(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: -)
المختلف فيهم القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: المختلف فيهم
المؤلف: أبو حفص عمر بن أحمد بن عثمان بن أحمد بن محمد بن أيوب بن أزداذ البغدادي المعروف بـ ابن شاهين (ت 385هـ)
المحقق: عبد الرحيم بن محمد بن أحمد القشقري
الناشر: مكتبة الرشد، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1420هـ / 1999م
عدد الصفحات: 87
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মুখতালাফ ফিহিম বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: আল-মুখতালাফ ফিহিম
লেখক: আবু হাফস উমর বিন আহমাদ বিন উসমান বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আইয়ুব বিন আজদাদ আল-বাগদাদী, ইবনে শাহীন হিসেবে পরিচিত (মৃত্যু ৩৮৫ হিজরী)
গবেষক: আব্দুর রহীম বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-কাশকারী
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ، রিয়াদ، সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২০ হিজরী / ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৭
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة…المختلف فيهم
تأليف: الحافظ عمر بن شاهين، ت (385هـ)
ترتيب وتحقيق ودراسة: د. عبد الرحيم بن محمد بن أحمد القشقري
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله حمد الشاكرين، والصلاة والسلام على نبي الأمة أجمعين، وبعد:
فهذا الكتاب الذي بين أيدينا على صغر حجمه يعتبر من الكتب الهامة التي توضح لنا منهج الإمام الحافظ ابن شاهين رحمه الله ويعتبر في الوقت نفسه تكملة لكتابين له: أولهما: كتاب الثقات، وثانيهما: كتاب الضعفاء والكذابين، وقد أبرز المؤلف في هذا المصنف خلاصة آرائه في عدد من الرواة الذي ذكروا في الكتابين الآني الذكر حيث بلغ مجموعهم "سبعة وستين" راوياً. إلا أنه تساهل في الحكم على بعض الرواة لأنه اعتمد في حكمه على أقوال ابن معين، والإمام أحمد دون غيرهما إلا نادراً. ولم يعتمد على الإمامين في كل ما قالاه عن راوٍ ما. ولأجل هذا وقع في تساهل عند الحكم، وقد حاولت دراسة الرواة الذين تساهل في أمرهم، وبينت سبب تساهله فيهم. ورغم وجود بعض الجوانب السلبية في أحكامه إلا أن يغتفر له بجدانب أحكامه التي أصاب فيها على كثير ممن أوردهم في مصنفه.
ويعد هذا الكتاب نموذجاً من نماذج المؤلفات التي حاول المؤلف فيها إظهار الحق وإبعاد التهمة عن بعض الرواة الذي ضعفهم بعض النقاد بما لا يوجب رد روايتهم.
وقد حاولت إبرازه حسبما قرره المصنف عند تأليفه له. ولما كانت النسخة التي اعتمدتها نسخة فريدة فيها الكثير من السقطات والتحريفات والتداخل في التراجم التي سوف أنبه عليها في الكلام على الكتاب، فقد عانيت مصاعب جمة عند إخراجه للقارئ الكريم حتى ظهر بهذه الصفة التي أرجو أن أكون بذلت ما وسعني من جهد، وإن وجد تقصير فالعفو عند الكرام يرتجى.
ভূমিকা...যাদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে
গ্রন্থনা: হাফেজ উমর ইবন শাহীন, মৃত্যু (৩৮৫ হি.)
বিন্যাস, তাহকীক ও গবেষণা: ড. আবদুর রহীম বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-কাশগারী
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য—কৃতজ্ঞদের প্রশংসা; আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক উম্মতের সকল নবীর ওপর। অতঃপর:
আমাদের সম্মুখে বিদ্যমান এই কিতাবটি আয়তনে ছোট হওয়া সত্ত্বেও ইমাম হাফেজ ইবন শাহীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কর্মপন্থা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। একইসঙ্গে এটি তাঁর দুটি গ্রন্থের পরিশিষ্ট হিসেবে গণ্য: প্রথমটি হলো: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের গ্রন্থ (কিতাবুত সিকাত), এবং দ্বিতীয়টি হলো: দুর্বল ও মিথ্যুকদের গ্রন্থ (কিতাবুদ দুআফা ওয়াল কাযযাবিন)। এই সংকলনে লেখক উল্লিখিত গ্রন্থদ্বয়ে বর্ণিত বেশ কিছু বর্ণনাকারীর ব্যাপারে তাঁর মতামতের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছেন, যাদের মোট সংখ্যা "সাতষট্টি" জন। তবে কিছু বর্ণনাকারীর ব্যাপারে হুকুম প্রদানে তিনি কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন, কারণ তিনি তাঁর বিচারে কদাচিৎ ব্যতীত ইবন মাঈন ও ইমাম আহমাদ ছাড়া অন্য কারো উক্তির ওপর নির্ভর করেননি। আবার কোনো নির্দিষ্ট বর্ণনাকারী সম্পর্কে এই দুই ইমাম যা কিছু বলেছেন, তার সবটুকুর ওপরও তিনি নির্ভর করেননি। এ কারণেই হুকুমের ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখা দিয়েছে। আমি সেই সব বর্ণনাকারীদের নিয়ে গবেষণার চেষ্টা করেছি যাদের ব্যাপারে তিনি শিথিলতা করেছেন এবং তাঁর এই শিথিলতার কারণ স্পষ্ট করেছি। তাঁর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু নেতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও, তাঁর সংকলনে বর্ণিত অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি যে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, তার প্রেক্ষিতে এই বিচ্যুতিগুলো ক্ষমার যোগ্য।
এই কিতাবটি এমন এক ধারার রচনার উদাহরণ, যেখানে লেখক সত্যকে উন্মোচন করার এবং এমন কিছু বর্ণনাকারীর ওপর থেকে অপবাদ দূর করার চেষ্টা করেছেন যাদেরকে কোনো কোনো সমালোচক এমন কারণে দুর্বল বলেছেন যা তাদের বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করার জন্য যথেষ্ট নয়।
লেখক এটি যেভাবে প্রণয়ন করেছিলেন, সেভাবেই আমি একে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। যেহেতু আমি যে পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি তা ছিল একটি অনন্য অনুলিপি, যাতে অনেক বিলুপ্তি, বিকৃতি এবং জীবনীসমূহের পারস্পরিক মিশ্রণ ছিল—যা আমি কিতাব সম্পর্কে আলোচনার সময় উল্লেখ করব—তাই সম্মানিত পাঠকদের কাছে একে এই রূপে উপস্থাপন করতে আমাকে প্রচুর প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমি আশা করি যে, আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। আর যদি কোনো ত্রুটি থেকে থাকে, তবে মহানুভবদের কাছে ক্ষমার প্রত্যাশা রইল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ৬)
التعريف بالمؤلف
اسمه ونسبه:
هو الإمام الحافظ، المُسنِد، عمر بن أحمد بن عثمان، المعروف بابن شاهين نسبة لجده والد أمه، وهو بنسبته أشهر، ويكنى بأبي حفص.
مولده ونشأته:
ولد رحمه الله، سنة سبع وتسعين ومائتين ببغداد، ونشأ في بيت علم حيث والده المحدث أحمد بن عثمان، وأبو الطيب السمسار، وجده لأمه أحمد بن محمد بن يوسف بن شاهين الذي أكثر عنه في مصنفاته، ويظهر لي من خلال دراستي للمواد التي نقلها الخطيب البغدادي عن ابن شاهي عن جده أنها كانت عبارة عن كتب لجده وجدها ورواها عنه 1.
وقد بدأ بالسماع سنة ثمان وثلاثمائة، وكان عمره وقت ذاك إحدى عشرة سنة.
شيوخه وتلامذته:
سمع من محمد بن محمد بن الباغندي، وشعيب بن محمد الذراع، ومحمد بن هارون المُجَدِّر. وغيرهم من الأئمة.
ومن تلامذته، ابنه عبيد الله، ويعتبر ناقل علم أبيه، والإمام البرقاني لكنه لم يستكثر منه زهداً فيه. وأبو القاسم التنوخي، وخلق كثير.
--------------------------------------------
লেখকের পরিচয়
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:
তিনি হলেন ইমাম হাফিজ, মুসনিদ, উমর ইবনে আহমদ ইবনে উসমান, যিনি তাঁর মাতামহের (মায়ের বাবা) নামানুসারে ইবনে শাহীন হিসেবে সুপরিচিত। তিনি এই সম্বন্ধেই অধিক খ্যাতি লাভ করেছেন এবং তাঁর উপনাম হলো আবু হাফস।
তাঁর জন্ম ও লালন-পালন:
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ২৯৭ হিজরি সনে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং একটি ইলমি পরিবারে লালিত-পালিত হন। তাঁর পিতা ছিলেন মুহাদ্দিস আহমদ ইবনে উসমান এবং আবু তাইয়িব আস-সিমসার। তাঁর মাতামহ ছিলেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে শাহীন, যাঁর থেকে তিনি তাঁর গ্রন্থসমূহে প্রচুর বর্ণনা করেছেন। খতিব বাগদাদি কর্তৃক ইবনে শাহীন ও তাঁর দাদার সূত্রে উদ্ধৃত বিষয়সমূহ অধ্যয়ন করে আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, এগুলো ছিল মূলত তাঁর দাদার লিখিত পাণ্ডুলিপি যা তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছিলেন ১।
তিনি ৩০৮ হিজরি সনে হাদিস শ্রবণ শুরু করেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র এগারো বছর।
তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রগণ:
তিনি মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল বাগিন্দি, শুআইব ইবনে মুহাম্মদ আজ-জিরা এবং মুহাম্মদ ইবনে হারুন আল-মুজাদিরসহ আরও অনেক ইমামদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর পুত্র উবাইদুল্লাহ—যিনি তাঁর পিতার ইলমের বাহক হিসেবে বিবেচিত—এবং ইমাম আল-বারকানি, তবে তিনি তাঁর (ইবনে শাহীনের) প্রতি বিরাগবশত তাঁর থেকে খুব বেশি বর্ণনা গ্রহণ করেননি। এছাড়া আবুল কাসিম আত-তানুখি এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তি তাঁর ছাত্র ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ৭)
ثناء العلماء عليه:
قال الإمام الدارقطني: ابن شاهين يلج على الخطأ، وهو ثقة.
وقال الأزهري: ثقة، عنده عن البغوي سبعمائة جزء.
وقال ابن ماكولا: ثقة مأمون، سممع بالشام وقارس والبصرة، جمع الأبواب والتراجم، وصنف شيئاً كثيراً. وقد عيب عليه أنه كان يصنف ولا يقابل، ثقة في نفسه، ومن أجل هذا وقع في أوهام وتصحيفات قبيحة سأبينها عند الكلام على منهجه في هذا الكتاب.
مصنفاته:
يعتبر المصنف من الذين شاركوا في كثير من العلوم الشرعية، ومن المكثرين في التصنيف، وقد قال عن نفسه:
سنفت ثلاثمائة وثلاثين مصنفاً، منها التفسير الكبير ألف جزء، والمسند ألفا وثلاثمائة جزء، والتاريخ مائة وخمسين جزءاً. والزهد مائة جزء 1.
وقال ابن أبي الفوراس: جمع وصنف ما لم يصنفه أحد.
قلت: ولم نقف إلا على اليسير من مؤلفاته، ومعظم المؤلفات التي ذكرها هو أو غيره ما زالت في عالم المجهول، ولا نستطيع القطع بفقدانها، ولعل الله ييسر لنا الوقوف على بعض ما كنا نقرأ عن أسمائها دون أن نقف على أعيانها.
فمن مؤلفاته التي وقفت على أسمائها أو أعيانها مما يلي:
1ـ الأفراد. جزء منه مخطوط في الظاهرية.
--------------------------------------------
তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:
ইমাম দারা কুতনী বলেন: ইবনে শাহীন ভুলের ওপর পতিত হতেন, তবে তিনি নির্ভরযোগ্য।
আযহারী বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, তাঁর নিকট বাগভী থেকে বর্ণিত সাতশত জুজ (খণ্ড) রয়েছে।
ইবনে মাকূলা বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত, তিনি শাম, পারস্য ও বসরায় হাদীস শ্রবণ করেছেন। তিনি বিভিন্ন অধ্যায় ও জীবনী সংকলন করেছেন এবং প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে যে, তিনি গ্রন্থ রচনা করতেন কিন্তু তা মূল পাণ্ডুলিপির সাথে যাচাই (মুকাবালা) করতেন না; তবে তিনি স্বয়ং নির্ভরযোগ্য ছিলেন। একারণেই তিনি কিছু ভ্রান্তি এবং কুৎসিত লিখন-বিভ্রাটের শিকার হয়েছেন, যা এই কিতাবে তাঁর কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনার সময় আমি স্পষ্ট করব।
তাঁর রচনাবলী:
গ্রন্থকার সেই সমস্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা শরীয়তের বহুবিধ জ্ঞানে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন এবং অধিক কিতাব রচয়িতাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন:
আমি তিনশত ত্রিশটি গ্রন্থ রচনা করেছি, যার মধ্যে রয়েছে এক হাজার জুজ-বিশিষ্ট বৃহৎ তাফসীর, এক হাজার তিনশত জুজ-বিশিষ্ট মুসনাদ, একশত পঞ্চাশ জুজ-বিশিষ্ট ইতিহাস এবং একশত জুজ-বিশিষ্ট জুহদ। ১
ইবনে আবিল ফাওয়ারিস বলেন: তিনি এমন সব বিষয় সংকলন ও রচনা করেছেন যা অন্য কেউ করেনি।
আমি বলছি: আমরা তাঁর রচনাবলীর সামান্য অংশই অবগত হতে পেরেছি। তিনি বা অন্যরা তাঁর যেসকল রচনার উল্লেখ করেছেন তার অধিকাংশই এখনও অজ্ঞাত রয়ে গেছে। আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে সেগুলো চিরতরে হারিয়ে গেছে। সম্ভবত আল্লাহ তাআলা আমাদের সামনে এমন কিছু কিতাব প্রকাশের সুযোগ করে দেবেন যেগুলোর নাম আমরা কেবল পড়েছি কিন্তু মূল কপি সচক্ষে দেখতে পাইনি।
তাঁর যেসব রচনার নাম বা পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি সেগুলো নিম্নরূপ:
১- আল-আফরাদ। এর একটি জুজ যাহিরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে পাণ্ডুলিপি আকারে বিদ্যমান আছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ৮)
ذكرت هؤلاء في كتابي هذا على مثل ما ذكرت الثقات.
