(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: -)
المداينة   (ابن عثيمين)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: المداينة

المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)

الناشر: دار الوطن للنشر

الطبعة: 1423هـ.

عدد الصفحات: 31

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ঋণ লেনদেন   (ইবনে উসাইমিন)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: ঋণ লেনদেন

লেখক: মুহাম্মদ বিন সালেহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমিন (মৃ. ১৪২১ হি.)

প্রকাশক: দারুল ওয়াতান প্রকাশনী

সংস্করণ: ১৪২৩ হি..

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمدلله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، صلي الله عليه وعلي آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان وسلم تسليما.. أما بعد.

فلما كان الدين الإسلامي دينا كاملا شاملا لما يقوم به العباد تجاه ربهم من العبادات وما يفعلونه في أنفسهم من العادات، وما يتعاملون به بينهم من المعاملات وقد جاء مبينا لأحكام ذلك تفصيلا وإجمالا، وكان مما شاع بين الناس التعامل بالمداينة وهي بيع الغائب بالناجز أو بالعكس، أو بيع الغائب بالغائب، أحببت أن أبين أحكام بعض ذلك فيما يأتي فأقول:
ভূমিকা

…

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করছি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তওবা করছি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও অগণিত সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:

যেহেতু ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও শাশ্বত জীবনব্যবস্থা যা বান্দাগণ তাদের রবের উদ্দেশ্যে যে সকল ইবাদত পালন করে এবং নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে যে সকল অভ্যাস চর্চা করে, এমনকি তাদের মধ্যকার পারস্পরিক লেনদেনের যাবতীয় বিষয়কে পরিব্যপ্ত করে এবং এসকল বিষয়ের বিধানাবলি বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত উভয় পদ্ধতিতে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে; আর যেহেতু মানুষের মাঝে ঋণের মাধ্যমে লেনদেন তথা মুদায়ানা—যা হলো অনুপস্থিত পণ্যের বিনিময়ে নগদ অর্থ প্রদান কিংবা এর বিপরীত অথবা অনুপস্থিতের বিনিময়ে অনুপস্থিতের ক্রয়-বিক্রয়—অত্যন্ত প্রচলিত, তাই আমি পরবর্তী অংশে এ সংক্রান্ত কিছু বিধান স্পষ্ট করার ইচ্ছা পোষণ করছি। আমি বলছি:
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
أقسام المداينة

‌‌القسم الأول: أن يحتاج إلى شراء سلعة وليس عنده ثمن حاضر ينقده، فيشتريها إلى أجلٍ معلومٍ بثمن زائد على ثمنها الحاضر فهذا جائز.

مثل أن يشتري بيتاً ليسكنه أو يؤجِّره بعشرة آلاف إلى سنة، وتكون قيمته لو بيع نقداً تسعة آلاف، أو يشتري سيارة يركبها أو يؤجِّرها بعشرة آلاف إلى سنة، وقيمتها لو بيعت نقداً تسعة آلاف. وهو داخل في قوله تعالى: {يأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُواْ إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنٍ إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى فَاكْتُبُوهُ} 1.

--------------------------------------------

1 سورة البقرة، الآية: 282.
ঋণ লেনদেনের প্রকারভেদ

‌‌প্রথম প্রকার: কোনো পণ্য ক্রয় করার প্রয়োজন হওয়া অথচ তা নগদে পরিশোধ করার মতো মূল্য তার কাছে না থাকা, এমতাবস্থায় সেটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বর্তমান মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে ক্রয় করা; আর এটি বৈধ (جائز).

যেমন—বসবাস করার জন্য অথবা ভাড়া দেওয়ার জন্য দশ হাজার টাকায় এক বছরের মেয়াদে একটি ঘর ক্রয় করা, যার বর্তমান নগদ মূল্য হতো নয় হাজার টাকা; অথবা আরোহণ করার জন্য কিংবা ভাড়া দেওয়ার জন্য দশ হাজার টাকায় এক বছরের মেয়াদে একটি গাড়ি ক্রয় করা, যার নগদ বিক্রয়মূল্য হতো নয় হাজার টাকা। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণের লেনদেন করো, তখন তা লিখে রাখো।} ১।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮২।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌القسم الثاني: أن يشتري السلعة إلى أجل لقصد الاتجار بها.

مثل أن يشتري قمحاً بثمن مؤجل زائد على ثمنه الحاضر ليتجر به إلى بلد آخر أو لينتظر به زيادة السوق أو نحو ذلك، فهذا جائز أيضاً لدخوله
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ব্যবসার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট মেয়াদে (أجل) পণ্য ক্রয় করা.

যেমন—বর্তমান নগদ মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে বাকিতে (مؤجل) গম ক্রয় করা, যাতে তা অন্য কোনো শহরে নিয়ে ব্যবসা করা যায় অথবা বাজারের দর বৃদ্ধির প্রতীক্ষায় থাকা যায় কিংবা অনুরূপ কোনো উদ্দেশ্য থাকে; এটিও বৈধ (جائز), কারণ এটি অন্তর্ভুক্ত...
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
في الآية السابقة.

وقد قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله عن هذين القسمين أنهما جائزان بالكتاب والسنة والإجماع "ذكره ابن قاسم في مجموع الفتاوى ص499ج29"1.

--------------------------------------------

1 ولا فرق في أن يكون التأجيل إلي زقت واحد أو إلي أوقات متعددة مثل أن يقول: بعته عليك بكذا علي أن يحل من الثمن كل شهر كذا وكذا … الخ.
পূর্ববর্তী আয়াতে।

এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) এই দুই প্রকার সম্পর্কে বলেছেন যে, কুরআন, সুন্নাহ এবং ঐক্যমত্য (إجماع) অনুযায়ী এ দুটি বৈধ (جائز)। "ইবনে কাসিম এটি মাজমুউল ফাতাওয়া-এর ২৯ খণ্ড, ৪৯৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন"১।

--------------------------------------------

১ মূল্য পরিশোধের সময় বিলম্বিত করার বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হওয়া অথবা একাধিক সময়ের জন্য হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যেমন উদাহরণস্বরূপ বলা: আমি তোমার নিকট এটি এত মূল্যে বিক্রয় করলাম এই শর্তে যে, প্রতি মাসে মূল্যের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ পরিশোধযোগ্য হবে … ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌القسم الثالث: أن يحتاج إلى دراهم فيأخذها من شخص بشيء في ذمته.

مثل أن يقول لشخص: أعطني خمسين ريالاً بخمسة وعشرين صاعاً من البُرِّ أسلِّمها لك بعد سنة، فهذا جائز أيضاً، وهو السَلمُ الذي ورد به الحديث الثابت في الصحيحين عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قَدمَ النبي صلى الله عليه وسلم المدينة وهم يسلِفُونَ في الثمار السنة والسنتين فقال صلى الله عليه وسلم: "مَن أسلف فليُسْلِف في كيلٍ معلوم ووزنٍ معلوم إلى أجلٍ معلوم"1.

--------------------------------------------

1 رواه البخاري، كتاب مسلم "2240"، ومسلم كتاب المساقاة "1604"، وأبو داود، كتاب البيوع "3463"، والترمذي كتاب البيوع "1311"، والنسائي، كتاب البيوع "4616"، وابن ماجة، كتاب التجارات "2280"، وأحمد "1/217".
তৃতীয় বিভাগ: দিরহামের (মুদ্রার) প্রয়োজন হওয়া এবং তা অন্য ব্যক্তির কাছ থেকে নিজের জিম্মায় থাকা কোনো বস্তুর বিনিময়ে গ্রহণ করা।

যেমন কোনো ব্যক্তিকে বলা: "আমাকে পঞ্চাশ রিয়াল প্রদান করুন পঁচিশ সা' গমের বিনিময়ে, যা আমি আপনাকে এক বছর পর সমর্পণ করব।" এটিও বৈধ এবং এটিই হলো সেই অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় (السلم) যার স্বপক্ষে সুপ্রতিষ্ঠিত (الثابت) হাদিস সহিহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মদীনায় আগমন করলেন, তখন তারা ফলমূলের ক্ষেত্রে এক বছর বা দুই বছরের অগ্রিম লেনদেন (يسلفون) করত। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যে ব্যক্তি অগ্রিম প্রদান (أسلف) করবে, সে যেন নির্ধারিত পরিমাপ, নির্ধারিত ওজন এবং নির্ধারিত সময়ের ভিত্তিতে অগ্রিম প্রদান (فليسلف) করে।"

--------------------------------------------

১. এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, কিতাবুস সালাম "২২৪০"; মুসলিম, কিতাবুল মুসাকাত "১৬০৪"; আবু দাউদ, কিতাবুল বুয়ু "৩৪৬৩"; তিরমিজি, কিতাবুল বুয়ু "১৩১১"; নাসায়ি, কিতাবুল বুয়ু "৪৬১৬"; ইবনে মাজাহ, কিতাবুত তিজারাত "২২৮০" এবং আহমাদ "১/২১৭"।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌القسم الرابع: أن يكون محتاجاً لدراهم فلا يجد من يقرضه فيشتري من شخص سلعة بثمن مؤجل،

ثم يبيعها على صاحبها الذي اشتراها منه بثمن أقل منه نقداً، فهذه هي مسألة العينة، وهي حرام؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: "إذا ضنَّ الناس بالدينار والدرهم وتبايعوا بالعينة واتبعوا أذناب البقر، وتركوا الجهاد في سبيل الله، أنزل الله بهم بلاءً لا يرفعه حتى يرجعوا لدينهم" [رواه أحمد وأبوداود] 1.

