(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: -)
القول السديد في الرد على من أنكر تقسيم التوحيد القسم: الفرق والردود
الكتاب: القول السديد في الرد على من أنكر تقسيم التوحيد
المؤلف: عبد الرزاق بن عبد المحسن البدر
الناشر: دار ابن القيم، الدمام، المملكة العربية السعودية / دار ابن عفان، القاهرة، مصر
الطبعة: الثالثة، 1422هـ/2001م
عدد الصفحات: 124
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-কাওলুস সাদীদ ফী আর-রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমাত তাওহীদ বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডন
গ্রন্থ: আল-কাওলুস সাদীদ ফী আর-রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমাত তাওহীদ
লেখক: আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-বাদর
প্রকাশক: দার ইবনিল কাইয়্যিম, দাম্মাম, সৌদি আরব / দার ইবনে আফফান, কায়রো, মিশর
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪২২ হিজরি/২০০১ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة…القَوْلُ السَّدِيد في الرَّدِّ عَلَى مَنْ أَنكَرَ تَقْسِيمَ التَّوْحِيد
تأليف: عبد الرزاق بن عبد المحسن البدر
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم: فضيلة الشيخ العلَاّمة: صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان
الحمد لله رب العالمين يقذف بالحق على الباطل فيدمغه فإذا هو زاهق {وَقُلْ جَآءَ الحَقُّ وَزَهَقَ البَاطِلُ إِنَّ البَاطِلَ كَانَ زَهُوقاً} 1، والصلاة والسلام على نبينا محمد الذي أخرج الله به الناس من الظلمات إلى النور وترك أمته على البيضاء لا يزيغ عنها إلا هالك.
وبعد: فمن حكمة الله سبحانه وتعالى أن يبتلي أهل الحق بأهل الباطل ليحصل الجهاد في سبيل الله بالسلاح وبالقلم واللسان دفاعاً عن الحقّ وردّاً للباطل: {ذَلِكَ وَلَوْ يَشَآءُ اللهُ لَانتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِن لِيَبْلُوَ بَعْضَكُمْ بِبَعْضٍ} 2.. وإنه في زماننا هذا خلوفٌ تهرف بما لا تعرف وتردد أقوال قوم أرادوا مقاومة الحقّ
--------------------------------------------
ভূমিকা…তৌহিদের প্রকারভেদ যারা অস্বীকার করে তাদের খণ্ডনে সঠিক বক্তব্য
রচনা: আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-বাদর
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
উপস্থাপনা: মান্যবর শায়খ আল্লামা সালিহ বিন ফাওজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওজান
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি সত্যকে মিথ্যার ওপর নিক্ষেপ করেন, ফলে তা মিথ্যার মস্তক চূর্ণ করে দেয় এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়ে যায়। {আর আপনি বলুন: সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই বিষয়} ১। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর, যার মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন এবং যিনি তাঁর উম্মতকে এক সুস্পষ্ট উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে গেছেন, যা থেকে কেবল ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিই বিচ্যুত হয়।
অতঃপর: মহান আল্লাহর হিকমত বা প্রজ্ঞার দাবি এই যে, তিনি সত্যপন্থীদের মিথ্যাচারীদের দ্বারা পরীক্ষা করেন, যাতে সত্যের প্রতিরক্ষা ও মিথ্যা অপনোদনের জন্য অস্ত্র, কলম ও জিহ্বার মাধ্যমে আল্লাহর পথে জিহাদ প্রতিষ্ঠিত হয়: {এটাই বিধান, আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তোমাদের একজনকে অন্যের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান} ২। বর্তমান সময়ে এমন কিছু অপদার্থ উত্তরসূরির আবির্ভাব ঘটেছে যারা না বুঝেই অনেক কিছু বলে বেড়ায় এবং এমন সব লোকদের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে যারা সত্যকে প্রতিহত করার ইচ্ছা পোষণ করেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وحجب الشمس فلم يستطيعوا وماتوا وغيظهم في صدورهم، فأراد هؤلاء الخلوف أن يعيدوا الكرَّة ليثأروا لسلفهم ويشفوا غيظهم ولكن أنَّى وهيهات وجند الحقّ لَهم بالمرصاد وأدلة الكتاب والسنة تدرأ في نحورهم، إنَّه لا بدَّ إن شاء الله أن يكون مصيرهم مثل مصير أسلافهم: {أَلَمْ نُهْلِكِ الأَوَّلِينَ ثُمَّ نُتْبِعُهُمُ الأَخِرِينَ كَذَلِكَ نَفْعَلُ بِالْمُجْرِمِينَ وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ} 1.
وإنَّ من هؤلاء المهزومين رجلاً يقال له: حسن بن علي السقاف صار يسوِّد الأوراق بترهاتٍ وأباطيلَ يريد بها ستر الحقِّ ونشرَ الباطل وإحياء سنَّة خصوم الحقّ، ومن ذلك ما لفَّقَه ضدَّ عقيدة التوحيد في أوراق سماها: (التنديد بمن عدَّد التوحيد. إبطال محاولة التثليث في التوحيد والعقيدة الإسلامية) وهكذا سجع كسجع الكهَّان، ولم يأت في أوراقه هذه إلا بما هو عار عليه، فلو سكت لكان خيراً له وأستر لجهله، ولكن يأبى الله إلا أن يفضح أهل الباطل وينصر أهل الحقّ {يُرِيدُونَ أَن يُّطْفِئُواْ نُورَ اللهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَأْبَي اللهُ إِلَاّ أَن يُّتِمَّ نُورَهُ} 2وليته اعتبر بمصارع أسلافه على أيدي أهل الحقّ فكفَّ عما باح به وبقي له اعتبار كما قال زهير في حكمته:
وكائن من صامت لك معجب
… زيادته أو نقصه في التكلم
ولقد تصدَّى له من جند الحقّ من فضح أباطيله ونقض أحابيله ألا وهو الدكتور: عبد الرزاق بن عبد المحسن العباد فاستعرض أهمَّ ما في كتابه المذكور من الشبهات والترهات وردَّ عليها بالحجة والبرهان حتى تداعت للسقوط وهي تنادي على صاحبها بالجهل والعناد، وهكذا ما تقابل جند الحقّ مع جند
--------------------------------------------
তারা সূর্যকে আড়াল করতে চেয়েছিল কিন্তু তা পারেনি, এবং তারা তাদের অন্তরে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ নিয়েই মৃত্যুবরণ করেছে। এই অর্বাচীন উত্তরসূরিরা পুনরায় সেই অপপ্রচেষ্টা চালাতে চাইছে যেন তারা তাদের পূর্বসূরিদের প্রতিশোধ নিতে পারে এবং নিজেদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারে। কিন্তু তা কীভাবে সম্ভব এবং কতই না সুদূরপরাহত! কারণ সত্যের সেনাদল তাদের অপেক্ষায় ওত পেতে আছে এবং কিতাব ও সুন্নাহর দলিলসমূহ তাদের কণ্ঠনালীতে আঘাত হানছে। ইনশাআল্লাহ, তাদের পরিণতি অবশ্যই তাদের পূর্বসূরিদের মতো হতে বাধ্য: {আমি কি পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করিনি? অতঃপর আমি পরবর্তীদের তাদের অনুগামী করব। অপরাধীদের সাথে আমি এরূপই করে থাকি। সেদিন মিথ্যারোপকারীদের জন্য দুর্ভোগ রয়েছে।} ১.
এই পরাজিতদের মধ্যে হাসান বিন আলী আস-সাক্কাফ নামক এক ব্যক্তি রয়েছে, যে অসার ও অলীক কথা দিয়ে কাগজ কালো করতে শুরু করেছে। এর মাধ্যমে সে সত্যকে আড়াল করা, মিথ্যাকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সত্যবিরোধীদের রীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে চায়। এরই অংশ হিসেবে সে তাওহীদের আকিদার বিরুদ্ধে অপবাদমূলক কথা জমা করেছে এমন এক পুস্তিকায় যার নাম সে দিয়েছে: (আত-তানদীদ বি-মান আদ্দাদাত তাওহীদ: ইবতালু মুহাওয়াহালাতিত তাসলীস ফিত তাওহীদ ওয়াল আকিদাহ আল-ইসলামিয়্যাহ - তাওহীদের সংখ্যায়নকারীদের নিন্দা: তাওহীদ ও ইসলামী আকিদাহয় ত্রিত্ববাদের অপচেষ্টা বাতিলকরণ)। এ যেন গণকদের ন্যায় ছন্দবদ্ধ বাক্য। সে তার এই পুস্তিকায় এমন কিছুই নিয়ে আসেনি যা তার জন্য কলঙ্কজনক নয়। সে যদি নীরব থাকত তবে তা তার জন্য কল্যাণকর হতো এবং তার অজ্ঞতা গোপন থাকত। কিন্তু আল্লাহ কেবল এটাই চান যে মিথ্যাবাদীদের অপদস্থ করবেন এবং সত্যপন্থীদের সাহায্য করবেন: {তারা তাদের মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর আলো পূর্ণ করা ছাড়া অন্য কিছু চান না} ২। হায়! সে যদি সত্যপন্থীদের হাতে তার পূর্বসূরিদের ধ্বংস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করত এবং যা সে প্রকাশ করেছে তা থেকে বিরত থাকত, তবে তার সম্মান অবশিষ্ট থাকত, যেমনটি যুহাইর তার প্রজ্ঞাপূর্ণ কবিতায় বলেছেন:
অনেক নীরব ব্যক্তি তোমাকে মুগ্ধ করে
… অথচ তার উৎকর্ষ বা অপকর্ষ নিহিত থাকে তার কথাবার্তায়
সত্যের সেনাদলের মধ্য থেকে এমন এক ব্যক্তিত্ব তার মোকাবিলা করেছেন যিনি তার অসারতা প্রকাশ করে দিয়েছেন এবং তার ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করেছেন; আর তিনি হলেন ডক্টর আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ। তিনি উক্ত কিতাবের প্রধান প্রধান সংশয় ও অসারতাগুলো পর্যালোচনা করেছেন এবং দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে সেগুলোর জবাব দিয়েছেন, যার ফলে সেগুলো ধসে পড়েছে এবং তার রচয়িতার মূর্খতা ও হঠকারিতার জানান দিচ্ছে। এভাবেই সত্যের সেনাদল যখন বিপক্ষ সেনাদলের মোকাবিলা করে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الباطل إلا وكانت الغلبة لجند الحقّ كما قال تعالى: {وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الغَالِبُونَ} 1.
ولقد قرأت ردَّ الشيخ الدكتور عبد الرزاق في هذا الموضوع فوجدته والحمد لله ردّاً مسددّاً وافياً بالمقصود مدعوماً بالحجج المقنعة متبعاً في ذلك منهج السلف الصالح من أهل العلم والبصيرة، كما قال الإمام أحمد رحمه الله في خطبته: الحمد لله الذي جعل في كلِّ زمان فترة من الرسل بقايا من أهل العلم يبصرون أهل العمى، ويحيون بكتاب الله الموتى، وينفون عن كتاب الله انتحال المبطلين وتأويل الجاهلين..الخ ما قال رحمه الله. وهذا من رحمة الله، وتصديقاً لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تزال طائفة من أمتى على الحق ظاهرين، لا يضرهم من خذلهم ولا من خالفهم حتى يأتي أمر الله تبارك وتعالى وهم على ذلك".
فجزى الله الدكتور على ما قام به من نصرة الحق وردّ الباطل خير الجزاء، وهدى الله كلَّ من ضلَّ عن الصواب إلى الرجوع إلى الحقِّ، وصلى الله وسلَّم على نبيِّنا محمد وآله وصحبه.
وكتبه
صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان في 15/3/1414هـ
--------------------------------------------
মিথ্যা তখনই সত্যের সৈন্যদের বিজয় অর্জিত হয়, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর অবশ্যই আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী।" ১।
আমি এই বিষয়ে শায়খ ডক্টর আবদুর রাজ্জাকের উত্তরটি পড়েছি এবং আল্লাহর প্রশংসায় একে লক্ষ্য অর্জনে একটি সঠিক ও পর্যাপ্ত উত্তর হিসেবে পেয়েছি, যা সন্তোষজনক যুক্তির মাধ্যমে সমর্থিত এবং এতে ইলম ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সালাফে সালেহীনের মানহাজ অনুসরণ করা হয়েছে; যেমনটি ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর খুতবায় বলেছেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রাসুলগণের আগমনের বিরতিকালীন সময়ে প্রত্যেক যুগে ইলম অন্বেষণকারীদের কিছু অবশিষ্টাংশ রেখেছেন, যারা অন্ধদের পথ দেখান, আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে মৃতদের জীবিত করেন এবং আল্লাহর কিতাব থেকে বাতিলপন্থীদের বিকৃতি ও মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করেন..." ইত্যাদি যা তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন। এটি আল্লাহর রহমতেরই অংশ এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর সত্যায়ন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের সাহায্য ত্যাগ করবে বা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না বরকতময় ও মহান আল্লাহর নির্দেশ উপস্থিত হয় এবং তারা সেই অবস্থাতেই থাকবে।"
অতএব আল্লাহ যেন ডক্টরকে সত্যের বিজয় এবং মিথ্যা খণ্ডনে তাঁর এই প্রচেষ্টার জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আর আল্লাহ যেন সত্য পথ থেকে বিচ্যুত প্রত্যেক ব্যক্তিকে সত্যের দিকে ফিরে আসার তাওফীক দান করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
লিখেছেন
সালিহ ইবনে ফাওজান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ফাওজান, ১৫/৩/১৪১৪ হিজরী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
قال: "وبإزاء هؤلاء المكفرين بالباطل أقوام لا يعرفون اعتقاد أهل السنة والجماعة كما يجب أو يعرفون بعضه ويجهلون بعضه، وما عرفوه منه قد لا يبيِّنونه للناس بل يكتمونه، ولا ينهون عن البدع المخالفة للكتاب والسنة، ولا يذمون أهل البدع ويعاقبونهم، بل لعلهم يذمون الكلام في السنة وأصول الدين ذمّاً مطلقاً، لا يفرقون فيه بين ما دلَّ عليه الكتاب والسنة والإجماع وما يقوله أهل البدع والفرقة، أو يقرون الجميع على مذاهبهم المختلفة، كما يقرّ العلماء في مواضع الاجتهاد التي يسوغ فيها النزاع، وهذه الطريقة قد تغلب على كثير من المرجئة وبعض المتفقهة والمتصوفة والمتفلسفة، كما تغلب الأولى على كثير من أهل الأهواء والكلام، وكلا هاتين الطريقتين منحرفة خارجة عن الكتاب والسنة، وإنما الواجب بيان ما بعث الله به رسله وأنزل به كتبه، وتبليغ ما جاءت به الرسل عن الله والوفاء بميثاق الله الذي أخذه على العلماء فيجب أن يعلم ما جاءت به الرسل ويؤمن به ويبلغه ويدعو إليه ويجاهد عليه، ويزن جميع ما خاض الناس فيه من أقوال وأعمال في الأصول والفروع الباطنة والظاهرة بكتاب الله وسنة رسوله غير متبعين لهوى من عادة أو مذهب أو طريقة أو رئاسة أو سلف ولا متبعين لظنٍّ من حديث ضعيف أو قياس فاسد سواء كان قياس شمول أو قياس تمثيل أو تقليد لمن لا يجب اتباع قوله وعمله، فإن الله ذمَّ في كتابه الذين يتبعون الظنَّ وما تهوى الأنفس ويتركون اتباع ما جاءهم من ربهم من الهدى"1 ا. هـ.
