(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: -)
شرح منظومة الإيمان   (عصام البشير المراكشي)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح منظومة الإيمان

المؤلف: البشير بن محمد عصام المسفيوي المراكشي

[الكتاب مرقم آليا]

عدد الصفحات: 217

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শারহ মানযুমাতুল ইমান   (ইসাম আল-বাশির আল-মাররাকুশি)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: শারহ মানযুমাতুল ইমান

লেখক: আল-বাশির বিন মুহাম্মাদ ইসাম আল-মাসফিউয়ি আল-মাররাকুশি

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৭

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ১)
شرحُ منظومة الإيمان

المسماة: "قلائد العقيان بنظم مسائل الإيمان"

 

كلاهما: لأبي محمد عصام البشير المراكشي

 

شكر وتحية:

 

إلى والدَيَّ الكريمين الذين ربياني على معاني الإيمان الراسخة…

إلى أمِّ عطية التي ساعدتني كثيرا في إعداد هذا الكتاب…

إلى أبي الفاروق الذي تابع المشروع من أوله، وله علي أفضال كثيرة…

إلى شيخي أبي الفضل الذي شجعني كثيرا على إتمام الكتاب، ثم قام بمراجعته والتقديم له…

إلى أهل التوحيد في كل مكان…

 

مقدمة

بقلم الشيخ أبي الفضل عمر بن مسعود الحدوشي

 

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين والعاقبة للمتقين ولا عدوان إلا على الظالمين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم.

وبعد: فقد سعدت منذ سنوات بمعرفة نخبة من طلبة العلم أذلال عائض وسلمان وسفر في تأجج نهيتهم، وتوقد حجاهم، وحصافة رأيهم، وفسيح خيالهم، وخصب عطائهم، وجسارة عقلهم، وشجاعة قلبهم، نحسبهم كذلك ولا نزكيهم على الله. منحهم الله نبراس النبوغ، ومصباح الإرهاف الحسي، واليراع السيال، والحكمة البليغة، والتأمل والتدبر والإمعان والإنعام في آي رب الأنام، يحلون فيها كل غامض، ويفتحون كل مغلق، ويفسرون كل معجم، ويبينون كل مجمل، ويوضحون كل مبهم، ويقيدون كل مطلق، ويخصصون كل عموم، ويميزون الناسخ من المنسوخ، ويوضحون كل ظاهر، ويحذرون من زغل العلوم، ومن اللمة والشرذمة الضالة المضلة، وينيرون الذاكرة النقية، ويغسلون الضمائر من أوضار وأضرار البدع والمحدثات، ويطهرون الأنوطة من أدران الشرك، وينظفون الفؤاد من أخباث النفاق، ويصقلون الصدور من أوساخ الإلحاد، يدبجون في (دفاترهم) (1)

--------------------------------------------

(1) - وقديما قيل: (ما حفظ فر، وما كتب قر) ، والأفضل الجمع بينهما لأن للكتب آفات.

… عليك بالحفظ دون الجمع في كتب … ... … فإن للكتب آفات تفرقها

 

… الماء يغرقها والنار تحرقها … ... … والفأر يخرقها واللص يسرقها

ومن طرائف ما يروى في المحافظة على الكتب وأوراق العلم ما يرويه المبرد: (أن رجلا أتى الأصمعي فسأله أن يكتب له شيئا من العلم فكتبه له، فلما كان بعد أيام عاد إليه فقال: يا أبا سعيد إن ذلك القرطاس الذي كتبته لي سقط مني فأكلته الشاة، فأحب أن تكتب لي غيره ثانيا، فكتب له، وكتب أيضا:

… قل لبغاة الآداب ما وصلت … ... منها إليكم فلا تضيعوها

… ضمنوا علمها الدفاتر والحبر … ... بحسن الكتاب أوعوها

… إن اشتريتم يوما لأهلكم … ... شاة لبونا فلا تجيعوها

… فإن عجزتم ولم يكن علف … ... يشبعها عندكم فبيعوها

(تقييد العلم) (ص147) و (كيف تقرأ كتابا) : (ص84) .
ঈমান বিষয়ক কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যা

নামকরণকৃত: "কালাইদুল উকইয়ান বি নাযমি মাসাইলিল ঈমান"

 

উভয়টিই: আবু মুহাম্মদ ইসাম আল-বাশির আল-মাররাকুশি-র রচিত

 

কৃতজ্ঞতা ও অভিবাদন:

 

আমার সম্মানিত পিতা-মাতার প্রতি, যারা আমাকে ঈমানের সুদৃঢ় অর্থসমূহের ওপর লালন-পালন করেছেন…

উম্মে আতিয়্যার প্রতি, যিনি এই গ্রন্থটি প্রস্তুত করতে আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন…

আবু আল-ফারুকের প্রতি, যিনি শুরু থেকেই এই প্রকল্পটি অনুসরণ করেছেন এবং তার কাছে আমি অনেক ঋণী…

আমার শায়খ আবু আল-ফাদলের প্রতি, যিনি আমাকে বইটি সমাপ্ত করতে অনেক উৎসাহিত করেছেন, অতঃপর এটি পর্যালোচনা করেছেন এবং এর ভূমিকা লিখেছেন…

সর্বত্র তাওহীদপন্থীদের প্রতি…

 

ভূমিকা

কলমে: শায়খ আবু আল-ফাদল উমর ইবনে মাসউদ আল-হাদ্দুশি

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য, আর জালিমরা ছাড়া আর কারো ওপর শত্রুতা নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।

অতঃপর: কয়েক বছর ধরে আমি একদল ইলম অন্বেষী শিক্ষার্থীর সান্নিধ্য পেয়ে ধন্য হয়েছি, যারা আয়িয, সালমান ও সাফার-এর ন্যায় অনুগত; তাদের মেধা প্রদীপ্ত, বুদ্ধি তীক্ষ্ণ, বিচারবুদ্ধি প্রখর, কল্পনাশক্তি বিশাল, সৃজনশীলতা উর্বর এবং চিন্তাশক্তি ও হৃদয়ের সাহস প্রবল; আমরা তাদের এমনই মনে করি, তবে আল্লাহর ওপর কারো পবিত্রতা ঘোষণা করি না। আল্লাহ তাদের দান করেছেন প্রতিভার আলো, সূক্ষ্ম অনুভূতির প্রদীপ, সাবলীল লেখনী, প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী এবং সৃষ্টিজগতের প্রতিপালকের আয়াতসমূহের ওপর গভীর চিন্তা ও গবেষণার শক্তি। তারা এর মাধ্যমে প্রতিটি অস্পষ্ট বিষয় সমাধান করেন, প্রতিটি রুদ্ধ দ্বার উন্মোচন করেন, প্রতিটি দুর্বোধ্য বিষয় ব্যাখ্যা করেন, প্রতিটি সারসংক্ষেপ বর্ণনা করেন, প্রতিটি অস্পষ্টতা পরিষ্কার করেন, প্রতিটি নিঃশর্ত বিষয়কে শর্তযুক্ত করেন, প্রতিটি সাধারণ বিষয়কে নির্দিষ্ট করেন, নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত)-কে পৃথক করেন এবং প্রতিটি স্পষ্ট বিষয়কে বিশদ করেন। তারা ত্রুটিপূর্ণ জ্ঞান এবং পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী ক্ষুদ্র গোষ্ঠীগুলো থেকে সতর্ক করেন। তারা পবিত্র স্মৃতিশক্তিকে আলোকিত করেন, বিবেককে বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়াদির আবর্জনা ও ক্ষতি থেকে ধৌত করেন, শিরকের ময়লা থেকে হৃদয়কে পবিত্র করেন, মুনাফিকির কলুষতা থেকে অন্তরকে পরিচ্ছন্ন করেন এবং নাস্তিকতার নোংরামি থেকে বক্ষসমূহকে বিমুক্ত করেন। তারা তাদের (খাতাসমূহে) লিপিবদ্ধ করেন (১)

--------------------------------------------

(১) - প্রাচীনকালে বলা হতো: (যা মুখস্থ করা হয় তা পালিয়ে যায়, আর যা লেখা হয় তা স্থায়ী হয়), আর এই দুইয়ের সমন্বয় করাই উত্তম কারণ বইপত্রেরও আপদ আছে।

… বইতে জমা করার চেয়ে মুখস্থ করার প্রতি গুরুত্ব দাও … ... … কেননা বইপত্রের এমন সব আপদ আছে যা তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় …

 

… পানি তাকে ডুবিয়ে দেয় এবং আগুন তাকে পুড়িয়ে দেয় … ... … ইঁদুর তাকে ফুটো করে এবং চোর তাকে চুরি করে নিয়ে যায় …

বইপত্র ও ইলমের কাগজপত্রের রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে একটি কৌতূহলী ঘটনা আল-মুবররাদ বর্ণনা করেছেন: (জনৈক ব্যক্তি আসমাঈর কাছে এসে অনুরোধ করল যেন তিনি তাকে কিছু ইলম লিখে দেন। তিনি তা লিখে দিলেন। কয়েকদিন পর লোকটি ফিরে এসে বলল: হে আবু সাঈদ, আপনি আমাকে যে কাগজটি লিখে দিয়েছিলেন তা আমার হাত থেকে পড়ে গিয়েছিল এবং একটি বকরি তা খেয়ে ফেলেছে। আমি চাই আপনি আমাকে পুনরায় তা লিখে দিন। তিনি তাকে পুনরায় লিখে দিলেন এবং সাথে ইহাও লিখলেন:

… আদব অন্বেষণকারীদের বলো, যা কিছু তোমাদের কাছে … ... পৌঁছেছে, তা তোমরা নষ্ট করো না …

… তার জ্ঞানকে খাতা ও কালির মাধ্যমে আয়ত্ত করো … ... সুন্দর হস্তাক্ষরের মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করো …

… যদি কখনো তোমাদের পরিবারের জন্য … ... দুগ্ধবতী বকরি ক্রয় করো, তবে তাকে ক্ষুধার্ত রেখো না …

… যদি তোমরা অক্ষম হও এবং তোমাদের কাছে ঘাস না থাকে … ... যা তাকে তৃপ্ত করবে, তবে তাকে বিক্রি করে দাও …

(তাকয়িদুল ইলম) (পৃ. ১৪৭) এবং (কাইফা তাকরাউ কিতাবান) : (পৃ. ৮৪)।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২)
كل ما يمر بهم من الشوارد والفوائد والفرائد (1) ، وما تجود به أرْيَحِيَّتهم النقية، وبذُرْعة وواسطة حرصهم وسهرهم أدركوا ونضجوا وأينعوا، وترفرفت عليهم ألوية الحكمة العميقة الجذور، والمترعرعة الأفنان، وتعلموا وعلِموا وعلّموا، واستنبطوا بقريحتهم الجياشة بحوثا وأحكاما زاملهم فيها مبين النصر والنجاح والفلاح، واستخذى وتطامن وقنب وبخع وخضع لهم اليراع، وعرجوا الفوائد في الأوراق رقما، وأصحت نَحِيزتهم وشنشنتهم (2) ونحيتهم الغوص في بطون الأمات (3) الست وأذلالها. رأيتهم قد أتوا فهوما وعلوما وذكاء وزكاء، وتصدروا بعد أن تأهلوا، وتزببوا بعد أن تحصرموا، لسانهم سئول وقلبهم عقول، وبدنهم غير ملول، يجيدون حسن السؤال، (يسألون تفقها لا تعنتا) . ويجيدون حسن الإنصات والاستماع، وحسن الفهم والحفظ، والعمل ومراعاة الحدود، وحسن التعليم، فلا يضغطون على عكد اللسان والشفتين إلا ليعبروا عن غيرتهم الدينية المضمرة في النياط، فأحببتهم في أول لقاء ووقتئذ رمقت فيهم شابا عاقلا سئولا يدعى (أبو محمد البشير عصام المراكشي) . رأيته مطلقا طلقا، سهل المرام، قريب المتناول مباح الحمى، إن قورع قرع، وإن جوري جرى، يبتسم بحساب، ويضحك بحساب، ويأكل بحساب، ويشرب بحساب، ويعمل بحساب، وينام بحساب، ويجلس مع الأصدقاء بحساب، ويتكلم بحساب، ويسأل بلا حساب، ويقرأ بلا حساب، همته عالية، (يعشق) الشدائد

--------------------------------------------

(1) - شأنهم في ذلك شأن ابن القيم في (فوائده) وابن الجوزي في (صيد الخاطر) .

(2) - الشنشنة: هي العادة والطبيعة والخليقة والسجية والضريبة والشيمة والدربة والنحية والنحيزة والبنية والجبلة والديدن، وفي المثل: (شنشنة أعرفها من أخزم) . وأخزم هذا كان رجلا عاقا لأبيه، فمات، وترك بنين عقوا جدهم وضربوه وأدموه فقال ذلك، كما في (اللسان-شنن) وفي (مجمع الأمثال) (1/361) للميداني (الحدوشي) .

(3) - الأمات: الأصل فيه أن يكون لغير عاقل، والأمهات أن يكون للعاقل (الحدوشي) .
তাদের সামনে দিয়ে অতিক্রান্ত হওয়া সমস্ত বিরল তত্ত্ব, উপকারিতা ও অনন্য রত্নরাজি (১), এবং তাদের স্বচ্ছ উদারতা যা কিছু দান করে, আর তাদের একাগ্রতা ও রাত্রি জাগরণের অছিলায় তারা অনুধাবন করেছেন, পরিপক্ক হয়েছেন এবং প্রস্ফুটিত হয়েছেন, আর গভীর মূলবিশিষ্ট ও শাখা-প্রশাখায় পল্লবিত প্রজ্ঞার পতাকাসমূহ তাদের ওপর পতপত করে উড়তে লাগল; তারা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং শিক্ষাদান করেছেন এবং তারা তাদের প্রখর মেধা দিয়ে এমন সব গবেষণা ও বিধান বের করেছেন যাতে সুস্পষ্ট বিজয়, কামিয়াবি ও কল্যাণ তাদের সহযাত্রী ছিল। আর কলম তাদের সামনে বিনত, অবনত ও বশীভূত হয়েছে; তারা কাগজের পাতায় উপকারিতাগুলোকে লেখনীর মাধ্যমে গেঁথে দিয়েছেন এবং ছয়টি মূল কিতাবের গভীরে ডুব দেওয়া ও সেগুলোর রহস্য উন্মোচনে তাদের স্বভাব, প্রকৃতি (২) ও ঝোঁক অত্যন্ত প্রখর হয়ে উঠেছে। আমি তাদের দেখেছি যে, তারা প্রজ্ঞা, জ্ঞান, মেধা ও পবিত্রতা নিয়ে এসেছেন; তারা যোগ্য হওয়ার পর নেতৃত্বের আসনে বসেছেন এবং পরিপক্ক হওয়ার পরই সুফল দান করেছেন; তাদের জিহ্বা প্রশ্নকারী, হৃদয় অনুধাবনকারী এবং শরীর ক্লান্তিহীন। তারা সুন্দরভাবে প্রশ্ন করতে পারদর্শী (তারা জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রশ্ন করে, তর্কের জন্য নয়)। তারা উত্তম শ্রবণ ও মনোযোগে, সুন্দর অনুধাবন ও মুখস্থকরণে, আমল ও বিধানের সীমারেখা রক্ষায় এবং সুন্দরভাবে শিক্ষাদানে পারদর্শী। তারা তাদের জিহ্বা ও ওষ্ঠদ্বয়কে কেবল তখনই সঞ্চালিত করে যখন তাদের অন্তরের অন্তঃস্থলে প্রোথিত দ্বীনি আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ করার প্রয়োজন হয়। তাই প্রথম সাক্ষাতেই আমি তাদের ভালোবেসে ফেলেছি এবং সে সময় তাদের মধ্যে একজন বুদ্ধিমান ও কৌতূহলী যুবককে লক্ষ্য করেছি যার নাম (আবু মুহাম্মদ আল-বাশির ইসাম আল-মাররাকিশি)। আমি তাকে দেখেছি অবারিত ও প্রফুল্ল চিত্তের অধিকারী, যার সান্নিধ্য লাভ সহজ, তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও অমায়িক; যদি কেউ তাকে কোনো বিষয়ে আহ্বান করে তবে তিনি সাড়া দেন, আর যদি কেউ তার সাথে প্রতিযোগিতায় নামে তবে তিনি অবিচল থাকেন; তিনি মেপে মেপে হাসেন, পরিমিত হাসাহাসি করেন, মেপে ভক্ষণ করেন, মেপে পান করেন, মেপে কাজ করেন, মেপে ঘুমান, বন্ধুদের সাথে মেপে বসেন, মেপে কথা বলেন, কিন্তু অপরিমিত প্রশ্ন করেন এবং অপরিমিত অধ্যয়ন করেন; তার হিম্মত অত্যন্ত উঁচু, তিনি কঠোর পরিশ্রমকে ভালোবাসেন।

--------------------------------------------

(১) - এ বিষয়ে তাদের অবস্থা ইবনুল কাইয়্যিমের (ফাওয়াইদ) এবং ইবনুল জাওযীর (সাইদুল খাতির) মতো।

(২) - 'শানশানাহ': এর অর্থ হলো অভ্যাস, প্রকৃতি, স্বভাব, চরিত্র, সহজাত প্রবৃত্তি, অভ্যাসগত আচরণ ও মজ্জাগত গুণ। প্রবাদে আছে: "একটি স্বভাব যা আমি আখযাম থেকে চিনি"। এই আখযাম ছিল তার পিতার প্রতি অবাধ্য এক ব্যক্তি; সে মারা যাওয়ার পর তার সন্তানদের রেখে যায় যারা তাদের দাদার অবাধ্য হয় এবং তাকে প্রহার করে রক্তাক্ত করে। তখন দাদা এই কথাটি বলেছিলেন। যেমনটি 'লিসানুল আরব' (শিন-নুন অধ্যায়) এবং ময়দানীর 'মাজমাউল আমসাল' (১/৩৬১) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে (আল-হাদ্দুশি)।

(৩) - 'আম্মাত': এটি মূলত বিবেকবুদ্ধিহীন সত্তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, আর 'উম্মাহাত' ব্যবহৃত হয় বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন সত্তার ক্ষেত্রে (আল-হাদ্দুশি)।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৩)
والصعاب والتعب في طلب العلم، وكأني به ولسان حاله يقول: (لا راحة بدون تعب، ولا تيجان بدون أشواك، ولا عروش بدون مسئوليات جسام، ولا حصاد بدون زرع، ولا سبق بدون مباراة، ولا لذة بدون ألم، ولا نصر بدون كفاح) . وكأني به أيضا يقول: (من عرف ما قصد هان عليه ما وجد) ، ويقول: (لتكن الشدائد سُلّما أرتقي به إلى ذرا المجد … وليس مثل المشقة مربٍّ للأفراد والأمم … والإنسان في حياته لا يقوى خلقه، وتعظم ثقته بنفسه، وتزداد قوة احتماله وجلده، إلا بمواجهة الصعاب والشدائد. وعرف أن: (دماغ الكسلان، معمل الشيطان) ، أو: (قلب الكسلان، مركب الشيطان) . كما في المثل (الانجليزي) المشهور. فطريق الصعاب يوصل إلى غاية الغايات، لأن:

… من طلب العلا من غير كد … ... … أضاع العمر في طلب المحال

على قدر المشقة (1) تكون الفائدة والثمرة، وعلى قدر اختيار الكلام وتأليفه يكون الفلاح والنجاح، (واختيار الكلام أصعب من تأليفه وقديما قيل: (اختيار الرجل وافد عقله) . فأخونا الشيخ البشير يكتب أحسن ما يسمع، ويحفظ أحسن ما يكتب، ويتحدث بأحسن ما يحفظ وكأن يحيى بن خالد عناه حين قال: (الناس يكتبون أحسن ما يسمعون، ويحفظون أحسن ما يكتبون، ويتحدثون بأحسن ما يحفظون) ، وقديما قيل:

… قد عرفناك باختيارك إذ كا … ... ن دليلا على اللبيب اختياره

--------------------------------------------

(1) - قال يحيى بن أبي كثير: (لا يستطاع العلم براحة الجسم) .
এবং ইলম অর্জনের পথে কাঠিন্য ও ক্লান্তি; যেন তাঁর অবস্থা ও কথার ধরন এই বলছে: (ক্লান্তি ছাড়া বিশ্রাম নেই, কাঁটা ছাড়া মুকুট নেই, মহান দায়িত্ব পালন ছাড়া সিংহাসন নেই, বপন ছাড়া ফসল নেই, প্রতিযোগিতা ছাড়া শ্রেষ্ঠত্ব নেই, বেদনা ছাড়া কোনো স্বাদ নেই এবং সংগ্রাম ছাড়া কোনো বিজয় নেই)। যেন তিনি আরও বলছেন: (যে ব্যক্তি তার লক্ষ্যের গুরুত্ব বুঝেছে, তার কাছে কষ্টের পথ সহজ হয়ে গেছে)। তিনি বলেন: (কঠিন পরিস্থিতি যেন এমন একটি সিঁড়ি হয় যার মাধ্যমে আমি মর্যাদার শিখরে আরোহণ করব... ব্যক্তি ও জাতির জন্য কষ্টের চেয়ে বড় কোনো শিক্ষক নেই... মানুষের জীবনে তার চরিত্র দৃঢ় হয় না, নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় না এবং তার সহ্যক্ষমতা ও ধৈর্য বৃদ্ধি পায় না—বিপদ ও কষ্টের মোকাবিলা করা ছাড়া)। এবং তিনি জানতেন যে: (অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা) অথবা (অলস অন্তর শয়তানের বাহন), যেমনটি বিখ্যাত (ইংরেজি) প্রবাদে রয়েছে। সুতরাং কষ্টের পথই চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যায়, কারণ:

