0/0
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: -)
المصارحة في أحكام المصافحة   (عبد الناصر بن خضر ميلاد)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب : المصارحة في أحكام المصافحة

المؤلف : عبد الناصر بن خضر ميلاد

الناشر : المكتبة الرقمية في المدينة المنورة

عدد الصفحات: 136

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ   (আবদুল নাসির বিন খিজর মিলাদ)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


বই : আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ

লেখক : আবদুল নাসির বিন খিজর মিলাদ

প্রকাশক : মদিনা মুনাওয়ারার ডিজিটাল লাইব্রেরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৬

[বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[المصارحة في أحكام المصافحة]ـ

المؤلف: عبد الناصر بن خضر ميلاد

الناشر: المكتبة الرقمية في المدينة المنورة

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ: হস্তমর্দনের বিধানাবলি প্রসঙ্গে স্পষ্ট বক্তব্য]

লেখক: আব্দুল নাসির বিন খিজির মিলাদ

প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারার ডিজিটাল লাইব্রেরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، حمْد المُحبِّين له والطائعين لأوامره ونواهيه، الملتزِمين بآداب ومحاسن الدِّين. نحمده حمْد المُذعِنين الممتثِلين لإرشادات سيِّد النبيِّين، والمُتحلِّين بكامل أدبه المبين وشرْعه إلى يوم الدِّين. والصلاة والسلام على رسوله الأمين، سيّدنا محمد المبعوث رحمةً للعالمين، وعلى آله وصحبه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدِّين. {رَبَّنَا افْتَحْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَأَنْتَ خَيْرُ الْفَاتِحِينَ} 1. {رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ} 2.

وبعد.

فإن ممّا يميِّز شريعة الإسلام عن غيرها من الشرائع، أنها جاءت لتُوافق فطرة الناس التي خلقهم الله عليها حسبما كانت الحكمة مِن خلْقهم؛ فكما حَوَتِ الأوامر والنواهي المقرِّرة للضوابط

--------------------------------------------

1 سورة الأعراف: الآية 89.

2 سورة المؤمنون: الآيتان 97، 98.
ভূমিকা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; সেই প্রশংসাকারীদের ন্যায় যারা তাঁকে ভালোবাসে এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধের আনুগত্য করে, যারা দ্বীনের আদব ও সৌন্দর্যের প্রতি অবিচল। আমরা তাঁর প্রশংসা করি সেই বশ্যতা স্বীকারকারীদের ন্যায় যারা নবীগণের সরদারের নির্দেশনাবলি পালন করেন এবং বিচার দিবস পর্যন্ত তাঁর পূর্ণাঙ্গ সুস্পষ্ট শিষ্টাচার ও শরিয়ত দ্বারা নিজেদের সুশোভিত করেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত রাসুলের প্রতি—আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, যাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে; আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী তাবেয়িগণের (التابعين) ওপর। {হে আমাদের রব! আমাদের ও আমাদের কওমের মধ্যে ন্যায়সংগতভাবে ফয়সালা করে দিন, আর আপনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী} ১। {হে আমার রব! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি শয়তানদের কুমন্ত্রণা হতে। আর হে আমার রব! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি তারা আমার কাছে উপস্থিত হওয়া হতে} ২।

অতপর।

নিশ্চয়ই যা ইসলামি শরিয়তকে অন্য সকল বিধান থেকে স্বতন্ত্র করেছে তা হলো, এটি মানুষের সেই স্বভাবজাত প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে অবতীর্ণ হয়েছে যার ওপর আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন—যেমনটি ছিল তাদের সৃষ্টির পশ্চাতে নিহিত প্রজ্ঞা; ফলে এটি যেমন নিয়ম-কানুন নির্ধারণকারী আদেশ ও নিষেধকে ধারণ করেছে...

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আ’রাফ: আয়াত ৮৯।

২. সূরা আল-মুমিনুন: আয়াত ৯৭, ৯৮।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
المطلوبة في المعاملات -فضلاً عن جانب العبادات -، شملت أيضاً ما يتعلق بالأخلاق والآداب، وما يُعَدّ من محاسن السلوك ومكارم الأخلاق؛ بل إننا نجِد أنّ الإسلام قد أوْلى دائرة الأخلاق والآداب ومحامد السلوك كاملَ العناية وغايةَ الرعاية، عنايَته بالعبادات ورعايته للمعاملات، باعتبار أنّ الأخلاق هي ملاك الفرد الفاضل المؤدَّب بأدب الإسلام، وهي في ذات الوقت قوام المجتمع الرّاقي.

ولهذا، كان جانب الأخلاق والآداب، والقِيَم والشمائل والفضائل المرعيّة بين الناس، محلَّ اهتمام كبير في نظر الإسلام؛ فمكانةُ الأخلاق لديْه عظيمة، ومنزلته سامية، وقَدْره عالٍ مرفوعٌ. وهكذا مدح الله ـ المصطفى صلى الله عليه وسلم بقوله: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} 1. وقال عليه الصلاة والسلام: "إنّما بُعثتُ لأُتمِّم مكارمَ الأخلاق" 2.

والجدير بالإشارة إليه: أنّ الأخلاق والآداب هي السِّياج

--------------------------------------------

1 سورة القلم: الآية 4.

2 أخرجه البيهقي في السنن الكبرى من حديث أبي هريرة 10/191، والقضاعي في مسند الشهاب 2/192.
ইবাদতের বিষয়ের পাশাপাশি লেনদেনের (মুয়ামালাত) ক্ষেত্রে যা কাম্য, তা চরিত্র ও শিষ্টাচার এবং উত্তম আচরণ ও মহান নৈতিক গুণাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে; বরং আমরা দেখতে পাই যে ইসলাম ইবাদতের প্রতি যত্ন এবং লেনদেনের প্রতি গুরুত্ব প্রদানের ন্যায় চরিত্র, আদব ও প্রশংসনীয় আচরণের পরিমণ্ডলে পূর্ণ মনোযোগ এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেছে। এর কারণ হলো, ইসলামের শিষ্টাচারে সুশোভিত একজন সৎ ব্যক্তির মানদণ্ড হলো তার নৈতিকতা, আর একই সাথে এটি একটি উন্নত সমাজের ভিত্তি।

এ কারণে মানুষের মাঝে বজায় রাখা নৈতিকতা, শিষ্টাচার, মূল্যবোধ, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যাপক গুরুত্বের বিষয় ছিল; কেননা ইসলামের নিকট নৈতিকতার অবস্থান অত্যন্ত মহান, এর মর্যাদা সুউচ্চ এবং এর মাহাত্ম্য সুউন্নত। এভাবেই মহান আল্লাহ আল-মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রশংসা করে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত} ১। এবং তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: "আমি কেবল মহান চারিত্রিক গুণাবলির পূর্ণতা সাধনের জন্যই প্রেরিত হয়েছি" ২।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে: নৈতিকতা ও শিষ্টাচার হলো সেই সুরক্ষা প্রাচীর

--------------------------------------------

১ সূরা আল-কলম: আয়াত ৪।

২ এটি বায়হাকী সুনানুল কুবরা গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন ১০/১৯১, এবং আল-কুদ্বাঈ মুসনাদুশ শিহাব গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন ২/১৯২।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
والإطار المعوَّل عليه في سلامة كافة التكاليف الشرعية الأخرى: عبادات، أو معاملات، أو غير ذلك … فبدون تحقّق الأخلاق والالتزام بالآداب المرعيّة، لا تُؤدَّى هذه التكاليف على الوجه الأكمل، ولا تقع موقعَها اللائق بها.

ومما يجب التّفطّن له: أنّ الإسلام الحنيف قد اعتمد في التعامل بين أبناء المسلمين - بعد التزامهم بالعبادات على الوجه الصحيح - على حُسن الخُلُق والتّحلِّي بمحاسن الآداب الشرعية. فقد رُوي في الحديث الصحيح: "أكملُ المؤمنين إيماناً أحْسنُهم خُلُقاً" 1. وفي هذا، يقول ابن قيِّم الجوزية: "الدِّين كلّه الخُلُق؛ فمن زاد عليك في الخُلُق زاد عليك في الدِّين"2.

ولهذا، كان من الضروري عدم الاستهانة بالجانب الأخلاقي بحُجّة أنّ مخالفة هذا الجانب غيرُ قادحة في كمال إيمان العبد؛ وذلك لأنّ السلوك المعتبَر إطاراً لحياة الإنسان، إذا كان قد ارتضاه ذلك الإنسان أن يكون من خلال الشريعة الإسلامية الغرّاء، فإنه مطالَب بضرورة الإتيان به على وجْه ما ترتضيه تلك الشريعة

--------------------------------------------

1 أخرجه الترمذي في جامعه من حديث أبي هريرة 3/466، وأحمد في مسنده 2/250.

2 مدارج السالكين بين منازل إياك نعبد وإياك نستعين 2/307.
অন্যান্য সমস্ত শারয়ী বিধান—ইবাদত, লেনদেন বা অন্যান্য বিষয়ের বিশুদ্ধতার জন্য নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হলো... … কেননা নৈতিকতা অর্জন এবং প্রচলিত শিষ্টাচার মেনে চলা ব্যতীত এই বিধানগুলো পরিপূর্ণভাবে আদায় হয় না এবং তা যথাযথ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে উপনীত হয় না।

যে বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা জরুরি তা হলো: এই নিষ্ঠাপূর্ণ ইসলাম মুসলিমদের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে—সঠিকভাবে ইবাদত পালনের পর—সচ্চরিত্র এবং উত্তম শারয়ী শিষ্টাচার অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। একটি সহিহ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "মুমিনদের মধ্যে ঈমানের দিক থেকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ তারা, যারা চরিত্রের দিক থেকে সর্বোত্তম" ১। এ প্রসঙ্গে ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ বলেন: "দ্বীন বা ধর্ম পুরোটাই হলো সচ্চরিত্র; সুতরাং যে সচ্চরিত্রে তোমার চেয়ে অগ্রগামী, সে দ্বীনদারিতেও তোমার চেয়ে অগ্রগামী" ২।

এজন্য নৈতিক দিকটিকে এই অজুহাতে তুচ্ছজ্ঞান করা মোটেও সমীচীন নয় যে, এই ক্ষেত্রের কোনো লঙ্ঘন বান্দার ঈমানের পূর্ণাঙ্গতায় কোনো হানি ঘটায় না; কারণ মানুষের জীবনধারা যদি উজ্জ্বল ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং মানুষ তা গ্রহণ করে, তবে সে তা উক্ত শরীয়াহর পছন্দনীয় পদ্ধতি অনুসারে পালন করতে বাধ্য।

--------------------------------------------

১. তিরমিজি তার জামে-তে আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন ৩/৪৬৬; এবং আহমদ তার মুসনাদ-এ ২/২৫০।

২. মাদারিজুস সালিকিন বাইনা মানাযিল ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তায়িন ২/৩০৭।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
المحمودة بين كافّة الشرائع.

ومن هذه السلوكيات الإسلامية والآداب المطلوبة: آداب التحية في الإسلام عند اللقاء وعند المفارقة، من خلال آداب المصافحة. وقد وجدْتُ المناوي يقول في كتابه "فيض القدير": " … أي تأديباً لهم وتعليماً لمعالم الدِّيانة ورسوم الشريعة، وحثًا على لزوم ما خُصَّتْ به هذه الأمّة من هذه التحية العظمى التي هي: تحيّة أهل الجنّة في الجنة"1.

فالإسلام قد حثّ على حُسن استقبال المسلم لأخيه، فرغّب في طلاقة الوجه وبشاشة صاحبه عند اللقاء، وجعل ذلك من الصَّدَقة التي يرتفع بها أجْر صاحبها؛ وذلك فيما رواه أبو زر رضي الله عنه فقد قال صلى الله عليه وسلم: "لا تحْقِرَنَّ من المعروف شيئاً، ولو أن تَلْقى أخاك بوجْه طلْق" 2. وطلاقة الوجْه هي: تَهَلُّلُه بالانشراح والابتسام عند اللقاء. وقد روى جابر بن عبد الله3 رضي الله عنه أنّ النبي صلى الله عليه وسلم قال: "كُلُّ مَعروفٍ

--------------------------------------------

1 فيض القدير شرح الجامع الصغير للمناوي 5/160.

2 أخرجه مسلم في صحيحه 4/2026.

3 جابر بن عبد الله بن عمرو بن حرام، الخزرجي الأنصاري السّلمي: صحابي من المكثرين في الرواية عن النبي صلى الله عليه وسلم روى عنه جماعة من الصحابة. له ولأبيه صحبة. من أهل بيعة الرضوان، وكانت له في أواخر أيامه حلقة في المسجد النبوي، يؤخذ عنه العلْم. توفي سنة 78هـ.

