(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: -)
الصارم المنكي في الرد على السبكي   (ابن عبد الهادي)

القسم: العقيدة


الكتاب: الصَّارِمُ المُنْكِي في الرَّدِّ عَلَى السُّبْكِي

المؤلف: شمس الدين محمد بن أحمد بن عبد الهادي الحنبلي (ت 744هـ)

تحقيق: عقيل بن محمد بن زيد المقطري اليماني

قدم له: فضيلة الشيخ مقبل بن هادي الوادعي رحمه الله.

الناشر: مؤسسة الريان، بيروت - لبنان.

الطبعة: الأولى، 1424هـ / 2003م

عدد الصفحات: 347

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আস-সারিমুল মুনকি ফির রাদ্দি আলাস সুবকি   (ইবনে আব্দুল হাদী)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: আস-সারিমুল মুনকি ফির রাদ্দি আলাস সুবকি

লেখক: শামসুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল হাদী আল-হানবালী (ওফাত ৭৪৪ হি.)

তাহকীক: আকীল বিন মুহাম্মদ বিন যায়েদ আল-মাকতারী আল-ইয়ামানী

ভূমিকা প্রদান করেছেন: ফযীলাতুশ শায়খ মুকবিল বিন হাদী আল-ওয়াদিয়ী রহিমাহুল্লাহ।

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রায়য়ান، বৈরুত - লেবানন।

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৪ হিজরি / ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الصَّارِمُ المُنْكِي في الرَّدِّ عَلَى السُّبْكِي]ـ

المؤلف: شمس الدين محمد بن أحمد بن عبد الهادي الحنبلي (المتوفى: 744هـ)

تحقيق: عقيل بن محمد بن زيد المقطري اليماني

قدم له: فضيلة الشيخ مقبل بن هادي الوادعي رحمه الله.

الناشر: مؤسسة الريان، بيروت - لبنان.

الطبعة: الأولى، 1424هـ / 2003م

عدد الأجزاء: 1

[الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[আস-সারিমুল মুনকি ফিন রাদ্দি আলাস সুবকি]

লেখক: শামসউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল হাদী আল-হাম্বলী (মৃত্যু: ৭৪৪ হিজরী)

সম্পাদনা: আকীল বিন মুহাম্মদ বিন যাইদ আল-মাকতারী আল-ইয়ামানী

উপস্থাপনা করেছেন: মাননীয় শায়খ মুকবিল বিন হাদী আল-ওয়াদিঈ (রহিমাহুল্লাহ)।

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রায়য়ান, বৈরুত - লেবানন।

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরী / ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটি মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৫)
تقديم

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

أما بعد فيقول الله سبحانه وتعالى: وقل جاء الحق وزهق الباطل إن الباطل كان زهوقاً. ويقول سبحانه وتعالى: بل نقذف بالحق على الباطل فيدمغه فإذا هو زاهق.

كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم هما الكفيلان بزحزحة الباطل والقضاء عليه إذا وجد لهما من يبلغهما كما أتيا عن الله وعن رسوله صلى الله عليه وسلم.

طالما نصحت إخواني في الله باقتناء الصارم المنكى في الرد على السبكي منذ وقع في يدي وأنا طالب بمعهد الحرم بمكة ذلك لأنه كتاب قمع الله به أصحاب الباطل المبتدعة. فالمبتدعة من عصر السبكي إلى زمننا هذا وهو يفترقون من كتاب السبكي الذي جمع فيه بين نصر البدعة ومهاجمة السنة والصد عنها مع تجلد عجيب وقد كنا نقرأ في الصارم المنكي ونحن بدماج فأتعجب من جرأة السبكي ومن سعة اطلاعه ومن تلبيسه على القارئ فأقول: هذا كلام عالم فلا يسعني إلا الاعتراف بأنه عالم ولكنه ضل عن سواء السبيل وحمله الشيطان على نصرة الباطل فقيض الله لأباطيله ولتلبيساته ابن عبد الهادي رحمه الله بنسفها نسفاً.

وأني أنصح من يريد أن يرد على دعاة الضلال في زمننا هذا كمحمد بن علوي مالكي وأشياعه أن يكون أول مرجع لهم هو الصارم المنكي في الرد على السبكي.

إن الصارم المنكى ليس كتاباً يرد على المبتدعة فحسب ولكنه أيضاً كتاب جرح وتعديل وتصحيح وتضعيف فيه فوائد تشد لها الرحال، ومما أذكره الآن أحاديث زيارة قبر الرسول صلى الله عليه وسلم، فقد بين ضعفها مما لا تجده في كتاب فيما أعلم.
উপস্থাপনা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাথীদের প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর, মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই বিষয়।" এবং তিনি আরও বলেন: "বরং আমি সত্যকে মিথ্যার ওপর নিক্ষেপ করি, ফলে তা মিথ্যার মস্তক চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা অপসৃত হয়।"

আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহ হলো মিথ্যাকে দূরীভূত করার এবং তা বিনাশ করার দুই জামিনদার, যদি এমন কাউকে পাওয়া যায় যে আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ থেকে যেভাবে এসেছে সেভাবে তা পৌঁছে দেবে।

মক্কায় মাহাদুল হারামের ছাত্র থাকাকালীন যখন থেকে 'আস-সারিমুল মুনকি ফিন রাদ্দি আলাস সুবকি' বইটি আমার হাতে এসেছে, তখন থেকেই আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমার ভাইদের এটি সংগ্রহ করার উপদেশ দিয়ে আসছি। কারণ এটি এমন এক কিতাব যার মাধ্যমে আল্লাহ বাতিলপন্থী বিদআতীদের লাঞ্ছিত করেছেন। সুবকির যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিদআতীরা সুবকির কিতাবটিকে আঁকড়ে ধরেছে, যেখানে সে চরম দুঃসাহসের সাথে বিদআতের সমর্থন এবং সুন্নাহর বিরোধিতা ও তা থেকে বিমুখ করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। আমরা যখন দাম্মাজে ছিলাম তখন 'আস-সারিমুল মুনকি' পাঠ করতাম এবং আমি সুবকির স্পর্ধা, তার পাঠের ব্যাপকতা এবং পাঠকের সামনে সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত করার চতুরতা দেখে বিস্মিত হতাম। আমি বলতাম: এটি একজন বড় আলিমের কথা, তাই তিনি যে আলিম ছিলেন তা স্বীকার করতে আমি বাধ্য। তবে তিনি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিলেন এবং শয়তান তাকে বাতিলের সমর্থনে প্ররোচিত করেছিল। অতঃপর আল্লাহ তাআলা ইবনে আব্দুল হাদি রাহিমাহুল্লাহ-কে মনোনীত করেন তার বাতিল ও বিভ্রান্তিকর যুক্তিগুলোকে সমূলে ধ্বংস করার জন্য।

আমি তাদের নসিহত করছি যারা বর্তমান যুগের গোমরাহির দিকে আহ্বানকারী যেমন মুহাম্মদ বিন আলাউয়ি মালিকি এবং তার অনুসারীদের জবাব দিতে চায়, তাদের প্রথম উৎস হওয়া উচিত 'আস-সারিমুল মুনকি ফিন রাদ্দি আলাস সুবকি'।

নিশ্চয়ই 'আস-সারিমুল মুনকি' কেবল বিদআতীদের খণ্ডন করার কিতাবই নয়, বরং এটি জারাহ ও তাদিল এবং হাদিস সহিহ ও যয়িফ নির্ণয়েরও কিতাব। এতে এমন সব তাত্ত্বিক উপকারিতা রয়েছে যার অন্বেষণে দীর্ঘ পথ সফর করা সার্থক। এই মুহূর্তে আমার যা স্মরণে আসছে তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কবর জিয়ারত সংক্রান্ত হাদিসসমূহ; তিনি এগুলোর দুর্বলতা এমন সূক্ষ্মভাবে বর্ণনা করেছেন যা আমার জানা মতে অন্য কোনো কিতাবে পাওয়া যায় না।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৬)
وهكذا هل رواية من لا يروى إلا عن ثقة تعتبر توثيقاً لمن روى عنه لا أتعجل بالإجابة فهي موجودة في الكتاب مستوفاة.

وهكذا توثيق ابن حبان للمجهولين.

وهكذا تساهل الحاكم.

وإن صاحبي الصحيح قد يرويان البعض من فهم كلام عن أناس مخصوصين وعلى كل فالكتاب يعتبر مرجعاً للباحثين ونشره في هذه الأيام من الأمور المهمة لحيث إنه قد قصر باع العلماء المعاصرين عن استيعاب الأدلة وأيضاً قد كثر الأعداء كما قيل:

تكاثرت الضباء على خراش فما يدري خراش ما يصيد

وإني أنصح الأخوة الباحثين أن يحرصوا على إخراج مثل هذه الكتب فهي تقمع المبتدعة المعاصرين وتوفر على الأخ وقتاً يصرفه فيما هو أهم.

فجزى الله أخانا في الله عقيلاً خيراً على ما قام به من الخدمة لهذا الكتاب العظيم وأسال الله أن يوفقه لمواصلة المسير في خدمة سنة رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم وأن يعيذنا وإياه من فتنة المحيا والممات إنه على كل شيء قدير.

أبو عبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي
একইভাবে, এমন ব্যক্তির বর্ণনা—যিনি কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো নিকট থেকে বর্ণনা করেন না—তা কি যার নিকট থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন তার জন্য নির্ভরযোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে? আমি উত্তরের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করব না, কারণ এটি কিতাবটিতে বিস্তারিতভাবে বিদ্যমান রয়েছে।

একইভাবে, অপরিচিত বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে ইবনে হিব্বানের নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করার বিষয়টি।

একইভাবে, আল-হাকিমের শিথিলতা।

আর সহীহ গ্রন্থদ্বয়ের সংকলকদ্বয় নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির বক্তব্যের মর্মার্থ থেকে কিছু বর্ণনা করে থাকতে পারেন। যা-ই হোক, কিতাবটি গবেষকদের জন্য একটি আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত এবং বর্তমান সময়ে এর প্রকাশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত; কেননা সমসাময়িক আলেমদের দলীলসমূহ আয়ত্ত করার সামর্থ্য সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং শত্রুর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে, যেমনটি বলা হয়েছে:

খিরাশের ওপর হরিণের পাল এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, খিরাশ বুঝতে পারছে না সে কোনটি শিকার করবে।

আমি গবেষক ভাইদের উপদেশ দিচ্ছি যেন তারা এই ধরণের কিতাবসমূহ প্রকাশে সচেষ্ট হন; কারণ এগুলো সমসাময়িক বিদআতিদের দমন করে এবং একজন ভাইয়ের এমন সময় সাশ্রয় করে যা তিনি আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয় করতে পারেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের দ্বীনি ভাই আকিলকে এই মহান কিতাবের জন্য তিনি যে খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন তার জন্য উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর খেদমতে এই পথচলা অব্যাহত রাখার তাওফীক দান করেন এবং আমাদের ও তাকে জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে রক্ষা করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশীল।

আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিঈ
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة المحقق

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، أما بعد:

فإن كتاب (الصارم المنكي في الرد على السبكي) للحافظ ابن عبد الهادي رحمه الله من أحسن الكتب التي ترد على المبتدعين من القبوريين وغيرهم الغلاة في رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم. وهو مع هذا كتاب تصحيح وتضعيف وجرح وتعديل وبيان علل لأحاديث كثيرة، ولقد عهد إلى شيخي الجليل فضيلة العلامة أبو عبد الرحمن بن مقبل بن هادي الوادعي حفظه الله تعالى بتحقيق هذا الكتاب فلبيت طلبه نظراً لأهمية الكتاب ولاحتياجه إلى تحقيق وتوثيق وعزو الأحاديث إلى مخرجيها.

ونظراً لأنه لا توجد في الأسواق سوى نسخة شعبية تحتوي على كثير من التحريف والسقط إلا أنني بفضل الله تعالى حاولت أن أعيد النصوص الساقطة إلى مواضعها وأصلحت ما حصل من تحريف في النصوص وذلك بالاستعانة بالكتب التي استقى منها الحافظ ابن عبد الهادي مثل كتاب السبكي وكتب ابن تيمية كالجواب الباهر واقتضاء الصراط المستقيم وغيرها وأخيراً حصلت على النسخة التي حقق نصوصها فضيلة الشيخ / إسماعيل الأنصاري رحمه الله فاستفدت منها أيضاً ولله الحمد والمنة وذلك لأنه قابل الكتاب على بعض المخطوطات.

هذا وقد جعلت النصوص التي كانت ساقطة بين قوسين هكذا () وذلك ليتضح الجهد الذي قمت به
সম্পাদকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর:

হাফেজ ইবনে আব্দুল হাদি (রহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘আস-সারিমুল মুনকি ফির-রাদ্দি আলাস-সুবকি’ গ্রন্থটি কবরপূজারি বিদআতি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিয়ে অতিরঞ্জনকারী ও অন্যান্যদের খণ্ডনে রচিত শ্রেষ্ঠ কিতাবগুলোর অন্যতম। এর পাশাপাশি এটি অসংখ্য হাদিসের বিশুদ্ধতা ও অশুদ্ধতা নির্ণয় (তাসহিহ ও তাদয়িফ), বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (জারহ ও তাদিল) এবং হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লাত) বর্ণনার একটি কিতাব। আমার মহান শিক্ষক, ফজিলতুশ শায়খ আল্লামা আবু আব্দুর রহমান মুকবিল ইবনে হাদি আল-ওয়াদিয়ী (হাফিজাহুল্লাহু তাআলা) এই বইটি সম্পাদনার (তাহকিক) দায়িত্ব আমাকে অর্পণ করেছিলেন। আমি বইটির গুরুত্ব এবং এর সম্পাদনা, নির্ভরযোগ্যতা যাচাই ও হাদিসগুলোকে সেগুলোর মূল উৎসের দিকে নির্দেশ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছি।

যেহেতু বাজারে কেবল একটি সাধারণ সংস্করণই বিদ্যমান ছিল যাতে অনেক বিকৃতি ও পাঠ বিচ্যুতি রয়েছে, তাই আমি আল্লাহর অনুগ্রহে বাদ পড়া অংশগুলো সেগুলোর যথাস্থানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি এবং পাঠের মধ্যে যে বিকৃতি ঘটেছিল তা সংশোধন করেছি। এই কাজে আমি হাফেজ ইবনে আব্দুল হাদি যেসব কিতাব থেকে তথ্য গ্রহণ করেছেন সেগুলোর সহায়তা নিয়েছি; যেমন—সুবকির কিতাব এবং ইবনে তাইমিয়্যার কিতাবসমূহ যেমন ‘আল-জাওয়াবুল বাহের’, ‘ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম’ ইত্যাদি। অবশেষে আমি সেই সংস্করণটিও সংগ্রহ করেছি যার পাঠগুলো ফজিলতুশ শায়খ ইসমাইল আল-আনসারি (রহিমাহুল্লাহ) সম্পাদনা করেছিলেন। আমি তা থেকেও উপকৃত হয়েছি—সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই—কারণ তিনি কিতাবটিকে কিছু পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে পাঠান্তর যাচাই করেছিলেন।

আমি বাদ পড়া অংশগুলোকে বন্ধনীর () মধ্যে রেখেছি, যাতে আমার কৃত পরিশ্রমটি স্পষ্ট হয়।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৮)
وأسال الله عز وجل أن يجعل عملي خالصاً لوجهه الكريم إنه سميع مجيب وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

وكتب

عقيل بن محمد بن زيد المقطري أبو عبد الرحمن السلفي
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার এই আমলকে কেবল তাঁর মহান চেহারার জন্য খালেস করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী। আর আমাদের সর্বশেষ আহ্বান হলো যে, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

লিখেছেন

আকীল বিন মুহাম্মদ বিন জায়েদ আল-মাকতরী আবু আবদুর রহমান আস-সালাফী
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ترجمة مختصرة للحافظ ابن عبد الهادي

 

‌‌اسمه:

هو عبد الله محمد بن أحمد بن عبد الهادي بن عبد الحميد بن عبد الهادي بن يوسف بن محمد بن قدامة.

 

‌‌ميلاده:

ولد سنة خمس وسبعمائة.

 

‌‌مشايخه:

من جملة مشايخه:

1) شيخ الإسلام ابن تيمية.

2) الحافظ أبو الحجاج المزي.

3) القاضي تقي الدين سليمان.

4) أبو بكر بن عبد الدائم.

5) الحافظ الذهبي.

6) عيسى المطغم.

7) ابن مسلم. وغيرهم.

 

‌‌ثناء أهل العلم عليه:

1)‌‌ الحافظ المزي:

قال: (ما التقيت به - يعني: ابن عبد الهادي - إلا استفدت منه) .

2)‌‌ الحافظ ابن كثير:

قال: (.. الشيخ الإمام العالم العلامة الناقد البارع في فنون العلوم) .
হাফিয ইবনু আবদিল হাদীর সংক্ষিপ্ত জীবনী

 

তাঁর নাম:

তিনি হলেন আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আবদিল হাদী বিন আবদিল হামীদ বিন আবদিল হাদী বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন কুদামা।

 

তাঁর জন্ম:

সাতশত পাঁচ হিজরি সনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

 

তাঁর উস্তাদগণ:

তাঁর উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত হলেন:

১) শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ।

২) হাফিয আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযী।

৩) আল-কাজী তাকীউদ্দীন সুলায়মান।

৪) আবু বকর বিন আবদুদ দায়িম।

৫) হাফিয আয-যাহাবী।

৬) ঈসা আল-মুতয়িম।

৭) ইবনু মুসলিম এবং অন্যান্য।

 

তাঁর সম্পর্কে আলিমগণের প্রশংসা:

১) হাফিয আল-মিযযী:

তিনি বলেন: (আমি যখনই তাঁর সাথে—অর্থাৎ ইবনু আবদিল হাদীর সাথে—সাক্ষাৎ করেছি, তখনই তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছি)।

২) হাফিয ইবনু কাসীর:

তিনি বলেন: (.. তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, আলিম, মহাজ্ঞানী এবং বিভিন্ন ইলমী শাস্ত্রে পারদর্শী সমালোচক)।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১০)
وقال: (حصل من العلوم ما لا يبلغه الشيوخ الكبار وتفنن في الحديث والتعريف والفقه والتفسير والأصليين والتاريخ والقراءات وله مجامع وتعاليق مفيدة وكثيرة وكان حافظاً جيداً لأسماء الرجال وطرق الحديث وعارفاً بالجرح والتعديل وبصيراً بعلل الحديث، حسن الفهم له، جيد المذاكرة صحيح الذهن مستقيماً على طريقة السلف وأتباع الكتاب والسنة مثابراً على فعل الخيرات) أهـ الرد.

3)‌‌ الحافظ ابن رجب:

قال فيه: (المقرئ الفقيه المحدث الحافظ الناقد النحوي المتقن.. درس الحديث وكتبه بخطه الحسن المتقن الكثير) .

4)‌‌ الحافظ أبو المحاسن:

قال في ذيل تذكرة الحفاظ (الإمام العلامة شمس الدين.. اعتنى بالرجال والعلل وبرع وجمع وصنف وتصدر للإفادة والاشتغال في القراءات والحديث والفقه والأصلين والنحو واللغة وولي مشيخة الحديث بالضيائية والغيائية ودرس بالمدرسة المنصورية وغيرها وسمع منه طائفة وروى شيخنا الذهبي عن المزي عن السروجي عنه)

5)‌‌ الإمام الذهبي:

قال: (سمعت من الإمام الحافظ ذي الفنون شمس الدين محمد بن أحمد بن عبد الهادي.. إلى أن قال: اعتنى بالرجال والعلل وبرع وجمع وتصدى للإفادة والاشتغال في القراءات والحديث والفقه والأصول والنحو وله توسع في العلوم وذهن سيال.

6)‌‌ الحافظ ابن حجر:

قال فيه: (مهر في الحديث والأصول والعربية وغيرها) .

7)‌‌ الإمام السيوطي:

قال فيه: (الإمام الأوحد المحدث الحافظ الحاذق الفقيه الورع المقرئ النحوي اللغوي ذو الفنون شمس الدين أحد الأذكياء مهر في الفقه والأصول والعربية) .

8)‌‌ الصفدي:

قال: (لوعاش كان آية، كنت إذا لقيته سألته عن مسال أدبية وفوائد عربية فيتحذر كالسيل وكنت أراه يوافق المزي في أسماء الرجال ويرد عليه فيقبل منه) .
এবং তিনি বলেন: (তিনি এমন জ্ঞান অর্জন করেছিলেন যা বড় বড় শায়খরাও অর্জন করতে পারেননি। তিনি হাদিস, পরিচিতি, ফিকহ, তাফসির, উসুলাইন (উসুলে দ্বীন ও উসুলে ফিকহ), ইতিহাস ও কিরাত শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তার অনেক উপকারী সংকলন ও টীকা রয়েছে। তিনি রাবীদের নাম ও হাদিসের বর্ণনাসূত্র সম্পর্কে একজন উত্তম হাফেজ ছিলেন এবং জারাহ-তাদিল ও হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও সম্যক দৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন। তার বোধশক্তি ছিল চমৎকার, তিনি ইলমি আলোচনায় পটু ও প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন। তিনি সালাফদের পথে এবং কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণে অবিচল ছিলেন এবং সর্বদা নেক আমল সম্পাদনে সচেষ্ট থাকতেন।) - আর-রাদ্দ সমাপ্ত।

৩)‌‌ হাফেজ ইবনে রজব:

তিনি তার সম্পর্কে বলেন: (তিনি ছিলেন কারী, ফকিহ, মুহাদ্দিস, হাফেজ, সূক্ষ্ম সমালোচক, নাহুবিদ এবং দক্ষ... তিনি হাদিসের পাঠ দান করেছেন এবং নিজ হাতে অনেক কিতাব সুন্দর ও নির্ভুলভাবে লিখেছেন।)।

৪)‌‌ হাফেজ আবু আল-মাহাসিন:

তিনি ‘যাইলু তাযকিরাতিল হুফফাজ’ গ্রন্থে বলেন: (ইমাম আল্লামা শামস উদ্দিন... তিনি রাবী ও হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং এতে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন। তিনি অনেক কিতাব সংগ্রহ ও রচনা করেছেন। তিনি কিরাত, হাদিস, ফিকহ, উসুলাইন, নাহু ও ভাষা শিক্ষাদানে ও চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তিনি যিয়াউইয়াহ ও গিয়াসউইয়াহ মাদরাসায় শায়খুল হাদিসের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মানসুরিয়া মাদরাসাসহ অন্যান্য স্থানে পাঠ দান করেছেন। তার নিকট একদল লোক হাদিস শ্রবণ করেছেন। আমাদের শায়খ ইমাম যাহাবি, ইমাম মিযযির সূত্রে এবং তিনি সারুজির সূত্রে তার থেকে বর্ণনা করেছেন।)

৫)‌‌ ইমাম যাহাবি:

তিনি বলেন: (আমি বহু বিদ্যায় পারদর্শী ইমাম হাফেজ শামস উদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল হাদি থেকে শুনেছি... তিনি আরও বলেন: তিনি রাবী ও হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি নিয়ে গবেষণা করেছেন, পারদর্শিতা লাভ করেছেন এবং গ্রন্থনা করেছেন। তিনি কিরাত, হাদিস, ফিকহ, উসুল ও নাহু শিক্ষাদানে এবং চর্চায় নিবেদিত ছিলেন। বিভিন্ন বিজ্ঞানে তার অগাধ পাণ্ডিত্য ও প্রখর মেধা ছিল।)

৬)‌‌ হাফেজ ইবনে হাজার:

তিনি তার সম্পর্কে বলেন: (তিনি হাদিস, উসুল, আরবি ভাষা এবং অন্যান্য শাস্ত্রে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।)।

৭)‌‌ ইমাম সুয়ূতী:

তিনি তার সম্পর্কে বলেন: (অনন্য ইমাম, মুহাদ্দিস, হাফেজ, বিচক্ষণ, ফকিহ, মুত্তাকী, কারী, নাহুবিদ, ভাষাবিদ এবং বহু বিদ্যায় পারদর্শী শামস উদ্দিন ছিলেন অন্যতম মেধাবী ব্যক্তি। তিনি ফিকহ, উসুল ও আরবি ভাষায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।)।

৮)‌‌ আস-সাফাদি:

তিনি বলেন: (যদি তিনি দীর্ঘজীবী হতেন তবে তিনি একটি নিদর্শন হতেন। আমি যখনই তার সাথে দেখা করতাম এবং তাকে সাহিত্য ও আরবি ভাষার সূক্ষ্ম বিষয়ে প্রশ্ন করতাম, তখন উত্তরগুলো ঝরনার স্রোতের মতো আসত। আমি দেখেছি তিনি রাবীদের নামের ক্ষেত্রে ইমাম মিযযির সাথে একমত হতেন, আবার কখনও তার ভুল সংশোধন করে দিতেন এবং মিযযি তা সানন্দে গ্রহণ করে নিতেন।)।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مصنفاته:

وأما مصنفاته فكثيرة جداً تزيد عن خمسين مؤلفاً من أشهرها:

1) الصارم المنكي في الرد على السبكي.

