(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب التوحيد من صحيح البخاري - ابن باز   (ابن باز)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: شرح كتاب التوحيد من صحيح البخاري

المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن باز

أصل الكتاب: دروس صوتية ألقاها الشيخ رحمه الله في جامع الإمام تركي بن عبد الله (الجامع الكبير)، في الرياض عام 1409 هـ، في درس الفجر

اعتنى به: محمد بن أبكر بن عبد الرحيم القرعاني، تلميذ الشيخ ابن باز رحمه الله

مراجعة وتقريظ: علي بن عبد العزيز بن علي الشبل

الناشر: دار الإمام البخاري للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2018 م

عدد الصفحات: 439

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 شوّال 1443

সহীহ বুখারীর কিতাবুত তাওহীদের শারহ - ইবনে বাজ   (ইবনে বাজ)

বিভাগ: হাদীসের ব্যাখ্যাসমূহ


গ্রন্থ: সহীহ বুখারীর কিতাবুত তাওহীদের শারহ (ব্যাখ্যা)

লেখক: আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ

গ্রন্থের উৎস: রিয়াদের জামে আল-ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ (জামেউল কবীর)-এ ১৪০৯ হিজরীতে ফজরের দর্সে শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক প্রদত্ত অডিও লেকচারসমূহ

সম্পাদনায়: মুহাম্মদ বিন আবকার বিন আবদুর রহিম আল-কারআনি, শায়খ ইবনে বাজের (রহিমাহুল্লাহ) ছাত্র

পর্যালোচনা ও প্রশংসা (তাকরিজ): আলী বিন আবদুল আজিজ বিন আলী আশ-শিবল

প্রকাশক: দারুল ইমাম আল-বুখারী পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৯ হি. - ২০১৮ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৪ শাওয়াল ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌تقريظ الشيخ الدكتور علي بن عبد العزيز الشبل حفظه الله

الحمد لله وحده، وصلَّى الله وسلَّم على نبيِّنَا محمدٍ، وعلى آله وصحبِه، وبعد:

فهذه دُرَّةٌ علميةٌ من درر شيخنا العلامة الفقيه/ عبد العزيز بن عبد الله بن عبد الرحمن بن باز (1330 - 1420 هـ)، وتحفةٌ من دروسه العلميةِ المباركة في شرح آخر كتاب من «صحيح الإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري»، وهو كتاب التوحيد، فجاءت تعليقاته وتقريراته مطردةً مع منهجيةِ شيخنا في شروحه وتدريسه.

والمؤمَّل جمع جميع تقريرات الشيخ ابن باز على «صحيح البخاري» في مجموعةٍ واحدةٍ.

وقد بشرني الأخ الكريم الشيخ/ محمد بن أبكر بن عبد الرحيم القرعاني بسعيهم على ذلك؛ فشكرَ الله له جهده وعنايته وأثابه.

وأجزلَ سبحانه وتعالى المثوبةَ لشيخنا ابن باز، وللإمام البخاري، وعلماء المسلمين خيرًا، ورفع درجاتهم، ورضي عنا وعنهم، وجمعنا بهم في الفردوس الأعلى، ووالدينا، ومشايخنا والمسلمين؛ إنه سبحانه لطيفٌ لما يشاء، إنه هو العليم الحكيم.

 

وكتبه/ علي بن عبد العزيز بن علي الشبل

الرياض ظهر 20/ 2/ 1439 هـ
শাইখ ড. আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আশ-শিবল (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) এর অভিমত

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

এটি আমাদের শাইখ আল্লামা ফকিহ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে বাজ (১৩৩০ - ১৪২০ হিজরি)-এর ইলমি রত্নভাণ্ডারের একটি অমূল্য রত্ন এবং ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারির ‘সহীহ’ গ্রন্থের সর্বশেষ অধ্যায় তথা ‘কিতাবুত তাওহীদ’-এর ওপর তাঁর বরকতময় ইলমি দরসের একটি বিশেষ উপহার। তাঁর এই টীকা ও ব্যাখ্যাগুলো শাইখের অন্যান্য ব্যাখ্যা ও পাঠদান পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে ফুটে উঠেছে।

আমাদের প্রত্যাশা হলো, ‘সহীহ বুখারি’র ওপর শাইখ ইবনে বাজের সকল ব্যাখ্যা ও আলোচনা একটি পূর্ণাঙ্গ সংকলনে একত্রিত করা হবে।

শ্রদ্ধেয় ভাই শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আবকার ইবনে আব্দুর রহমান আল-কুরআনি আমাকে এই বিষয়ে তাঁদের প্রচেষ্টার সুসংবাদ দিয়েছেন; আল্লাহ তাআলা তাঁর এই পরিশ্রম ও যত্নের জন্য তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁকে পুরস্কৃত করুন।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের শাইখ ইবনে বাজ, ইমাম বুখারি এবং মুসলিম উম্মাহর আলেমগণকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, আমাদের ও তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে আমাদের সবাইকে, আমাদের পিতামাতাকে, আমাদের শিক্ষকগণকে ও সকল মুসলিমকে তাঁদের সাথে একত্রিত করুন। নিশ্চয়ই তিনি যা ইচ্ছা করেন তা বাস্তবায়নে অতি সূক্ষ্মদর্শী, নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

 

এটি লিখেছেন/ আলী ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আলী আশ-শিবল

রিয়াদ, দুপুর ২০/ ০২/ ১৪৩৯ হিজরি।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌مقدمة مؤسسة الشيخ عبد العزيز بن باز الخيرية

الحمد للَّه وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، أما بعد:

فيطيب لـ «مؤسسة عبد العزيز بن باز الخيرية» أن تضع بين يدي القارئ الكريم هذا ا لشرح لسماحة شيخنا الشيخ: عبد العزيز بن عبد اللَّه بن باز رحمه الله على كتاب التوحيد من كتاب «صحيح البخاري» للإمام الحافظ المحدث أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري رحمه الله.

وقد تولّى الاعتناء بهذا الجزء من الكتاب وإعداده للنشر أحد تلاميذ سماحته، والباحث المتعاون في المؤسسة الشيخ/ محمد بن أبكر بن عبد الرحيم القرعاني، وفقه اللَّه، حيث قام بتفريغ المادة الصوتية، ومطابقتها، وضبطها وفق القواعد العلمية المقررة في المؤسسة، إضافة إلى خدمات العزو، والتخريج الموجز، نسأل اللَّه تعالى أن ينفع بهذا العمل وأن يجعله خالصًا لوجهه الكريم.

وقد تفضل بمراجعة الكتاب فضيلة الشيخ الدكتور/ علي بن عبد العزيز الشبل، وفضيلة الشيخ الدكتور/ سعيد بن وهف القحطاني، والشيخ/ فهد بن عثمان بن باز، وغيرهم من المشايخ، ضاعف الله لهم الأجر والمثوبة.

نسأل الله سبحانه وتعالى أن يبارك في هذا العمل، ويجزل الأجر والمثوبة لكل من أسهم في إخراجه، وأن يجعل هذا الشرح من العلم النافع الذي
শাইখ আব্দুল আজীজ বিন বাজ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। অতঃপর:

‘আব্দুল আজীজ বিন বাজ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন’ সম্মানিত পাঠকের হাতে আমাদের মহান শাইখ, শাইখ আব্দুল আজীজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন)-এর এই ব্যাখ্যাটি তুলে দিতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। এটি ইমাম হাফেজ মুহাদ্দিস আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) বিরচিত ‘সহীহ বুখারী’ গ্রন্থের ‘কিতাবুত তাওহীদ’-এর ওপর একটি ব্যাখ্যা।

বইটির এই অংশটির তত্ত্বাবধান এবং এটি প্রকাশের প্রস্তুতির দায়িত্ব পালন করেছেন শাইখের অন্যতম ছাত্র এবং ফাউন্ডেশনের সহযোগী গবেষক শাইখ মুহাম্মদ বিন আবকার বিন আব্দুল রহিম আল-কারআনী (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন)। তিনি অডিও লেকচারগুলো প্রতিলিপি করেছেন, সেগুলোর মিল পরীক্ষা করেছেন এবং ফাউন্ডেশনের নির্ধারিত বৈজ্ঞানিক নীতিমালা অনুযায়ী তা সুবিন্যস্ত করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি উদ্ধৃতি প্রদান এবং সংক্ষিপ্ত উৎস বিশ্লেষণের (তাখরীজ) কাজও করেছেন। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কাজের মাধ্যমে সকলকে উপকৃত করেন এবং একে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন।

বইটি পর্যালোচনার মহান দায়িত্ব পালন করেছেন শ্রদ্ধেয় শাইখ ডক্টর আলী বিন আব্দুল আজীজ আল-শিবল, শ্রদ্ধেয় শাইখ ডক্টর সাঈদ বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহনী, শাইখ ফাহাদ বিন উসমান বিন বাজ এবং অন্যান্য শাইখগণ। আল্লাহ তাঁদের সওয়াব ও প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দিন।

আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কাজে বরকত দান করেন, এবং এর প্রকাশে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রত্যেককে প্রচুর সওয়াব ও প্রতিদান দান করেন। আর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে যেন সেই উপকারী ইলমের অন্তর্ভুক্ত করেন যা...
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٨)
يجري أجره على سماحة والدنا الشيخ/ عبد العزيز بن باز رحمه الله في قبره، وأن يجمعنا به والقارئ الكريم في الفردوس الأعلى مع الأحبة محمد صلى الله عليه وسلم وصحبه؛ إنه ولي ذلك والقادر عليه. وصلى اللَّه وسلم على نبيّنا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

 

مؤسسة الشيخ عبد العزيز بن باز الخيرية
এর সওয়াব যেন আমাদের শ্রদ্ধেয় পিতা শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ-এর কবরে পৌঁছাতে থাকে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), এবং তিনি যেন আমাদের, তাঁকে এবং সম্মানিত পাঠককে জান্নাতুল ফিরদাউসে প্রিয়জন মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন) ও তাঁর সাহাবীদের সাথে একত্রিত করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবীদের ওপর।

 

শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ١٠)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمةُ المعتني بالكتابِ

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين نبيِّنا محمد وعلى آله وصحبه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين، أما بعد:

فهذا شرحُ كتاب التوحيد من «صحيح البخاري»، لسماحة شيخنا الإمام العلامة عبد العزيز بن عبد الله بن باز رحمه الله.

وكان ذلك دروسًا ألقاها سماحته رحمه الله في جامع الإمام تركي بن عبد الله (الجامع الكبير)، في الرياض عام 1409 هـ، في درس الفجر بقراءة الشيخين الجليلين عبد العزيز بن عبد الله الراجحي، وعبد العزيز بن إبراهيم بن قاسم حفظهما الله.

وهو شرحٌ نفيسٌ جدًّا، مُلِئ بالدرر والفوائد، والتقريرات العلميَّةِ الدَّقيقة لسماحته رحمه الله في بيان عقيدة أهل السنة والجماعة، والرَّدِّ على المخالفين.

ولقد أنعمَ المولى جلَّ وعلى عليَّ أن هيّأ لي شرف الاعتناء بهذا ا لشَّرحِ العظيم وإعداده بعد أخذ الإذن من مؤسسة الشيخ عبد العزيز بن باز الخيرية، جزى الله القائمين عليها الجزاء الأوفى.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌গ্রন্থের যত্নকারীর ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:

এটি আমাদের মহান শায়খ ইমাম আল্লামা আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহিমাহুল্লাহ)-এর 'সহীহ বুখারী'র 'কিতাবুত তাওহীদ'-এর ব্যাখ্যা।

এটি ছিল সেসব পাঠ (দরস), যা তিনি ১৪০৯ হিজরীতে রিয়াদের জামে ইমাম তুর্কী বিন আব্দুল্লাহ (আল-জামে আল-কাবীর)-এ ফজরের পাঠে প্রদান করেছিলেন। তখন পাঠ করেছিলেন দুই মহান শায়খ—আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ আল-রাজহী এবং আব্দুল আযীয বিন ইবরাহীম বিন কাসেম (আল্লাহ তাঁদের হেফাযত করুন)।

এটি অত্যন্ত মূল্যবান একটি ব্যাখ্যা, যা মনিমুক্তা ও নানাবিধ উপকারে পূর্ণ এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা বর্ণনা ও বিরোধীদের খণ্ডনের ক্ষেত্রে তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) নিখুঁত ইলমী আলোচনার দ্বারা সমৃদ্ধ।

মহান প্রতিপালক আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে, শায়খ আব্দুল আযীয বিন বায চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন থেকে অনুমতি গ্রহণের পর তিনি আমাকে এই মহান ব্যাখ্যাটির যত্ন নেওয়ার ও তা প্রস্তুত করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আল্লাহ এর সাথে সংশ্লিষ্টদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ١١)
وكنت ممن أنعم الله عليهم بالتتلمذ على سماحة الشيخ رحمه الله منذ عام 1405 هـ إلى وفاته رحمه الله.

ولأهمية هذا الشَّرح، وحاجة الأمة إلى إخراجه مطبوعًا -ليعم النفع به، وتكمل الفائدة، ويسهل الرجوع إلى مسائله- قمتُ بتحويل مسموعه إلى مكتوبٍ من الأشرطة السمعية، ومقابلة المكتوب بالمسموع، وتخريج الأحاديث، فما كان من صوابٍ فمن الله وحده، وما كان من نقص أو خطإٍ فمنِّي ومن الشيطان وأستغفر الله منه، ورحم الله من وجد خللًا فنبّهني عليه على البريد الإلكتروني لإصلاحه.

وجزى الله سماحة شيخنا الجزاء الأوفى على شرحه القيِّم لهذا الكتاب العظيم، ورحم الله الإمام محمد بن إسماعيل البخاري على تأليفه «صحيح البخاري»، وأسأل الله سبحانه وتعالى أن ينفع بهذا الشرح المبارك كما نفع بأصله، وأن يجعله من العلم النافع الذي يجري أجره لسماحة الشيخ في قبره، وأن يجعله في ميزان حسناته، وميزان حسنات من سجَّله وأخرجه ونشره، وأن يرزقنا الإخلاص في القول والعمل، إنه خير مسئولٍ، وأكرم مأمول.

وفي ختامِ هذا التقديم أتقدمُ بالشُّكر الجزيل والعرفان الجميل لسماحة والدنا الشيخ/ عبد العزيز بن عبد الله آل الشيخ مفتي عام المملكة، ورئيس هيئة كبار العلماء، وإدارة البحوث العلمية والإفتاء، لإشرافه المباشر على إخراج علم سماحة الشيخ عبد العزيز بن باز رحمه الله.
আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন ১৪০৫ হিজরী থেকে মহামান্য শাইখের ইন্তেকাল পর্যন্ত তাঁর নিকট জ্ঞান অর্জনের সুযোগ দান করে; আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।

এই ব্যাখ্যার গুরুত্ব এবং এটি মুদ্রণ আকারে প্রকাশের বিষয়ে উম্মাহর প্রয়োজনীয়তার কারণে—যাতে এর উপকারিতা ছড়িয়ে পড়ে, ফায়দা পূর্ণ হয় এবং এর মাসআলাগুলো অনুসন্ধান করা সহজ হয়—আমি অডিও টেপ থেকে এর শ্রুত বিষয়গুলোকে লিখিতরূপে রূপান্তর করেছি, শ্রুত বিষয়ের সাথে লিখিত পাণ্ডুলিপি মিলিয়েছি এবং হাদিসসমূহের উৎস নির্ণয় করেছি। যা কিছু সঠিক তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু বিচ্যুতি বা ভুল তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর আমি তা থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন যিনি কোনো ত্রুটি খুঁজে পেলে আমাকে ইমেইলের মাধ্যমে তা সংশোধনের জন্য অবহিত করবেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের মহামান্য শাইখকে এই মহান কিতাবের এই মূল্যবান ব্যাখ্যার জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারীকে ‘সহীহ আল-বুখারী’ রচনার জন্য রহম করুন। আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই বরকতময় ব্যাখ্যার দ্বারা সেভাবেই উপকৃত করেন যেভাবে এর মূল কিতাব দ্বারা করেছেন। আর তিনি যেন একে এমন উপকারী জ্ঞান হিসেবে কবুল করেন যার সওয়াব কবরে মহামান্য শাইখের নিকট পৌঁছাতে থাকে। এছাড়া তিনি যেন একে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় এবং যারা এটি রেকর্ড করেছেন, প্রস্তুত করেছেন ও প্রকাশ করেছেন তাদের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন। আর তিনি যেন আমাদের কথা ও কাজে ইখলাস দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আশাস্থল।

এই ভূমিকার শেষে আমি আমাদের শ্রদ্ধেয় পিতা মহামান্য শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-শাইখ—যিনি সৌদি আরবের প্রধান মুফতি এবং জ্যেষ্ঠ উলামা পরিষদ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া বিভাগের প্রধান—তাঁর প্রতি অশেষ শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, মহামান্য শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর ইলম প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানের জন্য।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ١٢)
والشُّكر موصولٌ لفضيلة الشيخ الدكتور/ علي بن عبد العزيز الشبل، ولفضيلة الشيخ الدكتور/ سعيد بن وهف القحطاني، ولفضيلة الشيخ/ فهد بن عثمان بن باز. الذين بذلوا وسعهم وجهدهم في مراجعة هذا الكتاب، كما تفضل الدكتور/ الشبل بالتقديم له.

ثم الشُّكر موصولٌ لمؤسسة الشيخ عبد العزيز بن باز الخيرية، ممثلة في أمينها، ومديرها، وكافَّة العاملين في المؤسسة على إتاحتهم لي هذه الفرصة الثمينة لإخراج هذا الكتاب المفيد النافع.

والشكر موصولٌ أيضًا لشيخنا الجليل/ عبد الله بن محمد المعتاز على اهتمامه بنشر علم سماحة الشيخ ابن باز رحمه الله، وتشجيعه على ذلك.

والشُّكر موصولٌ لجميع المشايخ الذين ساهموا معي في مراجعة الكتاب وإبداء الملاحظات والاستدراكات، والذين بذلوا جهدهم في إخراج هذا الكتاب القيم.

كما أشكرُ الأخت الكريمة نوال بنت عبد العزيز الجبرين - وفقها الله - وقد تبرعت بتكاليف طباعةِ الملازم وتجهيز الكتاب.

وكما أشْكرُ كل من ساهم في طباعة الكتاب، وتمويله، وأن يجعلها في موازين حسناتهم يوم الدِّين.

وأسأل الله تعالى أن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفع به الإسلام والمسلمين، وأن ينفعني به في الحياة وبعد الممات؛ إنه جوادٌ كريمٌ مجيبُ الدعوات.
এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সম্মানিত শাইখ ডক্টর আলি বিন আব্দুল আজিজ আশ-শিবলকে, সম্মানিত শাইখ ডক্টর সাঈদ বিন ওয়াহফ আল-কাহত্বানিকে এবং সম্মানিত শাইখ ফাহাদ বিন উসমান বিন বাযকে; যারা এই গ্রন্থটি পুনর্নিরীক্ষণে তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও শ্রম ব্যয় করেছেন, যেমনটি ডক্টর আশ-শিবল এটির ভূমিকা লিখে অনুগ্রহ করেছেন।

অতঃপর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বায চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনকে, যার প্রতিনিধিত্ব করছেন এর সচিব, পরিচালক এবং ফাউন্ডেশনের সকল কর্মীবৃন্দ; আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী গ্রন্থটি প্রকাশ করার এই মূল্যবান সুযোগ প্রদানের জন্য।

আরও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমাদের মহান শাইখ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-মু'তাযকে, মাননীয় শাইখ ইবনে বায (আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন)-এর জ্ঞান প্রচারের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ এবং এ বিষয়ে আমাকে উৎসাহিত করার জন্য।

এবং সেই সকল শাইখদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা যারা আমার সাথে এই গ্রন্থটি পুনর্নিরীক্ষণ, বিভিন্ন মন্তব্য ও সংশোধন প্রদানে অংশগ্রহণ করেছেন এবং যারা এই মূল্যবান গ্রন্থটি প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের শ্রম বিলিয়ে দিয়েছেন।

একইভাবে আমি সম্মানিতা বোন নাওয়াল বিনতে আব্দুল আজিজ আল-জিবরীনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি—আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন—যিনি এই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি মুদ্রণ ও প্রস্তুতির ব্যয়ভার বহন করেছেন।

এবং আমি তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাই যারা এই গ্রন্থটির মুদ্রণ ও অর্থায়নে সহযোগিতা করেছেন, এবং প্রার্থনা করি আল্লাহ যেন কিয়ামতের দিন এগুলোকে তাদের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন।

এবং আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন, এর মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং ইহকালে ও পরকালে আমার জন্য একে উপকারী করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা, অতি দয়ালু এবং প্রার্থনা কবুলকারী।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ١٣)
والحمدُ لله الذي بنعمتهِ تتم الصالحات.

وصلَّى الله على نبيِّنا محمدٍ، وعلى آله وصحبه وسلِّم تسليمًا كثيرًا.

 

كتبه/

محمد بن أبكر بن عبد الرحيم القرعاني

تلميذ سماحته، والباحث المتعاون

في مؤسسة الشيخ عبد العزيز بن باز الخيرية

الرياض 25/ 3/ 1439 هـ

جوال: 0541310646

البريد الإلكتروني:aboanass123456@hotmail.com
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সম্পন্ন হয়।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক।

 

এটি লিখেছেন/

মুহাম্মাদ বিন আবকার বিন আবদুর রহিম আল-কুরআনি

তাঁর মহানুভবতার ছাত্র এবং সহযোগী গবেষক

শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনে

রিয়াদ ২৫/ ৩/ ১৪৩৯ হিজরি

মোবাইল: ০৫৪১৩১০৬৪৬

ইমেইল: aboanass123456@hotmail.com
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌ترجمة الإمام البخاري رحمه الله

‌‌نسبه:

هو أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بردزبه الجعفي البخاري.

 

‌‌مولده:

يوم الجمعة بعد الصلاة، لثلاث عشرة من شوال سنة 194 هـ ببخارى، مدينة معروفة في أزبكستان، فهو بخاريٌّ، فارسيُّ الأصل، أما تسميته بالجعفي فهي نسبة ولاء الإسلام؛ لأن جدَّه الأعلى المغيرة أسلم على يد اليمان الجعفي؛ فهو مولى له بولاء الإسلام.

 

‌‌نشأته وطلبه العلم:

رُبّي بالحلال الطيِّب، حيث قال أبوه إسماعيل المحدث، عند وفاته: «لا أعلم في جميع مالي درهمًا من شبهة».

أول سماعه سنة 205 هـ بداية من أهل بلده، وقد أُلهم حفظ الحديث منذ الصغر.

أول ترحاله سنة 210 هـ، حج مع أخيه وأمه فبقي بمكة في طلب الحديث، ثم رحل إلى أكثر محدثي الأمصار: في خراسان، والشام، ومصر، ومدن
ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ-এর জীবনী

‌তাঁর বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম বিন আল-মুগীরা বিন বারদিজবাহ আল-জু'ফী আল-বুখারী।

 

‌তাঁর জন্ম:

১৯৪ হিজরি সনের ১৩ই শাওয়াল জুমুআর সালাতের পর উজবেকিস্তানের একটি সুপরিচিত শহর বুখারায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বুখারী এবং জাতিগতভাবে পারস্যীয়; তবে তাঁর 'জু'ফী' উপাধিটি হলো ইসলামের আনুগত্যের (ওয়ালা) সম্পৃক্ততা; কারণ তাঁর ঊর্ধ্বতন পিতামহ আল-মুগীরা আল-ইয়ামান আল-জু'ফীর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাই তিনি ইসলামের আনুগত্যের সূত্রে তাঁর মুক্তদাস (মাওলা) হিসেবে গণ্য হন।

 

‌তাঁর বেড়ে ওঠা ও জ্ঞানার্জন:

তিনি পবিত্র ও হালাল উপার্জনের মাধ্যমে লালিত-পালিত হয়েছিলেন, কারণ তাঁর পিতা মুহাদ্দিস ইসমাইল ইন্তেকালের সময় বলেছিলেন: «আমি আমার সমস্ত সম্পদের মধ্যে একটি দিরহামও সন্দেহযুক্ত বলে জানি না»।

২০৫ হিজরি সনে সর্বপ্রথম তিনি নিজ শহরের উলামাদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ শুরু করেন এবং শৈশব থেকেই তাঁর অন্তরে হাদিস মুখস্থ করার অনুপ্রেরণা দান করা হয়েছিল।

২১০ হিজরি সনে তাঁর প্রথম জ্ঞানার্জনের সফর শুরু হয়; তিনি তাঁর ভাই ও মায়ের সাথে হজ পালন করেন এবং হাদিস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মক্কায় অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি বিভিন্ন জনপদের অধিকাংশ মুহাদ্দিসগণের নিকট সফর করেন: খোরাসান, শাম (সিরিয়া), মিসর এবং বিভিন্ন শহরে...
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ١٥)
العراق، وقدم بغداد مرارًا.

كتب عن ألف وثمانين نفسًا، وقيل له: أتحفظ جميع ما أدخلته في المصنف؟ فقال: «لا يخفى علي جميع ما فيه». وكان يقول: «أحفظ مائة ألف حديث صحيحٍ، ومائتي ألف حديث غير صحيح»، وعنه في رواية: «وقلَّ اسم في التاريخ إلا وله عندي قصة».

 

‌‌صفاته الخَلْقية والخُلُقية:

نحيف الجسم، ليس بالطويل ولا بالقصير، طيب النفس، رقيق الشعور، قليل الأكل، مفرط الكرم، كثير الإحسان إلى الطلبة، ممتلئ بالنشاط والإخلاص وحب العمل - مع شدة زهده وكثرة ورعه - كما تعود الرياضة فكان يجيد الرمي مصيبًا فيه.

 

‌‌وفاته:

ليلة السبت الموافقة ليلة عيد الفطر، ودفن يوم العيد بعد صلاة الظهر، عام 256 هـ في خرتنك - قرية من قرى سمرقند - وعنه قال الحافظ: «فقد رُبي في حجر العلم، وارتضع ثدي الفضل، فكان فطامه على هذا اللِّباء».

* * *
ইরাক, এবং তিনি বারবার বাগদাদে এসেছেন।

তিনি এক হাজার আশিজন ব্যক্তি থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: “আপনি কি আপনার সংকলনে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত করেছেন তার সবটুকু মুখস্থ রাখেন?” তিনি বললেন: “এতে যা কিছু আছে তার কোনো কিছুই আমার নিকট অস্পষ্ট নয়।” তিনি বলতেন: “আমি এক লক্ষ সহিহ হাদিস এবং দুই লক্ষ গইরে সহিহ (সহিহ নয় এমন) হাদিস মুখস্থ রাখি।” অন্য এক বর্ণনায় তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে: “ইতিহাসে এমন কোনো নাম খুব কমই আছে যার সম্পর্কে আমার নিকট কোনো না কোনো ঘটনা নেই।”

 

‌‌তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:

তিনি ছিলেন কৃশকায় দেহের অধিকারী, খুব লম্বা ছিলেন না আবার খাটোও ছিলেন না। তিনি ছিলেন পবিত্র আত্মার অধিকারী, অত্যন্ত কোমল হৃদয়, স্বল্পাহারী এবং অতিমাত্রায় দানশীল। তিনি ছাত্রদের প্রতি অনেক ইহসান ও অনুগ্রহ করতেন এবং কর্মস্পৃহা, ইখলাস ও কর্মনিষ্ঠায় ভরপুর ছিলেন—সেই সাথে ছিল তাঁর কঠোর দুনিয়াবিমুখতা ও গভীর পরহেযগারি। তিনি শরীরচর্চায় অভ্যস্ত ছিলেন এবং তীর নিক্ষেপে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন, তাঁর লক্ষ্য ছিল অব্যর্থ।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

তিনি ২৫৬ হিজরির ঈদুল ফিতরের রাতে (শনিবার রাত) ইন্তেকাল করেন এবং ঈদের দিন যোহরের নামাজের পর সমরকন্দের খরতঙ্ক নামক এক গ্রামে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর সম্পর্কে হাফেজ বলেন: “তিনি ইলমের কোলে লালিত-পালিত হয়েছেন এবং শ্রেষ্ঠত্বের দুগ্ধ পান করেছেন, আর এই শৈশবকালীন পুষ্টির ওপরই তাঁর বৃদ্ধি ঘটেছে।”

* * *
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ١٦)
‌‌ترجمة موجزة لشارح الكتاب سماحة الشيخ ابن باز رحمه الله (1)

‌‌اسمه ونسبه وكنيته ولقبه:

هو سماحة الإمام المجتهد، بقية السلف، ومفتي المسلمين في زمانه العلاَّمة الشيخ: عبد العزيز بن عبد الله بن عبد الرحمن بن محمد بن عبد الله ابن باز.

كنيته: أبو عبد الله، وهو أكبر أولاده. لقبه المشهور به: ابن باز.

 

‌‌مولده ونشأته وأسرته:

ولد في مدينة الرياض في اليوم الثاني عشر من شهر ذي الحجة من عام ثلاثين وثلاثمائة وألف من الهجرة النبوية (12/ 12/ 1330 هـ) وبها نشأ وشبَّ وشاب وكبر، ولم يخرج منها إلا ناويًّا الحج أو العمرة قاصدًا مكة، أو

--------------------------------------------

(1) ينظر ترجمته: في «مجموع فتاوى ومقالات متنوعة» لسماحته (1/ 9 ــ 12) و «الإنجاز في ترجمة الإمام عبد العزيز بن باز» للشيخ عبد الرحمن بن يوسف الرحمة (ص 27، 28، 29، 34، 45، 377) وكتاب «جوانب من سيرة الإمام عبد العزيز بن باز»، راوية الشيخ محمد الموسى إعداد: محمد بن إبراهيم الحمد (33) و «الإبريزيِّة في التسعين البازية»، د. حمد بن إبراهيم الشتوي (18، 20، 21، 30، 189) وترجمة سماحة الشيخ عبد العزيز ابن عبد الله بن باز، من إعداد واعتناء الشيخ عبد العزيز بن إبراهيم بن قاسم (13، 23، 26، 138) وغيرها

কিতাবের ভাষ্যকার পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী (১)

তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম ও উপাধি:

তিনি হলেন পরম শ্রদ্ধেয় ইমাম, মুজতাহিদ, সালাফদের সুযোগ্য উত্তরসূরি এবং সমকালীন মুসলিম উম্মাহর মুফতি, আল্লামা শাইখ: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ ইবনে বায।

তাঁর উপনাম (কুনিয়াত): আবু আব্দুল্লাহ, যা তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্রের নামানুসারে। তাঁর প্রসিদ্ধ উপাধি হলো: ইবনে বায।

 

তাঁর জন্ম, শৈশব ও পরিবার:

তিনি হিজরি তেরোশ ত্রিশ সালের বারো জিলহজ (১২/ ১২/ ১৩৩০ হিজরি) রিয়াদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন, যৌবনকাল অতিবাহিত করেন এবং বার্ধক্যে উপনীত হন। হজ বা ওমরাহর উদ্দেশ্যে মক্কা গমনের সংকল্প ছাড়া তিনি সেখান থেকে বের হননি, অথবা

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: তাঁর নিজস্ব সংকলন ‘মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাত মুতানাওয়্যিআহ’ (১/ ৯-১২), শাইখ আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ আর-রাহমাহ রচিত ‘আল-ইনজায ফি তারজামাতিল ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বায’ (পৃষ্ঠা ২৭, ২৮, ২৯, ৩৪, ৪৫, ৩৭৭), শাইখ মুহাম্মাদ আল-মুসা বর্ণিত এবং মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আল-হামাদ সংকলিত ‘জাওয়ানিুব মিন সিরাতিল ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বায’ (৩৩), ড. হামাদ বিন ইবরাহিম আশ-শুতওয়ী রচিত ‘আল-ইবরিজিয়্যাহ ফিত তিসয়িন আল-বাযিয়্যাহ’ (১৮, ২০, ২১, ৩০, ১৮৯), এবং শাইখ আব্দুল আজিজ বিন ইবরাহিম বিন কাসিম কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ও সম্পাদিত ‘তারজামাতু সামাহাতুশ শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায’ (১৩, ২৩, ২৬, posh১৩৮) সহ অন্যান্য গ্রন্থ।

(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ١٧)
العمل في كل من الخرج، والمدينة، والطائف، وجدة.

وقد نشأ في بيت عامر بالصَّلاح وحبّ الخير، في حضن والدته، فقد توفي والده عام ثلاث وثلاثين وثلاث مئة وألف هجرية [1333 هـ]، وكان عمره آنذاك دون الثالثة، فعاش يتيمًا في حجر أمه، التي أحسنت تربيته ونشأته، مع شقيقه محمد، وأخيه من أمه إبراهيم، وأخته من أمه منيرة، وكلهم أكبر سنًا من سماحته.

وكان لوالدته رحمها الله التي توفيت عام [1356 هـ] دور بارز، وأثر بالغ في توجهه نحو العلم الشرعي، وطلبه له ومثابرته عليه، ففضلها عليه كبير، حيث اعتنت بتربيته وغرست فيه الصفات الحميدة، كما كانت البيئة التي عاش فيها بيئة علمية، فقد كان في مدينة الرياض كبار أئمة الدعوة السلفية في هذا العصر.

 

‌‌حياته العلمية والعملية:

بدأ حياته العلمية: بالدراسة منذ الصغر؛ فحفظ القرآن الكريم قبل البلوغ، على يد الشيخ عبد الله بن مفيريج، ثم تلقى العلوم الشرعية والعربية، على يد كوكبة من علماء الدعوة، ذكر منهم سماحته ستة شيوخ، وكان أول شيوخه فيما ذكره د. سليمان أبا الخيل: الشيخ عبد الله بن عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب(1)، ومن أبرز وأشهر شيوخه مفتي الديار السعودية سماحة الشيخ محمد بن إبراهيم بن عبد اللطيف آل الشيخ رحمه الله، والذي أخذ عنه جميع العلوم الشرعية حيث لازمه عشر سنوات من عام (1347 ــ 1357 هـ).

أما تلاميذه: فأكثر من أن نحصيهم في هذه الأسطر لكثرتهم وطول المدة،

--------------------------------------------

(1) ينظر: «منهج الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز في الدعوة إلى الله»، لـ د. سليمان أبا الخيل (ص 37، 38).

আল-খারজ, মদিনা, তায়েফ এবং জেদ্দায় কর্মরত ছিলেন।

তিনি পুণ্য ও কল্যাণকামিতায় সমৃদ্ধ এক পরিবারে তাঁর মায়ের কোলে লালিত-পালিত হন। তাঁর পিতা ১৩৩৩ হিজরি সনে [১৩৩৩ হি.] ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল তিন বছরেরও কম। ফলে তিনি তাঁর মায়ের তত্ত্বাবধানে ইয়াতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন, যিনি তাঁর লালন-পালন ও বিকাশে বিশেষ যত্ন নিয়েছিলেন। তাঁর সাথে ছিলেন তাঁর সহোদর ভাই মুহাম্মদ, বৈমাত্রেয় ভাই ইব্রাহিম এবং বৈমাত্রেয় বোন মুনিরা—যাঁরা সকলেই তাঁর (মহামান্য শাইখের) চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন।

তাঁর মাতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), যিনি ১৩৫৬ হিজরি সনে [১৩৫৬ হি.] ইন্তেকাল করেন, তাঁর শারয়ি ইলম অর্জন এবং এর পেছনে তাঁর একাগ্রতা ও অবিচলতার ক্ষেত্রে এক অনন্য ভূমিকা ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল। তাঁর ওপর মাতার অনুগ্রহ অপরিসীম, কারণ তিনি তাঁর লালন-পালনের যত্ন নিয়েছিলেন এবং তাঁর মধ্যে প্রশংসনীয় গুণাবলি রোপণ করেছিলেন। একইভাবে তিনি যে পরিবেশে বসবাস করতেন তা ছিল একটি ইলমি (জ্ঞানতাত্ত্বিক) পরিবেশ; কেননা রিয়াদ শহরে সে সময়ের সালাফি দাওয়াতের মহান ইমামগণ অবস্থান করতেন।

 

‌‌তাঁর ইলমি ও কর্মজীবন:

তাঁর ইলমি জীবন শুরু হয় শৈশব থেকেই পড়াশোনার মাধ্যমে; তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই শাইখ আবদুল্লাহ বিন মুফাইরিজের নিকট পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি দাওয়াতের একঝাঁক উলামায়ে কেরামের নিকট শারয়ি ও আরবি জ্ঞান অর্জন করেন। মহামান্য শাইখ তাঁদের মধ্য থেকে ছয়জন উস্তাদের কথা উল্লেখ করেছেন। ড. সুলাইমান আবা আল-খাইল যা উল্লেখ করেছেন সেই অনুযায়ী তাঁর প্রথম উস্তাদ ছিলেন: শাইখ আবদুল্লাহ বিন আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব(১)। তাঁর সর্বাধিক প্রখ্যাত ও বিখ্যাত উস্তাদদের মধ্যে অন্যতম হলেন সৌদি আরবের তৎকালীন মুফতি, মহামান্য শাইখ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল লতিফ আল-শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ), যাঁর নিকট থেকে তিনি সমস্ত শারয়ি জ্ঞান অর্জন করেন এবং ১৩৪৭ থেকে ১৩৫৭ হিজরি পর্যন্ত টানা দশ বছর তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন।

আর তাঁর ছাত্রবৃন্দের কথা বলতে গেলে, তাঁদের সংখ্যা এত বেশি এবং সময়কাল এত দীর্ঘ যে, এই সামান্য কয়েক চরণে তাঁদের গণনা করা সম্ভব নয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ড. সুলাইমান আবা আল-খাইল রচিত ‘মানহাজুশ শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায ফিদ দাওয়াতি ইলাল্লাহ’ (পৃ. ৩৭, ৩৮)।

(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ١٨)
حدود سبعون عامًا، فقد تتلمذ على يديه خلق كثير، ذكر منهم الشيخ عبد الرحمن ابن يوسف الرحمة في ترجمته لسماحته أكثر من (474) طالبًا(1).

وأمَّا حياته العملية:

فقد تولى عدة أعمال، منها: القضاء في منطقة الخرج بالدلم مدة أربعة عشر عامًا وأشهرًا من عام (1357 إلى 1371 هـ)، ومنها: التدريس بالرياض في المعهد العلمي وكلية الشريعة، من سنة (1372 ـ 1380 هـ) درَّس الفقه والتوحيد والحديث، حدود تسع سنوات وبضعة أشهر، ومنها: العمل إداريًّا في التعليم من مطلع عام (1381 ـ 1395 هـ) نائبًا لرئيس الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة حدود (10) أعوام، ثم رئيسًا لها حدود (5) أعوام.

وفي (14/ 10/ 1395 هـ) صدر أمر ملكي بتعيينه في منصب الرئيس العام لإدارات البحوث العلمية، والإفتاء والدعوة والإرشاد، حتى مطلع سنة (1414 هـ).

وفي (20/ 1/ 1414 هـ) صدر أمر ملكي بتعيينه في منصب المفتي العام للمملكة، ورئيسًا لهيئة كبار العلماء، ورئيسًا لإدارة البحوث العلمية والإفتاء، ورئيسًا للجنة الدائمة للإفتاء، وبقي في هذا المنصب إلى أن توفاه الله في يوم (27/ 1/ 1420 هـ) رحمه الله رحمة واسعة.

وإلى جانب هذا العمل الوظيفي الرسمي كان سماحته عضوًا أو رئيسًا لكثير من المجالس العلمية الرسمية في المملكة وفي العالم الإسلامي: كرابطة

--------------------------------------------

(1) ينظر: «الإنجاز في ترجمة الإمام عبد العزيز بن باز» للشيخ عبد الرحمن الرحمة (ص 84 ــ 124).

আনুমানিক সত্তর বছর; তাঁর নিকট অসংখ্য মানুষ ইলম অর্জন করেছেন। শাইখ আবদুর রহমান ইবনে ইউসুফ আর-রাহমাহ তাঁর জীবনীতে মান্যবর শাইখের (৪৭৪) জনেরও বেশি ছাত্রের কথা উল্লেখ করেছেন(১)।

আর তাঁর কর্মজীবন:

তিনি বেশ কিছু দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: আল-খজ অঞ্চলের আল-দিলামে ১৩৫৭ থেকে ১৩৭১ হিজরি পর্যন্ত চৌদ্দ বছর কয়েক মাস বিচারকের দায়িত্ব পালন। আরও রয়েছে: রিয়াদের মা'হাদ আল-ইলমি এবং শরীয়াহ ফ্যাকাল্টিতে ১৩৭২ হিজরি থেকে ১৩৮০ হিজরি পর্যন্ত শিক্ষকতা; সেখানে তিনি প্রায় নয় বছর কয়েক মাস ফিকহ, তাওহীদ এবং হাদিস পড়িয়েছেন। আরও রয়েছে: ১৩৮১ হিজরির শুরু থেকে ১৩৯৫ হিজরি পর্যন্ত শিক্ষা প্রশাসনে দায়িত্ব পালন, যার মধ্যে মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে প্রায় (১০) বছর এবং পরবর্তীতে চ্যান্সেলর হিসেবে প্রায় (৫) বছর দায়িত্ব পালন অন্তর্ভুক্ত ছিল।

১৪/১০/۱۳৯৫ হিজরি তারিখে একটি রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে তাঁকে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াত ও ইরশাদ বিভাগের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ১৪১৪ হিজরির শুরু পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

২০/১/১৪১৪ হিজরি তারিখে একটি রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে তাঁকে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি, সিনিয়র স্কলার্স কাউন্সিলের প্রধান, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইফতা বিভাগের প্রধান এবং স্থায়ী ফতোয়া কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি এই পদে আসীন ছিলেন ২৭/১/১৪২০ হিজরি তারিখে তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত—আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন।

এই দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি মান্যবর শাইখ সৌদি আরব ও মুসলিম বিশ্বের অনেক ইলমি কাউন্সিলের সদস্য বা প্রধান ছিলেন: যেমন রাবেতাতুল...

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: শাইখ আবদুর রহমান আর-রাহমাহ রচিত ‘আল-ইনজায ফি তারজামাতিল ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বায’ (পৃষ্ঠা ৮৪–১২৪)।

(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ١٩)
العالم الإسلامي، والمجمع الفقهي التابع للرابطة، والمجمع الفقهي التابع لمنظمة المؤتمر الإسلامي، وعضوية المجلس الأعلى للجامعة الإسلامية في المدينة، وعضوية الهيئة العليا للدعوة في المملكة، وغيرها من العضويات، وما من منصب تقلَّده إلا وكانت له فيه إبداعات وبصمات وأوليات خالدة رحمه الله.

 

‌‌صفاته الخَلقية والخُلقية:

أمَّا صفاته الخَلقيَّة: فقد كان ربعة من الرجال ليس بالطويل ولا بالقصير، وإلى الطول أقرب، حنطي اللون، مستدير الوجه، ناتئ الجبهة، غاير العينين، أقنى الأنف قليلا، خفيف الشارب قليل اللحية على العارضين كثة في الذقن، ويمتاز بالتوسط في عموم أعضاء جسمه.

أمَّا صفاته الخُلقية: فقد جبل اللهُ الشيخ على صفات نبيلة، وشمائل فريدة، وسجايا كريمة قلَّ أن تجتمع في شخص في عصرنا هذا، ولا يمكن حصرها وتعدادها خصلة، خصلة، فقد ذكر الشيخ عبد الرحمن الرحمة في ترجمته للشيخ تسعين صفة ومنقبة تميَّز بها سماحته رحمه الله، وقد ذكر الشيخ محمد بن إبراهيم الحمد أبرز أربعين صفة خلقية لسماحته(1).

وقد قال عنه سماحة المفتي العام للمملكة فضيلة الشيخ: عبد العزيز بن عبد الله آل الشيخ: «ضرب في كل ميدان من ميادين الخير بسهم، فسبحان من جمع له الخير من أطرافه، وبارك له في عمره وعمله .. ، وهذا من أمارات الخير له

--------------------------------------------

(1) ينظر: «الإنجاز في ترجمة الإمام عبد العزيز بن باز» للشيخ عبد الرحمن الرحمة (37، 45 ــ 60) وكتاب «جوانب من سيرة الإمام عبد العزيز بن باز»، للحمد والموسى (39 ــ 41).

মুসলিম বিশ্ব লীগ, লীগের অধীনস্থ ফিকহ একাডেমি, ইসলামি সম্মেলন সংস্থা (OIC)-এর অধীনস্থ ফিকহ একাডেমি, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্যপদ, সৌদি আরবের উচ্চতর দাওয়াহ পরিষদের সদস্যপদ এবং আরও অন্যান্য সদস্যপদ। তিনি যে পদই অলঙ্কৃত করেছেন, সেখানে তাঁর অনন্য সৃজনশীলতা, কালজয়ী ছাপ এবং অগ্রণী অবদান ছিল, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

 

‌‌তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:

তাঁর শারীরিক গঠন সম্পর্কে: তিনি ছিলেন মাঝারি উচ্চতার পুরুষ, খুব বেশি দীর্ঘকায় ছিলেন না আবার খর্বকায়ও ছিলেন না, তবে দীর্ঘকায়দের কাছাকাছি ছিলেন। তাঁর গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ, মুখমণ্ডল গোলাকার, কপাল উন্নত, চোখ দুটি গভীর, নাক ছিল সামান্য লম্বাটে ও খাড়া। তাঁর গোঁফ ছিল পাতলা, গালের দুই পাশের দাড়ি ছিল সামান্য কিন্তু চিবুকের দাড়ি ছিল ঘন। তাঁর শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুঠাম ও ভারসাম্যপূর্ণ ছিল।

তাঁর চারিত্রিক গুণাবলি সম্পর্কে: আল্লাহ তাআলা শায়েখকে এমন কিছু মহৎ গুণ, অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং মহান স্বভাবের ওপর সৃষ্টি করেছিলেন যা বর্তমান যুগে কোনো এক ব্যক্তির মাঝে খুব কমই দেখা যায়। তাঁর এসব গুণাবলি একটি একটি করে গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। শায়েখ আবদুর রহমান আর-রাহমাহ শায়েখের জীবনীতে নব্বইটি চারিত্রিক গুণ ও মর্যাদাপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন যার মাধ্যমে মহামান্য শায়েখ (রহ.) বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন। শায়েখ মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আল-হামদ মহামান্য শায়েখের উল্লেখযোগ্য চল্লিশটি চারিত্রিক গুণের কথা উল্লেখ করেছেন(১)।

সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি ফজিলতুশ শায়েখ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল-শায়েখ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি কল্যাণের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের অবদান রেখেছেন। পবিত্র সেই মহান সত্তা, যিনি তাঁর জন্য কল্যাণের সকল দিক একত্র করে দিয়েছেন এবং তাঁর জীবনে ও কর্মে বরকত দান করেছেন... আর এটি তাঁর জন্য কল্যাণের অন্যতম লক্ষণ।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: শায়েখ আবদুর রহমান আর-রাহমাহ রচিত ‘আল-ইনজায ফি তারজামাতিল ইমাম আবদুল আজিজ বিন বাজ’ (৩৭, ৪৫-৬০) এবং আল-হামদ ও আল-মুসা রচিত ‘জাওয়ানিব মিন সিরাতিল ইমাম আবদুল আজিজ বিন বাজ’ (৩৯-৪১)।

(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٢٠)
غفر الله له ورحمه»(1).

 

‌‌مؤلفاته وفتاواه ودروسه:

أمَّا مؤلفاته المطبوعة فكثيرة جدًّا: وأكثرها قد جمع في كتابه المشهور «مجموع فتاوى ومقالات متنوعة»، الذي قام بجمعه معالي الدكتور الشيخ محمَّد ابن سعد الشويعر - حفظه الله - في ثلاثين مجلدًا، وقد جمع فيه أكثر تراث سماحة الشيخ رحمه الله(2).

كما حُوِّلت تسجيلات برنامجه الإذاعي إلى كتاب بعنوان: «فتاوى نور على الدرب»، وقد طُبع منها حتى إعداد هذه الترجمة (31) مجلدًا والتي ستبلغ (35) مجلدًا، وقد تم إكمال العمل فيها بالرئاسة -إدارة البحوث العلمية والإفتاء.

وأصدرت مؤسسة الشيخ عبد العزيز بن باز الخيرية، بعض شروح وتعليقات سماحته على بعض كتب أهل العلم منها: «شرح التبصير في معالم الدين» لأبي جعفر محمد بن جرير الطبري رحمه الله، وتعليق سماحته على «مقدمة تفسير الحافظ ابن كثير مع تعليق على تفسيره لسورة الفاتحة»، وشرح

--------------------------------------------

(1) اقتباس بتصرف من تقديمه لكتاب فتاوى نور على الدرب لسماحة الشيخ عبد العزيز بن باز (1/ 4).

(2) ذكر سماحته في «مجموع فتاوى ومقالات متنوعة» ثلاثة وعشرين مؤلفًا (1/ 11، 12) وزاد عليها تلميذه الشيخ عبد العزيز بن إبراهيم بن قاسم (24 عنونًا) في مقدمة كتاب «التحفة الكريمة» (ص 20 - 26) وأفرد لها محمد يوسف المجذوب كُتبًا صغيرًا، وقد طبع في حياة سماحة الشيخ رحمه الله، كما أفردها بمؤلَّف صالح بن راشد الهويمل بعنوان: «الإيجاز في سيرة ومؤلفات ابن باز».

আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন এবং তাঁর ওপর রহম করুন।»(১).

 

‌‌তাঁর রচনাবলি, ফতোয়া ও দরসসমূহ:

তাঁর মুদ্রিত গ্রন্থাবলি সংখ্যায় অত্যন্ত বেশি। এর অধিকাংশ তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআ’-তে (বিভিন্ন ফতোয়া ও প্রবন্ধের সংকলন) সংকলিত হয়েছে, যা মহামান্য ডক্টর শেখ মুহাম্মদ বিন সাদ আশ-শুওয়াইর —আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন— ত্রিশটি খণ্ডে সংকলন করেছেন। এতে সম্মানিত শাইখের —আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন— অধিকাংশ জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্য একত্রিত করা হয়েছে(২).

একইভাবে তাঁর রেডিও প্রোগ্রামের রেকর্ডিংগুলোকে ‘ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব’ শিরোনামে বই আকারে রূপান্তর করা হয়েছে। এই জীবনী রচনার সময় পর্যন্ত এর (৩১) খণ্ড মুদ্রিত হয়েছে এবং এটি (৩৫) খণ্ডে পৌঁছাবে। এর কাজ প্রেসিডেন্সির —বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইফতা বিভাগ— এ সম্পন্ন হয়েছে।

শেখ আবদুল আজিজ বিন বাজ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন বিজ্ঞ আলেমদের কিছু কিতাবের ওপর তাঁর কৃত কিছু ব্যাখ্যা ও টীকা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে: আবু জাফর মুহাম্মদ বিন জারির আত-তাবারী —আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন— রচিত ‘আত-তাবসির ফী মাআলিম আদ-দীন’-এর ব্যাখ্যা, হাফেজ ইবনে কাসীরের ‘মুকাদ্দিমায়ে তাফসির’-এর ওপর তাঁর টীকা এবং সূরা আল-ফাতিহার তাফসিরের ওপর তাঁর মন্তব্য ও ব্যাখ্যা

--------------------------------------------

(১) সম্মানিত শেখ আবদুল আজিজ বিন বাজের ‘ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব’ বইটির ভূমিকা থেকে সংক্ষেপিত উদ্ধৃতি (১/ ৪)।

(২) সম্মানিত শাইখ ‘মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত মুতানাওয়িআ’-তে তেইশটি রচনার কথা উল্লেখ করেছেন (১/ ১১, ১২)। তাঁর ছাত্র শেখ আবদুল আজিজ বিন ইব্রাহিম বিন কাসিম ‘আত-তুহফাতুল কারীমা’ বইয়ের ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ২০-২৬) এতে আরও ২৪টি শিরোনাম যোগ করেছেন। মুহাম্মদ ইউসুফ আল-মাজযুব এ বিষয়ে একটি ছোট বই লিখেছেন, যা সম্মানিত শাইখের —আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন— জীবদ্দশায় মুদ্রিত হয়েছিল। একইভাবে সালেহ বিন রশিদ আল-হুয়াইমেল এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন যার শিরোনাম: ‘আল-ইজায ফী সিরাহ ওয়া মুআল্লাফাত ইবনে বাজ’।

(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٢١)
«عمدة الأحكام» للحافظ عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي رحمه الله، وشرح كتاب «الواسطية»، و «الفتوى الحموية» كلاهما لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، وشرح كتاب «كشف الشبهات»، وتعليقات على كتاب «القواعد الأربع»، وكتاب «فضل الإسلام»، وشرح كتاب «التوحيد»، جميع هذه الكتب الأربعة الأخيرة للشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله، وتعليقات سماحته على كتاب «وظائف رمضان» تلخيص الشيخ العلامة عبد الرحمن ابن قاسم العاصمي رحمه الله، من لطائف المعارف لابن رجب رحمه الله.

كما أشرفت المؤسسة على ما صدر من بعض مخطوطات سماحته منها: بتحقيق تلميذه الشيخ عبد العزيز بن إبراهيم بن قاسم، حاشية في «بلوغ المرام» في مجلدين، و «التحفة الكريمة في بيان كثير من الأحاديث الموضوعة والسقيمة» و «تحفة أهل العلم والإيمان بمختارات من الأحاديث الصحيحة والحسان» و «تحفة الإخوان بتراجم بعض الأعيان».

وتعليقات سماحته على كتاب «تقريب التهذيب» صدر بعنوان: النكت، بتحقيق د. عبد الله بن فوزان الفوزان، وكتاب «الفوائد العلمية من الدروس البازية» الذي جمعه الشيخ الدكتور عبد السلام بن عبد الله السليمان، من دروس عامي 98، 1399 هـ).

وما صدر، بعنوان: «حديث الصباح، وحديث المساء، ودروس وفتاوى المسجد الحرم» من جمع الشيخ صلاح الدين أحمد عثمان، أمين مكتبة سماحته في حياة الشيخ رحمه الله.

وقريبًا ستصدر المؤسسة، شرح سماحته لكتاب «الوابل الصيب شرح
হাফেয আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘উমদাতুল আহকাম’, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘ওয়াসিতিয়্যাহ’ ও ‘আল-ফাতওয়া আল-হামাউইয়্যাহ’ এই উভয় কিতাবের ব্যাখ্যা, এবং শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘কাশফুশ শুবুহাত’-এর ব্যাখ্যা, ‘আল-কাওয়ায়িদ আল-আরবা’ এর ওপর টীকা, ‘ফাদলুল ইসলাম’ কিতাব ও ‘কিতাবুত তাওহীদ’-এর ব্যাখ্যা—শেষোক্ত এই চারটি কিতাবই শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর। এছাড়া শাইখ আল্লামা আব্দুর রহমান ইবনে কাসিম আল-আসিমি (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক ইবনে রজব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘লাতায়েফুল মাআরিফ’ থেকে সংক্ষিপ্তকৃত ‘ওয়াযায়েফু রামাদান’ কিতাবের ওপর মহামান্য শাইখের টীকা।

অনুরূপভাবে উক্ত প্রতিষ্ঠান মহামান্য শাইখের কিছু পাণ্ডুলিপি প্রকাশের তত্ত্বাবধান করেছে, যার মধ্যে রয়েছে: তাঁর ছাত্র শাইখ আব্দুল আযীয বিন ইব্রাহিম বিন কাসিমের সম্পাদনায় দুই খণ্ডে ‘বুলুগুল মারাম’-এর ওপর হাশিয়া (টীকা), ‘আত-তুহফাতুল কারীমা ফি বায়ানি কাসিরিন মিনাল আহাদিসিল মাওদুআ ওয়াস সাকিমা’, ‘তুহফাতু আহলিল ইলমি ওয়াল ঈমান বি মুখতারাতিন মিনাল আহাদিসিস সহীহা ওয়াল হিসান’ এবং ‘তুহফাতুল ইখওয়ান বি তারাজিমি বাদিল আইয়ান’।

‘তাকরিবুত তাহযীব’ কিতাবের ওপর মহামান্য শাইখের টীকা ‘আন-নুকাত’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে, যার সম্পাদনা করেছেন ড. আব্দুল্লাহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান। এছাড়া ‘আল-ফাওয়ায়িদুল ইলমিয়্যাহ মিনাদ দুরুসিল বাযিয়্যাহ’ কিতাবটি, যা শাইখ ড. আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ আস-সুলাইমান ১৩৯৮ ও ১৩৯৯ হিজরী সালের পাঠদান (দরস) থেকে সংকলন করেছেন।

এবং ‘হাদিসুস সাবাহ ওয়া হাদিসুল মাসা ওয়া দুরুস ওয়া ফাতাওয়া আল-মাসজিদুল হারাম’ শিরোনামে প্রকাশিত গ্রন্থটি, যা শাইখের জীবদ্দশায় তাঁর লাইব্রেরিয়ান শাইখ সালাহুদ্দীন আহমদ ওসমান সংকলন করেছেন।

অচিরেই উক্ত প্রতিষ্ঠান হতে মহামান্য শাইখ কর্তৃক ‘আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব’-এর ব্যাখ্যা প্রকাশিত হবে...
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٢٢)
صحيح الكلم الطيب» لابن القيم رحمه الله، إن شاء الله وغيرها من التعليقات والشروح بعد خدمتها علميًّا.

 

‌‌زوجاته وعقبه ووفاته ورثاؤه:

تزوج رحمه الله أربع نسوة:

أولى زوجاته: تزوجها عام 1354 هـ وطلقها عام 1356 هـ ولم ينجب منها.

ثاني زوجاته: تزوجها عام 1357 هـ وهي أم أولاده الكبار: عبد الله، وعبد الرحمن، وثلاث بنات.

وثالث زوجاته: هي ابنة عمِّه، مكثت عنده ستة أشهر، ثم طلقها، ولم تلد له، ذكرها تلميذه عبد العزيز بن إبراهيم بن قاسم في ترجمته له نقلًا عن الشيخ عبد العزيز بن ناصر بن باز حفظهم الله جميعًا، وهو رئيس اللجنة العلمية بالمؤسسة.

ورابع زوجاته: تزوجها عام 1386 هـ وهي أم أولاده الصغار، أحمد، وخالد، وثلاث بنات.

وبهذا يُعلم أن سماحته قد تزوج أربع نسوة أنجب من الاثنتين أربعة أبناء، وست بنات، فمجموع ذريته عشرة، أسبغ الله عليهم النعم، وكفاهم الله الشرور والنِّقم، وجعلهم خير عقب لخير سلف بارِّين بوالديهم، آمين، آمين(1).

--------------------------------------------

(1) ينظر: «الإنجاز في ترجمة الإمام عبد العزيز بن باز» (ص 34، 35) و «الإبريزية في التسعين» للشتوي (ص 21) وترجمة سماحة الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز للشيخ عبد العزيز ابن قاسم (ص 23).

ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘সহীহুল কালিমিত তায়্যিব’, ইনশাআল্লাহ এবং বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার পর অন্যান্য টীকা ও ব্যাখ্যাসমূহ।

 

‌‌তাঁর স্ত্রীগণ, বংশধর, মৃত্যু এবং শোকগাথা:

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) চারজন নারীকে বিবাহ করেছিলেন:

তাঁর প্রথম স্ত্রী: তাকে ১৩৫৪ হিজরীতে বিবাহ করেন এবং ১৩৫৬ হিজরীতে তাকে তালাক প্রদান করেন, তাঁর গর্ভে কোনো সন্তান হয়নি।

তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী: তাকে ১৩৫৭ হিজরীতে বিবাহ করেন এবং তিনি তাঁর বড় সন্তানদের মা: আবদুল্লাহ, আবদুর রহমান এবং তিন কন্যা।

তাঁর তৃতীয় স্ত্রী: তিনি তাঁর চাচাতো বোন ছিলেন, তাঁর নিকট ছয় মাস অবস্থান করেন, অতঃপর তিনি তাকে তালাক দেন এবং তাঁর কোনো সন্তান জন্ম দেননি। তাঁর ছাত্র আব্দুল আজিজ বিন ইব্রাহিম বিন কাসিম তাঁর জীবনচরিতে শাইখ আব্দুল আজিজ বিন নাসের বিন বাজ (আল্লাহ তাঁদের সকলকে হিফাজত করুন)-এর সূত্রে এটি উল্লেখ করেছেন, যিনি এই প্রতিষ্ঠানের বৈজ্ঞানিক কমিটির প্রধান।

তাঁর চতুর্থ স্ত্রী: তাকে ১৩৮৬ হিজরীতে বিবাহ করেন এবং তিনি তাঁর ছোট সন্তানদের মা: আহমাদ, খালিদ এবং তিন কন্যা।

এর মাধ্যমে জানা যায় যে, মহামান্য শাইখ চারজন নারীকে বিবাহ করেছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে দু’জনের গর্ভে চার পুত্র ও ছয় কন্যা সন্তান লাভ করেন। সুতরাং তাঁর মোট সন্তান সংখ্যা দশজন। আল্লাহ তাঁদের ওপর নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিন, তাঁদেরকে অনিষ্ট ও বিপদ থেকে রক্ষা করুন এবং তাঁদেরকে পুণ্যবান পূর্বসূরির যোগ্য উত্তরসূরি ও পিতা-মাতার অনুগত করুন, আমীন, আমীন(১)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: ‘আল-ইনজায ফী তারজামাতি ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বাজ’ (পৃ. ৩৪, ৩৫), শাতুয়ীর ‘আল-ইবরিজিয়াহ ফিত তিসয়ীন’ (পৃ. ২১) এবং শাইখ আব্দুল আজিজ ইবনু কাসিম কর্তৃক রচিত ‘তারজামা সমাহাতুশ শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ’ (পৃ. ২৩)।

(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌وفاته:

توفي رحمه الله قُبيل فجر يوم الخميس السابع والعشرين من شهر محرم سنة عشرين وأربعمائة وألف من الهجرة، بمدينة الطائف (27/ 1/ 1420 هـ) ونقل جثمانه إلى مكة وغسِّل في بيته، وصلي عليه في المسجد الحرام بعد صلاة الجمعة، وحضر الجنازة جمٌّ غفير، قيل أكثر من مليونين، كما صلِّي عليه صلاة الغائب في عموم جوامع المملكة العربية السعودية، وفي عدّة دول إسلامية.

وقبر في مقبرة العدل، عن عمر يناهز التسعين عامًا، رحمه الله رحمة واسعة، وجزاه خيرًا على أعماله العظيمة التي قام بها لخدمة الإسلام والمسلمين، وجعل الجنة مثواه، إنه قريبٌ مجيبٌ.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

* * *
তাঁর ইন্তেকাল:

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি চৌদ্দশত বিশ হিজরি সালের সাতাশে মহররম বৃহস্পতিবার ফজরের ঠিক পূর্বক্ষণে তায়েফ শহরে ইন্তেকাল করেন (২৭/০১/১৪২০ হি.)। তাঁর মরদেহ মক্কায় স্থানান্তর করা হয় এবং তাঁর নিজ বাসভবনে তাঁকে গোসল দেওয়া হয়। জুমার নামাজের পর মসজিদে হারামে তাঁর জানাজা পড়ানো হয়। জানাজায় বিশাল জনসমাবেশ হয়েছিল, যার সংখ্যা বিশ লক্ষাধিক ছিল বলে বলা হয়। এছাড়া সৌদি আরবের সকল জামে মসজিদে এবং বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে তাঁর গায়েবি জানাজা পড়ানো হয়।

তাঁকে ‘আদল’ কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স নব্বই বছরের কাছাকাছি ছিল। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমত দান করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের সেবায় তাঁর মহান কার্যাবলীর জন্য তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। জান্নাতকে তাঁর আবাসস্থলে পরিণত করুন; নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটবর্তী এবং প্রার্থনা কবুলকারী।

আল্লাহ আমাদের নবি মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

* * *
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌بابُ مَا جَاءَ فِي دُعَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أُمَّتَهُ إِلَى تَوْحِيدِ اللَّهِ تبارك وتعالى

7371 - حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ يَحْيَى ابْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَيْفِيٍّ، عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى اليَمَنِ»(1).

 

7372 - وحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا الفَضْلُ ابْنُ العَلَاءِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَيْفِيٍّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا مَعْبَدٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ: لَمَّا بَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ إِلَى نَحْوِ أَهْلِ اليَمَنِ قَالَ لَهُ: «إِنَّكَ تَقْدَمُ عَلَى قَوْمٍ مِنْ أَهْلِ الكِتَابِ، فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَى أَنْ يُوَحِّدُوا اللَّهَ تَعَالَى، فَإِذَا عَرَفُوا ذَلِكَ، فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ قَدْ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِهِمْ وَلَيْلَتِهِمْ، فَإِذَا صَلَّوْا، فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ زَكَاةً فِي أَمْوَالِهِمْ، تُؤْخَذُ مِنْ غَنِيِّهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فَقِيرِهِمْ، فَإِذَا أَقَرُّوا بِذَلِكَ فَخُذْ مِنْهُمْ، وَتَوَقَّ كَرَائِمَ أَمْوَالِ النَّاسِ»(2).

--------------------------------------------

(1) ورواه مسلم (19).

(2) ورواه مسلم (19).
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক তাঁর উম্মতকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার একত্ববাদ বা তাওহীদের দিকে আহ্বানের বিবরণ অধ্যায়

৭৩৭১ - আবু আসিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, যাকারিয়া ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে শাইফি থেকে বর্ণিত, তিনি আবু মাবাদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুআযকে ইয়েমেনে প্রেরণ করেছিলেন»(১)।

 

৭৩৭২ - আবদুল্লাহ ইবনে আবুল আসওয়াদ আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ফাদল ইবনুল আলা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে উমাইয়া আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে শাইফি থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস আবু মাবাদকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি যে: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুআয ইবনে জাবালকে ইয়েমেনবাসীদের নিকট প্রেরণ করেন, তখন তাকে বলেছিলেন: «তুমি আহলে কিতাবদের এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। সুতরাং তাদের প্রতি তোমার প্রথম দাওয়াত যেন হয় আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ (তাওহীদ) গ্রহণের প্রতি। যখন তারা এটি চিনে নেবে, তখন তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। তারা যখন সালাত আদায় করবে, তখন তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ধন-সম্পদে জাকাত ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। তারা যখন এটি স্বীকার করে নেবে, তখন তুমি তাদের থেকে তা গ্রহণ করো এবং মানুষের বেছে বেছে উত্তম ধন-সম্পদ (জাকাত হিসেবে গ্রহণ করা) থেকে বেঁচে থেকো»(২)।

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিমও বর্ণনা করেছেন (১৯)।

(২) এটি মুসলিমও বর্ণনা করেছেন (১৯)।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٢٦)
7373 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، وَالأَشْعَثِ بْنِ سُلَيْمٍ، سَمِعَا الأَسْوَدَ بْنَ هِلَالٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «يَا مُعَاذُ أَتَدْرِي مَا حَقُّ اللَّهِ عَلَى العِبَادِ؟». قَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، أَتَدْرِي مَا حَقُّهُمْ عَلَيْهِ؟». قَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «أَنْ لَا يُعَذِّبَهُمْ»(1).

 

7374 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ، أَنَّ رَجُلًا سَمِعَ رَجُلًا يَقْرَأُ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ يُرَدِّدُهَا، فَلَمَّا أَصْبَحَ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ لَهُ ذَلِكَ، وَكَأَنَّ الرَّجُلَ يَتَقَالُّهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، إِنَّهَا لَتَعْدِلُ ثُلُثَ القُرْآنِ».

زَادَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَخْبَرَنِي أَخِي قَتَادَةُ بْنُ النُّعْمَانِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

 

7375 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا عَمْرٌو، عَنِ ابْنِ أَبِي هِلَالٍ، أَنَّ أَبَا الرِّجَالِ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَهُ عَنْ أُمِّهِ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَكَانَتْ فِي حَجْرِ عَائِشَةَ

--------------------------------------------

(1) ورواه مسلم (30).
৭৩৭৩ - আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনে বাশার বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে গুন্দার বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে শু'বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হাসিন এবং আশ'আস ইবনে সুলাইম থেকে, তাঁরা উভয়ই আল-আসওয়াদ ইবনে হিলাল থেকে শুনেছেন, তিনি মু'আয ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «হে মু'আয, তুমি কি জানো বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক কী?»। তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন: «যেন তারা তাঁর ইবাদত করে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরীক না করে। তুমি কি জানো আল্লাহর ওপর তাদের হক কী?»। তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন: «যেন তিনি তাদেরকে আযাব না দেন»(১)।

 

৭৩৭৪ - আমাদের কাছে ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, আমার কাছে মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি সা'সা'আহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (সুরা ইখলাস) পড়তে এবং তা বারবার পাঠ করতে শুনলেন। যখন সকাল হলো, তখন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এলেন এবং তাঁর কাছে সেটি উল্লেখ করলেন; আর ঐ ব্যক্তি যেন এটিকে সামান্য মনে করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয়ই এটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য»।

ইসমাঈল ইবনে জাফর মালিক থেকে, তিনি আবদুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: আমার ভাই কাতাদাহ ইবনে নুমান আমাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সংবাদ দিয়েছেন।

 

৭৩৭৫ - আমাদের কাছে আহমাদ ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইবনে ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আমর বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি হিলাল থেকে যে, আবু আর-রিজাল মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান তাঁর মা আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি আয়িশার তত্ত্বাবধানে ছিলেন—

--------------------------------------------

(১) এবং এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৩০)।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٢٧)
زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، عَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ رَجُلًا عَلَى سَرِيَّةٍ، وَكَانَ يَقْرَأُ لِأَصْحَابِهِ فِي صَلَاتِهِمْ فَيَخْتِمُ بِقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ، فَلَمَّا رَجَعُوا ذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «سَلُوهُ لِأَيِّ شَيْءٍ يَصْنَعُ ذَلِكَ؟». فَسَأَلُوهُ، فَقَالَ: لِأَنَّهَا صِفَةُ الرَّحْمَنِ، وَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَقْرَأَ بِهَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَخْبِرُوهُ أَنَّ اللَّهَ يُحِبُّهُ»(1).

 

بسم الله الرحمن الرحيم

وَصَلِّ اللَّهُمَّ عَلَى نَبِيِّنا مُحمَّدٍ وعَلَى آلِهِ وَصَحبِهِ أَجْمعِينَ، أمَّا بَعدُ:

فَهذَا الكِتَابُ مِنَ المُؤلِّفِ -كِتَابُ التَّوحِيدِ- وَما ذُكِرَ فيهِ مِنَ الأَحَادِيثِ أَرَادَ بِه المُؤلِّفُ رحمه الله التَّنبِيهَ عَلَى أنَّ هَذَا هُوَ أَصلُ الدِّينِ، وَأَسَاسُ المِلَّةِ: وهُوَ الدَّعَوةُ إِلَى تَوحِيدِ اللهِ قَبلَ كلِّ شَيءٍ؛ وَلِهذَا قَالَ: «كِتَابُ التَّوحِيدِ»، ثمَّ ذَكرَ هذِهِ الأَحَادِيثَ.

الأُمَّةُ الكَافِرةُ يَجبُ أنْ تُبدَأَ بِالدَّعْوةِ إِلَى تَوحِيدِ اللهِ؛ حَتَّى تُسلِمَ، حَتَّى تَدخُلَ فِي الحَقِّ، ثم تُعلَّمَ الفَرائِضَ-فَرائِضَ الإِسْلَامِ وَمَا حرَّمَ اللهُ فِيهِ- وَلِذلِك بَدأَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم وبَدَأتِ الرُّسلُ أُمَمَهُم بِالدَّعوَةِ إِلَى تَوحِيدِ

--------------------------------------------

(1) ورواه مسلم (813).
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে একটি ছোট সামরিক অভিযানে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি তাঁর সাথীদের নামাজে ইমামতি করার সময় কিরাআত শেষে 'কুল হুয়াল্লাহু আহাদ' (সুরা ইখলাস) পাঠ করতেন। যখন তাঁরা ফিরে এলেন, তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: "তাকে জিজ্ঞাসা করো কেন সে এমনটি করে?" তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "কারণ এটি পরম করুণাময় আল্লাহর গুণাবলি এবং আমি এটি পাঠ করতে ভালোবাসি।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তাকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন।"(১)

 

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

হে আল্লাহ, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন। অতঃপর:

লেখকের এই গ্রন্থটি—কিতাবুত তাওহীদ—এবং এতে যে সকল হাদিস বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এই বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন যে, এটিই হচ্ছে দ্বীনের মূল এবং মিল্লাতের ভিত্তি: আর তা হলো অন্য সবকিছুর আগে আল্লাহর তাওহীদের দিকে দাওয়াত দেওয়া। এ কারণেই তিনি শিরোনাম দিয়েছেন: 'কিতাবুত তাওহীদ', এবং এরপর এই হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন।

কাফের জাতিকে অবশ্যই আল্লাহর তাওহীদের দিকে দাওয়াত দেওয়ার মাধ্যমে শুরু করতে হবে; যাতে তারা ইসলাম গ্রহণ করে এবং সত্যের পথে প্রবেশ করে। এরপর তাদের ফরজ বিধানসমূহ শিক্ষা দিতে হবে—ইসলামের ফরজসমূহ এবং আল্লাহ যা কিছু এতে হারাম করেছেন। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং রাসুলগণ তাঁদের উম্মতদের তাওহীদের দাওয়াতের মাধ্যমেই শুরু করেছিলেন

--------------------------------------------

(১) এবং এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৮১৩)।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٢٨)
اللهِ: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36]، فهَذهِ أوَّلُ دَعوَتِهم، وزُبْدتُها وخُلَاصَتُها، وَأَساسُها: الدَّعوَةُ إِلَى تَوحِيدِ اللهِ وَالنَّهيُ عَنِ الشِّركِ بِاللهِ عز وجل: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ (25} [الأنبياء: 25]، وَنَبيُّنا عليه الصلاة والسلام أوَّلُ شَيءٍ بَدأَ بِهِ قَومَهُ: دَعْوتُهُ إِلَى تَوحِيدِ اللهِ، قَالَ: «يَا قَوْمِ قُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ تُفْلِحُوا»(1).

وَمكَثَ فِيهِمْ عَشْرَ سِنِينَ يَدْعُوهُم إِلَى هذِهِ الكَلِمةِ، وإِلَى تَحْقيقِها وَالعَملِ بِها، لَا مُجرَّدُ قَولِها، لوْ كَانَ قَولُهَا يَكفِي لَبَادَروا إِليْها لَا يَضرُّهُم، المَقْصُودُ المَعْنَى وَخَلْعُ الأَوْثانِ، وَخلْعُ الآلِهَةِ الَّتِي تُعبَدُ مِنْ دُونِ اللهِ، وَالبَراءَةُ مِنْها، وَاعْتِقادُ بُطْلانِها، وَالإِيمَانُ بِاللهِ وَحدَهُ، وَتَخصِيصُهُ بِالعِبادَةِ.

عَشرُ سِنِينَ وهُوَ يَقُولُ لَهُمْ: قُولُوا: «لَا إِلهَ إلَّا اللهُ»، فَلْمْ يُؤمِنْ بِهِ إلَّا القَلِيلُ، وَقَالُوا عِنْدَ ذَلِك: {أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ (5)} [ص: 5].

تَعَجَّبُوا مِنْ خَلعِهِ الأَوْثانَ وَإِبْطالِهِ إِيَّاهَا: {إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ (35) وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُو آلِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَجْنُونٍ (36)} [الصافات: 35 - 37]، هَكَذا يُخاطِبُونهُ، وهَكَذا يَقُولُونَ فِي حقِّهِ؛ لِجَهلِهِم وَضَلالِهِم وَاسْتِقرَارِ الشِّركِ فِي قُلُوبِهم، تَوارَثُوهُ كَابِرًا عَنْ كَابرٍ؛ وَلِهذَا لمَّا بَعثَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم مُعاذًا رضي الله عنه إِلَى اليَمَنِ قَالَ لهُ: «إِنَّكَ تَأْتِي قَوْمًا أَهْلَ كِتَابٍ» فِيهِمْ يَهُودُ وَنَصارَى فِي ذَاكَ الوَقتِ، وكَانَ عِنْدَهُمْ عُلُومٌ، وَعِندَهم كِتابٌ.

--------------------------------------------

(1) رواه أحمد في «المسند» (16603).
আল্লাহর বাণী: {আর আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই একজন রাসূল পাঠিয়েছি (এই মর্মে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} [আন-নাহল: ৩৬]। এটিই ছিল তাদের দাওয়াতের প্রথম বিষয়, এর সারকথা ও সারসংক্ষেপ এবং এর মূল ভিত্তি: আল্লাহর তাওহীদের দিকে আহ্বান করা এবং মহান আল্লাহর সাথে শিরক করা থেকে নিষেধ করা: {আপনার পূর্বে আমি এমন কোন রাসূল পাঠাইনি যার কাছে এই ওহী পাঠাইনি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো (২৫)} [আল-আম্বিয়া: ২৫]। এবং আমাদের নবী (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) তাঁর কওমের সাথে যে বিষয়টি দিয়ে শুরু করেছিলেন তা হলো: আল্লাহর তাওহীদের দিকে তাঁর দাওয়াত। তিনি বলেছিলেন: «হে আমার কওম, তোমরা বলো: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই’, তাহলে তোমরা সফলকাম হবে»(১).

তিনি তাদের মধ্যে দশ বছর অবস্থান করেছিলেন এবং তাদেরকে এই কালিমার দিকে, এর বাস্তবতা অনুধাবন ও সেই অনুযায়ী আমল করার দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, শুধুমাত্র তা মুখে উচ্চারণ করার জন্য নয়। যদি তা কেবল মুখে উচ্চারণ করাই যথেষ্ট হতো, তবে তারা দ্রুত তা গ্রহণ করে নিত কারণ এতে তাদের কোনো ক্ষতি হতো না। বরং উদ্দেশ্য ছিল এর অর্থ হৃদয়ঙ্গম করা এবং মূর্তিদের ত্যাগ করা, আল্লাহ ছাড়া অন্য যেসব উপাস্যের ইবাদত করা হতো তাদের বর্জন করা, তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা, সেগুলো বাতিল হওয়ার বিশ্বাস রাখা এবং কেবল এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা ও ইবাদতকে একমাত্র তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট করা।

দশটি বছর তিনি তাদের বলছিলেন: «তোমরা বলো: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই’», কিন্তু অল্প সংখ্যক মানুষই তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিল। আর তখন তারা বলেছিল: {সে কি বহু ইলাহকে এক ইলাহে পরিণত করেছে? নিশ্চয়ই এটি এক আশ্চর্যজনক বিষয় (৫)} [ছোয়াদ: ৫]।

তারা তাঁর পক্ষ থেকে মূর্তিদের বর্জন ও সেগুলোকে বাতিল ঘোষণা করার বিষয়ে আশ্চর্য হয়ে বলেছিল: {নিশ্চয়ই তাদের যখন বলা হতো ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই’, তখন তারা অহংকার করত (৩৫) এবং বলত, ‘আমরা কি এক পাগল কবির কথায় আমাদের উপাস্যদের বর্জন করব?’ (৩৬)} [আস-সাফফাত: ৩৫ - ৩৭]। তারা এভাবেই তাঁকে সম্বোধন করত এবং তাঁর সম্পর্কে এভাবেই কথা বলত; যা ছিল তাদের মূর্খতা, পথভ্রষ্টতা এবং তাদের অন্তরে শিরক গেঁথে যাওয়ার কারণে, যা তারা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিল। আর এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন, তখন তাঁকে বলেছিলেন: «তুমি আহলে কিতাবদের একটি কওমের কাছে যাচ্ছ»—সে সময় সেখানে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা ছিল, তাদের কাছে ইলম ছিল এবং তাদের কাছে কিতাব ছিল।

--------------------------------------------

(১) আহমাদ তাঁর ‘আল-মুসনাদ’ (১৬৬০৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وَالمَعْنى: أَعِدَّ لهُم مَا يَنْبغِي أنْ يُخاطَبوهُ، وَعلَّمهُ أنْ يَقُولَ لهُم: قُولُوا: لَا إِلهَ إلَّا اللهُ، عَلَّمَهُ أنْ يَدعُوَهُم إِلَى تَوحِيدِ اللهِ، يَدعُوَهم إِلَى أنْ يُوحِّدُوا اللهَ.

وَفِي اللَّفظِ الآخَرِ: «فَادْعُهُمْ إِلَى أَنْ يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلهَ إلَّا اللهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ»(1).

وفِي اللَّفظِ الآخَرِ: «فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ: شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلهَ إلَّا اللهُ».

وفِي اللَّفظِ الآخَرِ: «فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ عِبَادَةُ اللهِ»(2). يَعنِي: قَبلَ كُلِّ شَيءٍ.

* وَالظَّاهرُ: أنَّ هذِهِ الأَلْفَاظَ مِنْ تَصَرُّفِ الرُّواةِ حَسبَ مَا نَقلُوهُ عَنِ الصَّحابَةِ عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم.

وَهذِهِ الأَلْفاظُ كُلُّها تَدورُ عَلَى خَلعِ أَوْثانِهم الَّتِي يَعْبدُونَها مِنْ دُونِ اللهِ، وعَلَى إِفْرادِ اللهِ بِالعِبادَةِ، وَتَوحِيدهِ بِالعِبادةِ سبحانه وتعالى، وَالإِيمَانِ بِرَسولِهِ مُحمَّدٍ عليه الصلاة والسلام؛ «فَإِنْ أَجَابُوا لِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ» ثمَّ ذَكرَ الزَّكاةَ.

فعُلِمَ بِهذَا أنَّ الأَسَاسَ هُوَ أنْ يَدعُوَ النَّاسَ إِلَى تَوحِيدِ اللهِ، وَالإِخْلاصِ لَهُ، وَتَركِ الأَوْثانِ وَالأَصْنامِ الَّتِي يَعْبدُونَهَا مِنْ دُونِ اللهِ، وَأنْ تَكُونَ العِبَادَةُ للهِ وَحدَهُ دُونَ كلِّ مَا سِواهُ {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا} [الإسراء: 23]، {إِيَّاكَ

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (1395)، ومسلم (29)، (19).

(2) رواه البخاري (1458)، ومسلم (31)، (19).
এর অর্থ হলো: তাদের সাথে যেভাবে কথা বলা উচিত আপনি তা প্রস্তুত করুন, আর তিনি তাকে শিখিয়ে দিলেন যেন তিনি তাদের বলেন: তোমরা বলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; তিনি তাকে শিখিয়ে দিলেন যেন তিনি তাদের আল্লাহর তাওহীদের দিকে আহ্বান করেন এবং তারা যেন আল্লাহর একত্ববাদ সাব্যস্ত করে সেই আহ্বান জানান।

অন্য শব্দে এসেছে: «অতঃপর আপনি তাদের এই সাক্ষ্য দেওয়ার দিকে আহ্বান করুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল»(১)।

অন্য শব্দে এসেছে: «আপনি তাদের সর্বপ্রথম যার দিকে আহ্বান করবেন তা যেন হয়: এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই»।

অন্য শব্দে এসেছে: «আপনি তাদের সর্বপ্রথম যার দিকে আহ্বান করবেন তা যেন হয় আল্লাহর ইবাদত»(২)। অর্থাৎ: সবকিছুর আগে।

* দৃশ্যত প্রতীয়মান হয় যে: এই শব্দগুলো বর্ণনাকারীদের শব্দ চয়ন, যা তারা সাহাবীগণ থেকে এবং সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন সেই অনুযায়ী এসেছে।

এই সকল শব্দমালার মূল উদ্দেশ্য হলো—আল্লাহ ছাড়া তারা যেসব মূর্তির উপাসনা করত তা বর্জন করা, ইবাদতকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করা, ইবাদতের ক্ষেত্রে সুবহানাহু ওয়া তাআলার তাওহীদ (একত্ববাদ) প্রতিষ্ঠা করা এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের ওপর ঈমান আনা; «যদি তারা তা মেনে নেয়, তবে তাদের জানিয়ে দিন যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন» অতঃপর তিনি যাকাতের কথা উল্লেখ করলেন।

এর মাধ্যমে জানা গেল যে, মূল ভিত্তি হলো মানুষকে আল্লাহর তাওহীদ এবং তাঁর প্রতি একনিষ্ঠতার দিকে আহ্বান করা এবং আল্লাহ ছাড়া তারা যেসব প্রতিমা ও মূর্তির পূজা করে তা বর্জন করা; আর ইবাদত যেন হয় একমাত্র আল্লাহর জন্য, তিনি ব্যতীত অন্য কারো জন্য নয়। {আপনার রব ফয়সালা করেছেন যে, আপনারা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবেন না} [আল-ইসরা: ২৩], {একমাত্র আপনারই

--------------------------------------------

(১) বুখারী (১৩৯৫) ও মুসলিম (২৯), (১৯) বর্ণনা করেছেন।

(২) বুখারী (১৪৫৮) ও মুসলিম (৩১), (১৯) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٣٠)
نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (5)} [الفاتحة: 5].

وَهكَذَا الحَدِيثُ الثَّانِي أنَّهُ قَالَ لِمُعاذٍ رضي الله عنه: «مَا حَقُّ اللهِ عَلَى العِبَادِ، وَمَا حَقُّ العِبَادِ عَلَى اللهِ؟» فَأخْبرَ مُعاذٌ رضي الله عنه أنَّهُ لَا يَدرِي، قَالَ: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، هذِهِ عَادةُ الصَّحابَةِ رضي الله عنهم إذَا سُئِلُوا عمَّا لَا يَعلَمُونَ قَالُوا: اللهُ ورَسُولهُ أَعلَمُ، وهَذَا فِي حَياتِهِ صلى الله عليه وسلم، بَعدَ وَفاتِهِ يُقالُ: (اللهُ أَعلَمُ، أوْ لَا أَدرِي) لِأنَّهُ لَا يَعلَمُ أَحْوالَ العِبادِ بَعدَ وَفاتِهِ عليه الصلاة والسلام، فقَالَ لَهُ صلى الله عليه وسلم: «حَقُّ اللهِ عَلَى العِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا» هَذَا حقُّهُ الأَعظَمُ، حقُّهُ الأَعظَمُ أنْ يَعبُدوا اللهَ وَحدَهُ دُونَ كلِّ مَا سِوَاهُ، وأَنْ يُطِيعوا أَوامِرهُ، ويَنْتهُوا عَنْ نَواهِيهِ عَلَى وَجهِ الإِخْلاصِ لَهُ سبحانه وتعالى.

«فَيعْبُدوهُ» أيْ: يَعبُدُوهُ بِالطَّاعَاتِ الَّتِي أَمرَهُم بِها: صَلاتِهِم وزَكَاتِهِم وصَومِهِم وحَجِّهِم وغَيرِ ذَلِك، يَخصُّوهُ بِذلِك ويُفرِدُوهُ بِذلِكَ؛ هَذَا حقُّهُ عَليِهم سبحانه وتعالى، وأنْ يَخلَعُوا تِلكَ الأَوْثانَ الَّتِي يَعبُدونَهَا مِنْ دُونِ اللهِ مِنْ أَحْجَارٍ، وَأشْجَارٍ، وَأَمْوَاتٍ، وَكَواكِبَ وغَيرِ ذلِكَ.

ثمَّ ذَكرَ حَدِيثَيْ (قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ) لِعظَمِ شَأنِهَا؛ لِأنَّها سُورَةُ التَّوحِيدِ، وسُورَةُ العَقِيدةِ، وَأَخبرَ أنَّهَا تَعدِلُ ثُلثَ القُرآنِ، وأنَّ الَّذِي كَانَ يُصلِّي بِها فِي قَوْمِهِ ويَقرأُ بِها فِي آخِرِ صَلاتِهِ، قَالَ: «أَخْبِرُوهُ أَنَّ اللهَ يُحِبُّهُ» يَعنِي: كَمَا أَحبَّهَا.

وفِي لَفظٍ: «حُبُّكَ إِيَّاهَا أَدْخَلَكَ الجَنَّةَ» وهِيَ {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ (1) اللَّهُ الصَّمَدُ (2) لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ (3) وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ (4)} [الإخلاص: 1 - 4].

فهِيَ سُورَةُ التَّوحِيدِ، وسُورَةُ العَقِيدةِ، فِيهَا بَيانُ أنَّهُ سبحانه وتعالى هُوَ الوَاحدُ
আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি (৫)} [আল-ফাতিহা: ৫]।

একইভাবে দ্বিতীয় হাদিসটি এই যে, তিনি মু'আয রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন: «বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক কী, আর আল্লাহর ওপর বান্দাদের হক কী?» তখন মু'আয রাদিয়াল্লাহু আনহু জানালেন যে তিনি জানেন না, তিনি বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। এটি সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের অভ্যাস ছিল যখনই তাঁরা কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হতেন যা তাঁরা জানতেন না, তখন তাঁরা বলতেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। আর এটি ছিল তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবদ্দশায়; তাঁর ইন্তেকালের পর বলা হবে: (আল্লাহই অধিক অবগত, অথবা আমি জানি না); কারণ ইন্তেকালের পর তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে জানেন না। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন: «বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক হলো তারা যেন তাঁরই ইবাদত করে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে» এটিই তাঁর মহান হক। তাঁর মহান হক হলো তারা একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করবে তাঁকে ছাড়া অন্য সকল কিছুকে বর্জন করে, এবং তারা তাঁর আদেশসমূহ পালন করবে ও তাঁর নিষেধসমূহ থেকে বিরত থাকবে তাঁর জন্য ইখলাসের সাথে (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা)।

«তারা যেন তাঁর ইবাদত করে» অর্থাৎ: তারা যেন সেই সব আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করে যেগুলোর নির্দেশ তিনি তাদের দিয়েছেন: তাদের সালাত, তাদের জাকাত, তাদের সিয়াম, তাদের হজ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়; তারা যেন কেবল তাঁকেই এর জন্য নির্দিষ্ট করে এবং কেবল তাঁরই জন্য এটি এককভাবে সম্পন্ন করে; এটিই তাদের ওপর তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) হক। আর তারা যেন সেই সকল প্রতিমাকে বর্জন করে যেগুলোর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে উপাসনা করে—চাই তা পাথর হোক, গাছ হোক, মৃত ব্যক্তি হোক, নক্ষত্র হোক কিংবা অন্য কিছু।

এরপর তিনি (সূরা) 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' সংক্রান্ত দু'টি হাদিস উল্লেখ করেছেন এর মর্যাদার বিশালতার কারণে; কারণ এটি তাওহীদের সূরা এবং আকিদার সূরা। আর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান। আর যে ব্যক্তি তার কওমের ইমামতি করার সময় এটি পাঠ করতেন এবং তাঁর কিরাতের শেষে এটি পড়তেন, তাঁর সম্পর্কে তিনি বললেন: «তাকে জানিয়ে দাও যে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন» অর্থাৎ: যেভাবে সে এই সূরাটিকে ভালোবেসেছে (সেজন্য আল্লাহও তাকে ভালোবাসেন)।

অন্য শব্দে এসেছে: «এই সূরার প্রতি তোমার ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছে» আর সেটি হলো {বলুন, তিনিই আল্লাহ, অদ্বিতীয় (১) আল্লাহ অমুখাপেক্ষী (২) তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি (৩) আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই (৪)} [আল-ইখলাস: ১ - ৪]।

সুতরাং এটি তাওহীদের সূরা এবং আকিদার সূরা, এতে এই বর্ণনা রয়েছে যে তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) হলেন একমাত্র এক ও অদ্বিতীয়।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٣١)
الأَحدُ فِي جَمِيعِ الوُجوهِ: فِي ذَاتهِ، وَأسْمائهِ، وصِفاتِهِ، وَاسْتِحقاقِهِ العِبادَة، وَأنَّهُ لَا كُفُؤَ لَهُ، وَلَا نِدَّ لَهُ، وَأنَّهُ لمْ يَلدْ، ولمْ يُولَدْ، ولمْ يَكنْ لَهُ كُفُوًا أَحدٌ، وَأنَّهُ الصَّمَدُ الَّذِي تَصْمُدُ إِليْهِ الخَلائِقُ فِي حَاجَاتِها، كُلُّ الخَلائِقِ يَصمُدُونَ إِليْهِ وتَقصِدهُ فِي حَاجَاتِها كُلِّها؛ فلِهذَا كَانتْ هذِهِ السُّورَةُ تَعدِلُ ثُلثَ القُرآنِ؛ لِأنَّهَا نَزَلتْ فِي تَوحِيدِ اللهِ مَحْضًا خَالِصًا لَيسَ معهُ شَيءٌ.

* والقُرآنُ أَقْسَامٌ ثَلاثَةٌ:

قِسْمٌ: يُخبِرُ عَنِ اللهِ وعَن صِفَاتهِ وَأَسْمائِهِ وحقِّهِ، وَهذِهِ هِيَ السُّورةُ.

وقِسْمٌ ثَانٍ: يُخبِرُ عمَّا كَانَ وَمَا يَكونُ.

وَالقِسْمُ الثَّالثُ: أَوامِرُ ونَواهٍ.

فَصارَتْ هذِهِ السُّورةُ تَعدِلُ ثلُثَ القُرآنِ؛ لِأنَّهَا نَزلَتْ مَحْضًا فِي تَوحِيدِ اللهِ، وَالإِخْلاصِ لَهُ، وَبَيانِ حقِّهِ سبحانه وتعالى.

* * *
তিনি সকল দিক থেকেই একক: তাঁর সত্তায়, তাঁর নামসমূহে, তাঁর গুণাবলীতে এবং ইবাদত পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর একক যোগ্যতায়। আর নিশ্চয়ই তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই, তাঁর কোনো সদৃশ নেই। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। তিনি 'আস-সামাদ' (অমুখাপেক্ষী), যাঁর নিকট সৃষ্টিজগত তাদের প্রয়োজনে ধাবিত হয়; সকল সৃষ্টি তাদের সকল প্রয়োজনে তাঁরই অভিমুখী হয় এবং তাঁকেই উদ্দেশ্য করে। এ কারণেই এই সূরাটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য হয়েছে; কারণ এটি বিশুদ্ধ ও একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর তাওহীদ বর্ণনায় অবতীর্ণ হয়েছে, যার সাথে অন্য কিছু মিশ্রিত নেই।

* আর কুরআন তিন ভাগে বিভক্ত:

এক ভাগ: যা আল্লাহ সম্পর্কে এবং তাঁর গুণাবলী, নামসমূহ ও তাঁর অধিকার সম্পর্কে সংবাদ দেয়; আর এই সূরাটি হলো সেই ভাগের অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয় ভাগ: যা অতীতে যা ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে সে সম্পর্কে সংবাদ দেয়।

তৃতীয় ভাগ: আদেশ এবং নিষেধসমূহ।

ফলে এই সূরাটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য হয়েছে; কারণ এটি বিশুদ্ধভাবে আল্লাহর তাওহীদ, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠতা এবং মহান আল্লাহর অধিকার বর্ণনার বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।

* * *
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٣٢)
‌‌باب قَوْلِ اللَّهِ تبارك وتعالى: {قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيًّا مَا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [الإسراء: 110]

7376 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَامٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، وَأَبِي ظَبْيَانَ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَرْحَمُ اللَّهُ مَنْ لَا يَرْحَمُ النَّاسَ»(1).

 

7377 - حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَهُ رَسُولُ إِحْدَى بَنَاتِهِ، تَدْعُوهُ إِلَى ابْنِهَا فِي المَوْتِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «ارْجِعْ فَأَخْبِرْهَا أَنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَلَهُ مَا أَعْطَى، وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمًّى، فَمُرْهَا فَلْتَصْبِرْ وَلْتَحْتَسِبْ»، فَأَعَادَتِ الرَّسُولَ أَنَّهَا قَدْ أَقْسَمَتْ لَتَأْتِيَنَّهَا، فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَقَامَ مَعَهُ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ، وَمُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ، فَدُفِعَ الصَّبِيُّ إِلَيْهِ وَنَفْسُهُ تَقَعْقَعُ كَأَنَّهَا فِي شَنٍّ، فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ، فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا هَذَا؟ قَالَ: «هَذِهِ رَحْمَةٌ جَعَلَهَا اللَّهُ فِي

--------------------------------------------

(1) ورواه مسلم (2319).
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ: {বলুন, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রাহমান নামে ডাকো, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্যই রয়েছে সব সুন্দর নাম} [আল-ইসরা: ১১০]

৭৩৭৬ - মুহাম্মদ ইবনে সালাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাশ থেকে, তিনি যায়িদ ইবনে ওয়াহাব এবং আবু জাবইয়ান থেকে, তাঁরা জারীর ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ ওই ব্যক্তির প্রতি দয়া করেন না, যে মানুষের প্রতি দয়া করে না।"(১).

 

৭৩৭৭ - আবুল নুমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে যায়িদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসিম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদী থেকে, তিনি উসামা ইবনে যায়িদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁর এক কন্যার পক্ষ থেকে এক দূত তাঁর নিকট আসলেন। তিনি তাঁকে তাঁর মুমূর্ষু পুত্রের নিকট ডাকছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তুমি ফিরে যাও এবং তাঁকে বলো যে, আল্লাহ যা নিয়ে নিয়েছেন তা তাঁরই এবং যা তিনি দান করেছেন তাও তাঁরই, আর তাঁর নিকট প্রতিটি জিনিসের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত রয়েছে। সুতরাং তাকে ধৈর্য ধারণ করতে বলো এবং সওয়াবের প্রত্যাশা করতে বলো।" তখন তিনি পুনরায় সংবাদবাহককে পাঠালেন এবং শপথ করে বললেন যে তিনি যেন অবশ্যই আসেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়ালেন এবং তাঁর সাথে সা’দ ইবনে উবাদাহ ও মু’আজ ইবনে জাবালও দাঁড়ালেন। শিশুটিকে তাঁর (নবীর) নিকট তুলে দেওয়া হলো এবং তখন তার শ্বাস-প্রশ্বাস ঘড়ঘড় করছিল যেন তা একটি পুরনো চামড়ার মশক। তখন তাঁর চোখ দুটি অশ্রুসজল হয়ে পড়ল। সা’দ তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এটি কী? তিনি বললেন: "এটি একটি রহমত যা আল্লাহ রেখেছেন..."

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২৩১৯)।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٣٣)
قُلُوبِ عِبَادِهِ، وَإِنَّمَا يَرْحَمُ اللَّهُ مِنْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاءَ»(1).

 

وَأَرادَ رحمه الله بِهذَا [البَابِ] أنَّ اللهَ سُبحانَهُ هُوَ الرَّحمَنُ الرَّحِيمُ الَّذِي يَرحَمُ عِبادَهُ فِي الدُّنْيا وَالآخِرةِ، كَمَا أنَّ اللهَ المُستحِقُّ لِلعِبادةِ، هُوَ الرَّحمَنُ أيْضًا الَّذِي يَرحَمُ العِبادَ، لَا مُنافَاةَ بَينَ كَونِهِ الإِلَهَ وبَينَ كَونِهِ الرَّحمَنَ، فَالدَّعوةُ إِلَى تَوحِيدهِ وَأنَّهُ الإِلهُ الحقُّ لَا تُنافِي الدَّعوةَ إِلَى سُؤالِهِ ورَجائِهِ وطَلبِ الرَّحمةِ منهُ سبحانه وتعالى، هُوَ الرَّحمَنُ وهُوَ الإلهُ الحقُّ، هُوَ الرَّحِيمُ وهُوَ الجَوادُ وهُوَ الكَرِيمُ، وهُوَ السَّمِيعُ، وَأنَّهُ لَا تَنافِيَ بَينَ أَسْمَائهِ وصِفَاتهِ {قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ} [الإسراء: 110]. كِلاهُمَا أَسمَاءٌ للهِ سبحانه وتعالى، وكِلاهُمَا حقٌّ.

وَهكَذَا بَقيَّةُ الأَسمَاءِ وبَقيَّةُ الصِّفاتِ لَا تَنافِيَ بَينَها، فهُو اللهُ المُستحِقُّ لِلعِبادةِ، وهُوَ الرَّحمنُ الَّذِي يَرحمُ عِبادَهُ، وهُوَ الَّذِي وَسِعتْ رَحمتُهُ كُلُّ شَيءٍ سبحانه وتعالى؛ ولِهذَا قَالَ: «مَنْ لَا يَرْحَمُ لَا يُرْحَمُ» اللهُ يَرحمُ مِنْ عِبادِهِ الرُّحمَاءَ، فمَن تَكبَّرَ عَلَى النَّاسِ وظَلمَهم وتَعدَّى عَليهِم ولمْ يَرحمْهُم فهُو جَديرٌ بِأنْ لَا يُرحَمَ مِنْ اللهِ، بلْ يُعذَّبُ: «الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ يَومَ القِيَامَةِ»(2)، وأمَّا الَّذينَ يُعذِّبونَ النَّاسَ وَلَا يَرحَمُونَهم يَستَحقُّونَ أنَّهُ لَا يَرحَمُهم؛ وَلِهذَا قَالَ:

--------------------------------------------

(1) ورواه مسلم (923).

(2) رواه أحمد في «المسند» (6494)، وأبو داود (4941)، والترمذي (1924). وقال: هذا حسن صحيح.
তাঁর বান্দাদের অন্তরে। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে কেবল দয়ালুদেরকেই দয়া করেন।(১).

 

আর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এই [অধ্যায়] দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হলেন পরম করুণাময় ও অতিশয় দয়ালু, যিনি দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া করেন। যেমনভাবে আল্লাহ ইবাদতের যোগ্য সত্তা, তেমনি তিনি ‘রহমান’ও, যিনি বান্দাদের প্রতি দয়া করেন। তাঁর ইলাহ (মাবুদ) হওয়া এবং রহমান হওয়ার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। সুতরাং তাঁর তাওহীদের প্রতি দাওয়াত এবং তিনি যে সত্য ইলাহ—এ কথা তাঁর নিকট প্রার্থনা করার, আশা রাখার এবং তাঁর কাছে রহমত বা দয়া চাওয়ার পরিপন্থী নয়। তিনি ‘রহমান’ এবং তিনিই সত্য ইলাহ; তিনি ‘রাহীম’ (পরম দয়ালু), তিনি ‘জাওয়াদ’ (মহান দাতা), তিনি ‘কারীম’ (অতি দয়ালু), তিনি ‘সামী’ (সর্বশ্রোতা)। তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির মাঝে কোনো বৈপরীত্য নেই: {বলুন, তোমরা ‘আল্লাহ’ নামে ডাকো কিংবা ‘রহমান’ নামে ডাকো} [সূরা বনী ইসরাঈল: ১১০]। উভয়টিই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নাম এবং উভয়টিই সত্য।

এভাবেই অন্যান্য সকল নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রেও কোনো বৈপরীত্য নেই। তিনি সেই আল্লাহ যিনি ইবাদতের যোগ্য, আর তিনিই সেই রহমান যিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া করেন এবং যাঁর দয়া প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে, সুবহানাহু ওয়া তাআলা। এই কারণেই তিনি বলেছেন: “যে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হয় না।” আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে কেবল দয়ালুদেরকেই দয়া করেন। সুতরাং যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি অহঙ্কার করে, তাদের প্রতি জুলুম ও সীমালঙ্ঘন করে এবং তাদের দয়া করে না, সে আল্লাহর দয়া না পাওয়ার যোগ্য, বরং শাস্তি পাওয়ার যোগ্য: “দয়ালুদের প্রতি কিয়ামতের দিন রহমান দয়া করবেন”(২)। আর যারা মানুষকে কষ্ট দেয় এবং তাদের প্রতি দয়া করে না, তারা আল্লাহর দয়া না পাওয়ারই যোগ্য। এই কারণেই তিনি বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৯২৩)।

(২) আহমাদ তাঁর ‘আল-মুসনাদ’-এ (৬৪৯৪), আবু দাউদ (৪৯৪১) এবং তিরমিযী (১৯২৪) এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: এটি হাসান সহীহ।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٣٤)
«مَنْ لَا يَرْحَمُ لَا يُرْحَمُ».

وجَاءَ فِي بَعضِ رِوايَاتِ الحَدِيثِ فِي «الصَّحيحِ»: أنَّ أَسْبَابَ ذلِكَ أنَّ بَعضَ الأَعرابِ قَالَ: أَتُقبِّلونَ صِبْيانَكم؟ فقَالَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: «نَعَمْ»؛ فَقالَ الأَقْرعُ: عِنْدِي كذَا وكَذَا مِنْ الوَلدِ فَلمْ أُقبِّلْ أَحدًا مِنْهم، فَقالَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ لَا يَرْحَمُ لَا يُرْحَمُ».

وَهكَذَا قِصَّةُ المَرأَةِ - قِصةُ ابْنتِهِ - لمَّا دَعتْ أبَاهَا إِلَى الحُضورِ عِندَها بِسبَبِ احْتِضَارِ صَبِيِّها، وَمَا حَصَلَ عَليهِ مِنْ شدَّةِ المَرَضِ وأمَارَاتِ المَوتِ؛ دَعتْ أبَاهَا أنْ يَحضُرَ عليه الصلاة والسلام، وكَانَ ليِّنًا رَقِيقًا رَفيقًا عليه الصلاة والسلام رَحيمًا، فَقالَ الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم: «ارْجِعْ إِلَيْهَا وَقُلْ لَهَا: فَلْتَصْبِرْ وَلْتَحْتَسِبْ، فَلِلَّهِ مَا أَخَذَ وَلَهُ مَا أَعْطَى، وَكُلُّ شَيْءٍ لَهُ بِأَجَلٍ مُسَمَّى».

فَردَّتْ عَليهِ تَطلُبُ منهُ أنْ يَحضُرَ، أَقْسَمَتْ عَليهِ أَنْ يَحضُرَ عليه الصلاة والسلام، فَأجابَ دَعْوتَها وقَامَ لِحُسنِ خُلُقهِ صلى الله عليه وسلم ورَحمتِهِ ورَأفتِهِ بِأهلِ بَيتِهِ وبِالمُسْلِمينَ عليه الصلاة والسلام كَمَا قَالَ عز وجل {بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ (128)} [التوبة: 128].

فَقامَ إِليْها جَبْرًا لهَا ومعَهُ سَعْدُ بنُ عُبادةَ ومُعاذٌ وجَماعةٌ رضي الله عنهم كَمَا فِي الرِّوايَاتِ الأُخرَى، فلمَّا وَصلَ إِلَى البَيتِ قُدِّم إِليهِ الصَّبيُّ وهُوَ فِي المَوتِ يَتقعْقَعُ؛ ففَاضَتْ عَيناهُ عليه الصلاة والسلام بَكَى وقَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ مَا هَذَا؟! قَالَ: «إِنَّهَا رَحْمَةٌ، وَإِنَّمَا يَرْحَمُ اللهُ مِنْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاءَ».
«যে দয়া করে না, তার প্রতি দয়া করা হয় না।»

‘সহীহ’র কিছু হাদিসের বর্ণনায় এসেছে যে, এর কারণ ছিল জনৈক বেদুইন বলেছিল: “আপনারা কি আপনাদের শিশুদের চুম্বন করেন?” নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “হ্যাঁ।” তখন আকরা’ বলল: “আমার এত এত সন্তান আছে, কিন্তু আমি তাদের কাউকে কখনো চুম্বন করিনি।” তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “যে দয়া করে না, তার প্রতি দয়া করা হয় না।”

অনুরূপভাবে সেই মহিলার ঘটনা —তাঁর কন্যার ঘটনা— যখন তিনি তাঁর সন্তানের মুমূর্ষু অবস্থার কারণে এবং তার কঠিন রোগ ও মৃত্যুর লক্ষণগুলো প্রকাশ পাওয়ার দরুন তাঁর পিতাকে উপস্থিত হওয়ার জন্য ডাকলেন। তিনি তাঁর পিতাকে (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আসার জন্য আহ্বান জানালেন। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ছিলেন অত্যন্ত কোমল, নম্র, সহনশীল ও দয়ালু। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “তুমি তার কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বলো: সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের প্রত্যাশা করে। কারণ আল্লাহ যা নিয়ে গেছেন তা আল্লাহরই, আর যা তিনি দান করেছেন তাও তাঁরই। আর তাঁর কাছে প্রতিটি জিনিসের একটি নির্দিষ্ট সময়কাল রয়েছে।”

কিন্তু তিনি পুনরায় তাঁর উপস্থিতির জন্য আবেদন জানালেন এবং তিনি তাঁর প্রতি শপথ দিলেন যেন তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) অবশ্যই আসেন। তখন তিনি তাঁর আহ্বানে সাড়া দিলেন এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তম চরিত্র এবং তাঁর পরিবারের সদস্য ও মুসলিমদের প্রতি তাঁর দয়া ও মমত্ববোধের কারণে তিনি উঠে দাঁড়ালেন। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {মুমিনদের প্রতি তিনি অত্যন্ত স্নেহশীল ও দয়ালু (১২৮)} [আত-তাওবাহ: ১২৮]।

তিনি তাঁর মন তুষ্ট করার জন্য সেখানে গেলেন এবং তাঁর সাথে সা’দ ইবনে উবাদাহ, মু’আজ ও একদল সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ছিলেন, যেমনটি অন্যান্য বর্ণনায় এসেছে। যখন তিনি বাড়িতে পৌঁছালেন, তখন তাঁর কাছে শিশুটিকে আনা হলো যখন সে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছিল; এতে তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) দুই চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠল এবং তিনি কাঁদলেন। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! এ কী?! তিনি বললেন: “এটি হলো দয়া, আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে কেবল দয়ালু ব্যক্তিদের প্রতিই দয়া করেন।”
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٣٥)
فكَونُ الإِنْسانِ يَبكِي عِنْدَ المُصِيبةِ وتَدمَعُ عَينُهُ رَحمةً لَا بَأسَ بِذلِكَ، إنَّمَا المُنكَرُ الصِّياحُ والنِّياحُ، ولطمُ الخُدودِ وشقُّ الثِّيابِ وأَشباهُ ذلِك، أمَّا كونُهُ تَفِيضُ عَينَاهُ، يَبكِي، يَدمَعُ، هذِهِ رَحمةٌ، واللهُ يَرحَمُ عِبادَهُ بِهَذِهِ الرَّحمةِ.

* * *
বিপদ-আপদের সময় মানুষের কান্না করা এবং করুণাবশত চোখ দিয়ে অশ্রু বিসর্জন করাতে কোনো দোষ নেই। নিশ্চয়ই যা নিন্দনীয় বা গর্হিত তা হলো—উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করা, বিলাপ করা, গালে চপেটাঘাত করা, কাপড় ছিঁড়ে ফেলা এবং এই জাতীয় কাজগুলো। আর চোখ দিয়ে পানি ঝরা, কান্না করা বা অশ্রুসিক্ত হওয়া—এগুলো হচ্ছে দয়া বা রহমত; আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি এই রহমতের মাধ্যমেই দয়া করেন।

* * *
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিত তাওহীদ মিন সহীহিল বুখারী - ইবনে বায (পৃষ্ঠা: ٣٦)
‌‌بابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ} [الذاريات: 58]

 

7378 - حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَا أَحَدٌ أَصْبَرُ عَلَى أَذًى سَمِعَهُ مِنَ اللَّهِ، يَدَّعُونَ لَهُ الوَلَدَ، ثُمَّ يُعَافِيهِمْ وَيَرْزُقُهُمْ»(1).

 

وَهذَا مِنْ كَرمِهِ سبحانه وتعالى صَبُورٌ عَلَى الأَذَى، وَلَا أَحدَ أَصبَرُ مِنهُ عَلَى الأَذَى، غَالِبُ أَهْلِ الأَرضِ يُشرِكونَ بِهِ وَيَعبُدُونَ سِواهُ ويُقْدِمونَ عَلَى مَعاصِيهِ وهُوَ يُعافِيهِم ويَرزُقُهم ويُمْهلُهُم ويُنْظِرهُم، مَا هُنَاكَ أَوسَعُ مِنْ هذِهِ الرَّحمةِ؛ وَلِهذَا قَالَ سُبْحانَهُ: {وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللَّهُ النَّاسَ بِظُلْمِهِمْ مَا تَرَكَ عَلَيْهَا مِنْ دَابَّةٍ} [النحل: 61] وَقالَ فِي الآيَةِ الأُخرَى: {وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللَّهُ النَّاسَ بِمَا كَسَبُوا مَا تَرَكَ عَلَى ظَهْرِهَا مِنْ دَابَّةٍ وَلَكِنْ يُؤَخِّرُهُمْ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى} [فاطر: 45].

فَلوْلَا سِعةُ جُودِهِ ورَحمَتهِ وَفَضلِهِ وإِحْسانِهِ وعَظِيمِ عَفوِهِ لَمَا أَمْهلَهُم وهُم

--------------------------------------------

(1) ورواه مسلم (2804).
মহান আল্লাহর বাণী সংক্রান্ত অধ্যায়: {নিশ্চয়ই আল্লাহই রিযিকদাতা, প্রবল ক্ষমতার অধিকারী, অত্যন্ত শক্তিশালী} [আয-যারিয়াত: ৫৮]

 

৭৩৭৮ - আবদান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু হামযা থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়র থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী থেকে, তিনি আবু মুসা আল-আশআরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কষ্টদায়ক কথা শোনার পর আল্লাহর চেয়ে অধিক ধৈর্যশীল আর কেউ নেই; তারা তাঁর জন্য সন্তান দাবি করে, অথচ এরপরও তিনি তাদের সুস্থ রাখেন এবং রিযিক প্রদান করেন।"(১).

 

আর এটি সুবহানাহু ওয়া তাআলার মহানুভবতার বহিঃপ্রকাশ যে তিনি কষ্টদায়ক বিষয়ের ওপর পরম ধৈর্যশীল, এবং তাঁর চেয়ে অধিক ধৈর্যশীল আর কেউ নেই। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই তাঁর সাথে শিরক করে, তাঁকে ছাড়া অন্যদের ইবাদত করে এবং তাঁর অবাধ্যতার কাজে লিপ্ত হয়, অথচ তিনি তাদের সুস্থতা দান করেন, রিযিক দেন এবং তাদের অবকাশ ও সময় প্রদান করেন। এই রহমতের চেয়ে প্রশস্ত আর কিছু নেই; একারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের যুলুমের জন্য পাকড়াও করতেন, তবে ভূপৃষ্ঠে কোনো জীবজন্তুকেই ছাড়তেন না} [আন-নাহল: ৬১]। তিনি অন্য আয়াতে বলেছেন: {আর যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করতেন, তবে ভূপৃষ্ঠে কোনো জীবজন্তুকেই রেহাই দিতেন না; কিন্তু তিনি তাদের এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন} [ফাতির: ৪৫]।

সুতরাং তাঁর দান, দয়া, অনুগ্রহ, ইহসান এবং সুমহান ক্ষমার প্রশস্ততা না থাকলে তিনি তাদের অবকাশ দিতেন না, অথচ তারা...

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম (২৮০৪) বর্ণনা করেছেন।