(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: -)
المعجم الموسوعي لألفاظ القرآن الكريم وقراءاته القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: المعجم الموسوعي لألفاظ القرآن الكريم وقراءاته
المؤلف: د أحمد مختار عبد الحميد عمر
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 59
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মু'জাম আল-মাওসু'ই লি-আলফায আল-কুরআন আল-কারীম ওয়া কিরাআতিহি বিভাগ: কুরআন গবেষণা ও তাফসিরের মূলনীতি
গ্রন্থ: আল-মু'জাম আল-মাওসু'ই লি-আলফায আল-কুরআন আল-কারীম ওয়া কিরাআতিহি
লেখক: ড. আহমদ মুখতার আব্দুল হামিদ উমর
প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারাহ-স্থিত কিং ফাহদ কমপ্লেক্স ফর প্রিন্টিং অফ দ্য হোলি কুরআন
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمة…مدخل:
كان القرآن الكريم محورًا لكثير من الدراسات منذ اللحظة الأولى لنزوله. وعلى الرغم من تنوع هذه الدراسات وتعددها، وما بذله العلماء فيها من جهود مضنية للإحاطة بالكثير من جوانبه فقد بقيت هذه الجهود قاصرة، شاهدة بذاتها على أن النص القرآني يجاوز كل طاقات النفس البشرية. وعلى الرغم من توالي الأحقاب والسنين، وتنوع الأعمال المعجميّة التي ألِّفت حول القرآن الكريم وقراءاته، فقد بقي المجال مفتوحًا لأعمال معجمية أخرى تضاف إلى الأعمال المعجمية السابقة، وتسد فراغًا لا تسده هي مجتمعة أو متفرقة.
ولعل أهم الأعمال المعجمية السابقة التي دارت حول ألفاظ القرآن الكريم وموضوعاته تندرج تحت الأنواع الآتية:
1- معاجم الغريب، سواء منها ما رتب ألفبائيا، أو حسب السور والآيات، وهي أكثر من أن تُحصى.
2- معاجم الألفاظ، مثل: "معجم ألفاظ القرآن الكريم"، من إعداد مجمع اللغة العربية بالقاهرة.
3- المعاجم المفهرسة لألفاظ القرآن الكريم، والتي تخلو تمامًا من الدراسة، ولا تعدو في حقيقتها أن تكون قوائم بالكلمات القرآنية، مثل: "المعجم المفهرس لألفاظ القرآن الكريم" لمحمد فؤاد عبد الباقي، الذي بناه على كتاب "نجوم الفرقان في أطراف القرآن" للمستشرق فلوجل الألماني، الذي طبع أول مرة عام 1842م.
4- المعاجم المفهرسة للأدوات والضمائر، والتي تعد تكملة للمعجم المفهرس لألفاظ القرآن الكريم السابق ذكره، مثل: المعجم الذي أعده الدكتوران:
ভূমিকা…প্রবেশিকা:
পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার প্রথম মুহূর্ত থেকেই অনেক গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই গবেষণাসমূহের বৈচিত্র্য ও আধিক্য সত্ত্বেও এবং এর বহুবিধ দিক পরিবেষ্টন করার জন্য আলেমগণ যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তা সত্ত্বেও এই প্রচেষ্টাসমূহ সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে, যা স্বয়ং সাক্ষ্য প্রদান করে যে, কুরআনের বাণী মানুষের সমস্ত মানসিক সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে। যুগের পর যুগ অতিবাহিত হওয়া এবং পবিত্র কুরআন ও এর কেরাআতসমূহকে কেন্দ্র করে রচিত অভিধানমূলক কাজের বৈচিত্র্য সত্ত্বেও, পূর্ববর্তী অভিধানমূলক কাজের সাথে যুক্ত করার মতো অন্যান্য কাজের ক্ষেত্র উন্মুক্ত রয়ে গেছে, যা এমন সব শূন্যতা পূরণ করবে যা পূর্বের কাজগুলো সম্মিলিত বা পৃথকভাবে করতে সক্ষম হয়নি।
সম্ভবত পবিত্র কুরআনের শব্দাবলি ও এর বিষয়বস্তু নিয়ে রচিত পূর্ববর্তী প্রধান অভিধানমূলক কাজগুলো নিম্নলিখিত প্রকারের অন্তর্ভুক্ত:
1- জটিল বা অপ্রচলিত (غريب) শব্দের অভিধানসমূহ; চাই তা বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো হোক অথবা সূরা ও আয়াত অনুযায়ী, এগুলোর সংখ্যা অগণিত।
2- শব্দাভিধানসমূহ, যেমন: কায়রোর ‘মাজমাউল লুগাহ আল-আরাবিয়্যাহ’ কর্তৃক সংকলিত ‘মুজামু আলফাযিল কুরআনিল কারিম’।
3- পবিত্র কুরআনের শব্দাবলির নির্ঘণ্ট অভিধানসমূহ (المعاجم المفهرسة), যেগুলোতে গবেষণামূলক বিশ্লেষণের অভাব রয়েছে এবং বাস্তবে সেগুলো কুরআনের শব্দাবলির তালিকার অতিরিক্ত কিছু নয়; যেমন: মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী রচিত ‘আল-মুজামুল মুফাহরাস লি আলফাযিল কুরআনিল কারিম’, যা তিনি জার্মান প্রাচ্যবিদ ফ্লুগেলের ১৮৪২ সালে প্রথম মুদ্রিত ‘নুজুমুল ফুরকান ফি আতরাফিল কুরআন’ গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করেছেন।
4- অব্যয় (الأدوات) এবং সর্বনামের (الضمائر) নির্ঘণ্ট অভিধানসমূহ, যা ইতিপূর্বে উল্লিখিত পবিত্র কুরআনের শব্দাবলির নির্ঘণ্ট অভিধানের পরিপূরক হিসেবে বিবেচিত হয়; যেমন সেই অভিধানটি যা দুই জন ডক্টর প্রস্তুত করেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ২)
إسماعيل أحمد عمايرة، وعبد الحميد مصطفى السيد. فقد "فهرس عبد الباقي جميع ما في القرآن الكريم من كلمات تندرج في الفعل أو الاسم الصريح، وترك الأدوات والضمائر" (مقدمة خليل عمايرة للمعجم صـ 8) . وقد اقتصر هذا العمل كسابقه على الفهرسة، ولذا جاء في مقدمته:"ونحن في هذا العمل نفهرس ولا ندرس" (المقدمة ص 9) . وقد أخذ صانعا المعجم على عمل محمد فؤاد عبد الباقي أنه خرج على منهجه حين ضمن معجمه بعض الأدوات أحيانًا "فهو يفهرس سوف، وبلى، ومع، وهذان، واللذان، واللائي، ولم يفهرس بل، والسين، وهذا، والذي، واللواتي، والذين" [كذا، ولم ترد في القرآن الكريم كلمة اللواتي] (المقدمة ص 10) .
5- المعاجم التي تجمع بين النوعين السابقين، فتشمل الأفعال، والأسماء الصريحة، والأدوات والضمائر، مثل: "قاموس الألفاظ القرآنية" للدكتور حسين محمد الشافعي.
6- المعاجم المفهرسة للقراءات القرآنية، ولا نعرف منها - في العصر الحديث- سوى "معجم القراءات القرآنية "، من إعداد الدكتورين: أحمد مختار عمر، وعبد العال سالم مكرم. وهو كسابقيه يعتمد على الفهرسة، ويخلو من الدراسة في صلب المتن، وإن حوى بعض التعليقات المفيدة، والشروح الموجزة في حواشي صفحاته.
7- المعاجم المفهرسة لموضوعات القرآن الكريم، مثل: "تبويب آي القرآن الكريم من الناحية الموضوعية" لأحمد إبراهيم مهنّا، و"المعجم الموضوعي للقرآن الكريم"إعداد: حمزة النشرتي، وعبد الحفيظ فرغلي، وعبد الحميد مصطفى.
ইসমাইল আহমদ আমায়িরা এবং আব্দুল হামিদ মুস্তফা আল-সাইয়্যিদ। কেননা, "আব্দুল বাকি পবিত্র কুরআনের সেই সকল শব্দের নির্ঘণ্ট (فهرس) করেছেন যা ক্রিয়া বা স্পষ্ট বিশেষ্যের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং অব্যয় ও সর্বনামসমূহ বাদ দিয়েছেন" (অভিধানটির প্রতি খলিল আমায়িরার ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৮)। এই কাজটি তার পূর্বসূরির মতোই কেবল নির্ঘণ্টকরণের (فهرسة) মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তাই এর ভূমিকায় বলা হয়েছে: "আমরা এই কাজে নির্ঘণ্ট (نفهرس) করছি, কোনো গবেষণা (لا ندرس) করছি না" (ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৯)। অভিধানটির সংকলকদ্বয় মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির কাজের সমালোচনা করে বলেছেন যে, তিনি কখনও কখনও তার অভিধানে কিছু অব্যয় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে নিজের অনুসৃত পদ্ধতি থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। "তিনি سوف (সাওফা), بلى (বালা), مع (মা’আ), هذان (হাযানি), اللذان (আল্লাযানি) এবং اللائي (আল্লায়ি) শব্দগুলোর নির্ঘণ্ট (يفهرس) করেছেন, কিন্তু بل (বাল), السين (সীন), هذا (হাযা), الذي (আল্লাযি), اللواتي (আল্লাওয়াতি) এবং الذين (আল্লাযিনা) শব্দগুলোর নির্ঘণ্ট (يفهرس) করেননি" [অনুরূপভাবে, পবিত্র কুরআনে 'اللواتি' শব্দটি আসেনি] (ভূমিকা, পৃষ্ঠা ১০)।
5- সেই সকল অভিধান যা পূর্ববর্তী দুই প্রকারের সমন্বয় সাধন করে, ফলে তা ক্রিয়া, স্পষ্ট বিশেষ্য, অব্যয় এবং সর্বনামকে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন: ড. হুসাইন মুহাম্মদ আল-শাফিঈ-র "কামুস আল-আলফাজ আল-কুরআনিয়্যাহ"।
6- কুরআনি কিরাতসমূহের (قراءات) নির্ঘণ্ট সংবলিত অভিধানসমূহ। আধুনিক যুগে এই বিষয়ে ড. আহমদ মুখতার ওমর এবং আব্দুল আল সালিম মাকরাম কর্তৃক প্রস্তুতকৃত "মু’জাম আল-কিরাআত আল-কুরআনিয়্যাহ" ব্যতীত অন্য কোনোটির কথা আমাদের জানা নেই। এটিও তার পূর্ববর্তীদের মতো নির্ঘণ্টকরণের (فهرسة) ওপর নির্ভরশীল এবং মূল পাঠের (متن) ভেতরে কোনো গবেষণা বর্জিত, যদিও এর পৃষ্ঠাগুলোর পাদটীকায় কিছু দরকারী মন্তব্য এবং সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা রয়েছে।
7- পবিত্র কুরআনের বিষয়ভিত্তিক নির্ঘণ্ট সংবলিত অভিধানসমূহ। যেমন: আহমদ ইব্রাহিম মুহান্নার "তাবউইব আয় আল-কুরআন আল-কারিম মিন আল-নাহিয়াহ আল-মাওদুয়িয়্যাহ" এবং হামজা আল-নাশরতি, আব্দুল Hafiz ফারগালি ও আব্দুল হামিদ মুস্তফা কর্তৃক প্রস্তুতকৃত "আল-মু’জাম আল-মাওদুয়ি লিল-কুরআন আল-কারিম"।
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ৩)
8- المعاجم المفهرسة لآيات القرآن الكريم، مثل: "الدليل الكامل لآيات القرآن الكريم" للدكتور حسين محمد الشافعي.
9- المعاجم الخاصة بأعلام القرآن الكريم، مثل: "معجم أعلام القرآن" للدكتور محمد التونجي.
10- المعاجم التي تجمع بين الأعلام والموضوعات، مثل: "معجم الأعلام والموضوعات في القرآن الكريم" للدكتور عبد الصبور مرزوق.
11- المعاجم التي تجمع بين الألفاظ والأعلام، مثل: "معجم الألفاظ والأعلام القرآنية" لمحمد إسماعيل إبراهيم.
৮- পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের বর্ণানুক্রমিক নির্ঘণ্ট অভিধান; যেমন: ড. হুসাইন মুহাম্মাদ আশ-শাফিয়ী রচিত "আদ-দালীলুল কামিল লি-আয়াতিল কুরআনিল কারীম"।
৯- পবিত্র কুরআনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সংক্রান্ত বিশেষ অভিধান; যেমন: ড. মুহাম্মাদ আত-তুনজি রচিত "মু'জামু আলামিল কুরআন"।
১০- এমন অভিধান যা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিষয়বস্তু উভয়ের সমন্বয় করেছে; যেমন: ড. আব্দুস সবুর মারযূক রচিত "মু'জামুল আলাম ওয়াল মাওদুআত ফিল কুরআনিল কারীম"।
১১- এমন অভিধান যা শব্দাবলি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয় করেছে; যেমন: মুহাম্মাদ ইসমাঈল ইবরাহীম রচিত "মু'জামুল আলফায ওয়াল আলামিল কুরআনিয়্যাহ"।
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ৪)
هدفنا من صنع هذا المعجمكان أمامنا جملة من الأهداف حين فكرنا في إعداد هذا المعجم، وتقديمه لجمهور القراء، ومن هذه الأهداف:
1- مخاطبة عامة المسلمين في شتى أنحاء العالم، ولذا راعينا الإيجاز في التعبير، والسلاسة في الشرح والتفسير.
2- عدم التوسع في عرض المعلومة، وترك ذلك للأعمال المتخصصة، أو كتب التفسير المطولة، مع عدم الإخلال - في الوقت نفسه- بمتطلبات الفهم، ومستلزمات الوضوح.
3- الرجوع إلى أكبر قدر ممكن من أمهات المصادر القرآنية، واستخلاص أهم ما فيها من آراء وأفكار، مع إعادة عرضها بأسلوب عصري، ولغة مركزة.
4- الجمع بين جميع الأعمال التي سبقتنا في عمل واحد يوفر الجهد، ويختصر الوقت، ويقدم المعلومة اللغوية أو المعرفية السريعة لمن يطلبها.
5- مواكبة العصر، وملاحقة التطور السريع في وسائل عرض المعلومات وتيسير الحصول عليها، بتقديم هذا العمل في صورتين ورقية وإلكترونية (انظر النسخة الإلكترونية) .
6- تلافي عيوب الأعمال المعجمية السابقة لهذا العمل، والاستيثاق من أيّ معلومة ترد فيها قبل إثباتها، والأخذ بمبدأ الشك تجنبًا لتثبيت الخطأ من ناحية، وحرصًا على إشاعة مبدأ التحقق بين الدارسين من ناحية أخرى.
এই অভিধানটি রচনার ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্যএই অভিধানটি প্রস্তুত করার এবং পাঠক সাধারণের নিকট তা পেশ করার কথা যখন আমরা চিন্তা করি, তখন আমাদের সামনে বেশ কিছু লক্ষ্য ছিল। সেই লক্ষ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১- বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মুসলিমদের সম্বোধন করা; এ কারণে আমরা প্রকাশভঙ্গিতে সংক্ষিপ্ততা এবং ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে সাবলীলতা বজায় রেখেছি।
২- তথ্যের অতি বিস্তৃতি পরিহার করা এবং তা বিশেষায়িত কাজ কিংবা দীর্ঘ তাফসির গ্রন্থগুলোর জন্য রেখে দেওয়া; তবে একই সাথে অনুধাবনের প্রয়োজনীয়তা ও স্বচ্ছতার দাবির ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি রাখা হয়নি।
৩- কুরআন সংশ্লিষ্ট মৌলিক উৎসসমূহের (أمهات المصادر) বিশাল ভাণ্ডার থেকে যথাসম্ভব সাহায্য নেওয়া এবং সেগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও চিন্তাগুলো আহরণ করা, পাশাপাশি তা আধুনিক শৈলী ও নিবিড় ভাষায় পুনরুপস্থাপন করা।
৪- আমাদের পূর্ববর্তী সকল কাজকে একটিমাত্র সংকলনে একত্রিত করা যা পরিশ্রম লাঘব করবে, সময় সাশ্রয় করবে এবং অনুসন্ধানকারীকে দ্রুত ভাষাগত বা জ্ঞানতাত্ত্বিক তথ্য প্রদান করবে।
৫- যুগের সাথে তাল মেলানো এবং তথ্য পরিবেশন ও তা সহজে পাওয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত বিবর্তনের সাথে গতি বজায় রাখা; তাই এই কাজটি মুদ্রিত ও ইলেকট্রনিক—উভয় মাধ্যমে (ইলেকট্রনিক সংস্করণ দেখুন) পেশ করা হয়েছে।
৬- এই কাজের পূর্ববর্তী অভিধানের কাজগুলোর ত্রুটিসমূহ এড়িয়ে চলা এবং কোনো তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার পূর্বে তার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত (استيثاق) করা; একদিকে ভুল তথ্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া থেকে বাঁচতে সংশয়বাদী নীতি গ্রহণ করা এবং অন্যদিকে গবেষকদের মাঝে যাচাইকরণের (التحقق) নীতি ছড়িয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা।
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ৫)
7- تبني منهج خاصّ، هدانا إليه إطالة النظر، وإعادة التأمل، وكثرة معايشتنا للنص القرآني وقراءاته، مع التركيز على الجوانب اللغوية، التي تعد المفتاح الحقيقي لفك مغاليق هذا النص، واكتناه أسراره.
وسنزيد هذه النقطة إيضاحًا حين نتحدث عن منهج المعجم.
8- وزيادة في التيسير على مستخدم المعجم ألحقنا به فهارس متنوعة تساعد على الحصول على المعلومة المطلوبة، حسب رغبة الباحث (انظر: قائمة الفهارس الملحقة بالمعجم) .
