ্যায়ের জন্য নির্দিষ্ট মূলনীতিসমূহ। শায়খ এই অধ্যায়ে একশত পঁচাশিটি মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সেগুলোকে চার ভাগে বিভক্ত করেছেন:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবাদত চতুর্থাংশের মূলনীতিসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ক্রয়-বিক্রয় চতুর্থাংশের মূলনীতিসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: স্বীকারোক্তি (ইকরার) চতুর্থাংশের মূলনীতিসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিবাহ-শাদি চতুর্থাংশের মূলনীতিসমূহ।

চতুর্থ অধ্যায়: “কালামশাস্ত্রীয় এমন কিছু মূলনীতি প্রসঙ্গে, যেগুলোর ওপর ফিকহী শাখা-প্রশাখাসমূহ ভিত্তিশীল”।

এই অধ্যায়ে শায়খ সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য, ইলমের হাকিকত বা প্রকৃত রূপ, নাম (ইসম) ও নামী (মুসাম্মা)-র মধ্যকার পার্থক্য, কালামের হাকিকত, নিরুপায় ও বাধ্য ব্যক্তির মধ্যকার পার্থক্য এবং জবরদস্তির (ইকরাম) শর্তাবলী যার মাধ্যমে বিধান রহিত হয়ে যায়—সেসব বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়া চুক্তির হাকিকত বিষয়ক মতভেদ এবং 'হুসন' ও 'কুবহ' (ভালো ও মন্দ) নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, এগুলো শরিয়তগত বিষয়, আকলি (বিবেচনাপ্রসূত) নয়; এ ব্যাপারে বিদ্যমান মতভেদও তিনি বর্ণনা করেছেন। তিনি জীবনের হাকিকত এবং সম্ভাব্য (মুমকিন) ও প্রভাব বিস্তারকারীর (মুআসির) মধ্যকার সম্পর্ক নিয়েও আলোকপাত করেছেন। তিনি সবব (কারণ) ও ইল্লত (হেতু)-এর আলোচনা করেছেন এবং এ দুটির মধ্যকার পার্থক্য ও সবব-এর ওপর শর্ত আরোপিত হওয়ার বিধান বর্ণনা করেছেন। তদ্রূপ তিনি এক প্রভাবাধীন বিষয়ের ওপর দুটি হেতুর একত্র হওয়া অসম্ভব হওয়ার বিষয়ে এবং এমন কিছু বিধান সম্পর্কে আলোচনা করেছেন যেখানে ফকিহ কোনো বিধানকে তার কারণের আগে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত দিতে বাধ্য হন। এছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহ নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন।

পঞ্চম অধ্যায়: “উসূলী মাসআলাসমূহ প্রসঙ্গে, যেগুলোর ওপর ফিকহী শাখা-প্রশাখাসমূহ উৎসারিত হয়”। শায়খ এতে আলোচনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৪)
ذلك الباب عن معنى التكليف وعن أنواع الأحكام وعن المعنى المقصود بصحة العقود وعن مدلول اسم الفاعل واسم المفعول والصفة المشبهة وسائر الأسماء المشتقة وعن منع اشتقاق اسم الفاعل من شيء يكون الفعل قائما بغيره وتكلم عن العلاقة بين الفرض والواجب وعن حكم أخذ الأجرة على فرض العين وعن حكم ما لا يتم الواجب إلا به، وتكلم عن فرض الكفاية وعن معنى السنة والنافلة والتطوع والمستحب والمندوب والمرغّب فيه والمرشد إليه والحسن والأدب وتكلم عن أمور يتعلق التحريم فيها بمبهم وبين حقيقة الرخصة وغير ذلك من المسائل الأصولية المهمة ثم انتقل الشيخ إلى:

كتاب العموم والخصوص: تكلم فيه الشيخ عن صيغ العموم وتكلم كذلك عن قواعد مهمة لا يستغني عنها الفقيه …

وكتاب الإجماع: تكلم فيه عن حكم الأجماع السكوتي وعما يتعلق بقول الصحابة رضي الله عنهم: "فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا" … وكتاب القياس: تكلم فيه الشيخ عن قياس العكس ومسألة هل تثبت اللغة قياسًا وغير ذلك مما يتعلق بمسائل القياس.

وكتاب الاستدلال: تكلم فيه عن قول الصحابي وحكم حجته وغير ذلك.

وكتاب الترجيح: تكلم فيه عن الحكم فيما إذا تعادلت الأمارات وكذا لو تعارض العام والخاص، وقول: التخصيص أولى من المجاز، والفرق بين ما ثبت بالنص وما ثبت بالأخبار.

وكتاب الاجتهاد: تكلم في عن عدم قابلية خطأ رسول الله صلى الله عليه وسلم.

الباب السادس: "كلمات نحوية يترتب عليها فروع فقهية، وقسم هذا الباب إلى قسمين: الأول في المفردات من الأسماء والحروف وبعض الأفعال، والثاني: في المركبات والتصرفات العربية. وذكر قسما ثالثا في إعراب الآيات التي يترتب على تخريجها أحكام شرعية وهذا القسم الذي أشار إليه في مقدمة هذا الباب ثم نعثر عليه فيما بين أيدينا من مخطوطات.

الباب السابع: وهو الباب الذي تكلم فيه الشيخ عن المآخذ المختلف فيها بين الأئمة التي ينبني عليها فروع فقهية.

تحدث الشيخ تاج الدين في ذلك الباب عن سبب اختلاف الفقهاء وبين الخلاف
সেই অধ্যায়ে শরয়ী দায়িত্বের (তাকলীফ) অর্থ, বিধানের প্রকারভেদ, চুক্তির শুদ্ধতার উদ্দিষ্ট অর্থ, কর্তৃবাচক বিশেষ্য (ইসমুল ফায়িল), কর্মবাচক বিশেষ্য (イসমুল মাফউল), গুণবাচক বিশেষ্য (সিফাতে মুশাব্বাহা) ও অন্যান্য ব্যুৎপন্ন বিশেষ্যের তাৎপর্য এবং কোনো কাজ অন্যের মাধ্যমে সম্পাদিত হলে সেখান থেকে কর্তৃবাচক বিশেষ্য আহরণের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তিনি ফরজ ও ওয়াজিবের মধ্যকার সম্পর্ক, ফরজে আইনের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিধান এবং যে কাজ ব্যতীত ওয়াজিব সম্পন্ন হয় না তার বিধান নিয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়া তিনি ফরজে কিফায়াহ এবং সুন্নাহ, নফল, তাতাত্ত্বু (স্বেচ্ছাধীন ইবাদত), মুস্তাহাব, মানদুব (পছন্দনীয়), মূরগাব ফীহ (উৎসাহিত), মুরশাদ ইলাইহি (নির্দেশিত), হাসান (উত্তম) ও আদব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি এমন সব বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছেন যেখানে নিষিদ্ধতা কোনো অস্পষ্ট বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত এবং রূখসত বা শিথিলতার প্রকৃত স্বরূপ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উসূলি মাসআলা বর্ণনা করেছেন। এরপর শায়খ পরবর্তী আলোচনায় চলে যান:

আম (সাধারণ) ও খাস (বিশেষ) অধ্যায়: এতে শায়খ সাধারণত্বের শব্দাবলি (সিয়াগুল উমুম) এবং এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন যা একজন ফকিহ বা ফিকহবিদের জন্য অপরিহার্য …

ইজমা (ঐক্যমত) অধ্যায়: এতে তিনি মৌন ঐক্যমত (ইজমায়ে সুকূতি) এবং সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হন)-এর এই উক্তি: "রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এমনটি করেছেন" সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেছেন … কিয়াস (সাদৃশ্য) অধ্যায়: এতে শায়খ বিপরীত সাদৃশ্য (কিয়াসে আকস) এবং ভাষা কি কিয়াসের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়—এমন মাসআলা ও কিয়াস সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ইস্তিদলাল (দলিল গ্রহণ) অধ্যায়: এতে তিনি সাহাবীর উক্তি এবং তার দলীল হওয়ার বিধানসহ অন্যান্য বিষয় আলোচনা করেছেন।

তারজীহ (প্রাধান্য দান) অধ্যায়: এতে তিনি একাধিক নিদর্শন সমান হওয়ার ক্ষেত্রে বিধান কী হবে এবং যদি সাধারণ ও বিশেষের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয় তবে করণীয় কী, সে সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এছাড়া "রূপক অর্থের চেয়ে সুনির্দিষ্টকরণ (তাখসীস) উত্তম"—এই উক্তি এবং সুস্পষ্ট পাঠ (নস) ও বর্ণনার (আখবার) মাধ্যমে প্রমাণিত বিষয়ের মধ্যকার পার্থক্য আলোচনা করেছেন।

ইজতিহাদ (গবেষণা) অধ্যায়: এতে তিনি রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর ভুল করার অসম্ভবতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ষষ্ঠ অধ্যায়: "ব্যাকরণিক শব্দাবলি যার ওপর ফিকহী শাখা-প্রশাখা নির্ভরশীল", তিনি এই অধ্যায়কে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: প্রথমটি বিশেষ্য, অব্যয় ও কিছু ক্রিয়ার একক শব্দাবলি নিয়ে এবং দ্বিতীয়টি আরবি বাক্য গঠন ও ব্যাকরণিক রূপান্তর নিয়ে। তিনি তৃতীয় একটি অংশের কথা উল্লেখ করেছেন যাতে এমন আয়াতসমূহের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব) রয়েছে যার ওপর শরয়ী বিধান নির্ভর করে। এই অংশটির কথা তিনি এই অধ্যায়ের ভূমিকায় উল্লেখ করলেও আমাদের হাতে থাকা পাণ্ডুলিপিগুলোতে তা পাওয়া যায়নি।

সপ্তম অধ্যায়: এই অধ্যায়ে শায়খ ইমামগণের মধ্যকার মতভেদপূর্ণ উৎসসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন যার ওপর ফিকহী শাখা-প্রশাখাগুলো ভিত্তি করে।

শায়খ তাজউদ্দীন সেই অধ্যায়ে ফকিহগণের মতভেদের কারণসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং মতপার্থক্যসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৫)
بين الشافعي. وأبي حنيفة في المعنى المغلب في الزكاة وتكلم عن الخلاف في علة ربوية الأشياء المنصوصة إلى غير ذلك مما يطالع به الكتاب.

وفي نهاية هذا الباب تكلم عن تقاسيم أدخلها بعض الفقهاء في القواعد وليست منها.

الباب الثامن: في الألغاز.

ثم ختم كتابه بأدعية مأثورة عن النبي صلى الله عليه وسلم.

وبهذا نكون قد ألقينا الضوء على منهج المؤلف في كتابه الأشباه والنظائر الذي قال عنه ابن نجيم: "لم أر كتابا يحكي كتاب الشيخ تاج الدين السبكي الشافعي رحمه الله تعالى".
তিনি শাফিয়ি ও আবু হানিফার মধ্যে জাকাতের ক্ষেত্রে প্রবল অর্থ এবং সরাসরি বর্ণিত বস্তুসমূহে রিবা হওয়ার কারণ সংক্রান্ত মতভেদসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করেছেন যা কিতাবটি পাঠ করলে জানা যায়।

এবং এই পরিচ্ছেদের শেষে তিনি এমন কিছু শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন যা কিছু ফকিহ মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত করেছেন, অথচ সেগুলো তার অংশ নয়।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: ধাঁধা প্রসঙ্গে।

অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত দোয়াসমূহ দিয়ে তাঁর কিতাবটি সমাপ্ত করেছেন।

এর মাধ্যমেই আমরা লেখকের ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর’ কিতাবটির পদ্ধতির ওপর আলোকপাত করলাম, যে সম্পর্কে ইবনে নুজাইম বলেছেন: “আমি শায়খ তাজউদ্দীন সুবকি শাফিয়ি রহমতুল্লাহি আলাইহির কিতাবটির সাদৃশ্য রাখে এমন কোনো কিতাব দেখিনি।”
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৬)
ترجمة الإمام ابن السبكي:

اسمه ونسبه 1:

عبد الوهاب بن علي بن عبد الكافي بن علي بن تمام بن يوسف بن موسى بن تمام العلامة قاضي القضاة تاج الدين أبو نصر ابن الشيخ الإمام شيخ الإسلام تقي الدين أبي الحسن الأنصاري الخزرجي السبكي ونسبته إلى سبك "من أعمال المنوفية بمصر".

مولده: ولد في القاهرة سنة سبع وعشرين وسبعمائة، وقيل: سنة ثمانٍ في السلطنة الثالثة للناصر محمد بن قلاوون.

نشأته وطلبه للعلم:

من المعلوم ضرورة أن البيئة من العوامل المؤثرة في تكوين الشخصية وهي تتدخل في توزيع الاتجاهات والاستعدادات والميول وهي التي تميز كل امرئ عن الآخر فإن لعواملها تأثيرًا "سيكولوجيا" كبيرًا عن انطباعات كل إنسان عن الكون والحياة.

وفي خصومة هذه العوامل تنبت براعم الاتجاهات الخاصة التي تشكل ملامح

--------------------------------------------

1 انظر ترجمته في البداية والنهاية 14/ 316. الدرر الكامنة 2/ 425. قضاة دمشق ص106. النجوم الزاهرة 11/ 108. البيت السبكي ص14-45. حسن المحاضرة 1/ 182. البدر الطالع 1/ 410. شذرات الذهب 6/ 221. طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 3/ 104. هداية العارفين 1/ 639 بروكلمان 2/ 89. معجم المؤلفين 6/ 225.
ইমাম ইবনুস সুবকী-র জীবনী:

তাঁর নাম ও বংশপরিচয় ১:

আবদুল ওয়াহহাব বিন আলী বিন আবদুল কাফি বিন আলী বিন তাম্মাম বিন ইউসুফ বিন মূসা বিন তাম্মাম; আল্লামা, কাযিল কুযাত (প্রধান বিচারপতি), তাজউদ্দীন আবু নাসর; শায়খ, ইমাম, শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবুল হাসান আল-আনসারী আল-খাযরাজী আস-সুবকী-র পুত্র। তাঁর নিসবত (সম্বন্ধ) হলো 'সুবক'-এর দিকে, যা মিশরের মানুফিয়া প্রদেশের একটি এলাকা।

জন্ম: তিনি সাতশ সাতাশ হিজরিতে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। মতান্তরে সাতশ আটাশ হিজরিতে, সুলতান নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউনের তৃতীয় শাসনকালে।

তাঁর বেড়ে ওঠা ও জ্ঞান অন্বেষণ:

এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, পরিবেশ ব্যক্তিত্ব গঠনের অন্যতম প্রভাবশালী উপাদান এবং এটি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, যোগ্যতা ও প্রবণতার বিন্যাসে ভূমিকা রাখে। পরিবেশের উপাদানসমূহ মহাবিশ্ব ও জীবন সম্পর্কে প্রতিটি মানুষের উপলব্ধির ওপর ব্যাপক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলে।

এই উপাদানগুলোর ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়েই বিশেষ প্রবণতার মুকুলগুলো অঙ্কুরিত হয় যা ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যমন্ডিত অবয়ব গঠন করে...

--------------------------------------------

১ দেখুন তাঁর জীবনী: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৪/৩১৬। আদ-দুরারুল কামিনাহ ২/৪২৫। কুযাতু দিমাশক পৃষ্ঠা ১০৬। আন-নুজুমুয যাহিরাহ ১১/১০৮। আল-বাইতুস সুবকী পৃষ্ঠা ১৪-৪৫। হুসনুল মুহাযারাহ ১/১৮২। আল-বাদরুত তালি' ১/৪১০। শাযারাতুয যাহাব ৬/২২১। তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ইবনু কাযি শুহবাহ ৩/১০৪। হিদায়াতুল আরিফিন ১/৬৩৯ ব্রোকলম্যান ২/৮৯। মু'জামুল মুয়াল্লিফীন ৬/২২৫।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৭)
البارزة لوجهة الشخصية، ولقد منح الله العلي الغفار الإمام الحبر البحر عبد الوهاب السبكي بيئة ذات طابع متميز فساعدته على تنمية مواهبه وإشراقه بنوعه فهي بيئة علمية التقت به من جميع جوانبه فوالد تقي الدين علي بن عبد الكافي بن علي بن تمام بن يوسف بن موسى أبو الحسن الأنصاري الخزرجي السبكي وكفى بذلك شاهدًا. فلقد رأى الشيخ عبد الوهاب وفود العلماء وهي تنسل إلى مجلس أبيه وينهلون من علمه ويقيدون فوائده فليس غريبا أن يبدأ مبكرا في حفظ كتاب الله والعكوف على طلب العلم؛ فقد نشأ في أسرة عريقة ويعتبر تاج الدين من أجلِّ وأعظم رجال الأسرة السبكية الذين ذاع صيتهم في دولتي المماليك؛ لامتيازهم في العلم وفي مناصب التدريس والقضاء فلم يعش تاج الدين إلا نحو أربعة وأربعين عاما لكن حياته على قصرها كانت ملأى بالإنتاج العلمي الذي جعله من الأئمة باعتراف معاصريه ومن جاءوا بعده.

وتدل آثاره وموافقه في المحن التي عاناها وآراء من كتبوا عنه على أنه كان -إلى جانب ما امتاز به من علم غزير وذكاء حادٍّ ولسان طلق وبديهة حاضرة وحجة قوية وصبر على العمل المنتج وسعة صدر وثبات في الملمات وترفعٍ واعتداد بالنفس ورقة إحساس وعطف على الإنسان والحيوان من أولئكم ذوي الشخصيات الضخمة والنفوس القوية والأخلاق المتينة؛ أولئكم الذين يسمون بأنفسهم فوق منافعهم الخاصة ويأبون وإن تهيأت لهم كل أسباب الراحة في الحياة، وأن يصبروا على فساد بيئة أو طغيان قوة أو موت حق وقيام باطل، فلم يكن من أولئكم الأنذال أشباه الذين يرحبون بالفساد يستغلونه لمآربهم ويسخرونه لمنافعهم. بل آثر أن يكون من رجال الإصلاح وإن أوذي واضطهد، فعزل غير مرة واعتقل بقلعة دمشق، لكن العالم الإسلامي وقد نسي مضطهديه واضطهاده لم ينس له في حياته ولن ينسى له بعد مماته فضله وآثاره1؛ فقد كان تاج الدين في طلبه للعلم شغوفا لم يألُ جهدا في تحصيله فحضر وسمع بمصر من جماعة ثم قدم دمشق مع والده في جمادى الآخرة سنة تسع وثلاثين وسمع بها من جماعة واشتغل بالعلم على والده وغير ودرس بمصر والشام وبمدارس كبار العلماء منها العزيزية والعادلية الكبرى والغزالية والعزراوية والشاميين والناصرية والأمينية وغير ذلك من المدارس.

--------------------------------------------

1 البيت السبكي 13-14.
ব্যক্তিত্বের উজ্জ্বল দিকগুলোর বর্ণনায়, মহান ও ক্ষমাশীল আল্লাহ ইমাম, অগাধ পণ্ডিত ও জ্ঞানের সমুদ্র আব্দুল ওয়াহহাব আস-সুবকীকে একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পরিবেশ দান করেছিলেন, যা তার প্রতিভা বিকাশে এবং তার বিশেষত্বের বিচ্ছুরণে সহায়তা করেছিল। এটি ছিল এমন এক ইলমী বা জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবেশ যা তাকে সর্বদিক থেকে পরিবেষ্টিত করে রেখেছিল। তার পিতা তাকিউদ্দীন আলী ইবনে আব্দুল কাফী ইবনে আলী ইবনে তাম্মাম ইবনে ইউসুফ ইবনে মূসা আবুল হাসান আল-আনসারী আল-খাযরাজী আস-সুবকী ছিলেন এর এক প্রকৃষ্ট প্রমাণ। শেখ আব্দুল ওয়াহহাব আলেমদের কাফেলাগুলোকে তার পিতার মজলিসে দলে দলে আসতে দেখতেন, যারা তার ইলম থেকে সুধা পান করতেন এবং তার জ্ঞানগর্ভ বাণীসমূহ লিপিবদ্ধ করে নিতেন। তাই খুব অল্প বয়সেই তার আল্লাহর কিতাব মুখস্থ করা এবং জ্ঞান অন্বেষণে নিবিষ্ট হওয়া আশ্চর্যের কিছু নয়। তিনি এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তাজউদ্দীনকে সুবকী পরিবারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মহান ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়, যাদের খ্যাতি মামলুক সালতানাতের যুগে ছড়িয়ে পড়েছিল; ইলম এবং অধ্যাপনা ও বিচার বিভাগের পদগুলোতে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণেই এই খ্যাতি অর্জিত হয়েছিল। তাজউদ্দীন মাত্র চুয়াল্লিশ বছরের মতো জীবিত ছিলেন, কিন্তু তার এই স্বল্পস্থায়ী জীবন এমন ইলমী অবদানে ভরপুর ছিল যা তাকে তার সমসাময়িক এবং পরবর্তী যুগের মনীষীদের স্বীকৃতি অনুযায়ী অন্যতম ইমামের মর্যাদায় আসীন করেছে।

তার রচনাবলী, বিভিন্ন সংকটে তার গৃহীত অবস্থান এবং যারা তার সম্পর্কে লিখেছেন তাদের অভিমত একথাই প্রমাণ করে যে—অগাধ পাণ্ডিত্য, তীক্ষ্ণ মেধা, সাবলীল ভাষা, উপস্থিত বুদ্ধি, জোরালো যুক্তি, সৃজনশীল কাজে ধৈর্য, প্রশস্ত হৃদয়, সংকটে অবিচলতা, আত্মমর্যাদাবোধ, সংবেদনশীলতা এবং মানুষ ও প্রাণীর প্রতি দয়ার পাশাপাশি তিনি ছিলেন সেই সকল বিশাল ব্যক্তিত্ব, শক্তিশালী আত্মা এবং সুদৃঢ় চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত; যারা নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন এবং জীবনের সকল আরাম-আয়েশ হাতের নাগালে থাকলেও কোনো পরিবেশের কলুষতা, শক্তির স্বৈরাচার, সত্যের বিনাশ কিংবা মিথ্যার উত্থানকে মেনে নিতে অস্বীকার করেন। তিনি সেই সব হীনম্মন্য ব্যক্তিদের মতো ছিলেন না যারা দুর্নীতিকে স্বাগত জানায়, নিজেদের হীন উদ্দেশ্য হাসিলে তা ব্যবহার করে এবং নিজেদের স্বার্থে তাকে কাজে লাগায়। বরং তিনি সংস্কারবাদী হওয়ার পথকেই বেছে নিয়েছিলেন, যদিও তাকে অনেক কষ্ট ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। তিনি একাধিকবার পদচ্যুত হন এবং দামেস্কের দুর্গে কারারুদ্ধ হন। কিন্তু মুসলিম বিশ্ব যেমন তার ওপর নির্যাতনকারীদের এবং সেই নির্যাতনকে ভুলে গেছে, তেমনি তার জীবদ্দশায় তার অবদানকে ভোলেনি এবং তার মৃত্যুর পরেও তার মর্যাদা ও কীর্তিকে কখনো ভুলবে না। তাজউদ্দীন জ্ঞান অন্বেষণে এতটাই অনুরাগী ছিলেন যে তা অর্জনে তিনি কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেননি। তিনি মিশরে অবস্থান করে একদল উলামার নিকট পাঠ গ্রহণ ও শ্রবণ করেছেন। অতঃপর তিনি সাতশত ঊনচল্লিশ হিজরির জুমাদাল আখিরা মাসে পিতার সাথে দামেস্কে আসেন এবং সেখানেও একদল আলেমের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। তিনি তার পিতা ও অন্যদের কাছে ইলম অর্জনে নিমগ্ন থাকেন এবং মিশর ও শামে বড় বড় আলেমদের মাদরাসাসমূহে অধ্যাপনা করেন, যার মধ্যে আল-আজিজিয়াহ, আল-আদিলিয়াহ আল-কুবরা, আল-গাজালিয়াহ, আল-আযরাউইয়াহ, আশ-শামিয়্যিন, আন-নাসিরিয়াহ, আল-আমীনিয়াহ এবং অন্যান্য মাদরাসা উল্লেখযোগ্য।

--------------------------------------------

১ আল-বাইত আস-সুবকী ১৩-১৪।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৮)
شيوخه:

1- علي بن عبد الكافي بن علي بن تمام بن يوسف بن موسى تقي الدين أبو الحسن الأنصاري الخزرجي السبكي وهو والد الشيخ تاج الدين فقد طلب العلم على يديه- قال عنه ولده كما ولي التدريس في المدرسة الشامية البرانية "فما حل مغربها ولا اقتعد بمشرقها أعلم منه"، وقد كان والده رحمه الله حريصًا على تثقيفه على يد كبار العلماء ممن يثق في علمهم ويطمئن إلى وسائلهم في الدرس والتلقين.

