0/0
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: -)
النصيرية طغاة سورية أو العلويون كما سماهم الفرنسيون   (ابن تيمية)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: النصيرية طغاة سورية أو العلويون كما سماهم الفرنسيون

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)

الناشر: دار الافتاء، الرياض، المملكة العربية السعودية

الطبعة: -

عدد الصفحات: 31

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নুসাইরিয়া: সিরিয়ার স্বৈরাচারী অথবা আলাওয়ী যেমন ফরাসিরা তাদের নামকরণ করেছে   (ইবনে তাইমিয়া)

বিভাগ: বিভিন্ন মতবাদ ও তাদের খণ্ডন


গ্রন্থ: নুসাইরিয়া: সিরিয়ার স্বৈরাচারী অথবা আলাওয়ী যেমন ফরাসিরা তাদের নামকরণ করেছে

লেখক: তকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুল কাসিম বিন মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল ইফতা, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: -

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌النصيرية طغاة سورية أو العلويون كما سماهم الفرنسيون

‌‌تأليف: أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية الحراني

وَسئل رحمه الله تعالي ما تقول السادة العلماء أئمة الدين رضي الله عنهم أجمعين، وأعانهم علي إظهار الحق المبين، وإخماد شغب المبطلين في [النصيرية] القائلين باستحلال الخمر، وتناسخ الأرواح، وقدم العالم، وإنكار البعث والنشور والجنة والنار في
‌‌সিরিয়ার জালেম নুসায়রিয়া সম্প্রদায় অথবা আলাউয়ি—ফরাসিরা তাদের যে নামে অভিহিত করেছে

‌‌রচনায়: আহমদ বিন আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি

তাঁকে (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ধর্মতত্ত্ববিদ বরেণ্য আলিম ও দ্বীনের ইমামগণ—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং সুস্পষ্ট সত্য প্রকাশে ও বাতিলপন্থীদের বিশৃঙ্খলা দমনে তাঁদের সাহায্য করুন—সেই [নুসায়রিয়া] সম্প্রদায় সম্পর্কে কী বলেন, যারা মদ পান বৈধ মনে করা, জন্মান্তরবাদ, জগতের অনাদিত্ব এবং পুনরুত্থান, হাশর-নশর, জান্নাত ও জাহান্নাম অস্বীকার করার মত পোষণ করে...
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ৬)
غير الحياة الدنيا، وبأن [الصلوات الخمس] عبارة عن خمسة أسماء، وهي: علي، وحسن، وحسين، ومحسن، وفاطمة. فذكر هذه الأسماء الخمسة علي رأيهم يجزيهم عن الغسل من الجنابة، والوضوء وبقية شروط الصلوات الخمسة وواجباتها. وبأن [الصيام] عندهم عبارة عن اسم ثلاثين رجلا، واسم ثلاثين امرأة، يعدونهم في كتبهم، ويضيق هذا الموضع عن إبرازهم. وبأن إلاههم الذي خلق السموات والأرض هو علي بن طالب رضي الله عنه فهو عندهم الإله في السماء، والإمام في الأرض، فكانت الحكمة في ظهور اللاهوت بهذا الناسوت علي رأيهم أن يؤنس خلقه وعبيده؛ ليعلمهم كيف يعرفونه ويعبدونه.

وبأن النصيري عندهم لا يصير نصيريا مؤمنا يجالسونه، ويشربون معه الخمر، ويطلعونه علي أسرارهم، ويزوجونه من نسائهم، حتي يخاطبه معلمه. وحقيقة الخطاب عندهم أن يحلفوه علي كتمان دينه، ومعرفة مشائخه، وأكابر أهل مذهبه؛ وعلي ألا ينصح مسلما ولا غيره إلا من كان من أهل دينه، وعلي أن يعرف ربه وإمامه بظهوره في أنواره وأدواره، فيعرف انتقال الاسم والمعني في كل حين وزمان.
পরকালীন জীবন ব্যতীত অন্য কিছু, এবং তাদের মতে [পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ] মূলত পাঁচটি নামের সমাহার, আর সেগুলো হলো: আলী, হাসান, হোসাইন, মুহসিন এবং ফাতিমা। তাদের মতানুসারে, এই পাঁচটি নামের জিকিরই তাদের জন্য জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে গোসল, অজু এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের অবশিষ্ট শর্তাবলি ও ওয়াজিবসমূহ পালনের বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট। আর তাদের নিকট [রোজা] হলো ত্রিশজন পুরুষ ও ত্রিশজন নারীর নামের সমষ্টি, যাদের নাম তারা তাদের কিতাবসমূহে উল্লেখ করেছে; তবে এই স্থানটি তাদের সবার নাম বিস্তারিত বর্ণনার জন্য অপ্রতুল। এবং তাদের ইলাহ (উপাস্য), যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, তিনি হলেন আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। তাদের মতে, তিনি আসমানে ইলাহ এবং জমিনে ইমাম। তাদের ধারণা অনুযায়ী, এই মানবীয়রূপে (নাসুত) ঐশ্বরিক সত্তার (লাহুত) আবির্ভাবের হিকমত বা রহস্য ছিল যেন তিনি তাঁর সৃষ্টি ও বান্দাদের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য দান করেন; যাতে তিনি তাদের শিক্ষা দিতে পারেন যে, কীভাবে তারা তাঁকে চিনবে ও তাঁর ইবাদত করবে।

আর তাদের মতে, একজন নুসাইরি ততক্ষণ পর্যন্ত একজন মুমিন নুসাইরি হিসেবে গণ্য হয় না—যার সাথে তারা উঠাবসা করতে পারে, একত্রে মদ পান করতে পারে, তাদের গোপন রহস্য অবগত করতে পারে এবং তাদের নারীদের তার সাথে বিবাহ দিতে পারে—যতক্ষণ না তার শিক্ষক তাকে বিশেষ দীক্ষা (খিতাব) প্রদান করেন। তাদের নিকট এই দীক্ষার স্বরূপ হলো, তারা তাকে তার ধর্ম গোপন রাখার এবং তার শায়খ ও মাজহাবের প্রধানদের চিনে রাখার শপথ গ্রহণ করায়; আরও শপথ করায় যে, সে তার স্বধর্মী লোক ব্যতীত কোনো মুসলিম বা অন্য কাউকেও সদুপদেশ দেবে না। এবং সে যেন তার রব ও ইমামকে তাঁর নূর ও পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের মাধ্যমে চিনে নেয়; যাতে সে প্রতি মুহূর্তে ও যুগে 'ইসম' (নাম) এবং 'মা'না' (অর্থ)-এর রূপান্তর সম্পর্কে অবগত হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ৭)
فالاسم عندهم في أول الناس آدم والمعني هو شيث، والاسم يعقوب، والمعني هو يوسف. ويستدلون علي هذه الصورة كما يزعمون بما في القرآن العظيم حكاية عن يعقوب ويوسف عليهما الصلاة والسلام فيقولون: أما يعقوب فإنه كان الاسم، فما قدر أن يتعدي منزلته فقال: {سَوْفَ أَسْتَغْفِرُ لَكُمْ رَبِّيَ} [يوسف: 98] ، وأما يوسف فكان المعني المطلوب فقال: {لَا تَثْرَيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ} [يوسف: 92] فلم يعلق الأمر بغيره؛ لأنه علم أنه الإله المتصرف، ويجعلون موسي هو الاسم، ويوشع هو المعني، ويقولون: يوشع ردت له الشمس لما أمرها فأطاعت أمره، وهل ترد الشمس إلا لربها؟ ! ويجعلون سليمان هو الاسم، وآصف هو المعني القادر المقتدر، ويقولون: سليمان عجز عن إحضار عرش بلقيس، وقدر عليه آصف؛ لأن سليمان كان الصورة، وآصف كان المعني القادر المقتدر، وقد قال قائلهم:

هابيل شيث يوسف يوشع … آصف شمعون الصفا حيدر

ويعدون الأنبياء والمرسلين واحدا واحدا علي هذا النمط إلي زمن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فيقولون: محمد هو الاسم، وعلي هو
তাদের মতে মানবজাতির সূচনায় আদম হলেন 'নাম' এবং 'অর্থ' হলেন শীষ; অনুরূপভাবে ইয়াকুব হলেন 'নাম' এবং ইউসুফ হলেন 'অর্থ'। তারা তাদের এই কাল্পনিক দাবির সপক্ষে মহান কুরআনে বর্ণিত ইয়াকুব ও ইউসুফ (আলাইহিমাস সালাম)-এর কাহিনীর অবতারণা করে বলে: ইয়াকুব যেহেতু কেবল 'নাম' ছিলেন, তাই তিনি নিজের মর্যাদার সীমা অতিক্রম করতে পারেননি, ফলে তিনি বলেছিলেন: {আমি শীঘ্রই তোমাদের জন্য আমার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব} [ইউসুফ: ৯৮]। অন্যদিকে ইউসুফ ছিলেন কাঙ্ক্ষিত 'অর্থ', তাই তিনি বলেছিলেন: {আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই} [ইউসুফ: ৯২]। তিনি বিষয়টি অন্য কারও ওপর ন্যস্ত করেননি; কারণ তিনি জানতেন যে তিনিই হলেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী উপাস্য। তারা মুসাকে 'নাম' এবং ইউশাকে 'অর্থ' হিসেবে গণ্য করে এবং বলে: ইউশা যখন সূর্যকে আদেশ করেছিলেন তখন তা ফিরে এসেছিল এবং তাঁর আদেশ মান্য করেছিল; আর সূর্য কি তার প্রতিপালক ছাড়া অন্য কারও আদেশে ফিরে আসে?! তারা সুলাইমানকে 'নাম' এবং আসিফকে 'ক্ষমতাবান ও পরাক্রমশালী অর্থ' হিসেবে স্থির করে। তারা বলে: সুলাইমান বিলকিসের সিংহাসন উপস্থিত করতে অপারগ ছিলেন, কিন্তু আসিফ তা করতে সক্ষম হয়েছিলেন; কারণ সুলাইমান ছিলেন কেবল বাহ্যিক রূপ, আর আসিফ ছিলেন 'ক্ষমতাবান ও পরাক্রমশালী অর্থ'। তাদের একজন প্রবক্তা বলেছেন:

হাবিল, শীষ, ইউসুফ, ইউশা … আসিফ, শামউন আস-সাফা, হায়দার

তারা নবী ও রাসূলদের একে একে এই পদ্ধতিতে গণনা করতে করতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সময় পর্যন্ত পৌঁছায় এবং বলে: মুহাম্মদ হলেন 'নাম' এবং আলী হলেন...
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ৮)
المعني، ويوصلون العدد علي هذا الترتيب في كل زمان إلي وقتنا هذا. فمن حقيقة الخطاب في الدين عندهم أن عليًا هو الرب، وأن محمداً هو الحجاب، وأن سلمان هو الباب، وأنشد بعض أكابر رؤسائهم وفضلائهم لنفسه في شهور سنة سبع مائة فقال:

أشهد أن لا إله إلا … حيدرة الأنزع البطين

ولا حجاب عليه إلا …

محمد الصادق الأمين

ولا طريق إليه إلا … سليمان ذو القوة المتين

ويقولون: إن ذلك علي هذا الترتيب لم يزل ولا يزال، وكذلك الخمسة الأيتام، والاثنا عشر نقيبا، وأسماؤهم مشهورة عندهم، ومعلومة من كتبهم الخبيثة، وأنهم لا يزالون يظهرون مع الرب والحجاب والباب في كل كور ودور أبداً سرمداً علي الدوام والاستمرار، ويقولون: إن إبليس الأبالسة هو عمر بن الخطاب رضي الله عنه ويليه في رتبة الإبليسية أبو بكر رضي الله عنه ثم عثمان رضي الله عنهم أجمعين وشرفهم وأعلى
মর্মার্থ; তারা প্রতিটি যুগে এই ক্রমধারা অনুযায়ী আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত তা নিরবচ্ছিন্ন রেখেছে। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রকৃত তত্ত্ব হলো এই যে, আলী-ই হলেন পালনকর্তা (রব), মুহাম্মদ হলেন আবরণ (হিজাব) এবং সালমান হলেন প্রবেশদ্বার (বাব)। তাদের জনৈক প্রধান নেতা ও পণ্ডিত ব্যক্তি সাতশ হিজরি সনের মাসসমূহে স্বরচিত কিছু পঙ্ক্তি আবৃত্তি করে বলেছিলেন:

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, … হায়দার আল-আনযা' আল-বাতীন ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই

আর তাঁর ওপর কোনো আবরণ (হিজাব) নেই …

সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত মুহাম্মদ ব্যতীত

আর তাঁর নিকট পৌঁছানোর কোনো পথ নেই … সুদৃঢ় শক্তির অধিকারী সুলাইমান ব্যতীত

তারা বলে: এই ক্রমধারাটি অনাদিকাল থেকে এভাবেই বিদ্যমান এবং ভবিষ্যতেও তা অপরিবর্তিত থাকবে। অনুরূপভাবে 'পাঁচজন ইয়াতীম' এবং 'বারোজন নকীব'-এর বিষয়সমূহও; যাদের নাম তাদের নিকট সুপরিচিত এবং তাদের ঘৃণ্য গ্রন্থসমূহ থেকে তা অবগত হওয়া যায়। তারা রব, হিজাব এবং বাব-এর সাথে প্রতিটি যুগচক্র ও আবর্তনে চিরকাল ও নিরবচ্ছিন্নভাবে আত্মপ্রকাশ করে থাকে। তারা আরও বলে: নিশ্চয়ই ইবলিসদের প্রধান ইবলিস হলো উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু), আর শয়তানিয়াতের স্তরে তার পরেই রয়েছে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্থান, তারপর উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)-এর স্থান; আল্লাহ তাদের সকলকে সম্মানিত ও উচ্চমর্যাদা দান করুন।
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ৯)
رتبهم عن أقوال الملحدين وانتحال أنواع الضالين والمفسدين فلا يزالون موجودين في كل وقت دائما حسبما ذكر من الترتيب. ولمذاهبهم الفاسدة شعب وتفاصيل ترجع إلي هذه الأصول المذكورة.

وهذه الطائفة الملعونة استولت علي جانب كبير من بلاد الشام وهم معروفون مشهورون متظاهرون بهذا المذهب، وقد حقق أحوالهم كل من خالطهم وعرفهم من عقلاء المسلمين وعلمائهم، ومن عامة الناس أيضا في هذا الزمان؛ لأن أحوالهم كانت مستورة عن أكثر الناس وقت استيلاء الإفرنج المخذولين علي البلاد الساحلية، فلما جاءت
নাস্তিকদের বক্তব্য এবং বিভিন্ন প্রকার পথভ্রষ্ট ও অনিষ্টকারীদের ছদ্মবেশ ধারণ করার প্রেক্ষিতে তাদের স্তরবিন্যাস; তারা উল্লিখিত বিন্যাস অনুযায়ী সর্বদাই বিদ্যমান রয়েছে। তাদের কলুষিত মতবাদের এমন কিছু শাখা-প্রশাখা ও বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে যা মূলত উল্লিখিত এই মূলনীতিসমূহের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।

অভিশপ্ত এই গোষ্ঠীটি শাম দেশের (সিরিয়া অঞ্চল) একটি বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছিল। তারা তাদের এই মতবাদ প্রকাশ্যে জাহির করার কারণে সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ। মুসলিমদের মধ্যে যারা প্রাজ্ঞ ও আলিম এবং এই যুগের সাধারণ মানুষ—যারা তাদের সাথে মেলামেশা করেছেন এবং তাদের সম্পর্কে জেনেছেন—তারা সকলেই তাদের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন। কেননা, লাঞ্ছিত ইফরাঞ্জরা (ক্রুসেডাররা) যখন উপকূলীয় অঞ্চলসমূহ দখল করে রেখেছিল, তখন তাদের প্রকৃত অবস্থা অধিকাংশ মানুষের নিকট গোপন ছিল। অতঃপর যখন...
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ১০)
أيام الإسلام انكشف حالهم وظهر ضلالهم، والابتلاء بهم كثير جداً.

فهل يجوز لمسلم أن يزوجهم، أو يتزوج منهم؟ وهل يحل أكل ذبائحهم والحالة هذه، أم لا؟ وما حكم الجبن المعمول من أنفحة ذبيحتهم؟ وما حكم أوانيهم وملابسهم؟ وهل يجوز دفنهم بين المسلمين، أم لا؟ وهل يجوز استخدامهم في ثغور المسلمين وتسليمها إليهم؟ أم يجب علي ولي الأمر قطعهم واستخدام غيرهم من رجال المسلمين الكفاة، وهل يأثم إذا أخر طردهم؟ أم يجوز له التمهل مع أن في عزمه ذلك؟ وإذا استخدمهم وأقطعهم أو لم يقطعهم هل يجوز له صرف أموال بيت المال عليهم، وإذا صرفها وتأخر لبعضهم بقية من معلومه المسمي، فأخره ولي الأمر عنه وصرفه علي غيره من المسلمين أو المستحقين، أو أرصده لذلك: هل يجوز له فعل هذه الصور؟ أم يجب عليه؟ وهل دماء النصيرية المذكورين مباحة وأموالهم حلال، أم لا؟ وإذا جاهدهم ولي الأمر أيده الله تعالي بإخماد باطلهم، وقطعهم من حصون المسلمين، وحذر أهل الإسلام من مناكحتهم، وأكل ذبائحهم، وألزمهم بالصوم والصلاة، ومنعهم من إظهار دينهم الباطل وهم الذين يلونه من الكفار: هل ذلك أفضل وأكثر أجرا من التصدي والترصد لقتال التتار في بلادهم وهدم بلاد سيس وديار الإفرنج علي أهلها؟ أم هذا أفضل من كونه
ইসলামের ইতিহাসে তাদের প্রকৃত অবস্থা উন্মোচিত হয়েছে এবং তাদের ভ্রষ্টতা প্রকাশ পেয়েছে; আর তাদের দ্বারা সৃষ্ট ফিতনা ও পরীক্ষা অত্যন্ত ভয়াবহ।

