(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: -)
العناية بالقرآن الكريم وعلومه من بداية القرن الرابع الهجري إلى عصرنا الحاضر   (نبيل بن محمد آل إسماعيل)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: العناية بالقرآن الكريم وعلومه من بداية القرن الرابع الهجري إلى عصرنا الحاضر

المؤلف: د. نبيل بن محمد آل إسماعيل

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 105

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শুরু থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত পবিত্র কুরআন এবং এর জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি বিশেষ যত্ন   (নাবিল বিন মুহাম্মাদ আল ইসমাইল)

বিভাগ: কুরআনুল কারীমের জ্ঞান এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول)


বই: চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শুরু থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত পবিত্র কুরআন এবং এর জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি বিশেষ যত্ন

লেখক: ড. নাবিল বিন মুহাম্মাদ আল ইসমাইল

প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১)
العناية بالقرآن الكريم وعلومه من بداية القرن الرابع الهجري إلى عصرنا الحاضر

د. نبيل بن محمد آل إسماعيل - قسم القرآن وعلومه كلية أصول الدين - بالرياض

ال‌‌مقدمة

الحمد لله تكفل بحفظ كتابه ورفعة حملته وأهله، وأشهد ألاّ إله إلا الله وحده لا شريك له في أسمائه وصفاته وملكه وعبادته، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله أنزل عليه أعظم رسالاته فاجتهد في عبادته وترتيلاته، صلى الله عليه وعلى آله وصحابته أهل القرآن في كتابته وتلاواته وسلم تسليماً.

أما بعد:

فإن شرف أي علم يكون بمصدره ومحتوياته ولا أشرف مما صدر عن الله من وحيه وكلماته، فالقرآن كلام الله حقيقة مبتدؤه ونهاياته.

لذا فإن علوم القرآن والقراءات أشرف العلوم وأجلها، بل وأفضلها على الإطلاق وأنفعها، لكون موضوعها كتاب الله، وغايتها الاعتصام بكلام الله، ولهذا الأمر اهتم الصحابة والتابعون ومن جاء بعدهم وسار على هديهم بهذا العلم، فأقبلوا على كتاب الله إقراءً ودراسة وتصنيفاً وتأليفاً - مختصرات ومطولات - كاشفين عن علومه وحقائقه، مظهرين من إعجازه وبيانه، مساهمين في حفظه من التحريف والاندراس - فجزاهم الله عنا خير الجزاء.

وإسهاماً مني في المكتبة القرآنية وتأسياً بمن سبق الحديث عنهم رأيت أن أكتب بحثاً أوضح فيه مدى اهتمام علماء الإسلام بكتاب ربهم تعليماً وتأليفاً من القرن الرابع الهجري إلى العصر الحاضر.
চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শুরু থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত পবিত্র কুরআন ও এর জ্ঞানসমূহের প্রতি বিশেষ যত্ন ও গুরুত্ব

ড. নাবিল বিন মুহাম্মদ আল-ইসমাঈল - কুরআন ও উলুমুল কুরআন বিভাগ, উসুলুদ্দিন অনুষদ - রিয়াদ

উপস্থাপনা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর কিতাব সংরক্ষণ এবং এর বাহক ও অনুসারীদের মর্যাদা বৃদ্ধির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী, রাজত্ব ও ইবাদতে তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, যাঁর ওপর তিনি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী অবতীর্ণ করেছেন; অতঃপর তিনি আল্লাহর ইবাদত ও কুরআন তিলাওয়াতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। আল্লাহর দরুদ ও অফুরন্ত সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সেই সাহাবী (صحابة)-গণের ওপর, যারা কুরআনের লিখন ও তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে ছিলেন কুরআনের প্রকৃত ধারক-বাহক।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই যেকোনো ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব তার উৎস ও বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ তাঁর ওহি ও বাণীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কিছুই হতে পারে না। সুতরাং কুরআন হলো প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কালাম, যার শুরু এবং শেষ তাঁরই পক্ষ থেকে।

এই কারণে কুরআনের বিভিন্ন শাখা ও কিরাত (قراءات) হলো সবচেয়ে সম্মানিত ও সুমহান জ্ঞান, বরং তা সর্বতোভাবে শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক উপকারী; কারণ এর আলোচ্য বিষয় হলো আল্লাহর কিতাব এবং এর লক্ষ্য হলো আল্লাহর বাণীর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা। এই মহৎ উদ্দেশ্যেই সাহাবী (صحابة), তাবিঈ (تابعون) এবং যারা তাঁদের পরবর্তী সময়ে এসেছেন ও তাঁদের প্রদর্শিত পথে চলেছেন, তাঁরা এই ইলমের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁরা আল্লাহর কিতাব পাঠদান, অধ্যয়ন এবং এর ওপর সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেছেন—যাতে এর জ্ঞান ও প্রকৃত রহস্যসমূহ উন্মোচন করা যায়। তাঁরা এর অলৌকিকত্ব ও বর্ণনাভঙ্গি ফুটিয়ে তুলেছেন এবং একে বিকৃতি (تحريف) ও বিলুপ্তি (اندراس) থেকে রক্ষায় অবদান রেখেছেন। আল্লাহ তাঁদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

কুরআনি পাঠাগারে নিজের কিঞ্চিৎ অবদান রাখতে এবং পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে আমি একটি গবেষণাপত্র রচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেখানে চতুর্থ হিজরি শতাব্দী থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত শিক্ষা ও গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে ইসলামের আলিমগণ তাঁদের রবের কিতাবের প্রতি কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন, তা সবিস্তারে তুলে ধরব।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ২)
ولأن مجمع الملك فهد لطباعة المصحف بالمدينة المنورة قد طرح موضوعات حول "خدمة المسلمين للقرآن الكريم، فقد وقع اختياري حول هذه الجزئية إسهاماً مني في خدمة القرآن الكريم بما يفيد إن شاء الله.

ويتكون البحث من مقدمة وفصلين وخاتمة على التفصيل التالي:

المقدمة: أهمية البحث وخطته.

الفصل الأول:

جهود المسلمين في تعليم القرآن والقراءات وأشهر العلماء في ذلك:

وفيه مبحثان:

المبحث الأول: أشهر علماء القرآن والقراءات من القرن الرابع الهجري إلى القرن الرابع عشر.

المبحث الثاني: أشهر علماء القرآن والقراءات في العصر الحديث.

الفصل الثاني:

جهود المسلمين في التأليف في علوم القرآن والقراءات. وفيه مبحثان:

المبحث الأول: أشهر المؤلفات في علوم القرآن والقراءات من القرن الرابع إلى القرن الرابع عشر.

المبحث الثاني: أشهر المؤلفات في علوم القرآن والقراءات في العصر الحديث.

الخاتمة: أهم نتائج البحث.
মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত বাদশাহ ফাহাদ পবিত্র কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স যেহেতু "পবিত্র কুরআনের সেবায় মুসলিমদের অবদান" সংক্রান্ত কিছু বিষয় উপস্থাপন করেছে, তাই পবিত্র কুরআনের সেবায় সামান্য অবদানের লক্ষ্যে এবং যা ইনশাআল্লাহ ফলপ্রসূ হবে—এমন ভাবনা থেকে আমি এই অংশটি নির্বাচন করেছি।

গবেষণাটি একটি ভূমিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারের সমন্বয়ে গঠিত, যার বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:

ভূমিকা: গবেষণার গুরুত্ব এবং কর্মপরিকল্পনা।

প্রথম অধ্যায়:

কুরআন শিক্ষা ও কিরাআত (القراءات) শাস্ত্রে মুসলিমদের প্রচেষ্টা এবং এ ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ আলেমগণ:

এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: চতুর্থ হিজরি শতাব্দী থেকে চতুর্দশ হিজরি শতাব্দী পর্যন্ত কুরআন ও কিরাআত (القراءات) শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ আলেমগণ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আধুনিক যুগে কুরআন ও কিরাআত (القراءات) শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ আলেমগণ।

দ্বিতীয় অধ্যায়:

উলুমুল কুরআন (علوم القرآن) এবং কিরাআত (القراءات) শাস্ত্রের গ্রন্থ রচনায় মুসলিমদের প্রচেষ্টা। এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: চতুর্থ থেকে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত উলুমুল কুরআন (علوم القرآن) ও কিরাআত (القراءات) শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আধুনিক যুগে উলুমুল কুরআন (علوم القرآن) ও কিরাআত (القراءات) শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ।

উপসংহার: গবেষণার প্রধান ফলাফলসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الفصل الأول: جهود المسلمين في تعليم القرآن والقراءات وأشهر العلماء في ذلك

‌‌المبحث الأول: أشهر علماء القرآن والقراءات من القرن الرابع وحتى القرن الرابع عشر

‌‌مدخل

…

الفصل الأول: جهود المسلمين في تعليم القرآن والقراءات وأشهر العلماء في ذلك:

وهو مكون من مبحثين:

المبحث الأول: أشهر علماء القرآن والقراءات من القرن الرابع وحتى القرن الرابع عشر:

عرفت المدرسة القرآنية منذ الحياة الأولى للإسلام، فقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتلقى الوحي عن ربه، ويقوم بتلقينه لصحابته فرادى وجماعات.

وكان هؤلاء الصحب الكرام يقبلون في حماسة وشغف على تلقي كتاب ربهم إعجاباً به، وإيماناً منهم بأن تلاوته ومدارسته والعمل به عبادة من أجلِّ العبادات، وقربى من أقرب القربات، ألم يخبرهم نبيهم الكريم بقوله: "خيركم من تعلم القرآن وعلمه"1. وبقوله صلوات الله وسلامه عليه: "من قرأ حرفا من كتاب الله فله به حسنة، والحسنة بعشر أمثالها، لا أقول: ألم حرف، ولكن ألف حرف، ولام حرف، وميم حرف" 2.

ولقد امتاز هذا الكتاب المعجز فيما امتاز به بيسر تلقيه وتلاوته يقول تبارك وتعالى: {وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ} (القمر:17) .

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري في كتاب فضائل القرآن، باب خيركم من تعلم القرآن وعلمه 6/108.

