(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: -)
القول المبين في سيرة سيد المرسلين   (محمد الطيب النجار)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: القول المبين في سيرة سيد المرسلين

المؤلف: محمد الطيب النجار (ت 1411هـ)

الناشر: دار الندوة الجديدة بيروت - لبنان

عدد الصفحات: 432

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রাসুলগণের সরদারের জীবনীতে সুস্পষ্ট বক্তব্য   (মুহাম্মদ তাইয়্যেব আল-নাজ্জার)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


বই: রাসুলগণের সরদারের জীবনীতে সুস্পষ্ট বক্তব্য

লেখক: মুহাম্মদ তাইয়্যেব আল-নাজ্জার (মৃত্যু ১৪১১ হিজরি)

প্রকাশক: দারুন নাদওয়াতিল জাদিদাহ, বৈরুত - লেবানন

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌مقدمات

‌‌مقدمة الناشر

…

مقدمة الناشر

الحمد لله منزل الكتاب ومثله معه، والصلاة والسلام على الرسول الهادي ذي الأحاديث الجامعة وعلى الآل، والصحب ومن بلّغ عنه حديثًا سمعه، أو نهج نهجه وتبعه.

أما بعد:

فإنه لما انعقد عزمنا في دار الندوة الجديدة على إخراج كتاب "القول المبين في سيرة سيد المرسلين" للدكتور الطيب النجار.

فقد عهدنا لشيخنا الأستاذ عبد السلام بن محمد بن عمر علوش، بالنظر في الكتاب والتعليق عليه، بما يكشف النقاب عما أودعه صاحبه من فضول في السيرة وتفاصيلها؛ حتى يجتمع للكتاب النص والتوثيق، اللذان لا يعتبران كتاب في السيرة إلا باجتماعهما.

فقام بحمد لله بذلك حق قيام، فميز الصحيح من الضعيف، وما كان فيه من رأي فإما دعمه عند التوافق، أو انتقده عند الاعتراض.

وقد ظهر من هذا أن الغالب على روايات الكتاب الصحة، اللهم إلا في مواضع يسيرة نبه عليها.

وكذلك ما أودعه فيه من بعض الترجيحات فالغالب أنه كان موفقًا فيها، وإلا انتقده وبين وجه الصواب الذي يوافقه الدليل. لم يدخر وسعًا في ذلك مما يحتاجه الكتاب، وتسمح به الحواشي.

والله أسأل أن يجعل له قبولًا ونفعًا، إنه سميع مجيب.

الناشر
ভূমিকা

প্রকাশকের ভূমিকা

…

প্রকাশকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কিতাব এবং এর সাথে এর অনুরূপ (সুন্নাহ) অবতীর্ণ করেছেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক হিদায়েতকারী রাসূলের প্রতি, যিনি ব্যাপক অর্থবোধক হাদীসসমূহের অধিকারী, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর থেকে শোনা হাদীস পৌঁছে দিয়েছেন অথবা তাঁর পথ ও পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, তাঁদের প্রতি।

অতঃপর:

যখন 'দারুন নদওয়াহ আল-জাদীদাহ'-তে আমরা ডক্টর আল-তায়্যিব আল-নাজ্জারের 'আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন' গ্রন্থটি প্রকাশের সংকল্প গ্রহণ করলাম।

তখন আমরা আমাদের শায়খ উস্তাদ আবদুস সালাম বিন মুহাম্মদ বিন উমর আল্লুশ-কে কিতাবটি পর্যবেক্ষণ এবং এর ওপর টীকা প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করি, যাতে সীরাত ও এর বিস্তারিত বিবরণে লেখকের উপস্থাপিত অতিরিক্ত বিষয়গুলোর পর্দা উন্মোচিত হয়; যার ফলে কিতাবটিতে মূল পাঠ এবং প্রামাণ্যতা—উভয়টির সমন্বয় ঘটে, যা ব্যতিরেকে কোনো গ্রন্থ সীরাত গ্রন্থ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।

আল্লাহর প্রশংসায় তিনি এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। তিনি সহীহ (বিশুদ্ধ) ও যয়ীফ (দুর্বল)-কে পৃথক করেছেন। কিতাবে বিদ্যমান মতামতের ক্ষেত্রে অনুকূল হলে তা সমর্থন করেছেন এবং প্রতিকূল হলে সমালোচনা করেছেন।

এর দ্বারা স্পষ্ট হয়েছে যে, কিতাবের অধিকাংশ বর্ণনা সহীহ, তবে সামান্য কিছু স্থান ব্যতীত যা তিনি নির্দেশ করে দিয়েছেন।

একইভাবে কিতাবটিতে যেসকল অগ্রাধিকারমূলক মত তিনি পেশ করেছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি সফল ছিলেন; অন্যথায় তিনি তার সমালোচনা করেছেন এবং দলীলের সাথে সংগতিপূর্ণ সঠিক দিকটি স্পষ্ট করেছেন। কিতাবের জন্য যা প্রয়োজন এবং টীকায় যতটুকু সংকুলান হয়, তা করতে তিনি কোনো ত্রুটি করেননি।

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে কবুল করেন এবং এর দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও কবুলকারী।

প্রকাশক
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

شريعة الله إلى الناس واحدة، ورسالته إلى الأنبياء خالدة، تمتد جذورها إلى الإنسان الأول وهو آدم أبو البشر. وتنتهي فروعها بانتهاء هذا الجنس البشري، وقيام الناس لرب العالمين.

وإذا كان محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم هو خاتم الرسل والأنبياء؛ فإن رسالته لا تزال متصلة إلى يوم الناس هذا، يحملها خلفاؤه والعلماء من أمته على توالي الأجيال والقرون …

ولقد شرع الله للإنسانية دينًا واحدًا في جوهره وأصوله، لم يتغير بتغير الأنبياء. ولم يتبدل باختلاف الأزمنة والعصور؛ بل كان أساسه توحيد الله والإخلاص في عبادته، وكانت دعائمه توزيع العدالة بين الناس، وتنظيم العلاقة بين الفرد والجماعة، وتربية الضمير1 الديني ليكون بين يدي الناس ومن وارئهم قانونًا يحكم ويلزم، ويراقب ويحاسب.

وهكذا كان الأنبياء جميعًا منذ أبيهم آدم عليه السلام إلى خاتمهم محمد صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

1 أي الوازع الديني، من محبة الله تعالى وفعل الخيرات طمعًا في جنته، وترك المنكرات والآثام، خوفًا من عقابه.

وأما ما شاع عند العامة من أن الضمير هي إرادة الخير، وعدم الإضرار بالآخرين، وإنها تنشأ عند كل إنسان عاقل؛ فشيء لا حقيقة له، والواقع ينقضه، وحسبنا قول الله تعالى: {إِنَّ الإِنسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا، إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا، وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا، إِلَاّ الْمُصَلِّينَ} .

ولذلك كان لا بد لصلاح الفرد من تربية دينه، تسدد خطاه، وتنير دربه.
ভূমিকা

মানুষের জন্য আল্লাহর বিধান এক ও অভিন্ন, এবং নবীদের প্রতি তাঁর বার্তা চিরন্তন, যার মূল প্রোথিত রয়েছে প্রথম মানুষ তথা মানবজাতির পিতা আদমের মাঝে। আর এর শাখা-প্রশাখার সমাপ্তি ঘটবে এই মানবজাতির বিলুপ্তি এবং রব্বুল আলামীনের সামনে মানুষের দণ্ডায়মান হওয়ার মাধ্যমে।

মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) যেহেতু সর্বশেষ রাসূল ও নবী; তাই তাঁর প্রেরিত বার্তা আজও অবধি নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যমান, যা তাঁর উম্মতের উত্তরসূরি ও আলেমগণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম এবং শতাব্দীকাল ধরে বহন করে আসছেন …

নিশ্চয়ই আল্লাহ মানবতার জন্য এমন এক জীবনব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন যা তার মূলসত্তা ও মৌলিক নীতিমালায় অভিন্ন, যা নবীদের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয়নি। কাল ও যুগের পার্থক্যে যা বদলে যায়নি; বরং এর ভিত্তি ছিল আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর ইবাদতে একনিষ্ঠতা। আর এর স্তম্ভসমূহ ছিল মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার বন্টন করা, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করা এবং ধর্মীয় বিবেকের১ এমন পরিশোধন করা যেন তা মানুষের সামনে ও পেছনে এমন এক আইন হিসেবে থাকে যা শাসন ও বাধ্য করবে এবং পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

আর এভাবেই সকল নবীগণ ছিলেন, তাঁদের পিতা আদম (আলাইহিস সালাম) থেকে শুরু করে তাঁদের শেষ নবী মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) পর্যন্ত।

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ ধর্মীয় অনুশাসন, যা আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসা এবং তাঁর জান্নাতের আশায় সৎকর্ম করা এবং তাঁর শাস্তির ভয়ে মন্দ কাজ ও পাপ বর্জন করার মাধ্যমে অর্জিত হয়।

আর সাধারণ মানুষের মাঝে যা প্রচলিত যে, বিবেক হলো কেবল কল্যাণের ইচ্ছা এবং অন্যের ক্ষতি না করা, এবং এটি প্রতিটি বুদ্ধিমান মানুষের মাঝে এমনিতেই জন্ম নেয়— এর কোনো বাস্তবতা নেই এবং বাস্তব পরিস্থিতি একে খণ্ডন করে। আমাদের জন্য আল্লাহ তায়ালার এই বাণীই যথেষ্ট: {নিশ্চয় মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অতিশয় অস্থিরমনা হিসেবে। যখন তাকে বিপদ স্পর্শ করে, তখন সে হা-হুতাশ করে। আর যখন তাকে কল্যাণ স্পর্শ করে, তখন সে কৃপণ হয়ে যায়। তবে তারা ব্যতীত যারা সালাত আদায়কারী}।

তাই ব্যক্তির সংশোধনের জন্য তার ধর্মীয় শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই, যা তার পদক্ষেপকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে এবং তার পথকে আলোকিত করবে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ৬)
هم الظل الظليل الذي هيأه الله ليفيء1 الناس إليه، وينعموا به جيلًا بعد جيل. بل هم المنارات الساطعة التي تظهر معالم الحق، وتكشف المكنون من الأسرار، وتضع أبصار الناس وبصائرهم على طريق الهدى والنور..

وإلى هذا المعنى الذي تحدثنا عنه وهو اتحاد الديانات السماوية في جوهرها وأصولها، يشير القرآن الكريم في مثل قوله تعالى في سورة الشورى: {شَرَعَ لَكُمْ مِنْ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ يُنِيبُ} 2، وفي مثل قوله في سورة النساء: {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَوْحَيْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالأَسْبَاطِ وَعِيسَى وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهَارُونَ وَسُلَيْمَانَ وَآتَيْنَا دَاوُودَ زَبُورًا، وَرُسُلًا قَدْ قَصَصْنَاهُمْ عَلَيْكَ مِنْ قَبْلُ وَرُسُلًا لَمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا، رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا} 3.

ويسوغ لنا على هذا الأساس أن نعتبر الكتب السماوية جميعًا ومن حيث ما تتضمنه من المبادئ الدينية الأساسية والمثل الأخلاقية كتابًا واحدًا تتعدد أبوابه ولكن تتوحد أهدافه ومراميه، وتختلف الأساليب في فصوله ولكن تتفق دلالاته ومعانيه، ولعل هذا هو ما يفهم من القرآن الكريم حينما يتحدث عن الدين بوجه عام فيقول: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الإِسْلامُ} 4، ويقول: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلامِ

--------------------------------------------

1 ليرجع.

2 سورة الشورى، الآية 13.

3 سورة النساء، الآيات 163 - 164 - 165.

4 سورة آل عمران، الآية 3.
তারা হলেন সেই নিবিড় ছায়া যা আল্লাহ প্রস্তুত করেছেন যাতে মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা দ্বারা ধন্য হতে পারে। বরং তারা হলেন সেই প্রদীপ্ত আলোকবর্তিকা যা সত্যের নিদর্শনসমূহকে প্রকাশ করে, লুকায়িত রহস্যসমূহকে উন্মোচন করে এবং মানুষের দৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টিকে হেদায়েত ও আলোর পথে পরিচালিত করে।

আর আমরা যে অর্থের কথা বলেছি, অর্থাৎ আসমানি ধর্মসমূহের তাদের সারসত্তা ও মূলনীতিতে একীভূত হওয়া, সেদিকেই পবিত্র কুরআন ইঙ্গিত করে, যেমন সূরা আশ-শূরায় মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই প্রবর্তন করেছেন যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি আপনার প্রতি ওহী করেছি, আর যার নির্দেশ আমি ইব্রাহিম, মূসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে মতভেদ করো না। আপনি মুশরিকদেরকে যে বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন তা তাদের নিকট অত্যন্ত ভারী মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর নিজের জন্য মনোনীত করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে তিনি হেদায়েত দান করেন} ২। এবং সূরা আন-নিসার এই বাণীর মতো: {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি যেভাবে আমি ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহ ও তাঁর পরবর্তী নবীগণের প্রতি; আর আমি ওহী পাঠিয়েছিলাম ইব্রাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরগণ, ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারুন ও সুলাইমানের প্রতি এবং আমি দাউদকে যাবুর প্রদান করেছি। আর এমন অনেক রাসূল পাঠিয়েছেন যাদের কথা আমি পূর্বে আপনার কাছে বর্ণনা করেছি এবং এমন অনেক রাসূল যাদের কথা আপনার কাছে বর্ণনা করিনি; আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন। এসকল রাসূলগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে যাতে রাসূলগণের আগমনের পর আল্লাহর সামনে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} ৩।

এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের জন্য এটি সংগত যে, আমরা সকল আসমানি কিতাবকে তাদের অন্তর্ভুক্ত মৌলিক ধর্মীয় মূলনীতি এবং নৈতিক আদর্শের বিচারে একটিমাত্র কিতাব হিসেবে গণ্য করব, যার অধ্যায়গুলো বহুবিধ কিন্তু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক; যার পরিচ্ছেদগুলোতে বর্ণনাভঙ্গি ভিন্ন হলেও তার মর্ম ও অর্থগুলো অভিন্ন। সম্ভবত পবিত্র কুরআন যখন সাধারণভাবে দ্বীন সম্পর্কে আলোচনা করে তখন এটিই ফুটে ওঠে, যখন আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম} ৪, এবং তিনি বলেন: {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কিছু...

--------------------------------------------

১ যাতে ফিরে আসে।

২ সূরা আশ-শূরা, আয়াত ১৩।

৩ সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৬৩ - ১৬৪ - ১৬৫।

৪ সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৩।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ৭)
دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنْ الْخَاسِرِينَ} 1، ويذكر وصية إبراهيم لبنيه حينما قال لهم: {يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمْ الدِّينَ فَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 2.

فالإسلام هو الدين الخاص الذي يدعو إلى عبادة الله، والانقياد لأمره وتقواه، مهما تعدد الأنبياء وكثرت الدعاة.

ولأن مشيئة الله سبحانه قد سبقت بأن يجعل دين محمد صلى الله عليه وسلم دين العالمين؛ فقد أخذ الله العهد والميثاق على الأنبياء بأن يؤمنوا بمحمد صلى الله عليه وسلم إن جاءهم، مصدقًا لما أنزل عليهم. وكان معنى ذلك تنبيه الأمم والشعوب التي ستدرك زمن محمد صلى الله عليه وسلم إلى الإيمان به والتصديق بدعوته؛ لأنها دعوة الحق الذي لا يأتيه الباطل، ولأنهما الدعوة العالمية التي كتب الله لها الخلود ما دامت السموات والأرض وما بقي هذا الوجود..

وفي ذلك يقول الله عز وجل: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنْ الشَّاهِدِينَ} 3.

ولا ريب أن سيرة هذا النبي العظيم صلى الله عليه وسلم إنما هي الأساس الكامل لدعوته الكريمة التي أضاءت المشارق والمغارب، وملأت العالم بالهدى والنور. ومن أجل ذلك كانت أهمية هذه السيرة الوضاءة العطرة للمسلمين بل للإنسانية جمعاء حيث تناقلتها الأمم والشعوب جيلًا بعد جيل. ثم سجلت بعد ذلك على مختلف

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران، الآية 85.

2 سورة البقرة، الآية 132.

3 سورة آل عمران، الآية 81.
দ্বীন হিসেবে (গ্রহণ করবে), তবে তা তার থেকে কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।} ১, এবং তিনি তাঁর সন্তানদের প্রতি ইব্রাহীমের অসিয়তের কথা উল্লেখ করেন যখন তিনি তাদের বলেছিলেন: {হে আমার পুত্রগণ! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দ্বীনকে মনোনীত করেছেন। সুতরাং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} ২।

সুতরাং ইসলাম হলো সেই বিশেষ ধর্ম যা আল্লাহর ইবাদত, তাঁর আদেশের আনুগত্য এবং তাঁর তাকওয়া অর্জনের আহ্বান জানায়, নবীগণ যত বহুসংখ্যকই হোন এবং দাওয়াত প্রদানকারীরা যত অধিকই হোক না কেন।

আর যেহেতু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ইচ্ছা পূর্বেই নির্ধারিত ছিল যে তিনি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দ্বীনকে বিশ্ববাসীর দ্বীন হিসেবে সাব্যস্ত করবেন; তাই আল্লাহ নবীগণের কাছ থেকে এই মর্মে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছিলেন যে, যদি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের নিকট আগমন করেন এবং তাঁদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার সত্যায়নকারী হন, তবে তারা যেন অবশ্যই তাঁর ওপর ঈমান আনেন। আর এর অর্থ ছিল সেই সকল উম্মত ও জাতিগোষ্ঠীকে সতর্ক করা যারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময়কাল পাবে, যেন তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনে এবং তাঁর দাওয়াতকে সত্য বলে বিশ্বাস করে; কারণ এটি হলো সত্যের দাওয়াত যার নিকট বাতিল আসতে পারে না, এবং যেহেতু এটি সেই বিশ্বজনীন দাওয়াত যার জন্য আল্লাহ স্থায়িত্ব লিখে দিয়েছেন যতক্ষণ আসমান ও জমিন এবং এই অস্তিত্ব অবশিষ্ট থাকবে।

এই প্রসঙ্গে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: {আর স্মরণ করো, যখন আল্লাহ নবীগণের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, অতঃপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারী হিসেবে যখন একজন রাসূল আসবেন, তখন তোমরা অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন, তোমরা কি স্বীকার করলে এবং এই শর্তে আমার কঠিন অঙ্গীকার গ্রহণ করলে? তারা বলল, আমরা স্বীকার করলাম। তিনি বললেন, তবে তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত রইলাম।} ৩।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই মহান নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত হলো তাঁর সেই সম্মানিত দাওয়াতের পূর্ণাঙ্গ ভিত্তি যা পূর্ব ও পশ্চিমকে আলোকিত করেছে এবং বিশ্বকে হেদায়েত ও নূরে পরিপূর্ণ করে দিয়েছে। আর সেই কারণেই মুসলমানদের জন্য, বরং সমগ্র মানবতার জন্য এই উজ্জ্বল ও সুগন্ধময় সীরাতের গুরুত্ব অপরিসীম, যা বিভিন্ন উম্মত ও জাতিগোষ্ঠী প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একে অপরের নিকট পৌঁছে দিয়েছে। অতঃপর তা বিভিন্নভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে...