راجع: الأعلام للزركلي 2/104، سير أعلام النبلاء للذهبي 3/189-192.
সকল শরিয়তের মধ্যে প্রশংসিত।

এই সমস্ত ইসলামি আচরণ ও কাঙ্ক্ষিত শিষ্টাচারসমূহের অন্যতম হলো: সাক্ষাৎ ও বিদায়ের সময় ইসলামে অভিবাদনের শিষ্টাচার, যা মুসাফাহার (করমর্দন) আদবের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। আমি আল-মুনাভিকে তাঁর ‘ফয়জুল কাদির’ গ্রন্থে বলতে দেখেছি: “ … অর্থাৎ তাদের আদব শিক্ষা দেওয়া এবং দ্বীনের নিদর্শনসমূহ ও শরিয়তের রীতিনীতি শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে, আর এই উম্মতকে যে মহান অভিবাদনের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে তার ওপর অবিচল থাকার উৎসাহ প্রদানস্বরূপ; যা হলো: জান্নাতে জান্নাতিদের অভিবাদন।”১

ইসলাম একজন মুসলিমের প্রতি তার ভাইয়ের উত্তম অভ্যর্থনার প্রতি উৎসাহিত করেছে। তাই সাক্ষাতের সময় প্রফুল্ল মুখমণ্ডল ও হাস্যোজ্জ্বলতা ধারণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং একে এমন সদকা হিসেবে গণ্য করেছে যার মাধ্যমে দাতার সওয়াব বৃদ্ধি পায়। এটি বর্ণিত হয়েছে আবু যর (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “কোনো ভালো কাজকেই তুচ্ছ জ্ঞান করো না, এমনকি তা যদি তোমার ভাইয়ের সাথে প্রফুল্ল মুখে সাক্ষাৎ করাও হয়।” ২। মুখমণ্ডলের প্রফুল্লতা হলো: সাক্ষাতের সময় আনন্দ ও হাসির মাধ্যমে চেহারার উজ্জ্বলতা। জাবির বিন আব্দুল্লাহ৩ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: “প্রত্যেক ভালো কাজই...

--------------------------------------------

১ আল-মুনাভি রচিত ফয়জুল কাদির শারহু জামিউস সগির ৫/১৬০।

২ মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন ৪/২০২৬।

৩ জাবির বিন আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন হারাম, আল-খাজরাজি আল-আনসারি আস-সালামি: তিনি নবী (সা.) থেকে অধিক বর্ণনা (رواية) কারী সাহাবিদের (صحابي) অন্তর্ভুক্ত। তাঁর থেকে সাহাবিদের (صحابي) একটি দল বর্ণনা করেছেন। তাঁর এবং তাঁর পিতার সাহচর্য (صحبة) লাভের মর্যাদা রয়েছে। তিনি বাইয়াতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর জীবনের শেষ দিকে মসজিদে নববিতে ইলমের একটি আসর ছিল, যেখান থেকে ইলম গ্রহণ করা হতো। তিনি ৭৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

দেখুন: যিরিকলির আল-আলাম ২/১০৪, আয-যাহাবির সিয়ারু আলামিন নুবালা ৩/১৮৯-১৯২।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
صَدَقة. وإنّ مِن المعروف أن تَلْقَى أخاك ووجْهُك إليه مُنبَسط" 1.

ولهذا، كانت المصافحة مع البشاشة وطلاقةِ الوجه خيرَ دليل على الودّ والصّفاء والمحبة. فإلقاء السلام إيذانٌ بالأمان قولاً، والمصافحة مع البشر توكيدٌ لهذا الأمان. وفي هذا يقول فضل الله الجيلاني: " … واعلمْ: أنّ التّصافح عند الملاقاة للتّأنيس، وتوكيد للتسليم القولي؛ فإنّ التسليم إيذان بالأمن قولاً، والتصافح نحو بيْعةٍ وتلقينٌ على ذلك، وتوكيد لما تلفّظاه بالتسليم، ليكون كلٌّ من المتلاقِيَيْن على أمْن من صاحبه"2.

فالمصافحة من تمام التحية؛ فقد روي ابن مسعود رضي الله عنه أنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "من تمام التحية: الأخْذُ باليد" 3، كما روي

--------------------------------------------

1 أخرجه الترمذي في جامعه 4/347 وقال: "حديث حسن".

2 فضل الله الصمد في توضيح الأدب المفرد للجيلاني 3/174.

3 أخرجه الترمذي في جامعه 5/75 وقال: "هذا حديث حسن".
সদকা। আর এটিও সৎকাজের অন্তর্ভুক্ত যে, তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাক্ষাৎ করবে।" ১।

এ কারণে প্রসন্নতা ও হাস্যোজ্জ্বল চেহারার সাথে মুসাফাহা করা হৃদ্যতা, স্বচ্ছতা ও ভালোবাসার সর্বোত্তম প্রমাণ। কেননা সালাম প্রদান করা হলো মৌখিকভাবে নিরাপত্তা প্রদানের ঘোষণা, আর প্রফুল্ল চিত্তে মুসাফাহা করা হলো সেই নিরাপত্তারই এক প্রকার সুদৃঢ়করণ। এ বিষয়ে ফদলুল্লাহ আল-জিলানী বলেন: " … আর জেনে রাখুন: সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা করা হয় হৃদ্যতা বৃদ্ধি এবং মৌখিক সালামকে সুদৃঢ় করার জন্য; কেননা সালাম হলো মৌখিক নিরাপত্তার ঘোষণা, আর মুসাফাহা হচ্ছে সেই ঘোষণার বায়আত বা অঙ্গীকারের অনুরূপ একটি বিষয়। এটি সালামের মাধ্যমে যা উচ্চারিত হয়েছে তার প্রতি একটি নিশ্চয়তা, যাতে সাক্ষাতকারী প্রত্যেকেই তার সাথীর পক্ষ থেকে নিরাপদ বোধ করতে পারে।" ২।

সুতরাং মুসাফাহা করা অভিবাদনের পূর্ণতার অন্তর্ভুক্ত; ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অভিবাদনের পূর্ণতা হলো হাত ধরা (মুসাফাহা করা)" ৩, আরও বর্ণিত হয়েছে যে—

--------------------------------------------

১. তিরমিযী এটি তার জামে গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন ৪/৩৪৭ এবং বলেছেন: "হাদিসটি হাসান (حسن)।"

২. ফদলুল্লাহিস সামাদ ফি তাওদিহিল আদাবিল মুফরাদ, আল-জিলানী ৩/১৭৪।

৩. তিরমিযী এটি তার জামে গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন ৫/৭৫ এবং বলেছেন: "এই হাদিসটি হাসান (حسن)।"
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
عنه قوله: "وتمامُ تحيّتِكُم بينكُم: المصافحة" 1.

ولما كان الاختلاف بشأن بعض أحكام المصافحة، وذلك من حيث وصْفها بالحكم الشرعي المناسب، فضلاً عن الخلاف بشأن المصافحة عقِب الصلوات، ومصافحة المرأة الأجنبية وما تعلّق بذلك من خلافهم في مدَى تأثير تلك المصافحة على الوضوء بالنقض من عدمه، فضلاً عن المصافحة عند اللقاء وعند المفارقة، ومصافحة الأمرد والمريض ومَن به عاهة، ومصافحة الجُنُب، ومصافحة غير المسلم، ونحو ذلك من الأحكام المتعلِّقة بالمصافحة.

لما كان الشأن هذا، استخرتُ الله سبحانه وعزمت على الكتابة في هذا الموضوع الذي أسميتُه: المصارحة في أحكام المصافحة، معتمداً على الله تعالى، سائلاً العون والمدد بكلّ ما من شأنه أن يوفِّقني الله سبحانه لإتمامه على الوجه المظهر لحكم الشرع فيه، وعلى هدْي مَن سبقني ممن وفّقهم الله في هذا السبيل.

--------------------------------------------

1 أخرجه أحمد في مسنده 5/259، والترمذي 5/75، والروياني في مسنده 2/290، والبيهقي في شعب الإيمان 6/472 من حديث أبي أمامة الباهلي.
তাঁর থেকে বর্ণিত, তাঁর বাণী: "তোমাদের মাঝে অভিবাদনের পূর্ণতা হলো: মুসাফাহা (করমর্দন)" ১।

যেহেতু মুসাফাহার কিছু বিধানের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে—যেমন একে যথাযথ শরয়ী বিধান (الحكم الشرعي) দ্বারা সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে, এছাড়া সালাতের পর মুসাফাহা করা, পরনারী (أجنبية) এর সাথে মুসাফাহা করা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট যে বিষয়ে তাঁদের মতভেদ রয়েছে তা হলো—এই মুসাফাহা অজু ভঙ্গের (نقض) ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে কি না; এছাড়া সাক্ষাতের সময় ও বিদায় নেওয়ার সময় মুসাফাহা করা, দাড়িহীন যুবক (أمرد), অসুস্থ ও শারীরিক ত্রুটিযুক্ত ব্যক্তির সাথে মুসাফাহা করা, অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির সাথে মুসাফাহা করা, অমুসলিমের সাথে মুসাফাহা করা এবং মুসাফাহা সংক্রান্ত এই জাতীয় অন্যান্য বিধানসমূহ।

পরিস্থিতি যখন এরূপ, তখন আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট ইস্তিখারা করেছি এবং এই বিষয়ে লিখার সংকল্প করেছি, যার নাম দিয়েছি: 'আল-মুসারাহা ফি আহকামিল মুসাফাহা'। আমি মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করছি এবং তাঁর নিকট সাহায্য ও সমর্থন প্রার্থনা করছি যাতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাকে এটি এমনভাবে সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেন যা এতে শরীয়তের বিধানকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলবে এবং এই পথে ইতিপূর্বে আল্লাহ যাদের তাওফিক দিয়েছেন তাদের নির্দেশনার আলোকে হবে।

--------------------------------------------

১. এটি আহমদ তাঁর মুসনাদ ৫/২৫৯, তিরমিজি ৫/৭৫, রুয়ানি তাঁর মুসনাদ ২/২৯০ এবং বায়হাকি শুআবুল ঈমান ৬/৪৭২ গ্রন্থে আবু উমামা আল-বাহিলি বর্ণিত হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وقد اشتمل البحث على مباحث تسعة على النحو الآتي:

المبحث الأول: التعريف بالمصافحة.

المبحث الثاني: مصافحة المرأة الأجنبية.

المبحث الثالث: مدى تأثير مصافحة المرأة على الوضوء.

المبحث الرابع: المصافحة عقب الصلاة.

المبحث الخامس: المصافحة عند المفارقة.

المبحث السادس: مصافحة الجُنُب.

المبحث السابع: مصافحة المريض ومَن به عاهة.

المبحث الثامن: مصافحة الأمرد.

المبحث التاسع: مصافحة غير المسلم.

والله سبحانه أسأل: أن يوفِّقني لإخراجه على الوجه اللائق - فمنه سبحانه العون -، وأن يرفع عنِّي الزلات والعثرات، وأن يكون هذا العمل في سجلّ حسناتي يوم العرض على الله رب العالمين.

وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا محمد، وعلى آله وصحبه وسلّم.
গবেষণাটি নিম্নোক্ত নয়টি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত হয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মুসাফাহার (করমর্দন) সংজ্ঞায়ন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পরনারী (أجنبية) এর সাথে মুসাফাহা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নারীর সাথে মুসাফাহা ওজুর ওপর প্রভাব ফেলার পর্যায়।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সালাত পরবর্তী মুসাফাহা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বিচ্ছিন্ন (مفارقة) হওয়ার সময় মুসাফাহা।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির সাথে মুসাফাহা।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: অসুস্থ ও শারিরীক ত্রুটিসম্পন্ন (عاهة) ব্যক্তির সাথে মুসাফাহা।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: শ্মশ্রুহীন (أمرد) যুবকের সাথে মুসাফাহা।

নবম পরিচ্ছেদ: অমুসলিমের সাথে মুসাফাহা।

আমি মহামহিমান্বিত আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি: তিনি যেন আমাকে এটি যথাযথভাবে উপস্থাপনের তাওফিক দান করেন—কেননা সাহায্য কেবল তাঁরই পক্ষ থেকে—এবং তিনি যেন আমার ভুল-ভ্রান্তি ও পদস্খলনগুলো মার্জনা করেন, আর বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হওয়ার দিনে এই কর্মটি যেন আমার আমলনামায় পুণ্য হিসেবে গণ্য হয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীদের ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌المبحث الأول: التعريف بالمصافحة

‌‌مدخل

إنّ من المسلَّمات بديهياً: أنه يتحتّم على من يريد استبيان حُكم المصافحة في الشريعة الإسلامية: بيانُ الحدود المرعية لهذا الفعل بالكشف أوّلاً عن حقيقته بتوضيحه والتعريف به، كي يكون على بيِّنة من أمره وهو يطوف به في جنبات الشريعة الغرّاء. ولهذا كان من الملائم هنا إلقاءُ الضوء على المصافحة كمظهر من مظاهر الآداب الإسلامية، وذلك بتعريفها وتوضيح كيفيّتها وآدابها وحكمها وحِكمة مشروعيّتها، مع بيان أوّل من حدَثت منه المصافحة والمعانقة، وهو خليل الله إبراهيم عليه السلام.