ولأن هذه حيلة ظاهرة على الرِّبا، فإنه في الحقيقة بيعُ دراهم حاضرة بدراهم مؤجلة أكثر منها دخلت بينهما سلعة، وقد نص الإمام أحمد وغيره على تحريمها.

--------------------------------------------

1 مسند أحمد "2/28"، وسنن أبي داود، كتاب البيوع "3462".
চতুর্থ বিভাগ: কোনো ব্যক্তির দিরহামের (অর্থের) প্রয়োজন হওয়া সত্ত্বেও যখন সে কর্জ (قرض) দেওয়ার মতো কাউকে পায় না, তখন সে জনৈক ব্যক্তির নিকট থেকে কোনো পণ্য বাকিতে ক্রয় করে،

অতঃপর সে উক্ত পণ্যটি যার নিকট থেকে ক্রয় করেছিল, তার নিকটেই নগদে পূর্বের মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে পুনরায় বিক্রয় করে দেয়। এটিই হলো 'আইনাহ' (العينة) লেনদেনের মাসআলা এবং তা হারাম (حرام); কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইরশাদ: "যখন মানুষ দিনার ও দিরহাম নিয়ে কৃপণতা করবে, 'আইনাহ' (العينة) পদ্ধতিতে কেনা-বেচা করবে, গরুর লেজ আঁকড়ে ধরবে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা বর্জন করবে, আল্লাহ তাদের ওপর এমন বিপদ (بلاء) চাপিয়ে দেবেন যা ততক্ষণ পর্যন্ত তুলে নেবেন না, যতক্ষণ না তারা তাদের দ্বীনের দিকে ফিরে আসে।" [আহমাদ ও আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন] ১।

আর যেহেতু এটি সুদের (الربا) একটি স্পষ্ট অপকৌশল; কেননা এটি প্রকৃতপক্ষে উপস্থিত নগদ মুদ্রার বিনিময়ে ভবিষ্যতে প্রদেয় অধিক মুদ্রার লেনদেন, যেখানে পণ্যটি কেবল একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য ফকিহগণ এটি হারাম (تحريم) হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা প্রদান করেছেন।

--------------------------------------------

১. মুসনাদ আহমাদ "২/২৮", এবং সুনান আবু দাউদ, কিতাবুল বুয়ু "৩৪৬২"।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌القسم الخامس: أن يحتاج إلى دراهم ولا يجد مَن يقرضه فيشتري سلعة بثمن مؤجل، ثم يبيع السلعة على شخص آخر غير الذي اشتراها منه،

فهذه هي مسألة التورق.

وقد اختلف العلماء رحمهم الله في جوازها، فمنهم مَن قال: إنَّها جائزة؛ لأن الرجل يشتري السلعة ويكون غرضه إمَّا عين السلعة وإمَّا عوضهَا وكلاهما غرض صحيح.

ومن العلماء مَن قال: إنها لا تجوز؛ لأن الغرض منها هو أخذ دراهم بدراهم ودخلت السلعة بينهما تحليلاً، وتحليل المحرم بالوسائل التي لا يرتفعُ بها حصول المفسدة لا يُغني شيئاً. وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: "إنَّما الأعمال بالنيَّات، وإنما لكل امرأ ما نوى" 1.والقول بتحريم مسألة التورق هذه هو اختيار شيخ

--------------------------------------------

1 رواه البخاري، كتاب بدء الوحي "1"، ومسلم، كتاب الإمارة "1907".
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মুদ্রার (দিরহামের) প্রয়োজন হওয়া এবং তাকে ঋণ দেওয়ার মতো কাউকে না পাওয়া, এমতাবস্থায় বাকিতে কোনো পণ্য ক্রয় করা এবং পরে সেই পণ্যটি যার কাছ থেকে ক্রয় করা হয়েছিল সে ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে বিক্রয় করা,

আর এটিই হলো তাওয়াররুক (التورق) সংক্রান্ত মাসআলা।

উলামায়ে কিরাম (রহিমাহুমুল্লাহ) এর বৈধতার বিষয়ে মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি বৈধ (جائز); কারণ ব্যক্তিটি পণ্য ক্রয় করে এবং তার উদ্দেশ্য হয় সরাসরি পণ্যটি লাভ করা অথবা এর বিনিময় মূল্য লাভ করা, আর এই উভয়টিই সঠিক উদ্দেশ্য।

আবার আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি বৈধ নয়; কারণ এর উদ্দেশ্য হলো দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম গ্রহণ করা, আর মাঝখানে পণ্যটিকে কেবল হালাল করার একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আর এমন উপায়ের মাধ্যমে হারাম (محرم) বিষয়কে বৈধ করার অপকৌশল অবলম্বন করা—যার দ্বারা মূল অনিষ্ট দূর হয় না—তা কোনো কাজে আসে না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে" ১। আর এই তাওয়াররুক (التورق) এর মাসআলাটি নিষিদ্ধ বা হারাম (تحريم) হওয়ার অভিমতটি শাইখের পছন্দকৃত মত।

--------------------------------------------

১ এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, কিতাব বাদউল ওয়াহি "১", এবং মুসলিম, কিতাবুল ইমারাহ "১৯০৭"।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
الإسلام ابن تيمية، وهو رواية عن الإمام أحمد.

بل جعلها الإمام أحمد في رواية أبي داود من العينة كما نقله ابن القيم في "تهذيب السنن" "5/801".

ولكن نظراً لحاجة الناس اليوم وقلَّة المقرضين ينبغي القول بالجواز بشروط:

1 ـ أن يكون محتاجاً إلى الدراهم، فإن لم يكنْ محتاجاً فلا يجوزُ كمن يلجأ إلى هذه الطريقة ليدين غيره.

2 ـ أن لا يتمكَّن من الحصول على المال بطرقٍ أخرى مباحة كالقرض والسَّلم، فإن تمكن من الحصول على المال بطريقة أخرى لم تجز هذه الطريقة لأنَّه لا حاجة به إليها.

3 ـ أن لا يشتمل العقد على ما يشبه صورة الرِّبا مثل أن يقول: بعتك إيَّاها العشرة أحد عشر أو نحو ذلك، فإن اشتمل على ذلك فهو إمَّا مكروه أو محرم، نقل عن الإمام أحمد أنه قال في مثل هذا: كأنه دراهم بدراهم لا يصحّ. هذا كلام الإمام أحمد. وعليه
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, এবং এটি ইমাম আহমাদ হতে একটি বর্ণনা (رواية)।

বরং আবু দাউদের বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী ইমাম আহমাদ এটিকে ‘ঈনাহ’ (العينة) এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেমনটি ইবনুল কায়্যিম ‘তাহজীবুত সুনান’ (৫/৮০১) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।

কিন্তু বর্তমান যুগে মানুষের প্রয়োজনীয়তা এবং ঋণদাতার অভাব বিবেচনা করে নিম্নোক্ত শর্তসাপেক্ষে এটি বৈধ (جواز) বলে মত প্রদান করা উচিত:

১ ـ তাকে দিরহামের মুখাপেক্ষী হতে হবে; যদি সে মুখাপেক্ষী না হয় তবে এটি বৈধ হবে না, যেমন কেউ অন্যকে ঋণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণ করে।

২ ـ করজ (قرض) বা সালাম (سلم) এর মতো অন্যান্য বৈধ (مباح) পন্থায় অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়া। যদি অন্য কোনো উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়, তবে এই পদ্ধতি বৈধ হবে না, কারণ তখন এর কোনো প্রয়োজন থাকে না।

৩ ـ চুক্তিতে সুদের (ربا) সাদৃশ্যপূর্ণ কোনো বিষয় থাকবে না। যেমন— সে বলল: আমি তোমার কাছে এটি দশের বিনিময়ে এগারোতে বিক্রি করলাম বা এই জাতীয় কিছু। যদি চুক্তিতে এমন কিছু অন্তর্ভুক্ত থাকে তবে তা মাকরূহ (مكروه) অথবা হারাম (محرم) হবে। ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এই জাতীয় লেনদেন সম্পর্কে বলেছেন: “এটি যেন দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম, যা সহিহ (يصح) নয়।” এটি ইমাম আহমাদের বক্তব্য। এবং এর ওপর ভিত্তি করে
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
فالطريق الصحيح أن يعرف الدائن قيمة السلعة ومقدار ربحه ثم يقول للمستدين: بعتك إيَّاها بكذا وكذا إلى سنة.

