(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح سنن ابن ماجه لمغلطاي - ت عويضة القسم: شروح الحديث
الكتاب: شرح سنن ابن ماجه - الإعلام بسنته عليه السلام
المؤلف: علاء الدين مغلطاي بن قليج بن عبد الله الحنفي (689 - 762 هـ)
المحقق: كامل عويضة
الناشر: مكتبة نزار مصطفى الباز - السعودية
الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1999 م
عدد الأجزاء: 5 (متسلسلة الترقيم)
تنبيه: الطبعة سقيمة جدا، يحسن الاعتماد على تحقيق أبي العينين، وهو منشور بالشاملة أيضا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুগলাতাই এর শারহু সুনানে ইবনে মাজাহ - উইজাহ কর্তৃক সম্পাদিত বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
কিতাব: শারহু সুনানে ইবনে মাজাহ - আল-ই'লাম বিসুন্নাতিহি আলাইহিস সালাম
লেখক: আলাউদ্দিন মুগলাতাই বিন ক্বলীজ বিন আবদুল্লাহ আল-হানাফী (৬৮৯ - ৭৬২ হিজরি)
মুহাক্কিক: কামিল উইজাহ
প্রকাশক: মাকতাবাতু নিযার মুস্তফা আল-বায - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৫ (ধারাবাহিক পৃষ্ঠা নম্বরযুক্ত)
সতর্কবাণী: এই সংস্করণটি অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ، আবুল আইনাইনের তাহক্বীক্বের ওপর নির্ভর করা উত্তম، যা শামিলা লাইব্রেরিতেও প্রকাশিত হয়েছে
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে মিল রাখা হয়েছে]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
ترجمة المصنفاسمه ونسبه:
هو: الإِمام الحافظ علاء الدين مغلطاي بن قليج بن عبد الله الحنفي، ولد
سنة تسع وثمانين وستمائة من هجرة أبي القاسم صلى الله عليه وسلم، وسمع من الدبوسي
والختني وخلائق، وولي تدريس الحديث بالظاهرية بعد ابن سيّد الناس
وغيرها، وله مآخذ على المحدثين وأهل اللغة. ولد سنة تسع وثمانين وستمائة.
نشأتَه وطلبه للعلم:
نشأ مغلطاي- رحمه الله تعالى- في بيت علم وفضل؛ فنشأ نشأة دينية
طاهرة، وتلقى فيها معارفه الأولى على والده وأهل العلم والفضل في بلدته،
فحفظ القرآن الكريم وجوّده.
وكان- يرحمه الله- كثير الاشتغال بمطالعة كتب الحديث والتاريخ
والأدب، وهو لا يزال مشتغلا بحفظ القرآن الكريم.
وممّا ساعد مغلطاي على طلب العلم والنبوغ المبكّر: وجوده وتربيته في بيت
العلم والفضل، كما أنّ أكثر أهل بلده كانوا- كذلك- من أهل العلم
والفضل.
واستطاع مغلطاي أن يستفيد من علماء عصره، وما أكثرهم، فأخذ
يطلب العلم بجميع فنونه على مشايخ عصره، وظلّ ينتقل بين العلماء، يتلقَّى
عليهم، ويستفيد منهم، حتى صار إماما يشار إليه بالبنان، ورأسا يرحل إليه؛
فقصده طلاب العلم والمعرفة للأخذ عنه، من اليمن، والهند، وغيرهما حتى
صار صيته في جميع البلاد، وانتفع بعلمه كثير من النّاس.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
গ্রন্থকারের জীবনীতাঁর নাম ও বংশপরিচয়:
তিনি হলেন: ইমাম হাফিজ আলাউদ্দীন মুগলতাই বিন কুলিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-হানাফি, তিনি জন্মগ্রহণ করেন
আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের ছয়শত উননব্বই হিজরি সনে এবং তিনি আদ-দাব্বুসি
ও আল-খুতানি এবং আরও বহু সংখ্যক ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি ইবনে সাইয়্যেদুন নাস
ও অন্যদের পর জাহিরিয়্যাহ মাদ্রাসায় হাদিসের অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেন এবং মুহাদ্দিসগণ ও ভাষাবিদদের ওপর তাঁর কিছু সমালোচনা ও পর্যালোচনা রয়েছে। তিনি ছয়শত উননব্বই হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর বেড়ে ওঠা ও জ্ঞানার্জন:
মুগলতাই—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—একটি জ্ঞান ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবারে বেড়ে ওঠেন; ফলে তিনি এক পবিত্র ধর্মীয়
পরিবেশে লালিত-পালিত হন এবং সেখানে তিনি তাঁর প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেন তাঁর পিতা এবং নিজ শহরের আলেম ও গুণী ব্যক্তিদের নিকট থেকে।
অতঃপর তিনি পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেন এবং তা তাজবিদের সাথে আয়ত্ত করেন।
তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—হাদিস, ইতিহাস
ও সাহিত্যের কিতাবসমূহ অধ্যয়নে অত্যন্ত নিমগ্ন থাকতেন, তখনও তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
মুগলতাইয়ের জ্ঞানার্জন ও অল্প বয়সেই প্রতিভার বিকাশে যা সহায়ক হয়েছিল তা হলো: জ্ঞান ও মর্যাদাসম্পন্ন পরিবারে তাঁর উপস্থিতি ও লালন-পালন,
যেহেতু তাঁর শহরের অধিকাংশ মানুষও ছিলেন—অনুরূপভাবে—জ্ঞান
ও মর্যাদার অধিকারী।
মুগলতাই তাঁর সমসাময়িক আলেমদের কাছ থেকে উপকৃত হতে সক্ষম হয়েছিলেন—যাঁদের সংখ্যা ছিল অগণিত। তিনি তাঁর সময়ের শায়খদের নিকট থেকে জ্ঞানের সকল শাখায় শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন এবং আলেমদের নিকট যাতায়াত করতে থাকেন, তাঁদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন
এবং তাঁদের থেকে উপকৃত হন; শেষ পর্যন্ত তিনি এমন এক ইমামে পরিণত হন যাঁর দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করা হতো এবং তিনি এমন এক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন যাঁর কাছে জ্ঞানপিপাসুরা সফর করে আসতেন।
ফলে তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে ইয়েমেন, ভারত এবং অন্যান্য দেশ থেকে জ্ঞানান্বেষীরা ছুটে আসত,
এমনকি সকল জনপদে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ তাঁর জ্ঞানের দ্বারা উপকৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ثناء العلماء عليه
صفاته الخلقية كثيرة مشهورة، ومناقبه جمّة، فقد بدأ حياته منقبضا عن
النّاس، لا يتصل بأحد منهم، إلا في طلب العلم ونشره، وكان يرسل
فتاواه ويصدر أحكامه دون أن يتقاضى عليها أجرَا.
والشّيخ لم تكن الدُّنيا أكبر همّه؛ لأنه كان يعلم أنّ عرضها الزائل لم
يكن يشغله عن الهدف الأسمى الذي وضعه لنفسه؛ وهو نشر دين الله
تعالى، وإحقاق الحقّ.
ولذلك كان يقدّر أهل العلم والفضل، الذين لا يتكالبون على جمع
حطام الدُّنيا، والتقرّب إلى الحكّام، وكان يعش حياة بسيطة مقشفة، فلم
يسمع منه أحد من تلامذته كلمة مؤذنة بالخضوع لمطلب من مطالب الدُّنيا، لا
تصريحَا ولا تلويحَا.
وكان- رحمه الله تعالى- بارَا بشيوخه وتلاميذه، فتح أمامهم أبواب
العمل، ودافع عنهم، وتشفع لهم عند الأئمة في كل أمر وقعوا فيه.
وبالرغم من حدة ذكائه، وجودة ذهنه، فكانت قسوته على الأفكار لا
على الأشخاص؛ لأنه كان يدرك أنه سبق جيله بأجيال، فترك ثروته الفكرية
والعلمية لتتفاعل مع الزمن، يكشف عن وجهها ما تبديه قرائح العلماء.
مصنفاته
كان الإمام مغلطاي عارفَا بالأنساب معرفة جيّدة، وأمّا غبرها من متعلّقات
الحديث فلهَ بها خبرة متوسطة، وتصانيفه أكثر من مائة منها:
1- شرح البخاري- لم يكمل.
2- شرح أبي داود- ولم يتمه وجمع.
3- أوهام الأطراف.
4- ذيل على التهذيب.
5- ذيل على المؤتلف والمختلف- لابن نقطة.
তাঁর প্রতি আলেমদের প্রশংসা
তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ অসংখ্য ও সুপ্রসিদ্ধ এবং তাঁর গুণাবলি অত্যন্ত ব্যাপক। তিনি তাঁর জীবন শুরু করেছিলেন মানুষের থেকে নিভৃতে থেকে; জ্ঞান অর্জন ও তা প্রচারের উদ্দেশ্য ব্যতীত তিনি কারও সাথে যোগাযোগ রাখতেন না। তিনি কোনো বিনিময় গ্রহণ ছাড়াই তাঁর ফতোয়া প্রদান ও বিচারকার্য পরিচালনা করতেন।
দুনিয়া এই শায়খের মূল লক্ষ্য ছিল না; কারণ তিনি জানতেন যে, এর নশ্বর চাকচিক্য তাঁকে সেই মহান লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না যা তিনি নিজের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন; আর তা হলো মহান আল্লাহর দ্বীন প্রচার এবং সত্য প্রতিষ্ঠা।
এ কারণে তিনি জ্ঞান ও মর্যাদাসম্পন্ন সেই ব্যক্তিদের সম্মান করতেন, যারা দুনিয়ার তুচ্ছ সম্পদ আহরণে মত্ত হতো না এবং শাসকদের সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করত না। তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবন যাপন করতেন। তাঁর ছাত্রবৃন্দের কেউই তাঁর থেকে পার্থিব কোনো চাহিদার কাছে নতি স্বীকারের কোনো কথা শোনেনি, না স্পষ্টভাবে, না ইঙ্গিতে।
তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রদের প্রতি অত্যন্ত সদাচারী ছিলেন। তিনি তাঁদের জন্য কর্মের পথ উন্মুক্ত করে দিতেন, তাঁদের পক্ষ হয়ে প্রতিরক্ষা করতেন এবং তাঁরা কোনো সমস্যায় পড়লে নেতৃবৃন্দের নিকট তাঁদের জন্য সুপারিশ করতেন।
তাঁর প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও চমৎকার ধীশক্তি থাকা সত্ত্বেও তাঁর কঠোরতা ছিল মতাদর্শের ওপর, ব্যক্তিদের ওপর নয়; কারণ তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে তিনি তাঁর প্রজন্মের চেয়ে বহু প্রজন্ম অগ্রগামী ছিলেন। তাই তিনি তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক ও বৈজ্ঞানিক সম্পদকে সময়ের সাথে বিবর্তিত হওয়ার জন্য রেখে গেছেন, যাতে আলেমদের মেধা তা থেকে গূঢ় রহস্যসমূহ উন্মোচন করতে পারে।
তাঁর রচনাবলি
ইমাম মুগলতায় বংশপরম্পরা বিদ্যায় অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। তবে হাদিস শাস্ত্রের অন্যান্য শাখায় তাঁর মাঝারি মানের অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা একশরও বেশি, যার মধ্যে রয়েছে:
১- শারহুল বুখারি—এটি তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি।
২- শারহু আবি দাউদ—এটিও তিনি সম্পন্ন বা সংকলন করতে পারেননি।
৩- আওহামুল আতরাফ।
৪- জাইল আলাত তাহজিব (তাহজিবের পরিশিষ্ট)।
৫- জাইল আলাল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ—ইবনে নুকতাহ-র গ্রন্থের পরিশিষ্ট।
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
6- الزهر الباسم في سيرة أبي القاسم.
7- رتب المبهمات على الأبواب.
8- رتب بيان الوهم لابن القطّان.
9- تخريج زوائد ابن حبان على الصحيحين، وكانت وفاته في رابع
عشري شعبان سنة اثنتين وستين وسبعمائة من هجرة أبي القاسم صلى الله عليه
وسلّم.
৬- আয-যাহরুল বাসিম ফী সিরাতি আবিল কাসিম।
৭- অধ্যায়ভিত্তিক মুবহামাত (অস্পষ্ট বিষয়াদি) গ্রন্থের বিন্যাস।
৮- ইবনুল কাত্তান রচিত ‘বায়ানুল ওয়াহাম’ গ্রন্থের বিন্যাস।
৯- সহীহাইন-এর বিপরীতে ইবনে হিব্বানের অতিরিক্ত হাদীসসমূহের তাখরীজ। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল চব্বিশে
শা’বান, সাতশ বাষট্টি হিজরি সনে, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের হিজরত অনুসারে।
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمة التحقيقالحمد لله رب العالمين، قيوم السموات والأرضين، مُدبِّر الخلائق أجمعين،
باعث الرسل- صلواته وسلامه عليهم- إلى المكلَّفين؛ لهدايتهم وبيان شرائع
الدِّين، بالدلائل القطعية وواضحات البراهين. أحمده على جميع نعمه،
وأسأله المزيدَ من فضله وكَرَمه. وأشهد أن لا إله إلا الله الواحد القهَّار،
الكريمُ الغفَّار.
وأشهد أنّ سيدنا محمدا عبده ورسوله وحبيبه وخليله، أفضل المخلوقين
المكرَّم بالقرآن العزيز، المعجزة المستمرة على تعاقب السنين، وبالسنن المستنيرة
للمسترشدين، المخصوص بجوامع الكلم وسماحة الدين، صلوات الله وسلامه
عليه وعلى سائر النبيين والمرسلين، وآل كل وسائر الصالحين.
أما بعد: فقد يسَّر الله بفضله وكرمه، مكتبة نزار الباز بمكة المكرمة
وفروعها المختلفة بالمملكة، نعمة خدمة كتب السنن، وتقديمها للناس بهذا
التحقيق، والتخريج المفيد، والتعليق النافع، والطبع الأنيق، والفهرسة المعُينة
الميسَّرة، التي تساعد القارئ على استعمال الكتاب، والحصول على جوهرة
العلم الثَّمين في أيسر وقت؛ ليجلى ضالّته التي اختفت عليه في طيَّات
صفحات عديدة، ومجلَّدات كثيرة، يصعب عليه فرزها لحصوله على ما خفي
عليه. وجزى بالخير الأخ الأستاذ نزار مصطفى الباز صاحب هذه المكتبة على
ما قدّم من خدمة السُّنة المطهرة من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وأقوال الصحابة
والتابعين والعلماء والمفتن، وكلّ من نهج نهجهم إلى هذا العصر الذي أرسل
الله فيه رجالا تحفظ دينه وتنشر سنة نبيّه صلى الله عليه وسلم.
واليوم تقدّم مكتبة نزار الباز:"شرح سنن ابن ماجة"لأحد حفاظ عصره:
الإمام علاء الدّين مغلطاي الحنفي، رحمه الله تعالى وأسكنه فسيح جنَّاته مع
النبيين والصديقين والشهداء، ومن نهج نهجهم بصالح الأعمال إلى يوم يبعث
الله العباد ليوم الميعاد.
সম্পাদকের ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি আসমান ও জমিনসমূহের ধারক, সকল সৃষ্টির পরিচালক।
তিনি শরীয়তের বিধিবিধান পালনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিকট রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন—তাদের উপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—তাদেরকে হেদায়েত প্রদানের জন্য এবং অকাট্য দলিল ও স্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে দ্বীনের বিধানসমূহ বর্ণনা করার জন্য। আমি তাঁর সকল নিআমতের জন্য তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণার প্রবৃদ্ধি প্রার্থনা করছি। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি পরম দয়ালু ও অতিশয় ক্ষমাশীল।
আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা, রাসূল, প্রিয়ভাজন ও বন্ধু; যিনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। তিনি সম্মানিত হয়েছেন মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের মাধ্যমে, যা কালপরিক্রমায় এক চিরস্থায়ী মুজিজা; এবং এমন সুন্নাহর মাধ্যমে যা হেদায়েতপ্রত্যাশীদের জন্য আলোকবর্তিকা। তিনি সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থপূর্ণ বাক্য এবং দ্বীনের উদারতার বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং অন্যান্য সকল নবী ও রাসূলগণের ওপর এবং তাঁদের প্রত্যেকের পরিবার-পরিজন ও সকল নেককার বান্দাদের ওপর।
অতঃপর: আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতায় মক্কাতুল মুকাররামায় অবস্থিত 'মাকতাবাতু নিযার আল-বায' এবং সৌদি আরবে অবস্থিত এর বিভিন্ন শাখাকে সুন্নাহর কিতাবসমূহের খিদমত করার নিআমত দান করেছেন। আর এই কিতাবগুলো মানুষের সামনে পেশ করার তাওফীক দিয়েছেন এমন তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, উপকারী সূত্রনির্দেশ, ফলপ্রসূ টীকা, মার্জিত মুদ্রণ এবং সহায়ক ও সহজ নির্ঘণ্টের মাধ্যমে, যা পাঠককে কিতাবটি ব্যবহারে এবং অত্যন্ত অল্প সময়ে ইলমের মূল্যবান মণি-মুক্তা আহরণে সহায়তা করবে; যাতে তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পান যা অসংখ্য পৃষ্ঠা ও বহু খণ্ডের আড়ালে ঢাকা পড়ে ছিল এবং যা খুঁজে বের করা তাঁর জন্য কঠিন ছিল। এই লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী ভাই উস্তাদ নিযার মুস্তফা আল-বাযকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন সেই খিদমতের জন্য যা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস, সাহাবী, তাবিঈ, উলামায়ে কেরাম ও মুফতিগণের বক্তব্যের সমন্বয়ে গঠিত পবিত্র সুন্নাহর প্রতি পেশ করেছেন। এবং বর্তমান যুগ পর্যন্ত যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন তাদের সবার প্রতি, যে যুগে আল্লাহ এমন সব ব্যক্তিদের পাঠিয়েছেন যারা তাঁর দ্বীনকে সংরক্ষণ করেন এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ প্রচার করেন।
আর আজ 'মাকতাবাতু নিযার আল-বায' পেশ করছে তাঁর যুগের অন্যতম হাফিয: ইমাম আলাউদ্দীন মুগলতাই আল-হানাফী (রহমাতুল্লাহি তাআলা)-এর সংকলিত "শরহু সুনানে ইবনে মাজাহ"। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন এবং নবী, সিদ্দিক ও শহীদগণের সঙ্গী করুন, আর কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা নেক আমলের মাধ্যমে তাঁদের পথ অনুসরণ করবে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যেদিন আল্লাহ বান্দাদেরকে প্রতিশ্রুত দিবসের জন্য পুনরুত্থিত করবেন।
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وهذا الكتاب"السنن"، أحد المصادر المعتبرة التي جمعت الكلام النبوي
الشّريف، والسنّة المطهرة، باتباع منهج سليم واضح، بعيد عن الهوى
والتعصّب، الذي سار عليه بعض أهل الزيغ من الذين وضعوا نصب أعينهم
الفكرة المسبقة؛ فهم يجمعون ويصححون تبعا للمذهبية والتقليد. وقد قام
الإمام الحافظ علاء الدين مغلطاي بشرح سن ابن ماجة، إلَّا أن المنية اخترمته
قبَل أن يتمّه. وهذا الشّرح الوافر الذي قام به مغلطاي، وضع قواعده على
"سنن ابن ماجة"التي ضمّت صحيح البخاري، ومسلم، وسنن أبي داود
والترمذي والنسائي والدرامي، وموطأ مالك، ومسند أحمد، وصحيح ابن
خزيمة، والمختارة، وما يماثلها من الكتب التي اعتمدت المنهجية والأمانة والدّقة
في نقل الأحاديث.
