(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: -)
المعاجم المفهرسة لألفاظ القرآن الكريم القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: المعاجم المفهرسة لألفاظ القرآن الكريم
المؤلف: د عبد الرحمن بن محمد الحجيلي
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
الطبعة: الأولى
عدد الصفحات: 55
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মু’জামুল মুফাহরাস লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলে তাফসীর
বই: আল-মু’জামুল মুফাহরাস লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
লেখক: ড. আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-হুজাইলি
প্রকাশক: কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স ফর দ্য প্রিন্টিং অব দ্য হোলি কুরআন, মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: প্রথম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمة:الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسوله الأمين، وعلى آله وصحبه والتابعين.
أما بعد:
فإن القرآن الكريم؛ بثروته اللفظية الزاخرة، ما يزال ـ وسيظلّ ـ محطّ عناية الدراسين والباحثين؛ لتوقّف فهم دلالاته وأحكامه على فهم المراد منها.
وقد حظيت الألفاظ القرآنية ـ والغريبة منها بوجه خاص ـ باهتمام العلماء منذ الصدر الأول من الإسلام، وأُفردت لها مصنفات عديدة تندّ عن الحصر، وصل إلينا ـ بحمد الله ـ قسم كبير منها، تلقفته أيدي الباحثين بالدرس والتحقيق، وإن كان بعضٌ منها لم يزل حبيس القماطر ينتظر من يزيل عنه غبار النسيان.
وفي الأزمان المتأخرة دعت الحاجة إلى فهرسة سائر ألفاظ الكتاب العزيز والدلالة على مواضعها في المصحف الشريف، وعرف الباحثون ما دُعي بـ " المعاجم المفهرِسة لألفاظ القرآن الكريم ".
وقد أتاحت لي هذه الندوة العلمية المباركة تتبّع هذا اللون من التأليف عبر مراحله الزمنية المختلفة، والتعريف بأبرز مؤلفاته والمناهج التي سارت عليها والوصول إلى مشروع مقترح لتأليف معجم مفهرس يلبي حاجة الشُّداة.
وكان ذلك من خلال توطئة وثلاثة مباحث وخاتمة، وفق ما يلي:
ভূমিকা:সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত রাসুলের প্রতি, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবী ও অনুসারীদের (التابعين) প্রতি।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআন তার সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডারের প্রাচুর্য নিয়ে গবেষক ও অনুসন্ধানীদের নিকট সবসময়ই ছিল—এবং থাকবে—বিশেষ গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দু; কারণ এর নিহিতার্থ ও বিধানসমূহ অনুধাবন করা তার শব্দমালার উদ্দেশ্য বা মর্মার্থ বোঝার ওপর নির্ভরশীল।
ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই কুরআনের শব্দসমূহ—বিশেষ করে বিরল ও দুর্বোধ্য শব্দাবলির (الغريبة) প্রতি—বিদ্বানগণ বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং এ বিষয়ে অগণিত গ্রন্থ রচিত হয়েছে যা গণনা করা দুঃসাধ্য। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সেগুলোর একটি বড় অংশ আমাদের নিকট পৌঁছেছে, যা গবেষকগণ অধ্যয়ন ও সমালোচনামূলক সম্পাদনার (التحقيق) মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন; যদিও সেগুলোর কিছু অংশ এখনও পাণ্ডুলিপির ভেতরেই রয়ে গেছে এবং তা বিস্মৃতির ধূলিকণা মুছে উদ্ধার করার অপেক্ষায় আছে।
পরবর্তীকালে আল-কুরআনের সকল শব্দের নির্ঘণ্ট তৈরি এবং পবিত্র মুসহাফে সেগুলোর অবস্থান নির্দেশ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, যা গবেষকগণের নিকট "আল-কুরআনুল কারিমের নির্ঘণ্ট অভিধান" (المعاجم المفهرسة) হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
এই বরকতময় বৈজ্ঞানিক সেমিনারটি আমাকে বিভিন্ন যুগে এই ধারার রচনার ক্রমবিকাশ পর্যবেক্ষণ করার, প্রধান গ্রন্থসমূহ ও সেগুলোতে অনুসৃত পদ্ধতিগুলোর (المناهج) সাথে পরিচিত হওয়ার এবং শিক্ষার্থী ও জ্ঞানপিপাসুদের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম একটি প্রস্তাবিত নির্ঘণ্ট অভিধান প্রকল্পের রূপরেখা প্রদানের সুযোগ করে দিয়েছে।
এটি একটি উপক্রমণিকা, তিনটি পরিচ্ছেদ (المباحث) এবং একটি উপসংহারের সমন্বয়ে নিম্নোক্ত বিন্যাসে সাজানো হয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ২)
التوطئة: عرّفت فيها بلفظتي (المعجم) و (الفهرس) وأوضحت العلاقة بينهما،
ثم تحدثت عن مصطلح (المعجم المفهرس) وأوليّة ظهوره في العربية.
المبحث الأول: وفيه حديث مُوعِبٌ عن بواكير المعجمات القرآنية، والمناهج التي سلكها المؤلفون في تصنيف الغريب القرآني.
المبحث الثاني: عرضت فيه لنشوء المعاجم القرآنية المفهرسة، وتتبع بداياتها، والتعريف بأبرز مؤلفاتها، وخصصت ثلاثةً منها بمزيد من الحديث عن المؤلف والهدف والمنهج، وأبديت ما عنّ لي من ملحوظات حيالها.
المبحث الثالث: وازنت فيه بين المنهج المألوف في ترتيب المعاجم اللغوية ـ بعامة ـ باتخاذ أصول الكلمات أساساً للترتيب، ومنهج آخر ـ شاع في حقل الدراسات المعجمية ـ يعتدّ بجميع حروف الكلمة دون تفرقة بين أصلي أو مزيد، وأوردت نموذجاً معجمياً صدر حديثاً.
ثم ختمت البحث ببعض النتائج والمقترحات.
وفي الختام أقدم الشكر وافراً للإخوة الفضلاء في وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد على جهودهم الطيبة في إقامة هذه الندوة العلمية والدعوة إلى المشاركة بها.
وآمل أن يكون فيما قدمت ما يفيد وينفع، وذلك ما أردت، وإن يكن غير ذلك فحسبي أني اجتهدت.
والحمد لله أولاً وأخيراً.
ভূমিকা: এতে আমি (অভিধান) এবং (নির্ঘণ্ট) শব্দদ্বয়ের পরিচয় প্রদান করেছি এবং তাদের মধ্যকার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেছি,
এরপর আমি (সূচিবদ্ধ অভিধান) পরিভাষাটি এবং আরবি ভাষায় এর প্রথম আবির্ভাব সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে কুরআনিক অভিধানসমূহের প্রাথমিক পর্যায় এবং ‘গারিবুল কুরআন’—কুরআনের দুর্বোধ্য শব্দাবলি (غريب)—শ্রেণিবদ্ধকরণে (تصنيف) লেখকদের অনুসৃত পদ্ধতিসমূহ (مناهج) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি সূচিবদ্ধ কুরআনিক অভিধানসমূহের উদ্ভব তুলে ধরেছি, এগুলোর প্রারম্ভিক ইতিহাস অনুসরণ করেছি এবং এর প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের পরিচয় প্রদান করেছি। এর মধ্যে তিনটি গ্রন্থকে লেখক, লক্ষ্য ও পদ্ধতি (منهج) বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে নির্বাচন করেছি এবং সেগুলোর ব্যাপারে আমার পর্যবেক্ষণসমূহ তুলে ধরেছি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি ভাষাতাত্ত্বিক অভিধান বিন্যাসের সাধারণ ও প্রচলিত পদ্ধতি (منهج)—যেখানে শব্দের মূল (أصول) অক্ষরকে বিন্যাসের ভিত্তি ধরা হয়—এবং অভিধান শাস্ত্রের গবেষণায় প্রচলিত অন্য একটি পদ্ধতি (منهج)—যেখানে মূল (أصلي) বা অতিরিক্ত (مزيد) অক্ষরের পার্থক্য না করে শব্দের সকল অক্ষরকে বিবেচনা করা হয়—এ দুইয়ের মধ্যে তুলনা করেছি। সাথে সাথে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অভিধানের নমুনা উপস্থাপন করেছি।
অতঃপর আমি কিছু ফলাফল ও প্রস্তাবনার মাধ্যমে গবেষণাপত্রটি সমাপ্ত করেছি।
পরিশেষে, আমি ধর্ম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত ভাইদের প্রতি এই বৈজ্ঞানিক সেমিনার আয়োজন এবং এতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণের মহতী প্রচেষ্টার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আমি আশা করি আমার এই উপস্থাপনা ফলপ্রসূ ও উপকারী হবে, এটাই আমার উদ্দেশ্য ছিল। আর যদি অন্য কিছু হয়, তবে আমার সান্ত্বনা এই যে, আমি অন্তত গবেষণালব্ধ প্রচেষ্টা (اجتهاد) করেছি।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে এবং অন্তে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ৩)
توطئة
التعريف بلفظتي (المعجم) و (الفهرس) وإيضاح العلاقة بينهما:المعجم:- في اللغة – مأخوذ من (أعجم) الحرفَ والكتابَ، يُعجِمُه إعجاما: إذا أزال إبهامه بالنّقط والشّكل. قاله ابن دريد (1) . وقال ابن القطاع (2) : "وأعجمتُ الكتابَ نقطتهُ وشكلتهُ "، وفي القاموس المحيط (3) : " وأعجمَ الكتابَ: نَقَطَه، كعَجَمَه، وعَجَّمَه"
أما في اصطلاح اللغويين فهو " كتاب يضمّ أكبر عدد من مفردات اللغة مقرونةً بشرحها وتفسير معانيها، على أن تكون المواد مرتّبة ترتيباً خاصاً إما على حروف الهجاء أو الموضوع". (4)
والفهرس: - بكسر الفاء والراء – معرّب (فِهْرِسْت) ، وهو: في الأصل " الكتاب الذي تُجمع فيه الكتب " قاله الفيروزابادي (5) . ثم أُطلق – بعدُ – على كل " قائمة تدلّ على موضع المعلومات سواء أكانت مرتبةٌ على
--------------------------------------------
উপক্রমণিকা
'মুজাম' (المعجم) ও 'ফিহরিস্ত' (الفهرس) শব্দদ্বয়ের পরিচয় এবং এদের মধ্যকার সম্পর্কের ব্যাখ্যা:অভিধান (المعجم):— শাব্দিক অর্থে এটি ‘আ'জামা’ (أعجم) বর্ণ বা কিতাব শব্দ থেকে গৃহীত। ‘ইউ'জিমুহু ই'জামান’ (إعجام): যখন নুকতা ও হরকত প্রদানের মাধ্যমে এর অস্পষ্টতা (إبهام) দূর করা হয়। ইবন দুরেদ (১) এটি বলেছেন। ইবনুল কাত্ত্বা' (২) বলেন: "আমি কিতাবটিকে ‘আ'জামতু’ করেছি অর্থাৎ আমি তাতে নুকতা ও হরকত প্রদান করেছি।" আর আল-কামুসুল মুহিত-এ (৩) বর্ণিত হয়েছে: "তিনি কিতাবটিকে ‘আ'জামা’ (أعجم) করেছেন অর্থাৎ তিনি তাতে নুকতা দিয়েছেন, যেমনটি ‘আজামা’ (عجم) ও ‘আজ্জামা’ (عجم) শব্দদ্বয়ও একই অর্থ প্রকাশ করে।"
পক্ষান্তরে ভাষাবিদদের পরিভাষায় (اصطلاح) এটি হলো এমন একটি "গ্রন্থ যা ভাষার সর্বাধিক পরিমাণ শব্দাবলি সংগ্রহ করে এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা ও অর্থের বিশদ বিবরণ প্রদান করে, শর্ত হলো শব্দগুলো একটি বিশেষ ক্রমানুসারে সাজানো হতে হবে, চাই তা বর্ণানুক্রমিকভাবে (حروف الهجاء) হোক বা বিষয়ভিত্তিক (الموضوع) হোক।" (৪)
আর ফিহরিস্ত (الفهرس): —‘ফা’ ও ‘রা’ বর্ণে যের সহযোগে— এটি মূলত ‘ফিহরিস্ট’ (فهرست) শব্দের আরবিকৃত (معرب) রূপ। আল-ফিরোজাবাদি (৫) বলেন: এটি মূলত "এমন একটি গ্রন্থ যাতে বইসমূহের তালিকা একত্র করা হয়।" পরবর্তীতে এটি এমন প্রতিটি "তালিকার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে শুরু করে যা তথ্যের অবস্থান নির্দেশ করে, চাই তা বিন্যস্ত হোক..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ৪)
الحروف أم كانت غير مرتبة عليها " (1) ولكنهم يميّزون النوع الأول بوصفه بـ (الهجائي) .
أما العلاقة بينهما فالعموم والخصوص من وجه؛ إذ إن كلاّ منهما يرتّب –حسب الهجاء – ألفاظاً معيّنة، غير أن (المعجم) يرتّبها ويشرحها، أما (الفهرس) فيرتبها ولا يشرحها وإنما يرشد إلى مكان ورودها.
مدلول (المعجم المفهرس) وأولية المصطلح:
يطلق مصطلح المعجم المفهرس concordance على نوع من التأليف المعجمي الحديث الذي يرتبط بمجموعة من النصوص ذات الحجم الكبير فيفهرس ألفاظها – هجائياً- ثم يذكر اللفظة مع كل مواضع استخدامها في تلك النّصوص بطريقة حصريّة، ويشير إلى هذه المواضع بذكر الكتاب والصفحة والسطر.
وهو بهذا ينفرد عن المعجم اللغوي فليس من شأنه ذكر دلالات الألفاظ، بل هدفه " الحصر الشامل للجمل التي استخدمت فيها الكلمة، وهو بذلك يعّد أداةً من أدوات البحث في الدلالة " (2) .
وظهر هذا المصطلح – في العربية – عنواناً للفهرس الذي نظّمه ورتّبه الدكتورأ. ي. وِنْسِنْك وجماعة من المستشرقين لألفاظ الحديث النبوي الشريف (3) ، ثم وضعه محمد فؤاد عبد الباقي عنواناً لمعجمه الشهير.