… যে ব্যক্তি পরিশ্রম ছাড়া উচ্চমর্যাদা পেতে চায় … ... … সে অসম্ভব কিছু পাওয়ার আশায় জীবন নষ্ট করে।

কষ্টের পরিমাণ অনুযায়ী (১) উপকার ও ফল অর্জিত হয়, আর কথা নির্বাচন ও তা বিন্যাসের নৈপুণ্য অনুযায়ী আসে সাফল্য ও সফলতা। (কথা নির্বাচন করা কথা রচনা করার চেয়েও কঠিন)। প্রাচীনকালে বলা হতো: (ব্যক্তির পছন্দ বা নির্বাচনই তার বিবেকের দূত)। আমাদের ভাই শাইখ আল-বাশির যা শুনতেন তার মধ্যে যা সর্বোত্তম তা লিখতেন, যা লিখতেন তার মধ্যে যা সর্বোত্তম তা মুখস্থ করতেন এবং যা মুখস্থ করতেন তার মধ্যে যা সর্বোত্তম তা বলতেন। যেন ইয়াহইয়া বিন খালিদ তাকেই উদ্দেশ্য করেছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন: (মানুষ যা শোনে তার সেরাটা লেখে, যা লেখে তার সেরাটা মুখস্থ করে এবং যা মুখস্থ করে তার সেরাটা বলে)। প্রাচীনকালে বলা হতো:

… আমরা আপনাকে আপনার নির্বাচনের মাধ্যমেই চিনেছি … ... … কেননা বুদ্ধিমানের পছন্দই তার পরিচয়ের দলীল।

--------------------------------------------

(১) - ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির বলেছেন: (দেহের আরাম দিয়ে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়)।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৪)
وهو يأخذ من العلم أحسنه. قال ابن سيرين: (العلم أكثر من أن يحاط به فخذ من كل شيء أحسنه، وفيما بين ذلك سقطات الرأي وزلل القول، ولكل عالم هفوة، ولكل صارم نبوة) (1) . لأن (عقول الناس مدونة في أطراف أقلامهم، وظاهرة في حسن اختيارهم) (2) . فأخونا الشيخ البشير - بارك الله فيه وفي جهوده - لما رأى العقيدة أصبحت - في عصرنا - كقوس قزح، حيث تجمعت حولها الغيوم الإرجائية، واكتنف بها ظلام الخارجية، نشطت نفسه في نظم قصيدة في أذلال قصيدة (الكافية الشافية) لابن القيم، استفرغ فيها غايته، وبذل جهده في إظهار العقيدة الصحيحة في مسمى الإيمان والكفر، فأضاف إلى مكتبتنا الإسلامية - في جانب العقيدة - سفرا نفيسا (3) يحتاج إليها الأكابر من فرسان المحابر بله طلبة العلم الصغار، وقديما قيل: (كم من صغير احتاج إليه الأكابر) . وأنا أقول: (كم من كبير احتاج إليه الأكابر) .

--------------------------------------------

(1) - يقال: سيف صارم، أي: قاطع، ورجل صارم، أي: شجاع، أو بات في أمره ماض. ويقال: نبا السيف عن الضريبة: كل وارتد عنها ولم يقطع. من (العقد الفريد) (1/12/13) (الحدوشي) .

(2) - كما قال أفلاطون لعنه الله.

(3) - وهذا الكتاب يخالف الكتب التي يطلع بها علينا من لا يملك ربع ما يملك أخونا الشيخ البشير من العلم وأدواته، يطلعون علينا في كل ساعة بله الأيام بما لا يسمن من شبع ولا يغني من جوع. أما كتاب أخينا فسيكون ثريا وسريا معا لطلبة العلم. فأنا مسرور جدا أن أضيف إلى مكتبتي الخاصة هذا الكتاب وهذا الجهد القيم. فقد جمع فيه خلاصة ونبذة كلام الأئمة من بطون الكتب وجعله في باقة واحدة. جزاه الله خيرا. (الحدوشي)
তিনি জ্ঞান থেকে তার সর্বোত্তমটি গ্রহণ করেন। ইবনে সিরিন বলেছেন: (জ্ঞান এতটাই বিশাল যে তা পুরোপুরি আয়ত্ত করা সম্ভব নয়, তাই প্রত্যেকটি বিষয় থেকে তার সর্বোত্তম অংশটি গ্রহণ করো। আর এর মাঝে রয়েছে চিন্তার বিচ্যুতি এবং কথার স্খলন; প্রতিটি জ্ঞানীরই ভুল থাকে এবং প্রতিটি তীক্ষ্ণ তলোয়ারেরই লক্ষ্যভ্রষ্টতা থাকে) (১)। কারণ (মানুষের বুদ্ধি তাদের কলমের ডগায় লিপিবদ্ধ থাকে এবং তাদের উত্তম নির্বাচনের মাধ্যমে তা প্রকাশ পায়) (২)। আমাদের ভাই শায়খ আল-বাশীর—আল্লাহ তাঁর মধ্যে ও তাঁর প্রচেষ্টায় বরকত দান করুন—যখন দেখলেন যে আকিদা আমাদের বর্তমান যুগে রংধনুর মতো হয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে ঘিরে ইরজা-পন্থীদের মেঘ জমেছে এবং খাওয়ারিজ-পন্থীদের অন্ধকার তাকে আচ্ছন্ন করেছে, তখন তাঁর মন ইবনুল কায়্যিমের (আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া) কাসিদার পদাঙ্ক অনুসরণ করে একটি কাসিদা রচনায় উদ্দীপ্ত হলো। তিনি এতে তাঁর সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যয় করেছেন এবং ঈমান ও কুফরের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে সঠিক আকিদা প্রকাশে নিরলস শ্রম দিয়েছেন। এভাবে তিনি আমাদের ইসলামি লাইব্রেরিতে আকিদার ময়দানে একটি অমূল্য গ্রন্থ (৩) উপহার দিয়েছেন, যার প্রয়োজন ইলম অন্বেষণকারী ছোটদের চেয়ে কলমের ময়দানের বড় বড় বীরদের অনেক বেশি। প্রাচীনকালে বলা হতো: (কত ছোটর মুখাপেক্ষী বড়রা হয়েছে)। আর আমি বলি: (কত বড়র মুখাপেক্ষী বড়রা হয়েছে)।

--------------------------------------------

(১) - বলা হয়: তীক্ষ্ণ তলোয়ার, অর্থাৎ যা কর্তনকারী; এবং দৃঢ়চেতা ব্যক্তি, অর্থাৎ যে সাহসী অথবা নিজ সিদ্ধান্তে অবিচল। আর বলা হয়: তলোয়ার লক্ষ্যবস্তু থেকে বিচ্যুত হয়েছে, অর্থাৎ তা ভোঁতা হয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে এবং কাটতে পারেনি। সূত্র: ‘আল-ইকদুল ফারিদ’ (১/১২/১৩) (আল-হাদ্দুশি)।

(২) - যেমনটি প্লেটো বলেছে, তার ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক।

(৩) - এই কিতাবটি সেইসব কিতাব থেকে ভিন্ন যা আমাদের সামনে এমন ব্যক্তিরা নিয়ে আসেন যাদের কাছে আমাদের ভাই শায়খ আল-বাশীরের জ্ঞান ও জ্ঞানের উপকরণের চারভাগের একভাগও নেই। তারা দিনের পর দিন তো বটেই, প্রতি ঘণ্টায় আমাদের সামনে এমন সব জিনিস পেশ করেন যা কোনো উপকারে আসে না এবং ক্ষুধাও মেটায় না। আর আমাদের ভাইয়ের কিতাবটি ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য একই সাথে সমৃদ্ধ এবং উচ্চমানের হবে। আমি আমার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে এই কিতাব এবং এই মূল্যবান প্রচেষ্টাকে যুক্ত করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি কিতাবসমূহের গভীর থেকে ইমামদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ ও নির্যাস সংগ্রহ করেছেন এবং তা একটি পুষ্পগুচ্ছে সাজিয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন। (আল-হাদ্দুশি)
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৫)
هذا، وقد طلب مني أخي الشيخ البشير قراءة ومراجعة هذه الرسالة لأقول فيها رأيي - وأنا لست بتلك الدرجة التي ظنها أخونا - ونزولا عند رغبة أخينا قرأتها كلها (1) - رغم ضيق وقتي وكثرة الشواغل والصوارف - بتدبر وإمعان بل وإنعام النظر، فوجدت اسمها مطابقا لمسماها. وجدتها رسالة مفيدة نافعة جامعة مانعة، فريدة في بابها تصلح أن تكون في مكتبة كل مسلم ومسلمة، فشكر الله لأخينا الشيخ البشير عمله وسدد قلمه لنقد الآراء الباطلة، ولبيان الأخطاء الفاحشة، وليجتنب التعرض للأشخاص دون ما منفعة، وللنوايا والبواطن، وليعدل مع المخالف وينصفه، ولا يحكم عليه قبل أن يقيم عليه الحجة، ويبين له المحجة. قال شيخ الإسلام ابن تيمية: (وليس لأحد أن يكفر أحدا من المسلمين، وإن أخطأ وغلط، حتى تقام عليه الحجة، وتبين له المحجة) . (ومن ثبت إسلامه بيقين لم يزل ذلك بالشك) . ولا سيما إن كان الخطأ في بعض المسائل الدقيقة في العقيدة فهي لا توجب التضليل والتبديع بله التكفير، فإذا لا بد من التبين والتثبت والتوثيق بالرجوع إلى كتبه إن كان ميتا، والاتصال به إن كان حيا، قبل إصدار الأحكام واتخاذ المواقف، ولا بد من لزوم حمل الكلام على أحسن محامله، ما دام يحتمل ذلك، ومن إحسان الظن بالمسلمين، ولا بد أن نعلم بأن المسلم يوزن بحسناته وسيئاته، والعبرة بكثرة الصواب والمحاسن، ومن كان فضله أكثر من نقصه وهب نقصه لفضله.

… وإذا الحبيب أتى بذنب واحد … ... … جاءت محاسنه بألف شفيع

--------------------------------------------

(1) - وقديما قيل: (إذا استحسنت الكتاب واستجدته ورجوت منه الفائدة ورأيت ذلك فيه، فلو تراني وأنا ساعة بعد ساعة أنظر كم بقي من ورقة مخافة استنفاذه. الحيوان: 1/53) . والله أنا ذلك الرجل مع هذه الرسالة. فقد – والله – عجبت من غرائب فوائدها ونوادرها ووجدت فيها تكوينه –أخينا الشيخ البشير – العقدي قويا سليما من الزيغ جهبذا فيه.
এটি হলো এই যে, আমার ভাই শাইখ আল-বাশীর আমার কাছে এই পুস্তিকাটি পড়ার এবং পর্যালোচনা করার অনুরোধ করেছেন যেন আমি এতে আমার মতামত প্রদান করি—যদিও আমাদের ভাই আমাকে যে স্তরের মনে করেছেন আমি সে স্তরের নই। ভাইয়ের ইচ্ছা অনুযায়ী আমি এটি আদ্যোপান্ত পাঠ করেছি—আমার সময়ের স্বল্পতা এবং ব্যস্ততা ও অন্তরায়সমূহের আধিক্য সত্ত্বেও—গভীর চিন্তা ও মনোযোগ দিয়ে বরং অত্যন্ত সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে। ফলে আমি এর নামকে এর বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেয়েছি। আমি এটিকে একটি উপকারী, কল্যাণকর, সারগর্ভ ও সুবিন্যস্ত পুস্তিকা হিসেবে পেয়েছি, যা নিজ বিষয়ে অনন্য এবং প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর পাঠাগারে থাকার যোগ্য। সুতরাং আল্লাহ তাআলা আমাদের ভাই শাইখ আল-বাশীরের এই আমল কবুল করুন এবং বাতিল মতাদর্শের সমালোচনায় ও মারাত্মক ভুলসমূহ বর্ণনায় তার কলমকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন; আর তিনি যেন অহেতুক ব্যক্তি-আক্রমণ এবং মানুষের নিয়ত ও অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন, এবং বিরোধীদের সাথে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ করেন এবং তার বিরুদ্ধে হুজ্জত (দলিল) কায়েম ও সঠিক পথ স্পষ্ট করার আগে যেন তার ওপর কোনো সিদ্ধান্ত বা ফয়সালা না দেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: (কোনো মুসলিম ব্যক্তি ভুল বা বিচ্যুতি করলেই তাকে কাফির বলার অধিকার কারো নেই, যতক্ষণ না তার বিরুদ্ধে হুজ্জত কায়েম হয় এবং তার কাছে সঠিক পথ স্পষ্ট করা হয়)। (আর যার ইসলাম নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে, স্রেফ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তা অপসারিত হবে না)। বিশেষ করে ভুলটি যদি আকিদার কোনো সূক্ষ্ম বিষয়ে হয়, তবে তা গোমরাহ বা বিদআতি সাব্যস্ত করা তো দূরের কথা, কাফির সাব্যস্ত করারও কারণ হয় না। অতএব ফয়সালা প্রদান ও অবস্থান গ্রহণের আগে বিষয়টি যাচাই করা, সুনিশ্চিত হওয়া এবং মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে তার কিতাবসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন ও জীবিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে তার সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে সত্যতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। এছাড়া যতক্ষণ সম্ভব কোনো কথাকে তার সম্ভাব্য সর্বোত্তম অর্থে গ্রহণ করা এবং মুসলিমদের প্রতি সুধারণা পোষণ করা অপরিহার্য। আর আমাদের অবশ্যই জানতে হবে যে, একজন মুসলিমের মূল্যায়ন হবে তার নেকি ও বদির পাল্লায়; এখানে সঠিক বিষয় ও গুণের আধিক্যই ধর্তব্য। আর যার গুণের পাল্লা তার ত্রুটির চেয়ে ভারি, তার গুণের আধিক্যের কারণে তার ত্রুটিগুলো মার্জনা করা হয়।

… যখন প্রিয়জন একটি মাত্র অপরাধ করে বসে … ... … তখন তার গুণাবলি হাজারো সুপারিশকারী নিয়ে হাজির হয়।

--------------------------------------------

(১) - অতীতে বলা হতো: (তুমি যখন কোনো কিতাবকে পছন্দ করো ও তা চমৎকার পাও এবং তাতে উপকারের আশা করো ও তা দেখতে পাও, তবে যদি আমাকে দেখতে যে আমি সময়ের পর সময় অতিবাহিত করছি আর দেখছি কত পৃষ্ঠা বাকি রইল—এই ভয়ে যে এটি শেষ হয়ে যাবে! আল-হায়াওয়ান: ১/৫৩)। আল্লাহর কসম, এই পুস্তিকাটির ক্ষেত্রে আমিই সেই ব্যক্তি। আল্লাহর কসম, আমি এর বিষ্ময়কর ও দুর্লভ উপকারিতা দেখে অভিভূত হয়েছি এবং এতে আমি আমাদের ভাই শাইখ আল-বাশীরের আকিদাগত অবস্থানকে বিচ্যুতিরহিত, শক্তিশালী ও সুদৃঢ় এবং তাকে এই বিষয়ে একজন সুদক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে পেয়েছি।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৬)
قال محمد بن عبد الوهاب: (فإذا تحققتم الخطأ بينتموه، ولم تهدروا جميع المحاسن لأجل مسألة أو مائة أو مائتين أخطأت فيهن، فإني لا أدعي العصمة) . قال ابن القيم: (فالأعمال تشفع لصاحبها عند الله، ولهذا من رجحت حسناته على سيئاته أفلح، ولم يعذب ووهبت له سيئاته لأجل حسناته) (1) . ولازم القول ليس قولا.. وعدم الإلزام لما لا يلزم، قال شيخ الإسلام ابن تيمية: (والصواب أن لازم مذهب الإنسان ليس بمذهب له إذا لم يلتزمه، فإنه إن كان أنكره ونفاه كانت إضافته إليه كذبا) . وقال الشيخ عبد الرحمن السعدي: (والتحقيق أن الذي يدل عليه الدليل، أن لازم المذهب الذي لم يصرح به صاحبه، ولم يشر إليه، ولم يلتزمه ليس مذهبا، لأن القائل غير معصوم، وعلم المخلوق مهما بلغ فإنه قاصر، فبأي برهان تلزم القائل ما لم يلتزمه وتقوله ما لم يقل) .

وأستسمح عن الإطالة الزائدة فما قاله الشيخ الفاضل في هذه الرسالة يشفي ويكفي فدونكم الرسالة عضوا عليها بالنواجذ.

 

وكتبه أخوه أبو الفضل عمر بن مسعود الحدوشي في تطوان

يوم السبت (24/جمادى الثانية/1421 23/9/2000) .

 

المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله، نحمده سبحانه ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له،

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم.

- يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ -

--------------------------------------------

(1) - انظر (مدارج السالكين) (1/328/329) وتاريخ نجد (2/161) .
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব বলেন: (যখন আপনারা কোনো ভুল নিশ্চিত করবেন, তখন তা স্পষ্ট করে দেবেন। একটি বা একশ বা দুইশটি মাসআলায় আমি ভুল করেছি—শুধু এই কারণে সমস্ত ভালো কাজগুলোকে বাতিল করে দেবেন না; কারণ আমি নিষ্পাপ হওয়ার দাবি করি না)। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: (আমলসমূহ আল্লাহর নিকট তার অধিকারীর জন্য সুপারিশ করবে। এই কারণেই যার সৎ কাজগুলো মন্দ কাজের ওপর ভারী হবে সে সফল হবে; তাকে শাস্তি দেওয়া হবে না এবং তার সৎ কাজগুলোর বিনিময়ে তার মন্দ কাজগুলো তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে) (১)। আর বক্তব্যের অনিবার্য দাবি (লাজিমুল কাওল) কোনো বক্তব্য নয়... এবং যা অপরিহার্য নয় তা কারো ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: (সঠিক অভিমত হলো, কোনো ব্যক্তির মতের অনিবার্য দাবি তার নিজস্ব মত হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না সে তা গ্রহণ করে। কেননা সে যদি তা অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করে থাকে, তবে তার দিকে সেটি নিসবত করা হবে মিথ্যাচার)। শাইখ আব্দুর রহমান আস-সাদী বলেন: (গবেষণালব্ধ সত্য এই যে—দলিল যা নির্দেশ করে—মতের এমন কোনো অনিবার্য দাবি যা তার প্রবক্তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেনি, তার প্রতি ইঙ্গিত করেনি এবং যা সে গ্রহণও করেনি, সেটি তার মত হিসেবে গণ্য নয়। কারণ বক্তা নিষ্পাপ নন, আর সৃষ্টির জ্ঞান যতই হোক না কেন তা অপূর্ণাঙ্গ। সুতরাং কোন প্রমাণের ভিত্তিতে আপনি বক্তার ওপর এমন কিছু চাপিয়ে দেবেন যা সে গ্রহণ করেনি এবং তার নামে এমন কথা বলবেন যা সে বলেনি?)।

অতিরিক্ত দীর্ঘ হওয়ার জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থী। এই রিসালায় শ্রদ্ধেয় শাইখ যা বলেছেন তা আরোগ্যদায়ক ও যথেষ্ট। সুতরাং আপনারা এই রিসালাটি গ্রহণ করুন এবং একে দাঁত দিয়ে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরুন।

 

এটি লিখেছেন তাঁর ভাই আবু আল-ফজল উমর বিন মাসউদ আল-হাদুশি, তেতুয়ান শহরে।

শনিবার (২৪ জুমাদাস সানি ১৪২১ হি./ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০০ খ্রি.)।

 

ভূমিকা

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, আল্লাহ তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

- হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না -

--------------------------------------------

(১) - দেখুন: (মাদারিজুস সালিকিন) (১/৩২৮/৩২৯) এবং তারিখ নজদ (২/১৬১)।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৭)
- يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَتَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا -

- يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (-) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا -

أما بعد:

فإن أصدقَ الحديث كلام الله تعالى، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

ثم أما بعد:

… فإن الناظرَ في حال أمتنا في هذه الأعصار، يتعجب من الفتن المتلاحقة التي عَمَّت البلاد والعباد، وغشِيت القلوب والأجسام، فتفتَّتت من حرِّها أكبادٌ ومهج، وتشتتت في دهاليزها أذهان وعقول، كان حَرِيًّا بها أن تكون شُموسا للمعارف يهتدي في ضوئها السالكون، وأقمارا للعلوم تشُق صفائحُ أنوارها حَنادسَ ظلام الجهل والضلال.