4 ـ أن لا يبيعها المستدين إلا بعد قبضها وحيازتها؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن بيع السلع قبل أن يحوزها التجار إلى رحالهم. فإذا تمَّت هذه الشروط الأربعة فإن القول بجواز مسألة التورق متوجهٌ كيلا يحصل تضييقٌ على الناس. وليكن معلوماً أنَّه لا يجوز أن يبيعها المستدين على الدائن بأقل مما اشتراها به بأي حال من الأحوال؛ لأن هذه هي مسألة العينة السابقة في القسم الرابع.
সঠিক (الصحيح) পদ্ধতি হলো এই যে, পাওনাদার পণ্যের মূল্য এবং তার মুনাফার পরিমাণ নির্ধারণ করবেন, অতঃপর ঋণগ্রহীতাকে বলবেন: "আমি তোমার কাছে এটি নির্দিষ্ট মূল্যে এক বছর মেয়াদের জন্য বিক্রি করলাম।"

৪ — ঋণগ্রহীতা পণ্যটি হস্তগত (قبضها) এবং আয়ত্তে (حيازتها) আনার আগে তা বিক্রি করবেন না; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যবসায়ীরা তাদের আস্তানায় পণ্য নিয়ে আসার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। যখন এই চারটি শর্ত পূর্ণ হবে, তখন মানুষের জন্য সংকীর্ণতা দূর করার স্বার্থে তাওয়াররুক (التورق) মাসআলাটির বৈধতার (جواز) বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হবে। আর এটি জেনে রাখা আবশ্যক যে, কোনো অবস্থাতেই ঋণগ্রহীতার জন্য পণ্যটি পাওনাদারের কাছে সেই মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি করা বৈধ (يجوز) হবে না যে মূল্যে সে তা ক্রয় করেছে; কারণ এটি হলো চতুর্থ পরিচ্ছেদে বর্ণিত সেই ‘ঈনা’ (العينة) লেনদেনের মাসআলা।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌القسم السادس: طريقة المداينة التي يستعملها كثير من الناس اليوم،

وهي أن يتفق المستدين والدائن على أخذ دراهم العشرة أحد عشر أو أقل أو أكثر، ثم يذهبا إلى الدكان فيشتري الدائن منه مالاً بقدر الدراهم التي اتفق والمستدين عليها، ثم يبيعه على المستدين، ثم يبيعه المستدين على صاحب الدكان بعد أن يخصم
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: বর্তমানে অনেক মানুষ লেনদেনের যে পদ্ধতি ব্যবহার করে،

তা হলো এই যে, ঋণগ্রহীতা ও ঋণদাতা দশ দিরহামের বিনিময়ে এগারো দিরহাম কিংবা তার চেয়ে কম বা বেশি গ্রহণ করার বিষয়ে একমত হয়। অতঃপর তারা কোনো দোকানে যায় এবং ঋণদাতা সেই দোকানদারের নিকট থেকে ঐ পরিমাণ দিরহামের বিনিময়ে পণ্য ক্রয় করে যা সে ও ঋণগ্রহীতা নির্ধারণ করেছিল। এরপর সে পণ্যটি ঋণগ্রহীতার নিকট বিক্রি করে দেয় এবং ঋণগ্রহীতা তা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কর্তন করার পর পুনরায় দোকানদারের নিকট বিক্রি করে দেয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
عليه شيئاً من المال يسمونه السعي، وهذا حرام بلا ريب، وقد نصَّ شيخ الإسلام ابن تيمية في عدَّة مواضع على تحريمه، ولم يحك فيه خلافاً مع أنه حكى الخلاف في مسألة التورُّق.

والمواضع التي ذكر فيها شيخ الإسلام تحريم هذه المسألة هي:

1 ـ يقول في ص74 من المجلد28: "و … والثلاثية مثل أن يدخلا بينهما محلِّلاً للربا يشتري السلعة منه آكل الربا، ثم يبيعها المعطي للرِّبا إلى أجلٍ ثم يعيدها إلى صاحبها بنقص دراهم يستفيدها المحلِّل. هذه المعاملات منها ما هو حرام بإجماع المسلمين مثل التي يجري فيها شرط لذلك، أو التي يباع فيها المبيع قبل القبض الشرعي، أو بغير الشروط الشرعية، أو يقلب فيها الدِّينَ على المعسر. ومن هذه المعاملات ما تنازع فيها بعض العلماء لكن الثابت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحابته الكرام أنها حرام.

2 ـ وفي ص437 مجلد29 قال: " … وقول
তাকে কিছু অর্থ প্রদান করা হয় যাকে তারা পরিশ্রমের পারিশ্রমিক (السعي) বলে অভিহিত করে, আর এটি নিঃসন্দেহে হারাম (حرام)। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ একাধিক স্থানে এর নিষিদ্ধতার (تحريم) বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। তিনি এ বিষয়ে কোনো মতভেদ (خلاف) উল্লেখ করেননি, যদিও তিনি 'তাওয়াররুক' (التورق) মাসআলায় বিদ্যমান মতভেদ বর্ণনা করেছেন।

শাইখুল ইসলাম যে স্থানগুলোতে এই মাসআলার নিষিদ্ধতা (تحريم) উল্লেখ করেছেন সেগুলো হলো:

১ — তিনি ২৮তম খণ্ডের ৭৪ পৃষ্ঠায় বলেন: "এবং … ত্রিপক্ষীয় লেনদেন (الثلاثية), যেমন তারা উভয়ের মাঝে সুদের জন্য একজন বৈধকারী (محلل) অন্তর্ভুক্ত করে; সুদখোর ব্যক্তি তার থেকে পণ্য ক্রয় করে, অতঃপর সুদ প্রদানকারী ব্যক্তি তা একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের (أجل) জন্য বিক্রয় করে এবং পরবর্তীতে কম মূল্যে তা পুনরায় মূল মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়, যার মাধ্যমে সেই মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তি লাভবান হয়। এই লেনদেনগুলোর মধ্যে কিছু মুসলিমদের ঐকমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে হারাম (حرام), যেমন: যে ক্ষেত্রে এই ধরণের শর্তারোপ করা হয়, অথবা যেখানে শরিয়তসম্মত হস্তগত (قبض) করার পূর্বে পণ্য বিক্রয় করা হয়, অথবা শরিয়তসম্মত শর্তাবলি (شروط) ব্যতীত বিক্রয় করা হয়, কিংবা অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির ওপর ঋণের বোঝা পরিবর্তন (يقلب الدين) করা হয়। এই লেনদেনগুলোর কোনো কোনোটি নিয়ে কোনো কোনো আলেম দ্বিমত (تنازع) পোষণ করেছেন, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ থেকে এটিই প্রমাণিত যে, তা হারাম (حرام)।

২ — এবং ২৯তম খণ্ডের ৪৩৭ পৃষ্ঠায় তিনি বলেন: " … এবং বক্তব্য হলো"
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
القائل لغيره أدينك كل مائة بكسب كذا وكذا حرام … إلى أن قال: وبكل حال فهذه المعاملة وأمثالها من المعاملات التي يقصدُ بها بيع الدراهم بأكثر منها إلى أجل هي معاملة فاسدة ربوية".

3 ـ وفي ص439 من المجلد 29 المذكور قال: "أمَّا إذا كان قصد الطالب أخذ دراهم بأكثر منها إلى أجلٍ، والمعطي بقصد إعطاء ذلك، فهذا ربا لا ريب في تحريمه، وإن تحايلا على ذلك بأي طريق كان،. "فإنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرأ ما نوى". وذكر نحو هذا في ص430 وص433 وص441 من المجلد المذكور وذكر نحوه في كتاب: إبطال التحليل في ص109.

وبعد، فإنَّ تحريم هذه المداينة التي ذكرنا صورتها في أول هذا القسم لا يمتري فيه شخص تجرَّد عن الهوى وعن الشح وذلك من وجوه:

* الأول: أن مقصود كل من الدائن والمدين دراهم بدراهم، ولذلك يقدِّران المبلغ بالدراهم، والكسب
যে ব্যক্তি অন্যকে বলে, "আমি তোমাকে প্রতি একশ’র বিনিময়ে অমুক অমুক লাভে ঋণ দেব", তা নিষিদ্ধ (حرام) … পরিশেষে তিনি বলেন: "সারকথা হলো, এই লেনদেন এবং এই জাতীয় লেনদেনসমূহ যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদে অতিরিক্ত মূল্যে দিরহাম বিক্রয় করার উদ্দেশ্য থাকে, তা একটি বাতিল (فاسدة) ও সুদভিত্তিক (ربوية) লেনদেন।"

৩ — এবং উক্ত ২৯তম খণ্ডের ৪৩৯ পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন: "পক্ষান্তরে, যখন ঋণপ্রার্থীর উদ্দেশ্য হয় নির্দিষ্ট মেয়াদে অতিরিক্ত মূল্যে দিরহাম গ্রহণ করা এবং দাতা তা প্রদানের সংকল্প করে, তবে এটি এমন এক সুদ (ربا) যার নিষিদ্ধ হওয়ার (تحريم) বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, চাই তারা যে কোনো পদ্ধতিতেই এর জন্য অপকৌশল অবলম্বন করুক না কেন। নিশ্চয়ই 'সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ীই প্রতিফল পাবে।' তিনি উক্ত খণ্ডের ৪৩০, ৪৩৩ এবং ৪৪১ পৃষ্ঠায় এর অনুরূপ কথা এবং ইবতাল আত-তাহলিল কিতাবের ১০৯ পৃষ্ঠায় এর সদৃশ আলোচনা করেছেন।"

অতঃপর, এই ঋণ লেনদেনের (مداينة) নিষিদ্ধতা (تحريم)—যার স্বরূপ আমরা এই পরিচ্ছেদের শুরুতে উল্লেখ করেছি—এমন কোনো ব্যক্তি অস্বীকার করবে না যে নিজেকে প্রবৃত্তি ও কৃপণতা থেকে মুক্ত করেছে; আর তা কয়েকটি দিক থেকে বিবেচ্য:

* প্রথমত: ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতা উভয়েরই উদ্দেশ্য হলো দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম, আর একারণেই তারা মূল পরিমাণ ও লভ্যাংশ দিরহামের অংকে নির্ধারণ করে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
بالدراهم، قبل أن يعرفا السلعة التي يكون التحليل بها؛ لأنهما يتفقان أولاً على دراهم: العشرة كذا وكذا ثم يأتيان إلى صاحب الدكَّان فيشتري الدائن أي جنس وجده من المال، فربما يكون عنده سكر أو خام أو أرز أو هيل أو غير ذلك، فيشتري الدائن ما وجد ويأخذه المستدين، وبهذا علم أن القصد الدراهم بالدراهم، وأن السلعة غير مقصودة للطرفين. وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: "إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرأ ما نوى"1.