قلت: يعني في الترتيب والاعتماد على أقوال النقاد الذين ذكرهم في مقدمة كتابه ((تاريخ أسماء الثقات)) .
ويبقى الكتاب الذي بين أيدينا لإثبات منهج المؤلف، فقد رجعت إلى تراجم الرواة فيه فقارنت بين حكمه وحكم غيره في الرواة الذي بلغ عددهم ثمان وستين ترجمة فوجدته تساهل في الحكم على سبع تراجم فقط أما الباقي فقد وافق غيره من النقاد، والذي تساهل فيه يعادل عشر الكتاب تقريباً وهو قليل، والقليل يوهب للكثير الذي أصاب فيه. وثبت لي أن الإمام الذهبي حين جعله في مرتبة المعتدلين كان موفقاً في حكمه والله أعلم.
التعريف بالكتاب:
عنوان الكتاب هو ((المختلف فيهم)) : وهو عبارة عن الرواة الذي اختلف النقاد في توثيقهم وتضعيفهم، وقد حكم المؤلف عليهم تبعاً لما ترجح له عن الأقوال، ويظهر لي من خلال تتبعي لهذا النوع من المصنفات أنه كان من أوائل الذين تطرقوا لهذا النوع من التصنيف، ولم يسبقه أحد غير ابن حبان (ت354هـ) في كتاب سماه ((الفصل بين النقلة)) وأشار إليه في ((كتاب التثات 6/27)) في ترجمة إراهيم بن طهمان حيث قال: " له مدخل في الثقات ومدخل في الضعفاء، وقد روى أحديث مستقيمة تشبه أحاديث الأثبات، وقد تفرد عن الثقات بأشياء معضلات سنذكره إن شاء الله تعالى في كتاب ((الفصل بين النقلة)) إن قضى الله ذلك، وكذلك كل شيخ توقفنا في أمره ممن له مدخل في الثقات والضعفاء جميعاً ".
وممن ألف في هذا النوع من المتأخرين الحافظ المنذري (ت 656هـ) حيث عقد فصلاً في آخر كتابه ((الترغيب والترهيب (4/367)) ) ذكر الوراة المهتلف فيهم المشار إليهم في هذا الكتاب، إلا أنه لم يجتهد فيهم كما
আমি আমার এই কিতাবে এদেরকে ঠিক সেভাবেই উল্লেখ করেছি যেভাবে নির্ভরযোগ্যদের উল্লেখ করেছি।
আমি বলছি: অর্থাৎ বিন্যাস এবং সেই সকল সমালোচকগণের মতামতের ওপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে যাদের তিনি তাঁর ‘তারিখু আসমাইস সিক্বাত’ কিতাবের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন।
আর আমাদের হাতে থাকা এই কিতাবটি লেখকের কর্মপদ্ধতি প্রমাণের জন্য অবশিষ্ট রয়েছে। আমি এতে থাকা বর্ণনাকারীদের জীবনীর দিকে ফিরেছি এবং মোট আটষট্টি জন বর্ণনাকারীর ব্যাপারে তাঁর সিদ্ধান্ত ও অন্যদের সিদ্ধান্তের মধ্যে তুলনা করেছি। আমি দেখতে পেয়েছি যে, তিনি মাত্র সাতটি জীবনীর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন, আর বাকিগুলোতে তিনি অন্যান্য সমালোচকগণের সাথে একমত হয়েছেন। তিনি যেটুকুতে শিথিলতা করেছেন তা কিতাবটির প্রায় দশভাগের একভাগ মাত্র, যা খুবই নগণ্য; আর সামান্য ভুলটুকু তাঁর অধিকাংশ সঠিক সিদ্ধান্তের তুলনায় ক্ষমাযোগ্য। আমার কাছে এটি সুপ্রমাণিত হয়েছে যে, ইমাম যাহাবী যখন তাঁকে মধ্যমপন্থী স্তরের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, তখন তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে সঠিক ছিলেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
কিতাব পরিচিতি:
কিতাবটির শিরোনাম হলো ‘আল-মুখতালাফু ফিহিম’: এটি মূলত ঐ সকল বর্ণনাকারীদের পরিচয় যারা নির্ভরযোগ্য নাকি দুর্বল—এ বিষয়ে সমালোচকগণ মতভেদ করেছেন। লেখক বিভিন্ন মতামতের মধ্যে তাঁর নিকট যেটি অগ্রগণ্য মনে হয়েছে সেই অনুযায়ী তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এই ধরণের গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি এই ধারার রচনায় অগ্রগামীদের একজন ছিলেন। ইবনে হিব্বান (মৃত্যু: ৩৫৪ হিজরী) ব্যতীত তাঁর আগে কেউ এই বিষয়ে লিখেননি। ইবনে হিব্বান ‘আল-ফাসলু বাইনান নাক্বালাহ’ নামক একটি কিতাবে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং তিনি তাঁর ‘কিতাবুস সিক্বাত’ (৬/২৭)-এ ইব্রাহিম বিন তাহমানের জীবনীতে বলেছেন: “নির্ভরযোগ্যদের মধ্যে তাঁর প্রবেশের সুযোগ রয়েছে আবার দুর্বলদের মধ্যেও তাঁর প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। তিনি কিছু সঠিক হাদিস বর্ণনা করেছেন যা সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের হাদিসের অনুরূপ, আবার তিনি নির্ভরযোগ্যদের বিপরীতে এমন কিছু জটিল বিষয় এককভাবে বর্ণনা করেছেন যা আমরা ইনশাআল্লাহ ‘আল-ফাসলু বাইনান নাক্বালাহ’ কিতাবে উল্লেখ করব যদি আল্লাহ তা নির্ধারণ করে থাকেন। একইভাবে এমন প্রত্যেক শায়খ যার ব্যাপারে আমরা দ্বিধান্বিত, যাদের নির্ভরযোগ্য এবং দুর্বল উভয় শ্রেণিতেই অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অবকাশ রয়েছে।”
আর পরবর্তীদের মধ্যে যারা এই বিষয়ে লিখেছেন তাদের অন্যতম হলেন হাফেজ আল-মুনযিরি (মৃত্যু: ৬৫৬ হিজরী)। তিনি তাঁর ‘আত-তারগিব ওয়াত তারহিব’ (৪/৩৬৭) কিতাবের শেষে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন যেখানে তিনি এই কিতাবে নির্দেশিত মতভেদপূর্ণ বর্ণনাকারীদের কথা উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি তাদের ব্যাপারে সেভাবে ইজতিহাদ করেননি যেভাবে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ৯)
اجتهد ابن شاهين، بل نقل أقوال النقاد المضعفين والموثقين وهو لا يختلف عن غيره من كتب التراجم إلا في العنوان فقط1.
((منهج ابن شاهين في كتابه)) :
حوى الكتاب ((68)) ترجمة ممن ذكرهم في الثقات وأعادهم في الضعفاء، ويظهر لي أن أحداً من تلاميذه أخرج جماعة من الرواة المذكورين في الكتابين ثم عرضها على المؤلف ليعطي حكماً نهائياً عن ذلك الراوي، وقد صدَّر الرواة بعبارة ((روى ابن شاهين)) في كل ترجمة من تراجم هذا الكتاب، وبعد إيراد التضعيف والتوثيق. يبدأ حكم ابن شاهين بعد عبارة ((قال أبو حفص)) : وقد أجاد المؤلف في حمنه على العموم إلا أنه تساهل في تراجم محدودة بينتها في مواضعها أثناء التحقيق.
أنظر مثلاً رقم: ـ 5 ـ 24 ـ 25 ـ
ووقع في أوهام شنيعة أدى ذلك إلى إصدار حكم مخالف للجمهور، وقد بينت ذلك أيضاً في مواضعها أثناء التحقيق.
أنظر مثلا الترجمة رقم: ـ 20 ـ 38 ـ 41 ـ 47
وهاتين الملاحطتين تؤكد قول القائل: أنه كان يلج على الخطأ. وقد وقع في هذه الأخطاء، لأنه كان لا يقابل ما كان يكتبه بعد الفراغ منه، ثقة في نفسه. ثم إن جلَّ اعتماده على قولين لإمام واحد، أو قول واحد لإمامين في راوٍ واحد، ولو أنه تتبع أقوال الأئمة، واتسع صدره لإيرادها لما وقع منه التساهل، ولأعطى صورة واضحة، ولكنه لم يفعل.
وقد رتبه على حروف المعجم إلا أنه لم يلتزم الترتيب الدقيق، وهذه عادته
--------------------------------------------
ইবনে শাহীন পরিশ্রম করেছেন, বরং তিনি সমালোচকদের দুর্বলকারী এবং নির্ভরযোগ্যকারী উক্তিগুলো নকল করেছেন। আর এটি অন্যান্য জীবনীগ্রন্থ থেকে ভিন্ন নয় কেবল শিরোনাম ছাড়া১।
((তার গ্রন্থে ইবনে শাহীনের কর্মপদ্ধতি)) :
গ্রন্থটিতে ৬৮টি এমন জীবনী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যাদেরকে তিনি নির্ভরযোগ্যদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন এবং পুনরায় দুর্বলদের মধ্যে তাদের ফিরিয়ে এনেছেন। আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর ছাত্রদের মধ্যে কেউ একজন উভয় গ্রন্থে উল্লিখিত একদল বর্ণনাকারীকে সংকলন করেছেন এবং তারপর লেখকের কাছে তা উপস্থাপন করেছেন যেন তিনি উক্ত বর্ণনাকারী সম্পর্কে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। তিনি এই গ্রন্থের প্রতিটি জীবনীর শুরুতে 'ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন' বাক্যটি ব্যবহার করেছেন এবং দুর্বল ও নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণের বর্ণনার পরে ইবনে শাহীনের সিদ্ধান্ত 'আবু হাফস বলেছেন' বাক্যটির পর থেকে শুরু হয়। লেখক সাধারণভাবে তাঁর সিদ্ধান্তে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন, তবে সীমিত কিছু জীবনীর ক্ষেত্রে তিনি শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন যা আমি তাহকিকের সময় সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে বর্ণনা করেছি।
উদাহরণস্বরূপ দেখুন নম্বর: ৫ — ২৪ — ২৫ —
এবং তিনি কিছু গুরুতর ভুলের শিকার হয়েছেন যা জমহুর বা সংখ্যাগুরু ওলামাদের বিরোধী সিদ্ধান্ত প্রদানের দিকে নিয়ে গেছে। আমি তাহকিকের সময় সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে এটিও স্পষ্ট করেছি।
উদাহরণস্বরূপ দেখুন জীবনী নম্বর: ২০ — ৩৮ — ৪১ — ৪৭
আর এই দুটি পর্যবেক্ষণ এই উক্তিকেই সুনিশ্চিত করে যে: তিনি ভুলের মধ্যে নিপতিত হতেন। তিনি এই ভুলগুলোতে পতিত হয়েছেন কারণ তিনি যা লিখতেন তা লেখা শেষ করার পর নিজের প্রতি অতি-আত্মবিশ্বাসের কারণে পুনরায় যাচাই করতেন না। তদুপরি, তাঁর অধিকাংশ নির্ভরতা ছিল একজন ইমামের দুটি উক্তির ওপর, অথবা একজন বর্ণনাকারীর ব্যাপারে দুজন ইমামের একটি উক্তির ওপর। যদি তিনি ইমামদের সকল উক্তি অনুসরণ করতেন এবং সেগুলো সংকলনে উদারতা দেখাতেন, তবে তাঁর পক্ষ থেকে এমন শিথিলতা প্রকাশ পেত না এবং তিনি একটি স্বচ্ছ চিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি।
তিনি এটি বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন, তবে তিনি সূক্ষ্ম বিন্যাস বজায় রাখেননি এবং এটিই তাঁর অভ্যাস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ১০)
في كتبه الثقات والضعفاء، فهو يذكر مثلاً حرف الحاء، ويذكر ترجمة حماد ابن نجيح، ثم الحجاج بن أرطأة، ثم الحكم بن ظهير، وهكذا.
