(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
العيوب المنهجية في كتابات المستشرق شاخت المتعلقة بالسنة النبوية القسم: علوم الحديث
الكتاب: العيوب المنهجية في كتابات المستشرق شاخت المتعلقة بالسنة النبوية
المؤلف: خالد بن منصور بن عبد الله الدريس
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 71
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ওরিয়েন্টালিস্ট শাক্ত-এর সুন্নাহ-সংক্রান্ত লেখায় বিদ্যমান পদ্ধতিগত ত্রুটিসমূহ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: ওরিয়েন্টালিস্ট শাক্ত-এর সুন্নাহ-সংক্রান্ত লেখায় বিদ্যমান পদ্ধতিগত ত্রুটিসমূহ
লেখক: খালিদ বিন মানসুর বিন আব্দুল্লাহ আদ-দুরীস
প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারাহ-স্থিত পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য কিং ফাহদ কমপ্লেক্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
ال
مقدمة:إن الحمد لله نحمده، ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل، فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
أما بعد.
فإن "الاستشراق " يعد من أخطر الحركات الفكرية التي تحرص على بث الشبهات، والافتراءات حول مصادر التلقي الأصلية عند المسلمين، وفي سبيل ذلك يقوم المستشرقون، ومن يقف وراءهم بتجنيد طاقات بشرية، واقتصادية، وتقنية؛ ليحققوا الغايات التي يسعون إليها.
ويكاد يتفق أساتذة الاستشراق على أن أهم الكتابات الاستشراقية في السنة النبوية المطهرة؛ تمت على يدي رجلين هما: جولد زيهر، وجوزيف شاخت، ولذا اخترت أن يكون هذا البحث عن الثاني منهما، لعدة اعتبارات سيتم إيضاحها فيما يلي.
أهمية البحث:
تكمن أهمية هذا البحث في النقطتين التاليتين:
1 - إن أبرز ما يتشدق به المستشرقون هو تمسكهم بالمنهج العلمي الدقيق في بحوثهم، وعليه يكون أفضل رد عليهم - في نظري - هو بيان تجاوزهم لأصول المنهج العلمي المتعارف عليها عالمياً، سواءً عند المسلمين أو عند غيرهم، مع إبراز ذلك بصورة جلية ومحورية. ولذا جعلت بحثي إجابة عن سؤال محدد هو: ما العيوب المنهجية التي خالف فيها المستشرق "جوزيف شاخت " أصول المنهج العلمي وقواعده في كتاباته المتعلقة بالسنة النبوية؟
ভূমিকা:নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই "প্রাচ্যতত্ত্ব" এমন এক বিপজ্জনক বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন হিসেবে বিবেচিত, যা মুসলমানদের মৌলিক জ্ঞানের উৎসসমূহ সম্পর্কে সংশয় ও অপবাদ ছড়িয়ে দিতে সচেষ্ট থাকে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাচ্যতত্ত্ববিদগণ এবং তাদের নেপথ্য শক্তিগুলো মানবীয়, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সকল সামর্থ্য নিয়োগ করে, যাতে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে পারে।
প্রাচ্যতত্ত্বের বিশেষজ্ঞগণ এ বিষয়ে প্রায় একমত যে, পবিত্র সুন্নাহ বিষয়ক প্রাচ্যতাত্ত্বিক রচনাবলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পাদিত হয়েছে দুই ব্যক্তির মাধ্যমে: গোল্ডজিহার এবং জোসেফ শ্যাক্ট। এ কারণেই আমি পরবর্তী আলোচনাগুলোতে বর্ণিতব্য বেশ কিছু কারণ বিবেচনা করে দ্বিতীয় ব্যক্তি সম্পর্কে এই গবেষণাটি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
গবেষণার গুরুত্ব:
এই গবেষণার গুরুত্ব নিম্নোক্ত দুটি পয়েন্টের মধ্যে নিহিত:
১ - প্রাচ্যতত্ত্ববিদরা সবচেয়ে বেশি যা নিয়ে বড়াই করে, তা হলো তাদের গবেষণায় সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অনুসরণ। তাই আমার দৃষ্টিতে তাদের প্রতি সর্বোত্তম প্রত্যুত্তর হলো—বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূলনীতিসমূহ তারা যে লঙ্ঘন করেছে তা স্পষ্টভাবে ও জোরালোভাবে তুলে ধরা, চাই তা মুসলিমদের নিকট স্বীকৃত হোক বা অমুসলিমদের নিকট। একারণে আমি আমার গবেষণাকে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর হিসেবে সাজিয়েছি: প্রাচ্যতত্ত্ববিদ "জোসেফ শ্যাক্ট" সুন্নাহ বিষয়ক তাঁর লেখাসমূহে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূলনীতি ও নিয়মনীতির কোন কোন পদ্ধতিগত ত্রুটিগুলো করেছেন?
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
2 - إن " شاخت " عند متأخري المستشرقين يعد أبرز من كتب في الهجوم على السنة النبوية وحجيتها، ويرون أنه قدَّم نظرية متناسقة وشاملة في ذلك، كما ستأتي بعض نصوصهم المبينة لذلك في ترجمته إن شاء الله.
هدف البحث:
يهدف البحث إلى تحقيق أمرين هما:
1 - التركيز على أبرز عيوب المنهج العلمي التي وقع فيها " شاخت " في كتاباته حول السنة النبوية، مع بيان خطورة هذه الأخطاء لدى أساتذة المنهجية، مصحوبة بذكر بعض الأمثلة من كلام " شاخت "؛ لكي تبدو عيوب منهجه واضحة للعيان.
2 - إيضاح أن تلك العيوب مؤثرة في سلامة النتائج التي توصل إليها "شاخت "، مما يجعل أحكامه وآراءه التي أطلقها حول السنة النبوية؛ من غير الممكن -وفق أصول المنهج العلمي الدقيق- أن تكون مقبولةً أو مسلماً بها، حتى عند غير المسلمين، ولكي يعلم أيضاً أن سبب رفض المسلمين لمثل هذه الآراء ليس لمجرد أنها مخالفة لمعتقداتهم فقط؛ وإنما لكونها أيضاً مبنية على منهج فاسد مليء بالعيوب الخطيرة.
ويجدر التنبيه هنا أنني حرصت عند الكلام على أي عيب منهجي على ذكر كلام المختصين في المنهج العلمي من الغربيين، أو من بعض المختصين العرب الذين كتبوا في المنهجية معتمدين بصفة أساسية على المصادر الغربية، وغرضي من هذا إثبات أن الأصول المنهجية التي انتهكها " شاخت " متفق عليها عالمياً.
2 - পরবর্তী যুগের প্রাচ্যবিদদের নিকট "শাখত" নববী সুন্নাহ এবং এর প্রামাণিকতা (حجية)-র ওপর আক্রমণাত্মক রচনাকারীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান হিসেবে গণ্য হন। তাঁদের মতে, তিনি এই বিষয়ে একটি সুসংগত ও সামগ্রিক তত্ত্ব উপস্থাপন করেছেন। ইনশাআল্লাহ তাঁর জীবনী আলোচনার প্রাক্কালে তাঁদের এ সংক্রান্ত কিছু বক্তব্য উপস্থাপিত হবে।
গবেষণার উদ্দেশ্য:
এই গবেষণার লক্ষ্য হলো দুটি বিষয় অর্জন করা, যথা:
1 - নববী সুন্নাহ সংক্রান্ত "শাখত"-এর রচনাবলিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির যে সকল প্রধান ত্রুটি পরিলক্ষিত হয় সেগুলোর ওপর আলোকপাত করা এবং পদ্ধতিবিদ্যার বিশেষজ্ঞদের নিকট এই জাতীয় ভুলের ভয়াবহতা বর্ণনা করা। সেই সাথে "শাখত"-এর বক্তব্য থেকে কিছু উদাহরণ পেশ করা, যাতে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতির ত্রুটিসমূহ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
2 - এটি স্পষ্ট করা যে, উক্ত ত্রুটিসমূহ "শাখত" কর্তৃক উপনীত ফলাফলের বিশুদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ফলে নববী সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর প্রদত্ত সিদ্ধান্ত ও অভিমতসমূহ—যথাযথ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূলনীতি অনুযায়ী—গ্রহণযোগ্য বা অবিসংবাদিত হওয়া সম্ভব নয়, এমনকি অমুসলিমদের দৃষ্টিতেও। এছাড়া এর মাধ্যমে এটিও পরিস্ফুট হবে যে, মুসলিমরা এই ধরনের মতবাদ কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে প্রত্যাখ্যান করে না, বরং এই মতবাদসমূহ মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ ও ভ্রান্ত পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণেও বর্জন করে।
এখানে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, যেকোনো পদ্ধতিগত ত্রুটি আলোচনার ক্ষেত্রে আমি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পাশ্চাত্য বিশেষজ্ঞ অথবা সেই সকল আরব গবেষকদের বক্তব্য উদ্ধৃত করার প্রয়াস পেয়েছি যারা মূলত পশ্চিমা উৎসের ওপর ভিত্তি করে পদ্ধতিবিদ্যার বিষয়ে লিখেছেন। এর মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য হলো এটি প্রমাণ করা যে, "শাখত" যে সকল পদ্ধতিগত মূলনীতি লঙ্ঘন করেছেন, তা বিশ্বজনীনভাবে স্বীকৃত।
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
الفصل الأول: التعريف بشاخت وبأهم آرائه في السنة
المبحث الأول: تعريف بالمستشرق "شاخت"
…الفصل الأول: التعريف بشاخت وبأهم آرائه في السنة
ويشتمل على مبحثين:
المبحث الأول: تعريف بالمستشرق " شاخت ".
المبحث الثاني: عرض موجز لأهم آرائه حول السنة النبوية.
প্রথম অধ্যায়: শ্যাহট এবং সুন্নাহ বিষয়ে তার প্রধান অভিমতসমূহের পরিচিতিপ্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাচ্যবিদ "শ্যাহট" এর পরিচিতি…প্রথম অধ্যায়: শ্যাহট এবং সুন্নাহ বিষয়ে তার প্রধান অভিমতসমূহের পরিচিতি
এটি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাচ্যবিদ "শ্যাহট" এর পরিচিতি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাতে নববী সম্পর্কে তার প্রধান অভিমতসমূহের সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা।
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الأول: تعريف بالمستشرق " شاخت "
يلحظ أي باحث لا يجيد إلا اللغة العربية أن المستشرق " شاخت " ليس له ترجمة تتناسب مع مكانته الاستشراقية، ومما يثير الاستغراب أن بعض الكتب التي اعتنت بتراجم المستشرقين ككتاب " الأعلام " لخير الدين الزركلي لم تذكر عنه أي شيء، بينما ذكرت تلك الكتب تراجم لمستشرقين هم أقل شأناً منه، ويزداد العجب أكثر حين نعلم أن الدكتور محمد مصطفى الأعظمي، وهو أبرز عالم مسلم رد على كتابات " شاخت " في السنة النبوية لم يعط تعريفاً به، مع أنه لم يكتب بحوثه إلا بعد وفاة شاخت ببضع سنين.
هذا الأمر كان حافزاً لي كي أبحث عن ترجمة مطولة بعض الشيء لحياة شاخت، فيسَّر الله عز وجل لي الوقوف على بعض المقالات، فاجتهدت أن أصوغ منها ترجمة وافية بعض الشيء لهذا المستشرق الذي ترك أثراً خطيراً في الدراسات الاستشراقية.
نشأته:
ولد جوزيف (يوسف) شاخت، في راتيبور في الخامس عشر من مارس سنة 1902م، وتقع هذه البلدة في إقليم شيلزبان الألماني، أما الآن فهي تخضع للسيطرة البولندية (1) .
التحق في تلك البلدة بالثانوية الألمانية، وفيها بدأت تظهر اهتماماته الأولى باللغات الشرقية، حيث كان الحاخامات اليهود يلقون دروساً في تلك المدارس في المحاضرات المخصصة للدراسات الدينية، وكانوا يعلمون اللغة
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাচ্যবিদ "শাষ্ট"-এর পরিচিতি
কেবল আরবি ভাষায় পারদর্শী এমন কোনো গবেষক লক্ষ্য করবেন যে, প্রাচ্যবিদ "শাষ্ট"-এর এমন কোনো জীবনী (ترجمة) নেই যা তার প্রাচ্যবাদ সংক্রান্ত অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, প্রাচ্যবিদদের জীবনী (تراجم) নিয়ে রচিত খাইরুদ্দিন আল-জিরিকলির "আল-আ'লাম"-এর মতো কিছু গ্রন্থে তার সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি; অথচ সেই গ্রন্থগুলোতে তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রাচ্যবিদদের জীবনী (تراجم) স্থান পেয়েছে। বিস্ময় আরও বৃদ্ধি পায় যখন আমরা জানতে পারি যে, ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা আল-আজমি—যিনি নবীজির সুন্নাহ (السنة النبوية) নিয়ে শাষ্ট-এর লেখনীর খণ্ডনকারী শ্রেষ্ঠ মুসলিম বিশেষজ্ঞ—তিনিও তার কোনো পরিচয় প্রদান করেননি, যদিও তিনি শাষ্ট-এর মৃত্যুর মাত্র কয়েক বছর পরই তার গবেষণাগুলো লিখেছিলেন।
এই বিষয়টিই আমাকে শাষ্ট-এর জীবন সম্পর্কে কিছুটা বিস্তারিত জীবনী (ترجمة) অনুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করেছে। মহান আল্লাহ তাআলা আমার জন্য কিছু প্রবন্ধ পাওয়া সহজ করে দিয়েছেন, ফলে আমি সেগুলো থেকে এই প্রাচ্যবিদের একটি মোটামুটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী (ترجمة) রচনার চেষ্টা করেছি, যিনি প্রাচ্যবাদ গবেষণায় এক গভীর প্রভাব রেখে গেছেন।
তার জন্ম ও শৈশব:
জোসেফ (ইউসুফ) শাষ্ট ১৯০২ সালের ১৫ই মার্চ রাতিবোর-এ জন্মগ্রহণ করেন। এই শহরটি জার্মানির সিলেসিয়া অঞ্চলে অবস্থিত হলেও বর্তমানে এটি পোল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন (১)।
তিনি ওই শহরের জার্মান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানেই প্রাচ্যদেশীয় ভাষাগুলোর প্রতি তার প্রাথমিক আগ্রহ প্রকাশ পেতে শুরু করে। সেখানে ইহুদি রাব্বিরা ধর্মীয় শিক্ষা বিষয়ক নির্ধারিত ক্লাসগুলোতে পাঠদান করতেন এবং তারা ভাষা শিক্ষা দিতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
العبرية لأولاد اليهود، ويؤكد برنارد لويس (1) أن " شاخت " لم يكن يهودياً، ولكنه حضر تلك الدروس رغبة منه في زيادة معارفه.