--------------------------------------------

১ সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৮৫।

২ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১৩২।

৩ সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৮১।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ৮)
العصور في كتب يضيق بها الحصر والتعداد، وسوف تظل الكتابة فيها متصلة الحلقات إلى أن تنفطر السماء وتنكدر النجوم وتبدل الأرض غير الأرض والسماوات.

وواجب المؤرخ الذي يتصدى للسيرة النبوية أن يستضيء أول ما يستضيء بكتاب الله عز وجل، ثم يلي ذلك في الأهمية كتب السنة الصحيحة.. ولكن القرآن الكريم والسنة النبوية لا يتعرضان إلا لبعض النواحي الخاصة من حياة الرسول صلى الله عليه وسلم. ويتعرضان لها في إجمال يحتاج إلى كثير من التوضيح والتفصيل.

ومن هنا كان لا بد من المراجع الأساسية في التاريخ1. وأهما: سيرة ابن هشام 2 وتاريخ الأمم والملوك للطبري3. وقد نقل هذان كتابيهما عن كتاب ابن إسحاق في السيرة4، والطبقات الكبرى لمحمد بن سعد 5 في جزءيه

--------------------------------------------

1 بعد أن تخضع جميع رواياتها للنقد العلمي، وبيان الصحيح من غيره منها.

2 هو أبو محمد عبد الملك بن هشام بن أيوب الحميري، المتوفى سنة 213 أو 218 هجرية على خلاف في ذلك.

3 هو أبو جعفر محمد بن جرير الطبري، المتوفى سنة 310 هجرية.

4 ابن إسحاق، هو محمد بن إسحاق بن يسار، أبو عبد الله المدني القرشي، المتوفى سنة 150 للهجرة، أو بعدها بقليل، على خلاف في ذلك.

وأما قول المؤلف بأن الطبري، وابن هشام أخذا كتابيهما من كتاب ابن إسحاق، ففيه نظر، فابن هشام، نعم، أخذ سيرة ابن إسحاق، ورواها جميعها عنها، وكان يضيف الشيء اليسير من تعليقاته على بعض فقراتها.

أما الطبري فربما حدث عن ابن إسحاق وربما حدث عن غيره، وله أسانيده الخاصة به في كتابه، التي هي في الغالب أحسن من أسانيد ابن إسحاق، وإن كان الطبري قد جاء بعده بزمان.

هذا في القدر المتعلق بالسيرة.

فإذا رجعنا لكتاب "تاريخ الأمم والملوك" جميعه؛ فإنه ينتهي فيه التأريخ في فواتح القرن الرابع الهجري، فهو أرخ لأكثر من مائتي سنة بعد وفاة ابن إسحاق أيضًا في كتابه المذكور، فكيف ينقل عنه!.

5 المشهور بـ "كاتب الواقدي". المتوفى سنة 230 هجرية، وكتابه اسمه "الطبقات الكبرى"، ذكر فيه السيرة النبوية، ثم أرخ لأهم الصحابة، والتابعين فمن بعدهم حتى زمانه، وترجم لكل راوٍ بشيء يذكر عنه، أو يروي من طريقه.

وقد قمت منذ سنين بجمع جميع ما وقع فيه من الأحاديث والسيرة المسندة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ورتبتها في كتاب سميته: "سنن النبي صلى الله عليه وسلم وأيامه".
যুগের পর যুগ এমন অসংখ্য কিতাব রচিত হয়েছে যা গণনা করে শেষ করা কঠিন। আর এই বিষয়ে লেখালেখির এই ধারা কিয়ামত পর্যন্ত তথা আসমান বিদীর্ণ হওয়া, নক্ষত্ররাজি খসে পড়া এবং এই পৃথিবী ও আসমানসমূহ পরিবর্তিত হয়ে অন্য এক রূপ ধারণ করা পর্যন্ত চলতেই থাকবে।

সীরাত বা নববী জীবনী নিয়ে কাজ করেন এমন একজন ঐতিহাসিকের জন্য প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হলো মহান আল্লাহর কিতাব থেকে আলোকবর্তিকা গ্রহণ করা। এরপর গুরুত্বের দিক থেকে বিশুদ্ধ সুন্নাহর গ্রন্থসমূহের স্থান। তবে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের নির্দিষ্ট কিছু দিক নিয়েই কেবল আলোকপাত করে থাকে। আর তা-ও এমন সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত হয়েছে যা অনেক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মুখাপেক্ষী।

আর এখান থেকেই ইতিহাসের মৌলিক উৎসগ্রন্থগুলোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়১। তার মধ্যে অন্যতম হলো: সীরাতে ইবনে হিশাম ২ এবং তাবারির 'তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক' ৩। এই উভয় গ্রন্থই সীরাতের ক্ষেত্রে ইবনে ইসহাকের কিতাব থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছে ৪ এবং মুহাম্মদ ইবনে সা'দ-এর 'তবাকাতে কুবরা' ৫ এর দুই খণ্ডও অন্যতম।

--------------------------------------------

১ এর সমস্ত বর্ণনাকে বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার অধীন করার পর এবং তার মধ্য থেকে সঠিক ও ভুলগুলো স্পষ্ট করার পর।

২ তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ আবদুল মালিক ইবনে হিশাম ইবনে আইয়ুব আল-হিময়ারি। মতভেদ অনুযায়ী তিনি ২১৩ বা ২১৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৩ তিনি হলেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারির আত-তবারি, যিনি ৩১০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৪ ইবনে ইসহাক হলেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াসার আবু আব্দুল্লাহ আল-মাদানি আল-কুরাশি। মতভেদ অনুযায়ী তিনি ১৫০ হিজরি অথবা তার কিছু পরে মৃত্যুবরণ করেন।

আর লেখকের এই বক্তব্য যে তবারি এবং ইবনে হিশাম তাদের কিতাবদ্বয় ইবনে ইসহাকের কিতাব থেকে গ্রহণ করেছেন—তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। ইবনে হিশাম তো অবশ্যই ইবনে ইসহাকের সীরাত গ্রহণ করেছেন এবং তার পুরোটাই বর্ণনা করেছেন; সেই সঙ্গে তিনি এর কিছু অনুচ্ছেদে নিজের পক্ষ থেকে সামান্য কিছু টীকা যোগ করতেন।

পক্ষান্তরে তবারি কখনো ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, আবার কখনো অন্যদের থেকেও বর্ণনা করেছেন। তার কিতাবে নিজস্ব সনদ বা বর্ণনাশৈলী রয়েছে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইবনে ইসহাকের সনদের চেয়ে অধিকতর উত্তম; যদিও তবারি তার অনেক পরের সময়ের মানুষ ছিলেন। সীরাত সম্পর্কিত বিষয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমনই।

কিন্তু আমরা যদি সামগ্রিকভাবে ‘তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক’ কিতাবটি দেখি, তবে সেখানে ইতিহাস চতুর্থ হিজরি শতকের শুরুর দিকে শেষ হয়েছে। অর্থাৎ তিনি উক্ত কিতাবে ইবনে ইসহাকের মৃত্যুর পর আরও দুইশ বছরের বেশি সময়ের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন, তাহলে তিনি কীভাবে পুরোপুরি তার কাছ থেকে তা নকল করতে পারেন!

৫ তিনি ‘কাতিবুল ওয়াকিদি’ (ওয়াকিদির লেখক) হিসেবে প্রসিদ্ধ। ২৩০ হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার কিতাবটির নাম ‘তবাকাতে কুবরা’। এতে তিনি নববী সীরাত উল্লেখ করেছেন, এরপর গুরুত্বপূর্ণ সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তী ব্যক্তিদের তার সময় পর্যন্ত ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও তিনি প্রত্যেক বর্ণনাকারীর জীবনী সম্পর্কে কিছু তথ্য অথবা তাদের মাধ্যমে বর্ণিত বিষয়াদি আলোচনা করেছেন।

আমি বেশ কয়েক বছর আগে সেখানে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমস্ত সনদযুক্ত হাদীস ও সীরাত সংগ্রহ করেছি এবং তা একটি গ্রন্থে সুবিন্যস্ত করেছি যার নামকরণ করেছি: ‘সুনানুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া আইয়ামুহু’।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ৯)
الأول والثاني، وتاريخ اليعقوبي1، و "مروج الذهب" للمسعودي2 و "الكامل" لابن الأثير3، و "البداية والنهاية" لابن كثير4، وكتاب "العبر وديوان المبتدأ والخبر" لابن خلدون5.. إلى غير ذلك من المراجع الأصلية6.

ولا بد لمن يؤرخ السيرة -مع ذلك- من الرجوع إلى ما كتبه المؤرخون المحدثون، حتى يستنير بآرائهم الصائبة أو يضيف إليها -بقدر المستطاع7 -ما يمكن أن يهتدي إليه من آراء جديدة.. أو يفند ما جاء في بعضها من الآراء التي لا تستند إلى أساس سليم8.

--------------------------------------------

1 هو أحمد بن أبي يعقوب موسى بن جعفر بن وهب، الكاتب العباسي المعروف باليعقوبي، المتوفى بحدود سنة 252 هجرية، وكتابه اسمه "البلدان" يقع في مجلدين.

2 هو أبو الحسن علي بن الحسين بن علي، المتوفى سن 345 هجرية، ولكن في كتابه "مروج الذهب" أشياء يحذر منها.

3 أبو الحسن علي بن محمد بن محمد بن عبد الكريم الجزري، الملقب بعز الدين، المتوفى سنة 630 هجرية، وله أخوان إمامان مثله.

4 أبو الفداء عماد الدين إسماعيل بن عمر بن كثير الدمشقي، المتوفى سنة 774 للهجرة، وكتابه من أحسن هذه الكتب، وأكثرها فائدة، وأصحها نقلًا.

5 هو عبد الرحمن بن محمد بن خلدون الإشبيلي، المتوفى سنة 808 هجرية، وقد وقع في كتابه ما انتقده عليه الحافظان الهيثمي وتلميذه ابن حجر العسقلاني؛ لكنه ليس بالشيء الكثير.

انظر "انباء الغمر بأبناء العمر" 5/ 227 وما بعدها، مع الحواشي على الكتاب.

6 كالسيرة النبوية للحافظ الذهبي التي في أوائل "تاريخ الإسلام" و "سير أعلام النبلاء"، وانظر ما ألف في هذا الموضع في "الرسالة المستطرفة" ص 197 وما بعدها.

7 أي يضيف بعض التحليلات والاستنباطات والعبر والأحكام والنقد، وإلا فإن السيرة لا تؤخذ إلا بالنقل الصحيح.

8 وهو ما نسعى إليه جاهدين في تعليقاتنا هذه، إن شاء الله تعالى.
প্রথম এবং দ্বিতীয়, এবং ইয়াকুবীর ইতিহাস১, মাসউদীর "মুরুজুয যাহাব"২, ইবনুল আসীরের "আল-কামিল"৩, ইবনে কাসীরের "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া"৪ এবং ইবনে খালদুনের কিতাব "আল-ইবার ওয়া দিওয়ানুল মুবতাদা ওয়াল খবর"৫... এগুলি ছাড়াও অন্যান্য মূল উৎসসমূহ৬।

এর পাশাপাশি সীরাত নিয়ে যারা ইতিহাস রচনা করেন, তাদের জন্য আধুনিক ঐতিহাসিকদের রচনার দিকে ফিরে দেখা অপরিহার্য; যাতে তাঁদের সঠিক মতামতের মাধ্যমে আলোকিত হওয়া যায় অথবা সাধ্যমতো৭ তাতে নতুন কোনো মতামত যোগ করা যায় যা অর্জিত হওয়া সম্ভব... অথবা সেগুলির মাঝে আসা এমন কিছু মতামতের অসারতা প্রমাণ করা যায় যা কোনো সঠিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়৮।

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন আহমদ বিন আবি ইয়াকুব মুসা বিন জাফর বিন ওয়াহাব, ইয়াকুবী নামে পরিচিত আব্বাসী লেখক, আনুমানিক ২৫২ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর কিতাবটির নাম "আল-বুলদান", যা দুই খণ্ডে সমাপ্ত।

২ তিনি হলেন আবুল হাসান আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলী, ৩৪৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর "মুরুজুয যাহাব" কিতাবে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

৩ আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম আল-জাযারি, ইযযুদ্দীন উপাধিতে ভূষিত, ৬৩০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মতো তাঁর আরও দুইজন ইমাম ভাই ছিলেন।

৪ আবুল ফিদা ইমাদুদ্দীন ইসমাঈল বিন উমর বিন কাসীর আদ-দিমাশকী, ৭৭৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর কিতাবটি এই কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ, সবচেয়ে বেশি উপকারী এবং বর্ণনার দিক থেকে সর্বাধিক বিশুদ্ধ।

৫ তিনি হলেন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন খালদুন আল-ইশবিলি, ৮০৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর কিতাবে এমন কিছু বিষয় ঘটেছে যার জন্য হাফেজ হাইসামি এবং তাঁর ছাত্র ইবনে হাজার আসকালানি তাঁর সমালোচনা করেছেন; তবে তা খুব বেশি কিছু নয়।

দেখুন: "ইনবাউল গুমর বি আবনাইিল উমর" ৫/ ২২৭ এবং পরবর্তী অংশ, কিতাবের টীকা সহ।

৬ যেমন হাফেজ যাহাবীর "আস-সীরাত আন-নাবাবিয়্যাহ", যা "তারিখুল ইসলাম" এবং "সিয়ারু আলামিন নুবালা"-এর শুরুতে রয়েছে। এই বিষয়ে যা কিছু রচিত হয়েছে তা জানতে "আর-রিসালাহ আল-মুসতাতরাফাহ" পৃষ্ঠা ১৯৭ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো দেখুন।

৭ অর্থাৎ কিছু বিশ্লেষণ, উদ্ভাবন, শিক্ষা, বিধান এবং সমালোচনা যোগ করা। অন্যথায়, সীরাত কেবল সহীহ বর্ণনার মাধ্যমেই গ্রহণ করা হয়।

৮ আর এটিই আমরা আমাদের এই টীকাগুলোতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি, ইনশাআল্লাহ তাআলা।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১০)
ومن أبرز هؤلاء المؤرخين المرحوم الشيخ محمد الخضري في كتابه نور اليقين في سيرة سيد المرسلين والمرحوم الدكتور محمد حسن هيكل في كتابه حياة محمد، والأستاذ محمد عزة دروزة في دراسته عن عصر الرسول وحياته، وهي دراسة متينة اتخذ صاحبها القرآن الكريم مصدرًا أساسيًا لدراسة السيرة النبوية، فوصل في دراسته إلى نتائج موفقة، والدكتور صالح أحمد العلي المؤرخ العراقي الذي اعتمد -كذلك- في دراسته لحياة الرسول صلى الله عليه وسلم على القرآن الكريم وأجاد في ذلك أيما إجادة، واللواء الركن الحاج محمود شيت خطاب في كتابه "الرسول القائد"1.

ويعتبر هذا الكتاب2 - فيما أرى- خير ما كتب عن غزوات الرسول صلى الله عليه وسلم لما فيه من تحليل دقيق لمواقف الرسول صلى الله عليه وسلم في سائر الغزوات وتفصيل واضح لقيادته، وكيف كانت هي القيادة الرشيدة التي يمكن أن يستنير بها القادة والزعماء على توالي الأزمنة والعصور.

وكتاب "فقه السير" للشيخ محمد الغزالي وهو كتاب يمتاز بعمق الفكرة ورصانة الأسلوب والرأي الحر الذي يعتمد على أساس متين من الإيمان3.

ومن المعروف أن المستشرقين الغربيين قد تناولوا حياة الرسول صلى الله عليه وسلم فيما تناولوا من الأبحاث عن التاريخ الإسلامي؛ ولكن روح التعصب والتحامل كانت

--------------------------------------------

1 ولعل هذا الأخير هو أحسنها وأنفعها؛ لا سيما من النواحي العسكرية الحربية، هذا، ولا يفوتنا أن نذكر هنا أنه وقع في هذه الكتب أشياء غير قليلة منتقدة.

2 يعني "الرسول القائد".