وهذا ما أتناوله في المطالب الآتية:
প্রথম পরিচ্ছেদ: করমর্দনের (مصافحة) পরিচয়

ভূমিকা

এটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যে, যে ব্যক্তি ইসলামী শরিয়তে করমর্দনের (مصافحة) বিধান স্পষ্ট করতে চান, তাঁর জন্য এই কাজের শরয়ি সীমানা স্পষ্ট করা অপরিহার্য; আর তা সম্ভব হবে প্রথমে এর প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন ও সংজ্ঞায়িত করার মাধ্যমে, যাতে তিনি এই মহিমান্বিত শরিয়তের বিধি-বিধান পর্যালোচনার সময় বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণ অবগত থাকেন। একারণেই ইসলামী শিষ্টাচারের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে এখানে করমর্দনের (مصافحة) ওপর আলোকপাত করা সমীচীন হবে, যার মধ্যে থাকবে এর সংজ্ঞা, পদ্ধতি, আদব, বিধান ও এর বৈধতার রহস্য বা হিকমত। সেইসাথে সর্বপ্রথম কার মাধ্যমে করমর্দন (مصافحة) ও কোলাকুলির (معانقة) সূচনা হয়েছিল—অর্থাৎ আল্লাহর খলিল ইবরাহিম আলাইহিস সালাম—তার বর্ণনাও এখানে উপস্থাপন করা হবে।

নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলোতে আমি এই বিষয়গুলোই আলোচনা করব:
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المطلب الأول: تعريف المصافحة وكيفيتها

المصافحة: إلصاق صفحة الكفِّ بالكف، مع إقبال الوجه بالوجه؛ ولهذا كانت المصافحة الأخذ باليد، والتصافح مثْله. فهي مفاعلة من الصفحة، والمراد بها: الإفضاء بصفحة اليد إلى صفحة اليد. وهي بضمّ الميم وفتْح الفاء، مصدر "صافح" مِن وضْع يد شخص في يد شخص آخر1. تقول: صافحْتُه مُصافَحةً أي: أفضَيْتُ بيدي إلى يده2.

اصطلاحاً: وضْع كفٍّ على كفّ، مع ملازمة لهما قَدْر ما يَفرغ من السلام ومن سؤال عن غرض3.

وعلى هذا، يكون الترابط قائماً بين المعنى الاصطلاحي للمصافحة مع الإطلاق اللغوي بشأنها.

هذا، وإن للمصافحة كيفيّتها وآدابها الشرعية. فالأصل فيها: أن تكون باليد الواحدة من كلٍّ من المتصافحيْن. فقد وردت الأحاديث والآثار الموضحة لكيفية وآداب المصافحة بما يفيد أنّ المصافحة بحسب الأصل فيها تكون باليد الواحدة؛ فقد جاء في

--------------------------------------------

1 كشاف اصطلاحات الفنون لمحمد علي التهانوي، تحقيق د/ لطفي عبد البديع 4/214.

2 راجع: لسان العرب لابن منظور 7 / 356، المصباح المنير صفحة 342.

3 راجع: الفتوحات الربانية لمحمد بن علان الصديقي 5 /392.
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুসাফাহার (مصافحة) সংজ্ঞা ও পদ্ধতি

মুসাফাহা (مصافحة): এক হাতের তালুকে অন্য হাতের তালুর সাথে মেলানো, সাথে একে অপরের মুখোমুখি হওয়া; এই কারণে মুসাফাহা হলো হাত ধরা, এবং তাসাফুহ (تصافح) শব্দটিও একই অর্থ বহন করে। এটি ‘সাফহাহ’ (صفحة) শব্দ থেকে ‘মুফা’আলাহ’ (مفاعلة) ওজনে গঠিত, যার উদ্দেশ্য হলো: এক হাতের তালু অন্য হাতের তালুর সংস্পর্শে আনা। এর উচ্চারণ মীম বর্ণে পেশ এবং ফা বর্ণে জবর সহকারে; এটি ‘সাফাহা’ (صافح) ক্রিয়ামূলের মাসদার (مصدر), যার অর্থ একজনের হাত অন্যজনের হাতের মধ্যে রাখা১। আপনি যখন বলেন: ‘আমি তার সাথে মুসাফাহা করেছি’, তার অর্থ: আমি আমার হাত তার হাতের সংস্পর্শে এনেছি২।

পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحاً): এক হাতের তালু অন্য হাতের তালুর ওপর রাখা এবং সালাম বিনিময় ও কুশলাদি জিজ্ঞাসার প্রয়োজন শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাত দুটিকে মিলিত রাখা৩।

এর ভিত্তিতে, মুসাফাহার পারিভাষিক অর্থ এবং এর ভাষাগত প্রয়োগের মধ্যে একটি নিবিড় যোগসূত্র বিদ্যমান।

উল্লেখ্য যে, মুসাফাহার নিজস্ব পদ্ধতি ও শরয়ি আদব রয়েছে। এর মূল নিয়ম (الأصل) হলো: করমর্দনকারী উভয়ের পক্ষ থেকে এক হাতের মাধ্যমে মুসাফাহা সম্পন্ন হওয়া। কেননা মুসাফাহার পদ্ধতি ও আদব বর্ণনাকারী হাদিস এবং আসারসমূহ (الآثار) এমন অর্থই প্রদান করে যে, মুসাফাহার মূল নিয়ম হলো তা এক হাতে হওয়া; যেমনটি বর্ণিত হয়েছে—

--------------------------------------------

১ মুহাম্মাদ আলী আত-তাহানবি রচিত কাশশাফু ইস্তিলাহাতিল ফুনুন, ড. লুতফি আব্দুল বাদি’ কর্তৃক তাহকিককৃত ৪/২১৪।

২ দ্রষ্টব্য: ইবনে মানজুর রচিত লিসানুল আরব ৭/৩৫৬, আল-মিসবাহুল মুনির পৃষ্ঠা ৩৪২।

৩ দ্রষ্টব্য: মুহাম্মাদ বিন আল্লান আস-সিদ্দিকি রচিত আল-ফুতুহাদুর রাব্বানিয়্যাহ ৫/৩৯২।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
حديث أنس رضي الله عنه: "فأخَذ أحدُهما بيدِ صاحبِه" 1، وفي حديث بريدة بن الحصيب: "فأخَذ بيدِه" 2

كما أنّ هذه الكيفية هي المتمشِّية مع الإطلاق اللغوي للمصافحة. وعلى هذا، فالسُّنّة: أن تكون المصافحة بيدٍ واحدة، غير أنّ الإمام البخاري يرى أنّ المصافحة تكون باليديْن، وذلك على نحو ما سلكه في صحيحه حيث وجدْناه يُبوِّب فيه باباً بعنوان "باب الأخذ باليد. وصافح حماد بن زيد3 ابن المبارك4 بيدَيْه"5.

--------------------------------------------

1 أخرجه أحمد في مسنده 3/142.

2 أخرجه أحمد في مسنده 5/349.

3 هو حماد بن زيد بن درهم، الأزدي الجهضمي، أبو إسماعيل، مولى آل جرير: شيخ العراق في عصره. يُعرف بالأزرق. كان مولده سنة 98هـ، ووفاته سنة 179هـ في البصرة. كان ضريراً، طرأ عليه العمى، يحفظ أربعة آلاف حديث.

راجع: الأعلام للزركلي 2/271.

4 عبد الله بن المبارك بن واضح، أبو عبد الرحمن الحنظلي مولاهم، التركي ثم المروزي. قال عنه الذهبي: "الإمام شيخ الإسلام، عالِم زمانه وأمير الأتقياء في وقته". مولده كان في سنة ثماني عشرة ومائة، ووفاته كانت في رمضان سنة إحدى وثمانين ومائة، بهيت.

راجع: سير أعلام النبلاء لمحمد بن أحمد الذهبي 8/378.

5 راجع: صحيح البخاري 5/2311.
আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস: "তাদের একজন অন্যজনের হাত ধরলেন" ১, এবং বুরাইদাহ ইবনুল হুসাইব-এর হাদিসে রয়েছে: "তিনি তার হাত ধরলেন" ২

তদুপরি, এই পদ্ধতিটি মুসাফাহার আভিধানিক ব্যবহারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর এর ভিত্তিতে সুন্নত (سنة) হলো: মুসাফাহা এক হাতে হওয়া; তবে ইমাম (إمام) বুখারি মনে করেন যে মুসাফাহা উভয় হাতে হওয়া উচিত। আর এটি তিনি তাঁর সহিহ গ্রন্থে যেভাবে উল্লেখ করেছেন তার অনুরূপ, সেখানে আমরা তাঁকে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করতে দেখি যার শিরোনাম হলো: "হাত ধরার অনুচ্ছেদ। এবং হাম্মাদ বিন যায়েদ৩ ইবনুল মুবারকের৪ সাথে উভয় হাত মিলিয়ে মুসাফাহা করেছেন"৫।

--------------------------------------------

১ আহমদ এটি তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন ৩/১৪২।

২ আহমদ এটি তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন ৫/৩৪৯।

৩ তিনি হলেন হাম্মাদ বিন যায়েদ বিন দিরহাম, আল-আজদি আল-জাহদামি, আবু ইসমাইল, আল-জারিরের বংশের আযাদকৃত দাস: সমকালীন ইরাকের শাইখ (شيخ)। তিনি 'আল-আযরাক' নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর জন্ম ৯৮ হিজরিতে এবং মৃত্যু ১৭৯ হিজরিতে বসরায়। তিনি অন্ধ ছিলেন, দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন; তিনি চার হাজার হাদিস মুখস্থ রাখতেন।

দেখুন: আয-যারকালি রচিত আল-আলাম ২/২৭১।

৪ আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক বিন ওয়াদিহ, আবু আব্দুর রহমান আল-হানজালি, তাঁদের আযাদকৃত দাস, তুর্কি বংশোদ্ভূত ও পরবর্তীতে মারওয়াযি। তাঁর সম্পর্কে যাহাবি বলেন: "তিনি ছিলেন ইমাম (إمام), শাইখুল ইসলাম (شيخ الإسلام), তাঁর যুগের আলেম (عالم) এবং তাঁর সময়ের খোদাভীরুদের নেতা"। তাঁর জন্ম ১১৮ হিজরিতে এবং মৃত্যু ১৮১ হিজরির রমজান মাসে হিত নামক স্থানে।

দেখুন: মুহাম্মদ বিন আহমদ যাহাবি রচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা ৮/৩৭৮।

৫ দেখুন: সহিহ বুখারি ৫/২৩১১।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقد دعّم البخاري ما قنَّنه وأخذ مذهباً له بما روى عن ابن مسعود رضي الله عنه بشأن التشهد ما نصّه: "علّمني رسول الله صلى الله عليه وسلم وكفِّي بين كفّيْه التشهّدَ كما يعلِّمُني السورة من القرآن: "التحيات لله، والصلوات والطّيِّبات. السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته. السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين. أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمد عبده ورسوله … "" 1.

فقوله: "وكفِّى بيْن كفّيْه" يفيد: أنّ النبي صلى الله عليه وسلم كان آخذاً بيدَي ابن مسعود، وإن كانت رواية هذا الحديث قد اكتفت بذكْر يدِ ابن مسعود الواحدة. فإنّ المستفاد: أنه لم يكن يصافح النبي صلى الله عليه وسلم بيدٍ واحدة، لأنه لا يقبل أن يصافحه النبي بكلتا يديْه وهو يصافحه بواحدة؛ فالمستبعَد مِن مثْله أن يبسط يداً واحدة في حين أنّ النبي صلى الله عليه وسلم قد بسط له اليديْن2.

ونوقش هذا: بأن الوارد في حديث ابن مسعود غير مفيد في

--------------------------------------------

1 راجع: صحيح البخاري، كتاب الاستئذان 5/2311.

2 راجع: فيض الباري على صحيح البخاري لمحمد أنور الكشميري 4 / 411، وفضل الله الصمد في توضيح الأدب للجيلاني 3 /174.
ইমাম বুখারী যা বিধিবদ্ধ করেছেন এবং যা নিজের মাজহাব হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তাকে তিনি ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে তাশাহহুদ সম্পর্কে বর্ণিত একটি পাঠ দ্বারা সুদৃঢ় করেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিয়েছেন এমতাবস্থায় যে, আমার হাতের তালু তাঁর দুই হাতের তালুর মাঝে ছিল; যেভাবে তিনি আমাকে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন: 'আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস-সালাওয়াতু ওয়াত-তাইয়্যিবাতু। আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান-নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস-সালিহীন। আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু … '" ১।

তাঁর উক্তি: "আমার হাতের তালু তাঁর দুই হাতের তালুর মাঝে ছিল" এটি নির্দেশ করে যে: নবী (সা.) ইবনে মাসউদের উভয় হাত ধরেছিলেন, যদিও এই হাদিসের বর্ণনা (رواية)-টিতে ইবনে মাসউদের একটি হাতের কথা উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। মূলত এখান থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো: তিনি নবী (সা.)-এর সাথে এক হাতে মুসাফাহা করেননি, কারণ এটি অগ্রহণযোগ্য যে নবী (সা.) তাঁর উভয় হাত দিয়ে মুসাফাহা করবেন আর তিনি কেবল এক হাত দিয়ে করবেন; তাঁর মতো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব (مستبعد) যে নবী (সা.) যেখানে তাঁর জন্য উভয় হাত প্রসারিত করেছেন, এমতাবস্থায় তিনি কেবল এক হাত প্রসারিত করবেন। ২।

আর এটি এভাবে আলোচিত হয়েছে যে: ইবনে মাসউদের হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে তা নিম্নোক্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ নয় যে...

