(খণ্ড: ১)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: -)
الأبواب والتراجم لصحيح البخاري القسم: شروح الحديث
الكتاب: الأبواب والتراجم لصحيح البخاري
المؤلف: محمد زكريا بن يحيى الكاندهلوي (ت 1402)
حققه وعلق عليه: د. ولي الدين بن تقي الدين الندوي
بإشراف: الأستاذ الدكتور تقي الدين الندوي
الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1433 هـ - 2012 م
عدد الأجزاء: 6
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 شوّال 1443
সহিহ বুখারীর অধ্যায় ও শিরোনামসমূহ বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: সহিহ বুখারীর অধ্যায় ও শিরোনামসমূহ
লেখক: মুহাম্মদ জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া কান্ধলভী (মৃত্যু ১৪০২)
সম্পাদনা ও টীকা প্রদান: ড. ওয়ালি উদ্দিন বিন তাকি উদ্দিন নদভী
তত্ত্বাবধানে: প্রফেসর ডক্টর তাকি উদ্দিন নদভী
প্রকাশক: দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ ও প্রকাশনা, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২২ শাওয়াল ১৪৪৩
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٥)
كلمة فضيلة الشيخ المحدِّث الأستاذ الدكتور تقي الدين الندوي حفطه الله ورعاهبسم الله الرحمن الرحيم
الحمدُ لله ربِّ العالمين، والصلاة والسلام على سيد الأنبياء والمرسلين محمد، وآله وأصحابه أجمعين، ومن تبعهم بإحسان ودعا بدعوتهم إلى يوم الدين، وبعد:
فإن كتاب "الأبواب والتراجم للجامع الصحيح للبخاري"، تأليف شيخنا الإمام الحافظ شيخ الحديث والمحدثين، العلامة محمد زكريا الكاندهلوي المدني (المتوفى سنة 1402 هـ بالمدينة المنورة - على صاحبها ألف ألف صلاة وسلام -) هو كتاب جامع للنفائس العلمية، والمباحث اللطيفة، والتحقيقات العجيبة، لبيان أسرار الأبواب والتراجم للجامع الصحيح للإمام البخاري، بيَّن فيه الربط بين الحديث الوارد في الباب والآثار الواردة في الأبواب وبين الترجمة.
ولا شك أن "الجامع الصحيح المسند المختصر من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم"، للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة البخاري، أصح كتاب بعد كتاب الله العزيز، وقام أعيان العلماء والمحدِّثون في كل عصر إلى اليوم بشرحه والتعليق عليه، وشرح تراجمه، وبيان أسراره وفوائده، ولطائفه، حديثًا وفقهًا وعربيةً وبلاغة وما إلى ذلك، ولم تعتن الأمة الإسلامية بعد الاعتناء بكتاب الله العزيز الحكيم مثل الاعتناء بـ "صحيح البخاري"، فبلغوا غاية الجهد في إبراز علومه ومعانيه من خزائنه.
মুহদ্দিস, উস্তায ডক্টর তাকিউদ্দিন নদভী (হাফিযাহুল্লাহু ওয়া রাআহু)-এর বাণীপরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আম্বিয়া ও মুরসালীনদের সরদার মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন ও তাঁদের দাওয়াতের দিকে আহ্বান জানাবেন তাঁদের সকলের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই 'আল-আবওয়াব ওয়াত-তারাজিম লি-জামিউস সহিহ লিল বুখারি' গ্রন্থটি, যা আমাদের শায়খ, ইমাম, হাফিজ, শায়খুল হাদিস ও মুহাদ্দিসগণের শিরোমণি আল্লামা মুহাম্মদ যাকারিয়া কান্ধলভী আল-মাদানী (যিনি মদিনা মুনাওয়ারায় ১৪০২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেছেন—সেই শহরের অধিবাসী (রাসূলের) ওপর লক্ষ লক্ষ সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—) রচনা করেছেন, তা ইলমি মণি-মুক্তা, সূক্ষ্ম আলোচনা এবং বিস্ময়কর গবেষণার এক অনন্য সংকলন। এতে ইমাম বুখারির 'আল-জামিউস সহিহ'-এর অধ্যায় এবং শিরোনামসমূহের রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে। তিনি এতে অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিস ও আসারসমূহের সাথে শিরোনামের যোগসূত্র স্পষ্ট করেছেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুগিরা আল-বুখারি রচিত 'আল-জামিউস সহিহুল মুসনাদুল মুখতাসারু মিন হাদিসি রাসূলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' মহান আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব। প্রত্যেক যুগের বরেণ্য উলামায়ে কেরাম ও মুহাদ্দিসগণ আজ অবধি এর ব্যাখ্যা প্রদান, টীকা লিখন, শিরোনামসমূহের বিশ্লেষণ এবং এর রহস্য, ফায়দা ও সূক্ষ্মতত্ত্বসমূহ হাদিস, ফিকহ, আরবি ভাষা ও অলঙ্কার শাস্ত্রসহ নানা দিক থেকে বর্ণনা করার আঞ্জাম দিয়ে আসছেন। মুসলিম উম্মাহ মহান প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কিতাবের পর 'সহিহ বুখারি'র ন্যায় অন্য কোনো কিতাবের প্রতি এত বেশি যত্নবান হয়নি। তাই তাঁরা এর জ্ঞানভাণ্ডার থেকে এর হাকিকত ও অর্থসমূহ উম্মোচনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٦)
قال سماحة الشيخ العلامة أبي الحسن الندوي في "مقدمة لامع الدراري": "لا نعلم كتابًا من كتاب البشر في المكتبة الإسلامية العالمية، تناوله العلماء والمؤلفون بالشرح والتحشية والتعليق مثل ما تناولوا هذا الكتاب".
وقد ذكر الشيخ عصام الحسيني ما تيسَّر به من الشروح والتعليقات على "صحيح البخاري"، فعدد ما بلغ (375) مؤلَّفًا في كتاب له بعنوان "إتحاف القاري بمعرفة جهود العلماء على صحيح البخاري"
(1)، ربما يكون عددها أكثر من هذا، وفي الزوايا خفايا لم تقع عليها عين ولم تطلع عليها شمس.
ولا شك أنَّ لكل تأليف في الصِّحاح الستّة من المزايا والخصائص، ولكن كتاب الإمام البخاري "الجامع الصحيح" لا يلحقه غيره كائنًا من كان من أصحاب الأمهات.
قال العلَّامة ابن خلدون (المتوفى سنة 808 هـ) في "مقدمة تاريخه"، (ص 254): "قد سمعت كثيرًا من شيوخنا يقولون: (شرح كتاب البخاري دَين على علماء الأمة)، يعنون أن أحدًا من علماء الأمة لم يوف ما يجب له بهذا الاعتبار".
وادَّعى الإمام السخاوي في "الضوء اللامع" أنَّ شيخَنا شيخ الإسلام الحافظ ابن حجر العسقلاني (المتوفى سنة 852 هـ) قد قضى هذا الدَّين بتأليف كتاب "فتح الباري".
وأما تراجم "صحيح البخاري" فأودع فيها الإمام البخاري من الأسرار والمعاني ما حُيِّرت به الأفكار وأدهشت العقول والأبصار، وإنما بلغت هذه المرتبة وفازت بهذه الحظوة لسبب عظيم أوجب عظمها أن الإمام البخاري حوَّل تراجم جامعه يعني بيَّضها بين قبر النبي صلى الله عليه وسلم ومنبره، وكان يصلي لكل ترجمة ركعتين
(2).
--------------------------------------------
বিশিষ্ট শাইখ আল্লামা আবুল হাসান নদভী 'লামেউদ দারারি'-এর মুখবন্ধে বলেছেন: "বিশ্বের ইসলামি পাঠাগারে মানুষের রচিত এমন কোনো কিতাব আমাদের জানা নেই, যার ব্যাখ্যা, পাদটীকা এবং মন্তব্য আলেম ও লেখকগণ এই কিতাবটির মতো (ব্যাপকভাবে) করেছেন।"
শাইখ ইসাম আল-হুসাইনি 'সহিহ বুখারি'-এর ওপর বিদ্যমান ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও মন্তব্যসমূহের মধ্যে যা সহজলভ্য হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন; তিনি তাঁর 'ইতহাফুল ক্বারি বি-মা'রিফাতি জুহুদিল উলামা আলা সহিহিল বুখারি'
(১) নামক কিতাবে এর সংখ্যা ৩৭৫টি পর্যন্ত গণনা করেছেন। সম্ভবত এর সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হবে, কেননা কোণায় কোণায় এমন অনেক কিছু গোপন রয়ে গেছে যা কোনো চোখের নজরে পড়েনি এবং সূর্যের আলোও সেখানে পৌঁছায়নি।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সিহাহ সিত্তাহর প্রতিটি সংকলনেরই নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে, কিন্তু ইমাম বুখারির কিতাব 'আল-জামি আস-সহিহ' এর সমকক্ষ উম্মাহাতুল কুতুব বা মূল হাদিস গ্রন্থসমূহের আর কোনোটিই হতে পারবে না।
আল্লামা ইবনে খালদুন (মৃত্যু ৮০৮ হিজরি) তাঁর ইতিহাসের ভূমিকা বা 'মুকাদ্দিমা'য় (পৃষ্ঠা ২৫৪) বলেছেন: "আমি আমার অনেক শাইখকে বলতে শুনেছি: 'বুখারি শরিফের ব্যাখ্যা করা উম্মাহর আলেমদের ওপর একটি ঋণস্বরূপ।' তাঁরা এর দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যে, এই দৃষ্টিকোণ থেকে উম্মাহর আলেমদের কেউ এর প্রাপ্য পুরোপুরি আদায় করতে পারেননি।"
ইমাম সাখাভি তাঁর 'আদ-দউ আল-লামি' গ্রন্থে দাবি করেছেন যে, আমাদের শাইখ শাইখুল ইসলাম হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) 'ফাতহুল বারি' কিতাবটি রচনার মাধ্যমে সেই ঋণ পরিশোধ করেছেন।
আর 'সহিহ বুখারি'-এর অধ্যায় শিরোনামের (তারাজিম) কথা যদি বলি, তবে ইমাম বুখারি সেগুলোতে এমন সব রহস্য ও অর্থ নিহিত রেখেছেন যা চিন্তাশক্তিকে বিস্মিত করে এবং জ্ঞান ও দৃষ্টিকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয়। এই অধ্যায়গুলো যে এই মর্যাদা লাভ করেছে এবং এই সৌভাগ্য অর্জন করেছে তার পেছনে একটি মহান কারণ রয়েছে যা এর মাহাত্ম্যকে অবধারিত করেছে; আর তা হলো, ইমাম বুখারি তাঁর জামে'র অধ্যায় শিরোনামগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা এবং মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানে চূড়ান্তভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন এবং প্রতিটি অধ্যায়ের জন্য দুই রাকাত নামাজ আদায় করেছেন
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٧)
ولأهمية هذه التراجم في "صحيح البخاري" وصعوبة فهمها، اعتنى شرَّاح البخاري بشرحها في مؤلفاتهم قديمًا وحديثًا، وقام بعض أجلَّة المحدِّثين وفحول العلماء بتأليف مؤلَّفات لبيان مقاصد التراجم
(1)، ولكن لم يكن منها كتاب شامل لجميع الأبواب والتراجم.
وذكر العلَّامة محمد يوسف البنوري في تقديم "لامع الدراري": كان شيخنا - هو العلامة المحدِّث محمد أنور الكشميري - يقول: إن دَيْن التراجم لا يزال باقيًا على رقاب الأمة لم يقضه أحد إلى اليوم، وكنت قديمًا أقول: إن كتاب "شرح الأبواب والتراجم" لشيخ الهند لو تم لقضي هذا الدَّين، ولكنه للأسف لم يتم.
وكانت الحاجة ماسَّة إلى تأليفٍ أكملَ وأشملَ وأجمع، يفي بالهدف المطلوب لأداء دَيْن شرح التراجم الباقي على علماء هذه الأمة.
فالله سبحانه وتعالى وفَّق شيخنا الإمام المحدِّث محمد زكريا الكاندهلوي لهذا العمل الجليل، فألَّف كتابًا لبيان هذه التراجم وتحقيق مزاياها، وبيان ما وهبه سبحانه من العلوم والأسرار في هذا الصدد.
فقد فصل أصول التراجم في بداية الكتاب، واستفاد ما تبيَّن من كلام الشارحين المبعثر في الكتب من غير مظانِّها، وما وقف عليه من كلام مشايخه أو مشايخ مشايخه في الدروس، أو منَّ الله سبحانه على المؤلف، فشرح صدره لإبداعها، فبلغت أصول هذه التراجم إلى سبعين أصلًا، وقد استقصى هذه الأصول من الكتب المؤلفة في هذا الموضوع قديمًا وحديثًا، ومن شروح البخاري، وضمَّ إليها أصولًا جديدةً ألهمه الله إياها بطول ممارسته لهذا الفن الشريف، ومباشرته لتدريس هذا الكتاب الجليل مصداقًا لقوله تعالى: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا} [العنكبوت: 69].
--------------------------------------------
"সহীহ বুখারী"-র এই অধ্যায়-শিরোনামগুলোর (তরাজুম) গুরুত্ব এবং সেগুলো অনুধাবনের জটিলতার কারণে, বুখারীর ব্যাখ্যাকারগণ প্রাচীন ও আধুনিক উভয় যুগে তাদের কিতাবসমূহে এগুলোর ব্যাখ্যা প্রদানের ব্যাপারে বিশেষ যত্নশীল হয়েছেন। মহান মুহাদ্দিস ও প্রথিতযশা আলেমদের কেউ কেউ অধ্যায়-শিরোনামসমূহের উদ্দেশ্য বর্ণনার জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন
(১), কিন্তু সেগুলোর মধ্যে এমন কোনো কিতাব ছিল না যা সমস্ত অধ্যায় ও শিরোনামকে পূর্ণাঙ্গভাবে শামিল করে।
আল্লামা মুহাম্মদ ইউসুফ বানূরী "লামেউদ্দরারী"-র মুখবন্ধে উল্লেখ করেছেন: আমাদের শাইখ—যিনি হলেন আল্লামা মুহাদ্দিস মুহাম্মদ আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী—বলতেন: অধ্যায়-শিরোনামসমূহের ঋণ উম্মতের স্কন্ধে এখনো বাকি রয়ে গেছে, আজ পর্যন্ত কেউ তা পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারেনি। আমি আগে বলতাম: শাইখুল হিন্দের "শারহুল আবওয়াব ওয়াত্তরাজিম" কিতাবটি যদি সম্পন্ন হতো, তবে এই ঋণ পরিশোধ হয়ে যেত, কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো সেটি সম্পন্ন হয়নি।
এই উম্মতের আলেমদের জিম্মায় অধ্যায়-শিরোনামসমূহের ব্যাখ্যার যে ঋণ অবশিষ্ট ছিল, তা পরিশোধের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণে সক্ষম একটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ, ব্যাপক ও সংকলিত রচনার তীব্র প্রয়োজন ছিল।
অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের শাইখ ইমাম মুহাদ্দিস মুহাম্মদ যাকারিয়া কান্ধলভীকে এই মহান কাজের তাওফীক দান করেন। ফলে তিনি এই অধ্যায়-শিরোনামগুলো বর্ণনা করার জন্য, সেগুলোর বৈশিষ্ট্যসমূহ বিশ্লেষণ করার জন্য এবং এ বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু তাঁকে যে ইলম ও রহস্য দান করেছেন তা বয়ান করার জন্য একটি কিতাব রচনা করেন।
তিনি কিতাবের শুরুতে অধ্যায়-শিরোনামের মূলনীতিসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। ব্যাখ্যাকারদের যেসব বক্তব্য বিভিন্ন কিতাবে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিল, যা সাধারণ স্থানে পাওয়া দুষ্কর ছিল, তা থেকে তিনি উপকৃত হয়েছেন। এছাড়া দরস চলাকালীন তাঁর শাইখদের অথবা তাঁর শাইখদের শাইখদের যেসব বক্তব্য তিনি লাভ করেছিলেন, তা থেকেও গ্রহণ করেছেন। অথবা লেখক আল্লাহ সুবহানাহুর পক্ষ থেকে এমন অনুগ্রহপ্রাপ্ত হয়েছেন যে, এগুলোর উদ্ভাবনের জন্য আল্লাহ তাঁর বক্ষ প্রশস্ত করে দিয়েছেন। এই অধ্যায়-শিরোনামসমূহের মূলনীতি সত্তরটি পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি এই বিষয়ে রচিত প্রাচীন ও আধুনিক কিতাবসমূহ এবং বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ থেকে এই মূলনীতিগুলো সবিস্তারে অনুসন্ধান করেছেন। এই মহান কিতাবটির পাঠদান এবং দীর্ঘকাল ব্যাপী এই মহিমান্বিত শাস্ত্রের নিরবচ্ছিন্ন চর্চার ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁকে যেসব নতুন মূলনীতি ইলহাম (অন্তরে জাগ্রত) করেছেন, সেগুলোও তিনি এর সাথে যুক্ত করেছেন। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীরই বাস্তব প্রতিফলন: "আর যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহে পরিচালিত করব।" [আনকাবুত: ৬৯]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٨)
ثم تصدَّى لشرح أبواب الكتاب وتراجمه بابًا بابًا، وترجمةً ترجمةً، ما ترك بابًا ولا أثرًا إلا تكلَّم عليه، وذكر غرض الباب ومناسبة الأثر بالترجمة، فأصبح هذا الكتاب موسوعة في ما يتصل بالأبواب والتراجم في "الجامع الصحيح".