ويدلُّ على ذلك أنَّ الدائن والمستدين كلاهما لا يقلِّبان السلعة ولا ينظران فيها نظر المشتري الرَّاغب، وربما كانت معيبة أو تالفاً، منها ما كان غائباً عن نظرهما مما يلي الأرض أو الجدار المركونة إليه وهما لا يعلمان ذلك ولا يباليان به.

إذن فالبيع بيع صوريٌّ لا حقيقي، والصور لا تغيِّر

--------------------------------------------

1 سبق تخريجه "ص7".
দিরহামের বিনিময়ে, পণ্যটি সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়ার পূর্বেই যার মাধ্যমে লেনদেনটি বৈধ করা হবে; কারণ তারা প্রথমে দিরহামের পরিমাণের বিষয়ে একমত হয়: দশের বিনিময়ে এত এত। অতঃপর তারা দোকানদারের নিকট আসে এবং পাওনাদার সেখানে যে কোনো ধরণের সম্পদ পায় তা-ই ক্রয় করে; হতে পারে তার নিকট চিনি, থান কাপড়, চাল, এলাচ বা অন্য কিছু রয়েছে। পাওনাদার যা পায় তা-ই ক্রয় করে এবং ঋণগ্রহীতা তা গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে এটি প্রতীয়মান হয় যে, মূল উদ্দেশ্য হলো দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম এবং পণ্যটি উভয় পক্ষের কারোই কাম্য নয়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে।”1.

আর এটি একথারই প্রমাণ দেয় যে, পাওনাদার ও ঋণগ্রহীতা উভয়ের কেউই পণ্যটি উল্টেপাল্টে দেখে না এবং একজন আগ্রহী ক্রেতা যেভাবে পণ্য পর্যবেক্ষণ করে সেভাবেও তারা সেটির দিকে দৃষ্টিপাত করে না। পণ্যটি হয়তো ত্রুটিযুক্ত বা নষ্ট হতে পারে, যার কিছু অংশ তাদের দৃষ্টির আড়ালে ভূমির সংলগ্ন দিকে বা যে দেয়ালের সাথে তা ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে সেদিকে থাকতে পারে, অথচ তারা সে সম্পর্কে জানেও না এবং এ নিয়ে কোনো পরোয়াও করে না।

সুতরাং এই বিক্রয়টি একটি নামমাত্র বিক্রয়, কোনো প্রকৃত বিক্রয় নয়; আর বাহ্যিক রূপ কোনো কিছুর বাস্তবতাকে পরিবর্তন করতে পারে না।

--------------------------------------------

1 ইতিপূর্বে ৭ নং পৃষ্ঠায় এর উৎস সূত্রায়ন (تخريج) করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الحقائق ولا ترتفع بها الأحكام. ولقد حُدِّثت أنه إذا لم يكف المال الموجود عند صاحب الدُّكان للدراهم التي يريدها المستدين. فإنَّهم يعيدون هذا البيع الصُّوري على نفس المال وفي نفس الوقت، فإذا أخذه صاحب الدُّكان من المستدين باعه مرة أخرى على الدائن، ثم باعه الدائن على المستدين بالربح الذي اتفقا عليه من قبل، ثم باعه المستدين على صاحب الدكان، فيرجع الدائن مرة أخرى فيشتريه من صاحب الدكان، ثم يبيعه على المستدين بالربح الذي اتفقا عليه. وهكذا أبداً حتى تنتهي الدراهم، فربما يكون المال الذي عند صاحب الدكان لا يساوي عُشرَ مبلغِ الدراهم المطلوبة، ولكن بهذه الألعوبة يبلغون مرادهم والله المستعان.

* الوجه الثاني: مما يدل على تحريم هذه المداينة أنه إذا كان مقصود الدائن والمدين هي الدراهم، فإن ذلك حيلة على الربا بطريقة لا يرتفع بها مقصود الرِّبا، والتحايل على محارم الله تعالى جامع بين مفسدتين:
বাস্তবতা এবং এর দ্বারা বিধান (أحكام) সমূহ রহিত হয় না। আমাকে জানানো হয়েছে যে, দোকানদারের নিকট বিদ্যমান পণ্য যদি ঋণগ্রহীতার কাঙ্ক্ষিত দিরহামের জন্য পর্যাপ্ত না হয়, তবে তারা একই পণ্যের ওপর এবং একই সময়ে এই লোকদেখানো বিক্রয় প্রক্রিয়াটি পুনরায় সম্পাদন করে। যখন দোকানদার ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে তা গ্রহণ করে, তখন সে তা পুনরায় ঋণদাতার কাছে বিক্রয় করে। অতঃপর ঋণদাতা তা ঋণগ্রহীতার কাছে ইতিপূর্বে নির্ধারিত লাভে বিক্রয় করে। তারপর ঋণগ্রহীতা তা দোকানদারের কাছে বিক্রয় করে, এরপর ঋণদাতা পুনরায় ফিরে এসে তা দোকানদারের কাছ থেকে ক্রয় করে এবং ঋণগ্রহীতার নিকট পূর্বনির্ধারিত লাভে পুনরায় বিক্রয় করে। এভাবে চলতেই থাকে যতক্ষণ না দিরহামের পরিমাণ পূর্ণ হয়। হতে পারে দোকানদারের কাছে থাকা পণ্যটি কাঙ্ক্ষিত দিরহামের দশভাগের একভাগ মূল্যেরও নয়, কিন্তু এই চাতুরির মাধ্যমে তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করে। আর আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

* দ্বিতীয় দিক: এই লেনদেন নিষিদ্ধ হওয়ার অন্যতম প্রমাণ হলো, যদি ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার উদ্দেশ্য দিরহাম (নগদ অর্থ) হয়ে থাকে, তবে এটি সুদ (ربا)-এর ওপর একটি কৌশল (حيلة) মাত্র, যার মাধ্যমে সুদের মূল উদ্দেশ্য রহিত হয় না। আর মহান আল্লাহর হারামকৃত বিষয়সমূহে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া দুটি অনিষ্ট (مفسدة)-এর সমষ্টি:
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
مفسدة المحرم التي لم ترتفع بتلك الحيلة.

ومفسدة الخداع والمكر في أحكام وآيات الله تعالى الذي يعلم خائنة الأعين وما تُخفي الصدور.

ولقد أخبر الله عن المخادعين له بأنَّهم يخادعون الله وهو خادعهم، وذلك بما زيَّنه في قلوبهم من الاستمرار في خداعهم ومكرهم فهم يمكرون، ويمكر الله والله خير الماكرين.

قال أيوب السختياني: يخادعون الله كما يخادعون الصِّبيان، ولو أتوا بالأمر على وجهه لكان أهون.

وقد حذَّر النبي صلى الله عليه وسلم أمَّته من التحايل على محارم الله فقال: "لا ترتكبوا ما ارتكبت اليهود فتستحلُّوا محارم الله بأدنى الحيل" 1. وقال صلى الله عليه وسلم: "لعن الله اليهود، حُرِّمت عليهم الشُّحومُ فباعوها وأكلوا أثمانها" 2.

--------------------------------------------

1 "إرواء الغليل"، للألباني "5/1535".

2 رواه البخاري، كتاب البيوع "2236"، ومسلم، كتاب المساقاة "1581"،
হারামের অনিষ্ট যা সেই কৌশলের মাধ্যমে দূরীভূত হয়নি।

এবং আল্লাহ তাআলার বিধান ও আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে প্রতারণা ও চাতুর্যের অনিষ্ট, যিনি চোখের খিয়ানত এবং অন্তরের লুকায়িত বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত।

আল্লাহ তাআলা তাঁর সাথে প্রতারণাকারীদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে অথচ তিনি তাদের কৌশলের প্রতিফল দানকারী। এটি তাদের অন্তরে তাদের প্রতারণা ও চাতুর্য অব্যাহত রাখার বিষয়টি শোভনীয় করে দেওয়ার মাধ্যমে হয়েছে; ফলে তারা চাতুর্য অবলম্বন করে এবং আল্লাহও কৌশল করেন, আর আল্লাহ সর্বোত্তম কৌশলী।

আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি বলেন: তারা আল্লাহর সাথে এমনভাবে প্রতারণা করে যেমন তারা শিশুদের সাথে প্রতারণা করে। তারা যদি বিষয়টি সরাসরি সম্পন্ন করত তবে তা সহজতর হতো।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়সমূহে কৌশল অবলম্বন করা থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন: "তোমরা ইয়াহুদিদের ন্যায় আচরণ করো না, অন্যথায় তোমরা সামান্য কৌশলের মাধ্যমে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়সমূহকে হালাল করে নেবে।" ১। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: "আল্লাহ ইয়াহুদিদের লানত করুন, তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা বিক্রি করল এবং তার মূল্য ভক্ষণ করল।" ২।

--------------------------------------------

১ আলবানি রচিত "ইরওয়াউল গালিল" ৫/১৫৩৫।

২ বুখারি কর্তৃক বর্ণিত, ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় "২২৩৬", এবং মুসলিম, মুসাকাত অধ্যায় "১৫৮১"
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
* الوجه الثالث: أنَّ هذه المعاملة يربحُ فيها الدائن على المستدين قبل أن يشتري السلعة، بل يربحُ عليه في سلعة لم يعرفا نوعها وجنسها فيربحَ في شيء لم يدخلْ في ضمانه.