--------------------------------------------

১ দেখুন: সহীহ বুখারী, কিতাবুল ইস্তিজান ৫/২৩১১।

২ দেখুন: মুহাম্মদ আনোয়ার কাশ্মীরী রচিত ফয়জুল বারী আলা সহীহ বুখারী ৪/৪১১, এবং জিলানী রচিত ফজলুল্লাহিস সামাদ ফি তাওদিহিল আদাব ৩/১৭৪।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الاستدلال هنا على المصافحة باليديْن عند التسليم، لأنّ الذي حدث من ابن مسعود بحضرة النبي صلى الله عليه وسلم، وما كان على هذا الحال كان بغرض التعليم، وما نحن فيه خلافُه1.

غير أنه إذا كان العرف السائد والمستقرّ في أحد الأماكن يسير على المصافحة باليديْن، فلا بأس في اتّباعه خاصة وأنّ في هذا كبير مودّة، لاسيما وأن المصافحة ترتبط بأخلاقيات وآداب الإسلام العامة بما تُحدثه من إشاعة روح المودّة والصفاء والتراحم والتآخي بين المسلمين، وذلك على نحو ما أورده الإمام البخاري من أثر حمّاد وابن المبارك2.

فالتصافح في الأصل باليد الواحدة، وإن كان باليديْن ففيه زيادة تأكيد المودّة والبهجة والسرور والبشر بلقاء صاحبه المسلم؛ وهذا إن كان على وجْه التبادل كان أثره عظيماً فيما بين الناس. وكيفية المصافحة

على هذا النحو هي: أن يَتمّ التصافح أوّلاً باليد الواحدة، ثم يشدّ على يد المصافح بيده الأخرى.

--------------------------------------------

1 راجع: تحفة الأحوذي للمباركفوري 7/477.

2 راجع: المرجع السابق، نفس الموضوع.
এখানে সালাম বিনিময়ের সময় দুই হাতে মুসাফাহা (করমর্দন) করার সপক্ষে দলিল পেশ করা হয়েছে। কারণ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে নবি (সা.)-এর উপস্থিতিতে যা বর্ণিত হয়েছে, তা মূলত শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ছিল; আর বর্তমানে আমাদের অবস্থা তার বিপরীত ১।

তবে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে যদি দুই হাতে মুসাফাহা করার রীতি প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত থাকে, তবে তা অনুসরণ করাতে কোনো দোষ নেই। বিশেষত এতে ভালোবাসার আধিক্য প্রকাশ পায়। অধিকন্তু মুসাফাহা ইসলামের সাধারণ শিষ্টাচার ও আখলাকের সাথে সম্পৃক্ত; যা মুসলিমদের মাঝে হৃদ্যতা, স্বচ্ছতা, দয়া ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা ছড়িয়ে দেয়। ইমাম বুখারি হাম্মাদ ও ইবনুল মুবারক থেকে যে বর্ণনা (أثر) উল্লেখ করেছেন, বিষয়টি তারই অনুরূপ ২।

মূলত মুসাফাহা এক হাতেই হয়। তবে দুই হাতে করলে তাতে ভালোবাসা, আনন্দ, খুশি এবং মুসলিম ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতের উল্লাসের অধিক বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আর এটি যদি উভয় পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে, তবে মানুষের মাঝে এর প্রভাব হয় অত্যন্ত গভীর। আর মুসাফাহার পদ্ধতি

এক্ষেত্রে এমন: প্রথমে এক হাতে মুসাফাহা সম্পন্ন করা হবে, এরপর নিজের অন্য হাত দিয়ে অপর ব্যক্তির হাতের ওপর চাপ দেওয়া হবে।

--------------------------------------------

১. দ্রষ্টব্য: মুবারকপুরী রচিত তুহফাতুল আহওয়াযি ৭/৪৭৭।

২. দ্রষ্টব্য: পূর্বোক্ত উৎস, একই বিষয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وهذا كله بمراعاة أنه إذا كان المقصود بالمصافحة باليديْن إلصاق صفح كف اليمنى بصفح كف اليمنى من المصافح، وإلصاق صفح كفّ اليسرى بصفح كفّ اليسرى - يعني: بالعكس في الهيئة بين المتصافحيْن، على صورة المقراض، يعني المقصّ -، فهذا لا يصحّ لأنه على هذه الحالة يكون هناك مصافحتان، ونحن مأمورون بمصافحة واحدة لا بمصافحتيْن، فضلاً عن أنّ هذا لا يتحقّق معه الغرض من المصافحة عند اللقاء.

ومن الجدير بالتنبيه عليه هنا أيضاً: أنه يُستحبّ ألا يَنزع المصافِح يدَه من يد صاحبه حتى ينزع هو - يعني: المصافَح -. ودليل ذلك: ما رواه أنس بن مالك1 رضي الله عنه "أنّ النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا لقيَه أحد من الصحابة فقام معه، قام معه - يعني: واقفاً - فلم ينصرف حتى يكون الرجل هو الذي ينصرف عنه. وإذا لقيَه أحد من

--------------------------------------------

1 أنس بن مالك بن النضر بن ضمضم بن زيد بن حرام، أبو حمزة الأنصاري. كان مولده بالمدينة في السنة العاشرة قبل الهجرة، وأسلم صغيراً، وخدم النبي صلى الله عليه وسلم إلى أن قُبض. ثم رحل إلى دمشق، ومنها إلى البصرة. ومات بها سنة 93هـ. وهو آخر من مات بالبصرة من الصحابة.

راجع: الأعلام للزركلي 2/24، والإصابة في تمييز الصحابة للعسقلاني 1/126.
এই সব কিছুই এই বিবেচনায় যে, যদি দুই হাতে মুসাফাহা করার উদ্দেশ্য হয় একজনের ডান হাতের তালুর সাথে অপর মুসাফাহাকারীর ডান হাতের তালু মেলানো এবং বাম হাতের তালুর সাথে বাম হাতের তালু মেলানো—অর্থাৎ মুসাফাহাকারীদের মধ্যে হাত রাখার ভঙ্গিটি বিপরীতমুখী হওয়া, যা কাঁচির আকৃতির মতো—তবে তা সঠিক (صحيح) হবে না। কারণ এই অবস্থায় সেখানে দুটি মুসাফাহা হয়ে যায়, অথচ আমাদের একটি মুসাফাহা করার নির্দেশ (مأمور) দেওয়া হয়েছে, দুটি নয়। এছাড়া এতে সাক্ষাতের সময় মুসাফাহার যে মূল উদ্দেশ্য থাকে তাও অর্জিত হয় না।

এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয় যে, মুসাফাহাকারী ততক্ষণ পর্যন্ত তার হাত সরিয়ে নিবেন না যতক্ষণ না তার সাথী—অর্থাৎ যার সাথে মুসাফাহা করা হয়েছে—হাত সরিয়ে নেন, এটি পছন্দনীয় (مستحب)। এর প্রমাণ হলো আনাস ইবনে মালিক১ (রা.) যা বর্ণনা করেছেন (روى): "নবী (সা.)-এর সাথে যখন কোনো সাহাবীর (صحابي) দেখা হতো এবং তিনি তার সাথে দাঁড়াতেন, তখন তিনি দাঁড়িয়ে থাকতেন এবং ততক্ষণ পর্যন্ত প্রস্থান করতেন না যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজে ফিরে যেতেন। আর যদি তাঁর সাথে কারো দেখা হতো..."

--------------------------------------------

১. আনাস ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর ইবনে দামদাম ইবনে যায়েদ ইবনে হারাম, আবু হামজা আল-আনসারী। হিজরতের দশ বছর পূর্বে মদিনায় তাঁর জন্ম। তিনি ছোটবেলায় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবী (সা.)-এর ওফাত পর্যন্ত তাঁর খেদমত করেন। এরপর তিনি দামেস্কে এবং পরে বসরায় হিজরত করেন এবং সেখানেই ৯৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। বসরায় মৃত্যুবরণকারী সাহাবীদের (صحابة) মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বশেষ ব্যক্তি।

দেখুন: আল-আলাম লিল জিরিকলি ২/২৪, এবং আল-ইসাবা ফি তামিইজিস সাহাবা লিল আসকালানি ১/১২৬।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
أصحابه فتناول يدَه ناوله إيّاها، فلم ينزع يده منه حتى يكون الرجل هو الذي يَنزع يده منه. وإذا لقيَ أحداً من أصحابه فتناول أذنه –يعني: أحبّ أن يُسِرّ إليه– ناوله إياها، ثم لم يَنزعها حتى يكون الرجل هو الذي ينزعها عنه"1.

وفي لفظ ابن ماجه: "كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا لقي الرجل فكلمه لم يصرف وجهه عنه حتى يكون هو الذي ينصرف وإذا صافحه لن ينزع يده من يده حتى يكون هو الذي ينزعها ولم ير متقدما بركبتيه جليسًا قط".

--------------------------------------------

1 أخرجه ابن سعد في الطبقات الكبرى 1/378، وابن الجعد في مسنده صفحة 994، وابن ماجة في سننه 2/1224، وصححه الألباني في صحيح الجامع 2/168.
তাঁর সাহাবীদের কেউ তাঁর হাত ধরলে তিনি তা তাঁর হাতে অর্পণ করতেন, অতঃপর ততক্ষণ পর্যন্ত নিজের হাত সরিয়ে নিতেন না যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজেই নিজের হাত সরিয়ে নিত। আর যখন তিনি তাঁর কোনো সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং সে তাঁর কানের কাছে আসত—অর্থাৎ সে তাঁর সাথে কানে কানে কথা বলতে চাইত—তখন তিনি নিজের কান পেতে দিতেন এবং ততক্ষণ পর্যন্ত তা সরিয়ে নিতেন না যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজেই তা সরিয়ে নিত।"১

ইবনে মাজার শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং কথা বলতেন, তখন ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর দিক থেকে নিজের চেহারা ফিরিয়ে নিতেন না যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজেই ফিরে যেত। আর যখন তিনি করমর্দন করতেন, তখন ততক্ষণ পর্যন্ত নিজের হাত সরিয়ে নিতেন না যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজেই তা সরিয়ে নিত। আর তাঁকে কখনও তাঁর মজলিসের সাথীর সামনে হাঁটু বাড়িয়ে বসে থাকতে দেখা যায়নি।"

--------------------------------------------

১ এটি ইবনে সাদ আত-তাবাকাতুল কুবরা ১/৩৭৮-এ, ইবনুল জাদ তাঁর মুসনাদ-এর ৯৯৪ পৃষ্ঠায় এবং ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান ২/১২২৪-এ বর্ণনা করেছেন; আলবানী একে সহীহ আল-জামি ২/১৬৮-এ সহীহ (صحيح) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌المطلب الثاني: حُكم المُصافحة

المصافحة من الرجل للرجل وكذا من المرأة للمرأة: سُنّة، ويُندب إليها عند التلاقي؛ وقد أجمع على هذا كافّة الفقهاء في جميع الأعصار والأمصار. وجاء في "الأذكار المنتخبة من كلام سيد الأبرار ص": "اعلَمْ أنّها سُنّة مُجمَع عليها عند التلاقي"1. وقال المناوي: "فإنّ المصافحة سُنّة مؤكّدة "2.

وقد أوضحتْ كثير من الأدلة مشروعيَّتها واستحبابها؛ فقد وردت السُّنّة النبوية المطهّرة والآثار الواردة عن صحابة النبي صلى الله عليه وسلم، فضلاً عن إجماع الأئمة رحمهم الله، بما يفيد تلك المشروعية على وجْه السُّنّة والاستحباب.

فمن السُّنّة المطهّرة:

--------------------------------------------

1 راجع: محيي الدين النووي صفحة 239.

2 فيض القدير شرح الجامع الصغير 6/11.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুসাফাহার বিধান

পুরুষে পুরুষে এবং অনুরূপভাবে নারীতে নারীতে মুসাফাহা করা: সুন্নাত (سنة), এবং সাক্ষাতের সময় তা করার জন্য উৎসাহিত (يندب) করা হয়েছে; আর সকল যুগের ও সকল জনপদের সকল ফকিহ এ বিষয়ে ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন। "আল-আযকারুল মুনতাখাবাহ মিন কালামি সাইয়্যিদিল আবরার"-এ এসেছে: "জেনে রাখুন যে, সাক্ষাতের সময় এটি একটি সর্বসম্মত সুন্নাত (سنة مجمع عليها)"১। ইমাম আল-মুনাবি বলেন: "নিশ্চয়ই মুসাফাহা করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة)"২।

বহু দলিল এর বৈধতা (مشروعية) এবং মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে; সুতরাং পবিত্র নববী সুন্নাত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের থেকে বর্ণিত আসার (آثار) এর পাশাপাশি আইম্মায়ে কেরামের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন) ইজমা (إجماع) বা ঐকমত্য বিদ্যমান রয়েছে, যা সুন্নাত (سنة) ও মুস্তাহাব (استحباب) হিসেবে উক্ত বৈধতার প্রমাণ দেয়।

পবিত্র সুন্নাহর মধ্য থেকে:

--------------------------------------------

১ দেখুন: মুহিউদ্দিন আন-নববী, পৃষ্ঠা ২৩৯।

২ ফয়জুল কাদির শারহুল জামিউস সাগির ৬/১১।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
1 - ما رواه البراء بن عازب1 رضي الله عنه قال: "ما مِن مُسلمَيْن يلْتقِيان فيتصافحان، إلاّ غُفر لهما قبل أن يتفرّقا" 2.