واليوم أيها المسلم الكريم، نضع بين يديك الطاهرتين:"شرح سنن ابن
ماجة"لعلاء الدين مغلطاي بما فيه من أحاديث مصححة ومضعفة، أشار إليها
الشّارح بسلسلة طويلة في الجرح والتعديل لسلسلة الإِسناد، وقد قمنا- بفضل
الله تعالى- بوضع حكم الصحة أو الحسن أو غيرهما لنضع الحكم النهائي
على الحديث بتخريج وتعديل العلماء كل على حسب جهده، وقد اعتمدنا
في ذلك على كتب الجرح والتعديل مثل"التهذيب"و"التقريب"
و"الثقات"و"الجرح والتعديل"و"الميزان"و"لسان الميزان " و"الضعفاء
الكبير " و"الفوائد"و"اللآلئ"و"الموضوعات"و"المجروحين"و"المغني
في الضعفاء"وغيرهم من الكتب.
ثم نضع حكم"الشّيخ الألباني "، إلا أننا وجدنا بعض الاختلافات في
الحكم على الحديث بين مغلطاي والألباني، تنبهّنا من هذا الاختلاف أنّ
مغلطاي لم يعتمد على قاعدة ابن حبّان في الجرح والتعديل، حيث يخلط
أحيانا في الجرح والتعديل للعلم الواحد، وهذا وجهة الخلاف بينهما- نسأل
الله سبحانه وتعالى أن يحفظنا من الزيغ، ويغفر لنا ذنوبنا، ويرحمنا رحمة
واسعة من عنده، ويغفر لصاحب المكتبة التجارية الذي يأتي لنا بكلّ نادر
عزيز، وأن يبارك الله له في نفسه وأهله والعاملين معه، وصلى الله على سيّدنا
محمّد وعلى آله وصحبه وسلم.
আর এই 'আস-সুনান' গ্রন্থটি নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহের একটি, যা নবিগণের পবিত্র বাণী
ও পবিত্র সুন্নাহকে একটি সঠিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে সংকলন করেছে; যা প্রবৃত্তি
ও গোঁড়ামি থেকে মুক্ত, যে পথে কতিপয় বিভ্রান্ত লোক চলেছিল যারা নিজেদের সামনে
পূর্বনির্ধারিত ধারণা পোষণ করেছিল; ফলে তারা মাযহাব ও তাকলিদ অনুযায়ী হাদিস সংগ্রহ ও সংশোধন করে। ইমাম
হাফেজ আলাউদ্দিন মুগলতাই সুনানে ইবনে মাজাহ-এর ব্যাখ্যা লিখতে শুরু করেছিলেন, কিন্তু মৃত্যু তাকে গ্রাস করে
সেটি পূর্ণ করার আগে। আর মুগলতাই কর্তৃক প্রণীত এই বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থটি ভিত্তি করে
'সুনানে ইবনে মাজাহ'-এর ওপর এর নীতিমালা স্থাপন করেছে, যা সহিহ বুখারি, মুসলিম, ও সুনানে আবু দাউদ
তিরমিজি, নাসায়ি, দারেমি, মুয়াত্তা মালিক, মুসনাদে আহমদ, সহিহ ইবনে
খুযাইমাহ, আল-মুখতারা এবং হাদিস বর্ণনায় পদ্ধতিগত বিশুদ্ধতা, আমানতদারি ও সূক্ষ্মতা
অনুসরণকারী এ জাতীয় অন্যান্য কিতাবসমূহকে ধারণ করেছে।
হে সম্মানিত মুসলিম পাঠক, আজ আমরা আপনার পবিত্র হাতের সামনে পেশ করছি: আলাউদ্দিন মুগলতাই রচিত 'শারহু সুনানি ইবনে
মাজাহ', যাতে হাদিসসমূহের সহিহ ও যয়িফ হওয়ার বিবরণ রয়েছে, যা নির্দেশ করেছেন
ব্যাখ্যাকার সনদ বা বর্ণনাসূত্রের জারাহ ও তাদিলের সুদীর্ঘ ধারার মাধ্যমে; এবং আমরা—আল্লাহ
তাআলার অনুগ্রহে—হাদিসের ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য সহিহ, হাসান বা অন্য কোনো হুকুম নির্ধারণ করে দিয়েছি,
যা আলেমদের তাখরিজ ও সংশোধনের ওপর ভিত্তি করে এবং প্রত্যেকের প্রচেষ্টা অনুযায়ী করা হয়েছে। এ কাজে আমরা
নির্ভর করেছি জারাহ ও তাদিল বিষয়ক গ্রন্থ যেমন 'আত-তাহযিব', 'আত-তাকরিব',
'আস-সিকাত', 'আল-জারহু ওয়াত তাদিল', 'আল-মিজান', 'লিসানুল মিজান', 'আদ-দুআফাউল
কাবির', 'আল-ফাওয়াইদ', 'আল-লাআলি', 'আল-মাওদুয়াত', 'আল-মাজরুহিন', 'আল-মুগনি
ফিজ দুআফা' এবং অন্যান্য গ্রন্থের ওপর।
অতঃপর আমরা 'শায়খ আলবানি'-র রায় উল্লেখ করেছি। তবে আমরা মুগলতাই এবং আলবানির মধ্যে হাদিসের
মানের ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করেছি। এই পার্থক্য থেকে আমরা সতর্ক হয়েছি যে
মুগলতাই জারাহ ও তাদিলের ক্ষেত্রে ইবনে হিব্বানের মূলনীতির ওপর নির্ভর করেননি, যেখানে তিনি মাঝে মাঝে
একই বর্ণনাকারীর জারাহ ও তাদিলের ক্ষেত্রে মিশ্রণ ঘটান এবং এটিই তাদের মধ্যকার মতভেদের কারণ। আমরা
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করেন, আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি প্রশস্ত রহমত
বর্ষণ করেন; আর 'মাকতাবাতুত তিজারিয়াহ'-এর স্বত্বাধিকারীকেও ক্ষমা করেন যিনি আমাদের জন্য প্রতিটি দুর্লভ ও মূল্যবান সম্পদ
নিয়ে আসেন। আল্লাহ তাঁর নিজের ওপর, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথে কর্মরত ব্যক্তিদের ওপর বরকত নাজিল করুন। আমাদের নেতা
মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
عملنا في الكتاب ووصف المخطوط(1) قمنا بنسخ الخطوط، ووضع خطّة التحقيق أثناء النسخ، حيث الإمام علاء
الدين مغلطاي كان واسع الاطلاع، متنّوع الثقافة، متبحرا في سائر
العلوم النقلية والعقلية، والمطلع في كتابه يدرك تنوّع الكتب والمصادر التي
أخذ"مغلطاي " منها شرحه هذا، كما يدرك سعة اطلاعه، حيث
يحيط بالمسائل الأصولية من جميع جوانبها، بالرجوع إلى كتب اللغة،
والحديث، والتفسير، علاوة على أمهات كتب الأصول، الأمر الذي
جعل كتابه هذا موسوعة علمية لا يستغني عنها أي باحث.
(2) وقد اعتمدنا في النسخ على مخطوطتين، الأولى: مخطوط دار الكتب
المصرية- مكونة من"155"لوحة، مقياس 18* 27 سم. وينتهي
هذا المخطوط ب"باب ما جاء في قراءة القرآن على غير طهارة- وهذا
المخطوط برقم"2750"حديث. والمخطوط الثاني: هو مخطوط"حيدر
آباد " بالهند- وفد بدأ بـ " باب تحت كلّ شعرة جنابة"إلى آخر الكتاب
- ويقع تحت رقم"1200"حديث، أسطره"17"، مقاسه 40* 20
سم.
(3) بعد نسخ المخطوط، قسّمنا الكتاب إلى جمل وفقرات، وصحّحنا ما فيه
من اللغة؛ لكي يستطيع أن يستوعبها القارئ العادي.
(4) قمنا بتخريج الآيات من المعجم المفهرس لألفاظ القرآن الكريم للشيخ
محمد فؤاد عبد الباقي.
(5) قمنا بتخريج الأحاديث من المعاجم والموسوعات المختلفة، والحكم على
الحديث بالصحة أو الضعف بتصحيح سند الحديث، ووضع حكم الشّيخ
الألباني كلّما أمكن ذلك.
গ্রন্থে আমাদের কাজ এবং পাণ্ডুলিপির বর্ণনা(১) আমরা পাণ্ডুলিপিগুলো প্রতিলিপি করেছি এবং প্রতিলিপি করার সময় সম্পাদনার পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। যেহেতু ইমাম আলাউদ্দীন মুগলতাই ছিলেন অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী, বহুমুখী সংস্কৃতির ধারক এবং সমস্ত যৌক্তিক ও শ্রুত (আকলি ও নকলি) শাস্ত্রে পারদর্শী। এই গ্রন্থটি পাঠকারী মাত্রই বুঝতে পারবেন যে মুগলতাই তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সংকলনে কত বৈচিত্র্যময় গ্রন্থ ও উৎসের সহায়তা নিয়েছেন। সেই সাথে তাঁর জ্ঞানের গভীরতাও স্পষ্ট হয়, যেখানে তিনি উসূল সংক্রান্ত মাসয়ালাগুলোকে এর সকল দিক থেকে বিশ্লেষণ করেছেন এবং ভাষা, হাদিস ও তাফসিরের মূল গ্রন্থাবলির পাশাপাশি উসূলে ফিকহের প্রধান কিতাবসমূহেরও আশ্রয় নিয়েছেন। এই বৈশিষ্ট্যই তাঁর কিতাবটিকে একটি বৈজ্ঞানিক বিশ্বকোষে পরিণত করেছে, যা যেকোনো গবেষকের জন্য অপরিহার্য।
(২) প্রতিলিপি করার ক্ষেত্রে আমরা দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। প্রথমটি: দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-এর পাণ্ডুলিপি—যা ১৫৫টি পৃষ্ঠার সমন্বয়ে গঠিত, পরিমাপ ১৮*২৭ সে.মি.। এই পাণ্ডুলিপিটি "অপবিত্র অবস্থায় কুরআন পাঠ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে" পরিচ্ছেদে গিয়ে শেষ হয়েছে এবং এর হাদিস নম্বর হলো ২৭৫০। দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটি হলো: ভারতের হায়দ্রাবাদের পাণ্ডুলিপি—এটি "প্রতিটি পশমের নিচে অপবিত্রতা (জানাবাত) রয়েছে" পরিচ্ছেদ থেকে শুরু হয়ে কিতাবের শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি হাদিস নম্বর ১২০০-এর অধীনে রয়েছে, এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় লাইন সংখ্যা ১৭ এবং পরিমাপ ৪০*২০ সে.মি.।
(৩) পাণ্ডুলিপি প্রতিলিপি করার পর, আমরা কিতাবটিকে বিভিন্ন বাক্য ও অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি এবং এর ভাষাগত বিষয়গুলো সংশোধন করেছি; যাতে সাধারণ পাঠক তা সহজেই অনুধাবন করতে পারে।
(৪) আমরা শায়খ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী রচিত 'আল-মু'জাম আল-মুফাহরাস লি আলফাজ আল-কুরআন আল-কারিম' থেকে আয়াতগুলোর উৎস নির্দেশ (তাখরীজ) করেছি।
(৫) আমরা বিভিন্ন অভিধান ও বিশ্বকোষ থেকে হাদিসসমূহের তাখরীজ করেছি এবং হাদিসের সনদ যাচাইয়ের মাধ্যমে সেগুলোর শুদ্ধতা (সহীহ) বা দুর্বলতার (যয়ীফ) হুকুম বর্ণনা করেছি। পাশাপাশি যখনই সম্ভব হয়েছে, সেখানে শায়খ আলবানীর হুকুমও উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
(6) وقمنا بوضع مفردات اللغة التي تساعد القارئ على فهم الكتاب، وذكر
الفوائد المشتملة عليها.
وأخيرا.....
أسأل الله العظيم، رب العرش العظيم، أن يجعل عملي هذا خالصا
لوجهه الكريم، وأن يرحمني يوم لا ينفع مال ولا بنون، إن أريد إلا الإصلاح
ما استطعت، وما توفيقي إلا بالله.
***
(৬) এবং আমরা ভাষাগত শব্দার্থসমূহ সংযোজন করেছি যা পাঠককে বইটি বুঝতে সাহায্য করবে এবং এতে
অন্তর্ভুক্ত উপকারিতাগুলো উল্লেখ করেছি।
পরিশেষে.....
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, যিনি মহান আরশের রব, তিনি যেন আমার এই কাজটিকে একমাত্র
তাঁর মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং তিনি যেন আমাকে সেই দিন দয়া করেন যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না। আমি কেবল সাধ্যমতো সংশোধনই
চাই, আর আমার তৌফিক কেবল আল্লাহরই সাহায্যে।
***
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
صور المخطوط
পাণ্ডুলিপির চিত্রসমূহ
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لوحة الغلاف للجزء الثاني من المخطوطة الأولى
প্রথম পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় খণ্ডের প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
اللوحة الأولى من الجزء الرابع من المخطوطة الثانية
দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির চতুর্থ খণ্ডের প্রথম পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم (1)
/وصلى (2) الله على سيدنا محمد (3) وآله (4) وصحبه وسلَّم، قال الإمام
العلامة أبو عبد الله بن ماجة رحمه الله تعالى:
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (১)
এবং আল্লাহর রহমত (২) বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (৩), তাঁর পরিবার-পরিজন (৪) ও সকল সঙ্গীদের ওপর এবং শান্তি বর্ষিত হোক। ইমাম আল্লামা আবু আবদুল্লাহ ইবনে মাজাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كتاب الطهارة
1 - باب ما جاء في مقدار الوضوءوالغسل من الجنابة
- حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة ثنا إسماعيل بن إبراهيم، عن أبي ريحانة، عن
سفينة قال:"كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتوضأ بالمد ويغتسل بالصاع"هذا
حديث رواه مسلم (1) في صحيحه، وخرجه هو والدارمي في مسنده (2)
بسماع إسماعيل بن أبي ريحانة. وفي بعض طرقه:"أو قال يطهره المد"،
قال: وقد كان كبر وقال: أبي يحدثه، ولفظ العسكري:"كان النبي صلى الله عليه وسلم
يغسله الصاع من الجنابة ويوضيه المد" (3).
وقال فيه أبو عيسى: حسن صحيح، وبنحوه قاله أبو علي الطوسي في
أحكامه، وفيه علة خفيت على من صححه، وهي الانقطاع المنافي للصحة
فيما بين أبي ريحانة وسفينة. نص على ذلك أبو حاتم البستي، فإنه لما ذكره
في الثقات تردد في سماعه من سفينة بعد وصفه إياه بالخطأ!
وبنحوه ذكره الإمام أبو عبد الله أحمد بن حنبل فإن محمد بن موسى لما
سأله عنه قال: ما أعَلم إلا خيرا، قلت: سمع من سفينة! قال: ينبغي هو قديم
سمع من ابن عمر، فهذا من أبي عبد الله ظن وحسبان لا قطع ببرهان ولا
كل من سمع من شخص ينبغي له السّماع من قرينه، هذا الزهري سمع من
--------------------------------------------
পবিত্রতা অধ্যায়
১ - অজুতে পানির পরিমাণ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে অনুচ্ছেদএবং জানাবাত থেকে গোসল
- আমাদের নিকট আবু বকর ইবন আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইসমাঈল ইবন ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন আবু রাইহানাহ থেকে, তিনি সাফিনাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক মুদ (পানির) মাধ্যমে অজু করতেন এবং এক সা’ (পানির) মাধ্যমে গোসল করতেন।" এটি একটি হাদিস যা মুসলিম (১) তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ও আদ-দারিমি তাঁর মুসনাদে (২) ইসমাঈল কর্তৃক আবু রাইহানাহ থেকে শ্রবণের মাধ্যমে এটি উদ্ধৃত করেছেন। এবং এর কিছু সূত্রে রয়েছে: "অথবা তিনি বলেছেন: তাকে এক মুদ পবিত্র করে।" তিনি বলেন: তিনি বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং বলতেন: আমার পিতা তাঁর নিকট হাদিস বর্ণনা করেন। আর আল-আসকারির শব্দমালা হলো: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানাবাত থেকে এক সা’ পানি দিয়ে গোসল করানো হতো এবং এক মুদ পানি দিয়ে অজু করানো হতো" (৩)।
আবু ঈসা এ সম্পর্কে বলেছেন: এটি হাসান সহিহ। আবু আলী আত-তুসি তাঁর ‘আহকাম’ গ্রন্থে অনুরূপ কথা বলেছেন। এতে এমন একটি গোপন ত্রুটি রয়েছে যা একে সহিহ আখ্যাদানকারীদের নিকট অস্পষ্ট থেকে গেছে; আর তা হলো আবু রাইহানাহ ও সাফিনাহর মধ্যবর্তী সনদে বিচ্ছিন্নতা, যা হাদিস সহিহ হওয়ার পরিপন্থী। আবু হাতিম আল-বুস্তি এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। কেননা তিনি যখন ‘আস-সিকাত’ গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেছেন, তখন তাঁকে ভুলকারী হিসেবে বর্ণনা করার পর সাফিনাহ থেকে তাঁর শোনার ব্যাপারে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন!
