(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: -)
شرح السنة للبربهاري (أبو محمد البربهاري)
القسم: العقيدة
الكتاب: شرح السنة
المؤلف: أبو محمد الحسن بن علي بن خلف البربهاري (ت 329هـ)
عدد الصفحات: 138
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-বারবাহারি কৃত শারহুস সুন্নাহ (আবু মুহাম্মদ আল-বারবাহারি)
বিভাগ: আক্বিদাহ
গ্রন্থ: শারহুস সুন্নাহ
লেখক: আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আলী বিন খালাফ আল-বারবাহারি (মৃত্যু ৩২৯ হিজরি)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
شرح السنةللإمام أبي محمد الحسن بن علي بن خلف البربهاريالمتوفى سنة 329 هـ
সুন্নাহর ব্যাখ্যাইমাম আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে খালাফ আল-বারবাহারী বিরচিতমৃত্যু: ৩২৯ হিজরি
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الحمد لله الذي هدانا للإسلام ومنَّ علينا به، وأخرجنا في خير أمة، فنسأله التوفيق لما يحب ويرضى، والحفظ مما يكره ويسخط.[1] اعلموا أن الإسلام هو السنة، والسنة هي الإسلام، ولا يقوم أحدهما إلا بالآخر.[2] فمن السنة لزوم الجماعة، فمن رغب عن الجماعة وفارقها فقد خلع ربقة الإسلام من عنقه، وكان ضالا مضلا.[3] والأساس الذي تبنى عليه الجماعة، وهم أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم ورحمهم الله أجمعين، وهم أهل السنة والجماعة، فمن لم يأخذ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ইসলামের প্রতি হেদায়েত দান করেছেন এবং এর মাধ্যমে আমাদের ধন্য করেছেন, আর আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে আবির্ভূত করেছেন। আমরা তাঁর কাছে সেইসব বিষয়ের তাওফিক প্রার্থনা করি যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন, আর সেইসব বিষয় থেকে আশ্রয় চাই যা তিনি অপছন্দ করেন ও যাতে তিনি রাগান্বিত হন।[1] তোমরা জেনে রেখো যে, ইসলামই হলো সুন্নাহ এবং সুন্নাহই হলো ইসলাম। এদের একটি অপরটি ছাড়া প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।[2] আর জামাতের সাথে সংবদ্ধ থাকা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি জামাত থেকে বিমুখ হলো এবং তা পরিত্যাগ করল, সে তার ঘাড় থেকে ইসলামের বন্ধন ছিন্ন করল এবং সে নিজে পথভ্রষ্ট ও অন্যকে পথভ্রষ্টকারী হিসেবে গণ্য হলো।[3] আর সেই ভিত্তি যার ওপর জামাত প্রতিষ্ঠিত, তাঁরা হলেন মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহম করুন)। তাঁরাই হলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত। সুতরাং যে ব্যক্তি গ্রহণ করল না...
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
عنهم فقد ضل وابتدع، وكل بدعة ضلالة، والضلالة وأهلها في النار.وقال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: " لا عذر لأحد في ضلالة ركبها حسبها هدى، ولا في هدى تركه حسبه ضلالة، فقد بينت الأمور، وثبتت الحجة، وانقطع العذر ".وذلك أن السنة والجماعة قد أحكما أمر الدين كله، وتبين للناس، فعلى الناس الاتباع.[4] واعلم - رحمك الله - أن الدين إنما جاء من قبل الله تبارك وتعالى، لم يوضع على عقول الرجال وآرائهم، وعلمه عند الله وعند رسوله، فلا تتبع شيئا بهواك، فتمرق من الدين، فتخرج من
তাদের থেকে (বিচ্যুত হলো), তবে সে পথভ্রষ্ট হলো এবং বিদআতে লিপ্ত হলো; আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, এবং ভ্রষ্টতা ও এর অনুসারীরা জাহান্নামে।উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "এমন কোনো ভ্রষ্টতা অবলম্বনের ক্ষেত্রে কারো জন্য কোনো ওজর নেই যাকে সে হিদায়াত মনে করেছে, আর না এমন কোনো হিদায়াত বর্জনের ক্ষেত্রে যাকে সে ভ্রষ্টতা মনে করেছে। কেননা সকল বিষয় স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অজুহাত নিঃশেষ হয়েছে।"আর তা এই কারণে যে, সুন্নাহ ও জামাত দীনের সকল বিষয়কে সুদৃঢ় করেছে এবং তা মানুষের নিকট স্পষ্ট হয়েছে। সুতরাং মানুষের ওপর আবশ্যক হলো কেবল অনুসরণ করা।[৪] আর জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন—নিশ্চয়ই দীন কেবল বরকতময় ও মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে, এটি মানুষের বুদ্ধি ও মতামতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়নি। এর জ্ঞান কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট রয়েছে। সুতরাং আপনি নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণে কোনো কিছু করবেন না, যার ফলে আপনি দীন থেকে বিচ্যুত হবেন এবং তা থেকে বের হয়ে যাবেন...
