(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: -)
النقد الصحيح لما اعترض من أحاديث المصابيح القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: النقد الصحيح لما اعترض من أحاديث المصابيح
المؤلف: صلاح الدين أبو سعيد خليل بن كيكلدي بن عبد الله الدمشقي العلائي (ت 761هـ)
المحقق: عبد الرحمن محمد أحمد القشقري
الناشر: -
الطبعة: الأولي، 1405هـ/1985م
عدد الصفحات: 61
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মাসাবীহ-এর হাদীসসমূহের ওপর কৃত আপত্তির সঠিক সমালোচনা বিভাগ: তাখরীজ ও আতরাফ
বই: মাসাবীহ-এর হাদীসসমূহের ওপর কৃত আপত্তির সঠিক সমালোচনা
লেখক: সালাহুদ্দীন আবু সাঈদ খলীল ইবন কাইকালদী ইবন আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকী আল-আলাঈ (মৃত্যু ৭৬১ হিজরী)
সম্পাদক: আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ আহমাদ আল-কাশকারী
প্রকাশক: -
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৫ হিজরী/১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১
[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة…النقد الصحيح لما اعترض عليه من أحاديث المصابيح
تأليف الحافظ صلاح الدين خليل بن كيكلدي العلائي، المتوفى سنة 761هـ
تحقيق وتعليق: الدكتور عبد الرحيم محمد أحمد القشقري الأستاذ المساعد بكلية الحديث والدراسات الإسلامية
بسم الله الرحمن الرحيم والحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد خاتم الأنبياء والمرسلين وبعد:
فإن الله سبحانه وتعالى حينما تكفل بحفظ كتابه {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} تكفل أيضاً بحفظ سنة نبيه بأن خلق لها رجالاً يذبون عنها، ويكشفون زيف الزائفين. وذلك بتدوينها في الدواوين سواء كانت تلك الدواوين على حسب المسانيد كمسند الطيالسي وأحمد بن حنبل وابن راهوية أو على الأبواب كالبخاري ومسلم وأصحاب السنن.
وقد اتبع كل إمام منهج في التأليف، فمنهم من اشترط الصحة في أحاديثه كما فعل الإمام البخاري ومسلم دون أن يستوعبا جميع الأحاديث الصحيحة، لأن في ذلك مشقة وعناء، بل اختارا ما أجمع العلماء على صحته، وتركا من الصحاح مخافة الطول.
ومنهم من لم يشترط الصحة، بل أورد كل ما عنّ له وحكم على ما رأى أنه لازم، كما صنع الترمذي وأبو داود وأن ما سكت عنه صالح، بل وفيها بعض الأحاديث الضعيفة.
وقد أراد البغوي – رحمه الله – أن يجمع كتاباً شاملاً لنوعي
ভূমিকা…আল-মাসাবিহ-এর হাদিসসমূহের ওপর উত্থাপিত আপত্তিসমূহের সঠিক সমালোচনা
রচনা করেছেন হাফেজ সালাহউদ্দিন খলিল বিন কাইকালদি আল-আলাই, মৃত্যু ৭৬১ হিজরি
সম্পাদনা ও টীকা: ডক্টর আব্দুর রহিম মুহাম্মদ আহমদ আল-কাশকারি, সহকারী অধ্যাপক, হাদিস ও ইসলাম শিক্ষা অনুষদ
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি নবী ও রাসূলদের সমাপ্তিদানকারী। অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ যখন তাঁর কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন— "নিশ্চয়ই আমি উপদেশ (আল-কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষক"—তখন তিনি তাঁর নবীর সুন্নাহ সংরক্ষণেরও দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এজন্য তিনি এমন কিছু ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি করেছেন যারা সুন্নাহর ওপর চড়াও হওয়া আক্রমণ প্রতিহত করেন এবং মিথ্যাচারীদের জালিয়াতি উন্মোচন করেন। আর এটি সম্পন্ন হয়েছে হাদিসসমূহকে বিভিন্ন গ্রন্থে সংকলন করার মাধ্যমে, চাই সেই গ্রন্থগুলো মুসনাদ (সাহাবীদের নামের ক্রমানুসারে) ভিত্তিক হোক—যেমন মুসনাদে তায়ালিসি, আহমাদ বিন হাম্বল ও ইবনে রাহওয়াইহ—অথবা বিষয়ভিত্তিক অধ্যায় অনুযায়ী হোক—যেমন বুখারি, মুসলিম ও সুনান গ্রন্থকারগণ।
গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে প্রত্যেক ইমাম একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে কেবল 'সহিহ' (বিশুদ্ধ) হওয়ার শর্তারোপ করেছেন, যেমনটি ইমাম বুখারি ও মুসলিম করেছেন। তবে তাঁরা সমস্ত সহিহ হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেননি, কারণ তাতে অত্যন্ত পরিশ্রম ও কষ্ট রয়েছে; বরং তাঁরা আলেমদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিশুদ্ধ হাদিসগুলো নির্বাচন করেছেন এবং গ্রন্থ দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে অনেক সহিহ হাদিস বর্জন করেছেন।
আবার তাঁদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন যারা বিশুদ্ধতার শর্তারোপ করেননি, বরং তাঁর কাছে যা উপস্থিত হয়েছে সবই উল্লেখ করেছেন এবং যার ওপর মন্তব্য করা আবশ্যক মনে করেছেন তার হুকুম বর্ণনা করেছেন। যেমনটি করেছেন তিরমিযী ও আবু দাউদ। আর আবু দাউদ যেগুলোর ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন সেগুলো আমলযোগ্য, যদিও তার মধ্যে কিছু দুর্বল হাদিসও বিদ্যমান।
ইমাম বাগাবী —আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন— চেয়েছিলেন উভয় প্রকার হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ সংকলন করতে...
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الصحيح والحسن، فما كان في الصحيحين فهو صحيح، وما كان في السنن فهو حسن، وإن كان هناك ضعيف أو غريب، أشار إليه، وإن كان منكراً أو موضوعاً، أعرض عنه.
وقد جاء العلماء بعده فوضعوا كلام البغوي في ميزان النقد العلمي، فخرجوا بما يلي:
1- أنه لم يميز بين النوعين – الصحيح والحسن- وكأنه سكت عن البيان لاشتراكهما في الاحتجاج به لا في القوة.
2- ردوا قوله بأن الحسان ما في السنن لأن فيها غيره من الصحيح والضعيف الذي يجبر، لا سيما عند أبي داود لأن الضعيف عنده أحب إليه من رأي الرجال، وقد يقال عن صنيع البغوي بأنه اصطلاح له، ولا مشاحة في الإصطلاح إلا أنه قول ضعيف، لأن الواقع يرده.
فالإصطلاح يكون حينئذ مردوداً وقد اهتم الأئمة الذين جاؤوا بعده بكتاب المصابيح شرحاً وتخريجاً لأحاديثه فشرحه البيضاوي وسماه تحفة الأبرار وقاسم بن قطلوبغا، والتور بشتى وغيرهم.
وخرّج أحاديثه جملة من العلماء منهم: الإمام المناوي في كتابه كشف المناهيج.
ومن العلماء من أكمله وهذبه وزاد عليه.
ذكر ذلك حاجي خليفة في كتابه كشف الظنون عند الكلام على كتاب المصابيح 2/1698.
وكان للعلائي دور في خدمة هذا الكتاب الجليل حيث دافع عنه وعن الأحاديث التي رميت بالوضع، وهي ليست موضوعة كما أشار إليها في كتابه. وقد كان بعمله هذا ممن أسدى خدمة جليلة
সহীহ ও হাসান; যা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ রয়েছে তা সহীহ, এবং যা সুনান গ্রন্থসমূহে রয়েছে তা হাসান। যদি সেখানে কোনো যঈফ (দুর্বল) বা গরীব (বিরল) হাদিস থাকে, তবে তিনি সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন, আর যদি তা মুনকার (অস্বীকৃত) বা মাওযু (জাল) হয়, তবে তিনি তা পরিহার করেছেন।
তাঁর পরবর্তী সময়ে উলামায়ে কিরাম আগমন করেছেন এবং তাঁরা ইমাম বাগাবীর বক্তব্যকে ইলমী সমালোচনার তুলাদণ্ডে স্থাপন করেছেন, ফলে তাঁরা নিম্নোক্ত ফলাফল লাভ করেছেন:
১- তিনি এই দুই প্রকারের—সহীহ ও হাসান—মধ্যে পার্থক্য করেননি। সম্ভবত তিনি এ বিষয়ে বর্ণনা প্রদান থেকে বিরত থেকেছেন এ কারণে যে, প্রমাণের ক্ষেত্রে উভয়ই সমান, যদিও শক্তির দিক থেকে নয়।
২- তাঁর এই বক্তব্য তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেছেন যে—সুনান গ্রন্থসমূহে যা রয়েছে তা-ই হাসান। কারণ তাতে হাসান ছাড়াও সহীহ এবং এমন যঈফ হাদিসও রয়েছে যা পরিপূরক বর্ণনার মাধ্যমে শক্তিশালী হয়, বিশেষ করে ইমাম আবু দাউদের নিকট। কেননা তাঁর কাছে যঈফ হাদিস মানুষের রায়ের (মতামত) চেয়ে অধিক প্রিয়। ইমাম বাগাবীর এই কর্মপদ্ধতিকে তাঁর নিজস্ব পরিভাষা বলা যেতে পারে, আর পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই; তবে এটি একটি দুর্বল অভিমত, কারণ বাস্তবতা একে প্রত্যাখ্যান করে।
এমতাবস্থায় এই পরিভাষাটি প্রত্যাখ্যাত হবে। তাঁর পরে আগত ইমামগণ 'আল-মাসাবিহ' গ্রন্থের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এর হাদিসসমূহের ব্যাখ্যা ও তাখরীজ (উৎস নির্ণয়) করেছেন। ইমাম বায়যাবী এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন 'তুহফাতুল আবরার'। এছাড়া কাসিম বিন কুতলুবুগা, আত-তূরবিশতী এবং অন্যান্যরাও এর ব্যাখ্যা লিখেছেন।
একদল আলিম এর হাদিসসমূহের তাখরীজ করেছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম আল-মুনাভী তাঁর 'কাশফুল মানাহিজি' গ্রন্থে।
আবার আলিমদের মধ্যে কেউ কেউ একে পূর্ণতা দান করেছেন, পরিমার্জন করেছেন এবং এতে পরিবর্ধন করেছেন।
হাজী খলীফা তাঁর 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে 'আল-মাসাবিহ' কিতাব সম্পর্কে আলোচনার সময় এটি উল্লেখ করেছেন ২/১৬৯৮।
এই মহান গ্রন্থের খিদমতে ইমাম আল-আলাঈর অনবদ্য ভূমিকা ছিল। তিনি এই কিতাব এবং সেই সকল হাদিসের পক্ষ অবলম্বন করে প্রতিরক্ষা করেছেন যেগুলোকে মাওযু (জাল) বলে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, অথচ বাস্তবে সেগুলো জাল ছিল না, যা তিনি তাঁর কিতাবে ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর এই কাজের মাধ্যমে তিনি এক মহান খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
لمحبي هذا الكتاب، لا سيما طلاب العلم في الباكستان والهند والتركستان، حيث اعتمادهم يكاد يكون كلياً على هذا الكتاب.
