(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: -)
القطعية من الأدلة الأربعة القسم: أصول الفقه
الكتاب: القطعية من الأدلة الأربعة
المؤلف: محمد دمبي دكوري
المحقق: -
الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1420هـ
عدد الصفحات: 467
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
চারটি দলিলের অকাট্যতা বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
বই: চারটি দলিলের অকাট্যতা
লেখক: মুহাম্মদ দাম্বি দাকুরি
গবেষক: -
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব কিংডম
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬৭
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
القطعية من الأدلة الأربعة
تأليف: محمد دكوري
مقدمةإنَّ الحمدَ لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئاتِ أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلاّ الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يأَيُهَا الَّذِينَءَامَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنتُم مُسْلِمُونَ} 1. {يَأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنسَاءً وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2.
{يَأَيهَا الَّذِينَءَامَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيغْفرْ لَكُمْ ذنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعِ اللهَ وَرَسُولُهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3.
أما بعد:
فقد كان الناس في جاهليةٍ انطمست فيها معالِمُ السبيل، يتخبطون ولا يُرشِدُهم إلى الصراطِ المستقيمِ دليل، حَيَّرَتْهم السبلُ المتفرقة بأماراتها الكاذبةِ ومعالمِها الخادعة، وإن فقدانَ الدليلِ المرشد، واختلاطَ الأمارات، وانطماسَ المعالم لمن أخطرِ ما يلقاه سالكُ الطريق.
--------------------------------------------
চার প্রকার দলিলের অকাট্যতা
রচনায়: মুহাম্মদ দকোরী
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} ১। {হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে অনেক নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} ২।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।} ৩।
অতঃপর:
মানুষ জাহেলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল যেখানে পথের চিহ্নসমূহ মুছে গিয়েছিল। তারা দিগ্বিদিক লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরছিল এবং কোনো প্রমাণ তাদের সঠিক পথের দিশা দিচ্ছিল না। বিভিন্ন বিচ্যুত পথগুলো তাদের মিথ্যা নিদর্শন ও প্রবঞ্চনামূলক চিহ্ন দ্বারা বিভ্রান্ত করছিল। পথপ্রদর্শক প্রমাণের অভাব, নিদর্শনসমূহের সংমিশ্রণ এবং পথের চিহ্ন মুছে যাওয়া একজন পথচারীর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ثم أنعم الله على عبادِه بالهدايةِ إلى الإسلام، فأنار به سبيلاً ذاتِ معالمَ واضحة، وبدَّد به ما أَطْبَق من الظلمات، وأنزل عليهم كتابَه العزيز دليلا مرشدا، وقد حذّر به من اتباعِ السبلِ المتفرقة بما أقام من الحجةِ البالغة، فمن اعتصم به ظَفِر بعلم اليقين، ومن زاغ عنه فقد قطع على نفسه سبيلَ المعذرة إذ عرَّضها للمهانةِ والمذَمَّة.
فكان من أعظم النعم - بعد نعمة الهداية - ما منحَ الله تعالى من نَصْبِ الأدلة والأمارات التي بها يطمئن سالك الطريق، ويرجع بها الضالُّ والتائِهُ إلى جادة السبيل.
وكان أهمَّ ما هدى الله به إلى أحكامِ شريعتِه واتباعِ سبيلِه كتابُه العزيز الذي هو مرجع الأدلة ومعينها الذي لا ينضب، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم التي بينت الكتاب وأوضحته، ثم سبيل المؤمنين التي عليها أمرهم جميعا، فهي عصمة الشريعة وحصنُها المنيع، ثم رحم الله عبادَه بما فتح لهم من أبوابِ الاجتهادِ في الأدلة، وإن أوسعَ ما وقع من ذلك الاجتهادُ في الملماتِ النوازل بالنظر في ميزان القياس والاعتبار.
فالكتابُ والسنة والإجماعُ والقياس أهمُّ معالمِ السبيلِ وأحقُّ منارات الشريعة، وقد اهتم العلماء رحمهم الله بالأدلة الأربعةِ وغيرِها، فكانت مدارَ البحث في أصول الفقه وغيرِه من علوم الشريعة.
وأصلُ ما يبحث في الأدلة إثباتُها أدلةً يجب العملُ بها، وطُرُقاً يلزمُ
অতঃপর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ইসলামের হিদায়েত দিয়ে ধন্য করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি সুস্পষ্ট নিদর্শন সংবলিত পথকে আলোকিত করেছেন এবং এর মাধ্যমে ঘনীভূত অন্ধকারকে বিদূরিত করেছেন। তিনি তাদের নিকট তাঁর সম্মানিত কিতাব নাযিল করেছেন পথপ্রদর্শক দলীল হিসেবে। আর তিনি এর মাধ্যমে সুষ্পষ্ট প্রমাণাদি উপস্থাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন ভ্রান্ত পথ অনুসরণের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি একে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরল, সে নিশ্চিত জ্ঞান লাভে সফল হলো; আর যে ব্যক্তি তা থেকে বিচ্যুত হলো, সে নিজের ওজর বা অজুহাতের পথ রুদ্ধ করে দিল, যেহেতু সে নিজেকে লাঞ্ছনা ও নিন্দার মুখে ঠেলে দিল।
হিদায়েতের নিআমতের পর মহান আল্লাহর দেওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিআমত হলো এমন সব দলীল ও নিদর্শনাদি নির্ধারণ করা, যার মাধ্যমে পথের পথিক প্রশান্তি লাভ করে এবং পথহারা ও বিভ্রান্ত ব্যক্তি সঠিক পথে ফিরে আসে।
আল্লাহ যে সকল মাধ্যমের দ্বারা তাঁর শরীয়তের বিধানাবলি এবং তাঁর পথ অনুসরণের হিদায়েত দিয়েছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাঁর সম্মানিত কিতাব, যা দলীলাদির মূল উৎস ও অফুরন্ত ঝরনাধারা; এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ যা কিতাবকে ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করেছে। অতঃপর মুমিনদের পথ, যার ওপর তাদের সকল বিষয় ন্যস্ত, যা শরীয়তের রক্ষাকবচ ও দুর্ভেদ্য দুর্গ। অতঃপর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর দয়া করেছেন দলীলাদির ক্ষেত্রে ইজতিহাদের দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়ে। আর এই ইজতিহাদের ক্ষেত্রে যা সবচেয়ে ব্যাপক পরিসরে ঘটেছে তা হলো কিয়াস ও বিবেচনার মানদণ্ডে পর্যালোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত জটিল ও নতুন সমস্যাবলির সমাধান বের করা।
সুতরাং কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস হলো পথের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য এবং শরীয়তের হিদায়েতের সবচেয়ে যোগ্য আলোকবর্তিকা। উলামায়ে কেরাম (রাহিমাহুমুল্লাহ) এই চারটি দলীল ও অন্যান্য দলীলাদির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, ফলে এগুলোই উসূলে ফিকহ এবং শরীয়তের অন্যান্য ইলমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
দলীলাদি সংক্রান্ত আলোচনার মূল ভিত্তি হলো সেগুলোকে এমন দলীল হিসেবে সাব্যস্ত করা যার ওপর আমল করা ওয়াজিব, এবং এমন পথ হিসেবে প্রমাণ করা যা অনুসরণ করা আবশ্যক...
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
سلوكُها إلى الأحكامِ الشرعية، وذلك البحث في حجيتها.
ثم فرّع أهلُ العلمِ على هذا الأصلِ مباحثَ كثيرة، بيَّنوا فيها حقيقةَ الأدلة، وطرقَ العملِ بها، وكيف يستنبط الناظرُ فيها أحكامَ الشريعة.
ومن فروع البحثِ في الأدلة الشرعية النظرُ في الاختلاف الواقعِ بينها من حيث القوة في الثبوتِ أو الدلالة، حتى يكونَ منها ما ينتهي في القوة إلى حيث يَفصِلُ كلَّ احتمال، فيلزم عالِمَه العملُ به ولا تجوز مخالفتُه بما يَقطع من العذر ويَدفع من الشبهة.
وقوةُ الدليلِ ووضوحُهُ في المراد من الاحتجاج أو المحاجَّة من أعظم الأسبابِ التي تورث الطمأنينةَ في القلب وتُوجِبُ - لمن حصَّلها - مزيدَ إقبالٍ على العمل، لما تُضْفِي على الحكم من أمن الخطأ، وتُقْصِي عنه من احتمال الزَّلَل، فمن ظَفِر على مطالبه بقواطع الأدلة، وكان طريقَه إلى الأحكامِ سواطعُ الحجج كان على يقين من أمره بسلوك الطريق الصحيحِ الموصلِ إلى ما يصبو إليه، وذلك من أسبابِ الرسوخِ في العلم والإمامةِ في الدين.
القطعية في الأدلةِ الشرعية من المباحث الأصيلةِ في أصول الفقه، لتعلقِه بصفةٍ من صفات الأدلة، وتفرُّعِه عن مبحث الحجية، وإن لعلماء أصول الفقه فيه تصريحات وإشارات.
وإن الوصول في البحث العلمي إلى اليقين المُستَنِد إلى الدليل القطعي يظل مطلبا مهما في غير العلومِ الشرعية أيضا، فكثيرا ما بقيت نتائجُ
শরয়ী বিধানসমূহে পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে সেগুলোর প্রামাণিকতা সম্পর্কে অনুসন্ধান।
অতঃপর জ্ঞান অন্বেষীগণ এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে অনেক আলোচনার অবতারণা করেছেন, যেখানে তারা দলীলের প্রকৃত রূপ, সেগুলো প্রয়োগের পদ্ধতি এবং কীভাবে একজন গবেষক তা থেকে শরীয়তের বিধানাবলি নিষ্কাশন করবেন তা বর্ণনা করেছেন।
শরয়ী দলীলের আলোচনার একটি শাখা হলো, সাব্যস্ত হওয়া বা অর্থের স্পষ্টতার শক্তির দিক থেকে সেগুলোর মাঝে বিদ্যমান পার্থক্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করা। এমনকি কোনো দলীল শক্তির এমন পর্যায়ে পৌঁছে যা সকল প্রকার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়। ফলে তা পরিজ্ঞাত ব্যক্তির জন্য সে অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক হয়ে পড়ে এবং তার বিরোধিতা করা জায়েয হয় না; যা যাবতীয় ওজর-আপত্তি ছিন্ন করে এবং সংশয়কে প্রতিহত করে।
দলীল পেশ করা বা যুক্তিতর্কের ক্ষেত্রে দলীলের শক্তি ও তার উদ্দেশ্যের স্পষ্টতা হলো অন্তরে প্রশান্তি আনয়নকারী অন্যতম শ্রেষ্ঠ কারণ। যে ব্যক্তি তা অর্জন করে, এটি তাকে আমলের প্রতি আরও বেশি ধাবিত করে। কারণ এটি বিধানটিকে ভুল থেকে সুরক্ষা দান করে এবং তা থেকে পদস্খলনের সম্ভাবনাকে দূর করে দেয়। সুতরাং যে ব্যক্তি অকাট্য দলীলের মাধ্যমে তার লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে এবং বিধানসমূহে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যার পথ ছিল সুষ্পষ্ট প্রমাণাদি, সে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানোর সঠিক পথে চলার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকে। আর এটিই হলো ইলমের গভীরতা এবং দ্বীনি নেতৃত্বের অন্যতম কারণ।
শরয়ী দলীলের অকাট্যতা হলো উসূলে ফিকহের একটি মৌলিক বিষয়; কারণ এটি দলীলের অন্যতম বৈশিষ্ট্যের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এটি দলীলের প্রামাণিকতার আলোচনা থেকে উৎসারিত। উসূলে ফিকহের পণ্ডিতগণের এ বিষয়ে অনেক সুস্পষ্ট বক্তব্য ও ইঙ্গিত রয়েছে।
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অকাট্য দলীলের ওপর ভিত্তি করে নিশ্চিত জ্ঞানে পৌঁছানো শরয়ী বিজ্ঞান ছাড়াও অন্যান্য শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অন্বেষা হিসেবে বিবেচিত হয়। কেননা অনেক সময়ই ফলাফলগুলো...
