(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: -)
الموسوعة الحديثية بين الواقع والمأمول القسم: علوم الحديث
الكتاب: الموسوعة الحديثية بين الواقع والمأمول
المؤلف: زهير الناصر
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 114
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হাদিস বিশ্বকোষ: বাস্তবতা ও প্রত্যাশা বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: হাদিস বিশ্বকোষ: বাস্তবতা ও প্রত্যাশা
লেখক: যুহাইর আল-নাসির
প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলা প্রকাশনার তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ১)
تمهيدإنَّ الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذُ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلَّ له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهدُ أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهدُ أنَّ سيدنا محمداً عبده ورسوله، أرسله بالهدى ودين الحقّ؛ ليظهره على الدِّين كُلِّه، ولو كره الكافرون.
ولقد قام رسول الله صلى الله عليه وسلم بالتبليغ والتبيين، فبلَّغ الرسالة، وأدَّى الأمانة، ونصح الأُمَّة، وجاهد في الله حقَّ جهاده، وعبد رَبَّه حتى أتاه اليقين، فجزاه الله عنا وعن المسلمين خير الجزاء.
ورضي الله تبارك وتعالى عن صحابته أجمعين، الغُرّ الميامين، الذين قاموا بنقل الشريعة بأمانة ونصح، ورضي الله عن التابعين لهم بإحسانٍ إلى يوم الدين. وبعد:
فإنَّ خدمة هذا الدِّين وإظهار علوم سَيّد المرسلين صلى الله عليه وسلم واجب إسلامي، وهو أمانة في أعناق العلماء العاملين، والأئمة المصلحين، وما ذاك إلَاّ بنشر سُنَّته صلى الله عليه وسلم، والعمل بها، والدعوة إليها، وحفظها، والذَّوْدِ عن حياضها.
ولقد قيَّض الله تعالى لذلك أئمة عاملين، ودعاة مخلصين، أفنوا أعمارهم وبذلوا النفس والنفيس في سبيل ذلك.
ومن هؤلاء الأئمة الذين بذلوا الجهود المضنية في جمع السُّنَّة النبوية، وفي حفظها وتدوينها، وفي ضبط أسانيدها وشرح متونها، واستنباط الأحكام منها، ومعرفة صحيحها من سقيمها.
প্রারম্ভিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রচার (تبليغ) ও ব্যাখ্যা (تبيين) প্রদানের দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথার্থ জিহাদ করেছেন। তিনি মৃত্যু আসা পর্যন্ত তাঁর রবের ইবাদত করেছেন। আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে এবং সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁর সকল উজ্জ্বল ও বরকতময় সাহাবীর ওপর সন্তুষ্ট হোন, যাঁরা বিশ্বস্ততা ও নিষ্ঠার সাথে শরিয়ত বর্ণনার দায়িত্ব পালন করেছেন। আর কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে (التابعين), আল্লাহ তাঁদের ওপরও সন্তুষ্ট হোন। অতঃপর:
নিশ্চয়ই এই দ্বীনের সেবা করা এবং সাইয়্যেদুল মুরসালিন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জ্ঞানসমূহকে বিকশিত করা একটি ইসলামি দায়িত্ব। এটি একনিষ্ঠ আলেম ও সংস্কারক ইমামদের স্কন্ধে একটি আমানত। আর তা কেবল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ প্রচার, তদনুযায়ী আমল, তার দিকে দাওয়াত, তা সংরক্ষণ এবং এর হিফাজতের মাধ্যমেই সম্ভব।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা এই কাজের জন্য এমন কিছু কর্মঠ ইমাম ও একনিষ্ঠ দায়ী নিযুক্ত করেছেন, যাঁরা এই পথে তাঁদের জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং তাঁদের মূল্যবান সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছেন।
এই ইমামদের অন্তর্ভুক্ত হলেন তাঁরা, যাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ সংগ্রহ ও সংরক্ষণে এবং তা সংকলন ও লিপিবদ্ধকরণে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তাঁরা এর সনদসমূহ (أسانيد) বিন্যাস করেছেন, এর মূলপাঠসমূহ (متون) ব্যাখ্যা করেছেন, তা থেকে বিধানসমূহ (أحكام) আহরণ করেছেন এবং এর বিশুদ্ধ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) বর্ণনাগুলো নিরূপণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ২)
ولذلك أُلِّفت الجوامع، والسنن، والمسانيد، والمعاجم، والمصنَّفات، والأجزاء، وكتب الجرح والتعديل، وموسوعات تراجم الرجال والرواة الشاملة للثقات والضعفاء، أو المخصصة للضعفاء والمجروحين، وهكذا.
ولأجل ذلك وضعت علوم جمَّة لخدمة السنة، وفق مناهج علمية رصينة، وقواعد محكمة، لمعرفة درجة كل حديث، والاستفادة من الفوائد الإسنادية والمتنية.
ومن المعلوم أن السُّنَّة هي المصدر الثاني للتشريع، وقد كانت محصورةً في زمن البعثة باعتبار صدورها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، من قول أو فعل أو تقرير، ولكنْ كثرتْ طُرُقُها، وتشعَّبتْ أسانيدُها، باعتبار النقلة من عصر الصحابة رضي الله عنهم إلى آخر عصر الإسناد، في المصنَّفات والجوامع والسنن والأجزاء
… كحديث العرنيين، بلغت طرقه أكثر من (50) طريقاً، وهو واقعة واحدة، وحديث واحد صادر عن المصطفى صلى الله عليه وسلم (1) . وكحديث جابر بن عبد الله في صفة حجة النبي صلى الله عليه وسلم، بلغت طرقه أكثر من (100) طريق، مختصراً ومطولاً، وهو حديث واحد يصور واقعة واحدة (2) .
لذا عكف العلماء في مختلف العصور على فكرة الجمع الموسوعي للوصول إلى حصر السُّنَّة وفق أصلها، للعمل بها وتبليغها للناس.
هذا وإنَّ فكرة هذا الجمع، الشامل للأحاديث النبوية، ليست وليدة هذا العصر، بل كانت ماثلةً في أذهان المتقدمين، وقائمةً في بعض مصنَّفاتهم بصور مختلفة.
--------------------------------------------
আর একারণেই জাওয়ামি, সুনান, মুসনাদ, মু'জাম, মুসান্নাফ, আজজা, জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) এর গ্রন্থসমূহ এবং বর্ণনাকারী ও ব্যক্তিদের জীবনীর এমন সব বিশ্বকোষ সংকলিত হয়েছে যা নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও দুর্বল (ضعفاء) উভয় ধরণের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করে, অথবা যা কেবল দুর্বল (ضعفاء) ও সমালোচিত (مجروحين) বর্ণনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, ইত্যাদি।
এই উদ্দেশ্যেই সুন্নাহর সেবায় বহুবিধ শাস্ত্র উদ্ভাবিত হয়েছে সুদৃঢ় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও সুনিপুণ নিয়মনীতির আলোকে, যার লক্ষ্য প্রতিটি হাদিসের মান (درجة) নির্ণয় করা এবং সনদ সংক্রান্ত (إسنادية) ও মতন সংক্রান্ত (متنية) বিভিন্ন জ্ঞান বা উপকারিতা থেকে উপকৃত হওয়া।
এটি সুপরিচিত যে, সুন্নাহ হলো শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস। নবুয়তের যুগে এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি (تقرير) হিসেবে যা কিছু প্রকাশ পেয়েছে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) দের যুগ থেকে সনদ (إسناد) বর্ণনার যুগের শেষ পর্যন্ত বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে মুসান্নাফ, জাওয়ামি, সুনান এবং আজজা গ্রন্থসমূহে এর সূত্রসমূহ (طرق) বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সনদসমূহ (أسانيد) শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত হয়েছে
… যেমন উরানি গোত্রের লোকদের হাদিস; এটি আল-মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি মাত্র ঘটনা এবং একটি মাত্র হাদিস হওয়া সত্ত্বেও এর সূত্রসমূহ (طرق) ৫০টিরও বেশি (১)। আবার জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হজের বিবরণ সম্বলিত হাদিসটির মতো, যার সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত সব মিলিয়ে সূত্রসমূহ (طرق) ১০০-র অধিক, অথচ এটি একটি মাত্র ঘটনা বর্ণনাকারী একটিই হাদিস (২)।
তাই বিভিন্ন যুগের উলামায়ে কেরাম সুন্নাহকে তার মূল উৎস অনুযায়ী সংরক্ষিত বা বেষ্টন করার লক্ষ্যে বিশ্বকোষীয় সংকলনের ধারণার প্রতি নিবিষ্ট হয়েছেন, যাতে তদানুযায়ী আমল করা যায় এবং মানুষের নিকট তা পৌঁছে দেওয়া যায়।
প্রকৃতপক্ষে নববী হাদিসসমূহের এই সর্বাত্মক সংকলনের ধারণা কেবল বর্তমান যুগেরই উদ্ভাবন নয়, বরং এটি পূর্বসূরিগণের চিন্তায় বিদ্যমান ছিল এবং তাদের বিভিন্ন সংকলনে তা ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রতিফলিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ৩)
لقد أدرك الحافظ ابن حجر العسقلاني (ت852?) أهمية جمع الأحاديث النبوية واستيعابها في مصنَّف واحد، وإلى ذلك يشير قوله (1) : ((ولقد كان استيعابُ الأحاديث سهلاً، لو أراد الله تعالى ذلك، بأن يجمع الأول منهم ما وصل إليه، ثم يذكر مَنْ بعده ما اطَّلع عليه ممَّا فاته من حديث مستقل أو زيادة في الأحاديث التي ذكرها، فيكون كالدليل عليه، وكذا من بعده، فلا يمضي كثيرٌ من الزمان إلَاّ وقد استُوعبت وصارت كالمصنَّف الواحد، ولعمري لقد كان هذا في غاية الحسن)) .
ويقول أيضاً رحمه الله تعالى (2) : ((وإن المتعيّن على من يتكلَّم على الأحاديث أن يَجْمَعَ طُرُقَها، ثم يجمعَ ألفاظ المتون إذا صَحَّت الطُّرُقُ ويشرحها على أنه حديث واحد، فإنَّ الحديث أولى ما فُسِّرَ بالحديث)) .
والجمع الموسوعي عند المتقدِّمين يتمثَّل بحلقات موسوعية، تُحقِّق أهدافاً موسوعية مقيدة، وتتمثل بحلقات مختلفة: في كتب الأطراف، وكتب جمع المتون، وكتب الزوائد على كتب معينة.
ولو نَظَرْنا بعين الإنصاف والشمول لرأينا أنَّ النظرة الموسوعية في التصنيف والتأليف كان صاحب السبق فيها هو الحافظ ابن حجر رحمه الله تعالى، بما جمعه واحتواه من طريقة المتقدِّمين وفوائد المتأخرين، وبخاصَّة في كتابه ((المطالب العالية)) ، حيث جمع زوائد المتون والأسانيد، على مطالب الساحة الراهنة في الجمع والتصنيف والتبويب.
وسيكون جمع المادة العلمية لهذا البحث ضمن العناصر الرئيسة التالية:
--------------------------------------------
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২?) একটি একক সংকলনে (مصنف) নববী হাদিসসমূহ সংগ্রহ ও আত্মস্থ করার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন, এবং তাঁর এই উক্তিটি (১) সেদিকেই নির্দেশ করে: “আল্লাহ তাআলা যদি ইচ্ছা করতেন তবে হাদিসসমূহ আত্মস্থ করা সহজ হতো; যদি তাঁদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি তাঁর কাছে যা পৌঁছেছে তা সংগ্রহ করতেন, অতঃপর তাঁর পরবর্তীজন পূর্ববর্তীর নিকট থেকে যা ছুটে গেছে—তা কোনো স্বতন্ত্র হাদিস হোক বা তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে কোনো অতিরিক্ত অংশ (زيادة) হোক—তা উল্লেখ করতেন, তবে তা তাঁর জন্য একটি নির্দেশিকার মতো হতো। একইভাবে তাঁর পরবর্তীগণও যদি তা-ই করতেন, তবে খুব বেশি সময় অতিবাহিত হতো না যতক্ষণ না তা সংগৃহীত হয়ে একটি একক সংকলনের (مصنف) রূপ ধারণ করত। আমার জীবনের শপথ, এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি বিষয় হতো।”
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন (২): “যিনি হাদিস নিয়ে আলোচনা করবেন তাঁর জন্য আবশ্যক হলো এর সনদসমূহ (طرق) সংগ্রহ করা, অতঃপর যদি সনদগুলো (الطرق) সহিহ (صحت) হয় তবে মতন (المتون) বা মূলপাঠের শব্দাবলি একত্র করা এবং সেগুলোকে একটি হাদিস হিসেবে ব্যাখ্যা করা। কেননা, হাদিস ব্যাখ্যা করার জন্য হাদিসই সবচেয়ে উপযুক্ত মাধ্যম।”
পূর্ববর্তী (المتقدمين) আলেমগণের নিকট বিশ্বকোষীয় সংকলন বিভিন্ন জ্ঞানতাত্ত্বিক ধাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হতো, যা নির্দিষ্ট বিশ্বকোষীয় লক্ষ্যসমূহ পূরণ করত। এটি বিভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপিত হতো: আত্রাফ (الأطراف) বিষয়ক গ্রন্থে, মতন (المتون) বা মূলপাঠ সংগ্রহ বিষয়ক গ্রন্থে এবং নির্দিষ্ট গ্রন্থের ওপর রচিত অতিরিক্ত অংশ বা জাওয়ায়েদ (الزوائد) বিষয়ক গ্রন্থে।
আমরা যদি ইনসাফ ও সামগ্রিক দৃষ্টিতে দেখি, তবে দেখতে পাব যে, গ্রন্থ রচনা ও সংকলনের ক্ষেত্রে বিশ্বকোষীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-ই অগ্রগামী ছিলেন। কারণ তিনি পূর্ববর্তীগণের (المتقدمين) পদ্ধতি এবং পরবর্তীগণের (المتأخرين) গবেষণালব্ধ বিষয়সমূহ একত্রিত ও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন; বিশেষ করে তাঁর আল-মাতালিব আল-আলিয়া গ্রন্থে, যেখানে তিনি মতন (المتون) ও সনদসমূহের (الأسانيد) অতিরিক্ত অংশসমূহ (زوائد) সংগ্রহ করেছেন, যা বর্তমান সময়ের সংকলন, বিন্যাস ও অধ্যায় বিন্যাসের (التبويب) চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই গবেষণার বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তু সংগ্রহ নিম্নোক্ত প্রধান উপাদানসমূহের অন্তর্ভুক্ত হবে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ৪)
1 - الجمع الموسوعي عند المتقدِّمين في براعة الحفظ والاستحضار.
2 - التصنيف الموسوعي عند المتقدِّمين والمعاصرين.
3- الجهود المبذولة في سبيل إعداد الموسوعة الشاملة باستخدام الحاسب الآلي.
4 - مراحل طريقة الجمع الموسوعي.
5 - مقترحات في تشكيل أهم اللجان الدائمة للعمل الموسوعي.
6 - خاتمة في أهداف العمل الموسوعي.
وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
1 - প্রাচীন ইমামগণের (المتقدمين) প্রখর মুখস্থশক্তি (الحفظ) ও স্মৃতিচারণের (الاستحضار) দক্ষতায় বিশ্বকোষীয় সংকলন।
2 - প্রাচীন (المتقدمين) ও সমসাময়িকদের (المعاصرين) বিশ্বকোষীয় গ্রন্থনা।
3- কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষ তৈরির লক্ষ্যে পরিচালিত প্রচেষ্টাসমূহ।
4 - বিশ্বকোষীয় সংকলন পদ্ধতির ধাপসমূহ।
5 - বিশ্বকোষীয় কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটিসমূহ গঠনের প্রস্তাবনা।
6 - বিশ্বকোষীয় কাজের লক্ষ্যসমূহ নিয়ে উপসংহার।
আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ৫)
- الجمع الموسوعي عند المتقدِّمين في براعة الحفظ والاستحضار
كان المتقدِّمون من علماء المسلمين في غاية إتقان الحفظ واستحضار ما هو مركوزٌ في حافظتهم، حتى لو أعادَ أحدهم ما حفظه مراتٍ عديدةً، لا يُغَيِّرُ كلمةً منه، ولا يُحَرِّفُها أو يُصَحِّفُها، ولا يبدل بها مرادفاً لها.
ولو أملى من ذلك كتاباً ضخماً من الأحاديث النبوية، أو القصائد الشعرية، أو المقطعات النثرية؛ لَمَا غَاب عنه شيءٌ من محفوظاته مطلقاً، لقوة ملكة حفظه، وسرعة نُطْقه واستحضاره.
والجمع الموسوعي عند المتقدِّمين، في الحديث النبوي، كان أعظم من الجمع الموسوعي على الحاسب الآلي، في هذه الأزمنة، ويتجلَّى ذلك واضحاً في تراجمهم وأخبارهم التي نُقلت إلينا، والتي تشهدُ على سعة حفظهم، وسيلان ذهنهم، واطِّلاعهم الواسع على علل الحديث، ومعرفة صحيحها من سقيمها.
وممَّن اشتهر بالحفظ وسعة الاطّلاع: الحافظُ الكبير، شيخُ الإسلام، أبو نُعَيْم الفَضْل بن دُكَيْن الكوفي المُلائي (130 - 219?) .
قال يعقوب الفَسَوِي (1) : أجمع أصحابُنا أنَّ أبا نُعَيْم كان غايةً في الإتقان والحفظ.
