(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: -)
مقامات عبد الرحمن بن حسن   (عبد الرحمن بن حسن آل الشيخ)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: المقامات

المؤلف: عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي (ت 1285هـ)

الناشر: مكتبة دار الهداية الرياض

عدد الصفحات: 31

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আব্দুর রহমান বিন হাসানের মাকামাতসমূহ   (আব্দুর রহমান বিন হাসান আল আশ-শাইখ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: আল-মাকামাত

লেখক: আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান আত-তামিমি (মৃত্যু ১২৮৫ হিজরি)

প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল হিদায়াহ রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده محمد وآله وصحبه أما بعد: فليعلم أن هذا الذي علقته في هذه الورقات قد اقتصدت فيه واقتصرت على ما تحصل به الفائدة ويحصل به الثواب من الرب الكريم الوهاب لأنه من أفضل الجهاد في الدين والنصيحة لعامة المسلمين ولمن يصل إليه ممن له رغبة في معرفة حقيقة الدين الذي بعث الله به الأنبياء والمرسلين، فأقول قبل الشروع في تحرير الجواب: أن عثمان بن منصور اعترض على شيخنا رحمه الله تعالى فيما دعا إليه من توحيد الله تعالى من الحنيفية ملة إبراهيم وما بعث به محمد النبي الكريم صلوات الله وسلامه عليهما وعلى جميع المرسلين، فقال إنه لم يتخرج على أشياخ في العلم، وهذا مما افتراه واختلقه عمن استند إليه من شيوخه الثلاثة ابن سند وابن جديد وابن سلوم، وهذا من جهلهم بحال شيخنا وشدة عداوتهم له فتلقى عن هؤلاء الثلاثة ما زعموه من الكذب والبهتان فالجواب عن هذا من وجوه.

الأول: أنه لا يعرف شيخنا ولا حيث نشأ كما يعرفه الخبير بحاله ممن يقول الحق ويقصده ويتحرى الصدق ويؤثره، فلا ريب أنه لما قدم جده سليمان ابن علي من الروضة ونزل العيينة كان أفقه أهل نجد في وقته، فتخرج عليه خلق كثير من أهل نجد منهم ابناه عبد الوهاب وإبراهيم، وكان المتولي للقضا في العارض أبوه عبد الوهاب، وكان عمه يسافر إلى ما حولهم من البلاد لحاجتهم إليه في الإفتاء وما يقع بينهم من بيع العقارات وكان عليه اعتمادهم فيما كتبه وأثبته، وأكثر إقامته مع أخيه عبد الوهاب، فظهر شيخنا بين أبيه وعمه فحفظ القرآن وهو صغير، وقرأ في فنون العلم، وصار له فهم
উপক্রমণিকা

…

পরম করুণাময় ও অতিশয় দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, অর্থাৎ মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর। অতপর: জেনে রাখা উচিত যে, এই পৃষ্ঠাগুলোতে আমি যা লিখেছি তাতে আমি সংক্ষিপ্ততা বজায় রেখেছি এবং কেবল সেই বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি যা দ্বারা উপকার অর্জিত হয় এবং করুণাময় ও মহান দাতা রবের পক্ষ থেকে সওয়াব পাওয়া যায়। কারণ এটি দ্বীনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জিহাদ এবং সাধারণ মুসলিমদের জন্য এবং যাদের কাছে এটি পৌঁছাবে যারা আল্লাহ যে দ্বীন দিয়ে নবী ও রাসূলদের পাঠিয়েছেন তার বাস্তবতা জানার আগ্রহী তাদের জন্য নসিহত বা সদুপদেশ। উত্তরের বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার আগে আমি বলছি যে: উসমান ইবনে মানসুর আমাদের শাইখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) যে তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন—যা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর মিল্লাতে হানিফী এবং যা নিয়ে মহান নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রেরিত হয়েছিলেন (উভয়ের ওপর এবং সকল রাসূলদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)—তার ওপর আপত্তি উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেছেন যে, তিনি (শাইখ) ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো উস্তাদ বা শাইখের সান্নিধ্য লাভ করেননি। এটি তাঁর সেই বানোয়াট ও মনগড়া অপবাদের অন্তর্ভুক্ত যা তিনি তাঁর সেই তিন শাইখ ইবনে সানাদ, ইবনে জাদীদ এবং ইবনে সাল্লুম-এর নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন যাদের ওপর তিনি নির্ভর করেন। এটি আমাদের শাইখের অবস্থা সম্পর্কে তাদের মূর্খতা এবং তাঁর প্রতি তাদের তীব্র শত্রুতার বহিঃপ্রকাশ। ফলে তিনি এই তিন ব্যক্তির কাছ থেকে তাদের দাবি করা মিথ্যা ও অপবাদ গ্রহণ করেছেন। সুতরাং এর উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়।

প্রথমত: তিনি আমাদের শাইখকে এবং তাঁর বেড়ে ওঠার পরিবেশ সম্পর্কে জানেন না, যেভাবে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞ সেই ব্যক্তি জানে যে সত্য বলে, সত্যের উদ্দেশ্য পোষণ করে এবং সততা অনুসন্ধান ও তাকে প্রাধান্য দেয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যখন তাঁর দাদা সুলাইমান ইবনে আলী রাওদাহ থেকে এসে উয়াইনাহতে বসবাস শুরু করেন, তখন তিনি তাঁর সময়ের নজদবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকীহ ছিলেন। নজদবাসীদের একটি বিশাল গোষ্ঠী তাঁর কাছে শিক্ষা লাভ করে, যাদের মধ্যে তাঁর দুই পুত্র আব্দুল ওয়াহাব এবং ইব্রাহিমও ছিলেন। আর আল-আরিয অঞ্চলে বিচারকার্যের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন তাঁর পিতা আব্দুল ওয়াহাব। এবং তাঁর চাচা আশপাশের দেশগুলোতে ভ্রমণ করতেন ফাতাওয়া প্রদান এবং মানুষের মধ্যে স্থাবর সম্পত্তির ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের প্রয়োজনীয়তার কারণে। তারা তাঁর লিখিত ও সত্যায়িত বিষয়ের ওপর নির্ভর করত। এবং তাঁর বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত হতো তাঁর ভাই আব্দুল ওয়াহাবের সাথে। ফলে আমাদের শাইখ তাঁর পিতা ও চাচার মাঝে বড় হয়েছেন, এমতাবস্থায় তিনি অল্প বয়সেই কুরআন হিফজ করেন, ইলমের বিভিন্ন শাখায় পড়াশোনা করেন এবং তাঁর মধ্যে গভীর বোধ তৈরি হয়।
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ৬)
قوي وهمة عالية في طلب العلم فصار يناظر أباه وعمه في بعض المسائل بالدليل على بعض الروايات عن الإمام أحمد، والوجوه عن الأصحاب فتخرج عليهما في الفقه وناظرهما في مسائل قرأها في الشرح الكبير والمغني والإنصاف لما فيها من مخالفة ما في متن المنتهى والإقناع، وعلت همته إلى طلب التفسير والحديث فسافر إلى البصرة غير مرة، كل مرة يقيم بين من كان فيها من العلماء فأظهر الله له من أصول الدين ما خفي على غيره، وكذلك ما كان عليه أهل السنة في توحيد الأسماء والصفات والإيمان، فيقال في الجواب أنت يابن منصور إنما افتخرت في رحلتك إلى البصرة والزبير وإقامتك بين أشياخك الثلاثة فما الذي خصك بأخذ العلم منها دونه إذا كان الكل قد سافر إليها وجالس العلماء وتميز عنك بالأخذ عمن لا يتهم في حقه بالكذب والزور، وأنت قبلت فيه قول أهل الريب والفجور، وصنف في البصرة كتاب التوحيد الذي شهد له بفضله بتصنيفه له القريب والبعيد، أخذه من الكتب التي في مدارس البصرة من كتب الحديث، وأما أنت يا ابن منصور فأي علم جئت به من رحلتك، ضيعت زمانك وأخمدت شانك وصرت ضحكة عند من أخذ عن هذا الشيخ، وقد عدوا عليك من الغلطات ما لا فائدة في عده ها هنا، وأنت لم تنقل عنهم واحدة غلطوا فيها، وذلك ببركة ما حصلوه ممن أخذ عن شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب فكيف حالك لو رأيت من أخذ عنه لكنت في نفسك أحقر، ومن الدليل على ما ذكرته هنا أنه طلب الإجازة من مملي هذا الكلام فأجازه بمروياته في الحديث وغيره ظناً مني أنه على هدى وأنه بأهل العلم قد اقتدى، ثم إن شيخنا رحمه الله تعالى بعد رحلته إلى البصرة وتحصيل ما حصل بنجد وهناك رحل إلى الإحساء، وفيها فحول العلماء منهم عبد الله بن فيروز أبو محمد الكفيف

ইলম অর্জনে তাঁর ছিল শক্তিশালী ও সুউচ্চ হিম্মত, ফলে তিনি তাঁর পিতা ও চাচার সাথে বিভিন্ন মাসআলায় ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত কিছু বর্ণনা এবং আসহাবগণের অভিমতসমূহের ভিত্তিতে দলীলসহ বিতর্ক করতেন। ফিকহ শাস্ত্রে তিনি তাঁদের উভয়ের চেয়ে অগ্রসর ছিলেন এবং তিনি 'আশ-শারহুল কাবীর', 'আল-মুগনী' ও 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে পড়া বিষয়গুলো নিয়ে তাঁদের সাথে বিতর্ক করতেন, কারণ সেগুলোতে 'আল-মুন্তাহা' ও 'আল-ইকনা' এর মূল পাঠের সাথে বৈপরীত্য ছিল। এরপর তাঁর আকাঙ্ক্ষা তাফসীর ও হাদীস অন্বেষণের দিকে ধাবিত হয় এবং তিনি একাধিকবার বসরায় সফর করেন। প্রতিবারই তিনি সেখানে অবস্থানরত আলেমদের মাঝে অবস্থান করতেন। ফলে আল্লাহ তাঁর নিকট দীনের এমন সব মূলনীতি প্রকাশ করে দিলেন যা অন্যদের নিকট অস্পষ্ট ছিল। তদ্রূপ আসমা ওয়াস-সিফাতের তাওহীদ এবং ঈমানের বিষয়ে আহলে সুন্নাত যে আদর্শের ওপর ছিলেন তাও তিনি অনুধাবন করেন। এর জবাবে বলা হয়: হে ইবনে মানসূর, আপনি তো কেবল বসরা ও যুবাইরে আপনার সফর এবং আপনার তিন জন শায়খের কাছে অবস্থানের জন্য অহংকার করেছেন। অথচ তিনি আপনার তুলনায় সেখান থেকে ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে কিসে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হলেন, যখন সবাই সেখানে সফর করেছেন এবং আলেমদের মজলিসে বসেছেন? বরং তিনি এমন সব ব্যক্তিদের নিকট থেকে ইলম অর্জনের মাধ্যমে আপনার চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন যাদের প্রতি মিথ্যা ও জালিয়াতির অভিযোগ ছিল না; পক্ষান্তরে আপনি তাঁর ব্যাপারে সংশয়বাদী ও পাপাচারী লোকদের কথা গ্রহণ করেছেন। আর তিনি বসরায় 'কিতাবুত তাওহীদ' রচনা করেন, যার শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য নিকট ও দূরের সকলে দিয়েছে। তিনি বসরার মাদরাসাসমূহে থাকা হাদীসের কিতাবসমূহ থেকে এটি সংকলন করেছেন। আর হে ইবনে মানসূর, আপনার ক্ষেত্রে বলা যায়, আপনি আপনার সফর থেকে কোন ইলম নিয়ে এসেছেন? আপনি নিজের সময় নষ্ট করেছেন, আপনার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন এবং এই শায়খের নিকট থেকে যারা ইলম অর্জন করেছেন তাদের কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন। তারা আপনার এমন সব ভুল চিহ্নিত করেছেন যা এখানে গণনা করা নিরর্থক। অথচ আপনি তাঁদের একটি ভুলও উদ্ধৃত করতে পারেননি। আর এটি হয়েছে শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের নিকট থেকে যারা ইলম অর্জন করেছেন তাদের সান্নিধ্য লাভের বরকতে। সুতরাং আপনি যদি সরাসরি তাঁর কাছে ইলম অর্জনকারীদের দেখতেন তবে আপনার অবস্থা কী হতো? আপনি নিজের কাছে নিজেকে আরও তুচ্ছ মনে করতেন। আমি এখানে যা উল্লেখ করেছি তার একটি প্রমাণ হলো, তিনি এই বক্তব্যের লেখকের নিকট ইজাযত প্রার্থনা করেছিলেন; ফলে আমি তাঁকে হাদীস ও অন্যান্য বিষয়ে আমার বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহের ইজাযত দিয়েছিলাম এই ধারণায় যে, তিনি সঠিক পথে আছেন এবং তিনি আহলে ইলমদের অনুসরণ করছেন। এরপর আমাদের শায়খ (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা) তাঁর বসরা সফর এবং নজদ ও অন্যান্য স্থানে যা অর্জন করার তা অর্জনের পর আল-আহসায় সফর করেন। সেখানে বিজ্ঞ আলেমগণ ছিলেন, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আব্দুল্লাহ বিন ফাইরুজ আবু মুহাম্মাদ আল-কাফীফ।

(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ৭)
ووجد عنده من كتب شيخ الإسلام ابن تيمية وابن القيم ما سر به وأثنى على عبد الله هذا بمعرفته بعقيدة الإمام أحمد، وحضر مشايخ الإحساء ومن أعظمهم عبد الله بن عبد اللطيف القاضي، وطلب منه أن يحضر الأول من فتح الباري على البخاري وبين له ما غلط فيه الحافظ في مسألة الإيمان وبين أن الأشاعرة خالفوا ما صدّر البخاري كتابه من الأحاديث والآثار وبحث معهم في مسائل وناظر هذا أمر مشهور يعرفه أهل الإحساء وغيرهم من أهل نجد، فإذا خفي عليك يا ابن منصور هذا أو جحدته فغير مستغرب والعدو يجحد فضايل عدوه.

كل العداوة قد ترجى مودتها … إلا عداوة من عاداك في الدين

ثم إن شيخنا رحمه الله رجع من الإحساء إلى البصرة وخرج منها إلى نجد قاصدا الحج، فحج رحمه الله تعالى وقد تبين له بما فتح الله تعالى عليه ضلال من ضل باتخاذ الأنداد وعبادتها من دون الله في كل قطر وقرية إلا من شاء الله، فلما قضى الحج وقف في الملتزم وسأل الله تعالى أن يظهر هذا الدين بدعوته وأن يرزقه القبول من الناس فخرج قاصداً المدينة مع الحاج يريد الشام فعرض له بعض سراق الحجيج فضربوه وسلبوه وأخذوا ما معه وشجوا رأسه وعاقه ذلك عن مسيره مع الحاج، فقدم المدينة بعد أن خرج الحاج منها فأقام بها وحضر عند العلماء إذ ذاك منهم محمد حياة السندي، وأخذ عنه كتب الحديث إجازة في جميعها وقرآة لبعضها ووجد فيها بعض الحنابلة فكتب كتاب الهدي لابن القيم بيده، وكتب متن البخاري وحضر في النحو، وحفظ ألفية ابن مالك ثم رجع إلى نجد وهم على الحال التي لا يحبها الله ولا يرضاها من الشرك بعبادة الأموات والأشجار والأحجار والجن، فقام فيهم يدعوهم إلى التوحيد وأن يخلصوا العبادة بجميع أنواعها لله، وأن
এবং তাঁর কাছে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ও ইবনে কায়্যিমের এমন কিছু কিতাব পাওয়া গেল যাতে তিনি আনন্দিত হলেন এবং এই আবদুল্লাহকে ইমাম আহমাদ-এর আকিদা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের জন্য প্রশংসা করলেন। আল-আহসার মাশায়েখগণ উপস্থিত হলেন, যাদের মধ্যে অন্যতম মহান ব্যক্তি ছিলেন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল লতিফ আল-কাজী। তাঁর কাছে বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারী’র প্রথম খণ্ড উপস্থিত করার অনুরোধ করা হলো এবং তিনি তাতে ঈমানের মাসআলায় হাফেজ (ইবনে হাজার) যেসব ভুল করেছেন তা স্পষ্ট করলেন। তিনি আরও বর্ণনা করলেন যে, আশআরীরা ইমাম বুখারী তাঁর কিতাবের শুরুতে যেসব হাদিস ও আসার (বিবরণ) দ্বারা সূচনা করেছেন তার বিরোধিতা করেছে। তিনি তাদের সাথে বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক করলেন। এটি একটি প্রসিদ্ধ বিষয় যা আল-আহসার অধিবাসী এবং নজদের অধিবাসীরা জানেন। হে ইবনে মনসুর! যদি এটি আপনার কাছে গোপন থাকে অথবা আপনি একে অস্বীকার করেন, তবে তা আশ্চর্যের কিছু নয়; কারণ শত্রু তার শত্রুর শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করেই থাকে।