وما أشبه الليلة بالبارحة، ما أشبه أولئك الذين يتحدث شيخ الإسلام آنفاً عن طريقتهم بهؤلاء المعاصرين الداعين للسكوت عن أهل البدع والأهواء
--------------------------------------------
তিনি বলেন: "বাতিল পন্থায় তাকফীরকারীদের (কাফির সাব্যস্তকারী) বিপরীতে এমন একদল লোক রয়েছে যারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের আকীদা যথাযথভাবে জানে না, অথবা এর কিছু অংশ জানে এবং কিছু অংশ জানে না। তারা যা জানে তা-ও মানুষের কাছে স্পষ্ট করে না বরং তা গোপন রাখে। তারা কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধী বিদ'আতসমূহ থেকে নিষেধ করে না এবং বিদ'আতীদের নিন্দাও করে না কিংবা তাদের শাস্তিও প্রদান করে না। বরং সম্ভবত তারা সুন্নাহ এবং দীনের মূলনীতি (উসূলুদ্দীন) নিয়ে আলোচনার নিঃশর্ত নিন্দা জানায়; তারা কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমার দলীল এবং বিদ'আতী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বক্তব্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। অথবা তারা সকলকেই তাদের ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের ওপর বহাল রাখে, যেমনটি আলিমগণ ইজতিহাদের ক্ষেত্রগুলোতে করে থাকেন যেখানে মতবিরোধের অবকাশ থাকে। এই পদ্ধতিটি অধিকাংশ মুরজিয়া এবং কিছু ফকীহ, সূফী ও দার্শনিকের ওপর প্রবল থাকে; যেমনটি প্রথমোক্ত (তাকফীরপন্থী) পদ্ধতিটি প্রবৃত্তি পূজারী ও কালাম শাস্ত্রবিদদের অনেকের ওপর প্রবল থাকে। আর এই উভয় পদ্ধতিই বিচ্যুত এবং কুরআন ও সুন্নাহর গণ্ডি বহির্ভূত। বরং কর্তব্য হলো আল্লাহ যা দিয়ে তাঁর রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং যা তাঁর কিতাবসমূহে নাযিল করেছেন তা বর্ণনা করা এবং রাসূলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তা পৌঁছে দেওয়া। আর আল্লাহর সেই অঙ্গীকার পূরণ করা যা তিনি আলিমদের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। অতএব রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা জানা, তাতে ঈমান আনা, তা পৌঁছে দেওয়া, সেদিকে দাওয়াত দেওয়া এবং তার ভিত্তিতে জিহাদ করা ওয়াজিব। আর মানুষের সকল কথা ও কাজকে—চাই তা উসূল (মূলনীতি) কিংবা ফুরূ' (শাখা), জাহির (প্রকাশ্য) কিংবা বাতিন (অপ্রকাশ্য) যাই হোক না কেন—আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহর মানদণ্ডে বিচার করা। এক্ষেত্রে কোনো অভ্যাস, মাযহাব, তরীকা, নেতৃত্ব কিংবা পূর্বসূরীদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করা যাবে না। তেমনিভাবে দুর্বল হাদীস বা ত্রুটিপূর্ণ কিয়াস (যুক্তি) থেকে উদ্ভূত কোনো ধারণার অনুসরণ করা যাবে না—চাই তা কিয়াসে শুমূল (সার্বিক কিয়াস) হোক বা কিয়াসে তামসীল (সাদৃশ্যমূলক কিয়াস) হোক—কিংবা এমন কারও অন্ধ অনুসরণ করা যাবে না যার কথা ও কাজ অনুসরণ করা অপরিহার্য নয়। কেননা আল্লাহ তাঁর কিতাবে সেই সব মানুষের নিন্দা করেছেন যারা কেবল ধারণা ও কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং তাদের রবের পক্ষ থেকে আসা হিদায়াত বর্জন করে।" ১ (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
গতকালের সাথে আজকের দিনের কী অদ্ভুত মিল! শাইখুল ইসলাম ইতিপূর্বে যাদের পদ্ধতির কথা আলোচনা করেছেন, তাদের সাথে বর্তমান যুগের সেই সব লোকদের কতই না সাদৃশ্য রয়েছে যারা বিদ'আতী ও প্রবৃত্তি পূজারীদের ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বনের ডাক দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
والمقربين بين الطوائف على اختلاف مذاهبهم وتباين طرائقهم مع أهل السنة والجماعة.
شتان بين الحالتين فإن ترد
… جمعاً فما الضدان يجتمعان
شتان بين العسكرين فمن يكن
… متحيراً فلينظر الفئتان
وإنَّما الحق والواجب في ذلك هو لزوم الكتاب والسنة والتمسك بما جاء فيهما ونبذ ما سوى ذلك من باطل وضلال وانحراف كما سبق إيضاح ذلك وتقريره في كلام شيخ الإسلام المتقدم.
وعليه فإنَّ مؤلفات أهل السنة الكثيرة في الردّ على أهل البدع والأهواء المقصود منها النصيحة لله ولرسوله ولكتابه ولأئمة المسلمين وعامتهم، وفيها دعوة للمردود عليه إلى محاسبة نفسه ووزن أقواله لعله يعود إلى رشده ويترك غيَّه وباطله، وفيها حماية للمجتمع المسلم من الباطل المبثوث في كتاب المبتدع المبطل الناشر للضلال.
ولم يبعد أحد شيوخنا المعاصرين إذ قال: "وكما أنَّه يوضع في زماننا أماكن للحجر الصحيّ لمن بهم أمراض معدية، فإنَّ أهل البدع والأهواء الداعين إلى باطلهم أولى بالحجر من أولئك؛ لأنَّ هؤلاء يمرضون القلوب ويفسدون الأديان، وأولئك يفسدون الأجسام ويمرضون الأبدان".
ولكن من لنا بمن يكمِّم أفواههم ويقطع ألسنتهم ويكسر أقلامهم كما فعل عمر بن الخطاب رضي الله عنه بصبيغ وكما فعل خالد القسري بالجعد فإلى الله المشتكى.
هذا وإنَّ من حاملي ألوية البدعة وأزمة الفتنة في زماننا شاباً جهميّاً معاصراً أخذ على عاتقه نشر الضلال والباطل والهجوم على أهل الحقّ والسنة وتمجيد
এবং যারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সাথে বিভিন্ন ফিরকা বা উপদলের তাদের মাযহাব ও পদ্ধতির ভিন্নতা সত্ত্বেও সমঝোতা বা সেতুবন্ধন তৈরি করতে চায়।
উভয় অবস্থার মাঝে আকাশ-পাতাল ব্যবধান, যদি তুমি মিলন চাও
... তবে জেনে রাখো, দুই বিপরীত বস্তু কখনো একত্রিত হয় না।
দুই বাহিনীর মাঝে বিরাট পার্থক্য, যে ব্যক্তি
... বিভ্রান্তিতে রয়েছে, সে যেন উভয় দলের প্রতি দৃষ্টিপাত করে।
প্রকৃত সত্য ও আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, এ দুটিতে যা এসেছে তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করা এবং এছাড়া অবশিষ্ট সকল বাতিল, ভ্রষ্টতা ও বিচ্যুতি বর্জন করা; যেমনটি পূর্বে শায়খুল ইসলামের বক্তব্যে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সুতরাং, বিদআত ও কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের খণ্ডনে আহলুস সুন্নাহর অসংখ্য রচনার মূল লক্ষ্য হলো আল্লাহ, তাঁর রাসূল, তাঁর কিতাব এবং মুসলিমদের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের প্রতি নসিহত বা কল্যাণকামনা। এতে যার খণ্ডন করা হচ্ছে তাকে আত্মজিজ্ঞাসা এবং নিজ বক্তব্যসমূহ যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়, যাতে সে সুপথে ফিরে আসে এবং তার বিভ্রান্তি ও বাতিল পথ ত্যাগ করে। এছাড়া এতে বিদআতী ও ভ্রষ্টতা প্রচারকারীর কিতাবে ছড়িয়ে থাকা বাতিল থেকে মুসলিম সমাজকে রক্ষা করার প্রয়াস রয়েছে।
আমাদের সমকালীন শায়খদের একজন যথার্থই বলেছেন: "আমাদের যুগে সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য যেমন কোয়ারেন্টাইন বা সংনিরোধের ব্যবস্থা করা হয়, তেমনি যারা নিজ বাতিলের দিকে আহ্বানকারী বিদআতী ও কুপ্রবৃত্তির অনুসারী, তারা ওই রোগীদের চেয়েও বেশি কোয়ারেন্টাইনের যোগ্য। কেননা এরা অন্তরকে ব্যাধিগ্রস্ত করে এবং দ্বীনকে কলুষিত করে, আর ওই রোগীরা কেবল দেহ নষ্ট করে এবং শরীরকে অসুস্থ করে।"
কিন্তু আমাদের মাঝে আজ কে আছে যে তাদের মুখ বন্ধ করবে, তাদের জিহ্বা কর্তন করবে এবং তাদের কলম ভেঙে দেবে; যেমনটি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু সাবিগ-এর সাথে করেছিলেন এবং খালিদ আল-কাসরি জা’দ-এর সাথে করেছিলেন? আল্লাহর কাছেই আমরা এ বিষয়ে ফরিয়াদ করি।
তাছাড়া, বর্তমান সময়ে বিদআতের ঝাণ্ডাবাহী ও ফিতনার কর্ণধারদের অন্যতম হলো একজন সমকালীন জাহমি যুবক, যে ভ্রষ্টতা ও বাতিল প্রচারের এবং আহলুল হক ও সুন্নাহর অনুসারীদের ওপর আক্রমণ করার এবং গুণকীর্তন করার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
أهل الضلال والبدعة، وهو المدعو حسن بن علي السقاف، ولم أقف على شيء من كتبه ولله الحمد، إلا كتاباً واحداً بُليت بقراءته وهو كتاب: "التنديد بمن عدَّد التوحيد. إبطال محاولة التثليث في التوحيد والعقيدة الإسلامية". فهالني ما فيه إذ قد حكم على عامة المسلمين الموحدين لله في ربوبيته وأسمائه وصفاته وألوهيته بأنهم ثلثوا في عقيدتهم.
ومن المعلوم أن التثليث عقيدة نصرانية فاسدة حكم الله في القرآن على أهلها بالكفر، ولم أحسب أنَّ أحداً تبلغ به الجرأة أن يحكم بهذا الحكم أو يقرر هذا التقرير الباطل الجائر حتى وقفت على كلام هذا المسكين الهالك. وأقول ما قيل:
الله أخر موتتي فتأخرت
… حتى رأيت من الزمان عجائباً
هذا من عنوان الكتاب فحسب، أما مضمونه فقد اشتمل على عجائب وغرائب وطوام كثيرةٍ كل واحدة منها كافية في إخراج الرجل من دائرة العلماء بل ومن دائرة العقلاء فحسيبه الله على ما قدم، وعند الله تجتمع الخصوم. ومن قراءتي لكتابه كاملاً ظهر لي من حال الرجل ما يلي:
أولاً: كونه جهميًّا جلداً يرى أنَّ ربه لا يوصف بأنَّه خارج العالم ولا داخله وينسب ذلك زوراً وباطلاً إلى أهل السنة والجماعة.
ثانياً: وجدته محرِّفاً من الدرجة الأولى لأقوال أهل العلم ونصوصهم.
ثالثاً: وجدته كثير الكذب والتدليس والتلبيس.
رابعاً: ثم هو سليط اللسان، بذيء القول، يرمي أهل السنة بالعظائم، ومن أمثلة ذلك قوله عنهم: ص: 6 "المتمسلفين" وص: 12 "أصحاب العقول ذات التفكير السطحي الضحل" وص: 17 "فخذ مجدك في التجسيم
ভ্রষ্টতা ও বিদআতের অনুসারীদের একজন হলো হাসান বিন আলী আল-সাক্কাফ নামক ব্যক্তিটি। আল্লাহর অশেষ শোকর যে আমি তার কোনো বই পড়িনি, কেবল একটি বই পড়ার বিপদে পড়েছিলাম। বইটির নাম: "আত-তানদিদ বি-মান আদ্দাদাত তাওহিদ: ইবতাল মুহাওয়াতাত তাসলিস ফিত তাওহিদ ওয়াল আকিদাতিল ইসলামিয়া" (তাওহিদকে যারা সংখ্যায় রূপান্তর করে তাদের নিন্দা: তাওহিদ ও ইসলামী আকিদায় ত্রিত্ববাদের অপচেষ্টা নস্যাৎ)। বইটির বিষয়বস্তু আমাকে আতঙ্কিত করেছে, কেননা সেখানে সে আল্লাহর রুবুবিয়ত, আসমা-সিফাত ও উলুহিয়তের ক্ষেত্রে একত্ববাদে বিশ্বাসী সাধারণ মুসলিমদের ওপর এই ফয়সালা দিয়েছে যে, তারা তাদের আকিদায় ত্রিত্ববাদ গ্রহণ করেছে।
এটি সর্বজনবিদিত যে, ত্রিত্ববাদ খ্রিষ্টানদের একটি ভ্রান্ত আকিদা এবং এর অনুসারীদের ব্যাপারে আল্লাহ কুরআনে কুফরির বিধান দিয়েছেন। আমার ধারণা ছিল না যে, কারো দুঃসাহস এতটা হতে পারে যে সে এমন হুকুম আরোপ করবে কিংবা এমন বাতিল ও অন্যায্য সিদ্ধান্তের কথা জানাবে—যতক্ষণ না আমি এই হতভাগ্য ও ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তির বক্তব্য পড়েছি। যেমনটি বলা হয়ে থাকে:
আল্লাহ আমার মৃত্যুকে বিলম্বিত করেছেন
… যাতে আমি কালের অদ্ভুত সব কাণ্ড দেখতে পারি।
এটি কেবল বইটির শিরোনামের অবস্থা; আর এর মূল বিষয়বস্তুতে এমন সব বিস্ময়কর, অদ্ভুত ও ধ্বংসাত্মক কথাবার্তা রয়েছে যার প্রতিটিই ওই ব্যক্তিকে আলেমদের কাতার থেকে, এমনকি জ্ঞানসম্পন্নদের কাতার থেকেও বের করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সে যা করেছে তার জন্য আল্লাহই তার হিসাব নেবেন, আর আল্লাহর দরবারেই বিবাদমান পক্ষগুলো সমবেত হবে। তার সম্পূর্ণ বইটি পড়ার পর লোকটির অবস্থা সম্পর্কে আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয়েছে তা নিম্নরূপ:
প্রথমত: সে একজন কট্টর জাহমি, যে মনে করে তার রবকে জগতের বাইরে কিংবা ভেতরে কোনো বিশেষণেই বিশেষিত করা যায় না। সে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীনভাবে এই মতবাদকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের দিকে নিসবত করে।
দ্বিতীয়ত: আমি তাকে আলেমদের বক্তব্য ও ধর্মীয় নصوص বিকৃত করার ক্ষেত্রে প্রথম সারির জালিয়াত হিসেবে পেয়েছি।
তৃতীয়ত: আমি তাকে চরম মিথ্যাচারী, প্রতারক এবং সত্য গোপনকারী হিসেবে পেয়েছি।
চতুর্থত: তদুপরি সে অত্যন্ত কটুভাষী ও অশ্লীল বাক্যে অভ্যস্ত। সে আহলুস সুন্নাহর প্রতি গুরুতর অপবাদ দেয়। উদাহরণস্বরূপ তাদের সম্পর্কে সে বলেছে: ৬ নং পৃষ্ঠায় "সালাফি দাবিদার", ১২ নং পৃষ্ঠায় "অগভীর ও স্থূল বুদ্ধিসম্পন্ন লোক" এবং ১৭ নং পৃষ্ঠায় "তাজসিম বা আল্লাহর দেহ রূপায়ণে তোমার শ্রেষ্ঠত্ব গ্রহণ করো"।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة
الحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، ولا عدوان إلا على الظالمين المعتدين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وسلم وعلى آله وأصحابه أجمعين.
أما بعد: فإنَّ الرَّد على أهل البدع والدعاة إلى الأهواء، والتحذير من باطلهم، ونقض شبهاتهم وأضاليلهم، وإشهار عيوبهم ونقائصهم، وبيان أنَّهم على غير الحقّ والصواب أمرٌ متحتمٌ على أهل العلم وطلابه، ليُتقى شرُّ هؤلاء، وليَعلم القاصي والداني ضلالهم وانحرافهم وبعدهم عن الحقّ والرشاد، وهذا من جملة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر المأمور به شرعاً.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "والداعي إلى البدعة مستحق العقوبة باتفاق المسلمين، وعقوبته تكون تارة بالقتل وتارة بما دونه، كما قتل السلف جهمَ بن صفوان والجعد بن درهم وغيلان القدري وغيرهم، ولو قدر أنَّه لا يستحق العقوبة أو لا يمكن عقوبته فلا بدَّ من بيان بدعته والتحذير منها، فإن هذا من جملة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر الذي أمر الله به ورسوله"1.
وقال رحمه الله: "ومثل أئمة البدع من أهل المقالات المخالفة للكتاب
--------------------------------------------
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। আর সীমালঙ্ঘনকারী যালিমদের ব্যতীত অন্য কারো ওপর কোনো শত্রুতা নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর: নিশ্চয়ই বিদআতী এবং কুপ্রবৃত্তির দিকে আহ্বানকারীদের প্রতিবাদ করা, তাদের বাতিল মতবাদ থেকে সতর্ক করা, তাদের সংশয় ও বিভ্রান্তিগুলোকে খণ্ডন করা, তাদের ত্রুটি ও বিচ্যুতিসমূহ প্রকাশ করা এবং তারা যে সত্য ও সঠিক পথের ওপর নেই তা স্পষ্ট করা আলেম সমাজ ও ইলম অন্বেষণকারীদের ওপর একটি অনিবার্য কর্তব্য। যাতে তাদের অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকা যায় এবং দূর ও নিকটস্থ সকলে তাদের পথভ্রষ্টতা, বিচ্যুতি এবং সত্য ও সঠিক পথ থেকে তাদের দূরত্বের বিষয়টি জানতে পারে। আর এটি শরীয়ত নির্দেশিত 'সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ'-এরই অন্তর্ভুক্ত।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "বিদআতের দিকে আহ্বানকারী মুসলিমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাস্তির যোগ্য। তার শাস্তি কখনো মৃত্যুদণ্ড হতে পারে আবার কখনো তার চেয়ে কম কিছু। যেমন সালাফে সালেহীন জাহম বিন সাফওয়ান, জা'দ বিন দিরহাম, গায়লান আল-কাদারি ও অন্যদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, সে শাস্তির যোগ্য নয় অথবা তাকে শাস্তি দেওয়া সম্ভব নয়, তবে অবশ্যই তার বিদআত স্পষ্ট করতে হবে এবং তা থেকে সতর্ক করতে হবে। কেননা এটি সেই 'সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ'-এর অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নির্দেশ দিয়েছেন" ১।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: "আর কিতাব (কুরআন) বিরোধী মতবাদের অনুসারী বিদআতের ইমামদের দৃষ্টান্ত হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والسنَّة، أو العبادات المخالفة للكتاب والسنة، فإنَّ بيان حالهم وتحذير الأمة منهم واجب باتفاق المسلمين حتى قيل لأحمد بن حنبل: الرجل يصوم ويصلي ويعتكف أحبّ إليك أو يتكلم في أهل البدع؟ فقال: إذا قام وصلَّى واعتكف فإنَّما هو لنفسه، وإذا تكلم في أهل البدع فإنَّما هو للمسلمين هذا أفضل. فبيَّن أن نفع هذا عام للمسلمين في دينهم من جنس الجهاد في سبيل الله؛ إذ تطهير سبيل الله ودينه ومنهاجه وشرعته ودفع بغي هؤلاء وعدوانهم على ذلك واجب على الكفاية باتفاق المسلمين، ولولا من يقيمه الله لدفع ضرر هؤلاء لفسد الدين، وكان فساده أعظم من فساد استيلاء العدو من أهل الحرب، فإنَّ هؤلاء إذا استولوا لم يفسدوا القلوب وما فيها من الدين إلا تبعاً، وأما أولئك فهم يفسدون القلوب ابتداءً"1.
