(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: -)
إسعاف الأخيار بما اشتهر ولم يصح من الأحاديث والآثار والقصص والأشعار القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: إسعاف الأخيار بما اشتهر و لم يصح من الأحاديث والآثار والقصص والأشعار
المؤلف: محمد بن عبد الله باموسى
الناشر: مكتبة الأسدي - مكة المكرمة - السعودية
الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 شوّال 1443
প্রসিদ্ধ অথচ অশুদ্ধ হাদিস, আসার, কাহিনী ও কবিতার বর্ণনায় সজ্জনদের প্রতি সহায়তা বিভাগ: হাদিসের ইল্লাল (ত্রুটি) ও প্রশ্নাবলি
গ্রন্থ: প্রসিদ্ধ অথচ অশুদ্ধ হাদিস, আসার, কাহিনী ও কবিতার বর্ণনায় সজ্জনদের প্রতি সহায়তা
লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বামুসা
প্রকাশক: মাকতাবাতুল আসাদি - মক্কা মুকাররমা - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলার প্রকাশকাল: ২২ শাওয়াল ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)}
{آل عمران: 102}
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)}
{النساء: 1}
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} {الأحزاب: 70 - 71}.
أما بعد:
فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
وبعد:
الحمد لله الذي ميَّز الخبيث من الطيب، وجعل الخبيث كالزبد يذهب جفاء، وجعل الصحيح كالوابل الصيب، وهو سبحانه طيِّب لا يقبل إلا طيِّباً، والصلاة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১০২)}
{আলে ইমরান: ১০২}
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের দু’জন থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্তীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। (১)}
{আন-নিসা: ১}
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল (৭১)} {আল-আহজাব: ৭০ - ৭১}।
অতপর:
নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে উদ্ভাবিত নতুন বিষয়, প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
অতপর:
সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি অপবিত্রকে পবিত্র থেকে পৃথক করেছেন এবং অপবিত্রকে সমুদ্রের ফেনার মতো করেছেন যা অসার হিসেবে অপসারিত হয়, আর সঠিককে (হককে) প্রবল বর্ষণের মতো কল্যাণকর করেছেন। তিনি সুবহানাহু পবিত্র এবং তিনি পবিত্রতা ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। আর সালাত...
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ৬)
والسلام على من بعثه ربه فرقاناً بين الحق والباطل، وعلى آله وأصحابه الأبطال البواسل، الذين ذبوا عن الإسلام وحاربوا كل باطل، فبقت الأمة الإسلامية برهة من الزمن على مثل البيضاء، ليلها كنهارها؛ ثم لما طال العهد، وقلَّ العلم، وكثر الجهل، انتشرت الأباطيل، والإشاعات والدعايات والانحرافات، والكذب على الله سبحانه وعلى رسوله صلى الله عليه وسلم، وعلى الناس، ولكن أكثر الناس لا يشعرون، فانتشرت، واشتهرت، وصالت، وجالت الأحاديث والآثار الضعيفة والموضوعة، والقصص الواهية، بل والأشعار المهزوزة والمكذوبة، وتسربت من خلالها الأفكار المنحرفة، والعقائد الضالة، فتأثرت العامة والخاصة بهذا الكمِّ الهائل من الأباطيل في جوانب شتى، منها:
(1) ترك العمل بالأحاديث الصحيحة الثابتة، والانشغال بالموضوعة والضعيفة
(1)، وأخطر من ذلك العمل بالأحاديث المخالفة للأحاديث
--------------------------------------------
এবং শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁর প্রতিপালক তাঁকে সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন; এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহসী বীর সাহাবীদের ওপর, যাঁরা ইসলামকে রক্ষা করেছেন এবং প্রতিটি মিথ্যার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। ফলে ইসলামি উম্মাহ একটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এমন এক শুভ্রতার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, যার রাতও দিনের মতো উজ্জ্বল। অতঃপর যখন দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলো, জ্ঞান কমে গেল এবং মূর্খতা বৃদ্ধি পেল, তখন নানা মিথ্যা, গুজব, অপপ্রচার, বিচ্যুতি এবং মহান আল্লাহ, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মানুষের ওপর মিথ্যারোপ ছড়িয়ে পড়ল; অথচ অধিকাংশ মানুষ তা অনুভব করতে পারে না। ফলে দুর্বল ও জাল হাদীস এবং আসার (সাহাবীদের বাণী), অসার কিসসা-কাহিনী, এমনকি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা কবিতাগুলো ছড়িয়ে পড়ল, প্রসিদ্ধি লাভ করল এবং সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াতে লাগল। এগুলোর মাধ্যমে বিচ্যুত চিন্তা ও পথভ্রষ্ট আকিদা অনুপ্রবেশ করল। এর ফলে সাধারণ ও বিশেষ উভয় শ্রেণির মানুষ নানা ক্ষেত্রে এই বিপুল পরিমাণ মিথ্যার দ্বারা প্রভাবিত হলো, যার মধ্যে রয়েছে:
(১) সহীহ ও প্রমাণিত হাদীস অনুযায়ী আমল বর্জন করা এবং জাল ও দুর্বল হাদীস নিয়ে ব্যস্ত থাকা
(১); আর এর চেয়েও ভয়ংকর বিষয় হলো এমন হাদীস অনুযায়ী আমল করা যা সহীহ হাদীসের পরিপন্থী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ৭)
الثابتة، مثل حديث: (لا سلام على طعام). وقد حث الإسلام على السلام ولم يستثنِ حالة الطعام.
(2) الوقوع في بعض الاعتقادات الفاسدة، مثل حديث: (لو اعتقد أحدكم بحجر لنفعه). فالحديث فيه دعوة إلى عبادة الأحجار دون الواحد القهار. ومثل البيت المكذوب المنسوب للأخطل النصراني: قد استوى بشر على العراق من غير سيف أودمٍ مهراق فيؤولون الاستواء في قوله تعالى {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} {طه: 5}. فيقولون (استوى) بمعنى استولى، وهذا باطل.
(3) صرف الناس عن التوسل المشروع، ودعوتهم إلى التوسل الممنوع، مثل حديث: (توسلوا بجاهي فإن جاهي عند الله عظيم).
(4) إثبات بعض الأسماء لله تعالى لم تثبت في الكتاب والسنة، مثل اسم (الجليل)، وذلك في الأثر الضعيف المشهور عن علي رضي الله عنه: (التقوى الخوف من الجليل
… إلخ).
(5) صرف الناس عن الصلاة والعبادة إذا حصل منهم شيء من التقصير، مثل الحديث الضعيف: (من لم تنهه صلاته عن الفحشاء والمنكر فلا صلاة له).
(6) انتشار البدع واندثار السنن، مثل حديث: (من شم الطيب فليصلِّ عليَّ) فأصبح من شم طيباً، أو ريحاناً، يقول: اللهم صل على محمد، ولم يكن هذا من هديه عليه الصلاة والسلام. وحديث: (إذا طنَّت
সাব্যস্ত (সহীহ) হাদীসগুলোর বিপরীতে যায়, যেমন এই হাদীসটি: "খাবার খাওয়ার সময় কোনো সালাম নেই।" অথচ ইসলাম সালাম দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে এবং খাবার খাওয়ার অবস্থাকে এর বাইরে রাখেনি।
(২) কিছু ভ্রান্ত আকিদায় লিপ্ত হওয়া, যেমন এই হাদীসটি: "তোমাদের কেউ যদি একটি পাথরের ওপরও আকিদা (বিশ্বাস) রাখে, তবে তা তাকে উপকার দেবে।" এই হাদীসটিতে একক পরাক্রমশালী আল্লাহর পরিবর্তে পাথরের ইবাদত করার আহ্বান রয়েছে। তদ্রূপ খ্রিস্টান কবি আখতালের প্রতি আরোপিত জাল পংক্তিটি: "বিশর কোনো তলোয়ার বা রক্তপাত ছাড়াই ইরাকের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে।" এর মাধ্যমে তারা মহান আল্লাহর বাণী {দয়াময় রহমান আরশের ওপর উঠেছেন} {ত্বহা: ৫}-এর ‘ইস্তাওয়া’ শব্দের অপব্যাখ্যা করে। তারা বলে ‘ইস্তাওয়া’ অর্থ হলো আধিপত্য বিস্তার করা (ইস্তাওলা), অথচ এটি বাতিল বা মিথ্যা।
(৩) মানুষকে শরীয়তসম্মত উসিলা থেকে বিমুখ করা এবং নিষিদ্ধ উসিলার দিকে আহ্বান জানানো, যেমন এই হাদীসটি: "তোমরা আমার সম্মানের উসিলায় প্রার্থনা করো, কারণ আল্লাহর কাছে আমার সম্মান অতি মহান।"
(৪) আল্লাহ তাআলার জন্য এমন কিছু নাম সাব্যস্ত করা যা কিতাব ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়, যেমন "আল-জালীল" নামটি। এটি আলী (রা.) থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ দুর্বল বর্ণনায় এসেছে: "তাকওয়া হলো জালীল (আল্লাহ)-কে ভয় করা... ইত্যাদি।"
(৫) মানুষের কাছ থেকে কোনো ত্রুটি প্রকাশ পেলে তাদেরকে সালাত ও ইবাদত থেকে বিমুখ করা, যেমন এই দুর্বল হাদীসটি: "যার সালাত তাকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে না, তার কোনো সালাত নেই।"
(৬) বিদআতের প্রসার এবং সুন্নাহর বিলুপ্তি, যেমন এই হাদীসটি: "যে ব্যক্তি সুগন্ধি শুকবে, সে যেন আমার ওপর দরূদ পাঠ করে।" ফলে যে ব্যক্তি সুগন্ধি বা রায়হান শোকে, সে বলে: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের ওপর দরূদ বর্ষণ করুন; অথচ এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ ছিল না। তদ্রূপ এই হাদীসটি: "যখন কান ঝিনঝিন করবে...
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ৮)
أذن أحدكم فليذكرني، وليصلِّ عليَّ، وليقل: ذكر الله من ذكرني بخير). وحديث: (من حج البيت ولم يزرني فقد جفاني).
(7) إدخال ما ليس من الإيمان في الإيمان، مثل حديث: (حب الوطن من الإيمان).
(8) تأصيل أصول مخالفة لأصول الشريعة، مثل الحديث الذي لا أصل له: (اختلاف أمتي رحمة) وهو مخالف للنصوص التي تذم الاختلاف.
(9) تحريم أشياء أحلَّها الله عز وجل، مثل حديث: (أبغض الحلال إلى الله الطلاق).
(10) تشويه صور الصحابة رضوان الله عليهم، مثل القصة المفتراة على الصحابي الجليل ثعلبة بن حاطب رضي الله عنه في منعه للزكاة، وتركه للصلاة. وقصة رمي حسَّان بن ثابت رضي الله عنه بالجبن، وقصة رحيل بلال من الشام إلى المدينة، وأذانه وتمرغه بقبر الرسول صلى الله عليه وسلم بعد موته.