2 أخرجه الترمذي في سننه في كتاب فضائل القرآن، باب ما جاء فيمن قرأ حرفاً من القرآن ما له من الأجر 5/161.
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআন ও কিরাআত শিক্ষায় মুসলিমদের প্রচেষ্টা এবং এ ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ আলেমগণ

প্রথম অনুচ্ছেদ: চতুর্থ শতাব্দী থেকে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত কুরআন ও কিরাআতের প্রসিদ্ধ আলেমগণ

ভূমিকা

…

প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআন ও কিরাআত শিক্ষায় মুসলিমদের প্রচেষ্টা এবং এ ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ আলেমগণ:

এটি দুটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: চতুর্থ শতাব্দী থেকে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত কুরআন ও কিরাআতের প্রসিদ্ধ আলেমগণ:

ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই কুরআন ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা সুপরিচিত ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের পক্ষ থেকে ওহি লাভ করতেন এবং তা তাঁর সাহাবীদের ব্যক্তিগতভাবে ও সমষ্টিগতভাবে শিক্ষা দিতেন।

এই সম্মানিত সাহাবীগণ গভীর আগ্রহ ও উদ্দীপনার সাথে তাঁদের রবের কিতাব গ্রহণ করতে অগ্রসর হতেন। এটি ছিল এর প্রতি তাঁদের মুগ্ধতা এবং এই বিশ্বাস থেকে যে, এর তিলাওয়াত, অধ্যয়ন এবং তদনুযায়ী আমল করা সর্বোত্তম ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। তাঁদের প্রিয় নবী কি তাঁদের এ কথাটি বলেননি যে: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়"১। এবং তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এই বাণীর মাধ্যমে: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করবে, সে তার বিনিময়ে একটি নেকি লাভ করবে; আর একটি নেকি দশ গুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। আমি বলছি না যে, 'আলিফ-লাম-মীম' একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর" ২।

এই মুজিজাপূর্ণ (অলৌকিক) কিতাবটি অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি সহজে গ্রহণ ও তিলাওয়াত করার বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেন: {আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি, অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?} (সূরা আল-কামার: ১৭)।

--------------------------------------------

১ বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) কুরআনের ফজিলত অধ্যায়ে, 'তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে কুরআন শিক্ষা করে ও শিক্ষা দেয়' পরিচ্ছেদে, ৬/১০৮।

২ তিরমিজি তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) কুরআনের ফজিলত অধ্যায়ে, 'কুরআনের একটি অক্ষর পাঠকারীর সওয়াব সংক্রান্ত যা বর্ণিত হয়েছে' পরিচ্ছেদে, ৫/১৬১।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৪)
بل جعل الله تبارك وتعالى من ميزاته أن يحفظ في الصدور، كما يسجل في السطور {بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ} (العنكبوت:49) . وبذلك تحول مسجد المدينة المنورة إلى مدرسة قرآنية أولى، كما تحولت دور المهاجرين والأنصار إلى مدارس قرآنية، فكانت حلقات القرآن يدوّي بها المسجد دوياً كدوي النحل، بل إن بيوت أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ليصبح لها ذلك الدوي حين يرجع إليها أصحابها فيتدارسون القرآن، مع أزواجهم وأولادهم.

يقول صلوات الله وسلامه عليه: "إني لأعرف أصوات رفقة الأشعريين بالقرآن حين يدخلون بالليل، وأعرف منازلهم من أصواتهم بالقرآن بالليل، وإن كنت لم أر منازلهم حين نزلوا بالنهار" 1.

ومع انتشار الإسلام وذيوعه انتشرت المدرسة القرآنية، وعلا شأنها وبعد أن كانت في المساجد تملأ حلقاتها، أصبحت غرفاً ملحقة بالمساجد تستقبل الناشئة من أطفال المسلمين، ليكون القرآن الكريم أول ما يقرع آذانهم، وتتفتح عليه قلوبهم من أنواع الدراسات المختلفة قبل أن ينتقلوا إلى مراحل العلوم بعد ذلك.

وقد انتشرت تلك المدارس حيث ينتشر الإسلام. فأينما وجدت الجماعة الإسلامية وجدت المدرسة القرآنية، لا فرق بين بلاد تنطق بالعربية، وبلاد لا تنطق بها.

يقول ابن حزم:" مات رسول الله صلى الله عليه وسلم والإسلام قد انتشر في جميع جزيرة العرب، وفي هذه الجزيرة من القرى والمدن ما لا يعرف عدده إلا الله،

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري في كتاب المغازي باب "غزوة خيبر" 5/80.
বরং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা একে এমন বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন যে, এটি যেমন কাগজে লিপিবদ্ধ হয়, তেমনি অন্তরেও সংরক্ষিত হয়: {বরং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাদের অন্তরে এটি সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ} (আল-আনকাবুত: ৪৯)। আর এভাবেই মদিনা মুনাওয়ারার মসজিদটি প্রথম কুরআন শিক্ষালয়ে পরিণত হয়েছিল, ঠিক যেমন মুহাজির ও আনসারদের ঘরগুলোও কুরআন শিক্ষালয়ে রূপান্তরিত হয়েছিল। কুরআনের হালকাসমূহের (حلقات) কারণে মসজিদে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ প্রতিধ্বনিত হতো। এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের ঘরেও সেই গুঞ্জন তৈরি হতো যখন তাঁরা বাড়িতে ফিরতেন এবং তাঁদের স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে কুরআন অধ্যয়ন করতেন।

তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেন: "নিশ্চয়ই আমি আশআরি গোত্রের কাফেলার রাতের বেলায় প্রবেশের সময় তাদের কুরআনের আওয়াজ শুনে তাদের চিনে ফেলি। আর রাতে কুরআনের আওয়াজ শুনেই আমি তাদের ঘরগুলো চিনে নিই, যদিও দিনের বেলা তারা যেখানে অবস্থান নিয়েছিল তা আমি দেখিনি।" ১।

ইসলামের প্রচার ও প্রসারের সাথে সাথে কুরআন শিক্ষালয়ও ছড়িয়ে পড়ে এবং এর মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। মসজিদের ভেতরে বিভিন্ন হালকায় (حلقات) পরিপূর্ণ থাকার পর, এগুলো মসজিদের সাথে সংলগ্ন কক্ষে রূপ নেয় যা মুসলিম শিশুদের গ্রহণ করতে শুরু করে। যাতে পরবর্তী বিভিন্ন স্তরের জ্ঞানার্জনের আগে পবিত্র কুরআনই প্রথম তাদের কানে পৌঁছে এবং কুরআনের মাধ্যমেই তাদের অন্তর উন্মোচিত হয়।

যেখানেই ইসলামের প্রসার ঘটেছে সেখানেই এই শিক্ষালয়গুলো ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানেই মুসলিম জনবসতি পাওয়া গেছে, সেখানেই কুরআন শিক্ষালয় দেখা গেছে; এতে আরবিভাষী দেশ এবং অনারবিভাষী দেশের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না।

ইবনে হাজম বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন ইসলাম সমগ্র আরব উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়েছিল। আর এই উপদ্বীপে এত বিপুল সংখ্যক গ্রাম ও শহর ছিল যার সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না।

--------------------------------------------

১. এটি সহীহ বুখারী-এর কিতাবুল মাগাজি, "গাজওয়ায়ে খাইবার" পরিচ্ছেদ, ৫/৮০-তে বর্ণিত হয়েছে (أخرجه)।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৫)
كلهم قد أسلموا وبنوا المساجد، ليس فيها مدينة أو قرية، ولا حلة للأعراب إلا قرئ فيها القرآن في الصلوات وعلمه الصبيان والرجال والنساء0ثم مات أبو بكر وولي عمر ففتحت بلاد الفرس، وفتحت الشام والجزيرة ومصر، ولم يبق من هذه البلاد مدينة إلا وقد بنيت فيها المساجد، ونسخت المصاحف، وقرأ الأئمة القرآن، وتعلمه الصبيان في المكاتب شرقاً وغرباً"1. 6.

وإذا كان بعض العلماء يعد عام (459هـ) حداً فاصلاً بين عهدين في تاريخ المؤسسات التعليمية الإسلامية، ففي هذا العام أنشئت المدرسة النظامية في بغداد، مؤذنة ببداية عهد تعليمي جديد، انتقلت فيه أماكن التعليم من الكتاتيب والقصور والمساجد، ودور الحكمة، وحوانيت الورّاقين ومنازل العلماء، إلى المدارس المنظمة، فإن هذا لا يقلل من دور المسجد بوصفه أول مؤسسة انطلق منها شعاع العلم والتعليم في الإسلام على كافة البشر، حيث كان يلتقي فيه الطلاب بالعلماء: يناقشون، ويتحاورون فيما يعنّ لهم من مشكلات ومسائل فقهية، أو علمية بحتة، حتى قيل بحق: إن آلاف أعمدة المساجد التي كانت منتشرة في الإسلام كانت محاطة بآلاف من العلماء المسلمين، وعشرات الآلاف من المتعلمين2.

ومنذ العهد الأول - عهد مدارس المساجد - انتشرت مدارس القرآن والقراءات في جميع الأقطار الإسلامية وصار التنافس العلمي الشريف دافعاً لطلاب تلك المدارس إلى التفوق والإبداع العلمي في مجال علم القراءات.

--------------------------------------------

1 انظر: الفصل في الملل والأهواء والنحل لابن حزم ص 66.

2 انظر: الدور التربوي للمسجد د. فرغلي جاد ص 143 من مجلة الشريعة والدراسات الإسلامية جامعة الكويت – العدد السادس 1406 هـ ربيع أول.
তারা সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং মসজিদসমূহ নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে এমন কোনো শহর বা গ্রাম ছিল না, এমনকি যাযাবরদের তাবুও ছিল না, যেখানে সালাতের মধ্যে কুরআন পাঠ করা হতো না এবং শিশু, পুরুষ ও নারীদের তা শিক্ষা দেওয়া হতো না। অতঃপর আবু বকর (রা.) ইন্তেকাল করেন এবং উমর (রা.) দায়িত্বভার গ্রহণ করেন; তখন পারস্য বিজিত হয় এবং সিরিয়া, আল-জাজিরা ও মিসর বিজিত হয়। এই দেশগুলোর এমন কোনো শহর বাকি ছিল না যেখানে মসজিদ নির্মিত হয়নি, কুরআনের পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করা হয়নি, ইমামগণ কুরআন তিলাওয়াত করেননি এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মক্তবগুলোতে শিশুরা তা শিক্ষা লাভ করেনি।" ১. ৬.