ورغم وضوح هذا المنهج وظهوره وكثرة عوائده وفوائده إلا أنَّه قد ظهرت في زماننا هذا من بعض الأفراد والجماعات مواقف مخذولة وآراء مرذولة تدعو بلا حياء إلى السكوت عن أهل البدع والأهواء وعدم التحذير منهم، وزعموا أن هذا هو المنهج الأقوم والطريق الأحكم، وقالوا: في هذا رأبٌ للصدع ولمٌّ للشمل وتوحيدٌ للصفّ وجمعٌ للكلمة.
وما من ريبٍ أنَّ هذا منهج باطل، أضراره كثيرة وأخطاره جسيمة على الإسلام والسنة، وفيه أعظم تمكين لأهل البدع والأهواء في نشر ضلالهم وباطلهم، وهو منهج منحرف عن الكتاب والسنة.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله وقد ذكر جماعةً من أهل البدع يعتقدون اعتقاداً هو ضلال يرونه هو الحقّ، ويرون كفر من خالفهم في ذلك،
--------------------------------------------
...এবং সুন্নাহ, অথবা কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী ইবাদতসমূহের ক্ষেত্রে লিপ্ত ব্যক্তিদের প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা করা এবং উম্মাহকে তাদের ব্যাপারে সতর্ক করা মুসলিমদের ঐকমত্যে ওয়াজিব। এমনকি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: "একজন ব্যক্তি যিনি নফল সিয়াম পালন করেন, সালাত আদায় করেন এবং ইতিকাফ করেন তিনি আপনার নিকট অধিক প্রিয়, নাকি যে ব্যক্তি বিদআতিদের ব্যাপারে কথা বলে সে অধিক প্রিয়?" তিনি উত্তর দিলেন: "সে যখন সালাত আদায় করে এবং ইতিকাফ করে, তখন তা কেবল তার নিজের জন্য; কিন্তু সে যখন বিদআতিদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তখন তা সকল মুসলিমের জন্য এবং এটিই সর্বোত্তম।" তিনি স্পষ্ট করলেন যে, এই কাজের উপকারিতা মুসলিমদের দ্বীনের ক্ষেত্রে ব্যাপক এবং এটি আল্লাহর পথে জিহাদের অন্তর্ভুক্ত। কেননা আল্লাহর পথ, তাঁর দ্বীন, কর্মপদ্ধতি ও শরীয়তকে বিশুদ্ধ রাখা এবং এদের ওপর তাদের সীমালঙ্ঘন ও আক্রমণ প্রতিহত করা মুসলিমদের ঐকমত্যে ফরজে কিফায়া। আল্লাহ যদি এমন কাউকে প্রতিষ্ঠিত না করতেন যারা এই অনিষ্টকারীদের ক্ষতি দূর করবে, তবে দ্বীন কলুষিত হয়ে যেত। আর এই কলুষতা বা ধ্বংস যুদ্ধরত শত্রুদের বিজয়ের চেয়েও ভয়াবহ। কারণ শত্রুরা যখন বিজয় লাভ করে, তখন তারা মূলত অন্তর ও তাতে বিদ্যমান দ্বীনকে কলুষিত করে না, বরং বাহ্যিক বিজয় লাভ করে মাত্র; কিন্তু বিদআতিরা সরাসরি মানুষের অন্তরসমূহকে কলুষিত করে।"১।
এই মানহাজ বা কর্মপদ্ধতির স্বচ্ছতা, স্পষ্টতা এবং এর অগণিত উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের বর্তমান সময়ে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এমন কিছু হীন অবস্থান ও নিকৃষ্ট মতবাদ প্রকাশ পেয়েছে, যা নির্লজ্জভাবে বিদআতি ও প্রবৃত্তি পূজারীদের ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকতে এবং তাদের থেকে সতর্ক না করতে আহ্বান জানায়। তারা দাবি করে যে, এটিই নাকি সর্বাধিক সঠিক মানহাজ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ পথ। তারা বলে: এর মাধ্যমেই ফাটল মেরামত হবে, অনৈক্য দূর হবে, ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং সংহতি প্রতিষ্ঠিত হবে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি একটি বাতিল মানহাজ। ইসলাম ও সুন্নাহর ওপর এর ক্ষতিসমূহ অনেক এবং বিপদগুলো ভয়াবহ। এতে বিদআতি ও প্রবৃত্তি পূজারীদের তাদের ভ্রষ্টতা ও বাতিল মতবাদ প্রসারের ক্ষেত্রে এক বিরাট সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়। এটি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত একটি পথ।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) একদল বিদআতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, যারা এমন কিছু ভ্রান্ত বিশ্বাস লালন করে যেগুলোকে তারা সত্য মনে করে এবং যারা তাদের সেই বিশ্বাসের বিরোধিতা করে তাদেরকে তারা কাফির মনে করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يا ابن القيم" وص: 19 "وهو دليل قاطع عند أيّ قارئ لبيب على الوثنية التي يدعو إليها هؤلاء باسم توحيد الأسماء والصفات" وص: 32 "المبتدعة الخراصون" وص: 37 "المجسمة" وص:40 "المجسمة المشبهة" وص: 60 "وأن المراد منه عند هؤلاء المتمسلفين ما رأينا من التجسيم وإقامة الوثنية التي حاربها الإسلام وجاء بهدمها".
هكذا يقول، ولا ريب أنَّ من أكبر علامات أهل البدع الوقيعة في أهل السنة والأثر، قال إسحاق بن راهويه: علامة جهم وأصحابه دعواهم على أهل السنة والجماعة ما أولعوا به من الكذب أنَّهم مشبهة، بل هم المعطلة، وكذلك قال خلق كثير من أئمة السلف: علامة الجهمية تسميتهم أهل السنة مشبهة1.
فما حال إذاً من يجعلهم أهل عقائد وثنية!؟
خامساً: يمجد أهل البدع ويعظمهم ويكثر من الثناء عليهم ولاسيما إمامه وشيخه قائد التجهم في عصرنا محمد زاهد الكوثري بل هو من رائشي نبله والحاطبين في حبله والساعين في نصرته؛ ولهذا يكثر من النقل عنه فأحياناً يصرح باسمه كما في (ص: 38، 39) ، وأحياناً لا يصرح باسمه كما في (ص: 11) فهو منقول من هامش السيف الصقيل للكوثري (ص: 27) ، وكما في (ص: 14) فهو منقول من هامش السيف الصقيل للكوثري (ص:115) ويصفه بالإمام المحدث.
سادساً: استخفافه ببعض الأحاديث كما في ص: 55 حيث قال: "كما جاء في حديث الجارية الذي يتشدقون به"!!
--------------------------------------------
"হে ইবনুল কাইয়্যিম" পৃষ্ঠা: ১৯ "আর এটি যে কোনো বিচক্ষণ পাঠকের নিকট সেই মূর্তিপূজার অকাট্য প্রমাণ, যার দিকে এরা আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের নামে আহ্বান জানায়" এবং পৃষ্ঠা: ৩২ "মিথ্যাচারী বিদআতিরা" এবং পৃষ্ঠা: ৩৭ "মুজাসসিমা (দেহবাদী)" এবং পৃষ্ঠা: ৪০ "মুজাসসিমা মুশাব্বিহা (সাদৃশ্যদানকারী দেহবাদী)" এবং পৃষ্ঠা: ৬০ "আর এই মুতামাসলিফীনদের (সালাফী দাবিদার) নিকট এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই তাজসিম (দেহবাদ) এবং মূর্তিপূজা প্রতিষ্ঠা করা যা ইসলাম রদ করেছে এবং যা ধ্বংস করতে ইসলাম আবির্ভূত হয়েছে।"
তিনি এভাবেই বলেন; অথচ এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিদআতিদের অন্যতম বড় আলামত হলো আহলে সুন্নাহ ওয়াল আসার তথা হাদীসপন্থীদের কুৎসা রটনা করা। ইসহাক বিন রাহাওয়াইহ বলেছেন: জহাম ও তার অনুসারীদের আলামত হলো আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিরুদ্ধে তাদের সেই মিথ্যাচার যাতে তারা মত্ত থাকে যে, তারা (সুন্নাহর অনুসারীরা) মুশাব্বিহা (সাদৃশ্যদানকারী); বরং তারা (জহামীরাই) মূলত মুআত্তিলেহ (গুণাবলি অস্বীকারকারী)। একইভাবে সালাফদের বহু ইমাম বলেছেন: জাহমিয়াদের আলামত হলো আহলে সুন্নাহকে মুশাব্বিহা নামে অভিহিত করা ১।
তাহলে সেই ব্যক্তির অবস্থা কী হবে যে তাদের পৌত্তলিক আকিদার অনুসারী বলে সাব্যস্ত করে!?
পঞ্চম: তিনি বিদআতিদের প্রশংসা করেন, তাদের মহিমান্বিত করেন এবং অঢেল গুণগান করেন; বিশেষ করে তার ইমাম ও শায়খ, বর্তমান যুগের জাহমিয়াতের পতাকাবাহী মুহাম্মদ জাহিদ আল-কাওসারীর। বরং তিনি তার তীরের পালক সংযোজনকারী, তার রশিতে জ্বালানি সংগ্রহকারী এবং তার জয়ে সচেষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। এ কারণেই তিনি তার থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেন; কখনো তার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যেমনটি (পৃষ্ঠা: ৩৮, ৩৯)-এ রয়েছে, আবার কখনো নাম উল্লেখ করেন না যেমনটি (পৃষ্ঠা: ১১)-তে রয়েছে—যা মূলত কাওসারীর আস-সাইফুল সাকিল-এর টীকা (পৃষ্ঠা: ২৭) থেকে নেওয়া হয়েছে, এবং যেমনটি (পৃষ্ঠা: ১৪)-তে রয়েছে—যা কাওসারীর আস-সাইফুল সাকিল-এর টীকা (পৃষ্ঠা: ১১৫) থেকে নেওয়া হয়েছে এবং তাকে 'ইমাম মুহাদ্দিস' বলে অভিহিত করেন।
ষষ্ঠ: কিছু হাদিসের প্রতি তার তুচ্ছতাচ্ছিল্য, যেমনটি পৃষ্ঠা: ৫৫-এ দেখা যায় যেখানে তিনি বলেছেন: "যেমনটি সেই দাসী সম্পর্কিত হাদিসে এসেছে যা নিয়ে তারা আস্ফালন করে"!!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
لهذا وغيره رأيت من الواجب التنبيه على باطل هذا الكاتب وضلاله، والتحذير منه، وكشف بعض تلبيساته وتدليساته، وفضح كذبه وتزويره، ونقض شُبهه وأباطيله في كتابه المذكور، نصراً للحق وذبّاً عن السنَّة ودفاعاً عن علماء الأمة وردّاً للباطل وإزهاقاً له.
هذا دون تقص لكل ما فيه، ولو ناقشته على جميع ما اشتمل عليه كتابه من الظلم والخطأ والتعدي والجور والكذب والخلط والتلبيس والتدليس والتشنيع لطال الكلام، لكن التنبيه على قليل من ضلاله وباطله مرشدٌ إلى معرفة الكثير لمن له أدنى فهم وأقلّ علم، واللبيب تكفيه الإشارة، ولو أنَّ هذا الكاتب سكت ولم يكتب ما كتب واشتغل بتحصيل العلم الشرعي من مظانه من الكتاب والسنة لكان خيراً له وأقوم، ولأراح غيره، لكنه صار كمن يبحث عن حتفه بظلفه.
فكان كعنز السوء قامت بظلفها
… إلى مدية تحت التراث تثيرها
فنسأل الله أن يهديه ويهدي ضال المسلمين، وأن يردهم إلى الحقّ ردّاً جميلاً، وأن يعيذنا من الأهواء المطغية والفتن المردية بمنه وكرمه.
وهذا أوان الشروع في المقصود.
এই এবং অন্যান্য কারণে আমি এই লেখকের বাতিল মতবাদ ও পথভ্রষ্টতা সম্পর্কে সতর্ক করা, তার থেকে সাবধান করা, তার কিছু প্রতারণা ও সত্য গোপন করার অপপ্রয়াস উন্মোচন করা, তার মিথ্যা ও জালিয়াতি ফাঁস করা এবং উল্লিখিত গ্রন্থে তার সংশয় ও ভিত্তিহীন বিষয়াবলি খণ্ডন করাকে আবশ্যক মনে করেছি; যা করা হয়েছে সত্যের বিজয়, সুন্নাহর প্রতিরক্ষা, উম্মতের উলামায়ে কিরামের হেফাযত এবং বাতিলকে প্রত্যাখ্যান ও বিনাশ করার উদ্দেশ্যে।
এটি গ্রন্থের ভেতরকার সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা ছাড়াই লেখা হয়েছে। তার গ্রন্থে বিদ্যমান সকল জুলুম, ভুল, সীমালঙ্ঘন, অবিচার, মিথ্যা, সংমিশ্রণ, প্রতারণা, জালিয়াতি ও কদর্য অপবাদের বিষয়ে যদি আমি আলোচনা করতে যেতাম, তবে আলোচনা অত্যন্ত দীর্ঘ হয়ে যেত। তবে যার নূন্যতম বোধশক্তি ও সামান্যতম জ্ঞান আছে, তার জন্য লেখকের সামান্য কিছু পথভ্রষ্টতা ও বাতিলের স্বরূপ উন্মোচনই অনেক কিছু জানার জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে যথেষ্ট হবে; কেননা বুদ্ধিমানের জন্য ইঙ্গিতই যথেষ্ট। এই লেখক যদি নীরব থাকতেন এবং যা লিখেছেন তা না লিখতেন, আর যদি কুরআন ও সুন্নাহর যথাযথ উৎসসমূহ থেকে শরঈ জ্ঞান অর্জনে নিমগ্ন হতেন, তবে তা তার জন্য কল্যাণকর ও অধিক সঠিক হতো এবং তা অন্যদের জন্যও স্বস্তিদায়ক হতো। কিন্তু তিনি এমন এক ব্যক্তির ন্যায় হয়ে পড়েছেন, যে নিজ খুর দিয়ে নিজের মরণ নিজেই খুঁজে বের করে।
তিনি সেই মন্দ ছাগীর ন্যায়, যে স্বীয় খুর দ্বারা খুঁড়তে শুরু করল
… ধূলিচাপা পড়ে থাকা এমন এক ছুরির সন্ধানে (যা তাকেই যবেহ করবে)।
আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে এবং পথহারা মুসলিমদের হিদায়াত দান করেন, আর তাদের সত্যের পথে সুন্দরভাবে প্রত্যাবর্তন করান। তিনি যেন স্বীয় করুণা ও মহানুভবতায় আমাদের পথভ্রষ্টকারী প্রবৃত্তি এবং ধ্বংসাত্মক ফিতনা থেকে রক্ষা করেন।
আর এখন মূল উদ্দেশ্য শুরু করার সময় হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
القول السديد في الرد على من أنكر تقسيم التوحيد…1 قال الكاتب ص 3: "فهذا جزء لطيف ومنار منيف أثبت فيه إبطال التثليث في تقسيم التوحيد إلى توحيد ألوهية وتوحيد ربوبية وتوحيد أسماء وصفات
…".
قلت: إنَّ التثليث عقيدة نصرانية خبيثة تقوم على أساس جعل الآلهة ثلاثة وهم: الأب والابن وروح القدس، وقد كفَّرهم الله بها في محكم تنزيله حيث قال سبحانه وتعالى: {لَقَدْ كَفَرَ الذِينَ قَالُوا إَنَّ اللهَ ثَالِثُ ثَلَاثَةٍ وَمَا مِنْ إِلَهٍ إِلَاّ إِلَهٌ وَاحِدٌ وَإِن لَّمْ يَنتَهُوا عَمَّا يَقُولُونَ لَيَمَسَنَّ الذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ أَفَلَا يَتُوبُونَ إِلَى اللهِ وَيَسْتَغْفِرُونَهُ وَاللهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} 1.