ইমাম আবু আবদুল্লাহ আহমাদ ইবন হাম্বলও অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। মুহাম্মদ ইবন মুসা যখন তাঁকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন: "আমি তাঁর সম্পর্কে কল্যাণ ছাড়া আর কিছু জানি না।" আমি বললাম: "তিনি কি সাফিনাহ থেকে শুনেছেন?" তিনি বললেন: "সম্ভবত, তিনি প্রাচীন, তিনি ইবন উমর থেকে শুনেছেন।" আবু আবদুল্লাহর এই মন্তব্যটি একটি ধারণা ও অনুমান মাত্র, কোনো অকাট্য দলীল নয়। আর কোনো ব্যক্তি থেকে কেউ শ্রবণ করলেই তার সমসাময়িক অন্য ব্যক্তি থেকেও শ্রবণ করবেন—এমনটি জরুরি নয়। এই যে আজ-জুহরি, তিনি শুনেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
جماعة من الصحابة، منهم ابن عمر، ولم يسمع من بعض التابعين، والحسن
سمع من علي وأبي عثمان، ولم يسمع ممن توفى بعدهما بنحو من ثلاثين سنة
والله أعلم، ورواه أبو القاسم في الأوسط من حديث مرجا بن رجاء بن
ريحانة ثم قال: ولم يروه عن مرجا إلا يعقوب بن إسحاق الحضرمي حديث
أبو بكر بن شيبة عن يزيد بن هارون عن همام عن قتادة عن صفية بنت شيبة
عن عائشة قالت:"كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتوضأ بالمد ويغتسل بالصاع".
هذا حديث إسناده صحيح متصل، وإلى هذا سار أبو عيسى، وفي كتاب
أبي داود: رواه أبان عن قتادة قال: سمعت صفية، يعني بذلك ما رواه أبو
ذكر البيهقي في السن الكبير/، ثنا أبو الحسن علي بن أحمد المقري، نا
أحمد بن سليمان، نا جعفر وسالم، نا عفان، نا أبان به في سن الدارقطني
بنحو المد وبنحو الصاع، وقال في العلل، رواه عن قتادة: الدستوائي وابن
عروة وعمران القطان والجماعة وابن الزبير، وقيل عن شعبة كلّهم عن قتادة
عن شعبة، وقال عمرو بن عامر: عن قتادة عن ابن المسيب عن عائشة، وقال
حماد بن سلمة: عن قتادة عن معاذة عن عائشة، وقال شيبان: عن قتادة عن
الحسن عن أمه عن عائشة، وأصحها قول من قال قتادة عن صفية، ورواه أبو
حصين وإبراهيم بن المهاجر عن صفية، قال: وهو غريب بهذا الإِسناد.
ورواه أبو عبد الرحمن النسائي في كتاب التمييز بإسناد صحيح عن محمد
ابن عبيد، نا يحيى بن زكريا عن موسى بن عبد الله الجهني، وكان ثقة، قال
لي مجاهد: بقدح حررته ثمانية أرطال، وقال: أخبرتني عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم
كان يغتسل بمثل هذا في مسند أحمد بن منيع البغوي حررته ثمانية أو تسعة
أو عشرة أرطال، وفي هذا الحديث بيان لصحة سماع مجاهد من عائشة،
وسيأتي بيان ذلك بعد إن شاء الله تعالى في قول الدارقطني: وقال حماد عن
قتادة عن معاذة عن عائشة نظرا لما قال. رواه الكيني في سننه عن أبي عمر ثنا
حماد عن قتادة عن صفية أو معاذة- شَك حماد- عن عائشة فهذا كما ترى
3- حماد لم ينقل عن واحدة منهما خبرا ما والله أعلم. حدثنا هشام بن عمار،
نا الربيع ابن بدر، نا ابن الزبير بن جابر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم:"كان يتوضأ
সাহাবীদের একটি দল, যাদের মধ্যে ইবনে উমর রয়েছেন, এবং তিনি কিছু তাবিঈর থেকে শ্রবণ করেননি। আর হাসান আলী ও আবু উসমান থেকে শুনেছেন, কিন্তু তাদের পর প্রায় ত্রিশ বছর পর্যন্ত যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের থেকে তিনি শোনেননি।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আর এটি আবু আল-কাসিম আল-আওসাত গ্রন্থে মুরজা বিন রাজা বিন রায়হানার হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি বলেছেন: ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-হাদরামি ব্যতীত আর কেউ মুরজা থেকে এটি বর্ণনা করেননি।
আবু বকর বিন শাইবা ইয়াজিদ বিন হারুন থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি সাফিয়্যা বিনতে শাইবা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মুদ পরিমাণ পানি দিয়ে অজু করতেন এবং এক সা' পরিমাণ পানি দিয়ে গোসল করতেন।"
এটি এমন একটি হাদিস যার সনদ সহিহ ও মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন)। আবু ঈসা এই মতই গ্রহণ করেছেন। আর সুনানে আবু দাউদে রয়েছে: আবান এটি কাতাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি সাফিয়্যা থেকে শুনেছি, অর্থাৎ আবু যা বর্ণনা করেছেন—
বায়হাকি আস-সুনান আল-কুবরা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন— আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী বিন আহমদ আল-মুকরি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন সুলাইমান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জাফর ও সালিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আফফান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবান; সুনানে দারাকুতনিতে মুদ-এর সমপরিমাণ এবং সা'-এর সমপরিমাণ উল্লেখসহ এটি বর্ণিত হয়েছে। তিনি 'আল-ইলাল' গ্রন্থে বলেছেন, এটি কাতাদা থেকে বর্ণনা করেছেন: আদ-দাস্তুওয়ায়ী, ইবনে উরওয়াহ, ইমরান আল-কাত্তান, জামাআত (একদল রাবী) এবং ইবনে আল-জুবাইর। আর শু’বা থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, তারা সবাই কাতাদা থেকে এবং তিনি শু’বা থেকে বর্ণনা করেছেন। আমর বিন আমির বলেছেন: কাতাদা থেকে, তিনি ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে। আর—
হাম্মাদ বিন সালামাহ বলেছেন: কাতাদা থেকে, তিনি মুয়াজা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে। আর শায়বান বলেছেন: কাতাদা থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি তার মা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ হলো তাদের বক্তব্য যারা বলেছেন 'কাতাদা সাফিয়্যা থেকে'। আর আবু হুসাইন এবং ইব্রাহিম বিন আল-মুহাজির সাফিয়্যা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: এই সনদে এটি একটি গারিব (একক) হাদিস।
আর আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ী 'কিতাবুত তাময়ীজ' গ্রন্থে সহিহ সনদে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন— আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন জাকারিয়া, তিনি মুসা বিন আব্দুল্লাহ আল-জুহানি থেকে, আর তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন, তিনি বলেন: মুজাহিদ আমাকে বলেছেন, এমন এক পাত্রের কথা যা আমি আট রতলের সমান নির্ধারণ করেছি। তিনি আরও বলেন: আয়েশা (রা.) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমপরিমাণ পানি দিয়ে গোসল করতেন। আহমদ বিন মানি' আল-বাগাওয়ীর মুসনাদে এটি আট, নয় বা দশ রতল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। আর এই হাদিসটিতে আয়েশা (রা.) থেকে মুজাহিদের শ্রবণের বিশুদ্ধতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে দারাকুতনির বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এর বিস্তারিত বর্ণনা আসবে। আর হাম্মাদ কাতাদা থেকে, তিনি মুয়াজা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে যা বলেছেন তার প্রেক্ষিতে তিনি এটি বলেছেন। আল-কাইনি তার সুনানে আবু উমর থেকে বর্ণনা করেছেন— আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি সাফিয়্যা অথবা মুয়াজা থেকে—হাম্মাদ সন্দেহ পোষণ করেছেন—তিনি আয়েশা (রা.) থেকে। সুতরাং এটি যেমনটি আপনি দেখছেন—
৩- হাম্মাদ তাদের কোনো একজনের পক্ষ থেকে কোনো খবর বর্ণনা করেননি, আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন আম্মার, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আর-রবি বিন বদর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনুল জুবাইর বিন জাবির থেকে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অজু করতেন—
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
بالمد ويغتسل بالصاع"هذا حديث في إسناده علّتان، الأولى: ضعف الربيع (1)
ابن بدر الملقب عليلة، فإن أبا إسحاق الجوزجاني وهاه، وقال أبو حاتم الرازي:
ذاهب الحديث، وقال النسائي والأزدي والدارقطني، متروك الحديث، وقال
البستي: كان يقلب الأسانيد ويروى عن الثقات المعلومات، وعن الضعفاء
الموضوعات، وقال أبو داود: لا يكتب حديثه، وقال يعقوب بن سفيان
الفسوي في تاريخه الكبير: لا يُكتب حديثه، وقال في موضع آخر: ضعيف
متروك، وقال البخاري في الأوسط: مخالف، وذكره الساجي والعقيلي
والبلخي وأبو أحمد بن عدي وأبو العرب القيرواني وأبو إسحاق الحربي/في
الضعفاء، الثانية: الاختلاف في سماع محمد' بن مسلم بن بدر بن أبي الزبير
عن جابر، حتى قال أبو الحسن القطان وغيره: كما لم يصرح فيه بالسماع،
ولم يكن من رواية الليث عنه منقطع، ورواه أبو القاسم في الأوسط من
حديث الربيع بن صباح عن أبي الزبير وقال: لم يروه عن الربيع إلا الوليد بن
مسلم. تفرد به محمد بن أبي التبري، ومن حديث أبي جَص محمد بن
علي بن الحسين عن جابر بمثله، وقال: لم يروه عن شعبة- يعني عن مخول بن
راشد- عن جعفر عنه إّلا سعد بن عامر الضبعي: ولفظه عن جابر في المعجم
الكبير:"يجزئ من الغسل صاع ومن الوضوء مد" (2) وأرسله ابن أبي شيبة
في المصنف. رواه عن عبد الرحمن بن سليمان عن الحجاج عن أبي جعفر به،
وقد وقع لنا هذا الحديث من طرق صحيحة سوى ما أسلفناه، ذكرها أبو
عبد الله في مستدركه عن أبي بكر بن إسحاق، نا محمد بن عبد الله
الحضرمي، نا هارون بن إسحاق، نا محمد بن فضيل عن حُصَير عن سالم عن
سالم بن أبي الجعد عن جابر وقال: صحيح على شرط الشيخين ولم يخرّجاه
--------------------------------------------
"এক মুদ পানি দিয়ে ওজু এবং এক সা' পানি দিয়ে গোসল করা"—এটি এমন একটি হাদিস যার সনদে দুটি ত্রুটি রয়েছে। প্রথমটি হলো: রাবী (১)
ইবনে বদর, যার উপাধি ছিল উলায়লা, তার দুর্বলতা; কেননা আবু ইসহাক আল-জাওযাজানি তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু হাতেম আর-রাজি বলেছেন:
তার হাদিস বর্জনীয়। নাসায়ি, আজদি এবং দারা কুতনি তাকে পরিত্যক্ত (মাতরুকুল হাদিস) বলেছেন। আল-বুস্তি
বলেছেন: সে সনদগুলো ওলটপালট করত এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বরাতে সুপরিচিত বিষয় বর্ণনা করত, আর দুর্বলদের বরাতে
বানোয়াট বিষয় বর্ণনা করত। আবু দাউদ বলেছেন: তার হাদিস লেখা যাবে না। ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান
আল-ফাসাওয়ি তার 'তারিখে কাবীর'-এ বলেছেন: তার হাদিস লেখা যাবে না। তিনি অন্য এক জায়গায় বলেছেন: তিনি দুর্বল ও
পরিত্যক্ত। আল-বুখারি 'আল-আওসাত'-এ তাকে বিরুদ্ধাচারী বলেছেন। সাজি, উকাইলি,
বালখি, আবু আহমাদ ইবনে আদি, আবু আল-আরব আল-কাইরাওয়ানি এবং আবু ইসহাক আল-হারবি তাকে দুর্বলদের তালিকায়
উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় ত্রুটি: জাবির (রা.) থেকে মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম ইবনে বদর ইবনে আবু যুবায়েরের
শোনার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। এমনকি আবু হাসান আল-কাত্তান এবং অন্যরা বলেছেন: যেহেতু তিনি এতে সরাসরি শোনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি,
এবং এটি লাইসের বর্ণনাও নয়, তাই এটি বিচ্ছিন্ন ছিল। আবু কাসেম 'আল-আওসাত'-এ
রাবী ইবনে সাব্বাহ-এর হাদিস থেকে আবু যুবায়েরের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: ওয়ালিদ ইবনে
মুসলিম ছাড়া আর কেউ রাবী থেকে এটি বর্ণনা করেনি। মুহাম্মাদ ইবনে আবি আত-তাবরি এতে একক হয়ে গেছেন। আর আবু জাস মুহাম্মাদ ইবনে
আলী ইবনুল হুসাইনের হাদিসে জাবির (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে। তিনি বলেছেন: শুবা থেকে—অর্থাৎ মাখুল ইবনে
রাশিদ থেকে—জাফর থেকে, তার সূত্রে সা'দ ইবনে আমির আদ-দুবাই ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেনি। 'আল-মু'জামুল
কাবীর'-এ জাবির (রা.) থেকে এর শব্দগুলো হলো: "গোসলের জন্য এক সা' এবং ওজুর জন্য এক মুদ পানিই যথেষ্ট" (২) এবং ইবনে আবি শায়বা
'আল-মুসান্নাফ'-এ একে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি আব্দুর রহমান ইবনে সুলাইমান থেকে, হাজ্জাজ থেকে, আবু জাফরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
আমরা পূর্বে যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়াও সঠিক সূত্রে এই হাদিসটি আমাদের নিকট পৌঁছেছে, যা আবু
আব্দুল্লাহ (আল-হাকিম) তার 'মুস্তাদরাক'-এ আবু বকর ইবনে ইসহাক থেকে উল্লেখ করেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ
আল-হাদরামি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হারুন ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ফুযাইল বর্ণনা করেছেন হুসাইর থেকে, সালিম থেকে,
সালিম ইবনে আবিল জাদ থেকে, জাবির (রা.)-এর সূত্রে। তিনি বলেছেন: এটি বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ, যদিও তারা এটি সংকলন করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
بهذا اللفظ، ولما ذكره أبو داود في سننه من حديث أحمد نا هشيم نا
يزيد بن أبي زياد عن سالم به، ضعفه أبو محمد المنذري يزيد بقوله: لا يحتج
به، وفيه نظر في موضعين، الأول: اضطرابه في يزيد؛ فتارة يحسن حديثا هو
فيه، وتارة يضعفه كما فعل هذا، وتارة يسكت عنه موهما صحته، وسنبيّنه،
إن شاء الله تعالى- في أليق المواضع به، وليس لقائل أن يقول فعله ذلك لما
يقصده من متابع أو شاهد أو عدمهما، لما أسلفناه من متابعة الربيعين وابن
الحسن وحصين، الثاني: محمد بن فضيل الثقة العدل رواه عن يزيد وحصن
عن سالم فسلم الحديث من طعن إن كان في يزيد. ذكر ذلك أبو بكر
البيهقي عن الحاكم، نا أبو العباس، نا أحمد بن عبد الجبار نا بن فضيل به،
وعلى البيهقي في هذا الإسناد استدراك؛ لأجل ضعف أحمد بن عبد الجبار
وعدوله عن حديث الحاكم المذكور إلى هذا، ورويناه في كتاب الحافظ أبي
بكر بن خزيمة عن هارون بن إسحاق الهمداني في كتابه، نا ابن فضيل عنهما/
يذكره حدثنا محمد بن الصباح وعباد بن الوليد قالا: حدثنا بكر بن يحيى بن
زيان، نا حبان بن علي عن يزيد بن أبي زياد عن عبد الله بن محمد بن
عقيل بن أبي طالب عن أبيه عن جدّه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:"يجزي من
الوضوء مد ومن الغسل صاع، فقال رجل: لا يجزينا فقال: من كان يجزئ
من هو خير منك وأكثر شعرا، يعني النبي صلى الله عليه وعلى آله وصحبه
وسلم" (1) هذا حديث في إسناده ضعفان. الأول: حبان (2) بن علي العنزي بن
علي الكوفي- رحمه الله وغفر له- روى عن التابعين، قال فيه حجر بن عبد
الجبار: ما رأى فقيها بالكوفة أفضل منه، وقال يحيى بن معين: صدوق، وفي
--------------------------------------------
এই শব্দের মাধ্যমে। আবু দাউদ তাঁর সুনানে যা উল্লেখ করেছেন, আহমাদ থেকে, তিনি হুশাইম থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবন আবি যিয়াদ থেকে, তিনি সালিম থেকে—আবু মুহাম্মাদ আল-মুনযিরি ইয়াজিদকে দুর্বল বলেছেন এই বলে যে: তাঁর বর্ণনাকে দলিল হিসেবে পেশ করা যায় না। এতে দুটি স্থানে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। প্রথমত: ইয়াজিদ সম্পর্কে তাঁর অস্থিরতা; কখনো তিনি তাঁর বর্ণিত হাদিসকে হাসান বলেন, আবার কখনো একে দুর্বল বলেন যেমনটি এখানে করেছেন, আবার কখনো এটি সহিহ হওয়ার ধারণা দিয়ে নীরব থাকেন। আমরা এটি—ইনশাআল্লাহ তাআলা—এর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থানে বর্ণনা করব। কোনো বক্তার এটা বলার সুযোগ নেই যে, তিনি (মুনযিরি) কোনো মুতাবা’ (সমর্থনকারী বর্ণনা) বা শাহিদের (সাক্ষ্য প্রদানকারী বর্ণনা) উপস্থিতির বা অনুপস্থিতির কারণে এমনটি করেছেন; কারণ আমরা ইতিপূর্বেই দুই রাবি (আর-রাবিয়াইন), ইবনুল হাসান এবং হুসাইনের মুতাবা’র কথা উল্লেখ করেছি। দ্বিতীয়ত: নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ মুহাম্মাদ ইবন ফুযাইল এটি ইয়াজিদ থেকে এবং হুসাইন সালিম থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে হাদিসটি ইয়াজিদ সম্পর্কে বিদ্যমান কোনো অভিযোগ থেকে রক্ষা পেয়েছে। আবু বকর আল-বায়হাকি এটি আল-হাকিম থেকে উল্লেখ করেছেন: আবুল আব্বাস আমাদের বলেছেন, আহমাদ ইবন আবদিল জাব্বার আমাদের বলেছেন, ইবন ফুযাইল আমাদের এটি বর্ণনা করেছেন। বায়হাকির ওপর এই সনদে একটি সংশোধনী রয়েছে; আহমাদ ইবন আবদিল জাব্বারের দুর্বলতা এবং উল্লিখিত হাকিমের হাদিস থেকে সরে গিয়ে এর দিকে আসার কারণে। হাফিয আবু বকর ইবন খুযাইমার কিতাবে হারুন ইবন ইসহাক আল-হামদানী থেকে তাঁর কিতাবে আমরা এটি বর্ণনা করেছি: ইবন ফুযাইল তাঁদের উভয়ের থেকে বর্ণনা করেছেন/তিনি উল্লেখ করেন যে, মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ এবং আব্বাদ ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের বলেছেন: বকর ইবন ইয়াহইয়া ইবন যিয়ান আমাদের বলেছেন, হিব্বান ইবন আলী আমাদের ইয়াজিদ ইবন আবি যিয়াদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আকীল ইবন আবি তালিব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "ওজুর জন্য এক মুদ এবং গোসলের জন্য এক সা পরিমাণ পানি যথেষ্ট।" এক ব্যক্তি বললেন: "এটি আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়।" তিনি বললেন: "যিনি তোমার চেয়ে উত্তম ছিলেন এবং যাঁর চুল তোমার চেয়ে বেশি ছিল (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর জন্য এটি যথেষ্ট হতো।" (১) এটি এমন একটি হাদিস যার সনদে দুটি দুর্বলতা রয়েছে। প্রথমত: হিব্বান (২) ইবন আলী আল-আনযি আল-কুফি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন—তিনি তাবেয়ীদের থেকে বর্ণনা করেছেন। হুজর ইবন আবদিল জাব্বার তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: কুফায় তাঁর চেয়ে উত্তম কোনো ফকিহ দেখা যায়নি। ইয়াহইয়া ইবন মাঈন বলেছেন: তিনি সত্যবাদী, এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
رواية: ليس حديثه بشيء، وقال ابن نميرة: في حديثه وحديث أخيه مندل
بعض الغلط، وقال أبو زرعة: ليّن، وقال أبو حاتم: يكتب حديثه ولا يحتج
به، وسئل عنه ابن المديني فضعفه، وقال الدارقطني: متروك رموه، قال،
ضعيف ويخرج حديثه، وقال أبو الحسان الزيادي توفى سنة اثنتين وسبعين
ومائة، ويقال سنة إحدى فإن مولده سنة إحدى عشرة، وقال البخاري: ليس
هو عندهم بالقوي: وقال النسائي: ضعيف، وكذلك قاله ابن سعيد، وقال
العجلي: صدوق، وقال الخطيب: كان رجلا صالحا دينا، وقال أبو داود: لا
أحدّث عنه، وقال المرزباني قال حبان لأخيه مندل وكان يسمى عمرا:
عجبا يا عمرو من غفلتنا
… والمنايا مقبلات عنفا
قاصدات نحونا مسرعة
… تتخللن إلينا الطرقا
وإذا أذكر فقدان أخي
… أتقلب في فراشي أرقا
وأخي ابن أخ مثل أخي
… قد جرى في كل خير سبقا
وقال ابن قانع: ضعيف، وبنحوه قاله ابن طاهرٍ.