… فشريعة الحكيم الخبير محفوظة في أحشاء الدفاتر، وفوق خدود الطروس، لكن قوانين الغاب الجاهلية، وبُرايَة أذهان الكفرة هي المحَكَّمة في الأموال والفروج والنفوس.

… والمساجد وحلق العلم – إن وجدت – ومجالس الذكر- إن عقدت – تضِجُّ بالشكوى إلى بارئها مما يعاملها به المسلمون من الصد والهجران، بينما تعُج أماكن اللهو والخلاعة بالمرتادين، وتكتظ دور الفسق والفجور ومحادةِ الله ورسوله بالزائرين، حتى إنها لتشكو من الزحام وكثرة الوصال.

… والزوايا والتكايا والمواسمُ الشركية والأعياد الوثنية تُخرج كل يوم طوابيرَ متلاطمةً من الجهلة والمبتدعة وسَدَنة القبور وحُجَّاب الطواغيت الجاهلية.
হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয়ের থেকে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার দাবি করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য লাভ করল।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কালাম, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

অতঃপর:

… এই যুগে আমাদের উম্মতের অবস্থার দিকে যিনি দৃষ্টিপাত করবেন, তিনি সেই একের পর এক আসা ফিতনাসমূহ দেখে বিস্মিত হবেন যা জনপদ ও জনতাকে গ্রাস করেছে এবং হৃদয় ও দেহকে আচ্ছন্ন করেছে। এর উত্তাপে কলিজা ও প্রাণসমূহ বিদীর্ণ হয়েছে, আর এর গোলকধাঁধায় এমন সব মেধা ও বুদ্ধি দিশেহারা হয়েছে, যাদের উচিত ছিল জ্ঞানের সূর্য হওয়া যার আলোতে পথচারীরা হিদায়াত লাভ করবে, এবং ইলমের চন্দ্র হওয়া যার আলোকচ্ছটা মূর্খতা ও ভ্রষ্টতার ঘুটঘুটে অন্ধকারকে বিদীর্ণ করবে।

… প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞের শরীয়ত কিতাবের ভাজে ও কাগজের পৃষ্ঠায় সংরক্ষিত রয়েছে, কিন্তু জাহেলী অরণ্য আইন এবং কাফেরদের মস্তিষ্কপ্রসূত আবর্জনা আজ সম্পদ, ইজ্জত ও জানমালের ক্ষেত্রে ফয়সালাকারী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

… মসজিদসমূহ ও ইলমের হালকাসমূহ—যদি তা পাওয়া যায়—এবং যিকিরের মজলিসগুলো—যদি তা অনুষ্ঠিত হয়—তাদের স্রষ্টার কাছে মুসলমানদের বিমুখতা ও বর্জনের কারণে আর্তনাদ করছে। অথচ আমোদ-প্রমোদ ও নির্লজ্জতার স্থানগুলো মানুষের আনাগোনায় মুখরিত, আর পাপাচার ও আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতার কেন্দ্রগুলো দর্শনার্থীদের ভিড়ে উপচে পড়ছে, এমনকি সেগুলো অত্যধিক ভিড় ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতের কারণে অভিযোগ করছে।

… আর খানকাহ, আস্তানা, শিরকী মেলা এবং পৌত্তলিক উৎসবগুলো প্রতিদিন মূর্খ, বিদআতী, কবরের খাদেম এবং জাহেলী তাগুতদের রক্ষীদের বিশাল এক জনস্রোত বের করে আনছে।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৮)
.. ووسائل الإعلام العميلة – في الداخل والخارج – تقدم لشباب الأمة المنقطعين عن جذورهم، أطباقا شهية – وحفت النار بالشهوات كما قال المصطفى صلى الله عليه وسلم – تلبي نداء غرائزهم، وتستحِثُّ شهواتهم من مكامنها، ثم تدُس لهم في تلك الأطباق سما زعافا من الإلحاد والعلمانية واللادينية.

» … فتن كقطع الليل المظلم يصبح الرجل مؤمنا ويمسي كافرا أو يمسي مؤمنا ويصبح كافرا يبيع دينَه بعرض من الدنياَ « (1) .

… وأشد من هذه الفتن كلها، أن الأمة تتخبط في دَيجور من الجهل – بسيطِه ومركَّبِه – تتراءى في جَنَباتِه أنوارٌ خافتة لا تكاد تلمع حتى تخبوَ مرة أخرى. جهل بدينها، وجهل بتاريخها، وجهل بأسباب قوتها، وجهل بالمؤامرات التي تحاك لها ليلا ونهارا!!

… أليس عجبا أن تكون الأمةُ المحمدية التي خاطبها رب العزة جل ثناؤه بقوله: - كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ -، قد وصل بها الحال إلى هذا التشرذم والضياع؟!

… ثم إن هذا العجب سرعان ما يتحول إلى حسرةٍ تقض المضاجع، وألمٍ يملأ الجفونَ دمعا ساخنا، عندما تكتشف أن القائمين على إيقاظ الأمة من سُباتها، والمكلفين بإحياء القلوب والهمم، يتخبطون هم أنفسُهم في أنواع من البدع والجهالات – إلا من رحم الله.

… فهذه طائفة كبرى منتسبة إلى هذه " الصحوة الإسلامية " الواعدةِ، لا تلقي للعقيدة بالا، بل همُّها توحيد الكلمة ولو على غير كلمة التوحيد. مستعدة في تحركها إلى أن تتنازل عن أصول مقدساتها إرضاءً للجماهير. متميعةٌ في ولائها وبرائها، متلطخةٌ بأدران الديموقراطية الكفرية، متشبعة حتى النخاع بنتاجات الحضارة الغربية الملحدة.

--------------------------------------------

(1) - رواه مسلم في كتاب الإيمان-باب الحث على المبادرة بالأعمال قبل الفتن، برقم: 186 (ص:72) .
..এবং দালাল সংবাদমাধ্যমসমূহ – অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক – উম্মাহর সেই সব যুবক যারা তাদের মূল শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন, তাদের সামনে মুখরোচক থালা পরিবেশন করছে – আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বলেছেন, ‘জাহান্নামকে প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা দ্বারা ঘেরাও করা হয়েছে’ – যা তাদের জৈবিক তাড়নার ডাকে সাড়া দেয় এবং তাদের সুপ্ত কামনাকে জাগ্রত করে। অতঃপর তারা সেই সব থালায় নাস্তিক্যবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও ধর্মহীনতার মারাত্মক বিষ মিশিয়ে দেয়।

» … অন্ধকার রাতের টুকরোর ন্যায় ফিতনাসমূহ আসবে, যখন এক ব্যক্তি সকালে মুমিন থাকবে কিন্তু সন্ধ্যায় কাফিরে পরিণত হবে, অথবা সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে এবং সকালে কাফিরে পরিণত হবে; সে দুনিয়ার সামান্য উপকরণের বিনিময়ে তার দ্বীনকে বিক্রি করে দেবে। « (১) ।

… আর এই সকল ফিতনার চেয়েও কঠিন বিষয় হলো, এই উম্মাহ জাহালতের বা মূর্খতার – সাধারণ হোক বা জটিল – এক গভীর অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছে; যার চারপ্রান্ত থেকে কিছু ক্ষীণ আলো দেখা গেলেও তা উজ্জ্বল হতে না হতেই পুনরায় নিভে যাচ্ছে। তাদের এই মূর্খতা নিজেদের দ্বীন সম্পর্কে, ইতিহাস সম্পর্কে, শক্তির উৎসসমূহ সম্পর্কে এবং দিন-রাত তাদের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছে সে সম্পর্কে!!

… এটি কি আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, মুহাম্মদী উম্মাহ – যাদেরকে মহান রাব্বুল ইজ্জত তাঁর বাণী: - তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদেরকে মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে - বলে সম্বোধন করেছেন, তাদের অবস্থা আজ এই চরম অনৈক্য ও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে?!

… অতঃপর এই বিস্ময় দ্রুতই এমন এক আক্ষেপে পরিণত হয় যা ঘুম কেড়ে নেয় এবং এমন এক বেদনায় রূপ নেয় যা চোখের পাতাকে তপ্ত অশ্রুতে সিক্ত করে; যখন আপনি আবিষ্কার করেন যে, যারা উম্মাহকে তার গভীর নিদ্রা থেকে জাগিয়ে তোলার দায়িত্বে নিয়োজিত এবং যাদের ওপর অন্তর ও সংকল্পসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করার দায়িত্ব অর্পিত, তারা নিজেরাই বিভিন্ন প্রকার বিদআত ও মূর্খতার মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছে – তবে আল্লাহ যাদের প্রতি দয়া করেছেন তারা ব্যতীত।

… এই আশাব্যঞ্জক "ইসলামী জাগরণের" সাথে সম্পৃক্ত এক বিশাল গোষ্ঠী আকীদার বিষয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপই করে না; বরং তাদের মূল লক্ষ্য হলো ঐক্যের ডাক দেওয়া, যদিও তা তাওহীদের কালিমার ভিত্তিতে না হয়। তারা তাদের কর্মকাণ্ডে জনসাধারণের সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের পবিত্র মূলনীতিগুলো বিসর্জন দিতে প্রস্তুত। তাদের 'ওয়ালা ও বারা' (বন্ধুত্ব ও শত্রুতা) অত্যন্ত শিথিল, তারা কুফরি গণতন্ত্রের পঙ্কিলতায় কলঙ্কিত এবং নাস্তিক্যবাদী পশ্চিমা সভ্যতার বিষবাষ্পে তাদের অস্থিমজ্জা পর্যন্ত নিমজ্জিত।

--------------------------------------------

(১) - মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন ঈমান অধ্যায়ে—ফিতনা আসার পূর্বে দ্রুত নেক আমল করার উৎসাহ প্রদান পরিচ্ছেদ, হাদীস নং: ১৮৬ (পৃষ্ঠা: ৭২)।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৯)
.. وهذه نابتةٌ غريبة، هَجينة الأصول، متذبذبة المنهج والطريق، غامضة الغايات والأهداف، تنتسب إلى السلف، والسلفُ منها براء. همها التجريح والقدح في الآخرين، مع كونها مستكينةً إلى جبرية عقدية وسياسية بغيضة، ومتشبتةً بأذيال إرجاء عصري لقيط، صنعته بيدها ولم تستطع التخلص منه.

… وهذه فرقة شاذة صغيرة – لكن يخشى أن تتطور وتنتشر – تنسُج على منوال الخوارج، فتُكَفِّر المجتمعات وتهجرها، وتشترط شروطا طويلة لإثبات الإسلام الحكمي، ابتدعوها من أهوائهم، واصطلى المسلمون بنارها.

… أضف إلى هؤلاء كلهم، شراذم من أصحاب العقيدة الأشعرية، والسلوك الصوفي، ما زالوا يعيشون على ذكريات الماضي، وأمجاد التاريخ!

… طيف الظل من الفرق والتيارات والأهواء! !

… فإن أظلمتْ عليك الصورة يا أخي، وتساءلت في حرقة وأسى:» فأين الحق بين هذه الظلمات التي بعضها فوق بعض؟! «، فجوابُك في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم:

» لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق لا يضرهم من خذلهم حتى يأتي أمر الله وهم كذلك « (1) ،

… فإن قلت: فأين هي في هذا الزمان؟ أجبتك: مَنْ تأمل بعين البصيرة وجدَ ما يُؤَمِّله، ومن انتكست فطرتُه لم تُؤْمن في وهَج الشمسِ عثرتُه:

قد تنكر العين ضوء الشمس من رمد … ... وينكر الفم طعم الماء من سقم

وإن أعظم ما يميز هذه الطائفة عن غيرها، أنها متمسكة بعقيدة سنية سليمة، ومتحركة وفق منهج فكري قويم، يأخذ الإسلام بشموله فلا يغفل منه شيئا.

… وإن من أهم أركان هذه العقيدة: مسائل الإيمان والكفر. وهي التي تسمى كذلك مسائل الأسماء والأحكام، وذلك لأنها أسماءٌ ذات حقيقة شرعية كالإيمان والكفر والظلم والفسق وغيرها، عُلِّقَت عليها أحكامٌ شرعية متعددة في الدنيا والآخرة.

--------------------------------------------

(1) - أخرجه بهذا اللفظ مسلم في كتاب الإمارة-باب قوله عليه الصلاة والسلام: لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق.. برقم: 1920 (ص:795) وله ألفاظ أخرى.
.. এটি এক অদ্ভুত উদ্ভব, যার উৎস সংকর প্রকৃতির, যার কর্মপদ্ধতি ও পথ দোদুল্যমান, যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অস্পষ্ট; তারা নিজেদের সালাফদের সাথে সম্পৃক্ত করে, অথচ সালাফগণ তাদের থেকে মুক্ত। তাদের একমাত্র চিন্তা হলো অন্যদের দোষারোপ ও নিন্দা করা, অথচ তারা নিজেরা এক ঘৃণ্য তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক জাবরিয়্যাহ (ভাগ্যবাদ) মতবাদে আচ্ছন্ন এবং এক জারজ আধুনিক ইরজা-এর লেজুড়বৃত্তিতে লিপ্ত, যা তারা নিজ হাতেই তৈরি করেছে কিন্তু তা থেকে মুক্তি পেতে পারছে না।

… আর এটি একটি ক্ষুদ্র বিচ্যুত দল – তবে আশঙ্কা করা হয় যে এটি বিবর্তিত ও প্রসারিত হতে পারে – যারা খারেজিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। তারা সমাজকে কাফের সাব্যস্ত করে এবং সমাজ বর্জন করে। তারা আইনি ইসলাম প্রমাণের জন্য দীর্ঘ সব শর্তারোপ করে, যা তারা তাদের খেয়ালখুশি মতো উদ্ভাবন করেছে এবং মুসলমানরা এর আগুনে দগ্ধ হয়েছে।

… এই সকলের সাথে আরও যুক্ত হয়েছে আশআরি আকিদা ও সুফি আচরণের অনুসারীদের কিছু দলছুট অংশ, যারা আজও অতীতের স্মৃতি ও ইতিহাসের গৌরবের ওপর ভর করে বেঁচে আছে!

… বিভিন্ন দল, মতাদর্শ ও প্রবৃত্তির এক ছায়া-বর্ণালি!!

… হে ভাই, দৃশ্যপট যদি তোমার কাছে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং তুমি যদি দহন ও আক্ষেপের সাথে প্রশ্ন করো: "একটির ওপর একটি স্তরীভূত এই অন্ধকারের মাঝে সত্য কোথায়?!", তবে তোমার উত্তর রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসে:

"আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে; যারা তাদের পরিত্যাগ করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে এবং তারা সেই অবস্থাতেই থাকবে।" (১) ,

… তুমি যদি বলো: তবে এই যুগে তারা কোথায়? আমি তোমাকে বলবো: যে ব্যক্তি অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে পর্যবেক্ষণ করবে সে তার প্রত্যাশিত বস্তুর সন্ধান পাবে। আর যার ফিতরাত বা স্বভাব বিকৃত হয়ে গেছে, প্রখর সূর্যালোকেও তার পদস্খলন থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই:

চোখের রোগের কারণে চোখ সূর্যের আলোকেও অস্বীকার করতে পারে … ... আর অসুস্থতার কারণে মুখ পানির স্বাদকেও অস্বীকার করতে পারে

এই দলটিকে অন্য সবার থেকে যা সবচেয়ে বেশি আলাদা করে তা হলো, তারা একটি বিশুদ্ধ সুন্নাহভিত্তিক আকিদা ধারণ করে এবং একটি সঠিক চিন্তাধারার আলোকে পরিচালিত হয়, যা ইসলামকে তার সামগ্রিকতায় গ্রহণ করে এবং এর কোনো অংশকেই উপেক্ষা করে না।

… এই আকিদার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো: ঈমান ও কুফরের মাসয়ালাসমূহ। একে ‘আসমা ওয়া আহকাম’ (নাম ও বিধান) সংক্রান্ত মাসয়ালাও বলা হয়; কারণ এগুলো এমন সব নাম যার শরয়ী বাস্তবতা রয়েছে, যেমন ঈমান, কুফর, জুলুম, ফিসক ইত্যাদি, যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে দুনিয়া ও আখেরাতে বিভিন্ন শরয়ী বিধান কার্যকর হয়।

--------------------------------------------

(১) - ইমাম মুসলিম এটি ‘কিতাবুল ইমারাহ’-এর অধ্যায়: ‘আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে...’ শিরোনামে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর: ১৯২০ (পৃষ্ঠা: ৭৯৫)। এর আরও বিভিন্ন পাঠ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ১০)
.. فالإيمان أنيط به الولاءُ والمحبة في الدنيا، وتكفل الله لأهله في الدنيا بالعزة وعدم الهوان، ووعدهم في الآخرة بالجنة والفلاح والرضوان. وأما الكفر فقد علق عليه البراء والبغض من المؤمنين، وأحكام الجهاد والقتال، وأوعد الله أهله في الآخرة بالنار والبَوار والخسران.

… وعلى أهمية هذا الموضوع وخطورة ما يُبنى عليه من الأحكام، فإن كثيرا من المنتسبين إلى العلم مرتبكون في مسائله، متخَبِّطون في قضاياه تخبُّطا عجيبا. وأشد الناس غلطا فيه قوم من المرجئة العصريين متلبسون بخليط من البدع والتناقضات في هذا الباب، مع أنهم يحسبون أنهم يحسنون صنعا.

… ومن هنا كانت الحاجة متأكدة إلى جمع شتات هذا الموضوع وتقديمه إلى شباب " الصحوة "، وطلبة العلم، والدعاة إلى الله، بأسلوب ميسر، ووفق منهج علمي متناسق.

… ولقد طالما تمنيت أن أجد متنا من متون العقائد، جامعا لمسائل الإيمان، ميسَّرا لمن رغب في حفظه، أو أراد تدريسه وتعليمه للمبتدئين، مع كونه موافقا لروح العصر، معبِّرا عن التطبيقات الواقعية لهذه المسائل. لكنني لم أجد بغيتي إلى هذا الحين.

… لذلك استعنت الله عز وجل في تأليف هذه» المنظومة الإيمانية «، التي حاولت أن أجمع فيها أهم مسائل الإيمان، وأغفلت ما ليس ذا فائدة مما كثر حوله الجدال العقيم. وضمنت ذلك في مائة بيت – غير المقدمة والخاتمة – من بحر الرجز، وسميتها: "قلائد العِقْيان من مسائل الإيمان".

… ثم لما رأيت أن النفع بها لا يتم إلا بشرحٍ يحُل ألفاظها، ويقيد مطلقها، ويخصص عمومها، ويوضح مقاصدها، شرعت – مستعينا بالرب جل ثناؤه – في هذا الشرح الذي قد أتوسع فيه في بعض المواضع، فأخرج عن المذكور في المنظومة، دون أن أهجر لب الموضوع، إذ ليست المنظومةُ مقصودةً لذاتها، ولكن المقصود هو فهم هذه المسائل والإحاطة بعلمها.