2 - ما رواه أنس بن مالك رضي الله عنه أنه قال: "قال رجل: يا رسول الله، الرجل منّا يلْقَى أخاه أو صديقه، أيَنْحَني له؟ - يعني: يُميل الرأس والظهر تعظيماً وتواضعاً -، فقال: "لا". قال: فيَلتزمه ويُقبِّله؟ قال: "لا". قال: فيأخذ بِيدِه ويُصافحُه؟ قال: "نعم" 3.

3 - ما رواه سلمان الفارسي4 رضي الله عنه أنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:

--------------------------------------------

1 البراء بن عازب بن الحارث، الخزرجي. يُكنى: أبو عمارة. قائد صحابي من أصحاب الفتوح. أسلم صغيراً وغزا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم خمس عشرة غزوة، أوّلُها غزوة الخندق. وشهد مع علي رضي الله عنه الجمل وصفِّين. وتوفي في إمارة مصعب بن الزبير سنة 71هـ.

راجع: الأعلام للزركلي 2/46.

2 راجع المسند 4/289، وسنن أبي داوود 4/354، وجامع الترمذي 5/74.

3 راجع: الترمذي 5/75، وقال: "حديث حسن".

4 سلمان الفارسي: صحابي من مقدَّميهم، كان يُسمِّي نفسه: سلمان الإسلام. أصله من رامهرمز، وقيل: من أصبهان. قصد بلاد العرب فلقيَه ركب من بني كلب فاستخدموه، ثم استعبدوه وباعوه. فاشتراه رجل من قريظة، فجاء به إلى المدينة. وعلِم سلمان بخبر الإسلام، فقصد النبي صلى الله عليه وسلم بقباء وسمع كلامه، ولازمه أياماً. أعانه المسلمون على شراء نفسه من صاحبه، فأظهر. إسلامه. وكان قوي الجسم، صحيح الرأي. وهو الذي دل المسلمين على حفر الخندق في غزوة الأحزاب حتى اختلف عليه المهاجرون والأنصار كلاهما يقول: "سلمان منّا"، فقال صلى الله عليه وسلم: "سلمان منّا، أهل البيت". جُعل أميرا على المدائن، فأقام فيها إلى أن توفي سنة 36هـ.

راجع: الإصابة في تمييز الصحابة للعسقلاني 3/141، الأعلام للزركلي 3/11-112.
1 - আল-বারা ইবনে আজিব১ (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখনই দুইজন মুসলিমের সাক্ষাৎ হয় এবং তারা একে অপরের সাথে করমর্দন করে, তখন তাদের একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়।" ২.

2 - আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি যখন তার কোনো ভাই বা বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করে, সে কি তার সামনে মাথা নত করবে? - অর্থাৎ সম্মান ও বিনয় প্রকাশার্থে মাথা ও পিঠ বাঁকানো -, তিনি (সা.) বললেন: 'না'। সে বলল: তবে কি তাকে জড়িয়ে ধরবে এবং চুম্বন করবে? তিনি (সা.) বললেন: 'না'। সে বলল: তবে কি তার হাত ধরবে এবং তার সাথে করমর্দন করবে? তিনি (সা.) বললেন: 'হ্যাঁ'।" ৩.

3 - সালমান আল-ফারিসি৪ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন:

--------------------------------------------

১ আল-বারা ইবনে আজিব ইবনুল হারিস, আল-খাজরাজি। তার উপনাম: আবু আমারা। তিনি বিজয়াভিযানসমূহের একজন সাহাবী (صحابي) সেনাপতি। তিনি অল্প বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সাথে ১৫টি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, যার প্রথমটি ছিল খন্দকের যুদ্ধ। তিনি আলী (রা.)-এর সাথে জামাল ও সিফফিনের যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি ৭১ হিজরিতে মুসআব ইবনে জুবাইরের শাসনকালে ইন্তেকাল করেন।

দ্রষ্টব্য: যিরিকলির আল-আলাম ২/৪৬।

২ দ্রষ্টব্য: আল-মুসনাদ ৪/২৮৯, সুনানে আবু দাউদ ৪/৩৫৪ এবং জামি তিরমিজি ৫/৭৪।

৩ দ্রষ্টব্য: তিরমিজি ৫/৭৫, এবং তিনি বলেছেন: "হাসান (حسن) হাদিস।"

৪ সালমান আল-ফারিসি: তিনি অগ্রগামী সাহাবীগণের (صحابة) একজন, তিনি নিজেকে 'সালমান আল-ইসলাম' বলে অভিহিত করতেন। তার মূল আবাস ছিল রামহুরমুজ, মতান্তরে ইস্পাহানে। তিনি আরব ভূখণ্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হলে বনু কালব গোত্রের একটি কাফেলা তাকে পেয়ে যায় এবং তাকে দিয়ে কাজ করায়, পরে তাকে দাস বানিয়ে বিক্রি করে দেয়। কুরাইজা গোত্রের এক ব্যক্তি তাকে ক্রয় করে মদীনায় নিয়ে আসে। সালমান ইসলামের খবর জানতে পারেন এবং কুবায় নবী (সা.)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁর কথা শোনেন ও কয়েকদিন তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন। মুসলিমগণ তাকে তার মালিকের নিকট থেকে নিজেকে মুক্ত করার জন্য সাহায্য করেন, অতঃপর তিনি ইসলাম প্রকাশ করেন। তিনি শারীরিকভাবে শক্তিশালী ও প্রজ্ঞাবান ছিলেন। আহযাবের যুদ্ধে তিনিই মুসলিমদের পরিখা খননের পরামর্শ দিয়েছিলেন, যার ফলে মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে তাকে নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয় এবং প্রত্যেকেই বলতে থাকেন: "সালমান আমাদের মধ্য থেকে", তখন নবী (সা.) বলেন: "সালমান আমাদের মধ্য থেকে, আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত।" তাকে মাদায়েনের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল এবং ৩৬ হিজরিতে ইন্তেকাল পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করেন।

দ্রষ্টব্য: আসকালানির আল-ইসাবা ফি তাময়িযিস সাহাবা ৩/১৪১, যিরিকলির আল-আলাম ৩/১১-১১২।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
"إنّ المسلمَ إذا لقِيَ أخاه المسلم فأخذ بيده، تَحاتّتْ عنهما ذنوبُهما كما تَتحاتّ 1 الورقة في الشجرة اليابسة في يوم ريح عاصف، وإلاّ غفر لهما ولو كانت ذنوبهما مثْلَ زبَد البحر" 2.

4 - ما رواه البراء أيضاً أنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "أيّما مسلميْن يلتقيان، فأخذ أحدُهما بيدِ صاحبِه فتصافحَا، وحمِدا الله تعالى جميعاً، تفرّقا وليس بينهما خطيئة" 3.

5 - كما روى أيضاً قولَ النبي صلى الله عليه وسلم: "ما مِن مسلمَيْن يلتقيان، فيُسلِّم أحدُهما على صاحبه، ويأخذُ بيَدِه لا يأخذه إلا لله لا يتفرّقان حتى يغفر لهما" 4.

--------------------------------------------

1 تحاتّتْ: تساقطت. راجع: المصباح المنير للفيومي1/120.

2 راجع: الطبراني في الكبير 6/256.

3 أخرجه أحمد 4/289، وأبو داوود 4/354، وابن ماجة 2/1220، وصححه الألباني.

4 حديث حسن أخرجه الإمام أحمد في المسند 14/218 وصححه الألباني.
"নিশ্চয়ই একজন মুসলিম যখন তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তার হাত ধরে, তখন তাদের উভয়ের গুনাহসমূহ এমনভাবে ঝরে পড়ে যেমন কোনো ঝড়ো হাওয়ার দিনে শুষ্ক গাছের পাতা ঝরে পড়ে; অন্যথায় তাদের উভয়কে ক্ষমা করে দেওয়া হয় যদিও তাদের গুনাহ সমুদ্রের ফেনার ন্যায় হয়।" ২।

৪ - বারা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে কোনো দুইজন মুসলিম যখন একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে, অতঃপর তাদের একজন তার সাথীর হাত ধরে এবং তারা করমর্দন করে এবং উভয়েই মহান আল্লাহর প্রশংসা করে, তবে তারা এমন অবস্থায় পৃথক হয় যে তাদের মধ্যে কোনো পাপ থাকে না।" ৩।

৫ - তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটিও বর্ণনা করেছেন: "যখনই দুইজন মুসলিমের সাক্ষাৎ হয়, অতঃপর তাদের একজন অপরজনকে সালাম দেয় এবং তার হাত ধরে—আর সে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তার হাত ধরে—তবে তারা পৃথক হওয়ার আগেই তাদের উভয়কে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।" ৪।

--------------------------------------------

১ তাহাতত: ঝরে পড়া বা পতিত হওয়া। দেখুন: আল-মিসবাহুল মুনির লিল-ফাইয়ুমি ১/১২০।

২ দেখুন: তাবারানি ফিল কাবির ৬/২৫৬।

৩ এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ ৪/২৮৯, আবু দাউদ ৪/৩৫৪, ইবনে মাজাহ ২/১২২০ এবং আলবানি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

৪ এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস যা ইমাম আহমদ মুসনাদে ১৪/২১৮-এ বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
ومن الآثار:

1 - ما رواه كعب بن مالك1 رضي الله عنه قال: "دخلت المسجد، فإذا برسول الله صلى الله عليه وسلم، فقام إليّ طلحة بن عبيد الله2 يهرول حتى صافحني وهنّأني"3.

2 - ما رواه البخاري عن قتادة4 رضي الله عنه قال: قلت لأنس: "كانت المصافحة في أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم؟ قال: نعم"5.

--------------------------------------------

1 كعب بن مالك بن عمرو، أبو عبد الله الأنصاري السّلمي، من أكابر الشعراء من أهل المدينة. اشتهر في الجاهلية، وكان في الإسلام من شعراء النبي صلى الله عليه وسلم، وشهد أكثر الوقائع. ولما قُتل عثمان، قعد عن نصرة علي فلم يشهد حروبه. وعمي في آخر عمره. وقيل: مات بالشام في خلافة معاوية سنة 50هـ.

راجع: الإصابة في تمييز الصحابة 5/610، والأعلام للزكلي 5/228.

2 طلحة بن عبيد الله بن عثمان التيمي القرشي المدني، أحد العشرة المبشّرين، وأحد الثمانية السابقين إلى الإسلام. شهد أُحُداً، وثبت مع رسول الله –صلى الله عليه وسلم، وبايعه على الموت، فأصيب بأربعة وعشرين جرحاً. شهد الخندق وسائر المشاهد. قُتل يوم الجمل وهو بجانب عائشة، ودُفن بالبصرة سنة 36هـ.

راجع: الأعلام للزركلي 3/229.

3 أخرجه البخاري 4/1607، ومسلم 4/2126.

4 قتادة بن دعامة بن قتادة بن عزيز، أبو الخطاب السدوسي البصري، مفسِّر حافظ، ضرير أكمه. مات بواسط سنة 118هـ.

راجع: الأعلام للزركلي 5/189.

