(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: -)
النكاح والطلاق أو الزواج والفراق القسم: مسائل فقهية
الكتاب: النكاح والطلاق أو الزواج والفراق
المؤلف: جابر بن موسى بن عبد القادر بن جابر أبو بكر الجزائري
الناشر: مطابع الرحاب
الطبعة: الثانية
عدد الصفحات: 23
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নিকাহ ও তালাক অথবা বিবাহ ও বিচ্ছেদ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ (مسائل فقهية)
গ্রন্থ: নিকাহ ও তালাক অথবা বিবাহ ও বিচ্ছেদ
লেখক: জাবির বিন মুসা বিন আব্দুল কাদির বিন জাবির আবু বকর আল-জাযাইরি
প্রকাশক: মাতাবি আল-রিহাব
সংস্করণ: দ্বিতীয়
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৩)
النكاحما هو النكاح؟
إن لفظ النكاح يطلق على الوطء – الجماع – ويطلق على العقد الذي يتم بين الزوجين – الرجل والمرأة – بأربعة شروط وهي:
الولي، وهو أبو الزوجة، أو الوصي، أو الأقرب فالأقرب أو القاضي إذ هو ولي من لا ولي لها، والشاهدان، وصيغة العقد، والمهر أي الصداق، فهذه الشروط الأربعة تعتبر كالأركان للنكاح متى سقط ركن منها فسد النكاح وبطل ولكل ركن من هذه الأركان الأربعة شروط وبيانها كالآتي:
1. شروط الولي وهي أن يكون أهلا للولاية وذلك بأن يكون ذكراً بالغاً عاقلاً رشيداً حراً، وأن يستأ مرها الولي أي يطلب أمرها إن كانت ثيبا فإن وافقت فبها ونعمت وإن لم توافق فلها ذلك، ولا يتم العقد إذنها لقول الرسول صلى الله عليه وسلم في الموطاء: "الأيم أحق بنفسها من وليها والبكر تستأذن وإذنها صمتها".
নিকাহ (বিবাহ)নিকাহ কী?
নিকাহ শব্দটি দ্বারা সহবাস বুঝায় এবং এটি স্বামী ও স্ত্রীর (পুরুষ ও নারী) মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যা চারটি শর্তের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়, সেগুলো হলো:
অভিভাবক (ولي), তিনি হলেন কনের পিতা, অথবা অছি (প্রতিনিধি), অথবা নিকটাত্মীয়দের মধ্যে ক্রমানুসারে যিনি নিকটবর্তী, অথবা কাজী—কেননা যার কোনো অভিভাবক নেই কাজী তার অভিভাবক; দুইজন সাক্ষী; চুক্তির সিগাহ (صيغة); এবং মোহরানা। এই চারটি শর্ত নিকাহর রুকন (أركان) হিসেবে গণ্য। যখন এগুলোর কোনো একটি রুকন বাদ পড়ে, তখন নিকাহ ফাসিদ (فاسد) হয়ে যায় এবং বাতিল (باطل) বলে গণ্য হয়। এই চারটি রুকনের প্রত্যেকটির নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে, যার বিবরণ নিম্নরূপ:
১. অভিভাবকের শর্তাবলি: তাকে অভিভাবকত্বের যোগ্য হতে হবে, অর্থাৎ তাকে পুরুষ, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, বিচক্ষণ ও স্বাধীন হতে হবে। অভিভাবক কনের অনুমতি প্রার্থনা করবেন, অর্থাৎ কনে যদি সায়্যেবা (ثيبة) হয় তবে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন; যদি সে সম্মত হয় তবে তা উত্তম, আর যদি সে সম্মত না হয় তবে সেটি তার অধিকার। কনের অনুমতি ব্যতীত চুক্তি সম্পন্ন হবে না। কেননা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুওয়াত্তা গ্রন্থে বলেছেন: "সায়্যেবা (أيم) নারী তার নিজের ব্যাপারে তার অভিভাবকের চেয়ে অধিক হকদার, আর কুমারী নারীর নিকট অনুমতি চাওয়া হবে এবং তার নীরবতাই হলো তার অনুমতি।"
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৪)
2. شروط الشاهدين وهي أن يكونا عدلين وأن يكون اثنين فأكثر، والعدل هو من يتجنب الكبائر، ويترك غالبا الصغائر1 لقول الله تعالى: {وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ وَأَقِيمُوا الشَّهَادَةَ لِلَّهِ} 2 وقول الرسول صلى الله عليه وسلم "لا نكاح إلا بولي وشاهدي عدل" 3.
3. شروط الصيغة وهي أن يقول الزوج الخاطب أو وكيله في العد زوجني ابنتك أو وصيتك فلانة، وقول الولي لقد زوجتك ابنتي أو وصيتي فلانة، ويقول الزوج أو وكيله قبلت زواجها من نفسي أو لمن وكلني بذلك ومن شروط الصيغة كفاءة الزوج للزوجة بأن لمن يكون حراً ذا خلق ودين وأمانة لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "إذا أتاكم من ترضون خلقه ودينه فزوجوه إلا تفعلوه تكن فتنة في الأرض وفساد كبير" 4.
4. المهر وهو واجب لقول الله تعالى: {وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً} 5، وقول الرسول صلى الله عليه وسلم "التمس ولو خاتما من حديد"، ويستحب أن يكون خفيفا لا ثقيلا كثيراً، لقول الرسول صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
2. সাক্ষীদের শর্তাবলি: আর তা হলো তাদের দুজনকে ন্যায়পরায়ণ (عدل) হতে হবে এবং সংখ্যায় দুইজন বা তার অধিক হতে হবে। ন্যায়পরায়ণ (عدل) হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি কবিরা গুনাহসমূহ পরিহার করেন এবং সাধারণত সগিরা গুনাহসমূহ বর্জন করেন১; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আর তোমাদের মধ্য থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখো এবং আল্লাহর জন্য সঠিক সাক্ষ্য কায়েম করো" ২ এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "অভিভাবক (ولي) এবং দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) সাক্ষী ব্যতীত কোনো বিবাহ নেই" ৩।
3. সিঘাহ (প্রস্তাব ও কবুল)-এর শর্তাবলি: তা হলো বিয়ের প্রস্তাবকারী স্বামী বা তার প্রতিনিধি বলবে, 'আপনার কন্যা বা আপনার তত্ত্বাবধানে থাকা অমুককে আমার কাছে বিয়ে দিন', আর অভিভাবক (ولي) বলবে, 'আমি আমার কন্যা বা আমার তত্ত্বাবধানে থাকা অমুককে আপনার নিকট বিয়ে দিলাম', এবং স্বামী বা তার প্রতিনিধি বলবে, 'আমি নিজের জন্য বা যার পক্ষ থেকে আমি প্রতিনিধি হয়েছি তার জন্য এই বিবাহ কবুল করলাম'। সিঘাহ-এর শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো স্ত্রীর জন্য স্বামীর সমতা (كفاءة), যা হলো স্বামী স্বাধীন হওয়া এবং সচ্চরিত্র, দ্বীনদার ও আমানতদার হওয়া; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "তোমাদের নিকট যদি এমন কেউ (বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে) আসে যার চরিত্র ও দ্বীনদারিতে তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তার বিয়ে সম্পন্ন করো। যদি তা না করো, তবে জমিনে ফিতনা ও বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হবে" ৪।
4. মোহর: এটি প্রদান করা ওয়াজিব বা আবশ্যক; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আর তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহর সানন্দে প্রদান করো" ৫ এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তুমি অন্বেষণ করো, যদিও তা লোহার একটি আংটি হয়"। আর মোহর হালকা হওয়া মুস্তাহাব, অধিক ভারী না হওয়া উত্তম; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৫)
"أعظم النساء بركة أيسرهن مؤونة"، ومن شروطه أن يكون متمولا تزيد قيمته على ربع دينار، ويصح تأجيله، وإن مات الزوج قبل الدخول لها المهر كاملاً والإرث وعليها العدة كاملة وهي أربع أشهر وعشر ليال.
"নারীদের মধ্যে সর্বাধিক বরকতময় তারা, যাদের ব্যয়ভার সবচেয়ে সহজ।" আর এর শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো তা সম্পদযোগ্য হওয়া, যার মূল্য এক চতুর্থাংশ দীনারের অধিক হয়। এটি বিলম্বিত করাও বৈধ। আর যদি সহবাসের পূর্বে স্বামী মৃত্যুবরণ করেন, তবে স্ত্রী পূর্ণ মোহর ও উত্তরাধিকার প্রাপ্য হবেন এবং তার ওপর পূর্ণ ইদ্দত পালন করা আবশ্যক হবে, যা চার মাস দশ দিন।
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৫)
آداب النكاح وسننهللنكاح الشرعي سنن وآداب هذا بيانها:
1. الخطبة، وهي أن يقول من يتولى العقد: إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، ثم يقرأ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1 و {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2 و {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً ، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ
--------------------------------------------
বিবাহের (نكاح) আদবসমূহ (آداب) ও সুন্নাতসমূহ (سنن)শরয়ী বিবাহের জন্য কিছু সুন্নাত (سنن) ও আদব (آداب) রয়েছে, যার বিবরণ নিম্নরূপ:
১. খুতবাহ (خطبة); আর তা হলো বিবাহের চুক্তি (عقد) পরিচালনাকারী ব্যক্তি বলবেন: নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত (هداية) দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তারপর তিনি পাঠ করবেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম (مسلم) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} ১ এবং {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার (الأرحام) বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} ২ এবং {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৬)
فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 1؛ وذلك لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إذا أراد أحدكم أن يخطب لحاجة من نكاح وغيره فليقل الحمد لله الخ...."
