(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: -)
المصفى بأكف أهل الرسوخ من علم الناسخ والمنسوخ القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: المصفى بأكف أهل الرسوخ من علم الناسخ والمنسوخ
المؤلف: جمال الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن علي بن محمد الجوزي (ت 597 هـ)
المحقق: حاتم صالح الضامن [ت 1434 هـ]
الناشر: مؤسسة الرسالة
الطبعة: الثالثة، 1418 هـ - 1998 م
عدد الصفحات: 60
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) শাস্ত্রের সুদৃঢ় জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের নির্যাস: আল-মুসাফফা বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)
কিতাব: রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) শাস্ত্রের সুদৃঢ় জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের নির্যাস: আল-মুসাফফা
লেখক: জামালুদ্দিন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-জাওজি (ওফাত ৫৯৭ হিজরি)
সম্পাদক: হাতেম সালেহ আদ-দামেন [ওফাত ১৪৩৪ হিজরি]
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المصفى بأكف أهل الرسوخ من علم الناسخ والمنسوخ
بسم الله الرحمن الرحيم
أما بعد أحمد الله ذي العز الرفيع الشامخ والصلاة على رسوله محمد ذي القدر المنيع الباذخ فهذا حاصل التحقيق في علم الناسخ والمنسوخ وقد بالغت في اختصار1 لفظه لأحث الراغب على حفظه فالتفت أيها الطالب لهذا العلم إليه وأعرض عن جنسه تعويلا عليه ففيه كفاية فإن آثرت زيادة بسط أو اخترت الاستظهار لقوة احتجاج أو ملت إلى إسناد فعليك بالكتاب الذي اختصر هذا منه وهو كتاب عمدة الراسخ2 والله الموفق.
باب ذكر فصول تكون كالمقدمة لهذا الكتاب:فصل: أنكرت اليهود جواز النسخ وقالوا هو البداء3. والفرق بينهما
--------------------------------------------
রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) বিষয়ক জ্ঞানের ক্ষেত্রে সুদৃঢ় ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিশোধিত
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
অত:পর, আমি সুউচ্চ ও মহিমাময় মর্যাদার অধিকারী আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করছি, যিনি অজেয় ও মহান সম্মানের অধিকারী। এটি রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) বিষয়ক জ্ঞানের একটি নির্যাসিত গবেষণা। আমি এর শব্দ চয়ন সংক্ষিপ্ত করার ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করেছি যাতে আগ্রহী ব্যক্তিরা এটি মুখস্থ করতে উদ্বুদ্ধ হন। সুতরাং হে এই ইলমের অন্বেষণকারী! আপনি এর প্রতি মনোনিবেশ করুন এবং এর ওপর নির্ভর করে সমজাতীয় অন্যান্য গ্রন্থ থেকে বিমুখ হোন; কারণ এতেই পর্যাপ্ততা রয়েছে। তবে আপনি যদি আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা পছন্দ করেন বা প্রমাণের শক্তির জন্য কোনো উদ্ধৃতি চান অথবা সনদ (إسناد)-এর দিকে আগ্রহী হন, তবে আপনার সেই কিতাবটি দেখা উচিত যেখান থেকে এটি সংক্ষেপ করা হয়েছে, আর সেটি হলো উমদাতুর রাসিখ কিতাব। আল্লাহই তাওফিকদাতা।
এই কিতাবের ভূমিকা স্বরূপ কতগুলো পরিচ্ছেদের বর্ণনার অধ্যায়:পরিচ্ছেদ: ইয়াহুদিরা রহিতকরণ (النسخ)-এর বৈধতাকে অস্বীকার করেছে এবং তারা বলেছে যে এটি হলো বাদা (البداء)। আর এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ১২)
أن النسخ رفع عبادة قد علم الأمر بها من القرآن للتكليف بها غاية ينتهي إليها ثم يرتفع الإيجاب والبداء هو الانتقال عن المأمور به بأمر حادث لا بعلم سابق ولا يمتنع جواز النسخ عقلا لوجهين أحدهما أن للآمر أن يأمر بما شاء والثاني أن النفس إذا مرنت على أمر ألفته فإذا نقلت عنه إلى غيره شق عليها لمكان الاعتياد المألوف فظهر منها بالإذعان والانقياد لطاعة1 الآمر وقد وقع النسخ شرعا لأنه قد ثبت مِنْ دِينِ آدَمَ عليه السلام وَطَائِفَةٍ مِنْ أَوْلادِهِ جَوَازُ نِكَاحِ الأَخَوَاتِ وَذَوَاتِ الْمَحَارِمِ وَالْعَمَلِ فِي يَوْمِ السَّبْتِ ثُمَّ نُسِخَ ذَلِكَ فِي شريعة موسى عليه السلام2.
فصل: والنسخ إنما يقع في الأمر والنهي دون الخبر المحض والاستثناء ليس بنسخ ولا التخصيص وأجاز بعض من لا يعتد بخلافه وقوع النسخ في الخبر المحض وسمى3 الاستثناء والتخصيص نسخا والفقهاء على خلافه4.
فصل: وشروط النسخ خمسة أحدهما أَنْ يَكُونَ الْحُكْمُ فِي النَّاسِخِ وَالْمَنْسُوخِ مُتَنَاقِضًا5 فلا يمكن العمل بهما والثاني أن يكون حكم المنسوخ ثابتا قبل ثبوت حكم الناسخ والثالث أن يكون حكم المنسوخ
--------------------------------------------
রহিতকরণ (النسخ) হলো এমন একটি ইবাদত উঠিয়ে দেওয়া যার আদেশ কুরআন থেকে জানা গিয়েছিল, যাতে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত তার দায়িত্ব অর্পিত থাকে, এরপর সেই আবশ্যকতা (الإيجاب) রহিত হয়ে যায়। আর বাদা (البداء) হলো পূর্বজ্ঞান ছাড়াই কোনো নতুন আদেশের মাধ্যমে পূর্বের আদিষ্ট বিষয় থেকে সরে আসা। বুদ্ধিগতভাবে রহিতকরণ (النسخ) জায়েজ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। এর কারণ দুটি: প্রথমত, আদেশদাতার অধিকার রয়েছে তিনি যা ইচ্ছা তা আদেশ করার। দ্বিতীয়ত, আত্মা যখন কোনো বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং তার প্রতি অনুরাগী হয়, তখন সেখান থেকে অন্য কিছুতে সরিয়ে নেওয়া তার জন্য কষ্টকর হয় অভ্যাসের কারণে; ফলে আদেশদাতার আনুগত্যে তার বিনয় ও বশ্যতা প্রকাশ পায়।
১ আর শরিয়তে রহিতকরণ (النسخ) সংঘটিত হয়েছে। কেননা আদম (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর সন্তানদের এক দলের দ্বীনে বোনদের বিবাহ করা ও মাহরাম (المحارم) আত্মীয়দের সাথে বিবাহ এবং শনিবারের দিন কাজ করা বৈধ ছিল। পরবর্তীতে মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর শরিয়তে তা রহিত (نسخ) করা হয়েছে।
২পরিচ্ছেদ: রহিতকরণ (النسخ) কেবল আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রেই ঘটে, নিছক সংবাদের (الخبر المحض) ক্ষেত্রে নয়। আর ব্যতিক্রম (الاستثناء) এবং নির্দিষ্টকরণ (التخصيص) কোনোটিই রহিতকরণ (النسخ) নয়। যাদের মতপার্থক্য ধর্তব্য নয় এমন কিছু লোক নিছক সংবাদের (الخبر المحض) ক্ষেত্রে রহিতকরণ (النسخ) জায়েজ বলেছেন এবং ব্যতিক্রম ও নির্দিষ্টকরণকে রহিতকরণ (النسখ) হিসেবে অভিহিত করেছেন
৩; তবে ফকিহগণ এর বিপরীত মত পোষণ করেন।
৪পরিচ্ছেদ: রহিতকরণের (النسخ) শর্ত পাঁচটি। প্রথমত, রহিতকারী (الناسخ) এবং রহিতকৃত (المنسوখ) বিষয়ের বিধানটি পরস্পর বিরোধী (متناقضاً)
৫ হতে হবে, যাতে উভয়টি অনুযায়ী আমল করা সম্ভব না হয়। দ্বিতীয়ত, রহিতকারীর (الناسخ) বিধান সাব্যস্ত হওয়ার আগে রহিতকৃতের (المنسوخ) বিধান সাব্যস্ত থাকতে হবে। তৃতীয়ত, রহিতকৃতের (المنسوخ) বিধানটি হতে হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ثابتا بالشرع لا بالعادة والعرف فإنه إذا ثبت بالعادة لَمْ يَكُنْ رَافِعُهُ نَاسِخًا بَلْ يَكُونُ ابْتِدَاءَ شرع آخر والرابع كون حكم الناسخ مشروعا بطريق النقل كثبوت المنسوخ فأما ما ليس مشروعا بِطَرِيقِ النَّقْلِ فَلا يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ نَاسِخًا لِلْمَنْقُولِ وَلِهَذَا إِذَا ثَبَتَ حُكْمُ مَنْقُولٍ لَمْ يجز نسخه بإجماع ولا بقياس والخامس كون الطريق الذي ثبت به الناسخ مثل طريق ثبوت المنسوخ أو أقوى منه ولهذا نقول لا يجوز نسخ القرآن بالسنة1.
فصل في فضل هذا العلم:
روى أبو عبد الرحمن السملي2 أن عليا رضي الله عنه مر بقاض فَقَالَ أَتَعْرِفُ النَّاسِخَ وَالْمَنْسُوخَ؟ قَالَ لا قَالَ3 هلكت وأهلكت وفي لفظ أنه قال من أنت قال أنا أبو يحيى قال بل أنت أبو أعرفوني4.
فصل: والمنسوخ في القرآن أضرب أحدها ما نسخ رسمه وحكمه وقد كان جماعة من الصحابة يحفظون سورا وآيات فشذت عنهم فأخبرهم النبي صلى الله عليه وسلم أنها رفعت الثاني ما نسخ رسمه وبقي حكمه كآية الرجم الثَّالِثُ مَا نُسِخَ حُكْمُهُ وَبَقِيَ رَسْمُهُ وَلَهُ وضعنا هذا الكتاب.
--------------------------------------------
শরিয়ত কর্তৃক সাব্যস্ত হতে হবে, প্রথা ও অভ্যাসের মাধ্যমে নয়। কারণ যা প্রথার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়, তবে তার অপসারক রহিতকারী (ناسخ) হবে না, বরং তা হবে নতুন শরিয়তের সূচনা। চতুর্থ শর্ত হলো রহিতকারী (ناسخ) বিধানটি রহিতকৃত (منسوخ) বিধানের মতো বর্ণনা বা বর্ণনাসূত্রের (النقل) মাধ্যমে শরয়ি রূপ পাওয়া। আর যা বর্ণনাসূত্রের (النقل) মাধ্যমে বিধিবদ্ধ নয়, তা বর্ণিত বিধানের রহিতকারী (ناسخ) হওয়া বৈধ নয়। একারণেই যখন কোনো বর্ণিত বিধান সাব্যস্ত হয়, তখন ইজমা (إجماع) বা কিয়াস (قيাস) দ্বারা তার রহিতকরণ (نسخ) বৈধ নয়। পঞ্চমত, যে পদ্ধতির মাধ্যমে রহিতকারী (ناسخ) সাব্যস্ত হয়েছে তা রহিতকৃত (منسوخ) হওয়ার পদ্ধতির সমপর্যায়ের হতে হবে অথবা তার চেয়ে শক্তিশালী হতে হবে। একারণেই আমরা বলি যে, সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের রহিতকরণ (نسخ) বৈধ নয়।১।
এই ইলমের মর্যাদা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ:
আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী২ বর্ণনা করেছেন যে, আলী (রা.) এক বিচারকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কি রহিতকারী (ناسخ) ও রহিতকৃত (منسوخ) সম্পর্কে জানেন?" সে উত্তর দিল, "না।" তিনি বললেন৩, "আপনি নিজেও ধ্বংস হয়েছেন এবং অন্যকেও ধ্বংস করেছেন।" অন্য শব্দে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, "তুমি কে?" সে উত্তর দিল, "আমি আবু ইয়াহইয়া।" তিনি বললেন, "বরং তুমি হলে আবু আ'রিফুনী (নিজেকে জাহিরকারী)৪।"
পরিচ্ছেদ: কুরআনের মাঝে রহিতকৃত (منسوخ) বিধান কয়েক প্রকার। প্রথম প্রকার হলো যার লিখনশৈলী বা পাঠ (رسم) এবং বিধান (حكم) উভয়ই রহিত করা হয়েছে। একদল সাহাবী বিভিন্ন সূরা ও আয়াত মুখস্থ রাখতেন যা তাদের থেকে হারিয়ে গিয়েছিল; অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সংবাদ দেন যে এগুলো উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় প্রকার হলো যার লিখনশৈলী বা পাঠ (رسم) রহিত হয়েছে কিন্তু বিধান (حكم) অবশিষ্ট আছে, যেমন রজমের আয়াত। তৃতীয় প্রকার হলো যার বিধান (حكم) রহিত করা হয়েছে কিন্তু পাঠ (رسم) অবশিষ্ট আছে; আর এই শেষোক্ত বিষয়টির জন্যই আমরা এই কিতাবটি রচনা করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
باب ذكر آي1 في سورة البقرة في ذلك
الْآيَةِ الأُولَى: قَوْلُهُ تَعَالَى {وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ} 2 قال مجاهد3 هي نفقة النقل وقال آخرون هي الزكاة وتحتمل العموم فالآية محكمة4 وزعم بعضهم أنها نفقة كانت واجبة قبل الزكاة وزعم أنه كان فرض أن يمسك مما في يده قدر كفاية يومه وليلته ويفرق الباقي عَلَى الْفُقَرَاءِ ثُمَّ نُسِخَ ذَلِكَ بِآيَةِ الزَّكَاةِ5 وهو بعيد.