الثاني: يزيد (1) بن أبي زياد، وقد اختلف فيه فأمّا البخاري في الأوسط
فإنه قال: ابن زياد أو ابن أبي زياد عن الزهري منكر الحديث، وتتبع ذلك
عليه أبو محمد بن أبي حاتم فقال: قال أبو زرعة: إنّما هو يزيد بن أبي زياد،
وسمعت أبي يقول كما قال انتهى. فعلى ما أسلفناه في التاريخ الأوسط لا
وهم عليه،/وكذا فرّق النسائي بين ابن زياد وابن أبي زياد وقال في ابن زياد:
متروك الحديث، وقال الآجري: سألت أبا داود عن ابن أبي زياد فقال: ثبت لا
أعلم أحدا يترك حديثه وغيره أحب إليّ منه، وقال ابن سعد: كان ثقة في
نفسه إلا أنّه اختلط في آخر عمره فجاء بالعجائب، وقال ابن المديني وابن
معين: ضعيف الحديث لا نحتج به، وقال ابن المبارك: أرْمَ به، وقال أبو حاتم
الرازي: ضعيف الحديث، كل أحاديثه موضوعة وباطلة، وقال ابن حبان: كان
--------------------------------------------
বর্ণনা: তার হাদিস উল্লেখ করার মতো কিছু নয়। ইবনে নুমাইরা বলেন: তার এবং তার ভাই মানদালের হাদিসে কিছু ভুল রয়েছে। আবু যুরআ বলেন: তিনি শিথিল (লাইয়্যিন)। আবু হাতিম বলেন: তার হাদিস লেখা যাবে কিন্তু তা দিয়ে দলিল পেশ করা যাবে না। ইবনুল মাদিনিকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তাকে দুর্বল বলেছেন। দারাকুতনি বলেন: তাকে বর্জন করা হয়েছে, তারা তাকে ত্যাগ করেছেন। তিনি আরও বলেন: তিনি দুর্বল এবং তার হাদিস উদ্ধৃত করা হয়। আবুল হাসান আল-যিয়াদি বলেন: তিনি ১৭২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, আবার বলা হয় ১৭১ হিজরিতে, আর তার জন্ম ১১১ হিজরিতে। বুখারি বলেন: তাদের কাছে তিনি শক্তিশালী নন। নাসাঈ বলেন: দুর্বল। ইবনে সাঈদও একই কথা বলেছেন। ইজলি বলেন: সত্যবাদী। খতিব বলেন: তিনি একজন নেককার ও ধার্মিক ব্যক্তি ছিলেন। আবু দাউদ বলেন: আমি তার থেকে হাদিস বর্ণনা করি না। মারযুবানি বলেন, হিব্বান তার ভাই মানদালকে—যার নাম ছিল আমর—বলতেন:
হে আমর, আমাদের উদাসীনতা দেখে আমি বিস্মিত হই
… অথচ মৃত্যু প্রবলভাবে এগিয়ে আসছে
আমাদের দিকে দ্রুত ধাবমান
… যা আমাদের পথগুলো খুঁজে বের করে নেয়
যখন আমি আমার ভাইয়ের হারানোর কথা স্মরণ করি
… আমি বিছানায় অস্থিরতায় ছটফট করি
আমার ভাই, আমার ভাতিজা আমার ভাইয়ের মতোই
… সে প্রতিটি কল্যাণের কাজে অগ্রগামী ছিল
ইবনে কানি' বলেন: দুর্বল। ইবনে তাহিরও অনুরূপ বলেছেন।
দ্বিতীয়জন: ইয়াযিদ (১) ইবনে আবি যিয়াদ। তাকে নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বুখারি 'আল-আওসাত'-এ বলেছেন: ইবনে যিয়াদ বা ইবনে আবি যিয়াদ, যিনি যুহরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি মুনকারুল হাদিস। আবু মুহাম্মাদ ইবনে আবি হাতিম বিষয়টি অনুসরণ করে বলেন: আবু যুরআ বলেছেন যে, তিনি কেবল ইয়াযিদ ইবনে আবি যিয়াদ। আর আমি আমার পিতাকে তার মতোই বলতে শুনেছি—এখানেই সমাপ্ত। সুতরাং আমরা 'তারিখুল আওসাত' সম্পর্কে আগে যা উল্লেখ করেছি, তাতে তার ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই।/একইভাবে নাসাঈ ইবনে যিয়াদ এবং ইবনে আবি যিয়াদের মধ্যে পার্থক্য করেছেন এবং ইবনে যিয়াদ সম্পর্কে বলেছেন: হাদিস ত্যাজ্য (মাতরুকুল হাদিস)। আজুরি বলেন: আমি আবু দাউদকে ইবনে আবি যিয়াদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, আমি কাউকে জানি না যে তার হাদিস ত্যাগ করেছে, তবে অন্য কেউ আমার কাছে তার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়। ইবনে সাদ বলেন: তিনি ব্যক্তিগতভাবে নির্ভরযোগ্য ছিলেন, কিন্তু শেষ বয়সে তার স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল, ফলে তিনি অদ্ভুত সব বর্ণনা নিয়ে আসতেন। ইবনুল মাদিনি এবং ইবনে মাঈন বলেন: হাদিসে দুর্বল, আমরা তাকে দিয়ে দলিল পেশ করি না। ইবনুল মুবারক বলেন: তাকে ছুড়ে ফেলে দাও। আবু হাতিম আল-রাযি বলেন: হাদিসে দুর্বল, তার সব হাদিস বানোয়াট ও বাতিল। ইবনে হিব্বান বলেন: তিনি ছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
صدوفا إّلا انه لما كبر ساء حفظه وتغيّر، وكان يلقّن ما لقن فوقعت المناكير في
حديثه فسماع من سمع منه قبل التغيّر صحيح، وبنحوه ذكره الساجي، وذكر
ابن الجوزي يزيد بن زياد ويقال ابن أبي زياد ويقال أبو زياد اسمه، واسم ابنه:
ميسرة في ترجمة واحدة وبنحوه ذكره ابن سرور المقدسي وذكر أنّ مسلما
روى له وقال ابن نمير: ليس بشيء، وقال الترمذي: ضعيف في الحديث،
الثالث: عبد الله (1) بن محمد بن عقيل بن أبي طالب أبو محمد الهاشمي
المدني سمع جماعة من الصحابة، كان أحمد بن حنبل وإسحاق يحتجان
بحديثه، ولكن ليس بالمتين عنهما. قاله الحاكم، وقال ابن سعد: منكر
الحديث لا يحتج بحديثه، وكان كثبر العلم، ومات سنة خمس وأربعين ومائة.
وقال أبو معمر: كان ابن عيينة (2) لا يحمد حفظه، وقال ابن معين: ليس
بذاك، وفي رواية: ضعيف، وقال أبو حاتم: ليّن الحديث ليس ممن يحتج بحديثه
ونكتب حديثه، وهو أحب إلينا من تمام بن نجيج، وسئل عنه أبو زرعة فقال:
يختلف عليه في الأسانيد، وقال العجلي: جائز الحديث، وقال الترمذي:
صدوق لكن تكلّم فيه بعضهم من قبل حفظه، وقال الفسوي: صدوق وفي
حديثه ضعف، وقال ابن عدي: نكتب حديثه وقال ابن حبان: كان رديء
الحفظ يحدث على التوّهم فيجئ بالخبر على غير سننه فوجب مجانبة أخباره،
وأما الحاكم فإنه صحّح حديثه في مستدركه، وذكره أبو عبد الله البرقي في
كتاب الطبقات، في باب من ينسب إلى الضعف ممن يُكتب حديثه، وروى لنا
عن القطان أنه قال: عاصم عندي/نحو ابن عقيل في الضعف، الرابع: أبو
عبد الله بن محمد عقيل وهو مجهول لا يُعرف حاله، ولا نعرف بأي من
--------------------------------------------
সত্যবাদী ছিলেন, তবে যখন তিনি বৃদ্ধ হলেন তাঁর মুখস্থশক্তি লোপ পেল এবং তিনি পরিবর্তিত হয়ে গেলেন। তাঁকে যা শেখানো হতো তিনি তাই গ্রহণ করতেন, ফলে আপত্তিকর বর্ণনা প্রবেশ করে তাঁর
হাদিসে; সুতরাং তাঁর পরিবর্তনের আগে যারা তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন তাদের বর্ণনা সহিহ। সাজি-ও অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। ইবনুল
জাওজি ইয়াজিদ বিন যিয়াদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন—যাঁকে ইবনে আবি যিয়াদ বা আবু যিয়াদও বলা হয়—এবং তাঁর ছেলের নাম:
মাইসারা—একই জীবনীর অধীনে। ইবনে সুরূর আল-মাকদিসিও অনুরূপ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে ইমাম মুসলিম
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে নুমাইর বলেছেন: তিনি কিছুই নন। তিরমিজি বলেছেন: হাদিস বর্ণনায় তিনি দুর্বল।
তৃতীয়: আব্দুল্লাহ (১) বিন মুহাম্মাদ বিন আকিল বিন আবি তালিব আবু মুহাম্মাদ আল-হাশেমি
আল-মাদানি। তিনি সাহাবীদের একটি দলের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল এবং ইসহাক তাঁর হাদিস দ্বারা দলিল
গ্রহণ করতেন, কিন্তু তাঁদের নিকট তা সুদৃঢ় ছিল না। হাকেম এটি বলেছেন। ইবনে সাদ বলেছেন: তিনি মুনকারুল
হাদিস (পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী), তাঁর হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করা যাবে না। তিনি অনেক ইলমের অধিকারী ছিলেন এবং একশত পয়তাল্লিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
আবু মুয়াম্মার বলেছেন: ইবনে উইয়াইনাহ (২) তাঁর মুখস্থশক্তির প্রশংসা করতেন না। ইবনে মাঈন বলেছেন: তিনি
তেমন কিছু নন, অন্য বর্ণনায় এসেছে: দুর্বল। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি হাদিস বর্ণনায় শিথিল, তিনি এমন ব্যক্তি নন যাঁর হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করা যায়,
তবে আমরা তাঁর হাদিস লিপিবদ্ধ করি। তিনি আমাদের কাছে তাম্মাম বিন নাজীজ অপেক্ষা অধিক পছন্দনীয়। আবু যুরআহকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:
সনদের ক্ষেত্রে তাঁর বর্ণনায় ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। আজলি বলেছেন: তাঁর হাদিস গ্রহণযোগ্য (জায়েজ)। তিরমিজি বলেছেন:
তিনি সত্যবাদী, তবে তাঁর মুখস্থশক্তির কারণে কেউ কেউ তাঁর সমালোচনা করেছেন। ফাসাউয়ি বলেছেন: সত্যবাদী, তবে তাঁর
হাদিসে দুর্বলতা রয়েছে। ইবনে আদি বলেছেন: আমরা তাঁর হাদিস লিপিবদ্ধ করি। ইবনে হিব্বান বলেছেন: তাঁর মুখস্থশক্তি ছিল
অত্যন্ত খারাপ, তিনি অনুমানের ভিত্তিতে বর্ণনা করতেন, ফলে তিনি বর্ণনাকে তার সঠিক রূপের বাইরে নিয়ে আসতেন। তাই তাঁর বর্ণনাগুলো পরিহার করা ওয়াজিব।
পক্ষান্তরে হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে তাঁর হাদিসকে সহিহ বলেছেন। আবু আব্দুল্লাহ আল-বারকি 'কিতাবুত তাবাকাত'-এ তাঁকে
সেই অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যারা দুর্বলতার দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও যাদের হাদিস লিপিবদ্ধ করা হয়। আল-কাত্তান থেকে আমাদের কাছে
বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: আসিম আমার নিকট দুর্বলতার ক্ষেত্রে ইবনে আকিলের সমতুল্য। চতুর্থ: আবু
আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আকিল; তিনি মাজহুল (অপরিচিত), তাঁর অবস্থা জানা নেই এবং আমরা জানি না কোনটি দ্বারা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
روايته عن أبيه ورواية ابنه عنه والله أعلم، ومع هذا فباعتبار مجموع
الأحاديث المتقدّمة يكون حسنا؛ لما أسلفناه من الاختلاف في حال إسناده،
وفيه زيادة على ما قاله الترمذي: أنّ حديث سفينة في الباب المتقدّم عن عائشة
وجابر وأنس بن مالك، وأغفل أيضَا حديث أم سلمة من رواية الحسن عن أمه
عنها. ذكره الطبراني في الأوسط، وقال: لم يروه عن أشعث بن عبد المالك-
يعني عن الحسن- إلا سيف بن محمد. تفرد به جمهور بن منصور،
وحديث أنس عند البخاري:"يغتسل بالصاع إلى خمسة أمداد ويتوضأ بالمدّ"
وحديث ابن عباس من عنده أيضا مرفوعا:"يجزئ في الوضوء مد وفي
الغسل صاع" (1) .
وقال: لم يروه غير حصين عن عكرمة عنه إلا عبد العزيز بن عبد الرحمن
الباسلي. تفرّد به، وذكره أبو الحسن الدارقطني في كتابه الأفراد من حديث
إسرائيل عن مسلم الأعور عن مجاهد وإسناده عالي. تفرّد إسرائيل به،
وحديث أبي عمارة عن أبي داود"يرفعه قدر ثلثي المد" وإسناده صحيح،
وحديث زينب بنت أبي سلمة سمعناه. ذكره القشيري، وحديث أبي أمامة.