3 كذا قال، ونحن نسأل الله أن يكون كذلك؛ ولكن الإيمان، لا يحكم فيه لأحد من البشر، غير من وصفهم الله تعالى به، كائنًا من كان. على أنه أيضًا يوجد في الكتاب تعقيبات لمتعقب، كما لا يخلو من ذلك كتاب من تأليف الناس.
এই ঐতিহাসিকদের মধ্যে অন্যতম বিশিষ্ট হলেন মরহুম শেখ মুহাম্মদ আল-খুদরি তাঁর ‘নূরুল ইয়াকীন ফি সিরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন’ গ্রন্থে, এবং মরহুম ডক্টর মুহাম্মদ হুসাইন হাইকাল তাঁর ‘হায়াতে মুহাম্মদ’ গ্রন্থে, এবং উস্তাদ মুহাম্মদ ইজ্জাহ দারওয়াজাহ রাসূলের যুগ ও তাঁর জীবন নিয়ে তাঁর গবেষণায়; এটি একটি মজবুত গবেষণা যেখানে লেখক পবিত্র কুরআনকে সীরাত চর্চার মূল উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর গবেষণায় অত্যন্ত সফল সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। আরও আছেন ইরাকি ঐতিহাসিক ডক্টর সালিহ আহমাদ আল-আলি, যিনিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন সংক্রান্ত গবেষণায় পবিত্র কুরআনের ওপর নির্ভর করেছেন এবং এতে অত্যন্ত পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছেন। এবং মেজর জেনারেল হাজ্জ মাহমুদ শিত খাত্তাব তাঁর ‘আর-রাসূলুল কায়েদ’ (সেনাপতি হিসেবে রাসূল) গ্রন্থে।১

আমার দৃষ্টিতে এই গ্রন্থটি২ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধাভিযানসমূহ সম্পর্কে রচিত সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত। কারণ এতে সকল যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থানের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ এবং তাঁর নেতৃত্বের স্পষ্ট বিবরণ রয়েছে। এটি দেখায় যে তাঁর নেতৃত্ব কীভাবে এক সঠিক ও প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব ছিল, যা থেকে যুগের পর যুগ ধরে নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধানগণ দিকনির্দেশনা গ্রহণ করতে পারেন।

এবং শেখ মুহাম্মদ আল-গাজালির ‘ফিকহুস সিয়ার’ গ্রন্থটি; এটি এমন এক কিতাব যা চিন্তার গভীরতা, শৈলীর দৃঢ়তা এবং ঈমানের মজবুত ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল মুক্ত চিন্তার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।৩

এটা সুবিদিত যে, পশ্চিমা প্রাচ্যবিদরা ইসলামী ইতিহাস সংক্রান্ত গবেষণার পাশাপাশি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন নিয়েও আলোচনা করেছেন; কিন্তু পক্ষপাতিত্ব ও বিদ্বেষের মানসিকতা ছিল...

--------------------------------------------

১ সম্ভবত এই শেষোক্ত বইটিই সবচেয়ে উত্তম ও উপকারী; বিশেষ করে সামরিক ও যুদ্ধবিদ্যার দিক থেকে। তবে এখানে এটি উল্লেখ করা জরুরি যে, এই বইগুলোতে বেশ কিছু সমালোচনাযোগ্য বিষয়ও পরিলক্ষিত হয়েছে।

২ অর্থাৎ ‘আর-রাসূলুল কায়েদ’।

৩ তিনি এমনই বলেছেন, এবং আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন এটি তেমনই হয়; কিন্তু ঈমানের বিষয়টি (নিশ্চিতভাবে) কোনো মানুষের ক্ষেত্রে ফয়সালা করা যায় না, একমাত্র তারা ছাড়া যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বর্ণনা দিয়েছেন, সে ব্যক্তি যেই হোক না কেন। এছাড়া বইটিতে পর্যালোচনাকারীর কিছু মন্তব্যও রয়েছে, যেমনটি মানুষের লেখা কোনো বই-ই তা থেকে মুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১১)
تطغى على معظم كتاباتهم. ومن أبرز هؤلاء الذين كتبوا عن حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، وليم موير وكايتاني.

وهناك طائفة تميزت بالاعتدال والإنصاف وعدم التعصب ومنهم تور أندريه في كتابه محمد الرجل وإيمانه، ومونتجمري وات في كتاب محمد في مكة. ولكن مهما كان الأمر؛ فإننا يجب أن ننظر في كتاباتهم بحيطة وحذر.

ومن المعروف أيضًا أن كتب السيرة -كغيرها من سائر الكتب الإسلامية - قد دست إليها في عصور التدوين الأولى بعض المفتريات، وكان أساسها هؤلاء الذين أسلموا ظاهرًا ولما يدخل الإيمان في قلوبهم، أو دخلوا في الإسلام ولم تكتمل معرفتهم بكل مبادئه وآدابه.

ومن الحق علينا أن نصفيها مما علق بها من الشوائب والرواسب، أو نطرحها جانبًا إن كانت خبيثة الجوهر فاسدة العنصر، مهما كانت خادعة المظهر، ومهما لبست من ثياب براقة زاهية.

على أن ذلك كله في نطاق محدود1 ويجب أن يكون بعيدًا عن المعجزات الثابتة للرسول صلى الله عليه وسلم فإن هذه المعجزات كشق الصدر وانشقاق القمر، إلى غير ذلك من سائر المعجزات التي صحت نسبتها ورجحت روايتها لا ينبغي أن تناقش في ضوء المنطق وعلى أساس من الأسباب والمسببات وإلا لما كانت معجزات.

أما المعجزات التي لم تصح نسبتها ولم ترجح روايتها فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم في غنى عنها، ولا ينبغي أن نتمسك بها.

وسبيلنا في هذا الكتاب أن نتبع حياة الرسول صلى الله عليه وسلم ثم نقف عند الأحداث

--------------------------------------------

1 مقيد بالقواعد الشرعية.
তাদের অধিকাংশ লেখায় এটি প্রাধান্য পায়। যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনী সম্পর্কে লিখেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন উইলিয়াম মুইর এবং কায়তানি।

এছাড়া এমন একদল রয়েছে যারা মধ্যপন্থা, ন্যায়পরায়ণতা এবং গোঁড়ামিমুক্ত হওয়ার বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। তাদের মধ্যে রয়েছেন তোরে আন্দ্রে তাঁর 'মুহাম্মদ: মানুষ ও তাঁর বিশ্বাস' গ্রন্থে এবং মন্টগোমারি ওয়াট তাঁর 'মুহাম্মদ ইন মক্কা' গ্রন্থে। তবে বিষয়টি যাই হোক না কেন, আমাদের অবশ্যই সতর্কতার সাথে তাঁদের লেখাগুলোর পর্যালোচনা করা উচিত।

এটিও সর্বজনবিদিত যে, অন্যান্য সকল ইসলামী গ্রন্থের মতো সীরাত গ্রন্থসমূহেও সংকলনের প্রাথমিক যুগগুলোতে কিছু বানোয়াট তথ্য অনুপ্রবেশ করানো হয়েছিল। এর মূলে ছিল ঐ সকল ব্যক্তি যারা বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছিল কিন্তু ঈমান তাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি, অথবা যারা ইসলামে প্রবেশ করলেও এর সকল নীতি ও শিষ্টাচার সম্পর্কে তাদের জ্ঞান তখনো পূর্ণতা লাভ করেনি।

আমাদের কর্তব্য হলো সীরাতকে এর সাথে লেগে থাকা যাবতীয় আবর্জনা ও কলুষতা থেকে মুক্ত করা, অথবা যদি তার মূল নির্যাসই অপবিত্র ও উপাদানটি দূষিত হয় তবে তা বর্জন করা; চাই তার বাহ্যিক রূপটি যতখানিই চিত্তাকর্ষক হোক না কেন এবং সেটি যত চাকচিক্যময় ও উজ্জ্বল পোশাকেই আবৃত থাকুক না কেন।

তবে এ সবকিছুই একটি সীমিত পরিসরের ১ মধ্যে হতে হবে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য প্রমাণিত মুজিজাসমূহ থেকে একে দূরে রাখতে হবে। কেননা এই মুজিজাসমূহ—যেমন বক্ষ বিদারণ এবং চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া এবং এ জাতীয় অন্যান্য সকল মুজিজা যার সূত্র বিশুদ্ধ এবং বর্ণনা নির্ভরযোগ্য—সেগুলো যুক্তি এবং কার্যকারণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বিচার করা অনুচিত; অন্যথায় সেগুলো আর মুজিজা হিসেবে গণ্য হবে না।

পক্ষান্তরে যেসব মুজিজার সূত্র বিশুদ্ধ নয় এবং বর্ণনা নির্ভরযোগ্য নয়, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলো থেকে পবিত্র এবং আমাদের উচিত নয় সেগুলো আঁকড়ে ধরা।

এই গ্রন্থে আমাদের পথ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন অনুসরণ করা এবং ঘটনাবলীর পর্যালোচনায় নিবিষ্ট হওয়া।

--------------------------------------------

১ শরয়ী নীতিমালার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১২)
البارزة فيها وقفات طويلة. ونستعرض ما يتسنى لنا من آراء، ثم نرجح ما نختاره في ضوء المنطق السليم والبرهان القويم.

وقد قسمنا هذا الكتاب إلى عدة فصول، وراعينا في تقسيمه التسلسل الطبيعي الذي تقتضيه حياة الرسول صلى الله عليه وسلم منذ فجر حياته إلى أن انتهى يومه الذي قدره الله له في هذه الدنيا ولحق بالرفيق الأعلى.

وكان لا بد لنا أن نقدم بين يدي السيرة النبوية مقدمات تمهد للقارئ الطريق، حتى يمكن أن يتمثل الجو الذي ولد فيه الرسول صلى الله عليه وسلم والأساس الذي يرجع إليه، والبيئة التي نشأ فيها. وقد تكلمنا في هذه المقدمات عن العرب المستعربة في مكة، وعن الديانة في شبه الجزيرة العربية، ودخول الوثنية وانتشارها بها، وعن المجتمع العربي قبل الإسلام، وعن اليهودية والنصرانية في بلاد العرب وما لحق بهما من تغيير وتبديل، وما أصابهما من فساد أخرجهما عن فطرة الله، ونأى بهما عن الحق الذي أنزله الله، وكيف دخلت هاتان الديانتان في بلاد العرب لينشب الصراع بين هذه الديانات جميعا، وذلك حتى يتبين للقارئ مدى الفوضى التي كان يعيش فيها العرب قبيل الإسلام، وكيف كانت الظروف تتطلب المنقذ الذي يرفع لواء الحق ويؤلف قلوب الناس إليه.

وبعد..فهذه صحف لم تكتب إلا لطلاب العلم والباحثين في التاريخ ومن يهتمون بالحق لوجه الحق وحده، لأني إنما أردتها وقصدت بها إلى هؤلاء النفر من الناس، ولأنها ليست صورًا يتخيلها كاتب ثم يسجلها يبتغي بذلك إمتاع القارئ وتسليته، ويخدعه بزخرف القول وبريق الأسلوب فيمشي في وميضه، دون أن ينظر إلى جوهر الحق وجلاله الوضَّاء، ولكنها دراسات وتأملات فيما حوته كتب التاريخ والسير من أنباء وروايات.
সেখানে বিশিষ্ট বিষয়গুলোর ওপর দীর্ঘ আলোকপাত করা হয়েছে। আমরা যথাসম্ভব বিভিন্ন মতামত পর্যালোচনা করব, অতঃপর সঠিক যুক্তি ও বলিষ্ঠ প্রমাণের আলোকে আমরা যা নির্বাচন করি তা অগ্রাধিকার দেব।

আমরা এই গ্রন্থটিকে বেশ কিছু পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি এবং এর বিন্যাসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করার চেষ্টা করেছি; তাঁর জীবনের শুরু থেকে তাঁর জীবনের সেই দিন পর্যন্ত, যা আল্লাহ তাঁর জন্য এই দুনিয়ায় নির্ধারণ করেছিলেন এবং এরপর তিনি মহান বন্ধুর সান্নিধ্যে চলে যান।

সীরাতে নববীর আলোচনার পূর্বে আমাদের জন্য কিছু ভূমিকা পেশ করা আবশ্যক ছিল যা পাঠকের জন্য পথ প্রশস্ত করবে, যাতে করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পরিবেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যে বংশীয় ভিত্তির সাথে তিনি সম্পৃক্ত এবং যে পরিবেশে তিনি লালিত-পালিত হয়েছিলেন, তার একটি চিত্র ফুটে ওঠে। এই ভূমিকাগুলোতে আমরা মক্কার আরব আল-মুসতারিবা (আরবকৃত আরব), আরব উপদ্বীপের ধর্মবিশ্বাস, সেখানে মূর্তিপূজার প্রবেশ ও বিস্তার, ইসলাম-পূর্ব আরব সমাজ এবং আরব ভূখণ্ডে ইহুদি ও খ্রিস্টধর্ম এবং সেগুলোতে যে পরিবর্তন ও পরিমার্জন সাধিত হয়েছিল তা নিয়ে আলোচনা করেছি। এছাড়া কীভাবে সেই ধর্মগুলোতে এমন বিপর্যয় ঘটেছিল যা সেগুলোকে আল্লাহর ফিতরাত (সহজাত প্রকৃতি) থেকে বিচ্যুত করে দিয়েছিল এবং আল্লাহর অবতীর্ণ সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল, সে বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে। আরও আলোচিত হয়েছে কীভাবে এই দুই ধর্ম আরব ভূখণ্ডে প্রবেশ করল এবং এই সমস্ত ধর্মের মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত হলো। এর উদ্দেশ্য হলো যাতে পাঠকের নিকট পরিষ্কার হয় যে, ইসলামের আবির্ভাবের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আরবরা কতটুকু বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিমজ্জিত ছিল এবং তৎকালীন পরিস্থিতি কীভাবে এমন একজন ত্রাণকর্তার আবশ্যকতা অনুভব করছিল, যিনি সত্যের ঝাণ্ডা সমুন্নত করবেন এবং মানুষের অন্তরসমূহকে সত্যের দিকে ধাবিত করবেন।

অতঃপর... এই পৃষ্ঠাগুলো কেবল জ্ঞানপিপাসু, ইতিহাসের গবেষক এবং যারা কেবল সত্যের খাতিরেই সত্যের প্রতি আগ্রহী, তাদের জন্যই লেখা হয়েছে। কারণ আমি এই বিশেষ একদল মানুষের উদ্দেশ্যেই এগুলো রচনা করার সংকল্প করেছি। তদুপরি এগুলো কোনো লেখকের কল্পনাপ্রসূত কোনো চিত্র নয় যা তিনি পাঠককে নিছক বিনোদন ও আনন্দ দেওয়ার জন্য লিপিবদ্ধ করেছেন, কিংবা অলংকৃত কথা ও শৈল্পিক চাতুর্যের মাধ্যমে পাঠককে প্রতারিত করতে চেয়েছেন যাতে পাঠক সত্যের সারমর্ম ও এর উজ্জ্বল মহিমার প্রতি দৃষ্টিপাত না করেই শব্দের চাকচিক্যের মোহে পড়ে যায়। বরং এগুলো ইতিহাস ও সীরাতের গ্রন্থাবলিতে বিদ্যমান সংবাদ ও বর্ণনাসমূহের ওপর গভীর গবেষণা ও সুচিন্তিত পর্যালোচনার ফল।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
ونريد هنا أن نلقي عليها الأضواء الكافية، حتى يتميز الخبيث من الطيب، وحتى تتكشف الحقائق سليمة من الزيف والمرض، بعيدة عن الهوى والغرض …

ونحن لا ندعي الحِيدَة الكاملة؛ لأنها أمنية بعيدة المنال، ولا يمكن لإنسان أن يجرد نفسه بصورة مطلقة من العواطف التي كثيرًا ما توجه الأفكار والمشاعر.

ولكننا سوف نحاول أن نلتزم الحِيدة بقدر ما نستطيع، ونتخذ لذلك كل الأسباب الموصلة.

ومن الله العون وبه التوفيق.

د. محمد الطيب النجار

مصر الجديدة في:

شوال سنة 1398 هـ.

سبتمبر سنة 1978م.
আমরা এখানে এর ওপর পর্যাপ্ত আলোকপাত করতে চাই, যাতে মন্দ থেকে ভালো পৃথক হয়ে যায় এবং সত্যসমূহ যেন মিথ্যা ও কলুষতা থেকে মুক্ত হয়ে এবং প্রবৃত্তি ও হীন উদ্দেশ্য থেকে দূরে থেকে যথাযথভাবে উন্মোচিত হয় …

আর আমরা পূর্ণ নিরপেক্ষতার দাবি করছি না; কারণ এটি একটি সুদূরপরাহত আকাঙ্ক্ষা। কোনো মানুষের পক্ষে নিজেকে সেই আবেগ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত করা সম্ভব নয় যা প্রায়শই চিন্তা ও অনুভূতিকে পরিচালিত করে।

তবে আমরা যথাসম্ভব নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করব এবং এর জন্য সকল সহায়ক উপায় অবলম্বন করব।

আল্লাহর নিকটই সাহায্য এবং তাঁর মাধ্যমেই তাওফিক কাম্য।

ড. মুহাম্মদ আল-তাইয়িব আল-নাজ্জার

মিসর আল-জাদিদাহ, তারিখ:

শাওয়াল, ১৩৯৮ হিজরি।

সেপ্টেম্বর, ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الفصل الأول: بين يدي السيرة النبوية

‌‌مدخل

…

الفصل الأول: بين يدي السيرة النبوية

بين يدي السيرة النبوية مقدمات وتمهيدات يتحتم علينا أن نطالعها عن كثب، حتى يتسنى لنا أن نسير على الدرب ونعيش في الجو الذي عاش فيه الرسول -صلوات الله وسلامه عليه- منذ نعومة أظفاره إلى أن اختاره الله إلى جواره..، وإذا كنا سنقتصر الآن على بعض هذه المقدمات؛ فلأن ذلك منطق الظروف وحكم الضرورة، وقديمًا قيل: ما لا يدرك كله لا يترك كله1.

وفي مقدمة هذه المقدمات البيت العتيق؛ لأنه هو البيت الذي رفع قواعده إبراهيم وإسماعيل عليهما السلام وتوارث العرب تعظيمه على توالي الأجيال.

ثم نتحدث بعد ذلك عن العرب المستعربة في مكة حتى ننتهي إلى قصي وهو الجد الرابع للرسول صلى الله عليه وسلم لنرى أثره في قريش، وكيف جمع كلمتهم وقوَّى وحدتهم، وأسس دار الندوة، وجمع في يديه كل الوظائف الدينية والسياسية، ثم ورَّثها بعد ذلك لأبنائه وأحفاده.

ونتحدث كذلك عن قصة الذبيحين، وهما: إسماعيل عليه السلام وعبد الله بن

--------------------------------------------

1 وكان أحسن لو قال: وفي القواعد الفقهية: "ما لا يدرك كله، لا يترك جلّه".
প্রথম অধ্যায়: সিরাতুত নবীর প্রারম্ভিক আলোচনা

ভূমিকা

...

