(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: -)
الحوادث والبدع (أبو بكر الطرطوشي)
القسم: العقيدة
الكتاب: الحوادث والبدع
المؤلف: محمد بن الوليد بن محمد بن خلف القرشى الفهرى الأندلسي، أبو بكر الطرطوشى المالكي (ت 520هـ)
المحقق: علي بن حسن الحلبي
الناشر: دار ابن الجوزي
الطبعة: الثالثة، 1419 هـ - 1998 م
عدد الصفحات: 178
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নতুন উদ্ভাবিত বিষয়াবলি ও বিদআতসমূহ (আবু বকর আত-তোরতুশি)
বিভাগ: আকিদাহ
বই: নতুন উদ্ভাবিত বিষয়াবলি ও বিদআতসমূহ
লেখক: মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালিদ বিন মুহাম্মদ বিন খালাফ আল-কুরাশি আল-ফিহরি আল-আন্দালুসি, আবু বকর আত-তোরতুশি আল-মালিকি (মৃত্যু ৫২০ হিজরি)
সম্পাদক: আলি বিন হাসান আল-হালাবি
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৮
[বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২১)
بسم الله الرحمن الرحيموصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.قال الشيخ، الإمام، قدوة الإسلام، وواضح الدلائل، الإمام، أبو بكر الطرطوشي، رحمه الله تعالى ورضي عنه:الحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، ولا عدوان إلا على الظالمين، وصلواته على سيدنا محمد خاتم النبيين، وإمام المرسلين، ورسول رب العالمين.هذا كتاب أردنا أن نذكر فيه جُمَلا من بدع الأمور ومحدثاتها، التي ليس لها أصل في كتاب الله، ولا سنة، ولا إجماع، ولا غيره، فألفيت ذلك ينقسم إلى قسمين:قسم يعرفه الخاصة والعامة أنها بدعة محدثة؛ إما محرمة، وإما مكروهة.وقسم يظنه معظمهم - إلا من عصم الله - عبادات، وقربات، وطاعات، وسننا.فأما القسم الأول؛ فلم نتعرض لذكره؛ إذ كُفينا مؤنة الكلام فيه؛ لاعتراف فاعله أنه ليس من الدين.
পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।শায়খ, ইমাম, ইসলামের আদর্শ এবং দলিলসমূহের সুস্পষ্টকারী, ইমাম আবু বকর আত-তোরতুশি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর দয়া করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) বলেছেন:সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্য, আর সীমালঙ্ঘনকারীদের ব্যতীত কারো ওপর শত্রুতা নেই। এবং তাঁর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ-এর ওপর, যিনি নবীদের মোহর, রসূলদের ইমাম এবং জগতসমূহের প্রতিপালকের প্রেরিত রসূল।এটি এমন এক কিতাব যেখানে আমরা দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয় ও বিদআতসমূহের এক সংকলন উল্লেখ করার সংকল্প করেছি, যেগুলোর আল্লাহর কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা কিংবা অন্য কোনো কিছুর মধ্যে কোনো ভিত্তি নেই। আমি লক্ষ্য করেছি যে তা দুই ভাগে বিভক্ত:এক ভাগ এমন যা বিশিষ্ট ও সাধারণ সকলে জানে যে এটি একটি নব উদ্ভাবিত বিদআত; যা হয় হারাম, নয়তো মাকরুহ।এবং অন্য ভাগ এমন যা তাদের অধিকাংশই—যাদের আল্লাহ রক্ষা করেছেন তারা ব্যতীত—ইবাদত, নৈকট্য লাভের উপায়, আনুগত্য এবং সুন্নাত বলে মনে করে।প্রথম ভাগের ব্যাপারে আমরা কোনো আলোচনায় লিপ্ত হইনি; কারণ এ সম্পর্কে কথা বলার কষ্ট থেকে আমরা অব্যাহতি পেয়েছি, যেহেতু এর সম্পাদনকারী নিজেই স্বীকার করে যে এটি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২২)
وأما الثاني؛ فهو الذي قصدنا جمعه، وإيقاف المسلمين على فساده ووبال عاقبته.أعلم أن ما حدث في سائر أقطار بلاد أهل الإسلام من هذه المنكرات والبدع لا مطمع لأحد في حصرها؛ لأنها خطأ وباطل، والخطأ لا تنحصر سبله، ولا تتحصل طرقه؛ فاخط كما شئت! وإنما الذي تنحصر مداركه وتنضبط مآخذه؛ فهو الحق؛ لأنه أمر واحد مقصود، يمكن إعمال الفكر والخواطر في استخراجه.وما مثل هذا إلا كالرامي للهدف؛ فإن طرق الإصابة تنحصر وتتحصل من إحكام الآلات، وأسباب النزع، وتسديد السهم.فأما من أراد أن يخطئ الهدف؛ فجهات الأخطاء لا تنحصر ولا تنضبط؛ إلا أن نذكر من ذلك حسب الإمكان. وأحصر ذلك في أربعة أبواب:الباب الأول: فيما انطوى عليه الكتاب العزيز من الأمور التي ظاهرها سِلْمٌ جرَّت إلى هُلْكٍ.والباب الثاني: فيما اشتملت عليه السنة من النهي عن محدثات الأمور.والباب الثالث: في أساليب الصحابة في كيفية ضبطهم للقانون الذي به تُحفظ قواعد الدين وتموت البدع.والباب الرابع: في نقل ما حدث من ذلك في الإسلام، وتنصيص العلماء على تحريمها وكراهتها.
আর দ্বিতীয় প্রকারটিই হলো তা, যা আমরা সংকলন করার সংকল্প করেছি এবং মুসলমানদেরকে এর কলুষতা ও এর শোচনীয় পরিণতি সম্পর্কে অবহিত করতে চেয়েছি।জেনে রাখুন, মুসলিম দেশগুলোর বিভিন্ন প্রান্তে যেসব গর্হিত কাজ ও বিদআত উদ্ভূত হয়েছে, তা গণনা করার আশা কারও নেই। কারণ তা হলো ভুল ও বাতিল; আর ভুলের পথ কোনো সীমায় আবদ্ধ নয় এবং এর পদ্ধতিগুলোও সুনির্দিষ্ট নয়। সুতরাং আপনি যেভাবে ইচ্ছা ভুল করতে পারেন! পক্ষান্তরে যার অনুধাবনযোগ্য বিষয়সমূহ সীমাবদ্ধ এবং যার উৎসসমূহ সুসংহত, তা হলো সত্য। কারণ সত্য একটি একক উদ্দিষ্ট বিষয়, যা উদ্ঘাটনে চিন্তা ও অন্তর্দৃষ্টির প্রয়োগ সম্ভব।এর উদাহরণ লক্ষ্যভেদকারীর মতো। লক্ষ্যভেদের উপায়সমূহ সীমাবদ্ধ এবং তা যন্ত্রপাতির নিখুঁত ব্যবহার, ধনুকের ছিলা টানার পদ্ধতি ও তীরের সঠিক লক্ষ্যস্থিরকরণের মাধ্যমেই অর্জিত হয়।কিন্তু যে ব্যক্তি লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে চায়, তার ভুলের দিকগুলোর কোনো সীমাবদ্ধতা বা শৃঙ্খলা নেই। তথাপি আমরা যথাসম্ভব সে বিষয়ে আলোকপাত করব। আমি বিষয়টিকে চারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:প্রথম অধ্যায়: মহাগ্রন্থ কুরআনে বর্ণিত এমন সব বিষয় যা বাহ্যত নিরাপদ মনে হলেও ধ্বংসের দিকে ধাবিত করে।দ্বিতীয় অধ্যায়: নবউদ্ভাবিত বিষয়াবলি থেকে নিষেধ করা সম্পর্কে সুন্নাহর বর্ণনাসমূহ।তৃতীয় অধ্যায়: সাহাবীগণের অনুসৃত পদ্ধতি এবং তারা কীভাবে সেই মূলনীতি সুসংহত করেছিলেন যার মাধ্যমে দ্বীনের ভিত্তিগুলো সংরক্ষিত থাকে এবং বিদআতের বিনাশ ঘটে।চতুর্থ অধ্যায়: ইসলামে এসব বিষয় উদ্ভব সংক্রান্ত বর্ণনা এবং এগুলো হারাম ও মাকরূহ হওয়া সম্পর্কে উলামায়ে কিরামের সুস্পষ্ট বক্তব্যসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الباب الأولفيما انطوى عليه الكتاب العزيز من الأمور التي ظاهرها سِلْمٌ جرَّت إلى هُلْكٍ* فأما الباب الأول؛ فيكفي الأمة منه قصة أصحاب السبت التي حكاها الله تعالى في كتابه.وكان مالك بن أنس يحتج بها على من خالفه في مسألة الذرائع: قال الله تعالى: {وَاسْأَلْهُمْ عَنِ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ حَاضِرَةَ الْبَحْرِ إِذْ يَعْدُونَ فِي السَّبْتِ إِذْ تَأْتِيهِمْ حِيتَانُهُمْ يَوْمَ سَبْتِهِمْ شُرَّعًا وَيَوْمَ لَا يَسْبِتُونَ لَا تَأْتِيهِمْ} … إلى قوله: {كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ} .وذلك أن الله تعالى حرَّم الصيد على اليهود يوم السبت، وأطلقه لهم في سائر الأيام، فكانت الحيتان تأتيهم يوم السبت شرعا - يعني: في مشارع
প্রথম অধ্যায়মহান কিতাবে বর্ণিত এমন বিষয়সমূহ প্রসঙ্গে যার বাহ্যিক রূপ নিরাপত্তা মনে হলেও তা ধ্বংসের দিকে ধাবিত করে* প্রথম অধ্যায়ের ক্ষেত্রে উম্মাহর জন্য আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে আসহাবে সাবত (শনিবারওয়ালাদের) যে কাহিনী বর্ণনা করেছেন তাই যথেষ্ট।ইমাম মালিক ইবনে আনাস 'যারাই' (অসৎ উদ্দেশ্যে গৃহীত উপায়-উপকরণ) সংক্রান্ত মাসআলায় তাঁর বিরোধীদের বিপক্ষে এটি দ্বারা দলিল পেশ করতেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আপনি তাদেরকে সমুদ্রতীরবর্তী সেই জনপদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন, যখন তারা শনিবারের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করছিল; যখন তাদের শনিবারের দিনে মাছগুলো পানির উপরে দৃশ্যমান হয়ে তাদের নিকট আসত, আর যে দিন তারা শনিবার পালন করত না, সে দিন মাছগুলো তাদের নিকট আসত না} ... আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও}।আর তা এই কারণে যে, আল্লাহ তাআলা ইহুদিদের উপর শনিবারের দিনে শিকার করা হারাম করেছিলেন এবং অন্য দিনগুলোতে তা তাদের জন্য বৈধ রেখেছিলেন। ফলে শনিবারের দিন মাছগুলো পানির উপরে দৃশ্যমান হয়ে তাদের নিকট আসত—অর্থাৎ: ঘাটে বা পানির উপরিভাগে।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المياه إلى أبواب بيوتهم، وقيل: شوارع ظاهرة على الماء كثيرة - ولا تأتيهم في سائر الأيام، فعمد رجال منهم يوم الجمعة، فحفروا الأنهار، ووضعوا آلات الصيد، فدخل الحيتان فيها، فأخذوها يوم الأحد، وكان يوما يجوز فيه الصيد … إلى أن فشا ذلك فيهم، فذمَّهم الله تعالى، ومسخهم قردة وخنازير.وقال ابن زيد: " وأول من أخذ منهم رجل حوتا في يوم الأحد، فشواه، فوجد جاره ريح الحوت، فقال له: إني أرى الله سيعذبك. فلما لم يعجل عليه بالعذاب؛ سار معه، فأخذ في السبت الآخر اثنان، فلما لم يعاجلهما العذاب؛ تتابعوا فيه، فأخذوا وأكلوا، وكانوا نحوا من سبعين ألفا في قرية يقال لها: أيلة، بين مدين والطور.فصارت القرية أثلاثا: ثلثا نهوا - وكانوا اثني عشر ألفا - وثلثا قالوا: {لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا اللَّهُ مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا} ، وثلثا هم أصحاب الخطيئة، فلما لم ينتهوا؛ قال المسلمون: لا نساكنكم. فقسموا القرية بجدار: للمسلمين باب، وللمعتدين باب، فلعنهم داود، فأصبح الناهون يوما في مجالسهم ولم يخرج من المعتدين أحد، فقالوا: إن للناس لشأنا، فنظروا على
পানি তাদের ঘরের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে যেত; আবার বলা হয়েছে: পানির ওপর দৃশ্যমান বহু পথ ছিল—এবং অন্য দিনগুলোতে মাছগুলো তাদের কাছে আসত না। ফলে তাদের একদল লোক জুমুআর দিনে ইচ্ছা করে নালা খনন করল এবং মাছ ধরার সরঞ্জাম স্থাপন করল। ফলে মাছগুলো তাতে প্রবেশ করল এবং তারা সেগুলো রবিবার ধরল, আর সেটি এমন দিন ছিল যেদিন শিকার করা বৈধ ছিল … পরিশেষে এটি তাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ল, তখন মহান আল্লাহ তাদের নিন্দা করলেন এবং তাদের বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিলেন।ইবনে যাইদ বলেন: "তাদের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি মাছ ধরেছিল, সে রবিবার একটি মাছ ধরল এবং সেটি পুড়ল। তখন তার প্রতিবেশী মাছের ঘ্রাণ পেয়ে তাকে বলল: 'আমি দেখছি আল্লাহ শীঘ্রই তোমাকে শাস্তি দেবেন।' অতঃপর যখন তার ওপর দ্রুত আযাব আসল না, তখন সেও তার সাথে যোগ দিল। এরপর পরবর্তী শনিবারে অন্য দুইজন মাছ ধরল। যখন তাদের ওপরও দ্রুত আযাব আসল না, তখন অন্যরা একে একে তাদের অনুসরণ করতে লাগল; ফলে তারা মাছ ধরল ও আহার করল। তারা মাদইয়ান ও তূরের মধ্যবর্তী আয়লা নামক জনপদে প্রায় সত্তর হাজার জন ছিল।অতঃপর জনপদটি তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল: এক-তৃতীয়াংশ যারা (মন্দ কাজে) নিষেধ করত—তারা ছিল বারো হাজার; এক-তৃতীয়াংশ যারা বলত: {কেন তোমরা এমন এক সম্প্রদায়কে উপদেশ দিচ্ছ যাদের আল্লাহ ধ্বংস করে দেবেন কিংবা কঠোর শাস্তি দেবেন?}; এবং অন্য এক-তৃতীয়াংশ ছিল পাপিষ্ঠরা। যখন তারা বিরত হলো না, তখন মুসলিমরা বলল: 'আমরা তোমাদের সাথে একত্রে বসবাস করব না।' এরপর তারা একটি দেয়াল দিয়ে জনপদটি বিভক্ত করে ফেলল: মুসলিমদের জন্য একটি দরজা এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য একটি দরজা রাখা হলো। অতঃপর দাউদ (আ.) তাদের অভিশাপ দিলেন। একদিন সকালে যারা নিষেধকারী ছিল তারা তাদের মজলিসে উপস্থিত হলো, কিন্তু সীমালঙ্ঘনকারীদের মধ্য থেকে কেউ বের হলো না। তখন তারা বলল: 'নিশ্চয়ই লোকদের কোনো বিশেষ দুর্ঘটনা ঘটেছে।' এরপর তারা উঁকি দিয়ে দেখল...
