(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: -)
اللمع في أصول الفقه للشيرازي   (أبو إسحاق الشيرازي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: اللمع في أصول الفقه

المؤلف: أبو اسحاق إبراهيم بن علي بن يوسف الشيرازي (ت 476هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية

الطبعة: الطبعة الثانية 2003 م - 1424 هـ.

عدد الصفحات: 134

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শিরাজী রচিত আল-লুমাহ ফী উসুলিল ফিকহ   (আবু ইসহাক আল-শিরাজী)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)


গ্রন্থ: আল-লুমাহ ফী উসুলিল ফিকহ

লেখক: আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ আল-শিরাজী (মৃত্যু ৪৭৬ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ

সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ - ১৪২৪ হিজরি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৪

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

خطبة الكتاب

بسم الله الرحمن الرحيم

اللهم صل وسلم على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم

الحمد لله كما هو أهله وصلواته على محمد خاتم النبيين وسيد المرسلين.

سألني بعض إخواني أن أصنف له مختصراً في المذهب في أصول الفقه، ليكون ذلك مضافا إلى ما عملت من التبصرة في الخلاف، فأجبته إلى ذلك إيجابا لمسألته وقضاء لحقه وأشرت فيه إلى ذكر الخلاف وما لا بد منه من الدليل فربما وقع ذلك إلى من ليس عنده ما عملت من الخلاف وإلى الله تعالى أرغب أن يوفقني للصواب ويجزل لي الأجر والثواب إنه كريم وهاب.

ولما كان الغرض بهذا الكتاب أصول الفقه وجب بيان العلم والظن وما يتصل بهما، لأن بهما يدرك جميع ما يتعلق بالفقه، ثم نذكر النظر والدليل وما يتصل بهما، لأن بذلك يحصل العلم والظن، ثم نبين الفقه وأصول الفقه إن شاء الله عز وجل.

باب بيان العلم والظن

ونقدم على ذلك بيان الحد لأن به يعرف حقيقة كل ما نريد ذكره، والحد هو عبارة على المقصود بما يحصره ويحيط به إحاطة تمنع أن يدخل فيه ما ليس منه أو يخرج منه ما هو منه ومن حكم الحد أن يطرد وينعكس فيوجد المحدود بوجوده وينعدم بعدمه.
ভূমিকা

…

গ্রন্থের প্রস্তাবনা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যেমনটি তাঁর শানের জন্য উপযুক্ত। আর তাঁর রহমত বর্ষিত হোক নবীগণের সমাপ্তিকারী এবং রাসূলগণের সরদার মুহাম্মদের ওপর।

আমার জনৈক দ্বীনি ভাই আমাকে অনুরোধ করেছেন যেন আমি মাযহাবের উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) বিষয়ে তাঁর জন্য একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ সংকলন করি, যাতে এটি মতবিরোধপূর্ণ মাসআলা সংক্রান্ত আমার পূর্ববর্তী কাজ 'তাবসিরাহ ফীল খিলাফ'-এর একটি সংযোজন হয়। তাই আমি তাঁর অনুরোধ রক্ষা করতে এবং তাঁর প্রাপ্য হক আদায় করতে তাতে সম্মত হয়েছি। আমি এতে মতভেদ এবং প্রয়োজনীয় দলিলের (الدليل) প্রতি ইঙ্গিত করেছি; কারণ সম্ভবত এটি এমন কারো হাতে পৌঁছাতে পারে যার নিকট মতভেদ বিষয়ক আমার পূর্ববর্তী কাজগুলো নেই। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করেন এবং আমাকে প্রচুর প্রতিদান ও সওয়াব দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও মহান দাতা।

যেহেতু এই গ্রন্থের মূল লক্ষ্য হলো উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه), তাই জ্ঞান (العلم) এবং প্রবল ধারণা (الظن) ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি বর্ণনা করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে; কেননা এই দুটির মাধ্যমেই ফিকহ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় অনুধাবন করা যায়। এরপর আমরা গভীর পর্যবেক্ষণ (النظر) ও দলিল (الدليل) এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি আলোচনা করব; কারণ এর মাধ্যমেই জ্ঞান (العلم) ও প্রবল ধারণা (الظن) অর্জিত হয়। এরপর মহান আল্লাহ চাহেন তো আমরা ফিকহ এবং উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) ব্যাখ্যা করব।

জ্ঞান (العلم) এবং প্রবল ধারণা (الظن) বর্ণনার পরিচ্ছেদ

এর আগে আমরা সংজ্ঞার (الحد) বর্ণনা উপস্থাপন করব, কারণ এর মাধ্যমেই আমরা যা উল্লেখ করতে চাই তার প্রকৃত রূপ জানা যায়। সংজ্ঞা (الحد) হলো উদ্দিষ্ট বিষয়কে এমনভাবে শব্দবদ্ধ করা যা তাকে এমনভাবে পরিবেষ্টিত ও সীমাবদ্ধ করে যে, তার বহির্ভূত কোনো বিষয় তাতে প্রবেশ করতে পারে না এবং তার অন্তর্ভুক্ত কোনো বিষয় তা থেকে বেরিয়ে যেতে পারে না। সংজ্ঞার (الحد) একটি বিধান হলো এটি হবে সর্বব্যাপী (يطرد) এবং সংজ্ঞায়িত বিষয়ের সাথে অবিচ্ছেদ্য (ينعكس); ফলে সংজ্ঞা বিদ্যমান থাকলে সংজ্ঞায়িত বিষয়টি (المحدود) বিদ্যমান থাকবে এবং সংজ্ঞা না থাকলে তাও অনুপস্থিত থাকবে।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ৪)
فصل

فأما العلم فهو معرفة المعلوم على ما هو عليه. وقالت المعتزلة: هو اعتقاد الشيء على ما هو به مع سكون النفس إليه وهذا غير صحيح لأن هذا يبطل باعتقاد العاصي فيما يعتقده فإن هذا المعنى موجود فيه وليس ذلك بعلم.

فصل

والعلم ضربان: قديم ومحدث. فالقديم علم الله عز وجل وهو متعلق بجميع المعلومات ولا يوصف ذلك بأنه ضروري ولا مكتسب، والمحدث علم الخلق وقد يكون ذلك ضروريا وقد يكون مكتسبا، فالضروري كل علم لزم المخلوق على وجه لا يمكنه دفعه عن نفسه بشك ولا شبهة وذلك كالعلم الحاصل عن الحواس الخمس التي هي السمع والبصر والشم والذوق واللمس والعلم بما تواترت به الأخبار من ذكر الأمم السالفة والبلاد النائية وما يحصل في النفس من العلم بحال نفسه من الصحة والسقم والغم والفرح وما يعلمه من غيره من النشاط والفرح والغم والترح وخجل الخجل ووجل الوجل وما أشبهه مما يضطر إلى معرفته، والمكتسب كل علم يقع على نظر واستدلال كالعلم بحدوث العالم وإثبات الصانع وصدق الرسل ووجوب الصلاة وأعدادها ووجوب الزكاة ونُصَبِها وغير ذلك مما يعلم بالنظر والاستدلال.

فصل

وحد الجهل تصور المعلوم على خلاف ما هو به، والظن تجويز أمرين أحدهما أظهر من الآخر كاعتقاد الإنسان فيما يخبر به الثقة أنه على ما أخبر به وإن جاز أن يكون بخلافه وظنِّ الإنسان في الغيم المشف الثخين أنه يجيء منه المطر وإن جوِّز أن ينقشع عن غير مطر واعتقاد المجتهدين فيما يفتون به في مسائل الخلاف وإن جوزوا أن يكون الأمر بخلاف ذلك وغير ذلك مما لا يقطع به.

فصل

والشك تجويز أمرين لا مزية لأحدهما على الآخر كشكِّ الإنسان في الغيم
পরিচ্ছেদ

জ্ঞানের পরিচয় হলো কোনো জ্ঞাত বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থায় অনুধাবন করা। মুতাজিলা সম্প্রদায় বলেছে: এটি হলো কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থায় এমনভাবে বিশ্বাস করা যাতে মন প্রশান্ত থাকে। তবে এটি সঠিক নয়; কারণ পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যে ধারণা পোষণ করে তার মাধ্যমে এই সংজ্ঞাটি বাতিল হয়ে যায়, কেননা ওই পাপিষ্ঠ ব্যক্তির বিশ্বাসের মধ্যেও এই বিষয়টি বিদ্যমান থাকে অথচ সেটি জ্ঞান নয়।

পরিচ্ছেদ

জ্ঞান দুই প্রকার: অনাদি এবং সৃষ্টি। অনাদি হলো মহান আল্লাহর জ্ঞান, যা সকল জ্ঞাত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট; এই জ্ঞানকে আবশ্যিক (ضروري) বা অর্জিত (مكتسب) বলে অভিহিত করা যায় না। আর সৃষ্টি জ্ঞান হলো মাখলুকের জ্ঞান, যা কখনো আবশ্যিক (ضروري) হতে পারে আবার কখনো অর্জিত (مكتسب) হতে পারে। আবশ্যিক (ضروري) জ্ঞান হলো সেই জ্ঞান যা মাখলুকের জন্য এমনভাবে অবধারিত যে সে কোনো সন্দেহ বা সংশয়ের মাধ্যমে তা নিজের থেকে দূর করতে পারে না। যেমন পঞ্চেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান, যথা— শ্রবণ, দর্শন, ঘ্রাণ, আস্বাদন এবং স্পর্শ। এছাড়া মুতাওয়াতির (متواتر) সংবাদসমূহ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান, যেমন— পূর্ববর্তী জাতিসমূহের বিবরণ এবং দূরবর্তী দেশসমূহের বর্ণনা। অনুরূপভাবে নিজের অবস্থা সম্পর্কে অন্তরে অর্জিত জ্ঞান, যেমন— সুস্থতা, অসুস্থতা, দুঃখ ও আনন্দ। এছাড়া অন্যের অবস্থা সম্পর্কে যা অবগত হওয়া যায়, যেমন— কর্মতৎপরতা, আনন্দ, দুঃখ, বিষাদ, লজ্জিত ব্যক্তির লজ্জা, ভীত ব্যক্তির ভয় এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা মানুষ জানতে বাধ্য হয়। আর অর্জিত (مكتسب) জ্ঞান হলো সেই জ্ঞান যা গবেষণা ও প্রমাণের (استدلال) ওপর ভিত্তি করে অর্জিত হয়, যেমন— এই বিশ্বজগতের সৃষ্টি হওয়ার জ্ঞান, স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ, রাসুলদের সত্যতা, সালাতের আবশ্যকতা ও তার রাকাত সংখ্যা, জাকাতের আবশ্যকতা ও তার নিসাব (نصاب) এবং অন্যান্য বিষয় যা গবেষণা ও প্রমাণের মাধ্যমে জানা যায়।

পরিচ্ছেদ

অজ্ঞতা (جهل)-এর সংজ্ঞা হলো কোনো জ্ঞাত বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীতে কল্পনা করা। আর প্রবল ধারণা (ظن) হলো দুটি বিষয়ের মধ্যে একটিকে অপরটির চেয়ে অধিক সম্ভাব্য মনে করা। যেমন— একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী কোনো সংবাদ দিলে মানুষের এই বিশ্বাস করা যে সংবাদটি তেমনই যেমনটি তিনি প্রদান করেছেন, যদিও এর বিপরীতে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অথবা ঘন কালো মেঘ দেখে মানুষের এই প্রবল ধারণা (ظن) করা যে বৃষ্টি হবে, যদিও বৃষ্টিহীন অবস্থায় মেঘ কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিংবা মুজতাহিদগণের মতভেদপূর্ণ মাসআলাসমূহে ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের বিশ্বাস, যদিও বিষয়টি এর বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা তারা নাকচ করেন না এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা অকাট্য নয়।

পরিচ্ছেদ

সন্দেহ (شك) হলো এমন দুটি বিষয়ের সম্ভাবনা যার একটির ওপর অপরটির কোনো প্রাধান্য নেই, যেমন— মেঘের ব্যাপারে মানুষের সন্দেহ...
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ৫)
غير المشف أنه يكون منه مطر أم لا وشكِّ المجتهد فيما لم يقطع به من الأقوال وغير ذلك من الأمور التي لا يغلب فيها أحد التجوزين على الآخر.

باب النظر والدليل

والنظر هو الفكر في حال المنظور فيه وهو طريق إلى معرفة الأحكام إذا وجد بشروطه، ومن الناس من أنكر النظر وهذا خطأ لأن العلم يحصل بالحكم عند وجوده فدل على أنه طريق له.

فصل

وأما شروطه فأشياء. أحدها: أن يكون الناظر كامل الآلة على ما نذكره في باب المفتي إن شاء الله تعالى. والثاني: أن يكون نظره في دليلٍ لا في شبهةٍ. والثالث: أن يستوفيَ الدليل ويرتبه على حقه فيقدم ما يجب تقديمه ويؤخر ما يجب تأخيره.

فصل

وأما الدليل فهو المرشد إلى المطلوب ولا فرق في ذلك بين ما يقع به من الأحكام وبين مالا يقع به. وقال أكثر المتكلمين: لا يستعمل الدليل إلا فيما يؤدي إلى العلم، فأما فيما يؤدي إلى الظن فلا يقال له دليل وإنما يقال له أمارة وهذا خطأ لأن العرب لا تفرق في تسمية بين ما يؤدي إلى العلم أو الظن فلم يكن لهذا الفرق وجه.

وأما الدال فهو الناصب للدليل وهو الله عز وجل، وقيل: هو والدليل واحد كالعالم والعليم وإن كان أحدهما أبلغ والمستدِلُ هو الطالب للدليل ويقع على السائل لأنه يطلب الدليل من المسؤول وعلى المسؤول لأنه يطلب الدليل من الأصول. والمستدَل عليه هو الحكم الذي هو التحريم والتحليل. والمستدَل له يقع على الحكم لأن الدليل يطلب له ويقع على السائل لأن الدليل يطلب له، والاستدلال هو طلب الدليل وقد يكون ذلك من السائل للمسؤول وقد يكون من المسؤول في الأصول.
যা স্বচ্ছ নয় এমন মেঘ থেকে বৃষ্টি হবে কি না সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা এবং মুজতাহিদের ওই সকল বক্তব্যের ব্যাপারে সন্দেহ (شك) যেগুলোতে তিনি নিশ্চিত হতে পারেননি, এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় যেখানে দুটি সম্ভাবনার কোনো একটি অপরটির ওপর প্রাধান্য পায় না।

নযর (نظر) ও দলীল (دليل) সংক্রান্ত অধ্যায়

নযর (نظر) হলো পর্যালোচিত বিষয়ের অবস্থা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা। এটি আহকাম বা বিধানসমূহ জানার একটি পথ যখন তা যথাযথ শর্তানুযায়ী বিদ্যমান থাকে। মানুষের মধ্যে কেউ কেউ নযর (نظر) অস্বীকার করেছেন, তবে এটি একটি ভুল ধারণা; কারণ নযর বিদ্যমান থাকলেই বিধান সংক্রান্ত জ্ঞান (علم) অর্জিত হয়, যা প্রমাণ করে যে এটি জ্ঞান অর্জনের একটি পথ।

পরিচ্ছেদ

এর শর্তাবলি অনেক। প্রথমত: গবেষককে (নাযির) পূর্ণ যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে, যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ মুফতির অধ্যায়ে আলোচনা করব। দ্বিতীয়ত: তার গবেষণা হতে হবে কোনো দলীল (دليل)-এর ভিত্তিতে, কোনো সংশয় (شبهة)-এর ভিত্তিতে নয়। তৃতীয়ত: তাকে দলীলটি (دليل) পূর্ণাঙ্গরূপে বিচার করতে হবে এবং একে যথাযথ ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করতে হবে; অর্থাৎ যা আগে আনা আবশ্যক তা আগে আনবেন এবং যা পরে নেওয়া আবশ্যক তা পরে নেবেন।

পরিচ্ছেদ

আর দলীল (دليل) হলো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের পথপ্রদর্শক; বিধান সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে হোক বা না হোক—উভয় ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। অধিকাংশ কালামশাস্ত্রবিদ (মুতাকাল্লিমিন) বলেছেন: 'দলীল' (دليل) শব্দটি কেবল তখনই ব্যবহৃত হবে যা অকাট্য জ্ঞান (علم) প্রদান করে। আর যা কেবল প্রবল ধারণা (ظن) প্রদান করে, তাকে দলীল (دليل) বলা যাবে না, বরং তাকে আলামত (أمارة) বলা হবে। তবে এ মতটি ভুল; কারণ আরবরা নামকরণের ক্ষেত্রে অকাট্য জ্ঞান (علم) এবং প্রবল ধারণার (ظن) মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না, তাই এই পার্থক্যের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।