যদি কোনো কোনো আলেম ৪৫৯ হিজরি সালকে ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে দুটি যুগের মধ্যবর্তী একটি বিভাজন রেখা হিসেবে গণ্য করেন—কেননা এই বছর বাগদাদে মাদরাসা নিযামিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা একটি নতুন শিক্ষাযুগের সূচনা ঘোষণা করেছিল যেখানে শিক্ষার স্থানসমূহ মক্তব, রাজপ্রাসাদ, মসজিদ, দারুল হিকমাহ, গ্রন্থলিপিকারদের দোকান এবং আলেমদের আবাসস্থল থেকে সুসংগঠিত মাদরাসায় স্থানান্তরিত হয়েছিল—তবে এটি সমস্ত মানবজাতির জন্য ইসলামে জ্ঞান ও শিক্ষার আলো বিচ্ছুরণের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে মসজিদের ভূমিকাকে মোটেও হ্রাস করে না। সেখানে শিক্ষার্থীরা আলেমদের সাথে মিলিত হতো: তারা তাদের সামনে উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা এবং ফিকহি মাসয়ালা অথবা বিশুদ্ধ জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক করত। এমনকি যথার্থই বলা হয়েছে যে: ইসলামের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মসজিদের হাজার হাজার স্তম্ভ হাজার হাজার মুসলিম আলেম এবং দশ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকত। ২.

এবং প্রথম যুগ—মসজিদভিত্তিক মাদরাসার যুগ—থেকেই কুরআন ও কিরাত শিক্ষার কেন্দ্রসমূহ সমস্ত ইসলামি ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে এবং এই মহান জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রতিযোগিতা ঐসব মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কিরাত বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব ও সৃজনশীলতা অর্জনে এক চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়।

--------------------------------------------

১ দেখুন: ইবনে হাজম বিরচিত আল-ফাসল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল, পৃ. ৬৬।

২ দেখুন: ড. ফারগালি জাদ রচিত আদ-দাওরুত তারবাবি লিল মাসজিদ, পৃ. ১৪৩; মাজাল্লাতুশ শারিয়াহ ওয়াদ দিরাসাতিল ইসলামিয়্যাহ, কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয় - সংখ্যা ৬, ১৪০৬ হিজরি, রবিউল আউয়াল।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৬)
وفيما يلي ذكر لأهم أولئك العلماء الأفذاذ مع تراجم مختصرة لهم، تبين مدى ما قاموا به من جهد في خدمة الكتاب العزيز.
নিম্নে সেই সকল অনন্যসাধারণ বিদগ্ধ পণ্ডিতগণের মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের আলোচনা তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী (تراجم) সহ উল্লেখ করা হলো, যা মহাগ্রন্থের সেবায় তাঁদের নিয়োজিত প্রচেষ্টার ব্যাপ্তি ফুটিয়ে তোলে।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌أحمد بن فرح (ت 303هـ)

ابن جبريل أبو جعفر البغدادي الضرير المقرئ المفسّر، قرأ على الدوري والبزي، وحدّث عن علي بن المديني، وأبي بكر بن أبي شيبة، وأبي الربيع الزهراني، وطائفة.

تصدر للإفادة زماناً، وبَعُدَ صيته، واشتهر اسمه لسعة علمه وعلو سنده، قرأ عليه زيد بن علي بن أبي بلال، وعبد الله بن محرز، وعلي بن سعيد القزاز، وأبو بكر النقاش، وعبد الواحد بن أبي هاشم، وأحمد بن عبد الرحمن الولي، والحسن بن سعيد المطوعي، وآخرون. وحدث عنه أحمد بن جعفر الختّلي، وابن سمعان الرزاز.

سكن الكوفة مدة، وحمل أهلها عنه علماً جماً، وكان ثقة مأموناً، توفي في ذي الحجة سنة ثلاث وثلاث مائة، وقد قارب التسعين1.

--------------------------------------------

1 انظر: معرفة القراء الكبار للذهبي 1/238، وغاية النهاية في طبقات القراء لابن الجزري 1/95/96، وطبقات المفسرين: 1/63 وشذرات الذهب 2/241.
আহমদ বিন ফারাহ (মৃ. ৩০৩ হি.)

ইবনে জিবরীল আবু জাফর আল-বাগদাদী আদ-দারীর, কারী ও মুফাসসির। তিনি আদ-দাওরী এবং আল-বাযযীর নিকট (কুরআন) পাঠ করেছেন এবং আলী ইবনুল মাদীনী, আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ, আবু রাবী আল-যাহরানী এবং একদল (উলামার) থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

তিনি দীর্ঘকাল ইলম বিতরণের আসনে সমাসীন ছিলেন এবং তার সুখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর ইলমের ব্যাপকতা এবং উর্ধ্বতন সনদের (علو سنده) কারণে তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তাঁর নিকট (কুরআন) পাঠ করেছেন যায়দ বিন আলী বিন আবি বিলাল, আব্দুল্লাহ বিন মুহরিয, আলী বিন সাঈদ আল-কাযযায, আবু বকর আন-নাক্কাশ, আব্দুল ওয়াহিদ বিন আবি হাশেম, আহমদ বিন আব্দুর রহমান আল-ওয়ালী, হাসান বিন সাঈদ আল-মুতাওয়িঈ এবং আরও অনেকে। আর তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন জাফর আল-খাত্তালী এবং ইবনে সামআন আর-রাযযায।

তিনি এক সময় কুফায় বসবাস করতেন এবং সেখানকার অধিবাসীরা তাঁর নিকট থেকে বিপুল ইলম অর্জন করেছিলেন। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও বিশ্বস্ত (مأمون) ছিলেন। তিনি ৩০৩ হিজরীর জিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর বয়স তখন নব্বইয়ের কাছাকাছি ছিল।১

--------------------------------------------

১ দেখুন: আয-যাহাবীর মা'রিফাতুল কুররা আল-কিবার ১/২৩৮, ইবনুল জাযারীর গায়াতুন নিহায়াহ ফি তাবাকাতিল কুররা ১/৯৫/৯৬, তাবাকাতুল মুফাসসিরীন: ১/৬৩ এবং শাযারাতুয যাহাব ২/২৪১।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌أبو بكر بن سيف (ت 307هـ)

هو عبد الله بن مالك بن عبد الله بن سيف الدين أبو بكر التجيبي، المقرئ، المصري، شيخ الإقليم في القراءات في زمانه، قرا القرآن على أبي
আবু বকর বিন সাইফ (মৃত্যু ৩০৭ হিজরি)

তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে মালিক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাইফুদ্দিন আবু বকর আল-তুজাইবি, তিলাওয়াত বিশারদ (المقرئ), মিসরীয়। তিনি তাঁর সমসাময়িক কালে কিরাত (القراءات) শাস্ত্রের আঞ্চলিক শায়খ (شيخ) ছিলেন; তিনি আবু-এর নিকট কুরআন তিলাওয়াত করেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৭)
يعقوب الأزرق عرضاً وسماعاً وعمّر دهراً طويلاً، وحدث عن محمد بن رمح صاحب الليث بن سعد وغيره.

قرأ عليه إبراهيم بن محمد بن مروان، ومحمد بن عبد الرحمن الظهراوي، وأبو بكر بن محمد بن عبد الله القاسم الخرقي، شيخ أبي علي الأهوازي، وأبو عدي عبد العزيز ابن علي بن محمد بن إسحاق بن الإمام، وغيرهم.

وقد غلط فيه أبو الطيب بن غلبون فسماه محمداً وتبعه على ذلك ابنه أبو الحسن ومن تبعهما.

وكان شيخ الديار المصرية في زمانه، وانتهت إليه الإمامة في قراءة ورش.

مات يوم الجمعة سنة سبع وثلاثمائة بمصر1.

--------------------------------------------

1 انظر: طبقات القراء للذهبي /231-232، وغاية النهاية 1/445، وشذرات الذهب 2/251.
ইয়াকুব আল-আজরাক উপস্থাপন (عرضاً) ও শ্রবণ (سماعاً) পদ্ধতিতে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং দীর্ঘকাল দীর্ঘজীবী ছিলেন; তিনি লাইস ইবনে সা'দের সঙ্গী মুহাম্মদ ইবনে রুমহ ও অন্যান্যদের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

তাঁর নিকট কিরাআত পাঠ করেছেন ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মারওয়ান, মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-জহরাওয়ী, আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাসিম আল-খিরাকী—যিনি আবু আলী আল-আহওয়াজীর শিক্ষক (شيخ) ছিলেন, আবু আদি আব্দুল আজিজ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে আল-ইমাম এবং আরও অনেকে।

আবু তাইয়্যিব ইবনে গালবুন তাঁর নামের ব্যাপারে ভুল করেছেন এবং তাঁকে 'মুহাম্মদ' হিসেবে নামকরণ করেছেন। তাঁর পুত্র আবু আল-হাসান এবং যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তারা এ বিষয়ে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন।

তিনি তাঁর সমসাময়িককালে মিশর ভূখণ্ডের প্রধান শায়খ (شيخ) ছিলেন এবং ওয়ারশ-এর পঠনশৈলীর (قراءة) ইমামত বা নেতৃত্ব তাঁর মাধ্যমেই পূর্ণতা লাভ করেছিল।

তিনি ৩০৭ হিজরি সনের জুমাবার মিশরে মৃত্যুবরণ করেন১।

--------------------------------------------

১ দ্রষ্টব্য: যাহাবীর তবাকাত আল-কুররা /২৩১-২৩২, গায়াত আল-নিহায়া ১/৪৪৫, এবং শাজারাতুজ জাহাব ২/২৫১।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌أبو بكر بن مجاهد (ت 324هـ)

هو أحمد بن موسى بن العباس بن مجاهد التميمي شيخ القراء في وقته، أبو بكر البغدادي العطشي، المقرئ الأستاذ مصنف كتاب "القراءات السبعة" ولد سنة خمس وأربعين ومائتين بسوق العطش من بغداد، وسمع الحديث من سعدان بن نصر، وأحمد بن منصور الرمادي، ومحمد بن عبد الله المنحرمي وخلق، وقرأ القرآن على أبي الزعراء بن عبدوس وقنبل المكي، وسمع القراءات من طائفة كبيرة، مذكورين في صدر كتابه، وتصدر للإقراء وازدحم عليه أهل الأداء، ورحل إليه من الأمصار وبَعُدَ صيته، وأول من سبع السبعة.
আবু বকর বিন মুজাহিদ (ওফাত ৩২৪ হিজরি)