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الجدار، فإذا هم قردة، فقالوا: أي عباد الله! قرودا - والله - تعاوي!ففتحوا الباب، فعرفت القردة أنسابها من الإنس، ولا تعرف الإنس أنسابها من القردة، فجعلت القردة تأتي أنسابها من الإنس، فتشم ثيابه وتبكي، فيقول: ألم ننهكم؟ ! فتقول برأسها: نعم ".قال قتادة: " صار شبابهم قرودا، والشيوخ خنازير، فما نجا إلا الذين نهوا، وهلك سائرهم ".واختلف العلماء في الفرقة الذين قالوا: {لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا اللَّهُ مُهْلِكُهُمْ} ؛ أكانت من الناجية أم من الهالكة؟فأما ابن عباس؛ فقال: " هم ثلاث فرق: الواعظة، والموعوظة، والذين قالوا: {لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا} ، فالواعظة نجوا، والموعوظة هلكوا، ولا أرى الآخرين ذُكروا، فيا ليت شعري! ما فعل بهم ونحن نرى أشياء ننكرها ولا نقول فيها شيئا؟ ! ".قال عكرمة: " فقلت له: جعلني الله فداك! ألا تراهم كرهوا ما هم عليه، وخالفوهم، فقالوا: {لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا اللَّهُ مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ} ، فلم أزل به حتى عرفته أنهم نجوا، فكساني حلة ".وأيضا فإن الواعظين قالوا لهم: انتهوا عن هذا العمل السيئ قبل أن ينزل بكم العذاب؛ فإنا قد علمنا أن الله منزل بكم بأسه إن لم تنتهوا. فقالت لهؤلاء الفرقة الأخرى: {لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا اللَّهُ مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا} إذ علمتم أن الله معذبهم عذابا شديدا، فلا تعظوهم؛ فإن الله مهلكهم.وقال جماعة من العلماء: بل هذا الفريق من الهالكين؛ لأنهم منعوا
প্রাচীর, অতঃপর দেখা গেল তারা সব বানর হয়ে গেছে। তারা বলল, "হে আল্লাহর বান্দারা! আল্লাহর কসম, বানরগুলো ডাকছে!"এরপর তারা দরজা খুলে দিল। তখন বানরগুলো মানুষের মধ্য থেকে তাদের আত্মীয়স্বজনদের চিনতে পারল, কিন্তু মানুষরা বানরদের মধ্য থেকে তাদের আত্মীয়দের চিনতে পারছিল না। ফলে বানরগুলো মানুষের মধ্যে থাকা তাদের আত্মীয়দের কাছে আসতে লাগল এবং তাদের কাপড় শুঁকতে লাগল ও কাঁদতে লাগল। তখন তারা (মানুষরা) বলতে লাগল, "আমরা কি তোমাদের নিষেধ করিনি?" তখন তারা (বানররা) মাথা নেড়ে সায় দিল, "হ্যাঁ।"কাতাদাহ বলেন, "তাদের যুবকরা বানর এবং বৃদ্ধরা শূকরে পরিণত হয়েছিল। যারা মন্দ কাজে বাধা প্রদান করত তারা ছাড়া আর কেউই রক্ষা পায়নি, আর বাকি সবাই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।"আলেমগণ সেই দলটি সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করেছেন যারা বলেছিল, "তোমরা কেন এমন এক সম্প্রদায়কে নসিহত করছ যাদের আল্লাহ ধ্বংস করবেন?"—তারা কি মুক্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিল নাকি ধ্বংসপ্রাপ্তদের?ইবনে আব্বাস (রা.) এর মতে, "তারা ছিল তিন দল: যারা নসিহত করত, যাদের নসিহত করা হতো এবং যারা বলত 'তোমরা কেন নসিহত করছ?'। নসিহতকারীরা মুক্তি পেয়েছিল এবং যাদের নসিহত করা হতো তারা ধ্বংস হয়েছিল। আর শেষোক্ত দলটির কথা (মুক্তির বিষয়ে) কোথাও উল্লেখ আছে বলে আমি দেখছি না। আফসোস! তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছিল? অথচ আমরাও এমন অনেক কিছু দেখি যা আমরা অপছন্দ করি কিন্তু সে বিষয়ে কিছুই বলি না!"ইকরিমা বলেন, "আমি তাকে বললাম: আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন! আপনি কি দেখছেন না যে, তারা তাদের কর্মকাণ্ডকে অপছন্দ করত এবং তাদের বিরোধিতা করত? তাই তারা বলেছিল, 'তোমরা কেন এমন এক সম্প্রদায়কে নসিহত করছ যাদের আল্লাহ ধ্বংস করবেন অথবা কঠোর আজাব দেবেন?' আমি তাকে এটি বোঝানো অব্যাহত রাখলাম যতক্ষণ না তিনি বুঝতে পারলেন যে তারাও মুক্তি পেয়েছিল। তখন তিনি আমাকে একটি চাদর উপহার দিলেন।"এছাড়া নসিহতকারীরা তাদের বলেছিল, "তোমাদের ওপর আজাব নাযিল হওয়ার আগেই তোমরা এই মন্দ কাজ থেকে বিরত হও; কারণ আমরা নিশ্চিত জানি যে তোমরা বিরত না হলে আল্লাহ তোমাদের ওপর তাঁর শাস্তি অবতীর্ণ করবেন।" তখন অন্য দলটি তাদের বলল, "তোমরা কেন এমন এক সম্প্রদায়কে নসিহত করছ যাদের আল্লাহ ধ্বংস করবেন অথবা কঠোর আজাব দেবেন?" যখন তোমরা জানো যে আল্লাহ তাদের কঠোর আজাব দেবেন, তখন তাদের নসিহত করো না; কারণ আল্লাহ তাদের ধ্বংস করবেন।একদল আলেম বলেছেন, বরং এই দলটি ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিল; কারণ তারা বাধা প্রদান করেছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الناهين، فأخطؤوا، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر واجب عليهم، وإن كان التقدير غالبا؛ لأنهم وإن كانوا قد علموا بعذابهم، فلم يسقط عنهم فرض الأمر بالمعروف، وإن كان ما قالوا: {لِمَ تَعِظُونَ} ؛ رضًى بالمنكر، لكن لأنهم اعتقدوا أنهم هالكون.* ومن ذلك قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقُولُوا رَاعِنَا وَقُولُوا انْظُرْنَا وَاسْمَعُوا} .وذلك أن المسلمين كانوا يقولون: يا رسول الله! راعنا وأرعنا سمعك.وهي بالعبرانية كلمة سب من الرعونة، فكانت اليهود تقولها للنبي صلى الله عليه وسلم يقصدون سبه، فمنع الله المسلمين أن يقولوها - وإن كانت جائزة -؛ لئلا يتذرع اليهود بذلك إلى ما لا يجوز.وهذا في الحقيقة منع جائز في الظاهر؛ لما كان يتطرق به إلى باطن ممنوع.* ومن ذلك قوله تعالى: {وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدْوًا بِغَيْرِ عِلْمٍ} .فمنع الله سائر المسلمين من سب آلهة الكفار، وهو مباح؛ لئلا يصير
যারা নিষেধ করছিলেন, তারা ভুল করেছিলেন; কারণ সৎকাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধ তাদের ওপর আবশ্যক ছিল, যদিও ধ্বংসের বিষয়টিই প্রবল ছিল। কারণ তারা যদিও তাদের আজাব সম্পর্কে জানতেন, তবুও তাদের ওপর থেকে সৎকাজের আদেশের ফরয দায়িত্ব রহিত হয়ে যায়নি। আর তাদের এই উক্তি: {কেন তোমরা উপদেশ দিচ্ছ?}; তা মন্দের প্রতি সন্তুষ্টির কারণে ছিল না, বরং এজন্য যে তারা বিশ্বাস করেছিল যে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে।* এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা ‘রায়িনা’ বলো না, বরং ‘উনযুরনা’ বলো এবং কথা শোনো।}আর এর কারণ হলো মুসলিমরা বলত: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখুন এবং আমাদের প্রতি কর্ণপাত করুন।এটি হিব্রু ভাষায় ‘রুয়ুনাহ’ (নির্বুদ্ধিতা) থেকে উৎপন্ন একটি গালিবাচক শব্দ, তাই ইহুদিরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি বলত। ফলে আল্লাহ মুসলিমদের এটি বলতে নিষেধ করেছেন—যদিও (মৌলিকভাবে) তা বৈধ ছিল—যাতে ইহুদিরা এর মাধ্যমে কোনো নিষিদ্ধ বিষয়ের উসিলা বা পথ খুঁজে না পায়।আর এটি প্রকৃতপক্ষে বাহ্যিকভাবে বৈধ বিষয়কে নিষিদ্ধ করা; কারণ এর মাধ্যমে একটি অভ্যন্তরীণ নিষিদ্ধ বিষয়ের পথ উন্মুক্ত হতো।* এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা আল্লাহ ব্যতীত যাদের উপাসনা করে তাদেরকে তোমরা গালি দিও না, নতুবা তারা অজ্ঞতাবশত সীমালঙ্ঘন করে আল্লাহকে গালি দেবে।}অতঃপর আল্লাহ সমস্ত মুসলিমকে কাফেরদের উপাস্যদের গালি দিতে নিষেধ করেছেন, যা (মূলত) বৈধ ছিল; যাতে তা...