وهذا الانتشار الواسع في جوانب شتى من الدين دليل على خطر داهِم، حتى أصبح كثير من هذه الأباطيل المكذوبة، والأخبار الموضوعة من المُسَلَّمات، ومن الثوابت الصحيحة التي لا يُقبل فيها الجدال والنقاش عند كثير من الناس، بل إن الواحد منهم يُصاب بالدهشة ودوران الرأس ويتعجب كل العجب! إذا قيل له: هذا حديث ضعيف، أو هذا أثر لا يثبت عن فلان، أو هذه قصة ليس لها إسناد، أو سندها ساقط، أو هذه الأبيات التي يترنم بها الشعراء والأدباء والمثقفون، ويرمون بها بريئاً لا
তোমাদের কেউ যখন আযান দেয়, সে যেন আমাকে স্মরণ করে এবং আমার ওপর দরুদ পাঠ করে, আর বলে: আল্লাহ তাকে স্মরণ করুন যে আমাকে কল্যাণের সাথে স্মরণ করেছে)। এবং এই হাদিস: (যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর হজ করল কিন্তু আমার জিয়ারত করল না, সে আমার সাথে নির্দয় আচরণ করল)।
(৭) যা ঈমানের অংশ নয় তাকে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করা, যেমন হাদিস: (স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ)।
(৮) শরীয়তের মূলনীতির বিরোধী মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত করা, যেমন সেই হাদিস যার কোনো ভিত্তি নেই: (আমার উম্মতের মতভেদ রহমত)। অথচ এটি সেই সকল অকাট্য দলীলের পরিপন্থী যা মতভেদের নিন্দা করে।
(৯) আল্লাহ যা হালাল করেছেন তাকে হারাম করা, যেমন হাদিস: (আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপ্রিয় হালাল কাজ হলো তালাক)।
(১০) সাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, যেমন মহান সাহাবী সা’লাবা বিন হাতিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর আরোপিত মিথ্যা গল্প—যেখানে তাকে যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি এবং সালাত ত্যাগের অপবাদ দেওয়া হয়েছে। এবং হাসসান বিন সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ভীরুতার অপবাদ দেওয়ার গল্প, আর বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাম থেকে মদীনায় ফিরে আসা, আযান দেওয়া এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের পর তাঁর কবরে গড়াগড়ি করার বানোয়াট কাহিনী।
দীনের বিভিন্ন দিকে এই ব্যাপক বিস্তার এক ভয়াবহ বিপদের প্রমাণ, এমনকি এই মিথ্যা বাতিল কথা এবং জাল সংবাদগুলোর অনেকগুলোই অনেকের কাছে স্বতঃসিদ্ধ সত্য এবং অকাট্য বিষয় হিসেবে গণ্য হতে শুরু করেছে, যা নিয়ে কোনো তর্ক-বিতর্ক বা আলোচনা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বরং তাদের কাউকে যদি বলা হয়: এটি একটি দুর্বল হাদিস, অথবা এটি এমন কোনো বর্ণনা যা অমুক ব্যক্তি থেকে প্রমাণিত নয়, অথবা এটি এমন এক কাহিনী যার কোনো সনদ নেই, কিংবা এর সনদটি অসার, অথবা এই কবিতাগুলো যা কবি, সাহিত্যিক ও শিক্ষিত সমাজ গেয়ে থাকেন এবং এর মাধ্যমে তারা এমন এক নির্দোষ ব্যক্তিকে দোষারোপ করেন যিনি না...
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ৯)
تثبت نسبتها إليه، يُصدم بهذا الخبر، ويرتج عليه، و يُشده؛ لأنك هدمت له يقيناً لا شك فيه، ومعلومات عاشت معه دهوراً مديدة، وأعواماً عديدة، فجئته أنت بفائدة جديدة، وبمعلومة فريدة، أفسدت عليه ثقافته التليدة، والصحيح أنك أصلحت وما أفسدت، وبنيت وما هدمت، وصفَّيت وما كدرت، والحق أحق أن يُتبع، وماذا بعد الحق إلا الضلال، {بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ} {الأنبياء: 18}.
ثم اعلم أن هذا الانتشار الكبير، لهذه الأحاديث والآثار والقصص والأشعار، في جميع مستويات وطبقات الناس، من الرجال والنساء، والصغار والكبار، بل على مستوى بعض الدعاة، وخطباء المساجد، والمثقفين، والمدرسين، سببه ما يلي:
…(1) الجهل.
(2) القنوات التي تبث برامج دينية.
(3) الإذاعات الإسلامية.
(4) الجرائد والمجلات.
(5) الكتب التي لا يعتني مؤلفوها بالصحيح والضعيف.
(6) خطباء المساجد والمحاضرون، الذين لا يميزون بين الصحيح والضعيف.
তার সম্বন্ধ তাঁর প্রতি সাব্যস্ত করে, সে এই সংবাদে হতভম্ব হয়ে যায়, তার নিকট বিষয়টি ঘোলাটে হয়ে যায় এবং সে স্তম্ভিত হয়ে পড়ে; কারণ আপনি তার এমন এক নিশ্চিত বিশ্বাসকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন যাতে কোনো সন্দেহ ছিল না, এবং এমন সব তথ্য যা তার সাথে দীর্ঘ যুগ ও বহু বছর ধরে ছিল। আপনি তার কাছে এক নতুন উপকার এবং এক অনন্য তথ্য নিয়ে এসেছেন, যা তার লালিত ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে নষ্ট করে দিয়েছে। তবে সঠিক কথা হলো, আপনি সংস্কার করেছেন, নষ্ট করেননি; আপনি নির্মাণ করেছেন, ধ্বংস করেননি; এবং আপনি বিশুদ্ধ করেছেন, ঘোলাটে করেননি। আর সত্যই অনুসরণ করার অধিক যোগ্য, এবং সত্যের পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী-ই বা আছে? "বরং আমি সত্যকে মিথ্যার ওপর নিক্ষেপ করি, ফলে তা মিথ্যার মস্তক চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা বিলুপ্ত হয়ে যায়" [আল-আম্বিয়া: ১৮]।
অতঃপর জেনে রাখুন যে, পুরুষ ও নারী, ছোট ও বড়—সর্বস্তরের মানুষের মাঝে, এমনকি কতিপয় দাঈ, মসজিদের খতিব, বুদ্ধিজীবী এবং শিক্ষকদের মাঝে এই হাদিসসমূহ, আসার (পূর্বসূরিদের বাণী), কিচ্ছা-কাহিনী ও কবিতাগুলোর এই ব্যাপক প্রচার-প্রসারের কারণসমূহ নিম্নরূপ:
...(১) অজ্ঞতা।
(২) ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রচারকারী চ্যানেলসমূহ।
(৩) ইসলামি রেডিও স্টেশনসমূহ।
(৪) সংবাদপত্র ও সাময়িকীসমূহ।
(৫) এমন সব বই যার লেখকগণ সহিহ ও যঈফ (বিশুদ্ধ ও দুর্বল) এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেন না।
(৬) মসজিদের খতিব ও বক্তাগণ, যারা সহিহ ও যঈফের মধ্যে পার্থক্য করেন না।
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ১০)
(7) بعض المناهج الدراسية المقررة على الطلاب والطالبات في المدارس.
(8) عدم سؤال العلماء العالمين بهذا الفن عن تلك الأحاديث التي سمعها من هذه المصادر، وهناك مصادر أخرى انتشرت من خلالها الأحاديث والآثار والقصص والأشعار الواهية، اكتفيت بما أشرت إليه خشية الإطالة.
خطة البحث:فلهذه الأسباب وغيرها حرصت منذ سنين أن أقوم بجمع بعض المشتهرات، من الأحاديث والآثار والقصص والأشعار، التي كثر انتشارها واشتهارها في أوساط الناس في عصرنا هذا، وحرصت أن لا أذكر في كتابي هذا إلا أخباراً ساقطة، بأسانيد واهية، أو لا أصل لها، أو أجمع أهل العلم بالنقل على بطلانها، أو ذهب أكثر المحققين من أهل العلم بالحديث إلى تضعيفها، وأما غير ذلك فقليل نادر، ممالم أجد من تكلم عليه إلا آحاد العلماء من المتقدمين أو المتأخرين، وحاولت أن أجمع ما أمكن بين المتقدمين والمتأخرين في الحكم على الحديث
(1)، أو الأثر، أو القصة، أو الأبيات الشعرية، وبخاصة علماء الدعوة السلفية المعاصرين،
--------------------------------------------
(7) বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত কিছু পাঠ্যক্রম।
(8) এই শাস্ত্রে অভিজ্ঞ আলেমদের নিকট সেই হাদিসগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা না করা যা তারা এই উৎসগুলো থেকে শুনেছে। এ ছাড়া আরও অনেক উৎস রয়েছে যার মাধ্যমে ভিত্তিহীন হাদিস, আছার, কিচ্ছা ও কবিতা ছড়িয়েছে; দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার ভয়ে আমি যতটুকু উল্লেখ করেছি তাতেই সীমাবদ্ধ থাকলাম।
গবেষণা পরিকল্পনা:এসব কারণে এবং অন্যান্য কারণে আমি বহু বছর ধরে বেশ কিছু প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত বিষয়—হাদিস, আছার, কিচ্ছা ও কবিতা—সংগ্রহ করতে সচেষ্ট হয়েছি, যেগুলো আমাদের বর্তমান সময়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি সচেষ্ট ছিলাম যেন আমার এই বইটিতে কেবল সেই সব বর্ণনা উল্লেখ করি যেগুলো পরিত্যক্ত, ভিত্তিহীন সনদবিশিষ্ট, যার কোনো মূল নেই অথবা যেগুলোর অসারতার বিষয়ে হাদিস বিশারদ আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন, কিংবা হাদিস শাস্ত্রের অধিকাংশ গবেষক আলেম যেগুলোকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। এ ছাড়া অন্য কিছু অত্যন্ত বিরল, যা সম্পর্কে পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আলেমদের মধ্য থেকে হাতেগোনা অল্প কয়েকজন ছাড়া কাউকে কথা বলতে দেখিনি। আমি হাদিস, আছার, কিচ্ছা বা কাব্যিক পংক্তিগুলোর মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের অভিমত একত্রিত করার চেষ্টা করেছি, বিশেষ করে সমসাময়িক সালাফি দাওয়াতের আলেমদের মতামত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ১১)
وذلك لجهودهم المبذولة المشهورة، والمشكورة في خدمة الإسلام والمسلمين، كيف لا وهم المقيَّضون لحراسة قلعة السنة من عبث العابثين، وإفساد المفسدين.
ولِما جعل الله لهم من القبول في قلوب الناس، والتسليم لأحكامهم وفتاويهم، وكذلك ليرتبط الناس بخير خلف لخير سلف. مثل: خاتمة المحدثين، وصيرَفي الحديث، من وُصف بطول الباع، وسعة الاطلاع، وقوة الإقناع، العلامة المحدث محمد ناصر الدين الألباني، وكذا الإمام حقاً، وشيخ الإسلام صدقاً، سماحة العلامة عبد العزيز بن باز، وشيخنا العلامة المجاهد سيف السنة، وقامع البدعة، محدث الديار اليمنية، والجزيرة العربية، مقبل بن هادي الوادعي
(1)، والعلامة المتفنن البارع بحر العلوم، شيخنا محمد بن صالح العثيمين، واللجنة الدائمة المبجلة حرسها الله.
أولئك أشياخي فجئني بمثلهم إذا جمعتنا يا أُخي المجامع
رحم الله من مات منهم وسقاهم من سلسبيل الجنة، وحفظ الله من بقي ومتع به.
--------------------------------------------
এটি ইসলাম ও মুসলিমদের সেবায় তাদের সুপরিচিত এবং প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার কারণে; কেনই বা হবে না, অথচ তারাই সুন্নাহর দুর্গকে বৃথা অপব্যয়কারীদের অপতৎপরতা এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করার জন্য নিয়োজিত।
এবং এই কারণে যে, আল্লাহ মানুষের অন্তরে তাদের জন্য গ্রহণযোগ্যতা দান করেছেন এবং তাদের বিধান ও ফতোয়ার প্রতি আনুগত্য সৃষ্টি করেছেন। তদুপরি, যাতে মানুষ শ্রেষ্ঠ পূর্বসূরিদের যোগ্য উত্তরসূরিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারে। যেমন: মুহাদ্দিসগণের সমাপ্তিকারী, হাদিস বিশারদ, যিনি সুদীর্ঘ পাণ্ডিত্য, বিস্তৃত অধ্যয়ন এবং অকাট্য যুক্তিপ্রমাণের শক্তির অধিকারী হিসেবে বিশেষিত, আল্লামা মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি; তদ্রূপ যথার্থ ইমাম এবং সত্যনিষ্ঠ শাইখুল ইসলাম, মহামান্য আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বাজ; এবং আমাদের শাইখ, আল্লামা মুজাহিদ, সুন্নাহর তরবারি ও বিদআত দমনকারী, ইয়েমেন ভূখণ্ড ও আরব উপদ্বীপের মুহাদ্দিস, মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিয়ি
(১); এবং বহুমুখী বিদ্যায় পারদর্শী দক্ষ আল্লামা, ইলমের সমুদ্র, আমাদের শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন; এবং সম্মানিত লজনা দাইমাহ (স্থায়ী কমিটি), আল্লাহ একে হিফাযত করুন।
তারাই আমার শিক্ষক, সুতরাং হে প্রিয় ভ্রাতা! যখন কোনো মজলিস আমাদের একত্রিত করবে, তখন তুমি তাদের মতো কাউকে আমার কাছে নিয়ে এসো।
তাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন এবং জান্নাতের সালসাবিল থেকে তাদের পান করান; আর যারা জীবিত আছেন আল্লাহ তাদের হিফাযত করুন এবং তাদের দ্বারা উম্মাহকে উপকৃত হওয়ার তাওফিক দিন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد قمت بتقسيم البحث إلى أربعة أقسام:
القسم الأول: الأحاديث.