তিনি হলেন আহমদ বিন মুসা বিন আব্বাস বিন মুজাহিদ আত-তামিমি, তাঁর সময়ের কিরাত বিশেষজ্ঞদের প্রধান (شيخ القراء), আবু বকর আল-বাগদাদি আল-আতাশি; উস্তাদ কারি (المقرئ) এবং "আল-কিরাত আস-সাবআ" গ্রন্থের সংকলক। তিনি ২৪৫ হিজরিতে বাগদাদের সুক আল-আতাশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সা’দান বিন নাসর, আহমদ বিন মানসুর আর-রামাদি, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুখাররামি এবং আরও অনেকের (خلق) নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি আবুয যা’রা বিন আব্দুস এবং কুনবুল আল-মাক্কির নিকট কুরআন পাঠ করেছেন এবং এক বিশাল জামাতের নিকট থেকে কিরাত শ্রবণ করেছেন, যাদের নাম তাঁর কিতাবের শুরুতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি কিরাত পাঠদানের আসনে আসীন হন এবং পারদর্শী তিলাওয়াতকারীরা তাঁর নিকট ভিড় জমাতেন। বিভিন্ন জনপদ থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁর নিকট সফর করে আসতেন এবং তাঁর খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনিই সর্বপ্রথম সাতটি কিরাতকে সুবিন্যস্ত (سبع) করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৮)
قرأ عليه أبو طاهر عبد الواحد بن أبي هاشم، وصالح بن إدريس، وأبو عيسى بكر بن أحمد، وأبو بكر الشذائي، وأبو الفرج الشنبوذي، وأبو الحسين عبيد الله بن البواب، وعبد الله بن الحسين السامري، وأحمد بن محمد العجلى، وأبو علي بن حبش الدينوري، وأبو الفتح بن بدهن، وطلحة بن محمد بن جعفر، ومنصور بن محمد بن منصور القزاز وغيرهم.

قال أبو عمرو الداني: فاق ابن مجاهد في عصره، سائر نظائره من أهل صناعته، مع اتساع علمه، وبراعة فهمه، وصدق لهجته، وظهور نسكه، تصدر للإقراء في حياة محمد بن يحيى الكسائي الصغير.

توفي في شعبان سنة أربع وعشرين وثلاث مائة. 1

--------------------------------------------

1 كتاب السبعة لابن مجاهد، مقدمة شوقي ضيف، والكامل في التاريخ لابن الأثير 7/126 ومعرفة القراء 1/269-271 والبداية والنهاية لابن كثير 11/197، وغاية النهاية 1/139-142.
আবু তাহের আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আবি হাশিম, সালেহ ইবনে ইদ্রিস, আবু ঈসা বকর ইবনে আহমাদ, আবু বকর আশ-শাযায়ী, আবু আল-ফারাজ আশ-শানবূযী, আবু আল-হুসাইন উবাইদুল্লাহ ইবনে আল-বাওয়াব, আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হুসাইন আস-সামিরী, আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-ইজলী, আবু আলী ইবনে হাবশ আদ-দ্বীনওয়ারী, আবু আল-ফাতহ ইবনে বাদহান, তালহা ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর, মানসুর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মানসুর আল-কাযযায এবং আরও অনেকে তাঁর নিকট কিরাত পাঠ করেছেন।

আবু আমর আদ-দানী বলেন: ইবনে মুজাহিদ তাঁর জ্ঞানের গভীরতা, প্রখর মেধা, সত্যবাদিতা (صدق لهجته) এবং প্রকাশ্য ইবাদত-নিষ্ঠার (نسك) গুণাবলিসহ তাঁর সমসাময়িক সকল পণ্ডিতের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-কিসায়ী আস-সাগীরের জীবদ্দশাতেই কিরাত বা তিলাওয়াত শেখানোর আসনে আসীন হন।

তিনি ৩২৪ হিজরি সনের শাবান মাসে ইন্তেকাল করেন। ১

--------------------------------------------

১ ইবনে মুজাহিদ রচিত কিতাবুস সাবআ, শাওকী যাইফের ভূমিকা; ইবনুল আসীর রচিত আল-কামিল ফিত তারিখ ৭/১২৬; মা’রিফাতুল কুররা ১/২৬৯-২৭১; ইবনে কাসীর রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১১/১৯৭ এবং গায়াতুন নিহায়া ১/১৩৯-১৪২।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌المطوعي (ت 371هـ)

هو الشيخ الإمام، شيخ القراء، مسند العصر أبو العباس، الحسن بن سعيد بن جعفر العباداني المطوعي، ولد في حدود سنة سبعين ومائتين، وكان أحد من عني بهذا الفن وتبحر فيه، ولقي الكبار، وأكثر الرحلة في الأقطار، وكان أبوه واعظاً محدّثاً وكان سبباً في إعانته على الرحلة.

قرأ على إدريس بن عبد الكريم الحداد، ومحمد بن عبد الرحيم الأصبهاني، والحسين ابن علي الأزرق الجمال، ومحمد بن القاسم الإسكندراني. وأحمد بن فرح المفسر، وإسحاق ابن أحمد الخزاعي، وسمع
আল-মুতাওয়্যায়ি (মৃত ৩৭১ হি.)

তিনি হলেন শাইখুল ইমাম, ক্বারিদের প্রধান, সমকালীন যুগের বর্ণনাকারী (مسند) আবু আব্বাস, আল-হাসান ইবনে সাঈদ ইবনে জাফর আল-আব্বাদানি আল-মুতাওয়্যায়ি। তিনি আনুমানিক ২৭০ হিজরি সনের কাছাকাছি সময়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা এই শাস্ত্রের প্রতি অতিশয় যত্নবান ছিলেন এবং এতে গভীর বুৎপত্তি লাভ করেছিলেন। তিনি বরেণ্য পণ্ডিতদের সান্নিধ্য লাভ করেন এবং বিভিন্ন জনপদে প্রচুর জ্ঞানমূলক সফর (رحلة) করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন ওয়ায়েজ ও হাদিস বর্ণনাকারী (محدث), যা তাঁর এই জ্ঞানার্জনের সফরে সহায়তার ক্ষেত্রে বিশেষ কারণ হয়েছিল।

তিনি ইদ্রিস ইবনে আব্দুল কারিম আল-হাদ্দাদ, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহিম আল-আসফাহানি, হুসাইন ইবনে আলি আল-আযরাক আল-জাম্মাল এবং মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আল-ইসকান্দারানি-এর নিকট কিরাত পাঠ করেন। এছাড়াও তিনি আহমদ ইবনে ফারাহ আল-মুফাসসির ও ইসহাক ইবনে আহমদ আল-খুজায়ি-এর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন এবং শ্রবণ (سمع) করেন
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৯)
الحديث من الحسن بن المثنى وإدريس بن عبد الكريم، وجعفر الفريابي، وطائفة.

وجمع، وصنف كتاب (اللامات وتفسيرها) ، وعمر دهراً طويلاً، وانتهى إليه علو الإسناد في القراءات.

قرأ عليه أبو الفضل محمد بن جعفر الخزاعي، وأبو الحسين علي بن محمد الخبازي، ومحمد بن الحسين الكارزيني، وغيرهم.

توفي سنة إحدى وسبعين وثلاث مائة، وقد جاوز المائة. 1

--------------------------------------------

1 انظر: معرفة القراء 1/317-319، وسير أعلام النبلاء 16/260، وغاية النهاية 1/213-215.
তিনি হাসান ইবনুল মুসান্না, ইদ্রিস ইবনে আব্দুল কারিম, জাফর আল-ফিরইয়াবি এবং একদল (طائفة) বর্ণনাকারীর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।

তিনি হাদিস সংগ্রহ করেছেন এবং 'আল-লামাত ওয়া তাফসিরুহা' নামক গ্রন্থটি রচনা করেছেন। তিনি সুদীর্ঘ জীবন লাভ করেছিলেন এবং কিরাতশাস্ত্রের ক্ষেত্রে উচ্চতর সনদ (علو الإسناد) তাঁর নিকট এসে সমাপ্ত হয়েছিল।

তাঁর নিকট আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-খুজায়ি, আবুল হুসাইন আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-খাব্বাজি, মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-কারজিনি এবং আরও অনেকে কিরাত পাঠ করেছেন।

তিনি ৩৭১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন এবং তখন তাঁর বয়স একশ বছর অতিক্রম করেছিল। ১

--------------------------------------------

১ দ্রষ্টব্য: মারিফাতুল কুররা ১/৩১৭-৩১৯, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৬/২৬০ এবং গায়াতুন নিহায়াহ ১/২১৩-২১৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌علي بن محمد بن إسماعيل (ت 377هـ)

هو الإمام علي بن محمد بن إسماعيل بن بشر الأنطاكي، الإمام أبو الحسن التميمي، نزيل الأندلس ومقرئها، ومسندها.

قال الداني: أخذ القراءة عرضاً وسماعاً عن إبراهيم بن عبد الرزاق، ومحمد بن الأخرم، وأحمد بن يعقوب التائب، وأحمد بن محمد بن خشيش، ومحمد بن جعفر بن بيان، وصنف قراءة ورش. 2

قرأ عليه أبو الفرج الهيثم الصباغ، وإبراهيم بن مبشر المقرئ، وطائفة من قراء الأندلس، وسمع منه عبد الله بن أحمد بن معاذ الداراني. 3

قال أبو الوليد بن الفرضي: "أدخل الأندلس علماً جماً، وكان بصيراً بالعربية والحساب، وله حظ من الفقه، قرأ الناس عليه، وسمعت أنا منه وكان

--------------------------------------------

2 انظر: معرفة القراء 1/344.