وفي الختام أود أن أترك القارئ يجول مع العلائي في كتابه ليرى مدى تمكنه من علم الحديث. فهذا الكتاب غيض من فيض بالنظر إلى ما ألّف من مؤلفات في فنون شتى.
والله من وراء القصد وهو الهادي إلى سواء السبيل.
المحقق
تحريراً في 4/12/1404هـ
এই কিতাবের অনুরাগীদের জন্য, বিশেষ করে পাকিস্তান, ভারত এবং তুর্কিস্তানের ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য, যেখানে এই কিতাবের ওপর তাদের নির্ভরতা প্রায় পূর্ণাঙ্গ।
পরিশেষে আমি পাঠককে তাঁর কিতাবে আল-আলাই-এর সাথে পরিভ্রমণ করতে দিতে চাই, যাতে তিনি হাদিস শাস্ত্রে তাঁর পারদর্শিতার গভীরতা উপলব্ধি করতে পারেন। কারণ তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে যে সকল গ্রন্থ রচনা করেছেন, তার তুলনায় এই কিতাবটি সমুদ্রের কাছে এক বিন্দুমাত্র।
আর আল্লাহ্ই সকল উদ্দেশ্যের লক্ষ্য এবং তিনিই সঠিক পথের দিশারী।
মুহাক্কিক
লিখিত ৪/১২/১৪০৪ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ترجمة العلائيهو الشيخ صلاح الدين العلائي الحافظ المفيد. المحدث الفقيه الأصولي الأديب، خليل بن كيكلدي بن عبد الله الدمشقي الشافعي.
ولد في أحد الربيعين سنة أربع وتسعين وستمائة بدمشق.
بدأ العلم صغيراً حيث ورد أنه سمع صحيح الإمام مسلم سنة ثلاث وسبعمائة على الشيخ شرف الدين الفزاري، وسمع البخاري على ابن مشرف سنة أربع وسبعمائة، وفيها ابتدأ بقراءة العربية وغيرها على الشيخ نجم الدين القحفازي، والفقه والفرائض على الشيخ زكي الدين زكوي.
ثم جد في طلب الحديث سنة عشر وسبعمائة وقرأ بنفسه على القاضي سليمان الحنبلي وأبي بكر بن عبد الدائم، وعيسى المطعم ومن بعدهم حتى بلغ شيوخه بالسماع نحو سبعمائة شيخ، ومن مسموعاته الكتب الستة وغالب دواوين الحديث1.
--------------------------------------------
আল-আলাই-এর জীবনীতিনি হলেন শাইখ সালাহউদ্দীন আল-আলাই, হাফিজ ও মুফিদ (উপকারী আলিম)। মুহাদ্দিস, ফকীহ, উসূলে ফিকহ বিশেষজ্ঞ ও সাহিত্যিক, খলিল বিন কাইকালদি বিন আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকী আশ-শাফিঈ।
তিনি ৬৯৪ হিজরী সালের রবিউল আউয়াল অথবা সানি মাসে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি অল্প বয়সেই জ্ঞানার্জন শুরু করেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি ৭০৩ হিজরী সালে শাইখ শরাফউদ্দীন আল-ফাজারীর নিকট ইমাম মুসলিমের সহীহ শ্রবণ করেন এবং ৭০৪ হিজরী সালে ইবনে মুশরিফের নিকট বুখারী শ্রবণ করেন। সেই বছরেই তিনি শাইখ নাজমুদ্দীন আল-কাহফাযীর নিকট আরবি ভাষা ও অন্যান্য বিষয় এবং শাইখ যাকীউদ্দীন যাকওয়ীর নিকট ফিকহ ও ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) শিক্ষা শুরু করেন।
এরপর ৭১০ হিজরী সালে তিনি হাদীস অন্বেষণে বিশেষ মনোনিবেশ করেন এবং নিজেই কাজী সুলাইমান আল-হাম্বলী, আবু বকর বিন আব্দুল দায়িম, ঈসা আল-মুতিম এবং তাঁদের পরবর্তী উস্তাদদের নিকট পাঠ করেন। এমনকি শ্রবণের মাধ্যমে তাঁর উস্তাদদের সংখ্যা প্রায় সাতশতে পৌঁছায়। তাঁর শ্রুত গ্রন্থগুলোর মধ্যে কুতুবে সিত্তাহ এবং হাদীসের অধিকাংশ সংকলন রয়েছে।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
أقوال النقاد فيه:
قال السبكي: كان حافظاً ثقة ثبتاً عارفاً بأسماء الرجال والعلل والمتون1.
وقال ابن كثير: كانت له يد طولى بمعرفة العالي والنازل، وتخريج الأجزاء والفوائد، وله مشاركة قوية في الفقه واللغة، والعربية والأدب2.
ولو انتقلنا إلى رحلاته فمصنفنا كان من أولئك الذين ارتحلوا للسماع والأخذ عن الشيوخ، وقد ذكر من ترجم له أنه حج مراراً، واستقر به المقام في مدينة القدس مدرساً للحديث في التنكزية. إلى جانب الفتوى والتصنيف، حتى وافاه الأجل المحتوم في المحرم سنة إحدى وستين وسبعمائة، ودفن بمقبرة باب الرحمة إلى جانب سور المسجد3.
مؤلفاته:
لقد خلف الإمام العلائي مجموعة كبيرة من المؤلفات العلمية التي كان لها الأثر الكبير في إثراء المكتبة الإسلامية، وكانت جل تلك المصنفات في علم الحديث والرجال وعلوم الفقه وأصوله، وكانت لمؤلفاته صدى واسعاً بين العلماء لا سيما في عصره.
فمن مؤلفاته التي خلفها لنا بعد وفاته ما يلي:
1- إتمام الفوائد الموصولة في الأدوات الموصولة4.
--------------------------------------------
তার সম্পর্কে সমালোচকদের মন্তব্য:
সুবকী বলেন: তিনি ছিলেন হাফিজ, নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ় এবং রিজালশাস্ত্র, হাদিসের সূক্ষ্ম দোষত্রুটি (ইলাল) ও মূল পাঠ (মতন) সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ।১
ইবনে কাসীর বলেন: উচ্চ ও নিম্ন সনদ চেনা এবং হাদিসের বিভিন্ন অংশ ও শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ বের করার ক্ষেত্রে তার ব্যাপক পারদর্শিতা ছিল। ফিকহ, অভিধান, আরবি ভাষা ও সাহিত্যেও তার শক্তিশালী পদচারণা ছিল।২
আমরা যদি তার সফরগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করি, তবে দেখা যায় যে আমাদের গ্রন্থকার তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা শায়খদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ ও গ্রহণের উদ্দেশ্যে দেশভ্রমণ করতেন। তার জীবনীকারগণ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বহুবার হজ করেছেন এবং জেরুজালেম শহরে তানকাযিয়্যা মাদরাসায় হাদিসের শিক্ষক হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ফতোয়া প্রদান ও গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি তিনি সেখানে অবস্থান করেন, পরিশেষে সাতশত একষট্টি হিজরি সালের মহরম মাসে তার অমোঘ মৃত্যু উপস্থিত হয়। তাকে মাসজিদুল আকসার প্রাচীর সংলগ্ন বাবুল রহমাহ কবরস্থানে দাফন করা হয়।৩
তার রচনাবলি:
ইমাম আলাঈ বিপুল পরিমাণ ইলমি গ্রন্থ রেখে গেছেন যা ইসলামি গ্রন্থাগারকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে। এই রচনাবলির অধিকাংশই ছিল হাদিস শাস্ত্র, রিজাল শাস্ত্র, ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ বিষয়ে। আলেমদের মাঝে, বিশেষ করে তার সমসাময়িককালে তার গ্রন্থগুলোর ব্যাপক সমাদর ছিল।
মৃত্যুর পর তিনি আমাদের জন্য যেসকল গ্রন্থ রেখে গেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১- ইতমামুল ফাওয়াইদিল মাউসুলাহ ফিল আদাওয়াতিল মাউসুলাহ।৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
2- إجمال الإصابة في أقوال الصحابة1.
3- الأحكام الكبرى.
ذكره صاحب الأنس وقال: علق منها قطعة نفيسة2.
4- الأربعين في أعمال المتقين3.
5- الأربعين الإلهية.
6- الأربعين المغنية بفنونها عن المعين4.
7- الأشباه والنظائر5.
8- برهان التيسير في عنوان التفسير6.
9- بغية الملتمس في سباعيات حديث الإمام مالك بن أنس7.
10- تحفة القادم من فوائد أبي القاسم.
11- تحقيق الكلام في نية الصيام8.
12- تحقيق المراد في أن النهي يقتضي الفساد9.
13- تفصيل الإجمال في تعارض بعض الأقوال والأفعال10.