الثانية: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا} 6 زعم قوم إِنَّهَا مَنْسُوخَةٌ بِقَوْلِهِ {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلامِ دِيناً فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ} 7 وهذا لا يصح لأنه إن8 أشير إلى من كان في زمن نبي تابعا لنبيه قبل بعثة نبي آخر فَأُولَئِكَ عَلَى الصَّوَابِ.
وَإِنْ أُشِيرَ إِلَى مَنْ كان في زمن نبينا فإن من ضرورته أن يؤمن بنبينا عليه السلام ولا وجه للنسخ ويؤكده أنها خبر والخبر لا ينسخ9.
--------------------------------------------
সূরা আল-বাকারার আয়াতসমূহ সম্পর্কে আলোচনা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
প্রথম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী {এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে}। মুজাহিদ বলেন, এটি পরিবারের ভরণপোষণের ব্যয়। অন্যগণ বলেছেন, এটি হলো জাকাত। এটি ব্যাপক অর্থ প্রকাশের সম্ভাবনা রাখে, তাই আয়াতটি অপরিবর্তনীয় (محكمة)। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, জাকাত ফরজ হওয়ার আগে এটি একটি আবশ্যিক ব্যয় ছিল। তারা দাবি করেন যে, নিজের কাছে একদিন ও একরাতের প্রয়োজন পরিমাণ সম্পদ রেখে বাকি সবটুকু দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া তখন ফরজ ছিল। পরবর্তীতে জাকাতের আয়াত দ্বারা তা রহিত (نسخ) করা হয়েছে। তবে এই মতটি দুর্বল।
দ্বিতীয় আয়াত: {নিশ্চয়ই যারা ইমান এনেছে এবং যারা ইহুদি হয়েছে...}। একদল লোক দাবি করেছেন যে এটি মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন গ্রহণ করতে চাইবে, তা কখনোই তার নিকট থেকে কবুল করা হবে না} -এর মাধ্যমে রহিত (منسوخة) হয়েছে। কিন্তু এই কথাটি সঠিক নয়। কারণ যদি এর দ্বারা এমন ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করা হয় যারা কোনো নবীর যুগে পরবর্তী কোনো নবীর প্রেরিত হওয়ার পূর্বে উক্ত নবীর অনুসারী ছিলেন, তবে তারা সঠিক পথেই ছিলেন।
আর যদি এর দ্বারা আমাদের নবীর সমসাময়িক ব্যক্তিদের বোঝানো হয়, তবে তাদের জন্য আমাদের নবী (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর ইমান আনা আবশ্যকীয় বিষয়, আর এখানে রহিতকরণ (نسخ)-এর কোনো অবকাশ নেই। এই বিষয়টি আরও সুদৃঢ় হয় এই কারণে যে এটি একটি সংবাদ (خبر), আর সংবাদ (خبر) কখনো রহিত হয় না (ينسخ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الثالثة: {بَلَى مَنْ كَسَبَ سَيِّئَةً} 1 الجمهور على أن المراد بها الشرك فلا يتوجه النسخ وقيل الذنوب دون الشرك فيتوجه بقوله {وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} 2 ويمكن حمله على من أتى السيئة مستحلا فلا نسخ3.
الرابعة: {وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْناً} 4 قيل الخطاب لليهود فالتقدير من ساءلكم عن بيان محمد فاصدقوه وقيل أي كلموهم بما تحبون أن يقال لكم فعلى هذا الآية محكمة وقيل الْمُرَادَ بِذَلِكَ مُسَاهَلَةُ الْمُشْرِكِينَ فِي دُعَائِهِمْ5 إِلَى الْإِسْلامِ فَالْآيَةُ عِنْدَ هَؤُلاءِ6 مَنْسُوخَةٌ بِآيَةِ السَّيْفِ7 وفيه بعد لأن لفظ الناس عام فتخصيصه بالكفار8 يحتاج إلى دليل.
الخامسة: {فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ} 9 زعم قوم
--------------------------------------------
তৃতীয়: {হ্যাঁ, যে মন্দ কাজ বর্জন করেছে} ১ জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের (الجمهور) মতে এর দ্বারা শিরক উদ্দেশ্য, তাই রহিতকরণের (النسخ) কোনো অবকাশ নেই। কেউ কেউ বলেছেন যে শিরক ব্যতীত অন্যান্য গুনাহ উদ্দেশ্য, সেক্ষেত্রে এটি তাঁর বাণী: {এবং তিনি ক্ষমা করেন তা ব্যতীত যা তিনি ইচ্ছা করেন} ২ এর মাধ্যমে রহিতকরণের (النسخ) দিকে ধাবিত হবে। আর একে ওই ব্যক্তির ওপরও প্রয়োগ করা সম্ভব যে মন্দ কাজকে হালাল বা বৈধ মনে করে করেছে, সেক্ষেত্রে রহিতকরণ (النسخ) হবে না। ৩
চতুর্থ: {আর মানুষের সাথে সুন্দর কথা বলো} ৪ বলা হয়েছে যে, এই সম্বোধনটি ইহুদিদের প্রতি। সুতরাং এর ব্যাখ্যা হবে: যারা তোমাদের কাছে মুহাম্মাদের বর্ণনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তাদের কাছে সত্য বলো। আবার বলা হয়েছে: অর্থাৎ তাদের সাথে তেমন কথা বলো যেমন কথা তোমরা নিজেদের জন্য শুনতে পছন্দ করো। এই মতানুসারে আয়াতটি সুদৃঢ় (محكم)। আবার বলা হয়েছে: এর দ্বারা উদ্দেশ্য ছিল মুশরিকদের ইসলামের দাওয়াতের ক্ষেত্রে কোমলতা প্রদর্শন ৫। তাই তাদের মতে এই আয়াতটি তলোয়ারের আয়াত (আয়াতুস সাইফ) ৭ দ্বারা রহিত (منسوخ)। তবে এই মতে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে, কারণ 'মানুষ' শব্দটি সাধারণ (عام), তাই একে কাফেরদের ৮ সাথে সুনির্দিষ্ট করার জন্য দলিলের প্রয়োজন।
পঞ্চম: {সুতরাং তোমরা ক্ষমা করো এবং মার্জনা করো যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসেন} ৯ একদল ধারণা করেছে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أَنَّهَا مَنْسُوخَةٌ بِآيَةِ السَّيْفِ1 وَلَيْسَ بِصَحِيحٍ لِأَنَّهُ لم يأمر بالعفو مطلقا بل إلى غاية ومثل هذا لا يدخل في المنسوخ.
السادسة: {فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ} 2 ذهب بعضهم إلى أن هذه الآية اقتضت جواز التوجه إلى جميع الجهات فاستقبل رسول الله بيت المقدس ليتألف أهل الكتاب ثم نسخت بقوله {فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} 3 فإنما يصح القول بنسخها إذا قدر فيها إضمار تقديره فولوا وجوهكم في الصلاة أنى شئتم ثم ينسخ ذلك القدر. والصحيح4 أنها محكمة لأنها أخبرت أن الإنسان أين تولى فثم وجه الله ثم ابتدأ الأمر بالتوجه إلى الكعبة لا على وجه النسخ5.
السابعة: {وَلَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ} 6 قال بعضهم هذا يقتضي نوع مساهلة الكفار ثم نسخ بآية السيف7 وهو بعيد لأن من شرطها التنافي ولا تنافي وأيضا فإنه خبر.
الثامنة: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى} 8. زعم
--------------------------------------------
এটি তলোয়ারের আয়াত দ্বারা রহিত (منسوخة) এবং এটি সঠিক (صحيح) নয়; কারণ তিনি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা করার নির্দেশ দেননি, বরং একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত; আর এই ধরনের বিষয় রহিত (منسوخ)-এর অন্তর্ভুক্ত হয় না।
ষষ্ঠ: {তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাও, সেদিকেই আল্লাহর চেহারা বিদ্যমান}। কেউ কেউ মনে করেন যে, এই আয়াতটি সকল দিকে মুখ ফেরানোর বৈধতা দাবি করে, তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহলে কিতাবদের অন্তর জয় করার জন্য বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করেছিলেন, অতঃপর তা এই বাণীর মাধ্যমে রহিত (نسخت) করা হয়: {সুতরাং আপনি পবিত্র মাসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরান}। তবে একে রহিত (نسخ) করার দাবি তখনই সঠিক হবে যদি এখানে একটি উহ্য বিষয় ধারণা করা হয় যে—তোমরা সালাতে যেদিকে ইচ্ছা মুখ ফিরাও, অতঃপর সেই অংশটুকু রহিত করা হয়েছে। তবে সঠিক (صحيح) মত হলো এটি একটি সুসংবদ্ধ (محكمة) আয়াত; কারণ এটি সংবাদ দিয়েছে যে মানুষ যেদিকেই মুখ ফিরাক সেদিকেই আল্লাহর সত্তা বিদ্যমান, এরপর কাবার দিকে মুখ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যা রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে নয়।
সপ্তম: {আমাদের কর্ম আমাদের জন্য এবং তোমাদের কর্ম তোমাদের জন্য}। কেউ কেউ বলেছেন এটি কাফিরদের সাথে এক ধরণের নমনীয়তার দাবি করে, যা পরবর্তীতে তলোয়ারের আয়াত দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে। তবে এটি অগ্রহণযোগ্য; কারণ এর (রহিতকরণের) জন্য শর্ত হলো বৈপরীত্য থাকা, অথচ এখানে কোনো বৈপরীত্য নেই এবং এটি মূলত একটি সংবাদ।
অষ্টম: {নিশ্চয় যারা আমরা অবতীর্ণ সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও হিদায়াত গোপন করে...}। দাবি করা হয়েছে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بَعْضُ مَنْ قَلَّ فَهْمُهُ أَنَّهَا نُسِخَتْ بِالاسْتِثْنَاءِ بعدها1 وهذا لا يلتفت إليه وذلك كلما أتى من هذا الجنس فإن الِاسْتِثْنَاءَ إِخْرَاجُ بَعْضِ مَا شَمَلَهُ اللَّفْظُ وَلَيْسَ بناسخ.
التاسعة: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى الْحُرُّ بِالْحُرِّ} 2. ذهب بعضهم إلى أن دليل الخطاب منسوخ لأنه لما قال {الْحُرُّ بِالْحُرِّ} اقتضى أنه لا يُقْتَلَ الْعَبْدُ بِالْحُرِّ وَكَذَا لَمَّا قَالَ {وَالْأُنْثَى بِالْأُنْثَى} اقْتَضَى أَنْ لا يُقْتَلَ الذَّكَرُ بِالأُنْثَى مِنْ جهة دليل الخطاب فذلك منسوخ بقوله {وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ} 3 وهذا ليس بشيء يعول عليه لوجهين أحدهما أنه إنما ذكر في المائدة ما كتبه أهل التوراة وذلك لا يلزمنا فإن قيل شَرْعَ مَنْ قَبْلَنَا شَرْعٌ لَنَا مَا لَمْ يَثْبُتْ نَسْخُهُ وَخِطَابُنَا بَعْدَ خِطَابِهِمْ قَدْ ثَبَتَ النَّسْخُ فَتِلْكَ الْآيَةُ أَوْلَى أَنْ تَكُونَ مَنْسُوخَةً بِهَذِهِ مِنْ هَذِهِ بِتِلْكَ وَالثَّانِي أَنَّ دَلِيلَ الخطاب إنما يكون حجة ما لم يعارضه دليل أقوى منه وَقَدْ ثَبَتَ بِلَفْظِ الْآيَةِ أَنَّ الْحُرَّ يُوَازِي الحرة فلأن يوازي العبد أولى4.