كما تضمن برنامج النسخة الإلكترونية إمكانات متنوعة للبحث حسب حاجة المستخدم.
7- একটি বিশেষ কর্মপদ্ধতি (منهج) অবলম্বন করা হয়েছে, যার দিশা আমরা পেয়েছি দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ, গভীর পুনঃচিন্তন এবং কুরআনি পাঠ্য (نص) ও এর কিরাতসমূহের (قراءات) সাথে আমাদের দীর্ঘ সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে। এতে ভাষাগত দিকগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা এই পাঠ্যের (نص) জটিলতাগুলো উন্মোচন করার এবং এর গূঢ় রহস্যগুলো অনুধাবন করার প্রকৃত চাবিকাঠি হিসেবে গণ্য হয়।
যখন আমরা অভিধানের কর্মপদ্ধতি (منهج) সম্পর্কে আলোচনা করব, তখন এই বিষয়টি আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করব।
8- অভিধান ব্যবহারকারীর অধিকতর সহজীকরণের লক্ষ্যে আমরা এতে বিভিন্ন ধরনের নির্ঘণ্ট (فهارس) যুক্ত করেছি, যা গবেষকের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য লাভে সহায়ক হবে (দেখুন: অভিধানের সাথে যুক্ত নির্ঘণ্টের (فهارس) তালিকা)।
তদুপরি, ইলেকট্রনিক সংস্করণের সফটওয়্যারে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী অনুসন্ধানের বিভিন্ন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ৬)
ما نعنيه بالمعجم الموسوعيلإزالة أيّ لبس محتمل في فهم العنوان الذي اخترناه لهذا العمل نرى من الضروري توضيح النقطتين الآتيتين.
1- أن هذا العمل ليس موسوعة قرآنية، وإنما هو معجم موسوعي، والفرق بين الاثنين كبير عند أصحاب التخصص.
فالعمل المعجمي يتناول النص أو اللفظ من داخل اللغة، أما العمل الموسوعي فيتناول أيًّا منهما من خارج اللغة. ولهذا كانت منطلقاتنا فى عرض المعلومة كلها لغوية، بحيث تغطي الجوانب المتعددة للفظ بما يشمل جذر الكلمة، أو حروفها الأصلية، وما يتفرع عن الجذر من صور قياسية أو غير قياسية، مجردة أو مزيدة تتدخل عادة لتحديد معاني الصيغ أو المعاني الصرفية للكلمات، والتي تتقاسم مع المعاني المعجمية المعنى العام للكلمة. ويندرج أيضًا تحت المعلومة اللغوية بيان المعنى المعجمي للكلمة في سياقها القرآني المعين، وتعداد معانيها حين تتعدد إما لاشتراك لفظها بين أكثر من معنى، أو لاختلاف الموقف أو السياق المعين الذي وردت فيه الكلمة. ولم نكتف بهذا وذاك فحرصنا كذلك على تحديد المجال الدلالي، أو الموضوع الذي يدخل تحته اللفظ المعين.
2- أن الجانب الموسوعي في هذا العمل المعجمي يبرز في النقاط الآتية:
أ- إعطاؤه أهمية للأعلام الواردة فى القرآن الكريم، وكذلك للأحداث التاريخية، وللأماكن والمواقع التي أشار إليها، وهي تعد معلومات
'বিশ্বকোষীয় অভিধান' বলতে আমরা যা বুঝাতে চেয়েছিআমরা এই কাজের জন্য যে শিরোনামটি নির্বাচন করেছি, তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যেকোনো অস্পষ্টতা দূর করার লক্ষ্যে আমরা নিম্নোক্ত দুটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি মনে করছি।
1- এই কাজটি কোনো কুরআনিক বিশ্বকোষ নয়, বরং এটি একটি বিশ্বকোষীয় অভিধান; আর বিশেষজ্ঞ মহলে এই দুইয়ের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান বিদ্যমান।
অভিধানতাত্ত্বিক কাজ কোনো পাঠ বা শব্দকে ভাষার ভেতর থেকে আলোচনা করে, পক্ষান্তরে বিশ্বকোষীয় কাজ এগুলোর যেকোনোটিকে ভাষার বাইরের প্রেক্ষাপট থেকে আলোচনা করে। এ কারণে তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমাদের সকল মূলভিত্তি ছিল ভাষাতাত্ত্বিক, যাতে শব্দের বহুমুখী দিকগুলো ফুটে ওঠে; যার অন্তর্ভুক্ত হলো শব্দের মূল বা তার মৌলিক অক্ষরসমূহ এবং সেই মূল থেকে নির্গত নিয়মানুগ বা অনিয়মিত রূপসমূহ, চাই তা মূলবর্ণ বিশিষ্ট হোক বা অতিরিক্ত বর্ণযুক্ত হোক—যা সাধারণত শব্দের রূপতাত্ত্বিক অর্থ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে এবং আভিধানিক অর্থের সাথে মিলে শব্দের সাধারণ অর্থ প্রকাশ করে। ভাষাতাত্ত্বিক তথ্যের অধীনে আরও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে নির্দিষ্ট কুরআনিক প্রেক্ষাপটে শব্দের আভিধানিক অর্থের বর্ণনা এবং শব্দের একাধিক অর্থ থাকলে তার সংখ্যা ও বৈচিত্র্য নিরূপণ—তা শব্দের একাধিক অর্থের ব্যবহারের কারণেই হোক, কিংবা যে বিশেষ পরিস্থিতি বা প্রেক্ষাপটে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে তার ভিন্নতার কারণেই হোক। আমরা কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকিনি, বরং শব্দার্থিক ক্ষেত্র বা যে বিষয়ের অধীনে নির্দিষ্ট শব্দটি অন্তর্ভুক্ত হয়, তা নির্ধারণের ব্যাপারেও সচেষ্ট হয়েছি।
2- এই আভিধানিক কর্মের বিশ্বকোষীয় দিকটি নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে ফুটে উঠেছে:
অ- পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ব্যক্তিবর্গ, ঐতিহাসিক ঘটনাবলি এবং কুরআন যে সকল স্থান ও অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করেছে সেগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করা; যা মূলত তথ্য হিসেবে গণ্য হয়...
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ৭)
موسوعية، لأنها تأتي من خارج اللغة، ومن ذلك المعلومات التي وردت عند شرح كلمة "بدر" وأنها ماء مشهور بين مكة والمدينة، وقعت عنده غزوة انتصر فيها المسلمون وكانت في العام الثاني للهجرة.
ب- جمعه بين العمل التفسيري، والعمل الفهرسي سواء فيما يتعلق بالأفعال أو الأسماء أو الأدوات أو الضمائر المنفصلة، وهو ما يحدث لأول مرة في عمل قرآني واحد.
ج- جمعه بين ألفاظ القرآن الكريم، وألفاظ القراءات القرآنية، مع الاهتمام بالتفسير والتخريج، وليس بالجانب الإحصائي وحده، وهو ما يحدث لأول مرة فى عمل قرآني واحد.
এটি বিশ্বকোষীয় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, কারণ এটি ভাষাতাত্ত্বিক গণ্ডির বাইরে থেকে বিভিন্ন তথ্যের অবতারণা করে। এর একটি দৃষ্টান্ত হলো "বদর" শব্দের ব্যাখ্যায় বর্ণিত তথ্যাবলি; যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী একটি সুপরিচিত জলাশয়, যার সন্নিকটে এমন এক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল যাতে মুসলিমগণ বিজয় লাভ করেছিলেন এবং তা ছিল হিজরি দ্বিতীয় বর্ষের ঘটনা।
খ- এতে তাফসির সংক্রান্ত কাজের পাশাপাশি নির্ঘণ্ট বা সূচিকরণ পদ্ধতির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে, যা ক্রিয়াপদ, বিশেষ্য, অব্যয় কিংবা পৃথক সর্বনাম—উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কোনো একটি একক কুরআনিক গবেষণায় এ ধরনের কাজ এই প্রথম।
গ- এতে পবিত্র কুরআনের শব্দাবলি এবং কিরাআতসমূহের শব্দাবলিকে একত্রিত করা হয়েছে। এখানে কেবল পরিসংখ্যানগত দিকের ওপর নির্ভর না করে তাফসির এবং হাদিসের সূত্র বিশ্লেষণের (تخريج) প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একটি একক কুরআনিক গবেষণায় এ ধরনের কাজের সমাবেশ এটাই প্রথম।
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ৮)
ملاحظات على أعمال سابقةعلى الرغم من أن عملنا لا يستمد قيمته من كشف عيوب الأعمال السابقة، لأن قيمته في ذاته، فقد وضعنا أيدينا - أثناء انشغالنا بجمع مادة معجمنا وتحريرها - وضعنا أيدينا على جملة من السلبيات التي تداركناها في عملنا، مما تطلب منا مراجعة دقيقة لأعمال السابقين، وعدم اقتباس ما ورد فيها من آراء وتفسيرات ما لم يكن له أصل فيما روي عن ثقات المفسرين، بل إننا لم نُسلم قيادنا لكل ما ورد في المصادر التراثية، فكنا ننخلها بدقة الباحث، ونزنها بميزان الخبير، وننحّي منها ما نشك في ثبوته، أو نقطع بعدم صحته.
وربما كان من المفيد أن نعرض ملاحظاتنا في مجموعات على النحو التالي:
أ: ملاحظاتنا على أعمال الفهرسة لألفاظ القرآن الكريم:
تشمل هذه الملاحظات عملين اثنين يكمل ثانيهما الأول، وهما: "المعجم الفهرس لألفاظ القرآن الكريم"، و"معجم الأدوات والضمائر في القرآن الكريم"، وعملا ثالثًا يفترض أنه يجمع بين العملين السابقين: وهو "قاموس الألفاظ القرآنية" لحسين محمد الشافعي.
إنّ أول ما يلفت النظر في العملين الأولين عدم الإحاطة والشمول لكل ما ورد في القرآن من ألفاظ تدخل تحت عنوان الكتاب. فقد ترك محمد فؤاد عبد الباقي عددًا من الألفاظ دون سبب مقنع، اللهم إلا أن يكون من باب السهو والنسيان، ومن ذلك:
পূর্ববর্তী কাজগুলোর ওপর পর্যবেক্ষণসমূহযদিও আমাদের কাজের গুরুত্ব পূর্ববর্তী কাজের ত্রুটিগুলো উন্মোচনের ওপর নির্ভর করে না, কারণ এর গুরুত্ব তার নিজস্ব সত্তাতেই বিদ্যমান; তথাপি আমাদের অভিধানের উপাদান সংগ্রহ ও সম্পাদনার কাজে ব্যস্ত থাকাকালীন আমরা বেশ কিছু নেতিবাচক দিক লক্ষ্য করেছি যা আমরা আমাদের কাজে সংশোধন করেছি। এটি পূর্বসূরিদের কাজগুলোর ব্যাপারে আমাদের অত্যন্ত সূক্ষ্ম পর্যালোচনার দাবি রেখেছে। তাই সেখানে বর্ণিত কোনো মত বা ব্যাখ্যা আমরা গ্রহণ করিনি যতক্ষণ না নির্ভরযোগ্য (ثقات) মুফাসসিরদের থেকে বর্ণিত বর্ণনায় তার কোনো ভিত্তি পাওয়া গেছে। এমনকি আমরা ঐতিহ্যবাহী উৎসগুলোতে বর্ণিত সবকিছুকেই নির্দ্বিধায় মেনে নেইনি; বরং আমরা একজন গবেষকের সূক্ষ্মতায় সেগুলো যাচাই করেছি, অভিজ্ঞের মানদণ্ডে সেগুলো পরিমাপ করেছি এবং যেগুলোর প্রামাণিকতা (ثبوت) নিয়ে আমাদের সন্দেহ হয়েছে অথবা যেগুলোর বিশুদ্ধতা না থাকা (عدم صحة) সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, সেগুলোকে আমরা বাদ দিয়েছি।
সম্ভবত আমাদের এই পর্যবেক্ষণগুলো নিম্নোক্তভাবে কয়েকটি ভাগে উপস্থাপন করা ফলপ্রসূ হবে:
ক: পবিত্র কুরআনের শব্দাবলির নির্ঘণ্ট প্রস্তুতকরণ সংক্রান্ত কাজের ওপর আমাদের পর্যবেক্ষণ:
এই পর্যবেক্ষণগুলো মূলত দুটি কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে যার দ্বিতীয়টি প্রথমটির পরিপূরক, সেগুলো হলো: "আল-মুজাম আল-মুফাহরাস লি আলফাজিল কুরআন আল-কারিম" এবং "মুজামুল আদাওয়াত ওয়া আল-দজামাইর ফিল কুরআন আল-কারিম"। এছাড়া তৃতীয় একটি কাজ রয়েছে যা পূর্বোক্ত কাজ দুটির সমন্বয় বলে ধারণা করা হয়: আর তা হলো হুসাইন মুহাম্মদ আল-শাফিঈ এর "কামুস আল-আলফাজ আল-কুরআনিয়াহ"।
প্রথম দুটি কাজের ক্ষেত্রে যা সর্বপ্রথম দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হলো, গ্রন্থের শিরোনামের অধীনে কুরআনে আসা শব্দাবলির পূর্ণাঙ্গ বেষ্টনী ও ব্যাপকতার অভাব। মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই বেশ কিছু শব্দ বাদ দিয়েছেন, যা হয়তো কেবল ভুলবশত বা বিস্মৃতির কারণে হতে পারে। তার কিছু উদাহরণ হলো:
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ৯)
* لم يذكر: الذي، والتي، والذين، في حين ذكر: اللائي، واللاتي، واللذان، واللذين.
* لم يذكر: هذا، وهذه، في حين ذكر: هاتين، وهذان.
* لم يذكر: بل، والسين، فى حين ذكر: بلى، وسوف.
* وترك واضعا معجم الأدوات والضمائر أمثلة كثيرة منها:
* لم ترد تلكما، وتلكم، مع ورود تلك.
* لم يدخل في الإحصاء ورود "على" مرتين في آية: {فَعَلَيْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَى الْمُحْصَنَاتِ مِنَ الْعَذَابِ} (النساء: 25) ، ومثل هذا: يقال عن "اللام" التي وردت مرتين في آية: {لَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ} (النساء: 168) ، إذ لم تحتسب إلا مرة واحدة.
* لم يذكر المعجم الرقم الكلي لمرات ورود الأداة "ال" في القرآن.
* أسقط الباحثان موضعين وردت فيهما "الفاء" في سورة آل عمران وحدها، وهما الآيتان93، 159. فقد وردت في الأولى مرتين، وذكراها مرة واحدة، ووردت في الثانية أربع مرات، وذكراها ثلاثا فقط.
وثاني ما يلفت النظر في هذين العملين اضطراب المنهج، واختلال الإحصاء بالإضافة إلى ما يعاني منه المعجم المفهرس لألفاظ القرآن الكريم من خلط مشتقات الجذر الواحد، وعدم تمييز تصريفات كل مشتق عن المشتق الآخر (وهو ما أطلقنا عليه في معجمنا اسم الجذع أو الساق، الذي يشكل في المعجم العربي أسرة من الكلمات أو التصريفات ترتبط في دلالتها المعجمية والصرفية) . ومن الأمثلة على ذلك خلطه الفعلين: لَبَس (ومضارعه: يلبِس، بمعنى خلط) ولبِس (ومضارعه: يلبَس بمعنى ارتدى) مع وجوب فصلهما إلى مجموعتين مستقلتين تشتمل الأولى على: لَبَسْنا- تَلبِسوا- تَلبِسون- يَلبِسكم-
* উল্লেখ করা হয়নি: ‘আল্লাজি’, ‘আল্লাতি’ ও ‘আল্লাজিনা’; যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে: ‘আল-লায়ি’, ‘আল-লাতি’, ‘আল-লাজানি’ ও ‘আল-লাজাইনি’।
* উল্লেখ করা হয়নি: ‘হাজা’ ও ‘হাজিহি’; অথচ উল্লেখ করা হয়েছে: ‘হাতাইনি’ ও ‘হাজানি’।
* উল্লেখ করা হয়নি: ‘বাল’ এবং ‘সিন’ (অব্যয়); বিপরীতে উল্লেখ করা হয়েছে: ‘বালা’ ও ‘সাওফা’।
* অব্যয় ও সর্বনামের অভিধান (মু’জামুল আদাওয়াত ওয়া আদ-দামা’ইর) সংকলনকারীদ্বয় অনেক উদাহরণ বর্জন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
* ‘তিলকা’ শব্দের উল্লেখ থাকলেও ‘তিলকুমা’ ও ‘তিলকুম’ শব্দগুলো আসেনি।
* এই আয়াতে ‘আলা’ অব্যয়টি দুইবার আসার বিষয়টি পরিসংখ্যানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি: {ফায়-আলাইহিন্না নিসফু মা ‘আলাল মুহসানাত...} (আন-নিসা: ২৫)। অনুরূপ ত্রুটি সেই ‘লাম’ বর্ণটির ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয় যা এই আয়াতে দুইবার এসেছে: {লাম ইয়াকুনিল্লাহু লি-ইয়াগফিরা লাহুম} (আন-নিসা: ১৬৮), কারণ এখানে এটিকে মাত্র একবার গণনা করা হয়েছে।
* পবিত্র কুরআনে ‘আল’ (নির্ধারক অব্যয়) মোট কতবার এসেছে, অভিধানটিতে সেই সর্বমোট সংখ্যাটি উল্লেখ করা হয়নি।
* গবেষকদ্বয় কেবল সূরা আল-ইমরানেই ‘ফা’ বর্ণটি এসেছে এমন দু’টি স্থান বাদ দিয়েছেন, আর তা হলো ৯৩ ও ১৫৯ নম্বর আয়াত। প্রথম আয়াতে এটি দুইবার আসলেও তারা মাত্র একবার উল্লেখ করেছেন এবং দ্বিতীয় আয়াতে এটি চারবার এলেও তারা মাত্র তিনবার উল্লেখ করেছেন।
এই দু’টি কাজের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় যে বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হলো পদ্ধতিগত বিশৃঙ্খলা এবং পরিসংখ্যানগত ত্রুটি। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ‘আল-মু’জামুল মুফাহরাস লি আলফাজিল কুরআনিল কারিম’-এ একই মূলধাতুর বিভিন্ন জাতক শব্দের সংমিশ্রণ এবং প্রতিটি জাতকের রূপান্তরকে অন্যটি থেকে পৃথক না করার বিষয়টি (যাকে আমরা আমাদের অভিধানে ‘কাণ্ড’ বা ‘কাণ্ডমূল’ নামে অভিহিত করেছি, যা আরবি অভিধানে একদল শব্দ বা রূপান্তর গঠন করে এবং আভিধানিক ও ব্যাকরণগত অর্থের দিক থেকে পরস্পর নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট)। এর একটি উদাহরণ হলো দু’টি ভিন্ন ক্রিয়াকে গুলিয়ে ফেলা: ‘লাবাসা’ (যার বর্তমান কাল: ইয়ালবিসু, অর্থ: গুলিয়ে ফেলা বা অস্পষ্ট করা) এবং ‘লাবিসা’ (যার বর্তমান কাল: ইয়ালবাসু, অর্থ: পরিধান করা)। অথচ এই দু’টিকে দু’টি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন গ্রুপে ভাগ করা অপরিহার্য ছিল, যার প্রথমটিতে অন্তর্ভুক্ত হবে: লাবাসনা, তালবিসু, তালবিসুনা ও ইয়ালবিসুকুম।
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ১০)
يَلْبِسوا- يَلبِسون- لَبْس، والثانية على: تَلْبَسونها- يَلْبَسون- لباس- لباسًا- لباسهم- لباسهما- لبوس.