لذا قال العلامة محمد يوسف البنوري في تقديم "لامع الدراري": إن هذه السعادة الأزلية كانت مقضية بأن يقوم الشيخ محمد زكريا، ويقضي هذا الدَّين، فأرجو أن يكون هذا الدَّيْن قد قُضي بخدمته لشرح "الأبواب والتراجم" إن شاء الله تعالى.
ولما اشتغلت بخدمة حاشية الإمام المحدِّث أحمد علي السهارنفوري مع المقارنة بعشر نسخ خطية، منها نسخة الصَّغاني (المتوفى 650 هـ)، أردت أن أُدخل هذه الدُّرر والغُرر من "الأبواب والتراجم" لشيخنا في ثنايا شرح الأبواب، ولكني كنت خائفًا أن يثقل هذا الكتاب، وربما يقع الخلل في حاشية الكتاب، فلهذا قررت أن يُنشر هذا الكتاب مستقلَّا بحاله، وكلَّفت لهذا العمل ولدي العزيز الدكتور ولي الدين الندوي أستاذ الحديث وعلومه المشارك بكلية الدراسات الإسلامية بدبي، فبذل جهدًا كبيرًا في تحقيق وإخراج هذه الموسوعة العلمية الشاملة لشرح أبواب صحيح البخاري وتراجمه، وقام بهذا العمل الجليل تحت إشرافنا بالتعاون مع مركز الشيخ أبي الحسن الندوي للبحوث والدراسات الإسلامية.
وفي الختام، نسأل الله أن يتقبل منه ومن جميع من ساهم في إخراج هذا الكتاب، وأن يجعل هذا الكتاب نبراسًا للباحثين والدارسين.
والله ولي التوفيق
الأستاذ الدكتور تقي الدين الندوي
مدينة العين
25/ 2/ 1432 هـ - 30/ 1/ 2011 م
এরপর তিনি কিতাবের অধ্যায় এবং শিরোনামসমূহ একটি একটি করে ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি এমন কোনো অধ্যায় বা বর্ণনা (আসার) বাদ দেননি যার ওপর তিনি আলোচনা করেননি। তিনি প্রতিটি অধ্যায়ের উদ্দেশ্য এবং শিরোনামের সাথে বর্ণনার সামঞ্জস্য উল্লেখ করেছেন। ফলে এই কিতাবটি 'আল-জামে আস-সহীহ'-এর অধ্যায় ও শিরোনাম সংক্রান্ত বিষয়ে একটি বিশ্বকোষে পরিণত হয়েছে।
এজন্য আল্লামা মুহাম্মদ ইউসুফ বিনোরি 'লামে আদ-দারারি'-এর ভূমিকায় বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই চিরন্তন সৌভাগ্যটি নির্ধারিত ছিল যে শেখ মুহাম্মদ জাকারিয়া দণ্ডায়মান হবেন এবং এই ঋণ পরিশোধ করবেন। আমি আশা করি যে, 'আল-আবওয়াব ওয়াত-তারাজিম' (অধ্যায় ও শিরোনাম) ব্যাখ্যার খিদমতের মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ এই ঋণ পরিশোধ হয়েছে।"
যখন আমি দশটি পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা করে ইমাম মুহাদ্দিস আহমদ আলী সাহারানপুরীর হাশিয়ার (টিকা) খিদমতে আত্মনিয়োগ করলাম, যার মধ্যে সাগানি (মৃত্যু ৬৫০ হি.)-এর পাণ্ডুলিপিও ছিল, তখন আমি আমাদের শাইখের 'আল-আবওয়াব ওয়াত-তারাজিম'-এর এই অমূল্য মুক্তাসমূহ অধ্যায়ের ব্যাখ্যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে কিতাবটি ভারী হয়ে যেতে পারে এবং সম্ভবত কিতাবের হাশিয়াতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। তাই আমি এই কিতাবটি স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি এই কাজের দায়িত্ব অর্পণ করেছি আমার প্রিয় পুত্র ডক্টর ওয়ালিউদ্দীন নদভীকে, যিনি দুবাইয়ের কলেজ অব ইসলামিক স্টাডিজের হাদীস ও হাদীস শাস্ত্রের সহযোগী অধ্যাপক। তিনি সহীহ বুখারীর অধ্যায় ও শিরোনামসমূহের ব্যাখ্যার এই ব্যাপক বৈজ্ঞানিক বিশ্বকোষটি তাহকীক (সম্পাদনা) ও প্রকাশের ক্ষেত্রে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তিনি আমাদের তত্ত্বাবধানে শেখ আবুল হাসান নদভী ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ সেন্টারের সহযোগিতায় এই মহান কাজ সম্পন্ন করেছেন।
পরিশেষে, আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি তাঁর পক্ষ থেকে এবং যারা এই কিতাবটি প্রকাশের ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন সবার পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন এবং এই কিতাবটিকে গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আলোকবর্তিকা হিসেবে কবুল করুন।
আল্লাহই তাওফিকদাতা
প্রফেসর ডক্টর তাকিউদ্দীন নদভী
আল-আইন শহর
২৫/ ২/ ১৪৩২ হিজরি - ৩০/ ১/ ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٩)
مقدمة الكتاب بقلم فضيلة الشيخ محمد الرابع الحسني الندوي رئيس جامعة ندوة العلماء، لكنهو (الهند)بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد الأنبياء والمرسلين محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
فإن كلام الرسول صلى الله عليه وسلم وعمله وتقريره مصدر ثان للشريعة الإسلامية بعد مصدرها الأول وهو كتاب الله العزيز والفرقان الحميد الذي هو وحي من الله متلو، وجاء على أثره الوحي غير المتلو الذي هو حديثُ آخِر رسل الله تعالى وأنبيائه محمد بن عبد الله الأمين، الذي أكمل الله عليه الدين، وأتم عليه نعمته التي ينال بها الإنسان خيري الدنيا والآخرة بالأخذ مما اشتمل عليه هذان المصدران للشريعة الإسلامية - كتاب الله تعالى، وحديث رسوله الكريم صلى الله عليه وسلم، ويؤدي بذلك المسؤولية العظمى التي كلف الله تعالى بها الإنسان، وجعل فوزه وفلاحه تابعًا لأدائه الأمانة التي وضعها رب العالمين عِليه بقوله: {إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَنْ يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْإِنْسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا} [الأحزاب: 72].
وقد وعد الله تعالى بحفظ وحيه المتلو - القرآن المجيد - ليعرف الإنسان من كلامه الصراط المستقيم لحياته، وجعل المصدر الثاني - حديث الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم معاونًا له، وأمر اللهُ تعالى العمل به أيضًا مثل عمله بكتابه العزيز.
কিতাবের ভূমিকা, লিখেছেন সম্মানিত শাইখ মুহাম্মদ রাবে হাসানী নদভী, রেইসু জামিয়া (প্রধান), নদওয়াতুল উলামা, লক্ষ্ণৌ (ভারত)পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের সরদার মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতি ইসলামী শরীয়তের প্রথম উৎস—আল্লাহর সুমহান কিতাব ও প্রশংসিত ফুরকান, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ পঠিত ওহী—এর পরে দ্বিতীয় উৎস। আর এরই ধারাবাহিকতায় এসেছে অপঠিত ওহী, যা হলো আল্লাহ তাআলার সর্বশেষ রাসূল ও নবী বিশ্বস্ত মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর হাদীস। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমেই দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং তাঁর ওপর স্বীয় নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন, যার মাধ্যমে মানুষ দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভ করতে পারে ইসলামী শরীয়তের এই দুই উৎস—আল্লাহ তাআলার কিতাব ও তাঁর সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস—অনুসরণের মাধ্যমে। এর মাধ্যমেই মানুষ সেই মহান দায়িত্ব পালন করে যা আল্লাহ তাআলা মানুষের ওপর অর্পণ করেছেন এবং যার সফলতা ও মুক্তিকে আল্লাহ তাআলা সেই আমানত আদায়ের ওপর নির্ভরশীল করেছেন, যা রব্বুল আলামীন মানুষের ওপর ন্যস্ত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "নিশ্চয়ই আমি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও পর্বতমালার সামনে এই আমানত পেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা তা বহন করতে অস্বীকার করল এবং এতে ভীত হলো, আর মানুষ তা বহন করল; নিশ্চয়ই সে অতিশয় জালেম ও মূর্খ।" [আল-আহযাব: ৭২]।
আর আল্লাহ তাআলা তাঁর পঠিত ওহী—মাজীদ কুরআন—সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাতে মানুষ তাঁর বাণীর মাধ্যমে নিজের জীবনের জন্য সিরাতুল মুস্তাকীম বা সরল পথ চিনে নিতে পারে। তিনি দ্বিতীয় উৎস—সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসকে—এর সহায়ক করেছেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর সুমহান কিতাবের ন্যায় হাদীসের ওপর আমল করারও নির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
ولأهمية هذا المصدر الثاني أيضًا جعل الله تعالى حفظه تابعًا لحفظ المصدر الأول، وهيأ لحفظه أيضًا أسبابًا قوية مع تهيئته أسباب الحفظ للمصدر الأول القرآن الكريم، فقد سخَّر الله تعالى لحفظ هذا المصدر الثاني - الحديث النبوي الشريف - رجالًا من الأمة الإسلامية كرَّسوا حياتهم لخدمة روايات الحديث الشريف تحقيقًا وتنقيحًا ليكون موثوقًا كاملًا، ومصدرًا واسعًا جامعًا لهذا الدين؛ فاهتم العلماء بخدمة حديث الرسول صلى الله عليه وسلم منذ وصوله إليهم، فجمعه الرواة الثقات في كتب من الصحاح عديدة، وكذلك قاموا بتنقيح رواياته وتحقيق متونه مهتمين بذلك اهتمامًا لا يوجد له نظير في أي دين أو أمة في التاريخ الإنساني.
وقد بلغ عمل تنقيح الروايات وتحقيق صحتها إلى أعلى مكانة الثقة والكمال في كتاب إمام المحدثين أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري الجعفي (194 هـ - 256 هـ) من بين كتب الحديث الصحاح الموثوق بها الأخرى.
ولا شك أن لكل تأليف في الصحاح الست من المزايا والخصائص ما تستحق كل تقدير، ولكن كتاب الإمام البخاري الجامع الصحيح لا يلحقه في الصحة غيره من أمهات الكتب، فقد حل بذلك هذا الكتاب درجة أصح الكتب بعد كتاب الله تعالى.
والمنهج الذي اختاره الإمام البخاري في كتابه الصحيح امتاز بخصائص تمتاز على ما في كتب الأحاديث الأخرى، ومنها ذكر تراجم الأبواب لما رواه من أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم، يشير بها إلى معان مفيدة، ويشرح مفهوم الحديث الشريف مدعمًا بآيات من كتاب الله العزيز، وقد أودع فيها الإمام البخاري من الأسرار والمعاني ما يحير العقول والأفكار، فالدارس لكتابه الصحيح يستفيد من تراجم أبوابه أيضًا كما يستفيد من متون الحديث الشريف وروايته.
এই দ্বিতীয় উৎসের গুরুত্বের কারণে মহান আল্লাহ এর সংরক্ষণকেও প্রথম উৎসের সংরক্ষণের অনুগামী করেছেন। প্রথম উৎস পবিত্র কুরআনের সংরক্ষণের উপায়সমূহ নির্ধারণ করার পাশাপাশি তিনি এই উৎসের সংরক্ষণের জন্যও শক্তিশালী উপায়সমূহ প্রস্তুত করেছেন। মহান আল্লাহ এই দ্বিতীয় উৎস অর্থাৎ ‘হাদিসে নববী’ সংরক্ষণের জন্য মুসলিম উম্মাহর এমন কিছু ব্যক্তিকে নিয়োজিত করেছেন, যারা হাদিসের বর্ণনাগুলোর খিদমতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তারা এসব বর্ণনার তাহকীক (অনুসন্ধান) ও তানক্বীহ (পরিশোধন) করেছেন যাতে এটি পূর্ণ নির্ভরযোগ্য এবং এই দ্বীনের একটি বিস্তৃত ও সংকলিত উৎসে পরিণত হয়। ফলে আলেমগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস তাদের নিকট পৌঁছানোর পর থেকেই তার খিদমতে মনোনিবেশ করেছেন। নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ অসংখ্য সহীহ গ্রন্থে তা সংকলন করেছেন। তদ্রূপ তারা বর্ণনাসমূহ সংশোধন এবং এর মতনসমূহ (মূল পাঠ) যাচাই-বাছাই করেছেন এবং এক্ষেত্রে এমন গুরুত্বারোপ করেছেন যার কোনো নজির মানব ইতিহাসের অন্য কোনো ধর্ম বা জাতির মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না।
বর্ণনাগুলোর সংশোধন এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের কাজ অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সহীহ হাদিস গ্রন্থগুলোর মধ্যে মুহাদ্দিসগণের ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী আল-জু’ফী (১৯৪ হি. - ২৫৬ হি.)-এর গ্রন্থে নির্ভরযোগ্যতা ও পূর্ণতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সিহাহ সিত্তার প্রতিটি সংকলনেরই এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী রয়েছে যা পূর্ণ প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু ইমাম বুখারীর কিতাব ‘আল-জামি আস-সহীহ’-এর সমকক্ষ বিশুদ্ধতার দিক থেকে অন্য কোনো মৌলিক গ্রন্থ হতে পারেনি। ফলে এই কিতাবটি মহান আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাবের মর্যাদা লাভ করেছে।
ইমাম বুখারী তার সহীহ গ্রন্থে যে পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন, তা অন্যান্য হাদিস গ্রন্থের তুলনায় বিশেষ বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত। এর মধ্যে অন্যতম হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণিত হাদিসগুলোর জন্য ‘তরাজিমুল আবওয়াব’ বা অধ্যায়ের শিরোনাম উল্লেখ করা। এর মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন উপকারী অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেন এবং মহান আল্লাহর কিতাবের আয়াতের মাধ্যমে হাদিসের মর্ম ব্যাখ্যা করেন। ইমাম বুখারী এই শিরোনামগুলোর মধ্যে এমন সব রহস্য ও অর্থ নিহিত রেখেছেন যা মানুষের জ্ঞান ও চিন্তাকে অভিভূত করে দেয়। ফলে তার সহীহ গ্রন্থের পাঠক যেমন হাদিসের মূল পাঠ ও বর্ণনা থেকে উপকৃত হন, তেমনিভাবে এর অধ্যায়ের শিরোনামগুলো থেকেও সমানভাবে উপকৃত হন।
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١١)
وقد اعتنى العلماء بهذه التراجم لقيمتها العلمية، وألفوا كتبًا في شرحها وإيضاحها، فمنها كتاب العلامة الكبير المحدث الجليل سماحة الشيخ محمد زكريا الكاندهلوي رحمه الله رحمة واسعة، الرئيس السابق لقسم علوم الحديث الشريف في جامعة مظاهر العلوم بسهارنفور، فإنه ألف كتابًا قيمًا في تراجم الأبواب لصحيح الإمام البخاري، ذكر فيه ما تبين له من خصائصها وفوائدها خلال تدريسه لصحيح الإمام البخاري مدة طويلة، وما اطلع عليه في كتب شروح الحديث ومؤلفات أخرى، فإنه ذكر أصول التراجم هذه في بداية الكتاب، ثم ذكرها بتفصيل، وجمع فيه كلام الشارحين لكتب الحديث المختلفة، وكذلك مما سمعه من مشايخه في الدرس، وما منّ الله به عليه وشرح صدره لفهمها، فشرح فيه أبواب الكتاب وتراجمه بابًا بابًا وترجمة ترجمة، وذكر فيه غرض الباب ومناسبة الأثر بالترجمة، وذكر أصول التراجم، وبَلغ عددها نحو سبعين أصلًا، فجاء كتابه كموسوعة في هذا الصدد.