أما تقسيم التوحيد إلى ثلاثة أقسام: توحيد الربوبية وتوحيد الألوهية وتوحيد الأسماء والصفات، أو إلى قسمين: توحيد معرفة وإثبات وهو توحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات، وتوحيد إرادة وطلب وهو توحيد الألوهية، فهذه عقيدة المسلمين قاطبة، المؤمنين بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم سوى المبتدعة الضُّلَاّل.
والمراد بتوحيد الربوبية: الاعتقاد الجازم بأنَّ الله وحده الخالق الرازق المحيي المميت المدبر لشئون خلقه كلها لا شريك له في ذلك.
والمراد بتوحيد الألوهية: إفراد الله وحده بالخضوع والذل والمحبة والخشوع وسائر أنواع العبادة لا شريك له.
والمراد بتوحيد الأسماء والصفات: الإيمان الجازم بأسماء الله وصفاته الواردة في الكتاب والسنة، وإثباتها دون تحريف أو تعطيل أو تكييف أو تمثيل.
--------------------------------------------
তাওহীদের বিভাজন অস্বীকারকারীদের খণ্ডনে সঠিক বক্তব্য…১. লেখক ৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "এটি একটি সূক্ষ্ম অংশ এবং সুউচ্চ আলোকবর্তিকা, যেখানে আমি তাওহীদকে উলুহিয়্যাহ, রুবুবিয়্যাহ এবং আসমা ওয়া সিফাত হিসেবে তিন ভাগে বিভক্ত করার ত্রিত্ববাদ বা ট্রিনিটি বাতিল হওয়া প্রমাণ করেছি
…"।
আমি বলছি: ত্রিত্ববাদ হলো খ্রিস্টানদের একটি ঘৃণ্য আকিদাহ, যা ইলাহকে তিনজন সাব্যস্ত করার ওপর প্রতিষ্ঠিত—পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা। মহান আল্লাহ তাঁর সুষ্পষ্ট ওহীতে তাদের কাফির হিসেবে গণ্য করেছেন, যেখানে তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: {নিশ্চয়ই তারা কাফির যারা বলে যে, আল্লাহ তিনজনের তৃতীয়জন। অথচ এক উপাস্য ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আর তারা যা বলে তা থেকে যদি বিরত না হয়, তবে তাদের মধ্য থেকে যারা কুফরি করেছে তাদের ওপর অবশ্যই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে। তারা কি আল্লাহর কাছে তওবা করবে না এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে না? অথচ আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু} ১।
পক্ষান্তরে তাওহীদকে তিন ভাগে বিভক্ত করা—তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ এবং তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত; অথবা দুই ভাগে বিভক্ত করা—তাওহীদুল মারেফাহ ওয়াল ইসবাত (যা তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ ও আসমা ওয়াস সিফাতকে অন্তর্ভুক্ত করে) এবং তাওহীদুল ইরাদাহ ওয়াত তলাব (যা তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ)—এটি পথভ্রষ্ট বিদআতী সম্প্রদায় ব্যতিরেকে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর ওপর বিশ্বাসী সকল মুসলিমের আকিদাহ।
তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ বলতে উদ্দেশ্য হলো: এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ এককভাবে সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, জীবনদানকারী, মৃত্যুদানকারী এবং তাঁর সৃষ্টির সমস্ত বিষয় পরিচালনা করেন; এসবে তাঁর কোনো শরিক নেই।
তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ বলতে উদ্দেশ্য হলো: আনুগত্য, বিনয়, ভালোবাসা, ভীতি এবং ইবাদতের যাবতীয় পদ্ধতিতে আল্লাহকে একক করা; তাঁর কোনো শরিক নেই।
তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত বলতে উদ্দেশ্য হলো: কুরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ওপর দৃঢ় ঈমান আনা এবং কোনো ধরনের বিকৃতি (তাহরিফ), অস্বীকার (তাতিল), ধরণ নির্ধারণ (তাকয়িফ) বা সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল) ছাড়াই সেগুলোকে সাব্যস্ত করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ولكلِّ قسم من هذه الأقسام الثلاثة ضدٌّ؛ "فإذا عرفت أن توحيد الربوبية هو الإقرار بأن الله تعالى هو الخالق الرازق المحي المميت المدبر لجميع الأمور المتصرف في كل مخلوقاته لا شريك له في ملكه، فضد ذلك هو اعتقاد العبد وجود متصرف مع الله غيره فيما لا يقدر عليه إلا الله عز وجل. وإذا عرفت أنَّ توحيد الأسماء والصفات هو أن يدعى الله تعالى بما سمى به نفسه ويوصف بما وصف به نفسه ووصفه به رسوله محمد صلى الله عليه وسلم وينفى عنه التشبيه والتمثيل، فضد ذلك شيئان ويعمهما اسم الإلحاد:
أحدهما: نفي ذلك عن الله عز وجل وتعطيله عن صفات كماله ونعوت جلاله الثابتة بالكتاب والسنة.
ثانيهما: تشبيه صفات الله تعالى بصفات خلقه وقد قال تعالى {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} 1، وقال تعالى: {يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْماً} 2، وإذا عرفت أن توحيد الإلهية هو إفراد الله تعالى بجميع أنواع العبادة ونفي العبادة عن كل ما سوى الله تبارك وتعالى فضد ذلك هو صرف شيء من أنواع العبادة لغير الله عز وجل، وهذا هو الغالب على عامة المشركين وفيه الخصومة بين جميع الرسل وأممها"3.
وهذه الأقسام الثلاثة للتوحيد لها دلائل كثيرة في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم
1 فمن أدلة توحيد الربوبية قول الله تعالى: {الحَمْدُ للَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} ،
--------------------------------------------
এই তিনটি প্রকারের প্রতিটিরই বিপরীত দিক রয়েছে; "আপনি যখন জানলেন যে, তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ হলো এই স্বীকৃতি প্রদান করা যে, মহান আল্লাহই একমাত্র স্রষ্টা, রিযিকদাতা, জীবনদানকারী, মৃত্যুদানকারী, সকল বিষয়ের পরিচালক এবং তাঁর সকল সৃষ্টির উপর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্বকারী, তাঁর রাজত্বে কোনো অংশীদার নেই; তবে এর বিপরীত হলো—বান্দার এমন বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য এমন কোনো সত্তা রয়েছে যে সেই সব বিষয়ে কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা রাখে যা মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কারো পক্ষে সম্ভব নয়। আর যখন জানলেন যে, তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত হলো মহান আল্লাহকে সেই সকল নামে আহ্বান করা যা দ্বারা তিনি নিজেকে নামকরণ করেছেন এবং সেই সকল গুণে গুণান্বিত করা যা দ্বারা তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন কিংবা তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে গুণান্বিত করেছেন, এবং তাঁর ক্ষেত্রে কোনো সাদৃশ্য বা উপমা প্রদানকে অস্বীকার করা; তবে এর বিপরীত হলো দুটি বিষয়, যেগুলোকে সামগ্রিকভাবে 'ইলহাদ' (বিচ্যুতি) বলা হয়:
প্রথমটি: মহান আল্লাহ থেকে সেই সকল বিষয় অস্বীকার করা এবং কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত তাঁর পূর্ণতা ও মহিমা প্রকাশক গুণাবলীকে অর্থহীন করে ফেলা।
দ্বিতীয়টি: মহান আল্লাহর গুণাবলীকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলীর সাথে তুলনা করা। অথচ মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} ১, এবং তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন, কিন্তু তারা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না} ২। আর যখন জানলেন যে, তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ হলো সকল প্রকার ইবাদতকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করা এবং মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য সব কিছু থেকে ইবাদতকে অস্বীকার করা; তবে এর বিপরীত হলো—কোনো প্রকার ইবাদতকে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য নিবেদন করা। আর এটিই অধিকাংশ মুশরিকদের সাধারণ অবস্থা এবং এ বিষয়েই সকল রাসূল ও তাঁদের উম্মতদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল"৩।
তাওহীদের এই তিনটি প্রকারের সপক্ষে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহতে বহু দলিল বিদ্যমান রয়েছে।
১. তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহর দলীলসমূহের মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য},
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقوله: {أَلَا لَهُ الخَلْقُ وَالأَمْرُ تَبَارَكَ اللهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} 1، وقوله: {قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ قُلِ اللهُ} 2، وقوله: {قُل لِّمَنِ الأَرْضُ وَمَنْ فِيهَا إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ سَيَقُولُونَ للهِ قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ العَرْشِ العَظِيمِ سَيَقُولُونَ للهِ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ قُلْ مَنْ بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ سَيَقُولُونَ للهِ قُلْ فَأَنَّى تُسْحَرُونَ} 3، وقوله: {ذَلِكُمُ اللهُ رَبُّكُمْ فَتَبَارَكَ اللهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} 4، وقوله: {اللهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ عَلَي كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ} 5، وغيرها من الآيات.
2 ومن أدلة توحيد الألوهية قوله تعالى: {الحَمْدُ للهِ} ؛ لأنَّ الله معناه المألوه المعبود، وقوله: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} ، وقوله: {يَأَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الذِي خَلَقَكُمْ وَالذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} 6، وقوله: {فَاعْبُدِ اللهَ مُخْلِصاً لَهُ الدِّينَ أَلَا للهِ الدِّينُ الْخَالِصُ وَالذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَآءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَاّ لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللهِ زُلْفَى} 7، وقوله: {قُلِ اللهَ أَعْبُدُ مُخْلِصاً لَهُ دِينِي فَاعْبُدُوا مَا شِئْتُم مِن دُونِهِ} 8، وقوله: {وَمَا أُمِرُوا إِلَاّ
--------------------------------------------
এবং তাঁর বাণী: {জেনে রেখো, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই। মহিমান্বিত আল্লাহ, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক} ১, এবং তাঁর বাণী: {বলুন: ‘আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালক কে?’ বলুন: ‘আল্লাহ’} ২, এবং তাঁর বাণী: {বলুন: ‘পৃথিবী এবং তাতে যা আছে তা কার, যদি তোমরা জানো?’ তারা বলবে: ‘আল্লাহর’। বলুন: ‘তবে কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?’ বলুন: ‘সপ্ত আকাশ ও মহা আরশের প্রতিপালক কে?’ তারা বলবে: ‘আল্লাহর’। বলুন: ‘তবে কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?’ বলুন: ‘কার হাতে সবকিছুর কর্তৃত্ব, যিনি আশ্রয় দান করেন এবং যাঁর বিরুদ্ধে কেউ আশ্রয় দিতে পারে না, যদি তোমরা জানো?’ তারা বলবে: ‘আল্লাহর’। বলুন: ‘তাহলে তোমরা কীভাবে মোহগ্রস্ত হচ্ছ?’} ৩, এবং তাঁর বাণী: {তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক। অতএব জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ কতই না বরকতময়!} ৪, এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সবকিছুর ওপর কর্মবিধায়ক} ৫, এবং এ জাতীয় আরও আয়াতসমূহ।
২. তাওহিদে উলুহিয়্যাহর দলীলসমূহের মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য}; কারণ ‘আল্লাহ’ শব্দের অর্থ হলো উপাস্য তথা মাবুদ, এবং তাঁর বাণী: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই}, এবং তাঁর বাণী: {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত করো, যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} ৬, এবং তাঁর বাণী: {অতএব আল্লাহর ইবাদত করো তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। জেনে রেখো, বিশুদ্ধ আনুগত্য আল্লাহরই প্রাপ্য। আর যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে (তারা বলে): ‘আমরা তাদের ইবাদত করি কেবল এই জন্য যে, তারা আমাদের আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেবে’} ৭, এবং তাঁর বাণী: {বলুন: ‘আমি আল্লাহরই ইবাদত করি আমার আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। অতএব তোমরা তাঁর পরিবর্তে যার ইচ্ছা তার ইবাদত করো’} ৮, এবং তাঁর বাণী: {আর তাদেরকে কেবল নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لِيَعْبُدُوا اللهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ القَيِّمَةِ} 1، وغيرها من الآيات.
3 ومن أدلة توحيد الأسماء والصفات قوله تعالى: {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} ، وقوله: {قُلِ ادْعُوا اللهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيّاً مَّا تَدْعُوا فَلَهُ الأَسْمَآءُ الحُسْنَى} 2، وقوله: {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيّاً} 3، وقوله: {اللهُ لَا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ لَهُ الأَسْمَآءُ الحُسْنَى} 4، وقوله: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} 5، وآخر سورة الحشر، وغيرها من الآيات.
ومن الآيات التي جمعت أقسام التوحيد الثلاثة قول الله تبارك وتعالى في سورة مريم: {رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيّاً} 6.
يقول الشيخ العلامة عبد الرحمن بن سعدي رحمه الله مبيناً دلالة الآية على ذلك: "
… اشتملت [أي الآية] على أصول عظيمة على توحيد الربوبية وأنَّه تعالى ربُّ كلِّ شيء وخالقُهُ ورازقُهُ ومدبِّرُه، وعلى توحيد الألوهية والعبادة وأنَّه تعالى الإله المعبود وعلى أنَّ ربوبيته موجبة لعبادته وتوحيده ولهذا أتى فيه بالفاء في قوله: {فَاعْبُدْهُ} الدالة على السبب أي فكما أنَّه ربُّ كلِّ شيء فليكن هو المعبود حقّاً فاعبده ومنه: الاصطبار لعبادته تعالى وهو جهاد النفس
...যাতে তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে। আর এটিই সঠিক দ্বীন।" ১ এবং আরও অন্যান্য আয়াত।
৩ এবং আসমা ওয়া সিফাত (নাম ও গুণাবলী)-এর তাওহীদের প্রমাণাদির মধ্যে রয়েছে আল্লাহ তাআলার বাণী: "যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক।" এবং তাঁর বাণী: "বলুন, তোমরা ‘আল্লাহ’ নামে ডাকো কিংবা ‘রাহমান’ নামে ডাকো; তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ।" ২। এবং তাঁর বাণী: "তুমি কি তাঁর সমকক্ষ বা সমনামের কাউকে জানো?" ৩। এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁরই জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ।" ৪। এবং তাঁর বাণী: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" ৫। এবং সূরা আল-হাশরের শেষাংশ ও অন্যান্য আয়াত।
আর তাওহীদের তিনটি প্রকারকে একত্রিতকারী আয়াতসমূহের মধ্যে একটি হলো সূরা মারইয়ামে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী: "তিনি আসমানসমূহ ও জমিন এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা; সুতরাং আপনি তাঁরই ইবাদত করুন এবং তাঁর ইবাদতে ধৈর্যশীল থাকুন। আপনি কি তাঁর সমকক্ষ কাউকে জানেন?" ৬।
শায়খ আল্লামা আব্দুর রহমান বিন সাদী (রাহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার ব্যাখ্যায় বলেন: "
... এটি [অর্থাৎ আয়াতটি] তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ-র মতো মহান মূলনীতিসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে; আর তা হলো তিনি মহান আল্লাহ সবকিছুর রব, স্রষ্টা, রিজিকদাতা ও পরিচালক। আরও অন্তর্ভুক্ত করেছে তাওহীদে উলুহিয়্যাহ ও ইবাদতকে—যে তিনি আল্লাহই একমাত্র সত্য উপাস্য। এবং এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তাঁর রুবুবিয়্যাহ তাঁর ইবাদত ও তাওহীদকে আবশ্যক করে। একারণেই তাঁর বাণী "সুতরাং আপনি তাঁরই ইবাদত করুন"-এর মধ্যে ‘ফা’ (সুতরাং) হরফটি যুক্ত হয়েছে যা কারণ দর্শায়; অর্থাৎ যেহেতু তিনি সবকিছুর রব, তাই তিনিই হতে হবে প্রকৃত মাবুদ, সুতরাং তাঁরই ইবাদত করুন। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর ইবাদতে ধৈর্য ধারণ করা, যা মূলত নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ।"
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وتمرينها وحملها على عبادة الله تعالى فيدخل في هذا أعلى أنواع الصبر وهو الصبر على الواجبات والمستحبات والصبر عن المحرمات والمكروهات، بل يدخل في ذلك الصبر على البليات فإنَّ الصبر عليها وعدم تسخطها والرضى عن الله بها من أعظم العبادات الداخلة في قوله: {وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ} ، واشتملت على أنَّ الله تعالى كامل الأسماء والصفات عظيم النعوت جليل القدر وليس له في ذلك شبيه ولا نظير ولا سمي، بل قد تفرَّد بالكمال المطلق من جميع الوجوه والاعتبارات"1.
وفي بيان دلالة القرآن على أنواع التوحيد يقول العلَاّمة ابن القيم بعد أن ذكر أنَّ كلَّ طائفة تسمي باطلهم توحيداً: "وأمَّا التوحيد الذي دعت إليه رسل الله ونزلت به كتبه، فوراء ذلك كله، وهو نوعان: توحيد في المعرفة والإثبات وتوحيد في المطلب والقصد.