--------------------------------------------
২- সাহাবীদের উক্তিসমূহ সংক্ষেপিতভাবে লাভ করা।১
৩- আল-আহকাম আল-কুবরা (বৃহৎ বিধানসমূহ)।
আল-উনস গ্রন্থের লেখক এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি এর একটি মূল্যবান অংশের ওপর টীকা লিখেছেন।২
৪- মুত্তাকীদের আমল বিষয়ক চল্লিশ হাদিস।৩
৫- ঐশী চল্লিশ হাদিস।
৬- সাহায্যকারীর প্রয়োজনমুক্তকারী বহুমুখী বিষয়ের চল্লিশ হাদিস।৪
৭- আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির (সাদৃশ্য ও উপমা)।৫
৮- তাফসীরের শিরোনামে সহজীকরণের প্রমাণ।৬
৯- ইমাম মালিক বিন আনাস রহ.-এর বর্ণিত সাত রাবী বিশিষ্ট হাদিসসমূহের অন্বেষণকারীর আকাঙ্ক্ষা।৭
১০- আবুল কাসিমের জ্ঞানগর্ভ আলোচনার আগন্তুকের উপহার।
১১- সিয়ামের নিয়ত প্রসঙ্গে আলোচনার বিশ্লেষণ।৮
১২- নিষেধ অবৈধতার দাবি রাখে - এ বিষয়ে উদ্দিষ্ট লক্ষ্যের বিশ্লেষণ।৯
১৩- কিছু কথা ও কাজের বিরোধের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ।১০
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
14- تلقيح الفهوم في صيغ العموم1.
15- التنبيهات المجملة على المواضع المشكلة2.
16- تهذيب الأصول إلى مختصر جامع الأصول3.
17- توفة الكيل لمن حرم لحوم الخيل4.
18- تيسير حصول السعادة في تقرير شمول الإرادة5.
19- جامع التحصيل لأحكام المراسيل6.
20- الدرة السنية في مولد خير البرية.
21- رفع الإشتباه عن حكم الإكراه7.
22- رفع الأشكال عن حديث صيام ستة أيام من شوال8.
23- شفاء المسترشدين في حكم اختلاف المجتهدين9.
24- العدة في أدعية الكرب والشدة10.
25- عقيلة الطالب في أشرف الصفات والمناقب11.
26- فصل القضاء في أحكام الأداء والقضاء12.
--------------------------------------------
১৪- ব্যাপকবোধক শব্দাবলির রূপভেদ বিষয়ে বোধশক্তির পরিমার্জন ১।
১৫- জটিল স্থানসমূহের ওপর সংক্ষিপ্ত সতর্কবার্তা ২।
১৬- জামিউল উসূলের সংক্ষিপ্তসার অনুযায়ী উসূলের পরিমার্জন ৩।
১৭- যারা ঘোড়ার গোশত হারাম করেছেন তাদের জন্য পরিমাপের উপঢৌকন ৪।
১৮- আল্লাহর ইচ্ছার ব্যাপকতা প্রমাণের মাধ্যমে সৌভাগ্য লাভের সহজীকরণ ৫।
১৯- মারাসিল হাদিসের বিধান সংবলিত পূর্ণাঙ্গ সংকলন ৬।
২০- শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টির জন্মবৃত্তান্ত বিষয়ক উজ্জ্বল মুক্তা।
২১- জবরদস্তির বিধান থেকে সংশয় নিরসন ৭।
২২- শাওয়ালের ছয় রোজা সংক্রান্ত হাদিসের অস্পষ্টতা দূরীকরণ ৮।
২৩- মুজতাহিদগণের মতপার্থক্যের বিধান প্রসঙ্গে সত্যান্বেষীদের আরোগ্য ৯।
২৪- বিপদ ও কঠিন সময়ের দোয়াসমূহের পাথেয় ১০।
২৫- শ্রেষ্ঠ গুণাবলি ও মর্যাদা বিষয়ে শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত ধন ১১।
২৬- ইবাদত সময়মতো আদায় ও কাজা করার বিধানাবলির চূড়ান্ত ফয়সালা ১২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
27- الفصول المفيدة في الواو المزيدة1.
28- الفوائد المجموعة في الفرائد المسموعة2.
29- حديث قطع في مجن وما يتعلق به3.
30- كتاب القواعد4.
31- كشف النقاب عما روى الشيخان للأصحاب5.
32- الكلام على حديث ذي اليدين6.
33- الكلام في بيع الفضولي7.
34- المائة المنتقاة من الترمذي.
35- المائة المنتقاة من صحيح مسلم.
36- المائة المنتقاة من مشيخة الفخر.
37- المباحث المختارة في تفسير آية الدم والكفارة.
38- المجالس المبتكرة8.
39- المجموع المذهب في قواعد المذهب9.
40- المدلسين10.
--------------------------------------------
২৭- অতিরিক্ত 'ওয়াও' সম্পর্কে উপকারী অধ্যায়সমূহ১।
২৮- শ্রুত বিরল বিষয়গুলোর সংগৃহীত ফায়দাসমূহ২।
২৯- ঢালের কারণে (হাত) কাটা এবং তৎসংশ্লিষ্ট হাদিস৩।
৩০- কিতাবুল কাওয়াইদ (মূলনীতিমালার কিতাব)৪।
৩১- শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) সাহাবিদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন তার রহস্য উন্মোচন৫।
৩২- যু-ইয়াদাইন (দুই হাত বিশিষ্ট সাহাবি)-এর হাদিস সংক্রান্ত আলোচনা৬।
৩৩- ফুদুলি (অননুমোদিত ব্যক্তির) ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত আলোচনা৭।
৩৪- তিরমিজি থেকে নির্বাচিত একশত হাদিস।
৩৫- সহিহ মুসলিম থেকে নির্বাচিত একশত হাদিস।
৩৬- মাশয়াখাতুল ফখর থেকে নির্বাচিত একশত হাদিস।
৩৭- রক্ত এবং কাফফারা বিষয়ক আয়াতের তাফসির সংক্রান্ত নির্বাচিত গবেষণা।
৩৮- উদ্ভাবনী মজলিসসমূহ৮।
৩৯- মাযহাবের মূলনীতি সংক্রান্ত মার্জিত সংকলন৯।
৪০- তাদলিসকারীগণ১০।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
41- المسلسلات1.
42- مقدمة كتاب نهاية الأحكام2.
43- منحة الرائض بعلوم آيات الفرائض3.
44- النفحات القدسية4.
45- النقد الصحيح لما اعترض عليه من أحاديث المصابيح.
وهو كتابنا هذا وسيأتي الكلام عليه بعد هذا الفصل.
46- الوشي المعلم في من روى عن أبيه عن جده5.
47- منيف الرتبة لمن ثبت له شريف الصحبة6.
--------------------------------------------
৪১- আল-মুসালসালাত ১।
৪২- নিহায়াতুল আহকাম গ্রন্থের ভূমিকা ২।
৪৩- মিনহাতুর রায়িদ বি-উলূমি আয়াতিল ফরায়িদ ৩।
৪৪- আন-নাফাহাতুল কুদসিয়্যাহ ৪।
৪৫- আন-নাকদুস সহীহ লিমা উ'তরিদা 'আলাইহি মিন আহাদীসিল মাসাবীহ।
এটিই আমাদের এই বর্তমান গ্রন্থ এবং এই পরিচ্ছেদের পর এ সম্পর্কে আলোচনা আসবে।
৪৬- আল-ওয়াশয়ুল মু'আল্লাম ফী মান রাওয়া 'আন আবীহি 'আন জাদ্দিহি ৫।
৪৭- মুনীফুল রুতবা লিমান সাবাতা লাহূ শারীফুস সোহবাহ ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الكلام على الكتاب…النقد الصحيح لما اعترض عليه من أحاديث المصابيح
هكذا اسم الكتاب في عنوان النسخة التي وقفت عليها، وقد تناول المصنف رحمه الله الأحاديث التي انتقدت على المصابيح تبعاً لحكم ابن الجوزي على تلك الأحاديث بالوضع.
وقد حاول المصنف رحمه الله إخراج تلك الأحاديث من حيز الوضع إلى حيز آخر أقوى، معتمداً على أقوال العلماء وبحث طرق الأحاديث الواردة.
ومن خلال دراستي للكتاب وجدته قد حسن أحد عشر حديثاً من ضمن الأحاديث التي أوردها في كتابه. وهي تسعة عشر حديثاً وحكم على باقيها بالضعف الذي لا ينتهي إلى الوضع.
وقد ابتدأ كتابه بذكر جملة من القواعد المعتبرة في التصحيح والتحسين، وذكر شيئاً من شروط أصحاب الكتب الستة.
ولعلي لا أغالي إذا قلت إنه استطاع بهذا الجزء أن يبين لنا إمامته في فن التخريج والتصحيح والتضعيف.