প্রথম অধ্যায়: সিরাতুত নবীর প্রারম্ভিক আলোচনা

সিরাতুত নবীর প্রারম্ভিক আলোচনায় এমন কিছু ভূমিকা ও পটভূমি রয়েছে যা আমাদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা একান্ত প্রয়োজন, যাতে আমরা সেই পথে চলতে পারি এবং সেই পরিবেশে অবগাহন করতে পারি যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর শৈশব থেকে শুরু করে মহান আল্লাহ তাঁকে নিজের সান্নিধ্যে তুলে নেওয়া পর্যন্ত সময় কাটিয়েছেন। যদি আমরা এখন এই ভূমিকাগুলোর মধ্য থেকে কেবল কয়েকটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকি, তবে তা পরিস্থিতির যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে। প্রাচীনকাল থেকেই বলা হয়ে থাকে: যা সম্পূর্ণ অর্জন করা যায় না, তা সম্পূর্ণ ত্যাগ করা উচিত নয়।১

এই গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকাগুলোর শীর্ষে রয়েছে 'বাইতুল আতিক' (প্রাচীন গৃহ); কারণ এটি সেই ঘর যার ভিত্তি ইব্রাহিম ও ইসমাইল (আলাইহিমাস সালাম) নির্মাণ করেছিলেন এবং আরবগণ বংশপরম্পরায় এর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করে এসেছে।

এরপর আমরা মক্কার আল-আরব আল-মুসতারিবা (আরবায়িত আরব) সম্পর্কে আলোচনা করব, যা গিয়ে ঠেকবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চতুর্থ উর্ধ্বতন পুরুষ কুসাই পর্যন্ত; যাতে কুরাইশ বংশের ওপর তাঁর প্রভাব দেখা যায় এবং বোঝা যায় তিনি কীভাবে তাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, তাদের সংহতি সুদৃঢ় করেছিলেন, 'দারুন নদওয়া' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং নিজের হাতে সমস্ত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দায়িত্ব কেন্দ্রীভূত করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তিনি তাঁর সন্তানদের ও বংশধরদের মাঝে উত্তরাধিকারসূত্রে রেখে গিয়েছিলেন।

একইভাবে আমরা 'দুই জবিহ' (যাঁদের জবাই করার সংকল্প করা হয়েছিল) এর কাহিনী সম্পর্কে আলোচনা করব, তাঁরা হলেন: ইসমাইল (আলাইহিস সালাম) এবং আবদুল্লাহ বিন...

--------------------------------------------

১. বরং এটি বলা উত্তম হতো: ফিকহি মূলনীতি অনুযায়ী: "যা সম্পূর্ণ অর্জন করা যায় না, তার অধিকাংশ ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।"
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
عبد المطلب والد الرسول صلى الله عليه وسلم وعن الوثنية وانتشارها في الجزيرة العربية، وعن المجتمع العربي قبيل الإسلام، حتى نتبين الأثر العظيم الذي أحدثه الإسلام في البيئة العربية من القوة والنمو والازدهار..

وأخيرًا نتحدث عن اليهودية والمسيحية في بلاد العرب. وهما الديانتان السماويتان السابقتان على الإسلام، لنرى مدى ما أصابهما من تحريف وما وقع بينهما من صراع. وكيف كانت الوثنية تناصبهما العداء بين الحين والحين، حتى أدى هذا الخلاف إلى مزيد من الفوضى والاضطراب، وكان هذا الجو الذي شاعت فيه الفتن والقلاقل، وفسدت العقائد، جوًّا مناسبًا لظهور دين جديد، تعلو فيه كلمة الحق والتوحيد، ويخرج الله به الناس من الظلمات إلى النور..
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পিতা আব্দুল মুত্তালিব এবং মূর্তিপূজা ও আরব উপদ্বীপে এর বিস্তার সম্পর্কে, এবং ইসলামের অব্যবহিত পূর্বের আরব সমাজ সম্পর্কে, যাতে আমরা আরব পরিবেশে ইসলাম শক্তি, প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির যে মহান প্রভাব সৃষ্টি করেছিল তা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি..

অবশেষে আমরা আরব ভূখণ্ডে ইহুদি ও খ্রিষ্টধর্ম নিয়ে আলোচনা করব। এই দুটি হলো ইসলামের পূর্ববর্তী আসমানি ধর্ম; যাতে আমরা দেখতে পাই সেগুলোতে কী পরিমাণ বিকৃতি ঘটেছিল এবং তাদের মধ্যে কী ধরনের সংঘাত সৃষ্টি হয়েছিল। এবং কীভাবে মূর্তিপূজা সময়ে সময়ে তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করত, যার ফলে এই বিরোধ অধিকতর বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার দিকে ধাবিত হয়েছিল। ফিতনা ও গোলযোগ ছড়িয়ে পড়া এবং আকিদা-বিশ্বাস কলুষিত হওয়ার এই পরিবেশটিই ছিল এক নতুন দ্বীনের আবির্ভাবের জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্র, যেখানে সত্য ও তাওহিদের বাণী সমুন্নত হবে এবং যার মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনবেন..
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌البيت العتيق

‌‌مدخل

…

1- البيت العتيق:

هو ذلك البيت العظيم الذي أسس على التقوى من أول يوم1، والذي جعله الله مثابة للناس وأمنًا، وطهره للطائفين والعاكفين والركع السجود. والذي كان ولا يزال مهوى القلوب، وملتقى الشعور، ومنار الهدى والرشاد.

وهو ذلك المسجد التالد الخالد2 الذي أفنى جداره الأيام والقرون، وطوى

--------------------------------------------

1 كذا قال، وكان أحسن لو أطلق غير هذا الوصف؛ لأن قوله تعالى في القرآن الكريم: { … لَمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَى مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ أَحَقُّ أَنْ تَقُومَ فِيهِ} ، جاء في الحديث في سنن الترمذي رقم 3/ 211 أنه المسجد النبوي في المدينة، وبهذا قال جمهور العلماء.

وقال طائفة: "هو مسجد قباء".

وانظر تفسير القرطبي 8/ 259 - 260.

2 يريد إلى قيام الساعة، وإلا فالمسجد لا يبقى بعدها على الأرض لا هو ولا غيره من المساجد المقدسة. قال تعالى: {يَوْمَ تُبَدَّلُ الأَرْضُ غَيْرَ الأَرْضِ..} .
‌‌আল-বাইতুল আতিক (প্রাচীন গৃহ)

‌‌ভূমিকা

...

১- আল-বাইতুল আতিক:

এটি সেই মহান গৃহ যা প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে১, এবং যেটিকে আল্লাহ মানুষের প্রত্যাবর্তনস্থল ও নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, আর তওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য একে পবিত্র করেছেন। যা ছিল এবং সর্বদা হৃদয়ের আকর্ষণস্থল, অনুভূতির মিলনস্থল এবং হিদায়াত ও সঠিক পথের আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।

এটি সেই সুপ্রাচীন ও চিরন্তন মসজিদ২ যার দেয়ালসমূহ দিন ও শতাব্দীসমূহকে অতিবাহিত করেছে এবং গুটিয়ে নিয়েছে...

--------------------------------------------

১ তিনি এমনই বলেছেন, তবে এই বর্ণনাটি ছাড়া অন্য কোনো শব্দ ব্যবহার করা উত্তম হতো; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: { ... নিশ্চয়ই যে মসজিদ প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাতে আপনার সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ানো অধিকতর সংগত}, সুনানে তিরমিযীর ৩/২১১ নং হাদীসে এসেছে যে, এটি হলো মদীনার মসজিদে নববী এবং জমহুর উলামায়ে কিরাম (অধিকাংশ আলেম) এই মতই পোষণ করেছেন।

একদল আলেম বলেছেন: "এটি মসজিদে কুবা"।

দেখুন: তাফসীরে কুরতুবী ৮/২৫৯ - ২৬০।

২ তিনি কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত সময়কালকে বুঝিয়েছেন, নতুবা এরপর পৃথিবীতে এই মসজিদ বা অন্য কোনো পবিত্র মসজিদ আর অবশিষ্ট থাকবে না। মহান আল্লাহ বলেন: {যেদিন এই যমীনকে অন্য যমীন দ্বারা পরিবর্তন করা হবে..}।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
ركنه الليالي والعصور، والذي حماه الله من أصحاب الفيل بالطير الأبابيل1، وسيظل يحميه ويرعاه، ويهيئ له من يدافعون عن حرمه وحماه جيلًا بعد جيل، وقبيلًا في إثر قبيل، إلى أن تبدل الأرض غير الأرض والسماوات ويقوم الناس لرب العالمين.

--------------------------------------------

1 أي الجماعات، وستأتي القصة في موضعها.
যার স্তম্ভ হলো রাত্রি ও কালসমূহ, এবং যাকে আল্লাহ আবাবীল পাখির মাধ্যমে হস্তিবাহিনীর আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছেন১, আর তিনি সর্বদা একে রক্ষা ও তত্ত্বাবধান করবেন এবং এর পবিত্রতা ও সুরক্ষার জন্য একের পর এক প্রজন্ম এবং এক দলের পর অন্য দলকে প্রস্তুত করবেন, যতক্ষণ না এই পৃথিবী অন্য এক পৃথিবীতে এবং আকাশসমূহ পরিবর্তিত হবে এবং মানুষ বিশ্বজগতের রবের সামনে দণ্ডায়মান হবে।

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ দলসমূহ, এবং এই কাহিনীটি যথাস্থানে আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌بدء بنائه ومحاولات تجديده:

وتختلف الروايات حول بدء هذا البيت العتيق حتى إن بعض الرواة يرجعون به إلى الزمن الغابر البعيد، قبل أن يخلق آدم أبو البشر فيقولون: إن الملائكة عليهم السلام هم الذين تولوا بناءه1، ويذهب آخرون إلى أن آدم عليه السلام هو أول من بناه، ويروون في ذلك حديثًا بسند يتصل إلى الرسول صلى الله عليه وسلم أنه قال: "بعث الله جبريل إلى آدم وحواء فقال لهما: ابنيا لي بيتًا. فخط لهما جبريل، فجعل آدم يحفر وحواء تنقل التراب، فلما بناه أوحى الله إليه أن يطوف به، وقيل له: أنت أول الناس وهذا أول بيت، ثم تناسخت القرون حتى حجَّه نوح، ثم تناسخت القرون حتى رفع إبراهيم القواعد منه" 2.

على أن هاتين الروايتين -أعني بناء الملائكة وبناء آدم البيت- موضع خلاف بين العلماء والمؤرخين.

--------------------------------------------

1 وهي مجرد أقاويل ليس فيها شيء منسوب للنبي صلى الله عليه وسلم كما سيأتي.

2 أخرجه البيهقي كما في "البداية والنهاية" 2/ 299 من طريق ابن لهيعة، عن يزيد بن أبي الخير، عن عبد الله بن عمرو بن العاص مرفوعًا. ثم قال:

قال البيهقي: "تفرد به ابن لهيعة هكذا مرفوعًا".

قلت -القائل ابن كثير-: وابن لهيعة ضعيف، ووقفه على عبد الله بن عمرو أقوى وأثبت، والله أعلم.
এর নির্মাণ সূচনা এবং সংস্কারের প্রচেষ্টাসমূহ:

এই প্রাচীন ঘরের সূচনা সম্পর্কে বর্ণনাগুলো ভিন্ন ভিন্ন, এমনকি কোনো কোনো বর্ণনাকারী একে সুদূর অতীতে নিয়ে যান, মানবজাতির পিতা আদম সৃষ্টিরও পূর্বের সময়ে। তারা বলেন: ফেরেশতাগণ (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) এর নির্মাণের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।১ আবার অন্যেরা মনে করেন যে, আদম (আলাইহিস সালাম) প্রথম এটি নির্মাণ করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সম্পৃক্ত একটি হাদিস বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "আল্লাহ জিবরাঈলকে আদম ও হাওয়ার নিকট প্রেরণ করেন এবং তাঁদের বলেন: আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করো। জিবরাঈল তাঁদের জন্য ঘরটির সীমারেখা টেনে দিলেন। তখন আদম গর্ত খুঁড়তে শুরু করলেন এবং হাওয়া মাটি সরাতে লাগলেন। যখন তিনি এটি নির্মাণ সম্পন্ন করলেন, তখন আল্লাহ তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন যেন তিনি এর তাওয়াফ করেন। তাঁকে বলা হলো: আপনি প্রথম মানুষ এবং এটি প্রথম ঘর। এরপর শতাব্দী পর শতাব্দী অতিবাহিত হলো এবং নূহ এতে হজ পালন করলেন। তারপর আরও যুগ পার হলো যতক্ষণ না ইব্রাহিম এর ভিত্তিগুলো উত্তোলন করলেন।" ২।

অবশ্য এই দুটি বর্ণনা—অর্থাৎ ফেরেশতাদের নির্মাণ এবং আদমের ঘর নির্মাণের বিষয়টি—বিদ্বান ও ঐতিহাসিকদের মাঝে মতভেদের বিষয়।

--------------------------------------------

১ এগুলো নিছক কিছু উক্তি মাত্র, যাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত কোনো কিছু নেই, যেমনটি সামনে আলোচনা করা হবে।

২ এটি বায়হাকী বর্ণনা করেছেন, যেমনটি "আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া" ২/২৯৯-তে ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি আল-খাইর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে মারফু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি বলেন:

বায়হাকী বলেছেন: "একমাত্র ইবনে লাহিয়াই এটি এভাবে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।"

আমি (ইবনে কাসীর) বলছি: ইবনে লাহিয়া দুর্বল, এবং এটি আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের ওপর মাওকুফ হিসেবে থাকাই অধিক শক্তিশালী ও সুপ্রমাণিত। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
والقول الراجح أنهما غير ثابتتين1، وأنهما على فرض صحتهما ليستا بناء كاملًا للبيت وإنما هو مجرد تأسيس 2، ولكن الذي لا شك فيه أن إبراهيم وإسماعيل عليهما السلام هما اللذان رفعا قواعد البيت الحرام، وفي ذلك يقول الله عز وجل في محكم كتابه: {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ، رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} 3.

ثم انتقل أمر المسجد الحرام إلى الجراهمة الذين صاهرهم إسماعيل، وظل في أيديهم قرابة ألف عام، ثم آل أمر البيت بعد ذلك إلى قبيلة خزاعة التي أصبحت صاحبة السيادة والسلطان في مكة.

واستمر المسجد الحرام في أيديهم أكثر من قرنين من الزمان، وكثيرًا ما كانت

--------------------------------------------

1 قال الحافظ ابن كثير في "البداية والنهاية" 1/ 163 في قصة بناء البيت العتيق:

لم يجئ في خبر صحيح عن معصوم أن البيت كان مبنيًّا قبل الخليل إبراهيم عليه السلام.

ومن تمسك في هذا بقوله تعالى: {مَكَانَ الْبَيْتِ} ، فليس بناهض ولا ظاهر؛ لأن المراد مكانه المقدر في علم الله، المقرر في قدرته، المعظم عند الأنبياء موضعه من لدن آدم إلى زمان إبراهيم، وقد ذكرنا أن آدم نصب عليه -على الموضع- قبة، وأن الملائكة قالوا: قد طفنا قبلك بهذا البيت، وأن السفينة طافت به أربعين يومًا، ونحو ذلك.

ولكن كل هذه الأخبار عن بني إسرائيل.

وقد قررنا أنها لا تصدق ولا تكذب فلا يحتج بها، فأما إن ردها الحق فهي مردودة، وقد قال تعالى: {إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكاً وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ} … {فِيهِ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَقَامُ إِبْرَاهِيمَ} ، أي الحجر الذي كان يقف عليه قائمًا لما ارتفع البناء عن قامته، فوضع له ولده هذا الحجر المشهور ليرتفع عليه … إلى آخر ما قال ابن كثير.

وقد رجع ابن كثير في "البداية" "2/ 298 - 299" فذكروا روايات بني إسرائيل في ذلك، وأعاد التأكيد أنه لا يصح إلا أن البيت من بناء إبراهيم عليه السلام.

2 أو بيان للموضع وحدوده فقط.

3 سورة البقرة، الآية 127.
অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত হলো যে, এ দুটি বিষয় প্রমাণিত নয়১, এবং এগুলোর বিশুদ্ধতা ধরে নিলেও তা কাবা ঘরের কোনো পূর্ণাঙ্গ নির্মাণ ছিল না বরং তা ছিল নিছক ভিত্তি স্থাপন ২। তবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইব্রাহিম ও ইসমাইল আলাইহিমাস সালাম-ই মসজিদুল হারামের ভিত্তিগুলো উত্তোলন করেছিলেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর সুদৃঢ় কিতাবে বলেন: {আর স্মরণ করুন, যখন ইব্রাহিম ও ইসমাইল কাবা ঘরের ভিত্তিগুলো উত্তোলন করছিল (এবং বলছিল), ‘হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর থেকেও আপনার এক অনুগত উম্মত বানান। আর আমাদের ইবাদতের নিয়মগুলো দেখিয়ে দিন এবং আমাদের তাওবা কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু’} ৩।

অতঃপর মসজিদুল হারামের কর্তৃত্ব জুরহুম গোত্রের নিকট স্থানান্তরিত হয়, যাদের সাথে ইসমাইল আলাইহিস সালাম বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। প্রায় এক হাজার বছর পর্যন্ত এটি তাদের হাতেই থাকে। এরপর কাবা ঘরের দায়িত্ব খুযাআ গোত্রের নিকট চলে আসে, যারা মক্কায় সার্বভৌমত্ব ও ক্ষমতার অধিকারী হয়েছিল।

দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মসজিদুল হারাম তাদের অধিকারে ছিল, এবং প্রায়ই...