واقتفى أثر سماحة الشيخ محمد زكريا الكاندهلوي في تحقيق الحديث تلميذه البار الباحث لعلم الحديث الدكتور تقي الدين الندوي، فصدرت بتحقيقه كتب عديدة في الحديث الشريف، وأراد إصدار أفضل نسخة لكتاب الإمام البخاري، فاعتنى بحاشية العلامة المحدث أحمد علي السهارنفوري، ولا يزال الدكتور الشيخ مشتغلًا في عمله على هذه النسخة الجليلة
(1)، وكان يريد أن يقوم أيضًا بعمل التحقيق والتعليق على كتاب العلامة المحدث الشيخ محمد زكريا الكاندهلوي في بحث الأبواب والتراجم لصحيح البخاري، فلم يجد في وقته فسحة لهذا العمل، فأسند العمل إلى نجله الدكتور ولي الدين الندوي أستاذ الحديث الشريف وعلومه بكلية الدراسات الإسلامية بدبي، وهو باحث محقق أيضًا، أدى أعمالًا علمية مختلفة،
--------------------------------------------
আলেমগণ এই অধ্যায়-শিরোনামগুলোর ইলমি গুরুত্বের কারণে এগুলোর প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং এগুলোর ব্যাখ্যা ও বর্ণনায় গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো সুমহান আলিম, সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী মুহাদ্দিস, শাইখ মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভি (আল্লাহ তাকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন)-এর কিতাব, যিনি সাহারানপুরের মাজাহির উলুম বিশ্ববিদ্যালয়ের উলূমুল হাদীস বিভাগের সাবেক প্রধান ছিলেন। তিনি সহীহ ইমাম বুখারীর তারাজুমুল আবওয়াব (অধ্যায়-শিরোনাম) বিষয়ে একটি মূল্যবান কিতাব রচনা করেছেন। এতে তিনি দীর্ঘ সময় সহীহ ইমাম বুখারী পাঠদানের সময় এগুলোর যেসব বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা তাঁর নিকট স্পষ্ট হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন, পাশাপাশি হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও অন্যান্য সংকলনসমূহে তিনি যা প্রত্যক্ষ করেছেন তাও বর্ণনা করেছেন। তিনি এই শিরোনামগুলোর মূলনীতিসমূহ কিতাবের শুরুতে উল্লেখ করেছেন, অতঃপর সেগুলোর বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং বিভিন্ন হাদীসগ্রন্থের ব্যাখ্যাকারদের বক্তব্য এতে একত্রিত করেছেন। একইভাবে পাঠদানকালে তাঁর উস্তাদদের থেকে যা শুনেছেন এবং আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহপূর্বক এগুলো বোঝার জন্য তাঁর বক্ষকে যেভাবে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, তাও এখানে সন্নিবেশিত করেছেন। এতে তিনি কিতাবের অধ্যায় ও শিরোনামসমূহ প্রতিটি স্বতন্ত্রভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং অধ্যায়ের উদ্দেশ্য ও শিরোনামের সাথে বর্ণিত বিষয়ের সামঞ্জস্য উল্লেখ করেছেন। তিনি শিরোনামের মূলনীতিসমূহও বর্ণনা করেছেন যার সংখ্যা প্রায় সত্তরটিতে পৌঁছেছে; ফলে এই বিষয়ে তাঁর কিতাবটি একটি বিশ্বকোষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
হাদীস গবেষণার ক্ষেত্রে শাইখ মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভির পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন তাঁর সুযোগ্য ছাত্র ও হাদীস গবেষক ডক্টর তাকীউদ্দীন নদভী। তাঁর তাহকীকে হাদীস শাস্ত্রের অনেক কিতাব প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি ইমাম বুখারীর কিতাবের একটি সর্বোত্তম সংস্করণ প্রকাশের ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি আল্লামা মুহাদ্দিস আহমদ আলী সাহারানপুরীর টীকা (হাশিয়া)-র প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং ডক্টর শাইখ এখনো এই মহৎ সংস্করণের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন
(1)। তিনি সহীহ বুখারীর অধ্যায় ও শিরোনাম বিষয়ক আল্লামা মুহাদ্দিস শাইখ মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভির কিতাবটিরও তাহকীক ও তালীক (টিকা প্রদান) করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের অভাবে তিনি এই কাজটি করার সুযোগ পাননি, ফলে তিনি এই দায়িত্বটি তাঁর সাহেবজাদা ডক্টর ওয়ালীউদ্দীন নদভীর ওপর ন্যস্ত করেন, যিনি দুবাইয়ের কলেজ অব ইসলামিক স্টাডিজে ইলমে হাদীস ও সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রসমূহের অধ্যাপক। তিনিও একজন দক্ষ গবেষক এবং বিভিন্ন ইলমি কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وصدرت كتب عديدة بتحقيقه، فقد تربى على والده المحدث الجليل فضيلة الدكتور الشيخ تقي الدين الندوي، فقام الدكتور ولي الدين بالتعليقات والتحقيقات المفيدة على هذا الكتاب تحت إشرافه، فجاء هذا الكتاب بتحقيق وتعليق مفيدين، فسيكون الانتفاع به انتفاعًا واسعًا.
أرجو أن يكون عمله هذا مساعدًا كبيرًا للاستفادة من كتاب سماحة الشيخ محمد زكريا الكاندهلوي في تراجم أبواب الصحيح للإمام البخاري، تقبل الله تعالى عمله هذا وجزاه خير الجزاء.
20/ 8/ 1432 هـ - 23/ 7/ 2011 م
محمد الرابع الحسني الندوي
رئيس جامعة ندوة العلماء، لكهنؤ الهند
তাঁর তাহকীকে বহু কিতাব প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতা মুহাদ্দিসে জালীল ফযীলতুশ শায়খ ডক্টর তাকিউদ্দীন নদভী-এর নিকট শিক্ষা ও তরবিয়ত লাভ করেছেন। অতঃপর ডক্টর ওয়ালিউদ্দীন তাঁরই তত্ত্বাবধানে এই কিতাবের ওপর উপকারী টীকা ও তাহকীক সম্পন্ন করেছেন। ফলে এই কিতাবটি একটি উপকারী তাহকীক ও টীকা সহকারে প্রকাশিত হলো, যা থেকে মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হতে পারবে।
আমি আশা করি, ইমাম বুখারীর ‘সহীহ’-এর তারাজিমুল আবওয়াব বিষয়ক হযরত মাওলানা শায়খ মুহাম্মাদ যাকারিয়া কান্ধলভীর কিতাব থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর এই কাজ বড় সহায়ক হবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর এই আমল কবুল করুন এবং তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
২০/ ৮/ ১৪৩২ হিজরী - ২৩/ ৭/ ২০১১ ঈসায়ী
মুহাম্মাদ রাবে হাসানী নদভী
রেক্টর, নদওয়াতুল উলামা বিশ্ববিদ্যালয়, লখনউ, ভারত
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
تقديم فضيلة الأستاذ الشيخ سعيد الأعظمي الندويبسم الله الرحمن الرحيم
ظلَّ الجامع الصحيح للبخاري موضع اعتناء واهتمام كبيرين منذ القرن الثالث الهجري من خلال البحث والتحقيق في مجال السُّنَّة ومكانتها، فقد توفي الإمام أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم الجعفي في عام 256 هـ، وكان قد وفِّق من الله تعالى إلى جمع الأحاديث الصحيحة في كتاب واحد، سمَّاه: "الجامع الصحيح" للبخاري ولا يخفى على علماء الحديث ومؤرِّخيه مكانة الإمام البخاري في تنقية الأسانيد والتحديث بما كان يتصل إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وتحقيق ما صدر من الرواة الأمناء والرجال الموفقين من الله تعالى لهذا العمل العظيم.
كان الإمام البخاري مُلْهَمًا من الله تعالى لإنجاز هذا المشروع الحديثي الجليل، وذلك هو السبب فيما وضعه الله تعالى له من القبول العام، وأحلَّه مكان الصدارة بين دواوين الأحاديث الصحيحة، والجوامع والسنن والمسانيد، قد اجتمع حوله جماعة كبيرة من التلاميذ الذين قرأوا عليه هذا الجامع الصحيح، وروَوه إلى الآخرين.
وكان من بين من قرأ عليه: المحدِّث الثقة أبو عبد الله محمد بن يوسف بن مطر بن صالح بن بشر الفِرَبري (ت 320 هـ)، وقد سمع منه بطريق مباشر مرتين، مرة في مدينة فربر سنة 248 هـ، ومرة ببخارى سنة 252 هـ، وهو من أشهر رواة الجامع الصحيح، ومنه استفاد عدد كثير من المحدثين.
ونحن الآن في بيان "الأبواب والتراجم" التي وضعها الإمام البخاري لاستنباط المسائل والأفكار الحديثية، التي توجد عليها دلالة من أي جهة
সম্মানিত উস্তাদ শায়খ সাঈদ আল-আজমী আন-নাদভীর উপক্রমনিকাপরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে
সুন্নাহর ক্ষেত্র এবং এর মর্যাদার বিষয়ে গবেষণা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে হিজরি তৃতীয় শতাব্দী থেকে বুখারীর আল-জামেউস সহীহ গভীর যত্ন ও গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আল-জুফী ২৫৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তিনি একটি কিতাবে সহীহ হাদীসসমূহ সংকলন করার জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিকপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, যার নাম তিনি রেখেছিলেন: "বুখারীর আল-জামেউস সহীহ"। হাদীস বিশারদ ও ঐতিহাসিকদের নিকট ইমাম বুখারীর সনদ পরিশোধন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সম্পৃক্ত হাদীসগুলো বর্ণনার ক্ষেত্রে সুউচ্চ মর্যাদা অজানা নয়। এছাড়া এই মহান কাজের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিকপ্রাপ্ত আমানতদার বর্ণনাকারী ও ব্যক্তিদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রেও তাঁর অবস্থান সুস্পষ্ট।
ইমাম বুখারী এই মহান হাদীস প্রকল্প সম্পন্ন করার জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ইলহামপ্রাপ্ত (অনুপ্রাণিত) ছিলেন, আর এটিই হলো সেই কারণ যার ফলে মহান আল্লাহ তাঁকে সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা দান করেছেন এবং তাঁকে সহীহ হাদীসের সংকলনসমূহ, জামে, সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে আসীন করেছেন। তাঁর নিকট এক বিশাল ছাত্রগোষ্ঠী সমবেত হয়েছিলেন যারা তাঁর কাছে এই জামে সহীহ পাঠ করেছেন এবং অন্যদের কাছে তা বর্ণনা করেছেন।
যাঁরা তাঁর কাছে পাঠ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মাতার ইবনে সালিহ ইবনে বিশর আল-ফিরাবরী (মৃত্যু ৩২০ হি.)। তিনি সরাসরি তাঁর থেকে দুইবার শুনেছেন; একবার ২৪৮ হিজরিতে ফিরাবর শহরে এবং অন্যবার ২৫২ হিজরিতে বুখারায়। তিনি জামে সহীহ-এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারীদের একজন এবং তাঁর থেকে বহু সংখ্যক মুহাদ্দিস উপকৃত হয়েছেন।
আর আমরা এখন ইমাম বুখারী কর্তৃক প্রণীত সেই "পরিচ্ছেদ ও শিরোনামসমূহ" (আবওয়াব ও তারাজিম) বর্ণনার পর্যায়ে রয়েছি, যা তিনি হাদীসতাত্ত্বিক মাসআলা ও চিন্তাধারা আহরণের জন্য নির্ধারণ করেছেন, যেগুলোর ওপর যেকোনো দিক থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
وطريق، ولذلك نرى أنه يعقد الأبواب والتراجم بحسب ما يظهر له في الحديث من النواحي الفكرية والقضايا العلمية، ويذكر حديثًا واحدًا تحت تراجم وأبواب عديدة، وفق ما بدا له في حديث واحد من الدلالات المنوّعة والمعاني اللطيفة، لذلك نراه أنه يذكر حديثًا واحدًا في مواضع متعددة من الجامع الصحيح، وتحت أبواب وتراجم مختلفة.
وما هذا إلا على سبيل الذكر فحسب، فإن علماء الهند وغيرهم ممن كان لهم شغف كبير بدراسة وتدريس الجامع الصحيح للبخاري ألَّفوا شروحًا للجامع الصحيح مع الإشارة إلى أسرار الأبواب والتراجم للبخاري، ضمن الأبواب والتراجم.
هذا، والموضوع يتطلب التعمق في معاني الحديث ومفاهيم السُّنَّة النبوية، ويفرض على كل شخص يريد أن يبدي آراءه حول الأبواب والتراجم للبخاري، أن يكون على جانب كبير من التذوق والمناسبة الكاملة لدراسة وتدريس علوم النبوة وشرح مفاهيم السُّنَّة السَّنِيَّة.
وقد كان شيخنا الجليل علَّامة الهند المحدث الشهير، حضرة شيخنا محمد زكريا بن محمد يحيى الكاندهلوي - صاحب "أوجز المسالك إلى موطأ الإمام مالك"، ومؤلفات كثيرة أخرى، مما يتصل بموضوع الحديث، والتحقيق والتعليق لكتب الحديث ودواوينه - أكرمه الله تعالى بالتوفيق الكامل لدراسة وتدريس "الجامع الصحيح" للبخاري إلى حد أنه تفانى في خدمة أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم دراسة وتدريسًا وتعليقًا وشرحًا، وبيانًا، فكان ممن يُشد إليه الرحال لقراءة الحديث الشريف عليه، والحصول على الإجازة منه في رواية الحديث.