القسم الثاني: الآثار
(1).
القسم الثالث: القصص.
--------------------------------------------
আমি গবেষণাটিকে চারটি ভাগে বিভক্ত করেছি:
প্রথম ভাগ: হাদীসসমূহ।
দ্বিতীয় ভাগ: আছারসমূহ
(১)।
তৃতীয় ভাগ: ঘটনাসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
القسم الرابع: الأشعار
(1).
• وقد ذكرت مصادر البحث والتحقيق من باب الأمانة والتوثيق، إلا ما ندر، أو كان سماعاً من شيخنا الوادعي رحمه الله.
• واستخدمت في حكمي على الحديث كلمة (ضعيف)، أو (موضوع) أو (لا أصل له)، أو (منكر)، أو (ليس بحديث)، أو ما شابهها من المصطلحات المعروفة عند كثير من القراء تسهيلاً لهم، مع أن الحديث قد يكون معضلاً، أو مرسلاً، أو منقطعاً،
… فأُبيِّن ذلك في الكلام على علة الحديث.
• وقد أذكر أحياناً تحت حديث الباب بعض الأحاديث الضعيفة التي في معناه.
• وقد قمت بالتعليق بعد التخريج والتحقيق على كل حديث بما يُناسبه، فإن كان معناه صحيحاً نصرته وبينته، وأتيت بما
--------------------------------------------
চতুর্থ বিভাগ: কবিতা
(১)।
• আমানতদারিতা ও প্রামাণ্যকরণের খাতিরে গবেষণার উৎস ও তথ্যসূত্রগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, তবে বিরল কিছু ক্ষেত্র অথবা আমাদের শায়খ আল-ওয়াদিঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট থেকে সরাসরি শোনা বিষয়গুলো এর ব্যতিক্রম।
• হাদীসের হুকুম বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি (দুর্বল), (জাল), (এর কোনো ভিত্তি নেই), (পরিত্যক্ত), (এটি হাদীস নয়) অথবা সাধারণ পাঠকদের বোঝার সুবিধার্থে এ জাতীয় প্রচলিত পরিভাষাগুলো ব্যবহার করেছি; যদিও হাদীসটি মু'দাল, মুরসাল কিংবা মুনকাতি'ও হতে পারে,
... তবে হাদীসের ইল্লত বা ত্রুটি বর্ণনার সময় আমি তা স্পষ্ট করে দিয়েছি।
• মূল হাদীসের অধীনে কখনও কখনও আমি সেই একই অর্থের কিছু দুর্বল হাদীসও উল্লেখ করেছি।
• প্রতিটি হাদীসের তাখরীজ ও তাহকীক শেষে আমি সংগতিপূর্ণ মন্তব্য করেছি; যদি হাদীসের অর্থ সহীহ হয়ে থাকে তবে আমি সেটির সপক্ষে প্রমাণ দিয়েছি এবং তা স্পষ্ট করেছি, আর আমি নিয়ে এসেছি এমন যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يُؤيده ويُغني عنه من الأحاديث الصحيحة، وإن لم يكن معناه صحيحاً نبهت على ذلك، وبيَّنت وجه الصواب فيه، فجاء الكتاب بفضل الله الملك الوهاب معالجاً لأمراض شتى، من بيان الصحيح من الضعيف في الحكم على الأحاديث والآثار، والقصص والأشعار، وبيان ما تحمله بعض هذه الأخبار من عقائد فاسدة، ومفاهيم خاطئة، وسلوكيات شاذة، وانحرافات مخالفة للكتاب والسنة، شوهت جمال الإسلام عند غير أهله، كل ذلك تجده بإذن الله في التعليق على الأحاديث.
والحق أن هذا التعليق يحمل علماً غزيراً، وفقهاً وفيراً، جمعت فيه ما تفرق من الفوائد والشوارد، فأصبح كالعذب الزلال لكل شارب ووارد، أوكأزهار متناثرة في حدائق ذات بهجة فيها من كل زوج بهيج، التقطتها ليستفيد منها القريب والبعيد، فهو كتاب عجيب له من اسمه أعظم نصيب.
وإذا أردت منازلَ الأشَرَافِ فاقرأ هُدِيتَ الرشدَ في الإسعَافِ
وانهل من العذبِ الزلالِ مواردا وانأ بنفسك عن ذوي الإجحافِ
فيا أيها الناظر فيه لك غنمه وعليَّ غرمه، ولك صفوه وعليَّ كدره، وهذه بضاعتنا المزجاة تُعرض عليك، وبنات أفكارنا تُزف إليك، فإن
বিশুদ্ধ হাদিসসমূহ একে সমর্থন করে এবং এর প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে। যদি এর অর্থ সঠিক না হয়, তবে আমি সে বিষয়ে সতর্ক করেছি এবং তাতে সঠিক দিকটি স্পষ্ট করেছি। ফলে বাদশাহ ও মহা দানশীল আল্লাহর অনুগ্রহে কিতাবটি বিভিন্ন সমস্যার সমাধানকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে; যেমন হাদিস ও আসার (সাহাবী ও তাবিঈদের বর্ণনা), কিচ্ছা-কাহিনী ও কবিতার ক্ষেত্রে সহিহ ও জয়িফের পার্থক্য নিরূপণ। আরও রয়েছে এই সকল সংবাদের অন্তর্ভুক্ত ভ্রান্ত আকিদা, ভুল ধারণা, অস্বাভাবিক আচরণ এবং কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী বিচ্যুতিসমূহের বর্ণনা, যা অমুসলিমদের কাছে ইসলামের সৌন্দর্যকে বিকৃত করেছে। আল্লাহর ইচ্ছায় হাদিসসমূহের ওপর করা এই টীকায় আপনি এ সব কিছুই পাবেন।
সত্য কথা এই যে, এই টীকাটি প্রচুর জ্ঞান ও প্রভূত ফিকহ (গভীর পাণ্ডিত্য) বহন করে। এতে আমি বিক্ষিপ্ত ও দুর্লভ ফায়দাসমূহ একত্রিত করেছি, ফলে এটি প্রত্যেক পানকারী ও আগন্তুকের জন্য সুপেয় স্বচ্ছ পানির ন্যায় হয়েছে, অথবা মনোরম উদ্যানের প্রস্ফুটিত পুষ্পরাজি সদৃশ হয়েছে যাতে রয়েছে সকল প্রকার সুদৃশ্য জোড়া। আমি এগুলো চয়ন করেছি যাতে নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সকলেই এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে। এটি এক বিস্ময়কর গ্রন্থ যা তার নামের পূর্ণ সার্থকতা লাভ করেছে।
যদি তুমি উচ্চমর্যাদাবানদের স্তরে পৌঁছাতে চাও, তবে হে সুপথপ্রাপ্ত! তুমি ‘আল-ইসআফ’ পাঠ করো।
এবং এর সুপেয় প্রস্রবণ হতে জ্ঞান আহরণ করো, আর নিজেকে বিমুখকারী ও অবিচারকদের থেকে দূরে রাখো।
হে পাঠক! এর মুনাফা আপনার আর এর দায়ভার আমার; এর নির্মলতা আপনার আর এর পঙ্কিলতা আমার। এটিই আমাদের যৎসামান্য পুঁজি যা আপনার সম্মুখে উপস্থাপন করা হলো এবং আমাদের চিন্তাপ্রসূত বিষয়াদি আপনার নিকট পেশ করা হলো; সুতরাং যদি...
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
صادفت كفؤاً كريماً لم تعدم منه إمساكاً بمعروف، أو تسريحاً بإحسان، وإن كان غير ذلك فالله المستعان
(1).
وقديماً قال الصولي: المتصفح للكتاب أبصر بمواقع الخلل فيه من مُنشئه.
ورحم الله العماد الأصفهاني القائل: إني رأيت أنه لا يكتب إنسان كتاباً في يومه إلا قال في غده: لو غيرت هذا لكان أحسن، ولو زيد كذا لكان يستحسن، ولو قُدِّم هذا لكان أفضل، ولو تُرِكَ هذا لكان أجمل، وهذا من أعظم العبر، وهو دليل على استيلاء النقص على جملة البشر.
وقال المزني رحمه الله: قرأت كتاب "الرسالة" على الإمام الشافعي رحمه الله ثمانين مرة، فما من مرة إلا وكان يقف على خطأ، فقال الشافعي: هيه -أي حسبك واكْفُفْ- أبى الله أن يكون كتاب صحيحاً غير كتابه
(2).
قال أحدهم:
…كم من كتابٍ قد تصفَّحتُهُ
… وقلتُ في نفسي أصلحتُهُ
حتى إذا طالعته ثانياً
… وجدتُ تصحيفاً فصححتُهُ
وإني لمعترف بالتقصير في تناول هذا الموضوع سلفاً، وهذا جهد بشري يعتريه الخطأ والنقص. (وأفضل الصدقة جهد المقل)
(3).
--------------------------------------------
আপনি যদি এমন এক উপযুক্ত ও মহানুভব ব্যক্তির দেখা পান যার থেকে সদ্ব্যবহারের সাথে গ্রহণ করা অথবা অনুগ্রহের সাথে বিদায় দেওয়া—কোনোটিই বাদ যাবে না; আর যদি এর ব্যতিক্রম হয়, তবে আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি
(১).
প্রাচীনকালে আস-সূলী বলেছিলেন: গ্রন্থের পাঠক তার রচয়িতার চেয়ে সেখানে থাকা ত্রুটিগুলোর স্থান সম্পর্কে অধিক সচেতন হন।
আল্লাহ আল-ইমাদ আল-আসফাহানীর প্রতি দয়া করুন, যিনি বলেছেন: আমি দেখেছি যে, কোনো মানুষ একদিন কোনো কিতাব লিখে পরদিন এমন বলে না যে—যদি আমি এটা পরিবর্তন করতাম তবে আরও ভালো হতো, যদি অমুক বিষয় যোগ করা হতো তবে তা পছন্দনীয় হতো, যদি এটাকে আগে আনা হতো তবে তা উত্তম হতো, আর যদি এটাকে ছেড়ে দেওয়া হতো তবে তা সুন্দর হতো। এটি এক মহান শিক্ষা এবং এটি সমগ্র মানবজাতির ওপর অসম্পূর্ণতা ও ত্রুটির প্রবল প্রভাবের প্রমাণ।
আল-মুযানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমি ইমাম শাফিয়ী (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট 'আর-রিসালা' কিতাবটি আশি বার পড়েছি। প্রত্যেকবারই তিনি কোনো না কোনো ত্রুটির সম্মুখীন হতেন। তখন শাফিয়ী (রহিমাহুল্লাহ) বললেন: "যথেষ্ট হয়েছে"—অর্থাৎ ক্ষান্ত হও—"আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাব ছাড়া অন্য কোনো কিতাবকে সম্পূর্ণ নির্ভুল হতে অস্বীকার করেছেন।"
(২).