--------------------------------------------
বর্ণমালার ক্রম অনুসারে অথবা তা বিন্যস্ত করা ছাড়াই (১) তবে তারা প্রথম প্রকারটিকে ‘বর্ণানুক্রমিক’ (الهجائي) হিসেবে বিশেষায়িত করেন।
তাদের উভয়ের মধ্যকার সম্পর্ক হলো ‘আংশিক সাধারণ ও আংশিক বিশেষ’ (العموم والخصوص من وجه); যেহেতু তারা উভয়ই বর্ণানুক্রম অনুযায়ী নির্দিষ্ট শব্দাবলিকে বিন্যস্ত করে। তবে পার্থক্য হলো, অভিধান (المعجم) সেগুলো বিন্যস্ত করে এবং ব্যাখ্যা করে, পক্ষান্তরে নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র (الفهرس) সেগুলো বিন্যস্ত করে কিন্তু ব্যাখ্যা করে না, বরং শব্দগুলো কোথায় ব্যবহৃত হয়েছে সেই স্থানের প্রতি পথনির্দেশ করে।
‘আল-মুজাম আল-মুফাহরাস’-এর অর্থ এবং এই পরিভাষার আদি উৎস:
‘আল-মুজাম আল-মুফাহরাস’ (concordance) পরিভাষাটি এমন এক ধরনের আধুনিক অভিধান সংকলনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যা বিশাল আয়তনের কোনো মূল পাঠের (Text) সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি সেই পাঠের শব্দাবলিকে বর্ণানুক্রমিকভাবে সূচিবদ্ধ করে, অতঃপর প্রতিটি শব্দকে সেই পাঠে ব্যবহারের সমস্ত স্থানসহ পূর্ণাঙ্গরূপে উল্লেখ করে। এটি কিতাব, পৃষ্ঠা এবং লাইন উল্লেখ করার মাধ্যমে সেই স্থানগুলোর প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে।
এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি ভাষাতাত্ত্বিক অভিধান থেকে স্বতন্ত্র; কারণ এর মূল কাজ শব্দের অর্থ বর্ণনা করা নয়, বরং এর লক্ষ্য হলো— "সেই বাক্যগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ ও সামগ্রিক তালিকা প্রস্তুত করা যেখানে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। এ কারণে এটি শব্দার্থতত্ত্বের গবেষণার অন্যতম একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়" (২)।
আরবি ভাষায় এই পরিভাষাটি সর্বপ্রথম সেই নির্ঘণ্টের শিরোনাম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যা ডক্টর এ. জে. ওয়েনসিঙ্ক এবং একদল প্রাচ্যবিদ পবিত্র হাদিসের শব্দাবলির জন্য সুসংগঠিত ও বিন্যস্ত করেছিলেন (৩)। পরবর্তীতে মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি এটিকে তাঁর বিখ্যাত অভিধানের শিরোনাম হিসেবে গ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الأول: بواكير المعجمات القرآنية ومناهج المصنفينبواكير المعجمات القرآنية ومناهج المصنفين
…المبحث الأول: بواكير المعجمات القرآنية ومناهج المصنفين:
تعدّ المصنفات في شرح (غريب القران) ـ على اختلاف مناهجها وطرق ترتيبها – باكورة المعاجم القرآنية، بل بداية الحركة المعجمية والعلمية بوجه عام، يقول د. حسين نصار: "وكانت هذه الحركة التي ترمي إلى توضيح آيات القران، هي الحركة العلمية الأولى عند المسلمين فما اتصل بالقرآن من علوم كان أولها ظهوراً، وما ابتعد عنه كان من آخرها، وليس ـ فيما أحسب ـ من شيء أكثر صلة به من محاولة فهمه بإدراك غريبة ومشكله، فتفسير غريب القرآن ومشكله أُولى الحركات العلمية التي رآها العرب " (1)
وقد تناول العلماء مفهوم الغريب في الكلام بعامة وفي القرآن بوجه خاص، فيقول الخطابي (388 هـ) : " الغريب من الكلام إنما هو الغامض البعيد من الفهم كالغريب من الناس إنما هو البعيد من الوطن المنقطع عن الأهل " (2) ، ويقول أبو حيان (745 هـ) :" لغات القران العزيز على قسمين: قسم يكاد يشترك في فهم معناه عامّة المستعربة وخاصتهم، كمدلول السماء والأرض، وفوق وتحت، وقسم يختص بمعرفته من له اطلاع وتبحّر في اللغة العربية، وهو الذي صنف أكثر الناس فيه وسموه: غريب القرآن " (3) .
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রারম্ভিক কুরআনীয় অভিধান এবং সংকলকদের পদ্ধতিপ্রারম্ভিক কুরআনীয় অভিধান এবং সংকলকদের পদ্ধতি
…প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রারম্ভিক কুরআনীয় অভিধান এবং সংকলকদের পদ্ধতি:
‘গরীবুল কুরআন’ (غريب القرآن) বা কুরআনের দুরূহ শব্দাবলির ব্যাখ্যা সংক্রান্ত সংকলনগুলো—সেগুলোর পদ্ধতি ও বিন্যাসশৈলী যাই হোক না কেন—তা কুরআনীয় অভিধানের প্রাথমিক রূপ, বরং সামগ্রিকভাবে অভিধানতত্ত্ব এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত। ড. হুসাইন নাসসার বলেন: "কুরআনের আয়াতসমূহ স্পষ্ট করার লক্ষ্যে পরিচালিত এই আন্দোলনটি ছিল মুসলমানদের প্রথম জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন। কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট জ্ঞানবিজ্ঞানগুলোই সর্বপ্রথম আবির্ভূত হয়েছিল এবং যেগুলো কুরআন থেকে দূরবর্তী ছিল সেগুলো সবশেষে এসেছে। আমার ধারণা মতে, কুরআনের দুরূহ (غريب) ও অস্পষ্ট (مشكل) শব্দাবলি অনুধাবনের মাধ্যমে একে বোঝার প্রচেষ্টার চেয়ে নিবিড়ভাবে কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট আর কিছু নেই। সুতরাং কুরআনের দুরূহ (غريب) ও অস্পষ্ট (مشكل) শব্দের ব্যাখ্যাই ছিল আরবদের সূচিত প্রথম জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন।" (১)
আলিমগণ সাধারণভাবে কথাবার্তায় এবং বিশেষভাবে কুরআনের ক্ষেত্রে ‘গরীব’ (الغريب) শব্দের ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আল-খাত্তাবি (৩৮৮ হিজরি) বলেন: "কথাবার্তার মধ্যে ‘গরীব’ (الغريب) হলো সেই শব্দ যা অস্পষ্ট এবং যা অনুধাবন করা কঠিন; যেমন মানুষের মধ্যে ‘গরীব’ (الغريب) বা পরবাসী বলা হয় তাকে, যে স্বদেশ থেকে দূরে এবং পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন।" (২)। আবু হাইয়ান (৭৪৫ হিজরি) বলেন: "মহাগ্রন্থ কুরআনের শব্দাবলি দুই প্রকার: এক প্রকারের অর্থ আরবদের সাধারণ ও বিশিষ্ট নির্বিশেষে সকলেই বুঝতে পারে, যেমন আকাশ, পৃথিবী, উপর ও নিচ-এর অর্থ। আর অন্য প্রকারের অর্থ জানা কেবল তাদের জন্যই নির্দিষ্ট যারা আরবি ভাষায় গভীর পাণ্ডিত্য ও ব্যুৎপত্তি রাখেন; এটিই সেই বিভাগ যেখানে অধিকাংশ মানুষ গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন: ‘গরীবুল কুরআন’ (غريب القرآن)।" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ৬)
ومن المعلوم أن عرب الجزيرة لم يكونوا متساوين في فهم ألفاظ القرآن الكريم الذي نزل بلغتهم؛ لتعدد لهجاتهم وتباعد قبائلهم، كما أومأ إلى ذلك ابن قتيبة (276 هـ) فقال: " إن العرب لا تستوي في المعرفة بجميع ما في القران الكريم من الغريب والمتشابه بل لبعضها الفضل في ذلك على بعض، والدليل عليه قول الله عز وجل: {وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ} (آل عمران: 7) . ويدل عليه قول بعضهم: "يا رسول الله: إنك لتأتينا بالكلام من كلام العرب ما نعرفه، ونحن العرب حقا؟ فقال: إن ربي علّمني فتعلّمت" (1) ، ويقول الزجاجي (377 هـ) : " ليس كل العرب يعرفون اللغة كلها، غريبها وواضحها، ومستعملها وشاذها، بل هم في ذلك طبقات يتفاوتون فيها، كما أنهم ليس كلهم يقول الشعر، ويعرف الأنساب كلها، وإنما هو في بعض دون بعض" (2) .
وأما قول ابن خلدون (808 هـ) : "إن القرآن نزل بلغة العرب وعلى أساليب بلاغتهم فكانوا كلهم يفهمونه ويعلمون معانيه في مفرداته وتراكيبه" (3) ففيه تعميم يجافي الحقيقة؛ إذ إن من العرب من علا كعبه وارتفع شأنه في فصاحة القول وخفيت عليه بعض معاني ألفاظ القران الكريم ولذلك سأل الصحابة رضوان الله عليهم عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم (4) .
--------------------------------------------
ومن المعلوم أن عرب الجزيرة لم يكونوا متساوين في فهم ألفاظ القرآن الكريم الذي نزل بلغتهم؛ لتعدد لهجاتهم وتباعد قبائلهم، كما أومأ إلى ذلك ابن قتيبة (276 هـ) فقال: " إن العرب لا تستوي في المعرفة بجميع ما في القران الكريم من الغريب والمتشابه بل لبعضها الفضل في ذلك على بعض، والدليل عليه قول الله عز وجل: {وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ} (آل عمران: 7) . ويدل عليه قول بعضهم: "يا رسول الله: إنك لتأتينا بالكلام من كلام العرب ما نعرفه، ونحن العرب حقا؟ فقال: إن ربي علّمني فتعلّمت" (1) ، ويقول الزجاجي (377 هـ) : " ليس كل العرب يعرفون اللغة كلها، غريبها وواضحها، ومستعملها وشاذها، بل هم في ذلك طبقات يتفاوتون فيها، كما أنهم ليس كلهم يقول الشعر، ويعرف الأنساب كلها، وإنما هو في بعض دون بعض" (2) .
এটা সর্বজনবিদিত যে, আরব উপদ্বীপের আরবরা তাদের ভাষায় অবতীর্ণ আল-কুরআনের শব্দাবলী বোঝার ক্ষেত্রে সমান ছিল না; কারণ তাদের উপভাষাগুলোর বৈচিত্র্য এবং গোত্রসমূহের ভৌগোলিক দূরত্ব। যেমনটি ইবনে কুতায়বাহ (২৭৬ হিজরি) ইঙ্গিত করে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আরবরা আল-কুরআনে বিদ্যমান সকল বিরল শব্দ (غريب) এবং অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه) বিষয়গুলো জানার ক্ষেত্রে সমান নয়; বরং এক্ষেত্রে কেউ কেউ অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ ব্যতীত কেউ এর ব্যাখ্যা (تأويله) জানে না এবং তারা যারা জ্ঞানে সুগভীর (الراسخون في العلم)} (আল ইমরান: ৭)। এর সপক্ষে আরও প্রমাণ পাওয়া যায় তাদের কারো এই উক্তিতে: "হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমাদের নিকট আরবদেরই এমন সব শব্দে কথা বলেন যা আমরা বুঝতে পারি না, অথচ আমরাই প্রকৃত আরব?" তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমার রব আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, তাই আমি শিখেছি" (১)। আর আজ-জাজ্জাজি (৩৭৭ হিজরি) বলেন: "সকল আরবের পক্ষে ভাষার আদ্যোপান্ত জানা সম্ভব নয়—হোক তা বিরল শব্দ (غريب) কিংবা স্পষ্ট শব্দ, বহুল ব্যবহৃত কিংবা ব্যতিক্রমধর্মী বা বিরল (شاذها)। বরং তারা এক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরসমূহ (طبقات)-এ বিভক্ত যাদের মধ্যে তারতম্য রয়েছে; যেমনটি তাদের সবাই কবিতা রচনা করে না এবং সকল বংশপরম্পরা সম্পর্কে অবগত নয়। বরং এই জ্ঞান কারো মধ্যে পূর্ণরূপে থাকে, আবার কারো মধ্যে থাকে না" (২)।
وأما قول ابن خلدون (808 هـ) : "إن القرآن نزل بلغة العرب وعلى أساليب بلاغتهم فكانوا كلهم يفهمونه ويعلمون معانيه في مفرداته وتراكيبه" (3) ففيه تعميم يجافي الحقيقة؛ إذ إن من العرب من علا كعبه وارتفع شأنه في فصاحة القول وخفيت عليه بعض معاني ألفاظ القران الكريم ولذلك سأل الصحابة رضوان الله عليهم عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم (4) .
--------------------------------------------
(৪) দ্রষ্টব্য: গারিবুল কুরআনিল কারিম ফি আসরির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়াত তাবিয়িন: ১৪ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ৭)
ويمكن أن يفهم من قول ابن خلدون - الآنف - أن العرب بمجموعهم يعرفون معاني ألفاظ القران وتراكيبه، ولكن ذلك لا يتحقق لكل فرد منهم، على حدّ قول الإمام الشافعي (204 هـ) :" ولسان العرب أوسع الألسنة مذهبا، وأكثرها ألفاظا، ولا نعلمه يحيط بجميع علمه إنسان غير نبي، ولكنه لا يذهب منه شئ على عامتها، حتى لا يكون موجوداً فيها من يعرفه، والعلم به عند العرب كالعلم بالسنة عند أهل الفقه، لا نعلم رجلا جمع السنن فلم يذهب منها عليه شيء، فإذا جمع علم عامة أهل العلم بها أتى على السنن، وإذا فرق علم كل واحد منهم ذهب عليه الشيء منها، ثم كان ما ذهب عليه منها موجودا عند غيره " (1) .
--------------------------------------------
ইবনে খালদুনের - পূর্বোক্ত - বক্তব্য থেকে এটি বোঝা যেতে পারে যে, সামগ্রিকভাবে আরবরা কুরআনের শব্দাবলি ও গঠনরীতির অর্থ জানে, তবে তা তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে অর্জিত হয় না; যেমনটি ইমাম শাফিঈ (২০৪ হিজরী) বলেছেন: "আরবি ভাষা হলো পদ্ধতির দিক থেকে প্রশস্ততম এবং শব্দভাণ্ডারের দিক থেকে সর্বাধিক সমৃদ্ধ ভাষা। আমাদের জানামতে, নবী ব্যতীত অন্য কোনো মানুষ এর সম্পূর্ণ জ্ঞান আয়ত্ত করতে পারে না। তবে এর কোনো কিছুই তাদের সর্বসাধারণের মধ্য থেকে এমনভাবে বিলুপ্ত হয় না যে, তাদের মধ্যে তা জানার মতো কেউ থাকে না। আর আরবদের কাছে ভাষার জ্ঞান হলো ফিকহবিদদের (أهل الفقه) কাছে সুন্নাহর জ্ঞানের মতো। আমরা এমন কোনো ব্যক্তিকে জানি না যিনি সকল সুনান একত্রিত করেছেন অথচ তার নিকট থেকে এর কোনো কিছুই বাদ পড়েনি। সুতরাং যখন এ বিষয়ের সাধারণ বিজ্ঞজনদের (أهل العلم) জ্ঞানকে একত্রিত করা হয়, তখন তা সুনান এর পূর্ণতা প্রকাশ করে। আর যখন তাদের প্রত্যেকের জ্ঞানকে পৃথকভাবে দেখা হয়, তখন কারো না কারো নিকট থেকে এর কিছু অংশ অজানাই থেকে যায়, তবে যা তার নিকট অনুপস্থিত তা অন্যের নিকট বিদ্যমান থাকে" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ৭)
معاجم الغريب القرآني:تتابعت المؤلّفات في غريب القرآن منذ النصف الأول من القرن الأول للهجرة إلى يومنا هذا، فلم يخل قرن ـ تقريباً ـ من وجود مؤلَّف أو أكثر يُعنى باللفظ القرآني الغريب ويشرح المراد منه حتى قال السيوطي
(911 هـ) : " أفرده بالتصنيف خلائق لا يحصون " (2) .