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
طريقا لهم إلى سب إله العالمين سبحانه وتعالى.* ومن ذلك قوله تعالى: {وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ} .فمنع الله تعالى النساء أن يضربن بأرجلهن، وهو فعل جائز في الظاهر؛ لئلا يتذرعن إلى ما لا يجوز من الدعاء إلى أنفسهن.* ومما يدخل في هذا الباب والتحذير من الزيادة في دين الله تعالى والنقصان منه: قوله تعالى: {وَقُولُوا حِطَّةٌ وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا} … إلى قوله: {فَبَدَّلَ الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ قَوْلًا غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِجْزًا مِنَ السَّمَاءِ بِمَا كَانُوا يَظْلِمُونَ} .قال أهل التأويل: طؤطئ لهم الباب؛ ليخفضوا رؤوسهم، فيدخلوا سجدا منحنين متواضعين، ويقولوا: حِطَّة؛ معناه: حط عنا خطايانا، فقالوا: حنطة.ويقال: إنهم قالوا: هطا سمقايا؛ يعنون حنطة حمراء؛ استخفافا بأمر الله، فأرسل الله تعالى عليهم رجزا ظلمة وطاعونا، فهلك منهم في ساعة واحدة سبعون ألفا، فلقوا من البلاء ما لقوا - وإنما زادوا حرفا في الكلمة -؛ يعرفهم أن الزيادة في الدين والابتداع في الشرع عظيم الخطر.قال علماؤنا رضي الله عنهم: إذا كان تغيير كلمة في باب التوبة - وذلك
যা তাদের জন্য রব্বুল আলামীন সুবহানাহু ওয়া তাআলার কুৎসা রটানোর পথ হয়।* আর তারই অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তারা যেন তাদের পায়ের আঘাত না করে, যাতে তাদের গোপন করা সৌন্দর্য প্রকাশ হয়ে পড়ে}।আল্লাহ তাআলা নারীদেরকে তাদের পা দ্বারা আঘাত করতে নিষেধ করেছেন, যা বাহ্যিকভাবে একটি বৈধ কাজ; যেন তারা নিজেদের প্রতি (অন্যদের) ডাকার মতো অবৈধ কাজে লিপ্ত হওয়ার কোনো সুযোগ তৈরি না করে।* এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে বাড়ানো বা কমানোর ব্যাপারে সতর্কবাণীর মধ্যে রয়েছে আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং বল, ‘হিত্তাহ্’ (ক্ষমা), আর দরজায় সিজদাবনত হয়ে প্রবেশ করো} ... আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {অতঃপর জালিমরা তাদের যা বলা হয়েছিল তা পরিবর্তন করে অন্য কথা বলল, ফলে আমি সেই জালিমদের ওপর আসমান থেকে আজাব নাজিল করলাম, কারণ তারা অবাধ্যতা করেছিল}।ব্যাখ্যাকারগণ বলেন: তাদের জন্য দরজাকে নিচু করা হয়েছিল যেন তারা তাদের মাথা অবনত করে; যাতে তারা সিজদাবনত, বিনয়ী ও মস্তক নমিত অবস্থায় প্রবেশ করে এবং বলে: ‘হিত্তাহ্’; যার অর্থ হলো: ‘আমাদের থেকে আমাদের গুনাহসমূহ মিটিয়ে দিন’, কিন্তু তারা বলল: ‘হিন্তাহ্’ (গম)।বলা হয় যে, তারা বলেছিল: ‘হাতা সামকায়া’; তারা এর দ্বারা লাল গম উদ্দেশ্য করেছিল; আল্লাহর আদেশকে উপহাস করার জন্য। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর অন্ধকার ও মহামারি স্বরূপ আজাব পাঠালেন, ফলে এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের সত্তর হাজার মানুষ ধ্বংস হয়ে গেল। তারা সেই মুসিবতের সম্মুখীন হলো যা হওয়ার ছিল—অথচ তারা কেবল শব্দের মধ্যে একটি বর্ণ বৃদ্ধি করেছিল—যাতে তারা জানতে পারে যে, দ্বীনের মধ্যে কিছু বাড়ানো এবং শরয়ি বিষয়ে নব উদ্ভাবন অত্যন্ত ভয়ংকর বিষয়।আমাদের উলামায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বলেন: যদি তাওবার বিষয়ে একটি শব্দের পরিবর্তন—আর তা হলো...
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أمر يرجع إلى المخلوق- يوجب كل ذلك العذاب؛ فما ظنك بتغيير ما هو خبر عن صفات المعبود؟ !* ومن ذلك قوله تعالى: {قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِنْ فَوْقِكُمْ أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُمْ بَأْسَ بَعْضٍ} .قال ابن عباس: " قوله: {أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا} : هي الأهواء المختلفة ".وقال غيره: ما فيه الناس من الاختلاف.{وَيُذِيقَ بَعْضَكُمْ بَأْسَ بَعْضٍ} : يسلط بعضكم على بعض بالقتل والعذاب.واختلف في المراد بهذه الآية:فقال مجاهد وأبو العالية وغيرهم: " هي لأمة محمد صلى الله عليه وسلم ".فروى خالد بن زيد الخزاعي: «أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى، ثم قال: سألت الله تعالى فيها ثلاثا، فأعطاني اثنتين ومنعني واحدة: سألت الله تعالى ألا يصيبكم بعذاب أصاب به من قبلكم فأعطانيها، وسألته ألا يسلط عليكم عدوا يستبيح بيضتكم فأعطانيها، وسألته ألا يُلبسكم شيعا فمنعنيها» .
যা সৃষ্টির সাথে সংশ্লিষ্ট—এমন একটি বিষয়ই যদি এ পরিমাণ শাস্তির কারণ হয়, তবে মা'বুদের গুণাবলি সম্পর্কিত সংবাদ পরিবর্তনের বিষয়ে তোমার ধারণা কী হতে পারে?!* এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, তিনি তোমাদের ওপর তোমাদের ওপরের দিক থেকে অথবা তোমাদের পায়ের নিচ থেকে আজাব পাঠাতে, কিংবা তোমাদেরকে দল-উপদলে বিভক্ত করে বিভ্রান্ত করতে এবং তোমাদের একদলকে অন্যদলের হিংস্রতার স্বাদ আস্বাদন করাতে সক্ষম।}ইবনে আব্বাস বলেন: "তাঁর বাণী: {কিংবা তোমাদেরকে দল-উপদলে বিভক্ত করে বিভ্রান্ত করতে}: এর অর্থ হলো ভিন্ন ভিন্ন খেয়াল-খুশি।"অন্যগণ বলেছেন: মানুষের মধ্যে বিদ্যমান মতভেদ বা অনৈক্য।{এবং তোমাদের একদলকে অন্যদলের হিংস্রতার স্বাদ আস্বাদন করাতে}: অর্থাৎ হত্যা ও আজাবের মাধ্যমে তোমাদের একজনকে অন্যজনের ওপর প্রবল করে দেওয়া।এই আয়াতের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে:মুজাহিদ, আবুল আলিয়া এবং অন্যরা বলেন: "এটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের জন্য।"খালিদ বিন যায়িদ আল-খুযাঈ বর্ণনা করেছেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত আদায় করলেন, এরপর বললেন: আমি এতে আল্লাহর কাছে তিনটি জিনিস চেয়েছি; তিনি আমাকে দুটি দান করেছেন এবং একটি দেননি: আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি তিনি যেন তোমাদেরকে এমন আজাবে আক্রান্ত না করেন যা তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর আপতিত হয়েছিল, তিনি আমাকে তা দান করেছেন। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করেছি তিনি যেন তোমাদের ওপর এমন কোনো শত্রু চাপিয়ে না দেন যারা তোমাদের সমূলে বিনাশ করে দেবে, তিনি আমাকে তা দান করেছেন। আর আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করেছি তিনি যেন তোমাদেরকে দল-উপদলে বিভক্ত না করেন, কিন্তু তিনি আমাকে তা দেননি»।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قال أبو العالية " [عن أبي بن كعب؛ قال] : هن أربع: ظهر اثنتان بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم بخمس وعشرين سنة، فألبسوا شيعا، وأذيق بعضهم بأس بعض، وبقيت اثنتان، فهما ولا بد واقعتان: الخسف من تحت أرجلهم، والرجم والمسخ من فوقهم ".وهذا تأويل ابن مسعود.وعن ابن عباس: " ومِنْ فَوْقِكُم: أئمة السوء. ومِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ: خدم السوء ".
আবুল আলিয়া বর্ণনা করেন [উবাই ইবনে কাব থেকে; তিনি বলেছেন]: "এগুলো চারটি বিষয়: এর মধ্যে দুটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পঁচিশ বছর পর প্রকাশ পেয়েছে; ফলে তাদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দেওয়া হয়েছে এবং একে অপরের লড়াইয়ের স্বাদ আস্বাদন করানো হয়েছে। আর দুটি অবশিষ্ট রয়েছে, যা অবশ্যই ঘটবে: তাদের পায়ের নিচ থেকে ভূমি ধসে যাওয়া এবং তাদের উপর থেকে পাথর বর্ষণ ও বিকৃতি ঘটা।"আর এটি ইবনে মাসউদের ব্যাখ্যা।ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: "এবং তোমাদের উপর থেকে: মন্দ নেতৃবৃন্দ। আর তোমাদের পায়ের নিচ থেকে: মন্দ সেবকগণ।"
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الباب الثانيفيما اشتملت عليه السنةمن التحذير من الأهواء والبدعقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بدأ الإسلام غريبا، وسيعود غريبا، فطوبى للغرباء.قيل: من هم يا رسول الله؟قال: الذين يصلحون إذا فسد الناس» .وفي لفظ آخر: «النُّزَّاع من القبائل» .وفي لفظ آخر: «أناسٌ صالحون قليلٌ في أناس سوء كثير، من يعصيهم أكثر ممن يطيعهم» .