জনৈক ব্যক্তি বলেছেন:
…কত কিতাব আমি উল্টেপাল্টে দেখেছি
… এবং মনে মনে বলেছি যে আমি এটি সংশোধন করেছি
অতঃপর যখন আমি দ্বিতীয়বার তা পাঠ করলাম
… তখন তাতে ভুল খুঁজে পেলাম এবং তা পুনরায় সংশোধন করলাম
আর আমি এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে পূর্ব থেকেই নিজের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করছি। এটি একটি মানবিক প্রচেষ্টা যা ভুল ও অসম্পূর্ণতার শিকার হওয়া স্বাভাবিক। (আর সর্বোত্তম সাদাকা হলো অল্প পুঁজির অধিকারীর সামর্থ্য অনুযায়ী প্রচেষ্টা)
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
والله أسأل أن يبارك في كل من ساهم في إنجاز هذا السَّفْر المبارك، وأسأله سبحانه أن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، طاهراً من شوائب الإحباط، وأن ينفع به طالبي الحق، ورواد الحقيقة، والباحثين عنها، وأتضرع إلى من إليه يصعد الكلم الطيب، والعمل الصالح يرفعه، أن يجعله من الأعمال التي لا ينقطع نفعها عني بعد إدراجي في الأكفان، ومفارقة الأهل والأوطان، كما أسأله سبحانه باسمه الأعظم الذي إذا سُئل به أعطى، وإذا دُعي به أجاب، أن يجعل هذا العمل حجاباً لي في الحياة من مضلات الفتن، ما ظهر منها وما بطن، وحجاباً من النار يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم، وله سبحانه وبحمده الشكر عدد خلقه، ورضا نفسه، وزنة عرشه، ومداد كلماته على ما وفق وأسدى، وعلى نعمه التي لا تُعد ولا تُحصى، وصلى الله وسلم وبارك على عبده المصطفى، ونبيه المجتبى، ورسوله المرتضى، وعلى آله وأصحابه مصابيح الدجى، وأئمة الهدى، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
…كتبه الفقير إلى رحمة ربه ورضوانه
أبو عمار محمد بن عبد الله باموسى
اليمن - الحديدة - مركز السلام العلمي
আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই বরকতময় কিতাবটি সম্পন্ন করতে যারা অবদান রেখেছেন তাদের সবার ওপর বরকত নাজিল করেন, এবং আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি একে একমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন, আমল বিনষ্টকারী সকল কলুষতা থেকে পবিত্র রাখেন, আর এর মাধ্যমে সত্যের অন্বেষণকারী, হাকীকতের পথিক এবং সত্যের সন্ধানীদের উপকৃত করেন। আর আমি তাঁর কাছে বিনম্র প্রার্থনা করছি যাঁর দিকে পবিত্র বাণীসমূহ উন্নীত হয় এবং সৎ কাজ যাকে তিনি উচ্চকিত করেন, যেন তিনি একে এমন আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেন যার উপকারিতা আমার কাফন পরার পর এবং পরিবার ও স্বদেশ ত্যাগ করার পর আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। তেমনি আমি তাঁর কাছে তাঁর সেই মহান নামের মাধ্যমে প্রার্থনা করছি, যা দ্বারা চাইলে তিনি দান করেন এবং যা দ্বারা ডাকলে তিনি সাড়া দেন, যেন তিনি এই কাজটিকে আমার জীবনের প্রকাশ্য ও গোপন সকল বিভ্রান্তিকর ফিতনা থেকে রক্ষাকবচ বানান এবং জাহান্নামের আগুন থেকে ঢাল বানান সেই দিন, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর কাছে সুস্থ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে। আর তাঁরই প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা তাঁর সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ, তাঁর নিজের সন্তুষ্টি মোতাবেক, তাঁর আরশের ওজন সমপরিমাণ এবং তাঁর বাণীসমূহের কালি পরিমাণ; তিনি যে তাওফিক ও অনুগ্রহ দান করেছেন এবং তাঁর সেইসব নিয়ামতের জন্য যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। আর আল্লাহ তাঁর মনোনীত বান্দা, নির্বাচিত নবী ও পছন্দনীয় রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত নাজিল করুন, যারা ছিলেন অন্ধকারের প্রদীপ এবং হিদায়াতের ইমাম। আর আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
…এটি লিখেছেন তাঁর রবের রহমত ও সন্তুষ্টির মুখাপেক্ষী
আবু আম্মার মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বামুসা
ইয়েমেন - হুদাইদাহ - আস-সালাম বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
القسم الأول (الأحاديث)
প্রথম অংশ (হাদিসসমূহ)
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ২০)
(1)
حديث: (آخر الدواء الكي).
(ليس بحديث)
لقد اشتهر هذا الكلام على ألسِنة كثيرٍ من الناس على أنه حديث نبوي وليس كذلك، وإنما هو من أمثال العرب، وانظر:
(1) "فتح الباري" (10/ 145) قال الحافظ: إنما هو من أمثال العرب.
(2) "فيض القدير" (4/ 232) تحت حديث رقم (4941).
(3) "المقاصد الحسنة" رقم (1).
(4) "التمييز" (ص: 6).
(5) "الجد الحثيث في بيان ماليس بحديث" رقم (1).
(6) "الشذرة في الأحاديث المشتهرة" رقم (1).
(7) "المصنوع في معرفة الحديث الموضوع" رقم (10).
(8) "كشف الخفاء" رقم (7).
(9) "النوافح العطرة" رقم (7).
(10) "تحذير المسلمين" رقم (366).
(11) "معجم الأمثال العربية" (1/ 42).
(১)
হাদীস: (সর্বশেষ ঔষধ হলো দাগ দেওয়া বা দাহন করা).
(এটি হাদীস নয়)
এই কথাটি অনেক মানুষের মুখে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীস হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, তবে বিষয়টি তেমন নয়। বরং এটি আরবদের প্রবাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর দেখুন:
(১) "ফাতহুল বারী" (১০/ ১৪৫); হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: এটি কেবল আরবদের প্রবাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
(২) "ফয়জুল ক্বাদীর" (৪/ ২৩২), হাদীস নং (৪৯৪১)-এর অধীনে।
(৩) "আল-মাকাসিদুল হাসানাহ্", নং (১)।
(৪) "আত-তাময়ীয" (পৃষ্ঠা: ৬)।
(৫) "আল-জাদুল হাসীস ফী বায়ানিল মা লাইসা বি হাদীস", নং (১)।
(৬) "আশ-শাযরাহ ফিল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ", নং (১)।
(৭) "আল-মাসনূ' ফী মা'রিফাতিল হাদীসিল মাওদূ'", নং (১০)।
(৮) "কাশফুল খাফা", নং (৭)।
(৯) "আন-নাওয়াফিহুল আতিরাহ", নং (৭)।
(১০) "তাহযীরুল মুসলিমীন", নং (৩৬৬)।
(১১) "মু'জামুল আমসালিল আরাবিয়্যাহ" (১/ ৪২)।
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ২১)
التعليق:
قلت: لكن جاء ذكر الكي في بعض النصوص الصحيحة، في آخر مرحلة للعلاج كما في قوله صلى الله عليه وسلم: (الشفاء في ثلاثة: شربة عسل، وشرطة محجم، وكية بنار، وأنهى أمتي عن الكي) أخرجه البخاري
(1).
وقال العلامة ابن القيم
(2) رحمه الله: وأما النهي عن الكي، فهو أن يكتوي طلباً للشفاء، وكانوا يعتقدون أنه متى لم يكتوِ هلك، فنهاهم عنه لأجل هذه النية. وقيل: إنما نهى عنه عمران بن حصين رضي الله عنهما خاصةً، لأنه كان به ناصور، وكان موضعه خطراً، فنهاه عن كيه، فيشبه أن يكون النهي منصرفاً إلى الموضع المخوف منه، والله أعلم.
وقال ابن قتيبة رحمه الله: الكي جنسان:
الأول: كي الصحيح لئلا يعتلَّ، فهذا الذي قيل فيه: (لم يتوكل من اكتوى)، لأنه يريد أن يدفع القدر عن نفسه.
والثاني: كي الجرح إذا نَغِلَ، والعضو إذا قُطِعَ، ففي هذا الشفاءُ.
وأما إذا كان الكي للتداوي الذي يجوز أن ينجع، ويجوز أن لا ينجع فإنه إلى الكراهة أقرب. اهـ.
--------------------------------------------
মন্তব্য:
আমি বলছি: তবে চিকিৎসার শেষ পর্যায় হিসেবে কিছু সহীহ বর্ণনায় আগুনের দাগ বা কাই (Cauterization) ব্যবহারের কথা এসেছে, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে রয়েছে: (তিনটি জিনিসে আরোগ্য রয়েছে: মধুর পানীয়, শিঙা লাগানো এবং আগুনের দাগ দেওয়া; তবে আমি আমার উম্মতকে আগুনের দাগ নিতে নিষেধ করছি।) ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন
(১)।
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম
(২) (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আর আগুনের দাগ দেওয়ার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তা হলো আরোগ্য লাভের আশায় এমনভাবে দাগ দেওয়া যেখানে প্রাচীন লোকেরা বিশ্বাস করত যে, যদি দাগ না দেওয়া হয় তবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে; মূলত এই নিয়তের কারণেই তিনি তাদের এটি করতে নিষেধ করেছেন। আরও বলা হয়েছে যে: তিনি বিশেষভাবে ইমরান বিন হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে এটি করতে নিষেধ করেছিলেন, কারণ তাঁর নালি ঘা (ফিস্টুলা) ছিল এবং এর স্থানটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। তাই তিনি তাঁকে তা দগ্ধ করতে বা দাগ দিতে নিষেধ করেছিলেন। ফলে এটি প্রতীয়মান হয় যে, এই নিষেধাজ্ঞাটি সেই আশঙ্কাজনক স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
ইবনে কুতাইবাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আগুনের দাগ দেওয়া দুই প্রকার:
প্রথম: সুস্থ ব্যক্তির আগুনের দাগ নেওয়া যাতে সে অসুস্থ না হয়; এটিই সেই ক্ষেত্র যার সম্পর্কে বলা হয়েছে: (যে ব্যক্তি আগুনের দাগ নিল, সে তাওয়াক্কুল বা সঠিক ভরসা করল না), কারণ সে নিজের থেকে তাকদীরকে প্রতিহত করতে চায়।
দ্বিতীয়: ক্ষতস্থানে পচন ধরলে বা কোনো অঙ্গ কেটে গেলে আগুনের দাগ দেওয়া; এতে আরোগ্য রয়েছে।
আর যদি আগুনের দাগ দেওয়া এমন চিকিৎসার জন্য হয় যা সফল হতেও পারে আবার নাও হতে পারে, তবে তা মাকরূহ বা অপছন্দনীয় হওয়ার অধিক নিকটবর্তী। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ২২)
وثبت في الصحيح في حديث السبعين ألفاً الذين يدخلون الجنة بغير حساب: (هم الذين لا يسترقون، ولا يكتوون، ولا يتطيرون، وعلى ربهم يتوكلون) أخرجه البخاري ومسلم
(1).
فقد تضمَّنت أحاديث الكي أربعة أنواع:
أحدها: فعله؛ لما رواه جابر رضي الله عنه قال: (رُمي سعد بن معاذ في أكحله قال: فحسمه النبي صلى الله عليه وسلم بيده بمشقص
… ) حسمه، أي: كواه. رواه مسلم.
الثاني: عدم محبته له؛ لما رواه جابر رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إن كان في شيء من أدويتكم
… وما أحب أن أكتوي) رواه البخاري ومسلم.
الثالث: الثناء على من تركه.
الرابع: النهي عنه.
ولا تعارض بينها بحمد الله تعالى، فإن فعله يدل على جوازه، وعدم محبته له لا يدل على المنع منه، وأما الثناء على تاركه، فيدل على أن تركه أولى وأفضل، وأما النهي عنه فعلى سبيل الاختيار والكراهة، أو عن النوع الذي لا يحتاج إليه فيفعل خوفاً من حدوث الداء. والله أعلم.
وقد تكلم على هذه المسألة الحافظ ابن حجر-رحمه الله في "الفتح"، والعلامة الألباني رحمه الله في "الصحيحة" تحت حديث: (من اكتوى أو استرقى فقد برئ من التوكل)، بكلام نفيس فارجع له إن شئت
(2).
--------------------------------------------
এবং সহিহ হাদিসে সত্তর হাজার ব্যক্তির বিষয়ে প্রমাণিত হয়েছে যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন: (তারা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যারা ঝাড়ফুঁক করান না, আগুনের ছ্যাঁকা নেন না, কুলক্ষণ মানেন না এবং তারা তাদের রবের উপর ভরসা করেন) এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন
(১).
