(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
القواعد والفوائد الأصولية وما يتبعها من الأحكام الفرعية القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: القواعد والفوائد الأصولية وما يتبعها من الأحكام الفرعية
المؤلف: أبو الحسن علاء الدين بن محمد بن عباس البعلي الحنبلي المعروف بابن اللحام (ت 803 هـ)
المحقق: عبد الكريم الفضيلي
الناشر: المكتبة العصرية
الطبعة: الثانية، 1420 هـ - 1999 م
عدد الصفحات: 394
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-কাওয়াইদ ওয়াল-ফাওয়াইদ আল-উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকাম আল-ফারইয়্যাহ বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতি
গ্রন্থ: আল-কাওয়াইদ ওয়াল-ফাওয়াইদ আল-উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকাম আল-ফারইয়্যাহ
লেখক: আবুল হাসান আলাউদ্দিন বিন মুহাম্মদ বিন আব্বাস আল-বালী আল-হাম্বলী, যিনি ইবনুল লাহহাম নামে পরিচিত (মৃত্যু ৮০৩ হি.)
সম্পাদক: আব্দুল কারীম আল-ফুদাইলি
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২০ হি. - ১৯৯৯ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
رب يسر يا كريم.
قال الشيخ الأمام العالم العلامة قدوة الأنام رحلة الطالبين الأعلام أبو الحسن علاء الدين علي بن عباس البعلي الحنبلي رحمه الله تعالى:.
الحمد لله الذي مهد قواعد الدين بكتابه المنزل وجعلنا من عباده المؤمنين بأتباع نبيه المرسل الذي اظهر به الحق بعد أن كان خفيا واختاره على كافة خلقه وكان به حفيا.
واشهد أن لا اله آلا الله وحده لا شريك له شهادة تبوى قائلها أعلى المقامات وتحله من دار كرامته أعلى الغرف في الجنات.
واشهد أن سيدنا محمدا عبده ورسوله سيد السادات صلى الله عليه وعلى وآله وصحبه أولى المناقب السنية والكرامات.
أما بعد:
فإن علم أصول الفقه لما كان في علم الشريعة كواسطة النظام متوسطا بين رتبتي الفروع وعلم الكلام وهو علم عظيم شأنه وقدره وعلا في العالم شرفه ومخبره. إذ ثمرته ما تضمنته الشريعة المطهرة من الأحكام وبه تحكم الأئمة الفضلاء مباحثهم غاية الإحكام؛
ভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
হে প্রতিপালক, সহজ করে দিন, হে দয়ালু।
শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, আল্লামা, মানবজাতির আদর্শ, বিশিষ্ট জ্ঞানান্বেষীদের গন্তব্যস্থল আবুল হাসান আলাউদ্দীন আলী বিন আব্বাস আল-বালী আল-হানবালী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর অবতীর্ণ কিতাবের মাধ্যমে দ্বীনের মূলনীতিসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং আমাদের তাঁর প্রেরিত (مرسل) নবীর অনুসরণের মাধ্যমে তাঁর মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন; যাঁর মাধ্যমে তিনি সত্যকে স্পষ্ট করেছেন তা গোপন থাকার পর এবং তাঁকে তাঁর সমস্ত সৃষ্টির উপর মনোনীত করেছেন এবং তাঁর প্রতি অত্যন্ত দয়ালু হয়েছেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন এক সাক্ষ্য যা এর প্রদানকারীকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় আসীন করে এবং তাঁকে তাঁর সম্মানজনক আলয়ে জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষসমূহে অধিষ্ঠিত করে।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, সায়্যিদদের সায়্যিদ; তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সুউচ্চ গুণাবলী ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী সাহাবীদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
অত:পর:
নিশ্চয়ই উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র যেহেতু শরীয়াহ বিজ্ঞানের মধ্যে হারের মধ্যমণির ন্যায় এবং যা ফুরু (শাখা জ্ঞান) ও ইলমুল কালামের স্তরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত, আর এটি এমন এক জ্ঞান যার মর্যাদা ও গুরুত্ব অতি মহান এবং বিশ্বে এর সম্মান ও গভীরতা অত্যন্ত উচ্চ। যেহেতু এর ফলশ্রুতি হলো পবিত্র শরীয়তে অন্তর্ভুক্ত বিধিবিধানসমূহ এবং এর মাধ্যমেই বিজ্ঞ ইমামগণ তাঁদের গবেষণাসমূহকে অত্যন্ত মজবুত ও সুশৃঙ্খল করেন;
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
استخرت الله تعالى في تأليف كتاب أذكر فيه قواعد وفوائد أصولية وأردف كل قاعدة بمسائل تتعلق بها من الأحكام الفروعية.
والله تعالى اسأل النفع المتعدى به واللازم وأن يجعله خالصا لوجهه الكريم الدائم فإنه مجيب دعوة المضطرين وهو خير موفق ومعين.
আমি একটি গ্রন্থ রচনার বিষয়ে মহান আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করেছি, যাতে আমি উসুল বা মূলনীতি সংক্রান্ত (أصولية) নিয়মাবলি (قواعد) ও উপকারিতা উল্লেখ করব এবং প্রতিটি মূলনীতির (قاعدة) সাথে সংশ্লিষ্ট শাখা বিধান সংক্রান্ত (الفروعية) মাসয়ালাসমূহ সংযোজন করব।
আর আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে অন্যের এবং নিজের উপকার সাধন করেন এবং এটিকে একান্তই তাঁর মহান ও চিরস্থায়ী সন্তুষ্টির নিমিত্তে কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি আর্তদের ডাকে সাড়া দানকারী এবং তিনিই সর্বোত্তম তাওফিকদাতা ও সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
القاعدة 1.
الفقه له حدود:.
أحدها: هو العلم بالأحكام الشرعية الفرعية عن أدلتها التفصيلية بالاستدلال.
خرج بـ "العلم بالإحكام" العلم بالذات كزيد وبالصفات كسواده وبالأفعال كقيامه وعبر الآمدي1 بقوله: هو العلم بجملة غالبة من الأحكام وهو تعبير حسن لكن شأن الحد الإيضاح والتحقيق.
وقول الآمدي: "العلم بجملة غالبة" فيه إجمال لأن غلبة هذه الجملة لا يعلم حدها "أي منتهاها" فلذلك قال بعض المتأخرين: "هو ظن جملة غالبة عرفا".
وخرج بـ "الشرعية" العقلية كالحسابيات ـ أي الهندسية ـ واللغوية كرفع الفاعل وكذلك نسبة الشيء إلى غيره إيجابا كقام زيد أو سلبا نحو لم يقم.
وفي ذلك نظر لأن ذلك ينتفي بالفرعية إذ الأحكام العقلية المذكورة لا تسمى فرعية.
وبـ الفرعية الأحكام الأصولية كأصول الدين وأصول الفقه.
وبـ أدلتها التفصيلية الأحكام الحاصلة عن أدلة إجمالية نحو ثبت الحكم بالمقتضى وامتنع بالنافي.
--------------------------------------------
মূলনীতি ১.
ফিকহ শাস্ত্রের কিছু সংজ্ঞা ও সীমা রয়েছে:.
তার মধ্যে একটি হলো: দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তিপ্রয়োগের (استدلال) মাধ্যমে শরীয়তের শাখা-প্রশাখা সংবলিত (فرعية) বিধানাবলি (أحكام) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
"বিধানাবলি (أحكام) সম্পর্কে জ্ঞান" কথাটির মাধ্যমে সত্তা বিষয়ক জ্ঞান (যেমন: যায়দ), গুণাবলি বিষয়ক জ্ঞান (যেমন: তার কৃষ্ণাভ বর্ণ) এবং কর্ম বিষয়ক জ্ঞান (যেমন: তার দণ্ডায়মান হওয়া) সংজ্ঞার বহির্ভূত হয়ে পড়েছে। আল-আমিদি ১ তার উক্তির মাধ্যমে একে ব্যক্ত করেছেন এভাবে: "এটি হলো বিধানাবলির (أحكام) একটি বৃহৎ অংশ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।" এটি একটি উত্তম অভিব্যক্তি, তবে সংজ্ঞার লক্ষ্য হলো বিষয়টি স্পষ্ট ও সুনিশ্চিত করা।
আল-আমিদির উক্তি "একটি বৃহৎ অংশ সম্পর্কে জ্ঞান"-এর মধ্যে অস্পষ্টতা (إجمال) রয়েছে; কারণ এই বৃহৎ অংশের সীমা বা পরিধি (অর্থাৎ এর শেষ প্রান্ত) জানা নেই। এই কারণেই পরবর্তী যুগের (متأخرين) কোনো কোনো আলিম বলেছেন: "এটি হলো প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী অধিকাংশ বিধান সম্পর্কে প্রবল ধারণা (ظن) পোষণ করা।"
"শরয়ী (شرعية)" শব্দটির মাধ্যমে যৌক্তিক বিষয়াবলি (যেমন: গাণিতিক বা জ্যামিতিক হিসাবসমূহ) এবং ভাষাগত বিষয়াবলি (যেমন: ফায়েল বা কর্তাকে রফ’ বা পেশ প্রদান করা) এবং একইভাবে কোনো বিষয়কে অন্য বিষয়ের দিকে ইতিবাচকভাবে (যেমন: যায়দ দাঁড়িয়েছে) বা নেতিবাচকভাবে (যেমন: যায়দ দাঁড়ায়নি) সম্বন্ধযুক্ত করা সংজ্ঞার বহির্ভূত হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ "শাখা-প্রশাখা সংবলিত (فرعية)" শব্দটির মাধ্যমেই এই বিষয়গুলো অপসারিত হয়ে যায়, যেহেতু উল্লিখিত যৌক্তিক বিধানগুলোকে "শাখা-প্রশাখা" বলা হয় না।
আর "শাখা-প্রশাখা সংবলিত (فرعية)" বলার মাধ্যমে মৌলিক (أصولية) বিধানাবলি, যেমন: আকাইদ বা দ্বীনের মূলনীতি এবং উসুলুল ফিকহ সংজ্ঞার বাইরে চলে গেছে।
এবং "বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ (أدلتها التفصيلية)" বলার মাধ্যমে সেই বিধানগুলো বাদ পড়েছে যা সংক্ষিপ্ত দলিল (أدلة إجمالية) থেকে অর্জিত হয়। যেমন: দাবির প্রেক্ষিতে বিধান সাব্যস্ত হওয়া এবং প্রতিবন্ধকের কারণে তা রহিত হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وبـ الاستدلال علم المقلد.
وعلى هذا الحد أسئلة ومؤاخذات كثيرة جدا ليس هذا موضع ذكرها وإنما نذكر ههنا سؤالا واحدا وجوابه لما يترتب عليه من المسائل الفقهية وتقرير السؤال أن غالب الفقه مظنون لكونه مبنيا على العمومات وأخبار الآحاد والأقيسة وغيرها من المظنونات فكيف يعبرون عنه بالعلم.
وأجيب عنه بأنه لما كان المظنون يجب العمل به كما في المقطوع رجع إلى العلم بجامع وجوب العمل.
إذ تقرر هذا فيتفرع على العمل بالظن فروع كثيرة ولم يطرد أصل أصحابنا في ذلك ففي بعض الأماكن قالوا: يعمل بالظن وفي بعضها قالوا: لابد من اليقين وطرد أبو العباس1 أصله وقال: يعمل بالظن في عامة أمور الشرع والله أعلم.
مسائل من ذلك.
منها: إذا أجزنا له التحري في الماء والثياب المشتبهة على مقالة ضعيفة أو في القبلة على الصحيح فانه يعمل بما غلب على ظنه.
ومنها: إذا غلب على ظن المصلى دخول الوقت فله العمل به إذا لم يكن له سبيل إلى العلم لغيم ونحوه وقال في المغنى2 والأولى تأخيرها احتياطا إلا أن يخشى خروج الوقت أو تكون صلاة العصر في وقت الغيم فإنه
--------------------------------------------
এবং দলীল প্রয়োগের (استدلال) মাধ্যমেই তাকলীদকারী (مقلد) জ্ঞান অর্জন করে।
এই সংজ্ঞার ওপর অনেক প্রশ্ন এবং আপত্তি রয়েছে যার বিস্তারিত আলোচনার স্থান এটি নয়। তবে আমরা এখানে একটি মাত্র প্রশ্ন এবং তার উত্তর উল্লেখ করব, কারণ এর সাথে অনেক ফিকহি মাসয়ালা জড়িয়ে আছে। প্রশ্নের সারমর্ম হলো: ফিকহের অধিকাংশ বিষয়ই ধারণা-প্রসূত (مظنون), কারণ তা সাধারণ অর্থবোধক দলীল (العمومات), একক বর্ণনা (أخبار الآحاد), কিয়াসসমূহ (الأقيسة) এবং অন্যান্য প্রবল ধারণানির্ভর বিষয় (المظنونات) এর ওপর ভিত্তি করে রচিত। তাহলে কীভাবে তারা একে 'ইলম' বা জ্ঞান হিসেবে ব্যক্ত করেন?
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, যেহেতু ধারণা-প্রসূত (مظنون) বিষয়ের ওপর আমল করা আবশ্যক, যেমনটি অকাট্য (المقطوع) বিষয়ের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, তাই আমল করার আবশ্যকতার সাধারণ গুণের কারণে একে 'ইলম' বা জ্ঞানের পর্যায়ভুক্ত করা হয়েছে।
যখন এটি প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন প্রবল ধারণা (الظن) অনুযায়ী আমল করার ওপর অনেক শাখা-উপশাখা তৈরি হয়। এই বিষয়ে আমাদের ইমামদের মূলনীতি সবক্ষেত্রে একরকম থাকেনি। কিছু ক্ষেত্রে তারা বলেছেন: প্রবল ধারণা (الظن) অনুযায়ী আমল করা হবে, আবার কিছু ক্ষেত্রে বলেছেন: নিশ্চিত বিশ্বাস বা ইয়াকিন থাকা আবশ্যক। তবে আবুল আব্বাস ১ তার মূলনীতিতে অটল ছিলেন এবং বলেছেন: শরয়ি সাধারণ সকল বিষয়েই প্রবল ধারণা (الظن) অনুযায়ী আমল করা হবে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
এর কিছু মাসয়ালা নিম্নরূপ।
তার মধ্যে একটি হলো: যখন আমরা তাকে সন্দেহযুক্ত পানি ও পোশাকের ব্যাপারে যাচাই-বাছাই (التحري) করার অনুমতি দেই—একটি দুর্বল (ضعيفة) মতানুসারে, অথবা কিবলার ব্যাপারে সহিহ (صحيح) মতানুসারে—তখন সে তার প্রবল ধারণা (ظن) অনুযায়ী আমল করবে।
অন্যটি হলো: যখন মুসুল্লির প্রবল ধারণায় (ظن) নামাজের ওয়াক্ত হয়েছে বলে মনে হয়, তখন তার জন্য সেই অনুযায়ী আমল করা জায়েজ যদি মেঘ বা অন্য কোনো কারণে নিশ্চিতভাবে জানার পথ না থাকে। আল-মুগনি ২ গ্রন্থে বলা হয়েছে: সতর্কতামূলকভাবে নামাজ বিলম্বিত করাই উত্তম, যদি না ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে অথবা মেঘলা দিনে আসরের নামাজের সময় হয়, কারণ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يستحب التبكير بها وقال ابن تميم1 ومن غلب على ظنه دخول الوقت استحب له التأخير حتى يتيقن وقال الآمدي يستحب له تعجيل المغرب إذا تيقن غروب الشمس أو غلب على ظنه وقال ابن حامد2 وغيره لا يجوز الاجتهاد في دخول وقت الصلاة وقد أومأ إليه أحمد3 فقال: لا يصلى حتى يستقين الزوال.
ومنها: الأسير إذا اشتبهت عليه الأشهر تحرى فصام على غالب ظنه ولم أقف على خلاف في ذلك لأصحابنا أنه لابد من اليقين كما ذكرنا في الصلاة.
ومنها: إذا شك في طهارة الماء أو نجاسته قال غير واحد من الأصحاب يبنى على اليقين ولا عبرة بغلبة الظن.
ومنها: إذا تيقن الطهارة وشك في الحدث أو تيقن الحدث وشك في الطهارة قال غير واحد من الأصحاب يبنى على اليقين ولا فرق بين أن يغلب على ظنه أحدهما أو يتساوى الأمران عنده.
ومنها: المستجمر إذا أتى بالعدد المعتبر فانه يكتفي بغلبة الظن في زوال النجاسة ذكره في المذهب4 وجزم به جماعة من الأصحاب وفي النهاية5 لا بد من العلم.