3 انظر: تاريخ علماء الأندلس لوليد الفرضي ص 316، وغاية النهاية 1/564-565.
‌‌আলী বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল (মৃত্যু ৩৭৭ হিজরি)

তিনি হলেন ইমাম আলী বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বিন বিশর আল-আনতাকি, ইমাম আবু আল-হাসান আত-তামিমি; তিনি আন্দালুসের অধিবাসী, সেখানকার প্রধান ক্বারি এবং সেখানকার মুসনাদ (সর্বোচ্চ সনদধারী বর্ণনাকারী)।

আদ-দানি বলেন: তিনি ইব্রাহিম বিন আবদুর রাজ্জাক, মুহাম্মদ বিন আল-আখরাম, আহমদ বিন ইয়াকুব আত-তাইব, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন খুশাইশ এবং মুহাম্মদ বিন জাফর বিন বায়ান-এর নিকট পাঠ গ্রহণের (عرضا) ও শ্রবণের (سماعا) মাধ্যমে কিরাত শিক্ষা করেছেন এবং তিনি ওয়ারশের কিরাত সম্পর্কে একটি কিতাব সংকলন করেছেন। 2

তাঁর নিকট কিরাত পাঠ করেছেন আবুল ফারাজ আল-হাইসাম আস-সাব্বাগ, ইব্রাহিম বিন মুবাশশির আল-মুকরি এবং আন্দালুসের একদল ক্বারি; আর তাঁর থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুয়াজ আদ-দারানি। 3

আবু আল-ওয়ালিদ বিন আল-ফারাদি বলেন: "তিনি আন্দালুসে প্রচুর জ্ঞান বয়ে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি আরবি ভাষা ও গণিতশাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন এবং ফিকহ শাস্ত্রেও তাঁর বিশেষ পাণ্ডিত্য ছিল। মানুষ তাঁর নিকট কিরাত পাঠ করত এবং আমি নিজেও তাঁর নিকট থেকে শুনেছি..."

--------------------------------------------

2 দেখুন: মা'রিফাতুল কুররা ১/৩৪৪।

3 দেখুন: ওয়ালিদ আল-ফারাদি রচিত তারিখু উলামাইল আন্দালুস, পৃষ্ঠা ৩১৬ এবং গায়াতুন নিহায়া ১/৫৬৪-৫৬৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১০)
رأساً في القراءات لا يتقدمه أحد في معرفتها في وقته، وكان مولده بأنطاكية، سنة تسع وتسعين مائتين، ومات بقرطبة في ربيع الأول سنة سبع وسبعين وثلاث مائة". 1

والغازي بن قيس عن نافع، وكذلك روى عن هشام وابن ذكوان، وروى عنه الحروف أصبغ بن مالك الزاهد، وأحمد بن خالد، ومحمد بن أحمد بن يحيى الاشبيلي وغيرهم. وكان زاهداً عالماً كبيراً صالحاً انتفع به أهل الأندلس مات في ذي الحجة سنة ست وثمانين وقيل في المحرم سنة سبع وثمانين ومائتين. 2

--------------------------------------------

1 انظر: تاريخ علماء الأندلس ص 316.

2 انظر: المراجع السابقة هامش 12-14.
তিনি ছিলেন কিরাআত (القراءات) শাস্ত্রের একজন শীর্ষস্থানীয় ইমাম, তাঁর সমসাময়িক কালে এই শাস্ত্রের জ্ঞানে তাঁর অগ্রগামী কেউ ছিল না। তাঁর জন্ম হয়েছিল আন্তাকিয়ায়, ২৯৯ হিজরি সনে এবং তিনি কর্ডোভায় ৩৭৭ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন। ১

আর গাজী বিন কায়স নাফে-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন (روى), অনুরূপভাবে তিনি হিশাম ও ইবনে জাকওয়ানের নিকট থেকেও বর্ণনা করেছেন (روى); এবং তাঁর নিকট থেকে কিরাআতের বিভিন্ন পদ্ধতি (الحروف) বর্ণনা করেছেন (روى) আসবাগ বিন মালিক আজ-জাহিদ, আহমদ বিন খালিদ, মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-ইশবিলি এবং অন্যান্যরা। তিনি ছিলেন একজন সংসারবিরাগী (زاهد), মহান বিদ্বান (عالم) এবং নেককার (صالح) মানুষ, যাঁর দ্বারা আন্দালুসবাসী উপকৃত হয়েছিল। তিনি ১৮৬ হিজরি সনের জিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেন, আবার বলা হয়ে থাকে যে ১৮৭ হিজরি সনের মহররম মাসে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ২

--------------------------------------------

১ দেখুন: তারিখ উলামায়ে আন্দালুস, পৃষ্ঠা ৩১৬।

২ দেখুন: পূর্ববর্তী সূত্রসমূহ, পাদটীকা ১২-১৪।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌علي بن داود القطان (ت 402هـ)

هو علي بن داود أبو الحسن الداراني القطان، إمام جامع دمشق ومقرئها.

قرأ القرآن بالروايات على طائفة، منهم: أبو الحسن بن الأخرم، وأحمد بن عثمان ابن السباك، وسمع من خيثمة الأطرابلسي، وأبي علي الحصائري، وجماعة.

قرأ عليه رشأ بن نظيف، وعلي بن الحسن الربعي، وأحمد بن محمد الأصبهاني، وأبو علي الأهوازي، وتاج الأئمة أحمد بن علي المصري، وعبد الرحمن بن أحمد، شيخ الهذلي، وحدث عنه رشأ وغيره.
আলী বিন দাউদ আল-কাত্তান (মৃ. ৪০২ হি.)

তিনি হলেন আলী বিন দাউদ আবুল হাসান আদ-দারানি আল-কাত্তান, দামেস্কের জামে মসজিদের ইমাম (إمام) এবং সেখানকার কারী (مقرئ)।

তিনি একটি দলের নিকট বিভিন্ন রেওয়ায়াতের (روايات) মাধ্যমে কুরআন পাঠ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবুল হাসান বিন আল-আখরাম এবং আহমদ বিন উসমান ইবন আস-সাব্বাক; এছাড়া তিনি খায়সামা আল-আতরাবুলুসি, আবু আলী আল-হাসাইরি এবং একদল (মুহাদ্দিসের) নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ (سمع) করেছেন।

তাঁর নিকট কিরাত পাঠ করেছেন রশা বিন নাজিফ, আলী বিন হাসান আল-রিবয়ি, আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আসবাহানি, আবু আলী আল-আহওয়াজি, তাজুল আইম্মাহ আহমদ বিন আলী আল-মিসরি এবং আল-হুযালির উস্তাদ আবদুর রহমান বিন আহমদ; এবং রশা ও অন্যান্যরা তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা (حدث) করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১১)
قال عبد المنعم بن النحوي: خرج القاضي أبو محمد العلوي وجماعة من الشيوخ إلى "داريا"1 إلى ابن داود، فأخذوه بجامع دمشق في سنة ثمان وثمانين وثلاث مائة، وجاؤوا به بعد أن منعهم أهل داريا، وتنافسوا، حتى قال أبو محمد عبد الرحمن بن أبي نصر: يا أهل "داريا" ألا ترضون أن يسمع في البلاد أن أهل دمشق احتاجوا إليكم في إمام، فقالوا: قد رضينا، فقدمت له بغلة القاضي فأبى، وركب حماره، ودخل معهم، فسكن في المنارة الشرقية، وكان يقرئ بشرقي الرواق الأوسط، ولا يأخذ على الإمامة رزقاً، ولا يقبل ممن يقرأ عليه براً، ويقتات من غلة أرض له "بداريا" ويحمل ما يكفيه من الحنطة، ويخرج بنفسه إلى الطاحون فيطحنه، ثم يعجنه ويخبزه.

قال الكتاني: كان ثقة، انتهت إليه الرئاسة في قراءة الشاميين، توفي رحمه الله سنة اثنتين وأربع مائة. 2

--------------------------------------------

1 داريّا: قرية كبيرة مشهورة من قرى دمشق بالغوطة، انظر معجم البلدان 2/431.

2 انظر: معرفة القراء 1/366-367، وغاية النهاية 1/541-542 وشذرات الذهب 3/163.
আবদুল মুনইম ইবনুন নাহবী বলেন: কাজি আবু মুহাম্মাদ আল-আলাভি এবং শাইখদের একটি দল ইবনে দাউদের খোঁজে 'দারিয়া'১-তে গমন করেন। অতঃপর তারা তাকে ৩৮৮ হিজরি সনে দামেস্কের জামে মসজিদে নিয়ে আসেন। দারিয়াবাসীরা তাদের বাধা প্রদান এবং এ নিয়ে প্রতিযোগিতা করার পর তারা তাকে সাথে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। এমনকি একপর্যায়ে আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবনে আবি নাসর বলেন: হে 'দারিয়া'বাসী! আপনারা কি এতে সন্তুষ্ট নন যে, জনপদে জনপদে এই কথা ছড়িয়ে পড়বে যে—দামেস্কবাসী একজন ইমাম (إمام)-এর প্রয়োজনে আপনাদের মুখাপেক্ষী হয়েছে? তখন তারা বললেন: আমরা এতে সন্তুষ্ট। এরপর তার সামনে কাজির খচ্চরটি পেশ করা হলো, কিন্তু তিনি তাতে চড়তে অস্বীকৃতি জানালেন এবং নিজের গাধায় চড়ে তাদের সাথে শহরে প্রবেশ করলেন। তিনি পূর্ব মিনারায় বসবাস শুরু করেন এবং মধ্যম বারান্দার পূর্ব অংশে পাঠ দান করতেন। তিনি ইমামতি (إمامة)-র জন্য কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন না এবং যারা তার কাছে পাঠ গ্রহণ করত, তাদের পক্ষ থেকেও কোনো উপঢৌকন গ্রহণ করতেন না। তিনি 'দারিয়া'-তে থাকা তার নিজ জমির ফসল দ্বারা জীবনধারণ করতেন। তিনি নিজের প্রয়োজনীয় গম নিজেই বহন করে আনতেন এবং নিজে জাঁতাকলে গিয়ে তা পেষণ করতেন, অতঃপর তা খামির করে রুটি তৈরি করতেন।

আল-কাত্তানি বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন; শামবাসীদের কিরাআত বা পাঠরীতিতে শীর্ষ নেতৃত্ব তার ওপর এসে সমাপ্ত হয়েছে। তিনি আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন ৪০২ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। ২

--------------------------------------------

১ দারিয়া: এটি দামেস্কের গুতা অঞ্চলের একটি বিখ্যাত বড় গ্রাম, দেখুন: মুজামুল বুলদান ২/৪৩১।

২ দেখুন: মারিফাতুল কুররা ১/৩৬৬-৩৬৭, গায়াতুন নিহায়া ১/৫৪১-৫৪২ এবং শাযারাতুয যাহাব ৩/১৬৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مكي بن أبي طالب (ت 437هـ)

مكي بن أبي طالب، واسم أبي طالب "حموش" بن محمد بن مختار الإمام أبو محمد القيسي المغربي، القيرواني، ثم الأندلسي القرطبي، العلامة المقرئ.