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الإسلام، فإنه لا حجة لك، فقد بين رسول الله صلى الله عليه وسلم لأمته السنة، وأوضحها لأصحابه وهم الجماعة، وهم السواد الأعظم، والسواد الأعظم: الحق وأهله، فمن خالف أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم في شيء من أمر الدين فقد كفر.[5] واعلم أن الناس لم يبتدعوا بدعة قط حتى تركوا من السنة مثلها، فاحذر المحدثات من الأمور، فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، والضلالة وأهلها في النار.[6] واحذر صغار المحدثات من الأمور؛ فإن صغير البدع
ইসলাম, নিশ্চয়ই তোমার জন্য কোনো অজুহাত নেই, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য সুন্নাহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সাহাবীদের কাছে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন; তাঁরাই হলেন জামাত এবং তাঁরাই হলেন সাওয়াদে আযম (বৃহত্তর জনগোষ্ঠী)। আর সাওয়াদে আযম হলো সত্য এবং সত্যের অনুসারীগণ। সুতরাং যে ব্যক্তি দ্বীনের কোনো বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের বিরোধিতা করল, সে কুফরি করল।[৫] আর জেনে রাখো, মানুষ যখনই কোনো নতুন বিদআত উদ্ভাবন করে, তখনই তারা তার সমপরিমাণ সুন্নাহ বর্জন করে। সুতরাং দ্বীনের মাঝে নব-উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে সতর্ক থাকো, কেননা প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, আর ভ্রষ্টতা ও তার অনুসারীরা জাহান্নামে যাবে।[৬] আর নব-উদ্ভাবিত বিষয়ের ছোট বিষয়গুলো থেকেও সতর্ক থাকো; কারণ ছোট বিদআতগুলোই...
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
يعود حتى يصير كبيرا، وكذلك كل بدعة أحدثت في هذه الأمة، كان أولها صغيرا يشبه الحق، فاغتر بذلك من دخل فيها، ثم لم يستطع الخروج منها، فعظمت وصارت دينا يدان [به] فخالف الصراط المستقيم، فخرج من الإسلام، فانظر رحمك الله كل من سمعت كلامه من أهل زمانك [خاصة] فلا تعجلن، ولا تدخلن في شيء [منه] حتى تسأل وتنظر هل تكلم به أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم [أو أحد من العلماء؟] فإن وجدت فيه أثرا عنهم فتمسك به، ولا تجاوزه لشيء، ولا [تختر] عليه شيئا فتسقط في النار.[7] واعلم أن الخروج من الطريق على وجهين؛ أما أحدهما: فرجل زل عن الطريق، وهو لا يريد إلا الخير، فلا يُقتدى بزلته،
তা বৃদ্ধি পেতে থাকে যতক্ষণ না তা বড় রূপ ধারণ করে। অনুরূপভাবে এই উম্মতের মধ্যে উদ্ভাবিত প্রতিটি বিদআত বা ধর্মীয় নব-উদ্ভাবনের সূচনা হয় ক্ষুদ্র আকারে, যা সত্যের সদৃশ মনে হয়। ফলে যারা তাতে প্রবেশ করে তারা এর দ্বারা প্রতারিত হয়, অতঃপর তারা আর তা থেকে বের হতে পারে না। এরপর তা আরও গুরুতর হয়ে ওঠে এবং এমন এক দ্বীনে পরিণত হয় যার অনুসরণ করা হয়। ফলশ্রুতিতে তা সরল পথের বিরোধিতা করে এবং ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়। সুতরাং আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, বিশেষত আপনার সমসাময়িক যাদের কথাই আপনি শোনেন না কেন, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন। কোনো তাড়াহুড়ো করবেন না এবং তার কোনো কিছুতে প্রবেশ করবেন না যতক্ষণ না আপনি জিজ্ঞাসা করেন এবং দেখেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ [অথবা আলেমদের কেউ] সে সম্পর্কে কোনো কথা বলেছেন কি না? যদি আপনি তাদের থেকে এ বিষয়ে কোনো বর্ণনা খুঁজে পান, তবে তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন এবং অন্য কিছুর জন্য তা অতিক্রম করবেন না। আর তার মোকাবিলায় অন্য কিছু বেছে নেবেন না, অন্যথায় আপনি জাহান্নামে পতিত হবেন।