وقال أبو حاتم الرازي (2) : كان حافظاً متقناً، لم أَرَ من المحدِّثين من يحفظ
--------------------------------------------
প্রাচীনকালকার আলেমদের মাঝে মুখস্থ করার দক্ষতা এবং তা স্মরণ করে উপস্থিত করার ক্ষেত্রে বিশ্বকোষীয় পাণ্ডিত্য
মুসলিম আলেমদের মধ্যে যারা পূর্বসূরি ছিলেন, তারা মুখস্থ করার গভীর দক্ষতা এবং তাদের স্মৃতিতে যা সংরক্ষিত রয়েছে তা উপস্থিত করার ক্ষেত্রে চরম পারদর্শিতার অধিকারী ছিলেন। এমনকি তাদের কেউ যদি তার মুখস্থকৃত অংশ বহুবার পুনরাবৃত্তি করতেন, তবুও তিনি সেখান থেকে একটি শব্দও পরিবর্তন করতেন না এবং তাতে কোনো বিকৃতি (تحريف) কিংবা শব্দগত ভুল (تصحيف) করতেন না, এমনকি তার পরিবর্তে কোনো সমার্থক শব্দও ব্যবহার করতেন না।
আর তিনি যদি স্মৃতি থেকে নববী হাদিসসমূহ, কাব্যগ্রন্থ কিংবা গদ্যাংশের কোনো বিশাল কিতাব শ্রুতিলিপি (إملاء) হিসেবে প্রদান করতেন, তবে তার প্রখর স্মৃতিশক্তি এবং দ্রুত উচ্চারণ ও উপস্থিত করার ক্ষমতার কারণে তার মুখস্থকৃত অংশ থেকে বিন্দুমাত্রও বাদ পড়ত না।
নববী হাদিসের ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের মাঝে যে বিশ্বকোষীয় পাণ্ডিত্য ছিল, তা বর্তমান সময়ের কম্পিউটারের বিশ্বকোষীয় সংকলনের চেয়েও মহত্তর ছিল। এটি তাদের জীবনী এবং আমাদের কাছে পৌঁছে যাওয়া সংবাদগুলোতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, যা তাদের মুখস্থের ব্যাপকতা, প্রখর মেধা এবং হাদিসের দোষ-ত্রুটি (علل) সম্পর্কে গভীর জ্ঞান এবং হাদিসের বিশুদ্ধ (صحيح) ও দুর্বল (سقيم) নির্ণয়ে তাদের পাণ্ডিত্যের সাক্ষ্য দেয়।
যারা মুখস্থ করার ক্ষমতা এবং পাণ্ডিত্যের গভীরতায় প্রসিদ্ধ ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: মহান হাফেজ (حافظ), শায়খুল ইসলাম, আবু নুয়াইম আল-ফদল ইবনে দুকাইন আল-কুফি আল-মুলাই (১৩০ - ২১৯?)।
ইয়াকুব আল-ফাসাউয়ি (১) বলেন: আমাদের সঙ্গীরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আবু নুয়াইম নিখুঁত সতর্কতা (إتقان) এবং মুখস্থ করার (حفظ) ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিলেন।
وقال আবু হাতিম আর-রাজি (২) বলেন: তিনি ছিলেন একজন সুনিপুণ (متقن) হাফেজ (حافظ); মুহাদ্দিসদের মধ্যে এমন কাউকে দেখিনি যিনি মুখস্থ রাখতেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ৬)
ويأتي بالحديث على لفظٍ واحدٍ لا يُغَيِّرُه سوى قَبِيصة وأبي نعيم في حديث الثوري، وكان أبو نُعَيْم يحفظُ حديث الثوري حفظاً جيداً، يعني الذي عنده عنه. قال: وهو ثلاثة آلاف وخمسمئة حديث، ويحفظ حديث مِسْعَر، وهو خمسمئة حديث، وكان لا يُلَقَّن (1) .
ومما يشهدُ له بالحفظ والاطلاع اختبارُ يحيى بن مَعِين له بحضرة الإمام أحمد بن حنبل. فقد روى الخطيبُ البغداديُّ (2) من طريق أحمد بن منصور الرمادي قال:
خرجتُ مع أحمد ويحيى بن مَعِين إلى عبد الرزاق خادماً لهما، فلمَّا عُدْنا إلى الكوفة قال يحيى بن مَعِين لأحمد بن حنبل: أُرِيدُ أنْ أختبرَ أبا نُعَيْم، فقال أحمد: لا تُرِدْ، فالرجلُ ثقةٌ. قال يحيى: لا بُدَّ لي.
فأخذ ورقة فكتب فيها ثلاثين حديثاً، وجعل على رأس كل عشرة منها حديثاً ليس من حديثه. ثم إنهم جاؤوا إلى أبي نُعَيْم، فخرج، وجلس على دكان طين، وأقعد أحمد بن حنبل عن يمينه، ويحيى عن يساره، وجلستُ أسفل.
فقرأ عليه يحيى عشرة أحاديث، وهو ساكت، ثم الحادي عشر، فقال أبو نعيم: ليس هذا من حديثي، فاضْرِبْ عليه. ثم قرأ العشرة الثانية وقرأ الحديث الثاني فقال: هذا أيضاً ليس من حديثي، فاضْرِبْ عليه. ثم قرأ العشرة الثالثة وقرأ الحديث الثالث، فتغيَّر أبو نعيم، وانقلبتْ عيناه.
--------------------------------------------
তিনি হাদিসকে অবিকল একই শব্দে বর্ণনা করতেন; সুফিয়ান আস-সাওরির হাদিসের ক্ষেত্রে কবিসাহ ও আবু নুয়াইম ব্যতীত আর কেউ (শব্দ) পরিবর্তন করত না। আবু নুয়াইম আস-সাওরির হাদিস অত্যন্ত নিপুণভাবে মুখস্থ রাখতেন—অর্থাৎ তাঁর নিকট তাঁর (সাওরি) থেকে যা ছিল। তিনি বলেন: তা ছিল তিন হাজার পাঁচশত হাদিস। তিনি মিস'আরের হাদিসও মুখস্থ রাখতেন, যা ছিল পাঁচশত হাদিস। আর তাঁকে বিভ্রান্ত করা যেত না (لا يُلَقَّن) (১)।
তাঁর হেফজ (স্মৃতিশক্তি) ও পাণ্ডিত্যের অন্যতম প্রমাণ হলো ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের উপস্থিতিতে ইয়াহইয়া ইবনে মা'ইন কর্তৃক তাঁর পরীক্ষা গ্রহণ। আল-খাতিব আল-বাগদাদি (২) আহমাদ ইবনে মানসুর আল-রামানি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
আমি আহমাদ ও ইয়াহইয়া ইবনে মা'ইনের সাথে তাঁদের খাদেম হিসেবে আব্দুর রাজ্জাকের নিকট সফরে গেলাম। যখন আমরা কুফায় ফিরে এলাম, তখন ইয়াহইয়া ইবনে মা'ইন আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বললেন: ‘আমি আবু নুয়াইমকে পরীক্ষা করতে চাই।’ আহমাদ বললেন: ‘আপনি এমনটা করবেন না, কেননা এই ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য (ثقة)।’ ইয়াহইয়া বললেন: ‘আমাকে তা করতেই হবে।’
অতঃপর তিনি একটি কাগজ নিলেন এবং তাতে ত্রিশটি হাদিস লিখলেন। প্রতি দশটি হাদিসের শুরুতে তিনি এমন একটি হাদিস জুড়ে দিলেন যা তাঁর (আবু নুয়াইমের) হাদিস নয়। তারপর তাঁরা আবু নুয়াইমের নিকট আসলেন। তিনি বেরিয়ে এলেন এবং মাটির তৈরি একটি উঁচু বেদির ওপর বসলেন। তিনি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে তাঁর ডানে এবং ইয়াহইয়াকে তাঁর বামে বসালেন, আর আমি নিচে বসলাম।
ইয়াহইয়া তাঁর সামনে দশটি হাদিস পাঠ করলেন, তিনি চুপ করে শুনলেন। এরপর একাদশতম হাদিসটি পাঠ করলে আবু নুয়াইম বললেন: ‘এটি আমার হাদিস নয়, এটি কেটে দাও।’ এরপর তিনি দ্বিতীয় দশটি হাদিস পাঠ করলেন এবং (সংযুক্ত) দ্বিতীয় হাদিসটি পাঠ করলেন। তিনি বললেন: ‘এটিও আমার হাদিস নয়, এটি কেটে দাও।’ এরপর তিনি তৃতীয় দশটি হাদিস পাঠ করলেন এবং (সংযুক্ত) তৃতীয় হাদিসটি পাঠ করলেন। তখন আবু নুয়াইম (রাগে) বদলে গেলেন এবং তাঁর চোখ দুটো উল্টে গেল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ৭)
ثم أقبل على يحيى، فقال: أمَّا هذا - وذراعُ أحمد بيده - فأورعُ من أن يعمل مثل هذا، وأمَّا هذا - يريدني - فأقلُّ من أن يفعل ذاك، ولكن هذا من فعلك يا فاعل.
ثم أخرج رجله، فرفس يحيى بن مَعِين وقلبه عن الدكان، وقام فدخل داره، فقال أحمد بن حنبل ليحيى: ألم أنهك وأقل لك: إنه ثَبْت؟ فقال له يحيى: واللهِ! لرفستُه لي أحبُّ إليَّ من سفرتي.
وقال أبو عُبَيْد الآجُرِّي (1) : قلتُ لأبي داود: كان أبو نُعَيْم حافظاً؟ قال: جدّاً.
ومن أئمة هذا الشأن: الحافظ الإمام الجِهْبذ شيخ المحدِّثين أبو زكريا يحيى بن مَعِين (158 - 233?) .
قال أحمد بن عُقْبة (2) : سألت يحيى بن مَعِين: كم كتبتَ من الحديث؟ قال: كتبتُ بيدي هذه ستَّ مئة ألف حديث.
وقال عبَّاس الدُّوري (3) : سمعتُ يحيى يقول: لو لم نكتب الحديث خمسين مرة، ما عَرَفْناه.
وقال محمد بن نصر الطبري (4) : دخلتُ على يحيى بن مَعِين، فوجدتُ عنده كذا وكذا سَفَطاً دفاتر، وسمعتُه يقول: كتبتُ بيدي ألفَ ألفِ حديث، وكُلُّ حديثٍ لا يُوجَدُ هاهنا - وأشارَ بيده إلى الأسفاط - فهو كذب.
--------------------------------------------
এরপর তিনি ইয়াহইয়ার দিকে এগিয়ে এলেন এবং বললেন: "এর ব্যাপারে বলি—তখন আহমদের হাত তাঁর হাতে ছিল—তিনি এমন কাজ করার চেয়ে অনেক বেশি আল্লাহভীতু। আর এর ব্যাপারে—অর্থাৎ আমাকে উদ্দেশ্য করে—সে এমন কাজ করার চেয়ে অনেক তুচ্ছ। বরং হে পাপিষ্ঠ, এটি তোমারই কাজ!"
এরপর তিনি তাঁর পা বাড়িয়ে দিলেন এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে লাথি মেরে দোকান থেকে ফেলে দিলেন। তারপর উঠে ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন আহমদ ইবনে হাম্বল ইয়াহইয়াকে বললেন: "আমি কি তোমাকে নিষেধ করিনি এবং বলিনি যে তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য (ثبت)?" ইয়াহইয়া তাকে বললেন: "আল্লাহর কসম! তাঁর এই লাথি খাওয়া আমার কাছে আমার সফরের চেয়েও বেশি প্রিয়।"
আবু উবাইদ আল-আজুরি (১) বলেন: আমি আবু দাউদকে জিজ্ঞেস করলাম, আবু নুয়াইম কি হাফেজ (حافظ) ছিলেন? তিনি বললেন: "অত্যন্ত উচ্চমানের।"
এই শাস্ত্রের ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত হলেন: হাফেজ (حافظ), ইমাম, সূক্ষ্মদর্শী সমালোচক (جهبذ) এবং মুহাদ্দিসদের শাইখ আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (১৫৮ - ২৩৩?)।
আহমদ ইবনে উকবা (২) বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কতটি হাদিস লিখেছেন? তিনি বললেন: "আমি নিজ হাতে ছয় লক্ষ হাদিস লিখেছি।"
আব্বাস আদ-দুরি (৩) বলেন: আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি: "যদি আমরা কোনো হাদিস পঞ্চাশবার না লিখতাম, তবে আমরা তা চিনতে পারতাম না।"
মুহাম্মদ ইবনে নাসর আত-তাবারী (৪) বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের নিকট প্রবেশ করলাম এবং তাঁর কাছে অনেক ঝুড়িভর্তি পাণ্ডুলিপি দেখতে পেলাম। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: "আমি নিজ হাতে দশ লক্ষ হাদিস লিখেছি। আর যে হাদিস এখানে পাওয়া যাবে না—এই বলে তিনি ঝুড়িগুলোর দিকে ইশারা করলেন—তা মিথ্যা (كذب)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقال العِجْلي (1) : ما خَلَقَ اللهُ أحداً كان أعرفَ بالحديث من يحيى بن مَعِين. كان يُؤْتى بالأحاديث قد خُلطت وقُلبت، فيقول: هذا كذا، وهذا كذا، كما قال.
ومن أئمة الحُفَّاظ وسادتهم: الإمام الكبير، شيخ المشرق، إسحاق بن راهويه (161 - 238?) .
قال الشَّعْبي (2) : ما كتبتُ سوداءَ في بيضاء إلى يومي هذا، ولا حدَّثني رجلٌ بحديثٍ قطُّ إلَاّ حفظتُه، ولا أحببتُ أن يُعيده عليَّ. قال علي بن خشرم: فحدَّثْتُ بهذا إسحاق بن راهويه، فقال: تعجَبُ من هذا؟ قلتُ: نعم. قال: ما كنت أسمع شيئاً إلا حَفِظْتُه، وكأني أنظر إلى سبعين ألف حديث - أو قال: أكثر من سبعين ألف حديث - في كتبي.
قال أبو داود الخَفَّاف (3) : سمعتُ إسحاق بن راهويه، يقول: لكأني أنظر إلى مئة ألف حديث في كتبي، وثلاثين ألفاً أَسْرُدُها. قال: وأَمْلَى علينا إسحاق أحدَ عشر ألف حديثٍ من حفظه، ثم قرأها علينا، فما زاد حرفاً، ولا نقص حرفاً.
قال الحافظ الذهبي (4) : فهذا واللهِ الحفظ.
وعن إسحاق بن راهويه، قال: ما سمعتُ شيئاً إلا وحفظتُه، ولا حفظتُ شيئاً قطُّ فنسيتُه (5) .
--------------------------------------------
এবং আল-ইজলি (১) বলেছেন: আল্লাহ এমন কাউকে সৃষ্টি করেননি যিনি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের চেয়ে হাদিস সম্পর্কে অধিক বিজ্ঞ ছিলেন। তাঁর নিকট এমন সব হাদিস আনা হতো যা মিশ্রিত ও ওলটপালট (قُلبت) করা হয়েছে, তখন তিনি বলতেন: এটি এইরকম, আর ওটি ওইরকম; ঠিক যেমনটি তিনি বলতেন।
এবং হাফেজগণের (الحفاظ) ইমাম ও তাঁদের নেতৃবর্গের অন্যতম হলেন: মহান ইমাম, প্রাচ্যের শায়খ, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ (১৬১ - ২৩৮?)।
আশ-শা’বী (২) বলেছেন: আমি আজ পর্যন্ত সাদার ওপর কালো দিয়ে (কাগজে কালি দিয়ে) কিছু লিখিনি। যখনই কোনো ব্যক্তি আমার নিকট কোনো হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমি তা মুখস্থ করে নিয়েছি এবং আমি কখনও পছন্দ করিনি যে তিনি তা পুনরায় আমার কাছে বর্ণনা করুন। আলী ইবনে খাশরাম বলেন: আমি এই কথাটি ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-কে জানালে তিনি বললেন: ‘তুমি কি এতে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছো?’ আমি বললাম: ‘হ্যাঁ’। তিনি বললেন: ‘আমি যা-ই শুনতাম তা-ই মুখস্থ করে ফেলতাম। আমার মনে হয় যেন আমি আমার কিতাবসমূহে থাকা সত্তর হাজার হাদিস—অথবা তিনি বলেছিলেন: সত্তর হাজারেরও বেশি হাদিস—সরাসরি প্রত্যক্ষ করছি’।
আবু দাউদ আল-খাফফাফ (৩) বলেছেন: আমি ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-কে বলতে শুনেছি: আমার মনে হয় যেন আমি আমার কিতাবসমূহে থাকা এক লক্ষ হাদিস প্রত্যক্ষ করছি এবং ত্রিশ হাজার হাদিস আমি অনর্গল পাঠ (أَسْرُدُها) করতে পারি। তিনি বলেন: ইসহাক আমাদের নিকট তাঁর স্মৃতি থেকে এগারো হাজার হাদিস শ্রুতলিপি (ইমলা) প্রদান করেছেন, এরপর তিনি সেগুলো আমাদের নিকট পাঠ করে শোনালেন, যাতে তিনি একটি অক্ষরও বৃদ্ধি করেননি কিংবা হ্রাস করেননি।
হাফেজ (الحافظ) যাহাবী (৪) বলেছেন: আল্লাহর কসম, একেই বলে প্রকৃত হিফজ বা সংরক্ষণ (الحفظ)।
এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি যা-ই শুনেছি তা-ই মুখস্থ করেছি, আর যা একবার মুখস্থ করেছি তা কখনো বিস্মৃত (نسيتُه) হইনি (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ৯)
وقال أبو يزيد محمد بن يحيى: سمعت إسحاق يقول: أحفظُ سبعين ألف حديث عن ظهر قلبي.
وقال أحمد بن سلمة: سمعت أبا حاتِم الرازي، يقول: ذكرتُ لأبي زُرعة حِفْظَ إسحاق بن راهويه، فقال أبو زرعة: ما رُئي أحفظ من إسحاق، ثم قال أبو حاتِم: والعجب من إتقانه، وسلامته من الغلط مع ما رُزِقَ من الحفظ. فقلت لأبي حاتم: إنه أملى التفسير عن ظهر قلبه. قال: وهذا أعجب، فإن ضبط الأحاديث المسندة أسهل وأهونُ من ضبط أسانيد التفسير وألفاظها.
وقال إبراهيم بن أبي طالب الحافظ (1) : فاتني عن إسحاق مجلسٌ مِن مُسنده، وكان يُمِلُّه حفظاً، فترددت إليه مِراراً ليُعيده، فتعذَّر. فقصدته يوماً لأسأله إعادته، وقد حمَلْتُ إليه حنطة من الرُّستاق، فقال لي: تقومُ عندي وتكتبُ وزن هذه الحنطة، فإذا فرغْتَ أعدتُ لك. ففعلتُ ذلك، فسألني عن أول حديث من المجلس، ثم اتكأ على عُضادة الباب، فأعاد المجلس حفظاً. وكان قد أملى ((المسند)) كُلَّه حفظاً، وقرأه أيضاً من حفظه ثانياً كلّه.