2. وليمة لقول الرسول صلى الله عليه وسلم لعبد الرحمن بن عوف لما تزوج: "أولم ولو بشاة" 2، ومن سنن الوليمة وآدابها:
3. وجوب حضورها عن لم يكن عذر لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "من دعي إلى عرس أو نحوه فليجب" 3 ويرخص في عدم حضورها إذا كان هناك لهو ولعب وباطل.
4. إعلان النكاح بدف ونحوه لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "فصل ما بين الحلال والحرام الدف والصوت" 4
5. الدعاء للزوجين بلفظ: "بارك الله لك وبارك عليك وجمع بينكم في الخير".5
--------------------------------------------
সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} ১; আর তা এই জন্য যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন বিবাহ বা অন্য কোনো প্রয়োজনে প্রস্তাব দেওয়ার ইচ্ছা করে, তখন সে যেন বলে: আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর) ইত্যাদি...।"
২. ওলিমা (বিবাহোত্তর ভোজ), রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে, যা তিনি আব্দুর রহমান বিন আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাঁর বিবাহের সময় বলেছিলেন: "ওলিমা করো, যদিও তা একটি বকরি দিয়ে হয়।" ২, এবং ওলিমার সুন্নাত ও আদবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো:
৩. কোনো ওজর বা সংগত কারণ না থাকলে তাতে উপস্থিত হওয়া ওয়াজিব (واجب), রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: "যাকে বিবাহের দাওয়াত বা অনুরূপ কিছুতে আমন্ত্রণ জানানো হয়, সে যেন তাতে সাড়া দেয়" ৩। আর যদি সেখানে অনর্থক ক্রীড়া-কৌতুক ও বাতিল (باطل) কোনো বিষয় থাকে, তবে উপস্থিত না হওয়ার অনুমতি রয়েছে।
৪. দফ ও অনুরূপ কিছুর মাধ্যমে বিবাহের ঘোষণা দেওয়া, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: "হালাল (حلال) ও হারামের (حرام) মধ্যে পার্থক্য হলো দফ বাজানো ও ঘোষণা (আওয়াজ)।" ৪
৫. নবদম্পতির জন্য এই শব্দে দোয়া করা: "আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তোমার ওপর বরকত নাজিল করুন এবং তোমাদের উভয়কে কল্যাণের সাথে একত্রিত করুন।" ৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৭)
6. إذا دخل الزوج على زوجته أخذ بنا صيتها وقال: "اللهم إني أسألك من خيرها وخير ما جبلتها عليه، وأعوذ بك من شرها وشر ما جبلتها عليه" 1.
7. أن يقول الزوج عند إرادة الجماع: "بسم الله اللهم جنبنا الشطان وجنب الشطان ما رزقتنا" 2.
--------------------------------------------
৬. স্বামী যখন তার স্ত্রীর নিকট বাসর ঘরে প্রবেশ করবে, তখন সে তার কপালের অগ্রভাগের চুল ধরবে এবং বলবে: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট তার কল্যাণ এবং আপনি তাকে যে স্বভাবের ওপর সৃষ্টি করেছেন তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি; আর আমি আপনার নিকট তার অনিষ্ট এবং আপনি তাকে যে স্বভাবের ওপর সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" ১.
৭. সহবাসের ইচ্ছা করলে স্বামীর বলা উচিত: "বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আপনি আমাদের যা দান করবেন তা হতে শয়তানকে দূরে রাখুন।" ২.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৭)
الشروط في النكاحإن اشترطت المرأة أو الرجل شروطا ينظر في الشروط فإن كان مما يخل بالعقد فإنه شرط باطل لاغ، وإن كان مما لا يخل بالعقد فهو جائز لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "أحق الشروط أن يوفى به ما استحللتم به الفروج" 3.
ومن الشروط الباطلة أن تشترط المرأة على زوجها أن يطلق امرأته إن كان له امرأة غيرها، وذلك لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "لا يحل أن تنكح امرأة بطلاق أخرى" 4 ولحديث الشيخين: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تشترط المرأة طلاق أختها".
--------------------------------------------
বিবাহে শর্তাবলিযদি নারী বা পুরুষ কোনো শর্তারোপ করে, তবে সেই শর্তাবলি পর্যালোচনা করা হবে। যদি তা এমন হয় যা চুক্তির (নিকাহ) মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে, তবে তা বাতিল (باطل) ও অকার্যকর (لاغ) শর্ত হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তা চুক্তির পরিপন্থী না হয়, তবে তা বৈধ; কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "শর্তাবলির মধ্যে সেই শর্তগুলো পূরণ করার অধিক দাবি রাখে, যার মাধ্যমে তোমরা লজ্জাস্থানকে হালাল করেছ।" ৩।
বাতিল (باطل) শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো, নারী তার স্বামীর নিকট এই শর্তারোপ করা যে, যদি তার অন্য কোনো স্ত্রী থাকে তবে তাকে তালাক দিতে হবে। আর তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর কারণে: "অন্য কোনো নারীর তালাকের বিনিময়ে কোনো নারীকে বিবাহ করা বৈধ নয়" ৪ এবং শায়খাইন বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো নারী কর্তৃক তার বোনের (সতিনের) তালাক দাবি করার শর্তারোপ করতে নিষেধ করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৮)
الخيار في بقاء النكاح أو فسخهيجوز لأحد الزوجين أن يطالب بفسخ النكاح للأسباب الآتية:
1. العيب كالجنون أو الجذام والبرص أو داء الفرج المفوت للذة، وفي حالة الرغبة في فسخ النكاح، ينظر فإن كان الفسخ قبل الوطء فإن للزوج أن يطالب به ممن غرر به من ذويها لما في الموطاء عن عمر رضي الله عنه إذ قال رضي الله عنه أيما امرأة غر بها رجل بها جنون، أو جذام، أو برص فلها مهرها بما أصاب منها، وصداق الرجل على من غره.
2. الغرر كأن يتزوج مسلمة فتظهر أنها كتابية أو حرة فتظهر أنها أمة أو صحيحة فتظهر مريضة بعورة أو عرج، والدليل قول عمر الآنف الذكر.
3. الإعسار في النفقة فمن أعسر في نفقة زوجته، انتظرته ما استطاعت من الوقت فلها الحق في فسخ نكاحها من زوجها بواسطة القاضي لقول الصحابة بهذا وفعلهم له.
4. إذا غاب الزوج ولم يعرف مكان غيبته ولم يترك للزوجة نفقة ولم يوص أحداً عليها بالإنفاق ولم يكن لديها ما تنفقه على نفسها،
في هذه الحال لها أن تطالب بفسخ النكاح بواسطة القضاء الشرعي.