ومن العجب أن يقوم الحافظ ابن حجر بتأليف كتاب يتناول نفس الموضوع الذي تناوله العلائي. وكان الدافع للحافظ في تأليفه الكتاب هو سؤال وجهه إليه بعض المستفتين، وهذا الدافع نفسه
গ্রন্থের ওপর পর্যালোচনা…আন-নাকদুস সহীহ লি-মা ই’তারাযা আলাইহি মিন আহাদিসিল মাসাবিহ
আমি যে পাণ্ডুলিপিটি পেয়েছি তার শিরোনামে গ্রন্থটির নাম এভাবেই রয়েছে। মুসান্নিফ (রহিমাহুল্লাহ) সেই হাদীসগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন যেগুলোকে ইবনুল জাওযী জাল হওয়ার হুকুম দিয়ে ‘মাসাবিহ’-এর ওপর সমালোচনা করেছিলেন।
মুসান্নিফ (রহিমাহুল্লাহ) উলামায়ে কেরামের উক্তি এবং বর্ণিত হাদীসগুলোর সূত্র অনুসন্ধানের ওপর নির্ভর করে সেই হাদীসগুলোকে জাল হওয়ার গণ্ডি থেকে বের করে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী একটি পর্যায়ে উন্নীত করার চেষ্টা করেছেন।
গ্রন্থটি অধ্যয়ন করে আমি দেখেছি যে, তিনি তাঁর গ্রন্থে উল্লেখিত হাদীসগুলোর মধ্য থেকে এগারোটি হাদীসকে ‘হাসান’ সাব্যস্ত করেছেন। সেখানে মোট উনিশটি হাদীস রয়েছে এবং অবশিষ্টাংশকে তিনি এমন ‘যঈফ’ (দুর্বল) বলে হুকুম দিয়েছেন যা জাল হওয়ার পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে না।
তিনি তাঁর গ্রন্থটি শুরু করেছেন হাদীস সহীহ ও হাসান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কতিপয় নির্ভরযোগ্য মূলনীতি আলোচনার মাধ্যমে এবং কুতুবে সিত্তার সংকলকদের কিছু শর্তাবলী উল্লেখ করেছেন।
আমি যদি বলি যে তিনি এই খণ্ডের মাধ্যমে ‘তাখরীজ’, ‘তাসহীহ’ এবং ‘তাযঈফ’ বিদ্যায় তাঁর ইমামত বা শীর্ষস্থানীয় পাণ্ডিত্য আমাদের সামনে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন, তবে সম্ভবত আমি অত্যুক্তি করব না।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, হাফেজ ইবনে হাজারও এমন একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যা ঠিক সেই বিষয়টিই আলোচনা করে যা আল-আলাঈ আলোচনা করেছিলেন। হাফেজের এই গ্রন্থটি রচনার পেছনে মূল কারণ ছিল তাঁর কাছে করা কিছু ফতোয়া প্রার্থীর প্রশ্ন, আর এই একই কারণ...
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الذي حمل العلائي على تأليف الجزئ الذي بين أيدينا.
والناظر لهذين الجزئين يرى مدى التشابه في إطلاق الحكم على الأحاديث الواردة حتى ليخيل أن أحدهما نقل الكتاب عن الآخر بنصه. إلا أنني لا أستطيع الجزم بذلك لأن وجدت السيوطي قد عزا بعض النقول إلى كتاب الأجوبة للحافظ ابن حجر1، إلى جانب ما ذكره المؤلف نفسه2.
وقد انفرد كتاب العلائي بزيادة حديث واحد وهو الحديث العاشر ولفظه "للسائل حق وإن جاء على فرس"، إذ لم يذكره الحافظ ابن حجر تبعاً لعدم وروده في السؤال الموجه إليه.
فمهما يكن من أمر، فالكتابين متلازمين، ولا بد لطالب العلم أن يقف عليهما عند الإهتمام بأحاديث المصابيح.
نسبة الكتاب للمؤلف:
أثناء بحثي في كتاب المعتبر للإمام الزركشي، وقفت على حديث صنفان من أمتي3
… الحديث، حيث نقل عن العلائي رد ما أورده ابن الجوزي في موضوعاته، وبعد المقارنة بين النصين وجدتهما متطابقين تماماً.
وقد سبق الزركشي إلى ذكر كتاب العلائي الإمام ابن القيم رحمه الله في الكلام على حديث أقيلوا ذوي الهيآت4.
--------------------------------------------
যা আল-আলাইকে আমাদের হাতে থাকা এই খণ্ডটি রচনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
এই দুই খণ্ডের পর্যবেক্ষক বর্ণিত হাদিসগুলোর ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে সাদৃশ্যের মাত্রা এমনভাবে দেখতে পাবেন যে, মনে হতে পারে একজন অন্যজনের কিতাবটি হুবহু নকল করেছেন। তবে আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছি না, কারণ আমি দেখেছি যে সুয়ূতী কিছু উদ্ধৃতি হাফেজ ইবনে হাজারের 'আল-আজউবা' কিতাবের দিকে নিসবত করেছেন১, পাশাপাশি লেখক নিজেও যা উল্লেখ করেছেন২।
আল-আলাইয়ের কিতাবটি একটি অতিরিক্ত হাদিসের কারণে স্বতন্ত্র হয়েছে, যা হলো দশম হাদিস। এর শব্দাবলী হলো: "সাহায্যপ্রার্থীর হক রয়েছে, যদিও সে ঘোড়ায় চড়ে আসে।" হাফেজ ইবনে হাজার এটি উল্লেখ করেননি, কারণ তাঁর কাছে পেশকৃত প্রশ্নের মধ্যে এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
বিষয়টি যা-ই হোক না কেন, কিতাব দুটি একে অপরের পরিপূরক। ইলম অন্বেষণকারীর জন্য 'মাসাবীহ'-এর হাদিসসমূহ নিয়ে গবেষণার সময় এই দুই কিতাব সম্পর্কে অবগত হওয়া অপরিহার্য।
লেখকের প্রতি কিতাবটির সম্বন্ধ:
ইমাম যারকাশীর 'আল-মুতাবার' কিতাবে গবেষণার সময় আমি "আমার উম্মতের দুই শ্রেণী..."৩ শীর্ষক হাদিসটি দেখতে পাই। সেখানে তিনি আল-আলাই থেকে ইবনে জাওযীর 'মাওজুআত' কিতাবে বর্ণিত মতের খণ্ডন উদ্ধৃত করেছেন। উভয় পাঠ্য তুলনা করে আমি সেগুলোকে হুবহু এক পেয়েছি।
যারকাশীর পূর্বে ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম (রহিমাহুল্লাহ) "উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বিচ্যুতিগুলো ক্ষমা করো"৪ - এই হাদিসের আলোচনায় আল-আলাইয়ের কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ولعل إيراد هذين الإمامين لهذا الكتاب ونقلهما عنه يقطع يقيناً بأن هذا الكتاب للمصنف.
ومن الأدلة في ذلك ما ذكره السخاوي في الكلام على حديث أنا مدينة العلم1، حيث أورد فيه ما قاله الإمام العلائي، والكلام موجود في الكتاب.
وكذلك ما أورده الإمام السيوطي في اللالئ2.
وصف المخطوط:
لقد اعتمدت في تحقق الكتاب على نسخة واحدة، ولعلها نسخة فريدة فيما أعلم، حيث اجتهدت في العثور على نسخة أخرة دون جدوى، إلا أن النسخة كانت في غاية الوضوح، إلاّ في مواضع نبهت عليها أثناء التحقيق.
وتقع هذه المخطوطة في عشرة أوراق ذات وجهين، وقد صورت من مكتبة الأسكوريال حيث رقمها هناك 1612، ورقمها في مكتبة الجامعة الإسلامية هو 878، ضمن مجموعة كلها للإمام العلائي.
--------------------------------------------
সম্ভবত এই দুই ইমামের এই কিতাবটি উল্লেখ করা এবং এটি থেকে উদ্ধৃতি প্রদান এই বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ দেয় যে, এই কিতাবটি লেখকেরই।
এর অন্যতম প্রমাণ হলো সাখাবি 'আমি জ্ঞানের শহর'১ হাদিস প্রসঙ্গে যা উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি ইমাম আলাইয়ির বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন এবং সেই বক্তব্যটি এই কিতাবে বিদ্যমান।
অনুরূপভাবে ইমাম সুয়ুতি 'আল-লাআলি'২ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন।
পাণ্ডুলিপির বিবরণ:
কিতাবটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি একটিমাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি এবং আমার জানামতে এটি সম্ভবত একটি অনন্য অনুলিপি, কারণ আমি অনেক চেষ্টা করেও অন্য কোনো অনুলিপি খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছি। তবে পাণ্ডুলিপিটি অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল, কেবল কিছু স্থান ব্যতীত যা আমি সম্পাদনার সময় নির্দেশ করেছি।
এই পাণ্ডুলিপিটি দশটি উভয় পিঠ বিশিষ্ট পাতার সমন্বয়ে গঠিত। এটি এসকোরিয়াল লাইব্রেরি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে যেখানে এর নম্বর ১৬১২ এবং ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে এর নম্বর ৮৭৮, যা ইমাম আলাইয়ির একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
مقدمة العلائي…((بسم الله الرحمن الرحيم وبالله التوفيق))
أما بعد: حمداً لله على ما هدى إليه من معرفة السنن. ووفق في اقتفاء معالمها لسلوك أقصد السنن. والصلاة والسلام على سيدنا محمد المبعوث بالمعجز الخارق، فصاحة اللسن، المنعوت بالعقل القويم والخلق الحسن، وعلى آله وصحبه الذين لهم على كل من بعدهم جزيل النعم.
فقد وقع السؤال عن عدة أحاديث مما عده الإمام أبو محمد البغوي –رحمه الله – في كتابه الموسوم بالمصابيح من الحسان أوردها عليه بعض المتأخرين اعتماداً على ذكر الإمام أبو الفرج بن الجوزي لها في كتابه الذي جمع فيه على زعمه الأحايث الموضوعة، وحكم بأنها كذلك، فنظرت فيها، فإذا غالبها ليس كما ذكر1.
فعلقت هذه الأوراق مبيناً ما هو الصواب في الحكم على تلك
--------------------------------------------
আলাই-এর ভূমিকা…((পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফিক লাভ হয়।))
অতঃপর: আল্লাহর প্রশংসা করছি সুন্নাহর পরিচিতির পথে হিদায়াত দান করার জন্য এবং সুন্নাহর চিহ্নসমূহ অনুসরণের তাওফিক দেওয়ার জন্য যাতে সরলতম সুন্নাহর পথে চলা যায়। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যাকে অলৌকিক মুজেযা ও প্রাঞ্জল ভাষাসহ প্রেরণ করা হয়েছে, এবং যাকে সুদৃঢ় প্রজ্ঞা ও সুন্দর চরিত্রের গুণে গুণান্বিত করা হয়েছে। এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, পরবর্তী প্রজন্মের সকলের ওপর যাদের অগাধ নেয়ামত রয়েছে।
ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-মাসাবিহ' নামক গ্রন্থে যে সকল হাদিসকে 'হাসান' হিসেবে গণ্য করেছেন, তার মধ্য থেকে বেশ কিছু হাদিস সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। পরবর্তী যুগের কেউ কেউ ইমাম আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযীর সেই গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে এই প্রশ্নগুলো উত্থাপন করেছেন, যে গ্রন্থে তিনি তাঁর ধারণা মতে বানোয়াট হাদিসগুলো সংকলন করেছেন এবং সেগুলোকে বানোয়াট বলে রায় দিয়েছেন। অতঃপর আমি সেই হাদিসগুলো পর্যালোচনা করে দেখলাম যে, সেগুলোর অধিকাংশ তেমন নয় যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন১।
তাই আমি এই পৃষ্ঠাগুলো লিখেছি সেই হাদিসগুলোর হুকুমের ক্ষেত্রে যা সঠিক তা স্পষ্ট করার জন্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الأحاديث مستيعناً بالله تعالى، ومتوكلاً عليه في جميع الأمور، وبالله التوفيق.
মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে এবং সকল বিষয়ে তাঁর ওপর ভরসা করে হাদিসসমূহ; আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফীক বা সফলতা আসে।
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
أقسام الحديث المحتج به…وقبل الكلام على هذه الأحاديث – نقدم – مقدمات تمهيداً لما يأتي من البيان بحالها.
الأولى: أن الحديث المحتج به ينقسم إلى صحيح وحسن، وذلك بحسب تفاوت رجال إسناده في الحفظ والإتقان، وآداء ما تحملوه، كما أن الحديث الذي لا يحتج به ينقسم إلى ضعيف ومنكر وموضوع، بحسب تفاوت رواته في (الوهم) 1 والغلط والتساهل وتعمد الكذب.
فمن كان في أعلى درجات الإتقان والحفظ كان ما تفرد به صحيحاً مركوناً إليه.
ومن نزل عن هذه الدرجة تكون أفراده حسنة. وما تابعه غيره فيه صحيحاً.
ومن نزل عن ذلك يكون ما رواه منكراً أو شاذاً، ومن نقص عن ذلك يكون حديثه ضعيفاً.
والمرجع في ذلك كله إلى ما حرره الأئمة الحفاظ من أحوال الرجال، وبينوا من صفاتهم، أو تعرضوا له من الأحاديث بالتنصيص عليه مع النقد الصحيح، والتصرف الجاري على قواعدهم.
--------------------------------------------
দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হাদীসের প্রকারভেদ…এই হাদীসগুলো নিয়ে আলোচনার পূর্বে আমরা কিছু ভূমিকা পেশ করছি, যা পরবর্তী বর্ণনার প্রস্তুতিরূপ হবে।
প্রথমত: দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হাদীস সহীহ এবং হাসান—এই দুই ভাগে বিভক্ত। এটি নির্ভর করে হাদীসের সনদের রাবীদের হিফজ (স্মৃতিশক্তি), ইতকান (নির্ভুলতা) এবং যা তারা গ্রহণ করেছেন তা পৌঁছে দেওয়ার পার্থক্যের ওপর। একইভাবে যে হাদীস দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, তা জঈফ (দুর্বল), মুনকার এবং মাওজু (জাল) হিসেবে বিভক্ত হয়; যা রাবীদের ওহম (ভ্রম) ১, ভুল, শিথিলতা এবং ইচ্ছাকৃত মিথ্যার পার্থক্যের ভিত্তিতে হয়ে থাকে।
সুতরাং যিনি ইতকান ও হিফজের সর্বোচ্চ স্তরে থাকবেন, তার এককভাবে বর্ণিত হাদীস সহীহ এবং নির্ভরযোগ্য হবে।
আর যিনি এই স্তরের নিচে থাকবেন, তার একক বর্ণনাগুলো হাসান হবে; এবং অন্য কেউ যদি একই বর্ণনার মাধ্যমে তাকে সমর্থন করে, তবে তা সহীহ হবে।
আর যিনি এর নিচে থাকবেন, তার বর্ণিত হাদীস মুনকার অথবা শায হবে। আর যার মান এর চেয়েও কম হবে, তার হাদীস জঈফ হবে।
এই সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো হাফেজ ইমামগণ রাবীদের অবস্থা সম্পর্কে যা লিপিবদ্ধ করেছেন, তাদের গুণাবলী বর্ণনা করেছেন অথবা হাদীসগুলোর ব্যাপারে সঠিক সমালোচনা ও তাদের মূলনীতি অনুযায়ী প্রয়োগের মাধ্যমে যা সুস্পষ্ট করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
كتاب البخاري ومسلم…الثانية: إن الأئمة اتفقت على أن كل ما أسنده: البخاري أو مسلم، في كتابيهما الصحيحين فهو صحيح، لا ينظر فيه2.
وإنه لا يصل إلى درجتهما في ذلك كتب السنن والمسانيد، بل
--------------------------------------------
বুখারী ও মুসলিমের গ্রন্থ...দ্বিতীয়ত: নিশ্চয়ই ইমামগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, বুখারী অথবা মুসলিম তাঁদের দু’টি ‘সহীহ’ গ্রন্থে যা কিছু মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তা সহীহ; এ বিষয়ে পুনরায় অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই ২।
এবং সুনান ও মাসানিদ গ্রন্থসমূহ এ ক্ষেত্রে এ দু’টির মর্যাদায় পৌঁছাতে পারে না, বরং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
هذه الكتب مشتملة على الصحيح والحسن والضعيف، وفي يسير منها أحاديث واهية جداً، وذلك قليل أو نادر في سنن النسائي1، وما كان فيه ضعف في جامع الترمذي فبينه، وتخرج من عهدته2.
--------------------------------------------
এই কিতাবসমূহ সহিহ, হাসান এবং যঈফ হাদিসের সমাহার; এবং এগুলোর অল্প কিছু অংশে অত্যন্ত দুর্বল হাদিসও রয়েছে, আর সুনানুন নাসায়িতে এটি খুবই নগণ্য বা বিরল১, আর জামি আত-তিরমিজিতে যা কিছু দুর্বলতা ছিল, তিনি তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এবং এর দায় থেকে মুক্ত হয়েছেন২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وأما
سنن أبي داود وابن ماجه، فلا يبينان شيئاً من ذلك، إلا في بعض منها بينها أبو داود، وذكر أن ما سكت عنه فهو صالح للاحتجاج به3.
ومقتضى ذلك أنه يكون حسناً عنده، ولكن لا يلزم منه أن يكون حسناً في نفس الأمر، لا سيما إذا قوي حال رواته في الضعف.
ومن هذا الوجه تطرق الاعتراض على الإمام أبي محمد البغوي – رحمه الله – في كتابه ((المصابيح)) حيث وصف الأحاديث التي انفرد بها أصحاب السنن بالحسان، وليس جميعها كذلك، بل فيها ما هو صحيح، وإن لم يكن مخرجاً في الصحيحين، إذ ليس الحديث الصحيح مقصوراً على ما في الكتابين، بل وراء ذلك أحاديث كثيرة صحيحة4.
وفيها – أعني كتب السنن – ما ليس
--------------------------------------------
পক্ষান্তরে
সুনানে আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ-এর ক্ষেত্রে, তারা এর কোনো কিছুই বর্ণনা করেনি, তবে আবু দাউদ তাঁর গ্রন্থের কিছু হাদীসের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যেগুলোর ব্যাপারে তিনি নীরবতা অবলম্বন করেছেন সেগুলো দলিল হিসেবে গ্রহণের উপযোগী ৩।
আর এর দাবি হলো এটি তাঁর নিকট হাসান বা গ্রহণযোগ্য, কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে সেটি হাসান হওয়া আবশ্যক নয়, বিশেষ করে যখন এর বর্ণনাকারীদের দুর্বলতা প্রবল হয়।
আর এদিক থেকেই ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী – আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন – এর প্রতি তাঁর 'আল-মাসাবিহ' গ্রন্থের ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে। যেখানে তিনি সুনান গ্রন্থকারদের এককভাবে বর্ণিত হাদীসগুলোকে 'হাসান' হিসেবে অভিহিত করেছেন। অথচ সেগুলোর সব এমন নয়; বরং সেগুলোর মধ্যে এমন কিছু হাদীসও রয়েছে যা সহীহ, যদিও তা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়নি। কারণ সহীহ হাদীস কেবল এই দুই কিতাবে থাকা হাদীসগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এগুলোর বাইরেও অনেক সহীহ হাদীস রয়েছে ৪।
আর এগুলোতে – অর্থাৎ সুনান গ্রন্থগুলোতে – এমন কিছু আছে যা নয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ولا حسن، بل يكون ضعيفاً أو منكراً أو واهياً، كما صرح به الترمذي على قطعة من حديثه، وبيّنه الأئمة النقاد في كثير من أحاديث أبي داود وابن ماجه.
وقد بسطت الكلام على هذا الموضع بسطاً شافياً في مقدمة كتاب نهاية الأحكام1.
الثالثة: لا يلزم من كون سند الحديث ضعيفاً أن يكون كذلك في نفس الأمر، بل قد يكون له سند آخر رجاله ممن يحتج بهم، وقد ينجبر بسند آخر ضعيف تنتهي بمجموعها إلى درجة الحسن.
وذلك أن ضعف الرواة تارة يكون لاتهامهم بالكذب، وتارة يكون لنقص إتقانهم وحفظهم2.
فالقسم الأول لا ينجبر بسند آخر فيه مثل رجال الأول، لأنه انضم كذاب إلى مثله، فلا يفيد شيئاً، بل ربما يكون بعضهم سرق ذلك الحديث من بعض، وادعى سماعه3.
وقال مسلم: ليس كل شيء عندي صحيح وضعته هنا، إنما وضعت ما أجمعوا عليه.
مقدمة ابن الصلاح ص 10، تدريب الراوي 1/98.