5 رواه البخاري 5/2311، والترمذي 5/75.
বর্ণিত আছারসমূহের (الآثار) মধ্যে রয়েছে:

১ - কাব বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.) সেখানে ছিলেন। তখন তালহা বিন উবায়দুল্লাহ (রা.) দ্রুতবেগে আমার দিকে আসলেন এবং আমার সাথে করমর্দন (المصافحة) করলেন ও আমাকে অভিনন্দন জানালেন।"

২ - ইমাম বুখারি কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম: "নবী (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্যে কি করমর্দনের (المصافحة) প্রচলন ছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ।"

--------------------------------------------

১. কাব বিন মালিক বিন আমর, আবু আবদুল্লাহ আল-আনসারি আস-সুলামি, মদিনাবাসীদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি জাহেলিয়াত যুগে প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং ইসলাম গ্রহণের পর নবী (সা.)-এর কবিদের অন্তর্ভুক্ত হন এবং অধিকাংশ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যখন উসমান (রা.) শহীদ হন, তখন তিনি আলি (রা.)-এর সাহায্য থেকে বিরত থাকেন এবং তাঁর যুদ্ধসমূহে উপস্থিত হননি। জীবনের শেষ দিকে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। বলা হয়: তিনি মুয়াবিয়া (রা.)-এর খেলাফতকালে ৫০ হিজরিতে সিরিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন।

দ্রষ্টব্য: আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযিল সাহাবাহ ৫/৬১০, এবং আল-আলাম লিজ-যিরিকলি ৫/২২৮।

২. তালহা বিন উবায়দুল্লাহ বিন উসমান আত-তাইমি আল-কুরাশি আল-মাদানি, জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের (العشرة المبشرون بالجنة) একজন এবং ইসলামে অগ্রগামী প্রথম আটজনের অন্যতম। তিনি উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে অবিচল থাকেন এবং মৃত্যুর ওপর তাঁর কাছে বায়আত (بيعة) গ্রহণ করেন, ফলে তিনি চব্বিশটি আঘাত প্রাপ্ত হন। তিনি খন্দক ও অন্যান্য সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি উষ্ট্রের যুদ্ধের দিন আয়েশা (রা.)-এর পাশে থাকাবস্থায় নিহত হন এবং ৩৬ হিজরিতে বসরায় দাফন করা হন।

দ্রষ্টব্য: আল-আলাম লিজ-যিরিকলি ৩/২২৯।

৩. এটি বুখারি ৪/১৬০৭ এবং মুসলিম ৪/২১২৬ বর্ণনা করেছেন।

৪. কাতাদাহ বিন দিয়ামাহ বিন কাতাদাহ বিন আযিয, আবুল খাত্তাব আস-সাদূসি আল-বাসরি, মুফাসসির (مفسر) ও হাফেজ (حافظ), তিনি জন্মান্ধ ছিলেন। ১১৮ হিজরিতে ওয়াসিতে মৃত্যুবরণ করেন।

দ্রষ্টব্য: আল-আলাম লিজ-যিরিকলি ৫/১৮৯।

৫. এটি বুখারি ৫/২৩১১ এবং তিরমিজি ৫/৭৫ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
هذا فضلاً عن الإجماع:

فقد أجمع الفقهاء وأئمة المذاهب على مشروعية المصافحة، وأنّها سُنّة؛ وفي هذا يقول الإمام النووي عن المصافحة: "اعلَمْ أنّها سُنّة مُجمَع عليها عند التلاقي"1.

وقال ابن بطال: " … المصافحة حَسنة عند عامّة العلماء، وقد استحبّها مالك"2.

وجاء في "فتح الباري" قولُ ابن حجر: "قال ابن عبد البر3: روى ابن وهب4 عن مالك: أنّه كرِه المصافحةَ والمعانقة؛ وذهب

--------------------------------------------

1 راجع: الأذكار المنتخبة من كلام سيد الأبرار صفحة 239، والمجموع 4/475.

2 راجع: فتح الباري 11/57.

3 هو يوسف بن عبد الله بن محمد بن عبد البر بن عاصم، أبو عمر النمري الأندلسي. وُلد بقرطبة عام 368هـ، ورحل رحلات طويلة في غربي الأندلس وشرقيها. ولي قضاء لشبونة وشنترين. له مصنّفات كثيرة منها: "التمهيد" و"الاستذكار". توفي بمدينة شاطبة شرق الأندلس عام 463هـ.

راجع: سير أعلام النبلاء 11/359-364، الديباج المذهّب 2/367-370، والأعلام 8/240.

4 عبد الله بن وهب بن مسلم الفهري بالولاء المصري، أبو محمد. من أصحاب الإمام مالك. كان حافظاً ثقة مجتهداً. عُرض عليه القضاء فخبأ نفسه ولزم منزله. توفي بمصر سنة 197هـ.

راجع: الأعلام للزركلي 4/144.
এ বিষয়টি ঐকমত্যের (إجماع) অতিরিক্ত হিসেবে:

নিশ্চয়ই ফকিহগণ (الفقهاء) এবং মাযহাবসমূহের ইমামগণ (أئمة المذاهب) মুসাফাহার (المصافحة) বৈধতার (مشروعية) বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং এটি যে একটি সুন্নাহ (سُنّة), সে বিষয়েও তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এই প্রসঙ্গে ইমাম নববী মুসাফাহা সম্পর্কে বলেন: "জেনে রাখুন, সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা করা একটি সর্বসম্মত (مُجمَع عليها) সুন্নাহ (سُنّة)"১।

ইবনে বাত্তাল বলেন: " ... সাধারণ আলেমগণের (عامّة العلماء) নিকট মুসাফাহা উত্তম (حَسنة) কাজ এবং ইমাম মালিক একে পছন্দনীয় (استحبّها) বলেছেন"২।

ফাতহুল বারী গ্রন্থে ইবনে হাজারের এই বক্তব্যটি উদ্ধৃত হয়েছে: "ইবনে আবদুল বার৩ বলেন: ইবনে ওয়াহাব৪ ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুসাফাহা এবং কোলাকুলি (المعانقة) অপছন্দ (كرِه) করতেন; এবং তিনি মনে করতেন...

--------------------------------------------

১ দেখুন: আল-আজকার আল-মুনতাখাবা মিন কালাম সাইয়্যিদিল আবরার, পৃষ্ঠা ২৩৯ এবং আল-মাজমু ৪/৪৭৫।

২ দেখুন: ফাতহুল বারী ১১/৫৭।

৩ তিনি হলেন ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল বার ইবনে আসিম, আবু ওমর আন-নামারি আল-আন্দালুসি। তিনি ৩৬৮ হিজরিতে কর্ডোভায় জন্মগ্রহণ করেন এবং আন্দালুসের পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলে দীর্ঘ সফর করেন। তিনি লিসবন ও সান্তারেনের বিচারিক দায়িত্ব (قضاء) পালন করেন। তার অনেকগুলো গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে 'আল-তামহিদ' এবং 'আল-ইস্তিজকার' অন্যতম। তিনি ৪৬৩ হিজরিতে পূর্ব আন্দালুসের শাতবা শহরে ইন্তেকাল করেন।

দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ১১/৩৫৯-৩৬৪, আদ-দিবাজ আল-মুজাহাব ২/৩৬৭-৩৭০ এবং আল-আলাম ৮/২৪০।

৪ আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব ইবনে মুসলিম আল-ফিহরি (মাওলা হিসেবে), আল-মাসরি, আবু মুহাম্মাদ। তিনি ইমাম মালিকের শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি হাফেজ (حافظاً), নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং মুজতাহিদ (مجتهداً) ছিলেন। তাকে বিচারকের (قضاء) পদের প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি নিজেকে আত্মগোপন করে রাখেন এবং নিজের ঘরেই অবস্থান করেন। তিনি ১৯৭ হিজরিতে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন।

দেখুন: যিরিকলির আল-আলাম ৪/১৪৪।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
إلى هذا سحنون1 وجماعة. وقد جاء عن مالك2 جوازُ المصافحة؛ وهو الذي

يدلّ عليه صنيعُه في "الموطإ". وعلى جوازه جماعة العلماء سلفاً وخلَفاً"3.

هذا، وأوّل مَن صافح وعانق: خليلُ الله سيدُنا إبراهيم عليه السلام، وذلك عندما اجتمع بالإسكندر الأكبر بالحرم المكي الشريف؛ فقد صافحه خليل الرحمن وعانقه وقبّله بين عيْنيْه قبل المفارقة، وأعطاه الراية وأهداه للخير، وعمَّمَهُ. وتشرّع الإسكندر بشريعته ودخل معه في ملّته4.

--------------------------------------------

1 محمد بن عبد السلام سحنون بن سعيد بن حبيب التنوخي. فقيه مالكي مُناظر، كثير التصانيف، من أهل القيروان. رحل إلى المشرق سنة 235هـ، وتوفي بالساحل، ونقل إلى القيروان فدفن فيها سنة 256هـ.

راجع: الأعلام للزركلي 6/204-205، الديباج المذهب لابن فرحون 2/169.

2 مالك بن أنس بن مالك الأصبحي الحميري، أبو عبد الله. إمام دار الهجرة، وأحد الأئمة الأربعة عند أهل السنة، وإليه تُنسب المالكية. كان صلباً في دينه، بعيداً عن الأمراء والملوك. مولده بالمدينة، وتوفي بها سنة 179هـ.

راجع: الأعلام للزركلي 5/257.

3 راجع: أحمد بن حجر العسقلاني 11/58.

4 غذاء الألباب لشرح منظومة الآداب للشيخ محمد السفاريني 1 /328 -329.
সহনুন এবং একদল আলিম এই মত পোষণ করেছেন। মালিক থেকে মুসাফাহা করার বৈধতা বর্ণিত হয়েছে; আর এটিই সেই বিষয় যা

মুওয়াত্তা-তে তাঁর কর্মপদ্ধতি প্রমাণ করে। পূর্ববর্তী (سلف) এবং পরবর্তী (خلف) একদল আলেম এর বৈধতার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

আরও কথা এই যে, সর্বপ্রথম যিনি মুসাফাহা ও কোলাকুলি করেছেন, তিনি হলেন আল্লাহর খলিল আমাদের নেতা ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। এটি তখন হয়েছিল যখন তিনি মক্কার পবিত্র হারামে সিকান্দার যুল-কারনাইনের সাথে সাক্ষাৎ করেন; বিচ্ছেদের পূর্বে খলিলুর রহমান তাঁর সাথে মুসাফাহা করেন, তাঁকে আলিঙ্গন করেন এবং তাঁর দুই চোখের মাঝে চুম্বন করেন। তিনি তাঁকে পতাকা দান করেন, কল্যাণের পথপ্রদর্শন করেন এবং তাঁর মাথায় পাগড়ি পরিয়ে দেন। সিকান্দার তাঁর শরিয়ত গ্রহণ করেন এবং তাঁর মিল্লাতে প্রবেশ করেন।

--------------------------------------------

১ মুহাম্মদ বিন আব্দুস সালাম সহনুন বিন সাঈদ বিন হাবিব আল-তানুখি। তিনি একজন মালিকি ফকিহ (فقيه) ও বিতার্কিক ছিলেন এবং বহু কিতাব রচনা করেছেন; তিনি কাইরাওয়ানের অধিবাসী ছিলেন। তিনি ২৩৫ হিজরিতে প্রাচ্যে সফর করেন এবং উপকূলীয় অঞ্চলে মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাঁকে কাইরাওয়ানে স্থানান্তর করা হয় এবং ২৫৬ হিজরিতে সেখানে দাফন করা হয়।

দ্রষ্টব্য: আ'লাম লিয-যিরিকলি ৬/২০৪-২০৫, আদ-দিবাজুল মুযাহহাব লি ইবনি ফারহুন ২/১৬৯।

২ মালিক বিন আনাস বিন মালিক আল-আসবাহি আল-হিময়ারি, আবু আব্দুল্লাহ। তিনি দারুল হিজরত-এর ইমাম (إمام) এবং আহলে সুন্নাহর চার ইমামের (الأئمة) অন্যতম; মালিকি মাযহাব তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত। তিনি দ্বীনের ব্যাপারে অত্যন্ত আপসহীন ছিলেন এবং আমির ও বাদশাহদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেন। মদিনায় তাঁর জন্ম এবং ১৭৯ হিজরিতে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

দ্রষ্টব্য: আ'লাম লিয-যিরিকলি ৫/২৫৭।

৩ দ্রষ্টব্য: আহমদ বিন হাজার আল-আসকালানি ১১/৫৮।

৪ শায়খ মুহাম্মদ আল-সাফ্ফারিনি রচিত গিজাউল আলবাব শারহু মানযুমাতিল আদাব ১/৩২৮-৩২৯।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ومن الجدير بالتنبيه عليه هنا: أنّ أوّل من حيَّا المسلمين بالمصافحة هم أهل اليمن؛ وفي هذا يروي أنس بن مالك رضي الله عنه قوله: لما جاء أهل اليمن، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "قد جاءكم أهلُ اليمن؛ وهُم أوّلُ من جاء بالمصافحة" 1.

وفي رواية أخرى: "قد أقبل أهلُ اليمن؛ وهُم أرقُّ قلوباً منكم". قال أنس: "وهُم أوّل من جاء بالمصافحة" 2.

والمراد من مجيئهم بالمصافحة: إظهارُهم لها في الإسلام.

وقد روى الإمام أحمد عن أنس أنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "يَقْدَمُ عليكم غداً أقوامٌ هم أرقُّ قلوباً للإسلام منكم"، فقدِم الأشعريّون، فيهم أبو موسى الأشعري3. فلما دنَوْا من المدينة

--------------------------------------------

1 أخرجه أبو داود في باب المصافحة رقم 4/354، والإمام أحمد في المسند 3/212.

2 الحديث: أخرجه البخاري في الأدب المفرد صفحة 336، والإمام أحمد في المسند رقم 3/251.

3 عبد الله بن قيس بن سليم بن حضار بن حرب، أبو موسى، من بني الأشعر من قحطان، صحابي من الشجعان الولاة الفاتحين. وُلد في زبيد باليمن عام 21 قبل الهجرة، وقدم مكة عند ظهور الإسلام، فأسلم وهاجر إلى أرض الحبشة، ثم استعمله رسول الله صلى الله عليه وسلم على زبيد وعدن. وولاه عمر بن الخطاب البصرة سنة 17هـ، فافتتح أصبهان والأهواز. ولما ولي عثمان أقرّه عليها ثم عزله، فانتقل إلى الكوفة ومات بها عام 44هـ.