নিকাহ বহাল রাখা বা বিচ্ছেদের (فسخ) ইখতিয়ারনিম্নোক্ত কারণসমূহের ভিত্তিতে স্বামী বা স্ত্রীর যেকোনো একজনের জন্য বিবাহ বিচ্ছেদের (فسخ) দাবি জানানো জায়েজ:
1. ত্রুটি (عيب), যেমন—পাগলামি, কুষ্ঠরোগ, শ্বেতী বা যৌনাঙ্গের এমন কোনো ব্যাধি যা যৌনসুখ লাভে বাধা সৃষ্টি করে। বিচ্ছেদের (فسخ) ইচ্ছা করলে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে; যদি সহবাসের পূর্বেই বিচ্ছেদ ঘটে, তবে স্বামী তার স্ত্রীর সেই সকল অভিভাবক বা আত্মীয়ের নিকট ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে যারা তাকে প্রতারিত করেছে। কারণ মুয়াত্তা গ্রন্থে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "কোনো পুরুষকে যদি কোনো নারীর ব্যাপারে ধোঁকা দেওয়া হয় যে নারীর পাগলামি, কুষ্ঠ বা শ্বেতী রোগ রয়েছে, তবে সহবাসের কারণে সেই নারী তার মোহর পাবে, আর ওই পুরুষ মোহরের বিনিময় সেই ব্যক্তির নিকট থেকে বুঝে নেবে যে তাকে ধোঁকা দিয়েছে।"
2. প্রতারণা (غرر), যেমন—কোনো মুসলিম নারীকে বিবাহ করা অথচ পরবর্তীতে প্রকাশ পাওয়া যে সে কিতাবি, অথবা স্বাধীন মনে করা কিন্তু সে দাসী হিসেবে প্রকাশ পাওয়া, কিংবা সুস্থ মনে করা কিন্তু পরবর্তীতে ত্রুটিযুক্ত বা খোঁড়া হিসেবে প্রকাশ পাওয়া। এর দলিল হলো উমর (রা.)-এর ইতিপূর্বে উল্লেখিত বক্তব্য।
3. ভরণপোষণে অসচ্ছলতা (إعسار); সুতরাং যে ব্যক্তি স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে অক্ষম হয়ে পড়বে, স্ত্রী সাধ্যমতো সময় পর্যন্ত তার জন্য অপেক্ষা করবে। অতঃপর কাজীর মাধ্যমে তার বিবাহ বিচ্ছেদ (فسخ) ঘটানোর অধিকার থাকবে; কারণ সাহাবীগণ (الصحابة) এ ব্যাপারে অভিমত দিয়েছেন এবং অনুরূপ আমল করেছেন।
4. স্বামী যদি অনুপস্থিত হয়ে যায় এবং তার অবস্থান জানা না থাকে, আর স্ত্রীর জন্য কোনো ভরণপোষণ না রেখে যায় কিংবা কারো ওপর ভরণপোষণের অসিয়ত করে না যায় এবং স্ত্রীর নিজের কাছেও ব্যয় করার মতো কিছু না থাকে;
এমতাবস্থায় শরয়ি আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের (فسخ) দাবি করার অধিকার তার রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ৯)
حقوق الزوجينإن لكل من الرجل وزوجته حقوقا تجب له على صاحبه فحقوق الزوجة هي:
1. نفقتها من طعام وشراب وكساء وسكنى بالمعروف لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "تطعمها إذا طعمت، وتكسوها إذا اكتسيت، ولا تضرب الوجه ولا تقبح ولا تهجر إلا في البيت"؛ أي لا تحولها على بيت آخر تهجرها فيه1.
2. الاستمتاع بها وهو وطؤها ولو مرة في كل أربعة أشهر عن عجز على قدر كفايتها منه، لآية الإيلاء في البقرة وهي قوله تعالى: {لِلَّذِينَ يُؤْلُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ تَرَبُّصُ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ فَإِنْ فَاءُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} 2.
3. المبيت عندها في كل أربع ليال ليلة إذ قضى بهذا على عهد عمر رضي الله عنه.
--------------------------------------------
দাম্পত্য অধিকারনিশ্চয়ই স্বামী এবং স্ত্রী প্রত্যেকের জন্য তাদের সঙ্গীর ওপর কিছু অধিকার ওয়াজিব রয়েছে। স্ত্রীর অধিকারগুলো হলো:
1. প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তার খাদ্য, পানীয়, পোশাক ও বাসস্থানের ভরণপোষণ; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "তুমি যখন আহার করবে তাকেও আহার করাবে, তুমি যখন পরিধান করবে তাকেও পরিধান করাবে, চেহারায় আঘাত করবে না, গালি দেবে না এবং ঘর ব্যতীত অন্য কোথাও তাকে বর্জন করবে না"; অর্থাৎ তাকে অন্য ঘরে সরিয়ে নিয়ে বর্জন করবে না।
2. তার সাথে দাম্পত্য সুখ লাভ করা, আর তা হলো সহবাস—অক্ষমতা না থাকলে তার পর্যাপ্ত প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতি চার মাসে অন্তত একবার। এটি সূরা আল-বাকারার ‘ঈলা’ সংক্রান্ত আয়াতের কারণে, যা মহান আল্লাহর বাণী: {যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে সঙ্গত না হওয়ার শপথ করে, তারা চার মাস অপেক্ষা করবে; অতঃপর যদি তারা প্রত্যাবর্তিত হয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।}
3. প্রতি চার রাতের মধ্যে এক রাত তার নিকট যাপন করা; কেননা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে এভাবেই ফয়সালা প্রদান করা হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১০)
4. القسم لها بالعدل عن كان لزوجها نساء غيرها لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "من كانت له امرأتين يميل لأحدهما على الأخرى جاء يوم القيامة يجر أحد شقيه ساقطا أو مائلاً" 1.
5. أن يقيم عندها يوم تزوجه بها سبعا إن كانت بكراً، وثلاثة إن كانت ثيباً، لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "البكر سبعة أيام وللثيب ثلاثاً ثم يعود على نسائه" 2.
6. استحباب إذنه لها في تمريض أحد محارمها وشهود جنازته إذا مات وزيارة لا تضر بمصالح الزوج.
--------------------------------------------
৪. স্বামীর যদি একাধিক স্ত্রী থাকে তবে তাদের মাঝে ন্যায়পরায়ণতার (عدل) সাথে পালা বণ্টন করা; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যার দুইজন স্ত্রী রয়েছে এবং সে তাদের একজনের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে, কিয়ামতের দিন সে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে তার শরীরের একপাশ অবশ বা ঢলে পড়া অবস্থায় থাকবে।" ১।
৫. বিবাহের সময় স্ত্রী যদি কুমারী (بكر) হয় তবে তার নিকট সাত দিন এবং অকুমারী (ثيب) হলে তিন দিন অবস্থান করা; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কুমারীর (بكر) জন্য সাত দিন এবং অকুমারীর (ثيب) জন্য তিন দিন, অতঃপর সে তার অন্যান্য স্ত্রীদের নিকট ফিরে যাবে।" ২।
৬. স্ত্রীর কোনো মাহরাম (محرم) আত্মীয়ের অসুস্থতায় সেবা করার জন্য, মৃত্যু হলে জানাজায় উপস্থিত হওয়ার জন্য এবং স্বামীর কোনো স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না হলে সাক্ষাত বা যিয়ারতের অনুমতি দেওয়া মুস্তাহাব (مستحب)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১০)
حقوق الزوجإن للزوج حقوقا على زوجته كما للزوجة حقوقا على زوجها لقول الله تعالى: {وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ} 3، وتقدم بيان حقوق الزوجة وهذا بيان حقوق الزوج وهي:
1. الطاعة في المعروف أما في معصية الله ورسوله فلا طاعة له عليها إذ لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق "قاعدة عامة".
--------------------------------------------
স্বামীর অধিকারসমূহনিশ্চয়ই স্ত্রীর ওপর স্বামীর অধিকার রয়েছে যেমনটি স্বামীর ওপরও স্ত্রীর অধিকার রয়েছে। মহান আল্লাহর বাণীর পরিপ্রেক্ষিতে: {এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নারীদেরও তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার রয়েছে, যেমন পুরুষদের তাদের ওপর রয়েছে} ৩। ইতিপূর্বে স্ত্রীর অধিকারসমূহের বিবরণ প্রদান করা হয়েছে এবং এটি হলো স্বামীর অধিকারসমূহের বর্ণনা, আর তা হলো:
১. ন্যায়সংগত (المعروف) বিষয়ে আনুগত্য করা। তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতার কাজে তার প্রতি কোনো আনুগত্য নেই; কেননা "স্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির প্রতি কোনো আনুগত্য নেই"—এটি একটি "সাধারণ মূলনীতি"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১১)
2. حفظ ماله وصون عرضه، أن لا تخرج من بيته إلا بإذنه، وذلك لقول الله تعالى: {حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ} 1 وقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "خير النساء إذا نظرت إليها أسرتك، وإذا أمرتها أطاعتك، وإذا غبت عنها حفظتك في نفسها ومالك" 2.
3. السفر معه إذا شاء ذلك ولم تكن قد اشترطت عليه في العقد عدم السفر بها.
4. تسليم نفسها متى طلبه للاستمتاع بها، لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "إذا دعا الرجل امرأته إلى فراشه فأبت أن تجيء فبات غضبان عليها لعنتها الملائكة حتى تصبح" 3.
5. استئذانه في الصوم إذا كان حاضراً غير مسافر، لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "لا يحل لامرأة أن تصوم وزوجها شاهد أي حاضر إلا بإذنه" 4.