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদসুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত প্রবৃত্তি ও বিদআত সম্পর্কেসতর্কবাণীআল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইসলামের সূচনা হয়েছিল স্বল্পসংখ্যক অপরিচিত লোকের মাধ্যমে এবং অচিরেই তা পুনরায় সেই স্বল্পসংখ্যক অপরিচিত লোকের অবস্থাতেই ফিরে যাবে। সুতরাং সেই অপরিচিত স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তিদের জন্য সুসংবাদ।"জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা?তিনি বললেন: "যারা মানুষের মাঝে সংস্কার সাধন করে যখন মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে যায়।"অন্য বর্ণনায় এসেছে: "বিভিন্ন গোত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা অল্প কিছু লোক।"অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: "অসংখ্য মন্দ লোকের মাঝে অল্প কিছু সৎ লোক; যারা তাদের আনুগত্য করে, তাদের চেয়ে তাদের অবাধ্য হওয়া মানুষের সংখ্যাই অধিক।"
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ومعنى هذا الحديث: أنه لما جاء الله بالإسلام، فكان الرجل إذا أسلم في قبيلته وحيه غريبا فيهم، مستخفيا بإسلامه، قد جفاه الأهل والعشيرة، فهو بينهم ذليل حقير خائف يتغصص بجرع الجفاء والأذى، ثم يعود غريبا؛ لكثرة الأهواء المضلة، والمذاهب المختلفة، حتى يبقى أهل الحق غرباء في الناس؛ لقلتهم وخوفهم على أنفسهم.وقال ابن مسعود: «خط لنا النبي صلى الله عليه وسلم خطا، ثم خط إلى جانبه خطوطا، ثم قال للخط الأول: هذا سبيل الله يدعو إليه، وقال للخطوط: هذه سبل الشيطان، على كل سبيل منها شيطان يدعو إليه ثم قرأ: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} » .فحذر من البدع ومحدثات الأمور.ومن ذلك ما رواه البخاري ومسلم: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لتتبعن سنن الذين من قبلكم شبرا بشبر، وذراعا بذراع، حتى لو دخلوا في جحر ضب لاتبعتموهم.قلنا: يا رسول الله! اليهود والنصارى؟قال: فمن؟ !» .وروى أبو داود في " السنن " عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال
এই হাদীসের অর্থ হলো: আল্লাহ যখন ইসলাম নিয়ে আসলেন, তখন কোনো ব্যক্তি যখন তার গোত্র ও মহল্লায় ইসলাম গ্রহণ করত, সে তাদের মাঝে অপরিচিত হয়ে পড়ত, নিজের ইসলামকে গোপন রাখত, আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার তাকে বর্জন করত। ফলে সে তাদের মাঝে লাঞ্ছিত, তুচ্ছ ও ভীত অবস্থায় থাকত এবং অবজ্ঞা ও কষ্টের তিক্ত ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করত। এরপর তা পুনরায় অপরিচিত অবস্থায় ফিরে আসবে; বিভ্রান্তিকর প্রবৃত্তি এবং বিভিন্ন মতবাদের আধিক্যের কারণে, এমনকি সত্যপন্থী লোকেরা মানুষের মাঝে অপরিচিত হয়ে পড়বে; তাদের সংখ্যাস্বল্পতা এবং নিজেদের প্রাণের ওপর আশঙ্কার কারণে।ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য একটি রেখা টানলেন, এরপর তার পাশে আরও কয়েকটি রেখা টানলেন। অতঃপর প্রথম রেখাটি সম্পর্কে বললেন: “এটি আল্লাহর পথ, যা তাঁর দিকে আহ্বান করে।” আর পার্শ্ববর্তী রেখাগুলো সম্পর্কে বললেন: “এগুলো শয়তানের পথ, যার প্রতিটি পথের মাথায় একটি শয়তান দাঁড়িয়ে সেদিকে আহ্বান করছে।” এরপর তিনি পাঠ করলেন: “আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।”অতএব তিনি বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়াবলী থেকে সতর্ক করেছেন।এরই অন্তর্ভুক্ত হলো যা বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতির হুবহু অনুসরণ করবে বিঘতে বিঘতে এবং হাতে হাতে, এমনকি তারা যদি কোনো গুইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাদের অনুসরণ করবে।আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানদের? তিনি বললেন: তবে আর কাদের!”এবং আবু দাউদ তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থে আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তিনি বলেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
رسول الله صلى الله عليه وسلم: «افترقت اليهود على إحدى - أو اثنتين - وسبعين فرقة، وافترقت النصارى على إحدى - أو اثنتين - وسبعين فرقة، وتفترق أمتي على ثلاث وسبعين فرقة» .ورواه معاوية بن أبي سفيان؛ قال: «قام النبي صلى الله عليه وسلم فقال: ألا إن من قبلكم من أهل الكتاب افترقوا على اثنتين وسبعين ملة، وإن هذه الملة ستفترق على ثلاث وسبعين فرقة: اثنتان وسبعون في النار، وواحدة في الجنة، وهي الجماعة، وإنه سيخرج في أمتي أقوام تجارى بهم تلك الأهواء كما يتجارى الكلب بصاحبه، لا يبقى منه عرق ولا مفصل إلا دخله» .واعلم أن هذا الحديث قد طاشت فيه أحلام الخلق، وفي معرفة هذه الفرق، وهل كملوا بعد أم لا؟ !1 - فصل في تحقيق القول فيهاعلم أن علماءنا رضي الله عنهم قالوا: أصول البدع أربعة، وسائر الأصناف الثنتين وسبعين فرقة عن هؤلاء تفرقوا وتشعبوا، وهم: الخوارج - وهي أول فرقة خرجت على علي بن أبي طالب رضي الله عنه والروافض، والقدرية، والمرجئة.ولم يرد علماؤنا أن أصل كل بدعة من هؤلاء الأربع تفرعت وتشعبت على
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইয়াহুদিরা একাত্তর বা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে, এবং নাসারারা একাত্তর বা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে, আর আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে।"মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে বললেন: জেনে রাখো, তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবগণ বাহাত্তরটি মতে বিভক্ত হয়েছিল, আর এই ধর্মাদর্শ (উম্মত) অচিরেই তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে: যার বাহাত্তরটি জাহান্নামে এবং একটি জান্নাতে যাবে, আর সেটি হলো আল-জামাআহ। অচিরেই আমার উম্মতের মাঝে এমন কিছু সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যাদের মাঝে ওই সকল কুপ্রবৃত্তি এমনভাবে ছড়িয়ে পড়বে যেমন জলাতঙ্ক রোগীর শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়ে; তার এমন কোনো শিরা বা জোড়া বাকি থাকে না যেখানে তা প্রবেশ করে না।"জেনে রাখুন যে, এই হাদিসের মর্ম এবং এই দলগুলোকে চেনার ক্ষেত্রে মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনা দিশেহারা হয়েছে, আর তারা কি ইতোমধ্যেই পূর্ণ হয়ে গেছে কি না সে বিষয়েও!১ - এ বিষয়ের বক্তব্যের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের পরিচ্ছেদজেনে রাখুন যে, আমাদের উলামায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বলেছেন: বিদআতের মূল ভিত্তি চারটি, আর অবশিষ্ট বাহাত্তরটি দলের সকল শ্রেণি এই চারটি থেকেই বিভক্ত ও শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত হয়েছে। তারা হলো: খাওয়ারিজ—যারা আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ করেছিল—রাফেজি, কাদারিয়া এবং মুরজিয়া।আমাদের উলামায়ে কেরাম এটি বুঝাতে চাননি যে, প্রতিটি বিদআতের মূল এই চারটি থেকেই নির্গত ও শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
مقتضى أصل البدع، حتى كملت ثلاثة وسبعين فرقة؛ فإن ذلك لعله لم يدخل في الوجود إلى الآن، وإنما أرادوا أن كل بدعة وضلالة لا تكاد توجد إلا في هذه الأربع فرق، وإن لم تكن البدعة الثانية فرعا للأولى وشعبة من شعبها، بل هي بدعة مستقلة بنفسها، ليست من الأولى بسبب.وبيان ذلك بالمثال: أن القدر أصل من أصول البدع، ثم اختلف أهله في مسائل من شعب القدر، وفي مسائل لا تعلق لها بالقدر، فجميعهم متفقون أن أفعال العباد خلق لهم من دون الله تعالى، ثم اختلفوا في فرع من فروع القدر:فقال أكثرهم: لا يكون فعل بين فاعلين!وقال بعضهم - وهو المِرْدَار -: يجوز بين فاعلين مخلوقين على التولد. وأحال مثله بين القديم والمحدث.ثم اختلفوا فيما لا يعود إلى القدر في مسائل كثيرة؛ كاختلافهم في الصلاح والأصلح:فقال البغداديون منهم: يجب على الله - تعالى عن قولهم - فعل الأصلح لعباده في دينهم ودنياهم، ولا يجوز في حكمته تبقية وجه ممكن به الصلاح العاجل والآجل؛ إلا وعليه فعل أقصى ما يقدر عليه في استصلاح عباده.قالوا: وواجب على الله - تعالى - ابتداء الخلق الذين علم أنه يكلفهم،
বিদআতের মূলের দাবি অনুযায়ী, যাতে তা তিয়াত্তরটি ফিরকায় পূর্ণ হয়; সম্ভবত তা এখন পর্যন্ত বাস্তবে রূপ লাভ করেনি। বরং তারা এই বুঝাতে চেয়েছেন যে, প্রতিটি বিদআত এবং ভ্রষ্টতা সাধারণত এই চারটি ফিরকার মধ্যেই বিদ্যমান থাকে, যদিও দ্বিতীয় বিদআতটি প্রথমটির শাখা বা প্রশাখা না হয়, বরং তা নিজেই একটি স্বতন্ত্র বিদআত হয় এবং প্রথমটির সাথে কোনো কারণগত সম্পর্ক না থাকে।উদাহরণের মাধ্যমে এর স্পষ্টীকরণ হলো: তাকদির হলো বিদআতের মূল নীতিসমূহের একটি। অতঃপর এর অনুসারীরা তাকদিরের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার বিষয়ে এবং তাকদিরের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন বিষয়েও মতভেদ করেছে। ফলে তারা সকলে এই বিষয়ে একমত যে, বান্দাদের কাজসমূহ মহান আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের নিজেদেরই সৃষ্টি। এরপর তারা তাকদিরের একটি উপ-শাখায় মতভেদ করেছে:তাদের অধিকাংশ বলেছে: দুই জন কর্তার মাঝে কোনো একটি কাজ সম্পাদিত হতে পারে না!এবং তাদের কেউ কেউ বলেছে—যিনি হলেন মিরদার—সৃষ্টির মাধ্যমে (তাওয়াল্লুদ) দুই জন সৃষ্টিগত কর্তার মাঝে তা হওয়া সম্ভব। তবে তিনি অনাদি এবং নব্যসৃষ্টর মধ্যে এই জাতীয় বিষয়কে অসম্ভব সাব্যস্ত করেছেন।অতঃপর তারা তাকদিরের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন অনেক বিষয়ে মতভেদ করেছে; যেমন কল্যাণ ও অধিকতর কল্যাণকর (আসলহ) বিষয়ে তাদের মতপার্থক্য:তাদের মধ্য থেকে বাগদাদবাসীরা বলেছে: মহান আল্লাহর জন্য—তিনি তাদের উক্তি থেকে পবিত্র ও ঊর্ধ্বে—তাঁর বান্দাদের দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে যা অধিকতর কল্যাণকর (আসলহ) তা করা আবশ্যক। তাঁর প্রজ্ঞার বিচারে এমন কোনো কল্যাণকর দিক অবশিষ্ট রাখা জায়েজ নয় যার মাধ্যমে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ সম্ভব ছিল; বরং বান্দাদের কল্যাণ সাধনে তাঁর সামর্থ্যের চূড়ান্ত সীমা পর্যন্ত যা কিছু সম্ভব তা করাই তাঁর ওপর আবশ্যক।তারা বলেছে: মহান আল্লাহর জন্য—যিনি সুউচ্চ—প্রাথমিকভাবে সেই সব সৃষ্টিকে সৃষ্টি করা আবশ্যক, যাদের সম্পর্কে তিনি জানেন যে তিনি তাদেরকে শরয়ি দায়িত্ব অর্পণ করবেন।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ويجب عليه إكمال عقولهم وأقدارهم، وإزاحة عللهم!وقال البصريون منهم: لا يجب على الله - تعالى - إكمال عقولهم، ولا أن يؤتيهم أسباب التكليف.وقال البغداديون منهم: يجب على الله - تعالى عن قولهم - عقاب العصاة إذا لم يتوبوا، والمغفرة من غير توبة سفه من الغافر!وأبى البصريون ذلك.وابتدع جعفر بن مبشر من القدرية بدعة، فقال: " من استحضر امرأة ليتزوجها، فوثب عليها، فوطئها بلا ولي ولا شهود ولا رضىً ولا عقدٍ؛ حل له ذلك "!وخالفه في ذلك سلفه، وخالفه خلفه.وقال ثمامة بن أشرس: " إن الله - تعالى - يصير الكفار والملحدين وأطفال المشركين والمؤمنين والمجانين ترابا يوم القيامة؛ لا يعذبهم، ولا يعوضهم "!وقوله هذا في الكفار والملحدين خرق لإجماع الأمة؛ من أهل الإثبات، وأهل القدر، وغيرهم.وهكذا ابتدعت كل فرقة من هذه الفرق بدعا تتعلق بأصل بدعتها التي هي معروفة بها، وبدعا لا تتعلق بها.