وقد نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ربح ما لم يضمنْ، وقال: "الخراجُ بالضّمانِ" 1، وقال: "لا تبعْ ما ليس عندك" 2. وهذا كله بعد التسليم بأنَّ البيع الذي يحصل في المداينة بيع صحيح، فإنَّ الحقيقة أنَّه ليس بيعاً حقيقيًّا، وإنما هو بيعٌ صوريٌّ، بدليل أن المشتري لا يقلِّبه ولا ينظرُ فيه ولا يماكسُ في القيمة، بل لو بيع عليه بأكثر من قيمته لم يبال بذلك.

--------------------------------------------

1 رواه أبو داود، كتاب البيوع "3510"، والترمذي كتاب البيوع "1285"، وصحيحه، والنسائي، كتاب البيوع "4490"، وابن ماجة، كتاب التجارات

"2243"، وأحمد "6/49".

2 رواه أبو داود، كتاب البيوع "3503"، والترمذي، كتاب البيوع "1232"، والنسائي، كتاب البيوع "4613"، وابن ماجة، كتاب التجارات "2187"،

وصححه الألباني في الإرواء "5/1292".
তৃতীয় দিক: এই লেনদেনে পাওনাদার পণ্যটি ক্রয় করার পূর্বেই ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে মুনাফা অর্জন করে; বরং সে এমন পণ্যের ওপর মুনাফা করে যার ধরন ও শ্রেণি সম্পর্কে তারা উভয়ই অবগত নয়, ফলে সে এমন বিষয়ে লাভ করে যা তার দায়বদ্ধতার (ضمان) অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন বস্তুর মুনাফা অর্জন করতে নিষেধ করেছেন যার দায় গ্রহণ করা হয়নি এবং তিনি বলেছেন: "লাভ দায়বদ্ধতার সাথে সংশ্লিষ্ট" ১, এবং তিনি আরও বলেছেন: "তোমার কাছে নেই এমন কিছু বিক্রয় করো না" ২। আর এই সমস্ত কিছু সেই স্বীকৃতির পর যে, ঋণের ক্ষেত্রে যে বিক্রয় সংঘটিত হয় তা একটি সঠিক (صحيح) বিক্রয়; কিন্তু বাস্তবতা হলো এটি কোনো প্রকৃত বিক্রয় নয়, বরং এটি একটি লৌকিক বা কৃত্রিম বিক্রয়। এর প্রমাণ হলো, ক্রেতা পণ্যটি উল্টেপাল্টে দেখে না, তা পর্যবেক্ষণ করে না এবং এর দাম নিয়ে দরকষাকষিও করে না। এমনকি যদি তার কাছে এটি বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রয় করা হয়, তবুও সে তাতে ভ্রূক্ষেপ করে না।

--------------------------------------------

১ এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, কিতাবুল বুয়ূ "৩৫১০"; তিরমিজি, কিতাবুল বুয়ূ "১২৮৫" এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন; নাসায়ি, কিতাবুল বুয়ূ "৪৪৯০"; ইবনে মাজাহ, কিতাবুত তিজারাত

"২২৪৩" এবং আহমাদ "৬/৪৯"।

২ এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, কিতাবুল বুয়ূ "৩৫০৩"; তিরমিজি, কিতাবুল বুয়ূ "১২৩২"; নাসায়ি, কিতাবুল বুয়ূ "৪৬১৩"; ইবনে মাজাহ, কিতাবুত তিজারাত "২১৮৭";

এবং আলবানী একে ইরওয়াউল গালিল-এ সহিহ (صحيح) বলেছেন "৫/১২৯২"।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
* الوجه الرابع: أنَّ هذه المعاملة تتضمنُ بيع السلعة المشتراة قبل حيازتها إلى محلِّ المشتري ونقلها عن محلِّ البائع.

وقد نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بيع السلع حيث تُشترى حتى يحوزها التجار إلى رحالهم.

فعن زيد بن ثابت رضي الله عنهما قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تُباعَ السلع حيث تبتاع حتى يحوزها التجار إلى رحالهم. رواه أبو داود1.

وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: كانوا يتبايعون الطعام جزافاً بأعلى السوق فنهاهم النبي صلى الله عليه وسلم أن يبيعوه حتَّى ينقلوهُ. رواه الجماعة إلا الترمذي وابن ماجه2.

--------------------------------------------

1 سنن أبي داود، كتاب البيوع "3499".

2 رواه البخاري، كتاب البيوع "2131"، مسلم، كتاب البيوع "1527"، أبو داود، كتاب البيوع "3498"، والنسائي، كتاب البيوع "4605 – 4608"، وابن ماجة، كتاب التجارات 2229 وأحمد 2/7
চতুর্থ দিক: এই লেনদেনের অন্তর্ভুক্ত বিষয় হলো ক্রয়কৃত পণ্যটি নিজের অধিকারে নেওয়ার এবং বিক্রেতার স্থান থেকে সরিয়ে নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তা পুনরায় বিক্রয় করা।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পণ্যসমূহ যে স্থান থেকে ক্রয় করা হয়েছে সেখানেই পুনরায় বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ না ব্যবসায়ীরা তা তাদের নিজ অবস্থানে (গন্তব্যে) নিয়ে যায়।

যায়েদ বিন সাবিত রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পণ্যসমূহ যেখান থেকে ক্রয় করা হয়েছে সেখানেই পুনরায় বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ না ব্যবসায়ীরা তা তাদের নিজ অবস্থানে নিয়ে যায়। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন১।

ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তারা বাজারের উপরিভাগে অনুমানের ভিত্তিতে খাদ্যদ্রব্য কেনাবেচা করত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের তা স্থানান্তর করার আগে বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। এটি তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ ব্যতীত জামাআত (الجماعة) বর্ণনা করেছেন২।

--------------------------------------------

১ সুনান আবু দাউদ, কিতাবুল বুয়ু "৩৪৯৯"।

২ এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, কিতাবুল বুয়ু "২১৩১", মুসলিম, কিতাবুল বুয়ু "১৫২৭", আবু দাউদ, কিতাবুল বুয়ু "৩৪৯৮", নাসাঈ, কিতাবুল বুয়ু "৪৬০৫ – ৪৬০৮", ইবনে মাজাহ, কিতাবুত তিজারাত ২২২৯ এবং আহমাদ ২/৭।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌القسم السابع: من طريقة المداينة أن يكون في ذمَّة شخص لآخر دراهم مؤجلة،

فيحل أجلها وليس عنده ما يوفِّيه فيقول له صاحب الدين: أدينُكَ فتوفيني فيدينهُ فيوفيه، وهذا من الربا بل هو مما قال الله فيه: {يَأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُواْ لَا تَأْكُلُواْ الرِّبَا أَضْعَافاً مُّضَاعَفَةً وَاتَّقُواْ اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ * وَاتَّقُواْ النَّارَ الَّتِى أُعِدَّتْ لِلْكَفِرِينَ * وَأَطِيعُواْ اللَّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} 1.

وهذا القسم من المداينة من أعمال الجاهلية حيث كان يقول أحدهم للمدين إذا حلَّ الدين: إما أن توفِّي وإما أن تُربي، إلا أنَّهم في الجاهلية يضيفون الرِّبا إلى الدَّين صراحة من غير عمل حيلة، وهؤلاء يضيفون الرِّبا إلى الدَّين بالحيلة. والواجب على صاحب الدَّين إذا حلَّ دينه إنظار المدين إذا كان معسراً، لقوله

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران، الآيات: 130 – 132.
‌‌সপ্তম পরিচ্ছেদ: ঋণ লেনদেনের (المداينة) একটি পদ্ধতি হলো এই যে, এক ব্যক্তির জিম্মায় অন্য ব্যক্তির পাওনা দিরহাম নির্দিষ্ট মেয়াদের ভিত্তিতে অবশিষ্ট থাকে،

অতঃপর যখন পরিশোধের সময় উপস্থিত হয় এবং তার কাছে পরিশোধ করার মতো কিছু থাকে না, তখন পাওনাদার তাকে বলে: "আমি তোমাকে পুনরায় ঋণ দিচ্ছি যাতে তুমি আমার পাওনা পরিশোধ করতে পারো।" অতঃপর সে তাকে ঋণ দেয় এবং সে তা পরিশোধ করে। আর এটি সুদ (الربا)-এর অন্তর্ভুক্ত, বরং এটি সেই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ (الربا) ভক্ষণ করো না এবং আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। * আর তোমরা সেই আগুনকে ভয় করো যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। * এবং তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা দয়াপ্রাপ্ত হতে পারো।} ১।

ঋণ লেনদেনের এই বিষয়টি জাহেলিয়াতের যুগের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে ঋণ পরিশোধের সময় হলে তাদের কেউ ঋণগ্রহীতাকে বলত: "হয় তুমি ঋণ পরিশোধ করো, অন্যথায় সুদের (تربي) হার বাড়িয়ে দাও।" তবে পার্থক্য হলো, জাহেলিয়াতের যুগে তারা কোনো প্রকার কৌশল (حيلة) অবলম্বন ছাড়াই স্পষ্টভাবে ঋণের সাথে সুদ (الربا) যুক্ত করত, আর এরা কৌশলের (الحيلة) মাধ্যমে ঋণের সাথে সুদ (الربا) যুক্ত করে। অথচ পাওনাদারের ওপর আবশ্যক হলো, যখন ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হবে এবং ঋণগ্রহীতা অসচ্ছল হবে, তখন তাকে অবকাশ দেওয়া। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন—

--------------------------------------------

১. সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩০–১৩২।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
تعالى: {وَإِن كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ} 1. أمَّا إذا أبراه من الدَّين فذلك خيرٌ وأفضل. أما إن كان المدين موسراً فإنَّ للدائن إجباره على الأداء لأنه يحرم على المدين حينئذٍ أن يماطل ويدافع صاحب الدَّين لقول النبي صلى الله عليه وسلم: "مطلُ الغني ظلم" 2. ومن المعلوم أن الظلم حرام يجبُ منع فاعله وإلزامه بما يُزيلُ الظلم.