2) المحرر في الأحكام.

3) ترجمته ابن تيمية (العقود الدرية) .

 

‌‌وفاته:

توفي رحمه الله في يوم الأربعاء عاشر جمادى الأولى سنة أربع وأربعين وسبعمائة.

مصادر ترجمته:

البداية والنهاية، ذيل طبقات الحنابلة، الدرر الكامنة، البدر الطالع، تذكرة الحفاظ، طبقات الحفاظ.

 

وكتب

أبو عبد الرحمن السلفي عقيل

بن محمد بن زيد المقطري اليماني
তাঁর রচনাবলি:

তাঁর রচনাবলি সংখ্যায় অনেক, পঞ্চাশটিরও অধিক; তার মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলো:

১) আস-সারিমুল মুনকি ফির রাদ্দি আলাস সুবকি।

২) আল-মুহাররার ফিল আহকাম।

৩) ইবনে তাইমিয়্যাহর জীবনী (আল-উকুদুদ দুররিয়্যাহ)।

 

তাঁর মৃত্যু:

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ৭৪৪ হিজরি সনের দশই জুমাদাল উলা, বুধবার মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ:

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ, আদ-দুরারুল কামিনাহ, আল-বাদরুত তালি', তাযকিরাতুল হুফফায, তাবাকাতুল হুফফায।

 

লিখেছেন

আবু আবদুর রহমান আস-সালাফি আকিল

বিন মুহাম্মদ বিন যাইদ আল-মাকতারি আল-ইয়ামানি
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌مقدمه المؤلف

بسم الله الرحمن الرحيم

قال الشيخ الإمام العلامة الحافظ المحقق أبو عبد الله بن محمد بن أحمد بن عبد الهادي بنت عبد الحميد بن عبد الهادي بن يوسف بن محمد بن قدامه المقدسي الحنبلي رحمه الله ورضي عنه، وأثابه الجنة بفضل رحمته وإيانا وسائر المسلمين أمين إنه على كل شيء قدير، وحسبنا الله ونعم الوكيل.

الحمد لله الذي يدعو إلى دار السلام ويهدي من يشاء إلى صراط مستقيم، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له رب السموات ورب الأرضين ورب العرش العظيم وأشهد أن محمداً عبده ورسوله المبعوث بالآيات والذكر الحكيم، الذي حكم به بين الناس فيما اختلفوا فيه من الزمان القديم، الذي يهدي به من اتبع رضوانه سبل السلام ويخرجهم من الظلمات إلى النور بإذنه ويهديهم إلى صراط المستقيم، صلى الله عليه وآله وسلم أفضل صلاة وأفضل تسليم.

أما بعد: فإني وقفت على الكتاب الذي ألفه بعض قضاة الشافعية في الرج على شيخ الإسلام تقي الدين أبي العباس أحمد بن تيمية في مسألة شد الرحال وإعمال المطي إلى القبور، وذكر أنه كان قد سماه شن الغارة على من أنكر سفر الزيارة ثم زعم أنه اختار أن يسميه شفاء السقام في زيارة خير الأنام فوجدت كتابه مشتملاً على تصحيح الأحاديث المضعفة والموضوعة، وتقوية الآثار الواهية والمكذوبة، وعلى تضعيف الأحاديث الصحيحة الثابتة والآثار القوية المقبولة، وتحريفها عن مواضعها وصرفها عن ظاهرها بالتأويلات المستنكرة المردودة. ورأيت مؤلف هذا الكتاب المذكور رجلاً ممارياً معجباً برأيه متبعاً لهواه ذاهباً في كثير مما يعتقده إلى الأقوال الشاذة والآراء الساقطة، صائراً في أشياء مما يعتمده إلى الشبه المخيلة والحجج الداحضة، وربما خرق الإجماع في مواضع لم يسبق إليها ولم يوافقه أحد من الأئمة عليها.

وهو من الجملة لون عجيب وبناء غريب تارة يسلك فيما ينصره ويقويه مسلك
লেখকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

শাইখ, ইমাম, আল্লামা, হাফিজ, মুহাক্কিক আবু আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল হাদি বিন আব্দুল হামিদ বিন আব্দুল হাদি বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন—আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর রহমতের উসিলায় তাঁকে, আমাদের এবং সকল মুসলিমকে জান্নাত দান করুন। আমিন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান, আর আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথ প্রদর্শন করেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি আসমানসমূহের রব, জমিনসমূহের রব এবং মহান আরশের রব। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাকে নিদর্শনাবলী ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশসহ প্রেরণ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে তিনি প্রাচীনকাল থেকে মানুষের মধ্যে চলে আসা মতভেদপূর্ণ বিষয়সমূহের ফয়সালা করেছেন। যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সন্তুষ্টির অনুসারীদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং তাঁর অনুমতিক্রমে তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদের সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর সর্বোত্তম রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর: আমি জনৈক শাফিঈ বিচারকের রচিত একটি কিতাব সম্পর্কে অবগত হয়েছি, যা তিনি শাইখুল ইসলাম তাক্বিউদ্দিন আবু আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহর খণ্ডনে লিখেছেন। বিষয়টি ছিল কবরের উদ্দেশ্যে সফর করা এবং বাহন চালনা করা সংক্রান্ত। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কিতাবটির নাম দিয়েছিলেন ‘শানুল গারা আলা মান আনকারা সাফারাজ যিয়ারা’, এরপর তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি এর নাম ‘শিফাউস সিক্বাম ফি যিয়ারাতি খয়রিল আনাম’ রাখা পছন্দ করেছেন। আমি তাঁর কিতাবটিকে দুর্বল ও জাল হাদিসসমূহকে সহিহ সাব্যস্ত করা এবং ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বর্ণনাগুলোকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত পেয়েছি। পক্ষান্তরে, সহিহ ও সুপ্রমাণিত হাদিস এবং শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য বর্ণনাগুলোকে দুর্বল সাব্যস্ত করা এবং সেগুলোকে নিজ স্থান থেকে বিকৃত করা ও অগ্রহণযোগ্য অপব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রকাশ্য অর্থ থেকে সরিয়ে ফেলার অপপ্রয়াস লক্ষ্য করেছি। আমি উক্ত কিতাবের লেখককে একজন বিতর্কপ্রিয়, নিজের মতামতে মুগ্ধ ও প্রবৃত্তির অনুসারী হিসেবে দেখেছি। তিনি তাঁর আকিদাগত অনেক বিষয়ে এমন সব বিচ্ছিন্ন বক্তব্য ও অসার মতামতের দিকে ধাবিত হয়েছেন এবং তাঁর নির্ভরযোগ্য অনেক বিষয়ে এমন সব কাল্পনিক সংশয় ও অসার যুক্তির আশ্রয় নিয়েছেন যা অত্যন্ত দুর্বল। অনেক ক্ষেত্রে তিনি ইজমা লঙ্ঘন করেছেন, যে ব্যাপারে তাঁর আগে কেউ এমন কথা বলেনি এবং ইমামদের কেউ এ বিষয়ে তাঁর সাথে একমত হননি।

সার্বিকভাবে এটি একটি আশ্চর্যজনক ধরণ এবং অদ্ভুত গঠন; কখনো তিনি যা সমর্থন ও শক্তিশালী করতে চান, সেক্ষেত্রে এমন পথ অবলম্বন করেন...
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১৪)
المجتهدين فيكون مخطئاً في ذلك الاجتهاد ومرة يزعم فيما يقول ويدعيه أنه من جملة المقلدين،فيكون من قلده مخطئاً في ذلك الاعتقاد، نسأل الله سبحانه أن يلهمنا رشدنا ويرزقنا الهداية والسداد.

هذا ما أنه إن ذكر حديثاً مرفوعاً أو أثر موقوفاً وهو غير ثابت قبله إذا كان موافقاً لهواه، وإن كان ثابتاً رده إما بتأويل أو غيره إذا كان مخالفاً لهواه، وإن نقل عن بعض الأئمة الأعلام كمالك وغيره وما يوافق رأيه قبله، وإن كان مطعوناً فيه غير صحيح عنه، وإن كان مما يخالف رأيه رده ولم يقبله وإن كان صحيحاً ثابتاً عنه، وإن حكى شيئاً مما يتعلق بالكلام على الحديث وأحوال الرواة عن أحد من أئمة الجرح والتعديل كالإمام أحمد بن حنبل وأبي حاتم الرازي وأبي حاتم بن حبان البستي، وأبي جعفر العقيلي وأبي أحمد بن عدي، وأبي عبد الله الحاكم صاحب المستدرك، وأبي بكر البيهقي، وغيرهم من الحفاظ، وكان مخالفاً لما ذهب إليه، لم يقبل قوله ورده عليه وناقشه فيه.

وإن كان ذلك الإمام قد أصاب في ذلك القول ووافقه غيره من الأئمة عليه، وإن كان موافقاً لما صار إليه تلقاه بالقبول واحتج به واعتمد عليه، وإن كان ذلك الإمام قد خولف في ذلك القول ولم يتابعه غيره من الأئمة عليه، وهذا هو عين الجور والظلم وعدم القيام بالقسط، نسأل الله التوفيق ونعوذ به من الخذلان واتباع الهوى.

هذا مع أن حملة إعجابه برأيه، وغلبة اتباع هواه على أن نسب سوء الفهم والغلط في النقل إلى جماعة من العلماء الأعلام المعتمد عليهم في حكاية مذاهب الفقهاء وأخلاقهم وتحقيق معرفة الأحكام حتى زعم أن ما نقله الشيخ أبو زكريا النووي في شرح مسلم، عن الشيخ أبي محمد الجويني من النهي عن شد الرحال وإعمال المطي إلى غير المساجد الثلاثة كالذهاب إلى قبور الأنبياء والصالحين وإلى المواضع الفاضلة ونحو ذلك هو مما غلط فيه الشيخ أبي محمد، وإن ذلك وقع منه على سبيل الهوى والغفلة، قال: ولو قاله هو - يعني الشيخ أبا محمد أو غيره - ممن يقبل كلامه الغلط لحكمنا بغلطه وأنه لم يفهم مقصود الحديث.

فالنظر إلى كلام هذا المعترض المتضمن لرد النقل الصحيح بالرأي الفاسد، وأجمع بينه وبين ما حكاه عن شيخ الإسلام من الافتراء العظيم والإفك المبني والكذب الصراح، وهو ما نقله عنه من أنه جعل زيارة قبل النبي صلى الله عليه وسلم وقبور سائر الأنبياء عليهم السلام معصية بالإجماع مقطوعاً بها، هكذا ذكر هذا المعترض عن بعض قضاة الشافعية عن الشيخ أنه قال هذا القول الذي لا يشك عاقل من أصحابه وغير أصحابه أنه كذب مفترى لم يقله
মুজতাহিদগণের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন, ফলে তিনি সেই ইজতিহাদে ভুল করেন। আবার কখনও তিনি যা বলেন বা দাবি করেন সে বিষয়ে নিজেকে মুকাল্লিদদের অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করেন, এমতাবস্থায় তিনি যার তাকলীদ করেছেন তিনি সেই আকিদাগত বিষয়ে ভুল করেছেন। আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করেন এবং আমাদের হিদায়েত ও সঠিক পথে অটল থাকার তাওফিক দান করেন।

অবস্থা এই যে, তিনি যদি কোনো মারফূ হাদিস বা মাওকূফ আসার (বর্ণনা) উল্লেখ করেন যা প্রমাণিত নয়, তবে সেটি যদি তাঁর খেয়ালখুশির অনুকূলে হয় তবে তিনি তা গ্রহণ করেন। আর যদি সেটি প্রমাণিতও হয় কিন্তু তাঁর খেয়ালখুশির প্রতিকূলে যায়, তবে তিনি তা হয় ব্যাখ্যার মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো উপায়ে প্রত্যাখ্যান করেন। যদি তিনি ইমাম মালিক বা অন্যান্য প্রখ্যাত ইমামদের থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেন যা তাঁর মতের অনুকূলে, তবে তিনি তা গ্রহণ করেন—যদিও তা ইমামের সূত্রে ত্রুটিযুক্ত বা সহিহ না হয়। আর যদি তা তাঁর মতের বিরোধী হয়, তবে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং গ্রহণ করেন না—যদিও তা ইমামের সূত্রে সহিহ ও প্রমাণিত হয়। তিনি যদি হাদিসের সমালোচনা বা বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে জারহ ও তাদীল-এর কোনো ইমাম থেকে কিছু বর্ণনা করেন—যেমন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, আবু হাতিম আল-রাজি, আবু হাতিম ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি, আবু জাফর আল-উকাইলি, আবু আহমাদ ইবনে আদি, আল-মুস্তাদরাক প্রণেতা আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম, আবু বকর আল-বায়হাকি এবং অন্যান্য হাফেজগণের থেকে—এবং তা যদি তাঁর গৃহীত মতের পরিপন্থী হয়, তবে তিনি তাঁদের কথা গ্রহণ করেন না, বরং তা তাঁদের দিকেই ফিরিয়ে দেন এবং সে বিষয়ে তাঁদের সাথে তর্কে লিপ্ত হন।

যদিও সংশ্লিষ্ট ইমাম সেই কথায় সঠিক ছিলেন এবং অন্য ইমামগণও তাঁর সাথে একমত হয়েছিলেন। আবার যা তাঁর নিজের পছন্দের মতের অনুকূলে হয়, তবে তিনি তা সানন্দে গ্রহণ করেন, তা দিয়ে দলিল পেশ করেন এবং তার ওপর নির্ভর করেন—যদিও সেই ইমামের সেই কথার বিরোধিতা করা হয়ে থাকে এবং অন্য কোনো ইমাম তাঁর অনুসরণ না-ও করে থাকেন। আর এটাই হলো চরম অবিচার, জুলুম এবং ইনসাফের পথে প্রতিষ্ঠিত না থাকা। আমরা আল্লাহর কাছে তাওফিক প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে সাহায্যহীনতা ও কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে আশ্রয় চাই।

এর সাথে সাথে নিজের মতামতের প্রতি অত্যধিক মুগ্ধতা এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণের আধিক্য তাকে বাধ্য করেছে ফকিহদের মাযহাব ও তাঁদের আদর্শ বর্ণনা এবং আহকামের তাহকীক বা গবেষণার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য প্রখ্যাত একদল ওলামায়ে কেরামের প্রতি ভুল বুঝাবুঝি ও ভুল বর্ণনার অপবাদ দিতে। এমনকি তিনি দাবি করেছেন যে, শাইখ আবু জাকারিয়া আন-নববী 'শরহে মুসলিম'-এ শাইখ আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি থেকে তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে যেমন আম্বিয়া ও নেককার বান্দাদের কবরের দিকে অথবা ফযিলতপূর্ণ স্থানের দিকে সফরের উদ্দেশ্যে বাহন প্রস্তুত করার যে নিষেধাজ্ঞার কথা বর্ণনা করেছেন, তা শাইখ আবু মুহাম্মদের ভুল। এবং এটি তাঁর পক্ষ থেকে খেয়ালখুশি ও অসতর্কতাবশত ঘটেছে। তিনি বলেছেন: যদি তিনি (অর্থাৎ শাইখ আবু মুহাম্মদ) অথবা অন্য কেউ যাঁর কথা গ্রহণ করা হয় এমন ভুল কথা বলতেন, তবে আমরা সেটাকে ভুল হিসেবেই ফয়সালা দিতাম এবং বলতাম যে তিনি হাদিসের উদ্দেশ্যই বুঝতে পারেননি।

সুতরাং এই আপত্তিকারীর কথার দিকে লক্ষ্য করুন যা ভ্রান্ত মতামতের মাধ্যমে সহিহ বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করার শামিল। আর তার সেই বক্তব্যের সাথে শাইখুল ইসলাম সম্পর্কে তার সেই ভয়াবহ অপবাদ, বানোয়াট অপপ্রচার এবং প্রকাশ্য মিথ্যার তুলনা করুন—যা সে তাঁর নামে বর্ণনা করেছে যে, তিনি নাকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর এবং অন্যান্য আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের কবর জিয়ারত করাকে সর্বসম্মতভাবে নিশ্চিত গুনাহের কাজ সাব্যস্ত করেছেন। এভাবেই এই আপত্তিকারী জনৈক শাফেঈ কাজীর সূত্রে শাইখের ব্যাপারে এমন কথা উল্লেখ করেছেন, যে বিষয়ে তাঁর অনুসারী বা অন্য কোনো সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মানুষের মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে এটি একটি ডাহা মিথ্যা ও অপবাদ, যা তিনি কখনও বলেননি।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১৫)
قط، ولا يوجد شيء من كتبه ولا دل كلامه عليه، بل كتبه كلها ومناسكه وفتاويه وأقواله وأفعاله تشد ببطلان هذا النقل عنه، ومن له أدنى علم وبصيرة يقطع بأن هذا مفتعل مختلق على الشيخ وأنه لم يقله قط، وقد قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} (الحجرات 6) .

وهذا المعترض يعلم أن ما نقله هذا القاضي المشهور بما لا أحب حكايته عنه في هذا المقام عن شيخ الإسلام من هذا الكلام كذب مفترى، لا يرتاب في ذلك ولكنه يطفف، ويداهن ويقول بلسانه ما ليس في قلبه.

ولقد أخبرني الثقة أنه ألف هذا الكتاب لما كان بمصر قبل أن يلي القضاء بالشام بمدة كبيرة ليتقرب به إلى القاضي الذي حكى عنه هذا الكذب ويحظى لديه فخاب أمله ولم ينفق عنده، وقد كان هذا القاضي الذي جمع المعترض كتابه هذا لأجله من أعداء الشيخ المشهورين.

وقد زعم هذا المعترض أيضاً مع هذا الأمر الفظيع الذي ارتكبه من التكذيب بالتصديق، والتصديق بالكذب أن الفتاوى المشهورة التي أجاب بها علماء أهل بغداد موافقة للشيخ، مختلفة موضوعة وضعها بعض الشياطين، هكذا زعم مع علم الخاص والعام بأن هذه الفتاوى مما شاع خبره وذاع واشتهر أمرها وانتشر، وهي صحيحة ثابتة متواترة عمن أفتى بها من العلماء.

وقد رأيت أنا وغيري خطوطهم بها، فانظري إلى تكذيب هذا المعترض بما لم يحط به علماً، وجراءته على إنكار ما اشتهر وتواتر وكيف يحل لمن ينتسب إلى شيء من الدين أن ينسب أمراً مقطوعاً بكذبة إلى من لم يقله، ويقدح في أمر مشاهد مقطوع بصحته ويزعم أنه مختلق من بعض الشياطين هذه عثرة لا تقال، وله مثلها كثيراً، {وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ} (النور 40) .

فلما وقفت على هذا الكتاب المذكور أحببت أن أنبه على بعض ما وقع فيه من الأمور المنكرة والأشياء المردودة، وخلط الحق بالباطل لئلا يغتر بذلك بعض من يقف عليه ممن لا خبرة له بحقائق الدين، مع أن كثيراً مما فيه من الوهم والخطأ يعرفه خلق من المبتدئين في العلم بأدنى تأمل ولله الحمد، ولو نوقش مؤلف هذا الكتاب على جميع ما اشتمل عليه من الظلم والعدوان والخطأ والخبط والتخليط والغلو والتشنيع والتلبيس، لطال
কখনই না, এবং তাঁর কোনো কিতাবে এমন কিছুর অস্তিত্ব নেই এবং তাঁর কোনো কথা এর ওপর প্রমাণ দেয় না। বরং তাঁর সকল কিতাব, হজ্জের নিয়মাবলী বিষয়ক গ্রন্থ, ফাতাওয়া, কথা এবং কাজ তাঁর থেকে বর্ণিত এই বিষয়ের অসারতাকেই জোরালোভাবে প্রমাণ করে। যার সামান্যতম জ্ঞান ও প্রজ্ঞা আছে, সে নিশ্চিতভাবে জানবে যে এটি শায়খের বিরুদ্ধে একটি বানোয়াট ও মিথ্যে রটনা এবং তিনি তা কখনোই বলেননি। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও; পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসো এবং পরে তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হও} (আল-হুজুরাত ৬)।

আর এই আপত্তিকারী জানেন যে, শায়খুল ইসলাম সম্পর্কে এই প্রখ্যাত কাজী যা বর্ণনা করেছেন—যা আমি এই স্থানে উল্লেখ করতে পছন্দ করি না—তা একটি ডাহা মিথ্যা ও অপবাদ। এ বিষয়ে তাঁর কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু তিনি সত্য গোপন করছেন, তোষামোদ করছেন এবং মুখে এমন কথা বলছেন যা তাঁর অন্তরে নেই।

একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে, সিরিয়ার বিচারপতির দায়িত্ব পাওয়ার অনেক আগে যখন তিনি মিসরে ছিলেন, তখন তিনি এই কিতাবটি রচনা করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল সেই কাজীর নৈকট্য লাভ করা যিনি এই মিথ্যাটি বর্ণনা করেছিলেন এবং তাঁর কাছে প্রিয় হওয়া। কিন্তু তাঁর সেই আশা ব্যর্থ হয়েছে এবং তাঁর কিতাবটি সেখানে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। আর সেই কাজী, যার সন্তুষ্টির জন্য এই আপত্তিকারী তাঁর কিতাবটি সংকলন করেছিলেন, তিনি ছিলেন শায়খের সুপরিচিত শত্রুদের একজন।

এই আপত্তিকারী সত্যকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা এবং মিথ্যাকে সত্য সাব্যস্ত করার মতো জঘন্য কাজ করার পাশাপাশি আরও দাবি করেছেন যে, বাগদাদের আলেমগণ শায়খের সমর্থনে যেসব বিখ্যাত ফাতাওয়া দিয়েছিলেন, সেগুলো বানোয়াট ও জাল এবং কোনো শয়তান তা তৈরি করেছে। তিনি এমন দাবি করেছেন অথচ সাধারণ ও বিশিষ্ট সকল মানুষই জানেন যে, এই ফাতাওয়াগুলো বহুল প্রচারিত ও সুপ্রসিদ্ধ এবং এর সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ফাতাওয়াগুলো সেসব আলেমদের থেকে সহীহ, প্রমাণিত এবং মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত যারা এগুলো দিয়েছিলেন।

আমি এবং অন্যরাও তাতে তাঁদের নিজ হাতের লেখা দেখেছি। সুতরাং এই আপত্তিকারীর সেই বিষয়কে মিথ্যা সাব্যস্ত করার প্রতি লক্ষ করুন যে সম্পর্কে তাঁর কোনো জ্ঞান নেই, এবং প্রসিদ্ধ ও মুতাওয়াতির বিষয়কে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তাঁর ধৃষ্টতা দেখুন। দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তির জন্য কীভাবে এটি বৈধ হতে পারে যে, সে এমন একটি বিষয় যার মিথ্যা হওয়া নিশ্চিত, তাকে এমন একজনের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করবে যিনি তা বলেননি? এবং সে এমন একটি প্রত্যক্ষ বিষয়ের সমালোচনা করবে যার বিশুদ্ধতা নিশ্চিত এবং দাবি করবে যে এটি কোনো শয়তানের কারসাজি! এটি এমন এক পদস্খলন যার কোনো ক্ষমা নেই, আর তাঁর এমন পদস্খলন আরও অনেক রয়েছে। {আর আল্লাহ যাকে নূর দান করেন না, তার জন্য কোনো নূর নেই} (আন-নূর ৪০)।

যখন আমি উল্লিখিত এই কিতাবটি সম্পর্কে অবগত হলাম, তখন আমি এতে বিদ্যমান কিছু আপত্তিকর বিষয়, প্রত্যাখ্যানযোগ্য বস্তু এবং সত্য ও মিথ্যার সংমিশ্রণের ব্যাপারে সতর্ক করা পছন্দ করলাম; যাতে দ্বীনের প্রকৃত সত্য সম্পর্কে জ্ঞান নেই এমন কেউ এটি পড়ে বিভ্রান্ত না হয়। যদিও এতে বিদ্যমান অনেক বিভ্রান্তি ও ভুল ইলম অন্বেষণের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরাও সামান্য চিন্তা করলেই বুঝতে পারবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আর এই কিতাবের লেখককে যদি তাঁর বইয়ে বিদ্যমান সমস্ত জুলুম, সীমালঙ্ঘন, ভুল, বিশৃঙ্খলা, সংমিশ্রণ, অতিরঞ্জন, কুৎসা এবং প্রতারণার জন্য জবাবদিহি করা হতো, তবে তা অনেক দীর্ঘ হতো।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১৬)
الخطاب ولبلغ الجواب مجلدات ولكن التنبيه على القليل مرشد إلى معرفة الكثير لمن له أدنى فهم والله المستعان.