فالأول: هو حقيقة ذات الرب تعالى وأسمائه وصفاته وأفعاله وعلوّه فوق سمواته على عرشه وتكلمه بكتبه وتكليمه لمن شاء من عباده وإثبات عموم قضائه وقدره وحكمه. وقد أفصح القرآن عن هذا النوع جدّ الإفصاح. كما في أول سورة الحديد وسورة طه وآخر سورة الحشر، وأول سورة تنزيل السجدة، وأول سورة آل عمران، وسورة الإخلاص بكاملها وغير ذلك.
النوع الثاني: مثل ما تضمنته سورة {قُلْ يَأَيُّهَا الكَافِرُونَ} ، وقوله: {قُلْ يَأَهْلَ الكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَآءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ} 2 الآية، وأول سورة تنزيل الكتاب وآخرها، وأول سورة يونس ووسطها وآخرها، وأول سورة
--------------------------------------------
এবং আত্মাকে অভ্যস্ত করা ও তাকে মহান আল্লাহর ইবাদতে নিয়োজিত করা। এর মধ্যে সবরের (ধৈর্যের) সর্বোচ্চ প্রকারসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, আর তা হলো ওয়াজিব (আবশ্যিক) ও মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) বিষয়গুলোর ওপর সবর করা এবং হারাম (নিষিদ্ধ) ও মাকরূহ (অপছন্দনীয়) বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকতে সবর করা। এমনকি এর অন্তর্ভুক্ত হলো বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করা। কেননা বিপদে ধৈর্য ধরা, তাতে অসন্তুষ্ট না হওয়া এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট থাকা অন্যতম মহান ইবাদত, যা তাঁর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "এবং তাঁর ইবাদতে ধৈর্য ধারণ করো।" এটি একথাই অন্তর্ভুক্ত করে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর নাম ও গুণাবলিতে পরিপূর্ণ, তাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহ মহান, তাঁর মর্যাদা অতি উচ্চ এবং এসব ক্ষেত্রে তাঁর কোনো সদৃশ, সমকক্ষ বা সমনামধারী নেই। বরং তিনি সকল দিক ও বিচারেই নিরঙ্কুশ পূর্ণতায় একক।"১।
তাওহীদের প্রকারভেদের ওপর কুরআনের নির্দেশনার বর্ণনায় আল্লামা ইবনুল কায়্যিম রহ. উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি দলই তাদের বাতিল মতবাদকে তাওহীদ হিসেবে নামকরণ করে থাকে। তিনি বলেন: "পক্ষান্তরে যে তাওহীদের দিকে আল্লাহর রাসূলগণ দাওয়াত দিয়েছেন এবং যার সাথে তাঁর কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে, তা এসবের ঊর্ধ্বে। আর তা দুই প্রকার: জ্ঞান ও স্বীকৃতি সংক্রান্ত তাওহীদ এবং অন্বেষা ও উদ্দেশ্য সংক্রান্ত তাওহীদ।
প্রথম প্রকারটি হলো: মহান রবের সত্তা, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি, কার্যাবলি এবং আসমানসমূহের উপরে তাঁর আরশে উঠা, তাঁর কিতাবসমূহের মাধ্যমে কথা বলা এবং তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাঁর সাথে ইচ্ছা কথোপকথন করা এবং তাঁর সার্বিক ফায়সালা, তাকদীর ও হুকুমকে সাব্যস্ত করার প্রকৃত স্বরূপ। কুরআন মাজীদ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এই প্রকারটি বর্ণনা করেছে। যেমন সূরা আল-হাদীদ-এর শুরুতে, সূরা ত্বহা-তে, সূরা আল-হাশর-এর শেষে, সূরা তানযীল আস-সাজদাহ-র শুরুতে, সূরা আলে ইমরানের শুরুতে এবং সম্পূর্ণ সূরা আল-ইখলাস ও এ জাতীয় অন্যান্য স্থানে।
দ্বিতীয় প্রকার: যেমন সূরা "বলুন, হে কাফিরগণ!" যা অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং আল্লাহর বাণী: "বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! এসো এমন এক কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমান"২ (আয়াত), এবং সূরা তানযীল আল-কিতাব (আয-যুমার)-এর শুরু ও শেষ এবং সূরা ইউনুস-এর শুরু, মধ্যভাগ ও শেষ এবং সূরার শুরু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الأعراف وآخرها، وجملة سورة الأنعام، وغالب سور القرآن، بل كل سورة في القرآن فهي متضمنة لنوعي التوحيد، بل نقول قولاً كليّاً: إنَّ كلَّ آية في القرآن فهي متضمنة للتوحيد شاهدة به داعية إليه؛ فإنَّ القرآن إمَّا خبر عن الله وأسمائه وصفاته وأفعاله، فهو التوحيد العلمي الخبري، وإمَّا دعوة إلى عبادته وحده لا شريك له، وخلع كلِّ ما يعبد من دونه، فهو التوحيد الإرادي الطلبي، وإمَّا أمرٌ ونهيٌ وإلزامٌ بطاعته في نهيه وأمره، فهي حقوق التوحيد ومكملاته، وإمَّا خبر عن كرامة الله لأهل توحيده وطاعته وما فعل بهم في الدنيا وما يكرمهم به في الآخرة، فهو جزاء توحيده، وإمَّا خبر عن أهل الشرك وما فعل بهم في الدنيا من النكال وما يحل بهم في العقبى من العذاب فهو خبر عمن خرج عن حكم التوحيد1.
فالقرآن كلُّه في التوحيد وحقوقه وجزائه، وفي شأن الشرك وأهله وجزائهم، ف {الْحَمْدُ للهِ} توحيد، {رَبِّ الْعَالَمِينَ} توحيد، {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} توحيد، {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} توحيد، {إِيَّاكَ نَعْبُدُ} توحيد، {وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} توحيد، {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ} توحيد متضمن لسؤال الهداية إلى طريق أهل التوحيد، الذين أنعم الله عليهم، {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّين} الذين فارقوا التوحيد
… "2.
--------------------------------------------
আল-আরাফ এবং তার শেষাংশ, পুরো সূরা আল-আন'আম এবং কুরআনের অধিকাংশ সূরা; বরং কুরআনের প্রতিটি সূরাই তাওহীদের উভয় প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। এমনকি আমরা সাধারণভাবে বলতে পারি: কুরআনের প্রতিটি আয়াতই তাওহীদকে অন্তর্ভুক্ত করে, তার সাক্ষ্য দেয় এবং তার দিকে আহ্বান জানায়। কারণ কুরআন হয় আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলি এবং তাঁর কার্যাবলি সম্পর্কে সংবাদ দেয়—যা জ্ঞান ও সংবাদগত তাওহীদ (তাওহীদ আল-ইলমি আল-খাবারী); অথবা তা কোনো অংশীদার ছাড়াই একমাত্র তাঁর ইবাদত করার এবং তিনি ছাড়া অন্য যাদের উপাসনা করা হয় তাদের বর্জন করার আহ্বান জানায়—যা ইচ্ছা ও উদ্দেশ্যগত তাওহীদ (তাওহীদ আল-ইরাদী আত-তালাবী); অথবা তা আদেশ, নিষেধ এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধ পালনের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য করার আবশ্যকতা ব্যক্ত করে—যা তাওহীদের অধিকার ও তার পরিপূরকসমূহ; অথবা তা তাওহীদপন্থী ও অনুগত বান্দাদের প্রতি আল্লাহর সম্মান প্রদর্শন এবং দুনিয়াতে তাঁদের সাথে তিনি কী করেছেন ও আখেরাতে তাঁদের কী দিয়ে সম্মানিত করবেন সে সম্পর্কে সংবাদ দেয়—যা তাওহীদের প্রতিদান; অথবা তা শিরককারী এবং দুনিয়াতে তাঁদের ওপর আপতিত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আখেরাতে তাঁদের জন্য নির্ধারিত আযাব সম্পর্কে সংবাদ দেয়—যা তাওহীদের বিধান থেকে বিচ্যুত ব্যক্তিদের সংবাদ।১
সুতরাং পুরো কুরআনই তাওহীদ, তার হকসমূহ ও তার প্রতিদান এবং শিরক, শিরককারী ও তাদের পরিণাম প্রসঙ্গে। অতএব, {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য} এটি তাওহীদ, {যিনি সৃষ্টিজগতের রব} এটি তাওহীদ, {পরম করুণাময়, অতি দয়ালু} এটি তাওহীদ, {বিচার দিবসের মালিক} এটি তাওহীদ, {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি} এটি তাওহীদ, {এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই} এটি তাওহীদ, {আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন} এটি এমন এক তাওহীদ যা তাওহীদপন্থীদের পথে হেদায়েত পাওয়ার প্রার্থনাকে অন্তর্ভুক্ত করে, যাদের ওপর আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, {যাঁদের ওপর ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্ট নয়} যারা তাওহীদ থেকে বিচ্যুত হয়েছে … "২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقال الشيخ محمد الأمين الشنقيطي رحمه الله: "وقد دلَّ استقراء القرآن العظيم على أنَّ توحيد الله ينقسم إلى ثلاثة أقسام:
الأول: توحيده في ربوبيته، وهذا النوع من التوحيد جبلت عليه فِطَرُ العقلاء، قال تعالى: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَهُمْ لَيَقُولُنَّ اللهُ
… } 1، وقال: {قُلْ مَن يَّرْزُقُكُم مِّنَ السَّمَآءِ وَالأَرْضِ أَمَّن يَّمْلِكُ السَّمْعَ وَالأَبْصَارَ وَمَن يُّخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَمَن يُّدَبِّرُ الأَمْرَ فَسَيَقُولُونَ اللهُ فَقُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ} 2. وإنكار فرعون لهذا النوع من التوحيد في قوله: {قَالَ فِرْعَونُ وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ} 3 تجاهلٌ من عارفٍ أنَّه عبدٌ مربوبٌ؛ بدليل قوله تعالى: {قَالَ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا أَنزَلَ هَؤُلآءِ إِلَاّ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ بَصَائِرَ
… } 4 الآية، وقوله: {وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنفُسُهُمْ ظُلْماً وَعُلُوّاً} 5، وهذا النوع من التوحيد لا ينفع إلا بإخلاص العبادة لله؛ كما قال تعالى: {وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللهِ إِلَاّ وَهُمْ مُشْرِكُونَ} 6، والآيات الدالة على ذلك كثيرة جداً.
الثاني: توحيده جلَّ وعلا في عبادته. وضابط هذا النوع من التوحيد هو تحقيق معنى "لا إله إلا الله" وهي متركبة من نفي وإثبات؛ فمعنى النفي منها: خلع جميع أنواع المعبودات غير الله كائنة ما كانت في جميع أنواع العبادات كائنة ما كانت. ومعنى الإثبات منها: إفراد الله جلَّ وعلا وحده بجميع أنواع
--------------------------------------------
এবং শায়খ মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকীতি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সুনিশ্চিতভাবে মহাগ্রন্থ কুরআনের সামগ্রিক পর্যালোচনা একথারই প্রমাণ দেয় যে, আল্লাহর তাওহীদ তিন ভাগে বিভক্ত:
প্রথমত: তাঁর রুবুবিয়্যাতে (প্রভুত্বে) তাওহীদ। এই প্রকারের তাওহীদ বা একত্ববাদের ওপর বুদ্ধিমানদের সহজাত প্রকৃতি (ফিতরাত) সৃষ্টি করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছে, তবে তারা অবশ্যই বলবে 'আল্লাহ'
… } ১। তিনি আরও বলেন: {বলুন, কে তোমাদের আসমান ও যমীন থেকে রিযিক দান করেন? অথবা কে শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির মালিক? আর কে জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন এবং মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন? আর কে সব বিষয় পরিচালনা করেন? তারা অবশ্যই বলবে 'আল্লাহ'। সুতরাং বলুন, তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?} ২। আর ফিরআউনের পক্ষ থেকে তাওহীদের এই প্রকারকে অস্বীকার করা—যেমনটি তার এই উক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে: {ফিরআউন বলল, রাব্বুল আলামীন আবার কে?} ৩ —এটি ছিল একজন জ্ঞাত ব্যক্তির পক্ষ থেকে স্রেফ অবজ্ঞা প্রদর্শন মাত্র, যে জানত সে নিজেও একজন দাস ও প্রতিপালিত সৃষ্টি; যার প্রমাণ মহান আল্লাহর এই বাণী: {তিনি বললেন, তুমি অবশ্যই জান যে, আসমান ও যমীনের রব ব্যতীত অন্য কেউ এসব চাক্ষুষ নিদর্শনাবলী অবতীর্ণ করেননি
… } ৪ আয়াতাংশ, এবং তাঁর বাণী: {তারা অন্যায় ও অহংকারবশত তা অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর তা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেছিল} ৫। আর তাওহীদের এই প্রকারটি আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা ছাড়া কোনো উপকারে আসে না; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: {তাদের অধিকাংশই আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে না, তবে এমতাবস্থায় যে তারা শিরককারী} ৬। এ বিষয়ে নির্দেশকারী আয়াতসমূহ সংখ্যায় অনেক।
দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহর ইবাদতে তাঁর তাওহীদ (একত্ববাদ)। তাওহীদের এই প্রকারের মূলনীতি হলো "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর মর্মার্থ বাস্তবায়ন করা, যা অস্বীকৃতি ও স্বীকৃতির সমন্বয়ে গঠিত। এর অস্বীকৃতিমূলক (নফি) অংশের অর্থ হলো: আল্লাহ ব্যতীত অন্য সকল প্রকার উপাস্যকে বর্জন করা, তা যে কোনো কিছুই হোক না কেন এবং ইবাদতের সকল প্রকারের ক্ষেত্রে তা যে কোনো ইবাদতই হোক না কেন। আর এর স্বীকৃতিমূলক (ইসবাত) অংশের অর্থ হলো: সকল প্রকার ইবাদতের মাধ্যমে একমাত্র সুমহান আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
العبادات بإخلاص، على الوجه الذي شرعه على ألسنة رسله عليهم الصلاة والسلام. وأكثر آيات القرآن في هذا النوع من التوحيد، وهو الذي فيه المعارك بين الرسل وأممهم {أَجَعَلَ الأَلِهَةَ إِلَهاً وَاحِداً إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} 1.
ومن الآيات الدالة على هذا النوع من التوحيد قوله تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَاّ اللهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ
… } 2 الآية، وقوله: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} 3 الآية، وقوله: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَاّ نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّه لَا إِلَهَ إِلَاّ أَنَا فَاعْبُدُونِ} 4، وقوله: {وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رُّسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِن دُونِ الرَّحْمَنِءَالِهَةً يُعْبَدُونَ} 5، وقوله: {قُلْ إِنَّمَا يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَهَلْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ} 6، فقد أمر في هذه الآية الكريمة أن يقول: إنَّما أوحي إليه محصور في هذا النوع من التوحيد؛ لشمول كلمة "لا إله إلا الله" لجميع ما جاء في الكتب؛ لأنَّها تقتضي طاعة الله بعبادته وحده. فيشمل ذلك جميع العقائد والأوامر والنواهي، وما يتبع ذلك من ثواب وعقاب، والآيات في هذا النوع من التوحيد كثيرة.
--------------------------------------------
একাগ্রচিত্তে ইবাদতসমূহ সম্পাদন করা, যেভাবে তিনি তাঁর রাসূলগণের (তাঁদের ওপর শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক) মুখনিঃসৃত বাণীর মাধ্যমে বিধিবদ্ধ করেছেন। পবিত্র কুরআনের অধিকাংশ আয়াত তাওহীদের এই প্রকার সম্পর্কিত, আর এটিই সেই বিষয় যা নিয়ে রাসূলগণ ও তাঁদের উম্মতদের মাঝে সংঘাত হয়েছে: "সে কি সকল উপাস্যের পরিবর্তে মাত্র একজন উপাস্য স্থির করেছে? নিশ্চয়ই এটি এক বিস্ময়কর ব্যাপার!" ১।
তাওহীদের এই প্রকারের সপক্ষে দালিলিক আয়াতসমূহের মাঝে আল্লাহ তাআলার এই বাণী অন্তর্ভুক্ত: "সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আপনার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন
... " ২ আয়াতটি, এবং তাঁর বাণী: "আমি প্রত্যেক জাতির নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছি (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো" ৩ আয়াতটি, এবং তাঁর বাণী: "আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার নিকট এই ওহী পাঠাইনি যে, আমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো" ৪, এবং তাঁর বাণী: "আপনার পূর্বে আমি যেসব রাসূল পাঠিয়েছিলাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, আমি কি দয়াময় আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য স্থির করেছিলাম যাদের ইবাদত করা যায়?" ৫, এবং তাঁর বাণী: "বলুন, আমার প্রতি ওহী পাঠানো হয়েছে যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ; সুতরাং তোমরা কি আত্মসমর্পণকারী হবে?" ৬। এই মহিমান্বিত আয়াতে তাঁকে এটি বলার আদেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাঁর প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তা তাওহীদের এই প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ; কারণ "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই" বাক্যটি কিতাবসমূহে অবতীর্ণ সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা এটি কেবল এক আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য করার দাবি রাখে। ফলশ্রুতিতে এটি সমস্ত আকীদা, আদেশ ও নিষেধ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট পুরস্কার ও শাস্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে। তাওহীদের এই প্রকার সম্পর্কে আয়াতসমূহ বহুসংখ্যক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
النوع الثالث: توحيده جلَّ وعلا في أسمائه وصفاته. وهذا النوع من التوحيد ينبني على أصلين:
الأول: تنزيه الله جلَّ وعلا عن مشابهة المخلوقين في صفاتهم؛ كما قال تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} 1.