2- يوسف بن عبد الرحمن بن يوسف بن عبد الملك بن يوسف الإمام العلامة الحافظ الكبير شيخ المحدثين عمدة الحفاظ أعجوبة الزمان جمال الدين أبو الحجاج الدمشقي المزي.

قرأ الشيخ تاج الدين السبكي عليه وأخذ من علمه الكثير واستفاد منه.

3- محمد بن أحمد بن عثمان بن قائماز الإمام العلامة الحافظ المقرئ مؤرخ الإسلام أبو عبد الله الفارقي الدمشقي المعروف بالذهبي؛ فإن السبكي محدث العصر وخاتم الحفاظ القائم بأعباء هذه الصناعة وحامل راية أهل لسنة والجماعة إمام أهل عصره حفظًا وإتقانًا وفرد الدهر الذي يذعن له أهل عصره وقد لازمه شيخنا وأخذ عنه الكثير وتخرج به وغير ذلك من المشايخ الذين أخذ عنهم الشيخ الإمام.

4- عبد العزيز بن محمد بن جماعة بن صخر الكناني الشافعي، ولد في تاسع عشر المحرم سنة سبع وستين وستمائة وتوفي بمكة سنة أربع وتسعين وسبعمائة ودفن بالحجون1 وغير ذلك ممن نال الشيخ رحمه الله شرف الأخذ عنهم.

ثناء العلماء عليه:

لقد أثنى عليه جمع من العلماء منهم الذهبي وذكره في المعجم المختص وأثنى عليه، وقال ابن كثير: جرى عليه من المحن والشدائد ما لم يَجْرِ على قاضٍ قبله، وحصل له من المناصب ما لم يحصل لأحد قبله، قال عنه الحافظ شهاب الدين بن حجي: حصل فنونًا من العلم ومن الفقه والأصول وكان ماهرًا فيه والحديث والأدب

--------------------------------------------

1 البدر الطالع 1/ 359.
তার উস্তাদগণ:

১- আলী বিন আব্দুল কাফি বিন আলী বিন তাম্মাম বিন ইউসুফ বিন মুসা তাকিউদ্দিন আবুল হাসান আল-আনসারী আল-খাজরাজি আস-সুবকী। তিনি হলেন শাইখ তাজউদ্দিনের পিতা, যার কাছে তিনি ইলম অন্বেষণ করেছেন। তার সম্পর্কে তার পুত্র বলেন যখন তিনি মাদরাসা শামিয়্যাহ আল-বারানিয়্যাহ-তে শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, "এর পশ্চিমে কেউ অবতরণ করেনি এবং এর পূর্বে কেউ বসেনি যে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী।" তার পিতা (রহিমাহুল্লাহ) তাকে এমন বড় আলেমদের অধীনে শিক্ষিত করে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন যাদের জ্ঞানের ওপর তার গভীর আস্থা ছিল এবং পাঠদান ও পাঠগ্রহণের পদ্ধতিতে তিনি আশ্বস্ত ছিলেন।

২- ইউসুফ বিন আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ বিন আব্দুল মালিক বিন ইউসুফ, ইমাম, আল্লামা, মহান হাফেজ, মুহাদ্দিসগণের শাইখ, হাফেজদের প্রধান অবলম্বন, যুগের বিস্ময় জামালুদ্দিন আবুল হাজ্জাজ আদ-দিমাশকি আল-মিযযি।

শাইখ তাজউদ্দিন আস-সুবকী তার কাছে পাঠ গ্রহণ করেছেন, তার ইলম থেকে প্রচুর অর্জন করেছেন এবং তার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন।

৩- মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন উসমান বিন কাইমায, ইমাম, আল্লামা, হাফেজ, ক্বারী, ইসলামের ইতিহাসবিদ আবু আব্দুল্লাহ আল-ফারিকি আদ-দিমাশকি, যিনি আয-যাহাবি নামে পরিচিত। আস-সুবকী (তথা যাহাবি) হলেন সমকালীন মুহাদ্দিস, হাফেজদের শিরোমণি, এই ইলমের গুরুদায়িত্ব পালনকারী এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের পতাকাবাহী। তিনি হিফয ও পাণ্ডিত্যে আপন যুগের ইমাম এবং এমন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব যার সামনে সমসাময়িক সকলে নতি স্বীকার করে। আমাদের শাইখ তার সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তার কাছ থেকে অনেক কিছু গ্রহণ করেছেন এবং তার মাধ্যমেই ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন। এছাড়াও আরও অনেক মাশায়েখ রয়েছেন যাদের থেকে শাইখ ইমাম ইলম অর্জন করেছেন।

৪- আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদ বিন জামাআহ বিন সাখর আল-কিনানি আশ-শাফিয়ি। তিনি ৬৬৭ হিজরি সনের ১৯শে মহররম জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৯৪ হিজরিতে মক্কায় ইন্তেকাল করেন এবং আল-হাজুন-এ সমাহিত হন।১ এছাড়াও আরও এমন অনেকে রয়েছেন যাদের থেকে ইলম অর্জনের সৌভাগ্য শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) লাভ করেছেন।

তার সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:

একদল আলেম তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, যাদের মধ্যে আয-যাহাবি অন্যতম। তিনি তাকে 'আল-মু'জাম আল-মুখতাস'-এ উল্লেখ করে তার প্রশংসা করেছেন। ইবনে কাসির বলেন: তার ওপর এমন সব পরীক্ষা ও বিপদ-মুসিবত অতিক্রান্ত হয়েছে যা তার পূর্ববর্তী কোনো বিচারকের ওপর হয়নি। তিনি এমন সব উচ্চ পদমর্যাদা লাভ করেছিলেন যা ইতিপূর্বে আর কেউ পায়নি। হাফেজ শিহাবুদ্দিন বিন হাজ্জি তার সম্পর্কে বলেন: তিনি ইলমের বিভিন্ন শাখায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন, বিশেষ করে ফিকহ ও উসুল শাস্ত্রে তিনি অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন, সেই সাথে হাদিস ও সাহিত্যেও।

--------------------------------------------

১ আল-বাদরুত তালি' ১/ ৩৫৯।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৯)
وبرع وشارك في العربية وكانت له يد في النظم والنثر جيد البديهة ذا بلاغة وطلاقة لسان وجراءة جنان وذكاء مفرط وذهن وقاد.

قال ابن قاضي شهبة: وانتهت إليه رئاسة القضاء والمناصب بالشام وحصلت له محنة بسبب القضاء، وأوذي فصبر وسجن وعقد له مجالس فأبان عن شجاعته وأفحم خصومه مع تواطئهم عليه ثم عاد إليه مرتبته وعفا وصفح عمن قام عليه وكان سيدا جوادا كريما مهيبا تخضع له أرباب المناصب من القضاة وغيرهم.

وقال عنه الحافظ شهاب الدين بن حجي: "حصل فنونا من العلم".

تصانيفه:

1- شرح مختصر ابن الحاجب في مجلدين سماه "رفع الحاجب عن مختصر ابن الحاجب".

2- شرح المنهاج للبيضاوي في الأصول.

3- الأشباه والنظائر وهو الذي ما نحن بصدده.

4- طبقات الفقهاء الكبرى والوسطى والصغرى.

5- "الترشيح" في اختيارات والده، وفيه فوائد غريبة.

6- التوشيح على التنبيه.

7- التصحيح في الأصول.

8- المنهاج في الأصول.

9- جمع الجوامع: في أصول الفقه وشرحه.

10- منع الموانع: وهو شرح جمع الجوامع السابق الذكر.

11- "جلب حلب" وهو جواب أسئلة سأله عنها الأذرعي.

12- أحاديث رفع اليدين.

13- أوضح المسالك في المناسك.

14- ترجيح تصحيح الخلاف.

15- تبيين الأحكام في تحليل الحائض.

16- جزء في الطاعون.

17- الدلالة عن عموم الرسالة.
তিনি আরবি ভাষায় পারদর্শিতা লাভ করেন এবং এতে অবদান রাখেন। কাব্য ও গদ্য উভয় ক্ষেত্রেই তার বিশেষ দখল ছিল। তিনি ছিলেন উপস্থিত বুদ্ধিদীপ্ত, বাগ্মী, সাবলীলভাষী, সাহসী হৃদয়ের অধিকারী এবং অত্যন্ত প্রখর মেধাসম্পন্ন ও তীক্ষ্ণ ধীশক্তির অধিকারী।

ইবনে কাযী শুহবাহ বলেন: শামের বিচারবিভাগীয় প্রধানের পদ এবং অন্যান্য উচ্চতর পদমর্যাদাসমূহ তার মাধ্যমে পূর্ণতা পায়। বিচারকার্য পরিচালনা সংক্রান্ত কারণে তিনি পরীক্ষার (বিপত্তির) সম্মুখীন হন এবং তাকে কষ্ট দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেন। তাকে কারারুদ্ধ করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি তার সাহসিকতা প্রদর্শন করেন এবং বিরোধীদের সম্মিলিত ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও তাদের লাজওয়াব (নিরুত্তর) করে দেন। অতঃপর তিনি তার সম্মানজনক পদে পুনর্বহাল হন এবং যারা তার বিরুদ্ধাচরণ করেছিল তাদের ক্ষমা করে দেন। তিনি ছিলেন এক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন দানশীল ও উদার নেতা, যার প্রতি বিচারক এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ শ্রদ্ধাবনত থাকতেন।

হাফেজ শিহাবুদ্দিন ইবনে হাজ্জী তার সম্পর্কে বলেন: "তিনি জ্ঞানের নানাবিধ শাখায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন।"

তার রচনাবলি:

১- ইবনে হাজিবের 'মুখতাসার'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা দুই খণ্ডে রচিত, তিনি এর নামকরণ করেছেন "রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনে হাজিব"।

২- উসুল (মূলনীতি) শাস্ত্রে বায়যাবীর 'মিনহাজ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

৩- আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর; এটিই আমাদের বর্তমান আলোচ্য বিষয়।

৪- তাবাকাতুল ফুকাহা আল-কুবরা, আল-উসতা এবং আস-সুগরা।

৫- "আত-তারশীহ"; যা তার পিতার পছন্দকৃত ফিকহী মতামতের সংকলন এবং এতে অত্যন্ত বিরল কিছু জ্ঞানগর্ভ আলোচনা রয়েছে।

৬- তানবীহ-এর ওপর টিকাগ্রন্থ "আত-তাওশীহ"।

৭- উসুল শাস্ত্রের ওপর "আত-তাসহীহ"।

৮- উসুল শাস্ত্রের ওপর "আল-মিনহাজ"।

৯- জামউল জাওয়ামি: উসুলে ফিকহ এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

১০- মানউল মাওয়ানি: এটি পূর্বে উল্লিখিত জামউল জাওয়ামি-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

১১- "জালব হালাব"; যা আল-আযরায়ীর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তরমালা।

১২- রাফউল ইয়াদাইন সংক্রান্ত হাদিসসমূহ।

১৩- হজের আহকাম বিষয়ে "আওযাহুল মাসালিক"।

১৪- তারজীহু তাসহীহিল খিলাফ।

১৫- তিবইয়ীনুল আহকাম ফী তাহলীলিল হায়েয।

১৬- প্লেগ বা মহামারি বিষয়ক একটি পুস্তিকা।

১৭- আদ-দালালাহ আন উমুমির রিসালাহ।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১১)
جوابًا عن أسئلة أهل طرابلس.

18- رفع الحوبة في وضع التوبة.

19- السيف المشهور في شرح عقيدة أبي منصور الماتريدي.

20- فتاوى.

21- مصنف في الألغاز.

22- معيد النعم ومبيد النقم.

23- مناقب الشيخ أبي بكر بن قوام.

وفاته:

توفي الشيخ رحمه الله شهيدًا إثر مرضه بالطاعون في ذي الحجة ليلة الثلاثاء سنة إحدى وسبعين وسبعمائة عن أربع وأربعين سنة.

نسبة الكتاب:

من الأمور اليقينية التي وقعت لنا في تحقيق هذا الكتاب نسبته إلى مؤلفه، فقد أجمع المؤرخون على نسبته إليه ولقد وجد اسم الكتاب منسوبًا إلى ابن السبكي رحمه الله على كلا النسختين اللتين اعتمدنا عليهما في ضبط الكتاب وكذلك لقد اقتبس كثير من العلماء من الكتاب وأحالوا عليه وأشادوا به مثل السيوطي في مواضع عديدة من أشباهه ونظائره، وابن نجيم وأحمد بن الصاحب شرف الدين محمد بن أحمد المصري. له مؤلف اختصر فيه الأشباه والنظائر للشيخ رحمهما الله مسمى نواضر النظائر.

وصف المخطوط:

لقد اعتمدنا في ضبط نص ذكر الكتاب على نسختين:

النسخة الأولى: وهي المحفوظة بدار الكتب المصرية تحت رقم "1476" بخط واضح جيد تقع في 240 لوحة مسطرتها 31 سطرا وقع في نهايتها قوله: "قال مؤلفه رحمه الله نجز الفراغ من هذا الكتاب نفع الله به في السابع من شهر ربيع الأول سنة ثمانٍ وستين وسبع مائة على يد مؤلفه عبد الوهاب ابن السبكي غفر الله له وكان نجازه بدار الخطابة بالجامع الأموي بدمشق والحمد لله رب العالمين وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا".
ত্রিপোলিবাসীর প্রশ্নের উত্তর।

১৮- তওবা কবুলের শর্তে গুনাহ মোচন।

১৯- আবু মনসুর আল-মাতুরিদীর আকিদাহর ব্যাখ্যায় প্রসিদ্ধ তলোয়ার।

২০- ফতোয়াসমূহ।

২১- ধাঁধা বিষয়ক একটি রচনা।

২২- নেয়ামত পুনঃপ্রদানকারী এবং আপদ বিনাশকারী।

২৩- শায়খ আবু বকর বিন কাওয়ামের জীবন ও গুণাবলি।

তাঁর মৃত্যু:

শায়খ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ৪৪ বছর বয়সে সাতশত একাত্তর হিজরি সালের জিলহজ মাসের মঙ্গলবার রাতে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন।

কিতাবটির লেখক পরিচিতি:

এই কিতাবটি সম্পাদনা করার সময় আমাদের কাছে যে বিষয়গুলো সুনিশ্চিত হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো এটি এর প্রকৃত লেখকেরই রচনা। ঐতিহাসিকগণ এটি তাঁর রচনা হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। কিতাবটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমরা যে দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, সেই উভয় পাণ্ডুলিপিতেই কিতাবটির নাম ইবনুল সুবকী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত পাওয়া গেছে। একইভাবে অনেক আলেম এই কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, এর রেফারেন্স দিয়েছেন এবং এর প্রশংসাও করেছেন; যেমন সুয়ূতী তাঁর 'আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর' কিতাবের অনেক স্থানে এটি উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও ইবনে নুজাইম এবং আহমদ বিন আস-সাহিব শরফ উদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মিসরী এর প্রশংসা করেছেন। তাঁর (আল-মিসরীর) একটি গ্রন্থ রয়েছে যাতে তিনি শায়খের 'আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর' কিতাবটিকে সংক্ষেপ করেছেন, যার নাম 'নাওয়াদিরুন নাজাইর'।

পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:

কিতাবটির পাঠ্য নির্ধারণে আমরা দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি:

প্রথম পাণ্ডুলিপি: এটি মিসরের 'দারুল কুতুব'-এ '১৪৭৬' নম্বরে সংরক্ষিত আছে। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখিত, যা ২৪০টি পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ৩১টি করে লাইন রয়েছে। এর শেষে লেখকের উক্তিটি উল্লেখ করা হয়েছে: "এর লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: এই কিতাবটি সমাপ্ত হয়েছে—আল্লাহ এর দ্বারা কল্যাণ দান করুন—সাতশত আটষট্টি হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের সাত তারিখে এর লেখক আবদুল ওয়াহহাব ইবনুল সুবকী’র হাতে, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। এটি দামেস্কের উমাইয়া মসজিদের দারুল খিতাবায় সমাপ্ত হয়েছে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।"
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১২)
وجعلنا هذه النسخة أصلا ورمزنا لها بالرمز "أ".

النسخة الثانية: وهي المحفوظة بمكتبة البلدية بالإسكندرية. بخط واضح تقع في 225 لوحة مسطرتها 27 سطرًا وقع عليها بعض التملكات للفقير إلى الله الغني عبد الرحمن ابن الشيخ محمد الحكم غفر الله له ولوالديه.

وقع في آخرها قوله: "قال مؤلفه رحمه الله: نجز الفراغ من هذا الكتاب نفع الله به في السابع من شهر ربيع الأول سنة ثمانٍ وستين وسبعمائة على يد مؤلفه عبد الوهاب ابن السبكي غفر الله له وكان نجازه بدار الخطابة بالجامع الأموي الكبير بدمشق والله الموفق للصواب وإليه المرجع والمآب والحمد لله على كل حال".

وهذه النسخة بها سقط في مواضع عديدة من الكتاب وزيادات في غير موضعها نبهنا على ذلك في تعليقنا إلا في مواضع قليلة أغفلناها؛ لعدم أهميتها.

ورمزنا لهذه النسخة بالرمز "ب".

هذا وقد أجهدنا ضبط ذلك النص جهدا كبيرا، فإن كان فيه من خير فلله الحمد والمنة، وإن كان غير ذلك فنسأل الله أن يجنبنا الخطأ والزلل.

والحمد لله رب العالمين وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
আমরা এই পাণ্ডুলিপিটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছি এবং একে "আলিফ" প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি: এটি আলেকজান্দ্রিয়ার মিউনিসিপ্যাল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত। এটি স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লিখিত যা ২২৫টি ফলক সম্বলিত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২৭টি করে লাইন রয়েছে। এতে মহান অমুখাপেক্ষী আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী বান্দা আবদুর রহমান ইবনে শেখ মুহাম্মদ আল-হাকাম—আল্লাহ তাঁকে এবং তাঁর পিতামাতাকে ক্ষমা করুন—এর কিছু মালিকানা চিহ্ন রয়েছে।

এর শেষে বর্ণিত হয়েছে: "এর লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: এই কিতাবটি সম্পন্ন হয়েছে—আল্লাহ এর দ্বারা কল্যাণ দান করুন—সাতশ আটষট্টি হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের সাত তারিখে, এর লেখক আব্দুল ওয়াহাব ইবনে সুবকী (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন)-এর হাতে। এর সমাপ্তি ঘটেছে দামেস্কের বড় উমাইয়া মসজিদের দারুল খিতাবায়। আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা এবং তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তন ও ফিরে যাওয়ার স্থান। আর সর্বাবস্থায় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।"

এই পাণ্ডুলিপিটির অনেক স্থানে কিছু অংশ বাদ পড়েছে এবং অপ্রাসঙ্গিক স্থানে কিছু বিষয় যুক্ত হয়েছে; আমরা আমাদের টীকায় সে বিষয়ে সতর্ক করেছি, তবে গুরুত্বহীন হওয়ার কারণে গুটিকতক ক্ষেত্রে তা এড়িয়ে গিয়েছি।

আর আমরা এই পাণ্ডুলিপিটিকে "বা" প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

আমরা এই পাঠ্যটি নির্ভুলভাবে সম্পাদনা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি; এতে যদি কোনো কল্যাণ থাকে তবে সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই, আর যদি অন্য কিছু হয় তবে আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ভুল ও বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করেন।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাথীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: -)
الأشباه والنظائر - السبكي   (تاج الدين ابن السبكي)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: الأشباه والنظائر

المؤلف: تاج الدين عبد الوهاب بن علي بن عبد الكافي السبكي (ت 771 هـ)

تحقيق: عادل أحمد عبد الموجود - علي محمد معوض

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت

الطبعة: الأولى 1411 هـ - 1991 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - আস-সুবকি   (তাজুদ্দীন ইবন আস-সুবকি)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ


কিতাব: আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর

লেখক: তাজুদ্দীন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আলী বিন আব্দুল কাফী আস-সুবকি (মৃত্যু ৭৭১ হিজরী)

তাহকীক: আদিল আহমদ আব্দুল মাওজুদ - আলী মুহাম্মদ মুয়াওয়াদ

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম ১৪১১ হিজরী - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة المصنف:

وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.

الحمد لله الذي جلَّ عن الأشباه والنظائر ودلَّ على طرق الهدى بالأقوال الصحيحة والوجوه والنظائر وحل لنا بالنظر في آثار سلفنا عند المشكلات وفي الذهبين الأولين من القرون لنا بصائر.

أحمده على نعم لو رام اللسان حصرها لوقع في حصر وَعَيٍّ.

وأستغفره لذنوب ما عداني عددها في الخائفين إلا وحشرني في زمرة الراجين رحمته التي وسعت كل شيء، وأستهديه بهداه الذي لا يضل من أنعم به عليه ولا يستهديه شيطانه، وأشهد أن سيدنا محمد المصطفى خير نبي أرسله وأفضل مخلوق منحه الفضل مجمله ومفصله، وأنقذنا به من الهلكة والبأس، وجعلنا به من خير أمة أخرجت للناس صلى الله عليه وعلى آله وصحبه ما ترددت الأنفاس.