--------------------------------------------
সময় হওয়ার সাথে সাথে সালাত আদায় করা মুস্তাহাব (مستحب)। ইবনে তামিম বলেন, যার মনে প্রবল ধারণা (غلب على ظنه) তৈরি হয় যে ওয়াক্ত শুরু হয়েছে, তার জন্য নিশ্চিত (يقين) হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করা মুস্তাহাব (مستحب)। আল-আমিদী বলেন, সূর্যাস্ত নিশ্চিত (يقين) হলে বা এ ব্যাপারে প্রবল ধারণা (غلب على ظنه) তৈরি হলে মাগরিবের সালাত দ্রুত আদায় করা মুস্তাহাব (مستحب)। ইবনে হামিদ এবং অন্যান্যরা বলেছেন যে, সালাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (الاجتهاد) করা জায়েজ নয়। ইমাম আহমদও এ দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: জাওয়াল (الزوال) সম্পর্কে নিশ্চিত (يقين) না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে না।
আরেকটি উদাহরণ: একজন বন্দি যখন মাসের ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে পড়ে, তখন সে অনুসন্ধান (تحرى) করবে এবং তার প্রবল ধারণা (غالب ظنه) অনুযায়ী রোজা রাখবে। আমাদের অনুসারীদের (মাযহাবের ফকীহদের) মধ্যে আমি এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত খুঁজে পাইনি যে, নিশ্চয়তা (يقين) জরুরি, যেমনটি আমরা সালাতের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি।
আরেকটি উদাহরণ: যখন পানির পবিত্রতা (طهارة) বা অপবিত্রতা (نجاسة) নিয়ে সন্দেহ হয়, তখন আমাদের অনুসারীদের মধ্য থেকে একাধিক ফকীহ বলেছেন যে, বিষয়টি নিশ্চয়তার (يقين) ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে এবং প্রবল ধারণার (غلبة الظن) কোনো গুরুত্ব নেই।
আরেকটি উদাহরণ: যখন কেউ পবিত্রতার (طهارة) ব্যাপারে নিশ্চিত (يقين) থাকে কিন্তু হদস (الحدث) বা অপবিত্র হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে, অথবা হদস (الحدث) বা অপবিত্র হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত (يقين) থাকে কিন্তু পবিত্রতার (طهارة) ব্যাপারে সন্দেহ করে; তখন একাধিক ফকীহ বলেছেন যে, সে নিশ্চয়তার (يقين) ওপর ভিত্তি করবে। এক্ষেত্রে তার মনে কোনো একটির প্রবল ধারণা (غلب على ظنه) তৈরি হওয়া অথবা উভয়টি সমান মনে হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
আরেকটি উদাহরণ: ইস্তিজমারকারী (المستجمر) যখন শরীয়ত স্বীকৃত নির্দিষ্ট সংখ্যা পূর্ণ করে, তখন অপবিত্রতা (نجاسة) দূর হওয়ার ক্ষেত্রে প্রবল ধারণাই (غلبة الظن) যথেষ্ট বলে গণ্য হবে। 'আল-মাযহাব' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করা হয়েছে এবং আমাদের একদল ফকীহ এ বিষয়ে দৃঢ় মত ব্যক্ত করেছেন। তবে 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) থাকা জরুরি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ومنها: الغسل من الجنابة أو الحيض أو غيرهما من الأغسال. فالمذهب أنه يكفي فيه الظن في الإسباغ وقال بعض أصحابنا يحرك المغتسل خاتمه ليتحقق وصول الماء.
ومنها: ما لو كان معه مال حلال وحرام وجهل قدر الحرام تصدق بما يراه حراما نقله فوزان1 وهذا النص يدل على انه يكفي الظن وقاله ابن الجوزي2.
ومنها: إذا خفيت عليه نجاسته غسل حتى يتيقن غسلها نص عليه الإمام أحمد في رواية إسحاق بن إبراهيم3 ومحمد بن أبى حرب4 وكذلك قال الخرقي5 وابن أبى موسى6 والقاضي7 والأصحاب.
ونقل عن أحمد رحمه الله تعالى رواية في المذي أنه يكفي فيه الظن
--------------------------------------------
এগুলোর মধ্যে রয়েছে: জানাবাত, ঋতুস্রাব বা অন্য কোনো কারণে গোসল করার মাসআলা। মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মত হলো, অঙ্গসমূহ পূর্ণরূপে ধৌত করার (إسباغ) ক্ষেত্রে প্রবল ধারণা (ظن) হওয়াই যথেষ্ট। আমাদের একদল আলেম বলেছেন যে, গোসলকারী ব্যক্তি তার আংটি নাড়িয়ে দেবেন যাতে পানি পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত (يقين) হওয়া যায়।
এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: যদি কারো নিকট হালাল ও হারাম উভয় প্রকার সম্পদ থাকে এবং সে হারামের পরিমাণ সম্পর্কে অজ্ঞ হয়, তবে সে যে পরিমাণকে হারাম মনে করবে তা দান করে দেবে। এটি ফাওরান ১ বর্ণনা করেছেন। এই পাঠ্যটি নির্দেশ করে যে, এখানে প্রবল ধারণা (ظن) হওয়াই যথেষ্ট; এবং ইবনুল জাওযী ২-ও এ কথা বলেছেন।
এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: যখন নাপাকির স্থানটি কারো কাছে অস্পষ্ট থাকে, তখন সে ব্যক্তি তা ধৌত করবে যতক্ষণ না সেটি ধৌত করার বিষয়ে নিশ্চিত (يقين) হয়। ইসহাক বিন ইবরাহিম ৩ এবং মুহাম্মদ বিন আবি হারব ৪-এর বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী ইমাম আহমাদ এই সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) প্রদান করেছেন। একইভাবে আল-খিরাকি ৫, ইবনে আবি মুসা ৬, আল-কাজী ৭ এবং মাযহাবের অন্যান্য আলেমগণও একই কথা বলেছেন।
ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে মযি সম্পর্কে একটি বর্ণনা (رواية) বর্ণিত হয়েছে যে, সে ক্ষেত্রে প্রবল ধারণা (ظن) হওয়াই যথেষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
فيحتمل أن يخرج رواية في بقية النجاسات أنه يكفي فيها الظن وذكره أبو الخطاب1 في الانتصار2 في الجلالة ويحتمل أن يختص ذلك بالمذي خاصة لأنه من النجاسات المعفو عن يسيرها على رواية لكن لازم ذلك أنه يتعدى إلى كل نجاسة يعفى عن يسيرها وهو غير ملتزم.
ومنها: لو تيقن سبق الوجوب وشك في مقدار ما عليه أبرأ ذمته يقينا نص عليه الإمام أحمد.
وقد ذكر أبو المعالي3 لا يخرج عن العهدة إلا بيقين أو ظن وفي الغنية إن شك في ترك الصوم أو النية فليتحر أو ليقض ما ظن أنه تركه فقط وإن احتاط فقضى الجميع كان حسنا وكذا قال في الكفارة والنذر مخالف لقوله في الصوم.
ومنها: لو شك المصلي في عدد الركعات فعن أحمد رحمه الله تعالى في ذلك ثلاث روايات.
إحداهن: اختارها القاضي وأكثر أصحابنا منهم أبو بكر عبد العزيز الأخذ باليقين كالطهارة والطواف ذكره ابن شهاب4 وغيره وذكره صاحب المحرر5 مع أنه ذكر هو وغيره أنه يكفي الظن في وصول الماء إلى ما يجب
--------------------------------------------
সম্ভাবনা রয়েছে যে, অন্যান্য নাপাকির ক্ষেত্রে একটি বর্ণনা (رواية) এমন পাওয়া যাবে যে, সেখানে প্রবল ধারণা (الظن)-ই যথেষ্ট। আবু আল-খাত্তাব এটি আল-ইনতিসার গ্রন্থে ‘জালালাহ’ (নাপাকি ভক্ষণকারী প্রাণী) অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। এবং সম্ভাবনা রয়েছে যে, এটি বিশেষভাবে মাদযি-র (মযি) সাথে সংশ্লিষ্ট; কারণ একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী এটি এমন নাপাকি যার সামান্য পরিমাণ ক্ষমাযোগ্য। কিন্তু এর অনিবার্য পরিণতি এই দাঁড়ায় যে, এটি এমন সকল নাপাকির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে যার সামান্য পরিমাণ ক্ষমাযোগ্য, অথচ তা মেনে নেওয়া হয়নি।
এর মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানে কিন্তু কী পরিমাণ (ওয়াজিব) সে বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে, তবে সে যেন নিশ্চিতভাবে তার দায়মুক্ততা নিশ্চিত করে; ইমাম আহমদ এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য (نص) প্রদান করেছেন।
আবু আল-মা’আলি উল্লেখ করেছেন যে, নিশ্চিত বিশ্বাস (يقين) অথবা প্রবল ধারণা (ظن) ছাড়া দায়মুক্ত হওয়া যায় না। ‘আল-গুনিয়া’ গ্রন্থে রয়েছে: যদি কেউ রোজা ত্যাগ করা বা নিয়ত করার বিষয়ে সন্দেহ করে, তবে সে যেন অনুসন্ধান (تحر) করে অথবা কেবল যা ছেড়েছে বলে প্রবল ধারণা (ظن) হয় তা কাজা করে। আর যদি সে সতর্কতা অবলম্বন করে সবটুকুই কাজা করে তবে তা উত্তম। কাফফারা ও মানতের ক্ষেত্রেও তিনি অনুরূপ বলেছেন, যা রোজার বিষয়ে তার বক্তব্যের পরিপন্থী।
এর মধ্যে রয়েছে: যদি মুসল্লি রাকাত সংখ্যার ব্যাপারে সন্দেহ করে, তবে ইমাম আহমদ (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) থেকে এ বিষয়ে তিনটি বর্ণনা (روايات) রয়েছে।
তার মধ্যে একটি: যা আল-কাদি এবং আমাদের অধিকাংশ সঙ্গী পছন্দ করেছেন, যাদের মধ্যে আবু বকর আব্দুল আজিজও রয়েছেন। আর তা হলো নিশ্চিত বিশ্বাসের (يقين) ওপর ভিত্তি করা, যেমনটি পবিত্রতা ও তাওয়াফের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। ইবনে শিহাব ও অন্যান্যরা এটি উল্লেখ করেছেন। আল-মুহাররার এর লেখকও এটি উল্লেখ করেছেন, যদিও তিনি এবং অন্যরা উল্লেখ করেছেন যে ওয়াজিব স্থানসমূহে পানি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রবল ধারণা (الظن)-ই যথেষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
غسله فيكون المراد بالطهارة إذا شك هل تطهر أم لا فلا بد من اليقين.
والرواية الثانية: الأخذ بالظن.
والرواية الثالثة: يأخذ الإمام بالظن والمنفرد باليقين اختارها أبو محمد المقدسي1 وذكرها المذهب.
وإن سبح به اثنان لزمه الرجوع إليهما سواء غلب على ظنه صدقهما أو لا جزم به أبو محمد وذكره بعضهم نص أحمد ما لم يتيقن صواب نفسه على الروايات كلها.
وقال ابن عقيل2 إذا لم يرجع إليهما إذا قلنا يعمل بغلبة ظنه وإذا جوزنا له العمل بالظن الغالب فانه يجوز له تركه والعمل باليقين ذكره القاضي في الأحكام3 وغيره.
وان شك في ركن فالمذهب العمل باليقين وقال أبو الفرج4 التحري سائغ في الأقوال والأفعال ولا أثر لشك من مسلم نص عليه الإمام أحمد وفيه وجه بلى مع قصر الزمن.
ومنها: إذا شك المتوضىء في عدد الغسلات فالمذهب الأخذ باليقين وهو الأقل وفي النهاية بالأكثر.
ومنها: إذا شك في طلوع الفجر في رمضان فإنه يباح له الأكل حتى
--------------------------------------------
তিনি এটি ধৌত করেছেন; সুতরাং পবিত্রতার উদ্দেশ্য হলো যদি কেউ সন্দেহ করে যে সে পবিত্র হয়েছে কি না, তবে তাকে অবশ্যই নিশ্চিত বিশ্বাসের (اليقين) ওপর ভিত্তি করতে হবে।
এবং দ্বিতীয় বর্ণনা (الرواية): প্রবল ধারণার (الظن) ওপর ভিত্তি করা।
এবং তৃতীয় বর্ণনা (الرواية): ইমাম প্রবল ধারণার (الظن) ওপর এবং একাকী নামাজ আদায়কারী নিশ্চিত বিশ্বাসের (اليقين) ওপর ভিত্তি করবেন। এটি আবু মুহাম্মদ আল-মাকদিসি ১ নির্বাচন করেছেন এবং মাযহাবেও এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
যদি দুইজন ব্যক্তি তসবিহ পাঠের মাধ্যমে তাকে সতর্ক করেন, তবে তাদের দিকে ফিরে আসা তার জন্য আবশ্যক, চাই তাদের সত্যবাদিতার ব্যাপারে তার প্রবল ধারণা (الظن) তৈরি হোক বা না হোক। আবু মুহাম্মদ এ ব্যাপারে দৃঢ় অভিমত ব্যক্ত করেছেন এবং তাদের কেউ কেউ একে ইমাম আহমদের স্পষ্ট বক্তব্য (نص) হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যতক্ষণ না তিনি সকল বর্ণনার (الروايات) বিপরীতে নিজের সঠিক হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত (يقين) হন।
ইবন আকিল ২ বলেন, যদি আমরা বলি যে সে তার প্রবল ধারণার (غلبة ظنه) ওপর আমল করবে, তবে সে তাদের দিকে ফিরে যাবে না। আর যখন আমরা তার জন্য প্রবল ধারণার (الظن الغالب) ওপর আমল করা জায়েজ করি, তখন তার জন্য সেটি ত্যাগ করে নিশ্চিত বিশ্বাসের (اليقين) ওপর আমল করাও জায়েজ। কাজী এটি 'আহকামুল কুরআন' ৩ এবং অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
আর যদি কেউ কোনো রুকনের ব্যাপারে সন্দেহ করে, তবে মাযহাবের সিদ্ধান্ত হলো নিশ্চিত বিশ্বাসের (اليقين) ওপর আমল করা। আবু আল-ফারাজ ৪ বলেন, কথা ও কাজের ক্ষেত্রে অনুসন্ধান (التحري) করা বৈধ। আর একজন মুসলিমের সন্দেহের কোনো প্রভাব নেই, ইমাম আহমদ এ ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য (نص) দিয়েছেন। তবে সময় সংক্ষিপ্ত হলে এতে ভিন্ন মতও রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে: ওজুকারী ব্যক্তি যদি ধৌত করার সংখ্যার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে, তবে মাযহাব অনুযায়ী নিশ্চিত বিশ্বাসের (اليقين) ওপর ভিত্তি করতে হবে, যা হলো সর্বনিম্ন সংখ্যা। তবে 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে সর্বোচ্চ সংখ্যার কথা বলা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে: যদি রমজান মাসে ফজর উদিত হওয়ার ব্যাপারে কেউ সন্দেহ করে, তবে তার জন্য খাবার গ্রহণ বৈধ যতক্ষণ না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يستقين طلوعه نص عليه أحمد في رواية عبد الله1 ولا عبرة في ذلك بغلبة. الظن حتى يتيقن طلوعه نص عليه بالقرائن ونحوها ما لم يكن مستندا إلى خبر ثقة بالطلوع.
ومنها: الشك في غروب الشمس والمذهب يباح له الفطر بغلبة الظن.
وفي التلخيص2 يجوز الأكل بالاجتهاد في أول اليوم ولا يجوز في آخره إلا بيقين ولو أكل ولم يتيقن لزمه القضاء في الآخر ولم يلزمه في الأول انتهى وهو ضعيف.
ومنها: إذا رأى منيا في ثوب لا ينام فيه غيره قال أبو المعالي والأزجي3 لا بطاهر فاغتسل له ويعمل في الإعارة باليقين وقيل بظنه.
ومنها: من أراد الصدقة بماله كله وكان وحده وعلم من نفسه حسن التوكل والصبر عن المسألة جاز له ذلك بل يستحب له جزم به في منتهى الغاية4 وغيرها وإن لم يعلم لم يجز له قال أبو الخطاب وغيره قاله أصحابنا.
قلت: وصرح كل من وقفت على كلامه بالعلم في الصورتين.
ومنها: إذا شك الطائف في عدد الطواف فالمنصوص عن الإمام أحمد
--------------------------------------------
সূর্যোদয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক; ইমাম আহমদ আবদুল্লাহর বর্ণনায় এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এ ক্ষেত্রে সূর্যোদয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রবল ধারণার (غلبة الظن) কোনো গুরুত্ব নেই। এটি আলামত ও এই জাতীয় বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বর্ণিত হয়েছে, যদি না তা সূর্যোদয়ের ব্যাপারে কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির সংবাদের ওপর ভিত্তি করে হয়।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: সূর্যাস্তের ব্যাপারে সন্দেহ হওয়া; এমতাবস্থায় মাযহাবের অভিমত হলো, প্রবল ধারণার (غلبة الظن) ভিত্তিতে তার জন্য ইফতার করা বৈধ।
'আত-তালখিস' গ্রন্থে বলা হয়েছে, দিনের শুরুতে ইজতিহাদের ভিত্তিতে আহার করা বৈধ, তবে দিনের শেষে নিশ্চিত হওয়া (يقين) ব্যতীত তা বৈধ নয়। যদি কেউ আহার করে এবং নিশ্চিত না হয়, তবে দিনের শেষের ক্ষেত্রে তার ওপর কাজা ওয়াজিব হবে, কিন্তু দিনের শুরুর ক্ষেত্রে হবে না। এখানেই কথা শেষ, তবে এই মতটি দুর্বল (ضعيف)।
এর অন্তর্ভুক্ত আরেকটি বিষয়: যখন কেউ এমন পোশাকে বীর্য দেখে যাতে সে ছাড়া অন্য কেউ ঘুমায় না। আবু আল-মা'আলি এবং আল-আজজি বলেছেন, তা পবিত্র না হওয়ায় সেটির কারণে তাকে গোসল করতে হবে। আর ধার দেওয়ার ক্ষেত্রে নিশ্চিত বিশ্বাসের (يقين) ওপর আমল করা হবে, তবে মতান্তরে ধারণার (ظن) ওপর ভিত্তি করে আমল করার কথাও বলা হয়েছে।
এর অন্তর্ভুক্ত আরেকটি বিষয়: যে ব্যক্তি তার সমস্ত সম্পদ সদকা করতে চায় এবং সে যদি একাকী (পরিবারহীন) হয় এবং নিজের মধ্যে উত্তম তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও মানুষের কাছে হাত পাতা থেকে বিরত থাকার ধৈর্য অনুভব করে, তবে তার জন্য এটি বৈধ; বরং মুস্তাহাব। 'মুনতাহাল গায়াহ' ও অন্যান্য গ্রন্থে এটি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু যদি সে নিজের ব্যাপারে এমনটি নিশ্চিত না জানে, তবে তার জন্য এটি বৈধ নয়। আবু আল-খাত্তাব ও অন্যান্যরা বলেছেন যে, আমাদের আসহাবগণ (মাযহাবের ফকিহগণ) এটি বলেছেন।
আমি বলি: আমি যাদের বক্তব্যেরই সন্ধান পেয়েছি, তারা উভয় সুরতেই ইলম বা নিশ্চিত জ্ঞানের (علم) কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
এর অন্তর্ভুক্ত আরেকটি বিষয়: যদি তওয়াফকারী তওয়াফের সংখ্যার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে, তবে ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত নস বা সুস্পষ্ট বিধান হলো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الأخذ باليقين وذكر أبو بكر عبد العزيز1 وغيره الأخذ بالظن وهو رواية عن أحمد رحمه الله تعالى وما قاله أبو بكر هنا من الأخذ بالظن مخالف له لما قاله في الشك في عدد الركعات وأنه يبنى على اليقين.