وقد أطال مؤلف هذا الكتاب فيه بذكر الأسانيد وتكرارها منه إلى مؤلفي الكتب كالطبراني والدارقطني وغيرهما، وحشد فيه بتعداد الطرق إليهم والرواية بالإجازات المركب بعضها على بعض والرفع في أنساب خلق من المتأخرين، وذكر طباق السماع وأسماء السامعين ونحو ذلك مما يكبر به حجم الكتاب، وليس إلى ذكره كبير حاجة مع اختصاره ذكر الأسانيد وحذفها في أماكن لا يليق حذفها فيها، هذا مع سرده كلام الحنفية والمالكية والشافعية والحنابلة ونقل عنهم من مناسكهم وغير مناسكهم استحباب زيارة قبل النبي صلى الله عليه وسلم وزعمه أن الشيخ يخالفهم فيما قالواه، مع العلم بأنه موافق لهم فيما نقل عنهم لا مخالف لهم، وإنما مقصود هذا المعترض تكثير الكلام، وجمع ما أمكن ليعظم حجم الكتاب.

ثم أنه عقد باباً للكلام في التوسل والاستغاثة وزعم أن الشيخ قال في ذلك قولاً لم يقله عالم قبله، وصار به بين أهل الإسلام مثله، ثم أخذ يخبر عنه بما لا استحسن ذكره في هذا الموضع.

والحاصل: أنه وقع في كلامه من التناقض وسوء الأدب والاحتجاج بما لا يصلح أن يكون حجة ما سننبه على بعضه إن شاء الله تعالى.

ثم عقد لحياة الأنبياء في قبورهم باباً؛ وسرد الأحاديث المروية في ذلك من الجزء الذي جمعه البيهقي ومن غيره، ووقع في كلامه من التأويلات البعيدة والاحتمالات المرجوحة، ما يحتاج إلى نظر كثير.

ثم ذكر الأحاديث الواردة في سماع الموتى وكلامهم وإدراكهم وعود الروح إلى البدن وما يتبع ذلك ثم أشار إلى اختلاف المتكلمين وغيرهم في ماهية الروح وحقيقتها وتكلم في ذلك بكلام لا تحقيق فيه ولا حاجة إليه.

ثم ذكر أحاديث الشافعية وأنواعها وما ورد في بعض أحوال يوم القيامة وذكر جملة من كلام القاضي عياض فيما يتعلق بشرح ذلك.

ثم ختم الكتاب بجمع الألفاظ الواردة في كيفية الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، وكان قد ذكر قبل ذلك بعدة أوراق كلاماً يشير فيه إلى التشنيع على شيخ الإسلام وهو قوله:

"لا
সম্বোধন এবং উত্তরের ব্যাপ্তি খণ্ড খণ্ড কিতাব পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত, তবে সামান্য বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করাই অধিকতর বিষয়ের পরিচায়ক হয় তার জন্য যার ন্যূনতম বোধশক্তি রয়েছে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

এই বইটির লেখক এতে তাবারানি, দারাকুতনি এবং অন্যান্য কিতাবের লেখকদের পর্যন্ত সনদসমূহের বর্ণনা এবং সেগুলোর পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে আলোচনা দীর্ঘ করেছেন। তিনি তাঁদের পর্যন্ত পৌঁছানোর সূত্রসমূহ গণনায় জড়ো করেছেন এবং একে অপরের ওপর নির্ভরশীল এজাজতের বর্ণনা এবং পরবর্তীদের অনেকের বংশপরম্পরা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া শ্রবণের স্তরসমূহ এবং শ্রোতাদের নাম ও অনুরূপ বিষয়াদি উল্লেখ করেছেন যার ফলে কিতাবের কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ সনদসমূহ সংক্ষিপ্ত করা এবং এমন সব স্থানে তা বিলুপ্ত করা—যেখানে তা বিলুপ্ত করা সমীচীন নয়—সেসবের পাশাপাশি এই বিষয়গুলো উল্লেখ করার খুব একটা প্রয়োজন ছিল না। এর সাথে তিনি হানাফি, মালিকি, শাফিঈ এবং হাম্বলিদের বক্তব্য ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের হজের নিয়মাবলি ও অন্যান্য উৎস থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর জিয়ারত মুস্তাহাব হওয়ার কথা উদ্ধৃত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, শাইখ (ইবনে তাইমিয়্যাহ) তাঁদের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন, অথচ এটি জানা কথা যে, শাইখ তাঁদের থেকে যা উদ্ধৃত করা হয়েছে সে বিষয়ে তাঁদের সাথে একমত, তাঁদের বিরোধী নন। প্রকৃতপক্ষে এই আপত্তিকারীর উদ্দেশ্য হলো কথা দীর্ঘ করা এবং যতটা সম্ভব তা একত্র করা যাতে কিতাবের কলেবর বিশাল হয়।

এরপর তিনি তাওয়াসসুল ও ইস্তিগাসা (সাহায্য প্রার্থনা) সম্পর্কে আলোচনার জন্য একটি অধ্যায় রচনা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, শাইখ এ বিষয়ে এমন কথা বলেছেন যা তাঁর আগে কোনো আলেম বলেননি এবং এর মাধ্যমে তিনি আহলে ইসলামের মাঝে এক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এরপর তিনি শাইখ সম্পর্কে এমন সব খবর দিতে শুরু করেছেন যা এই স্থানে উল্লেখ করা আমি সমীচীন মনে করি না।

সারকথা হলো: তাঁর বক্তব্যে এমন সব স্ববিরোধিতা, শিষ্টাচারহীনতা এবং এমন সব বিষয় দিয়ে দলিল পেশ করা হয়েছে যা দলিল হওয়ার যোগ্য নয়, ইনশাআল্লাহ আমরা তার কিছু বিষয়ের প্রতি সতর্ক করব।

এরপর তিনি কবরে নবীদের জীবন সম্পর্কে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন; এবং ইমাম বায়হাকি সংকলিত পুস্তিকা ও অন্যান্য উৎস থেকে এ সংক্রান্ত বর্ণিত হাদিসগুলো ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে এমন সব দূরভীসন্ধিমূলক ব্যাখ্যা এবং অগ্রহণযোগ্য সম্ভাবনা স্থান পেয়েছে যা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এরপর তিনি মৃতদের শ্রবণ, তাদের কথাবার্তা, তাদের উপলব্ধি এবং দেহে রূহ ফিরে আসা ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি রূহের সারসত্তা ও হাকিকত সম্পর্কে মুতাকাল্লিমিন ও অন্যদের মতভেদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং এ বিষয়ে এমন কথা বলেছেন যাতে কোনো সূক্ষ্ম গবেষণা নেই এবং তার কোনো প্রয়োজনও ছিল না।

এরপর তিনি শাফায়াত বিষয়ক হাদিসসমূহ ও এর প্রকারভেদ এবং কিয়ামত দিবসের কিছু অবস্থা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তিনি এর ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট কাজি ইয়াজের বক্তব্যের একটি অংশ উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের পদ্ধতি সম্পর্কে বর্ণিত শব্দাবলি একত্র করার মাধ্যমে কিতাবটি সমাপ্ত করেছেন। এর কয়েক পৃষ্ঠা আগে তিনি এমন কিছু কথা উল্লেখ করেছিলেন যাতে শাইখুল ইসলামের প্রতি নিন্দাবাদ জানানো হয়েছে, আর তা হলো তাঁর এই বক্তব্য:

"না
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১৭)
شك أن من قال: لا يزار، أولا يسافر لزيارته أولا يستغاث به بعيد عن الأدب معه نسأل الله العافية ".

وليعلم: قبل الشروع في الكلام مع هذا المعترض أن شيخ الإسلام رحمه الله لم يحرم زيارة القبور على الوجه المشروع في شيء من كتبه، ولم ينه عنها، ولم يكرها بل استحبها، وحض عليها. ومناسكه ومصنفاته طافحة بذكر استحباب زيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم وسائر القبور.

قال [شيخ الإسلام] رحمه الله تعالى في بعض مناسكه:

باب زيارة قبل النبي صلى الله عليه وسلم

إذا أشرف على مدينة النبي صلى الله عليه وسلم قبل الحج، أو بعده فليقل ما تقدم، فإذا دخل استحب له أن يغتسل (1) ، نص عليه الإمام أحمد، فإذا دخل المسجد بدأ برجه اليمنى (2) ، وقال: بسم الله والصلاة والسلام على رسول الله، اللهم اغفر لي ذنوبي وافتح لي أبواب رحمتك (3) ، ثم يأتي الروضة بين القبر والمنبر فيصلي بها ويدعو بما شاء، ثم يأتي قبل النبي صلى الله عليه وسلم فيستقبل جدار القبر ولا يمسه، ولا يقبله، ويجعل القنديل الذي في القبة عند القبر على رأسه فيكون قائماً وجاه النبي صلى الله عليه وسلم، ويقف متباعداً كما يقف ل ظهر في حياته بخشوع وسكون منكس الرأس (4) ، غائض الطرف، مستحضراً بقلبه جلالة موقفه ثم يقول: السلام عليك يا رسول الله ورحمة الله وبركاته، السلام عليك يا نبي الله وخيرته من خلقه، السلام عليك يا سيد المرسلين، وخاتم النبيين وقائد الغر المحجلين، أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أنك رسول الله وأشهد أنك قد بلغت رسالات ربك ونصحت لأمتك ودعوت إلى سبيل ربك بالحكمة والموعظة الحسنة، وعبدت الله حتى أتاك اليقين، فجزاك الله أفضل ما جزى نبياً ورسولاً عن أمته، اللهم أته الوسيلة والفضيلة وابعثه الله مقاماً محموداً الذي وعدته بغبطة به الأولون والآخرون، اللهم صل على محمد وعلى آل محمد

--------------------------------------------

(1) هذا دليل عليه فيما أعلم.

(2) الحديث الذي جاء نصاً في هذه المسألة ضعيف وقد بينت سبب ضعفه في رسالتي (اتحاف الراكع الساجد بأذكار الدخول والخروج من المساجد) ولكن يستدل بحديث عائشة: (كان يعجبه التيامن في شأنه كله) وهو عام.

(3) راجع رسالتنا السالفة الذكر.

(4) بل يكون في حالة طبيعية مع استشعار مكانة النبي عليه الصلاة والسلام فما كان جميع الصحابة يدخلون منكسي الرؤوس.
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যারা বলে: তাঁকে যিয়ারত করা যাবে না, অথবা তাঁর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে না, অথবা তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা যাবে না, তারা তাঁর প্রতি শিষ্টাচার প্রদর্শনের ক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি।

জেনে রাখা উচিত: এই আপত্তিকারীর সাথে আলোচনা শুরু করার আগে যে, শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কোনো কিতাবই শরীয়তসম্মত পন্থায় কবর যিয়ারতকে হারাম করেননি, তা থেকে নিষেধও করেননি এবং একে অপছন্দও করেননি; বরং তিনি একে মুস্তাহাব বলেছেন এবং এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তাঁর হজ্জের নিয়মাবলী বিষয়ক গ্রন্থসমূহ ও অন্যান্য রচনাবলী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর এবং অন্যান্য কবর যিয়ারত মুস্তাহাব হওয়ার আলোচনায় ভরপুর।

[শাইখুল ইসলাম] (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) তাঁর হজ্জের কোনো এক গ্রন্থে বলেছেন:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর যিয়ারত অধ্যায়

হজ্জের আগে বা পরে যখন কেউ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মদীনার সন্নিকটে পৌঁছাবে, তখন সে আগে যা বর্ণিত হয়েছে তা বলবে। যখন সে প্রবেশ করবে, তখন তার জন্য গোসল করা মুস্তাহাব (১), ইমাম আহমাদ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। যখন সে মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে তার ডান পা দিয়ে প্রবেশ শুরু করবে (২) এবং বলবে: আল্লাহর নামে শুরু করছি, এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন (৩)। এরপর সে কবর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী রওজায় আসবে এবং সেখানে সালাত আদায় করবে ও যা ইচ্ছা দুআ করবে। এরপর সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরের সামনে আসবে এবং কবরের দেয়ালের দিকে মুখ করে দাঁড়াবে, তবে তা স্পর্শ করবে না এবং তাতে চুমু খাবে না। গম্বুজের যে প্রদীপটি কবরের কাছে রয়েছে, তা যেন তার মাথার সোজা উপরে থাকে এমনভাবে দাঁড়াবে যাতে সে সরাসরি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখোমুখি হয়। সে দূরে দাঁড়িয়ে থাকবে যেমনভাবে তাঁর জীবিত অবস্থায় তাঁর সামনে দাঁড়াত—অত্যন্ত বিনয় ও প্রশান্তির সাথে মস্তক অবনত করে (৪), দৃষ্টি নিচু রেখে এবং হৃদয়ে তাঁর অবস্থানের মহিমা উপলব্ধি করে। এরপর সে বলবে: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। হে আল্লাহর নবী এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত ব্যক্তি! আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। হে রাসূলগণের সরদার, নবীগণের সমাপ্তিকারী এবং কিয়ামতের দিন উজ্জ্বল হাত-পা বিশিষ্ট মুমিনদের নেতা! আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রাসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আপনার রবের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আপনার উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আপনার রবের পথের দিকে আহ্বান করেছেন। আপনি মৃত্যু আসা পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদত করেছেন। আল্লাহ আপনাকে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো নবী বা রাসূলকে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে যে প্রতিদান দেওয়া হয় তার মধ্যে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। হে আল্লাহ! তাঁকে ওসীলা ও মর্যাদা দান করুন এবং তাঁকে সেই মাকামে মাহমুদে পৌঁছে দিন যার ওয়াদা আপনি তাঁকে করেছেন, যা দেখে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলেই ঈর্ষা করবে। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের ওপর সালাত বর্ষণ করুন।

--------------------------------------------

(১) আমার জানা মতে এর কোনো দলিল নেই।

(২) এই বিষয়ে সরাসরি বর্ণিত হাদীসটি দুর্বল। আমি আমার 'ইতহাফুর রাকিইস সাজিদ বি-আযকারিদ দুখুলি ওয়াল খুরুজি মিনাল মাসাজিদ' নামক পুস্তিকায় এর দুর্বলতার কারণ বর্ণনা করেছি। তবে আয়েশার হাদীস দ্বারা দলিল গ্রহণ করা যায় যে: 'তিনি তাঁর প্রতিটি কাজে ডান দিক পছন্দ করতেন', যা একটি সাধারণ বর্ণনা।

(৩) আমাদের পূর্বোক্ত পুস্তিকাটি দেখুন।

(৪) বরং নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর মর্যাদা উপলব্ধি করার সাথে সাথে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকবে, কারণ সকল সাহাবী মাথা নিচু করে প্রবেশ করতেন না।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১৮)
كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد، اللهم بارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد، اللهم احشرنا في زمرته، وتوفنا على سنته، وأوردنا حوضه وأسقنا بكأسه مشرباً روياً لا نظمأ بعده أبداً (1) .

ثم يأتي أبا بكر وعمر رضي الله عنهما فيقول: السلام عليك يا أبا بكر الصديق، السلام عليك يا عمر الفاروق، السلام عليكما يا صاحبي رسول الله صلى الله عليه وسلم وضجيعيه ورحمة الله وبركاته، جزاكما الله عن صحبة نبيكما وعن الإسلام خيراً، سلام عليكم بما صبرتم فنعم عقبى الدار (2) .

قال ويزور قبور أهل البقيع وقبور الشهداء إن أمكن.

هذا كلام الشيخ رحمه الله بحروفه، وكذلك سائر كتبه ذكر فيها استحباب زيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم وسائر القبور، ولم ينكر زيارتها في موضع من المواضع، ولا ذكر في ذلك خلافاً إلا نقلاً عن غريباً ذكره في بعض كتبه عن بعض التابعين.

وإنما تكلم عن مسألة شد الرحال وإعمال المطي إلى مجرد زيارة القبور، وذكر في ذلك قولين للعلماء المتقدمين والمتأخرين.

أحدهما: القول بإباحة ذلك كما يقول بعض أصحاب الشافعي وأحمد.

والثاني: إنه منهي عنه كما نقص عليه إمام دار الهجرة مالك بن أنس، ولم ينقل عن أحد من الأئمة الثلاثة خلاف، وإليه ذهب جماعة من أصحاب الشافعي وأحمد.

وهكذا ذكر الشيخ الخلاف في شد الرحال وإعمال المطي إلى القبور، ولم يذكره في الزيارة الخالية عن شد رحل وإعمال مطي (3) ، والسفر إلى زيارة القبور مسألة، وزيارتها من غير سفر مسألة أخرى، ومن خلط هذه المسألة بهذه المسألة جعلها مسألة واحدة وحكم عليهما بحكم واحد وأخذ في التشنيع على من فرق بينهما وبالغ في التغيير عنه فقد حرم التوفيق، وحاد عن سواء الطريق.

واحتج الشيخ لمن قال بمنع شد الرحال وإعمال المطي إلى القبور بالحديث

--------------------------------------------

(1) وهذا الذكر الذي أتى به هنا ليس بملزم بل له أن يأتي بغيره.

(2) وهذا أيضاً ليس بملزم.

(3) يعني أنه هذا مشروعه.
যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের উপর, নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ, আপনি বরকত দান করুন মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের উপর, যেমন আপনি বরকত দান করেছেন ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের উপর, নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ, আমাদের তাঁর দলের অন্তর্ভুক্ত করে পুনরুত্থিত করুন, আমাদের তাঁর সুন্নতের ওপর মৃত্যু দান করুন, আমাদের তাঁর হাউজে উপনীত করুন এবং তাঁর পেয়ালা থেকে এমন তৃপ্তিদায়ক পানীয় পান করান যার পর আমরা আর কখনও তৃষ্ণার্ত হব না (১)।

এরপর সে আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কাছে আসবে এবং বলবে: আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে আবু বকর সিদ্দিক, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে উমর ফারুক, আপনাদের উভয়ের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দুই সাথী ও তাঁর পাশে শায়িত দুই জন, এবং আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আপনাদের নবীর সাহচর্য ও ইসলামের খেদমতের জন্য আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন। তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক যেহেতু তোমরা ধৈর্য ধারণ করেছ, পরিণামস্বরূপ পরকালীন গৃহ কতই না চমৎকার (২)।

তিনি বলেন: এবং সম্ভব হলে জান্নাতুল বাকিবাসী ও শহীদদের কবর যিয়ারত করবে।

এগুলো হলো শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর হুবহু কথা। অনুরূপভাবে তাঁর অন্যান্য কিতাবেও তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবর ও অন্যান্য কবর যিয়ারতের মুস্তাহাব হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি কোনো স্থানেই যিয়ারতকে অস্বীকার করেননি এবং এ বিষয়ে কোনো মতবিরোধও উল্লেখ করেননি, কেবল জনৈক বিরল ব্যক্তি থেকে বর্ণিত বর্ণনা ছাড়া যা তিনি তাঁর কোনো কোনো কিতাবে কোনো কোনো তাবিঈর সূত্রে উল্লেখ করেছেন।

তিনি মূলত কেবল কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা ও বাহন চালনার মাসআলা নিয়ে কথা বলেছেন এবং এ বিষয়ে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের দুটি অভিমত উল্লেখ করেছেন।

একটি হলো: এটি বৈধ হওয়ার অভিমত, যেমনটি শাফেঈ ও আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর কোনো কোনো অনুসারী বলেন।

দ্বিতীয়টি হলো: এটি নিষিদ্ধ, যেমনটি দারুল হিজরতের ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহিমাহুল্লাহ) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। অন্য তিন ইমামের কারোর পক্ষ থেকে এর বিপরীত কিছু বর্ণিত হয়নি। শাফেঈ ও আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর একদল অনুসারী এই অভিমতই গ্রহণ করেছেন।

এভাবেই শাইখ কবরের উদ্দেশ্যে সফর করা ও বাহন চালনার ব্যাপারে মতবিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সফর ও বাহন চালনা বিহীন সাধারণ যিয়ারতের ক্ষেত্রে তিনি কোনো মতবিরোধ উল্লেখ করেননি (৩)। যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা একটি মাসআলা, আর সফর ছাড়া যিয়ারত করা অন্য মাসআলা। যে ব্যক্তি এই মাসআলাকে ওই মাসআলার সাথে মিশিয়ে ফেলেছে এবং এগুলোকে একটিই মাসআলা বানিয়ে দিয়েছে এবং উভয়ের ওপর একই হুকুম প্রয়োগ করেছে, আর যে ব্যক্তি এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য করে তার প্রতি নিন্দা শুরু করেছে এবং তার সমালোচনা করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে, সে সঠিক তাওফিক থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।

শাইখ কবরের উদ্দেশ্যে সফর ও বাহন চালনা নিষিদ্ধকারীদের পক্ষে হাদিস দিয়ে দলীল পেশ করেছেন—

--------------------------------------------

(১) এখানে তিনি যে যিকিরটি উল্লেখ করেছেন তা আবশ্যক নয়, বরং চাইলে অন্য যিকিরও করা যেতে পারে।

(২) এটিও আবশ্যক নয়।

(৩) অর্থাৎ, এটিই তাঁর নিকট শরিয়তসম্মত।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ১৯)
المشهور المتفق على صحته من حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: مسجدي هذا، والمسجد الحرام، والمسجد الأقصى)) (1) ، هكذا خرجه البخاري ومسلم في صحيحيهما بصيغة الخبر لا تشد الرحال، ومعنى الخبر في هذا معنى النهي، يبين ذلك ما رواه مسلم في صحيحه من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((لا تشدوا الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد مسجدي هذا والمسجد الحرام والمسجد الأقصى)) (2) ، هكذا رواه مسلم بصيغة النهي، ورواه الإمام إسحاق بن راهويه في مسنده (3) ، بصيغة الحصر: ((إنما تشد الرحال إلى ثلاثة مساجد مسجد إبراهيم ومسجد محمد ومسجد بيت المقدس)) .