أما بعد:

فإن العلوم وإن كانت تتعاظم شرفا وتطلع في سماء من كوكبها شرفا وينفق العالم من خزائنها، وكلما زاد ازداد رشدا وعدم سرفا، فلا مرية في أن الفقه واسطة عقدها ورابطة حلها وعقدها وخالصة الرابح من نقدها به يعرف الحلال والحرام ويدين الخواص والعوام ويتبين مصابيح الهدى من ظلام الضلال وضلال الظلام. قطب الشريعة وأساسها وقلب الحقيقة الذي إذا صلح صلحت ورأسها وأهله سراة الأرض [الذين] 1 لولاهم لفسدت بسيادة جهالها وضلت أناسها.

--------------------------------------------

1 في ب الذي.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌লেখকের ভূমিকা:

আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সদৃশ ও সমরূপ থেকে মহান এবং যিনি সঠিক উক্তি, বিবিধ পন্থা ও সদৃশ বিষয়ের মাধ্যমে হেদায়েতের পথ প্রদর্শন করেছেন। জটিল সমস্যার সময় আমাদের পূর্বসূরিদের (সালাফ) নিদর্শনের প্রতি দৃষ্টিপাতের মাধ্যমে তিনি আমাদের জন্য সমাধানের পথ উন্মুক্ত করেছেন এবং বিগত যুগের প্রথম দুই স্বর্ণযুগের মধ্যে আমাদের জন্য অন্তর্দৃষ্টি নিহিত রেখেছেন।

আমি তাঁর এমন সব নিয়ামতের জন্য তাঁর প্রশংসা করছি যা জিহ্বা গণনা করে শেষ করতে চাইলে অক্ষমতা ও জড়তায় নিপতিত হবে।

আমি তাঁর কাছে আমার সেই সব গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি যার আধিক্য আমাকে ভীতদের কাতার থেকে বিচ্যুত করে না, বরং আমাকে তাঁর রহমতের আশাবাদীদের দলে শামিল করে, যে রহমত প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। আমি তাঁর নিকট সেই হেদায়েত প্রার্থনা করছি যার দ্বারা তিনি যাকে ধন্য করেন সে পথভ্রষ্ট হয় না এবং শয়তান তাকে বিভ্রান্ত করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ মুস্তফা হলেন শ্রেষ্ঠ নবী যাকে তিনি প্রেরণ করেছেন এবং শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি যাকে তিনি সামগ্রিক ও বিস্তারিতভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তাঁর মাধ্যমেই তিনি আমাদের ধ্বংস ও বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন এবং আমাদের সেই সর্বোত্তম উম্মত হিসেবে মনোনীত করেছেন যাদের মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন যতক্ষণ নিশ্বাস প্রবাহিত হয়।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই জ্ঞানসমূহ যদিও মর্যাদার দিক থেকে মহান এবং সম্মানের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে উদিত হয় এবং আলেমগণ এর ভাণ্ডার থেকে ব্যয় করেন; আর জ্ঞান যত বৃদ্ধি পায়, মানুষের সঠিক পথপ্রাপ্তিও তত বৃদ্ধি পায় এবং অপচয় ও অনর্থকতা দূর হয়; তথাপি এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ফিকহ শাস্ত্র হলো জ্ঞানমালার মধ্যমণি এবং এর জটিলতা উন্মোচন ও সমাধানের মূল যোগসূত্র। এটি সেই বিশুদ্ধ জ্ঞান যা এর অর্জনকারীর জন্য প্রকৃত মুনাফা বয়ে আনে। এর মাধ্যমেই হালাল ও হারাম চেনা যায়, এর মাধ্যমে বিশিষ্ট ও সাধারণ ব্যক্তিবর্গ আল্লাহর আনুগত্য করে এবং গোমরাহীর অন্ধকার ও অন্ধকারের বিভ্রান্তি থেকে হেদায়েতের প্রদীপগুলো এর মাধ্যমেই সুস্পষ্ট হয়। ফিকহ হলো শরীয়তের কেন্দ্রবিন্দু ও ভিত্তি এবং হাকিকতের অন্তঃকরণ, যা সঠিক থাকলে সবকিছুই সঠিক থাকে এবং ফিকহই হলো এর শীর্ষভাগ। ফিকহবিদগণ হলেন জমিনের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ, যারা না থাকলে মূর্খদের নেতৃত্বে পৃথিবী কলুষিত হয়ে পড়ত এবং মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।

--------------------------------------------

১. 'বা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: الذي (যিনি/যা)।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৪)
لا يصلح الناس فوضى لا سراة لهم … ولا سراة إذا جهَّالهم سادوا

أي: ولولاهم لاتخذ الناس رءوسا جهالا فأفتوا بغير علم، فضلوا وأضلوا وخبطوا خبط عشواء فما حرموا ولا حللوا بل حلوا عرى الإيمان حيث حلوا، وشكت الأرض منهم وقع أقدام قوم استزلهم الشيطان فزلوا. فلله الفقهاء نجوم السماء، تشير إليهم بالأكف الأصابع، وشم الأنوف يخضع لديهم كل شامخ الأنف رافع، ونظام الوجود ويضوع بهم مسكا ظهر الأرض فما يظن نعمان، إن مشت به زينب في نسوة حاسرة البراقع وحلقوا على نور الإسلام كسوار المعصم قائلين لأهله والحق سامع.

أخذنا بآفاق السماء [عليكم] 1 … لنا قمراها والنجوم الطوالع

أي: وزينة الأرض التي بموطئ أقدامهم تقبل الشفاه حلالها وبإحاطة أحكامهم وإحكامهم يذكر حرامها وحلالها وترشف من زلالها ماء حلالها، فلا مزنة ودقت ودقها، ولا أرض [أبقل أبقالها] 2:

ولقد ساروا في مسالك الفقه غورًا ونجدًا، وداروا عليه هائمين به وجدا وصاروا حامليه ومؤديه حتى إلى غير فقيه فعم نفعًا وأفاد وأجدى.

فسار به من لا يسير مشمرا … وغني به من لا يغني مغردا

وتفرقت بهم في جملة الأنحاء وتشعبت الطرق وتعددت الأهواء وتباينت الأخلاق والقدر المشترك بينهم سواء فمنهم -وكلهم أحب حب الخير- من سار على منهاجه أحسن سير وجرى في موافقه على منواله غير متعرض إلى غير، ومنهم من جعل دأبه رد الخصوم وخصم المخالفين فلا يفوته الطائف منهم في الأرض يحور ولو أنه الطائر في السماء يحوم، وإقامة الحجج والبراهين [فمنها] 3 معالم للهدى، مصابيح تجلو الدجى والأخريات رجوم.

ومنهم من قال: الكيس، الكيس، وأحب أن بطرف علومه بطرق المسائل ويوقظ من الأذهان ما هو في سنة الغفلة وما ليس.

--------------------------------------------

1 سقط في ب.

2 وفي ب: "أثقل أثقالها".

3 وفي ب: "منهما".
নেতৃত্বহীন বিশৃঙ্খল অবস্থায় মানুষের সংশোধন সম্ভব নয় … আর কোনো নেতৃত্বই থাকে না যখন মূর্খরা শাসনভার গ্রহণ করে।

অর্থাৎ: তারা যদি না থাকতেন, তবে মানুষ মূর্খদেরকে তাদের নেতা বানিয়ে নিত, ফলে তারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দিত; এতে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হতো এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করত। তারা ঘোর অন্ধকারে লক্ষ্যহীনভাবে পথ চলত; না তারা কোনো কিছু হারাম করত, না হালাল। বরং তারা যেখানেই যেত ঈমানের বন্ধনগুলোকেই শিথিল করে দিত। আর যমীন ওই সম্প্রদায়ের পদচারণায় অভিযোগ করত যাদের শয়তান পদস্খলন ঘটিয়েছে এবং তারা বিচ্যুত হয়েছে। সুতরাং আল্লাহর জন্যই সকল ফকীহ্—যারা আকাশের নক্ষত্রসদৃশ; আঙ্গুলের ইশারায় যাদের দিকে নির্দেশ করা হয়। তারা সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, যাদের সামনে প্রতিটি অহংকারী ও উদ্ধত ব্যক্তি মাথা নত করে। তারা অস্তিত্বের সুশৃঙ্খল বিন্যাস এবং তাদের মাধ্যমে যমীনের উপরিভাগ মিশকের মতো সুগন্ধে আমোদিত হয়; নুমান তখন ধারণাও করতে পারে না—যদি যয়নব তার সাথে নেকাবহীন মহিলাদের মাঝে হেঁটে যেত। তারা ইসলামের নূরের ওপর কব্জির কঙ্কনের মতো বেষ্টনী তৈরি করে এর অনুসারীদের জন্য এবং পরম সত্য শ্রবণকারীর জন্য বলছে:

আমরা তোমাদের ওপর আকাশের দিগন্তগুলো দখল করে নিয়েছি [তোমাদের ওপর] ১ … এর দুই চাঁদ এবং উদীয়মান নক্ষত্ররাজি আমাদেরই।

অর্থাৎ: তারা যমীনের সৌন্দর্য, যাদের পদচিহ্নের হালাল স্থানগুলোকে ওষ্ঠাধর চুম্বন করে। তাদের সুনিপুণ আহকাম ও বিধিবিন্যাসের মাধ্যমেই হারাম ও হালাল স্মরিত হয় এবং তাদের স্বচ্ছ বারিধারা হতে হালাল পানি পান করা হয়। সুতরাং কোনো মেঘমালা তার বৃষ্টি বর্ষণ করেনি এবং কোনো ভূমি তার [উদ্ভিদ উৎপন্ন করেনি] ২:

তারা ফিকহশাস্ত্রের নিচু ও উঁচু সকল পথে বিচরণ করেছেন এবং প্রেমে আত্মহারা হয়ে এর চারদিকে আবর্তিত হয়েছেন। তারা এর বাহক ও প্রচারক হয়েছেন এমনকি যারা ফকীহ্ নন তাদের কাছেও এটি পৌঁছে দিয়েছেন, ফলে এর উপকারিতা ব্যাপক হয়েছে এবং তা কল্যাণ ও প্রাচুর্য দান করেছে।

অতঃপর এটি নিয়ে এমন ব্যক্তিও পথ চলেছেন যিনি কখনো কটিবদ্ধ হয়ে চলতেন না … আর এটি নিয়ে এমন ব্যক্তিও গান গেয়েছেন যিনি কখনো গুঞ্জন করে গান গাইতেন না।

তারা সকল অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছেন এবং পথগুলো শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়েছে, প্রবৃত্তিগুলো বহুগুণ বেড়েছে এবং চরিত্রগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। তবে তাদের মধ্যকার সাধারণ বৈশিষ্ট্য সমান ছিল—তাদের প্রত্যেকেই কল্যাণের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করতেন—তাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন যারা এর সর্বোত্তম পদ্ধতিতে পথে চলেছেন এবং অন্য কিছুর ধার না ধেরে এর নির্ধারিত নিয়মেই পরিচালিত হয়েছেন। আবার তাদের মধ্যে এমনও ছিলেন যারা বিরোধীদের খণ্ডন করা এবং বিরুদ্ধবাদীদের সাথে বিতর্ক করাকেই নিজেদের লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছেন; ফলে যমীনে কোনো বিচরণকারীই তাদের হাত থেকে নিস্তার পায় না, যদিও সে আকাশে উড়ন্ত কোনো পাখি হয়। আর তারা দলিল-প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন যার মধ্যে হিদায়াতের নিদর্শনাবলি রয়েছে—যা অন্ধকার দূরকারী প্রদীপস্বরূপ, আর অন্যগুলো শয়তানের প্রতি নিক্ষিপ্ত উল্কাপিন্ড।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: বিচক্ষণতা, বিচক্ষণতা! এবং তিনি পছন্দ করতেন তার ইলমের প্রান্ত দিয়ে মাসআলাসমূহের পথ অন্বেষণ করতে এবং অন্তরসমূহকে গাফেলতির নিদ্রা থেকে জাগ্রত করতে যা সেখানে বিদ্যমান এবং যা নেই।

--------------------------------------------

১ 'ব' পাণ্ডুলিপিতে নেই।

২ আর 'ব' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তার ভারী বোঝাগুলো"।

৩ আর 'ব' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তাদের উভয়ের থেকে"।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৫)
وإذا تكون كريهة يدعى لها … وإذا يحاس الحيس

فعمد إلى مسائل1 ركبها، ومطارحات2 اطلع في سماء الفقه كوكبها، ومولدات افتض أبكارها، وأجرى في عسكر الجدال موكبها وسيد هذه الطائفة من أصحابنا أبو بكر بن الحداد3 صاحب الفروع الغرائب وصاحب ذيل الفضل على أهل المشارق والمغارب، والضارب مع الأقدمين بسهم والناس تضرب في حديد بارد، وابن الحداد يضرب في ذهب ذائب، "الفاعل الفعل لم يفعل لشدته، والقائل القول لم يترك ولم يقل"، تقدم هذه الفرقة تقدم النص على القياس وسبق وهي تناديه.: ما في وقوفك ساعة من باس وتصدر ولو عورض لقال لسان الحال للحق: مروا أبا بكر فليصل بالناس.

وعمد منحطون عن هذه الرتبة إلى مسائل ألغاز، وطرحوا حقائقها على الطلبة ليختبروا ما عندهم من العلم، فلكل ذهن عليها نجاز وامتحنوهم بها، فمن حج أبان صفا قلبه ليستلم ركنه بأنه ليس بحجر أسود بل صبح أبيض لا حجاب دونه ولا حجاز.

وقال آخرون: المهم المقدم وخير ما سلك [الطريق] 4 الأقوم.

والذي أقول -والله أعلم- إن من أهم ما عني به الفقيه وجعله المدرس دأبه الذي يعيده ويبديه وشوقه الذي يلقنه ويلقيه القيام بالقواعد وتبيين مسالك الأنظار ومدارك المعاقد.

--------------------------------------------

1 جمع مسألة، والمسألة لغةً: السؤال، الصحاح 5/ 1723، لسان العرب 3/ 1906، واصطلاحًا: مطلوب خبري يبرهن عليه في العلم "الجمل على المنهج 1/ 26، قليوبي على المنهاج 1/ 16".

2 قال أبو عبد الله بن القطان في أول المطارحات: التحاسد على العلم داعية التعلم ومطارحة الأقران في المسائل ذريعة إلى الدراية والتناظر فيها ينفح الخواطر والأفهام والخجل الذي يحل بالمرء من غلطه تبعثه على الاعتناء بشأن العلم ليعلم ويتصفح الكتب، فيتسبب بذلك إلى بسط المعاني ويحفظ الكتب المنثور 3/ 398.

3 هو أبو محمد بن أحمد بن محمد بن جعفر الكناني المصري المعروف بابن الحداد كان إماما مدققا في العلوم. شيخ الشافعية في زمانه، ولد يوم موت المزني في رمضان سنة أربع وستين وكان كثير العبادة يصوم يوما ويفطر يوما، قال ابن زولاق: إنه صنف كتاب الباهر في الفقه في مائة جزء وكتاب الفروع المولدات، قال الشيخ أبو إسحاق: مات سنة خمس وأربعين وثلاثمائة.

وفيات الأعيان 3/ 8336، تذكرة الحفاظ 3/ 899، طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 1/ 130 وطبقات الشافعية لابن هداية الله ص71.

4 في ب: "السبيل".
যখন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তখন তাকে ডাকা হয়... আর যখন হালুয়া প্রস্তুত করা হয় (তখন তাকে স্মরণ করা হয় না)।

অতঃপর তিনি এমন কিছু মাসআলার প্রতি মনোনিবেশ করলেন যা তিনি বিন্যস্ত করেছেন, এবং এমন কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার প্রতি যার নক্ষত্রকে তিনি ফিকহ শাস্ত্রের আকাশে উদিত করেছেন; তিনি নব-উদ্ভাবিত মাসআলাসমূহের রহস্য উন্মোচন করেছেন এবং বিতর্কের ময়দানে সেগুলোর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। আমাদের সাথীদের এই দলের প্রধান হলেন আবু বকর ইবনুল হাদ্দাদ, যিনি 'আল-ফুরু আল-গারাইব'-এর রচয়িতা এবং পূর্ব ও পশ্চিমের অধিবাসীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। তিনি প্রাচীনদের সাথে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন; যখন মানুষ শীতল লোহায় হাতুড়ি পেটাচ্ছিল, ইবনুল হাদ্দাদ তখন গলিত স্বর্ণ নিয়ে কাজ করছিলেন। "এমন এক কর্ম সম্পাদনকারী যা তার কঠিন প্রকৃতির কারণে ইতিপূর্বে কেউ করেনি, এবং এমন এক কথা বলিয়ে যা না পরিত্যক্ত হয়েছে, না আগে বলা হয়েছে।" এই দলের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব কিয়াসের (অনুমান) ওপর নসের (সুস্পষ্ট দলীল) শ্রেষ্ঠত্বের মতো। তিনি অগ্রগামী হয়েছেন যখন পরিস্থিতি তাঁকে আহ্বান করছিল: "আপনার এক মুহূর্ত অবস্থানের মাঝে কোনো ক্ষতি নেই।" তিনি নেতৃত্বের আসনে আসীন হলেন; আর যদি কেউ তাঁর বিরোধিতা করত, তবে পরিস্থিতির জবান সত্যের পক্ষে ঘোষণা করত: "আবু বকরকে নির্দেশ দাও, সে যেন মানুষের ইমামতি করে।"

আর এই স্তরের নিচে অবস্থানকারীরা কিছু ধাঁধাঁপূর্ণ মাসআলার প্রতি ঝুঁকেছেন এবং সেগুলোর নিগূঢ় রহস্য শিক্ষার্থীদের সামনে ছুঁড়ে দিয়েছেন যাতে তাদের জ্ঞান পরীক্ষা করা যায়; ফলে প্রতিটি মেধা সে বিষয়ে তৎপর হয়ে ওঠে। তারা এগুলোর মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা নিলেন। সুতরাং যিনি এই হজের উদ্দেশ্য সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন, তাঁর অন্তর স্বচ্ছ হয়ে ওঠে যেন তিনি তার রুকন বা কোণকে চুম্বন করতে পারেন; কেননা এটি কোনো কালো পাথর নয়, বরং এটি এক শুভ্র ভোর যার সামনে কোনো পর্দা বা অন্তরায় নেই।

অন্যরা বলেছেন: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই অগ্রগণ্য, আর সর্বোত্তম পথ সেটিই যা অত্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত।

আর আমি যা বলি—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—একজন ফকিহ বা আইনবিদের জন্য যা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং একজন শিক্ষকের জন্য যা নিয়মিত অভ্যাস করা উচিত, যা তিনি বারবার আওড়াবেন এবং প্রকাশ করবেন, আর যা তিনি তিলে তিলে শেখাবেন ও প্রদান করবেন, তা হলো: মূলনীতিসমূহ (কাওয়াইদ) প্রতিষ্ঠা করা এবং গবেষণার পথ ও আইনি সিদ্ধান্তের উৎসসমূহ সুস্পষ্ট করা।

--------------------------------------------

১ মাসআলা শব্দের বহুবচন। আভিধানিক অর্থে মাসআলা হলো: জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন; আস-সিহাহ ৫/১৭২৩, লিসানুল আরব ৩/১৯০৬। আর পারিভাষিক অর্থে: এটি এমন একটি সংবাদমূলক কাম্য বিষয় যা জ্ঞানের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়; আল-জুমাল আলাল মানহাজ ১/২৬, কলিউবি আলাল মিনহাজ ১/১৬।

২ আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল কাত্তান 'আল-মুতারাআত'-এর শুরুতে বলেছেন: জ্ঞানের প্রতি ঈর্ষা শিক্ষার প্রেরণা জোগায়, আর মাসআলা নিয়ে সমকক্ষদের সাথে আলোচনা করা প্রজ্ঞা অর্জনের মাধ্যম। এ বিষয়ে বিতর্ক করা মেধা ও উপলব্ধিকে শাণিত করে। মানুষ তার ভুল থেকে যে লজ্জাবোধ করে, তা তাকে ইলমের প্রতি যত্নশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে যাতে সে শিখতে পারে এবং কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করতে পারে। এর ফলে অর্থের প্রসার ঘটে এবং বিক্ষিপ্ত কিতাবসমূহ সংরক্ষিত হয়; আল-মানসুর ৩/৩৯৮।

৩ তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-কিনানি আল-মিসরি, যিনি ইবনুল হাদ্দাদ নামে পরিচিত। তিনি ইলমের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহে পারদর্শী একজন ইমাম ছিলেন। নিজ সময়ের শাফেয়ি মাযহাবের শাইখ ছিলেন। তিনি হিজরি ২৬৪ সালের রমজান মাসে মুজানির মৃত্যুর দিনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রচুর ইবাদত করতেন, একদিন রোজা রাখতেন এবং একদিন ইফতার করতেন। ইবনে জুলাইক বলেন: তিনি ফিকহ শাস্ত্রের ওপর একশ খণ্ডে 'আল-বাহির' কিতাব এবং 'আল-ফুরু আল-মুওয়াল্লাদাত' কিতাবটি রচনা করেছেন। শাইখ আবু ইসহাক বলেন: তিনি হিজরি ৩৪৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

ওয়াফায়াতুল আ’য়ান ৩/৮৩৩-৬, তাযকিরাতুল হুফফাজ ৩/৮৯৯, তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ লি-ইবনে কাদি শুহবাহ ১/১৩০ এবং তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ লি-ইবনে হিদায়াতিল্লাহ, পৃষ্ঠা ৭১।

৪ 'বা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "পথ বা রাস্তা"।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৬)
وكيف ائتلاف النظائر، واختلاف المآخذ. واحتماع الشوارد. وذلك أمر شديد، لا ينال بالهوينا والهدوء. ولا يدرك شأوه إلا من تصدى بأعماله قلب وقالب. لا يزال ذات نمو. ولا يحوم على حماه إلا من بين ذاته والسواد1 مانعة الجمع وبين أفكاره والسهاد مانعة الخلو. إن لمحت له بارقة اختطفها، وإن لاحت له نادرة بادر إلى ثمرتها واقتطفها، وإن قدمت عليه غريبة ردها إلى وطنها بعدما اقتطفها، يعمل أفكاره، ويدأب ليله ونهاره ويستسقي كل جعفر ولو نضب ماؤه وتنحت عنه أطياره، ويرعا، ولو وقف ذهنه الأنجم السيارة ولا يحجم ذهنه إذا ازدحمت المعضلات بل تقدم قائلا: "أنا ابن داره" يمر به المعضل فيقتحم في حله أهوالا ولا يقول: أهابك إجلالا، بل يستحل مريره وينشد من يعيبه.