ومنها: إذا شك رامي حصاة الجمار في حصاة من أي الجمار تركها قال غير واحد من الأصحاب يبنى على اليقين.
ومنها: أن حصى الرمي لا بد أن يحصل في المرمى وهل يشترط علمه بحصوله في المرمى أو ظنه في المسألة قولان الأصح العلم.
ومنها: أن المذهب المنصوص عن أحمد الذي نقله الجماعة أنه لا يصح بيع ما قصد به الحرام كالعصير لم يتخذه خمرا ونحوه قال غير واحد من الأصحاب إذا علم ذلك ولنا قول آخر أو ظنه.
قال أبو العباس مؤيدا لأصله معارضا لما قاله الأصحاب في هذه المسألة لأنهم قالوا: يعنى الأصحاب لو ظن الآجر أن المستأجر يستأجر الدار لمعصية كبيع الخمر ونحوه لم يجز له أن يؤجره تلك الدار ولم تصح والإجارة والبيع سواء والله أعلم.
ومنها: أن التوكيل في الخصومة جائز وهو المنصوص عن الإمام أحمد وقاله الأصحاب ويروى عن على نقله حرب2.
لكن قال ابن عقيل في فنونه3 لا يصح التوكيل ممن علم ظلم موكله في
--------------------------------------------
নিশ্চয়তার (اليقين) ওপর ভিত্তি করা; আবু বকর আব্দুল আজিজ এবং অন্যান্যরা প্রবল ধারণার (الظن) ওপর ভিত্তি করার কথা উল্লেখ করেছেন, যা ইমাম আহমাদ (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)। এখানে আবু বকর প্রবল ধারণার (الظن) ওপর ভিত্তি করার বিষয়ে যা বলেছেন, তা রাকাআত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহের (الشك) ক্ষেত্রে তার নিজের বক্তব্যের পরিপন্থী; যেখানে তিনি বলেছিলেন যে, ভিত্তিকে নিশ্চয়তার (اليقين) ওপর স্থাপন করতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে: যদি পাথর নিক্ষেপকারী জামরাতে পাথর নিক্ষেপের সময় কোনো একটি পাথর নিক্ষেপ ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে সন্দেহে (الشك) পতিত হয় যে, সেটি কোন জামরার ছিল, তবে আলেমদের (সাহাব) মধ্যে একাধিক ব্যক্তি বলেছেন যে, একে নিশ্চয়তার (اليقিন) ওপর ভিত্তি করতে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে: পাথর নিক্ষেপ অবশ্যই নিক্ষেপের স্থানে পড়তে হবে। এখন সেটি নির্দিষ্ট স্থানে পড়ার ক্ষেত্রে কি নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) শর্ত নাকি প্রবল ধারণা (الظن)? এই মাসআলায় দুটি মত রয়েছে, যার মধ্যে অধিকতর সঠিক (الأصح) মতটি হলো নিশ্চিত জ্ঞান (العلم)।
এর মধ্যে রয়েছে: ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত ও জামাত কর্তৃক হস্তান্তরিত সুষ্পষ্ট মাযহাব (المذهب) হলো, যা দিয়ে হারামের সংকল্প করা হয় তা বিক্রি করা শুদ্ধ (يصح) নয়; যেমন এমন ফলের রস যা দিয়ে মদ তৈরি করা হবে এবং এই জাতীয় বিষয়। একাধিক আলেম বলেছেন, এটি তখন হবে যখন তা নিশ্চিতভাবে জানা (العلم) যাবে। আমাদের (মাযহাবের) আরেকটি মত হলো, প্রবল ধারণা (الظن) থাকলেও একই বিধান।
আবু আব্বাস তার মূলনীতির সমর্থন করে এবং এই মাসআলায় আলেমদের (আসহাব) বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন: কারণ তারা অর্থাৎ আলেমগণ বলেছেন—যদি বাড়ি ভাড়া দাতা প্রবল ধারণা (الظن) করেন যে, ভাড়াটে ব্যক্তি গুনাহের কাজের জন্য (যেমন মদ বিক্রি বা অনুরূপ) বাড়িটি ভাড়া নিচ্ছে, তবে তার জন্য সেই বাড়ি ভাড়া দেওয়া বৈধ (يجوز) হবে না এবং সেই চুক্তি শুদ্ধ (تصح) হবে না। ভাড়া ও বিক্রয় উভয়ই সমান। আল্লাহ ভালো জানেন।
এর মধ্যে রয়েছে: বিবাদ মেটানোর ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিয়োগ (التوكيل) বৈধ (جائز); এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত সুষ্পষ্ট (المنصوص) মত এবং আলেমগণও এটিই বলেছেন। এটি আলী (রা.) থেকেও বর্ণিত (يروى) হয়েছে, যা হারব বর্ণনা করেছেন।
কিন্তু ইবনে আকিল তার কিতাবুল ফুনুন-এ বলেছেন, যার মক্কেলের অন্যায়ের কথা জানা আছে তার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিয়োগ (التوكيل) শুদ্ধ (تصح) হবে না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الخصومة وقال القاضى قوله تعالى: {وَلا تَكُنْ لِلْخَائِنِينَ خَصِيماً} [النساء: 105] يدل على أنه لا يجوز لأحد أن يخاصم عن غيره في إثبات حق أو نفيه وهو غير عالم بحقيقة أمره وكذا في المغنى في الصلح عن المنكر يشترط أن يعلم صدق المدعى فلا يحل دعوى ما لا يعلم ثبوته.
ومنها: المكره الذي لا يترتب على أقواله وأفعاله شيء هل يشترط فيه أن يمسه بشيء من العذاب أم يكفي في كونه مكرها التهديد بالضرب والحبس وأخذ مال يضره من قادر يغلب على ظنه وقوع ما هدده به؟
في المسألة روايتان الأصح غلبة الظن وقال أبو العباس ولو ظن أنه يضره بلا تهديد في نفسه أو ماله أو أهله فإنه يكون مكرها.
ومنها: لو أريدت نفس إنسان أو ماله أو حرمته دفع عن تلك بأسهل ما يعلم أنه يندفع به قاله أبو محمد المقدسي والسامري1 وغيرهما وقال في الترغيب2 والمحرر يدفع بأسهل ما يظن أنه يندفع به واختار أبو محمد المقدسي وغيره أن له دفعه بالأسهل إن خاف أن يبدره3.
ومنها: لو أدخل إلى جوفه شيئا وقلنا يفطر به فيعتبر العلم بالواصل إلى جوفه وجزم أبو البركات في منتهى الغاية بأنه يكفي الظن.
ومنها: لو رمى صيدا قال غير واحد وتحقق الإصابة وقال بعضهم وعلم الإصابة وكلاهما بمعنى فغاب عنه ثم وجده ميتا لا أثر به لغير السهم فهل يحل أم لا؟
في المسألة ثلاث روايات ثالثها إن غاب نهارا حل وإن غاب ليلا لم يحل وإن وجد فيه غير أثر سهمه مما يحتمل أنه أعان على قتله حرم قاله غير
--------------------------------------------
বিরোধ (বা বিবাদ)। আল-কাজী বলেছেন যে, আল্লাহর বাণী: {وَلا تَكُنْ لِلْخَائِنِينَ خَصِيماً} [আন-নিসা: ১০৫] নির্দেশ করে যে, কোনো হকের প্রমাণ বা তা অস্বীকার করার ক্ষেত্রে অন্য কারো পক্ষ হয়ে বিবাদ করা কারো জন্য জায়েজ নয়, যখন সে বিষয়টি সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান রাখে না। আল-মুগনি-তে অস্বীকারকারীর সাথে সন্ধির ক্ষেত্রেও অনুরূপ বলা হয়েছে যে, সেখানে বাদীর সত্যতা জানার শর্ত রয়েছে; সুতরাং যা প্রমাণিত হওয়ার কথা জানা নেই, সে বিষয়ে দাবি করা হালাল হবে না।
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত: বাধ্যকারী (مكره), যার কথা বা কাজের ওপর কোনো হুকুম বর্তায় না; তার ক্ষেত্রে কি কোনো প্রকার আজাব স্পর্শ করা শর্ত, নাকি বাধ্য হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সামর্থ্যবান ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রহার, কারাবরণ বা তার ক্ষতি হয় এমন সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকিই যথেষ্ট, যখন তার প্রবল ধারণা (غلبة الظن) হয় যে হুমকিদাতা তা কার্যকর করবে?
এই মাসআলায় দুটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে। অধিকতর সঠিক মত হলো প্রবল ধারণা (غلبة الظن) হওয়া। আবু আল-আব্বাস বলেছেন, যদি সে মনে করে যে তাকে হুমকি না দিলেও তার জান, মাল বা পরিবারের ক্ষতি করা হবে, তবে সে বাধ্য হিসেবে গণ্য হবে।
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত: যদি কোনো ব্যক্তির জান, মাল বা ইজ্জত আক্রান্ত হওয়ার উপক্রম হয়, তবে সে তা প্রতিহত করবে এমন সহজতম উপায়ে যার মাধ্যমে তা দূর হবে বলে সে জানে। এ কথা বলেছেন আবু মুহাম্মদ আল-মাকদিসি, আস-সামেরি এবং অন্যান্যরা। তারগিব এবং আল-মুহাররার গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, তা প্রতিহত করবে এমন সহজতম উপায়ে যা দ্বারা তা দূর হবে বলে ধারণা (ظن) করা হয়। আবু মুহাম্মদ আল-মাকদিসি ও অন্যান্যরা এই মত বেছে নিয়েছেন যে, যদি সে আশঙ্কা করে যে আক্রমণকারী তাকে দ্রুত আঘাত করবে, তবে সে সহজতম উপায়ে তা প্রতিহত করবে।
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত: যদি কেউ তার পেটে কিছু প্রবেশ করায় এবং আমরা বলি যে এর দ্বারা রোজা ভেঙে যায়, তবে পেটে কিছু পৌঁছানোর বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান (علم) থাকা ধর্তব্য। আবু আল-বারাকাত মুনতাহা আল-গায়াহ গ্রন্থে দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, এক্ষেত্রে ধারণা (ظن) হওয়াই যথেষ্ট।
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত: যদি কেউ কোনো শিকারকে তীর নিক্ষেপ করে—একাধিক আলিম বলেছেন, তীরের আঘাতটি নিশ্চিত হওয়া (تحقق), আবার কেউ কেউ বলেছেন তীরের আঘাত সম্পর্কে জানা (علم), যা উভয়ই একই অর্থ বহন করে—অতঃপর সেটি তার দৃষ্টির আড়ালে চলে যায় এবং পরে সেটিকে মৃত অবস্থায় পায় যেখানে তীরের আঘাত ছাড়া অন্য কোনো জখমের চিহ্ন নেই; তবে কি সেটি হালাল হবে কি না?
এই মাসআলায় তিনটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে; তৃতীয়টি হলো: যদি তা দিনের বেলা দৃষ্টির আড়ালে যায় তবে তা হালাল হবে, আর যদি রাতের বেলা আড়ালে যায় তবে হালাল হবে না। আর যদি তীরের আঘাত ছাড়া অন্য কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় যা সেটি হত্যায় সাহায্য করে থাকতে পারে বলে সম্ভাবনা থাকে, তবে তা হারাম হবে; এ কথা বলেছেন অন্যান্যেরা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
واحد من الأصحاب وعزى إلى نص أحمد.
ولم يقولوا ووجد فيه أثرا يغلب على الظن أنه أعان على قتله كما قالوا في السهم المسموم قال بعض المتأخرين من أصحابنا ويتوجه التسوية بين السهم والأثر لعدم الفرق وأن المراد بالظن في السهم المسموم الاحتمال.
ومنها: لو قال له على ألف في علمي أو في ظني لزمه في الأول لا الثاني والله أعلم.
ومنها: الصائم إذا غلب على ظنه أنه إذا قبل أنزل حرم عليه التقبيل ذكره الأصحاب محل وفاق.
ومنها: لو غاب عن مطلقته المحرمة عليه حتى تنكح زوجا غيره ثم أتته فذكرت أنها نكحت من أصابها وانقضت عدتها منه وكان ذلك ممكنا فله نكاحها إذا غلب على ظنه صدقها قاله الأصحاب وفي الترغيب وقيل لا يقبل قولها إلا أن تكون معروفة بالثقة والديانة ولو كذبها الزوج الثاني في الوطء فالقول قوله في تنصيف المهر والقول قولها في إباحتها للأول لأن قولها في الوطء مقبول ولو ادعت نكاح حاضر وأصابته وأنكرها أصل النكاح والإصابة حلت للأول في الأصح وهذان الفرعان مشكلان جدا.
ومنها: إذا شك في عدد الطلاق أو عدد الرضعات بني على اليقين.
ومنها: ما نقل عن الإمام أحمد رضي الله عنه فيمن تعرض عليه آنية مشتبهة فقال إن علم أنه حرام بعينه فلا يأكل منها.
ومنها: الشهادة هل تجوز بغلبة الظن أم لا بد من اليقين.
قال القاضي أبو يعلى ما أمكن تحمله مطلقا لا يجوز بغلبة الظن وما لا يمكن جاز بغلبة الظن وهو الاستفاضة ومنع في شهادة الأعمى أن الشهادة طريقها غلبة الظن قال بل القطع واليقين وكذلك قال الشيخ أبو محمد في شهادة الأخرس وقال الشيخ أبو محمد في شهادة الملكية يجوز بغلبة الظن لأن الظن يسمى علما قال الله تعالى: {فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ فَلا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى الْكُفَّارِ} [الممتحنة: 10] ولا سبيل إلى العلم اليقيني فجاز بالظن فيؤخذ من هذا أن شهادة
সাথীগণ (الأصحاب)-এর একজন এবং এটি আহমাদ [ইমাম আহমাদ]-এর ভাষ্যের দিকে নিসবত করা হয়েছে।
এবং তারা বলেননি যে সেখানে এমন কোনো চিহ্ন (أثر) পাওয়া গেছে যা থেকে প্রবল ধারণা (غلبة الظن) হয় যে সে তাকে হত্যা করতে সাহায্য করেছে, যেমনটি তারা বিষাক্ত তীরের ক্ষেত্রে বলেছেন। আমাদের পরবর্তী (متأخرون) সাথীদের কেউ কেউ বলেছেন, তীর এবং চিহ্নের মধ্যে সমতা বজায় রাখা সমীচীন, কারণ এ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; আর বিষাক্ত তীরের ক্ষেত্রে 'ধারণা' (ظن) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সম্ভাবনা (احتمال)।
এর মধ্য হতে একটি হলো: যদি কেউ বলে, "আমার জানামতে (علم) তার আমার কাছে এক হাজার পাওনা আছে" অথবা "আমার ধারণা মতে (ظن)", তবে প্রথমটির ক্ষেত্রে সে দায়বদ্ধ হবে, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে নয়। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
এর মধ্য হতে একটি হলো: রোজা পালনকারী যদি প্রবলভাবে ধারণা (غلبة الظن) করে যে, চুম্বন করলে তার বীর্যপাত হবে, তবে তার জন্য চুম্বন করা হারাম (حرام); সাথীগণ (الأصحاب) এটি ঐকমত্যের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এর মধ্য হতে একটি হলো: যদি কেউ তার এমন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর থেকে অনুপস্থিত থাকে যে তার জন্য হারাম (حرام) হয়ে গেছে, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে, অতঃপর সে (মহিলা) তার কাছে এসে উল্লেখ করে যে সে এমন একজনকে বিয়ে করেছিল যে তার সাথে সহবাস করেছে এবং তার ইদ্দত শেষ হয়েছে, আর বিষয়টি যদি সম্ভবপর হয়, তবে স্বামী তাকে বিয়ে করতে পারে যদি তার সততার ব্যাপারে স্বামীর প্রবল ধারণা (غلبة الظن) হয়। সাথীগণ (الأصحاب) এটি বলেছেন। 'আত-তারগিব' গ্রন্থে আছে, বলা হয়েছে: তার কথা গ্রহণ করা হবে না যতক্ষণ না সে নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) এবং দ্বীনদারির (ديانة) জন্য পরিচিত হয়। আর যদি দ্বিতীয় স্বামী সহবাসের বিষয়টি অস্বীকার করে, তবে মোহর অর্ধেক করার ক্ষেত্রে স্বামীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে এবং প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হওয়ার ক্ষেত্রে স্ত্রীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে, কারণ সহবাসের বিষয়ে স্ত্রীর কথা গ্রহণযোগ্য। আর যদি সে কোনো উপস্থিত ব্যক্তির সাথে বিবাহ ও সহবাসের দাবি করে এবং ঐ ব্যক্তি বিবাহের মূল ভিত্তি ও সহবাস অস্বীকার করে, তবে বিশুদ্ধতর (أصح) মত অনুযায়ী সে প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে; আর এই দুটি শাখা-মাসআলা অত্যন্ত জটিল।
এর মধ্য হতে একটি হলো: যদি তালাকের সংখ্যা বা দুগ্ধপানের সংখ্যার ব্যাপারে সন্দেহ (شك) হয়, তবে তা নিশ্চিতের (يقين) ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে।
এর মধ্য হতে একটি হলো: যা ইমাম আহমাদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে যার সামনে সন্দেহযুক্ত পাত্র পেশ করা হয়েছে; তিনি বলেছেন, যদি সে নিশ্চিতভাবে জানে (علم) যে এটি নির্দিষ্টভাবে হারাম (حرام), তবে সে তা থেকে আহার করবে না।
এর মধ্য হতে একটি হলো: সাক্ষ্য প্রদান কি প্রবল ধারণার (غلبة الظن) ভিত্তিতে জায়েজ (جائز), নাকি নিশ্চিত জ্ঞানের (يقين) প্রয়োজনীয়তা রয়েছে?