একজন মুসলমানের জন্য কি তাদের সাথে বিয়েশাদি দেওয়া অথবা তাদের নারীদের বিয়ে করা বৈধ? এই অবস্থায় তাদের জবেহ করা পশুর গোশত খাওয়া কি হালাল, নাকি নয়? তাদের জবেহ করা পশুর রেনেট (পনির তৈরির উপাদান) দিয়ে তৈরি পনিরের বিধান কী? তাদের ব্যবহৃত বাসনকোসন ও পোশাক-পরিচ্ছদের হুকুম কী? তাদের কি মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করা জায়েজ, নাকি নয়? মুসলমানদের সীমান্ত চৌকিগুলোতে তাদের নিয়োগ দেওয়া এবং সেসব তাদের হাতে সোপর্দ করা কি বৈধ? নাকি রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য আবশ্যক হলো তাদের কর্মচ্যুত করা এবং তাদের পরিবর্তে যোগ্যতাসম্পন্ন মুসলিম ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া? তাদের বহিষ্কার করতে বিলম্ব করলে কি তিনি গুনাহগার হবেন? নাকি সংকল্প থাকা সত্ত্বেও তার জন্য ধীরগতি অবলম্বন করা জায়েজ? যদি তিনি তাদের নিয়োগ দেন এবং তাদের জন্য জায়গির বরাদ্দ করেন বা না করেন, তবে তাদের পেছনে বায়তুল মালের অর্থ ব্যয় করা কি তার জন্য জায়েজ হবে? আর যদি তিনি ব্যয় করেন এবং তাদের নির্ধারিত বেতনের কিছু অংশ বাকি থেকে যায়, এরপর রাষ্ট্রপ্রধান তা তাদের না দিয়ে অন্য কোনো মুসলিম বা হকদার ব্যক্তির জন্য ব্যয় করেন কিংবা সেই উদ্দেশ্যে জমা রাখেন, তবে কি তার জন্য এমনটি করা জায়েজ হবে, নাকি ওয়াজিব? উল্লিখিত নুসায়রিদের রক্ত কি বৈধ এবং তাদের ধন-সম্পদ কি হালাল, নাকি নয়? যদি রাষ্ট্রপ্রধান—আল্লাহ তাআলা তাকে সাহায্য করুন—তাদের বাতিল মতাদর্শ নির্মূল করতে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেন, মুসলমানদের দুর্গগুলো থেকে তাদের বিতাড়িত করেন, ইসলাম অনুসারীদের তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন ও তাদের জবেহ করা পশুর গোশত খাওয়া থেকে সতর্ক করেন, তাদের ওপর রোজা ও নামাজ আবশ্যক করেন এবং তাদের বাতিল ধর্ম প্রকাশ করতে বাধা প্রদান করেন—অথচ তারা কাফেরদের নিকটবর্তী এলাকায় বসবাস করে—তবে কি এই কাজ তাতারদের নিজেদের ভূখণ্ডে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ ও ওঁত পেতে থাকা এবং সিস ও ইউরোপীয়দের ভূখণ্ড তাদের অধিবাসীদের ওপর ধ্বংস করে দেওয়ার চেয়ে অধিক উত্তম এবং বেশি সওয়াবের কাজ? নাকি শেষেরটি বেশি উত্তম?
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ১১)
يجاهد النصيرية المذكورين مرابطا؟ ويكون أجر من رابط في الثغور علي ساحل البحر خشية قصد الفرنج أكبر، أم هذا أكبر أجرا؟ وهل يجب علي من عرف المذكورين ومذاهبهم أن يشهر أمرهم ويساعد علي إبطال باطلهم وإظهار الإسلام بينهم، فلعل الله تعالي أن يهدي بعضهم إلي الإسلام، وأن يجعل من ذريتهم وأولادهم مسلمين بعد خروجهم من ذلك الكفر العظيم، أم يجوز التغافل عنهم والإهمال؟ وما قدر المجتهد علي ذلك، والمجاهد فيه، والمرابط له والملازم عليه؟ ولتبسطوا القول في ذلك مثابين مأجورين إن شاء الله تعالي، إنه علي كل شيء قدير، وحسبنا الله ونعم الوكيل

উল্লেখিত নুসাইরিয়াদের বিরুদ্ধে কি মুরবিত হিসেবে জিহাদ করা হবে? সমুদ্র উপকূলে ক্রুসেডারদের আক্রমণের আশঙ্কায় সীমান্ত পাহারায় রত ব্যক্তির সওয়াব কি বেশি, নাকি এই জিহাদের সওয়াব বেশি? আর যে ব্যক্তি উক্ত দল এবং তাদের মতাদর্শ সম্পর্কে অবগত, তার জন্য কি তাদের স্বরূপ উন্মোচন করা এবং তাদের বাতিল মতবাদকে নস্যাৎ করে তাদের মাঝে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রচার করতে সাহায্য করা আবশ্যক? যেন সম্ভবত আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্য থেকে কাউকে ইসলামের পথে হেদায়েত দান করেন এবং এই ভয়াবহ কুফর থেকে বের করে আনার পর তাদের পরবর্তী বংশধর ও সন্তানদের মুসলিম হিসেবে কবুল করেন। নাকি তাদের ব্যাপারে উদাসীনতা ও অবহেলা প্রদর্শন করা বৈধ? আর যে ব্যক্তি এ কাজে পরিশ্রম করবে, এতে জিহাদ করবে, এর পাহারায় নিয়োজিত থাকবে এবং এতে অবিচল থাকবে, তার মর্যাদা কতটুকু? সওয়াব ও প্রতিদানের আশায় এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করুন, ইনশাআল্লাহ। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।

(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ১২)
فأجاب شيخ الإسلام تقي الدين أبو العباس أحمد بن تيمية:

الحمد لله رب العالمين، هؤلاء القوم المسمون بالنصيرية هم وسائر أصناف القرامطة الباطنية أكفر من اليهود النصارى، بل وأكفر من كثير من المشركين وضررهم علي أمة محمد صلى الله عليه وسلم أعظم من ضرر الكفار المحاربين مثل كفار التتار والفرنج وغيرهم؛ فإن هؤلاء يتظاهرون عند جهال المسلمين بالتشيع، وموالاة أهل البيت، وهم في الحقيقة لا يؤمنون بالله ولا برسوله ولا بكتابه، ولا بأمر ولا نهي، ولا ثواب ولا عقاب، ولا جنة ولا نار، ولا بأحد من المرسلين قبل محمد صلى الله عليه وسلم، ولا بملة من الملل السالفة، بل يأخذون كلام الله ورسوله المعروف عند علماء المسلمين يتأولونه علي أمور يفترونها، يدعون أنها علم الباطن، من جنس ما ذكره السائل.
শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ উত্তর দিলেন:

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। নুসাইরিয়াহ নামে পরিচিত এই সম্প্রদায় এবং বাতিনিয়া কারামিতা গোষ্ঠীর অন্যান্য সকল শাখা ইয়াহুদি ও নাসারাদের চেয়েও বড় কাফির; বরং তারা অনেক মুশরিকের চেয়েও জঘন্য কাফির। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের ওপর তাদের ক্ষতি তাতার ও ক্রুসেডারদের মতো যুদ্ধরত কাফিরদের ক্ষতির চেয়েও অধিক ভয়াবহ। কেননা তারা অজ্ঞ মুসলিমদের কাছে শিয়া মতবাদ এবং আহলে বাইতের প্রতি আনুগত্যের ভান করে; অথচ তারা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ, তাঁর রাসুল, তাঁর কিতাব, কোনো আদেশ-নিষেধ, প্রতিদান-শাস্তি কিংবা জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর বিশ্বাস রাখে না। এমনকি তারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ববর্তী কোনো রাসুল কিংবা বিগত কোনো আদর্শের প্রতিও ঈমান রাখে না। বরং তারা মুসলিম আলেমদের নিকট পরিচিত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বাণীসমূহ গ্রহণ করে এবং নিজেদের উদ্ভাবিত মনগড়া বিষয়ের আলোকে সেগুলোর অপব্যাখ্যা করে; তারা সেগুলোকে 'ইলমে বাতিন' বা রহস্যজ্ঞান বলে দাবি করে, যেমনটি প্রশ্নকারী উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ১৩)
فإنهم ليس لهم حد محدود فيما يدعونه من الإلحاد في أسماء الله تعالي وآياته، وتحريف كلام الله تعالي ورسوله عن مواضعه؛ إذ مقصودهم إنكار الإيمان وشرائع الإسلام بكل طريق مع التظاهر بأن لهذه الأمور حقائق يعرفونها من جنس ما ذكر السائل، ومن جنس قولهم: إن [الصلوات الخمس] معرفة أسرارهم، و [الصيام المفروض] كتمان أسرارهم، و [حج البيت العتيق] زيارة شيوخهم، وأن [يدا أبي لهب] هما أبو بكر وعمر، وأن [النبأ العظيم] والإمام المبين هو علي بن أبي طالب.
কেননা মহান আল্লাহর নামসমূহ এবং তাঁর আয়াতসমূহের ব্যাপারে তারা যে বিকৃতি ও বিচ্যুতির আশ্রয় নেয়, তার কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা নেই। তারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূলের বাণীসমূহকে সেগুলোর সঠিক অর্থ ও প্রেক্ষিত থেকে বিচ্যুত করে; কারণ তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো যেকোনো পন্থায় ঈমান ও ইসলামের বিধানসমূহকে অস্বীকার করা। পাশাপাশি তারা এমন ভান করে যে, এই বিষয়গুলোর এমন কিছু গূঢ় হাকিকত বা গূঢ়তত্ত্ব রয়েছে যা কেবল তারাই জানে—যেমনটি প্রশ্নকারী উল্লেখ করেছেন। তাদের এজাতীয় বিভ্রান্তিকর দাবির অন্তর্ভুক্ত হলো: [পাঁচ ওয়াক্ত সালাত] মানে তাদের গূঢ় রহস্যসমূহ অবগত হওয়া, [ফরজ সিয়াম] মানে তাদের রহস্যসমূহ গোপন রাখা এবং [প্রাচীন গৃহের হজ] মানে তাদের শায়খদের জিয়ারত করা। তারা আরও দাবি করে যে, [আবু লাহাবের দুই হাত] বলতে আবু বকর ও উমরকে বোঝানো হয়েছে এবং [মহাসংবাদ] ও [সুস্পষ্ট ইমাম] হলেন আলী ইবনে আবি তালিব।
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ১৪)
ولهم في معاداة الإسلام وأهله وقائع مشهورة وكتب مصنفة، فإذا كانت لهم مكنة سفكوا دماء المسلمين؛ كما قتلوا مرة الحجاج وألقوهم في بئر زمزم، وأخذوا مرة الحجر الأسود وبقي عندهم مدة، وقتلوا من علماء المسلمين ومشايخهم ما لا يحصي عدده إلا الله تعالي وصنفوا كتبا كثيرة مما ذكره السائل وغيره، وصنف علماء المسلمين كتبا في كشف أسرارهم وهتك أستارهم، وبينوا فيها ماهم عليه من الكفر والزندقة والإلحاد، الذي هم به أكفر من اليهود والنصاري، ومن براهمة الهند الذين يعبدون الأصنام. وما ذكره السائل في وصفهم قليل من الكثير الذي يعرفه العلماء من وصفهم.
ইসলাম এবং এর অনুসারীদের সাথে শত্রুতায় তাদের সুপ্রসিদ্ধ অনেক ঘটনা ও রচিত গ্রন্থাবলি রয়েছে। যখনই তারা সক্ষমতা লাভ করেছে, তখনই তারা মুসলমানদের রক্ত প্রবাহিত করেছে; যেমন তারা একবার হাজীদের হত্যা করে তাঁদের লাশ জমজম কূপে নিক্ষেপ করেছিল এবং একবার হাজরে আসওয়াদ ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, যা দীর্ঘকাল তাদের নিকট রয়ে গিয়েছিল। তারা মুসলিম উলামা ও মাশায়েখদের মধ্য থেকে এমন অসংখ্য ব্যক্তিকে হত্যা করেছে যাদের সংখ্যা মহান আল্লাহ ব্যতীত কেউ গণনা করতে পারবে না। তারা এমন অনেক কিতাবও রচনা করেছে যা প্রশ্নকারী ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন। বিপরীতে, মুসলিম উলামায়ে কিরামও তাদের গোপন রহস্য উন্মোচন ও স্বরূপ উন্মোচনের লক্ষ্যে বহু গ্রন্থ সংকলন করেছেন এবং সেখানে তাঁরা তাদের কুফর, জিন্দিকপনা ও নাস্তিকতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন, যার কারণে তারা ইহুদি, খ্রিস্টান এবং এমনকি মূর্তিপূজারি হিন্দুস্তানি ব্রাহ্মণদের চেয়েও জঘন্য কাফির। প্রশ্নকারী তাদের বর্ণনায় যা উল্লেখ করেছেন, তা উলামায়ে কিরামের নিকট তাদের পরিচিতির তুলনায় অতি সামান্য।
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ১৫)
ومن المعلوم عندنا أن السواحل الشامية إنما استولي عليها النصاري من جهتهم، وهم دائما مع كل عدو للمسلمين، فهم مع النصاري علي المسلمين. ومن أعظم المصائب عندهم فتح المسلمين للسواحل، وانقهار النصاري، بل ومن أعظم المصائب عندهم انتصار المسلمين علي التتار، ومن أعظم أعيادهم إذا استولي والعياذ بالله تعالي النصاري علي ثغور المسلمين؛ فإن ثغور المسلمين مازالت بأيدي المسلمين، حتي جزيرة قبرص يسر الله فتحها عن قريب، وفتحها المسلمون في خلافة أمير المؤمنين عثمان بن عفان رضي الله عنه فتحها معاوية بن أبي سفيان إلي أثناء المائة الرابعة.