--------------------------------------------
2. স্বামীর সম্পদ সংরক্ষণ এবং নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করা; তার অনুমতি ব্যতীত ঘর থেকে বের না হওয়া। এটি মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তারা (সতী-সাধ্বী স্ত্রীগণ) লোকচক্ষুর অন্তরালে আল্লাহর হিফাযতে (স্বামীর অধিকার ও নিজেদের সতীত্ব) হেফাযতকারী} ১ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "শ্রেষ্ঠ নারী সে-ই যার দিকে তাকালে তুমি আনন্দিত হও, যাকে আদেশ করলে সে আনুগত্য করে এবং যার থেকে তুমি দূরে থাকলে সে নিজের ব্যাপারে এবং তোমার সম্পদের ব্যাপারে হেফাযতকারী হয়।" ২
3. স্বামী চাইলে তার সাথে সফর করা, যদি বিয়ের চুক্তিতে তার সাথে সফর না করার কোনো শর্ত সে না করে থাকে।
4. স্বামী যখনই সম্ভোগের জন্য তাকে আহ্বান করবে তখন নিজেকে সমর্পণ করা; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তার বিছানায় ডাকে আর স্ত্রী আসতে অস্বীকার করে, ফলে স্বামী তার ওপর রাগান্বিত অবস্থায় রাত অতিবাহিত করে, ফেরেশতারা সকাল হওয়া পর্যন্ত তার ওপর অভিশাপ দিতে থাকে।" ৩
5. স্বামী যদি উপস্থিত (সফররত না) থাকে তবে (নফল) রোযা রাখার জন্য তার অনুমতি গ্রহণ করা; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "কোনো নারীর জন্য তার স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতিরেকে রোযা রাখা হালাল নয়।" ৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১২)
الأنكحة المحرمةإن هناك أنكحة محرمة لا يحل لمؤمن ولا مؤمنة الوقوع فيها وهذا بيانها:
1. نكاح المتعة: وهي النكاح إلى أجل مسمى قريباً أو بعيداً للحديث المتفق عليه وهو قول علي رضي الله عنه "إن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن نكاح المتعة وعن لحوم الحمر الأهلية".
2. نكاح الشغار: وهو أن يزوج ولي وليته من رجل على شرط أن يزوجه هو وليته، وسواء ذكر لكل صداقا أو لم يذكر، وذلك لقول النبي صلى الله عليه: "لا شغار في الإسلام" 1.
3. نكاح المحلل وهو أن تطلق المرأة ثلاثا فتحرم على زوجها فيتزوجها رجل آخر بقصد أن يحلها لزوجها، لقول ابن مسعود رضي الله عنه "لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم المحلل والمحلل له" 2.
4. نكاح المحرم بحج أو عمرة، لقول الرسول صلى الله عليه وسلم "لا ينكح المحرم ولا ينكح" 3.
--------------------------------------------
নিষিদ্ধ বিবাহসমূহনিশ্চয়ই এমন কিছু নিষিদ্ধ বিবাহ রয়েছে যাতে লিপ্ত হওয়া কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য বৈধ নয় এবং এটি তার বর্ণনা:
1. মুতা বিবাহ: এটি হলো নিকটবর্তী বা দূরবর্তী কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পাদিত বিবাহ। এর প্রমাণ হলো সর্বসম্মত (متفق عليه) সেই হাদিস, যা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুতা বিবাহ এবং গৃহপালিত গাধার গোশত ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন।"
2. শিগার বিবাহ: এটি হলো কোনো অভিভাবক কর্তৃক তার অধীনস্থ নারীকে কোনো ব্যক্তির নিকট এই শর্তে বিবাহ দেওয়া যে, সেই ব্যক্তিও তার অধীনস্থ নারীকে এই অভিভাবকের সাথে বিবাহ দেবে; চাই প্রত্যেকের জন্য মোহরানা উল্লেখ করা হোক বা না হোক। এর কারণ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "ইসলামে কোনো শিগার বিবাহ নেই।" ১
3. মুহাল্লিল বিবাহ: এটি হলো কোনো নারীকে তিন তালাক দেওয়ার ফলে সে তার স্বামীর জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর অন্য কোনো ব্যক্তি তাকে এই উদ্দেশ্যে বিবাহ করা যেন সে তাকে পূর্ববর্তী স্বামীর জন্য হালাল (বৈধ) করে দেয়। এর প্রমাণ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুহাল্লিল (যে হালাল করে) এবং যার জন্য হালাল করা হয়—উভয়ের ওপর লানত করেছেন।" ২
4. হজ বা উমরার ইহরাম অবস্থায় থাকাকালীন বিবাহ: কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইহরামকারী ব্যক্তি নিজে বিবাহ করবে না এবং অন্যকেও বিবাহ দেবে না।" ৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৩)
5. نكاح في العدة، وهو أن يتزوج الرجل المرأة وهي في عدة من طلاق أو وفاة، وذلك لقول الله تعالى: {وَلا تَعْزِمُوا عُقْدَةَ النِّكَاحِ حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ} .1
6. النكاح بلا ولي، وهو أن يتزوج الرجل المرأة بدون إذن وليها، وذلك لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "لا نكاح إلا بولي".
7. نكاح الكافرة غير الكتابية، لقول الله تعالى: {وَلا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ} 2 أي تدخل في الإسلام، كما لا يحل لمسلمة أن تتزوج كافرا مشركا كان أو كتابيا لقوله تعال: {لا هُنَّ حِلٌّ لَهُمْ وَلا هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ} 3
تنبيه: إذا أسلمت الزوجة الكافرة قبل البناء بها فلاشيء لها من المهر، لأن الفرقة كانت منها، وغن أسلم الزوج فلها نصف المهر، وإذا أسلمت بعد البناء بها فلها المهر كاملا، وحكم ارتداد أحد الزوجين كحكم إسلام أحدهما سواء بسواء.
--------------------------------------------
৫. ইদ্দত (عدة) চলাকালীন বিবাহ (نكاح); আর তা হলো কোনো ব্যক্তি কর্তৃক এমন নারীকে বিবাহ (نكاح) করা যে তালাক বা মৃত্যুর কারণে ইদ্দত (عدة) পালন করছে। এর কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর নির্ধারিত সময় পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তোমরা বিবাহ বন্ধনের (عقدة النكاح) সংকল্প করো না}। ১
৬. অভিভাবক (ولي) বিহীন বিবাহ (نكاح); আর তা হলো কোনো ব্যক্তি কর্তৃক নারীর অভিভাবকের (ولي) অনুমতি ব্যতীত তাকে বিবাহ (نكاح) করা। এর কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "অভিভাবক (ولي) ব্যতীত কোনো বিবাহ (نكاح) নেই।"
৭. আহলে কিতাব বহির্ভূত কাফির (كافر) নারীকে বিবাহ (نكاح) করা; মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা মুশরিক (مشركات) নারীদের বিবাহ (نكاح) করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে} ২ অর্থাৎ ইসলামে প্রবেশ করে। অনুরূপভাবে কোনো মুসলিম নারীর জন্য কোনো কাফিরকে (كافر) বিবাহ (نكاح) করা বৈধ নয়, সে মুশরিক হোক বা আহলে কিতাব; মহান আল্লাহর বাণী: {তারা তাদের জন্য বৈধ নয় এবং তারাও তাদের জন্য বৈধ নয়} ৩
সতর্কতা: যদি কাফির (كافر) স্ত্রী সহবাসের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে সে কোনো মোহর (مهر) পাবে না। কারণ বিচ্ছেদটি তার পক্ষ থেকে হয়েছে। আর যদি স্বামী ইসলাম গ্রহণ করে, তবে স্ত্রী অর্ধেক মোহর (مهر) পাবে। আর যদি সহবাসের পর স্ত্রী ইসলাম গ্রহণ করে, তবে সে পূর্ণ মোহর (مهر) পাবে। স্বামী-স্ত্রীর কোনো একজনের ধর্মত্যাগ (ارتداد) করার বিধান ঠিক তাদের কারো ইসলাম গ্রহণ করার বিধানের মতোই সমান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المحرمات من النساء تحريما أبديا1. المحرمات من النسب وقد ذكرت في سورة النساء في قوله تعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ
… الخ} .1
2. المحرمات من الرضاع وهن جميع من حرم من النسب صلى الله عليه وسلم: "يحرم من الرضاع ما يحرم من النسب"، والرضاع المحرم ما كان دون الحولين، وقد تغذى به الولد، بخلاف المصة والمصتين فلا يحرمان لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "لا تحرم المصة والمصتين".
تنبيه: زوج المرضعة يعتبر أبا للرضيع فأولاده من غير المرضعة أخوة له ويحرم عليه أمهات أبيه من الرضاع وأخواته وعماته وخالاته كافة.
تنبيه: النكاح كالطلاق تجري عليه أحكام الشرع الخمسة وهي الوجوب والندب والحرمة، والكراهة، والإباحة، وهذا بينها:
1. يكون النكاح واجبا على المسلم إذا كان قادرا عليه وخاف الوقوع في فاحشة الزنى.
2. يكون مندوبا إذا كان قادرا عليه ولا يخشى الزنى ويحب النسل أي الأولاد من بنين وبنات.