নিশ্চয়ই আগুনের ছ্যাঁকা (চিকিৎসা হিসেবে দাগ দেওয়া) সংক্রান্ত হাদিসগুলো চার ধরনের বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথমটি: তাঁর (রাসূলুল্লাহর) নিজের কর্ম; জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: (সা'দ ইবনে মুআযের হাতের শিরায় তীর লেগেছিল। তিনি বলেন: তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজ হাত দিয়ে তীরের ফলা দিয়ে তাতে ছ্যাঁকা দিয়েছিলেন...) 'হাসামাহু' অর্থাৎ তাকে ছ্যাঁকা দিয়েছিলেন। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয়টি: এটি তাঁর পছন্দ না করা; জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে, তিনি বলেছেন: (যদি তোমাদের কোনো ওষুধে কল্যাণ থেকে থাকে... তবে আমি আগুনের ছ্যাঁকা নেওয়া পছন্দ করি না) এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয়টি: যারা এটি বর্জন করে তাদের প্রশংসা করা।
চতুর্থটি: এটি করতে নিষেধ করা।
আল্লাহ তাআলার প্রশংসায় এগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। কেননা তাঁর কর্মটি এর বৈধতা প্রমাণ করে, আর তাঁর এটি অপছন্দ করা এর নিষিদ্ধতা প্রমাণ করে না। আর যারা এটি বর্জন করে তাদের প্রশংসা করার বিষয়টি একথাই প্রমাণ করে যে, এটি বর্জন করাই উত্তম ও শ্রেষ্ঠ। আর এটি থেকে নিষেধ করার বিষয়টি পছন্দ-অপছন্দ ও অপছন্দনীয়তার (কারাহাত) পর্যায়ভুক্ত, অথবা এমন প্রকারের ক্ষেত্রে যেটির প্রয়োজন নেই বরং রোগ হওয়ার ভয়ে করা হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
হাফেজ ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি 'ফাতহুল বারি'তে এবং আল্লামা আলবানি রহমাতুল্লাহি আলাইহি 'আস-সহিহাহ' গ্রন্থে এই হাদিসটির অধীনে: (যে ব্যক্তি আগুনের ছ্যাঁকা নিল অথবা ঝাড়ফুঁক করাল, সে তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসা থেকে মুক্ত হলো), এই মাসআলাটি নিয়ে চমৎকার আলোচনা করেছেন, তাই আপনি চাইলে সেটি দেখে নিতে পারেন
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(2)
حديث: (آفة العلم النسيان … ).
(ضعيف)
…(1) رواه ابن أبي شيبة في "المصنف" (6/ 190) كتاب الأدب رقم (7) عن الأعمش مرسلاً، ورواه الدارمي (ص: 170) رقم (628) مرسلاً كما في "مشكاة المصابيح" (1/ 88) رقم (265).
(2) والبخاري في "التاريخ الكبير" (1/ 264 - 265) رقم (844) عن ابن مسعود رضي الله عنه قال: (لكل شيء آفة، وآفة العلم النسيان). قال محمد: لم يكن في العراق هذا الحديث عند أحد من أصحاب سفيان، سألني عنه عباس العنبري.
(3) والبيهقي في "الشُّعب" (4/ 157) رقم (4647)، وقال: تفرد به محمد بن عبد الله الحبطي عن شعبة وليس بالقوي.
(4) قال السخاوي في "المقاصد الحسنة" (ص: 23): سنده ضعيف.
(5) قال العجلوني في "كشف الخفاء" (1/ 16): سنده ضعيف.
(6) قال العلامة الألباني في "الضعيفة" (1303): رواه أبو سعيد الأشج في حديثه (222/ 1) حدثنا أبو أسامة عن الأعمش قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكره. ورواه أيضاً أبو الحسين الأبنوسي في "الفوائد" (24/ 2) عن علي بن الحسين قال: حدثنا أبو داود عن
(2)
হাদীস: (ইলমের ব্যাধি হলো বিস্মৃতি … )।
(দুর্বল)
…(1) ইবনে আবী শায়বাহ এটি তাঁর "আল-মুসান্নাফ" (৬/ ১৯০) গ্রন্থে, আদব অধ্যায়, হাদীস নং (৭)-এ আল-আ'মাশ থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আদ-দারিমি এটি (পৃষ্ঠা: ১৭০) হাদীস নং (৬২৮)-এ মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি "মিশকাতুল মাসাবীহ" (১/ ৮৮) নং (২৬৫)-এ বর্ণিত হয়েছে।
(2) ইমাম বুখারী তাঁর "আত-তারীখ আল-কাবীর" (১/ ২৬৪ - ২৬৫) গ্রন্থে হাদীস নং (৮৪৪)-এ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (প্রত্যেক বস্তুরই একটি ব্যাধি আছে, আর ইলমের ব্যাধি হলো বিস্মৃতি)। মুহাম্মাদ বলেন: ইরাকে সুফইয়ানের অনুসারীদের কারো কাছেই এই হাদীসটি ছিল না; আব্বাস আল-আনবারী আমাকে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।
(3) ইমাম বাইহাকী এটি "আশ-শুআব" (৪/ ১৫৭) গ্রন্থে হাদীস নং (৪৬৪৭)-এ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাবতী এককভাবে শু'বাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি শক্তিশালী রাবী নন।
(4) ইমাম সাখাবী তাঁর "আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ" (পৃষ্ঠা: ২৩) গ্রন্থে বলেছেন: এর সনদ দুর্বল।
(5) ইমাম আজলুনী তাঁর "কাশফুল খাফা" (১/ ১৬) গ্রন্থে বলেছেন: এর সনদ দুর্বল।
(6) আল্লামা আলবানী তাঁর "আয-যঈফাহ" (১৩০৩) গ্রন্থে বলেছেন: এটি আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ তাঁর হাদীসে (২২২/ ১) বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবু উসামাহ আমাদের কাছে আল-আ'মাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন—অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন। আবুল হুসাইন আল-আবনুসীও এটি তাঁর "আল-ফাওয়াইদ" (২৪/ ২) গ্রন্থে আলী বিন আল-হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু দাউদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন... থেকে।
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الأعمش قال: كان يُقال: فذكره ولم يرفعه، والوقف أصح، والمرفوع ضعيف معضل. وقال رحمه الله: هذا الحديث معضل فإن الأعمش لم يسمع من أحد من الصحابة، ولا من أنس وإنما رآه فقط.
(1).
التعليق:
قلت: تبين لك أخي الكريم ضعف هذا الحديث، لكنه صحيح المعنى، كما ذكر ذلك السخاوي والعجلوني وغيرهما من أهل العلم؛ وقد وردت آثار كثيرة عن السلف تدل على ذلك.
وقال ابن عبد البر
(2) رحمه الله: (آفة العلم وغائلته وإضاعته، وكراهية وضعه عند من ليس بأهل):
عن الزهري رحمه الله قال: إن للعلم غوائل، فمن غوائله أن يُترك العالم حتى يذهب بعلمه؛ ومن غوائله النسيان؛ ومن غوائله الكذب فيه وهو شر غوائله.
وعنه قال: إنما يُذهِب العلمَ النسيان وترك المذاكرة.
وعن ابن بريدة قال: قال لي عليٌ: تذاكروا هذا الحديث، فإنكم إن لم تفعلوا يُدْرس. رواه الدارمي.
--------------------------------------------
আমাশ বলেছেন: বলা হতো: অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন কিন্তু মারফু হিসেবে বর্ণনা করেননি। এর ওয়াকফ রূপটিই অধিক বিশুদ্ধ, আর মারফু বর্ণনাটি দুর্বল ও মুদাল। আর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এই হাদীসটি মুদাল, কেননা আমাশ কোনো সাহাবীর থেকে কোনো হাদীস শুনেননি, আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও না, বরং তিনি তাঁকে কেবল দেখেছিলেন মাত্র।
(১).
মন্তব্য:
আমি বলছি: হে সম্মানিত ভাই, আপনার কাছে এই হাদীসের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে, তবে এর অর্থ সঠিক, যেমনটি সাখাবী, আজলুনী এবং অন্যান্য আলেমগণ উল্লেখ করেছেন; আর সালাফদের থেকে এ বিষয়ে অনেক বর্ণনা পাওয়া যায় যা এর সঠিকতার প্রমাণ দেয়।
ইবনুল বার
(২) (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (জ্ঞানের আপদ, এর ধ্বংসাত্মক দিক, এর অপচয় এবং অযোগ্য ব্যক্তির নিকট জ্ঞান অর্পণের অপছন্দনীয়তা প্রসঙ্গে):
যুহরী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই জ্ঞানের কিছু আপদ রয়েছে; তার একটি হলো আলেমকে বর্জন করা, ফলে তিনি তাঁর জ্ঞানসহ গত হয়ে যান; আরেকটি হলো ভুলে যাওয়া; আর আরেকটি হলো এতে মিথ্যাচার করা, যা এর আপদসমূহের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন: বিস্মৃতি এবং মুজাকারা (পরস্পর আলোচনা) বর্জনই জ্ঞানকে বিলুপ্ত করে দেয়।
ইবনে বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে বলেছেন: তোমরা এই হাদীসগুলো নিয়ে পরস্পর আলোচনা করো, কারণ যদি তোমরা তা না করো তবে তা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। দারেমী এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وعن عبد الله بن بريدة أن دغفل بن حنظلة قال لمعاوية رضي الله عنه في حديث ذكره: إن غائلة العلم النسيان.
وقال الحسن رحمه الله: غائلة العلم النسيان وترك المذاكرة. رواه الدارمي.
وعن معاوية بن صالح قال: حدثني أبو فروة أن عيسى ابن مريم عليه السلام كان يقول: لا تمنع العلم أهله فتأثم، ولا تضعه عند غير أهله فتجهل، وكن طبيباً رفيقاً يضع دواءه حيث يعلم أنه ينفع.
وقال الحسن رحمه الله: لولا النسيان لكان العلم كثيراً.
وقال عكرمة رحمه الله: إن لهذا العلم ثمناً، قيل: وما ثمنه؟ قال: أن تضعه عند من يحفظه ولايضيعه.
فإن قال قائل: إن بعض الحكماء كان يحدث بعلمه صبيانه وأهله ولم يكونوا لذلك بأهل. قيل له: إنما فعل ذلك من فعله منهم لئلا ينسى.
وعن الأعمش-رحمه الله: أن إسماعيل بن رجاء كان يجمع صبيان الكتاب يحدثهم لئلا ينسى حديثه.
وعن سعيد بن عبد العزيز: أن خالد بن يزيد بن معاوية كان إذا لم يجد أحداً يحدثه يحدث جواريه، ثم يقول: إني لأعلم أنكنَّ لستنَّ له بأهل يريد بذلك الحفظ. اهـ.
عبدুল্লাহ বিন বুরাইদাহ হতে বর্ণিত যে, দাগফাল বিন হানজালা মুআবিয়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাঁর উল্লিখিত একটি বর্ণনায় বলেছিলেন: নিশ্চয়ই ইলমের আপদ হলো বিস্মৃতি।
হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ইলমের আপদ হলো বিস্মৃতি এবং মুজাকারাহ (পারস্পরিক আলোচনা) বর্জন করা। এটি দারেমী বর্ণনা করেছেন।
মুআবিয়াহ বিন সালিহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু ফারওয়াহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, ঈসা ইবনে মারিয়াম (আলাইহিস সালাম) বলতেন: তোমরা যোগ্য ব্যক্তিদের নিকট ইলম পৌঁছাতে বাধা দিও না, অন্যথায় তোমরা গুনাহগার হবে; আবার অযোগ্যদের নিকট তা অর্পণ করো না, নতুবা তোমরা অজ্ঞ সাব্যস্ত হবে। বরং তোমরা সেই দয়ালু চিকিৎসকের মতো হও যে তার ঔষধ ঠিক সেখানেই প্রয়োগ করে যেখানে সে জানে যে তা উপকারে আসবে।
হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: যদি বিস্মৃতি না থাকতো তবে ইলম অনেক বেশি হতো।
ইকরিমা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: নিশ্চয়ই এই ইলমের একটি মূল্য আছে। জিজ্ঞেস করা হলো: এর মূল্য কী? তিনি বললেন: তা হলো—তুমি তা এমন ব্যক্তির নিকট গচ্ছিত রাখবে যে তা সংরক্ষণ করবে এবং নষ্ট করবে না।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: কোনো কোনো প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি তো তাঁদের ইলম তাঁদের সন্তান ও পরিজনদের নিকট বর্ণনা করতেন অথচ তাঁরা তার যোগ্য ছিলেন না। এর উত্তরে বলা হয়: তাঁদের মধ্যে যারা এমনটি করেছেন তারা মূলত ইলম যেন ভুলে না যান সেই উদ্দেশ্যেই তা করেছেন।
আ'মাশ (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত: ইসমাইল বিন রাজা মক্তবের বালকদের একত্রিত করতেন এবং তাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করতেন যাতে তিনি তাঁর হাদীস ভুলে না যান।
সাঈদ বিন আবদুল আজীজ হতে বর্ণিত: খালিদ বিন ইয়াযীদ বিন মুআবিয়াহ যখন হাদীস শোনানোর মতো কাউকে পেতেন না, তখন তিনি তাঁর দাসীদের নিকট তা বর্ণনা করতেন এবং এরপর বলতেন: আমি জানি যে তোমরা এর যোগ্য নও; মূলত তিনি এর মাধ্যমে ইলম সংরক্ষণ করতে চাইতেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(3)
حديث: (أبغض الحلال إلى الله الطلاق).