وقد أحصى غير واحد من الباحثين (3) ما صُنِّف في غريب القرآن وقاموا بجهود مشكورة في حصر هذه المؤلفات واستقرائها، ولكن يندّ عن بعضهم شيء منها، وسأورد في هذا المبحث ما وصل إلينا خبره، من مخطوط
--------------------------------------------
কুরআনের বিরল (غريب) শব্দাবলির অভিধানসমূহ:হিজরি প্রথম শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকে আজ পর্যন্ত কুরআনের বিরল (غريب) শব্দাবলি বিষয়ক রচনার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। প্রায় কোনো শতাব্দীই এমন অতিবাহিত হয়নি যেখানে কুরআনের বিরল (غريب) শব্দাবলি নিয়ে কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি, যা এই শব্দগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করে। এমনকি আল-সুয়ুতি (৯১১ হি.) বলেছেন: "অগণিত লোক এই বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন।" (২)।
একাধিক গবেষক (৩) কুরআনের বিরল (غريب) শব্দাবলি বিষয়ে যা কিছু রচিত হয়েছে তা গণনা করেছেন এবং তারা এই গ্রন্থসমূহকে সীমাবদ্ধকরণ ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। তবে তাদের কারো কারো দৃষ্টি থেকে এর কিছু বিষয় বাদ পড়ে গেছে। আমি এই পরিচ্ছেদে পাণ্ডুলিপি থেকে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তা উল্লেখ করব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ৮)
أو مطبوع، وأمّا ما ذهبت عوادي الزمن به فلا أرى لذكره كبير فائدة – غير أنني لم أعتدّ بالمؤلفات التي نسبت إلى بعض العلماء في الغريب أو في تفسيره واستخرجها بعض الباحثين من الكتب الأخرى (1) - وهي مرتبة بحسب وفيات مؤلفيها، أو أقدمية طباعتها، متبوعة بالمنهج الذي اختطّه كل مؤلِّف:
1- غريب القران؛ لابن عباس بتهذيب عطاء بن أبي رباح
(114 هـ) . منه نسخه خطية بمكتبة عاطف أفندي بتركيا تحت رقم 2815 / 8 ـ ضمن مجموع ـ لا تتجاوز ست ورقات، وشكك بعض المعاصرين (2) في نسبته لابن عباس رضي الله عنهما، ولم أتمكن من الإطلاع عليه لمعرفة منهجه.
2- تفسير غريب القران؛ لزيد بن علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب (120 هـ) . حقق هذا الكتاب حسن محمد تقي سعيد بكلية الآداب بجامعة عين شمس سنة 1407هـ معتمداً على ثلاثة نسخ خطية بألمانيا
وأمريكا واليمن (3) . والكتاب يرتب الألفاظ بحسب ورودها في المصحف.
3- غريب القران لأبي جعفر بن أيوب المقرئ (عاش في النصف الثاني من القرن الثاني) . وانفرد د. سزكين (4) ، بذكر نسخه خطيه له في
--------------------------------------------
অথবা মুদ্রিত; আর সময়ের আবর্তনে যা হারিয়ে গেছে, আমি তা উল্লেখ করার বিশেষ কোনো উপকারিতা দেখি না — তবে আমি সেই সকল রচনার ওপর নির্ভর করিনি যা কিছু আলেমের প্রতি অপরিচিত শব্দ (غريب) বা এর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং যা কিছু গবেষক অন্যান্য গ্রন্থ থেকে সংকলন করেছেন (১) — আর এগুলো তাদের লেখকদের মৃত্যু তারিখ অথবা তাদের মুদ্রণের প্রাচীনতা অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হয়েছে, যার পরে প্রতিটি লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে:
১- গারিবুল কুরআন; আতা ইবনে আবি রাবাহর পরিমার্জনকৃত ইবনে আব্বাসের
(১১৪ হি.)। তুরস্কের আতিফ এফেন্দি লাইব্রেরিতে ২৮১৫ / ৮ নম্বরের অধীনে একটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির সংকলনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা ছয় পৃষ্ঠার বেশি নয়। কিছু সমসাময়িক গবেষক (২) ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-র প্রতি এর সম্বন্ধের বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন এবং আমি এর পদ্ধতি জানার জন্য এটি দেখার সুযোগ পাইনি।
২- তাফসিরে গারিবুল কুরআন; যায়েদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন আবি তালিবের (১২০ হি.)। এই গ্রন্থটি ১৪০৭ হিজরিতে আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে হাসান মুহাম্মদ তাকি সাঈদ সম্পাদনা করেছেন, যা জার্মানি, আমেরিকা এবং ইয়েমেনে রক্ষিত তিনটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে (৩)। গ্রন্থটি পবিত্র কুরআনের ক্রমানুসারেই শব্দগুলো সাজিয়েছে।
৩- আবু জাফর বিন আইয়ুব আল-মুক্রি-র (যিনি দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে জীবিত ছিলেন) গারিবুল কুরআন। ড. সেজগিন (৪) এককভাবে এর একটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির কথা উল্লেখ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ৯)
مكتبة عاطف أفندي بتركيا، تحمل الرقم السابق لمخطوط غريب القران، لابن عباس، بتهذيب ابن أبي رباح، ولم أطلع عليها كذلك.
4- مجاز القرآن، لأبي عبيدة معمر بن المثنى التيمي (210 هـ) . طبع بتحقيق د. محمد فؤاد سزكين (1) ، وهو مرتب على السور القرآنية وفق ورودها في المصحف الشريف.
5- غريب القرآن؛ لأبي عبد الرحمن عبد الله بن يحيى المبارك اليزيدي (237 هـ) طبع مرتين الأولى بتحقيق محمد سليم الحاج (2) والثانية بتحقيق د. عبد الرازق حسين (3) ، والكتاب مرتب على السور القرآنية وفق ورودها في المصحف الشريف.
6- تفسير غريب القرآن، لعبد الله بن محمد بن مسلم بن قتيبة (276 هـ) وقد طبع عدة مرات (4) بتحقيق السيد أحمد صقر، وهو مرتب على السور القرآنية كما وردت في المصحف الشريف.
7- غريب القرآن؛ لمحمد بن عزيز السجستاني (330 هـ) المسمى " نزهة القلوب" طبع قديما عدة طبعات غير محققه (5) . ثم طبع – مؤخراً- بتحقيق محمد أديب جمران (6) ، والكتاب يرتب الألفاظ هجائيا بحسب صورتها دون تجريدها من الزوائد.
--------------------------------------------
তুরস্কের আতিফ এফেন্দি মাকতাবায় ইবনে আব্বাসের ‘গরীবুল কুরআন’-এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যা ইবনে আবি রাবাহ কর্তৃক পরিমার্জিত (تهذيب) এবং পূর্ববর্তী নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত; তবে আমি এটিও দেখার সুযোগ পাইনি।
4- আবু উবায়দাহ মা'মার ইবনুল মুসান্না আত-তাইমি (২১০ হি.) রচিত ‘মাজাযুল কুরআন’। এটি ড. মুহাম্মাদ ফুয়াদ সেজগিনের সম্পাদনায় (تحقيق) (১) মুদ্রিত হয়েছে। গ্রন্থটি পবিত্র মুসহাফে সূরাগুলো যে ক্রমে বর্ণিত হয়েছে সেই অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হয়েছে।
5- আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুবারক আল-ইয়াজিদি (২৩৭ হি.) রচিত ‘গরীবুল কুরআন’। এটি দুইবার মুদ্রিত হয়েছে; প্রথমবার মুহাম্মাদ সেলিম আল-হাজ্জের সম্পাদনায় (تحقيق) (২) এবং দ্বিতীয়বার ড. আব্দুর রাজ্জাক হুসাইনের সম্পাদনায় (تحقيق) (৩)। গ্রন্থটি পবিত্র মুসহাফে সূরাগুলো যে ক্রমে বর্ণিত হয়েছে সেই অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হয়েছে।
6- আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতায়বাহ (২৭৬ হি.) রচিত ‘তাফসীরু গরীবিল কুরআন’। এটি সাইয়্যেদ আহমাদ সাকরের সম্পাদনায় (تحقيق) বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে (৪)। এটি পবিত্র মুসহাফে সূরাগুলো যে ক্রমে বর্ণিত হয়েছে সেই অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হয়েছে।
7- মুহাম্মাদ ইবনে আজিজ আস-সিজিস্তানি (৩৩০ হি.) রচিত ‘গরীবুল কুরআন’, যার নাম "নুযহাতুল কুলুব"; এটি পূর্বে অসম্পাদিত (غير محققة) অবস্থায় কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে (৫)। অতঃপর সম্প্রতি মুহাম্মাদ আদীব জমরানের সম্পাদনায় (تحقيق) (৬) মুদ্রিত হয়েছে। এই গ্রন্থটিতে শব্দসমূহকে অতিরিক্ত অক্ষর বর্জন না করেই তাদের বাহ্যিক রূপ অনুযায়ী বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ১০)
8- ياقوتة الصراط؛ لمحمد بن عبد الواحد، المعروف بغلام ثعلب (354 هـ) كان يظن أنه مفقود (1) ، ثم حققه ـ مؤخراً ـ الزميل أد. محمد يعقوب التركستاني. وهو مرتب على السور القرآنية حسب ورودها في المصحف الشريف.
9- غريب القرآن؛ للحسين بن أحمد بن خالويه (370 هـ) . طبع بتحقيق د. محمود الطناحي ود. عبد الفتاح الحلو، وهو مرتب على السور القرآنية كما وردت في المصحف الشريف.
10- الغريبين (غريبي القرآن والحديث) ؛ لأبي عبيد أحمد بن محمد الهروي (401 هـ) حقق قسماً منه د. محمود محمد الطناحي (2) ، ثم حققه كاملا – أحمد فريد المزيدي (3) معتمدا على ثلاث نسخ خطية باستانبول والقاهرة (4) . وهو مرتب بحسب الأصول على حروف الهجاء (5) .
11- غريب القرآن؛ لمحمد بن الحسن بن فورك الأنصاري الأصفهاني (406 هـ) له نسخة خطية في مكتبة سليم آغا بتركيا تحت رقم 227 في 139 ورقة (6) ، ولم أطلع عليها.
--------------------------------------------
৮- ইয়াকুতাতুস সিরাত; মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ রচিত, যিনি গুলাম ছালাব (৩৫৪ হি.) নামে পরিচিত। ধারণা করা হতো এটি হারিয়ে গেছে (১), পরবর্তীতে সম্প্রতি সহকর্মী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াকুব আল-তুর্কিস্তানি এটি সম্পাদনা করেছেন। এটি পবিত্র মুসহাফে বর্ণিত ধারাবাহিকতা অনুযায়ী কুরআনের সূরাগুলোর ক্রমে বিন্যস্ত।
৯- গারিবুল কুরআন; আল-হুসাইন বিন আহমদ বিন খালওয়াইহ (৩৭০ হি.) রচিত। এটি ড. মাহমুদ আল-তানাহি এবং ড. আব্দুল ফাত্তাহ আল-হিলু-র সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে। এটি পবিত্র মুসহাফে যেভাবে এসেছে সেই অনুযায়ী কুরআনের সূরাগুলোর ক্রমে বিন্যস্ত।
১০- আল-গারিবাইন (কুরআন ও হাদিসের দুর্লভ শব্দাবলি (غريب)); আবু উবাইদ আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-হারাওয়ি (৪০১ হি.) রচিত। ড. মাহমুদ মুহাম্মদ আল-তানাহি (২) এর একটি অংশ সম্পাদনা করেছেন, পরবর্তীতে আহমদ ফরীদ আল-মাজিদি (৩) ইস্তাম্বুল ও কায়রোতে সংরক্ষিত তিনটি পাণ্ডুলিপির (৪) ওপর ভিত্তি করে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পাদনা করেছেন। এটি মূল বর্ণের (أصول) ভিত্তিতে বর্ণানুক্রমে (حروف الهجاء) বিন্যস্ত (৫)।
১১- গারিবুল কুরআন; মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন ফুরাক আল-আনসারি আল-ইসফাহানি (৪০৬ হি.) রচিত। তুরস্কের সেলিম আগা লাইব্রেরিতে ২২৭ নম্বর ক্রমিকে ১৩৯ পৃষ্ঠার একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে (৬), যা আমি দেখার সুযোগ পাইনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ১১)
12- تفسير غريب القرآن وتأويله على الاختصار، لمحمد بن أحمد بن عبد الرحمن التجيبي الأندلسي (419 هـ) ، ذكر عمر كحالة (1) أن له نسخة خطية بمكتبة ماردين بتركيا تحت رقم 565، ولم أطلع عليها.
13- تفسير المشكل من غريب القرآن العظيم على الإيجاز والاختصار؛ لمكي بن أبي طالب القيسي (347 هـ) . طبع بتحقيق هدى الطويل المرعشلي على نسخة فريدة بالمكتبة الظاهرية بدمشق (2) ، كما طبع بتحقيق د. علي بن حسين البواب على النسخة الخطية ذاتها، (3) والكتاب مرتب حسب السور القرآنية وفق ورودها في المصحف الشريف.
14- العمدة في غريب القرآن، لمكي بن أبي طالب القيسي (437 هـ) طبع بتحقيق د. يوسف المرعشلي (4) على نسخة خطية فريدة في دار الكتب الظاهرية بدمشق، وهو مرتب بحسب السور القرآنية أيضاً، وشك بعض المعاصرين في نسبته إلى مؤلفه (5) .
15- القرطين، لابن مطرف الكناني (454 هـ) . طبع بدون تحقيق (6) ، وهو مرتب كأصله - تفسير غريب القران، لابن قتيبة -بحسب ورود الآيات في المصحف الشريف.