আমাদের নিকট এটি সুনিশ্চিতভাবে জানা আছে যে, শামের উপকূলীয় অঞ্চলসমূহ মূলত তাদের সহযোগিতাতেই নাসারাগণ দখল করেছিল। তারা সর্বদা মুসলমানদের প্রতিটি শত্রুর পক্ষাবলম্বন করে; ফলে তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে নাসারাদের সাথে একাত্ম থাকে। তাদের দৃষ্টিতে অন্যতম বৃহৎ বিপদ হলো মুসলমানদের উপকূলীয় বিজয় এবং নাসারাদের পরাজয়। বরং তাতারদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় লাভ করাও তাদের কাছে চরম এক মসিবত। তাদের জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসবের দিন হলো সেই সময় যখন—আল্লাহ তাআলার নিকট এ থেকে আশ্রয় চাই—নাসারাগণ মুসলমানদের সীমান্ত শহরগুলো দখল করে নেয়। অথচ মুসলমানদের এই সকল সীমান্ত অঞ্চল সর্বদা মুসলমানদের হস্তগত ছিল। এমনকি সাইপ্রাস দ্বীপও—আল্লাহ তাআলা অচিরেই এর বিজয় সহজ করে দিন—আমীরুল মুমিনীন উসমান ইবন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে মুসলমানগণ জয় করেছিলেন। মুয়াবিয়া ইবন আবি সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এটি জয় করেন এবং হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত এটি মুসলমানদের অধিকারভুক্ত ছিল।

(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ১৬)
فهؤلاء المحادون لله ورسوله كثروا حينئذ بالسواحل وغيرها فاستولي النصارى علي الساحل، ثم بسببهم استولوا علي القدس الشريف وغيره؛ فإن أحوالهم كانت من أعظم الأسباب في ذلك، ثم لما أقام الله ملوك المسلمين المجاهدين في سبيل الله تعالي كنور الدين الشهيد، وصلاح الدين وأتباعهما، وفتحوا السواحل من النصارى، وممن كان بها منهم، وفتحوا أيضاً أرض مصر، فإنهم كانوا مستولين عليها نحو مائتي سنة، واتفقوا هم والنصارى، فجاهدهم المسلمون حتى فتحوا البلاد، ومن ذلك التاريخ انتشرت دعوة الإسلام بالديار المصرية والشامية.

ثم إن التتار ما دخلوا بلاد الإسلام وقتلوا خليفة بغداد وغيره من ملوك المسلمين إلا بمعاونتهم ومؤازرتهم؛ فإن منجم هولاكو الذي كان وزيرهم وهو [النصير الطوسي] كان وزيرا لهم، وهو الذي أمر بقتل الخليفة وبولاية هؤلاء.
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারী এই গোষ্ঠীগুলো তখন উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফলে খ্রিস্টানরা উপকূলীয় এলাকা দখল করে নেয় এবং তাদের কারণেই তারা পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস ও অন্যান্য স্থানও হস্তগত করে। প্রকৃতপক্ষে তাদের কর্মকাণ্ড ও অবস্থাই ছিল এর অন্যতম প্রধান কারণ। অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা তাঁর পথে জিহাদকারী মুসলিম সুলতানদের প্রতিষ্ঠিত করলেন—যেমন শহীদ নূরুদ্দীন, সালাহুদ্দীন এবং তাঁদের অনুসারীগণ—তখন তাঁরা খ্রিস্টানদের এবং সেখানে অবস্থানকারী তাদের সহযোগীদের হাত থেকে উপকূলীয় অঞ্চলসমূহ মুক্ত করেন। তাঁরা মিশর ভূখণ্ডও বিজয় করেন; কেননা তারা সেখানে প্রায় দুইশ বছর ধরে ক্ষমতাসীন ছিল এবং তারা খ্রিস্টানদের সাথে একাত্ম হয়েছিল। অতঃপর মুসলিমরা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনা করেন যতক্ষণ না দেশগুলো বিজিত হয়। আর সেই সময় থেকেই মিশর ও শামের জনপদে ইসলামের দাওয়াত বিস্তৃত হয়।

অতঃপর তাতাররা যখন মুসলিম ভূখণ্ডে প্রবেশ করে বাগদাদের খলিফা ও অন্যান্য মুসলিম সুলতানদের হত্যা করেছিল, তা কেবল তাদেরই (উক্ত গোষ্ঠীগুলোর) সাহায্য ও সহযোগিতার কারণেই সম্ভব হয়েছিল। হূলাকু খানের জ্যোতিষী নাসিরুদ্দীন তূসী তাদের উজির ছিল; সেই খলিফাকে হত্যা করার এবং এদেরকে শাসনক্ষমতায় বসানোর নির্দেশ দিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ১৭)
ولهم [ألقاب] معروفة عند المسلمين:

تارة يسمون [الملاحدة] ، وتارة يسمون [القرامطة] ، وتارة يسمون [الباطنية] ، وتارة يسمون [الإسماعيلية] ، وتارة يسمون [النصيرية] ، وتارة يسمون [الخُرَّمِيَّة] ، وتارة يسمون [المحمرة] . وهذه الأسماء منها ما يعمهم، ومنها ما يخص بعض أصنافهم، كما أن الإسلام والإيمان يعم المسلمين ولبعضهم اسم يخصه: إما لنسب، وإما لمذهب، وإما لبلد، وإما لغير ذلك.

وشرح مقاصدهم يطول.
মুসলিমদের নিকট তাদের কিছু সুপরিচিত [উপাধি] রয়েছে:

কখনো তাদের [মুলহিদ বা ধর্মদ্রোহী] বলা হয়, কখনো তাদের [কারামিতা] বলা হয়, কখনো তাদের [বাতিনিয়া] বলা হয়, কখনো তাদের [ইসমাঈলিয়া] বলা হয়, কখনো তাদের [নুসাইরিয়া] বলা হয়, কখনো তাদের [খুররামিয়া] বলা হয় এবং কখনো তাদের [মুহাম্মিরা] বলা হয়। এই নামগুলোর কোনটি তাদের সকলকে নির্দেশ করে, আবার কোনটি তাদের বিশেষ কোনো শ্রেণির সাথে নির্দিষ্ট; যেমন ইসলাম ও ঈমান সকল মুসলিমের জন্য সাধারণ পরিভাষা, তবে তাদের কারো কারো জন্য পৃথক নাম থাকে: যা বংশসূত্র, মাযহাব, দেশ অথবা অন্য কোনো বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।

আর তাদের উদ্দেশ্যসমূহের বিস্তারিত ব্যাখ্যা অত্যন্ত দীর্ঘ।
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ১৮)
وهم كما قال العلماء فيهم: ظاهر مذهبهم الرفض، وباطنه الكفر المحض. وحقيقة أمرهم: أنهم لا يؤمنون بنبي من الأنبياء والمرسلين؛ لا بنوح، ولا إبراهيم، ولا موسي، ولا عيسي ولا محمد صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين ولا بشيء من كتب الله المنزلة؛ لا التورة، ولا الإنجيل، ولا القرآن. ولا يقرون بأن للعالم خالقا خلقه، ولا بأن له دينا أمر به، ولا أن له دارا يجزي الناس فيها علي أعمالهم غير هذه الدار.

وهم تارة يبنون قولهم علي مذاهب الفلاسفة الطبيعيين أو الإلهيين، وتارة يبنونه علي قول المجوس الذين يعبدون النور، ويضمون إلي ذلك الرفض.