ومن يك ذا فم مر مريض … يجد مُرًّا به الماء الزلالا

فإذا أحكمه وجعله تحت حكمه شد حيازم عزمه وأنفق من خزائن علمه. ولم يخش من ذي العرش إقلالا، هكذا هكذا وإلا فلالها ولقد ألف سلطان العلماء -أبو محمد- عز الدين بن عبد السلام2- قواعده. بل رصف فرائده ووضع قلائده وجمع فوائده ونوع موائده وقال فلم يترك مقالا لقائل وتسامى ولم يسمع أين الثريا من يد المتناول وتعالى كأنما هو للنيرين متطاول، وتصاعد درج السيادة حتى فاق الآفاق، وتباعد عن درجات معاصريه فساق أتباعه أمما وشاق ومضى وخلف ذكرا باقيا ما سطر الأوراق في الأوراق وأقبل كأنه تسعى بين يديه الأنوار، وترفل في أثوابه أزهارها ونوار، وجاء بيانه البديع بالمعاني البسيطة في اللفظ الوجيز الذي يحلو عليه التكرار وشاع اسمه كأنه علم في رأسه نار. وجاء هذا الكتاب على وفق مطلوبه، كاملا في أسلوبه شاملا

--------------------------------------------

1 في ب: "الوساد".

2 عبد العزيز بن عبد السلام بن أبي القاسم بن الحسن الشيخ الإمام العلامة وحيد عصره سلطان العلا، عز الدين أبو محمد السلمي الدمشقي ثم المصري، ولد سنة سبع أو ثمانٍ وسبعين وخمسمائة، وتفقه على الشيخ فخر الدين بن عساكر وقرأ الأصول على الآمدي وجمع بين فنون العلم.

قال ابن قاضي شهبة عن كتاب القواعد الكبرى وهو الكتاب الدال على علو مقداره وله تصانيف عديدة انظر ترجمته في:

فوات الوفيات 1/ 287، طبقات الشافعية لابن السبكي 5/ 80، البداية والنهاية 13/ 235، شذرات الذهب 5/ 301، طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 2/ 109.
সমজাতীয় বিষয়গুলোর সমন্বয়, উৎসসমূহের ভিন্নতা এবং বিচিত্র তথ্যের একত্রীকরণ কীভাবে সম্ভব? এটি এক অত্যন্ত কঠিন কাজ, যা আলস্য ও প্রশান্তির মাধ্যমে অর্জন করা যায় না। এর শিখরে সেই ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ পৌঁছাতে পারে না, যে তার দেহ ও মনকে কর্মের জন্য উৎসর্গ করেছে। যে সর্বদা প্রগতিশীল। তার সংরক্ষিত সীমানায় সেই ব্যক্তি ব্যতীত কেউ বিচরণ করতে পারে না, যার সত্তা ও অন্ধকারের মাঝে মিলন অসম্ভব এবং যার চিন্তা ও অনিদ্রার মাঝে বিচ্ছেদ অসম্ভব। যদি কোনো বিদ্যুচ্চমকের মতো জ্ঞান তার দৃষ্টিগোচর হয়, তবে সে তা লুফে নেয়; যদি কোনো দুর্লভ তত্ত্ব প্রকাশিত হয়, তবে সে দ্রুত তার ফল আহরণ করে; আর যদি কোনো অপরিচিত বিষয় তার নিকট উপস্থিত হয়, তবে সে তা আয়ত্ত করার পর তার প্রকৃত স্থানে ফিরিয়ে দেয়। সে তার চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগায়, দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে এবং প্রতিটি ক্ষুদ্র উৎস থেকেও জ্ঞান আহরণ করার চেষ্টা করে—যদিও তার পানি শুকিয়ে যায় এবং পাখিরা সেখান থেকে উড়ে চলে যায়। সে জ্ঞান অন্বেষণ করে চলে, যদিও তার মেধা বিচরণশীল নক্ষত্ররাজির ন্যায় থমকে দাঁড়ায়। জটিল সমস্যাবলি ভিড় জমালে তার মেধা সংকুচিত হয় না, বরং সে এ কথা বলে এগিয়ে যায়: "আমিই এর যোগ্য সমাধানকারী।" কঠিন সমস্যা তার সামনে এলে সে তা সমাধানের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলা করে; সে সম্মানের আতিশয্যে পিছপা হয় না, বরং তার তিক্ততাকে মিষ্ট জ্ঞান করে এবং তার সমালোচকদের উদ্দেশ্যে এই পঙ্ক্তিটি আবৃত্তি করে:

যার মুখ তিক্ত ও ব্যাধিগ্রস্ত … সুপেয় নির্মল পানিও তার কাছে তিক্ত মনে হয়।

যখন সে কোনো বিষয়কে সুদৃঢ় করে এবং নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসে, তখন সে তার সংকল্পের কোমর বাঁধে এবং নিজের ইলমের ভাণ্ডার থেকে অকাতরে ব্যয় করে। সে আরশের অধিপতির পক্ষ থেকে কোনো অভাবের আশঙ্কা করে না। এভাবেই কাজ করতে হয়, অন্যথায় নয়। আর সুলতানুল উলামা আবু মুহাম্মদ ইজ্জুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালাম তার 'কাওয়ায়েদ' (মূলনীতিমালা) গ্রন্থটি রচনা করেছেন। বরং তিনি এর মুক্তোগুলো বিন্যস্ত করেছেন, এর হারগুলো গেঁথেছেন, এর উপকারিতাগুলো একত্র করেছেন এবং এর জ্ঞানভোজকে বৈচিত্র্যময় করেছেন। তিনি এমনভাবে বক্তব্য প্রদান করেছেন যে পরবর্তী কোনো বক্তার জন্য কিছু অবশিষ্ট রাখেননি। তিনি এতটা উচ্চে আরোহণ করেছেন যে সাধারণের নাগাল থেকে সুরাইয়া নক্ষত্র যতটা দূরে, তার মর্যাদা তার চেয়েও ঊর্ধ্বে। তিনি এতটা সমুন্নত হয়েছেন যেন তিনি সূর্য ও চন্দ্রকেও স্পর্শ করছেন। তিনি শ্রেষ্ঠত্বের সোপান বেয়ে দিগন্ত ছাড়িয়ে গেছেন এবং তার সমসাময়িকদের থেকে যোজন যোজন এগিয়ে গেছেন। ফলে তার অনুসারীরা দলে দলে তার পথে ধাবিত হয়েছে। তিনি নশ্বর জগত ত্যাগ করেছেন কিন্তু এমন এক চিরস্থায়ী কীর্তি রেখে গেছেন যা চিরকাল কাগজের পাতায় পাতায় লিখিত থাকবে। তিনি এমনভাবে আবির্ভূত হয়েছেন যেন তার সামনে নূরের দ্যুতি প্রবাহিত হচ্ছে এবং তার পোশাকে পুষ্পরাজি সুশোভিত হচ্ছে। তার চমৎকার বর্ণনাভঙ্গি সংক্ষিপ্ত শব্দে গভীর ও বিস্তৃত অর্থ বহন করে, যা বারবার পাঠ করলেও মধুর লাগে। তার নাম এমনভাবে বিশ্ববিখ্যাত হয়েছে যেন পাহাড়ের চূড়ায় প্রজ্বলিত অগ্নি। এই কিতাবটি তার অভীষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী প্রণীত হয়েছে, যা তার নিজস্ব রচনাশৈলীতে পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক...

--------------------------------------------

১. 'বা' পাণ্ডুলিপিতে: "বালিশ"।

২. আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে আবুল কাসিম ইবনে হাসান, শায়খ, ইমাম, মহাজ্ঞানী, আপন যুগের অদ্বিতীয় সত্তা, সুলতানুল উলামা, ইজ্জুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আস-সুলামি আদ-দিমাশকি, অতঃপর আল-মিসরি। তিনি পাঁচশ সাতাত্তর বা আটাত্তর হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শায়খ ফখরুদ্দীন ইবনে আসাকিরের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং আল-আমিদির নিকট উসুল পাঠ করেন এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে বুৎপত্তি অর্জন করেন।

ইবনে ক্বাদি শুহবা 'আল-কাওয়ায়েদুল কুবরা' কিতাব সম্পর্কে বলেন যে, এটি তার উচ্চ মর্যাদার পরিচায়ক। তার অসংখ্য রচনা রয়েছে। তার জীবনী দেখুন:

ফাওয়াতুল ওয়াফিয়্যাত ১/২৮৭, ইবনে সুবকির তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ ৫/৮০, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/২৩৫, শাযারাতুয যাহাব ৫/৩০১, ইবনে ক্বাদি শুহবার তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ ২/১০৯।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৭)
للفضل بعيده وقريبه شفاء لما في الصدور ووفاء لما للعلم في ذمة بني الدهور وصفا يروق به موارد السرور، واكتفى بما تعلق به الرجاء من عظائم الأمور، أولًا لا يحتاج إلى ثانٍ ومكملا ليس عنه ثانٍ، وموئلا للطلبة ليس عليه إلا مثنٍ –وقضى السجع بأن أقول: ثانٍ كأنما صعد صاحبه السماء وأخذ بدرها أو غاص البحار واستخرج درها، لا والله- بل بعثر القلوب وأفشى سرها، ثم جمع الإمام العلامة صدر الدين محمد بن عمر بن المرحل1 كتابًا في الأشباه والنظائر في الفروع طاول فيه الفراقد وحاول المعالي فسهر في طلبها، وخلف ألف راقد وتناول النجم قناداه لسان الإنصاف. ولما رأيت الناس دون محله تيقنت أن الدهر للناس ناقد ولقد جاوز قدر كل ذي قدر، وزاحم الرءوس في مجالس المعالي، ويد الحق تضع في الصدر الصدر وتضايق القوم حيث فسح له وأنشد:

لعمرك ما يغني الثراء عن الفتى … إذا حشرجت يوما وضاق بها الصدر

ضاق بها وهي في مجالس العلم الصدر، ولكن صدر الدين وراق بها ربعها وإن بعد عهده فلا يتغير، وإن غير النأي المحبين وساق منه هديا لحفظه التقي فنسيانه ضلال مبين، وساق منه كتابا يتلقاه ذو المعرفة باليمين، فما هاج شوقي إلى ما أنا بصدده إلا كتابه لا حمامه، ولا بعث على هذه الكلمات سواه لما سمعت كلامه، فلقد بعثني [فأقام] 2 على ليلي من الفكر القيامة لأني مع استحسانه وجدته محتاجا إلى تحر في تحريره، وممر عليه من أوله إلى آخره لكونه مات وهو مجموع مفرق؛ لتبذيره من غير تدبيره، منسوب في نفسه إلى قصوره غير منسوب إلى مصنفه، وقد عارضته المنية إلى تقصيره.

فعمدت إلى هذا الكتاب فاجتلبت زبده وقذفت في بحر فوائد زبده وجمعت عليه من الأشباه نظائر كالأرواح جنودا مجندة وحررته في الدجى بشهادة النجوم ولاقيت عسره

--------------------------------------------

1 محمد بن عمر بن مكي بن عبد الصمد بن عطية بن أحمد، يقال عبد الصمد بن أبي بكر بن عطية الشيخ الإمام العلامة ذو الفتوق صدر الدين أبو عبد الله ابن الشيخ الإمام الخطيب زين الدين أبي حفص العثماني المعروف بابن المرحل وبابن الوكيل. ولد بدمياط في شوال سنة خمس وستين وستمائة، وقال السبكي في طبقاته: كان الوالد يعظمه ويحبه ويثني عليه بالعلم وحسن العقيدة. توفي في ذي الحجة سنة ست عشرة وسبعمائة بالقاهرة.

طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 2/ 233، ابن السبكي 6/ 23 والبداية والنهاية 14/ 80، وفوات الوفيات 2/ 254 حسن المحاضرة 15/ 237.

2 في ب: "وأقام".
শ্রেষ্ঠত্বের নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সকলের জন্য এটি অন্তরের ব্যাধির আরোগ্য এবং মহাকালের সন্তানদের জিম্মায় ইলমের যে ঋণ রয়েছে তার পরিপূরণ। এটি এমন এক স্বচ্ছতা যা আনন্দের উৎসগুলোকে মুগ্ধ করে এবং মহান বিষয়াবলির সাথে সম্পৃক্ত আশার মাধ্যমেই তা তুষ্ট থাকে। এটি এমন এক অনন্য প্রথম যা দ্বিতীয় কোনো কিছুর মুখাপেক্ষী নয়, এবং এমন এক পূর্ণতাদানকারী যার কোনো বিকল্প নেই; এটি জ্ঞানান্বেষীদের এমন এক আশ্রয়স্থল যার প্রশংসায় সকলে পঞ্চমুখ। অন্ত্যমিল রক্ষার্থে বলতে হয়: এটি এমন এক দ্বিতীয় (অনন্য), যার রচয়িতা যেন আকাশে আরোহণ করে তার পূর্ণচন্দ্র ধারণ করেছেন অথবা সমুদ্রের অতল গহ্বরে ডুব দিয়ে তার মুক্তা আহরণ করেছেন। না, আল্লাহর শপথ! বরং তিনি হৃদয়ের অন্তঃস্থল উন্মোচন করেছেন এবং এর রহস্য প্রকাশ করেছেন। অতঃপর ইমাম, আল্লামা সদরুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন উমর বিন আল-মুরাহহাল১ ফিকহী উপমা ও সাদৃশ্য (আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর) বিষয়ে একটি গ্রন্থ সংকলন করেন, যার মাধ্যমে তিনি সুউচ্চ নক্ষত্ররাজিকেও ছাড়িয়ে গেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রচেষ্টা করেছেন। তিনি তা অন্বেষণে বিনিদ্র রজনী অতিবাহিত করেছেন, যখন হাজারো মানুষ নিদ্রামগ্ন ছিল। ইনসাফের ভাষায় বলতে গেলে, তিনি যেন আকাশের নক্ষত্ররাজিকে হাতের নাগালে নিয়ে এসেছিলেন। যখন আমি দেখলাম মানুষ তাঁর মর্তবার নিচে অবস্থান করছে, তখন আমি নিশ্চিত হলাম যে কালপরিক্রমা মানুষের জন্য এক কঠিন সমালোচক। নিশ্চয়ই তিনি প্রত্যেক মর্যাদাবানের মর্যাদাকে ছাড়িয়ে গেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্বের মজলিসগুলোতে শীর্ষস্থান দখল করেছেন। সত্যের হাত তাঁকে বক্ষের মধ্যস্থলে (সম্মানিত স্থানে) আসীন করেছে এবং যখন তাঁর জন্য প্রশস্ত জায়গা করে দেওয়া হলো, তখন অন্যেরা সংকুচিত হয়ে পড়ল। তিনি আবৃত্তি করেন:

তোমার জীবনের শপথ! সম্পদ কোনো যুবকের উপকারে আসে না ... যখন কোনো একদিন কণ্ঠাগত প্রাণ ছটফট করে এবং বক্ষ সংকীর্ণ হয়ে আসে।

ইলমের মজলিসগুলোতে তাঁর জন্য বক্ষ সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল, কিন্তু সদরুদ্দীন (দ্বীনের বক্ষ) এর মাধ্যমে সেই চত্বরকে আলোকিত করেছেন, যদিও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে তা পরিবর্তিত হওয়ার নয়। বিচ্ছেদ যদিও প্রেমিকদের বদলে দেয়, তবুও তাঁর তাকওয়া ও হেফজ (স্মৃতিশক্তি) থেকে যে উপহার এসেছে তা ভুলে যাওয়া এক সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতা। তিনি এমন এক কিতাব উপহার দিয়েছেন যা জ্ঞানীরা ডান হাতে গ্রহণ করেন। আমি যা করতে যাচ্ছি তার প্রতি আমার আগ্রহ কেবল তাঁর কিতাবই জাগিয়ে তুলেছে, কোনো কপোত নয়; আর যখন আমি তাঁর কথা শুনলাম, তখন তাঁর কিতাব ছাড়া অন্য কিছু আমাকে এই শব্দগুলো লিখতে উদ্বুদ্ধ করেনি। তাঁর কিতাব আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে, তাই আমি আমার চিন্তার রজনীতে এর জন্য দণ্ডায়মান হয়েছি। কারণ, কিতাবটি পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও আমি অনুভব করেছি যে এর পরিমার্জনে সূক্ষ্ম দৃষ্টির প্রয়োজন এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুনরায় পর্যালোচনার আবশ্যকতা রয়েছে। কেননা তিনি এমন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন যখন এটি ছিল অগোছালো পাণ্ডুলিপির সমষ্টি; সুষ্ঠু বিন্যাস ছাড়াই তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। কিতাবটি অপূর্ণতার দিকে ধাবিত হচ্ছিল, যা তার লেখকের যোগ্যতার সাথে মানানসই ছিল না এবং মৃত্যু তাঁর সেই অসম্পূর্ণতাকে পূর্ণ করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

তাই আমি এই কিতাবটির প্রতি মনোনিবেশ করলাম এবং এর নির্যাস গ্রহণ করলাম এবং এর উপকারের সমুদ্রে মন্থন করা মাখন নিক্ষেপ করলাম। আমি এতে এমন সব উপমা ও সাদৃশ্য যুক্ত করলাম যা যেন এক সুসজ্জিত বাহিনী। আমি নক্ষত্রদের সাক্ষী রেখে রজনীর অন্ধকারে এটি পরিমার্জন করেছি এবং এর কাঠিন্যের মোকাবিলা করেছি।

--------------------------------------------

১ মুহাম্মাদ বিন উমর বিন মাক্কি বিন আব্দুস সামাদ বিন আতিয়্যাহ বিন আহমাদ; বলা হয় আব্দুস সামাদ বিন আবি বকর বিন আতিয়্যাহ। তিনি ইমাম, আল্লামা, ধীমান ফকীহ, সদরুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল ইমাম খতীব জয়নুদ্দীন আবি হাফস আল-উসমানী, যিনি ইবনুল মুরাহহাল ও ইবনুল ওয়াকীল নামে পরিচিত। তিনি ৬৬৫ হিজরীর শাওয়াল মাসে দামিয়েত্তায় জন্মগ্রহণ করেন। আস-সুবকী তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে বলেছেন: আমার পিতা তাঁকে সম্মান করতেন, ভালোবাসতেন এবং তাঁর ইলম ও সুন্দর আকীদার প্রশংসা করতেন। তিনি ৭১৬ হিজরীর জিলহজ মাসে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন।

ইবনে কাযী শুহবার 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ' ২/২৩৩, ইবনুস সুবকী ৬/২৩, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৪/৮০ এবং ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত ২/২৫৪, হুসনুল মুহাযারা ১৫/২৩৭।

২ মূল পাঠে: "এবং তিনি কায়েম করেছেন"।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৮)
بهمة نبذت سهيلا بالعراء وهو مذموم، وجلوت من الأشباه عروس شباب لا شبيه لها مظنون ولا معلوم، إن قلت كما قال حسان:

لم يفتها شمس النهار بشيء

فلست أقول:

غير أن الشباب ليس يدوم

لأنها كلمات أعدها من الباقيات الصالحات والدائمات السابقات، تعوذ بالرقى من غير خبل وتعقد في قلائدها التميم، ثم لم أقدم على هذا الكتاب إلا بإذن سيدي الشيخ الإمام الوالد –قدس الله سره المصون- فإنه أذن لي [فيه] 1 وشرعت في ذلك في حياته، وكتبت منه قطعة شملها نظره الميمون فأعجب له رقا حرره بالكتابة عبد مأذون. نعم حررته وزدت عليه ما ينيف عن نصف مقداره ويضيف الزهر إلى أزهاره ويخيف من سلك غير طريقه فإنه [علي] 2 لاحب ولا يهتدي بمناره، ونقصت منه ما يورثه نقصا ويكاد به يقصر ويقصى، وخصصته بعموم فضائل لا تحصى، ما بين قواعد أهملها رأسا، وزوائد أغفلها -ومن ذا الذي لا ينسى- وفرائد تطلع في أفق المسائل قمرا وشمسا، بحيث جمع فأوعى قاصيا ودانيا ونطق فأسمع قريبا ونائيا.

ولو أن واشٍ باليمامة داره … وداري بأعلى حضرموت اهتدى ليا

ولاح للمريد سلوك طريقه وراح الفقيه المستفيد يبدي ويعيد، ولا مزيد على تحقيقه، ونفق سوقه فلا يجد من يستطلع في ظلام الشبهات غير صبح فضله استغلظ فاستوى على سوقه، وكمل كتابا طبخ قلوب الحاسدين لما استوى، وسحابا لا تغير معه الأغراض الأهوية قائلة: لا نبرح نحن ولا أنت مكانا سوى: "وعبابا إذا عافى الله مريض القلب وكرع فيه منصفا ظهر ما قلناه، وبدي من بعد ما اندمل الهوى، وحكما يقضي القضايا اقتضيته وتقول: أنت الحكم التُّرْضى حكومته، والله أعطاه فضلا من عطيته فلتشكر عطيته نبهت له الذهن والناس نيام وأيقظت الفكر فأضاء مصباحه في الظلام وأعلمت فيها القلب فجلس يناجي الملك العلام. فلله من وارداته مقام عبد تجيب فيه الملائكة من عز الكلام. داعي الله لا من دعت ساق حر نزحه وترنما ومحفل فكر يسبك فيه ذهب القلوب على الحق ولا ضرب صواع يكفيه درهما، ومجلس علم يفوق مجلس الذكر ومتعلقا بجلوسه صلى الله عليه وسلم في مجلس المعلمين وقوله: "إنما بعثت معلما" 3 فكم سفه

--------------------------------------------

1 سقط في "ب".

2 سقط في "ب".

3 أخرجه ابن ماجه 1/ 117 في المقدمة، باب فضل العلماء والحث على طلب العلم "229".