ولد سنة خمس وخمسين وثلاث مائة بالقيروان، وحج وسمع بمكة من أحمد بن فراس، وأبي القاسم عبيد الله السقطي.
মক্কি বিন আবি তালিব (মৃত্যু ৪৩৭ হিজরি)

মক্কি বিন আবি তালিব, আর আবু তালিবের নাম হলো "হাম্মুশ" বিন মুহাম্মদ বিন মুখতার; তিনি ছিলেন ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-কায়সি আল-মাগরিবি, আল-কায়রাওয়ানি, পরবর্তীতে আল-আন্দালুসি আল-কুরতুবি, প্রাজ্ঞ পণ্ডিত (علامة) ও বিশেষজ্ঞ কারি (مقري)।

তিনি তিনশত পঞ্চান্ন (৩৫৫) হিজরি সনে কায়রাওয়ানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হজ পালন করেন এবং মক্কায় আহমাদ বিন ফিরাস ও আবুল কাসিম উবায়দুল্লাহ আস-সাকতির নিকট হাদিস শ্রবণ (سمع) করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১২)
"قال صاحبه أبو عمر المهدي قرأ القراءات على أبي الطيب بن غلبون، وابنه طاهر، وأبي عبد العزيز، وسمع من محمد بن علي الأذفوي.

كان رحمه الله من أهل التبحر في علوم القرآن والعربية، حسن الفهم والخلق، جيد الدين والعقل، كثير التأليف في علوم القرآن، محسناً مجوداً، عالماً بمعاني القراءات، سافر إلى مصر، وهو ابن ثلاث عشرة سنة، وتردد إلى المؤدبين بالحساب، وأكمل القرآن، ورجع إلى القيروان، ثم رحل فقرأ القراءات على ابن غلبون، سنة ست وسبعين، ثم حج سنة سبع وثمانين، وجاور ثلاثة أعوام، ودخل الأندلس سنة ثلاث وتسعين، وجلس للإقراء بجامع قرطبة، وعظم اسمه، وجل قدره".1

قرأ عليه جماعة كثيرة منهم: محمد بن أحمد بن مطرف الكناني القرطبي، وعبد الله بن سهل، ومحمد بن عيسى المغامي، وحاتم بن محمد، وأبو الأصبغ بن سهل، وأبو محمد بن عتاب. وغيرهم. وله تآليف مشهورة. 2

توفي رحمه الله في ثاني محرم سنة سبع وثلاثين وأربع مائة. 3

--------------------------------------------

1 انظر: معرفة القراء 1/395.

2 منها: التبصرة في القراءات السبع، والكشف عن وجوه القراءات السبع وعللها وحججها، وغيرها من الكتب.

3 انظر: معرفة القراء 1/395 – 196، وغاية النهاية 2/309-310.
তাঁর সঙ্গী আবু উমর আল-মাহদি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু তৈয়ব বিন গালবুন, তাঁর পুত্র তাহির এবং আবু আব্দুল আজিজের নিকট কিরাআতসমূহ পাঠ করেছেন এবং মুহাম্মদ বিন আলী আল-আদফাউয়ি-এর নিকট থেকে শ্রবণ (سمع) করেছেন।

আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি কুরআন ও আরবি ভাষার বিভিন্ন শাখায় গভীর জ্ঞানের (تبحر) অধিকারী ছিলেন। তাঁর বোধশক্তি ও চরিত্র ছিল অত্যন্ত চমৎকার; দ্বীনদারিতা ও প্রজ্ঞা ছিল সুনিপুণ। কুরআন বিষয়ক বিজ্ঞানে তাঁর অসংখ্য রচনা রয়েছে। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ ও তাজবিদ বিশেষজ্ঞ (مجود) এবং কিরাআতসমূহের মর্মার্থ সম্পর্কে বিজ্ঞ (عالم)। তিনি তেরো বছর বয়সে মিশরে সফর করেন এবং সেখানে গণিত শিক্ষকদের নিকট যাতায়াত করেন ও কুরআন সম্পন্ন করেন। এরপর কায়রোয়ানে ফিরে আসেন এবং পুনরায় সফর করে ৩৭৬ হিজরিতে ইবনুল গালবুনের নিকট কিরাআত পাঠ করেন। অতঃপর ৩৮৭ হিজরিতে হজ পালন করেন এবং তিন বছর সেখানে অবস্থান করেন। ৩৯৩ হিজরিতে তিনি আন্দালুসে প্রবেশ করেন এবং কর্ডোভার জামে মসজিদে কিরাআত শিক্ষাদানের জন্য বসেন। তাঁর সুখ্যাতি বৃদ্ধি পায় এবং তাঁর সম্মান ও মর্যাদা সুউচ্চ হয়।1

তাঁর নিকট এক বিশাল জামাত পাঠ গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুতাররিফ আল-কিনানি আল-কুরতুবি, আব্দুল্লাহ বিন সাহল, মুহাম্মদ বিন ঈসা আল-মাগামি, হাতিম বিন মুহাম্মদ, আবু আল-আসবাহ বিন সাহল এবং আবু মুহাম্মদ বিন আত্তাব প্রমুখ। তাঁর বহু প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রয়েছে। 2

৪৩৭ হিজরির ২রা মহররম তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ইন্তেকাল করেন। 3

--------------------------------------------

১ দেখুন: মারেফাতুল কুররা ১/৩৯৫।

২ সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: আত-তাবসিরা ফিল কিরাআত আস-সাব'আ, এবং আল-কাশফ আন উজুহিল কিরাআত আস-সাব'আ ওয়া ইলালুহা ওয়া হুজাজুহা এবং অন্যান্য গ্রন্থ।

৩ দেখুন: মারেফাতুল কুররা ১/৩৯৫-৩৯৬, এবং গায়াতুন নিহায়াহ ২/৩০৯-৩১০।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌أبو عمرو الداني (ت 444هـ)

هو العلامة عثمان بن سعيد بن عثمان بن سعيد بن عمر الأموي، مولاهم القرطبي الإمام المعلم، المعروف في زمانه بابن الصيرفي، وفي زمان الذهبي، بأبي عمرو الداني، لنزوله بدانية.
আবু আমর আদ-দানি (মৃত্যু ৪৪৪ হিজরি)

তিনি হলেন আল্লামা উসমান বিন সাঈদ বিন উসমান বিন সাঈদ বিন উমর আল-উমাবি, তাদের মুক্ত করা গোলাম, আল-কুরতুবি, ইমাম (الإمام) ও শিক্ষক; তিনি তাঁর সমসাময়িককালে ইবনুল সাইরাফি নামে পরিচিত ছিলেন এবং আয-যাহাবির যুগে দানিয়া শহরে অবস্থানের কারণে আবু আমর আদ-দানি নামে পরিচিতি লাভ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১৩)
ولد سنة إحدى وسبعين وثلاث مائة، قال: الداني - وابتدأت بطلب العلم في سنة ست وثمانين وثلاث مائة، ورحلت إلى المشرق سنة سبع وتسعين، فمكثت بالقيروان أربعة أشهر أكتب، ثم دخلت مصر فمكثت بها سنة، وحججت، ثم دخلت الأندلس في ذي القعدة سنة تسع وتسعين. وخرجت إلى الثغر سنة ثلاث وأربع مائة، فسكنت سرقسطة سبعة أعوام، ثم رجعت إلى قرطبة، قال: وقدمت دانية سنة سبع عشرة. فاستوطنها حتى مات.

أخذ القراءات عرضاً عن خلف بن إبراهيم بن خاقان، وأبي الحسن طاهر بن غلبون، وأبي الفتح فارس بن أحمد، وعبيد الله بن سلمة بن حزم وغيرهم.

قرأ عليه أبو إسحاق إبراهيم بن علي الفيسولي، وولده أحمد بن عثمان، والحسن ابن علي بن مبشر، وخلف بن إبراهيم الطليطلي، وأبو داود سليمان بن نجاح وغيرهم. 1

--------------------------------------------

1 انظر: معرفة القراء 1/406 – 409، وغاية النهاية 1/503-505.
তিনি ৩৭১ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। দানি বলেন— "আমি ৩৮৬ হিজরি সনে জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করি এবং ৩৯৭ হিজরি সনে প্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা করি। কাইরাওয়ানে আমি চার মাস অবস্থান করে পাণ্ডুলিপি লিপিবিদ্ধ করি, এরপর মিশরে প্রবেশ করে সেখানে এক বছর অবস্থান করি এবং হজ পালন করি। অতঃপর ৩৯৯ হিজরি সনের জিলকদ মাসে আমি আন্দালুসে প্রবেশ করি। ৪০৩ হিজরি সনে আমি সীমান্ত অঞ্চলের উদ্দেশ্যে বের হই এবং সারগোসায় সাত বছর বসবাস করি, এরপর কর্ডোভায় ফিরে আসি।" তিনি বলেন— "আমি ৪১৭ হিজরি সনে দানিয়াতে আসি।" অতঃপর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

তিনি খালাফ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে খাকান, আবুল হাসান তাহির ইবনে গালবুন, আবুল ফাতাহ ফারিস ইবনে আহমদ, উবায়দুল্লাহ ইবনে সালামাহ ইবনে হাযম এবং অন্যদের নিকট উপস্থাপন (عرضاً) পদ্ধতির মাধ্যমে ক্বিরাআত গ্রহণ করেন।

তাঁর নিকট আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আলী আল-ফাইসুলি, তাঁর পুত্র আহমদ ইবনে উসমান, হাসান ইবনে আলী ইবনে মুবাশির, খালাফ ইবনে ইব্রাহিম আত-তুলাইতুলি, আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে নাজাহ এবং অন্যরা পাঠ সম্পন্ন করেছেন। ১

--------------------------------------------

১. দেখুন: মারিফাতুল কুররা ১/৪০৬–৪০৯, এবং গায়াতুন নিহায়াহ ১/৫০৩-৫০৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌أبو معشر الطبري (ت 478 هـ)