আর দাল (دال) তথা দলীলের প্রবর্তক হলেন মহান আল্লাহ। কেউ কেউ বলেছেন: দাল (دال) এবং দলীল (دليل) অভিন্ন, যেমনটি আলিম এবং আলীম শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যদিও এর একটি অপরটির তুলনায় অধিক অর্থবহ। আর মুস্তাদিল (مستدل) হলেন দলীল অন্বেষণকারী। এটি প্রশ্নকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, কারণ তিনি উত্তরদাতার কাছে দলীল দাবি করেন; আবার এটি উত্তরদাতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়, কারণ তিনি মূল উৎসসমূহ থেকে দলীল অনুসন্ধান করেন। যার ওপর দলীল পেশ করা হয় (المستدل عليه), তা হলো বিধান—যেমন কোনো কিছু হারাম (تحريم) বা হালাল (تحليل) করা। যার সপক্ষে দলীল পেশ করা হয় (المستدل له), তা বিধানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয় কারণ বিধানের জন্যই দলীল অনুসন্ধান করা হয়, আবার তা প্রশ্নকারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয় যেহেতু তার জন্যই দলীল চাওয়া হয়। আর ইস্তিদলাল (استدلال) হলো দলীল অন্বেষণ করা; এটি কখনো প্রশ্নকারীর পক্ষ থেকে উত্তরদাতার কাছে হতে পারে, আবার কখনো উত্তরদাতার পক্ষ থেকে মূল উৎসসমূহে অনুসন্ধান হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ৬)
باب بيان الفقه وأصول الفقه

والفقه معرفة الأحكام الشرعية التي طريقها الاجتهاد، والأحكام الشرعية وهي الواجب والمندوب، والمباح والمحظور، والمكروه؛ والصحيح والباطل. فالواجب ما تعلق العقاب بتركة كالصلوات الخمس والزكاوات وردّ الودائع والمغصوب وغير ذلك. والمندوب ما يتعلق الثواب بفعله ولا يتعلق العقاب بتركه كصلوات النفل وصدقات التطوع وغير ذلك من القرب المستحبة. والمباح ما لا ثواب بفعله ولا عقاب في تركه كأكل الطيب ولبس الناعم والنوم والمشي وغير ذلك من المباحات. والمحظور ما تعلق العقاب بفعله كالزنا وللواط والغصب والسرقة وغير ذلك من المعاصي. والمكروه ما تركه افضل من فعله كالصلاة مع الالتفات والصلاة في أعطان الإبل واشتمال الصماء وغير ذلك مما نهى عنه على وجه التنزيه. والصحيح ما تعلق به النفوذ وحصل به المقصود كالصلوات الجائزة والبيوع الماضية. والباطل ما لا يتعلق به النفوذ ولا يحصل به المقصود كالصلاة بغير طهارة وبيع ما لا يملك غير ذلك مما لا يعتد به من الأمور الفاسدة.

فصل

وأما أصول الفقه فهي الأدلة التي يبنى عليها الفقه وما يتوصل بها إلى الأدلة على سبيل الإجمال. والأدلة هاهنا خطاب الله عز وجل، وخطاب رسوله صلى الله عليه وسلم وأفعاله وإقراره، وإجماع الأمة والقياس والبقاء على حكم الأصل عند عدم هذه الأدلة، وفتيا العالم في حق العامة، وما يتوصل به إلى الأدلة فهو الكلام على تفصيل هذه الأدلة ووجهها وترتيب بعضها على بعض.

وأول ما يبدأ به الكلام على خطاب الله عز وجل وخطاب رسوله صلى الله عليه وسلم لأنهما أصل لما سواهما من الأدلة ويدخل في ذلك أقسام الكلام والحقيقة والمجاز والأمر والنهي والعموم والخصوص المجمل والمبين والمفهوم والمؤول والناسخ والمنسوخ ثم الكلام في أفعال رسول الله صلى الله عليه وسلم
ফিকহ (الفقه) ও উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।

ফিকহ (الفقه) হলো সেই সকল শরয়ি বিধানের জ্ঞান যার পথ হলো ইজতিহাদ (الاجتهاد)। আর শরয়ি বিধানসমূহ হলো—ওয়াজিব (الواجب), মানদুব (المندوب), মুবাহ (المباح), মাহজুর (المحظور), মাকরূহ (المكروه), সহিহ (الصحيح) এবং বাতিল (الباطل)। ওয়াজিব (الواجب) হলো তা-ই যার পরিত্যাগের সাথে শাস্তি সংশ্লিষ্ট, যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জাকাত প্রদান, আমানত ফেরত দেওয়া এবং ছিনতাইকৃত বস্তু ফিরিয়ে দেওয়া ইত্যাদি। মানদুব (المندوب) হলো যা পালনের সাথে সওয়াব সংশ্লিষ্ট কিন্তু পরিত্যাগের সাথে শাস্তি সংশ্লিষ্ট নয়, যেমন নফল নামাজ, ঐচ্ছিক সদকা এবং অন্যান্য মুস্তাহাব (المستحبة) ইবাদতসমূহ। মুবাহ (المباح) হলো যা পালনে সওয়াব নেই এবং পরিত্যাগেও কোনো শাস্তি নেই, যেমন উত্তম খাবার গ্রহণ, আরামদায়ক পোশাক পরিধান, ঘুমানো, হাঁটা এবং অন্যান্য মুবাহ (المباح) বিষয়সমূহ। মাহজুর (المحظور) হলো যার পালনের সাথে শাস্তি সংশ্লিষ্ট, যেমন ব্যভিচার, সমকামিতা, জবরদখল, চুরি এবং অন্যান্য পাপসমূহ। মাকরূহ (المكروه) হলো যার বর্জন করার দিকটি পালনের চেয়ে উত্তম, যেমন (নামাজে) এদিক-ওদিক তাকানো, উটের আস্তাবলে নামাজ আদায় করা, এক কাপড়ে শরীর জড়িয়ে রাখা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা তানজিহ (تنزيه) বা সতর্কতামূলকভাবে নিষেধ করা হয়েছে। সহিহ (الصحيح) হলো যার সাথে কার্যকারিতা (النفوذ) সংশ্লিষ্ট এবং যার মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিল হয়, যেমন বৈধ নামাজ এবং সম্পাদিত ক্রয়-বিক্রয়। বাতিল (الباطل) হলো যার সাথে কার্যকারিতা (النفوذ) সংশ্লিষ্ট হয় না এবং যার মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিল হয় না, যেমন পবিত্রতা ব্যতীত নামাজ আদায় করা এবং মালিকানাধীন নয় এমন বস্তু বিক্রয় করা এবং এ জাতীয় অন্যান্য ফাসিদ (الفاسدة) বিষয়সমূহ যা গণ্য করা হয় না।

পরিচ্ছেদ

আর উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) হলো সেই সকল দলিল যার ওপর ফিকহ ভিত্তি করে এবং যার মাধ্যমে সামগ্রিক (الإجمال) পন্থায় দলিলের জ্ঞান লাভ করা যায়। এখানে দলিলসমূহ হলো মহান আল্লাহর বাণী, তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী, তাঁর কর্মসমূহ ও তাঁর মৌন সম্মতি (إقرار), উম্মতের ইজমা (إجماع), কিয়াস (القياس), এবং এই দলিলসমূহের অনুপস্থিতিতে মূল বিধানের ওপর বহাল থাকা (استصحاب), আর সাধারণ জনগণের জন্য বিজ্ঞ আলেমের ফতোয়া। আর যার মাধ্যমে দলিল পর্যন্ত পৌঁছানো যায়, তা হলো এই সকল দলিলের বিস্তারিত বিশ্লেষণ, তাদের স্বরূপ এবং পারস্পরিক বিন্যাস পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা।

সর্বপ্রথম আলোচনা শুরু হবে মহান আল্লাহর বাণী এবং তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী দিয়ে, কারণ এই দুটি হলো অন্যান্য সকল দলিলের মূল উৎস। আর এর অন্তর্ভুক্ত হবে বাণীর প্রকারভেদ, হাকিকত (الحقيقة) ও মাজাজ (المجاز), আমর (الأمر) ও নাহি (النهي), উমুম (العموم) ও খুসুস (الخصوص), মুজমাল (المجمل) ও মুবাইয়ান (المبين), মাফহুম (المفهوم) ও মুআউওয়াল (المؤول), নাসিখ (الناسخ) ও মানসুখ (المنسوخ); অতঃপর রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্মসমূহ সংক্রান্ত আলোচনা।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ৭)
وإقراره لأنهما يجريان مجرى أقواله في البيان، ثم الكلام في الأخبار لأنها طريق إلى معرفة ما ذكرناه من الأقوال والأفعال ثم الكلام في الإجماع لأنه ثبت كونه دليلا بخطاب الله عز وجل وخطاب رسوله صلى الله عليه وسلم وعنهما ينعقد، ثم الكلام في القياس لأنه ثبت كونه دليلا بما ذكر من الأدلة واليها يستند، ثم نذكر حكم الأشياء في الأصل لأن المجتهد إنما يُفزَع إليه عند عدم هذه الأدلة ثم نذكر فتيا العالم وصفة المفتي والمستفتي لأنه إنما يصير طريقا للحكم بعد العلم بما ذكرناه ثم نذكر الاجتهاد وما يتعلق به إن شاء الله تعالى.

باب أقسام الكلام

جميع ما يُتَلفَظ به من الكلام ضربان: مهمل ومستعمل، فالمهل: ما لم يوضع للإِفادة والمستعمل ما وضع للإفادة وذلك ضربان: أحدهما ما يفيد معنى فيما وضع له وهي الألقاب كزيد وعمرو وما أشبهه. والثاني ما يفيد معنى فيما وضع له ولغيره وذلك ثلاثة أشياء: اسم وفعل وحرف على ما يسميه أهل النحو، فالاسم كل كلمة دلت على معنى في نفسها مجرد عن زمان مخصوص كالرجل والفرس والحمار وغير ذلك، والفعل كل كلمة دلت على معنى في نفسها مقترن بزمان كقولك ضرب ويقوم وما أشبهه، والحرف ما لا يدل على معنى في نفسه ودل على معنى في غيره كمن وإلى وعلى وأمثاله وأقل كلام مفيد ما بني من أسمين كقولك زيد قائم وعمرو أخوك أو ما بني من اسم وفعل كقولك خرج زيد ويقوم عمرو: وأما ما بني من فعلين أو من حرفين أو من حرف واسم أو حرف وفعل فلا يفيد إلا أن يقدر فيه شيء مما ذكرناه كقولك يا زيد فإن معناه أدعو زيدا.

باب في الحقيقة والمجاز

والكلام المفيد ينقسم إلى حقيقة ومجاز وقد وردت اللغة بالجميع ونزل به القرآن ومن الناس من أنكر المجاز في اللغة. وقال ابن داود: ليس في القرآن مجاز وهذا خطأ لقوله تعالى: {جِدَاراً يُرِيدُ أَنْ يَنْقَضَّ فَأَقَامَهُ} 1 ونحن نعلم ضرورة أنه

--------------------------------------------

1 سورة الكهف الآية: 77.
এবং তাঁর মৌন সম্মতি (إقرار), কারণ এ দুটি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাঁর বাণীর স্থলাভিষিক্ত। এরপর বর্ণনা বা সংবাদ (أخبار) সংক্রান্ত আলোচনা, কারণ তা আমাদের উল্লিখিত বাণী ও কার্যাবলি জানার মাধ্যম। এরপর ঐক্যমত (إجماع) সংক্রান্ত আলোচনা, কারণ মহান আল্লাহর বাণী ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর মাধ্যমে এটি দলীল (دليل) হিসেবে প্রমাণিত এবং এই দুইয়ের মাধ্যমেই তা কার্যকর হয়। এরপর তুলনামূলক বিশ্লেষণ বা কিয়াস (قياس) সংক্রান্ত আলোচনা, কারণ উল্লিখিত দলীলসমূহ (أدلة)-এর ভিত্তিতে এটি দলীল (دليل) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে এবং এটি সেগুলোর ওপরই নির্ভরশীল। এরপর আমরা বস্তুর মূলগত বিধান (حكم) আলোচনা করব, কারণ এই দলীলসমূহ (أدلة) পাওয়া না গেলে মুজতাহিদ (مجتهد) এর শরণাপন্ন হন। এরপর আমরা আলেমের ফতোয়া (فتيا), মুফতি (مفتي) ও ফতোয়া অন্বেষণকারীর (مستفتي) গুণাবলি বর্ণনা করব, কারণ আমাদের উল্লিখিত বিষয়গুলো জানার পরই তা বিধান লাভের পথ হিসেবে গণ্য হয়। এরপর আল্লাহ চাহেন তো আমরা ইজতিহাদ (اجتهাদ) ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ আলোচনা করব।

বাক্যের প্রকারভেদ পরিচ্ছেদ

উচ্চারিত সকল বাক্য দুই প্রকার: অর্থহীন (مهمل) এবং অর্থবোধক (مستعمل)। অর্থহীন (مهمل) হলো যা কোনো অর্থ প্রদানের জন্য গঠন করা হয়নি। আর অর্থবোধক (مستعمل) হলো যা অর্থ প্রদানের জন্য গঠন করা হয়েছে এবং তা দুই প্রকার: প্রথমটি হলো যা নিজের জন্য নির্ধারিত অর্থে ব্যবহৃত হয়, আর তা হলো নাম বা উপাধি (ألقاب) যেমন: যায়দ, আমর ও অনুরূপ শব্দ। দ্বিতীয়টি হলো যা নিজের ও অন্যের জন্য নির্ধারিত অর্থে ব্যবহৃত হয়, আর তা ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় তিনটি বিষয়: বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)। বিশেষ্য (اسم) হলো এমন শব্দ যা কোনো নির্দিষ্ট কাল বা সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া ছাড়াই নিজের অর্থ প্রকাশ করে, যেমন: মানুষ, ঘোড়া, গাধা ইত্যাদি। ক্রিয়া (فعل) হলো এমন শব্দ যা সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে নিজের অর্থ প্রকাশ করে, যেমন তোমার উক্তি: সে প্রহার করেছে (ضرب), সে দাঁড়াচ্ছে (يقوم) এবং এর অনুরূপ। অব্যয় (حرف) হলো যা নিজে কোনো অর্থ প্রকাশ করে না, বরং অন্য শব্দের সাথে মিলে অর্থ প্রকাশ করে, যেমন: থেকে (من), দিকে (إلى), ওপরে (على) এবং এর উদাহরণসমূহ। ন্যূনতম অর্থবোধক বাক্য দুটি বিশেষ্য (اسم) দ্বারা গঠিত হয়, যেমন তোমার উক্তি: যায়দ দণ্ডায়মান এবং আমর তোমার ভাই; অথবা একটি বিশেষ্য (اسم) ও একটি ক্রিয়া (فعل) দ্বারা গঠিত হয়, যেমন তোমার উক্তি: যায়দ বের হলো এবং আমর দাঁড়াচ্ছে। আর যা দুটি ক্রিয়া (فعل) বা দুটি অব্যয় (حرف) অথবা একটি অব্যয় (حرف) ও একটি বিশেষ্য (اسم) অথবা একটি অব্যয় (حرف) ও একটি ক্রিয়া (فعل) দ্বারা গঠিত হয়, তা কোনো অর্থ প্রদান করে না—যদি না তাতে উল্লিখিত বিষয়গুলোর কোনো কিছু উহ্য বা প্রাক্কলিত (مقدر) থাকে। যেমন তোমার উক্তি: হে যায়দ, কারণ এর অর্থ হলো: 'আমি যায়দকে ডাকছি'।

হাকিকত (حقيقة) ও মাজায (مجاز) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

অর্থবোধক বাক্য হাকিকত (حقيقة) ও মাজায (مجاز) এই দুই ভাগে বিভক্ত। ভাষায় উভয়টির ব্যবহার রয়েছে এবং কুরআনও এগুলোর মাধ্যমে অবতীর্ণ হয়েছে। কিছু মানুষ ভাষায় মাজায (مجاز)-কে অস্বীকার করেছেন। ইবন দাউদ বলেছেন: কুরআনে কোনো মাজায (مجاز) নেই। কিন্তু এটি একটি ভুল কথা, কেননা মহান আল্লাহর বাণী: {একটি প্রাচীর, যা পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, অতঃপর তিনি সেটাকে সুদৃঢ় করে দিলেন} ১ এবং আমরা আবশ্যিকভাবে জানি যে

--------------------------------------------

১ সুরা আল-কাহাফ, আয়াত: ৭৭।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ৮)
لا إرادة للجدار وقال تعالى: {وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ} 1ونحن نعلم ضرورة أن القرية لا تخاطب فدل على أنه مجاز.