এবং তাঁর ওপর ওয়াজিব হলো তাদের বিবেক ও সক্ষমতাকে পূর্ণতা দান করা এবং তাদের অক্ষমতাগুলো দূর করা!তাদের মধ্যকার বসরীয়গণ বলেছেন: আল্লাহ তাআলার ওপর তাদের বিবেককে পূর্ণ করা ওয়াজিব নয় এবং তাদের ওপর শরীয়তের দায়িত্ব পালনের উপকরণসমূহ প্রদান করাও আবশ্যক নয়।তাদের মধ্য থেকে বাগদাদীয়রা বলেছেন: আল্লাহ তাআলার ওপর—তিনি তাদের বক্তব্য থেকে অনেক ঊর্ধ্বে—পাপীরা তওবা না করলে তাদের শাস্তি প্রদান করা ওয়াজিব, আর তওবা ব্যতীত ক্ষমা করা ক্ষমাশীল সত্তার পক্ষ থেকে এক প্রকার নির্বুদ্ধিতা!আর বসরীয়গণ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।এবং কাদরিয়াদের জাফর বিন মুবাশশির একটি বিদআত উদ্ভাবন করেছেন, তিনি বলেছেন: "যদি কেউ কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে উপস্থিত করে, অতঃপর তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং অভিভাবক, সাক্ষী, সম্মতি ও বিবাহ-চুক্তি ছাড়াই তার সাথে সহবাস করে; তবে তা তার জন্য বৈধ হবে!"এ বিষয়ে তার পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিগণ তার বিরোধিতা করেছেন।আর সুমামা বিন আশরাস বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কিয়ামত দিবসে কাফির, নাস্তিক, মুশরিক ও মুমিনদের শিশু এবং পাগলদের মাটিতে পরিণত করবেন; তিনি তাদের শাস্তিও দেবেন না এবং কোনো প্রতিদানও দেবেন না!"কাফির ও নাস্তিকদের ব্যাপারে তার এই উক্তি উম্মতের ঐকমত্যের পরিপন্থী; চাই তারা আহলে ইসবাত হোক কিংবা আহলে কদর অথবা অন্য কেউ।এভাবেই এই দলগুলোর প্রতিটি দল এমন সব বিদআত উদ্ভাবন করেছে যা তাদের পরিচিত মূল বিদআতের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এমন সব বিদআতও যা তার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
فإن كان أراد رسول الله صلى الله عليه وسلم بتفرق أمته أصول هذه البدع التي تجري مجرى الأجناس للأنواع، والمعاقد للفروع؛ فلعلهم - والعلم عند الله - ما بلغوا هذا العدد إلى الآن؛ غير أن الزمان باق، والتكليف قائم، والخطوات متوقعة، وكل قرن عصر لا يخلوا إلا وتحدث فيه البدع.وإن كان أراد النبي صلى الله عليه وسلم بالفرق كل بدعة في دين الإسلام؛ مما لا يلائم أصول الإسلام، ولا تقبلها قواعده؛ من غير التفات إلى التقسيم الذي ذكرنا؛ سواء كانت البدع أنواعا لأجناس، أو كانت متغايرة الأصول والمباني - وهذا هو الذي أراده، والعلم عند الله -؛ فقد وجد من ذلك عدد كثير، أكثر من اثنين وسبعين.ووجه تصحيح الحديث - على هذا - أن يخرج من الحساب غلاة أهل البدع، ولا يعدون من الأمة ولا في أهل القبلة؛ كنفاة الأعراض من القدرية؛ لأنه لا طريق لحدوث العالم وإثبات الصانع إلا بثبوت الأعراض، وكالحلولية، والمنصورية، وأشباههم من الغلاة.
যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের বিভক্তির দ্বারা বিদআতের সেই মূলনীতিগুলোকে উদ্দেশ্য করে থাকেন যা বিভিন্ন প্রকারের জন্য মূল এবং শাখাগুলোর জন্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, তবে সম্ভবত—আর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর কাছেই—তারা এখন পর্যন্ত এই সংখ্যায় পৌঁছায়নি। তবে সময় এখনো বাকি আছে, শরয়ী বিধান কার্যকর রয়েছে এবং নতুন পদক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে; আর এমন কোনো যুগ অতিবাহিত হয় না যাতে বিদআতের উদ্ভব ঘটে না।আর যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দল বলতে ইসলাম ধর্মের এমন প্রতিটি বিদআতকে উদ্দেশ্য করে থাকেন যা ইসলামের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং ইসলামের নীতিসমূহ তা গ্রহণ করে না—আমরা ইতিপূর্বে যে বিভাজনের কথা উল্লেখ করেছি তার প্রতি লক্ষ্য না করে; চাই সেই বিদআতগুলো কোনো মূলের প্রকারভেদ হোক কিংবা ভিন্ন ভিন্ন মূল ও কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে হোক—আর সম্ভবত এটিই তিনি উদ্দেশ্য করেছেন এবং প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর কাছেই; তবে সেক্ষেত্রে এর সংখ্যা অনেক বেশি পাওয়া গেছে, যা বাহাত্তরেরও অধিক।এই ভিত্তিতে হাদীসটি সঠিক হওয়ার ব্যাখ্যা হলো—হিসাব থেকে বিদআতীদের চরমপন্থীদের বাদ দেওয়া হবে। তারা উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হবে না এবং কিবলাপন্থীদের মাঝেও গণ্য হবে না। যেমন কাদারিয়াদের মাঝে যারা 'আরাজ' (অস্থায়ী গুণাবলি) অস্বীকারকারী; কারণ 'আরাজ' সাব্যস্ত করা ব্যতীত বিশ্বজগতের সৃষ্টি এবং মহান স্রষ্টাকে প্রমাণ করার কোনো পথ নেই। তদ্রূপ হুলুলিয়া, মানসুরিয়া এবং এই জাতীয় অন্যান্য চরমপন্থীরাও এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وسنذكر عند تمام الفصل أن البدعة تكون في الأفعال؛ كما تكون في الأقوال.ومن ذلك ما رواه أبو داود في " السنن " عن العرباض بن سارية قال: «صلى بنا النبي صلى الله عليه وسلم ذات يوم، ثم أقبل علينا، فوعظنا موعظة بليغة ذرفت منها العيون، ووجلت منها القلوب، فقال قائل: يا رسول الله! كأن هذا موعظة مودع، فماذا تعهد إلينا؟ فقال:أوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة، وإن عبد حبشي استعمل عليكم؛ فإنه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافا كثيرا، فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين، تمسكوا بها، وعَضُّوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور؛ فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة» .وروى أبو داود أيضا أن معاذ بن جبل كان لا يجلس مجلسا للذكر إلا قال: " الله حكم قسط، هلك المرتابون، إن وراءكم فتنا يكثر فيها المال، ويفتح فيها القرآن؛ حتى يأخذه المؤمن والمنافق، والرجل والمرأة، والصغير والكبير،
আমরা এই পরিচ্ছেদের শেষে উল্লেখ করব যে, বিদআত যেমন কথার ক্ষেত্রে হয়, তেমনি কাজের ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে।এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা আবু দাউদ তাঁর "সুনান" গ্রন্থে ইরবায ইবনে সারিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, এরপর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন এবং আমাদের এমন এক মর্মস্পর্শী উপদেশ দিলেন যাতে চোখ থেকে অশ্রু বিগলিত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হয়ে উঠল। তখন জনৈক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এটি তো বিদায়ী নসিহতের মতো মনে হচ্ছে, সুতরাং আপনি আমাদের কী অসিয়ত করছেন? তিনি বললেন:আমি তোমাদের আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন এবং শ্রবণ ও আনুগত্য করার অসিয়ত করছি, যদিও তোমাদের ওপর কোনো হাবশী গোলামকেও আমির নিযুক্ত করা হয় তবুও। কারণ আমার পরে তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা প্রচুর মতবিরোধ দেখতে পাবে। এমতাবস্থায় তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে। তোমরা তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখবে। আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নবোদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকবে; কারণ প্রতিটি নবোদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।"আবু দাউদ আরও বর্ণনা করেছেন যে, মুয়াজ ইবনে জাবাল যখনই যিকিরের কোনো মজলিসে বসতেন তখনই বলতেন: "আল্লাহ ন্যায়নিষ্ঠ বিচারক, সন্দেহ পোষণকারীরা ধ্বংস হয়েছে। তোমাদের সামনে এমন সব ফিতনা আসছে যেখানে সম্পদের প্রাচুর্য হবে এবং কুরআন উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে; এমনকি মুমিন ও মুনাফিক, পুরুষ ও নারী এবং ছোট ও বড় সবাই তা গ্রহণ করবে,
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
والحر والعبد، فيوشك قائل أن يقول: ما للناس لا يتبعوني وقد قرأت القرآن؟ ما هم بمُتَّبِعيَّ حتى ابتدع لهم غيره. فإياكم وما ابتُدع؛ فإنما ابتدع ضلالة، وأحذركم زيغة الحكيم؛ فإن الشيطان قد يقول كلمة الضلالة على لسان الحكيم، ويقول المنافق كلمة الحق ".روى أنس قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «أهل البدع هم شر الخلق والخليقة» .وروى البخاري عن أبي واقد الليثي قال: «خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم قِبَلَ خيبر ونحن حديثو عهد بكفر، وللمشركين سدرة يعكفون حولها وينوطون بها أسلحتهم؛ يقال لها: ذات أنواط. فمررنا بسدرة، فقلنا: يا رسول الله! اجعل لنا ذات أنواط كما لهم ذات أنواط. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: الله أكبر! هذا كما قالت بنو إسرائيل: {اجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ} ، لتركبن سَنَنَ من قبلكم....» .فانظروا - رحمكم الله - أينما وجدتم سدرة أو شجرة يقصدها الناس
স্বাধীন ও ক্রীতদাস উভয়ই। অচিরেই কোনো বক্তা হয়তো বলবে: মানুষের কী হয়েছে যে তারা আমাকে অনুসরণ করছে না অথচ আমি কুরআন পাঠ করেছি? তারা ততক্ষণ আমাকে অনুসরণ করবে না যতক্ষণ না আমি তাদের জন্য অন্য কিছু উদ্ভাবন করি। অতএব তোমরা নব-উদ্ভাবিত বিষয় (বিদআত) থেকে বেঁচে থাকো; কেননা যা কিছু নব-উদ্ভাবিত তা ভ্রষ্টতা। আর আমি তোমাদেরকে বিজ্ঞ ব্যক্তির বিচ্যুতি থেকে সতর্ক করছি; কেননা শয়তান কখনো কখনো বিজ্ঞ ব্যক্তির মুখ দিয়ে ভ্রষ্টতার কথা বলিয়ে নেয়, আবার মুনাফিকও সত্য কথা বলে।আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "বিদআতপন্থীরা সৃষ্টিজগত ও মাখলুকাতের মধ্যে নিকৃষ্টতম।"বুখারী আবু ওয়াকিদ আল-লায়সী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে খায়বারের দিকে বের হলাম, তখন আমরা কেবল কুফর ত্যাগ করে ইসলামে এসেছি। মুশরিকদের একটি কুল গাছ ছিল যার চারপাশে তারা অবস্থান করত এবং তাতে তাদের অস্ত্রশস্ত্র লটকে রাখত; একে 'যাতু আনওয়াত' বলা হতো। আমরা একটি কুল গাছের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্যও একটি 'যাতু আনওয়াত' নির্ধারণ করে দিন যেমন তাদের জন্য রয়েছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আল্লাহু আকবার! এটি তো ঠিক তেমনই যেমন বনী ইসরাঈল বলেছিল: {আমাদের জন্য একজন ইলাহ বানিয়ে দিন যেমন তাদের অনেক ইলাহ রয়েছে। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তোমরা এক মূর্খ জাতি}। তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতির অনুসরণ করবে...।"অতএব লক্ষ্য করুন—আল্লাহ আপনাদের প্রতি দয়া করুন—যেখানেই আপনারা এমন কোনো কুল গাছ বা বৃক্ষ দেখবেন যার নিকট মানুষ (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) গমন করে।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ويعظمون من شأنها ويرجون البرء والشفاء من قبلها وينوطون بها المسامير والخرق؛ فهي ذات أنواط؛ فاقطعوها.وروى مسلم في " صحيحيه " أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا يجعل أحدكم للشيطان عليه حقا؛ يرى إذا صلى ألا ينصرف إلا عن يمينه» .وروى مالك في " موطئه " عن واسع بن حبان قال: " انصرفت من الصلاة من قبل شقي الأيسر، فقال لي عبد الله بن عمر: ما منعك أن تنصرف عن يمينك؟ قلت: رأيتك فانصرفت إليك. قال: أصبت. إن قائلا يقول: انصرف عن يمينك، وأنا أقول: انصرف كيف شئت عن يمينك أو عن يسارك ".وروى البخاري في " صحيحيه ": «أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن يصام يوم الجمعة؛ إلا أن يصله بصيام قبله أو بعده» .وروى مسلم في " صحيحيه ": «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن صيام يوم الجمعة وعن قيام ليلتها» .2 - فصل [في تعريف البدعة]فإن قيل لنا: فما أصل البدعة؟
তারা এগুলোর মর্যাদাকে মহিমান্বিত করে এবং এগুলোর মাধ্যমে রোগমুক্তি ও আরোগ্য আশা করে এবং তারা এতে পেরেক ও ন্যাকড়া লটকায়; ফলে তা লটকানোর বৃক্ষ (জাতু আনওয়াত) হয়ে যায়; সুতরাং তোমরা তা কেটে ফেলো।ইমাম মুসলিম তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন নিজের ওপর শয়তানের কোনো অধিকার সাব্যস্ত না করে; অর্থাৎ সে মনে করে যে, যখন সে সালাত আদায় করবে, তখন সে যেন কেবল ডান দিক দিয়েই ফিরে না যায়।"ইমাম মালিক তাঁর 'মুওয়াত্তা' গ্রন্থে ওয়াসি' ইবনে হিব্বান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি সালাত শেষে আমার বাম দিক দিয়ে ফিরেছিলাম। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আমাকে বললেন: তোমাকে তোমার ডান দিক দিয়ে ফিরতে কিসে বাধা দিল? আমি বললাম: আমি আপনাকে দেখেছি, তাই আমি আপনার দিকে ফিরেছি। তিনি বললেন: তুমি ঠিকই করেছ। নিশ্চয়ই জনৈক বক্তা বলে: 'তোমার ডান দিক দিয়ে ফেরো', আর আমি বলি: তুমি যেভাবে চাও ফেরো, চাই তা তোমার ডান দিক দিয়ে হোক কিংবা তোমার বাম দিক দিয়ে।"ইমাম বুখারী তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমুআর দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন; তবে এর আগে বা পরে রোজা রাখার মাধ্যমে এর সাথে যুক্ত করা হলে ভিন্ন কথা।"ইমাম মুসলিম তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমুআর দিনে রোজা রাখতে এবং জুমুআর রাতে ইবাদতের উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হতে নিষেধ করেছেন।"২ - পরিচ্ছেদ [বিদআতের সংজ্ঞায়]যদি আমাদের জিজ্ঞাসা করা হয়: তবে বিদআতের মূল কী?