وصف النسخة: اعتمدت في تحقيقي لهذا الكتاب على نسخة ابن يوسف بمراكش، وهي نسخة تكاد تكون كاملة، وفيها نقص يسير، وقد اعتمدت في استدراك ذلك النقص من النسخة المطبوعة مع كتاب تاريخ جرجان للسهمي، وهي نسخة ناقصة بمقدار الثلثين، أو أكثر، وقد عانيت أثناء تحقيقي مصاعب جمة، لأن النسخة المتوفرة لدي فيها تداخل في التراجم، وهذا التداخل كان في أصل المخطوط.
مثال ذلك:
ذكر في ترجمة عبد الله بن عمر العمري، أن يحيى بن معين قال: ابن ثوبان أصله خراساني نزل الشام
… أنظر الترجمة رقم (19) في المخطوط.
وابن ثوبان هو عبد الرحمن بن ثابت، وليس له تعلق بترجمة عبد الله العمري، وفي ترجمة ابن ثوبان في أصل المخطوط، لم يذكر فيه شيئاً. بل ذكر اسمه، وذكر بعده ترجمة نصر بن باب.
وقد عملة جهدي لإلحاق كل عبارة في مكانها الحقيقي، وأحسب أني وفقت في ذلك بحمد الله تعالى.
نسبة الكتاب للمؤلف:
اعتمد الحافظ ابن حجر رحمه الله على هذا الكتاب ونقل منه عدداً من التراجم التي رجح المسنف فيها جانباً من جوانب الجرح والتعديل.
فمن تلك المواضع ما ذكره في ترجمة أسد بن عمرو البجلي، إلا أنه لم يسم الكتاب بل نقل ترجيح ابن شاهين، أنظر الترجمة رقم ((2)) ويقارن
তিনি তাঁর সিকাত ও দুয়াফা গ্রন্থগুলোতে যেমন ‘হা’ বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া নামগুলো উল্লেখ করেছেন, সেখানে তিনি হাম্মাদ ইবনে নাজিহ-এর জীবনী, এরপর হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ, এরপর আল-হাকাম ইবনে জুহাইর—এভাবে বর্ণনা করেছেন।
পাণ্ডুলিপির বিবরণ: আমি এই গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে মরক্কোর ইবনে ইউসুফ পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। এটি প্রায় একটি পূর্ণাঙ্গ কপি, তবে এতে সামান্য কিছু অপূর্ণতা রয়েছে। আমি সেই অপূর্ণতাটুকু আস-সাহমি-র ‘তারিখে জুরজান’ গ্রন্থের সাথে মুদ্রিত সংস্করণ থেকে পূরণ করার চেষ্টা করেছি। সেই মুদ্রিত সংস্করণটি দুই-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি অসম্পূর্ণ। সম্পাদনার সময় আমাকে অনেক কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছে, কারণ আমার কাছে থাকা পাণ্ডুলিপিটিতে জীবনীগুলোর বর্ণনায় কিছুটা ওলটপালট ছিল, আর এই ওলটপালট মূলত মূল পাণ্ডুলিপিতেই বিদ্যমান ছিল।
যেমন:
আবদুল্লাহ ইবনে উমর আল-উমরি-র জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইয়াহইয়া ইবনে মায়িন বলেছেন: ইবনে সাওবান মূলত খোরাসানি ছিলেন এবং তিনি সিরিয়ায় বসবাস করতেন
... পাণ্ডুলিপিতে ১৯ নম্বর জীবনীটি দেখুন।
অথচ ইবনে সাওবান হলেন আবদুর রহমান ইবনে সাবিত, এবং আবদুল্লাহ আল-উমরি-র জীবনীর সাথে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। মূল পাণ্ডুলিপিতে ইবনে সাওবান-এর জীবনীতে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি; বরং কেবল তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং এরপর নাসর ইবনে বাব-এর জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে।
আমি প্রতিটি বক্তব্যকে তার সঠিক স্থানে বিন্যস্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এবং আমি মনে করি আল্লাহর প্রশংসায় আমি তাতে সফল হয়েছি।
লেখকের প্রতি গ্রন্থের সম্বন্ধায়ন:
হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) এই গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন এবং এখান থেকে বেশ কিছু জীবনী উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে লেখক ‘জারহ ও তাদিল’-এর কোনো একটি দিককে প্রাধান্য দিয়েছেন।
সেই স্থানগুলোর মধ্যে একটি হলো আসাদ ইবনে আমর আল-বাজালি-র জীবনীতে তিনি যা উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি গ্রন্থের নাম উল্লেখ না করে ইবনে শাহিন-এর অগ্রাধিকারমূলক মতটি উদ্ধৃত করেছেন। ২ নম্বর জীবনীটি দেখুন এবং তুলনা করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ১১)
2ـ الأمالي.
3ـ تاريخ أسماء الثقات. ط بتحقيق السامرائي، ومرة أخرى بتحقيق القلعجي.
4ـ تاريخ أسماء الضعفاء والكذابين، ط بتحقيقي.
5ـ الترغيب في فضائل الأعمال. حققه د. صالح الوعيل لنيل درجة الدكتوراه وهو مطبوع.
6ـ جزء فيه أحاديث ابن شاهين عن شيوخه.
7ـ ذكر من اختلف في توثيقه وتضعيفه. وهو كتابنا هذا وسيأتي الكلام عليه بالتفصيل.
8ـ فضائل شهر رمضان.
9ـ كتاب الجنائز.
10ـ كتاب الصحابة، ذكره الحافظ ابن حجر في تهذيب التهذيب (11/324) .
11ـ كتاب الصلاة.
12ـ كتاب الناسخ والمنسوخ.
13ـ الرباعيات، منه نسخة مصورة لدى الشيخ حماد بن محمد الأنصاري برقم (530) .
14ـ فضائل فاطمة رضي الله عنها طبع بتحقيق أبي إسحاق الحويني وهو جزء صغير.
وقد استوعب د. صالح الوعيل ـ ذكر مؤلفات ابن شاهين في مقدمة تحقيقه لكتاب الترغيب في فضائل الأعمال. فأغني عن ذكره في هذه العجالة.
২. আল-আমালি।
৩. তারিখু আসমায়িস সিকাত। এটি আস-সামাররাঈ-এর তাহকিকে এবং পুনরায় আল-কালআজি-এর তাহকিকে মুদ্রিত হয়েছে।
৪. তারিখু আসমায়িজ যুয়াফা ওয়াল কাযযাবিন, এটি আমার তাহকিকে মুদ্রিত হয়েছে।
৫. আত-তারগিব ফি ফাযায়িলিল আমাল। ড. সালিহ আল-ওয়াইল তার ডক্টরেট ডিগ্রির জন্য এর তাহকিক করেছেন এবং এটি মুদ্রিত হয়েছে।
৬. জুযউন ফিহি আহাদিসু ইবনু শাহিন আন শুয়ুখিহি।
৭. যিকরুন মান উখতুলিফা ফি তাওসিকিহি ওয়া তাদঈফিহি। এটি আমাদের এই কিতাব এবং সামনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
৮. ফাযায়িলু শাহরি রামাদান।
৯. কিতাবুল জানাইয।
১০. কিতাবুস সাহাবা, হাফেজ ইবনু হাজার তাহযিবুত তাহযিব (১১/৩২৪) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
১১. কিতাবুস সালাত।
১২. কিতাবুন নাসিখ ওয়াল মানসুখ।
১৩. আর-রুবাইয়াত, শায়খ হাম্মাদ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারীর নিকট এর একটি পাণ্ডুলিপির অনুলিপি রয়েছে যার নম্বর (৫৩০)।
১৪. ফাযায়িলু ফাতিমাহ রাযিয়াল্লাহু আনহা, এটি আবু ইসহাক আল-হুয়াইনীর তাহকিকে মুদ্রিত হয়েছে এবং এটি একটি ছোট পুস্তিকা।
ড. সালিহ আল-ওয়াইল 'আত-তারগিব ফি ফাযায়িলিল আমাল' কিতাবের তাহকিকের ভূমিকায় ইবনু শাহিনের সকল রচনাবলি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। তাই এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে তা পুনরায় বর্ণনা করার প্রয়োজনীয়তা নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ১২)
وفاته:
قال العتيقي: مات في ذي الحجة سنة خمس وثمانين وثلاثمائة 1.
منهج المؤلف في الجرح والتعديل:
يعتبر المؤلف من الطبقة المعتدلة في طبقات النقاد الذين تكلموا في تضعيف الرواة، وتوثيقهم حسبما قرره الإمام الذهبي رحمه الله.
إلا أن من يقرأ كتابه "الثقات" يلمس من خلال تتبعه للتراجم أنه من طبقة النقاد المتساهلين، لأنه ينقل في كتابه عن النقاد عبارات تساهلوا فيها، وربما يكون لهم قول آخر أشدّ مما نقله عنهم في ذلك الراوي فلا ينقله، أو يكون للنقاد الآخرين كلاماً يخالف أقوال من نقل عنهم التوثيق فلا ينقله.
مثال ذلك:
قال المؤلف في ترجمة "إراهيم بن طهما" قال ابن معين: ثقة. وقال مرة أخرى: صالح.
ونجد غير ابن معين يقول فيه: ضعيف مضطرب في الحديث.
فالمؤلف اختار قول ابن معين على قول ابن عمار الذي ضعفه.
وقال في ترجمة: الأحوص بن جوَّاب: قال يحيى في رواية عباس عنه: أبو جوَّاب، ثقة. وهو أحوص بن جوَّاب.
بينما نجد لابن معين قولاً آخر رواه ابن أبي خيثمة عنه: ليس بذلك
--------------------------------------------
তাঁর মৃত্যু:
আল-আতিকি বলেছেন: তিনি তিনশত পঁচাশী হিজরির জিলহজ মাসে মৃত্যুবরণ করেন ১।
জারহ ও তাদিল (সমালোচনা ও সত্যায়ন) বিষয়ে লেখকের মানহাজ:
ইমাম আয-যাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ) এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লেখক সেই মধ্যমপন্থি স্তরের সমালোচকদের অন্তর্ভুক্ত, যারা বর্ণনাকারীদের দুর্বল গণ্য করা বা নির্ভরযোগ্য বলার ক্ষেত্রে আলোচনা করেছেন।
তবে যারা তাঁর "আস-সিকাত" (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ) বইটি পড়েন, তারা জীবনীগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে অনুভব করবেন যে, তিনি শিথিলতাকারী সমালোচকদের স্তরের অন্তর্ভুক্ত। কারণ তিনি তাঁর বইতে সমালোচকদের এমন সব উক্তি উদ্ধৃত করেন যাতে তারা শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন। সম্ভবত সেই বর্ণনাকারী সম্পর্কে তাদের অন্য কোনো কঠোর বক্তব্যও ছিল যা তিনি উদ্ধৃত করেননি, অথবা অন্য সমালোচকদের এমন কোনো বক্তব্য ছিল যা সেই নির্ভরযোগ্যতা প্রদানের বিরোধী ছিল কিন্তু তিনি তা উল্লেখ করেননি।
এর উদাহরণ:
লেখক "ইব্রাহিম বিন তাহমান" এর জীবনীতে বলেছেন: ইবনে মাঈন বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য। তিনি অন্য সময়ে বলেছেন: তিনি সৎ।
অথচ আমরা ইবনে মাঈন ছাড়া অন্যদের দেখি যারা তার সম্পর্কে বলেন: তিনি দুর্বল এবং হাদিস বর্ণনায় অসংলগ্ন।
লেখক এখানে ইবনে আম্মারের বক্তব্যের তুলনায় ইবনে মাঈনের বক্তব্যকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যেখানে ইবনে আম্মার তাকে দুর্বল বলেছিলেন।
এবং তিনি "আল-আহওয়াস বিন জাওয়াব" এর জীবনীতে বলেছেন: ইয়াহইয়া তাঁর থেকে আব্বাসের বর্ণনায় বলেছেন: আবু জাওয়াব নির্ভরযোগ্য। আর তিনি হলেন আল-আহওয়াস বিন জাওয়াব।
অথচ আমরা ইবনে মাঈনের অন্য একটি উক্তি পাই যা ইবনে আবি খাইসামা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি তেমন (নির্ভরযোগ্য) নন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
القوي، فتصرف المؤلف في كتابه يوحي بأن شرطه في كتاب الثقات نقل التوثيق فقط دون اعتبار التضعيف.
ولو انتقلنا إلى كتابه الثاني "تاريخ أسماء الضعفاء والكذابين" فإننا نجد أنفسنا أمام إمام متشدد. إذ أنه ينقل في الرواة المترجم لهم عبارات الجرح فقط، ولا يعتبر فيهم توثيق من وثقهم من النقاد، لأن موضوع الكتاب جمع أسماء الرواة الذين ضعفهم النقاد، فتردد المؤلف بين طبقتين من طبقات النقاد. طبقة المتساهلين في كتاب الثقات، وطبقة المتشددين في كتاب الضعفاء. وللخروج من هذا التناقض يجب استبعاد الكتابين عن الدراسة لإثبات منهج المؤلف في الجرح والتعديل، لأنه كان مجرد ناقل لأقوال الأئمة الذين سبقوه. ولم يكن ناقداً بمعنى المفهوم المصطلح عليه. وقد أدرك الحافظ ابن حجر هذه الاحقيقة، فكان يقول إذا أراد نل معلومة من الكتابين:
ذكره ابن شاهين في الثقات، أو: ذكره في الضعفاء، ولا يقول: وثقه ابن شاهين، أو ضعفه ابن شاهين، والفرق شاسع بين العبارتين.
