(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: -)
المنار المنيف في الصحيح والضعيف - ت أبي غدة (ابن القيم)
القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: المنار المنيف في الصحيح والضعيف
المؤلف: محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد شمس الدين ابن قيم الجوزية (ت 751 هـ)
المحقق: عبد الفتاح أبو غدة
الناشر: مكتبة المطبوعات الإسلامية، حلب
الطبعة: الأولى، 1390 هـ -1970 م
عدد الصفحات: 155
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মানারুল মুনিফ ফিস সহীহি ওয়াদ যয়ীফ - আবু গুদ্দাহর তাহকীক (ইবনুল কাইয়্যিম)
বিভাগ: ইলল এবং হাদীস বিষয়ক প্রশ্নসমূহ
বই: আল-মানারুল মুনিফ ফিস সহীহি ওয়াদ যয়ীফ
লেখক: মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর ইবনে আইয়ুব ইবনে সাদ শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (মৃত্যু ৭৫১ হিজরি)
তাহকীককারী: আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাতবুয়াতিল ইসলামিয়্যাহ, আলেপ্পো
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯০ হিজরি -১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৫
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيمقال الشيخ الإمام العلامة شمس الدين محمد بن أبي بكر المعروف بابن قيم الجوزية الحنبلي الدمشقي تغمده الله تعالى برحمته وأسكنه فسيح جنتهفصل -1-1- سُئِلْتُ عَنْ حَدِيثِ "صَلاةٌ بِسِوَاكٍ أَفْضَلُ مِنْ سَبْعِينَ صَلاةً بِغَيْرِ سِوَاكٍ" وَكَيْفَ يَكُونُ هَذَا التَّضْعِيفُ؟2- وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ فِي حَدِيثِ جُوَيْرِيَةَ "لَقَدْ قُلْتُ بَعْدَكَ أَرْبَعُ كَلِمَاتٍ لَوْ وُزِنْتُ بِمَا قُلْتُ مُنْذُ اليوم لوزنتهن"3- وحديث "صِيَامِ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ يَقُومُ مَقَامَ صِيَامِ الشَّهْرِ"4- وَحَدِيثِ "مَنْ دَخَلَ السُّوقَ فَقَالَ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ" الْحَدِيثِ.فَهَذَا السُّؤَالُ اشْتَمَلَ عَلَى أَرْبَعِ مَسَائِلٍ:5- الْمَسْأَلَةُ الأُولَى تَفْضِيلُ الصَّلاةِ بِالسِّوَاكِ عَلَى سَبْعِينَ صَلاةً بِغَيْرِهِ فَهَذَا الْحَدِيثُ قَدْ رُوِيَ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।শাইখ, ইমাম, মহাজ্ঞানী শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর, যিনি ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি নামে পরিচিত—আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন এবং তাঁর প্রশস্ত জান্নাতে স্থান দান করুন—বলেছেন:পরিচ্ছেদ -১-১- আমাকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে, "মিসওয়াকসহ এক সালাত মিসওয়াকহীন সত্তর সালাতের চেয়ে উত্তম", এবং এই সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধির বিষয়টি কীভাবে সম্ভব?২- একইভাবে জুয়াইরিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এর হাদিসে বর্ণিত রাসুলুল্লাহর উক্তি: "আমি তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর এমন চারটি বাক্য বলেছি, যা আজ পর্যন্ত তোমার বলা সবকিছুর সাথে ওজন করা হলে সেগুলোর সমান বা অধিক ওজনের হবে।"৩- এবং এই হাদিস: "প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা পুরো মাস রোজা রাখার স্থলাভিষিক্ত হয়।"৪- এবং এই হাদিস: "যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করে বলবে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই..." (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।এই প্রশ্নটি চারটি মাসআলা বা বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:৫- প্রথম মাসআলাটি হলো মিসওয়াকসহ সালাতকে মিসওয়াকহীন সত্তর সালাতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান। এই হাদিসটি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তা হলো:
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
حَدِيثٌ لَمْ يَرِدْ فِي الصَّحِيحَيْنِ وَلا فِي الْكُتُبِ السِّتَّةِ وَلَكِنْ رَوَاهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ وَابْنُ خُزَيْمَةَ وَالْحَاكِمُ فِي صَحِيحِهِمَا وَالْبَزَّارُ فِي مُسْنَدِهِ وَقَالَ الْبَيْهَقِيُّ: "إِسْنَادُهُ غَيْرُ قَوِيٍّ".6- وَذَلِكَ أَنَّ مَدَارَهُ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَلَمْ يُصَرِّحِ ابْنُ إِسْحَاقَ بِسَمَاعِهِ مِنْهُ بَلْ قَالَ ذَكَرَ الزُّهْرِيُّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "تُفَضَّلُ الصَّلاةُ الَّتِي يُسْتَاكُ لَهَا عَلَى الصَّلاةِ الَّتِي لا يُسْتَاكُ لَهَا سَبْعِينَ ضِعْفًا"هَكَذَا رَوَاهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ وابن خُزَيْمَةَ فِي صَحِيحِهِ إِلا أَنَّهُ قال: "إن صح الخبر" قَالَ: "وَإِنَّمَا اسْتَثْنَيْتُ صِحَّةَ هَذَا الْخَبَرِ لأَنِّي خَائِفٌ أَنْ يَكُونَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ لَمْ يَسْمَعِ الْحَدِيثَ مِنَ الزُّهْرِيِّ وَإِنَّمَا
একটি হাদিস যা সহীহাইন বা কুতুবে সিত্তার কোনোটিতেই বর্ণিত হয়নি, তবে ইমাম আহমদ, ইবনে খুজাইমা এবং হাকেম তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে এবং বাজ্জার তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বায়হাকী বলেছেন: "এর সনদ শক্তিশালী নয়।"৬- আর এর কারণ হলো এর বর্ণনাসূত্র মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের ওপর আবর্তিত, যিনি জুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে ইসহাক তাঁর থেকে সরাসরি শোনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, বরং তিনি বলেছেন যে, জুহরি বর্ণনা করেছেন উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে সালাতের জন্য মেসওয়াক করা হয়, তা মেসওয়াকবিহীন সালাতের তুলনায় সত্তর গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ।"এভাবেই ইমাম আহমদ এবং ইবনে খুজাইমা তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেছেন: "যদি বর্ণনাটি সহীহ হয়"। তিনি বলেন: "আমি এই বর্ণনার বিশুদ্ধতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছি কারণ আমার আশঙ্কা যে, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক সম্ভবত জুহরির কাছ থেকে হাদিসটি সরাসরি শোনেননি, বরং..."
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
دَلَسَهُ عَنْهُ وَقَدْ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ قَالَ أَبِي: "إِذَا قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ وَذَكَرَ فُلانٌ فَلَمْ يَسْمَعْهُ" وَقَدْ أَخْرَجَهُ الحاكم فِي صَحِيحِهِ وَقَالَ: "هُوَ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ" وَلَمْ يَصْنَعِ الْحَاكِمُ شَيْئًا فَإِنَّ مُسْلِمًا لَمْ يَرْوِ فِي كِتَابِهِ بِهَذَا الإِسْنَادِ حَدِيثًا وَاحِدًا وَلا احْتَجَّ بِابْنِ إِسْحَاقَ وَإِنَّمَا أَخْرَجَ لَهُ فِي الْمُتَابَعَاتِ وَالشَّوَاهِدِ وَإِمَّا أَنْ يَكُونَ ذِكْرُ ابْنِ إِسْحَاقَ عَنِ الزُّهْرِيِّ مِنْ شَرْطِ مُسْلِمٍ فَلا وَهَذَا وَأَمْثَالُهُ هُوَ الَّذِي شَانَ كِتَابَهُ وَوَضَعَهُ وَجَعَلَ تَصْحِيحَهُ دُونَ تَحْسِينِ غَيْرِهِ.
তিনি তার থেকে এটি তাদলিস করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন, আমার পিতা বলেছেন: "যখন ইবনে ইসহাক বলেন 'অমুক উল্লেখ করেছেন', তখন তিনি তা শোনেননি।" হাকিম তার সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ।" অথচ হাকিম এখানে সঠিক কিছু করেননি, কারণ মুসলিম তার কিতাবে এই সনদে একটি হাদিসও বর্ণনা করেননি এবং তিনি ইবনে ইসহাককে দলিল হিসেবেও গ্রহণ করেননি। বরং তিনি তাকে কেবল মুতাবা'আত এবং শওয়াহিদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর যুহরি থেকে ইবনে ইসহাকের বর্ণনা করা মুসলিমের শর্তের অন্তর্ভুক্ত হওয়া—এটি সঠিক নয়। এই বিষয়টি এবং এই ধরণের অন্যান্য বিষয়গুলোই তার কিতাবকে ত্রুটিযুক্ত করেছে ও এর মান কমিয়ে দিয়েছে এবং তার 'সহিহ' সাব্যস্তকরণকে অন্যের 'হাসান' সাব্যস্তকরণের চেয়েও নিম্নস্তরে নিয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
قَالَ الْبَيْهَقِيُّ: "هَذَا الْحَدِيثُ أَحَدُ مَا يَخَافُ أَنْ يَكُونَ مِنْ تَدْلِيسَاتِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ وَأَنَّهُ لَمْ يَسْمَعْهُ مِنَ الزُّهْرِيِّ وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ مِنْ طَرِيقِ مُعَاوِيَةَ بْنِ يَحْيَى الصَّدَفِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَمُعَاوِيَةُ هَذَا لَيْسَ بِقَوِيٍّ" وَقَالَ فِي شِعَبِ الإِيمَانِ: "تَفَرَّدَ بِهِ مُعَاوِيَةُ بْنُ يَحْيَى وَيُقَالُ إِنَّ ابْنَ إِسْحَاقَ أَخَذَهُ مِنْهُ" قَالَ: "وَيَرْوِي نَحْوَهُ عَنْ عُرْوَةَ
বায়হাকী বলেছেন: "এই হাদিসটি সেই সব বর্ণনার অন্যতম যে বিষয়ে আশঙ্কা করা হয় যে তা মুহাম্মদ ইবন ইসহাকের তাদলিসাত (বর্ণনা গোপন করা)-এর অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি এটি যুহরী থেকে শ্রবণ করেননি।" বায়হাকী এটি মুয়াবিয়া ইবন ইয়াহইয়া আস-সাদাফীর সূত্রে যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ এই মুয়াবিয়া শক্তিশালী (নির্ভরযোগ্য) নন। তিনি 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে বলেছেন: "মুয়াবিয়া ইবন ইয়াহইয়া এটি বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন এবং বলা হয়ে থাকে যে ইবন ইসহাক এটি তাঁর থেকেই গ্রহণ করেছেন।" তিনি বলেছেন: "এবং উরওয়াহ থেকে এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَعَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ وَكِلاهُمَا ضَعِيفٌ".7- وَرَوَاهُ مِنْ حَدِيثِ الْوَاقِدِيِّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي يَحْيَى الأَسْلَمِيُّ عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله تعالى عَنْهَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "الرَّكْعَتَانِ بَعْدَ السِّوَاكِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ سَبْعِينَ رَكْعَةً قَبْلَ السِّوَاكِ" وَلَكِنَّ الْوَاقِدِيَّ لا يُحْتَجُّ بِهِ.8- وَرَوَاهُ مِنْ حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ قِيرَاطٍ قال حدثنا خراج بْنُ فَضَالَةَ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ رُوَيْمٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "صَلاةٌ بِسِوَاكٍ خَيْرٌ مِنْ سَبْعِينَ صلاة بغير سواك " وَهَذَا الإِسْنَادُ غَيْرُ قَوِيٍّ.فَهَذَا حَالُ هَذَا الْحَدِيثِ وَإِنْ ثَبَتَ فَلَهُ وَجْهٌ حَسَنٌ وَهُوَ أَنَّ الصَّلاةَ بِالسِّوَاكِ سُنَّهٌ وَالسِّوَاكُ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ.9- وَقَدْ أَكَّدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شَأْنَهُ وَقَالَ: "لَوْلا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلاةٍ".10- وَأَخْبَرَ "أَنَّهُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِّ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ".
এবং আমরাহ হতে আয়েশা থেকে বর্ণিত, এবং উভয় সূত্রই দুর্বল।"৭- এটি আল-ওয়াকিদির হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন আবি ইয়াহইয়া আল-আসলামি বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আল-আসওয়াদ থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "মিসওয়াক করার পর দুই রাকাত সালাত আল্লাহর নিকট মিসওয়াক করার আগের সত্তর রাকাত সালাত অপেক্ষা অধিক প্রিয়।" কিন্তু আল-ওয়াকিদির বর্ণনা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।৮- এটি হাম্মাদ বিন কিরাত-এর হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমাদের নিকট খরাজ বিন ফাদালাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি উরওয়াহ বিন রুয়াইম থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "মিসওয়াকসহ সালাত মিসওয়াকবিহীন সত্তর সালাত অপেক্ষা উত্তম।" এবং এই সনদটি শক্তিশালী নয়।এটিই এই হাদিসের অবস্থা; আর যদি এটি প্রমাণিত হয় তবে তার একটি উত্তম ব্যাখ্যা রয়েছে, আর তা হলো: মিসওয়াকসহ সালাত আদায় করা একটি সুন্নাত এবং মিসওয়াক হলো রবের সন্তুষ্টির কারণ।৯- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর গুরুত্ব নিশ্চিত করেছেন এবং বলেছেন: "আমি যদি আমার উম্মতের ওপর কষ্টসাধ্য হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তবে তাদের প্রতি প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।"১০- এবং তিনি জানিয়েছেন যে, "নিশ্চয়ই এটি মুখের জন্য পবিত্রকারক এবং রবের সন্তুষ্টির কারণ।"
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
11- وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: "أَكْثَرْتُ عَلَيْكُمْ فِي السِّوَاكِ" رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ.12- وَفِي مُسْنَدِ أَحْمَدَ عَنِ التَّمِيمِيِّ قَالَ: سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنِ السِّوَاكِ فَقَالَ: "مَا زَالَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنَا بِهِ حَتَى خَشَيْنَا أَنْ يُنَزَّلَ عَلَيْهِ فِيهِ".13- وَفِي لَفْظٍ: "أَمَرْتُ بِالسِّوَاكِ حَتَى خَشَيْتُ أَنْ ينزل علي به وحي".14- وَقَالَ ابْنَ عَبَّاسٍ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "ما لي أَرَاكُمْ تَأْتُونِي قَلْحًا؟ اسْتَاكُوا، لَوْلا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَفَرَضْتُ عَلَيْهِمِ السِّوَاكَ كَمَا فَرَضْتُ عَلَيْهِمِ الْوُضُوءَ".15- وَقَالَ: "عَشْرٌ مِنَ الْفِطْرَةِ: قَصُّ الشَّارِبِ وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ وَالسِّوَاكُ" الْحَدِيثَ فَجَعَلَ السِّوَاكَ مِنَ الْفِطْرَةِ.