العاشرة: {كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْراً الْوَصِيَّةُ} 5. ذهب كثير من العلماء إلى نسخها بآية الميراث6. ونص
--------------------------------------------
অল্প বুঝসম্পন্ন কেউ কেউ মনে করেন যে, এটি পরবর্তী ব্যতিক্রম (استثناء) দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে১। এটি কোনো মনোযোগযোগ্য বিষয় নয়; কারণ এই ধরনের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হলো শব্দের অন্তর্ভুক্ত কিছু অংশকে বের করে দেওয়া, এটি রহিতকারী (ناسخ) নয়।
নবম: {তোমাদের ওপর হত্যার বদলে কিসাস তথা প্রতিশোধ গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে; স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীনের বদলে} ২। কেউ কেউ এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, পরোক্ষ অর্থ বা দালালুল খিতাব (دليل الخطاب) রহিত (منسوخ) হয়ে গিয়েছে। কারণ যখন বলা হয়েছে {স্বাধীনের বদলে স্বাধীন}, তখন এটি দাবি করে যে স্বাধীনের বদলে দাসকে হত্যা করা যাবে না। একইভাবে যখন বলা হয়েছে {নারীর বদলে নারী}, তখন তা দালালুল খিতাবের দিক থেকে দাবি করে যে নারীর বদলে পুরুষকে হত্যা করা যাবে না। আর এটি {আমরা তাদের ওপর এতে বিধিবদ্ধ করেছি যে, প্রাণের বদলে প্রাণ} ৩ এই বাণীর মাধ্যমে রহিত (منسوخ) হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এটি গ্রহণযোগ্য কোনো বক্তব্য নয় দুটি কারণে: প্রথমত, সুরা মায়িদায় যা উল্লেখ করা হয়েছে তা তাওরাত পালনকারীদের জন্য বিধিবদ্ধ ছিল, যা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। যদি বলা হয় যে—আমাদের পূর্ববর্তীদের শরিয়ত আমাদের জন্যও শরিয়ত যতক্ষণ না তা রহিত (نسخ) হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়—তবে আমাদের সম্বোধন তাদের সম্বোধনের পরে আসার কারণে যদি রহিতকরণ (نسخ) প্রমাণিত হয়ে থাকে, তবে পূর্বের আয়াতটিই এই আয়াতের মাধ্যমে রহিত (منسوخ) হওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত, এর বিপরীতে নয়। দ্বিতীয়ত, দালালুল খিতাব বা পরোক্ষ প্রমাণ (دليل الخطاب) ততক্ষণ পর্যন্ত প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হয় যতক্ষণ না এর চেয়ে শক্তিশালী কোনো প্রমাণ এর বিরোধিতা করে। আর আয়াতের শব্দ দ্বারা এটি প্রমাণিত যে, স্বাধীন ব্যক্তি যেমন একজন স্বাধীন নারীর সমতুল্য, তেমনি দাসের সমতুল্য হওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত ৪।
দশম: {তোমাদের কারও যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, যদি সে ধন-সম্পদ রেখে যায়, তবে অসিয়ত করা তোমাদের ওপর বিধিবদ্ধ করা হয়েছে} ৫। অনেক আলেম একে মিরাস বা উত্তরাধিকারের আয়াতের মাধ্যমে রহিত (نسخ) হওয়ার দিকে গিয়েছেন ৬। এবং বক্তব্যটি হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أحمد1 على ذلك فقال: الوصية للوالدين منسوخة.
الحادية عشرة: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ} 2 ذهب بعضهم إلى أن الإشارة إلى صفة الصوم وكان قد كتب على من قبلنا أنه إذا نام أحدهم في الليل لم يجز له الأكل إذا انتبه بالليل ولا الجماع3 فنسخ ذلك عنا بقوله {أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ} الآية4 والصحيح أن الإشارة إلى نفس الصوم والمعنى كتب على من قبلكم أن يصوموا وليست الإشارة إلى صفة الصوم ولا إلى عدده5 فالآية على هذا محكمة6.
الثانية عشرة: {وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ} 7 في هذا مضمر تقديره وعلى الذين يطيقونه ولا يصومونه فدية ثم نسخت بقوله {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ} 8.
--------------------------------------------
আহমদ১ এর ওপর ভিত্তি করে বলেছেন: পিতা-মাতার অনুকূলে অসিয়ত করার বিধানটি রহিত (منسوخة)।
একাদশ: {তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল} ২ তাদের কেউ কেউ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, ইশারাটি মূলত রোজার পদ্ধতির দিকে। আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর বিধান ছিল যে, রাতে তাদের কেউ ঘুমিয়ে পড়লে জাগ্রত হওয়ার পর আর পানাহার কিংবা স্ত্রী সহবাস৩ বৈধ ছিল না। অতঃপর আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে আমাদের জন্য সেই বিধানটি রহিত (نسخ) করা হয়েছে: {রোজার রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন হালাল করা হয়েছে} আয়াত ৪। আর সঠিক (الصحيح) মত হলো এই যে, ইশারাটি খোদ রোজার বিধানের দিকে এবং এর অর্থ হলো তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর রোজা রাখা ফরজ করা হয়েছিল। এখানে ইশারা রোজার ধরন বা সংখ্যা৫ কোনোটির দিকেই নয়। সুতরাং এই মতানুসারে আয়াতটি সুসংহত (محكمة) ৬।
দ্বাদশ: {এবং যারা রোজা রাখতে সক্ষম, তাদের ওপর ফিদইয়া আবশ্যক} ৭। এখানে একটি উহ্য (مضمر) শব্দ রয়েছে যার প্রাক্কলিত রূপ হলো: 'এবং যারা রোজা রাখতে সক্ষম অথচ রোজা রাখছে না, তাদের ওপর ফিদইয়া আবশ্যক'। এরপর এই বিধানটি আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে রহিত (نسخت) করা হয়েছে: {কাজেই তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে} ৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الثالثة عشرة: {وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلا تَعْتَدُوا} 1 قيل المنسوخ منها أولها لأنه اقتضى أَنَّ الْقِتَالَ إِنَّمَا يُبَاحُ فِي حَقِّ مَنْ قاتل من الكفار دون من لم يقاتل ثم نسخ بآية السيف وهذا القائل إنما أخذه من دليل الخطاب ودليل الخطاب إنما يكون حجة إذا لَمْ يُعَارِضْهُ دَلِيلٌ أَقْوَى مِنْهُ وَقَدْ عَارَضَهُ مَا هُوَ أَقْوَى مِنْهُ كَآيَةِ السَّيْفِ وَغَيْرِهَا وقال آخرون المنسوخ منها {وَلا تَعْتَدُوا} قالوا والمراد به ابتداء المشركين بالقتال في الشهر الحرام والحرم ثم نسخ بآية السيف وهذا بعيد والصحيح إحكام جميع الآية2.
الرابعة عشرة: {وَلا تُقَاتِلُوهُمْ عِنْدَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ حَتَّى يُقَاتِلُوكُمْ فِيهِ} 3 ذهب قوم إلى أن هذا منسوخ بآية السيف4 والصحيح أنه محكم وأنه لا يجوز أن يقال أحل5 في المسجد الحرام حتى يقاتلوا فإنما أحل القتال لرسول الله ساعة من نهار وكان ذلك تخصيصا له لا على وجه النسخ.
الخامسة عشرة {فَإِنِ انْتَهَوْا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} 6 قال بعضهم إن انتهوا عن الكفر فعلى هذا الآية محكمة وقال آخرون عن قتال المسلمين لا عن الكفر فتوجه النسخ بآية السيف7.
--------------------------------------------
তেরোতম: {এবং আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং সীমালঙ্ঘন করো না} ১। বলা হয়েছে যে, এর প্রথমাংশ রহিত (منسوخ), কারণ এটি দাবি করে যে যুদ্ধ কেবল সেই কাফিরদের ক্ষেত্রে বৈধ যারা যুদ্ধ করে, তাদের ক্ষেত্রে নয় যারা যুদ্ধ করে না। অতঃপর এটি 'তরবারির আয়াত' (আয়াতুস সাইফ) দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে। আর এই অভিমত ব্যক্তকারী তা 'দলিলুল খিতাব' (دليل الخطاب) থেকে গ্রহণ করেছেন; অথচ দলিলুল খিতাব কেবল তখনই প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হয় যখন তার বিপরীতে এর চেয়ে শক্তিশালী কোনো দলিল না থাকে। অথচ এখানে এর চেয়ে শক্তিশালী দলিল বিদ্যমান, যেমন 'তরবারির আয়াত' ও অন্যান্য আয়াত। অন্যরা বলেছেন, এর মধ্য থেকে রহিত (منسوخ) অংশ হলো {এবং সীমালঙ্ঘন করো না}। তারা বলেছেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিষিদ্ধ মাস ও হারাম এলাকায় মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা। পরবর্তীতে এটি 'তরবারির আয়াত' দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে। তবে এই মতটি দূরবর্তী এবং সঠিক (الصحيح) মত হলো যে সম্পূর্ণ আয়াতটিই সুপ্রতিষ্ঠিত (محكم)। ২
চৌদ্দতম: {এবং তোমরা মসজিদুল হারামের নিকট তাদের সাথে যুদ্ধ করো না যতক্ষণ না তারা সেখানে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে} ৩। একদল আলিমের মতে এটি 'তরবারির আয়াত' দ্বারা রহিত (منسوخ) ৪। আর সঠিক (الصحيح) মত হলো যে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত (محكم); এবং এটি বলা বৈধ নয় যে মসজিদুল হারামে যুদ্ধ বৈধ করা হয়েছে যতক্ষণ না তারা যুদ্ধ করে। কেননা রাসুলুল্লাহ-এর জন্য দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুদ্ধ বৈধ করা হয়েছিল এবং তা ছিল তাঁর জন্য বিশেষ বিধান (تخصيص), রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে নয়।
পনেরোতম: {অতঃপর যদি তারা নিবৃত্ত হয় তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু} ৬। কেউ কেউ বলেছেন, যদি তারা কুফরি থেকে নিবৃত্ত হয়, তবে সেই হিসেবে আয়াতটি সুপ্রতিষ্ঠিত (محكمة)। অন্যরা বলেছেন, [এর অর্থ] মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে নিবৃত্ত হওয়া, কুফরি থেকে নয়; ফলে এটি 'তরবারির আয়াত' দ্বারা রহিত (نسخ) হওয়ার অভিমুখ গ্রহণ করে ৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ২০)
السادسة عشرة: {يَسْأَلونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ قُلْ قِتَالٌ فِيهِ كَبِيرٌ} 1 نسخت الآية بآية السيف2.
السابعة عشرة: {يَسْأَلونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ3} قال جماعة تضمنت ذم الخمر لا تحريمها ثم نسخها {فَاجْتَنِبُوهُ} 4.
الثامنة عشرة: {وَيَسْأَلونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ5} قيل المراد بهذا الإنفاق الزكاة وقيل صدقة التطوع فالآية محكمة وزعم آخرون أنه إنفاق ما يفضل عن حاجة الإنسان وكان هذا واجبا فنسخ بالزكاة6.
التاسعة عشرة: {وَلا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ} 7 هذا اللفظ عام خص منه أهل الكتاب والتخصيص ليس بنسخ وقد غلط من سماه نسخا8. وكذلك العشرون وذلك قوله {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلاثَةَ قُرُوءٍ} 9 عام خص منه الحامل والآيس والصغير لا على وجه النسخ10.
--------------------------------------------
১৬শ বিষয়: {তারা আপনাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বলুন, তাতে যুদ্ধ করা এক বড় বিষয় (পাপ)} ১ এই আয়াতটি তলোয়ারের আয়াত (আয়াতুস সাইফ) দ্বারা রহিত (نسخت) হয়েছে ২।
১৭শ বিষয়: {তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বলুন, এ দুটিতে রয়েছে মহাপাপ} ৩ একদল আলিম বলেছেন, এটি মদের নিন্দা জ্ঞাপন করে কিন্তু তা হারাম হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে না। অতঃপর একে {সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো} ৪ আয়াত দ্বারা রহিত (نسخ) করা হয়েছে।
১৮শ বিষয়: {তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে তারা কী ব্যয় করবে; বলুন, যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত} ৫ বলা হয়েছে যে, এই ব্যয় করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যাকাত; আবার বলা হয়েছে যে, এটি নফল দান। সুতরাং আয়াতটি সুপ্রতিষ্ঠিত (محكمة)। অন্যরা ধারণা করেছেন যে, এটি মানুষের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ ব্যয় করা সংক্রান্ত এবং এটি একসময় ওয়াজিব ছিল, অতঃপর যাকাতের বিধান দ্বারা তা রহিত (نسخ) করা হয়েছে ৬।
১৯শ বিষয়: {আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিবাহ করো না যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে} ৭ এই শব্দগুলো ব্যাপক (عام), যা থেকে আহলে কিতাবদের নির্দিষ্ট (خص) করা হয়েছে। আর এই সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) কোনো রহিতকরণ (نسخ) নয়। যারা একে রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে অভিহিত করেছেন তারা ভুল করেছেন ৮। অনুরূপভাবে ২০তম বিষয়, যা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে} ৯ এটি ব্যাপক (عام), যা থেকে গর্ভবতী, ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কাদের নির্দিষ্ট (خص) করা হয়েছে; আর এটি রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে নয় ১০।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الحادية والعشرون: {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجاً وَصِيَّةً لِأَزْوَاجِهِمْ مَتَاعاً إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ} 1 قال المفسرون2 كانت الجاهلية تمكث زوجة المتوفي فِي بَيْتِهِ حَوْلا يُنْفَقُ عَلَيْهَا مِنْ مِيرَاثِهِ فأقرهم بهذه الآية على مكث الحول ثم نسخها {يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْراً} 3.
الثانية والعشرون: {لا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ} 4 اختلفوا فيه فقيل هو من العام المخصص خص منه أهل الكتاب فعلى هذا هو محكم وقيل نزلت قَبْلَ الأَمْرِ بِالْقِتَالِ ثُمَّ نُسِخَ بِآيَةِ السَّيْفِ5.