هو عبد الكريم ابن عبد الصمد بن محمد بن علي الطبري، المقرئ، القطان، مقرئ أهل مكة، قال الذهبي: "قرأ القراءات على أبي القاسم الزيدي بحران، وأبي عبد الله الكارزيني، وابن نفيس، وإسماعيل بن راشد الحداد، والحسين بن محمد الأصبهاني، وخلق".2

--------------------------------------------

2 انظر: معرفة القراء 1/435 – 436، وغاية النهاية 1/401، وطبقات المفسرين 1/338-339.
আবু মা’শার আত-তাবারী (ওফাত ৪৭৮ হিজরি)

তিনি হলেন আব্দুল কারীম ইবনে আব্দুস সামাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আত-তাবারী, আল-মুক্বরি, আল-ক্বাত্তান, মক্কাবাসীদের ক্বারী। আয-যাহাবী বলেন: "তিনি হাররানে আবুল ক্বাসিম আয-যাইদী, আবু আব্দুল্লাহ আল-কারযিনী, ইবনে নাফিস, ইসমাঈল বিন রাশিদ আল-হাদ্দাদ, আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ আল-আসবাহানী এবং আরও অনেকের নিকট ক্বিরাআতসমূহ পড়েছেন।"২

--------------------------------------------

২ দেখুন: মা’রিফাতুল ক্বুররা ১/৪৩৫ – ৪৩৬, গায়াতুন নিহায়াহ ১/৪০১, এবং তবাক্বাতুল মুফাসসিরীন ১/৩৩৮-৩৩৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১৪)
وممن قرأ عليه الحسن بن خلف بن بليمة، صاحب تلخيص العبارات، وإبراهيم بن عبد الملك القزويني، وعبد الله بن منصور بن أحمد البغدادي، وعبد الله بن عمر بن العرجاء، ومحمد بن إبراهيم بن نعيم الخلف وغيرهم.

ألف كتاب التلخيص في القراءات الثمان، وكتاب سوق العروس فيه ألف وخمسمائة رواية وطريق، وكتاب الدرر في التفسير، وكتاب الرشاد في شرح القراءات الشاذة، وكتاب عنوان المسائل وكتاب طبقات القراء، وكتاب الجامع في القراءات العشر. 1

توفي رحمه الله بمكة سنة ثمان وسبعين وأربعمائة. 2

--------------------------------------------

1 حقق هذا الكتاب في رسالة علمية لدرجة الدكتوراه في الجامعة الإسلامية بتحقيق د/محمد سيدي الأمين.

2 المراجع السابقة في هامش 22.
যারা তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন 'তালখিসুল ইবারাত'-এর রচয়িতা আল-হাসান বিন খালাফ বিন বালিমা, ইবরাহিম বিন আব্দুল মালিক আল-কাযওয়িনি, আব্দুল্লাহ বিন মনসুর বিন আহমাদ আল-বাগদাদি, আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন আল-আরজা, মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন নুয়াইম আল-খালাফ এবং আরও অনেকে।

তিনি আট ক্বিরাআত বিষয়ক গ্রন্থ 'আত-তালখিস', 'সুকুল আরুস' (যাতে দেড় হাজার বর্ণনা (رواية) ও সূত্র (طريق) রয়েছে), তাফসির বিষয়ক গ্রন্থ 'আদ-দুরার', শায বা বিরল (شاذة) ক্বিরাআতের ব্যাখ্যা বিষয়ক গ্রন্থ 'আর-রাশাদ', 'উনওয়ানুল মাসাইল', 'তাবাকাতুল কুররা' এবং দশ ক্বিরাআত বিষয়ক গ্রন্থ 'আল-জামি' রচনা করেছেন। 1

তিনি ৪৭৮ হিজরিতে মক্কায় ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন। 2

--------------------------------------------

1 গ্রন্থটি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেট ডিগ্রির জন্য একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র হিসেবে ড. মুহাম্মদ সিদি আল-আমিনের সম্পাদনা ও যাচাইয়ের (تحقيق) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

2 পূর্ববর্তী উৎসসমূহ ২২ নম্বর টীকায় দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌عبد القاهر بن عبد السلام المكي (ت 493 هـ)

هو عبد القاهر بن عبد السلام بن علي العباسي، الشريف أبو الفضل المكي، النقيب المقرئ قال الذهبي: "ولد سنة خمس وعشرين وقرأ بالروايات الكثيرة على أبي عبد الله محمد بن الحسين بن آذر الكارزيني، وطال عمره، وكان من آخر من مات من أصحاب الكارزيني، وكان نقيب بني هاشم بمكة". 3

قال السمعاني: كان فقيه الهاشميين.

وقال أبو الفضل محمد بن محمد بن عطاف: رحمه الله على هذا الشريف، فلقد كان على أحسن طريقة سلكها الأشراف من دين مكين،

--------------------------------------------

3 انظر: معرفة القراء 1/447، وتاريخ الإسلام للذهبي (وفيات 493) وغاية النهاية 1/399.
আব্দুল কাহের ইবনে আব্দুল সালাম আল-মাক্কি (মৃ. ৪৯৩ হিজরি)

তিনি হলেন আব্দুল কাহের ইবনে আব্দুল সালাম ইবনে আলি আল-আব্বাসি, আশ-শরিফ আবুল ফজল আল-মাক্কি, আন-নাকিব আল-মুকরি। ইমাম যাহাবি বলেছেন: "তিনি চারশ পঁচিশ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আজার আল-কারজিনি-এর নিকট বহু বর্ণনা (روايات) অনুযায়ী পাঠ সম্পন্ন করেন। তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন এবং কারজিনির ছাত্রদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী। তিনি মক্কায় বনু হাশেমের নকিব (প্রধান) ছিলেন।" ৩

সামআনি বলেছেন: তিনি হাশেমীয়দের মধ্যে ফকিহ (فقيه) ছিলেন।

আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আতাফ বলেছেন: এই শরিফের (মর্যাদাবান ব্যক্তি) ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, কারণ তিনি অত্যন্ত সুদৃঢ় দ্বীনদারির সাথে অভিজাতদের অনুসৃত সর্বোত্তম পথ অবলম্বন করেছিলেন।

--------------------------------------------

৩ দেখুন: মারিফাতুল কুররা ১/৪৪৭, যাহাবির তারিখুল ইসলাম (৪৯৩ হিজরির মৃত্যুসংবাদ) এবং গায়াতুন নিহায়াহ ১/৩৯৯।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১৫)
وعقل رزين، قدم من مكة وسكن المدرسة النظامية، فأقرأ بها القرآن عن جماعة، وحدث. قرأ عليه دعوان بن علي وأبو محمد عبد الله بن علي سبط الخياط، وأبو الكرم الشهرزوري، وآخرون.

توفي يوم الجمعة من جمادى الآخرة سنة ثلاث وتسعين وأربعمائة من الهجرة. 1

--------------------------------------------

1 المرجع السابق.
এবং তিনি ছিলেন গভীর ও ধীরস্থির প্রজ্ঞার অধিকারী; তিনি মক্কা থেকে আগমন করেন এবং নিযামিয়া মাদরাসায় বসবাস করেন। সেখানে তিনি একদল উস্তাদের নিকট হতে প্রাপ্ত কিরাআত অনুযায়ী কুরআন পাঠদান করেন এবং হাদিস বর্ণনা (حدث) করেন। দাওয়ান বিন আলী, আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আলী সিবত আল-খাইয়াত, আবুল কারাম আশ-শাহরাযুরি এবং আরও অনেকে তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন।

তিনি হিজরি ৪৯৩ সনের জুমাদাল আখিরা মাসের এক জুমাবার ইন্তেকাল করেন। 1

--------------------------------------------

1 পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الحسن بن عبد الله (ت 547 هـ)

هو الحسن بن عبد الله بن عمر بن العرجاء أبو علي وقيل لأبيه (ابن العرجاء) لأن أمه كانت فقيهة عرجاء، عابدة، تقعد في المسجد الحرام في صف بعد صف ابنها.

قال الذهبي: "قرأ بمكة على والده، وعلى أبي معشر الطبري، وطال عمره، وقصده القراء لعلو سنده، قرأ عليه محمد بن أحمد بن معط الأوريولي، وأبو الحسن بن كوثر المحاربي، وأبو القاسم محمد بن وضاح (خطيب شقر) وآخرون.

وكان أبوه قد أدرك عند مجيئه من الغرب الشيخ أبا العباس بن نفيس، وأخذ عنه وعن عبد الباقي بن فارس.

بقي إلى حدود سنة خمس مائة بمكة، وبقي أبو علي هذا إلى حدود سبع وأربعين وخمس مائة".2

--------------------------------------------

2 انظر: معرفة القراء 1/487، وغاية النهاية 1/217.
আল-হাসান বিন আব্দুল্লাহ (মৃ. ৫৪৭ হিজরি)

তিনি হলেন আল-হাসান বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন আল-আরজা আবু আলী। তাঁর পিতাকে 'ইবনুল আরজা' বলা হতো কারণ তাঁর মাতা ছিলেন একজন ফকিহ (فقيهة), শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং ইবাদতগুজার নারী; তিনি মসজিদুল হারামে তাঁর ছেলের সারির পরবর্তী একটি সারিতে বসতেন।

ইমাম যাহাবি বলেন: "তিনি মক্কায় তাঁর পিতা এবং আবু মা'শার আত-তাবারির নিকট কিরাত পাঠ করেছেন। তিনি দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন এবং তাঁর উচ্চতর সনদের (علو سنده) কারণে কিরাত পাঠকারীরা তাঁর প্রতি মনোনিবেশ করতেন। তাঁর নিকট কিরাত পাঠ করেছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুত আল-অরিউলি, আবুল হাসান বিন কাওসার আল-মুহারিবি, আবুল কাসিম মুহাম্মদ বিন ওয়াদদাহ (শাকরের খতিব) এবং আরও অনেকে।

তাঁর পিতা মাগরিব থেকে আসার সময় শায়খ আবুল আব্বাস বিন নাফিসের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন এবং তাঁর নিকট হতে ও আব্দুল বাকি বিন ফারিসের নিকট হতে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।

তিনি আনুমানিক পাঁচশত হিজরি পর্যন্ত মক্কায় অবস্থান করেন এবং এই আবু আলী আনুমানিক পাঁচশত সাতচল্লিশ হিজরি পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।"২

--------------------------------------------

২ দেখুন: মারিফাতুল কুররা ১/৪৮৭, এবং গায়াতুন নিহায়াহ ১/২১৭।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الشريف الخطيب (ت 563 هـ)

هو ناصر بن الحسن بن إسماعيل الشريف، أبو الفتوح الزيدي الخطيب، مقرئ الديار المصرية.