ونفي يهودية " شاخت " أكدها أيضاً " روبير برونشفيج " حيث ذكر أن " شاخت " كان يكره النازية الألمانية مع أنه ما كان له أن يخشاها بحكم أصوله (2) .
والمشهور عند عدد من الباحثين العرب أنه كان يهودياً، هذا ما جزم به الدكتور مصطفى السباعي، والدكتورأكرم ضياء العمري وآخرون غيرهما (3) ، ولكن يبدو أن الواقع كما ذكره " برنارد لويس " و " برونشفيج " فهما من المقربين لشاخت، وليس هناك حاجة ملحة تدعوهم لإنكار يهوديته، والذي يظهر لي أن أسباب الوهم لدى السباعي والعمري وغيرهما من القائلين بأن ديانة " شاخت " هي اليهودية ربما ترجع للأمور التالية:
1 - يكثر في اللغة العبرية استعمال حرف الخاء وهو في اسم "شاخت"، مما يوحي بأن أصل الاسم يعود للعبرية التي هي لغة اليهود، ومن المعروف أن اللغة الألمانية أيضاً تستعمل حرف " الخاء " في أبجديتها، مما ينفي وجاهة هذا الربط بين الاسم واللغة العبرية.
2 - كان " شاخت " من أشد المعجبين بالمستشرق المجري "جولد زيهر" وهو يهودي معروف يعد من أساطين الاستشراق، وقد سار " شاخت " على
--------------------------------------------
ইহুদি সন্তানদের জন্য হিব্রু ভাষা; বার্নার্ড লুইস (১) নিশ্চিত করেন যে "শাখত" ইহুদি ছিলেন না, বরং তিনি তাঁর জ্ঞান বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা থেকে সেই পাঠগুলোতে উপস্থিত হতেন।
"শাখত"-এর ইহুদি হওয়ার বিষয়টি "রবার্ট ব্রুন্সভিগ"-ও অস্বীকার করেছেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে "শাখত" জার্মান নাৎসিবাদকে ঘৃণা করতেন, যদিও তাঁর বংশপরিচয়ের কারণে সেটি নিয়ে তাঁর শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ ছিল না (২)।
বেশ কিছু আরব গবেষকের নিকট প্রসিদ্ধ (مشهور) বিষয় হলো যে তিনি ইহুদি ছিলেন; এটি ডক্টর মোস্তফা আস-সিবায়ী, ডক্টর আকরাম জিয়া আল-উমারি এবং আরও অনেকে সুনিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছেন (৩)। তবে প্রতীয়মান হয় যে, বাস্তব পরিস্থিতি সেটিই যা বার্নার্ড লুইস এবং ব্রুন্সভিগ বর্ণনা করেছেন; কারণ তাঁরা শাখতের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তাঁর ইহুদি পরিচয় অস্বীকার করার কোনো জোরালো প্রয়োজন তাঁদের ছিল না। আমার নিকট যা স্পষ্ট হয় তা হলো, আস-সিবায়ী, আল-উমারি এবং অন্যদের এই বিভ্রান্তির কারণ—যাঁরা শাখতের ধর্ম ইহুদি বলে মনে করেন—তা সম্ভবত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর দিকে ফিরে যায়:
১ - হিব্রু ভাষায় 'খা' (خ) বর্ণের ব্যবহার প্রচুর এবং এটি "শাখত" নামের মধ্যেও রয়েছে, যা এমন ধারণা দেয় যে নামটির উৎস হলো হিব্রু, যা ইহুদিদের ভাষা। অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে জার্মান ভাষার বর্ণমালায়ও 'খা' (خ) বর্ণটি ব্যবহৃত হয়, যা এই নামের সাথে হিব্রু ভাষার সংযোগের যৌক্তিকতাকে নাকচ করে দেয়।
২ - "শাখত" হাঙ্গেরীয় প্রাচ্যবিদ "গোল্ডজিহার"-এর ঘোর অনুরাগী ছিলেন, যিনি একজন সুপরিচিত ইহুদি এবং প্রাচ্যবিদ্যার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে গণ্য হন। "শাখত" তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
خطاه في بحوثه حول السنة النبوية، بل كان أكثر شراسة وقسوة منه على التراث الإسلامي، فلعل هذا ما أوحى لبعض الباحثين العرب بأن الرجل يهودي أيضاً لطبيعة آرائه الحاقدة على المسلمين ودينهم.
3 – ليس ثمة ترجمة ضافية لشاخت في المصادر العربية المتاحة، مما أسهم في التمكين لذلك الخطأ وساعد على انتشاره وشهرته.
وبهذا يعلم أنه ألماني المنشأ واللغة، ولم يكن يهودياً كما أكد أحد تلامذته اليهود أعني " برنارد لويس " (1) ، وأحد أصدقائه المقربين منه " روبير برونشفيج " (2) ، وبالنظر إلى أن الديانة الأكثر انتشاراً في ألمانيا هي النصرانية، فالغالب أن يكون " شاخت " نشأ في أسرة تدين بهذه الديانة.
وقد أقام في ألمانيا حتى تجاوز الثلاثين من عمره، ثم هاجر إلى بريطانيا بسبب كراهيته للنظام النازي الذي كان يحكم ألمانيا قبيل الحرب العالمية الثانية، وفي ذلك يقول برونشفيج: ((ثم كانت الحرب العالمية الثانية، فالتحق "شاخت" بإنجلترا التي كان في أحلك الظروف يسمع منها عبر الإذاعة البريطانية، صوت الحرية مخاطباً مواطنيه الألمان - إذ لم يكن قد تخلى بعد عن جنسيته الألمانية -، وكان شاخت يمقت النازية مع أنه ما كان له أن يخشاها
--------------------------------------------
সুন্নাহ সংক্রান্ত গবেষণায় তিনি তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, বরং ইসলামী ঐতিহ্য (التراث)-এর ওপর তিনি তার চেয়েও বেশি উগ্র ও কঠোর ছিলেন; সম্ভবত এটিই কিছু আরব গবেষককে এই ধারণা দিয়েছে যে, এই ব্যক্তিও একজন ইহুদি, কারণ মুসলিম এবং তাদের ধর্মের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ।
৩ – বিদ্যমান আরবি উৎসগুলোতে শাখ্ত সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত জীবনী (ترجمة) নেই, যা সেই ভুলটি প্রতিষ্ঠিত করতে এবং এর প্রসার ও খ্যাতিতে সহায়তা করেছে।
এ থেকে জানা যায় যে, তিনি জন্মগতভাবে ও ভাষায় জার্মান ছিলেন এবং তিনি ইহুদি ছিলেন না, যেমনটি তার একজন ইহুদি ছাত্র—অর্থাৎ 'বার্নার্ড লুইস' (১) এবং তার একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু 'রবার্ট ব্রুন্সভিগ' (২) নিশ্চিত করেছেন। জার্মানিতে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ধর্ম খ্রিস্টধর্ম হওয়ায় এটিই প্রবল সম্ভাবনা যে, 'শাখ্ত' এমন এক পরিবারে বড় হয়েছেন যারা এই ধর্মে বিশ্বাসী ছিল।
তিনি ত্রিশ বছর বয়স পার হওয়া পর্যন্ত জার্মানিতে বসবাস করেন, তারপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে জার্মানি শাসনকারী নাৎসি ব্যবস্থার প্রতি ঘৃণার কারণে ইংল্যান্ডে হিজরত করেন। এ বিষয়ে ব্রুন্সভিগ বলেন: ((তারপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলো, তখন 'শাখ্ত' ইংল্যান্ডে চলে যান, যেখান থেকে তিনি চরম সংকটময় মুহূর্তে ব্রিটিশ রেডিওর মাধ্যমে স্বাধীনতার কণ্ঠস্বর শুনতেন যা তার জার্মান সহনাগরিকদের উদ্দেশে প্রচার করা হতো—কারণ তখনো তিনি তার জার্মান নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি—শাখ্ত নাৎসিবাদকে চরম ঘৃণা করতেন যদিও তার এটি নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ ছিল না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
بحكم أصوله، لكنه كان يعارض كل نبذ، وكل اضطهاد وتزوج امرأة إنجليزية مثقفة وما انفكت أن أصبحت الرفيقة المتفهمة له، والمتفانية التفاني الكامل في خدمته، وبعد الحرب حصل عام 1947م على الجنسية الإنجليزية
التي لم يتخل عنها قط)) (1) .
وقد انتقل في آخر حياته إلى الولايات المتحدة الأمريكية منذ سنة 1957م، وأقام فيها حتى آخر حياته.
تكوينه العلمي:
تقدم أنه درس في الثانوية الألمانية، وحين التحق بجامعتي برسلو، ولايبتزج درس فقه اللغة اللاتينية، والإغريقية، وعلم اللاهوت، واللغات الشرقية.
وكان يكتب بحوثه بثلاث لغات هي: الألمانية، والإنجليزية، والفرنسية، مما يدل على إجادته لها (2) ، وكان يحسن اللغة العربية والتركية (3) ، وتقدَّم أنه تعلَّم اللغة العبرية.
ولما كانت الرحلات العلمية تؤثر في التكوين العلمي لأي باحث، فإن "شاخت" حرص عليها، فقام بزيارة الشرق الأوسط عدة مرات، وكذلك شمال إفريقيا وغربها (4) .
ويظهر من إنتاجه العلمي أن أول كتاب نشره، كان تحقيقاً لكتاب في الحيل الفقهية وعنوانه " الحيل والمخارج "للخصاف، وقد كتب له مقدمة،
--------------------------------------------
তাঁর পারিবারিক পটভূমির কারণে, তবে তিনি সকল প্রকার বর্জন ও নিপীড়নের বিরোধিতা করতেন। তিনি একজন সুশিক্ষিত ইংরেজ নারীকে বিবাহ করেন, যিনি সর্বদা তাঁর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল সঙ্গিনী এবং তাঁর সেবায় পূর্ণরূপে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। যুদ্ধের পর ১৯৪৭ সালে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব লাভ করেন যা তিনি কখনোই ত্যাগ করেননি)) (১)।
জীবনের শেষভাগে তিনি ১৯৫৭ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হন এবং তাঁর জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সেখানেই বসবাস করেন।
তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক গঠন:
পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে যে, তিনি জার্মান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। যখন তিনি ব্রেসলাউ এবং লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, তখন তিনি লাতিন ও গ্রিক ভাষাতত্ত্ব, ধর্মতত্ত্ব এবং প্রাচ্যের ভাষাসমূহ অধ্যয়ন করেন।
তিনি তিনটি ভাষায় তাঁর গবেষণাপত্র লিখতেন, সেগুলো হলো: জার্মান, ইংরেজি এবং ফরাসি; যা এই ভাষাগুলোর ওপর তাঁর দক্ষতার প্রমাণ বহন করে (২)। তিনি আরবি ও তুর্কি ভাষায়ও পারদর্শী ছিলেন (৩) এবং পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি হিব্রু ভাষা শিখেছিলেন।
যেহেতু জ্ঞানান্বেষী সফরসমূহ যেকোনো গবেষকের জ্ঞানতাত্ত্বিক গঠনে প্রভাব ফেলে, তাই "শা্খত" এ বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তিনি বেশ কয়েকবার মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণ করেন, পাশাপাশি উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকাও সফর করেন (৪)।
তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক কাজসমূহ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থটি ছিল খাসসাফের ফিকহী কৌশল সংক্রান্ত একটি গ্রন্থের সম্পাদনা (تحقيق), যার শিরোনাম ছিল "আল-হিয়াল ওয়াল মাখারিজ"। তিনি বইটির জন্য একটি ভূমিকা লিখেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وعلق على عدة مواطن منه (1) ، وكان تاريخ نشره في 1923م، ولهذا يقول برنارد لويس: ((كان الفقه الإسلامي هو الحقل الدراسي الأول الذي انصرف إليه " شاخت " بكل همته، وبقي واحداً من أهم اهتماماته الأساسية حتى قضى نحبه)) (2) .
ويبدو أنه كان معجباً، في وقت مبكر من شبابه بالمستشرق المشهور "جولد زيهر"، ولذا فقد قام بإكمال بحوثه حول السنة النبوية، ولاسيما فيما يتعلق بالأسانيد (3) .
مناصبه العلمية:
أول منصب شغله " شاخت " كان أستاذاً في جامعة فرايبورج عام 1925م، وفي سنة 1932م دعي لشغل كرسي اللغات الشرقية في جامعة كونجسبرج، وفي عام 1930م عمل أستاذاً زائراً في الجامعة المصرية بالقاهرة، ثم عاد إليها في سنة 1934م وعمل بها حتى سنة 1939م.
وبعد نشوب الحرب العالمية الثانية انتقل إلى إنجلترا حيث عمل في هيئة الإذاعة البريطانية طوال سنوات الحرب، وفي عام 1946م عين في وظيفة تعليمية في جامعة أكسفورد برتبة محاضر، وفي سنة 1948م عين أستاذاً مساعداً في الدراسات الإسلامية.