وقد أثبت المؤلف رحمه الله لنفسه صفة النقل دون النقد، وذلك في مقدمة كتابيه حيث قال في مقدمة كتابه "تاريخ أسماء الثقات":
" كتاب الثقات ممن روى الحديث ممن انتهى إلينا ذكره عن نقاد الحديث ممن قبلت شهادته واشتهرت عدالته، وعرف، ونقل، مثل يحيى بن معين، وأحمد بن حنبل، وعلي بن المديني، وعثمان بن أبي شيبة، وحمد بن عبد الله بن عمار الموصلي، وأحمد بن صالح، ومثل من تقدمهم، ومثل من قاربهم1"
وقال في مقدمة كتاب "تاريخ أسماء الضعفاء والكذابين".
--------------------------------------------
শক্তিশালী, সুতরাং লেখকের তাঁর গ্রন্থে গৃহীত আচরণ এ কথাই ইঙ্গিত দেয় যে, 'আস-সিকাত' (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের নাম) গ্রন্থে তাঁর শর্ত ছিল কেবল নির্ভরযোগ্যতার বর্ণনাগুলো উদ্ধৃত করা, দুর্বলতার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করেই।
আর আমরা যদি তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থ "তারিখু আসমাইয যুআফা ওয়াল কাযযিবিন" (দুর্বল ও মিথ্যাবাদী বর্ণনাকারীদের নামের ইতিহাস)-এর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করি, তবে আমরা নিজেদের একজন কঠোর ইমামের সামনে দেখতে পাব। কেননা সেখানে তিনি জীবনচরিত লিখিত বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে কেবল 'জরাহ' বা দোষারোপের উক্তিগুলোই উদ্ধৃত করেছেন, এবং সমালোচকদের মধ্যে যারা তাদের নির্ভরযোগ্য বলেছেন তাদের সেই নির্ভরযোগ্যতা প্রদানকে বিবেচনায় নেননি। কারণ এই গ্রন্থের মূল বিষয়ই হলো সেই বর্ণনাকারীদের নাম একত্রিত করা যাদেরকে সমালোচকরা দুর্বল বলেছেন। ফলে লেখক সমালোচকদের দুটি স্তরের মাঝে দোদুল্যমান ছিলেন—'আস-সিকাত' গ্রন্থে শিথিলতা প্রদর্শনকারী স্তর এবং 'আয-যুআফা' গ্রন্থে কঠোরতা প্রদর্শনকারী স্তর। আর এই বৈপরীত্য থেকে উত্তরণের জন্য, 'জরাহ' ও 'তা'দিল' (দোষ-গুণ বিচার)-এর ক্ষেত্রে লেখকের মূল নীতি প্রমাণের লক্ষ্যে এই গ্রন্থদ্বয়কে পর্যালোচনার বাইরে রাখা আবশ্যক; কেননা তিনি কেবল তাঁর পূর্বসূরী ইমামগণের উক্তির একজন বাহক বা উদ্ধৃতি প্রদানকারী ছিলেন। তিনি পারিভাষিক অর্থে কোনো সমালোচক (নাক্বিদ) ছিলেন না। হাফিজ ইবনে হাজার এই বাস্তবতাটি উপলব্ধি করেছিলেন, তাই তিনি যখন এই দুই কিতাব থেকে কোনো তথ্য গ্রহণ করতে চাইতেন তখন বলতেন:
ইবনে শাহিন তাঁকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, অথবা: তিনি তাঁকে 'আয-যুআফা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি এ কথা বলতেন না যে: ইবনে শাহিন তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, অথবা ইবনে শাহিন তাঁকে দুর্বল বলেছেন। আর এই দুই প্রকার উক্তির মাঝে পার্থক্য অনেক।
লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) নিজেও তাঁর কিতাবদ্বয়ের ভূমিকায় পর্যালোচনার পরিবর্তে কেবল তথ্য উদ্ধৃত করার বিষয়টি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন। তিনি তাঁর গ্রন্থ "তারিখু আসমাইস সিকাত"-এর ভূমিকায় বলেছেন:
"এটি সেই সকল নির্ভরযোগ্য হাদিস বর্ণনাকারীদের কিতাব যাদের হাদিস বর্ণনা আমাদের নিকট পৌঁছেছে এমন হাদিস বিশারদদের মাধ্যমে যাদের সাক্ষ্য গৃহীত, যাদের ন্যায়পরায়ণতা প্রসিদ্ধ, যাদের চেনা যায় এবং যাদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়। যেমন: ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আহমদ ইবনে হাম্বল, আলী ইবনুল মাদিনী, উসমান ইবনে আবি শায়বাহ, হামদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আম্মার আল-মাওসিলি, আহমদ ইবনে সালিহ এবং তাঁদের পূর্ববর্তী ও তাঁদের সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ।১"
এবং তিনি "তারিখু আসমাইয যুআফা ওয়াল কাযযিবিন" কিতাবের ভূমিকায় বলেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بلسان الميزان (1/384) ، وهذا الترجيح مأخوذ قطعاً من كتاب المختلف فيهم. والترجمة رقم (4) ويقارن بتهذيب التهذيب (2/97) والترجمة رقم (11) ، ويقارن بتهذيب التهذيب (3/169) حيث صرح باسم الكتاب في هذين الموضعين.
نماذج من أحكامه التي تدل على اعتداله.
قال المؤلف في ترجمة:
1ـ ((أبان بن أبي عياش)) :
" وقد روى عن أبان نبلاء الرجال فما نفعه ذلك، ولا يعتمد على شيء من روايته إلا ما وافق عليه غيره، وما تفرد به من حديث فليس عليه عمل ".
قلت: وقول المؤلف هنا لا يخرج عن قول غيره. فأبان متروك، ولا يعتمد عليه في شيء من الروايات إذا انفرد، وأشار الإمام الذهبي إلى أن أبا داود أخرج له مقروناً بغيره 1.
وقال في ترجمة:
2ـ ((أسد بن عمرو البجلي)) :
ويزيد بن هارون في الطبقة العليا على ابن عمار، وقوله: لا بأس به، ليس مثل قول يزيد: لا تحل الرواية عنه.
قلت: اختيار المؤلف لقول يزيد بن هارون، وافقه اختيار الذهبي " ضعيف " 2.
وقال في ترجمة:
3ـ ((الحجاج بن أرطأة)) :
--------------------------------------------
লিসানুল মিযান (১/৩৮৪); এবং এই প্রাধান্য প্রদানটি নিশ্চিতভাবেই 'কিতাবুল মুখতালিফু ফিহিম' থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এবং জীবনী নম্বর (৪), যা তাহযীবুত তাহযীব (২/৯৭)-এর সাথে তুলনীয় এবং জীবনী নম্বর (১১), যা তাহযীবুত তাহযীব (৩/১৬৯)-এর সাথে তুলনীয়; যেখানে এই দুটি স্থানে কিতাবটির নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর এমন কিছু সিদ্ধান্তের নমুনা যা তাঁর ভারসাম্যপূর্ণ হওয়ার প্রমাণ দেয়।
লেখক একজনের জীবনীতে বলেছেন:
১. ((আবান ইবনে আবি আইয়াশ)) :
"এবং আবান থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাতে তাঁর কোনো উপকার হয়নি। তাঁর বর্ণনার কোনো কিছুর ওপরই নির্ভর করা যায় না, কেবল সেগুলো ব্যতীত যেগুলোতে অন্য কেউ তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। আর তিনি এককভাবে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তার ওপর আমল করা যাবে না।"
আমি বলছি: এখানে লেখকের কথা অন্যদের বক্তব্যের বাইরে নয়। সুতরাং আবান পরিত্যক্ত, এবং তিনি যখন একক হয়ে যান তখন কোনো বর্ণনার ক্ষেত্রেই তাঁর ওপর নির্ভর করা যায় না। ইমাম যাহাবী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আবু দাউদ তাঁর বর্ণনা অন্য কারো সাথে মিলিয়ে (মাকরুন হিসেবে) গ্রহণ করেছেন ১।
এবং তিনি একজনের জীবনীতে বলেছেন:
২. ((আসাদ ইবনে আমর আল-বাজালি)) :
আর ইয়াযিদ ইবনে হারুন (মর্যাদার) উচ্চ স্তরে ইবনে আম্মারের চেয়ে অগ্রগণ্য; এবং তাঁর (ইবনে আম্মারের) উক্তি: "তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই" (লা বা’সা বিহি), তা ইয়াযিদের উক্তির মতো নয় যে: "তাঁর থেকে বর্ণনা করা হালাল নয়।"
আমি বলছি: লেখকের ইয়াযিদ ইবনে হারুনের উক্তিটি বেছে নেওয়া ইমাম যাহাবীর "দুর্বল" (যয়িফ) বলার পছন্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ২।
এবং তিনি একজনের জীবনীতে বলেছেন:
৩. ((আল-হাজ্জাজ ইবনে আরতাত)) :
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
إن للأسانيد نقاداً، فإذا لم يعرف الإنسان ما يكتب، وما يحدث به نسب إلى الضعف.
قلت: وهذا القول وافقه الحافظ ابن حجر حيث قال: حجاج، صدوق كثير الخطأ والتدليس 1.
وقال في ترجمة:
4ـ ((يونس بن خباب)) :
وهذا الكلام من يحيى ـ يعني قول يحيى ـ في يونس أقرب عندي، لأنه من اشتهر ببدعته في السب للسلف، ولا أحب توثيقه في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد ذكر عن يونس بن خباب أنه كان يتناول عثمان رضي الله عنه.
وقال في ترجمة:
5ـ ((فرقد السبخي)) :
له كلام في الزهد والرقائق، وهو رجل صالح إن شاء الله، وأما في الحديث ونقل علم رسول الله صلى الله عليه وسلم، فهو شيء آخر، وليس ممن يدخل حديثه في الصحيح.
((عملي في الكتاب)) :
أولاً: قمت بنسخ الكتاب، وتصحيح الأخطاء التي وقفت عليها، وألحقت العبارات الساقطة وجعلتها ضمن معقوفتين، وأشرت إلى مصدر تلك العبارات في الحاشية.
ثانياً: قمت بإعادة ترتيب التراجم ترتيباً منطقياً، لأن التراجم في الأصل
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই সনদসমূহের সমালোচক রয়েছেন; সুতরাং মানুষ যদি কী লিখছে এবং কী বর্ণনা করছে তা না জানে, তবে তাকে দুর্বলতার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা করা হবে।
আমি বলছি: এই বক্তব্যের সাথে হাফেজ ইবনে হাজার ঐকমত্য পোষণ করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: হাজ্জাজ সত্যবাদী, তবে অধিক ভুলকারী এবং তাদলিসকারী (তথ্য গোপনকারী) ১।
এবং তিনি জীবনচরিতে বলেছেন:
৪- ইউনূস বিন খাব্বাব:
আর ইউনূস সম্পর্কে ইয়াহিয়ার এই কথাটি—অর্থাৎ ইয়াহিয়ার বক্তব্যটি—আমার কাছে অধিক সঠিক মনে হয়; কারণ সে সালাফদের গালি দেওয়ার বিদআতের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের ক্ষেত্রে তার নির্ভরযোগ্যতা বর্ণনা করা আমি পছন্দ করি না। আর ইউনূস বিন খাব্বাব সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, সে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর সমালোচনা করত।
এবং তিনি জীবনচরিতে বলেছেন:
৫- ফারকাদ আস-সাবখি:
যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা) এবং হৃদয় বিগলনকারী বিষয়ে তার কিছু বক্তব্য রয়েছে, এবং ইনশাআল্লাহ তিনি একজন নেককার মানুষ। তবে হাদিস এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইলম বর্ণনার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন; তিনি এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত নন যাদের হাদিস সহিহতে গ্রহণ করা হয়।
কিতাবে আমার কাজ:
প্রথমত: আমি কিতাবটি অনুলিপি করেছি এবং আমার নজরে আসা ভুলগুলো সংশোধন করেছি। আর বাদ পড়া বাক্যগুলো যুক্ত করে সেগুলোকে তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে রেখেছি এবং টীকায় সেই বাক্যগুলোর উৎসের প্রতি ইঙ্গিত করেছি।
দ্বিতীয়ত: আমি জীবনচরিতগুলোকে যৌক্তিক ক্রমে পুনরায় বিন্যস্ত করেছি, কারণ মূল পাণ্ডুলিপিতে জীবনচরিতগুলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
كانت متداخلة، وجعلت لكل ترجمة رقمين، الرقم العلوي يعني الترتيب الذي عملته، والرقم الذي في أسفل الرقم الأول يعين ترتيب الأصل.
ثالثاً: عزوت العبارات التي أوردها المصنف نقلاً عن غيره إلى مصادرها الأصلية، وبينت مواضع تلك العبارات في كتابيه (الثقات والضعفاء) .
رابعاً: نبهت على الأوهام التي وقع فيها المؤلف، واستدللت على تلك الأوهام بأقوال غيره من النقاد.
خامساً: بينت المواضع التي تساهل فيها المؤلف، وذكرت ما ترجح لدي من الأقوال:
سادساً: عملت فهرساً للرواة، وآخر للمصادر التي اعتمدت عليها في تحقيق النص.