--------------------------------------------
এবং হাসানও নয়, বরং তা জয়িফ (দুর্বল), মুনকার কিংবা ওয়াহি (অত্যন্ত দুর্বল) হয়ে থাকে; যেমনটি তিরমিজি তাঁর হাদিসের একটি অংশের ব্যাপারে স্পষ্ট করে বলেছেন এবং সমালোচক ইমামগণ আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ-এর অনেক হাদিসের ক্ষেত্রে তা স্পষ্ট করেছেন।
আমি এই বিষয়টি নিয়ে নেহায়াতুল আহকাম কিতাবের ভূমিকায় পর্যাপ্ত বিস্তারিত আলোচনা করেছি১।
তৃতীয়ত: কোনো হাদিসের সনদ জয়িফ হওয়ার অর্থ এই নয় যে, বাস্তবক্ষেত্রেও তা জয়িফ হবে। বরং হতে পারে এর এমন কোনো ভিন্ন সনদ রয়েছে যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, অথবা অন্য কোনো জয়িফ সনদের মাধ্যমে তা শক্তিশালী হতে পারে, যার ফলে সমষ্টিগতভাবে তা হাসান পর্যায়ে উন্নীত হয়।
এর কারণ হলো, বর্ণনাকারীদের দুর্বলতা কখনও তাদের মিথ্যাচারের অভিযোগের কারণে হয়, আবার কখনও হয় তাদের স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুলভাবে বর্ণনা করার দক্ষতার অভাবের কারণে২।
প্রথম প্রকারটি এমন অন্য কোনো সনদের মাধ্যমে শক্তিশালী হয় না যাতে প্রথমটির মতোই বর্ণনাকারী থাকে; কারণ একজন মিথ্যাবাদীর সাথে আরেকজন অনুরূপ ব্যক্তির সম্মিলন কোনো কাজে আসে না, বরং হতে পারে তাদের কেউ কেউ এই হাদিসটি অন্যদের থেকে চুরি করেছে এবং তা নিজে শুনেছে বলে দাবি করেছে৩।
এবং ইমাম মুসলিম বলেছেন: আমার নিকট যা সহিহ তার সবকিছুই আমি এখানে উল্লেখ করিনি, বরং আমি কেবল তা-ই উল্লেখ করেছি যার ওপর তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ পৃষ্ঠা ১০, তাদরিবুর রাবি ১/৯৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أما إذا كان النقص دخل من جهة اتهامهم بالغلط والوهم، فإنه إذا جاء ذلك الحديث من وجه آخر عن رجال مقاربين لها، ولا علم أن الوهم بعيد منه انجبر أحد السندين بالآخر، وارتقى الحديث إلى درجة الحسن، وسيأتي في بعض الأحاديث ما هو مثال لهذا.1
وكذلك الحديث الحسن لقصور رجال إسناده عن درجة رجال الصحيح في الحفظ والإتقان. إذا روى ذلك بسند آخر مثله في الحسن، ارتقى بمجموعها إلى درجة الصحة لاعتضاد كل منهما بالآخر.
--------------------------------------------
তবে যদি রাবিদের ভুল ও অলীক কল্পনার (ওয়াহম) সন্দেহের দিক থেকে ত্রুটি প্রবেশ করে থাকে, তবে সেই হাদিসটি যদি অপর একটি সূত্রে তাদেরই সমপর্যায়ের রাবিদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়, এবং এটি জানা থাকে যে অলীক কল্পনা হওয়ার বিষয়টি সুদূরপরাহত, তবে একটি সনদ অপরটির মাধ্যমে পরিপূরণ হয় এবং হাদিসটি হাসান স্তরে উন্নীত হয়। সামনে কিছু হাদিসে এর উদাহরণ আসবে।১
অনুরূপভাবে, যে হাসান হাদিস তার সনদের রাবিদের হিফয ও নিখুঁততার ক্ষেত্রে সহিহ হাদিসের রাবিদের স্তরের চেয়ে নিচে হওয়ার কারণে হাসান হয়েছে, সেটি যদি তার মতোই অপর একটি হাসান সনদে বর্ণিত হয়, তবে উভয়ের সমষ্টির কারণে তা সহিহ স্তরে উন্নীত হয়; কেননা তাদের প্রতিটি সনদ অপরটিকে শক্তিশালী করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قد صححه بعض الأئمة كما سيأتي في حديث صلاة التسبيح1.
وفيها ما له طريقين أخرى يقوى بها الحديث، لم يطلع عليها، كما سيأتي – إن شاء الله تعالى – في بعض الأحاديث.
فدخلت الآفة عليه من هذه الوجوه وغيرها.
ويجيء بعده من لا يد له في علم الحديث فيقلده فيما حكم به من الوضع.
وهذا بخلاف الأئمة المتقدمين الذين منحهم الله التبحر في علم الحديث، والتوسع في حفظه كشعبة ويحيى بن سعيد القطان، وعبد الرحمن بن مهدي، ونحوهم.
ثم أصحابهم مثل أحمد بن حنبل وعلي بن المديني2، ويحيى بن معين، وإسحاق بن راهوية، وطائفة منهم.
ثم أصحابهم مثل البخاري ومسلم وأبي داود والترمذي والنسائي.
وكذلك إلى زمن الدارقطني والبيهقي ممن لم يجيء بعدهم مساو لهم بل ولا مقارب – رحمة الله عليم.
فمتى وجد في كلام أحد من المتقدمين الحكم على حديث بشيء كان معتمداً لما أعطاهم الله من الحفظ العظيم، والإطلاع الغزير، وإن اختلف النقل عنهم عدل إلى الترجيح، وهذا التعذر إنما يجيء في الأحاديث المحتملة، وإلا فكثير من الأحاديث جداً يشهد القلب بوضعها، ويسهل الحكم عليها بذلك، ممن كثرت ممارسته لهذا الفن.
وهو حال كتاب الموضوعات لابن الجوزي، والله أعلم.
--------------------------------------------
কিছু ইমাম একে সহীহ বলেছেন, যেমনটি সালাতুত তাসবীহ এর হাদীসের আলোচনায় সামনে আসবে ১।
আর এতে এমন কিছু রয়েছে যার আরও দুটি সূত্র আছে যার মাধ্যমে হাদীসটি শক্তিশালী হয়, যা তার দৃষ্টিগোচর হয়নি। যেমনটি সামনে আসবে - ইনশাআল্লাহ তায়ালা - কিছু হাদীসের আলোচনায়।
সুতরাং এই দিকগুলো এবং অন্যান্য দিক থেকে তার ওপর ত্রুটি প্রবেশ করেছে।
এরপর এমন কেউ আসে যার হাদীস শাস্ত্রে কোনো পারদর্শিতা নেই, ফলে সে জাল হওয়ার বিষয়ে তার প্রদত্ত হুকুমের অন্ধ অনুসরণ করে।
এটি ওই সকল পূর্ববর্তী ইমামগণের বিপরীত, যাদের আল্লাহ হাদীস শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য এবং তা মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে ব্যাপকতা দান করেছেন; যেমন শু'বা, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, আবদুর রহমান ইবনে মাহদী এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।
এরপর তাদের ছাত্রগণ, যেমন আহমাদ ইবনে হাম্বল, আলী ইবনুল মাদীনী ২, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি এবং তাদের একটি দল।
এরপর তাদের ছাত্রগণ, যেমন বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী এবং নাসাঈ।
অনুরূপভাবে দারাকুতনী এবং বায়হাকীর যুগ পর্যন্ত; তাদের পরে তাদের সমকক্ষ বা কাছাকাছি কেউ আসেনি - তাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
যখনই পূর্ববর্তীগণের কারো বক্তব্যে কোনো হাদীসের ওপর কোনো হুকুম পাওয়া যায়, তখন তা নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য হয়; কারণ আল্লাহ তাদের যে বিশাল স্মৃতিশক্তি এবং ব্যাপক পর্যবেক্ষণ দান করেছেন তার দরুন। আর যদি তাদের থেকে বর্ণিত বর্ণনায় মতপার্থক্য থাকে, তবে প্রাবল্য নিরুপণের দিকে ফিরে যেতে হয়। আর এই জটিলতা কেবল ওইসব হাদীসের ক্ষেত্রে আসে যেগুলোতে একাধিক সম্ভাবনা থাকে। নতুবা এমন অনেক হাদীস রয়েছে যা জাল হওয়ার ব্যাপারে অন্তর সাক্ষ্য দেয় এবং এই শাস্ত্রের ওপর যাদের গভীর চর্চা রয়েছে তাদের জন্য এর ওপর হুকুম লাগানো সহজ।
আর এটিই ইবনুল জাওযীর 'আল-মাওজুআত' কিতাবের অবস্থা। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الحكم على الحديث بالوضع…الرابعة: الحكم على الحديث بكونه موضوعاً من المتأخرين عسر جداً، لأن ذلك لا يتأتى إلا بعد جمع الطرق وكثرة التفتيش، وإنه ليس لهذا المتن سوى هذه الطريق الواحد، ثم يكون في رواتها من هو متهم بالكذب إلى ما ينضم إلى ذلك من قرائن كثيرة، يقتضي للحافظ المتبحر الجزم بأن هذا الحديث كذب.
ولهذا انتقد العلماء على الإمام أبي الفرج بن الجوزي في كتابه الموضوعات، وتوسعه بالحكم بذلك على كثير من الأحاديث ليست بهذه المثابة، بل فيها ما فيه ضعف يحتمل ويمكن التمسك به في الترغيب والترهيب، وفيها ما هو حديث حسن، أو
হাদীস জাল হওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত প্রদান…চতুর্থ বিষয়: পরবর্তী যুগের আলেমদের পক্ষে কোনো হাদীসকে মাওযূ (জাল) হিসেবে হুকুম দেওয়া অত্যন্ত দুরুহ ব্যাপার। কারণ, এটি সমস্ত সনদ সংগ্রহ এবং ব্যাপক অনুসন্ধান ছাড়া সম্ভব নয়; এবং এই মর্মে নিশ্চিত হওয়া যে, এই মতনটির (মূল পাঠ) এই একটিমাত্র সনদ ব্যতীত আর কোনো সূত্র নেই। অতঃপর এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কেউ থাকা যিনি মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত, যার সাথে আরও বহুবিধ আলামত যুক্ত হয়ে একজন গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী হাফেযকে (হাদীস বিশারদ) এই হাদীসটি মিথ্যা হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে।
এই কারণেই ওলামায়ে কেরাম ইমাম আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযীর 'আল-মাওযূআত' গ্রন্থে তাঁর সমালোচনা করেছেন এবং এমন অনেক হাদীসের ওপর জাল হওয়ার হুকুম দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর শিথিলতার প্রতিবাদ করেছেন যা আদতে এই পর্যায়ের নয়। বরং সেগুলোর মধ্যে এমন হাদীসও রয়েছে যার দুর্বলতা সহনীয় এবং নেক আমলের উৎসাহ ও ভীতি প্রদর্শনের (তারগীব ও তারহীব) ক্ষেত্রে যা গ্রহণ করা সম্ভব। আবার সেগুলোর মধ্যে কিছু হাদীস হাসান পর্যায়ের, অথবাওনিস্ট্রেটেড...