أما صور الخلل والاضطراب في معجم الأدوات والضمائر فأكثر من أن تحصى، مما جعلنا نرجع إلى نص المصحف - في الدرجة الأولى - ولا نعتمد عليه في ذكر الصور الواردة. وربما يكفينا لإثبات ذلك أن نشير إلى النماذج الآتية:
* {بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ عَادُونَ} (الشعراء: 166) ، وردت في ص 215: الشعراء116.
* {وَكَذَلِكَ مَكَّنَّا لِيُوسُفَ فِي الْأَرْضِ} (يوسف:21) ، وردت في ص397، يوسف12.
* سورة الأحزاب، رقمها في المصحف 33، وليس 32 كما وردت عدة مرات في ص 349.
* {كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَ مَا يُوعَدُونَ لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا سَاعَةً} (الأحقاف: 35) ، ذكر رقم السورة أمامها36، والصواب46.
* فى ص330 وحدها أربعة أخطاء هي: 84/10، وصحتها:85 (البروج) ، 89/16، وصحتها:89/15 (الفجر) ، 9/8، وصحتها:91/8 (الشمس) ، 90/13، وصحتها: 91/13 (الشمس) .
وثالث ما يلفت النظر شيوع الأخطاء الطباعية في كتابة الكلمات القرآنية. ومن أمثلة ذلك في المعجم المفهرس لألفاظ القرآن الكريم:
* في ص424 كتبت الكلمة القرآنية: ضَيَقًا، وصحتها: ضَيِّقًا.
তারা অস্পষ্ট করে- তারা অস্পষ্ট করে- অস্পষ্টতা; আর দ্বিতীয়টি হলো: তোমরা তা পরিধান করো- তারা পরিধান করে- পোশাক- পোশাক- তাদের পোশাক- তাদের উভয়ের পোশাক- পোশাক।
আর অব্যয় ও সর্বনামের অভিধানে ত্রুটি ও অসংগতির (اضطراب) চিত্রগুলো গণনাতীত, যা আমাদের মূলত কুরআনের মূল পাণ্ডুলিপির (মুসহাফ) পাঠের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে এবং উল্লিখিত রূপগুলো বর্ণনার ক্ষেত্রে আমরা এর ওপর নির্ভর করিনি। সম্ভবত এটি প্রমাণের জন্য নিচের উদাহরণগুলোর দিকে ইঙ্গিত করাই আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে:
* {বরং তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়} (আশ-শুআরা: ১৬৬), এটি ২১৫ পৃষ্ঠায় আশ-শুআরা ১১৬ হিসেবে এসেছে।
* {আর এভাবেই আমি ইউসুফকে সেই ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠিত করলাম} (ইউসুফ: ২১), এটি ৩৯৭ পৃষ্ঠায় ইউসুফ ১২ হিসেবে এসেছে।
* সূরা আল-আহজাব, মুসহাফে এর নম্বর হলো ৩৩, অথচ ৩৪৯ পৃষ্ঠায় বেশ কয়েকবার এটি ৩২ হিসেবে এসেছে।
* {যেদিন তারা তাদের প্রতিশ্রুত আযাব দেখতে পাবে, সেদিন তাদের মনে হবে তারা যেন মাত্র এক দণ্ড অবস্থান করেছিল} (আল-আহকাফ: ৩৫), এর সামনে সূরার নম্বর ৩৬ উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সঠিক (صحيح) হলো ৪৬।
* কেবল ৩৩০ পৃষ্ঠাতেই চারটি ভুল রয়েছে, সেগুলো হলো: ৮৪/১০, যার সঠিক (صحيح) রূপ: ৮৫ (আল-বুরুজ); ৮৯/১৬, যার সঠিক (صحيح) রূপ: ৮৯/১৫ (আল-ফজর); ৯/৮, যার সঠিক (صحيح) রূপ: ৯১/৮ (আশ-শামস); ৯০/১৩, যার সঠিক (صحيح) রূপ: ৯১/১৩ (আশ-শামস)।
তৃতীয়ত যা নজর কাড়ে তা হলো কুরআনের শব্দাবলি লেখার ক্ষেত্রে মুদ্রণজনিত ভুলের ব্যাপকতা। ‘আল-মুজামুল মুফাহরাস লি আলফাজিল কুরআনিল কারিম’ গ্রন্থে এর কিছু উদাহরণ হলো:
* ৪২৪ পৃষ্ঠায় কুরআনের শব্দটি ‘দাইয়াকান’ লেখা হয়েছে, যার সঠিক (صحيح) রূপ হলো ‘দাইয়িকান’।
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ১১)
* في ص467 كتبت الآية: {فَلَمَّا تَرَاءتْ الْفِئَتَانِ نَكَصَ عَقِبَيْهِ} (الأنفال: 48) ، وصحتها: {نَكَصَ عَلَى عَقِبَيْهِ} .
ومن أمثلته في معجم الأدوات والضمائر كتابة آية التغابن (6) : {ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانَتْ تَأْتِيهِمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ} (التغابن: 6) ، وصحتها: {ذَلِكَ بِأَنَّهُ كَانَتْ000} .
أما العمل الثالث، وهو قاموس الألفاظ القرآنية، فعلى الرغم من الجهد المبذول فيه، ومن استحداثه معلومات إحصائية عن كل لفظ ورد فيه، ومن استدراكه على عمل محمد فؤاد عبد الباقي عددًا من الهفوات - على الرغم من كل ذلك يعيبه ما يأتي:
1- أنه جاء رِدَّة إلى الوراء بالنسبة لمعجم الأدوات والضمائر، حيث خلت قائمة ألفاظه من كلمات، مثل: "ال"، و"الباء"، و"السين"، و"الفاء"، و"الكاف"، و"اللام"00إلخ، مكتفيًا بوضعه إياها في عمود عنونه "حروف مكملة". ومعنى هذا أن الباحث عن أشكال الواو في القرآن، واستعمالاتها عليه أن يقرأ عمود الحروف المكملة في جميع صفحات المعجم ليقوم هو بنفسه بما كان يجب أن يقوم به المؤلف.
وجميع هذه الأدوات موجودة باعتبارها مداخل مستقلة في معجم الأدوات والضمائر.
2- أن المعجم خلا من فهرسة الضمائر المتصلة، مثل: ألف الاثنين، وتاء الضمير، ونون النسوة، وواو الجماعة وغيرها، وكلها واردة في معجم الأدوات والضمائر.
3- أن ما ادعاه المؤلف من أن قاموسه قد اشتمل على جميع الألفاظ الواردة في المصحف، وأنه ليس قاصرًا (كذا، والصواب مقصورًا) على الأسماء
৪৬৭ পৃষ্ঠায় আয়াতটি লেখা হয়েছে: {فَلَمَّا تَرَاءتْ الْفِئَتَانِ نَكَصَ عَقِبَيْهِ} (আনফাল: ৪৮), এর সঠিক রূপ হলো: {نَكَصَ عَلَى عَقِبَيْهِ}।
'মুজামুল আদাওয়াত ওয়াল দামায়ির' গ্রন্থে এর একটি উদাহরণ হলো সূরা আত-তাগাবুন (৬) এর আয়াতটি এভাবে লেখা: {ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانَتْ تَأْتِيهِمْ رُسُلُهمْ بِالْبَيِّنَاتِ} (আত-তাগাবুন: ৬), অথচ এর সঠিক রূপ হলো: {ذَلِكَ بِأَنَّهُ كَانَتْ...}।
তৃতীয় কাজটির কথা বলতে গেলে, যা হলো 'কামুসুল আলফাজিল কুরআনিয়্যাহ', এতে প্রচুর পরিশ্রম করা সত্ত্বেও, এতে উল্লিখিত প্রতিটি শব্দের পরিসংখ্যানগত তথ্য সংযোজন করা সত্ত্বেও এবং মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকীর কাজের বেশ কিছু বিচ্যুতি সংশোধন (استدراك) করা সত্ত্বেও—এই সবকিছুর পরও এতে নিম্নোক্ত ত্রুটিগুলো বিদ্যমান:
১- এটি 'মুজামুল আদাওয়াত ওয়াল দামায়ির'-এর তুলনায় একটি পশ্চাদপসরণ, কারণ এর শব্দতালিকায় 'আল' (ال), 'বা' (الباء), 'সিন' (السين), 'ফা' (الفاء), 'কাফ' (الكاف), 'লাম' (اللام) ইত্যাদি শব্দগুলো বাদ পড়েছে। লেখক এগুলোকে কেবল "পরিপূরক হরফ" (حروف مكملة) শিরোনামের একটি কলামে স্থান দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছেন। এর অর্থ হলো, কুরআনে 'ওয়াও' (الواو) এর বিভিন্ন রূপ ও ব্যবহার সম্পর্কে অনুসন্ধানকারীকে অভিধানের সমস্ত পৃষ্ঠায় পরিপূরক হরফের কলামটি পড়তে হবে, যাতে তিনি সেই কাজটি নিজেই সম্পন্ন করতে পারেন যা মূলত লেখকের করা উচিত ছিল।
অথচ এই সমস্ত অব্যয় (الأدوات) 'মুজামুল আদাওয়াত ওয়াল দামায়ির'-এ স্বতন্ত্র ভুক্তি হিসেবে বিদ্যমান ছিল।
২- অভিধানটি সংযুক্ত সর্বনাম (الضمائر المتصلة) সমূহের নির্ঘণ্ট থেকে খালি রয়ে গেছে, যেমন: দ্বিবচনের আলিফ (ألف الاثنين), সর্বনামের তা (تاء الضمير), স্ত্রীবাচক বহুবচনের নুন (نون النسوة), সমষ্টিবাচক ওয়াও (واو الجماعة) এবং অন্যান্য। অথচ এই সবগুলোই 'মুজামুল আদাওয়াত ওয়াল দামায়ির'-এ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
৩- লেখক দাবি করেছেন যে, তাঁর অভিধানটি মুসহাফে বর্ণিত সকল শব্দকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এটি কেবল বিশেষ্য (الأسماء) সমূহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ (মূল পাঠে قاصر উল্লিখিত হয়েছে, তবে সঠিক শব্দ হবে مقصور) নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ১২)
والأفعال ادعاء غير صحيح، لخلوه من كثير من الألفاظ القرآنية، والتي مثلنا لبعضها في الفقرتين السابقتين.
4- أن المؤلف لا يفرق بين الترتيب الأبجدي والترتيب الهجائي، مع ما بينهما من فرق شاسع، فيذكر أن قاموسه عبارة عن دليل أبجدي، وهو في الحقيقة دليل ألفبائي أو هجائي.
5- أن المؤلف شق على الباحث حين اكتفى بذكر رقم السورة بدلا من اسمها، وهو صنيع ابتدعه المستشرقون ولم يجد رواجًا بين المسلمين، بالإضافة إلى أنه لا يوفر شيئًا يذكر في مساحة الصفحة.
6- أن طريقة الباحث في ترتيب المداخل طريقة لا تتلاءم مع طبيعة اللغة العربية الاشتقاقية، ولعله تعمد الهروب من طريقة الترتيب على الجذور، لأنها أشق على غير المختص، والظاهر من لغة المقدمة أن المؤلف لا يحسن التعبير باللغة العربية السليمة، فقد بدأ أول سطر بقوله: أعددت قاموس عصري لألفاظ القرآن الكريم00 (ص 5) . ويكفي أن أمثِّل بحرف التاء، الذي بدأ بالمدخل " تاب "، ثم تلاه المداخل: تابا - تابع – تابعين - تابوا00 وجاءت "أتوب" في حرف الهمزة: و"متاب" في حرف الميم، و"يتوب" في حرف الياء00إلخ.
ب: ملاحظاتنا على معجم ألفاظ القرآن الكريم:
على الرغم من الجهد المبذول في هذا المعجم، والذي استغرق ثلاثين عامًا، وعلى الرغم من الشهرة التي حققها من بين نظرائه في مجال التفسير لألفاظ القرآن الكريم فقد بدت لنا أثناء العمل بعض ملاحظات نلخص أهمها فيما يأتي:
এবং ক্রিয়াগুলোর ক্ষেত্রে দাবিটি সঠিক নয়, কারণ এতে অনেক কুরআনিক শব্দের অভাব রয়েছে, যার কিছু উদাহরণ আমরা পূর্ববর্তী দুই অনুচ্ছেদে দিয়েছি।
৪- লেখক আবজাদি ক্রম (أبجدي) এবং হিজায়ি ক্রমের (هجائي) মধ্যে পার্থক্য করেন না, যদিও তাদের মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে তার অভিধানটি একটি আবজাদি নির্দেশিকা, অথচ বাস্তবে এটি একটি আলফাবায়ি (ألفبائي) বা হিজায়ি (هجائي) নির্দেশিকা।
৫- লেখক গবেষকদের জন্য বিষয়টিকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছেন যখন তিনি সূরার নামের পরিবর্তে কেবল নম্বর উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। এটি প্রাচ্যবিদদের উদ্ভাবিত একটি পদ্ধতি যা মুসলিমদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তাছাড়া এটি পৃষ্ঠার জায়গাও তেমন একটা সাশ্রয় করে না।
৬- ভুক্তিগুলো সাজানোর ক্ষেত্রে গবেষকের পদ্ধতিটি আরবি ভাষার ব্যুৎপত্তিগত (اشتقاقية) প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সম্ভবত তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে মূলশব্দ (الجذور) অনুযায়ী সাজানোর পদ্ধতিটি এড়িয়ে গেছেন, কারণ এটি অ-বিশেষজ্ঞদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। ভূমিকার ভাষা থেকে এটি স্পষ্ট যে লেখক বিশুদ্ধ আরবি ভাষায় ভাব প্রকাশে পারদর্শী নন। তিনি প্রথম লাইনটি এভাবে শুরু করেছেন: "আমি আল-কুরআন আল-কারিমের শব্দের একটি আধুনিক অভিধান প্রস্তুত করেছি..." (পৃষ্ঠা ৫)। উদাহরণ হিসেবে 'তা' বর্ণটিই যথেষ্ট, যা "তাবা" ভুক্তি দিয়ে শুরু হয়েছে, এরপর এসেছে: তাবা - তাবি' - তাবি'য়িন - তাবু... অথচ "আতুবু" এসেছে হামজা (الهمزة) বর্ণে, "মাতাব" এসেছে মিম (الميم) বর্ণে এবং "ইয়াতুবু" এসেছে ইয়া (الياء) বর্ণে ইত্যাদি।
খ: মু'জাম আলফায আল-কুরআন আল-কারিম সম্পর্কে আমাদের পর্যবেক্ষণ:
এই অভিধানটিতে যে ব্যাপক পরিশ্রম করা হয়েছে এবং যা সম্পন্ন করতে ত্রিশ বছর সময় লেগেছে, তদুপরি কুরআনের শব্দাবলির ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সমসাময়িক গ্রন্থগুলোর মধ্যে এটি যে খ্যাতি অর্জন করেছে—এতদসত্ত্বেও কাজ করার সময় আমাদের কাছে কিছু পর্যবেক্ষণ ধরা পড়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণগুলো আমরা নিম্নে সংক্ষেপে তুলে ধরছি:
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أولاً: سقوط بعض الكلمات القرآنية من المعجم، كما حدث مع كلمة "الموتى" التي وردت في القرآن الكريم سبع عشرة مرة، وليس لها وجود تحت الجذر (م وت) ، في حين وردت كلمة "أموات" و"ميتون" (2/1065،1066) . وكما حدث مع كلمة "نَزْلَة" التي لم ترد تحت الجذر (ن ز ل) مع ورودها في قوله تعالى: {وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى} (النجم: 13) .
ثانيًا: حدوث خطأ في بعض الجذور، كوضعه الفعل تتجافى تحت الجذر (ج ف ا) وصحته: (ج ف و) .
ثالثًا: حدوث أخطاء طباعية تتمثل في سقوط الجذر (هـ م ر) ، ووضع كلمة "منهمر" تحت الجذر السابق (هـ م د) ، وفي ذكر أرقام الآيات خطأ، كما في كلمة "راعنا" التي ذكر تحتها 146/النساء، وصحتها: 46/النساء، وحرف النداء "يا" الذي اقتبس المعجم له الآية {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ} وذكر أنها وردت في البقرة 51، والصواب: البقرة21، وغير ذلك.