১১- এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদেরকে মিসওয়াকের ব্যাপারে বারবার তাগিদ দিয়েছি।" এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।১২- মুসনাদে আহমাদে আত-তামিমী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে মিসওয়াক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এ বিষয়ে ক্রমাগত নির্দেশ দিতে থাকলেন, এমনকি আমরা আশঙ্কা করলাম যে শীঘ্রই এ ব্যাপারে তাঁর ওপর (কুরআনের কোনো আয়াত) নাজিল হবে।"১৩- অন্য বর্ণনায় এসেছে: "আমাকে মিসওয়াকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এমনকি আমি আশঙ্কা করলাম যে এ বিষয়ে আমার ওপর ওহী নাজিল হবে।"১৪- ইবনে আব্বাস বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কী হলো যে আমি তোমাদেরকে ময়লা দাঁত নিয়ে আমার নিকট আসতে দেখছি? তোমরা মিসওয়াক করো। যদি না আমি আমার উম্মতের ওপর কষ্টের আশঙ্কা করতাম, তবে আমি তাদের ওপর মিসওয়াক করাকে সেভাবেই ফরজ করে দিতাম যেমনটি আমি তাদের ওপর ওযু ফরজ করেছি।"১৫- এবং তিনি বলেছেন: "দশটি বিষয় ফিতরাতের (স্বভাবজাত) অন্তর্ভুক্ত: গোঁফ ছোট করা, দাড়ি ছেড়ে দেওয়া এবং মিসওয়াক করা..." (হাদিসটি)। এখানে তিনি মিসওয়াককে ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
16- وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَنْظَلَهَ بْنِ أَبِي عَامِرٍ: "إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِالْوُضُوءِ لِكُلِّ صَلاةٍ طَاهِرًا وَغَيْرَ طَاهِرٍ فَلَمَّا شَقَّ ذَلِكَ عَلَيْهِ أَمَرَ بِالسِّوَاكِ لِكُلِّ صَلاةٍ".17- وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ: أُمِرْنَا بِالسِّوَاكِ وَقَالَ: "إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا قَامَ يُصَلِّي أَتَاهُ الْمَلَكُ فَقَامَ خَلْفَهُ يَسْتَمِعُ الْقُرْآنَ وَيَدْنُو فَلا يَزَالُ يَسْتَمِعُ وَيَدْنُو حَتَى يَضَعَ فَاهُ عَلَى فِيهِ فَلا يَقْرَأُ آيَةً إِلا كَانَتْ فِي جَوْفِ الْمَلَكِ".18- وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ رَغْبَتِهِ فِي السِّوَاكِ يَسْتَاكُ إِذَا قَامَ مِنْ نَوْمِ اللَّيْلِ وَإِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ وإذا صلى.
16- আব্দুল্লাহ ইবনে হানজালা ইবনে আবি আমির বলেন: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র বা অপবিত্র উভয় অবস্থাতেই প্রতিটি সালাতের জন্য ওযু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অতঃপর যখন এটি তাঁর ওপর কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ল, তখন তিনি প্রতিটি সালাতের জন্য মিসওয়াক করার নির্দেশ দিলেন।"17- আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের মিসওয়াক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন: "নিশ্চয়ই বান্দা যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন ফেরেশতা তার নিকট আসেন এবং তার পেছনে দাঁড়িয়ে কুরআন শুনতে থাকেন। তিনি নিরন্তর কাছে আসতে থাকেন এবং শুনতে থাকেন, এমনকি পরিশেষে তিনি নিজের মুখ বান্দার মুখের ওপর স্থাপন করেন। ফলে বান্দা যে আয়াতই পাঠ করে, তা ফেরেশতার উদরে প্রবেশ করে।"18- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াকের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগের কারণে রাতের ঘুম থেকে উঠলে, ঘরে প্রবেশ করলে এবং সালাত আদায়ের সময় মিসওয়াক করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
19- وَاسْتَاكَ عِنْدَ مَوْتِهِ وَهُوَ فِي السِّيَاقِ.20- وَقَالَ سُفْيَانُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما قَالَ: "كَانَ السِّوَاكُ مِنْ أُذُنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَوْضِعَ
১৯- এবং তিনি তাঁর মৃত্যুকালে সাকরাতুল মউত অবস্থায় মিসওয়াক করেছিলেন।২০- সুফিয়ান মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আবু জাফর থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কানের পার্শ্বে মিসওয়াক রাখার স্থান ছিল..."
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الْقَلَمِ مِنْ أُذُنِ الْكَاتِبِ".21- وَفِي سُنَنِ النَّسَائِيِّ عَنِ ابْنِ عباس رضي الله تعالى عَنْهُمَا قال: "كان رسول الله صلىالله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي ركعتين رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يَنْصَرِفُ فَيَسْتَاكُ" وَهَذَا فِي صَلاةِ اللَّيْلِ.22- وَلَمَّا بَاتَ ابْنُ عَبَّاسٍ عِنْدَ خَالَتِهِ مَيْمُونَةَ قَالَ: "فَقَامَ صلى الله عليه وسلم فتوضأ وصلى ركعتين ثم ركعتين ثم ركعتين" الْحَدِيثُ وَكَانَ يَسْتَاكُ لِكُلِّ رَكْعَتَيْنِ".
লেখকের কান থেকে কলম।"২১- এবং সুনানে নাসাঈতে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুই রাকাত দুই রাকাত করে সালাত আদায় করতেন, অতঃপর সালাত শেষে অবসর হয়ে মিসওয়াক করতেন।" আর এটি ছিল রাতের সালাতের ক্ষেত্রে।২২- আর যখন ইবনে আব্বাস তাঁর খালা মায়মুনার নিকট রাত্রিযাপন করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠলেন, উযু করলেন এবং দুই রাকাত, এরপর দুই রাকাত, এরপর দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন"—হাদীসটি শেষ পর্যন্ত। আর তিনি প্রতি দুই রাকাতের জন্য মিসওয়াক করতেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
23- وَفِي جَامِعِ التِّرْمِذِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ: "كَانَ زَيْدُ بْنُ خَالِدٍ الْجُهَنِيُّ يَشْهَدُ الصَّلَوَاتِ فِي الْمَسْجِدِ وَسِوَاكُهُ عَلَى أُذُنِهِ مَوْضِعُ الْقَلَمِ مِنْ أُذُنِ الْكَاتِبِ لا يَقُومُ إِلَى الصَّلاةِ إِلا اسْتَنَّ" وَهُوَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.24- وَفِي الْمُوَطَّأِ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ عَنِ ابْنِ السَّبَّاقِ "أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "عَلَيْكُمْ بِالسِّوَاكِ ".25- وَقَدْ رَوَى أَبُو نُعَيْمٍ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الله بن عمرو بْنِ حَلْحَلَةَ وَرَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "السِّوَاكُ وَاجِبٌ وَغُسْلُ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ".26- وَيَشْهَدُ لِهَذَا الْحَدِيثِ مَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ وَسِوَاكٌ وَيَمِسُّ مِنَ الطِّيبِ مَا قَدِرَ عَلَيْهِ".وَإِذَا كَانَ هَذَا شَأْنُ السِّوَاكِ وَفَضْلِهِ وَحُصُولِ رِضَا الرَّبِّ بِهِ وَإِكْثَارِ
২৩- জামি আত-তিরমিযীতে আবু সালামাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যায়েদ বিন খালিদ আল-জুহানী মসজিদে সালাতসমূহে উপস্থিত হতেন এমতাবস্থায় যে তাঁর মিসওয়াক তাঁর কানের উপর থাকতো, যেমন একজন লেখকের কানের উপর কলম থাকে; তিনি মিসওয়াক করা ব্যতীত সালাতের জন্য দাঁড়াতেন না।" এবং এটি একটি হাসান সহীহ হাদীস।২৪- মুয়াত্তায় ইবনে শিহাব আয-যুহরী হতে, তিনি ইবনে আস-সাব্বাক হতে বর্ণনা করেন যে, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'তোমরা মিসওয়াক করাকে আবশ্যক করে নাও'।"২৫- আবু নুআইম, আবদুল্লাহ বিন আমর বিন হালহালাহ এবং রাফি বিন খাদীজ হতে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ই বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মিসওয়াক করা ওয়াজিব এবং জুমার দিনের গোসল প্রত্যেক মুসলিমের উপর ওয়াজিব।"২৬- এই হাদীসটির সমর্থনে ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে যা বর্ণনা করেছেন তা বিদ্যমান যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জুমার দিনের গোসল প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের উপর আবশ্যক, সেইসাথে মিসওয়াক করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করা।"আর যখন মিসওয়াকের অবস্থা ও এর ফযীলত এমন এবং এর মাধ্যমে রবের সন্তুষ্টি অর্জিত হয় ও অধিক পরিমাণে...
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الأُمَّةِ فِيهِ وَمُبَالَغَتِهِ فِيهِ حَتَّى عِنْدَ وَفَاتِهِ وَقَبْضِ نَفْسِهِ الْكَرِيمَةِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَمْتَنِعْ أَنْ تَكُونَ الصَّلاةُ الَّتِي يَسْتَاكُ لَهَا أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ مِنْ سَبْعِينَ صَلاةً.وَإِذَا كَانَ ثَوَابُ السَّبْعِينَ أَكْثَرَ فَلا يَلْزَمُ مِنْ كَثْرَةِ الثَّوَابِ أَنْ يَكُونَ الْعَمَلُ الأَكْثَرُ ثَوَابًا أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى مِنَ الْعَمَلِ الَّذِي هو أقل منه بل قد يَكُونُ الْعَمَلُ الأَقَلُّ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى وَإِنْ كَانَ الْكَثِيرُ أَكْثَرَ ثَوَابًا.27- وَهَذَا كَمَا فِي الْمُسْنَدِ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: "دَمُ عَفْرَاءَ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ دَمِ سَوْدَاوَيْنِ " يَعْنِي فِي الأُضْحِيَةِ وَكَذَلِكَ ذَبْحُ الشَّاةِ الْوَاحِدَةِ يَوْمَ النَّحْرِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنَ الصَّدَقَةِ بِأَضْعَافِ أَضْعَافِ ثَمَنِهَا وَإِنْ كَثُرَ ثَوَابُ الصَّدَقَةِ.وَكَذَلِكَ قِرَاءَةُ سُورَةٍ بِتَدَبُّرٍ وَمَعْرِفَةٍ وَتَفَهُّمٍ وَجَمْعِ الْقَلْبِ عَلَيْهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى من قراءة ختمة سردا وهذا وَإِنْ كَثُرَ ثَوَابُ هَذِهِ الْقِرَاءَةِ وَكَذَلِكَ صَلاةُ رَكْعَتَيْنِ يُقْبِلُ الْعَبْدُ فِيهِمَا عَلَى اللَّهِ تَعَالَى بِقَلْبِهِ وَجَوَارِحِهِ وَيُفْرِغُ قَلْبَهُ
উম্মতের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (মিশওয়াকের ব্যাপারে) যে নির্দেশনা ও এ বিষয়ে তাঁর অতি গুরুত্বারোপ, এমনকি তাঁর ইন্তেকাল ও তাঁর পবিত্র আত্মা কবজ করার মুহূর্তেও; এমতাবস্থায় এটি অসম্ভব নয় যে, যে সালাতের জন্য মিশওয়াক করা হয়, তা আল্লাহর কাছে সত্তরটি সালাতের চেয়েও অধিক প্রিয় হবে।আর যদি সত্তরটি সালাতের সওয়াব বেশিও হয়, তবে সওয়াবের আধিক্য থেকে এটি আবশ্যক হয় না যে, অধিক সওয়াববিশিষ্ট আমলটি আল্লাহর কাছে সেই আমলের চেয়ে বেশি প্রিয় হবে যার সওয়াব কম। বরং কখনো সওয়াব কম এমন আমল আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় হতে পারে, যদিও অন্য আমলটির সওয়াব পরিমাণে বেশি হয়।২৭- এটি ঠিক তেমনই যেমনটি মুসনাদে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "একটি সাদা পশুর রক্ত আল্লাহর নিকট দুটি কালো পশুর রক্তের চেয়ে অধিক প্রিয়।" অর্থাৎ কুরবানির ক্ষেত্রে। তেমনিভাবে, কুরবানির দিনে একটি বকরি জবেহ করা আল্লাহর কাছে এর মূল্যের কয়েক গুণ বেশি সদকা করার চেয়েও অধিক প্রিয়, যদিও সেই সদকার সওয়াব অনেক বেশি হতে পারে।তদ্রূপ, চিন্তাগবেষণা, জ্ঞান, অনুধাবন এবং একাগ্রচিত্তে একটি সূরা পাঠ করা আল্লাহর কাছে দ্রুতগতিতে পূর্ণ কুরআন খতম করার চেয়ে বেশি প্রিয়, যদিও সেই দ্রুত তিলাওয়াতের সওয়াব পরিমাণে অনেক বেশি হতে পারে। অনুরূপভাবে, এমন দুই রাকাত সালাত যাতে বান্দা তার অন্তর ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে আল্লাহ তাআলার দিকে নিবিষ্ট হয় এবং তার হৃদয়কে অন্য সব কিছু থেকে মুক্ত করে...