فأما الحقيقة فهي الأصل وحدُّها: كل لفظ يستعمل فيما وضع له من غير نقل وقيل ما استعمل فيما اصطلح على التخاطب به، وقد يكون للحقيقة مجاز كالبحر حقيقة للماء المجتمع الكثير ومجاز في الفرس الجواد والرجل العالم فإذا ورد اللفظ حمل على الحقيقة بإطلاقه ولا يحمل على المجاز إلا بدليل وقد لا يكون له مجاز وهو أكثر اللغات فيحمل على ما وضع له.

وأما المجاز فحدُّه ما نقل عما وضع له وقلَّ التخاطب به وقد يكون ذلك بزيادة ونقصان وتقديم وتأخير واستعارة فالزيادة كقوله عز وجل: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} 2.والمعنى ليس مثله شيء والكاف زائدة والنقصان كقوله تعالى: {وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ} والمراد أهل القرية فحذف المضاف وأقام المضاف إليه مقامه والتقديم والتأخير كقوله عز وجل: {وَالَّذِي أَخْرَجَ الْمَرْعَى فَجَعَلَهُ غُثَاءً أَحْوَى} 3. والمراد أخرج المرعى أحوى فجعله غثاء فقدم وأخر والاستعارة كقوله تعالى {جِدَاراً يُرِيدُ أَنْ يَنْقَضَّ} 4 فاستعار فيه لفظ الإرادة وما من مجاز إلا وله حقيقة لأنا قد بينا أن المجاز ما نقل عما وضع له وما وضع له هو الحقيقة.

فصل:

ويعرف المجاز من الحقيقة بوجوه من أن يصرحوا بأنه مجاز وقد بين أهل اللغة ذلك وصنف أبو عبيدة كتاب المجاز في القرآن وبين جميع ما فيه من المجاز، ومنها أن يستعمل اللفظ فيما لا يسبق إلى الفهم عند سماعه كقولهم في البليد حمار والأبله تيس ومنها أن يوصف الشيء ويسمى بما يستحيل وجوده كقوله {وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ} 5 ومنها أن لا يجري ولا يطرد كقولهم في الرجل

--------------------------------------------

1 سورة يوسف جزء من الآية: 82.

2 سورة الشورى جزء من الآية: 11.

3 سورة الأعلى الآية: 4، 5.

4 سورة الكهف الآية: 77.

5 سورة يوسف الآية: 82.
দেয়ালের কোনো ইচ্ছা নেই এবং মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর জনপদকে জিজ্ঞাসা করো" ১। আমরা আবশ্যিকভাবে জানি যে জনপদকে সম্বোধন করা যায় না, যা প্রমাণ করে এটি একটি রূপক (مجاز)।

আর প্রকৃত (حقيقة) হলো মূল (أصل) এবং এর সংজ্ঞা হলো: প্রতিটি শব্দ যা কোনো পরিবর্তন ছাড়াই যে অর্থের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে তাতে ব্যবহৃত হয়। আবার কেউ বলেছেন, যা আলাপ-আলোচনার প্রচলিত পরিভাষায় ব্যবহৃত হয়। কখনও কখনও প্রকৃত (حقيقة) শব্দের রূপক (مجاز) থাকতে পারে, যেমন 'সমুদ্র' শব্দটি বিপুল পরিমাণ পানির সমষ্টির জন্য প্রকৃত (حقيقة), কিন্তু তা অত্যন্ত দানশীল ঘোড়া ও বিদ্বান ব্যক্তির ক্ষেত্রে রূপক (مجاز) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যখন কোনো শব্দ আসে, তখন তা সাধারণভাবে প্রকৃত (حقيقة) অর্থেই গৃহীত হয় এবং কোনো প্রমাণ (دليل) ছাড়া তা রূপক (مجاز) হিসেবে গণ্য করা হয় না। আবার কোনো কোনো শব্দের রূপক (مجاز) থাকে না, যা অধিকাংশ ভাষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ফলে তা যে অর্থের জন্য নির্ধারিত কেবল সে অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

আর রূপক (مجاز)-এর সংজ্ঞা হলো যা তার নির্ধারিত অর্থ থেকে পরিবর্তিত হয়ে অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং যার মাধ্যমে আলাপ-আলোচনা কম হয়। এটি আধিক্য (زيادة), ঘাটতি (نقصان), আগে-পরে করা (تقديم وتأخير) এবং উপমা (استعارة)-এর মাধ্যমে হতে পারে। আধিক্য (زيادة)-এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই" ২। এখানে অর্থ হলো তাঁর মতো কিছু নেই, আর 'কাফ' অক্ষরটি অতিরিক্ত (زائدة) হিসেবে এসেছে। ঘাটতি (نقصان)-এর উদাহরণ মহান আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর জনপদকে জিজ্ঞাসা করো", এখানে উদ্দেশ্য হলো জনপদের অধিবাসীদের জিজ্ঞাসা করা। সুতরাং এখানে মুদাফ (সংযোজিত শব্দ) উহ্য রাখা হয়েছে এবং মুদাফ ইলাইহি (যার সাথে সংযোজন করা হয়েছে) তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। আগে-পরে করা (تقديم وتأخير)-এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "যিনি চারণভূমি উৎপন্ন করেন, অতঃপর তাকে কালচে আবর্জনায় পরিণত করেন" ৩। এখানে উদ্দেশ্য হলো—তিনি কালো রঙের চারণভূমি উৎপন্ন করেন এবং পরে তা আবর্জনায় পরিণত করেন; সুতরাং এখানে আগে-পিছে করা হয়েছে। আর উপমা (استعارة)-এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "একটি প্রাচীর যা পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল (পড়তে চেয়েছিল)" ৪। এখানে 'ইচ্ছা' শব্দটি উপমা (استعارة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এমন কোনো রূপক (مجاز) নেই যার কোনো প্রকৃত (حقيقة) রূপ নেই, কারণ আমরা স্পষ্ট করেছি যে, রূপক (مجاز) হলো যা তার নির্ধারিত অর্থ থেকে পরিবর্তিত হয়েছে, আর যার জন্য নির্ধারিত হয়েছিল সেটিই হলো প্রকৃত (حقيقة)।

পরিচ্ছেদ:

কয়েকটি পদ্ধতিতে প্রকৃত (حقيقة) থেকে রূপক (مجاز) চেনা যায়: তারা এটি রূপক (مجاز) বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করবেন। ভাষাবিদগণ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন এবং আবু উবায়দা মাজাজুল কুরআন নামে একটি বই রচনা করেছেন যেখানে কুরআনের সকল রূপক (مجاز) বর্ণনা করেছেন। আর অন্য একটি পদ্ধতি হলো, শব্দটি শুনলে তৎক্ষণাৎ যা মাথায় আসে সেই অর্থে ব্যবহৃত না হওয়া, যেমন কোনো নির্বোধকে 'গাধা' বলা বা মূর্খকে 'খাসি' বলা। অন্য একটি পদ্ধতি হলো কোনো বস্তুকে এমন কিছু দিয়ে গুণান্বিত করা বা নামকরণ করা যার অস্তিত্ব অসম্ভব, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর জনপদকে জিজ্ঞাসা করো" ৫। অন্য একটি পদ্ধতি হলো যার প্রয়োগ ও ব্যবহার নিয়মিত বা ধারাবাহিক নয়, যেমন তারা কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলে...

--------------------------------------------

১ সূরা ইউসুফ, আয়াতের অংশ: ৮২।

২ সূরা আশ-শুরা, আয়াতের অংশ: ১১।

৩ সূরা আল-আলা, আয়াত: ৪, ৫।

৪ সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ৭৭।

৫ সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৮২।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ৯)
الثقيل جبل ثم لا يقال ذلك في غيره وفي الطويل نخلة ثم لا يقال ذلك في غير الآدمي، ومنها أن لا يتصرف فيما استعمل فيه كتصرفه فيما وضع له حقيقة كالأمر في معنى الفعل لا تقول فيه أمر يأمر كما تقول في الأمر بمعنى القول.

باب بيان الوجوه التي تؤخذ منها الأسماء واللغات

اعلم أن الأسماء واللغات تؤخذ من أربع جهات من اللغة والعرف والشرع والقياس. فأما اللغة فما تخاطب به العرب من اللغات وهي على ضربين، فمنها ما يفيد معنى واحدا فيحمل على ما وضع له اللفظ كالرجل والفرس والتمر والبر وغير ذلك، ومنه ما يفيد معاني وهو على ضربين.

أحدهما: ما يفيد معاني متفقة كاللون يتناول البياض والسواد وسائر الألوان والمشرك يتناول اليهودي والنصراني فيحمل على جميع ما يتناوله أما على سبيل الجمع إن كان اللفظ يقتضي الجمع أو على كل واحد منه على سبيل البدل إن لم يقتض اللفظ الجمع إلا أن يدل الدليل على أن المراد شيء بعينه فيحمل على ما دل عليه الدليل.

والثاني: ما يفيد معاني مختلفة كالبيضة تقع على الخوذة وبيض الدجاجة والنعامة، والقرء يقع على الحيض والطهر فإن دل الدليل على أن المراد به واحد منهما بعينه حمل عليه وأن دل الدليل على أن المراد به، أحدهما ولم يعين لم يحمل على واحد منهما إلا بدليل إذ ليس أحدهما بأولى من الآخر وإن لم يدل الدليل على واحد منهما حمل عليهما وقال أصحاب أبي حنيفة وبعض المعتزلة لا يجوز حمل اللفظ الواحد على معنيين مختلفين والدليل على جواز ذلك انه لا تنافي بين المعنيين واللفظ يحتملهما فوجب الحمل عليهما كما قلنا في القسم الذي قبله.

فصل

وأما العرف: فهو ما غلب الاستعمال فيه على ما وضع له في اللغة بحيث إذا أطلق سبق الفهم إلى ما غلب عليه دون ما وضع له كالدابة وضع في
স্থূলকায় ব্যক্তিকে 'পাহাড়' বলা হয় এবং তা অন্য কোনো স্থূল বস্তুর ক্ষেত্রে বলা হয় না; একইভাবে দীর্ঘকায় ব্যক্তিকে 'খেজুর গাছ' বলা হয় এবং তা মানুষ ভিন্ন অন্য কিছুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না। এর একটি বৈশিষ্ট্য হলো যেটির জন্য শব্দটি রূপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে তাতে এমনভাবে রূপান্তর বা পরিবর্তন সাধন করা যায় না যেমনটি করা যায় সেই শব্দের ক্ষেত্রে যা তার প্রকৃত (حقيقة) অর্থের জন্য নির্ধারিত। উদাহরণস্বরূপ 'কাজ' অর্থে 'আমর' (নির্দেশ) শব্দের ব্যবহার; এক্ষেত্রে আপনি 'সে কাজ করছে' বুঝাতে 'আ মারা-ইয়া'মুরু' বলতে পারেন না, যেমনটি 'কথা' অর্থে 'নির্দেশ' প্রদানের ক্ষেত্রে বলা যায়।

পরিচ্ছেদ: নাম ও ভাষাসমূহ যে সকল উৎস থেকে গৃহীত হয় তার বর্ণনা

জেনে রাখুন যে, নাম ও ভাষাসমূহ চারটি উৎস থেকে গৃহীত হয়: ভাষা (لغة), প্রথা (عرف), শরিয়ত (شرع) ও কিয়াস (قياس)। ভাষার ক্ষেত্রে আরবরা যে ভাষায় পরস্পর সম্বোধন করে তা দুই প্রকার। প্রথমটি এমন যা কেবল একটি অর্থ প্রদান করে; ফলে শব্দটি যে অর্থের জন্য নির্ধারিত তার ওপরই প্রয়োগ করা হয়। যেমন: পুরুষ, ঘোড়া, খেজুর, গম ইত্যাদি। দ্বিতীয়টি এমন যা একাধিক অর্থ প্রদান করে এবং এটিও দুই প্রকার।

প্রথমটি: যা অভিন্ন বা একজাতীয় অর্থসমূহ প্রদান করে, যেমন 'রং' শব্দটি সাদা, কালো এবং অন্যান্য সকল রংকে অন্তর্ভুক্ত করে। আবার 'মুশরিক' শব্দটি ইহুদি ও খ্রিস্টান উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং শব্দটি যা কিছুকে শামিল করে তার সবকিছুর ওপরই তা প্রয়োগ করা হবে। যদি শব্দটি সমষ্টিগত অর্থ দাবি করে তবে তা সমষ্টিগতভাবে গৃহীত হবে, আর যদি তা সমষ্টির দাবি না রাখে তবে বিকল্পভাবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হবে; যতক্ষণ না কোনো দলিল (دليل) নির্দিষ্ট কোনো অর্থকে নির্দেশ করে। সেক্ষেত্রে সেই দলিলের (دليل) নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থ গ্রহণ করা হবে।

দ্বিতীয়টি: যা ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রদান করে, যেমন 'বাইদাহ' শব্দটি শিরস্ত্রাণ, মুরগির ডিম ও উটপাখির ডিম—সব অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আবার 'কুরউ' শব্দটি ঋতুস্রাব ও পবিত্রতা—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। যদি কোনো নির্দিষ্ট অর্থ বোঝানোর সপক্ষে দলিল (دليل) থাকে, তবে সেটিই গ্রহণ করা হবে। আর যদি দলিল (دليل) কোনো একটিকে নির্দিষ্ট না করে কেবল একটির কথা বলে, তবে অন্য কোনো দলিল (دليل) ছাড়া কোনোটিকে প্রাধান্য দেওয়া যাবে না; কারণ একটির ওপর অন্যটির কোনো বিশেষ অগ্রাধিকার নেই। যদি কোনোটির সপক্ষেই দলিল (دليل) না থাকে, তবে উভয় অর্থেই তা প্রয়োগ করা হবে। ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর অনুসারীগণ এবং কতিপয় মুতাজিলা মনে করেন যে, একটি শব্দকে দুটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করা জায়েজ নয়। তবে এর বৈধতার সপক্ষে দলিল (دليل) হলো—উভয় অর্থের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই এবং শব্দটি উভয় অর্থ বহন করার সক্ষমতা রাখে। অতএব পূর্ববর্তী প্রকারের ন্যায় এখানেও উভয় অর্থ গ্রহণ করা আবশ্যক।

পরিচ্ছেদ

আর প্রথা (عرف): এটি হলো কোনো শব্দের আভিধানিক অর্থের চেয়ে ব্যবহারিক অর্থটি এমনভাবে প্রবল হওয়া যে, শব্দটি উচ্চারণ করার সাথে সাথে আভিধানিক অর্থের পরিবর্তে প্রচলিত ব্যবহারিক অর্থটিই আগে বোধগম্য হয়। যেমন 'দাব্বাহ' শব্দটি মূলত...
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ১০)
الأصل لكل ما دب ثم غلب عليه الاستعمال في الفرس، والغائط وضع في الأصل للموضع المطمئن من الأرض ثم غلب عليه الاستعمال فيما يخرج من الإنسان فيصير حقيقة فيما غلب عليه فإذا أطلق حمل على ما يثبت له من العرف.

فصل

وأما الشرع فهو ما غلب الشرع فيه على ما وضع له اللفظ في اللغة بحيث إذا أطلق لم يفهم منه إلا ما غلب عليه الشرع كالصلاة اسم للدعاء في اللغة ثم جعل في الشرع اسما لهذه المعروفة. والحج اسم للقصد ثم نقل في الشرع إلى هذه الأفعال فصار حقيقة فيما غلب عليه الشرع فإذا أطلق حمل على ما يثبت له من عرف الشرع، ومن أصحابنا من قال ليس في الأسماء شيء منقول إلى الشرع بل كلها مبقاة على موضوعها في اللغة، فالصلاة اسم للدعاء وإنما الركوع والسجود زيادات أضيفت إلى الصلاة وليست من الصلاة كما أضيفت إلى الطهارة وليست منها وكذلك الحج اسم للقصد والطواف والسعي زيادات أضيفت إلى الحج وليست من الحج فإذا أطلق اسم الصلاة حمل على الدعاء وإذا أطلق اسم الحج حمل على القصد وهو قول الأشعرية والأول أصح والدليل عليه أن هذه الأسماء إذا أطلقت في الشرع لم يعقل منها المعاني التي وضعت لها في اللغة فدل على أنها منقولة.

فصل

إذا ورد لفظ قد وضع في اللغة لمعنى وفي العرف لمعنى حمل على ما ثبت له في العرف لأن العرف طارئ على اللغة فكان الحكم له، وإن كان قد وضع في اللغة لمعنى وفي الشرع لمعنى حمل على عرف الشرع لأنه طارئ على اللغة ولأن القصد بيان حكم الشرع فالحمل عليه أولى.