القسم الثامن: من المداينة أن يكون لشخص على آخر دين، فإذا حلَّ قال له: إمَّا أن توفِّي دينك أو تذهب لفلان يدينك وتوفِّيني، ويكون بين الدائن الأول والثاني اتفاقٌ مسبقٌ في أنَّ كل واحد منهما يدين غريم

--------------------------------------------

1 سورة البقرة، الآية: 280.

2 رواه البخاري، كتاب الحوالة "2287"، مسلم، كتاب المساقاة "1564"، وأبو داود، كتاب البيوع "3345"، والترمذي، كتاب البيوع "1308"، والنسائي، كتاب البيوع "4688"، وابن ماجة، كتاب الصدقات "2404"، واحمد 2/71"،
মহান আল্লাহ বলেন: {আর যদি ঋণগ্রহীতা অভাবগ্রস্ত হয়, তবে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দেওয়া উচিত} ১। পক্ষান্তরে, যদি পাওনাদার তাকে ঋণ থেকে মুক্তি দেয়, তবে তা তার জন্য অধিকতর কল্যাণকর ও উত্তম। কিন্তু ঋণগ্রহীতা যদি সচ্ছল হয়, তবে পাওনাদার তাকে ঋণ পরিশোধে বাধ্য করার অধিকার রাখেন। কারণ সেই অবস্থায় ঋণগ্রহীতার জন্য টালবাহানা করা এবং পাওনাদারকে ঘোরাফেরা করানো হারাম (حرام); যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সচ্ছল ব্যক্তির টালবাহানা করা একটি জুলুম (ظلم)" ২। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, জুলুম (ظلم) হারাম (حرام), তাই এর কর্তাকে অবশ্যই তা থেকে বিরত রাখা এবং জুলুম (ظلم) নিরসনে যা প্রয়োজনীয় তা করতে তাকে বাধ্য করা আবশ্যক।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: ঋণ আদান-প্রদানের একটি প্রকার হলো কোনো ব্যক্তির নিকট অন্য কারো ঋণ থাকা। অতঃপর যখন ঋণ পরিশোধের সময় উপস্থিত হয়, তখন পাওনাদার তাকে বলে: "হয় তুমি ঋণ পরিশোধ করো, নতুবা অমুকের কাছে যাও সে তোমাকে ঋণ দিবে এবং তুমি আমাকে তা পরিশোধ করবে।" এক্ষেত্রে প্রথম ও দ্বিতীয় পাওনাদারের মধ্যে পূর্ব থেকেই এমন সমঝোতা থাকে যে, তাদের প্রত্যেকেই ঋণী ব্যক্তিকে ঋণ প্রদান করবে...

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৮০।

২. বুখারি বর্ণনা করেছেন (رواه), কিতাবুল হাওয়ালা "২২৮৭", মুসলিম, কিতাবুল মুসাকাত "১৫৬৪", আবু দাউদ, কিতাবুল বুয়ু "৩৩৪৫", তিরমিজি, কিতাবুল বুয়ু "১৩০৮", নাসায়ি, কিতাবুল বুয়ু "৪৬৮৮", ইবনে মাজাহ, কিতাবুস সাদাকাত "২৪০৪", এবং আহমাদ ২/৭১।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
صاحبه ليوفِّيه ثم يعيدُ الدَّين عليه مرة أخرى ليوفِّي الدائن الجديد. أو يقول: اذهب إلى فلان لتستقرض منه وتوفِّيني، ويكون بين الدائن الأول والمقرض اتفاق أو شبه اتفاق على أن يقرض المدين. فإذا أوفى الدائن الأول قلب عليه الدين، ثم أوفى المقرض ما اقترض منه. وهذه حيلة لقلب الدين بطريق ثلاثية وهي حرام لما تقدم من تحريم الحيل وتحذير النبي صلى الله عليه وسلم أمته من ذلك.
তার সাথী তাকে ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থ প্রদান করে, অতঃপর সে পুনরায় তার ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেয় যাতে সে নতুন পাওনাদারকে পরিশোধ করতে পারে। অথবা সে বলে: অমুকের কাছে যাও যেন তুমি তার নিকট হতে ঋণ গ্রহণ করে আমার পাওনা পরিশোধ করতে পারো; এমতাবস্থায় প্রথম পাওনাদার ও ঋণদাতার মধ্যে এই মর্মে কোনো চুক্তি বা চুক্তির সদৃশ কোনো বোঝাপড়া থাকে যে সে ঋণগ্রহীতাকে ঋণ প্রদান করবে। অতঃপর যখন সে প্রথম পাওনাদারকে পরিশোধ করে দেয়, তখন সে তার ওপর ঋণটি পরিবর্তন করে দেয়, এরপর সে ঋণদাতার থেকে যা ধার নিয়েছিল তা পরিশোধ করে। আর এটি হলো ত্রিপক্ষীয় পন্থায় ঋণ পরিবর্তনের একটি অপকৌশল (حيلة) এবং এটি নিষিদ্ধ (حرام); যেহেতু ইতিপূর্বে প্রবঞ্চনামূলক অপকৌশলসমূহের (الحيل) অবৈধতা এবং এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর উম্মতকে সতর্ক করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌خلاصة ما تقدم:

وبعد، فهذه ثمانية أقسام من أقسام المداينة بعضها حلال جائز فيه الخير والبركة، وبعضها حرام ممنوع ليس فيه إلا الشرُّ والخسارة ونزع البركة، ولو لم يكن فيه إلا أنه يزيِّن لصاحبه سوء عمله، فيستمر فيه ولا يرى أنه على باطل، فيكون داخلاً في قول الله تعالى: {أَفَمَن زُيِّنَ لَهُ سُوءَ عَمَلِهِ فَرَءَاهُ حَسَناً فَإِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَن يَشَآءُ
‌পূর্বালোচনার সারসংক্ষেপ:

অতঃপর, এগুলো হলো ঋণ আদান-প্রদান বা লেনদেনের আটটি প্রকার; যার কিছু অংশ হালাল ও বৈধ, যাতে কল্যাণ ও বরকত নিহিত রয়েছে। আর কিছু অংশ হারাম ও নিষিদ্ধ, যাতে অকল্যাণ, ক্ষতি এবং বরকত হরণ ছাড়া আর কিছুই নেই। এমনকি এতে যদি কেবল আমলকারীর নিকট তার মন্দ কাজকে সুশোভিত করে দেখানোর বিষয়টিও থাকত, তবে সেটিই যথেষ্ট ছিল; যার ফলে সে তা অব্যাহত রাখে এবং নিজেকে ভ্রান্তির ওপর রয়েছে বলে উপলব্ধি করে না। ফলত সে মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়: "যাকে তার মন্দ কর্ম সুশোভিত করে দেখানো হয়েছে, ফলে সে একে উত্তম মনে করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন..."
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وَيَهْدِى مَن يَشَآءُ} 1. وقال تعالى: {قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُم بِالَاْخْسَرِينَ أَعْمَلاً * الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِى الْحَيَوةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا} 2.

فالحلال من هذه الأقسام:

1 ـ أن يحتاجَ الشخص إلى سلعة أو عقار فيشتريه بثمن مؤجَّل لقضاء حاجته.

2 ـ أن يشتري السلعة أو العقار بثمن مؤجل للاتجار به وانتظار زيادة السِّعر.

3 ـ أن يحتاجَ إلى دراهم فيأخذها من شخص بسلعة يكتبها الآخذ في ذمته.

وهذه الأقسام الثلاثة جائزة بلا ريب وسبقَ تفصيلها.

والحرام من الأقسام الأخرى:

1 ـ أن يحتاج إلى دراهم فلا يجدُ مَن يقرضه فيشتري

--------------------------------------------

1 سورة فاطر، الآية: 8.

2 سورة الكهف، الآيتان: 103، 104.
{এবং তিনি যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন} ১। এবং আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {বলুন, আমি কি তোমাদেরকে আমলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের সংবাদ দেব? তারা ঐ সব লোক, পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, অথচ তারা মনে করছে যে তারা ভালো কাজ করছে} ২।

এই প্রকারগুলোর মধ্যে বৈধ (حلال) হলো:

১ ـ কোনো ব্যক্তির কোনো পণ্য বা স্থাবর সম্পত্তির প্রয়োজন হওয়া, অতঃপর সে তার প্রয়োজন মেটাতে তা বিলম্বিত মূল্যে (بثمن مؤجل) ক্রয় করা।

২ ـ ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে এবং মূল্য বৃদ্ধির প্রতীক্ষায় কোনো পণ্য বা স্থাবর সম্পত্তি বিলম্বিত মূল্যে (بثمن مؤجل) ক্রয় করা।

৩ ـ দিরহামের প্রয়োজন হওয়া, অতঃপর কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে তা এমন পণ্যের বিনিময়ে গ্রহণ করা যা গ্রহণকারী তার জিম্মায় (في ذمته) লিখে রাখে।

আর এই তিনটি প্রকার নিঃসন্দেহে বৈধ (جائز) এবং ইতিপূর্বে এর বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।

আর অন্যান্য প্রকারগুলোর মধ্যে যা অবৈধ (حرام) তা হলো:

১ ـ কোনো ব্যক্তির দিরহামের প্রয়োজন হওয়া এবং তাকে ঋণ দেওয়ার মতো কাউকে না পেয়ে ক্রয় করা...