--------------------------------------------
12- মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুর রহমান আল-তুজিবি আল-আন্দালুসি (৪১৯ হি.) রচিত তাফসিরু গারিবিল কুরআন ওয়া তাউয়িলুহু আলাল ইখতিসার; উমর কাহহালা (১) উল্লেখ করেছেন যে, তুরস্কের মারদিন লাইব্রেরিতে ৫৬৫ নম্বর অধীনে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যা আমি দেখার সুযোগ পাইনি।
13- মক্কি ইবনে আবি তালিব আল-কায়সি (৩৪৭ হি.) রচিত তাফসিরুল মুশকিল মিন গারিবিল কুরআনিল আজিম আলাল ইজায ওয়াল ইখতিসার; এটি দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি অনন্য পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে হুদা আত-তাবিল আল-মারআশলির সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে (২)। পাশাপাশি এটি ড. আলি ইবনে হুসাইন আল-বাউয়াবের সম্পাদনায় একই পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতেও মুদ্রিত হয়েছে (৩)। কিতাবটি পবিত্র মুসহাফের বিন্যাস অনুযায়ী কুরআনের সূরাগুলোর ধারাক্রমে সাজানো।
14- মক্কি ইবনে আবি তালিব আল-কায়সি (৪৩৭ হি.) রচিত আল-উমদাহ ফি গারিবিল কুরআন; এটি দামেস্কের দারুল কুতুব আল-জাহিরিয়ায় সংরক্ষিত একটি অনন্য পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে ড. ইউসুফ আল-মারআশলির (৪) সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে। এটিও কুরআনের সূরা অনুযায়ী বিন্যস্ত এবং সমকালীন কেউ কেউ এটি লেখকের বলে সাব্যস্ত করার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছেন (৫)।
15- ইবনে মুতাররিফ আল-কিনানি (৪৫৪ হি.) রচিত আল-কুরতাইন। এটি কোনো সম্পাদনা ছাড়াই (৬) মুদ্রিত হয়েছে এবং এটি এর মূল কিতাব—ইবনে কুতাইবা রচিত তাফসিরু গারিবিল কুরআন-এর মতো পবিত্র মুসহাফে আয়াতসমূহের আগমনের ধারাক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ১২)
16- تقريب الغريبين؛ لأبي الفتح سُليم بن أيوب الرازي
(447 هـ) . منه نسخة خطية بدار الكتب المصرية تحت رقم
1017 / تفسير (1) ، ولم أطلع عليها.
17- تفسير غريب القرآن وتأويله على الاختصار، لابن صمادح محمد بن معين التميمي (484 هـ) . منه نسخة خطية بمكتبة ماردين بتركيا تحت رقم 565/ ب (2) . وذكر الزركلي (3) أن في اليمن نسخة منسوبة إليه باسم (مختصر غريب القران للطبري) ولم يحدد مكانها أو رقمها، ولم يتيسر لي ـ بعدُ ـ الوقوف عليها.
18- المفردات في غريب القران، للراغب الأصفهاني (502 هـ) . طبع قديما ثم توالت طباعته دون تحقيق (4) ، وقد حققه – مؤخراً- صفوان داوودي، معتمدا على أربع نسخ خطية في المدينة المنورة وأربع أخرى مطبوعة (5) . والكتاب يرتب ألفاظه هجائيا بحسب أصولها.
19- غرائب التفسير وعجائب التأويل، لمحمود بن حمزة الكرماني؛ المعروف بتاج القراء (531 هـ) طبع بتحقيق د. شمران سركال يونس العجلي (6) معتمدا على ست نسخ خطية في تركيا ومصر وإيران والمدينة المنورة (7) . وهو مرتب وفق ورود الآيات في المصحف.
--------------------------------------------
16- তাকরিবুল গারিবাইন; আবু আল-ফাতহ সুলাইম বিন আইয়ুব আল-রাজির (৪৪৭ হি.) রচিত।
এর একটি পাণ্ডুলিপি মিসরের দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে ১০১৭ / তাফসির (১) নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত আছে, যা আমার দেখার সুযোগ হয়নি।
17- তাফসিরু গারিবিল কুরআন ওয়া তাওয়িলুহু আলাল ইতিসার, ইবনে সুমাদিহ মুহাম্মদ বিন মাঈন আল-তামিমির (৪৮৪ হি.) রচিত। এর একটি পাণ্ডুলিপি তুরস্কের মারদিন লাইব্রেরিতে ৫৬৫/ ব (২) নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত আছে। আল-জিরিকলি (৩) উল্লেখ করেছেন যে, ইয়েমেনে তাঁর নামে ‘মুখতাসারু গারিবি কুরআন লিত-তবারি’ শিরোনামে একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে, তবে তিনি এর অবস্থান বা নম্বর নির্দিষ্ট করেননি এবং এটি এখনও আমার পক্ষে পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি।
18- আল-মুফরাদাত ফি গারিবিল কুরআন, রাগেব আল-ইসফাহানির (৫০২ হি.) রচিত। এটি পূর্বে মুদ্রিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে কোনো পাণ্ডুলিপিভিত্তিক সম্পাদনা (তাহকিক) ছাড়াই বারবার মুদ্রিত হয়েছে (৪)। সম্প্রতি সাফওয়ান দাউদি মদিনা মুনাওয়ারার চারটি পাণ্ডুলিপি এবং অন্য চারটি মুদ্রিত সংস্করণের (৫) ওপর ভিত্তি করে এটি সম্পাদনা করেছেন। গ্রন্থটি এর শব্দসমূহকে মূল অক্ষর অনুযায়ী বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করেছে।
19- গারায়িবুত তাফসির ওয়া আজায়িবুত তাওয়িল, মাহমুদ বিন হামজা আল-কিরমানির রচিত; যিনি তাজুল কুররা (৫৩১ হি.) নামে পরিচিত। এটি ড. শামরান সারকাল ইউনুস আল-ইজলির (৬) সম্পাদনায় তুরস্ক, মিসর, ইরান এবং মদিনা মুনাওয়ারার ছয়টি পাণ্ডুলিপির (৭) ওপর ভিত্তি করে মুদ্রিত হয়েছে। এটি মুসহাফের আয়াতের ক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
20- البيان في غريب القرآن والحديث، لأبي البركات ابن الانباري (577هـ) طبع بتحقيق طه عبد الحميد على عدة نسخ خطية (1) وهو مرتب وفق ورود الآيات في السور القرآنية.
21- المجموع المغيث في غريبي القرآن والحديث، لمحمد بن أبي بكر المديني الأصفهاني (581 هـ) . مطبوع بتحقيق د. عبد الكريم العزباوي (2) معتمدا على ثلاث نسخ خطية في تركيا وكتاب (النهاية لابن الأثير (3)) ، وهو مرتب ـ هجائياًـ بحسب الأصول.
22- نفس الصباح وشمس التبيين والإيضاح، لأحمد بن عبد الصمد الخزرجي (582 هـ) مطبوع بتحقيق محمد عز الدين المعيار الإدريسي (4) ، معتمدا على نسخة فريدة بمراكش (المغرب (5)) ، وهو مرتب وفق سور القرآن الكريم في المصحف الشريف.
23- تذكرة الأريب في تفسير الغريب؛ لأبي الفرج عبد الرحمن بن علي بن محمد البغدادي الحنبلي، المعروف بابن الجوزي (597 هـ) ، مطبوع بتحقيق د. علي حسين البواب (6) ، معتمدا على خمس نسخ خطية بالقدس وتركيا وحلب والمدينة المنورة (7) . وهو مرتب وفق سور القرآن الكريم، ما خلا سورة الفاتحة.
(1) نشرته الهيئة المصرية العامة للكتاب عام 1969 م.
--------------------------------------------
20- আবুল বারাকাত ইবনুল আনবারী (৫৭৭ হিজরি) রচিত কুরআন ও হাদিসের অস্পষ্ট শব্দ (غريب) বিষয়ক গ্রন্থ 'আল-বায়ান'; এটি তাহা আব্দুল হামিদের সম্পাদনায় বেশ কয়েকটি পাণ্ডুলিপির (১) ভিত্তিতে মুদ্রিত হয়েছে এবং এটি কুরআনের সূরাসমূহে আয়াত আসার ক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত।
21- মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-মাদিনি আল-আসফাহানি (৫৮১ হিজরি) রচিত কুরআন ও হাদিসের অস্পষ্ট শব্দ (غريب) বিষয়ক গ্রন্থ 'আল-মাজমু আল-মুগিস'; এটি তুরস্কের তিনটি পাণ্ডুলিপি এবং ইবনুল আসিরের 'আন-নিহায়া' (৩) গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে ড. আব্দুল কারিম আল-আযবাউয়ির (২) সম্পাদনায় মুদ্রিত। এটি মূল অক্ষর (أصل) অনুযায়ী বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত।
22- আহমদ ইবনে আব্দুস সামাদ আল-খাজরাজি (৫৮২ হিজরি) রচিত 'নাফাসুস সাবাহ ওয়া শামসুত তিবইয়িন ওয়াল ইদাহ'; এটি মরক্কোর (৫) মাররাকেশে প্রাপ্ত একটি অনন্য পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে মুহাম্মদ ইজ্জুদ্দিন আল-মিয়ার আল-ইদ্রিসির (৪) সম্পাদনায় মুদ্রিত। এটি পবিত্র মুসহাফের সূরাসমূহের ক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত।
23- অস্পষ্ট শব্দের (غريب) ব্যাখ্যায় 'তাযকিরাতুল আরিব'; আবু আল-ফারাজ আব্দুর রহমান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগদাদি আল-হানবালি, যিনি ইবনুল জাওজি (৫৯৭ হিজরি) নামে পরিচিত। এটি কুদস, তুরস্ক, আলেপ্পো এবং মদিনা মুনাওয়ারার (৭) পাঁচটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে ড. আলী হুসাইন আল-বাওয়াবের (৬) সম্পাদনায় মুদ্রিত। এটি সূরা আল-ফাতিহা ব্যতীত পবিত্র কুরআনের সূরাসমূহের ক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত।
(1) এটি ১৯৬৯ সালে জেনারেল ইজিপ্টিয়ান বুক অর্গানাইজেশন কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
24- تفسير غريب القرآن العظيم، لمحمد بن أبي بكر الرازي
(668 هـ) حقق قسماً منه – ينتهي بحرف الشين – د. عبد الرحمن بن محمد الحجيلي (1) معتمداً على ثلاث نسخ خطية بتركيا والهند (2) . وهو
ـ مرتب ـ هجائيا وفق الحرف الأخير لأصول الكلمة.
25- تحفة الأريب بما في القرآن من الغريب؛ لأبي حيان الأندلسي (745هـ) ، طبع ثلاث مرات؛ الأولى بتعليق محمد سعيد النعساني، والثانية بتحقيق د. أحمد مطلوب وخديجة الحديثي، والثالثة بتحقيق د. سمير المجذوب (3) ،واعتمد الأخير في تحقيقه على ثلاث نسخ خطية في القاهرة ودمشق وباريس. (4) وهو مرتب على حروف المعجم - بحسب الأصول - مع مراعاة الحرف الأول فالأخير (5) .
26- بهجة الأريب بما في الكتاب العزيز من الغريب؛ لعلي بن عثمان بن إبراهيم المارديني، المعروف بابن التركماني (750هـ) ، مطبوع بتحقيق د. علي حسين البواب (6) معتمدا على نسختين خطيتين:إحداهما بالقاهرة والأخرى باليمن (7) ، كما طبع بتحقيق د. ضاحي عبد الباقي (8) معتمدا
--------------------------------------------
24- তাফসিরু গারিবিল কুরআনিল আজিম, মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আর-রাজি কর্তৃক
(৬৬৮ হি.); এর একটি অংশ—যা 'শিন' বর্ণ দিয়ে শেষ হয়েছে—ড. আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-হুজাইলি (১) সম্পাদনা করেছেন, যা তুরস্ক ও ভারতের তিনটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে (২)। এটি
—শব্দের মূল অক্ষরের শেষ বর্ণ অনুযায়ী—বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত।
25- তুহফাতুল আরিব বিমা ফিল কুরআনি মিনাল গারিব; আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি (৭৪৫ হি.) কর্তৃক। এটি তিনবার মুদ্রিত হয়েছে; প্রথমবার মুহাম্মদ সাঈদ আল-নাসানির টীকা সহকারে, দ্বিতীয়বার ড. আহমদ মাতলুব ও খাদিজা আল-হাদিসির সম্পাদনায়, এবং তৃতীয়বার ড. সামির আল-মাজজুবের সম্পাদনায় (৩)। শেষোক্ত ব্যক্তি তাঁর সম্পাদনার কাজে কায়রো, দামেস্ক এবং প্যারিসের তিনটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন (৪)। এটি মূল অক্ষর অনুযায়ী অভিধানের বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে বিন্যস্ত—যেখানে প্রথম ও শেষ বর্ণের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে (৫)।
26- বাহজাতুল আরিব বিমা ফিল কিতাবিল আজিজি মিনাল গারিব; আলি ইবনে উসমান ইবনে ইবরাহিম আল-মারদিনি, যিনি ইবনে আত-তুর্কমানি (৭৫০ হি.) নামে পরিচিত। এটি ড. আলী হুসাইন আল-বাওয়াবের সম্পাদনায় (৬) মুদ্রিত হয়েছে যা দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুতকৃত: একটি কায়রোতে এবং অন্যটি ইয়েমেনে (৭)। একইভাবে এটি ড. দাহি আব্দুল বাকির সম্পাদনায় (৮) মুদ্রিত হয়েছে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
على نسخة دار الكتب المصرية وحدها، (1) وهو مرتب بحسب سور القرآن الكريم في المصحف الشريف.
27- عمدة الحفاظ في تفسير أشرف الألفاظ؛ لأحمد بن يوسف بن عبد الدائم، المعروف بالسمين الحلبي (756هـ) ، مطبوع عدة مرات وحققه –مؤخرا-د. محمد التونجي (2) على ثلاث نسخ خطية بحلب والمدينة المنورة. (3) وهو مرتب_ هجائيا _ بحسب الأصول.
28- تفسير غريب القرآن، لابن الملقّن (804 هـ) ، حققه د. سمير طه المجذوب (4) على نسختين خطيتين بالمغرب والقاهرة (5) . وهو مرتب بحسب السور القرآنية في المصحف الشريف.
29- التبيان في تفسير غريب القران، لأحمد بن محمد بن عمار المصري المقدسي، المعروف بابن الهائم (815 هـ) . حققه د. فتحي أنور الدابولي (6) على نسخة خطية فريدة في دار الكتب المصرية، وهو مرتب حسب ترتيب السور في القرآن الكريم.