ثم لما سافر إلى المدينة المنوَّرة للاستنشاق من رياحها وعطرها الذي يملؤ الأجواء؛ جاء إليه العلماء وتلاميذ الأحاديث النبوية الشريفة لكي يتمتعوا برؤية محيَّاه والاستغراف من بحر العلم الذي يموج في جوانبه، ومن حبِّ النبي صلى الله عليه وسلم الذي يشغل قلبه، ومن المعرفة والإحسان - «الإحسان أن تعبد الله كأنك تراه، فإن لم تكن تراه فإنه يراك» - الذي يمثله بظاهره
...এবং একটি পথ। আর এ কারণেই আমরা দেখি যে, তিনি হাদিসের বুদ্ধিবৃত্তিক দিক এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়সমূহ থেকে তাঁর নিকট যা প্রতীয়মান হয় সে অনুযায়ী অধ্যায় ও শিরোনামসমূহ বিন্যাস করেন এবং একটি হাদিসকে বিভিন্ন শিরোনাম ও অধ্যায়ের অধীনে উল্লেখ করেন, যা একটি একক হাদিস থেকে তাঁর নিকট প্রকাশিত বিচিত্র ইঙ্গিত ও সূক্ষ্ম অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ কারণেই আমরা দেখি যে, তিনি একই হাদিসকে জামে সহিহের একাধিক স্থানে এবং বিভিন্ন অধ্যায় ও শিরোনামের অধীনে উল্লেখ করেছেন।
আর এটি কেবল আলোচনার খাতিরেই উল্লেখ করা হলো। কেননা ভারতের আলেমগণ এবং অন্যান্যরা, যাদের বুখারির জামে সহিহ অধ্যয়ন ও অধ্যাপনার প্রতি প্রবল অনুরাগ ছিল, তাঁরা জামে সহিহের এমন সব ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন যাতে অধ্যায় ও শিরোনামের মাঝেই বুখারির অধ্যায় ও শিরোনামসমূহের রহস্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
বিষয়টি হাদিসের অর্থ এবং সুন্নাহর ধারণাসমূহে গভীর নিমগ্নতা দাবি করে। বুখারির অধ্যায় ও শিরোনাম সম্পর্কে যিনিই তাঁর মতামত ব্যক্ত করতে চান, তাঁর জন্য এটি অপরিহার্য যে, নবুওয়াতের ইলম অধ্যয়ন ও অধ্যাপনায় এবং সুন্নাহর সুউচ্চ ধারণাসমূহ ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে তাঁর মধ্যে ব্যাপক রুচিবোধ ও পূর্ণ সামঞ্জস্য বিদ্যমান থাকবে।
আমাদের মহান শায়খ, ভারতের বিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হযরত শায়খ মুহাম্মদ যাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ ইয়াহইয়া কান্ধলভী—যিনি 'আওজাযুল মাসালিক ইলা মুয়াত্তায়ে ইমাম মালেক' এবং হাদিস শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক গ্রন্থের রচয়িতা এবং হাদিসের কিতাব ও সংকলনসমূহের তাহকীক ও টীকাকার—আল্লাহ তাআলা তাঁকে বুখারির 'জামে সহিহ' অধ্যয়ন ও অধ্যাপনার পূর্ণ তাওফীক দান করেছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের খেদমতে অধ্যয়ন, অধ্যাপনা, টীকা লিখন, ব্যাখ্যা এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। ফলে তিনি এমন এক ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন যাঁর নিকট হাদিস পাঠ করার জন্য এবং হাদিস বর্ণনার ইজাজত লাভের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে সফর করে মানুষ আসত।
অতঃপর যখন তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় সফর করলেন সেখানকার বাতাস ও সুগন্ধি গ্রহণের জন্য যা পরিবেশকে আমোদিত করে তোলে, তখন আলেমগণ এবং হাদিসের ছাত্ররা তাঁর নিকট আসতে লাগলেন যাতে তাঁর চেহারা দর্শনের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেন এবং তাঁর ইলমের সমুদ্র থেকে জ্ঞান আহরণ করতে পারেন যা তাঁর চারদিকে ঢেউ খেলছিল। আর সেই ভালোবাসা অর্জন করতে পারেন যা তাঁর অন্তরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল এবং সেই মা'রিফাত ও ইহসান—'ইহসান হলো তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে তিনি তো তোমাকে দেখছেন'—যা তাঁর বাহ্যিক অবয়বে মূর্ত হয়ে উঠেছিল।
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وباطنه، وكلما رأيته أنا شخصيًّا ذكرت ما جاء في صفة النبي صلى الله عليه وسلم: "من رآه بديهة هابه، ومن خالطه معرفة أحبَّه"، ولقد ألهم الله في قلبه أثناء إقامته في مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم تكميل "كتاب حجة الوداع وعمرات النبي صلى الله عليه وسلم"، كما خطر بباله أن يعيد النظر على ما كان ألقاه على تلاميذه أيام تدريس الجامع الصحيح للبخاري حول تراجمه، فأتمَّ الله سبحانه وتعالى بمجرد فضله ونعمته هذين الكتابين، وطُبعا في تلكم الأيام، وقد كان من حسن حظي أن الله سبحانه وتعالى أسعدني وشرفني بطبع هذين الكتابين في مطابع ندوة العلماء بحروف حديدية واضحة جميلة.
إن كتاب "الأبواب والتراجم للبخاري" تم طبعه في عام 1391 هـ، الموافق 1971 م، ونال إعجاب العلماء والمحدثين في الهند وخارجها، ذاك أنه يحتوي على الأبواب والتراجم التي عقدها الإمام البخاري في الجامع الصحيح لغايات مهمة قد لا يتفطن إليها القارئ ما لم يتعمق في دراستها، وفي الإتيان بحديث واحد تحت أبواب وتراجم متعددة.
ولبيان أهمية الموضوع يسعدني أن أقتطف عبارة لشيخنا العلامة المحدث الكبير، والمربِّي الجليل، الإمام محمد زكريا بن يحيى الكاندهلوي من خلال ما كتب في هذا الكتاب في بيان التراجم فقال:
"إن موضوع التراجم من أهم مقاصد الإمام البخاري في صحيحه، حتى أجمع العلماء كلهم سلفًا وخلفًا أن معظم مقصود البخاري في صحيحه مع الاهتمام بصحة الأحاديث: استخراج المعاني الكثيرة من المتون؛ ولذا كرر الأحاديث في كتابه في الأبواب المختلفة، وذكر بعضًا من الأحاديث أكثر من عشرين مرة؛ كحديث عائشة في قصة بريرة وغير ذلك، وفي الكثرة على العشرة كثيرة، ولذا اشتهر قول جمع من العلماء: فقه البخاري في تراجمه.
وسيأتي في الفائدة الثانية عن الكرماني أن هذا قسم عجز عنه الفحول البوازل من الأعصار، والعلماء الأفاضل من الأمصار، فتركوها بأعذار، ولذلك اهتم جمع من السلف والخلف ببيان تراجمه وأفردوا لها التصانيف واجتهدوا في بيان المناسبات وإبداء الاحتمالات الكثيرة في التراجم.
...এবং তাঁর অভ্যন্তরীণ সত্তা। আমি যখনই ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে দেখেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলী সম্পর্কে বর্ণিত সেই কথাটি আমার মনে পড়েছে: "যে ব্যক্তি তাঁকে হঠাৎ দেখত সে তাঁকে ভয় করত (শ্রদ্ধায়), আর যে ব্যক্তি পরিচয়ের সাথে তাঁর সাথে মেলামেশা করত সে তাঁকে ভালোবেসে ফেলত।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শহরে অবস্থানকালে আল্লাহ তাঁর অন্তরে "কিতাবু হাজ্জাতিল বিদা ওয়া উমরাতিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" পূর্ণ করার অনুপ্রেরণা দান করেন। এছাড়াও তাঁর মনে এই সংকল্প জাগ্রত হয় যে, তিনি আল-জামি আস-সহীহ লিল বুখারী পাঠদানকালে এর শিরোনামগুলো (তারাজিম) সম্পর্কে তাঁর ছাত্রদের সামনে যা পেশ করেছিলেন, তা পুনরায় পর্যালোচনা করবেন। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর নিছক অনুগ্রহ ও নেয়ামতে এই দুটি কিতাব সম্পন্ন করালেন এবং সেই দিনগুলিতে তা মুদ্রিত হলো। এটি আমার সৌভাগ্য ছিল যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাকে এই কিতাব দুটি নদওয়াতুল উলামার ছাপাখানায় সুস্পষ্ট ও সুন্দর ধাতব হরফে মুদ্রণ করার সৌভাগ্য ও সম্মান দান করেছিলেন।
"আল-আবওয়াব ওয়াত-তারাজিম লিল-বুখারী" কিতাবটি ১৩৯১ হিজরি মোতাবেক ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয় এবং এটি ভারত ও বিদেশের আলেম ও মুহাদ্দিসগণের প্রশংসা অর্জন করে। এর কারণ হলো, এতে এমন সব অধ্যায় ও শিরোনাম রয়েছে যা ইমাম বুখারী জামে সহীহের মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নিয়ে বিন্যস্ত করেছিলেন, যা কোনো পাঠক গভীরভাবে অধ্যয়ন না করলে অনুধাবন করতে পারে না এবং যেখানে একটি হাদিসকে একাধিক অধ্যায় ও শিরোনামের অধীনে আনা হয়েছে।
বিষয়টির গুরুত্ব স্পষ্ট করার জন্য আমি আমাদের শায়খ, প্রখ্যাত আলেম, মহান মুহাদ্দিস ও প্রবীণ মুরব্বি ইমাম মুহাম্মদ যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-কান্ধলভী এই কিতাবে শিরোনামসমূহের বর্ণনায় যা লিখেছেন তা থেকে কিছু অংশ উদ্ধৃত করছি। তিনি বলেন:
"শিরোনামের (তারাজিম) বিষয়টি ইমাম বুখারীর তাঁর সহীহ গ্রন্থের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। এমনকি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল আলেম এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, হাদিসের বিশুদ্ধতার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখার পাশাপাশি সহীহ বুখারীতে বুখারীর প্রধান উদ্দেশ্য হলো মতন (মূল পাঠ) থেকে বহুবিধ অর্থ আহরণ করা। এ কারণেই তিনি তাঁর গ্রন্থে বিভিন্ন অধ্যায়ে হাদিসসমূহ পুনরাবৃত্তি করেছেন এবং কোনো কোনো হাদিস বিশ বারেরও বেশি উল্লেখ করেছেন; যেমন বারীরার ঘটনায় আয়েশার হাদিস এবং আরও অন্যান্য। দশবারের অধিক পুনরাবৃত্তি হওয়া হাদিস প্রচুর রয়েছে। একারণেই একদল আলেমের এই উক্তিটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে: 'বুখারীর ফিকহ তাঁর শিরোনামসমূহের মধ্যেই নিহিত'।
দ্বিতীয় উপকারের বর্ণনায় আল-কিরমানী থেকে এটি আসবে যে, এটি এমন এক অধ্যায় যেখানে বিভিন্ন যুগের পারদর্শী পণ্ডিতগণ এবং বিভিন্ন ভূখণ্ডের শ্রেষ্ঠ আলেমগণ অক্ষমতা প্রকাশ করেছেন এবং ওজর পেশ করে তা ছেড়ে দিয়েছেন। এ কারণে সালাফ ও খালাফদের (পূর্ববর্তী ও পরবর্তী) একদল আলেম তাঁর শিরোনামসমূহ বর্ণনায় গুরুত্বারোপ করেছেন, এর জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং শিরোনামগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও এর মধ্যবর্তী বহুবিধ সম্ভাবনা ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وأخيرًا بدا لصديقنا الكريم العلَّامة المحدث، التلميذ المحبب للمحدِّث الإمام الشيخ محمد زكريا الكاندهلوي رحمه الله الأستاذ الدكتور تقي الدين الندوي، أن يجدد طبع هذا الكتاب تحقيقًا وتخريجًا وتعليقًا، فأسند هذا العمل المهم إلى نجله العزيز فضيلة الأستاذ الدكتور ولي الدين الندوي أستاذ الحديث الشريف وعلومه المشارك بكلية الدراسات الإسلامية والعربية بدبي، فقام بذلك خير قيام، وتحدث في مقدمة الكتاب عن المؤلفات التي أفردت بتراجم وأبواب صحيح البخاري وهي تتجاوز ثلاثة عشر مؤلفًا، ومن أهمها كتاب شيخ المشايخ العلامة المحدث محمد زكريا الكاندهلوي المهاجر المدني، وذكر التميزات التي يتميز بها هذا المؤلَّف الجليل، وسيقرؤها القارئ الكريم في مقدمة المحقق.
والكتاب يتحلى بمقدمة ضافية لسماحة أستاذنا وشيخنا العلَّامة الإمام السيد الشيخ أبي الحسن علي الحسني الندوي يرحمه الله (رئيس ندوة العلماء سابقًا)، كتبها للطبعة الثانية لهذا الكتاب الجليل، كما قد وفق صديقنا الجليل العلامة المحدث تقي الدين الندوي لتقديم هذا الكتاب، وكتابة مقدمة نافعة، تكون نبراسًا للمشتغلين بالحديث، أساتذة وطلابًا.
وإنني إذ أهنئه ونجله الكريم على هذه المنزلة العالية الموهوبة من الله تعالى في مجال السُّنَّة الشريفة وعلوم الحديث، أتمنى على الله تعالى أن يوسع نطاق الإفادة والاستفادة والتعليم والدراسة عن طريق هذه المجهودات العلمية الحديثية التي أكرمهما الله تعالى بمجرد فضله وأتم عليهما نعمته، فقد قال الله تعالى: {يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ} [البقرة: 269].
كتبه العبد العاجز الضعيف
المفتقر إلى فضل الله تعالى
سعيد الأعظمي الندوي
مدير دار العلوم ندوة العلماء لكهنؤ
رئيس تحرير مجلة "البعث الإسلامي"
15/ 4/ 1432 هـ - 20/ 3/ 2011 م
পরিশেষে, আমাদের সম্মানিত বন্ধু, বিজ্ঞ আলেম ও মুহাদ্দিস, ইমাম ও মুহাদ্দিস শায়খ মুহাম্মদ যাকারিয়া কান্ধলভী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রিয় ছাত্র অধ্যাপক ড. তকীউদ্দীন নদভীর নিকট এই কিতাবটি তাহকীক, তাখরীজ ও তালীকসহ নতুন করে মুদ্রণের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। ফলে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি তাঁর প্রিয় সুযোগ্য পুত্র, দুবাইয়ের ‘ফ্যাকাল্টি অফ ইসলামিক অ্যান্ড অ্যারাবিক স্টাডিজ’-এর হাদীস শরীফ ও হাদীস বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ওয়ালীউদ্দীন নদভীর ওপর অর্পণ করেন। তিনি অত্যন্ত সুচারুরূপে এই দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন। তিনি কিতাবের ভূমিকায় সেই সকল গ্রন্থ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যা কেবল সহীহ বুখারীর জীবনী ও অধ্যায়সমূহের (তরাজিম ও আবওয়াব) বিন্যাস নিয়ে রচিত এবং যার সংখ্যা তেরটিরও বেশি। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো শায়খুল মাশায়েখ বিজ্ঞ আলেম ও মুহাদ্দিস মুহাম্মদ যাকারিয়া কান্ধলভী আল-মুহাজির আল-মাদানী রচিত গ্রন্থটি। তিনি এই মহান গ্রন্থের বিশেষত্বগুলোও উল্লেখ করেছেন, যা সম্মানিত পাঠক মুহাক্কিকের (গবেষক) ভূমিকায় বিস্তারিত জানতে পারবেন।
কিতাবটি আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় উস্তায ও শায়খ, বিজ্ঞ আলেম ও ইমাম সাইয়্যেদ শায়খ আবুল হাসান আলী হাসানী নদভী (রাহিমাহুল্লাহ) (নাদওয়াতুল উলামার প্রাক্তন প্রধান)-এর একটি বিস্তৃত ভূমিকা দ্বারা সুশোভিত, যা তিনি এই মহান গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণের জন্য লিখেছিলেন। একইভাবে আমাদের সম্মানিত বন্ধু বিজ্ঞ আলেম ও মুহাদ্দিস তকীউদ্দীন নদভীও এই কিতাবটির উপস্থাপনা এবং একটি উপকারী ভূমিকা রচনার তাওফীক লাভ করেছেন, যা হাদীস চর্চায় নিয়োজিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে।
আমি তাঁকে এবং তাঁর সুযোগ্য পুত্রকে হাদীস শরীফ ও হাদীস বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত এই উচ্চ মর্যাদার জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, যেন তিনি এই ইলমী ও হাদীসভিত্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে উপকার করা ও করার এবং শিক্ষাদান ও অধ্যয়নের পরিধি আরও প্রশস্ত করে দেন, যা আল্লাহ তাআলা কেবল তাঁর অনুগ্রহে তাঁদেরকে দান করেছেন এবং তাঁদের ওপর তাঁর নিআমত পূর্ণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমত (প্রজ্ঞা) দান করেন; আর যাকে হিকমত দান করা হয়, তাকে মূলত প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়। আর কেবল বুদ্ধিমানরাই উপদেশ গ্রহণ করে।" [সূরা আল-বাকারা: ২৬৯]।
আল্লাহর অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী অক্ষম ও দুর্বল বান্দা কর্তৃক লিখিত
সাঈদ আল-আজমী নদভী
পরিচালক, দারুল উলূম নাদওয়াতুল উলামা, লক্ষ্ণৌ
প্রধান সম্পাদক, মাসিক "আল-বা’সুল ইসলামী"
১৫/ ০৪/ ১৪৩২ হিজরী - ২০/ ০৩/ ২০১১ ঈসায়ী
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
مُقدّمةُ المُحَقِّقإنَّ الحمدَ لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلَّ له، ومن يُضلله فلا هادي له، وأشهد أن لا إله الله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
أما بعد:
فإن كتاب "الجامح الصحيح" لأمير المؤمنين أبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري رحمه الله، يُعد أصحَّ الكتب بعد كتاب الله عز وجل، لذا عني العلماء والمحدِّثون به عناية كبيرةً، وظهرت حوله دراسات كثيرة في مختلف الجوانب، ولا تزال هذه الدراسات قائمة وجارية، وقد ذكرت في بحثي المنشور في حولية كلية أصول الدين بالأزهر الشريف أن الكتب التي أُفردت بالتأليف حول تراجم وأبواب صحيح البخاري هي أكثر من ثلاثة عشر كتابًا، ومن أهم هذه الكتب كتاب شيخ مشايخنا، المحدث محمد زكريا الكاندهلوي المدني رحمه الله تعالى، الذي يتميز بعدة أمور من أهمها:
أولًا: إن المحدث الكاندهلوي جمع في كتابه هذا ما كتبه الأئمة، منهم: الحافظ ابن حجر في "فتح الباري"، والعيني في "عمدة القاري" والقسطلاني في "إرشاد الساري"، والإمام الشاه ولي الله الدهلوي في كتابه "شرح تراجم البخاري"، والشيخ محمود حسن الملقب بـ "شيخ الهند" في كتابه "الأبواب والتراجم"، وعمله هذا ليس مجرد نقل وتلخيص، وإنما تظهر شخصيته فيما يذكره من آراء العلماء، وما يناقشه مع ترجيح ما يراه صوابًا أو قريبًا منه.