الثالثة والعشرون: {وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَو تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللَّهُ} 6 قيل نسخت بِقَوْلِهِ {لا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْساً إِلَّا وُسْعَهَا} 7 وقال ابن عباس8 نزلت في كتمان الشهادة وإقامتها وقال مجاهد في الشك واليقين فعلى هذا الأية محكمة ويؤكده9 أنه خبر10.
--------------------------------------------
একুশতম: {তোমাদের মধ্যে যারা মারা যায় এবং স্ত্রীদের রেখে যায়, তারা যেন তাদের স্ত্রীদের জন্য এক বছরের ব্যয়ভার ও গৃহ থেকে বহিস্কার না করার অসিয়ত করে।} 1 মুফাসসিরগণ (مفسرون) 2 বলেছেন, জাহেলি যুগে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী তার ঘরে এক বছর অবস্থান করত এবং তার মিরাস (উত্তরাধিকার) থেকে তার জন্য ব্যয় করা হতো। অতঃপর আল্লাহ এই আয়াতের মাধ্যমে তাদের এক বছর অবস্থান করার বিষয়টি বহাল রাখেন, পরবর্তীতে {তারা নিজেদের চার মাস দশ দিন প্রতীক্ষায় রাখবে} 3 এই আয়াত দ্বারা তা রহিত (نسخها) করা হয়েছে।
বাইশতম: {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।} 4 এ বিষয়ে আলিমগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন এটি এমন একটি সাধারণ (عام) হুকুম যা বিশেষায়িত (مخصص) করা হয়েছে এবং এর দ্বারা আহলে কিতাবকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে; এই মত অনুযায়ী এটি মুহকাম (محكم) বা সুদৃঢ়। আবার কেউ বলেছেন এটি যুদ্ধের নির্দেশের পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছিল, পরবর্তীতে তলোয়ারের আয়াত (আয়াতুস সাইফ) 5 দ্বারা তা রহিত (نسخ) করা হয়েছে।
তেইশতম: {তোমাদের মনে যা আছে তা যদি প্রকাশ করো কিংবা গোপন রাখো, আল্লাহ তোমাদের থেকে তার হিসাব নেবেন।} 6 বলা হয়েছে যে, এটি {আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতীত কোনো কাজের বোঝা চাপিয়ে দেন না} 7 এই বাণীর মাধ্যমে রহিত (نسخت) করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস 8 বলেছেন, এটি সাক্ষ্য গোপন করা এবং তা প্রদানের বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। মুজাহিদ বলেছেন, এটি সন্দেহ ও দৃঢ় বিশ্বাসের বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে; এই মত অনুযায়ী আয়াতটি মুহকাম (محكمة) বা অপরিবর্তিত এবং বিষয়টি একটি সংবাদ (خبر) 10 হওয়ার কারণে তা একে শক্তিশালী 9 করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ২২)
سورة آل عمرانألأولى 1: {وَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا عَلَيْكَ الْبَلاغُ} 2 قالوا هي منسوخة بآية السيف3. وبعضهم يقول إنها نزلت تسكينا لجأشه فإنه كان يزعم في الحرص على إيمانهم فقيل له4 إنما عليك البلاغ لا أن تشوق قلبهم إلى الصلاح فالآية على هذا محكمة.
الثانية: {إِلَّا أَنْ تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَاةً} 5 قيل الْمُرَادَ بِالْآيَةِ اتِّقَاءُ الْمُشْرِكِينَ أَنْ يُوقِعُوا فِتْنَةً أو ما يوجب القتل6 فالفرقة ثُمَّ نُسِخَ ذَلِكَ بِآيَةِ السَّيْفِ7 وَلَيْسَ هَذَا بشيء وإنما المراد جواز تقواهم إذا أكرهوا المؤمنين8 على الكفر بالقول الذي لا يعتقد وهذا الحكم باق غير منسوخ.
الثالثة: {اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ} 9 ذهب كثير من المفسرين10 إلى أنها نسخت بقوله {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} 11 والصحيح أنها
--------------------------------------------
সূরা আল ইমরানপ্রথম ১: {আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমার দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া} ২ তারা বলেন এটি তলোয়ারের আয়াত (آية السيف) দ্বারা রহিত (منسوخة) ৩। তাঁদের কেউ কেউ বলেন এটি তাঁর অন্তরকে শান্ত করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে, কেননা তিনি তাঁদের ঈমান গ্রহণের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, তখন তাঁকে বলা হলো ৪ যে আপনার দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া, তাঁদের অন্তরকে কল্যাণের পথে ধাবিত করা আপনার কাজ নয়। সুতরাং এই হিসেবে আয়াতটি সুপ্রতিষ্ঠিত (محكمة)।
দ্বিতীয়: {তবে যদি তোমরা তাদের থেকে আত্মরক্ষা করো} ৫ বলা হয়েছে আয়াতের উদ্দেশ্য হলো মুশরিকদের থেকে আত্মরক্ষা করা যাতে তারা ফিতনা সৃষ্টি না করে অথবা যা হত্যার ৬ কারণ হয়, ফলে বিচ্ছেদ ঘটে। অতঃপর এটি তলোয়ারের আয়াত (آية السيف) দ্বারা রহিত (نسخ) ৭ করা হয়েছে। কিন্তু এটি সঠিক নয়। বরং উদ্দেশ্য হলো তাদের থেকে আত্মরক্ষার বৈধতা যখন মুমিনদের ৮ কুফরি বাক্যের ওপর বাধ্য করা হয় যা সে বিশ্বাস করে না। আর এই বিধানটি বহাল আছে, রহিত (غير منسوخ) হয়নি।
তৃতীয়: {আল্লাহকে ভয় করো যেভাবে তাঁকে ভয় করা উচিত} ৯ অনেক মুফাসসির ১০ এই মত পোষণ করেছেন যে এটি তাঁর এই বাণী {অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যতটুকু তোমাদের সামর্থ্যে কুলায়} ১১ দ্বারা রহিত হয়েছে। আর বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো যে এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
محكمة وأن {مَا اسْتَطَعْتُمْ} بيان لحق1 تقاته فإن القوم ظنوا أن حق تقاته ما لا يطاق فزال الإشكال ولو قَالَ لا تَتَّقُوهُ حَقَّ تُقَاتِهِ كَانَ نَسْخًا2.
سورة النساءألأولى3: {وَمَنْ كَانَ فَقِيراً فَلْيَأْكُلْ بِالْمَعْرُوفِ} 4 روى عطاء الخراساني5 عن ابن عباس قال نسخها {إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْماً} 6 وهذا يقتضي قول ابي حنيفة7 لِأَنَّ الْمَشْهُورَ عَنْهُ أَنَّهُ لا يَجُوزُ لِلْوَصِيِّ الأخذ من مال اليتيم بحال8.
الثانية: {وَإِذَا حَضَرَ الْقِسْمَةَ أُولُو الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينُ فَارْزُقُوهُمْ مِنْهُ} 9 ذهب جماعة إلى إحكامها ثم اختلفوا في الأمر فأكثرهم على الاستحباب وهو الصحيح وبعضهم على الوجوب وقال آخرون نسختها آية الميراث10.
--------------------------------------------
এটি সুপ্রতিষ্ঠিত (محكمة) এবং {সাধ্যমতো} অংশটি যথাযথ তাকওয়ার ব্যাখ্যা১; কেননা কওম ধারণা করেছিল যে যথাযথ তাকওয়া পালন করা সাধ্যাতীত, ফলে অস্পষ্টতা দূর হয়ে গেল। আর যদি তিনি বলতেন, 'তোমরা যথাযথ তাকওয়া অবলম্বন করো না', তবে তা রহিতকরণ (نسخ)২ হতো।
সুরা আন-নিসাপ্রথমটি৩: {এবং যে ব্যক্তি দরিদ্র, সে যেন সংগত পরিমাণ ভোগ করে}৪ আতা আল-খুরাসানি৫ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, একে রহিত (نسخ) করেছে: {নিশ্চয়ই যারা ইয়াতীমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে}৬। এটি আবু হানিফার৭ মতের অনুগামী, কারণ তাঁর থেকে প্রসিদ্ধ (مشهور) মত হলো যে, কোনো অবস্থাতেই অভিভাবকের জন্য ইয়াতীমের সম্পদ থেকে গ্রহণ করা জায়েজ নেই৮।
দ্বিতীয়টি: {আর যখন বণ্টনের সময় নিকটাত্মীয়, ইয়াতীম ও অভাবগ্রস্তরা উপস্থিত হয়, তখন তোমরা তাদেরকে তা থেকে কিছু প্রদান করো}৯ একদল উলামা এটিকে সুপ্রতিষ্ঠিত (محكمة) মনে করেছেন, অতঃপর তাঁরা এই নির্দেশের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। তাঁদের অধিকাংশের মতে এটি মুস্তাহাব (استحباب), আর এটিই সঠিক (صحيح); আবার কেউ কেউ একে ওয়াজিব (وجوب) বলেছেন। অন্যরা বলেছেন, মিরাসের আয়াত একে রহিত (نسخ) করে দিয়েছে১০।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الثالثة والرابعة: {وَاللَّاتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نِسَائِكُمْ} 1 وقوله {وَالَّذَانِ يَأْتِيَانِهَا مِنْكُمْ} 2 فالأولى دلت على أن حد الزانية في ابتداء الْإِسْلامِ الْحَبْسَ إِلَى أَنْ تَمُوتَ أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ لَهَا سَبِيلا وَهُوَ عَامٌّ فِي الْبِكْرِ والثيب والثانية أفضت أَنَّ حَدَّ الزَّانِيَيْنِ الأَذَى فَظَهَرَ مِنَ الآيَتَيْنِ أَنَّ حَدَّ الْمَرْأَةِ كَانَ الْحَبْسَ وَالأَذَى جَمِيعًا وحد الرجل كان الأذى فقط ونسخ الحكمان بقوله {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي3 فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ} 4.
الخامسة: {وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ} 5 كان الرجل في الجاهلية يعاقد الرجل على أن يتوارثا ويتناصرا ويتعاقلا6 في الجناية فجاءت هذه الآية فقررت ذلك ثم نسخت بالمواريث وهذا قول عامة العلماء وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ هَذَا الْحُكْمُ لَيْسَ بِمَنْسُوخٍ إلا أنه جعل ذوي الأرحام أولى من المعاقدة فإذا فقد ذوو الأرحام فالعاقد أحق من بيت المال7.
السادسة: {لا تَقْرَبُوا الصَّلاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى} 8 قَالَ الْمُفَسِّرُونَ هَذِهِ الآيَةُ اقْتَضَتْ إِبَاحَةَ السُّكْرِ فِي غَيْرِ أَوْقَاتِ الصَّلاةِ ثُمَّ نُسِخَ ذَلِكَ بقوله9 {فَاجْتَنِبُوهُ} 10.
--------------------------------------------
তৃতীয় ও চতুর্থ (বিষয়): {তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে...} ১ এবং তাঁর বাণী {তোমাদের মধ্য থেকে যে দুজন তাতে লিপ্ত হয়...} ২। প্রথম আয়াতটি নির্দেশ করে যে, ইসলামের প্রারম্ভে ব্যভিচারিণীর শাস্তি (حد) ছিল আমৃত্যু কারারুদ্ধ করে রাখা অথবা যতক্ষণ না আল্লাহ তার জন্য অন্য কোনো পথ নির্দিষ্ট করেন। এটি কুমারী ও অ-কুমারী (বিবাহিতা) উভয়ের জন্য সাধারণ (عام) বিধান ছিল। দ্বিতীয় আয়াতটি দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ব্যভিচারী যুগলের শাস্তি (حد) ছিল লাঞ্ছনা (الأذى)। সুতরাং এই দুই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে, নারীর শাস্তি (حد) ছিল বন্দিত্ব ও লাঞ্ছনা উভয়ই, আর পুরুষের শাস্তি (حد) ছিল কেবল লাঞ্ছনা। পরবর্তীতে উভয় বিধান তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে রহিত (نسخ) করা হয়েছে: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, তাদের প্রত্যেককে একশত করে বেত্রাঘাত করো} ৪।
পঞ্চম (বিষয়): {যাদের সাথে তোমাদের ডান হাত অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছে} ৫। জাহেলিয়াতের যুগে একজন লোক অন্য একজনের সাথে এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হতো যে, তারা একে অপরের ওয়ারিশ হবে, পরস্পরকে সাহায্য করবে এবং অপরাধের ক্ষেত্রে রক্তপণ আদায় করবে ৬। এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়ে সেই প্রথাকে বহাল রাখে, অতঃপর মিরাস বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধান দ্বারা তা রহিত (نسخ) করা হয়। এটিই সাধারণ আলেমগণের মত। তবে ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: এই বিধানটি রহিত (منسوخ) নয়, বরং তিনি চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তির তুলনায় নিকটাত্মীয়দের (ذوي الأرحام) অগ্রাধিকার দিয়েছেন; সুতরাং যদি কোনো নিকটাত্মীয় না থাকে, তবে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় কোষাগার বা বাইতুল মাল এর চেয়ে বেশি হকদার হবে ৭।
ষষ্ঠ (বিষয়): {নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হয়োনা} ৮। মুফাসসিরগণ বলেন, এই আয়াতটি সালাতের সময় ব্যতীত অন্য সময়ে নেশাগ্রস্ত থাকাকে বৈধতা দিয়েছিল, পরবর্তীতে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তা রহিত (نسخ) করা হয়েছে ৯: {অতএব তোমরা তা বর্জন করো} ১০।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
السابعة: {فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَعِظْهُمْ} 1 قال المفسرون فيه تقديم وتأخير تقديره فعظمهم فإن امتنعوا من الإجابة فأعرض عنهم وهذا قَبْلَ الأَمْرِ بِالْقِتَالِ ثُمَّ نُسِخَ بِآيَةِ السَّيْفِ2.