وفي الختام أرجو أن أكون ممن استطاع اظهار تراث كاد أن يندثر، وأن يكون هذا العمل خالصاً لله تعالى، وخدمة لسنة نبيه صلى الله عليه وسلم.
كتبه:
د. عبد الرحيم بن محمد القشقري
حرر في 1/4/1411هـ
বিষয়গুলো পরস্পর সম্পৃক্ত ছিল, এবং আমি প্রতিটি জীবনবৃত্তান্তের জন্য দুটি করে নম্বর নির্ধারণ করেছি। উপরের নম্বরটি আমার তৈরি করা ক্রমধারা নির্দেশ করে এবং প্রথম নম্বরের নিচের নম্বরটি মূল পাণ্ডুলিপির ক্রমধারা নির্ধারণ করে।
তৃতীয়ত: গ্রন্থকার অন্যদের থেকে যেসব বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন, সেগুলোকে আমি তাদের মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি এবং তাঁর রচিত দুটি কিতাব (আস-সিকাত ও আদ-দুয়াফা)-এ সেই বক্তব্যের স্থানসমূহ স্পষ্ট করেছি।
চতুর্থত: গ্রন্থকার যেসব ভুলের সম্মুখীন হয়েছেন সেগুলোর ব্যাপারে আমি সতর্ক করেছি এবং অন্যান্য সমালোচকদের বক্তব্যের মাধ্যমে সেই ভুলগুলোর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করেছি।
পঞ্চমত: গ্রন্থকার যেসব স্থানে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন তা আমি স্পষ্ট করেছি এবং আমার নিকট যে অভিমতগুলো অগ্রগণ্য মনে হয়েছে তা উল্লেখ করেছি:
ষষ্ঠত: আমি বর্ণনাকারীদের একটি নির্ঘণ্ট এবং পাঠ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে আমি যেসব উৎসের ওপর নির্ভর করেছি তার একটি নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি।
পরিশেষে, আমি আশা করি যে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারব যারা বিলুপ্তপ্রায় একটি ঐতিহ্যকে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে। আর এই কাজটি যেন মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হয় এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর খিদমত হিসেবে কবুল হয়।
লেখক:
ড. আবদুর রহীম বিন মুহাম্মদ আল-কাশকারী
সম্পাদিত হয়েছে: ১/৪/১৪১১ হিজরী।
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المختلف فيهم…بسم الله الرحمن الرحيم
((رب يسر برحمتك))
حدث القاضي الشريف: أبو الحسن محمد بن علي بن محمد بن المهتدي بالله إجازة وغيره، عن أبي حفص عمر بن أحمد بن عثمان ابن شاهين الواعظ رحمه الله قال: " ذكر من اختلف العلماء، ونقاد الحديث فيه، فمنهم من وثقه، ومنهم من ضعفه، ومن قيل فيه قولان، بينت ذلك بالتراجم ليعرف إن شاء الله ".
ذكر أبان بن أبي عياش والخلاف فيه
روى ابن شاهين بإسناده1 عن شعبة قال: " لولا الحياء من الناس ما صليت على أبان بن أبي عياش.
وروى النضر بن شميل عنه أيضاً أنه قال: " لأن أقطع الطريق أحب إليَّ من أن أروي عن أبان ".
وعن علي بن مسهر قال: سمعت أنا وحمزة الزيات، من أبان بن أبي عياش نحواً من ألف حديث، قال: فأخبرني حمزة أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم في المنام فعرضها عليه، فما عرف منها إلا اليسير ـ خمسة أو أقل أو أكثر. قال: ـ فتركت الحديث عنه.
وعن أحمد بن حنبل أنه قرأ عليه ابنه عبد الله، حديث عباد بن عباد فلما انتهى إلى حديث أبان بن أبي عياش قال: اضرب عليها 2.
--------------------------------------------
যাদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে...পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
((হে প্রতিপালক, আপনার রহমতের মাধ্যমে সহজ করে দিন))
বিচারক আশ-শরীফ: আবু হাসান মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুহতাদী বিল্লাহ অনুমতি (ইজাজত) সূত্রে এবং অন্যভাবে বর্ণনা করেছেন আবু হাফস উমর বিন আহমদ বিন উসমান ইবনে শাহীন আল-ওয়াইয (রহিমাহুল্লাহ) থেকে, তিনি বলেন: "আমি তাদের কথা উল্লেখ করছি যাদের ব্যাপারে আলেমগণ এবং হাদীস বিশারদগণ মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যাকে কেউ নির্ভরযোগ্য বলেছেন আবার কেউ দুর্বল বলেছেন; এবং যাদের ব্যাপারে দুটি অভিমত রয়েছে, আমি তা শিরোনামের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছি যেন ইনশাআল্লাহ তা জানা যায়।"
আবান বিন আবি আইয়াশ এবং তার ব্যাপারে মতভেদের বর্ণনা
ইবনে শাহীন তাঁর সনদে১ শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যদি মানুষের কাছে লজ্জাবোধ না থাকত, তবে আমি আবান বিন আবি আইয়াশের জানাযার সালাত পড়তাম না।"
নযর বিন শুমাইল থেকেও বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "ডাকাত হওয়া আমার কাছে আবানের নিকট থেকে হাদীস বর্ণনা করার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়।"
আলী বিন মুসহির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি এবং হামযা আয-যাইয়্যাত আবান বিন আবি আইয়াশের কাছ থেকে প্রায় এক হাজার হাদীস শুনেছি।" তিনি বলেন: "হামযা আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি স্বপ্নে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছেন এবং তাঁর কাছে হাদীসগুলো পেশ করেছেন। কিন্তু তিনি (নবী) এর মধ্য থেকে সামান্য কিছু—পাঁচটি বা তার কিছু কম বা বেশি—ছাড়া আর কিছুই চিনতে পারেননি।" তিনি বলেন: "অতঃপর আমি তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করা ছেড়ে দিয়েছি।"
আহমদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ তাঁর সামনে ইবাদ বিন ইবাদের হাদীস পাঠ করছিলেন। যখন তিনি আবান বিন আবি আইয়াশের হাদীসে পৌঁছালেন, তখন তিনি (আহমদ) বললেন: "এটি কেটে দাও"২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ২০)
وعن يحيى بن معين قال: أبان بن أبي عياش، مترك الحديث 1.
وعن ابن عائشة قال: قال رجل لحمد بن سلمة: يا أبا سلمة تروي عن أبان بن أبي عياش.؟ قال: وما شأنه؟ قال: إن شعبة لا يرضاه، قال: فأبان خير من شعبة.
قال أبو حفص: وهذا الكلام من حماد بن سلمة في تفضيل أبان على شعبة فيه إسراف شديد، وليس هذا الكلام بمقبول. شعبة أفضل، وأنقل، وأعلم. وقد روى عن أبان نبلاء الرجال فما نفعه ذلك، ولا يعتمد على شيء من روايته إلا ما وافقه عليه غيره، وما تفرد به من حديث فليس عليه عمل. وممن روى عنه من الثقات:
سفيان الثوري، وحماد بن سلمة، والفضيل بن عياض، وطالب بن حجير، ومهدي بن هلال الراسبي، والماضي بن محمد، وخليل بن مرة، ومطرف بن طريف، وحمزة بن حبيب الزيات، وسابق بن عبد الله البربري، وأبو حنيفة، وأبو يوسف يعقوب بن إبراهيم القاضي، ومحمد بن جحادة، وموسى بن خلف، وسعيد بن بشير، ونافع بن يزيد، وزياد بن سعد، ومغيرة السراج، وداود بن الزبرقان، وإسماعيل بن عياش، وموسى بن عقبة، وهشام بن الغاز، وأبو إسحاق الفزاري*، وهياج بن بسطام، وزفر بن الهذيل، وجعفر الأحمر، وأبو عبيدة مجاعة الزبير 2.
--------------------------------------------
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবান ইবনে আবি আয়্যাশ, পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী ১।
ইবনে আয়েশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি হাম্মাদ ইবনে সালামাহকে বললেন: হে আবু সালামাহ, আপনি কি আবান ইবনে আবি আয়্যাশ থেকে বর্ণনা করেন? তিনি বললেন: তার সমস্যা কী? লোকটি বলল: নিশ্চয়ই শু’বাহ তাকে পছন্দ করেন না। তিনি বললেন: তবে আবান শু’বাহর চেয়ে উত্তম।
আবু হাফস বলেন: আবানের ওপর শু’বাহকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে হাম্মাদ ইবনে সালামাহর এই উক্তিটি চরম বাড়াবাড়ি, এবং এই কথা গ্রহণযোগ্য নয়। শু’বাহ অধিক শ্রেষ্ঠ, অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এবং অধিক জ্ঞানী। আবান থেকে বহু উচ্চপদস্থ ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তা তাকে কোনো উপকার করেনি। তার বর্ণনার কোনো কিছুর ওপর নির্ভর করা যাবে না যতক্ষণ না অন্য কেউ তার সাথে একমত হয়, আর তিনি এককভাবে যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তার ওপর আমল করা হবে না। নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে যারা তার থেকে বর্ণনা করেছেন তারা হলেন:
সুফিয়ান সাওরি, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, ফুদাইল ইবনে ইয়াদ, তালিব ইবনে হুজাইর, মাহদি ইবনে হিলাল আল-রাসিবি, আল-মাদি ইবনে মুহাম্মদ, খলিল ইবনে মুররাহ, মুতাররিফ ইবনে তরিফ, হামজাহ ইবনে হাবিব আল-জায়্যাত, সাবিক ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বারবারি, আবু হানিফা, আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম আল-কাদি, মুহাম্মদ ইবনে জুহাদাহ, মুসা ইবনে খালাফ, সাঈদ ইবনে বশির, নাফি ইবনে ইয়াজিদ, জিয়াদ ইবনে সাদ, মুগিরাহ আস-সাররাজ, দাউদ ইবনে আল-জাবারকান, ইসমাইল ইবনে আয়্যাশ, মুসা ইবনে উকবাহ, হিশাম ইবনে আল-গাজ, আবু ইসহাক আল-ফাযারি*, হাইয়াজ ইবনে বিসতাম, জুফার ইবনে আল-হুজাইল, জাফর আল-আহমার, আবু উবাইদাহ মুজাআহ ইবনে আল-জুবাইর ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ২১)
أسد بن عمرو البجلي. قاضي واسط والخلاف فيه
روى ابن شاهين بإسناده عن يزيد بن هارون أنه قال: " لا تحل الرواية عنه 1.
وعن عثمان بن أبي شيبة أنه قال: " هو والريح سواء، لا شيء في الحديث، إنما كان يبصر الرأي ".
وقال محمد بن عبد الله بن عمار الموصلي: " أسد بن عمرو البجلي. صاحب رأي لا بأس به ".
قال: أبو حفص: وليس كلام محمد بن عبد الله بن عمار بتزكية حجة على قول يزيد بن هارون، وعثمان بن أبي شيبة أعلم بأسد بن عمرو من ابن عمار، لأن ابن عمار موصلي، ويزيد بن هارون واسطي، وعثمان بن أبي شيبة كوفي فهما أعلم به 2.
ويزيد بن هارون في الطبقة العليا على ابن عمار، وقوله: لا بأس به ليس مثل قول يزيد: لا تحل الرواية عنه 3.
--------------------------------------------
আসাদ বিন আমর আল-বাজালি। ওয়াসিতের কাযী এবং তার ব্যাপারে বিদ্যমান মতপার্থক্য
ইবন শাহীন তার সনদে ইয়াযিদ বিন হারুন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তার থেকে বর্ণনা করা বৈধ নয় ১।
এবং উসমান বিন আবী শায়বা থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "সে এবং বাতাস সমান, হাদীসে তার কোনো গুরুত্ব নেই, সে কেবল ব্যক্তিগত মতের (রায়) অনুসারী ছিল"।
এবং মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আম্মার আল-মাওসিলি বলেছেন: "আসাদ বিন আমর আল-বাজালি। তিনি ব্যক্তিগত মতের অনুসারী ছিলেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই"।
আবু হাফস বলেন: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আম্মারের এই প্রশংসা ইয়াযিদ বিন হারুনের বক্তব্যের বিপরীতে কোনো দলিল নয়। উসমান বিন আবী শায়বা ইবন আম্মারের তুলনায় আসাদ বিন আমর সম্পর্কে অধিক অবগত, কারণ ইবন আম্মার হলেন মাওসিলী, ইয়াযিদ বিন হারুন হলেন ওয়াসিতী এবং উসমান বিন আবী শায়বা হলেন কূফী; তাই তারা দুজন তার সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত ২।
আর ইয়াযিদ বিন হারুন স্তরের দিক থেকে ইবন আম্মারের চেয়ে উপরে। আর তার (ইবন আম্মারের) উক্তি: "তাতে কোনো সমস্যা নেই" ইয়াযিদের উক্তি: "তার থেকে বর্ণনা করা বৈধ নয়"-এর সমতুল্য নয় ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ২২)
جابر الجعفي. والخلاف فيه
روى ابن شاهين أن عبد الرحمن بن مهدي قال: سمعت سفيان الثوري يقول: " ما رأيت أحداً أورع في الحديث من جابر، ولا منصور 1 ".