30 - غريب القرآن، لعبد البر بن محمد الحلبي، المعروف بابن الشحنة (921 هـ) حققه أحمد محمد الحمادي في رسالة علمية بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية عام 1407 هـ. واعتمد على نسخة خطية في
--------------------------------------------
শুধুমাত্র দারুল কুতুব আল-মিসরিয়ার একটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির (نسخة خطية) ওপর ভিত্তি করে, (১) এবং এটি পবিত্র মুসহাফে আল-কুরআনের সূরাসমূহের বিন্যাস অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।
২৭- 'উমদাতুল হুফফাজ ফি তাফসির আশরাফুল আলফাজ'; এটি আহমদ বিন ইউসুফ বিন আব্দুল দায়িম, যিনি আস-সামিন আল-হালাবি (৭৫৬ হি.) নামে পরিচিত, তাঁর রচিত। এটি বহুবার মুদ্রিত হয়েছে এবং সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ আল-তুনজি (২) আলেপ্পো ও মদিনা মুনাওয়ারার তিনটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির (نسخة خطية) ওপর ভিত্তি করে এটি সম্পাদনা করেছেন (حققه)। (৩) এটি মূলশব্দগুলোর (الأصول) বর্ণানুক্রমিক (هجائيا) বিন্যাস অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।
২৮- 'তাফসির গারিবুল কুরআন', এটি ইবনুল মুলাক্কিন (৮০৪ হি.) রচিত। ড. সামির ত্বহা আল-মাজজুব (৪) এটি মরক্কো ও কায়রোর দুটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির (نسخة خطية) ওপর ভিত্তি করে সম্পাদনা করেছেন (حققه) (৫)। এটি পবিত্র মুসহাফে আল-কুরআনের সূরাসমূহের বিন্যাস অনুযায়ী সাজানো।
২৯- 'আত-তিবইয়ান ফি তাফসির গারিবুল কুরআন', এটি আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আম্মার আল-মিসরি আল-মাকদিসি, যিনি ইবনুল হাইয়িম (৮১৫ হি.) নামে পরিচিত, তাঁর রচিত। ড. ফাতহি আনোয়ার আদ-দাবুলি (৬) এটি দারুল কুতুব আল-মিসরিয়ার একটি অনন্য (فريدة) হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির (نسخة خطية) ওপর ভিত্তি করে এটি সম্পাদনা করেছেন (حققه)। এটি আল-কুরআনের সূরাসমূহের বিন্যাস অনুযায়ী সাজানো।
৩০ - 'গারিবুল কুরআন', এটি আব্দুল বার বিন মুহাম্মদ আল-হালাবি, যিনি ইবনুশ শুহনা (৯২১ হি.) নামে পরিচিত, তাঁর রচিত। আহমদ মুহাম্মদ আল-হাম্মাদি এটি ১৪০৭ হিজরিতে ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র হিসেবে সম্পাদনা করেছেন (حققه)। তিনি একটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির (نسخة خطية) ওপর নির্ভর করেছেন যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المكتبة الأزهرية بمصر بالقاهرة (1) ، وهو مرتب حسب السور القرآنية في المصحف الشريف.
31- مجمع البحرين ومطلع النيرين في تفسير غريب القرآن والحديث الشريفين؛ لفخر الدين محمد بن علي الطريحي (1085 هـ) ، طبع مرات كثيرة بدون تحقيق، ثم حققه السيد أحمد الحسيني (2) ، وهو مرتب وفق الحرف الأخير ثم الأول وما يليه من أصول الكلمة.
32 - تفسير غريب القرآن العظيم، لمصطفى بن حنفي بن حسين الذهبي (1280 هـ) . مطبوع قديما (3) ، وهو شرح لألفية العراقي في (غريب القران (4)) ، والتزم في ترتيبها ذكر الألفاظ بصورتها التي وردت في القرآن وفق حروف الهجاء.
33 - مجمع بحار الأنوار في غرائب التنزيل ولطائف الأنوار؛ لمحمد بن طاهر البستاني، طبع قديما (5) وهو جامع لغريبي القرآن والحديث ومرتب هجائيا بحسب الأصول.
34 - تفسير غريب القرآن؛ لمحمود إبراهيم وهبه. طبع قديما (6) ، وهو مرتب حسب السور القرآنية.
--------------------------------------------
মিশরের কায়রোতে অবস্থিত আল-আজহার লাইব্রেরিতে (১) এটি সংরক্ষিত, এবং এটি পবিত্র কুরআনের মুসহাফের সূরাগুলোর ক্রমানুসারে বিন্যস্ত।
৩১- মাজমাউল বাহরাইন ওয়া মাতলাউন নাইরাইন ফি তাফসিরি গারিবিল কুরআন ওয়াল হাদিসিল শরিফাইন; ফখর উদ্দিন মুহাম্মদ বিন আলী আত-তুরিহি (১০৮৫ হিজরি) রচিত। এটি পাণ্ডুলিপি যাচাই ও সম্পাদনা (تحقيق) ছাড়াই অনেকবার মুদ্রিত হয়েছে, পরবর্তীতে আস-সৈয়দ আহমদ আল-হুসাইনি (২) এটি সম্পাদনা (حققه) করেছেন। এটি শব্দের মূল বর্ণগুলোর মধ্যে প্রথমে শেষ বর্ণ, এরপর প্রথম বর্ণ এবং তারপরের বর্ণগুলোর ক্রমানুসারে বিন্যস্ত।
৩২ - তাফসিরু গারিবিল কুরআনিল আজিম, মুস্তফা বিন হানাফি বিন হুসাইন আদ-দাহাবি (১২৮০ হিজরি) রচিত। এটি প্রাচীনকালে মুদ্রিত (৩)। এটি কুরআনের অপরিচিত শব্দাবলি (غريب القرآن) বিষয়ক ইরাকির আলফিয়ার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (৪)। এর বিন্যাসে তিনি কুরআনে বর্ণিত শব্দগুলোকে সেগুলোর নিজ নিজ রূপে বর্ণমালার ক্রমানুসারে উল্লেখ করার পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।
৩৩ - মাজমাউ বিহরিল আনোয়ার ফি গরাইবিত তানজিল ওয়া লাতয়িফিল আনোয়ার; মুহাম্মদ বিন তাহের আল-বুস্তানি রচিত। এটি প্রাচীনকালে মুদ্রিত (৫)। এটি কুরআন ও হাদিসের অপরিচিত শব্দাবলি (غريب) সম্বলিত একটি সংকলন এবং মূল বর্ণানুক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত।
৩৪ - তাফসিরু গারিবিল কুরআন; মাহমুদ ইব্রাহিম ওয়াহবা রচিত। এটি প্রাচীনকালে মুদ্রিত (৬) এবং কুরআনের সূরাসমূহের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
35 - هدية الإخوان في تفسير ما أبهم على العامة من ألفاظ القران، لمصطفى يوسف بن عبد القادر الحسيني (1333 هـ) . وهو مطبوع عدة طبعات (1) ، وهو مرتب بحسب أوائل الألفاظ كما وردت في القرآن الكريم.
36 - معجم القرآن لعبد الرؤوف المصري (2) . رتبه مؤلفه هجائيا بحسب الأصول.
37- معجم غريب القرآن مستخرجا من صحيح البخاري؛ لمحمد فؤاد عبد الباقي، وهو شرح لما ورد عن ابن عباس من صحيفة علي بن أبي طلحة مرتبة ألفبائيا بحسب المواد مع ذكر الآية الكريمة ورقمها واسم السورة ورقمها، وشرح اللفظة الغريبة في الحاشية، وقد ألحق بها المؤلف مسائل نافع بن الأزرق. (3)
38- كلمات القرآن: تفسير وبيان؛ لحسنين مخلوف، وهو مرتب حسب ترتيب السور القرآنية في المصحف الشريف. فرغ من تأليفه سنة 1375 هـ، وقد طبع عدة طبعات (4) .
39- تفسير غريب القرآن الكريم؛ لحمدي عبيد الدمشقي. فرغ من تأليفه عام 1383 هـ وطبع على هامش المصحف الشريف (5) .
40- غريب القرآن؛ لنديم الجسر. رتبه بحسب السور القرآنية في المصحف الشريف، وطبع قبل عام 1394 هـ (6) .
--------------------------------------------
৩৫ - 'হাদিয়াতুল ইখওয়ান ফি তাফসিরি মা উবহামা আলাল আম্মা মিন আলফাজিল কুরআন', মুস্তফা ইউসুফ বিন আব্দুল কাদির আল-হুসাইনি (১৩৩৩ হিজরি) কর্তৃক রচিত। এটি বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে (১), এবং পবিত্র কুরআনে বর্ণিত শব্দগুলোর আদ্যাক্ষর অনুযায়ী এটি বিন্যস্ত করা হয়েছে।
৩৬ - আব্দুর রউফ আল-মিসরি (২) কর্তৃক রচিত 'মুজামুল কুরআন'। এর লেখক শব্দমূল অনুযায়ী বর্ণানুক্রমিকভাবে এটি সাজিয়েছেন।
৩৭- 'মুজামু গারিবিল কুরআন মুস্তাখরাজান মিন সহিহ বুখারি'; মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি কর্তৃক রচিত। এটি মূলত আলি বিন আবি তালহার সহিফা হতে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত বর্ণনার ব্যাখ্যা, যা শব্দমূল অনুযায়ী বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো হয়েছে। এতে পবিত্র আয়াত ও তার নম্বর এবং সূরার নাম ও তার নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে এবং পার্শ্বটীকায় কঠিন শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। লেখক এতে নাফে বিন আল-আজরাকের মাসআলাগুলোও যুক্ত করেছেন। (৩)
৩৮- 'কালিমাতুল কুরআন: তাফসির ওয়া বায়ান'; হাসানাইন মাখলুফ কর্তৃক রচিত। এটি পবিত্র কুরআনের সূরাগুলোর বিন্যাস অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। এর রচনা সমাপ্ত হয়েছে ১৩৭৫ হিজরিতে এবং এটি বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে (৪)।
৩৯- 'তাফসিরু গারিবিল কুরআনিল কারিম'; হামদি উবাইদ আদ-দামিশকি কর্তৃক রচিত। ১৩৮৩ হিজরিতে এর রচনা সমাপ্ত হয়েছে এবং এটি পবিত্র কুরআনের মার্জিনে মুদ্রিত হয়েছে (৫)।
৪০- 'গারিবুল কুরআন'; নাদিম আল-জাসর কর্তৃক রচিত। তিনি পবিত্র কুরআনের সূরাগুলোর বিন্যাস অনুযায়ী এটি সাজিয়েছেন এবং এটি ১৩৯৪ হিজরির পূর্বে মুদ্রিত হয়েছে (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
41- الهادي إلى تفسير غريب القرآن؛ لمحمد سالم محيسن وشعبان إسماعيل. وهو مرتب حسب الآيات في السور القرآنية (1) .
42- أوضح البيان في شرح مفردات وجمل القرآن؛ لمحمد كريم راجح. وهو مرتب بحسب ترتيب الآيات في السور القرآنية (2) .
43- المعجم الجامع لغريب مفردات القرآن الكريم، لعبد العزيز عز الدين السيروان (3) . اختار الألفاظ الغريبة معتمدا على كتب ابن قتيبة ومكي بن ابي طالب وأبي حيان ومعجم محمد فؤاد عبد الباقي (4) ، ورتبه – ألفبائيا – بحسب الأصول.
44- المفتاح النوراني على المدخل الرباني للمفرد الغريب في القرآن؛ للشيخ محمد باي بلعالم. وهو شرح لنظم في غريب القرآن (5) للشيخ محمد الطاهر التليلي الجزائري. فرغ من تأليفه عام 1417 هـ (6) .
--------------------------------------------
41- আল-হাদী ইলা তাফসির গারীবিল কুরআন; মুহাম্মদ সালিম মুহায়সিন ও শাবান ইসমাইল কর্তৃক রচিত। এটি কুরআনের সূরাসমূহের আয়াত অনুযায়ী বিন্যস্ত (১)।
42- আওজাহুল বায়ান ফী শারহি মুফরাদাতি ওয়া জুমালিল কুরআন; মুহাম্মদ কারিম রাজিহ কর্তৃক রচিত। এটি কুরআনের সূরাসমূহের আয়াতের ক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত (২)।
43- আল-মু'জাম আল-জামি' লি গারীবিল মুফরাদাতিল কুরআন আল-কারীম, আব্দুল আজিজ ইযযুদ্দীন আল-সায়রাওয়ান কর্তৃক রচিত (৩)। তিনি ইবনে কুতাইবাহ, মক্কী বিন আবি তালিব, আবু হাইয়ান এবং মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকীর অভিধানের ওপর নির্ভর করে বিরল (غريب) শব্দসমূহ নির্বাচন করেছেন (৪), এবং তা শব্দমূলের (الأصول) ভিত্তিতে বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করেছেন।
44- আল-মিফতাহ আন-নূরানী আলাল মাদখালির রব্বানী লিল মুফরাদিল গারীব ফিল কুরআন; শেখ মুহাম্মদ বায় বেলআলাম কর্তৃক রচিত। এটি শেখ মুহাম্মদ আত-তাহির আত-তিলিলী আল-জাজায়েরী রচিত কুরআনের বিরল (غريب) শব্দ বিষয়ক একটি কাব্যের ব্যাখ্যা (৫)। এর সংকলন কাজ ১৪১৭ হিজরী সনে সমাপ্ত হয় (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
مناهج المؤلفين في التصنيف:وبالنظر في المناهج التي سارت عليها المؤلفات السابقة في (غريب القرآن) نجد أنها لا تخلو من أحد طريقين:
الطريق الأول: ترتيب الألفاظ حسب ورودها في المصحف الشريف.
وهو الأقدم (1) ، درج عليه أغلب المصّنفين في غريب القرآن الكريم، كزيد بن علي (120 هـ) ، وأبي عبيدة (210 هـ) ، وأبي عبد الرحمن اليزيدي (237هـ) ، وابن قتيبة (276 هـ) وغلام ثعلب (354 هـ) ، ومكي بن أبي طالب (437 هـ) ، وابن مطرف الكناني (454 هـ) ، والكرماني (531هـ) ، وابن الأنباري، والخزرجي (582 هـ) ، وابن الجوزي (597 هـ) ، وابن التركماني (750 هـ) ، وابن الملقن (804هـ) ، وابن الهائم (815 هـ) ، وابن الشحنة (921هـ) ، وغيرهم.
الطريق الثاني: ترتيب الألفاظ وفق حروف الهجاء (الألفبائي) .
وجرى على هذا المنهج المؤلفون الآخرون، متأثرين بترتيب اللغويين في (معاجم الألفاظ) أو ما سمّي بـ (المعاجم المجنّسة) ولكنهم لم يسيروا على وتيرة واحدة في هذا الترتيب أيضا، فكان لهذا الطريق ثلاث صور هي:
أ- الصورة الأولى: ترتيب الألفاظ ـ وفق حروف الهجاء ـ لجميع حروف الكلمة بدون تجريدها من الزوائد.