وقد روي عبد الله بن عمر رضي الله عنهما هذا الحديث أيضاً عن النبي صلى الله عليه وسلم بصيغة الني: ((لا تشدوا الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد مسجد الحرام ومسجد المدينة ومسجد بيت المقدس)) .

هذا هو الذي فعل الشيخ: حكى الخلاف في مسألة بين العلماء واحتج لأحد القولين بحديث متفق على صحته، فأي عتب عليه في ذلك؟ ولكن نعوذ بالله من الحسد والبغي واتباع الهوى، والله سبحانه المسئول أن يوفقنا وإخواننا المسلمين لما يحبه ويرضاه من العمل الصالح والقول الجميل؛ فإنه يقول الحق وهو يهدي السبيل، وينفعنا وسائر المسلمين بما يستعملنا به من الأقوال والأفعال، ويجعله موافقاً لشرعته خالصاً لوجهه موصلاً إلى أفضل حال، وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب؛ ولا حول ولا قوة إلا بالله العزيز الحكيم.

وهذا حين الشروع في مناقشة هذا المعترض على شيخ الإسلام وبالله التوفيق قال في أول كتابه الذي جمعه:

الحمد لله من علينا برسوله، وهدانا إلى سواء سبيله، وأمرنا بتعظيمه وتكريمه

--------------------------------------------

(1) حديث أبي هريرة: (لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد: مسجدي هذا والمسجد الحرام والمسجد الأقصى) البخاري 3/63 الفتح، ومسلم متن 2/975-976، من حديث أبي سعيد و 2/1014 من حديث ابي هريرة

(2) حديث أبي سعيد الخدري (لا تشدوا الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد مسجدي هذا والمسجد الحرام والمسجد الأقصى) مسلم 2/976 متن.

(3) مسند إسحاق بن راهويه يوجد منه جزء وبقيته مفقود من زمن الحافظ ابن حجر رحمه الله تعالى والقسم الموجود منه رأيته عند شيخنا حسن بن حيدر حفظه الله تعالى.
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে হাদীসটির বিশুদ্ধতার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে, তাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনোটির উদ্দেশ্যে সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা যাবে না: আমার এই মসজিদ, মসজিদুল হারাম এবং মসজিদুল আকসা)) (১)। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম তাঁদের সহীহদ্বয়ে সংবাদসূচক বাক্যে এভাবেই বর্ণনা করেছেন যে, 'সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয় না'। এখানে সংবাদসূচক বাক্যের অর্থ হলো নিষেধ। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়; যেখানে তিনি বলেছেন: ((তোমরা তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনোটির উদ্দেশ্যে সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করো না: আমার এই মসজিদ, মসজিদুল হারাম এবং মসজিদুল আকসা)) (২)। ইমাম মুসলিম এটি নিষেধসূচক বাক্যে বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ তাঁর মুসনাদে (৩) সীমাবদ্ধতাসূচক বাক্যে বর্ণনা করেছেন: ((নিশ্চয়ই কেবল তিনটি মসজিদের উদ্দেশ্যেই সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়: ইব্রাহীমের মসজিদ, মুহাম্মাদের মসজিদ এবং বাইতুল মাকদিস মসজিদ।))

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এই হাদীসটি নিষেধসূচক বাক্যে বর্ণনা করেছেন: ((তোমরা তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনোটির উদ্দেশ্যে সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করো না: মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদ এবং বাইতুল মাকদিস মসজিদ।))

শায়খ মূলত এটাই করেছেন: তিনি আলেমদের মধ্যকার একটি মাসআলায় মতভেদ উল্লেখ করেছেন এবং একটি সর্বসম্মত বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা দুই মতের একটির পক্ষে দলীল পেশ করেছেন। তাহলে এতে তাঁর প্রতি কোনো তিরস্কার কেন? তবে আমরা হিংসা, অনাচার ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। মহান আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের এবং আমাদের মুসলিম ভাইদেরকে সৎ আমল ও উত্তম কথার মাধ্যমে তা করার তাওফীক দান করেন যা তিনি ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। নিশ্চয়ই তিনি সত্য কথা বলেন এবং তিনি সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। তিনি যেন আমাদেরকে এবং সকল মুসলিমকে সেই সব কথা ও কাজের মাধ্যমে উপকৃত করেন যাতে তিনি আমাদের নিয়োজিত করেন এবং সেগুলোকে তাঁর শরীয়তের অনুগামী ও শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠ করেন, যা সর্বোত্তম অবস্থার দিকে নিয়ে যায়। আমার তাওফীক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে ফিরে যাই। আর মহান ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা নেই, কোনো শক্তি নেই।

এখন শাইখুল ইসলামের ওপর সেই আপত্তিকারীর আলোচনার পর্যালোচনার সূচনা করছি, আর আল্লাহর কাছেই তাওফীক প্রার্থনা করছি। তিনি তাঁর সংকলিত কিতাবের শুরুতে বলেছেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর রাসূলের মাধ্যমে আমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন, আমাদেরকে তাঁর সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং তাঁকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করার আদেশ দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) আবু হুরায়রার হাদীস: (তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনোটির উদ্দেশ্যে সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা যাবে না: আমার এই মসজিদ, মসজিদুল হারাম এবং মসজিদুল আকসা) বুখারী ৩/৬৩ ফাতহ, এবং মুসলিম মূলপাঠ ২/৯৭৫-৯৭৬, আবু সাঈদের হাদীস থেকে এবং ২/১০১৪ আবু হুরায়রার হাদীস থেকে।

(২) আবু সাঈদ খুদরীর হাদীস: (তোমরা তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনোটির উদ্দেশ্যে সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করো না: আমার এই মসজিদ, মসজিদুল হারাম এবং মসজিদুল আকসা) মুসলিম ২/৯৭৬ মূলপাঠ।

(৩) মুসনাদে ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-এর একটি অংশ বিদ্যমান রয়েছে এবং বাকি অংশ হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর সময় থেকেই নিখোঁজ। বিদ্যমান অংশটি আমি আমাদের শায়খ হাসান ইবনে হায়দার (হাফিযাহুল্লাহ)-এর নিকট দেখেছি।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ২০)
وتبجيله، وفرض على كل مؤمن أن يكون أحب إليه من نفسه وأبويه وخليله، وجعل اتباعه سبباً لمحبة الله وتفضيله، ونصب طاعته عاصمة من كيد الشيطان وتضليله، ويغني عن جملة القول وتفصيله،رفع ذكره وأثنى عليه في محكم الكتاب وتنزيله صلى الله عليه وسلم صلاة دائمة بدوام طلوع النجم وأفوله.

أما بعد: فهذا كتاب سميته: شفاء السقام في زيارة خير الأنام ورتبته على عشرة أبواب:

الأول: في الأحاديث الواردة في الزيارة.

الثاني: في الأحاديث الدالة على ذلك وإن لم يكن فيها لفظ الزيارة.

الثالث: فيما ورد في السفر إليها.

الرابع: في نصوص العلماء على استحبابها.

الخامس: في تقرير كونها قربة.

السادس: في كون السفر إليها قربة.

السابع: في دفع شبه الخصم وتتبع كلماته.

الثامن: في التوسل والاستغاثة.

التاسع: في حياة الأنبياء عليهم الصلاة والسلام.

العاشر: في الشفاعة لتعلقها بقوله من زار قبري وجبت له شفاعتي، وضمنت هذا الكتاب الرد على من زعم أن أحاديث الزيارة كلها موضوعة، وأن السفر إليها بدعة غير مشروعة؛ وهذه المقالة أظهر فساداً من أن يرد العلماء عليها، ولكن جعلت هذا الكتاب مستقلاً في الزيارة وما يتعلق بها مشتملاً من ذلك على جملة يعز جمعها على طالبها؛ وكنت سميت هذا الكتاب شن الغارة على من أنكر سفر الزيارة ثم اخترت التسمية المتقدمة واستعنت بالله تعالى وتوكلت عليه ثم قال:

 

‌‌الباب الأول: في الأحاديث الواردة في الزيارة نصاً

الحديث الأول: ((من زار قبري وجبت له شفاعتي)) رواه الدارقطني، والبيهقي وغيرهما (1) ، ثم ذكر من طريق موسى بن هلال العبدي، عن عبيد الله بن عمر.

--------------------------------------------

(1) انظر سنن الدارقطني 2/278.
এবং তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন; আর প্রত্যেক মুমিনের ওপর আবশ্যিক করেছেন যে, তিনি (রাসূল ﷺ) যেন তার নিকট তার নিজের প্রাণ, তার পিতামাতা এবং অন্তরঙ্গ বন্ধুর চেয়েও অধিক প্রিয় হন। তিনি তাঁর অনুসরণকে আল্লাহর ভালোবাসা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রাপ্তির কারণ করেছেন এবং তাঁর আনুগত্যকে শয়তানের চক্রান্ত ও পথভ্রষ্টতা থেকে সুরক্ষাকবচ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সংক্ষেপে ও বিস্তারিতভাবে যা-ই বলা হোক না কেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর স্মরণকে সমুন্নত করেছেন এবং তাঁর সুদৃঢ় কিতাব ও অবতীর্ণ বাণীতে তাঁর প্রশংসা করেছেন। তাঁর ওপর চিরস্থায়ী দরুদ বর্ষিত হোক যতক্ষণ নক্ষত্রের উদয় ও অস্ত চলমান থাকে।

অতঃপর: এটি একটি গ্রন্থ যার নাম আমি রেখেছি: ‘শিফাউস সিকাম ফি যিয়ারতি খাইরিল আনাম’ (সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ সত্তার যিয়ারত প্রসঙ্গে অসুস্থতার নিরাময়) এবং আমি একে দশটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:

প্রথম: যিয়ারত বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয়: সেইসব হাদিস প্রসঙ্গে যা এর ওপর প্রমাণ পেশ করে, যদিও তাতে 'যিয়ারত' শব্দটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।

তৃতীয়: যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে।

চতুর্থ: যিয়ারত মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়ে আলেমগণের সুস্পষ্ট ভাষ্য প্রসঙ্গে।

পঞ্চম: যিয়ারত যে একটি নেক আমল (কুরবাত), তা সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ: যিয়ারতের সফর নেক আমল হওয়ার প্রসঙ্গে।

সপ্তম: প্রতিপক্ষের সংশয় নিরসন এবং তাদের বক্তব্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে।

অষ্টম: উসিলা গ্রহণ (তাওয়াসসুল) এবং সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসা) প্রসঙ্গে।

নবম: আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালামের জীবন (হায়াতুল আম্বিয়া) প্রসঙ্গে।

দশম: সুপারিশ (শাফায়াত) প্রসঙ্গে, যা তাঁর এই বাণীর সাথে সংশ্লিষ্ট যে— ‘যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করল, তার জন্য আমার শাফায়াত অবধারিত হয়ে গেল’। এই গ্রন্থে আমি তাদের খণ্ডন অন্তর্ভুক্ত করেছি যারা দাবি করে যে, যিয়ারত সংক্রান্ত সকল হাদিস বানোয়াট এবং যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা একটি অবৈধ বিদআত। এই বক্তব্যটির অসারতা এতটাই স্পষ্ট যে আলেমদের পক্ষ থেকে এর স্বতন্ত্র জবাব দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না; তবুও আমি যিয়ারত ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এই স্বতন্ত্র গ্রন্থটি রচনা করেছি, যা এমন সব তথ্যের সমাহার যা অন্বেষণকারীর পক্ষে অন্য কোথাও একত্র করা দুষ্কর। ইতিপূর্বে আমি এই গ্রন্থটির নাম রেখেছিলাম ‘শানুল গারা আলা মান আনকারা সাফারাজ যিয়ারা’, অতঃপর আমি পূর্বোক্ত নামটি পছন্দ করি এবং মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করি ও তাঁর ওপর ভরসা করি। এরপর গ্রন্থকার বলেন:

 

‌‌প্রথম অধ্যায়: যিয়ারত বিষয়ে সরাসরি বর্ণিত হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে

প্রথম হাদিস: ((যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করল, তার জন্য আমার শাফায়াত (সুপারিশ) অবধারিত হয়ে গেল))। এটি বর্ণনা করেছেন দারাকুতনি, বায়হাকি এবং অন্যান্যরা (১)। এরপর তিনি মুসা ইবনে হিলাল আল-আবদি-এর সূত্রে উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে এটি উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন সুনানে দারাকুতনি ২/২৭৮।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ২১)
وفي رواية عن عبد الله بن عمر عن نافع عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من زار قبري وجبت له شفاعتي)) ثم زعم أن أقل درجات هذا الحديث أن يكون حسناً إن توزع في دعوى صحته؛ وذكر أن الراجح كونه من رواية عبيد الله المصفر الثقة لا من رواية عبد الله المكبر المضعف، وقال في أثناء كلامه: يحتمل أن يكون الحديث عن عبيد الله وعبد الله جميعاً ويكون موسى سمعه منهما فتارة حدث به عن هذا وتارة حدث به عن هذا، قال في آخر كلامه: وبهذا بل بأقل منه يتبين افتراء من ادعى أن جميع الأحاديث الواردة في الزيارة موضوعة؛ فسبحان الله أما استحي من الله ومن رسوله صلى الله عليه وسلم في هذه المقالة التي لم يسبقه إليها عالم ولا جاهل، لا من أهل الحديث، ولا من غيرهم ولا ذكر أحد موسى بن هلال ولا غيره من رواة حديث هذا بالوضع، ولا اتهمه به فيما علمنا فكيف يستجير مسلم أن يطلق على كل الأحاديث التي هو واحد منها أنها موضوعة ولم ينقل إليه ذلك عن عالم قبله ولا ظهر على هذا الحديث شيء من الأسباب المقتضية للمحدثين للحكم بالوضع،ولا حكم متنه مما يخالف الشريعة، فمن أي وجه يحكم بالوضع عليه لو كان ضعيفاً فكيف وهو حسن، أو صحيح.

هذا كله كلام المعترض، وهو متضمن للتحامل والهوى وسوء الأدب والكلام بلا علم.

والجواب أن يقال: هذا الحديث الذي ابتدأ المعترض بذكره وزعم أنه حديث حسن أو صحيح هو أمثل حديث ذكره في هذا الباب، وهو مع هذا حديث غير صحيح ولا ثابت بل هو حديث منكر عند أئمة هذا الشأن ضعيف الإسناد عندهم لا يقوم بمثله حجة ولا يعتمد على مثله عند الاحتجاج إلا الضعفاء في هذا العلم، وقد بين أئمة هذا العلم والراسخون فيه والمعتمد على كلامهم والمرجوع إلى أقوالهم ضعف هذا الخبر ونكارته كما سنذكر بعض ما بلغنا عنهم في ذل إن شاء الله تعالى.

وجميع الأحاديث التي ذكرها المعترض في هذا الباب وزعم إنها بضعة عشر حديثاً ليس فيها حديث صحيح، بل كلها ضعيفة واهية، وقد بلغ الضعف ببعضها إلى أن حكم عليه الأئمة الحفاظ بالوضع، كما أشار إليه شيخ الإسلام.

ولو فرض أن هذا الحديث المذكور صحيح ثابت لم يكن فيه دليل على مقصود هذا المعترض، ولا حجة على مراده كما سيأتي بيانه إن شاء الله تعالى، فكيف وهو حديث منكر ضعيف الإسناد واهي الطريق، لا يصلح الاحتجاج بمثله، ولم يصححه أحد من
আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে নাফে’র সূত্রে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েতে আছে যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করল, তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে গেল।" অতঃপর তিনি (আপত্তিকারী) দাবি করেছেন যে, এই হাদীসটি হাসান হওয়ার ক্ষেত্রে এর বিশুদ্ধতা (সহীহ) নিয়ে বিতর্কের অবকাশ থাকলেও এটি অন্তত হাসান স্তরের। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, অগ্রগণ্য মত অনুযায়ী এটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী উবাইদুল্লাহ আল-মুসাফফার-এর বর্ণনা, দুর্বল বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ আল-মুকাব্বার-এর বর্ণনা নয়। তিনি তার আলোচনার এক পর্যায়ে বলেছেন: সম্ভাবনা রয়েছে যে হাদীসটি উবাইদুল্লাহ এবং আব্দুল্লাহ উভয় থেকেই বর্ণিত হয়েছে এবং মূসা সম্ভবত তাদের উভয়ের থেকেই এটি শুনেছেন; তাই তিনি কখনও একে একজনের সূত্রে, আবার কখনও অন্যজনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি তার আলোচনার শেষে বলেছেন: এর মাধ্যমে, বরং এর চেয়েও কম প্রমাণের ভিত্তিতে ঐ ব্যক্তির অপবাদ স্পষ্ট হয়ে যায় যে দাবি করেছে যে, যিয়ারত সংক্রান্ত বর্ণিত সকল হাদীস জাল; সুবহানাল্লাহ! তিনি কি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এই বক্তব্যের কারণে লজ্জিত হলেন না, যে বক্তব্যে তার পূর্বে কোনো আলেম বা কোনো মূর্খ, হাদীসবিদ বা অন্য কেউ অগ্রগামী হননি? আমাদের জানামতে, কেউই মূসা বিন হিলাল বা এই হাদীসের অন্য কোনো বর্ণনাকারীকে হাদীস জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেননি। সুতরাং একজন মুসলিম কীভাবে এই দুঃসাহস দেখাতে পারেন যে, তিনি সকল হাদীসের ওপর জালের হুকুম আরোপ করেন, যার মধ্যে এটিও একটি? অথচ তার পূর্বে কোনো আলেম থেকে এমনটি বর্ণিত হয়নি, আর এই হাদীসের মধ্যে এমন কোনো কারণও প্রকাশ পায়নি যা হাদীস বিশারদদের নিকট জাল হওয়ার হুকুম প্রদানের দাবি রাখে। এমনকি এর মূল পাঠের (মতন) কোনো বিধান শরীয়ত বিরোধী নয়। সুতরাং যদি এটি দুর্বলও হতো, তবে কোন দিক থেকে একে জাল বলা হবে? তাহলে এটি হাসান বা সহীহ হলে তো কথাই নেই।

এই সবই হলো আপত্তিকারীর বক্তব্য, যা পক্ষপাতিত্ব, কুপ্রবৃত্তি, শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ এবং জ্ঞানহীন কথার সমষ্টি।

এর উত্তরে বলা হবে: আপত্তিকারী যে হাদীসটি আলোচনার শুরুতে উল্লেখ করেছেন এবং হাসান বা সহীহ বলে দাবি করেছেন, তা এই অধ্যায়ে তার বর্ণিত হাদীসগুলোর মধ্যে তুলনামূলক ভালো; অথচ তা সত্ত্বেও এটি সহীহ নয় এবং প্রমাণিতও নয়। বরং হাদীস শাস্ত্রের ইমামদের নিকট এটি একটি 'মুনকার' হাদীস এবং তাদের দৃষ্টিতে এর সনদ দুর্বল। এর মতো হাদীস দলীল হিসেবে দাঁড়াতে পারে না এবং এই শাস্ত্রে দুর্বলরা ছাড়া কেউ এর ওপর নির্ভর করে না। এই শাস্ত্রের ইমামগণ, প্রাজ্ঞ পণ্ডিতগণ এবং যাদের কথা গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য, তারা এই বর্ণনার দুর্বলতা ও অসারতা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যা আমাদের নিকট তাদের থেকে পৌঁছেছে এবং ইনশাআল্লাহ আমরা তার কিছু অংশ সামনে উল্লেখ করব।

আর আপত্তিকারী এই অধ্যায়ে যে সকল হাদীস উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে সেগুলো সংখ্যায় দশটিরও বেশি, সেগুলোর মধ্যে একটিও সহীহ হাদীস নেই। বরং সবগুলোই দুর্বল ও ভিত্তিহীন। এমনকি কোনো কোনো হাদীসের দুর্বলতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, হাফেয ইমামগণ সেগুলোকে জাল হওয়ার ফয়সালা দিয়েছেন, যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইঙ্গিত করেছেন।

আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে এই হাদীসটি সহীহ ও প্রমাণিত, তবুও এতে এই আপত্তিকারীর উদ্দেশ্য ও দাবির স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই, যা ইনশাআল্লাহ অচিরেই ব্যাখ্যা করা হবে। তাহলে যখন এটি একটি মুনকার হাদীস, যার সনদ দুর্বল এবং সূত্র ভিত্তিহীন, তখন এর দ্বারা দলিল পেশ করা কীভাবে শুদ্ধ হতে পারে? এবং একে কোনো নির্ভরযোগ্য হাদীস বিশারদ সহীহ বলেননি...
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ২২)
الحفاظ المشهورين ولا اعتمد عليه أحد من الأئمة المحققين، بل إنما رواه مثل الدارقطني الذي يجمع في كتابه غرائب السنن، ويكثر فيه من رواية الأحاديث الضعيفة بل والموضوعة وبين علة الحديث وسبب ضعفه وإنكاره في بعض المواضع أو رواه مثل أبي جعفر العقيلي،وأبي أحمد بن عدي في كتابهما في الضعفاء مع بينهما لضعفه ونكارته، أو مثل البيهقي مع بيانه أيضاً لإنكاره.

قال البيهقي في كتاب شعب الإيمان: أخبرنا أبو سعيد الماليني، أنبأنا أبو أحمد بن عدي الحافظ، حدثنا محمد بن موسى الحلواني، حدثنا محمد بن إسماعيل بن سمرة، حدثنا موسى بن هلال عن عبد الله العمري، عن نافع، عن ابن عمر، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ((من زار قبري وجبت له شفاعتي)) قال البيهقي:وقيل عن موسى بن هلال العبدي عن عبد الله بن عمر، أخبرنا أبو عبد الله الحافظ، أنبأنا أبو الفضل محمد بن إبراهيم، حدثنا محمد بن زنجويه القشيري، حدثنا عبيد بن محمد بن القاسم بنأبي مريم الوراق وكان نيسابوري الأصل سكن بغداد، حدثنا موسى بن هلال العبدي فذكره، قال البيهقي، وسواء قال عبيد الله، وعبد الله فهو منكر عن نافع عن ابن عمر، لم يأت به غيره.

وهكذا ذكر الإمام الحافظ البيهقي أن هذا الحديث منكر عن نافع عن ابن عمر سواء قال فيه موسى بن هلال عن عبيد الله أو عن عبد الله، والصحيح أنه عن عبد الله المكبر، كما ذكره أبو أحمد بنعدي وغيره.