والثاني: الإيمان بما وصف الله به نفسه؛ أو وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم على الوجه اللائق بكماله وجلاله؛ كما قال بعد قوله: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} : {وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} 2، مع قطع الطمع عن إدراك كيفيَّة الاتصاف، قال تعالى: {يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْماً} 3، وقد قدمنا هذا المبحث مستوفى موضحاً بالآيات القرآنية في سورة الأعراف.
ويكثر في القرآن العظيم الاستدلال على الكفار باعترافهم بربوبيته جلَّ وعلا على وجوب توحيده في عبادته؛ ولذلك يخاطبهم في توحيد الربوبيَّة باستفهام التقرير. فإذا أقرُّوا بربوبيته احتج بها عليهم على أنَّه هو المستحق لأنْ يعبد وحده. ووبخهم منكراً عليهم شركهم به غيره، مع اعترافهم بأنَّه هو الربّ وحده؛ لأنَّ من اعترف بأنَّه الرب وحده لزمه الاعتراف بأنَّه هو المستحق لأن يُعبد وحده.
ومن أمثلة ذلك قوله تعالى: {قُلْ مَن يَّرْزُقُكُم مِّنَ السَّمَآءِ وَالأَرْضِ أَمَّن يَّمْلِكُ السَّمْعَ وَالأَبْصَارَ} 4 إلى قوله: {فَسَيَقُولُونَ اللهُ} : فلما أقروا بربوبيته
--------------------------------------------
তৃতীয় প্রকার: তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলিতে মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর একত্ববাদ। তাওহীদের এই প্রকারটি দুটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত:
প্রথমত: মহান ও সুউচ্চ আল্লাহকে তাঁর গুণাবলিতে সৃষ্টির সাদৃশ্য হতে পবিত্র রাখা; যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই} ১।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা স্বয়ং নিজের জন্য যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর জন্য যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, তাঁর পূর্ণতা ও মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপায়ে সেগুলোর প্রতি ঈমান আনয়ন করা; যেমনটি তিনি তাঁর বাণী—{তাঁর সদৃশ কিছুই নেই}—এর পরেই বলেছেন: {এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} ২। এর পাশাপাশি সেই গুণের ধরন বা প্রকৃতি উপলব্ধির আকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করা; মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তিনি তা জানেন, কিন্তু তারা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না} ৩। আমরা সূরা আল-আরাফে কুরআনের আয়াতের আলোকে এই আলোচনাটি বিস্তারিত ও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছি।
মহাগ্রন্থ কুরআনে কাফেরদের বিরুদ্ধে তাদের রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) বিষয়ক স্বীকৃতির মাধ্যমে ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর তাওহীদ বা একত্ববাদের আবশ্যকতা সাব্যস্ত করার প্রমাণাদি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। এই কারণেই রুবুবিয়্যাতের তাওহীদের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাদের প্রতি স্বীকৃতিসূচক প্রশ্ন ছুড়ে দেন। সুতরাং তারা যখন তাঁর রুবুবিয়্যাত স্বীকার করে নেয়, তখন তিনি একেই তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন যে, তিনিই একমাত্র ইবাদত পাওয়ার যোগ্য। তিনি তাদের শিরককে প্রত্যাখ্যান করে তাদের তিরস্কার করেন, অথচ তারা স্বীকার করে যে তিনিই একমাত্র রব; কেননা যে ব্যক্তি স্বীকার করে যে তিনিই একমাত্র রব, তার জন্য এটি স্বীকার করা আবশ্যক হয়ে পড়ে যে তিনিই একমাত্র ইবাদত পাওয়ার যোগ্য।
এর উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, কে তোমাদের আসমান ও জমিন থেকে রিযিক দান করেন? অথবা কে শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির মালিক?} ৪ থেকে তাঁর বাণী—{তখন তারা অবশ্যই বলবে: আল্লাহ} পর্যন্ত। সুতরাং যখন তারা তাঁর রুবুবিয়্যাত স্বীকার করে নিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وبخهم منكراً عليهم شركهم به غيره بقوله: {فَقُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ} .
ومنها قوله تعالى: {قُل لِّمَنِ الأَرْضُ وَمَنْ فِيهَا إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ سَيَقُولُونَ للهِ} ، فلما اعترفوا وبخهم منكراً عليهم شركهم بقوله: {قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ} ، ثم قال: {قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ العَرْشِ العَظِيمِ سَيَقُولُونَ للهِ} ، فلما أقرُّوا وبخهم منكراً عليهم شركهم بقوله: {قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ} ، ثم قال: {قُلْ مَنْ بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ سَيَقُولُونَ للهِ} فلما أقرُّوا وبخهم منكراً عليهم شركهم بقوله: {قُلْ فَأَنَّى تُسْحَرُونَ} 1.
ومنها قوله تعالى: {قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ قُلِ اللهُ} ، فلما صح الاعتراف وبخهم منكراً عليهم شركهم بقوله: {قُلْ أَفَاتَّخَذْتُم مِّن دُونِهِ أَوْلِيَآءَ لَا يَمْلِكُونَ لأَنفُسِهِمْ نَفْعاً وَلَا ضَرّاً} 2.
ومنها قوله تعالى: {وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَهُمْ لَيَقُولُنَّ اللهُ} ، فلما صحَّ إقرارهم وبخهم منكراً عليهم بقوله: {فَأَنَّى يُؤْفَكُونَ} 3.
ومنها قوله تعالى: {وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَيَقُولُنَّ اللهُ} ، فلما صحَّ اعترافهم وبخهم منكراً عليهم شركهم بقوله: {فَأَنَّى يُؤْفَكُونَ} ، وقوله تعالى: {وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّن نَّزَّلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَأَحْيَا بِهِ الأَرْضَ مِن بَعْدِ مَوْتِهَا لَيَقُولُنَّ اللهُ} ، فلما صحَّ إقرارهم وبخهم منكراً عليهم شركهم بقوله: {قُلِ الحَمْدُ للهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا
--------------------------------------------
তিনি তাঁর সাথে অন্যের অংশীদারিত্বকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের তিরস্কার করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "সুতরাং বলো, তবে কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?"
এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: "বলো, পৃথিবী এবং এতে যারা আছে তারা কার? যদি তোমরা জানো। তারা বলবে, আল্লাহর।" যখন তারা এটি স্বীকার করে নিল, তখন তিনি তাদের শিরককে প্রত্যাখ্যান করে তাদের তিরস্কার করলেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "বলো, তবে কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?" অতপর তিনি বললেন: "বলো, সাত আসমান এবং মহান আরশের রব কে? তারা বলবে, আল্লাহর।" যখন তারা স্বীকৃতি দিল, তখন তিনি তাদের শিরককে প্রত্যাখ্যান করে তাদের তিরস্কার করলেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "বলো, তবে কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?" অতপর তিনি বললেন: "বলো, কার হাতে সব কিছুর রাজত্ব, যিনি আশ্রয় দান করেন এবং যাঁর বিরুদ্ধে কেউ আশ্রয় দিতে পারে না, যদি তোমরা জানো? তারা বলবে, আল্লাহর।" যখন তারা স্বীকৃতি দিল, তখন তিনি তাদের শিরককে প্রত্যাখ্যান করে তাদের তিরস্কার করলেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "বলো, তবে তোমাদের ওপর কোত্থেকে জাদু করা হচ্ছে?" ১।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: "বলো, আসমান ও জমিনের রব কে? বলো, আল্লাহ।" যখন স্বীকৃতি সুসাব্যস্ত হলো, তখন তিনি তাদের শিরককে প্রত্যাখ্যান করে তাদের তিরস্কার করলেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "বলো, তবে কি তোমরা তাঁকে ছাড়া এমন অনেক অভিভাবককে গ্রহণ করেছ, যারা নিজেদের জন্য কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখে না?" ২।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর যদি তুমি তাদের জিজ্ঞাসা করো, কে তাদের সৃষ্টি করেছে, তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ।" যখন তাদের স্বীকৃতি সুসাব্যস্ত হলো, তখন তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে তাদের তিরস্কার করলেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "তবে তারা কীভাবে সত্যবিমুখ হচ্ছে?" ৩।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর যদি তুমি তাদের জিজ্ঞাসা করো, কে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়োজিত করেছেন, তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ।" যখন তাদের স্বীকারোক্তি সুসাব্যস্ত হলো, তখন তিনি তাদের শিরককে প্রত্যাখ্যান করে তাদের তিরস্কার করলেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "তবে তারা কীভাবে সত্যবিমুখ হচ্ছে?" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর যদি তুমি তাদের জিজ্ঞাসা করো, কে আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন এবং তদ্দ্বারা জমিনকে তার মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করেন, তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ।" যখন তাদের স্বীকৃতি সুসাব্যস্ত হলো, তখন তিনি তাদের শিরককে প্রত্যাখ্যান করে তাদের তিরস্কার করলেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "বলো, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই; বরং তাদের অধিকাংশ না..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يَعْقِلُونَ} 1، وقوله: {وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللهُ} ، فلما صح اعترافهم وبخهم الله منكراً عليهم بقوله: {قُلِ الْحَمْدُ للهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ} 2، وقوله تعالى: {ءَآللهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ أَمَّنْ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَأَنزَلَ لَكُم مِّنَ السَّمَآءِ مَآءً فَأَنبَتْنَا بِهِ حَدَآئِقَ ذَاتَ بَهْجَةٍ مَا كَانَ لَكُمْ أَن تُنبِتُوا شَجَرَهَا} ، ولا شك أنَّ الجواب الذي لا جواب لهم البتة غيره: هو أنَّ القادر على خلق السموات والأرض وما ذكر معها خير من جماد لا يقدر على شيء. فلما تعيَّن اعترافهم وبخهم منكراً عليهم بقوله: {أَءِلَهٌ مَّعَ اللهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ يَعْدِلُونَ} ، ثم قال تعالى: {أَمَّن جَعَلَ الأَرْضَ قَرَاراً وَجَعَلَ خِلَالَهَا أَنْهَاراً وَجَعَلَ لَهَا رَوَاسِيَ وَجَعَلَ بَيْنَ الْبَحْرَيْنِ حَاجِزاً} ، ولا شك أنَّ الجواب الذي لا جواب غيره كما قبله. فلما تعين اعترافهم وبخهم منكراً عليهم بقوله: {أَءِلَهٌ مَّعَ اللهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ} ، ثم قال جلَّ وعلا: {أَمَّن يُّجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَآءَ الأَرْضِ} ، ولا شك أنَّ الجواب كما قبله. فلما تعين إقرارهم بذلك وبخهم منكراً عليهم بقوله: {أَءِلَهٌ مَّعَ اللهِ قَلِيلاً مَّا تَذَكَّرُونَ} ، ثم قال تعالى: {أَمَّن يَّهْدِيكُمْ فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَن يُّرْسِلُ الرِّيَاحَ بُشْراً بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ} ، ولا شك أنَّ الجواب كما قبله. فلما تعين إقرارهم بذلك وبخهم منكراً عليهم بقوله: {أَءِلَهٌ مَّعَ اللهِ تَعَالَى اللهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ} ، ثم قال جلَّ وعلا: {أَمَّن يَّبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَمَن يَّرْزُقُكُم مِّنَّ السَّمَآءِ وَالأَرْضِ} ، ولا شك أنَّ الجواب كما قبله. فلما تعين الاعتراف وبخهم منكراً عليهم بقوله:
--------------------------------------------
তারা অনুধাবন করে না} ১, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, কে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন? তবে তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ’}। যখন তাদের স্বীকারোক্তি সাব্যস্ত হলো, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের নিন্দা জ্ঞাপন করে এবং তাদের অবাধ্যতাকে অস্বীকার করে বললেন: {বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহরই; বরং তাদের অধিকাংশই জানে না} ২। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ কি শ্রেষ্ঠ, নাকি তারা যাদেরকে শরিক করে? অথবা তিনি, যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর আমি তা দ্বারা মনোরম উদ্যানসমূহ উৎপন্ন করেছি; যার বৃক্ষরাজি উৎপন্ন করার ক্ষমতা তোমাদের ছিল না}। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাদের নিকট এ ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো উত্তর নেই যে: আসমান ও যমীন এবং এর সাথে যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে তা সৃষ্টি করতে যিনি সক্ষম, তিনি সেই জড়বস্তু অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ যে কোনো কিছুর ক্ষমতা রাখে না। যখন তাদের স্বীকারোক্তি অনিবার্য হয়ে গেল, তখন তিনি তাদের নিন্দা জানিয়ে বললেন: {আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তারা এমন এক কওম যারা (সত্য থেকে) বিচ্যুত হয়}। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {অথবা তিনি, যিনি পৃথিবীকে বসবাসের উপযোগী করেছেন এবং তার মাঝে নদ-নদী প্রবাহিত করেছেন এবং তার জন্য সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন এবং দুই সমুদ্রের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেছেন?} এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর উত্তরও পূর্বের ন্যায় অভিন্ন। যখন তাদের স্বীকারোক্তি অনিবার্য হয়ে গেল, তখন তিনি তাদের নিন্দা জানিয়ে বললেন: {আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না}। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {অথবা তিনি, যিনি আর্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ দূর করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীর প্রতিনিধি বানান?} এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর উত্তরও পূর্বের ন্যায়। যখন তাদের এই স্বীকৃতি সুনির্দিষ্ট হলো, তখন তিনি তাদের নিন্দা জানিয়ে বললেন: {আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? তোমরা খুব সামান্যই শিক্ষা গ্রহণ করো}। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {অথবা তিনি, যিনি তোমাদেরকে স্থলভাগ ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ প্রদর্শন করেন এবং যিনি তাঁর রহমতের প্রাক্কালে সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন?} এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর উত্তরও পূর্বের ন্যায়। যখন তাদের এই স্বীকৃতি সুনির্দিষ্ট হলো, তখন তিনি তাদের নিন্দা জানিয়ে বললেন: {আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? তারা যা শরিক করে আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে}। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {অথবা তিনি, যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন অতঃপর পুনরায় তা সৃষ্টি করবেন এবং যিনি তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযিক দান করেন?} এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর উত্তরও পূর্বের ন্যায়। যখন তাদের স্বীকারোক্তি সুনির্দিষ্ট হলো, তখন তিনি তাদের নিন্দা জানিয়ে বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
{أَءِلَهٌ مَّعَ اللهِ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ} 1، وقوله: {اللهُ الذِي خَلَقَكُمْ ثُمَّ رَزَقَكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ هَلْ مِن شُرَكَآئِكُم مَّن يَّفْعَلُ مِن ذَالِكُم مِّن شَيْءٍ} 2، ولا شك أنَّ الجواب الذي لا جواب لهم غيره هو: لا، أي ليس من شركائنا من يقدر على أن يفعل شيئاً من ذلك المذكور من الخلق والرزق والإماتة والإحياء. فلما تعين اعترافهم وبخهم منكراً عليهم بقوله: {سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} .
والآيات بنحو هذا كثيرة جداً. ولأجل ذلك ذكرنا في غير هذا الموضع: أنَّ كل الأسئلة المتعلقة بتوحيد الربوبية استفهاماتُ تقريرٍ، يراد منها أنَّهم إذا أقروا رتب لهم التوبيخ والإنكار على ذلك الإقرار؛ لأنَّ المقر بالربوبية يلزمه الإقرار بالألوهية ضرورة؛ نحو قوله تعالى: {أَفِي اللهِ شَكٌّ} 3، وقوله: {قُلْ أَغَيْرَ اللهِ أَبْغِي رَبّاً} 4 وإن زعم بعض العلماء أن هذا استفهام إنكار؛ لأنَّ استقراء القرآن دلَّ على أنَّ الاستفهام المتعلق بالربوبية استفهام تقرير وليس استفهام إنكار؛ لأنَّهم لا ينكرون الربوبية، كما رأيت كثرة الآيات الدالة عليه.
والكلام على أقسام التوحيد ستجده إن شاء الله في مواضع كثيرة من
هذا الكتاب المبارك، بحسب المناسبات في الآيات التي نتكلم على بيانها بآيات أخر"5 اه كلامه رحمه الله.