--------------------------------------------
রচনার ক্ষেত্রে গ্রন্থকারগণের কর্মপদ্ধতি:‘গরিবুল কুরআন’ বিষয়ে পূর্ববর্তী গ্রন্থাবলিতে যেসকল পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, তা মূলত দুটি পদ্ধতির কোনো একটির অন্তর্ভুক্ত:
প্রথম পদ্ধতি: পবিত্র মুসহাফে শব্দসমূহ যেভাবে এসেছে, সেই ক্রম অনুযায়ী সাজানো।
এটিই প্রাচীনতম পদ্ধতি (১), ‘গরিবুল কুরআন’ বিষয়ক অধিকাংশ সংকলক এই পদ্ধতিটিই অনুসরণ করেছেন; যেমন: যায়িদ ইবনে আলী (১২০ হি.), আবু উবাইদাহ (২১০ হি.), আবু আবদুর রহমান আল-ইয়াযিদি (২৩৭ হি.), ইবনে কুতাইবাহ (২৭৬ হি.), গোলাম ছালাব (৩৫৪ হি.), মক্কি ইবনে আবু তালিব (৪৩৭ হি.), ইবনে মুতাররিফ আল-কিনানি (৪৫৪ হি.), আল-কিরমানি (৫৩১ হি.), ইবনুল আনবারি, আল-খাজরাজি (৫৮২ হি.), ইবনুল জাওযি (৫৯৭ হি.), ইবনুত তুর্কমানি (৭৫০ হি.), ইবনুল মুলাক্কিন (৮০৪ হি.), ইবনুল হাইম (৮১৫ হি.), ইবনুশ শিহনাহ (৯২১ হি.) এবং অন্যান্য।
দ্বিতীয় পদ্ধতি: বর্ণানুক্রমিক (অক্ষর অনুযায়ী) পদ্ধতিতে শব্দসমূহ বিন্যস্ত করা।
অন্যান্য লেখকগণ এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। তারা শব্দকোষ রচনায় ভাষাবিদদের অনুসৃত বিন্যাস পদ্ধতি অথবা যাকে ‘সমজাতীয় অভিধান’ বলা হয়, তার দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। তবে এই বিন্যাসের ক্ষেত্রেও তারা সকলে একই ধারা বজায় রাখেননি; বরং এই পদ্ধতির তিনটি রূপ পরিলক্ষিত হয়:
ক- প্রথম রূপ: শব্দের মূল বর্ণ ও অতিরিক্ত বর্ণ পৃথক না করে পূর্ণ শব্দটিকে বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ২০)
وأول من رتب ذلك – من المؤلفات التي وصلت إلينا – أبو بكر محمد بن عزيز السجستاني (330 هـ) في كتابه المسمّى (نزهة القلوب) ؛ إذ يقول في مقدمته: " فهذا تفسير غريب القرآن، أُلّف على حروف المعجم؛ ليقرب تناوله ويسهل حفظه على من أراده وبالله التوفيق والعون " (1) ، ولكنه لم يوضح نهجه بدقة، ومن خلال مطالعة الكتاب يظهر أنه رتب الألفاظ وفق صورتها اللفظية كما وردت في القرآن الكريم، دون النظر إلى أصلها الاشتقاقي، مراعيا الحرف الأول فقط، مبتدئا بباب (الهمزة) ومختتما بباب (اللام ألف) ثم (الياء) ، ولكنه يقسم كل باب –بحسب حركته – إلى ثلاث فصول: المفتوح فالمضموم فالمكسور – ماعدا الباب قبل الأخير (2) - ثم يورد كلماته مرتبة وفق ورودها في المصحف الشريف.
ولم يتابعه أحد من المصنفين في معاجم الألفاظ القرآنية سوى مصطفى بن حسين الذهبي (1280 هـ) في شرحه لألفية الحافظ العراقي (806 هـ) وذلك اتباعا للنظم (3) ، كمانص عليه في البيت الثاني فقال:
واخترت ترتيبا على الحروف
… الثاني والثالث في التأليف
وأذكر الحرف بنص المنزل
… وربما أشرت إن لم يسهل
ولكن لا قيمة تذكر لهذه الرسالة (4) .
ب– الصورة الثانية: ترتيب الألفاظ وفق حروف الهجاء بعد تجريدها مع مراعاة الحرف الأول فالثاني فالثالث (إن وجد) .
--------------------------------------------
আমাদের কাছে আসা গ্রন্থগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি একে বিন্যস্ত করেছেন তিনি হলেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আজিজ আল-সিজিস্তানি (৩৩০ হিজরি), তাঁর 'নুজহাতুল কুলুব' নামক গ্রন্থে; তিনি তাঁর মুখবন্ধে বলেন: "এটি কুরআনের বিরল (غريب) শব্দসমূহের ব্যাখ্যা, যা বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে রচিত হয়েছে; যাতে যারা এটি পড়তে চায় তাদের নিকট এটি সহজবোধ্য হয় এবং এটি মুখস্থ করা সহজ হয়। আর আল্লাহর নিকট থেকেই তাওফিক ও সাহায্য কাম্য" (১)। তবে তিনি তাঁর পদ্ধতিটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ব্যাখ্যা করেননি। গ্রন্থটি পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি শব্দগুলোকে পবিত্র কুরআনে যেভাবে এসেছে সেটির আক্ষরিক রূপ অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন, সেগুলোর ব্যুৎপত্তিগত মূল বিবেচনা না করে। তিনি কেবল প্রথম বর্ণের প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন এবং 'হামজা' অধ্যায় দিয়ে শুরু করে 'লাম-আলিফ' ও এরপর 'ইয়া' অধ্যায় দিয়ে শেষ করেছেন। তবে তিনি প্রতিটি অধ্যায়কে—হরকতের ভিত্তিতে—তিনটি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছেন: যবরবিশিষ্ট, পেশবিশিষ্ট এবং যেরবিশিষ্ট—সর্বশেষের আগের অধ্যায়টি ব্যতীত (২)—এরপর তিনি শব্দগুলোকে পবিত্র মুসহাফে আসার ধারাবাহিকতা অনুযায়ী উল্লেখ করেছেন।
কুরআনিক শব্দের অভিধান রচয়িতাদের মধ্যে মোস্তফা ইবন হুসাইন আল-জাহাবি (১২৮০ হিজরি) ব্যতীত অন্য কেউ তাঁকে অনুসরণ করেননি। তিনি এটি করেছেন হাফেজ (حافظ) আল-ইরাকির (৮০৬ হিজরি) আলফিয়্যাহ-র ব্যাখ্যাগ্রন্থে এবং সেটি মূলত মূল ছন্দের অনুসরণে (৩), যেমনটি তিনি দ্বিতীয় পংক্তিতে উল্লেখ করে বলেছেন:
এবং আমি বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস চয়ন করেছি
… রচনার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ও তৃতীয় [বর্ণের খেয়াল রেখে]
এবং আমি বর্ণটিকে অবতীর্ণ হওয়া পাঠ অনুযায়ী উল্লেখ করি
… আর যদি সহজসাধ্য না হয় তবে সম্ভবত আমি ইঙ্গিত করি
তবে এই পুস্তিকাটির উল্লেখযোগ্য কোনো মূল্য নেই (৪)।
খ– দ্বিতীয় রূপ: শব্দগুলোকে মূল রূপ দেওয়ার পর বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করা, যেখানে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় (যদি থাকে) বর্ণের প্রতি খেয়াল রাখা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ২১)
سلك هذا المنهج بعض المؤلفين في غريب القرآن والحديث أيضا، فكان أول مؤلف وصل إلينا خيره كتاب (الغريبين) لأبي عبيد الهروي
(401 هـ) ونَصّ على ذلك في مقدمته فقال: " وكتابي هذا لمن حمل القرآن وعرف الحديث ونظر في اللغة، ثم احتاج إلى معرفة غرائبها، وهو موضوع على نسق الحروف المعجّمة، نبدأ بالهمزة فنفيض بها على سائر الحروف، حرفا حرفا، ونعمل لكل حرفٍ بابا، ونفتتح كل باب بالحرف الذي يكون (آخره) (1) الهمزة ثم الباء ثم التاء إلى آخر الحروف، إلا أن لا تجده فتتعداه إلى ما نجده على الترتيب فيه، ثم نأخذ في كتاب الباء على هذا العمل إلى أن ننتهي بالحروف كلها إلى أخرها، ليصيرَ المفتش عن الحرف إلى إصابته من الكتاب بأهون سعي وأحثِّ طلب ". (2)
وقد نوه بسبق الهروي إلى هذا المنهج غير واحد من العلماء (3) ، ومن هؤلاء ابن الأثير (606 هـ) إذ يقول: " فلما كان زمن أبي عبيد أحمد بن محمد الهروي، صاحب الإمام أبي منصور الأزهري اللغوي، وكان في زمن الخطابي وبعده وفي طبقته، صنف كتابه المشهور السائر في الجمع بين غريبي القران العزيز والحديث، ورتبه مقفى على حروف المعجم على وضع لم يسبق في غريب القرآن والحديث إليه، فاستخرج الكلمات اللغوية الغريبة من أماكنها وأثبتها في حروفها وذكر معانيها؛ إذ كان الغرض والمقصد من هذا التصنيف معرفة الكلمة الغريبة لغة وإعرابا ومعنى، لا معرفة متون الحديث
--------------------------------------------
কিছু লেখক কুরআন ও হাদিসের দুর্লভ শব্দাবলি (غريب) বিষয়েও এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। এই ধারায় আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রথম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হলো আবু উবাইদ আল-হারাওয়ী (৪০১ হি.) রচিত 'আল-গারিবাইন' কিতাবটি।
তিনি তাঁর মুখবন্ধে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেছেন: "আমার এই বইটি তাদের জন্য যারা কুরআন ধারণ করেছে, হাদিস সম্পর্কে অবগত হয়েছে এবং ভাষাতত্ত্ব অধ্যয়ন করেছে, অতঃপর এর দুর্লভ শব্দগুলো (غرائب) জানার প্রয়োজন অনুভব করেছে। এটি বর্ণমালার ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে। আমরা হামজাহ দিয়ে শুরু করব এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বর্ণের ওপর আলোকপাত করব। প্রতিটি বর্ণের জন্য আমরা একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় করব। আমরা প্রতিটি অধ্যায় এমন বর্ণ দিয়ে শুরু করব যার (শেষে) (১) হামজাহ রয়েছে, এরপর বা, এরপর তা—এভাবে শেষ পর্যন্ত। যদি কোনো বর্ণ না পাওয়া যায়, তবে আমরা ক্রমানুসারে পরবর্তী প্রাপ্ত বর্ণে চলে যাব। এরপর আমরা 'বা' অধ্যায়ে একইভাবে কাজ করব যতক্ষণ না সকল বর্ণ শেষ হয়; যাতে কোনো শব্দের অনুসন্ধানকারী ব্যক্তি সামান্যতম চেষ্টায় এবং দ্রুততম উপায়ে কিতাব থেকে সেটি খুঁজে পেতে পারে।" (২)
একাধিক আলেম এই পদ্ধতির ক্ষেত্রে আল-হারাওয়ীর অগ্রগামী হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন (৩)। তাঁদের মধ্যে ইবনুল আসির (৬০৬ হি.) অন্যতম। তিনি বলেন: "যখন ইমাম আবু মানসুর আল-আজহারি আল-লুগাভী-র ছাত্র আবু উবাইদ আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-হারাওয়ীর সময় এলো—যিনি খাত্তাবির সমসাময়িক বা তাঁর পরবর্তী স্তরের (طبقة) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তখন তিনি পবিত্র কুরআন ও হাদিসের দুর্লভ শব্দাবলি (غريب) একত্রে সংকলন করে তাঁর সেই সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থটি রচনা করেন। তিনি এটিকে বর্ণানুক্রমিকভাবে এমন এক বিন্যাসে সাজিয়েছেন যা কুরআন ও হাদিসের দুর্লভ শব্দাবলির (غريب) ক্ষেত্রে আগে কেউ করেনি। তিনি ভাষাতাত্ত্বিক দুর্লভ শব্দগুলোকে (غريب) তাদের মূল স্থান থেকে বের করে স্ব-স্ব বর্ণের অধীনে স্থাপন করেছেন এবং সেগুলোর অর্থ বর্ণনা করেছেন। কারণ এই সংকলনের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল ভাষাগত দিক থেকে শব্দ বিশ্লেষণ, ব্যাকরণিক অবস্থান এবং অর্থের পরিচয় জানা, হাদিসের মূল পাঠ (متون) যাচাই করা নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ২২)
والآثار وطرق أسانيدها وأسماء رواتها، فإن ذلك علم مستقل بنفسه مشهور بين أهله " (1) .
ثم تلاه الراغب الأصفهاني (502هـ) في كتابه (المفردات) ورتب ألفاظه هجائيا – بعد تجريدها من زوائدها – مراعيا التدرج في حروف الكلمة الأصلية، وصرح بذلك في مقدمة كتابه فقال: " وقد استخرت الله تعالى في إملاء كتاب مستوف فيه مفردات ألفاظ القرآن على حروف التهجي فنقدم ما أوله الألف – ويعني بها الهمزة – ثم الباء على ترتيب حروف المعجم، معتبرا فيه أوائل حروفه الأصلية دون الزوائد (2) "، والتزم هذا النهج بدقة.
ولا يؤثر في ذلك إخلاله في تصدير فصوله بالثنائي المقصور دون مراعاة لحرفه الثالث وكذا المضعّف الثلاثي والمهموز والمعتل.
ثم ألف محمد بن أبي بكر المديني الأصفهاني (581 هـ) (المجموع المغيث في غريبي القرآن والحديث) متأثرا فيه بمنهج أبي عبيد الهروي، إذ يقول في مقدمته: " وخرجت كتابي على ترتيب كتاب أبي عبيد سواء بسواء، وسلكت طريقه حذو النّعل بالنّعل في إخراج الكلم في الباب الذي يليق بظاهر لفظها وان كان اشتقاقها مخالفا لها" (3) .