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
كُلَّهُ لِلَّهِ فِيهِمَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى من مئتي رَكْعَةٍ خَالِيَةٍ مِنْ ذَلِكَ وَإِنْ كثر ثوابهما عَدَدًا.28- وَمِنْ هَذَا سَبِقَ دِرْهَمٌ مِئَةَ أَلْفِ دِرْهَمٍ29- وَلِهَذَا قَالَ الصَّحَابَةُ رضي الله عنهم: "إِنَّ اقْتِصَادًا فِي سَبِيلٍ وَسُنَّةٍ خَيْرٌ مِنَ اجْتِهَادٍ فِي خِلافِ سَبِيلٍ وَبِدْعَةٍ".فَالْعَمَلُ الْيَسِيرُ الْمُوَافِقُ لِمَرْضَاةِ الرَّبِّ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى مِنَ الْعَمَلِ الْكَثِيرِ إِذَا خَلا عَنْ ذَلِكَ أَوْ عَنْ بَعْضِهِوَلِهَذَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً} وَقَالَ: {إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الأَرْضِ زِينَةً لَهَا لِنَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً} وقال {وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً} فهو سبحانه وتعالى إنما خلق السموات والأرض والموت والحياة وزين الأرض بما
সে সমস্তই আল্লাহর জন্য, তাতে যা আছে তা আল্লাহ তাআলার নিকট সেই দুইশত রাকাতের চেয়ে অধিক প্রিয় যা এ থেকে মুক্ত, যদিও সংখ্যা বিচারে সেগুলোর সওয়াব অনেক বেশি হয়।২৮- আর এ কারণেই একটি দিরহাম এক লক্ষ দিরহামকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।২৯- আর এ জন্যই সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বলেছেন: "সুন্নাত ও সঠিক পথের ওপর পরিমিত আমল করা, সুন্নাত পরিপন্থী ও বিদআতের ওপর কঠোর পরিশ্রম করার চেয়ে উত্তম।"কাজেই রবের সন্তুষ্টি এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাত অনুযায়ী অল্প আমল আল্লাহ তাআলার নিকট সেই অধিক আমল অপেক্ষা বেশি প্রিয়, যা এগুলো থেকে বা এগুলোর কিছু অংশ থেকে খালি থাকে।আর একারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য যে, তোমাদের মধ্যে আমলে কে অধিক উত্তম।} এবং তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি যমীনের ওপর যা কিছু আছে তাকে তার জন্য শোভা স্বরূপ করেছি, যাতে আমি তাদের পরীক্ষা করতে পারি যে, তাদের মধ্যে আমলে কে অধিক উত্তম।} এবং তিনি বলেছেন: {আর তিনিই সেই সত্তা যিনি আকাশমন্ডলী ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর, যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলে কে অধিক উত্তম।} সুতরাং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা মূলত আকাশমন্ডলী ও যমীন এবং মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন এবং যমীনকে সুশোভিত করেছেন যা কিছু আছে তা দিয়ে...
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
عليها ليبلو عباده أيهم أحسن عملا لا أَكْثَرُ عَمَلا.وَالْعَمَلُ الأَحْسَنُ هُوَ الأَخْلَصُ وَالأَصْوَبُ وَهُوَ الْمُوَافِقُ لِمَرْضَاتِهِ وَمَحَبَّتِهِ دُونَ الأَكْثَرِ الْخَالِي مِنْ ذَلِكَ فَهُوَ سبحانه وتعالى يُحِبُّ أَنْ يُتَعَبَّدَ لَهُ بِالأَرْضَى لَهُ وَإِنْ كَانَ قَلِيلا دُونَ الأَكْثَرِ الَّذِي لا يُرْضِيهِ وَالأَكْثَرُ الَّذِي غَيْرُهُ أَرْضَى لَهُ مِنْهُ وَلِهَذَا يَكُونُ الْعَمَلانِ فِي الصُّورَةِ وَاحِدًا وَبَيْنَهُمَا فِي الْفَضْلِ بَلْ بَيْنَ قَلِيلٍ أَحَدُهُمَا وَكَثِيرُ الآخَرِ فِي الْفَضْلِ أَعْظَمُ مِمَّا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ.وَهَذَا الْفَضْلُ يَكُونُ بِحَسَبِ رِضَا الرَّبِّ سُبْحَانَهُ بالعمل وقبوله له ومحبته له وفرحه به سبحانه وتعالى كما يفرح بتوبة التائب أعظم فرح ولا ريب أن تلك التوبة الصادقة أفضل وأحب إلى الله تعالى من أعمال كثير من التطوعات وإن زادت في الكثرة على التوبة.ولهذا كان القبول مختلفا ومتفاوتا بِحَسَبِ رِضَا الرب سبحانه بالعمل، ولهذا كان القبول مختلفا ومتفوتا بِحَسَبِ رِضَا الرَّبِّ سُبْحَانَهُ بِالْعَمَلِ، فَقَبُولٌ: يُوجِبُ رِضَا اللَّهِ سبحانه وتعالى بِالْعَمَلِ، وَمُبَاهَاةَ الْمَلائِكَةِ بِهِ، وَتَقْرِيبَ عَبْدِهِ مِنْهُ. وَقَبُولٌ: يَتَرَتَّبُ عَلَيْهِ كَثْرَةَ الثَّوَابِ وَالْعَطَاءِ فَقَطْ.كَمَنْ يَتَصَدَّقُ بِأَلْفِ دِينَارٍ مِنْ جُمْلَةِ مَالِهِ -مَثَلا- بِحَيْثُ لَمْ يَكْتَرِثْ بِهَا، وَالأَلْفُ لَمْ تُنْقِصْهُ نَقْصًا يَتَأَثَّرُ بِهِ، بَلْ هِيَ فِي بَيْتِهِ بِمَنْزِلَةِ حَصَى لَقِيَهُ فِي دَارِهِ أَخْرَجَ مِنْهُ هَذَا الْمِقْدَارَ. إِمَّا لِيَتَخَلَّصَ مِنْ هَمِّهِ وَحِفْظِهِ، وَإِمَّا لِيُجَازَى عَلَيْهِ بِمِثْلِهِ أَوْ غَيْرَ ذَلِكَ. وَآخَرُ عِنْدَهُ رَغِيفٌ وَاحِدٌ هُوَ قُوتُهُ، لا يَمْلُكُ غَيْرَهُ، فَآثَرَ بِهِ عَلَى نَفْسِهِ مَنْ هُوَ أَحْوَجُ منه إليه محبة لله وتقربا إِلَيْهِ وَتَوَدُّدًا وَرَغْبَةً فِي مَرْضَاتِهِ وَإِيثَارًا عَلَى نفسه.
এর ওপর ভিত্তি করে তিনি তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করেন যে, আমলের দিক থেকে তাদের মধ্যে কে উত্তম, কে আমলের সংখ্যায় অধিক তা নয়।আর উত্তম আমল হলো তা-ই যা অধিকতর নিষ্ঠাপূর্ণ ও অধিকতর সঠিক এবং যা তাঁর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসার অনুকূল; এমন অধিক আমল নয় যা এই গুণাবলি থেকে শূন্য। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর ইবাদত সেই আমলের মাধ্যমে করা পছন্দ করেন যা তাঁর নিকট অধিকতর সন্তোষজনক—যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়—এমন অধিক আমল অপেক্ষা যা তাঁকে সন্তুষ্ট করে না, কিংবা এমন অধিক আমল অপেক্ষা যার চেয়ে অন্য কোনো আমল তাঁর নিকট অধিক প্রিয়। এই কারণেই দুটি আমল বাহ্যিক রূপে এক হওয়া সত্ত্বেও মর্যাদার দিক থেকে তাদের ব্যবধান, বরং একটির সামান্য অংশ এবং অন্যটির অধিক অংশের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের ব্যবধান আকাশ ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের চেয়েও বেশি হতে পারে।আর এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয় আমলের প্রতি রব্ব সুবহানাহুর সন্তুষ্টি, তা গ্রহণ করা, তাঁর ভালোবাসা এবং তাতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার আনন্দিত হওয়ার অনুপাতে—যেমন তিনি তাওবাকারীর তাওবায় অতিশয় আনন্দিত হন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সেই নিষ্ঠাপূর্ণ তাওবা আল্লাহ তাআলার নিকট বহু নফল আমলের চেয়েও উত্তম ও প্রিয়, যদিও সেই নফল আমলগুলো পরিমাণের দিক থেকে তাওবার চেয়ে অনেক বেশি হয়।এই কারণেই আমলের প্রতি রব্ব সুবহানাহুর সন্তুষ্টির তারতম্য অনুযায়ী কবুলিয়্যাত বা আমল গ্রহণের স্তরেও ভিন্নতা ও পার্থক্য দেখা দেয়; এই কারণেই আমলের প্রতি রব্ব সুবহানাহুর সন্তুষ্টির তারতম্য অনুযায়ী কবুলিয়্যাত বা আমল গ্রহণের স্তরেও ভিন্নতা ও পার্থক্য দেখা দেয়। এক প্রকার কবুলিয়্যাত এমন যা আমলের প্রতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সন্তুষ্টি, তা নিয়ে ফেরেশতাদের নিকট তাঁর গর্ব করা এবং বান্দাকে তাঁর নিকটবর্তী করাকে আবশ্যক করে। আর অন্য প্রকার কবুলিয়্যাত কেবল প্রচুর সওয়াব ও প্রতিদান প্রাপ্তির ওপরই সীমাবদ্ধ থাকে।যেমন ধরা যাক, উদাহরণস্বরূপ জনৈক ব্যক্তি তার বিপুল অর্থ সম্পদ থেকে এক হাজার দিনার দান করল যা সে তেমন ভ্রুক্ষেপও করেনি। ওই এক হাজার দিনার কমলে তার কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হবে না, বরং তা তার বাড়িতে পড়ে থাকা নুড়ি পাথরের সমতুল্য যেখান থেকে সে কেবল এই পরিমাণটি বের করে দিয়েছে। হয় সে তা করেছে এর চিন্তা ও সুরক্ষার ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে, অথবা এর বিনিময়ে সমতুল্য কিছু পেতে কিংবা অন্য কোনো কারণে। বিপরীতে অন্য একজন ব্যক্তির কাছে মাত্র একটি রুটি আছে যা তার একমাত্র খাদ্য, যা ছাড়া তার মালিকানায় আর কিছুই নেই। এমতাবস্থায় সে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসায়, তাঁর নৈকট্য ও প্রীতি লাভের আশায় এবং তাঁর সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষায় নিজের ওপর অন্য এমন এক ব্যক্তিকে প্রাধান্য দিল যার প্রয়োজন তার চেয়েও অধিক ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فَيَا لِلَّهِ كَمْ بُعْدِ مَا بَيْنَ الصَّدَقَتَيْنِ فِي الْفَضْلِ وَمَحَبَّةِ الله وقبوله ورضاة؟ وقد قبل سبحانه هذه وهذه لكن قَبُولَ الرِّضَا وَالْمَحَبَّةِ وَالاعْتِدَادِ وَالْمُبَاهَاةِ شَيْءٌ وَقُبُولَ الثَّوَابِ وَالْجَزَاءِ شَيْءٌ.وَأَنْتَ تَجِدُ هَذَا فِي الشَّاهِدِ فِي مَلِكٍ تُهْدَى إِلَيْهِ هَدِيَّةٌ صَغِيرَةُ المقدار لكنه يُحِبُّهَا وَيَرْضَاهَا فَيُظْهِرُهَا لِخَوَاصِهِ وَحَوَاشِيهِ وَيَثْنِي عَلَى مُهْدِيهَا فِي كَلِمَاتٍ كَهَدِيَّةٍ كَثِيرَةِ الْعَدَدِ وَالْقَدْرِ جِدًّا لا تقع عِنْدَهُ مَوقِعًا وَلَكِنْ يَكُونُ فِي جُودِهِ لا يَضِيعُ ثَوَابُ مُهْدِيهَا بَلْ يُعْطِيهِ عَلَيْهَا أَضْعَافَهَا وَأَضْعَافَ أَضْعَافِهَا فَلَيْسَ قَبُولُهُ لِهَذِهِ الْهَدِيَّةِ مِثْلَ قُبُولِهِ لِلأُولَى.30- وَلِهَذَا قَالَ ابْنُ عُمَرَ أَوْ غَيْرُهُ مِنَ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم: "لَوْ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ يَتَقَبَّلُ مِنِّي سَجْدَةً وَاحِدَةً لَمْ يَكُنْ غَائِبٌ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنَ الْمَوْتِ" إِنَّمَا يُرِيدُ بِهِ الْقَبُولَ الْخَاصَّ وَإِلا فَقَبُولُ الْعَطَاءِ وَالْجَزَاءِ حَاصِلٌ لأَكْثَرِ الأَعْمَالِ.وَالْقَبُولُ لَهُ أَنْوَاعٌ قَبُولُ رِضَا وَمَحَبَّةٍ وَاعْتِدَادٍ وَمُبَاهَاةٍ وَثَنَاءٍ عَلَى الْعَامِلِ بِهِ بَيْنَ الْمَلأ الأَعْلَى وَقَبُولُ جَزَاءٍ وَثَوَابٍ وَإِنْ لَمْ يَقَعْ مَوْقِعَ الأَوَّلِ وَقَبُولُ إِسْقَاطٍ لِلْعِقَابِ فَقَطْ وَإِنْ لَمْ يَتَرَتَّبْ عَلَيْهِ ثَوَابٌ وَجَزَاءٌ كَقَبُولِ صَلاةِ مَنْ لَمْ يُحْضِرْ قَلبَهُ فِي شَيْءٍ مِنْهَا فَإِنَّهُ لَيْسَ لَهُ مِنْ صَلاتِهِ إِلا مَا عَقِلَ مِنْهَا فَإِنَّهَا تُسْقِطُ الْفَرْضَ وَلا يُثَابُ عَلَيْهَا وَكَذَلِكَ صَلاةِ الآبِقِ وَصَلاةِ مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَصَدَّقَهُ فَإِنَّ الْبَعْضَ قَدْ حَقَّقَ أَنَّ صَلاةَ هَؤُلاءِ لا تقبل