[৭] আর জেনে রাখুন যে, পথ থেকে বিচ্যুতি দুই প্রকারের হয়; প্রথমত: এমন ব্যক্তি যে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে অথচ সে কেবল কল্যাণই চেয়েছিল, সুতরাং তার এই বিচ্যুতি বা পদস্খলনের অনুসরণ করা যাবে না।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
فإنه هالك، وآخر عاند الحق وخالف من كان قبله من المتقين، فهو ضال مضل، شيطان مريد في هذه الأمة، حقيق على من يعرفه أن يحذر الناس منه، ويبين لهم قصته؛ لئلا يقع أحد في بدعته فيهلك.[8] واعلم رحمك الله أنه لا يتم إسلام عبد حتى يكون متبعا مصدقا مسلما، فمن زعم أنه بقي شيء من أمر الإسلام لم يكفوناه أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم فقد كذَّبهم، وكفى به فرقة وطعنا عليهم، وهو مبتدع ضال مضل، محدث في الإسلام ما ليس منه.[9] واعلم رحمك الله أنه ليس في السنة قياس، ولا يُضرب لها الأمثال، ولا تتبع فيها الأهواء، وهو التصديق بآثار رسول الله صلى الله عليه وسلم بلا كيف ولا شرح، ولا يقال: لم ولا كيف؟ .[10] والكلام والخصومة والجدال والمراء محدث يقدح الشك في القلب، وإن أصاب صاحبه الحق والسنة.
কারণ সে ধ্বংসপ্রাপ্ত। আর অন্য জন এমন ব্যক্তি যে সত্যের বিরোধিতা করে এবং তার পূর্ববর্তী মুত্তাকীদের বিরুদ্ধাচরণ করে; সে পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী, এই উম্মতের মধ্যে একজন বিদ্রোহী শয়তান। যে ব্যক্তি তাকে চেনে, তার জন্য আবশ্যক হলো মানুষকে তার থেকে সতর্ক করা এবং তাদের নিকট তার অবস্থা বর্ণনা করা; যাতে কেউ তার বিদআতে পতিত হয়ে ধ্বংস না হয়।[৮] আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, জেনে রাখুন যে, কোনো বান্দার ইসলাম ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হয় না যতক্ষণ না সে অনুসারী, সত্যায়নকারী ও আত্মসমর্পণকারী হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে, ইসলামের বিষয়ের মধ্যে এমন কিছু অবশিষ্ট আছে যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ আমাদের জন্য যথেষ্ট করে যাননি, সে মূলত তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং তাদের প্রতি দোষারোপ করার জন্য এটিই যথেষ্ট। সে একজন পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী বিদআতী, যে ইসলামের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন করেছে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।[৯] আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, জেনে রাখুন যে, সুন্নাহর ক্ষেত্রে কোনো কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান) নেই, এর জন্য কোনো উদাহরণ পেশ করা হয় না এবং এতে প্রবৃত্তির অনুসরণ করা হয় না। বরং এটি হলো কোনো প্রকার ধরণ-প্রকৃতি নির্ধারণ (কাইফ) ও ব্যাখ্যা ব্যতিরেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আছার বা বর্ণনাগুলোকে সত্যায়ন করা। আর এ ক্ষেত্রে ‘কেন’ বা ‘কীভাবে’—এরূপ প্রশ্ন করা যাবে না।[১০] ইলমুল কালাম (তর্কশাস্ত্র), ঝগড়া-বিবাদ, কুতর্ক ও বিতর্ক হলো নব-উদ্ভাবিত বিষয়, যা অন্তরে সন্দেহের উদ্রেক করে; যদিও এর লিপ্ত ব্যক্তি সত্য ও সুন্নাহর সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৪০)