কাজী আবু ইয়ালা বলেছেন, যা সাধারণভাবে গ্রহণ করা (تحمل) সম্ভব, তা প্রবল ধারণার (غلبة الظن) ভিত্তিতে জায়েজ (جائز) নয়; আর যা (নিশ্চিতভাবে) সম্ভব নয়, তা প্রবল ধারণার (غلبة الظن) ভিত্তিতে জায়েজ (جائز), আর তা হলো প্রসিদ্ধি (استفاضة)। তিনি অন্ধ ব্যক্তির সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে এটি নিষেধ করেছেন যে সাক্ষ্যের পথ হলো প্রবল ধারণা (غلبة الظن); বরং তিনি বলেছেন তা হতে হবে অকাট্য (قطع) এবং নিশ্চিত (يقين)। অনুরূপভাবে শেখ আবু মুহাম্মদ বোবা ব্যক্তির সাক্ষ্যের ব্যাপারে বলেছেন। শেখ আবু মুহাম্মদ মালিকানা সংক্রান্ত সাক্ষ্যের ব্যাপারে বলেছেন যে, এটি প্রবল ধারণার (غلبة الظن) ভিত্তিতে জায়েজ (جائز), কারণ ধারণাকে (ظن) অনেক সময় জ্ঞান (علم) বলা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যদি তোমরা তাদের মুমিন বলে জানতে (علم) পার, তবে তাদের কাফিরদের কাছে ফিরিয়ে দিও না।" [আল-মুমতাহিনা: ১০]। এখানে নিশ্চিত জ্ঞান (علم يقيني) লাভের কোনো উপায় নেই, তাই তা ধারণার (ظن) ভিত্তিতে জায়েজ করা হয়েছে। এ থেকে গ্রহণ করা যায় যে সাক্ষ্য...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الاستفاضة تجوز بغلبة الظن وفي غيرها قولان أخذا من قول الشيخ أبى محمد إن الظن يسمى علما. يؤيده أن لنا قولا في جواز الشهادة في غير الاستفاضة بغلبة الظن أن الشاهد إذا رأى خطه متيقنا له ولم يذكر الشهادة هل له أن يشهد أم لا في المسألة ثلاث روايات ثالثها يشهد إن كان في حفظه وحرزه وكذلك الخلاف في الحاكم.
ومنها: إذا وجد سماعه بخط يثق به وغلب على ظنه أنه سمعه جاز له أن يرويه قاله أكثر أصحابنا وغيرهم قال الإمام أحمد في رواية الحسين بن حسان1 في الرجل يكون له السماع مع الرجل فلا بأس أن يأخذ به بعد سنين إذا عرف الخط وقيل له فإذا عرف كتابة من يثق به فقال كل ذلك أرجو فإن الزيادة في الحديث لا تكاد تخفى لأن الأخبار مبنية على حسن الظن وغلبته.
ومنها: هل للوصي أن يوصى إذا لم يجعل إليه ذلك أم لا؟
في المسألة روايتان أشهرهما عدم الجواز قال الحارثي2 ولو غلب على الظن أن القاضي يستند إلى من ليس أهلا أو أنه ظالم اتجه جواز الإيصاء قولا واحدا بل يجب لما فيه من حفظ الأمانة وصون المال عن التلف والضياع.
ومن المسائل التي يعمل فيها بغلبة الظن الحكم بالقرائن كاللقطة3 والركاز4 والبيع بالمعاطاة5 والوقف بالفعل الدال عليه ودفع الثوب إلى القصار والخياط والدخول إلى الحمام من غير تقدير أجرة ولهم عادة بأجرة معينة وغير ذلك من الأفعال الدالة على الأقوال وهي كثيرة جدا.
--------------------------------------------
ব্যাপক প্রসিদ্ধি (استفاضة) প্রবল ধারণার ভিত্তিতে জায়েজ এবং এ ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে দুটি মত রয়েছে, যা শায়খ আবু মুহাম্মাদের এই উক্তি থেকে গ্রহণ করা হয়েছে যে—ধারণাকে জ্ঞান বলা হয়। এটি এই বিষয় দ্বারা সমর্থিত যে, ব্যাপক প্রসিদ্ধি (استفاضة) বহির্ভূত বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে প্রবল ধারণার ভিত্তিতে আমাদের একটি মত রয়েছে। কোনো সাক্ষী যদি তার নিজের লেখা নিশ্চিতভাবে দেখতে পায় কিন্তু সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়টি তার স্মরণে না থাকে, তবে কি সে সাক্ষ্য দিতে পারবে? এ বিষয়ে তিনটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে; তৃতীয়টি হলো—সে সাক্ষ্য দেবে যদি সেটি তার সংরক্ষণ ও হেফাজতে থাকে। বিচারকের ক্ষেত্রেও অনুরূপ মতভেদ রয়েছে।
আরেকটি হলো: যদি কেউ তার শ্রুত বিষয় (سماع) এমন কোনো হস্তাক্ষরে পায় যার প্রতি সে আস্থাশীল এবং তার মনে প্রবল ধারণা জন্মে যে সে তা শুনেছে, তবে সেটি বর্ণনা করা (روى) তার জন্য জায়েজ। আমাদের অধিকাংশ আসহাব ও অন্যান্যরা একথাই বলেছেন। ইমাম আহমাদ হুসাইন ইবনুল হাসসানের বর্ণনায় (رواية) এমন ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যার অন্য একজনের সাথে হাদিস শ্রবণের (سماع) সুযোগ হয়েছে: যদি সে হস্তাক্ষর চিনতে পারে তবে বহু বছর পরেও তা গ্রহণ করতে কোনো অসুবিধা নেই। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, যদি সে এমন ব্যক্তির হাতের লেখা চিনতে পারে যাকে সে নির্ভরযোগ্য (ثقة) মনে করে? তিনি বললেন, "এসবই আমি আশা করি, কেননা হাদিসের মধ্যে অতিরিক্ত সংযোজন (زيادة) প্রায়শই গোপন থাকে না; কারণ সংবাদ (أخبار) সমূহের ভিত্তি হলো সুধারণা এবং এর প্রবলতার ওপর।"
এর মধ্যে আরও রয়েছে: ওসির (তত্ত্বাবধায়ক) জন্য কি অন্য কাউকে ওসি বানিয়ে যাওয়া জায়েজ যদি তাকে সেই দায়িত্ব না দেওয়া হয়? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে, যার মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলো নাজায়েজ হওয়া। আল-হারিথি বলেন, যদি প্রবল ধারণা হয় যে বিচারক এমন কারো ওপর নির্ভর করবেন যে যোগ্য নয় অথবা সে জালেম, তবে ওসি নিযুক্ত করা জায়েজ হওয়ার বিষয়টিই একমাত্র মত হিসেবে গণ্য হবে; বরং আমানত রক্ষা এবং সম্পদকে ধ্বংস ও অপচয় থেকে বাঁচানোর খাতিরে এটি ওয়াজিব হয়ে দাঁড়াবে।
যেসব বিষয়ে প্রবল ধারণার ওপর ভিত্তি করে আমল করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো আলামত বা চিহ্নের ভিত্তিতে ফয়সালা করা; যেমন—কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু, ভূগর্ভস্থ গুপ্তধন, লেনদেনের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়, এমন কাজের মাধ্যমে ওয়াকফ করা যা তার অর্থ প্রকাশ করে, ধোপার কাছে বা দর্জির কাছে কাপড় দেওয়া এবং পারিশ্রমিক নির্ধারণ না করেই গোসলখানায় প্রবেশ করা যেখানে তাদের নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের প্রথা রয়েছে। এছাড়া আরও অনেক কাজ রয়েছে যা মৌখিক উক্তির অর্থ প্রকাশ করে এবং এ ধরনের দৃষ্টান্ত প্রচুর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ومن الحكم بالقرائن دفع ما يصلح للزوج أو للزوجة إذا تنازعا فيه ودفع ما يصلح لكل صانع.
وفي بعض هذه الصور خلاف ضعيف. ومسائل كثيرة من هذا النمط في الدعاوى.
ومن المسائل التي يعمل فيها بغلبة الظن أيضا الحكم بالشاهدين أو بالشاهد واليمين أو الأربعة والحكم بالشاهد حيث قلنا به وبالمرأة الواحدة حيث قلنا بها والعمل بخبر الواحد حيث قلنا به والمجتهد والحاكم إذا حدثت له واقعة فإنه يجب عليه العمل بما يغلب على ظنه.
ومنها: المستحاضة إذا قلنا بالمذهب المشهور أنها تجلس ستا أو سبعا فالمذهب أنها تفعل ذلك بما تغلب على ظنها لا بالتشهى.
ومنها: إذا أعتق عبدا وغلب على ظنه أنه يزنى أو يلحق بدار الحرب فإنه يحرم عليه إعتاقه ويصح ذكره صاحب المغنى.
ومنها: ما قاله صاحب التلخيص والرعاية1 يجوز للرجل دخول الحمام مع ظن السلامة ولكن قال أحمد لرجل أراد دخول الحمام إن علمت أن كل من في الحمام عليه إزار فادخله وإلا فلا تدخله.
ومنها: أن فرض الكفاية واجب على الجميع على المشهور ويسقط بفعل البعض فان غلب على ظن جماعة أن غيرهم يقوم بذلك سقط عنهم ذكره القاضي وغيره.
ومنها: أن النوم المستثقل ينقض الوضوء لأنه مظنة خروج الحدث. وان كان الأصل عدم خروجه وبقاء الطهارة هذا المذهب المشهور وحكى ابن أبى موسى في شرح الخرقى2 وجها أن النوم نفسه حدث لكن يعفى عن
--------------------------------------------
পারিপার্শ্বিক আলামতের (قرائن) ভিত্তিতে ফয়সালা প্রদানের অন্তর্ভুক্ত হলো—স্বামী বা স্ত্রীর মাঝে কোনো বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে যার জন্য যা উপযুক্ত তা তাকে প্রদান করা এবং প্রত্যেক কারিগরের জন্য যা উপযুক্ত তা তাকে প্রদান করা।
এই চিত্রগুলোর কোনো কোনোটিতে দুর্বল (ضعيف) মতভেদ রয়েছে। মামলা-মোকদ্দমার ক্ষেত্রে এই জাতীয় বহু মাসয়ালা বিদ্যমান রয়েছে।
যে সকল মাসয়ালায় প্রবল ধারণার (غلبة الظن) ওপর ভিত্তি করে আমল করা হয়, তার মধ্যে আরও রয়েছে—দুজন সাক্ষীর মাধ্যমে, অথবা একজন সাক্ষী ও শপথের মাধ্যমে, অথবা চারজন সাক্ষীর মাধ্যমে ফয়সালা করা। এছাড়া যেখানে আমরা অনুমোদন দিয়েছি সেখানে একজন সাক্ষীর মাধ্যমে এবং যেখানে আমরা অনুমোদন দিয়েছি সেখানে একজন মহিলার সাক্ষীর মাধ্যমে ফয়সালা প্রদান করা। আর যেখানে আমরা প্রযোজ্য বলেছি সেখানে একক বর্ণনার (خبر الواحد) ওপর আমল করা। অনুরূপভাবে মুজতাহিদ এবং বিচারকের সামনে যখন কোনো ঘটনা ঘটে, তখন তার প্রবল ধারণায় যা প্রাধান্য পায় সে অনুযায়ী আমল করা তার জন্য ওয়াজিব।
তার অন্তর্ভুক্ত হলো: মুস্তাহাজা নারী (প্রদর রোগে আক্রান্ত), যদি আমরা প্রসিদ্ধ (المشهور) মাযহাব অনুযায়ী বলি যে সে ছয় বা সাত দিন অপেক্ষা করবে, তবে মাযহাবের বক্তব্য হলো—সে তা নিজের প্রবল ধারণার ভিত্তিতে নির্ধারণ করবে, নিজের খেয়ালখুশি মতো নয়।
তার অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কেউ কোনো দাসকে মুক্ত করে এবং তার প্রবল ধারণা হয় যে সে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে অথবা দারুল হারবে চলে যাবে, তবে তার জন্য তাকে মুক্ত করা হারাম, যদিও মুক্তি প্রদান সঠিক হবে; এটি আল-মুগনি গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন।
তার অন্তর্ভুক্ত হলো: আত-তালখিস এবং আর-রিয়ায়াহ গ্রন্থের লেখক যা বলেছেন যে, নিরাপত্তার ধারণা থাকলে কোনো ব্যক্তির জন্য হামামে (গণস্নানাগার) প্রবেশ করা জায়েজ। কিন্তু ইমাম আহমাদ হামামে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন, "যদি তুমি জানো যে হামামে অবস্থানরত প্রত্যেকের পরনে লুঙ্গি (ইজার) রয়েছে তবে প্রবেশ করো, অন্যথায় করো না।"
তার অন্তর্ভুক্ত হলো: প্রসিদ্ধ (المشهور) মত অনুযায়ী ফরজে কিফায়া সবার ওপর ওয়াজিব এবং কিছু লোকের আদায়ের মাধ্যমে তা সবার পক্ষ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। যদি একদল লোকের প্রবল ধারণা হয় যে অন্যরা তা পালন করছে, তবে তাদের ওপর থেকেও তা বিলুপ্ত হয়ে যাবে; এটি আল-কাজী এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন।
তার অন্তর্ভুক্ত হলো: গভীর ঘুম অজু ভঙ্গ করে দেয়, কারণ এটি হাদাস (حدث) নির্গত হওয়ার প্রবল ক্ষেত্র। যদিও মূলনীতি হলো হাদাস নির্গত না হওয়া এবং পবিত্রতা অবশিষ্ট থাকা; এটিই প্রসিদ্ধ (المشهور) মাযহাব। ইবনে আবি মুসা শারহুল খিরাকি গ্রন্থে একটি অভিমত বর্ণনা করেছেন যে, ঘুম নিজেই একটি হাদাস (حدث) তবে তা ক্ষমাযোগ্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
يسيره كالدم ونحوه.
واختار أبو العباس أن النائم لا ينتقض وضوؤه إذا غلب على ظنه أنه لم يحدث.
ومنها: لو استأجر أرضا للزراعة وكان يعلم بوجود الماء وقت الحاجة إليه صح وان غلب على الظن وجوده بالأمطار أو زيادة الأنهار جزم في المغنى وغيره بالصحة وفي التلخيص وجهان.
ومنها: أن المصلى إذا غلب على ظنه وجود الماء إما في رحلة أو رأى ركبا أو موضعا قريبا عليه طير وجب الطلب رواية واحدة ولو قطع أن لا ماء فلا طلب رواية واحدة ولو ظن عدمه وقلنا بوجوب الطلب فأشهر الروايتين يجب وذكر في التبصرة1 رواية لا يجب وهي أظهر فان تيمم ثم رأى ركبا يظن أن معه ماء أو ما يدل على الماء وقلنا بوجوب الطلب بطل تيممه ذكره أبو محمد وأبدى احتمالا آخر لا يبطل تيممه وعبر أبو البركات2 في شرحه3 إذا رأى ركبا يعلم أنه لا يخلو عن ماء لزمه الطلب فإن حصل له وإلا استأنف التيمم.