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
المطلب الثاني: جهة الدلالة.
المطلب الثالث: مسائل في جهة القطعية.
المبحث الثاني: فيما يفيد القطعيةَ في الدليل، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: إفادة الإجماعِ القطعيةَ في الدليل.
المطلب الثاني: أثر القرائنِ في إفادة القطعية.
المبحث الثالث: فيما يمنع القطعيةَ عن الدليل، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: أثر الخلافِ في منعِ القطعية.
المطلب الثاني: الاحتمالُ وأثرُه في منع القطعية.
الفصل الثاني: أثر قطعيةِ الدليل، وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: أثر القطعية في الاصطلاح، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: في الدليلِ والأَمارة.
المطلب الثاني: في الفرضِ والواجب.
المبحث الثاني: أثرُ القطعيةِ في الاجتهادِ والتَّخْطِئَة.
المبحث الثالث: أثر القطعية في التعارض والترجيح.
الباب الثاني: أحكامُ القطعيةِ في الأدلة الأربعة، وفيه ثلاثة فصول:
الفصل الأول: أحكام القطعيةِ في الكتاب والسنة، وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: الكتاب والسنة أصلُ الأدلةِ القطعية.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নির্দেশকতার দিক।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুনিশ্চিততার দিক সম্পর্কিত বিষয়াবলি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দলিলে যা সুনিশ্চিততা প্রদান করে এবং এতে দু’টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: দলিলে ইজমা কর্তৃক সুনিশ্চিততা প্রদান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুনিশ্চিততা প্রদানের ক্ষেত্রে আনুষঙ্গিক প্রমাণাদির প্রভাব।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: যা দলিলে সুনিশ্চিততা অর্জনে বাধা প্রদান করে এবং এতে দু’টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুনিশ্চিততা রোধে মতভেদের প্রভাব।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সম্ভাবনা এবং সুনিশ্চিততা রোধে এর প্রভাব।
দ্বিতীয় অধ্যায়: দলিলের সুনিশ্চিততার প্রভাব এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: পরিভাষার ক্ষেত্রে সুনিশ্চিততার প্রভাব এবং এতে দু’টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: দলিল ও আলামত (প্রমাণক) প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফরজ ও ওয়াজিব প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইজতিহাদ ও ভুল সাব্যস্তকরণের ক্ষেত্রে সুনিশ্চিততার প্রভাব।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বৈপরীত্য ও প্রাধান্যদানের ক্ষেত্রে সুনিশ্চিততার প্রভাব।
দ্বিতীয় পর্ব: চারটি দলিলে সুনিশ্চিততার বিধান এবং এতে তিনটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: কুরআন ও সুন্নাহর ক্ষেত্রে সুনিশ্চিততার বিধান এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: কুরআন ও সুন্নাহ হলো সুনিশ্চিত দলিলসমূহের মূল ভিত্তি।
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الثاني: أحكام القطعيةِ في السنةِ من جهة الثبوت، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: قطعيةُ الخبرِ المتواتر.
المطلب الثاني: قطعيةُ خبرِ الواحد.
المبحث الثالث: أحكامُ القطعيةِ في الكتاب والسنة من جهة الدلالة وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: قطعية النص.
المطلب الثاني: قطعية العموم.
المطلب الثالث: قطعية المفهوم.
الفصل الثاني: أحكام القطعية في الإجماع، وفيه مبحثان:
المبحث الأول: قطعية الإجماع.
المبحث الثاني: الإجماع القطعي.
الفصل الثالث: أحكام القطعية في القياس، وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: قطعية القياس.
المبحث الثاني: القياس القطعي.
المبحث الثالث: القطعي من مَسالِكِ العلة.
ثم أَرْدَفْتُ بِخاتِمةٍ ذكرتُ فيها أهمَّ النتائج وبعضَ مَجالِ البحث في القطعية.
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: প্রমাণিত হওয়ার (সুবুত) দিক থেকে সুন্নাহর অকাট্যতার বিধানাবলি, এবং এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: মুতাওয়াতির সংবাদের অকাট্যতা।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: খবরে ওয়াহিদের অকাট্যতা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নির্দেশকতার (দালালাত) দিক থেকে কিতাব ও সুন্নাহর অকাট্যতার বিধানাবলি এবং এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: নসের অকাট্যতা।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: আম-এর (ব্যাপক অর্থবোধকতা) অকাট্যতা।
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: মাফহুমের (ভাবার্থ) অকাট্যতা।
দ্বিতীয় অধ্যায়: ইজমার অকাট্যতার বিধানাবলি, এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইজমার অকাট্যতা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অকাট্য ইজমা।
তৃতীয় অধ্যায়: কিয়াসের অকাট্যতার বিধানাবলি, এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: কিয়াসের অকাট্যতা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অকাট্য কিয়াস।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মাসালিকুল ইল্লাত (কারণের পথসমূহ)-এর অকাট্য বিষয়সমূহ।
অতঃপর আমি একটি উপসংহার যুক্ত করেছি যাতে আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ এবং অকাট্যতা সংক্রান্ত গবেষণার কিছু ক্ষেত্র উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ثم ذكرتُ من الفهارس العلمية:
- فهرسَ الآيات القرآنية.
- وفهرسَ الأحاديثِ النبوية.
- وفهرسَ الآثار.
- وفهرسَ الأعلام.
- وفهرسَ المراجع.
- وفهرسَ الموضوعات.
منهجي في البحث:
ويتبين المنهجُ الذي سرت عليه في البحث بما يلي:
أ - في الوصول إلى مادةِ الموضوع جَمَعْتُ ما ذكره أهلُ العلمِ من المصادر الأصوليةِ الأصيلة وما ذكره العلماء من غير الأصوليين بما أَقْدَرَ اللهُ من الجُهدِ في البحث والتنقيب، ثم وَزَّعْتُ ذلك على الجُزَيْئاتِ السابقةِ من خطة البحث.
ب - ذكرت أقوالَ أهلِ العِلمِ حَسَبَ التَّسَلْسُلِ الزَّمَنِيِّ لوفاتهم رحمهم الله، إلا أن يكونَ قولُ بعضِهم أوضحَ للفقرة فأقدمُه ثم أنقلُ من أشار إلى ذلك.
ج - للقطعية سوابقُ ولواحقُ من البحث تتَّصِلُ بها أحيانا وليس من صَمِيمِها، مثلُ بحثِ حجيةِ الدليل السابقِ لقطعيته، ومثلُ بحثِ الضروريةِ أو النظريةِ في الدليل اللاحقِ لبحث القطعيةِ فيه، واقْتَصَرْتُ على البحث في
এরপর আমি ইলমি সূচিপত্রসমূহ উল্লেখ করেছি:
- কুরআনের আয়াতসমূহের সূচিপত্র।
- হাদীসে নববীর সূচিপত্র।
- আসার-এর সূচিপত্র।
- বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সূচিপত্র।
- তথ্যসূত্রের সূচিপত্র।
- বিষয়সূচি।
গবেষণায় আমার পদ্ধতি:
গবেষণায় আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়:
ক - বিষয়ের বিষয়বস্তু সংগ্রহে আমি নির্ভরযোগ্য মূল উৎসসমূহ থেকে ইলম অর্জনকারী ব্যক্তিবর্গ যা উল্লেখ করেছেন এবং উসুলবিদগণ ব্যতীত অন্যান্য আলেমগণ যা উল্লেখ করেছেন তা গবেষণায় আল্লাহ প্রদত্ত সাধ্য অনুযায়ী সংগ্রহ করেছি, এরপর সেগুলোকে গবেষণা পরিকল্পনার পূর্ববর্তী উপ-বিভাগগুলোতে বণ্টন করেছি।
খ - আমি ইলম অর্জনকারী ব্যক্তিবর্গের উক্তিগুলো তাঁদের মৃত্যুসাল অনুযায়ী কালানুক্রমিকভাবে উল্লেখ করেছি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন), তবে কারো বক্তব্য যদি অনুচ্ছেদের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ ও স্পষ্ট হয় তবে আমি তা আগে উল্লেখ করেছি এবং পরে যিনি এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তাঁর কথা উদ্ধৃত করেছি।
গ - অকাট্যতা বা সুনিশ্চিত প্রমাণের (কাতঈয়াহ) ক্ষেত্রে গবেষণার এমন কিছু পূর্বাপর বিষয় থাকে যা কখনো এর সাথে সংশ্লিষ্ট হয় কিন্তু তা তার মূল অংশ নয়। যেমন— দলিলের অকাট্যতার পূর্বের প্রামাণিকতা (হুজজিয়াহ) নিয়ে গবেষণা, এবং কোনো দলিলে তার অকাট্যতা নিয়ে গবেষণার পরবর্তী বিষয় হিসেবে সেটির অত্যাবশ্যকীয়তা (দারুরিয়্যাহ) বা পর্যবেক্ষণমূলক (নাজারিইয়্যাহ) দিক নিয়ে গবেষণা। আর আমি গবেষণাকে সীমাবদ্ধ রেখেছি...
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الدراساتِ في العلوم الكونية قضايا قابلةً للنقضِ لأدنى شبهةِ احتمال، بل قد تَكشفُ بحوثٌ جديدةٌ ما يُبْطِل نظرياتٍ كانت تُعَدُّ من الحقائق العلمية!
لكن الأحكامَ الشرعيةَ المُسْتَنِدةَ إلى أدلتِها الصحيحة تختلف عن تلك العلوم من حيث المصدر وطرق الوصول، فإن مصدرَ علومِ الشرع - على اختلافها وتنوعها - الوحيُ من السماء، وأصلها الإيمان بالله الحكيمِ العليم، وأنه أنزل كتابا فيه ذِكْرٌ تكفَّل سبحانه وتعالى بحفظه، وكلَّف رسولَه صلى الله عليه وسلم التبيين، وهو الناصحُ الأمين، الحريصُ على حَسْمِ مواردِ اللبسِ وقطعِ موجباتِ الخطأِ ومواردِ الضلال.
فكان الفرضُ في الابتداء - من أجل هذا المُسَلَّمِ الإيمانيِّ - أن قضية القطعِ في العلوم الشرعية لا يجوز بحثها معزولةً عن مصدرها، وأنها مختلفة عن بحث القطعيةِ في العلومِ الكونية والمعارفِ الإنسانيةِ الأخرى.
ولما عرَض لي بحثُ موضوعٍ في أصول الفقه لمرحلة العالمية (الماجستير) - وبعد أن استشرت بعضَ أساتذتي - وفَّقني الله إلى اختيار هذا البحث موضوعا في هذه المرحلة.
أسباب اختيار الموضوع:
كان لاختيار الموضوع دوافع:
منها: ما تقدم من أهمية اليقين وأن القطعَ بأدلةِ الأحكام يورث الطمأنينةَ وأمنَ الزلل.