[11] واعلم - رحمك الله - أن الكلام في الرب محدث، وهو بدعة وضلالة، ولا يتكلم في الرب إلا بما وصف به نفسه في القرآن، وما بين رسول الله صلى الله عليه وسلم لأصحابه، وهو - جل ثناؤه- واحد {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} ربنا أول بلا متى، وآخر بلا منتهى، يعلم السر وأخفى، وهو على عرشه استوى، وعلمه بكل
[১১] এবং জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন—যে প্রতিপালক সম্পর্কে (তর্কমূলক) বিতর্ক লিপ্ত হওয়া একটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়, আর এটি বিদআত ও ভ্রষ্টতা। প্রতিপালক সম্পর্কে কেবল তা-ই বলা যাবে যার মাধ্যমে তিনি কুরআনে নিজেকে বিশেষিত করেছেন এবং যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আর তিনি—তাঁর প্রশংসা সুউচ্চ—একক। "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" আমাদের প্রতিপালক অনাদি যার কোনো শুরু নেই এবং অনন্ত যার কোনো শেষ নেই। তিনি গোপন ও অতি গোপন সবকিছু জানেন এবং তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন। আর তাঁর জ্ঞান প্রতিটি...
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
مكان، ولا يخلو من علمه مكان.[12] ولا يقول في صفات الرب: كيف؟ ولم؟ إلا شاك في الله.[13] والقرآن كلام الله وتنزيله ونوره، ليس بمخلوق؛ لأن القرآن من الله، وما كان من الله فليس بمخلوق، وهكذا قال مالك بن أنس وأحمد بن حنبل والفقهاء قبلهما
স্থান, এবং কোনো স্থানই তাঁর জ্ঞান থেকে শূন্য নয়।[12] আর রবের গুণাবলির ক্ষেত্রে ‘কীভাবে?’ এবং ‘কেন?’ একমাত্র আল্লাহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণকারীই বলে থাকে।[13] আর কুরআন আল্লাহর কালাম, তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং তাঁর নূর, তা সৃষ্ট নয়; কেননা কুরআন আল্লাহ হতে এসেছে, আর যা আল্লাহর পক্ষ থেকে (আগত) তা সৃষ্ট নয়। মালিক ইবনে আনাস, আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং তাঁদের পূর্ববর্তী ফকীহগণ এভাবেই বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
وبعدهما، والمراء فيه كفر.[14] والإيمان بالرؤية يوم القيامة، يرون الله بأبصار رؤوسهم، وهو يحاسبهم بلا حجاب ولا ترجمان.[15] والإيمان بالميزان يوم القيامة، يوزن فيه الخير والشر، له كفتان ولسان.
এবং তাঁদের পরবর্তীগণের ব্যাপারে; আর এ বিষয়ে বিবাদ করা কুফর।[১৪] এবং কিয়ামতের দিন (আল্লাহকে) সচক্ষে দেখার প্রতি ঈমান রাখা; তাঁরা আল্লাহকে তাঁদের চাক্ষুষ দৃষ্টিতে দেখবেন এবং তিনি কোনো পর্দা ও দোভাষী ছাড়াই তাঁদের হিসাব গ্রহণ করবেন।[১৫] এবং কিয়ামতের দিন মিযানের প্রতি ঈমান রাখা; যাতে ভালো ও মন্দ ওজন করা হবে, যার রয়েছে দুটি পাল্লা ও একটি কাঁটা।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
[16] والإيمان بعذاب القبر، ومنكر ونكير.
[১৬] এবং কবরের আযাব ও মুনকার ও নাকিরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
[17] والإيمان بحوض رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولكل نبي حوض، إلا صالح النبي عليه السلام؛ فإن حوضه ضرع ناقته.