ومنها: ما ذكره أبو الخطاب في التمهيد4 في مسألة التعبد بالقياس
--------------------------------------------
এর সামান্য পরিমাণ, যেমন রক্ত বা এই জাতীয় বস্তু।
আবু আল-আব্বাস পছন্দ করেছেন যে, ঘুমন্ত ব্যক্তির অজু ভঙ্গ হবে না যদি তার মনে প্রবল ধারণা (غلبة الظن) থাকে যে তার থেকে কোনো অপবিত্রতা নির্গত (حدث) হয়নি।
এ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের মধ্যে রয়েছে: যদি কেউ চাষাবাদের জন্য জমি ইজারা নেয় এবং সে জানত যে প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যাবে, তবে তা শুদ্ধ হবে; আর যদি বৃষ্টির মাধ্যমে বা নদীর পানি বৃদ্ধির মাধ্যমে পানি পাওয়ার প্রবল ধারণা (غلبة الظن) থাকে, তবে আল-মুগনি ও অন্যান্য গ্রন্থে এটি শুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু আল-তালখিস গ্রন্থে এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে: যখন কোনো মুসল্লির মনে পানি পাওয়ার প্রবল ধারণা (غلبة الظن) তৈরি হয়—চাই তা তার আসবাবপত্রের মধ্যে হোক, অথবা সে কোনো কাফেলা দেখতে পায়, কিংবা এমন কোনো নিকটবর্তী স্থান যেখানে পাখি উড়ছে—তবে তার জন্য অনুসন্ধান করা ওয়াজিব (واجب), এটি একটি একক বর্ণনা (رواية واحدة)। আর যদি সে নিশ্চিত হয় যে পানি নেই, তবে অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই, এটিও একটি একক বর্ণনা (رواية واحدة)। যদি সে পানি না থাকার ধারণা (ظن) পোষণ করে এবং আমরা অনুসন্ধানের আবশ্যকতা স্বীকার করি, তবে দুটি বর্ণনার মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ (أشهر) মতটি হলো তা ওয়াজিব (واجب) হবে। আল-তাবসিরা ১ গ্রন্থে একটি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি ওয়াজিব (واجب) নয়, এবং এটিই অধিক স্পষ্ট (أظهر)। এরপর যদি সে তায়াম্মুম করে এবং পরে এমন কোনো কাফেলা দেখতে পায় যাদের কাছে পানি আছে বলে সে ধারণা (ظن) করে অথবা পানির অস্তিত্বের কোনো আলামত দেখতে পায়, আর আমরা যদি অনুসন্ধানের আবশ্যকতা স্বীকার করি, তবে তার তায়াম্মুম বাতিল হয়ে যাবে। আবু মুহাম্মদ এটি উল্লেখ করেছেন এবং অন্য একটি সম্ভাবনার কথা বলেছেন যে তার তায়াম্মুম বাতিল হবে না। আবু আল-বারাকাত ২ তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে ৩ উল্লেখ করেছেন যে, যদি সে এমন কোনো কাফেলা দেখে যাদের ব্যাপারে সে জানে যে তারা পানি ছাড়া নেই, তবে তার ওপর অনুসন্ধান করা আবশ্যক। যদি সে পানি পায় (তবে ভালো), অন্যথায় সে নতুন করে তায়াম্মুম করবে।
এ সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের মধ্যে রয়েছে: যা আবু আল-খাত্তাব আল-তামহিদ ৪ গ্রন্থে কিয়াসের মাধ্যমে ইবাদত করার মাসআলায় উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أن من أخبره بلصوص في طريقه وظن صدق المخبر لزمه ترك المسير.
ومنها: إذا قلنا على رواية اختارها أبو الخطاب وغيره يمنع العمل بالعام قبل البحث عن المخصص فهل يشترط حصول اعتقاد جازم بأنه لا مخصص أو يكفي غلبة الظن بعدمه فيه خلاف اختار القاضي أبو بكر1 الأول وابن سريج2 وإمام الحرمين3 والغزالي4 الثاني.
ومنها: ما ذكره شيخنا تقي الدين ابن تيمية في تعليقه5 على المحرر أنه يتعين تقييد إباحة النظر إلى المخطوبة بمن إذا خطبها غلب على ظنه إجابته ومتى غلب على ظنه عدم الإجابة لم يجز.
ومنها: للإمام عزل القاضي إذا رابه أمره ويكفي غلبة الظن ذكره في الترغيب.
--------------------------------------------
যদি কেউ তাকে পথে ডাকাতদের সম্পর্কে সংবাদ দেয় এবং সে সংবাদদাতার সত্যবাদিতা সম্পর্কে ধারণা (ظن) পোষণ করে, তবে তার জন্য যাত্রা স্থগিত করা আবশ্যক।
এর মধ্যে একটি: যখন আমরা এমন একটি বর্ণনা (رواية)-এর ওপর ভিত্তি করে বলি—যা আবু আল-খাত্তাব এবং অন্যরা পছন্দ করেছেন—যে নির্দিষ্টকারী (مخصص) অনুসন্ধান করার আগে সাধারণ (عام) প্রসঙ্গের ওপর আমল করা নিষিদ্ধ, তবে কি কোনো নির্দিষ্টকারী (مخصص) না থাকার বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস অর্জন করা শর্ত, নাকি কেবল না থাকার প্রবল ধারণা (غلبة الظن)-ই যথেষ্ট? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; কাজী আবু বকর ১ প্রথম মতটি এবং ইবনে সুরাইজ ২, ইমামুল হারামাইন ৩ ও গাজালি ৪ দ্বিতীয় মতটি বেছে নিয়েছেন।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: যা আমাদের শায়খ তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়া 'আল-মুহাররার'-এর ওপর তার টীকা ৫-তে উল্লেখ করেছেন যে, বিয়ের প্রস্তাবপ্রদত্তার প্রতি তাকানোর বৈধতাকে এমন ব্যক্তির সাথে সীমাবদ্ধ রাখা আবশ্যক, যে প্রস্তাব দিলে তার প্রস্তাব গ্রহণ করার প্রবল ধারণা (غلبة الظن) থাকে; আর যখন তার প্রস্তাব গ্রহণ না করার প্রবল ধারণা (غلبة الظن) হবে, তখন তা আর বৈধ হবে না।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: ইমাম বা শাসকের জন্য কাজীকে বরখাস্ত করার অধিকার রয়েছে যদি তার কাজ সন্দেহজনক হয়, আর এক্ষেত্রে প্রবল ধারণা (غلبة الظن)-ই যথেষ্ট; এটি 'আত-তারগিব' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ومنها: إنكار المنكر لا يسقط بظنه أنه لا يفيد هذا هو الصحيح من الروايتين وجزم به القاضي في الجامع الكبير1 والرواية الأخرى يسقط كإياسه على الصحيح من الروايتين.
ومنها: لو خاف المصلي هدم سور أو طم خندق إن صلى آمنا فله أن يصلى صلاة خائف ما لم يعلم خلافه ذكره القاضي وقال ابن عقيل يصلى آمنا ما لم يظن ذلك.
ومنها: ما ذكره ابن عقيل وغيره أنه لا يجوز الإقدام على فعل لا يعلم جوازه وذكر بعض المالكية عدم الجواز إجماعا ويتوجه يجوز له الإقدام إذا ظن جوازه.
ومنها: أنه لا يتابع الإمام في تكبير الجنازة إذا زاد على أربع إذا علم أو ظن بدعته ورفضه لإظهار شعارهم ذكره أبو الوفاء ابن عقيل محل وفاق.
ومنها: إذا علم المزكى أن المدفوع له أهلا للزكاة وقال ابن تميم إذا ظن كره إعلامه بها نص عليه أحمد وقال بعض أصحابنا لا يستحب نص عليه ولنا قول باستحبابه وفي الروضة2 لا بد من إعلامه وقال ابن تميم وعن أحمد نحوه وان علمه أهلا لها ولكن من عادته أنه لا يأخذ زكاة فأعطاه ولم يعلمه لم يجزه في قياس المذهب لأنه لم يقبل زكاة ظاهرا ولهذا لو دفع المغصوب إلى مالكه ولم يعلمه أنه دفعه لم يبرأ ذكره أبو البركات وحكى ابن تميم هذا القول ولم يحك غيره وقال فيه بعد.
ومنها: إذا تبع الجنازة منكر فهل يتبعها وينكره بحبسه أو يحرم عليه أن يتبعها في المسألة روايتان وصحح جماعة الثاني وأبو العباس صحح الاول.
--------------------------------------------
এর মধ্যে রয়েছে: মন্দ কাজে বাধা দান করা রহিত হবে না এই ধারণার বশবর্তী হয়ে যে তা কোনো কাজে আসবে না; এটিই দুটি বর্ণনার (الروايتين) মধ্যে সঠিক (الصحيح) অভিমত এবং কাজী আল-জামি আল-কাবীর গ্রন্থে এটিই সুনিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছেন। অন্য বর্ণনা অনুযায়ী এটি রহিত হবে, যেমনটি তাঁর নিরাশ হওয়ার ক্ষেত্রে দুটি বর্ণনার (الروايتين) মধ্যে সঠিক (الصحيح) অভিমত।
এর মধ্যে রয়েছে: যদি কোনো সালাত আদায়কারী এই আশঙ্কা করেন যে, নিশ্চিন্তে সালাত আদায় করলে প্রাচীর ধ্বংস হবে কিংবা পরিখা ভরাট হয়ে যাবে, তবে তিনি ভীত ব্যক্তির সালাত (সালাতুল খাওফ) আদায় করতে পারেন যতক্ষণ না তিনি এর বিপরীত কিছু জানতে পারেন; কাজী এটি উল্লেখ করেছেন। আর ইবনে আকিল বলেছেন, তিনি নিশ্চিন্তেই সালাত আদায় করবেন যতক্ষণ না তিনি এরূপ ধারণা করেন।
এর মধ্যে রয়েছে: যা ইবনে আকিল ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে, যে কাজের বৈধতা জানা নেই তাতে প্রবৃত্ত হওয়া জায়েজ নয়। আর কিছু মালিকী আলেম এটি নাজায়েজ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন। তবে এক্ষেত্রে অভিমত হলো, যদি তিনি বৈধতার প্রবল ধারণা পোষণ করেন তবে তার জন্য তাতে প্রবৃত্ত হওয়া জায়েজ।
এর মধ্যে রয়েছে: জানাজার তাকবিরে ইমামকে অনুসরণ করা যাবে না যদি তা চারের অধিক হয় এবং যদি তিনি (মুক্তাদি) ইমামের বিদআত (بدعة) বা রাফেজি হওয়ার বিষয়টি জানেন বা ধারণা করেন, যেন তাদের নিদর্শন প্রকাশ না পায়; আবু আল-ওয়াফা ইবনে আকিল এটি ঐকমত্যের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এর মধ্যে রয়েছে: যখন জাকাত প্রদানকারী জানতে পারেন যে যাকে জাকাত দেওয়া হচ্ছে তিনি জাকাত গ্রহণের যোগ্য। ইবনে তামীম বলেছেন, যদি তিনি কেবল ধারণা করেন তবে তাকে জাকাত সম্পর্কে জানানো মাকরূহ হবে, যা আহমদ ইবনে হাম্বল স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। আমাদের কিছু সাথী (মাযহাবের আলেমগণ) বলেছেন, এটি মুস্তাহাব নয়, যা আহমদ বর্ণনা করেছেন। আবার আমাদের একটি মত রয়েছে এটি মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে। আল-রাওদাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে তাকে জানানো আবশ্যক। ইবনে তামীম বলেছেন এবং আহমদের পক্ষ থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আর যদি তিনি তাকে যোগ্য হিসেবে জানেন কিন্তু লোকটির অভ্যাস এমন হয় যে তিনি জাকাত গ্রহণ করেন না, এমতাবস্থায় তাকে প্রদান করা হলো কিন্তু তাকে জানানো হলো না, তবে মাযহাবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা যথেষ্ট হবে না। কারণ তিনি বাহ্যত জাকাত গ্রহণ করেননি। আর এই কারণেই, যদি কেউ কোনো আত্মসাৎকৃত বস্তু তার মালিককে ফিরিয়ে দেয় কিন্তু তাকে না জানায় যে এটি ফেরত দেওয়া হয়েছে, তবে সে দায়মুক্ত হবে না; আবু আল-বারাকাত এটি উল্লেখ করেছেন। ইবনে তামীম এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন এবং অন্য কোনো উক্তি বর্ণনা করেননি এবং তিনি এর মাঝে অসম্ভাব্যতা আছে বলে উল্লেখ করেছেন।
এর মধ্যে রয়েছে: যদি জানাজার সাথে কোনো গর্হিত কাজ (منكر) সংঘটিত হয়, তবে কি তিনি জানাজার অনুসরণ করবেন এবং বাধা প্রদানের মাধ্যমে তা প্রতিহত করবেন নাকি জানাজার অনুসরণ করা তার জন্য হারাম হবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে; একদল আলেম দ্বিতীয়টিকে সঠিক (صحح) বলেছেন এবং আবু আল-আব্বাস প্রথমটিকে সঠিক (صحح) বলেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قال صاحب المحرر ولو ظن أنه إن تبعها أزيل المنكر لزمه إتباعها على الروايتين ويعايى بها.
ومنها: من دفن في مقبرة مسبلة1 ثم أريد حفر قبره ليدفن معه غيره قال الآمدي ظاهر المذهب أنه لا يجوز وقال القاضي وغيره لا بأس به إذا كان الميت قد بلى ومراده إذا غلب على ظنه ولهذا ذكر غير واحد يعمل بقول أهل الخبرة وبعضهم عبر إذا علم أن الميت قد بلى ومراده الظن والله أعلم.
ومنها: أن الميت غير الشهيد يجوز نقله إلى مكان آخر لغرض صحيح هذا المذهب عندنا قال صاحب المحرر محل هذا إذا لم يظن تغيره.
ومنها: ما ذكره صاحب المحرر محل وفاق أن المرأة يحرم عليها زيارة القبور إذا علمت أنه يقع منها محرم لكن قال تأثم بظن وقوع النوح ولا فرق بين النوح وغيره من المحرمات فإما أن يعمل بالظن مطلقا أو بالعلم مطلقا فالتفرقة لا وجه لها مع أنه هو وغيره لم يحرم دخول الحمام إلا مع العلم بالمحرم.
--------------------------------------------
'আল-মুহাররার' গ্রন্থের প্রণেতা বলেন, যদি কেউ ধারণা করে যে সেটির (জানাজার) অনুসরণ করলে কোনো অস্বীকৃত (منكر) বিষয় দূরীভূত হবে, তবে উভয় বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী তার জন্য সেটির অনুসরণ করা আবশ্যক এবং একে একটি জটিল মাসয়ালা হিসেবে গণ্য করা হয়।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যাকে কোনো ওয়াকফকৃত (মুসাব্বিলাহ) কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে, অতঃপর সেখানে অন্য কাউকে দাফন করার উদ্দেশ্যে তার কবরটি পুনরায় খনন করার ইচ্ছা করা হয়; আল-আমিদি বলেন, মাযহাবের প্রকাশ্য মত অনুযায়ী এটি জায়েজ নয়। আল-কাজি এবং অন্যান্যরা বলেন, যদি মৃতদেহ পচে মাটির সাথে মিশে গিয়ে থাকে তবে এতে কোনো অসুবিধা নেই। তাঁর উদ্দেশ্য হলো যখন বিষয়টি প্রবল ধারণার পর্যায়ে পৌঁছাবে। এ কারণেই একাধিক আলেম উল্লেখ করেছেন যে, এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে আমল করা হবে। কেউ কেউ অভিমত দিয়েছেন যে, যখন নিশ্চিতভাবে জানা যাবে যে মৃতদেহটি মিশে গেছে; তবে তাঁর উদ্দেশ্য মূলত প্রবল ধারণা। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: শহীদ ব্যতীত অন্য মৃত ব্যক্তিকে সঠিক উদ্দেশ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা জায়েজ। আমাদের মাযহাবে এটিই সিদ্ধান্ত। 'আল-মুহাররার' গ্রন্থের প্রণেতা বলেন, এটি কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন মৃতদেহের অবস্থা পরিবর্তনের কোনো ধারণা না থাকে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যা 'আল-মুহাররার' গ্রন্থের প্রণেতা ঐকমত্যের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, নারীর জন্য কবর জিয়ারত করা হারাম যখন সে নিশ্চিতভাবে জানে যে তার দ্বারা কোনো হারাম কাজ সংঘটিত হবে। কিন্তু তিনি বলেছেন, বিলাপ করার প্রবল সম্ভাবনা বা ধারণা থাকলে সে গুনাহগার হবে। অথচ বিলাপ এবং অন্যান্য হারামের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ফলে হয় ঢালাওভাবে সবক্ষেত্রে প্রবল ধারণার ওপর আমল করা উচিত, অথবা নিশ্চিত জ্ঞানের ওপর। সুতরাং এই পার্থক্যের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই, বিশেষ করে যখন তিনি ও অন্যান্যরা নিশ্চিতভাবে হারাম সংঘটিত হওয়ার জ্ঞান থাকা ব্যতীত গোসলখানায় প্রবেশ করাকে হারাম করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
القاعدة 2شرط التكليف العقل وفهم الخطاب.
ذكره الآمدي اتفاق العقلاء فلا تكليف على صبي ولا مجنون لا عقل له وقال أبو البركات في المسودة1 واختار قوم تكليفهما.
قلت: من اختار تكليفهما إن أراد أنه يترتب على أفعالهما ما هو من خطاب الوضع2 فلا نزاع في ترتبه وان أراد خطاب التكليف3 فإنه لا يلزمهما بلا نزاع وان اختلف في مسائل هل هي من خطاب الوضع أم من خطاب التكليف أو بعض مسائل من مسائل التكليف وقد حكى حنبل4 عن أحمد رواية في المجنون أنه يقضي الصلاة والصوم وعنه إن أفاق بعد الشهر لم يقض الصوم وان أفاق فيه قضى والمذهب الصحيح خلاف ذلك.
والظاهر والله أعلم أن من قال بتكليفهما إنما قاله بناء على التكليف
--------------------------------------------
নীতি ২শরয়ি দায়িত্বারোপের (التكليف) শর্ত হলো বুদ্ধি এবং সম্বোধন (الخطاب) অনুধাবন করা।
আল-আমিদি বুদ্ধিমানদের ঐকমত্য হিসেবে এটি উল্লেখ করেছেন যে, শিশু বা বিবেক-বুদ্ধিহীন পাগলের ওপর কোনো শরয়ি দায়িত্বারোপ (تكليف) নেই। আবু আল-বারাকাত 'আল-মুসাউওয়াদা' গ্রন্থে বলেছেন যে, একদল আলেম তাদের ওপর শরয়ি দায়িত্বারোপের (تكليف) মতটি গ্রহণ করেছেন।
আমি বলি: যারা তাদের ওপর শরয়ি দায়িত্বারোপের (تكليف) মতটি পছন্দ করেছেন, তারা যদি এর দ্বারা এটি বুঝিয়ে থাকেন যে তাদের কর্মের ওপর পরিস্থিতিগত সম্বোধনের (خطاب الوضع) হুকুম প্রযোজ্য হবে, তবে এর প্রয়োগের ব্যাপারে কোনো বিতর্ক নেই। আর যদি তারা এর দ্বারা দায়িত্বারোপমূলক সম্বোধন (خطاب التكليف) বুঝিয়ে থাকেন, তবে সর্বসম্মতিক্রমে তা তাদের ওপর আবশ্যকীয় নয়। যদিও কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে যে, সেগুলো কি পরিস্থিতিগত সম্বোধনের (خطاب الوضع) অন্তর্ভুক্ত নাকি দায়িত্বারোপমূলক সম্বোধনের (خطاب التكليف) অন্তর্ভুক্ত, অথবা দায়িত্বারোপের (تكليف) মাসআলাসমূহের কোনো অংশ কি না। হানবাল ইমাম আহমাদ থেকে পাগল ব্যক্তি সম্পর্কে একটি বর্ণনা (رواية) উদ্ধৃত করেছেন যে, সে নামাজ ও রোজার কাজা করবে। তাঁর থেকে অপর বর্ণনা (رواية) হলো, যদি সে মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয় তবে রোজার কাজা করবে না, আর যদি মাসের মধ্যেই সুস্থ হয় তবে কাজা করবে। তবে সঠিক (الصحيح) মাযহাব এর পরিপন্থী।
প্রকাশ্যত—আল্লাহ্ই ভালো জানেন—যারা তাদের ওপর শরয়ি দায়িত্বারোপের (تكليف) কথা বলেছেন, তারা মূলত দায়িত্বারোপের (التكليف) ভিত্তিতেই তা বলেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
بالمحال على ما سيأتي في تكليف الغافل إن شاء الله تعالى.