--------------------------------------------
{আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো উপাস্য আছে? বলো, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ করো’} ১, এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহই সেই সত্তা যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদের রিজিক দিয়েছেন, এরপর তিনি তোমাদের মৃত্যু দেবেন, পুনরায় তোমাদের জীবিত করবেন। তোমাদের শরীকদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে এসবের কোনো একটি করতে পারে?} ২। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাদের নিকট এর কোনো উত্তর নেই ‘না’ বলা ব্যতীত। অর্থাৎ, আমাদের শরীকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে সৃষ্টি করা, রিজিক দেওয়া, মৃত্যু দেওয়া এবং জীবন দান করার মতো উল্লিখিত কাজগুলোর কোনোটি করার ক্ষমতা রাখে। যখন তাদের এই স্বীকারোক্তি নিশ্চিত হয়ে গেল, তখন তিনি তাদের নিন্দা ও তিরস্কার করে বললেন: {তারা যাকে শরীক করে, তিনি তা থেকে পবিত্র ও অতি ঊর্ধ্বে}।
এই মর্মে আয়াতসমূহ সংখ্যায় অনেক। এই কারণেই আমরা অন্য স্থানে উল্লেখ করেছি যে, তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ সংক্রান্ত সকল প্রশ্নই মূলত ‘ইস্তিফহামে তাকরিরী’ বা স্বীকৃতি আদায়মূলক প্রশ্ন। এর উদ্দেশ্য হলো, তারা যখন বিষয়টি স্বীকার করে নেবে, তখন সেই স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করেই তাদের প্রতি নিন্দা ও তিরস্কার আরোপ করা হবে; কারণ রুবুবিয়্যাহ বা প্রভুত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তির জন্য আবশ্যিকভাবেই উলুহিয়্যাহ বা ইবাদতের একত্ববাদের স্বীকৃতি দেওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর ব্যাপারে কি কোনো সন্দেহ আছে?} ৩, এবং তাঁর বাণী: {বলো, আমি কি আল্লাহকে ছেড়ে অন্য কোনো প্রতিপালক খুঁজব?} ৪। যদিও কোনো কোনো আলেম মনে করেছেন যে এটি ‘ইস্তিফহামে ইনকারী’ বা নেতিবাচক প্রশ্ন; তবে কুরআনের সামগ্রিক গবেষণা (ইস্তিকরা) প্রমাণ করে যে, রুবুবিয়্যাহ সংক্রান্ত প্রশ্নসমূহ স্বীকৃতি আদায়মূলক প্রশ্ন, নেতিবাচক প্রশ্ন নয়। কেননা তারা রুবুবিয়্যাহ বা আল্লাহর প্রভুত্ব অস্বীকার করত না, যেমনটি আপনি এর সপক্ষে অসংখ্য আয়াত দেখতে পেয়েছেন।
আর তাওহীদের প্রকারভেদ সংক্রান্ত আলোচনা ইনশাআল্লাহ এই বরকতময় কিতাবের অনেক স্থানেই খুঁজে পাবেন, সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহের ব্যাখ্যায় অন্য আয়াতের উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় প্রাসঙ্গিকভাবে তা আলোচিত হবে।” ৫—তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত হলো, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وقد نقلت كلامه بطوله لأهميته، وقد نبَّه فيه رحمه الله إلى أنَّ أقسام التوحيد الثلاثة مأخوذة بالاستقراء لنصوص القرآن الكريم، وبهذا يعلم أن هذا التقسيم من الحقائق الشرعية المستمدة من كتاب الله تعالى، وليس أمراً اصطلاحياً أنشأه بعض العلماء1.
--------------------------------------------
আমি তাঁর বক্তব্যটি এর গুরুত্বের কারণে বিস্তারিতভাবে উদ্ধৃত করেছি। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এতে সতর্ক করেছেন যে, তাওহীদের তিন প্রকার কুরআনুল কারীমের ভাষ্যসমূহের নিবিড় অনুসন্ধানের (ইস্তিকরা) মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে। এর মাধ্যমে জানা যায় যে, এই বিভাজনটি আল্লাহ তাআলার কিতাব থেকে উদ্ভূত শরয়ী বাস্তবতাসমূহের অন্তর্ভুক্ত, এটি কেবল কোনো পারিভাষিক বিষয় নয় যা কিছু আলেম উদ্ভাবন করেছেন১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قال الشيخ العلامة بكر أبو زيد حفظه الله: "هذا التقسيم الاستقرائي لدى متقدمي علماء السلف أشار إليه ابن مندة وابن جرير الطبري وغيرهما، وقرره شيخا الإسلام ابن تيمية وابن القيم، وقرره الزبيدي في تاج العروس وشيخنا الشنقيطي في أضواء البيان في آخرين رحم الله الجميع، وهو استقراء تامٌّ لنصوص الشرع، وهو مطرد لدى أهل كلِّ فنٍّ، كما في استقراء النحاة كلام العرب إلى اسم وفعل وحرف، والعرب لم تفه بهذا، ولم يعتب على النحاة في ذلك عاتب، وهكذا من أنواع الاستقراء"1.
وما يؤمن بالتوحيد من لم يؤمن بهذه الأقسام الثلاثة المستمدة من نصوص الشرع، إذ التوحيد المطلوب شرعاً هو الإيمان بوحدانية الله في ربوبيته وألوهيته وأسمائه وصفاته، ومن لم يأت بهذا جميعه فليس موحداً.
بل إنَّ كلمة التوحيد "لا إله إلا الله" التي هي أصل الدين وأساسه قد دلت على أقسام التوحيد الثلاثة، كما قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "وشهادة أن لا إله إلا الله فيها الإلهيات، وهي الأصول الثلاثة: توحيد الربوبية وتوحيد الألوهية وتوحيد الأسماء والصفات، وهذه الأصول الثلاثة تدور عليها أديان الرسل وما أنزل إليهم، وهي الأصول الكبار التي دلت عليها وشهدت بها العقول والفطر".
وأما وجه دلالة هذه الكلمة العظيمة على أقسام التوحيد الثلاثة فظاهر تماماً لمن تأملها: فقد دلت على إثبات العبادة لله ونفيها عمن سواه، كما دلت أيضاً على توحيد الربوبية فإنَّ العاجز لا يصلح أن يكون إلهاً، ودلت على توحيد
--------------------------------------------
শাইখ আল্লামা বকর আবু যায়েদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন: "সালাফদের পূর্ববর্তী আলিমদের মাঝে তাওহীদের এই আরোহী (ইস্তিকরায়ী) বিভাজনের কথা ইবনে মানদাহ, ইবনে জারীর আত-তাবারী এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল কাইয়্যিম এটি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাজুল আরূস গ্রন্থে আয-যাবীদী এবং আদওয়াউল বায়ান গ্রন্থে আমাদের শাইখ আশ-শানকীতীসহ আরও অনেকে এটি সাব্যস্ত করেছেন—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন। এটি শরীয়তের দলীলসমূহের একটি পূর্ণাঙ্গ আরোহী বিশ্লেষণ (ইস্তিকরা)। প্রতিটি শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের নিকট এই পদ্ধতিটি প্রচলিত, যেমন নাহুবিদগণ (ব্যাকরণবিদ) আরবী ভাষাকে ইসম (বিশেষ্য), ফে’ল (ক্রিয়া) ও হরফে (অব্যয়) বিভক্ত করেছেন। আরবরা স্পষ্টভাবে এভাবে উচ্চারণ করেনি এবং কোনো সমালোচক এর জন্য নাহুবিদদের তিরস্কারও করেননি। আরোহী পদ্ধতির অন্যান্য প্রকারগুলোও ঠিক এমনই।"১
শরীয়তের দলীলসমূহ থেকে উদ্ভূত এই তিনটি বিভাগে যে বিশ্বাস করবে না, সে তাওহীদের প্রতি ঈমান আনয়নকারী হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ শরীয়ত মোতাবেক কাঙ্ক্ষিত তাওহীদ হলো আল্লাহর রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব), উলুহিয়্যাহ (উপাসনা) এবং আসমা ওয়াস-সিফাত (নাম ও গুণাবলী)-এর একত্বে বিশ্বাস স্থাপন করা। যে ব্যক্তি এর পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাস স্থাপন করবে না, সে মুওয়াহহিদ (একত্ববাদী) নয়।
বরং তাওহীদের মূল বাণী "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই), যা দ্বীনের মূল এবং ভিত্তি, তাও তাওহীদের এই তিনটি বিভাগের প্রতি দিকনির্দেশনা প্রদান করে। যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সাক্ষ্যের মধ্যে ইলাহ সংক্রান্ত বিষয়াদি বিদ্যমান, যা মূলত তিনটি মূলনীতি: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদে উলুহিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়াস-সিফাত। রাসূলগণের আনীত ধর্ম এবং তাঁদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা এই তিনটি মূলনীতিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। এগুলোই হলো সেই মহান মূলনীতি যার প্রতি মানুষের বিবেক ও ফিতরাত (সহজাত প্রকৃতি) সাক্ষ্য দেয় এবং দলীল প্রদান করে।"
এই মহান বাণীটি কীভাবে তাওহীদের তিনটি বিভাগের ওপর প্রমাণ বহন করে, তা চিন্তাশীলদের কাছে অত্যন্ত সুস্পষ্ট: এটি আল্লাহর জন্য ইবাদত সাব্যস্ত করে এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবার থেকে তা অস্বীকার করে। এটি তাওহীদে রুবুবিয়্যাহর ওপরও প্রমাণ দেয়, কারণ যে অক্ষম সে ইলাহ হওয়ার যোগ্য নয়। এটি আরও প্রমাণ দেয় তাওহীদে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الأسماء والصفات فإنَّ مسلوب الأسماء والصفات ليس بشيء بل هو عدم محض، كما قال بعض العلماء: المشبه يعبد صنماً، والمعطل يعبد عدماً، والموحد يعبد إله الأرض والسماء1.
إذا تبين هذا وتقرر فليعلم أنَّ جعل الكاتب في كلامه المتقدم وفي طرَّة كتابه هذا من قبيل التثليث في التوحيد والعقيدة الإسلامية قولٌ في غاية الخبث والضلال والانحراف، حيث جعل العقيدة المستمدة من الكتاب والسنة مثل عقيدة النصارى المنحرفة الضالة. وقائل هذه المقالة الجائرة حقيق بأن يقطع لسانه ويكسر بنانه ويستتاب من مقالته هذه الشوهاء وضلالته العمياء. ثم ماذا سيقول الكاتب عن الآيات التي دلت على تقسيم التوحيد إلى ثلاثة أنواع وتحدثت عن كل نوع على حدة. هل سيقول إنَّها دلت على التثليث. أو سيضيف إليها قيودات واستدراكات من عنده. ثم ماذا على من استدل بالقرآن في تقسيم التوحيد؟ لا ينكر هذا الأصل العظيم الثابت في القرآن والسنة إلا ضال منحرف.
2 قال الكاتب ص 3: "
… وخصوصاً أنَّ هذا التقسيم لايعرف عند السلف البتة وإنما اخترع هذا التقسيم وانتشر بعد القرن السابع الهجري".
وقال ص 6: "ولم يذكر الله تعالى في كتابه ولا النبي صلى الله عليه وسلم في سنته1 أنَّ التوحيد ينقسم إلى ثلاثة أقسام توحيد ربوبية وتوحيد ألوهية وتوحيد أسماء
--------------------------------------------
নাম ও গুণাবলি; কেননা যার নাম ও গুণাবলি নেই সে কোনো অস্তিত্ববান কিছু নয়, বরং নিছক এক অবাস্তবতা। যেমন কিছু আলেম বলেছেন: সাদৃশ্যবাদী (মুশাব্বিহ) মূর্তিপূজা করে, আর নেতিকরণকারী (মুআত্তিল) অনস্তিত্বের পূজা করে, পক্ষান্তরে একেশ্বরবাদী (মুওয়াহহিদ) আসমান ও জমিনের ইলাহ-এর ইবাদত করে।১
যদি বিষয়টি স্পষ্ট ও সাব্যস্ত হয়ে থাকে, তবে জেনে রাখা উচিত যে, লেখকের তাঁর পূর্বোক্ত বক্তব্যে এবং এই বইয়ের উপরিভাগে তাওহিদ ও ইসলামি আকিদার ক্ষেত্রে একে ত্রিত্ববাদের (তিলীস) সদৃশ করা চরম ধৃষ্টতা, বিভ্রান্তি ও বিচ্যুতির পরিচায়ক। কেননা তিনি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আহরিত আকিদাকে খ্রিষ্টানদের পথভ্রষ্ট ও বিচ্যুত ত্রিত্ববাদী আকিদার মতো গণ্য করেছেন। এই অন্যায় উক্তির প্রবক্তা তার জিহ্বা কর্তিত হওয়া, আঙ্গুল ভেঙে ফেলা এবং এই কুৎসিত বক্তব্য ও অন্ধ বিভ্রান্তি থেকে তওবা করার উপযুক্ত। তদুপরি লেখক ঐ সকল আয়াত সম্পর্কে কী বলবেন যা তাওহিদকে তিন ভাগে বিভক্ত করার নির্দেশনা দেয় এবং প্রতিটি প্রকার সম্পর্কে পৃথকভাবে আলোচনা করে? তিনি কি বলবেন যে এগুলো ত্রিত্ববাদের প্রমাণ বহন করে? নাকি তিনি নিজের পক্ষ থেকে এগুলোর ওপর বিধি-নিষেধ ও সংশোধনী যোগ করবেন? আর যারা তাওহিদের শ্রেণিবিভাগের ক্ষেত্রে কুরআন থেকে দলীল গ্রহণ করেছেন, তাদের ব্যাপারেই বা তাঁর কী বলার আছে? কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত এই মহান মূলনীতিকে কেবল একজন পথভ্রষ্ট ও বিচ্যুত ব্যক্তিই অস্বীকার করতে পারে।
২. লেখক ৩ নং পৃষ্ঠায় বলেছেন: "
… বিশেষত এই বিভাজনটি সালাফদের নিকট একেবারেই পরিচিত ছিল না, বরং এই বিভাজনটি উদ্ভাবিত হয়েছে এবং সপ্তম হিজরি শতাব্দীর পর এটি বিস্তার লাভ করেছে।"
তিনি ৬ নং পৃষ্ঠায় বলেন: "আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে এবং নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সুন্নাহতে১ উল্লেখ করেননি যে, তাওহিদ তিন ভাগে বিভক্ত— তাওহিদে রুবুবিয়্যাহ, তাওহিদে উলুহিয়্যাহ এবং তাওহিদে আসমা (ও সিফাত)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وصفات، بل لم ينطق بهذا التقسيم أحد من الصحابة بل ولا أحد من التابعين، بل ولا أحد من السلف الصالح رضي الله عن الجميع بل إنَّ هذا التقسيم بدعة خلفية مذمومة حدثت في القرن الثامن الهجري، أي بعد زمن النبي صلى الله عليه وسلم بنحو ثمانمائة سنة ولم يقل بهذا التقسيم أحد من قبل
… ".
وقال ص 10: "ابن تيمية الذي اخترع تقسيم التوحيد إلى ألوهية وربوبية..".
قلت: أما الأدلة من الكتاب والسنة على هذا التقسيم فهي كثيرة لا تحصر يعرفها من لديه أدنى إلمام بنصوص الكتاب والسنة، بل إن من يحفظ فاتحة الكتاب1 وسورة الناس يجد فيهما ما يشفي ويكفي من وضوح دلالة ونصوع برهان على هذا التقسيم، بل هو أكبر الحقائق الشرعية المقررة في الكتاب والسنة، وقد تقدم قريباً شيء من أدلة القرآن الكريم على هذا التقسيم، وهذا لا يكابر فيه إلا ضالٌّ منحرفٌ لوضوحه وجلائه.
وأما قول الكاتب إنَّ هذا التقسيم اخترعه ابن تيمية، ولم يقل به أحد من السلف الصالح، ولم يوجد إلا في القرن الثامن الهجري فهذا دليل على قصور علمه وقلة خبرته ومعرفته بكتب السلف الصالح إذ هي مليئة بالتصريح تارة والإشارة تارة إلى هذه الأقسام، ولو ذهبت أنقل كل ما أعلمه من أقوالهم في ذلك لطال المقام، لكن حسبي أن أورد هنا بعض النقول ونزراً يسيراً من النصوص المشتملة على ذكر أقسام التوحيد الثلاثة لبعض الأئمة الذين كانوا قبل شيخ الإسلام ابن تيمية ليظهر كذب الكاتب وليبين جهله.