--------------------------------------------
চিরস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ (محرمات) নারীগণ১. বংশগত কারণে নিষিদ্ধ (محرمات) নারীগণ, যাদের কথা সূরা আন-নিসায় আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {তোমাদের ওপর তোমাদের মাতা, কন্যা ও বোনদের নিষিদ্ধ (حرمت) করা হয়েছে... ইত্যাদি}।১
২. দুগ্ধপানজনিত কারণে নিষিদ্ধ (محرمات) নারীগণ; তারা হলো ওই সকল নারী যারা বংশগত কারণে নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "বংশগত সম্পর্কের কারণে যা কিছু নিষিদ্ধ (يحرم) হয়, দুগ্ধপানের কারণেও তা নিষিদ্ধ (يحرم) হয়।" আর যে দুগ্ধপান বিবাহ নিষিদ্ধ (محرم) করে তা হলো যা শিশুর দুই বছর বয়সের মধ্যে সম্পন্ন হয় এবং যা দ্বারা শিশু পুষ্টি লাভ করে। পক্ষান্তরে এক বা দুইবার চোষার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম, এতে বিবাহ নিষিদ্ধ (يحرمان) হয় না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "এক বা দুইবার চোষার দ্বারা বিবাহ নিষিদ্ধ (تحرم) হয় না।"
দ্রষ্টব্য: স্তন্যদানকারী মহিলার স্বামী দুগ্ধপোষ্য শিশুর পিতা হিসেবে গণ্য হবেন। সুতরাং উক্ত মহিলার গর্ভজাত নয় এমন ওই ব্যক্তির অন্য সন্তানেরাও এই শিশুর ভাই-বোন হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া তার দুগ্ধপিতার মা, বোন, ফুফু এবং খালা—সকলের সাথে বিবাহ তার জন্য নিষিদ্ধ (يحرم) হবে।
দ্রষ্টব্য: তালাকের ন্যায় নিকাহ বা বিবাহের ক্ষেত্রেও শরীয়তের পাঁচটি বিধান (أحكام) প্রযোজ্য হয়। সেগুলো হলো: আবশ্যক (الوجوب), পছন্দনীয় (الندب), নিষিদ্ধতা (الحرمة), অপছন্দনীয়তা (الكراهة) এবং বৈধতা (الإباحة)। এগুলোর বিবরণ নিম্নরূপ:
১. একজন মুসলিমের জন্য বিবাহ করা আবশ্যক (واجب) হয় যখন সে সামর্থ্য রাখে এবং ব্যভিচারের ন্যায় অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করে।
২. এটি পছন্দনীয় (مندوب) হবে যখন সে বিবাহের সামর্থ্য রাখে কিন্তু ব্যভিচারের আশঙ্কা করে না এবং বংশবৃদ্ধি অর্থাৎ পুত্র ও কন্যা সন্তান কামনা করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
3. ويكون محرما على من لا يخشى الوقوع في الفاحشة وكان عاجزا على أداء حقوق الزوجة.
4. ويكون مكروها إن كان لا يشتهيه ولا يرجو نسلاً.
5. ويكون مباحا أي جائزا على من يقدر عليه ولا يرجوا نسلا ولا يخاف الوقوع في الزنى.
৩. এটি ঐ ব্যক্তির জন্য হারাম (محرم) হবে যে অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করে না এবং স্ত্রীর অধিকার আদায়ে অক্ষম।
৪. আর এটি মাকরূহ (مكروه) হবে যদি সে কামনাবাসনা না রাখে এবং সন্তান লাভের আশা না করে।
৫. আর এটি মুবাহ (مباح) অর্থাৎ বৈধ (جائز) হবে ঐ ব্যক্তির জন্য যে এর সামর্থ্য রাখে কিন্তু সন্তান লাভের আশা রাখে না এবং ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার ভয় করে না।
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الطلاق وأحكامهإن الطلاق شرعاً هو حل العصمة الزوجية، وهو نوعان: طلاق سني وطلاق بدعي، فالسني مجمع على حله العصمة الزوجية، وإبطال النكاح، وإفساده، البدعي مختلف فيه وليس مجمعا عليه في إبطال النكاح وإفساده، وسيأتي بيان ذلك مفصلا، والله المستعان.
তালাক ও এর বিধিবিধানশরিয়তের পরিভাষায় তালাক হলো বৈবাহিক বন্ধন ছিন্ন করা। এটি দুই প্রকার: সুন্নাহসম্মত (سني) তালাক এবং বিদআতি (بدعي) তালাক। সুন্নাহসম্মত (سني) তালাকের মাধ্যমে বৈবাহিক বন্ধন ছিন্ন হওয়া এবং বিবাহ বাতিল ও রহিত হওয়ার বিষয়ে ঐক্যমত (مجمع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিদআতি (بدعي) তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বাতিল ও রহিত হওয়ার বিষয়ে মতভেদ (مختلف فيه) রয়েছে এবং এ ব্যাপারে কোনো ঐক্যমত (مجمع عليه) প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অচিরেই এর বিস্তারিত বর্ণনা আসবে, আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الطلاق السنيإن المراد من الطلاق السني هو أن يقع ويتم على الصورة التي سنها رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو المبين لأمته ما هو خير لها، والمبعد لها عما يضرها في دينها ودنياها معا وهذا بيان الطلاق الشرعي السني وهو أن يرى الزوج رؤية حقيقية وهي أن بقاء هذه الزوجة في عصمته يضر بها ضرراً لا يجوز بقاؤه عليها، لأنها أخته في الإسلام فلا يحل إلحاق الضرر بها بحال من الأحوال، لقول الله تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ
সুন্নাহসম্মত তালাক (الطلاق السني)সুন্নাহসম্মত তালাক (الطلاق السني) বলতে উদ্দেশ্য হলো তা এমন পদ্ধতিতে সংঘটিত ও সম্পন্ন হওয়া যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রবর্তন করেছেন। তিনি তাঁর উম্মতের জন্য যা কল্যাণকর তা সুস্পষ্টকারী এবং যা তাদের দ্বীন ও দুনিয়া উভয় ক্ষেত্রে ক্ষতিকর তা থেকে তাদের দূরে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদানকারী। আর এটি হলো শরীয়াহসম্মত ও সুন্নাহসম্মত তালাকের (الطلاق السني) বর্ণনা; আর তা হলো স্বামী যখন বাস্তবিকভাবে উপলব্ধি করবেন যে, এই স্ত্রীকে তাঁর বৈবাহিক বন্ধনে (عصمة) রাখা এমন ক্ষতির কারণ হবে যা বজায় রাখা বৈধ নয়। কারণ সে ইসলামে তাঁর বোন, তাই কোনো অবস্থাতেই তাঁকে ক্ষতিগ্রস্ত করা বৈধ নয়; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {নিশ্চয়ই মুমিনগণ...
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৬)
إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ} 1، وقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "المسلم أخو المسلم لا يظلمه ولا يخذله ولا يحقره" 2.
كما أن يرى الزوج رؤية حقيقية وهي أن بقاءه مع هذه الزوجة أضر به ضرراً كبيراً وترتب عليه فساد كبير، وأنه لا خلاص له مما أضر به وأفسده في دينه ودنياه إلا طلاق هذه الزوجة مع أنه بذل جهداً في إصلاحها وهدايتها لما فيه خيرها وخير زوجها ولكن مع طول زمن الإصلاح والهداية ما حصل شيء من إصلاحها وهدايتها، هنا تعين عليه طلاقها لرفع الضرر عنه وعنها معا.
--------------------------------------------
...ভাই ভাই, অতএব তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও} ১, এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "একজন মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই; সে তার ওপর জুলুম করে না, তাকে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দেয় না এবং তাকে তুচ্ছজ্ঞান করে না" ২।
একইভাবে, স্বামী যদি বাস্তবিকভাবে দেখতে পান যে, এই স্ত্রীর সাথে বসবাস করা তার জন্য অত্যন্ত ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর ফলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পথ প্রশস্ত হচ্ছে, আর তার দ্বীন ও দুনিয়ার এই অনিষ্ট ও ফাসাদ থেকে বাঁচার জন্য এই স্ত্রীকে তালাক দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই; যদিও তিনি তাকে সংশোধন করার জন্য এবং তার নিজের ও স্বামীর কল্যাণের নিমিত্তে হেদায়েতের পথে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সংশোধন ও সঠিক পথে আনার প্রচেষ্টার পরেও তার মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি, এমতাবস্থায় স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের ক্ষতি নিরসনের জন্য তাকে তালাক দেওয়া তার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৬)
صيغة الطلاق السني الشرعيصيغة الطلاق الشرعي السني3 وهي أن ينتظرها إذا حاضت وطهرت ولم يجامعها بعد طهرها، هذا يأتي برجلين عدلين إلى منزله وامرأته وراء الحجاب ويقول لهما أشهدكما على طلاقي لزوجتي فلانة، ويقول لها الزمي بيتك يا أختاه في الإسلام حتى تنقضي عدتك فالتحقي بأهلك وإليك باقي
--------------------------------------------
শরয়ী সুন্নাহসম্মত (سني) তালাকের পদ্ধতিশরয়ী সুন্নাহসম্মত (سني) তালাকের পদ্ধতি হলো—স্বামী অপেক্ষা করবেন যতক্ষণ না স্ত্রীর মাসিক হয় এবং তিনি পবিত্র হন, এবং পবিত্র হওয়ার পর স্বামী তাঁর সাথে সহবাস করেননি। এমতাবস্থায় তিনি তাঁর বাড়িতে দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তিকে নিয়ে আসবেন এবং তাঁর স্ত্রী পর্দার আড়ালে থাকবেন। তিনি তাঁদের বলবেন: "আমি তোমাদের দুজনকে আমার স্ত্রী অমুকের তালাকের বিষয়ে সাক্ষী রাখছি।" আর স্ত্রীকে বলবেন: "হে আমার দ্বীনি বোন, তোমার ইদ্দত (عدة) শেষ না হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার ঘরেই অবস্থান করো, এরপর তোমার পরিবারের সাথে মিলিত হও।" এবং তোমার প্রতি বাকি অংশ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৭)
صداقك إن بقي منه وهذا متعتك ويعطيها شيئا من المال بحسب طاقته، لقول الله تعالى: {فَمَتِّعُوهُنَّ وَسَرِّحُوهُنَّ سَرَاحاً جَمِيلاً} 1.