সকল শত্রুতার ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের আশা করা যায় … কেবল সেই শত্রুতা ব্যতীত যে দ্বীনের ব্যাপারে আপনার সাথে শত্রুতা করে

এরপর আমাদের শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) আল-আহসা থেকে বসরায় ফিরে আসেন এবং সেখান থেকে হজ্জের উদ্দেশ্যে নজদে যান। তিনি হজ্জ সম্পাদন করেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর নিকট যা উন্মোচিত করেছিলেন তা থেকে তাঁর কাছে সেই সব পথভ্রষ্টদের বিভ্রান্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যারা আল্লাহর পরিবর্তে অংশীদার গ্রহণ করেছে এবং প্রতিটি অঞ্চলে ও গ্রামে তাদের ইবাদত করছে—আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত। যখন তিনি হজ্জ সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি মুলতাজামে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন যেন আল্লাহ তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে এই দ্বীনকে প্রকাশ করেন এবং মানুষের মাঝে তাঁকে কবুলিয়াত (গ্রহণযোগ্যতা) দান করেন। এরপর তিনি হাজীদের সাথে মদীনার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন এবং শামে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন। কিন্তু পথিমধ্যে কিছু হাজী-লুটেরা তাঁর সম্মুখীন হলো; তারা তাঁকে মারধর করল, লুণ্ঠন করল, তাঁর সাথে যা ছিল তা ছিনিয়ে নিল এবং তাঁর মাথায় জখম করল। এটি হাজীদের সাথে তাঁর যাত্রাপথে বাধা হয়ে দাঁড়াল। হাজীরা মদীনা থেকে প্রস্থান করার পর তিনি সেখানে পৌঁছালেন এবং সেখানে অবস্থান করলেন। তৎকালীন আলেমদের নিকট তিনি উপস্থিত হলেন, যাদের মধ্যে মুহাম্মদ হায়াত আস-সিন্ধি অন্যতম। তাঁর নিকট থেকে তিনি হাদীসের কিতাবসমূহের ইজাজত গ্রহণ করেন এবং কিছু অংশ পাঠ করেন। সেখানে তিনি কিছু হাম্বলী আলেমকে পেলেন। তিনি ইবনে কায়্যিমের 'কিতাবুল হাদি' নিজ হাতে অনুলিপি করলেন এবং বুখারীর মতন (মূল পাঠ) লিখলেন। তিনি নাহু (ব্যাকরণ) ক্লাসে উপস্থিত হলেন এবং ইবনে মালিকের আলফিয়া মুখস্থ করলেন। অতঃপর তিনি নজদে ফিরে আসলেন। তখন তারা এমন অবস্থায় ছিল যা আল্লাহ পছন্দ করেন না এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট নন; যেমন মৃত ব্যক্তি, গাছপালা, পাথর এবং জিনের ইবাদতের মাধ্যমে শিরক করা। তিনি তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে তাওহীদের দাওয়াত দিতে শুরু করলেন এবং আহ্বান জানালেন যেন ইবাদতের সকল প্রকার কেবল আল্লাহর জন্যই একনিষ্ঠ করা হয়, এবং
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ৮)
وأن يتركوا ما كانوا يعبدونه من قبر أو طاغوت أو شجر أو حجر والناس يتبعه منهم الواحد والاثنان، فصاح به الأكثرون وحذروا منه الملوك وأغروهم بعداوته، حتى إن ابن حميد ملك الإحساء والقطيف والبادية أرسل إلى ابن معمر أمير العيينة أن يقتله أو ينفيه، فنفاه إلى الدرعية وتلقاه محمد بن سعود رحمه الله تعالى وأولاده وإخوته فصبروا على حرب القريب والبعيد حتى أظهر الله هذا الدين فنجا بدعوته من نجاه الله من الشرك والضلال وهلك بدعوته من هلك ممن بغى وطغى واستكبر وحسد وكل من دعا إلى ما دعت إليه الرسل لا بد أن يقع له من الناس ما وقع لهم، والمقصود ذكر نعمة الله تعالى على شيخنا وبيان كذب المفتري، وأنه نشأ في طلب العلم وتخرج على أهله في سن الصبا، ثم رحل لطلب العلم للبصرة مراراً وللإحساء ثم إلى المدينة والمعول على ما وهبه الله تعالى من الفهم والحفظ وتمييز الحق من الباطل ومعرفة حقيقة التوحيد وما ينافيه من الشرك الأكبر وسبيل أهل السنة، ومعرفة ما خالف السنة من البدع أعطاه الله في ذلك علماً عظيماً فصار بذلك يشبه أكابر علماء السنة وما كان عليه السلف الصالح، فصار آية في العلوم ونفع الله بدعوته الخلق الكثير، والجم الغفير، وبقيت علومه في الناس يعرفها العام والخاص من أهل نجد وغيره، وما أنكر هذه الدعوة الإسلامية بعد ظهورها في نجد وما والاه إلا جاهل معاند لا يدري ولا يدري أنه لا يدري، فدحضت بحمد الله حجة كل مجادل ومماحل، فأتم الله نعمته على من قبل هذه الدعوة الإسلامية وقد قال بعض العلماء رحمهم الله الإخلاص سبيل الخلاص، والإسلام مركب السلامة والإيمان خاتم الأمان، فالحمد لله على هذه النعمة العظيمة التي لا نعمة أكبر منها ولا أعظم منها ولا أنفع إذا عرف مما تقدم ما افتراه ابن منصور على شيخنا وأنه صدر عن غير علم

এবং তারা কবর, তাগুত, গাছ অথবা পাথর যা কিছুর ইবাদত করত তা যেন তারা পরিত্যাগ করে। মানুষের মধ্যে কেউ একজন বা দুইজন করে তাঁর অনুসরণ করছিল, ফলে অধিকাংশ লোক তাঁর বিরুদ্ধে শোরগোল শুরু করল, রাজাদেরকে তাঁর ব্যাপারে সতর্ক করল এবং তাঁর সাথে শত্রুতা করতে তাদের প্ররোচিত করল। এমনকি আল-আহসা, কাতিফ ও মরুপালের রাজা ইবনে হুমাইদ উয়াইনার আমীর ইবনে মুয়াম্মারের কাছে সংবাদ পাঠালেন যাতে তিনি তাঁকে হত্যা করেন অথবা নির্বাসিত করেন। অতঃপর তিনি তাঁকে দিরইয়ায় নির্বাসিত করলেন এবং মুহাম্মাদ ইবনে সাউদ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন), তাঁর সন্তান ও ভ্রাতৃবৃন্দ তাঁকে গ্রহণ করলেন। তাঁরা নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সকলের সাথে যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করলেন যতক্ষণ না আল্লাহ এই দ্বীনকে বিজয়ী করলেন। ফলে তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে শিরক ও পথভ্রষ্টতা থেকে সেই নাজাত পেল যাকে আল্লাহ নাজাত দিয়েছেন, আর যারা অবাধ্যতা, সীমালঙ্ঘন, অহংকার ও হিংসা করেছিল তাদের মধ্যে যারা ধ্বংস হওয়ার তারা তাঁর দাওয়াতের কারণেই ধ্বংস হলো। আর রসূলগণ যার দিকে দাওয়াত দিয়েছিলেন যে ব্যক্তিই তার দিকে দাওয়াত দেয়, মানুষের পক্ষ থেকে তাঁর সাথে ঠিক তেমনই আচরণ হওয়া অনিবার্য যা রসূলদের সাথে হয়েছিল। আমাদের উদ্দেশ্য হলো আমাদের শাইখের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করা এবং মিথ্যা অপবাদকারীর মিথ্যাচার স্পষ্ট করা। তিনি জ্ঞান অন্বেষণের মাঝেই বেড়ে উঠেছেন এবং অল্প বয়সেই বিজ্ঞ আলিমদের কাছ থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন। অতঃপর তিনি জ্ঞানার্জনের জন্য বারবার বসরা এবং আল-আহসায় সফর করেন, তারপর মদিনায় যান। তবে মূল ভিত্তি হলো আল্লাহ তাআলা তাঁকে যে প্রজ্ঞা, মুখস্থশক্তি, সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করার ক্ষমতা, তাওহীদের প্রকৃত স্বরূপ ও তাঁর পরিপন্থী বড় শিরক সম্পর্কে জ্ঞান এবং আহলুস সুন্নাহর পথ সম্পর্কে যা দান করেছিলেন। আর সুন্নাহ বিরোধী বিদআতসমূহ চেনার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাঁকে এক মহান জ্ঞান দান করেছিলেন। এর ফলে তিনি আহলুস সুন্নাহর বড় বড় আলেমদের সদৃশ এবং সালাফে সালেহীন যে আদর্শের ওপর ছিলেন তাঁর অনুসারী হয়ে উঠলেন। তিনি জ্ঞানরাজ্যে এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে উঠলেন এবং আল্লাহ তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে অগণিত সৃষ্টি ও বিশাল জনসমষ্টির উপকার সাধন করলেন। নজদ ও এর বাইরের সাধারণ ও বিশিষ্ট সকল মানুষের মধ্যে তাঁর জ্ঞান অবশিষ্ট রয়েছে। নজদ ও তাঁর আশপাশে এই ইসলামী দাওয়াত প্রকাশ পাওয়ার পর কেবল সেই অজ্ঞ হঠকারীই একে অস্বীকার করেছে যে নিজে জানে না এবং জানে না যে সে জানে না। আল্লাহর প্রশংসা যে, এর মাধ্যমে প্রত্যেক ঝগড়াটে ও কূটতর্ককারীর দলিল নস্যাৎ হয়ে গিয়েছে। আর যারা এই ইসলামী দাওয়াত গ্রহণ করেছে তাঁদের ওপর আল্লাহ তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেছেন। জনৈক আলেম (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) বলেছিলেন: একনিষ্ঠতা হলো মুক্তির পথ, ইসলাম হলো নিরাপত্তার বাহন এবং ঈমান হলো নিরাপত্তার সীলমোহর। সুতরাং এই মহান নেয়ামতের জন্য আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা যার চেয়ে বড়, মহান বা অধিক উপকারী আর কোনো নেয়ামত নেই; বিশেষ করে যখন পূর্বোক্ত আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হলো যে, ইবনে মনসুর আমাদের শাইখের প্রতি যা আরোপ করেছেন তা মিথ্যা অপবাদ এবং তা জ্ঞানহীনতা থেকেই প্রকাশ পেয়েছে।

(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ৯)
ولا معرفة بحاله في نشأته وطلبه فينبغي أن نزيد ما تقدم من الانتصار لإمام الدعوة الإسلامية النبوية رحمة الله عليه فنقول ما أدراه عن حال شيخنا رحمه الله تعالى وقد تقدم ما يدل على أنه لا دراية له ولا عناية بحاله يعرف ذلك مما قدمناه.

ومن المعلوم أنه لا يعتني بمعرفة حال مثله إلا من حبه وأحب ما قام به ودعا إليه، وأما من انحرف عنه وعن دعوته في مبدأ نشأته وتوجه برحلته إلى من اشتدت عداوته له في دينه، كابن سند وابن سلوم وابن جديد، فهؤلاء الثلاثة المذكورون قد أشربوا عداوة التوحيد ومن دعا إليه، فصار أهل التوحيد هم أعداؤهم بما اشربوه من كراهته وكراهة من دان به، فأخذ عنهم ما وضعه في كتبه من الزور والكذب والفجور، وانتصر فيها لعباد القبور، وزعم أنهم مسلمون لأنهم يقولون لا إله إلا الله ويصلون والعدو لا يرى محاسن عدوه خصوصاً إذا عاداه في الدين، وصاروا أعداء لكل موحد ونصرة لكل مشرك ملحد، فأخذ عنهم هذه البضاعة وامتنع على إمام المسلمين بما أودعه كتبه من الشناعة ولا ريب أن شره إنما يعود إليه، ويرجع وبال ذلك كله عليه، والمقصود أن يعلم أن هؤلاء الثلاثة هم أشياخه الذين تخرج عليهم بالانحراف عن الدين وتضليل الموحدين، ولولا أنه شحن كتبه بذلك لما ذكرناه، فهذا هو المحصول الذي حصله والأساس الذي أسسه وأصله، فقدم نجداً بعد طول المقام عند أولئك الملحدين المنحرفين عن الدين، فصار حظه جمع الكتب من غير رواية لها ولا دراية ولم يُر للعلم عليه أثر مع أن هؤلاء مع ما فيهم من العداوة صاروا أعقل منه، فلم يكتبوا شيئاً من هذه الأكاذيب والزندقة والتخليطات الفاسدة، وهذا لقلة عقله وفساد قصده جرى منه ما جرى، وبالجملة فقد قال العلامة ابن القيم رحمه الله تعالى: فالحاسد يحمله بغض المحسود على مماداته والسعي في أذاه بكل ممكن مع علم
তাঁর বেড়ে ওঠা এবং জ্ঞান অন্বেষণের অবস্থা সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান নেই। সুতরাং নবুওয়াতী দাওয়াতের ইমাম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর সমর্থনে পূর্বে যা আলোচনা করা হয়েছে, তার সাথে আমাদের আরও কিছু যোগ করা উচিত। আমরা বলি: আমাদের শাইখ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর অবস্থা সম্পর্কে সে কী-ই বা জানে? ইতিপূর্বে এমন প্রমাণ উপস্থাপিত হয়েছে যা নির্দেশ করে যে, তাঁর অবস্থা সম্পর্কে তার কোনো ধারণা বা ভ্রূক্ষেপ নেই; আমাদের পূর্বালোচিত বিষয়সমূহ থেকে তা সুস্পষ্ট হয়।

এটি সর্বজনবিদিত যে, তাঁর মতো ব্যক্তির অবস্থা জানার ব্যাপারে সেই ব্যক্তিই যত্নশীল হয় যে তাঁকে ভালোবাসে এবং তিনি যা প্রতিষ্ঠা করেছেন ও যার দিকে আহ্বান জানিয়েছেন তাকে পছন্দ করে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি তাঁর এবং তাঁর দাওয়াতের সূচনালগ্ন থেকেই বিচ্যুত হয়েছে এবং তার সফরের লক্ষ্য ছিল তাদের দিকে যাদের দ্বীনি শত্রুতা ছিল অত্যন্ত তীব্র—যেমন ইবনে সানাদ, ইবনে সাল্লুম এবং ইবনে জাদীদ—তবে উল্লিখিত এই তিনজন তাওহীদ এবং এর আহ্বানকারীদের চরম শত্রুতা অন্তরে লালন করত। ফলে তাওহীদের প্রতি এবং এর অনুসারীদের প্রতি ঘৃণার কারণে তাওহীদপন্থীরাই তাদের শত্রুতে পরিণত হলো। সে তাদের কাছ থেকেই সেসব মিথ্যা, অপবাদ এবং পাপাচার গ্রহণ করেছে যা সে তার কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করেছে। সেখানে সে কবর পূজারীদের পক্ষালম্বন করেছে এবং দাবি করেছে যে তারা মুসলিম, কারণ তারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে এবং সালাত আদায় করে। অথচ শত্রু কখনো তার শত্রুর গুণাবলি দেখতে পায় না, বিশেষ করে যখন সেই শত্রুতা হয় দ্বীনের ক্ষেত্রে। তারা প্রত্যেক মুওয়াহ্হিদের শত্রু এবং প্রত্যেক নাস্তিক-মুশরিকের সাহায্যে পরিণত হলো। সে তাদের নিকট থেকেই এই অসার জ্ঞান গ্রহণ করেছে এবং মুসলিমদের ইমামের বিরুদ্ধে তার কিতাবসমূহে জঘন্য সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তার অনিষ্ট তার দিকেই ফিরে আসবে এবং এর সমস্ত কুফল তারই ওপর বর্তাবে। উদ্দেশ্য হলো এটি জানানো যে, এই তিনজনই হলো তার সেই শাইখ যাদের কাছে সে দ্বীন থেকে বিচ্যুত হওয়া এবং মুওয়াহ্াহিদদের পথভ্রষ্ট করার পাঠ গ্রহণ করেছে। সে যদি তার কিতাবসমূহকে এসব দিয়ে পূর্ণ না করত, তবে আমরা তার কথা উল্লেখ করতাম না। এটিই হলো তার অর্জিত ফসল এবং তার স্থাপিত ভিত্তি ও মূলনীতি। দীর্ঘকাল সেই সব দ্বীনচ্যুত নাস্তিকদের সান্নিধ্যে থাকার পর সে নজদে আগমন করে। কিতাব সংগ্রহ করাই তার ভাগ্যে জুটেছে, সেগুলোর বর্ণনা বা বুঝ তার ভাগ্যে জোটেনি। তার ওপর ইলমের কোনো প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি, যদিও সেই ব্যক্তিরা চরম শত্রুতা সত্ত্বেও তার চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান ছিল। তারা এই সব মিথ্যাচার, যিন্দিকী এবং ফাসাদপূর্ণ সংমিশ্রণ নিয়ে কিছু লেখেনি। তার বুদ্ধিহীনতা এবং অসৎ উদ্দেশ্যের কারণেই যা ঘটার তা ঘটেছে। সংক্ষেপে, আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: হিংসুক ব্যক্তি যাকে হিংসা করে তার প্রতি বিদ্বেষবশত তার বিরোধিতা করতে এবং সর্বতোভাবে তাকে কষ্ট দিতে প্ররোচিত হয়, যদিও সে জানে...
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১০)
بفضله وعلمه وأنه لا شيء فيه يوجب عداوته إلا محاسنه وفضائله، وهذا قيل للحاسد عدو النعم والمكارم، فالحاسد لم يحمله على معادات المحسود جهله بفضله أو كماله، وإنما حمله على ذلك فساد قصده وإرادته كما هي حال أعداء الرسل مع الرسل انتهى.