وعن سلام بن أبي مطيع أنه قال: قال لي جابر الجعفي: " عندي خمسون ألف باب من العلم ما حدثت به أحداً " فذكرت ذلك لأيوب فقال: أما الآن فهو كاذب2.
وعن زائدة أنه قال: " كان جابر الجعفي كذاباً يؤمن بالرجعة ".
وعن أبي حنيفة أنه قال: " ما رأيت أحداً أكذب من جابر، ولا أفضل من عطاء ".
وعن يحيى بن معين أنه قال: " جابر الجعفي لا يكتب حديثه ولا كرامة ".
وقال يحيى مرة أخرى: جابر الجعفي ليس بشيء 3.
قال أبو حفص: وهذه الروايات في جابر مختلفة جداً. يقول الثوري: لم أر أورع منه في الحديث، ويقول أيوب السختياني: هو كذاب، ويقول زائدة وأبو حنيفة: هو كذاب، ويقول يحيى بن معين: كذلك
--------------------------------------------
জাবির আল-জুফি এবং তার ব্যাপারে মতপার্থক্য
ইবনে শাহিন বর্ণনা করেছেন যে, আবদুর রহমান ইবনে মাহদি বলেছেন: আমি সুফিয়ান আস-সাওরিকে বলতে শুনেছি: "আমি হাদিসের ক্ষেত্রে জাবির এবং মনসুরের চেয়ে অধিক মুত্তাকি কাউকে দেখিনি ১।"
সালাম ইবনে আবি মুতি' থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: জাবির আল-জুফি আমাকে বলেছিলেন: "আমার কাছে ইলমের পঞ্চাশ হাজার অধ্যায় রয়েছে যা আমি কাউকে বর্ণনা করিনি।" আমি আইয়ুবের কাছে এটি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "এখন তো সে মিথ্যাবাদী ২।"
যায়িদাহ থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: "জাবির আল-জুফি একজন মিথ্যাবাদী ছিল, সে রাজআ (পুনরাগমনে) বিশ্বাস করত।"
আবু হানিফা থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: "আমি জাবিরের চেয়ে বড় মিথ্যাবাদী এবং আতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাউকে দেখিনি।"
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: "জাবির আল-জুফির হাদিস লেখা যাবে না এবং তার কোনো মর্যাদা নেই।"
ইয়াহইয়া অন্য এক সময় বলেন: জাবির আল-জুফি কিছুই নয় ৩।
আবু হাফস বলেন: জাবিরের ব্যাপারে এই বর্ণনাগুলো অত্যন্ত পরস্পরবিরোধী। সাওরি বলছেন: আমি হাদিসের ক্ষেত্রে তার চেয়ে অধিক মুত্তাকি কাউকে দেখিনি; আবার আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি বলছেন: সে মিথ্যাবাদী; আর যায়িদাহ এবং আবু হানিফা বলছেন: সে মিথ্যাবাদী; এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনও অনুরূপ বলছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وأقل ما في أمر هذا الرجل، أن يكون حديثه لا يحتج به إلا أن يروي حديثاً يشاركه فيه الثقات، فإذا انفرد هو بحديث لم يعمل به لتفضيل سفيان له 1.
ذكر جعفر بن سليمان الضُّبَعِيُّ
روى ابن شاهين، أن يحيى قال في رواية يزيد بن الهيثم عنه: جعفر بن سليمان الضبعي، ثقة يتشيع وليس به بأس2. وفي رواية العباس بن محمد عنه أنه قال: ثقة، وأن يحيى بن سعيد القطان كان لا يكتب حديثه 3.
وقال محمد بن عبد الله بن عمار: هو ضعيف 4.
قال أبو حفص: وهذا الخلاف في جعفر من ابن عمار في ضعفه، ومن يحيى بن سعيد في تركه لعلَّة المذهب. لأنه يُروى عنه أنه قيل له: تشتم أبابكر وعمر؟ فقال شتمهما لا ولكن بغضاً، ما شئت5. وهو أستاذ عبد الرزاق.
--------------------------------------------
এই ব্যক্তির ব্যাপারে অন্তত এতটুকু বলা যায় যে, তাঁর হাদীস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, যতক্ষণ না তিনি এমন কোনো হাদীস বর্ণনা করেন যাতে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণও তাঁর সাথে শরিক থাকেন। সুতরাং যখন তিনি এককভাবে কোনো হাদীস বর্ণনা করবেন, তখন সুফিয়ান তাকে অগ্রাধিকার দিলেও তাঁর ওপর আমল করা হবে না ১।
জাফর ইবনে সুলাইমান আদ-দুবাই-এর আলোচনা
ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন তাঁর সম্পর্কে ইয়াযীদ ইবনুল হাইসামের বর্ণনায় বলেছেন: জাফর ইবনে সুলাইমান আদ-দুবাই নির্ভরযোগ্য, তিনি শিয়া মতাবলম্বী ছিলেন এবং তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই ২। আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদের বর্ণনায় ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, তবে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান তাঁর হাদীস লিখতেন না ৩।
এবং মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আম্মার বলেছেন: তিনি দুর্বল ৪।
আবু হাফস বলেন: জাফরের ব্যাপারে ইবনে আম্মারের দুর্বল বলা এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের তাঁর হাদীস বর্জন করার এই মতপার্থক্যটি সম্ভবত মাযহাবগত বা মতাদর্শগত কারণে। কারণ তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আপনি কি আবু বকর ও উমরকে গালি দেন? তিনি বললেন: গালি দেওয়া তো নয়, তবে ঘৃণা পোষণ করি যতটুকু চাও ৫। তিনি আব্দুর রাজ্জাকের শিক্ষক ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقيل لعبد الرزاق: ممن أخذت التشيع؟ فقال: من جعفر بن سليمان، وما رأيت من طعن في حديثه إلا محمد بن عبد الله بن عمار الموصلي [بقوله جعفر بن سليمان. ضعيف] 1.
الحارث الأعور، والخلاف فيه
ذكر ابن شاهين بإسناده عن مغيرة، وجرير بن حازم عن الشعبي أنه قال: الحارث الأعور من أحد الكذابين.
قال أبو حفص: وفي هذا الكلام من الشعبي في الحارث نظر، لأنه قد روى هو أنه رأى الحسن والحسين يسألان الحارث عن حديث علي، وهذا يدل على أن الحارث صحيح في الرواية عن علي، ولولا ذلك لما كان الحسن والحسين مع علمهما وفضلهما يسألان الحارث، لأنه كان وقت الحارث من هو أرفع من الحارث من أصحاب علي، فدل سؤالهما للحارث على صحة روايته.
ومع ذلك فقد قال يحيى بن معين: ما زال المحدثون يقبلون حديثه. وهذا من قول يحيى بن معين الإمام في هذا الشأن، زيادة لقبول الحارث وثقته، وقد وثقه أحمد بن صالح المصري إمام أهل مصر في الحديث، فقيل لأحمد بن صالح، قول الشعبي: حدثنا الحارث وكان ابن شاهينقال أحمد بن صالح: لم يكن يكذب في الحديث. إنما كان كذبه في رأيه2.
--------------------------------------------
আব্দুর রাজ্জাককে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কার থেকে শিয়া মতাদর্শ গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন: জাফর বিন সুলাইমান থেকে। আমি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আম্মার আল-মাওসিলি ছাড়া আর কাউকে তাঁর হাদিসের সমালোচনা করতে দেখিনি [এই বলে যে, জাফর বিন সুলাইমান দুর্বল] ১।
হারিস আল-আওয়ার এবং তাঁকে নিয়ে মতপার্থক্য
ইবনে শাহীন তাঁর সনদে মুগীরাহ এবং জারীর বিন হাযিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা আশ-শা’বী থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: হারিস আল-আওয়ার অন্যতম মিথ্যাবাদী।
আবু হাফস বলেন: হারিস সম্পর্কে শা’বীর এই বক্তব্যের ব্যাপারে আপত্তি আছে, কারণ তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হাসান ও হুসাইনকে হারিসের কাছে আলীর হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে দেখেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, হারিস আলীর নিকট থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে সহীহ। তা না হলে হাসান ও হুসাইন তাঁদের ইলম ও মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও হারিসকে জিজ্ঞাসা করতেন না; কারণ হারিসের সময়ে আলীর সাথীদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা হারিসের চেয়েও উচ্চমর্যাদার ছিলেন। সুতরাং হারিসের কাছে তাঁদের প্রশ্ন করা তাঁর বর্ণনার বিশুদ্ধতাকে প্রমাণ করে।
তা সত্ত্বেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেছেন: মুহাদ্দিসগণ সর্বদা তাঁর হাদিস গ্রহণ করে আসছেন। এই শাস্ত্রের ইমাম ইয়াহইয়া বিন মাঈনের এই বক্তব্য হারিসের গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্ভরযোগ্যতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। মিশরের হাদিস শাস্ত্রের ইমাম আহমাদ বিন সালিহ আল-মিসরিও তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। যখন আহমাদ বিন সালিহকে শা’বীর উক্তি "আমাদের কাছে হারিস বর্ণনা করেছেন" সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো এবং ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে আহমাদ বিন সালিহ বলেছেন: তিনি হাদিসে মিথ্যা বলতেন না। বরং তাঁর মিথ্যা ছিল তাঁর মতামতের ক্ষেত্রে ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ذكر الحجاج بن أرطأة، والخلاف فيه
روى ابن شاهين، أن حماد بن زيد قال: قدم علينا جرير بن حازم من المدينة فأتيناه [فتحدثنا عنده] * فقال جرير: ثنا قيس بن سعد عن حجاج بن أرطأة، قال: فلبثنا ما شاء الله، ثم قدم علينا حجاج [ابن] ثلاثين أو إحدى وثلاثين ـ يعني سنة ـ فرأيت عليه من الزحام شيئاً لم أره على حماد بن أبي سليمان، [ورأيت] مطر الوراق، وداود بن أبي هند، ويونس بن عبيد، جثاة على ركبهم يقولون: يا أبا أرطأة ما تقول في كذا. ما تقول في كذا.
وعن يحيى بن معين أنه قال: الحجاج بن أرطأة. كوفي صدوق [وليس بالقوي] 1.
وعنه أنه سئل مرة أخرى عنه، فقال: ضعيف.
--------------------------------------------
হাজ্জাজ ইবন আরত্বাহ-এর আলোচনা এবং তাকে নিয়ে মতপার্থক্য
ইবন শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, হাম্মাদ ইবন যায়িদ বলেছেন: জারীর ইবন হাযিম মদীনা থেকে আমাদের নিকট আসলেন, অতঃপর আমরা তাঁর কাছে গেলাম [এবং তাঁর নিকট কথাবার্তা বললাম]। জারীর বললেন: কায়স ইবন সা'দ হাজ্জাজ ইবন আরত্বাহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: এরপর আল্লাহ যতদিন চাইলেন আমরা অবস্থান করলাম। অতঃপর হাজ্জাজ ত্রিশ বা একত্রিশ সালে আমাদের নিকট আসলেন। আমি তাঁর নিকট এমন ভিড় দেখলাম যা হাম্মাদ ইবন আবু সুলাইমানের নিকটও দেখিনি। [আমি দেখলাম] মাতার আল-ওয়াররাক, দাউদ ইবন আবু হিন্দ এবং ইউনুস ইবন উবায়দ হাঁটু গেড়ে বসে বলছেন: হে আবু আরত্বাহ, আপনি অমুক বিষয়ে কী বলেন? অমুক বিষয়ে কী বলেন?
ইয়াহইয়া ইবন মাঈন থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: হাজ্জাজ ইবন আরত্বাহ; তিনি কূফাবাসী, সত্যবাদী [তবে তিনি শক্তিশালী নন] ১।
তাঁর থেকেই বর্ণিত যে, তাঁকে পুনরায় তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: যঈফ (দুর্বল)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وعن زائدة أنه قال: اطرحوا حديث أربعة. حجاج بن أرطأة، وجابر [وحميد، والكلبي] 1.
قال أبو حفص: [وهذا الكلام في حجاج بن أرطأة] من مثل زائدة بن قدامة عظيم، وقد وافقه على ذلك يحيى بن معين في أحد قوليه، وأما ما ذكره حماد بن زيد في حجاج ونبله، وما رأى عِلْيَةً من العلماء يسألونه فليس بداخل في الروايات، لأنه حكى أنه سمعهم يقولون: ما تقول في كذا؟ يريد الفقه، وأبو حنفية، فقد كان من الفقه على ما لا يدفع من علمه فيه، ولم يكن في الحديث بالمرضي، لأن للأسانيد نقاداً، فإذا لم يعرف الإنسان ما يكتب وما يحدث به نسب إلى الضعف، والله أعلم بذلك 2.
ذكر، الحكم بن ظهير، والخلاف فيه
ذكر أبو حفص بن شاهين، أن يحيى بن معين سئل عن الحكم بن ظهير؟ قال: ليس حديثه بشيء.
وقال يحيى مرة أخرى: يروى عنه مروان فيقول: الحكم بن أبي خالد 3.
وعن عثمان بن أبي شيبة أنه قال: الحكم بن ظهير عندي صدوق، وليس ممن يحتج به، وكان غيه اضطراب وجفا الناس حتى استقصى 4.