ويحتجون لذلك من كلام النبوات.
আলিমগণ তাদের সম্পর্কে যেমন বলেছেন: তাদের মতবাদের বহিঃপ্রকাশ হলো রাফয, আর এর অভ্যন্তরীণ রূপ হলো নিরেট কুফর। তাদের প্রকৃত অবস্থা এই যে: তারা নবী ও রাসূলগণের মধ্য থেকে কোনো নবীর ওপরই ঈমান রাখে না; না নূহ, না ইবরাহীম, না মূসা, না ঈসা, আর না মুহাম্মাদ (তাদের সকলের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)—কারো ওপরই তারা বিশ্বাসী নয়। তারা আল্লাহর নাযিলকৃত আসমানী কিতাবসমূহের কোনোটির ওপরও ঈমান রাখে না; না তাওরাত, না ইনজীল, আর না কুরআন। তারা এটিও স্বীকার করে না যে, এই জগতের একজন স্রষ্টা আছেন যিনি একে সৃষ্টি করেছেন; অথবা এর জন্য কোনো দ্বীন আছে যার তিনি আদেশ দিয়েছেন; কিংবা এই জগৎ ব্যতীত অন্য কোনো আবাস আছে যেখানে মানুষকে তাদের কর্মের প্রতিদান দেওয়া হবে।

তারা কখনো তাদের মতবাদকে প্রকৃতিবাদী বা আধ্যাত্মবাদী দার্শনিকদের দর্শনের ওপর ভিত্তি করে সাজায়, আবার কখনো তা আলোর উপাসনাকারী অগ্নিপূজকদের মতবাদের ওপর দাঁড় করায়; আর এর সাথে তারা রাফয মতবাদকে যুক্ত করে।

আর তারা এর সপক্ষে নবুওয়াতের বাণীসমূহ থেকে দলিল পেশ করে।
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ১৯)
إما بقول مكذوب ينقلونه، كما ينقلون عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: " أول ما خلق الله العقل " والحديث موضوع باتفاق أهل العلم بالحديث، ولفظه: " إن الله لما خلق العقل، قال له: أقبل، فأقبل. فقال له: أدبر، فأدبر " فيحرفون لفظه فيقولون: " أول ما خلق الله العقل " ليوافقوا قول المتفلسفة أتباع أرسطو في أن أول الصادرات عن واجب الوجود هو العقل. وإما بلفظ ثابت عن النبي صلى الله عليه وسلم فيحرفونه عن مواضعه، كما يصنع أصحاب [رسائل إخوان الصفا] ونحوهم، فإنهم من أئمتهم.

وقد دخل كثير من باطلهم علي كثير من المسلمين، وراج عليهم حتى صار ذلك في كتب طوائف من المنتسبين إلي العلم والدين، وإن كانوا لا يوافقونهم علي أصل كفرهم؛ فإن هؤلاء لهم في إظهار دعوتهم الملعونة التي يسمونها [الدعوة الهادية] درجات متعددة، ويسمون النهاية [البلاغ الأكبر والناموس الأعظم] .
হয় তারা কোনো বানোয়াট উক্তি বর্ণনা করে, যেমন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করে যে তিনি বলেছেন: "আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো আকল (বুদ্ধিবৃত্তি)।" অথচ হাদিস বিশারদগণের সর্বসম্মত ঐকমত্যে এই হাদিসটি জাল; এর প্রকৃত পাঠ হলো: "নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন আকল সৃষ্টি করলেন, তখন তাকে বললেন: অগ্রসর হও, তখন সে অগ্রসর হলো। এরপর তিনি তাকে বললেন: পিছু হটো, তখন সে পিছু হটল।" কিন্তু তারা এর শব্দগত বিকৃতি ঘটিয়ে বলে: "আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো আকল", যাতে তারা অ্যারিস্টটলের অনুসারী দার্শনিকদের এই মতের সাথে মিল ঘটাতে পারে যে, 'ওয়াজিবুল উজুদ' (অনিবার্য সত্তা) থেকে সর্বপ্রথম যা নির্গত হয়েছে তা হলো আকল। অথবা তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত কোনো বাণীকে তার যথাযথ স্থান থেকে বিচ্যুত করে বিকৃত করে, যেমনটি 'ইখওয়ানুস সাফা'র পত্রাবলীর লেখকগণ ও তাদের অনুরূপ ব্যক্তিরা করে থাকে; কেননা তারা তাদেরই নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি।

তাদের এই বাতিল মতবাদের অনেক কিছুই বহু মুসলমানের মাঝে অনুপ্রবেশ করেছে এবং তাদের মধ্যে এমনভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে, ইলম ও দ্বীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত একদল লোকের কিতাবসমূহেও তা অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে; যদিও তারা তাদের কুফরির মূলনীতির সাথে একমত নন। কেননা এই গোষ্ঠী তাদের অভিশপ্ত দাওয়াত প্রকাশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তর বজায় রাখে, যাকে তারা 'হেদায়াতকারী আহ্বান' বলে অভিহিত করে এবং এর চূড়ান্ত স্তরকে তারা 'মহাসংবাদ ও সর্বশ্রেষ্ঠ বিধান' বলে নামকরণ করে।
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ২০)
ومضمون البلاغ الأكبر جحد الخالق تعالي، والاستهزاء به، وبمن يقر به، حتي قد يكتب أحدهم اسم الله في أسفل رجله وفيه أيضًا جحد شرائعه ودينه وما جاء به الأنبياء، ودعوي أنهم كانوا من جنسهم طالبين للرئاسة، فمنهم من أحسن في طلبها، ومنهم من أساء في طلبها حتي قتل، ويجعلون محمدًا وموسي من القسم الأول، ويجعلون المسيح من القسم الثاني. وفيه من الاستهزاء بالصلاة، والزكاة والصوم، والحج، ومن تحليل نكاح ذوات المحارم، وسائر الفواحش، ما يطول وصفه. ولهم إشارات ومخاطبات يعرف بها بعضهم بعضًا، وهم إذا كانوا في بلاد المسلمين التي يكثر فيها أهل الإيمان فقد يخفون علي من لا يعرفهم، وأما إذا كثروا فإنه يعرفهم عامة الناس فضلاً عن خاصتهم.

‘আল-বালাগ আল-আকবার’-এর মূল বিষয়বস্তু হলো মহান স্রষ্টাকে অস্বীকার করা এবং তাঁর প্রতি ও যারা তাঁকে বিশ্বাস করে তাদের প্রতি উপহাস করা; এমনকি তাদের কেউ কেউ নিজের পায়ের তলায় আল্লাহর নাম লিখে রাখে। এতে আরও রয়েছে তাঁর প্রবর্তিত শরিয়ত, দ্বীন এবং নবিগণ যা নিয়ে এসেছেন তা অস্বীকার করা। তাদের দাবি হলো, নবিগণ তাদের মতোই সাধারণ মানুষ ছিলেন যারা কেবল নেতৃত্ব অন্বেষণ করতেন। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ এই নেতৃত্ব লাভে সফল হয়েছেন, আবার কেউ এতে ব্যর্থ হয়ে নিহত হয়েছেন। তারা মুহাম্মদ ও মুসাকে প্রথম শ্রেণির (সফল) অন্তর্ভুক্ত করে এবং মসিহকে দ্বিতীয় শ্রেণির (ব্যর্থ) অন্তর্ভুক্ত গণ্য করে। এতে সালাত, জাকাত, সিয়াম ও হজ নিয়ে উপহাস করা হয়েছে এবং মাহরাম স্বজনদের সাথে বিবাহসহ যাবতীয় অশ্লীলতাকে বৈধ করা হয়েছে, যার বর্ণনা অত্যন্ত দীর্ঘ। তাদের বিশেষ কিছু সংকেত ও সম্বোধনরীতি রয়েছে যার মাধ্যমে তারা একে অপরকে চিনতে পারে। তারা যখন এমন মুসলিম জনপদে থাকে যেখানে মুমিনদের সংখ্যা বেশি, তখন যারা তাদের সম্পর্কে অবগত নয় তাদের কাছে তারা আত্মগোপন করে থাকে। কিন্তু যখন তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তখন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তাদের চিনে ফেলে।

(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ২১)
وقد اتفق علماء المسلمين علي أن هؤلاء لا تجوز مناكحتهم، ولا يجوز أن ينكح الرجل مولاته منهم، ولا يتزوج منهم امرأة، ولا تباح ذبائحهم.

وأما [الجبن المعمول بأنفحتهم] ففيه قولان مشهوران للعلماء، كسائر أنفحة الميتة، وكأنفحة ذبيحة المجوس، وذبيحة الفرنج الذين يقال عنهم أنهم لا يذكون الذبائح. فمذهب أبي حنيفة وأحمد في إحدى الروايتين: أنه يحل هذا الجبن؛ لأن أنفحة الميتة طاهرة علي هذا القول؛ لأن الأنفحة لا تموت بموت البهيمة، وملاقاة الوعاء النجس في الباطن لا ينجس. ومذهب مالك والشافعي وأحمد في الرواية الأخرى: أن هذا الجبن نجس؛ لأن الأنفحة عند هؤلاء نجسة؛ لأن لبن الميتة وأنفحتها عندهم نجس. ومن لا تؤكل ذبيحته فذبيحته كالميتة. وكل من أصحاب القولين يحتج بآثار ينقلها عن الصحابة، فأصحاب القول الأول نقلوا أنهم أكلوا جبن المجوس. وأصحاب القول الثاني نقلوا أنهم أكلوا ما كانوا يظنون أنه من جبن النصارى. فهذه مسألة اجتهاد؛ للمقلد أن يقلد من يفتي بأحد القولين.
মুসলিম উলামাগণ এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, এদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন বৈধ নয়; কোনো ব্যক্তি এদের অন্তর্ভুক্ত তার কোনো দাসীকে বিবাহ দিতে পারবে না, এদের কোনো নারীকে বিবাহ করতে পারবে না এবং এদের জবাইকৃত পশুর গোশতও ভক্ষণ করা বৈধ নয়।