الثامنة: {وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظاً} 3 زعم قوم انها نسخت بآية السيف4 وليس بصحيح لأن ابن عباس قال في تفسيرها ما أرسلناك عليهم رقيبا تؤخذ بهم فعلى هذا لا نسخ.
التاسعة: {فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ} 5 قَالَ الْمُفَسِّرُونَ مَعْنَى الْكَلامِ أَعْرِضْ عَنْ عُقُوبَتِهِمْ ثم نسخ هذا الإعراض بآية السيف6.
العاشرة: {إِلَّا الَّذِينَ يَصِلُونَ7 إِلَى قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ مِيثَاقٌ} 8 المراد يصلون9 يدخلون في عهد قوم بينكم وبينهم ميثاق كدخول خزاعه في عهد رسول الله ثم نسخ ذلك بآية السيف10.
--------------------------------------------
সপ্তম: {অতএব আপনি তাদের উপেক্ষা করুন এবং তাদেরকে নসিহত করুন}। মুফাসসিরগণ বলেন, এখানে অগ্র-পশ্চাৎ করার অবকাশ রয়েছে, যার মর্মার্থ হলো: আপনি তাদের উপদেশ প্রদান করুন, এরপর যদি তারা সাড়া দিতে অস্বীকার করে তবে তাদের উপেক্ষা করুন। এটি যুদ্ধের নির্দেশের পূর্বের বিষয়, যা পরবর্তীতে 'তলোয়ারের আয়াত' দ্বারা রহিত (نسخ) করা হয়েছে।
অষ্টম: {আর যে বিমুখ হবে, আমি আপনাকে তাদের ওপর রক্ষক হিসেবে পাঠাইনি}। একদল দাবি করেছেন যে, এটি 'তলোয়ারের আয়াত' দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে। তবে এটি সঠিক (صحيح) নয়; কারণ ইবনে আব্বাস এই আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে বলেছেন যে, "আমি আপনাকে তাদের ওপর প্রহরী হিসেবে পাঠাইনি যে আপনি তাদের কারণে পাকড়াও হবেন"। সুতরাং এই মতানুসারে এখানে কোনো রহিতকরণ (نسخ) ঘটেনি।
নবম: {অতএব আপনি তাদের উপেক্ষা করুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করুন}। মুফাসসিরগণ বলেন, এই কথার অর্থ হলো—তাদের শাস্তি প্রদান থেকে বিরত থাকুন। পরবর্তীতে এই উপেক্ষা করার বিষয়টি 'তলোয়ারের আয়াত' দ্বারা রহিত (نسخ) করা হয়েছে।
দশম: {তবে তারা ব্যতীত যারা এমন সম্প্রদায়ের সাথে মিলিত হয় যাদের সাথে তোমাদের চুক্তি রয়েছে}। এখানে 'মিলিত হওয়া' বলতে উদ্দেশ্য হলো—এমন সম্প্রদায়ের চুক্তিতে প্রবেশ করা যাদের সাথে তোমাদের অঙ্গীকার রয়েছে, যেমন রাসুলুল্লাহর চুক্তিতে খুযাআ গোত্রের প্রবেশ। পরবর্তীতে এটি 'তলোয়ারের আয়াত' দ্বারা রহিত (نسخ) করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الحادية عشرة: {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِناً مُتَعَمِّداً فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ} 1 ذهب الأكثرون إلى أنها منسوخة بقوله {وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} 2 وقال قوم هي محكمة ولهم في طريق إحكامها قولان أحدهما أن قاتل المؤمن مخلد في النار وأكدها هنا3 بأنها خبر والثاني أَنَّهَا عَامَّةٌ دَخَلَهَا التَّخْصِيصُ بِدَلِيلِ أَنَّهُ لَوْ قتله كافر ثم أسلم سَقَطَتْ عَنْهُ الْعُقُوبَةُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةُ فَإِذَا4 ثَبَتَ كَوْنُهَا مِنَ الْعَامِّ5 الْمُخَصَّصِ فَأَيُّ دَلِيلٍ صَلُحَ لِلتَّخْصِيصِ وَجَبَ الْعَمَلُ بِهِ وَمِنْ أَسْبَابِ التخصيص6 أن يكون قتله7 مستحلا لأجل إيمانه فاستحق التخليد لاستحلاله وذهب قَوْمٌ إِلَى أَنَّهَا مَخْصُوصَةٌ فِي حَقِّ مَنْ لم يتب وقيل فجزاؤه جهنم إن جازاه وفيه بعد لقوله {وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ} 8.
سورة المائدةالأولى 9: {لا تُحِلُّوا شَعَائِرَ اللَّهِ} 10 ذهب بعضهم إلى إحكامها11 وقال12 لا يَجُوزُ اسْتِحْلالُ الشَّعَائِرِ وَلا الْهَدْيِ قَبْلَ أَوَانِ
--------------------------------------------
একাদশ (আলোচনা): {আর যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে, তার প্রতিদান হলো জাহান্নাম}১। অধিকাংশ আলেম মনে করেন যে, এটি তাঁর বাণী: {এবং তিনি এটি ছাড়া অন্য যা কিছু যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন}২-এর মাধ্যমে রহিত (منسوخ) হয়েছে। এবং একদল বলেছেন এটি সুপ্রতিষ্ঠিত (محكم), এবং এর সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাঁদের দুটি অভিমত রয়েছে। প্রথমটি হলো, মুমিনের হত্যাকারী জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে, এবং তিনি এখানে এটিকে 'সংবাদ' (خبر) হিসেবে বর্ণনা করে তা সুনিশ্চিত করেছেন। দ্বিতীয়টি হলো, এটি একটি সাধারণ (عام) বিধান যাতে বিশেষত্ব (تخصيص) প্রবেশ করেছে। এর প্রমাণ হলো, যদি কোনো কাফের কোনো মুমিনকে হত্যা করে এবং পরে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে দুনিয়া ও আখিরাতে তার ওপর থেকে শাস্তি রহিত হয়ে যায়। সুতরাং যখন এটি বিশেষিত সাধারণ (العام المخصص) হওয়া সাব্যস্ত হলো, তখন যে দলিলই বিশেষায়নের (تخصيص) যোগ্য হবে, সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হবে। বিশেষায়নের একটি কারণ হলো, সে তাঁর ঈমানের কারণে তাকে হত্যা করাকে হালাল মনে করেছে, তাই সে তাঁর সেই হালাল মনে করার কারণে চিরস্থায়ী শাস্তির উপযুক্ত হয়েছে। একদল মনে করেন এটি ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট (مخصوص) যে তওবা করেনি। আবার বলা হয়েছে, তার প্রতিদান জাহান্নাম ‘যদি আল্লাহ তাকে প্রতিদান দেন’; তবে এই মতটি দূরবর্তী (بعيد), কারণ আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হয়েছেন এবং তাকে লানত করেছেন}৮।
সূরা আল-মায়িদাহপ্রথম (আলোচনা) ৯: {তোমরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অবমাননা করো না} ১০। কেউ কেউ এটিকে সুপ্রতিষ্ঠিত (محكم) মনে করেছেন এবং বলেছেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে আল্লাহর নিদর্শনসমূহ এবং কুরবানির পশুর অবমাননা করা জায়েজ নয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ذبحه. وقال1 آخرون: كَانَتِ الْجَاهِلِيَّةُ تُقَلِّدُ مِنْ شَجَرِ الْحَرَمِ فَقِيلَ لا تَسْتَحِلُّوا أَخْذَ الْقَلائِدِ مِنَ الْحَرَمِ وَلا تصدوا القاصدين إلى البيت وذهب آخرون إلى أنها منسوخة ولهم في المنسوخ ثلاثة أقوال أحدها ولا آمين البيت الحرام فنسخ في المشركين بِقَوْلِهِ {فَلا يَقْرَبُوا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَذَا} 2. والثاني الآية3 تحرم الشهر الحرام والآمين إذا كانوا مشركين وهدي المشركين ولم يكن لهم أمان والثالث أن جميعها منسوخ هكذا أطلقه جماعة وليس بصحيح4 فإن قوله {وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا وَلا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ أَنْ صَدُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَنْ تَعْتَدُوا5 وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى} إلى آخرها فلا وجه لنسخه6.
الثانية: {وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حِلٌّ لَكُمْ7} . فيها ثلاثة أقوال إحداها أَنَّهَا اقْتَضَتْ إِبَاحَةَ ذَبَائِحِ أَهْلِ الْكِتَابِ عَلَى الإطلاق وإن علمنا أنهم أهلوا عليها بغير اسم الله وأشركوا به غيره هذا قول الشعبي8 وآخرين والثاني أن ذلك كان9 مباحا في أول الإسلام ثم نسخ بقوله {وَلا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ} 10. والثالث:
--------------------------------------------
তার জবেহ করা। এবং অন্যান্য১রা বলেছেন: জাহেলী যুগে তারা হারামের বৃক্ষ থেকে কণ্ঠহার (মালা) পরিধান করত, তখন বলা হয়েছিল যে, হারাম থেকে প্রাপ্ত কণ্ঠহার গ্রহণ করাকে তোমরা বৈধ মনে করো না এবং বায়তুল্লাহর অভিমুখীদের বাধা প্রদান করো না। অন্যরা এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি রহিত (منسوخة), এবং রহিতকরণ (المنسوخ) সম্পর্কে তাদের তিনটি মত রয়েছে। তার একটি হলো: "এবং পবিত্র ঘরের অভিমুখীদের (বাধা দিও না)", যা মুশরিকদের ক্ষেত্রে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে রহিত (نسخ) হয়েছে: "সুতরাং এই বছরের পর তারা যেন মসজিদুল হারামের নিকটবর্তী না হয়"২। দ্বিতীয় মতটি হলো: আয়াত৩টি পবিত্র মাস এবং বায়তুল্লাহর অভিমুখীদের নিষিদ্ধ করে যদি তারা মুশরিক হয় এবং মুশরিকদের উৎসর্গকৃত পশু বা হাদয়কেও, আর তাদের জন্য কোনো নিরাপত্তা ছিল না। তৃতীয়টি হলো: এর সমস্ত কিছুই রহিত (منسوخ); একদল আলিম এভাবেই নিঃশর্তভাবে এটি উল্লেখ করেছেন, তবে তা সঠিক (صحيح)৪ নয়। কেননা তাঁর বাণী: "এবং যখন তোমরা ইহরামমুক্ত হবে, তখন শিকার করো এবং কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতা—যেহেতু তারা তোমাদের মসজিদুল হারাম থেকে বাধা দিয়েছিল—যেন তোমাদেরকে সীমালঙ্ঘনে৫ প্ররোচিত না করে; এবং তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো" শেষ পর্যন্ত, এটি রহিত (نسخه)৬ করার কোনো কারণ নেই।
দ্বিতীয়ত: "যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের খাদ্য তোমাদের জন্য বৈধ"৭। এতে তিনটি মত রয়েছে। প্রথমটি হলো: এটি আহলে কিতাবদের জবেহকৃত পশুর বৈধতা (إباحة) দাবি করে নিঃশর্তভাবে, যদিও আমরা জানি যে তারা আল্লাহর নাম ব্যতিরেকে অন্যের নামে জবেহ করেছে এবং তাঁর সাথে অন্যকে শরিক করেছে; এটি শাবি৮ এবং অন্যান্যদের মত। দ্বিতীয়টি হলো: এটি ইসলামের প্রাথমিক যুগে বৈধ (مباحا)৯ ছিল, অতঃপর তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে রহিত (نسخ)১০ হয়েছে: "আর তোমরা তা থেকে আহার করো না যার ওপর আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয়নি।" এবং তৃতীয়টি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
إنما أبيحت ذبائحهم لأن الأصل أنهم يذكرون اسم الله1 فمتى علم أنهم قد ذكروا غير اسم الله لم يؤكل فعلى هذا الآية محكمة2.
الثالثة: {فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاصْفَحْ} 3 الأكثرون على نسخها بآية السيف4 وقال ابن جرير5 يجوز أن يعفو6 عنهم في غدرة7 فعلوها ما لم يصيبوا8 حربا ولم يمتنعوا من أداء الجزية فلا يتوجه النسخ9.
الرابعة: {فَإِنْ جَاءُوكَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ} 10 اقتضت تخيره11 بين الحكم وتركه ثم قيل وهل هذا التخيير ثابت أم نسخ فيه قولان أحدهما12 في الحكم أنه نسخ بقوله {وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ} 13 وهذا مذهب ابن عباس وعطاء وعكرمة14.