وأما الصبي المميز فالجمهور على أنه ليس بمكلف وحكي عن أحمد رواية بتكليفه لفهمه الخطاب ذكرها في الروضة وعنه يكلف المراهق واختار ذلك ابن عقيل في مناظراته1.
واختلف أصحابنا في سن التمييز فالأكثر على أنه سبع سنين لتخييره بين أبويه وقيل ست اختاره في الرعاية وفي كلام بعضهم ما يقتضي أنه عشر.
وقال في المطلع2 المميز الذي يفهم الخطاب ويرد الجواب ولا ينضبط بسن بل يختلف باختلاف الإفهام والصحيح في المذهب عدم تكليفه وما ثبت من أحكام تكليفه فبدليل خارجي.
إذا تقرر هذا فلنتكلم على مسائل تتعلق بالتمييز.
ومنها: إذا خلت المميزة بماء يسير في طهارتها وقلنا لا يجوز للرجل التطهر بما خلت به المرأة فهل يجوز للرجل التطهر بما خلت به المميزة حكي في الرعاية في المسألة احتمالين.
ومنها: إذا جامع أو جومع وكان مثله يطأ أو يوطأ لزمه الغسل على المنصوص وفيه وجه يستحب اختاره القاضي.
ومنها: وجوب الصلاة عليه.
ظاهر المذهب أنها لا تجب عليه وعنه3 تجب عليه وعنه تجب على
--------------------------------------------
অসম্ভব (محال) বিষয়ে, যেভাবে বিমনা বা অসতর্ক ব্যক্তির শরয়ি দায়িত্ব অর্পণ (تكليف) সংক্রান্ত আলোচনায় পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ তাআলা আসবে।
আর বিবেচনাবোধসম্পন্ন শিশুর (مميز) ক্ষেত্রে জমহুর (جمهور) ফকীহগণের মত হলো, সে শরয়ি বিধান পালনের বাধ্যবাধকতায় নেই (ليس بمكلف)। তবে ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা (رواية) উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, সম্বোধন বোঝার সক্ষমতা থাকায় সে শরয়ি বিধান পালনের বাধ্যবাধকতায় রয়েছে (بتكليفه) - যা 'আল-রওদা' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, কৈশোরপ্রাপ্ত (مراهق) ব্যক্তি শরয়ি বিধানের বাধ্যবাধকতায় আসবে (يكلف); ইবনে আকীল তাঁর 'মুনাযারাতে' এটিই গ্রহণ করেছেন।
আমাদের (মাযহাবের) ফকীহগণ বিবেচনাবোধের বয়সের (سن التمييز) ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। অধিকাংশের মতে তা সাত বছর, কারণ তাকে তখন তার পিতামাতার মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়। কেউ বলেছেন ছয় বছর; এটি 'আল-রিআয়াহ' গ্রন্থে মনোনীত করা হয়েছে। আবার কারো কারো বক্তব্যে প্রতীয়মান হয় যে, এটি দশ বছর।
'আল-মুত্তালি' গ্রন্থে বলা হয়েছে, বিবেচনাবোধসম্পন্ন (مميز) ব্যক্তি সেই যে সম্বোধন বোঝে এবং উত্তর দিতে পারে; এটি কোনো সুনির্দিষ্ট বয়স দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়, বরং বোধশক্তির ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়। মাযহাবের (المذهب) বিশুদ্ধ (الصحيح) মত অনুযায়ী সে শরয়ি বিধান পালনের বাধ্যবাধকতায় নেই (عدم تكليفه)। তার ওপর দায়িত্ব অর্পণ সংক্রান্ত যে বিধানগুলো প্রমাণিত, তা স্বতন্ত্র দলিলের (بدليل خارجي) ভিত্তিতে।
এটি স্থির হওয়ার পর, এখন আমরা বিবেচনাবোধ (تمييز) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ নিয়ে আলোচনা করব।
তন্মধ্যে একটি হলো: যখন কোনো বিবেচনাবোধসম্পন্ন বালিকা (مميزة) পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে সামান্য পরিমাণ পানি নিয়ে নির্জনতা অবলম্বন করে, আর আমরা যদি বলি যে মহিলার নির্জনভাবে ব্যবহৃত পানি দ্বারা পুরুষের পবিত্রতা অর্জন করা জায়েয নেই, তবে বিবেচনাবোধসম্পন্ন বালিকা নির্জনভাবে যা ব্যবহার করেছে তা দ্বারা কি পুরুষের পবিত্রতা অর্জন করা জায়েয হবে? 'আল-রিআয়াহ' গ্রন্থে এই মাসআলায় দুটি সম্ভাবনার কথা বর্ণিত হয়েছে।
আরেকটি হলো: সে যদি সহবাসে লিপ্ত হয় বা তার সাথে সহবাস করা হয় এবং সে এমন বয়সের হয় যারা সহবাস করতে বা করাতে সক্ষম, তবে সুস্পষ্ট নস (المنصوص) অনুযায়ী তার ওপর গোসল (الغسل) ওয়াজিব হবে। এ ব্যাপারে আরেকটি মতামত (وجه) হলো এটি মুস্তাহাব; যা কাযী (আবু ইয়ালা) গ্রহণ করেছেন।
আরেকটি হলো: তার ওপর সালাত (নামাজ) ওয়াজিব হওয়া।
মাযহাবের প্রকাশ্য মত (ظاهر المذهب) হলো তা তার ওপর ওয়াজিব নয়। তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে বর্ণিত হয়েছে (عنه) যে, তা তার ওপর ওয়াজিব। আবার তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তা ওয়াজিব হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
من بلغ عشرا اختارها القاضي أبو بكر1 وظاهر كلامه في الجارية إذا بلغت تسعا يجب عليها وعنه يجب على المراهق اختارها أبو الحسن التميمي2 قال أبو المعالي ونقل عن أحمد في ابن أربع عشر سنة إذا ترك الصلاة قتل.
وإذا أوجبنا الصلاة عليه فهل الوجوب مختص بما عدا الجمعة أو يعم الجمعة وغيرها في المسألة وجهان لأصحابنا أصحهما لا تلزمه الجمعة وان قلنا بتكليفه بالصلاة قال صاحب المحرر هو كالإجماع للخبر وإذا قلنا بعدم الوجوب عليه فإنه يجب على وليه تعليمه الصلاة والطهارة وشروطها نص عليه أحمد خلافا لابن عقيل في مناظراته.
ومنها: أذانه أنه للبلغ هل يجزئ؟
في المسألة روايتان الرواية التي نصرها القاضي الصحة وعدم الصحة علله طائفة من الأصحاب بأن الأذان فرض كفاية وفعل الصبي نفل وعلله صاحب المغنى والمحرر بأنه لا يقبل خبره وذكره جماعة في أصول الفقه.
وقال أبو العباس ويتخرج في أذانه روايتان كشهادته وولايته.
أما صحة أذانه في الجملة وكونه جائزا إذا أذن غيره فلا خلاف في جوازه قال ومن الأصحاب من أطلق الخلاف لأن أحمد قال في رواية حنبل لا بأس أن يؤذن الغلام قبل أن يحتلم إذا كان قد راهق وقال في رواية على ابن سعيد3 وقد سئل عن الغلام يؤذن قبل أن يحتلم فلم يعجبه قال والأشبه أن الأذان الذي يسقط الفرض عن أهل القرية ويعتمد في وقت الصلاة والصيام لا يجوز أن يباشره صبي قولا واحدا ولا يسقط الفرض ولا يعتمد في مواقيت العبادات وأما الأذان الذي يكون سنة مؤكدة في مثل المساجد التي
--------------------------------------------
যাদের বয়স দশ বছর হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কাজী আবু বকর ১ এই মতটি গ্রহণ করেছেন। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে তাঁর কথা থেকে বাহ্যিক যা বোঝা যায় তা হলো, যখন তারা নয় বছর বয়সে পৌঁছাবে তখন তাদের ওপর (সালাত) ওয়াজিব হবে। তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে বর্ণিত অন্য এক মতে, কৈশোরপ্রাপ্ত (مراهق) ব্যক্তির ওপর এটি ওয়াজিব হবে, যা পছন্দ করেছেন আবু আল-হাসান আত-তামীমি ২। আবু আল-মাআলি বলেন, আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, চৌদ্দ বছর বয়সী কোনো ছেলে যদি সালাত ত্যাগ করে তবে তাকে হত্যা করা হবে।
যদি আমরা তার ওপর সালাত ওয়াজিব করি, তবে এই আবশ্যকতা কি জুমা ব্যতীত অন্য সালাতগুলোর জন্য নির্দিষ্ট, নাকি এটি জুমা এবং অন্যান্য সালাতকেও অন্তর্ভুক্ত করবে? এই মাসআলায় আমাদের সাথীদের (মাযহাবের অনুসারী) দুটি অভিমত রয়েছে। তাদের মধ্যে বিশুদ্ধতম (أصح) মতটি হলো, তার ওপর জুমা আবশ্যক হবে না, যদিও আমরা তাকে সালাতের বিধানে দায়বদ্ধ (مكلف) বলে গণ্য করি। আল-মুহাররার গ্রন্থের লেখক বলেন, এটি সংবাদের (হাদিসের) কারণে ইজমার (إجماع) মতো। আর যদি আমরা তার ওপর ওয়াজিব না হওয়ার কথা বলি, তবে তার অভিভাবকের ওপর ওয়াজিব হলো তাকে সালাত, পবিত্রতা এবং এর শর্তাবলি শিক্ষা দেওয়া। ইমাম আহমাদ স্পষ্টভাবে এটি উল্লেখ করেছেন, যদিও ইবনে আকিল তাঁর বিতর্কমূলক আলোচনাগুলোতে এর বিরোধিতা করেছেন।
সেগুলোর মধ্যে একটি হলো: প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে তার আজান কি যথেষ্ট হবে? এই মাসআলায় দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে। কাজী যে বর্ণনাটিকে সমর্থন করেছেন তা হলো—বিশুদ্ধ হওয়া (صحة) এবং বিশুদ্ধ না হওয়া। আমাদের সাথীদের একটি দল এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, আজান হলো ফরজে কিফায়া (فرض كفاية), আর শিশুর কাজ হলো নফল (نفل)। আল-মুগনি ও আল-মুহাররার গ্রন্থের লেখকগণ এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, তার সংবাদ (خبر) গ্রহণযোগ্য নয় এবং একদল আলেম উসুলে ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রে এটি উল্লেখ করেছেন।
আবু আল-আব্বাস বলেন, তার আজানের ক্ষেত্রেও তার সাক্ষ্য (شهادة) ও অভিভাবকত্বের (ولاية) মতোই দুটি বর্ণনা (روايتان) নির্গত হয়।
সামগ্রিকভাবে তার আজান বিশুদ্ধ হওয়া এবং অন্য কেউ আজান দিলে তা জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। তিনি বলেন, আমাদের সাথীদের কেউ কেউ একে সাধারণ মতভেদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ ইমাম আহমাদ, হাম্বলের বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী বলেছেন: স্বপ্নদোষ হওয়ার পূর্বে কোনো ছেলে যদি কৈশোরে (مراهق) পদার্পণ করে, তবে তার আজান দেওয়ায় কোনো সমস্যা নেই। আবার আলী ইবনে সাঈদ ৩-এর বর্ণনায় (رواية) রয়েছে যে, তাকে এমন ছেলে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে স্বপ্নদোষের আগে আজান দেয়, তখন তিনি তা অপছন্দ করেছেন। তিনি বলেন, অধিক সদৃশ মত হলো—যে আজানের মাধ্যমে গ্রামবাসীর ওপর থেকে ফরজ (فرض) দায়ভার রহিত হয় এবং সালাত ও সিয়ামের সময়ের ক্ষেত্রে যার ওপর নির্ভর করা হয়, কোনো শিশুর পক্ষে তা সরাসরি সম্পাদন করা বৈধ নয়—এটিই একমাত্র বক্তব্য (قول)। এর মাধ্যমে ফরজ (فرض) রহিত হয় না এবং ইবাদতের সময়ের ক্ষেত্রেও এর ওপর নির্ভর করা যায় না। আর যে আজান সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (سنة مؤكدة) হিসেবে গণ্য হয়, যেমন এমন সব মসজিদে যেখানে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
في المصر ونحو ذلك فهذا فيه روايتان والصحيح جوازه.
ومنها: عورة الحرة المراهقة قال بعض أصحابنا المميزة كالأمة؟
نقل أبو طالب1 في شعر وساق وساعد لا يجب ستره حتى تحيض وقال أبو المعالي هي بعد التسع والصبي بعد العشر كالبالغ ثم ذكر عن أصحابنا إلا في كشف الرأس وقبلهما وبعد السبع الفرجان.
ومنها: وجوب الصوم عليه والمذهب لا يجب عليه حتى يبلغ. وعن أحمد رواية يجب عليه إن أطاقه اختارها أبو بكر2 وابن أبي موسى. وحد ابن أبي موسى طاقته بصوم ثلاثة أيام متوالية ولا يضره لخبر مرسل وعنه يلزم من بلغ عشرا وأطاقه.
وإن قلنا بعدم الوجوب عليه فإنه يجب على وليه ضربه عليه ليعتاده ذكره جماعة قال صاحب المحرر وغيره لا يؤخذ به ويضرب عليه فيما دون العشر كالصلاة.
ومنها: إحرامه بإذن وليه صحيح وبغير إذنه لا يصح اختاره الأكثر.
ولنا قول واختاره أبو البركات أنه يصح كصلاته وصومه.
فعلى هذا يحلله الولي منه إن رآه ضررا عليه في الأصح كالعبد.
تنبيه:
وإذا لم نوجب عليه العبادة فما فعله فإنه يثاب عليه وثوابه له. ذكره الشيخ أبو محمد3 في موضع والإمام أبو العباس وكذا قال ابن عقيل في فنونه في أوائل المجلد التاسع عشر.
--------------------------------------------
জনপদ বা অনুরূপ স্থানের ক্ষেত্রে এতে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে এবং সঠিক (صحيح) মত হলো এর বৈধতা।
এর মধ্যে একটি হলো: সাবালিকা হওয়ার নিকটবর্তী স্বাধীন নারীর সতর। আমাদের কিছু ফকিহ বলেছেন, ভালো-মন্দ পার্থক্য করার জ্ঞানসম্পন্ন (مميزة) মেয়ে কি দাসীর মতো?
আবু তালিব ১ বর্ণনা করেছেন যে, চুল, গোড়ালি এবং বাহু— ঋতুবতী হওয়ার আগ পর্যন্ত তা আবৃত রাখা ওয়াজিব নয়। আবু আল-মাআলি বলেছেন, নয় বছর বয়সের পর মেয়ে এবং দশ বছর বয়সের পর ছেলে প্রাপ্তবয়স্কের (بالغ) ন্যায় গণ্য হবে। এরপর তিনি আমাদের ফকিহদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, মাথা অনাবৃত রাখা ব্যতীত বাকি সব অঙ্গের ক্ষেত্রে এমনটি হবে, আর এই দুই বয়সের আগে এবং সাত বছর বয়সের পর লজ্জাস্থানদ্বয় ঢাকার কথা বলা হয়েছে।
এর মধ্যে আরেকটি হলো: তার ওপর রোজা রাখা ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে। মাযহাবের মত হলো, প্রাপ্তবয়স্ক (بالغ) হওয়ার আগ পর্যন্ত তার ওপর রোজা ওয়াজিব নয়। ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে যে, যদি সে সামর্থ্য রাখে তবে তার ওপর তা ওয়াজিব হবে; আবু বকর ২ এবং ইবনে আবু মুসা এই মতটি গ্রহণ করেছেন। ইবনে আবু মুসা সামর্থ্যের সীমা নির্ধারণ করেছেন এভাবে যে, সে টানা তিন দিন রোজা রাখবে এবং তাতে তার কোনো ক্ষতি হবে না; এটি একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) খবরের ভিত্তিতে বলা হয়েছে। তাঁর থেকে আরেকটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে যে, যার বয়স দশ বছর হয়েছে এবং রোজা রাখার সামর্থ্য রাখে, তার ওপর তা আবশ্যক।
যদি আমরা বলি যে তার ওপর রোজা ওয়াজিব নয়, তবুও একদল আলিম উল্লেখ করেছেন যে, তাকে অভ্যস্ত করার জন্য তার অভিভাবকের ওপর তাকে প্রহার করা ওয়াজিব। আল-মুহাররার গ্রন্থের লেখক ও অন্যান্যরা বলেছেন, তাকে এর জন্য পাকড়াও করা হবে না, তবে নামাজের মতো দশ বছরের কম বয়সে এর জন্য তাকে প্রহার করা হবে।
এর মধ্যে আরেকটি হলো: অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে তার ইহরাম করা সহিহ (صحيح), আর অনুমতি ছাড়া তা সহিহ (صحيح) নয়; অধিকাংশ আলিম এই মতটিই গ্রহণ করেছেন।
আমাদের একটি অভিমত রয়েছে এবং আবু আল-বারাকাত সেটিই পছন্দ করেছেন যে, নামাজ ও রোজার মতোই এটিও সহিহ (صحيহ) হবে।
এর ওপর ভিত্তি করে, অধিকতর সঠিক (أصح) মত অনুযায়ী অভিভাবক তাকে ইহরাম থেকে মুক্ত করে দেবেন যদি তিনি এতে তার জন্য কোনো ক্ষতির আশঙ্কা করেন, যেমনটা দাসের ক্ষেত্রে করা হয়।
সতর্কতা:
যখন আমরা তার ওপর ইবাদত ওয়াজিব করি না, তখন সে যা আমল করবে তার জন্য সে সওয়াব লাভ করবে এবং সেই সওয়াব তারই হবে। শায়খ আবু মুহাম্মদ ৩ এক স্থানে এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম আবু আব্বাসও তাই বলেছেন। একইভাবে ইবনে আকিল তার ফুনুন গ্রন্থের ঊনবিংশ খণ্ডের শুরুতে এটি উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وعندي انه يثاب على طاعات بدنه وما يخرج من العبادات المالية من ماله قال ابن هبيرة1 في الحج معنى قولهم يصح منه أي يكتب له قال وكذا أعمال البر كلها فهي له ولا تكتب عليه.