… وقد قسمت الشرح - تبعا للمنظومة - إلى الأبواب والفصول التالية:

شرح خطبة المتن.
.. সুতরাং ঈমানের সাথেই দুনিয়াতে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা সংশ্লিষ্ট; এবং আল্লাহ দুনিয়াতে ঈমানদারদের জন্য সম্মান ও লাঞ্ছনা থেকে মুক্তির নিশ্চয়তা দিয়েছেন এবং আখেরাতে তাদের জান্নাত, সফলতা ও সন্তুষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর কুফরের ওপরই মুমিনদের পক্ষ থেকে সম্পর্কচ্ছেদ ও ঘৃণা এবং জিহাদ ও যুদ্ধের বিধানসমূহ নির্ভরশীল; এবং আল্লাহ আখেরাতে কুফরের অনুসারীদের জাহান্নাম, ধ্বংস ও ক্ষতির ভীতি প্রদর্শন করেছেন।

… এই বিষয়ের গুরুত্ব এবং এর ওপর ভিত্তি করে প্রণীত বিধানসমূহের ভয়াবহতা সত্ত্বেও, ইলমের দিকে সম্বন্ধযুক্ত অনেকে এর মাসআলাগুলোতে বিভ্রান্ত এবং এর বিষয়গুলোতে অদ্ভুতভাবে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ভুলকারী হলো আধুনিক মুরজিয়াদের একটি দল, যারা এই অধ্যায়ে বিদআত ও বৈপরীত্যের সংমিশ্রণে লিপ্ত, যদিও তারা মনে করে যে তারা ভালো কাজ করছে।

… আর এখান থেকেই এই বিষয়ের বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্র করার এবং একটি সহজ পদ্ধতিতে ও সুশৃঙ্খল ইলমী মানহাজ অনুযায়ী ‘সাহওয়া’ (জাগরণ)-এর যুবক, ইলম অন্বেষী এবং আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের সামনে তা পেশ করার প্রয়োজনীয়তা সুনিশ্চিত হয়েছে।

… আমি দীর্ঘকাল যাবত আকীদার এমন একটি মূলপাঠ (মাতন) পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছিলাম, যা ঈমানের মাসআলাগুলোর সংকলক হবে, যারা এটি মুখস্থ করতে চায় বা যারা নতুনদের এটি পড়াতে ও শেখাতে চায় তাদের জন্য সহজ হবে এবং একইসাথে যা বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটের সাথে সংগতিপূর্ণ ও এই মাসআলাগুলোর বাস্তব প্রয়োগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। কিন্তু আমি এ পর্যন্ত আমার কাঙ্ক্ষিত সেই বস্তু খুঁজে পাইনি।

… তাই আমি এই 'মানযুমা ইমানিয়া' (ঈমান বিষয়ক কাব্যগ্রন্থ) রচনায় মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি, যাতে আমি ঈমানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাগুলো একত্র করার চেষ্টা করেছি এবং যে বিষয়গুলোতে অসার বিতর্ক বেশি কিন্তু কোনো উপকার নেই, তা এড়িয়ে গিয়েছি। আমি এটি রজয ছন্দে একশত পঙক্তির মধ্যে—ভূমিকা ও উপসংহার ব্যতীত—সীমাবদ্ধ করেছি এবং এর নামকরণ করেছি: "কালাইদুল ইকইয়ান মিন মাসায়িলিল ইমান"।

… অতঃপর যখন আমি দেখলাম যে, এর উপকারিতা ততক্ষণ পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ) থাকে যা এর শব্দাবলি বিশ্লেষণ করবে, এর নিঃশর্ত বিষয়গুলোকে শর্তযুক্ত করবে, সাধারণ বিষয়গুলোকে নির্দিষ্ট করবে এবং এর উদ্দেশ্যগুলো স্পষ্ট করবে; তখন আমি মহান রবের—যাঁর প্রশংসা অতি উচ্চ—সাহায্য নিয়ে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি শুরু করেছি। এতে আমি কিছু স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারি এবং মূল কাব্যের বাইরে যেতে পারি, তবে বিষয়ের মূল নির্যাস ত্যাগ না করে। কারণ কাব্যটি মূলত উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো এই মাসআলাগুলো বোঝা এবং এর ইলম আয়ত্ত করা।

… আর আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে—মূল কাব্যের অনুসরণে—নিম্নোক্ত অধ্যায় ও পরিচ্ছেদসমূহে বিভক্ত করেছি:

মূলপাঠের (মাতন) ভূমিকার ব্যাখ্যা।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ১১)
الباب الأول في حقيقة الإيمان، ويتضمن الفصول التالية

الفصل الأول: تعريف الإيمان لغة.

- الفصل الثاني: تعريفه شرعا عند أهل السنة ويتضمن الكلام على:

قول القلب.

قول اللسان.

أعمال القلوب.

أعمال الجوارح.

الفصل الثالث: أقوال أهل البدع في حقيقة الإيمان.

الباب الثاني في زيادة الإيمان ونقصانه، وفيه:

الفصل الأول: أدلة الزيادة والنقصان.

الفصل الثاني: أوجه الزيادة والنقصان.

الفصل الثالث: أقوال المخالفين.

الباب الثالث في الكفر وضوابط التكفير، وفيه:

تعريف الكفر لغة واصطلاحا.

قاعدة تكفير المعين وموانع التكفير.

3- … قواعد في التكفير. …

الباب الرابع في نواقض الإيمان:

في الربوبية.

في الإسماء والصفات.

في الإلوهية.

في النبوات والمغيبات وأمور أخرى.

- … ... خاتمة الكتاب.

… هذا وأسأل الله عز وجل أن ينفع بهذا العمل المتواضع من أقبل عليه بِنية التعلم والفهم، وأن يدخر لي ثوابه وأجره إلى يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم.

… وأرجو ممن وجد فيه عيبا أو قصورا أن يغُض الطرف عنه ويعذرني بما أنا فيه من القصور والتقصير، فإن وجد خطأ أو زللا فليُخبرني به مشكورا، فإنني - إن شاء الله تعالى - راجع إلى الحق، وما غيرَ الحقِّ أريد.

 

وكتبه أبو محمد المراكشي

في الرباط، جمادى الثانية، 1420.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ঈমানের প্রকৃত রূপ প্রসঙ্গে, এবং এটি নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: শাব্দিক অর্থে ঈমানের সংজ্ঞা।

- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহর নিকট শরয়ী পরিভাষায় ঈমানের সংজ্ঞা এবং এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করে:

অন্তরের কথা।

জিহ্বার কথা।

অন্তরের আমলসমূহ।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ঈমানের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে বিদআতপন্থীদের বক্তব্য।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস প্রসঙ্গে, এবং এতে রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: বৃদ্ধি ও হ্রাসের প্রমাণাদি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বৃদ্ধি ও হ্রাসের দিকসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বিরোধীদের বক্তব্য।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুফর এবং তাকফীরের নীতিমালা প্রসঙ্গে, এবং এতে রয়েছে:

শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে কুফরের সংজ্ঞা।

নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কাফির সাব্যস্ত করার মূলনীতি এবং তাকফীরের প্রতিবন্ধকসমূহ।

৩- … তাকফীর সংক্রান্ত কিছু মূলনীতি। …

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ:

রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বে।

নাম ও গুণাবলীতে।

উলুহিয়্যাত বা ইবাদতে।

নবুয়াত, অদৃশ্যের সংবাদ এবং অন্যান্য বিষয়ে।

- … ... গ্রন্থের উপসংহার।

… পরিশেষে, আমি মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন এই বিনীত কর্মের মাধ্যমে সেই ব্যক্তিকে উপকৃত করেন যে শিক্ষা গ্রহণ ও উপলব্ধির নিয়তে এর প্রতি মনোনিবেশ করেছে, এবং তিনি যেন এর সওয়াব ও প্রতিদান আমার জন্য সেই দিনের জন্য জমা রাখেন যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।

… আর আমি সেই ব্যক্তির নিকট প্রত্যাশা করি যে এতে কোনো ত্রুটি বা অপূর্ণতা খুঁজে পাবে, সে যেন তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে এবং আমার সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটির জন্য আমাকে মার্জনা করে; যদি কোনো ভুল বা বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়, তবে সে যেন অনুগ্রহপূর্বক আমাকে তা অবহিত করে। কেননা আমি - ইনশাআল্লাহ তায়ালা - সত্যের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী, আর সত্য ব্যতীত অন্য কিছু আমি কামনা করি না।

 

এটি লিখেছেন আবু মুহাম্মদ আল-মাররাকুশী

রিবাত শহরে, জুমাদাল উখরা, ১৪২০ হিজরী।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ১৬)
(قال) المعترفُ بتقصيره وذنبه، الفقيرُ إلى عفو ربه (أبو محمدٍ) البشيرُ (عصام) بن محمد المسفيوي المراكشي، السُّني مُعتقدا، طالبُ العلم وخادمُه، والمنافح عن اعتقاد أهل السنة والجماعة منافحةَ مَن يرى ذلك من أعظم الجهاد. ولفظُ» قال «ماض، ولكن المراد منه الاستقبالُ كما هو وارد في كلام العرب، وذكروا منه قوله تعالى: - أَتَى أَمْرُ اللَّهِ -.

(دام) أي استمرَّ وطال (له) ولإخوانه من أهل السنة والجماعة ولكافة المؤمنين (من) لابتداء الغاية (ربه) سبحانه وتعالى (الإنعامُ) أي التفضل بأنواع النعم التي لا يحصرها المحصي، ولا يحيط بها المُستقصي: - وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا -.
(বলছেন) স্বীয় ত্রুটি ও গোনাহের স্বীকৃতিদানকারী, আপন রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী (আবু মুহাম্মদ) আল-বাশীর (ইসাম) ইবনে মুহাম্মদ আল-মাসফিউয়ী আল-মাররাকুশী, বিশ্বাসে সুন্নি, ইলমের অন্বেষী ও তার সেবক এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার প্রতিরক্ষাকারী—এমন একজনের প্রতিরক্ষার ন্যায় যিনি একে মহানতম জিহাদ বলে গণ্য করেন। আর "বলছেন" শব্দটি অতীতকালীন, কিন্তু এর দ্বারা উদ্দেশ্য ভবিষ্যৎকাল, যেমনটি আরবদের বাকরীতিতে বিদ্যমান এবং তারা এর উদাহরণস্বরূপ মহান আল্লাহর এই বাণীটি উল্লেখ করেছেন: "আল্লাহর নির্দেশ সমাগত।"

(অব্যাহত থাকুক) অর্থাৎ নিরবচ্ছিন্ন ও দীর্ঘস্থায়ী হোক (তার জন্য) এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের তার ভ্রাতৃবৃন্দের জন্য ও সকল মুমিনের জন্য (পক্ষ থেকে) ব্যাপ্তির প্রারম্ভিকতা জ্ঞাপক (তার রবের) সুবহানাহু ওয়া তাআলা (অনুগ্রহ দান) অর্থাৎ এমন নানাবিধ নিআমত দ্বারা অনুগ্রহ করা যা গণনাকারী গণনা করে শেষ করতে পারে না এবং অনুসন্ধানকারী তার পরিধি বেষ্টন করতে পারে না: "আর যদি তোমরা আল্লাহর নিআমত গণনা করো, তবে তার সংখ্যা নিরূপণ করতে পারবে না।"
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ১৭)
(الحمد) أي جميعُ أنواعه مما علِمناه وممَّا لم يحط بعلمه إلا اللهُ عز وجل، ثابتٌ (لله) جل ذكره وشأنُه، وتعاظم سلطانُه، فهو المستحقُّ سبحانه لجميع المحامد، وليس لأحد من خلقه شيء من ذلك على جهة الاستقلال. والكلام على الحمدلة طويل ومبسوط في محاله. و» الحمد لله «وما بعدها إلى آخر المنظومة في محل نصبٍ مَقولُ القول. (السلام) من أسماء الله عز وجل، ومعناه السالم من جميع العيوب والنقائص لكماله في ذاته وصفاته وأفعاله، كما ذكر ابن كثير في تفسير آخر سورة الحشر (المؤمن) قال ابن عباس أي أمَّن خلقَه من أن يظلمهم (هادي) أي: موفقِ (العباد) المؤمنين إلى الإيمان والتقوى تفضلا منه سبحانه وتكرما (البارئ) أي الخالق الذي برأ البريات، وأوجد الأرضين والسموات (المهيمن) قال ابن عباس: أي الشاهد على خلقه بأعمالهم، بمعنى هو رقيب عليهم، كقوله تعالى - وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ - وغيرها من الآيات (من) أي الّّذي (غمرت) أي غطت من غمر الماء غمَارة وغمورة إذا كثر كما في القاموس (نعمه) الظاهرة والباطنة (أهل التقى) مصدر اتقى يتقي بمعنى حذر، قال تعالى: - هُوَ أَهْلُ التَّقْوَى - أي أهلٌ أن يتقى عقابه. وحاصل التقوى: فعل المأمور واجتناب المحظور. وإنما خصصتُ أهل التقوى مع أن نعم الله عز وجل الدنيوية يستوي فيها المؤمن والكافر، لأنهم هم الذين يشكرون هذه النعم ويستعملونها في التعرف على المنعِم بها لذلك ذكرت أنهم جعلوا التدبرَ في هذه النعم سببا في السلوك إلى ربهم عز وجل، فقلت (فسلكوا) الفاء سببية (إليه) سبحانه (كل مرتقى) وهو ما يُرتقى أي يُصعد، والمعنى أنهم سعوا للوصول إلى رضا الله عز وجل، بأن تلبسوا بأنواع الطاعات، وأصناف القرُبات. والسلوك مخصوص في اصطلاح المتأخرين بارتقاء مقامات الإحسان، والله أعلم.

(সমস্ত প্রশংসা) অর্থাৎ এর সকল প্রকার, যা আমরা জানি এবং যার জ্ঞান মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ আয়ত্ত করতে পারেনি, তা (আল্লাহর জন্য) সুসাব্যস্ত; যাঁর স্মরণ ও মাহাত্ম্য অতি মহান এবং যাঁর কর্তৃত্ব অতি বিশাল। সুতরাং কেবল পবিত্র আল্লাহই সকল প্রশংসার হকদার, এবং তাঁর সৃষ্টির কারো জন্য স্বতন্ত্রভাবে এর কোনো অংশ নেই। প্রশংসার বাক্য (হামদলা) নিয়ে আলোচনা দীর্ঘ এবং তা সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। আর ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য’ এবং এরপর থেকে কাব্যগ্রন্থের শেষ পর্যন্ত অংশটি ব্যাকরণগত নসবের স্থানে ‘বক্তব্য’ (মাকুলুল কাওল) হিসেবে অবস্থিত। (আস-সালাম) মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নামসমূহের একটি, আর এর অর্থ হলো স্বীয় সত্তা, গুণাবলি ও কার্যাবলিতে পূর্ণতার কারণে সমস্ত দোষ-ত্রুটি ও অপূর্ণতা থেকে মুক্ত থাকা, যেমনটি ইবনে কাসীর সূরা হাশরের শেষাংশের তাফসিরে উল্লেখ করেছেন। (আল-মুমিন) ইবনে আব্বাস বলেন, অর্থাৎ তিনি তাঁর সৃষ্টিজগতকে তাদের প্রতি জুলুম করা থেকে নিরাপত্তা দিয়েছেন। (হাদি) অর্থাৎ: (বান্দাদের) তথা মুমিনদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও সম্মানস্বরূপ ঈমান ও তাকওয়ার তাওফিক দানকারী। (আল-বারি) অর্থাৎ সেই স্রষ্টা যিনি সৃষ্টিজগতকে অস্তিত্ব দান করেছেন এবং আসমান ও জমিনসমূহ সৃষ্টি করেছেন। (আল-মুহাইমিন) ইবনে আব্বাস বলেন: অর্থাৎ নিজ সৃষ্টির আমলসমূহের উপর সাক্ষী, যার অর্থ হলো তিনি তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক; যেমন মহান আল্লাহর বাণী- "আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী" - এবং এ জাতীয় অন্যান্য আয়াতসমূহ। (যিনি) অর্থাৎ সেই সত্তা যার (পরিপূর্ণ করেছে) অর্থাৎ আবৃত করেছে; যেমন ‘কামুস’ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, ‘গামারা’ অর্থ পানি অধিক হওয়া এবং ছেয়ে যাওয়া। (তাঁর নেয়ামতসমূহ) যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য, (তাকওয়া অবলম্বনকারীগণ)। তাকওয়া শব্দটি ‘ইত্তাক্বা-ইয়াত্তাক্বী’ থেকে আগত যার অর্থ হলো ভয় করা বা সতর্ক হওয়া। মহান আল্লাহ বলেন: "তিনিই তাকওয়ার যোগ্য" - অর্থাৎ তিনিই এর যোগ্য যে তাঁর শাস্তিকে ভয় করা হবে। তাকওয়ার সারকথা হলো: নির্দেশিত কাজ সম্পাদন করা এবং নিষিদ্ধ বিষয় বর্জন করা। আমি কেবল তাকওয়া অবলম্বনকারীদের কথা নির্দিষ্ট করে বলেছি অথচ মহান আল্লাহর পার্থিব নেয়ামতসমূহে মুমিন ও কাফির উভয়েই সমান, কারণ মুত্তাকিরাই এই নেয়ামতসমূহের শুকরিয়া আদায় করে এবং নেয়ামতদাতার পরিচয়ের ক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহার করে। এ কারণেই আমি উল্লেখ করেছি যে, তারা এই নেয়ামতসমূহের চিন্তা-গবেষণাকে তাদের মহান রবের দিকে চলার মাধ্যম বানিয়েছে। তাই আমি বলেছি (অতঃপর তারা চলেছে) এখানে ‘ফা’ বর্ণটি কারণ বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, (তাঁর দিকে) অর্থাৎ পবিত্র আল্লাহর দিকে (প্রতিটি আরোহণের পথে)। যা দ্বারা উপরে উঠা বা আরোহণ করা হয় তাকে ‘মুরতাক্বা’ বলা হয়। এর অর্থ হলো তারা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বিভিন্ন প্রকার আনুগত্য ও ইবাদতে মশগুল হওয়ার মাধ্যমে সচেষ্ট হয়েছে। পরবর্তী যুগের আলেমদের পরিভাষায় ‘সুলুক’ শব্দটি ইহসানের স্তরসমূহে আরোহণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ১৮)
(بالعلم) متعلق بسلكوا، أي العلم بالله عز وجل وبتمام ربوبيته، والعلم بأسمائه الحسنى وصفاته العلى، والعلم باستحقاقه لكمال العبودية، امتثالا لقوله تعالى: - فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ -، (و) بـ (الحب) الذي هو من أعظم أعمال القلوب، حتى جعله الله عز وجل ورسولُه صلى الله عليه وسلم ركنا من أركان الإيمان كما سيأتي بيانه في محله. ثم إن محبة الله عز وجل لا تصح إلا (مع) كمال (التذلل) والإذعان له سبحانه وتعالى، وهذا يستلزم تمامَ المتابعة لرسوله محمد صلى الله عليه وسلم، كما قال تعالى: - قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمْ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ -. (والخوف والرجاء) وهما الجناحان اللذان بهما يطير المؤمنُ في سلوكه إلى رب العزة جل جلاله، فإذا ضعُف جناحُ الخوف أقبل العبد على المعاصي دون وَجَلٍ، واستقلَّ ذنوبَه وآثامه، وإذا ضعف جناح الرجاء أساء العبدُ الظنَّ بربه، فشدد على نفسه وعلى إخوانه، وتنطع في دين الله عز وجل (والتوكل) على الله جل ذكره: - وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ -. ولا يقدر السالك على الوصول إلى مبتغاه إلا بتخليص التوكل على بارئه ومولاهُ سبحانه وتعالى.
(জ্ঞানের মাধ্যমে) এটি 'সিলকু' (পথ চলা) ক্রিয়াটির সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান, তাঁর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের পূর্ণতা সম্পর্কে জ্ঞান, তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান, এবং তাঁর পরিপূর্ণ ইবাদত লাভের অধিকার সম্পর্কে জ্ঞান; যা মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুগত হয়ে: "অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই"। (এবং) (ভালোবাসার) মাধ্যমে, যা অন্তরের আমলসমূহের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ; এমনকি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একে ঈমানের অন্যতম একটি স্তম্ভ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যেমনটি যথাস্থানে বিস্তারিতভাবে আসবে। অতঃপর, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা সঠিক হয় না যতক্ষণ না এর সাথে তাঁর প্রতি পূর্ণ (বিনয়) ও আনুগত্য থাকে। আর এটি তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পূর্ণ অনুসরণের দাবি রাখে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু"। (ভীতি ও আশা) এ দুটি হলো এমন দুটি ডানা যার মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তি মহান রবের দিকে তার পথ চলায় উড্ডয়ন করে। যখন ভীতির ডানা দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন বান্দা কোনো শঙ্কা ছাড়াই পাপাচারে লিপ্ত হয় এবং নিজের গুনাহ ও অপরাধগুলোকে তুচ্ছ মনে করে। আর যখন আশার ডানা দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন বান্দা তার রব সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করে, ফলে সে নিজের ওপর এবং তার ভাইদের ওপর কঠোরতা আরোপ করে এবং মহান আল্লাহর দীনের ব্যাপারে চরমপন্থা অবলম্বন করে। (এবং) আল্লাহর ওপর (ভরসা) বা তাওয়াক্কুল করা: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট"। আর কোনো পথিক তার উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয় না যতক্ষণ না সে তার স্রষ্টা ও অভিভাবক সুবহানাহু ওয়া তাআলার ওপর তার ভরসাকে একনিষ্ঠ করে।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ১৯)
(وأعظم) مبتدأ خبره الجار والمجرور في عَجُز البيت (الصلاة والتسليم) وأزكاهما وأشرفهما (على الحبيب) الذي محبته من الإيمان، كما في الحديث الصحيح:» لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من ولده ووالده والناس أجمعين « (1) (المصطفى) المجتبى المختارِ لأداء الرسالة العظيمة، وتحمل الأمانة الجسيمة (الرحيم) بأمته، الذي وصفه ربه بقوله: - بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ -. ثم الكلام على الصلاة والسلام على خير الأنام، أطول من أن أحيط به في هذه العجالة، فلينظر في الكتب المخصصة له، مثل "جلاء الأفهام" لابن القيم و"القول البديع" للسخاوي وغيرهما.

(مَن) أي: الذي (أشرقَت) أي بزغت وطلعت (مِن) سَنَا (نورِه) الهادي إلى الحق بإذن الله تعالى (الأنوارُ) فاعل أشرقت، فكل نور من أنوار الهداية مستمد من نوره، وكل داعية إلى الخير لا بد مقتبسٌ من الخير الذي أُرسل به، بأبي هو وأمي صلى الله عليه وسلم.