মহাজাগতিক বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণাগুলো সামান্যতম সন্দেহের ভিত্তিতেও খণ্ডনযোগ্য হতে পারে, বরং নতুন গবেষণাসমূহ এমন কিছু উন্মোচন করতে পারে যা ইতিপূর্বে বৈজ্ঞানিক সত্য বলে গণ্য হওয়া তত্ত্বগুলোকে বাতিল করে দেয়!
কিন্তু সঠিক দলিলের ওপর নির্ভরশীল শরয়ি বিধানসমূহ উৎস এবং প্রাপ্তির পদ্ধতির দিক থেকে উক্ত বিজ্ঞানসমূহ থেকে ভিন্ন। কেননা শরয়ি জ্ঞানসমূহের উৎস—তার ভিন্নতা ও বৈচিত্র্য সত্ত্বেও—আকাশ থেকে অবতীর্ণ ওহি, এবং এর মূল ভিত্তি হলো প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর প্রতি ঈমান। আর তিনি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যাতে রয়েছে উপদেশ, যা সংরক্ষণের দায়িত্ব সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বয়ং গ্রহণ করেছেন; এবং তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব প্রদান করেছেন। তিনি হলেন বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্ক্ষী, যিনি সংশয়ের ক্ষেত্রসমূহ দূর করতে এবং ভুল ও গোমরাহির কারণসমূহ নির্মূল করতে অত্যন্ত সচেষ্ট।
তাই সূচনালগ্নে এই ঈমানি স্বতঃসিদ্ধের কারণে এ বিষয়টি অপরিহার্য ছিল যে, শরয়ি জ্ঞানসমূহের ক্ষেত্রে অকাট্যতার বিষয়টি এর উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন করে আলোচনা করা বৈধ নয়; এবং এটি মহাজাগতিক বিজ্ঞান ও অন্যান্য মানবিক জ্ঞানের অকাট্যতা সংক্রান্ত আলোচনার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
যখন আমার সামনে উচ্চতর (মাস্টার্স) পর্যায়ের জন্য উসুলুল ফিকহের একটি বিষয়ের ওপর গবেষণার প্রস্তাব এল—এবং আমার কয়েকজন শিক্ষকের সাথে পরামর্শ করার পর—আল্লাহ তাআলা আমাকে এই স্তরে গবেষণার বিষয় হিসেবে এটি নির্বাচন করার তাওফিক দান করলেন।
বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ:
বিষয়টি নির্বাচনের পেছনে বেশ কিছু কারণ ছিল:
তন্মধ্যে: ইতিপূর্বে ইয়াকিন বা নিশ্চিত বিশ্বাসের যে গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে এবং এটি যে বিধানের দলিলসমূহের অকাট্যতা অন্তরে প্রশান্তি দান করে এবং পদস্খলন থেকে নিরাপদ রাখে।
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومنها: أنه موضوعٌ في صميم الأدلة الأربعة التي هي أهم موضوعات علمِ أصولِ الفقه.
ومنها: أنه موضوعٌ يدخلُ في كثيرٍ من أبوابِ أصولِ الفقه، فيقف الطالب على كثيرٍ من مسائلِ هذا العلم.
والبحث في (القطعية) متفرقٌ في ثنايا كلامِ أهلِ العلمِ في أصول الفقه لا يجمعه باب، ولا تُرشِد إلى الوقوف عليه مظان، وإنما يُلفَى من خلال إشاراتِ العلماءِ في مواضعَ غير مطردةٍ، وعند استطرادِ البحثِ والتأصيل، أو إيرادِ الأسئلةِ والأجوبةِ في المناقشات، على أن بعضَ موادِّ هذا الموضوع توجد كذلك متفرقة في غير المشهورِ من كتبِ أصول الفقه الخاصة، مثل مؤلفاتِ شيخِ الإسلامِ ابنِ تيمية، وكتبِ شمس الدين ابنِ القيم، وفي تحقيقات الشيخِ أبي إسحاق الشاطبي وغيرِهم من العلماء رحمة الله عليهم أجمعين.
فلما بدا من ذلك ما بدا ولاح أنّ مما يمكنُ فيه البحث جمعَ ما تفرق في ذلك من كلام أهل العلم رحمهم الله وتأليفَ بعضِه إلى بعض في مكان واحد، استعنت بالله مُقدِما على ذلك، عسى أن تَخْرُجَ صورةٌ قريبةٌ لموضوع القطعية في الأدلة الأربعة. والله المستعان.
وقد شدّ من عزمي على اختياره ما أشار به بعضُ الأساتذةِ الفضلاء من جِدَّةِ الموضوعِ في بابه وأن الكتابةَ في مثلِه صالحةٌ في هذه المرحلةِ المُبَكِّرةِ.
এর মধ্যে রয়েছে: এটি এমন একটি বিষয় যা চারটি প্রমাণের মূল কেন্দ্রে অবস্থিত, যা উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: এটি এমন একটি বিষয় যা উসুলুল ফিকহের অনেক অধ্যায়ে প্রবেশ করে, ফলে শিক্ষার্থী এই শাস্ত্রের বহু মাসআলা সম্পর্কে অবগত হতে পারে।
আর 'অকাট্যতা' (কাতইইয়াহ) বিষয়ক আলোচনা উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের জ্ঞানীদের আলোচনার ভাঁজে ভাঁজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, কোনো একটি নির্দিষ্ট অধ্যায় একে একত্রিত করেনি এবং কোনো নির্দিষ্ট উৎস এর সন্ধান পাওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি পথ দেখায় না। বরং এটি আলেমদের বিভিন্ন অনিয়মিত ইশারা-ইঙ্গিতের মধ্য দিয়ে, গবেষণার বিস্তারিত আলোচনা ও মূলনীতি নির্ধারণের সময় অথবা বিভিন্ন আলোচনার সওয়াল-জওয়াব উপস্থাপনের সময় খুঁজে পাওয়া যায়। তদুপরি, এই বিষয়ের কিছু উপাদান উসুলুল ফিকহের বিশেষায়িত অপ্রসিদ্ধ কিতাবসমূহেও বিক্ষিপ্তভাবে পাওয়া যায়, যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার রচনাবলি, শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিমের কিতাবসমূহ এবং শাইখ আবু ইসহাক আল-শাতিবিসহ অন্যান্য আলেমদের (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন) গবেষণামূলক কাজসমূহে।
যখন বিষয়টি স্পষ্ট হলো এবং এটি প্রতীয়মান হলো যে, আলেমদের (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) এই বিষয়ক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বক্তব্যগুলো সংগ্রহ করে এক স্থানে বিন্যস্ত করার মাধ্যমে গবেষণা করা সম্ভব, তখন আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এই কাজে অগ্রসর হলাম; যেন এর মাধ্যমে চারটি দলীলের ক্ষেত্রে অকাট্যতা (কাতইইয়াহ) বিষয়ের একটি কাছাকাছি চিত্র ফুটে ওঠে। আর সাহায্য কেবল আল্লাহর কাছেই কাম্য।
এই বিষয়টি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে কতিপয় মহৎ অধ্যাপকের সেই পরামর্শ, যেখানে তাঁরা এই বিষয়ের নতুনত্ব এবং এই প্রাথমিক পর্যায়ে এ ধরনের বিষয়ে লেখালেখির উপযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
خطة البحث:
جاء البحث في مقدمة، وفصل تمهيدي، وبابين، ثم خاتمة.
المقدمة في الخطبة، وبيان أهمية الموضوع، ودوافع اختياره، وخطة البحث، ومنهج الباحث فيه.
أما الفصل التمهيدي: ففيه خمسةُ مباحث:
المبحث الأول: ماهية القطع، وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: تعريف القطعِ لغة.
المطلب الثاني: القطعُ عند الأصوليين.
المطلب الثالث: معنى القطعية في الدليل.
المبحث الثاني: الأدلة الشرعية من حيث القطعيةُ وعدمُها.
المبحث الثالث: وجوب العملِ بالأدلة الشرعية القطعيةِ وغيرِ القطعية.
المبحث الرابع: أهميةُ الدليلِ القطعي.
المبحث الخامس: قطعية أصول الفقه.
والباب الأول: قطعية الدليل وأثرُها: وفيه فصلان:
الفصل الأول: قطعية الدليل، وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: جهة القطعيةِ في الدليل، وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: جهة الثبوت.
গবেষণার রূপরেখা:
এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, একটি প্রারম্ভিক অধ্যায়, দুটি মূল খণ্ড এবং পরিশেষে একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত হয়েছে।
ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত হলো প্রারম্ভিক ভাষণ, বিষয়ের গুরুত্ব বর্ণনা, বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ, গবেষণার রূপরেখা এবং এতে গবেষকের অনুসৃত পদ্ধতি।
আর প্রারম্ভিক অধ্যায়ের ক্ষেত্রে, এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: অকাট্যতার স্বরূপ, এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে অকাট্যতার সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: উসুলশাস্ত্রবিদদের নিকট অকাট্যতা।
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: দলীলের ক্ষেত্রে অকাট্যতার অর্থ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অকাট্যতা ও অনকাট্যতার বিচারে শরয়ি দলীলসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অকাট্য ও অনকাট্য শরয়ি দলীল অনুযায়ী আমল করার অনিবার্যতা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অকাট্য দলীলের গুরুত্ব।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: উসুলুল ফিকহ-এর অকাট্যতা।
প্রথম খণ্ড: দলীলের অকাট্যতা এবং এর প্রভাব: এতে দুটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: দলীলের অকাট্যতা, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: দলীলের ক্ষেত্রে অকাট্যতার দিকসমূহ, এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: সাব্যস্ত হওয়ার দিক।
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
مستوى القطعيةِ نفسِه منعاً لانتشارِ البحث ووفاءً لِحَدِّ الموضوع.
د- فَرَّقْتُ - عند الإحالةِ إلى المراجعِ الأصولية - بين كتبِ الحنفيةِ وكتبِ غيرِهم من الأصوليين، ثم رتَّبْتها حسب تقدمِ وَفاةِ مُؤَلِّفيها، إلا أن يكونَ من المراجع ما يكون أساسَ الإحالة فأقدمه، ثم أذكرُ المراجعَ الأخرى التي أشارت إلى الفقرة.
وأحيل على المرجع ب (انظر) إلا إذا كان النقلُ منه نصا فأجعل النصَّ المنقول بين قوسين مزدوجين ""ثم أحيل بذكرِ اسمِ المرجعِ مباشرة.
هـ- بينت مواضعَ الآياتِ من المصحف بذكر رقمِ الآية واسمِ السورةِ.
و خرّجت الأحاديث: فإن كان الحديثُ في الصحيحين أو أحدِهما اكتفيت بالإحالة على موضعِه من ذلك، وإلا خرَّجتُه من السُّنَنِ الأربعة ومسندِ الإمام أحمد، أو خرَّجته - عند الحاجة - من مصادرِ السنةِ الأخرى مُبَيِّناً ما وقفتُ عليه من حكم العلماء عليه صحة أو ضعفا.
ز - ترجمت لمن وَرَدَ في البحث من الأعلام إلا الرسلَ عليهم الصلاة والسلام، وذلك باختصارٍ واطِّراد.
ح - عرَّفت من المصطلحات، وبينت من الغريب ما دَعَتِ الحاجةُ إلى تعريفِه وبيانِه.