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৪০)
قلنا: أصل هذه الكلمة من الاختراع، وهو الشيء يحدث من غير أصل سبق، ولا مثال احْتُذِيَ، ولا ألف مثله.ومنه قوله تعالى: {بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} ، وقوله: {قُلْ مَا كُنْتُ بِدْعًا مِنَ الرُّسُلِ} ؛ أي: لم أكن أول رسول إلى أهل الأرض.وهذا الاسم يدخل فيما تخترعه القلوب، وفيما تنطق به الألسنة، وفيما تفعله الجوارح.والدليل على هذا ما سنذكره في أعيان الحوادث من تسمية الصحابة وكافة العلماء بدعا للأقوال والأفعال.
আমরা বলেছি: এই শব্দটির মূল উৎস হলো উদ্ভাবন, আর তা হলো এমন কিছু যা কোনো পূর্ববর্তী মূল বা অনুসরণীয় নমুনা এবং সদৃশ কোনো কিছুর সাথে পরিচিতি ছাড়াই ঘটে থাকে।এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি আসমানসমূহ ও জমিনের অভিনব উদ্ভাবক}, এবং তাঁর বাণী: {বলুন, আমি রাসূলদের মধ্যে প্রথম কেউ নই}; অর্থাৎ: আমিই পৃথিবীবাসীদের কাছে প্রেরিত প্রথম রাসূল নই।এই সংজ্ঞাটি ঐসব বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যা অন্তর উদ্ভাবন করে, জিহ্বা উচ্চারণ করে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পাদন করে।এর প্রমাণ হলো যা আমরা বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনায় উল্লেখ করব, যেখানে সাহাবীগণ এবং সমস্ত আলেমগণ বিভিন্ন কথা ও কাজকে 'বিদআত' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الباب الثالثمنهاج الصحابة في إنكار البدعوترك ما يؤدي إليها* فمن ذلك ما روى البخاري في كتاب الصلاة عن أم الدرداء؛ قالت: دخل علي أبو الدرداء مغضبا، فقلت له: ما لك؟ فقال: والله ما أعرف فيهم شيئا من أمر محمد إلا أنهم يصلون جميعا.وروى مالك في " الموطإ " عن عمه أبي سهيل بن مالك عن أبيه أنه قال: " ما أعرف شيئا مما أدركت عليه الناس إلا النداء بالصلاة ".يعني: الصحابة.وذلك أنه أنكر أكثر أفعال أهل عصره، ورآها مخالفة لما أدرك من أفعال الصحابة.وكذلك أبو الدرداء أنكر ما أدرك بعد موت النبي صلى الله عليه وسلم ولم يعرفه من أحوال رسول الله صلى الله عليه وسلم.وقال الزهري: " دخلت على أنس بدمشق وهو يبكي، فقلت له: ما يبكيك؟ فقال: ما أعرف شيئا مما أدركت إلا هذه الصلاة، وهذه الصلاة قد
তৃতীয় অধ্যায়বিদআত বর্জন এবং বিদআতের দিকে ধাবিতকারী বিষয়সমূহ ত্যাগের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের কর্মপন্থা* এর একটি উদাহরণ হলো যা ইমাম বুখারি তাঁর সালাত অধ্যায়ে উম্মুদ দারদা থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাগান্বিত অবস্থায় আমার নিকট প্রবেশ করলেন, তখন আমি তাঁকে বললাম: আপনার কী হয়েছে? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি তাঁদের মধ্যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রদর্শিত বিষয়ের কোনো কিছুই আর দেখতে পাচ্ছি না, কেবল এইটুকু ছাড়া যে তাঁরা একত্রে সালাত আদায় করেন।এবং ইমাম মালিক তাঁর "মুওয়াত্তা" গ্রন্থে তাঁর চাচা আবু সুহাইল ইবনে মালিক থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "মানুষকে আমি যে অবস্থায় পেয়েছিলাম, এখন সালাতের আযান ছাড়া তার আর কিছুই আমি চিনতে পারছি না।"অর্থাৎ: সাহাবায়ে কেরাম।এর কারণ হলো তিনি তাঁর সমসাময়িক লোকদের অধিকাংশ কাজকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সেগুলোকে সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকে যা তিনি পেয়েছিলেন তার বিপরীত হিসেবে দেখেছেন।একইভাবে আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর এমন কিছু বিষয় অপছন্দ করেছিলেন যা তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে চিনতেন না।যুহরী বলেন: "আমি দামেস্কে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট প্রবেশ করলাম এমতাবস্থায় যে তিনি কাঁদছিলেন। আমি তাঁকে বললাম: আপনি কেন কাঁদছেন? তিনি বললেন: আমি (সাহাবীদের যুগে) যা পেয়েছিলাম তার কোনো কিছুই এখন আর চিনতে পারছি না কেবল এই সালাতটুকু ছাড়া; আর এই সালাতকেও এখন..."
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৪২)
ضيعت ".وفي لفظ آخر أنه قال: " ما كنت أعرف شيئا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا قد أنكرته اليوم ".وقال الحسن: " سأل أبا الدرداء رجلٌ، فقال: رحمك الله! لو أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بين أظهرنا؛ هل كان ينكر شيئا مما نحن عليه؟ فغضب واشتد غضبه، ثم قال: وهل كان يعرف شيئا مما أنتم عليه؟ ! ".وقال المبارك بن فَضَالَةَ: " صلى الحسن الجمعة، ثم جلس فبكى، فقيل له: ما يبكيك يا أبا سعيد؟ ! فقال: تلومونني على البكاء ولو أن رجلا من المهاجرين اطلع من باب مسجدكم؛ ما عرف شيئا مما كانوا عليه على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم مما أنتم اليوم عليه؛ إلا قِبْلَتَكُمْ هذه؟ ! ".وروى البخاري عن أنس قال: إنكم لتعملون أعمالا هي أدق في أعينكم من الشعر، إن كنا لنعدها على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم من الموبقات.فانظروا - رحمكم الله - إذا كان في ذلك الزمان طمس الحق وظهر الباطل حتى لا يعرف من الأمر القديم إلا القبلة؛ فما ظنك بزمانك هذا؟ !والله المستعان.* ومن ذلك قصة عثمان بن عفان رضي الله عنه، وذلك أنه كان لا يقصر في السفر، فيقال له: أليس قصرت مع النبي صلى الله عليه وسلم؟ فيقول: " بلى! ولكني إمام الناس، فينظر إليَّ الأعراب وأهل البادية أصلي ركعتين فيقولون: هكذا فرضت "!
...হারিয়ে ফেলেছ।"অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে তিনি বলেছেন: "আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে যা কিছু আমি চিনতাম, আজ তার সবকিছুকেই আমি অপরিচিত মনে করি।"হাসান বলেন: "এক ব্যক্তি আবু দারদাকে জিজ্ঞাসা করলেন: আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন! আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি আমাদের মাঝে থাকতেন, তবে কি তিনি আমাদের বর্তমান অবস্থার কোনো কিছুকে অপছন্দ করতেন? এতে তিনি ভীষণ ক্রোধান্বিত হলেন এবং বললেন: তোমরা যা করছ, তার কোনো কিছু কি তিনি চিনতেন?!"মুবারক বিন ফাদালাহ বলেন: "হাসান জুমার নামাজ আদায় করার পর বসে কাঁদলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আবু সাঈদ! আপনাকে কিসে কাঁদালো? তিনি বললেন: তোমরা আমার কান্নার জন্য আমাকে ভর্ৎসনা করছ, অথচ যদি মুহাজিরদের কোনো ব্যক্তি তোমাদের এই মসজিদের দরজা দিয়ে উঁকি দিতেন, তবে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে তাঁরা যা কিছুর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন তার কিছুই তোমাদের বর্তমান অবস্থার মাঝে খুঁজে পেতেন না; কেবল তোমাদের এই কিবলাটি ছাড়া!"ইমাম বুখারী আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই তোমরা এমন সব কাজ করছ যা তোমাদের দৃষ্টিতে চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম (সামান্য), অথচ আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে সেগুলোকে ধ্বংসাত্মক পাপ বলে গণ্য করতাম।"সুতরাং লক্ষ্য করুন—আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন—যদি সেই যুগেই সত্য বিলুপ্ত হয়ে থাকে এবং মিথ্যার প্রকাশ ঘটে থাকে, এমনকি পূর্ববর্তী বিষয়ের মধ্য থেকে কিবলা ছাড়া আর কিছুই চেনা যাচ্ছিল না; তবে আপনার এই বর্তমান যুগ সম্পর্কে আপনার ধারণা কী?!আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।* এর অন্তর্ভুক্ত হলো উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঘটনা। আর তা হলো এই যে, তিনি সফরে নামাজ কসর করতেন না। তাঁকে বলা হলো: আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কসর করেননি? তিনি বললেন: "হ্যাঁ! তবে আমি মানুষের ইমাম। গ্রামবাসী ও মরুচারীরা যখন আমাকে দুই রাকাত নামাজ পড়তে দেখবে, তখন তারা বলবে: এভাবেই ফরজ করা হয়েছে!"