قال البوصيري في زوائده: هذا إسناد فيه بكر وداود وعبد الرحمن وهم ضعفاء وقال رواه أبو داود الطيالسي والحارث بن أبي أسامة في مسنديهما من طريق عبد الرحمن الإفريقي به.
এমন এক সংকল্পের সাথে যা সুহাইল নক্ষত্রকে এক জনমানবহীন প্রান্তরে নিন্দিত অবস্থায় নিক্ষেপ করেছে, এবং আমি সদৃশ বস্তুগুলোর মধ্য থেকে এমন এক যৌবন-বধূকে প্রস্ফুটিত করেছি যার কোনো সদৃশ কল্পিত বা জ্ঞাত নেই। আমি যদি হাসসানের ন্যায় বলি:

দিনের সূর্য তাকে কোনো বিষয়েই ছাড়িয়ে যেতে পারেনি

তবে আমি এ কথাই বলব:

কেবল যৌবনই চিরস্থায়ী নয়

কেননা এগুলো এমন বাণী যা আমি ‘বাকিয়াতুস সালিহাত’ (অক্ষয় নেক আমল) এবং পূর্ববর্তী চিরস্থায়ী বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত মনে করি; যা কোনো প্রকার বিকৃতি ছাড়াই রুকইয়ার (ঝাড়ফুঁক) মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং যার কণ্ঠহারে তামীম (কবজ) বাঁধা হয়। অতঃপর আমি আমার সাইয়্যেদ, শাইখ, ইমাম এবং শ্রদ্ধেয় পিতা—আল্লাহ তাঁর সুরক্ষিত রহস্যকে পবিত্র করুন—তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে এই কিতাব রচনার সাহস করিনি। তিনি আমাকে [এ বিষয়ে] ১ অনুমতি দিয়েছেন এবং তাঁর জীবদ্দশাতেই আমি এটি শুরু করেছি। আমি এর একটি অংশ লিখেছিলাম যা তাঁর কল্যাণময় দৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল; ফলে একজন অনুমতিপ্রাপ্ত দাসের লেখনীতে পরিমার্জিত সেই পাণ্ডুলিপি দেখে তিনি বিস্ময়াভিভূত হয়েছিলেন। হ্যাঁ, আমি এটি পরিমার্জিত করেছি এবং এতে এর মূল পরিমাণের অর্ধেকেরও বেশি বর্ধিত করেছি, যা এর পুষ্পরাজিকে আরও প্রস্ফুটিত করেছে। আর যে ব্যক্তি এর পথ ব্যতীত অন্য পথে চলবে তাকে এটি ভীত করবে, কারণ এটি [আমার নিকট] ২ এক স্পষ্ট পথ এবং এর বাতিঘরের আলো ছাড়া কেউ সঠিক পথ পায় না। আমি এটি থেকে এমন বিষয় কমিয়েছি যা এতে ত্রুটি সৃষ্টি করত এবং যার ফলে এটি অপূর্ণ বা বর্জিত হওয়ার উপক্রম হতো। আমি একে অসংখ্য সাধারণ ফযিলত দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছি; যার মধ্যে এমন কিছু মূলনীতি রয়েছে যা তিনি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছিলেন, আর এমন কিছু পরিশিষ্ট রয়েছে যা থেকে তিনি গাফেল ছিলেন—আর এমন কে আছে যে বিস্মৃত হয় না?—এবং এমন কিছু দুর্লভ তত্ত্ব রয়েছে যা মাসআলাসমূহের দিগন্তে চন্দ্র ও সূর্যের ন্যায় উদিত হয়। এটি এমনভাবে সংকলিত হয়েছে যে দূর ও নিকটের সব কিছুকে পরিবেষ্টিত করেছে এবং এমনভাবে কথা বলেছে যা নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সকলকে শ্রবণ করিয়েছে।

যদি ইয়ামামাতে কোনো চোগলখোরের ঘর হয় … আর আমার ঘর হয় উচ্চ হাজরামাউতে, তবুও সে আমার কাছে পৌঁছানোর পথ পেয়ে যেত।

আর সত্যানুসন্ধিৎসুর জন্য এর পথে চলা স্পষ্ট হয়েছে এবং উপকৃত ফকীহগণ এর ব্যাখ্যা ও পুনরাবৃত্তি করতে শুরু করেছেন; এর তাহকীক বা বিশ্লেষণের ওপর আর কোনো কথা নেই। এর কদর বা বাজারমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে সংশয়ের অন্ধকারে আচ্ছন্ন ব্যক্তি তার অনুগ্রহের সুবহে সাদিক ব্যতীত অন্য কিছু দেখে না, যা শক্ত হয়েছে এবং নিজের কাণ্ডের ওপর উঠেছে। এটি এমন এক কিতাবকে পূর্ণতা দিয়েছে যা হিংসুকদের অন্তরকে দগ্ধ করেছে যখন এটি পূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটি এমন এক মেঘমালা যার সাথে উদ্দেশ্য ও প্রবৃত্তিগুলো পরিবর্তিত হয় না, যা বলে: আমরা এবং তুমি সমমানের স্থান থেকে বিচ্যুত হব না। এটি এমন এক তরঙ্গ যা—যদি আল্লাহ কোনো রুগ্ন অন্তরকে সুস্থ করেন এবং সে ইনসাফের সাথে তা পান করে—তবে আমরা যা বলেছি তা প্রকাশিত হবে এবং প্রবৃত্তি নির্মূল হওয়ার পর তা স্পষ্ট হবে। এটি এমন এক হুকুম বা ফয়সালা যা অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান দেয় যা আমি দাবি করেছি এবং তুমি বলবে: আপনিই সেই বিচারক যার বিচার সন্তোষজনক। আল্লাহ একে তাঁর দান থেকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তাই তাঁর দানের শুকরিয়া আদায় করা উচিত। আমি এর জন্য মেধাকে জাগ্রত করেছি যখন মানুষ ঘুমন্ত ছিল, এবং চিন্তাশক্তিকে জাগিয়েছি ফলে অন্ধকারে তার প্রদীপ জ্বলে উঠেছে, আর এতে অন্তরকে নিবিষ্ট করেছি ফলে সে সর্বজ্ঞানী অধিপতির সাথে গোপনে আলাপ করতে বসেছে। আল্লাহর নিকট সেই বান্দার মাকামের নিবেদনসমূহ রয়েছে যেখানে ফেরেশতারা সুমহান বাণীর মাধ্যমে উত্তর দেয়। এটি আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী, কোনো বন্য কবুতরের ডাক বা সুর নয়; এটি চিন্তার এমন এক মাহফিল যেখানে সত্যের ওপর অন্তরের স্বর্ণ ঢালাই করা হয়, কোনো দিরহামের বিনিময়ে মাপকাঠি নির্ধারণ নয়। এটি ইলমের মজলিস যা যিকিরের মজলিসকেও ছাড়িয়ে যায় এবং যা শিক্ষক হিসেবে মজলিসে বসা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই বাণীর সাথে সম্পৃক্ত: "নিশ্চয়ই আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি" ৩ কতই না মূর্খতা...

--------------------------------------------

১ ‘খ’ পাণ্ডুলিপিতে নেই।

২ ‘খ’ পাণ্ডুলিপিতে নেই।

৩ ইবনে মাজাহ ১/১১৭, মুকাদ্দিমা অধ্যায়, 'আলেমদের মর্যাদা ও ইলম তলবে উৎসাহ প্রদান' অনুচ্ছেদ (২২৯)।

বূসিরী তাঁর ‘যাওয়ায়িদ’ গ্রন্থে বলেছেন: এই সনদে বকর, দাউদ ও আবদুর রহমান রয়েছেন এবং তাঁরা দুর্বল। তিনি আরও বলেছেন যে, আবু দাউদ তায়ালিসি এবং হারিস বিন আবি উসামা তাঁদের মুসনাদদ্বয়ে আবদুর রহমান আল-ইফরিকির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৯)
أحلام النيام ما في تلك اليقظة من رشد يهذب ويحرر.

وكم بت مستخبرا علمي، وأستمد فكري وقلمي فهذا ينشيء وهذا يخبر، وكم لظلام الليل عندي من يد تخبر ولست مع ذلك أبرئ كتابي من كل نقص ومعرة. ولا أبيعه بشرط السلامة من كل عيب يكره، ولا أدعي أني استوعبت فيه ولا أن الأشباه جمع كثرة.

ولا آمن طائفة تطوف على محاسنه فتأخذها وتدعيها [وتدخل] 1 وتخرج وليت لها أذن واعية فتعيها وتسرق من حرزها نصابا لا شبهة لها فيه ولن يكفيها وتسبح في بحره فتشهب كبار الدرر وتسرح في روضه فتجني على مصنفه، وتجني كل زهر وتسرق ثمره وتقول لا قطع في ثمر ولا كثر.

نعم لكأني بفرق ثلاث: فرقة تفرق شمل محاسنه وتنكرها، وتجتلي عرائسه ثم تتشعب قبيلتين خيرهما التي لا تجعلها بمذام ولا تذكرها والأخرى تبيت منه في نعم وتصبح تكفرها.

وأظلم أهل الظلم من بات حاسدا … لمن بات في نعمائه يتقلب

لعب بها شيطان الحسد وشد وثائقها الذي لا يوثق به بحبل من مسد، وتصرف فيها والشيطان يجري من ابن آدم مجرى الدم في الجسد، تصرف فيهم فنوى كل منهم السوء ولكل امرئ ما نوى، وتحكم فغوى بحكمه من غوى، وجرى بهم في ميدان الحسد حتى وقف الهوى، فلزموا إنكار الجميل لزوم جميل بثينة وغريم ألد تقاضي عزة دينه وجر جريرًا فسماه صائده الفؤاد وهو يعرف كذبه وميته، لا بل لزوم الأعراض للجواهر والغيم للنهار الماطر والليل للنجم الزاهر.

وآخر من فيه ثانية: يسمع كلامه ولا يفهمه ويصبح في بحره ولا يعلمه [ويصبح] 2 ظمآن وفي البحر فمه ومثل هذا لا يفتقد حضوره إذا غاب ولا ينتقد كلامه إذا جاب الصخر وخاب ولا يؤهل لأن يعاب إذا عاب.

--------------------------------------------

1 في "ب" فتدخل.

2 في ويسبح.
নিদ্রিতদের স্বপ্নগুলোর মতো, যাতে নেই সেই জাগরণের সুপথ যা পরিমার্জিত ও মুক্ত করে।

আমি কত রাত আমার জ্ঞানকে অন্বেষণ করে কাটিয়েছি, এবং আমার চিন্তা ও কলম থেকে সাহায্য নিয়েছি; ফলে এটি সৃষ্টি করে আর ওটি সংবাদ প্রদান করে। রাতের অন্ধকারের আমার প্রতি কতই না অবদান রয়েছে যা সংবাদ দেয়; তবুও আমি আমার কিতাবকে যাবতীয় ত্রুটি ও দোষ থেকে মুক্ত ঘোষণা করি না। আর আমি তা অপছন্দনীয় সকল খুঁত থেকে মুক্ত থাকার শর্তে বিক্রয় করি না। আমি এমন দাবিও করি না যে আমি এতে সব কিছু অন্তর্ভুক্ত করেছি, কিংবা এর সদৃশ বিষয়গুলো সংখ্যায় অনেক।

আর আমি এমন এক দল সম্পর্কে শঙ্কামুক্ত নই যারা এর সৌন্দর্যগুলোর চারপাশে ঘুরে বেড়াবে, অতঃপর সেগুলো গ্রহণ করবে এবং নিজেদের বলে দাবি করবে, [এবং প্রবেশ করবে] ১ ও বের হবে। হায়! যদি তাদের একটি মনোযোগী কান থাকত যা তা সংরক্ষণ করত। তারা এর সংরক্ষিত ভাণ্ডার থেকে এমন এক অংশ চুরি করে যাতে তাদের কোনো অধিকার নেই, তবুও তা তাদের জন্য যথেষ্ট হবে না। তারা এর সমুদ্রে সাঁতার কাটে এবং বড় বড় মুক্তাসমূহ আহরণ করে, আর এর বাগানে বিচরণ করে এর লেখকের ওপর জুলুম করে; তারা প্রতিটি ফুল চয়ন করে এবং এর ফল চুরি করে বলে যে, ফল বা খেজুরের কাঁদির চুরিতে কোনো শাস্তিমূলক হাত কাটা নেই।

হ্যাঁ, আমি যেন তিনটি দলকে দেখতে পাচ্ছি: একদল এর সৌন্দর্যরাশিকে ছিন্নভিন্ন করে দেয় এবং তা অস্বীকার করে, এর নববধূরূপী বিষয়গুলোকে অবলোকন করে, অতঃপর তারা দুই উপদলে বিভক্ত হয়ে যায়—যাদের মধ্যে উত্তম হলো তারা যারা একে মন্দ হিসেবে গণ্য করে না এবং এর আলোচনাও করে না; আর অন্য দলটি এর নেয়ামতের মধ্যে রাত অতিবাহিত করে এবং ভোরে তা অস্বীকার করে।

আর জালেমদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জালেম সেই ব্যক্তি যে হিংসুক অবস্থায় রাত কাটায়... এমন ব্যক্তির প্রতি যে নেয়ামতের মাঝে বিচরণ করে।

হিংসার শয়তান তাদের নিয়ে খেলা করেছে এবং মজবুত রশি দিয়ে তাদের এমনভাবে বেঁধেছে যার ওপর ভরসা করা যায় না। সে তাদের মাঝে বিচরণ করেছে, আর শয়তান তো আদম সন্তানের শরীরে রক্ত চলাচলের মতো বিচরণ করে। সে তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে ফলে তাদের প্রত্যেকেই মন্দের নিয়ত করেছে, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পায় যার সে নিয়ত করে। সে তাদের ওপর কর্তৃত্ব করেছে ফলে তার শাসনে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে যারা পথভ্রষ্ট হওয়ার ছিল। সে তাদের হিংসার ময়দানে এমনভাবে পরিচালিত করেছে যে শেষ পর্যন্ত প্রবৃত্তি থমকে দাঁড়িয়েছে। ফলে তারা অনুগ্রহ অস্বীকার করার বিষয়টিকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরেছে যেমন জামিল আঁকড়ে ছিল বুসাইনাকে, কিংবা যেমন একজন কট্টর পাওনাদার আজ্জার কাছে তার ঋণের দাবি নিয়ে লেগে থাকে; আর সে জারিরকে টেনে নিয়ে গেছে এবং তাকে 'হৃদয় শিকারি' নাম দিয়েছে অথচ সে তার মিথ্যা ও অসারতা সম্পর্কে জানত। বরং এটি যেন পদার্থের সাথে গুণের অবিচ্ছেদ্যতা, মেঘলা দিনের সাথে মেঘের সম্পৃক্ততা এবং উজ্জ্বল নক্ষত্রের সাথে রাতের সংশ্লিষ্টতার মতো।

আর অপরজন হলো যার মাঝে দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান: সে এর কথা শুনে কিন্তু বোঝে না, এর সমুদ্রে সকাল অতিবাহিত করে কিন্তু তা জানে না, [এবং সে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় সকাল করে] ২ অথচ তার মুখ সমুদ্রের ভেতরে। এই ধরনের লোকের অনুপস্থিতিতে তার অভাব অনুভূত হয় না, আর তার কথা সমালোচনাযোগ্যও হয় না যখন সে কঠোর পরিশ্রম করে এবং ব্যর্থ হয়; আর সে যদি কোনো দোষ ধরে তবে সে দোষারোপ করারও যোগ্য নয়।

--------------------------------------------

১ পাণ্ডুলিপি "বা"-তে রয়েছে: "অতঃপর প্রবেশ করবে"।

২ অন্য পাঠে: "এবং সাঁতার কাটে"।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১০)
وكم من عائب قولا صحيحا … [وآفته من الفهم السقيم] 1

ولا يؤهل لأن يعاب إذا عاب

وآخر من فيه ثالثة: تغترف من بحره وتعترف ببره ويقتطف من زهره ما هو أزهر من الأفق وزهره وتلزم الثناء عليه لزوم الخطب للمنابر والأقلام للمحابر والأفكار للخواطر والمؤمن للطاعة في الليل الكافر، وتعالج به جراحات الشكوك كأنه لها مراهم ويقطع بقواطعه ما أورث سوء الظن وأوهم وتقول: لو بيع فصل منه لاشتريته كما قيل بألف درهم.

وهذه طريقة قل سالكوها، وبعيد أن يوجد في حياة المصنف أهلوها فعليهم سلام الله أحسن الناس وجوهًا وأنضر همومًا.

وها أنا أبرز لك هذا المجموع وأحمل إليك هذا الموضوع، وأخرجه غير مقطوع الفضل ولا ممنوع والله أسأل أن يتقبله وأن يغفر خطأ مصنفه وأن يدخله الجنة بفضله فإنه لن يدخلها بعمله ولو كان له عمل فكيف ولا عمل له.

--------------------------------------------

1 من قوله وآفته من الفهم السقيم إلى قوله: قال الرافعي فجواز الاستعمال على قولي الأصل سقط في ب.
আর কতজনই না সঠিক কথার দোষ অন্বেষণ করে থাকে … [অথচ এর ত্রুটি তার নিজ অসুস্থ বুঝ বা উপলব্ধির মাঝেই নিহিত] ১

আর যখন সে দোষারোপ করে, তখন সে তা করার যোগ্যও থাকে না।

আর অপর এক ব্যক্তি যার মধ্যে তৃতীয় গুণটি রয়েছে: তুমি তার (জ্ঞানের) সমুদ্র থেকে অঞ্জলি ভরে গ্রহণ করবে, তার দয়া ও মহত্ত্বকে স্বীকার করে নেবে এবং তার (রচনার) ফুল থেকে এমন কিছু আহরণ করবে যা দিগন্ত ও তার প্রস্ফুটিত পুষ্পরাজি থেকেও অধিক উজ্জ্বল। তুমি তার প্রশংসা করাকে এমনভাবে আবশ্যক করে নেবে যেভাবে মিম্বরের জন্য খুতবা, দোয়াতের জন্য কলম, অন্তরের জন্য চিন্তা এবং অন্ধকার রজনীতে মুমিনের জন্য আনুগত্য করা আবশ্যক। এর মাধ্যমে সন্দেহের ক্ষতসমূহ এমনভাবে নিরাময় করা হয় যেন তা মলম স্বরূপ। আর এর অকাট্য যুক্তিসমূহ দ্বারা ঐ বিষয়গুলো ছিন্ন করা হয় যা কুধারণা ও বিভ্রান্তির উদ্রেক করেছিল। আর তুমি বলবে: যদি এর একটি পরিচ্ছেদও বিক্রি হতো, তবে আমি তা এক হাজার দিরহাম দিয়ে হলেও ক্রয় করতাম, যেমনটি বলা হয়ে থাকে।

আর এটি এমন এক পথ যাতে বিচরণকারীর সংখ্যা অতি নগণ্য। গ্রন্থকারের জীবদ্দশায় এমন গুণাবলির অধিকারী ব্যক্তিদের পাওয়া সুদূরপরাহত। সুতরাং তাদের ওপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক; তারা চেহারার দিক থেকে সর্বোত্তম মানুষ এবং সংকল্পের দিক থেকে অত্যন্ত প্রদীপ্ত।

আর এখন আমি আপনার সম্মুখে এই সংকলনটি উপস্থাপন করছি এবং আপনার নিকট এই বিষয়টি তুলে ধরছি। আমি একে পূর্ণাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব ও অবারিত অবস্থায় প্রকাশ করছি। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এটি কবুল করেন, গ্রন্থকারের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করেন এবং তাঁর অনুগ্রহে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। কেননা কোনো ব্যক্তিই নিজ আমলের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যদিও তার কোনো আমল থেকে থাকে; তবে যার কোনো আমলই নেই তার অবস্থা তো বলাই বাহুল্য।

--------------------------------------------

১. তাঁর উক্তি "অথচ এর ত্রুটি তার নিজ অসুস্থ বুঝ বা উপলব্ধির মাঝেই নিহিত" থেকে শুরু করে তাঁর উক্তি "রাফেয়ী বলেছেন, সুতরাং মূলের দুই মত অনুযায়ী ব্যবহারের বৈধতা" পর্যন্ত অংশটি 'খ' পাণ্ডুলিপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الكلام في القواعد الفقهية والمدارك الشرعية والمآخذ الأصولية:

حق على طالب التحقيق ومن يتشوق إلى المقام الأعلى في التصور والتصديق أن يحكم قواعد الأحكام ليرجع إليها عند الغموض وينهض بعبء الاجتهاد أتم نهوض ثم يؤكدها بالاستكثار من حفظ الفروع؛ لترسخ في الذهن مثمرة عليه بفوائد غير مقطوع فضلها ولا ممنوع.

أما استخراج القوي وبذل المجهود في الاقتصار على حفظ الفروع من غير معرفة أصولها ونظم الجزئيات بدون فهم مأخذها، فلا يرضاه لنفسه ذو نفس أبية ولا حامله من أهل العلم بالكلية.

قال إمام الحرمين 1 في كتاب المدارك: "الوجه لكل متخذ للإقلال بأعباء

--------------------------------------------

1 عبد الملك بن عبد اله بن يوسف عبد الله بن يوسف بن محمد العلامة إمام الحرمين ضياء الدين أبو المعالي بن الشيخ أبي محمد الجويني رئيس الشافعية بنيسابور مولده في المحرم سنة تسع عشر وأربعمائة وصنف المصنفات العديدة، قال أبو إسحاق الفيروزأبادي تمتعوا بهذا الإمام فإنه نزهة هذا الزمان توفي في ربيع الآخر سنة ثمانٍ وسبعين وأربعمائة. ابن السبكي 3/ 249، وفيات الأعيان 2/ 341، شذرات الذهب 3/ 358، والنجوم الزاهرة 5/ 121.
ফিকহী মূলনীতি, শারঈ প্রমাণাদি এবং উসূলী উৎসসমূহ সম্পর্কিত আলোচনা:

তত্ত্বানুসন্ধানী এবং সঠিক ধারণা ও প্রত্যয় অর্জনে সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য এটি আবশ্যক যে, তিনি বিধানাবলির মূলনীতিসমূহ (কাওয়াইদুল আহকাম) সুদৃঢ়ভাবে আয়ত্ত করবেন; যাতে অস্পষ্টতার সময় সেগুলোর দিকে ফিরে আসা যায় এবং ইজতিহাদের গুরুভার পরিপূর্ণরূপে বহন করা সম্ভব হয়। অতঃপর অধিক পরিমাণে শাখা-মাসআলা (ফুরু) মুখস্থ করার মাধ্যমে সেগুলোকে সুসংহত করবেন; যাতে তা অন্তরে এমনভাবে বদ্ধমূল হয় যা তার জন্য এমন সব অবারিত ও নিরবচ্ছিন্ন কল্যাণ বয়ে আনবে যার ধারা কখনও শেষ হবে না।

আর মূলনীতি না জেনেই কেবল শাখা-মাসআলা মুখস্থ করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা এবং উৎস না বুঝেই খুঁটিনাটি বিষয়গুলো সাজানোর পেছনে শ্রম ব্যয় করাকে কোনো আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি নিজের জন্য পছন্দ করেন না এবং কোনো ইলম অন্বেষণকারীই তা সামগ্রিকভাবে গ্রহণ করেন না।

ইমামুল হারামাইন ১ তাঁর 'মাদারিক' গ্রন্থে বলেছেন: "গুরুভার লাঘব করার জন্য দায়িত্ব গ্রহণকারী প্রত্যেকের ক্ষেত্রে..."

--------------------------------------------

১. আব্দুল মালিক বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ, প্রখ্যাত আলেম, ইমামুল হারামাইন দিয়াউদ্দীন আবুল মাআলী বিন আল-শায়খ আবু মুহাম্মাদ আল-জুওয়াইনী, নিশাপুরের শাফেঈগণের প্রধান; তাঁর জন্ম ৪১৯ হিজরীর মুহররম মাসে এবং তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন। আবু ইসহাক আল-ফায়রোযাবাদী বলেন: "তোমরা এই ইমামের মাধ্যমে উপকৃত হও, কেননা তিনি এই জামানার শ্রেষ্ঠ মনীষী।" তিনি ৪৭৮ হিজরীর রবিউস সানী মাসে ইন্তেকাল করেন। ইবনুস সুবকী ৩/২৪৯, ওফায়াতুল আ’ইয়ান ২/৩৪১, শাযারাতুয যাহাব ৩/৩৫৮ এবং আন-নুজুমুয যাহিরা ৫/১২১।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১১)
الشريعة معه أن يجعل الإحاطة بالأصول سوقه الألذ وينص مسائل الفقه عليها نص من يحاول بإيرادها تهذيب الأصول، ولا ينزف حمام ذهنه في وضع الوقائع مع العلم بأنها لا تنحصر على الذهول عن الأصول" انتهى.