--------------------------------------------
এবং যাইদাহ থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: চারজনের হাদীস বর্জন করো। হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ, জাবির [এবং হুমাইদ ও কালবি] ১।
আবু হাফস বলেন: [হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ সম্পর্কে এই বক্তব্য] যাইদাহ বিন কুদামাহর মতো ব্যক্তির পক্ষ থেকে আসা অনেক বড় বিষয়। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনও তাঁর এক বর্ণনায় তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। আর হাম্মাদ বিন যাইদ হাজ্জাজ এবং তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন এবং তিনি যে বিশিষ্ট আলেমদেরকে তাঁর কাছে প্রশ্ন করতে দেখেছেন—তা রেওয়ায়েত বা বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ তিনি বর্ণনা করেছেন যে তিনি তাদেরকে বলতে শুনেছেন: "অমুক বিষয়ে আপনার অভিমত কী?"—এর দ্বারা তিনি ফিকহ উদ্দেশ্য করেছেন। আর আবু হানিফা, ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর জ্ঞানের এমন উচ্চতা ছিল যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই, কিন্তু হাদীসের ক্ষেত্রে তিনি সন্তোষজনক ছিলেন না। কারণ সনদের ক্ষেত্রে সমালোচকগণ রয়েছেন; ফলে মানুষ যখন যা লিখছে বা যা বর্ণনা করছে তা সম্পর্কে অবগত না থাকে, তখন তাকে দুর্বলতার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। আল্লাহই এ বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন ২।
হাকাম ইবনে জুহাইর এবং তাঁকে নিয়ে মতভেদের আলোচনা
আবু হাফস ইবনে শাহীন উল্লেখ করেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে হাকাম ইবনে জুহাইর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি বললেন: তাঁর হাদীস কিছুই নয় (মূল্যহীন)।
ইয়াহইয়া অন্য সময়ে বলেছেন: মারওয়ান তাঁর থেকে বর্ণনা করার সময় বলেন: হাকাম ইবনে আবি খালিদ ৩।
এবং উসমান ইবনে আবি শাইবাহ থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: হাকাম ইবনে জুহাইর আমার নিকট সত্যবাদী, তবে তিনি এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত নন যাদের দ্বারা দলিল পেশ করা যায়। তাঁর বর্ণনায় বিশৃঙ্খলা ছিল এবং লোকেরা তাঁকে এড়িয়ে চলত যতক্ষণ না বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قال أبو حفص: وهذا الكلام في الحكم بن ظهير، قد أجمع عليه قول من مدحه، ومن ذمه، وإذا قال من مدحه: أنه لا يحتج به، وإن في حديثه اضطراباً، فقد وافق قول يحيى بن معين. وبالجملة في أمره أنه لا يدخل في الصحيح1.
ذكر حماد بن نجيح، والخلاف فيه
روى ابن شاهين أن أحمد بن حنبل قال: حماد بن نجيح، ثقة، مقارب في الحديث. روى عنه وكيع وأبو عبيدة الحداد2، [وقال يحيى: حماد بن نجيح، ثقة] 3.
وعن عثمان بن أبي شيبة أنه قال: حماد بن نجيح، ضعيف، ليس يروى عنه أحد 4.
قال أبو حفص: وهذا الكلام والخلاف في حماد بن نجيح، مقبول من أحمد، ويحيى، لأنهما إذا اجتمعا في الرجل بقول واحد، فالقول قولهما، وهو في عداد الثقات، ولا يرجع إلى قول آخر معهما 5.
--------------------------------------------
আবু হাফস বলেছেন: আল-হাকাম ইবনে জুহাইর সম্পর্কে এই কথাটি—যিনি তার প্রশংসা করেছেন এবং যিনি তার সমালোচনা করেছেন—উভয় মতের লোকই এর ওপর একমত হয়েছেন। যখন তার প্রশংসাকারীরা বলেন যে, তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না এবং তার হাদিসে অসংলগ্নতা রয়েছে, তখন এটি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের মতের সাথে মিলে যায়। মোদ্দাকথা হলো, তার অবস্থা এমন যে তিনি সহিহ হাদিসের অন্তর্ভুক্ত নন১।
হাম্মাদ ইবনে নাজিহ-এর আলোচনা এবং তাকে নিয়ে মতভেদ
ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে আহমদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: হাম্মাদ ইবনে নাজিহ নির্ভরযোগ্য, হাদিস বর্ণনায় তার মান কাছাকাছি। তার থেকে ওকি এবং আবু উবাইদাহ আল-হাদ্দাদ বর্ণনা করেছেন২, [এবং ইয়াহইয়া বলেছেন: হাম্মাদ ইবনে নাজিহ নির্ভরযোগ্য] ৩।
এবং উসমান ইবনে আবি শায়বাহ থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: হাম্মাদ ইবনে নাজিহ দুর্বল, তার থেকে কেউ হাদিস বর্ণনা করেন না ৪।
আবু হাফস বলেছেন: হাম্মাদ ইবনে নাজিহ সম্পর্কে এই বক্তব্য ও মতভেদ আহমদ এবং ইয়াহইয়ার পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য। কারণ যখন তারা দুজন কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে একমতে পৌঁছান, তখন তাদের মতটিই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়। তিনি নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের দুজনের উপস্থিতিতে অন্য কোনো মতের দিকে ফিরে তাকানো যাবে না ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ذكر حميد بن زياد أبي صخر، والخلاف فيه
ذكر ابن شاهين، أن أحمد بن حنبل سئل عنه فقال: ليس به بأس 1.
وأن يحيى بم معين قال: هو ضعيف 2.
قال أبو حفص: وهذا الخلاف في حميد، من أحمد، ويحيى، يوجب التوقف فيه. وكان بن زياد صاحب علم بالتفسير، وليس له حديث كثير. ولعل يحيى وقف من روايته على شيء أوجب هذا القول فيه، والله أعلم3.
ذكر خالد بن يزيد بن أبي مالك، والخلاف فيه
روى ابن شاهين، أن أحمد بن صالح وثقه 4.
--------------------------------------------
হুমাইদ ইবনে যিয়াদ আবু সাখরের আলোচনা এবং তাকে নিয়ে মতপার্থক্য।
ইবনে শাহীন উল্লেখ করেছেন যে, আহমাদ ইবনে হাম্বলকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই ১।
এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: তিনি দুর্বল ২।
আবু হাফস বলেন: আহমাদ ও ইয়াহইয়ার পক্ষ থেকে হুমাইদের ব্যাপারে এই মতপার্থক্য তাঁর ক্ষেত্রে বিরত থাকা (তাওয়াক্কুফ) আবশ্যক করে। ইবনে যিয়াদ তাফসীরের জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা খুব বেশি নয়। সম্ভবত ইয়াহইয়া তাঁর বর্ণনার এমন কিছু জানতে পেরেছেন যা তাঁর সম্পর্কে এই উক্তির কারণ হয়েছে, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন ৩।
খালিদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে আবি মালিকের আলোচনা এবং তাকে নিয়ে মতপার্থক্য।
ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, আহমাদ ইবনে সালিহ তাকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলেছেন ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قيل لأحمد: فخالد بن يزيد بن صبيح، كأنه أرفع من هؤلاء وأنبل؟ فشد أحمد يده وقال: نعم 1.
وعن أحمد بن حنبل أنه قال: خالد بن يزيد، ثقة 2.
قال أبو حفص: ولا أدري أراد أحمد بن حنبل خالد بن يزيد بن أبي مالك، أو خالد بن يزيد بن صبيح 3.
وعن يحيى بن معين أنه قال: خالد بن يزيد بن أبي مالك ليس بشيء، كذا قال في رواية العباس بن محمد عنه 4.
وفي رواية المفضل بن غسان، خالد بن يزيد بن عبد الرحمن بن أبي مالك يحدث عن أبيه عن جده هانئ أبي مالك الهمداني. وضعف يحيى هذا الشيخ.
قال أبو حفص: وهذا الكلام في خالد بن أبي مالك يوجب التوقف فيه لأن أحمد بن حنبل، وأحمد بن صالح إذا اجتمعا على مدح رجل لم يجز أن يذم بضعف 5، والله أعلم.
ذكر الخليل بن مُرَّة، والخلاف فيه
روى ابن شاهين أن أحمد بن [صالح] 6، سئل عن الخليل بن
--------------------------------------------
আহমদকে বলা হলো: তাহলে খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন সাবিহ সম্পর্কে কী বলেন? তিনি কি এদের চেয়ে উচ্চমর্যাদার এবং অধিকতর শ্রেষ্ঠ নন? তখন আহমদ তার হাত শক্ত করে মুষ্টিবদ্ধ করলেন এবং বললেন: হ্যাঁ ১।
এবং আহমদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: খালিদ বিন ইয়াযিদ নির্ভরযোগ্য ২।
আবু হাফস বলেন: আমি জানি না আহমদ বিন হাম্বল কি খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন আবি মালিককে বুঝিয়েছেন, নাকি খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন সাবিহকে ৩।
এবং ইয়াহইয়া বিন মাইন থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন আবি মালিক উল্লেখযোগ্য কেউ নন, আব্বাস বিন মুহাম্মদ তার থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতে এমনই বলেছেন ৪।
মুফাদ্দাল বিন গাসসানের রেওয়ায়েতে রয়েছে, খালিদ বিন ইয়াযিদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবি মালিক তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা হানি আবি মালিক আল-হামদানি থেকে বর্ণনা করেন। ইয়াহইয়া এই শায়খকে দুর্বল বলেছেন।
আবু হাফস বলেন: খালিদ বিন আবি মালিক সম্পর্কে এই বক্তব্য তার ব্যাপারে বিরত থাকা (তাওয়াককুফ) আবশ্যক করে, কেননা আহমদ বিন হাম্বল এবং আহমদ বিন সালিহ যখন কোনো ব্যক্তির প্রশংসার ব্যাপারে একমত হন, তখন তাকে দুর্বল বলে নিন্দা করা বৈধ নয় ৫, আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
খলিল বিন মুররাহ-র আলোচনা এবং তার ব্যাপারে মতপার্থক্য
ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, আহমদ বিন [সালিহ] ৬-কে খলিল বিন... সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مرة؟ فقال: ثقة. ما رأيت أحداً يتكلم فيه، ورأيت حديثه عن قتادة، ويحيى بن أبي كثير صحاحاً، وإنما استغنى عنه البصريون، لأنه كان خاملاً ولم أر أحداً تركه [وهو ثقة] 1.
وعن يحيى بن معين، أنه ذم الخليل بن مرة 2.
قال أبو حفص: وهذا الخلاف في الخليل بن مرة يوجب الوقف فيه، لأن الخليل بن مرة قد روى أحاديث صحاحاً، وروى أحاديث منكرة. وهو عندي إلى الثقة أقرب 3.
ذكر داود بن فراهيج، والخلاف فيه
ذكر عن يحيى بن سعيد القطان أنه قال: [كان] * شعبة يضعفه 4، وعن شعبة أنه ذكر داود بن فراهيج، فقصبه ـ يعني تكلم فيه.
وعن يحيى بن معين أنه سئل عنه فقال: ضعيف.
وروى عن يحيى بن معين أيضاً، أنه سئل عنه.؟ فقال: روى عنه شعبة، ليس به بأس 5.
--------------------------------------------
...বার? তিনি বললেন: নির্ভরযোগ্য। আমি কাউকে তার সম্পর্কে সমালোচনা করতে দেখিনি। কাতাদাহ এবং ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে বর্ণিত তার হাদিসগুলোকে আমি সহীহ হিসেবে পেয়েছি। বসরার অধিবাসীরা কেবল তার থেকে বিমুখ হয়েছিল কারণ তিনি অখ্যাত ছিলেন, এবং আমি কাউকেই দেখিনি যে তাকে বর্জন করেছে [আর তিনি নির্ভরযোগ্য] ১।
এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত যে, তিনি খলীল ইবনে মুররা-র নিন্দা করেছেন ২।
আবু হাফস বলেন: খলীল ইবনে মুররা সম্পর্কে এই মতভেদ তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকা (ওয়াকফ) আবশ্যক করে, কারণ খলীল ইবনে মুররা কিছু সহীহ হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবার কিছু মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) হাদিসও বর্ণনা করেছেন। আমার নিকট তিনি নির্ভরযোগ্যতার অধিক নিকটবর্তী ৩।
দাউদ ইবনে ফারাহীজ এবং তার ব্যাপারে মতভেদের উল্লেখ
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: [ছিলেন] * শু'বাহ তাকে দুর্বল বলতেন ৪, এবং শু'বাহ থেকে বর্ণিত যে তিনি দাউদ ইবনে ফারাহীজকে উল্লেখ করেছেন এবং তাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন—অর্থাৎ তার সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলেছেন।
এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত যে তাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: দুর্বল।
এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তার থেকে শু'বাহ বর্ণনা করেছেন, তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قال أبو حفص: ليس هو في جملة من رد حديثه، لا سيما أن ليحيى بن معين فيه قولين، فقوله: لا بأس به، له موضع، غير أنه لا يدخل في الصحيح1.
ذكر، زائدة بن ابي الرُّقاد، والخلاف فيه
روى ابن شاهين عن يحيى بن معين أنه قال: زائدة بن أبي الرقاد. ليس بشيء 2.