وقال العماد بن كثير في تفسيره قال تعالى: {وَنُقَلِّبُ أَفْئِدَتَهُمْ وَأَبْصَارَهُمْ كَمَا لَمْ يُؤْمِنُوا بِهِ أَوَّلَ مَرَّةٍ} ، والآيات في هذا المعنى كثيرة دالة على أن الله عز وجل يجازي من قصد الخير بالتوفيق له ومن قصد الشر بالخذلان، وكل ذلك بقدر مقدر، ونسأل الله الكريم رب العرش العظيم بكلماته وبيناته التي أنزلها على نبيه محمد صلى الله عليه وسلم لهداية عباده أن يجعل ما كتبناه في هذا وغيره نصرة لهذا الدين الذي أكرم به عباده المؤمنين، وأن لا يجعله انتصاراً لأنفسنا ولا لسلفنا إنه ولي ذلك والقادر عليه، ونسأله العفو والعافية في الدنيا والآخرة، وحسبنا الله ونعم الوكيل وصلى الله على سيد المرسلين وإمام المتقين وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

وقد أخبرنا شيخنا رحمه الله تعالى أنه كان في ابتداء طلبه للعلم وتحصيله في فن الفقه وغيره لم يتبين له الضلال الذي كان الناس عليه من عبادة غير الله من جن أو غائب أو طاغوت أو شجر أو حجر أو غير ذلك. ثم إن الله جعل له نهمة في مطالعة كتب التفسير والحديث وتبين له من معاني الآيات المحكمات والأحاديث الصحيحة أن هذا الذي وقع فيه الناس من هذا الشرك أنه الشرك الذي بعث الله رسله وأنزل كتبه بالنهي عنه، وأنه الشرك الذي لا يغفره الله لمن لم يتب منه، فبحث في هذا الأمر مع أهله وغيرهم من طلبة العلم فاستنار قلبه بتوحيد الله الذي أرسل به رسله وأنزل به كتبه فأعلم بالدعوة إليه، وبذل نفسه لذلك على كثرة المخالفين، وصبر على ما ناله من الأذى العظيم في ابتداء دعوته، فلما اشتهر أمره أجلبوا عليه بالعداوة
তাঁর অনুগ্রহ ও জ্ঞানের কারণে, এবং তাঁর মাঝে এমন কিছু নেই যা তাঁর প্রতি শত্রুতা অপরিহার্য করে, কেবল তাঁর সৌন্দর্য ও গুণাবলী ব্যতীত। আর এটিই হিংসুক সম্পর্কে বলা হয়েছে যে সে নেয়ামত ও মহত্ত্বের শত্রু। কারণ, হিংসুককে তার শ্রেষ্ঠত্ব বা পূর্ণতা সম্পর্কে অজ্ঞতা হিংসিত ব্যক্তির প্রতি শত্রুতায় প্ররোচিত করেনি; বরং তার অসৎ উদ্দেশ্য ও ইচ্ছা তাকে এই পথে পরিচালিত করেছে, যেমনটি ছিল রাসূলদের শত্রুদের অবস্থা তাঁদের সাথে। সমাপ্ত।

ইমাদ ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে বলেছেন, মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি তাদের অন্তর ও দৃষ্টিসমূহকে উল্টে দেব, যেমন তারা এতে প্রথমবার ঈমান আনেনি।" এই অর্থের বহু আয়াত রয়েছে যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তিকে তাওফীক দিয়ে প্রতিদান দেন যে কল্যাণের ইচ্ছা করে, আর যে মন্দের ইচ্ছা করে তাকে লাঞ্ছিত ও সহায়হীন করে দেন। এই সব কিছু নির্ধারিত তাকদীর অনুযায়ী হয়। আমরা মহান আরশের রব সম্মানিত আল্লাহর কাছে তাঁর সেই কালিমা ও নিদর্শনসমূহের মাধ্যমে যা তিনি তাঁর বান্দাদের হিদায়াতের জন্য তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ করেছেন প্রার্থনা করি, যেন তিনি এই গ্রন্থ বা অন্যান্য লেখায় যা লিখেছি তাকে সেই দ্বীনের সাহায্য হিসেবে কবুল করেন যার মাধ্যমে তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের সম্মানিত করেছেন। আর তিনি যেন একে আমাদের নিজেদের জন্য বা আমাদের পূর্বসূরিদের জন্য বিজয় হিসেবে না বানান। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সক্ষম। আমরা তাঁর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আর দরূদ ও অনেক সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের নেতা এবং মুত্তাকীদের ইমামের ওপর এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সকল সহচরদের ওপর।

আমাদের শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের জানিয়েছেন যে, তাঁর জ্ঞান অর্জন এবং ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্র শিক্ষার শুরুতে তিনি মানুষের বিভ্রান্তি সম্পর্কে স্পষ্ট অবগত ছিলেন না—যেমন জিন, অনুপস্থিত কোনো সত্তা, তাগুত, গাছ বা পাথর কিংবা অন্য কিছুর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদতে শিরক করা। এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর অন্তরে তাফসীর ও হাদীসের কিতাবসমূহ অধ্যয়নের প্রবল আগ্রহ সৃষ্টি করে দিলেন। তখন তাঁর কাছে মুহকাম (সুস্পষ্ট) আয়াত ও সহীহ হাদীসসমূহের অর্থ থেকে এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে, মানুষ যে শিরকে লিপ্ত রয়েছে, এটি সেই শিরক যা থেকে নিষেধ করার জন্যই আল্লাহ তাঁর রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। আর এটি সেই শিরক যা থেকে তাওবা না করলে আল্লাহ তা ক্ষমা করেন না। অতঃপর তিনি এই বিষয়টি নিয়ে তাঁর পরিবার এবং অন্যান্য জ্ঞান অন্বেষণকারীদের সাথে আলোচনা করেন। ফলে আল্লাহর তাওহীদের মাধ্যমে তাঁর অন্তর আলোকিত হয়ে যায়, যা নিয়ে তিনি তাঁর রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। এরপর তিনি এর দিকে আহ্বানের বিষয়ে জানান এবং বিরোধীদের সংখ্যাধিক্য সত্ত্বেও সে কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেন। তাঁর দাওয়াতের শুরুতে তিনি যে চরম কষ্ট পেয়েছিলেন তাতে ধৈর্য ধারণ করেন। কিন্তু যখন তাঁর বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেল, তখন তারা তাঁর প্রতি শত্রুতায় লিপ্ত হলো।
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১১)
خصوصاً العلماء والرؤساء وحرصوا على قتله، فأتاح الله له من ينصره على قلة منهم وحاجة وتصدى لحربهم القريب والبعيد، واستجلبوا على حربهم الدول، ونذكر بعض ما جرى عليهم ممن عاداهم وتأييد الله لهم ونصره على قلة منهم وضعف وقوة من عدوهم وكثرة لما فيه من العبرة والشهادة لهم أنهم على الحق، وعدوهم على الباطل، فأخذت من حفظ بعض الوقائع التي جرت عليهم من عدوهم في الدين وفيها شبه بما جرى لنبينا صلى الله عليه وسلم من عدوه ونصر الله له فأقول.
বিশেষত আলেম ও নেতৃবৃন্দ, তারা তাকে হত্যার ব্যাপারে অত্যন্ত সংকল্পবদ্ধ ছিল। অতঃপর আল্লাহ তার জন্য এমন কিছু সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দিলেন যারা সংখ্যায় অল্প ও অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাকে সাহায্য করেছিলেন। নিকট ও দূরের শত্রুগণ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলো এবং তারা এই যুদ্ধে বিভিন্ন রাষ্ট্রকে শামিল করল। যারা তাদের সাথে শত্রুতা করেছিল তাদের পক্ষ থেকে তাদের ওপর যা কিছু অতিবাহিত হয়েছে এবং তাদের সংখ্যাস্বল্পতা ও দুর্বলতা সত্ত্বেও তাদের শত্রুদের শক্তি ও আধিক্য থাকা অবস্থায় আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি সমর্থন ও সাহায্যের কিছু বিবরণ আমরা উল্লেখ করব। কারণ এতে রয়েছে শিক্ষা এবং তাদের সত্যপন্থী হওয়ার ও তাদের শত্রুদের ভ্রান্ত হওয়ার এক মহান সাক্ষ্য। তাই দ্বীনের ব্যাপারে তাদের শত্রুদের পক্ষ থেকে তাদের ওপর ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা আমি আমার স্মৃতি থেকে গ্রহণ করেছি, যেগুলোর সাথে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তার শত্রুদের আচরণ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে প্রদত্ত সাহায্যের সাদৃশ্য রয়েছে। সুতরাং আমি বলছি।
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المقام الأول:

أن شيخنا شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله تعالى لما ألهمه الله رشده وفتح بصيرته في تمييز الحق من الضلال وأنكر ما عليه الناس من الشرك فبادروه بالعداوة والإنكار لمخالفتهم ما قد اعتادوه ونشؤا عليه هم وأسلافهم من الشرك والبدع وأعظم من عاداه ونفر الناس عن دعوته العلماء والرؤساء كما قال تعالى: {فَلَمَّا جَاءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَرِحُوا بِمَا عِنْدَهُمْ مِنَ الْعِلْمِ وَحَاقَ بِهِمْ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ} وفيه مشابهة لنبينا صلى الله عليه وسلم فيما ناله من الرؤساء والأحبار في الابتداء، فإن شيخنا رحمه الله تعالى أظهر هذه الدعوة في بلد العيينة وهي في أعلا وادي حنيفة فاستحسن دعوته من استحسنها وقبلها من قبلها وأنكرها من أنكرها، ثم إن أهل الإحساء لما استصرخوا شيخهم سليمان المحمد شيخ بني خالد أرسل إلى ابن معمر شيخ العيينة بأن يقتله فهاجر إلى الدرعية بلد محمد بن سعود فتلقاه هو وأولاده بالقبول وتابعهم على ذلك أكثر أهل بلده وقبيلته على قلة منهم وضعف كما قدمناه، فصبروا على مخالفة الناس والملوك ممن حولهم، والبعيد عنهم وكذلك الإيمان حين تخالط بشاشته القلوب، ولهذا تحمل هذا
প্রথম পরিচ্ছেদ:

আমাদের শায়খ, শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)-কে যখন আল্লাহ সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দান করলেন এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য তাঁর অন্তর্দৃষ্টি উন্মোচন করে দিলেন, তখন তিনি মানুষের মাঝে প্রচলিত শিরকের প্রতিবাদ করলেন। ফলে তারা তাঁর সাথে শত্রুতা ও অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে লিপ্ত হলো; কারণ তিনি সেই শিরক ও বিদআতের বিরোধিতা করেছিলেন যা তারা এবং তাদের পূর্বপুরুষরা যুগ যুগ ধরে লালন করে আসছিল এবং যার ওপর তারা বেড়ে উঠেছিল। তাঁর সাথে চরম শত্রুতা পোষণকারী এবং তাঁর দাওয়াত থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রধান ছিলেন তৎকালীন আলেম সমাজ ও নেতৃবৃন্দ, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর তাদের কাছে যখন তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আসল, তখন তাদের কাছে যে জ্ঞান ছিল তারা তা নিয়েই আনন্দিত হয়ে রইল এবং তারা যা নিয়ে উপহাস করত তাই তাদেরকে পরিবেষ্টন করল।" এর মধ্যে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এক প্রকার সাদৃশ্য রয়েছে, ইসলামের শুরুর দিকে তিনি নেতৃবৃন্দ ও ধর্মযাজকদের পক্ষ থেকে যে ধরণের আচরণের সম্মুখীন হয়েছিলেন। আমাদের শায়খ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) এই দাওয়াত উয়াইনা নামক জনপদে প্রকাশ করেন, যা ওয়াদি হানিফার উচ্চতম অংশে অবস্থিত। তখন যাদের কাছে এই দাওয়াত ভালো লেগেছে তারা তা গ্রহণ করেছে, আর যারা অস্বীকার করার তারা তা অস্বীকার করেছে। অতঃপর আহসার অধিবাসীরা যখন বনু খালিদ গোত্রের প্রধান শায়খ সুলাইমান আল-মুহাম্মদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করল, তখন সে উয়াইনার শাসক ইবনে মুয়াম্মারের কাছে তাঁকে (শায়খকে) হত্যা করার ফরমান পাঠাল। তখন তিনি দিরঈয়াহ-তে হিজরত করেন, যা ছিল মুহাম্মদ বিন সাউদের শহর। তিনি এবং তাঁর সন্তানরা শায়খকে সাদরে গ্রহণ করেন এবং তাদের সাথে সেই শহরের ও গোত্রের অধিকাংশ মানুষ তাঁর অনুসারী হয়, যদিও তাদের সংখ্যা ছিল অল্প এবং তারা ছিল দুর্বল, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। তারা তাদের চারপাশের এবং দূর-দূরান্তের মানুষ ও রাজন্যবর্গের বিরোধিতার মুখে ধৈর্য ধারণ করলেন। আর ঈমানের মাধুর্য যখন অন্তরের গভীরে মিশে যায়, তখন এমনই হয়; এই কারণেই তারা এসব প্রতিকূলতা সহ্য করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১২)
الرجل وأتباعه عداوة كل من عادى هذا الدين قال تعالى: {يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ} ، وقد قال هرقل لأبي سفيان: وسألتك هل يرتد أحد منهم سخطة لدينه فذكرت أن لا، فكذلك الإيمان حين تخالط بشاشته القلوب فأشبه أمر هذا الشيخ رحمه الله تعالى ما جرى لخاتم النبيين حتى في مهاجره وأنصاره وكثرة من عاداه وناواه في الابتداء، كما هو حال الحق في المبادي يرده الكثير وينكرونه ويقبله القليل وينصرونه، فأول من عاداهم أقرب الناس إليهم بلداً وأقواه كثرة ومالا بلاد دهام بن دواس، وهو أول من شن الغارة عليهم على غفلة وغرة وعدم الاحتساب منهم فخرجوا إليه على عجل فقتل منهم رجالاً منهم فيصل ابن محمد بن سعود وسعود بن محمد بن سعود، فسبحان من قوى جأش هذا الرجل على نصرة هذا الدين حين قتل ابناه ثم سطى عليهم مرة ثانية فقتل كثير ممن سطى بهم فأخذ المسلمون الثأر منهم، ثم بعد ذلك استمر الحرب بينهم وبينه أكثر من ثلاثين سنة وفي تلك الثلاثين سنة أو أكثر أعانه على حربهم أهل نجران وبن حميد شيخ بني خالد مرارا فيأتونهم بأنواع الكيد والكثرة فينصرهم الله عليهم، وفي ذلك أعظم عبرة، وبعد هذه المدة وقع بينه وبين المسلمين وقعة بين البلدين فقتل فيها أبناه دواس وسعدون فانتهى أمره فخرج من بلده هاربا في يوم صيف شديد الحر وتبعه من تبعه، فصارت بلده فيئاً للمسلمين ولم يبق لآل دواس بعد ذلك عين تطرف، {فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَارِ} .