وإن تعارض الأمران وقصر وقت طالب العلم عن الجميع بينهما -لضيق أو غيره من آفات الزمان- فالرأي لذي الذهن الصحيح الاقتصار على حفظ القواعد وفهم المآخذ.

إذا عرف ذلك فالقاعدة: الأمر الكلي الذي ينطبق عليه جزئيات كثيرة يفهم أحكامها منها1". ومنها ما لا يختص بباب كقولنا: "اليقين لا يرفع بالشك" ومنها ما يختص كقولنا: "كل كفارة سببها معصية فهي على الفور" والغالب فيما اختص بباب وقصد به نظم صور متشابهة أن تسمى ضابطا. وإن شئت قل: ما عم صورا، فإن كان المقصود من ذكره القدر المشترك الذي به اشتركت الصور في الحكم فهو مدرك، وإلا فإن كان القصد ضبط تلك الصور بنوع من أنواع الضبط من غير نظر في مأخذها فهو الضابط؛ وإلا فهو القاعدة.

فإن قلت: فخرج عن القاعدة نحو قول الغزالي "رحمه الله" في الوسيط: "قاعدة لو تحرم بالصلاة في وقت الكراهة ففي الانعقاد وجهان"، فقد أطلق القاعدة على فرع منصوص قلت: إنما أطلقها عليه لما تضمنته من المآخذ المقتضي للكراهة لأن فعل الشيء في الوقت المنهي عنه هل ينافي حصوله؟ فلما رجع الفرع إلى أصل هو قاعدة كلية حسن إطلاق لفظ القاعدة عليه. وذلك نظير قوله أيضا: قواعد ثلاث: الأولى، التطوعات التي لا سبب لها، لا حصر لركعاتها.

--------------------------------------------

1 وقيل حكم كلي ينطبق على جميع جزئياته؛ ليتعرف به أحكام الجزئيات، وقيل: القاعدة حكم أغلبي ينطبق على معظم جزئياته، وقيل: غير ذلك، انظر تقدمتنا على الاعتناء في الفرق والاستثناء.
শরীয়তের পথে চলা ব্যক্তির জন্য উচিত হলো মূলনীতিসমূহের (উসুল) পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জনকে তার সবচেয়ে প্রিয় লক্ষ্যবস্তু বানানো এবং ফিকহী মাসআলাগুলোকে সেই মূলনীতিগুলোর আলোকে এমনভাবে বর্ণনা করা, যেমনটা কেউ সেই মাসআলাগুলো উপস্থাপনের মাধ্যমে মূলনীতিগুলোকে পরিশীলিত করার চেষ্টা করে। মূলনীতিগুলোর প্রতি অমনোযোগী হয়ে কেবল নিত্যনতুন ঘটনার বিন্যাস সাধনে তিনি তার মেধার অপচয় করবেন না, অথচ তিনি জানেন যে এসব ঘটনা অগণিত। - সমাপ্ত।

যদি দুটি বিষয় পরস্পর বিরোধী হয় এবং ইলম অন্বেষীর সময়ের স্বল্পতার কারণে—সময়ের সংকীর্ণতা বা কালের অন্য কোনো বিপর্যয়ের দরুন—উভয়টিকে সমন্বয় করা সম্ভব না হয়, তবে সঠিক মেধার অধিকারীদের জন্য সমীচীন হলো কেবল নীতিমালা (কাওয়াইদ) মুখস্থ করা এবং সেগুলোর উৎসসমূহ (মা'আখিজ) বোঝার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা।

যখন এটি জানা গেল, তখন কায়েদা হলো: এমন একটি সামগ্রিক বিষয় যা অনেকগুলো আংশিক বিষয়ের (জুযইয়্যাত) ওপর প্রযোজ্য হয় এবং যা থেকে সেগুলোর বিধান উপলব্ধি করা যায়।১"

সেগুলোর মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যা কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সাথে খাস বা বিশেষায়িত নয়, যেমন আমাদের কথা: "নিশ্চিত বিষয় সন্দেহের দ্বারা দূর হয় না।" আবার কিছু আছে যা নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সাথে বিশেষায়িত, যেমন আমাদের কথা: "প্রত্যেক কাফফারা যার কারণ হলো গুনাহ, তা অবিলম্বে আদায় করতে হবে।" যা কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সাথে বিশেষায়িত এবং যার দ্বারা সদৃশ চিত্রগুলোকে সুশৃঙ্খল করা উদ্দেশ্য হয়, তাকে সাধারণত 'দাবিত' (নিয়ন্ত্রক নীতি) বলা হয়। আপনি চাইলে বলতে পারেন: যা অনেকগুলো চিত্রকে শামিল করে; যদি সেটি উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হয় এমন একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে চিত্রগুলো একটি বিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তবে সেটি হলো 'মুদরেক' (উৎস)। অন্যথায়, যদি উদ্দেশ্য হয় সেগুলোর উৎসের প্রতি লক্ষ্য না রেখে কোনো এক প্রকার শৃঙ্খলার মাধ্যমে সেই চিত্রগুলোকে সীমাবদ্ধ করা, তবে সেটি হলো 'দাবিত'; নতুবা সেটিই হলো 'কায়েদা'।

যদি আপনি বলেন: ইমাম গাযালী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) 'আল-ওয়াসিত' গ্রন্থে যা বলেছেন তা তো 'কায়েদা'র সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়, যেমন: "একটি কায়েদা হলো: যদি কেউ মাকরূহ সময়ে সালাত শুরু করে, তবে তা সংঘটিত হওয়া সম্পর্কে দুটি মত রয়েছে।" এখানে তিনি একটি সুস্পষ্ট শাখা মাসআলার ওপর 'কায়েদা' শব্দটি প্রয়োগ করেছেন। আমি বলব: তিনি এর ওপর এটি প্রয়োগ করেছেন কেবল এই কারণে যে, এতে এমন কিছু উৎস (মা'খাজ) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা মাকরূহ হওয়ার দাবি রাখে; কেননা নিষিদ্ধ সময়ে কোনো কাজ করা কি তার সংঘটিত হওয়াকে নাকচ করে দেয়? সুতরাং যখন শাখা মাসআলাটি এমন একটি মূলের দিকে ফিরে যায় যা একটি সামগ্রিক কায়েদা, তখন তার ওপর কায়েদা শব্দের প্রয়োগ যথাযথ হয়েছে। এটি তাঁর অন্য একটি উক্তির মতোই, যেখানে তিনি বলেছেন: তিনটি কায়েদা: প্রথমটি হলো, যেসব নফল সালাতের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ নেই, সেগুলোর রাকাত সংখ্যার কোনো সীমা নেই।

--------------------------------------------

১ এবং বলা হয়েছে, এটি এমন একটি সামগ্রিক বিধান যা তার সমস্ত আংশিক বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়; যাতে এর মাধ্যমে আংশিক বিষয়গুলোর বিধান চেনা যায়। আবার বলা হয়েছে: কায়েদা হলো এমন একটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান যা তার অধিকাংশ আংশিক বিষয়ের ওপর কার্যকর হয়। এছাড়াও আরও অনেক কথা বলা হয়েছে; 'আল-ইতি'না ফিল ফারকি ওয়াল ইসতিসনা' গ্রন্থের আমাদের ভূমিকাটি দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১২)
وقال في الوجيز: "قاعدة: ينكشف حال الخنثى بثلاث طرق". وقال: وتبعه الرافعي وغيره فيما إذا وهبت المرأة الزوج صداقها.

قاعدة في ألفاظ التبرع. وقاعدة في أن الولي هل له العفو عن الصداق؟

وأمثلة هذا كثيرة فاعتبر مما تراه بما أريناك.

اعلم أن القاضي الحسين1 ذكر أن مبنى الفقه على أربع قواعد: اليقين لا يزال بالشك، والضرر يزال، والعادة محكمة والمشقة تجلب التيسير. وزعم من يدعي التحقيق أنه أهمل خامسة وهي أن الأمور بمقاصدها2. وقال: بني الإسلام على خمس والفقه على خمس.

والتحقيق عندي أنه إن أريد رجوع الفقه إلى الخمس تعسف وتكلف وقول جملي فالخامسة داخلة في الأولى. وفي الثانية أيضا. بل رجع شيخ الإسلام عز الدين بن عبد السلام الفقه كله إلى اعتبار المصالح ودرء المفاسد ولو ضايقه مضايق لقال: ارجع الكل إلى اعتبار المصالح فإن درء المفاسد من جملتها.

ويقول –على هذا- واحدة من هذه الجنس كافية، والأشبه أنها الثانية وإن أريد الرجوع بوضوح فإنها تربو على الخمسين بل على المائتين، أنا ذاكر إن شاء الله في هذا الكتاب ما يحضرني منها، منبه على مثال ما يغمض فهمه مستكثر من ذكر الجزئيات، مشير إلى ما حفظ من المستثنيات، مستعين بالله ومتوكل عليه وإياه أسأل النفع به والمن بنجازه وبخاتمة خير في عافية بلا محنة وبالاجتماع في دار كرامته بخير خليفته محمد صلى الله عليه وسلم من غير ضراء مضرة ولا فتنة مضلة.

--------------------------------------------

1 الحسين بن محمد بن أحمد بن القاضي أبو علي المروذي صاحب التعليقة المشهورة في المذاهب، أخذ الفقه عن القفال، قال عبد الغافر: كان فقيه خراسان وكان عصره تأريخا بها وصنف في الفقه، والأصول والخلاف.

توفي في المحرم سنة اثنتين وستين وأربعمائة.

ابن السبكي 3/ 155، طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 1/ 244 تهذيب الأسماء واللغات 1/ 164، وفيات الأعيان 1/ 400.

2 قاله القاضي أبو سعيد "الأشباه والنظائر للسيوطي".
'আল-ওয়াজিজ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "নীতিমালা: হিজড়ার অবস্থা তিনটি পদ্ধতিতে স্পষ্ট হয়।" তিনি আরও বলেছেন: আর যখন স্ত্রী তার স্বামীকে মোহরানা দান করে দেয়, তখন ইমাম রাফেয়ী এবং অন্যান্যরা তাকে অনুসরণ করেছেন।

দান-সংক্রান্ত শব্দাবলীর নীতিমালা। এবং অভিভাবকের কি মোহরানা মওকুফ করার অধিকার আছে?—এ সংক্রান্ত নীতিমালা।

এর উদাহরণ অনেক, সুতরাং আমি আপনাকে যা দেখিয়েছি তার আলোকে আপনি যা দেখছেন তা বিচার করুন।

জেনে রাখুন যে, কাজী হুসাইন১ উল্লেখ করেছেন যে ফিকহের ভিত্তি চারটি মূলনীতির ওপর: নিশ্চয়তা সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না, ক্ষয়ক্ষতি দূর করতে হবে, প্রথা বা রীতিনীতি বিচার্য বিষয় হিসেবে গণ্য হবে এবং কষ্ট সহজতা আনয়ন করে। যারা গবেষণার দাবি করেন তারা মনে করেন যে, তিনি পঞ্চম একটি নীতি বাদ দিয়েছেন, আর তা হলো: কার্যাবলী তার উদ্দেশ্য বা নিয়তের ওপর নির্ভরশীল২। তিনি বলেছেন: ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর এবং ফিকহ পাঁচটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

আমার নিকট সঠিক বিশ্লেষণ হলো, যদি ফিকহকে এই পাঁচটির দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য হয় তবে তা হবে কষ্টকল্পিত ও কৃত্রিম এবং এটি একটি ভাসাভাসা কথা; কারণ পঞ্চম নীতিটি প্রথমটির অন্তর্ভুক্ত। এমনকি দ্বিতীয়টিরও অন্তর্ভুক্ত। বরং শায়খুল ইসলাম ইজ্জুদ্দীন বিন আব্দুস সালাম সমগ্র ফিকহকে জনকল্যাণ বিবেচনা এবং অনিষ্ট প্রতিরোধের দিকে ফিরিয়ে নিয়েছেন। আর যদি কোনো সংকীর্ণমনা ব্যক্তি তাকে চাপ দিত, তবে তিনি বলতেন: পুরো ফিকহকেই কেবল জনকল্যাণ বিবেচনার দিকে ফিরিয়ে নাও, কারণ অনিষ্ট প্রতিরোধও জনকল্যাণেরই অন্তর্ভুক্ত।

এই মতানুসারে তিনি বলেন—এই জাতীয় একটি নীতিই যথেষ্ট এবং অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ হলো সেটি দ্বিতীয়টি (ক্ষতি দূর করা)। আর যদি স্পষ্টভাবে মূলনীতির দিকে ফেরার ইচ্ছা করা হয়, তবে তা পঞ্চাশ এমনকি দুইশরও বেশি হবে। আমি ইনশাআল্লাহ এই গ্রন্থে এগুলোর মধ্য থেকে যা আমার স্মরণে আসবে তা উল্লেখ করব, যা বোঝা কঠিন সেগুলোর উদাহরণের মাধ্যমে সতর্ক করব, অধিক হারে শাখা-প্রশাখা বা খুঁটিনাটি মাসয়ালা উল্লেখ করব, সংরক্ষিত ব্যতিক্রমী বিষয়গুলোর দিকে ইঙ্গিত করব। আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর ওপরই ভরসা করছি। তাঁর কাছেই আমি এর দ্বারা উপকারিতা এবং এটি সম্পন্ন করার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। সেই সাথে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সুস্থতার সাথে কল্যাণের পথে পরিসমাপ্তি এবং তাঁর সর্বোত্তম প্রতিনিধি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তাঁর সম্মান ও মর্যাদার আবাসে একত্রিত হওয়ার প্রার্থনা করছি; কোনো ক্ষতিকারক কষ্ট এবং পথভ্রষ্টকারী ফিতনা ছাড়াই।

--------------------------------------------

১. হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-কাজী আবু আলী আল-মারওয়াযী, মাযহাবে বিখ্যাত 'তালিকাহ' গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি আল-কাফফাল থেকে ফিকহ শিক্ষা করেছেন। আব্দুল গাফির বলেছেন: তিনি ছিলেন খুরাসানের ফকিহ এবং তার যুগটি সেখানে ইতিহাসের মাইলফলক হয়ে আছে। তিনি ফিকহ, উসুল এবং তুলনামূলক আইনশাস্ত্রে (খিলাফ) গ্রন্থ রচনা করেছেন।

তিনি ৪৬২ হিজরীর মহররম মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনে সুবকী ৩/১৫৫, ইবনে কাযী শুহবাহ এর তবাকাতুশ শাফিয়্যাহ ১/২৪৪, তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত ১/১৬৪, ওয়াফায়াতুল আইয়ান ১/৪০০।

২. এটি কাজী আবু সাঈদ বলেছেন "সুয়ুতির আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর" গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌القواعد الخمس:

وليقع الابتداء بالقواعد الخمس التي أشرنا إليها هنا ثم نعقبها بما نورده واحدة بعد واحدة.

‌‌القاعدة الأولى: اليقين لا يرفع بالشك

اليقين لا يرفع بالشك 1 ولا يخفي أنه لا شك 2 مع اليقين ولكن المراد استصحاب الأصل المتيقن لا يزيله شك طارئ عليه. فقل إن شئت: الأصل بقاء ما كان على ما كان، أو: الاستصحاب حجة. ومن ثم كان القول قول نافي الوطء غالبا 3. ولم يكن على المانع 4 في المناظرة دليل.

--------------------------------------------

1 والأصل فيها قوله صلى الله عليه وسلم: "إذا وجد أحدكم في بطنه شيئا فأشكل عليه، أخرج فيه شيء أم لا؟ فلا يخرجن من المسجد حتى يسمع صوتا أو يجد ريحا" رواه مسلم من حديث أبي هريرة وأصله في الصحيحين عن عبد الله بن زيد قال: شكي إلى النبي صلى الله عليه وسلم الرجل يخيل إليه أنه يجد الشيء في الصلاة قال: "لا ينصرف حتى يسمع صوتا أو يجد ريحا"، وفي الباب عن أبي سعيد الخدري وابن عباس وروى مسلم عن أبي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا شك أحدكم في صلاته فلم يدر كم صلى أثلاثا أو أربعا؟ فليطرح الشك ولبين ما استيقن"، وروى الترمذي عن عبد الرحمن بن عوف قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إذا سها أحدكم في صلاته فلم يدر: واحدة صلى أو اثنتين؟ فليبن على واحدة، فإن لم يتيقن: صلى اثنتين أم ثلاثا؟ فليبن على اثنتين، فإن لم يدر: أثلاثا صلى أم أربعا؟ فليبن على ثلاث وليسجد سجدتين قبل أن يسلم".

اعلم أن هذه القاعدة تدخل في جميع أبواب الفقه والمسائل المخرجة عليها تبلغ ثلاثة أرباع الفقه وأكثر.

2 والمراد بالشك لغةً: مطلق التردد. وفي اصطلاح الأصوليين تساوي الطرفين فإن رجح كان ظنا والمرجوح وهما وأما عند الفقهاء فزعم النووي أنه كاللغة في سائر الأبواب لا فرق بين المساوي والراجح وهذا إنما قالوه في الأحداث وقد فرقوا في مواضع كثيرة بينهما.

منها: في باب الإيلاء لو قيد بمستبعد الحصول في أربعة أشهر كنزول عيسى صلى الله عليه وسلم فحول وإن ظن حصوله قبلها فليس بحول قطعا وإن شك فوجهان أصحهما كذلك.

ومنها: ما سبق في الحياة المستقرة شك في المذبوح هل فيه حياة بعد الذبح حرم للشك في المبيح وإن غلب على ظنه بقاؤها حلت.

ومنها: في باب القضاء بالعلم لم يجعلوا للتساوي أثرا أو اعتبروا الظن المؤكد وكذلك في الصيد إذا توارد عليه اثنان في بعض صورة.

ومنها: في الأكل من مال الغير إذا غلب على ظنه الرضا جاز وإن شك فلا ومثله وجوب ركوب البحر في الحج إن غلبت السلامة وإن شك فلا ومثله في المرض والمخوف إذا غلب على ظنه كونه مخوفا نفد التصرف من الثلث وإن شككنا في كونه مخوفا لم ينفذ إلا بقول أهل الخبرة.

ومنها: قالوا في كتاب الطلاق أنه لا يقع بالشك فأرادوا به الطرف المرجوح ولهذا قال الرافعي في باب الاعتكاف: قولهم: لا يقع الطلاق بالشك مسلم ولكنه يقع بالظن الغالب المنثور 2/ 255.

3 الأشباه والنظائر للسيوطي ص 57.

4 والممانعة امتناع السائل عن قبول ما أوجبه المعلل من غير دليل.
‌‌পাঁচটি মূলনীতি:

এখানে আমরা ইতিপূর্বে যে পাঁচটি মূলনীতির প্রতি ইশারা করেছি, সেগুলো দিয়েই আলোচনা শুরু করা হচ্ছে। এরপর আমরা ধারাবাহিকভাবে একটির পর একটি বিষয় উল্লেখ করব।

‌‌প্রথম মূলনীতি: নিশ্চিত বিশ্বাস সংশয়ের কারণে দূর হয় না

নিশ্চিত বিশ্বাস সংশয়ের কারণে দূরীভূত হয় না ১। এটি অস্পষ্ট নয় যে, নিশ্চিত বিশ্বাসের সাথে কোনো সংশয় থাকে না ২; কিন্তু এর উদ্দেশ্য হলো—সুনিশ্চিত মূল অবস্থার ওপর বহাল থাকা, যা পরবর্তীতে উদ্ভূত কোনো সংশয়ের কারণে বিলুপ্ত হবে না। অতএব আপনি চাইলে বলতে পারেন: "মূল বিধান হলো কোনো বিষয় পূর্বে যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায়ই বহাল থাকা", অথবা: "পূর্বাবস্থার ধারাবাহিকতা (ইস্তিসহাব) একটি দলিল।" আর এ কারণেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে সহবাস অস্বীকারকারীর বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হয় ৩। এবং বিতর্কের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের ৪ (নিষেধকারীর) ওপর কোনো দলিলের আবশ্যকতা থাকে না।

--------------------------------------------

১ এর মূল ভিত্তি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমাদের কেউ যখন তার পেটে কিছু অনুভব করে এবং তার জন্য অস্পষ্ট হয়ে যায় যে কিছু বের হয়েছে কি না, তবে সে যেন মসজিদ থেকে বের না হয় যতক্ষণ না সে কোনো শব্দ শোনে অথবা কোনো গন্ধ পায়।" এটি মুসলিম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। এর মূল উৎস সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে অভিযোগ করা হলো যার কাছে মনে হয় যে সে সালাতের মধ্যে কিছু অনুভব করছে। তিনি বললেন: "সে যেন সালাত ছেড়ে না যায় যতক্ষণ না কোনো শব্দ শোনে অথবা কোনো গন্ধ পায়।" এই অধ্যায়ে আবু সাঈদ খুদরী এবং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম মুসলিম আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন তার সালাতে সন্দেহ করে এবং বুঝতে না পারে যে সে কত রাকাত সালাত আদায় করেছে—তিন রাকাত নাকি চার রাকাত? তবে সে যেন সন্দেহ বর্জন করে এবং যা নিশ্চিত তার ওপর ভিত্তি করে।" ইমাম তিরমিজী আব্দুর রহমান বিন আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তোমাদের কেউ যখন তার সালাতে ভুল করে এবং বুঝতে না পারে যে সে এক রাকাত সালাত আদায় করেছে না দুই রাকাত? তবে সে যেন এক রাকাতের ওপর ভিত্তি করে। আর যদি নিশ্চিত না হতে পারে যে দুই রাকাত পড়েছে নাকি তিন রাকাত, তবে যেন দুই রাকাতের ওপর ভিত্তি করে। আর যদি না জানে তিন রাকাত পড়েছে নাকি চার রাকাত, তবে যেন তিন রাকাতের ওপর ভিত্তি করে এবং সালাম ফেরানোর আগে দু’টি সিজদা করে।"

জেনে রাখুন যে, এই মূলনীতিটি ফিকহ শাস্ত্রের সকল অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এর ওপর ভিত্তি করে উদ্ভূত মাসআলাগুলো সমগ্র ফিকহ শাস্ত্রের তিন-চতুর্থাংশ বা তারও বেশি।

২ আভিধানিক অর্থে ‘সংশয়’ (শাক) বলতে বোঝায়: নিরঙ্কুশ দ্বিধাদ্বন্দ্ব। উসুলশাস্ত্রবিদদের পরিভাষায় এর অর্থ হলো: দুটি পক্ষের সমান হওয়া। যদি একটি পক্ষ প্রবল হয় তবে তাকে ‘ধারণা’ (যান্ন) বলা হয় এবং অপ্রবল পক্ষটিকে ‘ভ্রম’ (ওয়াহম) বলা হয়। আর ফকিহদের মতে, ইমাম নববী রহ. দাবি করেছেন যে, এটি অন্যান্য সকল অধ্যায়ে আভিধানিক অর্থের মতোই, যেখানে সমান ও প্রবলের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। এটি তারা মূলত হাদাছ (অজু ভঙ্গের অবস্থা) এর ক্ষেত্রে বলেছেন, তবে অনেক স্থানে তারা উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন।