وقال أبو يَزيد محمد بن يحيى بن خالد (2) : سمعتُ إسحاق بن راهويه الحنظلي يقول: أعرفُ مكان مئة ألف حديث، كأني أنظرُ إليها، وأحفظُ سبعين ألف حديث عن ظهر قلبي، وأحفظُ أربعة آلاف حديث مُزَوَّرة. فقيل له: ما معنى حفظ المُزَوَّرة؟ قال: إذا مَرَّ بي منها حديثٌ في الأحاديث الصحيحة فَلَيْتُه منها فَلْياً.
--------------------------------------------
আবু ইয়াজিদ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বলেছেন: আমি ইসহাককে বলতে শুনেছি: আমি আমার স্মৃতি থেকে সত্তর হাজার হাদিস মুখস্থ রেখেছি।
আহমদ বিন সালামা বলেছেন: আমি আবু হাতিম আর-রাজিকে বলতে শুনেছি: আমি আবু যুরআহর কাছে ইসহাক বিন রাহওয়াইহের মুখস্থশক্তির কথা উল্লেখ করেছিলাম। তখন আবু যুরআহ বললেন: ইসহাকের চেয়ে বড় হাফেজ দেখা যায়নি। এরপর আবু হাতিম বললেন: আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত প্রখর মুখস্থশক্তি থাকা সত্ত্বেও তার সুনিপুণতা (إتقان) এবং ভুল থেকে সুরক্ষিত থাকাটা বিস্ময়কর। আমি আবু হাতিমকে বললাম: তিনি সম্পূর্ণ তাফসির মুখস্থ থেকে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বললেন: এটি আরও বেশি বিস্ময়কর; কারণ মুসনাদ হাদিসসমূহের নির্ভুলতা (ضبط) রক্ষা করা তাফসিরের সনদ (أسانيد) এবং এর শব্দাবলির নির্ভুলতা (ضبط) রক্ষা করার চেয়ে সহজ ও অধিকতর সহজসাধ্য।
হাফেজ (الحافظ) (১) ইব্রাহিম বিন আবি তালিব বলেছেন: ইসহাকের মুসনাদ-এর একটি মজলিস আমার ছুটে গিয়েছিল, তিনি সেটি মুখস্থ বর্ণনা করতেন। আমি বারবার তার কাছে গিয়েছিলাম যাতে তিনি এটি পুনরায় বলেন, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। একদিন আমি তার কাছে যাওয়ার সংকল্প করলাম এবং রুস্তাক থেকে কিছু গম তার জন্য নিয়ে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন: তুমি আমার কাছে দাঁড়াও এবং এই গমের ওজন লিখে রাখো; যখন তুমি শেষ করবে, আমি তোমার জন্য মজলিসটি পুনরায় বর্ণনা করব। আমি তাই করলাম। তিনি আমাকে মজলিসের প্রথম হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর দরজার চৌকাঠে হেলান দিয়ে স্মৃতি থেকে পুরো মজলিসটি পুনরায় বর্ণনা করলেন। তিনি পুরো মুসনাদ মুখস্থ থেকে শ্রুতিলিখন দিয়েছিলেন এবং দ্বিতীয়বারও স্মৃতি থেকে পুরোটি পাঠ করেছিলেন।
আবু ইয়াজিদ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন খালিদ (২) বলেছেন: আমি ইসহাক বিন রাহওয়াইহ আল-হানজালিকে বলতে শুনেছি: আমি এক লক্ষ হাদিসের অবস্থান জানি, যেন আমি সেগুলোর দিকে তাকিয়ে আছি। আমি স্মৃতি থেকে সত্তর হাজার হাদিস মুখস্থ রেখেছি এবং চার হাজার জাল (مزورة) হাদিসও মুখস্থ রেখেছি। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: জাল (مزورة) হাদিস মুখস্থ রাখার অর্থ কী? তিনি বললেন: যখন সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহের মধ্যে এগুলোর কোনোটি আমার নজরে আসে, তখন আমি তা থেকে সেটিকে নিপুণভাবে বেছে আলাদা করে ফেলি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومن المشهورين بالحفظ: شيخ الإسلام، الإمام أبو عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل (164 - 241?) .
قال عبد الله بن أحمد (1) : قال لي أبو زُرْعة: أبوك يحفظ ألفَ ألفِ حديث. فقيل له: وما يُدريك؟ قال: ذاكرتُه فأخذتُ عليه الأبواب.
قال الحافظ الذهبي: فهذه حكاية صحيحة في سعة علم أبي عبد الله.
وقال ابن أبي حاتم (2) : قال سعيد بن عَمْرو: يا أبا زُرْعة، أأنتَ أحفظُ أم أحمد؟ قال: بل أحمد. فقلتُ: كيف علمتَ؟ قال: وجدتُ كتبه ليس في أوائل الأجزاء أسماءُ الذين حدَّثوه، فكان يحفظُ كُلَّ جزء ممَّن سمعه، وأنا لا أقدرُ على هذا.
وعن أبي زُرْعة قال (3) : حُزِرَتْ كُتُب أحمد يوم مات، فبَلَغَتْ اثني عشر حِمْلاً وعِدْلاً. ما كان على ظَهْرِ كتابٍ منها: حديث فلان، ولا في بطنه: حَدَّثنا فلان، كلّ ذلك كان يحفظُه عن ظهر قلبه.
وقال حسن بن مُنَبِّه (2) : سمعتُ أبا زُرْعة يقول: أخرج إليَّ أبو عبد الله أجزاءً، كُلُّها: سفيان سفيان، ليس على حديث منها: حدثنا فلان، فظننتُها عن رجلٍ واحد، فانتخبتُ منها. فلمَّا قرأ ذلك عليَّ جعل يقول: حدَّثنا وكيع ويحيى، وحدَّثنا فلان، فعجبتُ من ذلك، وجهدتُ أن أَقْدِرَ على شيءٍ من هذا، فلم أَقْدِرْ.
وقال عبد الله بن أحمد (4) : قال لي أبي: خُذْ أيَّ كتابٍ شئتَ من كُتُب
--------------------------------------------
হাফেজে হাদিস (الحفظ) হিসেবে যারা সুপ্রসিদ্ধ: শাইখুল ইসলাম, ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল (১৬৪ - ২৪১?)।
আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ (১) বলেন: আবু জুরআ আমাকে বলেছেন: তোমার পিতা দশ লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কীভাবে জানলেন? তিনি বললেন: আমি তাঁর সাথে মুজাকারা (ذاكرتُه) করেছি এবং তাঁর কাছে থাকা হাদিসের বিভিন্ন অধ্যায় (الأبواب) যাচাই করেছি।
হাফেজ (الحافظ) যাহাবি বলেন: আবু আব্দুল্লাহর ইলমের প্রশস্ততার বিষয়ে এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيحة) বর্ণনা।
ইবনে আবি হাতিম (২) বলেন: সাঈদ ইবনে আমর বলেছেন: হে আবু জুরআ, আপনি কি অধিক স্মৃতিধর হাফেজ (أحفظ) নাকি আহমাদ? তিনি বললেন: বরং আহমাদ। আমি বললাম: আপনি কীভাবে জানলেন? তিনি বললেন: আমি তাঁর কিতাবগুলোতে দেখেছি যে, হাদিস সংকলনের অংশগুলোর (الأجزاء) শুরুতে বর্ণনাকারীদের নাম নেই যারা তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রতিটি অংশ কার থেকে শুনেছেন তা মুখস্থ রাখতেন, যা করার ক্ষমতা আমার নেই।
আবু জুরআ থেকে বর্ণিত (৩), তিনি বলেন: আহমাদ যেদিন ইন্তেকাল করেন, সেদিন তাঁর কিতাবসমূহ অনুমান করা হয়েছিল এবং তা বারোটি উটের বোঝা ও সমপরিমাণের সমান হয়েছিল। সেগুলোর কোনো কিতাবের পিঠে 'অমুকের হাদিস' লেখা ছিল না, কিংবা ভেতরে লেখা ছিল না 'আমাদের কাছে অমুক বর্ণনা করেছেন'; এর সবই তিনি তাঁর স্মৃতি থেকে মুখস্থ রাখতেন।
হাসান ইবনে মুনাব্বিহ (২) বলেন: আমি আবু জুরআকে বলতে শুনেছি: আবু আব্দুল্লাহ আমার কাছে কিছু সংকলনের অংশ (أجزاء) বের করলেন যার সবগুলোতে কেবল 'সুফিয়ান, সুফিয়ান' লেখা ছিল। সেগুলোর কোনো হাদিসের ওপর 'আমাদের কাছে অমুক বর্ণনা করেছেন' তা লেখা ছিল না। আমি ধারণা করেছিলাম এগুলো কেবল একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বর্ণিত। তাই আমি সেখান থেকে কিছু হাদিস নির্বাচন (انتخبتُ) করলাম। যখন তিনি সেগুলো আমার সামনে পাঠ করলেন, তখন বলতে লাগলেন: 'আমাদের কাছে ওকি এবং ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন', এবং 'আমাদের কাছে অমুক বর্ণনা করেছেন'। আমি এতে আশ্চর্যান্বিত হলাম এবং নিজেও এমন কিছু করতে আপ্রাণ চেষ্টা করলাম, কিন্তু সক্ষম হলাম না।
আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ (৪) বলেন: আমার পিতা আমাকে বলেছিলেন: তুমি আমার কিতাবসমূহ থেকে তোমার ইচ্ছামতো যেকোনো কিতাব নাও...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ১১)
وكيع من المصنّف، فإنْ شئتَ أن تسألني عن الكلام حتى أُخبرك بالإسناد، وإنْ شئتَ بالإسناد حتى أُخبرك أنا بالكلام.
وعن أحمد الدَّوْرَقي (1) ، عن أبي عبد الله، قال: نحن كَتَبْنا الحديث من ستة وجوهٍ وسبعة لم نضبطه، فكيف يضبطُه من كتبه منْ وَجْهٍ واحد؟!.
ومن حُفَّاظ الدنيا: أمير المؤمنين في الحديث الإمام أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري (194 - 256?) .
قال محمد بن أبي حاتم الورَّاق (2) : سمعتُ حاشدَ بنَ إسماعيل وآخر يقولان: كان أبو عبد الله البخاري يختلفُ معنا إلى مشايخ البصرة وهو غلامٌ، فلا يكتب، حتى أَتَى على ذلك أيام، فكُنّا نقول له: إنك تختلف معنا ولا تكتب، فما تصنع؟ فقال لنا يوماً بعد ستة عشر يوماً: إنكما قد أكثرتُما عليَّ وألححتُما، فاعْرِضا عليَّ ما كتبتُما. فأخرجنا إليه ما كان عندنا، فزادَ على خمسة عشر ألف حديث، فقَرَأَها كُلَّها عن ظهر القلب، حتى جعلنا نُحْكِمُ كُتُبَنا من حفظه.
ثم قال: أَتَرَوْن أني أختلف هَدْراً، وأُضَيِّع أيامي؟! فعرفنا أنه لا يتقدمه أحد.
وقال ابنُ عَدِيّ (3) : حدثني محمد بن أحمد القُومسي، سمعتُ محمد بن خميرويه، سمعتُ محمد بن إسماعيل يقول: أحفظُ مئة ألف حديث صحيح، وأحفظ مئتي ألف حديث غير صحيح.
--------------------------------------------
ওয়াকি হলেন একজন সংকলক (المصنّف), আপনি চাইলে আমাকে মূল পাঠ (الكلام) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারেন যাতে আমি আপনাকে তার সনদ (الإسناد) বলে দিতে পারি, আবার চাইলে সনদ (الإسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারেন যাতে আমি আপনাকে তার মূল পাঠ (الكلام) বলে দিতে পারি।
আহমদ আদ-দাওরাকী (১) থেকে বর্ণিত, আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আমরা হাদিস ছয়-সাতটি সূত্র (وجوه) থেকে লিখেছি তবুও তা পূর্ণাঙ্গ আয়ত্ত (لم نضبطه) করতে পারিনি, তাহলে যে ব্যক্তি মাত্র একটি সূত্র (وجه) থেকে হাদিস লিখেছে সে কীভাবে তা আয়ত্ত (يضبطه) করবে?!
দুনিয়ার হাফেজদের (حفّاظ) মধ্যে অন্যতম হলেন: হাদিসের আমিরুল মুমিনিন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (১৯৪ - ২৫৬?)।
মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতিম আল-ওয়াররাক (২) বলেন: আমি হাশেদ ইবনে ইসমাইল এবং অন্য একজনকে বলতে শুনেছি: আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারী আমাদের সাথে কিশোর বয়সে বসরার শায়খদের (مشايخ) নিকট যাতায়াত করতেন, কিন্তু তিনি কিছুই লিখতেন না। এভাবে অনেক দিন পার হয়ে যাওয়ার পর আমরা তাকে বলতাম: "তুমি আমাদের সাথে যাতায়াত করো অথচ কিছু লিখো না, তাহলে তুমি কী করো?" ১৬ দিন পর একদিন তিনি আমাদের বললেন: "তোমরা আমাকে নিয়ে অনেক কথা বলেছো এবং জেদ করেছো, এখন তোমরা যা লিখেছো তা আমাকে দেখাও।" তখন আমরা আমাদের কাছে যা ছিল তা বের করলাম, যা পনের হাজারেরও বেশি হাদিস ছিল। তিনি মুখস্থ (ظهر القلب) থেকে তার সবগুলো পাঠ করে শোনালেন, এমনকি আমরা তার মুখস্থ (حفظه) শক্তি থেকে আমাদের কিতাবগুলো সংশোধন করে নিতে লাগলাম।
অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা কি মনে করো আমি বৃথা যাতায়াত করি এবং আমার দিনগুলো নষ্ট করছি?!" তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে তার চেয়ে অগ্রগামী আর কেউ নেই।
ইবনে আদি (৩) বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-কুমাসি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে খুমাইরাওয়াইহকে বলতে শুনেছি, আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলকে বলতে শুনেছি: "আমার এক লক্ষ সহিহ (صحيح) হাদিস এবং দুই লক্ষ অ-সহিহ (غير صحيح) হাদিস মুখস্থ আছে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقال أبو بكر الكَلْوَاذاني (1) : ما رأيتُ مثل محمد بن إسماعيل، كان يأخذُ الكتابَ من العلماء، فيطَّلعُ عليه اطِّلاعةً، فيحفظُ عامَّةَ أطرافِ الأحاديث بمرَّة.
وقال علي بن الحُسَيْن بن عاصم البِيكَنْدي: قدم علينا محمد بن إسماعيل، قال: فاجتمعنا عنده، فقال بعضُنا: سمعتُ إسحاق بن راهويه يقول: كأنّي أنظرُ إلى سبعين ألف حديثٍ من كتابي. ̧ فقال محمد بن إسماعيل: أو تَعْجَبُ من هذا؟! لعلَّ في هذا الزمان مَنْ ينظرُ إلى مئتي ألف حديث من كتابه. وإنما عَنَى به نفسه.
ومن أعجب العجائب ما فعله أصحاب الحديث مع الإمام البخاري، وهذه القصَّة أوردها الخطيبُ البغدادي (2) من طريق أبي أحمد بن عَدِيّ قال: سمعت عدة مشايخ يحكون: أن محمد بن إسماعيل البخاري قدم بغداد، فسمع به أصحابُ الحديث، فاجتمعوا وعمدوا إلى مئة حديث، فقلبوا متونها وأسانيدها، وجعلوا متنَ هذا الإسناد لإسناد آخر، وإسنادَ هذا المتن لمتن آخر، ودفعوها إلى عشرة أنفس، إلى كل رجل عشرة أحاديث، وأمروهم إذا حضروا المجلس أَنْ يُلقوا ذلك على البخاري، وأخذوا الموعد للمجلس، فحضر المجلس جماعة أصحاب الحديث من الغرباء من أهل خراسان وغيرهم ومن البغداديين.
فلمَّا اطمأن المجلس بأهله انتدب إليه رجلٌ من العشرة فسأله عن حديثٍ من تلك الأحاديث، فقال البخاري: لا أعرفه، فسأله عن آخر فقال: لا
--------------------------------------------
আবু বকর আল-কালওয়াজানি (১) বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবন ইসমাইলের মতো কাউকে দেখিনি; তিনি আলিমদের কাছ থেকে কিতাব গ্রহণ করতেন, তারপর সেটির ওপর একবার দৃষ্টিপাত করতেন এবং এক বারেই হাদিসের অধিকাংশ প্রারম্ভিক অংশ (أطراف الأحاديث) মুখস্থ করে ফেলতেন।
আলী ইবন আল-হুসাইন ইবন আসিম আল-বিকান্দি বলেন: মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আমাদের এখানে আসলেন। তিনি বলেন: আমরা তাঁর নিকট একত্রিত হলাম। তখন আমাদের মধ্যে একজন বললেন: আমি ইসহাক ইবন রাহওয়াইহকে বলতে শুনেছি— "আমি যেন আমার কিতাবের সত্তর হাজার হাদিসের দিকে তাকিয়ে আছি।" তখন মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল বললেন: "আপনি কি এতে বিস্ময়বোধ করছেন?! সম্ভবত এই যুগে এমন ব্যক্তিও আছেন যিনি নিজের কিতাবের দুই লক্ষ হাদিসের দিকে তাকিয়ে থাকেন।" আর তিনি এর মাধ্যমে নিজেকেই বুঝিয়েছেন।
আর চরম বিস্ময়কর বিষয়গুলোর একটি হলো যা হাদিস বিশারদগণ (أصحاب الحديث) ইমাম বুখারীর সাথে করেছিলেন। খতিব আল-বাগদাদি (২) আবু আহমাদ ইবন আদি-এর সূত্রে এই ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি কয়েকজন শায়খকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল আল-বুখারী যখন বাগদাদে আসলেন, তখন হাদিস বিশারদগণ (أصحاب الحديث) তাঁর আগমনের কথা জানতে পারলেন। তারা একত্রিত হয়ে একশটি হাদিস নির্বাচন করলেন এবং সেগুলোর মূলপাঠ (متون) ও সনদসমূহ (أسانيد) উলটপালট করে দিলেন। তারা এক সনদের মূলপাঠ (متن) অন্য সনদে এবং এক সনদকে অন্য মূলপাঠে (متن) জুড়ে দিলেন। এরপর তারা দশজন ব্যক্তির হাতে এগুলো তুলে দিলেন এবং প্রত্যেককে দশটি করে হাদিস দিলেন। তাদের নির্দেশ দেওয়া হলো যেন তারা মজলিসে উপস্থিত হয়ে বুখারীর সামনে এগুলো পেশ করেন। তারা মজলিসের সময় নির্ধারণ করলেন। মজলিসে খোরাসান ও অন্যান্য অঞ্চলের আগন্তুক হাদিস বিশারদগণ (أصحاب الحديث) এবং বাগদাদবাসীদের একটি বড় দল উপস্থিত হলেন।
যখন মজলিস লোকে লোকারণ্য হয়ে থিতু হলো, তখন ঐ দশজনের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সেই হাদিসগুলোর মধ্য থেকে একটি সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। বুখারী বললেন: "আমি এটি জানি না।" এরপর তিনি অন্য একটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন: "না..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أعرفه، فما زال يُلقي عليه واحداً بعد واحد حتى فرغ من عشرته والبخاريُّ يقول: لا أعرفه.