فصل

وأما القياس فهو مثل تسمية اللواط زنا قياسا على وطء النساء وتسمية
মূলত 'দাব্বাহ' শব্দটি যা কিছু জমিনে বিচরণ করে তার জন্য নির্ধারিত ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে ঘোড়ার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার প্রবল হয়ে যায়। একইভাবে 'আল-গাইত' মূলত নিচু ভূমির জন্য নির্ধারিত ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে মানুষের মলমূত্রের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার প্রবল হয়ে যায়। ফলে যা প্রবল হয় তার ক্ষেত্রে এটি যথাযথ অর্থ (حقيقة) হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং যখন শব্দটি সাধারণভাবে উচ্চারিত হবে, তখন প্রচলিত প্রথা (العرف) অনুযায়ী যা সাব্যস্ত হয়েছে তার ওপরই তা প্রয়োগ করা হবে।

পরিচ্ছেদ

আর শরয়ি (الشرع) পরিভাষা হলো সেটি, যেখানে শরিয়াহর ব্যবহার শব্দের আভিধানিক (اللغة) অর্থের ওপর প্রবল হয়ে যায়, যাতে করে শব্দটি সাধারণভাবে উচ্চারিত হলে শরয়ি (الشرع) অর্থ ছাড়া অন্য কিছু বোঝা না যায়। যেমন সালাত আভিধানিক (اللغة) অর্থে দোয়া (الدعاء) বা প্রার্থনার নাম, কিন্তু পরবর্তীতে শরয়ি (الشرع) পরিভাষায় একে এই বিশেষ ইবাদতের নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর হজ এর আভিধানিক অর্থ হলো সংকল্প (القصد), যা পরবর্তীতে শরয়ি (الشرع) পরিভাষায় এই বিশেষ কার্যাবলীর জন্য স্থানান্তরিত হয়েছে। ফলে শরিয়াহতে যা প্রবল হয়েছে তার ক্ষেত্রে এটি যথাযথ অর্থ (حقيقة) হয়ে গেছে। অতএব, যখন শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হবে, তখন শরয়ি পরিভাষা (عرف الشرع) অনুযায়ী যা সাব্যস্ত হয় তার ওপরই তা প্রয়োগ করা হবে। আমাদের কিছু সাথী বলেছেন, শরিয়াহতে এমন কোনো বিশেষায়িত নাম নেই যা আভিধানিক অর্থ থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে, বরং সব শব্দই আভিধানিক (اللغة) অর্থের ওপর বহাল রয়েছে। তাদের মতে, সালাত হলো দোয়ার নাম, আর রুকু ও সিজদা হলো সালাতের সাথে যুক্ত অতিরিক্ত অংশ মাত্র, যা সালাতের মূল অংশ নয়; যেমনটি পবিত্রতার সাথে যুক্ত করা হয় কিন্তু তা পবিত্রতার অংশ নয়। একইভাবে হজ হলো সংকল্পের নাম, আর তওয়াফ ও সাঈ হলো হজের সাথে যুক্ত অতিরিক্ত অংশ যা হজের অংশ নয়। সুতরাং সালাত শব্দটি সাধারণভাবে বললে দোয়া এবং হজ বললে সংকল্প উদ্দেশ্য হবে। এটি আশআরিয়া (الأشعرية) মতাবলম্বীদের বক্তব্য। তবে প্রথম মতটিই অধিক বিশুদ্ধ (أصح)। এর দলিল হলো, এই নামগুলো যখন শরিয়াহতে ব্যবহৃত হয়, তখন তা থেকে আভিধানিক (اللغة) অর্থ বোঝা যায় না, যা প্রমাণ করে যে এগুলো আভিধানিক অর্থ থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে।

পরিচ্ছেদ

যদি এমন কোনো শব্দ আসে যার আভিধানিক (اللغة) অর্থ একটি এবং প্রচলিত প্রথা (العرف) অনুযায়ী অর্থ অন্যটি, তবে তা প্রচলিত প্রথা (العرف) অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হবে। কারণ প্রথা ভাষার ওপর অগ্রাধিকার পায়, তাই বিধান প্রথা অনুসারেই হবে। আর যদি শব্দটির আভিধানিক (اللغة) অর্থ একটি হয় এবং শরয়ি (الشرع) অর্থ অন্যটি হয়, তবে তা শরয়ি পরিভাষা (عرف الشرع) অনুযায়ী প্রয়োগ করা হবে। কারণ এটি আভিধানিক অর্থের ওপর অগ্রাধিকার পায় এবং শরয়ি বিধান বর্ণনা করাই মূল উদ্দেশ্য, তাই শরয়ি অর্থের ওপর প্রয়োগ করাই উত্তম।

পরিচ্ছেদ

আর কিয়াস (القياس) হলো— যেমন সমকামিতাকে জিনা (زنا) হিসেবে নামকরণ করা, নারীদের সাথে ব্যভিচারের ওপর কিয়াস করে (قياسا) এবং নামকরণ করা...
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ১১)
النبيذ خمرا قياسا على عصير العنب وقد اختلف أصحابنا فيه. فمنهم من قال: يجوز إثبات اللغات والأسماء بالقياس وهو قول أبي العباس وأبي علي بن أبي هريرة ومنهم من قال: لا يجوز ذلك والأول أصح لأن العرب سمت ما كان في زمانها من الأعيان بأسماء ثم انقرضوا وانقرضت تلك الأعيان وأجمع الناس على تسمية أمثالها بتلك الأسماء فدل على أنهم قاسوها على الأعيان التي سموها.

আঙুরের রসের ওপর সাদৃশ্যমূলক অনুমানের (قياس) ভিত্তিতে নাবিদকে মদ হিসেবে গণ্য করা; এ বিষয়ে আমাদের (মাযহাবের) বিশেষজ্ঞগণ মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: সাদৃশ্যমূলক অনুমানের (قياس) মাধ্যমে ভাষা ও নামসমূহ সাব্যস্ত করা বৈধ; এটি আবুল আব্বাস এবং আবু আলী বিন আবি হুরায়রাহর অভিমত। আবার তাদের মধ্যে কেউ বলেছেন: এটি বৈধ নয়। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর সঠিক (أصح); কারণ আরবরা তাদের সময়কার বিদ্যমান বস্তুসমূহকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করেছিল, অতঃপর তারা ও সেই বস্তুসমূহ বিলুপ্ত হয়ে গেছে, অথচ মানুষ পরবর্তী অনুরূপ বস্তুগুলোকে সেই একই নামে অভিহিত করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছে। এটি নির্দেশ করে যে, তারা পরবর্তী বস্তুগুলোকে সেই মূল বস্তুগুলোর ওপর সাদৃশ্যমূলক অনুমান (قياس) করেছে যেগুলোর নামকরণ ইতিপূর্বে করা হয়েছিল।

(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الكلام في الأمر والنهي

‌‌باب القول في بيان الأمر وصيغته

أعلم أن الأمر قول يستدعي به الفعل ممن هو دونه ومن أصحابنا من زاد فيه على سبيل الوجوب فأما الأفعال التي ليست بقول فإنها تسمى أمرا على سبيل المجاز ومن أصحابنا من قال ليس بمجاز قال الشيخ الإمام أيده الله وقد نصرت ذلك في التبصرة والأول أصح لأنه لو كان حقيقة في الفعل كما هو حقيقة في القول لتصرف في الفعل كما تصرف في القول فيقال أمر يأمر كما يقال ذلك إذا أريد به القول.

فصل

وكذلك ما ليس فيه استدعاء كالتهديد مثل قوله عز وجل: {اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ} 1 والتعجيز كقوله تعالى: {قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ} 2 والإباحة مثل قوله عز وجل: {وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا} 3

فذلك كله ليس بأمره وقال البلخي من المعتزلة: الإباحة أمر وهذا خطأ لأن الإباحة هي الإذن وذلك لا يسمى أمرا ألا ترى أن العبد إذا استأذن مولاه في الاستراحة وترك الخدمة فأذن له في ذلك لا يقال انه أمره بذلك.

2-فصل

وكذلك ما كان من النظير للنظير ومن الأدنى للأعلى فليس بأمر وإن

--------------------------------------------

1 سورة فصلت الآية: 40.

2 سورة هود الآية: 13.

3 سورة المائدة الآية: 2.
আদেশ (الأمر) ও নিষেধ (النهي) সংক্রান্ত আলোচনা

অধ্যায়: আদেশ (الأمر) এবং এর শব্দরূপ (صيغته) বর্ণনার বিবরণ

জেনে রাখুন যে, আদেশ (الأمر) হলো এমন এক বক্তব্য যার মাধ্যমে নিম্নপদস্থ ব্যক্তির নিকট থেকে কোনো কাজ সম্পাদনের দাবি করা হয়। আমাদের (মাযহাবের) অনুসারীদের মধ্যে কেউ কেউ এর সাথে ‘আবশ্যকতা (الوجوب) হিসেবে’ কথাটি যুক্ত করেছেন। পক্ষান্তরে যে কাজগুলো বক্তব্য নয়, সেগুলোকে রূপক (المجاز) হিসেবে আদেশ (أמר) বলা হয়। আমাদের সঙ্গীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, এটি রূপক (مجاز) নয়। শায়খ ইমাম (আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন) বলেন: আমি আত-তাবসিরা গ্রন্থে এই মতটিকেই সমর্থন করেছি, তবে প্রথম মতটিই অধিক বিশুদ্ধ (أصح)। কেননা, এটি যদি বক্তব্যের ক্ষেত্রে যেমন প্রকৃত (حقيقة), কাজের ক্ষেত্রেও তেমনি প্রকৃত (حقيقة) হতো, তবে বক্তব্যের ক্ষেত্রে যেভাবে শব্দের রূপান্তর ঘটে, কাজের ক্ষেত্রেও তদ্রূপ রূপান্তর ঘটত; ফলে বক্তব্যের ক্ষেত্রে আদেশ বোঝাতে যেভাবে ‘আদেশ করেছে (أمر)’, ‘আদেশ করছে (يأمر)’ বলা হয়, কাজের ক্ষেত্রেও তা-ই বলা হতো।

পরিচ্ছেদ

অনুরূপভাবে যাতে কোনো কাজের দাবি নেই, যেমন ধমক প্রদানের (التهديد) জন্য; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা যা ইচ্ছা করো} ১। এবং অক্ষম করে দেওয়ার (التعجيز) জন্য; যেমন আল্লাহর বাণী: {বলুন, তবে তোমরা এর মতো দশটি মিথ্যা সূরা নিয়ে এসো} ২। এবং বৈধতা (الإباحة) প্রদানের জন্য; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তোমরা ইহরাম মুক্ত হবে, তখন শিকার করো} ৩।

এই সবগুলোর কোনটিই আদেশ (أمر) নয়। মুতাজিলাদের অন্তর্ভুক্ত আল-বালখী বলেছেন: বৈধতা (الإباحة) একটি আদেশ (أمر)। কিন্তু এটি ভুল, কেননা বৈধতা (الإباحة) হলো অনুমতি (الإذن) প্রদান করা, আর একে আদেশ (أمر) বলা হয় না। আপনি কি দেখেন না যে, কোনো দাস যখন তার মালিকের নিকট বিশ্রাম ও খিদমত ত্যাগের অনুমতি প্রার্থনা করে এবং মালিক তাকে অনুমতি দান করেন, তখন বলা হয় না যে মালিক তাকে সেটির আদেশ (أمره) দিয়েছেন।

২-পরিচ্ছেদ

অনুরূপভাবে যা সমপর্যায়ের কারো পক্ষ থেকে সমপর্যায়ের কারো প্রতি এবং নিম্নমর্যাদার কারো পক্ষ থেকে উচ্চমর্যাদার কারো প্রতি প্রকাশ পায়, তা আদেশ (أمر) নয়, যদিও...

--------------------------------------------

১ সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৪০।

২ সূরা হুদ, আয়াত: ১৩।

৩ সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ২।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ১৩)
كان صيغته صيغة أمر وذلك كقول العبد لربه اغفر لي وارحمني فإن ذلك مسألة ورغبة.

فصل

وأما الاستدعاء على وجه الندب فليس بأمر حقيقة ومن أصحابنا من قال هو أمر حقيقة والدليل على أنه ليس بأمر قوله صلى الله عليه وسلم: "لولا أن أشق على أمتي لأمرتهم بالسواك عند كل صلاة". ومعلوم أن السواك عند كل صلاة مندوب إليه وقد أخبر أنه لم يأمر به فدل على أن المندوب إليه غير مأمور به.

فصل

للأمر صيغة موضوعة في اللغة تقتضي الفعل وهو قوله افعل وقالت الأشعرية: ليست للأمر صيغة والدليل على أن له صيغة أن أهل اللسان قسموا الكلام فقالوا في جملتها أمر ونهي فالأمر قولك افعل والنهي قولك لا تفعل فجعلوا قوله افعل بمجرده أمراً فدل على أن له صيغة.
এর রূপটি ছিল আদেশের রূপ (صيغة أمر), যেমন বান্দার তার প্রতিপালকের প্রতি প্রার্থনা: 'আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার ওপর রহম করুন'; কারণ এটি মূলত প্রার্থনা ও নিবেদন।

পরিচ্ছেদ

আর মুস্তাহাব (ندব) হিসেবে কোনো কিছুর আহ্বান জানানো প্রকৃতপক্ষে আদেশ (أمر) নয়। আমাদের ইমামগণের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে এটি প্রকৃতপক্ষে আদেশ (أمر)। এর সপক্ষে দলীল যে এটি আদেশ নয় তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে তাদের প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করার আদেশ (أمر) দিতাম।" এটি সুবিদিত যে প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করা পছন্দনীয় (مندوب إليه), অথচ তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি এর আদেশ (أمر) দেননি; যা প্রমাণ করে যে পছন্দনীয় (مندوب إليه) বিষয় আদিষ্ট (مأمور به) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়।

পরিচ্ছেদ

ভাষাতত্ত্বে আদেশের (أمر) জন্য একটি সুনির্ধারিত রূপ (صيغة) রয়েছে যা কার্য সম্পাদনের দাবি রাখে, আর তা হলো "তুমি করো" (افعل)। আশআরিগণ বলেছেন: আদেশের (أمر) কোনো রূপ (صيغة) নেই। আদেশের রূপ থাকার স্বপক্ষে দলীল হলো, ভাষাবিদগণ বাক্যকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং তার সমষ্টির মধ্যে আদেশ (أمر) ও নিষেধ (نهي) উল্লেখ করেছেন। সুতরাং আদেশ (أمر) হলো তোমার উক্তি "তুমি করো" (افعل) এবং নিষেধ (نهي) হলো তোমার উক্তি "তুমি করো না" (لا تفعل)। তারা কেবল "তুমি করো" (افعل) উক্তিটিকেই আদেশ (أمر) হিসেবে গণ্য করেছেন, যা প্রমাণ করে যে এর সুনির্দিষ্ট রূপ (صيغة) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌باب ما يقتضي الأمر من الإيجاب

إذا تجردت صيغة الأمر اقتضت الوجوب في قول أكثر أصحابنا ثم اختلف هؤلاء فمنهم من قال يقتضي الوجوب بوضع اللغة ومنهم من قال يقتضي الوجوب بالشرع ومن أصحابنا من قال يقتضي الندب. وقال بعض الأشعرية لا يقتضي الوجوب ولا غيره إلا بدليل وقالت المعتزلة الأمر يقتضي إرادة الفعل فإن كان ذلك من حكيم اقتضت الندب وإن كان من غيره لم يقتض أكثر من الإرادة، والدليل على أنها تقتضي الوجوب قوله صلى الله عليه وسلم: "لولا أن أشق على أمتي لأمرتهم بالسواك عند كل صلاة". فدل على أنه لو أمر لوجب ولو شق ولأن السيد من العرب إذا قال لعبده اسقني ماء فلم يسقه استحق الذم والتوبيخ فلو لم يقتض الوجوب لما استحق الذم عليه.