(فانفتحت) الفاء سببية، بفعل تلك الأنوار الهادية إلى الحق (على الهدى) والتقوى والصلاح (الأبصار) أي البصائر، وهي أعينُ الأفئدة والأرواحِ.

(وانبجست) معطوف على انفتحت، أي نبعت من بجس الماء والجرح يبجسه ويبجسه إذا شقه، وبجَّسه بالتشديد تبجيسا: فجَّره فانبجس، (عينُ الصلاح) والهدى (من يده) الشريفة، أي من جهاده ودعوته، وهذا انبجاس معنوي مشبهٌ بالانبجاس الحسي الثابت في معجزاته الحسية صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) - رواه البخاري في كتاب الإيمان-باب: حب الرسول صلى الله عليه وسلم من الإيمان، برقم: 15 (ص:26) ، ومسلم في الإيمان، برقم:44 (ص:50) .
(এবং শ্রেষ্ঠ) এটি মুবতাদা যার খবর বা বিধেয় হলো কবিতার চরণের শেষাংশে থাকা জার ও মাজরুর (সালাত ও সালাম)। এবং এই দুটির মধ্যে সর্বাধিক পবিত্র ও সম্মানিত (সেই প্রিয়তমের প্রতি) যাঁর ভালোবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি সহিহ হাদিসে এসেছে: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার সন্তান, তার পিতা এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।" (১) (আল-মুস্তফা) মহান রিসালাত পালন এবং গুরুভার আমানত বহনের জন্য মনোনীত ও নির্বাচিত। (দয়াবান) তাঁর উম্মতের প্রতি, যাঁকে তাঁর প্রতিপালক এই বলে বিশেষিত করেছেন: "মুমিনদের প্রতি তিনি অত্যন্ত মমতাময় ও দয়াবান।" অতঃপর সৃষ্টির সেরা মানবের প্রতি সালাত ও সালামের প্রসঙ্গের আলোচনা এতোটাই দীর্ঘ যে এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে তা পুরোপুরি আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। সুতরাং এই বিষয়ের জন্য নির্ধারিত কিতাবসমূহ দেখা উচিত, যেমন ইবনুল কায়্যিমের "জালাউল আফহাম" এবং সাখাভীর "আল-কাউলুল বাদি" ও অন্যান্য।

(যিনি/যাঁর) অর্থাৎ: যাঁর (উজ্জ্বল হয়েছে) অর্থাৎ বিচ্ছুরিত ও উদিত হয়েছে (হতে) দীপ্তি থেকে (তাঁর নূরের) যা আল্লাহর নির্দেশে সত্যের পথপ্রদর্শক (নূরসমূহ) এটি 'আশরাকাত' ক্রিয়ার কর্তা। সুতরাং হিদায়াতের প্রতিটি নূর তাঁর নূর থেকেই গৃহীত, এবং কল্যাণের দিকে আহ্বানকারী প্রত্যেক ব্যক্তি অবশ্যই সেই কল্যাণ থেকে আলো গ্রহণ করেন যা নিয়ে তিনি প্রেরিত হয়েছেন। আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গ হোক, আল্লাহ তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

(অতঃপর উন্মোচিত হলো) এখানে 'ফা' অব্যয়টি কারণবাচক, সত্যের দিকে পথপ্রদর্শনকারী সেই নূরসমূহের প্রভাবে (হিদায়াতের উপর) এবং তাকওয়া ও সংশোধনের উপর (দৃষ্টিসমূহ) অর্থাৎ অন্তর্দৃষ্টিসমূহ, যা মূলত অন্তর ও আত্মার চক্ষু।

(এবং প্রবাহিত হলো) এটি 'আনফাতাহাত'-এর সাথে যুক্ত, অর্থাৎ নির্গত হলো। এর মূল ধাতু পানি বা ক্ষতস্থান বিদীর্ণ করে প্রবাহিত হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়; আর 'বাজজাসাহু' অর্থ হলো বিদীর্ণ করা যার ফলে তা প্রবাহিত হয়। (সংশোধনের ঝরনাধারা) ও হিদায়াত (তাঁর হাত হতে) অর্থাৎ তাঁর সম্মানিত হাত হতে, তথা তাঁর জিহাদ ও দাওয়াত হতে। এটি একটি তাত্ত্বিক প্রবাহ যা তাঁর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মোজেজাসমূহে সাব্যস্ত হওয়া বাস্তব প্রবাহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, আল্লাহ তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

--------------------------------------------

(১) - বুখারি এটি কিতাবুল ঈমান-এর 'রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অংশ' নামক পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং: ১৫ (পৃষ্ঠা: ২৬); এবং মুসলিম কিতাবুল ঈমান-এ বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং: ৪৪ (পৃষ্ঠা: ৫০)।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২০)
(وأخمد) معطوف على انفتحت، أي أطفأ (الكفرَ) أي: نارَه الخبيثةَ (سنا) وهو الضوء كما في المصباح، أو ضوء البرق، أو الضوء الساطع، أقوالٌ، (مهنده) أي سيفِه البتار، من هند السيف إذا شحذه. وقد ثبت في الحديث:» نصرت بالرعب مسيرة شهر (1) «، وثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال لمشركي قريش:» أما إني قد جئتكم بالذبح « (2) وقال عليه الصلاة والسلام:» أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله « (3) وهذا الأمر مما علم بالاضطرار من سيرة المصطفى المختار صلى الله عليه وسلم.

(وبعد) مبني على الضم لقطعه عن الإضافة، والمعنى: مهما يكن من شيء بعد حمد الله عز وجل والصلاة والسلام على رسوله محمد صلى الله عليه وسلم، فـ (هذا) الذي بين يديك أيها القارئ (رجز) أي نظمٌ موضوعٌ على بحر الرجَزِ، وهو مستفعلن ستَّ مرات، من صفته أنه (مفيد) ونافع (لقارئٍ) ودارس ومعلم ومتعلم مِن نعته وصفته أنه (نورَ) مفعول به مقدم وهو مضاف (الهدى) مضاف إليه (يريد) أي يطلب ويقصد. وهذا النظم ميسر للحفظ، مهيء للتدريس، جامع للمقصود، والحمد لله سبحانه وتعالى.

(موضوعه) أي: هذا الرجز (مسائل الإيمان) أي أهمها وأنفعها، (أرجو) أي أؤمل (بـ) نظمـ (ـه إحسان) وتفضل ومنة الله (ذي الإحسان) والجود والكرم.

--------------------------------------------

(1) - رواه البخاري في مواضع منها كتاب التيمم، برقم: 335 (ص:86) ، ومسلم في كتاب المساجد ومواضع الصلاة، برقم: 521 (ص:211) .

(2) - رواه أحمد وابن حبان والبزار من حديث عبد الله بن عمرو بن العاص، وقال الهيثمي: "وقد صرح ابن إسحق بالسماع، وبقية رجاله رجال الصحيح"، وصححه الشيخ الألباني.

(3) - رواه البخاري في الإيمان، برقم:25 (ص28) ، ومسلم في الإيمان، برقم:22 (ص43) .
(আর তিনি নিভিয়ে দিয়েছেন) শব্দটি 'উন্মুক্ত হয়েছে' শব্দের ওপর অন্বিত, অর্থাৎ তিনি নিভিয়ে দিয়েছেন (কুফরকে) অর্থাৎ: এর অপবিত্র আগুনকে। (আভা) আর এটি হলো আলো যেমনটি 'আল-মিসবাহ' গ্রন্থে রয়েছে, অথবা বিদ্যুতের আলো, অথবা উজ্জ্বল আলো; এগুলো বিভিন্ন অভিমত। (তাঁর তীক্ষ্ণ তলোয়ারের) অর্থাৎ তাঁর ধারালো তলোয়ারের মাধ্যমে, এটি 'হিন্দাস সাইফ' থেকে আগত যখন কেউ তলোয়ার শান দেয়। হাদিসে অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে: "আমাকে এক মাসের পথ দূরত্ব পর্যন্ত ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে (১)"। এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আরও সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি কুরাইশ মুশরিকদের বলেছিলেন: "সাবধান! আমি তোমাদের নিকট যবেহ করার নির্দেশ নিয়ে এসেছি (২)"। এবং তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: "আমি মানুষের সাথে লড়াই করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই (৩)"। আর এই বিষয়টি আল-মুস্তফা আল-মুখতার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী থেকে অকাট্যভাবে জানা যায়।

(অতঃপর) শব্দটি পরবর্তী অংশের সাথে সম্বন্ধ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে দম্মা-র ওপর মাবনি বা ভিত্তি করে গঠিত। এর অর্থ হলো: মহান আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ ও সালামের পর যা কিছুই হোক না কেন, তবে (এটি) যা আপনার সামনে রয়েছে হে পাঠক, তা হলো একটি (রাজাজ) অর্থাৎ রাজাজ ছন্দে রচিত একটি কাব্য। আর তা হলো 'মুসতাফইলুন' ছয়বার। এর বৈশিষ্ট্য হলো এটি (উপকারী) এবং ফলপ্রসূ (পাঠকের জন্য), শিক্ষার্থীর জন্য, শিক্ষকের জন্য ও শিক্ষার্থীর জন্য। এর অন্যতম গুণ হলো এটি (হিদায়াতের) এটি সম্বন্ধ পদ (আলো) যা কর্মপদ এবং সম্বন্ধযুক্ত (কামনা করে) অর্থাৎ অন্বেষণ করে এবং উদ্দেশ্য করে। এই কাব্যটি মুখস্থ করার জন্য সহজ, পাঠদানের জন্য উপযোগী এবং মূল উদ্দেশ্যসমূহ সংকলনকারী। সকল প্রশংসা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার জন্য।

(এর বিষয়বস্তু) অর্থাৎ এই কাব্যের বিষয়বস্তু হলো (ঈমানের মাসআলাসমূহ) অর্থাৎ এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী বিষয়গুলো। (আমি আশা করি) অর্থাৎ আমি প্রত্যাশা করি এই কাব্যের (মাধ্যমে অনুগ্রহ) এবং আল্লাহ তায়ালার করুণা ও দান, যিনি (অনুগ্রহকারী), দানশীল ও মহানুভব।

--------------------------------------------

(১) - বুখারি এটি একাধিক স্থানে বর্ণনা করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে তায়াম্মুম অধ্যায়, নম্বর: ৩৩৫ (পৃষ্ঠা: ৮৬), এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন মসজিদ ও সালাতের স্থান অধ্যায়ে, নম্বর: ৫২১ (পৃষ্ঠা: ২১১)।

(২) - আহমাদ, ইবনে হিব্বান এবং বাজ্জার এটি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-হাইসামি বলেছেন: "ইবনে ইসহাক সরাসরি শোনার কথা স্পষ্ট করেছেন এবং এর বাকি বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী", আর শেখ আলবানি একে সহিহ বলেছেন।

(৩) - বুখারি ঈমান অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, নম্বর: ২৫ (পৃষ্ঠা: ২৮), এবং মুসলিম ঈমান অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, নম্বর: ২২ (পৃষ্ঠা: ৪৩)।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২১)
(وأسأل الرحمان واسع الكرم) جل جلاله أن يمن علي وعلى والديَّ وعلى أهل بيتي ومشايخي وإخواني من أهل السنة والجماعة وعلى كافة المؤمنين الموحدين، بشيء (من الثواب) الجزيل (والهبات) الوافرة (والنعم) المستديمة، إنه سبحانه وتعالى أكرم مسؤول، وأرجى مأمول، لا تغيض بحارَ خزائنِه نفقتُه، ولا تضيقُ بالسائل المضطرِّ مغفرتُه.

والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.

 

‌‌الباب الأول: حقيقة الإيمان

 

الفصل الأول: تعريفُ الإيمان لغةً

قلت في النظم:

في اللغةِ الإيمانُ كالإقرارِ

وكونُه التصديقَ بالأخبارِ

عندَ المُحققينَ لا يُسَلمُ

لأوجهٍ من الفُروقِ تُعلمُ

 

(في اللغة) متعلقٌ بالإيمان (الإيمانُ) مبتدأ خبره (كالإقرار) الكاف للتشبيه، وهذا يفيد التغايُرَ بينَ مُسمَّيَيِ الإيمانِ والإقرارِ، إذ الأصل أن المشبَّهَ ليس في قوةِ المشبهِ به: وقد يُعكس في التشبيهِ المقلوبِ، وفي الحالتين معا فهما مختلفان إجمالا، وإن اتفقا في بعض الأمورِ، فأنت لا تشبِّهُ الشيءَ بما هو مرادف له. وسيأتي كلام شيخ الإسلامِ ابن تيميةَ رحمه الله في هذه المسألة، بحول الله تعالى.
(এবং আমি ব্যাপক দানশীলতার অধিকারী পরম দয়াময় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি) তাঁর মহিমা অতি মহান, তিনি যেন আমার প্রতি, আমার পিতামাতার প্রতি, আমার পরিবার-পরিজনের প্রতি, আমার উস্তাদগণের প্রতি, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত আমার ভাইদের প্রতি এবং সকল একত্ববাদী মুমিনদের প্রতি (প্রতিদান) পর্যাপ্ত, (অনুদান) প্রচুর এবং (নিয়ামত) চিরস্থায়ী দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থীত সত্তা এবং সর্বাধিক প্রত্যাশিত লক্ষ্য। তাঁর ভাণ্ডারের সমুদ্ররাজি তাঁর ব্যয়ের কারণে হ্রাস পায় না এবং কোনো নিরুপায় সাহায্যপ্রার্থীর জন্য তাঁর ক্ষমা সংকীর্ণ হয় না।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।

 

‌‌প্রথম অধ্যায়: ঈমানের প্রকৃত স্বরূপ

 

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে ঈমানের সংজ্ঞা

আমি কাব্যে বলেছি:

অভিধানে ঈমান হলো স্বীকৃতির মতো

আর এর অর্থ সংবাদের সত্যায়ন হওয়া

গবেষকদের নিকট তা স্বীকৃত নয়

পার্থক্যের এমন কিছু দিক থাকার কারণে যা জানা যায়

 

(আভিধানিক অর্থে) শব্দসমষ্টি ঈমানের সাথে সংশ্লিষ্ট। (ঈমান) শব্দটি মুবতাদা এবং এর খবর হলো (স্বীকৃতির মতো)। এখানে 'কাফ' বর্ণটি উপমার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যা ঈমান ও ইকরার (স্বীকৃতি) এই নামদ্বয়ের সংজ্ঞার মাঝে ভিন্নতা প্রকাশ করে। কারণ মূলনীতি হলো, উপমেয় (মুশাব্বাহ) উপমানের (মুশাব্বাহ বিহি) সমপর্যায়ের শক্তিশালী হয় না। তবে বিপরীত উপমার ক্ষেত্রে এর উল্টো হতে পারে। উভয় অবস্থাতেই তারা সামগ্রিকভাবে ভিন্ন, যদিও কিছু বিষয়ে তারা একমত হয়। কেননা আপনি কোনো বস্তুকে তার সমার্থক শব্দ দ্বারা উপমা প্রদান করেন না। আল্লাহর তৌফিকে এই বিষয়ে অচিরেই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ.-এর বক্তব্য আসবে।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২২)
(وكونُه) مبتدأ، والضمير عائد على الإيمان اسم الكون و (التصديق) خبره منصوب، وهو مصدر صدَّق يصدِّق إذا نسبه إلى الصدق و (بالأخبار) متعلق بالتصديق، وهو جمع خبر، والخبرُ – وهو قَسيم الإنشاء – هو ما احتمل الصدقَ والكذبَ لذاته، أي لغير قرينة خارجية، فبعض كلام الله تعالى خبر مع أنه لا يحتملُ غيرَ الصدق، ولكن ذلك لقرينة خارجية وهي الجزمُ بصدقِ المتكلِّم به (عند المحققين) أي العلماء المدققين في الفهم والتمحيص، الغائصين وراء دُرَرِ المعاني (لا يسلم) به، والجملة الفعلية في محل رفع خبر المبتدأ: "كونه" (لأوجه) متعلق بلا يسلم (من الفروق) اللفظية والمعنوية بين الإيمان والتصديق (تعلم) لمن تأمل هذه القضية بعيدا عن التعصب لما دَرَج عليه المتأخرون من اللغويين والمتكلمين من الترادف بين اللفظتين، حتى كاد أن يكون إجماعا لديهم.

وحاصل هذا المبحث أن الإيمانَ في اللغة مصدرُ آمن يُؤمِنُ إيمانا فهو مؤمن، قال الجوهري: أصل آمن أأمن بهمزتين لُيِّنت الثانية. واشتقاقه من الأمن، كما في القاموس (1) وغيره، وأصل الأمن كما ذكر الراغب: طمأنينة النفس وزوال الخوف (2) . قال شيخ الإسلام في الصارم المسلول:» فإن اشتقاقه من الأمن الذي هو القرار والطمأنينة. وذلك إنما يحصل إذا استقر في القلب التصديقُ والانقياد « (3) . قال الزمخشري في الكشاف:» الإيمان إفعال من الأمن، ثم يقال آمنه إذا صدقه، وحقيقته آمنه من التكذيب والمخالفة « (4) .

--------------------------------------------

(1) - القاموس المحيط: 1060.

(2) - مفردات ألفاظ القرآن: 90.

(3) - الصارم المسلول: 519.

(4) - الكشاف: 1/47.
(এবং তাঁর হওয়া) এটি হলো মুক্তাদা (উদ্দেশ্য), এবং সর্বনামটি 'ঈমান' শব্দের দিকে ফিরেছে যা 'কাউন' (হওয়া)-এর বিশেষ্য (ইসিম)। এবং (সত্যয়ন) হলো তার খবর যা মানসুব (জবরযুক্ত)। এটি 'সাদ্দাকা ইউসাদ্দিকু' ক্রিয়ামূলের মাসদার (ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য), যখন কেউ কোনো কিছুকে সত্যের দিকে সম্বন্ধ করে। এবং (সংবাদসমূহের মাধ্যমে) এটি 'সত্যয়ন' (তাসদিক)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি 'খবর' শব্দের বহুবচন। আর খবর—যা ইনশা (অনুরোধ বা বিস্ময়সূচক বাক্য)-এর বিপরীত—হলো এমন বাক্য যা আপন সত্তার বিচারে সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, অর্থাৎ বাহ্যিক কোনো আলামত ছাড়াই। সুতরাং আল্লাহ তাআলার কিছু বাণী 'খবর' হওয়া সত্ত্বেও তা সত্য ছাড়া অন্য কিছুর সম্ভাবনা রাখে না, কিন্তু তা একটি বাহ্যিক আলামতের কারণে, আর তা হলো বক্তার সত্যবাদিতার ব্যাপারে সুনিশ্চিত হওয়া। (গবেষক আলেমদের নিকট) অর্থাৎ যারা অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ ও অনুধাবনে পারদর্শী এবং অর্থের মুক্তা আহরণে ডুবুরি সদৃশ, তাদের নিকট এটি (মেনে নেওয়া যায় না)। এই ক্রিয়াবাচক বাক্যটি 'কাউনুগু' নামক মুক্তাদার 'খবর' হিসেবে রাফা (পেশ) অবস্থায় রয়েছে। (কতিপয় কারণবশত) এটি 'লা ইউসাল্লামু' (মেনে নেওয়া যায় না)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। ঈমান ও সত্যয়নের মাঝে শাব্দিক ও অর্থগত (পার্থক্যের কারণে) (যা জানা যাবে) ঐ ব্যক্তির জন্য যে এই বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে। এটি পরবর্তী যুগের ভাষাবিদ ও কালাম শাস্ত্রবিদদের প্রচলিত সেই গোঁড়ামি থেকে দূরে সরে যা তারা এই দুটি শব্দকে সমার্থক মনে করার ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছেন, এমনকি এটি তাদের নিকট প্রায় ঐকমত্যে (ইজমা) পরিণত হয়েছিল।

এই আলোচনার সারকথা হলো, শাব্দিক অর্থে ঈমান হলো 'আমানা ইউ'মিনু ইমানান' এর মাসদার (ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য), সুতরাং তিনি হলেন মুমিন। আল-জওহারী বলেন: আমানা-এর মূল হলো 'আ’মানা' (দুইটি হামযা যোগে), যার দ্বিতীয় হামযাটিকে কোমল (সহজ) করা হয়েছে। এর উৎপত্তি হয়েছে 'আমন' (নিরাপত্তা) থেকে, যেমনটি 'আল-কামুস' (১) এবং অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। আর 'আমন'-এর মূল অর্থ যেমনটি আর-রাঘিব উল্লেখ করেছেন: আত্মার প্রশান্তি এবং ভীতি দূরীভূত হওয়া (২)। শায়খুল ইসলাম 'আস-সারিমুল মাসলুল' গ্রন্থে বলেছেন: "নিশ্চয়ই এর উৎপত্তি হয়েছে 'আমন' থেকে যা হলো স্থিরতা ও প্রশান্তি। আর এটি কেবল তখনই অর্জিত হয় যখন অন্তরে সত্যয়ন ও আনুগত্য স্থির হয়" (৩)। যামাখশারী 'আল-কাশশাফ' গ্রন্থে বলেন: "ঈমান শব্দটি 'আমন' থেকে 'ইফআল' ওজনে গঠিত। অতঃপর যখন কেউ কাউকে সত্য বলে স্বীকার করে তখন বলা হয় 'আমানাহু' (তাকে বিশ্বাস করল)। এর প্রকৃত অর্থ হলো তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং বিরোধিতা করা থেকে নিরাপদ রাখা" (৪)।

--------------------------------------------

(১) - আল-কামুসুল মুহিত: ১০৬০।

(২) - মুফরাদাতু আলফাজিল কুরআন: ৯০।

(৩) - আস-সারিমুল মাসলুল: ৫১৯।

(৪) - আল-কাশশাফ: ১/৪৭।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৩)
هذا عن الاشتقاق اللغوي للفظة الإيمان، أما معناه في اللغة، فاختلفوا فيه على أقوال، منها ما ذكره الفيروزأبادي:» هو الثقة، وإظهار الخضوع، وقبول الشريعة « (1) ، ولعله لاحظ المعنى الاصطلاحي أيضا. ومنها الطمأنينة والإقرار. لكن أشهرها هو التصديق، قال الألوسي:» والإيمان في اللغة التصديق أي الإذعان لِحُكمِ المُخبِر وقَبولُه وجعله صادقا « (2) . ولعل الأصح أن يقول» ونسبته إلى الصدق «بدل» وجعله صادقا «إذ المخبر إما صادق وإما كاذب في نفس الأمر، لا بجعل جاعل، والله أعلم. وتأمل في هذا التعريف الذي ذكره الألوسي، كيف أنه جعل التصديق شاملا للإذعان والقبول!