সম্পাদকের ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর:
আমীরুল মুমিনীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) রচিত "আল-জামেউস সহীহ" গ্রন্থটি আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব হিসেবে গণ্য। এ কারণেই ওলামায়ে কেরাম ও মুহাদ্দিসগণ এই কিতাবের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। এর বিভিন্ন দিকের ওপর অসংখ্য গবেষণা গ্রন্থ রচিত হয়েছে এবং বর্তমানেও এই গবেষণা কাজ অব্যাহত ও চলমান রয়েছে। আল-আযহার আল-শরীফের উসুলুদ্দীন অনুষদের বার্ষিক সাময়িকীতে প্রকাশিত আমার গবেষণাপত্রে আমি উল্লেখ করেছি যে, সহীহ বুখারীর শিরোনাম ও অধ্যায়সমূহের (তারাজিম) ওপর স্বতন্ত্রভাবে রচিত গ্রন্থের সংখ্যা তেরটিরও বেশি। এই কিতাবগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কিতাব হলো আমাদের শায়খদের শায়খ, মুহাদ্দিস মুহাম্মদ যাকারিয়া কান্ধলভী মাদানী (রহিমাহুল্লাহ তাআলা)-এর কিতাবটি, যা কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের কারণে অনন্য, যার মধ্যে প্রধানতম হলো:
প্রথমত: মুহাদ্দিস কান্ধলভী তাঁর এই কিতাবে পূর্ববর্তী ইমামগণের লেখনীসমূহ সংকলন করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: "ফাতহুল বারী" গ্রন্থে হাফেজ ইবনে হাজার, "উমদাতুল কারী" গ্রন্থে আল-আইনী, "ইরশাদুস সারী" গ্রন্থে আল-কাসতালানি, "শারহু তারাজিমিল বুখারী" গ্রন্থে ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী এবং "আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম" গ্রন্থে "শাইখুল হিন্দ" হিসেবে পরিচিত শায়খ মাহমুদ হাসান। তাঁর এই কাজটি কেবল উদ্ধৃতি বা সারসংক্ষেপ নয়, বরং ওলামায়ে কেরামের বিভিন্ন মতামত বর্ণনায় এবং সঠিক কিংবা সঠিকের কাছাকাছি মতটি প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর নিজস্ব পাণ্ডিত্য ও ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠেছে।
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
ثانيًا: ألمَّ المحدِّث الكاندهلوي بجميع الأبواب والتراجم، لذا أصبح هذا العمل سِفرًا عظيمًا.
ثالثًا: يميطُ المحدِّث الكاندهلوي اللثام عن المسائل العويصة التي يتحير فيها كثير من المحدِّثين وشرَّاح الحديث، ويحيلون ذلك على خطأ النساخ، فبيّن فقهَ البخاري وحكمته في وضع هذه التراجم والأبواب كما صنع في "باب صلاة الليل".
نتيجة لهذه الأهمية الكبيرة، توجَّه والدي الجليل المحدِّث الأستاذ الدكتور تقي الدين الندوي حفظه الله لتحقيق هذا الكتاب، لكن حال دون عمله هذا تحقيق كتاب صحيح البخاري بحاشية المحدث السهارنفوري، فكلَّفني أن أقوم بخدمة هذا الكتاب، وساعدني على ذلك بعض الإخوان الذين يعملون في مركز الشيخ أبي الحسن الندوي للبحوث والدراسات الإسلامية بالهند، فجزاهم الله الخير في الدارين.
فعزمت وتوكلت على الله ربي، حامدًا ومصليًا، فهو حسبي ونعم الوكيل.
عملي في هذا الكتاب1 - كتبت ترجمةً وافيةً للمحدِّث الدهلوي، وذكرت تعريفًا موجزًا لمؤلفاته في علم الحديث.
2 - عزوتُ نصوصَ الكتاب لمصادرها بقدر الإمكان.
3 - علَّقت على مواضعَ في الكتاب لمزيد من الفائدة.
4 - خرَّجت الأحاديث التي تحتاج إلى التخريج.
5 - صحَّحت الأخطاء المطبعية.
6 - رتّبت الكتب والأبواب ورقّمتها على ترتيب وترقيم محمد فؤاد عبد الباقي.
كتبه
د. وليّ الدّين بن تقي الدّين النّدوي
يوم الجمعة - مدينة العين
18/ 2/ 2011 م
দ্বিতীয়ত: মুহাদ্দিস কান্ধলভি সকল অধ্যায় ও শিরোনাম সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখতেন, ফলে এই কাজটি একটি বিশাল গ্রন্থে পরিণত হয়েছে।
তৃতীয়ত: মুহাদ্দিস কান্ধলভি সেই জটিল বিষয়গুলোর ওপর থেকে পর্দা উন্মোচন করেছেন যা নিয়ে অনেক মুহাদ্দিস ও হাদিস ব্যাখ্যাকারী বিভ্রান্তিতে পড়েন এবং সেগুলোকে লিপিকারদের ভুল বলে অভিহিত করেন; তিনি এই শিরোনাম ও অধ্যায়গুলো নির্ধারণে ইমাম বুখারির ফিকহ ও প্রজ্ঞা বর্ণনা করেছেন যেমনটি তিনি করেছেন 'রাতের নামায অধ্যায়ে'।
এই বিশাল গুরুত্বের দরুন, আমার মহান পিতা মুহাদ্দিস প্রফেসর ডক্টর তাকিউদ্দিন নদভী হাফিযাহুল্লাহ এই কিতাবটি তাহকিকের (সম্পাদনা) দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন, কিন্তু মুহাদ্দিস সাহারানপুরীর হাশিয়া সম্বলিত সহিহ বুখারির তাহকিকের কাজের ব্যস্ততা তাঁকে এ কাজ থেকে বিরত রাখে। ফলে তিনি আমাকে এই কিতাবটির খিদমতের দায়িত্ব দেন, আর এ কাজে ভারতের শেখ আবুল হাসান নদভী সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ-এ কর্মরত কয়েকজন ভাই আমাকে সাহায্য করেছেন, আল্লাহ উভয় জগতে তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
তাই আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর ওপর ভরসা করে সংকল্প করেছি, আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ পাঠ করে শুরু করছি; তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।
এই কিতাবে আমার কাজ১ - আমি মুহাদ্দিস দেহলভীর একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী লিখেছি এবং ইলমে হাদিসে তাঁর রচনাবলির সংক্ষিপ্ত পরিচয় উল্লেখ করেছি।
২ - আমি যথাসম্ভব কিতাবের পাঠ্যগুলোকে সেগুলোর মূল উৎসের দিকে নিস্পন্ন করেছি।
৩ - অধিকতর উপকারের জন্য কিতাবের বিভিন্ন স্থানে টীকা যুক্ত করেছি।
৪ - যে হাদিসগুলোর তাখরিজ (সূত্র নির্দেশ) প্রয়োজন ছিল, আমি তা সম্পন্ন করেছি।
৫ - আমি মুদ্রণজনিত ভুলগুলো সংশোধন করেছি।
৬ - আমি কিতাব ও অধ্যায়গুলো মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকীর বিন্যাস ও নম্বর অনুযায়ী সাজিয়েছি।
এটি লিখেছেন
ড. ওয়ালিউদ্দিন বিন তাকিউদ্দিন নদভী
শুক্রবার - আল-আইন শহর
১৮/ ২/ ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
الإمام المحدِّث
محمّد زكريا الكاندهلوي
وآثاره في علم الحديث الشريف
بقلم
د. وليّ الدّين النّدوي
ইমাম ও মুহাদ্দিস
মুহাম্মাদ যাকারিয়া কান্ধলভী
এবং ইলমে হাদীসে তাঁর অবদান
রচনায়
ড. ওয়ালী উদ্দীন নদভী
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
مقدمة
الحمدُ لله ربِّ العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
فهذه دراسة عن الإمام المحدث محمد زكريا الكاندهلوي، وعن مؤلفاته وآثاره في علم الحديث الشريف، ولا شك أن الهند أصبحت في العصور الأخيرة مركزًا كبيرًا للحديث الشريف، وعُرف علماء الهند بشغفهم بالعلوم الدينية، وانتهت إليهم رئاسة التدريس والتأليف في فنون الحديث وشرح متونه، حتى قال العلامة محمد رشيد رضا في تقديمه لكتاب "مفتاح كنوز السُّنَّة": "لولا عناية إخواننا علماء الهند بعلوم الحديث في هذا العصر لقضي عليها بالزوال في أمصار الشرق، وقد ضعفت في مصر والشام منذ القرن العاشر الهجري".
ولا شك أن الإمام المحدث محمد زكريا الكاندهلوي يُعد من أعلام المحدثين في الهند، وله إسهام كبير في خدمة السُّنَّة، فلذلك أردت أن أقدم دراسة عن حياته ومؤلفاته.
وقسَّمت هذه الدراسة إلى تمهيد وثلاثة مباحث:
تمهيد في عصره:
أ - الحالة السياسية.
ب - الحالة العلمية.
المبحث الأول: نشأته وحياته.
ভূমিকা
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীদের উপর। অতঃপর:
এটি ইমাম মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ যাকারিয়া কান্ধলভী এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর রচিত গ্রন্থ ও অবদান সম্পর্কে একটি গবেষণা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সাম্প্রতিক যুগে ভারত হাদিস শাস্ত্রের একটি বিশাল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ভারতের উলামায়ে কেরাম ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার প্রতি তাঁদের গভীর অনুরাগের জন্য পরিচিত। হাদিস শাস্ত্রের পাঠদান, গ্রন্থ রচনা এবং হাদিসের মূল পাঠের ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের দায়িত্ব তাঁদের কাছেই এসে পৌঁছেছে। এমনকি আল্লামা মুহাম্মাদ রশিদ রিযা 'মিফতাহ কুনুযিস সুন্নাহ' গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: "বর্তমান যুগে যদি ভারতের আমাদের আলেম ভাইদের হাদিস শাস্ত্রের প্রতি গভীর মনোনিবেশ না থাকত, তবে পূর্বের দেশগুলো থেকে এই শাস্ত্র বিলুপ্ত হয়ে যেত। হিজরি দশম শতাব্দী থেকে মিশর ও সিরিয়ায় এই চর্চা দুর্বল হয়ে পড়েছে।"
নিঃসন্দেহে ইমাম মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ যাকারিয়া কান্ধলভী ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস হিসেবে গণ্য হন। সুন্নাহর সেবায় তাঁর বিশাল অবদান রয়েছে। তাই আমি তাঁর জীবন ও রচনাবলি সম্পর্কে একটি গবেষণা উপস্থাপন করতে চেয়েছি।
আমি এই গবেষণাকে একটি পটভূমি এবং তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
তাঁর সমকালীন সময়ের পটভূমি:
ক - রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
খ - জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিস্থিতি।
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর বেড়ে ওঠা ও জীবন।
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
تتبعت فيه مراحل حياته؛ فذكرت اسمه ونسبه ولقبه ونشأته العلمية ووفاته والثناء عليه.
والمبحث الثاني: شيوخه وتلاميذه ومؤلفاته.
ذكرت فيه شيوخه الذين تلقى عنهم العلم أو حصل منهم على إجازات، ثم تلاميذه، ثم ذكرت مؤلفاته في علوم وفنون شتى مع بيان المخطوط منها والمطبوع.
المبحث الثالث: آثاره في علم الحديث الشريف.
ذكرت فيه مؤلفات هذا الإمام مع التعريف بكل منها.
وإني لأرجو الله عز وجل أن يحقق الغاية من البحث وينفع به، إنه خير مسؤول.
* * *
আমি এতে তাঁর জীবনের পর্যায়সমূহ অনুসরণ করেছি; সেখানে তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপাধি, ইলমি বিকাশ, মৃত্যু এবং তাঁর সম্পর্কে প্রশংসাসূচক বিবরণ উল্লেখ করেছি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ, ছাত্রবৃন্দ এবং রচনাবলি।
আমি এতে তাঁর সেই সকল শিক্ষকদের কথা উল্লেখ করেছি যাঁদের নিকট থেকে তিনি ইলম অর্জন করেছেন কিংবা ইজাযত লাভ করেছেন, এরপর তাঁর ছাত্রবৃন্দের কথা এবং পরিশেষে বিভিন্ন শাস্ত্র ও বিদ্যায় তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির বিবরণ প্রদান করেছি, যেখানে পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত কপিগুলোর বর্ণনাও রয়েছে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইলমে হাদীসে তাঁর অবদানসমূহ।
এতে আমি এই ইমামের রচনাবলি এবং সেগুলোর প্রত্যেকটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেছি।
আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট আশা করি যেন তিনি এই গবেষণার লক্ষ্য পূরণ করেন এবং এর দ্বারা উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা।
* * *
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
تمهيد في عصر الإمام الشيخ محمد زكريا الكاندهلوي
أ - الحالة السياسية:عاش الإمام الشيخ محمد زكريا الكاندهلوي في الحقبة التي تعد من أخطر العصور في تاريخ الهند السياسي، حيث عاصر استقلال الهند من الاحتلال الإنجليزي الغاشم وتقسيم الهند إلى دولتين: الهند وباكستان.
ولقد اشترك المسلمون والهندوس في تحرير البلاد من سيطرة الاستعمار، وأقاموا لذلك ثورة عام 1857 م لكنها باءت بالإخفاق. ثم لما قام المؤتمر الوطني عام 1884 م شاركوا فيه، وشاركوا في حركة عدم التعاون، أو العصيان المدني عام 1921 م، التي نادى بها غاندي مع جميع الطوائف من شعب الهند، ورأت البلاد عهدًا من الألفة والمحبة والتعاون، لم يمر مثله في تاريخها
(1).
هنا اختار الإنجليز طريقة "فرِّق تسد"، وبثوا سموم التفرقة بين الهندوس والمسلمين وسلّطوا هذا السلاح الرهيب على الشعب حتى لا تعود البلاد إلى وحدتها
(2).