فصل

سواء وردت هذه الصيغة ابتداء أو وردت بعد الحظر فإنها تقتضي
পরিচ্ছেদ: নির্দেশ (أمر) যা আবশ্যকতা (وجوب) দাবি করে

যখন নির্দেশের রূপ (صيغة الأمر) কোনো অনুষঙ্গ ছাড়া এককভাবে আসে, তখন আমাদের অধিকাংশ সাথীদের মতে তা আবশ্যকতা (وجوب) দাবি করে। অতঃপর এই বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন; তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, এটি আভিধানিক কাঠামোর কারণে আবশ্যকতা (وجوب) দাবি করে, আবার কেউ কেউ বলেছেন, এটি শরয়ি বিধানের কারণে আবশ্যকতা (وجوب) দাবি করে। আমাদের সাথীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, এটি পছন্দনীয়তা (ندب) দাবি করে। কিছু আশআরি বলেছেন, কোনো দলিল ছাড়া এটি আবশ্যকতা (وجوب) বা অন্য কোনো হুকুম দাবি করে না। মুতাজিলারা বলেছেন, নির্দেশ (أمر) কেবল কাজটি সম্পন্ন করার ইচ্ছাকে বোঝায়; যদি তা কোনো প্রজ্ঞাবান সত্তার পক্ষ থেকে হয় তবে তা পছন্দনীয়তা (ندব) দাবি করে, আর যদি তা অন্য কারো পক্ষ থেকে হয় তবে তা কেবল ইচ্ছার অতিরিক্ত কিছু দাবি করে না। এটি যে আবশ্যকতা (وجوب) দাবি করে তার দলিল হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমি যদি আমার উম্মতের ওপর কষ্টসাধ্য মনে না করতাম, তবে তাদের প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।" এটি প্রমাণ করে যে, যদি তিনি নির্দেশ দিতেন তবে তা আবশ্যক (واجب) হতো, যদিও তা কষ্টসাধ্য হতো। এছাড়া আরবের কোনো মনিব যদি তার দাসকে বলে "আমাকে পানি পান করাও" আর সে তাকে পানি পান না করায়, তবে সে নিন্দা ও তিরস্কারের যোগ্য হয়। যদি এটি আবশ্যকতা (وجوب) দাবি না করত, তবে সে এ কারণে নিন্দার যোগ্য হতো না।

পরিচ্ছেদ

এই নির্দেশের রূপটি প্রারম্ভিকভাবে আসুক কিংবা কোনো নিষেধাজ্ঞার (حظر) পর আসুক, তা একইভাবে দাবি করে...
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ১৪)
الوجوب. وقال بعض أصحابنا: إذا وردت بعد الحظر اقتضت الإباحة والدليل على أنها تقتضي الوجوب أن كل لفظ اقتضى الإيجاب إذا لم يتقدمه حظر اقتضى الإيجاب وإن تقدمه حظر كقوله: أوجبت وفرضت.

فصل

إذا دل الدليل على أنه لم يرد بالأمر الوجوب لم يجز الاحتجاج به في الجواز ومن أصحابنا من قال يجوز والأول أظهر لأن الأمر لم يوضع للجواز وإنما وضع للإيجاب والجواز يدخل فيه على سبيل التبع فإذا سقط الوجوب سقط ما دخل فيه على سبيل التبع.
আবশ্যকতা (وجوب)। আমাদের কতিপয় সাথী বলেছেন: যদি নির্দেশ নিষেধাজ্ঞার পর আসে তবে তা বৈধতা (إباحة) নির্দেশ করে। আর এটি যে আবশ্যকতা (وجوب) নির্দেশ করে তার প্রমাণ হলো—প্রত্যেক শব্দ যা আবশ্যকতা সাব্যস্তকরণ (إيجاب) নির্দেশ করে, যদি তার পূর্বে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকে তবে তা আবশ্যকতা সাব্যস্তকরণ (إيجاب) নির্দেশ করে; এমনকি যদি তার পূর্বে নিষেধাজ্ঞা থাকে তবুও (একই হুকুম), যেমন কারও উক্তি: 'আমি আবশ্যক (أوجبت) করেছি' এবং 'আমি নির্ধারিত (فرضت) করেছি'।

পরিচ্ছেদ

যদি প্রমাণ নির্দেশ করে যে নির্দেশ দ্বারা আবশ্যকতা (وجوب) উদ্দেশ্য নয়, তবে বৈধতার (جواز) ক্ষেত্রে তা দ্বারা দলিল পেশ করা বৈধ হবে না। আমাদের সাথীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন এটি বৈধ, তবে প্রথম মতটিই অধিক স্পষ্ট; কারণ নির্দেশকে বৈধতার (جواز) জন্য নির্ধারণ করা হয়নি, বরং তা আবশ্যকতা সাব্যস্তকরণের (إيجاب) জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর বৈধতা (جواز) এর মধ্যে অনুবর্তী (تبع) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। সুতরাং যখন আবশ্যকতা (وجوب) রহিত হয়ে যায়, তখন যা তার অনুবর্তী (تبع) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল তাও রহিত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌باب في أن الأمر يقتضي الفعل مرة واحدة أو التكرار

إذا وردت صيغة الأمر لإيجاب فعل وجب العزم على الفعل ويجب تكرار ذلك كلما ذكر الأمر لأنه إذا ذكر ولم يعزم على الفعل صار مصرا على العناد وهذا لا يجوز وأما الفعل المأمور به فإن كان في اللفظ ما يدل على تكراره وجب تكراره وإن كان مطلقا ففيه وجهان. ومن اصحابنا من قال: يجب تكراره على حسب الطاقة ومنهم من قال: لا يجب أكثر من مرة واحدة إلا بدليل يدل على التكرار وهو الصحيح، والدليل على أن إطلاق الفعل يقتضي ما يقع عليه الاسم ألا ترى أنه لو حلف ليفعلن بر بمرة واحدة فدل على أن الإطلاق لا يقتضي أكثر من ذلك.

فصل

فأما إذا علق الأمر بشرط بأن يقول إذا زالت الشمس فهل يقتضي التكرار إن قلنا إن مطلق الأمر يقتضي التكرار فالمعلق بالشرط مثله؛ وإن قلنا إن مطلقه لا يقتضي التكرار ففي المعلق بالشرط وجهان. ومن أصحابنا من قال: يقتضي التكرار كلما تكرر الشرط ومنهم من قال لا يقتضي وهو الأصح لأن كل ما لا يقتضي التكرار إذا كان مطلقا لم يقتض التكرار إذا
পরিচ্ছেদ: আদেশ কি কেবল একবার আমল করা বোঝায় নাকি পুনরাবৃত্তি (تكرار) বোঝায়

যখন কোনো কাজ আবশ্যক (إيجاب) করার উদ্দেশ্যে আদেশের শব্দ (صيغة الأمر) বর্ণিত হয়, তখন সেই কাজটি করার সংকল্প করা ওয়াজিব হয়ে যায়। আর যখনই আদেশটি স্মরণ করা হবে, তখনই সেই সংকল্পের পুনরাবৃত্তি (تكرار) করা ওয়াজিব। কারণ যখন এটি স্মরণ করা হয় এবং সে কাজটি করার সংকল্প না করে, তবে সে অবাধ্যতায় অটল হিসেবে গণ্য হয়, আর এটি জায়েজ নয়। আর যে কাজের আদেশ দেওয়া হয়েছে, যদি শব্দের মধ্যে এমন কিছু থাকে যা তার পুনরাবৃত্তি (تكرار) নির্দেশ করে, তবে তার পুনরাবৃত্তি করা ওয়াজিব। কিন্তু যদি তা নিঃশর্ত (مطلق) হয়, তবে এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। আমাদের সাথীদের (মাযহাবের ফকিহগণের) মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: সামর্থ্য অনুযায়ী তার পুনরাবৃত্তি করা ওয়াজিব। আবার কেউ কেউ বলেছেন: পুনরাবৃত্তির সপক্ষে কোনো দলীল না থাকলে একবারের বেশি করা ওয়াজিব নয়, আর এটিই সঠিক (صحيح) মত। আর কোনো কাজের নিঃশর্ত (مطلق) প্রয়োগ যে কেবল সেই নামপদটি যার ওপর প্রযোজ্য হয় (অর্থাৎ ন্যূনতম কাজ) তাকেই দাবি করে, তার দলীল হলো—আপনি কি দেখেন না যে, কেউ যদি কোনো কাজ করার শপথ করে, তবে একবার করলেই তার শপথ পূর্ণ হয়ে যায়? এটিই প্রমাণ করে যে, নিঃশর্ত (مطلق) প্রয়োগ একবারের অতিরিক্ত কিছু দাবি করে না।

অনুচ্ছেদ

আর যদি আদেশটি কোনো শর্তের সাথে যুক্ত থাকে, যেমন কেউ যদি বলে "যখন সূর্য ঢলে পড়বে", তবে এটি কি পুনরাবৃত্তি (تكرار) দাবি করে? আমরা যদি বলি যে নিঃশর্ত (مطلق) আদেশ পুনরাবৃত্তি দাবি করে, তবে শর্তযুক্ত আদেশও অনুরূপ হবে। কিন্তু যদি আমরা বলি যে নিঃশর্ত (مطلق) আদেশ পুনরাবৃত্তি দাবি করে না, তবে শর্তযুক্ত আদেশের ক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে। আমাদের সাথীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: যখনই শর্তের পুনরাবৃত্তি ঘটবে, তখনই আদেশের পুনরাবৃত্তি হবে। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি পুনরাবৃত্তি দাবি করে না, আর এটিই অধিকতর সঠিক (أصح) মত। কারণ যা নিঃশর্ত (مطلق) অবস্থায় পুনরাবৃত্তি দাবি করে না, তা পুনরাবৃত্তি দাবি করে না যখন...
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ১৫)
كان بالشرط كالطلاق لا فرق بين أن يقول أنت طالق وبين أن يقول إذا زالت الشمس فأنت طالق.

فصل

فأما إذا تكرر الأمر بالفعل الواحد بأن قال: صل ثم قال: صل فإن قلنا إن مطلق الأمر يقتضي التكرار فتكرار الأمر يقتضي التأكيد، وإن قلنا أنه يقتضي الفعل مرة واحدة ففي التكرار وجها: أحدهما أنه تأكيد وهو قول الصيرفي. والثاني: إنه استئناف وهو الصحيح، والدليل عليه أن كل واحد من الأمرين يقتضي إيجاد الفعل عند الانفراد فإذا اجتمعا أوجبا التكرار كما لو كانا فعلين.
এটি তালাকের মতো শর্তযুক্ত ছিল; যেমন কেউ যদি বলে 'তুমি তালাকপ্রাপ্তা' আর যদি বলে 'সূর্য ঢলে পড়লে তুমি তালাকপ্রাপ্তা', তবে এই দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

পরিচ্ছেদ

তবে যদি একই কাজের জন্য নির্দেশ (أمر) পুনরাবৃত্তি করা হয়, যেমন কেউ বলল: 'নামাজ পড়', তারপর পুনরায় বলল: 'নামাজ পড়'; এমতাবস্থায় আমরা যদি বলি যে সাধারণ নির্দেশ (مطلق الأمر) পুনরাবৃত্তি দাবি করে, তবে নির্দেশের পুনরাবৃত্তি এখানে তাকিদ বা গুরুত্বারোপ (تأكيد) হিসেবে গণ্য হবে। আর আমরা যদি বলি যে এটি কেবল একবার কাজটির সম্পাদন দাবি করে, তবে এই পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে: প্রথমটি হলো, এটি তাকিদ (تأكيد), যা আস-সাইরাফির অভিমত। দ্বিতীয়টি হলো, এটি একটি নতুন নির্দেশ (استئناف) এবং এটিই সঠিক (صحيح)। এর প্রমাণ হলো, প্রতিটি নির্দেশ (أمر) স্বতন্ত্র অবস্থায় কাজটি সম্পাদন করা আবশ্যক করে; সুতরাং যখন দুটি নির্দেশ একত্রিত হয়, তখন তা কার্যের পুনরাবৃত্তি আবশ্যক করে, যেমনটি দুটি ভিন্ন ভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌باب في أن الأمر هل يقتضي الفعل على الفور أم لا

إذا ورد الأمر بالفعل مطلقا وجب العزم على الفعل على الفور كما مضى في الباب قبله وهل يقتضي الفعل على الفور بنية على التكرار، فإن قلنا إن الأمر يقتضي التكرار على حسب الاستطاعة وجب على الفور لأن الحالة الأولى داخلة في الاستطاعة فلا يجوز إخلاؤها من الفعل، وإن قلنا إن الأمر يقتضي مرة واحدة فهل يقتضي ذلك على الفور أم لا؟ فيه وجهان لأصحابنا. أحدهما أنه لا يقتضي الفعل على الفور ومن أصحابنا من قال يقتضي ذلك على الفور وهو قول الصيرفي والقاضي أبي حامد والأول أصح لأن قوله أفعل يقتضي إيجاد الفعل من غير تخصيص بالزمان الأول دون الثاني فإذا صار ممتثلا بالفعل في الزمان الأول وجب أن يصير ممتثلا بالفعل في الزمان الثاني.

فصل

فأما إذا ورد الأمر مقيدا بزمان نظرت فإن كان الزمان يستغرق العبادة كالصوم في شهر رمضان لزمه فعلها على الفور عند دخول الوقت وإن كان الزمان أوسع من قدر العبادة كصلاة الزوال ما بين الظهر إلى أن يصير ظل كل
পরিচ্ছেদ: নির্দেশ (الأمر) কি অবিলম্বে (الفور) কাজ সম্পাদন করার দাবি রাখে কি না

যদি কোনো কাজ সম্পাদনের নির্দেশ (الأمر) নিঃশর্তভাবে (مطلقا) আসে, তবে পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে বর্ণিত আলোচনা অনুযায়ী অবিলম্বে (على الفور) উক্ত কাজ সম্পাদনের দৃঢ় সংকল্প (العزم) করা ওয়াজিব। এখন প্রশ্ন হলো, এটি পুনরাবৃত্তির (التكرار) ভিত্তিতে অবিলম্বে (على الفور) কাজ সম্পাদন করার দাবি রাখে কি না? যদি আমরা বলি যে, নির্দেশ (الأمر) সামর্থ্য (الاستطاعة) অনুযায়ী পুনরাবৃত্তির (التكرار) দাবি রাখে, তবে তা অবিলম্বে (على الفور) পালন করা ওয়াজিব হবে। কারণ প্রথম অবস্থাটি সামর্থ্যের (الاستطاعة) অন্তর্ভুক্ত, তাই একে কাজ সম্পাদন থেকে শূন্য রাখা বৈধ নয়। আর যদি আমরা বলি যে, নির্দেশ (الأمر) কেবল একবার কাজ সম্পাদনের দাবি রাখে, তবে সেটি কি অবিলম্বে (على الفور) পালনের দাবি রাখে কি না? এই বিষয়ে আমাদের সঙ্গীগণের (أصحابنا) মধ্যে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে। একটি হলো, এটি অবিলম্বে (على الفور) কাজ সম্পাদনের দাবি রাখে না। আমাদের সঙ্গীগণের (أصحابنا) মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, এটি অবিলম্বে (على الفور) কাজ করার দাবি রাখে; এটি সায়রাফি এবং কাযী আবু হামিদের অভিমত। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর সঠিক (أصح)। কারণ, 'তুমি করো' (افعل) এই কথাটি প্রথম সময়কে দ্বিতীয় সময়ের ওপর কোনো বিশেষত্ব (تخصيص) দান করা ছাড়াই কাজ সম্পাদন করার দাবি রাখে। সুতরাং যদি কেউ প্রথম সময়ে কাজ করার মাধ্যমে নির্দেশ পালনকারী (ممتثلا) সাব্যস্ত হয়, তবে দ্বিতীয় সময়ে কাজ করার মাধ্যমেও তাকে নির্দেশ পালনকারী (ممتثلا) হওয়া আবশ্যক।

অনুচ্ছেদ

পক্ষান্তরে, নির্দেশ (الأمر) যদি সময়ের সাথে শর্তযুক্ত (مقيد) হয়ে আসে, তবে আপনি লক্ষ্য করবেন: যদি সময়টি ইবাদতকে পূর্ণরূপে পরিবেষ্টন করে নেয়, যেমন রমজান মাসের রোজা, তবে সময় শুরু হওয়ার সাথে সাথেই অবিলম্বে (على الفور) তা পালন করা তার জন্য আবশ্যক হবে। আর যদি সময়টি ইবাদতের পরিমাণের চেয়ে প্রশস্ত হয়, যেমন যোহরের সালাত—যা সূর্য ঢলে পড়া থেকে শুরু করে প্রতিটি বস্তুর ছায়া...
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ১৬)
شيء مثله وجب الفعل في أول الوقت وجوبا موسعا، ثم اختلفوا هل يجب العزم في أول الوقت بدلا عن الصلاة فمنهم من لم يوجب ومنهم من أوجب العزم بدلا عن الفعل في أول الوقت.

وقال أبو الحسن الكرخي: يتعلق الوجوب أحد شيئين إما بالفعل أو بأن يضيق الوقت. وقال أكثر أصحاب أبي حنيفة: يتعلق الوجوب بآخر الوقت. واختلف هؤلاء فيمن صلى في أول الوقت، فمنهم من قال أن ذلك نفل فإن جاء آخر الوقت وليس من أهل الوجوب فلا كلام في أن ما فعله كان نفلا وإن كان من أهل الوجوب منع ذلك النفل الذي فعله من توجه الفرض عليه في آخر الوقت، ومنهم من قال فعله في أول الوقت مراعى فإن جاء آخر الوقت وهو من أهل الوجوب علمنا أنه فعل واجبا وإن لم يكن من أهل الوجوب علمنا أنه فعل نفلا والدليل على ما قلناه أن المقتضي للوجوب هو الأمر وقد تناول ذلك أول الوقت بقوله {أَقِمِ الصَّلاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ} 1 فوجب أن يجب في أوله.