--------------------------------------------
তাদের জবেহকৃত পশু কেবল এই কারণেই হালাল করা হয়েছে যে, মূল বিধান হলো তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করে ১। সুতরাং যখন জানা যাবে যে তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারণ করেছে, তখন তা ভক্ষণ করা যাবে না। অতএব, এই ভিত্তি অনুযায়ী আয়াতটি সুপ্রতিষ্ঠিত (محكمة) ২।
তৃতীয় বিষয়: {সুতরাং আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তাদের উপেক্ষা করুন} ৩। অধিকাংশ আলেম এটি তরবারির আয়াত ৪ দ্বারা রহিত (نسخ) হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ইবনে জারীর ৫ বলেন, তারা যে বিশ্বাসঘাতকতা ৭ করেছে ৬ তার জন্য তাদের ক্ষমা করা জায়েজ হতে পারে যতক্ষণ না তারা যুদ্ধে লিপ্ত ৮ হয় এবং জিজিয়া প্রদানে অস্বীকৃতি না জানায়, সেক্ষেত্রে রহিতকরণ (النسخ) ৯ প্রযোজ্য হবে না।
চতুর্থ বিষয়: {সুতরাং যদি তারা আপনার নিকট আসে তবে আপনি তাদের মধ্যে বিচার করুন অথবা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন} ১০। এটি তাদের বিচার করা বা না করার ব্যাপারে তাঁর ইচ্ছাধিকারকে ১১ দাবি করে। এরপর বলা হয়েছে যে, এই ইচ্ছাধিকার কি বলবৎ আছে নাকি রহিত (نسخ) হয়েছে - এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। বিচারের ক্ষেত্রে একটি মত ১২ হলো যে, এটি আল্লাহর এই বাণী ১৩ দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে: {এবং আপনি তাদের মধ্যে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা দ্বারা বিচার করুন}। আর এটি ইবনে আব্বাস, আতা এবং ইকরিমার ১৪ মাজহাব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والسدى1. والثاني أنه ثابت لم ينسخ وأن الإمام ونوابه مخيرون إذا ترافعوا2 اليهم إن شاءوا حكموا وإن شاءوا أعرضوا فإن حكموا حكموا بالصواب3.
الخامسة: {مَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلاغُ} 4 قيل هي محكمة والمراد ما عليه إلا البلاغ لاالهدى وقيل أَنَّهَا تَتَضَمَّنُ الاقْتِصَارَ عَلَى التَّبْلِيغِ دُونَ الأَمْرِ بِالْقِتَالِ ثُمَّ نُسِخَتْ بِآيَةِ السَّيْفِ وَالأَوَّلُ أَصَّحُ5.
السادسة: {عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} 6.
فيها قولان أحدهما أنها تضمنت الأمر بكف الأيدي عن قتال الضالين فنسخت بآية السيف7 والثاني أنها محكمة لأنها لا تمنع من قتال المشركين فهو الصحيح8.
السابعة: {شَهَادَةُ9 بَيْنِكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ حِينَ الْوَصِيَّةِ اثْنَانِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ أَوْ آخَرَانِ10 مِنْ غَيْرِكُمْ} الإشارة بهذا إلى الشاهدين اللذين شهدا على الموصي في السفر وفي قوله {أَوْ آخَرَانِ مِنْ غَيْرِكُمْ} 11 قولان: أحدهما: من غير عشيرتكم وهم مسلمون أيضا فعلى
--------------------------------------------
এবং সুদ্দী১। দ্বিতীয় মতটি হলো, এটি সুসাব্যস্ত (ثابت) এবং রহিত (منسوخ) হয়নি; আর যখন ইমাম এবং তাঁর প্রতিনিধিদের নিকট বিচার প্রার্থনা২ করা হয় তখন তাঁরা ইখতিয়ারপ্রাপ্ত থাকেন—তাঁরা চাইলে ফয়সালা দেবেন অথবা এড়িয়ে যাবেন। তবে যদি তাঁরা ফয়সালা দেন, তবে যেন তা সঠিক৩ পন্থায় দেন।
পঞ্চম: {রাসূলের দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া} ৪। বলা হয়েছে এটি সুদৃঢ় (محكم) এবং এর অর্থ হলো তাঁর দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া, হেদায়াত বা পথপ্রদর্শন করা নয়। আরও বলা হয়েছে যে, এতে যুদ্ধের আদেশ ব্যতিরেকে কেবল প্রচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল, অতঃপর তা তলোয়ারের আয়াত (আয়াতুস সাইফ) দ্বারা রহিত (نسخت) হয়ে যায়। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) ৫।
ষষ্ঠ: {তোমরা তোমাদের নিজেদের চিন্তা করো। তোমরা যখন সৎপথে পরিচালিত হও, তখন যে ব্যক্তি পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না} ৬।
এই বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে—প্রথমটি হলো: এটি পথভ্রষ্টদের সাথে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকার আদেশ অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে এটি তলোয়ারের আয়াত দ্বারা রহিত (نسخت) হয়ে গেছে৭। দ্বিতীয়টি হলো: এটি সুদৃঢ় (محكم), কেননা এটি মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করতে বাধা দেয় না; আর এটিই বিশুদ্ধ (الصحيح) ৮।
সপ্তম: {তোমাদের মধ্যকার কারো যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন অসিয়ত করার সময় তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি সাক্ষী হবে৯, অথবা তোমাদের ছাড়া অন্যদের মধ্য থেকে দুইজন১০ অন্য লোক}। এখানে সেই দুইজন সাক্ষীর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যারা সফর অবস্থায় অসিয়তকারীর পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে। আর মহান আল্লাহর বাণী {অথবা তোমাদের ছাড়া অন্যদের মধ্য থেকে দুইজন} ১১ সম্পর্কে দুটি অভিমত রয়েছে: একটি হলো: তোমাদের বংশের বাইরের লোক, তবে তারাও মুসলিম। ফলে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
هذا الآية محكمة والثاني من غير ملتكم وهل هذا الحكم باق عندنا إنه باق1 لم ينسخ وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ الْمُسَيَّبِ2 وَابْنِ جبير3 وابن سيرين4 والشعبي والثوري5 والثاني أنه منسوخ بقوله {وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ} 6 وإليه مال أبو حنيفة ومالك7 والشافعي8 ونحن نقول هذا موضع ضرورة فجاز فيه ما لا يجوز في غيره لقبول الشهادة من النساء بالنفاس والحيض والاستهلال9.
سورة [الأنعام]الأولى: {إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ} 10
--------------------------------------------
এই আয়াতটি সুপ্রতিষ্ঠিত (محكمة) এবং দ্বিতীয় বিষয়টি তোমাদের ধর্মাদর্শ বহির্ভূতদের সম্পর্কে। এই বিধানটি কি আমাদের মাঝে বলবৎ রয়েছে? এটি বলবৎ রয়েছে, রহিত (منسوخ) করা হয়নি। এটিই ইবনে আব্বাস, ইবনুল মুসাইয়িব, ইবনে জুবায়ের, ইবনে সিরিন, শাউবি ও সাওরির অভিমত। দ্বিতীয় মতটি হলো, এটি আল্লাহর বাণী—"তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখো"—এর মাধ্যমে রহিত (منسوخ) করা হয়েছে। ইমাম আবু হানিফা, মালিক ও শাফিঈ এই মতের প্রতি ঝুঁকেছেন। আমরা বলি, এটি একটি জরুরি অবস্থার ক্ষেত্র, তাই এতে এমন কিছু বৈধ যা অন্যান্য ক্ষেত্রে বৈধ নয়; যেমন নেফাস, ঋতুস্রাব ও নবজাতকের কান্নার (জীবিত ভূমিষ্ঠ হওয়ার প্রমাণ) বিষয়ে নারীদের সাক্ষ্য গ্রহণ।
সূরা [আল-আনআম]প্রথমাংশ: {নিশ্চয় আমি ভয় করি, যদি আমি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে এক মহাদিবসের আজাবের}১০
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
زعم بعضهم أَنَّهُ كَانَ يَجِبُ1 عَلَى النَّبِيِّ "صَلَّى اللَّهُ عليه وسلم2" خوف عواقب الذنوب ثم نسخ بِقَوْلِهِ {لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ} 3 الظاهر من هذه المعاصي الشرك لأنها جاءت عقب {وَلا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} 4 فإذا قدرنا بالعفو من ذَنْبٍ إِذَا كَانَ لَمْ تُقَدَّرُ الْمُسَامَحَةُ فِي شِرْكٍ لَوْ تَصَوَّرَ إِلا أَنَّهُ لَمَّا لَمْ يجزه5 فِي حَقِّهِ بَقِيَ ذِكْرُهُ عَلَى سَبِيلِ التَّهْدِيدِ وَالتَّخْوِيفِ مِنْ عَاقِبَتِهِ كَقَوْلِهِ {لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ} 6 فعلى هذا الآية محكمة وتوكيده أنها خبرية والأخبار لا تنسخ7.
الثانية: {قُلْ لَسْتُ عَلَيْكُمْ بِوَكِيلٍ} 8 فيه قولان أحدهما أَنَّهُ اقْتَضَى الاقْتِصَارَ فِي حَقِّهِمْ عَلَى الإِنْذَارِ مِنْ غَيْرِ زِيَادَةٍ ثُمَّ نُسِخَ بِآيَةِ السَّيْفِ والثاني أن معناه لست عليكم حفيظا إنما أطالبكم بِالظَّوَاهِرِ مِنَ الْإِقْرَارِ وَالْعَمَلِ لا بِالأَسْرَارِ فَعَلَى هذا هو9 محكم وهو الصحيح وتوكيده10 أنه خبر.
الثالثة {وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ} 11.
--------------------------------------------
কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য গুনাহের পরিণতির ভয় থাকা আবশ্যক ছিল, অতঃপর তা আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে রহিত (نسخ) করা হয়েছে: {যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যৎ গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন}। এই সকল অবাধ্যতার বাহ্যিক রূপ হলো শিরক, যেহেতু এটি {এবং আপনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না}—এই আয়াতের পরে এসেছে। সুতরাং আমরা যদি কোনো গুনাহের ক্ষেত্রে ক্ষমা ও মার্জনা বিবেচনা করি, তবে শিরকের ক্ষেত্রে মার্জনা কল্পনা করা যায় না; তবে যেহেতু তাঁর (নবী) ক্ষেত্রে তা ঘটা অসম্ভব, তাই এর উল্লেখ কেবল পরিণতির ভয় প্রদর্শন ও সতর্কীকরণের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, যেমন তাঁর বাণী: {যদি আপনি শিরক করেন, তবে আপনার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যাবে}। এই বিচারে আয়াতটি সুষ্পষ্ট (محكم) এবং এর বলিষ্ঠতার কারণ হলো এটি একটি সংবাদমূলক বাক্য (خبرية), আর সংবাদসমূহ কখনো রহিত (نسخ) হয় না।
দ্বিতীয়: {বলুন, আমি তোমাদের কর্মবিধায়ক নই}। এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। প্রথমটি হলো, এটি তাদের ক্ষেত্রে কেবল সতর্কীকরণের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার দাবি রাখে, যা পরবর্তীকালে তলোয়ারের আয়াত (آية السيف) দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো, এর অর্থ—আমি তোমাদের ওপর হিফাযতকারী নই; আমি কেবল তোমাদের নিকট থেকে মৌখিক স্বীকৃতি ও বাহ্যিক আমল দাবি করব, গোপন বিষয়সমূহ নয়। এই মত অনুযায়ী আয়াতটি সুষ্পষ্ট (محكم) এবং এটিই সঠিক। এর বলিষ্ঠতার কারণ হলো এটি একটি সংবাদ (خبر)।
তৃতীয়: {এবং আপনি যখন তাদেরকে দেখেন যারা আমাদের আয়াতসমূহ নিয়ে উপহাসে লিপ্ত হয়, তখন আপনি তাদের থেকে বিমুখ থাকুন}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الْمُرَادُ بِهَذَا الْخَوْضِ الْخَوْضُ1 بِالتَّكْذِيبِ2 وَيُشْبِهُ أَنْ يكون الإعراض منسوخا بآية السيف3.
الرابعة: {وَذَرِ الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَهُمْ لَعِباً وَلَهْواً} 4 فيه قولان أحدهما اقْتَضَى الْمُسَامَحَةَ لَهُمْ وَالإِعْرَاضَ عَنْهُمْ ثُمَّ نُسِخَ بآية السيف والثاني أنه خرج مخرج التهديد كقوله {ذَرْنِي وَمَنْ خَلَقْتُ وَحِيداً} 5 فعلى هذا هو6 محكم وهو الصحيح7..
الخامسة: {قُلِ اللَّهُ ثُمَّ ذَرْهُمْ} 8 فيه قولان أحدهما أنه أمر بِالْإِعْرَاضِ عَنْهُمْ ثُمَّ نُسِخَ بِآيَةِ السَّيْفِ وَالثَّانِي أنه تهديد فهو محكم وهو الصحيح9.
السادسة: {فَمَنْ أَبْصَرَ فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ عَمِيَ فَعَلَيْهَا وَمَا أَنَا عَلَيْكُمْ بِحَفِيظٍ} 10 قيل تضمنت ترك قتال المشركين ثم نسخ بآية السيف11 وقيل المعنى لست رقيبا عليكم أحصي أعمالكم فعلى هذا هي محكمة.