ثم عمل أستاذاً زائراً في جامعة الجزائر في سنة 1952م، وفي سنة 1954م غادر إنجلترا إلى هولندا ليشغل كرسي اللغة العربية في جامعتها
--------------------------------------------
তিনি এর বেশ কিছু অংশের ওপর টীকা প্রদান করেন (১), এবং এটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এ কারণেই বার্নার্ড লুইস বলেন: "ইসলামি আইনশাস্ত্র (الفقه الإسلامي) ছিল প্রথম গবেষণার ক্ষেত্র যেখানে 'শাখত' তাঁর পূর্ণ একাগ্রতা নিয়ে আত্মনিয়োগ করেছিলেন এবং এটি তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর অন্যতম প্রধান মৌলিক আগ্রহের বিষয় হিসেবে বিদ্যমান ছিল" (২)।
এবং প্রতীয়মান হয় যে, তিনি তাঁর যৌবনের শুরুর দিকে প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদ "গোল্ডজিহার"-এর অনুরাগী ছিলেন। এ কারণেই তিনি সুন্নাহ (السنة النبوية) সম্পর্কিত তাঁর গবেষণাগুলো সম্পন্ন করেছিলেন, বিশেষ করে সনদসমূহ (الأسانيد) সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে (৩)।
তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পদসমূহ:
'শাখত' সর্বপ্রথম ১৯২৫ সালে ফ্রেইবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৩২ সালে তাঁকে কোনিগসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচ্য ভাষা বিভাগের প্রধান পদের (كرسي اللغات الشرقية) জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। ১৯৩০ সালে তিনি কায়রোর মিশরীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন, এরপর ১৯৩৪ সালে সেখানে পুনরায় ফিরে আসেন এবং ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত সেখানে কর্মরত থাকেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি ইংল্যান্ডে চলে যান এবং সেখানে যুদ্ধের বছরগুলোতে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনে কাজ করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে নিযুক্ত হন এবং ১৯৪৮ সালে ইসলামি শিক্ষা (الدراسات الإسلامية) বিভাগে সহকারী অধ্যাপক (أستاذ مساعد) হিসেবে নিযুক্ত হন।
এরপর ১৯৫২ সালে তিনি আলজেরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন এবং ১৯৫৪ সালে ইংল্যান্ড ত্যাগ করে নেদারল্যান্ডসে চলে যান সেখানের বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষা বিভাগের প্রধান পদের (كرسي اللغة العربية) দায়িত্ব পালন করতে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الشهيرة لايدن، ثم انتقل إلى جامعة كولومبيا في الولايات المتحدة الأمريكية من سنة 1957م إلى 1969م حيث هلك هناك، بالإضافة إلى أنه كان عضواً في المجمع العلمي في دمشق، وغيره من المجامع (1) .
أخلاقه
وصفه " برنارد لويس " بأنه كان عنيداً، متصلباً لدرجة أنه حين غادر ألمانيا لم يعد إليها أبداً، بل ولم يكتب بلغته الأم بعد ذلك، وكان التعامل معه صعباً؛ لأنه كان لا يحسن ممارسة الرياء الاجتماعي، وكانت قسمات وجهه متجهمة (2) .
وقد أثنى عليه أصحابه من المستشرقين بأنه كان لطيفاً ودمثاً ونزيهاً وأميناً (3) ، ولكننا نشك في دقة هذا الكلام المتعلق بالأمانة والنزاهة؛ لأمرين:
أحدهما: أن المطلع على بحوث هذا الرجل المتعلقة بالسنة النبوية، والفقه الإسلامي يلحظ وبجلاء حقده البالغ، وكراهيته الشديدة للمسلمين وتراثهم، ويدل على ذلك أنه يتهم كل علماء الحديث ورواته الثقات بالكذب والتزوير والوضع على الرسول صلى الله عليه وسلم
ثانيهما: أن الدكتور نجم خلف ذكر أن أحد مشايخ المغرب واسمه مصطفى المغربي حدَّثه في مدينة الرباط سنة 1403 ? أن المستشرق "شاخت"
--------------------------------------------
বিখ্যাত লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়, এরপর তিনি ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তদুপরি, তিনি দামেস্কের বৈজ্ঞানিক একাডেমি এবং অন্যান্য একাডেমির সদস্য ছিলেন (১)।
তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য
"বার্নার্ড লুইস" তাঁকে একগুঁয়ে ও অনমনীয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন, এতটাই যে তিনি যখন জার্মানি ত্যাগ করেন তখন আর সেখানে ফিরে যাননি, এমনকি এরপর তিনি তাঁর মাতৃভাষাতেও কিছু লেখেননি। তাঁর সাথে আচার-আচরণ করা ছিল কঠিন; কারণ তিনি সামাজিক কপটতা প্রদর্শনে দক্ষ ছিলেন না এবং তাঁর চেহারার অভিব্যক্তি ছিল সর্বদা রুক্ষ (২)।
তাঁর প্রাচ্যবিদ সহকর্মীরা তাঁর অমায়িকতা, ভদ্রতা, স্বচ্ছতা এবং সততার প্রশংসা করেছেন (৩), তবে আমানতদারি ও সততা সংশ্লিষ্ট এই বক্তব্যের যথার্থতা নিয়ে আমাদের সংশয় রয়েছে; যার পেছনে দুটি কারণ বিদ্যমান:
প্রথমত: সুন্নাহ এবং ইসলামি ফিকহ বিষয়ে এই ব্যক্তির গবেষণাকর্মের ওপর যারা নজর বুলিয়েছেন, তারা মুসলিম ও তাদের ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর চরম বিদ্বেষ ও তীব্র ঘৃণা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করেন। এর প্রমাণ এই যে, তিনি হাদিসের সমস্ত আলিম এবং নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের (رواة) বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, জালিয়াতি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে হাদিস জাল (وضع) করার অপবাদ দিয়েছেন।
দ্বিতীয়ত: ডক্টর নাজম খালাফ উল্লেখ করেছেন যে, মরক্কোর একজন শায়খ, যাঁর নাম মোস্তফা আল-মাগরিবী, তিনি ১৪০৩ হিজরি সালে রাবাত শহরে তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, প্রাচ্যবিদ "শাখত"...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
قد استعار منه، ومن غيره بعض المخطوطات أثناء إقامته في المغرب، ثم استولى عليها ولم يعدها، رغم المكاتبات والشفاعات، بل أنكرها في النهاية (1) .
مكانته العلمية عند المستشرقين
إن الكلام على مكانة هذا الرجل عند المستشرقين، لا يُراد به مدحه أو الثناء عليه، ولكن بيان مدى مكانة أحكامه وأقواله لدى المهتمين بالدراسات الإسلامية عند غير المسلمين، وحتى تتبين لنا الخطورة التي تمثلها الآراء التي يبثها في أوساط المستشرقين، وفيما يلي بعض النصوص الدالة على ذلك:
يقول سافوري: ((من أكبر علماء الشريعة الإسلامية في العالم)) (2) .
ويقول السير هاملتون جيب: ((سيصبح كتاب "أصول الفقه المحمدي" أساساً لجميع الدراسات المستقبلية في الحضارة الإسلامية والفقه الإسلامي، ولو عند الغربيين على الأقل)) (3) .
ويقول كولسون أستاذ الفقه الإسلامي في جامعة لندن: ((إن "شاخت" صاغ نظرية عن أصول الشريعة الإسلامية غير قابلة للدحض)) (4) .
ويقول الدكتور محمد مصطفى الأعظمي: ((أما المنزلة التي وصل إليها البروفسور " شاخت "، فلم يصل إليها من قبل أي مستشرق في هذا المجال)) (5) .
--------------------------------------------
তিনি মরক্কোতে অবস্থানকালীন তাঁর কাছ থেকে এবং অন্যদের কাছ থেকে কিছু পাণ্ডুলিপি (مخطوطات) ধার নিয়েছিলেন; অতঃপর তিনি সেগুলো হস্তগত করেন এবং বিভিন্ন চিঠিপত্র ও সুপারিশ সত্ত্বেও তা ফেরত দেননি, বরং শেষ পর্যন্ত তিনি তা অস্বীকার করেন (১)।
প্রাচ্যবিদদের (المستشرقون) নিকট তাঁর জ্ঞানগত মর্যাদা
প্রাচ্যবিদদের (المستشرقون) নিকট এই ব্যক্তির মর্যাদা নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্য তাঁর প্রশংসা বা স্তুতি করা নয়, বরং অমুসলিমদের মধ্যে যারা ইসলামি শিক্ষা নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত, তাদের নিকট তাঁর সিদ্ধান্ত ও বক্তব্যের প্রভাব কতখানি তা স্পষ্ট করা। এর মাধ্যমে প্রাচ্যবিদদের (المستشرقون) পরিমণ্ডলে তিনি যেসব মতবাদ প্রচার করেন তার ভয়াবহতা আমাদের নিকট প্রতিভাত হবে। নিচে এ সংক্রান্ত কিছু উদ্ধৃতি তুলে ধরা হলো:
সাভোরি বলেন: ((তিনি বিশ্বের ইসলামি শরিয়াহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত)) (২)।
স্যার হ্যামিল্টন গিব বলেন: (( "উসুলুল ফিকহ আল-মুহাম্মাদি" গ্রন্থটি ইসলামি সভ্যতা ও ইসলামি ফিকহ সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ সকল গবেষণার ভিত্তি হিসেবে গণ্য হবে, অন্তত পশ্চিমাদের ক্ষেত্রে তো বটেই)) (৩)।
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি ফিকহ বিষয়ের অধ্যাপক কোলসন বলেন: (("শাখত" ইসলামি শরিয়াহর মূলনীতি (أصول) সম্পর্কে এমন এক তত্ত্ব প্রদান করেছেন যা খণ্ডন করা অসম্ভব)) (৪)।
ডক্টর মুহাম্মদ মোস্তফা আল-আজমি বলেন: ((প্রফেসর "শাখত" যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, ইতিপূর্বে কোনো প্রাচ্যবিদ (مستشرق) এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেননি)) (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ويقول أيضاً: ((وصار كتابه - يعني أصول الفقه المحمدي - منذ ذلك الحين " إنجيلاً ثانياً " لعالم الاستشراق، وفاق " شاخت " سلفه "جولد زيهر" حيث غيَّر نظرته التشكيكية في صحة الأحاديث، إلى نظرة متيقنة في عدم صحتها، ولقد ترك كتابه هذا أثراً عميقاً في تفكير دارسي الحضارة الإسلامية
… وكافة الباحثين في الغرب، أثنوا عليه ثناء عاطراً)) (1) .
ويقول الصديق بشير نصر: ((وليس من قبيل المبالغة إذا قلت: إن كل من كتب بعده من المستشرقين في هذا الحقل المعرفي هم عيال عليه، وحسبك أنه لا تكاد توجد جامعة من جامعات الغرب لها اعتناء بالدراسات الإسلامية، إلا ونجد هذا الكتاب مقرراً على طلابها)) (2) .
ويؤكد برونشفيج أن أغلب العلماء في الغرب قبلوا ووافقوا على نظرية "شاخت" في الحديث النبوي؛ لما تتضمنه من تحليلات ونظام نقدي وتفسيري (3) .
إنتاجه العلمي
يعد " شاخت " من المستشرقين الغزيري الإنتاج، ويظهر هذا جلياً لمن يدقق في القائمة التي جمعها روبير برونشفيج (4) ، والسرد الذي قام به نجيب العقيقي (5) ، ولعل أبرز كتبه هي: أصول الفقه المحمدي، ومدخل إلى الفقه
--------------------------------------------
তিনি আরও বলেন: ((এবং তার গ্রন্থটি - অর্থাৎ উসুলুল ফিকহ আল-মুহাম্মাদি - সেই সময় থেকে প্রাচ্যতত্ত্ব জগতের জন্য একটি "দ্বিতীয় ইঞ্জিল" হয়ে উঠেছে। "শাخت" তার পূর্বসূরি "গোল্ডজিহার"-কেও ছাড়িয়ে গেছেন; কারণ তিনি হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) বিষয়ে তার সংশয়বাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে এর অশুদ্ধতা (عدم صحة) বিষয়ে একটি সুনিশ্চিত দৃষ্টিভঙ্গিতে রূপান্তর করেছেন। তার এই গ্রন্থটি ইসলামি সভ্যতার গবেষকদের... এবং পাশ্চাত্যের সকল গবেষকদের চিন্তাধারায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে এবং তারা তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন)) (১)।
আস-সিদ্দিক বশির নাসর বলেন: ((আমি যদি বলি যে, এই জ্ঞানক্ষেত্রে তার পরে যারা প্রাচ্যতাত্ত্বিক হিসেবে লিখেছেন তারা সবাই তার ওপর নির্ভরশীল, তবে তা মোটেও অতিরঞ্জন হবে না। আপনার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, পাশ্চাত্যের এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যেখানে ইসলামি শিক্ষা নিয়ে চর্চা করা হয় অথচ এই বইটি সেখানকার ছাত্রদের জন্য পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত নয়)) (২)।
ব্রুনশভিগ নিশ্চিত করেছেন যে, পাশ্চাত্যের অধিকাংশ পণ্ডিত নবিজি ﷺ-এর হাদিস বিষয়ে "শাخت"-এর তত্ত্ব গ্রহণ ও সমর্থন করেছেন; কারণ এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বিশ্লেষণ এবং একটি সমালোচনামূলক ও ব্যাখ্যামূলক পদ্ধতি (৩)।
তার জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদান
"শাخت" প্রচুর সৃজনশীল কাজের অধিকারী প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের মধ্যে অন্যতম। রবার্ট ব্রুনশভিগ (৪) কর্তৃক সংকলিত তালিকা এবং নাজিব আল-আকিকি (৫) এর বিবরণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। সম্ভবত তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো: উসুলুল ফিকহ আল-মুহাম্মাদি এবং মাদখাল ইলাল ফিকহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الإسلامي، وتحريره لبعض مواد دائرة المعارف الإسلامية في طبعتيها القديمة والجديدة، وأما مقالاته وبحوثه المنشورة في المجلات العلمية فهي كثيرة جداً كما يظهر من عرض برونشفيج، والعقيقي.
ويعد كتابه " أصول الفقه المحمدي " أشهر كتبه، وقد قام الأستاذ الصديق بشير نصر بترجمة بعض فصوله، ونشرها في مجلة كلية الدعوة الإسلامية بليبيا.
وفاته
هلك " شاخت " في غرة شهر أغسطس سنة 1969م في مدينة إنجلوود بولاية نيوجرسي في الولايات المتحدة الأمريكية، وقد كان يتأهب للانتقال إلى منزل آخر لقرب موعد تقاعده، وقد وافته المنية حيث كان منهمكاً في مراجعة كتاب " تراث الإسلام "، وهو من تأليف عدد من الباحثين (1) .