كما صنف أبو حيان الأندلسي (745 هـ) (تحفة الأريب بما في القرآن من الغريب) وفق هذا المنهج أيضا، فرتب الألفاظ – وفق أصولها – بالنظر إلى الحرف الأول فالأخير فقط دون الحشو، ونمثل لذلك بحرف
(الراء) فقد أورد فيه المواد على هذا النحو:
--------------------------------------------
এবং আসার (آثار) ও সেগুলোর সনদের (أسانيد) সূত্রসমূহ এবং রাবীদের (رواتها) নামসমূহ, কেননা এটি একটি স্বতন্ত্র জ্ঞান যা এর বিশেষজ্ঞদের নিকট সুপরিচিত। " (১) ।
এরপর রাগেব আল-ইসফাহানী (৫০২ হি.) তাঁর কিতাব আল-মুফরাদাত-এ এটি অনুসরণ করেন এবং এর শব্দগুলোকে বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করেন—সেগুলোকে অতিরিক্ত অক্ষর থেকে মুক্ত করার পর—মূল শব্দের অক্ষরগুলোর ক্রম রক্ষা করে। তিনি তাঁর কিতাবের ভূমিকায় তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেছেন: "আমি মহান আল্লাহর নিকট আল-কুরআনের একক শব্দসমূহের বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব রচনার বিষয়ে ইস্তিখারা করেছি, যেখানে আমরা আলিফ—অর্থাৎ হামযাহ—দিয়ে শুরু হওয়া শব্দসমূহকে প্রথমে রাখব, অতঃপর অভিধানের বর্ণানুক্রম অনুযায়ী বা (ب) দিয়ে শুরু হওয়া শব্দসমূহকে; এতে মূল অক্ষরসমূহকে বিবেচনা করা হয়েছে, অতিরিক্তগুলো নয় (২)।" এবং তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে এই পদ্ধতি মেনে চলেছেন।
আর তাঁর অধ্যায়গুলোর শুরুতে দুই অক্ষরের সংকীর্ণ শব্দের ক্ষেত্রে তৃতীয় বর্ণের প্রতি খেয়াল না করা, এবং একইভাবে তিন অক্ষরের দ্বিত্ব বর্ণবিশিষ্ট (مضعّف), হামযাযুক্ত (مهموز) এবং দুর্বল বর্ণবিশিষ্ট (معتل) শব্দের ক্ষেত্রেও তা তাঁর এই পদ্ধতির ওপর প্রভাব ফেলে না।
অতঃপর মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-মাদীনী আল-ইসফাহানী (৫৮১ হি.) আবু উবাইদ আল-হারাভীর মানহাজ (পদ্ধতি) দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আল-মাজমু আল-মুগীস ফী গারীবায়িল কুরআন ওয়াল হাদিস রচনা করেন। তিনি এর ভূমিকায় বলেন: "আমি আমার কিতাবটিকে হুবহু আবু উবাইদের কিতাবের বিন্যাসে সাজিয়েছি এবং শব্দগুলো চয়নের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে তাঁর পথ অনুসরণ করেছি সেই অধ্যায়ে যা শব্দের বাহ্যিক রূপের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যদিও এর ব্যুৎপত্তি তার বিপরীত হয় (৩)।"
আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসীও (৭৪৫ হি.) এই পদ্ধতি অনুসারে তুহফাতুল আরীব বিমা ফিল কুরআন মিনাল গারীব রচনা করেন। তিনি শব্দগুলোকে—তাদের মূল অক্ষর অনুযায়ী—কেবল প্রথম ও শেষ অক্ষরের প্রতি লক্ষ্য রেখে বিন্যস্ত করেছেন, মধ্যবর্তী অক্ষরের বিবেচনা ছাড়াই। এর উদাহরণ স্বরূপ আমরা 'রা' (راء) বর্ণটি উল্লেখ করতে পারি।
(রা) বর্ণে তিনি বিষয়বস্তুগুলো এভাবে উপস্থাপন করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ردأ، رجأ – رقب، رحب، ربب، ريب، رهب – رفت، رفث، رجج – روج – رغد، رعد، ركد، رفد، رصد، ردد، ركز، رمز، رجز، -ربط – رجل، رتل، رذل – رقم، رمم، ركم، رحم، (1) ، رغم – رين ...... الخ
وألف السمين الحلبي (756 هـ) كتابه (عمدة الحفاظ في تفسير أشرف الألفاظ) فرتب الكلمات ـ وفقا للأصول ـ على ترتيب الهجاء. يقول في مقدمته (2) : " ورتبت هذا الموضوع على حروف المعجم بترتيبها الموجودة هي عليه الآن، فأذكر الحرف الذي هو أول الكلمة، مع ما بعده من حروف المعجم، إلى أن ينتهي ذلك الحرف مع ما بعده، وهلم جرا إلى أن تنتهي – إن شاء الله تعالى – حروف المعجم جميعها.
ولا أعتمد إلا على أصول الكلمة دون زوائدها، فلو صدرت بحرف زائد لم أعتبره بل اعتبر ما بعده من الأصول وكذلك لو عرض في المادة حذف أولها فإني اعتمده دون ما بعده وكذلك لو عرض فيه البدل فإني اعتبر أصله "
ولقيت هذه الصورة من المتأخرين قبولاً، (3) كما اختارها مجمع اللغة العربية في ترتيب " معجم ألفاظ القرآن الكريم ".
ج – الصورة الثالثة: ترتيب الألفاظ وفق حروف الهجاء بعد تجريدها من الزوائد، بالنظر إلى الحرف الأخير ثم الأول وما يليه.
--------------------------------------------
রাদাআ, রাজাআ – রাকাবা, রাহাবাহ, রাব্বা, রাইবা, রাহাবা – রাফাত, রাফাস, রাজ্জাহ – রাওজ – রাগার্দ, রা'দ, রাকাআদা, রাফাদ, রাসাদ, রাদাদ, রাকায, রাময, রাজায, – রাবাত – রাজুল, রাতাল, রাযাল – রাকাম, রামাম, রাকাম, রাহিম, (১), রাগম – রাইন ...... ইত্যাদি।
আস-সামিন আল-হালাবি (৭৫৬ হিজরি) তার কিতাব উমদাতুল হুফফাজ ফি তাফসির আশরাফুল আলফাজ রচনা করেছেন। এতে তিনি শব্দগুলোকে—মূল অক্ষর (أصول) অনুযায়ী—বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস (ترتيب الهجاء) অনুযায়ী সাজিয়েছেন। তিনি তার ভূমিকার (২) মধ্যে বলেন: "আমি এই বিষয়টিকে অভিধানের বর্ণমালার বর্তমান বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছি। আমি শব্দের প্রথম বর্ণটি উল্লেখ করি এবং তার সাথে বর্ণমালার পরবর্তী বর্ণগুলোকে ক্রমানুসারে নিয়ে আসি, যতক্ষণ না সেই বর্ণের সাথে পরবর্তী বর্ণগুলোর বিন্যাস শেষ হয়। ইনশাআল্লাহ তাআলা, এভাবেই বর্ণমালার সকল বর্ণ শেষ হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে।
আমি শব্দের মূল অক্ষর (أصول) ব্যতীত তার অতিরিক্ত অক্ষর (زوائد) গুলোর ওপর নির্ভর করি না। সুতরাং যদি কোনো শব্দ অতিরিক্ত অক্ষর (زائد) দিয়ে শুরু হয়, তবে আমি তা বিবেচনা করি না; বরং তার পরবর্তী মূল অক্ষরগুলোকে (أصول) ধর্তব্য মনে করি। একইভাবে যদি শব্দের মূল গঠনে তার প্রথম বর্ণটি বিলোপ (حذف) পায়, তবে আমি সেটিকেই (মূল রূপকে) বিবেচনায় রাখি, তার পরবর্তীটিকে নয়। আবার যদি তাতে কোনো বর্ণের রূপান্তর (بدل) ঘটে, তবে আমি তার মূল রূপটিকেই (أصله) বিবেচনা করি।"
পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট এই পদ্ধতিটি গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে (৩), যেমনটি ‘মাজমাউল লুগাহ আল-আরাবিয়্যাহ’ তাদের ‘মুজামু আলফাজিল কুরআনিল কারিম’ বিন্যাসের ক্ষেত্রে বেছে নিয়েছে।
গ – তৃতীয় পদ্ধতি: অতিরিক্ত অক্ষর (زوائد) থেকে মুক্ত করার পর শব্দগুলোকে বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস (ترتيب الهجاء) অনুযায়ী সাজানো, যেখানে সর্বশেষ বর্ণের দিকে লক্ষ্য রাখা হয়, এরপর প্রথম বর্ণ এবং তার পরবর্তী বর্ণগুলোকে বিবেচনা করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وأقدم من ألف كتابا على هذا المنهج – فيما وصل خبره إلينا – زين الدين محمد بن أبي بكر الرازي (بعد 668 هـ) في كتابه (تفسير غريب القرآن العظيم) متأثرا بكتاب (الصحاح) للجوهري يقول في مقدمته (1) :
"سألني بعض إخواني من طلبة العلم وحملة القرآن أن اجمع لهم تفسير غريب القران جمعا يشتمل على حسن الترتيب وسهولته، وعلى استيعاب كل الألفاظ الغريبة التي في الكتاب العزيز، ويعرى عن تكرار تفسير الألفاظ وإعادتها، فأجبتهم إلى ذلك وجمعت هذا المختصر "
ولم يوافقه في منهجه ـ فيما وصل إلينا ـ سوى محمد بن علي الطريحي (1585 هـ) في كتابه (مجمع البحرين ومطلع الغريبين في تفسير غريب القرآن والحديث) ؛ إذْ رتب ألفاظه ترتيب الصحاح – أي باعتماد الحرف الأخير من الكلمة المجردة باعتبارها بابا، والحرف الأول منها باعتباره فصلا - ولكنه جعل بابي الهمزة والألف بابا واحد ليكون التناول أسهل والانتشار أقل (2) .
--------------------------------------------
এই পদ্ধতিতে কিতাব সংকলনকারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম—যার সংবাদ আমাদের নিকট পৌঁছেছে—তিনি হলেন জয়নুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আর-রাজি (৬৬৮ হিজরির পরবর্তী), তাঁর 'তাফসীরু গারিবিল কুরআনিল আজিম' গ্রন্থে। তিনি আল-জাওহারির 'আস-সিহাহ' কিতাব দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। তিনি এর ভূমিকায় (১) বলেন:
"ইলম অন্বেষণকারী এবং কুরআনের বাহক ভাইদের মধ্য থেকে কেউ কেউ আমার নিকট অনুরোধ করেন যে, আমি যেন তাঁদের জন্য কুরআনের অপরিচিত শব্দসমূহের ব্যাখ্যার (تفسير غريب القرآن) এমন একটি সংকলন প্রস্তুত করি, যা চমৎকার বিন্যাস ও সহজবোধ্যতার গুনে গুণান্বিত হবে এবং মহাগ্রন্থের সমস্ত অপরিচিত (غريب) শব্দের ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্ত করবে। এতে একই শব্দের ব্যাখ্যার পুনরাবৃত্তি থাকবে না। আমি তাঁদের সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছি এবং এই সংক্ষিপ্ত (مختصر) সারটি সংকলন করেছি।"
আমাদের নিকট যা পৌঁছেছে তদনুযায়ী, মুহাম্মদ বিন আলী আত-তুরাইহি (১৫৮৫ হি.) ব্যতীত আর কেউ তাঁর এই পদ্ধতিতে ঐকমত্য পোষণ করেননি। তিনি তাঁর 'মাজমাউল বাহরাইন ওয়া মাতলাউল গারিবাইন ফি তাফসীরি গারিবিল কুরআনি ওয়াল হাদিস' গ্রন্থে এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন; যেখানে তিনি শব্দগুলোকে 'আস-সিহাহ'-এর বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছেন—অর্থাৎ মূল শব্দের শেষ বর্ণকে 'অধ্যায়' (باب) এবং প্রথম বর্ণকে 'পরিচ্ছেদ' (فصل) হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তবে তিনি হামজা এবং আলিফ অধ্যায় দুটিকে একটি অধ্যায় করে দিয়েছেন যাতে এটি ব্যবহার করা সহজ হয় এবং বিস্তৃতি কম হয় (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الثاني: المعاجم القرآنية المفهرسة
المعاجم القرآنية المفهرسة: تعريف ونقد…المبحث الثاني: المعاجم القرآنية المفهرسة: تعريف ونقد:
اقتصرت جهود السابقين من علمائنا ـ كما أسلفنا القول ـ على اختيار الألفاظ الغريبة؛ لحاجتهم إلى معنى اللفظ القرآني وشرح غريبه، ثم تصنيف ذلك وفق منهج مختار؛ ولم تتجه جهودهم إلى صنع فهارس شاملة لكلمات القرآن الكريم لعدم مسيس الحاجة إلى ذلك؛ إذ لم يكن عزيزا على الناشئة الاسترشاد إلى مواضع الآيات في المصحف الشريف فضلا عن العلماء والباحثين، فعامتهم من الحفظة لكتاب الله عز وجل.
وفي العصر الحديث تطورت الصناعة المعجمية عالميا، وخضعت لمواصفات عامة، واستخدمت الأجهزة الحديثة لبناء قواعد للبيانات والاستفادة منها في الحصول على المادة وترتيبها، وبرزت اتجاهات متعددة في صنع المعجمات، كان من بينها " المعجمات المفهرسة " التي تعتمد على إحصاء مواد الدراسة إحصاء دقيقا ثم فهرستها وتصنيفها تمهيدا لدراستها (1) ، فظهرت حاجة الباحثين إليها من أبناء المسلمين وغيرهم.