وعن عبيد الله بن عمر القواريري أنه قال: لم يكن بزائدة بن ابي الرقاد بأس، كتبت كل شيء عنده، وأنكر الذي حدث به محمد بن سلام الجمحي قال: [حدثنا] * زائدة بن ابي الرقاد عن ثابت عن [أنس] * عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لأم عطية: يا أم عطية، إذا خفضت فأشمي ولا تَنْهَكِي فإنه أسرى للوجه وأحظى عند الزوج 3.
قال أبو حفص: وهذا الكلام في زائدة بن أبي الرقاد يوجب التوقف فيه، لأن يحيى بن معين ذمه، والقواريري ـ وكان من نبلاء أهل العلم ـ مدحه وأنكر أن يكون حدث بحديث ثابت عن أنس هذا الذي حدث [به] * محمد بن سلام. والله أعلم.
--------------------------------------------
আবু হাফস বলেন: তিনি এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত নন যাদের হাদিস বর্জন করা হয়েছে, বিশেষ করে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন তাঁর ব্যাপারে দুটি ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। সুতরাং তাঁর বক্তব্য: "তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই", এর একটি প্রেক্ষিত রয়েছে; তবে তিনি সহীহ হাদিস বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নন।১
জাইদাহ ইবনে আবুর রুরাদের আলোচনা এবং তাঁর ব্যাপারে বিদ্যমান মতভেদ
ইবনে শাহীন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: জাইদাহ ইবনে আবুর রুরাদ উল্লেখযোগ্য কিছু নন। ২
উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আল-কাওয়ারীরি থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: জাইদাহ ইবনে আবুর রুরাদের মধ্যে কোনো সমস্যা ছিল না, আমি তাঁর নিকট থেকে সবকিছু লিখেছি। তবে মুহাম্মদ ইবনে সালাম আল-জুমাহি যা বর্ণনা করেছেন তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তিনি (মুহাম্মদ ইবনে সালাম) বলেছেন: [আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন] * জাইদাহ ইবনে আবুর রুরাদ, সাবেত থেকে, তিনি [আনাস] * থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উম্মে আতিয়্যাহকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "হে উম্মে আতিয়্যাহ, যখন তুমি (নারীদের খতনা) করবে তখন সামান্য অংশ কাটবে এবং গভীর করে কাটবে না; কারণ তা চেহারার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিকারী এবং স্বামীর কাছে অধিক তৃপ্তিদায়ক।" ৩
আবু হাফস বলেন: জাইদাহ ইবনে আবুর রুরাদ সম্পর্কে এই বক্তব্য তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকা (তাওয়াক্কুফ) আবশ্যক করে। কারণ ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন তাঁর সমালোচনা করেছেন, অন্যদিকে আল-কাওয়ারীরি—যিনি বিজ্ঞ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং মুহাম্মদ ইবনে সালাম সাবেত থেকে আনাসের সূত্রে যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তা জাইদাহ বর্ণনা করেছেন বলে তিনি অস্বীকার করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ذكر زكريا بن منظور، والخلاف فيه
روى ابن شاهين أن يحيى بن معين قال: زكريا بم منظور، ليس بشيء، وأنه روجع مراراً فقال: ليس بشيء، قال: وكان طفيلياً 1.
وعن أحمد بن صالح، أنه سئل عن زكريا بن منظور شيخ روى عنه الحزامي والترجماني؟ فقال: ليس به بأس2.
قلت لأحمد: هو من ولد ثعلبة بن مالك القرظي.؟ فلم يحفظ ذلك.
قال أبو حفص: هو زكريا بن منظور بن عقبة بن ثعلبة بن أبي مالك3.
قال أبو حفص: وهذا الخلاف في زكريا بن منظور يوجب التوقف فيه، لأن يحيى ذمه، وروجع فيه فذمه، وقال: هو طقيلي، والطفيلي لا يبالي [من أين] * كان مطعمه، ومن كانت هذه صورته في المطعم خفت أن
--------------------------------------------
যাকারিয়া ইবনে মানযূরের আলোচনা এবং তাকে কেন্দ্র করে মতপার্থক্য
ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: যাকারিয়া ইবনে মানযূর কোনো ধর্তব্য নন। তাকে এ বিষয়ে বারবার জিজ্ঞাসা করা হলেও তিনি বলেছেন: তিনি কোনো ধর্তব্য নন। তিনি আরও বলেছেন: তিনি ছিলেন একজন তুফায়লী (আমন্ত্রণহীন ভোজপ্রার্থী) ১।
আহমাদ ইবনে সালিহ থেকে বর্ণিত যে, তাকে যাকারিয়া ইবনে মানযূর নামক জনৈক শাইখ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার থেকে হিযামী ও তারজুমানী বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: তাতে কোনো সমস্যা নেই ২।
আমি আহমাদকে বললাম: তিনি কি সা'লাবা ইবনে মালিক আল-কুরাযীর বংশধর? তিনি তা মনে করতে পারলেন না।
আবু হাফস বলেছেন: তিনি হলেন যাকারিয়া ইবনে মানযূর ইবনে উকবাহ ইবনে সা'লাবা ইবনে আবি মালিক ৩।
আবু হাফস বলেছেন: যাকারিয়া ইবনে মানযূরকে নিয়ে এই মতপার্থক্য তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকা (তাওয়াক্কুফ) আবশ্যক করে। কেননা ইয়াহইয়া তার নিন্দা করেছেন এবং তাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলে তিনি নিন্দাই করেছেন। তিনি বলেছেন: তিনি একজন তুফায়লী, আর তুফায়লী ব্যক্তি তার আহার [কোত্থেকে] আসছে সে বিষয়ে তোয়াক্কা করে না। যার আহারের ধরন এমন হয়, আমি আশঙ্কা করি যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
يكون مأموناً في العلم، وقد مدحه أحمد بن صالح فوجب التوقف فيه 1.
ذكر، سالم بن نوح العطار، والخلاف فيه
روى ابن شاهين، أن أحمد بن حنبل قال: ما أرى به بأساً، وقد كتبت عنه عن عمر بن عامر، وكان عطاراً 2.
وعن يحيى بن معين في رواية العباس بن محمد قال: ليس بحديثه بأس. وروى عن عباس أيضاً أنه قال: ليس بشيء 3.
قال أبو حفص: وهذا الخلاف في سالم، عن أحمد ويحيى يوجب تعديله، لأن أحمد ويحيى في أحد قوليه قد قوياه، وهو إلى الثقة أقرب وحديثه مستقيم 4.
ذكر، سعد بن سعيد، والخلاف فيه
روى ابن شاهين، أن أحمد بن حنبل قال: سعد بن سعيد أخو يحيى بن سعيد الأنصاري، ضعيف الحديث5.
--------------------------------------------
তিনি ইলমের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য হতে পারেন, আর আহমদ ইবনে সালেহ তার প্রশংসা করেছেন, তাই তার ব্যাপারে থামা (সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকা) আবশ্যক ১।
সালেম ইবনে নূহ আল-আত্তার-এর আলোচনা এবং তার সম্পর্কে মতভেদ
ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, আহমদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: আমি তার মাঝে কোনো সমস্যা দেখি না, আর আমি উমর ইবনে আমিরের সূত্রে তার থেকে হাদিস লিখেছি, তিনি একজন সুগন্ধি বিক্রেতা ছিলেন ২।
এবং ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন থেকে আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদের বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেছেন: তার হাদিসে কোনো সমস্যা নেই। আব্বাস থেকে এটিও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: তিনি উল্লেখযোগ্য কিছু নন ৩।
আবু হাফস বলেন: সালেমের ব্যাপারে আহমদ ও ইয়াহইয়ার এই মতভেদ তার নির্ভরযোগ্যতাকেই প্রমাণ করে, কারণ আহমদ ও ইয়াহইয়া তাদের একটি বক্তব্যে তাকে শক্তিশালী বলেছেন, আর তিনি নির্ভরযোগ্যতারই অধিক নিকটবর্তী এবং তার হাদিস সঠিক ৪।
সাদ ইবনে সাঈদ-এর আলোচনা এবং তার সম্পর্কে মতভেদ
ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, আহমদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: সাদ ইবনে সাঈদ হলেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারীর ভাই, তিনি হাদিসে দুর্বল ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقال ابن عمار: هو ثقة 1.
قال أبو حفص: وهذا الخلاف من أحمد، وابن عمار، يوجب التوقف فيه، وهو قليل الحديث، ولست أعلم من أي جهة ضعيف2.
ذكر، سعيد بن بشير والخلاف فيه
روى ابن شاهين، أن يحيى بن معين قال: ليس بشيء. في رواية العباس عنه.
وقال في رواية أحمد بن ابي خيثمة، ليس حديثه بشيء 3.
وعن بقية أنه سمع شعبة، يذكر سعيد بن بشير، فقال: أنه مأمون فخذوا عنه، وأنه قال فيه: ذاك [صدوق] * اللسان 4.
--------------------------------------------
ইবনে আম্মার বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য। ১।
আবু হাফস বলেছেন: আহমাদ এবং ইবনে আম্মারের এই মতভেদ তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরতি (তাওয়াক্কুফ) দাবি করে। তিনি অল্প হাদীস বর্ণনাকারী এবং আমি জানি না তিনি কোন দিক থেকে দুর্বল। ২।
সাঈদ ইবনে বাশির এবং তাঁকে নিয়ে মতভেদের উল্লেখ
ইবনে শাহীন বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: তিনি কিছুই নন। এটি তাঁর থেকে আব্বাসের বর্ণনায়।
এবং আহমাদ ইবনে আবু খাইসামার বর্ণনায় তিনি বলেছেন, তাঁর হাদীস কিছুই নয়। ৩।
বাকিয়্যাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি শু'বাহকে সাঈদ ইবনে বাশিরের কথা উল্লেখ করতে শুনেছেন, তখন তিনি বললেন: তিনি আমানতদার, সুতরাং তোমরা তাঁর থেকে (হাদীস) গ্রহণ করো। এবং তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি সত্যবাদী জবান সম্পন্ন। ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুখতালাফু ফিহিম
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
قال أبو حفص: وهذا الخلاف في سعيد، بين يحيى، وشعبة، متباعد جداً، والقول عندي فيه قول شعبة، وذلك لأنهما متقاربان في الوقت، ولو كانت خاله توجب الذم، لكان شعبة بذلك أولى وأعلم، لأنه كان فارس العلم [] * ويجوز أن يكون بلغه عنه شيء أنكره، وإلا فحديثه من جهة الثقات عنه جيد من كبار أصحاب قتادة 1.
ذكر، سلم العلوي، والخلاف فيه
روى ابن شاهين، بإسناده عن مخلد بن حسين قال: قيل لسلم العلوي ترى الجوزاء نصف النهار؟ قال: نعم أمثال القلال.
وأن شعبة قال: كان سلم العلوي، يرى الهلال قبل الناس.
وعن يحيى بن معين أنه سئل عن سلم العلوي؟ فقال: لا بأس به، فقيل: أليس الذي يقول فيه شعبة: ذاك الذي يرى الهلال [قبل الناس؟] ** فقال: ليس بأس، كان يرى الهلا قبل الناس، كان حديد البصر 2.
--------------------------------------------
আবু হাফস বলেন: সাঈদ সম্পর্কে ইয়াহইয়া ও শু’বাহর মধ্যবর্তী এই মতভেদ অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। আমার মতে এ বিষয়ে শু’বাহর বক্তব্যই অগ্রগণ্য। এর কারণ হলো তারা উভয়েই সমসাময়িক ছিলেন। যদি তার অবস্থা নিন্দনীয় হওয়ার দাবি রাখত, তবে শু’বাহই সে বিষয়ে সমধিক অবগত ও কথা বলার অধিক যোগ্য হতেন; কারণ তিনি ছিলেন ইলমের অশ্বারোহী []। আর এমন হওয়াও সম্ভব যে, তার সম্পর্কে এমন কিছু শু’বাহর নিকট পৌঁছেছিল যা তিনি অপছন্দ করেছিলেন; অন্যথা বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীদের সূত্রে তার বর্ণিত হাদীসগুলো চমৎকার। তিনি কাতাদাহর প্রবীণ ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ১।
সালম আল-আলাওয়ীর আলোচনা এবং তাকে নিয়ে মতভেদ
ইবনে শাহীন তার সনদে মাখলাদ ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালম আল-আলাওয়ীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনি কি ভরদুপুরে জাওযা (মিথুন রাশি) দেখতে পান? তিনি বললেন: হ্যাঁ, বড় কলসির মতো।
এবং শু’বাহ বলেছেন: সালম আল-আলাওয়ী মানুষের আগে নতুন চাঁদ দেখতে পেতেন।
ইয়াহইয়া ইবনে মা’ঈন থেকে বর্ণিত যে, তাকে সালম আল-আলাওয়ী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল? তিনি বললেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। তখন বলা হলো: তিনি কি সেই ব্যক্তি নন যার সম্পর্কে শু’বাহ বলেছিলেন: সে তো সেই লোক যে [মানুষের আগে] চাঁদ দেখে? তিনি বললেন: কোনো সমস্যা নেই, তিনি মানুষের আগে চাঁদ দেখতেন, কারণ তিনি প্রখর দৃষ্টিশক্তির অধিকারী ছিলেন ২।
--------------------------------------------