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
تأملوا - رحمكم الله -؛ فإن في القصر قولين لأهل الإسلام:منهم من يقول: فريضة، ومن أتم؛ فإنه يأثم ويعيد أبدا.ومنهم من يقول: سنة، يعيد من أتم في الوقت.ثم اقتحم عثمان ترك الفرض أو السنة لما خاف من سوء العاقبة، وأن يعتقد الناس أن الفرض ركعتان.* ومنه قصة الأضحية:قال حذيفة بن أسيد: " شهدت أبا بكر وعمر، وكانا لا يضحيان؛ مخافة أن يرى أنها واجبة ".وقال بلال: " لا أبالي أن أضحي بكبش أو بديك ".وعن ابن عباس: أنه كان يشتري لحما بدرهمين يوم الأضحى، ويقول لعكرمة: " من سألك؛ فقل له: هذه أضحية ابن عباس ".قال أبو مسعود البدري: " إني لأترك أضحيتي وإني لمن أيسركم؛ مخافة أن يظن الجيران أنها واجبة ".وقال طاوس: " ما رأيت بيتا أكثر لحما وخبزا من بيت ابن عباس؛ يذبح وينحر كل يوم، ثم لا يذبح يوم العيد، وإنما كان يفعل ذلك؛ لئلا يظن الناس أنها واجبة، وكان إماما يُقتَدى به ".وقال أبو أيوب الأنصاري: " كنا نضحي عن النساء وأهلينا، فلما تباهى الناس بذلك؛ تركناها ".انظروا - رحمكم الله -؛ فإن القول في هذا الأثر كالقول فيما قبله؛ فإن
চিন্তা করে দেখুন—আল্লাহ আপনাদের উপর রহম করুন—; কেননা (সালাত) কসর করার ব্যাপারে ইসলামের অনুসারীদের মাঝে দুটি মত রয়েছে:তাঁদের কেউ বলেন: এটি ফরজ, আর যে পূর্ণ (সালাত আদায়) করবে; সে গুনাহগার হবে এবং তা সর্বদা পুনরায় আদায় করবে।আবার তাঁদের কেউ বলেন: এটি সুন্নাত, যে পূর্ণ করবে সে ওয়াক্তের ভেতরে পুনরায় আদায় করবে।এরপর উসমান (রা.) মন্দ পরিণতির আশঙ্কায় এবং মানুষ যেন ফরজ দুই রাকাত মনে না করে বসে, সেই ভয়ে ফরজ কিংবা সুন্নাত (কসর) ত্যাগ করার মতো কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।* এরই অন্তর্ভুক্ত হলো কুরবানির ঘটনা:হুজাইফা বিন আসিদ (রা.) বলেন: "আমি আবু বকর ও উমরকে (রা.) দেখেছি, তাঁরা কুরবানি করতেন না; এই আশঙ্কায় যে পাছে একে ওয়াজিব মনে করা হয়।"বিলাল (রা.) বলেন: "আমি একটি ভেড়া নাকি একটি মোরগ কুরবানি করছি, তাতে আমি কোনো পরোয়া করি না।"ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি কুরবানির দিন দুই দিরহাম দিয়ে গোশত কিনতেন এবং ইকরিমাকে বলতেন: "যে তোমাকে জিজ্ঞেস করবে, তাকে বলো: এটি ইবনে আব্বাসের কুরবানি।"আবু মাসউদ আল-বাদরি (রা.) বলেন: "আমি আমার কুরবানি করা ত্যাগ করি অথচ আমি আপনাদের মধ্যে সামর্থ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত; এই আশঙ্কায় যে প্রতিবেশীরা পাছে একে ওয়াজিব মনে করে।"তাউস বলেন: "আমি ইবনে আব্বাসের (রা.) ঘরের চেয়ে বেশি গোশত ও রুটি অন্য কোনো ঘরে দেখিনি; তিনি প্রতিদিন পশু জবেহ ও নহর করতেন, অথচ ঈদের দিন জবেহ করতেন না। তিনি কেবল এটি এ জন্যই করতেন যেন মানুষ একে ওয়াজিব মনে না করে; আর তিনি ছিলেন একজন অনুসরণীয় ইমাম।"আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) বলেন: "আমরা নারীদের ও আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানি করতাম, এরপর মানুষ যখন এ নিয়ে লোকদেখানো শুরু করল, তখন আমরা তা ছেড়ে দিলাম।"লক্ষ্য করুন—আল্লাহ আপনাদের উপর রহম করুন—; কেননা এই বর্ণনার বিষয়টিও তার পূর্ববর্তী বর্ণনার মতোই; কারণ
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
لأهل الإسلام قولين في الأضحية:أحدهما: سنة.والثاني: واجبة.ثم اقتحم الصحابة ترك السنة؛ حذرا أن يضع الناس الأمر على غير وجهه، فيعتقدونها فريضة.وقال ابن عباس: " ما من عام إلا تظهر فيه بدعة وتموت فيه سنة، حتى تظهر البدع وتموت السنن ".* ومن " صحيح مسلم ": قال مجاهد: " دخلت أنا وعروة بن الزبير المسجد، فإذا عبد الله بن عمر مستند إلى حجرة عائشة رضي الله عنها، وإذا الناس في المسجد يصلون الضحى، فقلنا: ما هذه الصلاة؟ فقال: بدعة ".ومحمله عندي على أحد وجهين:إما أنهم كانوا يصلون جماعة.وإما أنهم كانوا يصلونها معا أفذاذا على هيئة النوافل في أعقاب الفرائض.* وروى مالك في " موطئه " عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: «لو»
কুরবানির বিষয়ে ইসলামের অনুসারীদের মাঝে দুইটি মত রয়েছে:একটি হলো: এটি সুন্নাত।দ্বিতীয়টি হলো: এটি ওয়াজিব (আবশ্যক)।অতঃপর সাহাবীগণ সুন্নাত বর্জনের সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন; এই আশঙ্কায় যে, মানুষ বিষয়টিকে ভুলভাবে গ্রহণ করে একে ফরজ মনে করে বসবে।ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন: "এমন কোনো বছর নেই যাতে কোনো বিদআত প্রকাশ পায় না এবং কোনো সুন্নাত বিলুপ্ত হয় না; এমনকি একসময় বিদআতসমূহ ছেয়ে যায় এবং সুন্নাতসমূহ বিলুপ্ত হয়ে যায়।"* এবং "সহীহ মুসলিম" হতে বর্ণিত: মুজাহিদ (রহ.) বলেন: "আমি এবং উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযি.) আয়েশা (রাযি.)-এর কামরার সাথে হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। আর মানুষ মসজিদে চাশতের (দোহা) সালাত আদায় করছিল। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম: এটি কী সালাত? তিনি বললেন: বিদআত।"আমার নিকট এর তাৎপর্য দুইটি বিষয়ের কোনো একটি হতে পারে:হয়তো তারা জামাতের সাথে সালাত আদায় করছিলেন।অথবা তারা সকলে মিলে ব্যক্তিগতভাবে ফরজের পরবর্তী নফল সালাতের ন্যায় তা আদায় করছিলেন।* ইমাম মালিক তাঁর "মুয়াত্তা" গ্রন্থে আয়েশা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "যদি"
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
«رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم ما أحدث النساء بعده؛ لمنعهن المساجد كما مُنِعَهُ نِسَاءُ بني إسرائيل» .قالت عائشة رضي الله عنها في " مصنف عبد الرزاق " -: «وكان نساء بني إسرائيل يتخذن أرجلا من خشب؛ ليشرفن بها على الرجال في المساجد، فحرم الله عليهن المساجد، وسلط عليهن الحيض» .وقال ابن مسعود: " كان رجال بني إسرائيل ونساؤهم يصلون جميعا، فإذا كان للمرأة خليل؛ لبست القالبين من خشب تطول بهما لخليلها، فألقي عليهن الحيض ".وكان ابن مسعود يقول: " أخروهن من حيث أخرهن الله ".وكان لإبراهيم ثلاث نسوة، ما صلت واحدة منهن في مسجد الحي.وقال الليث: " إنما منع نساء بني إسرائيل المساجد؛ لأنهن أكثرن التطيب، حتى إن إحداهن كانت تملأ يديها مسكا، فإذا مرت بمسجد فيه رجال؛ مالت بيدها كأنها تسوي ثيابها، فرمت به على الرجال ".هذا قول عائشة، وهي تعلم أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا تمنعوا إماء الله مساجد الله» ، فرأت ترك السنة؛ حذرا من التذرع إلى الباطل.قال علماؤنا: والذي أنكرت عائشة على نساء المسلمين: التطيب،
«রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পরে নারীরা যা কিছু নতুনভাবে তৈরি করেছে তা যদি দেখতেন, তবে তিনি তাদের মসজিদে আসা নিষিদ্ধ করতেন যেমনভাবে বনী ইসরাঈলের নারীদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।» .আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) "মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক"-এ বলেছেন: «বনী ইসরাঈলের নারীরা কাঠের তৈরি পা (খড়ম) ব্যবহার করত যাতে তারা এর মাধ্যমে মসজিদে পুরুষদের ওপর উঁকি দিয়ে দেখতে পারে। ফলে আল্লাহ তাদের জন্য মসজিদে আসা হারাম করে দিলেন এবং তাদের ওপর মাসিক (ঋতুস্রাব) চাপিয়ে দিলেন।» .ইবনে মাসউদ বলেন: "বনী ইসরাঈলের পুরুষ ও নারীরা একত্রে সালাত আদায় করত। যখন কোনো নারীর কোনো প্রেমিক থাকত, তখন সে কাঠের তৈরি দুটি পাদুকা পরিধান করত যার মাধ্যমে সে তার প্রেমিকের জন্য নিজেকে লম্বা দেখাত। অতঃপর তাদের ওপর মাসিক চাপিয়ে দেওয়া হলো।" .ইবনে মাসউদ বলতেন: "তাদেরকে পেছনে রাখো যেখান থেকে আল্লাহ তাদের পেছনে রেখেছেন।" .ইবরাহীমের তিনজন স্ত্রী ছিলেন, তাদের কেউই মহল্লার মসজিদে সালাত আদায় করতেন না। .লায়স বলেন: "বনী ইসরাঈলের নারীদের মসজিদে আসা থেকে মূলত এজন্যই নিষেধ করা হয়েছিল যে, তারা অত্যধিক সুগন্ধি ব্যবহার করত। এমনকি তাদের কেউ তার দুই হাত কস্তুরী দিয়ে পূর্ণ করে নিত; অতঃপর সে যখন এমন কোনো মসজিদের পাশ দিয়ে যেত যেখানে পুরুষরা থাকত, সে তার হাত এমনভাবে দোলাত যেন সে তার কাপড় ঠিক করছে, আর এভাবে সে পুরুষদের ওপর সুগন্ধি ছিটিয়ে দিত।" .এটি আয়েশার বক্তব্য, অথচ তিনি জানতেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা আল্লাহর দাসীদের আল্লাহর মসজিদে আসতে বাধা দিও না»; তাসত্ত্বেও তিনি বাতিলের পথ উন্মোচিত হওয়ার আশঙ্কায় সুন্নাহর ওপর আমল বর্জন করাকেই সমীচীন মনে করেছেন। .আমাদের আলিমগণ বলেন: আয়েশা মুসলিম নারীদের যে বিষয়টি অপছন্দ করেছেন তা হলো: সুগন্ধি ব্যবহার করা,
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
والتجمل، وقلة الستر والملابس، وإنما كن في زمان النبي صلى الله عليه وسلم يلبسن المروط فيخرجن بها متلفعات، وقد قال الرسول صلى الله عليه وسلم: «إذا شهدت إحداكن صلاة العشاء؛ فلا تمسن طيبا» .وأعظم من ذلك ما يوجد اليوم في هذا الختم من اختلاط الرجال والنساء وازدحامهم وتلاصق أجساد بعضهم ببعض، حتى بلغني أن رجلا ضم امرأة من خلفها فعبث بها في مزدحم الناس!وجاءت إلينا امرأة تشكو، فقالت: حضرت عند الواعظ في المسجد الجامع، فاحتضنني رجل من خلفي والتذ مني في مزدحم الناس، فما حال بينه وبين ذلك مني إلا الثياب! ! فأقسمتْ ألا تحضره أبدا.وروى مالك في " موطئه " عن ابن عمر: " أنه رأى رجلا يدعو ويشير بأصبعين، أصبع من كل يد، فنهاه ".
এবং সাজসজ্জা, আবরক ও পোশাকের স্বল্পতা; অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মহিলারা পশমি চাদর পরিধান করত এবং তাতে নিজেদের সর্বাঙ্গ আবৃত করে বের হতো। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কোনো নারী যখন এশার সালাতে উপস্থিত হবে, তখন সে যেন সুগন্ধি স্পর্শ না করে।"এর চেয়েও ভয়াবহ বিষয় হলো বর্তমান সময়ে এই খতমের অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, প্রচণ্ড ভিড় এবং একে অপরের শরীরের সাথে শরীর লেগে যাওয়া। এমনকি আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি মানুষের ভিড়ের মধ্যে পেছন থেকে এক নারীকে জাপটে ধরে তার সাথে অশালীন আচরণ করেছে!এক নারী আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে এসে বলল: আমি জামে মসজিদে আলোচকের মজলিসে উপস্থিত হয়েছিলাম, তখন মানুষের ভিড়ের মধ্যে পেছন থেকে এক ব্যক্তি আমাকে জড়িয়ে ধরে কামস্পৃহা চরিতার্থ করল; আমার পোশাক ছাড়া তার আর আমার মাঝে কোনো আড়াল ছিল না! তখন সে শপথ করল যে, সে আর কখনো সেখানে উপস্থিত হবে না।ইমাম মালিক তাঁর "মুয়াত্তা" গ্রন্থে ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "তিনি এক ব্যক্তিকে দুআ করতে দেখলেন যে সে দুই হাতের দুই আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করছিল, তখন তিনি তাকে তা করতে নিষেধ করলেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
بابفي صلاة التراويح وأحكامهاوكيف كان بدؤها ومستقرهاأعلم أن الأصل في صلاة التراويح ما رواه مالك في " موطئه " والبخاري ومسلم وأبو داود في " سننه " عن أبي هريرة قال: «كان النبي صلى الله عليه وسلم يرغب في قيام رمضان؛ من غير أن يأمر بعزيمة، ثم يقول: من صام رمضان إيمانا واحتسابا؛ غفر له ما تقدم من ذنبه» .وروي: «من قام رمضان» .قال ابن شهاب: " فتوفي النبي صلى الله عليه وسلم والأمر على ذلك في خلافة أبي بكر وصدر من خلافة عمر ".وروت عائشة رضي الله عنها: «أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى في المسجد، فصلى بصلاته ناس، ثم صلى من القابلة، فكثر الناس، ثم اجتمعوا من الليلة الثالثة أو الرابعة، فلم يخرج إليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلما أصبح؛ قال: قد رأيت الذي صنعتم، ولم يمنعني من الخروج إليكم إلا أني خشيت أن يفرض عليكم» .وذلك في رمضان.