--------------------------------------------
ইসলামিক, এবং ইসলামি বিশ্বকোষের প্রাচীন ও নতুন উভয় সংস্করণের কিছু বিষয়বস্তুর সম্পাদনা; আর বৈজ্ঞানিক সাময়িকীগুলোতে প্রকাশিত তাঁর প্রবন্ধ ও গবেষণাসমূহ সংখ্যায় অনেক, যা ব্রুনশভিগ এবং আল-আকিকি-এর উপস্থাপনা থেকে স্পষ্ট হয়।
তাঁর রচিত "উসুলুল ফিকহ আল-মুহাম্মাদি" গ্রন্থটি তাঁর সর্বাধিক বিখ্যাত বই হিসেবে বিবেচিত। অধ্যাপক সিদ্দিক বশির নাসর এর কিছু অধ্যায় অনুবাদ করেছেন এবং লিবিয়ার কুল্লিয়াতুদ দাওয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ সাময়িকীতে তা প্রকাশ করেছেন।
মৃত্যু
'শখত' ১৯৬৯ সালের আগস্ট মাসের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের এঙ্গেলউড শহরে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তাঁর অবসরের সময় ঘনিয়ে আসায় অন্য একটি বাড়িতে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। যখন তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন তিনি "তুরাসুল ইসলাম" নামক গ্রন্থটি পর্যালোচনায় নিমগ্ন ছিলেন, যা বেশ কয়েকজন গবেষকের সম্মিলিত রচনা (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الثاني: عرض موجز لأهم آرائه حول السنة النبوية…المبحث الثاني: عرض موجز لأهم آرائه في السنة النبوية
تتلخص أهم آراء المستشرق " جوزيف شاخت " في السنة النبوية في النقاط التالية:
1 - إن الرسول صلى الله عليه وسلم لم يكن مهتماً ببيان أمور الشريعة –القانون-، كالقضايا المتعلقة بالمعاملات المالية والأحوال الشخصية والقضاء، وفي ذلك يقول: ((في الجزء الأكبر من القرن الأول لم يكن للفقه الإسلامي - في معناه الاصطلاحي - وجود كما كان في عهد النبي، والقانون - أي الشريعة - من حيث هي هكذا كانت تقع خارجة عن نطاق الدين
… فقد كانت مسألة القانون تمثل عملية لا مبالاة بالنسبة للمسلمين)) (1) .
2 - إن مفهوم السنة قديماً عند المدارس الفقهية القديمة، يعني الأمر المجتمع عليه، أو بمعنى آخر التطبيقات المثالية للجماعة، ويؤدي التسليم بهذه الحقيقة إلى أن مصطلح " السنة " لا علاقة له بأقوال الرسول صلى الله عليه وسلم وأفعاله، وقد بنت المدارس الفقهية القديمة مفهومها للسنة وفقاً للمعنى القديم (2) .
3 - لم يكن الاحتجاج بالأحاديث ذات الأسانيد المتصلة إلى رسول صلى الله عليه وسلم معروفاً عند المدارس الفقهية في القرنين الأول والثاني الهجريين، وإنما بدأ هذا الأمر مع نشأة حزب معارض يقوده الإمام الشافعي يرى ضرورة إسناد الاستدلالات الفقهية إلى أقوال الرسول صلى الله عليه وسلم أو أفعاله، مما أدى إلى ظهور أحاديث تفصيلية مكذوبة عن الرسول صلى الله عليه وسلم من أجل إيجاد مصدر تشريعي
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ মতামতের সংক্ষিপ্ত উপস্থাপন…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ মতামতের সংক্ষিপ্ত উপস্থাপন
সুন্নাহ সম্পর্কে প্রাচ্যবিদ "জোসেফ শ্যাখ্ট"-এর প্রধান মতামতগুলো নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১ - রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শরিয়াহর বিষয়সমূহ—অর্থাৎ আইন—যেমন আর্থিক লেনদেন, ব্যক্তিগত অবস্থা এবং বিচার ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিষয়াদি বর্ণনা করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন: “প্রথম হিজরি শতাব্দীর অধিকাংশ সময় জুড়ে ইসলামি ফিকহ—এর পারিভাষিক অর্থে—বিদ্যমান ছিল না যেমনটি নবীর যুগেও ছিল না; আর আইন—অর্থাৎ শরিয়াহ—তার নিজস্ব সত্তার দিক থেকে ধর্মের পরিধির বাইরে অবস্থান করছিল... প্রকৃতপক্ষে আইনের বিষয়টি মুসলিমদের নিকট একটি উদাসীন প্রক্রিয়ার প্রতিনিধিত্ব করত।” (১)
২ - প্রাচীন ফিকহি মাযহাবগুলোর নিকট ‘সুন্নাহ’র প্রাচীন ধারণা ছিল সর্বসম্মত বিষয়, অন্য কথায় জামাআতের আদর্শিক কার্যাবলি। এই সত্যকে স্বীকার করে নিলে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, "সুন্নাহ" পরিভাষাটির সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা ও কাজের কোনো সম্পর্ক নেই। আর প্রাচীন ফিকহি মাযহাবগুলো সুন্নাহ সম্পর্কে তাদের ধারণা এই প্রাচীন অর্থের আলোকেই গড়ে তুলেছিল। (২)
৩ - প্রথম ও দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর ফিকহি মাযহাবগুলোর নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন (متصلة) সনদ (أسانيد) সম্বলিত হাদিসগুলোর মাধ্যমে দলিল পেশ করার বিষয়টি পরিচিত ছিল না। বরং ইমাম শাফিঈর নেতৃত্বে একটি বিরোধী গোষ্ঠীর উদ্ভবের মাধ্যমে এই বিষয়টি শুরু হয়, যারা ফিকহি দলীলগুলোকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা বা কাজের দিকে সম্পর্কিত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতেন। এর ফলে একটি বিধানগত উৎস তৈরির লক্ষ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে বিস্তারিত মিথ্যা (مكذوبة) হাদিসগুলোর আবির্ভাব ঘটে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
لآراء الحزب الفقهية، إلا أن المدارس القديمة حاولت أن تقاوم هذا الحزب المعارض الجديد، ولكنها رأت أن ذلك أصبح صعباً؛ للقبول العام الذي وجده في الأوساط العامة، مما أدى حسب رأي " شاخت " أن تلك المدارس شاركت أيضاً في الكذب والوضع على الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم حتى تضمن الانتصار في المناظرات العنيفة مع الخصوم والمخالفين (1) .
4 - بدأ الإسناد عند المسلمين بالظهور في أوائل القرن الثاني، أو أواخر نهاية القرن الأول الهجري (2) .
5 - نتيجة لما تقدم يرى " شاخت " أنه قد أصبح من عادة العلماء - وبدون استثناء كما يظهر من عباراته - خلال القرنين الثاني والثالث الهجريين أن ينسبوا عباراتهم إلى الرسول صلى الله عليه وسلم بذكر أسانيد اعتباطية تفتقر للتسويغ المنطقي الذي يدل على التنظيم والعناية (3) .
6 - تم تطوير الأسانيد بشكل تدريجي من خلال التزوير والوضع. لقد كانت الأسانيد المتقدمة غير مكتملة (يعني: فيها إرسال، أو موقوفة، أو مقطوعة، أو منقطعة) ، لكن تم ملء كل الفراغات في وقت تدوين المصنفات المشهورة التي تسمى بالمجموعات التقليدية كالكتب الستة ومسند أحمد وأمثالها (4) .
--------------------------------------------
দলটির ফিকহী মতামতের প্রেক্ষিতে প্রাচীন মাযহাবগুলো এই নতুন বিরোধী দলটিকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা দেখল যে এটি কঠিন হয়ে পড়েছে; কারণ সাধারণ মহলে এটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল। এর ফলে 'শাখত'-এর মতে, সেই মাযহাবগুলোও প্রতিপক্ষ ও বিরোধীদের সাথে তীব্র বিতর্কে বিজয় নিশ্চিত করতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে মিথ্যাচার (الكذب) ও জালিয়াতির (الوضع) আশ্রয় নিয়েছিল (১) ।
৪ - মুসলমানদের মাঝে ইসনাদ (الإسناد) ব্যবস্থার প্রচলন দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর শুরুতে অথবা প্রথম হিজরি শতাব্দীর শেষের দিকে শুরু হয়েছিল (২) ।
৫ - উপরোক্ত বিষয়গুলোর ভিত্তিতে 'শাখত' মনে করেন যে, হিজরি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে আলেমদের মজ্জাগত স্বভাবে পরিণত হয়েছিল—এবং তার বর্ণনা অনুযায়ী কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই—যে তারা তাদের নিজস্ব বক্তব্যগুলোকে কোনো যৌক্তিক ভিত্তি ছাড়াই এলোমেলো সব ইসনাদ (أسانيد) উল্লেখ করে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করত, যা কোনো সুশৃঙ্খলতা বা সতর্কতার প্রমাণ বহন করে না (৩) ।
৬ - জালিয়াতি (التزوير) এবং জাল করার (الوضع) মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ইসনাদগুলোর (الأسانيد) উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে। পূর্ববর্তী ইসনাদগুলো অসম্পূর্ণ ছিল (অর্থাৎ সেগুলোর মাঝে মুরসাল (إرسال), মাওকুফ (موقوفة), মাকতু (مقطوعة) অথবা মুনকাতি (منقطعة) অবস্থা বিদ্যমান ছিল) , কিন্তু কুতুবুস সিত্তা, মুসনাদে আহমাদ এবং এ জাতীয় প্রসিদ্ধ সংকলনসমূহ রচনার সময় সব শূন্যস্থান পূরণ করে দেওয়া হয়েছিল (৪) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
7 - الأسانيد العائلية مثل عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده، وبهز ابن حكيم عن أبيه عن جده، كلها مختلقة سنداً ومتناً (1) .
8 - كل حديث في إسناده راو مشترك (يعني الراوي الذي عليه مدار السند) ، يدل أن ذلك الراوي هو الذي اختلق سند ذلك الحديث (2) .
9 - ابتكر " شاخت " قاعدة؛ ليستدل بها على أن كثيراً من الأحاديث لم تكن إبان فترة الإسلام الأولى، ونص هذه القاعدة: "السكوت عن الحديث في موطن الاحتجاج دليل على عدم وجوده"، ويوضح رأيه بجلاء في هذا النص حيث يقول: ((إن أفضل سبيل لإثبات عدم وجود حديث ما في وقت من الأوقات، يكون بإثبات أن ذلك الحديث لم يستخدم دليلاً شرعياً في حجاج - يعني في مسألة خلافية - في الوقت الذي يكون الاستدلال به أمراً لازماً، هذا إذا كان الحديث نفسه موجوداً)) (3) .
10 - النتيجة النهائية التي هي خلاصة آراء " شاخت " في السنة النبوية أنه لا يمكن الحكم بصحة أي حديث من أحاديث الأحكام المروية بالسند إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وفي ذلك يقول: ((من العسير أن يُعد أي من هذه الأحاديث صحيحاً فيما يتعلق بمسائل التشريع الديني)) (4) .
وفي ذلك يقول الأعظمي: ((وخلاصة ما وصل إليه من نتائج أنه ليس هناك حديث واحد صحيح، وخاصة الأحاديث الفقهية)) (5) .
--------------------------------------------
7 - পারিবারিক সনদ (أسانيد عائلية) যেমন—আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে, এবং বাহয ইবনে হাকিম তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন; এগুলোর সবই সনদ (سند) এবং মতন (متن) উভয় দিক থেকে বানোয়াট (مختلقة) (১)।
8 - যে হাদিসের সনদে (إسناد) একজন সাধারণ বর্ণনাকারী (راو مشترك) থাকে (অর্থাৎ এমন বর্ণনাকারী যার ওপর সনদের আবর্তন (مدار السند) ঘটে), তা নির্দেশ করে যে সেই বর্ণনাকারীই ওই হাদিসের সনদ (سند) জাল (اختلق) করেছে (২)।
9 - "শাখত" একটি মূলনীতি উদ্ভাবন করেছেন; যাতে তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে, অনেক হাদিসই ইসলামের প্রাথমিক যুগে বিদ্যমান ছিল না। এই মূলনীতির ভাষ্য হলো: "প্রমাণের ক্ষেত্রে (موطن الاحتجاج) হাদিস সম্পর্কে নীরবতা পালন করা তার অস্তিত্বহীনতারই প্রমাণ (دليل)"। তিনি তাঁর এই অভিমতটি এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেখানে তিনি বলেন: "কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো হাদিসের অস্তিত্ব না থাকা প্রমাণের সর্বোত্তম পন্থা হলো এটি প্রমাণ করা যে, সেই হাদিসটি কোনো বিতর্কিত বিষয়ে—অর্থাৎ কোনো মতবিরোধপূর্ণ মাসআলায়—শরয়ি দলিল (دليل شرعي) হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, এমন এক সময়ে যখন সেটি দিয়ে দলিল (استدلال) পেশ করা আবশ্যক ছিল; যদি হাদিসটি স্বয়ং বিদ্যমান থাকত" (৩)।
10 - সুন্নাহ সম্পর্কে "শাখত"-এর মতামতের চূড়ান্ত নির্যাস হলো—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত সনদ (سند) সহ বর্ণিত বিধান সংক্রান্ত হাদিসগুলোর (أحاديث الأحكام) কোনোটিকেই সহিহ (صحة) বলে গণ্য করা সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন: "ধর্মীয় বিধানের (التشريع الديني) ক্ষেত্রে এই হাদিসগুলোর কোনোটিকে সহিহ (صحيح) মনে করা অত্যন্ত দুরূহ" (৪)।
এ প্রসঙ্গে আল-আজমি বলেন: "তিনি যে ফলাফলে পৌঁছেছেন তার সারকথা হলো—সেখানে একটি হাদিসও সহিহ (صحيح) নেই, বিশেষ করে ফিকহি হাদিসগুলোর (الأحاديث الفقهية) ক্ষেত্রে" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
إن مجمل آراء هذا الرجل في السنة النبوية تؤكد حقيقة واحدة هي أن مجموع الأحاديث المروية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ما هي في واقع الأمر إلا نتاج تزييف ديني واسع النطاق (1) ، وعليه فإن علماء المسلمين من فقهاء ومحدثين - من وجهة نظره الفاسدة - إنما هم مجموعة من الكذابين.