فكان الفهماء ممن حضر المجلس يلتفت بعضهم إلى بعض ويقولون: فَهِم الرجل، ومن كان فَهِمَ منهم غير ذلك يقضي على البخاري بالعجز والتقصير وقلة الحفظ.
ثم انتدب إليه رجلٌ آخر من العشرة، فسأله عن حديث من تلك الأحاديث المقلوبة، فقال البخاريُّ: لا أعرفه، فسأله عن آخر، فقال:
لا أعرفه، فسأله عن آخر فقال: لا أعرفه، فلم يَزَلْ يُلقي عليه واحداً بعد واحدٍ حتى فرغ من عشرته والبخاريُّ يقول: لا أعرفه.
ثم انتدب إليه الثالث والرابع إلى تمام العشرة حتى فرغوا كلهم من الأحاديث المقلوبة والبخاريُّ لا يزيدهم على لا أعرفه.
فلمَّا عَلِمَ البخاريُّ أنهم قد فَرَغُوا التفت إلى الأول منهم فقال: أمَّا حديثك الأول فهو كذا، وحديثك الثاني فهو كذا، والثالث والرابع على الولاء، حتى أتى على تمام العشرة.
فرَدَّ كلَّ متنٍ إلى إسناده، وكُلَّ إسنادٍ إلى متنه، وفعل بالآخرين مثل ذلك، ردَّ متونَ الأحاديث كلها إلى أسانيدها، وأسانيدَها إلى متونها، فأقرَّ الناسُ له بالحفظ، وأذعنوا له بالفضل.
قال الحافظ ابن حجر (1) : سمعتُ شيخنا - يعني الحافظَ العراقيَّ - غير مرة يقول: ما العجبُ من معرفة البخاري بالخطأ من الصواب في الأحاديث لاتِّساع معرفته، وإنما يُتعجب منه في هذا لكونه حَفِظَ موالاة الأحاديث على
--------------------------------------------
আমি এটি জানি; এরপর তিনি একে একে তাঁর ওপর হাদিসগুলো উপস্থাপন করতে থাকলেন যতক্ষণ না তাঁর নির্ধারিত দশটি হাদিস শেষ হলো, আর বুখারি বলছিলেন: আমি এটি জানি না।
মজলিসে উপস্থিত প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন: এই ব্যক্তি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। আর যারা অন্যভাবে বুঝেছিল, তারা বুখারিকে অক্ষমতা, ত্রুটি এবং মুখস্থশক্তির (حفظ) স্বল্পতার দায়ে অভিযুক্ত করছিল।
এরপর সেই দশজনের মধ্য থেকে দ্বিতীয় একজন ব্যক্তি তাঁর দিকে এগিয়ে এলেন। তিনি সেই ওলটপালট করা (مقلوبة) হাদিসগুলোর মধ্য থেকে একটি হাদিস সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। বুখারি বললেন: আমি এটি জানি না। তারপর তিনি তাঁকে অন্য একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন:
আমি এটি জানি না। তারপর তিনি তাঁকে অন্য আরেকটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন: আমি এটি জানি না। এভাবে তিনি একে একে তাঁর ওপর হাদিসগুলো উপস্থাপন করতে থাকলেন যতক্ষণ না তাঁর দশটি হাদিস শেষ হলো, আর বুখারি বলছিলেন: আমি এটি জানি না।
এরপর একে একে তৃতীয় ও চতুর্থ থেকে শুরু করে দশম ব্যক্তি পর্যন্ত এগিয়ে এলেন, যতক্ষণ না তারা সকলে সেই ওলটপালট করা (مقلوبة) হাদিসগুলো শেষ করলেন। আর বুখারি "আমি এটি জানি না" বাক্যের অতিরিক্ত কিছু বলছিলেন না।
যখন বুখারি বুঝতে পারলেন যে তারা শেষ করেছেন, তখন তিনি তাদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তির দিকে ফিরলেন এবং বললেন: তোমার প্রথম হাদিসটি ছিল এমন, তোমার দ্বিতীয় হাদিসটি ছিল এমন, আর তৃতীয় ও চতুর্থটি ছিল ধারাবাহিকভাবে এমন—এভাবে তিনি দশটি হাদিস পূর্ণ করলেন।
তিনি প্রতিটি মূল পাঠকে (متن) তার সূত্রের (إسناد) সাথে এবং প্রতিটি সূত্রকে (إسناد) তার মূল পাঠের (متن) সাথে মিলিয়ে দিলেন। অন্যদের ক্ষেত্রেও তিনি অনুরূপ করলেন; সকল হাদিসের মূল পাঠসমূহকে (متون) সেগুলোর সূত্রসমূহের (أسانيد) সাথে এবং সূত্রসমূহকে (أسانيد) সেগুলোর মূল পাঠসমূহের (متون) সাথে পুনরায় বিন্যস্ত করে দিলেন। ফলে উপস্থিত সকলে তাঁর মুখস্থশক্তির (حفظ) স্বীকৃতি প্রদান করল এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কাছে মাথা নত করল।
হাফিজ (حافظ) ইবনে হাজার (১) বলেন: আমি আমাদের শাইখকে—অর্থাৎ হাফিজ (حافظ) ইরাকিকে—একাধিকবার বলতে শুনেছি: হাদিসের সঠিক ও ভুলের পার্থক্য নির্ণয়ে বুখারির যে পারদর্শিতা ছিল, তাঁর জ্ঞানের বিশালতার কারণে তা কোনো বিস্ময়কর বিষয় নয়; বরং আশ্চর্যের বিষয় হলো হাদিসগুলোর সেই ধারাবাহিকতা যেভাবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الخطأ من مرَّةٍ واحدة.
وقال أيضاً رحمه الله تعالى (1) : وهنا تخضع للبخاري الرقاب، فما العجب من رَدِّه الخطأَ إلى الصواب، بل العجب من حفظه للخطأ القليل الفائدة، على ترتيب ما أَلْقَوْه عليه من مرَّة واحدة.
وأضاف الحافظ السخاوي (2) : ولا عجب، لأنه في سرعة الحفظ: طويل الباع، وهو إمام النُّقَّاد بلا نِزاع، وحصرُ سيلانِ ذهنه لا يُستطاع.
فإن قيل: كيف ساغ لهم هذا الامتحان العجيب، الذي ارتكبوا بسببه شِبْه الوضع في هذا التقليب، وربما يترتَّبُ عليه تغليطُ المُمْتَحَن، واستمرارُه على روايته، لظنّه أنه صواب، بحيث يُعَدُّ من البلايا والمحن، وقد يسمعُه من لا خبرة له، فيرويه على هذه الصيغة المهملة؟
قلت: لما رأوا فيه من تمام المصلحة، التي منها: معرفةُ رتبة الراوي في الضبط، في ساعة ولمحة.
وأيضاً، ففعلُهم لهذا ينتهي بانتهاء الحاجة، بحيث يزول أثرُه، ونأمن علاجه، وقد فعله غيرُ واحد من الأكابر، المجتهدين في تحقيق السُّنَّة بالألسُن والمحابر.
وما لعلَّه ينتج من مفسدته، فهو دون ما أبديناه من مصلحتِه.
وقال أبو الأزهر (3) : كان بسمرقند أربعمئة ممَّن يطلبون الحديث، فاجتمعوا سبعة أيام، وأحبُّوا مغالطة محمد بن إسماعيل، فأدخلوا إسنادَ الشام
--------------------------------------------
একবার শুনেই ভুলগুলো মনে রাখা।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) আরও বলেন (১): এখানে বুখারীর সামনে সকলের মস্তক অবনত হয়। কোনো ভুলকে সঠিকভাবে সংশোধন করার মাঝে আশ্চর্যের কিছু নেই, বরং আশ্চর্যের বিষয় হলো সামান্য উপকারের এই ভুলগুলোকে মাত্র একবার শুনে তাদের উপস্থাপিত ক্রমানুসারে মুখস্থ রাখা।
হাফিজ সাখাভী (২) আরও বলেন: এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ মুখস্থ করার দ্রুততার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য পারদর্শী। তিনি কোনো প্রকার বিবাদ ছাড়াই সমালোচকগণের (النقاد) ইমাম, আর তাঁর মেধার প্রখরতাকে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়।
যদি বলা হয়: এই বিস্ময়কর পরীক্ষা তাদের জন্য কীভাবে বৈধ হলো, যার কারণে তারা এই উলটপালটকরণের (التقليب) মাধ্যমে জালকরণের (الوضع) সদৃশ কাজে লিপ্ত হয়েছেন? এর ফলে পরীক্ষিত ব্যক্তির ভুল করার সম্ভাবনা থাকে এবং তিনি এটাকে সঠিক মনে করে নিজের বর্ণনার (رواية) ওপর অটল থাকতে পারেন, যা একটি বিপদ ও পরীক্ষা হিসেবে গণ্য হতে পারে। এমনকি যার কোনো অভিজ্ঞতা নেই সে হয়তো এটি শুনে এই ত্রুটিপূর্ণ রূপেই তা বর্ণনা করতে পারে?
আমি বলি: কারণ তারা এর মধ্যে পূর্ণ জনকল্যাণ লক্ষ্য করেছেন, যার অন্তর্ভুক্ত হলো: মুহূর্তের মধ্যেই বর্ণনাকারীর (الراوي) স্মৃতিশক্তির প্রখরতা ও নির্ভুলতা (الضبط) সম্পর্কে অবগত হওয়া।
তাছাড়া, তাদের এই কাজ প্রয়োজন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই সমাপ্ত হয়, ফলে এর প্রভাব দূর হয়ে যায় এবং আমরা এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ থাকি। সুন্নাহ যাচাই-বাছাইয়ে লিপ্ত একাধিক শ্রেষ্ঠ মনীষী এমনটি করেছেন, যারা নিজেদের জবান ও লেখনীর মাধ্যমে সুন্নাহর গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন।
এর দ্বারা যে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকতে পারে, তা আমাদের বর্ণিত কল্যাণের তুলনায় নগণ্য।
আবু আল-আযহার (৩) বলেন: সমরকন্দে চারশত লোক ছিলেন যারা হাদিস অন্বেষণ করতেন। তারা সাত দিন যাবত একত্রিত হলেন এবং মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলকে বিভ্রান্ত করতে চাইলেন। ফলে তারা শামের সনদকে (إسناد)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
في إسناد العراق، وإسنادَ اليمن في إسناد الحرمين، فما تعلَّقُوا منه بسَقْطةٍ لا في الإسناد، ولا في المتن.
ومن هؤلاء الأعلام: الإمام سيد الحُفَّاظ، أبو زُرْعة عُبَيْد الله بن عبد الكريم الرازي (ت264?) .
قال أبو إسحاق الجوزجاني (1) : كُنّا عند سُلَيْمان بن عبد الرحمن، فلم يَأْذَنْ لنا أياماً، ثم دخلنا عليه، فقال: بلغني وُرُودُ هذا الغلام، يعني أبا زُرْعة، فدرستُ للالتقاءِ به ثلاثَمئة ألف حديث.
وقال صالح بن محمد جَزَرَة (2) : سمعتُ أبا زُرْعَة يقولُ: كتبتُ عن إبراهيم ابنِ موسى الرَّازي مئةَ ألفِ حديثٍ، وعن أبي بكر بن أبي شَيْبة مئة ألفٍ. فقلتُ له: بَلَغَني أنَّك تحفَظُ مئةَ ألفِ حديثٍ، تَقْدِرُ أن تُملي عليَّ ألفَ حديثٍ من حفظٍ؟ قال: لا، ولكنْ إذا أُلقيَ عَليَّ عَرَفْتُ.
وقال أبو عبد الله بن مَنْدَه الحافظ: سمعتُ أبا العبَّاس محمد بن جَعْفر بن حَمْكَوَيْه بالرَّي يقول: سُئِل أبو زُرْعة عن رَجُل حَلَف بالطَّلاق: أنَّ أبا زُرْعَة يحفظُ مئتي ألف حديث هَل حَنِثَ؟ فقال: لا. ثم قال أبو زرعة: أحفظُ مئتي ألفِ حديثٍ كما يحفظُ الإنسانُ: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} [الإخلاص:1] وفي المُذَاكرة ثلاثَمئةِ ألفِ حديثٍ.
قال الحافظ الذهبي (3) : هذه حكايةٌ مُرْسَلةٌ، وحكايةُ صالح جَزَرَة أصَحُّ.
وقال الحافظُ أبو أحمد بنُ عَدِي (4) : سَمعتُ أبي يقولُ: كنتُ بالرَّي، وأنا
--------------------------------------------
ইরাকের সনদে (إسناد), এবং ইয়েমেনের সনদকে (إسناد) হারমাইনের সনদের (إسناد) অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তারা এর সনদ (إسناد) কিংবা মতন (المتن) কোনোটিতেই সামান্যতম বিচ্যুতিও (سقطة) খুঁজে পায়নি।
আর এই সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন: ইমাম, হাফেজদের সরদার (سيد الحفاظ), আবু জুরআ উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল কারীম আর-রাজি (মৃত্যু ২৬৪হি.?)।
আবু ইসহাক আল-জুজাজানি (১) বলেন: আমরা সুলায়মান ইবনে আব্দুর রহমানের নিকট ছিলাম, তিনি কয়েক দিন আমাদের সাক্ষাতের অনুমতি দেননি। এরপর আমরা তাঁর কাছে প্রবেশ করলে তিনি বললেন: আমি এই যুবকের (অর্থাৎ আবু জুরআ’র) আগমনের সংবাদ পেয়েছি, তাই তাঁর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে আমি তিন লক্ষ হাদিস অধ্যয়ন করেছি।
সালেহ ইবনে মুহাম্মদ জাযারাহ (২) বলেন: আমি আবু জুরআকে বলতে শুনেছি: আমি ইব্রাহিম ইবনে মুসা আর-রাজি থেকে এক লক্ষ হাদিস এবং আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ থেকে এক লক্ষ হাদিস লিখেছি। তখন আমি তাঁকে বললাম: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি এক লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখেন, আপনি কি আপনার মুখস্থ থেকে আমাকে এক হাজার হাদিস শ্রুতিলিপি (ইমলা) দিতে পারবেন? তিনি বললেন: না, তবে যদি আমার সামনে কোনো হাদিস উপস্থাপন করা হয়, তবে আমি তা চিনতে পারব।
হাফেজ (الحافظ) আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মান্দাহ বলেন: আমি রাই শহরে আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে হামকাওয়াইহকে বলতে শুনেছি: আবু জুরআকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তালাকের শপথ করে বলেছিল যে, আবু জুরআ দুই লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখেন—সে কি শপথ ভঙ্গকারী হবে? তিনি বললেন: না। এরপর আবু জুরআ বললেন: আমি দুই লক্ষ হাদিস এমনভাবে মুখস্থ রাখি যেমন মানুষ মুখস্থ রাখে: {বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক} [সূরা আল-ইখলাস: ১]। আর মুজাকারার (পারস্পরিক আলোচনার) ক্ষেত্রে তিন লক্ষ হাদিস।
হাফেজ (الحافظ) জাহাবি (৩) বলেন: এটি একটি বিচ্ছিন্ন (مرسلة) বর্ণনা, আর সালেহ জাযারাহ-এর বর্ণনাটি অধিকতর সহিহ (أصح)।
হাফেজ (الحافظ) আবু আহমদ বিন আদি (৪) বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: আমি রাই শহরে ছিলাম, এবং আমি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
غلامٌ في البزازين، فَحَلَف رجل بطلاق امرأته: أنَّ أبا زُرْعة يحفظُ مئةَ ألفِ حديثٍ. فَذَهبَ قومٌ - أنا فيهم - إلى أبي زُرْعة، فسألناه، فقال: ما حَمَلَه على الحلف بالطَّلاق؟ قيلَ: قد جَرى الآن منه ذلك. فقال أبو زُرْعَة: ليُمْسِكْ امرأتَه، فإنَّها لم تطلق عليه. أو كما قال.
وقال أبو عبد الله الحاكم (1) : سمعتُ أبا جَعْفر محمد بن أحمد الرَّازي يقول: سمعتُ محمد بن مُسْلم بن وَارَة قال: كنتُ عند إسْحاق بِنَيْسابور، فقال رَجُلٌ من العِراق: سمعتُ أحمد بن حَنْبل يقول: صَحَّ من الحديث سبعُمئةِ ألفِ حديثٍ وكسرٌ، وهذا الفتى - ̧ يعني أبا زُرْعة - قد حَفِظَ ستَّمئةِ ألفِ حديث.