পরিচ্ছেদতারাবিহ সালাত ও এর বিধানাবলী সম্পর্কেএবং এর সূচনা ও স্থায়িত্ব কীভাবে হয়েছিল সে সম্পর্কেজেনে রাখুন যে, তারাবিহ সালাতের মূল ভিত্তি হলো যা মালেক তাঁর "মুয়াত্তা" গ্রন্থে এবং বুখারি, মুসলিম ও আবু দাউদ তাঁদের "সুনান" গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজানের কিয়ামের (রাত্রিকালীন ইবাদত) ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন; তবে তিনি তা পালনের জন্য আবশ্যিক নির্দেশ প্রদান করতেন না। অতঃপর তিনি বলতেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে»।এবং বর্ণিত হয়েছে: «যে ব্যক্তি রমজানের কিয়াম করবে»।ইবনে শিহাব বলেন: "অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করেন এবং বিষয়টি এভাবেই বলবৎ ছিল আবু বকরের খিলাফতকালে এবং উমরের খিলাফতের প্রথমাংশে"।আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে সালাত আদায় করলেন, তখন কিছু মানুষ তাঁর সাথে সালাত আদায় করল। অতঃপর তিনি পরবর্তী রাতেও সালাত আদায় করলেন এবং মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। এরপর তারা তৃতীয় বা চতুর্থ রাতে একত্রিত হলেন, কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিকট বের হয়ে আসলেন না। যখন ভোর হলো, তখন তিনি বললেন: তোমরা যা করেছ আমি তা দেখেছি, আর তোমাদের নিকট বের হতে আমাকে কেবল এই আশঙ্কাই বাধা প্রদান করেছে যে, পাছে তা তোমাদের ওপর ফরজ করে দেওয়া হয়»।আর তা ছিল রমজান মাসে।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
رواه مالك وأبو داود.وروته عائشة رضي الله عنها أيضا؛ قالت: «كان الناس يصلون في المسجد في رمضان أوزاعا، فأمرني رسول الله صلى الله عليه وسلم، فضربت له حصيرا، فصلى عليه … » .وساقت القصة إلى أن قال النبي صلى الله عليه وسلم: «أيها الناس! أما والله ما بت ليلتي هذه بحمد الله غافلا، ولا خفي علي مكانكم … » .وروى أبو ذر؛ قال: «صمنا مع النبي صلى الله عليه وسلم رمضان فلم يقم بنا شيئا من الشهر حتى بقي سبع فقام بنا حتى ذهب ثلث الليل، فلما كانت السادسة لم يقم بنا، فلما كانت الخامسة قام بنا حتى ذهب شطر الليل، فقلت: يا رسول الله! لو نفلتنا قيام هذه الليلة. فقال: إن الرجل إذا صلى مع الإمام حتى ينصرف؛ حسب له قيام الليلة، فلما كانت الرابعة لم يقم بنا، فلما كانت الثالثة جمع أهله ونساءه والناس، فقام بنا حتى خشينا أن يفوتنا الفلاح - قلت: وما الفلاح؟ قال: السَّحُورُ -، ثم لم يقم بنا بقية الشهر» .وروت عائشة رضي الله عنها: «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا دخل العشر الأواخر؛ أحيى الليل، وشد المئزر، وأيقظ أهله» .
মালিক ও আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন।আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকেও বর্ণিত হয়েছে; তিনি বলেছেন: “রমজান মাসে মানুষ মসজিদে দলে দলে বিচ্ছিন্নভাবে নামাজ পড়ত। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে নির্দেশ দিলেন, ফলে আমি তাঁর জন্য একটি চাটাই বিছিয়ে দিলাম এবং তিনি তার ওপর নামাজ পড়লেন … ”।তিনি ঘটনাটি বর্ণনা করতে থাকলেন যতক্ষণ না নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “হে লোকসকল! আল্লাহর কসম, আল্লাহর প্রশংসাসহ আমি আমার এই রাতে গাফেল হয়ে কাটাইনি এবং তোমাদের অবস্থানও আমার কাছে গোপন ছিল না … ”।আবু যার বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: “আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে রমজানের রোজা পালন করলাম, কিন্তু মাসের সাত দিন বাকি থাকা পর্যন্ত তিনি আমাদের নিয়ে (রাতের) নামাজ পড়ালেন না। অতঃপর (সপ্তম অবশিষ্ট রাতে) তিনি আমাদের নিয়ে নামাজ পড়ালেন যতক্ষণ না রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হলো। যখন ষষ্ঠ (অবশিষ্ট) রাত এল, তিনি আমাদের নিয়ে দাঁড়ালেন না। যখন পঞ্চম (অবশিষ্ট) রাত এল, তিনি আমাদের নিয়ে নামাজ পড়ালেন যতক্ষণ না অর্ধেক রাত অতিবাহিত হলো। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি যদি এই রাতের বাকি অংশে আমাদের জন্য আরও নফল নামাজ পড়াতেন। তিনি বললেন: কোনো ব্যক্তি যখন ইমামের সাথে তিনি শেষ করা পর্যন্ত নামাজ পড়ে, তবে তার জন্য পূর্ণ রাত কিয়ামের (ইবাদতের) সওয়াব গণ্য করা হয়। এরপর যখন চতুর্থ (অবশিষ্ট) রাত এল, তিনি আমাদের নিয়ে দাঁড়ালেন না। যখন তৃতীয় (অবশিষ্ট) রাত এল, তিনি তাঁর পরিবার, স্ত্রীগণ এবং লোকজনকে একত্রিত করলেন এবং আমাদের নিয়ে নামাজ পড়ালেন, এমনকি আমাদের ভয় হতে লাগল যে আমরা ‘ফালাহ’ হারিয়ে ফেলব। — আমি জিজ্ঞাসা করলাম: ফালাহ কী? তিনি বললেন: সাহরি — অতঃপর তিনি মাসের বাকি দিনগুলোতে আর আমাদের নিয়ে নামাজ পড়াননি।”আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেছেন: “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন (রমজানের) শেষ দশকে প্রবেশ করতেন; তখন রাত্রি জাগরণ করতেন, ইবাদতের জন্য কোমর শক্ত করে বাঁধতেন এবং তাঁর পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন।”
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وروى أبو هريرة؛ قال: «خرج النبي صلى الله عليه وسلم فإذا الناس في رمضان يصلون في ناحية المسجد، فقال: ما هؤلاء؟. فقيل: هؤلاء ناس ليس معهم قرآن، وأبي بن كعب يصلي [بهم] ، وهم يصلون بصلاته. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: أصابوا، ونعم ما صنعوا» .قال أبو داود: " هذا الحديث ليس بالقوي، يرويه مسلم بن خالد الزنجي، وهو ضعيف ".وروى مالك في " موطئه " عن أبي سلمة أنه سأل عائشة رضي الله عنها: «كيف كانت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان؟ فقالت: ما كان النبي صلى الله عليه وسلم يزيد في رمضان ولا في غيره على إحدى عشرة ركعة، يصلي أربعا فلا تسأل عن حسنهن وطولهن، ثم يصلي أربعا فلا تسأل عن حسنهن وطولهن، ثم يصلي ثلاثا. فقلت: يا رسول الله! أتنام قبل أن توتر؟ فقال: إن عيني تنامان ولا ينام قلبي» .
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এবং দেখলেন যে রমজান মাসে মানুষ মসজিদের এক পাশে সালাত আদায় করছে। তিনি বললেন: এরা কারা? বলা হলো: এরা এমন লোক যাদের কুরআন মুখস্থ নেই, আর উবাই ইবনে কাব তাদের নিয়ে সালাত আদায় করছেন এবং তারা তাঁর সালাতের সাথে সালাত আদায় করছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তারা সঠিক করেছে এবং তারা যা করেছে তা কতই না উত্তম!»।আবু দাউদ বলেন: "এই হাদিসটি শক্তিশালী নয়, এটি মুসলিম ইবনে খালিদ আজ-জানজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি দুর্বল।"মালেক তাঁর "মুওয়াত্তা"-এ আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: «রমজান মাসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত কেমন ছিল? তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানে বা অন্য সময়ে এগারো রাকাতের বেশি পড়তেন না। তিনি চার রাকাত পড়তেন, এর সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না; তারপর চার রাকাত পড়তেন, এর সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না; অতঃপর তিন রাকাত পড়তেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বিতর পড়ার আগে ঘুমান? তিনি বললেন: আমার দু’চোখ ঘুমায় কিন্তু আমার অন্তর ঘুমায় না»।
(খণ্ড: ১)
আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা
(পৃষ্ঠা: ৫০)
وروى مالك في " موطئه " عن عبد الرحمن بن عبد القاري أنه قال: «خرجنا مع عمر بن الخطاب في رمضان إلى المسجد، فإذا الناس أوزاع متفرقون؛ يصلي الرجل لنفسه، ويصلي بصلاته الرهط، فقال عمر: والله إني لأراني لو جمعت هؤلاء على قارئ واحد؛ لكان أمثل. فجمعهم على أبي بن كعب. قال: ثم خرجت معه ليلة أخرى والناس يصلون بصلاة قارئهم، فقال: نعمت البدعة هذه، والتي ينامون عنها أفضل من التي يقومون» .يعني: آخر الليل، وكان الناس يقومون أوله.وقال أبو أمامة الباهلي: " ابتدعتم قيام شهر رمضان ولم يكتب عليكم، فدوموا عليه إذا فعلتموه؛ فإن ناسا من بني إسرائيل ابتدعوا بدعا، ولم يراعوها، فعابهم الله تعالى بتركها "، ثم قرأ: {وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا} إلى آخر الآية.
মালিক তার "মুয়াত্তা"-এ আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল ক্বারী থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: "আমরা রমজান মাসে উমর ইবনে খাত্তাবের সাথে মসজিদের দিকে বের হলাম। তখন দেখলাম মানুষ বিচ্ছিন্ন দলে বিভক্ত; কেউ একা নামাজ পড়ছে, আবার কেউ এমনভাবে নামাজ পড়ছে যে একদল লোক তার পেছনে নামাজ পড়ছে। তখন উমর বললেন: আল্লাহর কসম, আমি মনে করি যদি আমি এদের সবাইকে একজন ক্বারীর পিছনে একত্রিত করে দিতাম, তবে তা অধিক উত্তম হতো। অতঃপর তিনি তাদের উবাই ইবনে কাবের পিছনে একত্রিত করে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর অন্য এক রাতে আমি তাঁর সাথে বের হলাম এবং মানুষ তাদের ইমামের পিছনে নামাজ পড়ছিল। তখন তিনি বললেন: এটি কতই না চমৎকার বিদআত! আর তারা যে সময় ঘুমিয়ে থাকে (রাতের শেষ অংশ), তা তারা যে সময় নামাজ পড়ছে (রাতের প্রথম অংশ), তার চেয়ে অধিক উত্তম।"অর্থাৎ: রাতের শেষ অংশ, কারণ মানুষ রাতের প্রথম অংশে নামাজ পড়ছিল।আবু উমামাহ আল-বাহিলি বলেছেন: "তোমরা রমজান মাসের কিয়াম (নামাজ) উদ্ভাবন করেছ অথচ এটি তোমাদের ওপর ফরজ করা হয়নি। সুতরাং তোমরা যখন এটি করা শুরু করেছ, তখন এতে অবিচল থাকো। কেননা বনী ইসরাঈলের কিছু লোক নতুন প্রথা উদ্ভাবন করেছিল কিন্তু তারা তার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করেনি। ফলে আল্লাহ তাআলা তা বর্জন করার কারণে তাদের নিন্দা করেছেন।" অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: "আর বৈরাগ্যবাদ, তারা তা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছিল; আমি তা তাদের ওপর ফরজ করিনি, কিন্তু তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তা করেছিল; অথচ তারা তা যথাযথভাবে পালন করেনি" - আয়াতের শেষ পর্যন্ত।