السابعة: {وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ} 12 قال ابن عباس: نسختها
--------------------------------------------
এই অনর্থক আলোচনায় লিপ্ত হওয়ার অর্থ হলো মিথ্যারোপের (التكذيب) মাধ্যমে লিপ্ত হওয়া। ধারণা করা হয় যে, বিমুখতা প্রদর্শনের বিষয়টি তলোয়ারের আয়াত (আয়াতুস সাইফ) দ্বারা রহিত (منسوخ) হয়েছে।
চতুর্থ: {আর তাদের বর্জন করুন যারা নিজেদের দীনকে ক্রীড়া ও কৌতুক হিসেবে গ্রহণ করেছে} এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে; প্রথমটি হলো এটি তাদের প্রতি সহনশীলতা ও বিমুখতা প্রদর্শনের দাবি রাখে, অতঃপর তলোয়ারের আয়াত দ্বারা এটি রহিত (نسخ) হয়। দ্বিতীয়টি হলো এটি ধমক প্রদানের অর্থে অবতীর্ণ হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আমাকে ও তাকে ছেড়ে দিন যাকে আমি একা সৃষ্টি করেছি}। এই মতানুসারে আয়াতটি সুদৃঢ় বা অপরিবর্তিত (محكم) এবং এটিই সঠিক (صحيح)।
পঞ্চম: {বলুন, "আল্লাহ", অতঃপর তাদের ছেড়ে দিন} এতে দুটি অভিমত রয়েছে; প্রথমটি হলো এতে তাদের থেকে বিমুখ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর তলোয়ারের আয়াত দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো এটি একটি ধমক, সুতরাং এটি সুদৃঢ় বা অপরিবর্তিত (محكم) এবং এটিই সঠিক (صحيح)।
ষষ্ঠ: {অতঃপর যে প্রত্যক্ষ করবে সে তার নিজের লাভের জন্যই তা করবে, আর যে অন্ধ সাজবে তার দায়ভার তার উপরেই বর্তাবে; এবং আমি তোমাদের উপর কোনো হিফাজতকারী নই} বলা হয়েছে যে, এর মধ্যে মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ বর্জন করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল, অতঃপর তলোয়ারের আয়াত দ্বারা রহিত (نسخ) করা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো— আমি তোমাদের উপর এমন কোনো তত্ত্বাবধায়ক নই যে তোমাদের আমলসমূহ গণনা করব; এই দৃষ্টিকোণ থেকে আয়াতটি সুদৃঢ় বা অপরিবর্তিত (محكمة)।
সপ্তম: {এবং মুশরিকদের থেকে বিমুখতা অবলম্বন করুন} ইবনে আব্বাস বলেন: এটি রহিত (نسختها) হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
آية السيف1.
الثامنة: {مَا جَعَلْنَاكَ2 عَلَيْهِمْ حَفِيظاً} 3 قال ابن عباس نسخت بِآيَةِ السَّيْفِ4 وَعَلَى مَا ذَكَرْنَا فِي نَظَائِرِهَا تكون محكمة.
التاسعة: {فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ} 5 إن قلنا هذا تهديد فهو محكم وإن قلنا أمر بترك قتالهم فمنسوخ بآية السيف6.
العاشرة: {وَلا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ} 7 ذهب جماعة منهم الحسن8 وعكرمة9 إلى نسخها بِقَوْلِهِ {وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حِلٌّ لَكُمْ} 10 وَهَذَا غَلَطٌ لِأَنَّهُمْ إِنْ أَرَادُوا النَّسْخَ حَقِيقَةً فليس نسخا وَإِنْ أَرَادُوا التَّخْصِيصَ وَأَنَّهُ11 خُصَّ بِآيَةِ الْمَائِدَةِ {وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ} 12 فليس بصحيح لأن أهل الكتاب ذكروا اسم الله على الذبيحة فحمل أمرهم على تلك فإن تيقنا أنهم تركوه جاز أن يكون من نسيان والنسيان لا يمنع الحل أولا عَنْ نِسْيَانٍ لَمْ يَجُزِ الأَكْلُ فَلا وَجْهَ للنسخ فعلى13 قَوْلِ الشَّافِعِيِّ هَذِهِ الآيَةُ مُحْكَمَةٌ لِأَنَّهُ إِمَّا أن يراد بها عند الميتة أو يكون نهي كراهة.
--------------------------------------------
তলোয়ারের আয়াত ১।
অষ্টম: {আমি আপনাকে তাদের ওপর রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করিনি} ৩। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, এটি 'তলোয়ারের আয়াত' (آية السيف) ৪ দ্বারা রহিত (نسخت) হয়েছে। তবে আমরা এর সমজাতীয় অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে যা উল্লেখ করেছি, সেই অনুযায়ী এটি সুপ্রতিষ্ঠিত (محكمة) হবে।
নবম: {কাজেই আপনি তাদের এবং তাদের মিথ্যা অপবাদগুলোকে বর্জন করুন} ৫। যদি আমরা বলি এটি একটি হুমকি, তবে তা সুপ্রতিষ্ঠিত (محكم); আর যদি আমরা একে তাদের সাথে যুদ্ধ বর্জন করার আদেশ মনে করি, তবে তা তলোয়ারের আয়াত ৬ দ্বারা রহিত (منسوخ)।
দশম: {আর তোমরা তা থেকে আহার করো না যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি} ৭। হাসান ৮ এবং ইকরিমা ৯ সহ একদল আলিম তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে আয়াতটি রহিতকরণের (نسخها) দিকে গিয়েছেন: {যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের খাদ্য তোমাদের জন্য বৈধ} ১০। কিন্তু এটি একটি ভুল; কারণ তাঁরা যদি প্রকৃত রহিতকরণ (النسخ) বুঝিয়ে থাকেন, তবে এটি রহিতকরণ (نسخا) নয়। আর যদি তাঁরা বিশেষীকরণ (التخصيص) উদ্দেশ্য করে থাকেন যে এটি ১১ সূরা মায়েদার আয়াত {যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের খাদ্য} ১২ দ্বারা বিশেষিত (خص) হয়েছে, তবে তা সঠিক (بصحيح) নয়। কেননা আহলে কিতাবগণ যবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম উল্লেখ করত, ফলে তাদের বিষয়টি এর ওপরই প্রযোজ্য হবে। যদি আমরা নিশ্চিত হই যে তারা আল্লাহর নাম নেওয়া ত্যাগ করেছে, তবে হতে পারে সেটি বিস্মৃতিবশত হয়েছে, আর বিস্মৃতি বৈধতাকে (الحل) বাধাগ্রস্ত করে না। অন্যথা যদি বিস্মৃতিবশত না হয় তবে তা ভক্ষণ জায়েয (يجز) হবে না, সুতরাং রহিত হওয়ার (للنسخ) কোনো অবকাশ নেই। ইমাম শাফেঈর ১৩ মত অনুযায়ী এই আয়াতটি সুপ্রতিষ্ঠিত (محكمة), কারণ এর দ্বারা হয় মৃত প্রাণী বোঝানো হয়েছে অথবা এটি অপছন্দনীয়তাসূচক (كراهة) নিষেধ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الحادية عشرة1 {قُلْ يَا قَوْمِ اعْمَلُوا عَلَى مَكَانَتِكُمْ إِنِّي عَامِلٌ فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ} 2 للمفسرين فيه قولان أحدهما أَنَّ الْمُرَادَ بِهَا تَرْكُ قِتَالِ الْكُفَّارِ فَهِيَ منسوخه بآية السيف3 والثاني التهديد فهي محكمة وهو الأصح.
الثانية عشرة: {فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ} 4 قيل هذا تهديد ووعيد فهو محكم وقد يقتضي قتال المشركين فهو منسوخ بآية السيف5.
الثالثة عشرة {وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ} 6 قال عطية العوفي7 كانوا إذا حصدوا وإذ أديس8 وغربل أَعْطُوا9 مِنْهُ شَيْئًا فَنَسَخَ ذَلِكَ الْعُشْرُ وَنِصْفُ العشر قلت وهذا إن كان واجبا صح نسخه بالزكاة وإن قيل مستحب فالحكم باق10.
الرابعة عشرة 11: {قُلْ لا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّماً} الآية12 هذه الآية محكمة وفي وجه إحكامها طريقان أحدهما أنها13 حصرت
--------------------------------------------
এগারোতম১ {বলুন, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের অবস্থানে কাজ করো, আমি কাজ করছি। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে} ২ মুফাসসিরদের এতে দুটি মত রয়েছে: প্রথমটি হলো, এর দ্বারা কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ত্যাগ করা উদ্দেশ্য, তাই এটি তলোয়ারের আয়াত দ্বারা রহিত (منسوخة)৩ এবং দ্বিতীয়টি হলো, এটি ধমক প্রদানকারী, তাই এটি সুপ্রতিষ্ঠিত (محكمة) এবং এটিই অধিক সঠিক মত।
বারোতম: {কাজেই তাদের এবং তাদের মিথ্যাচারকে ছেড়ে দিন} ৪ বলা হয়েছে এটি ধমক ও সতর্কবার্তা, তাই এটি সুপ্রতিষ্ঠিত (محكم)। আবার এটি মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার দাবি রাখে, ফলে এটি তলোয়ারের আয়াত দ্বারা রহিত (منسوخ)৫।
তেরোতম: {আর ফসল কাটার দিনে তার হক আদায় করো} ৬ আতিয়্যাহ আল-আওফি৭ বলেছেন: তারা যখন ফসল কাটত এবং যখন মাড়াই করত৮ ও ঝাড়ত তখন তা থেকে কিছু দান করত৯। অতঃপর উশর এবং অর্ধ-উশর এর বিধান এটিকে রহিত (نسخ) করে দেয়। আমি (লেখক) বলি: এটি যদি ওয়াজিব হয়ে থাকে তবে জাকাত দ্বারা এর রহিতকরণ (نسخه) সঠিক হবে, আর যদি মুস্তাহাব বলা হয় তবে এর বিধান অবশিষ্ট থাকবে১০।
চৌদ্দতম ১১: {বলুন, আমার নিকট যা ওহি পাঠানো হয়েছে তাতে আমি কোনো নিষিদ্ধ বস্তু পাই না} আয়াতাংশ১২। এই আয়াতটি সুপ্রতিষ্ঠিত (محكمة), আর এর সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণ হিসেবে দুটি পথ রয়েছে, যার একটি হলো এটি সীমাবদ্ধ করেছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
المحرم ولا محرم سواه والثاني أنها أخبرت عن المحرم من جملة ما كانوا يحرمون في الجاهلية وقد ادعى قوم نسخها بآية المائدة1 ورد هذا عليهم بأن جميع المذكور في تلك الآية ميتة وقد ذكرت الميتة ها هنا وزعم بعضهم أنها نسخت بالسنة2 فإنها حرمت لحوم الْحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ وَكُلُّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ ومخلب من الطير وهذا لا يصح لأن السنة لا تنسخ القرآن والصواب أن يقال هذه نَزَلَتْ بِمَكَّةَ وَلَمْ تَكُنِ الْفَرَائِضُ قَدْ تَكَامَلَتْ ولا المحرومات فأخبرت عن المحرمات في الحالة الحاضرة والماضية لا عن المستقبلة فيؤكد إحكامها أنها خبر3.
الخامسة عشرة: {قُلِ انْتَظِرُوا إِنَّا مُنْتَظِرُونَ} 4 قد سبق ذكر نظائرها قيل هي تهديد فتكون محكمة أو تتضمن النهي عن قتالهم فتكون منسوخة5.
السادسة عشرة: {لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ} 6 قال السدي لست من قتالهم في شيء ثم نسخت بآية السيف وقال غيره7 ليس اليك من أمرهم شيء وإنما أمرهم في الجزاء إلى الله تعالى فعلى هذا تكون محكمة8.
--------------------------------------------
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত (محرم) এবং তিনি ছাড়া আর কোনো নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত (محرم) বস্তু নেই। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, তিনি জাহেলি যুগে তারা যা হারাম সাব্যস্ত করত তার মধ্য থেকে বর্তমানে যা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত (محرم) সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। একদল লোক সুরা মায়িদার আয়াত ১ দ্বারা একে রহিত (نسخ) করার দাবি করেছেন। এটি এই বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে যে, ওই আয়াতে যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে তার সবই মৃত প্রাণী, আর এখানেও মৃত প্রাণীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে এটি সুন্নাহ ২ দ্বারা রহিত (نسخت) হয়েছে; কেননা সুন্নাহ গৃহপালিত গাধার গোশত এবং প্রত্যেক হিংস্র দাঁতওয়ালা পশু ও নখরওয়ালা শিকারি পাখি হারাম করেছে। এটি সঠিক নয়, কারণ সুন্নাহ কুরআনকে রহিত (تنسخ) করতে পারে না। সঠিক কথা হলো, এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে যখন ফরজসমূহ ও হারামসমূহ পূর্ণতা পায়নি। ফলে এটি বর্তমান ও অতীত অবস্থার নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছে, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নয়। এটি একটি সংবাদ ৩ হওয়ায় এর সুদৃঢ়তা (إحكام) নিশ্চিত হয়।
পনেরোতম: {তোমরা অপেক্ষা করো, আমরাও অপেক্ষা করছি} ৪ এর সদৃশ বিষয়গুলো ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। বলা হয়েছে যে এটি একটি সতর্কবাণী, ফলে তা সুদৃঢ় (محكمة) হবে; অথবা এটি তাদের সাথে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে তা রহিত (منسوخة) ৫ হবে।
ষোলোতম: {তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই} ৬ সুদ্দি বলেন: তাদের সাথে যুদ্ধ করার ব্যাপারে আপনার কোনো দায় নেই, এরপর এটি তলোয়ারের আয়াত (আয়াতুস সাইফ) দ্বারা রহিত (نسخت) হয়েছে। অন্য কেউ ৭ বলেন: তাদের কোনো বিষয় আপনার এখতিয়ারে নেই, বরং তাদের প্রতিফল প্রদানের বিষয়টি কেবল আল্লাহর হাতে। এই হিসেবে আয়াতটি সুদৃঢ় (محكمة) ৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
سورة الأعرافالأولى: {وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ1} قال ابن2 زيد نسخها الأمر بالقتال وقال غيره هو تهديد لهم وهذا لا ينسخ3.