এই ব্যক্তি এবং তাঁর অনুসারীরা এই দ্বীনের শত্রুতাকারী প্রত্যেকের শত্রুতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তিনি যাকে চান তাকে তাঁর অনুগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট করেন এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।" হেরাক্লিয়াস আবু সুফিয়ানকে বলেছিলেন: "আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে তাদের মধ্যে কেউ কি তাঁর দ্বীনের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে ধর্মত্যাগ করে কি না, আপনি উত্তরে 'না' বলেছিলেন; ঈমান যখন অন্তরের প্রশান্তির সাথে মিশে যায়, তখন বিষয়টি এমনই হয়।" অতএব এই শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বিষয়টি শেষ নবীর সাথে যা ঘটেছিল তার সদৃশ হয়ে দাঁড়িয়েছে; এমনকি হিজরত, আনসার এবং শুরুতে তাঁর বিরোধিতা ও শত্রুতা পোষণকারীদের আধিক্যের ক্ষেত্রেও। যেভাবে সত্যের শুরুর দিকে অবস্থা হয়—অনেকেই তা প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকার করে এবং অল্প কিছু লোক তা গ্রহণ করে ও সাহায্য করে। সুতরাং তাদের সাথে যারা প্রথম শত্রুতা করেছিল তারা ছিল ভূখণ্ডের দিক থেকে তাদের নিকটতম প্রতিবেশী এবং জনবল ও সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী—অর্থাৎ দাহাম বিন দাওওয়াসের এলাকা। আর সে-ই ছিল প্রথম ব্যক্তি যে তাদের ওপর অতর্কিতে, অসতর্ক অবস্থায় এবং কোনো প্রস্তুতি না থাকাকালীন হামলা চালিয়েছিল। ফলে তারা তাড়াহুড়ো করে তাঁর বিরুদ্ধে বেরিয়ে পড়ে এবং তাদের মধ্য থেকে বেশ কিছু ব্যক্তি নিহত হন, যাদের মধ্যে ফয়সাল বিন মুহাম্মাদ বিন সাউদ এবং সাউদ বিন মুহাম্মাদ বিন সাউদ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সেই সত্তা অত্যন্ত পবিত্র, যিনি এই দ্বীনকে সাহায্য করার জন্য এই ব্যক্তির মনোবলকে সুদৃঢ় করেছিলেন যখন তাঁর দুই পুত্র নিহত হয়েছিলেন। এরপর সে দ্বিতীয়বার তাদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং যাদের ওপর আক্রমণ করেছিল তাদের অনেককেই হত্যা করে; অতঃপর মুসলিমরা তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন। এরপর তাদের ও তার মধ্যে ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ অব্যাহত থাকে। সেই ত্রিশ বা তারও বেশি বছরে নাজরানবাসী এবং বনী খালিদের শায়খ ইবনে হুমাইদ বারবার তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাকে সহায়তা করেছিল। তারা বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র ও বিশাল বাহিনী নিয়ে তাদের কাছে আসত, কিন্তু আল্লাহ তাদের ওপর বিজয় দান করতেন; আর এর মধ্যে রয়েছে এক মহান শিক্ষা। এই দীর্ঘ সময়ের পর, তার ও মুসলিমদের মধ্যে দুই ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী স্থানে এক যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যাতে তার দুই পুত্র দাওওয়াস এবং সাদুন নিহত হয়। ফলে তার আধিপত্য শেষ হয়ে যায় এবং সে এক প্রচণ্ড উত্তপ্ত গ্রীষ্মের দিনে এলাকা ছেড়ে পলায়ন করে এবং যারা তার অনুসারী ছিল তারাও তার পিছু নেয়। এভাবে তার এলাকা মুসলিমদের জন্য 'ফাই' (লব্ধ সম্পদ) হিসেবে গণ্য হয় এবং এরপর দাওওয়াস বংশের আর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট রইল না। "অতএব হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ! তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।"

(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌المقام الثاني:

ما في دعوة هذا الشيخ ابتداء من المشابهة لما جرى للنبي صلى الله عليه وسلم في أول دعوته قريشاً والعرب إلى التوحيد والإيمان بالقرآن، وقد قال صلى الله عليه وسلم: "بدأ الإسلام غريبا وسيعود غريباً كما بدا"، وفي حديث عمرو بن عبسة الذي رواه
দ্বিতীয় প্রসঙ্গ:

এই শাইখের দাওয়াতের সূচনালগ্নে কুরাইশ ও আরবদের তাওহীদ ও কুরআনের প্রতি ঈমানের দিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রাথমিক দাওয়াতের যে সাদৃশ্যতা রয়েছে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "ইসলাম অপরিচিত অবস্থায় শুরু হয়েছে এবং অচিরেই তা পুনরায় সূচনাকালের ন্যায় অপরিচিত হয়ে পড়বে।" আর আমর ইবনে আবাসা রাযিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে যা রয়েছে—
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১৩)
مسلم وغيره: "أنه قدم مكة، فاجتمع بالنبي صلى الله عليه وسلم في أول بعثته فأخبره أن الله بعثه بأن يعبد الله وحده ولا يشرك به شيء، وغير ذلك مما هو مذكور في الحديث من نفي عبادة الأوثان والأمر بمكارم الأخلاق، فقال له عمرو: من معك على هذا؟ قال: حر وعبد ومعه يومئذ أبو بكر وبلال، فما زال الحق يزيد بزيادة من قبله ودخل فيه حتى أكمل الله لهذه الأمة الدين وأتم عليهم النعمة، وقد قال هرقل لأبي سفيان لما سأله عن أتباع النبي صلى الله عليه وسلم: أيزيدون أم ينقصون؟ قال: بل يزيدون، قال هرقل: وكذلك أتباع الرسول، وبهذه المشابهة يتحقق المنصف أن هذا الدين الذي دعا إليه هو الحق، وأنه هو الذي دعا إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم كما دلت عليه الآيات المحكمات التي لا يخفى معناها إلا على من عميت بصيرته وفسدت سريرته، فتأمل حماية الله ونصره لمن قبل هذه الدعوة ونصرها على ضعف منهم في الحال وقلة من العدد والرجال مع كثرة من خالفهم من قريب وبعيد وكثير وقليل مع الكيد الشديد، فأبطل الله كيدهم وصارت الغلبة للحق وأهله ومحق الله الباطل وأهله.
মুসলিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন: "তিনি মক্কায় আসলেন এবং নবুওয়াতের শুরুর দিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। অতঃপর নবী তাঁকে সংবাদ দিলেন যে, আল্লাহ তাঁকে এই উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছেন যেন কেবলমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা হয় এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করা হয়। এছাড়া হাদীসে মূর্তিপূজা বর্জন এবং উত্তম চরিত্রের নির্দেশনার যে বিষয়গুলো উল্লিখিত হয়েছে তাও তিনি ব্যক্ত করলেন। তখন আমর তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: 'এই পথে আপনার সাথে আর কে আছে?' তিনি বললেন: 'একজন স্বাধীন মানুষ এবং একজন ক্রীতদাস।' সেদিন তাঁর সাথে ছিলেন আবু বকর ও বিলাল। অতঃপর যারা এই দাওয়াত গ্রহণ করে এতে দাখিল হয়েছেন, তাদের মাধ্যমে সত্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে, যতক্ষণ না আল্লাহ এই উম্মতের জন্য দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলেন এবং তাদের ওপর তাঁর নেয়ামত সমাপ্ত করলেন। আর হিরাক্লিয়াস যখন আবু সুফিয়ানকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসারীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন: 'তারা কি সংখ্যায় বাড়ছে না কমছে?' তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: 'বরং তারা বাড়ছে।' তখন হিরাক্লিয়াস বলেছিলেন: 'রাসূলগণের অনুসারীরা এমনই হয়ে থাকে।' এই সাদৃশ্যের মাধ্যমেই একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি নিশ্চিত হতে পারেন যে, তিনি (রাসূল) যে দ্বীনের দিকে দাওয়াত দিয়েছেন তা-ই সত্য এবং তিনিই সেই সত্তা যাঁর দিকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহ্বান জানিয়েছেন। যেমনটি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ দ্বারা প্রমাণিত, যার অর্থ কেবল তাদের কাছেই অস্পষ্ট থাকে যাদের অন্তর্দৃষ্টি অন্ধ হয়ে গেছে এবং যাদের অন্তর কলুষিত হয়ে গেছে। সুতরাং যারা এই দাওয়াত কবুল করেছে এবং একে সাহায্য করেছে, তাদের প্রতি আল্লাহর সুরক্ষা ও সাহায্যের বিষয়টি চিন্তা করে দেখুন; তৎকালে তাদের দুর্বলতা এবং সংখ্যা ও জনবলের স্বল্পতা সত্ত্বেও আল্লাহ তাদের সাহায্য করেছেন। অথচ তাদের বিপরীতে নিকট ও দূরের অসংখ্য শত্রু ছিল এবং তাদের পক্ষ থেকে ছিল তীব্র ষড়যন্ত্র। কিন্তু আল্লাহ তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিলেন এবং বিজয় সত্য ও সত্যপন্থীদের হস্তগত হলো, আর আল্লাহ বাতিল ও বাতিলপন্থীদের নিশ্চিহ্ন করে দিলেন।"
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المقام الثالث:

وفيه حجة أيضاًَ ومعتبر ودليل على صحة هذا الدين ومدكر لمن عقل وافتكر، وذلك أن الذين أنكروا هذه الدعوة من الدول الكبار والشيوع وأتباعهم من أهل القرى والأمصار أجلبوا على عداوة هذا العدد القليل في حال تخلف الأسباب عنهم وفقرهم فرموهم عن قوس العداوة من أهل نجد دهام بن دواس المتقدم وابن زامل وآل بجاد أهل الخرج، ومحمد بن راشد راعي الحوطة وتركي الهزاني وزيد ومن والاهم من الأعراب والبوادي، كذلك العنقري في الوشم ومن تبعه وشيوخ قرى سدير والقصيم وبوادي نجد وابن حميد ملك الإحساء ومن تبعه من حاضر وباد، وكلهم تجمعوا لحرب
তৃতীয় পরিচ্ছেদ:

এর মধ্যেও হুজ্জাত (প্রমাণ), শিক্ষণীয় বিষয় এবং এই দ্বীনের সত্যতার দলিল রয়েছে এবং এটি সেই ব্যক্তির জন্য উপদেশ যে বিবেক খাটায় ও চিন্তা-ভাবনা করে। আর তা এই যে, বড় বড় রাষ্ট্র ও গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে যারা এই দাওয়াতকে অস্বীকার করেছিল এবং গ্রাম ও নগরের অধিবাসীদের মধ্য থেকে তাদের অনুসারীরা, তারা এই স্বল্প সংখ্যক লোকের শত্রুতার উপর দলবদ্ধ হয়েছিল এমন এক অবস্থায় যখন তাদের নিকট পার্থিব উপায়-উপকরণের অভাব ছিল এবং তারা ছিল অভাবগ্রস্ত। অতঃপর নজদবাসীদের মধ্যে পূর্বোল্লিখিত দাহাম বিন দাওয়াস, ইবনে যামিল, আল-খারজের আলে বাজ্জাদ, আল-হাওতার শাসক মুহাম্মদ বিন রাশিদ, তুর্কি আল-হাযযানি, যায়েদ এবং তাদের অনুসারী মরুচারী ও বেদুঈনরা শত্রুতার ধনুক থেকে তাদের লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করেছিল (অর্থাৎ চরম শত্রুতা পোষণ করেছিল)। একইভাবে আল-ওয়াশমের আল-আনকারি ও তার অনুসারীরা, সুদাইর ও আল-কাসিমের গ্রামগুলোর নেতৃবৃন্দ, নজদের মরুচারীরা এবং আল-আহসার অধিপতি ইবনে হুমাইদ ও তার সাথে থাকা স্থায়ী ও যাযাবর অনুসারীরা—তারা সবাই যুদ্ধের জন্য সমবেত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১৪)
المسلمين مرارا عديدة مع عريعر وأولاده منها نزولهم على الدرعية وهي شعاب لا يمكن تحصينها بالأبواب والبناء، وقد أشار إلى ذلك العلامة حسين بن غنام رحمه الله حيث يقوله:

وجاؤا بأسباب من الكيد مزعج، مدافعهم يزجي الوحوش رنينها، فنزلوا البلاد واجتمع من اجتمع من أهل نجد حتى من يدعي أنه من العلماء، ولما قيل لرجل منهم وهو من أمثل علمائهم وعقلائهم كيف أشكل عليكم أمر عريعر وفساده وظلمه، وأنتم تعينونه وتقاتلون معه، فقال: لو أن الذي حاربكم إبليس كنا معه، والمقصود أن الله تعالى رد لهم بغيضهم لم ينالوا خيرا، وحمى الله تلك القرية فلم يشربوا من آبارها وأما وزير العراق فمشى مراراً عديدة بما يقدر عليه من الجنود والكيد الشديد وأجرى الله تعالى عليهم من الذل ما لا يخطر ببال قبل أن يقع بهم ما وقع من ذلك أن ثويني في مرة من المرار مشى بجنوده إلى الإحساء بعدما دخل أهلها في الإسلام في حال حداثتهم بالشرك والإضلال، فلما قرب من تلك البلاد أتاه رجل مسكين لا يعرف من غير ممالات أحد من المسلمين فقتله فمات فنصر الله هذا الدين برجل لا يعرف، وذلك مما به يعتبر فانفلت تلك الجنود وتركوا ما معهم من المواشي والأموال خوفاً من المسلمين ورعباً فغنمها من حضر، وقد قال الشيخ حسين بن غنام في ذلك.

تقاسمتم الإحساء قبل منالهاه … فللروم شطر والبوادي لها شطر

ثم جددوا أسباباً لحرب المسلمين، وساروا بدول عظيمة يتبع بعضها بعضها وكيد عظيم فنزولوا الإحساء وقائدهم علي كيخيا فتحصن من ثبت على دينه في الكوت وثغر صاهود فنزل بهم وصار يضربهم بالمدافع والقنابل وصفر اللغوب، فأعجزه الله ومن معه ممن ارتد عن الإسلام فولى مدبرا
মুসলমানদের সাথে উরিআর এবং তার সন্তানদের অনেকবার যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছিল দিরইয়াহ আক্রমণ, যা ছিল এমন এক পাহাড়ি উপত্যকা যা দরজা বা ইমারত দিয়ে সুরক্ষিত করা সম্ভব ছিল না। আল্লামা হুসাইন ইবনে গাননাম (রহ.) এই বিষয়ে ইশারা করে বলেছেন:

তারা ষড়যন্ত্রের উদ্বেগজনক উপকরণ নিয়ে উপস্থিত হলো, তাদের কামানের গর্জন বন্যপশুদেরও তাড়িয়ে দিচ্ছিল। তারা এই জনপদে অবতরণ করল এবং নাজদ অঞ্চলের যারা একত্রিত হওয়ার তারা একত্রিত হলো, এমনকি তাদের মধ্যে এমন কিছু লোকও ছিল যারা নিজেদের আলেম বলে দাবি করত। যখন তাদের মধ্য থেকে একজন শ্রেষ্ঠ আলেম ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হলো, "উরিআরের কর্মপন্থা, তার বিপর্যয় ও তার জুলুমের বিষয়টি কি আপনাদের কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেল যে আপনারা তাকে সাহায্য করছেন এবং তার পক্ষে লড়ছেন?" তখন সে বলল: "তোমাদের সাথে যুদ্ধকারী যদি ইবলিসও হতো, তবে আমরা তার সাথেই থাকতাম।" মূল কথা হলো, আল্লাহ তাআলা তাদের বিদ্বেষ ও ক্রোধ তাদের দিকেই ফিরিয়ে দিলেন, তারা কোনো কল্যাণ লাভ করতে পারল না। আল্লাহ সেই জনপদকে রক্ষা করলেন, ফলে তারা সেখানকার কূপের পানিও পান করতে পারেনি। আর ইরাকের উজির বারবার তার সাধ্যমতো সৈন্যবাহিনী ও প্রবল ষড়যন্ত্র নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর এমন লাঞ্ছনা চাপিয়ে দিলেন যা ঘটার আগে কারো কল্পনাতেও ছিল না। এর একটি দৃষ্টান্ত হলো, একবার থুওয়াইনি তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে আল-আহসার দিকে অগ্রসর হলেন—তখন আল-আহসার অধিবাসীরা তাদের শিরক ও গোমরাহির যুগ পার করে সবেমাত্র ইসলামে প্রবেশ করেছিল। যখন সে এই অঞ্চলের কাছাকাছি পৌঁছাল, তখন কোনো মুসলমানের সাথে পূর্ব-পরিকল্পনা বা আঁতাত ছাড়াই একজন অপরিচিত দরিদ্র ব্যক্তি তার কাছে এসে তাকে হত্যা করল। ফলে সে মারা গেল। আল্লাহ এই দ্বীনকে এমন এক অপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে সাহায্য করলেন যা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। এরপর সেই সেনাবাহিনী পলায়ন করল এবং মুসলমানদের ভয়ে ও আতঙ্কে তাদের গবাদি পশু ও ধন-সম্পদ ফেলে গেল। যারা সেখানে উপস্থিত ছিল তারা তা গনিমত হিসেবে লাভ করল। শেখ হুসাইন ইবনে গাননাম এই বিষয়ে বলেছেন:

তোমরা আল-আহসাকে আয়ত্তে আনার আগেই তা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছিলে … এর এক অংশ ছিল রোমীয়দের জন্য আর অন্য অংশ ছিল মরুবাসীদের জন্য।