[১৭] এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাউযের প্রতি ঈমান পোষণ করা; আর প্রত্যেক নবীর জন্যই একটি হাউয রয়েছে, সালেহ নবী আলাইহিস সালাম ব্যতীত; কেননা তাঁর হাউয হলো তাঁর উটনীর ওলান।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
[18] والإيمان بشفاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم للمذنبين الخاطئين؛ في يوم القيامة، وعلى الصراط، ويخرجهم من جوف
[১৮] এবং কিয়ামত দিবসে ও পুলসিরাতের ওপর অপরাধী ও গুনাহগারদের জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশের প্রতি ঈমান আনা; এবং তিনি তাদের গভীর থেকে বের করে আনবেন
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
جهنم، وما من نبي إلا له شفاعة، وكذلك [الصديقون] والشهداء [والصالحون] ، ولله بعد ذلك تفضل كثير فيمن يشاء، والخروج من النار بعدما احترقوا وصاروا فحما.
জাহান্নাম; এবং এমন কোনো নবী নেই যাঁর সুপারিশের অধিকার নেই, আর একইভাবে [সত্যনিষ্ঠগণ], শহীদগণ ও [নেককারগণও সুপারিশ করবেন]। আর এরপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করবেন তার প্রতি প্রভূত অনুগ্রহ করবেন। আর আগুনে দগ্ধ হয়ে কয়লায় পরিণত হওয়ার পর জাহান্নাম থেকে মুক্তি।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
[19] والإيمان بالصراط على جهنم، يأخذ الصراط من شاء الله، ويجوز من شاء الله، ويسقط في جهنم من شاء الله، ولهم أنوار على قدر إيمانهم.
[১৯] এবং জাহান্নামের ওপর স্থাপিত সিরাতের প্রতি ঈমান রাখা; আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করবেন সে সিরাত অতিক্রম করবে, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করবেন সে পার হয়ে যাবে এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করবেন সে জাহান্নামে পতিত হবে; আর তাদের ঈমানের পরিমাণ অনুযায়ী তাদের জন্য জ্যোতি থাকবে।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
[20] والإيمان بالأنبياء والملائكة.[21] والإيمان بأن الجنة حق والنار حق، والجنة والنار مخلوقتان، الجنة في السماء السابعة، وسقفها العرش، والنار تحت [الأرض] السابعة السفلى، وهما مخلوقتان، قد علم الله
[20] এবং নবীগণ ও ফেরেশতাগণের প্রতি ঈমান আনা।[21] এবং এই বিশ্বাস রাখা যে জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য, আর জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়ই সৃষ্ট; জান্নাত সপ্তম আসমানে অবস্থিত এবং তার ছাদ হলো আরশ, আর জাহান্নাম সপ্তম নিম্ন জমিনের নিচে অবস্থিত, এবং এই উভয়টিই সৃষ্ট। আল্লাহ অবশ্যই অবগত আছেন—
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
عدد أهل الجنة ومن يدخلها، وعدد أهل النار ومن يدخلها، لا تفنيان أبدا، هما مع بقاء الله تبارك وتعالى [أبد] الآبدين، في دهر الداهرين، وآدم كان في الجنة الباقية المخلوقة، فأخرج منها بعدما عصى الله.
জান্নাতবাসীদের সংখ্যা ও যারা সেখানে প্রবেশ করবে, এবং জাহান্নামবাসীদের সংখ্যা ও যারা সেখানে প্রবেশ করবে—জান্নাত ও জাহান্নাম কখনো ধ্বংস হবে না। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার চিরস্থায়িত্বের সাথে সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম অনন্তকাল ধরে চিরস্থায়ী থাকবে। আর আদম সেই সৃষ্ট চিরস্থায়ী জান্নাতেই ছিলেন, অতঃপর আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার পর তাঁকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৫০)
[22] والإيمان بالمسيح الدجال.[23] وبنزول عيسى ابن مريم، ينزل فيقتل الدجال
[২২] মসীহ দাজ্জালের ওপর ঈমান রাখা।[২৩] এবং মারইয়াম-পুত্র ঈসার অবতরণের ওপর (ঈমান রাখা); তিনি অবতরণ করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৫১)
ويتزوج، ويصلي خلف القائم من آل محمد صلى الله عليه وسلم، ويموت، ويدفنه
এবং তিনি বিবাহ করবেন, এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশের কায়িমের পিছনে সালাত আদায় করবেন, এবং তিনি মৃত্যুবরণ করবেন ও তাঁকে দাফন করা হবে।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৫২)
المسلمون.[24] والإيمان بأن الإيمان قول وعمل، وعمل وقول، ونية وإصابة، يزيد وينقص، يزيد ما شاء الله وينقص حتى لا يبقى منه شيء.