তার মধ্যে একটি হলো: ‘ইলা’ (স্ত্রীর নিকট না যাওয়ার শপথ) অধ্যায়ে; যদি চার মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া অসম্ভব এমন কোনো বিষয়ের সাথে একে শর্তযুক্ত করা হয়, যেমন—ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণ, তবে তা ‘ইলা’ হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি এর আগেই তা সম্পন্ন হওয়ার ধারণা করা হয়, তবে তা নিশ্চিতভাবেই ‘ইলা’ হবে না। কিন্তু যদি এ ব্যাপারে সংশয় থাকে তবে এতে দুটি অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে অধিক বিশুদ্ধটি হলো এটিও ‘ইলা’ হবে না।

আরেকটি উদাহরণ: যা ইতিপূর্বে ‘স্থির জীবন’ প্রসঙ্গে আলোচিত হয়েছে; যবেহকৃত পশুর ব্যাপারে যদি সংশয় জাগে যে যবেহ করার পর তাতে প্রাণ ছিল কি না, তবে বৈধকারী বিষয়ের ক্ষেত্রে সংশয় থাকার কারণে তা হারাম হবে। কিন্তু যদি প্রবল ধারণা থাকে যে তাতে প্রাণ ছিল, তবে তা হালাল হবে।

আরেকটি উদাহরণ: জ্ঞানের ভিত্তিতে বিচারকার্য পরিচালনার অধ্যায়ে; সেখানে তারা সমান অবস্থাকে কোনো প্রভাব বিস্তারকারী গণ্য করেননি অথবা সুনিশ্চিত ধারণাকে বিবেচনায় নিয়েছেন। শিকারের ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিধান প্রযোজ্য যখন কিছু সুরতে শিকারের ওপর দুই ব্যক্তির অধিকার একই সাথে বর্তায়।

আরেকটি উদাহরণ: অন্যের সম্পদ থেকে খাওয়ার ক্ষেত্রে; যদি মালিকের সন্তুষ্টির ব্যাপারে প্রবল ধারণা থাকে তবে তা বৈধ, আর যদি সংশয় থাকে তবে তা বৈধ নয়। হজ পালনের উদ্দেশ্যে সমুদ্রযাত্রার আবশ্যকতাও অনুরূপ; যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার প্রবল ধারণা থাকে তবে তা আবশ্যক, আর যদি সংশয় থাকে তবে নয়। অসুস্থতা এবং ভীতিকর পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও অনুরূপ; যদি তা ভীতিকর হওয়ার প্রবল ধারণা থাকে তবে সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে অছিয়ত কার্যকর হবে, আর যদি তা ভীতিকর কি না সে বিষয়ে আমাদের সংশয় থাকে তবে বিশেষজ্ঞের মত ছাড়া তা কার্যকর হবে না।

আরেকটি উদাহরণ: তালাক অধ্যায়ে তারা বলেছেন যে, সংশয়ের মাধ্যমে তালাক পতিত হয় না। এখানে তারা সংশয় বলতে অপ্রবল পক্ষটিকে বুঝিয়েছেন। এই কারণেই ইমাম রাফেয়ী রহ. ‘ইতিকাফ’ অধ্যায়ে বলেছেন: তাদের এই কথা যে ‘সংশয়ের মাধ্যমে তালাক পতিত হয় না’ তা স্বীকৃত, কিন্তু প্রবল ধারণার ভিত্তিতে তা পতিত হয়। আল-মানসুর ২/২৫৫।

৩ আস-সুয়ূতী রচিত আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির, পৃষ্ঠা ৫৭।

৪ ‘মুমানাআহ’ (প্রতিবন্ধকতা) হলো কোনো দলিল ছাড়াই মুয়াল্লিলের (যুক্তি প্রদানকারী) উপস্থাপিত আবশ্যিক বিষয়কে প্রশ্নকারীর মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানো।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১৪)
فإن عارض الأصل ظاهر1 فقيل: قولان دائما. وقيل غالبا. وقيل أصحهما اعتماد الأصل دائما. وقيل غالبا والتحقيق الأخذ بأقوى الظنين ومن ثم فصول.

فصل:

يرجح الأصل جزما إن عارضه احتمال مجرد، وذلك في مسائل منها:

احتمال حدث من تيقن الطهر بمجرد مضي الزمان2.

ومنها: من أحرم بالعمرة ثم بالحج وشكَّ، هل كان أحرم بالحج قبل طواف العمرة، فيكون صحيحا، أو بعده فيكون باطلا فإنه يحكم بصحته3. قال الماوردي4: لأن الأصل جواز الإحرام بالحج حتى يتيقن أنه كان بعده5. قال6: وهو كمن تزوج وأحرم ولم يدر هل أحرم قبل تزوجه أو بعده.

قال الشافعي رضي الله عنه: يصح تزوجه.

قلت ونقله ابن القطان7 في فروعه عن النص أيضا فيمن وكل رجلا في الزواج

--------------------------------------------

1 ويعبر الأصحاب تارة بالأصل والظاهر وتارة بالأصل والغالب وفهم بعضهم التغاير وأن المراد بالغالب ما يغلب على الظن من غير مشاهدة.

2 المنثور للزركشي 1/ 313، الأشباه والنظائر للسيوطي ص64.

3 الأشباه والنظائر ص52.

4 علي بن محمد بن حبيب القاضي أبو الحسن الماوردي البصري أحد أئمة أصحاب الوجوه قال الخطيب: كان ثقة من وجوه الفقهاء الشافعيين وله تصانيف عدة في أصول الفقه وفروعه وفي غير ذلك. قال ابن خيرون: كان رجلًا عظيمَ القدر متقدما عند السلطان. أحد الأئمة له التصانيف الحسان في كل فن من العلم توفي ربيع الأول سنة وخمسين وأربعمائة.

ابن السبكي 3/ 303، ابن قاضي شهبة 2/ 230، شذرات الذهب 3/ 285، مرآة الجنان 3/ 72.

5 الأشباه والنظائر للسيوطي ص52.

6 الأشباه والنظائر ص52، المنثور للزركشي 2/ 261.

7 أحمد بن محمد بن أحمد أبو الحسن ابن القطان البغدادي آخر أصحاب ابن سريج وفاة. درس ببغداد وأخذ عنه العلماء، وقال الخطيب البغدادي: وهو من كبراء الشافعيين وله مصنفات في أصول الفقه وفروعه. مات في جمادى الأولى سنة تسع وخمسين وثلاثمائة. طبقات الفقهاء للشيرازي ص92، طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 1/ 124، وابن هداية الله ص27، وشذرات الذهب 3/ 28، وفيات الأعيان 1/ 53.
যদি মূল অবস্থার (আসল) সাথে কোনো প্রকাশ্য বিষয় (জাহির) ১ বিরোধপূর্ণ হয়, তবে বলা হয়েছে: সর্বদা দুটি অভিমত। আবার বলা হয়েছে: অধিকাংশ ক্ষেত্রে। আরও বলা হয়েছে: তাদের মধ্যে অধিকতর সঠিক হলো সর্বদা মূল অবস্থার ওপর নির্ভর করা। আবার বলা হয়েছে: অধিকাংশ ক্ষেত্রে। আর গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত হলো দুটি ধারণার মধ্যে যেটি শক্তিশালী সেটি গ্রহণ করা, এবং সেখান থেকেই পরিচ্ছেদগুলো বিন্যস্ত হয়েছে।

পরিচ্ছেদ:

যদি মূল অবস্থার বিপরীতে নিছক কোনো সম্ভাবনা দেখা দেয়, তবে মূল অবস্থাকেই নিশ্চিতভাবে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এটি বেশ কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যার মধ্যে রয়েছে:

কেবল সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে পবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে অপবিত্রতার (হাদাস) সম্ভাবনা। ২

তার মধ্যে আরও রয়েছে: যে ব্যক্তি ওমরাহর ইহরাম বাঁধার পর হজের ইহরাম বেঁধেছে এবং সন্দেহ পোষণ করেছে যে, সে কি ওমরাহর তাওয়াফের আগে হজের ইহরাম বেঁধেছিল (যাতে তা সঠিক হয়), নাকি তাওয়াফের পরে (যাতে তা বাতিল হয়); এক্ষেত্রে তার ইহরাম সঠিক হওয়ার ফয়সালা দেওয়া হবে। ৩ মাওয়ারদী ৪ বলেন: কারণ মূল অবস্থা হলো হজের ইহরামের বৈধতা, যতক্ষণ না এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে তা তাওয়াফের পরে ছিল। ৫ তিনি বলেন ৬: এটি সেই ব্যক্তির মতো যে বিবাহ করেছে এবং ইহরাম বেঁধেছে, কিন্তু জানে না সে কি বিবাহের আগে ইহরাম বেঁধেছিল না পরে।

ইমাম শাফিঈ (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেন: তার বিবাহ সঠিক হবে।

আমি বলছি, ইবনুল কাত্তান ৭ তার ‘ফুরু’ গ্রন্থে এমন ব্যক্তির ব্যাপারেও মূল পাঠ (নস) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন যে বিবাহের জন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রতিনিধি (উকিল) নিযুক্ত করেছে

--------------------------------------------

১ আসহাবগণ (সাথীরা) কখনও ‘আসল’ ও ‘জাহির’ শব্দ দ্বারা প্রকাশ করেন, আবার কখনও ‘আসল’ ও ‘গালিব’ দ্বারা। তাদের কেউ কেউ এর মধ্যে পার্থক্যের কথা বুঝেছেন এবং বলেছেন যে, ‘গালিব’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা পর্যবেক্ষণ ছাড়াই প্রবল ধারণার সৃষ্টি করে।

২ যারকাশী কৃত আল-মানসূর ১/৩১৩, সুয়ূতী কৃত আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর পৃষ্ঠা ৬৪।

৩ আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর পৃষ্ঠা ৫২।

৪ আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাবীব আল-কাজী আবুল হাসান আল-মাওয়ারদী আল-বাসরী, তিনি আসহাবুল উজুহ-এর অন্যতম ইমাম। আল-খাতীব বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য এবং শাফিঈ ফকীহদের মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিলেন এবং উসূলে ফিকহ, ফুরু এবং অন্যান্য বিষয়ে তার বহু রচনা রয়েছে। ইবনে খাইরুন বলেন: তিনি অত্যন্ত মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন এবং সুলতানের নিকট অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি অন্যতম ইমাম, প্রতিটি শাস্ত্রে তার চমৎকার সব রচনা রয়েছে। তিনি ৪৫০ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনে সুবকী ৩/৩০৩, ইবনে কাজী শুহবা ২/২৩০, শাযারাতুয যাহাব ৩/২৮৫, মিরআতুল জানান ৩/৭২।

৫ সুয়ূতী কৃত আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর পৃষ্ঠা ৫২।

৬ আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর পৃষ্ঠা ৫২, যারকাশী কৃত আল-মানসূর ২/২৬১।

৭ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান আল-বাগদাদী, ইবনে সুরাইজ-এর সাথীদের মধ্যে তিনি সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী। তিনি বাগদাদে দরস দিয়েছেন এবং উলামায়ে কেরাম তার নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। আল-খাতীব আল-বাগদাদী বলেন: তিনি শাফিঈদের বড়দের অন্তর্ভুক্ত এবং উসূলে ফিকহ ও ফুরুতে তার বহু রচনা রয়েছে। তিনি ৩৫৯ হিজরীর জুমাদাল উলা মাসে মারা যান। শিরাজী কৃত তাবাকাতুল ফুকাহা পৃষ্ঠা ৯২, ইবনে কাজী শুহবা কৃত তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ ১/১২৪, ইবনে হিদায়াতুল্লাহ পৃষ্ঠা ২৭, শাযারাতুয যাহাব ৩/২৮, ওফায়াতুল আইয়ান ১/৫৩।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১৫)
ثم لم يدر أكان أوقع عقد النكاح بعدما أحرم أو قبله. قال: نص الشافعي أنه صحيح وذكر ابن القاص1 في تلخيصه: أنه لا يزال اليقين بالشك في الطهارة إلا في مسألة واحدة. وهو أن يقول: توضأت وأحدثت ولا أدري أيهما قدمت.

فيقال له: قدم وهمك على الأمرين فإن كنت محدثا قبلهما فأنت الآن متطهر، وإن كنت متطهرا فأنت الآن محدث2.

قال الروياني3 في البحر: وهذا في الحقيقة بناء على اليقين أيضا لا على الشك، لأنه أخذ بيقين ما قبل الأمرين قال: وهو كما لو أقام رجل البينة بأن فلانا استوفى منه جميع حقه. ثم أقام المشهود عليه بينة بأن المشهود له أقر له بألف؛ فإنه لا يتثبت لجواز أن يكون ذلك قبل الاستيفاء، وفي المسألة وجه آخر أنه يعمل بما قبل الأمرين، فإن كان طاهرا فطاهر، أو محدثا فمحدث. ومنهم من أوجب الوضوء احتياطا.

قلت: والأوجُهُ مشهورة في المذاهب.

قال النووي4: والثالث هو الصحيح عند جماعات من محققي أصحابنا5.

--------------------------------------------

1 أحمد بن أبي أحمد الطبري أبو العباس ابن القاص أحد أئمة المذهب أخذ الفقه عن ابن سريج وتفقه عليه أهل طبرستان وقال الشيخ أبو إسحاق كان من أئمة أصحابنا صنف التصانيف الكثيرة توفي رحمه الله في طرسوس سنة خمس وثلاثين وثلاثمائة.

ابن قاضي شهبة 1/ 106، الشيرازي ص91، وفيات الأعيان 1/ 51، طبقات الشافعية لابن السبكي 2/ 103، البداية والنهاية 11/ 219.

2 الأشباه والنظائر للسيوطي ص52.

3 عبد الواحد بن إسماعيل بن أحمد بن محمد بن أحمد قاضي القضاة فخر الإسلام أبو المحاسن الروياني الطبري صاحب البحر وغيره، وكانت له الوجاهة والرئاسة والقبول التام عند الملوك فمن دونها، أخذ عن والده وجده، وُلد رحمه الله في ذي الحجة سنة خمس عشرة وأربعمائة واستشهد بجامع آمل عند ارتفاع النهار بعد فراغه من الإملاء يوم الجمعة حادي عشر المحرم وقيل اثنتين وقيل سنة إحدى وخمسمائة قتله الباطنية لعنهم الله تعالى.

4 يحيى بن شرف بن مري بن حسن بن حسين بن محمد بن جمعة بن حزام الحافظ الفقيه الزاهد أحد أعلام الإسلام محيي الدين أبو زكريا الحزامي النووي الدمشقي، وُلد في المحرم سنة إحدى وثلاثين وستمائة وصنف المصنفات النافعة، مات رحمه الله ببلدة نوى بعدما زار القدس والخليل في رجب سنة سبع وسبعين وستمائة ودُفن بها.

ابن قاضي شهبة 2/ 153، ابن السبكي 5/ 165، البداية والنهاية 13/ 287، النجوم الزاهرة 7/ 278، شذرات الذهب 5/ 354.

5 شرح المهذب 2/ 65، الاعتناء في الفرق والاستثناء "تحقيقنا"، حلية العلماء 1/ 156.
এরপর তিনি বুঝতে পারলেন না যে তিনি ইহরাম বাঁধার পর নিকাহ সম্পন্ন করেছেন নাকি আগে। তিনি বলেন: ইমাম শাফেঈ স্পষ্ট বর্ণনা করেছেন যে এটি সহীহ। ইবনুল কাস ১ তাঁর 'তালখীস' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে: পবিত্রতার ক্ষেত্রে সন্দেহের কারণে নিশ্চয়তা দূরীভূত হয় না, কেবল একটি মাসআলা ব্যতীত। আর তা হলো যখন কেউ বলে: আমি ওযু করেছি এবং অযু ভেঙেছি, কিন্তু আমি জানি না কোনটি আগে ঘটেছে।

তখন তাকে বলা হবে: উভয় বিষয়ের মধ্যে তোমার প্রবল ধারণাকে প্রাধান্য দাও। যদি তুমি এই দুই বিষয়ের পূর্বে অপবিত্র থেকে থাকো, তবে তুমি এখন পবিত্র। আর যদি তুমি আগে পবিত্র থেকে থাকো, তবে এখন অপবিত্র ২।

আর-রুয়ানী ৩ তাঁর 'আল-বাহর' গ্রন্থে বলেন: এটি প্রকৃতপক্ষে নিশ্চয়তার ওপরই ভিত্তি করে, সন্দেহের ওপর নয়। কেননা তিনি উভয় বিষয়ের পূর্ববর্তী অবস্থার নিশ্চয়তাকে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন: এটি অনেকটা এমন যে, কোনো ব্যক্তি প্রমাণ পেশ করল যে অমুক ব্যক্তি তার কাছ থেকে তার পূর্ণ হক উসুল করে নিয়েছে। এরপর যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে সে প্রমাণ পেশ করল যে, যার অনুকূলে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে সে তার জন্য এক হাজার মুদ্রা স্বীকার করেছিল; তবে এটি সাব্যস্ত হবে না, কারণ হতে পারে যে তা হক উসুলের আগেই ছিল। এই মাসআলায় আরেকটি অভিমত হলো, উভয় ঘটনার পূর্ববর্তী অবস্থা অনুযায়ী আমল করা হবে। অর্থাৎ যদি সে তখন পবিত্র থাকে তবে সে পবিত্র, আর অপবিত্র থাকলে অপবিত্র। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সতর্কতামূলকভাবে ওযু করা ওয়াজিব বলেছেন।

আমি বলছি: মাযহাবগুলোতে এই অভিমতগুলো প্রসিদ্ধ।

আন-নববী ৪ বলেন: আমাদের একদল গবেষক সাথীদের মতে তৃতীয় অভিমতটিই সঠিক ৫।

--------------------------------------------

১. আহমাদ ইবনে আবি আহমাদ আত-তাবারী আবু আব্বাস ইবনুল কাস, মাযহাবের অন্যতম ইমাম। তিনি ইবনে সুরাইজের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং তাবারিস্থানের অধিবাসীরা তাঁর কাছে ফিকহ শিখেছেন। শেখ আবু ইসহাক বলেন, তিনি আমাদের আসহাবদের অন্যতম ইমাম ছিলেন, তিনি অনেক কিতাব রচনা করেছেন। তিনি ৩৩৫ হিজরীতে তারসুসে মৃত্যুবরণ করেন (রহিমাহুল্লাহ)।

ইবনে কাযী শুহবাহ ১/১০৬, আশ-শিরাজী পৃ. ৯১, ওফায়াতুল আইয়ান ১/৫১, সাবকির তাবাকাতুশ শাফেঈয়্যাহ ২/১০৩, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১১/২১৯।

২. সুয়ূতী রচিত আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির, পৃ. ৫২।

৩. আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ, প্রধান বিচারপতি, ফখরুল ইসলাম আবু মাহাসিন আর-রুয়ানী আত-তাবারী, আল-বাহর ও অন্যান্য কিতাবের লেখক। বাদশাহ এবং তাঁর অধস্তনদের নিকট তাঁর অনেক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তিনি তাঁর পিতা ও দাদার নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি ৪১৫ হিজরীর যিলহজ্জ মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং আমুলের জামে মসজিদে মুহাররম মাসের ১১ তারিখ (মতান্তরে ২ তারিখ) শুক্রবার ৫০১ হিজরীতে দিনের বেলায় পাঠদান শেষ করে শাহাদাতবরণ করেন। বাতেনী সম্প্রদায় তাকে হত্যা করে, তাদের ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক।

৪. ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ ইবনে মুররী ইবনে হাসান ইবনে হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জুমুআ ইবনে হিযাম, হাফেজ, ফকীহ, যাহিদ, ইসলামের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, মুহিউদ্দিন আবু যাকারিয়া আল-হিযামী আন-নববী আদ-দামেশকী। তিনি ৬৩১ হিজরীর মুহাররম মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং অনেক উপকারী কিতাব রচনা করেন। তিনি কুদস ও খলিল যিয়ারত করার পর ৬৭৬ হিজরীর রজব মাসে নওয়া নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হয় (রহিমাহুল্লাহ)।

ইবনে কাযী শুহবাহ ২/১৫৩, ইবনে সাবকী ৫/১৬৫, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/২৮৭, আন-নুজুমুয যাহেরা ७/২৭৮, শাযারাতুয যাহাব ৫/৩৫৪।

৫. শারহুল মুহাযযাব ২/৬৫, আল-ইতি না ফি আল-ফারক ওয়া আল-ইসতিসনা "তাহকীক", হিলয়াতুল উলামা ১/১৫৬।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১৬)
قال: وفي المسألة وجه رابع: أنه يعمل بغلبة الظن1.

قلت: وسيأتي عن ابن القاص ما استثناه من قاعدة اليقين لا يرفع بالشك وذاك استثناء من أصل القاعدة وهذا من خصوصها في الطهارات.

فصل

ويرجح الأصل على الأصح أن استند الاحتمال إلى سبب ضعيف وذلك في مسائل2؛ منها: ثياب مدمني الخمر3، والمقبرة المنبوشة4 وطين الشوارع5.

ومنها: دعوى المرأة الإصابة بعد الاتفاق على الخلوة.

ومنها: دعوى المديون لا في مقابلة مال الإعسار6.

ومنها: وجوب فطرة العبد الغائب المحتمل الموت.

ومنها: عدم زواج امرأة المفقود.

ومنها: تصديق الغاصب في قوله: لم يكن العبد المغصوب كاتبا.

ومنها: إذا تمعطت فأرة في بئر وطرحت، ولكن غلب على الظن أنه لا يخلو كل دلو عن شيء من النجاسة.

قال الرافعي: فجواز الاستعمال على قولي: الأصل والغالب.

ومنها: الجديد أن دم الحائل حيض؛ لأنه تردد بين كونه دم علة ودم جبلة. والأصل السلامة.

والقديم أنه دم فساد؛ لأن الظاهر أن الحامل لا تحيض.

ومنها: الأصح تصديق الغاصب إذا ادعى في المغصوب عيبا خلقيا كقوله: كان

--------------------------------------------

1 المصادر السابقة.

2 وهذه المسائل مذكورة في الأشباه والنظائر للسيوطي ص65، والمنثور للزركشي 2/ 326.

3 وكذلك آوانيهم وكذا في ظهر اختلاطه بالنجاسة وعدم احتراسه منها، مسلما كان أو كافرا كما في شرح المهذب عن الإمام.

4 والمعنى بها كما قال الإمام وغيره التي جرى النبش في أطرافها والغالب على الظن انتشار النجاسة فيها.

5 وفي جميع ذلك قولان أصحهما الحكم بالطهارة استصحابا للأصل.