--------------------------------------------
সুন্নাহ সম্পর্কে এই ব্যক্তির সামগ্রিক চিন্তাধারা একটি ধ্রুব সত্যকেই নিশ্চিত করে, আর তা হলো—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহের সংকলন প্রকৃতপক্ষে ব্যাপক পরিসরের ধর্মীয় জালিয়াতিরই এক অশুভ পরিণতি (১)। সেই সূত্রে, তার ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণের সমন্বয়ে গঠিত মুসলিম পণ্ডিত সমাজ আসলে একদল মিথ্যুক (كذاب) বৈ কিছু নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الفصل الثاني: عيوب المنهج العلمي عند "شاخت"
المبحث الأول: التحيز العنصري في المسلمات الأولية.
…الفصل الثاني: عيوب المنهج العلمي عند " شاخت "
ويشتمل على المباحث التالية:
المبحث الأول: التحيز العنصري في المسلمات الأولية.
المبحث الثاني: الانتقائية في اختيار المصادر.
المبحث الثالث: الشك غير المنهجي.
المبحث الرابع: إهمال الأدلة المضادة.
المبحث الخامس: التفسير المتعسف للنصوص.
المبحث السادس: التعميم الفاسد.
দ্বিতীয় অধ্যায়: "শ্যাখট"-এর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ত্রুটিসমূহ
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাথমিক স্বতঃসিদ্ধসমূহের ক্ষেত্রে বর্ণবাদী পক্ষপাত.
…দ্বিতীয় অধ্যায়: "শ্যাখট"-এর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ত্রুটিসমূহ
এটি নিম্নলিখিত পরিচ্ছেদগুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাথমিক স্বতঃসিদ্ধসমূহের ক্ষেত্রে বর্ণবাদী পক্ষপাত।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উৎস নির্বাচনে বাছাইপ্রবণতা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পদ্ধতিহীন সংশয়।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিপরীত প্রমাণাদির উপেক্ষা।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মূলপাঠসমূহের স্বেচ্ছাচারী ব্যাখ্যা।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ভ্রান্ত সাধারণীকরণ।
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الأول: التحيز العنصري في المسلمات الأولية
لا يخلو أي بحث علمي من مسلمات أولية أو ما يسمى بالأفكار القبلية، لا يتكلم عليها الباحث ولا يصرح بها، ولكنه ينطلق منها في معالجة القضايا التي يتطرق لها في بحثه (1) ، والملاحظ أن " شاخت " كان في المسلمات الأولية في كتاباته عن السنة النبوية واقعاً تحت تأثير تحيز عنصري ضد العرب والمسلمين، وهو وإن لم يصرح بمسلماته بصورة جلية وواضحة
-لغايات لا تخفى على اللبيب-، إلا أن ذلك يظهر بجلاء في حكمه القاطع والجازم على صفوة الأمة وأوثق علمائها بأنهم من الكذابين، وأنهم اختلقوا الأسانيد ونسبوها زوراً وافتراءً لرسولهم صلى الله عليه وسلم.
ونتيجة لهذه المسلَّمة القاطعة التي تجذرت في وعيه، أشار إلى أن الأسانيد في كتب السنة، والتي تدل على اتصال الإسناد إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ لا قيمة لها، ((بل هي كذب محض؛ لأن الأحاديث النبوية بكاملها لم توجد إلا في القرنين الثاني والثالث، فكيف يمكن أن نتصور وجود الأسانيد قبل وجود المتون؟ بل لا بد أن توجد المتون من قبل ثم تظهر الأسانيد لا العكس)) (2) ، ويقول في تقرير هذا الأمر: ((إن أكبر جزء من أسانيد الأحاديث اعتباطي
… وأي حزب يريد نسبة آرائه إلى المتقدمين، كان يختار تلك الشخصيات
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাথমিক স্বতঃসিদ্ধ ধারণাসমূহে জাতিগত পক্ষপাত
যেকোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণাই প্রাথমিক স্বতঃসিদ্ধ (مسلمات أولية) বা তথাকথিত প্রাক-ধারণা থেকে মুক্ত নয়, যে সম্পর্কে গবেষক নিজে আলোচনা করেন না কিংবা তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন না; তবে তিনি গবেষণায় আলোচিত বিষয়সমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এখান থেকেই যাত্রা শুরু করেন (১)। লক্ষণীয় যে, "শ্যাখট" সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর রচনাবলিতে প্রাথমিক স্বতঃসিদ্ধ (مسلمات أولية) ধারণার ক্ষেত্রে আরব ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাতিগত পক্ষপাতের প্রভাবে প্রভাবিত ছিলেন। যদিও তিনি তাঁর স্বতঃসিদ্ধ ধারণাগুলোকে স্পষ্ট ও পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করেননি
—এমন সব উদ্দেশ্যের কারণে যা বুদ্ধিমানের কাছে গোপন নয়—তবে উম্মাহর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁদের সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) আলেমদের ওপর তাঁর চূড়ান্ত ও অটল রায়ের মাধ্যমে এটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে; যেখানে তিনি তাঁদের মিথ্যাবাদী (كذابين) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তাঁরা সনদসমূহ (أسانيد) জাল করেছেন এবং তা মিথ্যা ও অপবাদ আরোপের মাধ্যমে তাঁদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে নিসবত (نسبوها) করেছেন।
তাঁর চেতনার গভীরে প্রোথিত এই অটল স্বতঃসিদ্ধ ধারণার ফলশ্রুতিতে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, হাদিসের গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান সনদগুলো (أسانيد), যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সনদের ধারাবাহিকতা (اتصال الإسناد) প্রমাণ করে, সেগুলোর কোনো মূল্য নেই; ((বরং এগুলো নিছক মিথ্যা; কারণ সামগ্রিকভাবে হাদিসসমূহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর আগে পাওয়া যায়নি। সুতরাং মূল পাঠ বা মতন (متون) বিদ্যমান থাকার আগে আমরা কীভাবে সনদের (أسانيد) অস্তিত্ব কল্পনা করতে পারি? বরং অবশ্যই মতন (متون) আগে বিদ্যমান থাকতে হবে এবং তারপর সনদ (أسانيد) প্রকাশ পাবে, এর বিপরীতটি নয়)) (২)। এই বিষয়টি সাব্যস্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন: ((হাদিসের সনদের (أسانيد) সিংহভাগই খামখেয়ালি
… এবং যেকোনো দল যখন তাদের মতামতকে পূর্ববর্তীদের দিকে নিসবত (نسبة) করতে চাইত, তখন তারা সেই সব ব্যক্তিত্বদের বেছে নিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ويضعها في الإسناد)) (1) ، وقد نقلنا عنه آنفاً أنه لا يعتقد بوجود أي حديث صحيح من أحاديث الأحكام المروية بالسند المتصل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وهذا الرأي القطعي - في نظره - يدل دلالة واضحة على أنه مبني على مسلمة أولية راسخة عنده، وهي أن علماء المسلمين قوم كذبة، كانوا يستبيحون الكذب ويستحلونه في أمور دينهم ولا يتورعون عنه، بل يفهم من كلامه أنهم مجمعون على ذلك، ومتواطئون عليه، ولو لم يكونوا كذلك في نظر "شاخت"؛ لما قرر نتيجته السابقة بعمومية وإطلاق ومن دون أي استثناءات أو قيود.
وسنناقش هذه المسلمة بما فيها من تحيز عنصري بغيض، مما يدل على أن الرجل واقع تحت تأثير الأفكار السابقة عن المسلمين الكامنة في عقلية عوام الغربيين.
ولكن قبل ذلك لابد من الإشارة إلى أن أهم صفة يجب أن يتحلى بها الباحث العلمي هي الإنصاف والعدل حتى مع خصومه ومخالفيه، والتي يعبر عنها المتخصصون في المنهج العلمي بالموضوعية. ويقرر أولئك العلماء أن أشد نواقض الموضوعية وقوادحها؛ التحيز ضد قومية أو فكرة أو مبدأ أو شخص أو مذهب.. إلخ.
ويحذر المختصون في المنهج العلمي أي باحث من الوقوع في التحيز أو التعصب العنصري؛ لأن ذلك يتعارض مع مبدأ الموضوعية، وسأورد فيما يلي نصوصاً منتقاة لبعض المختصين تؤكد هذه الحقيقة التي أصبحت إحدى مسلمات المنهج العلمي بصورة مطلقة.
--------------------------------------------
এবং তিনি তা সূত্র পরম্পরার (إسناد) মধ্যে স্থাপন করেন (১), আর আমরা ইতিপূর্বেই তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছি যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সূত্রের (سند متصل) মাধ্যমে বর্ণিত বিধান সম্পর্কিত কোনো হাদিসকেই সহিহ (صحيح) বলে বিশ্বাস করেন না।
তাঁর দৃষ্টিতে এই চূড়ান্ত অভিমতটি স্পষ্টভাবেই নির্দেশ করে যে, এটি তাঁর এক গভীর ও প্রাথমিক স্বতঃসিদ্ধ ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে; আর সেটি হলো—মুসলিম আলিমগণ একদল মিথ্যাবাদী (كذبة) জাতি, যারা নিজেদের দ্বীনি বিষয়ে মিথ্যা বলাকে বৈধ মনে করতেন এবং এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সংকোচবোধ করতেন না। বরং তাঁর বক্তব্য থেকে এটিই বোঝা যায় যে, তাঁরা এ বিষয়ে সর্বসম্মত (مجمعون) ছিলেন এবং এ ব্যাপারে তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক যোগসাজশ (متواطئون) ছিল। 'শাখত'-এর দৃষ্টিতে যদি বিষয়টি এমন না হতো, তবে তিনি কোনো প্রকার ব্যতিক্রম বা শর্ত ছাড়াই ঢালাওভাবে ও সাধারণভাবে তাঁর পূর্বোক্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতেন না।
আমরা এই স্বতঃসিদ্ধ ধারণাটিকে এর অন্তর্ভুক্ত জঘন্য জাতিগত পক্ষপাতদুষ্টতাসহ আলোচনা করব; যা প্রমাণ করে যে, এই ব্যক্তি সাধারণ পশ্চিমাদের মানসিকতায় প্রোথিত মুসলিমদের সম্পর্কে থাকা পূর্বনির্ধারিত ধারণার প্রভাবে প্রভাবিত।
তবে তার আগে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, একজন গবেষকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে গুণটি থাকা অপরিহার্য তা হলো—এমনকি প্রতিপক্ষ ও বিরোধীদের ক্ষেত্রেও ইনসাফ ও ন্যায়বিচার বজায় রাখা, যাকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বিশেষজ্ঞরা বস্তুনিষ্ঠতা বলে অভিহিত করেন। সেই সমস্ত আলিমগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, কোনো জাতি, ধারণা, মূলনীতি, ব্যক্তি বা মাযহাবের (مذهب) প্রতি পক্ষপাতিত্ব করাই হলো বস্তুনিষ্ঠতার সবচেয়ে বড় পরিপন্থী ও ত্রুটি।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বিশেষজ্ঞরা যে কোনো গবেষককে পক্ষপাতিত্ব বা জাতিগত গোঁড়ামিতে নিপতিত হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেন; কারণ এটি বস্তুনিষ্ঠতার মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক। আমি নিম্নে কয়েকজন বিশেষজ্ঞের কিছু নির্বাচিত উদ্ধৃতি তুলে ধরব যা এই সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে, যা বর্তমানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অন্যতম অবিচ্ছেদ্য স্বতঃসিদ্ধ বিষয় হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يقول روبرت ثاولس: ((من الأمور التي تجعلنا ميالين إلى التفكير الأعوج، تحيزاتنا التي هي: طرق في التفكير تقررها سلفاً قوى ودوافع انفعالية شديدة، كالتي يكون مصدرها منافعنا الذاتية الخاصة، أو ارتباطاتنا الاجتماعية)) (1) . ويقول: ((إننا نكون تحت تأثير الهوى والتحيز في آرائنا ميالين إلى تصديق ما نرغب في تصديقه، أو ما نحتاج إليه أن يكون صحيحاً، وإلى إنكار ما نرغب في إنكاره، أو ما نحتاجه أن يكون باطلاً)) (2) .
ويقول فؤاد زكريا في كلام له عن التعصب - الذي هو وجه من وجوه التحيز والعنصرية - بوصفه أحد أهم عقبات التفكير العلمي،: ((التعصب هو اعتقاد باطل بأن المرء يحتكر لنفسه الحقيقة أو الفضيلة، وبأن غيره يفتقرون إليها، ومن ثم فهم دائماً مخطئون
… فحين أكون متعصباً لا أكتفي بأن أنطوي على ذاتي وأنسب إليها كل الفضائل، بل ينبغي أيضاً أن أستبعد فضائل الآخرين وأنكرها وأهاجمها)) (3) .
وفي نص آخر كأنه يتكلم فيه على " شاخت " يشير فؤاد زكريا أن التعصب بكل أنواعه، كالتعصب العنصري، والتعصب القومي المتطرف وغيرها؛ كلها تشترك في سمة واحدة هي: ((الانحياز إلى موقف الجماعة التي ننتمي إليها دون اختيار، ودون تفكير، والاستعلاء على الآخرين، والاعتقاد بأنهم " أحط ")) (4) .