ذكره الطبراني في المعجم الكبير وابن عدي في الكامل من حديث الصلت بن
دينار عن شهر بن حوشب، وضعفه بهما، وخرجه ابن أبي سعيد مرفوعَا من
مسند ابن أبي أسامة من حديث عطية عنه، وكان الشافعي وأحمد يقولان:
ليس معنى هذا الحديث على الترتيب أنه لا يجوز أكثر منه ولا أقل منه؛ بل
هو قدر ما يكفي، والله أعلم:"لا يقبل الله صلاة بغير طهور" (2) نا
محمد بن بشار، نا يحيى بن سعيد، نا محمد بن جعفر ح، ونا بكر بن خلف
أبو بشر ختر المقري، نا يزيد بن بريع بالراء، نا شعبة عن قتادة عن أبي المليح بن
أسامة عن ابنه أسامة عن عمير الهذلي قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لا يقبل الله
--------------------------------------------
তার পিতার পক্ষ থেকে তার বর্ণনা এবং তার পক্ষ থেকে তার পুত্রের বর্ণনা সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। তা সত্ত্বেও, পূর্ববর্তী
হাদীসগুলোর সামগ্রিক বিবেচনায় এটি 'হাসান' (সুন্দর) হবে; কারণ আমরা ইতিপূর্বে এর সনদের অবস্থা নিয়ে মতভেদের কথা উল্লেখ করেছি,
এবং ইমাম তিরমিযী যা বলেছেন তার ওপর এতে অতিরিক্ত তথ্য রয়েছে যে: পূর্ববর্তী অধ্যায়ে আয়েশা,
জাবির এবং আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর সূত্রে সাফিনাহ বর্ণিত হাদীসটি রয়েছে। তিনি হাসান কর্তৃক তার মা থেকে এবং তার মা উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে
বর্ণিত হাদীসটির ব্যাপারেও উদাসীন ছিলেন। তাবারানী তাঁর 'আল-আওসাত' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আশআস ইবনে আব্দুল মালিক থেকে—
অর্থাৎ হাসান থেকে—সাইফ ইবনে মুহাম্মদ ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি। জুমহুর ইবনে মানসুর এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন,
আর বুখারীতে বর্ণিত আনাস (রা.)-এর হাদীস: "তিনি এক সা' থেকে পাঁচ মুদ পর্যন্ত পানিতে গোসল করতেন এবং এক মুদ পানিতে ওজু করতেন।"
এবং তাঁর (বুখারীর) নিকট ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মারফূ হাদীসও রয়েছে: "ওজুর জন্য এক মুদ এবং
গোসলের জন্য এক সা' যথেষ্ট।" (১)।
তিনি বলেছেন: ইকরামা থেকে হুসাইন ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি, কেবল আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুর রহমান
আল-বাসিলী ছাড়া। তিনি এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আবুল হাসান আদ-দারাকুতনী তাঁর 'আল-আফরাদ' কিতাবে ইসরাঈলের
সূত্রে মুসলিম আল-আওয়ার থেকে এবং তিনি মুজাহিদ থেকে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, যার সনদ অত্যন্ত উঁচুমানের। ইসরাঈল এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন,
আবু দাউদে আবু আমারা বর্ণিত হাদীসটি রয়েছে: "তিনি একে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন (তা হলো) দুই-তৃতীয়াংশ মুদ পরিমাণ।" এর সনদ সহীহ,
আর জয়নাব বিনতে আবু সালামাহর হাদীসটি আমরা শুনেছি। এটি কুশাইরী উল্লেখ করেছেন। আর আবু উমামাহর হাদীসও রয়েছে।
তাবারানী তাঁর 'আল-মু'জামুল কাবীর' এবং ইবনে আদী 'আল-কামিল' গ্রন্থে সলত ইবনে
দীনারের সূত্রে শাহর ইবনে হাওশাব থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং উভয় কিতাবে তাকে দুর্বল বলা হয়েছে। ইবনে আবি সাঈদ এটি মারফূ হিসেবে
ইবনে আবি উসামার মুসনাদে আতিয়্যাহর সূত্রে তার থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম শাফেয়ী এবং আহমাদ বলতেন:
এই হাদীসের অর্থ এমন কঠোর কোনো নিয়ম নয় যে এর চেয়ে বেশি বা কম জায়েয হবে না; বরং
এটি হলো যতটুকু প্রয়োজন সেই পরিমাণ। আল্লাহই ভালো জানেন। হাদীসটি হলো: "আল্লাহ পবিত্রতা ছাড়া কোনো নামাজ কবুল করেন না।" (২) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর (হ), এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বকর ইবনে খালাফ
আবু বিশর খাতর আল-মুকরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াযীদ ইবনে বুরাই' (রা বর্ণসহ), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বাহ, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবুল মালীহ ইবনে
উসামাহ থেকে, তিনি তার পুত্র উসামাহ থেকে, তিনি উমাইর আল-হুযালী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কবুল করেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
صلاة من غير طهور، ولا يقبل صدقة من غلول"نا أبو بكر بن أبي شيبة، نا
عبيد بن سعيد وسرابة بن سوار عن شعبة نحوه في مسند أبي داود الطيالسي،
ثنا/شعبة عن قتادة قال أبا المليح يحدث عن أبيه فذكره. هذا حديث صحيح
خرجه ابن حبان (1) في كتابه من جهة قتادة، وقال البغوي فيما رويناه عنه
في شرح السنة: هذا حديث صحيح ألزم الدارقطني الشيخين إخراجه، وخرّجه
الإسفرايني في صحيحه في كتاب البيهقي أن الله لا يقبل. وأبو المليح اسمه:
عامر بن أسامة بن عمير بن عباس بن أقيش، واسمه عمِر خرجا حديثه في
صحيحيهما، قال ابن شعبة: توفى سنة ثنتي عشرة ومائة، وقال الفلاس: توفى
سنة ثمان وتسعين. ذكر مسلم في كتاب الوحدات والعسكري والطبري في
المزيل: أنه لم يرد عن أبيه غيره، وكذلك قال ابن بنت منيع في معاوية وابن
عبد البر، نا على بن محمد، نا وكيع، نا إسرائيل عن سماك ح، وحدّثنا
محمد بن يحيى، نا وهب بن جرير، نا شعبة عن سماك بن جرير عن
مصعب بن سعد عن ابن عمر قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " لا يقبل الله صلاة إلا
بطهور، ولا صدقة من غلول" في كتاب مسلم عن سماك عن مصعب: دخل
ابن عمر على ابن عباس- يعني عبد الله- يعوده وهو مريض فقال: ألا تدعو
الله لي يا ابن عمر فقال لي: سمعت النبي- عليه السلام يقول: فذكره،
وفي آخره وكنت على البصرة، وفي صحيح ابن خزيمة عنه: فجعلوا يبنون عليه
وابن عمر ساكت، فقال: أما إني لست باعثهم لك ولكن النبي- عليه
السلام- قال: فذكره، ولما ذكره الترمذي قال: هذا الحديث أصح شيء في
هذا الباب وأحسن شيء ذكره أبو القاسم، في الأوسط من حديث مندل عن
عبد الله بن عمر عن نافع عنه بلفظ: " لا إيمان لمن لا أمانة له، ولا صلاة
لمن لا طهور له، ولا دين لمن لا صلاة له، وإنما موضع الصلاة من الدين
كموضع الدائر من الحد " (2) لم يروه عن ابن عمر إّلا مندل، ولا عن مندل
--------------------------------------------
পবিত্রতা ব্যতীত কোনো সালাত নেই এবং আত্মসাৎকৃত মালের দান কবুল করা হবে না। আবু বকর বিন আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
উবাইদ বিন সাঈদ এবং সারাবাহ বিন সাওয়ার, তাঁরা শু'বাহ থেকে অনুরুপভাবে আবু দাউদ আত-তায়ালিসির মুসনাদে বর্ণনা করেছেন,
শু'বাহ আমাদের নিকট কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে আবুল মালিহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন। এটি একটি সহিহ হাদিস
ইবনে হিব্বান (১) এটি তাঁর কিতাবে কাতাদাহ-এর সূত্র থেকে সংকলন করেছেন এবং আল-বাগাউয়ি তাঁর থেকে আমাদের বর্ণিত
'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে বলেছেন: এটি একটি সহিহ হাদিস, আদ-দারাকুতনি শায়খদ্বয়কে (বুখারি ও মুসলিম) এটি বের করতে আবশ্যক করেছেন (তাদের শর্তানুযায়ী), এবং এটি সংকলন করেছেন
আল-ইসফরাইনি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আল-বায়হাকির কিতাবে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ কবুল করেন না। আর আবুল মালিহ-এর নাম হলো:
আমির বিন উসামাহ বিন উমাইর বিন আব্বাস বিন আকিশ, আর তাঁর (পিতার) নাম উমাইর; তাঁরা উভয়ে (বুখারি ও মুসলিম) তাঁদের সহিহদ্বয়ে তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন,
ইবনে শু'বাহ বলেন: তিনি ১১২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং আল-ফাল্লাস বলেন: তিনি
৯৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। মুসলিম তাঁর 'কিতাবুল ওয়াহদাত' গ্রন্থে এবং আল-আসকারি ও আত-তবারি
'আল-মুজিল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: যে তাঁর পিতা থেকে তিনি ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি, অনুরুপভাবে ইবনে বিনতে মানি' মুয়াবিয়াহ সম্পর্কে এবং ইবনে
আব্দুল বাররও একই কথা বলেছেন। আলী বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসরাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সিমাক থেকে (হ), এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া, ওয়াহাব বিন জারির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সিমাক বিন হারব থেকে, তিনি
মুসআব বিন সাদ থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "পবিত্রতা ব্যতীত আল্লাহ কোনো সালাত কবুল করেন না,
এবং আত্মসাৎকৃত মালের দানও গ্রহণ করেন না।" মুসলিম-এর কিতাবে সিমাক থেকে মুসআব-এর সূত্রে বর্ণিত: ইবনে
উমর ইবনে আব্বাসের—অর্থাৎ আব্দুল্লাহর—কাছে গেলেন তাঁর অসুস্থাবস্থায় তাঁকে দেখতে। তখন তিনি বললেন: আপনি কি আমার জন্য আল্লাহর কাছে
দোয়া করবেন না হে ইবনে উমর? তখন তিনি আমাকে বললেন: আমি নবী (আলাইহিস সালাম)-কে বলতে শুনেছি—অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করলেন,
এবং এর শেষাংশে রয়েছে: "আর আমি বসরার দায়িত্বে ছিলাম।" এবং সহিহ ইবনে খুজাইমায় তাঁর থেকে বর্ণিত: তারা তাঁর প্রশংসা করতে শুরু করল
আর ইবনে উমর চুপ ছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: শোনো, আমি তাদের তোমার কাছে প্রেরণকারী নই, কিন্তু নবী (আলাইহিস
সালাম) বলেছেন—অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করলেন। আর তিরমিজি যখন এটি উল্লেখ করেন তখন তিনি বলেন: এই অধ্যায়ে এই হাদিসটিই
সবচেয়ে সহিহ এবং সবচেয়ে সুন্দর। আবু কাসিম এটি উল্লেখ করেছেন 'আল-আওসাত' গ্রন্থে মানদাল-এর হাদিস থেকে, তিনি
আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে এবং তিনি নাফে' থেকে তাঁর সূত্রে এই শব্দে: "যার আমানতদারি নেই তার ইমান নেই, যার পবিত্রতা
নেই তার সালাত নেই এবং যার সালাত নেই তার দ্বীন নেই; আর দ্বীনের মধ্যে সালাতের অবস্থান হলো সীমানার মাঝে বৃত্তের অবস্থানের ন্যায়" (২) ইবনে উমর থেকে এটি কেবল মানদাল বর্ণনা করেছেন, আর মানদাল থেকে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
إّلا حسن أبو زهير عن محمد بن إسحاق عن يزيد بن أني حبيب عن سنان بن
سعد عن أنس بن مالك سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:"لا يقبل الله/صلاة
بغير طهور، ولا صدقة من غلول"وهذا حديث أخرجه أبو عوانة (1) في
صحيحه، من حديث سهل بن أبي سهل واسمه، زنجلة، روى عنه جماعة،
وقال أبو حاتم: صدوق وأبو زهير بن عبد الرحمن بن مغر بن الحرث بن
عبد الله بن وهب الكوفي قاضي الأردن، سئل عنه وكيع فقال: طلب الحديث
قبلنا وبعدنا. وكان أبو خالد الأحمر يحسن إلينا عليه، وقال أبو زرعة:
صدوق، وتكلّم ابن المديني في روايته عن الأعمش وسنان بن سعد لما ذكره
ابن حبان في كتاب الثقات قال: حدّث عنه المصريون وهم يختلفون فيه،
فيقولون سنان بن سعد وسعد بن سنان، وأرجو أن يكون سنان بن سعد، وقد
اعتبرت حديثه فرأيت ما روى عن سنان بن سعد يشبه أحاديث الثقات ما
روى عن سعد بن سنان فيه المناكير، فكأنهما- والله أعلم- اثنان، وصحح
البخاري قول من قال سنان وكذلك ابن يونس وسئل عنه ابن معين فقال:
ثقة، وكذلك قاله الدارقطني. قال النسائي في كتاب التمييز: ضعيف وبنحوه
قال الإِمام أحمد.
وقال أبو داود: قلت لأحمد بن صالح: سنان بن سعد سمع أنسا! فغضب
من إجلاله له، وقال العجلي: سعد بن سنان مصري تابعي ثقة نا محمد بن
عقيل نا الخليل بن زكريا، نا هشام بن حسان عن الحسن عن أبي بكرة، نا
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:"لا يقبل الله صلاة بغير طهور، ولا صدقة من غلول"
هذا حديث قال ابن عدي: رواه الخليل بن زكريا عن هشام عن الحسن، ورواه
عن الحسن أيضا المنهال بن حسن وبه يعرف، والخليل أضعف من منهال،
وذكره في باب محمد بن عبد العزيز الزبيري عن منهال وقال: هذا بهذا
الإِسناد باطل فذكر محمد عن منهال، ورواه الخليل، والمنهال خير من الخليل،
--------------------------------------------
হাসান আবু জুহাইর মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে, তিনি সিনান বিন
সাদ থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "পবিত্রতা ব্যতীত আল্লাহ কোনো সালাত
কবুল করেন না এবং আত্মসাৎকৃত মালের দানও গ্রহণ করেন না।" এই হাদিসটি আবু আওয়ানা (১) তাঁর
সহিহ গ্রন্থে সাহল বিন আবি সাহল থেকে সংকলন করেছেন, তাঁর নাম হলো জাঞ্জালাহ। তাঁর থেকে একদল রাবী হাদিস বর্ণনা করেছেন।
আবু হাতিম বলেছেন: তিনি সত্যবাদী (সাদুক)। আর আবু জুহাইর বিন আবদুর রহমান বিন মুগির বিন হারিস বিন
আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব আল-কুফি, যিনি জর্ডানের বিচারক ছিলেন। ওয়াকি ইবনুল জাররাহকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তিনি আমাদের
পূর্বে এবং আমাদের পরেও হাদিস অন্বেষণ করেছেন। আবু খালিদ আল-আহমার আমাদের নিকট তাঁর প্রশংসা করতেন। আবু জুরআহ বলেছেন:
তিনি সত্যবাদী (সাদুক)। ইবনুল মাদিনী আল-আ'মাশ থেকে তাঁর বর্ণনার ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন। সিনান বিন সাদ সম্পর্কে ইবনে হিব্বান যখন
কিতাবুস সিকাতে (নির্ভরযোগ্য রাবীদের জীবনী গ্রন্থে) উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি বলেছেন: মিশরীয়রা তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা তাঁর ব্যাপারে মতভেদ করেছেন।
তাঁরা বলেন সিনান বিন সাদ এবং সাদ বিন সিনান। আমি আশা করি তিনি সিনান বিন সাদ। আমি
তাঁর বর্ণিত হাদিস পর্যবেক্ষণ করেছি এবং দেখেছি যে, সিনান বিন সাদ হিসেবে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা নির্ভরযোগ্য রাবীদের হাদিসের অনুরূপ,
আর সাদ বিন সিনান হিসেবে যা বর্ণিত হয়েছে তাতে প্রত্যাখ্যাত (মুনকার) বিষয় রয়েছে। সুতরাং মনে হচ্ছে—আল্লাহই ভালো জানেন—তাঁরা দুইজন পৃথক ব্যক্তি। ইমাম
বুখারি তাঁদের কথাকে সঠিক বলেছেন যারা 'সিনান' বলেছেন, তেমনিভাবে ইবনে ইউনুসও। ইবনে মাঈনকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:
নির্ভরযোগ্য (সিকা)। আদ-দারাকুতনিও অনুরূপ বলেছেন। ইমাম নাসায়ি কিতাবুত তামিইজ-এ বলেছেন: তিনি দুর্বল (যয়ীফ), এবং ইমাম আহমদও অনুরূপ
বলেছেন।
আবু দাউদ বলেন: আমি আহমদ বিন সালিহকে বললাম: সিনান বিন সাদ কি আনাস (রা.) থেকে শুনেছেন? তখন তিনি
তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে রাগান্বিত হলেন। আল-ইজলি বলেছেন: সাদ বিন সিনান একজন মিশরীয় তাবেয়ি এবং নির্ভরযোগ্য (সিকা)। আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন
আকিল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট খলিল বিন জাকারিয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হিশাম বিন হাসসান বর্ণনা করেছেন হাসান থেকে, তিনি আবু বাকরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পবিত্রতা ব্যতীত আল্লাহ কোনো সালাত কবুল করেন না এবং আত্মসাৎকৃত মালের দানও গ্রহণ করেন না।"
এই হাদিসটি সম্পর্কে ইবনে আদি বলেছেন: এটি খলিল বিন জাকারিয়া হিশাম থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন। হাসান থেকে এটি
মিনহাল বিন হাসানও বর্ণনা করেছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি পরিচিত। খলিল মিনহালের চেয়েও বেশি দুর্বল।
তিনি মুহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আয-যুবাইরির আলোচনায় মিনহালের সূত্রে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এই সনদে এটি বাতিল (বাতিল)। অতঃপর তিনি মিনহালের সূত্রে মুহাম্মদ থেকে এটি উল্লেখ করেন। খলিল এটি বর্ণনা করেছেন, তবে মিনহাল খলিলের চেয়ে উত্তম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ولما ذكره أبو نعيم في كتابه فقال: هذا حديث مشهور (1) لا يعرف الأمر
حديث ابن عقيل بهذا اللفظ من حديث علي. انتهى.