يقول الشيخ أبو الحسن الندوي: أقنع الحاكم العام الإنجليزي ورجال الحكومة أحد الزعماء الوطنيين الهنادك بضرورة الدعوة إلى الديانة
--------------------------------------------
ইমাম শেখ মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভীর যুগের ভূমিকাক - রাজনৈতিক পরিস্থিতি:ইমাম শেখ মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী এমন এক যুগে জীবন অতিবাহিত করেছেন যা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম সংকটময় সময় হিসেবে গণ্য। তিনি নিষ্ঠুর ইংরেজ দখলদারিত্ব থেকে ভারতের স্বাধীনতা লাভ এবং ভারতকে বিভক্ত করে ভারত ও পাকিস্তান—এই দুই রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।
মুসলিম ও হিন্দুরা দেশ থেকে ঔপনিবেশিক শাসন হঠানোর সংগ্রামে সম্মিলিতভাবে অংশ নিয়েছিল এবং সে লক্ষ্যে তারা ১৮৫৭ সালে একটি বিপ্লব সংঘটিত করেছিল, কিন্তু তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। অতঃপর যখন ১৮৮৪ সালে ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠিত হয়, তখন তারা এতে শামিল হয় এবং ১৯২১ সালে গান্ধী কর্তৃক ভারতের সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের প্রতি আহূত অসহযোগ আন্দোলন বা আইন অমান্য আন্দোলনে অংশ নেয়। সেই সময় দেশটি ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার এমন এক সুবর্ণ সময় প্রত্যক্ষ করেছিল, যার নজির এর ইতিহাসে দ্বিতীয়টি নেই
(১)।
এই পর্যায়ে ইংরেজরা "ভাগ করো ও শাসন করো" নীতি বেছে নেয় এবং হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিভেদের বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেয়। তারা এই ভয়াবহ অস্ত্রটি জনগণের ওপর এমনভাবে প্রয়োগ করে যাতে দেশটি আর পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে
(২)।
শেখ আবুল হাসান নদভী বলেন: ইংরেজ গভর্নর জেনারেল এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতাদের একজনকে ধর্মের দাওয়াতের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আশ্বস্ত করেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
الهندوكية، وإرجاع من دخل من أهل البلاد في الدين الإسلامي إلى ديانتهم القديمة، وتنظيم الشعب الهندوكي على أساس ديني قومي حزبي، ومن هنا ظهرت الدعوة والتبشير بالديانة البرهمية والآرية، وانتشر دعاتهم في الهند، وظهرت إزاء ذلك حركة الدعوة إلى الإسلام وتنظيم المسلمين على أساس مستقل، وبدأت المناظرات الدينية والخطب العاطفية والحماسية، وانفجرت الاضطرابات الطائفية في شبه القارة الهندية، واستمرت الاضطرابات، وعنفت حتى كان في سنة 1927 م في بضعة شهور فقط خمسة وعشرون اضطرابًا
(1).
وهنا بدأ المسلمون يبتعدون شيئًا فشيئًا عن المؤتمر باعتباره مؤسسة هندوسية، وإن كان فيها بعض عناصر من المسلمين، إلا أنها لم تستطع إيقاف الدافع العدواني على المسلمين من الهندوس
(2).
وأما علماء الهند المسلمون فلم يكونوا بمعزل عن الاستقلال، بل شاركوا حركة التحرير مشاركة قيادية فعالة، فمن العلماء البارزين الذين شاركوا في التحرير العلامة محمود حسن الملقب بـ "شيخ الهند"، والعلامة حسين أحمد المدني، والشيخ عزيز كل - وقد أسرتهم الحكومة الإنجليزية ونفتهم وزملاءهم وتلاميذهم إلى جزيرة مالطا -، ومولانا عبد الباري الفرنجي محلي، ومولانا محمد علي، ومولانا شوكت علي، ومولانا أبو الكلام آزاد وغيرهم
(3).
لكن لما حان وقت الاستقلال اختلف المسلمون والهندوس في التقاسم على السلطة، وأدى هذا الاختلاف إلى اضطرابات طائفية شديدة بين المسلمين والهندوس، ووقعت المذابح التي راحت ضحيتها الآلاف
--------------------------------------------
হিন্দুধর্ম, এবং দেশের যে সকল মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন তাদেরকে পুনরায় তাদের প্রাচীন ধর্মে ফিরিয়ে নেওয়া, এবং হিন্দু জনগণকে ধর্মীয়, জাতীয় ও দলীয় ভিত্তিতে সংগঠিত করা; এখান থেকেই ব্রাহ্মণ্যবাদ ও আর্য ধর্মের দাওয়াত ও প্রচারের উৎপত্তি ঘটে এবং সমগ্র ভারতে তাদের প্রচারকগণ ছড়িয়ে পড়ে। এর বিপরীতে ইসলামি দাওয়াতের আন্দোলন ও মুসলিমদের স্বতন্ত্র ভিত্তিতে সংগঠিত করার তৎপরতা শুরু হয়। শুরু হয় ধর্মীয় বিতর্ক এবং আবেগপূর্ণ ও উদ্দীপনামূলক বক্তৃতা। ভারতীয় উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা অব্যাহত থাকে। এমনকি ১৯২৭ সালে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে পঁচিশটি দাঙ্গা সংঘটিত হয়
(১)।
এ পর্যায়ে মুসলিমরা কংগ্রেসকে একটি হিন্দু প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে ধীরে ধীরে তা থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। যদিও তাতে কিছু সংখ্যক মুসলিম সদস্য ছিলেন, তবুও তা মুসলিমদের ওপর হিন্দুদের আক্রমণাত্মক মনোভাব রুখতে সক্ষম হয়নি
(২)।
আর ভারতের মুসলিম আলেমগণ স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন না, বরং তারা মুক্তি সংগ্রামে সক্রিয় ও নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট আলেমদের মধ্যে রয়েছেন আল্লামা মাহমুদ হাসান (যিনি ‘শাইখুল হিন্দ’ নামে পরিচিত), আল্লামা হুসাইন আহমদ মাদানি এবং শায়খ আজিজ গুল—যাদেরকে ব্রিটিশ সরকার বন্দি করে তাদের সহকর্মী ও ছাত্রসহ মাল্টা দ্বীপে নির্বাসিত করেছিল—এবং মাওলানা আব্দুল বারী ফিরাঙ্গি মহল্লী, মাওলানা মুহাম্মাদ আলী, মাওলানা শওকত আলী, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও অন্যান্যরা
(৩)।
কিন্তু যখন স্বাধীনতার সময় এল, তখন ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল। এই মতভেদ মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্ম দিল এবং এমন সব গণহত্যা সংঘটিত হলো যার শিকারে পরিণত হলো হাজার হাজার মানুষ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
من الطرفين، ولم يعد هناك مفر من التسليم بالأمر الواقع، والخضوع لفكرة التقسيم، التي أصبحت عقيدة المسلمين وحياتهم
(1).
واختلف العلماء والناس في قضية التقسيم، فبعضهم كان لا يرى تقسيم الهند مفيدًا وضروريًّا؛ بل سيكون أضرارًا وأخطارًا كبيرة على الدعوة الإسلامية، وسيُفقد المسلمين نفوذهم السياسي وتأثيرهم الديني في الهند.
ورأى البعض الآخر أن التقسيم لا بد منه؛ لأن السلطة ستكون للمسلمين فقط لا يشاركهم فيها غيرهم، ويعيش المسلمون فيه حياة العز والكرامة.
فمن العلماء الذين أيدوا فكرة التقسيم وبذلوا جهودًا كثيرة في تأسيس دولة إسلامية: شيخ الإسلام مولانا ظفر أحمد التهانوي، ومولانا شبير أحمد العثماني، والمفتي محمد حسن الأمر تسري وغيرهم
(2).
فبدأ الناس يهاجرون من الهند إلى باكستان، ووقعت حينئذٍ الاضطرابات الطائفية الدموية التي تقشعر الجلود من سماع أحوالها في دلهي، وبنجاب الشرقية والمدن الأخرى.
واجتمع الشيخ المجاهد حسين أحمد المدني، والشيخ الرباني عبد القادر الرائي فوري، والشيخ محمد زكريا الكاندهلوي، وقرروا عدم الهجرة إلى باكستان وعزموا على البقاء في الهند والموت فيها، وكانوا يحثون الناس على الثبات والبقاء في الهند مهما كلّفهم ذلك من ثمن، وكانوا يحرِّضونهم على تحمل الشدائد والمكاره، والإيمان بالله، فقرر كثير من الذين آثروا الهجرة أن يتخلوا عن نيتها
(3)، وأبدى هؤلاء العلماء ثباتًا لا نظير له، مع الهمة العالية والثقة الكاملة بوعد الله سبحانه وتعالى.
--------------------------------------------
উভয় পক্ষ থেকে, এবং বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া এবং দেশভাগের ধারণার কাছে নতি স্বীকার করা ছাড়া আর কোনো উপায় অবশিষ্ট ছিল না, যা মুসলমানদের আকিদা ও জীবনে পরিণত হয়েছিল
(১)।
দেশভাগের প্রশ্নে আলেম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। তাদের কেউ কেউ মনে করতেন যে ভারত বিভক্তি উপকারী বা প্রয়োজনীয় নয়; বরং এটি ইসলামি দাওয়াতের জন্য ব্যাপক ক্ষতি ও বিপদের কারণ হবে এবং এর ফলে মুসলমানরা ভারতে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব ও ধর্মীয় প্রতিপত্তি হারাবে।
অন্যরা মনে করতেন যে দেশভাগ অনিবার্য; কারণ ক্ষমতা কেবল মুসলমানদের হাতে থাকবে যেখানে অন্য কেউ তাদের অংশীদার হবে না এবং মুসলমানরা সেখানে সম্মান ও মর্যাদার জীবন অতিবাহিত করবে।
যেসব আলেম দেশভাগের ধারণাকে সমর্থন করেছিলেন এবং একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: শায়খুল ইসলাম মাওলানা জাফর আহমদ থানভী, মাওলানা শাব্বির আহমদ উসমানী, মুফতি মুহাম্মদ হাসান অমৃতসারি এবং অন্যান্যরা
(২)।
অতঃপর মানুষ ভারত থেকে পাকিস্তানে হিজরত করতে শুরু করে এবং সেই সময়ে রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয়, যার ভয়াবহতার কথা শুনলে দিল্লি, পূর্ব পাঞ্জাব এবং অন্যান্য শহরগুলোতে গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়।
শায়খুল মুজাহিদ হুসাইন আহমদ মাদানি, শায়খ রাব্বানি আব্দুল কাদির রায়পুরী এবং শায়খ মুহাম্মদ যাকারিয়া কান্ধলভি একত্রিত হলেন এবং তারা পাকিস্তানে হিজরত না করার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং ভারতে থেকে যাওয়ার ও সেখানেই মৃত্যুবরণ করার সংকল্প করলেন। তারা মানুষকে যেকোনো মূল্যে ভারতে অবিচল থাকার ও অবস্থান করার আহ্বান জানান এবং তাদের প্রতিকূলতা ও কষ্ট সহ্য করার এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন। ফলে যারা হিজরত করতে চেয়েছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই সেই ইচ্ছা পরিত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন
(৩)। এই আলেমগণ সুউচ্চ হিম্মত এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ওয়াদার প্রতি পূর্ণ আস্থার সাথে এক অতুলনীয় অবিচলতা প্রদর্শন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
وقد ترك هذا التقسيم في نفوس مسلمي الهند اليأس وعدم الثقة، يقول العلامة أبو الحسن الندوي: عدنا في أواخر يناير/ كانون الثاني 1938 م - حيث كان في الحجاز عند التقسيم -؛ فوجدنا الدنيا غير الدنيا، والأوضاع غير الأوضاع، ورأينا البقية الباقية من المسلمين في الهند - وقد كان عددهم كبيرًا جدًا - مصابين - إلا من رحم ربك - باليأس ومُركب النقص، فقد خذلهم قادتهم القوميون فأصبحوا يجهلون رسالتهم ودعوتهم ونفعهم، كأنهم يعيشون في ظلام قاتل لا يبصرون شيئًا من النور، تسودهم الدهشة والحيرة
(1).
وهبّ علماء المسلمين للدفاع عن الإسلام والمسلمين ولإيجاد الثقة فيهم، فهذا المجاهد الشيخ حسين أحمد المدني والشيخ حفظ الرحمن السيوهاروي، والمفتي كفاية الله، ومولانا أبو الكلام آزاد، وغيرهم وقفوا مع قادة الأكثرية كالند للند، وكانت هذه المواجهة البطولية مضربًا للأمثال، وكان لها دورٌ كبيرٌ وفائدةٌ لا تنكر في إيجاد الثقة والاعتماد
(2).
ونشطت الدعوة الإسلامية بكل قوة وصرامة، فهذا الشيخ محمد يوسف - أمير جماعة التبليغ - وأتباعه خرجوا في طول الهند وعرضها، بل تجاوزوا إلى باكستان والدول الأخرى، لبثِّ الشعور الديني فيهم وإثارة عاطفة الخشوع والإنابة والتوجه إلى الله، وكان الشيخ محمد يوسف يقول: إن قلوبهم في هذا الوقت منكسرة، فإن أنابوا إلى الله وتابوا إليه توبة نصوحًا فإن هذه السحب الكثيفة التي تتراكم ستنقشع ويرفع الله العذاب عنهم
(3).
وأما الشيخ المحدث محمد زكريا الكاندهلوي، فقد كان مشرفًا على جماعة التبليغ وموجهًا لها، حيث كان يقيم في مركزها في نظام الدين بدلهي
--------------------------------------------
এই দেশভাগ ভারতের মুসলমানদের মনে হতাশা ও আস্থাহীনতা তৈরি করেছিল। আল্লামা আবুল হাসান নদভী বলেন: আমরা ১৯৩৮ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে ফিরে আসি—দেশভাগের সময় তিনি হিজাজে ছিলেন—; তখন পৃথিবীকে অন্যরকম মনে হলো, পরিস্থিতিও ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা ভারতে অবশিষ্ট মুসলিমদের দেখলাম—যাদের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি—তারা (তোমার রবের রহমতপ্রাপ্তগণ ছাড়া) সবাই হতাশা ও হীনম্মন্যতায় আক্রান্ত। তাদের জাতীয় নেতারা তাদের পরিত্যাগ করেছিলেন, ফলে তারা তাদের লক্ষ্য, দাওয়াত ও কল্যাণ সম্পর্কে উদাসীন হয়ে পড়েছিল। মনে হচ্ছিল তারা এক ঘোর অন্ধকারের মধ্যে বাস করছে, আলোর কোনো ছিটেফোঁটাও দেখতে পাচ্ছিল না। তাদের ওপর বিস্ময় ও কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা ছেয়ে গিয়েছিল
(১)।
অতঃপর মুসলিম আলেমরা ইসলাম ও মুসলমানদের রক্ষায় এবং তাদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এই মুজাহিদ শায়খ হুসাইন আহমদ মাদানি, শায়খ হিফজুর রহমান সিউহারভি, মুফতি কিফায়াতুল্লাহ, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং অন্যান্যরা সংখ্যাগুরু নেতাদের মুখোমুখি সমানে সমান হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এই বীরত্বপূর্ণ মোকাবিলাটি প্রবাদে পরিণত হয়েছিল এবং আস্থা ও নির্ভরতা তৈরির ক্ষেত্রে এর অনস্বীকার্য ভূমিকা ও সুফল ছিল
(২)।
ইসলামি দাওয়াতের কাজ পূর্ণ শক্তি ও দৃঢ়তার সাথে সচল হয়ে ওঠে। তাবলিগ জামাতের আমির শায়খ মুহাম্মদ ইউসুফ ও তাঁর অনুসারীরা ভারতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চষে বেড়ান, এমনকি তারা পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশ পর্যন্ত সফর করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মানুষের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া এবং বিনয়, একাগ্রতা ও আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়ার আবেগ জাগ্রত করা। শায়খ মুহাম্মদ ইউসুফ বলতেন: বর্তমানে তাদের অন্তরগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে আছে, তারা যদি আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং একনিষ্ঠভাবে তওবা করে, তবে এই পুঞ্জীভূত ঘন মেঘ কেটে যাবে এবং আল্লাহ তাদের ওপর থেকে আজাব সরিয়ে নেবেন
(৩)।
আর শায়খ মুহাদ্দিস মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভি ছিলেন তাবলিগ জামাতের তত্ত্বাবধায়ক ও দিকনির্দেশক। তিনি দিল্লির নিজামুদ্দিনে অবস্থিত এই জামাতের মারকাজে অবস্থান করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
عدة أيام، يوجه الجماعة ويشرف على المدارس الإسلامية الأهلية التي كانت قائمة، والتي أقيمت في عصره، ويسافر إليها ليتفقد أحوالها ويوجهها بآرائه السديدة
(1)، وكذا قام بالرد على الملحدين والفرق الباطلة ردًا علميًا وفكريًا مقنعًا، فمن ذلك كتابه "إسلام المشرقي"، و"القاديانية".