وهذا الذي قاله البيهقي في هذا الحديث به عليه قوله صحيح بين وحكم جلي واضح ولا شك فيه من له أدنى اشتغال بهذا الفن، ولا يرده إلا رجل جاهل بهذا العلم وكذلك أن تفرد مثل هذا العبدي المجهور الحال الذي لم يشتهر من أمره ما يوجب قبول أحاديثه وخبره عن عبد الله بن عمر العمري المشهور بسوء الحفظ وشدة الغفلة عن نافع عن ابن عمر بهذا الخبر من بين سائر أصحاب نافع الحفاظ الثقات الأثبات مثل يحيى بن سعيد الأنصاري، وأيوب السختياني، وعبد الله بن عون، وصالح بن كيسان وإسماعيل بن أمية القرشي، وابن جريح والأوزاعي، وموسى بن عقبة وابن أبي ذئب، ومالك بن أنس، والليث بن سعد وغيرهم من العالمين بحديثه الضابطين لرواياته المعتنين بأخباره الملازمين له، من أقوى الحجج وأبين الأدلة وأوضح البراهين على ضعف ما تفرد به وإنكاره ورده وعدم قبوله، وهل يشك في هذا من شم رائحة الحديث أو كان عنده أدنى بصر به.
প্রখ্যাত হাদিস বিশারদগণ এবং নির্ভরযোগ্য মুহাক্কিক ইমামগণের কেউই এর ওপর নির্ভর করেননি। বরং এটি ইমাম দারাকুতনির মতো ব্যক্তিবর্গ বর্ণনা করেছেন, যিনি তাঁর কিতাবে বিরল সুন্নাহসমূহ একত্রিত করেন এবং তাতে প্রচুর দুর্বল এমনকি জাল হাদিসও বর্ণনা করেন, পাশাপাশি কিছু স্থানে তিনি হাদিসের ত্রুটি এবং এর দুর্বলতা ও অগ্রহণযোগ্যতার কারণ বর্ণনা করে দেন। অথবা এটি আবু জাফর আল-উকায়লি এবং আবু আহমদ ইবনে আদি তাঁদের দুর্বল বর্ণনাকারীদের বিষয়ক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সাথে এর দুর্বলতা ও অগ্রহণযোগ্যতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন; কিংবা ইমাম বায়হাকির মতো ব্যক্তিগণ এটি বর্ণনা করার পাশাপাশি এর অগ্রহণযোগ্যতাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

ইমাম বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান' কিতাবে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আল-মালিনি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু আহমদ ইবনে আদি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-হালওয়ানি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে সামুরাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে হিলাল, তিনি আবদুল্লাহ আল-উমারি থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমার কবর জিয়ারত করল, তার জন্য আমার শাফায়াত অবধারিত হয়ে গেল।" ইমাম বায়হাকি বলেন: এটি মুসা ইবনে হিলাল আল-আবদি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন বলেও বর্ণিত আছে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফেজ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে জানজুয়াহ আল-কুশাইরি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উবাইদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কাসেম ইবনে আবি মারইয়াম আল-ওয়াররাক (তিনি মূলে নিশাপুরি ছিলেন এবং বাগদাদে বসবাস করতেন), তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে হিলাল আল-আবদি—অতঃপর তিনি পূর্বোক্ত হাদিসটি উল্লেখ করেন। ইমাম বায়হাকি বলেন, বর্ণনাকারী উবাইদুল্লাহ বা আবদুল্লাহ যেই হোক না কেন, নাফে থেকে ইবনে উমরের সূত্রে এটি একটি মুনকার বা অগ্রহণযোগ্য হাদিস, তিনি ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি।

এভাবেই ইমাম হাফেজ বায়হাকি উল্লেখ করেছেন যে, নাফে থেকে ইবনে উমরের সূত্রে এই হাদিসটি মুনকার; চাই এতে মুসা ইবনে হিলাল 'উবাইদুল্লাহ' থেকে বর্ণনা করুক কিংবা 'আবদুল্লাহ' থেকে। আর সঠিক বিষয় হলো এটি আবদুল্লাহ আল-মুকাব্বির থেকে বর্ণিত, যেমনটি আবু আহমদ ইবনে আদি ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন।

এই হাদিস সম্পর্কে ইমাম বায়হাকি যা বলেছেন তা সঠিক ও সুস্পষ্ট এবং তাঁর এই হুকুম বা সিদ্ধান্ত অত্যন্ত পরিষ্কার ও স্বচ্ছ। এই শাস্ত্রের সাথে সামান্যতম সম্পৃক্ততা আছে এমন কারো নিকট এতে কোনো সন্দেহ নেই, এবং ইলম সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ এটি প্রত্যাখ্যান করবে না। একইভাবে, এই আল-আবদির মতো একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির একক বর্ণনা—যার অবস্থা এমন প্রখ্যাত নয় যে তার হাদিস ও সংবাদ গ্রহণ করা আবশ্যক হবে—যিনি এটি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে উমর আল-উমারি থেকে, যিনি স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা ও প্রচণ্ড অসতর্কতার জন্য পরিচিত; অথচ নাফে-এর অন্যান্য হাফেজ, বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য ছাত্রগণ যেমন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারি, আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি, আবদুল্লাহ ইবনে আউন, সালেহ ইবনে কাইসান, ইসমাইল ইবনে উমাইয়া আল-কুরাশি, ইবনে জুরাইজ, আওজায়ি, মুসা ইবনে উকবা, ইবনে আবি জিব, মালিক ইবনে আনাস, লাইস ইবনে সাদ এবং অন্যান্যরা যারা তাঁর হাদিস সম্পর্কে প্রাজ্ঞ, বর্ণনার ক্ষেত্রে অতি সূক্ষ্ম এবং তাঁর খবরাখবরের প্রতি যত্নশীল ও তাঁর সংশ্রবে দীর্ঘকাল ছিলেন—তাঁদের বাদ দিয়ে এই ব্যক্তির এককভাবে বর্ণনা করাটা এই হাদিসের দুর্বলতা, অসারতা এবং তা পরিত্যাজ্য হওয়ার ব্যাপারে শক্তিশালী প্রমাণ, সুস্পষ্ট দলিল ও উজ্জ্বল নিদর্শন। যার হাদিস শাস্ত্রের সামান্যতম জ্ঞান বা ঘ্রাণ আছে সে কি এই বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করতে পারে?
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ২৩)
هذا مع أن أعرف الناس بهذا الشأن في زمنه وأثبتهم في نافع وأعملهم بأخباره وأضبطهم لحديثه وأشدهم اعتناء بما رواه، مالك بن أنس إمام دار الهجرة قد نص على كراهية قول القائل زرت قبل النبي صلى الله عليه وسلم، ولو كان هذا اللفظ معروفاً عنده أو مشروعاً أو مأثوراً عن النبي صلى الله عليه وسلم لم يكرهه، ولو كان هذا الحديث المذكور من أحاديث نافع التي رواها عن ابن عمر لم يخف على مالك الذي هو أعرف الناس بحديث نافع، ولرواه عن مالك بعض أصحابه الثقات، فلما لم يروه عنه ثقة يحتج به ويعتمد عليه علم أنه ليس من حديثه، وأنه لا أصل له، بل هو مما أدخل بعض الضعفاء المغفلين في طريقه فرواه وحدث به.

وقد قال الحافظ أبو جعفر محمد بن عمر العقيلي في كتاب الضعفاء: موسى بن هلال البصري سكن الكوفة عن عبيد الله بن عمر. لا يصح حديثه ولا يتابع عليه.

حدثنا محمد بن عبد الله الحضرمي، حدثنا جعفر بن محمد البزوري حدثنا موسى بن هلال البصري عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من زار قبري وجبت له شفاعتي)) قال أبو جعفر العقيلي والرواية في هذا الباب فيها لين (1) .

هذا جميع ما ذكره العقيلي في كتابه، وقد حكم على الحديث المذكور بعدم الصحة، وإن رواية لم يتابع عليه، ولكن قال في روايته عن عبيد الله بالتصغير، والصحيح عن عبد الله بالتكبير.

قال الحافظ أبو أحمد عبد الله بن عدي في كتاب الكامل في معرفة ضعفاء المحدثين وعلل الأحاديث: موسى بن هلال ثم ذكر هذا الحديث كما رواه البيهقي من طريقه فقال: حدثنا محمد بن موسى الحلواني.

حدثنا محمد بن إسماعيل بن سمرة حدثنا موسى بن هلال بن عبد الله العمري عن نافع، عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من زار قبلي وجبت له شفاعتي)) قال ابن عدي: وقد روي غير ابن سمرة هذا الحديث عن موسى بن هلال فقال: عن عبيد الله، عن نافع، عن ابن عمر قال ابن عدي: وعبد الله أصح (2) .

قلت: وهذا الذي صححه ابن عدي هو الصحيح، وهو أنه من رواية عبد الله بن

--------------------------------------------

(1) انظر الضعفاء للعقيلي 4/17.

(2) انظر الكامل 6/235.
অচ অথচ তাঁর সময়ে এই বিষয়ে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি, নাফি'-এর বর্ণনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে দৃঢ়, তাঁর সংবাদ সম্পর্কে সবচেয়ে অবগত, তাঁর হাদিস সংরক্ষণে সবচেয়ে পারদর্শী এবং তাঁর বর্ণিত বিষয়গুলোর প্রতি সবচেয়ে যত্নশীল ব্যক্তি—অর্থাৎ দারুল হিজরাহর ইমাম মালিক ইবনে আনাস—স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কারো এ কথা বলা অপছন্দনীয় যে, 'আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারত করেছি'। যদি এই শব্দগুলো তাঁর কাছে পরিচিত হতো, শরীয়তসম্মত হতো কিংবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হতো, তবে তিনি একে অপছন্দ করতেন না। আর যদি এই হাদিসটি নাফি'-এর সেই হাদিসগুলোর অন্তর্ভুক্ত হতো যা তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তা মালিকের কাছে গোপন থাকত না, যিনি নাফি'-এর হাদিস সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত ছিলেন। এবং মালিকের কাছ থেকে তাঁর নির্ভরযোগ্য ছাত্ররা তা বর্ণনা করতেন। যেহেতু কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি তা বর্ণনা করেননি—যাঁর ওপর দলিল পেশ করা যায় এবং যাঁর ওপর নির্ভর করা যায়—তাই প্রমাণিত হলো যে, এটি তাঁর হাদিস নয় এবং এর কোনো ভিত্তি নেই। বরং এটি এমন কিছু যা কিছু দুর্বল ও অসতর্ক ব্যক্তি বর্ণনার সনদে প্রবেশ করিয়ে বর্ণনা করেছে।

হাফেজ আবু জাফর মুহাম্মদ বিন উমর আল-উকায়লী 'কিতাবুয যুয়াফা'-তে বলেছেন: মূসা বিন হিলাল আল-বসরী কুফায় বসবাস করতেন, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর হাদিস সহিহ নয় এবং এর কোনো অনুসারী (মুতাবা'আত) নেই।

মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাদরামি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, জাফর বিন মুহাম্মদ আল-বাযুরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মূসা বিন হিলাল আল-বসরী উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি নাফি' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করল, তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে গেল))। আবু জাফর আল-উকায়লী বলেন: এই অধ্যায়ের বর্ণনাগুলোতে দুর্বলতা রয়েছে (১)।

আল-উকায়লী তাঁর কিতাবে যা উল্লেখ করেছেন এটিই তার সবটুকু। তিনি উল্লিখিত হাদিসটিকে সহিহ নয় বলে রায় দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, এর বর্ণনায় কোনো অনুসারী নেই। তবে তিনি তাঁর বর্ণনায় 'উবাইদুল্লাহ' (তাসগীর তথা ছোট নাম) বলেছেন, কিন্তু সঠিক হলো 'আব্দুল্লাহ' (তাকবীর তথা বড় নাম)।

হাফেজ আবু আহমাদ আব্দুল্লাহ বিন আদী 'আল-কামিল ফি মা'রিফাতি যুয়াফাউল মুহাদ্দিসীন ওয়া ইলালিল আহাদিস' কিতাবে বলেছেন: মূসা বিন হিলাল; এরপর তিনি এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন যেভাবে বায়হাকী তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন মূসা আল-হুলওয়ানী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন সামুরাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মূসা বিন হিলাল বিন আব্দুল্লাহ আল-উমারী নাফি' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করল, তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে গেল))। ইবনে আদী বলেন: ইবনে সামুরাহ ছাড়া অন্যরাও মূসা বিন হিলাল থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: 'উবাইদুল্লাহ' থেকে, তিনি নাফি' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে। ইবনে আদী বলেন: 'আব্দুল্লাহ' বলাই বেশি সঠিক (২)।

আমি বলছি: ইবনে আদী যেটিকে সঠিক বলেছেন সেটিই সহিহ, আর তা হলো এটি আব্দুল্লাহ বিন... এর বর্ণনা।

--------------------------------------------

(১) দেখুন আল-উকায়লীর আয-যুয়াফা ৪/১৭।

(২) দেখুন আল-কামিল ৬/২৩৫।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ২৪)
عمر العمري الصغير المكبر المضعف ليس من رواية أخيه عبيد الله العمري الكبير المصغر الثقة الثبت، فإن موسى بن هلال لم يلق عبيد الله فإنه مات قديماً سنة بضع وأربعين ومائة، بخلاف عبد الله فإنه تأخر دهراً بعد أخيه وبقي إلى سنة بضع وسبعين ومائة.

ولو فرض أن الحديث من رواية عبيد الله لم يلزم أن يكون صحيحاً، فإن تفرد موسى بن هلال به عنه دون سائر أصحابه المشهورين بملازمته وحفظ حديثه وضبطه من أدل الأشياء على أنه منكر غير محفوظ، وأصحاب عبيد الله بن عمر المعروفين بالرواية عنه مثل يحيى بن سعيد القطان وعبد الله بن نمير، وابي أسامة حماد بن أسامة وعبد الوهاب الثقفي، وعبد الله بن المبارك ومعتمر بن سليمان وعبد الأعلى بن عبد الأعلى، وعلي بن مسهر، وخالد بن الحارث وأبي ضمرة أنس بن عياض وبشر بن المفضل وأشباههم وأمثالهم من الثقات المشهورين.

فإذا كان هذا الحديث لم يروه عن عبد الله أحمد من هؤلاء الأثبات، ولا رواه ثقة غيرهم علمنا أنه منكر غير مقبول، وجزمنا بخطأ من حسنه، أو صححه بغير علم.

وقد ذكر الإمام أبو محمد عبد الرحمن بن أبي حاتم محمد بن إدريس الرازي في كتاب " الجرح والتعديل " أن موسى بن هلال روى عن عبد الله العمري، ولم يذكر أنه يروي عن عبيد الله ثم قال: سألت أبي عنه فقال: مجهول (1) .

وذكر الحافظ أبو الحسن بن القطان في كتاب " بيان الوهم والإبهام " الواقعين في كتاب " الأحكام " لعبد الحق الأشبيلي: أن هذا الحديث الذي رواه موسى بن هلال حديث لا يصح، وأنكر على عبد الحق سكوته عن تضعيفه، وقال: أراه تسامح فيه لأنه من الحث والترغيب على عمل، ثم ذكر كلام أبي حاتم الرازي والعقيلي في موسى ومال إلى قولهما وقال فأما أبو أحمد بن عدي فإنه ذكر هذا الرجل بهذا الحديث ثم قال: ولموسى غير هذا، وأرجو أنه لا بأس به وقال: وهذا من أبي أحمد قول صدر عن تصفح روايات هذا الرجل لا عن مباشرة لأحواله، فالحق فيه أنه لم تثبت عدالته، وإلى هذا فإن العمري قد عهد أبو محمد يعني عبد الحق يرد الأحاديث من أجله كما تقدم ذكره في هذا الباب.

قال ابن القطان: وقد ضعف أبو محمد حديث: ((إنما النساء شقائق الرجال)) (2) في

--------------------------------------------

(1) انظر الجرح والتعديل 8/166.

(2) أخرجه الترمذي 1/190، والدارمي في كتاب الوضوء باب رقم 76، وأحمد 6/256-277 والحديث صحيح بمجموع طرفه.
ছোট উমর আল-উমরি (মুকাব্বার), যিনি দুর্বল (যঈফ), তার বর্ণনা তার ভাই বড় উবাইদুল্লাহ আল-উমরি (মুসাগগার)—যিনি নির্ভরযোগ্য ও অটল (সিকাহ সাবত)—এর বর্ণনা থেকে নয়। কেননা মুসা বিন হিলাল উবাইদুল্লাহর সাক্ষাৎ পাননি; কারণ উবাইদুল্লাহ অনেক আগে ১৪০ হিজরীর শুরুর দিকে ইন্তেকাল করেছেন, পক্ষান্তরে আবদুল্লাহ তার ভাইয়ের পর দীর্ঘকাল বেঁচে ছিলেন এবং ১৭০ হিজরীর শুরুর দিক পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।

আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে হাদীসটি উবাইদুল্লাহর বর্ণনা থেকে, তবুও এটি সহীহ হওয়া আবশ্যক নয়। কেননা উবাইদুল্লাহর অন্যান্য মশহুর সঙ্গীসাথী—যারা সর্বদা তার সান্নিধ্যে থাকতেন এবং তার হাদীস মুখস্থ রাখা ও তা নির্ভুলভাবে আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ছিলেন—তাদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র মুসা বিন হিলালের এককভাবে এটি বর্ণনা করা এর অন্যতম বড় প্রমাণ যে হাদীসটি মুনকার (পরিত্যক্ত) ও মাহফুজ (সংরক্ষিত) নয়। আর উবাইদুল্লাহ ইবনে উমরের পরিচিত বর্ণনাকারী সঙ্গীগণ হলেন—যেমন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান, আবদুল্লাহ বিন নুমাইর, আবু উসামাহ হাম্মাদ বিন উসামাহ, আবদুল ওয়াহহাব আল-সাকাফী, আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক, মুতামির বিন সুলাইমান, আবদুল আলা বিন আবদুল আলা, আলী বিন মুশহির, খালিদ বিন আল-হারিস, আবু দামরাহ আনাস বিন ইয়াদ, বিশর বিন আল-মুফাদদাল এবং তাদের মতো নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গ।

সুতরাং যখন এই হাদীসটি এই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের কেউ আবদুল্লাহর নিকট থেকে বর্ণনা করেননি এবং তারা ব্যতীত অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিও তা বর্ণনা করেননি, তখন আমরা বুঝতে পারি যে এটি একটি মুনকার ও অগ্রহণযোগ্য বর্ণনা। আর যে ব্যক্তি না জেনে একে হাসান বা সহীহ বলেছেন, আমরা তার ভুলের ব্যাপারে সুনিশ্চিত।

ইমাম আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন আবি হাতিম মুহাম্মদ বিন ইদরিস আর-রাযী তার ‘আল-জারহ ওয়াত তা’দীল’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, মুসা বিন হিলাল আবদুল্লাহ আল-উমরি থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করার কথা উল্লেখ করেননি। অতঃপর তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: সে মাজহুল (অপরিচিত)। (১)

হাফেজ আবুল হাসান বিন আল-কাত্তান তার ‘বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহহাম’ গ্রন্থে—যা আবদুল হক আল-ইশবিলীর ‘আল-আহকাম’ গ্রন্থের ওপর লিখিত—উল্লেখ করেছেন যে: মুসা বিন হিলাল কর্তৃক বর্ণিত এই হাদীসটি সহীহ নয়। তিনি হাদীসটিকে যঈফ না বলে আবদুল হকের চুপ থাকাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন: আমার মনে হয় তিনি এক্ষেত্রে শিথিলতা করেছেন কারণ এটি কোনো আমলের প্রতি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা প্রদানকারী (তারগীব)। অতঃপর তিনি মুসা সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও আল-উকাইলীর বক্তব্য উল্লেখ করে তাদের মতের দিকেই ঝুঁকেছেন। তিনি আরও বলেন: পক্ষান্তরে আবু আহমদ ইবনে আদি এই ব্যক্তির কথা এই হাদীসের সূত্রে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: ‘মুসার এটি ছাড়াও আরও বর্ণনা রয়েছে, এবং আমি আশা করি তাতে কোনো সমস্যা নেই।’ তিনি (ইবনে আল-কাত্তান) বলেন: আবু আহমদের এই বক্তব্যটি লোকটির বর্ণনাগুলো পর্যালোচনার ফলাফল মাত্র, তার ব্যক্তিগত অবস্থা সরাসরি প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে নয়। সুতরাং সত্য হলো এই যে, তার ন্যায়পরায়ণতা (আদালত) প্রমাণিত নয়। এছাড়া উমরির কারণেই আবু মুহাম্মদ (অর্থাৎ আবদুল হক) হাদীস প্রত্যাখ্যান করতেন, যেমনটি এই অধ্যায়ে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

ইবনে আল-কাত্তান বলেন: আবু মুহাম্মদ ‘নিশ্চয়ই নারীরা পুরুষদেরই সমতুল্য’ (২) শীর্ষক হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন...

--------------------------------------------

(১) আল-জারহ ওয়াত তা’দীল ৮/১৬৬ দেখুন।

(২) তিরমিযী ১/১৯০; দারেমী, কিতাবুয উযূ, অধ্যায় নং ৭৬; আহমদ ৬/২৫৬-২৭৭। হাদীসটি এর সকল সূত্রের সমন্বয়ে সহীহ।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ২৫)
احتلام المرأة من أجل عبد الله بن عمر العمري، وذكر اختلاف المحدثين فيه، وكذلك فعل أيضاً في حديث: ((أول الوقت رضوان الله)) (1) فإنه رده من أجله، وترك في الإسناد متروكاً لا خلاف فيه لم يتعرض له؛ فكان ذلك عجباً من فعله.

وكذلك فعل أيضاً في حديث نافع، عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((إذا نكح البعد بغير إذن سيده فنكاحه باطل)) (2) فإنه اتبعه أن قال: فيه العمري وهو ضعيف وهذا الذي عمل به في هذا الأحاديث من تضعيفها من أجل العمري هو الأقرب إلى الصواب.

ثم ذكر أنه سكت عن أحاديث من رواية العمري منها، هذا الحديث المروي عنه في الزيارة، وذكر أن سكوته عنها غير صواب.

--------------------------------------------

(1) قال الترمذي رحمه الله 1/322:

حدثنا أحمد بن منيع حدثنا يعقوب بن الوليد المدني عن عبد الله بن عمر عن نافع عن ابن عمر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((الوقت الأول من الصلاة روضان الله والوقت الآخر عفوا الله)) ؟

قال أبو عيسى: هذا الحديث غريب.

ولقد أنكر ابن القطان على أبي محمد عبد الحق الأشبيلي كونه أعل الحديث بالعمري وسكت عن يعقوب وقال:ويعقوب هوعلته فإن أحمد قال فيه: كان من الكذابين الكبار وكان يضع الحديث وقال أبو حاتم: كان يكذب الحديث الذي رواه موضوع وابن عدي إنما أعله به وفي بابه ذكره.

قال أحمد شاكر رحمه الله في شرحه على الترمذي 1/322 ومما أزال أعجب منه أن الشافعي رحمه الله يذكر هذا الحديث محتجاً به بدون إسناده، وهو حديث غير صحيح بل هو حديث باطل كما نص عليه العلماء الحفاظ فيما نقلناه عنهم.

وقال البيهقي في المعرفة: حديث الصلاة في أول الوقت رضوان الله، إنما يعرف بيعقوب بن الوليد وقد كذبه أحمد بن حنبل وسائر الحفاظ، قال: وقد روي هذا الحديث بأسانيد كلها ضعيفة 1/322.

قلت: فالحديث باطل:

(2) حديث ((وإذا نكح العبد بغير إذن سيده فنكاحه باطل)) ابن ماجة 1/630 من حديث ابن عمر لكنه من طريق عبد الله بن محمد بن عقيل والثانية من طريق مندل، والطالسي 2/152 من حديث جابر وفيه عبد الله بن محمد بن عقيل، والآخر من حديث ابن عمر، وفيه مند.وأبو داود 2/563 من حديث جابر عن طريق ابن عقيل والآخر من حديث= =ابن عمر وهو من طريق عبد الله العمري المكبر المضعف وقال عقبه:هذا الحديث ضعيف، وهو موقوف،وهو قول ابن عمر رضي الله عنه ترجمة ابن عقيل في التهذيب 6/13.