قرأ بالروايات، على أبي الحسن علي بن أحمد الأبهري ومحمد بن عبد الله بن مسبح الفضي، وأبي الحسين يحيى بن الفرج الخشاب، وسمع من أبي الحسن محمد بن عبد الله بن أبي داود الفارسي، ثم المصري صاحب ابن نظيف، ومن ابن القطاع اللغوي، وغيرهم.

انتهت إليه رئاسة الإقراء بالديار المصرية، وكان من جلة العلماء في زمانه.

قرأ عليه بالروايات أبو الجود غياث بن فارس، وعبد الصمد بن سلطان بن قراقيش، وعبد السلام بن عبد الناصر بن عديسة، وأبو الجيوش عساكر بن علي، وآخرون.

وآخر من روى عنه سماعاً القاضي أبو الكرم أسعد بن قادوس. توفي رحمه الله يوم عيد الفطر ثلاث وستين وخمس مائة. 1

--------------------------------------------

1 انظر: معرفة القراء 2/525 – 526، وغاية النهاية 2/329-330، وحسن المحاضرة 1/495.
আশ-শরীফ আল-খতিব (ওফাত ৫৬৩ হিজরি)

তিনি হলেন নাসির ইবনুল হাসান ইবনে ইসমাইল আশ-শরীফ, আবুল ফুতুহ আয-যাইদি আল-খতিব, মিসর ভূখণ্ডের কারি (مقرئ)।

তিনি বিভিন্ন বর্ণনাসমূহের (روايات) মাধ্যমে আবুল হাসান আলী ইবনে আহমদ আল-আবহারি, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুসাব্বিহ আল-ফাদদি এবং আবু হুসাইন ইয়াহইয়া ইবনুল ফারাজ আল-খাশশাবের নিকট কিরাত পড়েছেন। এছাড়া তিনি আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু দাউদ আল-ফারিসি (যিনি পরবর্তীতে মিসরীয় এবং ইবনে নাযিফের সহচর ছিলেন), ভাষাবিদ ইবনুল কাত্তাহ এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন (سمع)।

মিসর ভূখণ্ডে কিরাত শিক্ষাদানের নেতৃত্ব তার মাধ্যমেই পূর্ণতা পায় এবং তিনি তাঁর সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন।

তাঁর নিকট বিভিন্ন বর্ণনাসমূহের (روايات) মাধ্যমে কিরাত পাঠ করেছেন আবুল জুদ গিয়াস ইবনে ফারিস, আব্দুল সামাদ ইবনে সুলতান ইবনে কারাকিস, আব্দুল সালাম ইবনে আব্দুল নাসির ইবনে আদিসাহ, আবুল জুইউশ আসাকির ইবনে আলী এবং আরও অনেকে।

তাঁর নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণের (سماعاً) মাধ্যমে বর্ণনা করা (روى) সর্বশেষ ব্যক্তি হলেন কাজি আবুল কারাম আসআদ ইবনে কাদুস। তিনি ৫৬৩ হিজরি সালের ঈদুল ফিতরের দিনে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন। ১

--------------------------------------------

১. দেখুন: মারিফাতুল কুররা ২/৫২৫–৫২৬, গায়াতুন নিহায়া ২/৩২৯-৩৩০, এবং হুসনুল মুহাদারা ১/৪৯৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الشاطبي (ت 590 هـ)

هو القاسم بن فيرة بن خلف بن أحمد الشاطبي الرعيني، الضرير، العلامة، أحد الأعلام الكبار والمشتهرين في الأقطار، ولد في آخر سنة ثمان وثلاثين، وخمسمائة بشاطبة من الأندلس.
আশ-শাতবি (মৃত্যু ৫৯০ হি.)

তিনি হলেন কাসেম ইবনে ফিররাহ ইবনে খালাফ ইবনে আহমদ আশ-শাতবি আর-রুআইনি; তিনি ছিলেন দৃষ্টিহীন, এক অনন্য পণ্ডিত (العلامة) এবং দেশ-বিদেশে সুপরিচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব (الأعلام)। তিনি আন্দালুসের শাতবিয়া নামক স্থানে ৫৩৮ হিজরি সনের শেষভাগে জন্মগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ওয়া উলূমিহি মিন বিদায়াতিল কারনিন রাবেয়িল হিজরী ইলা আসরিনাল হাদির (পৃষ্ঠা: ১৭)
قرأ ببلده القراءات وأتقنها على أبي عبد الله محمد بن أبي العاص النفزي، ثم رحل إلى بلنسية بالقرب من بلده، فعرض بها التيسير من حفظه والقراءات على ابن هذيل، وسمع منه الحديث.

ثم رحل للحج فسمع من أبي طاهر السلفي بالإسكندرية وغيره. ولما دخل مصر أكرمه القاضي الفاضل البيساني وعرف مقداره، وأنزله بمدرسته التي بناها بدرب الملوخية داخل القاهرة، وجعله شيخاً لها وعظمه تعظيماً كثيراً، ونظم قصيدته اللامية الرائية بها - أي بمصر - وجلس للإقراء، فقصده الخلائق من الأقطار، وكان إماماً كبيراً أعجوبة في الذكاء كثير الفنون، آية من آيات الله تعالى، غاية في القراءات حافظاً للحديث بصيراً بالعربية، إماماً في اللغة رأساً في الأدب مع الزهد والعبادة.

عرض عليه القراءات أبو الحسن علي بن محمد بن عبد الصمد السخاوي، وهو أجل أصحابه، وأبو عبد الله محمد بن عمر القرطبي، والكمال علي بن شجاع الضرير – صهره - والزين محمد بن عمر الكردي، وأبو القاسم عبد الرحمن بن سعيد الشافعي، وعيسى بن يوسف بن إسماعيل المقدسي، وعلي بن موسى التجيبي، وعبد الرحمن بن إسماعيل التونسي وغيرهم.

وقد بارك الله في تصنيفه وأصحابه، توفي رحمه الله في الثامن والعشرين من جمادى الآخرة سنة تسعين وخمسمائة بالقاهرة، ودفن بالقرافة بمقبرة القاضي الفاضل عبد الرحيم البيساني. 1

--------------------------------------------

1 انظر: معرفة القراء 2/573-575، وسير أعلام النبلاء 21/261-264ن وغاية النهاية 2/20-23.
তিনি নিজ এলাকায় কিরাআত (قراءات) শাস্ত্র পাঠ করেন এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবু আল-আস আন-নাফজির নিকট এতে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন। এরপর তিনি তার নিজ শহরের নিকটবর্তী বালানসিয়া গমন করেন এবং সেখানে স্বীয় স্মৃতি থেকে 'আত-তাইসির' গ্রন্থটি উপস্থাপন করেন ও ইবনুল হুযায়লের নিকট কিরাআত (قراءات) পাঠ করেন এবং তার নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।

এরপর তিনি হজ্জের উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় আবু তাহের আস-সিলাফি ও অন্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। যখন তিনি মিশরে প্রবেশ করেন, তখন আল-কাজি আল-ফাদিল আল-বায়সানি তাকে অত্যন্ত সম্মান প্রদান করেন এবং তার উচ্চমর্যাদা অনুধাবন করেন। তিনি তাকে কায়রোর অভ্যন্তরে দারবুল মুলুখিয়ায় তার নির্মিত মাদ্রাসায় থাকার ব্যবস্থা করে দেন এবং তাকে সেখানকার শায়খ (شيخ) নিযুক্ত করেন এবং তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। সেখানেই—অর্থাৎ মিশরেই—তিনি তার লামিয়্যাহ ও রাঈয়্যাহ কাসিদা দুটি রচনা করেন এবং কিরাআত (قراءات) শিক্ষাদানের জন্য বসেন। ফলে দেশ-দেশান্তর থেকে অসংখ্য মানুষ তার সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে আসতে থাকে। তিনি ছিলেন একজন মহান ইমাম (إمام), মেধার দিক থেকে এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব এবং বহু বিদ্যায় পারদর্শী। তিনি আল্লাহ তাআলার নিদর্শনসমূহের মধ্যে এক অনন্য নিদর্শন, কিরাআত (قراءات) শাস্ত্রে চূড়ান্ত পর্যায়ের অধিকারী, হাদিস বর্ণনায় হাফেজ (حافظ), আরবি ভাষায় গভীর প্রজ্ঞাসম্পন্ন এবং ভাষাতত্ত্বে একজন ইমাম (إمام) ও সাহিত্যে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব; যার সাথে যুক্ত হয়েছিল তার পরহেজগারিতা (زهد) ও ইবাদত (عبادة)।

তার নিকট কিরাআত (قراءات) পাঠ করেছেন আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল সামাদ আস-সাখাভি—যিনি ছিলেন তার ছাত্রদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-কুরতুবি, আল-কামাল আলী ইবনে শুজা আদ-দরীর—যিনি ছিলেন তার জামাতা, আয-জাইন মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-কুরদি, আবুল কাসিম আব্দুর রহমান ইবনে সাঈদ আশ-শাফিয়ি, ঈসা ইবনে ইউসুফ ইবনে ইসমাইল আল-মাকদিসি, আলী ইবনে মুসা আত-তুজিবি, আব্দুর রহমান ইবনে ইসমাইল আত-তুনুসি এবং আরও অনেকে।

আল্লাহ তাআলা তার রচনা ও তার ছাত্রদের মধ্যে বরকত দান করেছেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ৫৯০ হিজরি সনের ২৮শে জুমাদাল আখিরাতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন এবং আল-কারাফায় আল-কাজি আল-ফাদিল আব্দুর রহিম আল-বায়সানির কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। ১

--------------------------------------------

১ দেখুন: মারিফাতুল কুররা ২/৫৭৩-৫৭৫, সিয়ারু আলামিন নুবালা ২১/২৬১-২৬৪ এবং গায়াতুন নিহায়া ২/২০-২৩।