--------------------------------------------
রবার্ট থাউলেস বলেন: "যেসব বিষয় আমাদের বক্র চিন্তার (التفكير الأعوج) দিকে ধাবিত করে, সেগুলোর মধ্যে একটি হলো পক্ষপাত (التحيز); আর তা হলো: এমন চিন্তাপদ্ধতি যা পূর্বেই কিছু তীব্র আবেগীয় শক্তি ও প্রেরণা দ্বারা নির্ধারিত থাকে, যা আমাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ বা সামাজিক সম্পর্কের উৎস থেকে তৈরি হয়।" (১)। তিনি আরও বলেন: "আমাদের মতামতের ক্ষেত্রে প্রবৃত্তি (الهوى) ও পক্ষপাতের (التحيز) প্রভাবে আমরা যা বিশ্বাস করতে চাই অথবা যা সত্য হওয়া আমাদের জন্য প্রয়োজন তা বিশ্বাস করার দিকে ঝুঁকে পড়ি; এবং যা আমরা অস্বীকার করতে চাই অথবা যা ভ্রান্ত (باطل) হওয়া আমাদের জন্য জরুরি তা অস্বীকার করতে সচেষ্ট হই।" (২)।
ফুয়াদ জাকারিয়া গোঁড়ামি (التعصب) —যা পক্ষপাত (التحيز) ও বর্ণবাদের (العنصرية) একটি রূপ— সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "গোঁড়ামি (التعصب) হলো একটি ভ্রান্ত (باطل) বিশ্বাস যে, কোনো ব্যক্তি কেবল নিজের জন্যই সত্য বা গুণকে একচেটিয়া করে নেয় এবং মনে করে যে অন্যরা তা থেকে বঞ্চিত; ফলে তারা সর্বদা ভুলকারী
… যখন আমি গোঁড়া (متعصب) হই, তখন আমি কেবল নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে সব গুণ নিজের দিকেই আরোপ করে ক্ষান্ত হই না, বরং অন্যদের গুণাবলী বর্জন করা, অস্বীকার করা এবং আক্রমণ করাকেও আবশ্যক মনে করি।" (৩)।
অন্য একটি পাঠে, যেখানে তিনি সম্ভবত "শাখত" সম্পর্কে কথা বলছেন, ফুয়াদ জাকারিয়া ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সব ধরনের গোঁড়ামি (التعصب), যেমন বর্ণবাদী গোঁড়ামি এবং উগ্র জাতীয়তাবাদী গোঁড়ামি ইত্যাদি; সবই একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যে অংশীদার, তা হলো: "বিনা বিচারে এবং চিন্তা ছাড়াই যে দলের সাথে আমরা সংশ্লিষ্ট তাদের অবস্থানের দিকে পক্ষপাতিত্ব (الانحياز) করা, অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করা এবং তাদের 'হীন' মনে করা।" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ثم يعدد مضار التعصب على روح المنهج العلمي فيقول: ((وأعظم الأخطار التي يجلبها التعصب على العلم، هو أنه يجعل الحقيقة ذاتية، ومتعددة، ومتناقضة، وهو ما يتعارض كلية وطبيعة الحقيقة العلمية
… كما ينطوي التعصب على تفكير أسطوري - خرافي - يتسم بطابع وهمي مختلق، وهو بطبيعته يشجع التفكير غير العقلي؛ لأنه هو الدعامة الوحيدة لموقفه، ومن هنا كان أساس النازية هو " أسطورة " الجنس الآري المتفوق، وكان أساس التفرقة العنصرية هو " أسطورة " الجنس الزنجي المنحط، إلى غير ذلك من الأساطير التي يستند إليها كل شكل من أشكال التعصب)) (1) .
ويقول أحد المختصين في منهجية البحث التاريخي: ((إذا وقع الباحث في أسر التعصب، كان من السهل وصمه بالذاتية التي هي نقيض الموضوعية والعلم)) (2) .
إن نظرة سريعة إلى الكتب التي تكلمت على المنهجية العلمية وشروطها؛ تعطينا حكماً عاماً بأن الباحث المتحيز لا يمكن أن تكون نتائج بحثه علمية بأي حال من الأحوال (3) .
وبعد أن ألممنا بموقف المختصين في منهجية البحث العلمي من التحيز والعنصرية، فلننظر ماذا فعل " شاخت "؟
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল চেতনার ওপর গোঁড়ামির অপকারিতাগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: ((বিজ্ঞানের ওপর গোঁড়ামি যে চরম বিপদগুলো ডেকে আনে তার মধ্যে অন্যতম হলো, এটি সত্যকে ব্যক্তিনিষ্ঠ, বহুমাত্রিক ও স্ববিরোধী করে তোলে; যা বৈজ্ঞানিক সত্যের সামগ্রিক রূপ ও প্রকৃতির সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক
… একইভাবে গোঁড়ামি এমন এক পৌরাণিক ও কাল্পনিক চিন্তাধারাকে ধারণ করে যা অলীক ও মনগড়া (مختلق) বৈশিষ্ট্যে সিক্ত। এটি স্বভাবগতভাবেই অযৌক্তিক চিন্তাকে উৎসাহিত করে; কারণ এটিই এর অবস্থানের একমাত্র অবলম্বন। এখান থেকেই নাৎসিবাদের ভিত্তি ছিল 'শ্রেষ্ঠ আর্য জাতি'র উপকথা, আর বর্ণবৈষম্যের ভিত্তি ছিল 'নিকৃষ্ট কৃষ্ণাঙ্গ জাতি'র উপকথা। এভাবেই আরও নানা উপকথা রয়েছে যার ওপর ভিত্তি করে সব ধরনের গোঁড়ামি গড়ে ওঠে)) (১)।
ঐতিহাসিক গবেষণা পদ্ধতির একজন বিশেষজ্ঞ বলেন: ((যদি একজন গবেষক গোঁড়ামির জালে বন্দি হন, তবে তাকে অতি সহজেই ব্যক্তিনিষ্ঠতার অপবাদে চিহ্নিত করা যায়, যা বস্তুনিষ্ঠতা ও বিজ্ঞানের সম্পূর্ণ বিপরীত)) (২)।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও এর শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করা বইগুলোর ওপর এক পলক দৃষ্টি দিলেই আমাদের এই সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করে যে, একজন পক্ষপাতদুষ্ট গবেষকের গবেষণার ফলাফল কোনো অবস্থাতেই বৈজ্ঞানিক হতে পারে না (৩)।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতির বিশেষজ্ঞদের পক্ষপাত ও বর্ণবাদ সংক্রান্ত অবস্থান সম্পর্কে জানার পর, এখন দেখা যাক "শাখত" কী করেছেন?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
لقد سلب من المسلمين أهم أخلاقهم الفاضلة، فنظر إليهم على أنهم مجموعة من الكذابين، فإن لم يكن هذا التعميم الذي أطلقه " شاخت " على علماء الدين المسلمين يعد تحيزاً عنصرياً وتعصباً مقيتاً، فليس في الدنيا من التعصب أو التحيز ما يستحق هذا الوصف.
إننا حين نقول: إن " شاخت " كان واقعاً تحت تأثير أفكار سابقة عنصرية تضمر احتقاراً للعرب والمسلمين وكراهية لهم، فإن شاهدنا على ذلك أحكام الرجل نفسه ونتائجه التي أعلنها، ويؤيد ذلك ما نعرفه من نصوص لبعض الغربيين أنفسهم من أن المستشرقين حين يبحثون في الإسلام والمسلمين، فإنهم يقومون بذلك من خلال ما ترسب في مخيلتهم الجماعية من صورة أسطورية خرافية مشوهة عن المسلمين، يقول الأستاذ محمد أسد - وهو في الأصل يهودي نمساوي قبل أن يسلم - مبيناً موقف الأوربيين من أهل الكتاب، والمستشرقين بصفة خاصة من الإسلام والمسلمين: ((يعتقد الأوربيون أن تفوقهم العنصري على سائر البشر أمر واقع، ثم إن احتقارهم إلى حد بعيد أو قريب لكل ما ليس أوروبياً من أجناس الناس وشعوبهم قد أصبح إحدى الميزات البارزة في المدنية الغربية.
على أن هذا وحده لا يكفي لإظهار ما يكنُّه الأوربيون نحو الإسلام خاصة، وهنا - نعني فيما يتعلق بالإسلام - لا تجد موقف الأوروبي موقف كره في غير مبالاة فحسب كما هي الحال في موقفه من سائر الأديان والثقافات، بل كره عميق الجذور يقوم في الأكثر على صدود من التعصب الشديد، وهذا الكره ليس عقلياً فحسب، ولكنه يصطبغ أيضاً بصبغة عاطفية قوية. قد لا تقبل أوروبا تعاليم الفلسفة البوذية أو الهندوكية، ولكنها تحتفظ
মুসলমানদের থেকে তাদের অতি গুরুত্বপূর্ণ মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদেরকে একদল মিথ্যাবাদী (كذابون) হিসেবে দেখা হয়েছে। 'শাখত' মুসলিম ধর্মীয় আলেমদের ওপর যে সাধারণীকরণ করেছেন, তা যদি বর্ণবাদী পক্ষপাত এবং জঘন্য গোঁড়ামি হিসেবে গণ্য না হয়, তবে পৃথিবীতে এমন কোনো গোঁড়ামি বা পক্ষপাত নেই যা এই বিশেষণে বিশেষিত হওয়ার যোগ্য।
আমরা যখন বলি যে, 'শাখত' এমন এক পূর্বনির্ধারিত বর্ণবাদী ধারণার বশবর্তী ছিলেন যাতে আরব ও মুসলমানদের প্রতি অবজ্ঞা ও ঘৃণা লালন করা হয়েছে, তখন এর স্বপক্ষে আমাদের প্রমাণ হলো খোদ এই ব্যক্তির বিচার বিশ্লেষণ ও তার ঘোষিত ফলাফলসমূহ। পশ্চিমা গবেষকদের নিজেদের কিছু উক্তিও এর সমর্থন করে, যেখানে বলা হয়েছে যে প্রাচ্যবিদরা যখন ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে গবেষণা করেন, তখন তারা তাদের সামষ্টিক কল্পনারাজিতে গেঁথে থাকা মুসলমানদের সম্পর্কে এক অলীক, কাল্পনিক ও বিকৃত চিত্রের ওপর ভিত্তি করেই তা করেন। উস্তাদ মুহাম্মাদ আসাদ — যিনি ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মূলত একজন অস্ট্রিয়ান ইহুদি ছিলেন — ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি ইউরোপীয়দের এবং বিশেষ করে প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণনা করে বলেন: "ইউরোপীয়রা বিশ্বাস করে যে অন্যান্য মানুষের ওপর তাদের বর্ণবাদী শ্রেষ্ঠত্ব একটি বাস্তব সত্য। তদুপরি, ইউরোপীয় নয় এমন সকল মানবজাতি ও জনগোষ্ঠীর প্রতি কম-বেশি তাদের যে অবজ্ঞা, তা পশ্চিমা সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে।
তবে ইসলামের প্রতি বিশেষ করে ইউরোপীয়রা যা পোষণ করে, তা প্রকাশের জন্য কেবল এটিই যথেষ্ট নয়। এখানে — অর্থাৎ ইসলামের ক্ষেত্রে — ইউরোপীয়দের অবস্থান কেবল উদাসীনতাপূর্ণ ঘৃণা নয়, যেমনটি অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দেখা যায়; বরং এটি অত্যন্ত গভীরমূল ঘৃণা যা মূলত তীব্র গোঁড়ামিপূর্ণ বিমুখতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই ঘৃণা কেবল বুদ্ধিভিত্তিক নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী আবেগীয় রঞ্জকেও রঞ্জিত। ইউরোপ হয়তো বৌদ্ধ বা হিন্দু দর্শনের শিক্ষা গ্রহণ করবে না, কিন্তু তারা বজায় রাখে
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
دائماً فيما يتعلق بهذين المذهبين بموقف عقلي متزن، ومبني على التفكير، إلا أنها حالما تتجه إلى الإسلام يختل التوازن ويأخذ الميل العاطفي بالتسرب، حتى إن أبرز المستشرقين الأوروبيين جعلوا من أنفسهم فريسة التحزب غير العلمي في كتاباتهم عن الإسلام، ويظهر في جميع بحوثهم كما لو أن الإسلام لا يمكن أن يعالج على أنه موضوع بحث في البحث العلمي، بل على أنه متهم يقف أمام قضاته)) (1) .
هذا النص النفيس يمثل شهادة مهمة لأن الأستاذ محمد أسد ينقل واقعاً خبره وعرفه قبل إسلامه، حيث نشأ وتربى في " النمسا " ذات الثقافة الألمانية، وقد تقدم معنا أن " شاخت " نشأ في ألمانيا أيضاً، أضف إلى أنهما ولدا في بدايات القرن العشرين الميلادي، مما يجعل النص الآنف في غاية الأهمية، ولاسيما أنه يوضح لنا بصورة جلية الرؤية المتحيزة للجيل الذي نشأ فيه "شاخت "، وغيره من الأوربيين تجاه الإسلام والمسلمين.