راجع: سير أعلام النبلاء 2/380، والأعلام 4/114.
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে: মুসলমানদের মধ্যে সর্বপ্রথম করমর্দনের মাধ্যমে অভিবাদন জানিয়েছিলেন ইয়ামেনবাসীরা; আর এই বিষয়ে আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর উক্তি বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: যখন ইয়ামেনবাসীরা আসলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমাদের নিকট ইয়ামেনবাসীরা এসেছে; আর তারাই সর্বপ্রথম করমর্দন নিয়ে এসেছে" ১।

অন্য একটি বর্ণনায় (رواية): "ইয়ামেনবাসীরা আগমন করেছে; তারা তোমাদের তুলনায় অধিক কোমল হৃদয়ের অধিকারী।" আনাস (রা.) বলেন: "তারাই সর্বপ্রথম করমর্দন নিয়ে এসেছে" ২।

তাদের করমর্দন নিয়ে আসার উদ্দেশ্য হলো: ইসলামে এর প্রচলন ও বহিঃপ্রকাশ ঘটানো।

ইমাম আহমাদ আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আগামীকাল তোমাদের নিকট এমন একদল লোক আসবে যারা ইসলামের প্রতি তোমাদের চেয়েও অধিক কোমল হৃদয়ের অধিকারী", অতঃপর আশআরী গোত্রের লোকেরা আসলেন, যাদের মধ্যে আবু মুসা আল-আশআরী ৩ ছিলেন। যখন তারা মদিনার নিকটবর্তী হলেন—

--------------------------------------------

১ এটি আবু দাউদ 'করমর্দন অধ্যায়' নং ৪/৩৫৪ এবং ইমাম আহমাদ 'মুসনাদ' ৩/২১২-এ বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

২ হাদিসটি বুখারি 'আল-আদাবুল মুফরাদ' পৃষ্ঠা ৩৩৬ এবং ইমাম আহমাদ 'মুসনাদ' নং ৩/২৫১-এ বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

৩ আবদুল্লাহ ইবনে কাইস ইবনে সুলাইম ইবনে হাদার ইবনে হারব, আবু মুসা, কাহতান বংশের আশআর গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, তিনি একজন সাহসী সাহাবী (صحابي), গভর্নর ও বিজয়ী বীর ছিলেন। তিনি হিজরতের ২১ বছর পূর্বে ইয়ামেনের জাবিদে জন্মগ্রহণ করেন। ইসলামের সূচনালগ্নে তিনি মক্কায় আসেন এবং ইসলাম গ্রহণ করে হাবশায় হিজরত করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জাবিদ ও আদনের দায়িত্ব প্রদান করেন। উমর ইবনুল খাত্তাব তাকে ১৭ হিজরিতে বসরার শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন, তখন তিনি ইস্পাহান ও আহওয়াজ জয় করেন। উসমান (রা.) যখন খলিফা হন তখন তাকে উক্ত পদে বহাল রাখেন এবং পরবর্তীতে তাকে অপসারণ করেন। এরপর তিনি কুফায় চলে যান এবং সেখানে ৪৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২/৩৮০, এবং আল-আলাম ৪/১১৪।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
جعلوا يرتجزون يقولون: "غداً نلقى الأحبّة: محمداً وحزبَه". فلما أن قدموا تصافحوا؛ فكانوا أوّل مَن أحدث المصافحة"1 أي: أظهروها في الإسلام.

--------------------------------------------

1 أخرجه أحمد في مسنده 3/155.
তারা ছন্দোবদ্ধ পঙ্ক্তি আবৃত্তি করতে করতে বলতে লাগলেন: "আগামীকাল আমরা প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হব: মুহাম্মদ এবং তাঁর দলের সাথে।" অতঃপর যখন তাঁরা আগমন করলেন, তখন তাঁরা একে অপরের সাথে করমর্দন করলেন; আর তাঁরাই ছিলেন সর্বপ্রথম যারা মুসাফাহার (المصافحة) প্রচলন করেছিলেন।"১ অর্থাৎ: তাঁরা ইসলামে এটি প্রকাশ করেছিলেন।

--------------------------------------------

১. আহমদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) ৩/১৫৫।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المطلب الثالث: حكمة مشروعية المصافحة

المقرّر لدى عامّة المسلمين: أنّ الإسلام قد حرص على إشاعة روح الصفاء والإخاء بين الأفراد، بما يُحقِّق لهم كلَّ ما من شأنه إحداث الودّ والسعادة في الدنيا ليعود هذا على دينهم حباً وتنمية لكلِّ ما يقرِّب إلى الله سبحانه، فيسعدوا في الدارين؛ ولهذا فقد شرع الله ـ فضيلة إفشاء السلام بين المؤمنين، وجعل هذا الصنيع علامة على الحب في الله ولله سبحانه، ورتّب على هذا بعد تحقّق الإيمان دخولَ الجنة.

فقد ورد من رواية الترمذي بسند صحيح عن عبد الله بن سلام1 رضي الله عنه قوله: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "يا أيها الناس، أفْشوا السّلام، وأطعِموا الطعام، وصَلُّوا باللّيل والناسُ نيام، تَدخلوا الجنة بسلام" 2.

--------------------------------------------

1 عبد الله بن سلام بن الحارث، قيل: إنه من نسل يوسف بن يعقوب. أسلم عند قدوم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة. شهد مع عمر فتح بيت المقدس، وأقام بالمدينة المنورة إلى أن مات بها عام 43هـ.

راجع: الأعلام للزركلي 4/ 90.

2 أخرجه الترمذي 4/652، وأحمد 5/451، وابن ماجة 1/423.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুসাফাহার বিধানের হিকমত (রহস্য)

সাধারণ মুসলিমদের নিকট এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, ইসলাম ব্যক্তিদের মাঝে নির্মলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রসারে সচেষ্ট হয়েছে; যেন তাদের মাঝে এমন সব বিষয়ের প্রতিফলন ঘটে যা ইহকালে মহব্বত ও সুখ বয়ে আনে। এর ফলে তাদের দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভকারী প্রতিটি বিষয়ের বিকাশ ঘটে, যার মাধ্যমে তারা উভয় জগতে সৌভাগ্যবান হতে পারে। একারণেই আল্লাহ মুমিনদের মাঝে সালামের প্রসারের ফজিলতকে বিধিবদ্ধ করেছেন এবং এই কাজটিকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সেই সাথে ঈমান সুদৃঢ় হওয়ার পর এর প্রতিদান হিসেবে জান্নাতে প্রবেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিরমিজির একটি বর্ণনা (رواية)-য় সহিহ (صحيح) সনদে (سند) আবদুল্লাহ ইবনে সালাম১ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "হে লোকসকল! তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, অন্নদান করো এবং রাতের বেলা যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজ আদায় করো; তবে তোমরা শান্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" ২।

--------------------------------------------

১. আবদুল্লাহ ইবনে সালাম ইবনুল হারিস। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব (আ.)-এর বংশধর। নবী (সা.) মদিনায় আগমনের সময় তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি উমর (রা.)-এর সাথে বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়ে শরিক ছিলেন এবং ৪৩ হিজরিতে মৃত্যু পর্যন্ত মদিনা মুনাওয়ারায় বসবাস করেন।

দ্রষ্টব্য: আ'লাম লিজ জিরিকলি ৪/৯০।

২. এটি তিরমিজি ৪/৬৫২, আহমাদ ৫/৪৫১ এবং ইবনে মাজাহ ১/৪২৩ বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
كما روى الإمام مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "والذي نفسي بيده! لا تدخلوا الجنة حتى تؤمنوا، ولا تؤمنوا حتى تحابّوا. أوَلا أدُلُّكم على شيء إذا فعلْتموه تحاببْتم؟ أَفْشوا السّلام بينكم" 1.

هذا فضلاً عن أنّ الإسلام قد حثّ أيضاً على حُسن استقبال المسلم لأخيه، فرغّب في طلاقة الوجه وبشاشة صاحبه عند اللقاء، وجعل ذلك صَدَقة يرتفع بها أجر صاحبها. فقد روى أبو ذر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا تحقرَنّ من المعروف شيئاً، ولو أن تلْقَى آخاك بوجْهٍ طلْق" 2. وروى جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "كلُّ معروف صدقة. وإنّ من المعروف: أن تلقى أخاك بوجه طلق وأن تفرغ من دلوك في إناء أخيك" 3. والمعروف أنّ طلاقة الوجه هي: تهلُّله بالانشراح والابتسام عند اللقاء4.

--------------------------------------------

1 أخرجه مسلم 1/74، وأحمد في مسنده 2/391.

2 أخرجه مسلم 4/2026 والإمام أحمد في مسنده 5/173.

3 حديث حسن أخرجه الترمذي في البر والصلة رقم 4/347، وأحمد في مسنده 3/360.

4 دليل الفالحين لطرق رياض الصالحين لمحمد بن علاء الصديقي 3 /164.
ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না ঈমান আনবে, আর তোমরা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না পরস্পরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলে দেব না, যা করলে তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।" ১।

এ ছাড়াও ইসলাম এক মুসলিম কর্তৃক তার অপর ভাইকে উত্তমভাবে অভ্যর্থনা জানানোর প্রতি উৎসাহিত করেছে। সাক্ষাতের সময় প্রফুল্ল চিত্তে এবং হাস্যোজ্জ্বল মুখে মিলিত হওয়ার ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করেছে এবং একে এমন এক সদকা হিসেবে গণ্য করেছে যার মাধ্যমে আমলকারীর সওয়াব বৃদ্ধি পায়। আবু যার (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "সৎকাজের কোনো কিছুকেই তুচ্ছ জ্ঞান করো না, এমনকি তোমার ভাইয়ের সাথে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাক্ষাৎ করাকেও।" ২। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "প্রত্যেকটি ভালো কাজই সদকা। আর এটিও একটি ভালো কাজ যে, তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাক্ষাৎ করবে এবং তোমার বালতি থেকে তোমার ভাইয়ের পাত্রে (পানি) ঢেলে দিবে।" ৩। আর এটি সুপরিচিত যে, হাস্যোজ্জ্বলতা বলতে বোঝায়: সাক্ষাতের সময় প্রফুল্লতা ও মুচকি হাসির মাধ্যমে মুখমণ্ডল উজ্জ্বল রাখা। ৪।

--------------------------------------------

১. মুসলিম ১/৭৪ এবং আহমদ তাঁর মুসনাদ ২/৩৯১ গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

২. মুসলিম ৪/২০২৬ এবং ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদ ৫/১৭৩ গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

৩. এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস, যা তিরমিযী আল-বিররু ওয়াস-সিলাহ অধ্যায়ে ৪/৩৪৭ এবং আহমদ তাঁর মুসনাদ ৩/৩৬০ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।

৪. মুহাম্মাদ ইবনে আলা আস-সিদ্দিকী রচিত দালিলুল ফালিহীন লি তুরুকি রিয়াদিস সালিহীন ৩/১৬৪।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وفي هذا يقول الشيخ شمس الدين البديري1:

بشاشةُ وجْهِ المرْءِ خيرٌ من القِرى2 … فكيف بمَن يأتِي به وهو ضاحِكُ3

وعلى هذا، كانت المصافحة مع البشاشة وطلاقة الوجه خيرَ دليل على الودّ والصفاء والمحبة بين المتصافحين؛ وهذا من أوجُه حُسن الإسلام وقوّة الإيمان بالله. فإلقاء السلام إيذانٌ بالأمان قولاً، والمصافحة مع البِشْر توكيد لهذا الأمان.

ولذا كانت المصافحة من تمام التحية؛ فمِمّا رُوي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من حديث ابن مسعود قولُه: "مِن تمام التحية: الأخْذُ باليد" 4. وفي

--------------------------------------------

1 شمس الدين البديري هو: محمد بن محمد شمس الدين أبو حامد البديري الحسيني الشافعي الدمياطي، من علماء مصر توفي سنة 1140هـ.

راجع: عجائب الآثار لعبد الرحمن الجبرتي 1/139.

2 قريت الضيف أقرِيهِ، وقِرى الضيف: قصْعَة أو جفنة أو عُسّ، وهو ما يُقدّم إلى الضيف.

راجع لسان العرب لابن منظور 15/174، والمصباح المنير للفيومي 2/501، والمعجم الوسيط لإبراهيم حسن الزيات صفحة 732.

3 راجع: المستطرف في كل فن مستظرف لمحمد بن أحمد الأبشيهي صفحة 856.