(ضعيف)
أخرجه أبو داود (2177، 2178)، وابن ماجه رقم (2018)، والبيهقي في "السنن الكبرى" (14894، 14895، 14896)، والحاكم في "المستدرك" (2853)، وابن عدي في "الكامل" (8/ 222).
قلت: وهذا الحديث على شهرته الكبيرة في أوساط الناس ضعيف كما نصَّ على ذلك أئمة هذا الشأن، فقد اختلفوا في وصله وإرساله، ورجَّح جمع من الحفاظ إرساله، منهم:
(1) الدارقطني.
(2) البيهقي.
(3) أبو حاتم. "التلخيص الحبير" (3/ 205).
(4) قال السخاوي في "المقاصد" (ص: 30): صحح البيهقي إرساله -كما في "سننه" (14895) -، وقال: إن المتصل ليس محفوظاً، ورجَّح أبو حاتم الرازي المرسل.
قلت: وفي الحديث علة أخرى غير علة الإرسال، وهي عبيد الله بن الوليد الوصافي، وهو متروك.
(৩)
হাদিস: (আল্লাহর নিকট হালাল বিষয়সমূহের মধ্যে সবচেয়ে অপ্রিয় হলো তালাক).
(দুর্বল)
এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (২১৭৭, ২১৭৮), ইবনে মাজাহ নম্বর (২০১৮), বায়হাকি "আস-সুনানুল কুবরা" গ্রন্থে (১৪৮৯৪, ১৪৮৯৫, ১৪৮৯৬), হাকেম "আল-মুস্তাদরাক" গ্রন্থে (২৮৫৩), এবং ইবনে আদি "আল-কামিল" গ্রন্থে (৮/ ২২২)।
আমি বলি: মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রসিদ্ধি থাকা সত্ত্বেও এই হাদিসটি দুর্বল, যেমনটি এই শাস্ত্রের ইমামগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তারা এটি মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হওয়া নাকি মুরসাল (বিচ্ছিন্ন) হওয়া নিয়ে মতভেদ করেছেন এবং হাফেজদের একটি দল এটি মুরসাল হওয়াকেই প্রাধান্য দিয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন:
(১) দারাকুতনি।
(২) বায়হাকি।
(৩) আবু হাতিম। "আত-তালখিসুল হাবির" (৩/ ২০৫)।
(৪) সাখাবি "আল-মাকাসিদ" গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ৩০) বলেন: বায়হাকি এর মুরসাল হওয়াকে সহিহ বলেছেন—যেমনটি তার "সুনান" গ্রন্থে (১৪৮৯৫) রয়েছে—এবং তিনি বলেছেন: মুত্তাসিল (সংযুক্ত) বর্ণনাটি সংরক্ষিত নয়, আর আবু হাতিম আর-রাজি মুরসাল হওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
আমি বলি: হাদিসটিতে মুরসাল হওয়ার ত্রুটি ছাড়াও অন্য একটি ত্রুটি রয়েছে, আর সেটি হলো ওবায়দুল্লাহ ইবনুল ওয়ালিদ আল-ওয়াস্তাফি, সে পরিত্যাজ্য (মাতরুক)।
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(5) قال ابن الجوزي في "العلل المتناهية" (2/ 638) رقم (1065): هذا حديث لا يصح. قال يحيى بن معين: الوصافي ليس بشيء، وقال الفلاس والنسائي فيه: متروك الحديث.
(6) وضعَّف الحديث المناوي في "فيض القدير" (1/ 105).
(7) وضعَّف الحديث العلامة الألباني في "إرواء الغليل" (2040)، واستوفى الكلام على علته وناقش من قال بصحته
(1).
(8) وشيخنا العلامة مقبل الوادعي في تعليقه على "المستدرك" رقم (2853) قال: هذا الحديث ضعيف والراجح إرساله.
(9) وقال العلامة ابن عثيمين في "الممتع" (10/ 428) و"دروس وفتاوى في الحرم المكي" (ص: 1048): الحديث هذا ضعيف.
التعليق:
قلت: الأصل في جواز الطلاق الكتاب والسنة والإجماع؛ ولا يشك عاقل أن الطلاق له مفاسد، إذا كان في غير موضعه، وله مصالح إذا كان في موضعه، وديننا شرع النكاح وشرع الطلاق، وإليك بعض مصالح ومفاسد الطلاق:
--------------------------------------------
(৫) ইবনুল জাওযী "আল-ইলাল আল-মুতানাহিয়াহ" (২/ ৬৩৮), নম্বর (১০৬৫)-এ বলেছেন: এই হাদিসটি সহিহ নয়। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: ওয়াসসাফী কোনো ধর্তব্য নয়। ফাল্লাস এবং নাসায়ী তার ব্যাপারে বলেছেন: হাদিসের ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত।
(৬) আল-মানাবী "ফায়দুল ক্বাদীর" (১/ ১০৫)-এ হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন।
(৭) আল্লামা আলবানী "ইরওয়াউল গালীল" (২০৪০)-এ হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন, এবং এর ত্রুটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ও যারা একে সহিহ বলেছেন তাদের মত আলোচনা করেছেন
(১)।
(৮) আমাদের শায়খ আল্লামা মুকবিল আল-ওয়াদিয়ী "আল-মুস্তাদরাক"-এর ওপর তাঁর টীকায় নম্বর (২৮৫৩) বলেছেন: এই হাদিসটি দুর্বল এবং এর 'মুরসাল' হওয়াটাই অগ্রগণ্য।
(৯) আল্লামা ইবনে উসাইমীন "আল-মুমতি" (১০/ ৪২৮) এবং "দুরুস ওয়া ফাতাওয়া ফিল হারামিল মক্কী" (পৃষ্ঠা: ১০৪৮)-এ বলেছেন: এই হাদিসটি দুর্বল।
মন্তব্য:
আমি বলছি: তালাক বৈধ হওয়ার মূল ভিত্তি হলো কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং ইজমা; কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এতে সন্দেহ করবেন না যে, তালাকের ক্ষেত্রে অপকারিতা রয়েছে যদি তা যথাস্থানে না হয়, আর এতে কল্যাণ রয়েছে যদি তা যথাস্থানে হয়। আমাদের দ্বীন বিবাহকে বিধিবদ্ধ করেছে এবং তালাককেও বিধিবদ্ধ করেছে। তালাকের কিছু কল্যাণ ও অপকারিতা নিচে দেওয়া হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(1) الغرض من النكاح البقاء والدوام، وبناء بيت الزوجية، وتكوين الأسرة التي نواتها الزوجان.
(2) الطلاق هدم لهذا البيت، ونقض لدعائمه، وإزالة لمعالمه، لما يجره من الويلات، ولما يعقبه من النكبات، ولما يسببه من المصاعب والمفاسد.
(3) الطلاق إبطال لمصالح النكاح المتعددة، من تكوين الأسرة، وحصول الأولاد وتكثير سواد المسلمين.
(4) الطلاق تفرقٌ بعد وفاق سعيد، وهمٌّ بعد فرح، ويأسٌ بعد أملٍ كبير.
(5) الطلاق يسبب العداوة والبغضاء بين الزوجين، وبين الأسرتين، بعد التقارب والتآلف والتعارف.
(6) الطلاق يشتت الأولاد الموجودين، ويفقدهم إما قيام الأب، وتربيته، وتعليمه، وتوجيهه، وإما يفقدهم حنان الأم، ورعايتها، وعطفها.
(7) الطلاق لا يكون محموداً، ولا تبرز حكمة شرع الله فيه، إلا حينما تسوء العشرة الزوجية، وتفقد المحبة والمودة ويكثر الشقاق والخلاف ويصعب التفاهم والتلاؤم، ولا يمكن الاجتماع، فحينئذ يكون الطلاق رحمة، ويكون التفرق نعمة قال تعالى {فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ} {البقرة: 229}. وقال تعالى {وَإِنْ يَتَفَرَّقَا يُغْنِ اللَّهُ كُلًّا مِنْ سَعَتِهِ وَكَانَ اللَّهُ وَاسِعًا حَكِيمًا} {النساء: 130}.
(1) নিকাহর উদ্দেশ্য হলো স্থায়িত্ব ও নিরবচ্ছিন্নতা, দাম্পত্য গৃহ নির্মাণ এবং এমন একটি পরিবার গঠন করা যার মূল ভিত্তি হলো স্বামী-স্ত্রী।
(2) তালাক হলো এই গৃহের ধ্বংস সাধন, এর স্তম্ভগুলোর বিলোপ ঘটানো এবং এর চিহ্নসমূহ মুছে ফেলা; কারণ এটি দুর্ভোগ বয়ে আনে, এর পেছনে বিপর্যয় ধেয়ে আসে এবং এটি বিভিন্ন সংকট ও অনিষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
(3) তালাক হলো নিকাহর বহুমুখী কল্যাণসমূহকে নস্যাৎ করে দেওয়া, যেমন পরিবার গঠন, সন্তান লাভ এবং মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
(4) তালাক হলো সুখময় ঐক্যের পর বিচ্ছেদ, আনন্দের পর দুশ্চিন্তা এবং সুউচ্চ আশার পর চরম হতাশা।
(5) তালাক স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এবং উভয় পরিবারের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে, অথচ পূর্বে তাদের মাঝে ঘনিষ্ঠতা, হৃদ্যতা ও জানাশোনা বিদ্যমান ছিল।
(6) তালাক বিদ্যমান সন্তানদের ছিন্নভিন্ন করে দেয় এবং তাদের থেকে হয় পিতার ভূমিকা, লালন-পালন, শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা ছিনিয়ে নেয়, অথবা মায়ের মমতা, যত্ন ও স্নেহ কেড়ে নেয়।
(7) তালাক প্রশংসনীয় নয় এবং এতে আল্লাহর শরীয়তের প্রজ্ঞা প্রকাশিত হয় না, যতক্ষণ না দাম্পত্য জীবন তিক্ত হয়ে ওঠে, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য হারিয়ে যায়, কলহ ও বিরোধ বৃদ্ধি পায় এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সামঞ্জস্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে ও একত্রে বসবাস করা অসম্ভব হয়; কেবল তখনই তালাক রহমত স্বরূপ হয় এবং বিচ্ছেদ নিয়ামত হয়ে দাঁড়ায়। মহান আল্লাহ বলেন, "যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, তারা উভয়ে আল্লাহর সীমারেখা বজায় রাখতে পারবে না, তবে স্ত্রী যা দিয়ে বিনিময় (খুলা) করবে তাতে তাদের উভয়ের কোনো গুনাহ নেই।" {আল-বাকারা: ২২৯}। মহান আল্লাহ আরও বলেন, "আর যদি তারা পৃথক হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাঁর প্রাচুর্য থেকে প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করে দেবেন; আল্লাহ প্রাচুর্যময়, প্রজ্ঞাময়।" {আন-নিসা: ১৩০}।
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
(8) وبهذا يعرف جلال هذا الدين، وسمو تشريعاته، وأنها الموافقه للعقل الصحيح، ومتمشية مع المصالح العامة والخاصة.
(9) قال الوزير: أجمعوا على أن الطلاق مكروه في حال استقامة الزوجين، إلا أبا حنيفة فهو عنده حرام مع الاستقامة.
(10) الطلاق تجري فيه الأحكام التكليفية الخمسة:
1 - يُباح عند الحاجة إليه كسوء خلق المرأة.
2 - يُستحب إذا كانت الزوجة متضررة باستدامة النكاح، وهي الحالة التي تحوجها إلى المخالعة.
3 - يجب إذا أبى المُولي الفيئة (أي أن من آلا من زوجته ورفض مراجعتها بعد انتهاء المدة)، وكذلك الصواب: أنه يجب عند ترك أحد الزوجين العفة، أو الصلاة، وغيرها من حقوق الله تعالى.
4 - يحرم للبدعة، وهي إذا أوقع الطلاق وكانت حائضاً، أو نفساء، أو في طهر جامع فيه، أو بالثلاث بكلمة واحدة، أو بكلمات لم يتخللهن نكاح ولا رجعة.
5 - يكره لعدم الحاجة إليه
(1).