وقال عُمَر بن محمد بن إسحاق القَطَّان (2) : سمعتُ عبد الله بن أحمد بن حَنْبل، سمعتُ أبي يقول: ما جاوزَ الجِسْرَ أحدٌ أفْقهُ من إسحاق بن رَاهَوَيْه، ولا أحفظُ من أبي زُرْعة.
قال ابن عدي (3) : سمعتُ أبا يَعلى الموْصِلي يقول: ما سمعنا بذكر أحد في الحفْظِ، إلَاّ كانَ اسمُه أكبرَ من رُؤيتِه، إلا أبا زُرْعة الرَّازي، فإنَّ مُشاهدَتَه كانتْ أعظم من اسمِه، وكانَ قد جَمَعَ حفظَ الأبوابِ والشُّيُوخ والتَّفْسير، كتبنا بانتخابه بواسط سِتَّةَ آلاف حديثٍ.
وقال الحاكم (4) : سمعتُ الفقيه أبا حَامد أحمد بن محمد، سمعتُ أبا العَبَّاس الثَّقفي يقول: لما انصرف قُتَيْبَةُ بن سَعِيدٍ إلى الرَّي، سَألُوه أن يُحدِّثَهم،
(1) المصدر السابق 10 / 332.
(2) ((تاريخ بغداد)) 10 / 328.
(3) المصدر السابق 10 / 334.
(4) المصدر السابق 10 / 332.
কাপড় বিক্রেতাদের বাজারে একজন যুবক ছিল; জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীর তালাকের শপথ করে বসল যে: আবু জুরআ এক লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখেন। তখন একদল লোক - আমি তাদের মধ্যে ছিলাম - আবু জুরআর নিকট গেল এবং আমরা তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: কিসে তাকে তালাকের শপথ করতে বাধ্য করল? বলা হলো: তার পক্ষ থেকে ইতঃমধ্যেই তা ঘটে গেছে। তখন আবু জুরআ বললেন: সে যেন তার স্ত্রীকে নিজ বিবাহেই রেখে দেয়, কেননা তার স্ত্রী তালাক হয়নি। অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন।
আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম (১) বলেন: আমি আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-রাজিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে ওয়ারাকে বলতে শুনেছি: আমি নিশাপুরে ইসহাকের নিকট ছিলাম, তখন ইরাকের এক ব্যক্তি বলল: আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি: হাদিসের মধ্য থেকে সাত লক্ষের কিছু বেশি হাদিস বিশুদ্ধ (صح) হয়েছে, আর এই যুবকটি - অর্থাৎ আবু জুরআ - ছয় লক্ষ হাদিস মুখস্থ করেছে।
ওমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-কাত্তান (২) বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহের চেয়ে বড় ফকিহ এবং আবু জুরআর চেয়ে বড় হাফেজ (احفظ) কেউ সেতু পার হয়নি।
ইবনে আদি (৩) বলেন: আমি আবু ইয়ালা আল-মাওসিলিকে বলতে শুনেছি: আমরা হিফজ বা মুখস্থ রাখার বিষয়ে যার আলোচনা শুনেছি, সচক্ষে দেখার চেয়ে তার নামই সর্বদা বড় মনে হয়েছে; কেবল আবু জুরআ আল-রাজি ব্যতীত। কেননা তাকে সচক্ষে দেখা ছিল তার নামের চেয়েও মহৎ। তিনি অধ্যায়ভিত্তিক হিফজ, শিক্ষকবৃন্দের হিফজ এবং তাফসিরের হিফজকে একত্রিত করেছিলেন; আমরা ওয়াসিত শহরে তার নির্বাচনের ভিত্তিতে ছয় হাজার হাদিস লিখেছিলাম।
আল-হাকিম (৪) বলেন: আমি ফকিহ আবু হামিদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদকে বলতে শুনেছি, আমি আবুল আব্বাস আল-সাকাফিকে বলতে শুনেছি: কুতাইবা ইবনে সাঈদ যখন রাই শহরে আসলেন, তখন তারা তার নিকট হাদিস বর্ণনা করার অনুরোধ জানালেন।
(১) পূর্বোক্ত উৎস ১০ / ৩৩২।
(২) তারিখ বাগদাদ ১০ / ৩২৮।
(৩) পূর্বোক্ত উৎস ১০ / ৩৩৪।
(৪) পূর্বোক্ত উৎস ১০ / ৩৩২।
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فامتنع، فقال: أُحدِّثُكم بعد أن حضر مجلسي أحمد، وابنُ مَعِين، وابنُ المديني، وأبو بكر بنُ أبي شَيْبَة، وأبو خيثمة؟ قالوا له: فإن عندنا غُلاماً يَسْرُدُ كلَّ ما حَدَّثْتَ به، مجلساً مجلساً، قمْ يا أبا زُرْعة، قال: فقام، فَسَرَدَ كلَّ ما حدَّث به قُتَيْبة، فحدَّثهم قُتَيْبة.
وممن امتحنه تلاميذه: الحافظ الجليل الناقد أبو جعفر محمد بن عَمْرو بن موسى العُقَيْلي الحِجازي (ت322?) .
قال مسلمة بن القاسم (1) : كان العُقَيْليُّ جليلَ القَدْر، عظيمَ الخطر، ما رأيتُ مِثْلَه، وكان كثيرَ التصانيف، فكان مَنْ أتاه من المحدِّثين، قال: اقرأْ من كتابك، ولا يُخرج أصلَه.
قال: فتكلَّمنا في ذلك، وقلنا: إمَّا أن يكون من أحفظ الناس، وإمَّا أن يكون من أكذب الناس. فاجتمعنا فاتَّفقنا على أنْ نكتب له أحاديثَ من روايته، ونَزِيد فيها وننقص.
فأتيناه لنمتحنَه، فقال لي: اقرأْ، فقرأتُها عليه، فلمَّا أتيتُ بالزيادة والنقص، فَطِنَ لذلك، فأَخَذَ مني الكتاب، وأخذ القلم، فأَصْلحها من حِفْظِه، فانصرفنا من عنده، وقد طَابَتْ نفوسُنا، وعلمنا أنه من أحفظ الناس.
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি বিরত হলেন এবং বললেন: "আহমদ, ইবনে মায়িন, ইবনে মাদিনী, আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ এবং আবু খাইসামার মতো ব্যক্তিত্বরা আমার মজলিশে উপস্থিত হওয়ার পরও কি আমি তোমাদের নিকট বর্ণনা করব?" তারা তাঁকে বলল: "আমাদের নিকট এমন এক যুবক রয়েছে যে আপনি যা কিছু বর্ণনা করেছেন তার সবটুকুই মজলিশ-দর-মজলিশ অনর্গল মুখস্থ বলতে পারে। হে আবু জুরআ, দাঁড়ান।" বর্ণনাকারী বলেন: "অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং কুতাইবাহ যা কিছু বর্ণনা করেছিলেন তা অনর্গল শুনিয়ে দিলেন। তখন কুতাইবাহ তাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করলেন।"
যাঁদেরকে তাঁদের ছাত্ররা পরীক্ষা করেছিলেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: মহান হাফিজ (الحافظ) ও সমালোচক (الناقد) আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে মুসা আল-উকাইলি আল-হিজাজি (মৃত্যু ৩২২?)।
মাসলামাহ ইবনুল কাসিম (১) বলেন: "উকাইলি অত্যন্ত উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন এবং মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন, আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি। তিনি প্রচুর গ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন। যখনই কোনো হাদিস বিশারদ (المحدثين) তাঁর নিকট আসতেন, তিনি বলতেন: তোমার কিতাব থেকে পাঠ করো, কিন্তু তিনি তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি বের করতেন না।"
তিনি বলেন: "আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করলাম এবং বললাম: হয় তিনি মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মুখস্থকারী (أحفظ), নতুবা তিনি মানুষের মধ্যে চরম মিথ্যাবাদী (أكذب)। তাই আমরা একত্রিত হলাম এবং একমত হলাম যে, তাঁর বর্ণিত (رواية) কিছু হাদিস আমরা লিখব এবং তাতে কিছু অংশ বাড়াব ও কমাব।"
অতঃপর আমরা তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য তাঁর নিকট আসলাম। তিনি আমাকে বললেন: "পাঠ করো"। আমি তাঁর নিকট সেগুলো পাঠ করলাম। যখনই আমি সেই বাড়ানো এবং কমানো অংশে পৌঁছালাম, তিনি তা ধরে ফেললেন। তিনি আমার নিকট থেকে কিতাবটি নিলেন এবং কলম হাতে নিয়ে নিজের স্মৃতিশক্তি (حفظ) থেকে তা সংশোধন করে দিলেন। আমরা তাঁর নিকট থেকে ফিরে আসলাম এমতাবস্থায় যে আমাদের মন শান্ত হলো এবং আমরা নিশ্চিত হলাম যে তিনি মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মুখস্থকারী (أحفظ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ২১)
2- التصنيف الموسوعي عند المتقدِّمين والمعاصرين
الحلقة الأولى: كتب الأطراف…الحلقة الأولى: كتب الأطراف
لقد أدرك الأئمة منذ اللحظة الأولى ضرورة العمل الموسوعي، وكان هو الباعثَ لوَضْع التصنيف، بشكلٍ أو بآخر، وبهذا تختلف مُصَنَّفاتُ كلِّ فَنٍّ بحَسَبِه.
ولكن كُتُبَ الحديث - وبدرجةٍ أصيلةٍ - تعتمدُ على الإسناد؛ إذْ هو مدارُ القبول والردّ، فوَضَعَ فيه الأئمةُ المتقدِّمون مُصَنَّفاتِهم بهذا الاعتبار، وكانتْ درجةُ كُلِّ مصنَّف تختلفُ باعتبار درجة التوثيق في أسانيدها، ومدى اعتبارِ ذلك في طُرُقِ مروياتهم، فجاءت كُتُبُ الصِّحاح والمسانيد والمعاجم والمشيخات تُحَقِّقُ الأهدافَ الموسوعية، ولكن على نحوٍ غير مباشر.
ولقد كان فَضْلُ السَّبق في التصنيف الموسوعي في الحديث الشريف وبالمفهوم المعاصر، على نحوٍ واضح وملموس، وبنظام مُحْكَم؛ للأئمة الذين جمعوا الأحاديث على طريقة فنّ الأطراف، وذلك في تأصيل لهذا العمل على قواعدَ ثابتة، وهو يتمثَّل في كتبهم التالية:
1 - ((تحفة الأشراف بمعرفة الأطراف))
للإمام الحافظ المُتْقِن جمال الدِّين أبي الحجَّاج يوسف بن عبد الرحمن المِزّي (654 - 742?) .
2 - ((جامع المسانيد والسُّنَن الهادي لأَقْوَمِ سَنَن)) : للإمام الحافظ عماد الدِّين أبي الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير الدمشقي (700 - 774?) .
3 - إِطْراف المُسْنِد المُعْتَلِي بأَطْراف المُسْنَد الحنبلي)) : للإمام الحافظ شهاب الدِّين أبي الفَضْل أحمد بن علي بن حَجَر العسقلاني (773-852?) .
4 - ((إتحاف المَهَرة بالفوائد المُبْتَكَرة من أطراف العَشَرَة)) : للحافظ ابن
২- প্রাচীন (متقدمون) ও সমকালীন পণ্ডিতদের নিকট বিশ্বকোষীয় সংকলনপ্রথম পর্ব: আতরাফ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ…প্রথম পর্ব: আতরাফ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ
ইমামগণ প্রথম থেকেই বিশ্বকোষীয় কর্মের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন, এবং কোনো না কোনোভাবে এটিই ছিল কিতাব সংকলনের মূল প্রেরণা। আর এভাবেই প্রতিটি শাস্ত্রের সংকলনগুলো নিজ নিজ ধারা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে।
তবে হাদিসের কিতাবসমূহ—মৌলিকভাবে—সনদ (إسناد)-এর ওপর নির্ভরশীল; কারণ এটিই গ্রহণযোগ্যতা (قبول) ও প্রত্যাখ্যান (رد)-এর মূল ভিত্তি। প্রাচীন (متقدمون) ইমামগণ এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই তাদের গ্রন্থসমূহ সংকলন করেছেন। প্রতিটি সংকলনের মান নির্ধারিত হতো তার সনদগুলোর নির্ভরযোগ্যতা (توثيق)-এর স্তর এবং তাদের বর্ণিত হাদিসগুলোর সূত্রের গ্রহণযোগ্যতার মাত্রার ওপর ভিত্তি করে। ফলে সহিহ, মুসনাদ, মু'জাম এবং মাশয়াখাত বিষয়ক গ্রন্থগুলো পরোক্ষভাবে বিশ্বকোষীয় উদ্দেশ্যগুলোই পূরণ করেছে।
আধুনিক ধারণার আলোকে সুস্পষ্ট ও দৃশ্যমান পদ্ধতিতে এবং সুশৃঙ্খল নিয়মে হাদিস শরিফের বিশ্বকোষীয় সংকলনের ক্ষেত্রে সেই সকল ইমামই অগ্রগামিতার মর্যাদা লাভের অধিকারী, যারা 'আতরাফ' শাস্ত্রের পদ্ধতিতে হাদিসসমূহকে একত্রিত করেছেন। এটি ছিল সুদৃঢ় মূলনীতির ভিত্তিতে এই কাজের গোড়াপত্তন, যা তাদের নিম্নোক্ত কিতাবসমূহে প্রতিফলিত হয়েছে:
1 - ((তুহফাতুল আশরাফ বি-মা'রিফাতিল আতরাফ))
হাফেজ ও সুনিপুণ (متقن) ইমাম জামালুদ্দিন আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে আবদুর রহমান আল-মিজ্জি (৬৫৪ - ৭৪২ হি.)-এর রচিত।
2 - ((জামিউল মাসানিদ ওয়াস সুনান আল-হাদি লি-আকওয়ামি সানান)) : হাফেজ ইমাম ইমাদুদ্দিন আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে উমর ইবনে কাসির আদ-দিমাশকি (৭০০ - ৭৭৪ হি.)-এর রচিত।
3 - ((ইত্রাফুল মুসনিদিল মু'তালি বি-আতরাফিল মুসনাদিল হাম্বলি)) : হাফেজ ইমাম শিহাবুদ্দিন আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানি (৭৭৩-৮৫২ হি.)-এর রচিত।
4 - ((ইতহাফুল মাহারা বিল-ফাওয়ায়িদিল মুবতাকারা মিন আতরাফিল আশারা)) : হাফেজ ইবনে
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ২২)
حَجَر أيضاً.
5 - ((ذخائر المواريث في الدلالة على مواضع الأحاديث)) : للعلَاّمة عبد الغني بن إسماعيل الدمشقي المعروف بالنَّابُلُسِيّ (1050-1143?) .
1- ((تحفة الأشراف بمعرفة الأطراف))
للإمام العلامة أبي الحجّاج جمال الدِّين يوسف بن الزكي عبد الرحمن المزّي (654 - 742?) .
وهو موسوعة إسنادية ضمن إطارٍ محدودٍ، وهو الكتبُ السِّتة وملحقاتها، وهو لَبِنَةٌ في الهيكل الموسوعي العامّ للسُّنَّة النبوية.
قال مؤلّفه رحمه الله تعالى في المقدمة (1) :
((فإني قد عَزَمْتُ على أنْ أجمعَ في هذا الكتاب - إن شاء الله تعالى - أطرافَ الكتب الستة التي هي عمدةُ أهلِ الإسلام، وعليها مدارُ عامَّةِ الأحكام، وهي:
1 - ((صحيح)) محمد بن إسماعيل البُخاري (ت256?) .
2 - و ((صحيح)) مسلم بن الحجاج النيسابوري (ت261?) .
3 - و ((سنن)) أبي داود السِّجِسْتاني (ت275?) .
4 - و ((جامع)) أبي عيسى التِّرْمذي (ت279?) .
5 - و ((سنن)) أبي عبد الرحمن النَّسائي (ت303?) .
6 - و ((سنن)) أبي عبد الله بن مَاجَه القَزْويني (ت273?) .
وما يجري مجراها من:
((مقدمة)) كتاب مسلم. وكتاب ((المراسيل)) لأبي داود.
--------------------------------------------
হাজারাও।
৫ - ((জাখায়েরুল মাওয়ারিস ফিদ দালালাতি আলা মাওয়াদিউল আহাদিস)): আল্লামা আব্দুল গনি ইবনে ইসমাইল আদ-দিমাশকি, যিনি আন-নাবলুসি (১০৫০-১১৪৩ হি.?) নামে পরিচিত, তাঁর রচিত।
১- ((তুহফাতুল আশরাফ বি-মা’রিফাতিল আতরাফ))
ইমাম আল্লামা আবু হাজ্জাজ জামালুদ্দিন ইউসুফ ইবনুল জাকি আব্দুর রহমান আল-মিজ্জি (৬৫৪ - ৭৪২ হি.?) এর রচিত।
এটি একটি সীমিত কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত সনদ (إسناد) ভিত্তিক বিশ্বকোষ, যা কুতুবে সিত্তা ও এর পরিশিষ্টসমূহ নিয়ে গঠিত এবং এটি সুন্নাহর সাধারণ বিশ্বকোষীয় কাঠামোর একটি অন্যতম ভিত্তিপ্রস্তর।
এর লেখক (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) এর মুকাদ্দিমা (১)-তে বলেছেন:
((আমি এই কিতাবে—ইনশাআল্লাহ তাআলা—ছয়টি কিতাবের আতরাফ (أطراف) [হাদিসের অংশবিশেষ] সংকলন করার সংকল্প করেছি, যা আহলে ইসলামের প্রধান অবলম্বন এবং যার ওপর সাধারণ বিধি-বিধান আবর্তিত হয়। সেগুলো হলো:
১ - মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারির ((সহিহ)) (মৃত্যু ২৫৬ হি.?)।
২ - মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আন-নিশাপুরির ((সহিহ)) (মৃত্যু ২৬১ হি.?)।
৩ - আবু দাউদ আস-সিজিস্তানির ((সুনান)) (মৃত্যু ২৭৫ হি.?)।
৪ - আবু ঈসা আত-তিরমিজির ((জামে)) (মৃত্যু ২৭৯ হি.?)।
৫ - আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ির ((সুনান)) (মৃত্যু ৩০৩ হি.?)।
৬ - আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মাজাহ আল-কজভিনি ((সুনান)) (মৃত্যু ২৭৩ হি.?)।
এবং যা এর সমপর্যায়ের, যেমন:
মুসলিম-এর মুকাদ্দিমা এবং আবু দাউদের কিতাবুল মারাসিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وكتاب ((العلل)) للترمذي، وهو الذي في آخر كتاب الجامع له.