সুবহানাল্লাহ! ফযিলত, আল্লাহর ভালোবাসা, তাঁর কবুল করা এবং সন্তুষ্টির দিক থেকে এই দুই প্রকার সদকার মাঝে কতই না ব্যবধান! আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এটিও কবুল করেছেন এবং ওটিও, কিন্তু সন্তুষ্টি, ভালোবাসা, মূল্যায়ন এবং গর্বের সাথে কবুল করা এক বিষয়, আর সওয়াব ও প্রতিদানের জন্য কবুল করা অন্য বিষয়।আপনি এর উদাহরণ মানুষের মাঝেও দেখতে পান; যেমন কোনো একজন বাদশাহকে পরিমাণে সামান্য একটি উপহার দেওয়া হলো, কিন্তু তিনি তা পছন্দ করলেন এবং সন্তুষ্ট হলেন। ফলে তিনি তা তাঁর ঘনিষ্ঠজন ও পারিষদদের দেখান এবং দাতার প্রশংসা করেন। পক্ষান্তরে, এমন অনেক উপহার রয়েছে যা সংখ্যা ও মূল্যের দিক থেকে অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও তাঁর কাছে কোনো স্থান পায় না। তবে তাঁর বদান্যতার কারণে তিনি দাতার প্রতিদান নষ্ট করেন না, বরং তাকে এর বহুগুণ প্রতিদান দেন। কিন্তু এই উপহার কবুল করা আর আগেরটি কবুল করার মতো নয়।৩০- এই কারণেই ইবনে উমর অথবা অন্য কোনো সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বলেছেন: "আমি যদি জানতে পারতাম যে আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে একটি মাত্র সিজদা কবুল করেছেন, তবে মৃত্যু অপেক্ষা অধিক প্রিয় আমার কাছে আর কোনো অনুপস্থিত বিষয় হতো না।" তিনি এর দ্বারা বিশেষ ধরণের কবুল হওয়া উদ্দেশ্য করেছেন। অন্যথায় দান ও প্রতিদানের কবুলিয়াত তো অধিকাংশ আমলের ক্ষেত্রেই অর্জিত হয়।কবুলিয়াত কয়েক প্রকারের হয়: সন্তুষ্টি, ভালোবাসা, মূল্যায়ন, গর্ব এবং ঊর্ধ্বজগতের ফেরেশতাদের সামনে আমলকারীর প্রশংসা করার মাধ্যমে কবুল হওয়া; প্রতিদান ও সওয়াবের মাধ্যমে কবুল হওয়া—যদিও তা প্রথম স্তরের কবুলিয়াতের সমতুল্য নয়; এবং শুধুমাত্র শাস্তি মওকুফ হওয়ার মাধ্যমে কবুল হওয়া—যদিও এর ওপর কোনো সওয়াব ও প্রতিদান অর্জিত হয় না। যেমন সেই ব্যক্তির সালাত কবুল হওয়া যে তার সালাতের কোনো অংশেই অন্তরকে উপস্থিত রাখেনি; কেননা তার সালাত থেকে সে কেবল ততটুকুই পাবে যা সে উপলব্ধি করেছে। এটি ফরযের দায়িত্ব মুক্ত করে দেবে ঠিকই কিন্তু এর ওপর কোনো সওয়াব দেওয়া হবে না। একইভাবে পলায়নকারী দাসের সালাত এবং সেই ব্যক্তির সালাত যে গণকের কাছে গিয়ে তাকে বিশ্বাস করল। কেননা কেউ কেউ এটি নিশ্চিত করেছেন যে এদের সালাত কবুল হয় না।
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومع هذا فلا يؤمرون بالإعادة يعني أن عدم قبول صَلاتُهُمْ إِنَّمَا هُوَ فِي حُصُولِ الثَّوَابِ لا فِي سُقُوطِهَا مِنْ ذمتهم.وَالأَعْمَالُ تَتَفَاضَلُ بِتَفَاضُلِ مَا فِي الْقُلُوبِ مِنَ الإِيمَانِ وَالْمَحَبَّةِ وَالتَّعْظِيمِ وَالإِجْلالِ وَقَصْدِ وَجْهِ الْمَعْبُودِ وَحْدِهِ دُونَ شَيْءٍ مِنَ الْحُظُوظِ سِوَاهُ حَتَّى لِتَكُونَ صُورَةُ الْعَمَلَيْنِ وَاحِدَةً وَبَيْنَهُمَا فِي الْفَضْلِ مَا لا يحصيه إلا الله تعالى وتتفاضل أيضا بتجريد المتابعة فبين العملين من الفضل بحسب ما يتفاضلان به في المتابعة فتتفاضل الأعمال بحسب تجريد الإخلاص والمتابعة تفاضلا لا يَحْصِيهِ إِلا اللَّهُ تَعَالَى.وينضاف هَذَا إِلَى كَوْنِ أَحَدِ الْعَمَلَيْنِ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ فِي نَفْسِهِ مِثَالِهِ الْجِهَادُ وَبَذْلُ النَّفْسِ لِلَّهِ تَعَالَى هُوَ مِنْ أَحَبِّ الأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى وَيَقْتَرِنُ بِتَجْرِيدِ الإِخْلاصِ وَالْمُتَابَعَةِ وَكَذَلِكَ الصَّلاةُ وَالْعِلْمُ وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ إِذَا فَضَّلَ الْعِلْمَ فِي نَفْسِهِ وَفَضَّلَ قَصْدَ صَاحِبِهِ وَإِخْلاصِهِ وَتَجَرَّدَتْ مُتَابَعَتُهُ لَمْ يُمْتَنَعْ أَنْ يَكُونَ الْعَمَلُ الْوَاحِدُ أَفْضَلَ من سبعين بل وسبع مئة مِنْ نَوْعِهِفَتَأَمَّلَ هَذَا فَإِنَّهُ يُزِيلُ عَنْكَ إِشْكَالاتٍ كَثِيرَةً وَيُطْلِعُكَ عَلَى سِرِّ الْعَمَلِ وَالْفَضْلِ وَأَنَّ اللَّهَ سبحانه وتعالى أَحْكَمُ الْحَاكِمِينَ يَضَعُ فَضْلَهُ مَوَاضِعَهُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالشَّاكِرِينَ.وَلا تَلْتَفِتُ إِلَى مَا يَقُولُهُ مَنْ غَلِظَ حِجَابُ قَلْبِهِ مِنَ الْمُتَكَلِّمِينَ وَالْمُتَكَلِّفِينَ إِنَّهُ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ الْعَمَلانِ مُتَسَاوِيَيْنِ مِنْ جميع الوجوه لا تفاضل بَيْنَهُمَا وَيَثِيبُ اللَّهُ عَلَى أَحَدِهِمَا أضعاف أَضْعَافَ مَا يَثِيبُ عَلَى الآخَرِ
এতৎসত্ত্বেও তাদের পুনরায় আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয় না; অর্থাৎ তাদের সালাত কবুল না হওয়ার অর্থ হলো সওয়াব অর্জিত না হওয়া, তাদের জিম্মাদারি থেকে তা রহিত না হওয়া নয়।আর আমলসমূহ একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে অন্তরে বিদ্যমান ঈমান, ভালোবাসা, সম্মান, মহিমা এবং অন্য কোনো জাগতিক স্বার্থ ব্যতিরেকে একমাত্র মাবুদের সন্তুষ্টি অর্জনের সংকল্পের পার্থক্যের কারণে। এমনকি দুটি আমলের বাহ্যিক রূপ এক হওয়া সত্ত্বেও তাদের উভয়ের মর্যাদার ব্যবধান এমন হতে পারে যা আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কেউ গণনা করতে পারে না। আমলসমূহ আরও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে অনুসরণের বিশুদ্ধতার মাধ্যমে। সুতরাং দুটি আমলের মর্যাদার পার্থক্য হয় অনুসরণের ক্ষেত্রে তাদের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে। অতএব ইখলাস ও অনুসরণের বিশুদ্ধতা অনুযায়ী আমলসমূহ এমন শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে যা আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কেউ গণনা করতে পারে না।এর সাথে যুক্ত হয় দুটি আমলের মধ্যে কোনো একটি স্বয়ং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় হওয়া; যেমন জিহাদ এবং আল্লাহ তাআলার জন্য জীবন উৎসর্গ করা আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যখন তার সাথে ইখলাস ও অনুসরণের বিশুদ্ধতা যুক্ত হয়। অনুরূপভাবে সালাত, ইলম ও কুরআন তিলাওয়াত। যদি আমলটি স্বয়ং শ্রেষ্ঠ হয় এবং এর আমলকারীর সংকল্প ও ইখলাস শ্রেষ্ঠ হয় এবং তার অনুসরণ বিশুদ্ধ হয়, তবে একটি আমল তার স্বজাতীয় সত্তরটি বরং সাতশটি আমল অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হওয়া অসম্ভব নয়।সুতরাং এটি গভীরভাবে চিন্তা করো, কারণ এটি তোমার থেকে অনেক সংশয় দূর করবে এবং তোমাকে আমল ও তার শ্রেষ্ঠত্বের রহস্য সম্পর্কে অবহিত করবে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক, তিনি তাঁর অনুগ্রহকে সঠিক স্থানেই প্রদান করেন এবং তিনি কৃতজ্ঞদের সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত।আর সেই সকল মুতাকাল্লিম ও কৃত্রিমতা অবলম্বনকারীদের কথার দিকে ভ্রুক্ষেপ করো না যাদের অন্তরের পর্দা স্থবির হয়ে গেছে। তারা দাবি করে যে, দুটি আমল সব দিক থেকে সমান হওয়া এবং তাদের মধ্যে কোনো গুণগত পার্থক্য না থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তাদের একটির বিনিময়ে অপরটির চেয়ে বহুগুণ বেশি সওয়াব প্রদান করতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
بَلْ يَجُوزُ أَنْ يَثِيبَ عَلَى هَذَا وَيُعَاقِبَ عَلَى هَذَا مَعَ فَرْضِ الاسْتِوَاءِ بَيْنَهُمَا مِنْ كُلِّ وَجْهٍ.وَهَذَا قَوْلُ مَنْ لَيْسَ لَهُ فِقْهٌ فِي أَسْمَاءِ الرَّبِّ وَصِفَاتِهِ وَأَفْعَالِهِ وَلا فِقْهٌ فِي شَرْعِهِ وَأَمْرِهِ وَلا فِقْهٌ فِي أَعْمَالِ الْقُلُوبِ وَحَقَائِقِ الإِيمَانِ بِاللَّهِ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ.إِذَا عَرِفْتَ ذَلِكَ فَلا يَمْتَنِعُ أَنْ تَكُونَ الصَّلاةُ الَّتِي فَعَلَهَا فَاعِلُهَا عَلَى وَجْهِ الْكَمَالِ حَتَّى أَتَى بِسِوَاكِهَا الَّذِي هو مطهرة لمجاري الْقُرْآنِ وَذِكْرِ اللَّهِ وَمَرْضَاةٍ لِلرَّبِّ وَاتْبِاعٍ لِلسُّنَّةِ وَالْحِرْصِ عَلَى حِفْظِ هَذِهِ الْحُرْمَةِ الْوَاحِدَةِ الَّتِي أَكْثَرُ النُّفُوسِ تُهْمِلُهَا وَلا تَلْتَفِتُ إِلَيْهَا حَتَّى كَأَنَّهَا غَيْرُ مَشْرُوعَةٍ وَلا مَحْبُوبَةٍ لَكِنَّ هَذَا الْمُصَلِّي اعْتَدْهَا فَحَافَظَ عَلَيْهَا وَأَتَى بِهَا تَوَدُّدًا وَتَحَبُّبًا إِلَى اللَّهِ تَعَالَى وَاتِّبَاعًا لِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلا يَبْعُدُ أَنْ تَكُونَ صَلاةُ هَذَا أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ مِنْ سَبْعِينَ صَلاةً تَجَرَّدَتْ عَنْ ذَلِكَ وَاللَّهُ أعلم.فصل -2-31- وَأَمَّا الْمَسْأَلَةُ الثَّانِيَةُ وَهِيَ تَفْضِيلُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ عَلَى مُجَرَّدِ الذَّكْرِ
বরং এটি সম্ভব যে তিনি একে পুরস্কৃত করবেন এবং তাকে শাস্তি দেবেন, যদিও সকল দিক থেকে উভয়ের মধ্যে সমতা বিদ্যমান।আর এটি এমন ব্যক্তির কথা যার রবের নামসমূহ, তাঁর গুণাবলি ও তাঁর কার্যাবলি সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই, এবং তাঁর শরিয়ত ও আদেশ সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই, আর না আছে অন্তরের আমলসমূহ ও আল্লাহর প্রতি ঈমানের প্রকৃত বাস্তবতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে।আপনি যখন এটি জানলেন, তখন এটি অসম্ভব নয় যে, কোনো সালাত আদায়কারী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তার সালাত আদায় করল, এমনকি সে মেসওয়াকও করল যা কুরআন ও আল্লাহর জিকিরের পথকে পবিত্রকারী, রবের সন্তুষ্টির কারণ, সুন্নাহর অনুসরণ এবং এমন এক মর্যাদার হেফাজতের প্রতি প্রবল আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ যা অধিকাংশ মানুষ অবহেলা করে এবং এর দিকে ভ্রুক্ষেপও করে না, যেন মনে হয় এটি শরিয়তসম্মত নয় বা পছন্দনীয় নয়; কিন্তু এই সালাত আদায়কারী একে অভ্যাসে পরিণত করেছে, এর ওপর যত্নবান থেকেছে এবং আল্লাহ তাআলার প্রতি ভালোবাসা ও হৃদ্যতা প্রকাশের আশায় এবং আল্লাহর রাসুলের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সুন্নাহর অনুসরণে তা সম্পাদন করেছে। এমতাবস্থায় এটি অসম্ভব নয় যে, তার এই সালাত আল্লাহর নিকট এমন সত্তরটি সালাত অপেক্ষাও অধিক প্রিয় হবে যা এই বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্জিত। আর আল্লাহই অধিক পরিজ্ঞাত।পরিচ্ছেদ - ২-৩১- আর দ্বিতীয় মাসআলাটি হলো: সাধারণ জিকিরের তুলনায় 'আল্লাহর প্রশংসা সহকারে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ, তাঁর নিজের সন্তুষ্টির পরিমাণ, তাঁর আরশের ওজন পরিমাণ এবং তাঁর বাণীসমূহের কালি পরিমাণ'—এই জিকিরের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