وعلله ابن عقيل في الجنائز بتقديم النساء على الصبيان بالتكليف ففضلهن بالثواب والصبي ليس من أهل الثواب والعقاب.
وطريقة بعض أصحابنا في مسألة تصرفه ثوابه لوالديه.
ولأحمد وغيره بإسناد ضعيف عن أنس مرفوعا " أن حسنات الصبي لوالديه أو أحدهما" وذكره ابن الجوزي في الموضوعات.
ومنها: بيعه بإذن وليه للكثير صحيح على الصحيح وبغير إذن صحيح في الشيء اليسير وجزم به طائفة.
وقال القاضي في الجامع قال أبو بكر اختلف قوله2 في صحة بيعه فروى عنه صحة ذلك في اليسير وروى عنه لا يصح.
ويجب أن يكون موضع الروايتين في اليسير إذا لم يكن مأذونا له فأما إذا كان مأذونا له فيصح بيعه وشراؤه في اليسير والكثير وفي الكثير لا يصح على الصحيح.
وعن أحمد رواية يصح موقوفا على إجازة وليه.
وعنه يصح من غير إجازة ذكرها الفخر إسماعيل3.
--------------------------------------------
আমার নিকট অভিমত হলো, শিশু তার শারীরিক ইবাদত এবং তার সম্পদ থেকে ব্যয়কৃত আর্থিক ইবাদতের জন্য সওয়াব বা পুণ্য লাভ করবে। ইবন হুবায়রা হজ্জ অধ্যায়ে বলেছেন: তাদের বক্তব্য 'তার পক্ষ থেকে তা সঠিক হওয়া'-এর অর্থ হলো তা তার আমলনামায় পুণ্য হিসেবে লেখা হবে। তিনি আরও বলেন: অনুরূপভাবে সকল নেক কাজ তার জন্যই গণ্য হবে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো গুনাহ লেখা হবে না।
ইবন আকীল জানাযা অধ্যায়ে এর কারণ দর্শিয়েছেন যে, শরয়ি দায়িত্বের (تكليف) ক্ষেত্রে নারীদের শিশুদের আগে রাখা হয়; তাই সওয়াবের ক্ষেত্রে তারা অগ্রগণ্য, অথচ শিশু সওয়াব বা শাস্তির উপযুক্ত নয়।
আমাদের কোনো কোনো সাথী (হাম্বলি ফকীহগণ) শিশুর আমলের সওয়াব তার পিতামাতার পাওয়ার মাসআলায় এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।
ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা আনাস (রা.) থেকে একটি দুর্বল (ضعيف) সনদে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, "শিশুর নেক আমলসমূহ তার পিতামাতা বা তাদের যেকোনো একজনের জন্য হবে।" ইবনুল জাওযি এটি আল-মাওদুআত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে বড় কোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে তার ক্রয়-বিক্রয় সঠিক (صحيح) মতানুসারে শুদ্ধ (صحيح); আর অনুমতি ছাড়া ছোটখাটো জিনিসের ক্ষেত্রে শুদ্ধ (صحيح), যা একদল ফকীহ দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেছেন।
আল-কাজি আল-জামি গ্রন্থে বলেছেন, আবু বকর (আল-খাল্লাল) বর্ণনা করেছেন যে, শিশুর ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ হওয়ার বিষয়ে ইমাম আহমাদের অভিমত ভিন্ন ভিন্ন। তার থেকে একটি বর্ণনা হলো ছোটখাটো বিষয়ে তা শুদ্ধ (صحيح), আবার আরেকটি বর্ণনা হলো তা শুদ্ধ (صحيح) নয়।
আবশ্যকীয় বিষয় হলো, এই দুটি বর্ণনাই হবে ঐ ক্ষেত্রে যখন তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। আর যদি তাকে অনুমতি দেওয়া হয়, তবে ছোট এবং বড় উভয় ধরণের লেনদেনেই তার ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ (صحيح) হবে। তবে বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে সঠিক (صحيح) মতানুসারে তা শুদ্ধ (صحيح) হবে না।
ইমাম আহমাদ থেকে আরেকটি বর্ণনা রয়েছে যে, এটি অভিভাবকের অনুমতির ওপর স্থগিত (موقوف) হিসেবে শুদ্ধ (صحيح) হবে।
তার থেকে আরেকটি বর্ণনায় অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই তা শুদ্ধ (صحيح) বলা হয়েছে, যা ফখর ইসমাইল উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وقال ابن عقيل الصحيح عن أحمد لا تصح عقوده وان شنحه1 وقال الصحيح عندي في عقوده كلها روايتان وفي الانتصار2 وعيون المسائل3 ذكر أبو بكر صحة بيعه ونكاحه.
ومنها: إذا أوجبنا على البالغ الكفارة في وطء الحائض فهل تجب على الصبي إذا وطىء في المسألة وجهان.
ومنها: إمامته بالبالغ هل تصح أم لا؟
في المسألة ثلاث روايات ثالثها تصح في النفل دون الفرض واختارها أكثر أصحابنا وظاهر المسألة لو قلنا تلزمه الصلاة وصرح به ابن البنا4 في العقود5 وبناؤهم المسألة على أن صلاته نافلة تقتضى صحة إمامته إن لزمته قاله صاحب النظم6 وهو ظاهر متجه.
وقال ابن عقيل يخرج في صحة إمامة ابن عشر سنين وجه بناء على القول بوجوب الصلاة عليه.
وقال بعض أصحابنا تصح في التراويح إذا لم يكن غيره قارئا وجها
--------------------------------------------
ইবনে আকিল বলেছেন, ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত সঠিক (الصحيح) মতানুসারে তার (অপ্রাপ্তবয়স্কের) কার্যাদি বা চুক্তি শুদ্ধ হবে না, যদিও তাকে অনুমতি দেওয়া হয়।১ তিনি আরও বলেছেন, আমার নিকট তার সকল চুক্তির ব্যাপারে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে। আল-ইন্তিসার২ এবং উইউন আল-মাসাইল৩ গ্রন্থে আবু বকর তার ক্রয়-বিক্রয় ও বিবাহের শুদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যখন আমরা প্রাপ্তবয়স্কের ওপর ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাসের কারণে কাফফারা বা প্রায়শ্চিত্ত আবশ্যক করি, তখন কি তা বালকের ওপরও আবশ্যক হবে যদি সে সহবাস করে? এ বিষয়ে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে।
এর অন্তর্ভুক্ত আরেকটি বিষয় হলো: প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ইমামতি করা কি তার জন্য শুদ্ধ হবে কি না?
এ বিষয়ে তিনটি বর্ণনা (روايات) রয়েছে; যার তৃতীয়টি হলো—এটি নফল সালাতে শুদ্ধ হবে, ফরজ সালাতে নয়। আমাদের অধিকাংশ সঙ্গী (হাম্বলি ফকিহগণ) এই মতটিই গ্রহণ করেছেন। মাসআলাটির বাহ্যিক দিক হলো, যদি আমরা বলি তার ওপর সালাত আবশ্যক, যা ইবনুল বান্না৪ আল-উকুদে৫ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এই মাসআলাটি তাদের এই ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছে যে, তার সালাত নফল হওয়া তার ইমামতি শুদ্ধ হওয়াকে দাবি করে যদি তা তার ওপর আবশ্যক হয়। ‘আল-নাজম’৬ এর লেখক এটিই বলেছেন এবং এটিই বাহ্যত সঠিক ও যুক্তিযুক্ত।
ইবনে আকিল বলেছেন, দশ বছর বয়সী বালকের ইমামতি শুদ্ধ হওয়ার বিষয়ে একটি অভিমত (وجه) বের করা হয়েছে যা তার ওপর সালাত ওয়াজিব হওয়ার মতের ওপর ভিত্তি করে।
আমাদের কোনো কোনো সঙ্গী বলেছেন, তারাবির সালাতে এটি শুদ্ধ হবে যদি অন্য কোনো ক্বারী বা পাঠক না থাকে—এটিও একটি অভিমত (وجها)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
واحدا وتصح إمامته بمثله قطع به غير واحد وفي المنتخب1 لا تصح.
ومنها: مصافته للبالغ فإن كان في النافلة صح لحديث أنس وذكر أبو الخطاب رواية لا تصح كإمامته.
وان كان في الفريضة فروى عن أحمد أنه توقف في هذه المسألة وقال ما أدري فذكر له حديث أنس2 فقال ذلك في التطوع.
واختلف أصحابنا في ذلك فقال بعضهم لا تصح كإمامته وعلله أبو حفص3 بأنه يخشى أن لا يكون متطهرا فيصير البالغ فذا.
وقال ابن عقيل تصح لأنه يصح أن يصاف الرجل في النفل فصح في الفرض كالمتنفل ولا يشترط لصحة مصافته صلاحية الإمامة بدليل الفاسق والعبد والمسافر في الجمعة وما قاله أصوب.
ومنها: جواز غسل صبي له سبع للمرأة هل يجوز أم لا؟
وفي المسألة روايتان والمنع قول أبى بكر وابن حامد وحكى بعضهم الجواز قول أبى بكر ويغسل صبيا دون سبع مجردا بغير سترة ويجوز لمس عورته والنظر إليها نص عليه الإمام أحمد وفيما زاد على السبع قبل البلوغ وجهان وحكى أبو الخطاب فيمن بلغ السبع ولم يبلغ روايتين قال ابن تميم
--------------------------------------------
একাকী এবং তার সমগোত্রীয়দের সাথে তার ইমামতি বৈধ, এটি একাধিক আলেম নিশ্চিত করেছেন। তবে আল-মুনতাখাব গ্রন্থে বলা হয়েছে যে তা সহিহ (صحيح) নয়।
এর মধ্যে একটি হলো: প্রাপ্তবয়স্কের সাথে তার এক কাতারে দাঁড়ানো। যদি তা নফল সালাতে হয় তবে আনাসের হাদিস অনুযায়ী তা বৈধ হবে। আবু আল-খাত্তাব এমন একটি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন যা তার ইমামতির মতোই সহিহ (صحيح) নয়।
আর যদি তা ফরজ সালাতে হয়, তবে আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি এবং বলেছেন: "আমি জানি না"। তার সামনে আনাসের হাদিস উল্লেখ করা হলে তিনি বলেছিলেন: "এটি নফল সালাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।"
আমাদের (মাযহাবের) অনুসারীরা এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, তার ইমামতির মতো এটিও সহিহ (صحيহ) নয়। আবু হাফস এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, তার পবিত্রতা না থাকার আশঙ্কা থাকে, ফলে (তার পাশে থাকা) প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি একাকী সালাত আদায়কারী হিসেবে গণ্য হবে।
ইবনে আকিল বলেছেন যে এটি সহিহ (صحيহ); কারণ নফল সালাতে পুরুষের সাথে কাতারে দাঁড়ানো যেহেতু বৈধ, তাই ফরজের ক্ষেত্রেও তা বৈধ হবে, যেমন নফল আদায়কারীর ক্ষেত্রে হয়। কাতারে দাঁড়ানো বৈধ হওয়ার জন্য ইমামতির যোগ্যতা থাকা শর্ত নয়, যার প্রমাণ হলো পাপাচারী (فاسق), ক্রীতদাস এবং জুমার সালাতে মুসাফির। আর তিনি যা বলেছেন তা-ই অধিকতর সঠিক।
এর মধ্যে আরও একটি হলো: সাত বছর বয়সী বালককে কি কোনো নারী গোসল করাতে পারবেন কি না? সে কি বৈধ নাকি অবৈধ?
এই বিষয়ে দুটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে। এটি নিষিদ্ধ হওয়া আবু বকর ও ইবনে হামিদের অভিমত। কেউ কেউ আবু বকরের পক্ষ থেকে বৈধ হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। সাত বছরের কম বয়সী বালককে কোনো আবরণ ছাড়াই নগ্ন অবস্থায় গোসল করানো যাবে এবং তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করা ও দেখা বৈধ; ইমাম আহমাদ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আর সাত বছরের বেশি কিন্তু সাবালোক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়ের ক্ষেত্রে দুটি মত রয়েছে। আবু আল-খাত্তাব সাত বছরে পৌঁছেছে কিন্তু সাবালোক হয়নি এমন বালকের ক্ষেত্রে দুটি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন। ইবনে তামিমি বলেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
والصحيح أنها لا تغسله إذا بلغ عشرا وجها واحدا.
وأما الجارية إذا لم تبلغ سبعا فقال القاضي وأبو الخطاب يجوز للرجال غسلها وحكى ابن تميم وجها له غسل بنت خمس فقط وعنه لا يغسل الجارية رجل إلا أن يكون أبا يغسل ابنته الصغيرة.
وقال الخلال يكره للرجل الغريب أن يغسل ابنة ثلاث سنين وينظر إليها.
وقال الخلال1 أيضا القياس التسوية بينهما قياسا لكل واحد منهما على الآخر لولا أن التابعين فرقوا بينهما.
فعلى قولنا حكمها حكم الغلام لا يغسل الرجل من بلغت عشرا لما ذكرنا في الصبي ويحتمل أن يحد ذلك في الجارية بتسع وفيما قبل ذلك الوجهان واختار أبو محمد المنع.
ومنها: جواز كونه غاسلا للميت ويسقط به الفرض حكى طائفة من أصحابنا روايتين وطائفة وجهين والصحيح السقوط.
ولنا وجهان أيضا في سقوط فرض الصلاة بفعله وقدم أبو البركات السقوط لغسله وجزم أبو المعالى بالثانى.
ومنها: لو التقط لقطة وعرفها فظاهر كلامه في المغنى عدم الإجزاء قال الحارثي والأظهر خلافه لأنه يعقل التعريف فالمقصود حاصل.
ومنها: إذا وجدناه ضائعا لا كافل له هل يكون لقيطا أم لا؟
تردد صاحب التلخيص2 وقال ويحتمل أنه ليس بلقيط فإنه قريب
--------------------------------------------
সঠিক (صحيح) মতানুসারে, বালক দশ বছর বয়সে পৌঁছালে সে (নারী) তাকে গোসল করাবে না; এটিই একমাত্র অভিমত।
আর নাবালিকা মেয়ের ক্ষেত্রে, যদি তার বয়স সাত বছর না হয়, তবে আল-কাজী এবং আবু আল-খাত্তাব বলেছেন যে, পুরুষদের জন্য তাকে গোসল করানো জায়েজ। ইবনে তামিম একটি অভিমত বর্ণনা করেছেন যে, পুরুষ কেবল পাঁচ বছরের বালিকাকে গোসল করাতে পারবে। ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত অন্য এক মতে, কোনো পুরুষ নাবালিকা মেয়েকে গোসল করাবে না, তবে পিতা হলে সে তার ছোট কন্যাকে গোসল করাতে পারবে।
আল-খলাল বলেছেন, কোনো অপরিচিত পুরুষের জন্য তিন বছরের বালিকাকে গোসল করানো এবং তার দিকে তাকানো মাকরূহ।
আল-খলাল আরও বলেছেন, যদি তাবেয়ীগণ (التابعين) তাদের মধ্যে পার্থক্য না করতেন, তবে কিয়াসের (যুক্তিগত অনুমান) দাবি ছিল উভয়ের মধ্যে সমতা বিধান করা, অর্থাৎ একে অপরের ওপর ভিত্তি করে অনুমান করা।
সুতরাং আমাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নাবালিকার বিধান নাবালকের বিধানের মতোই। পুরুষ এমন কোনো মেয়েকে গোসল করাবে না যে দশ বছরে পৌঁছেছে, যেমনটি আমরা বালকের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি। সম্ভাবনা আছে যে, নাবালিকার ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা নয় বছর নির্ধারিত হবে। এর পূর্বের বয়সের ক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে এবং আবু মুহাম্মদ নিষেধের পক্ষটি বেছে নিয়েছেন।
এর মধ্যে রয়েছে: তার মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো জায়েজ হওয়া এবং এর মাধ্যমে ফরজ দায়িত্ব আদায় হওয়া। আমাদের একদল ফকীহ দুটি বর্ণনা এবং অন্য একদল দুটি অভিমত উল্লেখ করেছেন। সঠিক (صحيح) মত হলো এর মাধ্যমে ফরজ আদায় হয়ে যাবে।
বালকের কর্মের মাধ্যমে জানাজার সালাতের ফরজ আদায়ের ব্যাপারেও আমাদের কাছে দুটি অভিমত রয়েছে। আবু আল-বারাকাত তার গোসল করানোর কারণে ফরজ আদায়ের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং আবু আল-মা'আলি দ্বিতীয় মতটির ব্যাপারে সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
এর মধ্যে রয়েছে: যদি সে কুড়িয়ে পাওয়া কোনো বস্তু (লুকতাহ) খুঁজে পায় এবং তার পরিচয় ঘোষণা করে, তবে 'আল-মুগনি' গ্রন্থে তাঁর বক্তব্যের বাহ্যিক মর্ম হলো এটি যথেষ্ট হবে না। আল-হারিছি বলেছেন, অধিক স্পষ্ট মত হলো এর বিপরীত, কারণ সে ঘোষণার বিষয়টি অনুধাবন করতে সক্ষম, ফলে মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হয়।
এর মধ্যে রয়েছে: যখন আমরা তাকে অভিভাবকহীন অবস্থায় পাই, তখন সে কুড়িয়ে পাওয়া শিশু (লাকীত) হিসেবে গণ্য হবে কি না?