وهو معلَل بأشياء منها: محمد بن عقيل، وإن كان الحاكم قال فيه: هو
من الثقات مات سنة سبع وخمسين ومائتين، فقد ذكر أنه أنكر عليه حديثان،
والخليل وإن قال فيه جعفر/الصائغ (2) : كان ثقة مأمونا، فقد كذبه القاسم بن
زكريا: وقال ابن عدي: عامة أحاديثه مناكير، وقال العقيلي: يحدث
بالبواطيل، وقال أبو الفتح الأزدي: متروك الحديث، وسماع الحسن بن أبي
بكرة مختلف فيه، فمن أنكره أبو الحسن الدارقطني قال: هو عن أبي بكرة
مرسل لم يسمع منه، ذكره في سؤالات الحاكم له، وفي صحيح البخاري في
كتاب الفتن، قال الحسن: ولقد سمعت أبا بكرة يقول: فذكر حديثا وفي
كتاب الصلح أيضا قال: سمعت أبا بكرة يقول: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول:
"إن ابني هذا سيد وسيصلح اللَه به بين فئتين عظيمتين من المسلمين" (3) قال
أبو عبد اللَه: قال ابن المديني: إنما يثبت لنا سماع الحسن من أبي بكرة بهذا
الحديث، وفي كتاب ابن بطال: وزعم الداودي أنّ راوي هذا عن أبي بكرة
--------------------------------------------
যখন আবু নুয়াইম এটিকে তার কিতাবে উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি বলেছেন: এটি একটি মশহুর (বিখ্যাত) হাদিস (১), আলীর হাদিস থেকে ইবনে আকীলের এই শব্দে বিষয়টি পরিচিত নয়। সমাপ্ত।
আর এটি বেশ কিছু কারণে ত্রুটিপূর্ণ (মুআল্লাল), যার মধ্যে রয়েছে: মুহাম্মদ বিন আকীল; যদিও হাকিম তার সম্পর্কে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত এবং দুইশত সাতান্ন হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন, তবে এটি উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার বর্ণিত দুটি হাদিসকে অস্বীকার করা হয়েছে।
এবং খলিল; যদিও জাফর আস-সায়িগ (২) তার সম্পর্কে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার ছিলেন, তবে কাসেম বিন জাকারিয়া তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।
এবং ইবনে আদি বলেছেন: তার অধিকাংশ হাদিসই মুনকার (অস্বীকৃত), উকায়লি বলেছেন: তিনি বাতিল (ভিত্তিহীন) হাদিস বর্ণনা করেন, এবং আবু ফাতহ আল-আজদি বলেছেন: তিনি হাদিস বর্ণনায় পরিত্যক্ত (মাতরুক)। আর হাসান বিন আবি বকরার শ্রবণের (সামা') ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। যারা এটি অস্বীকার করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি; তিনি বলেছেন: এটি আবু বকরা থেকে মুরসাল (বিচ্ছিন্ন), তিনি তার থেকে শোনেননি। হাকিম তাকে যে প্রশ্নগুলো করেছিলেন তাতে তিনি এটি উল্লেখ করেছেন। আর সহিহ বুখারির ফিতনা অধ্যায়ে হাসান বলেছেন: আমি আবু বকরাকে বলতে শুনেছি... অতঃপর তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করেন। এবং সন্ধি অধ্যায়েও তিনি বলেছেন: আমি আবু বকরাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
"আমার এই সন্তান একজন নেতা, শীঘ্রই আল্লাহ তার মাধ্যমে মুসলিমদের দুটি বিশাল দলের মধ্যে সন্ধি করিয়ে দেবেন।" (৩) আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম বুখারি) বলেছেন:
ইবনে আল-মাদিনি বলেছেন: হাসান আবু বকরার কাছ থেকে শুনেছেন বলে আমাদের কাছে কেবল এই হাদিসটির মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়েছে। এবং ইবনে বাত্তালের কিতাবে রয়েছে: দাউদি দাবি করেছেন যে, আবু বকরা থেকে এর বর্ণনাকারী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إنما هو الحسن بن علي ابن أبي طالب- رضى الله عنهم- وفي كتاب
المراسيل لابن أبي حاتم: عن بهز سمع الحسن من أبي بكرة شيئا قال: لا، قال
الباجي في إسناد رجال البخاري: أخرج البخاري حديثا فيه، قال الحسن:
سمعت أبا بكرة فأولّه الدارقطني وغيره من الحفاظ على أنه الحسن بن علي؛
لأن الحسن البصري عندهم لم يسمع من أبي بكرة، ولما ذكره الحاكم في
التاريخ رواه عن محمد بن علي بن عمر بن محمد بن عقيل، نا الخليل به،
وزاد بعد قوله:"ولا صدقة من غلول، وابدأ بمن تعول"وفيه ردّ لما قاله
الترمذي وزيادة علَّته وكذا حديث عمران بن حصين قال: قال عليه الصلاة
والسلام:"لا يقبل الله صلاة بغير طهور، ولا صدقة من غلول"رواه
الحاكم في تاريخ بلده عن أبي الفضل محمد بن أحمد القاضي، نا أبو سعيد
عبد الرحمن بن الحسين، نا أحمد بن عبيد الله، نا زيد بن حباب عن شعبة
عن قتادة عن أبي البرار عنه، وحدّث علي نحوه، ذكره ابن أبي عروة في
مسنده، وحديث أبي هريرة الذي أشار إليه، ذكره الحافظ أبو بكر بن حزم-
رحمه الله تعالى- فيما رويناه عنه في صحيحه فقال: نا ابن عمار الحسين بن
حريث، نا عبد العزيز بن أبي حازم عن كثير وهو زيد- عن الوليد- وهو
ابن رباح- عن أبي هريرة، فذكره، ولما ذكر ابن عدي هذا الحديث من جهة
ابن سلمة وابن سيرين قال: لا أعلم مربعه إلَّا/غسّان بن عبيد الموصلي،
ورواه عثمان بن أبي حنيفة مرفوعا، وغيرهما أوقفه، وهذا بهذا الإِسناد باطل.
انتهى. وما أسلفناه من عند ابن حرمة يرد قوله، ولما ذكره الطبراني في
الأوسط قال: لم يروه عن الأعمش يعني عن أبي مسافع عنه إلا أبو مريم وابن
فضل وابن عاصم، وأغفل أيضا حديث جابر بن عبد الله، ذكره الطبراني في
المعجم الأوسط من حديث سليمان بن قدم عن أبي يحيى القتات عن مجاهد
عنه مرفوعا، نا المصري الصالح موسى الحنفي الكردي- رحمه الله أبو نصر
نا زنجويه نا محمد بن أسلم، نا يعلي بن عبيد، نا يحيى بن عبيد الله عن أبيه
عن أبي هريرة، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:"لا يقبل الله صلاة بغير طهور، ولا
صدقة من غلول"ورواه ابن المنذر في كتاب الإقناع عن الربيع أنبأ ابن
وهب، أخبرني سليمان بن بلال، أخبرني ابن عبد اللَه بن عمير عنه وحدّثه أبو
নিশ্চয়ই তিনি হলেন হাসান বিন আলী বিন আবি তালিব - আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন - এবং ইবনে আবি হাতিমের 'কিতাবুল
মারাসিল'-এ বর্ণিত হয়েছে: বাহয থেকে বর্ণিত যে, হাসান কি আবু বাকরা থেকে কিছু শুনেছেন? তিনি বললেন: না। আল-বাজি
বুখারীর বর্ণনাকারীদের সনদে বলেছেন: বুখারী একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যাতে হাসান বলেছেন: 'আমি
আবু বাকরা থেকে শুনেছি।' তখন দারা কুতনী এবং অন্যান্য হাফেজগণ এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, তিনি হলেন হাসান বিন আলী;
কারণ তাদের মতে হাসান বসরী আবু বাকরা থেকে কিছু শোনেননি। আর হাকেম যখন
'তারিখ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, তিনি এটি মুহাম্মাদ বিন আলী বিন উমর বিন মুহাম্মাদ বিন আকীল থেকে বর্ণনা করেছেন, আল-খলীল আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন,
এবং তার বক্তব্যের পরে অতিরিক্ত যোগ করেছেন: "এবং খিয়ানতের মালের কোনো সাদাকাহ নেই, আর যাদের ভরণপোষণ তোমার দায়িত্বে তাদের দিয়ে শুরু করো।" এতে তিরমিযী যা বলেছেন তার খণ্ডন
এবং এর ত্রুটির অতিরিক্ত বিবরণ রয়েছে। একইভাবে ইমরান বিন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাদিস, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পবিত্রতা ব্যতীত আল্লাহ কোনো সালাত কবুল করেন না এবং খিয়ানতের মালের কোনো সাদাকাহ গ্রহণ করেন না।" এটি বর্ণনা করেছেন
হাকেম তাঁর দেশের ইতিহাস গ্রন্থে আবু ফজল মুহাম্মাদ বিন আহমদ আল-কাদি থেকে, আবু সাঈদ
আব্দুর রহমান বিন আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন উবায়দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়েদ বিন হুবাব আমাদের নিকট শু'বা থেকে,
তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবুল বাররার থেকে, তিনি ইমরান থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং আলীও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি আরওয়াহ এটি তাঁর
মুসনাদে উল্লেখ করেছেন। আর আবু হুরায়রার হাদিসটি যার দিকে তিনি ইশারা করেছেন, হাফেজ আবু বকর বিন হাযম -
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন - তাঁর সহীহ গ্রন্থে আমরা তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছি তাতে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: ইবনে আম্মার আল-হুসাইন বিন
হুরাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আজিজ বিন আবি হাযিম আমাদের নিকট কাসীর (যিনি যায়েদ) থেকে - তিনি ওয়ালিদ থেকে - (যিনি
ইবনে রাবাহ) - তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন। আর ইবনে আদি যখন ইবনে সালামাহ
এবং ইবনে সিরীনের সূত্রে এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি গাসসান বিন উবাইদ আল-মাওসিলি ব্যতীত এর চতুর্থ বর্ণনাকারী জানি না।
উসমান বিন আবি হানিফা এটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং অন্যরা এটিকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর এই সনদে এটি বাতিল।
সমাপ্ত। এবং ইবনে হুরমাহ থেকে আমরা যা পূর্বে উল্লেখ করেছি তা তাঁর বক্তব্যকে খণ্ডন করে। আর তাবারানী যখন
'আল-আওসাত' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: এটি আ'মাশ থেকে অর্থাৎ আবু মুসাফি'র সূত্রে তাঁর থেকে আবু মারিয়াম, ইবনে
ফজল এবং ইবনে আসিম ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি। তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহর হাদিসটিও উপেক্ষা করেছেন, যা তাবারানী
'আল-মুজামুল আওসাত'-এ সুলায়মান বিন কদাম থেকে, তিনি আবু ইয়াহইয়া আল-কাততাত থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে,
তিনি জাবির থেকে মারফু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নেককার মিসরীয় আবু নাসর মুসা আল-হানাফী আল-কুর্দি - আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন -
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যানজুয়াহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন আসলাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়া'লা বিন উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন উবায়দুল্লাহ তাঁর পিতা থেকে,
তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পবিত্রতা ব্যতীত আল্লাহ কোনো সালাত কবুল করেন না এবং
খিয়ানতের মালের কোনো সাদাকাহ গ্রহণ করেন না।" এবং ইবনে মুনযির এটি তাঁর 'কিতাবুল ইকনা'-তে রাবী' থেকে বর্ণনা করেছেন যে ইবনে
ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুলায়মান বিন বিলাল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে আব্দুল্লাহ বিন উমাইর আমাকে তাঁর থেকে সংবাদ দিয়েছেন এবং আবু... তাঁকে হাদিসটি শুনিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
عوانة في صحيحه، وحديث أبي سعيد الخدري مرفوعَا:"لا يقبل الله صدقة
من غلول، ولا صلاة بغير طهور"ورواه الأسفرايني في صحيحه وأبو القاسم
في الأوسط من حديث مكحول عن رجاء بن حيوة عنه وقال: لم يروه عن
مكحول إلا محمد بن سليمان بن أني داود، تفرد به محمد بن عبيد الله بن
يزيد القردواني عن أبيه، ورواه ابن أبي أسد في مسنده عن محمد بن فضيل
عن أبي سُفيان السعدي عن أبي نضرة عنه ولفظه:"مفتاح الصلاة الطهور،
وتحريمها التكبير، وتحليلها التسليم" (1) ، وفي كل ركعتين تسليمة، ولا صلاة
لكل من لم يقرأ في كل ركعة بالحمد وسورة في الفريضة وغيرها، وحديث
أبي بكر الصديق، قال عليه السلام:"لا يقبل الله صدقة من غلول، ولا
صلاة بغير طهور، وابدأ بمن تعول"ذكره أبو عوانة في صحيحه، وحديث
عبد الله بن عباس ذكره أيضا من حديث نافع مولى يوسف السلمي عن عطاء
بن عباس يرفعه، وقال: لم يروه عن عطاء غير نافع، ولا عن نافع إّلا سعيد أنّ
ابن يحيى تفرد به سليمان بن عبد الرحمن ولا يروى عن ابن عباس إّلا بهذا
الإِسناد. انتهى كلامه، وفيه نظر لما ذكره الحاكم في تاريخ بلده أبو بكر
الجوزي، نا إبراهيم بن محمد بن يزيد السكري، نا عبد العزيز بن زينب
المروذي، نا إسحاق بن عبد الله بن أبان عن عكرمة فذكره، ولما ذكره ابن
أبي شيبة أيضا في مصنفه في ابن خالد الأحمر عن ابن كرب عن أبيه عن
ابن عباس/مرفوعا، وحديث الزبير بن العوام عنده أيضا وقال: لم يروه عن
الليث بن سعد، يعني عن هشام عن أبيه عن الزبير إلا أبو قتادة الحراني ولا
يروى عن الزبير إلا بهذا الإِسناد، وقال القزاز: سمى بذلك لأن الرجل كان
إذا أخذ منه شيئَا ستره في متاعه، فقيل للخائن: غال ومغل من هذا يعني
قوله على الماء والسيل: يغل غللا وغلولا إذا جرى من الشجر، وغللت الشيء
--------------------------------------------
আবু আওয়ানা তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং আবু সাঈদ আল-খুদরী বর্ণিত মারফূ হাদিস হলো: "আল্লাহ খিয়ানতের সম্পদ থেকে দান গ্রহণ করেন না এবং পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল করেন না।"
আল-ইসফারায়িনী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং আবু কাসিম আল-আওসাত গ্রন্থে মাকহূল থেকে, তিনি রাজা ইবনে হাইওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর (আবু সাঈদ) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: মাকহূল থেকে এটি
মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান ইবনে আবি দাউদ ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি; মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ আল-কারদুওয়ানী তাঁর পিতা থেকে এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এবং ইবনে আবি আসাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনে ফুদাইল
থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান আস-সাদী থেকে, তিনি আবু নাদরা থেকে, তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দসমূহ হলো: "সালাতের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা,
এর তাহরীম (শুরু) হলো তাকবীর এবং এর তাহলীল (সমাপ্তি) হলো তাসলিম।" (১) এবং প্রতি দুই রাকাআতে সালাম রয়েছে; আর যে ব্যক্তি ফরয বা অন্য যেকোনো সালাতের প্রতি রাকাআতে আল-হামদু (সূরা ফাতিহা) ও একটি সূরা পাঠ করবে না, তার সালাত হবে না। এবং
আবু বকর আস-সিদ্দীক বর্ণিত হাদিস, তিনি (সালাম) বলেছেন: "আল্লাহ খিয়ানতের সম্পদ থেকে দান গ্রহণ করেন না এবং
পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল করেন না। আর তুমি যাদের ভরণপোষণ করো তাদের থেকে শুরু করো।" আবু আওয়ানা এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এবং
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বর্ণিত হাদিসটিও তিনি ইউসুফ আস-সুলামীর মুক্তদাস নাফি-এর বর্ণনা থেকে উল্লেখ করেছেন, যা তিনি আতা ইবনে আব্বাস থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: আতা থেকে নাফি ছাড়া কেউ এটি বর্ণনা করেননি, আর নাফি থেকে সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া ছাড়া কেউ এটি বর্ণনা করেননি যে,
সুলাইমান ইবনে আবদুর রহমান এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে আব্বাস থেকে এই সনদ ছাড়া এটি বর্ণিত হয়নি। তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত হলো, তবে এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে কারণ হাকেম তাঁর শহরের ইতিহাসে যা উল্লেখ করেছেন: আবু বকর
আল-জাওযী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ আস-সুককারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল আযীয ইবনে যায়নাব আল-মারওয়াযী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবান, ইকরিমাহ থেকে, অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন। এবং ইবনে
আবি শায়বাও তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে ইবনে খালিদ আল-আহমার থেকে, তিনি ইবনে কারব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে মারফূ হিসেবে যা বর্ণনা করেছেন। এবং যুবায়ের ইবনুল আওয়াম বর্ণিত হাদিসটিও তাঁর নিকট রয়েছে এবং তিনি বলেছেন: এটি লায়স ইবনে সাদ থেকে—অর্থাৎ হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি যুবায়ের থেকে—আবু কাতাদাহ আল-হাররানী ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি; আর
যুবায়ের থেকে এই সনদ ছাড়া এটি বর্ণিত হয়নি। আল-কাযযায বলেন: একে এই নামে (গুলূল) নামকরণ করা হয়েছে কারণ মানুষ যখন কোনো বস্তু (গনীমত থেকে) আত্মসাৎ করত, তখন সে তা তার আসবাবপত্রের মধ্যে লুকিয়ে রাখত। ফলে খিয়ানতকারীকে 'গাল্ল' ও 'মুগিল' বলা হয়। এটি পানি ও স্রোতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তাঁর এই উক্তি থেকে গৃহীত: যখন তা গাছপালার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন বলা হয় 'ইয়াগুল্লু গাললান ওয়া গুলুলান'। আর 'গালালতুশ শাই'...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أغلّه غلا: سترته، والطهور بالفتح: الماء الذي يتطهر به، وبالضم: الفعل، وقال
سيبويه: بالفتح يقع على الماء والمصدر معَا، وقال الخليل: الفتح في الفعل والماء
ولم يعرف الضم وحكى الضم فيهما جميعَا مفتاح الصلاة الطهور أنبأ على بن
محمد، نا وكيع عن سفيان عن عبد الله بن محمد بن عقيل عن محمد بن
الحنفية عن أبيه- رضى الله عنه- قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:"مفتاح الصلاة
الطهور، وتحريمها التكبير، وتحليلها التسليم"هذا حديث خرجه الترمذي من
حديث سفيان عن ابن عقيل وقال: هذا الحديث أصح شيء في هذا الباب
وأحسن، وابن عقيل صدوق، وقد تكلّم فيه بعض أهل العلم من قبل حفظه.