قال الترمذي:حسن، وقال الحاكم: صحيح، وتبع الشيخ ناصر في الإرواء الترمذي فحسنه 6/351 والراجح ضعفه لأنه من طريق ابن عقيل هذا
আব্দুল্লাহ বিন উমর আল-উমারীর কারণে নারীর স্বপ্নদোষের বিষয় এবং এ ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের মতপার্থক্য তিনি উল্লেখ করেছেন। একইভাবে তিনি "ওয়াক্তের শুরু হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি" (১) এই হাদীসের ক্ষেত্রেও করেছেন; কেননা তিনি উক্ত বর্ণনাকারীর কারণে এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন, অথচ সনদের মধ্যে এমন এক পরিত্যক্ত বর্ণনাকারীকে রেখে দিয়েছেন যার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই এবং তার ব্যাপারে কোনো আলোচনা করেননি; তার এই কাজ ছিল বিস্ময়কর।

নাফে' থেকে বর্ণিত ইবনে উমরের হাদীসেও তিনি অনুরূপ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যদি কোনো দাস তার মালিকের অনুমতি ব্যতীত বিবাহ করে, তবে তার বিবাহ বাতিল" (২)। এর পরপরই তিনি বলেছেন: এতে আল-উমারী রয়েছে এবং সে দুর্বল। আল-উমারীর কারণে হাদীসগুলোকে দুর্বল সাব্যস্ত করার এই কর্মপদ্ধতিই সঠিক হওয়ার নিকটবর্তী।

অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আল-উমারীর বর্ণনা করা কিছু হাদীসের ব্যাপারে নিশ্চুপ থেকেছেন, যার মধ্যে যিয়ারত সম্পর্কিত এই হাদীসটি রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, সেগুলোর ব্যাপারে তার নীরবতা সঠিক ছিল না।

--------------------------------------------

(১) ইমাম তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) ১/৩২২ বলেন:

আহমদ বিন মানী' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াকুব বিন ওয়ালীদ আল-মাদানী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সালাতের প্রথম ওয়াক্ত হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং শেষ ওয়াক্ত হলো আল্লাহর ক্ষমা।"?

আবু ঈসা বলেন: এই হাদীসটি গরীব।

ইবনুল কাত্তান আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক আল-ইশবিলীর সমালোচনা করেছেন যে, তিনি হাদীসটিকে আল-উমারীর কারণে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন অথচ ইয়াকুবের ব্যাপারে নীরব থেকেছেন। তিনি বলেন: ইয়াকুবই হলো এর ত্রুটি, কেননা আহমদ তার ব্যাপারে বলেছেন: সে বড় মিথ্যুকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং হাদীস জাল করত। আবু হাতিম বলেছেন: সে হাদীসে মিথ্যা বলত, তার বর্ণিত হাদীসটি জাল এবং ইবনে আদী তাকেই ত্রুটি হিসেবে গণ্য করেছেন এবং তার জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন।

আহমদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ) তিরমিযীর ব্যাখ্যায় ১/৩২২ বলেন: আমি যার কারণে আরও বেশি আশ্চর্যান্বিত হই তা হলো, ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) এই হাদীসটি সনদ ছাড়াই দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন, অথচ এটি কোনো সহীহ হাদীস নয় বরং এটি একটি বাতিল হাদীস, যেমনটি হাফেয উলামাগণ আমরা তাদের থেকে যা উদ্ধৃত করেছি তাতে স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন।

বায়হাকী 'আল-মা'রিফা' গ্রন্থে বলেন: প্রথম ওয়াক্তে সালাত আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির হাদীসটি কেবল ইয়াকুব বিন ওয়ালীদ থেকে পরিচিত, অথচ আহমদ বিন হাম্বল এবং অন্যান্য সকল হাফেয তাকে মিথ্যুক বলেছেন। তিনি বলেন: এই হাদীসটি যেসব সনদে বর্ণিত হয়েছে তার সবগুলোই দুর্বল ১/৩২২।

আমি বলছি: সুতরাং হাদীসটি বাতিল:

(২) "যদি কোনো দাস তার মালিকের অনুমতি ব্যতীত বিবাহ করে, তবে তার বিবাহ বাতিল" হাদীসটি ইবনে মাজাহ ১/৬৩০ ইবনে উমরের হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে এটি আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আকীলের সূত্রে। দ্বিতীয়টি মানদালের সূত্রে। তায়ালিসী ২/১৫২ জাবিরের হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন যাতে আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আকীল রয়েছেন এবং অন্যটি ইবনে উমরের হাদীস থেকে যাতে মানদাল রয়েছে। আবু দাউদ ২/৫৬৩ জাবিরের হাদীস থেকে ইবন আকীলের সূত্রে এবং অন্যটি ইবনে উমরের হাদীস থেকে যা আব্দুল্লাহ আল-উমারী আল-মুকাব্বারের সূত্রে বর্ণিত, যাকে দুর্বল বলা হয়েছে। তিনি এর পরপরই বলেছেন: এই হাদীসটি দুর্বল এবং এটি মাওকুফ, এটি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বক্তব্য। তাহযীবুল কামাল ৬/১৩ গ্রন্থে ইবন আকীলের জীবনী দ্রষ্টব্য।

তিরমিযী বলেছেন: হাসান। হাকেম বলেছেন: সহীহ। শায়খ নাসির 'আল-ইরওয়া' গ্রন্থে তিরমিযীকে অনুসরণ করে একে হাসান বলেছেন ৬/৩৫১, তবে এর দুর্বল হওয়ার বিষয়টিই অধিক শক্তিশালী কারণ এটি ইবন আকীলের এই সূত্রে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقد تكلم في عبد الله العمري جماعة من أئمة الجرح والتعديل، ونسبوه إلى سوء الحفظ والمخالطة للثقات في الروايات.

قال أبو حاتم محمد بن حبان البستي في كتاب المجروحين من المحدثين: عبد الله بن عمر بن حفص بن عاصم بن عمر بن الخطاب العمري، أخو عبيد الله بن عمر من أهل المدينة يروي عن نافع، روى عنه العراقيون وأهل المدينة، كان ممن غلب عليه الصلاح والعبادة حتى غفل عن حفظ الأخبار وجودة الحفظ للآثار فوقع المناكير في رواته، فلما فحش خطوة استحق الترك ومات سنة ثلاث وسبعين ومائة.

حدثنا الهمداني حدثنا عمرو بن علي قال: كان يحيى بن سعيد لا يحدث عن عبد الله بن عمر، قال أبو حاتم وهو الذي روى عن نافع، عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا توضأ خلل لحيته، وروى عن نافع، عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من أتى عرافاً فسأله لم تقبل له صلاة أربعين يوماً)) (1) وروى عن نافع عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم أسهم للفارس سهمين، وللراجل سهماً فيما يشبه هذا من المقلوبات، والملزوقات التي ينكرها من أمعن في العلم وطلبه من مظانه (2) .

وقال أبو عيسى الترمذي في جامعه: وعبد الله بن عمر ضعفه يحيى بن سعيد من قبل حفظه (3) ، وقال البخاري في تاريخه: عبد الله بن عمر بن حفص العمري المدني قرشي كان يحيى بن سعيد يضعفه (4) .

وقال النسائي: في كتاب الكنى: أبو عبد الرحمن عبد الله بن عمر بن حفص بن عاصم بن عمر ضعيف، وقال العقيلي: حدثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل قال: سألت يحيى بن معين عن عبد الله بن عمر العمري، فقال: ضعيف، حدثنا عبد الله قال: سألت أبي عن عبد الله بن عمر فقال: كذا وكذا.

وقال أبو زرعة الدمشقي، قيل لأحمد بن حنبل كيف حديث عبد الله بن عمر، فقال كان يزيد في الأسانيد ويخالف وكان رجلاً صالحاً، وقد ذكر العقيلي هذا القول عن الإمام أحمد بن حنبل من رواية أبي بكر الأثرم عنه؛ وروى إسحاق بن منصور عن يحيى بن

--------------------------------------------

(1) حديث (من أتى عرافاً) رواه مسلم 4/1751 من غير هذه الطريق.

(2) انظر كتاب المجروحين لابن حبان 2/6-7.

(3) انظر 1/322

(4) وانظر التاريخ الكبير 5/145.
জারহ ও তা'দীল শাস্ত্রের একদল ইমাম আবদুল্লাহ আল-উমারী সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে তাকে দুর্বল স্মৃতিশক্তি ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সাথে সংমিশ্রণ ঘটানোর দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।

আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবন হিব্বান আল-বুস্তি 'কিতাবুল মাজরুহীন মিনাল মুহাদ্দিসীন'-এ বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবন উমর ইবন হাফস ইবন আসিম ইবন উমর ইবনুল খাত্তাব আল-উমারী, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবন উমরের ভাই এবং মদিনার অধিবাসী। তিনি নাফি'র সূত্রে বর্ণনা করেন, আর তার থেকে ইরাক ও মদিনার অধিবাসীগণ বর্ণনা করেছেন। তিনি এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের ওপর নেক আমল ও ইবাদত প্রবল হয়ে গিয়েছিল, ফলে তিনি হাদিস মুখস্থ রাখা এবং আসারের যথাযথ সংরক্ষণের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়েন। এর ফলে তার বর্ণিত হাদিসগুলোর মধ্যে 'মুনকার' (অস্বীকৃত) বর্ণনা ঢুকে পড়ে। যখন তার ভুলগুলো মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায়, তখন তিনি বর্জনযোগ্য হওয়ার উপযুক্ত হন। তিনি একশত তিয়াত্তর হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

হামদানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমর ইবন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন না। আবু হাতিম বলেন, তিনি সেই ব্যক্তি যিনি নাফি'র সূত্রে ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অজু করতেন তখন তিনি দাড়ি খিলাল করতেন। তিনি নাফি'র সূত্রে ইবন উমর থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গেল এবং তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করল, তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না।" (১) তিনি নাফি'র সূত্রে ইবন উমর থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশ্বারোহীর জন্য দুই অংশ এবং পদাতিকের জন্য এক অংশ বরাদ্দ করেছিলেন। এগুলো এই জাতীয় 'মাকলুব' (উল্টে যাওয়া) এবং 'মালযুক' (জুড়ে দেওয়া) বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত, যা সেই ব্যক্তি অস্বীকার করেন যিনি ইলম বা জ্ঞান এবং এর উৎসস্থল অনুসন্ধানে গভীরতা অর্জন করেছেন। (২)

আবু ঈসা আত-তিরমিযী তাঁর জামে' গ্রন্থে বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবন উমরকে ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ তাঁর মুখস্থ শক্তির দিক থেকে দুর্বল বলেছেন। (৩) ইমাম বুখারী তাঁর তারিখ গ্রন্থে বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবন উমর ইবন হাফস আল-উমারী আল-মাদানী আল-কুরাশী, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ তাকে দুর্বল বলতেন। (৪)

ইমাম নাসাঈ 'কিতাবুল কুনা'-তে বলেছেন: আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবন উমর ইবন হাফস ইবন আসিম ইবন উমর দুর্বল। উকাইলী বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবন মা'ঈন-কে আবদুল্লাহ ইবন উমর আল-উমারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বললেন: দুর্বল। আবদুল্লাহ বলেন: আমি আমার পিতাকে আবদুল্লাহ ইবন উমর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এমন এমন (অর্থাৎ তার মধ্যে দুর্বলতা আছে)।

আবু যুরআহ আদ-দিমাশকী বলেছেন, আহমাদ ইবন হাম্বলকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আবদুল্লাহ ইবন উমরের হাদিস কেমন? তিনি বললেন: তিনি সনদে বৃদ্ধি ঘটাতেন এবং বিপরীত বর্ণনা করতেন, তবে তিনি একজন নেককার মানুষ ছিলেন। উকাইলী ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল থেকে আবু বকর আল-আছরামের বর্ণনায় এই কথাটি উল্লেখ করেছেন। ইসহাক ইবন মনসুর ইয়াহইয়া ইবন (মা'ঈন) থেকে বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) 'যে ব্যক্তি গণকের কাছে গেল' হাদিসটি ইমাম মুসলিম ৪/১৭৫১ নম্বরে এই সনদ ব্যতীত অন্য সনদে বর্ণনা করেছেন।

(২) দেখুন: ইবন হিব্বানের কিতাবুল মাজরুহীন ২/৬-৭।

(৩) দেখুন: ১/৩২২।

(৪) এবং দেখুন: আত-তারিখুল কাবীর ৫/১৪৫।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ২৭)
معين، قال عبد الله بن عمر صويلح، وقال عبد الله بن علي بن المديني عن أبيه ضعيف.

وقال أبو حاتم الرازي يكتب حديثه ولا يحتج به، وقال يعقوب بن شيبة: صدوق في حديثه اضطراب، وقال: صالح بن محمد البغدادي: لين مختلط الحديث، وقال الحاكم أبو أحمد: ليس بالقوي عندهم.

فإذا كانت هذه الحال عبد الله بن عمر العمري عند أهل هذا الشأن، والراوي عنه مثل موسى بن هلال المنكر الحديث، فهل يشك من له أدى علم في ضعف ما تفرد به ورده وهل يجوز أن يقال فيما روياه من حديث منفردين به أنه حسن أو صحيح؟ وهل يقول هذا إلا رجل لا يدري ما يقول.

وقد ذكر هذا الحديث بعض الحفاظ المتأخرين في كتاب كبير له رأيت قطعة منه فقال: حدثنا أبو جعفر محمد بن علي بن دحيم الشيباني بالكوفة، أبو الحسن علي بن عبد الرحمن بن عيسى بن زيد الكوفي ببغداد، قالا: حدثنا أبو عمر أحمد بن حازم عن أبي عذرة الغفاري، أنبأنا موسى بن هلال البصري، حدثنا عبد الله بن عمر العمري، عن نافع، عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من زار قبري وجبت له شفاعتي) لفظ الحديث وسياقه للشيباني.

قال: وهذا الخبر قد رواه عن موسى بن هلال محمد بن إسماعيل بن سمرة الأحمسي، ومحمد بن جابر المحاربي ويوسف بن موسى القطان، وهارون بن سفيان المذكورين، قال في حديثه: عن عبد الله بن عمر قد ذكرناه بأسانيده في الكتاب الكبير، ولا نعلم رواه عن نافع إلا العمري، ولا عنه إلا موسى بن هلال العبدي، تفرد به والله أعلم، انتهى كلام هذا الحافظ، وهو في طبقة أبي عبد الله بن مندة، وأبي عبد الله الحاكم صاحب المستدرك.

والكتاب الذي روي في هذا الحديث، ووقفت على بعضه يدل على سعة حفظه ورحلته، ولا يجوز أن يكون هو ابن مندة، لأن ابن مندة له شيوخ كثيرة وهو معروف بكثرة الرواية عنهم كالأصم، وابن الأعرابي، وغيرهما، ولم يرو مؤلف هذا الكتاب فيه عن واحد منهم فيما وقفت عليه، ولأن صاحب هذا الكتاب له شيوخ لا يعرف ابن مندة بالرواية عنهم، وروى في بلاد لم يدخلها ابن مندة كالبصرة وأنطاكية ونصيبين، ولا يجوز أن يكون
মুয়াইন; আব্দুল্লাহ ইবন উমর তাকে ‘সুওয়াইলিহ’ (মোটামুটি ভালো) বলেছেন, আর আব্দুল্লাহ ইবন আলী ইবনুল মাদীনী তার পিতার সূত্রে বলেছেন যে তিনি ‘যঈফ’ (দুর্বল)।

আবু হাতিম আর-রাযী বলেছেন, তার হাদীস লেখা হবে কিন্তু তা দলিল হিসেবে পেশ করা যাবে না। ইয়াকুব ইবন শাইবাহ বলেছেন: তিনি সত্যবাদী তবে তার হাদীসে ‘ইযতিরাব’ (বিশৃঙ্খলতা) রয়েছে। সালেহ ইবন মুহাম্মাদ আল-বাগদাদী বলেছেন: তিনি দুর্বল ও সংমিশ্রিত হাদীস বর্ণনাকারী। হাকিম আবু আহমাদ বলেছেন: তাদের নিকট তিনি শক্তিশালী নন।

সুতরাং এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট যদি আব্দুল্লাহ ইবন উমর আল-উমারীর অবস্থা এমন হয় এবং তার থেকে বর্ণনাকারী যদি মূসা ইবন হিলালের মতো ‘মুনকারুল হাদীস’ (অস্বীকৃত হাদীস বর্ণনাকারী) হয়, তবে সামান্যতম জ্ঞান আছে এমন কেউ কি তার একক বর্ণনার দুর্বলতা ও তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করতে পারে? তারা যে হাদীসটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, সেটিকে কি ‘হাসান’ বা ‘সহীহ’ বলা বৈধ হবে? কোনো ব্যক্তি যার নিজের কথার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই সে ছাড়া আর কেউ কি এমন কথা বলতে পারে?

পরবর্তী যুগের জনৈক হাফিয তার একটি বড় কিতাবে এই হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, যে কিতাবটির একটি অংশ আমি দেখেছি। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন দুহায়ম আশ-শাইবানী কূফাতে এবং আবু হাসান আলী ইবন আব্দুর রহমান ইবন ঈসা ইবন যায়িদ আল-কূফী বাগদাদে। তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমর আহমাদ ইবন হাযিম, আবু উযরা আল-গিফারী থেকে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মূসা ইবন হিলাল আল-বাসরী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন উমর আল-উমারী, নাফে‘ থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করল, তার জন্য আমার শাফাআত (সুপারিশ) ওয়াজিব হয়ে গেল।” হাদীসের শব্দ ও বর্ণনাভঙ্গি শাইবানীর।

তিনি বলেছেন: এই বর্ণনাটি মূসা ইবন হিলাল থেকে মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইল ইবন সামুরা আল-আহমাসী, মুহাম্মাদ ইবন জাবির আল-মুহারিবী, ইউসুফ ইবন মূসা আল-কাত্তান এবং উল্লিখিত হারুন ইবন সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন। তিনি তার হাদীসে বলেছেন: আব্দুল্লাহ ইবন উমর থেকে—আমরা তা বড় কিতাবে সনদসহ উল্লেখ করেছি। নাফে‘ থেকে আল-উমারী ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই, আর তার থেকে মূসা ইবন হিলাল আল-আবদী ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেনি। তিনি এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন।—উক্ত হাফিযের বক্তব্য এখানেই শেষ। তিনি আবু আব্দুল্লাহ ইবন মান্দাহ এবং আল-মুসতাদরাক গ্রন্থকার আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিমের সমসাময়িক স্তরের।

যে কিতাবে এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে এবং যার কিছু অংশ আমি দেখেছি, তা লেখকের স্মৃতিশক্তির বিশালতা ও জ্ঞান অন্বেষণে ব্যাপক সফরের প্রমাণ দেয়। তবে লেখক ইবন মান্দাহ হওয়া সম্ভব নয়। কারণ ইবন মান্দাহর অনেক উস্তাদ রয়েছেন এবং তিনি তাদের থেকে অধিক বর্ণনার জন্য পরিচিত, যেমন আল-আসাম্ম, ইবনুল আরাবী প্রমুখ। অথচ আমি যতটুকু দেখেছি তাতে এই কিতাবের লেখক তাদের একজনের থেকেও কোনো বর্ণনা করেননি। তাছাড়া এই কিতাবের লেখকের এমন কিছু উস্তাদ রয়েছেন যাদের থেকে ইবন মান্দাহর বর্ণনা করার কথা জানা নেই। আর তিনি এমন সব দেশে হাদীস বর্ণনা করেছেন যেখানে ইবন মান্দাহ প্রবেশ করেননি, যেমন বসরা, আনতাকিয়া ও নাসিবীন। আর এটি হওয়া বৈধ নয় যে...
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ২৮)
الحاكم أبا عبد الله، لأن رحلة هذا المؤلف أوسع من رحلة الحاكم، ولأنه دخل إلى بلدان كثيرة لم يدخلها الحاكم كالشام وغيرها، ولا يجوز أن يكون الحافظ أبا نعيم لتأخره عن هذا.

وفي الجملة مؤلف هذا الكتاب حافظ كبير من بحور الأحاديث، وقد ذكر في هذا الكتاب من الأحاديث الغريبة والمنكرة والموضوعة شيئاً كثيراً، وذكر في هذا الباب الذي روي فيه هذا الحديث هو الباب الثلاثون بعد المائتين عدة أحاديث موضوعة لا أصل لها، وقد ذكر أن هذا الحديث تفرد به موسى بن هلال العمري وذكر أن بعض الرواة قال في حديثه عن: عبد الله وقد ذكرنا أن الأصح رواية من قال عن عبد الله، وكأن موسى بن هلال حدث به مرة عن عبيد الله فأخطأ، لأنه ليس من أهل الحديث ولا من المشهورين بنقله، وهو لم يدرك عبيد الله ولا لحقه فإن بعض الرواة عنه لا يروي عن رجل عن عبيد الله، وإنما يروي عن رجل عن آخر عن عبيد الله فإن عبيد الله متقدم الوفاة كما ذكرنا ذلك فيما تقدم بخلاف عبد الله فإنه عاش دهراً بعد أخيه عبيد الله، وكأن موسى بن هلال لم يكن يميز بين عبد الله وعبيد الله ولا يعرف أنهما رجلان فإن لم يكن من أهل العلم، ولا ممن يعتمد عليه في ضبط باب من أبوابه.

فقد تبين أن هذا الحديث أن هذا الحديث الذي تفرد به موسى بن هلال لم يصححه أحد من الأئمة المعتمد على قولهم في هذا الشأن، ولا حسنه أحد منهم، بل تكلموا فيه وأنكروه حتى أن النووي ذكر في شرح المهذب إن إسناده ضعيف جداً (1) .

وقد تفرد هذا المعترض على شيخ الإسلام بتحسينه أو تصحيحه وأخذ في التشنيع والكلام بما لا يليق الذي بقدر آحاد الناس على مقابلته بمثله وبما هو أبلغ منه،وجميع ما تفرد به هذا المعترض من الكلام على الحديث وغيره خطأ فاعلم ذلك والله الموفق.