بِسُبْحَانَ اللَّهِ أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً فَإِنَّ مَا يَقُومُ بِقَلْبِ الذَّاكِرِ حِينَ يَقُولُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ مِنْ مَعْرِفَتِهِ وَتَنْزِيهِهِ وَتَعْظِيمِهِ مِنْ هَذَا الْقَدْرِ الْمَذْكُورِ مِنَ الْعَدَدِ أَعْظَمُ مِمَّا يَقُومُ بِقَلْبِ الْقَائِلِ سُبْحَانَ اللَّهِ فَقَطْ.وَهَذَا يُسَمَّى الذِّكْرَ الْمُضَاعَفَ وَهُوَ أَعْظَمُ ثَنَاءً مِنَ الذِّكْرِ الْمُفْرَدِ فَلِهَذَا كَانَ أَفْضَلَ مِنْهُ وَهَذَا إِنَّمَا يَظْهَرُ فِي مَعْرِفَةِ هَذَا الذِّكْرِ وَفِهْمِهِ فَإِنَّ قَوْلَ الْمُسَبِّحِ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ يَتَضَمَّنُ إِنْشَاءً وَإِخْبَارًا عَمَّا يَسْتَحِقُّهُ الرَّبُّ مِنَ التَّسْبِيحِ عَدَدَ كُلِّ مَخْلُوقٍ كَانَ أَوْ هو كَائِنٍ إِلَى مَا لا نِهَايَةَ لَهُ.فَتَضَمَّنَ الإخبار عن تنزيهه الرَّبِّ وَتَعْظِيمِهِ وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ هَذَا الْعَدَدَ الْعَظِيمَ الَّذِي لا يَبْلُغُهُ الْعَادُونَ وَلا يَحْصِيهِ الْمُحْصُونَ وَتَضَمَّنَ إِنْشَاءَ الْعَبْدِ لِتَسْبِيحٍ هَذَا شَأْنَهُ لا إِنَّ مَا أَتَى بِهِ الْعَبْدُ مِنَ التَّسْبِيحِ هَذَا قَدْرُهُ وَعَدَدُهُ بَلْ أَخْبَرَ أَنَّ مَا يَسْتَحِقُّهُ الرَّبُّ سبحانه وتعالى مِنَ التَّسْبِيحِ هُوَ تَسْبِيحٌ يَبْلُغُ هَذَا العدد الذي لو كَانَ فِي الْعَدَدِ مَا يَزِيدُ لِذِكْرِهِ فَإِنَّ تَجَدُّدَ الْمَخْلُوقَاتِ لا يَنْتَهِي عَدَدًا وَلا يُحْصَى الْحَاضِرُ.وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ وَرِضَا نَفْسِهِ فَهُوَ يَتَضَمَّنُ أَمْرَيْنِ عَظِيمَيْنِ أَحَدُهُمَا
আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা বহুগুণে বর্ধিত। কেননা যিকিরকারী যখন 'আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমান' বলে, তখন এই উল্লিখিত বিপুল সংখ্যার প্রেক্ষিতে আল্লাহর পরিচয়, তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা এবং তাঁর মহিমা সম্পর্কে যিকিরকারীর অন্তরে যে বোধ ও অনুভূতি জাগ্রত হয়, তা কেবল 'আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি' পাঠকারীর অন্তরে উদিত অনুভূতির চেয়ে অনেক বেশি মহান।একে 'বহুগুণিত যিকির' বলা হয়, যা একক যিকিরের তুলনায় প্রশংসার দিক থেকে অধিক মহান। একারণেই তা অধিকতর উত্তম। এই যিকিরের পরিচয় লাভ ও অনুধাবনের মাধ্যমেই এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়। কেননা তাসবীহ পাঠকারীর 'আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমান' বাক্যটি এমন এক নিবেদন ও সংবাদকে অন্তর্ভুক্ত করে যে, প্রতিপালক প্রতিটি অতীত ও অনাগত সৃষ্টির অসীম সংখ্যার সমপরিমাণ পবিত্রতা বর্ণনার যোগ্য।এটি প্রতিপালকের পবিত্রতা, মহিমা এবং তাঁর এমন এক মহান প্রশংসার সংবাদ প্রদান করে যা গণনাকারীরা গণনা করতে পারে না এবং সংখ্যায়নকারীরাও যা পরিমাপ করতে সক্ষম নয়। এটি বান্দার পক্ষ থেকে এমন উচ্চমর্যাদাপূর্ণ তাসবীহ পেশ করার সংকল্পকেও শামিল করে। এর অর্থ এই নয় যে, বান্দা প্রকৃতপক্ষে যে তাসবীহ উচ্চারণ করেছে তার পরিমাণ এত বেশি, বরং সে এই সংবাদ দিচ্ছে যে, মহান প্রতিপালক এমন তাসবীহ ও প্রশংসার যোগ্য যা এই সুবিশাল সংখ্যা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এমনকি সংখ্যার দিক থেকে যদি এর চেয়েও অধিক কিছু থাকত তবে সে তা-ই উল্লেখ করত; কেননা সৃষ্টির নবায়ন সংখ্যাগতভাবে অশেষ এবং বিদ্যমান সৃষ্টিজগতকেও গণনা করা অসম্ভব।অনুরূপভাবে তাঁর বাণী 'এবং তাঁর নফসের সন্তুষ্টির সমান'—এটি দুটি মহান বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। তার একটি হলো
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
أن يكون المراد تسبيحا هو وَالْعَظَمَةُ وَالْجَلالُ سِيَانٌ وَلِرِضَا نَفْسِهِ كَمَا أَنَّهُ فِي الأَوَّلِ مُخَبَّرٌ عَنْ تَسْبِيحٍ مُسَاوٍ لِعَدَدِ خَلْقِهِ وَلا رَيْبَ أَنَّ رِضَا نَفْسِ الرَّبِّ لا نهاية له فِي الْعَظَمَةِ وَالْوَصْفِ وَالتَّسْبِيحُ ثَنَاءٌ عَلَيْهِ سُبْحَانَهُ يَتَضَمَّنُ التَّعْظِيمَ وَالتَّنْزِيهَ.فَإِذَا كَانَتْ أَوْصَافُ كَمَالِهِ وَنُعُوتُ جَلالِهِ لا نِهَايَةَ لَهَا وَلا غَايَةَ بَلْ هِيَ أَعْظَمُ مِنْ ذَلِكَ وَأَجَلُّ كَانَ الثَّنَاءُ عَلَيْهِ بِهَا كَذَلِكَ إِذْ هُوَ تَابِعٌ لَهَا إِخْبَارًا وَإِنْشَاءً وَهَذَا الْمَعْنَى يَنْتَظِمُ الْمَعْنَى الأَوَّلُ مِنْ غَيْرِ عَكْسٍ.وَإِذَا كَانَ إِحْسَانُهُ سُبْحَانَهُ وَثَوَابُهُ وَبَرَكَتُهُ وَخَيْرُهُ لا مُنْتَهَى لَهُ وَهُوَ مِنْ مُوجِبَاتِ رِضَاهُ وَثَمَرَتِهِ فَكَيْفَ بِصِفَةِ الرضا؟32- وَفِي الأَثَرِ: "إِذَا بَارَكْتُ لَمْ يَكُنْ لِبَرَكَتِي مُنْتَهَى" فَكَيْفَ بِالصِّفَةِ الَّتِي صَدَرَتْ عَنْهَا الْبَرَكَةُ؟وَالرِّضَا يَسْتَلْزِمُ الْمَحَبَّةَ وَالإِحْسَانَ وَالْجُودَ وَالْبِرَّ وَالْعَفْوَ وَالصَّفْحَ وَالْمَغْفِرَةَ.وَالْخُلُقُ يَسْتَلْزِمُ الْعِلْمَ وَالْقُدْرَةَ وَالإِرَادَةَ والحياة والحكمة وَكُلُّ ذَلِكَ دَاخِلٌ فِي رِضَا نَفْسِهِ وَصِفَةِ خَلْقِهِ.وَقَوْلُهُ: "وَزِنَةَ عَرْشِهِ" فِيهِ إِثْبَاتٌ لِلْعَرْشِ وَإِضَافَتُهُ إِلَى الرَّبِّ سُبْحَانَهُ
অভিপ্রায় হলো এমন এক তাসবিহ যা মহানুভবতা ও মহিমার সমতুল্য এবং তাঁর সত্তার সন্তুষ্টির জন্য; যেমনটি প্রথম অংশে তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমান তাসবিহ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রবের নিজ সত্তার সন্তুষ্টির মহানুভবতা ও গুণাবলির কোনো সীমা নেই। আর তাসবিহ হলো মহান পবিত্র আল্লাহর এমন প্রশংসা, যা তাঁর মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করাকে অন্তর্ভুক্ত করে।অতএব, যখন তাঁর পূর্ণতার গুণাবলি এবং মহিমার বিশেষণগুলোর কোনো সমাপ্তি বা শেষ নেই, বরং সেগুলো তার চেয়েও অনেক বড় ও মহান; তখন সেই গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর প্রশংসাও তদ্রূপ হবে। কারণ সংবাদ দেওয়া এবং বর্ণনা করার ক্ষেত্রে প্রশংসা গুণাবলির অনুগামী হয়। আর এই অর্থটি প্রথম অর্থটিকে শামিল করে, তবে এর বিপরীতটি নয়।আর যখন মহান আল্লাহর দয়া, সওয়াব, বরকত এবং কল্যাণ সীমাহীন—যা তাঁর সন্তুষ্টির অনিবার্য দাবি ও ফলশ্রুতি—তাহলে সন্তোষ (রিদা) গুণের অবস্থা কেমন হবে?32- এবং আছারে এসেছে: "আমি যখন বরকত দান করি, তখন আমার বরকতের কোনো শেষ থাকে না।" তাহলে সেই গুণের অবস্থা কেমন হবে যেখান থেকে এই বরকত উৎসারিত হয়েছে?আর সন্তোষ (রিদা) ভালোবাসা, ইহসান, দানশীলতা, সদাচার, ক্ষমা, মার্জনা এবং মাগফিরাতকে অবধারিত করে।এবং সৃষ্টি জ্ঞান, কুদরত, ইচ্ছা, জীবন ও প্রজ্ঞাকে অবধারিত করে। আর এর সবই তাঁর নিজ সত্তার সন্তুষ্টি এবং তাঁর সৃষ্টির গুণের অন্তর্ভুক্ত।আর তাঁর বাণী: "এবং তাঁর আরশের ওজনের সমান"—এর মধ্যে আরশের প্রমাণ রয়েছে এবং তা মহান রবের দিকে নিসবত বা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَتَعَالَى وَأَنَّهُ أَثْقَلُ الْمَخْلُوقَاتِ عَلَى الإِطْلاقِ إِذْ لَوْ كَانَ شَيْءٌ أثقل منه لَوُزِنَ بِهِ التَّسْبِيحُ وَهَذَا يَرُدُّ عَلَى مَنْ يَقُولُ إِنَّ الْعَرْشَ لَيْسَ بِثَقِيلٍ وَلا خَفِيفٍ وَهَذَا لَمْ يَعْرِفُ الْعَرْشَ وَلا قَدَّرَهُ حَقَّ قَدْرِهِ.فَالتَّضْعِيفُ الأَوَّلُ لِلْعَدَدِ وَالْكِمِّيَّةِ وَالثَّانِي لِلصِّفَةِ وَالْكَيْفِيَّةِ وَالثَّالِثُ لِلْعِظَمِ وَالثُّقْلِ وَلَيْسَ لِلْمِقْدَارِ.وَقَوْلُهُ: "وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ" هَذَا يَعُمُّ الأَقْسَامَ الثَّلاثَةَ وَيَشْمَلُهَا فَإِنَّ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ سبحانه وتعالى لا نِهَايَةَ لِقَدْرِهِ وَلا لِصِفَتِهِ وَلا لِعَدَدِهِ قَالَ تَعَالَى: {قُلْ لَوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَاداً لِكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَنْ تَنْفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهِ مَدَداً} وقال تَعَالَى: {وَلَوْ أَنَّمَا فِي الأَرْضِ مِنْ شَجَرَةٍ أَقْلامٌ وَالْبَحْرُ يَمُدُّهُ مِنْ بَعْدِهِ سَبْعَةُ أَبْحُرٍ مَا نَفِدَتْ كَلِمَاتُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} .وَمَعْنَى هَذَا أَنَّهُ لَوْ فُرِضَ الْبَحْرُ مِدَادًا وَبَعْدُهُ سَبْعَةُ أَبْحُرٍ تُمِدُّهُ كُلَّهَا مِدَادًا وَجَمِيعُ أَشْجَارُ الأَرْضِ أَقْلامًا وَهُوَ مَا قَامَ مِنْهَا عَلَى سَاقٍ مِنَ النَّبَاتِ وَالأَشْجَارِ الْمُثْمِرَةِ وَغَيْرِ الْمُثْمِرَةِ وَتَسْتَمِدُّ بِذَلِكَ الْمِدَادَ لَفَنِيَتِ الْبِحَارُ وَالأَقْلامُ وكلمات الرب لا تفنى وَلا تَنْفَدُ فَسُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ.فَأَيْنَ هَذَا مِنْ وَصْفِ مَنْ يَصِفَهُ بِأَنَّهُ مَا تَكَلَّمَ وَلا يَتَكَلَّمُ وَلا يَقُومُ بِهِ كَلامٌ أَصْلا؟ وَقَوْلُ مَنْ وَصَفَ كَلامَهُ بِأَنَّهُ مَعْنَى واحد لا يَنْقَضِي وَلا يَتَجَزَّأُ
এবং আল্লাহ তাআলা মহান, এবং নিশ্চয়ই এটি সৃষ্টিজগতের মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে সবচেয়ে ভারী। কেননা যদি এর চেয়ে ভারী কোনো কিছু থাকত, তবে তার মাধ্যমেই তাসবিহ পরিমাপ করা হতো। আর এটি তাদের প্রতিবাদ করে যারা বলে যে, আরশ ভারীও নয় আবার হালকাও নয়। এটি আরশ সম্পর্কে জানে না এবং একে এর যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি।প্রথম বহুগুণিত হওয়া হচ্ছে সংখ্যা ও পরিমাণের ক্ষেত্রে, দ্বিতীয়টি গুণ ও প্রকৃতির ক্ষেত্রে এবং তৃতীয়টি বিশালতা ও ওজনের ক্ষেত্রে, যা নিছক পরিমাপের জন্য নয়।আর তাঁর বাণী: "এবং তাঁর কালিমাসমূহের লিখনি" এটি পূর্বোক্ত তিনটি প্রকারকেই সাধারণ করে এবং সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা সুবহানাহু ওয়া তাআলার কালিমাসমূহের মর্যাদার কোনো শেষ নেই, নেই তাঁর বৈশিষ্ট্যের শেষ এবং না তাঁর সংখ্যার শেষ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, যদি আমার রবের কালিমাসমূহ লেখার জন্য সমুদ্র কালিতে পরিণত হয়, তবে আমার রবের কালিমাসমূহ শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্র শেষ হয়ে যাবে, যদিও আমি সাহায্যের জন্য এর অনুরূপ আরও একটি সমুদ্র নিয়ে আসি।} এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর পৃথিবীতে যত গাছ আছে তা যদি কলম হয় এবং সমুদ্রের সাথে আরও সাতটি সমুদ্র কালি হিসেবে যোগ করা হয়, তবুও আল্লাহর কালিমাসমূহ শেষ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।}এর অর্থ হলো, যদি ধরা হয় যে সমুদ্র হচ্ছে কালি এবং এরপর আরও সাতটি সমুদ্র এর সাথে কালি হিসেবে যুক্ত হয়, এবং জমিনের সমস্ত গাছ হয় কলম—তা কাণ্ডযুক্ত উদ্ভিদ হোক বা ফলদ ও বনজ গাছপালা হোক—আর সেই কলমগুলো কালির সাহায্য গ্রহণ করে লিখতে থাকে, তবে সমুদ্র ও কলমসমূহ নিঃশেষ হয়ে যাবে কিন্তু রবের কালিমাসমূহ শেষ হবে না এবং ফুরিয়ে যাবে না। অতএব, আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমান, তাঁর নিজের সন্তুষ্টির সমান, তাঁর আরশের ওজনের সমান এবং তাঁর কালিমাসমূহের লিখনি পরিমাণ।সুতরাং এটি কোথায়, আর যারা তাঁকে এমনভাবে বিশেষিত করে যে—তিনি কথা বলেননি, কথা বলেন না এবং আদৌ তাঁর সত্তায় কথা বলা প্রতিষ্ঠিত নয়—তাদের বর্ণনা কোথায়? আর যারা তাঁর কালামকে এমন একক অর্থ বলে বিশেষিত করে যা শেষ হয় না এবং যা বিভাজিত হয় না, তাদের উক্তিই বা কোথায়?