هذا هو الطلاق الشرعي الذي أمر الله تعالى به وبينه رسوله صلى الله عليه وسلم، ومنه المخالفة وهي أن تجد الزوجة ضررا في نفسها من بقائها مع زوجها، وحاولت إنهاءه فلم تقدر، وضاقت بها الحياة وأصبحت في غم وكرب لأسباب ظاهرة أو خفية هنا تطلب من زوجها أن يخلعها من عصمته وتعطيه مبلغا من المال لا يزيد على مهره الذي تزوجها به، فعلى الزوج أن يأخذ المال ويخلعها فتحمل متاعها وتلحق بأهلها، هذا هو الخلع الذي شرعه الله تعالى فيقوله: {الطَّلاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ وَلا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئاً إِلَّا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلا تَعْتَدُوهَا وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} 2 فقوله تعالى: {فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ} حكم ظاهر صريح في أن المخالفة تكون لدفع الضرر عن كل من الزوجين، فلذا شرعها الله عز وجل وله الحمد وله المنة، هذا هو الطلاق الشرعي السني الذي لا يحل طلاق على خلافه، وأما الطلاق البدعي المحرم فهذا بيانه:
--------------------------------------------
তোমার মোহর যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে তবে তা এবং এটি তোমার জীবনোপকরণ; আর স্বামী তার সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে কিছু সম্পদ প্রদান করবে, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তবে তোমরা তাদেরকে জীবনোপকরণ দান করো এবং সৌজন্যের সাথে তাদেরকে বিদায় করো} ১।
এটিই হলো শরয়ি (الشرعي) তালাক যার নির্দেশ আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বর্ণনা করেছেন। এরই একটি রূপ হলো মুখালাফাহ (المخالفة), আর তা হলো স্ত্রী যখন তার স্বামীর সাথে জীবন অতিবাহিত করার ক্ষেত্রে নিজের ওপর ক্ষতির আশঙ্কা করে এবং সে তা সমাপ্ত করার চেষ্টা করেও সক্ষম হয় না, আর তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে এবং প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য কারণে সে দুঃখ ও কষ্টে নিপতিত হয়, তখন সে তার স্বামীর নিকট আবেদন করে যেন সে তাকে নিজ বন্ধন থেকে মুক্ত করে দেয় এবং সে তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করে যা তার ঐ মোহরের অতিরিক্ত হবে না যার বিনিময়ে সে তাকে বিবাহ করেছিল। এমতাবস্থায় স্বামীর কর্তব্য হলো সেই অর্থ গ্রহণ করা এবং তাকে মুক্ত (الخلع) করে দেয়া, অতঃপর সে তার আসবাবপত্র নিয়ে তার পরিবারের সাথে মিলিত হবে। এটিই হলো খুলা (الخلع) যা আল্লাহ তাআলা বিধিবদ্ধ করেছেন তাঁর বাণীতে: {তালাক দুই বার; তারপর হয় বিধিমত রাখবে অথবা সদয়ভাবে মুক্ত করে দেবে। আর তোমাদের জন্য বৈধ নয় যে, তোমরা তাদেরকে যা দিয়েছ তা থেকে কিছু গ্রহণ করবে, যদি না উভয়ে আশঙ্কা করে যে তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না। যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না, তবে স্ত্রী যা দিয়ে নিজেকে মুক্ত করে নেবে তাতে তাদের কারো কোনো গুনাহ নেই। এগুলো আল্লাহর সীমারেখা, সুতরাং তোমরা এগুলো লঙ্ঘন করো না। আর যারা আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, তারাই জালিম} ২। মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না} এটি একটি প্রকাশ্য ও স্পষ্ট বিধান যে, মুখালাফাহ (المخالفة) স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেকের থেকে ক্ষতি দূর করার জন্য প্রবর্তিত হয়েছে। তাই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এটি বিধিবদ্ধ করেছেন, আর সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল তাঁরই। এটিই হলো শরয়ি ও সুন্নাহসম্মত (السني) তালাক যার পরিপন্থী কোনো তালাক বৈধ নয়। আর বিদআতি (البدعي) ও হারাম তালাকের বিবরণ নিম্নরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الطلاق البدعي المحرم:1. صفته وهي أن يكون في حيض امرأته، أو في طهر مسها فيه أو يقول أنت طالق، طالق، طالق، أو أنت طالق بالثلاث، أو أنت طالق ثم طالق ثم طالق، أو إن فعلت كذا فأنت طالق، طالق، طالق، أو علي الطلاق ما قلت أو ما فعلت، أو لا أدخل أو ل أخرج مثلا هذه الصيغ الطلاق البدعي المحرم، والذي يجب على كل مؤمن أن يتقي الله فيه ولا يقول أبداً لحرمته وفساده ومخالفته للطلاق الشرعي الذي شرعه الله وبينه رسوله صلى الله عليه وسلم.
2. أحكامه وهي أن الجمهور على وقوع الطلاق البدعي، وخلاف الجمهور من الصحابة والتابعين ومن بعدهم كشيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم الجوزية وسماحة الشيخ عبد العزيز بن باز لا يرون وقوعه، ويقول العلامة الشوكاني في عدم ترجيح وقوع طلاق الثلاث.
হারাম বিদঈ তালাক:1. এর বৈশিষ্ট্য হলো স্ত্রীর ঋতুস্রাব বা মাসিকের (حيض) অবস্থায় তালাক প্রদান করা, অথবা এমন পবিত্রাবস্থায় (طهر) তালাক দেওয়া যাতে স্বামী তার সাথে সহবাস করেছে। অথবা একযোগে বলা 'তুমি তালাক, তালাক, তালাক', কিংবা 'তোমাকে তিন তালাক', অথবা 'তোমাকে তালাক, তারপর তালাক, তারপর তালাক'। কিংবা এভাবে বলা— 'যদি তুমি এটি করো তবে তোমাকে তালাক, তালাক, তালাক', অথবা 'আমার ওপর তালাক (আরোপিত হোক) যদি আমি এটি বলি বা করি', কিংবা 'আমি প্রবেশ করব না বা বের হব না' ইত্যাদি। তালাক প্রদানের এই রূপগুলো হলো হারাম বিদঈ তালাক (الطلاق البدعي المحرم)। প্রত্যেক মুমিনের জন্য আবশ্যক হলো এই বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করা এবং এই শব্দগুলো কখনোই উচ্চারণ না করা; কারণ এটি নিষিদ্ধ বা হারাম (حرام), ত্রুটিযুক্ত (فساد) এবং আল্লাহ কর্তৃক প্রবর্তিত ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক বর্ণিত শরয়ি তালাকের পরিপন্থী।
2. এর বিধানসমূহ হলো—জমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ আলিমের মতে বিদঈ তালাক কার্যকর হয়ে যায়। তবে সাহাবী, তাবিঈ এবং পরবর্তী যুগের একদল আলিম জমহুরের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, যেমন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, তাঁর ছাত্র ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়া এবং শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ; তাঁরা এটি কার্যকর হওয়ার পক্ষপাতি নন। আল্লামা শাওকানী একযোগে তিন তালাক কার্যকর হওয়ার মতটিকে অগ্রাধিকার না দেওয়ার পক্ষে মত ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والحاصل أن القائلين بالتتابع1 وقد استكثروا من الأجوبة على حديث ابن عباس رضي الله عنه2، وكلها غير خارجة عن دائرة التعسف، والحق أحق بالاتباع، فإن كانت تلك المحاماة لأجل المذهب السلف فهي أحقر وأقل من أن تؤثر على السنة المطهرة، وأن كانت لأجل عمر بن الخطاب رضي الله عنه، فأين يقع المسكين من رسول اله صلى الله عليه وسلم؟
--------------------------------------------
সারকথা হলো, যারা (তালাকের ক্ষেত্রে) ধারাবাহিকতার (تتابع) মত পোষণ করেন, তারা ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিসের সপক্ষে অনেক উত্তর প্রদানের প্রয়াস চালিয়েছেন; তবে সেগুলোর সবই কষ্টকল্পনার (تعسف) ঊর্ধ্বে নয়। অথচ সত্যই অনুসরণের অধিক যোগ্য। যদি এই পক্ষাবলম্বন পূর্বসূরিদের (سلف) মাজহাব রক্ষার নিমিত্তে হয়, তবে পবিত্র সুন্নাহর ওপর প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে তা অত্যন্ত নগণ্য ও তুচ্ছ। আর যদি তা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর কারণে হয়ে থাকে, তবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর তুলনায় এই দীনের নগণ্য সেবকের অবস্থান কোথায়?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ১৯)
صور الطلاق البدعيوهذه بعض صور الطلاق البدعي فلنتأملها وهي:
1. أن تكون المطلقة حائضة أي في حال حيضها قبل أن تطهر.