وكتاب ((الشمائل)) له. وكتاب ((عمل يوم وليلة)) للنَّسائي.
مُعْتَمِداً في عامّة ذلك على كتاب أبي مسعود الدمشقي (ت401?) وكتاب خلف الواسطي (ت بعد 400?) في أحاديث الصحيحَيْنِ، وعلى كتاب أبي القاسم بن عساكر (ت571?) في كتب السُّنَن وما تقدّم ذِكْرُه معها.
ورَتَّبْتُه على نحو ترتيب كتاب أبي القاسم، فإنه أَحْسَنُ الكُلِّ ترتيباً، وأَضَفْتُ إلى ذلك بعضَ ما وَقَعَ لي من الزيادات التي أَغْفَلُوها، أو أغْفَلَها بعضُهم، أو لم يَقَعْ له من الأحاديث ومن الكلام عليها، وأصلحتُ ما عثرتُ عليه في ذلك مِنْ وَهمٍ أو غَلَط.
وكان الشُّروعُ فيه يوم عاشوراء سنة ستّ وتسعين وستّمئة، وخُتم في الثالث من ربيع الآخر سنة اثنتين وعشرين وسبعمئة)) . انتهى كلام المِزّي.
وقال الحافظ ابن حجر في ((النكت الظراف على الأطراف)) : ((فإنَّ من الكُتُبِ الجليلةِ المُصَنَّفةِ في علوم الحديث كتابَ ((تُحْفَة الأشراف بمعرفة الأطراف)) تأليف شيخ شيوخنا الحافظ أبي الحجّاج يوسف بن الزكي عبد الرحمن بن يوسف المِزّي، وقد حَصَلَ الانتفاعُ به شرقاً وغرباً، وتَنَافَسَ العلماءُ في تحصيله بُعْداً وقُرْباً)) . اهـ.
وقد قسم المؤلِّفُ رحمه الله تعالى جميعَ أحاديثِ الكتب الستة وما يجري مجراها مُسْندِها ومُرْسَلِها - وعددُها 19626 مع المكررات - إلى 1391 مُسْنداً، منها 986 مُسْنداً منسوباً إلى الصحابة رجالاً ونساء رضوان الله عليهم أجمعين، مُرَتَّباً أسماؤهم على حروف المعجم، عن النبيّ صلى الله عليه وسلم.
وباقي المسانيد (987 - 1391) وعددها 404 من المراسيل وما
এবং তিরমিযীর ‘আল-ইলাল’ গ্রন্থটি, যা তাঁর ‘আল-জামি’ গ্রন্থের শেষে অবস্থিত।
এবং তাঁর ‘আশ-শামায়েল’ গ্রন্থটি। আর নাসায়ীর ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থটি।
এই সবের অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর হাদিসসমূহের বিষয়ে আবু মাসুদ আদ-দিমাশকী (মৃ. ৪০১?) এবং খালাফ আল-ওয়াসিতী (মৃ. ৪০০? পরবর্তী)-এর গ্রন্থের ওপর, এবং সুনান গ্রন্থসমূহ ও ইতঃপূর্বে উল্লেখিত অন্যান্য বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আবুল কাসিম ইবনে আসাকির (মৃ. ৫৭১?)-এর গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন।
আর আমি একে আবুল কাসিমের গ্রন্থের বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছি, কারণ এটি বিন্যাসের দিক থেকে সবকিছুর চেয়ে উত্তম। আমি এর সাথে এমন কিছু অতিরিক্ত তথ্য যোগ করেছি যা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং তারা সেগুলো এড়িয়ে গেছেন অথবা তাদের কেউ কেউ তা উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন, কিংবা সেই হাদিসসমূহ ও তার ওপর পর্যালোচনা করার সুযোগ যাদের হয়নি। আর আমি এতে যা কিছু ভ্রম বা ভুল পেয়েছি তা সংশোধন করেছি।
এর কাজ শুরু হয়েছিল ৬৯৬ হিজরীর আশুরার দিনে এবং শেষ হয়েছে ৭২২ হিজরীর রবিউস সানি মাসের তৃতীয় তারিখে।—মিযযী-র বক্তব্য সমাপ্ত।
হাফেজ ইবনে হাজার ‘আন-নুকাতুয যিরাফ আলাল আতরাফ’ গ্রন্থে বলেন: “নিশ্চয়ই হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) বিষয়ে সংকলিত মহান গ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি হলো ‘তুহফাতুল আশরাফ বি-মা’রিফাতিল আতরাফ’। এটি আমাদের শায়খদের শায়খ হাফেজ আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে আয-যাকি আবদুর রহমান ইবনে ইউসুফ আল-মিযযীর রচনা। পূর্ব ও পশ্চিমে এটি দ্বারা ব্যাপক উপকার সাধিত হয়েছে এবং পণ্ডিতগণ দূর ও নিকট থেকে এটি অর্জনের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন।”—সমাপ্ত।
লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) কুতুবুস সিত্তা এবং তদানুরূপ গ্রন্থসমূহের সমস্ত হাদিসকে—পুনরাবৃত্তিসহ যার সংখ্যা ১৯,৬২৬টি—সনদযুক্ত এবং বিচ্ছিন্ন (مرسل) উভয় প্রকারকে ১৩৯১টি মুসনাদে বিভক্ত করেছেন। এর মধ্যে ৯৮৬টি মুসনাদ পুরুষ ও মহিলা সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন) দিকে সম্বন্ধযুক্ত যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁদের নামসমূহ অভিধানের বর্ণানুক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।
এবং অবশিষ্ট মুসনাদসমূহ (৯৮৭ - ১৩৯১), যার সংখ্যা ৪০৪টি, তা মুরসাল (مراسيل) সম্বলিত এবং যা...
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يجري مجراها من أقوال أئمّة التابعين ومن بعدهم رضي الله عنهم أجمعين.
هذا هو التقسيم العامّ لأحاديث الكتب الستة، ومنه يُعرف عدد الأحاديث المروية عن كل صحابي على حِدَة، فمنهم من له حديثٌ واحد، ومنهم من له حديثان، فأكثر وأكثر، وهكذا
…وللمُصنِّف تقسيمٌ آخرُ للمُكثرين من الصحابة، وذلك بأنه يقسم مروياتهم على تراجم جميع من يروي عنهم من التابعين وبعض الصحابة، كُلُّ ذلك على نَسَق حروف المُعْجَم.
وله تقسيمٌ ثالثٌ لمرويات كُلِّ تابعي تحت كُلّ صحابي مُكْثِرٍ إذا كَثُرَت الرواياتُ عن ذلك التابعي، حيث يقسمها على تراجمِ مَنْ يروي عنه من أتباع التابعين.
وإذا وَجَدَ أحداً من هؤلاء الأتباع مَنْ له عِدَّةُ تلاميذ يَرْوُون عنه قسم مروياتِه تقسيماً رابعاً على تراجمِ أتباعِ أتباع التابعين.
وعادةُ المُصَنِّفِ - رحمه الله تعالى - غالباً في ترتيب سياق الروايات تحت كل ترجمة، أنه يُقَدِّمُ ما كَثُرَ عددُ مُخَرِّجيه على ما قَلَّ عددُهم فيه، ولا عبرة بموضوعِ الأحاديث أو لَفْظِها.
فما رواه الجماعةُ الستةُ يَسْبِقُ ما رواه الخمسة، وما رواه الخمسةُ يَسْبِقُ ما رواه الأربعة، وهكذا إلى ما رواه الواحد، ويُراعي في ذلك تقديمَ ما رواه الإمامُ البخاريُّ، وتأخيرَ ما رواه ابنُ مَاجَه.
তাবিঈদের (تابعين) ইমামগণ এবং তাঁদের পরবর্তীগণের বাণীসমূহও একই ধারার অন্তর্ভুক্ত হবে, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
এটিই হলো কুতুব আস-সিত্তাহর হাদিসসমূহের সাধারণ বিন্যাস; এর মাধ্যমেই প্রত্যেক সাহাবীর (صحابي) থেকে বর্ণিত হাদিস সংখ্যা পৃথকভাবে জানা যায়। তাঁদের মধ্যে এমন সাহাবী রয়েছেন যাঁর বর্ণিত হাদিস মাত্র একটি, আবার কারও দুটি, কারও তার চেয়েও বেশি; এভাবেই (ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে)
…অধিক হাদিস বর্ণনাকারী (مكثرون) সাহাবীদের ক্ষেত্রে গ্রন্থকারের ভিন্ন একটি বিন্যাস পদ্ধতি রয়েছে। সেটি হলো—তিনি তাঁদের বর্ণিত হাদিসসমূহকে তাঁদের থেকে হাদিস গ্রহণকারী সকল তাবিঈ (تابعين) এবং কিছু সাহাবীর জীবনবৃত্তান্তের (تراجم) ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছেন; আর এ সবকিছুই বর্ণানুক্রমিক (حروف المعجم) পদ্ধতি অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।
অধিক হাদিস বর্ণনাকারী (مكثر) প্রত্যেক সাহাবীর অধীনে বর্ণিত কোনো তাবিঈর (تابعي) বর্ণনা যদি সংখ্যায় অনেক হয়, তবে সেক্ষেত্রে তাঁর তৃতীয় একটি বিন্যাস পদ্ধতি রয়েছে। সেখানে তিনি সেই বর্ণনাগুলোকে তাবিঈর থেকে হাদিস বর্ণনাকারী তাবি-তাবিঈদের (أتباع التابعين) জীবনবৃত্তান্তের শিরোনাম অনুযায়ী বিভক্ত করেছেন।
যদি তিনি এই তাবি-তাবিঈদের মধ্যে এমন কাউকে পান যাঁর অনেক ছাত্র তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি তাঁর বর্ণনাগুলোকে চতুর্থ পর্যায়ে তাবি-তাবিঈদের পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের (أتباع أتباع التابعين) জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী বিভক্ত করেছেন।
প্রতিটি শিরোনামের (ترجمة) অধীনে বর্ণনাগুলো বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে গ্রন্থকার—রাহিমাহুল্লাহ—এর সাধারণ রীতি হলো, যে হাদিসের সংকলক (مخرج) সংখ্যা অধিক, সেটিকে তিনি অপেক্ষাকৃত কম সংকলকবিশিষ্ট হাদিসের আগে স্থান দেন। এক্ষেত্রে হাদিসের বিষয়বস্তু বা শব্দের কোনো বিবেচনা করা হয় না।
সুতরাং 'জামায়াত' (الجماعة) তথা ছয়জন ইমাম কর্তৃক বর্ণিত হাদিস পাঁচজন কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের আগে আসবে, আর পাঁচজন কর্তৃক বর্ণিত হাদিস চারজন কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের আগে আসবে; এভাবেই একজনের বর্ণনা পর্যন্ত বিন্যাসটি সম্পন্ন হয়। এক্ষেত্রে তিনি ইমাম বুখারীর বর্ণনাকে আগে এবং ইবনে মাজাহ-র বর্ণনাকে পরে রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে অনুসরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
2 - ((جامع المسانيد والسُّنَن الهادي لأَقْوَمِ سَنَن))
للإمام الحافظ عماد الدِّين أبي الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير الدمشقي
(700 - 774?) .
وهو عملٌ موسوعيٌّ مَتْنيٌّ وإسناديّ، حَرَصَ فيه مُصَنِّفُه على جَمْعِ كُتُبٍ مُعَيَّنَةٍ على قواعدِ فنِّ الأطراف وقواعدِ جوامع المُتون.
وهو لَبِنَةٌ موسوعيةٌ أُخرى تُتَمِّمُ ((إتحاف المهرة)) باعتبار الأسانيد، كما تُتَمِّمُ ((تحفة الأشراف)) باعتبار الأسانيد والمتون، وإنْ كان يَقْصُرُ أحياناً عن جوامع المتون إذْ لم يُبَيِّن اختلافَ المصادر في ألفاظ متون الحديث كما فعله الحافظُ ابنُ الأثير في ((جامع الأصول)) .
لقد بَيَّنَ الحافظُ ابن كثير رحمه الله تعالى في المقدمة الخِطَّةَ التي مشى عليها في تأليف هذا الكتاب، فقال: ((
… كتابي هذا الذي قد جَمَعْتُه أيضاً من كُتُبِ الإسلام المُعْتَمَدَة، في الأحاديث الواردة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومن ذلك:
الكتب الستة، وهي: الصحيحانِ البُخاريُّ ومسلم، والسُّنَنُ الأربع لأبي داود والترمذي والنَّسائي وابنِ مَاجَه.
ومن ذلك: مسند الإمام أحمد. ومسند أبي بكر البَزَّار.
ومسند الحافظ أبي يعلى الموصلي. والمعجم الكبير للطبراني. رحمهم الله.
فهذه عشرٌ كاملة. أذكرُ في كتابي هذا مجموع ما في هذه العشرة، وربما زِدْتُ عليها من غيرها وكل ما يخرج من الأحاديث مما يُحتاج إليه في الدِّين.
وهذه الكتب العشرة تشتمل على أَرْبَى من مئة ألف حديث بالمكررة
…وسَمَّيْتُ كتابي هذا ((جامع المسانيد والسُّنَن الهادي لأَقْوَمِ سَنَن)) ، وهو المسند الكبير، وشرطي فيه أني أُتَرْجِمُ كُلَّ صحابي له روايةٌ عن رسول الله
2 - ((জামিউল মাসানিদ ওয়াস সুনান আল-হাদি লি-আকওয়ামি সুনান))
ইমাম হাফিজ ইমাদুদ্দিন আবুল ফিদা ইসমাইল বিন উমর বিন কাসির আদ-দিমাশকি-এর জন্য
(৭০০ - ৭৭৪?) ।
এটি একটি বিশ্বকোষীয় (موسوعي) কর্ম যা হাদিসের মূল পাঠ (متني) এবং সনদ (إسنادي) বিষয়ক; এতে সংকলক আতরাফ শাস্ত্রের (فن الأطراف) নিয়মাবলী এবং হাদিসের মূল পাঠের সংকলনসমূহের (جوامع المتون) মূলনীতির আলোকে নির্দিষ্ট কিছু গ্রন্থ একত্রিত করার ব্যাপারে যত্নশীল হয়েছেন।
এটি একটি বিশ্বকোষীয় ভিত্তি যা সনদসমূহের (أسانيد) বিবেচনায় 'ইতাহাফুল মাহারা' গ্রন্থের পরিপূরক, যেমনটি এটি সনদ (أسانيد) ও মূল পাঠসমূহের (متون) বিবেচনায় 'তুহফাতুল আশরাফ' গ্রন্থের পরিপূরক। যদিও এটি কখনো কখনো হাদিসের মূল পাঠের সংকলনসমূহের (جوامع المتون) তুলনায় সংকুচিত হয়েছে, যেহেতু এতে হাদিসের মূল পাঠের (متون الحديث) শব্দাবলির ক্ষেত্রে উৎসগ্রন্থগুলোর ভিন্নতা বর্ণনা করা হয়নি, যেমনটি হাফিজ ইবনুল আসির তাঁর 'জামিউল উসুল' গ্রন্থে করেছেন।
হাফিজ ইবনে কাসির রাহিমাহুল্লাহ এই কিতাব রচনার ক্ষেত্রে যে পরিকল্পনা অনুসরণ করেছেন তা এর ভূমিকায় স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন: ((
… আমার এই কিতাবটি, যা আমি ইসলামের নির্ভরযোগ্য (معتمدة) গ্রন্থসমূহ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাদিসগুলোর আলোকে সংকলন করেছি, যার মধ্যে রয়েছে:
কুতুবে সিত্তা, আর সেগুলো হলো: সহিহাইন বুখারি ও মুসলিম এবং আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ-এর চার সুনান।
আরও রয়েছে: মুসনাদে ইমাম আহমাদ এবং মুসনাদে আবু বকর আল-বাযযার।
এবং মুসনাদে হাফিজ আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি ও তাবারানির আল-মুজামুল কাবির। আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন।
সুতরাং এগুলি পূর্ণ দশটি গ্রন্থ। আমি আমার এই গ্রন্থে এই দশটি কিতাবে যা কিছু আছে তার সমষ্টি উল্লেখ করব, এবং কখনও হয়তো এগুলোর বাইরে অন্য উৎস থেকেও বৃদ্ধি করব এবং সেই সব হাদিসও আনব যা দ্বীনের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।
এই দশটি কিতাব পুনরাবৃত্ত (مكررة) হাদিসসহ এক লক্ষেরও বেশি হাদিস ধারণ করে আছে
…আমি আমার এই কিতাবটির নাম দিয়েছি 'জামিউল মাসানিদ ওয়াস সুনান আল-হাদি লি-আকওয়ামি সুনান'; এটি একটি বিশাল মুসনাদ (المسند الكبير), এবং এতে আমার শর্ত হলো যে, আমি প্রত্যেক এমন সাহাবি (صحابي) সম্পর্কে আলোচনা করব যার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা (رواية) রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
صلى الله عليه وسلم، مُرَتَّب على حروف المُعْجَم، وأُورِدُ له جميعَ ما وَقَعَ له في الكتب، وما تَيَسَّر لي من غيرها، وبالله أستعين، وعليه أَتَوكَّلُ، وإليه أُنيب)) . اهـ.
لقد اكتمل منهجُ أطرافِ الكتبِ الستةِ ولواحقِها ونضج على يد الحافظ المُتْقِن جمال الدين أبي الحجاج يوسف المِزّي (654 - 742?) ، واستفادَ علماءُ عصرِه ومَنْ بعدهم من كتابه ((تحفة الأشراف بمعرفة الأطراف)) ، وتنافسوا في تحصيله بُعْداً وقُرْباً، وتناولوه بالدراسة والاختصار والتعقّب.