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَلا لَهُ بَعْضٌ وَلا كُلٌّ وَلا هُوَ سور وآيات ولا حروف وكلمات؟.وَالْمَقْصُودُ أَنَّ فِي هَذَا التَّسْبِيحِ مِنْ صِفَاتِ الْكَمَالِ وَنُعُوتِ الْجَلالِ مَا يُوجِبُ أَنْ يَكُونَ أَفْضَلَ مِنْ غَيْرِهِ وَأَنَّهُ لَوْ وُزِنَ غَيْرُهُ بِهِ لَوَزَنَهُ وَزَادَ عَلَيْهِ.وَهَذَا بَعْضُ مَا فِي هَذِهِ الْكَلِمَاتِ مِنَ الْمَعْرِفَةِ بِاللَّهِ وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ بِالتَّنْزِيهِ وَالتَّعْظِيمِ مَعَ اقْتِرَانِهِ بِالْحَمْدِ الْمُتَضَمِّنِ لِثَلاثَةِ أُصُولٍ:أَحَدُهَا: إِثْبَاتُ صِفَاتِ الْكَمَالِ لَهُ سُبْحَانَهُ، وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ الثاني: محبته والرضا به -الثَّالِثُ- فَإِذَا انْضَافَ هَذَا الْحَمْدُ إِلَى التَّسْبِيحِ وَالتَّنْزِيهِ عَلَى أَكْمَلِ الْوُجُوهِ وَأَعْظَمِهَا قَدْرًا وَأَكْثَرِهَا عَدَدًا وَأَجْزَلِهَا وَصْفًا وَاسْتَحْضَرَ الْعَبْدُ ذَلِكَ عِنْدَ التَّسْبِيحِ وَقَامَ بِقَلْبِهِ مَعْنَاهُ: كَانَ لَهُ مِنَ الْمَزِيَّةِ وَالْفَضْلِ مَا لَيْسَ لِغَيْرِهِ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ.فصل-3-33- وَأَمَّا الْمَسْأَلَةُ الثَّالِثَةُ وَهِيَ كَوْنُ صِيَامِ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ تَعْدُلُ صِيَامَ الشَّهْرِ فَقَدْ ذكر في هَذَا الْحَدِيثُ سَبَبَهُ وَهُوَ أَنَّ الْحَسَنَةَ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا فَهُوَ يَعْدُلُ صِيَامَ الشَّهْرِ غَيْرِ مُضَاعِفٍ لِثَوَابِ الْحَسَنَةِ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا فَإِذَا صَامَ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَحَافَظَ عَلَى ذَلِكَ فَكَأَنَّهُ صَامَ الدَّهْرَ كُلَّهُ.34- وَنَظِيرُ هَذَا قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ: "مَنْ صَامَ رَمَضَانَ
এবং তাঁর কোনো অংশ নেই এবং কোনো সমষ্টি নেই, আর তিনি কোনো সূরা, আয়াত, বর্ণ বা শব্দ নন।উদ্দেশ্য হলো, এই তাসবিহের মধ্যে পূর্ণতার গুণাবলি ও মহিমার বর্ণনা এমনভাবে রয়েছে যা একে অন্য সব কিছুর চেয়ে উত্তম হওয়াকে আবশ্যক করে। আর যদি অন্য কিছুকে এর সাথে ওজন করা হয়, তবে এটিই ভারী হবে এবং তার চেয়ে বেড়ে যাবে।আর এটি এই বাক্যগুলোর মধ্যে নিহিত আল্লাহ সম্পর্কে পরিচিতি এবং পবিত্রতা ঘোষণা ও মহিমা বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর প্রশংসার কিয়দাংশ মাত্র, যা তিনটি মূলনীতি সম্বলিত প্রশংসার সাথে যুক্ত:প্রথমটি: সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য পূর্ণতার গুণাবলি সাব্যস্ত করা এবং তাঁর প্রশংসা করা। দ্বিতীয়টি: তাঁকে ভালোবাসা ও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া। তৃতীয়টি: সুতরাং যখন এই প্রশংসা তাসবিহ ও পবিত্রতা ঘোষণার সাথে পূর্ণাঙ্গতম পন্থায়, সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদায়, সর্বাধিক সংখ্যায় এবং সবচেয়ে চমৎকার বর্ণনায় যুক্ত হয় এবং বান্দা তাসবিহ পাঠের সময় তা উপস্থিত রাখে এবং তার হৃদয়ে এর অর্থ জাগ্রত থাকে: তখন তার জন্য এমন বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয় যা অন্য কারও জন্য হয় না। আর আল্লাহর নিকট থেকেই তৌফিক আসে।পরিচ্ছেদ-৩-৩৩- আর তৃতীয় মাসআলাটি হলো, প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা যা পুরো মাসের রোজার সমতুল্য হওয়া। এই হাদিসে এর কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, আর তা হলো—একটি নেক কাজ দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। সুতরাং তা নেক কাজের সওয়াব দশ গুণ বৃদ্ধি করা ব্যতীত পুরো মাসের রোজার সমতুল্য। অতএব যখন কেউ প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখে এবং এর ওপর নিয়মিত আমল করে, তবে সে যেন সারা জীবন রোজা রাখল।৩৪- আর এর দৃষ্টান্ত হলো সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল"
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَأَتْبَعَهُ بِسِتٍّ مِنْ شَوَالَ فَكَأَنَّمَا صَامَ الدَّهْرَ" فَإِنَّ الْحَسَنَةَ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا.وَفِي كَوْنِهَا (مِنْ شَوَالَ) سِرٌّ لَطِيفٌ وَهُوَ أَنَّهَا تَجْرِي مَجْرَى الْجُبْرَانِ لِرَمَضَانَ وَتَقْضِي مَا وَقَعَ فِيهِ مِنَ التَّقْصِيرِ فِي الصَّوْمِ فَتَجْرِي مَجْرَى سُنَّةِ الصَّلاةِ بَعْدَهَا وَمَجْرَى سَجْدَتَيِّ السَّهْوِ وَلِهَذَا قَالَ وَأَتْبَعَهُ أَيْ أَلْحَقَهَا بِهِ.وَقَدِ اسْتَدَلَّ بِهَذَا مَنْ يَسْتَحِبُّ -أَوْ يَجُوزُ- صِيَامَ الدَّهْرِ كُلِّهِ مَا عَدَا الْعِيدَيْنِ وَأَيَّامِ التَّشْرِيقِ وَلا حِجَّةَ لَهُ بَلْ هُوَ حُجَّةٌ عَلَيْهِ فَإِنَّهُ لا يَلْزَمُ مِنْ تَشْبِيهِ الْعَمَلِ بِالْعَمَلِ إِمْكَانَ وُقُوعِ الْمُشَبَّهِ بِهِ فَضْلا عَنْ كَوْنِهِ مَشْرُوعًا بَلْ وَلا مُمْكِنًا كَمَا فِي الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ.وَلِهَذَا جَعَلَ صيام ثَلاثَةَ أَيَّامٍ مِنَ الشَّهْرِ وَصِيَامَ رَمَضَانَ وَإِتْبَاعِهِ بِسِتٍّ مِنْ شَوَالَ يعدل صيام ثلاث مئة وستين يوما وذلك حراما غَيْرُ جَائِزٍ بِالاتِّفَاقِ فَإِنَّهُ وَقَّعَ التَّشْبِيهَ فِي الثَّوَابِ لا عَلَى تقدير كَوْنِهِ مَشْرُوعًا بَلْ وَلا مُمْكِنًا كَمَا فِي الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ وَقَدْ سُئِلَ عَنِ الْجِهَادِ فَقَالَ للسائل:
"এবং এরপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, তবে তা যেন সারা বছর রোজা রাখার সমান।" কেননা একটি পুণ্য দশ গুণের সমান।আর এটি (শাওয়াল থেকে) হওয়ার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম রহস্য রয়েছে, আর তা হলো এই রোজাগুলো রমজানের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কাজ করে এবং রোজার ক্ষেত্রে তাতে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটেছে তা পূর্ণ করে। ফলে এটি নামাজের পরবর্তী সুন্নাত এবং সাহু সিজদার স্থলাভিষিক্ত হয়। এই কারণেই তিনি বলেছেন "এবং এর অনুগামী করল" অর্থাৎ একে তার সাথে যুক্ত করল।যারা দুই ঈদ ও তাশরিকের দিনগুলো ব্যতীত সারা বছর রোজা রাখাকে মুস্তাহাব -বা জায়েজ- মনে করেন, তারা এর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তবে তাদের জন্য এতে কোনো দলিল নেই, বরং এটি তাদের বিপক্ষেই দলিল। কারণ, একটি আমলকে অন্য আমলের সাথে তুলনা করার দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে, যার সাথে তুলনা করা হচ্ছে তা ঘটা সম্ভব হবে; সেটি শরিয়তসম্মত হওয়া তো দূরের কথা, এমনকি তা সম্ভব হওয়াও জরুরি নয়, যেমনটি সহিহ হাদিসে এসেছে।এই কারণেই মাসে তিন দিন রোজা রাখা এবং রমজানের রোজা ও এরপর শাওয়ালের ছয়টি রোজাকে তিনশত ষাট দিন রোজা রাখার সমতুল্য করা হয়েছে, অথচ তা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম ও নাজায়েজ। কারণ, এখানে সওয়াবের ক্ষেত্রে তুলনা করা হয়েছে, এটি শরিয়তসম্মত হওয়া বা সম্ভব হওয়ার বিবেচনায় নয়, যেমনটি সহিহ হাদিসে এসেছে। আর তাকে জিহাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি প্রশ্নকারীকে বললেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
35- هَلْ تَسْتَطِيعُ إِذَا خَرَجَ الْمُجَاهِدُ أَنْ تَصُومَ فَلا تُفْطِرُ وَتَقُومُ فَلا تُفْتِرُ؟ قَالَ: لا. قَالَ: ذَلِكَ مِثْلُ الْمُجَاهِدِ.وَالْمَقْصُودُ أَنَّهُ لا يَلْزَمُ مِنْ تَشْبِيهِ الشَّيْءِ بِالشَّيْءِ مُسَاوَاتُهُ لَهُ.36- وَمِثْلُ هَذَا قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا قَامَ نِصْفَ اللَّيْلِ وَمَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ وَالْفَجْرَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا قَامَ اللَّيْلَ كُلَّهُ.وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى مَا تَقَدَّمَ مِنْ تَفْضِيلِ الْعَمَلِ الْوَاحِدِ عَلَى أَمْثَالِهِ وَأَضْعَافِهِ مِنْ جِنْسِهِ فَإِنَّ مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ وَالْفَجْرَ فِي جَمَاعَةٍ وَلَمْ يُصَلِّ بِاللَّيْلِ تَعْدُلُ صَلاتُهُ تِلْكَ صَلاةَ مَنْ قَامَ اللَّيْلَ كُلَّهُ فَإِنْ كَانَ هَذَا الَّذِي قَامَ الليل قد صلى تينك الصَّلاتَيْنِ فِي جَمَاعَةٍ أَحْرَزَ الْفَضْلَ الْمُحَقَّقَ وَالْمُقَدَّرَ وَإِنْ صَلَّى الصَّلاتَيْنِ وَحْدَهُ وَقَامَ اللَّيْلَ كَانَ كَمَنْ صَلاهُمَا فِي جَمَاعَةٍ وَنَامَ بِمَنْزِلِهِ إِنْ صَحَّتْ صَلاةُ الْمُنْفَرِدِ.