بل نقل الزَّبيدي الاتفاقَ على أنه التصديق فقال:» الإيمان هو التصديق وهو الذي جزم به الزمخشري في الأساس واتفق عليه أهلُ العلم من اللغويين وغيرهم، وقال السعد رحمه الله تعالى: إنه حقيقة « (3) ، أي ليس مجازا.

ورغم شهرة تعريف الإيمان لغة بالتصديق، فإن لشيخ الإسلام ابن تيمية نظرا في هذه المسألة، ذكره في كتاب الإيمان. وحاصله أن هناك فرقا بين الإيمان والتصديق لأوجه (4) :

الوجه الأول: أن بينَهما فرقا من جهة التعدي، وهو فرق في اللفظ. وذلك أنه يقال للمخبر: صدَّقَه، ولا يُقال آمَنَه بل آمن به أو آمَن له. كما قال تعالى: {فَآمَنَ لَهُ لُوطٌ} وقال: {فَمَا آمَنَ لِمُوسَى إِلا ذُرِّيَّةٌ مِنْ قَوْمِهِ} وقال فرعون: {قَالَ آمَنْتُمْ لَهُ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ} إلى غيرها من الآيات. فالصدق يتعدى بنفسه بخلاف الإيمان، فلا يقال آمنته، إلا من الأمان الذي هو ضدُّ الإخافة.

--------------------------------------------

(1) - القاموس: 1060.

(2) - روح المعاني: 1/110.

(3) -تاج العروس:.

(4) -مجموع الفتاوى: 7/290 و 7/530 (بتصرف واختصار) .
এটি হলো ঈমান শব্দের ভাষাগত ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে। আর অভিধানে এর অর্থ সম্পর্কে আলেমগণ বিভিন্ন মত ব্যক্ত করেছেন, যার মধ্যে একটি হলো যা ফিরোজাবাদী উল্লেখ করেছেন: "তা হলো আস্থা, আনুগত্য প্রকাশ এবং শরীয়ত কবুল করা।" (১) সম্ভবত তিনি এর পারিভাষিক অর্থের দিকেও লক্ষ্য করেছেন। আবার কোনো কোনো মতে এর অর্থ হলো প্রশান্তি ও স্বীকৃতি। তবে এগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ অর্থ হলো সত্যয়ন করা। আলূসী বলেছেন: "অভিধানে ঈমান হলো সত্যয়ন করা, অর্থাৎ সংবাদদাতার নির্দেশের প্রতি বিনয়াবনত হওয়া, তা গ্রহণ করা এবং তাকে সত্যবাদী হিসেবে গণ্য করা।" (২) সম্ভবত "তাকে সত্যবাদী হিসেবে গণ্য করা"-এর পরিবর্তে "তাকে সত্যের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা" বলা অধিকতর সঠিক; কারণ বাস্তবে কোনো সংবাদদাতা হয় সত্যবাদী হবেন অথবা মিথ্যাবাদী, যা কোনো ব্যক্তিকর্তৃক সাব্যস্তকরণের ওপর নির্ভর করে না। আল্লাহই ভালো জানেন। আলূসীর উল্লিখিত এই সংজ্ঞার দিকে লক্ষ্য করুন, তিনি কীভাবে সত্যয়নকে বিনয়াবনত হওয়া এবং কবুল করার বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত করেছেন!

বরং জাবীদী ঈমান বলতে যে সত্যয়নই বোঝায়—এ বিষয়ে ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "ঈমান হলো সত্যয়ন করা এবং এটিই সেই মত যা যামাখশারী 'আসাস' গ্রন্থে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং ভাষাবিদ ও অন্যান্য আলেমগণ এই বিষয়ে একমত হয়েছেন। সা'দ রাহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেছেন: এটি হাকীকত বা প্রকৃত অর্থ।" (৩) অর্থাৎ এটি রূপক নয়।

আভিধানিকভাবে ঈমানের সংজ্ঞা সত্যয়ন হিসেবে প্রসিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার এই বিষয়ে একটি পর্যবেক্ষণ রয়েছে, যা তিনি 'কিতাবুল ঈমান'-এ উল্লেখ করেছেন। এর সারকথা হলো, বেশ কিছু কারণে ঈমান ও সত্যয়নের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান (৪):

প্রথম কারণ: ক্রিয়াপদের কর্মের দিকে ধাবিত হওয়ার দিক থেকে এই দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, আর এটি হলো শাব্দিক পার্থক্য। বিষয়টি এমন যে, সংবাদদাতার ক্ষেত্রে বলা হয়: 'সে তাকে সত্যয়ন করেছে', কিন্তু 'সে তাকে ঈমান এনেছে' বলা হয় না; বরং বলা হয় 'তার প্রতি ঈমান এনেছে' অথবা 'তার কথা মেনে নিয়েছে'। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর লূত তার প্রতি ঈমান আনলেন।" তিনি আরও বলেছেন: "মূসার সম্প্রদায়ের একদল যুবক ছাড়া আর কেউ তার প্রতি ঈমান আনেনি।" ফেরাউন বলেছিল: "আমি তোমাদের অনুমতি দেওয়ার আগেই কি তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে?" এছাড়া আরও অনেক আয়াত রয়েছে। সুতরাং সত্যতা বা সত্যয়ন ক্রিয়াটি সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে, কিন্তু ঈমান এর ব্যতিক্রম। ফলে 'আমি তাকে ঈমান এনেছি' বলা হয় না, কেবল 'নিরাপত্তা দেওয়া' অর্থে এটি ব্যবহৃত হয়, যা ভীতি প্রদর্শনের বিপরীত।

--------------------------------------------

(১) - আল-কামূস: ১০৬০।

(২) - রূহুল মাআনী: ১/১১০।

(৩) -তাজুল আরূস।

(৪) -মাজমূউল ফাতাওয়া: ৭/২৯০ এবং ৭/৫৩০ (পরিমার্জিত ও সংক্ষেপিত)।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৪)
فإن قيل: فقد يقال: ما أنت بمصدق لنا. فالجواب أن اللام تدخل على ما يتعدى بنفسه إذا ضعُف عملُه، إمَّا بتأخيره أو بكونه اسمَ فاعلٍ أو مَصدرا، أو باجتماعهما، فيقال فلان يعبد الله ويخافه ويتقيه، ثم إذا ذكر باسم الفاعل قيل، هو عابد لربه، متق لربه، خائف لربه، كما أنه إذا ذكرتَ الفعل وأخرتَه، تُقوِّيه باللام كقوله: {وَفِي نُسْخَتِهَا هُدًى وَرَحْمَةٌ لِلَّذِينَ هُمْ لِرَبِّهِمْ يَرْهَبُونَ} وقوله {إِنْ كُنتُمْ لِلرُّؤْيَا تَعْبُرُونَ} مع أنك تقول: يرْهَب ربه ويعبر رُؤياه.

الوجه الثاني: أن لفظَ الإيمانِ ليس مُرادفا للفظ التصديق في المعنى، فإن كلَّ مُخبر عن مشاهدة أو غيب يقال له في اللغة: صدقت، كما يقال: كذبت، وأما لفظ الإيمان فلا يُستعملُ إلا في الخبر عن غائبٍ، وذلك أنه مشتق من الأمن، فإنما يستعمل في خبرٍ يُؤتمن عليه المخبر، كالأمر الغائب، ولهذا لم يوجد قط في القرآن وغيره لفظ آمن له إلا في هذا النوع.

الوجه الثالث: أن لفظ الإيمان في اللغة لم يقابَلْ بالتكذيب كلفظ التصديق، بل المعروف في مقابلة الإيمان لفظ الكفر، يقال هو مؤمن أو كافر، والكفر لا يختص بالتكذيب، بل لو قال: أنا أعلم أنك صادقٌ لكن لا أتبعك، بل أعاديكَ وأُبْغِضُك وأخالفك ولا أوافقك، لكان كفرُه أعظم، فلما كان الكفر المقابل للإيمان ليس هو التكذيب فقط، عُلم أن الإيمان ليس هو التصديق فقط.

الوجه الرابع: أن الإيمانَ في اللغة مشتق من الأمن الذي هو ضد الخوف، فهو متضمن مع التصديق معنى الائتمان والأمانة كما يدل عليه الاستعمالُ والاشتقاق، أما التصديق فلا يتضمن شيئا من ذلك.
যদি বলা হয়: কখনো এমন বলা হয় যে, "আপনি আমাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী নন (মা আনতা বি-মুসাদ্দিকিন লানা)"। এর উত্তর হলো, 'লাম' (ل) অক্ষরটি এমন ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয় যা সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে, যখন তার কার্যক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে; হয় কর্মের পরে আসার কারণে, অথবা সেটি 'ইসম ফায়িল' (কর্তৃবাচক বিশেষ্য) বা 'মাসদার' (ক্রিয়ামূল) হওয়ার কারণে, অথবা উভয় কারণেই। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়, 'অমুক ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করে, তাঁকে ভয় করে এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে।' অতঃপর যখন এটি 'ইসম ফায়িল' হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তখন বলা হয়, 'সে তার রবের ইবাদতকারী, তার রবের প্রতি তাকওয়া অবলম্বনকারী, তার রবের প্রতি ভীত।' একইভাবে যখন আপনি ক্রিয়াটি উল্লেখ করবেন এবং তাকে শেষে নিয়ে আসবেন, তখন 'লাম' যোগ করে তাকে শক্তিশালী করবেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর তার অনুলিপিতে ছিল হিদায়াত ও রহমত তাদের জন্য, যারা তাদের রবের প্রতি ভীত হয়।" এবং তাঁর বাণী: "যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে পার।" অথচ আপনি সাধারণ অবস্থায় বলে থাকেন: 'সে তার রবকে ভয় করে' এবং 'সে তার স্বপ্ন ব্যাখ্যা করে'।

দ্বিতীয় দিক: 'ঈমান' শব্দটি অর্থগত দিক থেকে 'তাসদীক' (সত্যায়ন) শব্দের সমার্থক নয়। কারণ, দৃশ্যমান বা অদৃশ্য কোনো বিষয়ে সংবাদ প্রদানকারী প্রত্যেককেই ভাষাগতভাবে বলা হয়: 'তুমি সত্য বলেছ', যেমনটি বলা হয়: 'তুমি মিথ্যা বলেছ'। কিন্তু 'ঈমান' শব্দটি কেবল অদৃশ্যের সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। এর কারণ হলো, এটি 'আমন' (নিরাপত্তা বা নির্ভরতা) থেকে উদ্ভূত। ফলে এটি কেবল এমন সংবাদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যেখানে সংবাদদাতার ওপর নির্ভর করা হয়, যেমন অদৃশ্যের বিষয়াবলি। এই কারণেই কুরআন বা অন্য কোথাও 'আমান লাহু' (তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করল) শব্দটির ব্যবহার কেবল এ জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রেই পাওয়া যায়।

তৃতীয় দিক: ভাষাগতভাবে 'ঈমান' শব্দের বিপরীতে 'তাকযীব' (মিথ্যায়ন) শব্দ ব্যবহৃত হয় না, যেমনটি 'তাসদীক' শব্দের বিপরীতে হয়ে থাকে। বরং ঈমানের বিপরীতে সুপরিচিত শব্দ হলো 'কুফর'। বলা হয়, 'সে মুমিন অথবা কাফির'। আর কুফর কেবল মিথ্যায়নের (সত্যকে অস্বীকার করা) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং কেউ যদি বলে: 'আমি জানি আপনি সত্যবাদী, কিন্তু আমি আপনার অনুসরণ করব না, বরং আপনার সাথে শত্রুতা করব, আপনাকে ঘৃণা করব, আপনার বিরোধিতা করব এবং আপনার সাথে একমত হব না', তবে তার কুফর হবে আরও গুরুতর। সুতরাং, যেহেতু ঈমানের বিপরীত 'কুফর' কেবল মিথ্যায়ন নয়, সেহেতু এটি প্রমাণিত হয় যে ঈমানও কেবল 'তাসদীক' (সত্যায়ন) নয়।

চতুর্থ দিক: ভাষাগতভাবে 'ঈমান' শব্দটি 'আমন' থেকে উদ্ভূত, যা ভয়ের বিপরীত। সুতরাং এটি সত্যায়নের (তাসদীক) পাশাপাশি নির্ভরতা ও আমানতদারিতার অর্থকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি এর ব্যবহার ও শব্দমূলগত ব্যুৎপত্তি থেকে প্রমাণিত হয়। পক্ষান্তরে, কেবল 'তাসদীক' বা সত্যায়নের মধ্যে এর কোনো কিছুই অন্তর্ভুক্ত নেই।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৫)
فهذه الأوجُهُ الأربعة تبطل دعوى الترادفِ بين لفظي الإيمان والتصديق. وعلى فرض أنه مرادف للتصديق فإنه تصديقٌ وأمنٌ أو تصديق وطمأنينة، وهو متضمن للالتزام بالمؤمن به سواء كان خبرا أو إنشاء، بخلاف لفظ التصديق المجرَّد، الذي هو عبارة عن حكمٍ ذهني بإيقاعِ النسبةِ أو انتزاعها، كما يزعُمه المتكلمون (1) .

--------------------------------------------

(1) -الإدراك إن كان مع حكم يسمى تصديقا عند المناطقة والمتكلمين، وهذا الإدراك متضمن لتصور الطرفين وتصور النسبة، ثم الحكم بإيقاع النسبة أو انتزاعها. انظر البناني على المحلي على جمع الجوامع: 1/148.

সুতরাং এই চারটি দিক ঈমান ও তাসদিক শব্দ দুটির মধ্যে সমার্থকতা থাকার দাবিকে বাতিল করে দেয়। আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে এটি তাসদিকের সমার্থক, তবুও এটি এমন এক তাসদিক ও নিরাপত্তা অথবা তাসদিক ও প্রশান্তি, যা যার ওপর ঈমান আনা হয়েছে তার প্রতি দায়বদ্ধতাকে শামিল করে, সেটি কোনো সংবাদ হোক বা কোনো বিষয় প্রবর্তন (ইনশা); যা কেবল নিছক তাসদিক শব্দের বিপরীত; যা মূলত সম্বন্ধ স্থাপন করা বা তা নাকচ করার এক মানসিক সিদ্ধান্তের নাম, যেমনটি কালামশাস্ত্রবিদরা দাবি করেন (১)।

--------------------------------------------

(১) - উপলব্ধি যদি কোনো সিদ্ধান্তের সাথে হয়, তবে যুক্তিবিদ ও কালামশাস্ত্রবিদদের নিকট তাকে তাসদিক বলা হয়। আর এই উপলব্ধি উভয় পক্ষকে কল্পনা করা এবং তাদের মধ্যকার সম্বন্ধকে কল্পনা করার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে, অতঃপর সম্বন্ধ স্থাপন করা বা তা নাকচ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া। দেখুন: আল-বান্নানি আলাল মাহাল্লি আলা জামউল জাওয়ামি: ১/১৪৮।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৬)
وعلى تعريفِ المتكلمين للتصديق فإنه لا يمكن أن يكونَ إلا بالقلب أو اللسان، وهذا معترض بما ثبت في السنةِ وأقوالِ السلفِ من تسمية الأفعال تصديقا، كما جاء في الحديث:» إن الله كتب على ابن آدم حظَّه من الزنا أدرك ذلك لا محالة فزنا العينِ النظر، وزنا اللسان المنطق، والنفس تتمنى وتشتهي، والفرج يصدق ذلك كلَّه أو يكذبه « (1) . وقال الحسن البصري:» ليس الإيمان بالتحلي ولا بالتمني، ولكنه ما وَقَر في القلب وصدَّقَتْه الأعمال « (2) . وروى محمد بن نصر المروزي أن عبدَ الملكِ بن مروان كتب إلى سعيد بن جبير يسأله عن هذه المسائل، فأجابه:» سألتَ عن الإيمان، فالإيمانُ هو التصديق، أن يصدق العبد بالله وملائكته وما أنزل الله من كتاب وما أرسل من رسول، وباليوم الآخر. وسألتَ عن التصديق، والتصديق أن يعمل العبد بما صدق به من القرآن، وما ضعف عن شيء منه وفرَّط فيه عرف أنه أذنب واستغفر الله وتاب منه ولم يصر عليه، فذلك هو التصديق… « (3) . قال شيخ الإسلام رحمه الله:» وهذا معروف عن غير واحد من السلف والخلف، أنهم يجعلون العمل مصدقا للقول « (4) .

--------------------------------------------

(1) - أخرجه البخاري في كتاب الاستئذان-باب زنا الجوارح دون الفرج، برقم: 6243 (ص1202) ، ومسلم في كتاب القدر، برقم 2657 (ص1066) .

(2) - انظر مجموع الفتاوى: 7/294.

(3) - نفس المرجع: 7/294.

(4) - نفس المرجع: 7/296.
কালামশাস্ত্রবিদদের (মুতাকাল্লিমুন) ‘তাসদিক’ বা সত্যায়নের সংজ্ঞানুসারে এটি কেবল অন্তর বা জিহ্বার মাধ্যমেই হওয়া সম্ভব। কিন্তু সুন্নাহ এবং সালাফদের বাণীতে আমল বা কাজকেও ‘তাসদিক’ বা সত্যায়ন হিসেবে অভিহিত করার যে প্রমাণ পাওয়া যায়, তার মাধ্যমে এই বিষয়টি আপত্তযোগ্য। যেমনটি হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম সন্তানের জন্য ব্যভিচারের একটি অংশ লিখে রেখেছেন, যা সে অবধারিতভাবে লাভ করবে। চোখের ব্যভিচার হলো দেখা, জিহ্বার ব্যভিচার হলো কথা বলা, মন কামনা ও আকাঙ্ক্ষা করে, আর লজ্জাস্থান তা সত্য প্রমাণ (তাসদিক) করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।" (১)। হাসান বসরী রহ. বলেছেন: "ঈমান কেবল বাহ্যিক সজ্জা বা আকাঙ্ক্ষার নাম নয়, বরং তা হলো যা অন্তরে বদ্ধমূল হয় এবং আমল বা কাজ যাকে সত্য প্রমাণ করে।" (২)। মুহাম্মাদ বিন নাসর আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান সাঈদ বিন জুবাইরকে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে পত্র লিখেছিলেন। উত্তরে তিনি লিখেছিলেন: "আপনি ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন; ঈমান হলো সত্যায়ন (তাসদিক)—অর্থাৎ বান্দা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবসমূহ, প্রেরিত রাসুলগণ এবং পরকালের প্রতি সত্যায়ন করবে। আর আপনি ‘তাসদিক’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন; ‘তাসদিক’ হলো বান্দা কুরআনের যেসব বিষয়ের প্রতি সত্যায়ন করেছে, তদনুসারে আমল করা। আর যদি সে কোনো বিষয়ে দুর্বলতা দেখায় বা ত্রুটি করে, তবে সে যেন স্বীকার করে যে সে গুনাহ করেছে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ও তওবা করে এবং তাতে অটল না থাকে; আর এটাই হলো সত্যায়ন…" (৩)। শাইখুল ইসলাম রহ. বলেন: "এটি সালাফ ও খালাফদের অনেকের নিকট থেকেই সুপরিচিত যে, তারা আমল বা কাজকে মৌখিক স্বীকৃতির সত্যায়নকারী হিসেবে গণ্য করেন।" (৪)।

--------------------------------------------

(১) - বুখারী, কিতাবুল ইস্তিযান, অনুচ্ছেদ: লজ্জাস্থান ব্যতীত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যভিচার, হাদিস নং: ৬২৪৩ (পৃ. ১২০২); মুসলিম, কিতাবুল কদর, হাদিস নং: ২৬৫৭ (পৃ. ১০৬৬)।

(২) - দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া: ৭/২৯৪।

(৩) - প্রাগুক্ত: ৭/২৯৪।

(৪) - প্রাগুক্ত: ৭/২৯৬।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৭)
ونتيجة هذا المبحث، أن الإيمان في اللغة - عند المحققين من أمثال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله ليس مرادفا للتصديق، وأنه على فرض الترادف بينهما فليس المقصودُ بالتصديق مجردَ الحكمِ الذهني بنسبةِ المحمولِ للموضوع، كما هو الأمر في اصطلاح أهل المنطق والكلام (1) ، ولكنه التصديقُ في عُرف السلف، الشاملُ للالتزام العملي الذي يقتضيه تمامُ الإذعان.