فصل

فإن فات الوقت الذي علق عليه العبادة فلم يفعل فهل يجب القضاء أم لا؟ فيه وجهان من أصحابنا من قال يجب ومنهم من قال لا يجب إلا بأمر ثان وهو الأصح لأن ما بعد الوقت لم يتناوله الأمر فلا يجب الفعل فيه كما قبل الوقت.

فصل

إذا أمر بأمر بعبادة في وقت معين في وقت معين ففعلها في ذلك الوقت سمي أداء على سبيل الحقيقة ولا يسمى قضاء إلا مجازا كما قال الله تعالى: {فَإِذَا قَضَيْتُمْ مَنَاسِكَكُمْ} 2 وكما قال: {فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلاةُ فَانْتَشِرُوا فِي

--------------------------------------------

1 سورة الإسراء الآية: 78.

2 سورة البقرة جزء من الآية: 200.
এর অনুরূপ ক্ষেত্রে ওয়াক্তের শুরুতে কাজটি করা প্রশস্ত ওয়াজিব (وجوب موسع) হিসেবে আবশ্যক হয়ে যায়। অতঃপর তারা মতভেদ করেছেন যে, নামাজের পরিবর্তে ওয়াক্তের শুরুতে দৃঢ় সংকল্প (عزم) করা কি ওয়াজিব কি না? তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে ওয়াজিব করেননি, আবার কেউ কেউ ওয়াক্তের শুরুতে কাজের পরিবর্তে দৃঢ় সংকল্প করাকে ওয়াজিব করেছেন।

আবুল হাসান আল-কারখী বলেছেন: ওয়াজিব (وجوب) বা আবশ্যকতা দুটি বিষয়ের একটির সাথে সম্পৃক্ত হয়—হয় কাজের মাধ্যমে অথবা ওয়াক্ত সংকীর্ণ হয়ে আসার মাধ্যমে। ইমাম আবু হানিফার অধিকাংশ অনুসারীগণ বলেছেন: ওয়াজিব (وجوب) ওয়াক্তের শেষাংশের সাথে সম্পৃক্ত হয়। আর যারা ওয়াক্তের শুরুতে নামাজ আদায় করেন তাদের ব্যাপারে তারা মতভেদ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন যে, সেটি নফল (نفل) হিসেবে গণ্য হবে; যদি ওয়াক্তের শেষ সময় উপস্থিত হয় এবং সে ওয়াজিবের যোগ্য না থাকে, তবে সে যা আদায় করেছে তা নফল (نفل) হওয়ার বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। আর যদি সে ওয়াজিবের যোগ্য থাকে, তবে তার আদায়কৃত সেই নফল (نفل) ইবাদতটি ওয়াক্তের শেষে তার উপর ফরজ (فرض) অবতীর্ণ হওয়াকে প্রতিহত করবে। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, ওয়াক্তের শুরুতে তার আদায় করা কাজটি পর্যবেক্ষণাধীন (مراعى) থাকে; যদি ওয়াক্তের শেষ সময় আসে এবং সে ওয়াজিবের যোগ্য থাকে, তবে আমরা জানব যে সে ওয়াজিব (واجب) পালন করেছে। আর যদি সে ওয়াজিবের যোগ্য না থাকে, তবে আমরা জানব যে সে নফল (نفل) আদায় করেছে। আমরা যা বলেছি তার দলিল হলো—ওয়াজিব হওয়ার দাবিদার হলো নির্দেশ (امر), আর এই নির্দেশটি ওয়াক্তের শুরুকে অন্তর্ভুক্ত করেছে মহান আল্লাহর বাণী: "সূর্য ঢলে পড়ার সময় নামাজ কায়েম কর" ১ এর মাধ্যমে। সুতরাং ওয়াক্তের শুরুতেই এটি ওয়াজিব হওয়া আবশ্যক।

পরিচ্ছেদ

যদি ইবাদতের জন্য নির্ধারিত ওয়াক্ত অতিবাহিত হয়ে যায় এবং সে তা আদায় না করে, তবে কি কাজা (قضاء) করা ওয়াজিব হবে কি না? এ বিষয়ে আমাদের অনুসারীদের মধ্যে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে; তাদের কেউ কেউ বলেছেন এটি ওয়াজিব, আবার কেউ কেউ বলেছেন দ্বিতীয় কোনো নির্দেশ ছাড়া তা ওয়াজিব হবে না। আর এটিই অধিকতর সঠিক (الأصح); কারণ ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পরবর্তী সময়ের ক্ষেত্রে নির্দেশটি প্রযোজ্য নয়, তাই ওয়াক্তের পূর্বের সময়ের ন্যায় সেখানেও কাজটি ওয়াজিব হবে না।

পরিচ্ছেদ

যখন নির্দিষ্ট সময়ে কোনো ইবাদত করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সেই সময়ের মধ্যেই তা সম্পাদন করা হয়, তবে তাকে প্রকৃত অর্থে আদায় (أداء) বলা হয়। তাকে রূপক (مجازا) অর্থ ছাড়া কাজা (قضاء) বলা হয় না, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর যখন তোমরা তোমাদের হজের কার্যাদি সম্পন্ন (قضاء) করবে" ২ এবং যেমনটি তিনি বলেছেন: "অতঃপর যখন নামাজ সমাপ্ত (قضاء) হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো..."

--------------------------------------------

১ সূরা আল-ইসরা আয়াত: ৭৮।

২ সূরা আল-বাকারা আয়াতের অংশ: ২০০।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ১৭)
الْأَرْضِ} 1 أما إذا دخل فيها فأفسدها أو نسي شرطا من شروطها فأعادها والوقت باق سمي إعادة وأداء وإن فات الوقت ففعلها بعد فوات الوقت سمي قضاء.

--------------------------------------------

1 سورة الجمعة الآية: 10.
জমিন।} ১ তবে যদি কেউ তাতে প্রবেশ করে এবং তা নষ্ট করে ফেলে অথবা এর শর্তসমূহের (شروط) কোনো একটি ভুলে যায়, অতঃপর সময় অবশিষ্ট থাকাকালীন তা পুনরায় আদায় করে, তবে একে পুনঃআদায় (إعادة) এবং যথাসময়ে আদায় (أداء) বলা হয়। আর যদি সময় অতিবাহিত হয়ে যায় এবং সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তা আদায় করা হয়, তবে একে কাজা (قضاء) বলা হয়।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-জুমুআহ, আয়াত: ১০।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌باب الأمر بأشياء على جهة التخيير والترتيب

إذا خير الله تعالى بين أشياء مثل كفارة اليمين خير فيها بين العتق والإطعام والكسوة فالواجب منها واحد غير معين فأيها فعل فقد فعل الواجب وإن فعل الجميع سقط الفرض عنه بواحد منها والباقي تطوع، وقالت المعتزلة: الثلاثة كلها واجبة فإن أرادوا بوجوب الجميع تساوي الجميع في الخطاب فهو وفاق وإنما يحصل الخلاف في العبارة دون المعنى وإن أرادوا بوجوب الجميع أنه مخاطب بفعل الجميع فالدليل على فساده أنه إذا ترك الجميع لم يعاقب على الجميع ولو كان الجميع واجبا لعوقب على الجميع فلما لم يعاقب إلا على واحد دل على أنه هو الواجب.

فصل

فأما إذا أمر بأشياء على الترتيب كالمظاهر أمر بالعتق عند وجود الرقبة وبالصيام عند عدمها بالإطعام عند العجز عن الجميع فالواجب من ذلك واحد معين على حسب حاله فإن كان موسرا ففرضه العتق وإن كان معسرا ففرضه الصيام وإن كان عاجزا ففرضه الإطعام فإن جمع من فرضه العتق بين الجميع سقط الفرض عنه بالعتق وما عداه تطوع وإن جمع من فرضه الصيام بين الجميع ففرضه أحد الأمرين من العتق أو الصيام والإطعام تطوع وإن جمع من فرضه الإطعام بين الجميع ففرضه واحد من الثلاثة كالكفارة المخيرة.
পছন্দ করার স্বাধীনতা (التخيير) ও ক্রমবিন্যাসের (الترتيب) ভিত্তিতে কোনো বিষয়ের আদেশের অধ্যায়

যখন আল্লাহ তাআলা একাধিক বিষয়ের মধ্যে পছন্দের (التخيير) সুযোগ দেন, যেমন শপথের কাফফারা; যেখানে দাসমুক্তি, আহার করানো এবং বস্ত্র প্রদানের মধ্যে নির্বাচনের (التخيير) সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় এগুলোর মধ্য হতে সুনির্দিষ্ট কোনো একটি নয়, বরং যে কোনো একটি আদায় করাই ওয়াজিব (الواجب) হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং এর মধ্য হতে যে কোনোটি পালন করলে ওয়াজিব (الواجب) আদায় হয়ে যাবে। আর যদি কেউ সবগুলোই পালন করে, তবে একটির মাধ্যমে তার উপর অর্পিত ফরজ (الفرض) রহিত হয়ে যাবে এবং অবশিষ্টগুলো নফল (تطوع) হিসেবে গণ্য হবে। মুতাজিলা (المعتزلة) সম্প্রদায় বলেছে: তিনটি কাজই ওয়াজিব (واجبة)। তারা যদি এই তিনটি ওয়াজিব হওয়ার দ্বারা এটি উদ্দেশ্য করে যে, সম্বোধনের ক্ষেত্রে সবগুলোই সমান, তবে তা একটি ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়। সেক্ষেত্রে মতভেদটি কেবল শাব্দিক বা প্রকাশভঙ্গিতে, অর্থের ক্ষেত্রে নয়। কিন্তু তারা যদি তিনটি ওয়াজিব (الواجب) হওয়ার দ্বারা এটি উদ্দেশ্য করে যে ব্যক্তি তিনটি কাজই করতে আদিষ্ট, তবে সেই মতের অসারতার প্রমাণ হলো—যদি সে সবগুলোই বর্জন করে তবে তাকে সবগুলোর জন্য শাস্তি দেওয়া হবে না। অথচ সবগুলো যদি ওয়াজিব (واجبًا) হতো, তবে সবগুলোর জন্যই তাকে শাস্তি দেওয়া হতো। যেহেতু একটির অতিরিক্ত শাস্তির বিধান নেই, সেহেতু প্রমাণিত হয় যে, একটিই কেবল ওয়াজিব (الواجب)।

অনুচ্ছেদ

পক্ষান্তরে, যদি কোনো বিষয় ক্রমবিন্যাসের (الترتيب) ভিত্তিতে আদেশ করা হয়, যেমন ‘জিহার’-এর ক্ষেত্রে; ক্রীতদাস পাওয়া গেলে তা মুক্ত করার নির্দেশ, তা না থাকলে রোজা রাখার এবং সবশেষে অক্ষম হলে আহার করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যক্তির অবস্থাভেদে এর মধ্য হতে কোনো একটি সুনির্দিষ্টভাবে ওয়াজিব (الواجب) হয়। যদি সে সামর্থ্যবান হয় তবে তার জন্য ফরজ (الفرض) হলো দাসমুক্তি। যদি সে অসচ্ছল হয় তবে তার জন্য ফরজ (الفرض) হলো রোজা রাখা। আর যদি সে অক্ষম হয় তবে তার জন্য ফরজ (الفرض) হলো আহার করানো। সুতরাং যার জন্য দাসমুক্তি ফরজ (الفرض) ছিল, সে যদি সবগুলোই পালন করে তবে দাসমুক্তির মাধ্যমেই তার ফরজ (الفرض) আদায় হয়ে যাবে এবং বাকিগুলো নফল (تطوع) হবে। যার জন্য রোজা রাখা ফরজ (الفرض) ছিল, সে যদি সবগুলোই পালন করে তবে দাসমুক্তি অথবা রোজা—এই দুইটির কোনো একটির মাধ্যমে ফরজ (الفرض) আদায় হবে এবং আহার করানো নফল (تطوع) হিসেবে গণ্য হবে। আর যার জন্য আহার করানো ফরজ (الفرض) ছিল, সে যদি সবগুলোই পালন করে তবে পছন্দমূলক কাফফারার মতোই এই তিনটির যে কোনো একটির মাধ্যমে তার ফরজ (الفرض) আদায় হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ১৮)
مشروطا بذلك الغير كالاستطاعة في الحج والمال في الزكاة لم يكن الأمر بالحج والزكاة أمرا بتحصيل لأن الأمر بالحج لم يتناول من لا استطاعة له وفي الزكاة من لا مال له فلو ألزمناه تحصيل ذلك ليدخل في الأمر لأسقطنا شرط الأمر وهذا لا يجوز وإن كان الأمر مطلقا غير مشروط كان الأمر بالفعل أمرا به وبما لا يتم إلا به وذلك كالطهارة للصلاة الأمر بالصلاة أمر بالطهارة أو كغسل شيء من الرأس لاستيفاء الفرض عن الوجه، فلو لم يلزمه ما يتم به الفعل المأمور به أقسطنا الوجوب في المأمور ولهذا قلنا فيمن نسي صلاة من صلوات اليوم والليلة ولم يعرف عينها أنه يجب عليه قضاء خمس صلوات لتدخل المنسية فيها.

فصل

وأما إذا أمر بصفة عبادة فإن كانت الصفة واجبة كالطمأنينة في الركوع دل على وجوب الركوع لأنه لا يمكنه أن يأتي بالصفة الواجبة إلا بفعل الموصوف وإن كانت الصفة ندبا كرفع الصوت بالتلبية لم يدل ذلك على وجوب التلبية ومن الناس من قال: تدل على وجوب التلبية وهذا خطأ لأنه قد يندب إلى صفة ما هو واجب وما هو ندب فلم يكن في الندب دليل على وجوب الأصل.

فصل

وإذا أمر بشيء كان ذلك نهيا عن ضده من جهة المعنى فإن كان ذلك الأمر واجبا كان النهي عن ضده على سبيل الوجوب. وإن كان ندبا كان النهي عن ضده على سبيل الندب ومن أصحابنا من قال ليس بنهي عن ضده وهو قول المعتزلة والدليل على ما قلناه انه لا يتوصل إلى فعل المأمور إلا بترك الضد فهو كالطهارة في الصلاة.