الثانية: {خُذِ الْعَفْوَ} 4 ذهب قوم إلى أنه الزكاة فتكون محكمة وقال آخرون هي صَدَقَةٌ كَانَتْ تُؤْخَذُ قَبْلَ فَرْضِ الزَّكَاةِ ثُمَّ نسخت بالزكاة وقال ابن زيد المراد بذلك مُسَاهَلَةُ الْمُشْرِكِينَ وَالْعَفْوُ عَنْهُمْ ثُمَّ نُسِخَ بِآيَةِ السيف {وَأَعْرِضْ5 عَنِ الْجَاهِلِينَ} قيل نسخ بآية السيف وقيل المراد وأعرض عن مقاتلتهم لسفههم وذلك لا يمنع قتالهم فتكون محكمة6.
سورة الأنفالالأولى: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ} 7 قيل نسختها {وَمَا لَهُمْ أَلَّا يُعَذِّبَهُمُ اللَّهُ وَهُمْ يَصُدُّونَ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} 8
--------------------------------------------
সুরা আল-আ'রাফপ্রথমত: {আর যারা তাঁর নামসমূহের বিকৃতি ঘটায় তাদের বর্জন করুন}। ইবনে যাইদ বলেছেন, যুদ্ধের নির্দেশ একে রহিত (نسخ) করেছে। অন্যরা বলেছেন, এটি তাদের জন্য একটি হুমকি মাত্র, আর এটি রহিত (نسخ) হয় না।
দ্বিতীয়ত: {আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন}। একদল এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি যাকাত সংক্রান্ত, তাই এটি সুদৃঢ় (محكمة)। অন্যরা বলেছেন, এটি এমন সদকা ছিল যা যাকাত ফরজ হওয়ার আগে নেওয়া হতো, অতঃপর যাকাত বিধানের মাধ্যমে তা রহিত (نسخ) করা হয়েছে। ইবনে যাইদ বলেছেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য ছিল মুশরিকদের সাথে কোমল আচরণ ও তাদের ক্ষমা করা, পরবর্তীতে তলোয়ারের আয়াত (آية السيف) দ্বারা এটি রহিত (نسخ) করা হয়েছে। {এবং মূর্খদের এড়িয়ে চলুন}। বলা হয়েছে যে, এটি তলোয়ারের আয়াত (آية السيف) দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে। আবার বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো তাদের মূর্খতার কারণে তাদের সাথে লড়াই করা থেকে বিমুখ থাকা, তবে তা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাকে বাধাগ্রস্ত করে না, তাই এটি সুদৃঢ় (محكمة)।
সুরা আল-আনফালপ্রথমত: {আর আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মধ্যে থাকা অবস্থায় তাদের আযাব দেবেন}। বলা হয়েছে যে, একে রহিত (نسخ) করেছে এই আয়াতটি: {আর তাদের কী কারণ থাকতে পারে যে আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন না, অথচ তারা মসজিদুল হারাম থেকে বাধা প্রদান করে?}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وهذا لَيْسَ بِصَحِيحٍ لِأَنَّ النَّسْخَ لا يَدْخُلُ عَلَى الأخبار وإنما بينت1 الآية الثانية استحقاقهم العذاب فأما الأولى فبينت2 دفعه عنهم لكون الرسول فيهم وكون3 المؤمنين يستغفرون4 فلا وجه للنسخ5.
الثانية: {وَإِنْ جَنَحُوا لِلسَّلْمِ فَاجْنَحْ لَهَا} 6 قال ابن عباس نسخها: {قَاتِلُوا الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} 7 وقال مجاهد آية السيف قلنا8 إنها نزلت في9 ترك محاربة أهل الكتاب إذا بذلوا الجزية فهي محكمة10.
الثالثة: {إِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صَابِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ} 11 المعنى يقاتلوا ولفظه الخبر ومعناه الأمر ثم نسخ بقوله {الْآنَ خَفَّفَ اللَّهُ عَنْكُمْ} 12 الآية.
الرابعة: {وَالَّذِينَ آوَوْا وَنَصَرُوا أُولَئِكَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يُهَاجِرُوا مَا لَكُمْ مِنْ وَلَايَتِهِمْ مِنْ شَيْءٍ حَتَّى يُهَاجِرُوا} 13. قال
--------------------------------------------
আর এটি সঠিক (صحيح) নয়; কারণ রহিতকরণ (نسخ) সংবাদসমূহ (أخبار)-এর অন্তর্ভুক্ত হয় না। বরং দ্বিতীয় আয়াতটি তাদের শাস্তির যোগ্য হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করেছে, আর প্রথম আয়াতটি রাসূলের তাদের মাঝে উপস্থিতি এবং মুমিনদের ক্ষমা প্রার্থনা (يستغفرون) করার কারণে তাদের থেকে সেই শাস্তি দূর হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করেছে, তাই রহিতকরণ (نسخ)-এর কোনো অবকাশ নেই।
দ্বিতীয়: {আর যদি তারা শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে আপনিও তার দিকে ঝুঁকুন}। ইবনে আব্বাস বলেন, এটি রহিত (نسخ) করেছে এই আয়াতটি: {তোমরা যুদ্ধ করো তাদের বিরুদ্ধে যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে না}। মুজাহিদ বলেন, এটি তলোয়ারের আয়াত (আয়াতুস সাইফ)। আমরা বলি যে, এটি আহলে কিতাবদের সাথে যুদ্ধ বর্জন করার বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে যখন তারা জিজিয়া (جزية) প্রদান করবে, সুতরাং এটি সুদৃঢ় বা অপরিবর্তনীয় (محكمة)।
তৃতীয়: {তোমাদের মধ্যে যদি বিশ জন ধৈর্যশীল থাকে, তবে তারা দুইশ জনের ওপর বিজয়ী হবে}। এর অর্থ হলো তারা যুদ্ধ করবে; এর শব্দরূপ সংবাদ (خبر) হলেও এর অর্থ আদেশ (أمر)। অতঃপর এটি তাঁর বাণী {এখন আল্লাহ তোমাদের জন্য বোঝা হালকা করে দিয়েছেন} আয়াতের মাধ্যমে রহিত (نسخ) হয়েছে।
চতুর্থ: {আর যারা আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তারা একে অপরের বন্ধু। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরত করেনি, তারা হিজরত না করা পর্যন্ত তাদের অভিভাবকত্বের সাথে তোমাদের কোনো সম্পর্ক নেই}। তিনি বলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
الْمُفَسِّرُونَ كَانُوا يَتَوَارَثُونَ بِالْهِجْرَةِ وَكَانَ الْمُؤْمِنُ الَّذِي لم يُهَاجِرُ لا يَرِثُ قَرِيبَهُ الْمُهَاجِرَ وَذَلِكَ مَعْنَى قوله تعالى1 {مَا لَكُمْ مِنْ وَلَايَتِهِمْ مِنْ شَيْءٍ} فنسخت بقوله {وَأُولُوا الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ} 2.
سورة التوبة 3
{فَمَا اسْتَقَامُوا لَكُمْ فَاسْتَقِيمُوا لَهُمْ} 4. زعم بعضهم نسخها بآية السيف5.
سورة يونسالأولى: {إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي} 6 تكلمنا على نظيرها في الأنعام7
الثانية: {أَفَأَنْتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ} 8 زعم قوم منهم مقاتل9 نسخها بآية السيف10 والصحيح أنها محكمة لأن
--------------------------------------------
মুফাসসিরগণ হিজরতের ভিত্তিতে একে অপরের উত্তরাধিকারী হতেন। যে মুমিন হিজরত করেনি, সে তার হিজরতকারী আত্মীয়ের উত্তরাধিকারী হতে পারত না। মহান আল্লাহর এই বাণী ১ "তোমাদের জন্য তাদের অভিভাবকত্বের কিছুই নেই"-এর অর্থ এটাই ছিল। পরবর্তীতে এটি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে রহিত (نسخت) হয়েছে: "এবং আল্লাহর বিধান অনুসারে রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়রা পরস্পর অধিক হকদার" ২।
সূরা আত-তাওবাহ ৩
"সুতরাং তারা যতক্ষণ তোমাদের সাথে সরল পথে অটল থাকবে, তোমরাও তাদের সাথে সরল পথে অটল থাকো" ৪। তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, এটি তলোয়ারের আয়াত ৫ দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে।
সূরা ইউনুসপ্রথমটি: "আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হই, তবে আমি ভয় করি" ৬। আমরা এর সদৃশ আয়াতের ব্যাপারে সূরা আল-আনআমে আলোচনা করেছি ৭
দ্বিতীয়টি: "তবে কি তুমি মানুষের ওপর জবরদস্তি করবে যতক্ষণ না তারা মুমিন হয়?" ৮। মুকাতিল ৯ সহ একদল আলেম দাবি করেছেন যে, এটি তলোয়ারের আয়াত ১০ দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে। তবে সঠিক (الصحيح) মত হলো এটি বলবৎ (محكمة), কারণ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুসাফফা বি-আকুফফি আহলির রুসুখ মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসুখ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
الإيمان لا يصح1 مع الإكراه إنما يصور2 الإكراه على النطق.
الثالثة: {فَمَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا وَمَا أَنَا عَلَيْكُمْ بِوَكِيلٍ} 3 زعم قوم نسخها بآية السيف4 وقد سبق الكلام في نظائرها وأنه لا وجه للنسخ.
الرابعة: {وَاصْبِرْ حَتَّى يَحْكُمَ اللَّهُ} 5 قيل نسختها آية السيف6 وليس بصحيح لأن الأمر بالصبر إلى غاية وما بعد الآية يخالف ما قبلها على ما بينا7 في8 {فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ} 9.
سورة هود عليه السلامالأولى: {إِنَّمَا أَنْتَ نَذِيرٌ10 وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ} 11 قيل معناها اقْتَصَرَ عَلَى إِنْذَارِهِمْ مِنْ غَيْرِ قِتَالٍ ثُمَّ نسخ بآية السيف12 ولا يصح وإنما المعنى ليس عليك أن تأتيهم مقترحاتهم من الآيات والوكيل الشهيد.
--------------------------------------------
জবরদস্তির সাথে ঈমান শুদ্ধ (يصح) হয় না১, বরং জবরদস্তি কেবল উচ্চারণের ক্ষেত্রে চিত্রিত (يصور) হয়২।
তৃতীয়: {অতঃপর যে ব্যক্তি সৎপথ অবলম্বন করল, সে নিজের কল্যাণের জন্যই তা করল। আর যে বিপথগামী হলো, সে নিজের ধ্বংসের জন্যই বিপথগামী হলো; এবং আমি তোমাদের ওপর কোনো কর্মবিধায়ক নই} ৩ একদল লোক এটি রহিত (نسخ) হওয়ার দাবি করেছেন তলোয়ারের আয়াত ৪ দ্বারা। এর সদৃশ আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে এবং এটি রহিত (نسخ) হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
চতুর্থ: {এবং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন যতক্ষণ না আল্লাহ ফয়সালা করেন} ৫ বলা হয়েছে যে, তলোয়ারের আয়াত ৬ এটি রহিত (نسخت) করেছে। কিন্তু এটি সঠিক (صحيح) নয়; কারণ ধৈর্যের আদেশটি একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত, আর আয়াতের পরবর্তী অংশ পূর্ববর্তী অংশের পরিপন্থী নয়, যেমনটি আমরা {অতএব তোমরা ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নির্দেশ পাঠান} ৯-এর আলোচনায় ৮ এখানে ৭ বর্ণনা করেছি।
সূরা হুদ আলাইহিস সালামপ্রথম: {আপনি তো কেবল একজন সতর্ককারী ১০ এবং আল্লাহ সবকিছুর কর্মবিধায়ক} ১১ বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো যুদ্ধ ব্যতিরেকে কেবল সতর্ক করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা, অতঃপর এটি তলোয়ারের আয়াত ১২ দ্বারা রহিত (نسخ) হয়েছে। কিন্তু তা শুদ্ধ (يصح) নয়; বরং এর অর্থ হলো, তারা যেসব অলৌকিক নিদর্শন প্রস্তাব করে তা নিয়ে আসা আপনার দায়িত্ব নয়; আর 'ওয়াকিল' অর্থ হলো সাক্ষী।
--------------------------------------------