মুসলিমগণ।[২৪] আর এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, ঈমান হলো কথা ও কাজ, এবং কাজ ও কথা, এবং নিয়ত ও (সুন্নাহর সাথে) সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া; তা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়। আল্লাহ যা চান সে অনুযায়ী তা বৃদ্ধি পায় এবং তা হ্রাস পেতে থাকে যতক্ষণ না তার কিছুই অবশিষ্ট থাকে।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
[25] وخير هذه الأمة بعد وفاة نبيها: أبو بكر وعمر وعثمان، هكذا روي لنا عن ابن عمر؛ قال: كنا نقول ورسول الله صلى الله عليه وسلم بين أظهرنا: إن خير الناس بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم: أبو بكر وعمر وعثمان ويسمع النبي صلى الله عليه وسلم بذلك فلا ينكره.ثم أفضل الناس بعد هؤلاء: علي وطلحة والزبير وسعد وسعيد وعبد الرحمن بن عوف [وأبو عبيدة بن الجراح] ، وكلهم
[২৫] এবং এই উম্মতের নবীর ইন্তেকালের পর তাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন: আবু বকর, উমর এবং উসমান। ইবনে উমর থেকে আমাদের কাছে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে; তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে থাকাকালীন আমরা বলতাম: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন: আবু বকর, উমর এবং উসমান। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতেন এবং তিনি তা অস্বীকার করতেন না।অতঃপর তাঁদের পরে শ্রেষ্ঠ মানুষ হলেন: আলী, তালহা, জুবাইর, সাদ, সাঈদ, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ [এবং আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ], এবং তাঁরা সকলেই
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
يصلح للخلافة.ثم أفضل الناس بعد هؤلاء: أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، القرن الأول الذي بعث فيهم: المهاجرون الأولون والأنصار، وهم من صلى القبلتين.
খিলাফতের জন্য যোগ্য।অতঃপর এদের পরে মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ; অর্থাৎ প্রথম প্রজন্ম যাদের মাঝে তিনি প্রেরিত হয়েছিলেন—প্রথম পর্যায়ের মুহাজির ও আনসারগণ। আর তাঁরা হলেন সেই সকল ব্যক্তি যারা উভয় কিবলার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
ثم أفضل الناس بعد هؤلاء: من صحب رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما أو شهرا أو سنة أقل أو كثر، ترحم عليهم وتذكر فضله وتكف عن زلته، ولا تذكر أحدا منهم إلا بخير، لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا ذكر أصحابي فأمسكوا» .وقال ابن عيينة: " من نطق في أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم بكلمة فهو صاحب هوى ".
এরপর এদের পর শ্রেষ্ঠ মানুষ তারা: যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন—চাই তা একদিন, এক মাস বা এক বছর হোক, পরিমাণে কম বা বেশি। আপনি তাঁদের জন্য রহমতের দুআ করবেন, তাঁদের মর্যাদার কথা স্মরণ করবেন এবং তাঁদের পদস্খলন সম্পর্কে আলোচনা থেকে বিরত থাকবেন। তাঁদের কাউকেই কল্যাণের কথা ছাড়া স্মরণ করবেন না; কেননা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন আমার সাহাবীদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তখন তোমরা বিরত থাকো।" এবং ইবন উইয়াইনাহ বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সম্পর্কে (মন্দ) কথা বলে, সে প্রবৃত্তি পূজারী।"
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
[وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «أصحابي كالنجوم، بأيهم اقتديتم اهتديتم» ] .[26] والسمع والطاعة للأئمة فيما يحب الله ويرضى.ومن ولي الخلافة بإجماع الناس عليه ورضاهم به فهو أمير المؤمنين، لا يحل لأحد أن يبيت ليلة ولا يرى أن عليه إماما، برا كان أو فاجرا.
[এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তাঁদের মধ্যে তোমরা যারই অনুসরণ করবে, হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে»] ।[26] আর আল্লাহ যা ভালোবাসেন ও যাতে সন্তুষ্ট হন, এমন বিষয়ে ইমামদের কথা শোনা ও আনুগত্য করা আবশ্যক।আর জনগণের ঐকমত্য ও সন্তুষ্টির ভিত্তিতে যিনি খিলাফতের দায়িত্ব লাভ করেন, তিনিই আমীরুল মুমিনীন। কারো জন্য এমন অবস্থায় এক রাত অতিবাহিত করাও বৈধ নয় যে, সে তার ওপর কোনো ইমাম বা নেতার কর্তৃত্ব স্বীকার করে না; চাই সেই ইমাম সৎ হোন কিংবা পাপাচারী।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
[27] والحج والغزو مع الإمام ماض، وصلاة الجمعة خلفهم جائزة، ويصلي بعدها ست ركعات، يفصل بين كل ركعتين، هكذا قال أحمد بن حنبل.[28] والخلافة في قريش إلى أن ينزل عيسى ابن مريم.
[27] ইমামের (শাসকের) সাথে হজ ও জিহাদ অব্যাহত থাকবে এবং তাদের পেছনে জুমার সালাত আদায় করা বৈধ; জুমার পরে ছয় রাকাত সালাত আদায় করবে এবং প্রতি দুই রাকাতের মাঝে (সালামের মাধ্যমে) বিচ্ছেদ ঘটাবে, আহমদ ইবনে হাম্বল এভাবেই বলেছেন।[28] আর ঈসা ইবনে মারইয়ামের অবতরণ পর্যন্ত খিলাফত কুরাইশদের মধ্যেই থাকবে।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
[29] ومن خرج على إمام من أئمة المسلمين فهو خارجي، وقد شق عصا المسلمين، وخالف الآثار، وميتته ميتة جاهلية.[30] ولا يحل قتال السلطان والخروج عليه وإن جاروا، وذلك قول رسول الله صلى الله عليه وسلم لأبي ذر: «اصبر، وإن كان عبدا حبشيا» .وقوله للأنصار: «اصبروا حتى تلقوني على [الحوض] » .وليس من السنة قتال السلطان؛ فإن فيه فساد الدين والدنيا.[31] ويحل قتال الخوارج إذا عرضوا للمسلمين في أنفسهم
[২৯] যে ব্যক্তি মুসলিমদের ইমামদের মধ্য থেকে কারো বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, সে একজন খারিজি। সে মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট করল এবং আছার (বর্ণনা) সমূহের বিরোধিতা করল; তার মৃত্যু হবে জাহিলিয়াতের মৃত্যু।[৩০] সুলতানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা বৈধ নয়, যদিও তারা জুলুম করে। আর এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই বাণীর কারণে যা তিনি আবু যরকে বলেছিলেন: «ধৈর্য ধারণ করো, যদিও সে একজন হাবশী ক্রীতদাস হয়»।এবং আনসারদের প্রতি তাঁর বাণী: «তোমরা ধৈর্য ধারণ করো যতক্ষণ না হাওযের নিকট আমার সাথে সাক্ষাৎ করো»।আর সুলতানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয়; কেননা এতে দ্বীন ও দুনিয়ার বিপর্যয় নিহিত রয়েছে।[৩১] খারিজিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বৈধ যখন তারা মুসলিমদের জানমালের ওপর চড়াও হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
وأموالهم وأهاليهم، وليس له إذا فارقوه أن يطلبهم، ولا [يجهز] على جريحهم ولا يأخذ فيئهم، ولا يقتل أسيرهم، ولا يتبع مدبرهم.[32] واعلم – رحمك الله - أنه لا طاعة لبشر في معصية الله عز وجل. من كان من أهل الإسلام، ولا يشهد على أحد ولا يشهد له بعمل خير ولا شر، فإنك لا تدري بما يختم له، ترجو
এবং তাদের ধন-সম্পদ ও তাদের পরিবারবর্গ। আর যখন তারা তার থেকে পৃথক হয়ে যায়, তখন তাদের তলব করা, তাদের আহতদের চূড়ান্তভাবে হত্যা করা, তাদের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ গ্রহণ করা, তাদের বন্দীদের হত্যা করা কিংবা পলায়নকারীদের অনুসরণ করা তার জন্য বৈধ নয়।[৩২] আর জেনে রাখুন – আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন – মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর অবাধ্যতায় কোনো মানুষের আনুগত্য করা বৈধ নয়। যারা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত, তাদের কারো বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন না এবং কারো জন্য কোনো ভালো বা মন্দ আমলের সাক্ষ্য দেবেন না; কেননা আপনি জানেন না যে তার শেষ পরিণতি কী হবে। আপনি আশা করবেন
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৬০)
له، وتخاف عليه ولا تدري ما يسبق له عند الموت إلى الله من الندم، وما أحدث الله في ذلك الوقت إذا مات على الإسلام ترجو له رحمة الله، وتخاف عليه ذنوبه، وما من ذنب إلا وللعبد منه توبة.[33] والرجم حق.[34] والمسح على الخفين سنة.[35] وتقصير الصلاة في السفر سنة.