৩৫- একজন মুজাহিদ যখন (জিহাদে) বের হয়, তখন তুমি কি এমনভাবে রোজা রাখতে সক্ষম যে কখনো ইফতার করবে না এবং এমনভাবে কিয়াম (নামাজে দাঁড়িয়ে থাকা) করতে সক্ষম যে কখনো ক্লান্ত বা শিথিল হবে না? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: এটাই হলো মুজাহিদের উদাহরণ।আর উদ্দেশ্য হলো এই যে, এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে তুলনা করলে তাদের মধ্যে সর্বাত্মক সমতা থাকা আবশ্যক নয়।৩৬- এর উদাহরণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: যে ব্যক্তি জামাতের সাথে এশার সালাত আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত কিয়াম করল; আর যে ব্যক্তি এশা ও ফজর জামাতের সাথে আদায় করল, সে যেন পুরো রাত কিয়াম করল।এটি পূর্বে আলোচিত সেই বিষয়ের প্রমাণ বহন করে যে, একটি আমল তার সমজাতীয় আমলসমূহের ওপর বা তার বহুগুণ আমলের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে পারে। কেননা, যে ব্যক্তি জামাতের সাথে এশা ও ফজর আদায় করল এবং রাতে (অতিরিক্ত) সালাত আদায় করেনি, তার এই সালাত ঐ ব্যক্তির সালাতের সমতুল্য হবে যে সারা রাত কিয়াম করেছে। এমতাবস্থায়, যে ব্যক্তি সারা রাত কিয়াম করেছে সে যদি এই দুই সালাতও জামাতের সাথে আদায় করে থাকে, তবে সে সুনিশ্চিত এবং প্রত্যাশিত পূর্ণ ফযীলত অর্জন করল। আর যদি সে উক্ত দুই সালাত একা একা পড়ে এবং সারা রাত কিয়াম করে, তবে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় হবে যে উক্ত দুই সালাত জামাতের সাথে আদায় করে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকল—যদি একাকী সালাত আদায়কারীর সালাত সহীহ হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وَهَذَا كَمَا تَقَدَّمَ مِنْ أَنَّ تَفَاضُلَ الأَعْمَالِ لَيْسَ بِكَثْرَتِهَا وَعَدَدِهَا وَإِنَّمَا هُوَ بِإِكْمَالِهَا وَإِتْمَامِهَا وَمُوَافَقَتِهَا لرضا الرب وشرعه.فصل-4 -37- وَأَمَّا الْمَسْأَلَةُ الرَّابِعَةُ وَهِيَ قَوْلُهُ فِي الْحَدِيثِ: "مَنْ دَخَلَ السُّوقَ فَقَالَ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْي وَيُمِيتُ وَهُوَ حَيٌّ لا يَمُوتُ بِيَدِهِ الْخَيْرِ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ أَلْفَ أَلْفِ حَسَنَةٍ وَمَحَا عَنْهُ أَلْفَ ألف سيئة رفع لَهُ أَلْفَ أَلْفِ دَرَجَةٍ" فَهَذَا الْحَدِيثُ مَعْلُولٌ أَعَلَّهُ أَئِمَّةُ الْحَدِيثِ.قَالَ التِّرْمِذِيُّ فِي جَامِعِهِ: حَدَّثَنَا أحمد بن منيع حدثنا يزيد ابن هَارُونَ أَخْبَرَنَا أَزْهَرُ بْنُ سَنَانٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ وَاسِعٍ قَالَ قَدِمْتُ مَكَّةَ فَلَقِيَنِي سَالِمُ بْنُ عبد الله بْنِ عُمَرَ فَحَدَّثَنِي عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ دَخَلَ السُّوقَ فَقَالَ الْحَدِيثَ قَالَ التِّرْمِذِيُّ: "هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٍ وَقَدْ رَوَاهُ عَمْرُو بن دينار قهرمان آل الزبير عن سالم ابن عَبْدِ اللَّهِ" فَذَكَرَ الْحَدِيثَ.38- حَدَّثَنَا بِذَلِكَ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ والمعتمد بْنُ سُلَيْمَانَ قَالا حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ وَهُوَ قَهْرَمَانُ آلِ الزبير عن سالم ابن عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَن ّرَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَنْ
আর এটি পূর্বের আলোচনার মতোই যে, আমলের শ্রেষ্ঠত্ব তার আধিক্য বা সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না; বরং তা নির্ভর করে আমলকে নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ করা এবং রবের সন্তুষ্টি ও তাঁর শরিয়তের অনুকূলে হওয়ার ওপর।পরিচ্ছেদ-৪ -৩৭- আর চতুর্থ মাসআলাটি হলো হাদীসের এই বক্তব্য সম্পর্কে: "যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করে বলবে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব কেবল তাঁরই এবং সকল প্রশংসাও তাঁরই, তিনিই জীবিত করেন ও মৃত্যু দান করেন, আর তিনি চিরঞ্জীব, কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না, তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান;' তবে আল্লাহ তার জন্য দশ লক্ষ নেকি লিখে দেন, তার থেকে দশ লক্ষ গুনাহ মুছে দেন এবং তার দশ লক্ষ মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।" এই হাদীসটি ত্রুটিযুক্ত (মা'লূল), হাদীসশাস্ত্রের ইমামগণ একে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন।ইমাম তিরমিযী তাঁর জামে' গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের কাছে আহমাদ বিন মানী' বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইয়াযীদ বিন হারুন বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আযহার বিন সিনান, আমাদের কাছে মুহাম্মদ বিন ওয়াসি' বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মক্কায় আসলাম, তখন সালিম বিন আব্দুল্লাহ বিন উমরের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করে বলবে..." এরপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন। ইমাম তিরমিযী বলেন: "এই হাদীসটি গরীব, আর এটি জুবায়ের পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক আমর বিন দীনার, সালিম বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।" এরপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন।৩৮- আমাদের কাছে তা আহমাদ বিন আবদাহ আদ-দব্বী বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হাম্মাদ বিন যায়েদ ও মুতামির বিন সুলায়মান বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের কাছে আমর বিন দীনার বর্ণনা করেছেন—যিনি জুবায়ের পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন—তিনি সালিম বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি...
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
دَخَلَ السُّوقَ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَفِيهِ وَبَنَى لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ".وَقَدْ رُوِيَ مِنْ طَرِيقِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ لَكِنَّهُ مَعْلُولٌ أَيْضًا قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ فِي كِتَابِ الْعِلَلِ سَأَلْتُ أَبِي وَأَبَا زَرْعَةَ عَنْ حَدِيثٍ رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ الطَّائِفِيُّ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ عبد الله ابن دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ الني صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَنْ دَخَلَ فِي السُّوقِ" الْحَدِيثَ فَقَالا لِي: "هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ".قَالَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ: "وَهَذَا الْحَدِيثُ خَطَأٌ إِنَّمَا أَرَادَ عِمْرَانَ بْنَ مُسْلِمٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَهْرَمَانَ آلِ الزُّبَيْرِ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ فَغَلِطَ وَجَعَلَ بَدَلَ عَمْرٍو عَبْدَ اللَّهِ بْنَ دِينَارٍ وَأَسْقَطَ سَالِمًا مِنَ الإِسْنَادِ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ مُحَمَّدُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ بَكِيرِ بْنِ شِهَابٍ الدَّامِغَانِيِّ عَنْ عِمْرَانَ بْنَ مُسْلِمٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ الْحَدِيثَ.وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ فِي سُنَنِهِ عَنْ بِشْرِ بْنِ مُعَاذٍ الضَّرِيرِ عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَهْرَمَانَ آلِ الزُّبَيْرِ كُنْيَتُهُ أَبُو يَحْيَى الأَعْوَرُ
"সে বাজারে প্রবেশ করল" এবং তিনি হাদিসটি উল্লেখ করলেন আর তাতে রয়েছে: "এবং তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে।"এটি আবদুল্লাহ ইবনে দিনারের সূত্রে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হয়েছে, তবে এটিও ত্রুটিযুক্ত। আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম 'কিতাবুল ইলাল' গ্রন্থে বলেছেন: আমি আমার পিতা এবং আবু যুরআকে ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইম আত-তায়েফি কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, যা তিনি ইমরান ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে বাজারে প্রবেশ করল..." হাদিসটি; তাঁরা উভয়ে আমাকে বললেন: "এটি একটি মুনকার হাদিস।"ইবনে আবি হাতিম বলেন: "এই হাদিসটি ভুল। ইমরান ইবনে মুসলিম মূলত আমর ইবনে দিনার—যিনি জুবাইর পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন—তাঁর সূত্রে সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ভুল করেছেন এবং আমরের পরিবর্তে আবদুল্লাহ ইবনে দিনারকে উল্লেখ করেছেন এবং সনদ থেকে সালিমকে বাদ দিয়েছেন।" আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আম্মার, তিনি ইসহাক ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি বুকাইর ইবনে শিহাব আদ-দামিঘানি থেকে, তিনি ইমরান ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন; এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন।ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে এটি বিশর ইবনে মুয়াজ আদ-দারির থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে এবং তিনি আমর ইবনে দিনার—যিনি জুবাইর পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন এবং যাঁর উপনাম ছিল আবু ইয়াহইয়া আল-আওয়ার—তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
الْبَصْرِيُّ قَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ لَيْسَ بِشَيْءٍ وَقَالَ: "النَّسَائِيُّ وَالدَّارَمِيُّ ضَعِيفٌ" وَقَالَ أَبُو زَرْعَةَ: "وَاهِيُ الْحَدِيثِ" وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ الْجُنَيْدِ: "هُوَ شِبْهُ الْمَتْرُوكِ" وَقَالَ ابْنُ حبان: "لا يَحِلُّ كَتْبُ حَدِيثِهِ إِلا عَلَى وَجْهِ التعجب كان يَنْفَرِدُ بِالْمَوْضُوعَاتِ عَنِ الثِّقَاتِ" وَقَالَ الدَّارَقَطْنِيُّ: "ضَعِيفٌ".فَصْلٌ-5-وَسُئِلْتُ: هَلْ يُمْكِنُ مَعْرِفَةُ الْحَدِيثِ الْمَوْضُوعِ بِضَابِطٍ مِنْ غَيْرِ أَنْ يُنْظَرَ فِي سَنَدِهِ؟
আল-বাসরি। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন, "সে কিছুই নয়।" আন-নাসায়ি ও আদ-দারিমি বলেছেন, "সে দুর্বল।" আবু যুরআ বলেছেন, "সে অত্যন্ত দুর্বল হাদিস বর্ণনাকারী।" আলি ইবনুল জুনাইদ বলেছেন, "সে প্রায় পরিত্যক্ত বর্ণনাকারীর মতো।" ইবনে হিব্বান বলেছেন, "বিস্ময়কর হওয়ার দিক থেকে ব্যতীত তার হাদিস লিখে রাখা বৈধ নয়; সে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বরাতে এককভাবে বানোয়াট হাদিস বর্ণনা করত।" আদ-দারাকুতনি বলেছেন, "সে দুর্বল।"পরিচ্ছেদ-৫-আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছে: সনদ পর্যালোচনা না করেও কি কোনো বিশেষ মূলনীতির মাধ্যমে বানোয়াট হাদিস শনাক্ত করা সম্ভব?
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
فَهَذَا سُؤَالٌ عَظِيمُ الْقَدْرِ وَإِنَّمَا يَعْلَمُ ذَلِكَ مَنْ تَضَلَّعَ فِي مَعْرِفَةِ السَّنَنِ الصَّحِيحَةِ وَاخْتَلَطَتْ بِلَحْمِهِ وَدَمِّهِ وَصَارَ لَهُ فِيهَا مَلَكَةٌ وَصَارَ لَهُ اخْتِصَاصٌ شَدِيدٌ بِمَعْرِفَةِ السُّنَنِ وَالآثَارِ وَمَعْرِفَةِ سِيرَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهَدْيِهِ فِيمَا يَأْمُرُ بِهِ وَيَنْهَى عَنْهُ وَيُخْبِرُ عَنْهُ وَيَدْعُو إِلَيْهِ وَيُحِبُّهُ وَيَكْرَهُهُ وَيُشْرِعُهُ لِلأُمَّةِ بحيث كَأَنَّهُ مُخَالِطٌ لِلرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم كَوَاحِدٍ مِنَ أَصَحَابِهِ.فَمِثْلُ هَذَا يَعْرِفُ مِنْ أَحْوَالِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم وَهَدْيِهِ وَكَلامِهِ وَمَا يَجُوزُ أَنْ يُخْبِرَ بِهِ وَمَا لا يَجُوزُ مَا لا يَعْرِفُهُ غَيْرُهُ وَهَذَا شَأْنُ كُلِّ مُتَّبِعٍ مَعَ مَتْبُوعِهِ فَإِنَّ لِلأَخَصِّ بِهِ الْحَرِيصَ عَلَى تَتَبُّعِ أَقْوَالِهِ وَأَفْعَالِهِ مِنَ الْعِلْمِ بِهَا وَالتَّمْيِيزِ بَيْنَ مَا يَصِحُّ أَنْ يُنْسَبَ إِلَيْهِ وَمَا لا يَصِحُّ مَا لَيْسَ لِمَنْ لا يَكُونُ كَذَلِكَ وَهَذَا شَأْنُ الْمُقَلِّدِينَ مَعَ أَئِمَّتِهِمْ يَعْرِفُونَ أَقْوَالَهُمْ وَنُصُوصَهُمْ وَمَذَاهِبَهُمْ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.39- فَمِنْ ذَلِكَ مَا رَوَى جَعْفَرُ بْنُ جِسْرٍ عن أبيه عن ثابت عن أنس يرفعه مَنْ قَالَ: "سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ غَرَسَ اللَّهُ لَهُ أَلْفَ أَلْفِ نَخْلَةٍ فِي الْجَنَّةِ أَصْلُهَا مِنْ ذَهَبٍ".وَجَعْفَرٌ هَذَا هُوَ جَعْفَرُ بْنُ جِسْرِ بْنِ فَرْقَدٍ أَبُو سُلَيْمَانَ الْقَصَّابُ الْبَصْرِيُّ قَالَ ابْنُ عَدِيٍّ: "أَحَادِيثُهُ مَنَاكِيرٌ" وَقَالَ الأَزْدِيُّ: "يَتَكَلَّمُونَ فِيهِ".وَأَمَّا أَبُوهُ فَقَالَ يَحْيَى بْنُ مَعَينٍ: "لا شَيْءَ وَلا يُكْتَبُ حَدِيثُهُ" وَقَالَ النَّسَائِيُّ وَالدَّارَقَطْنِيُّ: "ضَعِيفٌ" وَقَالَ ابْنُ حِبَّانَ: "خَرَجَ مِنْ حَدِّ الْعَدَالَةِ" وَقَالَ ابْنُ عَدِيٍّ: "عَامَةُ أَحَادِيثِهِ غَيْرُ مَحْفُوظَةٍ".