فإن قيل: قد روى الإمام أحمد بن حنبل عن موسى بن هلال، وهو لا يروي إلا عن ثقة فالجواب أن يقال: رواية الإمام أحمد عن الثقات هو الغالب من فعله، والأكثر من عمله كما هو المعروف من طريقة شعبة ومالك وعبد الرحمن بن مهدي، ويحيى بن سعيد القطان وغيرهم وقد يروي الإمام أحمد قليلاً في بعض الأحيان عن جماعة نسبوا إلى الضعف وقلة الضبط على وجه الاعتبار والاستشهاد لا على طريق الاجتهاد والاعتماد

--------------------------------------------

(1) انظر المجموع شرح المهذب 7/203.
আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ, কারণ এই লেখকের সফর আল-হাকিমের সফরের চেয়েও বিস্তৃত ছিল। তিনি এমন অনেক দেশে প্রবেশ করেছেন যেখানে আল-হাকিম প্রবেশ করেননি, যেমন শাম ও অন্যান্য অঞ্চল। আর হাফেজ আবু নুআইম হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কারণ তিনি এর পরবর্তী সময়ের মানুষ।

সামগ্রিকভাবে, এই গ্রন্থের লেখক হাদিস-সমুদ্রের ন্যায় একজন মহান হাফেজ। তিনি এই কিতাবে অনেক আজিব, মুনকার এবং মাওজু হাদিস প্রচুর পরিমাণে উল্লেখ করেছেন। যে পরিচ্ছেদে এই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে—যা হলো ২৩০তম পরিচ্ছেদ—সেখানে তিনি বেশ কিছু ভিত্তিহীন জাল হাদিস উল্লেখ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই হাদিসটি এককভাবে মুসা ইবন হিলাল আল-আমরি বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, কোনো কোনো বর্ণনাকারী তার সূত্রে 'আব্দুল্লাহ' থেকে বর্ণনা করেছেন। আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, যারা 'আব্দুল্লাহ' বলেছেন তাদের বর্ণনাই অধিক বিশুদ্ধ। মনে হয় মুসা ইবন হিলাল কোনো একবার এটি 'উবাইদুল্লাহ' থেকে বর্ণনা করে ভুল করেছেন। কারণ তিনি হাদিস বিশারদদের অন্তর্ভুক্ত নন এবং হাদিস বর্ণনায় প্রসিদ্ধও নন। তিনি উবাইদুল্লাহকে পাননি এবং তার সাক্ষাৎও লাভ করেননি। কেননা তার থেকে বর্ণনাকারীদের কেউ এমন নেই যে সে কোনো ব্যক্তির মাধ্যম ছাড়া উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করবে, বরং সে অন্য একজন ব্যক্তির মাধ্যমে উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করে। কারণ আমরা আগে যেমন উল্লেখ করেছি, উবাইদুল্লাহ অনেক আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। পক্ষান্তরে আব্দুল্লাহ তার ভাই উবাইদুল্লাহর পর দীর্ঘকাল জীবিত ছিলেন। মনে হয় মুসা ইবন হিলাল আব্দুল্লাহ এবং উবাইদুল্লাহর মধ্যে পার্থক্য করতে পারেননি এবং তারা যে দুইজন ভিন্ন ব্যক্তি তাও জানতেন না। তিনি না ইলমওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, আর না এমন কেউ ছিলেন যার মুখস্থ শক্তির ওপর এই শাস্ত্রের কোনো বিষয়ে নির্ভর করা যায়।

সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, মুসা ইবন হিলাল কর্তৃক এককভাবে বর্ণিত এই হাদিসটিকে এই শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য ইমামগণের কেউ সহিহ বলেননি এবং হাসানও বলেননি। বরং তারা এ ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন এবং একে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমনকি ইমাম নববী শারহুল মুহাজ্জাব-এ উল্লেখ করেছেন যে, এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল (১)।

শাইখুল ইসলামের এই প্রতিপক্ষ একে হাসান বা সহিহ বলার ক্ষেত্রে একক অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং তিনি এমন কুৎসা ও নিন্দনীয় কথাবার্তা বলতে শুরু করেছেন যা কোনোভাবেই সমীচীন নয়, যার মোকাবিলা সাধারণ মানুষও এর সমপরিমাণ বা এর চেয়েও কঠোরভাবে করতে সক্ষম। হাদিস এবং অন্যান্য বিষয়ে এই আপত্তিকারী যা কিছু এককভাবে বলেছেন তার সবটুকুই ভুল—এ কথা জেনে রাখুন। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।

যদি বলা হয়: ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল মুসা ইবন হিলাল থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি তো কেবল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকেই বর্ণনা করেন। তবে এর উত্তরে বলা হবে: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে ইমাম আহমাদের বর্ণনা করাটাই তার সাধারণ নিয়ম এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার আমল ছিল এমনই, যেমনটি শু'বাহ, মালিক, আব্দুর রহমান ইবন মাহদি, ইয়াহইয়া ইবন সাইদ আল-কাত্তান এবং অন্যদের পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। তবে ইমাম আহমাদ কখনো কখনো দুর্বলতা ও মুখস্থ শক্তির অভাবের দিকে নিসবত করা হয় এমন একদল বর্ণনাকারী থেকে সামান্য কিছু বর্ণনা করেছেন, যা মূলত পর্যবেক্ষণ এবং সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে ছিল, ইজতিহাদ বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তি হিসেবে নয়।

--------------------------------------------

(১) আল-মাজমু শারহুল মুহাজ্জাব ৭/২০৩ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ২৯)
مثل روايته عن عامر بن صالح الزبيري (1) ، ومحمد بن القاسم الأسدي (2) ، وعمر بن هارون البلخي (3) ، وعلي بن عاصم الواسطي (4) ، وإبراهيم بن الليث صاحب الأشجعي (5) ، ويحيى بن يزيد بن عبد الملك النوفلي (6) ، ونصر بن باب (7) وتليد بن سليمان الكوفي (8) ، وحسن بن حسن الأشقر (9) ، وأبي سعيد الصاغاني (10) ، ومحمد بن ميسر

--------------------------------------------

(1) قال الذهبي في الميزان 2/360 عامر بن صالح بن عبد الله بن عروة بن الزبير بن العوام، واه لعل ما روى أحمد بن حنبل عند أحد أوهى من هذا.. وقال أبو داود: سمعت يحيى بن معين يقول جن أحمد. يحدث عن عامر بن صالح.

وروى أحمد بن محمد بن محرز عن ابن معين قال: كذاب خبيث عدو الله

(2) قال الذهبي في الميزان 4/11 محمد بن القاسم الأسدي الكوفي عن موسى بن عبيدة وطبقته كذبة أحمد بن حنبل والدارقطني وقال عبد الله بن أحمد ذكرت لأبي ما حدثني أبو معمر عن محمد بن القاسم الأسدي.. فقال أبي: محمد بن القاسم أحاديثه موضوعة ليس بشيء.

وقال البخاري: قال أحمد: رمينا حديثه.

(3) ترجمته في الميزان 3/228 وقد قال فيه أحمد: عمر بن هارون لا أروي عنه وقد أكثرت عنه ولكن كان عبد الرحمن يقول: لم يكن له قيمة عندي.

(4) ترجمته في الميزان للذهبي 3/136.

(5) قال الذهبي في الميزان 1/54 إبراهيم بن أبي الليث حدث ببغداد عن عبيد الله الأشجعي متروك الحديث، قال صالح خزره، كان يكذب عشرين سنة وأشكل أمره على أحمد وعلي حتى ظهر بعد وقال ابن معين: ثقة لكنه أحمق وقال زكريا الساجي: متروك.

(6) ترجمته في الميزان 4/414 قال أبو حاتم: منكر الحديث لا أدري منه أو من أبيه قال ابن عدي: الضعف على حديثه بين، قال: قلت: وأبوه مجمع على ضعفه.

(7) ترجمته في الميزان 4/250 قال الذهبي: تركه جماعة البخاري: يرمونه بالكذب، قال ابن معين ليس حديثه بشيء قال ابن حبان: لا يحتج به قال أحمد بن حنبل: ما كان به بأس إنما أنكروا عليه حين حدث عن إبراهيم الصائغ.

(8) ترجمته في الميزان 1/358 قال فيه أحمد: شيعي لم نر به بأساً.

وقال ابن معين: كذاب يشتم عثمان عقد فوق سطح فتناول عثمان فقام إليه بعد أولاد حوالي عثمان فرماه فكسر رجله.

وقال أبو داود: رافضي يشتم أبا بكر وعمر في لفظ خبيث وقال النسائي: ضعيف.

(9) هو الحسين بن الحسن الأشقر. ترجمته في الميزان.

قال البخاري: فيه نظر وقال أبو زرعة: منكر الحديث وقال أبو حاتم:ليس بالقوي وقال الجوزيجاني: غال شتام للخيرة، وقال أبو معمر الهذلي: كذاب، وقال النسائي والدارقطني: ليس بالقوي.

(10) الصوابة وأبي سعيد الصاغاني محمد بن ميسرة، قالوا وهنا خطأ مطبعي، راجع الأنساب للسمعاني 8/69، ترجمته في الميزان 4/52، وقال يحي بن معين: كان جهمياً شيطاناً ليس بشيء وقال النسائي: متروك، وقال الدارقطني: ضعيف وقال أحمد: صدوق مرجئ وقال البخاري: فيه اضطراب.
যেমন আমের বিন সালিহ আল-জুবাইরী (১), মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম আল-আসাদী (২), উমর বিন হারুন আল-বালখী (৩), আলী বিন আসিম আল-ওয়াসিতী (৪), ইব্রাহিম বিন আল-লাইস—যিনি আল-আশজায়ী-এর সাথী (৫), ইয়াহইয়া বিন ইয়াযীদ বিন আব্দুল মালিক আল-নাওফালী (৬), নাসর বিন বাব (৭), তালিদ বিন সুলাইমান আল-কুফী (৮), হাসান বিন হাসান আল-আশকার (৯), আবু সাঈদ আল-সাগানী (১০) এবং মুহাম্মদ বিন মায়সার থেকে তাঁর বর্ণনাসমূহ।

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবী আল-মিজান ২/৩৬০ গ্রন্থে বলেছেন: আমের বিন সালিহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উরওয়াহ বিন আল-জুবাইর বিন আল-আওয়াম; অত্যন্ত দুর্বল, সম্ভবত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল অন্য কারো কাছে এর চেয়ে অধিক দুর্বল কিছু বর্ণনা করেননি। আবু দাউদ বলেছেন: আমি ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে বলতে শুনেছি, আহমদ পাগল হয়ে গেছেন (বিস্ময় প্রকাশার্থে), তিনি আমের বিন সালিহ থেকে হাদিস বর্ণনা করছেন।

আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মাহরাজ ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সে একজন মিথ্যাবাদী, পাপিষ্ঠ এবং আল্লাহর শত্রু।

(২) আয-যাহাবী আল-মিজান ৪/১১ গ্রন্থে বলেছেন: মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম আল-আসাদী আল-কুফী; তিনি মুসা বিন উবাইদাহ ও তাঁর সমসাময়িকদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আহমদ বিন হাম্বল ও আদ-দারা কুতনী তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বলেছেন: আমি আমার পিতার কাছে সেই হাদিসের কথা উল্লেখ করলাম যা আবু মামার আমাকে মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম আল-আসাদী থেকে বর্ণনা করেছিলেন। তখন আমার পিতা বললেন: মুহাম্মদ বিন আল-কাসিমের হাদিসগুলো বানোয়াট, সে কিছুই নয় (নির্ভরযোগ্য নয়)।

আল-বুখারী বলেছেন: ইমাম আহমদ বলেছেন: আমরা তার হাদিস বর্জন করেছি।

(৩) আল-মিজান ৩/২২৮ গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আহমদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: উমর বিন হারুন থেকে আমি কোনো বর্ণনা করি না, যদিও আমি তাঁর থেকে অনেক বর্ণনা লিখেছিলাম। তবে আব্দুর রহমান বলতেন: আমার কাছে তাঁর কোনো মূল্য নেই।

(৪) আয-যাহাবীর আল-মিজান ৩/১৩৬ গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে।

(৫) আয-যাহাবী আল-মিজান ১/৫৪ গ্রন্থে বলেছেন: ইব্রাহিম বিন আবু আল-লাইস বাগদাদে উবাইদুল্লাহ আল-আশজায়ী থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী (মাতরুকুল হাদিস)। সালিহ জাযারাহ বলেছেন: তিনি বিশ বছর যাবত মিথ্যা বলতেন এবং তাঁর বিষয়টি আহমদ ও আলীর কাছে অস্পষ্ট ছিল, যতক্ষণ না পরে তা প্রকাশ পায়। ইবনে মাঈন বলেছেন: সে নির্ভরযোগ্য কিন্তু নির্বোধ। জাকারিয়া আল-সাজী বলেছেন: সে বর্জনীয়।

(৬) আল-মিজান ৪/৪১৪ গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি মুনকারুল হাদিস (অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী), আমি জানি না এটা তাঁর পক্ষ থেকে না কি তাঁর পিতার পক্ষ থেকে। ইবনে আদী বলেছেন: তাঁর হাদিসের দুর্বলতা স্পষ্ট। তিনি আরও বলেন: তাঁর পিতার দুর্বলতার বিষয়েও ঐকমত্য রয়েছে।

(৭) আল-মিজান ৪/২৫০ গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে। আয-যাহাবী বলেছেন: একদল উলামা তাঁকে বর্জন করেছেন। বুখারী বলেছেন: তাঁরা তাঁকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিতেন। ইবনে মাঈন বলেছেন: তাঁর হাদিসের কোনো মূল্য নেই। ইবনে হিব্বান বলেছেন: তাঁকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। আহমদ বিন হাম্বল বলেছেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা ছিল না, তবে তাঁরা তাঁর সমালোচনা করেছেন যখন তিনি ইব্রাহিম আল-সায়িগ থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৮) আল-মিজান ১/৩৫৮ গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আহমদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: সে একজন শিয়া, তবে আমরা তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা দেখিনি।

ইবনে মাঈন বলেছেন: সে একজন চরম মিথ্যাবাদী যে উসমানকে গালি দিত। সে একবার ছাদে বসে উসমানকে নিয়ে কটূক্তি করছিল, তখন উসমানের বংশধরদের মধ্য থেকে এক যুবক উঠে গিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, ফলে তার পা ভেঙে যায়।

আবু দাউদ বলেছেন: সে একজন রাফেযী যে অত্যন্ত জঘন্য ভাষায় আবু বকর ও উমরকে গালি দিত। আন-নাসায়ী বলেছেন: সে দুর্বল।

(৯) তিনি হলেন আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আল-আশকার। আল-মিজান গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে।

আল-বুখারী বলেছেন: তাঁর ব্যাপারে আপত্তি আছে। আবু যুরআহ বলেছেন: তিনি মুনকারুল হাদিস। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন। আল-জাওযাজানী বলেছেন: তিনি একজন চরমপন্থী এবং শ্রেষ্ঠ মানুষদের (সাহাবীদের) গালি দানকারী। আবু মামার আল-হুজালী বলেছেন: তিনি মিথ্যাবাদী। আন-নাসায়ী ও আদ-দারা কুতনী বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন।

(১০) সঠিক হলো আবু সাঈদ আল-সাগানী মুহাম্মদ বিন মায়সারাহ; তাঁরা বলেছেন এখানে একটি মুদ্রণজনিত ত্রুটি রয়েছে। দেখুন আস-সামআনী-এর আল-আনসাব ৮/৬৯। আল-মিজান ৪/৫২ গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেছেন: সে ছিল একজন জহমী শয়তান, সে কিছুই নয়। আন-নাসায়ী বলেছেন: বর্জনীয়। আদ-দারা কুতনী বলেছেন: দুর্বল। ইমাম আহমদ বলেছেন: সে সত্যবাদী তবে মুরজিয়া মতাবলম্বী। আল-বুখারী বলেছেন: তাঁর বর্ণনায় অস্থিরতা বা অসঙ্গতি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৩০)
ونحوهم ممن اشتهر الكلام فيه، وهكذا روايته عن موسى بن هلال إن صحت روايته عنه.

ولو فرض أن موسى بن هلال العبدي، وعبد الله بن عمر العمري من الرواة الثقات الإثبات المشهورين، والعدول الحفاظ المتقنين الضابطين، وقدر أن هذا الحديث المروي من طريقهما من الأحاديث الصحيحة المشهورة المتلقاة بالقبول، لم يكن فيه دليل إلا على الزيارة الشرعية؛ وتلك لا ينكرها شيخ الإسلام ولا يكرهها بل يندب إليها ويحض عليها ويستحبها وقد قال في الجواب الباهر لمن سأل من ولاة الأمر عما أفتى به في زيادة المقابر.

قد ذكرت فيما كتبته من المناسبات أن السفر إلى مسجده وزيارة قبره كما يذكره أئمة المسلمين في مناسك الحج عمل صالح مستحب، وقد ذكرت في عدة مناسك الحج السنة في ذلك وكيف يسلم عليه وهل يستقبل الحجرة أو القبلة على قولين فالأكثرون يقولون يستقبل الحجرة كمالك والشافعي وأحمد وأبو حنيفة يقول: يستقبل القبلة ويجعل الحجرة عن يساره في قول وخلفة في قول لأن الحجرة لما كانت خارجة المسجد، كان الصحابة يسلمون عليه لم يكن يمكن أحد أن يستقبل وجهه ويستدبر القبلة كما صار ذلك ممكناً بعد دخولها في المسجد - إلى أن قال: والصلاة تقصر في هذا السفر المستحب بإجماع المسلمين لم يقل أحد من أئمة المسلمين، إن هذا السفر لا تقصر فيه الصلاة ولا نهي أحد عن السفر إلى مسجده وإن كان المسافر إلى مسجده يزور قبره صلى الله عليه وسلم، بل هذا من أفضل الأعمال الصالحة.

ولا في شيء من كلامي وكلام غيري نهي عن ذلك، ولا نهي عن المشروع في زيارة قبور الأنبياء والصالحين، ولا عن المشروع في زيارة سائر القبور، بل قد ذكرت في غير موضع استحباب زيارة القبور كما كان النبي صلى الله عليه وسلم يزور أهل البقيع وشهداء أحد ويعلم أصحابه إذا زاروا القبور أن يقول قائلهم: السلام عليكم أهل الديار من المؤمنين والمسلمين، وإنا إن شاء الله بكم لاحقون (1) . ويرحم الله المستقدمين منا ومنكم

--------------------------------------------

(1) الحديث أخرجه مسلم 7/40 والنسائي 4/93 وأحمد 6/180 من حديث عائشة وورد في حديث أبي هريرة أخرجه مسلم 3/137 وأبو داود 3/559 والنسائي 1/94 وورد من حديث بريدة أخرجه مسلم 7/44.
এবং তাদের মতো যারা এ বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রসিদ্ধ, তেমনি মূসা ইবনে হিলাল থেকে তার বর্ণনাও, যদি তার থেকে তার বর্ণনাটি সহীহ হয়।

আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, মূসা ইবনে হিলাল আল-আবদি এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমর আল-উমরি প্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং তারা ন্যায়পরায়ণ, স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন, নিপুণ ও সুসংহত হাফেজ, আর যদি মনে করা হয় যে তাদের সূত্রে বর্ণিত এই হাদিসটি প্রসিদ্ধ সহীহ হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা সর্বজনগৃহীত, তবুও তাতে শরয়ি জিয়ারত ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর দলিল থাকত না; আর শাইখুল ইসলাম এটি অস্বীকার করেন না এবং অপছন্দও করেন না, বরং তিনি এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন, উৎসাহিত করেন এবং একে মুস্তাহাব মনে করেন। যারা কবর জিয়ারত বিষয়ে তার ফতোয়া সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন, সেই দায়িত্বশীলদের প্রশ্নের জবাবে তিনি 'আল-জাওয়াব আল-বাহির' গ্রন্থে বলেছেন।

আমি আমার বিভিন্ন লেখায় প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ করেছি যে, তার মসজিদের দিকে সফর করা এবং তার কবর জিয়ারত করা—যেমনটি মুসলিম ইমামগণ হজের মাসায়েলের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন—একটি নেক আমল এবং মুস্তাহাব কাজ। আমি হজের বিভিন্ন মাসায়েল সম্পর্কিত গ্রন্থে এ বিষয়ে সুন্নাহ কী এবং কীভাবে তাকে সালাম দিতে হবে, তা উল্লেখ করেছি। সে সময় কি হুজরার দিকে মুখ করতে হবে নাকি কিবলার দিকে—এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। অধিকাংশ ইমাম বলেন যে হুজরার দিকে মুখ করবে, যেমন মালেক, শাফেয়ী ও আহমাদ। আর আবু হানিফা বলেন: কিবলার দিকে মুখ করবে এবং হুজরাকে তার বাম দিকে রাখবে এক বর্ণনা মতে, আর অন্য বর্ণনা মতে পিছনে রাখবে। কারণ হুজরা যখন মসজিদের বাইরে ছিল, তখন সাহাবীগণ তাকে সালাম দিতেন; তখন কারও পক্ষে তার চেহারার দিকে মুখ করা এবং কিবলাকে পিছনে রাখা সম্ভব ছিল না, যেমনটি হুজরা মসজিদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর সম্ভব হয়েছে। - তিনি আরও বলেন: মুসলিমদের ঐকমত্যে এই মুস্তাহাব সফরে নামাজ কসর করা হবে। মুসলিম ইমামগণের কেউ এ কথা বলেননি যে, এই সফরে নামাজ কসর করা হবে না। আর কেউ তার মসজিদের দিকে সফর করতে নিষেধ করেননি, যদিও মসজিদের দিকে সফরকারী ব্যক্তি তার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবর জিয়ারত করে থাকেন। বরং এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেক আমল।

আমার কোনো কথায় বা অন্য কারও কথায় এ বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এমনকি নবীগণ এবং নেককারদের কবর জিয়ারতের শরয়ি পদ্ধতির বিষয়েও কোনো নিষেধ নেই, কিংবা সাধারণ কবর জিয়ারতের শরয়ি পদ্ধতির বিষয়েও নয়। বরং আমি একাধিক স্থানে কবর জিয়ারত মুস্তাহাব হওয়ার কথা উল্লেখ করেছি, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতুল বাকিবাসীদের এবং উহুদের শহীদদের কবর জিয়ারত করতেন এবং তিনি তার সাহাবীদের শিখিয়ে দিতেন যে তারা যখন কবর জিয়ারত করবে তখন যেন বলে: হে গৃহবাসী মুমিন ও মুসলিমগণ, তোমাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক, আর আমরা ইনশাআল্লাহ তোমাদের সাথে মিলিত হব (১)। আল্লাহ আমাদের মধ্য থেকে যারা আগে চলে গেছেন এবং যারা পরে আসবেন সবার ওপর দয়া করুন।

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি ইমাম মুসলিম ৭/৪০, নাসাঈ ৪/৯৩ এবং আহমাদ ৬/১৮০-তে আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি আবু হুরায়রা-এর হাদিসেও এসেছে যা ইমাম মুসলিম ৩/১৩৭, আবু দাউদ ৩/৫৫৯ এবং নাসাঈ ১/৯৪-এ বর্ণনা করেছেন। এছাড়া এটি বুরাইদাহ-এর হাদিস থেকে ইমাম মুসলিম ৭/৪৪-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৩১)
والمستأخرين، ونسأل الله لنا ولكم العافية، اللهم لا تحرمنا أجرهم ولا تفتتنا بعدهم واغفر لنا ولهم.

وإذا كانت زيارة قبور عموم المؤمنين مشروعة فزيارة قبور الأنبياء والصالحين أولى لكن رسول الله صلى الله عليه وسلم له خاصة ليست لغيره من الأنبياء والصالحين وهو أنا أمرنا أن نصلي ونسلم عليه في كل صلاة (1) ، وشرع ذلك في الصلاة وعند الأذان (2) وسائل الأدعية، وأن نصلي ونسلم عليه عند دخول المسجد ومسجده وغير مسجده، وعند الخروج (3) منه وكل من دخل مسجده فلا بد أن يصلي فيه ويسلم عليه في الصلاة، والسفر إلى مسجده مشروع لكن العلماء فرقوا بينه وبين غيره حتى كره مالك أن يقال: زرت قبر النبي صلى الله عليه وسلم لأن المقصود الشرعي بزيارة القبور السلام عليهم والدعاء لهم، وذلك السلام والدعاء فقد حصل على أكمل الوجوه في الصلاة في مسجده وغير مسجده وعند سماع الأذان وعند كل دعاء فشرع الصلاة عليه عند كل دعاء (4) فإنه أولى بالمؤمنين من أنفسهم.