2. أن تطلق في طهر جامعها فيه أغتسلت أو لم تغتسل سواء
3. أن يطلقها بالثلاث بلفظ واحد كأن يقول لها أنت طالق بالثلاث أو أنت طالق، ثم طالق، ثم طالق.
4. أن يطلقها بتكرار لفظ الطلاق كأن يقول لها أنت طالق طالق طالق.
5. أن يعلق الطلاق على فعل شيء أو تركه كأن يقول إن فعلت كذا فأنت طالق.
6. الحلف بالطلاق كأن يقول: علي الطلاق أو يلزمني الطلاق إن كان كذا أو كذا.
বিদআতী তালাক (الطلاق البدعي)-এর বিভিন্ন রূপএগুলো বিদআতী তালাক (الطلاق البدعي)-এর কয়েকটি রূপ, আসুন আমরা সেগুলো নিয়ে চিন্তা করি; আর সেগুলো হলো:
1. তালাকপ্রাপ্তা নারী ঋতুবতী (حائضة) হওয়া, অর্থাৎ পবিত্র হওয়ার পূর্বে ঋতুস্রাব অবস্থায় তাকে তালাক প্রদান করা।
2. এমন পবিত্রাবস্থায় (طهر) তালাক দেওয়া যাতে স্বামী তার সাথে সহবাস করেছে, চাই সে গোসল সম্পন্ন করে থাকুক বা না থাকুক—উভয়ই সমান।
3. এক শব্দে তিন তালাক প্রদান করা, যেমন তাকে বলা: "তোমাকে তিন তালাক" অথবা "তুমি তালাকপ্রাপ্তা, অতঃপর তালাকপ্রাপ্তা, অতঃপর তালাকপ্রাপ্তা"।
4. তালাক শব্দটির পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে তালাক দেওয়া, যেমন তাকে বলা: "তুমি তালাকপ্রাপ্তা, তালাকপ্রাপ্তা, তালাকপ্রাপ্তা"।
5. কোনো কাজ করা বা বর্জন করার ওপর তালাককে ঝুলিয়ে রাখা (تعليق), যেমন বলা: "যদি তুমি এমনটি করো তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা"।
6. তালাকের মাধ্যমে শপথ করা, যেমন বলা: "আমার ওপর তালাক বর্তাবে" অথবা "আমার জন্য তালাক আবশ্যক হবে যদি এমন বা তেমন কিছু হয়"।
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২০)
تفاصيل هذه الطلاق البدعي هي:1. الطلاق في الحيض أو في طهر مسها فيه، الجمهور على وقوعه، وخلاف الجمهور لا يرى وقوع طلاق فيه، وكذلك الطلاق بالثلاث في كلمة واحدة.
2. الطلاق بتكرار لفظ كأن يقول: أنت طالق طقال طقال، الجمهور على وقوعه ثلاثا إن نوى ذلك وخلاف الجمهور على انه طلقة واحدة رجعية.
3. الطلاق في حال الغضب يقع إن كان المطلق واعيا عالما بما يقول، وإن كان لشدة غضبه غير واع ولا يدري ما يقول فلا يقع الطلاق عند كافة أهل العلم خلفا وسلفا، لحديث صحيح: "لا طلاق ولا عتاق في إغلاف".
4. الحلف بالطلاق كأن يقول بالطلاق لا أفعل كذا أو لا أفعل كذا، فهذا لا يلزمه طلاق، لأن حلف بغير الله تعالى.
5. نية الطلاق لا يقع بها الطلاق إلا إذا نطق أو كتب على ورقة.
6. من قال علي بالطلاق إن فعلت كذا أو إذا لم أفعل كذا، فإن حنث فالجمهور أن عليه الطلاق وتطلق زوجته، خلاف الجمهور يرى عليه كفارة يمين ولا تطلق زوجته.
এই বিদ'আতি তালাকের (الطلاق البدعي) বিস্তারিত বিবরণ হলো:1. ঋতুস্রাব (حيض) অবস্থায় অথবা এমন পবিত্রতা (طهر) চলাকালীন যাতে স্বামী স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছে তালাক প্রদান করা; জমহুর (الجمهور) ওলামায়ে কেরামের মতে এটি কার্যকর হবে। জমহুর পরিপন্থী মতানুসারে এতে তালাক কার্যকর হয় না। অনুরূপভাবে এক শব্দে তিন তালাকের (الطلاق بالثلاث) বিধানও একই।
2. তালাক শব্দটির পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে তালাক দেওয়া, যেমন কেউ বলল: 'তোমাকে তালাক, তালাক, তালাক'; জমহুর (الجمهور) ফকিহদের মতে যদি সে এর মাধ্যমে তিন তালাকের নিয়ত করে তবে তা তিন তালাক হিসেবেই কার্যকর হবে। জমহুর বিরোধী মত অনুযায়ী এটি একটি প্রত্যাবর্তনযোগ্য (رجعية) তালাক হিসেবে গণ্য হবে।
3. রাগান্বিত অবস্থায় তালাক কার্যকর হবে যদি তালাক প্রদানকারী সচেতন থাকেন এবং তিনি কী বলছেন সে সম্পর্কে অবগত থাকেন। তবে রাগের তীব্রতায় যদি তিনি জ্ঞান হারান এবং কী বলছেন তা বুঝতে না পারেন, তবে পূর্বসূরি (سلف) ও উত্তরসূরি (خلف) সকল আলেমদের মতে তালাক কার্যকর হবে না। কেননা একটি সহিহ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "ইগলাফ (জ্ঞানশূন্য বা উন্মত্ত অবস্থা) অবস্থায় কোনো তালাক বা দাসমুক্তি নেই।"
4. তালাকের শপথ করা, যেমন কেউ বলল: 'তালাকের শপথ আমি এই কাজ করব না' বা 'আমি ওই কাজ করব না'; এমতাবস্থায় তার ওপর তালাক আবশ্যক হবে না, কারণ এটি আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করা।
5. শুধুমাত্র তালাকের নিয়ত (نية) করলেই তালাক কার্যকর হবে না, যতক্ষণ না তা মুখে উচ্চারণ করা হয় অথবা কাগজে লেখা হয়।
6. যে ব্যক্তি বলল: 'যদি আমি এই কাজ করি তবে আমার ওপর তালাক আবশ্যক' অথবা 'যদি আমি এই কাজ না করি তবে তালাক', এমতাবস্থায় সে যদি শপথ ভঙ্গ করে তবে জমহুর (الجمهور) ওলামায়ে কেরামের মতে তার ওপর তালাক আপতিত হবে এবং তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হবে। জমহুর বিরোধী মতানুসারে, তাকে কসমের কাফফারা (كفارة يمين) দিতে হবে এবং তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হবে না।
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২১)
7. طلاق السكران إن كان فاقدا شعوره ولا وعي له، لا طلاق عليه وعند بعض أهل العلم سلفا وخلفا أن عليه الطلاق الذي طلقه.
8. طلاق الكتابة كأن يكتب في ورقة طلقت فلانة هذا يقع إن نوى الطلاق فإن لم ينو الطلاق فلا يقع طلاق.
9. الطلاق المعلق: كأن يقول لزوجته علي الطلاق إن خرجت مثلا أو يلزمني الطلاق إن فعلت كذا أو تركت كذا، فإن نوى الطلاق وحنث لزمه الطلاق عند الجمهور، وإن لم ينو الطلاق وحنث فلا طلاق يلزمه، وعليه كفارة وهي إطعام عشرة مساكين لكل مسكين مد من بر أو شعير أو تمر أو دقيق، والمد يعدله كيلو غرام فإن لم يجد صام ثلاثة أيام لقول الله تعالى: {فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ ذَلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ} 1.