--------------------------------------------

১. সূরা ফাতির, আয়াত: ৮।

২. সূরা কাহাফ, আয়াত: ১০৩, ১০৪।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
سلعة من شخص بثمنٍ مؤجَّل زائد على قيمتها الحاضرة، ثم يبيعها على غيره، وهذه هي مسألة التَّورُّق، في جوازها خِلاف بين العلماء كما تقدم.

2 ـ أن يحتاج إلى دراهم ولا يجد مَن يقرضه فيشتري من شخص سلعة بثمن مؤجَّل، ثم يبيعها عليه بأقل مما اشتراها به، وهذه مسألة العينة.

3 ـ أن يتفق الدائن والمدين على أخذ الدراهم العشرة أحد عشر أو نحو ذلك، ثم يذهب إلى ثالث فيشتري الدائن منه سلعة، هو في الحقيقة شراء صوري، ثم يبيعها على المدين ثم يبيعها المدين بدوره على الذي أخذها الدائن منه.

وهذه طريقة المداينة التي يستعملها الآن كثير من الناس، وهي حرام كما سبق عن شيخ الإسلام ابن تيمية، ولم يذكر خلافاً في تحريمها كما ذكر في مسألة التَّورُّق.

4 ـ أن يكون لشخص على آخر دينٌ مؤجَّلٌ فيحل
কোনো ব্যক্তি থেকে তার বর্তমান মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে বাকিতে (مؤجل) কোনো পণ্য ক্রয় করা, এরপর তা অন্য কারো কাছে বিক্রি করা। এটিই হলো তাওররুক (التورق) এর মাসআলা। এর বৈধতা (جواز) নিয়ে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ (خلاف) রয়েছে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

২ — দিরহামের প্রয়োজন হওয়া এবং এমন কাউকে না পাওয়া যে তাকে ঋণ (قرض) দেবে, এমতাবস্থায় সে কোনো ব্যক্তি থেকে বাকিতে (مؤجل) কোনো পণ্য ক্রয় করে, এরপর তা পুনরায় ওই ব্যক্তির কাছেই ক্রয়মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করে দেয়। এটি হলো ঈনাহ (العينة) এর মাসআলা।

৩ — পাওনাদার (دائن) ও দেনাদার (مدين) দশ দিরহামের পরিবর্তে এগারো দিরহাম বা অনুরূপ কোনো অংকের বিনিময়ে লেনদেন করতে একমত হওয়া। এরপর তারা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কাছে যায় এবং পাওনাদার তার নিকট থেকে একটি পণ্য ক্রয় করে; যা প্রকৃতপক্ষে একটি লোকদেখানো (صوري) ক্রয়মাত্র। এরপর পাওনাদার পণ্যটি দেনাদারের কাছে বিক্রি করে এবং দেনাদার পুনরায় তা ওই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেয় যার কাছ থেকে পাওনাদার তা গ্রহণ করেছিল।

এটি হলো লেনদেনের (المداينة) সেই পদ্ধতি যা বর্তমানে অনেক মানুষ ব্যবহার করে থাকে এবং এটি হারাম (حرام), যেমনটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। তিনি এর নিষিদ্ধতা (تحريم) নিয়ে কোনো মতভেদ (خلاف) উল্লেখ করেননি, যেমনটি তিনি তাওররুক (التورق) এর মাসআলায় উল্লেখ করেছিলেন।

৪ — কোনো ব্যক্তির ওপর অন্য কোনো ব্যক্তির বাকিতে পরিশোধযোগ্য ঋণ (دين مؤجل) থাকা, অতঃপর তা আদায়ের সময় হওয়া (يحل)
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
أجله وليس عنده ما يوفيه، فيقول صاحب الدين: أدينك وتوفيني، فيدينه فيوفيه. وهذه طريقة أهل الجاهلية التي تتضمن أكل الرِّبا أضعافاً مضاعفة، إلا أنها صريحة في الجاهلية خديعة في هذا الزمان، ففيها مفسدتان.

5 ـ أن يكون لشخص على آخر دين مؤجل فيحل أجله، ويكون لصاحب الدين صاحب يتَّفق معه على أن يقرض المدين أو يدينه ليوفِّي الدائن، ثم يقلب عليه الدين مرة أخرى. وهذه هي طريقة الجاهلية مع إدخال الطرف الثالث المشارك في الإثم والعدوان والمكر والخداع.

فهذه الأقسام الخمسة محرَّمة، وقد علمت ما في القسم الأول منها من الخلاف.

واعلم أنَّ الدَّين في اصطلاح أهل الشرع اسم لما ثبت في الذمة سواء كان ثمنَ مبيعٍ أو قرضاً أو أجرةً أو صداقاً أو عوضاً لخلع أو قيمة لمتلف أو غير ذلك.

وليس كما يظنه كثير من العوام من أنَّ المداينة هي
এর সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর তা পরিশোধ করার সামর্থ্য তার থাকে না, তখন পাওনাদার বলে: আমি তোমাকে পুনরায় ঋণ দিচ্ছি এবং তুমি আমাকে পরিশোধ করবে, ফলে সে তাকে ঋণ দেয় এবং সে তা পরিশোধ করে। এটি জাহেলিয়াত যুগের মানুষের পদ্ধতি যা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ (الربا) ভক্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে, পার্থক্য শুধু এই যে, জাহেলিয়াত যুগে এটি ছিল প্রকাশ্য, আর বর্তমান যুগে এটি একটি প্রতারণা; এতে দুটি মফসাদাহ বা অনিষ্ট বিদ্যমান।

৫- এক ব্যক্তির নিকট অন্য ব্যক্তির একটি মেয়াদী ঋণ থাকে এবং তার মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যায়, এমতাবস্থায় পাওনাদারের এমন একজন বন্ধু থাকে যার সাথে সে এই মর্মে ঐক্যমতে পৌঁছায় যে, সে ঋণগ্রহীতাকে কর্জ (قرض) প্রদান করবে অথবা তাকে ঋণ দেবে যাতে সে পাওনাদারের পাওনা পরিশোধ করতে পারে, অতঃপর সে পুনরায় তার ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেয়। এটি হলো জাহেলিয়াত আমলের পদ্ধতি, যেখানে পাপ, সীমালঙ্ঘন, চক্রান্ত ও প্রতারণায় অংশীদার হিসেবে তৃতীয় পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সুতরাং এই পাঁচটি প্রকারই নিষিদ্ধ (محرم), আর আপনি প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে যে মতভেদ (الخلاف) রয়েছে তা জেনেছেন।

জেনে রাখুন যে, শরিয়তবিদদের পরিভাষায় ঋণ (الدين) হলো জিম্মায় সাব্যস্ত হওয়া কোনো দায়ের নাম; চাই তা বিক্রিত পণ্যের মূল্য হোক কিংবা কর্জ (قرض), পারিশ্রমিক, মোহরানা, খুলআ-এর বিনিময়, বিনষ্ট মালের ক্ষতিপূরণ অথবা অন্য কিছু হোক।

এটি সাধারণ মানুষের (العوام) অনেকের ধারণার মতো নয় যে, ঋণ আদান-প্রদান (المداينة) হলো...
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
التي يستعملونها ويستدلون عليها بقوله تعالى: {يأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُواْ إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنٍ إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى فَاكْتُبُوهُ} 1. فإن المراد به هو الدين الحلال الذي بيّن الله ورسوله حِلَّه، دون الدين الحرام، وهذا كثير في نصوص الكتاب والسنة تأتي مطلقة أو عامة في بعض المواضع ولكن يجبُ أن تخصص أو تقيد بما دل على التخصيص والتقيد.

--------------------------------------------

1 سورة البقرة، 282.
যা তারা ব্যবহার করেন এবং যার সপক্ষে মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল (دليل) পেশ করেন: {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণের লেনদেন করো, তখন তা লিখে রাখো} ১। কেননা এখানে উদ্দেশ্য হলো সেই হালাল ঋণ যার বৈধতা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল স্পষ্ট করেছেন, হারাম ঋণ ব্যতীত। কুরআন ও সুন্নাহর নস (نص) সমূহে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা কোনো কোনো স্থানে শর্তহীন (مطلق) বা সাধারণ (عام) হিসেবে আসে, তবে সেগুলোকে অবশ্যই বিশেষায়িত (تخصيص) বা সীমাবদ্ধ (تقيد) করা আবশ্যক যা বিশেষায়ন (تخصيص) ও সীমাবদ্ধকরণের (تقيد) প্রমাণ দেয়।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারাহ, ২৮২।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌خاتمة

ولنختم هذا البحث بما ورد في الكتاب والسنة من تحريم الرِّبا والتشديد فيه.

قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِىَ مِنَ الرِّبَواْ إِن كُنتُمْ مُّؤْمِنِينَ * فَإِن لَّمْ تَفْعَلُواْ فَأْذَنُواْ بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} 1. ففي هذه الآية تهديد شديد ووعيد أكيد لمن لم يترك الرِّبا، وذلك بمحاربته لله ورسوله، فأي ذنب في المعاملة أعظم من ذنب يكون فيه فاعله محارباً لله ولرسوله؟ ولذلك قال بعض السلف: من كان مقيماً على الربا لا يتوب منه كان حقًّا على إمام المسلمين أن يستتيبه، فإن نَزَعَ وإلَاّ ضَرَبَ عُنُقَهُ.