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن هنا نشرع في
بيان الأحاديث التي انتقدت على صاحب المصابيح، وما ينبغي الحكم عليها به، ومن الله العون1.
فمنها حديث:
1-" صنفان من أمتي ليس لهما في الإسلام نصيب: المرجئة والقدرية".
وهذا الحديث ذكره أبو الفرج في الموضوعات بسند فيه مأمون – أحد الكذابين، وذكره في كتابه الذي سماه العلل المتناهية في الأحاديث الواهية، من طريق سلام بن أبي عمرة عن عكرمة عن ابن عباس، ومن طريق علي بن نزار بن حبان عن أبيه عن عكرمة.
وضعف الأول بأن سلام بن أبي عمرة قال فيه يحيى بن معين: ليس بشيء.
وبأن علي بن نزار راوي الثانية واه2.
ثم قال: ورواه النضر بن سلمة، وهو متروك عن محمد بن بكر، وذكر سنداً إلى سعيد بن جبير عن ابن عباس – رضي الله عنهما-3.
وحديث علي بن نزار رواه الترمذي في جامعه، ولم
--------------------------------------------
এখান থেকেই আমরা
'মাসাবিহ' গ্রন্থের লেখকের উপর যেসব হাদিস নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে, তা বর্ণনা করা এবং সেগুলোর ব্যাপারে কী হুকুম হওয়া উচিত তা শুরু করছি। আর আল্লাহর সাহায্যই কাম্য১।
সেগুলোর মধ্যে একটি হাদিস হলো:
১- "আমার উম্মতের দুটি শ্রেণির ইসলামে কোনো অংশ নেই: মুরজিয়া ও কাদারিয়া।"
এই হাদিসটি আবুল ফারাজ তার 'মাওদুআত' গ্রন্থে এমন এক সনদে উল্লেখ করেছেন যাতে মামুন নামক একজন চরম মিথ্যুক রয়েছে। এছাড়া তিনি তার 'আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদিসিল ওয়াহিইয়াহ' নামক গ্রন্থে সালাম বিন আবি আমরাহ-এর সূত্রে ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং আলী বিন নিযার বিন হাব্বান-এর সূত্রে তার পিতা থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন।
প্রথম বর্ণনাটিকে দুর্বল বলা হয়েছে এ কারণে যে, সালাম বিন আবি আমরাহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাইন বলেছেন: "সে কিছুই নয়।"
এবং দ্বিতীয় বর্ণনার রাবী আলী বিন নিযার হলো অত্যন্ত দুর্বল২।
এরপর তিনি বলেছেন: এটি নযর বিন সালামাহ বর্ণনা করেছেন, আর তিনি (নযর) পরিত্যক্ত; তিনি মুহাম্মদ বিন বকর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি সাঈদ বিন জুবাইরের সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) পর্যন্ত একটি সনদ উল্লেখ করেছেন৩।
আর আলী বিন নিযারের হাদিসটি তিরমিজি তার জামে গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, এবং তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
به علي بن نزار، بل تابعه فيه القاسم بن حبيب التمار، وعبد الله بن محمد الليثي، كلاهما عن نزار بن حيان، رواه ابن ماجة من طريقهما1.
والقاسم بن حبيب هذا وثقه أبو حاتم بن حبان، وغيره تكلم فيه2.
وعبد الله الليثي لم أر أحداً تكلم فيه3.
والترمذي قال في هذا الحديث بعد سياقه: هذا حديث حسن غريب4.
وفي الباب عن عمرو بن عمرو، ورافع بن خديج – رضي الله عنهم.
فهذه المتابعات وتحسين الترمذي له يخرج الحديث عن أن يكون موضوعاً أو واهياً، والله أعلم.
--------------------------------------------
আলী বিন নিযার এর একক বর্ণনা নয়, বরং কাসেম বিন হাবিব আত-তাম্মার এবং আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-লাইসী এই বর্ণনায় তার অনুগামী হয়েছেন। তারা উভয়েই নিযার বিন হাইয়্যান থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ তাদের উভয়ের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন ১।
আর এই কাসেম বিন হাবিবকে আবু হাতিম বিন হিব্বান নির্ভরযোগ্য বলেছেন, তবে অন্যরা তার সমালোচনা করেছেন ২।
আর আবদুল্লাহ আল-লাইসী সম্পর্কে কাউকে সমালোচনা করতে দেখিনি ৩।
আর তিরমিযী এই হাদীসটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: এই হাদীসটি হাসান গরীব ৪।
এই বিষয়ে আমর বিন আমর এবং রাফে' বিন খাদীজ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকেও বর্ণনা রয়েছে।
সুতরাং এই সমান্তরাল বর্ণনাগুলো এবং তিরমিযীর একে 'হাসান' বলা হাদীসটিকে জাল বা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ার পর্যায় থেকে বের করে আনে। আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ومنها حديث:
2- " القدرية مجوس هذه الأمة إن مرضوا فلا تعودوهم، وإن ماتوا فلا تشهدوهم "1.
هذا الحديث ليس بموضوع، بل له طرق كثيرة ينجبر بعضها ببعض، وأجودها ما رواه أبو داود في سننه عن موسى بن إسماعيل عن عبد العزيز بن أبي حازم عن أبيه عن ابن عمر -رضي الله عنهما2.
وهذا الإسناد رجاله على شرط الشيخين، لكن أبا حازم لم يسمع من ابن عمر، وهو منقطع3.
وقد رواه جعفر الفريابي في كتاب ((القدر)) من طريق زكريا بن منظور عن أبي حازم عن نافع عن ابن عمر به4.
وزكريا هذا قال فيه ابن معين: ليس به بأس. وغيره تكلم فيه5.
فقد تبين الساقط من سنده في رواية أبي داود.
ورواه بعد ذلك من حديث حذيفة رضي الله عنه وفي
--------------------------------------------
এবং এর মধ্যে রয়েছে একটি হাদিস:
২- "কাদারিয়া সম্প্রদায় হলো এই উম্মতের মাজুস (অগ্নিপূজক)। তারা যদি অসুস্থ হয় তবে তাদের দেখতে যেও না, আর তারা যদি মারা যায় তবে তাদের জানাজায় উপস্থিত হয়ো না।" ১।
এই হাদিসটি জাল নয়, বরং এর অনেকগুলো সূত্র রয়েছে যা একে অপরকে শক্তিশালী করে। এগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো সেটি যা আবু দাউদ তাঁর সুনানে মুসা ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি আব্দুল আজিজ ইবনে আবি হাজিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন ২।
আর এই সনদের বর্ণনাকারীগণ শায়খাইনের শর্তানুযায়ী নির্ভরযোগ্য, কিন্তু আবু হাজিম ইবনে উমর থেকে সরাসরি শোনেননি, তাই এটি বিচ্ছিন্ন ৩।
জাফর আল-ফিরইয়াবি তাঁর 'আল-কদর' গ্রন্থে জাকারিয়া ইবনে মানজুরের সূত্র ধরে আবু হাজিম থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন ৪।
আর এই জাকারিয়া সম্পর্কে ইবনে মাইন বলেছেন: এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে অন্যান্যরা তাঁর সমালোচনা করেছেন ৫।
ফলে আবু দাউদের বর্ণনায় তাঁর সনদের বাদ পড়া অংশটি স্পষ্ট হয়ে গেল।
এরপর তিনি এটি হুযাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
إسناده بقية بن الوليد عن الأوزاعي1.
وبقية هذا مشهور بأنه يدلس عن الضعفاء، ولكن تصلح روايته للشواهد.
ورواه جعفر الفريابي بسند آخر جيد عن مكحول عن أبي هريرة رضي الله عنه، لكن مكحول لم يسمع من أبي هريرة، فهو مرسل2.
فتتبين بهذه الطريق أن الحديث له أصل، وليس بمنكر، فضلاً عن أن يكون موضوعاً3. والله أعلم.
ومنها حديث:
3-"صلاة التسبيح"4.
وهو حديث حسن صحيح، رواه أبو داود وابن ماجه بسند جيد إلى ابن عباس رضي الله عنهما، وعنه عكرمة.
وقد احتج به البخاري، وعنه الحكم بن أبان، وقد وثقه يحيى بن معين و (العجلي) 5 وغيرهما، وعنه موسى بن عبد العزيز، وقد
--------------------------------------------
এর সানাদ আল-আওযাঈ থেকে বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালীদ কর্তৃক বর্ণিত ১।
আর এই বাকিয়্যাহ দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকে তাদলীস করার জন্য সুপরিচিত, তবে তার বর্ণনা শওয়াহিদ (সাক্ষ্য প্রমাণ) হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
জাফর আল-ফিরইয়াবী মাকহুল থেকে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে অন্য একটি উত্তম সানাদে এটি বর্ণনা করেছেন; কিন্তু মাকহুল আবু হুরায়রা থেকে শোনেননি, তাই এটি মুরসাল ২।
সুতরাং এই সূত্রগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে হাদীসটির ভিত্তি আছে, এটি মুনকার নয়, মাওযু (জাল) হওয়া তো দূরের কথা ৩। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
সেগুলোর মধ্যে একটি হাদীস হলো:
৩-"সালাতুত তাসবীহ" ৪।
এটি একটি হাসান সহীহ হাদীস, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে উত্তম সানাদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে ইকরিমা বর্ণনা করেছেন।
বুখারী তাকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, আর তার থেকে বর্ণনা করেছেন হাকাম ইবনে আবান; যাকে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, (আল-ইজলী) ৫ এবং অন্যান্যরা নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তার থেকে মূসা ইবনে আব্দুল আযীয বর্ণনা করেছেন, এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قال فيه يحيى بن معين والنسائي: لا بأس به1. وباقي رواته متفق عليهم.