তার জন্য (দোয়া করবেন), এবং তার ব্যাপারে আশঙ্কাও করবেন। কেননা আপনি জানেন না মৃত্যুর সময় আল্লাহর সমীপে তার পক্ষ থেকে কী অনুতাপ পেশ করা হবে এবং সেই মুহূর্তে আল্লাহ তার জন্য কী ফয়সালা করবেন। যদি সে ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করে, তবে আপনি তার জন্য আল্লাহর রহমতের আশা করবেন এবং তার পাপরাশির কারণে তার ব্যাপারে শঙ্কা বোধ করবেন। আর এমন কোনো পাপ নেই যা থেকে বান্দার জন্য তওবার সুযোগ নেই।[৩৩] এবং রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) সত্য।[৩৪] এবং মোজার ওপর মাসহ করা সুন্নাত।[৩৫] এবং সফরে সালাত কসর (সংক্ষিপ্ত) করা সুন্নাত।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৬১)
[36] والصوم في السفر؛ من شاء صام ومن شاء أفطر.[37] ولا بأس بالصلاة في السراويل.[38] والنفاق أن تظهر الإسلام باللسان وتخفي الكفر.[39] واعلم أن الدنيا دار إيمان وإسلام، فأمة محمد صلى الله عليه وسلم فيها مؤمنون مسلمون في أحكامهم ومواريثهم [وذبائحهم] والصلاة عليهم، لا تشهد لأحد بحقيقة الإيمان حتى يأتي بجميع شرائع
[36] সফরে সিয়াম পালন; যার ইচ্ছা সে সিয়াম পালন করবে এবং যার ইচ্ছা সে সিয়াম ভঙ্গ করবে।[37] পায়জামা পরে সালাত আদায় করতে কোনো দোষ নেই।[38] আর নিফাক হলো মুখে ইসলাম প্রকাশ করা এবং কুফর গোপন রাখা।[39] আর জেনে রাখুন যে, এই দুনিয়া হলো ঈমান ও ইসলামের আবাস। সুতরাং এতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতগণ তাদের বিধানাবলী, উত্তরাধিকার, [জবাইকৃত পশু] এবং তাদের জানাজার সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে মুমিন ও মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে। আপনি কারো জন্য প্রকৃত ঈমানের সাক্ষ্য দেবেন না যতক্ষণ না সে সমস্ত শরিয়ত পালন করে উপস্থিত হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বারবাহারী
(পৃষ্ঠা: ৬২)
الإسلام، فإن قصر في شيء من ذلك كان ناقص الإيمان حتى يموت، وعلم إيمانه إلى الله تعالى: تام الإيمان أو ناقص الإيمان، إلا ما ظهر لك من تضييع شرائع الإسلام.[40] والصلاة على من مات من أهل القبلة سنة: المرجوم، والزاني، والزانية، والذي يقتل
ইসলাম, আর যদি সে এর কোনো কিছুতে ত্রুটি করে তবে মৃত্যু পর্যন্ত সে ত্রুটিপূর্ণ ঈমানবিশিষ্ট হবে এবং তার ঈমান পূর্ণ নাকি ত্রুটিপূর্ণ সে বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহ তাআলার নিকটই থাকবে, তবে ইসলামের বিধানাবলি বিনষ্ট করার যা কিছু তোমার নিকট প্রকাশ পায় তা ব্যতিরেকে।[৪০] এবং কিবলাহ অনুসারীদের মধ্য থেকে যারা মৃত্যুবরণ করে তাদের জানাযার সালাত আদায় করা সুন্নাত: চাই সে রজমকৃত (পাথর নিক্ষেপে দণ্ডপ্রাপ্ত) হোক, ব্যভিচারী হোক, ব্যভিচারিণী হোক কিংবা যাকে হত্যা করা হয়েছে।