وفي قوله تعالى: {وَذَرُواْ مَا بَقِىَ مِنَ الرِّبَواْ إِن كُنتُمْ

--------------------------------------------

1 سورة البقرة، الآيتان: 278، 279.
উপসংহার

সুদ নিষিদ্ধ হওয়া এবং এ ব্যাপারে কঠোরতা সম্পর্কে কিতাব ও সুন্নাহতে যা বর্ণিত হয়েছে, তা দিয়ে আমরা এই গবেষণাকর্মটি সমাপ্ত করব।

মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা বর্জন করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। তবে যদি তোমরা তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে নাও} ১। এই আয়াতে যারা সুদ বর্জন করে না, তাদের জন্য কঠোর হুমকি ও নিশ্চিত সতর্কবার্তা রয়েছে, আর তা হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধ করা। লেনদেনের ক্ষেত্রে এমন কোন গুনাহ কি আছে যা সেই গুনাহর চেয়ে বড় হতে পারে, যার লিপ্ত ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী? এই কারণেই পূর্বসূরিগণের কেউ কেউ বলেছেন: "যে ব্যক্তি সুদের ওপর অবিচল থাকে এবং তা থেকে তওবা করে না, মুসলিমদের ইমামের জন্য এটি আবশ্যকীয় কর্তব্য যে তিনি তাকে তওবা করার আহ্বান জানাবেন; যদি সে বিরত হয় তবে ভালো, অন্যথায় তার শিরশ্ছেদ করা হবে।"

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা বর্জন করো যদি তোমরা...

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৭৮, ২৭৯।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
مُّؤْمِنِينَ} . إشارة إلى أنَّ آكل الربا بأنَّه لو كان مؤمناً بالله ورسوله حقَّ الإيمان راجياً ثواب الله في الآخرة خائفاً من عقابه لَمَا استمرَّ على أكل الرِّبا والعياذ بالله تعالى.

وقال تعالى: {الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَواْ لَا يَقُومُونَ إِلَاّ كَمَا يَقُومُ الَّذِى يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَنُ مِنَ الْمَسِّ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُواْ إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَواْ وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَواْ فَمَن جَآءَهُ مَوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّهِ فَانتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُوْلَئِكَ أَصْحَبُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَلِدُونَ} 1.

ففي هذه الآية وصف آكلي الربا بأنهم يقومون من قبورهم يوم القيامة أمام العالم كلهم كما يقوم الذي يتخبَّطه الشيطان من المسِّ ـ يعني كالمصروعين الذين تصرعُهُم الشياطين وتخنُقهم. قال ابن عباس رضي الله عنهما: "آكل الربا يُبعثُ يوم القيامة مجنوناً يُخْنَق". ثم بيَّن الله ما وقعَ لهم من الشبهة التي أعمت

--------------------------------------------

1 سورة البقرة، الآية: 275.
...মুমিনগণ}। এটি একটি ইঙ্গিত যে, সুদখোর যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি প্রকৃত ঈমানদার হতো এবং পরকালে আল্লাহর প্রতিদানের আশাবাদী ও তাঁর শাস্তির ভয়ে ভীত হতো, তবে সে সুদ ভক্ষণ অব্যাহত রাখত না। মহান আল্লাহর নিকট এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {যারা সুদ খায়, তারা সে ব্যক্তির ন্যায় দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে দেয়। এটা এজন্য যে, তারা বলে, ক্রয়-বিক্রয় তো সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। অতএব যার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তারই এবং তার বিষয় আল্লাহর ইখতিয়ারে। আর যারা পুনরায় শুরু করবে, তারা আগুনের অধিবাসী, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।} ১।

এই আয়াতে সুদখোরদের এই বৈশিষ্ট্যে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তারা কিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টির সামনে তাদের কবর থেকে এমনভাবে দণ্ডায়মান হবে যেমন শয়তানের আছর করা ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকে—অর্থাৎ সেই মৃগী রোগীদের মতো যাদের শয়তান আছর করে এবং কণ্ঠরোধ করে। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "সুদখোরকে কিয়ামতের দিন উন্মাদ অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে যার কণ্ঠরোধ করা হবে।" এরপর আল্লাহ তাদের সেই সংশয় বর্ণনা করেছেন যা তাদের অন্ধ করে দিয়েছিল...

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৭৫।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
أبصارهم عن التمييز بين الحق والباطل، فقال تعالى: {ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُواْ إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَواْ} . وهذا يحتمل أنَّهم قالوه لشبهةٍ وقعت لهم وتأويلٍ فاسد لجأوا إليه، كما يحتج أهل الحيل على الرِّبا، ويحتمل أنهم قالوا ذلك عناداً وجحوداً، وعلى كلا الاحتمالين فإنَّ هذا يدل على أنهم مستمرون في باطلهم، منهمكون في أكل الرِّبا ومجادلون بالباطل ليُدْحِضُوا به الحق. نعوذ بالله من ذلك.

وقال تعالى: {يَأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُواْ لَا تَأْكُلُواْ الرِّبَا أَضْعَفاً مُّضَعَفَةً وَاتَّقُواْ اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ * وَاتَّقُواْ النَّارَ الَّتِى أُعِدَّتْ لِلْكَفِرِينَ * وَأَطِيعُواْ اللَّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} 1. ففي هاتين الآيتين: نهى الله عباده المؤمنين بوصفهم مؤمنين عن أكل الرِّبا، ثم حذَّرهم من نفسه في قوله: {وَاتَّقُواْ اللَّهَ} ، ثم حذَّرهم النار التي أُعدَّت للكافرين، وبيَّن أنَّ تقواه

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران، الآيات: 130 – 132.
(তাদের) দৃষ্টি সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য (تمييز) করা থেকে (অন্ধ হয়ে গিয়েছিল), তাই মহান আল্লাহ বলেন: {তা এই জন্য যে, তারা বলেছিল: কেনাবেচা তো সুদের মতোই}। আর এর সম্ভাবনা রয়েছে যে, তারা এ কথাটি তাদের মাঝে পতিত হওয়া কোনো সংশয় এবং কোনো ভ্রান্ত (فاسد) ব্যাখ্যার (تأويل) কারণে বলেছিল যার আশ্রয় তারা নিয়েছিল, যেমনটি হিলা-বাহানাকারীরা সুদের স্বপক্ষে যুক্তি পেশ করে। আবার এও সম্ভাবনা রয়েছে যে, তারা একগুঁয়েমি ও অস্বীকারবশত এটি বলেছিল। আর উভয় সম্ভাবনা অনুযায়ীই এটি প্রমাণ করে যে, তারা তাদের বাতিলের ওপর অটল রয়েছে, সুদ খাওয়ার কাজে মগ্ন এবং সত্যকে বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যে তারা বাতিল নিয়ে বিতর্ক করছে। আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। আর তোমরা সেই আগুনকে ভয় করো যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো, যাতে তোমরা দয়া লাভ করতে পারো} ১। এই দুই আয়াতে: আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের মুমিন হওয়ার প্রেক্ষিতে সুদ খাওয়া থেকে নিষেধ করেছেন, অতঃপর তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {এবং আল্লাহকে ভয় করো} তিনি তাদেরকে স্বীয় সত্তা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, এরপর তাদেরকে সেই আগুন সম্পর্কে সতর্ক করেছেন যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এবং স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর প্রতি তাকওয়া...

--------------------------------------------

১ সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৩০ – ১৩২।
(খণ্ড: ১) আল-মুদায়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وطاعته سبب للفلاح والرحمة: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَلِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} 1.

وهذا كله دليل على تعظيم شأن الرِّبا وأنَّه سبب لعذاب الله تعالى ودخول النار والعياذ بالله تعالى من ذلك.

وقال تعالى: {وَمَآءَاتَيْتُمْ مِّن رِّباً لِّيَرْبُوَاْ فِى أَمْوَالِ النَّاسِ فَلَا يَرْبُواْ عِندَ اللَّهِ} 2 الآية. وقال: {يَمْحَقُ اللَّهُ الْرِّبَواْ وَيُرْبِى الصَّدَقَتِ} 3.

فالربا لا يربو عند الله ولا يزداد صاحبه به قربة عند ربه، فإنَّه مال مكتسب بطريق حرام فلا خير فيه ولا بركة، ولو أنَّ صاحبه تصدَّق به لم يقبل منه إلا إذا كان تائباً إلى الله تعالى من ذلك الذنب الكبير فيتصدق به

--------------------------------------------

1 سورة النور، الآية: 63.

2 سورة الروم، الآية: 39.

3 سورة البقرة، الآية: 276.
এবং তাঁর আনুগত্য হলো সফলতা ও রহমতের মাধ্যম: {সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা সতর্ক হোক যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা বা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হতে পারে।} ১।

এসবই সুদের (الربا) ভয়াবহতা এবং এটি যে মহান আল্লাহর শাস্তি ও জাহান্নামে প্রবেশের কারণ তার প্রমাণ। আমরা এ থেকে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেছেন: {মানুষের সম্পদে বৃদ্ধি পাবে বলে তোমরা যে সুদ (الربا) দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না।} ২ (আয়াতের অংশ)। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ সুদকে (الربا) নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান-সদকাকে বৃদ্ধি করেন।} ৩।

সুতরাং সুদ (الربا) আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পায় না এবং এর মাধ্যমে লিপ্ত ব্যক্তি তার রবের কাছে কোনো নৈকট্যও লাভ করতে পারে না। কেননা এটি হারাম (حرام) পন্থায় অর্জিত সম্পদ, যাতে কোনো কল্যাণ বা বরকত নেই। যদি এর মালিক এটি সদকাও করে, তবে তার পক্ষ থেকে তা কবুল করা হবে না; যতক্ষণ না সে এই কবিরা গুনাহ (الذنب الكبير) থেকে মহান আল্লাহর কাছে তওবা করে তা সদকা করে দেয়।

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬৩।

২. সূরা আর-রুম, আয়াত: ৩৯।

৩. সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৭৬।