6 فيه وجهان أصحهما القول قوله؛ لأن الأصل العدم، والثاني لا؛ لأن الظاهر من حال الحر أنه يملك شيئا.
তিনি বলেন: এবং এই মাসআলায় চতুর্থ একটি অভিমত হলো: প্রবল ধারণার ওপর আমল করা হবে।১

আমি বলছি: এবং ইবনুল কাস থেকে সামনে এমন কিছু আসবে যা তিনি ‘নিশ্চয়তা সংশয় দ্বারা দূর হয় না’ নামক মূলনীতি থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেটি ছিল মূল মূলনীতি থেকে ব্যতিক্রম, আর এটি পবিত্রতার অধ্যায়ে এই মূলনীতির বিশেষ প্রয়োগক্ষেত্র থেকে ব্যতিক্রম।

অনুচ্ছেদ

বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী ‘আসল’ বা মূল অবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে যখন বিপরীত সম্ভাবনাটি কোনো দুর্বল কারণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। এটি কয়েকটি মাসআলায় প্রযোজ্য;২ সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: মদপানে অভ্যস্ত ব্যক্তির পোশাক,৩ খুঁড়ে ফেলা কবরস্থান৪ এবং রাস্তার কাদা।৫

তার মধ্যে আরও রয়েছে: নির্জনে একত্র হওয়ার ব্যাপারে একমত হওয়ার পর নারীর সহবাসের দাবি।

তার মধ্যে আরও রয়েছে: সম্পদের বিনিময়ে নয় এমন ঋণের ক্ষেত্রে দেনাদারের নিঃস্ব হওয়ার দাবি।৬

তার মধ্যে আরও রয়েছে: নিখোঁজ দাসের ফিতরা ওয়াজিব হওয়া যার মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।

তার মধ্যে আরও রয়েছে: নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রীর পুনরায় বিবাহ না হওয়া।

তার মধ্যে আরও রয়েছে: জবরদখলকারীর এই উক্তিকে সত্য বলে গ্রহণ করা যে: জবরদখলকৃত দাসটি লেখক ছিল না।

তার মধ্যে আরও রয়েছে: যখন কোনো কূপে একটি ইঁদুর পচে গলে যায় এবং তা সরিয়ে ফেলা হয়, কিন্তু প্রবল ধারণা জন্মে যে প্রতিটি বালতিই কিছু না কিছু অপবিত্রতা থেকে মুক্ত নয়।

ইমাম রাফেয়ি বলেন: সুতরাং ব্যবহারের বৈধতা দুটি মতের ওপর ভিত্তি করে: মূল অবস্থা এবং প্রবল ধারণা।

তার মধ্যে আরও রয়েছে: নতুন মতানুসারে গর্ভবতী নারীর রক্তস্রাব হলো হায়য; কারণ এটি অসুস্থতাজনিত রক্ত এবং প্রকৃতিগত রক্তের মধ্যে দোদুল্যমান। আর মূল অবস্থা হলো সুস্থতা।

আর পুরাতন মতানুসারে এটি হলো দূষিত রক্ত; কারণ বাহ্যত গর্ভবতী নারীর হায়য হয় না।

তার মধ্যে আরও রয়েছে: বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী জবরদখলকারীকে সত্য বলে গ্রহণ করা যখন সে জবরদখলকৃত বস্তুর মধ্যে কোনো জন্মগত খুঁত থাকার দাবি করে, যেমন তার এই উক্তি: এটি ছিল

--------------------------------------------

১ পূর্বোক্ত উৎসসমূহ।

২ এই মাসআলাগুলো সুয়ুতির ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর’ এর ৬৫ পৃষ্ঠায় এবং যারকাশির ‘আল-মানসুর’ এর ২/৩২৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

৩ তেমনিভাবে তাদের পাত্রসমূহ এবং একইভাবে যখন সেগুলোর সাথে নাপাকি মিশ্রিত হওয়া এবং তা থেকে বেঁচে না থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়, চাই সে মুসলিম হোক বা কাফের, যেমনটি ইমামের সূত্রে ‘শারহুল মুহাযযাব’-এ এসেছে।

৪ ইমাম এবং অন্যান্যদের মতে এর অর্থ হলো যার প্রান্তগুলোতে খনন করা হয়েছে এবং প্রবল ধারণা জন্মে যে সেখানে নাপাকি ছড়িয়ে পড়েছে।

৫ এই সবগুলোর ক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে বিশুদ্ধতম হলো মূল অবস্থাকে বহাল রাখার ভিত্তিতে পবিত্রতার বিধান দেওয়া।

৬ এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে, যার মধ্যে বিশুদ্ধতম হলো তার কথাই গ্রহণ করা হবে; কারণ মূল অবস্থা হলো কোনো কিছু না থাকা। দ্বিতীয় মতটি হলো না; কারণ স্বাধীন ব্যক্তির বাহ্যিক অবস্থা থেকে বোঝা যায় যে সে কোনো কিছুর মালিক।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১৭)
أكمه1، وفي وجه المالك نظرًا إلى غلبة السلامة. وفي ثالث: يفرق بين ما تذر من العيوب وغيره.

ومنها: لو قال هذا ولدي من جاريتي هذه. عند الإمكان لحقه وهل يثبت كون الجارية أو ولد –لأن الظاهر- أولا لاحتمال أن يكون استولدها بالزوجية. فيه قولان: رجح الرافعي الثاني. قال: ولهما خروج على تقابل الأصل والظاهر.

ومنها: لو قال الراهن للمرتهن لم تقبض العين المرهونة عن الرهن، بل أعرتكها، وقال المرتهن بل عن الرهن، فالأصح أن القول قول الراهن؛ لأن الأصل عدم اللزوم وعدم الإذن في القبض.

وقيل: قول المرتهن؛ لأن الظاهر أنه قبضه عن الرهن.

قلت: وأيضا فالأصل عدم العارية.

ومنها: تنازع المتبايعان في التفرق، وجاءا متساويين، فقال أحدهما أنا لم أفارقه فلي خيار المجلس. فالقول قوله؛ لأن الأصل عدم التفرق كذا أطلق الأصحاب.

قال الرافعي2: وهو بين إن قصرت المدة. وأما إذا طالت فدوام الاجتماع خلاف

--------------------------------------------

1 أو أعرج أو فاقد اليد، فوجهان أصحهما: القول قوله، ويمكن على الأصح المالك إقامة البينة، والثاني: تصديق المالك؛ لأن الغالب السلامة.

هذا بخلاف ما لو ادعى عيبًا حادثًا. فإن الأظهر تصديق المالك؛ لأن الأصل والغالب دوام السلامة، والثاني الغاصب؛ لأن الأصل براءة الذمة، فهذه الصورة تعارض فيها أصلان، واعتضد أحدهما بظاهر "وسيأتي في تعارض الأصلين"، ونظير ذلك: ما لو جنى على طرف، وزعم نقصه؛ فإنه ادعى عيبا خلقيا في عضو ظاهر صدق الجاني في الأظهر؛ لأن الأصل العدم، وبراءة الذمة، والمالك يمكنه إقامة البينة، وإن ادعى عيبا حادثا، أو أصليا في عضو باطن، فالأظهر: تصديق المجني عليه؛ لأن الأصل السلامة.

راجع الأشباه والنظائر ص66.

2 عبد الكريم بن محمد بن عبد الكريم بن الفضل بن الحسين بن الحسن الإمام العلامة إمام الدين أبو القاسم القزويني الرافعي صاحب الشرح المشهور وإليه يرجع عامة الفقهاء من أصحابنا في هذه الأعصار في غالب الأقاليم والأمصار، قال النووي: إنه كان من الصالحين المتمكنين وكانت له كرامات كثيرة ظاهرة.

قال ابن الصلاح: توفي في أواخر سنة ثلاث أو أوائل سنة أربع وعشرين وستمائة بقزوين وقال ابن خلكان توفي في ذي القعدة سنة ثلاث وعمره نحو ست وستين.

طبقات الشافعية ابن السبكي 5/ 119، لابن قاضي شهبة 2/ 75، مرآة الجنان 4/ 56، وتهذيب الأسماء واللغات 2/ 264.
জন্মান্ধ, আর অন্য একটি মতে মালিকের কথা গ্রহণযোগ্য হবে সুস্থতার আধিক্যের কারণে। তৃতীয় একটি মতে: যেসকল খুঁত দৃশ্যমান এবং যেগুলা দৃশ্যমান নয় তার মধ্যে পার্থক্য করা হবে।

এর মধ্যে একটি হলো: যদি কেউ বলে ‘এই দাসীর গর্ভে এই সন্তানটি আমার’। যদি সম্ভব হয়, তবে সন্তান তার সাথে সংযুক্ত হবে। কিন্তু দাসীটি তার সন্তানের জননী (উম্মে ওয়ালাদ) হিসেবে সাব্যস্ত হবে কি না? কারণ প্রকাশ্য অবস্থা হলো—না; কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে সে বিবাহের মাধ্যমে তাকে গর্ভবতী করেছে। এক্ষেত্রে দুটি মত রয়েছে: ইমাম রাফেয়ি দ্বিতীয় মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি বলেন: এই দুটি মত মূলত ‘আসল’ (মূল নীতি) এবং ‘জাহির’ (প্রকাশ্য অবস্থা) এর বিরোধের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যে একটি হলো: যদি বন্ধকদাতা বন্ধকগ্রহীতাকে বলে যে, ‘তুমি বন্ধকি বস্তু বন্ধক হিসেবে কবজা করোনি, বরং আমি তোমাকে তা ধার দিয়েছিলাম’। আর বন্ধকগ্রহীতা দাবি করে, ‘না, বরং তা বন্ধক হিসেবেই নেওয়া হয়েছে’। তবে বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী বন্ধকদাতার কথা গ্রহণযোগ্য হবে; কারণ মূল নীতি হলো (চুক্তিটি) আবশ্যক না হওয়া এবং কবজা করার অনুমতির অনুপস্থিতি।

কেউ কেউ বলেছেন: বন্ধকগ্রহীতার কথা গ্রহণযোগ্য হবে; কারণ প্রকাশ্য অবস্থা হলো সে তা বন্ধক হিসেবেই কবজা করেছে।

আমি বলি: এছাড়া মূল নীতি হলো ‘ধারের’ (আরিয়াহ) অনুপস্থিতি।

এর মধ্যে একটি হলো: ক্রেতা ও বিক্রেতা যদি বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে বিবাদে জড়ায় এবং তারা সমান অবস্থায় উপস্থিত হয়—একজন যদি বলে ‘আমি বিচ্ছিন্ন হইনি, তাই আমার মজলিসের এখতিয়ার (খিয়ারুল মজলিস) বহাল আছে’, তবে তার কথাই গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ মূল নীতি হলো বিচ্ছিন্ন না হওয়া। আমাদের ইমামগণ একইভাবে এটি ব্যক্ত করেছেন।

ইমাম রাফেয়ি বলেন: এটি স্পষ্ট যদি সময় স্বল্প হয়। তবে যদি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়, তবে তখনো একত্রে থাকার দাবি করা বাস্তবতার পরিপন্থী...

--------------------------------------------

১ অথবা খোঁড়া বা হাতবিহীন হওয়া। এক্ষেত্রে দুটি মত রয়েছে, যার মধ্যে বিশুদ্ধতম হলো: তার (দাবিদারের) কথা গ্রহণযোগ্য হবে এবং বিশুদ্ধতম মতানুসারে মালিকের পক্ষে প্রমাণ পেশ করা সম্ভব। দ্বিতীয় মতটি হলো: মালিককে সত্যবাদী সাব্যস্ত করা; কারণ সাধারণত সুস্থ থাকাই স্বাভাবিক।

এটি ভিন্ন বিষয় যদি কেউ নতুন কোনো খুঁত বা দোষ সৃষ্টির দাবি করে। সেক্ষেত্রে বিশুদ্ধতম মত হলো মালিককে সত্যবাদী সাব্যস্ত করা; কারণ মূল নীতি ও সাধারণ অবস্থা হলো সুস্থতা বজায় থাকা। দ্বিতীয় মতটি হলো জবরদখলকারীর কথা গ্রহণযোগ্য হওয়া; কারণ মূল নীতি হলো দায়মুক্তি। এই সুরতটিতে দুটি মূল নীতির (আসল) মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে এবং তার মধ্যে একটি প্রকাশ্য অবস্থার মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে। (সামনে ‘দুটি মূল নীতির বিরোধ’ অধ্যায়ে এটি আসবে)। এর সদৃশ হলো: যদি কেউ কোনো অঙ্গের ক্ষতি করে এবং দাবি করে যে সেটি আগে থেকেই ত্রুটিযুক্ত ছিল। সে যদি দৃশ্যমান কোনো অঙ্গের জন্মগত ত্রুটির দাবি করে, তবে বিশুদ্ধতম মতে অপরাধীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে; কারণ মূল নীতি হলো (ক্ষতিপূরণের) অনুপস্থিতি এবং দায়মুক্তি, আর মালিকের পক্ষে প্রমাণ পেশ করা সম্ভব। কিন্তু সে যদি নতুন কোনো খুঁত বা অভ্যন্তরীণ অঙ্গের জন্মগত ত্রুটির দাবি করে, তবে বিশুদ্ধতম মতে যার ওপর অপরাধ করা হয়েছে তার কথা গ্রহণযোগ্য হবে; কারণ মূল নীতি হলো সুস্থতা।

আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর, পৃষ্ঠা ৬৬ দেখুন।

২ আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম বিন ফাদল বিন হুসাইন বিন হাসান, আল-ইমাম আল-আল্লামা ইমামুদ্দীন আবু কাসেম আল-কাজউইনি আল-রাফেয়ি। তিনি বিখ্যাত শরহের (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) রচয়িতা এবং বর্তমান যুগে অধিকাংশ অঞ্চলের আমাদের মাযহাবের ফকিহগণ তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করেন। ইমাম নববী বলেন: তিনি অত্যন্ত নেককার ও আল্লাহওয়ালা ছিলেন এবং তাঁর অনেক প্রকাশ্য কারামত ছিল।

ইবনুস সালাহ বলেন: তিনি ৬২৩ হিজরির শেষদিকে অথবা ৬২৪ হিজরির শুরুর দিকে কাজউইনে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে খাল্লিকান বলেন: তিনি ৬২৩ হিজরির জিলকদ মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৬৬ বছর।

তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ, ইবনুস সুবকি ৫/১১৯; ইবনে কাজি শুহবা ২/৭৫; মিরাতুল জানান ৪/৫৬; তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত ২/২৬৪।
(খণ্ড: ১) আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ির - আস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১৮)
الظاهر. فلا يبعد تخريجه على تعارض الأصل والظاهر وتنازع ابن الرفعة1 والشيخ الإمام2 في كلام الرافعي هذا. فابن الرفعة أيَّده وقال: بل ينبغي القطع بقبول قول من يدعي اللزوم؛ لأنه الأصل في البيع. والشيخ الإمام أفسده. وقال: بل ما أطلقه الأصحاب هو الحق؛ طالت المدة أم قصرت وهو تخريج على الأصل والظاهر؛ لأنهما لما تعارضا تساقطا، وبقي معنا حق العاقد من الفسخ، وقد تحققنا تمكنه منه فيستصحبه ولا يرفعه بالشك، ونازع ابن الرفعة في قوله أيضا أن أصل البيع اللزوم، وقال: بل الأصل الجواز ولكن وضعه على اللزوم.

وأنا أقول: تمكن العاقد من الفسخ ناشئ من عدم التفرق الذي هو الأصل المستصحب وقد عارضه ظاهر التفرق، فلا بد من جريان الخلاف، وبتقدير تسليم أن أصل البيع اللزوم، فهو معارض بعدم التفرق.

ومنها: أدخل الكلب رأسه في الإناء وأخرجه ولم يعلم ولوغه ورأينا فمه رطبا فالأصح الطهارة للأصل، والثاني: النجاسة للظاهر.

ومنها: طرح العصير في الدن وأحكم رأسه. ثم حلف أنه لم يستحل خمرًا ولم يفتح رأسه إلى مدة، ولما فتح وجده صار خلا، فوجهان حكاهما الرافعي في فروع الطلاق.

أحدهما: إن كان ظاهر الحال صيرورته خمرا وقت الحلف حنث، وإلا فلا.

والثاني: لا يحكم بالحنث. لأن الأصل عدم الاستحالة وعدم الحنث.

--------------------------------------------

1 أبو يحيى الشيخ نجم الدين ابن الرفعة كان فريد دهره ووحيد عصره إماما في الفقه والخلاف والأصول واشتهر بالفقه إلى أن يضرب به المثل وله تصانيف مشهورة تفقه على أصحاب ابن العطار وبرع حتى طار اسمه في الآفاق وتفقه على السبكي والذهبي، مات سنة وخمس وثلاثين وسبعمائة.

ابن هداية الله ص229، شذرات الذهب 6/ 22، طبقات الشافعية لابن السبكي 5/ 177، البدر الطالع 1/ 115، الدرر الكامنة 1/ 303.

2 حبر الأمة وأستاذ الأئمة شيخ الإسلام تقي الدين أبو الحسين علي الأنصاري الخزرجي السبكي، كان رحمه الله ذا فراسة صادقة تصانيفه مشهورة وتوفي رحمه الله بدمشق.

ابن هداية الله ص23، الدرر الكامنة 3/ 134، حسن المحاضرة 1/ 177، وطبقات الشافعية الكبرى 6/ 146، البدر الطالع 1/ 467.
প্রকাশ্য অবস্থা (জহির)। সুতরাং মূল ভিত্তি (আসল) এবং প্রকাশ্য অবস্থার (জহির) মধ্যকার বৈপরীত্যের ওপর ভিত্তি করে এটিকে বিশ্লেষণ করা অসম্ভব নয়। ইমাম রাফেয়ীর এই বক্তব্যের ব্যাপারে ইবনুর রিফআ১ এবং শায়খ ইমাম২-এর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ইবনুর রিফআ একে সমর্থন করেছেন এবং বলেছেন: বরং যে ব্যক্তি (ক্রয়-বিক্রয়ের) স্থায়িত্বের দাবি করে, তার কথা গ্রহণ করার ব্যাপারে দৃঢ় হওয়া উচিত; কারণ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এটিই মূল ভিত্তি। আর শায়খ ইমাম একে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন। তিনি বলেছেন: বরং ইমামগণ যা সাধারণভাবে ব্যক্ত করেছেন সেটিই সত্য; সময় দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত। এটি মূল ভিত্তি ও প্রকাশ্য অবস্থার ওপর একটি বিশ্লেষণ; কারণ যখন তারা উভয়ে পরস্পর বিরোধী হয়, তখন তারা একে অপরকে নাকচ করে দেয়। আর আমাদের কাছে চুক্তিকারীর চুক্তি বাতিল করার অধিকার অবশিষ্ট থাকে, এবং আমরা এটি নিশ্চিতভাবে জানি যে সে এটি করতে সক্ষম, তাই সে পূর্বাবস্থা (ইস্তিসহাব) বজায় রাখবে এবং সন্দেহের মাধ্যমে তা দূর করবে না। তিনি ইবনুর রিফআর এই বক্তব্যের সাথেও দ্বিমত পোষণ করেছেন যে, ক্রয়-বিক্রয়ের মূল ভিত্তি হলো স্থায়িত্ব; তিনি বলেছেন: বরং এর মূল ভিত্তি হলো ঐচ্ছিকতা, কিন্তু একে স্থায়িত্বের ওপর নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর আমি বলছি: চুক্তিকারীর চুক্তি বাতিল করার সক্ষমতা তৈরি হয় বিচ্ছিন্ন না হওয়ার কারণে, যা হলো ইস্তিসহাবকৃত মূল ভিত্তি। আর এর বিপরীতে রয়েছে প্রকাশ্য বিচ্ছিন্নতা। সুতরাং এখানে মতভেদ হওয়া অনিবার্য। আর যদি এটি মেনেও নেওয়া হয় যে ক্রয়-বিক্রয়ের মূল ভিত্তি হলো স্থায়িত্ব, তবুও এটি বিচ্ছিন্ন না হওয়ার পরিপন্থী।

এর মধ্যে অন্যতম হলো: একটি কুকুর একটি পাত্রের মধ্যে তার মাথা ঢুকিয়েছে এবং বের করেছে, কিন্তু সে তাতে মুখ দিয়েছে কি না তা জানা যায়নি, তবে আমরা তার মুখ ভেজা দেখতে পেলাম। এমতাবস্থায় মূল ভিত্তির (আসল) কারণে অধিক সঠিক মত হলো পাত্রটি পবিত্র। আর দ্বিতীয় মত হলো, প্রকাশ্য অবস্থার (জহির) কারণে তা অপবিত্র।

আরও একটি উদাহরণ হলো: কেউ একটি মটকার মধ্যে ফলের রস রাখল এবং এর মুখ ভালো করে আটকে দিল। তারপর সে শপথ করল যে সে একে মদে রূপান্তরিত করবে না এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এর মুখ খুলল না। যখন সে এটি খুলল, তখন দেখল যে তা সিরকায় পরিণত হয়েছে। ইমাম রাফেয়ী তালাকের উপ-শাখাগুলোতে এর দুটি দিক বর্ণনা করেছেন।

প্রথমটি হলো: যদি পারিপার্শ্বিক অবস্থার দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে শপথ করার সময় তা মদে পরিণত হয়েছিল, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবে; অন্যথায় নয়।

আর দ্বিতীয়টি হলো: তাকে শপথ ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য করা হবে না। কারণ মূল ভিত্তি হলো রূপান্তরিত না হওয়া এবং শপথ ভঙ্গ না হওয়া।

--------------------------------------------

১ আবু ইয়াহইয়া শায়খ নাজমুদ্দীন ইবনুর রিফআ ছিলেন তার যুগের অনন্য ও অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব এবং ফিকহ, মতভেদশাস্ত্র ও উসূলের ইমাম। তিনি ফিকহ শাস্ত্রে এতটাই প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন যে তার উদাহরণ দেওয়া হতো। তার অনেক প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ইবনুল আত্তারের সঙ্গীদের নিকট জ্ঞান অর্জন করেন এবং এতোটাই পারদর্শী হন যে তার নাম দিগন্ত বিস্তৃত হয়। তিনি সুবকী ও যাহাবীর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন। তিনি সাতশত পঁয়ত্রিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনে হিদায়াতুল্লাহ পৃষ্ঠা ২২৯, শাযারাতুয যাহাব ৬/২২, তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ লি ইবনুস সুবকী ৫/১৭৭, আল-বাদরুস তালি ১/১১৫, আদ-দুরারুল কামিনাহ ১/৩০৩।

২ উম্মতের মহান পণ্ডিত এবং ইমামদের শিক্ষক শায়খুল ইসলাম তাকীউদ্দীন আবুল হুসাইন আলী আল-আনসারী আল-খাজরাজী আস-সুবকী। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠ দূরদৃষ্টির অধিকারী। তার রচনাবলী সুপ্রসিদ্ধ এবং তিনি দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনে হিদায়াতুল্লাহ পৃষ্ঠা ২৩, আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/১৩৪, হুসনুল মুহাযারাহ ১/১৭৭, তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা ৬/১৪৬, আল-বাদরুস তালি ১/৪৬৭।