وقد لازم الحافظُ ابنُ كثير شيخَه الحافظَ المِزّي، واستفادَ منه، وقرأ عليه أكثر تصانيفه، وتَزَوَّجَ بابنته، وكانتْ له عنايةٌ خاصّةٌ بكتاب ((تحفة الأشراف)) ، وكانت له نسخةٌ خاصةٌ منه، وعلى حواشي هذه النسخة تعليقات بخطّ الحافظ المزي تتبّع فيها أشياء كثيرة من كتاب النَّسائي رواية ابن الأحمر، وقد أفردها الحافظ المزي في جُزْءٍ لطيف سمّاه ((لَحْق الأطراف)) (1) .
وقف الحافظ ابن كثير على كتاب ((تحفة الأشراف)) ، واستفادَ منه، وسبر الخطة التي سلكها شيخُه فيه، وكانتْ هي السببَ في نشوء فكرة إعداد كتابه ((جامع المسانيد والسنن)) ، ولكن بشكل أوسع، يجمع فيه الكتبَ الستةَ ولواحقَها التي استوعبها الحافظ المزّي في ((تحفة الأشراف)) ، مع الكتب الأخرى التي ذكرها في المقدمة.
كان للحافظ ابن كثير اهتمامٌ كبيرٌ بمسند الإمام أحمد، وكان -كما قيل- ممن يحفظه عن ظهر قلب، و ((مسند أحمد)) أحد دواوين الإسلام، ولكنه ينقصه معرفة درجة أحاديثه، وهذا يحصل بالربط بينه وبين ((تحفة الأشراف)) ،
--------------------------------------------
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যা বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত। আমি এতে কিতাবসমূহে বর্ণিত তাঁর সকল হাদিস এবং অন্যান্য উৎস থেকে যা আমার জন্য সহজলভ্য হয়েছে তা উল্লেখ করেছি। আমি আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি, তাঁর ওপরই ভরসা করছি এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করছি। — ইতি।
ছয়টি কিতাব (কুতুবুত সিত্তা) এবং এর পরিশিষ্টসমূহের আতরাফ (أطراف) বা হাদিসের অংশবিশেষের বিন্যাস পদ্ধতি সুনিপুণ হাফিজ (حافظ) জামালুদ্দিন আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ আল-মিজ্জি (৬৫৪ - ৭৪২?) এর হাতে পূর্ণতা ও পরিপক্বতা লাভ করেছে। তাঁর সমকালীন ও পরবর্তী যুগের আলিমগণ তাঁর রচিত 'তুহফাতুল আশরাফ বি-মা'রিফাতিল আতরাফ' গ্রন্থটি থেকে উপকৃত হয়েছেন। দেশ-বিদেশের সকলে এটি সংগ্রহে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন এবং এটি নিয়ে অধ্যয়ন, সংক্ষিপ্তকরণ ও পর্যালোচনার কাজ করেছেন।
হাফিজ (حافظ) ইবনে কাসির তাঁর শাইখ হাফিজ (حافظ) আল-মিজ্জির সান্নিধ্যে ছিলেন, তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁর অধিকাংশ রচনাবলি তাঁর কাছে পাঠ করেছেন। তিনি তাঁর কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন। 'তুহফাতুল আশরাফ' কিতাবটির প্রতি তাঁর বিশেষ মনোযোগ ছিল এবং এর একটি বিশেষ পাণ্ডুলিপি তাঁর নিকট সংরক্ষিত ছিল। এই পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় হাফিজ (حافظ) আল-মিজ্জির স্বহস্তে লেখা অনেক মন্তব্য ছিল, যেখানে তিনি নাসায়ি-এর 'ইবনে আল-আহমার-এর বর্ণনা (رواية)'-এর অনেক বিষয় অনুসরণ করেছিলেন। হাফিজ (حافظ) আল-মিজ্জি সেগুলোকে একটি চমৎকার ক্ষুদ্র পুস্তিকা (جزء)-য় পৃথকভাবে সংকলন করেন এবং এর নাম দেন 'লাহকুল আতরাফ' (১)।
হাফিজ (حافظ) ইবনে কাসির 'তুহফাতুল আশরাফ' কিতাবটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং তা থেকে উপকৃত হন। তাঁর শাইখ এই গ্রন্থে যে কর্মপন্থা অবলম্বন করেছিলেন তা তিনি সূক্ষ্মভাবে যাচাই করেন। এটিই তাঁর 'জামিউল মাসানিদ ওয়াস-সুনান' কিতাবটি প্রস্তুত করার ধারণার মূলে ছিল, তবে তা আরও বিস্তৃত পরিসরে। এতে তিনি সেই ছয়টি কিতাব ও তাদের পরিশিষ্টসমূহকে একত্রিত করেছেন যা হাফিজ (حافظ) আল-মিজ্জি 'তুহফাতুল আশরাফ'-এ অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, সাথে মুকাদ্দিমায় বর্ণিত অন্যান্য কিতাবগুলোকেও তিনি যুক্ত করেছেন।
ইমাম আহমদের মুসনাদ-এর প্রতি হাফিজ (حافظ) ইবনে কাসিরের ব্যাপক আগ্রহ ছিল এবং বলা হয়ে থাকে যে, তিনি এটি মুখস্থ জানতেন। 'মুসনাদে আহমদ' ইসলামের অন্যতম মৌলিক হাদিস সংকলন, তবে এতে হাদিসের মান (درجة) নির্ণয়ের অভাব ছিল। আর এটি 'তুহফাতুল আশরাফ'-এর সাথে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وحينئذ تكتمل الفائدة منه بمعرفة الأحاديث التي هي في الكتب الستة، والتنبيه على الأحاديث التي تَفَرَّد الإمام أحمد بروايتها عن الكتب الستة خاصّة.
كان الحافظُ ابنُ المُحِبّ رحمه الله تعالى من قبل ذلك رَتَّب ((مسند أحمد)) على طريقة كتب الأطراف، فأخذه الحافظُ ابنُ كثير وجعله عمدة كتابه
((جامع المسانيد والسنن)) ، وأضاف إليه من شارك الإمام أحمد في رواية الأحاديث من أصحاب الكتبِ الستّةِ ولواحقِها تبعاً لما ورد في ((تحفة الأشراف)) ، فإنْ لم يشاركه أحدٌ أشارَ إلى تفرُّدِ الإمام أحمد برواية هذا الحديث باعتبار الكتب الستة فقط.
ثم أضاف إلى كتابه أحاديث ((المعجم الكبير)) للطبراني، و ((مسند البزّار)) ، و ((مسند أبي يعلى الموصلي)) .
وقد أشار إلى ذلك الحافظُ ابنُ الجَزَرِيّ (1) ، فقال رحمه الله تعالى: ((أمّا ترتيب هذا المسند، فقد أقام اللهُ تعالى لترتيبه شيخنا خاتمةَ الحُفَّاظ الإمامَ الصالح الورع: أبا بكر محمد بن عبد الله بن المُحِبّ الصامت رحمه الله تعالى، فرَتَّبَه على مُعْجَم الصحابة، وَرَتَّبَ الرواةَ كذلك، كترتيب كتاب الأطراف، تَعِبَ فيه تَعَباً كثيراً.
ثم إنَّ شيخنا الإمام مؤرّخ الإسلام، وحافظ الشام عمادَ الدين أبا الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير رحمه الله تعالى، أخذ هذا الكتاب المُرَتَّب من مؤلّفه، وأضاف إليه أحاديثَ الكتب الستة، ومعجم الطبراني الكبير، ومسند البزّار، ومسند أبي يعلى الموصلي، وأَجْهَدَ نفسَه كثيراً، وتَعِبَ فيه تَعَباً عظيماً، فجاء لا نظيرَ له في العالم، وأَكْمَلَه إلاّ بعضَ مسند أبي هريرة، فإنه مات قبل أن
--------------------------------------------
এবং এর মাধ্যমে সেই হাদিসগুলো সম্পর্কে জানার দ্বারা উপকারিতা পূর্ণতা পায় যা কুতুবুস সিত্তাহ-এর অন্তর্ভুক্ত, এবং সেই হাদিসগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় যা ইমাম আহমাদ বিশেষ করে কুতুবুস সিত্তাহ-এর বিপরীতে একাকী বর্ণনা (تفرُّد) করেছেন।
ইতিপূর্বে হাফেজ ইবনে আল-মুহিব (রহিমাহুল্লাহ) 'মুসনাদে আহমাদ'-কে আতরাফ (الأطراف) কিতাবসমূহের পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছিলেন। অতঃপর হাফেজ ইবনে কাসীর সেটি গ্রহণ করেন এবং একে তাঁর কিতাবের মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেন
'জামেউল মাসানিদ ওয়াস সুনান'; এবং তিনি এতে কুতুবুস সিত্তাহ ও এর আনুষঙ্গিক কিতাবসমূহের সেই সংকলকদের যুক্ত করেছেন যারা হাদিস বর্ণনায় (رواية) ইমাম আহমাদ-এর সাথে অংশ নিয়েছেন, যা 'তুহফাতুল আশরাফ'-এ বর্ণিত হয়েছে তার অনুসরণে। যদি তাঁর সাথে অন্য কেউ অংশ না নিয়ে থাকে, তবে তিনি শুধুমাত্র কুতুবুস সিত্তাহ-এর বিচারে এই হাদিসটি বর্ণনায় (رواية) ইমাম আহমাদ-এর একক বর্ণনা (تفرُّد) হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
অতঃপর তিনি তাঁর কিতাবে তাবারানির 'আল-মুজামুল কবীর', 'মুসনাদুল বাজ্জার' এবং 'মুসনাদে আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী'-এর হাদিসসমূহ যুক্ত করেন।
হাফেজ ইবনুল জাযারি (১) এ বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এই মুসনাদের বিন্যাসের বিষয়ে আল্লাহ তাআলা আমাদের শায়খ, হাফেজগণের শেষ প্রতিনিধি, নেককার ও পরহেজগার ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-মুহিব আস-সামিত (রহিমাহুল্লাহ)-কে সামর্থ্য দিয়েছেন। তিনি একে 'মুজামুস সাহাবা'-এর বিন্যাসে সাজিয়েছেন এবং বর্ণনাকারীদেরও (رواة) একইভাবে বিন্যস্ত করেছেন, যেমনটি আতরাফ (الأطراف) কিতাবের বিন্যাস পদ্ধতি। এতে তিনি অনেক পরিশ্রম করেছেন।
অতঃপর আমাদের শায়খ, ইসলামের ইতিহাসবিদ এবং শামের হাফেজ ইমাদউদ্দীন আবুল ফিদা ইসমাইল বিন উমর বিন কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) গ্রন্থকারের নিকট থেকে এই বিন্যস্ত কিতাবটি গ্রহণ করেন। তিনি এতে কুতুবুস সিত্তাহ, তাবারানির 'আল-মুজামুল কবীর', 'মুসনাদুল বাজ্জার' এবং 'মুসনাদে আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী'-এর হাদিসসমূহ যুক্ত করেন। তিনি এতে নিজেকে অনেক নিয়োজিত করেছিলেন এবং অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন। ফলে এটি এমন এক গ্রন্থে পরিণত হয়েছে যার নজির বিশ্বে নেই। তিনি এটি সম্পন্ন করেছিলেন আবু হুরায়রা (রা.)-এর মুসনাদের কিছু অংশ ব্যতীত, কারণ তিনি এর আগেই ইন্তেকাল করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يُكْمِلَه، فإنه عُوجِلَ بكَفّ بصره)) .
شرح خِطّة الحافظ ابن كثير في هذا الكتاب:
يبدأ الحافظ ابن كثير بذكر ترجمة الصحابي ممن له روايةٌ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم على ترتيب حروف المُعْجَم، ويوردُ فيها نَسَبَه ولقبَه وطرفاً من أخباره، مُعْتَمِداً في ذلك على ما ورد في الكُتُبِ العشرة أو غيرِها من كُتُبِ تراجمِ الصحابة.
ثم يُورِدُ له في ترجمته جميعَ ما وَقَعَ له من أحاديث في ((مسند أحمد)) ، والكتب الستة، و ((المعجم الكبير)) للطبراني، و ((مسند أبي بكر البزّار)) ، و ((مسند أبي يعلى الموصلي)) .
فإنْ لم يكن له حديث في هذه الكتب العشرة أورد له ما ذكره الحافظُ أبو نعيم في كتاب ((معرفة الصحابة)) ، وابنُ الأثير في ((أسد الغابة)) ، والعسكريُّ في الصحابة، وأبو موسى المديني، وابن عبد البَرّ، وعبدان بن محمد المروزي، وغيرهم ممن ألّف في الصحابة.
وقد يوردُ له ما وقع في غير كتب الصحابة مثل ((مسند أبي داود الطيالسي)) و ((العلل)) لابن أبي حاتم، و ((المستدرك)) للحاكم،
و ((المغازي)) للواقدي، و ((المؤتلف والمختلف)) للدارقطني.
فإنْ كان الصحابيُّ مُكْثِراً رَتَّبَ أسماء الرواة عنه أيضاً على حروف المعجم، ويبدأ أولاً بذكر أحاديث ((مسند أحمد)) تبعاً لكتاب ((ترتيب المسند)) لابن المُحِبّ، فإنْ شاركه أحدٌ من أصحاب الكتب الستة ذكره تبعاً لما في كتاب ((تحفة الأشراف)) ، وينقل منه الفوائد والتعقبات التي يوردها شيخه الحافظ المزّي رحمه الله تعالى، مُصَرِّحاً بذلك في بعض المواضع.
...তা সম্পন্ন করতে পারেননি, কেননা তিনি অচিরেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন।
এই গ্রন্থে হাফিজ ইবনে কাসীরের কর্মপরিকল্পনার ব্যাখ্যা:
হাফিজ ইবনে কাসীর বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতিতে (ترتيب حروف المعجم) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনা (رواية) করেছেন এমন সাহাবীর জীবনী (ترجمة) আলোচনার মাধ্যমে গ্রন্থটি শুরু করেন। সেখানে তিনি সংশ্লিষ্ট সাহাবীর বংশপরিচয়, উপাধি এবং তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি উল্লেখ করেন, যা মূলত দশটি কিতাব অথবা সাহাবীদের জীবনী বিষয়ক অন্যান্য গ্রন্থসমূহের ওপর ভিত্তি করে সংকলিত।
এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট সাহাবীর জীবনীতে (ترجمة) মুসনাদে আহমাদ, কুতুবে সিত্তাহ, তাবারানির আল-মুজাম আল-কাবীর, মুসনাদে আবি বকর আল-বাজার এবং মুসনাদে আবি ইয়ালা আল-মাওসিলিতে বর্ণিত তাঁর সকল হাদিস উল্লেখ করেন।
যদি এই দশটি কিতাবে সংশ্লিষ্ট সাহাবীর কোনো হাদিস না থাকে, তবে তিনি হাফিজ আবু নুয়াইমের 'মারিফাতুস সাহাবাহ', ইবনুল আসিরের 'উসদুল গাবাহ', আসকারীর 'আস-সাহাবাহ', আবু মুসা আল-মাদিনী, ইবনে আবদিল বার, আবদান বিন মুহাম্মদ আল-মারওয়াযী এবং সাহাবীদের জীবনী নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন এমন অন্যান্যদের উদ্ধৃতি প্রদান করেন।
কখনও কখনও তিনি সাহাবীদের জীবনীগ্রন্থের বাইরে অন্য কোনো কিতাবে বর্ণিত বর্ণনাও উল্লেখ করেন, যেমন: মুসনাদে আবি দাউদ আত-তায়ালিসি, ইবনে আবি হাতিমের আল-ইলাল (العلل) এবং হাকিমের আল-মুস্তাদরাক।
এবং ওয়াকিদির আল-মাগাযি ও দারাকুতনির আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ।
যদি সংশ্লিষ্ট সাহাবী অধিক হাদিস বর্ণনাকারী (مكثرا) হন, তবে তিনি তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণকারী বর্ণনাকারীদের (الرواة) নামও বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতিতে (ترتيب حروف المعجم) সাজান। এক্ষেত্রে তিনি প্রথমে ইবনুল মুহিবের 'তারতিবুল মুসনাদ' অনুসরণ করে মুসনাদে আহমাদের হাদিসসমূহ উল্লেখ করেন। আর যদি কুতুবে সিত্তাহর কোনো সংকলক সেই হাদিস বর্ণনায় শরিক থাকেন, তবে তিনি 'তুহফাতুল আশরাফ' গ্রন্থ অনুযায়ী তা উল্লেখ করেন। সেখান থেকে তিনি তাঁর শিক্ষক হাফিজ মিযযি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণিত শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ (الفوائد) ও পর্যবেক্ষণসমূহ (التعقبات) উদ্ধৃত করেন এবং কিছু স্থানে স্পষ্টভাবে তা ব্যক্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فإنْ لم يكن حديث ((مسند أحمد)) في أحد الكتب الستة عقّبه بقوله:
((تَفَرَّدَ به)) ، باعتبار الكتب الستة، لا باعتبار باقي الكتب العشرة التي اعتمد عليها في تصنيف كتابه (1) .
وقد يورد أحياناً حديثاً تَفَرَّدَ به الإمام أحمد ثم يذكره من طريق أخرى من بقية الكتب العشرة لزيادة فيه (2) .
ثم يورد في الترجمة باقي الأحاديث المذكورة في ((تحفة الأشراف)) من أحاديث الكتب الستة، والتي لم يَرْوِها الإمام أحمد في ((مسنده)) ، ويضيف إليها الفوائد التي ذكرها شيخه في ((تحفة الأشراف)) .
وقد ينفرد الحافظ ابن كثير فيذكر بعض التعقبات والنقد لبعض الأحاديث من قِبَل نفسه (3) .
فإن لم يكن الحديث في ((مسند أحمد)) ولا في ((تحفة الأشراف)) أورده من طريق ((المعجم الكبير)) للطبراني.
فإن لم يذكر هذا الحديث في ((مسند أحمد)) و ((تحفة الأشراف))
و ((المعجم الكبير)) ذكره من طريق ((مسند أبي بكر البزّار)) .