এরপর তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নতুন প্রস্তুতি গ্রহণ করল এবং এক বিশাল বাহিনীর পর আরেক বাহিনী ও ভয়াবহ ষড়যন্ত্র নিয়ে অগ্রসর হলো। তারা আল-আহসায় অবতরণ করল এবং তাদের সেনাপতি ছিল আলী কাইখিয়া। যারা নিজ দ্বীনের ওপর অবিচল ছিল তারা 'কুত' দুর্গ এবং 'সাহুদ' সীমান্তে অবস্থান গ্রহণ করল। সে সেখানে অবতরণ করে কামান ও গোলার আঘাতে তাদের ওপর আক্রমণ শুরু করল। অতঃপর আল্লাহ তাকে এবং তার সাথে যারা ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়েছিল তাদের অক্ষম ও লাঞ্ছিত করে দিলেন, ফলে সে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালিয়ে গেল।
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১৫)
بجنوده فاجتمع سعود بن عبد العزيز في تاج وغزوه الذين معه رحمه الله، والذين معه من المسلمين أقل من المتفق أو الظفير الذين مع الكيخيا فألقى الله الرعب في قلوبهم على كثرتهم وقوتهم فصارت عبرة عظيمة فطلبوا الصلح على أن يدعهم سعود يرجعوا إلى بلادهم فأعطاهم أماناً على الرجوع فذهبوا في ذل عظيم، فلما قدم كل منهم مكانه مات سليمان باشا وذلك من نصر الله لهذا الدين فأهلك الله من أنشأ هذه الدول ثم قام علي كيخيا فصار هو الباشا فأخذ يجدد آلة الحرب فجمع من الكيد والأسباب أعظم مما كان معه في تلك الكرة، فلما كملت أسبابه وجمع الجموع فلم يبق إلا خروجه لحرب المسلمين لينتقم من أهل هذا الدين سلط الله عليه صبيين مملوكين عنده يبيتون فقتلوه آخر الليل فخمدت تلك النيران وتفرقت تلك الأعوان، فما قام لهم قائمة حتى الآن، فيا لها عبراً ما أظهرها لمن له أدنى بصيرة {فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَارِ} فأين ذهب عقل من أنكر هذا الدين وجادل وكابر في دفع الأدلة على التوحيد وما حل.
সউদ বিন আব্দুল আজিজ (আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন) তার সৈন্যদের নিয়ে তাজ নামক স্থানে তার সঙ্গীয় যোদ্ধাদের সাথে একত্রিত হলেন। তার সাথে থাকা মুসলিমদের সংখ্যা কাইখিয়ার সাথে থাকা মুত্তাফিক বা জাফীর গোত্রের চেয়ে কম ছিল। তাদের সংখ্যাধিক্য এবং শক্তি সত্ত্বেও আল্লাহ তাদের অন্তরে ভীতি নিক্ষেপ করলেন, ফলে এটি একটি মহান শিক্ষা হয়ে রইল। তারা এই শর্তে সন্ধি প্রার্থনা করল যে, সউদ যেন তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেন। তিনি তাদের প্রত্যাবর্তনের নিরাপত্তা প্রদান করলেন এবং তারা চরম লাঞ্ছনার সাথে প্রস্থান করল। যখন তারা নিজ নিজ স্থানে পৌঁছাল, তখন সুলাইমান পাশা মারা গেল। এটি ছিল এই দ্বীনের প্রতি আল্লাহর এক বিশেষ সাহায্য; আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দিলেন যারা এই রাষ্ট্রগুলো প্রতিষ্ঠা করেছিল। এরপর আলী কাইখিয়া ক্ষমতায় এল এবং পাশা নিযুক্ত হলো। সে যুদ্ধের সরঞ্জাম নতুন করে প্রস্তুত করতে শুরু করল এবং পূর্বের তুলনায় আরও ভয়াবহ ষড়যন্ত্র ও উপকরণ সংগ্রহ করল। যখন তার প্রস্তুতি সম্পন্ন হলো এবং সে সৈন্যদল একত্রিত করল, আর কেবল মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বের হওয়া ও এই দ্বীনের অনুসারীদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়াই অবশিষ্ট ছিল, তখন আল্লাহ তার ওপর তার নিজেরই দুইজন ক্রীতদাস বালককে লেলিয়ে দিলেন যারা তার কাছেই থাকত। তারা রাতের শেষভাগে তাকে হত্যা করল। ফলে সেই যুদ্ধের আগুন নিভে গেল এবং তার সহযোগীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ল। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত তারা আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। সামান্যতম অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তির জন্য এতে কতই না স্পষ্ট শিক্ষা রয়েছে! "অতএব হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিরা, তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।" সুতরাং সেই ব্যক্তির বিবেক কোথায় হারিয়ে গেল, যে এই দ্বীনকে অস্বীকার করে এবং তাওহীদের দলিল-প্রমাণ ও যা কিছু ঘটে গেছে তা অগ্রাহ্য করতে গিয়ে বিতর্ক ও হঠকারিতা করে?
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المقام الرابع:

ما جرى من العبر في حرب أشراف مكة لهذه الدعوة الإسلامية والطريقة المحمدية رجوعه إلى أشراف مكة وذلك أنهم من أول من بدأ المسلمين بالعداوة فحبسوا حاجهم فمات في الحبس منهم عدد كثير، ومنعوا المسلمين من الحج أكثر من ستين سنة، وفي أثناء هذه المدة سار إليهم غالب الشريف بعسكر كثيف وكيد عنيف، فقدم أخاه عبد العزيز قبله في الخروج فنزل على قصر بسام فأقام مدة يضرب بالمدافع والقنابل وجر عليه الزحافات فأبطل الله كيده على هذا القصر الضعيف بناؤه القليل رجاله فشد منه ووافى غالباً ومعه أكثر الجنود ومعه من الكيد مثل ما كان مع أخيه أو
চতুর্থ প্রসঙ্গ:

এই ইসলামী দাওয়াত ও মুহাম্মদী তরীকার বিরুদ্ধে মক্কার আশরাফদের (অভিজাতদের) যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যেসব শিক্ষণীয় বিষয় প্রকাশ পেয়েছে, তা মূলত মক্কার আশরাফদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। আর তা এই কারণে যে, তারাই সর্বপ্রথম মুসলমানদের সাথে শত্রুতা শুরু করেছিল; তারা হাজীদের বন্দি করেছিল, ফলে বন্দিশালায় তাদের মধ্য থেকে বিপুল সংখ্যক লোক মৃত্যুবরণ করেন। তারা ষাট বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলমানদের হজ পালন থেকে বিরত রাখেন। এই সময়ের মধ্যে শরীফ গালিব এক বিশাল সেনাবাহিনী এবং কঠোর চক্রান্ত সহকারে তাদের দিকে অগ্রসর হন। তিনি অভিযানে বের হওয়ার পূর্বে তার ভাই আব্দুল আজিজকে অগ্রভাগে প্রেরণ করেন। সে বাসসাম দুর্গের সামনে অবস্থান গ্রহণ করে এবং সেখানে দীর্ঘকাল ধরে কামান ও গোলাবর্ষণ করতে থাকে এবং দুর্গের ওপর আক্রমণ পরিচালনা করে। কিন্তু আল্লাহ এই দুর্গের ওপর তার চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিলেন, যার নির্মাণশৈলী ছিল দুর্বল এবং জনবল ছিল সামান্য। এরপর সে সেখান থেকে প্রস্থান করল এবং গালিবের সাথে গিয়ে মিলিত হলো, যার সাথে ছিল অধিকাংশ সৈন্য এবং তার ভাইয়ের ন্যায় অথবা তার চেয়েও বড় চক্রান্তের সরঞ্জাম...
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১৬)
يزيد، فنزلوا جميعاً الشعرا فجد في حربهم بكل كيد فأعجزه الله تعالى عن ذلك البناء الضعيف الذي لم يتأهب أهله لحرب بالبنا ولا بالسلاح، فأبطل الله كيده ورده عنهم بعد الأياس والإفلاس، فسلط الله المسلمين على من كان معه من الأعراب خصوصاً مطير، فأوقع الله بهم في العداوة ومعهم مطلق الجربا فهزمهم الله تعالى وغنم المسلمون جميع ما كان معهم من الإبل والخيل وسائر المواشي فصار ما ذكرناه من نصر الله وتأييده لأهل هذا الدين عبرة عظيمة وفي جملة قتلاهم حصان إبليس، وبعد ما ذكرناه جد غالب في الحرب واجتهد لكن صار حربه للأعراب ولم يتق النير، فيغدوا على من استضعفه ويغير، فأعطى الله أعراب المسلمين الظفر عليه في عدة وقعات من أعظمها وقعة الخرمة على يد ربيع وغزوه من أهل الوادي وبعض قحطان فهزمه الله تعالى واشتد القتل في عسكره فأخذوا جميع ما كان معه من المواشي وغيرها فصار بعد ذلك في ذل وهوان ففتح الله الطائف للمسلمين وصار أميره عثمان ابن عبد الرحمن فاجتمع فيه دوله للمسلمين وساروا لحرب الشريف ومعهم عبد الوهاب أبو نقطة أمير عسير وسالم ابن شكبان أمير أهل بيشة فنزلوا دون الحرم فخرج إليهم عسكر من مكة فقتلوه فطلب الشريف المذكور منهم الأمان، فلم يقبلوا منه إلا الدخول في الإسلام والبيعة للإمام سعود فأعطاهم البيعة على يد رجال بعثوهم إليه هذا بعد وقعات تركنا ذكرها كراهة الإطالة لأن القصد بهذا الوضع الاعتبار بما جرى لأهل هذه الدعوة من النصر والتأييد والظهور على قلة أسبابهم وكثرة عدوهم وقوته، وذلك من آيات الله وبيناته على أن ما قام به الشيخ في حال فساد الزمان أنه الدين الذي بعث الله به المرسلين، وتبين أن هذه الطائفة في هذه الأزمنة هي الطائفة المذكورة في قوله صلى الله عليه وسلم: "ولا تزال طائفة من أمتى على الحق منصورة

ইয়াজিদ; তারা সকলে আশ-শুআরায় অবতরণ করল। সে সর্বাত্মক কৌশলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাল, কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাকে সেই দুর্বল কাঠামোর বিরুদ্ধে অক্ষম করে দিলেন যার অধিবাসীরা অট্টালিকা বা অস্ত্রশস্ত্রের মাধ্যমে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল না। অতঃপর আল্লাহ তার কৌশল নস্যাৎ করে দিলেন এবং চরম হতাশা ও রিক্ততার পর তাদের নিকট থেকে তাকে ফিরিয়ে দিলেন। এরপর আল্লাহ তার সাথে থাকা বেদুঈনদের ওপর মুসলমানদের কর্তৃত্ব দান করলেন, বিশেষ করে মুতায়র গোত্রের ওপর। ফলে আল্লাহ তাদের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করে দিলেন, আর তাদের সাথে ছিল মুতলাক আল-জারবা। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের পরাজিত করলেন এবং তাদের সাথে থাকা সকল উট, ঘোড়া ও অন্যান্য গবাদি পশু মুসলমানরা গনিমত হিসেবে লাভ করল। সুতরাং এই দ্বীনের অনুসারীদের জন্য আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থনের যে কথা আমরা উল্লেখ করেছি, তা এক মহান শিক্ষা হয়ে রইল। তাদের নিহতদের মধ্যে ‘হিসান ইবলিস’ (ইবলিসের ঘোড়া) অন্তর্ভুক্ত ছিল। আমাদের উল্লেখিত বর্ণনার পর গালিব যুদ্ধে অত্যন্ত তৎপর হলেন এবং আপ্রাণ চেষ্টা করলেন, কিন্তু তার যুদ্ধ বেদুঈনদের সাথে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ল এবং সে আন-নায়ার অঞ্চলের পরোয়া করল না; সে যাদের দুর্বল মনে করত তাদের ওপর সকাল-সন্ধ্যা আক্রমণ ও লুটতরাজ চালাত। তাই আল্লাহ মুসলিম বেদুঈনদের কয়েকটি যুদ্ধে তার ওপর বিজয় দান করলেন, যার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছিল রবি’র হাতে সংঘটিত আল-খুরমার যুদ্ধ এবং ওয়াদিবাসী ও কাহতান গোত্রের কিছু লোকের আক্রমণ। আল্লাহ তাআলা তাকে পরাজিত করলেন এবং তার সেনাবাহিনীতে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চলল। তার কাছে থাকা সকল গবাদি পশু ও অন্যান্য সামগ্রী তারা কেড়ে নিল। এরপর সে লাঞ্ছনা ও অপমানের মধ্যে পতিত হল। অতঃপর আল্লাহ মুসলমানদের জন্য তায়েফ বিজয় করে দিলেন এবং উসমান ইবনে আবদুর রহমান এর আমির হলেন। সেখানে মুসলমানদের এক শক্তি সঞ্চিত হল এবং তারা শরীফের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য যাত্রা করল। তাদের সাথে ছিলেন আসীরের আমির আবদুল ওয়াহাব আবু নুকতাহ এবং বিশাবাসীদের আমির সালিম ইবনে শাকবান। তারা হারামের পাদদেশে অবতরণ করলেন। তখন মক্কা থেকে এক সৈন্যবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে বেরিয়ে এল এবং তারা তাদের হত্যা করল। উক্ত শরীফ তাদের কাছে নিরাপত্তার আবেদন করল। কিন্তু ইসলাম গ্রহণ এবং ইমাম সাউদের কাছে বায়আত হওয়া ব্যতীত তারা তার থেকে অন্য কিছু গ্রহণ করল না। অতঃপর তাদের প্রেরিত একদল ব্যক্তির মাধ্যমে সে বায়আত প্রদান করল। এসব ঘটনা ঘটেছে বেশ কিছু যুদ্ধের পর, যা দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমরা উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম। কেননা এই রচনার উদ্দেশ্য হল এই দাওয়াতের অনুসারীদের জন্য বিজয়, সমর্থন এবং শ্রেষ্ঠত্বের যে ধারা সূচিত হয়েছিল তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা, যদিও তাদের সরঞ্জামের অভাব ছিল এবং শত্রুর সংখ্যা ও শক্তি ছিল প্রচুর। এটি আল্লাহর নিদর্শন ও স্পষ্ট প্রমাণসমূহের অন্তর্ভুক্ত যে, জামানার বিপর্যয়ের কালে শাইখ যা প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা-ই সেই দ্বীন যা নিয়ে আল্লাহ রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন। এবং এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে, এই যুগে এই জামাতটিই হল সেই দল যার কথা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীতে উল্লেখ করা হয়েছে: “আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে...”

(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১৭)
لا يضرهم من خذلهم ولا من خالفهم حتى يأتي أمر الله وهم على ذلك"، وقد كانت هذه الطائفة قبل ظهور الشيخ فيما تقدم موجودة في الشام والعراق ومصر، وغيرها بوجود أهل السنة وأهل الحديث في القرون المفضلة وبعدها، فلما اشتدت غربة الإسلام وقل أهل السنة واشتد النكير عليهم وسعى أهل البدع في إيصال المكر إليهم من الله بهذه الدعوة فقامت بها الحجة واستبانت الحجة، فيا سعادة من قبلها وأحبها ونصرها وذلك في فضل الله يؤتيه من يشاء والله ذو الفضل العظيم، وأهل العلم من أتباع السلف والأئمة لهم المصنفات المفيدة في بيان التوحيد توحيد الربوبية وتوحيد الألوهية وتوحيد الأسماء والصفات، والكثير منها موجود بأيدي علماء المسلمين وما علمنا أحداً بعد القرن الثامن في حال اشتداد غربة الإسلام يذكر بمعرفة ما عليه أهل السنة في أنواع التوحيد أو يلتفت إلى كتبهم، ولا عرفوا الشرك الذي لا يغفره الله، فلذلك لم ينكره فيهم منكر، ولا أخبر بوقوعه من علمائهم مخبر، حتى أظهر الله هذا النور وشفى الله به الصدور وظهرت كتب أهل السنة وعظمت بمعرفتها والدعوة إليها المنة يعرف ذلك من عرفه وشكره وأحبه، وقبله فلا عبرة بمن أخلد إلى أرض الغفلة والإعراض وجهله.

“যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় অথবা যারা তাদের বিরোধিতা করে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে এবং তারা এই অবস্থাতেই থাকবে।” শায়খের আবির্ভাবের পূর্বে এই দলটি পূর্ববর্তী সময়ে শাম, ইরাক, মিসর এবং অন্যান্য স্থানে আহলে সুন্নাত ও আহলে হাদিসের উপস্থিতির মাধ্যমে সর্বোত্তম শতাব্দীসমূহ ও তার পরবর্তী সময়ে বিদ্যমান ছিল। অতঃপর যখন ইসলামের একাকিত্ব তীব্রতর হলো এবং আহলে সুন্নাতের সংখ্যা কমে গেল এবং তাদের ওপর অস্বীকৃতি প্রবল হলো এবং বিদআতিরা তাদের কাছে ষড়যন্ত্র পৌঁছানোর চেষ্টা করল, তখন আল্লাহ এই দাওয়াতের মাধ্যমে অনুগ্রহ করলেন, যার ফলে দলিল প্রতিষ্ঠিত হলো এবং সত্য সুস্পষ্ট হলো। সুতরাং সেই ব্যক্তি কতই না সৌভাগ্যবান যে একে গ্রহণ করেছে, ভালোবেসেছে এবং একে সাহায্য করেছে; আর তা আল্লাহর অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন এবং আল্লাহ মহান অনুগ্রহের অধিকারী। সালাফ ও ইমামগণের অনুসারী আলেমদের তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদে উলুহিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাত বর্ণনায় বহু উপকারী গ্রন্থ রয়েছে। সেগুলোর অনেকগুলোই মুসলিম আলেমদের হাতে বিদ্যমান। অষ্টম শতাব্দীর পর ইসলামের একাকিত্ব যখন চরম আকার ধারণ করল, তখন তাওহীদের প্রকারভেদসমূহ সম্পর্কে আহলে সুন্নাত যে আদর্শের ওপর ছিলেন, তা জানেন এমন কাউকে আমরা আর দেখি না, কিংবা তাদের কিতাবসমূহের দিকে কাউকে ভ্রুক্ষেপ করতেও দেখা যায় না। এমনকি তারা সেই শিরক সম্পর্কেও জানত না যা আল্লাহ ক্ষমা করেন না। এই কারণে তাদের মধ্যে কোনো প্রতিবাদকারী তা অস্বীকার করেনি এবং তাদের আলেমদের মধ্য থেকে কেউ এর অস্তিত্ব সম্পর্কে সংবাদ দেয়নি। পরিশেষে আল্লাহ এই নূরকে প্রকাশ করলেন এবং এর মাধ্যমে অন্তরসমূহকে আরোগ্য দান করলেন। আহলে সুন্নাতের কিতাবসমূহ প্রকাশিত হলো এবং তা জানা ও তার দিকে দাওয়াত দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নেয়ামত মহান হলো। যে ব্যক্তি তা জেনেছে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে, একে ভালোবেসেছে এবং গ্রহণ করেছে সে তা অনুধাবন করে। আর যে ব্যক্তি গাফেলতি ও বিমুখতার গর্তে পড়ে রয়েছে এবং একে উপেক্ষা করেছে, তার কোনো গুরুত্ব নেই।

(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المقام الخامس:

إن كان من ذكرنا ممن عاداهم من أهل نجد والإحساء وغيرهم من البوادي أهلكهم الله، ولحقتهم العقوبة حتى في الذراري والأموال، فصارت أموالهم فيئاً لأهل الإسلام، كما يروى عن زيد بن عمرو بن نفيل

عجبت وفي الليالي معجبات … وفي الأيام يعرفها البصير

بأن الله قد أفنى رجالا … كثيرا كان شأنهم الفجور

وأبقى آخرين بدار قوم … فيربو منهم الطفل الصغير
পঞ্চম পরিচ্ছেদ:

আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি—নাজদ, আল-আহসা ও অন্যান্য মরুবাসীদের মধ্যে যারা তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করেছিল, আল্লাহ তাদের ধ্বংস করেছেন এবং তাদের সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদ পর্যন্ত আজাব তাদের পাকড়াও করেছে। ফলে তাদের ধন-সম্পদ ইসলামপন্থীদের জন্য 'ফাই' (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ) হিসেবে পরিগণিত হয়েছে, যেমনটি যায়দ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল থেকে বর্ণিত হয়েছে:

আমি বিস্মিত হয়েছি, আর রাতের বেলা অনেক বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে … আর দিনগুলোর মাঝেও এমন নিদর্শন রয়েছে যা অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি চিনতে পারে

নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন অনেক ব্যক্তিকে বিনাশ করে দিয়েছেন … যাদের অধিকাংশ বিষয়ই ছিল পাপাচারপূর্ণ

এবং তিনি অন্যদের এক কওমের আবাসস্থলে অবশিষ্ট রেখেছেন … যাতে তাদের মধ্যে ছোট শিশুরাও বেড়ে উঠতে পারে
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১৮)
وانتشر ملكهم، وصار كل من بقي في أماكنهم سامعاً مطيعاً لإمام المسلمين القائم بهذا الدين، فانتشر ملك أهل الإسلام حتى وصل إلى حدود الشام، مع الحجاز وتهامة وعمان، وصاروا بحمد الله في أمن وأمان، يخافهم كل مبطل وشيطان، ففي هذا معتبر لأهل الاعتبار، مع ما وقع بمن حاربهم من الخراب والدمار، واستيلاء المسلمين على ما كان لهم من العقار والديار، فلا يرتاب في هذا الدين بعد هذا البيان إلا من عميت بصيرته، وفسدت علانيته وسريرته.

তাদের রাজত্ব বিস্তৃত হলো এবং স্বস্থানে অবশিষ্ট সকলে এই দ্বীন প্রতিষ্ঠাকারী মুসলিমদের ইমামের প্রতি অনুগত ও আজ্ঞাবহ হয়ে গেল। ফলে হিজাজ, তিহামাহ ও ওমানসহ শামের সীমানা পর্যন্ত ইসলামের অনুসারীদের রাজত্ব ছড়িয়ে পড়ল। আল্লাহর প্রশংসায় তারা নিরাপত্তা ও শান্তিতে অবস্থান করতে লাগল এবং প্রত্যেক বাতিলপন্থী ও শয়তান তাদের দেখে ভীত হতে লাগল। যারা তাদের সাথে যুদ্ধ করেছিল তাদের ওপর আপতিত ধ্বংস ও বিনাশ এবং তাদের স্থাবর সম্পত্তি ও ঘরবাড়ির ওপর মুসলিমদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ঘটনার মধ্যে উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। সুতরাং এই সুস্পষ্ট বর্ণনার পর কেবল সেই ব্যক্তিই এই দ্বীন সম্পর্কে সংশয় পোষণ করতে পারে, যার অন্তর্দৃষ্টি অন্ধ হয়ে গেছে এবং যার প্রকাশ্য ও গোপন উভয় অবস্থাই কলুষিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌المقام السادس:

إن كل من أظهر النفاق وأظهر الشقاق صار مكروها مبغضا ممقوتا، وكل ما أبداه المشبهون والمموهون من زخرفهم وكذبهم وباطلهم وعنادهم وفسادهم في أقوالهم وأحوالهم انعكس عليهم المراد، وحرموا التوفيق والسداد صاروا مثله حتى استوحش منهم أكثر العباد ومقتهم كل حاضر وباد فما صار لهم باطل يظهر ولا شبهة تذكر اللهم إلا ما كانوا يستخفون به عن الناس حين ظهرت أنوار التوحيد واستعلت وزال بها الالتباس مخافة المقت والشناعة حين فسدت لهم تلك البضاعة، وهذه العبر يعتبر بها الأريب إذ هو من الحق وقبول العلم قريب.
ষষ্ঠ স্থান:

নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি নিফাক ও বিভেদ প্রকাশ করেছে, সে অপছন্দনীয়, বিদ্বেষভাজন ও ঘৃণিত হয়েছে। আর সাদৃশ্যবাদী ও সত্য গোপনকারীরা তাদের কথা ও অবস্থায় তাদের বাহ্যিক চাকচিক্য, মিথ্যা, বাতিল, হঠকারিতা ও বিপর্যয় থেকে যা কিছু প্রকাশ করেছে, তার উদ্দেশ্য তাদের ওপরই উল্টে গেছে। তারা তৌফিক ও সঠিক পথ থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং তারা এমন হয়েছে যে অধিকাংশ বান্দা তাদের দেখে আতঙ্কিত হয় এবং প্রতিটি উপস্থিত ও অনুপস্থিত ব্যক্তি তাদের ঘৃণা করে। ফলে তাদের কোনো বাতিল আর প্রকাশ পায় না এবং কোনো সংশয়ও আলোচিত হয় না; কেবল সেই বিষয়গুলো ছাড়া যা তারা মানুষের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখত। এমতাবস্থায় যখন তাওহিদের নূরসমূহ প্রকাশিত ও সমুন্নত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে সকল অস্পষ্টতা দূর হয়ে গেছে, তখন তারা ঘৃণা ও অপদস্থ হওয়ার ভয়ে ভীত ছিল যেহেতু তাদের সেই পুঁজি অকেজো হয়ে গেছে। আর এই শিক্ষাগুলো থেকে কেবল বুদ্ধিমান ব্যক্তিই শিক্ষা গ্রহণ করে, যেহেতু সে সত্যের নিকটবর্তী এবং জ্ঞান গ্রহণে উন্মুখ।
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌المقام السابع:

أن كثيرا ممن عاداهم ابتداء تبين له صحة ما دعا إليه هذا الشيخ وأنه الحق الذي بعث الله به رسله وأنزل به كتبه، وأنه علم من اتبعه ما أوجب الله عليهم وحرمه وعلمهم مكارم الأخلاق ونهاهم عن سفسافها فمن ذلك ما حدثنا به عثمان بن عبد الرحمن المضايفي لما أتانا راغبا في هذا الدين أن جاسر الحسيني الذي جلا من حرمه لعداوته هذا الدين سكن بغداد ثم
সপ্তম পর্যায়:

নিশ্চয়ই যারা প্রাথমিকভাবে তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করেছিল, তাদের অনেকের নিকটেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, এই শাইখ যে বিষয়ের দিকে দাওয়াত দিয়েছেন তা সঠিক এবং এটিই সেই সত্য যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন। আর তিনি তাঁর অনুসারীদের তা-ই শিক্ষা দিয়েছেন যা আল্লাহ তাদের ওপর ফরজ করেছেন ও যা হারাম করেছেন এবং তিনি তাদের উত্তম চরিত্র শিক্ষা দিয়েছেন ও নিকৃষ্ট স্বভাব থেকে নিষেধ করেছেন। এরই অন্তর্ভুক্ত সেই বর্ণনা যা উসমান ইবনে আবদুর রহমান আল-মুদাইফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যখন তিনি এই দ্বীনের প্রতি অনুরাগী হয়ে আমাদের নিকট এসেছিলেন যে, জাসির আল-হুসাইনি—যিনি এই দ্বীনের প্রতি শত্রুতার কারণে তাঁর এলাকা হতে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন—তিনি বাগদাদে বসবাস শুরু করেন, অতঃপর...
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১৯)
صار في سنين ظهور الإسلام في نجد وما والاه حضر عند الشريف غالب مجاورا فسمع الشريف المذكور يسب شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب، فقال له: يا شريف لك علي من المعروف ما يوجب أن أنصح لك لا تقل هذا في الشيخ محمد بن عبد الوهاب فإنه قام بنجد وهم في أسوأ حال من الفساد والظلم، فجمعهم الله تعالى بعد التفرق والاختلاف وعلمهم مكارم الأخلاق، حتى ما ينبغي أن يقولوه في مخاطباتهم وما لا ينبغي أن يقولوه من الألفاظ المستكرهة فاحذر أن تذكره بسوء، وهذا الذي ذكره جاسر للشريف اعترف به كثير حتى من أهل مصر والشام والعراق اعترفوا بصحة هذه الدعوة الإسلامية والسنة المحمدية وأكثروا الدعاء له، وهذا من العبر والدلالة على صحة ما جدده شيخ الإسلام من الدين بعدما اشتدت غربته في كل زمان ومكان، وصار من يطلب العلم ويعلمه لا يعرف حقيقة التوحيد ولا ما ينافيه من الشرك والتنديد مع قرأتهم للقرآن والأحاديث، لكن جهلوا ما هو المراد من الحق الذي يأمرهم به رب العالمين، فظهر الحق بعد الخفا وتبين ما دلت عليهم الآيات المحكمات والبراهين البينات وتبين الحق بعد أن كان مجهولاً وعرف الباطل فصار بهذه الدعوة مخذولا فهذا مقام لا يخفى إلا على من جحد الحق وكابر وعاند ممن عميت بصيرته نعوذ بالله من رين الذنوب وموت القلوب.

নজদ ও এর আশপাশের অঞ্চলে ইসলামের দাওয়াতের প্রসারের বছরগুলোতে জনৈক ব্যক্তি শরিফ গালিবের নিকট প্রতিবেশী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি উক্ত শরিফকে শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবকে গালি দিতে শুনলেন। তখন তিনি তাকে বললেন: হে শরিফ! আপনার পক্ষ থেকে আমার প্রতি এমন অনুগ্রহ রয়েছে যা আপনার কল্যাণ কামনা করাকে আমার ওপর আবশ্যক করে দেয়। আপনি শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব সম্পর্কে এমন কথা বলবেন না। কেননা, তিনি নজদবাসীর মাঝে এমন এক সময়ে দাঁড়িয়েছিলেন যখন তারা বিপর্যয় ও জুলুমের চরম দুরবস্থায় লিপ্ত ছিল। অতঃপর মহান আল্লাহ তাদের অনৈক্য ও মতভেদের পর একত্রিত করেছেন এবং তাদের সর্বোত্তম চারিত্রিক গুণাবলি শিক্ষা দিয়েছেন। এমনকি পারস্পরিক কথাবার্তায় তাদের কী বলা উচিত এবং ঘৃণ্য শব্দাবলির মধ্য থেকে কী পরিহার করা উচিত—তাও তিনি শিখিয়েছেন। সুতরাং সাবধান! তাকে মন্দ ভাষায় স্মরণ করবেন না। জাসির নামক সেই ব্যক্তি শরিফের কাছে যা উল্লেখ করেছিলেন, তা মিসর, শাম এবং ইরাকবাসীদের মধ্যেও অনেকে স্বীকার করেছেন। তারা এই ইসলামি দাওয়াত এবং সুন্নাহে মুহাম্মাদিয়ার সঠিক হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং তার জন্য প্রচুর দোয়া করেছেন। এটি একটি শিক্ষা এবং শায়খুল ইসলাম দ্বীনের যে সংস্কার সাধন করেছেন তার সত্যতার প্রমাণ; বিশেষ করে যখন দ্বীনের সেই বিরলতা প্রতিটি যুগে ও স্থানে তীব্র আকার ধারণ করেছিল। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে, যারা ইলম অর্জন করত এবং তা শিক্ষা দিত, তারা তাওহীদের প্রকৃত হাকীকত এবং এর পরিপন্থী শিরক ও অংশীদার সাব্যস্ত করার বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিল না, যদিও তারা কুরআন ও হাদীস পাঠ করত। কিন্তু রব্বুল আলামীন তাদের যে সত্যের নির্দেশ দিয়েছেন, তার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে তারা অজ্ঞ ছিল। অতঃপর অস্পষ্টতার অবসান ঘটিয়ে সত্য প্রকাশিত হলো এবং সুস্পষ্ট আয়াত ও অকাট্য দলিলসমূহ যা নির্দেশ করে তা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে গেল। দীর্ঘকাল অজ্ঞাত থাকার পর সত্য প্রতিভাত হলো এবং বাতিল চিহ্নিত হওয়ার মাধ্যমে এই দাওয়াতের দ্বারা লাঞ্ছিত হলো। এটি এমন এক বাস্তবতা যা কেবল সেই ব্যক্তির কাছেই অস্পষ্ট থাকে যে সত্যকে অস্বীকার করে, অহংকার করে এবং হঠকারিতা প্রদর্শন করে—যাদের অন্তর্দৃষ্টি অন্ধ হয়ে গেছে। আমরা গুনাহের মরিচা এবং অন্তরের মৃত্যু থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌المقام الثامن:

أن الله تعالى ألبس هذه الطائفة أفخر لباس واشتهر في الخاصة والعامة من الناس فلا يسميهم أحد إلا بالمسلمين، وهو الاسم الذي سمى الله به عباده المؤمنين من أصحاب سيد المرسلين، فقال: {هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِنْ قَبْلُ وَفِي هَذَا} . فهذا الاسم ألحقه الله أصحاب رسوله وألحقه هذه الطائفة
অষ্টম বিষয়:

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এই দলকে সর্বোৎকৃষ্ট পোশাকে সজ্জিত করেছেন এবং তারা সর্বসাধারণ ও বিশিষ্টজনদের মাঝে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। ফলে কেউ তাদেরকে ‘মুসলিম’ ছাড়া অন্য কোনো নামে অভিহিত করে না। আর এটি সেই নাম, যা দিয়ে আল্লাহ রাসূলগণের সরদারের সাহাবীগণের মধ্য থেকে তাঁর মুমিন বান্দাদের নামকরণ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: “তিনি ইতিপূর্বে এবং এতেও তোমাদের নাম মুসলিম রেখেছেন।” সুতরাং আল্লাহ এই নাম তাঁর রাসূলের সাহাবীদের প্রদান করেছেন এবং এই দলকেও সেই নামের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ২০)
كما ألحقه هذه إخوانهم من السابقين الأولين، فيا لها عبرة ما أقطعها لحجة من شك وارتاب وما أنفعها في الاعتبار لمن أراد الحق وطلبه وإليه أناب، فهذا تمام الثمانية فاقرأها وتدبرها سراً وعلانية، وقد اقتصرت فيها غاية الاقتصار وأشرت إلى بعض الوقائع بإيجاز واختصار، نسأل الله أن يجعلها نافعة ولمن أبداها وكتبها وانتفع بها شافعة والحمد لله رب العالمين، وصلى الله على سيد المرسلين وإمام المتقين محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وسلم تسليماً كثيراً سنة 1383هـ.