আর [তাদের রেননেট দ্বারা তৈরি পনিরের] বিষয়ে উলামাদের মাঝে দুটি প্রসিদ্ধ মত রয়েছে, যেমনটি মৃত প্রাণীর রেননেট, অগ্নিউপাসকদের জবাইকৃত পশুর রেননেট এবং সেই সব ইউরোপীয়দের জবাইকৃত পশুর রেননেটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের সম্পর্কে বলা হয় যে তারা শরয়ি পদ্ধতিতে পশু জবাই করে না। ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা অনুযায়ী মাযহাব হলো: এই পনির হালাল; কেননা এই মতানুসারে মৃত প্রাণীর রেননেট পবিত্র। কারণ পশুর মৃত্যুতে রেননেট মৃত হয়ে যায় না এবং শরীরের অভ্যন্তরে অপবিত্র আধারের সাথে মিলিত হওয়ার কারণে তা নাপাক হয়ে যায় না। অন্যদিকে ইমাম মালিক, ইমাম শাফিঈ এবং ইমাম আহমদের অপর বর্ণনা অনুযায়ী মাযহাব হলো: এই পনির অপবিত্র; কারণ তাঁদের মতে এই রেননেট নাপাক, যেহেতু মৃত প্রাণীর দুধ ও রেননেট তাঁদের নিকট অপবিত্র। আর যার জবাইকৃত পশু ভক্ষণযোগ্য নয়, তার জবাইকৃত পশু মৃত পশুর সমতুল্য। উভয় মতের প্রবক্তাগণ সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত আছারের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। প্রথম মতের অনুসারীরা বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা অগ্নিউপাসকদের পনির খেয়েছেন। আর দ্বিতীয় মতের অনুসারীরা বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা এমন পনির খেয়েছেন যা তাঁরা খ্রিষ্টানদের পনির বলে মনে করতেন। সুতরাং এটি একটি ইজতিহাদি মাসআলা; একজন মুকাল্লিদ (অনুসারী) এই দুই মতের যেকোনো একটির ফতোয়া প্রদানকারীকে অনুসরণ করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ২২)
وأما [أوانيهم وملابسهم] فكأواني المجوس وملابس المجوس، علي ما عرف من مذاهب الأئمة. والصحيح في ذلك أن أوانيهم لا تستعمل إلا بعد غسلها؛ فإن ذبائحهم ميتة، فلابد أن يصيب أوانيهم المستعملة ما يطبخونه من ذبائحهم فتنجس بذلك، فأما الآنية التي لا يغلب علي الظن وصول النجاسة إليها فتستعمل من غير غسل كآنية اللبن التي لا يضعون فيها طبيخهم، أو يغسلونها قبل وضع اللبن فيها، وقد توضأ عمر بن الخطاب رضي الله عنه من جرة نصرانية فما شك في نجاسته لم يحكم بنجاسته بالشك.
আর তাদের [পাত্রসমূহ ও পোশাক-পরিচ্ছদ] প্রসঙ্গে বক্তব্য হলো, তা অগ্নিপূজকদের (মাজুস) পাত্র ও পোশাকের অনুরূপ, যেমনটি ইমামগণের মাযহাবসমূহ থেকে স্বীকৃত। এ ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত হলো, তাদের পাত্রসমূহ ধৌত করা ব্যতীত ব্যবহার করা যাবে না; কেননা তাদের জবেহকৃত পশু মৃত (অপবিত্র) হিসেবে গণ্য। সুতরাং তাদের ব্যবহৃত পাত্রে তাদের রান্না করা জবেহকৃত পশুর অংশ লেগে থাকা অনিবার্য, যা পাত্রটিকে অপবিত্র করে দেয়। তবে যেসব পাত্রে নাপাকি বা অপবিত্রতা পৌঁছানোর প্রবল ধারণা নেই, সেগুলো ধৌত করা ব্যতিরেকেই ব্যবহার করা যাবে; যেমন দুধের পাত্র, যাতে তারা সাধারণত কোনো রান্না করা খাবার রাখে না অথবা দুধ রাখার পূর্বে তা ধৌত করে নেয়। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জনৈক খ্রিস্টান মহিলার পানির পাত্র থেকে অযু করেছিলেন; সুতরাং যে বস্তুর অপবিত্রতার বিষয়ে কেবল সন্দেহ তৈরি হয়, নিছক সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে অপবিত্র বলে গণ্য করা হবে না।
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ২৩)
ولا يجوز دفنهم في مقابر المسلمين، ولا يصلي علي من مات منهم؛ فإن الله سبحانه وتعالي نهي نبيه صلى الله عليه وسلم عن الصلاة علي المنافقين؛ كعبد الله بن أبي، ونحوه، وكانوا يتظاهرون بالصلاة والزكاة والصيام والجهاد مع المسلمين، ولا يظهرون مقالةتخالف دين الإسلام، لكن يسرون ذلك، فقال الله: {وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِّنْهُم مَّاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَىَ قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُواْ بِاللهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُواْ وَهُمْ فَاسِقُونَ} [التوبة: 84] ، فكيف بهؤلاء الذين هم مع الزندقة والنفاق يظهرون الكفر، والإلحاد.
এবং মুসলিমদের কবরস্থানে তাদের দাফন করা বৈধ নয়, আর তাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে তাদের জানাযার সালাত আদায় করা যাবে না; কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুনাফিকদের জানাযার সালাত পড়তে নিষেধ করেছেন; যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ও তার সমগোত্রীয়রা, অথচ তারা মুসলিমদের সাথে সালাত, জাকাত, সিয়াম ও জিহাদে অংশগ্রহণের বাহ্যিক প্রদর্শন করত এবং ইসলামের পরিপন্থী কোনো কথা প্রকাশ করত না, বরং তা গোপনে পোষণ করত। অতঃপর আল্লাহ বলেছেন: {আর তাদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার ওপর জানাযার সালাত পড়বেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না; তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি কুফরি করেছে এবং তারা পাপাচারী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে} [আত-তাওবাহ: ৮৪]। তবে ওই সমস্ত লোকদের অবস্থা কেমন হবে, যারা ধর্মদ্রোহিতা ও কপটতার পাশাপাশি প্রকাশ্যে কুফর ও নাস্তিকতা ব্যক্ত করে!
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وأما استخدام مثل هؤلاء في ثغور المسلمين أو حصونهم أو جندهم، فإنه من الكبائر، وهو بمنزلة من يستخدم الذئاب لرعي الغنم، فإنهم من أغش الناس للمسلمين ولولاة أمورهم، وهم أحرص الناس علي فساد المملكة والدولة وهم شر من المخامر الذي يكون في العسكر؛ فإن المخامر قد يكون له غرض؛ إما مع أمير العسكر، وإما مع العدو. وهؤلاء مع الملة. ونبيها ودينها، وملوكها، وعلمائها، وعامتها، وخاصتها.

আর মুসলমানদের সীমান্ত এলাকা, দুর্গ কিংবা তাদের সেনাবাহিনীতে এই ধরনের লোকদের নিয়োগ দেওয়া কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি ভেড়া চড়ানোর জন্য নেকড়ে বাঘ নিয়োগ করার সমতুল্য। কেননা তারা মুসলিমদের এবং তাদের শাসনকর্তাদের প্রতি সর্বাধিক প্রবঞ্চক। তারা রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্যের বিপর্যয় সাধনে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। তারা সেনাবাহিনীতে অবস্থানকারী ষড়যন্ত্রকারীর চেয়েও অধিক নিকৃষ্ট; কারণ ষড়যন্ত্রকারীর হয়তো কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে—হয় সেনাপতির সাথে অথবা শত্রুপক্ষের সাথে। কিন্তু এরা তো উম্মাহ, তার নবী, তার দ্বীন, তার নৃপতিবর্গ, তার উলামা এবং তার সাধারণ ও বিশিষ্ট সকল স্তরের মানুষের বিরুদ্ধেই শত্রুতা পোষণ করে।

(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ২৫)
وهم أحرص الناس علي تسليم الحصون إلي عدو المسلمين، وعلي إفساد الجند علي ولي الأمر، وإخراجهم عن طاعته.

والواجب علي ولاة الأمور قطعهم من دواوين المقاتلة فلا يتركون في ثغر، ولا في غير ثغر؛ فإن ضررهم في الثغر أشد، وأن يستخدم بدلهم من يحتاج إلي استخدامه من الرجال المأمونين علي دين الإسلام، وعلي النصح لله ورسوله، ولأئمة المسلمين وعامتهم، بل إذا كان ولي الأمر لا يستخدم من يغشه وإن كان مسلمًا، فكيف بمن يغش المسلمين كلهم؟ !

ولا يجوز له تأخير هذا الواجب مع القدرة عليه، بل أي وقت قدر علي الاستبدال بهم وجب عليه ذلك.

وأما إذا استخدموا وعملوا العمل المشروط عليهم، فلهم إما المسمي وإما أجرة المثل؛ لأنهم عوقدوا علي ذلك. فإن كان العقد صحيحًا وجب المسمي، وإن كان فاسدًا وجبت أجرة المثل، وإن لم يكن استخدامهم من جنس الإجارة اللازمة فهي من جنس الجعالة الجائزة، لكن هؤلاء لا يجوز استخدامهم، فالعقد عقد فاسد، فلا يستحقون إلا قيمة عملهم، فإن لم يكونوا عملوا عملاً له قيمة فلا شيء لهم.
তারা মুসলমানদের শত্রুর নিকট দুর্গসমূহ সমর্পণ করতে এবং শাসকের বিরুদ্ধে সৈন্যদের বিভ্রান্ত করতে ও তাদেরকে তাঁর আনুগত্য থেকে বিচ্যুত করতে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক আগ্রহী।

অতএব শাসকদের কর্তব্য হলো সামরিক দপ্তর থেকে তাদের নাম কর্তন করা; সুতরাং তাদেরকে সীমান্ত কিংবা অন্য কোথাও নিয়োজিত রাখা যাবে না। কারণ সীমান্তে তাদের অবস্থান অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাদের পরিবর্তে এমন ব্যক্তিদের নিযুক্ত করতে হবে যাদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং যারা ইসলামের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূল, মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মুসলিমদের কল্যাণে একনিষ্ঠ। বস্তুত শাসক যদি এমন কাউকে নিয়োগ না করেন যে তাকে ধোঁকা দেয়—যদিও সে মুসলিম হয়—তবে এমন ব্যক্তির ব্যাপারে কী বলা যায় যে সকল মুসলমানকেই ধোঁকা দেয়?!

সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এই কর্তব্য পালনে বিলম্ব করা তাঁর জন্য বৈধ নয়; বরং যখনই তাদের স্থলাভিষিক্ত করার সামর্থ্য হবে, তখনই তা করা তাঁর জন্য ওয়াজিব।

আর যদি তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তারা শর্তানুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে, তবে তারা চুক্তিতে নির্ধারিত পারিশ্রমিক অথবা সমপরিমাণ পারিশ্রমিক (অজরে মিসল) পাওয়ার অধিকারী; কারণ এ বিষয়ের ওপরই তাদের সাথে চুক্তি করা হয়েছিল। যদি চুক্তিটি সহীহ (বৈধ) হয় তবে নির্ধারিত পারিশ্রমিক দেওয়া ওয়াজিব, আর যদি ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ) হয় তবে সমপরিমাণ পারিশ্রমিক দেওয়া আবশ্যক। তাদের এই নিয়োগ যদি বাধ্যতামূলক ইজারা (চুক্তি) প্রকৃতির না হয়, তবে তা বৈধ জুয়ালা (পুরস্কারভিত্তিক শ্রম) প্রকৃতির হবে। কিন্তু এই ধরনের লোকদের নিয়োগ দান করা যেহেতু বৈধ নয়, তাই চুক্তিটি ফাসিদ বলে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় তারা কেবল তাদের শ্রমের মূল্যটুকুই প্রাপ্য হবে; আর যদি তারা এমন কোনো কাজ না করে থাকে যার আর্থিক মূল্য আছে, তবে তারা কিছুই পাবে না।
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ২৬)
لكن دماؤهم وأموالهم مباحة. وإذا أظهروا التوبة ففي قبولها منهم نزاع بين العلماء، فمن قبل توبتهم إذا التزموا شريعة الإسلام أقر أموالهم عليهم. ومن لم يقبلها لم تنقل إلي ورثتهم من جنسهم، فإن مالهم يكون فيئًا لبيت المال؛ لكن هؤلاء إذا أخذوا فإنهم يظهرون التوبة؛ لأن أصل مذهبهم التقية وكتمان أمرهم، وفيهم من يعرف، وفيهم من قد لا يعرف. فالطريق في ذلك أن يحتاط في أمرهم.
তবে তাদের জান ও মাল বৈধ। তারা যদি তওবা প্রকাশ করে, তবে তা কবুল করার বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মাঝে মতভেদ রয়েছে। সুতরাং যারা তাদের তওবা কবুল করেন—যদি তারা ইসলামের শরীয়ত মেনে চলে—তারা তাদের সম্পদ তাদের মালিকানাতেই বহাল রাখেন। আর যারা তা কবুল করেন না, তাদের মতে সেই সম্পদ তাদের স্বজাতীয় উত্তরাধিকারীদের নিকট হস্তান্তরিত হবে না; বরং তাদের সম্পদ 'ফায়' হিসেবে বায়তুল মালের অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে এদেরকে যখন পাকড়াও করা হয়, তখন তারা তওবা প্রকাশ করে; কারণ তাদের মতবাদের মূল ভিত্তিই হলো 'তাকিয়া' (কৌশলী সতর্কতা) এবং নিজেদের বিষয় গোপন রাখা। তাদের মধ্যে কেউ পরিচিত, আবার কেউ হয়তো পরিচিত নয়। এমতাবস্থায় করণীয় হলো তাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা।
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ২৭)
فلا يتركون مجتمعين، ولا يمكنون من حمل السلاح، ولا أن يكونوا من المقاتلة، ويلزمون شرائع الإسلام، من الصلوات الخمس، وقراءة القرآن. ويترك بينهم من يعلمهم دين الإسلام، ويحال بينهم وبين معلمهم.

فإن أبا بكر الصديق رضي الله عنه وسائر الصحابة لما ظهروا علي أهل الردة، وجاءوا إليه، قال لهم الصديق: اختاروا إما الحرب المجلية، وإما السلم المخزية. قالوا: يا خليفة رسول الله، هذه الحرب المجلية قد عرفناها فما السلم المخزية. قال: تدون قتلانا، ولا ندي قتلاكم، وتشهدون أن قتلانا في الجنة وقتلاكم في النار، ونقسم ما أصبنا من أموالكم، وتردون ما أصبتم من أموالنا، وتنزع منكم الحلقة والسلاح، وتمنعون من ركوب الخيل، وتتركون تتبعون أذناب الإبل حتى يري الله خليفة رسوله والمؤمنين أمرًا بعد ردتكم. فوافقه الصحابة علي ذلك، إلا في تضمين قتلي المسلمين، فإن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال له: هؤلاء قتلوا في سبيل الله فأجورهم علي الله، يعني: هم شهداء فلا دية لهم، فاتفقوا علي قول عمر في ذلك.
সুতরাং তাদের দলবদ্ধভাবে থাকতে দেওয়া হবে না, তাদের অস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তারা যোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না। তাদের ওপর ইসলামের বিধানসমূহ, যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং কুরআন পাঠ বাধ্যতামূলক করা হবে। তাদের মাঝে এমন কাউকে রাখা হবে যিনি তাদের ইসলাম ধর্ম শিক্ষা দেবেন এবং তাদের ও তাদের (পূর্বতন) শিক্ষকের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে।

কেননা আবু বকর সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ও অন্যান্য সাহাবীগণ যখন ধর্মত্যাগীদের ওপর বিজয়ী হলেন এবং তারা তাঁর কাছে আসলো, তখন সিদ্দিক তাদের বললেন: "তোমরা হয় ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ অথবা লাঞ্ছনাকর সন্ধি—এই দুটির একটি বেছে নাও।" তারা বলল: "হে আল্লাহর রাসূলের খলিফা, ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ তো আমরা জানি, কিন্তু লাঞ্ছনাকর সন্ধি কী?" তিনি বললেন: "তোমরা আমাদের নিহতদের রক্তপণ দেবে, কিন্তু আমরা তোমাদের নিহতদের রক্তপণ দেব না; তোমরা সাক্ষ্য দেবে যে আমাদের নিহতরা জান্নাতে এবং তোমাদের নিহতরা জাহান্নামে; তোমাদের যে সম্পদ আমরা পেয়েছি তা আমরা বণ্টন করে নেব এবং আমাদের যে সম্পদ তোমরা নিয়েছ তা তোমরা ফেরত দেবে; তোমাদের থেকে বর্ম ও অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হবে, তোমাদের ঘোড়ায় চড়া নিষিদ্ধ করা হবে এবং তোমরা উটের লেজ অনুসরণ করে (মেষপালক হয়ে) থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর রাসূলের খলিফা ও মুমিনদের জন্য তোমাদের ধর্মত্যাগের পর অন্য কোনো ফয়সালা না দেন।" সাহাবীগণ এই বিষয়ে তাঁর সাথে একমত হলেন, কেবল মুসলিম নিহতদের রক্তপণের বিষয়টি ছাড়া। কেননা ওমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁকে বললেন: "এরা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছেন, তাই তাদের প্রতিদান আল্লাহর জিম্মায়।" অর্থাৎ: তাঁরা শহীদ, তাই তাঁদের জন্য কোনো রক্তপণ নেই। ফলে তাঁরা এই বিষয়ে ওমরের মতের ওপর একমত হলেন।
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ২৮)
وهذا الذي اتفق الصحابة عليه هو مذهب أئمة العلماء، والذي تنازعوا فيه تنازع فيه العلماء. فمذهب أكثرهم أن من قتله المرتدون المجتمعون المحاربون لا يضمن، كما اتفقوا عليه آخرًا. وهو مذهب أبي حنيفة وأحمد في إحدى الروايتين. ومذهب الشافعي وأحمد في الرواية الأخرى هو القول الأول. فهذا الذي فعله الصحابة بأولئك المرتدين بعد عودهم إلي الإسلام يفعل بمن أظهر الإسلام والتهمة ظاهرة فيه، فيمنع أن يكون من أهل الخيل والسلاح والدرع التي تلبسها المقاتلة، ولا يترك في الجند من يكون يهوديا ولا نصرانيا. ويلزمون شرائع الإسلام حتى يظهر ما يفعلونه من خير أو شر. ومن كان من أئمة ضلالهم وأظهر التوبة أخرج عنهم، وسير إلي بلاد المسلمين التي ليس لهم فيها ظهور. فإما أن يهديه الله تعالي، وإما أن يموت علي نفاقه من غير مضرة للمسلمين.

সাহাবায়ে কিরাম যে বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন তা-ই শীর্ষস্থানীয় আলেমদের মাযহাব, আর যে বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন সে বিষয়ে আলেমগণও মতভেদ করেছেন। তাঁদের অধিকাংশের মাযহাব হলো—সংঘবদ্ধ ও যুদ্ধরত মুরতাদদের হাতে কেউ নিহত হলে তার কোনো দিয়াত বা ক্ষতিপূরণ নেই, যেমনটি পরবর্তীকালে সাহাবায়ে কিরাম এ বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। এটি ইমাম আবু হানিফার মাযহাব এবং ইমাম আহমাদের দুটি বর্ণনার একটি। অন্যদিকে ইমাম শাফেঈর মাযহাব এবং ইমাম আহমাদের অন্য বর্ণনাটি প্রথম অভিমত অনুযায়ী। সুতরাং সাহাবায়ে কিরাম সেই সকল মুরতাদদের ইসলামে প্রত্যাবর্তনের পর তাদের প্রতি যে কর্মপন্থা অবলম্বন করেছিলেন, তা এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে যে ইসলাম প্রকাশ করে কিন্তু তার ব্যাপারে সন্দেহ সুস্পষ্ট থাকে। তাকে অশ্বারোহী বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া, অস্ত্র বহন করা এবং যোদ্ধাদের বর্ম পরিধান করা থেকে নিষিদ্ধ করা হবে। তেমনিভাবে সৈন্যবাহিনীতে কোনো ইহুদি বা খ্রিস্টানকে রাখা হবে না। তাদের ওপর ইসলামের বিধানসমূহ আবশ্যিক করা হবে, যতক্ষণ না তাদের ভালো কিংবা মন্দ কাজ প্রকাশ পায়। আর তাদের মধ্য থেকে যারা ভ্রষ্টতার ইমাম ছিল এবং তওবা প্রকাশ করেছে, তাদেরকে তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে এবং মুসলিমদের এমন জনপদে পাঠিয়ে দেওয়া হবে যেখানে তাদের কোনো প্রভাব বা প্রাধান্য নেই। এর ফলে হয় আল্লাহ তাআলা তাকে হিদায়াত দান করবেন, অন্যথায় সে মুসলিমদের কোনো ক্ষতি করা ছাড়াই তার মুনাফিকির ওপর মৃত্যুবরণ করবে।

(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ২৯)
ولا ريب أن جهاد هؤلاء وإقامة الحدود عليهم من أعظم الطاعات وأكبر الواجبات، وهو أفضل من جهاد من لا يقاتل المسلمين من المشركين وأهل الكتاب؛ فإن جهاد هؤلاء من جنس جهاد المرتدين، والصديق وسائر الصحابة بدؤوا بجهاد المرتدين قبل جهاد الكفار من أهل الكتاب؛ فإن جهاد هؤلاء حفظ لما فتح من بلاد المسلمين، وأن يدخل فيه من أراد الخروج عنه. وجهاد من لم يقاتلنا من المشركين وأهل الكتاب من زيادة إظهار الدين. وحفظ رأس المال مقدم علي الربح.