رابعًا: قصور الشرح، كما حدث مع كلمة "جحيم" التي اقتصر المعجم على أحد معانيها في القرآن، وهو اسم من أسماء جهنم، وترك المعنى الثاني، وهو النار المؤججة الشديدة الاتقاد، كما في قوله تعالى: {قَالُوا ابْنُوا لَهُ بُنْيَاناً فَأَلْقُوهُ فِي الْجَحِيمِ} (الصافات: 97) .
خامسًا: نقص الإحصاء، كما ورد في مادة "الذوق"، حين قال المعجم: إن اللفظ قد استعمل على الحقيقة بمعنى إدراك الطعام بالفم في آية واحدة هي: {ذَاقَا الشَّجَرَةَ} (الأعراف: 22) ، وقد فات المعجم آية ثانية في سورة "النبأ"، وهي: {لا يَذُوقُونَ فِيهَا بَرْداً وَلا شَرَاباً} (النبأ: 24) .
سادسًا: سوء توزيع الآيات القرآنية على معاني الكلمة القرآنية حين تتعدد، كما حدث مع قوله تعالى: {أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ}
প্রথমত: অভিধান থেকে কিছু কুরআনিক শব্দ বাদ পড়া। যেমনটি ঘটেছে 'আল-মাওতা' শব্দের ক্ষেত্রে, যা পবিত্র কুরআনে সতেরো বার এসেছে, কিন্তু মূলবর্ণ 'মীম-ওয়াও-তা'-এর অধীনে এর কোনো অস্তিত্ব নেই; অথচ 'আমওয়াত' এবং 'মাইয়্যিতুন' (২/১০৬৫, ১০৬৬) শব্দগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে 'নাজলাহ' শব্দটিও মূলবর্ণ 'নূন-যা-লাম'-এর অধীনে আসেনি, যদিও আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে এটি বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল।" (আন-নজম: ১৩)।
দ্বিতীয়ত: কিছু মূলবর্ণের ক্ষেত্রে ভুল হওয়া; যেমন 'তাতাজা-ফা' ক্রিয়াটিকে 'জীম-ফা-আলিফ' মূলবর্ণের অধীনে রাখা হয়েছে, অথচ এর সঠিক রূপ হলো: 'জীম-ফা-ওয়াও'।
তৃতীয়ত: মুদ্রণজনিত ভুল হওয়া, যা মূলবর্ণ 'হা-মীম-রা' বাদ পড়া এবং 'মুনহামির' শব্দটি পূর্ববর্তী মূলবর্ণ 'হা-মীম-দাল'-এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া আয়াতের নম্বর উল্লেখ করার ক্ষেত্রেও ভুল হয়েছে; যেমন: 'রা-ইনা' শব্দটির নিচে আন-নিসা ১৪৬ উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ সঠিক হলো: আন-নিসা ৪৬। আর আহ্বানসূচক অব্যয় 'ইয়া', যার জন্য অভিধানে "হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো" আয়াতটি উদ্ধৃত করা হয়েছে এবং উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি আল-বাকারাহ ৫১-তে এসেছে, অথচ সঠিক হলো: আল-বাকারাহ ২১, ইত্যাদি।
চতুর্থত: ব্যাখ্যার অপূর্ণতা; যেমনটি ঘটেছে 'জাহিম' শব্দের ক্ষেত্রে, যেখানে অভিধানটি কুরআনে এর কেবল একটি অর্থের ওপর সীমাবদ্ধ রয়েছে—আর তা হলো এটি জাহান্নামের নামসমূহের একটি। অথচ দ্বিতীয় অর্থটি বর্জন করা হয়েছে, যা হলো দাউ দাউ করে জ্বলা তীব্র অগ্নিশিখা; যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে এসেছে: "তারা বলল, তার জন্য একটি ইমারত নির্মাণ করো, অতঃপর তাকে প্রজ্বলিত আগুনে নিক্ষেপ করো।" (আস-সাফফাত: ৯৭)।
পঞ্চমত: পরিসংখ্যানের ঘাটতি; যেমনটি 'আয-যাওক' পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে অভিধানটি বলেছে যে, শব্দটি প্রকৃত অর্থে (على الحقيقة) অর্থাৎ মুখ দিয়ে খাবারের স্বাদ গ্রহণ—এটি কেবল একটি আয়াতে ব্যবহৃত হয়েছে, আর তা হলো: "যখন তারা সেই বৃক্ষের স্বাদ গ্রহণ করল।" (আল-আ’রাফ: ২২)। অথচ অভিধানটি আন-নাবা সূরার দ্বিতীয় একটি আয়াত এড়িয়ে গেছে, যা হলো: "সেখানে তারা কোনো শীতলতা কিংবা কোনো পানীয়ের স্বাদ গ্রহণ করবে না।" (আন-নাবা: ২৪)।
ষষ্ঠত: কুরআনিক শব্দের একাধিক অর্থ থাকার ক্ষেত্রে আয়াতগুলোকে সংশ্লিষ্ট অর্থের অধীনে সঠিকভাবে বিন্যস্ত না করা। যেমনটি ঘটেছে আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ক্ষেত্রে: "যাতে তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করো।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
(محمد: 22) ، فقد وضعها المعجم تحت: "مواضع الأجنة"، والصواب: "القرابات".
ج: ملاحظاتنا على معجم القراءات القرآنية:
أول ملاحظة على هذا المعجم: أنه عمل فهرسيّ تجميعي لا دراسي، وأنه لا يعطي في صلب المتن أيَّ معلومات كاشفة عن معاني الكلمات، أو تخريج القراءات، وهو بهذا يختلف عن معجمنا اختلافًا جوهريًا من حيث الهدف، ونوع المعلومات التي يزود بها القارئ.
وثاني ملاحظة: عدم شموله لكثير مما هو مدون من القراءات فيما وصلنا من مصادرها الأصلية. فقد خلت قائمة مصادره الأساسية من الأسماء الآتية، على سبيل المثال:
المبسوط في القراءات العشر لأبي بكر الأصبهاني.
اختلاف القراء السبعة في الياءات لابن غلبون.
إعراب القراءات الشواذ للعكبري.
معاني القراءات لأبي منصور الأزهري.
روح المعاني للألوسي.
وثالث ملاحظة: وقوعه في العديد من الهفوات من مثل:
خطأ في فهم بعض العبارات، كما حدث في قراءات "جَهْرَة"، فقد ذكر أمامها قراءتين هما: جَهَرة وزَهَرة (1/202) . وقد جاء إثبات القراءة الثانية نتيجة خطأ في فهم عبارة ابن خالويه في "مختصر في شواذ
(মুহাম্মদ: ২২), অভিধানটিতে একে "ভ্রূণের অবস্থানসমূহ" শিরোনামের অধীনে রাখা হয়েছে, অথচ সঠিক হলো: "আত্মীয়তা"।
গ: কুরআনীয় কিরাত অভিধানের ওপর আমাদের পর্যবেক্ষণসমূহ:
এই অভিধানের ওপর প্রথম পর্যবেক্ষণ হলো: এটি একটি সংকলন ও সূচিপত্রমূলক কাজ, কোনো বিশ্লেষণধর্মী বা গবেষণামূলক কাজ নয়। এটি মূল পাঠের মধ্যে শব্দের অর্থ উন্মোচনকারী কোনো তথ্য অথবা কিরাতসমূহের উৎস্য নির্দেশ (تخريج) প্রদান করে না। এদিক থেকে এটি লক্ষ্য এবং পাঠককে সরবরাহকৃত তথ্যের ধরনের দিক দিয়ে আমাদের অভিধান থেকে মৌলিকভাবে ভিন্ন।
দ্বিতীয় পর্যবেক্ষণ হলো: আমাদের কাছে পৌঁছানো মূল উৎসসমূহে যেসব কিরাত লিপিবদ্ধ রয়েছে, তার অনেকগুলোই এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, এর প্রধান উৎসসমূহের তালিকায় নিম্নলিখিত নামগুলো অনুপস্থিত ছিল:
আবু বকর আল-আসবাহানী রচিত আল-মাবসুত ফিল কিরাতিল আশর।
ইবনে গালবুন রচিত ইখতিলাফুল কুররা আস-সাবআ ফিল ইয়ায়াত।
আল-উকবরি রচিত ইরাবুল কিরাত আশ-শাওয়ায।
আবু মনসুর আল-আযহারী রচিত মাআনিল কিরাত।
আলুসী রচিত রুহুল মাআনী।
তৃতীয় পর্যবেক্ষণ হলো: এতে বেশ কিছু ভুল বা বিচ্যুতি ঘটেছে, যেমন:
কিছু বাক্যাংশ বুঝতে ভুল করা, যেমনটি "জাহরাহ" কিরাতের ক্ষেত্রে ঘটেছে। এর বিপরীতে তিনি দুটি কিরাত উল্লেখ করেছেন: "জাহারা" এবং "যাহারা" (১/২০২)। দ্বিতীয় কিরাতটির অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে ইবনে খালওয়াইহের 'মুখতাসার ফি শাওয়ায' গ্রন্থের একটি বাক্যাংশ ভুল বোঝার কারণে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
القرآن" التي ذكرت أن سهل بن شعيب وعيسى قد قرآ جَهَرة وزَهَرة. وهو يعني بالكلمة الثانية آية وردت في سورة طه.
خطأ في النقل عن المصدر، كما جاء في قوله تعالى {فَيُوَفِّيهِمْ أُجُورَهُمْ} (آل عمران: 57) ، حيث ذكر المعجم قراءة "فتوفيهم" نقلا عن البحر المحيط (1) ، والذي في البحر: "فنوفيهم" بنون الجمع.
سقوط بعض القراءات، كما في قوله تعالى: {وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ} (البقرة: 87) ، حيث ذكر المعجم قراءة واحدة هي "القُدْس"- بسكون الدال- وترك قراءة أخرى وردت في البحر المحيط (2) ، وهي "القُدُوس"، ونسبها إلى أبي حيوة.
سقوط أحد المصادر أمام بعض القراءات، كما حدث مع قراءة "يتصعّد" (معجم القراءات القرآنية 2/133) ، فقد سقط من المصادر البحر المحيط (3) .
--------------------------------------------
"আল-কুরআন" যা উল্লেখ করেছে যে, সহল ইবনে শুয়াইব এবং ঈসা 'জাহরা' ও 'যাহরা' পাঠ করেছেন। তিনি দ্বিতীয় শব্দটি দ্বারা সূরা ত্বহায় বর্ণিত একটি আয়াতকে বুঝিয়েছেন।
উৎস থেকে উদ্ধৃতি প্রদানে ভুল, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী {ফাইয়ুওয়াফফিহিম উজুরাহুম} (আলে ইমরান: ৫৭) এর ক্ষেত্রে ঘটেছে। সেখানে অভিধানটি আল-বাহরুল মুহিত (১) এর বরাতে "ফাতুওয়াফফিহিম" কিরাত (قراءة) উল্লেখ করেছে, অথচ আল-বাহরুল মুহিত-এ রয়েছে বহুবচনবোধক নুন (نون الجمع) যোগে "ফানুওয়াফফিহিম"।
কিছু কিরাত (قراءات) বাদ পড়া, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: {ওয়া আইয়াদনা-হু বি-রুহিল কুদুস} (আল-বাকারাহ: ৮৭) এর ক্ষেত্রে ঘটেছে। সেখানে অভিধানটি কেবল একটি কিরাত (قراءة) উল্লেখ করেছে, যা হলো 'দাল' বর্ণে সুকুন (سكون) সহ "আল-কুদস"; অথচ আল-বাহরুল মুহিত (২) গ্রন্থে বর্ণিত অন্য একটি কিরাত (قراءة) বর্জন করেছে, যা হলো "আল-কুদ্দুস" এবং এটিকে আবু হাইওয়াহ-এর দিকে নিসবত (نسبة) করা হয়েছে।
কিছু কিরাতের (قراءات) ক্ষেত্রে কোনো একটি উৎসের নাম উল্লেখ করতে বাদ পড়া, যেমনটি ঘটেছে "ইয়াতাসসা'আদ" কিরাতের (قراءة) ক্ষেত্রে (মু'জাম আল-কিরাআত আল-কুরআনিয়্যাহ ২/১৩৩), যেখানে উৎস হিসেবে আল-বাহরুল মুহিত (৩) বাদ পড়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لماذا الاهتمام بالقراءات القرآنية؟
القراءات القرآنية هي الوجوه المختلفة التي سمح النبيّ صلى الله عليه وسلم بقراءة النص القرآني بها قصدًا للتيسير، والتي جاءت وفقًا للهجة من اللهجات العربية القديمة. وقد تكفل الزركشي (1) بالتفرقة بين القرآن والقراءات بقوله: "القرآن والقراءات حقيقتان متغايرتان. فالقرآن هو الوحي المنزل على محمد صلى الله عليه وسلم للبيان والإعجاز، والقراءات هي اختلاف ألفاظ الوحي المذكور في كِتبة الحروف، أو كيفيتها، من تخفيف وتثقيل وغيرهما".
كما تكفل ابن الجزري ببيان الحكمة في تعدد القراءات في النص المصحفي (2) ، فقال: "فأما سبب وروده على سبعة أحرف فللتخفيف على هذه الأمة وإرادة اليسر بها، والتهوين عليها وتوسعة، ورحمة، وخصوصية لفضلها، وإجابة لقصد نبيها حيث أتاه جبريل فقال له: إن الله يأمرك أن تقرأ أمتك القرآن على حرف، فقال صلى الله عليه وسلم: أسأل الله معافاته ومعونته. إن أمتي لا تطيق ذلك، ولم يزل يردد المسألة حتى بلغت سبعة أحرف"، وبعد أن استشهد ابن الجزري ببعض الأحاديث الصحيحة استمر في بيان الحكمة قائلاً: "إن الأنبياء عليهم السلام كانوا يبعثون إلى قومهم الخاصين بهم، والنبي صلى الله عليه وسلم بعث إلى جميع الخلق: أحمرها وأسودها، عربيّها وعجميّها. وكانت العرب الذين نزل القرآن بلغتِهم لغاتُهم مختلفة، وألسنتهم شتى، ويعسر على أحدهم الانتقال من لغته إلى غيرها، أو من حرف إلى آخر. بل قد يكون بعضهم لا يقدر على ذلك، ولا بالتعليم والعلاج، ولاسيما الشيخ والمرأة، ومن لم يقرأ
--------------------------------------------
কেন কুরআন পাঠরীতিসমূহ (القراءات) নিয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়?
কুরআন পাঠরীতিসমূহ (القراءات) হলো পবিত্র কুরআনের মূল পাঠ পড়ার সেই বিচিত্র রূপসমূহ, যা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহজ করার উদ্দেশ্যে পাঠ করার অনুমতি দিয়েছেন এবং যা প্রাচীন আরবের বিভিন্ন উপভাষার (لهجة) সাথে সংগতিপূর্ণ। আল-যারকাশি (১) কুরআন ও কিরাতের মধ্যে পার্থক্য করতে গিয়ে বলেছেন: "কুরআন ও কিরাত দুটি ভিন্ন বিষয়। কুরআন হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ সেই ওহি (وحي) যা সুস্পষ্ট বর্ণনা ও অলৌকিকত্বের (إعجاز) জন্য প্রেরিত। আর কিরাত বা পাঠরীতিসমূহ (القراءات) হলো সেই ওহির শব্দগুলোর উচ্চারণ পদ্ধতির ভিন্নতা, যা হরফ বা বর্ণের লিখনশৈলী অথবা সেগুলোর পঠনপদ্ধতি যেমন—লঘুকরণ (تخفيف) ও গুরুকরণ (تثقيل) ইত্যাদির পার্থক্যের সাথে সম্পর্কিত।"
ঠিক একইভাবে ইবনুল জাজারি মুসহাফের পাঠে কিরাতের বৈচিত্র্যের রহস্য বর্ণনা করেছেন (২)। তিনি বলেন: "সাতটি হরফে (سبعة أحرف) কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হলো এই উম্মতের জন্য বিষয়টি সহজ ও সাবলীল করা, তাদের কষ্ট লাঘব করা এবং প্রশস্ততা, রহমত ও এই উম্মতের শ্রেষ্ঠত্বের বিশেষ বৈশিষ্ট্য প্রদান করা। এছাড়াও এটি তাদের নবির আবেদনের ফলশ্রুতিতে হয়েছে, যখন জিবরাইল আলাইহিস সালাম তাঁর নিকট এসে বললেন: আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনার উম্মত একটি হরফ (حرف)-এর ওপর কুরআন পাঠ করে। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি আল্লাহর কাছে তাঁর ক্ষমা ও সাহায্য প্রার্থনা করছি; আমার উম্মত এতে সক্ষম হবে না। তিনি বারবার এই আবেদন করতে থাকলেন যতক্ষণ না এটি সাতটি হরফ (سبعة أحرف) পর্যন্ত পৌঁছাল।" ইবনুল জাজারি কিছু সহিহ (صحيحة) হাদিস উল্লেখ করার পর এর পেছনের হিকমত বা রহস্য বর্ণনায় আরও বলেন: "নিশ্চয়ই নবিগণ আলাইহিমুস সালাম প্রেরিত হতেন কেবল তাঁদের বিশেষ স্বজাতির নিকট। কিন্তু নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হয়েছেন সমগ্র সৃষ্টির তরে: লাল ও কালো (অর্থাৎ সকল বর্ণ), আরব ও অনারব নির্বিশেষে। আর যে আরবি ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, সেই আরবদের উপভাষা ছিল ভিন্ন ভিন্ন এবং বাচনভঙ্গি ছিল বিচিত্র। তাদের একজনের পক্ষে নিজের ভাষা থেকে অন্য ভাষায় কিংবা এক লাহজা (حرف) থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরিত হওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল। বরং কেউ কেউ তো শিক্ষা বা অনুশীলনের মাধ্যমেও তা করতে সক্ষম ছিল না, বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি, নারী এবং যারা কখনো পাঠ করেনি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
كتابًا. فلو كلفوا العدول عن لغتهم والانتقال عن ألسنتهم لكان من التكليف بما لا يستطاع".