شكر وتقدير:
هذا، والحمد لله من قبلُ ومن بعد على فضلِه ومنّه، وله الشكر أبدا
গবেষণার বিস্তার রোধ এবং বিষয়ের পরিসীমা রক্ষার নিমিত্তে একে নিশ্চিত প্রমাণের স্তরেই রাখা হয়েছে।
ঘ- উসূলি উৎসসমূহের উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে আমি হানাফী উসূলের কিতাব এবং অন্যান্য উসূলবিদদের কিতাবের মধ্যে পার্থক্য করেছি। অতঃপর সেগুলোকে লেখকদের মৃত্যুর সময়কাল অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি; তবে যদি কোনো গ্রন্থ উদ্ধৃতির মূল ভিত্তি হয় তবে সেটিকে প্রথমে উল্লেখ করেছি এবং এরপর সেই অনুচ্ছেদের প্রতি ইঙ্গিতকারী অন্যান্য উৎসসমূহ উল্লেখ করেছি।
উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে আমি 'দেখুন' শব্দটির সাহায্য নিয়েছি, তবে যদি উদ্ধৃতিটি সরাসরি মূল পাঠ হয় তবে আমি সেই পাঠকে ডাবল কোটেশন চিহ্নের "" মধ্যে রেখে সরাসরি উৎসের নাম উল্লেখ করেছি।
ঙ- আমি মুসহাফ থেকে আয়াতসমূহের নম্বর এবং সূরার নাম উল্লেখ করে সেগুলোর স্থান নির্দেশ করেছি।
চ- আমি হাদিসসমূহের উৎস বিশ্লেষণ (তাখরিজ) করেছি: যদি হাদিসটি সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা তার কোনো একটিতে থাকে তবে আমি শুধু সেখানে তার অবস্থানের উদ্ধৃতি প্রদান করেই ক্ষান্ত হয়েছি। অন্যথায়, আমি তা চার সুনান গ্রন্থ এবং ইমাম আহমাদের মুসনাদ থেকে তাখরিজ করেছি; অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী সুন্নাহর অন্যান্য উৎস থেকে তা উল্লেখ করার পাশাপাশি উক্ত হাদিসটি সহীহ না যয়ীফ—সে বিষয়ে উলামাদের সিদ্ধান্ত যা পেয়েছি তা বর্ণনা করেছি।
ছ- এই গবেষণায় উল্লিখিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত ও ধারাবাহিক জীবনী বর্ণনা করেছি, তবে রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) জীবনী এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
জ- আমি প্রয়োজনীয় পারিভাষিক শব্দসমূহের সংজ্ঞা দিয়েছি এবং যেসকল বিরল শব্দের ব্যাখ্যা প্রয়োজন ছিল তা স্পষ্ট করেছি।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার:
পরিশেষে, আদিতে ও অন্তে সকল নিআমত ও অনুগ্রহের জন্য আল্লাহরই প্রশংসা এবং তাঁরই জন্য চিরন্তন কৃতজ্ঞতা।
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
شكراً أرجو به ما وعد الشاكرين من مزيدِ نعمِه، وسوابغِ آلائِه.
وجدير في هذا المقام بأن أُقَدِّم جزيلَ الشكرِ وخالصَ العرفانِ لهذه المؤسسةِ العلميةِ المباركة إن شاء الله تعالى، الجامعةَ الإسلاميةَ بالمدينةِ النبوية، لما تقدمه من خدمة جليلة للإسلام والمسلمين في تعليم أبنائهم وإعدادهم للدعوة الصحيحة إلى الله تعالى، فجزى الله جميعَ القائمين عليها خير الجزاء، وأجزل لهم المثوبةَ في الدنيا والآخرة!
كما لا يفوتني أن أشكر الوالد الشيخ أحمدِ بنِ محمود بن عبد الوهاب لما بذل في متابعة هذا العمل، ودأب في تقويمه من لدن بدأ حتى جاء في هذه الصورة، فكان نِعْمَ الناصحُ المرشد يُمسك بِرِفْقٍ عند بوادر الاندفاع ثم يَسوق بيُسْرٍ عند أوائل الكلل والسآمة، فجزاه الله عني خيرا وبارك في علمه وعمله!
كما لا يفوتني أن أقدم جزيلَ الشكر، وخالصَ العرفان لشيخيّ الفاضلين: الدكتور محمدِ بنِ صالح بنِ عبيد النامي الحازمي، والدكتور سلامة بنِ ضويعن الأحمدي! على قبولهما مناقشةَ هذه الرسالةِ وتقويمها، فجزاهما الله خيرا وأجزل لهما المثوبة!
وجزى الله خيرا جميعَ الأساتذة والمعلمين، وكلَّ من تعلَّم طالبٌ على يديه علما نافعا.
وشَكَر الله لجميع من ساعد في هذا العمل بفكرةٍ صواب، أو إعارةِ كتاب، أو تنبيهٍ على وجه خلل، فجزى الله الجميع خيرا.
وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلَّم.
এমন এক শুকরিয়া নিবেদন করছি, যার মাধ্যমে আমি তাঁর নেয়ামতের প্রবৃদ্ধি এবং পরিপূর্ণ অনুগ্রহের প্রত্যাশা রাখি, যা তিনি কৃতজ্ঞতাকারীদের জন্য ওয়াদা করেছেন।
এই পর্যায়ে এই বরকতময় ইলমি প্রতিষ্ঠান—ইনশাআল্লাহ তাআলা—মদীনা নববীয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়কে অশেষ কৃতজ্ঞতা ও অকৃত্রিম ধন্যবাদ জানানো যথাযথ হবে। ইসলাম ও মুসলিমদের সন্তানদের শিক্ষা প্রদান এবং মহান আল্লাহর দিকে সঠিক দাওয়াতের জন্য তাদের প্রস্তুত করার মাধ্যমে তারা যে মহান খেদমত আঞ্জাম দিচ্ছে, তার জন্য আল্লাহ এর সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করুন!
সেই সাথে আমি শ্রদ্ধেয় শাইখ আহমাদ ইবনে মাহমুদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি এই কাজটির তত্ত্বাবধানে শ্রম দিয়েছেন এবং এর সূচনালগ্ন থেকে বর্তমান রূপ লাভ করা পর্যন্ত এটি সংশোধনে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন অনন্য উপদেশদাতা ও পথপ্রদর্শক, যিনি আবেগের আতিশয্যে আমাকে কোমলভাবে ধরে রাখতেন এবং ক্লান্তি ও অবসাদের শুরুতে অত্যন্ত সহজভাবে পরিচালিত করতেন। আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর জ্ঞান ও কর্মে বরকত দান করুন!
আরও অশেষ কৃতজ্ঞতা ও অকৃত্রিম শ্রদ্ধা নিবেদন করছি আমার দুই মহীয়ান উস্তাদ: ডক্টর মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে উবাইদ আন-নামি আল-হাজিমি এবং ডক্টর সালামাহ ইবনে দুইয়ান আল-আহমাদির প্রতি! তাঁরা এই গবেষণাপত্রটির পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁদের সওয়াব বৃদ্ধি করুন!
আল্লাহ সমস্ত উস্তাদ ও শিক্ষকগণকে এবং সেই সকল ব্যক্তিকে উত্তম প্রতিদান দিন, যাঁর নিকট কোনো শিক্ষার্থী উপকারী জ্ঞান লাভ করেছে।
আল্লাহ ঐ সকল ব্যক্তিকে কবুল করুন যাঁরা কোনো সঠিক পরামর্শ দিয়ে, বই ধার দিয়ে অথবা কোনো ত্রুটির বিষয়ে সতর্ক করে এই কাজে সহযোগিতা করেছেন। আল্লাহ তাঁদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সঙ্গী-সাথীদের প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
تمهيد…المطلب الأول: تعريف القطع لغة.
قال ابن سِيدَه1: "القطع: إبانة بعض أجزاء الجرم من بعض فصلا، قطعه يقطعه قطعاً وقَطيعةً وقُطوعاً"2.
والفصل يكون في الأمور المحسوسة كقطع الحبل.
ويكون في الأمور المعقولة كقطيعة الرحم ومن ذلك قوله تعالى: {فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِن تَولَّيْتُمْ أَن تُفْسِدُوا في الأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ} 3، وكالقطع في الحكم على أمر ومن ذلك قوله تعالى: {قَالَتْ يَأَيهَا الْمَلأُ أَفْتُوني في أَمْرِي مَا كُنْتُ قَاطِعَةً أَمْراً حَتَّى تَشْهَدُونِ} 4 5، وكالقطع أو قطع الدابر: بمعنى الإهلاك أو استئصال النوع، ومن ذلك قوله تعالى: {لِيَقْطَعَ
--------------------------------------------
ভূমিকা…প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে 'আল-কাত' (বিচ্ছিন্নকরণ) এর সংজ্ঞা।
ইবনে সীদাহ (১) বলেন: "আল-কাত: কোনো স্থূল বস্তুর এক অংশকে অন্য অংশ থেকে আলাদা বা বিচ্ছিন্ন করা। সে এটি কেটেছে, সে এটি কাটছে, কাটা এবং বিচ্ছিন্নতা।" (২)
আর এই বিচ্ছিন্নকরণ বা আলাদা করা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যেমন রশি কাটা।
আবার এটি বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে, যেমন আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলার বাণী: {তবে কি তোমাদের থেকে এমনটি আশা করা যায় যে, যদি তোমরা ক্ষমতা লাভ কর তবে জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে?} (৩)। তদ্রূপ কোনো বিষয়ের ওপর ফয়সালা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া অর্থেও এটি ব্যবহৃত হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলার বাণী: {সে বলল, হে প্রধানগণ! আমার এই বিষয়ে আমাকে পরামর্শ দাও; তোমাদের উপস্থিতি ছাড়া আমি কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না} (৪) (৫)। এবং কোনো কিছুর মূলোৎপাটন বা সমূলে বিনাশ করা অর্থেও এটি ব্যবহৃত হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলার বাণী: {যাতে তিনি কেটে দেন (বা ধ্বংস করেন)...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
طَرَفاً مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَوْ يَكْبِتَهُمْ فَيَنْقَلِبُوا خَائِبِينَ} 1 أي: ليهلك أمة منهم2، وقوله عز وجل: {وَقَضَيْنَا إِلَيْهِ ذَلكَ الأَمْرَ أَنَّ دَابِرَ هَؤُلَاءِ مَقْطُوعٌ مُصْبِحِينَ} 3.
وفي اللغة استعمالات كثيرة للقطع منها:
- قولهم: قطع زيد لسان عمرو: إذا أسكته بعطائه وإحسانه إليه.
- وقولهم: انقطع لسانه: إذا ذهبت سلاطته.
- وقولهم: أَقطع الرجلُ: إذا انقطعت حجته وبُكِّت بالحق فلم يجب، فهو مُقطع.
- وقولهم: قطع زيد عمرا بالحجة: إذا بكّته.
- وقولهم - على سبيل المثل -: كلام قاطع: أي نافذ4.
--------------------------------------------
{যেন তিনি কাফিরদের একটি অংশকে ধ্বংস করেন অথবা তাদের লাঞ্ছিত করেন, ফলে তারা ব্যর্থ মনোরথ হয়ে ফিরে যায়} ১ অর্থাৎ: তাদের একটি দলকে ধ্বংস করার জন্য২, এবং মহামহিম আল্লাহর বাণী: {আর আমি তাকে এই বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, ভোরেই তাদের শিকড় কেটে দেওয়া হবে} ৩।
আর ভাষাগতভাবে ‘কাটা’ (আল-কাত‘) শব্দটির বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো:
- তাদের উক্তি: যায়েদ আমরের জিহ্বা কেটে দিয়েছে: যখন সে তাকে দান ও মহানুভবতার মাধ্যমে নিশ্চুপ করিয়ে দেয়।
- তাদের উক্তি: তার জিহ্বা কেটে গেছে: যখন তার বাকপটুতা বা তীক্ষ্ণতা চলে যায়।
- তাদের উক্তি: লোকটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে: যখন তার প্রমাণ খণ্ডিত হয় এবং সত্যের মাধ্যমে তাকে এমনভাবে নির্বাক করে দেওয়া হয় যে সে আর উত্তর দিতে পারে না, তখন তাকে ‘বিচ্ছিন্ন’ (মুকতা‘) বলা হয়।
- তাদের উক্তি: যায়েদ প্রমাণের মাধ্যমে আমরের যুক্তি খণ্ডন করেছে: যখন সে তাকে সত্যের দ্বারা নিরুত্তর করে দেয়।
- তাদের উক্তি - রূপক অর্থে -: অকাট্য কথা: অর্থাৎ যা কার্যকর বা প্রভাবশালী৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
المطلب الثاني: القطع عند الأصوليين
قبل ذكر استعمال الأصوليين للقطع يحسن هنا التعرض لبعض الاصطلاحات المتعلقة بالقطع في علوم أخرى غير أصول الفقه.
1- فمن ذلك: (القطع) في علم قراءة القرآن.
وهو مرادف للوقف والسكت عند بعض العلماء، وجعل بعضهم القطع: "قطع القراءة رأسا، فهو كالانتهاء، فالقارئ به كالمُعرِض عن القراءة والمنتقل منها إلى حالة أخرى سوى القراءة كالذي يقطع على حزب
… أو في ركعة ثم يركع، أو نحو ذلك مما يؤذن بانقضاء القراءة والانتقال منها إلى حالة أخرى
… ولا يكون إلا على رأس آية لأن رؤوس الآي في نفسها مقاطع "1.
2- ومن ذلك: (الحديث المقطوع) في اصطلاح المحدثين.
وهو المتن المنتهي إلى التابعي فمن دونه من قول أو فعل أو تقرير، حكما أو تصريحا، ويجمع على (المقاطيع) و (المقاطع) 2.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উসুলবিদদের নিকট আল-কাত (নিশ্চয়তা/বিচ্ছেদ)
উসুলবিদদের নিকট আল-কাত-এর ব্যবহার উল্লেখ করার পূর্বে, উসুলে ফিকহ ব্যতীত অন্যান্য শাস্ত্রে আল-কাত সংশ্লিষ্ট কিছু পরিভাষার আলোচনা করা সমীচীন হবে।
১- তার মধ্যে একটি হলো: কুরআন তিলাওয়াত বিদ্যায় (ইলমুল কিরাআত) 'আল-কাত'।
কিছু আলেমের নিকট এটি 'ওয়াকফ' (থামা) এবং 'সাকত' (বিরতি)-এর সমার্থক। আবার কেউ কেউ আল-কাত-কে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: "তিলাওয়াত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া, যা মূলত সমাপ্তি ঘোষণার মতো। সুতরাং এর মাধ্যমে তিলাওয়াতকারী তিলাওয়াত থেকে বিমুখ হয়ে তিলাওয়াত ব্যতীত অন্য অবস্থায় প্রবেশকারীর ন্যায় হয়ে যায়; যেমন কেউ কোনো হিযব (অংশ) শেষ করে তিলাওয়াত বন্ধ করল... অথবা কোনো রাকাতে (তিলাওয়াত বন্ধ করে) রুকু করল, কিংবা তদ্রূপ কিছু যা তিলাওয়াত শেষ হওয়া এবং অন্য অবস্থায় গমনের বার্তা দেয়... আর এটি কেবল আয়াতের শেষেই হতে পারে, কারণ আয়াতের শেষভাগগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণ বিরতিস্থল।" ১।
২- অপরটি হলো: মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় 'আল-হাদীস আল-মাকতু'।
এটি এমন মতন বা পাঠ যা তাবিঈ বা তার পরবর্তী স্তরের কারো বক্তব্য, কাজ বা মৌনসম্মতি পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে—তা পরোক্ষভাবে হোক বা স্পষ্টভাবে। এর বহুবচন হলো 'মাক্বাতী' এবং 'মাক্বাত' ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
3- ومنه (النعت المقطوع) عند علماء النحو.
وهو النعت الذي خرج من حالة التبعية للمنعوت في الإعراب إلى حالة الاستقلال بالإعراب لأغراض بلاغية، كقولك: جاء الرجلُ العدلَ، ورأيت الرجلَ العدلُ.
وحقيقة القطع في ذلك أن يُجعل النعت خبرا لمبتدأ، أو مفعولا لفعل.
وقد يطلق القطع في النحو على قطع الاسم عن الإضافة أي: كونه غير مضاف، فالاسم على ذلك (مقطوع عن الإضافة) 1.
4- ومن ذلك (القطع) في بعض بحور الشعر عند علماء العروض.
وهو: أن يحذف آخر وتده المجموع ويسكن ما قبله، ويسمى البحر بذلك (مقطوعا) لأنه قطعت حركة وتده.
والوتد المجموع: حرفان متحركان بعدهما حرف ساكن، والوتد المفروق: حرفان متحركان بينهما حرف ساكن2.
5- ومنه (همزة القطع) أو (ألف القطع) عند علماء التصريف.
--------------------------------------------
৩- ব্যাকরণবিদদের নিকট এর একটি প্রকার হলো 'বিচ্ছিন্ন বিশেষণ' (আন-নাতুল মাকতু)।
এটি এমন বিশেষণ যা অলঙ্কারশাস্ত্রীয় কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে ই'রাবের (বিভক্তি) ক্ষেত্রে বিশেষিত শব্দের (মান'উত) অনুগামী হওয়ার অবস্থা থেকে বের হয়ে স্বতন্ত্র ই'রাব গ্রহণ করার অবস্থা প্রাপ্ত হয়। যেমন আপনার কথা: 'জাআর রাজুলুল আদলা' (যেই লোকটি ন্যায়পরায়ণ, সে এসেছে) এবং 'রাআইতুর রাজুলাল আদলু' (আমি ন্যায়পরায়ণ লোকটিকে দেখেছি)।
এক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নকরণের (আল-কাত) প্রকৃত অর্থ হলো বিশেষণটিকে কোনো একটি ঊহ্য মুক্তাদার (উদ্দেশ্য) খবর (বিধেয়) অথবা কোনো একটি ঊহ্য ক্রিয়ার মাফ'উল (কর্ম) হিসেবে নির্ধারণ করা।
ব্যাকরণশাস্ত্রে 'বিচ্ছিন্নকরণ' শব্দটি কোনো বিশেষ্যকে ইজাফাত (সম্বন্ধ) থেকে বিচ্ছিন্ন করার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়; অর্থাৎ বিশেষ্যটি মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত) না হওয়া। এমতাবস্থায় বিশেষ্যটিকে বলা হয় 'সম্বন্ধ-বিচ্ছিন্ন বিশেষ্য' (মাকতুউন আনিল ইজাফাত)। ১।
৪- ছন্দশাস্ত্রবিদদের নিকট কবিতার কোনো কোনো ছন্দেও 'বিচ্ছিন্নকরণ' (আল-কাত) এর ব্যবহার রয়েছে।
এটি হলো: 'ওয়াতাদে মাজমু'-এর শেষ বর্ণটি বিলুপ্ত করা এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণটিকে সাকিন করা। এর ফলে ছন্দটিকে 'মাকতু' (বিচ্ছিন্ন) বলা হয়, কারণ এর ওয়াতাদের হরকত বা স্বরধ্বনি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
ওয়াতাদে মাজমু' হলো: দুটি হরকতযুক্ত বর্ণের পর একটি সাকিনযুক্ত বর্ণ আসা। আর ওয়াতাদে মাফরুক হলো: দুটি হরকতযুক্ত বর্ণের মাঝখানে একটি সাকিনযুক্ত বর্ণ আসা। ২।
৫- রূপতত্ত্ববিদদের নিকট এর একটি প্রকার হলো 'হামজাতুল কাত' বা 'আলিফুল কাত'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وهي: الهمزة التي تثبت في الابتداء بالكلمة ولا تسقط في دَرَج الكلام، أي: عند وصل الكلمة بغيرها، ومثالها: الهمزة في (إبراهيم وإخراج وأَعطى وأحمد وأحمال وأقِمْ) ، وهذه الهمزة في مقابلة همزة الوصل التي تثبت في الابتداء دون الوصل1.
6- وقد يطلق في كتب الفقه (القطع) و (قاطع) و (مقطوع) على قطع الطَرَف جناية أو قصاصا وما يتعلق به2، وربما أطلق ذلك على قطع الطريق3.
ومن الاستعمال المعاصر للقطع في معناه الأصولي: عبارة (ممنوع الوقوف والانتظار قطعيا) في إشارات تنظيم المرور والسَّير، والمقصود منها سلب العذر عن الواقف والمنتظر في المحل المشار إليه بذلك مهما كان احتمال وقوفه وانتظاره4.
--------------------------------------------
আর এটি হলো: সেই হামযাহ যা শব্দের শুরুতে উচ্চারিত হয় এবং কথা বলার প্রবাহে তা বিলুপ্ত হয় না, অর্থাৎ যখন শব্দটিকে অন্য শব্দের সাথে মিলিয়ে পড়া হয়। এর উদাহরণ হলো: (ইব্রাহিম, ইখরাজ, আ'তা, আহমাদ, আহমাল এবং আক্বিম) শব্দগুলোর হামযাহ। এই হামযাহটি সেই সংযোগকারী হামযাহর বিপরীত, যা শব্দের শুরুতে উচ্চারিত হলেও সংযোগের সময় বিলুপ্ত হয়ে যায়।
৬- ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে 'কর্তন', 'কর্তনকারী' এবং 'কর্তিত' শব্দগুলো কোনো অপরাধ বা ক্বিসাস হিসেবে শরীরের কোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। কখনও কখনও তা ডাকাতি বা পথরোধ করার অর্থেও ব্যবহৃত হয়।
উসূলি অর্থের আলোকে 'কর্তন' বা 'নিশ্চয়তা' শব্দের সমসাময়িক ব্যবহারগুলোর মধ্যে একটি হলো: ট্রাফিক আইন ও যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের সংকেতসমূহে ব্যবহৃত 'গাড়ি থামানো এবং অপেক্ষা করা অকাট্যভাবে নিষিদ্ধ' বাক্যটি। এর উদ্দেশ্য হলো চিহ্নিত স্থানে অবস্থানকারী বা অপেক্ষমাণ ব্যক্তির সকল অজুহাত নাকচ করে দেওয়া, সেখানে তার অবস্থান বা অপেক্ষার সম্ভাবনা যাই হোক না কেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
عبارات القطع في أصول الفقه:
القطع معنى يصف به علماء أصول الفقه رحمهم الله، أمورا كثيرة:
فيصفون به الدليل كقولهم: (دليل قطعي) ونحو ذلك1.
ويصفون به الحكم مثل قولهم: (حكم قطعي) و (حكم مقطوع به) 2.
ويصفون به المسألة كقولهم: (مسألة قطعية) أو (مسألة مقطوع بها) 3.
بل ويصفون به الجواب عن الاعتراض ومن ذلك قولهم: (جواب قطعي) أو (جواب قاطع) 4.
ويصفون بالقطع أمورا أخرى غير ذلك5.
غير أن مدار كل ذلك على قطعية الدليل لأن قطعية الحكم بحسب الدليل القطعي عليه، والمسألة تكون قطعية لأن الدليل المستدل به فيها
--------------------------------------------
উসূলুল ফিকহ-এ কাতই (অকাট্যতা) সংক্রান্ত পরিভাষাসমূহ:
কাতই (অকাট্যতা) হলো এমন একটি অর্থ যার দ্বারা উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের আলিমগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) অনেক বিষয়কে বিশেষিত করে থাকেন:
তাঁরা এর মাধ্যমে দলিলকে বিশেষিত করেন, যেমন তাঁদের উক্তি: (অকাট্য দলিল) এবং এই জাতীয়।১
তাঁরা এর মাধ্যমে বিধানকে (হুকুম) বিশেষিত করেন, যেমন তাঁদের কথা: (অকাট্য বিধান) এবং (এমন বিধান যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত)।২
তাঁরা এর মাধ্যমে মাসআলাকেও বিশেষিত করেন, যেমন তাঁদের কথা: (অকাট্য মাসআলা) অথবা (নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত মাসআলা)।৩
এমনকি তাঁরা এর মাধ্যমে আপত্তির উত্তরকেও বিশেষিত করেন, এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁদের বক্তব্য: (অকাট্য উত্তর) অথবা (চূড়ান্ত জবাব)।৪
তাঁরা অকাট্যতার (কাতই) গুণের মাধ্যমে এর বাইরেও অন্যান্য বিষয়কে বিশেষিত করেন।৫
তবে এই সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো দলিলের অকাট্যতা; কারণ বিধানের অকাট্যতা নির্ভর করে তার সপক্ষে বিদ্যমান অকাট্য দলিলের ওপর, আর কোনো মাসআলা তখনই অকাট্য হয় যখন তাতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত দলিলটি অকাট্য হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قطعي، والجواب قاطع إذا أُتي فيه بما يفيد القطع، فوصف هذه الأمور بالقطع يدور على قطعية الدليل وينتهي إليها.
وأما القطع في الدليل فإنهم رحمهم الله يعبرون عنه بعبارات متنوعة، وقفت منها على أربع:
العبارة الأولى: صوغ اسم الفاعل من القطع: (الدليل القاطع) 1.
العبارة الثانية: صوغ اسم المفعول من القطع: (الدليل المقطوع به) 2.
العبارة الثالثة: صوغ الاسم المنسوب من القطع: (الدليل القطعي) 3.
العبارة الرابعة: وصف الدليل باقتضاء القطع، أو إيجابه، أو إفادته،
--------------------------------------------
সুনিশ্চিত, আর উত্তরটি হবে অকাট্য যদি তাতে এমন কিছু উপস্থাপন করা হয় যা নিশ্চয়তা প্রদান করে। সুতরাং, বিষয়গুলোকে অকাট্যতা বা নিশ্চয়তা দ্বারা বিশেষিত করা দলিলের সুনিশ্চিত হওয়ার (কাতয়িয়্যাত) ওপর নির্ভরশীল এবং সেখানেই তা পর্যবসিত হয়।
আর দলিলের অকাট্যতা প্রসঙ্গে তাঁরা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন) বিভিন্ন ধরণের অভিব্যক্তি ব্যবহার করেছেন, যার মধ্যে আমি চারটির সন্ধান পেয়েছি:
প্রথম অভিব্যক্তি: 'কাত' (অকাট্যতা) ধাতু থেকে কর্তৃবাচক বিশেষ্য গঠন করে: (অকাট্য দলিল) ১।
দ্বিতীয় অভিব্যক্তি: 'কাত' থেকে কর্মবাচক বিশেষ্য গঠন করে: (নিশ্চিতকৃত দলিল) ২।
তৃতীয় অভিব্যক্তি: 'কাত' শব্দ থেকে সম্বন্ধযুক্ত বিশেষ্য গঠন করে: (সুনিশ্চিত দলিল) ৩।
চতুর্থ অভিব্যক্তি: দলিলকে নিশ্চয়তার দাবিদার, বা নিশ্চয়তা প্রদানকারী অথবা তা সাব্যস্তকারী হিসেবে বর্ণনা করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أو نحو ذلك، مثل: (الدليل المقتضي، أو الموجب، أو المفيد القطع) 1.
أما العبارة الأولى وهي قولهم: (الدليل القاطع) فيجمع على (أدلة قاطعة) أو (أدلة قواطع) وقد يقدّم الوصف ويضاف إلى الموصوف فيقال: (قواطع الأدلة) 2 وقد يحذف الموصوف فيقال (القواطع) .
والقطع في هذه العبارة صفة للدليل حقيقة بإسناده إليه، فالدليل هو الذي يَقطع، أما الذي يقطعه الدليل فالعلماء يذكرون أمورا كثيرة، إذ يقولون في الدليل: إنه قاطع أو يقطع (العذر) 3 أو (الاحتمال) 4 أو نحو ذلك مما يضعف الدليل ويوهن قوته ثبوتا أو دلالة، كالتردد والشك فيه أو
--------------------------------------------
অথবা এর অনুরূপ, যেমন: (অপরিহার্য প্রমাণ, বা আবশ্যকীয় প্রমাণ, বা যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে) ১।
প্রথম পরিভাষাটি সম্পর্কে বলা যায়, যা হলো তাঁদের উক্তি: (অকাট্য প্রমাণ), এর বহুবচন করা হয় (অকাট্য প্রমাণাদি)। কখনও গুণবাচক শব্দটিকে আগে এনে বিশেষ্যের সাথে সংযুক্ত করা হয় এবং বলা হয়: (প্রমাণাদির অকাট্যতা) ২। আবার কখনও বিশেষ্যটিকে বিলুপ্ত করে বলা হয় (অকাট্যসমূহ)।
এই পরিভাষায় ‘অকাট্যতা’ হলো প্রকৃতপক্ষেই প্রমাণের একটি গুণ যা তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত। সুতরাং প্রমাণই হলো সেই সত্তা যা কর্তন করে। আর প্রমাণ কী কর্তন করে—সে বিষয়ে আলেমগণ অনেক বিষয় উল্লেখ করেছেন। কারণ তাঁরা প্রমাণের ক্ষেত্রে বলেন: এটি অকাট্য অথবা এটি (অজুহাত) ৩ বা (সম্ভাব্যতা) ৪ কিংবা এ জাতীয় যা প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা বা অর্থের প্রাবল্যকে দুর্বল ও হীনবল করে দেয় তাকে কর্তন করে, যেমন দ্বিধা এবং এতে সন্দেহ অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الشبهة1 أو الخلاف2.
وأما العبارة الثانية وهي قولهم: "الدليل المقطوع به" فيجمع على (أدلة مقطوع بها) ، والدليل فيها موصوف بالقطع لكنه - في الحقيقة - الأمر الذي حصل به القطع كأنه آلة القطع وليس القاطع نفسه، فيكون تقدير هذه العبارة: (يَقطع موردُ الدليل أو المستدلُ به العذرَ أو الاحتمال بالدليل) ، فالقاطع مورد الدليل أو المستدل به، والعذر أو الاحتمال مقطوع، والدليل مقطوع به.
وقد يحذف الجار في هذه العبارة - وهو الباء من (به) - فيستتر الضمير بعد حذف الجار فيقال: (دليل مقطوع) توسعا بالتعدية إلى الضمير بدون توسط حرف الجر3.
وقد يُعبّر بالقاطع عن المقطوع به فيقال: (دليل قاطع) ويراد (دليل مقطوع به) من باب إسناد ما للفاعل إلى المفعول، لأن القاطع حقيقة - كما سبق - هو مورد الدليل أو المستدل به، لكن يسند فعله (وهو القطع)
--------------------------------------------
সংশয়১ অথবা মতভেদ২।
আর দ্বিতীয় বাক্যটি হলো তাদের বক্তব্য: "সুনিশ্চিত দলীল", এর বহুবচন হলো (সুনিশ্চিত দলীলসমূহ)। এক্ষেত্রে দলীলটিকে নিশ্চয়তা বা অকাট্যতার গুণে গুণান্বিত করা হয়েছে, তবে প্রকৃতপক্ষে—এটি এমন একটি বিষয় যার মাধ্যমে নিশ্চয়তা অর্জিত হয়, যেন এটি নিশ্চয়তা অর্জনের একটি হাতিয়ার মাত্র, স্বয়ং নিশ্চয়তা প্রদানকারী (কর্তা) নয়। সুতরাং এই বাক্যটির অন্তর্নিহিত অর্থ দাঁড়াবে: (দলীল উপস্থাপনকারী বা দলীল দ্বারা প্রমাণকারী ব্যক্তি উক্ত দলীলের মাধ্যমে ওজর বা সংশয়ের সম্ভাবনাকে নিরসন করেন)। এক্ষেত্রে অকাট্যকারী বা নিরসনকারী হলেন দলীল উপস্থাপনকারী বা যিনি দলীল ব্যবহার করছেন; আর ওজর বা সম্ভাবনা হলো নিরসিত বস্তু, এবং দলীল হলো এমন মাধ্যম যার দ্বারা তা নিরসন করা হয়েছে।
কখনও কখনও এই বাক্যে অব্যয় বিলুপ্ত করা হয়—আর তা হলো (যার মাধ্যমে) অংশ থেকে ‘মাধ্যমে’ অব্যয়টি—অতঃপর অব্যয় বিলুপ্তির পর সর্বনামটি উহ্য হয়ে যায়। তখন প্রশস্ততা বা ব্যপ্তির খাতিরে অব্যয়ের মধ্যস্থতা ছাড়াই সর্বনামের দিকে কর্মের সম্বন্ধ করে বলা হয়: "অকাট্য দলীল"৩।
আবার কখনও "যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে" তার পরিবর্তে "নিশ্চয়তা দানকারী" শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়; তখন বলা হয়: "অকাট্য দলীল" এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় "সুনিশ্চিত দলীল"। এটি মূলত কর্তার গুণকে কর্মের দিকে সম্বন্ধ করার ব্যাকরণগত রীতি। কেননা প্রকৃতপক্ষে অকাট্য নিশ্চয়তা দানকারী—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে—হলেন দলীল উপস্থাপনকারী বা দলীল দ্বারা প্রমাণকারী ব্যক্তি, কিন্তু তাঁর কাজটিকে (যা হলো অকাট্য নিশ্চিতকরণ)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
إلى الدليل (وهو المفعول به) لملابسة فاعل القطع والمفعول به كليهما لفعل القطع، كما ورد مثل ذلك في قوله تعالى: {فَهُوَ فيِ عِيشَةٍ رَاضِيَةٍ} 1 أي: مرضية2.
ويعدّي أهل العلم - رحمهم الله تعالى - القطع بالباء كما في الأمثلة السابقة، وقد تكون تعدية القطع في هذه العبارة ب (على) ، فيقال: (دليل مقطوع عليه) أو (دليل مقطوع على مُغَيَّبِه) 3 أو نحو ذلك، وذلك محمول - والله أعلم - على أحد أمرين:
الأول: أن ذلك من باب تعدية القطع إلى مدلول الدليل دون ضميره كما في أصل العبارة، فيكون تقدير العبارة - على هذا -: (يُقطع بالدليل على مغيبه) ، فالدليل مقطوع به على مغيبه4.
--------------------------------------------
দলিলের প্রতি (যা কর্মপদ), কারণ কর্তার সাথে নিশ্চিত হওয়ার (কাআত') ক্রিয়া এবং কর্মপদ উভয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {সে সন্তোষজনক জীবনে থাকবে} অর্থাৎ: পছন্দনীয়।
আলেমগণ - আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন - নিশ্চিত হওয়া (কাআত') ক্রিয়াটিকে 'বা' অব্যয় দ্বারা সকর্মক করেন যেমনটি পূর্ববর্তী উদাহরণগুলোতে দেখা গেছে। তবে কখনও কখনও এই বাক্যাংশে নিশ্চিত হওয়া ক্রিয়াটি 'আলা' অব্যয় দ্বারাও সকর্মক হয়, তখন বলা হয়: (এমন দলিল যার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া হয়েছে) অথবা (এমন দলিল যার অদৃশ্যের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া হয়েছে) বা এই জাতীয় কিছু। এটি - আল্লাহই ভালো জানেন - দুটি বিষয়ের যেকোনো একটির ওপর প্রয়োগ করা হয়:
প্রথমত: এটি মূল বাক্যের ন্যায় দলিলের সর্বনামের পরিবর্তে দলিলের নির্দেশিত অর্থের দিকে নিশ্চিত হওয়া ক্রিয়াটিকে সকর্মক করার অন্তর্ভুক্ত। এই ভিত্তিতে বাক্যটির বিশ্লেষণ হবে: (দলিল দ্বারা তার অদৃশ্যের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়), সুতরাং দলিলটি হলো এমন মাধ্যম যার দ্বারা তার অদৃশ্যের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الأمر الثاني: أن تكون تعدية القطع ب (على) والباء في الاستعمال بمعنى، فيقال: جوازا (دليل مقطوع به) أو (مقطوع عليه) .
وهو استعمالٌ كثير عند أبي الحسين البصري1 في المعتمد وشرح العُمَد2.
وموافقة (على) للباء في المعنى استعمال سائغ في اللغة، ومن ذلك قوله تعالى - عن موسى عليه السلام: {حَقِيقٌ عَلَىَّ أَنْ لَا أَقُولَ عَلَى اللهِ إِلَاّ الْحَقَّ} 3 قال النحاس رحمه الله4: في بيان معنى {حَقِيقٌ} : "
… بمعنى جدير وخليق، يقال: فلان خليق بأن يفعل وجدير بأن يفعل وعلى أن يفعل
--------------------------------------------
দ্বিতীয় বিষয়: ব্যবহারের ক্ষেত্রে 'কাতি' (নিশ্চয়তা) শব্দটি 'আলা' (على) এবং 'বা' (ب) অব্যয়ের মাধ্যমে একই অর্থে ব্যবহৃত হওয়া। সেক্ষেত্রে বৈধভাবে বলা হয়: (এমন দলিল যা দ্বারা নিশ্চিত হওয়া গেছে) অথবা (এমন দলিল যার ওপর নিশ্চিত হওয়া গেছে)।
আর এটি আবুল হুসাইন আল-বসরীর নিকট 'আল-মু'তামাদ' এবং 'শারহুল উমাদ' গ্রন্থে প্রচুর ব্যবহৃত হয়েছে।
অর্থের দিক থেকে 'আলা' অব্যয়টি 'বা' অব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া ভাষায় একটি প্রচলিত রীতি। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী—যা মূসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বর্ণিত: {আমার জন্য এটাই কর্তব্য যে, আমি আল্লাহর সম্পর্কে সত্য ছাড়া আর কিছুই বলব না।} ৩ আন-নাহহাস (রাহিমাহুল্লাহ) ৪ 'হাকীকুন' শব্দের অর্থ বর্ণনায় বলেন: "
... এর অর্থ হলো উপযুক্ত ও যোগ্য। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি কাজটি করার যোগ্য, কাজটি করার উপযুক্ত এবং কাজটি করার জন্য নির্ধারিত।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
بمعنى واحد "1.
ومن ذلك ورود (على) في المعاوضات المحضة، كالنكاح والبيع والإجارة2، ومنه قوله تعالى - عن شعيب عليه السلام: {إنِّي أُرِيدُ أَنْ أُنْكِحَكَ إِحْدَى ابْنَتَيَّ هَاتَيْنِ عَلَى أَنْ تَأْجُرَنِي ثَمَانِيَ حِجَجٍ} 3، وتقول: "بعتك هذا الثوب على درهم " ونحو ذلك: أي بدرهم، وذلك من باب تناوب حروف الجر4.
وأما العبارة الثالثة وهي قولهم: (الدليل القطعي) فيجمع على (أدلة قطعية) ، وقد يحذف الموصوف فيقال (قطعيات) .
والدليل في هذه العبارة موصوف بالقطع لكن النسبة هنا مطلقة لا
--------------------------------------------
১.
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো বিশুদ্ধ বিনিময় চুক্তিতে (আলা) অব্যয়টির ব্যবহার, যেমন বিবাহ, ক্রয়-বিক্রয় এবং ইজারা; আর এরই উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী—শুআইব (আলাইহিস সালাম)-এর পক্ষ থেকে: {আমি আমার এই দুই কন্যার একজনকে তোমার সাথে বিবাহ দিতে চাই এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার কাজ করবে}। আর আপনি বলেন: "আমি তোমার কাছে এই কাপড়টি এক দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করলাম" এবং তদ্রূপ: অর্থাৎ এক দিরহাম দিয়ে। আর এটি হলো অব্যয়সমূহের পারস্পরিক পরিবর্তনের অন্তর্ভুক্ত।
আর তৃতীয় পরিভাষাটি হলো তাদের উক্তি: (অকাট্য দলিল), যার বহুবচন করা হয় (অকাট্য দলিলসমূহ) হিসেবে। কখনো কখনো বিশেষ্যটি উহ্য রেখে (অকাট্য বিষয়সমূহ) বলা হয়।
আর এই পরিভাষায় দলিলকে অকাট্যতার গুণে গুণান্বিত করা হয়েছে, তবে এখানে সম্বন্ধটি নিরঙ্কুশ, কোনো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
تشعر بكون الدليل هو القاطع كما في العبارة الأولى، أو بكونه المقطوع به كما في العبارة الثانية.
وأما العبارة الرابعة وهي نحو قولهم: "الدليل المقتضي أو الموجب أو المفيد القطع" فيجمع على (أدلة مقتضية أو موجبة أو مفيدة القطع) .
وهي قريبة من العبارة الأولى (الدليل القاطع) ، لأن اقتضاء الدليل القطع وإيجابه له ظاهره أنه يُلزم من ينظر فيه القطع ويلجئه إليه، وذلك يخرج الدليل عن كونه مثل الآلة المجردة في القطع كما هو ظاهر العبارة الثانية (الدليل المقطوع به) . والله تعالى أعلم.
ألفاظ بمعنى القطع في استعمال الأصوليين:
1- العلم:
وقد اختلف استعمال العلماء للعلم والقطع:
- فالعلم عند بعضهم مرادف للقطع واليقين مرادفة مطلقة، فلا يستعمل لما دون القطع واليقين إلا على سبيل التجوز في الاستعمال، بل ذلك عند
بعضهم ضرب من التناقض في القول وعدم التحقيق فيه1، وعلى
--------------------------------------------
আপনি অনুভব করবেন যে দলিলটি নিজেই অকাট্য, যেমনটি প্রথম বাক্যাংশে রয়েছে; অথবা এটি এমন বিষয় যার মাধ্যমে অকাট্য জ্ঞান অর্জিত হয়, যেমনটি দ্বিতীয় বাক্যাংশে রয়েছে।
আর চতুর্থ বাক্যাংশটি হলো তাদের এই উক্তির মতো: "অকাট্যতা দাবিদার বা আবশ্যককারী বা ফায়দাদানকারী দলিল," যার বহুবচন হয় (অকাট্যতা দাবিদার বা আবশ্যককারী বা ফায়দাদানকারী দলিলসমূহ)।
এটি প্রথম বাক্যাংশের (অকাট্য দলিল) কাছাকাছি; কারণ দলিলের অকাট্যতা দাবি করা বা তা আবশ্যক করার বাহ্যিক অর্থ হলো, এটি যে ব্যক্তি এতে অনুসন্ধান চালাবে তাকে অকাট্য সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বাধ্য করবে এবং তাকে সেদিকে ধাবিত করবে। এটি দলিলকে কেবল অকাট্যতা অর্জনের একটি বিমূর্ত যন্ত্র হওয়ার ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়, যেমনটি দ্বিতীয় বাক্যাংশের (যার মাধ্যমে অকাট্য জ্ঞান অর্জিত হয়) বাহ্যিক অর্থ থেকে প্রতীয়মান হয়। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
উসুলবিদদের পরিভাষায় অকাট্যতা (কাত) অর্থে ব্যবহৃত শব্দাবলি:
১- জ্ঞান (ইলম):
আলেমগণ 'জ্ঞান' (ইলম) এবং 'অকাট্যতা' (কাত) শব্দ দুটির ব্যবহারের ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন:
- কারো কারো মতে 'জ্ঞান' শব্দটি অকাট্যতা এবং নিশ্চয়তার (ইয়াকিন) পূর্ণাঙ্গ সমার্থক। তাই এটি অকাট্যতা এবং নিশ্চয়তার নিম্নস্তরের কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না, কেবল রূপক ব্যবহারের ক্ষেত্র ছাড়া। বরং কারো কারো মতে এর ব্যতিক্রম করাটা কথার মাঝে এক ধরনের স্ববিরোধিতা এবং সঠিক গবেষণার অভাবের শামিল ১, এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
هذا جاء تعريفهم للعلم كقولهم: "هو عبارة عن أمر جازم لا تردد فيه ولا تجويز "1، أو أنه "عبارة عن صفة يحصل بها لنفس المتصف بها التمييز بين حقائق المعاني الكلية حصولا لا يتطرق إليه احتمال نقيضه"2.
- والعلم عند بعض آخر من العلماء أعم إطلاقا من القطع، فالظاهر الراجح عند هؤلاء علم وإن لم يكن علما مقطوعا به3، فالعلم على هذا يطلق على القطع، وعلى ما دونه، وهو العلم الظاهر أو علم غالب الرأي.
وعلى هذا ظاهر استعمال الشافعي4 رحمه الله للعلم في كتابه (الرسالة) ، يدل على ذلك قوله: "العلم من وجوه: منه إحاطة في الظاهر والباطن، ومنه حق في الظاهر "5، ومثّل للأول باستقبال الكعبة إذا
--------------------------------------------
এটি এসেছে ইলম (জ্ঞান) সম্পর্কে তাঁদের সংজ্ঞায়, যেমন তাঁদের বক্তব্য: "এটি এমন একটি সুনিশ্চিত বিষয়ের নাম যার মধ্যে কোনো দ্বিধা বা অন্য কোনো সম্ভাবনার অবকাশ নেই"১, অথবা এটি "এমন একটি গুণের নাম যা দ্বারা এর অধিকারী ব্যক্তির নিকট সামগ্রিক অর্থসমূহের প্রকৃত রূপের মধ্যে এমনভাবে পার্থক্য সূচিত হয়, যেখানে এর বিপরীত কোনো সম্ভাবনার অনুপ্রবেশ ঘটে না"২।
- অন্য কিছু আলেমদের নিকট 'ইলম' শব্দটি 'নিশ্চয়তা' (কাত‘) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাই তাঁদের নিকট প্রবল ধারণাপ্রসূত (যাহিরে রাজেহ) বিষয়ও ইলম হিসেবে গণ্য, যদিও তা অকাট্য ইলম না হয়৩। এই মতানুসারে, ইলম শব্দটি যেমন অকাট্য নিশ্চয়তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি তার চেয়ে নিম্নস্তরের অর্থাৎ প্রকাশ্য ইলম বা প্রবল ধারণাপ্রসূত ইলমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
আর ইমাম শাফেঈ৪ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘আর-রিসালা’ গ্রন্থে ইলম শব্দের ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাহ্যত এই নীতিই অনুসরণ করেছেন। তাঁর এই উক্তিটি এরই প্রমাণ দেয়: "ইলম কয়েক প্রকারের: তার মধ্যে কোনটি হলো প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য (উভয় দিক থেকে) পরিবেষ্টনকারী জ্ঞান, আর কোনটি হলো বাহ্যত সত্য জ্ঞান"৫। তিনি প্রথম প্রকারের উদাহরণ দিয়েছেন কাবার দিকে মুখ করার মাধ্যমে যখন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
كان المصلي في المسجد الحرام، وبفرضية الصلاة والزكاة والحج، ومثّل للثاني باستقبال القبلة إذا كان المستقبل بعيدا عن المسجد الحرام حيث لا يقطع بإصابة البيت، وبقبول عدالة المسلم بما ظهر من إسلامه فيناكح ويوارث، وقد يكون غير عدل في الباطن فلا يقطع من ظاهر حاله أن باطنه كذلك1!
وهو رحمه الله إذا أراد العلم القطعي قيد مطلق العلم ب (الإحاطة) كقوله: "والعلم يحيط "2 وقوله: "أحاط العلم"3 وقوله: "يعلم بإحاطة"4، فالدال على القطع في عبارته كلمة: (إحاطة) المقيِّدة لمطلق العلم، ومعناها: إحاطة العلم بظاهر الدليل وباطنه، كقوله فيما سبق: "علم
إحاطة في الظاهر والباطن "وقوله: "حق في الظاهر والباطن "5،
--------------------------------------------
যেমন মসজিদুল হারামে সালাত আদায়কারী ব্যক্তি, এবং সালাত, জাকাত ও হজের বাধ্যবাধকতা। তিনি দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ দিয়েছেন কিবলামুখী হওয়ার মাধ্যমে, যখন কিবলামুখী ব্যক্তি মসজিদুল হারাম থেকে দূরে অবস্থান করে, যেখানে সরাসরি কাবার দিকে মুখ হওয়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয় না। তেমনি একজন মুসলিমের বাহ্যিক ইসলামের ভিত্তিতে তার ন্যায়পরায়ণতা গ্রহণ করা, যার ফলে তার সাথে বিবাহ সম্পন্ন হয় এবং উত্তরাধিকার সাব্যস্ত হয়; অথচ সে হয়তো গোপনে ন্যায়পরায়ণ নয়, কিন্তু তার বাহ্যিক অবস্থা দেখে তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না১।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) যখন নিশ্চিত জ্ঞান বুঝাতে চেয়েছেন, তখন সাধারণ জ্ঞানকে 'ইহাতা' (পরিবেষ্টন) শব্দের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, যেমন তাঁর উক্তি: "এবং জ্ঞান পরিবেষ্টন করে"২, তাঁর উক্তি: "জ্ঞান পরিবেষ্টন করেছে"৩ এবং তাঁর উক্তি: "তিনি পরিবেষ্টনকারী জ্ঞানের মাধ্যমে জানেন"৪। সুতরাং তাঁর বক্তব্যে 'ইহাতা' (পরিবেষ্টন) শব্দটিই নিশ্চিত জ্ঞানের পরিচয়ক যা সাধারণ জ্ঞানকে নির্দিষ্ট করে। এর অর্থ হলো: দলিলের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য উভয় বিষয়কে জ্ঞানের দ্বারা আয়ত্ত করা। যেমন তিনি ইতিপূর্বে বলেছেন: "প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য বিষয়ে পরিবেষ্টনকারী জ্ঞান" এবং তাঁর উক্তি: "প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে সত্য"৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقد يستثني رحمه الله بالمشيئة فيقول: "فالعلم - إن شاء الله - يحيط"1 أو "فالعلم يحيط إن شاء الله"2.
وتقييد العلم بالإحاطة أوتمييزه بها أسلوب ورد في القرآن الكريم مثل قوله تعالى: {وَلَا يحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَاّ بِمَا شَاءَ} 3 وقوله: {وَأَنَّ اللهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْماً} 4 وقوله: {يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْماً} 5 وقوله: {فَمَكَثَ غَيْرَ بَعِيدٍ فَقَالَ أَحَطتُّ بِمَا لَمْ تُحِطْ بِهِ} 6، وقد ذكر العلماء رحمهم الله في تفسير هذه الآيات معنى مقاربا لما سبق من استعمال الشافعي رحمه الله تعالى7، كما ذكر أهل اللغة أن معنى (أحاط بالشيء علما) : أنه بلغ أقصى العلم به ظاهرا وباطنا8.
--------------------------------------------
এবং তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ইচ্ছা (ইনশাআল্লাহ) ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যতিক্রম করতে পারেন, ফলে তিনি বলেন: "অতঃপর জ্ঞান—ইনশাআল্লাহ—পরিব্যাপ্ত করে"১ অথবা "অতঃপর জ্ঞান পরিব্যাপ্ত করে, ইনশাআল্লাহ।"২
জ্ঞানকে পরিব্যাপ্তির সাথে শর্তযুক্ত করা বা এর মাধ্যমে একে বিশিষ্ট করা এমন একটি শৈলী যা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই পরিব্যাপ্ত করতে পারে না, তবে তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত} ৩ এবং তাঁর বাণী: {এবং আল্লাহ তাঁর জ্ঞান দ্বারা সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে রেখেছেন} ৪ এবং তাঁর বাণী: {তাদের সামনে যা কিছু আছে এবং তাদের পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন, কিন্তু তারা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে পরিব্যাপ্ত করতে পারে না} ৫ এবং তাঁর বাণী: {অতঃপর সে (হুদহুদ) অল্প সময় অপেক্ষা করল এবং বলল, আমি এমন বিষয় পরিব্যাপ্ত করেছি যা আপনি পরিব্যাপ্ত করতে পারেননি} ৬। উলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই আয়াতগুলোর তাফসিরে ইমাম শাফেঈ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর পূর্বোক্ত ব্যবহারের কাছাকাছি অর্থ উল্লেখ করেছেন৭, তদ্রূপ ভাষাবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, 'কোনো বিষয়কে জ্ঞান দ্বারা পরিব্যাপ্ত করা'-এর অর্থ হলো: প্রকাশ্য ও গোপনভাবে সেই বিষয়ের জ্ঞানের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছানো।৮
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
والعبارة ورد استعمالها في المعنى نفسه عند بعض من جاء بعد الشافعي من الأصوليين كالسرخسي1 2.
وكل ما سبق يجعل تقييد العلم بالإحاطة - للدلالة على قوته - أسلوبا أصيلا في اللغة وفي أصول الفقه، كما أن في ذلك إشارة إلى جواز استعمال مطلق العلم في ما دون القطع.
ويؤيد قول من جعل العلم أعم إطلاقا من القطع ما ورد من استعمال العلم في ذلك في النصوص نحو قوله عز وجل: {فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ} 3 ومعرفة إيمانهن هي بحسب ما ظهر مع احتمال خلاف ذلك، ونحو قوله تعالى: {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ} 4 ويجب اتباع ما لا يفيد القطع من الأدلة وغيرها إذا أفاد ظنا غالبا وكان ظاهرا راجحا.
وهذا وأمثاله على رأي الفريق الأول من باب التوسع والتجوز مثل: استعمال الظن بمعنى العلم5، أو يجعلون العلم في الآية الأولى بمعنى العلم
--------------------------------------------
ইমাম শাফেঈর পরবর্তী উসূলবিদদের কারো কারো নিকট এই শব্দসমষ্টি একই অর্থে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়, যেমন ইমাম সারাখসী ১ ২।
উপরের আলোচনা একথাই প্রমাণ করে যে, জ্ঞানের প্রাবল্য বোঝাতে 'ইলম' (জ্ঞান)-কে 'ইহাতা' (বেষ্টন) দ্বারা সীমাবদ্ধ করা ভাষা ও উসূলুল ফিকহের একটি মৌলিক রীতি। পাশাপাশি এটি অকাট্য (কাতঈ) স্তরের নিচের বিষয়ের ক্ষেত্রেও সাধারণ 'ইলম' শব্দ ব্যবহারের বৈধতার প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে।
যাঁরা 'ইলম' শব্দটিকে অকাট্যতার (কাতঈ) চেয়ে ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করেন, তাদের মতকে শরয়ী দলীলসমূহে 'ইলম' শব্দের ব্যবহার সমর্থন করে। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "যদি তোমরা তাদের মুমিন হিসেবে জানো" ৩। আর তাদের ঈমান সম্পর্কে জানার বিষয়টি বাহ্যিক অবস্থার ভিত্তিতে, যদিও এর বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলার বাণী: "যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না" ৪। এছাড়া এমন সব দলীল বা অন্যান্য বিষয় অনুসরণ করা ওয়াজিব যা অকাট্য জ্ঞান দান করে না, যদি তা প্রবল ধারণা (যান্নে গালিব) সৃষ্টি করে এবং যা প্রকাশ্য ও অগ্রগণ্য হয়।
প্রথম পক্ষের মতানুসারে, এই উদাহরণ ও এর সদৃশ বিষয়গুলো শব্দ ব্যবহারের প্রশস্ততা ও রূপকতার (মাজায) অন্তর্ভুক্ত; যেমন: 'যান্ন' (ধারণা)-কে 'ইলম' অর্থে ব্যবহার করা, অথবা তারা প্রথম আয়াতে 'ইলম' শব্দটিকে অকাট্য জ্ঞান অর্থেই গ্রহণ করেন ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ক্বাতয়িয়্যাতু মিনাল আদিল্লাতিল আরবাআহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
بالتلفظ بالشهادة وذلك عندهم ظاهر الإيمان1، وفي الآية الثانية أن وجوب اتباع ما ليس بقطعي هو فيما دل الدليل القطعي على وجوب اتباعه2.
- وجمع بعض العلماء بين الرأيين بأن للعلم إطلاقين هو في أحدهما خاص بالقطعي، وفي الآخر للقدر المشترك بين القطع وما دونه من الرجحان3.
--------------------------------------------
শাহাদাত উচ্চারণের মাধ্যমে; আর এটি তাদের নিকট ঈমানের বাহ্যিক রূপ১, আর দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে যে, যা সুনিশ্চিত নয় এমন বিষয় অনুসরণ করা তখন ওয়াজিব হয় যখন সুনিশ্চিত দলিল তার অনুসরণের আবশ্যকতা প্রমাণ করে২।
- আর কিছু আলেম দুই মতের মধ্যে সমন্বয় করেছেন এভাবে যে, জ্ঞানের প্রয়োগ দুই ধরনের: একটিতে এটি সুনিশ্চিত বিষয়ের সাথে খাস বা নির্দিষ্ট, আর অন্যটিতে এটি সুনিশ্চিত বিষয় এবং তার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের প্রবল ধারণার মধ্যকার সাধারণ বিষয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়৩।
--------------------------------------------