وقد أخرجه ابن خزيمة في صحيحه2.
وقال أبو حامد بن الكرجي: سمعت مسلم بن الحجاج، وكتب معي هذا الحديث مع عبد الرحمن بن بشر بن الحكم عن موسى بن عبد العزيز، يقول: لا يروى في هذا الحديث إسناد أحسن من هذا3.
وقال الإمام أبو بكر بن أبي داود السجستاني: سمعت أبي يقول: ليس في صلاة التسبيح حديث صحيح غير هذا. يعني حديث عكرمة عن ابن عباس4.
وأخرجه الحاكم في المستدرك على الصحيحين مصححاً له، ثم رواه أيضاً من طريق حيوة بن شريح عن يزيد بن أبي حبيب عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم علّم هذه الصلاة جعفر بن أبي طالب – رضي الله عنه – فذكرها. ثم قال الحاكم: هذا إسناد صحيح لا غبار عليه5.
--------------------------------------------
ইয়াহিয়া ইবনে মাঈন এবং নাসায়ী এই সম্পর্কে বলেছেন: এতে কোনো সমস্যা নেই১। এবং এর অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ সর্বসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য।
এবং ইবনে খুজাইমা এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন২।
আবু হামিদ ইবনুল কারজি বলেছেন: আমি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজকে বলতে শুনেছি, যখন তিনি আবদুর রহমান ইবনে বিশর ইবনুল হাকামের মাধ্যমে মুসা ইবনে আবদুল আজিজ হতে আমার সাথে এই হাদিসটি লিখছিলেন, তিনি বলছিলেন: এই হাদিসের ক্ষেত্রে এর চেয়ে উত্তম কোনো সনদ বর্ণিত হয়নি৩।
ইমাম আবু বকর ইবনে আবি দাউদ আস-সিজিস্তানি বলেছেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: সালাতুত তাসবীহ সম্পর্কে এটি ব্যতীত অন্য কোনো সহীহ হাদিস নেই। অর্থাৎ ইকরামা হতে ইবনে আব্বাসের হাদিসটি৪।
এবং হাকিম এটিকে আল-মুস্তাদরাক আলাস-সহীহাইন গ্রন্থে সহীহ হিসেবে সংকলন করেছেন, অতঃপর তিনি এটি হাইওয়া ইবনে শুরাইহ হতে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব হতে, তিনি নাফে হতে এবং তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জাফর ইবনে আবি তালিবকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই সালাত শিক্ষা দিয়েছিলেন—অতঃপর তিনি এটি বর্ণনা করেন। এরপর হাকিম বলেন: এটি একটি সহীহ সনদ যাতে কোনো সংশয় নেই৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
(وهذان التصحيحان كلاهما) 1 يعارض ذكر ابن الجوزي له في كتابه ((الموضوعات)) ، وتبين أنه أخطأ في ذلك، ولا بد هو ساقه من ثلاث طرق. منها اثنان في إسناد كل منهما رجل ضعيف، والثالث: طريق ابن عباس المتقدمة.
واعترض عليها بأن موسى بن عبد العزيز مجهول. وليس هو كذلك. فقد روى عنه جماعة من الثقات، وتقدم أن ابن معين والنسائي قالا فيه: لا بأس به. فليس بمجهول قطعاً، ثم لا يلزم من كونه مجهولاً والآخرين ضعيفين أن يكون الحديث موضوعاً، لا سيما مع تصحيح من نقدم.
وللحديث طرق أخرى كثيرة غير ما ذكرنا.
فأما ما ذكره السائل من أن الإمام أحمد بن حنبل طعن فيه. فقد ذكر الخلال في كتاب ((العلل)) أن علي بن سعيد النسائي قال: سألت أحمد بن حنبل عن صلاة التسبيح فقال: لم يصح عندي منها شيء.
فقلت له حديث عبد الله بن عمرو بن العاص.
فقال: كل يرويه عن عمرو بن مالك النكري.
فقلت: قد رواه أيضاً مستمر بن الريان.
فقال: من حدثك؟
قلت: مسلم بن إبراهيم.
فقال: مسلم شيخ ثقة، وكأنه أعجبه.
فهذا تقوية منه للحديث بسند آخر غير ما تقدم.
وقد حكى الترمذي عن الإمام عبد الله بن المبارك ما يقتضي تقوية هذا الحديث2. وذكر استحباب فعلها من
--------------------------------------------
(এই উভয় শুদ্ধিকরণই) ১ ইবনুল জাওযী তার 'আল-মাওদু'আত' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করার পরিপন্থী, এবং এটি স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি এক্ষেত্রে ভুল করেছেন। তিনি অবশ্যই হাদিসটি তিনটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে দুটির সনদে একজন করে দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে, আর তৃতীয়টি হলো ইবনে আব্বাসের সেই সূত্র যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
এর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে যে মুসা ইবনে আব্দুল আজিজ মাজহুল (অপরিচিত)। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। কেননা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের একটি দল তার থেকে বর্ণনা করেছেন। আর পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইবনে মাঈন এবং নাসাঈ তার সম্পর্কে বলেছেন: 'তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই'। সুতরাং তিনি নিশ্চিতভাবেই মাজহুল নন। তদুপরি, তার মাজহুল হওয়া এবং অন্য দুজন দুর্বল হওয়া থেকে হাদিসটি জাল হওয়া আবশ্যক হয় না, বিশেষ করে যাদের শুদ্ধিকরণ আমরা পূর্বে পেশ করেছি তাদের মতানুসারে।
আমাদের উল্লিখিত সূত্রগুলো ছাড়াও এই হাদিসের আরও অনেক সূত্র রয়েছে।
আর প্রশ্নকারী ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল কর্তৃক এতে দোষারোপ করার যে কথা উল্লেখ করেছেন, তার উত্তরে বলা যায়— আল-খাল্লাল তার 'আল-ইলাল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে আলী ইবনে সাঈদ আন-নাসাঈ বলেছেন: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে সালাতুত তাসবীহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: আমার নিকট এর কোনো কিছুই সহিহ প্রমাণিত হয়নি।
আমি তাকে বললাম, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসের হাদিসটির কথা (আপনি কী বলেন)?
তিনি বললেন: প্রত্যেকেই এটি আমর ইবনে মালিক আন-নুকরি থেকে বর্ণনা করে।
আমি বললাম: এটি মুস্তামির ইবনুর রাইয়ানও বর্ণনা করেছেন।
তিনি বললেন: কে তোমাকে এটি বর্ণনা করেছেন?
আমি বললাম: মুসলিম ইবনে ইব্রাহিম।
তিনি বললেন: মুসলিম একজন নির্ভরযোগ্য শাইখ। আর মনে হলো এটি তাকে সন্তুষ্ট করেছে।
এটি তার পক্ষ থেকে পূর্বে বর্ণিত সূত্র বাদে অন্য একটি সূত্রের মাধ্যমে হাদিসটিকে শক্তিশালী করার নামান্তর।
আর তিরমিযী ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যা এই হাদিসটিকে শক্তিশালী করার দাবি রাখে ২। এবং তিনি এটি পালন করা মুস্তাহাব হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাকদুস সহীহ লিমা ইতাতারাযা মিন আহাদীসিল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أصحابنا الروياني في البحر، والبغوي في شرح السنة.
وذكرها من أئمة الحنابلة جماعة، منهم: أبو الوفاء بن عقيل، والشيخ موفق الدين المقدسي، وغيرهما. والله أعلم.
ومنها حديث:
4- "من عزى مصاباً فله مثل أجره" 1.
وهذا ذكره ابن الجوزي في ((الموضوعات)) من حديث ابن مسعود، وجابر رضي الله عنهما.
وفي سند الأول حماد بن الوليد، وهو متكلم فيه2.
وفي طريق الثاني محمد بن عبيد الله العرزمي، وهو متهم ليس بثقة3.
والحديث الأول رواه الترمذي4، وابن ماجه5 من غير طريق حماد بن الوليد في إسناده عندهما علي بن عاصم عن محمد بن سوقه، وقد تكلم جماعة من الأئمة في علي بن عاصم
--------------------------------------------
আমাদের সাথীদের (শাফেঈ ইমামগণের) মধ্যে আল-রুয়ানি 'আল-বাহর' গ্রন্থে এবং আল-বাগাওয়ি 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
হাম্বলি ইমামগণের একটি দল এটি উল্লেখ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: আবুল ওয়াফা ইবন আকিল, শেখ মুয়াফফাকুদ্দিন আল-মাকদিসি এবং অন্যান্যরা। আল্লাহই ভালো জানেন।
আর এর মধ্য হতে একটি হাদিস হলো:
৪- "যে ব্যক্তি কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দিবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।" ১।
ইবনুল জাওযী এটি ইবনে মাসউদ ও জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিস থেকে 'আল-মাওযুয়াত' (মনগড়া হাদিসসমূহ) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
প্রথমটির সনদে হাম্মাদ ইবনুল ওয়ালিদ রয়েছেন, আর তিনি সমালোচিত। ২।
দ্বিতীয়টির সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-আরযামি রয়েছেন, তিনি অভিযুক্ত এবং নির্ভরযোগ্য নন। ৩।
প্রথম হাদিসটি তিরমিযী ৪ এবং ইবনে মাজাহ ৫ হাম্মাদ ইবনুল ওয়ালিদ ব্যতীত অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তাদের উভয়ের সনদে আলী ইবনে আসিম রয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে সূকাহ থেকে। আর ইমামগণের একটি দল আলী ইবনে আসিম সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন।
--------------------------------------------