فإنْ لم يوجد الحديث في الكتب المتقدمة أورده من طريق ((مسند أبي يعلى الموصلي)) .
هذا هو الغالب في خِطّة الحافظ ابن كثير في تصنيف كتابه، وربما خالف هذه الخِطّة في بعض الأحيان، ولكنه قليل.
--------------------------------------------
যদি "মুসনাদ আহমাদ"-এর হাদিসটি কুতুবে সিত্তাহর কোনো একটিতে না থাকে, তবে তিনি কুতুবে সিত্তাহর বিবেচনায়—তাঁর কিতাব সংকলনের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত দশটি কিতাবের বিবেচনায় নয়—সেটিকে "এটি এককভাবে বর্ণিত (تَفَرَّدَ به)" এই উক্তি দ্বারা অনুসরণ করেন (১)।
কখনও কখনও তিনি এমন হাদিস আনয়ন করেন যা ইমাম আহমাদ এককভাবে বর্ণনা করেছেন (تَفَرَّدَ به), অতঃপর তিনি তাতে অতিরিক্ত তথ্য থাকার কারণে দশটি কিতাবের অবশিষ্টাংশ থেকে অন্য সূত্রের মাধ্যমে তা উল্লেখ করেন (২)।
অতঃপর তিনি জীবনী বা অধ্যায়ে (ترجمة) কুতুবে সিত্তাহর সেই সব হাদিসের অবশিষ্টাংশ উল্লেখ করেন যা "তুহফাতুল আশরাফ"-এ বর্ণিত হয়েছে কিন্তু ইমাম আহমাদ তাঁর "মুসনাদ"-এ বর্ণনা করেননি; সেই সাথে তিনি তাঁর উস্তাদ কর্তৃক "তুহফাতুল আশরাফ"-এ উল্লিখিত ফায়দাগুলোও যোগ করেন।
হাফিজ ইবনে কাসির কখনও কখনও এককভাবে (ينفرد) নিজস্ব পক্ষ থেকে কিছু হাদিসের সমালোচনা ও পর্যালোচনা (نقد) উল্লেখ করেন (৩)।
যদি হাদিসটি "মুসনাদ আহমাদ" কিংবা "তুহফাতুল আশরাফ"-এ না থাকে, তবে তিনি তা তাবারানির "আল-মু'জামুল কাবীর"-এর সূত্র থেকে উল্লেখ করেন।
যদি এই হাদিসটি "মুসনাদ আহমাদ", "তুহফাতুল আশরাফ" এবং "আল-মু'জামুল কাবীর"-এ বর্ণিত না থাকে
তবে তিনি তা "মুসনাদ আবি বকর আল-বাযযার"-এর সূত্র থেকে উল্লেখ করেন।
যদি হাদিসটি পূর্বোক্ত কিতাবসমূহে না পাওয়া যায়, তবে তিনি তা "মুসনাদ আবি ইয়ালা আল-মাওসিলি"-এর সূত্র থেকে উল্লেখ করেন।
হাফিজ ইবনে কাসিরের কিতাব সংকলনের কর্মপদ্ধতির (خطة) ক্ষেত্রে এটিই ছিল সাধারণ নিয়ম; তবে কখনও কখনও তিনি এই কর্মপদ্ধতির (خطة) ব্যতিক্রম করেন, কিন্তু তা বিরল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فقد ذكر حديثاً وعزاه لابن ماجه والطبراني (1) .
وكذلك عزا حديثاً لابن ماجه والطبراني وأبي يعلى والبزار (2) .
وعزا حديثاً لأبي يعلى والطبراني (3) .
وذكر حديثاً من طريق أحمد وأبي داود والنسائي وأبي يعلى (4) .
عدد أجزاء هذا الكتاب:
طُبع كتاب ((جامع المسانيد والسُّنَن)) في (37) جُزْءاً، وليس كُلُّه من عمل الحافظ ابن كثير رحمه الله تعالى، كما هو مذكور على جميع أجزاء الكتاب، بل عَمَلُ الحافظ ابن كثير شمل عشرين جُزْءاً من الكتاب، وهي: من الجزء الأول إلى تمام السادس عشر، والجزء الحادي والعشرين، والسابع والعشرين، والثامن والعشرين، والتاسع والعشرين.
وأمّا باقي أجزاء الكتاب فهي من تصنيف محقّق الكتاب، فكان ينبغي أن يذكر عليها عبارة: ((تكملة جامع المسانيد والسُّنَن)) للدكتور عبد المعطي أمين قلعجي. وهذه الأجزاء المزيدة تشمل المسانيد التالية:
(17، 18، 19، 20) مسانيد الخلفاء الراشدين الأربعة.
(22، 23) باقي مسند أنس بن مالك.
(24، 25) مسند جابر بن عبد الله.
(26) مسند عبد الله بن عَمْرو بن العاص.
(30، 31، 32) مسند عبد الله بن عباس.
--------------------------------------------
তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং সেটিকে ইবনে মাজাহ ও তাবারানি-র দিকে সম্বন্ধ (عزاه) করেছেন (১)।
অনুরূপভাবে তিনি ইবনে মাজাহ, তাবারানি, আবু ইয়ালা ও বাজার-এর দিকে একটি হাদিস সম্বন্ধ (عزا) করেছেন (২)।
এবং তিনি আবু ইয়ালা ও তাবারানি-র দিকে একটি হাদিস সম্বন্ধ (عزا) করেছেন (৩)।
এবং তিনি আহমদ, আবু দাউদ, নাসাঈ ও আবু ইয়ালা-র সূত্র (طريق) থেকে একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন (৪)।
এই গ্রন্থের খণ্ড সংখ্যা:
'জামি আল-মাসানিদ ওয়াস সুনান' গ্রন্থটি (৩৭) খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। তবে এর পুরোটাই হাফেজ ইবনে কাসির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর কাজ নয়, যেমনটি গ্রন্থের সকল খণ্ডে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং হাফেজ ইবনে কাসিরের কাজ গ্রন্থের বিশটি খণ্ড জুড়ে বিস্তৃত, সেগুলো হলো: প্রথম খণ্ড থেকে ষোলোতম খণ্ডের সমাপ্তি পর্যন্ত, এবং একুশতম, সাতাশতম, আঠাশতম ও ঊনত্রিশতম খণ্ড।
আর গ্রন্থের অবশিষ্ট খণ্ডগুলো এর মুহাক্কিক (গবেষক)-এর সংকলন (تصنيف)। তাই সেগুলোর ওপর এই বাক্যটি উল্লেখ করা উচিত ছিল: ডক্টর আব্দুল মু'তি আমিন কালাজি-কৃত 'জামি আল-মাসানিদ ওয়াস সুনান-এর পরিশিষ্ট (تكملة)'। আর এই অতিরিক্ত খণ্ডগুলো নিম্নোক্ত মুসনাদসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে:
(১৭, ১৮, ১৯, ২০) চার খলিফায়ে রাশেদিনের মুসনাদসমূহ।
(২২, ২৩) আনাস ইবনে মালিক-এর মুসনাদের অবশিষ্টাংশ।
(২৪, ২৫) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ-র মুসনাদ।
(২৬) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস-এর মুসনাদ।
(৩০, ৩১, ৩২) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস-এর মুসনাদ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
(33) مسند أبي سعيد الخدري.
(34، 35، 36، 37) مسند السيدة عائشة.
وقد بَيَّنَ المحقِّقُ ذلك في ((المقدمة)) (1) ، وهذا لا يُعفيه من الإشارة إلى ذلك في عنوان كُلّ جُزْءٍ من هذه الأجزاء، أداءً للأمانة، لأنَّ القارئ ربما لا يقف على ذلك في المقدمة، فيظنُّ أنَّ الكتابَ كُلَّه من تصنيف الحافظ ابن كثير رحمه الله تعالى، وليس كذلك (2) .
ويُلاحظ على عنوان الكتاب أنه وقع فيه خطأ في ضبط لفظ (سَنَن) غير المُعَرَّفة، ولعلّه من قِبَل الطابع، فقد كُتب على غلاف الكتاب هكذا: (سُنن) بضم السين، وهو خطأ، والصوابُ في العنوان كاملاً: ((جامع المسانيد والسُّنَن الهادي لأقوم سَنَن)) ، والله تعالى أعلم.
3 - ((إطْراف المُسْنِدِ المُعْتَلي بأطْراف المُسْنَد الحنبلي))
للإمام الحافظ أحمد بن علي بن حَجَر العَسْقلاني (773 - 852?) . وهو عمل موسوعي إسنادي أيضاً، مهمّتُه جَمْعُ طُرُقِ الحديث على قواعدِ فَنِّ الأطراف في كتاب مُعَيَّن، وهو لَبِنَةٌ أُخرى في العمل الموسوعي، تُتَمِّمُ عَمَل الحافظِ المِزّي في ((تحفة الأشراف)) ، وقد بلغتْ أحاديثُ هذا الكتاب /12787/ حديثاً.
وقد بَيَّن الحافظُ منهجَه في كتابه هذا، فقال رحمه الله تعالى في
(1) ص 264 - 265.
(2) وانظر بيان المآخذ التي وقع فيها مُحَقِّق هذا الكتاب في كتابي: ((القول المفيد في الذَّبّ عن جامع المسانيد)) ص (75 – 161) .
(৩৩) আবু সাঈদ আল-খুদরী-র মুসনাদ।
(৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭) সায়্যিদাহ আয়েশা-র মুসনাদ।
মুহাক্কিক এটি 'ভূমিকা'-তে (১) স্পষ্ট করেছেন। তবে আমানতদারিতা রক্ষার স্বার্থে এটি এই অংশগুলোর প্রত্যেকটির শিরোনামে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয় না; কারণ পাঠক হয়তো ভূমিকার সেই বক্তব্যটি খেয়াল করবেন না, ফলে তিনি মনে করতে পারেন যে সম্পূর্ণ বইটি হাফিজ ইবনে কাসীর (রহ.)-এর সংকলন, অথচ বিষয়টি তেমন নয় (২)।
বইটির শিরোনামের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় যে, অনির্দিষ্ট (আলিফ-লামহীন) 'সুনান' শব্দটির নির্ভুল উচ্চারণে (ضبط) ভুল হয়েছে; সম্ভবত এটি মুদ্রণকারীর পক্ষ থেকে ঘটেছে। বইয়ের প্রচ্ছদে এটি এভাবে লেখা হয়েছে: সীন অক্ষরে পেশ যোগে 'সুনুন', যা ভুল। আর কিতাবটির পূর্ণাঙ্গ সঠিক শিরোনাম হলো: 'জামি’উল মাসানিদ ওয়াস সুনান আল-হাদি লি-আকওয়ামি সানান'; আর আল্লাহ তাআলাই সম্যক অবগত।
৩ - 'ইতরাফুল মুসনিদিল মু'তালী বি-আতরাফিল মুসনাদিল হানবালী'
ইমাম হাফিজ আহমদ বিন আলী বিন হাজার আসকালানী (৭৭৩ - ৮৫২?) রচিত। এটিও একটি সনদ (إسناد) বিষয়ক বিশ্বকোষীয় কাজ, যার মূল লক্ষ্য হলো আতরাফ (أطراف) শাস্ত্রের নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো কিতাবের হাদিসের সূত্রসমূহ (طرق) একত্রিত করা। এটি এই বিশ্বকোষীয় কর্মধারার আরেকটি ধাপ, যা হাফিজ মিযযী-র 'তুহফাতুল আশরাফ'-এর কাজকে পূর্ণতা দান করে। এই কিতাবের মোট হাদিস সংখ্যা ১২,৭৮৭ টি পর্যন্ত পৌঁছেছে।
হাফিজ (ইবনে হাজার) তার এই কিতাবে নিজ কর্মপদ্ধতি বর্ণনা করেছেন; তিনি (রহ.) বলেছেন:
(১) পৃষ্ঠা ২৬৪ - ২৬৫।
(২) এবং এই কিতাবের মুহাক্কিক যে সমস্ত ভুল করেছেন তার বিবরণ দেখুন আমার লিখিত কিতাব: 'আল-কাওলুল মুফিদ ফিজ জাব্বি আন জামি’ইল মাসানিদ' পৃষ্ঠা (৭৫ – ১৬১)।
(খণ্ড: ১)
আল-মাওসূয়াতুল হাদীসিয়্যাহ বাইনাল ওয়াকি ওয়াল মামূল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
((المقدمة)) (1) : ((فهذا كتابُ أطرافِ الأحاديث التي اشتَمَلَ عليها ((المُسْنَدُ)) الشهيرُ الكبيرُ للإمام أبي عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل مع زيادات ابنِه عبد الله.
رَتَّبْتُ أسماءَ الصحابة الذين فيه على حروف المُعْجَم، ثم مَنْ عُرِفَ بالكُنْية، ثم المُبْهَم، ثم النساء كذلك.
فإنْ كان الصحابيُّ مُكْثِراً رَتَّبْتُ الرواةَ عنه على حروف المعجم، فإنْ كان بعضُ الرواة مُكْثراً على ذلك المُكْثِر فربما رَتَّبْتُ الرواة عنه أيضاً، أو رتبت أحاديثَه على الألفاظ، وقد أشرتُ في أوائل تراجم الصحابة المقلِّين إلى أماكِنها من الأصل.
وأمّا مَنْ كان مُكْثِراً فإني أرمزُ على اسم شيخ أحمد عدداً بالهندي يُعْلَمُ منه مَحَلُّ ذلك في أيّ جُزْءٍ هو من مُسْنَدِ ذلك الصحابي (2) .
وإذا كان الحديثُ عنده من طريقٍ واحدةٍ سُقْتُ إسنادَه بحروفه، فإن كان المتنُ قصيراً سُقْتُه أيضاً بحروفه إنْ لم يكن مشهورَ اللفظ، وإلاّ اكتفيتُ بطَرَفهِ.
وإذا كان الحديثُ عنده من طُرُقٍ جَمَعْتُها في مكانٍ واحدٍ بالعَنْعَنة، واللَّفْظُ حينئذٍ لأول شيخٍ يُذكر.
وإذا كان من زيادات عبد الله قلتُ في أول الإسناد: قال عبد الله.
وهذه أسماء المسانيد التي اشْتَمَلَ عليها أصلُ ((المسند)) :
مسند العَشَرة وما معه.
ومسند أهل البيت، وفيه: مسند العبّاس وبَنِيه.
--------------------------------------------
((ভূমিকা)) (১) : ((এটি ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল-এর সুপরিচিত ও সুবিশাল মুসনাদ-এর অন্তর্ভুক্ত হাদিসসমূহের অংশবিশেষের (أطراف) সমাহার সংবলিত গ্রন্থ, যার সাথে তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর অতিরিক্ত অংশসমূহ (زيادات) যুক্ত রয়েছে।
আমি এতে বিদ্যমান সাহাবীগণের (صحابة) নাম বর্ণানুক্রমিকভাবে (حروف المعجم) সাজিয়েছি, এরপর যারা উপনামের (كنية) মাধ্যমে পরিচিত তাদের, অতঃপর অস্পষ্ট বা নামহীন (مبهم) ব্যক্তিদের এবং একইভাবে নারীদের নামও বিন্যস্ত করেছি।
যদি কোনো সাহাবী (صحابي) অধিক বর্ণনাকারী (مكثر) হন, তবে তাঁর নিকট থেকে যারা বর্ণনা করেছেন সেই বর্ণনাকারীদের (رواة) নামও আমি বর্ণানুক্রমিকভাবে (حروف المعجم) সাজিয়েছি। যদি কোনো বর্ণনাকারী সেই অধিক বর্ণনাকারীর (مكثر) নিকট থেকে অধিক পরিমাণে বর্ণনা করে থাকেন, তবে ক্ষেত্রবিশেষে আমি তাঁর নিকট থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের নামও বিন্যস্ত করেছি অথবা তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলোকে শব্দানুসারে সাজিয়েছি। আর স্বল্প বর্ণনাকারী (مقلين) সাহাবীদের জীবনীর শুরুতে মূল গ্রন্থে তাঁদের হাদিসসমূহের অবস্থানের প্রতি আমি ইঙ্গিত প্রদান করেছি।
আর যারা অধিক বর্ণনাকারী (مكثر), তাঁদের ক্ষেত্রে আমি ইমাম আহমদের শায়খের নামের ওপর ভারতীয় সংখ্যা দিয়ে একটি সংকেত প্রদান করেছি, যার মাধ্যমে জানা যাবে যে সেই সাহাবীর মুসনাদ-এর কোন খণ্ডে তা অবস্থিত (২)।
যদি কোনো হাদিস তাঁর নিকট একটি মাত্র সূত্র (طريق) থেকে বর্ণিত হয়, তবে আমি এর পূর্ণ সনদ (إسناد) উল্লেখ করেছি। যদি মূলপাঠ (متن) সংক্ষিপ্ত হয় এবং তা বহুল প্রচলিত না হয়, তবে তাও পূর্ণরূপে উল্লেখ করেছি; অন্যথায় কেবল হাদিসের অংশবিশেষ (طرف) উল্লেখ করার ওপর নির্ভর করেছি।
যদি তাঁর নিকট কোনো হাদিস একাধিক সূত্র (طرق) থেকে বর্ণিত হয়, তবে আমি সেগুলোকে আনআনা (عنعنة) ব্যবহারের মাধ্যমে একস্থানে একত্রিত করেছি; সেক্ষেত্রে শব্দবিন্যাস বা মূলপাঠ (لفظ) হবে প্রথম উল্লিখিত শায়খের।
যদি সেটি আব্দুল্লাহর অতিরিক্ত অংশসমূহের (زيادات) অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে আমি সনদের (إسناد) শুরুতে বলেছি: ‘আব্দুল্লাহ বলেছেন’।
আর এগুলো হলো সেই মুসনাদসমূহের নাম যা মূল মুসনাদ-এর অন্তর্ভুক্ত:
দশজন (জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত) সাহাবীর মুসনাদ এবং এর সাথে যা রয়েছে।
আহলে বাইতের মুসনাদ, যার মধ্যে রয়েছে: আব্বাস ও তাঁর সন্তানদের মুসনাদ।
--------------------------------------------