وعليه، فإن أصلحَ تعريف للإيمان من جهة اللغة هو الإقرارُ لا التصديق، والإقرار يتضمن أمرين اثنين هما: قول القلب وهو التصديق وعمل القلب وهو الانقياد، أي تصديق الرسول فيما أخبر، والانقياد له فيما أمر (2) . قال شيخ الإسلام عليه رحمة الله:» … فكان تفسيره بلفظ الإقرار أقربَ من تفسيره بلفظ التصديق، مع أن بينهما فرقا « (3)

 

الفصل الثاني: تعريف الإيمان شرعا عند أهل السنة والجماعة:

قلت في النظم:

 

في الاصطلاح عند من قد سلفا

بالقول والفعل لديهم عُرفا

والبعضُ بالسنة زاد اعتصما

وزاد الاعتقادَ بعضُ العلما

وبعضُهم بنية قد عَبروا

وأول المُعرفات أظهر

 

الشرح:

(في الاصطلاح) أي في الشرع، متعلقٌ بعُرف (عند مَن قد سلفا) أي عند السلف الصالح، رضوان الله عليهم، والألفُ لإطلاق القافية (بالقول) أي: قولِ القلب وقول اللسان (والفعل) أي: عمل القلب وعمل الجوارح (لديهم) أي لدى السلفِ (عرِّفا) بتشديد الراء والبناء للمجهول، والألفُ للإطلاق. والمعنى أن السلف عَرَّفوا الإيمان في الشرع بأنه قول وعمل، وستأتي النقول بذلك عنهم.

--------------------------------------------

(1) - أي أغلبهم، وقد جعل بعضهم التصديق شاملا للإذعان والقبول، مثل السعد في شرح العقائد النسفية: 423 كما في الجامع في طلب العلم الشريف:2/536، والبيجوري في شرح الجوهرة: 67.

(2) -.مجموع الفتاوى: 7/638.

(3) - مجموع الفتاوى: 7/291.
এই আলোচনার নির্যাস হলো যে, ভাষাগতভাবে ঈমান—শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ-এর মতো গবেষক আলেমদের মতে—তাসদিক (সত্যায়ন)-এর সমার্থক নয়। আর যদি এই দুটির মধ্যে সমার্থক হওয়ার বিষয়টি ধরেও নেওয়া হয়, তবুও তাসদিক দ্বারা উদ্দেশ্য কেবল যুক্তিবিদ্যা ও কালাম শাস্ত্রবিদদের পরিভাষার মতো বিষয়ের (predicate) প্রতি উদ্দেশ্যের (subject) মানসিক বিচার নয় (১), বরং তা হলো সালাফদের পরিভাষায় তাসদিক, যা এমন কর্মগত বাধ্যবাধকতাকে অন্তর্ভুক্ত করে যা পূর্ণ আনুগত্যের দাবি রাখে।

এর ওপর ভিত্তি করে, ভাষাগত দিক থেকে ঈমানের সবচেয়ে সঠিক সংজ্ঞা হলো 'ইকরার' (স্বীকৃতি), 'তাসদিক' নয়। আর ইকরার দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে: অন্তরের কথা অর্থাৎ সত্যায়ন এবং অন্তরের কাজ অর্থাৎ আনুগত্য; অর্থাৎ রাসূল যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং তিনি যা নির্দেশ দিয়েছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করা (২)। শাইখুল ইসলাম আলাইহি রহমাতুল্লাহ বলেছেন: » … তাই 'ইকরার' শব্দ দ্বারা এর ব্যাখ্যা করা 'তাসদিক' শব্দ দ্বারা ব্যাখ্যা করার চেয়ে অধিকতর নিকটবর্তী, যদিও এ দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে « (৩)

 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট শরীয়তের পরিভাষায় ঈমানের সংজ্ঞা:

আমি কবিতায় বলেছি:

 

পরিভাষায় তাদের নিকট যারা গত হয়েছেন (সালাফ)

কথা ও কাজের মাধ্যমে তাদের নিকট তা পরিচিত হয়েছে

কেউ কেউ সুন্নাহর অনুসরণকে অতিরিক্ত যুক্ত করেছেন

এবং কোনো কোনো আলেম বিশ্বাসকে বৃদ্ধি করেছেন

কেউ কেউ নিয়ত দ্বারা ব্যক্ত করেছেন

আর প্রথম সংজ্ঞাটিই সর্বাধিক স্পষ্ট

 

ব্যাখ্যা:

(পরিভাষায়) অর্থাৎ শরীয়তের পরিভাষায়, যা 'উরিফা' (পরিচিত হওয়া) শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। (তাদের নিকট যারা গত হয়েছেন) অর্থাৎ সালাফ আস-সালেহীন—রাদিয়াল্লাহু আনহুম—তাদের নিকট; এখানে আলিফটি ছন্দের অন্ত্যমিলের জন্য। (কথার মাধ্যমে) অর্থাৎ অন্তরের কথা ও জিহ্বার কথা। (এবং কাজের মাধ্যমে) অর্থাৎ অন্তরের কাজ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজ। (তাদের নিকট পরিচিত হয়েছে) রা-বর্ণে তাশদীদ এবং কর্মবাচ্যে; এখানেও আলিফটি অন্ত্যমিলের জন্য। এর অর্থ হলো, সালাফগণ শরীয়তের পরিভাষায় ঈমানের সংজ্ঞা দিয়েছেন যে, তা হলো কথা ও কাজ; এ বিষয়ে অচিরেই তাদের থেকে উদ্ধৃতিসমূহ সামনে আসবে।

--------------------------------------------

(১) - অর্থাৎ তাদের অধিকাংশ। তবে কেউ কেউ তাসদিককে আনুগত্য ও কবুল করার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করেছেন, যেমন সা'দ শারহুল আকাইদ আন-নাসাফিয়্যাহ-তে: ৪২৩, যেমনটি আল-জামি' ফি তালাবিল ইলম আশ-শরীফ: ২/৫৩৬-এ বর্ণিত হয়েছে, এবং আল-বাইজুরি শারহুল জাওহারাহ-তে: ৬৭।

(২) -.মাজমুউল ফাতাওয়া: ৭/৬৩৮।

(৩) - মাজমুউল ফাতাওয়া: ৭/২৯১।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৮)
(وزاد) في تعريف الإيمان (الاعتقادَ) القلبيَّ (بعضُ العلما) ء من أهل السنة، وهو مقصور للوزن، (والبعض) من أهل الحق (بالسنة زاد اعتصما) الألفُ مُبدلةٌ من نونِ التوكيد المُخَففة، والمعنى أن بعض السلفِ زاد في تعريف الإيمان ركنَ الاعتصامِ بالسنة. (وبعضهم بنية قد عبروا) أي أن بعضَ السلفِ زاد النية في تعريف الإيمان، وهذه الأقوالُ حقٌّ كلُّها، ولا تعارضَ بينها عند التمحيص، وسيأتي توجيهُها من كلام شيخ الإسلام (و) لكن (أول المعرفات) المذكورة وهو أن الإيمان قول وعمل (أظهرُ) من غيره من حيثُ موافقةُ الدليل، وأشهرُ عند سلف الأمة رضوان الله عليهم.

وبيان ذلك أن أئمةَ السلف قد نقلوا فيما جمعوه وألَّفوه إجماعات الصحابة والتابعينَ ومَن بعدهم على أن الإيمان قول وعمل. وهذه الإجماعاتُ خير دليل على أنَّ هذا المعنى الشرعي للفظ الإيمان قد تواتر واشتهر في خطاب الشرع عند سلف هذه الأمة الذين هم نَقَلةُ الكتاب والسنة إلى مَن بعدهم، وأعرفُ الناس بمراد الشرع.

يقول الإمام البخاريُّ كما نقله عنه اللالكائي في كتابه "شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة":» كتبتُ عن ألفِ نفر من العلماء وزيادة ولم أكتب إلا عن من قال: الإيمان قول وعمل « (1) .

وعزا اللالكائي هذا القول أيضا إلى سبعة من الصحابة، وثمانية من التابعين، وعدد كبير من الفقهاء يبلغ الثلاثين (2) . ثم أورد جملة صالحة من ذلك بأسانيده، كما هو دَيْدَنُه في كتابه الحافل هذا.

--------------------------------------------

(1) - اللالكائي: 5/959.

(2) - اللالكائي: 4/913.
(ঈমানের সংজ্ঞায়) অন্তরের (বিশ্বাসকে) বৃদ্ধি করেছেন আহলে সুন্নাতের (কিছু আলেম), ছন্দের প্রয়োজনে শব্দটি সংক্ষেপ করা হয়েছে; এবং হকের অনুসারীদের (মধ্যে কেউ কেউ সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা বৃদ্ধি করেছেন)। এখানে আলিফটি নূনে তাকিদ খাফিফাহ-এর পরিবর্তে এসেছে। এর অর্থ হলো, সালাফদের কেউ কেউ ঈমানের সংজ্ঞায় সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার রুকনটি যুক্ত করেছেন। (এবং তাদের কেউ কেউ নিয়তের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন) অর্থাৎ, সালাফদের কেউ কেউ ঈমানের সংজ্ঞায় নিয়তকে বৃদ্ধি করেছেন। এই সবকটি বক্তব্যই সঠিক এবং সূক্ষ্ম পর্যালোচনায় এগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। শাইখুল ইসলামের বক্তব্য থেকে সামনে এর ব্যাখ্যা আসবে। (এবং) তবে উল্লেখিত (সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে প্রথমটি), অর্থাৎ ঈমান হলো কথা ও কাজ—দলিল-প্রমাণের অনুকূলে হওয়ার দিক থেকে অন্যগুলোর চেয়ে (অধিকতর স্পষ্ট), এবং উম্মতের সালাফদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নিকট এটিই অধিক প্রসিদ্ধ।

এর ব্যাখ্যা হলো, সালাফ ইমামগণ তাঁদের সংকলিত ও রচিত গ্রন্থসমূহে সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তীগণের এই ইজমা (ঐক্যমত) বর্ণনা করেছেন যে, ঈমান হলো কথা ও কাজ। এই ইজমাগুলোই হলো সর্বোত্তম প্রমাণ যে, ঈমান শব্দের এই শরয়ি অর্থটি এই উম্মতের সালাফদের মাঝে শরয়ি সম্বোধনে মুতাওয়াতির ও সুপ্রসিদ্ধ হয়েছে। তাঁরাই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কিতাব ও সুন্নাহর বাহক এবং শরয়ি উদ্দেশ্যের বিষয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী।

ইমাম বুখারী বলেন—যেমনটি আল-লালাকায়ী তাঁর "শারহু উসূলি ই’তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ" গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন—: "আমি এক হাজারেরও বেশি আলেমের কাছ থেকে লিখেছি, তবে এমন ব্যক্তি ছাড়া কারো কাছ থেকে লিখিনি যিনি বলেছেন: ঈমান হলো কথা ও কাজ।" (১)।

আল-লালাকায়ী এই কথাটিকে সাতজন সাহাবী, আটজন তাবিঈ এবং ত্রিশজনের মতো এক বিশাল সংখ্যক ফকিহ-র দিকেও নিসবত করেছেন (২)। এরপর তিনি তাঁর এই সমৃদ্ধ গ্রন্থের চিরাচরিত পদ্ধতি অনুযায়ী এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সনদসহ উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) - আল-লালাকায়ী: ৫/৯৫৯।

(২) - আল-লালাকায়ী: ৪/৯১৩।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৯)
لذلك قال الحافظ في الفتح:» وأطنب ابن أبي حاتم واللالكائي في نقل ذلك بالأسانيد عن جمع كثير من الصحابة والتابعين وكلِّ من يدور عليه الإجماع من الصحابة والتابعين. وحكاه فضيل بن عياض ووكيع عن أهل السنة والجماعة « (1) . وقال أيضا:» وما نقل عن السلف – أي من أن الإيمان قول وعمل – صرح به عبد الرزاق في مصنفه عن سفيان الثوري ومالك بن أنس والأوزاعيُّ وابنُ جريج ومعمر وغيرهم، وهؤلاء فقهاء الأمصار في عصرهم « (2) .

ويقول الإمام المزني في عقيدته التي ذَكر في آخرها أن ما فيها "اجتمع عليه الماضون الأولون من أئمة الهدى":» والإيمان قول وعمل، وهما شيئان ونِظامان وقرينان لا يُفرَّق بينهما « (3) . ويقول إماما أهل الحديث أبو زرعةَ وأبوحاتمٍ رحمهما الله تعالى:» أدركنا العلماء في جميع الأمصار حجازا وعراقا وشاما ويمنا، فكان من مذهبهم: الإيمان قول وعمل يزيد وينقص « (4) . كما نقل ابنُ عبد البر في التمهيد الإجماعَ على أن الإيمان قول وعمل (5) .

والحق أن تتبُّعَ مثلَ هذه النقولِ عن السلف أمر طويل ليس المقصودُ استقصاءَه، وإنما المرادُ الإشارة إلى شهرة هذا التعريف، بل تواترِه، كما هو واضح.

هذا وقد نقل عن السلف أقوالٌ أخرى في تعريف الإيمان أشرتُ إليها في النظم، من ذلك قولُ البعض إنه قول باللسان واعتقاد بالقلب وعمل بالجوارح، كما نقله شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله (6) . ومنهم من قال إنه قول وعمل ونية كما نقله اللالكائي عن الإمام الشافعي، قال:» وكان الإجماع من الصحابة والتابعين مِن بعدهم ممن أدركناهم: أن الإيمان قول وعمل ونية ولا يجزئ واحد من الثلاثة إلا بالآخر « (7) .

--------------------------------------------

(1) - الفتح: 1/65.

(2) - الفتح: 1/64.

(3) - اجتماع الجيوش الإسلامية: 83.

(4) - اجتماع الجيوش الإسلامية: 121.

(5) -التمهيد: 9/248.

(6) -مجموع الفتاوى: 7/170.

(7) -اللالكائي: 5/957.
এজন্য হাফেজ (ইবনে হাজার) আল-ফাতহ গ্রন্থে বলেছেন: "ইবনে আবি হাতিম এবং আল-লালকাঈ অনেক সাহাবী, তাবেঈ এবং যাদের ওপর সাহাবী ও তাবেঈদের ঐকমত্য আবর্তিত হয়, তাঁদের এক বিশাল জামাত থেকে সনদসহ এটি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আর ফুদাইল ইবনে ইয়াদ এবং ওয়াকি এটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন" (১)। তিনি আরও বলেছেন: "সালাফদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে—অর্থাৎ ঈমান হলো কথা ও কাজ—আব্দুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে সুফিয়ান আস-সাওরি, মালিক ইবনে আনাস, আল-আওযাঈ, ইবনে জুরাইজ, মা’মার এবং অন্যদের থেকে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন; আর তাঁরা ছিলেন নিজ নিজ যুগের বিভিন্ন অঞ্চলের ফকীহ" (২)।

ইমাম আল-মুযানী তাঁর আকিদাহ গ্রন্থে বলেন, যার শেষে তিনি উল্লেখ করেছেন যে এতে যা আছে তার ওপর "হেদায়েতের পূর্ববর্তী ইমামগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন": "ঈমান হলো কথা ও কাজ, এই দুটি বিষয় ও বিধান একে অপরের পরিপূরক এবং এই দুটির মাঝে বিচ্ছেদ করা যায় না" (৩)। আহলে হাদিসের দুই ইমাম আবু জুরআহ এবং আবু হাতিম (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) বলেন: "আমরা হিজাজ, ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়ামেনসহ সকল অঞ্চলের আলেমদের পেয়েছি; তাঁদের মাযহাব ছিল: ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়" (৪)। তেমনিভাবে ইবনে আব্দুল বার ‘আত-তামহীদ’ গ্রন্থে ঈমান যে কথা ও কাজ—এ বিষয়ে ইজমা (ঐকমত্য) বর্ণনা করেছেন (৫)।

প্রকৃতপক্ষে সালাফদের থেকে এই ধরনের বর্ণনাগুলো অনুসন্ধান করা একটি দীর্ঘ বিষয়, যার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দেওয়া এখানে উদ্দেশ্য নয়। বরং উদ্দেশ্য হলো এই সংজ্ঞার প্রসিদ্ধি, এমনকি এর অকাট্য পর্যায়ের (তাওয়াতুর) দিকে ইঙ্গিত করা, যা অত্যন্ত স্পষ্ট।

উল্লেখ্য যে, ঈমানের সংজ্ঞায় সালাফদের থেকে আরও কিছু বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে যা আমি ছন্দাকারে উল্লেখ করেছি। তন্মধ্যে কারো কারো বক্তব্য হলো—এটি মুখে বলা, অন্তরে বিশ্বাস করা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা; যেমনটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বর্ণনা করেছেন (৬)। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন—এটি কথা, কাজ ও নিয়ত; যেমনটি আল-লালকাঈ ইমাম শাফেঈ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "সাহাবী, তাবেঈ এবং তাঁদের পরবর্তী আমরা যাদের পেয়েছি, তাঁদের ঐকমত্য ছিল যে: ঈমান হলো কথা, কাজ ও নিয়ত; এই তিনটির একটিও অন্যটি ছাড়া যথেষ্ট হয় না" (৭)।

--------------------------------------------

(১) - আল-ফাতহ: ১/৬৫।

(২) - আল-ফাতহ: ১/৬৪।

(৩) - ইজতিমাউল জুয়ুশিল ইসলামিয়্যাহ: ৮৩।

(৪) - ইজতিমাউল জুয়ুশিল ইসলামিয়্যাহ: ১২১।

(৫) - আত-তামহীদ: ৯/২৪৮।

(৬) - মাজমুউল ফাতাওয়া: ৭/১৭০।

(৭) - আল-লালকাঈ: ৫/৯৫৭।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৩০)
ومنهم من زاد في تعريف الإيمان الاعتصامَ بالسنة. قال الأوزاعي:» لا يستقيم الإيمان إلا بالقول ولا القول إلا بالعمل ولا يستقيم الإيمان والقول والعمل إلا بنية موافقة للسنة « (1) . وأصرحُ منه قولُ سهل التستري لما سئل عن الإيمان ما هو، فقال:» قول وعمل ونية وسنة « (2) .

والحقُّ أن هذه الأقوالَ كلَّها صحيحة ولا تعارض بينها عند التحقيق (3) . فمن قال منهم إنه قول وعمل - وهذا هو المشهور عندهم كما سلف بيانُه - أراد أنه قول باللسان وبالقلب وعمل بالقلب وبالجوارح، وذلك لأن قول اللسان بدون اعتقاد القلب هو قول المنافقين، قال تعالى: {يَقُولُونَ بِأَلْسِنَتِهِمْ مَا لَيْسَ فِي قُلُوبِهِمْ} ، وكذلك فإن عمل الجوارح بدون أعمال القلوب هي من أعمال المنافقين التي لا يقبلُها الله. ومَن زاد الاعتقاد في التعريف خاف أن لا يُفهم من لفظ القول إلا القولُ الظاهر، فزاد الاعتقاد بالقلب. ومن زاد النية قال: القول يتناول الاعتقاد وقول اللسان، وأما العمل فقد لا يفهم منه النية فزاد ذلك. ومن زاد اتباع السنة فلأن ذلك كله لا يكون محبوبا لله إلا باتباع السنة، والأولون حين لم يذكروا اتباع السنة فلأنهم أرادوا من الأقوال والأعمال ما كان مشروعا أي موافقا للسنة.

 

ثم هاهنا مسألة يمكن إثارتها في هذا الموضع وهي: كيف يكون المعنى الاصطلاحي للفظةِ الإيمان مخالفا لمعناه اللغويِّ؟ فلْيُعلمْ بأنه اختُلف في إطلاق الألفاظ الشرعية كالصلاة والإيمان وغيرها على معانيها، على أقوال ثلاثة مشهورة:

أن الشارع نَقَلَها عن مسماها في اللغة إلى مسمى آخر.