ويؤكد الأمر بصورة جلية لاتقل أهمية عما سبق قول "انجمار كارلسون" (2) ، وهو أحد أبرز المفكرين الاستراتيجيين في أوربا: ((نحن نفتقد الإمكانات الموضوعية للنظر إلى الأصولية الإسلامية نظرة معقولة، وتناولها بأسلوب نقدي طبيعي، ولذا نعتبر الغرب الحديث مرادفاً للعقل، بينما نرى في الشرق عالماً متخلفاً يمشي على حافة الجنون، ويستحيل عليه مشاركتنا في
--------------------------------------------
এই দুই মতাদর্শের ক্ষেত্রে সর্বদা একটি ভারসাম্যপূর্ণ যৌক্তিক ও চিন্তা-প্রসূত অবস্থান বজায় রাখা হয়, কিন্তু যখনই ইসলামের প্রসঙ্গের উদয় হয়, তখনই ভারসাম্য বিঘ্নিত হয় এবং আবেগপ্রসূত প্রবণতা সেখানে স্থান করে নেয়। এমনকি ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় প্রাচ্যবিদগণ (مستشرقين) ইসলামের বিষয়ে তাঁদের লেখনিতে অবৈজ্ঞানিক পক্ষপাতদুষ্টতার শিকারে পরিণত হয়েছেন। তাঁদের সকল গবেষণায় এমনভাবে বিষয়টি ফুটে ওঠে যেন ইসলাম কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিষয় হওয়ার যোগ্য নয়, বরং এটি একজন অভিযুক্তের মতো যা বিচারকদের কাঠগড়ায় দণ্ডায়মান। (১)
এই মূল্যবান পাঠটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত, কারণ অধ্যাপক মুহাম্মদ আসাদ এমন এক বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন যা তিনি ইসলাম গ্রহণের পূর্বে প্রত্যক্ষ ও অনুধাবন করেছেন। তিনি জার্মান সংস্কৃতি সমৃদ্ধ "অস্ট্রিয়াতে" লালিত-পালিত হয়েছেন। আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, "শাখত"ও জার্মানিতে বড় হয়েছেন। উপরন্তু, তাঁরা উভয়েই বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যা উক্ত পাঠটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। বিশেষত এটি আমাদের নিকট "শাখত" এবং তাঁর সমসাময়িক ইউরোপীয়দের প্রজন্মে ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি যে বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল তা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
ইউরোপের অন্যতম প্রধান কৌশলগত চিন্তাবিদ "ইনগমার কার্লসন" (২)-এর উক্তিটি পূর্বোক্ত বিষয়ের গুরুত্বকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে: ((আমাদের মাঝে ইসলামি মৌলবাদকে (الأصولية الإسلامية) যৌক্তিক দৃষ্টিতে দেখার এবং স্বাভাবিক সমালোচনামূলক পদ্ধতিতে তা বিশ্লেষণ করার মতো বস্তুনিষ্ঠ সক্ষমতার অভাব রয়েছে। একারণে আমরা আধুনিক পাশ্চাত্যকে বিবেচনাবোধের সমার্থক মনে করি, পক্ষান্তরে প্রাচ্যকে দেখি এক অনগ্রসর জগত হিসেবে যা উন্মাদনার কিনারে অবস্থান করছে এবং তাদের পক্ষে আমাদের সাথে অংশীদার হওয়া অসম্ভব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الحوار والسجال على قدم المساواة
… إن صورة المسلم مطبوعة في وعينا على هذا النحو المخيف
… )) (1) .
ويشير باحث غربي آخر اسمه " جيمس وولتز " في دراسة له عن مواقف الغربيين من المسلمين قبل الحروب الصليبية أن أوربا عاشت حالة من عدم المبالاة تجاه الإسلام والمسلمين مدة من الزمن، ثم تحول ذلك الموقف إلى نوع من العداء السياسي ما بين (710 - 1100 م) ، ثم تحول إلى عداء ديني مع مواجهة عسكرية في بعض المراحل، ثم يقرر هذا الباحث بعد ذلك: إن المترسخ في أذهان الأوروبيين عن الإسلام هو صورة قاتمة، وذلك بسبب العداء الذي ذكاه موقف الباباوات من الإسلام منذ اندلاع الحروب الصليبية، وإلى أيام استعمار الغرب للعالم الإسلامي الذي لم ينته إلا منذ بضعة عقود (2) .
إن مضمون النصوص السالفة أصبح اليوم حقيقة علمية أكدها عدد من المتخصصين في الاستشراق (3) ، وفي ذلك دلالة على ضخامة حجم التشويه المتعمد، في تصورات الغربيين، وبخاصة المستشرقون منهم عن الإسلام.
إن مُسلّمة " شاخت " التي بنى عليها نظريته في السنة النبوية، والدالة على أن علماء الحديث والفقه من المسلمين كانوا لا يتورعون عن الكذب في نسبة
--------------------------------------------
সমমর্যাদার ভিত্তিতে সংলাপ ও বিতর্ক
… আমাদের চেতনায় মুসলমানের চিত্র এই ভয়ংকর রূপে অঙ্কিত হয়েছে
… )) (১) ।
ক্রুসেড যুদ্ধের পূর্বে মুসলমানদের প্রতি পশ্চিমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এক গবেষণায় "জেমস ওয়াল্টজ" নামক অপর এক পশ্চিমা গবেষক উল্লেখ করেছেন যে, ইউরোপ দীর্ঘ সময় ধরে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি এক ধরনের উদাসীনতার মধ্যে বসবাস করেছে। অতঃপর (৭১০ - ১১০০ খ্রিষ্টাব্দ) সময়ের মধ্যে সেই অবস্থান এক প্রকার রাজনৈতিক শত্রুতার রূপ ধারণ করে। এরপর কিছু পর্যায়ে সামরিক সংঘাতের সাথে সাথে তা ধর্মীয় শত্রুতার দিকে মোড় নেয়। অতঃপর এই গবেষক সিদ্ধান্ত দেন যে: ইসলাম সম্পর্কে ইউরোপীয়দের মনে যা বদ্ধমূল রয়েছে তা হলো একটি অন্ধকার চিত্র। আর এর কারণ হলো সেই শত্রুতা, যা ক্রুসেড যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পোপদের ইসলামবিরোধী অবস্থানের মাধ্যমে প্রজ্জ্বলিত হয়েছিল এবং মুসলিম বিশ্বে পশ্চিমা উপনিবেশবাদের দিনগুলো পর্যন্ত অব্যাহত ছিল, যা মাত্র কয়েক দশক আগে শেষ হয়েছে (২) ।
পূর্বোক্ত পাঠ্যসমূহের বিষয়বস্তু আজ এক বৈজ্ঞানিক সত্যে পরিণত হয়েছে, যা প্রাচ্যতত্ত্ব গবেষণায় নিয়োজিত বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ নিশ্চিত করেছেন (৩)। এটি পশ্চিমাদের, বিশেষ করে প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের মাঝে ইসলাম সম্পর্কে ইচ্ছাকৃত বিকৃতির বিশাল মাত্রার প্রমাণ বহন করে।
সুন্নাহ (السنة) সংক্রান্ত "শাখ্ট"-এর সেই স্বতঃসিদ্ধ ধারণা যার ওপর ভিত্তি করে তিনি তাঁর মতবাদটি গড়ে তুলেছেন, যা এই ইঙ্গিত দেয় যে মুসলিম হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ [কোনো কিছু] আরোপ করার (نسبة) ক্ষেত্রে মিথ্যাচার (الكذب) করতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أقوال لرسولهم صلى الله عليه وسلم؛ لا يمكن للعقل أن يقبلها؛ لأنها خرافية وخيالية إلى حد بعيد للأسباب التالية:
1 - هذه المسلَّمة مصادمة للطبيعة البشرية؛ وذلك لأن الصدق هو الأصل في معاملات البشر، ولذا فهو سهل وطبيعي، وراسخ الأركان، وأما الكذب فمهزوز مزعزع، معرض للهجوم باستمرار، ولا قوة فيه ولا خير، وهو قرين لكثير من الأمراض الاجتماعية كالسرقة والخوف والجبن والذل (1) ، وهو مضاد لروح التعاون الجماعي التي هي أساس قيام أي مجتمع.
ولا يمكن لمجتمع مهما بلغ انحرافه أن يتواطأ كل من فيه من رجال ونساء، ولأجيال متعاقبة، وفي بلدان مختلفة، ومن أقاليم متعددة على الكذب على زعيمهم وقدوتهم، وقائدهم الذي يحبونه ويحترمونه.
ومما يدل على أن مُسلّمة " شاخت " غير مقبولة عقلاً أن أحد مشاهير الغربيين، ويدعى " توماس كارليل " كتب مخاطباً قومه عاتباً عليهم في زعمهم أن المسلمين كذبة، فقال: ((لقد أصبح من أكبر العار على أي فرد متمدن من أبناء هذا العصر أن يصغي إلى ما يُظن من أن دين الإسلام كذب، وأن محمداً خداع ومزور، وآن لنا أن نحارب ما يشاع من مثل هذه الأقوال السخيفة المخجلة
… أفكان أحدكم يظن أن هذه الرسالة التي عاش بها ومات عليها الملايين الفائتة الحصر أكذوبة وخدعة؟! أما أنا فلا أستطيع أن أرى هذا الرأي أبداً، ولو أن الكذب والغش يروجان عند خلق الله هذا
--------------------------------------------
তাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীসমূহ; বুদ্ধি তা গ্রহণ করতে পারে না; কারণ সেগুলো কাল্পনিক ও রূপকথা পর্যায়ের, যার কারণসমূহ নিম্নরূপ:
১ - এই ধারণাটি মানুষের সহজাত স্বভাবের সাথে সাংঘর্ষিক; কারণ মানুষের পারস্পরিক লেনদেনে সত্যই হলো মূল ভিত্তি, তাই এটি সহজ, স্বাভাবিক এবং সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। পক্ষান্তরে, মিথ্যা হলো নড়বড়ে ও অস্থির, যা সর্বদা আক্রমণের শিকার, এতে কোনো শক্তি বা কল্যাণ নেই। মিথ্যা হলো চুরি, ভয়, ভীরুতা এবং হীনম্মন্যতার মতো অনেক সামাজিক ব্যাধির সঙ্গী (১), যা সামষ্টিক সহযোগিতার চেতনার পরিপন্থী—আর এই সহযোগিতাই যেকোনো সমাজ গঠনের ভিত্তি।
কোনো সমাজ যতই বিচ্যুত হোক না কেন, সেখানে বসবাসকারী সকল পুরুষ ও নারী, যুগ যুগ ধরে, বিভিন্ন দেশে এবং বিচিত্র অঞ্চলে তাদের নেতা, আদর্শ এবং শ্রদ্ধাভাজন ও ভালোবাসার সেনাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব।
"শাখত"-এর এই ধারণাটি যে যুক্তিতে গ্রহণযোগ্য নয় তার একটি প্রমাণ হলো, জনৈক বিখ্যাত পশ্চিমা মনীষী "থমাস কার্লাইল" তার জাতিকে সম্বোধন করে লিখেছেন। তিনি মুসলমানদের মিথ্যাবাদী দাবি করার জন্য তাদের তিরস্কার করে বলেছেন: ((এই যুগের যেকোনো সভ্য ব্যক্তির জন্য এটি অত্যন্ত লজ্জার বিষয় যে, সে এমন কথা শুনবে যেখানে ইসলাম ধর্মকে মিথ্যা এবং মুহাম্মদকে একজন প্রতারক ও জালিয়াত হিসেবে গণ্য করা হয়। সময় এসেছে আমাদের এই জাতীয় ভিত্তিহীন ও লজ্জাজনক বক্তব্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার... তোমাদের মধ্যে কেউ কি মনে করতে পারে যে, এই বাণী—যাকে আঁকড়ে ধরে অগণিত লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন কাটিয়েছে ও মৃত্যুবরণ করেছে—তা একটি মিথ্যা বা প্রতারণা?! আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনোই এমন মত পোষণ করতে পারি না। যদি আল্লাহর এই সৃষ্টিজগতে মিথ্যা ও ধোঁকা এভাবে বিস্তার লাভ করত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الرواج، ويصادفان منهم مثل ذلك التصديق والقبول، فما الناس إلا بُله ومجانين، وما الحياة إلا سخف وعبث) (1) .
ولاحظ هنا أن " كارليل" وصف مَنْ يقول بمثل قول " شاخت " بالعار والسخف المخجل والعبث.
2 - إن القرآن وهو كتاب المسلمين المقدس يقف من الكذب موقفاً شديداً جداً، حيث يجعل من كذب في الدين مستحقاً للإثم المبين قال تعالى {انْظُرْ كَيْفَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَكَفَى بِهِ إِثْماً مُبِيناً} (النساء:50) ، كما أنه يجعله من صفات الكافرين قال تعالى {وَلَكِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ} (المائدة: 103) ، وأن الكاذب لا يفلح قال تعالى {إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لا يُفْلِحُونَ} (النحل: 116) ، وأنه من أظلم الظلم قال تعالى {فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِباً لِيُضِلَّ النَّاسَ بِغَيْرِ عِلْمٍ} (الأنعام: 144) .
والخالق عز وجل هو القائل: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَانَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا} (الحشر: 7) ، فاتباع السنة من دين الله، فالكذب فيها كذب على الله، فموانع الكذب على الرسول صلى الله عليه وسلمعند المسلمين قوية؛ لأنها تستند إلى نصوص قرآنية كثيرة جداً.
3 - إن الواقع التاريخي للمسلمين في فتوحاتهم ومعاملتهم مع أهل الأديان الأخرى يدل على تحلِّيهم بخصال الصدق والعدل والأمر بالمعروف
--------------------------------------------
প্রসার লাভ করা এবং তারা তাদের থেকে অনুরূপ সত্যায়ন ও গ্রহণ (قبول) লাভ করা; (যদি তাই হয়) তবে মানুষ তো কেবল নির্বোধ ও উন্মাদ ছাড়া আর কিছুই নয়, আর জীবন তো কেবল অসারতা ও অর্থহীন তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।) (১) .
এখানে লক্ষ্য করুন যে, "কার্লাইল" (Carlyle) এমন ব্যক্তিদের মতবাদকে—যারা "শাখত" (Schacht)-এর ন্যায় উক্তি করে—লজ্জাজনক কলঙ্ক, শোচনীয় অসারতা এবং অর্থহীনতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
২ - নিশ্চয়ই কুরআন, যা মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ, মিথ্যা (كذب)-এর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। যেখানে এটি দ্বীনের ক্ষেত্রে মিথ্যা (كذب) রটনাকারীকে সুস্পষ্ট পাপের যোগ্য করে তোলে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: {দেখুন তারা আল্লাহর ওপর কীভাবে মিথ্যা (كذب) অপবাদ (افتراء) আরোপ করে, আর সুস্পষ্ট পাপ হিসেবে এটিই যথেষ্ট} (সূরা আন-নিসা: ৫০)। তেমনিভাবে তিনি একে কাফিরদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করেছেন; আল্লাহ তা‘আলা বলেন: {কিন্তু যারা কুফরি করেছে তারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা (كذب) অপবাদ (افتراء) আরোপ করে} (সূরা আল-মায়িদা: ১০৩)। আর নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী সফল হয় না; আল্লাহ তা‘আলা বলেন: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা (كذب) অপবাদ (افتراء) আরোপ করে, তারা সফল হবে না} (সূরা আন-নাহল: ১১৬)। আর এটি অন্যতম চরম জুলুম; আল্লাহ তা‘আলা বলেন: {তবে সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে মানুষকে বিনাজ্ঞানে বিভ্রান্ত করার জন্য আল্লাহর ওপর মিথ্যা (كذب) অপবাদ (افتراء) আরোপ করে?} (সূরা আল-আন’আম: ১৪৪)।
আর মহিয়ান ও গরিয়ান স্রষ্টা নিজেই বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (সূরা আল-হাশর: ৭)। সুতরাং সুন্নাহর অনুসরণ আল্লাহর দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত, আর সুন্নাহর ক্ষেত্রে মিথ্যা (كذب) বলা মূলত আল্লাহর ওপর মিথ্যা (كذب) বলারই নামান্তর। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপের ক্ষেত্রে মুসলিমদের মধ্যে বিদ্যমান বাধাসমূহ অত্যন্ত শক্তিশালী; কারণ তা অসংখ্য কুরআনিক দলীলের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত।
৩ - মুসলিমদের বিজয়াভিযান এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে তাঁদের আচরণের ঐতিহাসিক বাস্তবতা প্রমাণ করে যে, তাঁরা সত্যবাদিতা (صدق), ন্যায়বিচার এবং সৎকাজের আদেশের মতো মহান গুণাবলীতে ভূষিত ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والنهي عن المنكر، وهذه الأمور لا تتسق مع أخلاق الكذابين، وفي ذلك يقول الفيلسوف الألماني " كانت ": ((من نسيج الإنسان الفاسد لم يُصنع أي شيء مستقيم أبداً)) (1) .