وأيضًا فضرر هؤلاء علي المسلمين أعظم من ضرر أولئك، بل ضرر هؤلاء من جنس ضرر من يقاتل المسلمين من المشركين وأهل الكتاب، وضررهم في الدين علي كثير من الناس أشد من ضرر المحاربين من المشركين وأهل الكتاب.
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা এবং এদের ওপর শরয়ী দণ্ডবিধি কার্যকর করা মহান আনুগত্য এবং অন্যতম প্রধান আবশ্যিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। যারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে না এমন মুশরিক ও আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার চেয়ে এটি অধিক উত্তম। কেননা, এদের বিরুদ্ধে এই জিহাদ হলো ধর্মত্যাগীদের (মুরতাদ) বিরুদ্ধে জিহাদের পর্যায়ভুক্ত। আর সিদ্দীক (আবু বকর রা.) এবং অন্যান্য সাহাবীগণ আহলে কিতাব কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ শুরু করার পূর্বে মুরতাদদের বিরুদ্ধে জিহাদ শুরু করেছিলেন। কারণ, এদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার উদ্দেশ্য হলো বিজিত মুসলিম ভূখণ্ডসমূহকে রক্ষা করা এবং যারা ইসলাম থেকে বেরিয়ে যেতে চায় তাদের তা থেকে বিরত রাখা। পক্ষান্তরে, যারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত নয় এমন মুশরিক ও আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে জিহাদ হলো দ্বীনের বহিঃপ্রকাশকে আরও বৃদ্ধি করা। আর মূলধন রক্ষা করা মুনাফা অর্জনের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য।

অধিকন্তু, মুসলমানদের ওপর এদের ক্ষতি অন্যদের ক্ষতির চেয়ে অনেক বেশি। বরং এদের ক্ষতি হলো মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত মুশরিক ও আহলে কিতাবদের ক্ষতির সমতুল্য। এমনকি দ্বীনের ক্ষেত্রে বহু মানুষের ওপর এদের অনিষ্টের প্রভাব যুদ্ধরত মুশরিক ও আহলে কিতাবদের ক্ষতির চেয়েও অধিক তীব্র।
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ৩০)
ويجب علي كل مسلم أن يقوم في ذلك بحسب ما يقدر عليه من الواجب، فلا يحل لأحد أن يكتم ما يعرفه من أخبارهم، بل يفشيها ويظهرها ليعرف المسلمون حقيقة حالهم، ولا يحل لأحد أن يعاونهم علي بقائهم في الجند والمستخدمين، ولا يحل لأحد السكوت عن القيام عليهم بما أمر الله به ورسوله، ولا يحل لأحد أن ينهي عن القيام بما أمر الله به ورسوله؛ فإن هذا من أعظم أبواب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والجهاد في سبيل الله تعالي، وقد قال الله تعالي لنبيه صلى الله عليه وسلم: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ} [التحريم: 9] ، وهؤلاء لا يخرجون عن الكفار والمنافقين.

والمعاون علي كف شرهم وهدايتهم بحسب الإمكان له من الأجر والثواب ما لا يعلمه إلا الله تعالي؛ فإن المقصود بالقصد الأول هو هدايتهم؛ كما قال الله تعالي: {كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} [آل عمران: 110] ، قال أبو هريرة: كنتم خير الناس للناس تأتون بهم في القيود والسلاسل حتى تدخلوهم الإسلام. فالمقصود بالجهاد، والأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر: هداية العباد لمصالح المعاش والمعاد بحسب الإمكان، فمن هداه الله سعد في الدنيا والآخرة، ومن لم يهتد كف الله ضرره عن غيره.
प्रत्यেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক যে, সে তার সামর্থ্য অনুযায়ী এ বিষয়ে নিজ কর্তব্য পালন করবে। সুতরাং কারো জন্য তাদের সম্পর্কে যা জানে তা গোপন করা বৈধ নয়; বরং তা প্রচার ও প্রকাশ করা কর্তব্য যাতে মুসলমানরা তাদের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারে। সেনাবাহিনী বা কর্মচারী হিসেবে তাদের বহাল রাখতে কাউকে সাহায্য করা কারো জন্য বৈধ নয়। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা নির্দেশ দিয়েছেন তা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো থেকে বিরত থাকা কারো জন্য বৈধ নয়। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা নির্দেশ দিয়েছেন তা পালন করতে বাধা দেওয়াও কারো জন্য বৈধ নয়। কেননা এটি সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ এবং মহান আল্লাহর পথে জিহাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছেন: "হে নবী, কাফের ও মুনাফেকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন" [আত-তাহরীম: ৯]। আর এরা কাফের ও মুনাফেকদের অন্তর্ভুক্ত।

তাদের অনিষ্ট প্রতিরোধে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের হেদায়েতের পথে আনতে সহায়তাকারীর জন্য এমন সওয়াব ও প্রতিদান রয়েছে যা মহান আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের হেদায়েত করা; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমরা হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে" [আলে ইমরান: ১১০]। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: "তোমরা মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ মানুষ, তোমরা তাদের শিকল ও বেড়ি দিয়ে নিয়ে আসো যতক্ষণ না তারা ইসলামে প্রবেশ করে।" সুতরাং জিহাদ, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধের উদ্দেশ্য হলো: সামর্থ্য অনুযায়ী ইহকাল ও পরকালের কল্যাণের দিকে বান্দাদের পরিচালিত করা। অতঃপর আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, সে দুনিয়া ও আখেরাতে সৌভাগ্যবান হয়; আর যে হেদায়েত পায় না, আল্লাহ অন্যদের থেকে তার অনিষ্ট দূর করে দেন।
(খণ্ড: ১) আন-নুসাইরিইয়াহ তুগাতু সুরিইয়াহ আউয়িল আলাউইয়ুন কামা সাম্মাহুমুল ফারানসিইয়ুন (পৃষ্ঠা: ৩১)
ومعلوم أن الجهاد، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر هو أفضل الأعمال، كما قال صلى الله عليه وسلم: " رأس الأمر الإسلام، وعموده الصلاة، وذروة سنامه الجهاد في سبيل الله تعالي ". وفي الصحيح عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: " إن في الجنة لمائة درجة ما بين الدرجة إلي الدرجة كما بين السماء إلي الأرض، أعدها الله عز وجل للمجاهدين في سبيله "، وقال صلى الله عليه وسلم: " رباط يوم وليلة في سبيل الله خير من صيام شهر وقيامه "، ومن مات مرابطًا مات مجاهدًا، وجري عليه عمله، وأجري عليه رزقه من الجنة، وأمن الفتنة. والجهاد أفضل من الحج والعمرة، كما قال تعالي: {أَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ آمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَجَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللهِ لَا يَسْتَوُونَ عِندَ اللهِ وَاللهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ الَّذِينَ آمَنُواْ وَهَاجَرُواْ وَجَاهَدُواْ فِي سَبِيلِ اللهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ أَعْظَمُ دَرَجَةً عِندَ اللهِ وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ يُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُم بِرَحْمَةٍ مِّنْهُ وَرِضْوَانٍ وَجَنَّاتٍ لَّهُمْ فِيهَا نَعِيمٌ مُّقِيمٌ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا إِنَّ اللهَ عِندَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ} [التوبة: 19: 22] ، والحمد لله رب العالمين، وصلاته وسلامه علي خير خلقه سيدنا محمد وعلي آله وصحبه أجمعين.
এটা সর্বজনবিদিত যে, জিহাদ এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ হলো সর্বোত্তম আমল, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সকল বিষয়ের মূল হলো ইসলাম, এর স্তম্ভ হলো সালাত এবং এর সর্বোচ্চ শিখর হলো আল্লাহর পথে জিহাদ।" সহীহ হাদীসে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে, যার প্রতি দুই স্তরের মধ্যবর্তী দূরত্ব আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান; মহান আল্লাহ তা তাঁর পথে জিহাদকারীদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন।" তিনি আরও বলেছেন: "আল্লাহর পথে একদিন ও একরাত পাহারায় নিয়োজিত থাকা এক মাসের সিয়াম পালন ও রাত জেগে ইবাদত করার চেয়েও উত্তম।" আর যে ব্যক্তি পাহারারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, সে মুজাহিদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করল, তার আমলনামায় সওয়াব অব্যাহত থাকবে, জান্নাত থেকে তার রিযিক জারি থাকবে এবং সে কবরের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। আর জিহাদ হজ ও উমরার চেয়েও শ্রেষ্ঠ, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানো এবং মসজিদুল হারাম আবাদ করাকে সেই ব্যক্তির সমতুল্য মনে কর, যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে? আল্লাহর নিকট তারা সমান নয়। আর আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দেন না। যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদা অতি মহান; আর তারাই সফলকাম। তাদের প্রতিপালক তাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে দয়া, সন্তুষ্টি এবং এমন জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন যেখানে তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী নেয়ামত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট রয়েছে মহা পুরস্কার।} [সূরা আত-তাওবাহ: ১৯-২২]। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।