وزاد ابن قتيبة (1) الأمر تفصيلاً، فقال: " فكان من تيسيره أن أمره الله أن يقرئ كل قوم بلغتهم فالهذلي يقرأ: عتى حين والأسدي يقرأ: تِعْلَمون والتميمي يهمز، والقرشي لا يهمز، والآخر يقرأ: وإذا قيل لهم، وغيض الماء بإشمام الضم ولو أن كل فريق من هؤلاء أُمر أن يزول عن لغته وما جرى عليه اعتياده طفلاً وناشئًا وكهلاً لاشتد ذلك عليه، وعظمت المحنة فيه".
وحديث نزول القرآن على سبعة أحرف من الأحاديث التي قبلها العلماء واشتهرت بينهم، وتناقلها الثقات جيلا عن جيل (انظر: تفسير الطبري 1/25، والنشر1/12، ولطائف الإشارات 1/31 وغيرها) . وقد روي أن عثمان بن عفان حينما صعد المنبر وسأل من سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "أنزل القرآن على سبعة أحرف كلها شافٍ كافٍ" أن يقوم- قام الكثيرون حتى لم يحصوا، فعقب عثمان قائلاً: وأنا أشهد معهم (2) .
وإذا كان العلماء قد اختلفوا في تحديد المراد بالأحرف، والمراد بالسبعة، وهل هي على سبيل الحصر، أو للتعبير عن الكثرة، فإنهم لم يختلفوا في أن الأحرف السبعة ليست هي القراءات السبع التي اختارها ابن مجاهد. يقول ابن الجزري: "لا يجوز أن يكون المراد من الأحرف السبعة هؤلاء السبعة القراء المشهورين - وإن كان يظنه بعضهم- لأن هؤلاء السبعة لم يكونوا قد
--------------------------------------------
একটি কিতাব হিসেবে। তবে যদি তাদের নিজস্ব ভাষা পরিবর্তন করার এবং নিজেদের উচ্চারণভঙ্গি থেকে সরে আসার নির্দেশ দেওয়া হতো, তবে তা হতো সামর্থ্যের অতীত কোনো বিষয়ের ওপর দায়িত্বারোপ করার মতো।"
এবং ইবন কুতাইবা (১) বিষয়টি আরও বিস্তারিত বর্ণনা করে বলেছেন: "আল্লাহর পক্ষ থেকে সহজীকরণের একটি দিক ছিল এই যে, তিনি তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাদের নিজস্ব ভাষায় তা পাঠ করে শোনান। ফলে হুযায়লি গোত্র ‘আতা হীন’ পাঠ করে, আসাদি গোত্র ‘তি’লামুন’ পাঠ করে, তামিমি গোত্র হামযাহ উচ্চারণ করে, কুরাইশরা হামযাহ উচ্চারণ করে না এবং অন্য কেউ ‘ইযা কীলা লাহুম’ ও ‘গীদ্বাল মাউ’ দম্মাহর ইশমাম (إشمام) সহকারে পাঠ করে। যদি এই দলগুলোর প্রত্যেককে তাদের নিজস্ব ভাষা এবং শৈশব, কৈশোর ও প্রৌঢ়ত্বকাল থেকে অভ্যস্ত বাচনভঙ্গি ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হতো, তবে তা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হতো এবং এতে পরীক্ষা ও কষ্ট অনেক বেড়ে যেত।"
এবং কুরআন সাত অক্ষরে (سبعة أحرف) অবতীর্ণ হওয়ার হাদিসটি এমন হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা আলেমগণ গ্রহণ করেছেন এবং যা তাঁদের মাঝে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। নির্ভরযোগ্য (الثقات) রাবিগণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটি বর্ণনা করে এসেছেন (দেখুন: তাফসিরে তবারি ১/২৫, আন-নাশর ১/১২, লাতয়িফুল ইশারাত ১/৩১ ইত্যাদি)। বর্ণিত আছে যে, উসমান বিন আফফান যখন মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন—কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন যে, "কুরআন সাত অক্ষরে (سبعة أحرف) অবতীর্ণ হয়েছে যার প্রতিটিই নিরাময়কারী ও যথেষ্ট", সে যেন দাঁড়িয়ে যায়—তখন এতো বিপুল সংখ্যক লোক দাঁড়িয়ে গেলেন যে তাদের গণনা করা সম্ভব ছিল না। অতঃপর উসমান মন্তব্য করলেন: "আমিও তাদের সাথে সাক্ষ্য দিচ্ছি" (২)।
যদিও আলেমগণ ‘অক্ষর’ (الأحرف) এবং ‘সাত’ (السبعة) দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা নির্ধারণে মতভেদ করেছেন—অর্থাৎ এটি কি নির্দিষ্ট সংখ্যার পরিসীমা বুঝাতে নাকি আধিক্য বুঝাতে—তবুও তাঁরা এ বিষয়ে একমত যে, সাত অক্ষর (الأحرف السبعة) বলতে ইবন মুজাহিদ কর্তৃক নির্বাচিত সাত কিরাত (القراءات السبع) বুঝায় না। ইবনুল জাযারি বলেন: "সাত অক্ষর (الأحرف السبعة) দ্বারা এই সাতজন প্রসিদ্ধ কারিকে (القراء) বুঝানো কোনোভাবেই বৈধ নয়—যদিও কেউ কেউ তেমনটি মনে করেন—কারণ এই সাতজন তখনো ছিলেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
خلقوا ولا وجدوا" (1) .وقد وجه كثير من العلماء اللوم لابن مجاهد لاقتصاره من بين القراء على سبعة، وإيقاعه الناس في الوهم والتلبيس، ولذا يقول السيوطي: "مسبِّع السبعة فعل ما لا ينبغي، وجعل الأمر مشكلا على العامة باختياره، فظن كل من قل نظره أن هذه القراءات هي المذكورة في الحديث. وليته إذ اختار نقص عن السبعة أو زاد عليها ليزيل الشبهة" (2) .
وإذا كان المشتغلون بالقراءات، المدونون لها قد وقفوا موقفًا متحفظًا من بعض القراءات، فما ذاك إلا لأنهم لاحظوا وقوع بعض القراء في التخليط، وبعض آخر في التفريط، فنخلوا هذه القراءات وميزوا بينها من ناحيتي الإسناد، والمتن. وتحدََّدت هذه المعايير على يد ابن الجزري (توفي 833هـ) في شروط ثلاثة هي:
1- موافقة العربية ولو بوجه.
2- موافقة أحد المصاحف العثمانية ولو احتمالاً.
3- صحة سند القراءة (3) .
وإذا كان كثير من الأصوليين والفقهاء قد تبعوا ابن مجاهد في اختياره، أو زادوا على السبعة ثلاثة، فهناك كثيرون آخرون رفضوا المفاضلة بين القراءات على أساس تصنيف أصحابها إلى سبعة أو عشرة أو غير ذلك، وفاضلوا بينها على أساس المعايير الثلاثة السابقة، ولذا يقول القسطلاني: "فإذا اجتمعت هذه الثلاثة في قراءة وجب قبولها، وحرم ردها سواء كانت
--------------------------------------------
"...সৃষ্টি করা হয়েছে, না তাদের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে" (১)। অনেক আলেম (علماء) ইবনে মুজাহিদকে সমালোচনা করেছেন ক্বারীগণের (قراء) মধ্য থেকে কেবল সাতজনকে বেছে নেওয়ার জন্য এবং মানুষকে বিভ্রান্তি ও সংশয়ে ফেলার জন্য। এই কারণে আল-সুয়ূতী বলেন: "যিনি এই সাত সংখ্যাকে নির্দিষ্ট করেছেন, তিনি এমন কাজ করেছেন যা সমীচীন নয়। তাঁর এই নির্বাচনের ফলে সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি জটিল হয়ে পড়েছে; যার ফলে অল্পজ্ঞানী ব্যক্তিরা মনে করতে শুরু করেছে যে, এই ক্বিরাতগুলো (قراءات) হলো সেই ক্বিরাত যা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তিনি যদি সাতের কম বা বেশি নির্বাচন করতেন, তবে এই সংশয় দূর হতো।" (২) .
ক্বিরাত (قراءات) শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ এবং এর সংকলকগণ যদি কিছু ক্বিরাতের (قراءات) ব্যাপারে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে থাকেন, তবে তা কেবল এই কারণে যে তারা লক্ষ্য করেছেন কিছু ক্বারী (قراء) সংমিশ্রণ (تخليط) ঘটিয়েছেন এবং অন্যরা অবহেলা (تفريط) করেছেন। ফলে তাঁরা এই ক্বিরাতগুলোকে (قراءات) যাচাই-বাছাই করেছেন এবং সনদ (إسناد) ও মতন (متن) —উভয় দিক থেকে এগুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন। ইবনে আল-জাজারী (মৃত্যু ৮৩৩ হিজরি) এই মানদণ্ডগুলোকে তিনটি শর্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন, সেগুলো হলো:
১- আরবি ভাষার ব্যাকরণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া, চাই তা একটি দিক থেকেই হোক না কেন।
২- উসমানি মুসহাফসমূহের কোনো একটির লিপির সাথে মিল থাকা, চাই তা সম্ভাব্য রূপেই হোক না কেন।
৩- ক্বিরাতের সনদের বিশুদ্ধতা (صحة سند) (৩)।
যদিও অনেক উসূলবিদ (أصوليين) এবং ফকিহ (فقهاء) ইবনে মুজাহিদের এই নির্বাচন অনুসরণ করেছেন অথবা সাতের সাথে আরও তিনজনকে যুক্ত করেছেন, তবে এমন অনেক বিশেষজ্ঞ রয়েছেন যারা ক্বারীগণের সংখ্যার (সাত, দশ বা অন্য কোনো সংখ্যা) ভিত্তিতে ক্বিরাতসমূহের (قراءات) মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বরং তাঁরা পূর্বোক্ত তিনটি মানদণ্ডের ভিত্তিতেই এগুলোর তুলনা করেছেন। এই কারণে আল-কাসতালানি বলেন: "যখন কোনো ক্বিরাতে (قراءة) এই তিনটি বৈশিষ্ট্য একত্রিত হবে, তখন তা গ্রহণ করা আবশ্যক এবং তা প্রত্যাখ্যান করা নিষিদ্ধ, চাই সেটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
عن السبعة، أم عن العشرة، أم عن غيرهم من الأئمة المقبولين" (1) . ويقول ابن الجزري: "وقد ذكر الناس من الأئمة في كتبهم أكثر من سبعين ممن هو أعلى مرتبة وأجل قدرًا من هؤلاء السبعة" (2) .
وإذا كان هذا هو رأي المحققين من الفقهاء والقراء والأصوليين الذين نظروا إلى القراءة باعتبارها وسيلة تعبُّد، وطريق تقرُّب، وشرطًا لصحة الصلاة، ومصدرًا للتشريع والتحريم والتحليل - فهناك إلى جانبهم فريق اللغويين الذين نظروا إلى القراءة نظرة مغايرة، لأن هدفهم مختلف، وغايتهم من قبول القراءة ليست العبادة أو الصلاة بها، إنما هي مجرد إثبات حكم لغوي أو بلاغي. ولذا فقد وضعوا شرطًا واحدًا لصحة الاستدلال اللغوي بالقراءة، وهو صحة نقلها عن القارئ الثقة حتى ولو كان فردا، سواء رويت القراءة بطريق التواتر، أو الآحاد، وسواء كانت سبعية، أو عشرية، أو أكثر من ذلك. بل إن ابن جني في مقدمة كتابه المحتسب كان حريصًا على وضع القراءة الشاذة على قدم المساواة مع القراءة السبعية، وذلك بقوله: إنه "نازع بالثقة إلى قرائه، محفوف بالرواية من أمامه وورائه، ولعله أو كثيرًا منه مساوٍ في الفصاحة للمجتمع عليه" (3) ، ويقول في مكان آخر: إنه لا يصح العدول عن المسمى شاذا، لأن الرواية تنميه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم (4) . والقراءة- من زاوية الاستشهاد اللغوي البحت- نص عربيّ، رواه أو قرأ به من يوثق في عربيته، ولهذا فهي- حتى على فرض اختلاف العلماء في صحة التعبد والصلاة بها-
--------------------------------------------
"সাতজন ইমাম, নাকি দশজন, নাকি অন্যান্য গ্রহণযোগ্য (مقبولون) ইমামদের থেকে বর্ণিত?" (১)। ইবনুল জাজারী বলেন: "মানুষ তাদের কিতাবসমূহে এমন সত্তর জনেরও বেশি ইমামের কথা উল্লেখ করেছেন যারা এই সাতজনের চেয়েও উচ্চতর মর্যাদা ও গুরুত্বের অধিকারী।" (২)।
যদি ফকিহ, ক্বারী এবং উসুলবিদদের মধ্য থেকে যারা বিশেষজ্ঞ (محققون)—যারা কিরাতকে ইবাদতের মাধ্যম, নৈকট্য লাভের পথ, নামাজের শুদ্ধতার শর্ত এবং বিধান প্রদান ও হালাল-হারাম নির্ধারণের উৎস হিসেবে দেখেছেন—এটিই তাদের অভিমত হয়ে থাকে, তবে তাদের পাশাপাশি ভাষাবিদদের একটি দল রয়েছেন যারা কিরাতকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখেছেন। কারণ তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন; কিরাত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য কেবল ইবাদত বা এর মাধ্যমে নামাজ পড়া নয়, বরং এটি স্রেফ ভাষাগত বা অলঙ্কারশাস্ত্রীয় কোনো বিধান সাব্যস্ত করার মাধ্যম। এজন্য তারা কিরাতের মাধ্যমে ভাষাগত দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি মাত্র শর্তারোপ করেছেন, আর তা হলো একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ক্বারীর নিকট থেকে এর বর্ণনাসূত্র বিশুদ্ধ হওয়া, এমনকি তিনি একক (فرد) বর্ণনাকারী হলেও। চাই কিরাতটি মুতাওয়াতির (تواتر) পদ্ধতিতে বর্ণিত হোক বা আহাদ (آحاد) পদ্ধতিতে, এবং তা সাত কিরাত হোক বা দশ কিরাত কিংবা তার চেয়েও বেশি। এমনকি ইবনে জিন্নি তার 'আল-মুহতাসাব' কিতাবের ভূমিকায় শায (شاذة) কিরাতকে সাত কিরাতের সমপর্যায়ে রাখতে সচেষ্ট ছিলেন এই বলে যে: এটি "পাঠকদের নিকট নির্ভরযোগ্যতার সাথে পৌঁছেছে এবং এর পূর্বাপর বর্ণনার দ্বারা পরিবেষ্টিত; সম্ভবত এর অনেক অংশই বিশুদ্ধতার দিক থেকে সর্বসম্মত কিরাতের সমান।" (৩)। তিনি অন্য এক স্থানে বলেন: শায (شاذ) হিসেবে অভিহিত কিরাত থেকে বিমুখ হওয়া সঠিক নয়, কারণ বর্ণনা (رواية) একে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে দেয় (৪)। আর কিরাত—নিছক ভাষাগত প্রমাণের বিচারে—হলো একটি আরবি পাঠ, যা এমন ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন বা পাঠ করেছেন যার আরবি ভাষার জ্ঞান নির্ভরযোগ্য। এই কারণেই—এমনকি আলেমদের মধ্যে এর মাধ্যমে ইবাদত করা ও নামাজ পড়ার শুদ্ধতা নিয়ে মতভেদ থাকলেও—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ২০)
تحقق شرط اللغوي، وهو النقل عن العربي الثقة، حتى ولو كان فردًا، بل إن السيوطي يصرح بما هو أكثر من ذلك حين ينفي اشتراط العدالة في العربي الذي يستشهد بكلامه.
ومن هذا يتضح أن جمعنا القراءات القرآنية من مصادرها المتعددة، وتقديم ألفاظها في معجم هجائي لم نقصد به الترويج لها ليقرأ المسلمون بها في الصلاة، أو يتعبدوا بها، كما لم نقصد به أن تنافس النص المصحفي المتداول بأشكاله المحددة في شتى أنحاء العالم العربي والإسلامي.
ولما كانت غايتنا من إثبات القراءات هنا غاية معجمية لا تتجاوز إثبات وجود اللفظ في اللغة، أو ضبط نطقه، أو ذكر معناه، أو غير ذلك من النتائج الجزئية التي لا تعمم حكمًا، ولا تبني قاعدة، فلا يفسد هذه الغاية أن تكون القراءة هي النموذج الوحيد المنقول إلينا، إذ لم يشترط أحد من اللغويين لحجية النص في مثل هذه الحالة كثرة أو قلة.