ولهذا يسلم المصلي عليه في الصلاة قبل أن يسلم على نفسه وعلى سائر عباد الله الصالحين فيقول: السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته، السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين (5) ، ويصلي عليه فيدعو له قبل أن يدعو لنفسه، وأما غيره فليس عنده مسجد فيستحب السفر إليه كما يستحب السفر إلى مسجده، وإنما يشرع أن يزار قبره كما شرعت زيارة القبور، وأما هو فيشرع السفر إلى مسجده، وينهي عما يوهم أنه سفر إلى غير المساجد الثلاثة.

--------------------------------------------

(1) يشير إلى أحاديث التشهد في الصلاة. منها حديث ابن مسعود أخرجه مسلم.

(2) يشير إلى حديث عبد الله بن عمرو بن العاص بلفظ (إذا سمعتم المؤذن فقولوا مثلما يقول ثم صلوا علي..) رواه مسلم 1/288، وأبو داود 1/359، وأحمد 2/168، والنسائي 2/25 والترمذي 10/83 تحفة وأبو عوانة 1/337 والبيهقي 1/409-410.

(3) راجع رسالتنا (اتحاف الراكع الساجد في أذكار الدخول والخروج من المساجد) .

(4) ويشير إلى حديث فضالة بن عبيد أنه قال: سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلاً يدعوا في الصلاة ولم يذكر الله عز وجل ولم يصل على النبي صلى الله عليه وسلم وعلى آله وسلم فقال رسول الله: عجل هذا ثم دعاه وقال له ولغيره: إذا صلى أحدكم فليبدأ بتحميد ربه والثناء عليه ثم ليصل على النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم ثم ليدع بعد بما شاء، رواه أحمد 6/18 ورواه أبو داود 2/162، والنسائي 3/44 والترمذي 9/449، تحفة وابن السني في عمل اليوم والليلة 111.

(5) يشير رحمه الله تعالى إلى التشهد.
এবং যারা পরে আসবে। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের ও তোমাদের জন্য সুস্থতা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমাদের তাদের সওয়াব থেকে বঞ্চিত করো না, তাদের পরে আমাদের ফিতনায় ফেলো না এবং আমাদের ও তাদের ক্ষমা করে দাও।

যদি সাধারণ মুমিনদের কবর যিয়ারত করা শরীয়তসম্মত হয়, তবে নবীগণ ও নেককারদের কবর যিয়ারত করা আরও বেশি অগ্রগণ্য। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এমন কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্য কোনো নবী বা নেককারের জন্য নেই; আর তা হলো এই যে, আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা প্রতিটি সালাতে তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করি (১)। এটি সালাতে, আযানের সময় (২) এবং সকল প্রকার দোয়ার ক্ষেত্রে শরীয়তসম্মত করা হয়েছে। আরও শরীয়তসম্মত করা হয়েছে যে, আমরা যেন মসজিদে প্রবেশের সময়—তা তাঁর মসজিদ হোক বা অন্য কোনো মসজিদ—এবং বের হওয়ার সময় (৩) তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করি। যে ব্যক্তিই তাঁর মসজিদে প্রবেশ করবে, তাকে সেখানে সালাত আদায় করতে হবে এবং সালাতে তাঁর ওপর সালাম পাঠ করতে হবে। তাঁর মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করা শরীয়তসম্মত, কিন্তু আলেমগণ এই সফর এবং অন্য বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। এমনকি ইমাম মালিক এটি অপছন্দ করতেন যে কেউ বলুক: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবর যিয়ারত করেছি"। কারণ কবর যিয়ারতের শরয়ি উদ্দেশ্য হলো তাঁদের ওপর সালাম পেশ করা ও তাঁদের জন্য দোয়া করা। আর এই সালাম ও দোয়া তাঁর মসজিদে বা অন্য কোথাও সালাত আদায়ের সময়, আযান শোনার সময় এবং প্রতিটি দোয়ার সময় পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জিত হয়ে যায়। তাই প্রতিটি দোয়ার সময় তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করা শরীয়তসম্মত করা হয়েছে (৪); কেননা তিনি মুমিনদের নিকট তাঁদের নিজেদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়।

এই কারণে সালাত আদায়কারী সালাতে নিজের ওপর এবং আল্লাহর অন্যান্য নেককার বান্দাদের ওপর সালাম দেওয়ার আগে তাঁর ওপর সালাম পাঠ করে। সে বলে: "হে নবী! আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক" (৫)। সে তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করে এবং নিজের জন্য দোয়া করার আগে তাঁর জন্য দোয়া করে। আর অন্য কারো এমন কোনো মসজিদ নেই যার দিকে সফর করা মুস্তাহাব হবে, যেভাবে তাঁর মসজিদের দিকে সফর করা মুস্তাহাব। বরং তাদের কবর যিয়ারত করা কেবল সেভাবেই শরীয়তসম্মত যেভাবে সাধারণ কবর যিয়ারত শরীয়তসম্মত। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে তাঁর মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করা শরীয়তসম্মত, এবং এমন কাজ থেকে নিষেধ করা হয়েছে যা তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও সফর করার ধারণা দেয়।

--------------------------------------------

(১) এটি সালাতে তাশাহহুদ সংক্রান্ত হাদিসগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে। এর মধ্যে ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদিসটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আসের হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করে যার শব্দ হলো: (যখন তোমরা মুয়াজ্জিনকে শুনবে, তখন সে যা বলে তোমরাও তা-ই বলো, এরপর আমার ওপর দরুদ পাঠ করো...)। এটি মুসলিম ১/২৮৮, আবু দাউদ ১/৩৫৯, আহমাদ ২/১৬৮, নাসাঈ ২/২৫, তিরমিজি ১০/৮৩ তুহফা, আবু আওয়ানা ১/৩৩৭ এবং বায়হাকী ১/৪০৯-৪১০ বর্ণনা করেছেন।

(৩) আমাদের রিসালা (মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার যিকিরসমূহে রুকুকারী ও সিজদাকারীদের উপহার) দেখুন।

(৪) এটি ফাদালা ইবনে উবাইদ বর্ণিত হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করে যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে সালাতে দোয়া করতে শুনলেন কিন্তু সে মহান আল্লাহর যিকির করেনি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ পাঠ করেনি। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন: "এই ব্যক্তি তাড়াহুড়ো করেছে।" এরপর তাকে ডাকলেন এবং তাকে ও অন্যদের বললেন: "যখন তোমাদের কেউ সালাত আদায় করবে, তখন সে যেন তার রবের প্রশংসা ও গুণকীর্তন দিয়ে শুরু করে, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করে, এরপর যা ইচ্ছা দোয়া করে।" এটি আহমাদ ৬/১৮, আবু দাউদ ২/১৬২, নাসাঈ ৩/৪৪, তিরমিজি ৯/৪৪৯ তুহফা এবং ইবনুস সুন্নি 'আমালুল ইয়াওম ওয়াল লায়লাহ' ১১১ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(৫) তিনি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) এখানে তাশাহহুদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৩২)
ويجب الفرق بين الزيارة الشرعية التي سنها رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين البدعية التي لم يشرعها، بل نهى عنها مثل اتخاذ قبور الأنبياء والصالحين مساجد، والصلاة إلى القبر واتخاذه وثناً (1) ، وقد ثبت في الصحيحين عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد المسجد الحرام ومسجدي هذا والمسجد الأقصى)) (2) حتى إن أبا هريرة سافر إلى الطور الذي كلم الله عليه موسى بن عمران عليه السلام فقال له بصرة بن أبي بصرة الغفاري: لو أدركتك قبل أن تخرج لما خرجت، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((لا تعمل المطي إلا إلى ثلاث مساجد: المسجد الحرام ومسجدي هذا، ومسجد بيت المقدس)) (3) .

فهذه المساجد شرع السفر إليها لعبادة الله فيها بالصلاة والقراءة والذكر والدعاء والاعتكاف والمسجد الحرام يختص بالطواف لا يطاف بغيره، وما سواه من المساجد إذا أتاها الإنسان وصلى فيها من غير سفر كان ذلك من أفضل الأعمال كما ثبت في الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((من تطهر في بيته ثم خرج إلى المسجد كانت خطواته إحداهما تحط خطيئة والأخرى ترفع درجة، والعبد في صلاة ما دام ينتظر الصلاة، والملائكة تصلي على أحدكم ما دام في مصلاه الذي صلى فيه، اللهم اغفر له اللهم أرحمه ما لم يحدث)) (4) .

ولو سافر من بلد إلى بلد مثل أن يسافر إلى دمشق من مصر لأجل مسجدها، أو بالعكس، أو يسافر إلى مسجد قباء من بلد بعيد لم يكن هذا مشروعاً باتفاق الأئمة الأربعة وغيرهم، ولو نذر ذلك لم يف بنذره باتفاق الأئمة الأربعة وغيرهم إلا خلاف شاذ عن الليث بن سعد في المساجد.

--------------------------------------------

(1) قلت وكذلك الزيارة التي يحصل فيها الذبح فوق القبور ودعاء الأموات وطلب الحاجات منهم فهذا يعتبر شركاً والزيارة شركية.

(2) تقدم برقم (8) .

(3) رواه أحمد 6/7 بسند صحيح و 3/64، 69 من حيث أبي سعيد الخدري وفي مسنده شهر بن حوئب=

=فائدة: وقع في مسند الإمام أحمد 6/7 قرأت على عبد الرحمن مالك عن يزيد لعل الصوابت (قرأت علي عبد الرحمن عن مالك..) كما في ترجمة عبد الرحمن بن مهدي وترجمة مالك بن أنس في تهذيب التهذيب، ثم أن الصحيح أنه من مسند أبي بصرة الغفاري، راجع صحيح الجامع رقم 7248 وأحكام الجنائز ص224 وما بعدها فإنه بحث نفيس جداً.

وروى هذه القصة مطولة النسائي. 3/113.

(4) أخرجه البخاري من حديث أبي هريرة 1/564 و 2/131 و 4/338 ومسلم 1/459 و 1/453 من حديث عبد الله بن مسعود.
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রবর্তিত শরিয়তসম্মত যিয়ারত এবং এমন বিদআতি যিয়ারত যা তিনি প্রবর্তন করেননি বরং তা থেকে নিষেধ করেছেন—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করা ওয়াজিব। যেমন: নবী ও নেককার ব্যক্তিদের কবরসমূহকে সিজদাগাহ বানানো, কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা এবং সেটিকে মূর্তিতে পরিণত করা (১)। সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) গ্রন্থে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে না: মাসজিদুল হারাম, আমার এই মসজিদ এবং মাসজিদুল আকসা" (২)। এমনকি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সেই তূর পাহাড়ের দিকে সফর করেছিলেন যেখানে আল্লাহ মূসা ইবনে ইমরান আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেছিলেন। তখন বসরা ইবনে আবি বসরা আল-গিফারি তাঁকে বলেছিলেন: আমি যদি তোমার বের হওয়ার আগে তোমার দেখা পেতাম, তবে তুমি বের হতে পারতে না। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনোটির উদ্দেশ্যে সওয়ারি দ্রুত চালানো যাবে না: মাসজিদুল হারাম, আমার এই মসজিদ এবং মাসজিদুল বাইতুল মাকদিস" (৩)।

সালাত, তিলাওয়াত, জিকির, দুআ ও ইতিকাফের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করার উদ্দেশ্যে এই মসজিদগুলোর দিকে সফর করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। আর মাসজিদুল হারাম তওয়াফের জন্য নির্দিষ্ট; এটি ব্যতীত অন্য কোথাও তওয়াফ করা যায় না। এছাড়া অন্যান্য মসজিদের ক্ষেত্রে, যদি কোনো ব্যক্তি সফর না করে সেখানে যায় এবং সালাত আদায় করে, তবে তা সর্বোত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত হবে, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করে অতঃপর মসজিদের দিকে বের হয়, তার এক পদক্ষেপে একটি পাপ মোচন করা হয় এবং অন্য পদক্ষেপে একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। আর বান্দা যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ সে সালাতরত বলেই গণ্য হয়। ফেরেশতারা তোমাদের কারো জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত দুআ করতে থাকে যতক্ষণ সে তার সালাতের স্থানে অবস্থান করে; তারা বলে: হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! তার ওপর রহম করুন, যতক্ষণ না সে অপবিত্র হয়" (৪)।

যদি কেউ এক শহর থেকে অন্য শহরে সফর করে, যেমন—মসজিদের উদ্দেশ্যে মিশর থেকে দামেস্কে সফর করে অথবা এর বিপরীত করে, কিংবা দূরবর্তী কোনো শহর থেকে মাসজিদে কুবার উদ্দেশ্যে সফর করে, তবে চার ইমাম এবং অন্যদের ঐকমত্যে এটি শরিয়তসম্মত নয়। যদি কেউ এর মান্নত করে, তবে চার ইমাম ও অন্যদের ঐকমত্যে সে তার মান্নত পূর্ণ করবে না; কেবল লাইস ইবনে সা'দ থেকে মসজিদসমূহের ব্যাপারে একটি ব্যতিক্রমী মত পাওয়া যায়।

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি, অনুরূপভাবে সেই যিয়ারত যাতে কবরের ওপর জবেহ করা হয়, মৃতদের কাছে দুআ করা হয় এবং তাদের কাছে প্রয়োজন পূরণের আবেদন করা হয়, তবে তা শিরক হিসেবে গণ্য হবে এবং সেই যিয়ারত হবে শিরকি যিয়ারত।

(২) পূর্বে ৮ নম্বরে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৩) আহমাদ ৬/৭ সহীহ সনদে এবং ৩/৬৪, ৬৯ আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর মুসনাদে শাহর ইবনে হাওশাব থেকে বর্ণিত হয়েছে।

=উপকারিতা: ইমাম আহমদের মুসনাদে ৬/৭-এ এসেছে, 'আমি আবদুর রহমানের কাছে পড়েছি মালেক হতে ইয়াজিদ...' সম্ভবত সঠিক পাঠ হবে: 'আমি আবদুর রহমানের কাছে পড়েছি মালেক হতে...' যেমনটি আবদুর রহমান ইবনে মাহদী ও মালেক ইবনে আনাসের জীবনীতে 'তাহযীবুত তাহযীব' গ্রন্থে এসেছে। অতঃপর সঠিক কথা হলো এটি আবু বসরা আল-গিফারি এর মুসনাদভুক্ত। দেখুন: সহীহুল জামে' নম্বর ৭২৪৮ এবং আহকামুল জানাইয পৃষ্ঠা ২২৪ ও পরবর্তী অংশ, কেননা এটি অত্যন্ত মূল্যবান একটি গবেষণা।

নাসায়ী এই ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন ৩/১১৩।

(৪) বুখারি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন ১/৫৬৪, ২/১৩১ ও ৪/৩৩৮ এবং মুসলিম ১/৪৫৯ ও ১/৪৫৩ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস থেকে।
(খণ্ড: ১) আস সারিমুল মুনকী ফীর রাদ্দি আলাস সুবকী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقاله ابن مسلمة من أصحاب مالك في مسجد قباء فقط، ولكن إذا أتى المدينة استحب له أن يأتي مسجد قباء ويصلي فيه، لأن ذلك ليس بسفر ولا بشد رحل فإن النبي صلى الله عليه وسلم كان يأتي مسجد قباء راكباً وماشياً كل سبت ويصلي فيه ركعتين (1) وقال: ((من تظهر في بيته ثم أتى مسجد قباء كان له كعمرة)) (2) رواه الترمذي وابن أبي شيبة، وقال سعد بن أبي وقاس، وابن عمر: صلاة فيه كعمرة، ولو نذر (3) المشي إلى مكة للحج والعمرة لزمه باتفاق المسلمين، ولو نذر أن يذهب إلى مسجد المدينة أو بيت المقدس ففيه قولان: أحدهما ليس عليه الوفاء، وهو قول أبي حنيفة وأحد قولي الشافعي، لأنه ليس من جنسة ما يجب بالشرع، والثاني عليه الوفاء بنذره، وهو مذهب مالك وأحمد بن حنبل والشافعي في قوله الآخر، لأن هذا طاعة لله، وقد ثبت في صحيح البخاري، عن عائشة، عن البني صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((من نذر أن يطيع الله فليطعه، ومن نذر أن يعصي الله فلا يعصيه)) (4) .

ولو نذر السفر إلى غير المساجد أو السفر إلى مجرد قبر نبي، أو صالح لم يلزمه الوفاء بنذر باتفاقهم، فإن هذا السفر لم يأمر به النبي صلى الله عليه وسلم، بل قد قال: ((لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد)) (5) وإنما يجب بالنذر ما كان طاعة، وقد صرح مالك وغيره بأن من

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري 3/68-69 فتح و 13/313 ومسلم 2/1016-1017 وأبو داود 2/533-534 والنسائي 2/37 كلهم من حديث ابن عمر.

(2) رواه الترمذي 2/146 من حديث أسيد بن ظهير الأنصاري وفي سنده أبي الأبرد وهو مقبول كما في التقريب وابن ماجة 1/542، ورواه النسائي 2/37 من حديث أبي أمامة سهل بن حنيف وفي سنده= =محمد بن سليمان الكرماني وهو مقبول كما في التقريب، وابن ماجة 1/453 فالحديث بمجموع الطرق حسن.

(3) إن كان يقصد أنه إذا نذر السفر فواجب بالنذر فنعم، وإن قصد الوفاء بالنذر أي الذهاب مشياً على الأقدام فقد وردد النهي عن ذلك من حديث أنس أن النبي رأى شيخاً يهاوى بين أبنية قال: ما بال هذا؟ قالوا: نذر أن يمشي قال: إن الله عن تعذيب هذا نفسه لغني، وأمره أن يركب، أخرجه البخاري 4/78 و 11/585 ومسلم 3/1264 والترمذي 4/111 والدارمي 2/184.

ومن حديث عقبة بن عامر قال: (نذرت أختي أن تمشي إلى بيت الله وأمرتني أن استفتي لها النبي صلى الله عليه وسلم ((لتمشي ولتركب 4/79 ومسلم 3/1264 والترمذي 4/111))

(4) رواه البخاري 11/585، وأبو داود 3/593 والترمذي 4/104 والنسائي 7/17 وابن ماجة 1/687 والدارمي 2/184 وأحمد 6/36، 41، 224 كلهم من حديث عائشة.

(5) تقدم صفحة (19) حاشية (1)
মালিকের সাথীদের মধ্য থেকে ইবনে মাসলামাহ এটি কেবল মসজিদে কুবা সম্পর্কে বলেছেন। তবে কেউ যখন মদিনায় আসে, তখন তার জন্য মসজিদে কুবায় যাওয়া এবং সেখানে সালাত আদায় করা মুস্তাহাব। কারণ এটি সফর বা (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) সফরের জন্য আসবাবপত্র গুছিয়ে যাত্রা করা নয়। কেননা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি শনিবার আরোহী হয়ে অথবা পায়ে হেঁটে মসজিদে কুবায় আসতেন এবং সেখানে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন (১)। এবং তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজ ঘরে পবিত্রতা অর্জন করে, অতঃপর মসজিদে কুবায় আসে, তার জন্য একটি উমরার সওয়াব রয়েছে।" (২) এটি তিরমিজি ও ইবনে আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন। সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস এবং ইবনে উমর বলেছেন: সেখানে সালাত আদায় করা উমরার সমতুল্য। আর যদি কেউ হজ ও উমরার জন্য মক্কায় হেঁটে যাওয়ার মানত (৩) করে, তবে মুসলিমদের ঐক্যমতে তার ওপর তা পালন করা আবশ্যক। আর যদি কেউ মদিনার মসজিদ (মসজিদে নববী) বা বায়তুল মাকদিসে যাওয়ার মানত করে, তবে এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে: প্রথমটি হলো, তা পূরণ করা তার ওপর ওয়াজিব নয়; এটি আবু হানিফার মত এবং শাফেয়ির দুটি মতের একটি। কারণ এটি এমন কোনো ইবাদত নয় যা শরিয়ত কর্তৃক ওয়াজিব করা হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো, তার মানত পূরণ করা তার ওপর ওয়াজিব; এটি মালিক, আহমাদ বিন হাম্বল এবং শাফেয়ির অপর মত। কারণ এটি আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজ। সহিহ বুখারিতে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার মানত করে, সে যেন তাঁর আনুগত্য করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমানি করার মানত করে, সে যেন তাঁর নাফরমানি না করে।" (৪)।

আর যদি কেউ (তিনটি) মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও সফরের মানত করে অথবা কেবল কোনো নবি বা সৎ ব্যক্তির কবরের দিকে সফরের মানত করে, তবে আলেমদের ঐক্যমতে তা পূরণ করা তার ওপর ওয়াজিব নয়। কেননা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই সফরের নির্দেশ দেননি, বরং তিনি বলেছেন: "তিনটি মসজিদ ব্যতীত (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) সফরের জন্য আসবাবপত্র গুছিয়ে যাত্রা করো না।" (৫) মানত কেবল সেই ক্ষেত্রে ওয়াজিব হয় যা আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত। ইমাম মালিক ও অন্যান্যরা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে

--------------------------------------------

(১) বুখারি ৩/৬৮-৬৯ ফাতহ এবং ১৩/৩১৩, মুসলিম ২/১০১৬-১০১৭, আবু দাউদ ২/৫৩৩-৫৩৪ এবং নাসাঈ ২/৩৭; সবাই ইবনে উমরের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) তিরমিজি ২/১৪৬ আসিদ বিন জুহাইর আল-আনসারি থেকে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে আবু আল-আবরাদ রয়েছেন এবং তিনি 'তাকরিব' অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য। ইবনে মাজাহ ১/৫৪২। নাসাঈ ২/৩৭ আবু উমামাহ সাহল বিন হুনাইফ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আল-কিরমানি রয়েছেন এবং তিনি 'তাকরিব' অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য। ইবনে মাজাহ ১/৪৫৩; সুতরাং হাদিসটি সকল সূত্রের সমষ্টিতে হাসান।

(৩) যদি উদ্দেশ্য হয় যে, যদি কেউ সফরের মানত করে তবে মানত হিসেবে তা ওয়াজিব, তবে হ্যাঁ। কিন্তু যদি মানত পূরণের অর্থ হয় পায়ে হেঁটে যাওয়া, তবে আনাস (রা.)-এর হাদিস অনুযায়ী তা নিষিদ্ধ। নবি (সা.) এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে দেখলেন যাকে তার দুই ছেলের কাঁধে ভর দিয়ে হেঁটে যেতে দেখে বললেন: এর কী হয়েছে? তারা বলল: সে হেঁটে যাওয়ার মানত করেছে। তিনি বললেন: এই ব্যক্তির নিজেকে কষ্ট দেওয়া থেকে আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। এরপর তিনি তাকে আরোহণের নির্দেশ দেন। বুখারি ৪/৭৮ ও ১১/৫৮৫, মুসলিম ৩/১২৬৪, তিরমিজি ৪/১১১, দারেমি ২/১৮৪। এবং উকবাহ বিন আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমার বোন আল্লাহর ঘরের (কাবা) দিকে হেঁটে যাওয়ার মানত করেছিল এবং সে আমাকে নির্দেশ দিয়েছিল তার জন্য নবি (সা.)-এর কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস করতে।" (তিনি বললেন:) "সে হেঁটেও যাবে এবং আরোহণও করবে।" বুখারি ৪/৭৯, মুসলিম ৩/১২৬৪, তিরমিজি ৪/১১১।

(৪) বুখারি ১১/৫৮৫, আবু দাউদ ৩/৫৯৩, তিরমিজি ৪/১০৪, নাসাঈ ৭/১৭, ইবনে মাজাহ ১/৬৮৭, দারেমি ২/১৮৪ এবং আহমাদ ৬/৩৬, ৪১, ২২৪; সবাই আয়েশা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৫) ১৯ পৃষ্ঠার ১ নং টীকায় এটি গত হয়েছে।