فصل

فأما إذا أمر باجتناب شيء ولم يمكنه الاجتناب إلا باجتناب غيره فهذا على ضربين.
যদি সেই হুকুমটি অন্য কোনো কিছুর ওপর শর্তযুক্ত হয়, যেমন হজের ক্ষেত্রে সামর্থ্য (استطاعة) এবং জাকাতের ক্ষেত্রে সম্পদ, তবে হজ ও জাকাতের নির্দেশ সেই শর্ত অর্জনের নির্দেশ হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ হজের নির্দেশ সামর্থ্যহীন ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য নয় এবং জাকাতের নির্দেশ সম্পদহীন ব্যক্তির জন্য নয়। যদি আমরা তাকে সেই শর্ত অর্জনে বাধ্য করতাম যাতে সে নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, তবে আমরা নির্দেশের শর্তটিকেই বিলুপ্ত করে দিতাম, আর এটি বৈধ নয়। আর যদি নির্দেশটি নিরঙ্কুশ (مطلق) ও শর্তহীন হয়, তবে কোনো কাজের নির্দেশ মানেই হলো সেই কাজ এবং যা ব্যতীত সেই কাজটি সম্পন্ন হয় না তারও নির্দেশ। যেমন নামাজের জন্য পবিত্রতা (طهارة); নামাজের নির্দেশ মানেই হলো পবিত্রতার নির্দেশ। অথবা চেহারার ফরজ (فرض) পূর্ণ করার জন্য মাথার কিছু অংশ ধৌত করা। যদি আদিষ্ট কাজটি সম্পন্ন করার জন্য যা প্রয়োজন তা আবশ্যক না হতো, তবে আমরা আদিষ্ট বিষয়ের বাধ্যবাধকতাকেই বিলোপ করে দিতাম। এই কারণেই আমরা সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলি, যে দিন ও রাতের নামাজগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি নামাজ ভুলে গেছে কিন্তু সেটি নির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারছে না, তবে তার ওপর পাঁচটি নামাজই কাজা করা ওয়াজিব (واجب), যাতে বিস্মৃত নামাজটি এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

পরিচ্ছেদ

আর যখন কোনো ইবাদতের বৈশিষ্ট্য (صفة) সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে সেই বৈশিষ্ট্যটি যদি ওয়াজিব (واجب) হয়—যেমন রুকু (ركوع)-তে স্থিরতা (طمأنينة) অবলম্বন করা—তবে তা রুকু ওয়াজিব হওয়ার ওপর দলিল প্রদান করে। কারণ যা গুণান্বিত তা সম্পাদন করা ব্যতীত ওয়াজিব বৈশিষ্ট্যটি পালন করা সম্ভব নয়। আর যদি বৈশিষ্ট্যটি মুস্তাহাব (ندب) হয়—যেমন তালবিয়া পাঠকালে আওয়াজ উচ্চ করা—তবে তা তালবিয়া ওয়াজিব হওয়ার ওপর দলিল প্রদান করে না। কিছু লোক বলেছেন: এটি তালবিয়া ওয়াজিব হওয়ার দলিল। কিন্তু এটি ভুল; কারণ কখনও ওয়াজিব কাজের বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, আবার কখনও মুস্তাহাব কাজের বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রেও। সুতরাং মুস্তাহাব (ندب) হওয়া মূল বিষয়টি ওয়াজিব হওয়ার দলিল হতে পারে না।

পরিচ্ছেদ

যখন কোনো বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করা হয়, তখন তা অর্থের দিক থেকে তার বিপরীত (ضد) বিষয় থেকে নিষেধ (نهي) হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং সেই নির্দেশটি যদি ওয়াজিব (واجب) হয়, তবে তার বিপরীত বিষয় থেকে নিষেধটি ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি নির্দেশটি মুস্তাহাব (ندب) হয়, তবে তার বিপরীত বিষয় থেকে নিষেধটি মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য হবে। আমাদের সাথীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, এটি তার বিপরীত বিষয়ের নিষেধ নয়; এটি মুতাজিলাদের অভিমত। আমরা যা বলেছি তার দলিল হলো, বিপরীতটি বর্জন করা ছাড়া আদিষ্ট কাজটি সম্পাদন করা সম্ভব নয়। সুতরাং এটি নামাজের জন্য পবিত্রতার মতোই।

পরিচ্ছেদ

আর যখন কোনো বিষয় পরিহার করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং অন্য কোনো বিষয় পরিহার করা ছাড়া সেটি পরিহার করা সম্ভব না হয়, তবে এটি দুই প্রকারের হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ১৯)
أحدهما: أن يكون في اجتناب الجميع مشقة فيسقط حكم المحرم فيه فيسقط عنه فرض الاجتناب وهو كما إذا وقع في الماء الكثير نجاسة أو اختلطت أخته بنساء بلد فلا يمنع من الوضوء بالماء ولا من نكاح نساء ذلك البلد.

والثاني: أن لا يكون في اجتناب الجميع مشقة فهذا على ضربين.

أحدهما: أن يكون المحرم مختلطا بالمباح كالنجاسة في الماء القليل والجارية المشتركة بين الرجلين فيجب اجتناب الجميع.

والثاني: أن يكون غير مختلط إلا أنه لا يعرف المباح بعينه فهذا على ضربين: ضرب يجوز فيه التحري وهو كالماء الطاهر إذا اشتبه بالماء النجس فيتحرى "صفحة 10" فيه وضرب لا يجوز فيه التحري وهو الأخت إذا اختلطت بأجنبية والماء إذا اشتبه بالبول فيجب اجتناب الجميع.
প্রথমত: যদি সবটুকু বর্জন করার মাঝে কষ্ট (مشقة) থাকে, তবে সেক্ষেত্রে নিষিদ্ধের (محرم) বিধান রহিত হয়ে যায় এবং তা বর্জন করার আবশ্যকতা (فرض) বিলুপ্ত হয়। এটি ঐ অবস্থার মতো যখন বিপুল পরিমাণ পানিতে অপবিত্রতা (نجاسة) পতিত হয় অথবা যদি কারো বোন কোনো জনপদের নারীদের সাথে মিলেমিশে যায়; এমতাবস্থায় সেই পানি দিয়ে অজু করা কিংবা সেই জনপদের নারীদের বিবাহ করা নিষিদ্ধ হবে না।

দ্বিতীয়ত: যদি সবটুকু বর্জন করার মাঝে কোনো কষ্ট (مشقة) না থাকে; তবে এটি দুই প্রকার।

প্রথম প্রকার: নিষিদ্ধ (محرم) বিষয়টি বৈধের (مباح) সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশ্রিত থাকে, যেমন- অল্প পানির মধ্যে অপবিত্রতা (نجاسة) মিশে যাওয়া অথবা দুই ব্যক্তির মাঝে যৌথ মালিকানাধীন দাসী; এক্ষেত্রে সবটুকুই বর্জন করা ওয়াজিব (واجب)।

দ্বিতীয় প্রকার: নিষিদ্ধ বিষয়টি সরাসরি মিশ্রিত নয়, তবে নির্দিষ্টভাবে বৈধ (مباح) বিষয়টি সরাসরি চেনা সম্ভব নয়; এটি আবার দুই প্রকার: এক প্রকার হলো যাতে যাচাই বা অনুসন্ধান (تحري) করা জায়েজ (جائز), আর তা হলো পবিত্র (طاهر) পানি যখন অপবিত্র (نجس) পানির সাথে মিলে অস্পষ্ট হয়ে যায়, তখন তাতে যাচাই "পৃষ্ঠা ১০" করা যাবে। অন্য প্রকারটি হলো যাতে যাচাই (تحري) করা জায়েজ (جائز) নয়, আর তা হলো আপন বোন যদি কোনো পরনারীর (أجنبية) সাথে মিলে অস্পষ্ট হয়ে যায় অথবা পানি ও প্রস্রাব মিলে যদি অস্পষ্টতা তৈরি হয়; এমতাবস্থায় সবটুকুই বর্জন করা ওয়াজিব (واجب)।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌باب إيجاب ما لا يتم المأمور إلا به

إذا أمر بفعل ولم يتم ذلك الفعل إلا بغيره نظرت فإن كان ذلك الأمر
‌যেই বিষয় ব্যতীত আদেশকৃত (المأمور) কাজ সম্পন্ন হয় না, তা আবশ্যক (إيجاب) করার পরিচ্ছেদ

যখন কোনো কাজের (فعل) নির্দেশ প্রদান করা হয় এবং সেই কাজটি (فعل) অন্য কোনো বিষয় ব্যতীত সম্পন্ন হওয়া সম্ভব হয় না, তখন লক্ষ্য করতে হবে; যদি সেই নির্দেশটি (الأمر) ...
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌باب الأمر يدل على إجراء المأمور به

واعلم أنه إذا أمر الله تعالى بفعل لم يخل المأمور إما أن يفعل المأمور به على الوجه الذي تناوله الأمر أو يزيد على ما تناوله الأمر أو ينقص، فإن فعل على الوجه الذي تناوله الأمر أجزأه ذلك بمجرد الأمر وقال بعض المعتزلة: الأمر لا يدل على الإجزاء بل يحتاج الآخر إلى دليل آخر وهذا خطأ لأنه قد فعل المأمور به على الوجه الذي تناوله الأمر فوجب أن يعود إلى ما كان قبل الأمر.

فصل

فأما إذا زاد على المأمور بأن يأمره بالركوع فيزيد على ما يقع عليه الاسم سقط الفرض عنه بأدنى ما يقع عليه الاسم والزيادة على ذلك تطوع لا يدخل في الأمر وقال بعض الناس: الجميع واجب داخل في الأمر وهذا باطل لأن ما زاد على الاسم يجوز له تركه على الإطلاق فإذا فعله لم يكن واجبا كسائر النوافل.
পরিচ্ছেদ: আদেশ নির্দেশিত কার্য পালনের আবশ্যকতা প্রমাণ করে

জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তাআলা যখন কোনো কাজের আদেশ প্রদান করেন, তখন আদিষ্ট ব্যক্তির অবস্থা তিনটির বাইরে হয় না: হয় সে নির্দেশিত কাজটি আদেশের ধরন অনুযায়ী পালন করবে, অথবা আদেশের অতিরিক্ত কিছু করবে, অথবা কম করবে। যদি সে আদেশের ধরন অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে, তবে আদেশের প্রেক্ষিতেই তা যথেষ্ট (إجزاء) বলে গণ্য হবে। মুতাজিলাদের কেউ কেউ বলেন: আদেশ বিষয়টি কাজ যথেষ্ট হওয়া (إجزاء) প্রমাণ করে না, বরং এর জন্য ভিন্ন দলিলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই মতটি ভুল; কারণ সে নির্দেশিত কাজ আদেশের ধরন অনুযায়ী সম্পাদন করেছে, ফলে বিষয়টি আদেশের পূর্ববর্তী অবস্থায় (দায়মুক্তিতে) ফিরে যাওয়া অবধারিত।

অনুচ্ছেদ

আর যদি সে নির্দেশিত কার্যের অতিরিক্ত কিছু করে—যেমন তাকে রুকু করার নির্দেশ দেওয়া হলো এবং সে এর নূন্যতম সংজ্ঞার চেয়ে অতিরিক্ত করল—তবে সর্বনিম্ন যেটুকু করলে তাকে রুকু বলা যায়, তার মাধ্যমেই তার ওপর অর্পিত ফরজ (فرض) আদায় হয়ে যাবে। অতিরিক্ত অংশটুকু নফল (تطوع) হিসেবে গণ্য হবে, যা আদেশের অন্তর্ভুক্ত নয়। কোনো কোনো লোক বলেন: সম্পূর্ণ অংশটুকুই ওয়াজিব (واجب) এবং আদেশের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু এই মতটি বাতিল, কারণ সংজ্ঞায়িত পরিমাণের অতিরিক্ত অংশ বর্জন করা নিঃশর্তভাবে বৈধ। সুতরাং সেটি পালন করলেও অন্যান্য নফলের (نوافل) মতো তা ওয়াজিব হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ২০)
فصل

فأما إذا نقص عن المأمور نظرت فإن نقص منه ما هو شرط في صحته كالصلاة بغير قراءة لم يجزه ولم يدخل في الأمر لأنه لم يأت بالمأمور على الوجه الذي أمر به وإن نقص منه ما ليس بشرط كالتسمية في الطهارة أجزأه في المأمور وهل يدخل ذلك في الأمر الظاهر؟ من قول أصحابنا أنه لا يدخل في الأمر وقال أصحاب أبي حنيفة: يدخل في الأمر وهذا غير صحيح لأن المكروه منهي عنه فلا يجوز أن يدخل في لفظ الأمر كالمحرم.
পরিচ্ছেদ

পক্ষান্তরে, আদেশকৃত (مأمور) বিষয় থেকে যখন কোনো কিছু হ্রাস পায়, তখন বিবেচনা করতে হবে: যদি ঘাটতিটি এমন কোনো বিষয়ে হয় যা তার শুদ্ধতার (صحة) জন্য শর্ত (شرط), যেমন কিরাত ব্যতীত নামাজ, তবে তা যথেষ্ট (مجزئ) হবে না এবং নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত হবে না; কারণ সে আদেশকৃত (مأمور) বিষয়টি সেই পদ্ধতিতে সম্পাদন করেনি যেভাবে তাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছিল। আর যদি ঘাটতিটি এমন বিষয়ে হয় যা শর্ত (شرط) নয়, যেমন পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে তাসমিয়া (تسمية) পাঠ করা, তবে তা আদেশকৃত (مأمور) বিষয়ের ক্ষেত্রে যথেষ্ট (مجزئ) হবে। তবে তা কি প্রকাশ্য নির্দেশের (الأمر الظاهر) অন্তর্ভুক্ত হবে? আমাদের সাথীদের (মাযহাবের ইমামগণের) অভিমত হলো, এটি নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর ইমাম আবু হানিফার অনুসারীরা বলেছেন: এটি নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু এই বক্তব্যটি সঠিক নয়; কারণ যা অপছন্দনীয় (مكروه) তা মূলত নিষিদ্ধ (منهي عنه), সুতরাং নিষিদ্ধের (محرم) ন্যায় অপছন্দনীয় বিষয়ও নির্দেশের শব্দের অন্তর্ভুক্ত হওয়া বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌باب من يدخل في الأمر ومن لا يدخل فيه

اعلم أن الساهي لا يجوز أن يدخل في الأمر والنهي لأن القصد إلى التقرب بالفعل والترك يتضمن العلم به حتى يصح القصد إليه وهذا يستحيل في حق الناسي ألا ترى أنه لو قيل له: لا تتكلم في صلاتك وأنت ساه لوجب أن يقصد إلى ترك ما يعلم أنه ساه فيه وعلمه بأنه ساه يمنع كونه ساهيا فبطل خطابه على هذه الصفة.

فصل

وكذلك لا يجوز خطاب النائم ولا المجنون ولا السكران لأنه لو جاز خطابهم مع زوال العقل لجاز خطاب البهيمة والطفل في المهد وهذا لا يقوله أحد.

فصل

وأما المكره فيصح دخوله في الخطاب والتكليف وقالت المعتزلة لا يصح دخوله تحت التكليف وهذا خطأ لأنه لو لم يصح تكليفه لما كلف ترك القتل مع الإكراه ولأنه عالم قاصد إلى ما يفعله فهو كغير المكره.

فصل

وأما الصبي فلا يدخل في خطاب التكليف فإن الشرع قد ورد بإسقاط
পরিচ্ছেদ: যারা শরীয়তের আদেশের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং যারা হবে না

জেনে রাখুন যে, অমনোযোগী (الساهي) ব্যক্তির ক্ষেত্রে আদেশ (الأمر) এবং নিষেধ (النهي) প্রযোজ্য হওয়া জায়েজ নয়। কারণ কোনো কাজ করা বা বর্জন করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সংকল্প (القصد) করার জন্য সে বিষয়ে জ্ঞান থাকা আবশ্যক, যাতে করে সেই কাজের সংকল্প করা সহিহ (صحيح) হয়। আর বিস্মৃত (الناسي) ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব। আপনি কি দেখেন না যে, যদি তাকে বলা হয়: "আপনি যখন ভুলক্রমে বা অমনোযোগী অবস্থায় থাকবেন তখন সালাতে কথা বলবেন না", তবে সে যা ভুলে গেছে তা বর্জন করার সংকল্প করা তার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়বে। অথচ সে যে বিষয়টি ভুলে গেছে তা জানতে পারা তাকে অমনোযোগী (ساهيا) থাকার অবস্থা থেকে বের করে দেয়। সুতরাং এই অবস্থায় তার প্রতি সম্বোধন (الخطاب) বাতিল হয়ে যায়।

পরিচ্ছেদ

অনুরূপভাবে, নিদ্রিত, পাগল এবং মদ্যপ ব্যক্তিকে সম্বোধন (الخطاب) করা জায়েজ নয়। কারণ বিবেক (العقل) লোপ পাওয়া সত্ত্বেও যদি তাদের সম্বোধন করা জায়েজ হতো, তবে পশু এবং দোলনার শিশুকেও সম্বোধন করা জায়েজ হতো, যা কেউ বলে না।

পরিচ্ছেদ

তবে বাধ্য বা জবরদস্তিকৃত (المكره) ব্যক্তির ক্ষেত্রে সম্বোধন (الخطاب) এবং শরীয়তের বিধানের বাধ্যবাধকতা (التكليف) প্রযোজ্য হওয়া সহিহ (يصح)। মুতাজিলাগণ বলেছেন যে, সে শরীয়তের বিধানের বাধ্যবাধকতা (التكليف) এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত হবে না। কিন্তু এই মতটি ভুল; কারণ যদি তার ওপর বিধান অর্পণ করা সহিহ (يصح) না হতো, তবে জবরদস্তির শিকার হওয়া সত্ত্বেও তাকে হত্যা পরিহার করার বিধান দেওয়া হতো না। অধিকন্তু, সে যা করছে সে সম্পর্কে সে জ্ঞানী ও সংকল্পকারী (قاصد), তাই সে জবরদস্তিহীন ব্যক্তির মতোই।

পরিচ্ছেদ

আর শিশুর ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধানের বাধ্যবাধকতা (التكليف) সম্বলিত সম্বোধন প্রযোজ্য হয় না, কারণ শরীয়ত [তার ওপর থেকে বিধান] রহিত করার বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ২১)
التكليف عنه وأما إيجاب الحقوق في ماله فيجوز أن يدخل فيه كالزكوات والنفقات فإن التكليف والخطاب في ذلك على وليه دونه.

فصل

وأما العبيد فإنهم يدخلون في الخطاب ومن أصحابنا من قال: لا يدخلون في خطاب الشرع إلا بدليل وهذا خطأ لأن الخطاب يصلح لهم كما يصلح للأحرار.