انتهى. وقد تقدّم الكلام في ابن عقيل قبل وذكر حديثه هذا الحافظ ضياء
الدين المقدسي في الأحاديث المختارة من حديث وكيع عن سفيان عنه وخرّجه
الإِمام أحمد بن حنبل في مسنده عن وكيع وشرطه معروف، وقال ابن العربي
في الأجودي: إسناد أبي داود أصح من مسند الترمذي ولا وجه لما قاله؛ لأن
مداره على ابن عقيل، وقد جاء التكبير في غير ما حديث عن أبي هريرة في
الصحيحين:"كان النبي- عليه السلام إذا أقام إلى الصلاة يكبر حين
يقوم" (1) وفي حديث المسيء صلاته:"إذا قمت إلى الصلاة فأسبغ الوضوء
ثم استقبل القبلة فكبر" (2) وحديث عمران بن حصين وابن عباس، وكلهم في
الصحيح، وابن عمر عند الفسوي وابن مسعود، صححه الترمذي، والتسليم
كذلك. رواه ابن مسعود وسعد بن أبي وقاص، وهما في الصحيح، وسهل بن
سعد عند أحمد ووائل بن حجر وحذيفة وغيرهم، وسيأتي الكلام على ذلك
--------------------------------------------
আমি তা গোপন করেছি: ‘আগাল্লাহু গাল্লান’, এবং ‘আত-তাহুর’ ফাতহা (যবর) সহকারে: সেই পানি যার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা হয়, আর যম্মা (পেশ) সহকারে: (পবিত্রতা অর্জনের) কাজটি। সীবওয়াইহ বলেছেন:
ফাতহা সহকারে তা পানি এবং মাসদার (ক্রিয়ামূল) উভয়টির জন্যই ব্যবহৃত হয়। খলীল বলেছেন: ফাতহা ক্রিয়া এবং পানি উভয়ের ক্ষেত্রেই হয়
এবং তিনি যম্মা সম্পর্কে জানতেন না; তবে উভয়ের ক্ষেত্রে যম্মা হওয়াও বর্ণিত হয়েছে। সালাতের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে
মুহাম্মাদ, তিনি ওকী‘ থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আকীল থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল
হানাফিয়্যাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “সালাতের চাবিকাঠি
হলো পবিত্রতা, এর তাহরীম (শুরু) হলো তাকবীর এবং এর তাহলীল (শেষ) হলো তাসলিম।” এই হাদীসটি ইমাম তিরমিযী
সুফিয়ানের সূত্রে ইবনে আকীল থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এই হাদীসটি এই অধ্যায়ে সবচেয়ে সহীহ
এবং উত্তম। আর ইবনে আকীল সত্যবাদী, তবে তাঁর হিফজ (স্মৃতিশক্তি) নিয়ে কোনো কোনো আলিম সমালোচনা করেছেন।
সমাপ্ত। ইতিপূর্বে ইবনে আকীল সম্পর্কে আলোচনা অতিবাহিত হয়েছে। হাফিজ জিয়াউদ্দীন
মাকদিসী ‘আল-আহাদীস আল-মুখতারাহ’-তে ওকী‘র সূত্রে সুফিয়ান থেকে এবং তাঁর থেকে এই হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। ইমাম
আহমাদ বিন হাম্বল এটি তাঁর মুসনাদে ওকী‘র সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর শর্ত সুপরিচিত। ইবনুল আরাবী
‘আল-আউজিদী’-তে বলেছেন: আবু দাউদের সনদ ইমাম তিরমিযীর মুসনাদ অপেক্ষা অধিক সহীহ; তবে তিনি যা বলেছেন তার কোনো ভিত্তি নেই, কারণ
এই হাদীসের মূল কেন্দ্র হলো ইবনে আকীল। আর তাকবীর সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে
সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ একাধিক হাদীস এসেছে: “নবী (আলাইহিস সালাম) যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন, তখন দাঁড়ানোর সময় তাকবীর বলতেন।” (১)
এবং সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির (মুসীউস সালাত) হাদীসে এসেছে: “তুমি যখন সালাতের জন্য দাঁড়াবে তখন পূর্ণাঙ্গভাবে ওযু করবে,
এরপর কিবলামুখী হবে এবং তাকবীর বলবে।” (২) এছাড়া ইমরান ইবনে হুসাইন ও ইবনে আব্বাসের হাদীস রয়েছে, যার সবই
সহীহ গ্রন্থে বিদ্যমান। আর ফাসাওয়ীর নিকট ইবনে উমর এবং ইবনে মাসউদের হাদীস রয়েছে যা তিরমিযী সহীহ বলেছেন। তাসলিম (সালাম ফিরানো)
সম্পর্কে ও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে। ইবনে মাসউদ ও সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস তা বর্ণনা করেছেন এবং উভয়টি সহীহ গ্রন্থে রয়েছে। এছাড়া আহমাদ-এর নিকট
সাহল বিন সা‘দ, এবং ওয়ায়েল ইবনে হুজর ও হুযাইফা ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
في موضعه- إن شاء الله تعالى- ولفظ أبي نعيم في تاريخ أصبهان"مفتاح
الصلاة الوضوء" (1) ثنا سويد بن سعيد، ثنا علي بن مسهر/عن أبي سفيان بن
سعيد طريف السعدي ح ونا أبو كريب، نا أبو معاوية عن أبي سفيان السعدي
عن أبي نضرة عن أبي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:"مفتاح الصلاة
الطهور، وتحريمها التكبير، وتحليلها التسليم". وخرجه الترمذي بزيادة:"ولا
صلاة لمن لم يقرأ بالحمد وسورة في فريضة (2) أو غيرها"هذا حديث رواه
بحشل في تاريخ واسط عن محمد بن حسان البرجلاني، نا محمد بن يزيد،
نا أبو شيبة إيراهيم بن عثمان بن أبي سفيان ولفظه:"مفتاح الصلاة الوضوء،
وتحريمها التكبير، وأدائها التسليم""ولا يجزى صلاة لا يقرأ فيها بأم
القرآن" (3) وبغيرها من القرآن، وإذا ركع فليضع يده على ركبتيه وليس
ظهره، ولا يذبح بذبيح الحمار، وحديث علي أجود إسنادا وأصح من
حديث أبي سعيد، وخالف ذلك الحاكم لما ذكره من جهة الثوري عن أبي
سفيان عن أبي نضرة به، هذا حديث صحيح الإِسناد على شرط مسلم ولم
يخرجاه عن أبي سفيان عن أبي نضرة كبرة فقد رواه أبو حنيفة وحمزة
الزيات وأبو مالك النخعي، وأشهر إسنادا فيه حديث ابن عقيل. انتهى. وفيما
قاله نظر، وذلك أن أبا طريف لم يخرج مسلم له شيئا، وسيأتي الكلام على
ضعفه، ورواه البزار في مسنده عن علي بن المنذر، نا محمد بن فضيل أبو
سفيان أنه زاد في كل ركعة قراءة بفاتحة الكتاب وسورة، قال: وهذا الكلام
لا نعلم أحدا رواه بهذا اللفظ إلا أبو سعيد بهذا الإِسناد، وإن كان همّام قد
--------------------------------------------
যথাস্থানে -ইনশাআল্লাহ তাআলা-। আর তারীখে আসবাহানে আবু নুআইমের শব্দ হলো: "সালাতের
চাবিকাঠি হলো অজু।" (১) সুয়াইদ ইবন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলি ইবন মুশহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন/আবু সুফিয়ান ইবন
সাঈদ তরীফ আস-সা'দী থেকে (হ) এবং আবু কুরাইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সুফিয়ান আস-সা'দী থেকে,
তিনি আবু নাদরা থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "সালাতের চাবিকাঠি
হলো পবিত্রতা, এর তাহরীম (শুরু) হলো তাকবীর এবং এর তাহলীল (শেষ) হলো তাসলিম।" তিরমিযী এটি অতিরিক্ত শব্দসহ বর্ণনা করেছেন: "আর
ঐ ব্যক্তির সালাত হবে না যে ফরজ (২) বা অন্য কোনো সালাতে আল-হামদু (সূরা ফাতিহা) ও একটি সূরা পাঠ করবে না।" এটি এমন একটি হাদিস যা
বাহশাল 'তারীখে ওয়াসিত'-এ মুহাম্মাদ ইবন হাসসান আল-বারজালানী থেকে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন ইয়াযীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন,
আবু শাইবা ইবরাহীম ইবন উসমান ইবন আবু সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দ হলো: "সালাতের চাবিকাঠি হলো অজু,
এর তাহরীম হলো তাকবীর এবং এর আদায় (সম্পন্ন করা) হলো তাসলিম।" "আর এমন কোনো সালাত যথেষ্ট হবে না যাতে উম্মুল
কুরআন (৩) এবং কুরআনের অন্য অংশ পাঠ করা হয় না। আর যখন তিনি রুকু করবেন, তখন তিনি যেন তাঁর হাত তাঁর দুই হাঁটুর উপর রাখেন এবং তাঁর
পিঠ সোজা রাখেন, আর গাধা জবেহ করার মতো যেন মাথা নিচু না করেন।" আলীর হাদিসটি আবু সাঈদের হাদিসের তুলনায় অধিক উত্তম সনদযুক্ত এবং অধিক সহীহ।
হাকেম এর বিরোধিতা করেছেন যখন তিনি এটি সাওরী থেকে, আবু সুফিয়ান থেকে, আবু নাদবার সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, এই হাদিসটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ
সনদযুক্ত, যদিও তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) আবু সুফিয়ান থেকে আবু নাদরার সূত্রে এটি বর্ণনা করেননি। এটি আবু হানিফা, হামযাহ
আয-যাইয়্যাত এবং আবু মালিক আন-নাখায়ী বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ সনদ হলো ইবন আকীলের হাদিস। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। তিনি যা
বলেছেন তাতে পর্যালোচনার অবকাশ আছে, আর তা এই কারণে যে, আবু তরীফ থেকে ইমাম মুসলিম কোনো কিছুই বর্ণনা করেননি। সামনে তার
দুর্বলতা সম্পর্কে আলোচনা আসবে। বাযযার তাঁর মুসনাদে এটি আলি ইবনুল মুনযির থেকে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন ফুদাইল আবু সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে,
তিনি প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা এবং একটি সূরা পাঠ করার বিষয়টি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: এই কথাটি আবু সাঈদের এই সনদ ছাড়া অন্য কারো সূত্রে এই শব্দে
আমাদের জানা নেই, যদিও হাম্মাম এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
روى عن قتادة عن أبي نضرة عن أبي سعيد أن النبي عليه الصلاة والسلام:
"أمر أن يقرأ في الصلاة بفاتحة الكتاب وما تيسر" (1) .
فحديث همام يؤيّد حديث أبي سفيان وإن كان بغير لفظه. انتهى. وخرّجه
الدارقطني (2) بلفظ:"مفتاح الصلاة الوضوء"، أبو سفيان اسمه طريف بن
شهاب الأشبل، وقال البخاري: كان عطارديا، وقال أيضا أبو معاوية طريف
بن سعد ويقال: طريف بن سفيان، وجمع أبو عمر بين السعدي والعطاردي،
وهو الصحيح؛ لأن عطارد وهو من عواد بن كعب بن سور بن زيد مناه بن
تميم، وقال: أجمعوا على أنّه ضعيف الحديث. انتهى. أبو إسحاق الحربي يفهم
من كلامه غير ما قاله أبو عمرو ذلك أنه لما/ذكره في كتاب العلل قال: ليس
هو أوثق الناس، وتقدّم تصحيح الحاكم حديثه، وقال ابن عدي: أسانيده
مستقيمة، وفي كتاب الدارقطني حديث عباد بن تميم عن عبد الله بن زيد عن
النبي- عليه السلام مثل حديث ابن عقيل، وإسناده لا بأس به، وذلك أنه
رواه عن محمد بن عمر وابن البحيري، قال الخطيب: كان ثقة ثبتا عن
أحمد بن الخليل، وقد وثّقه النسائي والحاكم محمد بن نعمان الضبيّ عن
الواقدي ومحمد بن عمر، وقد أثنى عليه مالك ووثقه غيره من الأئمة، وسيأتي
الكلام عليه مستوفي- إن شاء الله تعالى- عن أيوب بن عبد الرحمن بن أبي
صعصعة- وهو مذكور في كتاب الثقات- لابن حبان عن عباد بن تميم عن
عمه عبد الله بن يزيد، ورواه البيهقي في كتاب السن الكبير عن أبي عبد الله
--------------------------------------------
কাতাদাহ হতে, তিনি আবু নাদরাম হতে, তিনি আবু সাঈদ হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক):
"তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, সালাতে ফাতিহাতুল কিতাব এবং যা সহজসাধ্য তা পাঠ করতে" (১)।
সুতরাং হাম্মামের হাদিসটি আবু সুফিয়ানের হাদিসকে সমর্থন করে, যদিও তা ভিন্ন শব্দে বর্ণিত। সমাপ্ত। এবং এটি বর্ণনা করেছেন
আদ-দারাকুতনি (২) এই শব্দে: "সালাতের চাবিকাঠি হলো ওজু", আবু সুফিয়ানের নাম হলো ত্বরীফ ইবন
শিহাব আল-আশবাল, এবং বুখারি বলেছেন: তিনি আত্বারদি ছিলেন, এবং তিনি আরও বলেন: আবু মুয়াবিয়া ত্বরীফ
ইবন সা’দ, আর বলা হয়: ত্বরীফ ইবন সুফিয়ান, এবং আবু উমর আস-সাদি এবং আল-আত্বারদিকে এক করেছেন,
আর এটিই সঠিক; কারণ আত্বারদ হলো আওয়াদ ইবন কা’ব ইবন সূর ইবন যায়দ মানাত ইবন
তামীমের বংশোদ্ভূত, এবং তিনি বলেন: তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। সমাপ্ত। আবু ইসহাক আল-হারবি তাঁর
বক্তব্য থেকে আবু উমর যা বলেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু বোঝা যায়, আর তা হলো তিনি যখন একে ‘কিতাবুল ইলাল’-এ উল্লেখ করেছেন তখন বলেছেন: তিনি
মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নন, এবং ইতিপূর্বে আল-হাকিম কর্তৃক তার হাদিসকে সহিহ বলার বিষয়টি অতিক্রান্ত হয়েছে, এবং ইবন আদি বলেছেন: তার সনদসমূহ
সঠিক, এবং আদ-দারাকুতনির কিতাবে আব্বাদ ইবন তামীম হতে, আব্দুল্লাহ ইবন যায়দ হতে, নবী
—আলাইহিস সালাম—হতে ইবন আকীলের হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং এর সনদ মন্দ নয়, আর তা হলো তিনি
এটি মুহাম্মদ ইবন উমর এবং ইবনুল বুহাইরি হতে বর্ণনা করেছেন; আল-خতিব বলেছেন: তিনি আহমদ ইবনুল খলীল হতে
বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় ছিলেন, এবং আন-নাসায়ি ও আল-হাকিম মুহাম্মদ ইবন নুমান আদ-দ্বব্বি হতে, তিনি
আল-ওয়াকিদি এবং মুহাম্মদ ইবন উমর হতে তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, এবং ইমাম মালিক তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং অন্যান্য ইমামগণ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, এবং তাঁর সম্পর্কে
বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে—ইনশাআল্লাহ তাআলা—আইয়ুব ইবন আবদুর রহমান ইবন আবি
সা’সাআ হতে—যিনি ইবন হিব্বানের ‘কিতাবুস সিকাত’-এ উল্লিখিত—তিনি আব্বাদ ইবন তামীম হতে, তিনি তাঁর
চাচা আব্দুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ হতে বর্ণনা করেছেন, এবং আল-বাইহাকি তাঁর ‘কিতাবুস সুনানুল কাবীর’ গ্রন্থে আবু আব্দুল্লাহ হতে এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الحافظ، نا أبو بكر بن إسحاق، نا الحسن بن علي بن زياد، نا إبراهيم بن
موسى الرازي، نا يحيى بن زكريا بن أبي زائدة: نا شعبة عن حبيب ابن زيد
عن عباد بن تميم، وقال أبو زرعة الرازي: يسند متابع لما تقدّم، ولما ذكره أبو
القاسم في الأوسط قال: تفرّد به الواقدي ولا يروى عن ابن زيد إّلا بهذا
الإِسناد، حديث ابن عمارة أصح، يعني الحديث المذكور من عند أبي داود
قبل والله أعلم، وخالف في ذلك الحافظ أبو بكر بن خزيمة؛ فرواه في
صحيحه عن أبي كريب، نا يحيى فذكره بلفظ أتى بثلثي مد فتوضأ فجعل
بذلك ذراعه، وقال الحاكم: صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه، وفيه
رد لما ذكره أبو عيسى من أن حديث علي أصح شيء في هذا الباب، لكنه ردّ
عليه أيضَا في قوله، وفي الباب عن علي وعائشة وكذا حديث جابر بن
عبد الله المذكور عند أبو القاسم في الأوسط من حديث سلمان بن قرمز عن
أبي يحيى القتات عن مجاهد عنه يرفعه:"ومفتاح الصلاة الوضوء "،