--------------------------------------------
(8) এর মাধ্যমে এই দ্বীনের মাহাত্ম্য এবং এর বিধানাবলির শ্রেষ্ঠত্ব জানা যায়, এবং এটিও স্পষ্ট হয় যে তা সুস্থ বিবেকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সাধারণ ও বিশেষ জনস্বার্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
(9) উজির বলেন: ফকীহগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের স্বাভাবিক অবস্থায় তালাক দেওয়া মাকরুহ, তবে ইমাম আবু হানিফার নিকট স্বাভাবিক অবস্থায় তা হারাম।
(10) তালাকের ক্ষেত্রে পাঁচটি শরয়ী বিধান প্রযোজ্য হয়:
1 - এটি জায়েয যখন এর প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন স্ত্রীর দুশ্চরিত্র বা খারাপ আচরণ।
2 - এটি মুস্তাহাব যখন বিবাহ টিকিয়ে রাখার ফলে স্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর এটি এমন অবস্থা যা তাকে খোলা তালাক গ্রহণ করতে বাধ্য করে।
3 - এটি ওয়াজিব বা আবশ্যক যখন ‘ঈলা’কারী ফিরে আসতে অস্বীকার করেন (অর্থাৎ যিনি স্ত্রীর কাছে না যাওয়ার কসম করেছেন এবং নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর স্ত্রীর সাথে পুনরায় মিলিত হতে অস্বীকৃতি জানান); তদ্রূপ সঠিক মতানুসারে: এটি ওয়াজিব যখন স্বামী-স্ত্রীর কোনো একজন সতীত্ব রক্ষা না করে, কিংবা সালাত বর্জন করে অথবা মহান আল্লাহর অন্যান্য অধিকারসমূহ নষ্ট করে।
4 - বিদআতী হওয়ার কারণে এটি হারাম, আর তা হলো যখন স্ত্রীকে ঋতুকালীন অবস্থায়, বা নিফাস অবস্থায়, অথবা এমন পবিত্রাবস্থায় তালাক দেওয়া হয় যাতে তার সাথে সহবাস করা হয়েছে, অথবা এক শব্দে তিন তালাক দেওয়া, অথবা এমন একাধিক তালাক দেওয়া যার মাঝে পুনরায় বিবাহ বা ফিরিয়ে নেওয়া (রাজআত) সংঘটিত হয়নি।
5 - প্রয়োজন ব্যতীত তালাক দেওয়া মাকরুহ
(1)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
(4)
حديث: (ابكوا فإن لم تبكوا فتباكوا).
(ضعيف)
رواه ابن ماجه (1337) وأحمد في "الزهد" (ص: 135)، وأبو يعلى في "مسنده" (1/ 330) رقم (685)، والبيهقي في "الشعب" (2/ 362) رقم (2051)، و"السنن الكبرى" (10/ 231) عن سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه.
ولفظه: (إن هذا القرآن نزل بحزن وكآبة فإذا قرأتموه فابكوا فإن لم تبكوا فتباكوا).
وفي إسناده: أبو رافع، وهو إسماعيل بن رافع الأنصاري، وهو ضعيف كما في "التقريب"، والوليد بن مسلم وهو مدلس.
وضعَّف الحديث: العلامة الألباني في "الضعيفة" (6511)
(1).
وذكره العجلوني في "كشف الخفاء" (1/ 29) رقم (42).
التعليق:
قلت: ترتيل القرآن والتغني به وتحسين الصوت عند قراءته والخشوع أمر مطلوب، وقد دلت عليه أدلة أخرى، فقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يأمر بتحسين
--------------------------------------------
(৪)
হাদিস: (তোমরা কাঁদো, আর যদি কাঁদতে না পার তবে কাঁদার ভান করো).
(দুর্বল)
এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ (১৩৩৭), আহমদ 'আয-যুহদ' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ১৩৫), আবু ইয়ালা তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে (১/ ৩৩০, নম্বর ৬৮৫), বায়হাকি তাঁর 'শুআবুল ইমান' গ্রন্থে (২/ ৩৬২, নম্বর ২০৫১) এবং 'আস-সুনানুল কুবরা' গ্রন্থে (১০/ ২৩১), সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
এর শব্দবিন্যাস হলো: (নিশ্চয়ই এই কুরআন বিষণ্ণতা ও দুঃখের সাথে নাযিল হয়েছে। সুতরাং যখন তোমরা এটি পাঠ করবে তখন কাঁদো। যদি কাঁদতে না পার তবে কাঁদার ভান করো)।
এর সনদে রয়েছেন আবু রাফে, যিনি হলেন ইসমাইল বিন রাফে আল-আনসারী; তিনি 'আত-তাকরিব' গ্রন্থ অনুযায়ী দুর্বল। আর ওয়ালিদ বিন মুসলিম একজন মুদাল্লিস।
হাদিসটিকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন আল্লামা আলবানী 'আয-যঈফাহ' গ্রন্থে (৬৫১১)
(১)।
আজলুনি এটি 'কাশফুল খাফা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (১/ ২৯, নম্বর ৪২)।
মন্তব্য:
আমি বলি: কুরআনের তারতিল, সুমিষ্ট স্বরে তিলাওয়াত করা, তিলাওয়াতের সময় কণ্ঠ সুন্দর করা এবং খুশু-খুযু অবলম্বন করা একটি কাম্য বিষয়। অন্যান্য দলিলও এর সপক্ষে রয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্দর করার নির্দেশ দিতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الصوت بالقرآن، فيقول: (زينوا القرآن بأصواتكم، فإن الصوت الحسن يزيد القرآن حسناً)
(1).
ويقول النبي صلى الله عليه وسلم: (إن من أحسن الناس صوتاً بالقرآن، الذي إذا سمعتموه يقرأ حسبتموه يخشى الله)
(2).
وانظر "صفة الصلاة"
(3) للألباني رحمه الله فقد ذكر بحثاً نفيساً في هذا الموضوع.
--------------------------------------------
কুরআনের সুর সম্পর্কে তিনি বলেন: (তোমাদের কণ্ঠ দিয়ে কুরআনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করো, কারণ সুন্দর কণ্ঠ কুরআনের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়)
(১).
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: (নিশ্চয়ই কুরআনের সুরে মানুষের মাঝে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যাকে তিলাওয়াত করতে শুনলে তোমাদের মনে হয় যে সে আল্লাহকে ভয় করছে)
(২).
এবং আলবানী রহমাতুল্লাহি আলাইহির "সিফাতুস সালাত"
(৩) গ্রন্থটি দেখুন, তিনি এই বিষয়ে একটি মূল্যবান আলোচনা পেশ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ৩২)
(5)
حديث: (اتقِ شر من أحسنت إليه).
(ليس بحديث)
قال السخاوي في "المقاصد الحسنة" (ص: 39) رقم (25) لا أعرفه، يُشبه أن يكون من كلام بعض السلف.
ونقل كلام السخاوي المتقدم:
ابن الديبع في "التمييز" (ص: 9)، والقاري في "المصنوع" (ص: 45) رقم (1)، والعامري في "الجد الحثيث" (ص: 38) رقم (6)، والصعدي في النوافح العطرة (ص: 19) رقم (32)، والشوكاني في "الفوائد المجموعه" (ص: 81) رقم (58).
التعليق:
قلت: قال السخاوي في "المقاصد الحسنة" هذا الكلام ليس على إطلاقه، بل هو محمول على اللئام غير الكرام، ويشهد لذلك مافي "المجالسة" للدينوري عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أنه قال: الكريم يلين إذا استعطف، واللئيم يقسو إذا ألطف.
وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: ما وجدت لئيماً إلا قليل المروءة.
وقد أحسن من قال:
(৫)
হাদিস: (যার প্রতি তুমি ইহসান বা উপকার করেছ, তার অনিষ্ট হতে বেঁচে থাকো).
(এটি কোনো হাদিস নয়)
সাখাভী "আল-মাকাসিদ আল-হাসানা" (পৃষ্ঠা: ৩৯) নম্বর (২৫)-এ বলেছেন: আমি এটি জানি না, এটি সালাফদের কারো উক্তি হওয়ার সদৃশ।
সাখাভীর উপরোক্ত বক্তব্যটি উদ্ধৃত করেছেন:
ইবনে আদ-দাইবা "আত-তাময়িজ" (পৃষ্ঠা: ৯)-এ, আল-কারি "আল-মাসনু" (পৃষ্ঠা: ৪৫) নম্বর (১)-এ, আল-আমিরি "আল-জাদ্দুল হাসিছ" (পৃষ্ঠা: ৩৮) নম্বর (৬)-এ, আস-সাদি "আন-নাওয়াফিহ আল-আতিরা" (পৃষ্ঠা: ১৯) নম্বর (৩২)-এ এবং আশ-শাওকানি "আল-ফাওয়াইদ আল-মাজমুয়াহ" (পৃষ্ঠা: ৮১) নম্বর (৫৮)-এ।
মন্তব্য:
আমি বলছি: সাখাভী "আল-মাকাসিদ আল-হাসানা"-তে বলেছেন: এই কথাটি ঢালাওভাবে প্রযোজ্য নয়, বরং এটি কেবল নিচ প্রকৃতির লোকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সম্মানিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নয়। এর সমর্থনে দাইনাওয়ারি-র "আল-মুজালাসাহ" গ্রন্থে আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "ভদ্র ব্যক্তি কোমল হয় যখন তার কাছে অনুগ্রহ প্রার্থনা করা হয়, আর নিচ ব্যক্তি কঠোর হয় যখন তার প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করা হয়।"
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "আমি এমন কোনো নিচ ব্যক্তি দেখিনি যার মধ্যে সামান্যতম মনুষ্যত্ব বা পৌরুষ অবশিষ্ট ছিল।"
আর যিনি বলেছেন তিনি কতই না চমৎকার বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
إذا أنت أكرمت الكريم ملكته
… وإن أنت أكرمت اللئيم تمردا
وقال أبو عمرو بن العلاء أحد الأئمة يخاطب بعض أصحابه: كن من الكريم على حذر إذا أهنته، ومن اللئيم إذا أكرمته، ومن العاقل إذا أحرجته، ومن الأحمق إذا رحمته، ومن الفاجر إذا عاشرته، وليس من الأدب أن تجيب من لا يسألك، أو تسأل من لايجيبك، أوتحدث من لاينصت لك.
وفي الإسرائيليات، يقول الله: من أساء إلى من أحسن إليه، فقد بدل نعمتي كفراً، ومن أحسن إلى من أساء إليه، فقد أخلص لي شكراً.
وعند البيهقي في "الشعب" عن محمد بن حاتم المظفري، قال: اتق شر من يصحبك لنائلة، فإنها إذا انقطعت عنه لم يعذر، ولم يبال ما قال وما قيل فيه.
وللدينوري في "المجالسة" من طريق ابن عائشة عن أبيه قال: قال بعض الحكماء: لا تضع معروفك عند فاحش، ولا أحمق، ولا لئيم، ولا فاجر، فإن الفاجر يرى ذلك ضعفاً، والأحمق لايعرف قدر ما أتيت، فارزق معروفك أهله تحصل به شكراً.
وفي المرفوع ما يشهد للأخير. اهـ.