فصل

وأما الكفار فإنهم يدخلون أيضا في الخطاب ومن أصحابنا من قال لا يدخلون في الشرعيات ومن الناس من قال يدخلون في المنهيات دون المأمورات والدليل على أنهم يدخلون في الجميع قوله عز وجل {مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ} 1 ولو لم يكونوا مخاطبين بالصلاة لما عاقبهم عليها ولأن صلاح الخطاب لهم كصلاحه للمسلمين فكما دخل المسلمون وجب أن يدخل الكفار.

فصل

وأما النساء: فإنهن لا يدخلن في خطاب الرجال وقال أبو بكر بن داود وأصحاب أبي حنيفة يدخلن وهذا خطأ لأن للنساء لفظا مخصوصا كما أن للرجال لفظا مخصوصا فكما لم تدخل الرجال في خطاب النساء لم تدخل النساء في خطاب الرجال.

فصل

وأما رسول الله صلى الله عليه وسلم فإنه يدخل في كل خطاب خوطب به الأمة كقوله تعالى {يَا أَيُّهَا النَّاسُ} و {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا} وغير ذلك لأن صلاح اللفظ له كصلاحه لكل أحد من الأمة فكما دخلت الأمة دخل النبي

--------------------------------------------

1 سورة المدثر الآية: 42، 43.
তার থেকে শরীয়তের বাধ্যবাধকতা (التكليف) রহিত হবে। তবে তার সম্পদে যাকাত ও ভরণপোষণের মতো আর্থিক অধিকারগুলো ওয়াজিব হওয়া জায়েয। কারণ এক্ষেত্রে শরীয়তের বাধ্যবাধকতা (التكليف) ও শরীয়তের সম্বোধন (الخطاب) তার অভিভাবকের ওপর বর্তায়, তার নিজের ওপর নয়।

পরিচ্ছেদ

আর দাসদের ক্ষেত্রে কথা হলো, তারা শরীয়তের সম্বোধন (الخطاب)-এর অন্তর্ভুক্ত। আমাদের মাযহাবের একদল আলিম বলেছেন: তারা কোনো দলীল ব্যতীত শরীয়তের সম্বোধন (خطاب الشرع)-এর অন্তর্ভুক্ত হবে না; কিন্তু এই মতটি ভুল। কারণ স্বাধীন ব্যক্তিদের জন্য যেভাবে সম্বোধন (الخطاب) উপযুক্ত, তাদের জন্যও তা তেমনি উপযুক্ত।

পরিচ্ছেদ

আর কাফিরদের ক্ষেত্রে কথা হলো, তারাও শরীয়তের সম্বোধন (الخطاب)-এর অন্তর্ভুক্ত। আমাদের সঙ্গীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, তারা শরীয়তের বিধানসমূহ (الشرعيات)-এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। আবার অন্য কেউ কেউ বলেছেন, তারা নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ (المنهيات)-এর অন্তর্ভুক্ত হবে, কিন্তু আদিষ্ট বিষয়সমূহ (المأمورات)-এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। তারা যে সবকিছুর অন্তর্ভুক্ত হবে তার দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {কী তোমাদের সাকারে (জাহান্নামে) নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে: আমরা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না} ১। যদি তারা সালাতের জন্য সম্বোধিত (مخاطبين) না হতো, তবে সালাত বর্জনের কারণে তাদের শাস্তি দেওয়া হতো না। আর যেহেতু মুসলমানদের জন্য সম্বোধন (الخطاب) যেভাবে প্রযোজ্য, তাদের জন্যও তেমনি প্রযোজ্য, তাই মুসলমানরা যেভাবে এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হওয়াও তেমনি আবশ্যক।

পরিচ্ছেদ

আর নারীদের ক্ষেত্রে কথা হলো: তারা পুরুষদের প্রতি সম্বোধন (خطاب الرجال)-এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। আবু বকর ইবনে দাউদ এবং আবু হানিফার অনুসারীগণ বলেছেন যে, তারা অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু এটি ভুল; কারণ নারীদের জন্য যেমন নির্দিষ্ট শব্দ (لفظا مخصوصا) রয়েছে, পুরুষদের জন্যও তেমনি নির্দিষ্ট শব্দ (لفظا مخصوصا) রয়েছে। সুতরাং পুরুষরা যেভাবে নারীদের সম্বোধনে অন্তর্ভুক্ত হয় না, নারীরাও তেমনি পুরুষদের সম্বোধনে অন্তর্ভুক্ত হবে না।

পরিচ্ছেদ

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে কথা হলো, উম্মতকে যে সম্বোধনে সম্বোধন (خوطب) করা হয়েছে, তার প্রত্যেকটিতে তিনি অন্তর্ভুক্ত। যেমন মহান আল্লাহর বাণী {হে মানবজাতি} এবং {হে মুমিনগণ} ইত্যাদি। কারণ উম্মতের প্রত্যেকের জন্য শব্দের উপযোগিতা (صلاح اللفظ) যেমন, তাঁর জন্যও তেমন। সুতরাং উম্মত যেভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, নবীও তেমনি অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৪২, ৪৩।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ২২)
صلى الله عليه وسلم وأما إذا خوطب النبي صلى الله عليه وسلم بخطاب خاص لم يدخل معه غيره إلا بدليل كقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ قُمِ اللَّيْلَ} 1 وقوله: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ} 2 ومن الناس من قال ما ثبت أنه شرع له دخل غيره معه فيه وهذا خطأ لأن الخطاب مقصور عليه فمن زعم أن غيره يدخل فيه فقد خالف مقتضى الخطاب.

فصل

فأما إذا أمر صلى الله عليه وسلم أمته بشيء لم يدخل هو فيه ومن أصحابنا من قال يدخل فيما يأمر به الأمة وهذا خطأ لأن ما خاطب به الأمة من الخطاب لا يصح له فلا يجوز أن يدخل فيه من غير دليل.

فصل

وأما ما خاطب الله عز وجل به الخلق خطاب المواجهة كقوله تعالى {يَا أَيُّهَا النَّاسُ} و {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا} فإنه لا يدخل فيه سائر من لم يخلق من جهة الصيغة واللفظ لأن هذا الخطاب لا يصلح إلا لمن هو موجود على الصفة التي متى ذكرها فأما من لم يخلق فلا يصلح له هذا الخطاب وكذلك إذا خاطب رسول الله صلى الله عليه وسلم بخطاب لم يدخل غيره فيه من جهة اللفظ لأن الذي خاطبه به لا يتناول غيره وإنما يدخل الغير في حكم ذلك الخطاب بدليل وهو قوله صلى الله عليه وسلم: "حكمي على واحد حكمي على الجماعة". والقياس وهو أن يوجد المعنى الذي حكم به فيمن حكم عليه في غيره فيقاس عليه.

فصل

إذا ورد الخطاب بلفظ العموم دخل فيه كل من صلح له الخطاب ولا يسقط ذلك الفعل عن بعضهم بفعل البعض إلا فيما ورد الشرع به وقرره أنه

--------------------------------------------

1 سورة المزمل الآية: 1، 2.

2 سورة الأحزاب الآية: 28. والآية: 59.
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যখন কোনো বিশেষ (خاص) সম্বোধন করা হয়, তখন কোনো প্রমাণ (دليل) ব্যতীত অন্য কেউ তাঁর সাথে অন্তর্ভুক্ত হবে না। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হে চাদরাবৃত! রাতে দণ্ডায়মান হোন} ১ এবং তাঁর বাণী: {হে নবী! আপনি আপনার পত্নীদের বলুন} ২। মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, যা তাঁর জন্য শরিয়ত হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, তাতে অন্যরাও তাঁর সাথে অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু এটি ভুল; কারণ সম্বোধনটি কেবল তাঁর ওপরই সীমাবদ্ধ। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করবে যে অন্যরাও এর অন্তর্ভুক্ত হবে, সে মূলত সম্বোধনের চাহিদার পরিপন্থী কাজ করল।

পরিচ্ছেদ

কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর উম্মতকে কোনো কিছুর নির্দেশ দেন, তখন তিনি স্বয়ং তার অন্তর্ভুক্ত হন না। আমাদের সাথীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, উম্মতকে যা নির্দেশ দেওয়া হয় তাতে তিনিও অন্তর্ভুক্ত হবেন। এটি ভুল; কারণ উম্মতকে যে সম্বোধন করা হয়েছে, তা তাঁর জন্য প্রযোজ্য হওয়া সঠিক নয়। সুতরাং প্রমাণ (دليل) ব্যতীত তিনি এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া জায়েজ নয়।

পরিচ্ছেদ

আর মহান আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সরাসরি সম্বোধনের মাধ্যমে যা বলেছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী {হে লোকসকল!} এবং {হে মুমিনগণ!}, রূপকাঠামো (صيغة) ও শব্দের দিক থেকে যারা তখনো সৃষ্টি হয়নি তারা এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। কারণ, এই সম্বোধন কেবল তাদের জন্যই উপযুক্ত যারা সেই বৈশিষ্ট্যে বিদ্যমান থাকাকালীন তাদের উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু যারা তখনো সৃষ্টি হয়নি, তাদের জন্য এই সম্বোধন সমীচীন নয়। একইভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি কাউকে কোনো সম্বোধন করেন, তবে শব্দের দিক থেকে অন্য কেউ তার অন্তর্ভুক্ত হবে না; কারণ যাকে তিনি সম্বোধন করেছেন, তা অন্যকে শামিল করে না। বরং অন্যের ওপর সেই সম্বোধনের বিধান প্রমাণের (دليل) মাধ্যমে কার্যকর হবে, আর তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "একজনের ওপর আমার বিধান মানেই জামাতের ওপর আমার বিধান।" আর অন্যটি হলো কিয়াস (قياس), অর্থাৎ যার ওপর বিধান দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে যে মূল অর্থ বিদ্যমান, তা যদি অন্যের মধ্যেও পাওয়া যায়, তবে তার ওপরও তা কিয়াস করা হবে।

পরিচ্ছেদ

যখন কোনো সম্বোধন সাধারণ (عموم) শব্দে আসে, তখন সেই সম্বোধনের উপযুক্ত সবাই তার অন্তর্ভুক্ত হয়। আর শরিয়তের পক্ষ থেকে বর্ণিত ও সাব্যস্ত কোনো সিদ্ধান্ত ব্যতীত একজনের আমলের মাধ্যমে অন্যদের ওপর থেকে সেই আমল বা দায়িত্ব রহিত হয় না।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মুযযাম্মিল, আয়াত: ১, ২।

২ সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২৮ এবং আয়াত: ৫৯।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ২৩)
فرض كفاية كالجهاد وتكفين الميت والصلاة عليه ودفنه فإنه إذا قام به من يقع به الكفاية سقط عن الباقين.
এটি সামষ্টিক আবশ্যিক দায়িত্ব (فرض كفاية), যেমন জিহাদ, মৃত ব্যক্তিকে কাফন পরানো, তাঁর জানাযার নামাজ পড়া এবং তাঁকে দাফন করা। কেননা যখন পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক এটি সম্পাদন করে যার দ্বারা প্রয়োজনীয়তা পূর্ণ হয়, তখন তা অবশিষ্টদের পক্ষ থেকে রহিত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আল-লুমায়ু ফী উসুলিল ফিকহি লিশ শিরাজী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌باب بيان الفرض والواجب والسنة والندب

والواجب والفرض والمكتوبة واحد وهو ما يعلق العقاب بتركه. وقال أصحاب أبي حنيفة الواجب ما ثبت وجوبه بدليل مجتهد فيه كالوتر والأضحية عندهم والفرض ما ثبت وجوبه بدليل مقطوع به كالصلوات الخمس والزكوات المفروضة وما أشبهها وهذا خطأ لأن طريق الأسماء الشرع واللغة والاستعمال وليس في شيء من ذلك فرق بين ما ثبت بدليل مقطوع به أو بطريق مجتهد فيه.

فصل

وأما السنة فما رسم ليحتذي به على سبيل الاستحباب وهي والنفل والندب بمعنى واحد، ومن الناس من قال السنة ما ترتب كالسنن الراتبة مع الفرائض والنفل والندب ما زاد على ذلك وهذا لا يصح لأن كل ما ورد الشرع باستحبابه فهو سنة سواء كان راتبا أو غير راتب فلا معنى لهذا الفرق.

فصل

إذا قال الصحابي أمر رسول صلى الله عليه وسلم بكذا وجب قبوله ويصير كما لو قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أمرت بكذا، وقال داود لا يقبل حتى ينقل لفظه والدليل على ما قلناه هو أن الراوي مصدق فيما يرويه وهو عارف بالأمر والنهي لأنه لغته فوجب أن يقبل كسائر ما يرويه.

فصل

وكذلك إن قال من السنة كذا حمل على سنة النبي صلى الله عليه وسلم، وأما إذا قال أمر فلان بكذا أو أمرنا أو نهينا ولم يسم الآمر حمل ذلك على الرسول صلى الله عليه وسلم وقال أصحاب أبي حنيفة: لا يحمل على ذلك إلا
ফরজ (الفرض), ওয়াজিব (الواجب), সুন্নাত (السنة) এবং মুস্তাহাব (الندব) এর বর্ণনার অধ্যায়

ওয়াজিব (الواجب), ফরজ (الفرض) এবং মাকতুবাহ (المكتوبة) অভিন্ন; আর তা হলো এমন বিষয় যা পরিত্যাগ করার সাথে শাস্তি সংশ্লিষ্ট। ইমাম আবু হানিফার অনুসারীগণ বলেন, ওয়াজিব (الواجب) হলো যা এমন দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে যাতে ইজতিহাদের অবকাশ রয়েছে (مجتهد فيه), যেমন তাদের নিকট বিতর নামাজ ও কুরবানি; আর ফরজ (الفرض) হলো যা অকাট্য দলিলের (مقطوع به) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে, যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, ফরজ জাকাত এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। আর এটি ভুল, কারণ পারিভাষিক নামকরণের ভিত্তি হলো শরিয়ত, ভাষা ও ব্যবহার; আর এগুলোর কোনোটিতেই অকাট্য দলিলের (مقطوع به) মাধ্যমে সাব্যস্ত হওয়া এবং ইজতিহাদলব্ধ উপায়ে (مجتهد فيه) সাব্যস্ত হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

পরিচ্ছেদ

আর সুন্নাত (السنة) হলো এমন কাজ যা অনুসরণ করার জন্য মুস্তাহাব (الاستحباب) হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে; আর সুন্নাত (السنة), নফল (النفل) এবং মুস্তাহাব (الندব) একই অর্থবোধক। মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, সুন্নাত (السنة) হলো যা সুশৃঙ্খলভাবে নির্ধারিত, যেমন ফরজ নামাজের সাথে নিয়মিত সুন্নাতসমূহ (السنن الراتبة); আর নফল (النفل) ও মুস্তাহাব (الندব) হলো এর অতিরিক্ত বিষয়গুলো। কিন্তু এটি সঠিক নয়, কারণ শরিয়তে যা কিছু মুস্তাহাব (استحبابه) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে তাই সুন্নাত (سنة), চাই তা নিয়মিত (راتبا) হোক বা অনিয়মিত (غير راتب); সুতরাং এই পার্থক্যের কোনো অর্থ নেই।

পরিচ্ছেদ

যদি কোনো সাহাবি বলেন যে, 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরূপ নির্দেশ দিয়েছেন', তবে তা গ্রহণ করা ওয়াজিব (وجب); এবং এটি এমন হবে যেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বয়ং বলেছেন যে, 'আমি এরূপ নির্দেশ দিচ্ছি'। দাউদ (আল-জাহিরি) বলেন, এটি ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে না যতক্ষণ না তিনি রাসূলের শব্দ উদ্ধৃত করেন। তবে আমরা যা বলেছি তার দলিল হলো, বর্ণনাকারী (الراوي) তিনি যা বর্ণনা করেন তাতে সত্যবাদী হিসেবে গণ্য এবং তিনি আদেশ (الأمر) ও নিষেধ (النهي) সম্পর্কে সম্যক অবগত, কারণ এটি তাঁর মাতৃভাষা; সুতরাং তাঁর অন্যান্য বর্ণনার ন্যায় এটি গ্রহণ করাও ওয়াজিব (وجব)।

পরিচ্ছেদ

একইভাবে যদি তিনি বলেন 'এটি সুন্নাত (السنة) এর অন্তর্ভুক্ত', তবে তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাতের (سنة) ওপরই প্রযোজ্য হবে। আর যদি তিনি বলেন, 'অমুক ব্যক্তি এরূপ আদেশ করেছেন' অথবা 'আমাদের আদেশ করা হয়েছে' কিংবা 'আমাদের নিষেধ করা হয়েছে' এবং আদেশদাতার নাম উল্লেখ না করেন, তবে তাও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশের ওপরই প্রয়োগ করা হবে। তবে ইমাম আবু হানিফার অনুসারীগণ বলেছেন: এটি তার ওপর প্রয়োগ করা হবে না যদি না...