ويقول المستشرق " مونتجمري وات " مستدلاً بالتاريخ الأخلاقي، بوصفه حجة قوية على إخلاص محمد صلى الله عليه وسلم وصدقه: ((إن الاعتقاد في إخلاص محمد تسنده حجة قوية، فاستعداده لأن يتحمل الأذى في سبيل معتقداته، والمستوى الأخلاقي الرفيع الذي اتصف به الرجال الذين آمنوا به واتخذوه إماماً، وعظمة المنجزات التي انتهى إليها، كل هذا ينم عن استقامته)) (2) .
فكيف يريدنا " شاخت " أن نصدق أن أولئك العلماء الذين لم يُطعن عليهم في نزاهتهم الدينية، وتقواهم، ووفائهم بالعهود، وصدق تدينهم، كانوا يسكتون على كذب بعضهم البعض، ولماذا لا نجد في كتب الجرح والتعديل أو التاريخ والسير وصفهم لبعضهم البعض بالوضع والكذب، إذا كانت الحال كما يزعم " شاخت "؟
4 - إذا كان المحدثون والفقهاء تعمدوا الوضع والكذب على الرسول صلى الله عليه وسلم، فلماذا إذن اهتموا بنقد الأحاديث؟، ولماذا تعبوا كل هذا التعب في نقد الراوة والتصنيف في علم الجرح والتعديل والعلل، مادام كله كذباً؟!
5 - لو كان الأمر كما يزعم " شاخت " أن علماء المسلمين كانوا إذا احتاجوا في مسألة إلى دليل وضعوا سنداً لأحد آراء الفقهاء، ونسبوه لرسول
--------------------------------------------
...এবং মন্দ কাজের নিষেধ করা; আর এই বিষয়গুলো মিথ্যাবাদীদের (الكذابين) চরিত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ প্রসঙ্গে জার্মান দার্শনিক 'কান্ট' বলেন: ((মানুষের কলুষিত গঠনতন্ত্র থেকে কখনও কোনো সঠিক কিছু তৈরি হয়নি)) (১) ।
প্রাচ্যবিদ 'মন্টগোমারি ওয়াট' নৈতিক ইতিহাসকে মুহাম্মদ (সা.)-এর একনিষ্ঠতা ও সত্যবাদিতার ওপর একটি জোরালো প্রমাণ (حجة) হিসেবে উপস্থাপন করে বলেন: ((মুহাম্মদের একনিষ্ঠতার ওপর বিশ্বাসের সপক্ষে জোরালো যুক্তি রয়েছে; তাঁর নিজের বিশ্বাসের পথে কষ্ট সহ্য করার মানসিকতা, তাঁর ওপর বিশ্বাস স্থাপনকারী এবং তাঁকে ইমাম হিসেবে গ্রহণকারী ব্যক্তিদের সুউচ্চ নৈতিক মান এবং তাঁর অর্জিত মহান সাফল্যসমূহ—এই সবকিছুই তাঁর সততার পরিচয় দেয়)) (২) ।
তবে 'শ্যাখট' আমাদের কীভাবে বিশ্বাস করাতে চান যে, সেই সকল আলেম—যাঁদের ধর্মীয় নিষ্ঠা, তাকওয়া, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং নিখাদ ধর্মপরায়ণতার ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি—তাঁরা একে অপরের মিথ্যার ব্যাপারে চুপ থাকতেন? আর পরিস্থিতি যদি শ্যাখটের দাবি অনুযায়ীই হতো, তবে কেন আমরা 'জারহ ও তাদিল' (الجرح والتعديل) কিংবা ইতিহাস ও জীবনীর গ্রন্থগুলোতে একে অপরকে জালিয়াতি (الوضع) এবং মিথ্যাচারের (الكذب) অভিযোগে অভিযুক্ত করতে দেখি না?
৪ - যদি মুহাদ্দিস ও ফকিহগণ ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুল (সা.)-এর ওপর মিথ্যা আরোপ (الوضع) এবং মিথ্যাচার (الكذب) করতেন, তবে কেন তাঁরা হাদিস যাচাই-বাছাইয়ের প্রতি এত গুরুত্বারোপ করলেন? এবং যদি সবকিছুই মিথ্যা হতো, তবে কেনই বা তাঁরা বর্ণনাকারীদের (الرواة) সমালোচনা এবং 'জারহ ও তাদিল' (الجرح والتعديل) ও 'ইলাল' (العلل) শাস্ত্রে গ্রন্থ সংকলনে এত শ্রম ব্যয় করলেন?
৫ - যদি বিষয়টি শ্যাখটের দাবি অনুযায়ী এমন হতো যে, মুসলিম আলেমগণ যখনই কোনো মাসআলায় দলীলের প্রয়োজন বোধ করতেন, তখনই তাঁরা ফকিহদের কোনো মতের সপক্ষে একটি সনদ (سند) জাল করতেন (الوضع) এবং তা রাসুলের...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الله صلى الله عليه وسلم، فلماذا لم يضعوا حديثاً بإسناد صحيح في حجية القياس، وهو المصدر الرابع من مصادر التشريع الإسلامي، مع أن الحاجة ماسة لوجود مثل ذلك الحديث بديلاً لحديث معاذ رضي الله (1) عنه الذي ضعفه كثير من المحدثين؟
ولماذا لم يستطع الخليفة المأمون مع كل ما أوتي من قوة ونفوذ وسلطة واسعة أن يأتي بحديث واحد موضوع في مسألة خلق القرآن مع تحدي الإمام أحمد له وللمعتزلة بذلك؟
((إن الحقيقة التي تتحدث عن نفسها هنا هي أنه لم يكن من الممكن أن يوضع حديث على رسوله صلى الله عليه وسلم، ويمر من غير ملاحظة العلماء له)) (2) .
إن تحيز " شاخت " واستسلامه الكامل للتعصب العنصري ضد المسلمين، أوقعه في مصادمة لأهم أصل من أصول المنهجي العلمي وهو الموضوعية.
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, তবে তারা কেন কিয়াসের (অনুমাননির্ভর আইনি সিদ্ধান্ত) প্রামাণিকতার বিষয়ে সহিহ সনদ (بإسناد صحيح) সম্বলিত কোনো হাদিস জাল করেনি? অথচ এটি ইসলামি শরিয়তের উৎসসমূহের মধ্যে চতুর্থ উৎস এবং মুয়াজ (রা.)-এর হাদিসের বিকল্প হিসেবে এ ধরণের একটি হাদিসের তীব্র প্রয়োজন ছিল, যে হাদিসটিকে অনেক মুহাদ্দিস দুর্বল (ضعفه) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
আর খলিফা আল-মামুন তার সমস্ত শক্তি, প্রভাব ও ব্যাপক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন কুরআন সৃষ্টির বিষয়ে একটি জাল (موضوع) হাদিসও উপস্থাপন করতে পারেননি, যেখানে ইমাম আহমাদ তাকে এবং মুতাজিলাদের এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন?
((এখানে যে ধ্রুব সত্যটি স্বয়ংপ্রকাশিত তা হলো, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামে কোনো হাদিস জাল করা এবং তা আলেমদের তীক্ষ্ণ নজর এড়িয়ে পার পেয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না)) (২)।
নিশ্চয়ই "শাখত"-এর পক্ষপাতদুষ্টতা এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী গোঁড়ামির কাছে তার পূর্ণ আত্মসমর্পণ তাকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি তথা বস্তুনিষ্ঠতার সাথে সাংঘর্ষিক অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উয়ূবুল মানহাজিয়্যাহ ফী কিতাবাতিল মুস্তাশরিক শাখত আল-মুতাআল্লিকাতি বিস-সুন্নাতিন নববিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
المبحث الثاني: الانتقائية في اختيار المصادرمن أخطر العيوب المنهجية في البحث العلمي، أن يتوصل الباحث إلى نتائج محددة عامة تكون مبنية على معلومات مستقاة من مصادر غير متخصصة في موضوع بحثه.
وهذا ما وقع فيه " شاخت " فقد توصل لنتائجه في السنة النبوية، معتمداً في ذلك على مصادر فقهية، وليست حديثيه، بل أكثر من ذلك أنني لم أجد في مصادره أي كتاب في علم مصطلح الحديث، أو الجرح والتعديل، أو العلل، أو التخريج، ومن يتجاهل هذه المصادر الأصلية في علم الحديث، كيف يمكن لنا بمقاييس المنهج العلمي أن نثق بنتائجه.
ولإيضاح أهمية استيعاب المصادر الأصلية المتخصصة في البحث العلمي عند أساتذة المنهجية، ننقل بعض المقتطفات من كلامهم حول ذلك، ومنها هذا النص لشارل فيكتور لانجلوا - مؤلف أحد أهم كتب منهج البحث في علم التاريخ المعتمدة في الجامعات الغربية - الذي يقول فيه: ((إذا تراءى لي أن أعالج نقطة تاريخية، أياً كانت، فإني أتلمس الموضع أو المواضع التي ترقد فيها الوثائق الضرورية لمعالجتها
… ومن البين أن هذا العمل إذا لم يزاول مزاولة سليمة، أعني أنه إذا لم يعرف المرء قبل البدء في عمل تاريخي، كيف يحيط نفسه بكل المعلومات الميسرة له، فإنه يزيد بسهولة من مزالق خطر العمل على أساس وثائق غير كافية وهي مزالق وفيرة العدد مهما بذل من جهد.
وكم من عمل من أعمال التاريخ عولج وفقاً لقواعد أدق المناهج قد أفسده، بل قضى عليه قضاء مبرماً، أمرٌ مادي بسيط هو أن المؤلف لم يقف على وثائق
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উৎস নির্বাচনে বাছাইপ্রবণতাবৈজ্ঞানিক গবেষণায় পদ্ধতিগত ত্রুটিগুলোর মধ্যে অন্যতম বিপজ্জনক বিষয় হলো, গবেষক এমন কিছু নির্দিষ্ট ও সাধারণ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যা তার গবেষণার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন অ-বিশেষজ্ঞ উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
আর এটিই "শাখ্ত"-এর ক্ষেত্রে ঘটেছে; তিনি সুন্নাহ নববী সম্পর্কে তাঁর সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন ফিকহী উৎসের ওপর নির্ভর করে, হাদিস শাস্ত্রীয় উৎসের ওপর নয়। এর চেয়েও বড় কথা হলো, আমি তাঁর উৎসগুলোর মধ্যে হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث), অথবা বর্ণনাকারীর গুণাগুণ ও দোষত্রুটি বিচার (الجرح والتعديل), অথবা হাদিসের গোপন ত্রুটি (العلل), কিংবা হাদিসের উৎস অনুসন্ধান (التخريج) বিষয়ক কোনো কিতাব খুঁজে পাইনি। আর যিনি হাদিস বিজ্ঞানের এই মৌলিক উৎসগুলোকে উপেক্ষা করেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মানদণ্ডে আমরা কীভাবে তাঁর ফলাফলের ওপর আস্থা রাখতে পারি?
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিশেষায়িত মৌলিক উৎসগুলো আয়ত্ত করার গুরুত্ব পদ্ধতিবিদ্যার অধ্যাপকদের নিকট কতখানি, তা স্পষ্ট করার জন্য আমরা তাঁদের এ সংক্রান্ত বক্তব্যের কিছু উদ্ধৃতি তুলে ধরছি। এর মধ্যে একটি হলো চার্লস-ভিক্টর ল্যাঙ্গলয়েস—যিনি পাশ্চাত্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বীকৃত ইতিহাস বিজ্ঞানের গবেষণা পদ্ধতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থের লেখক—যেখানে তিনি বলেছেন: "যদি আমি কোনো ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই, সেটি যাই হোক না কেন, আমি সেই স্থান বা স্থানগুলো খুঁজি যেখানে এটি পর্যালোচনার জন্য প্রয়োজনীয় দলিলপত্রগুলো সংরক্ষিত আছে
… এবং এটি স্পষ্ট যে, যদি এই কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করা না হয়—অর্থাৎ কোনো ঐতিহাসিক কাজ শুরু করার আগে যদি কোনো ব্যক্তি তাঁকে প্রাপ্ত সকল তথ্য দ্বারা পরিবেষ্টিত করতে না জানেন—তবে তিনি খুব সহজেই অপর্যাপ্ত দলিলাদির ভিত্তিতে কাজ করার বিপদের দিকে পা বাড়ান, আর এই বিচ্যুতিগুলো সংখ্যায় অনেক হয়ে থাকে, চাই তিনি যত প্রচেষ্টাই ব্যয় করেন না কেন।
ইতিহাসের এমন অনেক কাজ রয়েছে যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম পদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী করা সত্ত্বেও নষ্ট হয়ে গেছে, বরং সমূলে ধ্বংস হয়েছে কেবল একটি সাধারণ বস্তুগত কারণে; আর তা হলো লেখক সেই মূল দলিলপত্রগুলোর নাগাল পাননি।