এটি অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন একটি প্রশ্ন। কেবল সেই ব্যক্তিই এটি জানতে পারেন যিনি সহীহ সুন্নাহর জ্ঞানে পূর্ণতা অর্জন করেছেন এবং তা তাঁর রক্ত-মাংসের সাথে মিশে গেছে এবং এতে তাঁর এক বিশেষ দক্ষতা অর্জিত হয়েছে। সুন্নাহ ও আসার (বর্ণনা) সম্পর্কে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত ও তাঁর হিদায়াত—রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নির্দেশ দিয়েছেন, যা নিষেধ করেছেন, যার সংবাদ দিয়েছেন, যার দিকে আহ্বান করেছেন, যা তিনি পছন্দ করেছেন, যা অপছন্দ করেছেন এবং উম্মতের জন্য যা শরীয়ত হিসেবে প্রবর্তন করেছেন—সে বিষয়ে তাঁর এমন গভীর বিশেষত্ব তৈরি হয়েছে যেন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের একজনের মতো তাঁর সান্নিধ্যে রয়েছেন।এই ধরনের ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থা, হিদায়াত, বাণী এবং তাঁর সম্পর্কে যা সংবাদ দেওয়া বৈধ আর যা বৈধ নয় সে সম্পর্কে এমন জ্ঞান রাখেন যা অন্য কেউ জানে না। আর প্রত্যেক অনুসরণকারীর সাথে তাঁর অনুসৃত ব্যক্তির বিষয়টি এমনই হয়ে থাকে। কেননা যে ব্যক্তি অনুসৃত ব্যক্তির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর কথা ও কাজ অনুসরণে অতি আগ্রহী, তাঁর নিকট সেই বিষয়ের জ্ঞান এবং কোনটি তাঁর দিকে নিসবত করা সঠিক আর কোনটি সঠিক নয়—তা পার্থক্য করার এমন ক্ষমতা থাকে যা অন্যদের থাকে না। ইমামদের অনুসারীদের (মুকাল্লিদদের) অবস্থাও এমনই; তারা তাঁদের ইমামদের কথা, নস (পাঠ্য) এবং মাযহাব সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।৩৯- এরই অন্তর্ভুক্ত হলো যা জাফর বিন জিসর তাঁর পিতা থেকে, তিনি সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি বলবে: 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি' (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর প্রশংসার সাথে), আল্লাহ তাঁর জন্য জান্নাতে দশ লক্ষ খেজুর গাছ রোপণ করবেন, যেগুলোর কাণ্ড হবে স্বর্ণের।"আর এই জাফর হলেন জাফর বিন জিসর বিন ফারকাদ আবু সুলাইমান আল-কাসসাব আল-বাসরি। ইবনে আদি বলেন: "তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলো মুনকার (প্রত্যাখ্যাত)।" আল-আজদি বলেন: "তাঁকে নিয়ে (সমালোচনামূলক) মন্তব্য রয়েছে।"আর তাঁর পিতার ব্যাপারে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন: "তিনি কিছুই নন এবং তাঁর হাদিস লেখা যাবে না।" আন-নাসাঈ এবং আদ-দারা কুতনী বলেন: "তিনি দুর্বল।" ইবনে হিব্বান বলেন: "তিনি নির্ভরযোগ্যতার সীমা থেকে বিচ্যুত হয়েছেন।" ইবনে আদি বলেন: "তাঁর অধিকাংশ হাদিসই সংরক্ষিত নয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
40- وَمِنْ ذَلِكَ مَا رَوَاهُ ابْنُ مَنْدَهْ مِنْ حَدِيثِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْجُوَيْبَارِيِّ الْكَذَّابِ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنِ أويس القرني عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ تعالى عنهم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَنْ دَعَا بِهَذِهِ الأَسْمَاءِ اللَّهُمَّ أَنْتَ حَيٌّ لا تَمُوتُ وَغَالِبٌ لا تُغْلَبُ وَبَصِيرٌ لا تَرْتَابُ وَسَمِيعٌ لا تَشُكُّ وَصَادِقٌ لا تَكْذِبُ وَصَمَدٌ لا تُطْعَمُ وَعَالِمٌ لا تُعَلَّمُ" إِلَى أن قال: "فو الذي بَعَثَنِي بِالْحَقِّ لَوْ دُعِيَ بِهَذِهِ الدَّعَوَاتِ عَلَى صَفَائِحِ الْحَدِيدِ لَذَابَتْ وَعَلَى مَاءٍ جَارٍ لَسَكَنَ وَمَنْ دَعَا عِنْدَ مَنَامِهِ بِهَا بُعِثَ بِكُلِّ حَرْفٍ منها سبع مئة أَلْفِ مَلَكٍ يُسَبِّحُونَ لَهُ وَيَسْتَغْفِرُونَ لَهُ".وَتَابِعُهُ كَذَّابٌ آخَرَ وَهُوَ الْحُسَيْنُ بْنُ دَاوُدَ الْبَلْخِيُّ عَنْ شَقِيقٍ وَرَوَى جُمْلَةً مِنْهُ كَذَّابٌ آخَرَ هُوَ سُلَيْمَانُ بْنُ عِيسَى عَنِ الثَّوْرِيِّ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ وَهَذَا وَأَمْثَالُهُ مِمَّا لا يَرْتَابُ مَنْ لَهُ أَدْنَى مَعْرِفَةٍ بِالرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم وَكَلامِهِ أَنَّهُ مَوْضُوعٌ مُخْتَلَقٌ وَإِفْكٌ مُفْتَرَى عَلَيْهِ41- وَمِنْ ذَلِكَ مَا رَوَاهُ عَبَّاسُ بْنُ الضَّحَّاكِ الْبَلْخِيُّ كَذَّابٌ أَشَرٌّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الرَّمَّاحِ مَجْهُولٌ لا يُعْرَفُ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: "مِنْ كَتَبَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَلَمْ يُعْمِ الْهَاءَ الَّتِي فِي اللَّهِ تَعَالَى
৪০- এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা ইবনে মানদাহ বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আবদুল্লাহ আল-জুওয়াইবারী নামক চরম মিথ্যুকের সূত্রে, তিনি শাকীক থেকে, তিনি ইবরাহীম বিন আদহাম থেকে, তিনি ইয়াযীদ বিন আবি যিয়াদ থেকে, তিনি উয়াইস আল-কুরনী থেকে, তিনি উমর ও আলী (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুম) থেকে, তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই নামগুলো দ্বারা দুআ করবে— হে আল্লাহ! আপনি চিরঞ্জীব যাঁর মৃত্যু নেই, বিজয়ী যাঁকে পরাজিত করা যায় না, সর্বদ্রষ্টা যিনি সংশয় পোষণ করেন না, সর্বশ্রোতা যিনি সন্দেহ করেন না, সত্যবাদী যিনি মিথ্যা বলেন না, অভাবমুক্ত যাঁকে আহার করানো হয় না এবং মহাজ্ঞানী যাঁকে শেখানো হয় না—" তিনি এই পর্যন্ত বলেছেন যে: "সেই সত্তার কসম যিনি আমাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, যদি এই দুআগুলো লোহার পাতের ওপর পাঠ করা হতো তবে তা গলে যেত, আর যদি প্রবহমান পানির ওপর পাঠ করা হতো তবে তা স্থির হয়ে যেত। আর যে ব্যক্তি ঘুমানোর সময় এটি পাঠ করবে, এর প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে সাত লক্ষ ফেরেশতা পাঠানো হবে যারা তাঁর জন্য তাসবীহ পাঠ করবে এবং তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে।"তার অনুসারী হলো আরেকজন মিথ্যুক, সে হলো আল-হুসাইন বিন দাউদ আল-বালখী, তিনি শাকীক থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং এর একটি অংশ বর্ণনা করেছে আরেকজন মিথ্যুক, সে হলো সুলাইমান বিন ঈসা, সাওরী থেকে, তিনি ইবরাহীম বিন আদহাম থেকে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর বাণী সম্পর্কে যার সামান্যতম জ্ঞান আছে তার নিকট এটি এবং এর সমজাতীয় বর্ণনাসমূহ বানোয়াট, মনগড়া এবং তাঁর প্রতি আরোপিত মিথ্যা হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।৪১- এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা চরম মিথ্যুক আব্বাস বিন আদ-দাহহাক আল-বালখী বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আর-রাম্মাহ (যিনি অজ্ঞাত ও অপরিচিত) থেকে, তিনি আবু মুয়াবিয়া থেকে, তিনি আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন: "যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লিখল এবং মহান আল্লাহর নামের 'হা' অক্ষরটিকে অস্পষ্ট করল না...
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
كَتَبَ اللَّهُ لَهُ أَلْفَ أَلْفِ حَسَنَةٍ وَمَحَا عَنْهُ أَلْفَ أَلْفِ سَيِّئَةٍ وَرَفَعَ لَهُ أَلْفَ أَلْفِ دَرَجَةٍ ".42- وَمِنْ ذَلِكَ مَا رَوَاهُ أَبُو الْعَلاءِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ يَرْفَعُهُ "مَنْ كَفَّنَ مَيِّتًا فَإِنَّ لَهُ بِكُلِّ شَعْرَةٍ تُصِيبُ كفنه عشر حسنات".وأبو الْعَلاءِ هَذَا يَرْوِي عَنْ نَافِعٍ مَا لَيْسَ مِنْ حَدِيثِهِ وَلا يَجُوزُ الاحْتِجَاجُ بِهِ وَهَذَا الْحَدِيثُ قَدْ رَوَاهُ الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَجَّاجِ حَدَّثَنَا أَبُو الْعَلاءِ قَالَ الدَّارَقَطْنِيُّ: "يُقَالُ إِنَّ أَبَا الْعَلاءِ هَذَا الْخَفَّافُ الْكُوفِيُّ وَاسْمُهُ خَالِدُ بْنُ طَهْمَانَ" انْتَهَى وَقَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ: "هُوَ ضَعِيفٌ خَلَطَ قَبْلَ مَوْتِهِ بِعَشْرِ سِنِينَ وَكَانَ قَبْلُ ذَلِكَ ثِقَةٌ وَكَانَ فِي تَخْلِيطِهِ يَحْمِلُ مَا جاءوا به ويقرؤه" انتهى.43- وَمِنْ ذَلِكَ حَدِيثِ يَرْوِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْبَيْلَمَانِيُّ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلممِنْ صَامَ صَبِيحَةَ يَوْمِ الْفِطْرِ فَكَأَنَّمَا صَامَ الدَّهْرَ كُلَّهُ وَهَذَا حَدِيثٌ باطل موضع عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.وابن البيلمان يَرْوِي الْمَنَاكِيرَ قَالَ الْبُخَارِيُّ وَأَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ وَالنَّسَائِيُّ: "هُوَ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ" وَقَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ: "لَيْسَ بِشَيْءٍ".
"আল্লাহ তার জন্য দশ লক্ষ নেকি লিখে দেন, তার দশ লক্ষ পাপ মোচন করেন এবং তার দশ লক্ষ মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।" ৪২- এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই বর্ণনা যা আবু আল-আলা নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মৃত ব্যক্তিকে কাফন পরাবে, কাফনে স্পর্শকারী প্রতিটি পশমের বিনিময়ে তার জন্য দশটি করে নেকি রয়েছে।" আর এই আবু আল-আলা নাফে থেকে এমন সব বর্ণনা দেন যা তাঁর (নাফের) হাদিস নয় এবং তাঁর মাধ্যমে দলিল পেশ করা বৈধ নয়। এই হাদিসটি হাসান ইবনে সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন—আমাদের নিকট আবু আল-রাবী আল-জাহরানি বর্ণনা করেছেন—আমাদের নিকট আহমদ ইবনুল হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন—আমাদের নিকট আবু আল-আলা বর্ণনা করেছেন। আল-দারাকুতনি বলেন: "বলা হয় যে, এই আবু আল-আলা হলেন খাফফাফ আল-কুফি এবং তাঁর নাম খালিদ ইবনে তাহমান।" সমাপ্ত। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: "তিনি দুর্বল, মৃত্যুর দশ বছর আগে তিনি বিভ্রান্তিতে (স্মৃতিভ্রমে) পতিত হন। এর আগে তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন। তাঁর বিভ্রান্তিকালীন সময়ে লোকেরা তাঁর নিকট যা নিয়ে আসত তিনি তা-ই গ্রহণ করতেন এবং পাঠ করতেন।" সমাপ্ত। ৪৩- এর অন্তর্ভুক্ত আরও একটি হলো সেই হাদিস যা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আল-বাইলামানি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতরের দিন ভোরে রোজা রাখল, সে যেন সারা জীবন রোজা রাখল।" এটি একটি বাতিল হাদিস যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামে জাল করা হয়েছে। আর ইবনে আল-বাইলামানি আপত্তিকর (মুনকার) বর্ণনা উপস্থাপন করেন। ইমাম বুখারি, আবু হাতিম আল-রাজি এবং নাসায়ী বলেছেন: "তিনি মুনকারুল হাদিস (পরিত্যাজ্য বর্ণনাকারী)।" ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: "তিনি কিছুই নন।"
(খণ্ড: ১)
আল-মানারুল মুনীফ ফিস সহীহ ওয়াদ দয়ীফ - ত আবী গুদ্দাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَقَالَ الدَّارَقَطْنِيُّ وَالْحُمَيْدِيُّ: "ضَعِيفٌ" وَقَالَ ابْنُ حِبَّانَ: "حَدَّثَ عَنْ أَبِيهِ بنسخة شبيها بمئتي حَدِيثٍ كُلِّهَا مَوْضُوعَةٍ لا يَجُوزُ الاحْتِجَاجُ بِهِ وَلا ذِكْرُهُ إِلا عَلَى وَجْهِ التَّعَجُّبِ".44- وَمِنْ ذَلِكَ حَدِيثِ مَنْ صَامَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ عِبَادَةَ سِتِّينَ سَنَةً وَهَذَا بَاطِلٌ يَرْوِيهِ حَبِيبُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الصَّائِغِ عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مَهْرَانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَحَبِيبٌ كَانَ يضع الأَحَادِيثَ.45- وَمِنْ ذَلِكَ حَدِيثٍ يَرْوِيهِ زَكَرِيَّا بْنُ دُوَيْدٍ الْكِنْدِيُّ الْكَذَّابُ الأَشَرُّ عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: "مَنْ دَاوَمَ عَلَى صَلاةِ الضُّحَى وَلَمْ يَقْطَعْهَا مِنْ عِلَّةٍ كُنْتُ أَنَا وَهُوَ فِي الْجَنَّةِ فِي زَوْرَقٍ مِنْ نُورٍ فِي بَحْرٍ مِنْ نُورٍ حَتَّى نَزُورَ رَبَّ الْعَالَمِينَ".46- وَمِنْ ذَلِكَ حَدِيثٍ يَرْوِيهِ عُمَرُ بْنُ رَاشِدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "مِنْ صَلَّى بَعْدَ الْمَغْرِبِ سِتَّ رَكَعَاتٍ لَمْ يَتَكَلَّمْ بَيْنَهُنَّ بِشَيْءٍ عَدَلْنَ لَهُ عِبَادَةَ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ سَنَةً".
এবং আদ-দারাকুতনী ও আল-হুমাইদী বলেছেন: "এটি দুর্বল"। ইবনে হিব্বান বলেছেন: "সে তার পিতার সূত্রে প্রায় দুইশত হাদীসের একটি পাণ্ডুলিপি বর্ণনা করেছে যার প্রতিটিই জাল। তার বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করা জায়েজ নেই এবং বিস্ময় প্রকাশ করা ছাড়া তা উল্লেখ করাও উচিত নয়।"৪৪- এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই হাদীস: "যে ব্যক্তি আশুরার দিনে রোজা রাখবে, আল্লাহ তার জন্য ষাট বছরের ইবাদত লিখে দেবেন।" এটি বাতিল। হাবীব ইবনে আবী হাবীব এটি ইব্রাহিম আস-সায়িগ থেকে, তিনি মায়মুন ইবনে মাহরান থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। আর হাবীব হাদীস জাল করত।৪৫- এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই হাদীস যা চরম মিথ্যাবাদী যাকারিয়া ইবনে দুওয়াইদ আল-কিনদী বর্ণনা করেছেন হুমাইদ আত-তবিল থেকে, তিনি আনাস থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি নিয়মিত চাশতের সালাত আদায় করবে এবং কোনো ওজর ছাড়া তা ত্যাগ করবে না, আমি এবং সে জান্নাতে নূরের সাগরে নূরের নৌকায় থাকব, যতক্ষণ না আমরা রাব্বুল আলামীনের দর্শন লাভ করি।"৪৬- এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই হাদীস যা ওমর ইবনে রাশিদ বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবী কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মাগরিবের পর ছয় রাকাত সালাত আদায় করবে এবং এর মাঝে কোনো কথা বলবে না, তা তার জন্য বারো বছরের ইবাদতের সমতুল্য হবে।"