وإذا كان جمع عثمان المسلمين على مصحف إمام قد أزال الفرقة بينهم، ووحد كلمتهم، وألزمهم بالصلاة والتعبد بنصوصه- فإنّ ذلك لم يلغ ما سجله المسلمون من قراءات على اعتبار أنها - في أضعف حالاتها - تعد نصوصًا لغوية موثقة، وكلامًا عربيًا فصيحًا. وما خالف رسم المصحف من هذه القراءات لا يخرج - حتى في أدنى درجاته- عن أن يكون من باب التفسير، أو الشرح اللغوي الذي كان يسجله بعض الصحابة القراء أو بعض المتلقين عنهم. فلماذا نحرم المسلمين من هذا النوع الموثق من التفسير؟، وإذا كان جمهور العلماء يحظر التعبد بالقراءات التي لم تتوفر فيها الشروط الثلاثة السابق ذكرها، فهناك غايات أخرى كثيرة تروى من أجلها كل القراءات، وتفهرس، وتشرح من مثل ما يأتي:
ভাষাগত শর্তটি পূরণ হয়েছে, যা হলো নির্ভরযোগ্য (ثقة) আরব থেকে বর্ণিত হওয়া, যদিও তিনি একক (فرد) কোনো ব্যক্তি হন। প্রকৃতপক্ষে সুয়ূতি এর চেয়েও বড় কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যখন তিনি ঐ আরবের ক্ষেত্রে যার বক্তব্য থেকে প্রমাণ গ্রহণ করা হয়, ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) থাকার শর্তটিকে অস্বীকার করেছেন।
এ থেকে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আমাদের বিভিন্ন উৎস থেকে কুরআনের কিরাতসমূহ সংগ্রহ করা এবং সেগুলোর শব্দাবলি বর্ণানুক্রমিক অভিধানে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্য এই নয় যে, আমরা এর প্রচার করছি যাতে মুসলমানরা সালাতে এর মাধ্যমে পাঠ করে বা এর মাধ্যমে ইবাদত করে; যেমন আমাদের উদ্দেশ্য এটিও নয় যে, এটি বর্তমানে প্রচলিত এবং বিশ্বের সর্বত্র আরব ও ইসলামি ভূখণ্ডে সুনির্দিষ্ট আকারে বিদ্যমান মুসহাফের পাঠ্যের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।
যেহেতু এখানে কিরাতসমূহ সাব্যস্ত করার পেছনে আমাদের লক্ষ্য হলো আভিধানিক, যা ভাষায় শব্দের অস্তিত্ব প্রমাণ করা, এর উচ্চারণরীতি নিয়ন্ত্রণ করা, কিংবা এর অর্থ উল্লেখ করা অথবা এ জাতীয় অন্যান্য আংশিক ফলাফলের বাইরে যায় না—যা কোনো হুকুম বা বিধানকে সাধারণীকরণ করে না এবং কোনো নীতি নির্মাণ করে না; তাই এই লক্ষ্যটি ব্যাহত হয় না যদি কিরাতটি আমাদের নিকট হস্তান্তরিত একমাত্র নমুনা হয়। কারণ এ ধরণের ক্ষেত্রে ভাষাবিদদের কেউই পাঠ্যের প্রামাণ্যতা (حجية)-র জন্য বর্ণনাকারীর সংখ্যাধিক্য বা স্বল্পতাকে শর্ত হিসেবে গণ্য করেননি।
উসমান (রা.) যখন মুসলমানদের একটি একক 'ইমাম মুসহাফ'-এর ওপর ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে তাদের মধ্য থেকে বিভেদ দূর করেছিলেন, তাদের কথাকে এক করেছিলেন এবং এর পাঠ্য অনুযায়ী সালাত আদায় ও ইবাদত করতে বাধ্য করেছিলেন—তা মুসলমানদের দ্বারা লিপিবদ্ধ কিরাতসমূহকে বাতিল করে দেয়নি। কারণ ঐ কিরাতগুলো—তাদের দুর্বলতম (أضعف) অবস্থাতেও—প্রামাণ্য ভাষাগত পাঠ্য এবং প্রাঞ্জল আরবি ভাষা হিসেবে গণ্য। আর এই কিরাতগুলোর মধ্যে যে অংশটি মুসহাফের লিখন পদ্ধতির পরিপন্থী, তা—তার সর্বনিম্ন স্তরেও—তাফসির বা ভাষাগত ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত, যা কোনো কোনো সাহাবী কারী বা তাদের নিকট থেকে গ্রহণকারী কেউ লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তাহলে কেন আমরা মুসলমানদেরকে এই ধরণের প্রামাণ্য তাফসির থেকে বঞ্চিত করব? আর যদি জমহুর ওলামায়ে কেরাম সেই কিরাতগুলোর মাধ্যমে ইবাদত করা নিষিদ্ধ করেন যেগুলোতে পূর্বোল্লিখিত তিনটি শর্ত পূরণ হয়নি, তবুও আরও অনেক উদ্দেশ্য রয়েছে যেগুলোর জন্য সমস্ত কিরাত বর্ণনা করা হয়, সূচিবদ্ধ করা হয় এবং ব্যাখ্যা করা হয়, যেমন নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ:
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ২১)
1- أن القراءات القرآنية، وطرق التلاوة للنص القرآني تعد المثال الحي الوحيد لطرق نطق الفصحى قديمًا وحديثًا. وكثيرا ما يحتاج اللغوي عند وصف صوت من الأصوات، أو ظاهرة صوتية معينة إلى الاستهداء بنطق المجيدين من قُرّاء القرآن. أما باقي المصادر اللغوية فقد وردتنا مكتوبة لا منطوقة، وكثيرًا ما أوقعت طريقة الكتابة العربية في التصحيف والتحريف.
2- اشتمال القراءات القرآنية على شواهد لغوية سكتت المعاجم عن ذكرها. وربما كان أظهر مثال لذلك قوله تعالى: {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ} (الأنعام: 91) ، من الفعل الثلاثي المخفف. ولكن يشيع في لغة العصر الحديث استخدام كلمة: "التقدير" من الفعل المضعف"قدَّر"، بمعنى عظَّم أو احترم. ونفتش في المعاجم القديمة عن هذا الاستعمال فلا نجد، وتسعفنا القراءات القرآنية فتمدنا بالشاهد، وهو قراءة الحسن وعيسى الثقفي: "وما قدَّروا الله"، قال في الكشاف: وقرئ بالتشديد على معنى: وما عظّموه كنه تعظيمه.
3- أنه يمكن اتخاذ القراءات القرآنية مرتكزًا لتحقيق التيسير، ودليلاً لتصحيح كثير من العبارات والاستعمالات الشائعة الآن، والتي يتحرج المتشددون من استعمالها. ومن أمثلة ذلك:
أ- ضبط الفعل "تَوَفَّى" بالبناء للمعلوم. ورغم أن الاستعمال الفصيح هو بناؤه للمجهول فقد جاءت القراءة القرآنية مصححة للنطق الحديث. وذلك في قوله تعالى: {وَمِنْكُمْ مَنْ يُتَوَفَّى وَمِنْكُمْ مَنْ يُرَدُّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ} (الحج: 5) ، فقد قرأها الأعمش وغيره: "وَمِنْكُمْ مَنْ يَتَوَفَّى"، قال النحاس في "إعرابه القرآن" (1) ، وأبو حيان في "البحر المحيط" (2) : أي يستوفي أجله.
--------------------------------------------
১- কোরআনের কিরাতসমূহ এবং কোরআনি পাঠ্যের তিলাওয়াত পদ্ধতিগুলো প্রাচীন ও আধুনিক উভয় সময়ের উচ্চাঙ্গ আরবির উচ্চারণ পদ্ধতির একমাত্র জীবন্ত উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত। কোনো ধ্বনি বা নির্দিষ্ট ধ্বনিগত বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করার সময় একজন ভাষাবিদকে প্রায়শই দক্ষ কোরআন পাঠকদের (ক্বারী) উচ্চারণের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করতে হয়। অন্যদিকে, অন্যান্য ভাষাতাত্ত্বিক উৎসগুলো আমাদের কাছে লিখিত আকারে পৌঁছেছে, বাচনিক বা শ্রুত আকারে নয়। আর অনেক ক্ষেত্রে আরবি লিখনপদ্ধতি ভুল পাঠ (التصحيف) এবং বিকৃতি (التحريف)-এর মতো সমস্যার সৃষ্টি করেছে।
২- কোরআনের কিরাতসমূহ এমন সব ভাষাতাত্ত্বিক নিদর্শন বা প্রমাণাদি ধারণ করে যা অভিধানসমূহ উল্লেখ করতে এড়িয়ে গিয়েছে। এর সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ সম্ভবত মহান আল্লাহর বাণী: {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ} (আনআম: ৯১); যা তিন অক্ষরবিশিষ্ট মূল ক্রিয়া (الفعل الثلاثي المخفف) থেকে এসেছে। কিন্তু আধুনিক যুগের ভাষায় সম্মান করা বা শ্রদ্ধা করার অর্থে দ্বিত্ব ক্রিয়া (الفعل المضعف) "قدَّر" থেকে "التقدير" (তাকদীর) শব্দের ব্যবহার ব্যাপকভাবে প্রচলিত। আমরা প্রাচীন অভিধানগুলোতে এই ব্যবহারের সন্ধান করলে তা খুঁজে পাই না, কিন্তু কোরআনের কিরাতসমূহ আমাদের এ ব্যাপারে প্রমাণ সরবরাহ করে আমাদের সহায়তা করে। আর তা হলো হাসান এবং ঈসা আস-সাকাফীর কিরাত: "وما قدَّروا الله" (তাজদীদ বা দ্বিত্বসহ)। কাশশাফ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি তাসদীদ বা দ্বিত্বসহ পাঠ করা হয়েছে যার অর্থ হলো: তারা তাঁকে তাঁর প্রকৃত মর্যাদানুযায়ী সম্মান করেনি।
৩- সহজীকরণ (তাকসীর) নিশ্চিত করার জন্য কোরআনের কিরাতসমূহকে একটি ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে এবং বর্তমানে প্রচলিত অনেক বাক্যাংশ ও ব্যবহারের শুদ্ধতার দলিল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ব্যবহার করতে কঠোরপন্থীগণ দ্বিধাবোধ করেন। এর উদাহরণ হলো:
ক- "تَوَفَّى" (তাওয়াফফা) ক্রিয়াটিকে কর্তৃবাচ্য (البناء للمعلوم) হিসেবে উচ্চারণ করা। যদিও এর উচ্চাঙ্গ বা ফাসিহ ব্যবহার হলো একে কর্মবাচ্য (البناء للمجهول) হিসেবে ব্যবহার করা, তবে কোরআনের কিরাত আধুনিক উচ্চারণকে শুদ্ধ সাব্যস্ত করেছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {وَمِنْكُمْ مَنْ يُتَوَفَّى وَمِنْكُمْ مَنْ يُرَدُّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ} (হজ: ৫)। আল-আ'মাশ এবং অন্যরা একে "وَمِنْكُمْ مَنْ يَتَوفَّى" (কর্তৃবাচ্যে) পাঠ করেছেন। নাহহাস তাঁর ই'রাবুল কোরআন (১) এবং আবু হাইয়ান তাঁর আল-বাহরুল মুহিত (২) গ্রন্থে বলেছেন: অর্থাৎ, সে তার আয়ু পূর্ণ করছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ২২)
ب- تخفيف كلمات مثل "أمسية"، و"أضحية"، و"أمنية". وقد ورد التخفيف في بعض القراءات، مثل: {تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ} (البقرة: 111) ، {لَيْسَ بِأَمَانِيِّكُمْ وَلا أَمَانِيِّ أَهْلِ الْكِتَابِ} (النساء: 123) ، {إِذَا تَمَنَّى أَلْقَى الشَّيْطَانُ فِي أُمْنِيَّتِهِ} (الحج: 52) .
ج- ويمثل باب العدد مشكلة كبيرة للمتعلم العربي، فتارة يخالف (تذكيرًا وتأنيثًا) ، وتارة يوافق، وغير ذلك. وتزداد المشكلة بالنسبة للعدد من ثلاثة إلى عشرة، لأن تمييزه جمع، ولابد من رد الجمع إلى مفرده للحكم بالتذكير أو التأنيث. ويحل المشكلة أن يُنصح المتكلم بأن يقدم المعدود ويؤخر العدد، وحينئذٍ تجوز له المطابقة لأنه نعت، والمخالفة لأنه عدد. وقد جاء بالوجهين قوله تعالى: {وَكُنْتُمْ أَزْوَاجاً ثَلاثَةً} (الواقعة: 7) ، حيث قرئ كذلك "وَكُنْتُمْ أَزْوَاجًا ثلاثًا" (1) .
د- يشيع في العصر الحديث استعمال "كِلا" مع المثنى المؤنث المجازي التأنيث، مثل: "كلا الدولتين"، و"كلا الصحيفتين" وقد جاءت القراءة القرآنية لتصحح هذا الاستعمال، وذلك في قوله تعالى: {كِلْتَا الْجَنَّتَيْنِ آتَتْ أُكُلَهَا} ، فقد قرأها ابن مسعود:"كِلا الْجَنَّتَيْنِ آتَتْ أُكُلَهَا"، قال في البحر (2) : "أتى بصيغة التذكير لأن تأنيث الجنتين مجازي".
هـ- تذكر كتب النحو أن من مواضع كسرة همزة "إنّ" وقوعها مفعولا للقول ولكن كثيرًا من المتحدثين يفتحونها الآن. وقد جاء الفتح في بعض القراءات، مثل قراءة المطوعي: {وَلَئِنْ قُلْتَ إنَّكُمْ مَبْعُوثونَ مِنْ بَعْدِ
--------------------------------------------
খ- "আমসিয়াহ", "আদহিয়াহ" এবং "উমনিয়াহ"-র মতো শব্দগুলোকে লঘু (تخفيف) করে উচ্চারণ করা। কিছু কিরাআতে (قراءات) এই লঘুকরণ বর্ণিত হয়েছে, যেমন: {তিলকা আমানিয়্যুহুম} (আল-বাকারা: ১১১), {লাইসা বি আমানিয়্যিকুম ওয়া লা আমানিয়্যি আহলিল কিতাব} (আন-নিসা: ১২৩), {ইযা তামান্না আলকাশ শাইতানু ফী উমনিয়্যাতিহী} (আল-হাজ্জ: ৫২)।
গ- আরবি শিক্ষার্থীদের কাছে সংখ্যার (العدد) অধ্যায়টি একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। কখনো এটি লিঙ্গগত ভিন্নতা (تذكيرًا وتأنيثًا) প্রকাশ করে, আবার কখনো লিঙ্গগত সাদৃশ্য রক্ষা করে, ইত্যাদি। বিশেষ করে তিন থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যার ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও বৃদ্ধি পায়, কারণ এর বিশেষক (تمييزه) বহুবচন হয় এবং লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য সেই বহুবচনকে তার একবচন রূপে ফিরিয়ে নিতে হয়। এই সমস্যার সমাধান হলো বক্তাকে এই পরামর্শ দেওয়া যে, তিনি যেন গণনীয় বস্তুকে (المعدود) আগে উল্লেখ করেন এবং সংখ্যাকে (العدد) পরে উল্লেখ করেন। এমতাবস্থায় লিঙ্গগত মিল রাখা জায়েজ হবে কারণ তখন সেটি বিশেষণ (نعت) হিসেবে গণ্য হবে, আবার অমিল রাখাও বৈধ হবে কারণ সেটি সংখ্যা (عدد)। মহান আল্লাহর বাণীতে উভয় পদ্ধতিই বর্ণিত হয়েছে: {ওয়া কুনতাম আযওয়াজান সালাসাহ} (আল-ওয়াকি'আ: ৭), যেখানে ভিন্ন একটি কিরাআতে (قراءات) {ওয়া কুনতাম আযওয়াজান সালাসান} (১) ও পাঠ করা হয়েছে।
ঘ- বর্তমান যুগে রূপক স্ত্রীলিঙ্গ (مجازي التأنيث) দ্বিবচন শব্দের সাথে "কিলা" (كلا) ব্যবহারের প্রচলন দেখা যায়, যেমন: "কিলা আদ-দাওলাতাইন" এবং "কিলা আস-সাহীফাতাইন"। কুরআনের একটি কিরাআত (قراءة) এই ব্যবহারকে বিশুদ্ধ ঘোষণা করেছে, যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে এসেছে: {কিলতা আল-জান্নাতাইন আতাত উকুলাহা}। ইবনে মাসউদ এটি {কিলা আল-জান্নাতাইন আতাত উকুলাহা} হিসেবে তিলাওয়াত করেছেন। আল-বাহর (২) গ্রন্থে বলা হয়েছে: "এখানে পুংলিঙ্গ রূপ আনা হয়েছে কারণ জান্নাতাইন শব্দটির স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া রূপক (مجازي)"।
ঙ- নাহু শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "ইন্না" (إنّ) এর হামজায় কাসরা (জের) হওয়ার অন্যতম স্থান হলো যখন সেটি উক্তির কর্ম (مفعولا للقول) হিসেবে আসে। তবে বর্তমানে অনেক বক্তাই একে ফাতহা (জবর) দিয়ে পাঠ করেন। কিছু কিরাআতে (قراءات) ফাতহা দিয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যেমন আল-মুতাওয়ায়ি-এর কিরাআত: {ওয়া লায়িন কুলতা আন্নাকুম মাবউসূনা মিম বা'দি...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الْمَوْتِ00 ((هود: 7) . قال في البحر (1) : "لأن قلت في معنى: ذكرت". ويجوز أن يكون على تقدير حرف الجر. وحذف حرف الجر قياسي مع "أن".
4- من الممكن ضم القراءات القرآنية المتواترة والشاذَّة، وإعادة الدراسة لبعض الأبواب الصرفية المضطربة، مثل: أبواب الفعل الثلاثي المجرد. فمن المعروف أن أبواب هذا الفعل تتوزع بين الكسر والفتح والضم في كل من الماضي والمضارع دون ضابط صارم. وأكثر الأبواب شيوعًا في اللغة العربية ما كان بفتح العين في الماضي وضمها أو كسرها في المضارع (طبقًا لقاعدة المخالفة) . ولكن المتحدث يقف حائرًا- إن لم يرجع إلى المعجم- في كثير من الأحيان، هل يخالف إلى الكسر؟ أو الضم؟.
ومن أمثلة القراءات القرآنية ما يسمح بفتح باب الاختيار في حركة المخالفة، فنكسر أو نضم حسب ما شاع على ألسنة المثقفين، وقبله العرف اللغوي الحديث. وقد وردت الأفعال الآتية –وغيرها كثير- بالكسر والضم:
* {ثُمَّ لَنَنْسِفَنَّهُ فِي الْيَمِّ نَسْفًا} (طه: 97) .