4 راجع: جامع الترمذي 5/75.
এ প্রসঙ্গে শায়খ শামসউদ্দীন আল-বুদাইরি ১ বলেন:

মানুষের চেহারার প্রফুল্লতা আতিথেয়তার ২ চেয়েও উত্তম ... তবে তার মর্যাদা কতই না মহান, যে হাস্যোজ্জ্বল মুখে তা (আতিথেয়তা) প্রদান করে ৩।

এই পরিপ্রেক্ষিতে, প্রফুল্লতা ও হাস্যোজ্জ্বল চেহারার সাথে মুসাফাহা করা হলো মুসাফাহাকারীদের পারস্পরিক হৃদ্যতা, স্বচ্ছতা ও ভালোবাসার সর্বোত্তম প্রমাণ; এটি ইসলামের সৌন্দর্য এবং আল্লাহর প্রতি ঈমানের সুদৃঢ়তার অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। কেননা সালাম প্রদান হলো মৌখিকভাবে নিরাপত্তার ঘোষণা, আর প্রফুল্ল চিত্তে মুসাফাহা করা হলো সেই নিরাপত্তারই এক জোরালো সমর্থন।

এই কারণেই মুসাফাহা হলো অভিবাদনের পূর্ণতার অংশ; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর এই বাণী: "অভিবাদনের পূর্ণতা হলো হাত ধরা (মুসাফাহা করা)" ৪। এবং

--------------------------------------------

১ শামসউদ্দীন আল-বুদাইরি হলেন: মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ শামসউদ্দীন আবু হামিদ আল-বুদাইরি আল-হুসাইনি আল-শাফিঈ আদ-দিময়াতি। তিনি মিশরের অন্যতম আলেম ছিলেন এবং ১১৪০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

দ্রষ্টব্য: আবদুর রহমান আল-জাবারতি রচিত আজায়িবুল আসার ১/১৩৯।

২ আমি মেহমানকে আপ্যায়ন করেছি; আর মেহমানের আতিথেয়তা বলতে বুঝায়: বড় পাত্র বা পেয়ালা, যা মেহমানের সামনে পেশ করা হয়।

দ্রষ্টব্য: ইবনে মানজুর রচিত লিসানুল আরব ১৫/১৭৪, আল-ফাইয়ুমি রচিত আল-মিসবাহুল মুনির ২/৫০১ এবং ইব্রাহিম হাসান আল-যাইয়াত রচিত আল-মু’জামুল ওয়াসিত পৃষ্ঠা ৭৩২।

৩ দ্রষ্টব্য: মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আবশিহি রচিত আল-মুস্তাতরাফ ফি কুল্লি ফানিন মুস্তাতরাফ পৃষ্ঠা ৮৫৬।

৪ দ্রষ্টব্য: জামি তিরমিজি ৫/৭৫।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
حديث ابن ماجه: "وتمام تحيّتِكم بينكم: المصافحة" 1.

هذا، ويُستحبّ تقديم السلام على المصافحة؛ فيسلِّم المسلم على أخيه أوّلاً عند اللقاء، ثم يُصافحه. فقد روى جندب رضي الله عنه "أنّ النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا لَقِيَ أصحابه لم يصافحْهم حتى يُسلِّم عليهم"2.

كما يُستحب عند المصافحة كذلك: حمْدُ الله تعالى، فيقول: "يغفر الله لنا ولكم"؛ وذلك فيما رواه البراء بن عازب رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "إذا التقى المسلمان فتصافحا، وحمِدا الله واستغفراه، غفر لهما" 3، وفي رواية أخرى ثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: "أيّما مسلمَيْن التقَيا، فأخذ أحدُهما بِيد صاحبه فتصافحا، وحمِدَا الله تعالى جميعاً، تفرّقا وليس بينهما خطيئة" 4.

--------------------------------------------

1 أخرجه أحمد في مسنده 5/259، والترمذي 5/75، والروياني في مسنده 2/290، والبيهقي في شعب الإيمان 6/472 من حديث أبي أمامة الباهلي.

2 أخرجه الطبراني في المعجم الكبير 2/176.

راجع: مجمع الزوائد 8/36، وفيض القدير 5/160.

3 أخرجه أبو دواود 4/354، وأبو يعلى في مسنده 3/234.

4 أخرجه أحمد 4/289، وأبو داوود 4/354، وابن ماجة 2/1220 من حديث البراء بن عازب رضي الله عنه، وصححه الألباني.
ইবনে মাজাহ-এর হাদিস: "তোমাদের পারস্পরিক অভিবাদনের পূর্ণতা হলো মুসাফাহ করা" ১।

এক্ষেত্রে মুসাফাহ করার পূর্বে সালাম প্রদান করা পছন্দনীয় (مستحب); সুতরাং একজন মুসলিম তার ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতের সময় প্রথমে সালাম দিবে, তারপর তার সাথে মুসাফাহ করবে। কেননা জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত (روى) হয়েছে যে, "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাঁর সাহাবীদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন সালাম না দেওয়া পর্যন্ত তাঁদের সাথে মুসাফাহ করতেন না" ২।

অনুরূপভাবে মুসাফাহ করার সময় মহান আল্লাহর প্রশংসা করাও পছন্দনীয় (مستحب); এমতাবস্থায় সে বলবে: "আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের ক্ষমা করুন"; আর এটি বারা ইবনে আযিব (রা.) কর্তৃক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত (رواه) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যখন দুজন মুসলিমের মধ্যে সাক্ষাৎ হয় এবং তারা মুসাফাহ করে, আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন তাদের উভয়কে ক্ষমা করে দেওয়া হয়" ৩। অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে কোনো দুইজন মুসলিমের যখন সাক্ষাৎ হয় এবং তাদের একজন তার সঙ্গীর হাত ধরে মুসাফাহ করে এবং তারা উভয়েই মহান আল্লাহর প্রশংসা করে, তখন তারা এমন অবস্থায় একে অপরের থেকে পৃথক হয় যে তাদের মাঝে কোনো গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না" ৪।

--------------------------------------------

১. আহমদ তার মুসনাদ ৫/২৫৯, তিরমিজি ৫/৭৫, রুয়ানি তার মুসনাদ ২/২৯০ এবং বায়হাকি শুয়াবুল ঈমান ৬/৪৭২-এ আবু উমামাহ আল-বাহিলি বর্ণিত হাদিস থেকে এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

২. তাবারানি আল-মুজাম আল-কাবির ২/১৭৬-এ এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

দেখুন: মাজমাউজ যাওয়াইদ ৮/৩৬ এবং ফয়জুল কাদির ৫/১৬০।

৩. আবু দাউদ ৪/৩৫৪ এবং আবু ইয়ালা তার মুসনাদ ৩/২৩৪-এ এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

৪. আহমদ ৪/২৮৯, আবু দাউদ ৪/৩৫৪ এবং ইবনে মাজাহ ২/১২২০-এ বারা ইবনে আযিব (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন এবং আলবানি একে সহিহ (صححه) আখ্যা দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ويستحب أيضاً: الدعاء عند المصافحة والمفارقة؛ فقد ثبت في حديث حذيفة بن اليمان رضي الله عنه "أنّ النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا لقِيَه الرّجل من أصحابه مسَحه –يعني: صافحه - ودعا له"1. وهكذا روى أنس قال: "ما أخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم بيَد رجل ففارقه حتى قال: "اللهم آتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة وقنا عذاب النار" 2.

هذا، فضلاً عن أنه يُستحبّ كذلك: ألاّ يَنزع المصافحُ يدَه من يد المصافح له حتى يَنزع هو؛ وذلك على نحو ما استبان لنا عند الحديث عن كيفيّة المصافحة.

--------------------------------------------

1 أخرجه ابن حبان في صحيحه 4/68.

2 راجع: عون المعبود لشمس الحق العظيم آبادي 14/81، والأذكار المنتخبة للنووي صفحة 241.
আরও মুস্তাহাব (مستحب) হলো: করমর্দন ও বিদায়ের সময় দোয়া করা; কেননা হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে যে, "নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে যখন তাঁর কোনো সাহাবীর সাক্ষাৎ হতো, তিনি তাঁর হাত স্পর্শ করতেন—অর্থাৎ করমর্দন করতেন—এবং তাঁর জন্য দোয়া করতেন"১। একইভাবে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো ব্যক্তির হাত ধরলে ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর থেকে পৃথক হতেন না, যতক্ষণ না বলতেন: 'হে আল্লাহ! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন'"২।

এ ছাড়াও এটিও মুস্তাহাব (مستحب) যে: করমর্দনকারী ব্যক্তি অপর ব্যক্তির হাত থেকে নিজের হাত ততক্ষণ পর্যন্ত সরিয়ে নেবেন না, যতক্ষণ না অপর ব্যক্তি নিজে তা সরিয়ে নেন; আর এটি করমর্দনের পদ্ধতি সংক্রান্ত আলোচনার সময় আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়েছে।

--------------------------------------------

১ এটি ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ ৪/৬৮ গ্রন্থে উদ্ধৃত (أخرجه) করেছেন।

২ দেখুন: শামসুল হক আজিমাবাদীর আওনুল মাবুদ ১৪/৮১ এবং ইমাম নববীর আল-আযকার আল-মুন্তাখাবাহ্ পৃষ্ঠা ২৪১।
(খণ্ড: ১) আল-মুসারাহাহ ফি আহকামিল মুসাফাহাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌المبحث الثاني: مصافحة المرأة الأجنبية

‌‌مدخل

إنّ ما يثير النقاش بين المسلمين عامّة: مصافحة المرأة الأجنبيّة، وهي: كلّ امرأة ليست بزوْج ولا مَحرم للشخص. والرجل الأجنبيّ هو: كلّ رجل ليس بزوْج ولا مَحرم للمرأة1. فالأجنبيّ هو: الغريب. يقال: رجل جانِبٌ وأجنبيّ وجُنُب: غريب. والجمع: أجْناب وأجَانب. والجَنيب: الغريب. والجنابة: ضد القرابة.وجنّب الشيء، وتجنّبه فجانب، واجتنبه: بعد عنه2.

والرجل يكون أجنبياً عن المرأة إذا حلّ له نكاحُها. فإن حرم عليه نكاحُها فهو مَحرم لها وهي مِن مَحارمه. والمَحْرم من النساء هي: كلّ امرأة حرم نكاحها على التأبيد. وجاء في "المغْني": " … وذوات مَحارمِه: كلّ مَن حرم عليه نكاحُها على التأبيد، بنَسَبٍ أو رضاعٍ أو تحريم المصاهرة بسبب مباح"3. وجاء في "صحيح"

--------------------------------------------

1 راجع: معجم لغة الفقهاء لمحمد رواس قلعه جي صفحة 44.

2 راجع: لسان العرب لابن منظور 1 /207.

3 ابن قدامة 7/456.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গায়রে মাহরাম (أجنبية) নারীর সাথে মুসাফাহা করা

ভূমিকা

সাধারণত মুসলিমদের মাঝে যে বিষয়টি আলোচনার সৃষ্টি করে তা হলো: গায়রে মাহরাম (أجنبية) নারীর সাথে মুসাফাহা করা। আর গায়রে মাহরাম (أجنبية) নারী হলেন: এমন প্রত্যেক নারী যিনি ব্যক্তির স্ত্রী নন এবং মাহরাম (محرم) নন। আর গায়রে মাহরাম (أجنبي) পুরুষ হলেন: এমন প্রত্যেক পুরুষ যিনি কোনো নারীর স্বামী নন এবং মাহরাম (محرم) নন।১ গায়রে মাহরাম (أجنبي) বলতে মূলত আগন্তুক ব্যক্তিকে বোঝানো হয়। যেমন বলা হয়ে থাকে: বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি, গায়রে মাহরাম (أجنبي) এবং দূরবর্তী ব্যক্তি: অর্থাৎ আগন্তুক। এর বহুবচন হলো: আগন্তুক ও পরদেশীগণ। আর জনিব শব্দের অর্থও আগন্তুক। জানাবাহ হলো আত্মীয়তার বিপরীত। কোনো কিছুকে দূরে রাখা, তা পরিহার করা এবং তা থেকে বিরত থাকা—এই সবকিছুর অর্থ হলো কোনো বিষয় থেকে দূরত্ব বজায় রাখা।২

একজন পুরুষ কোনো নারীর জন্য গায়রে মাহরাম (أجنبي) হন যখন তার জন্য উক্ত নারীকে বিবাহ করা বৈধ হয়। পক্ষান্তরে যদি উক্ত নারীকে বিবাহ করা তার জন্য হারাম (নিষিদ্ধ) হয়, তবে তিনি উক্ত মহিলার জন্য মাহরাম (محرم) এবং উক্ত নারী তার মাহরামদের অন্তর্ভুক্ত। আর মহিলাদের মধ্যে মাহরাম (محرم) হলেন সেই সকল নারী, যাদের বিবাহ করা চিরস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ। "আল-মুগনি" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: " … এবং তার মাহরাম (محارم) নারীগণ হলেন তারা, যাদের সাথে বংশীয় সম্পর্ক, দুগ্ধ সম্পর্ক অথবা বৈধ কারণে সৃষ্ট বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া চিরতরে হারাম (নিষিদ্ধ)।"৩ আর "সহীহ" গ্রন্থে এসেছে...

--------------------------------------------

১. দেখুন: মুহাম্মদ রাওয়াস কালআজি রচিত মুজামু লুগাতিল ফুকাহা, পৃষ্ঠা ৪৪।

২. দেখুন: ইবনুল মানযুর রচিত লিসানুল আরব ১/২০৭।

৩. ইবনে কুদামা ৭/৪৫৬।