قلت: نعم وفي الوحي ما يشهد لذلك فالله تعالى خلق العباد ليعبدوه، ورزق الخليقة ليشكروه، فعبد الكثير غيره، وشكر الغالب سواه، فخير الله
যদি তুমি কোনো মর্যাদাবান ব্যক্তিকে সম্মানিত করো, তবে তুমি তাকে জয় করে নেবে
… আর যদি তুমি কোনো নীচ ব্যক্তিকে সম্মানিত করো, তবে সে অবাধ্য হয়ে উঠবে।
ইমামগণের অন্যতম আবু আমর ইবনুল আলা তার জনৈক সঙ্গীকে সম্বোধন করে বলেন: তুমি সতর্ক থেকো কোনো মর্যাদাবান ব্যক্তি থেকে যখন তুমি তাকে অপমান করো, নীচ ব্যক্তি থেকে যখন তুমি তাকে সম্মান করো, বুদ্ধিমান ব্যক্তি থেকে যখন তুমি তাকে সংকটে ফেলো, নির্বোধ ব্যক্তি থেকে যখন তুমি তার প্রতি দয়া করো এবং পাপাচারী ব্যক্তি থেকে যখন তুমি তার সাথে মেলামেশা করো। আর এটি শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত নয় যে, তুমি এমন কাউকে উত্তর দেবে যে তোমাকে প্রশ্ন করেনি, অথবা এমন কাউকে প্রশ্ন করবে যে তোমাকে উত্তর দেয় না, অথবা এমন কারো সাথে কথা বলবে যে তোমার প্রতি মনোযোগ দেয় না।
ইসরাইলি বর্ণনায় রয়েছে, আল্লাহ বলেন: যে ব্যক্তি তার প্রতি ইহসানকারীর সাথে মন্দ আচরণ করল, সে আমার নেয়ামতকে অকৃতজ্ঞতায় রূপান্তরিত করল। আর যে ব্যক্তি তার প্রতি মন্দ আচরণকারীর সাথে সদাচরণ করল, সে একনিষ্ঠভাবে আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করল।
বায়হাকির 'আশ-শুয়াব' গ্রন্থে মুহাম্মদ বিন হাতিম আল-মুজাফফারি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সেই ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকো যে কোনো বৈষয়িক প্রাপ্তির জন্য তোমার সঙ্গী হয়; কেননা যখন তা তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন সে কোনো ওজর গ্রহণ করে না এবং সে নিজে কী বলল কিংবা তার সম্পর্কে কী বলা হলো সে বিষয়ে ভ্রুক্ষেপ করে না।
দিনাওয়ারির 'আল-মুজালাসাহ' গ্রন্থে ইবনে আইশার সূত্রে তার পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কোনো কোনো প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বলেছেন, তোমার সদাচরণ কোনো কুরুচিপূর্ণ ব্যক্তি, নির্বোধ, নীচ কিংবা পাপাচারীর নিকট অর্পণ করো না। কেননা পাপাচারী একে দুর্বলতা মনে করে এবং নির্বোধ তোমার কর্মের কদর বা মূল্য বোঝে না। সুতরাং তোমার সদাচরণ কেবল তার উপযুক্ত পাত্রকেই প্রদান করো, তবেই তুমি এর মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা লাভ করবে।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র বাণীতেও শেষোক্ত বিষয়টির সপক্ষে প্রমাণ রয়েছে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
আমি বলি: হ্যাঁ, ওহীর মধ্যেও এর সপক্ষে প্রমাণ রয়েছে; কেননা আল্লাহ তাআলা বান্দাদের সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য, আর সৃষ্টিজগতকে রিজিক দিয়েছেন তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করার জন্য। অথচ অনেকেরই ইবাদত করা হয়েছে তাঁকে ছেড়ে অন্যের জন্য এবং অধিকাংশের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে তাঁর পরিবর্তে অন্যের নিকট। সুতরাং আল্লাহর কল্যাণ...
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
إلى العباد نازل، وشرهم إليه صاعد، لأن طبيعة الجحود، والنكران، والجفاء، وكفران النعم، غالبة على النفوس البشرية، إلا ما رحم ربي، قال تعالى
… {وَقَلِيلٌ مِنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ (13)} {سبأ: 13}.
وقال صلى الله عليه وسلم: (لا يشكر الله من لا يشكر الناس)
(1).
فلا تُصدم يا أخي إذا وجدت هؤلاء قد كفروا جميلك، وجحدوا إحسانك، ونسوا معروفك، بل ربما ناصبوك العداء، ورموك بمنجنيق الحقد الدفين، لا لشيء، إلا لأنك أحسنت إليهم {وَمَا نَقَمُوا إِلَّا أَنْ أَغْنَاهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ مِنْ فَضْلِهِ} {التوبة: 74}.
فلا تذهب نفسك عليهم حسرات، وطالع سجل العالم المشهود، وقلب صفحات التاريخ، فإذا في فصوله قصة أبٍ ربَّى ابنه، وغذاه وكساه، وأطعمه، وسقاه، وأدبه، وعلمه، وسهر لينام، وجاع ليشبع، وتعب ليرتاح، فلما طرَّ شارب هذا الابن، وقوي ساعده، أصبح لوالده كالكلب العقور، استخفافاً، ازدراءً، مقتاً، عقوقاً صارخاً، عذاباً وبيلاً، اللهم سلِّم سلم، هل جزاء الإحسان إلا الإحسان، حقاً نحن في زمن العقوق، وجفاف المشاعر، ألا فليهدأ الذين احترقت أوراق جميلهم عند منكوسي الفطر، ومحطمي الإرادات، وليهنأوا بعِوض المثوبة عند من لا تنفد خزائنه.
--------------------------------------------
বান্দাদের প্রতি (অনুগ্রহ) অবতীর্ণ হয় এবং তাদের মন্দ কাজ তাঁর দিকে উত্থিত হয়। কেননা অকৃতজ্ঞতা, অস্বীকার, ঔদাসীন্য এবং নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা মানুষের স্বভাবের ওপর প্রবল থাকে, কেবল আমার রব যাকে দয়া করেন সে ব্যতীত। মহান আল্লাহ বলেন
… "...আর আমার বান্দাদের মধ্যে অল্প সংখ্যকই কৃতজ্ঞ।" [সাবা: ১৩]।
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হয় না।"
(১)।
সুতরাং হে আমার ভাই, তুমি হতভম্ব হয়ো না যদি দেখো যে তারা তোমার মহানুভবতাকে অস্বীকার করেছে, তোমার অনুগ্রহকে অগ্রাহ্য করেছে এবং তোমার সদাচরণকে ভুলে গেছে। বরং সম্ভবত তারা তোমার প্রতি শত্রুতা পোষণ করবে এবং প্রচ্ছন্ন বিদ্বেষের কামানে তোমাকে বিদ্ধ করবে; অন্য কোনো কারণে নয়, বরং কেবল এজন্য যে তুমি তাদের প্রতি দয়া করেছ। আল্লাহ বলেন, "এবং তারা কেবল এজন্যই প্রতিশোধ পরায়ণ হয়েছিল যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নিজ অনুগ্রহে তাদের সম্পদশালী করেছিলেন।" [আত-তাওবাহ: ৭৪]।
অতএব, তাদের জন্য আক্ষেপে তোমার প্রাণ সংহার করো না। দৃশ্যমান বিশ্বের নথিগুলো পাঠ করো এবং ইতিহাসের পাতা উল্টিয়ে দেখো। দেখবে এর অধ্যায়গুলোতে এমন এক পিতার গল্প রয়েছে যিনি তার সন্তানকে লালন-পালন করেছেন, তাকে আহার করিয়েছেন ও পোশাক পরিয়েছেন, পান করিয়েছেন, শিষ্টাচার শিখিয়েছেন ও শিক্ষিত করেছেন। সন্তানকে ঘুম পাড়াতে নিজে রাত জেগেছেন, সন্তানকে তৃপ্ত করতে নিজে ক্ষুধার্ত থেকেছেন এবং সন্তানের বিশ্রামের জন্য নিজে ক্লান্তি সয়েছেন। অতঃপর যখন সেই পুত্রের গোঁফ রেখা দৃশ্যমান হলো এবং তার বাহু শক্তিশালী হলো, তখন সে তার পিতার প্রতি হিংস্র কুকুরের ন্যায় হয়ে গেল; অবজ্ঞা, ঘৃণা, অবমাননা ও চরম অবাধ্যতায় লিপ্ত হলো, যা এক ভয়াবহ যাতনা। হে আল্লাহ, নিরাপত্তা দাও, নিরাপত্তা দাও! উপকারের প্রতিদান কি উপকার ছাড়া আর কিছু হতে পারে? প্রকৃতপক্ষে আমরা অবাধ্যতা এবং অনুভূতির শুষ্কাতার যুগে বাস করছি। সুতরাং যাদের উপকারের খাতাগুলো স্বভাব-বিকৃত ও লক্ষ্যভ্রষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, তারা যেন শান্ত হয়; আর তারা যেন সেই সত্তার কাছে প্রতিদান পেয়ে আনন্দিত হয় যাঁর ভাণ্ডার কখনো শেষ হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইসআফুল আখইয়ার বিমা ইশতাহারা ওয়া লাম ইয়াসিহহা মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসারি ওয়াল কাসাসি ওয়াল আশআর
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
إن هذا الخطاب الحار لا يدعوك لترك الجميل وعدم الإحسان للغير، وإنما يوطنك على انتظار الجحود، والتنكر لهذا الجميل والإحسان، فلا تبتئس بما كانوا يصنعون، {أَحْصَاهُ اللَّهُ وَنَسُوهُ} {المجادلة: 6}.
اعمل الخير لوجه الله تعالى، لأنك الفائز على كل حال، في الحال وفي المآل وليكن على بالك دائما قوله صلى الله عليه وسلم: (خير الناس أنفعهم للناس)
(1).
ثم لا يضر غمط من غمطك، ولا جحود من جحدك، واحمد الله لأنك المحسن، وهو المسيء، واليد العليا خير من اليد السفلى {إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنْكُمْ
… جَزَاءً وَلَا شُكُورًا (9)} {الإنسان: 9}.
وقد ذهل كثير من العقلاء عن جبلَّة الجحود عند الغوغاء، وكأنهم ما سمعوا الوحي الجليل، وهو ينعي على الصنف عتوه وتمرده {مَرَّ كَأَنْ لَمْ يَدْعُنَا إِلَى ضُرٍّ مَسَّهُ} {يونس: 12}.
لا تفجأ إذا أهديت بليداً قلماً فكتب به هجاءك ظلماً، أو منحت جافياً عصاً يتوكأ عليها ويهش بها على غنمه، فشج بها رأسك، هذا هو الأصل عند كثير من هذه البشرية المحنطة في كفن الجحود مع باريها جلَّ في علاه، فكيف بها معي ومعك {وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ} {الأعراف: 17}.
--------------------------------------------
এই আবেগপূর্ণ সম্বোধন আপনাকে সদাচরণ ত্যাগ করতে কিংবা অন্যের প্রতি ইহসান না করতে আহ্বান করছে না, বরং এটি আপনাকে অকৃতজ্ঞতা এবং এই সদাচরণ ও ইহসানের অস্বীকৃতির অপেক্ষায় অভ্যস্ত করছে; তাই তারা যা করত তা নিয়ে আপনি ব্যথিত হবেন না, {আল্লাহ তা সংরক্ষণ করেছেন, আর তারা তা ভুলে গিয়েছে} {মুজাদালাহ: ৬}।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পুণ্য কাজ করুন, কারণ আপনি সর্বাবস্থায় বিজয়ী—বর্তমানে এবং পরিণামে। আর সর্বদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীটি স্মরণে রাখুন: (মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী)
(১)।
এরপর যে আপনাকে অবজ্ঞা করে তার অবজ্ঞা কিংবা অকৃতজ্ঞের অকৃতজ্ঞতা আপনার কোনো ক্ষতি করবে না; আর আল্লাহর প্রশংসা করুন কারণ আপনি সদ্ব্যবহারকারী আর সে দুর্ব্যবহারকারী, আর উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম {আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তোমাদের আহার দান করি, আমরা তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চাই না (৯)} {ইনসান: ৯}।
অনেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি সাধারণ মানুষের অকৃতজ্ঞ স্বভাবের কথা ভুলে যান, যেন তারা সেই মহান ওহী শোনেননি যা এই শ্রেণির ঔদ্ধত্য ও অবাধ্যতার নিন্দা জ্ঞাপন করছে {সে এমনভাবে চলে যায় যেন তাকে স্পর্শ করা কোনো বিপদের জন্য সে আমাদের ডাকেনি} {ইউনুস: ১২}।
আপনি যদি কোনো নির্বোধকে একটি কলম উপহার দেন আর সে তা দিয়ে অন্যায়ভাবে আপনার নিন্দা লেখে, কিংবা কোনো রূঢ় ব্যক্তিকে একটি লাঠি দেন যা দিয়ে সে ভর দেয় এবং নিজের বকরি চরায়, আর সে তা দিয়ে আপনার মাথা ফাটিয়ে দেয়—তবে এতে আশ্চর্য হবেন না। এটিই সেই বহু মানুষের স্বভাব যারা তাদের স্রষ্টা (যিনি তাঁর সুউচ্চ মর্যাদায় মহান)—তাঁর প্রতি অকৃতজ্ঞতার কাফনে মমি হয়ে আছে; তাহলে আমার ও আপনার সাথে তাদের আচরণ কেমন হবে? {আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না} {আরাফ: ১৭}।
--------------------------------------------