* {فَكُنْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ تَنْكِصُونَ} (المؤمنون: 66) .
* {وَيَومَ يَحْشُرُهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللهِ} (الفرقان: 17) .
* {وَيَومَ نَحْشُرُ أَعْدَاءَ اللهِ إِلَى النَّار} (فصلت: 19) .
* {لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا} (الفرقان: 67) .
* {فَلَمَّا أن أَرَادَ أَنْ يَبْطِشَ بِالَّذِي هُوَ عَدُوٌّ لَهُمَا} (القصص: 19) .
* {عَالِمِ الْغَيْبِ لا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ} (سبأ: 3) .
--------------------------------------------
মৃত্যু (হুদ: ৭)। আল-বাহর (১)-এ বলা হয়েছে: "কেননা 'قلت' শব্দটি 'ذكرت' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।" এবং এটি অব্যয় (Harf al-Jarr) ঊহ্য থাকার ভিত্তিতে হওয়া সম্ভব। আর "أن"-এর ক্ষেত্রে অব্যয় বিলোপ হওয়া নিয়মসিদ্ধ।
৪- মুতাওয়াতির (متواتر) এবং শায (شاذ) কুরআন পাঠরীতিগুলোকে একত্রিত করা এবং অসংলগ্ন কিছু রূপতাত্ত্বিক অধ্যায় যেমন: থুলাসি মুজাররাদ (ثلاثي مجرد) ক্রিয়াপদের অধ্যায়গুলো নিয়ে পুনরায় গবেষণা করা সম্ভব। এটি সুপরিচিত যে, এই ক্রিয়াপদের অধ্যায়গুলো অতীতকাল এবং বর্তমান/ভবিষ্যৎকালের ক্ষেত্রে কোনো কঠোর নিয়ম ছাড়াই কাসরা, ফাতহা এবং দাম্মার মধ্যে বন্টিত হয়। আরবি ভাষায় সবচেয়ে প্রচলিত অধ্যায়গুলো হলো সেগুলো, যেগুলোতে অতীতকালে 'আইন' বর্ণে ফাতহা এবং বর্তমান/ভবিষ্যৎকালে দাম্মা বা কাসরা হয় (বৈসাদৃশ্যের নিয়ম অনুযায়ী)। কিন্তু বক্তা যদি অভিধানের শরণাপন্ন না হন, তবে তিনি অনেক সময় বিভ্রান্তিতে পড়েন যে, এটি কাসরা হবে নাকি দাম্মা?
কুরআনের পাঠরীতিগুলোর এমন কিছু উদাহরণ রয়েছে যা বৈসাদৃশ্যের হরকতের ক্ষেত্রে পছন্দের সুযোগ দেয়, ফলে আমরা শিক্ষিত সমাজে প্রচলিত রীতি এবং আধুনিক ভাষাতাত্ত্বিক প্রথা অনুযায়ী কাসরা বা দাম্মা ব্যবহার করতে পারি। নিচের ক্রিয়াপদগুলো – এবং আরও অনেক – কাসরা ও দাম্মা উভয় রূপেই বর্ণিত হয়েছে:
* {অতঃপর আমি অবশ্যই তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে সমুদ্রে ছড়িয়ে দেব} (ত্বাহা: ৯৭)।
* {তখন তোমরা তোমাদের গোড়ালির ওপর ভর দিয়ে উল্টো ফিরে যেতে} (আল-মুমিনুন: ৬৬)।
* {এবং যেদিন তিনি তাদেরকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করত তাদের একত্রিত করবেন} (আল-ফুরকান: ১৭)।
* {এবং যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে আগুনের দিকে একত্রিত করা হবে} (ফুসসিলাত: ১৯)।
* {তারা যখন ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না, বরং তাদের পন্থা হয় এই দুয়ের মধ্যবর্তী} (আল-ফুরকান: ৬৭)।
* {অতঃপর সে যখন তাদের উভয়ের শত্রুকে পাকড়াও করতে চাইল} (আল-কাসাস: ১৯)।
* {তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে অণু পরিমাণ কিছুও তাঁর অগোচরে নেই} (সাবা: ৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
5- بعض القراءات غير المشهورة لا تقل قبولاً- من ناحية المعنى- عن المشهورة ومن أمثلة ذلك:
أ - قراءة الزهري: {وأوفوا بعهدي أُوَفِّ بعهدكم} (البقرة: 40) ، وقد عقب ابن جني على هذه القراءة بقوله: "ينبغي أن يكون قرأ بذلك، لأن فعَّلت أبلغ من أفعلت فيكون على: أوفوا بعهدي أبالغ في توفيتكم، كأنه ضمان من الله سبحانه أن يعطي الكثير في مقابل القليل" (1) .
ب- قراءة ابن مسعود: {كلما ردوا إلى الفتنة رُكِّسوا فيها} (النساء: 91) . قال ابن جني: "وجه ذلك أنه شيء بعد شيء، وذلك لأنهم جماعة. فلما كانوا كذلك وقع منه شيء بعد شيء فطال، فلاقى به لفظ التكثير والتكرير، كقوله تعالى: {وَغَلَّقَتِ الأَبْوَابَ} (2) .
ج- قراءة: {لا يكادون يُفْقِهون قولاً} (الكهف: 93) ، والمشهور "يَفْقَهون". قال الطبري: والصواب عندي من القول في ذلك أنهما قراءتان مستفيضتان، في قراءة الأمصار غير دافعة إحداهما الأخرى. وذلك أن القوم الذين أخبر الله عنهم هذا الخبر جائز أن يكونوا لا يكادون يَفْقهون قول غيرهم، وجائز أن يكونوا مع كونهم كذلك لا يكادون يُفْقهون غيرهم لعلة بلسانهم أو بمنطقهم" (3) .
--------------------------------------------
৫- কিছু অখ্যাত (غير مشهورة) কিরাত অর্থগত দিক থেকে প্রসিদ্ধ (مشهورة) কিরাতগুলোর তুলনায় গ্রহণযোগ্যতার (قبول) দিক থেকে কোনো অংশে কম নয়। এর কয়েকটি উদাহরণ হলো:
ক - যুহরীর কিরাত: {তোমরা আমার সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করো, আমিও তোমাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করব} (আল-বাকারা: ৪০)। ইবনে জিন্নি এই কিরাতের ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: "তাঁর এভাবে পাঠ করাটিই সংগত ছিল, কারণ 'ফাউ-আ'লাতা' (فعَّلت) রূপটি 'আফ-আ'লাতা' (أفعلت) অপেক্ষা অধিক অর্থবহ। সুতরাং এর অর্থ দাঁড়াবে: তোমরা আমার সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করো, আমি তোমাদের পাওনা পরিপূর্ণ প্রদানের ক্ষেত্রে আধিক্য প্রকাশ করব। এটি যেন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সামান্যর বিনিময়ে প্রচুর প্রদানের একটি প্রতিশ্রুতি।" (১)।
খ - ইবনে মাসউদের কিরাত: {যখনই তাদের ফিতনার দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তারা তাতে নিপতিত হয়} (আন-নিসা: ৯১)। ইবনে জিন্নি বলেন: "এর তাৎপর্য হলো, বিষয়টি একের পর এক সংঘটিত হয়েছে, যেহেতু তারা একটি দল ছিল। তারা যখন এই অবস্থায় ছিল, তখন তাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি একের পর এক ঘটেছে এবং তা দীর্ঘায়িত হয়েছে। ফলে এটি আধিক্য ও পুনরাবৃত্তি নির্দেশক শব্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তিনি দরজাগুলো রুদ্ধ করে দিলেন} (২)।"
গ - কিরাত: {তারা কোনো কথা বুঝাতে সক্ষম ছিল না} (আল-কাহফ: ৯৩); যেখানে প্রসিদ্ধ (مشهورة) পাঠ হলো "তারা বুঝতে সক্ষম ছিল না"। ইমাম তাবারী বলেন: "এ বিষয়ে আমার নিকট সঠিক সিদ্ধান্ত হলো এই যে, উভয়টিই ব্যাপক প্রচলিত (مستفيضة) কিরাত, যা বিভিন্ন অঞ্চলের কিরাত হিসেবে স্বীকৃত এবং একটি অন্যটিকে বাতিল করে না। কারণ, আল্লাহ যে সম্প্রদায় সম্পর্কে এই সংবাদ দিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি হওয়া সম্ভব যে তারা অন্যের কথা বুঝতে পারছিল না; আবার এমন হওয়াও সম্ভব যে, একই সাথে তারা তাদের জিহ্বা বা বাকশক্তির কোনো ত্রুটির কারণে অন্যদের বুঝাতেও সক্ষম ছিল না।" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
6- من العلماء من أقام تعدد القراءات مقام تعدد الآيات، وتعدد المعاني وعدَّ ذلك ضربًا من ضروب البلاغة، يبتدئ من جمال هذا الإيجاز، وينتهي إلى كمال الإعجاز. (1)
ولا تقف أهمية القراءات عند قيمتها اللغوية، بل تضيف إلى ذلك قيمتها الدينية الكبيرة، وعلى سبيل المثال:
1- بعض القراءات يعد من باب التفسير اللغوي لبعض الألفاظ، مما يكون له الأفضلية على غيره من التفسيرات، أو يلقي ضوءًا على المعنى المراد من اللفظ، ومن ذلك:
أ- {إِنِّي أَرَانِي أَعْصِرُ خَمْرًا} (يوسف: 36) ، قرأها ابن مسعود وأبيّ: "أعصر عنبًا".
ب- {تَكَادُ السَّمَوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ} (مريم: 90) ، قرأها ابن مسعود: "يتصدّعن منه".
ج- {إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ} (الأنبياء: 98) ، قرأها أُبيّ وعلي وعائشة وغيرهم، "حطب جهنم".
د- {حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا} (النور: 27) ، قرأها أبيّ وابن عباس وابن مسعود وغيرهم: "حتى تستأذنوا".
هـ- {كَالْعِهْنِ الْمَنْفُوشِ} (القارعة: 5) ، قرأها ابن مسعود: "كالصوف المنفوش".
2- بعض القراءات قد يبنى عليه حكم فقهي، أو يؤدي إلى استنباط هذا الحكم. ومن ذلك:
--------------------------------------------
6- আলেমদের (علماء) মধ্যে কেউ কেউ কিরাআতের (القراءات) আধিক্যকে আয়াতের আধিক্য এবং অর্থের আধিক্যের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং একে অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) অন্যতম এক প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন, যা এই সংক্ষিপ্ততার সৌন্দর্য থেকে শুরু হয়ে অলৌকিকত্বের (إعجاز) পূর্ণতায় গিয়ে সমাপ্ত হয়। (১)
কিরাআতের (القراءات) গুরুত্ব কেবল তার ভাষাগত মূল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি তার সাথে মহান ধর্মীয় গুরুত্বও যোগ করে, উদাহরণস্বরূপ:
1- কিছু কিরাআত (قراءات) নির্দিষ্ট কিছু শব্দের ভাষাগত ব্যাখ্যার (تفسير لغوي) অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করা হয়, যা অন্যান্য ব্যাখ্যার তুলনায় অধিকতর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে অথবা শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্যকৃত অর্থের ওপর আলোকপাত করে। যেমন:
ক- {আমি স্বপ্নে দেখছি যে আমি মদ নিঙড়াচ্ছি} (ইউসুফ: ৩৬), ইবনে মাসউদ এবং উবাই এটি পাঠ করেছেন: "আমি আঙ্গুর নিঙড়াচ্ছি"।
খ- {তাতে আসমানসমূহ ফেটে পড়ার উপক্রম হয়} (মারইয়াম: ৯০), ইবনে মাসউদ এটি পাঠ করেছেন: "তা থেকে তা বিদীর্ণ হওয়ার উপক্রম হয়"।
গ- {নিশ্চয় তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত করো, তারা জাহান্নামের জ্বালানি} (আল-আম্বিয়া: ৯৮), উবাই, আলী, আয়েশা এবং অন্যরা এটি পাঠ করেছেন: "জাহান্নামের জ্বালানি কাষ্ঠ"।
ঘ- {যতক্ষণ না তোমরা হৃদ্যতা অনুভব করো এবং তাদের অধিবাসীদের সালাম দাও} (আন-নূর: ২৭), উবাই, ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ এবং অন্যরা পাঠ করেছেন: "যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি গ্রহণ করো"।
ঙ- {ধুনিত রঙিন পশমের মতো} (আল-ক্বারিআহ: ৫), ইবনে মাসউদ এটি পাঠ করেছেন: "ধুনিত পশমের মতো"।
2- কিছু কিরাআতের (قراءات) ওপর ফিকহি বিধান (حكم فقهي) ভিত্তি করে গড়ে ওঠে অথবা তা এই বিধান আহরণের (استنباط) দিকে নিয়ে যায়। যেমন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أ- قوله تعالى في سورة المائدة: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} (المائدة: 38) . وقد جاءت قراءة ابن مسعود لتحديد اليد التي يبدأ بقطعها، وهي: "فاقطعوا أيمانهما".
ب- قوله تعالى في نفس السورة: {فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ، فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ} (المائدة: 89) ، وقد قرأ ابن مسعود، وأبيّ وغيرهما: "فصيام ثلاثة أيام متتابعات"، فدلت القراءة على شرط التتابع.
ج- قوله تعالى: {يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إلَى الْكَعْبَيْنِ} (المائدة: 6) . فقراءة حفص بنصب "أرجلكم"، عطفًا على الوجوه والأيدي. وبذلك تكون الأرجل داخلة في الأعضاء المغسولة. أما قراءة ابن كثير وأبي عمرو وحمزة وغيرهم، فإنها بكسر"أرجلكم"، بالعطف على "الرءوس"، فتكون الأرجل داخلة في المسح مع الرأس. وقد قال الفقهاء إن القرآن نزل بالمسح على الرأس والرجل أوَّلاً، ثم عادت السُّنَّة إلى الغسل. ومنهم من قال إن المسح - في قراءة الجر - للخُفّ، والغسل - في قراءة النصب - لغيره.
د- وجاءت قراءة: {وَلا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطَّهَّرنَ} مع {حتى يَطْهُرنَ} (البقرة: 222) لتفيد الجمع بين الحكمين المختلفين. فالحائض لا يقربها زوجها حتى تطهُر بانقضاء الحيض، وتَطَّهَّر بالاغتسال، فلابد من الطهرين كليهما في جواز قربان النساء. وهو مذهب الشافعي ومن وافقه.
ক- সূরা আল-মায়িদাহতে মহান আল্লাহর বাণী: {চোর পুরুষ ও চোর নারী, তোমরা তাদের হাত কেটে দাও} (আল-মায়িদাহ: ৩৮)। ইবনে মাসউদের কিরাত (قراءة) কোন হাত দিয়ে কাটা শুরু করতে হবে তা সুনির্দিষ্ট করার জন্য এসেছে, আর তা হলো: "তোমরা তাদের ডান হাত (أيمانهما) কেটে দাও"।
খ- একই সূরায় মহান আল্লাহর বাণী: {তার কাফফারা হলো দশজন মিসকিনকে মধ্যম মানের খাদ্য দান করা, যা তোমরা তোমাদের পরিবারকে খাইয়ে থাকো, অথবা তাদের বস্ত্র দান করা, কিংবা একজন দাস মুক্ত করা; যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন সিয়াম পালন করবে} (আল-মায়িদাহ: ৮৯)। ইবনে মাসউদ, উবাই ও অন্যরা পাঠ করেছেন: "টানা (متتابعات) তিন দিন সিয়াম পালন করা", ফলে এই কিরাত (قراءة) ধারাবাহিকতার শর্তের (شرط التتابع) নির্দেশ দেয়।
গ- মহান আল্লাহর বাণী: {হে ঈমানদারগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো, তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত (ধৌত করো)} (আল-মায়িদাহ: ৬)। হাফসের কিরাতে (قراءة) "তোমাদের পাগুলো" (أرجلكم) শব্দটিকে নসব (نصب) বা যবরযুক্ত অবস্থায় পাঠ করা হয়েছে, যা মুখমণ্ডল ও হাতের সাথে আত্বফ (عطف) বা সংযুক্ত। এর ফলে পা ধৌত করা আবশ্যক এমন অঙ্গসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়। পক্ষান্তরে ইবনে কাসীর, আবু আমর, হামজাহ ও অন্যদের কিরাতে (قراءة) এটি জর (جر) বা যেরযুক্ত হিসেবে পাঠ করা হয়েছে, যা মাথার সাথে আত্বফ (عطف) হয়েছে। ফলে পা মাথার সাথে মাসেহ (مسح) করার অন্তর্ভুক্ত হয়। ফকিহগণ (فقهاء) বলেছেন যে, কুরআন প্রথমে মাথা ও পা মাসেহ (مسح) করার বিধান নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল, পরবর্তীতে সুন্নাহ ধৌত করার বিধানে ফিরে আসে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, জর (جر) বা যেরযুক্ত কিরাতের ক্ষেত্রে মাসেহ (مسح) হলো মোজার (خف) জন্য, আর নসব (نصب) বা যবরযুক্ত কিরাতের ক্ষেত্রে ধৌত করা সাধারণ অবস্থার জন্য।
ঘ- একটি কিরাত (قراءة) এসেছে: {তোমরা তাদের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয় (يطهرن)} এবং অন্যটি হলো {যতক্ষণ না তারা পবিত্রতা অর্জন করে (يتطهرن)} (আল-বাকারাহ: ২২২), যা দুটি ভিন্ন বিধানের সমন্বয়ের অর্থ প্রকাশ করে। ঋতুবতী নারীর ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে পবিত্র (طهر) হওয়া এবং গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন (تطهر) করা—উভয়টি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তার স্বামী তার নিকটবর্তী হবে না। সুতরাং স্ত্রীদের সাথে মিলনের বৈধতার জন্য উভয় প্রকার পবিত্রতা অর্জনই আবশ্যক। এটিই ইমাম শাফেয়ী ও তাঁর সাথে একমত পোষণকারীদের মাযহাব (مذهب)।
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
3- كثير من القراءات يكمل بعضها بعضًا، أو يفسر بعضها بعضًا. فكما أن القرآن يفسر بعضه بعضًا، فكذلك القراءات يفسر بعضها بعضًا، ويفسر بعضها بعض القرآن. ونضرب لذلك الأمثلة القليلة الآتية:
أ- يقول تعالى متحدثًا عن فئة من اليهود: {وَيَقُولُونَ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا، وَاسْمَعْ غَيْرَ مُسْمَعٍ، وَرَاعِنَا. لَيًّا بِأَلْسِنَتِهِمْ وَطَعْنًا فِي الدِّينِ} (النساء: 46) . فكانوا يسكتون على {راعنا} لتوهم أنهم يريدون "الرعاية" مع أن قصدهم "الرعونة". ولذا جاءت قراءة الحسن وابن محيصن كاشفة نية اليهود حينما نونت كلمة {راعنًا} ، وهذا واضح من قول بقية الآية: {لَيًّا بِأَلْسِنَتِهِمْ وَطَعْنًا فِي الدِّينِ} .