أن الشارع تصرَّف فيها تصرُّف أهلِ العرف، فهي بالنسبة إلى اللغة مجاز، وبالنسبة إلى عرف الشارع حقيقة.

--------------------------------------------

(1) -اللالكائي: 5/956.

(2) -مجموع الفتاوى: 7/170.

(3) -انظر مجموع الفتاوى: 7/170-171.
তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঈমানের সংজ্ঞায় সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আল-আওযায়ী বলেন: "কথা ছাড়া ঈমান সঠিক হয় না, কাজ ছাড়া কথা সঠিক হয় না, আর সুন্নাহ অনুযায়ী নিয়ত ছাড়া ঈমান, কথা ও কাজ সঠিক হয় না" (১)। তাঁর চেয়েও স্পষ্ট হলো সাহল আত-তুস্তারি-এর উক্তি, যখন তাঁকে ঈমান কী সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "কথা, কাজ, নিয়ত ও সুন্নাহ" (২)।

প্রকৃত সত্য এই যে, এই সকল উক্তিই সঠিক এবং সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে এগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই (৩)। তাদের মধ্যে যারা বলেছেন যে ঈমান হলো কথা ও কাজ—আর এটিই তাঁদের নিকট প্রসিদ্ধ যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে—তারা এর দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছেন জিহ্বার কথা ও অন্তরের কথা এবং অন্তরের কাজ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ। কেননা অন্তরের বিশ্বাস ছাড়া জিহ্বার কথা হলো মুনাফিকদের কথা, মহান আল্লাহ বলেন: {তারা তাদের জিহ্বা দ্বারা তা বলে যা তাদের অন্তরে নেই}। অনুরূপভাবে অন্তরের কাজ ছাড়া অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ হলো মুনাফিকদের কাজ যা আল্লাহ কবুল করেন না। আর যারা সংজ্ঞায় 'বিশ্বাস' শব্দটিকে যুক্ত করেছেন, তারা এই আশঙ্কা করেছেন যে 'কথা' শব্দ দ্বারা কেবল বাহ্যিক কথাকে বুঝানো হতে পারে, তাই তারা অন্তরের বিশ্বাস শব্দটিকেও যুক্ত করেছেন। আর যারা 'নিয়ত' যুক্ত করেছেন তারা বলেন: 'কথা' শব্দটি বিশ্বাস ও জিহ্বার উক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে, কিন্তু 'কাজ' শব্দ থেকে হয়তো নিয়ত বুঝা নাও যেতে পারে, তাই তারা সেটি অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন। আর যারা সুন্নাহর অনুসরণ যুক্ত করেছেন, তার কারণ হলো—সুন্নাহর অনুসরণ ব্যতীত এই সবকিছুই আল্লাহর নিকট প্রিয় হবে না। আর আগের উলামাগণ যখন সুন্নাহর অনুসরণের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করেননি, তখন তাঁরা কথা ও কাজ বলতে এমনটিই উদ্দেশ্য নিয়েছেন যা শরীয়তসম্মত অর্থাৎ সুন্নাহর অনুসারী।

 

অতঃপর এখানে একটি মাসআলা উত্থাপন করা যেতে পারে, তা হলো: ঈমান শব্দের পারিভাষিক অর্থ কীভাবে তার আভিধানিক অর্থের বিপরীত হতে পারে? জেনে রাখা উচিত যে, সালাত, ঈমান এবং অন্যান্য শরয়ী শব্দসমূহকে তাদের অর্থের ক্ষেত্রে ব্যবহারের ব্যাপারে তিনটি প্রসিদ্ধ অভিমত রয়েছে:

প্রথমত: শরীয়ত প্রণেতা এগুলোকে তাদের আভিধানিক নাম থেকে অন্য একটি নামে স্থানান্তরিত করেছেন।

দ্বিতীয়ত: শরীয়ত প্রণেতা এগুলোর ক্ষেত্রে পরিভাষাবিদদের ন্যায় আচরণ করেছেন, ফলে এগুলো আভিধানিক দিক থেকে রূপক (মাজায), কিন্তু শরীয়তের পরিভাষার দিক থেকে প্রকৃত অর্থ (হাকীকত)।

--------------------------------------------

(১) - আল-লালকায়ি: ৫/৯৫৬।

(২) - মাজমুউল ফাতাওয়া: ৭/১৭০।

(৩) - দেখুন মাজমুউল ফাতাওয়া: ৭/১৭০-১৭১।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৩১)
أن الشارع لم ينقلها ولم يغيِّرها، ولكن استعملها مقيدة لا مطلقة (1) . وهذا القول الثالث هو الذي رجحه شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، واستدل عليه بأدلة متعددة وطويلة (2) .

والمسألة تبحث في علم أصول الفقه، فلتنظر تفاصيلها هناك (3) .

وإذا علم هذا، فإن الألفاظ الموجودة في الكتاب أو السنة يُنظر في بيان المراد بها إلى مقصود الشارع لا إلى اللغة أو العُرف الحادث. ألا ترى أننا إذا قرأنا في الكتاب أو السنة أمرا بإقامة الصلاة فإن أذهاننا تنصرف إلى وجوب إقامة تلك العبادة المخصوصة التي تبدأ بالتكبير وتختم بالتسليم؟ ونفس الشيء يقال بالنسبة لألفاظ أخرى كالزكاة والصوم والحج وغيرها.

ولفظ الإيمان - ومثله ألفاظ الإسلام والنفاق والكفر والفسق وغيرها - من هذا النوع، فلا ينبغي أن يؤخذ تعريفُها إلا من بيان رسول الله صلى الله عليه وسلم. يقول شيخ الإسلام رحمه الله:» فالنبي صلى الله عليه وسلم قد بيَّنَ المراد بهذه الألفاظ بيانا لا يُحتاج معه إلى الاستدلال على ذلك بالاشتقاق وشواهد استعمال العرب ونحو ذلك، فلهذا يجب الرجوع في مسميات هذه الأسماء إلى بيان الله ورسوله، فإنه شافٍ كاف « (4) .

وسأذكر- بحول الله عز وجل أدلةَ كون الإيمان قولا وعملا من الكتاب والسنة وأقوال السلف، عند تفصيل الكلام على أركان الإيمان فيما سيأتي والله أعلم.

 

الكلام على قول القلب:

 

قلت في النظم:

فالقول قول القلب أي تصديقُه

بما عن الرسول جا توثيقه

والجزم فيه أعظم المطلوب

فنقضُه بالشك والتكذيب

 

الشرح:

--------------------------------------------

(1) - حاشية ابن الحاج على شرح ميارة: 289.

(2) - مجموع الفتاوى: 7/298.

(3) - إرشاد الفحول: 49 وشرح المحلي على جمع الجوامع: 1/302.

(4) - مجموع الفتاوى: 7/287.
শরীয়ত প্রণেতা সেগুলোকে স্থানান্তরিত করেননি এবং পরিবর্তনও করেননি, বরং সেগুলোকে শর্তহীনভাবে নয় বরং সীমাবদ্ধ অবস্থায় ব্যবহার করেছেন (১)। এই তৃতীয় মতটিই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) প্রাধান্য দিয়েছেন এবং এর সপক্ষে বহু ও দীর্ঘ প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন (২)।

বিষয়টি ইলমে উসূলে ফিকহ-এ আলোচিত হয়, তাই এর বিস্তারিত বিবরণ সেখানে দেখা উচিত (৩)।

যখন এটি জানা গেল, তখন কিতাব বা সুন্নাহতে বিদ্যমান শব্দগুলোর উদ্দেশ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যের দিকে তাকাতে হবে, আভিধানিক অর্থ বা পরবর্তীতে উদ্ভূত প্রথার দিকে নয়। আপনি কি দেখেন না যে, যখন আমরা কিতাব বা সুন্নাহতে সালাত কায়েমের নির্দেশ পড়ি, তখন আমাদের মন সেই বিশেষ ইবাদতটি আদায়ের আবশ্যিকতার দিকে ধাবিত হয় যা তাকবীর দিয়ে শুরু হয় এবং সালামের মাধ্যমে শেষ হয়? যাকাত, সাওম, হজ এবং অন্যান্য শব্দের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

আর ঈমান শব্দটি—এবং এর অনুরূপ ইসলাম, নিফাক, কুফর, ফিসক ও অন্যান্য শব্দসমূহ—এই প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এগুলোর সংজ্ঞা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বর্ণনা ব্যতীত অন্য কিছু থেকে গ্রহণ করা উচিত নয়। শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই শব্দগুলোর উদ্দেশ্য এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যে, সেগুলোর জন্য শব্দমূল বা আরবদের ব্যবহারের সাক্ষী ইত্যাদির মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করার প্রয়োজন নেই। এ কারণে এই নামগুলোর নামকরণের ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বর্ণনার দিকেই ফিরে যাওয়া ওয়াজিব, কারণ তা পর্যাপ্ত ও যথেষ্ট (৪)।"

আর আমি—আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার শক্তিতে—ঈমান যে কথা ও কাজের নাম, তার সপক্ষে কিতাব, সুন্নাহ ও সালাফদের বক্তব্য থেকে প্রমাণাদি উল্লেখ করব যখন সামনে ঈমানের রুকনসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে, আল্লাহই ভালো জানেন।

 

অন্তরের কথা (কাউলুল কালব) সংক্রান্ত আলোচনা:

 

আমি কাব্যে বলেছি:

অতঃপর কথা হলো অন্তরের কথা, অর্থাৎ তার সেই সত্যায়ন

যা রাসূলের পক্ষ থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে এসেছে

আর এতে দৃঢ়তা হলো সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য

তাই সন্দেহ ও মিথ্যারোপের দ্বারা তা বাতিল হয়ে যায়

 

ব্যাখ্যা:

--------------------------------------------

(১) - শরহে মিয়ারাহ-এর ওপর ইবনে হাজ্জের হাশিয়া: ২৮৯।

(২) - মাজমুউল ফাতাওয়া: ৭/২৯৮।

(৩) - ইরশাদুল ফুহুল: ৪৯ এবং জামিউল জাওয়ামির ওপর আল-মাহাল্লীর শরহ: ১/৩০২।

(৪) - মাজমুউল ফাতাওয়া: ৭/২৮৭।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৩২)
(فالقول) الذي هو ركن في الإيمان الشرعي - كما سبق بيانه – نوعان، الأول منهما هو (قول القلب أي تصديقه) وإيقانه الجازم (بـ) كل (ما عن الرسول) محمد صلى الله عليه وسلم (جا) ءَ، مقصور للوزن (توثيقه) بنصوص الكتاب الجلية، والأحاديث النبوية السَّنِيَّة.

(والجزم) أي: القطعُ والتيقن بأي طريق حصل (فيه أعظم المطلوب) أي أول ما يطلب. لذلك (فنقضه) يكون (بالشك) وهو التردد بين أمرين دون ترجيح أحدهما (والتكذيب) وهو نقيض التصديق.

واعلم بأن هذا الركن العظيم – أعني تصديقَ القلب – قد تظافرت أدلة الكتاب والسنة على اعتباره وبيان خطورته، كما أجمع الناس – باستثناء الكرامية – على كونه ركنا في الإيمان.

قال تعالى: {وَالَّذِي جَاءَ بِالصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهِ أُوْلَئِكَ هُمْ الْمُتَّقُونَ * لَهُمْ مَا يَشَاءُونَ عِنْدَ رَبِّهِمْ ذَلِكَ جَزَاءُ الْمُحْسِنِينَ} . قال مجاهد: {وَالَّذِي جَاءَ بِالصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهِ} أصحابُ القرآن المؤمنون يجيئون يوم القيامة فيقولون هذا ما أعطيتمونا فعمِلنا فيه بما أمرتمونا. قال ابنُ كثير في تفسيره:» وهذا القول عن مجاهد يشمل كل المؤمنين، فإن المؤمنين يقولون الحق ويعملون به والرسولُ صلى الله عليه وسلم أَوْلى الناس بالدخول في هذه الآية على هذا التفسير فإنه جاء بالصدق وصدق المرسلين وآمن بما أُنزل إليه من ربه والمؤمنون كلٌّ آمن بالله وملائكته وكتبه ورسله « (1) .

--------------------------------------------

(1) - تفسير ابن كثير: 4/50.
(বক্তব্য) যা শরয়ী ঈমানের একটি রুকন - যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে - তা দুই প্রকার। তার মধ্যে প্রথমটি হলো (অন্তরের কথা অর্থাৎ তার সত্যায়ন) এবং (সেই) সব কিছুর (বিষয়ে) সুদৃঢ় প্রত্যয় (যা রাসুল) মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নিয়ে) এসেছেন; ছন্দের খাতিরে শব্দটি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে (এর প্রামাণ্যতা) কিতাবের সুস্পষ্ট পাঠসমূহ এবং মহিমান্বিত নববী হাদিসসমূহ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।

(সুদৃঢ় বিশ্বাস) অর্থাৎ: যে কোনো উপায়ে অর্জিত অকাট্য বিশ্বাস ও ধ্রুব নিশ্চিত হওয়া (এর মধ্যে এটিই প্রধান কাম্য) অর্থাৎ এটিই সর্বপ্রথম কাম্য বিষয়। তাই (তার পরিপন্থী বা ভঙ্গকারী) বিষয় হলো (সন্দেহ), যা কোনো একটি পক্ষকে প্রাধান্য না দিয়ে দুটির মধ্যে দ্বিধাগ্রস্ত থাকা (এবং মিথ্যারোপ করা), যা সত্যায়নের বিপরীত।

জেনে রাখুন যে, এই মহান রুকনটি - অর্থাৎ অন্তরের সত্যায়ন - এর গ্রহণযোগ্যতা এবং এর গুরুত্বের বর্ণনায় কিতাব ও সুন্নাহর দলিলসমূহ একীভূত হয়েছে। তেমনিভাবে কাররামিয়া সম্প্রদায় ব্যতীত সকল মানুষ ঈমানের রুকন হিসেবে এর অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

মহান আল্লাহ বলেন: "আর যারা সত্য নিয়ে এসেছে এবং তা সত্যায়ন করেছে, তারাই তো মুত্তাকী। তাদের রবের কাছে তারা যা চাইবে তা-ই তাদের জন্য রয়েছে। এটিই হলো মুহসিনদের প্রতিদান।" মুজাহিদ বলেন: "আর যারা সত্য নিয়ে এসেছে এবং তা সত্যায়ন করেছে" তারা হলো কুরআনের অনুসারী মুমিনগণ, তারা কিয়ামত দিবসে উপস্থিত হয়ে বলবে, এটিই সেই কিতাব যা আপনারা আমাদের দিয়েছিলেন এবং আপনারা আমাদের যা নির্দেশ দিয়েছিলেন আমরা সে অনুযায়ী আমল করেছি। ইবনে কাসির তার তাফসিরে বলেন: "মুজাহিদ থেকে বর্ণিত এই বক্তব্যটি সকল মুমিনকে অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা মুমিনরা সত্য কথা বলে এবং তা পালন করে। আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই তাফসির অনুযায়ী এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য। কেননা তিনি সত্য নিয়ে এসেছেন এবং রাসুলদের সত্যায়ন করেছেন এবং তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর ঈমান এনেছেন। আর মুমিনদের প্রত্যেকেই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসুলদের প্রতি ঈমান এনেছে।" (১)।

--------------------------------------------

(১) - তাফসিরে ইবনে কাসির: ৪/৫০।
(খণ্ড: ১) শারহু মানযুমাতিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقال تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا} ، أي: لم يشُكُّوا، مِن رابه إذا أوقعه في الشك مع التهمة. قال العلامة الألوسي::» وجعل عدمَ الارتيابِ متراخيا عن الإيمان (أي: باستعمال حرف "ثم") مع أنه لا ينفك عنه لإفادة نفيِ الشك فيما بعد عند اعتراء شبهة كأنه قيل: آمنوا ثم لم يَعْترِهم ما يعتري الضعفاءَ بعد حين، وهذا لا يدل على أنَّهم كانوا مرتابين أوَّلًا بل يدل على أنهم كما لم يرتابوا أوَّلًا لم يحدُث لهم ارتياب ثانيا « (1) .

وقال تعالى: {وَكَذَلِكَ نُرِي إِبْرَاهِيمَ مَلَكُوتَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلِيَكُونَ مِنْ الْمُوقِنِينَ} قال الألوسي:» أي: من زمرة الراسخين في الإيقان البالغين درجة عين اليقين من معرفة الله تعالى « (2) .

وجاء في حديث الدرجات العلى قوله عليه الصلاة والسلام:» بلى والذي نفسي بيده رجال آمنوا بالله وصدَّقوا المرسلين « (3) . والشاهد منه واضح.

ومن حديث أبي هريرة، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:» …أشهد أن لا إله إلا الله وأني رسول الله، لا يلقى اللهَ بهما عبدٌ غير شاك فيهما إلا دخل الجنة «وفي رواية:» …لا يلقى الله بهما عبد غير شاك فيهما فيحجب عن الجنة «. وعنه رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم بعثه بنَعليه فقال:» …من لقيتَ من وراء هذا الحائط يشهد أن لا إله إلا الله مستيقنا بها قلبه فبشره بالجنة «الحديث (4) .

--------------------------------------------

(1) - روح المعاني: 26/168 وما بين القوسين من زيادتي.

(2) - روح المعاني: 7/198.

(3) - أخرجه مسلم في الإيمان- باب الدليل على أن من مات على التوحيد دخل الجنة قطعا، برقم: 27 (ص45) .

(4) - أخرجه مسلم في كتاب الإيمان، برقم:31 (ص46) .
মহান আল্লাহ বলেন: {মুমিন তো তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, অতঃপর তারা কোনো সন্দেহ পোষণ করেনি}, অর্থাৎ: তারা সংশয়ে নিপতিত হয়নি। শব্দটি 'রাবা' (رابه) থেকে এসেছে, যখন কাউকে অপবাদসহ সন্দেহে নিপতিত করা হয়। আল্লামা আলূসী বলেন: "ঈমানের পরে সংশয়হীনতাকে বিলম্বিত করে উল্লেখ করা হয়েছে (অর্থাৎ: 'সুম্মা' বা 'অতঃপর' অব্যয় ব্যবহারের মাধ্যমে), যদিও তা ঈমান থেকে বিচ্ছিন্ন নয়; এটি মূলত পরবর্তীতে কোনো সংশয় উদয় হওয়ার সময় তা নাকচ করার গুরুত্ব বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। যেন বলা হয়েছে: তারা ঈমান এনেছে, অতঃপর তাদের মধ্যে এমন কিছু ঘটেনি যা কিছুকাল পর দুর্বল ঈমানদারদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। এটি নির্দেশ করে না যে তারা শুরুতে সন্দেহবাদী ছিল, বরং এটি প্রমাণ করে যে, তারা যেমন শুরুতে সন্দেহ পোষণ করেনি, তেমনি পরবর্তীতেও তাদের মধ্যে কোনো সন্দেহের উদয় হয়নি।" (১)।

মহান আল্লাহ বলেন: {আর এভাবেই আমি ইবরাহিমকে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব দেখাই যেন সে নিশ্চিত বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে} আলূসী বলেন: "অর্থাৎ: নিশ্চিত বিশ্বাসে সুদৃঢ় ঐ সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হতে, যারা মহান আল্লাহর মারেফাতের ক্ষেত্রে 'আইনুল ইয়াকীন' (চাক্ষুষ নিশ্চিত বিশ্বাস) এর স্তরে পৌঁছেছেন।" (২)।

উচ্চ মর্যাদাসমূহ সম্পর্কিত হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী এসেছে: "হ্যাঁ, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তারা এমন কিছু লোক যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং রাসূলগণকে সত্য বলে স্বীকার করেছে।" (৩)। এখান থেকে দলীলটি সুস্পষ্ট।

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "...আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল; যে কোনো বান্দাই এই দুটির ওপর কোনো সন্দেহ পোষণ না করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "...যে বান্দা এই দুটির ওপর কোনো সন্দেহ পোষণ না করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, তাকে জান্নাত থেকে বাধা দেওয়া হবে না।" তাঁর (রা.) থেকেই বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তাঁর জুতো জোড়া দিয়ে পাঠিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: "...এই প্রাচীরের পেছনে তুমি যার সাথেই সাক্ষাৎ পাবে যে হৃদয়ের দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও" হাদীস (৪)।

--------------------------------------------

(১) - রুহুল মাআনী: ২৬/১৬৮ এবং প্রথম বন্ধনীভুক্ত অংশটি আমার নিজস্ব সংযোজন।

(২) - রুহুল মাআনী: ৭/১৯৮।

(৩) - ইমাম মুসলিম এটি ঈমান অধ্যায়ে সংকলন করেছেন - অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি তাওহীদের ওপর মৃত্যুবরণ করবে সে নিশ্চিতভাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে তার দলীল, নম্বর: ২৭ (পৃষ্ঠা ৪৫)।

(৪) - ইমাম মুসলিম এটি ঈমান অধ্যায়ে সংকলন করেছেন, নম্বর: ৩১ (পৃষ্ঠা ৪৬)।