واتجه نفر من المستشرقين الذين لا يتبعون هذا الدين الحنيف إلى إحصاء ألفاظ القرآن والحديث الشريف ووضع فهارس شاملة للدلالة على مواضعها في الآيات الكريمة والأحاديث الشريفة مما ييسر على الباحث العثور على طلبته بأقصر وقت وأيسر مؤونة، فاضطلع المستشرق الألماني (فلوجل) بوضع أول فهرس شامل للقرآن الكريم، أسماه: " نجوم الفرقان في أطراف
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নির্ঘণ্টভিত্তিক কুরআনিক অভিধানসমূহনির্ঘণ্টভিত্তিক কুরআনিক অভিধানসমূহ: পরিচিতি ও সমালোচনা…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নির্ঘণ্টভিত্তিক কুরআনিক অভিধানসমূহ: পরিচিতি ও সমালোচনা:
আমাদের পূর্ববর্তী আলেমদের প্রচেষ্টাসমূহ—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—অপরিচিত বা বিরল (غريب) শব্দাবলি নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল; কারণ তাদের নিকট কুরআনিক শব্দের অর্থ জানা এবং এর বিরল (غريب) অংশগুলোর ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল। অতঃপর তারা একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী সেগুলোকে বিন্যস্ত করতেন। পবিত্র কুরআনের শব্দাবলির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নির্ঘণ্ট তৈরির দিকে তাদের মনোযোগ ছিল না, কারণ এর বিশেষ কোনো প্রয়োজন তখন অনুভূত হয়নি। কেননা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষেই পবিত্র মুসহাফে আয়াতের অবস্থান খুঁজে বের করা কঠিন কিছু ছিল না, আলেম ও গবেষকদের কথা তো বলাই বাহুল্য; কারণ তাঁদের অধিকাংশ ছিলেন আল্লাহর কিতাবের হাফেজ।
আধুনিক যুগে বিশ্বব্যাপী অভিধান নির্মাণের শিল্প বিকশিত হয়েছে এবং তা সাধারণ মানদণ্ডের অনুগত হয়েছে। উপাত্ত ভাণ্ডার তৈরি এবং তা থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। অভিধান সংকলনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধারার উদ্ভব হয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো "নির্ঘণ্টভিত্তিক অভিধান" যা বিষয়বস্তুর অত্যন্ত সুক্ষ্ম পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় এবং পরবর্তীতে গবেষণার পথ সুগম করতে সেগুলোকে নির্ঘণ্ট ও শ্রেণিবিন্যাস করা হয় (১)। ফলে মুসলিম ও অমুসলিম গবেষকদের মাঝে এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
আর এই একনিষ্ঠ দ্বীনের অনুসারী নয় এমন একদল প্রাচ্যবিদ পবিত্র কুরআন ও হাদিস শরিফের শব্দাবলির পরিসংখ্যান তৈরি এবং পবিত্র আয়াত ও হাদিসে সেগুলোর অবস্থান নির্দেশ করার জন্য পূর্ণাঙ্গ নির্ঘণ্ট তৈরির দিকে মনোনিবেশ করেন। এর ফলে একজন গবেষকের পক্ষে অত্যন্ত অল্প সময়ে এবং সামান্য পরিশ্রমে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয় খুঁজে পাওয়া সহজ হয়ে যায়। জার্মান প্রাচ্যবিদ ফ্লুগেল পবিত্র কুরআনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্ঘণ্ট তৈরির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তিনি এর নামকরণ করেন: "নূজুমুল ফুরকান ফি আতরাফ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
القرآن" (1) ، ونال الكتاب شهرة ذائعة في أوربا والعالم الإسلامي على الرغم مما وقع فيه من أخطاء علمية، أظهرها عدم استناده إلى ترقيم معتمد في عد الآي بل اعتمد على المصحف الذي رقمه وطبعه لنفسه (2) .
ثم ألف فيض الله الحسني المقدسي كتابه " فتح الرحمن لطالب آيات القرآن " (3) الذي أبان – في مقدمته – سبب تأليفه، وأنه اطلع على تساؤل نشرته مجلة (المقتطف (4)) جاء فيه: " إذا أراد الاستشهاد بآية كريمة من القرآن الحكيم، فانه كثيرا ما لا يهتدي إلى موقعها إلا بعد التفتيش الكثير وما ذلك إلا لأنه ليس بين أيدينا مفتاح ذكرت فيه الآيات الكريمة على حروف المعجم فأسأل علماءنا الأفاضل هل عندنا كتاب مبّوبة فيه آيات القرآن الكريم بحسب حروف الهجاء؟ وإذا لم يكن هذا الكتاب موجودا فهل يصح أن يوضع كتاب مثله أو هناك موانع شرعية تمنع وضعه؟ " (5) فأجابه بقوله (6) : " إنه يوجد مفتاح للآيات الشريفة اسمه (ترتيب زيبا) (7) مطبوع في الآستانة العلية، ومفتاح آخر لكلمات القرآن العظيم اسمه: (نجوم الفرقان في أطراف القرآن) مطبوع في بلاد جرمانيا، ذُكرت فيه كلمات القرآن الشريف بحروف عربية وعدد السور والآيات بأرقام فرنجية ولكن ثبت لدّي – بعد طول المراجعة والتنقيب – أن (ترتيب زيبا) يستحيل أن ينتفع به
--------------------------------------------
আল-কুরআন" (১)। বইটি ইউরোপ এবং মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিল, যদিও এতে কিছু বৈজ্ঞানিক ভুল ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট ভুলটি ছিল আয়াত গণনার ক্ষেত্রে কোনো স্বীকৃত নম্বরবিন্যাস (ترقيم معتمد) অনুসরণ না করা; বরং তিনি নিজে যে মুসহাফ (المصحف) নম্বরবিন্যাস ও মুদ্রণ করেছিলেন, সেটির ওপরই নির্ভর করেছিলেন (২)।
অতঃপর ফয়জুল্লাহ আল-হাসানী আল-মাকদিসী তাঁর কিতাব "ফাতহুর রহমান লি-তালিবি আয়াতিিল কুরআন" (৩) রচনা করেন। তিনি এর ভূমিকায় (مقدمة) এটি রচনার কারণ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি 'আল-মুকতাতাফ' (৪) নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি প্রশ্ন দেখতে পান। সেখানে বলা হয়েছিল: "কেউ যদি আল-কুরআনুল কারীম থেকে কোনো সম্মানিত আয়াতের উদ্ধৃতি দিতে চায়, তবে অনেক সময় দীর্ঘ অনুসন্ধানের আগে সে তার সঠিক স্থান খুঁজে পায় না। আর এর কারণ হলো, আমাদের হাতে এমন কোনো চাবিকাঠি বা নির্ঘণ্ট নেই যেখানে সম্মানিত আয়াতগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আমি আমাদের বিজ্ঞ আলেমদের কাছে জিজ্ঞাসা করছি, আমাদের কাছে কি এমন কোনো কিতাব আছে যেখানে পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে অধ্যায়ভিত্তিক করা হয়েছে? যদি এমন কোনো কিতাব বিদ্যমান না থাকে, তবে কি এই ধরনের কোনো কিতাব প্রণয়ন করা জায়েজ হবে, নাকি এটি প্রণয়নে কোনো শরয়ী বাধা (موانع شرعية) রয়েছে?" (৫) অতঃপর তিনি এর উত্তরে বলেন (৬): "পবিত্র আয়াতগুলোর জন্য একটি নির্ঘণ্ট রয়েছে যার নাম 'তারতিবে জিবা' (৭), এটি আস্তানা-ই-আলিয়ায় মুদ্রিত। আর মহান কুরআনের শব্দাবলির জন্য অপর একটি নির্ঘণ্ট হলো 'নূজুমুল ফুরকান ফি আতরাফিল কুরআন', যা জার্মানি ভূখণ্ডে মুদ্রিত। এতে পবিত্র কুরআনের শব্দগুলো আরবি বর্ণমালায় এবং সূরা ও আয়াতের সংখ্যাগুলো ইউরোপীয় (فرنجية) সংখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ পর্যালোচনা ও অনুসন্ধানের পর আমার কাছে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, 'তারতিবে জিবা' থেকে উপকৃত হওয়া অসম্ভব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
غير من عرف أوائل الآيات، ومن كان كذلك يغلب أن يكون من الحفظة – وما أقل حاجة الحافظ إلى كتاب كهذا – فضلا عما في ترتيبه القاموسي (1) من الاصطلاحات التي لا تلائم ذوق هذا العصر ولا تنطبق على مألوف العرب في ترتيب معجماتهم فكان قصوره عن إيفاء المطلوب وسدّ حاجة العامة أمرا واضحا، وأما (نجوم الفرقان) فلم أره أكثر من ذاك فائدة ولا أقل إعناتا. فبناء على ما تقدم لم أر غنى عن مفتاح جديد للقرآن العظيم يجمع ما في الكتابين المذكورين من بعض المحاسن ويبرأ – بإذن الله – من مثل ما فيهما من المغامز فيفي بكمال الغرض بما يحوي من دقة الجمع والترتيب وإتقان التقسيم والتبويب " وهو فهرس جيد للآيات الكريمة، ولكن منهجه الذي التزمه يحول دون الإفادة التامة منه، وذلك بسبب ما يلي:
1- اقتصاره على الأفعال المشتقة والأسماء المتمكنة - من ألفاظ القرآن الكريم - وترك الظروف وحروف المعاني وما شابهها من الأسماء والأفعال إلا ما ورد في القرآن مرة واحدة، وغرضه من ذلك تصغير حجم الكتاب (2) .
2- فصل الأعلام الواردة في الكتاب العزيز عن الألفاظ ووضعها في ملحق في آخر الكتاب.
3- وضع رموز – غير مألوفة (3) - لسور القرآن الكريم، وتصدير كتابه بها مرتباً إياها على حروف المعجم.
--------------------------------------------
যারা আয়াতের প্রথমাংশ সম্পর্কে অবগত তারা ব্যতীত অন্য কেউ নয়, আর যারা এই স্তরের তারা সাধারণত হাফেজ (حافظ) হয়ে থাকেন - আর একজন হাফেজ (حافظ)-এর এই ধরণের গ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা কতই না নগণ্য - তাছাড়া এর অভিধানধর্মী (১) বিন্যাসে এমন সব পারিভাষিক শব্দ (الاصطلاحات) রয়েছে যা বর্তমান সময়ের রুচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং অভিধান সংকলনের ক্ষেত্রে আরবদের প্রচলিত রীতির সাথেও মিলে না। ফলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এবং সাধারণ মানুষের প্রয়োজন মেটাতে এর সীমাবদ্ধতা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। আর 'নুজুমুল ফুরকান' কিতাবটির ক্ষেত্রে আমি দেখিনি যে এটি তার চেয়ে অধিক উপকারী কিংবা কম কষ্টসাধ্য। সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমি মহান কুরআনের জন্য এমন একটি নতুন নির্দেশিকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি, যা উল্লিখিত গ্রন্থদ্বয়ের কিছু গুণাবলী (المحاسن) একত্রিত করবে এবং - আল্লাহর ইচ্ছায় - সেগুলোর ত্রুটি-বিচ্যুতি (المغامز) থেকে মুক্ত থাকবে; ফলে এটি নির্ভুল সংগ্রহ, বিন্যাস এবং সুনিপুণ বিভাজন ও পরিচ্ছেদ বিন্যাস (التبويب)-এর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য সাধন করবে।" এটি পবিত্র আয়াতসমূহের জন্য একটি উত্তম নির্ঘণ্ট, তবে লেখক যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তা এটি থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে উপকৃত হওয়ার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে, আর তা নিম্নলিখিত কারণসমূহের জন্য:
1- পবিত্র কুরআনের শব্দাবলি থেকে কেবল রূপান্তরিত ক্রিয়া (الأفعال المشتقة) এবং পরিবর্তনশীল বিশেষ্য (الأسماء المتمكنة)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এবং অব্যয়, অর্থবোধক বর্ণসমূহ এবং অনুরূপ বিশেষ্য ও ক্রিয়াগুলো বাদ দেওয়া, তবে কুরআনে যা মাত্র একবার এসেছে তা ব্যতীত। এর মাধ্যমে লেখকের উদ্দেশ্য ছিল গ্রন্থের আকার ছোট করা (২)।
2- মহাগ্রন্থে উল্লিখিত নির্দিষ্ট নাম (الأعلام)-সমূহকে সাধারণ শব্দাবলি থেকে পৃথক করা এবং কিতাবের শেষে একটি পরিশিষ্টে সেগুলো বিন্যস্ত করা।
3- পবিত্র কুরআনের সূরাগুলোর জন্য অপরিচিত (৩) প্রতীক ব্যবহার করা এবং বর্ণমালা (حروف المعجم) অনুযায়ী সাজিয়ে কিতাবের শুরুতে তা উপস্থাপন করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুয়াজিমুল মুফাহরাসাহ লি-আলফাজিল কুরআনিল কারিম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ثم ظهر بعدهما كتاب (دليل الحيران في الكشف عن آيات القرآن) (1) للحاج صالح ناظم، الذي طبع عدة مرات (2) ، فرتب الآيات في أبواب مختلفة وفقا لأمور مختلفة مثل: لفظ الحمد، والجلالة، والاسم الموصول، والفعل الأمر وأمثالها. فوقع في بعض الاضطراب إذ كرر كثيرا من الآيات في مواضع مختلفة، ووضع بعضها في غير موضعه (3) ، غير أن عمله هذا أومأ بوضع معاجم تالية تتخذ من موضوعات القرآن الكريم أساسا لتبويبها، وتهدف إلى جمع الآيات القرآنية التي يربطها موضوع واحد في موضع واحد، ثم ترتيبها بحسب ورودها في القرآن الكريم أو ترتيبها ألفبائيا (4) .
كما ألف الدكتور حسين نصار كتابه (معجم آيات القرآن (5)) فاستدرك عليه كثيرا مما سقط من الآيات الكريمة أو أخطأ المؤلف فيها، مراعيا الترتيب الألفبائي مراعاة تامة؛ بالنظر لأوائل الآيات وحدها، ومشيرا إلى رقم الآية واسم السورة، ومحددّا موضع نزولها بإحدى الحروف الآتية:
--------------------------------------------
এরপর তাদের পর আল-হাজ সালেহ নাজিমের লিখিত 'দালিলুল হাইরান ফি আল-কাশফি আন আয়াতিল কুরআন' (১) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়, যা বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে (২)। তিনি বিভিন্ন বিষয়ের প্রেক্ষিতে আয়াতগুলোকে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত (تبويب) করেছেন, যেমন: হামদ (الحمد) শব্দ, জালালাহ (الجلالة) শব্দ, ইসমে মাউসুল (الاسم الموصول), আমরের ক্রিয়া (الفعل الأمر) এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। এতে কিছুটা বিশৃঙ্খলা (اضطراب) পরিলক্ষিত হয়, কারণ তিনি অনেক আয়াত বিভিন্ন স্থানে পুনরাবৃত্তি করেছেন এবং কিছু আয়াতকে অপ্রাসঙ্গিক স্থানে স্থাপন করেছেন (৩)। তবে তাঁর এই কাজটি পরবর্তী এমন কিছু নির্ঘণ্ট বা অভিধান সংকলনের পথপ্রদর্শক হয়েছে, যা পবিত্র কুরআনের বিষয়বস্তুকে বিন্যাসের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে এবং যেগুলোর লক্ষ্য হলো একই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কুরআনের আয়াতগুলোকে এক স্থানে একত্রিত করা, অতঃপর পবিত্র কুরআনে তাদের ক্রম অনুযায়ী অথবা বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করা (৪)।
একইভাবে ডক্টর হুসাইন নাসসার তাঁর 'মু'জামু আয়াতিল কুরআন' (৫) গ্রন্থটি রচনা করেছেন। এতে তিনি পূর্ববর্তী লেখকের বাদ পড়া অনেক আয়াত এবং যেখানে লেখক ভুল করেছিলেন, তা সংশোধন ও পরিমার্জন (استدراك) করেছেন। তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস অনুসরণ করেছেন; কেবল আয়াতের শুরুর শব্দের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং আয়াতের নম্বর ও সূরার নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি নিচের বর্ণগুলোর মাধ্যমে আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার স্থান নির্দিষ্ট করেছেন:
--------------------------------------------