'আত-তালখিস' গ্রন্থের লেখক এ ব্যাপারে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, সম্ভাবনা আছে যে সে কুড়িয়ে পাওয়া শিশু নয়, কারণ সে নিকটবর্তী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الشبه بالممتنع من الضوال في اللقطة فإن له نوع استقلال قال والمختار عند أصحابنا أنه يكون لقيطا لأنهم قالوا: إذا التقط رجل وامرأة معا من له أكثر من سبع سنين أقرع ولم يجبر بخلاف الأبوين.
ومنها: إذا قلنا للولد المنازع فيه أن ينتسب إلى من شاء من المدعين إذا بلغ فهل المميز كذلك أم لا المذهب أنه لا يقبل الانتساب وقاله غير واحد من الأصحاب وأبدى الحارثى احتمالا بالقبول.
ومنها: هبته هل تصح أم لا.
والمنصوص عن أحمد عدم الصحة أذن الولى أم لا؟ قال أبو داود1 سمعت أحمد سئل متى يجوز هبة الغلام قال ليس فيه اختلاف إذا احتلم أو يصير ابن خمس عشرة سنة وذكر بعض أصحابنا رواية في صحة إبرائه فالهبة مثله.
ومنها: هل هو أهل لقبض الهبة وقبولها أم لا؟
في المسألة روايتان أشهرهما ليس هو أهلا نص على ذلك في رواية ابن منصور2 وعليه معظم الأصحاب والثانية هو أهل قال المروذى3 قلت لأحمد نعطى يتيما من الزكاة قال نعم يدفعها إلى الغلام قلت: فإني أخاف أن يضيعه قال يدفع إلى من يقوم بأمره وهذا اختيار صاحب المغنى والحارثى وأبدى في المغنى احتمالا أن صحة. قبضه تقف على إذن الولى دون القبول لأن القبض يحصل به مستوليا على المال فلا يؤمن من تضييعه له فتعين حفظه
--------------------------------------------
কুড়িয়ে পাওয়া মালের অন্তর্ভুক্ত সেই সকল হারানো প্রাণীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি যারা নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম, কারণ তার এক প্রকার স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের মাযহাবের আলেমদের নিকট পছন্দনীয় মত হলো সে কুড়িয়ে পাওয়া শিশু হিসেবে গণ্য হবে। কারণ তাঁরা বলেছেন: যদি একজন পুরুষ এবং একজন নারী একত্রে সাত বছরের অধিক বয়সী কোনো শিশুকে কুড়িয়ে পায়, তবে লটারির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং মা-বাবার ক্ষেত্রে যেমন বাধ্য করা হয়, এখানে তেমন করা হবে না।
এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যে সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, আমরা যদি বলি যে সে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর দাবিদারদের মধ্যে যার ইচ্ছা তার সাথে নিজের বংশীয় সম্পর্ক জুড়তে পারবে, তবে বুঝমান শিশুও কি একই বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে কি না? মাযহাবের সিদ্ধান্ত হলো, তার বংশীয় সম্পর্কের দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না। আমাদের মাযহাবের একাধিক আলেম একথাই বলেছেন, তবে হারিসি এটি গ্রহণের একটি সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছেন।
এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তার দান বা উপহার প্রদান সঠিক (صحيح) হবে কি না।
ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত স্পষ্ট বক্তব্য হলো এটি সঠিক (صحيح) নয়; অভিভাবক অনুমতি প্রদান করুক বা না করুক। আবু দাউদ (১) বলেন, আমি ইমাম আহমাদকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো কখন কিশোরের দান করা বৈধ হয়? তিনি বললেন, এতে কোনো মতভেদ নেই যে যখন সে স্বপ্নদোষের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক হয় অথবা তার বয়স পনেরো বছর পূর্ণ হয়। আমাদের কিছু আলেম তার দায়মুক্তির বিষয়টি সঠিক (صحيح) হওয়ার ব্যাপারে একটি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন, আর দান বা উপহারও এর অনুরূপ।
এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: সে কি দান গ্রহণ এবং কবুল করার যোগ্য কি না?
এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে, যার মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ হলো সে এর যোগ্য নয়। ইবনে মনসুরের (২) বর্ণনায় (رواية) একথার সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে এবং অধিকাংশ আলেম এর ওপর রয়েছেন। দ্বিতীয় বর্ণনাটি (رواية) হলো সে যোগ্য। আল-মারুজি (৩) বলেন, আমি ইমাম আহমাদকে বললাম, আমরা কি কোনো এতিমকে জাকাত দিতে পারি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তা সেই বালকের হাতেই তুলে দেওয়া হবে। আমি বললাম, আমি আশঙ্কা করছি যে সে তা নষ্ট করে ফেলবে। তিনি বললেন, তবে তা এমন ব্যক্তির নিকট প্রদান করা হবে যে তার বিষয়াদি দেখাশোনা করে। এটিই মুগনি গ্রন্থের লেখক এবং হারিসির পছন্দনীয় মত। মুগনি গ্রন্থে একটি সম্ভাবনা ব্যক্ত করা হয়েছে যে, তার হস্তগত করার বিষয়টি অভিভাবকের অনুমতির ওপর নির্ভর করবে, তবে কবুল করার বিষয়টি নয়। কারণ হস্তগত করার মাধ্যমে সে মালের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করে, ফলে তা নষ্ট করে ফেলার আশঙ্কা থাকে; তাই এটি সংরক্ষণ করা আবশ্যক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
عن ذلك توقفه على الإذن كقبض وديعته وأما القبول فيحصل به الملك من غير ضرر فجاز من غير إذن كاحتشاشه واصطياده.
ومنها: وصيته والمذهب المنصوص الذي نقله الجماعة صحتها ومن الأصحاب من حكى وجها أنها لا تصح حتى يبلغ.
وإذا قلنا بالمذهب فالأشهر عند أحمد التحديد بعشر سنين فصاعدا نص عليه في رواية طائفة من أصحابه حتى قيل عن أبى بكر لا يختلف المذهب أن من له عشر سنين تصح وصيته.
وفيما قاله رحمه الله نظر فإن الأثرم قال في كتبه قيل لأبى عبد الله1 الصغير يوصي ولم يحتلم قال إذا أصاب الحق وكان ابن ثنتي عشرة سنة فهو جائز قلت: ابن ثنتي عشرة سنة قال نعم قلت: على حديث عمرو بن سليم عن عمر قال نعم.
وفي مسائل حرب2 سألت أحمد بن حنبل هل تجوز وصية الغلام قال إذا أصاب الحق وأراه قال إذا كان ابن ثنتى عشرة سنة وفي كتاب الخلال3 قال حنبل قلت لأبى عبد الله فالصبي وصى بالوصية قال إذا بلغ ثنتى عشرة سنة أو نحوها جازت إذا وافق الحق قلت: مثل ماذا قال يوصى لوارث أو يحيف في الوصية رده الحاكم إلى الحق.
وذلك نص في التحديد بثنتى عشرة سنة وحكى القاضي في المجرد وغيره عن أبى بكر عبد العزيز أنه حكى عن أحمد رواية أنها تصح وصية من له فوق سبع سنين اعتبارا بإسلامه وبتخييره قال الحارثى وهذا لم أجده منصوصا عن أحمد وأظنه مخرجا من نصه في إسلام ابن ثمان.
--------------------------------------------
এ বিষয়ে তার আমানত গ্রহণের মতো এটি অনুমতির ওপর নির্ভরশীল। তবে কবুল করার ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতি ছাড়াই মালিকানা অর্জিত হয়, তাই কাঠ সংগ্রহ করা বা শিকার করার মতো অনুমতি ছাড়াই তা বৈধ।
আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তার অসিয়ত। জামাআত কর্তৃক বর্ণিত ও মাযহাবের সুস্পষ্ট ভাষ্য (نص) অনুযায়ী তা সহিহ (صحيحة) হওয়া। তবে ফকিহগণের মধ্যে কেউ কেউ একটি মত বর্ণনা করেছেন যে, প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তা সহিহ (صحيحة) হবে না।
যদি আমরা মাযহাবের মতটি গ্রহণ করি, তবে ইমাম আহমদের নিকট প্রসিদ্ধতম মত হলো এর বয়সসীমা দশ বছর বা তার ঊর্ধ্বে। তার একদল অনুসারীর বর্ণিত (رواية) বর্ণনা অনুযায়ী তিনি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ভাষ্য (نص) প্রদান করেছেন। এমনকি আবু বকর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যার বয়স দশ বছর হয়েছে তার অসিয়ত সহিহ (صحيحة) হওয়ার বিষয়ে মাযহাবে কোনো দ্বিমত নেই।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) যা বলেছেন তা পর্যালোচনার দাবি রাখে; কেননা আসরাম তার কিতাবসমূহে উল্লেখ করেছেন যে, আবু আবদুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—নাবালেগ শিশু কি অসিয়ত করতে পারে যদি তার স্বপ্নদোষ না হয়? তিনি বললেন: যদি সে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে এবং তার বয়স বারো বছর হয়, তবে তা জায়েজ (جائز)। আমি বললাম: বারো বছর? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: আমর ইবনে সুলাইম কর্তৃক ওমর থেকে বর্ণিত হাদিসের ভিত্তিতে? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
হারবের মাসায়েল গ্রন্থে রয়েছে, আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে জিজ্ঞাসা করলাম—বালকের অসিয়ত কি জায়েজ (جائز)? তিনি বললেন: যদি সে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে। আর আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন: যখন তার বয়স বারো বছর হবে। খাল্লালের কিতাবে উল্লেখ আছে, হাম্বল বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহকে বললাম, শিশু অসিয়ত করলে কি হবে? তিনি বললেন: যখন সে বারো বছর বা তার কাছাকাছি বয়সে পৌঁছাবে, তখন তা জায়েজ (جائز) হবে যদি তা সত্যের অনুকূলে হয়। আমি বললাম: যেমন কী? তিনি বললেন: যদি সে কোনো ওয়ারিসের জন্য অসিয়ত করে অথবা অসিয়তে জুলুম করে, তবে বিচারক তা সত্যের দিকে ফিরিয়ে দেবেন।
এটি বারো বছর নির্ধারণের ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট ভাষ্য (نص)। কাজী আল-মুজাররাদ ও অন্যান্য কিতাবে আবু বকর আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইমাম আহমদ থেকে একটি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন যে, সাত বছরের ঊর্ধ্বে যে কারো অসিয়ত সহিহ (صحيحة) হবে; তার ইসলাম গ্রহণ ও তাকে পছন্দের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। আল-হারিছি বলেন: এটি আমি ইমাম আহমদ থেকে স্পষ্টভাবে বর্ণিত (منصوص) পাইনি। আমার মনে হয় এটি আট বছর বয়সী শিশুর ইসলাম গ্রহণ সংক্রান্ত তার সুস্পষ্ট ভাষ্য (نص) থেকে আহরণ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়ায়িদু ওয়াল ফাওয়ায়িদুল উসুলিয়্যাহ ওয়া মা ইয়াতবাউহা মিনাল আহকামিল ফারয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
ويؤيد ذلك أن ابن أبى موسى ذكر في الإرشاد1 أن وصية الغلام الزى لم يبلغ عشرا والجارية التي لم تبلغ تسعا باطلة قولا واحدا وابن أبى موسى خبير بالمذهب جدا وإذا قيل بالأشهر عن أحمد وأن ذلك محدود بعشر فظاهر إطلاق أبى الخطاب وأبى محمد المقدسي لا فرق بين الذكر والأنثى ولكن نص أحمد في رواية صالح2 على الصحة في الأنثى لتسع سنين وفي الذكر لعشر واختاره أبو بكر عبد العزيز وابن أبى موسى.
تنبيه:
كثيرا ما يقيدون الصحة في وصية الصبي بأصلية الحق مع أن ذلك معتبر في كل وصية وانما قيدوه لكون المخالفة تكثر فيه لعدم وصف التكليف فاحتيج إلى التأكيد ذكره الحارثى.
وقال أبو العباس قول أحمد وغيره من السلف في وصية الصبى إذا أصاب الحق يحتمل في بادى الرأي وجهين.
أحدهما أن اصابة الحق إذا أوصى بما يجوز للبالغ لكن هذا فيه نظر فإن هذا الشرط ثابت في حق كل موص فلا حاجة إلى تخصيص الصبي به.
والثاني: أنه إذا أوصى بما يشرع له ويستحب أن يوصى به مثل أن يوصى لأقاربه الذين لا يرثونه فعلى هذا لو أوصى لبعيد دون القريب المحتاج لم تنفذ وصيته بخلاف البالغ لأن الصبي لما كان قاصر النظر فلا بد أن ينضم نظر الشرع كما احتاج بيعه إلى إذن الولي وكذلك إحرامه بالحج على إحدى الروايتين.
--------------------------------------------
এটি সমর্থন করে যে, ইবনে আবি মুসা 'আল-ইরশাদ' ১-এ উল্লেখ করেছেন যে, দশ বছর পূর্ণ না হওয়া বালক এবং নয় বছর পূর্ণ না হওয়া বালিকার ওয়াসিয়াত (وصية) একমাত্র অভিমত (قولا واحدا) অনুযায়ী বাতিল (باطلة)। ইবনে আবি মুসা মাযহাব সম্পর্কে অত্যন্ত অভিজ্ঞ। যদি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত অধিকতর প্রসিদ্ধ (الأشهر) মত অনুযায়ী বলা হয় যে এটি দশ বছরের সাথে সীমাবদ্ধ, তবে আবু আল-খাত্তাব এবং আবু মুহাম্মাদ আল-মাকদিসির নিরঙ্কুশ বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থ হলো এতে বালক ও বালিকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু সালেহ-এর বর্ণনা (رواية) ২-এ ইমাম আহমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) অনুযায়ী বালিকার ক্ষেত্রে নয় বছর এবং বালকের ক্ষেত্রে দশ বছর বয়স হলে ওয়াসিয়াত সঠিক (الصحة)। আবু বকর আব্দুল আজিজ এবং ইবনে আবি মুসা এই মতটিকেই গ্রহণ করেছেন।
সতর্কবার্তা (تنبيه):
শিশুর ওয়াসিয়াত সঠিক (الصحة) হওয়ার ক্ষেত্রে তারা প্রায়শই সঠিক হক বা ন্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার শর্তারোপ করেন, যদিও এটি প্রতিটি ওয়াসিয়াতের ক্ষেত্রেই বিবেচিত (معتبر)। তারা এটি এজন্য শর্তযুক্ত করেছেন কারণ শরয়ী দায়িত্ব (التكليف) না থাকায় এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, তাই এর গুরুত্বারোপ করার প্রয়োজন হয়েছে; এটি আল-হারিসি উল্লেখ করেছেন।
আবু আল-আব্বাস বলেন, শিশুর ওয়াসিয়াত যদি সঠিক ও ন্যায়ানুগ (أصاب الحق) হয়, তবে ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্য পূর্বসূরিদের (السلف) বক্তব্যের প্রাথমিক দৃষ্টিতে দুটি ব্যাখ্যা হতে পারে।
প্রথমটি: সঠিক হওয়া (اصابة الحق) বলতে বুঝায় সে যদি এমন কিছুর ওয়াসিয়াত করে যা একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য বৈধ (يجوز)। তবে এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে, কারণ এই শর্তটি প্রত্যেক ওয়াসিয়াতকারীর ক্ষেত্রেই সাব্যস্ত (ثابت), তাই শিশুর জন্য এটিকে নির্দিষ্ট (تخصيص) করার প্রয়োজন নেই।
দ্বিতীয়টি: সে যদি এমন কিছুর ওয়াসিয়াত করে যা তার জন্য শরিয়তসম্মত (يشرع) এবং মুস্তাহাব (يستحب), যেমন তার এমন নিকটাত্মীয়দের জন্য ওয়াসিয়াত করা যারা উত্তরাধিকারী নয়। এই হিসেবে, যদি সে অভাবী নিকটাত্মীয়কে বাদ দিয়ে দূরবর্তী কাউকে ওয়াসিয়াত করে তবে তার ওয়াসিয়াত কার্যকর (تنفذ) হবে না, যা প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে ভিন্ন। কারণ শিশুর বিচারবুদ্ধি যেহেতু অসম্পূর্ণ (قاصر النظر), তাই সেখানে শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হওয়া আবশ্যক, যেমন তার ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতির প্রয়োজন হয় এবং দুই বর্ণনার (الروايتين) একটি অনুযায়ী হজ্জের ইহরামের ক্ষেত্রেও অনুরূপ।
--------------------------------------------