وحديث ابن عباس مرفوعَا:"مفتاح الصلاة الطهور، وتحريمها التكبير،
وتحليلها التسليم " المذكور عنده من حديث نافع مولى يوسف السلمي عن
عطاء عنه، وقال: لم يروه عن عطاء إّلا نافع، ولا عن نافع إّلا سعد أن ابن
يحيى تفرّد به سليمان بن عبد الرحمن، ولا يروى عن ابن عباس إلّا بهذا
الإِسناد، وأما الصحابة فقد/روى عن جماعة منهم ذلك موقوفا، منهم ابن
مسعود وابن عباس وإسناد حديثهما وعائشة، قال الطحاوي: ذهب قوم إلى
أنّ الرجل إذا انصرف من صلاته بغير تسليم فصلاته باطلة، وخالفهم في ذلك
آخرون، وافترقوا على قولن؛ فمنهم من قال: إذا قعد قدر التشهد فقد تمّت
صلاته وإنْ لم يسلم، ومنهم من قال: إذا رفع رأسه من أخر سجدة من
صلاته فقد تمت صلاته وإن لم يتشهّد ولم يسلم، فكان من الحجة للفريقين
على أهل المقالة الأولى ما روى عن النبي- عليه السلام: لا تحليلها
التسليم، إنما روى عن على وقد روى عنه من رأيه في مثل ذلك، ما يدل
على أن معنى ذلك عنده على غير ما حمله عليه أهل المقالة الأولى وهو ما
হাফিয [বলেন], আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবন ইসহাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবন আলী ইবন যিয়াদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবন
মূসা আর-রাযী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবন যাকারিয়া ইবন আবি যায়িদাহ: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, হাবীব ইবন যায়িদ থেকে,
তিনি আব্বাদ ইবন তামীম থেকে। আর আবু যুরআহ আর-রাযী বলেছেন: এটি পূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তার মুতাবা'আত (সমর্থনকারী বর্ণনা) হিসেবে উদ্ধৃত হয়েছে। এবং আবুল
কাসেম 'আল-আওসাত' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তাতে তিনি বলেছেন: এটি বর্ণনায় ওয়াকিদী একক হয়ে গেছেন এবং ইবন যায়িদ থেকে এই
সনদ ছাড়া অন্য কোনো সনদে এটি বর্ণিত হয়নি। ইবন আম্মারাহ-এর হাদীসটি অধিকতর বিশুদ্ধ, অর্থাৎ ইতিপূর্বে আবু দাউদের নিকট থেকে উল্লিখিত হাদীসটি,
আল্লাহই ভালো জানেন। আর এ বিষয়ে হাফিয আবু বকর ইবন খুযাইমাহ ভিন্নমত পোষণ করেছেন; তিনি এটি তার
'সহীহ' গ্রন্থে আবু কুরাইব থেকে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া, অতঃপর তিনি এটি এই শব্দে উল্লেখ করেছেন যে, 'তিনি এক মুদ-এর দুই-তৃতীয়াংশ পানি নিয়ে আসলেন, অতঃপর ওযু করলেন এবং এর দ্বারা তার হাত ধৌত করলেন'। আর আল-হাকিম বলেছেন: এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুসারে সহীহ কিন্তু তারা এটি বর্ণনা করেননি। এতে আবু ঈসা (আত-তিরমিযী) যা উল্লেখ করেছেন তার খণ্ডন রয়েছে যে, এই অধ্যায়ে আলীর হাদীসটি সবচেয়ে বিশুদ্ধ। তবে এটি তার এই উক্তিরও
খণ্ডন যে, এই অধ্যায়ে আলী ও আয়েশা থেকেও বর্ণনা রয়েছে। অনুরূপভাবে জাবির ইবন
আব্দুল্লাহর হাদীসটি যা আবুল কাসেম 'আল-আওসাত' গ্রন্থে সালমান ইবন কিরমিয-এর সূত্রে
আবু ইয়াহইয়া আল-কাত্তাত থেকে মুজাহিদ হয়ে তার নিকট থেকে মারফু হিসেবে উল্লেখ করেছেন: "এবং নামাযের চাবি হলো ওযু",
আর ইবন আব্বাসের হাদীস মারফু হিসেবে: "নামাযের চাবি হলো পবিত্রতা, এর তাহরীম (নামাযে প্রবেশ) হলো তাকবীর,
এবং এর তাহলীল (নামায থেকে বের হওয়া) হলো সালাম", যা তার নিকট ইউসুফ আস-সুলামীর আযাদকৃত গোলাম নাফে'-এর সূত্রে
আতা থেকে তার মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন: আতা থেকে নাফে' ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি এবং নাফে' থেকে সা'দ ইবন
ইয়াহইয়া ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি, বরং সুলাইমান ইবন আব্দুর রহমান এতে একক হয়ে গেছেন। আর ইবন আব্বাস থেকে এই
সনদ ছাড়া অন্য কোনোভাবে এটি বর্ণিত হয়নি। আর সাহাবীগণের এক জামায়াতের নিকট থেকে এটি মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবন
মাসউদ ও ইবন আব্বাস; এবং তাদের উভয়ের ও আয়েশার হাদীসের সনদ। ইমাম তহাবী বলেছেন: একদল আলিম এই মত পোষণ করেছেন যে,
কোনো ব্যক্তি যদি সালাম ফেরানো ছাড়া তার নামায থেকে সরে যায় তবে তার নামায বাতিল। অন্য আলিমগণ এ বিষয়ে তাদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন
এবং তারা দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ বলেছেন: যদি সে তাশাহহুদ পরিমাণ সময় বসে থাকে তবে তার নামায পূর্ণ হয়ে গেছে
যদিও সে সালাম না ফেরায়। আবার কেউ বলেছেন: যদি সে তার নামাযের শেষ সিজদাহ থেকে মাথা উঠায় তবে তার নামায পূর্ণ হয়ে গেছে যদিও সে তাশাহহুদ না পড়ে এবং সালাম না ফেরায়।
প্রথম মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে এই উভয় দলের জন্য দলীল ছিল নবী (আলাইহিস সালাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে: 'সালামই এর তাহলীল নয়',
বরং এটি কেবল আলী থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং তার থেকে অনুরূপ বিষয়ে তার নিজস্ব অভিমতও বর্ণিত হয়েছে, যা
নির্দেশ করে যে এর অর্থ তার নিকট এমন ছিল না যা প্রথম মতাবলম্বীরা এর ওপর আরোপ করেছেন, আর তা হলো...
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
رواه أبو عوانة عن الحكم عن عاصم عن علي قال:"إذا رفع رأسه من أخر
سجدة فقد تمت صلاته".
وقد روى عبد الرحمن بن زياد بن أنعم عن عبد الرحمن بن رافع وبكر بن
سوادة عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:"إذا رفع رأسه من أخر السجود فقد
مضت صلاته إذا هو أحدث" (1) وفي بعض ألفاظه:"إذا قضى الإِمام
الصلاة فقعد فأحدث هو أو أحد ممن أتمّ معه الصلاة قبل أن يسلم الإِمام، فقد
تمّت صلاته، فلا يعود فيها" (2) قال أبو جعفر: فهذا معناه غير معنى الحديث
الأوّل، وقد روى بلفظ أخر: اإذا رفع المصلي رأسه من آخر الصلاة وقضى
تشهده ثم أحدث، فقد تمت صلاته فلا يعود" (3) واحتج الذين قالوا: لا تتم
الصلاة حتى تقعد قدر التشهد، نا فهد، نا أبو نعيم وأبو غسان قالا: نا زهير
عن الحسن بن الحرجة ابن القاسم بن مخيمر قال: أخذ علقمة بيدي فحدّثني
أنَّ ابن مسعود أخذ بيده"أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أخذ بيده فعلّمه التشّهد" (4)
وفال فيه: فإذا فعلت هذا أو قضيت هذا فقد تمت صلاتك، إنْ شئت أن تقم
فقم، وإن شئت أن تقعد فاقعد، وقد روى عن النبي صلى الله عليه وسلم ما يدل على أنَّ ترك
التسليم غير مفسد للصلاة وهو أنه صلى الله عليه وسلم:"صلى الظهر خمسَا، فلما ختم
ثنى رجله فسجد سجدتن" (5) فهذا النبي صلى الله عليه وسلم يفعل في الصلاة أمه/من
--------------------------------------------
আবু আওয়ানা হাকাম থেকে, তিনি আসিম থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন তিনি শেষ
সাজদাহ থেকে তাঁর মাথা তুললেন, তখন তাঁর সালাত পূর্ণ হয়ে গেল।"
আব্দুর রহমান ইবন যিয়াদ ইবন আনআম—আব্দুর রহমান ইবন রাফি এবং বকর ইবন
সাওয়াদা থেকে, তিনি ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন তিনি শেষ সাজদাহ থেকে মাথা তুললেন, তখন
তাঁর সালাত সম্পন্ন হয়ে গেল যদি তিনি অজু ভঙ্গ করেন।" (১) এবং এর কোনো কোনো শব্দে রয়েছে: "যখন ইমাম
সালাত সম্পন্ন করে বসলেন, এরপর তিনি নিজে কিংবা তাঁর সাথে সালাত পূর্ণকারী কেউ ইমামের সালাম ফেরানোর আগেই অজু ভঙ্গ করলেন, তবে
তাঁর সালাত পূর্ণ হয়ে গেল, তিনি আর তাতে ফিরে আসবেন না।" (২) আবু জাফর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: এটি প্রথম হাদিসের
অর্থের চেয়ে ভিন্ন, এবং এটি অন্য শব্দেও বর্ণিত হয়েছে: "যখন সালাত আদায়কারী সালাতের শেষে তাঁর মাথা উঠালেন এবং তাঁর
তাশাহহুদ সম্পন্ন করলেন, এরপর অজু ভঙ্গ করলেন, তবে তাঁর সালাত পূর্ণ হয়ে গেল এবং তিনি আর ফিরে আসবেন না।" (৩) আর যারা বলেন যে,
তাশাহহুদ পরিমাণ সময় না বসা পর্যন্ত সালাত পূর্ণ হয় না, তারা দলিল পেশ করেন: ফাহাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম এবং আবু গাসসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: জুহাইর
হাসান ইবনুল হুরজাহ ইবনুল কাসিম ইবন মুখাইমির থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলকামা আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে বর্ণনা করলেন
যে ইবন মাসউদ (রা.) তাঁর হাত ধরেছিলেন, "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হাত ধরলেন এবং তাঁকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিলেন।" (৪)
এবং তিনি তাতে বলেছেন: সুতরাং যখন তুমি এটি করলে অথবা এটি সম্পন্ন করলে, তখন তোমার সালাত পূর্ণ হয়ে গেল; যদি তুমি ইচ্ছা করো তবে উঠে দাঁড়াও,
আর যদি ইচ্ছা করো তবে বসে থাকো। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা প্রমাণ করে যে, সালাম
পরিত্যাগ করা সালাত নষ্টকারী নয়, আর তা হলো তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম): "যোহরের সালাত পাঁচ রাকাত পড়লেন, অতঃপর যখন তিনি সমাপ্ত করলেন,
তাঁর পা ভাঁজ করলেন এবং দুটি সাজদাহ করলেন।" (৫) সুতরাং এই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতের মধ্যে যা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শরহু সুনানি ইবনি মাজাহ লি-মুগলতাই - তাহকীক ওয়াইদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
غيرها قبل السلام ولم ير ذلك مفسد للصلاة، ولو رأى ذلك منه مفسدا لها
لأعادها لا عادها فلما لم يعدها، وقد خرج منها إلى الخامسة لا بتسليم؛ دَلَّ
ذلك على أن السلام ليس من حلتها، ألا ترى أنّه لو كان جاء بالخامسة وقد
بقى عليه مما قبلها سجدة كان ذلك مفسدا للأربع؛ لأنه خلطهن بما ليس
منهن، ولو كان السلام واجبَا كوجوب السجود لكان حكمه أيضا كذلك،
ولكنّه بخلافه فهو سنّة. انتهى. وعليه فيه مآخذ، الأول، قوله: إنما روى عن
علي يريد انه لم يروه غيره وقد قدمنا حديثين منها غير روايته أحدهما صحيح،
والثاني: ردّه المرفوع بالموقوف (1) الذي هو من رواية عاصم بن ضمرة وهو
متكلّم فيه حتى قال ابن عدي: ينفرد عن علي بأحاديث باطلة لا تتابعه الرواة
عليها والعلية منه، وقال ابن حسان: كان رديء الحفظ فاحش الخطأ يرفع عن
علي قوله كثيرا، فلما فحش ذلك منه استحق الترك، وعلى تقدير صحته يكون
العمل بروايته لا برأيه هذا هو مذهب أكثر العلماء، الثالث: ابن أنعم وابن
رافع ضعيفان، وحديث عبد الرحمن عن ابن عمرو منقطع (2) فيما ذكره ابن
أبي حاتم مع ضعفه ونكارة حديثه فيما قاله البخاري، وبكر بن سوادة- وإن
كان ثقة- فحديثه عن ابن عمرو لم أر أحدا صرح به ولا ذكر له رواية عنه
فيما أعلم، والذي وصفه به ابن يونس: روى عن سهل بن سعد والتابعين،
الرابع: حديث ابن مسعود:"فإذا فعلت هذا فقد تمت صلاتك"وهي زيادة
ذكر الخطيب وغيره أنها مدرجة وليست من كلام النبي صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
সালামের পূর্বে অন্য কিছু এবং তিনি একে সালাত নষ্টকারী মনে করেননি। যদি তিনি একে সালাত নষ্টকারী মনে করতেন, তবে তিনি তা পুনরায় আদায় করতেন। যেহেতু তিনি তা পুনরায় আদায় করেননি এবং সালাম ছাড়াই পঞ্চম রাকাতের দিকে বেরিয়ে গেছেন; এটি প্রমাণ করে যে সালাম সালাত থেকে বের হওয়ার (অপরিহার্য) অংশ নয়। আপনি কি দেখছেন না যে, যদি তিনি পঞ্চম রাকাত নিয়ে আসতেন এবং তার পূর্ববর্তী অংশ থেকে একটি সিজদাহ বাকি থাকত, তবে তা চার রাকাতকেই নষ্ট করে দিত; কারণ তিনি সেগুলোকে এমন কিছুর সাথে মিশিয়ে ফেলেছেন যা সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। সালাম যদি সিজদাহর মতো ওয়াজিব হতো, তবে তার বিধানও অনুরূপ হতো। কিন্তু বিষয়টি এর বিপরীত, তাই এটি সুন্নাত। সমাপ্ত। এর ওপর কিছু আপত্তি রয়েছে: প্রথমত, তাঁর কথা: 'এটি কেবল আলী থেকে বর্ণিত হয়েছে', এর মাধ্যমে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে তিনি ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি; অথচ আমরা ইতিপূর্বে তাঁর বর্ণনা ছাড়াও এ বিষয়ে দুটি হাদিস পেশ করেছি, যার একটি সহিহ। দ্বিতীয়ত: মারফু হাদিসকে মাওকুফ (১) হাদিসের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করা, যা আসিম বিন দামরাহ-এর বর্ণনা থেকে এসেছে। আর তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে, এমনকি ইবনে আদি বলেছেন: 'তিনি আলী থেকে এমন সব বাতিল হাদিস একাকী বর্ণনা করেন যে ব্যাপারে বর্ণনাকারীরা এবং উলামাগণ তার অনুসারী নন।' ইবনে হাসান বলেছেন: 'তাঁর মুখস্থ শক্তি দুর্বল ছিল এবং তিনি অত্যন্ত ভুল করতেন; তিনি আলীর অনেক উক্তিকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করতেন। যখন তাঁর ভুল অত্যধিক হয়ে গেল, তখন তিনি বর্জনীয় হওয়ার যোগ্য হলেন।' আর এটি সহিহ হওয়ার তকদিরে তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী আমল হবে, তাঁর মত অনুযায়ী নয়; এটিই অধিকাংশ আলিমের মাযহাব। তৃতীয়ত: ইবনে আনআম এবং ইবনে রাফি দুর্বল। আর ইবনে আবু হাতিম যা উল্লেখ করেছেন সে অনুযায়ী ইবনে আমর থেকে আব্দুর রহমানের হাদিসটি মুনকাতি (২); সাথে তাঁর দুর্বলতা এবং ইমাম বুখারীর বক্তব্য অনুযায়ী তাঁর হাদিসটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য)। আর বকর বিন সাওয়াদাহ—যদিও তিনি নির্ভরযোগ্য—তবে ইবনে আমর থেকে তাঁর হাদিসের ব্যাপারে আমি কাউকে স্পষ্টভাবে বলতে দেখিনি এবং আমার জানামতে তাঁর থেকে কোনো বর্ণনাও কেউ উল্লেখ করেনি। ইবনে ইউনুস তাঁর যে বর্ণনা দিয়েছেন তা হলো: তিনি সাহল বিন সাদ এবং তাবেয়ীদের থেকে বর্ণনা করেছেন। চতুর্থত: ইবনে মাসউদের হাদিস: "যখন তুমি এটি করবে, তখন তোমার সালাত পূর্ণ হয়ে গেল।" এটি একটি অতিরিক্ত অংশ যা খতিব এবং অন্যরা উল্লেখ করেছেন যে এটি মুদরাজ (পরবর্তী সংযোজন) এবং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা নয়।
--------------------------------------------