--------------------------------------------
ও গুণাবলি; বরং সাহাবীগণের কেউ এই বিভাজন সম্পর্কে কোনো কথা বলেননি, এমনকি তাবিঈগণের কেউও নন, এমনকি সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মধ্য থেকেও কেউ তা বলেননি। বরং এই বিভাজন একটি নিন্দনীয় পরবর্তী উদ্ভাবন যা হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে সংঘটিত হয়েছে। অর্থাৎ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ের প্রায় আটশ বছর পর। এর আগে কেউ এই বিভাজনের কথা বলেননি
…।
তিনি ১০ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "ইবনে তাইমিয়্যাহ তাওহীদকে উলুহিয়্যাহ ও রুবুবিয়্যাহ—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার বিষয়টি উদ্ভাবন করেছেন..।"
আমি বলছি: এই বিভাজনের স্বপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ অসংখ্য, যা গণনা করা সম্ভব নয়। কুরআন ও সুন্নাহর পাঠ্যসমূহ সম্পর্কে যার সামান্যতম জ্ঞান আছে, সে-ই এটি জানে। বরং যে ব্যক্তি সূরা ফাতেহা এবং সূরা নাস হিফজ করেছে, সে এই দুই সূরার মধ্যেই এই বিভাজনের সুস্পষ্ট প্রমাণ ও উজ্জ্বল নিদর্শনের এমন বিষয় খুঁজে পাবে যা পর্যাপ্ত ও তৃপ্তিদায়ক। বরং এটি কুরআন ও সুন্নাহর অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠিত শরয়ি সত্য। এই বিভাজনের স্বপক্ষে কুরআন কারীমের কিছু দলিল ইতিপূর্বেই উপস্থাপিত হয়েছে। এর স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতার কারণে কোনো পথভ্রষ্ট ও বিচ্যুত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ এতে হঠকারিতা করবে না।
আর লেখকের এই দাবি যে, এই বিভাজন ইবনে তাইমিয়্যাহ উদ্ভাবন করেছেন এবং সালাফে সালেহীনদের কেউ এটি বলেননি এবং হিজরি অষ্টম শতাব্দীর আগে এর অস্তিত্ব ছিল না—এটি মূলত তাঁর জ্ঞানের স্বল্পতা এবং সালাফে সালেহীনদের কিতাবসমূহ সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা ও পরিচয়ের অভাবেরই প্রমাণ। কেননা, সেই কিতাবসমূহ কখনও স্পষ্টভাবে আবার কখনও ইঙ্গিতে এই প্রকারভেদসমূহে পরিপূর্ণ। আমি যদি এই বিষয়ে তাঁদের বর্ণিত বক্তব্যসমূহের মধ্য হতে আমার জানা সবটুকু উদ্ধৃত করতে যাই, তবে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে। তবে আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আমি এখানে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর পূর্ববর্তী কতিপয় ইমামের এমন কিছু উদ্ধৃতি ও সামান্য কিছু বর্ণনা উল্লেখ করব, যেগুলোতে তাওহীদের তিনটি প্রকারের কথা বিদ্যমান; যাতে লেখকের মিথ্যাচার প্রকাশিত হয় এবং তাঁর অজ্ঞতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
النص الأول: للإمام أبي عبد الله عبيد الله بن محمد بن بطة العكبري المتوفى سنة 387هـ.
فقد قال رحمه الله في كتابه "الإبانة عن شريعة الفرقة الناجية ومجانبة الفرق المذمومة" ما نصه: "
… وذلك أنَّ أصل الإيمان بالله الذي يجب على الخلق اعتقاده في إثبات الإيمان به ثلاثة أشياء:
أحدها: أن يعتقد العبد ربانيته ليكون بذلك مبايناً لمذهب أهل التعطيل الذين لا يثبتون صانعاً.
والثاني: أن يعتقد وحدانيته ليكون مبايناً بذلك مذاهب أهل الشرك الذين أقروا بالصانع وأشركوا معه في العبادة غيره.
والثالث: أن يعتقده موصوفاً بالصفات التي لا يجوز إلا أن يكون موصوفاً بها من العلم والقدرة والحكمة وسائر ما وصف به نفسه في كتابه.
إذ قد علمنا أنَّ كثيراً ممن يقر به ويوحده بالقول المطلق قد يلحد في صفاته فيكون إلحاده في صفاته قادحاً في توحيده.
ولأنَّا نجد الله تعالى قد خاطب عباده بدعائهم إلى اعتقاد كل واحدة من هذه الثلاث والإيمان بها.
فأمَّا دعاؤه إياهم إلى الإقرار بربانيته ووحدانيته فلسنا نذكر هذا هاهنا لطوله وسعة الكلام فيه، ولأنَّ الجهمي يدعي لنفسه الإقرار بهما وإن كان جحده للصفات قد أبطل دعواه لهما
… "1.
ثم أخذ يورد ما يدل على بطلان قول الجهمية في نفي الصفات. فهذا نص
--------------------------------------------
প্রথম পাঠ: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন বাত্তাহ আল-উকবরি (মৃত্যু: ৩৮৭ হিজরি)-এর।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর "আল-ইবানাহ আন শরীয়াতিল ফিরকাতিন নাজিয়াহ ওয়া মুজানাবাতিল ফিরাকিল মাযমুূমাহ" গ্রন্থে যা বলেছেন তার ভাষ্য নিম্নরূপ: "
... আর তা এই যে, আল্লাহর প্রতি ঈমানের মূল ভিত্তি, যা বিশ্বাস করা সৃষ্টির ওপর আবশ্যক, তা আল্লাহর প্রতি ঈমান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত:
প্রথমটি: বান্দা তাঁর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বে বিশ্বাস করবে, যাতে করে সে 'আহলুত তআতীল' (সত্তা অস্বীকারকারী)-দের মতবাদ থেকে পৃথক হতে পারে যারা কোনো স্রষ্টাকে স্বীকার করে না।
দ্বিতীয়টি: তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাস করবে, যাতে করে সে মুশরিকদের মতবাদ থেকে পৃথক হতে পারে যারা স্রষ্টাকে তো স্বীকার করে কিন্তু ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে অন্যকে শরিক বা অংশীদার সাব্যস্ত করে।
তৃতীয়টি: তাঁকে সেই সকল গুণাবলিতে গুণান্বিত বলে বিশ্বাস করা, যেগুলোর দ্বারা তিনি গুণান্বিত হওয়া ব্যতিরেকে অন্য কিছু হওয়া সমীচীন নয়; যেমন—জ্ঞান, ক্ষমতা, প্রজ্ঞা এবং অন্যান্য সকল বিষয় যা দ্বারা তিনি নিজ কিতাবে নিজের বর্ণনা দিয়েছেন।
কেননা আমরা জানি যে, যারা তাঁকে স্বীকার করে এবং সাধারণভাবে তাঁর একত্ববাদের ঘোষণা দেয়, তাদের অনেকেই তাঁর গুণাবলির ক্ষেত্রে বিচ্যুতি বা বিকৃতি (ইলহাদ) ঘটায়; ফলে গুণাবলির ক্ষেত্রে তাদের এই বিচ্যুতি মূলত তাদের তাওহীদকেই ক্ষুণ্ণ বা প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আর এ কারণে যে, আমরা দেখতে পাই মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে এই তিনটির প্রত্যেকটির ওপর বিশ্বাস ও ঈমান আনয়নের আহ্বান জানিয়ে সম্বোধন করেছেন।
অতঃপর, তাঁর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) ও ওয়াহদানিয়্যাত (একত্ববাদ) স্বীকার করে নেওয়ার প্রতি তাঁর সেই আহ্বানের বিষয়টি আমরা এখানে উল্লেখ করছি না, কারণ এ বিষয়ে আলোচনা অত্যন্ত দীর্ঘ ও ব্যাপক। তাছাড়া জাহমিরাও নিজেদেরকে এই দুটি বিষয় স্বীকারকারী বলে দাবি করে, যদিও তাদের গুণাবলি অস্বীকার করার বিষয়টি তাদের সেই উভয় দাবিকেই বাতিল করে দিয়েছে
... "১।
অতঃপর তিনি গুণাবলি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে জাহমিদের মতবাদের অসারতার প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে শুরু করেন। এই হলো সেই পাঠ—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
في غاية الوضوح في ذكر أقسام التوحيد الثلاثة.
وتأمل قول ابن بطة: "لأنَّ الجهمي يدعي لنفسه الإقرار بهما
… " أي الربوبية والألوهية وإنما جحد توحيد الأسماء والصفات خلاف هذا المبطل الذي جحد وأنكر تقسيم التوحيد إلى ثلاثة أقسام وجعله من قبيل التثليث في العقيدة الإسلامية فكان بذلك الجهمية دونه في الضلال.
وتأمل قول ابن بطة: "ولأنَّا نجد الله قد خاطب عباده بدعائهم إلى اعتقاد كل واحدة من هذه الثلاثة والإيمان بها" ففيه أبلغ رد على الكاتب في قوله: "ولم يذكر الله في كتابه ولا النبي صلى الله عليه وسلم في سنته أنَّ التوحيد ينقسم إلى ثلاثة أقسام
… ".
وتأمل قوله في بداية كلامه: "وذلك أن أصل الإيمان بالله الذي يجب على الخلق اعتقاده في إثبات الإيمان به ثلاثة أشياء
… " فنص رحمه الله على أنَّ أقسام التوحيد الثلاثة هي أصل الإيمان الذي يجب على الخلق اعتقاده مع إثبات الإيمان بالله، ومعنى ذلك أنَّه لا إيمان لمن لم يأت بهذه الأمور الثلاثة ولا توحيد، إذ الإيمان والتوحيد هو إفراد الله وحده بهذه الأمور الثلاثة فمن لم يأت بتوحيد الربوبية فهو معطِّل للخالق مشرك في ربوبية الله، ومن لم يأت بتوحيد الألوهية فهو مشرك في ألوهية الله وعبادته كالمشركين عبدة الأصنام، ومن لم يأت بتوحيد الأسماء والصفات فهو كافر ملحد في أسماء الله وصفاته.
فكيف يقول مسلم عاقل إنَّ هذه الأمور لا أصل لها ولا أساس، ولا وجود لها في الكتاب والسنة، فاللهم غفراً.
النص الثاني: للإمام الحافظ أبي عبد الله محمد بن إسحاق بن يحيى بن مندة المتوفى سنة 395هـ.
ففي كتابه "كتاب التوحيد ومعرفة أسماء الله عز وجل وصفاته على
তাওহীদের তিনটি প্রকার বর্ণনার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট।
এবং ইবনে বাত্তাহ-র উক্তিটি লক্ষ্য করুন: "কেননা জাহমি তার নিজের জন্য সে দুটির স্বীকৃতির দাবি করে
… " অর্থাৎ রুবুবিয়াত ও উলুহিয়াত; সে কেবল আসমা ওয়া সিফাতের (নাম ও গুণাবলী) তাওহীদকে অস্বীকার করেছে। এটি সেই বাতিলপন্থীর বিপরীত যে তাওহীদের তিন প্রকার বিভাজনকে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একে ইসলামী আকিদায় ত্রিত্ববাদের মতো মনে করেছে। ফলে পথভ্রষ্টতায় জাহমিরা তার তুলনায় লঘু সাব্যস্ত হলো।
এবং ইবনে বাত্তাহ-র এই উক্তিটি লক্ষ্য করুন: "এবং যেহেতু আমরা দেখি যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে এই তিনটির প্রত্যেকটির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ও ঈমান আনার আহ্বান জানিয়ে সম্বোধন করেছেন।" এতে সেই লেখকের বক্তব্যের অত্যন্ত বলিষ্ঠ জবাব রয়েছে যেখানে সে বলেছে: "আল্লাহ তাঁর কিতাবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাহতে উল্লেখ করেননি যে তাওহীদ তিন প্রকারে বিভক্ত
… "।
তাঁর বক্তব্যের শুরুর কথাটি লক্ষ্য করুন: "আর তা হলো আল্লাহর প্রতি ঈমানের মূল ভিত্তি, যা সৃষ্টির জন্য তাঁর প্রতি ঈমান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে বিশ্বাস করা ওয়াজিব, তা হলো তিনটি বিষয়
… "। সুতরাং তিনি (রহিমাহুল্লাহ) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাওহীদের তিনটি প্রকারই হলো ঈমানের মূল ভিত্তি যা আল্লাহর প্রতি ঈমান সাব্যস্ত করার সাথে সাথে সৃষ্টির জন্য বিশ্বাস করা ওয়াজিব। এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি এই তিনটি বিষয় নিয়ে আসবে না তার কোনো ঈমান নেই এবং তাওহীদও নেই। কেননা ঈমান ও তাওহীদ হলো এই তিনটি বিষয়ে আল্লাহকে একক করা। সুতরাং যে ব্যক্তি তাওহীদে রুবুবিয়াত নিয়ে আসবে না, সে স্রষ্টাকে অস্বীকারকারী এবং আল্লাহর রুবুবিয়াতের ক্ষেত্রে মুশরিক। আর যে তাওহীদে উলুহিয়াত নিয়ে আসবে না, সে আল্লাহর উলুহিয়াত ও ইবাদতের ক্ষেত্রে মূর্তিপূজক মুশরিকদের ন্যায় মুশরিক। আর যে আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদ নিয়ে আসবে না, সে আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে কাফের ও বিকৃতকারী।
অতএব, একজন বিবেকবান মুসলিম কীভাবে বলতে পারে যে, এই বিষয়গুলোর কোনো ভিত্তি বা মূল নেই এবং কুরআন ও সুন্নাহতে এগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই? হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করুন।
দ্বিতীয় পাঠ: ইমাম হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মানদাহ (মৃত্যু ৩৯৫ হিজরি)-র পক্ষ থেকে।
তাঁর কিতাব "কিতাবুত তাওহীদ ওয়া মা'রিফাতু আসমাইল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা ওয়া সিফাতিহি"-তে (বর্ণিত হয়েছে) যে:
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুস সাদীদ ফির রাদ্দি আলা মান আনকারা তাকসীমুত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الاتفاق والتفرد" ذكر أقسام التوحيد واستعرض كثيراً من أدلتها في الكتاب والسنة بشرح وبسط لا مزيد عليه.
فمن الأبواب التي عقدها وهي متعلقة بتوحيد الربوبية ما يلي:
1 ذِكْرُ ما وصف الله عز وجل به نفسه ودلَّ على وحدانيته عز وجل وأنَّه أحدٌ صمدٌ لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفواً أحد.
2 ذكر معرفة بدء الخلق.
3 ذكر ما يدل على أنَّ خلق العرش تقدم على خلق الأشياء.
4 ذكر ما يدل على أنَّ الله قدر مقادير كل شيء قبل خلق الخلق.
5 ذكر ما يستدل به أولو الألباب من الآيات الواضحة التي جعلها الله عز وجل دليلاً لعباده من خلقه على معرفته ووحدانيته من انتظام صنعته وبدائع حكمته في خلق السموات والأرض
…6 ذكر ما بدأ الله عز وجل من الآيات الواضحة الدالة على وحدانيته.
7 ذكر الآيات المتفقة المنتظمة الدالة على توحيد الله عز وجل في صفة خلق السموات التي ذكرها في كتابه وبينها على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم تنبيهاً لخلقه1. ثم ذكر أبواباً أخرى.
ومن الأبواب التي عقدها وهي متعلقة بتوحيد الألوهية ما يلي:
1 ذكر معرفة أسماء الله عز وجل الحسنة التي تسمى بها وأظهرها لعباده للمعرفة والدعاء والذكر.
--------------------------------------------
'আল-ইত্তিফাক ওয়াত-তাফাররুদ' গ্রন্থে তিনি তাওহীদের প্রকারসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং কিতাব ও সুন্নাহ থেকে এর অসংখ্য দলিল অত্যন্ত বিস্তারিত ও প্রাঞ্জল ব্যাখ্যাসহ উপস্থাপন করেছেন, যার ওপর আর কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।
তিনি তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ সংক্রান্ত যেসব অধ্যায় বিন্যাস করেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. মহান আল্লাহ নিজের যে গুণগান বর্ণনা করেছেন এবং যা তাঁর একত্ববাদের প্রমাণ পেশ করে—তিনি এক, অমুখাপেক্ষী, কাউকে জন্ম দেননি এবং কারো থেকে জন্ম নেননি, আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই—তার বর্ণনা।
২. সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কিত জ্ঞান।
৩. আরশ সৃষ্টি যে অন্যান্য সকল বস্তু সৃষ্টির পূর্বে হয়েছিল, তার প্রমাণসমূহের বর্ণনা।
৪. সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পূর্বেই আল্লাহ যে সবকিছুর তকদীর বা পরিমাপ নির্ধারণ করেছেন, তার প্রমাণাদির আলোচনা।
৫. বুদ্ধিমান ব্যক্তিবর্গ যেসব সুস্পষ্ট নিদর্শন থেকে দলিল গ্রহণ করেন, যা মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মাঝে তাঁর পরিচয় ও একত্ববাদের প্রমাণস্বরূপ পেশ করেছেন; যেমন তাঁর সুনিপুণ নির্মাণশৈলী এবং আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাঁর প্রজ্ঞার বিস্ময়কর নিদর্শনসমূহ
…৬. আল্লাহ তাআলা তাঁর একত্ববাদের প্রমাণ হিসেবে যেসব সুস্পষ্ট নিদর্শন দিয়ে সৃষ্টির সূচনা করেছেন, তার বর্ণনা।
৭. আসমানসমূহ সৃষ্টির বৈশিষ্ট্যের মধ্যে মহান আল্লাহর একত্ববাদের ওপর প্রমাণ বহনকারী সুসংগত ও সুশৃঙ্খল আয়াতসমূহের আলোচনা; যা তিনি তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষায় বর্ণনা করেছেন তাঁর সৃষ্টিজগতকে সতর্ক করার জন্য১। এরপর তিনি আরও অন্যান্য অধ্যায় উল্লেখ করেছেন।
আর তিনি তাওহীদে উলুহিয়্যাহ সংক্রান্ত যেসব অধ্যায় বিন্যাস করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে:
১. মহান আল্লাহর ঐ সকল সুন্দর নামসমূহ জানার বর্ণনা, যা তিনি নিজের জন্য নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর বান্দাদের নিকট পরিচয় লাভ, দোয়া ও জিকিরের নিমিত্তে প্রকাশ করেছেন।
--------------------------------------------