ب - الحالة العلمية:يعد الإمام ولي الله الدهلوي مسند الهند بإجماع العلماء، سافر الإمام الدهلوي إلى الحجاز، وأخذ الحديث عن الشيخ أبي طاهر محمد بن إبراهيم المدني الكردي
(2) (ت 1145 هـ)، وغيره من علماء الحديث، وعاد إلى الهند وقصر همته على نشر الحديث الشريف، وأقام دولة الحديث في هذه البلاد، وأصبحت المدرسة الرحيمية التي أسسها والده الشاه عبد الرحيم الدهلوي أكبر مدرسة حديثية في الهند، تهافت عليها طلاب علم الحديث من كل أنحاء الهند وأصقاعها تهافت الفراش على النور
(3)، وخرّج علماء ورجالًا، يقومون بهذه المهمة، فقام بعده نجله الأكبر سراج الهند الشيخ عبد العزيز الدهلوي
(4) (ت 1239 هـ) فدرَّس وألَّف، وخرّج وخلّف التلاميذ الكبار والعلماء الفحول في الحديث الشريف، من أشهرهم سبطه الشيخ إسحاق بن محمد أفضل العمري المتوفى سنة (1262 هـ)، قال المؤرخ عبد الحي الحسني: أخذ عنه ناس كثير، حتى لم يبق في الهند سند للحديث غير هذا السند، وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء
(5).
--------------------------------------------
বেশ কিছু দিন, তিনি জামাতকে পরিচালনা করেন এবং তৎকালীন ও তাঁর যুগে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি ইসলামি মাদ্রাসাগুলো তদারকি করেন। তিনি সেগুলোর অবস্থা দেখার জন্য এবং তাঁর সঠিক পরামর্শের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য সেখানে সফর করতেন
(১)। একইভাবে তিনি নাস্তিক এবং বাতিল দলগুলোর বৈজ্ঞানিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক খণ্ডন অত্যন্ত চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন। যেমন—তাঁর রচিত গ্রন্থ 'ইসলামুল মাশরিকি' এবং 'আল-কাদিয়ানিয়াহ'।
খ - ইলমি অবস্থা:ইমাম ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি আলেমদের ঐকমত্যে ভারতের 'মুসনিদুল হিন্দ' (হাদিসের সর্বোচ্চ সনদধারী) হিসেবে গণ্য হন। ইমাম দেহলভি হিজাজে সফর করেন এবং শায়খ আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম মাদানি আল-কুর্দি
(২) (মৃত্যু ১১৪৫ হি.) ও অন্যান্য হাদিস বিশারদদের কাছ থেকে হাদিসের শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি ভারতে ফিরে এসে হাদিস শরিফ প্রচারের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেন এবং এই ভূখণ্ডে হাদিসের চর্চাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর পিতা শাহ আব্দুর রহিম দেহলভি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'মাদ্রাসায়ে রহিমিয়া' ভারতের বৃহত্তম হাদিস শিক্ষা কেন্দ্রে পরিণত হয়। ভারতের সকল প্রান্ত থেকে ইলমে হাদিসের শিক্ষার্থীরা আলোর দিকে পতঙ্গের মতো সেখানে ছুটে আসত
(৩)। তিনি এমন অনেক আলেম ও ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছিলেন যারা এই মহান দায়িত্ব আঞ্জাম দেন। তাঁর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র 'সিরাজুল হিন্দ' শায়খ আব্দুল আজিজ দেহলভি
(৪) (মৃত্যু ১২৩৯ হি.) এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন; তিনি পাঠদান করেন, গ্রন্থ রচনা করেন এবং হাদিস শরিফে বড় বড় ছাত্র ও বিদগ্ধ আলেম তৈরি করে যান। তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন তাঁর দৌহিত্র শায়খ ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ আফজাল আল-উমরি (মৃত্যু ১২৬২ হি.)। ঐতিহাসিক আব্দুল হাই আল-হাসানি বলেন: তাঁর কাছ থেকে অগণিত মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করেছে, এমনকি শেষ পর্যন্ত ভারতে এই সনদ ব্যতীত হাদিসের আর কোনো সনদই অবশিষ্ট ছিল না। আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
ثم تفرعت مدرسة الإمام ولي الله الدهلوي بعد الشيخ إسحاق إلى فرعين يمثلان مدرستين فكريَّتين رئيسيتين في الهند:
الفرع الأول: مدرسة الأحناف:وكان على رأسها الشيخ عبد الغني المهاجر المدني (ت 1296 هـ)
(1)، أخذ الحديث عن الشيخ إسحاق الدهلوي، وكان من أشهر تلاميذه المصلح الكبير العلَّامة رشيد أحمد الكنكوهي (ت 1323 هـ)
(2)، والإمام محمد قاسم النانوتوي (ت 1298 هـ)
(3) من مؤسسي جامعة دار العلوم ديوبند، وأخذ عنه إجازة رواية الحديث المحدث خليل أحمد السهارنفوري (ت 1346 هـ) صاحب "بذل المجهود"، والعلَّامة محمود حسن الديوبندي الملقب بشيخ الهند (ت 1339 هـ)
(4)، والعلَّامة المحدث أنور شاه الكشميري (ت 1352 هـ)
(5) صاحب "فيض الباري شرح صحيح البخاري"، والمحدث شبير أحمد العثماني (ت 1369 هـ)
(6) صاحب "فتح الملهم في شرح صحيح مسلم"، والمحدث ظفر أحمد التهانوي (ت 1394 هـ)
(7)، صاحب "قواعد في علوم الحديث"، والمحدث فخر الدين أحمد المرادآبادي (ت 1392 هـ)
(8)، وغيرهم من العلماء.
--------------------------------------------
অতঃপর ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভীর শিক্ষা ধারা শায়খ ইসহাকের পর দুটি শাখায় বিভক্ত হয়, যা ভারতে দুটি প্রধান বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তাধারাকে প্রতিনিধিত্ব করে:
প্রথম শাখা: আহনাফ ধারা (মাদ্রাসা):এবং এর নেতৃত্বে ছিলেন শায়খ আব্দুল গনি আল-মুহাজির আল-মাদানি (মৃত্যু ১২৯৬ হিজরি)
(১), তিনি শায়খ ইসহাক দেহলভীর নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেন। তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন মহান সংস্কারক আল্লামা রশিদ আহমদ গাঙ্গোহি (মৃত্যু ১৩২৩ হিজরি)
(২), এবং দারুল উলুম দেওবন্দের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ইমাম মুহাম্মদ কাসেম নানুতবি (মৃত্যু ১২৯৮ হিজরি)
(৩)। তাঁর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনার অনুমতি (ইজাজত) গ্রহণ করেন "বাযলুল মাজহুদ" গ্রন্থের লেখক মুহাদ্দিস খলিল আহমদ সাহারানপুরি (মৃত্যু ১৩৪৬ হিজরি), শায়খুল হিন্দ উপাধিতে ভূষিত আল্লামা মাহমুদ হাসান দেওবন্দি (মৃত্যু ১৩৩৯ হিজরি)
(৪), "ফয়জুল বারি শারহে সহিহিল বুখারি" গ্রন্থের লেখক আল্লামা মুহাদ্দিস আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (মৃত্যু ১৩৫২ হিজরি)
(৫), "ফাতহুল মুলহিম শারহে সহিহ মুসলিম" গ্রন্থের লেখক মুহাদ্দিস শাব্বির আহমদ উসমানি (মৃত্যু ১৩৬৯ হিজরি)
(৬), "কাওয়াইদ ফি উলুমিল হাদিস" গ্রন্থের লেখক মুহাদ্দিস জাফর আহমদ থানভি (মৃত্যু ১৩৯৪ হিজরি)
(৭), মুহাদ্দিস ফখরুদ্দিন আহমদ মুরাদাবাদি (মৃত্যু ১৩৯২ হিজরি)
(৮) এবং অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الفرع الثاني: مدرسة أهل الحديث (الذين يرون عدم التقليد للأئمة الأربعة):وكان على رأسها الشيخ نذير حسين الدهلوي (ت 1320 هـ) الذي أخذ الحديث عن الشيخ إسحاق الدهلوي، والمحدث محمد بشير السهسواني (ت 1323 هـ)
(1)، والمحدث شمس الحق العظيم آبادي (ت 1329 هـ) صاحب "غاية المقصود شرح سنن أبي داود"، والمحدث عبد الرحمن المباركفوري (ت 1353 هـ)
(2) صاحب كتاب "تحفة الأحوذي شرح سنن الترمذي"، والشيخ عبيد الله المباركفوري (1327 - 1414 هـ)
(3) صاحب كتاب "مرعاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح"، وغيرهم من العلماء.
وأما في العلوم والمعارف الأخرى، فقد برز كل من الشيخ المصلح الكبير والمربي الشهير مولانا أشرف علي التهانوي (ت 1362 هـ)
(4)، والعلامة محمود حسن خان التونكي (ت 1366 هـ)
(5) صاحب "معجم المصنفين"، والعلامة مناظر أحسن الكيلاني (ت 1375 هـ)، وغيرهم من العلماء الربانيين
(6).
وعلى الرغم من انحطاط المسلمين سياسيًا واقتصاديًا وتدهور الحالة الاجتماعية، فقد نشطت الحركة العلمية بوجود هؤلاء العلماء تدريسًا وتأليفًا في هذا العصر، وكان لهم الفضل في إنشاء العديد من مدارس العلوم الشرعيّة، في الهند التي لها آثارها إلى اليوم.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় শাখা: আহলে হাদীস ধারা (যারা চার ইমামের তাকলীদ না করাকে সমর্থন করেন):এবং এর নেতৃত্বে ছিলেন শায়খ নাযীর হুসাইন দেহলবী (মৃ. ১৩২০ হি.), যিনি শায়খ ইসহাক দেহলবীর নিকট থেকে হাদীস শিক্ষা লাভ করেন, এবং মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ বশীর সাহসোয়ানি (মৃ. ১৩২৩ হি.)
(১), এবং "গয়াতুল মাকসূদ শরহে সুনানে আবু দাউদ"-এর রচয়িতা মুহাদ্দিস শামসুল হক আজিমাবাদী (মৃ. ১৩২৯ হি.), এবং "তুহফাতুল আহওয়াযী শরহে সুনানে তিরমিযী"-এর রচয়িতা মুহাদ্দিস আব্দুর রহমান মুবারকপুরী (মৃ. ১৩৫৩ হি.)
(২), এবং "মিরআতুল মাফাতীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ"-এর রচয়িতা শায়খ উবাইদুল্লাহ মুবারকপুরী (১৩২৭ - ১৪১৪ হি.)
(৩) ও অন্যান্য উলামায়ে কেরাম।
আর অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট সংস্কারক ও প্রসিদ্ধ মুরব্বী মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (মৃ. ১৩৬২ হি.)
(৪), "মুজামুল মুসান্নিফীন"-এর রচয়িতা আল্লামা মাহমুদ হাসান খান তুনকি (মৃ. ১৩৬৬ হি.)
(৫), আল্লামা মানাযির আহসান কীলানী (মৃ. ১৩৭৫ হি.) এবং অন্যান্য রব্বানী উলামায়ে কেরাম
(৬) শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে মুসলমানদের অধঃপতন এবং সামাজিক অবস্থার অবনতি সত্ত্বেও, এই যুগে এই সকল উলামায়ে কেরামের পাঠদান ও রচনার মাধ্যমে ইলমী কর্মকাণ্ড সক্রিয় ছিল। ভারতে অনেক শরয়ী উলূমের মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য, যার প্রভাব আজ অবধি বিদ্যমান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
المبحث الأول: نشأته وحياته
اسمه ونسبه:هو محمد زكريا بن محمد يحيى بن محمد إسماعيل بن الطبيب غلام حسين بن كريم بخش بن الطبيب غلام محيي الدين بن محمد ساجد بن فيض محمد بن شاه محمد شريف بن محمد أشرف بن جمال محمد بن نور محمد المعروف بابن شاه بن بهاء الدين بن شيخ محمد
(1)، ينتهي نسبه إلى سيدنا أبي بكر الصديق رضي الله عنه
(2)
لقبه:لُقِّب "بشيخ الحديث"، وذلك لعمق نظره في الحديث الشريف وعلومه، لقّبه به شيخه خليل أحمد السهارنفوري لما رأى فيه من دقة النظر وسعة الاطلاع في الحديث وعلومه
(3).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর বেড়ে ওঠা ও জীবন
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন মুহাম্মদ জাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইসমাইল ইবনে আত-তাবীব গোলাম হুসাইন ইবনে কারিম বখশ ইবনে আত-তাবীব গোলাম মুহিউদ্দীন ইবনে মুহাম্মদ সাজিদ ইবনে ফায়েজ মুহাম্মদ ইবনে শাহ মুহাম্মদ শরিফ ইবনে মুহাম্মদ আশরাফ ইবনে জামাল মুহাম্মদ ইবনে নূর মুহাম্মদ (যিনি ইবনে শাহ নামে পরিচিত) ইবনে বাহাউদ্দীন ইবনে শায়খ মুহাম্মদ
(১), তাঁর বংশলতিকা আমাদের নেতা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু পর্যন্ত পৌঁছেছে
(২)
তাঁর উপাধি:তাঁকে "শায়খুল হাদিস" উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। আর এটি হাদিস শরিফ ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্যের কারণে। তাঁর উস্তাদ খলিল আহমদ সাহারানপুরি তাঁকে এই উপাধি প্রদান করেন, যখন তিনি তাঁর মধ্যে হাদিস ও এর সংশ্লিষ্ট বিদ্যায় সূক্ষ্ম দৃষ্টি ও জ্ঞানের ব্যাপকতা লক্ষ্য করেন
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
مولده:ولد الشيخ محمد زكريا في قرية "كاندهله"
(1) (kandhala) لعشر خلون من رمضان سنة خمس عشرة وثلاثمائة وألف (1315 هـ)، الموافق 12/ فبراير/ شباط 1898 م ليلة الخميس في الساعة الحادية عشرة، فسُمي باسمين: محمد موسى ومحمد زكريا، فغلب الآخر على الأول
(2).
أسرته:أسرة الشيخ محمد زكريا مشهورة بالعلم والتدين والصلاح والورع، فقد كان والده الشيخ محمد يحيى من كبار العلماء في الهند في المنقول والمعقول، وكان حاملًا لعلوم شيخه رشيد أحمد الكنكوهي، فجمع أماليه التي أملاها في أثناء تدريس "صحيح البخاري"، و"جامع الترمذي"، وغيرهما من الكتب الستة.
درَّس في مدرسة مظاهر العلوم بسهارنفور مدة من الزمن، ولم يأخذ أجرة على هذا العمل، بل أنشأ مكتبة تجارية سمَّاها: "محمد يحيى تاجر كتب دينية" ليعود نفعها عليه
(3).
قال الشيخ أبو الحسن الندوي: ولد - أي: الشيخ محمد زكريا - في بيت عريق في العلم والدين، وامتاز رجاله وأسلافه بعلو الهمة وشدة المجاهدة، والتمسك بالدين والصلابة فيه، أشهرهم في الأولين الشيخ العلامة المفتي إلهي بخش الكاندهلوي (1162 - 1245 هـ) تلميذ الشيخ
--------------------------------------------
তাঁর জন্ম:শায়খ মুহাম্মদ যাকারিয়া ১৩১৫ হিজরি সনের ১০ই রমজান, মোতাবেক ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দের ১২ই ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত এগারোটায় কান্ধলা
(১) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর দুটি নাম রাখা হয়েছিল: মুহাম্মদ মুসা ও মুহাম্মদ যাকারিয়া। তবে পরবর্তী নামটিই প্রথমটির ওপর প্রাধান্য লাভ করে।
(২) তাঁর পরিবার:শায়খ মুহাম্মদ যাকারিয়ার পরিবার ইলম (জ্ঞান), দ্বীনদারি, নেক আমল এবং তাকওয়ার জন্য সুপ্রসিদ্ধ। তাঁর পিতা শায়খ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ছিলেন ভারতের মানকুল (বর্ণনাভিত্তিক শাস্ত্র) ও মাকুল (যুক্তিভিত্তিক শাস্ত্র) উভয় বিদ্যায় বরেণ্য আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাঁর উস্তাদ শায়খ রশিদ আহমদ গাঙ্গোহীর ইলমের ধারক ছিলেন এবং তাঁর উস্তাদ 'সহীহ বুখারী', 'জামে তিরমিযী' ও সিহাহ সিত্তার অন্যান্য কিতাব পাঠদানের সময় যে সকল আলোচনা (ইমলা) প্রদান করেছিলেন, তিনি তা সংকলন করেন।
তিনি সাহারানপুরের মাজাহির উলুম মাদরাসায় দীর্ঘকাল শিক্ষকতা করেছেন এবং এই কাজের জন্য কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি। বরং তিনি "মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ধর্মীয় কিতাব বিক্রেতা" নামে একটি ব্যবসায়িক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যাতে এর মাধ্যমে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।
(৩)শায়খ আবুল হাসান নদভী বলেন: তিনি—অর্থাৎ শায়খ মুহাম্মদ যাকারিয়া—ইলম ও দ্বীনদারি সমৃদ্ধ এক আভিজাত্যপূর্ণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষগণ সুউচ্চ হিম্মত (সাহস), কঠোর সাধনা এবং দ্বীনের ওপর দৃঢ়ভাবে অটল থাকার বৈশিষ্ট্যে অনন্য ছিলেন। তাঁদের পূর্বসূরিদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ছিলেন আল্লামা মুফতি ইলাহী বখশ কান্ধলভী (১১৬২-১২৪৫ হিজরি), যিনি শায়খ... এর ছাত্র ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
عبد العزيز بن ولي الله الدهلوي، وخليفة المجاهد الشهير السيد أحمد الشهيد البريلوي، وأشهرهم في الآخرين الداعي إلى الله المشهور في الآفاق عمّه الشيخ محمد إلياس الكاندهلوي صاحب دعوة "التبليغ" (ت 1363 هـ)، ودرَّس وجاهد في سبيل الله غير واحد من أفراد هذه الأسرة، وجده الشيخ محمد إسماعيل (1315 هـ) من الذين اتفقت الألسنة على إخلاصه وصلاحه وزهده
(1).
وأما جدته صفية بنت ضياء الحسن فكانت حافظةً للقرآن، وقد حفظته بعد الزواج، حين كان ابنها الشيخ محمد يحيى رضيعًا، كانت تتلو القرآن كله وعشرة أجزاء زيادة عليه في كل يوم من شهر رمضان المبارك، وعلى ذلك كانت تتلو القرآن في كل رمضان أربعين مرة، وذلك بجانب القيام بشؤون البيت ووظائفه
(2).
نشأته وطلبه العلم:نشأ الإمام في بيت علم ودين وصلاح، وانتقل مع والده إلى قرية "كنكوه" في مديرية "سهارنفور" بأترابراديش، حيث حمله والده إلى العالم الرباني المصلح رشيد أحمد الكنكوهي، وسعد بحنانه وعطفه الأبوي لما بينه وبين والده من اختصاص، فلما بلغ الثامنة من عمره توفي الشيخ رشيد الكنكوهي (ت 1323 هـ) فنشأ في هذه البيئة العلمية الدينية، وبدأ بتعلُّم حروف الهجاء على الطبيب عبد الرحمن المظفر نكري - وكان من أصحاب الشيخ الكنكوهي - وحفظ القرآن على والده، وقرأ الكتب الفارسية على عمِّه الشيخ محمد إلياس - مؤسس جماعة التبليغ - وكتب الصرف والنحو على والده
(3).
--------------------------------------------
আব্দুল আজিজ ইবনে ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি, এবং বিখ্যাত মুজাহিদ সাইয়্যেদ আহমদ শহীদ বেরেলভির খলিফা। আর তাদের মধ্যে শেষ সময়ে দিগন্তজুড়ে প্রসিদ্ধ আল্লাহর পথে আহ্বানকারী হলেন তার চাচা শেখ মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভি, যিনি ‘তাবলিগ’ দাওয়াতের প্রতিষ্ঠাতা (মৃত্যু: ১৩৬৩ হি.)। এই পরিবারের অনেক সদস্যই আল্লাহর পথে পাঠদান করেছেন এবং জিহাদ করেছেন। তার দাদা শেখ মুহাম্মদ ইসমাইল (মৃত্যু: ১৩১৫ হি.) এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদের ইখলাস (একনিষ্ঠতা), নেক আমল এবং দুনিয়াবিমুখতার বিষয়ে সকলের মুখে ঐকমত্য ছিল
(১).
আর তার দাদি সফিয়া বিনতে জিয়াউল হাসান ছিলেন একজন হাফেজা। তিনি বিয়ের পর কোরআন হিফজ করেছিলেন, যখন তার ছেলে শেখ মুহাম্মদ ইয়াহিয়া দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিলেন। তিনি পবিত্র রমজান মাসের প্রতিদিন পুরো কোরআন এবং আরও অতিরিক্ত দশ পারা তিলাওয়াত করতেন। সে অনুযায়ী তিনি প্রতি রমজানে চল্লিশবার কোরআন তিলাওয়াত শেষ করতেন, আর এটি ছিল ঘরের কাজ এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি
(২).
তার বেড়ে ওঠা এবং ইলম অর্জন:ইমাম একটি ইলমি, দ্বীনি এবং নেককার পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তিনি তার বাবার সাথে উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার ‘গাঙ্গোহ’ গ্রামে চলে আসেন। সেখানে তার পিতা তাকে রব্বানি আলেম ও সংস্কারক রশিদ আহমদ গাঙ্গোহির কাছে নিয়ে যান। তার পিতা এবং শেখের মধ্যকার বিশেষ সম্পর্কের কারণে তিনি শেখের পিতৃতুল্য মমতা ও স্নেহ লাভ করে ধন্য হন। যখন তার বয়স আট বছর হলো, তখন শেখ রশিদ আহমদ গাঙ্গোহি (মৃত্যু: ১৩২৩ হি.) ইন্তেকাল করেন। তিনি এই ইলমি ও দ্বীনি পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তিনি চিকিৎসক আব্দুর রহমান মুজাফফর নগরীর কাছে বর্ণমালা শিক্ষা শুরু করেন—যিনি শেখ গাঙ্গোহির শাগরিদদের একজন ছিলেন। তিনি তার পিতার কাছে কোরআন হিফজ করেন, তার চাচা শেখ মুহাম্মদ ইলিয়াস (তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা)-এর কাছে ফারসি কিতাবসমূহ পড়েন এবং তার পিতার কাছে সরফ ও নাহুর কিতাবসমূহ পড়েন
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
قال الشيخ أبو الحسن الندوي: نشأ في بيئة من أفضل البيئات في ذلك الزمان وأكثرها محافظة على الآداب والسنن، وأبعدها عن الفساد الذي بدأ ينتشر في البلاد
(1).
ولما بلغ اثني عشر عامًا من عمره انتقل مع والده إلى "سهارنفور" المركز العلمي الكبير، وهنا بدأ يقرأ على والده أكثر الكتب في الصرف والنحو والأدب والمنطق.
ثم توجه إلى أخذ الحديث من والده سنة (1332 هـ)، فاغتسل الشيخ محمد يحيى وصلّى ركعتين وبدأ تدريس "مشكاة المصابيح"، ثم دعا دعاءً طويلًا لنفسه ولولده، من ذلك اليوم أصبح الحديث غايته ومقصده، وقرأ الكتب الستة على والده - ما عدا السنن لابن ماجه - ثم قرأ "صحيح البخاري"، و"سنن الترمذي" على العالم الجليل الشيخ خليل أحمد السهارنفوري
(2)، وكان يهتم بأن لا يقرأ أي رواية دون وضوء
(3).
تدريسه:عُين مدرسًا في مدرسة "مظاهر علوم" بسهارنفور في المحرم سنة 1335 هـ، وفوِّض إليه تدريس كتب في النحو والصرف والفقه، وبعض
--------------------------------------------
শায়খ আবুল হাসান নদভী বলেন: তিনি সেই সময়ের শ্রেষ্ঠ পরিবেশগুলোর একটিতে বেড়ে উঠেছেন, যা ছিল শিষ্টাচার ও সুন্নাহর সংরক্ষণে অত্যন্ত যত্নশীল এবং দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া পাপাচার থেকে অত্যন্ত দূরে
(১)।
যখন তাঁর বয়স বারো বছর হলো, তখন তিনি তাঁর পিতার সাথে বৃহৎ ইলমি কেন্দ্র ‘সাহারানপুর’-এ স্থানান্তরিত হলেন। সেখানে তিনি তাঁর পিতার নিকট সরফ, নাহু, সাহিত্য এবং যুক্তিবিদ্যার অধিকাংশ কিতাব পড়তে শুরু করেন।
এরপর ১৩৩২ হিজরি সালে তিনি তাঁর পিতার নিকট হাদীস গ্রহণে মনোনিবেশ করেন। তখন শায়খ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া গোসল করলেন এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করে ‘মিশকাতুল মাসাবিহ’ পাঠদান শুরু করলেন। এরপর তিনি নিজের এবং তাঁর সন্তানের জন্য দীর্ঘ দোয়া করলেন। সেদিন থেকেই হাদীস শাস্ত্র তাঁর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে পরিণত হয়। তিনি তাঁর পিতার নিকট ‘সুনানে ইবনে মাজাহ’ ব্যতীত কুতুবে সিত্তাহর অন্য কিতাবগুলো পাঠ করেন। এরপর তিনি মহান আলেম শায়খ খলিল আহমদ সাহারানপুরীর
(২) নিকট ‘সহীহ বুখারী’ এবং ‘সুনানে তিরমিযী’ পাঠ করেন। তিনি কোনো হাদীস বর্ণনা অজু ছাড়া না পড়ার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন
(৩)।
তাঁর শিক্ষকতা:১৩৩৫ হিজরির মহররম মাসে সাহারানপুরের ‘মাজাহিরে উলুম’ মাদরাসায় তিনি শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং তাঁর ওপর নাহু, সরফ, ফিকহ এবং আরও কিছু কিতাব পড়ানোর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-আবওয়াব ওয়াত তারাজিম লি সহীহিল বুখারী
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
الكتب في اللغة العربية، ثم فوِّض إليه بعض الكتب المهمة في الأدب والفقه، وفي سنة 1341 هـ فُوِّض إليه تدريس ثلاثة أجزاء من "صحيح البخاري" بأمر من الشيخ خليل أحمد السهارنفوري وإلحاحه، وظل يُدرس "مشكاة المصابيح" إلى سنة 1344 هـ
(1).
قال الشيخ أبو الحسن الندوي: وهو من أصغر الأساتذة، وأُسند إليه تدريس كتب لا تسند عادةً إلى أمثاله في العمر، ولا في أول التدريس، وأثبت المدرِّس الشاب جدارته وقدرته على التدريس
(2).
ثم سافر سنة 1345 هـ إلى الحجاز وأقام هناك لمدة عام، ودرّس في المدينة المنورة بمدرسة العلوم الشرعية "سنن أبي داود" لبعض الطلبة من بلاد المغرب
(3) وغيرها.
ورجع من الحجاز في 18 صفر 1346 هـ، وبدأ تدريس "سنن أبي داود"، و"سنن النسائي"، و"الموطأ" برواية الإمام محمد، والنصف الثاني من "صحيح البخاري" في مدرسة "مظاهر علوم"، ثم انتقل إليه "صحيح البخاري" كله بعد وفاة مدير المدرسة الشيخ عبد اللطيف الذي كان يقوم بتدريس النصف الآخر من "صحيح البخاري"، فدرّس الشيخ محمد زكريا إلى سنة 1388 هـ، ثم توقف عن التدريس بسبب نزول الماء في عينيه، وقد درّس في هذه المدة "سنن الترمذي"، و"الجامع الصحيح" لمسلم، و"شمائل" الترمذي، وغيرها من الكتب
(4).
--------------------------------------------
আরবি ভাষার কিতাবসমূহ, অতঃপর সাহিত্য ও ফিকহ শাস্ত্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের দায়িত্ব তার ওপর অর্পণ করা হয়। ১৩৪১ হিজরি সনে শেখ খলিল আহমদ সাহারানপুরীর নির্দেশ ও পীড়াপীড়িতে তার ওপর "সহিহ বুখারি"-র তিনটি খণ্ড পাঠদানের দায়িত্ব অর্পণ করা হয় এবং তিনি ১৩৪৪ হিজরি সন পর্যন্ত "মিশকাতুল মাসাবিহ" পড়ানো অব্যাহত রাখেন
(১)।
শেখ আবুল হাসান নদভী বলেন: তিনি ছিলেন কনিষ্ঠতম শিক্ষকদের একজন। তার ওপর এমন সব কিতাব পাঠদানের দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছিল যা সাধারণত তার সমবয়সী কিংবা শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে থাকা ব্যক্তিদের ওপর অর্পণ করা হয় না। এই তরুণ শিক্ষক পাঠদানে নিজের যোগ্যতা ও সক্ষমতা প্রমাণ করেছিলেন
(২)।
অতঃপর তিনি ১৩৪৫ হিজরি সনে হিজাজ সফর করেন এবং সেখানে এক বছর অবস্থান করেন। তিনি মদিনা মুনাওয়ারার 'মাদরাসাতুল উলুম আশ-শারইয়্যাহ'-তে মাগরিব (মরক্কো) ও অন্যান্য অঞ্চলের কিছু ছাত্রকে "সুনানে আবু দাউদ" পড়ান
(৩) এবং অন্যান্য কিতাবও পড়ান।
তিনি ১৮ সফর ১৩৪৬ হিজরি সনে হিজাজ থেকে প্রত্যাবর্তন করেন এবং 'মাজাহির উলুম' মাদরাসায় "সুনানে আবু দাউদ", "সুনানে নাসাঈ", ইমাম মুহাম্মদের বর্ণনায় "মুয়াত্তঅ" এবং "সহিহ বুখারি"-র দ্বিতীয় অর্ধাংশ পাঠদান শুরু করেন। অতঃপর মাদরাসার পরিচালক শেখ আব্দুল লতিফের—যিনি "সহিহ বুখারি"-র বাকি অর্ধাংশ পাঠদান করতেন—মৃত্যুর পর সম্পূর্ণ "সহিহ বুখারি"-র পাঠদান তার কাছে স্থানান্তরিত হয়। এভাবে শেখ মুহাম্মদ জাকারিয়া ১৩৮৮ হিজরি সন পর্যন্ত পাঠদান করেন। এরপর চোখে পানি নামার (ছানি পড়া) কারণে তিনি পাঠদান বন্ধ করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি "সুনানে তিরমিজি", মুসলিমের "আল-জামিউস সহিহ", তিরমিজির "শামায়েল" এবং অন্যান্য কিতাব পাঠদান করেছেন
(৪)।
--------------------------------------------