--------------------------------------------
7. মাতাল ব্যক্তির তালাক (طلاق) যদি এমন হয় যে সে তার বোধশক্তি হারিয়ে ফেলেছে এবং তার কোনো সচেতনতা নেই, তবে তার তালাক (طلاق) কার্যকর হবে না। তবে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী (سلفا وخلفا) কিছু আলেমদের মতে, সে যে তালাক (طلاق) দিয়েছে তা তার ওপর কার্যকর হবে।
8. লিখিত তালাক (طلاق) যেমন কাগজে লিখল যে "আমি অমুককে তালাক দিলাম", এটি কার্যকর হবে যদি সে তালাকের নিয়ত (نوى) করে। আর যদি সে তালাকের নিয়ত (نوى) না করে তবে তালাক (طلاق) কার্যকর হবে না।
9. শর্তযুক্ত তালাক (الطلاق المعلق): যেমন তার স্ত্রীকে বলা যে "তুমি যদি বের হও তবে আমার ওপর তালাক (طلاق) কার্যকর হবে" অথবা "আমি যদি অমুক কাজ করি বা বর্জন করি তবে আমার ওপর তালাক (طلاق) আবশ্যিক হবে"; এক্ষেত্রে যদি সে তালাকের নিয়ত (نوى) করে এবং শর্ত ভঙ্গ (حنث) করে, তবে জমহুর (الجمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতে তার ওপর তালাক (طلاق) কার্যকর হবে। আর যদি সে তালাকের নিয়ত (نوى) না করে এবং শর্ত ভঙ্গ (حنث) করে, তবে কোনো তালাক (طلاق) কার্যকর হবে না; বরং তার ওপর কাফফারা (كفارة) আদায় করা আবশ্যক হবে। আর তা হলো দশজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো—প্রত্যেক মিসকিনকে এক মুদ (مد) পরিমাণ গম, যব, খেজুর বা আটা প্রদান করা। এক মুদ (مد) প্রায় এক কেজির সমপরিমাণ। যদি সে এর সামর্থ্য না রাখে তবে তিন দিন রোজা রাখবে। মহান আল্লাহর বাণী অনুযায়ী: {এর কাফফারা (كفارة) হলো দশজন মিসকিনকে খাবার দান করা—তোমরা তোমাদের পরিবারকে যা খাওয়াও তার মধ্যম মানের, অথবা তাদের পোশাক দান করা কিংবা একজন ক্রীতদাস মুক্ত করা। যে ব্যক্তি এর সামর্থ্য রাখবে না সে তিন দিন রোজা পালন করবে। এটিই তোমাদের শপথের কাফফারা (كفارة) যখন তোমরা শপথ করো।} ১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২১)
أحكام الطلاقإن الطلاق كالنكاح تجري عليه الأحكام الشرعية الخمسة التي هي الوجوب والندب والجواز، والحرمة، والكراهة، وهذا بيانها:
তালাকের বিধানাবলি (أحكام الطلاق)নিশ্চয়ই বিবাহের মতো তালাকের ওপরও পাঁচটি শারয়ি বিধান কার্যকর হয়; সেগুলো হলো: আবশ্যকতা (الوجوب), পছন্দনীয়তা (الندب), বৈধতা (الجواز), নিষিদ্ধতা (الحرمة) এবং অপছন্দনীয়তা (الكراهة)। আর এটি তার বিস্তারিত বিবরণ:
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২২)
1. الوجوب وهو أن يؤالي الرجل من زوجته، أي يحلف أن لا يطأها وتمض عليه أربعة أشهر ولم يطأ في هذه الحال يجب عليه الطلاق لقول الله تعالى: {لِلَّذِينَ يُؤْلُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ تَرَبُّصُ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ فَإِنْ فَاءُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ ، وَإِنْ عَزَمُوا الطَّلاقَ فَإِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} 1.
2. الندب: وهو أن يشتد الخلاف بين الزوجين وتطول مدته، فيستحب الطلاق لهما.
3. الجواز: وهو أن توجد حال تقتضي الطلاق كدفع بعض الضرر أو جلب بعض النفع لأحد الزوجين، فيجوز الطلاق لهما.
4. الحرمة: وهو أن يكون الزوج غير قادر على الزواج لو طلق امرأته ويخاف بشدة على نفسه أن يقع في الزنى فيحرم عليه الطلاق.
5. الكراهة: وهي أن يكون بين الزوجين وئام وصلاح وكل وحد منهم قائم بحقوق صاحبه في هذه الحال يكره الطلاق لهما.
--------------------------------------------
1. ওয়াজিব (الوجوب): এটি হলো কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তার স্ত্রীর সাথে ‘ঈলা’ (يؤالي) করা, অর্থাৎ সে শপথ করবে যে সে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করবে না এবং এমতাবস্থায় চার মাস অতিবাহিত হয়ে যাবে অথচ সে সহবাস করবে না; এই অবস্থায় তার ওপর তালাক দেওয়া ওয়াজিব (يجب) হয়ে যায়। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে ঈলা করে, তাদের জন্য চার মাস প্রতীক্ষা করার বিধান রয়েছে। অতঃপর যদি তারা ফিরে আসে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর যদি তারা তালাকের সংকল্প করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} 1.
2. মুস্তাহাব (الندب): এটি হলো যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ চরম আকার ধারণ করে এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন তাদের জন্য তালাক প্রদান মুস্তাহাব (يستحب)।
3. জায়েজ (الجواز): এটি হলো যখন এমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হয় যা তালাকের দাবি রাখে, যেমন কোনো ক্ষতি দূর করা অথবা স্বামী-স্ত্রীর কোনো একজনের উপকার সাধন করা; এমতাবস্থায় তাদের জন্য তালাক প্রদান জায়েজ (يجوز)।
4. হারাম (الحرمة): এটি হলো যখন স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিলে পুনরায় বিবাহ করতে সক্ষম হবে না এবং নিজের ব্যাপারে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা করে, তখন তার জন্য তালাক দেওয়া হারাম (يحرم)।
5. মাকরুহ (الكراهة): এটি হলো যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সদ্ভাব ও সমঝোতা বজায় থাকে এবং তাদের প্রত্যেকেই সঙ্গীর অধিকার আদায়ে সচেষ্ট থাকে; এমতাবস্থায় তাদের জন্য তালাক প্রদান মাকরুহ (يكره)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন নিকাহ ওয়াত তালাক আও আয যাওয়া জ ওয়াল ফিরাক
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الخاتمةإني أدعو كل مؤمن أن يعرف أن الطلاق أبغض الحلال إلى الله تعالى، وأن لا يقدم عليه إلا إذا رأى مشروعيته له المبنية في أحكام الطلاق الخمسة الآنفة الذكر وإذا رأى ذلك فلينتظر زوجته حتى تحيض وتطهر وقبل أن يجامعها في هذا الطهر يطلقها طلقة واحدة ويشهد اثنين على ذلك، وبذلك يكون على منهج السنة النبوية ويفرج الله همه، ويعوضه خيراً، والله تعالى يقول: {وَإِنْ يَتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلّاً مِنْ سَعَتِهِ} .1
هذا الذي أدعو إليه كل مؤمن شابا كان أو كهلا أو شيخا.
والله ولي التوفيق
وسلام على المرسلين والحمد لله رب العالمين.
--------------------------------------------
উপসংহারআমি প্রত্যেক মুমিনকে এই আহ্বান জানাচ্ছি যে, তারা যেন জানে তালাক মহান আল্লাহর নিকট হালাল কাজসমূহের মধ্যে সর্বাধিক অপ্রিয়। সে যেন ততক্ষণ পর্যন্ত এর পথে অগ্রসর না হয়, যতক্ষণ না সে ইতোপূর্বে উল্লিখিত তালাকের পাঁচটি বিধানের ভিত্তিতে নিজের জন্য এর বৈধতা দেখতে পায়। আর যখন সে এর প্রয়োজনীয়তা দেখতে পাবে, তখন সে যেন তার স্ত্রীর ঋতুবতী হওয়া এবং অতঃপর পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে। এই পবিত্রাবস্থায় তার সাথে সহবাস করার পূর্বেই সে যেন তাকে এক তালাক প্রদান করে এবং এর ওপর দুইজনকে সাক্ষী রাখে। এর মাধ্যমেই সে সুন্নাহ নববীর পদ্ধতির ওপর অটল থাকবে এবং আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা লাঘব করবেন ও তাকে উত্তম বিনিময় দান করবেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যদি তারা উভয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাঁর প্রাচুর্য থেকে তাদের প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দেবেন।} ১
আমি প্রত্যেক মুমিনকে—চাই সে যুবক হোক, প্রৌঢ় হোক বা বৃদ্ধ—এই বিষয়েরই আহ্বান জানাচ্ছি।
আর আল্লাহই তৌফিক দানকারী।
এবং রাসুলগণের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
--------------------------------------------