--------------------------------------------

১ হাফেজ ইবনে কাসির তাঁর ‘আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া’ (১/১৬৩) গ্রন্থে প্রাচীন ঘর (বাইতুল আতিক) নির্মাণের ঘটনায় বলেন:

কোনো মাসুম (নিষ্পাপ) সত্তার পক্ষ থেকে সহিহ কোনো বর্ণনা আসেনি যে, খলিল ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-এর আগে এই ঘরটি নির্মিত ছিল।

আর যারা এ বিষয়ে মহান আল্লাহর এই বাণী: {কাবা ঘরের স্থান} দ্বারা দলিল পেশ করেন, তা বলিষ্ঠ বা সুস্পষ্ট নয়; কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর জ্ঞানে নির্ধারিত স্থান, যা তাঁর কুদরতে সুনিশ্চিত এবং আদম আলাইহিস সালাম থেকে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-এর সময় পর্যন্ত নবিগণের নিকট যে স্থানটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ছিল। আমরা উল্লেখ করেছি যে, আদম আলাইহিস সালাম সেই স্থানের ওপর একটি গম্বুজ স্থাপন করেছিলেন, এবং ফেরেশতারা বলেছিলেন: আমরা আপনার আগে এই ঘরের তাওয়াফ করেছি, এবং (নুহ আলাইহিস সালাম-এর) নৌকা এর চারপাশ চল্লিশ দিন তাওয়াফ করেছিল ইত্যাদি।

কিন্তু এই সমস্ত সংবাদ বনি ইসরায়েলি বর্ণনা থেকে প্রাপ্ত।

আমরা সাব্যস্ত করেছি যে, এগুলোকে সত্য বলা যাবে না আবার মিথ্যাও বলা যাবে না, তাই এগুলো দিয়ে দলিল পেশ করা যাবে না। তবে যদি সত্য (অহি) একে প্রত্যাখ্যান করে তবে তা প্রত্যাখ্যাত। মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই মানুষের জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি স্থাপিত হয়েছে, তা হলো মক্কায় অবস্থিত ঘরটি, যা বরকতময় ও বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াতস্বরূপ... তাতে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ রয়েছে, যেমন মাকামে ইব্রাহিম}, অর্থাৎ সেই পাথরটি যার ওপর তিনি দাঁড়িয়ে কাজ করছিলেন যখন নির্মাণ কাজ তাঁর উচ্চতা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, তখন তাঁর পুত্র তাঁর জন্য এই প্রসিদ্ধ পাথরটি রেখেছিলেন যেন তিনি এর ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করতে পারেন... ইবনে কাসিরের বক্তব্য শেষ পর্যন্ত।

ইবনে কাসির ‘আল-বিদায়া’ (২/২৯৮-২৯৯)-তে পুনরায় বিষয়টি উল্লেখ করে বনি ইসরায়েলি রেওয়ায়াতগুলো বর্ণনা করেছেন এবং পুনরায় এই মর্মে জোর দিয়েছেন যে, কাবা ঘর ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম কর্তৃক নির্মিত হওয়ার বিষয়টি ছাড়া অন্য কিছু সহিহ নয়।

২ অথবা কেবল স্থানের বর্ণনা ও তার সীমানা নির্ধারণ মাত্র।

৩ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১২৭।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
السيول تطغى على مكة وتدمر في هذا المسجد، حتى أعاد بناءه قصي بن كلاب الذي طرد الخزاعيين من مكة وجعل للمسجد سقفًا لأول مرة في تاريخه، وبنى حول المسجد بيوتًا تطل عليه، ثم أشرفت قريش على الكعبة بعد قصي، فأصابها حريق1، فأعادوا بناءها وأقاموا بداخل البناء ستة أعمدة ليعتمد السقف عليها.

--------------------------------------------

1 في "السيرة الحلبية" "1/ 229" وغيرها، أن سبب الحريق امرأة بخرت الكعبة، فطارت شرارة فعلقت بثوب الكعبة فأحرقتها، وقيل غير ذلك.

وجميع هذه الأقوال المتقدمة ليس فيها شيء متيقن، لكنه مذكور في تاريخ الأزرقي، والسيرة الحلبية، وسيرة ابن هشام 1/ 116 وغير ذلك من الكتب، وسيأتي تفصيل في هذا.
প্রবল বন্যা মক্কায় প্লাবিত হয়ে এই মসজিদের ক্ষতিসাধন করে, অবশেষে কুসাই বিন কিলাব এটি পুনর্নির্মাণ করেন, যিনি খুজাআ গোত্রকে মক্কা থেকে বহিষ্কার করেছিলেন এবং মসজিদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এর ছাদ নির্মাণ করেছিলেন। তিনি মসজিদের চারপাশে এমন কিছু ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছিলেন যা মসজিদের দিকে মুখ করা ছিল। অতঃপর কুসাইয়ের পর কুরাইশরা কাবার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করে। একদা সেখানে অগ্নিকাণ্ড ঘটে ১, ফলে তারা তা পুনর্নির্মাণ করে এবং কাঠামোর অভ্যন্তরে ছয়টি স্তম্ভ স্থাপন করে যেন ছাদটি তার ওপর ভর করে থাকতে পারে।

--------------------------------------------

১ 'আস-সিরাতুল হালাবিয়্যাহ' (১/২২৯) এবং অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ছিল একজন নারী যিনি কাবায় সুগন্ধি ধূপ দিচ্ছিলেন, তখন একটি স্ফুলিঙ্গ উড়ে গিয়ে কাবার গিলাফে লাগে এবং তা পুড়িয়ে দেয়। এছাড়া ভিন্ন মতও বর্ণিত হয়েছে।

তবে পূর্বোক্ত এই সকল বক্তব্যের কোনোটিই সুনিশ্চিত নয়, কিন্তু এটি আজরাকির ইতিহাস, আস-সিরাতুল হালাবিয়্যাহ, ইবনে হিশামের সিরাত (১/১১৬) এবং অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌عام الفيل والطير الأبابيل:

ولا بد لنا ونحن نطالع تاريخ المسجد الحرام أن نقف عند هذا العام الخالد في تاريخ العرب -وهو عام الفيل- وقفة طويلة لما تجلى فيه من نصر الله للعرب على الأحباش الظالمين.

ولما ظهر فيه من الآية الكبرى التي حمى الله بها بيته المحرم من عدوان الطغاة وطغيان المعتدين، حيث جعل {كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ، وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْراً أَبَابِيلَ، تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ مِنْ سِجِّيلٍ، فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَأْكُولٍ} 1.

ويذكر الرواة في ذلك أن الأحباش -وكانوا يدينون بالمسيحية- أرادوا أن ينشروا هذا الدين في جزيرة العرب بعد أن استولوا على اليمن، وخصوصًا لما رأوه من تقديس العرب لمكة وللمسجد الحرام وتقديمهم القرابين والنذور والهدايا والهبات إلى سدنة المسجد والقائمين بأمره..

--------------------------------------------

1 سورة الفيل 2 - 3 - 4 - 5.
‌হস্তীবর্ষ ও আবাবীল পাখি:

মসজিদুল হারামের ইতিহাস অধ্যয়ন করার সময় আমাদের অবশ্যই আরব ইতিহাসের এই চিরস্মরণীয় বছর—যা হস্তীবর্ষ নামে পরিচিত—সেখানে দীর্ঘক্ষণ নিবিষ্ট হতে হবে; কারণ এতে জালেম হাবশীদের বিরুদ্ধে আরবদের প্রতি আল্লাহর যে সাহায্য প্রকাশ পেয়েছিল তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আর এতে প্রকাশ পেয়েছিল সেই মহা নিদর্শন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর পবিত্র ঘরকে স্বৈরশাসকদের আক্রমণ ও সীমালঙ্ঘনকারীদের ধৃষ্টতা থেকে রক্ষা করেছিলেন, যেখানে তিনি {তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন। আর তিনি তাদের ওপর দলবদ্ধ পাখি পাঠিয়েছিলেন, যারা তাদের ওপর পোড়া মাটির পাথর নিক্ষেপ করছিল। অতঃপর তিনি তাদের ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দিলেন} ১।

বর্ণনাকারীরা এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন যে, হাবশীরা—যারা খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী ছিল—ইয়ামেন দখল করার পর আরব উপদ্বীপে এই ধর্ম প্রচার করতে চেয়েছিল; বিশেষ করে যখন তারা দেখল যে আরবরা মক্কা ও মসজিদুল হারামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করে এবং মসজিদের খাদেম ও এর রক্ষণাবেক্ষণকারীদের নিকট কুরবানি, মানত, হাদিয়া ও দান-অনুদান পেশ করে...

--------------------------------------------

১। সূরা আল-ফীল ২ - ৩ - ৪ - ৫।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقد بدأ القائد الحبشي في بلاد اليمن -ويسمى أبرهة الأشرم- ببناء كنيسة سماها القُلَّيْس وبذل لها ما استطاعه من العناية. حتى إنه نقل إليها من قصر بلقيس أعمدة من الرخام المجزع، والحجارة المنقوشة بالذهب، ونصب فيها صلبانًا من الذهب والفضة، ومنابر من العاج والأبنوس، ودعا الناس إلى الحج إليها1.

فغضب العرب وثار رجل من بني مالك بن كنانة وأقسم ليعبثن بهذه الكنيسة، وقدم إلى اليمن ودخل الكنيسة كأنه متعبد حتى إذا جاء الليل وخلا المكان قام يعبث بأثاث الكنيسة ويلطخ جدرانها بالقاذورات2، ولما علم أبرهة في الصباح بما أصاب كنيسته وعرف أن أعرابيًّا كان يبيت بها وأنه المتهم بالعبث ببنائه المقدس، أقسم ليهدمن الكعبة، وجهز لذلك العدة والعديد3 والبأس الشديد..

وأقبل جيش الحبشة من اليمن فأشرف على مكة بعد أن تخطى إليها التلال والنجاد، والهضاب والوهاد، والصحراء القاسية المترامية، وبعد أن كاد يضل في شعاب الجزيرة الشائكة ومسالكها المشتبكة، ثم استقر بمكان قريب من مكة

--------------------------------------------

1 "سيرة ابن هشام" 1/ 44، "دلائل النبوة" للبيهقي 1/ 117، "الروض الأنف" للسهيلي 1/ 63، "البداية والنهاية" 1/ 170، "المواهب اللدنية" 1/ 101 وغير ذلك.

وقال السهيلي في "الروض الأنف": سميت القلَّيْس لارتفاع بنائها وعلوها، ومنه القلانس لأنها في أعلى الرءوس …

2 وفي أكثر الروايات أنه قعد فقضى حاجته، فأحدث وبال، وهذا القول مروي عن ابن عباس وغيره، وذكره من قدمنا ذكرهم، وهو الذي عليه الأكثر.

وقيل: أجّجت فتية من العرب نارًا قرب الكنيسة، فحملتها الريح، وكان في عمارة القليس خشب مموه فأحرقته، وهذا القول منقول عن مجاهد.

وقيل إن نفيلًا الخثعمي كان يتعرض لأبرهة بالمكروه، ثم إنه جاء ليلة بعذره فلطخ بها قبلة الكنيسة، وألقى فيها جيفًا.

3 فقيل: إنه بلغ عددهم ستين ألفًا.
ইয়েমেন ভূখণ্ডে আবিসিনীয় সেনাপতি -যাকে আবরাহা আল-আশরাম বলা হয়- একটি গির্জা নির্মাণ শুরু করেন, যার নাম তিনি রাখেন 'আল-কুল্লাইস' এবং এর পেছনে তিনি যথাসম্ভব যত্ন ও প্রচেষ্টা ব্যয় করেন। এমনকি তিনি এতে বিলকিসের প্রাসাদ থেকে কারুকার্যখচিত মার্বেল পাথরের স্তম্ভ এবং স্বর্ণখচিত পাথর স্থানান্তর করেন। সেখানে তিনি স্বর্ণ ও রৌপ্যের ক্রুশ এবং হাতির দাঁত ও আবলুস কাঠের মিম্বর স্থাপন করেন এবং মানুষকে সেখানে হজের জন্য আহ্বান জানান।১

এতে আরবরা ক্রুদ্ধ হয় এবং বনী মালিক বিন কিনানা গোত্রের এক ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে শপথ করেন যে, তিনি অবশ্যই এই গির্জাটিকে কলুষিত করবেন। তিনি ইয়ামেনে এসে ইবাদতকারীর বেশে গির্জায় প্রবেশ করেন। রাত হলে যখন স্থানটি নির্জন হয়ে যায়, তখন তিনি গির্জার আসবাবপত্র তছনছ করেন এবং এর দেয়ালে নাপাকি মেখে দেন।২ সকালে আবরাহা যখন তার গির্জার এই অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারলেন এবং জানলেন যে এক আরব সেখানে রাত যাপন করেছিল এবং সেই তার এই পবিত্র স্থাপনা কলুষিত করার জন্য অভিযুক্ত, তখন তিনি ক্বাবা ধ্বংস করার শপথ নিলেন। এর জন্য তিনি পর্যাপ্ত সরঞ্জাম, বিশাল বাহিনী৩ এবং কঠোর যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন।

এরপর আবিসিনীয় বাহিনী ইয়ামেন থেকে অগ্রসর হয়ে মক্কার সন্নিকটে উপস্থিত হলো; পথিমধ্যে তারা টিলা, উচ্চভূমি, মালভূমি, নিচু ভূমি এবং সুদূরপ্রসারী কঠোর মরুভূমি অতিক্রম করে। আরব উপদ্বীপের কণ্টকাকীর্ণ গিরিপথ এবং জটিল রাস্তাগুলোতে পথ হারানোর উপক্রম হওয়ার পর অবশেষে তারা মক্কার নিকটবর্তী একটি স্থানে শিবির স্থাপন করল।

--------------------------------------------

১ "সীরাতে ইবনে হিশাম" ১/৪৪, বায়হাকীর "দালায়েলুন নবুওয়াহ" ১/১১৭, সুহাইলীর "আর-রওদুল উনুফ" ১/৬৩, "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া" ১/১৭০, "আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াহ" ১/১০১ এবং অন্যান্য।

সুহাইলী "আর-রওদুল উনুফ" গ্রন্থে বলেছেন: এর গঠন শৈলীর উচ্চতা ও উচ্চমার্গের কারণে এর নাম 'আল-কুল্লাইস' রাখা হয়েছে; 'কালানসুয়াহ' (টুপি) শব্দটিও এখান থেকেই এসেছে, কারণ তা মাথার উপরিভাগে থাকে ...

২ অধিকাংশ বর্ণনায় এসেছে যে, সে সেখানে বসে মলমূত্র ত্যাগ করেছিল। এই মতটি ইবনে আব্বাস এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং আমাদের উল্লিখিত গ্রন্থকারগণ এটি উল্লেখ করেছেন এবং এটিই অধিকাংশের অভিমত।

বলা হয়েছে: আরবদের কিছু যুবক গির্জার কাছে আগুন জ্বালিয়েছিল, যা বাতাস উড়িয়ে নিয়ে যায়। কুল্লাইসের কাঠামোতে প্রলেপযুক্ত কাঠ ছিল যা পুড়ে যায়; এই মতটি মুজাহিদ থেকে বর্ণিত।

আরও বলা হয়েছে যে, নুফাইল আল-খাসআমি আবরাহাকে বিরক্ত করতেন, এরপর এক রাতে তিনি বিষ্ঠা নিয়ে এসে গির্জার কিবলার দিকে লেপন করেন এবং তাতে পচা মৃতদেহ ফেলে দেন।

৩ বলা হয়েছে যে, তাদের সংখ্যা ছিল ষাট হাজার।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২০)
يقال له: "المغمس"1 وأرسل قائد الجيش رسولًا من قبله إلى مكة يدعى "حناطة الحميري"2 فقال له: سل عن سيد أهل هذه البلاد وشريفها، ثم قل له: إن الملك لم يأت لحربكم، وإنما جاء لهدم هذا البيت. فإن لم تعرضوا لنا دونه بحرب، فلا حاجة له في دمائكم، فإنه هو لم يرد الحرب فأت إليّ به.

فلما دخل حناطة مكة سأل عن سيد قريش وشريفها، فقيل له: عبد المطلب بن هاشم، فجاءه فأخبره بما أمره به أبرهة، فقال له عبد المطلب: "والله ما نريد حربه، وما لنا بذلك منه طاقة، هذا بيت الله الحرام، وبيت خليله إبراهيم عليه السلام فإن يمنعه منه فهو بيته وحرمه، وإن يخل بينه وبينه فوالله ما عندنا دفع عنه". فقال حناطة: فانطلق معي إليه، فإنه قد أمرني بذلك.

فانطلق معه عبد المطلب ومعه بعض بنيه حتى أتى المعسكر ووقف بباب أبرهة، فقيل لأبرهة: إن عبد المطلب ببابك، فقال: من هو عبد المطلب؟ قيل: إنه سيد قريش وصاحب عيش3 مكة، وهو الذي يطعم الناس في السهل والوحوش في رءوس الجبال. فأذن له أبرهة.

وكان عبد المطلب وسيمًا جميلًا شديد الهيبة والوقار. فلما رآه أبرهة، أجلَّه

--------------------------------------------

1 بضم الميم، وفتح الغين المعجمة، وكسر الميم الثانية وتشديدها، وهذا الموقع يبعد عن مكة نحو ستة أميال، كما في "دلائل النبوة" 1/ 118.

2 سيرة ابن هشام 1/ 50، والبداية 1/ 170 وغيرها، وأنه أرسل حناطة بعد أن كان بعث من المغمس رجلًا من الحبشة، يقال له الأسود، على خيل حتى انتهى إلى مكة، فساق أموالًا وإبلًا من تهامة وغيرهم، فيها مائتي بعير لعبد المطلب جد النبي صلى الله عليه وسلم وكان يومها كبير قريش وسيدها. كما ذكر ذلك ابن هشام والبغوي واليعمري والدميري وغيرهم وقد قيل في عدد الإبل غير هذا، كما سيأتي بعد.

3 عند ابن هشام "عير" 1/ 51، وكذلك في "تاريخ الطبري" 2/ 120، وفي نسخة من ابن إسحاق عين بالنون، وكذلك جاء في "البداية" 1/ 172.
তাকে বলা হয়: "আল-মুগাম্মাস"।১ এবং সেনাবাহিনীর সেনাপতি তার পক্ষ থেকে মক্কায় "হুনাতাহ আল-হিমইয়ারি"২ নামক এক দূত পাঠালেন। তিনি তাকে বললেন: এই ভূখণ্ডের অধিবাসীদের নেতা ও অভিজাত ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো, তারপর তাকে বলো: রাজা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে আসেননি, বরং তিনি এসেছেন এই ঘর (কাবা) ধ্বংস করতে। যদি তোমরা এর সুরক্ষায় আমাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত না হও, তবে তোমাদের রক্তপাতে তার কোনো প্রয়োজন নেই। যদি সে যুদ্ধ করতে না চায়, তবে তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো।

যখন হুনাতাহ মক্কায় প্রবেশ করলেন, তিনি কুরাইশদের নেতা ও অভিজাত ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তাকে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিমের কথা বলা হলো। তিনি তার কাছে গিয়ে আবরাহা তাকে যা আদেশ করেছিলেন তা জানালেন। তখন আবদুল মুত্তালিব তাকে বললেন: "আল্লাহর কসম, আমরা তার সাথে যুদ্ধ করতে চাই না এবং তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো শক্তিও আমাদের নেই। এটি আল্লাহর পবিত্র ঘর এবং তাঁর বন্ধু ইবরাহিম আলাইহিস সালামের ঘর। যদি তিনি (আল্লাহ) তাকে এটি থেকে বাধা দেন, তবে তা হবে তাঁর ঘর ও তাঁর পবিত্র হারাম। আর যদি তিনি তার ও ঘরের মাঝখানে ছেড়ে দেন (বাধা না দেন), তবে আল্লাহর কসম, তাকে ঠেকানোর মতো আমাদের কোনো ক্ষমতা নেই।" হুনাতাহ বললেন: তাহলে আমার সাথে তার (আবরাহার) কাছে চলুন, কারণ তিনি আমাকে এ বিষয়েই আদেশ করেছেন।

অতঃপর আবদুল মুত্তালিব তার কয়েকজন পুত্রকে নিয়ে তার সাথে রওনা হলেন এবং সৈন্য শিবিরের কাছে পৌঁছে আবরাহার দরজায় দাঁড়ালেন। আবরাহাকে বলা হলো: আবদুল মুত্তালিব আপনার দরজায় উপস্থিত। তিনি বললেন: আবদুল মুত্তালিব কে? বলা হলো: তিনি কুরাইশদের নেতা এবং মক্কার রিযিকের জিম্মাদার,৩ যিনি সমতলে মানুষকে এবং পাহাড়ের চূড়ায় বন্য প্রাণীদের আহার দেন। তখন আবরাহা তাকে অনুমতি দিলেন।

আবদুল মুত্তালিব ছিলেন সুদর্শন, সুশ্রী এবং অত্যন্ত প্রভাবশালি ও গাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। আবরাহা যখন তাকে দেখলেন, তিনি তাকে সম্মান প্রদর্শন করলেন।

--------------------------------------------

১ মীম-এ পেশ, মু'জাম গাইন-এ জবর এবং দ্বিতীয় মীম-এ যের ও তাশদীদসহ; এই স্থানটি মক্কা থেকে প্রায় ছয় মাইল দূরে অবস্থিত, যেমনটি "দালাইলুন নুবুওয়াহ" ১/১১৮-তে বর্ণিত হয়েছে।

২ সীরাতে ইবনে হিশাম ১/৫০, আল-বিদায়াহ ১/১৭০ এবং অন্যান্য। আর এটি হলো, আল-মুগাম্মাস থেকে আল-আসওয়াদ নামক এক হাবশী ব্যক্তিকে একদল অশ্বারোহীসহ পাঠানোর পর তিনি হুনাতাহকে পাঠিয়েছিলেন। সেই হাবশী ব্যক্তি মক্কায় পৌঁছে তিহামাহ ও অন্যান্যদের সম্পদ ও উট লুণ্ঠন করেন, যার মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাদা আবদুল মুত্তালিবের দুইশ উটও ছিল, যিনি সে সময় কুরাইশদের বড় ও তাদের নেতা ছিলেন। ইবনে হিশাম, বাগাবী, ইয়ামুরী, দামীরী এবং অন্যরা এভাবেই উল্লেখ করেছেন। উটের সংখ্যা নিয়ে এর বাইরেও কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়, যা সামনে আসবে।

৩ ইবনে হিশামের বর্ণনায় ১/৫১-তে "আইর" (কাফেলা), এবং একইভাবে "তারিখে তাবারী" ২/১২০-এ রয়েছে। ইবনে ইসহাকের এক পাণ্ডুলিপিতে "নুন" সহযোগে "আইন" এসেছে এবং একইভাবে "আল-বিদায়াহ" ১/১৭২-তেও পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২১)
وأعظمه وأكرمه عن أن يجلسه تحته، وكره أن تراه الحبشة يجلس معه على سرير ملكه.

فنزل أبرهة عن سريره فجلس على بساطه وأجلسه معه عليه إلى جنبه، ثم قال لترجمانه: سله عن حاجته: فسأل الترجمان؟ فقال: حاجتي أن يرد علي الملك مائتي بعير أصابها لي. فلما قال له ذلك، قال أبرهة لترجمانه: قد كنت أعجبتني حين رأيتك، ثم قد زهدت فيك حين كلمتني، أتكلمني في مائتي بعير أصبتها لك وتترك بيتًا، هو دينك ودين آبائك قد جئت لهدمه، لا تكلمني فيه؟

فقال له عبد المطلب: "إني أنا رب الإبل، وإن للبيت ربا سيمنعه ويحميه".

فرد أبرهة قائلًا: ما كان ليمتنع مني.

فأجابه: أنت وذلك.. فرد أبرهة على عبد المطلب المائتي بعير التي أصابها.. وانطلق عبد المطلب إلى قريش فأخبرهم الخبر1، ثم تعلق بحلقة الكعبة وأستارها في ضراعة الخائف الوجل وإنابة العائذ المستغيث، وأخذ يقول:

لا همّ إن العبد يمـ … نع رحله فامنع رحالك2

--------------------------------------------

1 وهذا هو المشهور الذي عليه أكثر كتب السيرة.

وقال ابن إسحاق:

وكان فيما يزعم بعض أهل العلم، أنه ذهب مع عبد المطلب إلى أبرهة يعمر بن نفاثة بن عدي سيد بني بكر، وخويلد بن واثلة سيد هذيل، فعرضوا على أبرهة ثلث أموال تهامة على أن يرجع عنهم ولا يهدم البيت فأبى عليهم.

قال ابن إسحاق:

والله أعلم أكان ذلك أم لا.

"سيرة ابن هشام" 1/ 52، و"البداية والنهاية" 1/ 172.

2 في أكثر المصادر "حلالك" بكسر الحاء المهملة، والحلال جمع حلة وهي جماعة البيوت. فكأنه أراد البيت وما حوله.

وقوله "لا همّ" أصلها: "اللهم" والعرب تحذف الألف واللام.
তিনি তাঁকে এতই মহিমান্বিত ও সম্মানিত মনে করলেন যে তাঁকে নিজের নিচে বসাতে চাইলেন না, আবার হাবশীরা তাঁকে তাঁর রাজসিংহাসনে নিজের সাথে বসা অবস্থায় দেখুক—এটাও তিনি অপছন্দ করলেন।

অতঃপর আবরাহা তাঁর সিংহাসন থেকে নেমে গালিচার ওপর বসলেন এবং তাঁকে তাঁর পাশেই নিজের সাথে বসালেন। এরপর তিনি তাঁর দোভাষীকে বললেন: তাঁকে তাঁর প্রয়োজনের কথা জিজ্ঞেস করো। দোভাষী তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: আমার প্রয়োজন হলো, রাজা যেন আমার দুইশত উট আমাকে ফেরত দেন যা তিনি অধিকার করেছেন। যখন তিনি তাঁকে এ কথা বললেন, আবরাহা তাঁর দোভাষীকে বললেন: যখন আমি তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম তখন তুমি আমার কাছে বিস্ময়কর ও আকর্ষণীয় মনে হয়েছিলে, কিন্তু যখন তুমি কথা বললে তখন তোমার প্রতি আমার শ্রদ্ধা কমে গেল। তুমি আমার সাথে তোমার দুইশত উটের ব্যাপারে কথা বলছ যা আমি নিয়েছি, অথচ এমন একটি ঘরের ব্যাপারে কিছু বলছ না যা তোমার এবং তোমার পিতৃপুরুষদের দ্বীন এবং আমি তা ধ্বংস করতে এসেছি? সে বিষয়ে তুমি আমার সাথে কোনো কথা বলবে না?

অতঃপর আব্দুল মুত্তালিব তাঁকে বললেন: "নিশ্চয়ই আমি হলাম উটের মালিক, আর এই ঘরের অবশ্যই একজন মালিক আছেন, যিনি একে রক্ষা ও প্রতিহত করবেন।"

আবরাহা উত্তর দিলেন: তিনি তা আমার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন না।

তিনি উত্তর দিলেন: তা তোমার এবং তাঁর বিষয়। অতঃপর আবরাহা আব্দুল মুত্তালিবের সেই দুইশত উট ফেরত দিলেন যা তিনি হস্তগত করেছিলেন। এরপর আব্দুল মুত্তালিব কুরাইশদের কাছে গিয়ে তাদের এই সংবাদ জানালেন (১), অতঃপর অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত হৃদয়ে বিনীতভাবে প্রার্থনা করতে করতে এবং আশ্রয়প্রার্থী ও সাহায্যপ্রার্থীর ন্যায় আল্লাহর অভিমুখী হয়ে কাবার দরজার কড়া ও এর গিলাফ ধরে বলতে লাগলেন:

হে আল্লাহ! একজন বান্দাও তার উটের পাল রক্ষা করে, সুতরাং আপনিও আপনার সম্পদ ও গৃহ রক্ষা করুন (২)

--------------------------------------------

১. আর এটিই প্রসিদ্ধ বর্ণনা যার ওপর অধিকাংশ সীরাত গ্রন্থ একমত।

ইবনে ইসহাক বলেন:

কোনো কোনো জ্ঞানীর দাবি অনুযায়ী, আব্দুল মুত্তালিবের সাথে আবরাহার কাছে বনু বকরের নেতা ইয়ামুর বিন নুফাথা বিন আদি এবং হুযাইল গোত্রের নেতা খুয়াইলিদ বিন ওয়াথিলা গিয়েছিলেন। তাঁরা আবরাহার কাছে তিহামা অঞ্চলের সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এই শর্তে যে তিনি যেন তাদের ওপর থেকে ফিরে যান এবং বায়তুল্লাহ ধ্বংস না করেন। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করেন।

ইবনে ইসহাক বলেন:

আল্লাহই ভালো জানেন তা হয়েছিল কি না।

"সীরাতে ইবনে হিশাম" ১/৫২ এবং "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া" ১/১৭২।

২. অধিকাংশ উৎসে এখানে ‘হিলালাকা’ (হা বর্ণে কাসরা সহ) এসেছে, যা ‘হিল্লা’ শব্দের বহুবচন; এর অর্থ ঘরসমূহের সমষ্টি। এর দ্বারা তিনি মূলত কাবা ঘর এবং এর চারপাশকে বুঝিয়েছেন। আর তাঁর কথা ‘লা-হুম্মা’-এর মূল হলো ‘আল্লাহুম্মা’, আর আরবরা কখনো কখনো শুরুর আলিফ ও লাম বিলুপ্ত করে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২২)
وانصر على آل الصليب … وعابديه اليوم آلك1

لا يغلبن صليبهم … ومحالهم أبدًا2 محالك3

هم جردوا لك جمعهم … والفيل كي يسبوا4 عيالك

عَمَدُوا حِماك بكيدهم … جهلاً وما رقبوا جلالك

إن كنت تاركهم وقبـ … ـلتنا فأمر ما بدا لك

.. ثم طاف بالبيت منشدًا والناس معه يرددون:

يا رب لا أرجو لهم سواكا … رب فامنع منهم حماكا

امنعهموا أن يخربوا قراكا … إن عدوّ البيت من عاداكا5

وهكذا لجأ عبد المطلب ولجأت معه قريش إلى الله يطلبون عونه وحمايته، ثم خرجوا من مكة لكي يتحرزوا في شعف الجبال والشعاب، وينتظرون عدل الله مع هؤلاء الطغاة الظالمين..

وتحرك بعد ذلك جيش الأحباش مدلًا بعظمته وكبريائه، يتقدمه الفيلة بشكلها المهيب المخيف الذي لم تألفه العرب في حروبها، وكان عددهم ثلاثة عشر فيلًا

--------------------------------------------

1 هذا البيت زاده السهيلي في "الروض" 1/ 70 وقال: لم يقع في الأصل.

2 في سائر النسخ التي وقفت عليها "غدوًا" بالغين المعجمة، أي غدًا، وهو اليوم الذي يأتي بعد يومك.

قالوا: ولم يرد عبد المطلب الغد بعينه، ولكن أراد قرب الزمان.

3 المحال، بكسر الميم القوة والشدة.

4 يسرقوا، وهذا البيت والذي بعده لم يقع في السيرة لابن هشام، ولا عند من نقل عنه ووقع في بعض الروايات اختلاف، وذكر بيوت لم تذكر هنا.

5 "سبل الهدى والرشاد" للصالحي 1/ 254.
এবং ক্রুশধারীদের ওপর আজ আপনার পরিজনকে সাহায্য করুন … এবং এর উপাসকদের বিরুদ্ধেও১

তাদের ক্রুশ এবং তাদের শক্তি যেন আপনার শক্তির ওপর কখনোই … বিজয়লাভ না করে২ ৩

তারা আপনার বিরুদ্ধে তাদের দলবল প্রস্তুত করেছে … এবং হস্তিবাহিনীকেও, যাতে আপনার পরিবার-পরিজনকে বন্দী করতে পারে৪

তারা অজ্ঞতাবশত তাদের চক্রান্তের মাধ্যমে আপনার পবিত্র সীমানার সংকল্প করেছে … এবং আপনার মহিমাকে গ্রাহ্য করেনি

আপনি যদি তাদেরকে এবং আমাদের কিবলাকে … ছেড়ে দিতে চান, তবে তা আপনারই অভিপ্রায়

.. অতঃপর তিনি বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করলেন আবৃত্তি করতে করতে এবং তাঁর সাথে লোকেরাও তা আওড়াচ্ছিল:

হে প্রতিপালক, তাদের বিরুদ্ধে আমি আপনি ছাড়া আর কারো আশা করি না … হে প্রতিপালক, তাদের থেকে আপনার পবিত্র সীমানাকে রক্ষা করুন

তাদেরকে আপনার জনপদ ধ্বংস করা থেকে বিরত রাখুন … নিশ্চয়ই এই ঘরের শত্রু সেই, যে আপনার সাথে শত্রুতা করে৫

এভাবেই আবদুল মুত্তালিব এবং তাঁর সাথে কুরাইশরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইলেন, তাঁরা তাঁর সাহায্য ও সুরক্ষা প্রার্থনা করছিলেন। অতঃপর তাঁরা মক্কা থেকে বের হয়ে পাহাড়ের চূড়া ও গিরিপথগুলোতে আশ্রয় নিলেন এবং এই জালিম ও অবাধ্যদের বিষয়ে আল্লাহর ইনসাফের অপেক্ষা করতে লাগলেন।

এরপর হাবশি সেনাবাহিনী তাদের বিশালত্ব ও দম্ভ প্রদর্শন করতে করতে অগ্রসর হলো। তাদের সামনে ছিল হস্তিবাহিনী, যাদের ভয়ংকর ও গম্ভীর আকৃতির সাথে আরবরা তাদের যুদ্ধবিগ্রহে পরিচিত ছিল না। সেখানে তেরটি হাতি ছিল।

--------------------------------------------

১ এই পঙক্তিটি সুহাইলি ‘আর-রওদ’ (১/৭০) গ্রন্থে বৃদ্ধি করেছেন এবং বলেছেন: এটি মূল পাঠে ছিল না।

২ আমি যে সকল পাণ্ডুলিপি দেখেছি তাতে ‘গাইনু’ বর্ণ দিয়ে ‘গুদুওয়ান’ (আগামীকাল) শব্দটি রয়েছে, যার অর্থ হলো এমন দিন যা বর্তমান দিনের পর আসে।

তাঁরা বলেছেন: আবদুল মুত্তালিব নির্দিষ্টভাবে আগামীকালকে বোঝাননি, বরং আসন্ন সময়কে বুঝিয়েছেন।

৩ ‘মিহাল’ (মীম বর্ণে কাসরা সহকারে) অর্থ হলো শক্তি ও কঠোরতা।

৪ ছিনতাই করা; এই পঙক্তিটি এবং এর পরেরটি ইবনে হিশামের সীরাত গ্রন্থে পাওয়া যায় না, এমনকি তাঁর থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের কাছেও নেই। কিছু বর্ণনায় ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে এবং এমন কিছু পঙক্তি উল্লেখ করা হয়েছে যা এখানে বর্ণিত হয়নি।

৫ সালিহি রচিত ‘সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ’, ১/২৫৪।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
توجهت جميعها في طريقها إلى الكعبة ما عدا الفيل الأكبر منها فإنه ظل جامدًا في مكانه، فإذا وجهوه إلى اليمن أسرع وهرول، وإذا وجهوه إلى الكعبة وقف ولم يتحول، وكأن الله قد ألهم ذلك الحيوان الأعجم بما تخبئه الحدثان، وما ينتظر ذلك الجيش المعتدي من خسف ونكال وهوان …

وما كان مثل هذا الجيش القوي ليغلب أو يتراجع لولا قدرة القوي القاهر التي تجلت في هذه الآية الكبرى الباقية على الدهر، إذ أرسل الله إليهم طيرًا من البحر أمثال الخطاطيف، مع كل طائر منها ثلاثة أحجار يحملها: حجر في منقاره وحجران في رجليه -أمثال الحمص والعدس- لا تصيب منهم أحدًا إلا هلك وليس كلهم أصابت1.

وذعر الأحباش واستولى عليهم الرعب والذهول فخرجوا هاربين يبتدرون الطريق الذي منه جاءوا ويسألوا عن الطريق إلى اليمن، فقال أعرابي2 رآهم في هذه الحيرة، بعدما أنزل الله عليهم من نقمته:

أين المفر والإله الطالب … والأشرم المغلوب ليس الغالب

--------------------------------------------

1 "سيرة ابن هشام" 1/ 54، و"الروض الأنف" 1/ 27، و"دلائل النبوة" لأبي نعيم 1/ 149، و"دلائل النبوة" للبيهقي 1/ 122- 123، و"البداية والنهاية" 1/ 173، و"المواهب اللدنية" 1/ 103.

وقال السهيلي في "الروض الأنف" 1/ 72:

وذكر النقاش أن الطير كانت أنيابها كأنياب السبع، وأكفها كأكف الكلاب.

وذكر البيهقي أن ابن عباس قال: أصغر الحجارة كرأس الإنسان، وكبارها كالإبل!

قال السهيلي:

وهذا الذي ذكره البرقي، ذكر ابن إسحاق في رواية يونس عنه.

وفي تفسير النقاش أن السيل احتمل جثثهم، فألقاها في البحر.

قلت: وسيأتي بعض ذلك.

2 هو نفيل بن حبيب، فيما ذكر ابن إسحاق وغيره. وسيذكره المؤلف، انظر الحاشية الرابعة الآتية.
এগুলোর সবকটি কাবার দিকে তাদের পথে অগ্রসর হলো কেবল তাদের মধ্যে সর্ববৃহৎ হাতিটি ব্যতীত, সেটি তার স্থানে স্থবির হয়ে রইল। যখন তারা সেটিকে ইয়েমেনের দিকে মুখ করাত, সেটি দ্রুত চলত ও দৌড়াত; আর যখন তারা সেটিকে কাবার দিকে মুখ করাত, সেটি দাঁড়িয়ে যেত এবং নড়াচড়া করত না। মনে হচ্ছিল যেন আল্লাহ সেই নির্বাক প্রাণীকে আগত বিপদ সম্পর্কে ইলহাম বা অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, যা কালচক্রে লুকায়িত ছিল এবং সেই আক্রমণকারী বাহিনীর জন্য যে ধস, শাস্তি ও লাঞ্ছনা অপেক্ষা করছিল ...

এই শক্তিশালী বাহিনী পরাজিত হওয়ার বা পিছু হটার ছিল না, যদি না মহাপরাক্রমশালী পরাভিববকারীর কুদরত প্রকাশিত হতো যা কালজয়ী এই মহানিদর্শনটিতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। কারণ আল্লাহ সমুদ্রের দিক থেকে আবাবিল পাখির ন্যায় এক প্রকার পাখি পাঠালেন, যাদের প্রত্যেকের সাথে তিনটি করে পাথর ছিল যা তারা বহন করছিল: একটি পাথর তার চঞ্চুতে এবং দুটি পাথর তার পায়ে—যেগুলো ছিল ছোলা ও মসুর ডালের মতো। সেগুলো তাদের যার ওপর পড়ত সে ধ্বংস হতো, তবে সেগুলো সবার ওপর পড়েনি।১

হাবশীরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল এবং তাদের ওপর আতঙ্ক ও কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা জেঁকে বসল। ফলে তারা পলায়নপর অবস্থায় যে পথে এসেছিল সে পথেই ফিরে যেতে উদ্যত হলো এবং ইয়েমেনের পথের খোঁজ করতে লাগল। এক বেদুইন২ যখন তাদেরকে এই বিভ্রান্তিকর অবস্থায় দেখল, যখন আল্লাহ তাদের ওপর তাঁর শাস্তি নাজিল করেছিলেন, তখন সে বলল:

পালাবার পথ কোথায় যখন আল্লাহ স্বয়ং অন্বেষণকারী ... আর আশরাম (আবরাহা) বিজিত, সে বিজয়ী নয়।

--------------------------------------------

১ "সীরাতে ইবনে হিশাম" ১/ ৫৪, "আর-রওদুল উনুফ" ১/ ২৭, আবু নুয়াইমের "দালাইলুন নুবুওয়াহ" ১/ ১৪৯, বায়হাকীর "দালাইলুন নুবুওয়াহ" ১/ ১২২- ১২৩, "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া" ১/ ১৭৩, "আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া" ১/ ১০৩।

সুহায়লী "আর-রওদুল উনুফ" ১/ ৭২-এ বলেছেন:

নাক্কাশ উল্লেখ করেছেন যে, পাখিদের দাঁত ছিল হিংস্র পশুর দাঁতের মতো এবং থাবা ছিল কুকুরের থাবার মতো।

বায়হাকী উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে আব্বাস বলেছেন: পাথরের মধ্যে ক্ষুদ্রতমটি ছিল মানুষের মাথার ন্যায় এবং বড়গুলো ছিল উটের ন্যায়!

সুহায়লী বলেন:

বারকী যা উল্লেখ করেছেন, তা ইবনে ইসহাক তার থেকে ইউনুসের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন।

নাক্কাশের তাফসীরে আছে যে, প্রবল স্রোত তাদের লাশগুলোকে বহন করে নিয়ে সাগরে নিক্ষেপ করেছিল।

আমি (লেখক) বলছি: এর কিছু অংশ সামনে আসবে।

২ তিনি হলেন নুফায়ল ইবনে হাবীব, যেমনটি ইবনে ইসহাক ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন। লেখক তা উল্লেখ করবেন, পরবর্তী চতুর্থ টীকা দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وجعلوا يتساقطون بكل طريق، ويهلكون بكل مهلك، وأصيب أبرهة في جسده، وخرجوا به معهم يسقط أنملة أنملة، وكلما سقطت أنملة خرج وراءها الدم والقيح الكثير، حتى قدموا به صنعاء وهو مثل فرخ الطير، فما مات حتى انصدع صدره عن قلبه فيما يقولون1.

--------------------------------------------

1 انتهى إلى هنا النقل من سيرة ابن هشام، ومن ذكرنا القصة عندهم.

أقول:

ومع شهرة هذه الحكاية هكذا، فإنها لم تأت من طريق متصل يعتمد عليه ويصح به النقل. على هذا التفصيل، وإن كان الأصل صحيحًا بلا ريب بدليل القرآن.

وقد جاءت روايات أصح نقلًا من هذه الرواية أذكرها مع الكلام على أسانيدها:

أ- عن ابن عباس قال: "أقبل أصحاب الفيل، حتى إذا دنوا من مكة استقبلهم عبد المطلب، فقال لملكهم: ما جاء بك إلينا، ألا بعثت إلينا فنأتيك بكل شيء أردت.

فقال: أخبرت بهذا البيت الذي لا يدخله إلا آمن، فجئت أضيف أهله.

فقال: إنا نأتيك بكل شيء تريد، فارجع.

فأبى إلا أن يدخله، وانطلق يسير نحوه، وتخلف عبد المطلب فقام على جبل فقال: لا أشهد مهلك هذا البيت وأهله ثم قال:

اللهم إن لكل إله … حلالًا فامنع حلالك

لا يغلبن محالهم … أبدًا محالك

اللهم إن فعلت … فأمر ما بدا لك

فأقبلت مثل السحابة من نحو البحر، حتى أظلتهم طيرًا أبابيل التي قال الله، عز وجل: {تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ مِنْ سِجِّيلٍ} فجعل الفيل يعج عجًّا: {فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَأْكُولٍ} .

أخرجه الحاكم 1/ 535، والبيهقي 1/ 122 عنه، ورجاله ثقات إلا قابوس بن أبي ظبيان فهو لين الحديث، لكن يمكن تحسينه بشواهده.

وابن عباس، وإن لم يكن حاضرًا الواقعة، لكن من كان في مثل عمله يعتمد عليه في انتقاء الروايات.

ب- عن عبيد بن عمير قال:

"لما أراد الله عز وجل أن يهلك أصحاب الفيل، بعث عليهم طيرًا، نشأت من البحر، كأنها الخطاطيف، بلق، كل طير منها معه ثلاثة أحجار مجزعة، في منقاره حجر، وحجران في رجليه، ثم جاءت حتى صفت على رءوسهم، ثم صاحت وألقت ما في أرجلها ومناقيرها، فما من حجر وقع منها على رجل إلا خرج من الجانب الآخر … "

أخرجه البيهقي في "الدلائل" 1/ 123 - 124 وابن أبي حاتم -كما في البداية =
এবং তারা প্রতিটি পথে পড়ে যেতে লাগল এবং ধ্বংসের প্রতিটি স্থানে ধ্বংস হতে লাগল। আবরাহা তার নিজের শরীরে আঘাতপ্রাপ্ত হলো। তারা তাকে সঙ্গে নিয়ে বের হলো, আর তার আঙুলের জোড়াগুলো একটি একটি করে খসে পড়তে লাগল। যখনই একটি জোড়া খসে পড়ত, তার পেছন দিয়ে প্রচুর রক্ত ও পুঁজ বের হতো। অবশেষে তারা তাকে নিয়ে সানআ পৌঁছাল, তখন সে পাখির ছানার মতো হয়ে গিয়েছিল। তারা যা বলে সে অনুযায়ী, তার হৃৎপিণ্ড থেকে বুক ফেটে না যাওয়া পর্যন্ত সে মারা যায়নি।১।

--------------------------------------------

১ ইবনে হিশামের সীরাত এবং যাদের কাছে আমরা এই কাহিনীটি উল্লেখ করেছি, তাদের থেকে উদ্ধৃতি এখানে শেষ হলো।

আমি বলছি:

এই কাহিনীটি এভাবে প্রসিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, এটি এমন কোনো নির্ভরযোগ্য নিরবচ্ছিন্ন সনদে আসেনি যার মাধ্যমে এই বিস্তারিত বিবরণটি সহীহ হিসেবে গণ্য হতে পারে। যদিও মূল ঘটনাটি কুরআনের দলিল অনুযায়ী নিঃসন্দেহে সত্য।

এই বর্ণনার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ বর্ণনাসমূহ এসেছে যা আমি সেগুলোর সনদ পর্যালোচনাসহ উল্লেখ করছি:

ক- ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "হাতিওয়ালারা এগিয়ে এল, এমনকি তারা যখন মক্কার নিকটবর্তী হলো তখন আব্দুল মুত্তালিব তাদের সম্মুখীন হলেন। তিনি তাদের রাজাকে বললেন: আপনি আমাদের কাছে কেন এসেছেন? আপনি কি আমাদের কাছে বার্তা পাঠাতে পারতেন না, তাহলে আপনি যা চাইতেন আমরা তা-ই নিয়ে আপনার কাছে যেতাম।

সে বলল: আমাকে এই ঘর সম্পর্কে জানানো হয়েছে যেখানে নিরাপদ ব্যক্তি ব্যতীত কেউ প্রবেশ করে না, তাই আমি এর অধিবাসীদের মেহমান হতে এসেছি।

তিনি বললেন: আমরা আপনার কাছে আপনার কাঙ্ক্ষিত সবকিছু নিয়ে আসছি, সুতরাং আপনি ফিরে যান।

কিন্তু সে তাতে প্রবেশ করা ছাড়া অন্য কিছু মানতে অস্বীকার করল এবং সেদিকে অগ্রসর হতে লাগল। আব্দুল মুত্তালিব পেছনে রয়ে গেলেন এবং একটি পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে বললেন: আমি এই ঘর ও এর অধিবাসীদের ধ্বংস প্রত্যক্ষ করব না। তারপর তিনি বললেন:

হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই প্রত্যেক মাবুদের … নিজস্ব সংরক্ষিত স্থান রয়েছে, সুতরাং আপনি আপনার সংরক্ষিত স্থানকে রক্ষা করুন।

তাদের কৌশল যেন কখনই … আপনার কৌশলের ওপর প্রবল না হয়।

হে আল্লাহ! আপনি যদি এটি হতে দেন … তবে তা আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী হবে।

এরপর সমুদ্রের দিক থেকে মেঘের মতো ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি এল যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা তাদের ওপর নিক্ষেপ করছিল কঙ্করময় পাথর}। ফলে হাতিটি আর্তনাদ করতে লাগল: {অতঃপর তিনি তাদের ভক্ষিত তৃণের মতো করে দিলেন}।

এটি হাকেম ১/৫৩৫ এবং বায়হাকী ১/১২২-এ তার থেকে বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, তবে কাবুস বিন আবি জাবিয়ান দুর্বল হাদীস বর্ণনাকারী, কিন্তু অন্যান্য প্রমাণের মাধ্যমে এটি হাসান পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

আর ইবনে আব্বাস যদিও এই ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন না, তবে তার মতো উচ্চ মর্যাদার ব্যক্তিত্বের ওপর বর্ণনা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্ভর করা যায়।

খ- উবাইদ বিন উমাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

"যখন মহান আল্লাহ হাতিওয়ালাদের ধ্বংস করার ইচ্ছা করলেন, তখন তাদের ওপর সমুদ্র থেকে উদ্ভূত এক প্রকার পাখি পাঠালেন, যারা দেখতে ছিল চাতক পাখির মতো, সাদা-কালো রঙের। তাদের প্রত্যেকের কাছে তিনটি করে দাগযুক্ত পাথর ছিল; একটি তার ঠোঁটে এবং দুটি তার দুই পায়ে। তারা এসে তাদের মাথার ওপর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াল। তারপর তারা চিৎকার করল এবং তাদের পায়ে ও ঠোঁটে থাকা পাথরগুলো নিক্ষেপ করল। কোনো পাথর কোনো মানুষের ওপর পড়ার সাথে সাথে তা তার শরীরের অন্য দিক দিয়ে বেরিয়ে গেল … "

এটি বায়হাকী 'দালাইল' ১/১২৩-১২৪ গ্রন্থে এবং ইবনে আবি হাতিম বর্ণনা করেছেন—যেমনটি আল-বিদায়া গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
وإلى هذا الحادث العجيب يشير الله تعالى بقوله في سورة الفيل:

{أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ، أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ، وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْراً أَبَابِيلَ، تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ مِنْ سِجِّيلٍ، فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَأْكُولٍ} .

وبذلك يتبين لنا مدى الخطأ الذي وقع فيه بعض العلماء الذين أنكروا الطير والحجارة، وقالوا إن الله عز وجل يريد بالطير الرياح المتجمعة، وبالحجارة ذرات التراب التي حملت ميكروب الجدري، فإنه لم يعهد في لغة العرب أن يقال عن الرياح: إنها طير أبابيل أي جماعات من الطير، ولا ينبغي أن يقال ذلك إلا بطريق مجازي بعيد، ولا يصح أن يلجأ إلى مثل هذا المجاز ما دامت الحقيقة غير مستحيلة على قدرة الله1، وكذلك الذرات من التراب، لا يقبل في لغة العرب أن يقال عنها حجارة من سجيل، أي من طين مطبوخ بالنار وهو الآجر.

--------------------------------------------

= "1/ 174" وغيرها- بسند حسن عن عبيد بن عمير، وكان أدرك زمن النبي صلى الله عليه وسلم ولم يشهد الواقعة.

ج- عن عثمان بن المغيرة بن الأخنس قال:

"كان من حديث أصحاب الفيل أن أبرهة الأشرم الحبشي كان ملك اليمن، وأن ابن ابنته أكشوم خرج حاجًّا، فلما انصرف من مكة نزل بكنيسة بنجران، فغدا عليها أناس من أهل مكة فأخذوا ما فيها من الحلي، وأخذوا متاع أكشوم، فانصرف إلى جده الحبشي مغضبًا … فذكر نحو حديث ابن إسحاق المتقدم غير أنه قال:

فأخذ مائة ناقة لعبد المطلب".

وهذا شاهد مرسل حسن، وأخرجه أبو نعيم في "الدلائل" 1/ 145-148 وقال: رويت قصة أصحاب الفيل من وجوه، وسياق عثمان أتمها وأحسنها شرحًا.

وهذه الروايات الثلاث تؤيد رواية ابن إسحاق وتقويها. وثمة روايات أخرى.

1 ولأنه لا يجوز العدول عن ظاهر الكلام لمعنى مجازي إلا بقرينة، فكيف إذا كانت القرينة تمنع من ذلك؛ لأن المقام مقام إعجاز.
এই আশ্চর্যজনক ঘটনার দিকে মহান আল্লাহ সূরা আল-ফীলে তাঁর বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন:

“আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহিনীর সাথে কী আচরণ করেছেন? তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি? তিনি তাদের ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠিয়েছিলেন, যারা তাদের ওপর কঙ্কর নিক্ষেপ করছিল। অতঃপর তিনি তাদের ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দিলেন।”

এর মাধ্যমে আমাদের কাছে সেই ভুলের মাত্রা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যাতে কিছু আলেম লিপ্ত হয়েছেন, যারা পাখি ও পাথরকে অস্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন যে, মহান আল্লাহ পাখি বলতে একত্রিত হওয়া বায়ু এবং পাথর বলতে ধূলিকণা বুঝিয়েছেন যা গুটিবসন্তের জীবাণু বহন করছিল। অথচ আরবদের ভাষায় বায়ুপ্রবাহকে 'তৈরান আবাবীল' অর্থাৎ পাখির ঝাঁক বলা পরিচিত নয়। আর অত্যন্ত দূরবর্তী কোনো রূপক অর্থ ছাড়া এমন কথা বলাও উচিত নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত বাস্তব অর্থ আল্লাহর ক্ষমতার অসাধ্য না হবে, ততক্ষণ এই জাতীয় রূপক অর্থের আশ্রয় নেওয়া সঠিক নয়। তদ্রূপ ধূলিকণাকে আরবদের ভাষায় 'সিজ্জীল' থেকে আসা পাথর অর্থাৎ আগুনে পোড়ানো মাটি বা ইট বলাও গ্রহণযোগ্য নয়।

--------------------------------------------

= "১/ ১৭৪" এবং অন্যান্য—উবাইদ বিন উমাইর থেকে একটি হাসান সনদে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ পেয়েছিলেন কিন্তু মূল ঘটনা প্রত্যক্ষ করেননি।

জ- উসমান বিন আল-মুগীরা বিন আল-আখনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

“হস্তীবাহিনীর ঘটনার বিবরণ ছিল এই যে, হাবশী আবরাহা আল-আশরাম ইয়ামানের বাদশা ছিল। তার নাতি আকশুম হজে বের হয়েছিল। মক্কা থেকে ফেরার পথে সে নাজরানের একটি গির্জায় অবস্থান করল। এমতাবস্থায় মক্কার কিছু লোক সেখানে আক্রমণ করে গির্জায় থাকা অলঙ্কারাদি এবং আকশুমের আসবাবপত্র নিয়ে গেল। তখন সে ক্রোধান্বিত হয়ে তার দাদা হাবশীর নিকট ফিরে গেল...” এরপর তিনি ইবনে ইসহাকের পূর্ববর্ণিত হাদীসের ন্যায় উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি বলেছেন:

“সে আব্দুল মুত্তালিবের একশত উট ছিনিয়ে নিয়েছিল।”

এটি একটি হাসান মুরসাল সাক্ষী। আবু নুআইম এটি ‘আদ-দালাইল’ ১/ ১৪৫-১৪৮ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হস্তীবাহিনীর কাহিনী বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তবে উসমানের বর্ণনাটি সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ এবং বর্ণনায় অধিক সুন্দর।

এই তিনটি বর্ণনা ইবনে ইসহাকের বর্ণনাকে সমর্থন ও শক্তিশালী করে। এছাড়া আরও অন্যান্য বর্ণনাও বিদ্যমান।

১. কারণ কোনো অকাট্য প্রমাণ ছাড়া শব্দের বাহ্যিক অর্থ ছেড়ে রূপক অর্থের দিকে যাওয়া জায়েজ নয়। আর যদি প্রমাণ এমন হয় যা রূপক অর্থ গ্রহণে বাধা দেয় (তবে তো আরও অসম্ভব); কারণ এটি ছিল অলৌকিকত্বের স্থান।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
وإذا كانت الريح قد حملت ميكروب الجدري فلماذا هلك الأحباش وحدهم، ولم يهلك معهم العرب؟.

وإذا كان حادث الفيل قد وقع عام ميلاد الرسول صلى الله عليه وسلم فمن المعقول1 أن "سورة الفيل" قد نزلت على الرسول صلى الله عليه وسلم في وقت كان يعيش فيه من أهل مكة أناس رأوا حادث الفيل بأعينهم، وبعضهم من أعداء الرسول صلى الله عليه وسلم فلو لم تكن الطيور طيورًا حقيقية والحجارة حجارة حقيقية لظهر من العرب من يسارع إلى تكذيب هذه السورة، ويعلن ذلك على رءوس الأشهاد وينتهزها فرصة في الكيد لمحمد صلى الله عليه وسلم والطعن عليه.

ولكن الواقع أن "سورة الفيل" قد نزلت، فتلقاها العرب بالقبول؛ لأنها تقرر حقيقة معروفة عندهم لا شك فيها ولا يجرؤ أحد على إنكارها.

وعلى هذا، فالطير الأبابيل، هي الطيور الحقيقية المعروفة لدى العرب، ولعلها غارات جوية وقعت في هذا العالم قبل الأوان، ولم يصنعها إنسان ليبطش بأخيه الإنسان، ولكن صنعها القهار ليكبح بها جماح الظلم والعدوان.

ولقد سجل العرب في شعرهم هذا الحادث العجيب، وتغنوا به أمام العصور والأجيال، ومن ذلك قول نفيل بن حبيب2 يصور ما وقع للأحباش في ذلك اليوم:

--------------------------------------------

1 بل من المؤكد، وحتى لو لم يبق أحد ممن عاين الواقعة، كان يمكن أن يجابه بالتكذيب من أبناء من شهد؛ لأن هذا من غير شك يكون راسخًا عندهم عن طريق التواتر.

والعرب ناقشت وراجعت النبي صلى الله عليه وسلم فيما ليس لهم به علم، أفلا يراجعوا له فيما علموا، وانظر الآتي.

2 الماضي ذكره، انظر قبل قليل.
আর যদি বাতাস বসন্ত রোগের জীবাণু বহন করে এনে থাকে, তবে কেন কেবল হাবশীরাই ধ্বংস হলো, আর তাদের সাথে আরবরা কেন ধ্বংস হলো না?

আর যেহেতু হস্তীবাহিনীর ঘটনাটি আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর জন্মের বছরেই ঘটেছিল, তাই এটি নিশ্চিত যে, "সূরা আল-ফীল" আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর ওপর এমন এক সময়ে নাযিল হয়েছিল যখন মক্কাবাসীদের মধ্যে এমন অনেক লোক জীবিত ছিলেন যারা হস্তীবাহিনীর ঘটনা স্বচক্ষে দেখেছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর ঘোর শত্রুও ছিলেন। এমতাবস্থায় যদি পাখিগুলো প্রকৃত পাখি না হতো এবং পাথরগুলোও প্রকৃত পাথর না হতো, তবে আরবদের মধ্য থেকে অবশ্যই এমন কেউ না কেউ দাঁড়িয়ে যেত যে এই সূরাটিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য দ্রুত তৎপর হতো এবং জনসমক্ষে তা ঘোষণা করত। আর তারা একে মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার এবং তাঁকে কটাক্ষ করার একটি সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করত।

কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে, "সূরা আল-ফীল" নাযিল হয়েছে এবং আরবরা তা গ্রহণ করে নিয়েছে; কারণ এটি তাদের কাছে সুপরিচিত এমন এক ধ্রুব সত্যকে তুলে ধরেছে যে বিষয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না এবং কেউ তা অস্বীকার করার সাহসও করেনি।

এই প্রেক্ষিতে, আবাবীল পাখি হলো সেই প্রকৃত পাখি যা আরবদের কাছে সুপরিচিত ছিল। সম্ভবত এগুলো ছিল সেই বিশ্বের সময়ের অনেক পূর্বে ঘটা কোনো এক ধরনের আকাশপথের অভিযান, যা কোনো মানুষ তার অন্য কোনো সহোদর মানুষকে পর্যুদস্ত করার জন্য পরিচালনা করেনি, বরং তা করেছিলেন মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ যাতে এর মাধ্যমে যুলুম ও আগ্রাসনের অবাধ্যতাকে দমন করা যায়।

আরবরা তাদের কাব্যে এই বিস্ময়কর ঘটনাটি লিপিবদ্ধ করেছে এবং যুগ যুগ ধরে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এর স্মৃতি চারণ করেছে। এর মধ্যে নুফাইল ইবনে হাবীবের উক্তি অন্যতম, যেখানে সেদিন হাবশীদের সাথে কী ঘটেছিল তা তিনি চিত্রায়িত করেছেন:

--------------------------------------------

১ বরং এটি সুনিশ্চিত; এমনকি যদি প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ অবশিষ্ট না-ও থাকত, তবুও যারা প্রত্যক্ষ করেছিল তাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে একে অস্বীকার বা মিথ্যারোপের সম্মুখীন হতে হতো। কারণ এটি নিঃসন্দেহে 'তাওয়াতুর' বা অবিচ্ছিন্ন জনশ্রুতির মাধ্যমে তাদের কাছে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল।

আর আরবরা নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর সাথে এমন বিষয়েও বিতর্ক ও পর্যালোচনা করেছে যা তারা জানত না; তবে যা তারা জানত সে বিষয়ে কি তারা তাঁর সাথে বিতর্ক করত না? পরবর্তী অংশ দেখুন।

২ পূর্বে এর উল্লেখ হয়েছে, কিছুক্ষণ আগে দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
ألا حييت عنا يا رُدَينَا1 … نعمناكم مع الإصباح عينا

حمدت الله إذا أبصرت طيرًا … وخِفْتُ حجارة تلقى علينا2

وقول أمية بن أبي الصلت:

إن آيات ربنا ثاقبات … لا يماري فيهن إلا الكفورُ

حبس الفيل بالمغمس حتى … ظل يحبو كأنه معقورُ3

وقول عبد الله بن قيس من قصيدة طويلة يذكر فيها قصة الفيل والطير والحجارة:

كاده الأشرم الذي جاء بالفيل … فولى وجشيه مهزوم

واستهلت عليهم الطير بالجندل … حتى كأنه مرجوم 4

--------------------------------------------

1 ردين، مرخم ردينة، وهو اسم امرأة.

2 وهذا يؤيد ما تقدم من أن الطير والحجارة كانت حقيقية، إذ يمتنع أو يستبعد أن يقع التشبيه المجازي بعينه لواصفين، لا سيما إذا كان ذلك من بعيد المجاز، وما لم يؤلف عند العرب.

وقد ذكر ابن إسحاق بين البيتين، ثلاثة أبيات هي:

أتانا قابس منكم عشاء … فلم يقدر لقابسكم لدينا

ردينة لو رأيت ولا يرينهْ … لدى جنب المحصب ما رأينا

إذًا لعذرتني وحمدت أمري … ولم تأسي على ما فات بينا

وكذلك جاءت هذه الأبيات في تاريخ الطبري وغيره.

3 زاد ابن هشام "1/ 62" بينهما بيتًا، وبعدهما أبياتًا، ومما زاد بينهما:

ثم يجلو النهار رب رحيم … بمهاة شعاعها منثور

4 قال السهيلي في "الروض" 1/ 81 قوله: "حتى كأنه مرجوم"، وهو قد رجم، كيف شبهه، وهل يجوز أن يقال في مقتول: كأنه كالمقتول. فنقول:

لما ذكر استهلال الطير، وجعلها كالسحاب يستهل بالمطر، والمطر ليس برجم، =
হে রুদাইনা! তুমি আমাদের পক্ষ থেকে অভিনন্দিত হও … আমরা প্রভাতকালে তোমার সান্নিধ্যে আনন্দিত হলাম।

আমি আল্লাহর প্রশংসা করলাম যখন আমি পাখিগুলো দেখলাম … আর আমাদের ওপর নিক্ষিপ্ত হওয়া পাথরের ব্যাপারে শঙ্কিত হলাম।

এবং উমাইয়া বিন আবিস সালত এর উক্তি:

নিশ্চয়ই আমাদের রবের নিদর্শনসমূহ অত্যন্ত প্রোজ্জ্বল … কেবল ঘোর অবিশ্বাসী ব্যক্তিরাই সেগুলো নিয়ে বিতর্ক করে।

মুগাম্মাস নামক স্থানে হাতিটিকে আটকে রাখা হলো, শেষ পর্যন্ত … সেটি এমনভাবে হামাগুড়ি দিতে লাগল যেন তা পঙ্গু বা জখম হয়ে পড়েছে।

আব্দুল্লাহ বিন কাইসের উক্তি, তাঁর একটি দীর্ঘ কবিতা থেকে যাতে তিনি হাতি, পাখি এবং পাথরের কাহিনী বর্ণনা করেছেন:

হাতি নিয়ে আসা সেই আশরাম (আবরাহা) ষড়যন্ত্র করেছিল … কিন্তু সে পলায়ন করল এবং তার বাহিনী পরাজিত হলো।

আর পাখিগুলো তাদের ওপর কঙ্কর বর্ষণ করতে শুরু করল … এমনকি তাকে মনে হচ্ছিল যেন পাথর দ্বারা নিক্ষিপ্ত (বিতাড়িত)।

--------------------------------------------

১ রুদাইন হলো রুদাইনা-এর সংক্ষেপিত রূপ, আর এটি একজন মহিলার নাম।

২ এটি পূর্বের কথাকেই সমর্থন করে যে, পাখি এবং পাথরগুলো বাস্তব ছিল। কেননা একই রূপক উপমা দুইজন বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে আসা অসম্ভব বা সুদূরপরাহত, বিশেষ করে যখন সেই রূপকটি বিরল প্রকৃতির হয় এবং যা আরবদের নিকট পরিচিত ছিল না।

ইবনে ইসহাক এই দুই পংক্তির মাঝে আরও তিনটি পংক্তি উল্লেখ করেছেন:

সন্ধ্যায় তোমাদের পক্ষ থেকে একজন সাহায্যপ্রার্থী আমাদের কাছে এল … কিন্তু আমাদের নিকট তোমাদের সাহায্যপ্রার্থীর জন্য কিছুই বরাদ্দ ছিল না।

হে রুদাইনা! আমরা মুহাসসাব নামক স্থানের পাশে যা দেখেছি তুমি যদি তা দেখতে (আল্লাহ যেন তোমাকে তা না দেখান) …

তবে অবশ্যই তুমি আমাকে মার্জনা করতে এবং আমার কাজের প্রশংসা করতে … আর আমাদের মাঝে যা ঘটে গেছে তার জন্য আক্ষেপ করতে না।

অনুরূপভাবে এই পংক্তিগুলো তারিখুত তাবারী ও অন্যান্য গ্রন্থেও এসেছে।

৩ ইবনে হিশাম (১/৬২) এই দুইয়ের মাঝে একটি পংক্তি এবং এগুলোর পরে আরও কিছু পংক্তি বৃদ্ধি করেছেন। মাঝে যে পংক্তিটি বৃদ্ধি করেছেন তা হলো:

অতঃপর দয়াময় রব দিবসকে উদ্ভাসিত করেন … এমন জ্যোতি দ্বারা যার কিরণমালা চতুর্দিকে বিচ্ছুরিত হয়।

৪ সুহাইলি 'আর-রাওদ' (১/৮১) গ্রন্থে বলেন: তাঁর এই কথা যে— "এমনকি তাকে মনে হচ্ছিল যেন পাথর দ্বারা নিক্ষিপ্ত"—অথচ সে তো পাথর দ্বারাই নিক্ষিপ্ত হয়েছিল; তাহলে তিনি কেন এমন তুলনা করলেন? কোনো নিহত ব্যক্তি সম্পর্কে কি বলা বৈধ যে "সে যেন নিহতের মতো"? আমরা বলি:

যেহেতু তিনি পাখির আগমন উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোকে মেঘের সাথে তুলনা করেছেন যা বৃষ্টি বর্ষণ করে, আর বৃষ্টি তো পাথর নিক্ষেপ নয়, =
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
وهكذا حمى الله بيته المحرم من عدوان الظالمين؛ لأنه البيت العتيق الذي كان مصدر الهدى والنور منذ رفع قواعده إبراهيم وإسماعيل عليهما السلام فلما تغيرت الأحوال وعبد العرب الأصنام، وتركوا النور، وتخبطوا في الظلام، شاء الله ألا يطول عليهم الأمد في الظلام، وأراد بهم الخير فحمى هذا البيت من عدوان الأحباش ليعود إليه مجده التليد، ويتلألأ النور فيه من جديد، على يدي محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم نبي الإسلام الذي ولد في هذا العام1، ثم بعثه الله بعد ذلك هداية ورحمة للعالمين.

--------------------------------------------

= وإنما الرجم بالأكف ونحوها، شبهه بالمرجوم الذي يرجمه الآدميون، أو من يعقل ويتعمد الرجم من عدو ونحوه، فعند ذلك يكون المقتول بالحجارة مرجومًا على الحقيقة.

ولما لم يكن جيش الحبشة كذلك، وإنما أمطروا حجارة، فمن ثم قال كأنه مرجوم، انتهى.

قلت: فأفاد التشبيه معنيين:

الأول: أن الطيور كانت متعمدة للرمي، كما يتعمد الراجم الرجم، وهذا من الإعجاز.

الثاني: شدة النكال الحاصل بالمقتول حتى كأنه رجم، وأصابته الحجارة الكثيرة في كل موضع، عبارة عن كثرة ما سقط عليهم من الحجارة.

1 كونه صلى الله عليه وسلم ولد عام الفيل، جاء من طرق متعددة:

عند أبي نعيم في "الدلائل" 1/ 144، وابن إسحاق في "السيرة" 1/ 159، والترمذي في سننه "3623" وقال: حسن غريب لا نعرفه إلا من حديث ابن إسحاق، والحاكم في "المستدرك" "2/ 603" وقال: صحيح على شرط مسلم، والبزار والطبراني كما في "مجمع الزوائد" 1/ 196، وابن سعد في "الطبقات" 1/ 101.

ومجموع هذه الروايات يقتضي صحة ذلك.
এভাবেই আল্লাহ তাঁর পবিত্র ঘরকে জালেমদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছেন; কারণ এটিই সেই প্রাচীন ঘর যা হিদায়াত ও আলোর উৎস ছিল সেই থেকে যখন ইবরাহিম ও ইসমাইল আলাইহিমাস সালাম এর ভিত্তি উত্তোলন করেছিলেন। অতঃপর যখন অবস্থার পরিবর্তন ঘটল এবং আরবরা মূর্তিপূজা শুরু করল, তারা আলোকে বর্জন করল এবং অন্ধকারের মধ্যে দিশেহারা হয়ে পড়ল, তখন আল্লাহ চাইলেন যে তাদের অন্ধকারের এই দীর্ঘ সময় যেন আর দীর্ঘায়িত না হয়। তিনি তাদের কল্যাণ চাইলেন, তাই হাবশীদের আক্রমণ থেকে এই ঘরকে রক্ষা করলেন যাতে এর প্রাচীন গৌরব এতে ফিরে আসে এবং ইসলামের নবী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাতে পুনরায় এতে আলো বিচ্ছুরিত হয়, যিনি এই বছরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন১, অতঃপর আল্লাহ তাঁকে সমগ্র বিশ্বজগতের হিদায়াত ও রহমত হিসেবে প্রেরণ করেন।

--------------------------------------------

= মূলত হাতের তালু বা অনুরূপ কিছুর মাধ্যমে পাথর নিক্ষেপকে এমন ব্যক্তির সাথে তুলনা করা হয়েছে যাকে মানুষ পাথর নিক্ষেপ করে, অথবা এমন কোনো বুদ্ধিমান সত্তার সাথে যে শত্রু বা অনুরূপ কাউকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারে; সেক্ষেত্রে পাথরের আঘাতে নিহত ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে পাথর নিক্ষেপকৃত হয়।

যেহেতু হাবশী বাহিনী এমন ছিল না, বরং তাদের ওপর পাথর বর্ষণ করা হয়েছিল, তাই তিনি বলেছিলেন যেন সে পাথর নিক্ষেপকৃত, সমাপ্ত।

আমি বলছি: এই উপমাটি দুটি অর্থ প্রদান করে:

প্রথম: পাখিগুলো পাথর নিক্ষেপের ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ ছিল, যেমন পাথর নিক্ষেপকারী পাথর মারার সংকল্প করে। আর এটি একটি অলৌকিক নিদর্শন।

দ্বিতীয়: নিহত ব্যক্তির ওপর আপতিত শাস্তির কঠোরতা, এমনকি মনে হচ্ছিল যেন তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে। তার দেহের প্রতিটি স্থানে প্রচুর পাথর আঘাত হেনেছিল, যা তাদের ওপর পতিত পাথরের আধিক্যকে প্রকাশ করে।

১ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হস্তিবর্ষে জন্মগ্রহণ করার বিষয়টি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে:

আবু নুআইমের "আদ-দালাইল" ১/১৪৪, ইবনে ইসহাকের "আস-সিরাহ" ১/১৫৯, তিরমিযীর তাঁর সুনানে "৩৬২৩" এবং বলেছেন: এটি হাসান গারিব, আমরা কেবল ইবনে ইসহাকের হাদিস থেকেই এটি জানতে পেরেছি। আর হাকিমের "আল-মুসতাদরাক" ২/৬০৩ এবং বলেছেন: এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ। বাযযার ও তাবারানি যেমনটি "মাজমাউয যাওয়াইদ" ১/১৯৬-তে বর্ণিত হয়েছে এবং ইবনে সা'দ "আত-তাবাকাত" ১/১০১-এ উল্লেখ করেছেন।

এই বর্ণনাগুলোর সমষ্টি এর বিশুদ্ধতা প্রমাণ করে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল মুবীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌بقية الأخبار عن عمارة البيت العتيق:

وقبيل البعثة النبوية، وحينما كان الرسول صلى الله عليه وسلم في الخامسة والثلاثين من عمره
প্রাচীন ঘর (কা'বা) নির্মাণের অবশিষ্ট বিবরণসমূহ:

নবুওয়াত প্রাপ্তির কিছুকাল পূর্বে এবং যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে উপনীত হয়েছিলেন,