ب- قال تعالى: {وَمَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَغُلَّ} (آل عمران: 161) ، وهناك قراءة سبعية {وما كان لنبيّ أن يُغَلّ} - بالبناء للمجهول. فمعنى الأولى: أن يَخُون أصحابه بأخذ شيء من الغنائم خفية. ومعنى الثانية: أن يُخَوَّن– بالبناء للمجهول. وقد جاء في الأثر أن أحد المنافقين قال يوم بدر حين فقدت قطيفة حمراء من الغنيمة: خاننا محمد وغلّنا، فأكذبه الله عز وجل. ولا شك أن القراءتين يكمل بعضهما بعضًا.
ج- قال تعالى: {فَقُولُوا يَاأَبَانَا إِنَّ ابْنَكَ سَرَقَ وَمَا شَهِدْنَا إِلَاّ بِمَا عَلِمْنَا} (يوسف: 81) ، وحيث لم يكن الأخ سارقًا في الحقيقة، وإنما كان متهمًا بالسرقة، جاءت القراءة التالية لتدل على هذا المعنى، وهي: {قالوا يا أبانا إن ابنك سُرِّقَ} بالبناء للمجهول.
ومع اقتناعنا بأن القراءات جميعها تتساوى في ضرورة الاهتمام بها، والتوفر على دراستها، فإننا لم نشأ أن نحرم مستخدم المعجم من التمييز بين درجات القراءات، فذكرنا أمام كل قراءة درجة المصدر الذي وردت فيه. وسوف نزيد هذه النقطة تفصيلاً حين الحديث عن منهجنا في ذلك.
৩- অনেক ক্বিরাত (قراءات) একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে অথবা একে অপরের ব্যাখ্যা প্রদান করে। কুরআন যেমন নিজেই নিজের এক অংশ অন্য অংশের ব্যাখ্যা করে, তেমনি ক্বিরাতসমূহও (قراءات) একে অপরের ব্যাখ্যা দেয় এবং ক্বিরাতসমূহ (قراءات) কুরআনের কোনো কোনো অংশের ব্যাখ্যা হিসেবে পরিগণিত হয়। নিম্নে এর কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো:
ক- মহান আল্লাহ ইহুদিদের একটি গোষ্ঠী সম্পর্কে বলেন: {এবং তারা বলে: আমরা শুনেছি ও অমান্য করেছি, এবং শুনুন আপনি না শোনার মতো, আর আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখুন (রা’ইনা)। তারা নিজেদের জিহ্বা বাঁকিয়ে এবং দ্বীনের প্রতি বিদ্রূপ করে তা বলে থাকে} (আন-নিসা: ৪৬)। তারা ‘রা’ইনা’ (راعنا) বলার সময় এমনভাবে বিরতি দিত যাতে শ্রোতার মনে এমন ভ্রান্তি তৈরি হয় যে তারা ‘রক্ষণাবেক্ষণ বা সৌজন্য’ (রাআয়াহ) বুঝাচ্ছে, অথচ তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ‘মূর্খতা’ (রাউনাহ) প্রকাশ করা। তাই হাসান এবং ইবনে মুহাইসিনের ক্বিরাতে (قراءة) ইহুদিদের এই হীন উদ্দেশ্য উন্মোচিত হয়ে পড়েছে, যেখানে তারা {راعنًا} শব্দটিতে তানউইন ব্যবহার করেছেন। আয়াতের পরবর্তী অংশ {নিজেদের জিহ্বা বাঁকিয়ে এবং দ্বীনের প্রতি বিদ্রূপ করে} থেকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
খ- মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {আর কোনো নবীর জন্য এটি শোভনীয় নয় যে তিনি খিয়ানত করবেন} (আলে ইমরান: ১৬১)। এখানে একটি সাবয়ি (سبعية) ক্বিরাত (قراءة) রয়েছে— {আর কোনো নবীকে খিয়ানতের শিকার করা হবে না} (يُغَلّ)— যা কর্মবাচ্যে (بالبناء للمجهول) গঠিত। প্রথমটির অর্থ হলো: কোনো নবীর পক্ষে সম্ভব নয় যে তিনি গনিমতের মাল থেকে গোপনে কিছু গ্রহণ করে নিজ সাথীদের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করবেন। আর দ্বিতীয়টির অর্থ হলো: কোনো নবীকে অভিযুক্ত বা খিয়ানতের শিকার করা হবে— যা কর্মবাচ্যে (بالبناء للمجهول) গঠিত। একটি বর্ণনায় (أثر) এসেছে যে, বদরের যুদ্ধের দিন গনিমত থেকে একটি লাল চাদর হারিয়ে গেলে জনৈক মুনাফিক বলেছিল: "মুহাম্মদ আমাদের সাথে খিয়ানত করেছেন এবং আমাদের হক আত্মসাৎ করেছেন", তখন মহান আল্লাহ তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেন। নিঃসন্দেহে উভয় ক্বিরাত (قراءات) একে অপরের পরিপূরক।
গ- মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা গিয়ে বলো: হে আমাদের পিতা, আপনার ছেলে তো চুরি করেছে এবং আমরা যা জানি কেবল তারই সাক্ষ্য দিচ্ছি} (ইউসুফ: ৮১)। যেহেতু ভাইটি প্রকৃতপক্ষে চোর ছিল না, বরং তার ওপর চুরির অপবাদ বা দায় চাপানো হয়েছিল, তাই পরবর্তী ক্বিরাতটি (قراءة) এই অর্থের প্রতি ইঙ্গিত দেয়। সেটি হলো: {তারা বলল: হে আমাদের পিতা, আপনার ছেলের ওপর চুরির দায় চাপানো হয়েছে (সুরি্বক্বা)}— যা কর্মবাচ্যে (بالبناء للمجهول) গঠিত।
আমরা এই বিষয়ে একমত যে সকল ক্বিরাতই (قراءات) সমানভাবে গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য এবং গভীর গবেষণার দাবি রাখে, তবুও আমরা এই অভিধান ব্যবহারকারীদের ক্বিরাতের (قراءات) বিভিন্ন মানের (درجات) মধ্যে পার্থক্য করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে চাইনি। তাই আমরা প্রত্যেক ক্বিরাতের (قراءة) পাশে তার সংশ্লিষ্ট উৎসের (مصدر) মান (درجة) উল্লেখ করেছি। আমাদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনার সময় আমরা এই বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব।
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ولا يعني وصف المراجع بعض القراءات بأنها شاذة، وفصلها في معجمنا عن القراءات السبع، والثلاث التي فوق السبع، والأربع التي فوق العشر - لا يعني هذا التقليل من قيمتها أو وضعها في درجة أقل بالنسبة لغيرها من القراءات، وإنما هو اتباع لتصنيف القدماء، واستخدام لمصطلحاتهم، وإن كان لفظ "الشاذ" قد ترك ظلالاً خاطئة، وأوقع بعض العلماء في وهم كنا في غنًى عنه، مما اضطر عالما متقدما، هو ابن الجزري إلى إزالة هذا الوهم بقوله: إن إطلاق بعضهم على ما لم يكن من القراءات السبع شاذًا إطلاق غير موفق، فإن كثيرا مما روي عن غير السبعة أصح من كثير مما روي عنهم.
ولعلنا نرد للقراءات الشاذة بعض قيمتها حين نشير إلى الحقائق الآتية:
1- أن كثيرًا مما وصفه العلماء بالشذوذ ذكروا أنه من قراءة النبيّ صلى الله عليه وسلم، مثل: فمن اتبع هُدَيّ، الحي القَيّام، ومِنْ عِنْدِه علم الكتاب، ما وَدَعك ربك. (1) .
2- أن من أشهر من وصفت قراءتهم بالشذوذ عبد الله بن مسعود، وأبيّ بن كعب، وعلى بن أبي طالب، وكلنا يعرف قيمة هؤلاء في مجال تسجيل القرآن وحفظه. وقد روي عن الرسول صلى الله عليه وسلم أنه قال: "من أحب أن يقرأ القرآن غضًّا كما أنزل فليقرأه قراءة ابن أم عبد" (ابن مسعود) ، وفى حديث آخر: "استقرئوا القرآن من أربعة: عبد الله بن مسعود، وسالم مولى أبي حذيفة، ومعاذ بن جبل، وأُبيّ بن كعب" (2) .
3- وأضيف إلى ذلك أن ستة من السبعة يتصل إسنادهم بأُبيّ، وثلاثة منهم يتصل إسنادهم بابن مسعود.
--------------------------------------------
রেফারেন্সগ্রন্থগুলোতে কিছু কিরাতকে বিচ্ছিন্ন (شاذة) হিসেবে অভিহিত করা এবং আমাদের অভিধানে সেগুলোকে সাত কিরাত, সাতের অতিরিক্ত তিন কিরাত এবং দশের অতিরিক্ত চার কিরাত থেকে পৃথক করার অর্থ এই নয় যে, সেগুলোর মান কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে কিংবা অন্য কিরাতগুলোর তুলনায় সেগুলোকে নিম্নস্তরে রাখা হচ্ছে। বরং এটি কেবল পূর্বসূরিদের শ্রেণিবিন্যাস অনুসরণ এবং তাদের পারিভাষিক শব্দের ব্যবহার মাত্র। যদিও 'বিচ্ছিন্ন (الشاذ)' শব্দটি একটি ভুল ধারণার সৃষ্টি করেছে এবং কিছু আলেমকে এমন বিভ্রান্তিতে ফেলেছে যা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। যা ইবনে আল-জাযারির মতো একজন অগ্রগণ্য আলেমকে এই বিভ্রান্তি দূর করতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেছেন: "সাত কিরাতের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কিরাতকে বিচ্ছিন্ন (شاذًا) বলাটা একটি অসফল নামকরণ, কেননা সাতজন ইমামের বাইরে যা বর্ণিত হয়েছে তার অনেকগুলোই তাদের থেকে বর্ণিত অনেক বিষয়ের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ (أصح)।"
সম্ভবত আমরা বিচ্ছিন্ন (الشاذة) কিরাতসমূহের প্রকৃত গুরুত্ব কিছুটা হলেও তুলে ধরতে পারব যখন আমরা নিচের বিষয়গুলোর দিকে ইঙ্গিত করব:
১- ওলামায়ে কেরাম যে বিষয়গুলোকে বিচ্ছিন্নতা (الشذوذ) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তার অনেকগুলো সম্পর্কেই তারা উল্লেখ করেছেন যে সেগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিরাত ছিল। যেমন: "ফামান ইত্তাবাআ হুদাই", "আল-হাইয়ুল কাইয়াম", "ওয়া মিন ইনদিহি ইলমুল কিতাব", "মা ওয়াদাআকা রাব্বুকা"। (১) ।
২- যাদের কিরাত বিচ্ছিন্ন (بالشذوذ) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, উবাই বিন কাব এবং আলী বিন আবু তালিব। কুরআন সংরক্ষণ ও হিফজ করার ক্ষেত্রে তাদের মর্যাদা আমাদের সবার জানা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআনকে অবিকল সেভাবে পড়তে পছন্দ করে যেভাবে তা অবতীর্ণ হয়েছে, সে যেন ইবনে উম্মে আবদ (ইবনে মাসউদ)-এর কিরাত অনুযায়ী পড়ে।" অন্য একটি হাদিসে এসেছে: "তোমরা চার ব্যক্তির কাছ থেকে কুরআন শেখো: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবু হুজাইফার মুক্তদাস সালিম, মুয়াজ ইবনে জাবাল এবং উবাই বিন কাব।" (২) ।
৩- এর সাথে আমি আরও যোগ করতে চাই যে, সাতজন কিরাত ইমামের মধ্যে ছয়জনেরই সনদ উবাই-এর সাথে যুক্ত এবং তাদের মধ্যে তিনজনের সনদ ইবনে মাসউদের সাথে যুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুজামুল মাওসূয়ী লি-আলফাযিল কুরআনিল কারীম ওয়া কিরাআতিহী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
منهج المعجملما كان معجمنا يتكون في الحقيقة من قسمين اثنين، أو معجمين مستقلين تم الربط بينهما فإن من المنطق أن نتناول منهج كل معجم على حدة.
أولاً: معجم ألفاظ القرآن الكريم:
لا نتجاوز الحقيقة إذا قلنا إن منهجنا في هذا المعجم فريد في بابه، إذ لم يسبق لأحدٍ اتباعه في كل ما ظهر من معاجم عن ألفاظ القرآن الكريم حتى الآن. وهو بهذا التفرد يتميز على غيره من المعاجم التي قد تشترك معه في جزء أو آخر من أجزاء هذا المنهج.
وقد كان هدفنا من وضع هذا المنهج أن يحيط المعجم بأطراف كل كلمة من جميع جوانبها اللغوية، وألا ندع أي معلومة لغوية قد يكون لها دور في إيضاح معنى اللفظ القرآني إلا قدمناها. ونبع حرصنا على التعرض لجميع الجوانب اللغوية للفظ من إيماننا بالحقيقة القائلة: إنه لا يمكن فك مغاليق أيّ نص لغوي دون تحليله إلى مكوناته الأساسية: اللفظية والدلالية، التي تتدخل لتحديد معاني ألفاظه، والتي تشمل جذر الكلمة، ووزنها أو صيغتها الصرفية، ونوعها أو جنسها النحوي الذي تنتمي إليه، والمعنى المعجمي للفظ محكوما بسياقاته الواقعية، ومصاحباته اللفظية التي ورد فيها.
وبهذا تنوعت المعلومات اللغوية عن كل كلمة قرآنية لتوفِّي الجوانب الآتية:
অভিধানের পদ্ধতি (منهج)যেহেতু আমাদের এই অভিধানটি প্রকৃতপক্ষে দুটি ভাগে অথবা দুটি স্বতন্ত্র অভিধানে বিভক্ত যেগুলোকে পরস্পরের সাথে সমন্বিত করা হয়েছে, তাই প্রতিটি অভিধানের পদ্ধতি (منهج) সম্পর্কে পৃথকভাবে আলোচনা করাটাই যুক্তিযুক্ত।
প্রথমত: পবিত্র কুরআনের শব্দাবলির অভিধান:
আমরা যদি বলি যে এই অভিধানে আমাদের গৃহীত পদ্ধতিটি (منهج) স্বীয় ক্ষেত্রে অনন্য, তবে তা বাস্তবতার কোনো অপলাপ হবে না; কেননা পবিত্র কুরআনের শব্দাবলি নিয়ে এ পর্যন্ত যত অভিধান প্রকাশিত হয়েছে, তার কোনোটিতেই ইতিপূর্বে কেউ এই পদ্ধতি অনুসরণ করেনি। এই অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই এটি অন্যান্য অভিধান থেকে স্বতন্ত্র, যদিও কোনো কোনো অভিধান এই পদ্ধতির কোনো না কোনো অংশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হতে পারে।
এই পদ্ধতিটি (منهج) প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য ছিল যেন অভিধানটি প্রতিটি শব্দের ভাষাতাত্ত্বিক সকল দিককে পূর্ণাঙ্গভাবে পরিবেষ্টন করে এবং কুরআনিক শব্দের অর্থ পরিস্ফুট করতে সহায়ক হতে পারে এমন কোনো ভাষাতাত্ত্বিক তথ্যই যেন আমরা উপস্থাপনে বাদ না দিই। শব্দের সকল ভাষাতাত্ত্বিক দিক নিয়ে আলোচনার এই প্রবল আগ্রহ আমাদের এই ধ্রুব সত্যের ওপর বিশ্বাসের প্রতিফলন যে: কোনো ভাষাতাত্ত্বিক পাঠের (Text) গূঢ় রহস্য উন্মোচন করা ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয়, যতক্ষণ না সেটিকে তার মৌলিক উপাদানসমূহ তথা শাব্দিক ও অর্থগত (دلالية) উপাদানসমূহে বিশ্লেষণ করা হয়, যা শব্দের অর্থ নির্ধারণে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে শব্দের মূল ধাতু (جذر الكلمة), এর ওজন (وزن) বা রূপতাত্ত্বিক গঠন (صيغة صرفية), ব্যাকরণিক প্রকার বা লিঙ্গ যার অন্তর্ভুক্ত শব্দটি, এবং শব্দের আভিধানিক অর্থ যা তার বাস্তব প্রয়োগ-প্রসঙ্গ ও শাব্দিক অনুষঙ্গের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
এভাবেই পবিত্র কুরআনের প্রতিটি শব্দ সম্পর্কে ভাষাতাত্ত্বিক তথ্যাবলি বৈচিত্র্যপূর্ণ করা হয়েছে যাতে তা নিম্নোক্ত দিকসমূহ পূরণ করতে সক্ষম হয়: