(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: -)
ألفية ابن مالك - ط التعاون   (ابن مالك)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: ألفية ابن مالك

المؤلف: محمد بن عبد الله، ابن مالك الطائي الجياني، أبو عبد الله، جمال الدين (ت 672هـ)

الناشر: دار التعاون

عدد الصفحات: 80

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আলফিয়্যাহ ইবনে মালিক - আত-তাআউন সংস্করণ   (ইবনে মালিক)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: আলফিয়্যাহ ইবনে মালিক

লেখক: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ، ইবনে মালিক আত-তায়ী আল-জায়্যানী، আবু আব্দুল্লাহ، জামালুদ্দীন (ওফাত ৬৭২ হিজরি)

প্রকাশক: দারুত তাআউন

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

تعريف بالناظم:

هو جمال الدين محمد بن عبد الله بن عبد الله بن مالك الإمام العلامة الأوحد الطائي الجيّاني الأندلسي، المالكي حين كان بالمغرب الشافعيّ حين انتقل الى المشرق، النحوي نزيل دمشق.

ولد رحمه الله بجيّان الأندلس سنة 600 هـ أو في التي بعدها، وسمع بدمشق من مكرم، وأبي صادق الحسن بن صبّاح، وأبي الحسن السخاوي وغيرهم. وأخذ العربية عن غير واحد فممّن أخذ عنه بجيّان أبو المظفر ثابت بن محمد بن يوسف بن الخيّار الكلاعي من أهل لبلة، وأخذ القراءات عن أبي العبّاس أحمد بن نوار؛ وقرأ كتاب سيبويه على أبي عبد الله بن مالك المرشاني، وجالس ابن يعيش وتلميذه ابن عمرون وغيره بحلب، وتصدّر بها لإقراء العربية، وصرف همته الى إتقان لسان العرب حتى بلغ فيها الغاية، وأربى على المتقدمين. وكان إماما في القراءات وعالما بها، وصنّف فيها قصيدة دالية مرموزة في قدر الشاطبية.

وأما اللغة فكان إليه المنتهى؛ قال الصفديّ: أخبرني
ভূমিকা

...

গ্রন্থকারের পরিচয়:

তিনি হলেন জামালুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক; অনন্য ইমাম (إمام) ও আল্লামা (علامة), আত-তায়ী আল-জায়ানি আল-আন্দালুসি। মাগরিবে অবস্থানকালে তিনি মালিকি ছিলেন এবং মাশরিকে আসার পর শাফিয়ি হন। তিনি ছিলেন দামেস্কে বসবাসকারী একজন ভাষাবিদ।

তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হিজরি ৬০০ সনে অথবা তার পরবর্তী বছরে আন্দালুসের জায়ানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দামেস্কে মুকরিম, আবু সাদিক হাসান ইবন সাব্বাহ, আবুল হাসান আস-সাখাওয়ী এবং আরও অনেকের নিকট থেকে শ্রবণ (سمع) করেছেন। তিনি অনেকের নিকট আরবি ভাষা শিক্ষা করেছেন। জায়ানে যাদের নিকট তিনি শিক্ষা লাভ করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন লেবলার অধিবাসী আবু আল-মুজাফফর সাবিত ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনুল খায়্যার আল-কালাঈ। তিনি আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে নাওয়ারের নিকট কিরাত (قراءات) শাস্ত্র শিক্ষা করেন; আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক আল-মুরশানির নিকট 'কিতাবু সিবওয়াইহি' পাঠ করেন এবং আলেপ্পোতে ইবনে ইয়ায়িশ ও তার ছাত্র ইবনে আমরুনসহ অন্যদের মজলিসে বসেন। সেখানে তিনি আরবি ভাষা শিক্ষাদানে নিয়োজিত হন এবং আরবি ভাষায় পূর্ণ দক্ষতা অর্জনে নিজের মনোযোগ নিবদ্ধ করেন, এমনকি এই শাস্ত্রে তিনি চূড়ান্ত শিখরে উপনীত হন এবং পূর্ববর্তীদেরও ছাড়িয়ে যান। তিনি কিরাত (قراءات) শাস্ত্রে ইমাম (إمام) ও বিজ্ঞ পণ্ডিত ছিলেন এবং এই বিষয়ে 'আশ-শাতবিয়্যাহ' এর সমপর্যায়ের একটি সংকেতনির্ভর 'দালিয়া' কাসিদা রচনা করেন।

আর ভাষাতত্ত্বের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন জ্ঞানের শেষ সীমা; আস-সাফাদি বলেন: আমাকে জানানো হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ৪)
أبو الثناء محمود قال: ذكر ابن مالك يوما ما انفرد به صاحب المحكم عن الأزهريّ في اللغة؛ قال الصفديّ: وهذا أمر يعجز، لأنه يحتاج الى جميع معرفة ما في الكتابين، وأخبرني عنه أنه كان إذا صلى في العادلية ـ لأنه كان إمام المدرسة ـ يشيّعه قاضي القضاة شمس الدين بن خلكان الى بيته تعظيما له. ومع هذا لم ندر لأي سبب أغفل ابن خلكان ترجمته.

وقد روى عنه الألفية شهاب الدين محمود المذكور، ورواها الصفديّ خليل عن شهاب الدين محمود قراءة، ورواها إجازة عن ناصر الدين شافع بن عبد الظاهر، وعن شهاب الدين بن غانم بالإجازة عنهما عنه. وأما النحو والتصريف فكان فيهما ابن مالك بحرا لا يجارى، وحبرا لا يبارى. وأما اطّلاعه على أشعار العرب التي يستشهد بها على النحو واللغة فكان أمرا عجيبا وكان الأئمة الأعلام يتحيّرون في أمره. وأما الاطلاع على الحديث فكان فيه آية، لأن أكثر ما يستشهد بالقرآن، فإن لم يكن فيه شاهد عدل الى الحديث، وإن لم يكن فيه شاهد عدل الى أشعار العرب؛ هذا مع ما هو عليه من الدين المتين والعبارة وصدق اللهجة وكثرة النوافل وحسن السّمت وكمال العقل.
আবুস সানা মাহমুদ বলেন: ইবনে মালিক একদিন ভাষাতত্ত্বের ক্ষেত্রে আল-আযহারীর বিপরীতে 'আল-মুহকাম' গ্রন্থের রচয়িতার একক বর্ণনাগুলো (ما انفرد به) উল্লেখ করছিলেন। আস-সাফাদী বলেন: এটি অত্যন্ত দুঃসাধ্য কাজ, কারণ এর জন্য উভয় গ্রন্থে বিদ্যমান বিষয়বস্তু সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানের প্রয়োজন। তিনি আমাকে তাঁর সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, তিনি যখন আদিলিয়ায় নামাজ পড়াতেন—যেহেতু তিনি মাদরাসার ইমাম (إمام) ছিলেন—তখন প্রধান বিচারপতি শামসউদ্দিন ইবনে খাল্লিকান তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে তাঁর বাড়ি পর্যন্ত তাঁর অনুগমন করতেন। এতদসত্ত্বেও আমরা জানি না ইবনে খাল্লিকান কী কারণে তাঁর জীবনী বাদ দিয়েছেন।

উল্লিখিত শিহাবউদ্দিন মাহমুদ তাঁর নিকট থেকে আলফিয়্যাহ বর্ণনা (روى) করেছেন। আর খলীল আস-সাফাদী এটি শিহাবউদ্দিন মাহমুদের নিকট পঠনের মাধ্যমে (قراءة) বর্ণনা করেছেন। এছাড়া তিনি নাসিরুদ্দিন শাফে বিন আব্দুল জাহির ও শিহাবউদ্দিন বিন গানিম থেকে অনুমোদনের মাধ্যমে (إجازة) তাঁদের উভয়ের সূত্রে তাঁর (ইবনে মালিক) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন। আর নাহু ও সারফের ক্ষেত্রে ইবনে মালিক ছিলেন এক সমকক্ষহীন সমুদ্র এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী পণ্ডিত। নাহু ও লুগাতের ক্ষেত্রে প্রমাণ (شاهد) হিসেবে ব্যবহৃত আরব কবিদের কবিতার বিষয়ে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল এক বিস্ময়কর ব্যাপার এবং বরেণ্য ইমামগণ এ বিষয়ে বিস্মিত হতেন। আর হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞানে তিনি ছিলেন এক অনন্য নিদর্শন (آية); কারণ তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কুরআন থেকে দলিল পেশ করতেন, যদি তাতে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ (شاهد عدل) না পেতেন তবে হাদিসের দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন, আর যদি তাতেও কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ (شاهد عدل) না থাকতো তবে আরব কবিদের কবিতার দিকে ফিরে যেতেন। এর পাশাপাশি তিনি সুদৃঢ় ধর্মীয় নিষ্ঠা, প্রাঞ্জল ভাষা, সত্যবাদিতা (صدق اللهجة), অধিক নফল ইবাদত (نوافل), উত্তম শিষ্টাচার এবং পূর্ণ প্রজ্ঞার অধিকারী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ৫)
وأقام بدمشق مدة يصنّف ويشتغل بالجامع وبالتربة العادلية، وتخرج عليه جماعة، وكان نظم الشعر عليه سهلا رجزه وطويله وبسيطه:

ومن تصانيف ابن مالك " الموصّل في نظم المفصّل" وقد حلّ هذا النظم فسماه: سبك المنظوم، وفك المختوم، ومن قال: ان اسمه فك المنظوم وسبك المختوم فقد خالف النقل والعقل. ومن كتب ابن مالك "لكافية الشافية" ثلاثة آلاف بيت وشرحها، و"الخلاصة" وهي مختصر الشافية و" إكمال الأعلام بمثلث الكلام" وهو مجلّد كبير كثير الفوائد يدل على اطلاع عظيم و"لامية الأفعال وشرحها" و" فعل وأفعل" و"المقدمة الأسديّة" وضعها باسم ولده الأسد و" عدّة اللافظ وعمدة الحافظ" و" النظم الأوجز فيما يهمز" و"الاعتضاد في الظاء والضاد" مجلد و" إعراب مشكل البخاري" و" تحفة المودود في المقصور والممدود" وغير ذلك كشرح التسهيل.

وروى عنه ولده بدر الدين محمد، وشمس الدين بن جعوان وشمس الدين بن أبي الفتح، وابن العطّار، وزين الدين أبو بكر المزّي، والشيخ أبو الحسين اليونيني (شيخ المؤرخ الذهبي)
তিনি দামেস্কে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন, সেখানে তিনি গ্রন্থ রচনা ও জামে মসজিদ ও আদিলিয়া মাদরাসায় জ্ঞানচর্চায় মগ্ন থাকতেন। তাঁর নিকট একদল ছাত্র শিক্ষা লাভ করে। তাঁর নিকট কাব্য রচনা করা অত্যন্ত সহজ ছিল, তা সে 'রজয', 'তওয়ীল' বা 'বাসীত'—যে ছন্দেই হোক না কেন:

ইবনে মালিকের রচনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো 'আল-মাওসিল ফি নাযমিল মুফাসসাল'। তিনি এই কাব্যগ্রন্থটির ব্যাখ্যাও করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন 'সাবকুল মানযুম ওয়া ফাককুল মাখতুম'। যারা বলেন যে এর নাম 'ফাককুল মানযুম ওয়া সাবকুল মাখতুুম', তারা মূলত বর্ণনা ও যুক্তি—উভয়েরই পরিপন্থী কথা বলেছেন। ইবনে মালিকের কিতাবসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে তিন হাজার পংক্তির 'আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া' এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ; 'আল-খুলাসা' (যা আল-শাফিয়ার সংক্ষিপ্তসার); 'ইকমালুল আ'লাম বি মুসাললাসিল কালাম', যা এক বিশাল খণ্ড এবং অত্যন্ত উপকারী, যা তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের প্রমাণ বহন করে; 'লামিয়াতুল আফ'আল' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ; 'ফি'ল ওয়া আফ'আল'; 'আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাদিয়্যাহ' (যা তিনি তাঁর পুত্র আসাদের নামে রচনা করেছেন); 'উদ্দাতুল লাফিজ ওয়া উমদাতুল হাফিজ'; 'আন-নাযমুল আওজায ফীমা ইউহমায'; এক খণ্ডের 'আল-ইতিদাদ ফিজ জা' ওয়াদ দাদ'; 'ই'রাবু মুশকিলিল বুখারি'; 'তুহফাতুল মাওদুদ ফিল মাকসুর ওয়াল মামদুদ' এবং আরও অনেক গ্রন্থ, যেমন 'শারহুত তাসহীল'

তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর পুত্র বদরুদ্দীন মুহাম্মদ, শামসুদ্দীন ইবনে জা'ওয়ান, শামসুদ্দীন ইবনে আবিল ফাতহ, ইবনুল আত্তার, যয়নুদ্দীন আবু বকর আল-মিযযী এবং শায়খ আবু আল-হুসাইন আল-ইউনিনী (যিনি ঐতিহাসিক আয-যাহাবীর শায়খ)।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ৬)
وأبو عبد الله الصيرفيّ، وقاضي القضاة بدرالدين بن جماعة، وشهاب الدين بن غانم، وناصر الدين بن شافع، وخلق سواهم.

ومن رسوخ قدمه في علم النحو أنه كان يقول عن ابن الحاجب: إنه أخذ نحوه من صاحب المفصّل، وصاحب المفصّل نحويّ صغير، وناهيك بمن يقول هذا في حق الزمخشري. وكان الشيخ ركن الدين بن القوبع يقول: إن ابن مالك ما خلّى للنحو حرمة. وقدم رحمه الله القاهرة ثم رحل الى دمشق وبها مات ثاني عشر شعبان سنة 672 هـ.

وكان ذا عقل راجح حسن الأخلاق مهذبا ذا رزانة وحياء ووقار وانتصاب لللإفادة، وصبر على المطالعة الكثيرة، تخرّج به أئمة ذلك الزمان كابن المنجي وغيره، وسارت بتصانيفه الركبان، وخضع لها العلماء الأعيان، وكان حريصا على العلم حتى انه حفظ يوم موته ثمانية شواهد.

وحكى أنه توجه يوما مع أصحابه للفرجة بدمشق فلما بلغوا الموضع الذي أرادوه غفلوا عنه بسويعة فطلبوه فلم يجدوه ثم بحثوا عنه فوجدوه منكبّا على أوراق، وأغرب من هذا ـ في اعتنائه بالعلم ـ ما مرّ أنه حفظ يوم موته عدّة أبيات؛ حدّها بعضهم
এবং আবু আবদুল্লাহ আল-সাইরাফি, প্রধান বিচারপতি বদরুদ্দিন বিন জামাআহ, শিহাবুদ্দিন বিন গানিম, নাসিরুদ্দিন বিন শাফে এবং তাঁদের ছাড়াও আরও অসংখ্য লোক।

নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে তাঁর সুগভীর পাণ্ডিত্যের নিদর্শন এই যে, তিনি ইবনুল হাজিব সম্পর্কে বলতেন: তিনি তাঁর নাহু গ্রহণ করেছেন 'আল-মুফাসসাল' প্রণেতার নিকট থেকে, অথচ 'আল-মুফাসসাল' প্রণেতা একজন সাধারণ ব্যাকরণবিদ; আর যামাখশারী সম্পর্কে যিনি এমন কথা বলেন তাঁর পাণ্ডিত্য সম্পর্কে বলাই বাহুল্য। শায়খ রুকনুদ্দিন বিন আল-কাউবা বলতেন: ইবনে মালিক নাহু শাস্ত্রের কোনো মর্যাদাই (পূর্ণতা অর্জনে) অবশিষ্ট রাখেননি। আল্লাহ তাঁকে রহম করুন, তিনি কায়রোতে আগমন করেন, অতঃপর দামেস্কে প্রস্থান করেন এবং সেখানেই ৬৭২ হিজরি সনের ১২ই শাবান ইন্তেকাল করেন।

তিনি প্রখর মেধা ও সচ্চরিত্রের অধিকারী ছিলেন এবং ছিলেন মার্জিত, ধীরস্থির, লজ্জাশীল, গাম্ভীর্যপূর্ণ এবং জ্ঞান বিতরণে নিবেদিতপ্রাণ। দীর্ঘ সময় অধ্যয়নে তাঁর অসীম ধৈর্য ছিল। ইবনুল মুনজি সহ তৎকালীন সময়ের ইমামগণ তাঁর নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি দেশ-বিদেশে খ্যাতি লাভ করেছিল এবং বরেণ্য আলেমগণ সেগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেছিলেন। তিনি ইলমের প্রতি এতটাই অনুরাগী ছিলেন যে, এমনকি তাঁর মৃত্যুর দিনেও তিনি আটটি কাব্যিক প্রমাণ (شواهد) মুখস্থ করেছিলেন।

বর্ণিত আছে যে, একদিন তিনি তাঁর সঙ্গীদের সাথে দামেস্কে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বের হন। যখন তাঁরা নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালেন, তখন সঙ্গীরা সামান্য সময়ের জন্য তাঁর দিক থেকে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন। এরপর তাঁরা তাঁকে খুঁজতে শুরু করলেন কিন্তু পেলেন না। অতঃপর তালাশ করে তাঁরা তাঁকে কাগজের ওপর ঝুঁকে থাকা অবস্থায় (অধ্যয়নে মগ্ন) পেলেন। ইলমের প্রতি তাঁর এই অনুরাগের ক্ষেত্রে এর চেয়েও বিস্ময়কর হলো যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর মৃত্যুর দিনেও বেশ কিছু পঙ্ক্তি মুখস্থ করেছিলেন; কেউ কেউ সেগুলোর সংখ্যাও নির্দিষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ৭)
بثمانية؛ لقنه ابنه إياها، وهذا مما يصدق ما قيل:" بقدر ما تتعنّى تنال ما تتمنّى" فجزاه الله خيرا عن هذه الهمّة العليّة.

ورحم الله ابن مالك فقد أحيا من العلم رسوما دارسة، وبيّن معالم طامسة، وجمع من ذلك ما تفرّق، وحقق ما لم يكن تبيّن منه ولا تحقق، ورحم شيخه ثابت بن الخيار، فإنه كان من الثقات الأخيار.

وذكر الصفدي عن الذهبي: أن ابن مالك صنّف الألفية لولده تقيّ الدين المدعوّ بالأسد، واعترضه العلامة العجيسي بأن الذي صنّفه له عن تحقيق المقدمة الأسدية، قال: وأما هذه يعني الألفية فذكر لي من أثق بقوله: إنه صنّفها برسم القاضي شرف الدين هبة الله بن نجم الدين عبد الرحيم بن شمس بن ابراهيم بن عفيف الدين بن هبة الله بن مسلم ابن هبة الله بن حسّان الجهني الحموي الشافعي الشهير بابن البارزي.

وقد قال بعض المغاربة يمدح ابن مالك وألفيته:

لقد مزّقت قلبي سهام جفونها

… كما مزّق اللخميّ مذهب مالك

وصال على الأوصال بالقدّ قدّها … فأضحت كأبيات بتقطيع مالك

وقلدت إذ ذاك الهوى لمرادها … كتقليد أعلام النجاة ابن مالك

وملّكتها رقّى لرقّة لفظها

… وإن كنت لا أرضاه ملكا لمالك

وناديتها يا منيتي بذل مهجتي … ومالي قليل في بديع جمالك
আটটি বিষয়; যা তাঁর পুত্র তাঁকে শিখিয়েছিলেন। এটি সেই কথারই সত্যতা প্রমাণ করে যেখানে বলা হয়েছে: "পরিশ্রমের পরিমাণ অনুসারেই কাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভ হয়।" আল্লাহ তাঁকে এই সুউচ্চ সংকল্পের জন্য উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আল্লাহ ইবনে মালিকের ওপর রহম করুন, কেননা তিনি ইলমের বিলুপ্তপ্রায় চিহ্নসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন, অস্পষ্ট নিদর্শনসমূহকে স্পষ্ট করেছেন, বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে সংকলিত করেছেন এবং যা অস্পষ্ট ছিল বা যা ইতিপূর্বে যাচাইকৃত ছিল না তা তাহকিক করেছেন। আর আল্লাহ তাঁর শায়খ সাবিত ইবনুল খিয়ারকেও রহম করুন, কেননা তিনি নির্ভরযোগ্য (الثقات) ও নেককার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

সাফাদি ইমাম যাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন যে: ইবনে মালিক তাঁর পুত্র তাকিউদ্দিন—যিনি আল-আসাদ নামে পরিচিত—তাঁর জন্য 'আলফিয়্যাহ' রচনা করেছিলেন। তবে আল্লামা আল-উজাইসি এই মতের ওপর আপত্তি জানিয়ে বলেছেন যে, তিনি তাঁর জন্য মূলত 'আল-মুকাদ্দিমাতুল আসাদিয়্যাহ' রচনা করেছিলেন। তিনি বলেন: আর এই 'আলফিয়্যাহ' সম্পর্কে এমন এক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন—যাঁকে আমি নির্ভরযোগ্য মনে করি (أثق)—যে, তিনি এটি কাযী শরাফউদ্দিন হিবাতুল্লাহ ইবনে নাজমুদ্দিন আবদুর রহিম ইবনে শামস ইবনে ইবরাহিম ইবনে আফিফউদ্দিন ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে হাসসান আল-জুহানি আল-হামাউয়ি আশ-শাফিয়ি—যিনি ইবনুল বারিজি নামে প্রসিদ্ধ—তাঁর নামে রচনা করেছিলেন।

জনৈক মাগরিবী আলেম ইবনে মালিক এবং তাঁর আলফিয়্যাহর প্রশংসা করে বলেছেন:

তার চোখের পাপড়ির তীরসমূহ আমার অন্তরকে বিদীর্ণ করেছে...

… যেভাবে আল-লাখমি মালিকি মাযহাবকে ব্যবচ্ছেদ করেছেন।

তার সুঠাম দেহ আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর চড়াও হয়েছে... ফলে সেগুলো ইবনে মালিকের পংক্তিমালা ও ছন্দের ন্যায় খণ্ডিত হয়ে পড়েছে।

তখন আমি তার ইচ্ছার অনুকূলে প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছি... যেভাবে নাজাতের ইমামগণ ইবনে মালিকের অনুসরণ করেন।

আমি তাকে আমার দাসত্বের মালিক বানিয়েছি তার বাচনভঙ্গির লালিত্যের কারণে...

… যদিও মালিক হিসেবে অন্য কাউকে আমি পছন্দ করি না।

আমি তাকে ডেকে বললাম: হে আমার আকাঙ্ক্ষা! তোমার অপার্থিব সৌন্দর্যের বিপরীতে আমার প্রাণ ও ধন-সম্পদ বিসর্জন দেওয়া তো খুবই নগণ্য।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ৮)
شرّاح الألفية:

وقد شرح ألفية ابن مالك كثيرون من أئمة علماء النحو، نخص بالذكر منهم: المؤلف وابنه بدرالدين محمد، وبرهان الدين ابراهيم بن موسى بن أيوب الأبناسي الشافعي الهاشمي، وبهاء الدين عبد الله بن عبد الرحمن ابن عبد الله بن عقيل القرشيّ العقيلي، والشيخ عبد الله بن حسين الأدكاوي، وبدر الدين بن قاسم بن عبد الله بن علي المراديّ المصريّ المعروف بابن أم قاسم، ونور الدين أبا الحسن علي بن محمد الأشموني، والعلامة المختار بن بون، وزين الدين عبد الرحمن بن أبي بكر المعروف بابن العينيّ، وأبا زيد عبد الرحمن بن علي بن صالح المكوّدي، وأبا محمد القاسم بن فيرة بن خلف بن أحمد الرعيني الأندلسي، وشمس الدين أبا عبد الله محمد بن أحمد بن عليّ بن جابر الهوّاريّ الأندلسي، وغيرهم. وجميع هذه الشروح ـ المطبوع منها والمخطوط ـ محفوظ بدار الكتب المصرية.

_________
আলফিয়্যার ব্যাখ্যাকারগণ:

ব্যাকরণ শাস্ত্রের ইমাম ও আলেমদের মধ্য থেকে অনেকেই ইবনে মালিকের আলফিয়্যার ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন: স্বয়ং গ্রন্থকার এবং তাঁর পুত্র বদরউদ্দীন মুহাম্মদ, বুরহানুদ্দীন ইবরাহিম ইবনে মুসা ইবনে আইয়ুব আল-আবনাাসি আল-শাফিঈ আল-হাশেমি, বাহাউদ্দীন আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আকিল আল-কুরাশি আল-আকিলি, শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে হুসাইন আল-আদকাওয়ি, বদরউদ্দীন ইবনে কাসিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আলি আল-মুরাদি আল-মিসরি—যিনি ইবনে উম্মে কাসিম নামে পরিচিত, নুরুদ্দীন আবুল হাসান আলি ইবনে মুহাম্মদ আল-আশমুনি, আল্লামা আল-মুখতার ইবনে বুন, যয়নুদ্দীন আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর—যিনি ইবনুল আইনি নামে পরিচিত, আবু যায়েদ আবদুর রহমান ইবনে আলি ইবনে সালিহ আল-মাকুদি, আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইবনে ফিরাহ ইবনে খালাফ ইবনে আহমাদ আল-রুয়াইনি আল-আন্দালুসি, শামসুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আলি ইবনে জাবির আল-হাওওয়ারি আল-আন্দালুসি এবং আরও অনেকে। এই সকল ব্যাখ্যাগ্রন্থ—যার মধ্যে মুদ্রিত এবং পাণ্ডুলিপি উভয়ই বিদ্যমান—মিসরের দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া-তে সংরক্ষিত আছে।

_________
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمة المؤلف

…

(بسم الله الرحمن الرحيم)

قال محمد هو ابن مالك … أحمد ربي الله خير مالك

مصلّيا على النبي المصطفى … وآله المستكملين الشّرفا

وأستعين لله في ألفيّه … مقاصد النّحو بها محويّه

تقرّب الأقصى بلفظ موجز … وتبسط البذل بوعد منجز

وتقتضي رضا بغير سخط … فائقة ألفيّة ابن معطي

وهو بسبق حائز تفضيلا … مستوجب ثنائي الجميلا

والله يقضي بهبات وافرة … لي وله في درجات الآخرة
‌লেখকের ভূমিকা

…

(বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম)

মুহাম্মাদ—যিনি ইবন মালেক—বলেন … আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি সর্বোত্তম অধিপতি।

মনোনীত নবীর ওপর দরুদ পাঠরত অবস্থায় … এবং তাঁর পূর্ণ মর্যাদাবান পরিজনদের ওপরও।

আমি আল্লাহর নিকট এমন এক আলফিয়্যাহ রচনায় সাহায্য চাইছি … যাতে নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের মূল লক্ষ্যসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তা সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে সুদূরপ্রসারী বিষয়কে নিকটবর্তী করে … এবং সুনিশ্চিত অঙ্গীকারের ন্যায় জ্ঞানের দানকে প্রসারিত করে।

তা কোনো প্রকার অসন্তুষ্টি ছাড়াই সন্তুষ্টির দাবি রাখে … এবং এটি ইবন মু'তির আলফিয়্যাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

তিনি অগ্রগামী হওয়ার কারণে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী … এবং আমার পক্ষ থেকে সুন্দর প্রশংসার যোগ্য।

আল্লাহ পরকালের সুউচ্চ স্তরে আমার ও তাঁর জন্য … প্রচুর নেয়ামত ও পুরস্কারের ফয়সালা করুন।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الكلام وما يتألف منه:

كلامنا لفظ مفيد كاستقم … واسم وفعل ثمّ حرف الكلم

واحده كلمة والقول عم … وكلمة بها كلام قد يؤم

بالجرّ والتنوين والنّدا وآل … ومسند للاسم تمييز حصل

بتا فعلت وأتت ويا افعلي …

ونون أقبلنّ فعل ينجلي

سواهما الحرف كهل وفي ولم … فعل مضارع يلي لم كيشم
‌‌কালাম (বাক্য) এবং তা যা দ্বারা গঠিত হয়:

আমাদের পরিভাষায় কালাম হলো এমন অর্থবোধক শব্দ যা ‘ইস্তাকিম’ (সোজা হয়ে দাঁড়াও)-এর ন্যায় ফলপ্রসূ … আর ইসিম, ফেইল এবং হরফ—এই তিনের সমষ্টি হলো কালিম।

কালিমের একক হলো কালিমা এবং কওল (উক্তি) পরিভাষাটি অধিক ব্যাপক … আর কালিমা দ্বারা কখনো কখনো কালামকেও উদ্দেশ্য করা হয়ে থাকে।

জার, তানভিন, নিদা, আলিফ-লাম এবং মুসনাদ-এর মাধ্যমে ইসিমের স্বাতন্ত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয় …

‘ফাআলতা’-এর ‘তা’, ‘আতাত’-এর ‘তা’ এবং ‘ইফআলি’-এর ‘ইয়া’ …

এবং ‘আকবিলান্না’-এর ‘নুন’-এর মাধ্যমে ফেইল বা ক্রিয়া সুস্পষ্টভাবে পরিচিতি লাভ করে।

এই দুটি (ইসিম ও ফেইল) ব্যতীত অন্যগুলো হলো হরফ, যেমন— হাল, ফি এবং লাম … মুদারে ফেইল হলো সেটি যা ‘লাম’-এর অনুগামী হয়, যেমন— ইয়াশাম।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ১০)
وماضي الأفعال بالتامز وسم … بالنون فعل الأمر إن أمر فهم

والأمر إن لم يك للنون محل … فيه فهو اسم نحوصه وحيّهل
অতীতকালীন ক্রিয়াকে (الماضي) ‘তা’ (ت) চিহ্নের মাধ্যমে পৃথক করো … আর আদেশসূচক ক্রিয়াকে (فعل الأمر) ‘নুন’ (نون) দ্বারা চিহ্নিত করো যদি তা দ্বারা নির্দেশ প্রদানের অর্থ বুঝা যায়।

আর আদেশের (الأمر) অর্থ থাকা সত্ত্বেও যদি সেখানে ‘নুন’ (نون) যুক্ত হওয়ার অবকাশ না থাকে, তবে সেটি বিশেষ্য (اسم); যেমন: ‘সাহ’ (صه) এবং ‘হাইয়্যাহাল’ (حيّهَل)।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌المعرب والمبني:

والاسم منه معرب ومبني … لشبه من الحروف مدني

كالشبه الوضعيّ في اسمي جئتنا … والمعنويّ في متى وفي هنا

وكنيابة عن الفعل بلا … تأثر وكافتقار أصّلا

ومعرب الأسماء ما قد سلما … من شبه الحرف كأرض وسما

وفعل أمر ومضي بنيا … وأعربوا مضارعا إن عريا

من نون توكيد مباشر ومن … نون إناث كيرعن من فتن

وكلّ حرف مستحق للبنا … والأصل في المبنيّ أن يسكّنا

ومنه ذو فتح وذو كسر وضم … كأين أمس حيث والسّاكن كم

والرّفع والنّصب اجعلن اعرابا … لاسم وفعل نحو لن أهابا

والاسم قد خصّص بالجرّ كما … قد خصّص الفعل بأن ينجزما

فارفع بضمّ وانصبن فتحا وجرّ … كسرا كذكر الله عبده يسر

واجزم بتسكين وغير ما ذكر … ينوب نحو جاأخو بني نمر
‌‌রূপান্তরশীল (معرب) এবং অপরিবর্তনশীল (مبني):

বিশেষ্যের (اسم) মধ্যে কিছু রূপান্তরশীল (معرب) এবং কিছু অপরিবর্তনশীল (مبني) হয় … বর্ণের (حرف) সাথে নিকটবর্তী সাদৃশ্য থাকার কারণে।

যেমন ‘জিতা’ শব্দস্থিত দুটি বিশেষ্যের (اسم) ন্যায় গঠনগত সাদৃশ্য, এবং ‘মাতা’ (متى) ও ‘হুনা’ (هنا) এর ন্যায় অর্থগত সাদৃশ্য।

এবং আমলকারী দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে ক্রিয়ার (فعل) স্থলাভিষিক্ত হওয়া এবং মৌলিকভাবে মুখাপেক্ষী হওয়ার সাদৃশ্যের ন্যায়।

আর বিশেষ্যসমূহের (اسم) মধ্যে রূপান্তরশীল (معرب) হলো তা, যা বর্ণের (حرف) সাদৃশ্য থেকে মুক্ত থাকে, যেমন ‘আরদ’ ও ‘সুমা’।

আদেশবাচক ক্রিয়া (فعل أمر) এবং অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) অপরিবর্তনশীল (مبني) হিসেবে গঠিত; আর তারা বর্তমানকালীন ক্রিয়াকে (فعل مضارع) রূপান্তরশীল (معرب) করেছেন যদি তা মুক্ত থাকে—

সরাসরি যুক্ত তাকিদসূচক নুন (نون توكيد) এবং স্ত্রীবাচক নুন (نون إناث) থেকে, যেমন ‘ইয়ার'না’ (يرعن) যারা মোহিত করে।

এবং প্রতিটি বর্ণ (حرف) অপরিবর্তনশীল (مبني) হওয়ার যোগ্য, আর অপরিবর্তনশীলের (مبني) মূল ভিত্তি হলো সুকুনযুক্ত (سكون) হওয়া।

তার মধ্যে কোনোটি ফাতহা (فتح), কোনোটি কাসরা (كسر) এবং কোনোটি দাম্মাহ (ضم) বিশিষ্ট হয়, যেমন ‘আইনা’ (أين), ‘আমসি’ (أمس), ‘হাইসু’ (حيث); আর সুকুনযুক্ত (ساكن) হলো ‘কাম’ (كم)।

রাফ’ (رفع) এবং নাসবকে (নصب) বিশেষ্য (اسم) ও ক্রিয়ার (فعل) জন্য ই’রাব (اعراب) হিসেবে নির্ধারণ করুন, যেমন ‘লান আহাবা’।

বিশেষ্যকে (اسم) জার (جر) প্রদানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যেমন ক্রিয়াকে (فعل) জাজম (جزم) করার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

সুতরাং দাম্মাহ (ضم) দ্বারা রাফ’ (رفع) করুন, ফাতহা (فتح) দ্বারা নাসব (নصب) করুন এবং কাসরা (كسر) দ্বারা জার (جر) প্রদান করুন, যেমন ‘জিকরুল্লাহি আবদাহু ইয়াসুর’।

আর সুকুন (تسكين) দ্বারা জাজম (جزم) করুন; এবং উল্লেখিত চিহ্নসমূহ ব্যতীত অন্যগুলো স্থলাভিষিক্ত (نیابة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন ‘জাআ আখু বানি নামির’।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ১১)
وارفع بواو وانصبنّ بالألف … واجرر بياء ما من الأسماء أصف

من ذاك ذو إن صحبة أبانا … والفم حيث الميم منه بانا

أبٌ أخٌ حمٌ كذاك وهنّ … والنّقص في هذا الأخير أحسن

وفي أبٍ وتالييه يندر … وقصرها من نقصهنّ أشهر

وشرط ذا الاعراب إن يضفن لا … للياكجا أخو أبيك ذا اعتلا

بالألف ارفع المثنّى وكلا … إذا بمضمرٍ مضافا وصلا

كلتا كذاك اثنان واثنتان … كابنين وابنتين يجريان

وتخلف اليا في جميعها الألف … جرّا ونصباً بعد فتحٍ قد ألف

وارفع بواوٍ وبيا واجرر وانصب … سالم جمع عامرٍ ومذنب

وشبه ذين وبه عشرونا … وبابه ألحق والأهلونا

أولو وعالمون علّيّونا … وأرضون شذّ والسّنونا

وبابه ومثل حين ٍ قد يرد … ذا الباب وهو عند قوم يطرّد

ونون مجموع ٍ وما به ألتحق … فافتح وقلّ من بكسره نطق

ونون ما ثنّي والملحق به … بعكس ذاك استعملوه فانتبه

ومابتا وألف قد جمعا … يكسر في الجرّ وفي النّصب معا

كذا أولات والذي اسماً قد جعل … كأذرعات فيه ذا أيضاً قبل
ওয়াও-এর মাধ্যমে রফ (رفع) প্রদান করুন এবং আলিফ দ্বারা নাসব (نصب) প্রদান করুন … আর আমি যে সকল বিশেষ্যের (أسماء) বর্ণনা দিচ্ছি তাকে ইয়া দ্বারা যার (جر) করুন।

সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো 'যু' শব্দ যদি তা সাহচর্য বা মালিকানা অর্থ প্রকাশ করে … এবং 'ফামু' শব্দ যখন তা থেকে 'মীম' বর্ণটি পৃথক হয়ে যায়।

পিতা, ভ্রাতা, শ্বশুর এবং তেমনিভাবে 'হানু' শব্দটিও … তবে এই শেষোক্ত শব্দটির ক্ষেত্রে নাকস (نقص) বা হ্রস্বায়নই অধিক উত্তম।

পিতা এবং তার পরবর্তী দুটি শব্দের ক্ষেত্রে নাকস (نقص) বিরল … তবে এগুলোর ক্ষেত্রে কাসর (قصر) পদ্ধতি নাকস (نقص) অপেক্ষা অধিক প্রসিদ্ধ।

এই ই'রাব (إعراب) প্রদানের শর্ত হলো শব্দগুলোকে মুদাফ (مضاف) হতে হবে, তবে তা উত্তম পুরুষবাচক 'ইয়া' বর্ণটির দিকে নয়; যেমন: 'তোমার পিতার ভ্রাতা উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন'।

আলিফ দ্বারা দ্বিবচনকে (مثنى) রফ (رفع) প্রদান করুন এবং 'কিলা' শব্দকেও … যদি তা সর্বনামের (مضمر) দিকে মুদাফ (مضاف) হিসেবে যুক্ত হয়।

'কিলতা' শব্দটিও তদ্রূপ এবং 'ইসনানে' ও 'ইসনাতানে' শব্দদ্বয়ও … যা 'ইবনাইন' ও 'ইবনাতাইন' এর ন্যায় একইভাবে পরিগণিত হয়।

আর এই সমস্ত শব্দের ক্ষেত্রে ইয়া বর্ণটি আলিফের স্থলাভিষিক্ত হবে … যার (جر) এবং নাসব (نصب) উভয় অবস্থায়, যা একটি পরিচিত ফাতহার (فتح) পর আগমন করে।

ওয়াও দ্বারা রফ (رفع) দিন এবং ইয়া দ্বারা যার (جر) ও নাসব (نصب) প্রদান করুন … 'আমের' ও 'মুজনিব' এর ন্যায় বিশুদ্ধ পুংলিঙ্গ বহুবচনকে (جمع مذكر سالم)।

এবং এই দুইয়ের সদৃশ শব্দসমূহ এবং 'ইশরুনা' ও তার অধ্যায়ভুক্ত শব্দসমূহ … এর অন্তর্ভুক্ত হবে; অনুরূপভাবে 'আহলুনা' শব্দটিও।

'উলু', 'আলামুন', 'ইল্লিয়্যুন' … এবং 'আরদুন' শব্দসমূহ—যা শায (شاذ) হিসেবে গণ্য—এবং 'সিনুন' শব্দটিও।

এবং এর অধ্যায়ভুক্ত শব্দসমূহ; আবার 'হীন' শব্দের ন্যায়ও এই অধ্যায়ের শব্দগুলো আসতে পারে … আর কোনো কোনো গোত্রের নিকট এই নিয়মটিই নিয়মিতভাবে প্রচলিত (يطرد)।

বহুবচন (مجموع) এবং তার সাথে যা কিছু সংযুক্ত হয়েছে তার নুন (نون) বর্ণটিকে ফাতহা প্রদান করুন … আর যারা কাসরা (كسر) সহযোগে তা পাঠ করেছেন তাদের সংখ্যা খুবই কম।

দ্বিবচন (مثنى) এবং তার সাথে সংযুক্ত শব্দসমূহের নুন (نون) বর্ণের ক্ষেত্রে … এর বিপরীত নিয়ম (অর্থাৎ কাসরা) ব্যবহার করুন, বিষয়টি লক্ষ্য রাখুন।

আর যে শব্দগুলো আলিফ ও তা সহযোগে বহুবচন (جمع) করা হয়েছে … তা যার (جر) এবং নাসব (نصب) উভয় অবস্থায় কাসরা প্রাপ্ত হবে।

অনুরূপভাবে 'উলাত' এবং যে শব্দকে নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে … যেমন: 'আদরিয়াত', তার ক্ষেত্রেও এই নিয়মটি গৃহীত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ১২)
وجرّ بالفتحة ما لا ينصرف … ما لم يضف أو يك بعد أل ردف

واجعل لنحو يفعلان النّونا … رفعا وتدعين وتسألونا

وحذفها للجزم والنّصب سمه … كلم تكوني لترومي مظلمه

وسمّ معتلا ً من الأسماء ما … كالمصطفى والمرتقى مكارما

فالأوّل الإعراب فيه قدّرا … جميعه وهو الذي قد قصرا

والثاني منقوصّ ونصبه ظهر … ورفعه ينوي كذا أيضا يجر

وأيّ فعل ٍ آخرّ منه ألف … أو واو او ياءّ فمعتلا ًّ عرف

فالألف انوفيه غير الجزم … وأبد نصب ما كيدعو يرمي

والرفع فيهما انوواحذف جازما … ثلاثهنّ تقض حكما لازما
এবং ফাতহা (فتحة) দ্বারা জার (جر) প্রদান করো সেই বিশেষ্যকে যা রূপান্তরহীন (ما لا ينصرف) … যতক্ষণ না তা মুদাফ (مضاف) হয় অথবা আলিফ-লামের (أل) অনুগামী হয়।

এবং ‘ইয়াফআলানি’ (يفعلان) সদৃশ শব্দগুলোর ক্ষেত্রে রাফা (رفع) অবস্থায় নুন (نونا) যুক্ত করো … যেমন: ‘তাদঈনা’ (تدعين) এবং ‘তাসআলুনা’ (تسألونا)।

আর জযম (جزم) এবং নাসব (نصب)-এর চিহ্ন হিসেবে সেই নুন বিলোপ করাকে নির্ধারণ করো … যেমন: ‘লাম তাকুনি লিতারুমি মাজলিমা’ (لم تكوني لترومي مظلمة)।

বিশেষ্যগুলোর মধ্যে সেটিকে ত্রুটিপূর্ণ (معتلا) হিসেবে অভিহিত করো যা … ‘আল-মুস্তাফা’ (المصطفى) এবং উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ‘আল-মুরতাকি’ (المرتقى)-এর সদৃশ।

তন্মধ্যে প্রথমটির ক্ষেত্রে সমস্ত ই'রাব (إعراب) নির্ধারিত বা উহ্য (قدّر) ধরা হয় … আর একেই মাকসুর (قصرا) বলা হয়।

দ্বিতীয়টি হলো মানকুস (منقوص); এর নাসব (نصب) দৃশ্যমান হয় … কিন্তু রাফা (رفع) উহ্য থাকে এবং একইভাবে জার (جر)-ও নির্ধারিত হয়।

আর যে কোনো ক্রিয়ার শেষে যদি আলিফ (ألف), ওয়াও (واو) অথবা ইয়া (ياء) থাকে … তবে তা ত্রুটিপূর্ণ (معتلا) হিসেবে পরিচিত।

আলিফ-যুক্ত ক্রিয়ায় জযম (جزم) ব্যতীত অন্য অবস্থায় ই'রাব উহ্য রাখো … আর ‘ইয়াদউ’ (يدعو) ও ‘ইয়ারমি’ (يرمي)-এর ন্যায় ক্রিয়ায় নাসব (نصب) প্রকাশ করো।

এই উভয় প্রকারের ক্ষেত্রে রাফা (رفع) উহ্য ধরো এবং জযম (جزم) অবস্থায় … তিনটিকে (শেষ বর্ণগুলো) বিলুপ্ত করো, তবেই তুমি সঠিক ও আবশ্যকীয় সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌النكرة والمعرفه:

نكرة قابل أل مؤثرا … أو واقعّ موقع ما قد ذكرا

وغيره معرفة ّ كهم وذي … وهند وابني والغلام والذي

فما لذي غيبة أو حضور … كأنت وهو سمّ بالضّمير

وذو اتصال منه ما لا يبتدا … ولا يلي إلا اختيارا ً أبدا

كالياء والكاف من ابني أكرمك … والياء والها من سلييه ما ملك
অনির্দিষ্ট (نكرة) এবং নির্দিষ্ট (معرفة) বিশেষ্য:

অনির্দিষ্ট (نكرة) হলো এমন শব্দ যা ‘আল’ (ال) গ্রহণ করার যোগ্যতা রাখে এবং এর মাধ্যমে নির্দিষ্টতা লাভ করে … অথবা এমন শব্দের স্থলাভিষিক্ত হয় যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদ্ব্যতীত অন্য সব হলো নির্দিষ্ট (معرفة); যেমন: ‘হুম’ (তারা), ‘যি’ (এটি) … ‘হিন্দ’ (একটি নাম), ‘ইবনি’ (আমার পুত্র), ‘আল-গুলাম’ (বালকটি) এবং ‘আল্লাযি’ (যিনি)।

অনুপস্থিত (গয়িব) কিংবা উপস্থিত (হাযির) সত্তার জন্য যা ব্যবহৃত হয় … যেমন: ‘আনতা’ (তুমি) এবং ‘হুওয়া’ (সে), তাকে সর্বনাম (ضمير) হিসেবে নামকরণ করো।

সর্বনামের মধ্যে সংযুক্ত (متصل) রূপটি এমন যা দ্বারা বাক্য শুরু করা যায় না … এবং স্বাভাবিক অবস্থায় (ইখতিয়ারি অবস্থায়) যা কখনও ‘ইল্লা’ (إلا) এর পরে আসে না।

যেমন: ‘ইবনি’ এবং ‘আকরা মাকা’ শব্দের ‘ইয়া’ ও ‘কাফ’ … এবং ‘সালিহি’ ও ‘মা মালাকা’ এর ‘ইয়া’ ও ‘হা’।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ১৩)
وكلّ مضمر له البنا يجب … ولفظ ما جرّ كلفظ ما نصب

للرّفع والنّصب وجرّنا صلح … كاعرف بنا فإننا نلنا المنح

وألف ّ والواو والنون لما … غاب وغيره كقاما واعلما

ومن ضمير الرّفع ما يستتر … كافعل أوافق نغتبط إذ تشكر

وذو إرتفاع ٍ وانفصال ٍ أنا هو … وأنت الفروع لا تشتبه

وذو انتصاب ٍ في انفصال ٍ جعلا … إيّاي والتفريع ليس مشكلا

وفي اختيار ٍ لا يجيء المنفصل … إذ تأتّى أن يجئ المتصل

وصل أو افصل هاء سلنيه وما … أشبهه في كنته الخلف أنتمي

كذاك خلتنيه واتصالا … أختار غيري اختار الانفصالا

وقدّم الأخصّ في اتصال … وقدّمن ما شئت في اتفصال

وفي اتحاد الرتبة الزم فصلا … وقد يبيح الغيب فيه وصلا

وقبل يا النّفس مع الفعل التزم … نون وقاية ٍ وليسي قد نظم

وليتني فشا وليتي ندرا … ومع لعلّ اعكس وكن مخيّرا

في الباقيات واضطرارا ً خفّفا … منّي وعنّي بعض من قد سلفا

وفي لدنّي لدني قلّ وفي … قدني وقطني الحذف أيضا قد يفي
এবং প্রতিটি সর্বনামের (ضمير) জন্য অপরিবর্তনীয় (بناء) হওয়া আবশ্যক … আর যার জর (جر) হয় তার রূপ নসব (نصب) হওয়ার রূপের মতোই।

রফ' (رفع), নসব (نصب) ও জর (جر) হওয়ার জন্য আমাদের ‘না’ (نا) সর্বনামটি উপযুক্ত … যেমন: ‘আমাদের মাধ্যমে জানুন’ (اعرف بنا), কেননা আমরাই ‘অনুগ্রহ লাভ করেছি’ (نلنا المنح)।

এবং আলিফ (ألف), ওয়াও (واو) ও নূন (نون) অনুপস্থিত (غائب) এবং অন্যান্যদের (উপস্থিত) জন্য ব্যবহৃত হয় … যেমন: ‘তারা দুজন দাঁড়িয়েছে’ (قاما) এবং ‘তোমরা দুজন জানো’ (اعلما)।

আর রফ' (رفع) এর সর্বনামসমূহের (ضمير) মধ্যে কোনোটি উহ্য (مستتر) থাকে … যেমন: ‘তুমি করো’ (افعل), ‘আমি একমত হই’ (أوافق), ‘আমরা আনন্দিত হই’ (نغتبط) যখন ‘তুমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো’ (تشكر)।

আর রফ' (رفع) বিশিষ্ট এবং বিচ্ছিন্ন (منفصل) সর্বনামগুলো হলো— আমি (أنا), সে (هو) … এবং তুমি (أنت) ও এগুলোর শাখাগুলো, যা অস্পষ্ট নয়।

আর বিচ্ছিন্ন (منفصل) অবস্থায় নসব (نصب) হওয়ার যোগ্য সর্বনাম হিসেবে … ‘কেবল আমাকে’ (إيّاي) কে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এর শাখাগুলোর রূপান্তর জটিল নয়।

এবং ইচ্ছাধীন অবস্থায় বিচ্ছিন্ন (منفصل) সর্বনাম আসে না … যখন যুক্ত (متصل) সর্বনাম ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

‘আমাকে এটি দাও’ (سلنيه) শব্দের ‘হা’ (هاء) সর্বনামটি যুক্ত (وصل) করো অথবা বিচ্ছিন্ন (فصل) করো এবং এর … সদৃশ শব্দাবলিতে; তবে ‘আমি তা ছিলাম’ (كنته) এর ক্ষেত্রে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়।

অনুরূপভাবে ‘তুমি আমাকে সেটি মনে করেছিলে’ (خلتنيه) এর ক্ষেত্রেও; তবে আমি যুক্ত (اتصال) রাখাকেই … পছন্দ করি, কিন্তু অন্যজন বিচ্ছিন্ন (انفصال) রাখাকে পছন্দ করেছেন।

যুক্ত (اتصال) করার ক্ষেত্রে অধিকতর নির্দিষ্ট (أخص) সর্বনামকে অগ্রগণ্য করো … আর বিচ্ছিন্ন (انفصال) করার ক্ষেত্রে তুমি যা চাও তাকেই আগে আনতে পারো।

আর মর্যাদাক্রম অভিন্ন হলে বিচ্ছিন্ন (فصل) করাকে আবশ্যক করো … তবে অনুপস্থিতির (غيبة) ক্ষেত্রে কখনও তা যুক্ত (وصل) করার অনুমতি দেয়।

এবং ক্রিয়ার সাথে মুতাকাল্লিমের ‘ইয়া’ (ياء النفس) যুক্ত হওয়ার আগে সুরক্ষা প্রদানকারী নূন (نون الوقاية) … ব্যবহার করা আবশ্যক; যদিও ‘লাইসি’ (ليسي) শব্দটি কাব্যিক ছন্দে বর্ণিত হয়েছে।

এবং ‘লাইতানি’ (ليتني) এর ব্যবহার বহুল ও ‘লাইতি’ (ليتي) বিরল … আর ‘লা‘আল্লাহ’ (لعلّ) এর সাথে এর বিপরীতটি করো এবং অবশিষ্টাংশের ক্ষেত্রে তুমি ইচ্ছাধীন।

অবশিষ্টাংশের ক্ষেত্রে এবং কাব্যিক প্রয়োজনে কোনো কোনো পূর্বসূরি … ‘মিন্নি’ (منّي) ও ‘আন্নি’ (عنّي) শব্দদ্বয়কে হালকা (تخفيف) করে পড়েছেন।

এবং ‘লাদুন্নি’ (لدنّي) এর স্থলে ‘লাদুনি’ (لدني) বলা কম প্রচলিত; তবে … ‘কাদনি’ (قدني) ও ‘ক্বাত্বনি’ (قطني) এর ক্ষেত্রে নূন বিলোপ (حذف) করাও যথেষ্ট হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌العلم:

اسمّ يعيّن المسمّى مطلقا … علمه كجعفر ٍ وخرنقا

وقرن ٍ وعدن ٍ ولاحق … وشدقم ٍ وهيلة ٍ وواشق

واسما ً أتى وكنية ً ولقبا … وأخّرن ذا إن سواه صحبا

وإن يكونا مفردين فأضف … حتما ً وإلا أتبع ايّ ردف

ومنه منقول ّ كفضل ٍ وأسد … وذو ارتجال كسعاد وأدد

وجملة ّ وما بمزج ركّبا ً … ذا إن بغير ويه تمّ أعربا

وشاع في الأعلام ذو الإضافه … كعبد شمس ٍ وأبي قحافة

ووضعوا لبعض الأجناس علم … كعلم الأشخاص لفظا ً وهو عم

من ذاك أمّ عريط ٍ للعقرب … وهكذا ثعالة ّ للثعلب

ومثله برّة للمبرّة … كذا فجار علمّ للفجرة
‌‌বিশেষ্য (العلم):

এটি এমন একটি নাম (اسم) যা নিঃশর্তভাবে তার নামধারী সত্তাকে নির্দিষ্ট করে … এর উদাহরণ জাফর (جعفر) এবং খারনাক (خرنق) এর মতো।

এবং কারান (قرن), আদান (عدن) এবং লাহিক (لاحق) … এবং শাদাকাম (شدقم), হাইলাহ (هيلة) ও ওয়াশিক (واشق)।

এটি নাম (اسم), উপনাম (كنية) এবং উপাধি (لقব) হিসেবে আসে … আর উপাধিটিকে (لقব) শেষে আনুন যদি তা অন্যটির সাথে আসে।

যদি উভয়ই একক (مفرد) শব্দ হয়, তবে আবশ্যিকভাবে সম্বন্ধ (إضافة) করুন … অন্যথায় পরবর্তী শব্দটিকে অনুগামী (إتباع) করুন।

তার মধ্যে কিছু হলো স্থানান্তরিত (منقول) যেমন ফাদল (فضل) ও আসাদ (أسد) … এবং কিছু মৌলিক (مرتجل) যেমন সুয়াদ (سعاد) ও আদাদ (أدد)।

এবং বাক্য (جملة) এবং যা মিশ্রিত যৌগিক (مركب مزجي) হিসেবে গঠিত … এটি যদি 'ওয়াইহি' (ويه) ব্যতীত অন্য কিছুতে শেষ হয় তবে তা রূপান্তরযোগ্য (إعراب) হবে।

বিশেষ্যর (العلم) ক্ষেত্রে সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) রূপটি বহুল প্রচলিত … যেমন আবদু শামস (عبد شمس) এবং আবু কুহাফাহ (أبي قحافة)।

তারা কিছু প্রকার বা জাতির জন্য জাতিবাচক বিশেষ্য (علم الجنس) নির্ধারণ করেছেন … যা শব্দগত বিচারে ব্যক্তিবাচক বিশেষ্যের (علم الشخص) মতো হলেও অর্থে সাধারণ।

তার একটি উদাহরণ বিচ্ছুর জন্য উম্মু আরিত (أم عريط) … এবং একইভাবে শেয়ালের জন্য সা’লাহ (ثعالة)।

এরকমই পুণ্যের জন্য বাররাহ (برّة) … এবং পাপাচারের জন্য ফাজার (فجار) একটি বিশেষ্য (علم)।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌اسم الإشاره:

بذا لمفرد ٍ مذكّر أشر … بذي وذه تي تا على الأنثى اقتصر

وذان تان للمثنّى المرتفع … وفي سواه ذين تين اذكر تطع

وبأولى أشر لجمع ٍ مطلقا ً … والمدّ أولى ولدى البعد انطقا
‌নির্দেশক বিশেষ্য (ইসমে ইশারা):

একবচন পুংলিঙ্গের ক্ষেত্রে 'যা' দ্বারা ইশারা করুন … আর স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে 'যি', 'যিহি', 'তি' ও 'তা'-এর ব্যবহারে সীমাবদ্ধ থাকুন।

রাফা (উন্নত) অবস্থায় দ্বিবচনের জন্য 'যানি' ও 'তানি' ব্যবহার করুন … আর অন্যান্য অবস্থায় 'যাইনি' ও 'তাইনি' উল্লেখ করুন, তবেই আপনি ব্যাকরণের সঠিক নিয়ম অনুসরণ করবেন।

সাধারণভাবে সকল প্রকার বহুবচনের জন্য 'উলা' দ্বারা ইশারা করুন … এক্ষেত্রে মদ্ বা দীর্ঘস্বরই (তথা উলাই) অধিকতর উত্তম এবং দূরবর্তী ইশারার ক্ষেত্রে [কাফ বা লাম যোগে] উচ্চারণ করুন।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ১৫)
بالكاف حرفا ً دون لام ٍ أو معه … واللام إن قدّمت هاممتنعة

وبهنا أو ههنا أشر إلى … داني المكان وبه الكاف صلا

في البعد أو بثمّ فه أو هنّا … أو بهنالك انطقن أو هنّا
'কাফ' (كاف) বর্ণটি 'লাম' (لام) ব্যতিত কিংবা তার সাথে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয় … আর যদি শুরুতে 'হা' (ها) বর্ণটি আসে তবে 'লাম' (لام) এর ব্যবহার নিষিদ্ধ (ممتنعة)।

'হুনা' (هنا) অথবা 'হাহুনা' (ههনা) দ্বারা নিকটবর্তী (داني) স্থানের দিকে ইশারা করুন … এবং দূরবর্তী স্থানের জন্য এর সাথে 'কাফ' (كاف) বর্ণটি যুক্ত করুন।

দূরবর্তী (البعد) স্থানের ক্ষেত্রে 'সুম্মা' (ثمّ), 'ফাহ' (فه) অথবা 'হুন্না' (هنّا) শব্দ প্রয়োগ করুন … অথবা 'হুনালিকা' (هنالك) কিংবা 'হিন্না' (هنّا) উচ্চারণ করুন।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الموصول:

موصول الأسماء الذي الأنثى التي … واليا إذا ما ثنّيا لا تثبت

بل ما تليه أوله العلامه … والنّون إن تشدد فلا ملامه

والنّون من ذين وتين شدّدا … أيضا ً وتعويض ّ بذاك قصدا

جمع الذى الألى الذين مطلقا … وبعضهم بالواو رفعا ً نطقا

باللات واللاء التي قد جمعا … واللاء كالذين نزرا ً وقعا

ومن وما وأل تساوي ما ذكره … وهكذا ذو عند طيّئ شهر

وكالتي أيضاً لديهم ذات … وموضع اللاتي أتى ذوات

ومثل ماذا بعدما استفهام … أومن إذا لم تلغ في الكلام

وكلها يلزم بعده صله … على ضمير ٍ لائق ٍ مشتمله

وجملة ّ أو شبهها الذي وصل … به كمن عندي الذي ابنه كفل

وصفة ّ صريحة ّ صلة أل … وكونها بمعرب الأفعال قلّ
আল-মাউসুল (الموصول) (সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য):

বিশেষ্য পদের মাউসুল (موصول الأسماء) হলো ‘আল্লাজি’ (الذي) এবং স্ত্রীলিঙ্গের জন্য ‘আল্লাতি’ (التي) … যখন এদের দ্বিবচন করা হয়, তখন (শেষে বিদ্যমান) ‘ইয়া’ বর্ণটি বহাল থাকে না।

বরং ‘ইয়া’-এর অব্যবহিত পূর্বের বর্ণে দ্বিবচনের চিহ্ন যুক্ত করা হয় … আর যদি ‘নুন’ বর্ণে তাশদীদ (تشديد) প্রদান করা হয়, তবে তাতে কোনো দোষ নেই।

‘যাইনি’ (ذين) এবং ‘তাইনি’ (تين) এর ‘নুন’ বর্ণকেও তাশদীদযুক্ত করা হয় … আর এর মাধ্যমে (বিলুপ্ত বর্ণের) ক্ষতিপূরণ বা বিনিময় প্রদান করা উদ্দেশ্য।

‘আল্লাজি’ (الذي) এর বহুবচন হলো ‘আল-উলা’ (الألى) এবং সাধারণভাবে ‘আল্লাজিনা’ (الذين) … আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ রাফা (رفع) বা কর্তৃকারক অবস্থায় একে ‘ওয়াও’ সহকারে (الذون) উচ্চারণ করেন।

‘আল্লাতি’ (التي) শব্দটিকে ‘আল-লাতি’ (اللات) এবং ‘আল-লাই’ (اللاء) যোগে বহুবচন করা হয় … আর ‘আল-লাই’ (اللاء) শব্দটি ‘আল্লাজিনা’ (الذين) এর ন্যায় কদাচিৎ ব্যবহৃত হয়।

‘মান’ (من), ‘মা’ (ما) এবং ‘আল’ (أل) ইতিপূর্বে বর্ণিত শব্দগুলোর ন্যায় অর্থ প্রদান করে … অনুরূপভাবে ‘জু’ (ذو) শব্দটি তায়্যি (طيّئ) গোত্রের নিকট (মাউসুল হিসেবে) প্রসিদ্ধ।

তাদের নিকট ‘জাতু’ (ذات) শব্দটিও ‘আল্লাতি’ (التي) এর ন্যায় ব্যবহৃত হয় … এবং ‘আল-লাতি’ (اللاتي) এর স্থলে ‘জাওয়াতু’ (ذوات) এর প্রয়োগ ঘটে।

প্রশ্নবোধক ‘মা’ (ما) অথবা ‘মান’ (من)-এর পরে ‘জা’ (ذا) শব্দটিও ‘মা’ (ما)-এর ন্যায় ব্যবহৃত হয় … যদি বাক্যে একে অর্থহীন বা অকার্যকর মনে করা না হয়।

এই সকল মাউসুলের পরেই একটি সিলাহ (صله) থাকা আবশ্যক … যা একটি উপযুক্ত সর্বনামকে (ضمير) অন্তর্ভুক্ত করবে।

বাক্য (جملة) বা বাক্যের সদৃশ (شبه جملة) অংশ সিলাহ (صله) হিসেবে যুক্ত হয় … যেমন: ‘মান ইন্দি আল্লাজিবনুহু কাফাল’ (আমার নিকট সেই ব্যক্তি আছে যার পুত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেছে)।

‘আল’ (أل) এর সিলাহ (صله) হয় সুস্পষ্ট গুণবাচক বিশেষ্য (صفة صريحة) … তবে মুরাব (معرب) তথা রূপান্তরযোগ্য ক্রিয়ার সাথে এর ব্যবহার অত্যন্ত বিরল।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ১৬)
أيّ كما وأعربت ما لم تضف … وصدر وصلها ضمير ّ انحذف

وبعضهم أعرب مطلقا وفي … ذا الحذف أيّا ً غير أي ٍ يقتفي

إن يستطل وصل ّ وإن لم يستطل … فالحذف نزر ّ وأبوا أن يختزل

إن صلح الباقي لوصل ٍ مكمل … والحذف عندهم كثير ّ منجلي

في عائد ٍ متصل ٍ إن انتصب … بفعل ٍ أو وصف كمن نرجو يهب

كذاك حذف ما بوصف ٍ خفضا … كأنت قاض ٍ بعد أمر ٍ من قضى

كذا الذي جرّبما الموصول جرّ … كمرّ بالذي مررت فهو برّ
'আই' (أي) শব্দটিও 'মা' (ما)-এর মতো সম্বন্ধসূচক অব্যয় এবং এটি পরিবর্তনশীল (معرب) হয় যতক্ষণ না এটি ইদাফাত হিসেবে ব্যবহৃত হয় … এবং এর সংযোগকারী বাক্যের শুরুর সর্বনামটি বিলুপ্ত (محذوف) হয়।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে সর্বাবস্থায় পরিবর্তনশীল (معرب) বলেছেন; আর এই … বিলুপ্তির ক্ষেত্রে 'আই' (أي) ব্যতীত অন্যান্য সম্বন্ধসূচক শব্দগুলোও 'আই' (أي)-এর অনুকরণ করে।

যদি সংযোগকারী বাক্যটি দীর্ঘ হয়, আর যদি দীর্ঘ না হয় … তবে বিলুপ্তি অত্যন্ত নগণ্য এবং তারা (ব্যাকরণবিদগণ) একে সংক্ষিপ্ত করাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

যদি অবশিষ্ট অংশটি একটি পূর্ণাঙ্গ সংযোগকারী বাক্য হওয়ার যোগ্য হয় … তবে তাদের নিকট এই বিলুপ্তি অনেক বেশি এবং সুস্পষ্ট।

এমন সংযুক্ত প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনামের (عائد متصل) ক্ষেত্রে যা নসব (منصوب) হয়েছে … কোনো ক্রিয়া বা গুণবাচক শব্দের মাধ্যমে; যেমন- "যাকে আমরা আশা করি তিনি দান করবেন"।

তদ্রূপ সেই সর্বনামের বিলুপ্তি যা গুণবাচক শব্দের মাধ্যমে জর (مجرور) হয়েছে … যেমন- "আপনি যা ফয়সালা করার তা করুন" (ক্বাদা ক্রিয়ার আদেশের পর)।

অনুরূপভাবে যা সেই অব্যয় দ্বারা জর (مجرور) হয়েছে যার মাধ্যমে মউসুল (موصول) শব্দটি জর হয়েছে … যেমন- "তুমি তার পাশ দিয়ে যাও যার পাশ দিয়ে আমি গিয়েছি, তবে সে পুণ্যবান"।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المعرف بأداة التعريف:

أل حرف تعريف أو اللام فقط … فنمط ّ عرّفت قل فيه النمط

وقد تزاد لازما ً كاللات … والآن والذين ثمّ اللات

ولاضطرارٍ كبنات الأوبر … كذا وطبت النفس يا قيس السّرى

وبعض الأعلام عليه دخلا … للمح ما قد كان عنه نقلا

كالفضل والحارث والنّعمان … فذكر ذا وحذفه سيّان

وقد يصير علما ً بالغلبه … مضاف أو مصحوب أل كالعقبة

وحذف أل ذي إن تناد أو تضف … أوجب وفي غيرهما قد تحذف
নির্দিষ্টকারী অব্যয় দ্বারা সংজ্ঞায়িত (المعرف بأداة التعريف):

'আল' (أل) হলো নির্দিষ্টকারী অব্যয় (حرف تعريف) অথবা কেবল 'লাম' (اللام) … সুতরাং 'নামাত' (نمط) শব্দটিকে যখন নির্দিষ্ট (عرّفت) করবেন, তখন তাকে 'আল-নামাত' (النمط) বলুন।

এটি কখনো কখনো অপরিহার্যভাবে (لازما) অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়, যেমন 'আল-লাত' (اللات) … এবং 'আল-আন' (الآن), 'আল্লাযিনা' (الذين) ও 'আল-লাতি' (اللات)।

আবার কাব্যিক প্রয়োজনের (لاضطرار) তাগিদেও যুক্ত হয়, যেমন 'বানাতুল আওবার' (بنات الأوبر) … তদ্রূপ ‘তুবতান নাফসা’ (طبت النفس) হে কায়সে সুরা।

কিছু নামবাচক বিশেষ্যের (الأعلام) ওপর এটি যুক্ত হয় … শব্দটি যা থেকে উৎসারিত বা স্থানান্তরিত (نقلا) হয়েছে তার মূল অর্থের প্রতি ইঙ্গিত (للمح) করার জন্য।

যেমন ‘আল-ফজল’ (الفضل), ‘আল-হারিস’ (الحارث) ও ‘আন-নুমান’ (النّعمان) … এক্ষেত্রে এটি উল্লেখ করা বা বর্জন করা উভয়ই সমান (سيّان)।

কখনো কখনো ব্যবহারের প্রাবল্যের কারণে (بالغلبه) এটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞাবাচক নাম (علما) হয়ে যায় … চাই তা সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) শব্দ হোক অথবা 'আল' যুক্ত শব্দ, যেমন ‘আল-আকাবা’ (العقبة)।

আর এই 'আল' (أل) বিলোপ করা আবশ্যক (أوجب) যদি আপনি সম্বোধন (تناد) করেন অথবা সম্বন্ধ (تضف) করেন … তবে এই দুটি ক্ষেত্র ছাড়াও কখনো কখনো এটি বিলুপ্ত হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الابتداء:

مبتدأ زيد ّ وعاذر ّ خبر … إن قلت زيد ّ عاذر ّ من اعتذر

وأوّل ّ مبتدأ والثاني … فاعل ّ اغنى في أسار ٍ ذان

وقس كاستفهام النفي وقد … يجوز نحو فائز ّ أولو الرّشد

والثاني مبتدا وذا الوصف خبر … إن في سوى الإفراد طبقا ً استقر

ورفعوا مبتدأ بالابتدا … كذاك رفع خبر ٍ بالمبتدا

والخبر الجزء المتمّ الفائدة … كالله برّ والأيادي شاهده

ومفردا ً يأتي ويأتي جمله … حاوية ً معنى الذي سيقت له

وإن تكن إيّاه معنى اكتفى … بها كنطقي الله حسبي وكفى

والمفرد الجامد فارغ ّ وإن … يشتقّ فهو ذو ضمير ٍ مستكن

وأبرزنه مطلقا ً حيث تلا … ما ليس معناه له محصّلا

وأخبروا بظرف ٍ أو بحرف جرّ … ناوين معنى كائن ٍ أو استقر

ولا يكون اسم زمان ٍ خبرا … عن جثة ٍ وإن يفد فأخبرا

ولا يجوز الابتدا بالنّكرة … ما لم تفد كعند زيد ٍ نمرة

وهل فتى ً فيكم فما حلّ لنا … ورجل من الكرام عندنا
ইবতিদা (الابتداء):

জায়েদ হলো মুবতাদা (مبتدأ) এবং ‘আযির’ হলো খবর (خبر) … যদি তুমি বলো ‘জায়েদ ক্ষমাশীল (আযির) সেই ব্যক্তির প্রতি যে ওজর পেশ করে’

আর প্রথমটি মুবতাদা (مبتدأ) এবং দ্বিতীয়টি … এমন ফায়িল (فاعل) যা খবরের অভাব পূরণ করে; যেমন ‘আসারি যান’ (এই দুইজন কি রাতে ভ্রমণকারী?) বাক্যে

নেতিবাচকতার (النفي) ক্ষেত্রেও প্রশ্নবোধকের (الاستفهام) ন্যায় কিয়াস করো; আর কখনো কখনো … (অব্যয় ছাড়াও) তা বৈধ হয়, যেমন: ‘সঠিক পথপ্রাপ্তরাই সফল (ফায়িযুন)’

আর দ্বিতীয়টি মুবতাদা (مبتدأ) এবং এই গুণবাচক শব্দটি (وصف) খবর (خبر) হবে … যদি একবচন ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে (দ্বিবচন বা বহুবচন) উভয়ের মাঝে সামঞ্জস্য থাকে

নাহুবিদগণ মুবতাদা (مبتدأ)-কে রাফা (الرفع) প্রদান করেন ইবতিদা (الابتداء)-র কারণে … তদ্রূপ খবর (خبر)-কেও রাফা প্রদান করেন মুবতাদার কারণে

আর খবর (خبر) হলো সেই অংশ যা পূর্ণাঙ্গ ফায়দা বা অর্থ প্রদান করে … যেমন: ‘আল্লাহ দয়াবান’ এবং ‘নেয়ামতসমূহ এর সাক্ষী’

তা (খবর) কখনো মুফরাদ (مفرد) বা একবচন হিসেবে আসে, আবার কখনো জুমলা (جملة) বা বাক্য হিসেবে আসে … যা সেই অর্থের ধারক হয় যার উদ্দেশ্যে তা আনা হয়েছে

আর জুমলাটি যদি অর্থগতভাবে মুবতাদার অনুরূপ হয়, তবে তা-ই যথেষ্ট … যেমন: ‘আমার কথা হলো—আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি যথেষ্ট’

মুফরাদ (مفرد) খবরটি যদি জামিড (جامد) বা স্থির হয় তবে তা সর্বনামমুক্ত থাকে; কিন্তু যদি … তা মুশতাক (مشتق) বা উদ্ভূত হয়, তবে তাতে একটি সুপ্ত জমির (ضمير مستكن) বা সর্বনাম থাকে

আর সেই সর্বনামকে সর্বাবস্থায় প্রকাশ করো যখন খবরটি এমন কিছুর অনুগামী হয় … যার অর্থ তার (খবরের) জন্য অর্জিত নয়

নাহুবিদগণ যরফ (ظرف) অথবা হরফে জার (حرف جر) দ্বারাও খবর প্রদান করেন … সেক্ষেত্রে তারা ‘কায়িন’ (كائن) অথবা ‘ইসতাকাররা’ (استقر) এর অর্থ মনে মনে পোষণ করেন

ইসমু যামান (اسم زمان) বা সময়ের নাম কোনো সত্তার (جثة) খবর হতে পারে না … তবে যদি তা বিশেষ কোনো ফায়দা প্রদান করে, তবে খবর দেওয়া যাবে

নাকিরাহ (نكرة) বা অনির্দিষ্ট শব্দ দ্বারা মুবতাদা হওয়া জায়েজ নয় … যতক্ষণ না তা কোনো বিশেষ অর্থ প্রদান করে, যেমন: ‘জায়েদের নিকট একটি পশমী চাদর আছে’

এবং (উদাহরণস্বরূপ): ‘তোমাদের মাঝে কি কোনো যুবক আছে?’, ‘আমাদের জন্য কোনো কিছু বৈধ নেই’ … এবং ‘একজন সম্মানিত ব্যক্তি আমাদের নিকট আছেন’
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ১৮)
ورغبة ّ في الخير خير ّ وعمل … برّ ٍ يزين وليقس ما لم يقل

والأصل في الأخبار أن تؤخرا … وجوّزوا التقديم إذ لا ضررا

فامنعه حين يستوي الجزءان … عرفا ونكرا عادمي بيان

كذا إذا ما الفعل كان الخبرا … أو قصد استعماله منحصرا

أو كان مسندا لذي لام ابتدا … أو لازم الصّدر كمن لي منجدا

ونحو عندي درهم ّ ولي وطر … ملتزم ّ فيه تقدّم الخبر

كذا إذا عاد عليه مضمر … مما به عنه مبينا يخبر

كذا إذا يستوجب التصديرا … كأين من علمته نصيرا

وخبر المحصور قدّم أبدا … كما لنا إلا اتباع أحمدا

وحذف ما يعلم جائزّ كما … تقول زيد ّ بعد من عندكما

وفي جواب كيف زيد ّ قل دنف … فزيد ّ استغني عنه إذ عرف

وبعد لولا غالبا حذف الخبر … حتم ّ وفي نصّ يمين ٍ ذا استقر

وبعد واو عيّنت مفهوم مع … كمثل كلّ صانع ٍ وما صنع

وقبل حال ٍ لا يكون خبرا … عن الذي خبره قد أضمرا

كضربي العبد مسيئا ً وأتم … تبييني الحقّ منوطا ً بالحكم

وأخبروا باثنين أو بأكثرا … عن واحد ٍ كهم سراة ّ شعرا
কল্যাণের প্রতি আকাঙ্ক্ষা নিজেই একটি কল্যাণ এবং সৎকর্ম সৌন্দর্যমণ্ডিত করে … আর যা বর্ণনা করা হয়নি তাকে উক্ত বিষয়ের ওপর অনুমান (قياس) করা উচিত।

সংবাদ বা বর্ণনার (أخبار) ক্ষেত্রে মূল নিয়ম হলো তা বিলম্বে আসা … তবে কোনো বিভ্রান্তির আশঙ্কা না থাকলে তা আগে আনাকেও ব্যাকরণবিদগণ বৈধ (جائز) বলেছেন।

সুতরাং সংবাদকে অগ্রে আনা হতে বিরত থাকো যখন বাক্যের উভয় অংশই … নির্দিষ্টতা বা অনির্দিষ্টতার ক্ষেত্রে সমান হয় এবং কোনো স্পষ্টকারী না থাকে।

অনুরূপভাবে যখন ক্রিয়াটি নিজেই সংবাদ (خبر) হিসেবে গণ্য হয় … অথবা যখন সংবাদের ব্যবহারটি সীমাবদ্ধ রাখার উদ্দেশ্য থাকে।

অথবা যখন সংবাদটি প্রারম্ভিক 'লাম' যুক্ত শব্দের জন্য মুসনাদ (مسند) হয় … অথবা এমন পদের ক্ষেত্রে যা বাক্যের শুরুতে আসা আবশ্যক, যেমন: 'কে আমাকে সাহায্যকারী হিসেবে আছে?'

'আমার নিকট দিরহাম আছে' এবং 'আমার একটি লক্ষ্য আছে'—এই জাতীয় উদাহরণে … সংবাদকে (خبر) অগ্রে আনা আবশ্যক।

অনুরূপভাবে যখন সংবাদের দিকে এমন কোনো সর্বনাম ফিরে আসে … যা সংবাদটি সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বর্ণনা প্রদান করে।

অনুরূপভাবে যখন সংবাদটি বাক্যের শুরুতে আসা আবশ্যক হয় … যেমন: 'যাকে তুমি সাহায্যকারী হিসেবে জেনেছ সে কোথায়?'

সীমাবদ্ধ সংবাদের (خبر) ক্ষেত্রে তা সর্বদা আগে আনতে হবে … যেমন: 'আহমদ (সা.)-এর অনুসরণ ব্যতীত আমাদের আর কোনো পথ নেই।'

পরিজ্ঞাত কোনো বিষয়কে বিলুপ্ত করা বৈধ (جائز), যেমনটি … তুমি বললে: 'যায়েদ', যখন জিজ্ঞাসা করা হলো: 'তোমাদের নিকট কে আছে?'

'যায়েদ কেমন আছে?'—এর উত্তরে বলো: 'অসুস্থ' … এখানে 'যায়েদ' শব্দটিকে উহ্য রাখা হয়েছে কারণ তা ইতিপূর্বেই পরিচিত।

'লাওলা' (لولا)-এর পরে সাধারণত সংবাদের (خبر) বিলুপ্তি … আবশ্যক হয় এবং শপথের সুনির্দিষ্ট বাচনিক প্রয়োগেও এটি স্থিরকৃত।

এবং এমন 'ওয়াও' (و)-এর পরে যা 'সাথে' (مع) অর্থ প্রদানকে সুনির্দিষ্ট করে … যেমন: 'প্রত্যেক কারিগর ও তার শিল্পকর্ম'।

আর এমন অবস্থা বা হাল (حال)-এর পূর্বে যা সংবাদ (خبر) হতে পারে না … ওই মুবতাদা থেকে যার সংবাদ ইতিপূর্বেই উহ্য রাখা হয়েছে।

যেমন: 'আমার গোলামকে অপরাধী অবস্থায় প্রহার করা' এবং 'আমার সত্য বর্ণনা … হিকমতের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া'।

ব্যাকরণবিদগণ একক ব্যক্তি সম্পর্কে দুই বা ততোধিক সংবাদ (خبر) প্রদান করেছেন … যেমন: 'তারা উচ্চমর্যাদাশীল কবি'।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌كان وأخواتها:

ترفع كان المبتدا اسما ً والخبر … تنصبه ككان سيدا ً عمر

ككان ظلّ بات أضحى أصبحا … ًأمسى وصار ليس زال برحا

فتئ وانفكّ وهذي الأربعة … لشبه نفى أو لنفي متبعه

ومثل كان دام مسبوقا ً بما … كأعط ما دمت مصيبا ً درهما ً

وغير ماض ٍ مثله قد عملا … إن كان غير الماض منه استعملا

وفي جميعها توسّط الخبر … أجز وكلّ ّ سبقه دام حظر

كذاك سبق خبر ٍ ما النافية … فجيء بها متلوّة ً لا تالية

ومنع سبق خبر ٍ ليس اصطفي … وذو تمام ما برفع ٍ يكتفي

وما سواه ناقص ّ والنقص في … فتىء ليس زال دائما ً قفي

ولا يلي العامل معمول الخبر … إلا إذا ظرفا ً أتى أو حرف جرّ

ومضمر الشان اسما ً انو ان وقع … موهم ما استبان أنّه امتنع

وقد تزاد كان في حشو كما … كان أصحّ علم من تقدّما

ويحذفونها ويبقون الخبر … وبعد إن ولو كثيرا ً ذا اشتهر

وبعد أن تعويض ما عنها ارتكب … كمثل أمّا أنت برّا فاقترب

ومن مضارع ٍ لكان منجزم … تحذف نون ّ وهو حذف ّ ما التزم
কান এবং এর সমগোত্রীয় ক্রিয়াসমূহ:

কান মুবতাদাকে বিশেষ্য হিসেবে রাফা প্রদান করে এবং খবরকে … নাসব প্রদান করে; যেমন— 'কান সাইয়িদান উমর' (উমর নেতা ছিলেন)।

কানের ন্যায় আরও রয়েছে— যাল্লা, বাতা, আদহা, আসবাহা … আমসা, সরা, লাইসা, যালা এবং বারিহা।

ফাতিয়া এবং ইনফাক্কা; এই চারটি অব্যয় অবশ্যই … নফি অথবা নফি-সদৃশ পদের অনুসারী হতে হয়।

এবং কানের ন্যায় আমল করে 'দামা' যদি তার পূর্বে 'মা' থাকে … যেমন— 'দান করো যতক্ষণ তুমি সঠিক থাকো এক দিরহাম'।

অতীতকাল ব্যতীত অন্য রূপান্তরগুলোও অনুরূপ আমল করে … যদি তার সেই রূপান্তরসমূহ ব্যবহৃত হয়।

এই সবগুলোর ক্ষেত্রেই খবরের মধ্যবর্তী অবস্থানকে বৈধ করো … তবে 'দামা'-র পূর্বে খবরের আগমন সকলের মতে নিষিদ্ধ।

তেমনিভাবে 'মা'-নাফিয়ার পূর্বেও খবর আসতে পারে না … সুতরাং খবরকে 'মা'-এর পরেই নিয়ে আসো, আগে নয়।

লাইসা-র পূর্বে খবর আসাকে নিষিদ্ধ করাই পছন্দনীয় মত … আর 'তাম' হচ্ছে তা যা কেবল রাফার মাধ্যমেই পূর্ণতা লাভ করে।

এটি ব্যতীত অন্যগুলো 'নাকিস'; আর নাকিস হওয়ার বিষয়টি … ফাতিয়া, লাইসা ও যালা-র ক্ষেত্রে সর্বদা অনুসরণ করো।

আমেলের অব্যবহিত পরে খবরের মামুল বসতে পারে না … যদি না তা যরফ বা হরফে জর হয়।

যদি এমন কোনো দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় যা আপাতদৃষ্টিতে নিষিদ্ধ মনে হয় … তবে সেখানে 'জমিরে শান'-কে ইসিম হিসেবে ধরে নাও।

কখনো কখনো 'কান' বাক্যের মাঝে অতিরিক্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয় … যেমন— 'পূর্ববর্তীদের জ্ঞান কতই না বিশুদ্ধ ছিল'।

তারা অনেক সময় 'কান'-কে বিলুপ্ত করে এবং খবরকে অবশিষ্ট রাখে … 'ইন' এবং 'লাও'-এর পরে এটি বহুল প্রচলিত।

এবং 'আন'-এর পরে কানের পরিবর্তে 'মা' নিয়ে আসা হয় … যেমন— 'যেহেতু তুমি পুণ্যবান, সেহেতু নিকটবর্তী হও'।

'কান'-এর মাজযুম মুজারে রূপ থেকে 'নুন' বিলুপ্ত করা হয় … তবে এই বিলোপন বাধ্যতামূলক নয়।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌فصل في ما ولا ولات وإن المشبهات بليس

…

إعمال ليس أعملت ما دون إن … مع بقا النّفي وترتيب زكن

وسبق حرف جرّ ٍ أو ظرف ٍ كما … بي أنت معنيّا ً أجاز العلما

ورفع معطوفٍ بلكن أو ببل … من بعد منصوبٍ بما الزم حيث حل

وبعد ما وليس جرّالبا الخبر … وبعد لا ونفي كان قد يجر

في النّكرات أعملت كليس لا … وقد تلي لات وإن ذا العملا

وما للات في سوى حين ٍ عمل … وحذف ذي الرّفع فشاو العكس قل
'মা' (ما), 'লা' (لا), 'লাতা' (لات) এবং 'ইন' (إن) যা 'লাইসা' (ليس)-এর সাদৃশ্যপূর্ণ (المشبهات) সেই সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

…

'লাইসা' (ليس) এর ন্যায় কার্যকারিতা (إعمال) 'মা' (ما)-কে প্রদান করা হয়েছে যতক্ষণ না তা 'ইন' (إن) এর পরে আসে … নেতিবাচকতা (النفي) বজায় থাকা এবং নির্ধারিত পদবিন্যাস (ترتيب) সংরক্ষিত হওয়ার শর্তে।

অব্যয় (حرف جر) অথবা স্থান-কালবাচক বিশেষ্য (ظرف)-এর অগ্রগমন—যেমন: … "আপনি আমার দ্বারা উদ্দিষ্ট"—উলামাগণ বৈধ (أجاز) ঘোষণা করেছেন।

'লাকিন' (لكن) অথবা 'বাল' (بل) দ্বারা পরবর্তী অনুবর্তী পদের (معطوف) রফআ (رفع) প্রদান করা আবশ্যক … যখন তা 'মা' (ما) এর নসবপ্রাপ্ত (منصوب) পদের পরে আসে।

'মা' (ما) এবং 'লাইসা' (ليس) এর বিধেয় বা খবরের (الخبر) শুরুতে 'বা' (الباء) যোগে জের (جر) প্রদান করা হয় … এবং 'লা' (لا) ও নেতিবাচক 'কানা' (نفي كان)-র খবরের ক্ষেত্রেও মাঝে মাঝে জের প্রদান করা হয়ে থাকে।

অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (النكرات) ক্ষেত্রে 'লা' (لا)-কে 'লাইসা' (ليس)-এর ন্যায় আমল প্রদান করা হয়েছে … এবং কখনো 'লাতা' (لات) ও 'ইন' (إن)-ও এই আমল (العملا) সম্পন্ন করে।

'সময়' (حين) অর্থবোধক শব্দ ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে 'লাতা' (لات)-এর কার্যকারিতা (عمل) নেই … এবং রফআপ্রাপ্ত (الرفع) পদটি বিলুপ্ত (حذف) হওয়া বহুল প্রচলিত, এর বিপরীতটি বিরল।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌أفعال المقاربة:

ككان كاد وعسى لكن ندر … غير مضارع ٍ لهذين خبر

وكونه بدون أن بعد عسى … نزر ّ وكاد الأمر فيه عكسا

وكعسى جرى ولكن جعلا … خبرها حتما بأن متصلا

وألزموا اخلولق أن مثل حرى … وبعد أوشك انتفا أن نزرا

ومثل كاد في الأصحّ كربا … وترك أن مع ذي الشروع وجبا

كأنشأ السائق يحدو وطفق … كذا جعلت وأخذت وعلق

واستعملوا مضارعا ً لأوشكا … وكاد لا غير وزادوا موشكا
‌নৈকট্যবাচক ক্রিয়া:

কানা-এর ন্যায় কাদা এবং আসা (আমল করে), তবে এই দুইটির খবর মুজারি হওয়া ব্যতীত অন্য কিছু হওয়া বিরল … এ দুটির খবর হিসেবে মুজারি ব্যতীত অন্য কিছুর ব্যবহার নগণ্য।

আসা-এর খবরের সাথে ‘আন’ না থাকাটা বিরল … আর কাদা-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি এর বিপরীত।

হাররা-ও আসা-এর মতোই ব্যবহৃত হয়, তবে তারা … এর খবরকে অবশ্যই ‘আন’-এর সাথে সংযুক্ত করেছেন।

ইখলাওলাকা-এর সাথেও তারা হাররা-এর মতো ‘আন’ থাকাকে আবশ্যক করেছেন … আর আওশাকা-এর খবরের সাথে ‘আন’ না থাকাটা বিরল।

বিশুদ্ধতম মতানুসারে কারাবা হলো কাদা-এর মতো … আর প্রারম্ভবাচক ক্রিয়াগুলোর ক্ষেত্রে ‘আন’ বর্জন করা আবশ্যক।

যেমন: সারথি গান গেয়ে উট চালাতে শুরু করল (আনশাআ) এবং তাফিকা … তদ্রূপ জাআলাতু, আখাযতু এবং আলাকা।

তারা আওশাকা এবং কাদা-এর মুজারি (বর্তমান রূপ) ব্যবহার করেছেন … অন্যগুলোর নয়; এছাড়া তারা ‘মুশিক’ রূপটিও ব্যবহার করেছেন।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ২১)
بعد عسى اخلولق أوشك قد يرد … غنى ً بأن يفعل عن ثان ٍ فقد

وجرّدن عسى أو ارفع مضمرا … بها إذا اسمّ قبلها قد ذكرا

والفتح والكسر أجز في السين من … نحو عسيت وانتفا الفتح زكن
'আসা', 'ইখলাওলাকা' এবং 'আওশাকা' ক্রিয়াগুলোর পরে কখনো কখনো এমনটি ঘটে যে … তা ‘আন ইয়াফআলা’ আসার কারণে দ্বিতীয় পদ থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যায়।

'আসা'-কে সর্বনাম মুক্ত রাখুন অথবা এতে উহ্য সর্বনামকে মারফু (مرفوع) হিসেবে গণ্য করুন … যখন এর পূর্বে কোনো বিশেষ্য উল্লিখিত থাকে।

'আসাইতু' জাতীয় শব্দের ‘সিন’ বর্ণে ফাতহাহ ও কাসরাহ উভয়টিরই অনুমতি দিন … আর ফাতহাহ বর্জনের বিষয়টিও সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌إن وأخواتها:

لانّ أنّ ليت لكنّ لعلّ … كأنّ عكسّ ما لكان من عمل

كإنّ زيدا ً عالمّ بأنّي … كفءّ ولكنّ ابنه ذو ضعن

وراع ذا الترتيب إلا في الذي … كليت فيها أو هنا غير البذي

وهمز إنّ افتح لسدّ مصدر … مسدّها وفي سوى ذاك اكسر

فاكسر في الابتدا وفي بدء صله … وحيث إنّ ليمين ٍ مكمله

أو حكيت بالقول أو حلّت محلّ … حال ٍ كزرته وإنّي ذو أمل

وكسروا من بعد فعل ٍ علّقا … باللام كاعلم إنّه لذو تقى

بعد إذا فجاءةٍ أو قسم … لا لام بعده بوجهين نمي

مع تلوفا الجزا وذا يطّرد … في نحو خير القول إنّي أحمد

وبعد ذات الكسر تصحب الخبر … لام ابتداءٍ نحو إنّي لوزر

ولا يلي ذي اللام ما قد نفيا … ولا من الأفعال ما كرضيا
ইন্না (إنّ) এবং তার সমগোত্রীয় শব্দসমূহ:

ইন্না (إنّ), আন্না (أنّ), লাইতা (ليت), লাকিন্না (لكنّ), লাআল্লা (لعلّ) … এবং কাআন্না (كأنّ) এর আমল বা কার্যকারিতা (عمل) হলো ‘কানা’ (كان)-এর বিপরীত।

যেমন: ‘নিশ্চয়ই যাইদ একজন আলিম’, ‘যেহেতু আমি … যোগ্য’; কিন্তু ‘তার পুত্র বিদ্বেষপরায়ণ’।

এই বিন্যাস বা ক্রম রক্ষা করা আবশ্যক, তবে সেই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে … যেখানে খবরটি ‘লাইতা’ (ليت)-এর সাথে যার-মাজরুর বা এখানে উপস্থিত কোনো জরফ হিসেবে আসে এবং তা অশ্লীলতাহীন হয়।

ইন্না-এর হামযাহকে যবর দিয়ে (أنّ) পড়তে হবে যখন তা মাসদার বা ক্রিয়ামূলের (مصدر) … স্থলাভিষিক্ত হয়; আর অন্য সকল ক্ষেত্রে একে যের (إنّ) দিয়ে পড়তে হবে।

সুতরাং বাক্যের শুরুতে (ابتداء), সিলাতুল মাউসুলের (صلة) প্রারম্ভে … এবং যেখানে এটি শপথের (يمين) পরিপূরক হিসেবে আসে, সেখানে হামযাহ-কে যের প্রদান করুন।

অথবা যখন এটি ‘কওল’ বা উক্তির (قول) মাধ্যমে উদ্ধৃত হয়, কিংবা হালের (حال) … স্থানে পতিত হয়; যেমন: ‘আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করলাম এমতাবস্থায় যে আমি আশাবাদী’।

আর পণ্ডিতগণ সেই ক্রিয়ার (فعل) পরেও যের প্রদান করেছেন যা ‘লাম’ (لام)-এর মাধ্যমে … স্থগিত বা মুআল্লাক (علق) হয়েছে; যেমন: ‘জেনে রেখো, নিশ্চয়ই সে পরহেজগার’।

আকস্মিকতা প্রকাশকারী ‘ইযা’ (إذا فجاءة) কিংবা এমন শপথের (قسم) পরে … যার উত্তর বা জওয়াবে ‘লাম’ (لام) নেই, সেক্ষেত্রে উভয় পদ্ধতিই (যের ও যবর) বর্ণিত হয়েছে।

শর্তের জওয়াবে আসা ‘ফা’ (فا الجزا)-এর অনুগামী হওয়ার ক্ষেত্রেও এই নিয়মটি কার্যকর; … যেমন: ‘সর্বোত্তম কথা হলো আমি আল্লাহর প্রশংসা করি’ জাতীয় বাক্যেও এটি দেখা যায়।

আর যের-বিশিষ্ট ইন্না-এর খবরের সাথে ইবতিদাহ-র ‘লাম’ (لام ابتداء) … যুক্ত হয়; যেমন: ‘নিশ্চয়ই আমি আশ্রয়স্থল’।

তবে এই ‘লাম’ (لام) এমন শব্দের সাথে যুক্ত হবে না যা না-বোধক বা নফি (نفي) করা হয়েছে; … কিংবা এমন ক্রিয়া (فعل) যা ‘রাযিয়া’ (رضي)-এর ন্যায় সরাসরি ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ২২)
وقد يليها مع قد كإنّ ذا … لقد سما على العدا مستحوذا

وتصحب الواسط معمول الخبر … والفصل واسما ً حلّ قبله الخبر

ووصل ما بذي الحروف مبطل … إعمالها وقد يبقى العمل

وجائزّ رفعك معطوفا على … منصوب إنّ بعد أن تستكملا

وألحقت بإنّ لكنّ وأن … من دون ليت ولعلّ وكأنّ

وخفّفت إنّ فقلّ العمل … وتلزم اللام إذا ما تمهل

وربّما استغني عنها إن بدا … ما ناطقّ أراده معتمدا

والفعل إن لم يك ناسخا فلا … تلفيه غالبا ً بإن ذي موصلا

وإن تخفف أنّ فاسمها استكن … والخبر اجعل جملة ً من بعد أنّ

وإن يكن فعلا ً ولم يكن دعا … ولم يكن تصريفه ممتنعا

فالأحسن الفصل بقد أو نفي أو … تنفيس ٍ أو ولو قليل ّ ذكر لو

وخفّفت كأنّ أيضا فَنُوِي … منصوبها وثابتا ً أيضا روي
কখনও ‘ইন্না’ (إنّ)-এর সাথে ‘ক্বদ’ (قد) যুক্ত হতে পারে, যেমন— ‘ইন্না যা...’ … তিনি শত্রুদের উপর প্রভাবশালী হয়ে বিজয়ীর বেশে সমুন্নত হয়েছেন।

আর ‘লাম’ (لام) বিধেয়ের সংশ্লিষ্ট পদের (معمول الخبر), পৃথককারী সর্বনামের (فصل) এবং সেই বিশেষ্য (اسم)-এর সাথে যুক্ত হয় যার পূর্বে বিধেয় (خبر) স্থান গ্রহণ করেছে।

এই হরফগুলোর সাথে ‘মা’ (ما) যুক্ত হওয়া এদের কার্যকারিতা (إعمال) বাতিল করে দেয়, তবে কখনও কখনও কার্যকারিতা (عمل) অবশিষ্ট থাকে।

‘ইন্না’ (إنّ)-এর বাক্য পূর্ণ হওয়ার পর তার নসবযুক্ত (منصوب) পদের সাথে সংশ্লিষ্ট অনুগামী পদকে রফ' (رفع) প্রদান করা আপনার জন্য বৈধ।

‘লাকিন্না’ (لكنّ) এবং ‘আন্না’ (أنّ)-কে ‘ইন্না’ (إنّ)-এর বিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; তবে ‘লাইতা’ (ليت), ‘লাআল্লা’ (لعلّ) এবং ‘কাআন্না’ (كأنّ) এর ব্যতিক্রম।

যখন ‘ইন্না’ (إنّ)-কে হালকা করা হয় (تخفيف), তখন তার কার্যকারিতা (عمل) কমে যায় এবং বিভ্রান্তি নিরসনে ‘লাম’ (لام) যুক্ত করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

যদি বক্তার কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে যায়, তবে কখনও কখনও সেই ‘লাম’ (لام) ছাড়াই কাজ চালানো সম্ভব।

ক্রিয়াটি যদি রহিতকারী (ناسخ) না হয়, তবে সাধারণত এই হালকা ‘ইন’ (إن)-এর সাথে আপনি তাকে যুক্ত পাবেন না।

যখন ‘আন্না’ (أنّ)-কে হালকা করা হয়, তখন তার বিশেষ্য (اسم) উহ্য থাকে এবং ‘আন্না’ (أنّ)-এর পরবর্তী অংশকে বাক্য হিসেবে বিধেয় (خبر) নির্ধারণ করতে হয়।

যদি সেই বিধেয়টি ক্রিয়া হয় এবং তা প্রার্থনা (دعا) না হয় এবং তার রূপান্তর (تصريف) অসম্ভব না হয়—

তবে উত্তম হলো ‘ক্বদ’ (قد), না-বোধক অব্যয় (نفي), ভবিষ্যৎ জ্ঞাপক অব্যয় (تنفيس) অথবা ‘লাও’ (لو) দ্বারা পৃথক করা, যদিও ‘লাও’-এর ব্যবহার বিরল।

‘কাআন্না’ (كأنّ)-কেও হালকা করা হয় এবং তখন তার নসবযুক্ত (منصوب) বিশেষ্যটি উহ্য রাখা হয়; তবে তা দৃশ্যমান হিসেবেও বর্ণিত (روي) হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়্যাতু ইবনু মালিক - ত তআউন (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌لا التي لنفى الجنس:

عمل إنّ اجعل للا في نكره … مفردة ً جاءتك أو مكرّرة

فانصب بها مضافا أو مضارعه … بعد ذاك الخبر اذكر رافعه
‘লা’ যা জাতিবাচক নেতিবাচকতা (نفي الجنس)-এর জন্য ব্যবহৃত হয়:

অনির্দিষ্ট (نكرة) শব্দের ক্ষেত্রে ‘লা’-এর আমল ‘ইন্না’ (إنّ)-এর ন্যায় করো, তা একক (مفردة) ভাবে আসুক কিংবা পুনরাবৃত্ত (مكررة) হয়ে আসুক …

এর দ্বারা সম্বন্ধযুক্ত পদ (مضاف) কিংবা তার সদৃশ পদকে নসব (نصب) প্রদান করো এবং এরপর খবর (خبر)-কে রফ (رفع) প্রদানকারী হিসেবে উল্লেখ করো।