যেমনভাবে তাদের পূর্ববর্তী অগ্রজ ভাইয়েরা তাদের সাথে মিলিত হয়েছিলেন, এটি কতই না বড় শিক্ষা যা সন্দেহ পোষণকারী ও দ্বিধান্বিত ব্যক্তির যুক্তিতে ছেদ টানে এবং সত্যের প্রত্যাশী, অন্বেষণকারী ও তাঁর অভিমুখী ব্যক্তির জন্য এটি শিক্ষণীয় বিষয়ে কতই না উপকারী। এই হলো আটটি বিষয়ের পূর্ণতা; সুতরাং আপনি গোপনে ও প্রকাশ্যে এগুলো পাঠ করুন এবং এগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করুন। আমি এতে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করেছি এবং কিছু ঘটনার প্রতি অত্যন্ত সংক্ষেপে ইঙ্গিত করেছি। আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে উপকারী করেন এবং যিনি এটি প্রকাশ করেছেন, লিখেছেন ও এটি দ্বারা উপকৃত হয়েছেন, তাদের জন্য একে সুপারিশকারী বানান। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের নেতা ও মুত্তাকীদের ইমাম মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। ১৩৮৩ হিজরি সাল।

(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ২০)
وهذا هو‌‌ المقام التاسع:

وأما الدول التركية المصرية فابتلى الله بهم المسلمين لما ردوا حجاج الشام عن الحج بسبب أمور كانوا يفعلونها في المشاعر، فطلبوا منهم أن يتركوها، وأن يقيموا الصلاة جماعة، فما حصل منهم ذلك، فردهم سعود رحمه الله تعالى، فغضبت الدولة التركية، وجرى عندهم أمور يطول عدها، ولا فائدة في ذكرها، فأمروا محمد علي صاحب مصر أن يسير إليهم بعسكره، وبكل ما يقدر عليه من القوة والكيد، فبلغ سعوداً ذلك، فأمر ابنه عبد الله أن يسير لقتالهم، وأمره أن ينزل دون المدينة، فاجتمعت عساكر الحجاز على عثمان بن عبد الرحمن المضايفي وأهل بيشة وقحطان وجميع العربان، فنزلوا الجديدة، فاختار عبد الله بن سعود القدوم عليهم، والاجتماع بهم، وذلك أن العسكر المصري في ينبع، فاجتمع المسلمون في بلد حرب، وحفروا في مضيق الوادي خندقاً، وعبوا الجموع، فصار في الخندق من المسلمين أهل نجد، وصار عثمان ومن معه من أهل الحجاز في الجبل فوق الخندق، فحين نزل العسكر أرزت العساكر خيولهم، وعلموا أنه لا طريق لها إلى المسلمين، فأخذوا يضربون بالقبوس فدفع الله شر تلك القبوس الهائلة عن المسلمين إن
আর এটি হলো নবম পরিচ্ছেদ:

আর তুর্কি-মিসরীয় রাষ্ট্রসমূহের কথা বললে, আল্লাহ তাআলা তাদের দ্বারা মুসলিমদের পরীক্ষায় ফেলেছিলেন যখন তারা শামের হাজিদের হজ করা থেকে বিরত রেখেছিল এমন কিছু কাজের কারণে যা তারা হজের পবিত্র স্থানগুলোতে (মাশায়ির) করত। তারা তাদের নিকট দাবি করেছিল যেন তারা সেসব কাজ বর্জন করে এবং জামায়াতের সাথে সালাত কায়েম করে; কিন্তু তারা তা করেনি। ফলে সউদ (রহিমাহুল্লাহ) তাদের ফিরিয়ে দিলেন। এতে তুর্কি সাম্রাজ্য রাগান্বিত হলো এবং তাদের মধ্যে এমন অনেক ঘটনা ঘটল যা বর্ণনা করা দীর্ঘসাধ্য এবং তা উল্লেখ করার বিশেষ ফায়দা নেই। অতঃপর তারা মিসরের শাসক মুহাম্মদ আলীকে নির্দেশ দিল যেন সে তার সৈন্যসামন্ত এবং সাধ্যমতো সকল শক্তি ও কৌশল নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। সউদের নিকট এ খবর পৌঁছালে তিনি তার পুত্র আবদুল্লাহকে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য অগ্রসর হতে নির্দেশ দিলেন এবং তাকে মদিনার অদূরে অবস্থান নিতে বললেন। অতঃপর হিজাজের বাহিনী উসমান ইবনে আবদুর রহমান আল-মুদাইফি, বিশাহ ও কাহতানের অধিবাসী এবং সমস্ত আরব গোত্রের সমন্বয়ে একত্রিত হয়ে আল-জাদিদাতে অবতরণ করল। তখন আবদুল্লাহ ইবনে সউদ তাদের অভিমুখে আসার এবং তাদের সাথে মিলিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, আর তখন মিসরীয় বাহিনী ইয়ানবুতে অবস্থান করছিল। অতঃপর মুসলিমগণ 'হারব' গোত্রের এলাকায় সমবেত হলেন এবং উপত্যকার সংকীর্ণ পথে একটি পরিখা খনন করলেন ও সৈন্যদল বিন্যস্ত করলেন। তখন পরিখাতে নজদবাসী মুসলিমগণ অবস্থান নিলেন এবং উসমান ও তার সাথে থাকা হিজাজবাসীরা পরিখার উপরের পাহাড়ে অবস্থান নিলেন। যখন শত্রু বাহিনী অবতরণ করল, তখন তারা তাদের ঘোড়াগুলোকে থামিয়ে দিল এবং বুঝতে পারল যে মুসলিমদের নিকট পৌঁছানোর কোনো পথ নেই। ফলে তারা কামানের গোলা নিক্ষেপ করতে শুরু করল, অতঃপর আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের থেকে সেই ভয়াবহ কামানের গোলার অনিষ্ট প্রতিহত করলেন। নিশ্চয়ই...
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ২১)
رفعوها مرّت ولا ضرت، وإن خفضوها اندفنت في التراب، فهذه عبرة، وذلك أن أعظم ما معهم من الكيد أبطله الله في الحال، ثم مشوا على عثمان ومن معه في الجبل، فتركهم حتى قربوا منه، بما احتسبوهم به وما أعدو لهم حين أقبلوا عليهم فما أخطأ لهم بندق، فقتلوا العسكر قتلاً ذريعاً، وهذه أيضاً من العبر، لأن العسكر الذي جاءهم أكثر منهم بأضعاف، ومع كل واحد من الفرود والمزندات، فما أصابوا رجلاً من المسلمين، وصار القتل فيهم، وهذه أيضاً عبرة عظيمة، هذا كله وأنا أشاهده، ثم مالوا إلى الجانب الأيمن من الجبال بجميع عسكرهم من الرجال، وأما الخيل فليس لها فيه مجال، فانهزم كل من كان على الجبل من أهل بيشة وقحطان وسائر العربان إلا ما كان من حرب فلم يحضروا، فاشتد على المسلمين لما صاروا في أعلى الجبل، فصاروا يرمون المسلمين من فوقهم، فحمي الوطيس آخر ذلك اليوم، ثم من الغد، فاستنصر أهل الإسلام ربهم الناصر لمن ينصره، فلما قرب الزوال من اليوم الثاني نظرت فإذا برجلين قد أتيا فصعدا طرف ذلك الجبل، فما سمعنا منهم بندقاً ثارت، إلا أن الله كسر ذلك البيرق ونحن ننظر، فتتابعت الهزيمة على جميع العسكر فولوا مدبرين، وجنبوا الخيل والمطرح، وقصدوا لطريقهم الذي جاؤا معه، فتبعهم المسلمون يقتلون ويسلبون، هذا ونحن ننظر إلى تلك الخيول قد حارت وخارت، وظهر عليهم عسكر من الفرسان من جانب الخندق ومعهم بعض الرجال فولت تلك الخيول مدبرة، فتبعتهم خيول المسلمين في أثرهم، وليس معهم زاد ولا مزاد، فانظر إلى هذا النصر العظيم من الإله الحق رب العباد، لأن الله هزم تلك العساكر العظيمة برجلين، فهذه ثلاث عبر لكن أين من يعتبر، فأخذوا بعد ذلك مدة من السنين.

ثم بعد ذلك سار "طلوسون" كبير ذلك العسكر الذي هزمه الله فقصد المدينة فوراً، وأمر سعود على عبد الله ومن معه
তারা যখন তা উপরে তুলল তখন তা পার হয়ে গেল এবং কোনো ক্ষতি করল না, আর যখন তারা তা নিচু করল তখন তা মাটিতে বিলীন হয়ে গেল। এটি একটি নিদর্শন। বিষয়টি হলো, তাদের সাথে থাকা ষড়যন্ত্রের মধ্যে যা সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল, আল্লাহ তৎক্ষণাৎ তা ব্যর্থ করে দিলেন। এরপর তারা পাহাড়ের উপরে থাকা উসমান ও তাঁর সঙ্গীদের দিকে অগ্রসর হলো। তিনি তাদের ছেড়ে রাখলেন যতক্ষণ না তারা তাঁর নিকটবর্তী হলো। তিনি যে প্রস্তুতির মাধ্যমে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন এবং তারা যখন এগিয়ে এল তখন তাদের জন্য যা প্রস্তুত করেছিলেন তা প্রয়োগ করলেন; ফলে তাদের কোনো গুলিই লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো না এবং তারা সেই শত্রু বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে হত্যা করল। এটিও এক নিদর্শন, কারণ যে বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে এসেছিল তারা ছিল তাদের তুলনায় বহুগুণ বেশি এবং প্রত্যেকের কাছেই ছিল পিস্তল ও বন্দুক। তা সত্ত্বেও তারা মুসলমানদের একজন ব্যক্তিকেও আঘাত করতে পারেনি, বরং তাদের নিজেদের মধ্যেই নিধনযজ্ঞ চলল। এটিও এক মহান নিদর্শন। এসব কিছু আমি প্রত্যক্ষ করছিলাম। এরপর তারা তাদের সমস্ত পদাতিক সৈন্য নিয়ে পাহাড়ের ডান দিকে সরে গেল, আর অশ্বারোহী বাহিনীর সেখানে যাওয়ার কোনো পথ ছিল না। ফলে বিশাহ, কাহতান ও অন্যান্য আরবদের মধ্য থেকে যারা পাহাড়ে ছিল তারা সবাই পরাজিত হয়ে পলায়ন করল, কেবল হারব গোত্র ছাড়া কারণ তারা সেখানে উপস্থিত ছিল না। মুসলমানদের ওপর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠল যখন শত্রুরা পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করল এবং উপর থেকে মুসলমানদের ওপর গুলিবর্ষণ করতে লাগল। সেদিনের শেষ ভাগে যুদ্ধের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করল। এরপর পরদিন ইসলামের অনুসারীরা তাদের সেই রবের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করল, যিনি তাঁকে সাহায্যকারীকে সাহায্য করেন। দ্বিতীয় দিন যখন সূর্য ঢলে পড়ার সময় ঘনিয়ে এল, তখন আমি দেখলাম যে দুইজন লোক এসেছে এবং তারা পাহাড়ের এক প্রান্তে আরোহণ করেছে। আমরা তাদের পক্ষ থেকে কোনো বন্দুকের আওয়াজ শুনিনি, কেবল আল্লাহ সেই পতাকাটি চূর্ণ করে দিলেন এবং আমরা তা দেখছিলাম। এরপর পুরো বাহিনীর ওপর পরাজয় নেমে এল এবং তারা পিঠ দেখিয়ে পলায়ন করল। তারা ঘোড়া ও রসদপত্র ত্যাগ করে সেই পথেই রওনা হলো যে পথে তারা এসেছিল। মুসলমানরা তাদের পশ্চাদ্ধাবন করে হত্যা ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহ করতে লাগল। আমরা দেখছিলাম যে, সেই ঘোড়াগুলো নিস্তেজ ও ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। খন্দকের দিক থেকে একদল অশ্বারোহী বাহিনী তাদের সামনে আবির্ভূত হলো এবং তাদের সাথে কিছু পদাতিক সৈন্যও ছিল, ফলে সেই শত্রু অশ্বারোহী দল পিঠ দেখিয়ে পলায়ন করল। তখন মুসলমানদের অশ্বারোহী বাহিনী তাদের পিছু নিল, অথচ তাদের সাথে কোনো পাথেয় বা পানির পাত্র ছিল না। সত্য ইলাহ ও বান্দাদের রবের পক্ষ থেকে এই মহান বিজয়ের দিকে লক্ষ্য করুন, কারণ আল্লাহ সেই বিশাল বাহিনীকে মাত্র দুইজন ব্যক্তির মাধ্যমে পরাজিত করেছেন। এই হলো তিনটি নিদর্শন, কিন্তু উপদেশ গ্রহণকারী কোথায়? এরপর তারা কয়েক বছর সেখানে অবস্থান করল।

এরপর আল্লাহ যে বাহিনীকে পরাজিত করেছেন তার প্রধান "তুসুন" অগ্রসর হলেন এবং অবিলম্বে মদীনার দিকে যাত্রা করলেন। আর সৌদ আব্দুল্লাহ ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর আদেশ জারি করলেন।
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ২২)
من المسلمين أن ينهضوا لقتالهم، فوجدوهم قد هجموا على المدينة، ودخلوها، وأخرجوا من كان بها من أهل نجد وعسير، فحج المسلمون تلك السنة، فأقبل ذلك العسكر فنزلوا رابغ، ونزل المسلمون وادي فاطمة، فخان لهم شريف مكة، وضمهم إليه، وجاؤا مع الخبت على غفلة من المسلمين، فعلم المسلمون أنه لا مقام لهم مع ما جرى من الخيانة، فرجعوا إلى أوطانهم، فخاف عثمان وهو بالطائف أن يكون الحرب منهم ومن الشريف عليه لما يعلم من شدة عداوتهم فخرج بأهله وترك لهم الطائف أيضاً مخافة أن يجتمعوا على حربه، وليس معه إلا القليل من عشيرته، ولا يأمن أهل الطائف أيضاً، فنزل المسلمون بتربة بعد ذلك نحوا من شهر، ثم رجعوا حين أكلوا ما معهم من الزاد، فجرى بعد ذلك وقعات بينهم وبين المسلمين، لا فائدة في الإطالة بذكرها، والمقصود أن استيلاءهم على المدينة ومكة والطائف كان بأسباب قدّرها الملك الغلاب. فيريك عزته ويبدي لطفه، والعبد في الغفلات عن ذا الشأن، وفيها من العبر أن الله أبطل كيد العدو، وحمى الحوزة، وعافى المسلمين من شرهم، وصار المسلمون يغزونهم فيما قرب من المدينة ومكة في نحو ثلاث سنين أو أربع فتوفى الله سعوداً رحمه الله تعالى وهم غزاة على من كان معيناً لهذا العسكر من البوادي، فأخذوا وغنموا، فبقي لهم من الولاية ما كانوا عليه أولاً، إلا ما كان من مكة والطائف وبعض الحجاز، وبعد وفاة سعود رحمه الله تجهزوا للجهاد على اختلاف كان من أولئك الأولاد، فصاروا جانبين جانباً مع عبد الله وجانباً مع فيصل أخيه، فنزل الحناكية عبد الله، ونزل فيصل تربة باختيار وأمر من أخيه له، فوافق أن محمد علي حج تلك السنة فواجه فيصل هناك فطلب منه أن يصالحه على الحرمين، فأبى فيصل، وأغلظ له الجواب، وفيما قال:

মুসলিমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য অগ্রসর হলে দেখতে পেলেন যে, তারা মদিনায় আক্রমণ করেছে এবং তাতে প্রবেশ করেছে। তারা সেখানে অবস্থানরত নজদ ও আসীরের অধিবাসীদের বের করে দিয়েছে। মুসলিমরা সেই বছর হজ সম্পন্ন করলেন। অতঃপর সেই শত্রু বাহিনী অগ্রসর হয়ে রাবিগে অবতরণ করল এবং মুসলিমরা ওয়াদি ফাতেমায় অবস্থান নিলেন। মক্কার শরীফ তাদের সাথে বিশ্বাসঘতকতা করে শত্রুদের সাথে যোগ দিলেন এবং তাদেরকে নিজের সাথে যুক্ত করে নিলেন। তারা মুসলিমদের অসতর্কতার সুযোগে খাবত নামক নিচু ভূমি দিয়ে অতর্কিতে উপস্থিত হলো। মুসলিমরা বুঝতে পারলেন যে, এই বিশ্বাসঘাতকতার পর সেখানে অবস্থান করা আর সম্ভব নয়, তাই তারা নিজ নিজ বাসভূমিতে ফিরে গেলেন। উসমান তখন তায়েফে ছিলেন; তিনি তাদের এবং শরীফের পক্ষ থেকে আক্রমণের আশঙ্কা করলেন, কারণ তিনি তাদের চরম শত্রুতার কথা জানতেন। তাই তিনি তার পরিবারবর্গ নিয়ে বেরিয়ে গেলেন এবং তায়েফও তাদের জন্য ছেড়ে দিলেন, যাতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে না পারে। তখন তার সাথে তার গোত্রের অল্প কয়েকজন লোক ছিল এবং তিনি তায়েফের অধিবাসীদের ওপরও আস্থা রাখতে পারছিলেন না। এরপর মুসলিমরা প্রায় এক মাস যাবত তুরবাহ নামক স্থানে অবস্থান করলেন। সাথে থাকা পাথেয় শেষ হয়ে গেলে তারা ফিরে গেলেন। এরপর তাদের এবং মুসলিমদের মধ্যে আরও অনেকগুলো যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা বিস্তারিত বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই। মূল কথা হলো, মদিনা, মক্কা এবং তায়েফের ওপর তাদের এই আধিপত্য বিস্তার ছিল এমন কিছু কারণের মাধ্যমে যা মহা বিজয়ী অধিপতি (আল্লাহ) নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি এর মাধ্যমে তাঁর মর্যাদা প্রদর্শন করেন এবং তাঁর অনুগ্রহ প্রকাশ করেন, অথচ বান্দা এই বিষয়ে গাফেল থাকে। এর মধ্যে এই শিক্ষা রয়েছে যে, আল্লাহ শত্রুর ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছেন, সীমান্ত রক্ষা করেছেন এবং মুসলিমদেরকে তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন। মুসলিমরা প্রায় তিন বা চার বছর মদিনা ও মক্কার নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখেন। অতঃপর আল্লাহ সাউদকে—তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—মৃত্যু দান করলেন। তখন তারা সেই সব মরুবাসী বেদুইনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ছিলেন যারা ওই শত্রু বাহিনীকে সাহায্য করেছিল। তারা তাদেরকে পরাস্ত করলেন এবং গনীমত লাভ করলেন। ফলে মক্কা, তায়েফ এবং হেজাজের কিছু অংশ ব্যতীত তাদের আগের শাসন ক্ষমতা বহাল থাকল। সাউদের (রাহিমাহুল্লাহ) মৃত্যুর পর, তার সন্তানদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা জিহাদের জন্য প্রস্তুতি নিলেন। তারা দুই দলে বিভক্ত হলেন: একদল আবদুল্লাহর সাথে এবং অন্য দল তার ভাই ফয়সালের সাথে। আবদুল্লাহ হুনাকিয়াহ নামক স্থানে অবতরণ করলেন এবং ফয়সাল তার ভাইয়ের পছন্দ ও আদেশে তুরবাহ নামক স্থানে অবস্থান নিলেন। কাকতালীয়ভাবে সেই বছর মুহাম্মদ আলী হজ পালন করতে এসেছিলেন। সেখানে ফয়সালের সাথে তার দেখা হলে তিনি হারামাইন (মক্কা-মদিনা) নিয়ে সন্ধি করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু ফয়সাল তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাকে কঠোর জবাব দেন। তার বক্তব্যের মধ্যে ছিল:

(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ২৩)
لا أصلح الله منا من يصالحكم … حتى يصالح ذيب المعز راعيها

فأخذت محمد علي العزة والأنفة فسار إلى بسل، الظاهر أنه كان حريصاً على الصلح فاستعجل فيصل بمن معه فساروا إليه في بسل، وقد استعد لحربهم خوفاً مما جرى منهم، فأقبلوا وهم في منازلهم فسارت عليهم العساكر والخيول فولو مدبرين، لكن الله أعز المسلمين فحبس عنهم تلك الدول والخيول، حتى وقفوا على التلول، فسلم أكثر المسلمين من شرهم، واستشهد منهم القليل، ولا بد في القتال من أن ينال المسلم ويُنال منه، قال تعالى: {وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ} الآيات، وقال تعالى: {وَكَأَيِّنْ مِنْ نَبِيٍّ قَاتَلَ مَعَهُ رِبِّيُّونَ كَثِيرٌ فَمَا وَهَنُوا لِمَا أَصَابَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّه} إلى قوله: {وَاللَّهُ يُحِبُّ الصَّابِرِينَ} الآيات.

وقد قال هرقل لأبي سفيان فما الحرب بينكم وبينه؟ قال: سجال، ينال منا، وننال منه. فهذه سنة الله في العباد زيادة للمؤمنين في الثواب، وتغليظاً على الكافرين في العقاب.

وأما عبد الله فرجع بمن معه فلم يلق كيداً دون المدينة. فتفكر في حماية الله لهذه الطائفة مع كثرة من عاداهم وناواهم، ومع كثرة من أعان عليهم ممن ارتاب في هذا الدين وكرهه، وقبل الباطل وأحبه، فما أكثر هؤلاء لكن الله قهرهم بالإسلام، ففي هذا المقام عبرة، وهو أن الله أعزهم وحفظهم من شر من عاداهم، فلله الحمد والمنة.

وبعد ذلك رجع محمد علي إلى مصر، وبعث الشريف غالب إلى إسطنبول، وأمر ابنه طلسون أن ينزل الحناكية دون المدينة، وأمر العطاس بالصلح بينهم وبين عبد الله بن سعود ويركب له من مكة، وأراد الله أن أهل الرس يخافون، لأنهم صاروا في طرف العسكر، وصار عندهم ربيع من المغاربة، وصار في أولاد سعود نوع من العجلة في الأمور فأمروا على الرعايا بالمسير إلى الرس، فنزلوا الرويضة، فتحصن أهل الرس بمن عندهم، فأوجبت تلك العجلة أن استفزعوا أهل الحناكية، فلما جاء
আমাদের মধ্যে যে তোমাদের সাথে সন্ধি করবে, আল্লাহ তাকে সংশোধন করবেন না … যতক্ষণ না ছাগলের নেকড়ে তার রাখালের সাথে সন্ধি করে।

অতঃপর মুহাম্মদ আলীর মনে আত্মমর্যাদা ও জেদ চেপে বসল, ফলে তিনি বাসালের দিকে অগ্রসর হলেন। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি সন্ধির ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু ফয়সাল তার সঙ্গীদের নিয়ে তড়িঘড়ি করলেন এবং তারা বাসালের দিকে তার অভিমুখে রওয়ানা হলেন। তাদের পক্ষ থেকে যা ঘটেছিল সেই ভয়ে তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তারা যখন তাদের আবাসস্থলে ছিল তখনই তারা উপস্থিত হলেন, অতঃপর তাদের উপর সৈন্যবাহিনী ও অশ্বারোহী দল আক্রমণ চালাল, ফলে তারা পিঠ দেখিয়ে পালিয়ে গেল। কিন্তু আল্লাহ মুসলিমদের সম্মানিত করলেন এবং তাদের থেকে সেই শক্তি ও অশ্বারোহী বাহিনীকে দূরে সরিয়ে রাখলেন, এমনকি তারা টিলার উপরে গিয়ে অবস্থান নিল। মুসলিমদের অধিকাংশই তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেলেন এবং তাদের মধ্যে অল্প কিছু লোক শহীদ হলেন। আর যুদ্ধে মুসলিমদের আঘাত করা এবং তাদের পক্ষ থেকে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া অনিবার্য। মহান আল্লাহ বলেন: "আর এই দিনগুলোকে আমি মানুষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আবর্তন করি" আয়াতসমূহ। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর কত নবী ছিলেন যাদের সাথে বহু আল্লাহওয়ালা যুদ্ধ করেছেন। আল্লাহর পথে তাদের উপর যা আপতিত হয়েছিল তাতে তারা হিম্মত হারাননি" আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: "আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন" আয়াতসমূহ।

হিরাক্লিয়াস আবু সুফিয়ানকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: তোমাদের ও তার মধ্যকার যুদ্ধ কেমন? তিনি বললেন: তা পাল্টাপাল্টি; কখনও তিনি আমাদের থেকে কিছু অর্জন করেন, কখনও আমরা তার থেকে অর্জন করি। এটি বান্দাদের ক্ষেত্রে আল্লাহর একটি নীতি, যাতে মুমিনদের সওয়াব বৃদ্ধি পায় এবং কাফিরদের জন্য শাস্তি কঠোর হয়।

আর আবদুল্লাহ তার সঙ্গীদের নিয়ে ফিরে এলেন এবং মদীনার নিকটবর্তী হওয়ার আগে কোনো ষড়যন্ত্রের সম্মুখীন হলেন না। এই দলটির প্রতি আল্লাহর সুরক্ষা সম্পর্কে চিন্তা করুন, যদিও তাদের শত্রু ও বিরোধিতাকারীদের সংখ্যা অনেক ছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে সাহায্যকারীর সংখ্যাও অনেক ছিল—যারা এই দ্বীনের ব্যাপারে সন্দিহান ছিল ও একে অপছন্দ করত এবং বাতিলকে গ্রহণ করেছিল ও তা ভালোবাসত। এদের সংখ্যা কতই না বেশি! কিন্তু আল্লাহ তাদের ইসলামের মাধ্যমে পরাভূত করেছেন। এই ঘটনায় একটি শিক্ষা রয়েছে, আর তা হলো আল্লাহ তাদের সম্মানিত করেছেন এবং যারা তাদের শত্রুতা করেছিল তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন। সুতরাং আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ।

এরপর মুহাম্মদ আলী মিশরে ফিরে গেলেন এবং শরীফ গালিবকে ইস্তাম্বুলে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি তার পুত্র তুসুনকে মদীনার নিকটবর্তী আল-হানাকিয়াহতে অবস্থান করার নির্দেশ দিলেন। তিনি আল-আত্তাসকে নির্দেশ দিলেন তাদের ও আবদুল্লাহ বিন সউদের মাঝে সন্ধি স্থাপন করতে এবং মক্কা থেকে তার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতে। আর আল্লাহ চাইলেন যে, আর-রাস অঞ্চলের মানুষ ভীত হয়ে পড়ুক, কারণ তারা সৈন্যবাহিনীর এক প্রান্তে ছিল এবং তাদের কাছে মাগরেবীদের একটি দল ছিল। সউদের সন্তানদের মধ্যে কাজকর্মে এক ধরনের তড়িঘড়ি ভাব দেখা দিল, তাই তারা প্রজাদের আর-রাস অভিমুখে যাত্রার নির্দেশ দিলেন। তারা আর-রুওয়াইদাহতে অবতরণ করলেন। ফলে আর-রাস-এর অধিবাসীরা তাদের কাছে থাকা লোকদের নিয়ে সুরক্ষিত হলেন। সেই তড়িঘড়ি এই পরিস্থিতি তৈরি করল যে তারা আল-হানাকিয়াহর অধিবাসীদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করল। যখন এল...
(খণ্ড: ১) মাকামাতু আবদির রহমান বিন হাসান (পৃষ্ঠা: ২৪)
الخبر بإقبالهم ارتحلوا يلتمسون من أعانهم من حرب ما بينهم وبين المدينة، فصادفوا خزنة العسكر فقتلوهم، وأخذوا ما معهم، فهذا مما يسره الله لهم من النصر من غير قصد ولا دراية، فرجع المسلمون إلى عنيزة، والعسكر نزلوا الشبيبية قريباً منهم، ويسر الله للمسلمين سبباً آخر، وذلك من توفيق الله ونصره، وجاهدوا جيشاً وخيلاً فأغاروا على جانب العسكر فخرجوا عليهم، فهزمهم الله، وقتل المسلمون فيهم قتلاً كثيراً، فألقى الله الرعب في قلوبهم على كثرة من أعانهم، وقوة أسبابهم، وذلك من نصر الله لهذا الدين، فرجعوا إلى الرس خوفاً من هجوم المسلمين عليهم، فتبعهم المسلمون، ونزلوا الحجناوي، فقدم العطاس على الأمر الذي عمده عليه محمد علي فوجد الحال قد تغير فقصدهم ابتداء، فمنعوه مما جاء له، ثم إنهم سعوا في الصلح والمسلمون على الحجناوي، وكل يوم يجري بين الخيل طراد فمل أكثر المسلمين عن الإقامة، فلم يبق منهم إلا شرذمة قليلة، فجاء منهم أناس يطلبون الصلح، فأصلحهم عبد الله رحمه الله تعالى، وطلبوا منه أن يبعث معهم رجلاً من أهل بيشة خوفاً أن يعرض لهم أحد من المسلمين في طريقهم فمشى محمد بن حسين بن مشاري إلى المدينة.

والمقصود أن الله سبحانه وتعالى أذلهم، وألقى الرعب في قلوبهم، وحفظ المسلمين من شرهم، بل غنمهم مما بأيديهم من حيث بذلهم المال في شراء الهجن، فاشتروا من المسلمين الذلول بضعفي ثمنها.

وهذا كله مما يفيد صحة هذا الدين وأنه الذي يحبه الله ويرضاه، وهو الذي يسر أسباب نصر من تمسك به وخذلان من ناوأهم وعاداهم في هذا الدين، فتفكر يا من له قلب، ولولا ما صار في أهل هذا الدين من مخالفة المشروع في بعض الأحوال لصار النصر أعظم مما جرى، لكن الله تعالى عفى عن الكثير وحمى دينه عمن أراد إطفاءه، فلله الحمد لا نحصي ثناء عليه

যখন তাদের আগমনের খবর এল, তখন তারা তাদের এবং মদিনার মধ্যকার যুদ্ধে যারা তাদের সাহায্য করবে এমন কাউকে খুঁজতে যাত্রা করল। ঘটনাক্রমে তারা সেনাবাহিনীর ভাণ্ডার রক্ষকদের দেখা পেল এবং তাদের হত্যা করে তাদের কাছে যা ছিল তা ছিনিয়ে নিল। এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা জ্ঞান ছাড়াই সহজ করে দেওয়া একটি বিজয়। এরপর মুসলমানরা উনাইজায় ফিরে এল এবং সেনাবাহিনী তাদের নিকটবর্তী শুবায়বিয়াহ নামক স্থানে অবস্থান নিল। আল্লাহ মুসলমানদের জন্য অন্য একটি উপায় সহজ করে দিলেন, যা আল্লাহর তাওফিক ও সাহায্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারা পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করল এবং সেনাবাহিনীর এক প্রান্তে অতর্কিত আক্রমণ চালাল। অতঃপর আল্লাহ তাদের পরাজিত করলেন এবং মুসলমানরা তাদের অনেককে হত্যা করল। তাদের সাহায্যকারীর সংখ্যাধিক্য এবং উপকরণের শক্তি থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তাদের অন্তরে ত্রাস সৃষ্টি করে দিলেন। এটি ছিল এই দ্বীনের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য। এরপর তারা মুসলমানদের আক্রমণের ভয়ে আর-রাসে ফিরে গেল। মুসলমানরা তাদের অনুসরণ করল এবং হাজনাউয়িতে অবস্থান নিল। মুহাম্মাদ আলী আল-আত্তাসকে যে নির্দেশের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তা নিয়ে তিনি আসলেন, কিন্তু দেখলেন পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়ে গেছে। তিনি শুরুতেই তাদের অভিমুখে অগ্রসর হলে তারা তাকে তার কাজে বাধা দিল। এরপর তারা সন্ধির চেষ্টা করল যখন মুসলমানরা হাজনাউয়িতে অবস্থান করছিল। প্রতিদিন অশ্বারোহীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল, ফলে অধিকাংশ মুসলমান দীর্ঘ অবস্থানের কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়ল এবং কেবল একটি ক্ষুদ্র দলই অবশিষ্ট রইল। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে কিছু লোক এসে সন্ধি প্রার্থনা করল এবং আবদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাদের সাথে সন্ধি করলেন। তারা অনুরোধ করল যেন তাদের সাথে বিশাহ এলাকার একজন ব্যক্তিকে পাঠানো হয়, যাতে পথে কোনো মুসলিম তাদের ওপর চড়াও না হয়। ফলে মুহাম্মাদ বিন হুসাইন বিন মাশারি মদিনার দিকে রওয়ানা হলেন।

মূল কথা হলো এই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের লাঞ্ছিত করেছেন, তাদের অন্তরে ত্রাস সৃষ্টি করেছেন এবং মুসলমানদের তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন। বরং তাদের সম্পদ থেকেই আল্লাহ মুসলমানদের গনীমত দান করেছেন, কারণ তারা উট ক্রয়ের জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করছিল এবং তারা মুসলমানদের কাছ থেকে একটি উট স্বাভাবিক মূল্যের দ্বিগুণ দামে ক্রয় করেছিল।

এসব কিছুই এই দ্বীনের সত্যতা প্রমাণ করে এবং এটিই সেই দ্বীন যাকে আল্লাহ ভালোবাসেন ও যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট। যারা এই দ্বীনকে মজবুতভাবে ধারণ করে, তিনি তাদের বিজয়ের পথ সহজ করে দেন এবং যারা এর বিরোধিতা ও শত্রুতা করে তাদের অপদস্থ করেন। হে বিবেকবান! তুমি চিন্তা করো। এই দ্বীনের অনুসারীদের পক্ষ থেকে যদি কিছু ক্ষেত্রে শরীয়ত পরিপন্থী কাজ প্রকাশ না পেত, তবে এই বিজয় অর্জিত বিজয়ের চেয়েও অনেক মহান হতো। কিন্তু আল্লাহ তাআলা অনেক বিচ্যুতি ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং যারা তাঁর নূর নিভিয়ে দিতে চেয়েছিল তাদের থেকে তিনি তাঁর দ্বীনকে হেফাযত করেছেন। সুতরাং আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা, আমরা তাঁর স্তুতি গেয়ে শেষ করতে পারব না।