(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: -)
العناية بالقرآن الكريم في العهد النبوي الشريف القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: العناية بالقرآن الكريم في العهد النبوي الشريف
المؤلف: يوسف بن عبد الله الحاطي
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 67
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে পবিত্র কুরআনের প্রতি যত্ন ও পরিচর্যা বিভাগ: উলুমুল কুরআন ও তাফসিরের মূলনীতি
বই: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে পবিত্র কুরআনের প্রতি যত্ন ও পরিচর্যা
লেখক: ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ আল-হাতি
প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহাদ কমপ্লেক্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ১)
ملخص البحث
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، أما بعد:
فهذا بحث موجز حاولت أن أُبيِّن فيه باختصار العناية التي كان يلقاها القرآن الكريم في عهد النبي صلى الله عليه وسلم من النبي صلى الله عليه وسلم ومن صحابته الكرام رضي الله عنهم أجمعين. وقد جعلت هذا البحث في
مقدمة وفصلين، الفصل الأول جعلته بعنوان: حول القرآن الكريم، وتحدثت فيه عن مباحث عامة حول القرآن الكريم كتعريف القرآن الكريم والفرق بينه وبين الحديث القدسي والحديث النبوي، ثم ذكرت طرفاً من فضائل القرآن الكريم عموماً وفضائل بعض السور خصوصاً، وأثر تلاوة القرآن الكريم على الفرد والجماعة، وتحدثت فيه كذلك عن كتّاب القرآن الكريم وقرائه من صحابة النبي صلى الله عليه وسلم.
أما الفصل الثاني فقد جعلته عن عناية النبي صلى الله عليه وسلم بالقرآن الكريم فبينت فيه شدة اهتمامه صلى الله عليه وسلم بالقرآن، ومن ذلك مثلاً حرصه على تلقي القرآن من الوحي، وأمره بحفظ القرآن والمحافظة عليه من النسيان، وأمره بتحسين الصوت بقراءة القرآن، وغير ذلك من المباحث التي تدل على عنايته صلى الله عليه وسلم.
গবেষণার সারসংক্ষেপ
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
এটি একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা যাতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর পক্ষ থেকে কুরআনুল কারীমের প্রতি যে বিশেষ যত্ন ও গুরুত্ব প্রদান করা হতো, তা সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমি এই গবেষণাকে একটি
উপক্রমণিকা (مقدمة) ও দুটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি। প্রথম অধ্যায়টির শিরোনাম দিয়েছি: "কুরআনুল কারীম প্রসঙ্গে", এবং এতে কুরআনুল কারীম সম্পর্কে সাধারণ কিছু বিষয় আলোচনা করেছি, যেমন কুরআনুল কারীমের সংজ্ঞা এবং কুরআন, হাদিস কুদসি ও নববী হাদিসের মধ্যে পার্থক্য। এরপর আমি সাধারণভাবে কুরআনুল কারীমের ফযিলত এবং বিশেষভাবে কিছু সূরার ফযিলত সম্পর্কে আলোচনা করেছি, সেইসাথে ব্যক্তি ও সমাজের ওপর কুরআন তিলাওয়াতের প্রভাব উল্লেখ করেছি। এছাড়াও এতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে কুরআনের লেখক ও ক্বারীগণ সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
আর দ্বিতীয় অধ্যায়টি আমি কুরআনুল কারীমের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যত্নের বিষয়ে নির্ধারণ করেছি এবং এতে কুরআনের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ও মনোযোগের বিষয়টি ফুটিয়ে তুলেছি। উদাহরণস্বরূপ ওহী (وحي) এর মাধ্যমে কুরআন গ্রহণের প্রতি তাঁর ব্যাকুলতা, কুরআন হিফয করার ও তা বিস্মৃতি থেকে রক্ষা করার নির্দেশ, সুন্দর কণ্ঠে কুরআন পাঠের নির্দেশ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়াবলী আলোচনা করেছি যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রদত্ত গুরুত্ব ও যত্নের প্রমাণ দেয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ২)
المقدّمة
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، أما بعد:
فالقرآن كلام الله سبحانه وتعالى الذي تكلم به وأوحاه إلى نبيه محمد صلى الله عليه وسلم بواسطة الملك جبريل عليه السلام، فهو الهدى والنور وهو الشفاء، وهو الذكر الذي به تطمئن القلوب، من حكم به عدل، ومن استهدى به هدي، ومن استشفى به شفي بإذن الله، عزَّ به أول هذه الأمة، ولا يعز آخرها إلا به، قال صلى الله عليه وسلم: " تركت فيكم شيئين لن تضلوا بعدهما: كتاب الله وسنتي، ولن يتفرقا حتى يردا على الحوض" 1.وعن علي رضي الله عنه قال: "أما إني قد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:"ألا إنها ستكون فتنة" فقلت: فما المخرج منها يا رسول الله؟ قال: "كتاب الله فيه نبأ ما كان قبلكم، وخبر ما بعدكم، وحكم ما بينكم، وهو الفصل ليس بالهزل، من تركه من جبار قصمه الله، ومن ابتغى الهدى في غيره أضله الله، وهو حبل الله المتين، وهو الذكر الحكيم، وهو الصراط المستقيم، هو الذي لا تزيغ به الأهواء، ولا تلتبس به الألسنة، ولا يشبع منه العلماء، ولا يخلق عن كثرة الرد، ولا تنقضي عجائبه، وهو الذي لم تنته الجن إذ سمعته حتى قالوا:"إنا سمعنا قرآناً عجباً يهدي إلى الرشد".من قال
--------------------------------------------
ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নাবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর উপর। অতঃপর:
কুরআন হলো মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী যা তিনি ব্যক্ত করেছেন এবং ফেরেশতা জিবরীল (আ.)-এর মাধ্যমে তাঁর নাবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর নিকট অহী (وحي) করেছেন। এটিই হলো হিদায়াত ও নূর এবং এটিই আরোগ্য। এটি সেই জিকির (ذكر) যার মাধ্যমে অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়। যে ব্যক্তি এর দ্বারা বিচার করে সে ইনসাফ করে, যে এর দ্বারা হিদায়াত চায় সে সঠিক পথ পায় এবং যে এর দ্বারা আরোগ্য কামনা করে সে আল্লাহর নির্দেশে আরোগ্য লাভ করে। এর মাধ্যমেই এই উম্মতের প্রথম ভাগ সম্মানিত হয়েছে এবং এর শেষ ভাগও এটি ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা সম্মানিত হবে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ। তারা হাউজে (কাউসারে) আমার নিকট পৌঁছানো পর্যন্ত কখনোই একে অপর হতে বিচ্ছিন্ন হবে না।" ১. আর আলী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "সাবধান! আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: 'অচিরেই ফিতনা (فتنة) দেখা দেবে'।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তা থেকে উত্তরণের উপায় কী? তিনি বললেন: "আল্লাহর কিতাব; এতে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ রয়েছে, তোমাদের পরবর্তীদের খবর রয়েছে এবং তোমাদের মধ্যকার বিষয়াবলির মীমাংসা রয়েছে। এটি সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী, কোনো নিরর্থক বিষয় নয়। কোনো অহংকারী একে পরিত্যাগ করলে আল্লাহ তাকে চূর্ণ করে দেবেন, আর যে একে ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত খুঁজবে আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এটি আল্লাহর মজবুত রজ্জু, এটি প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং এটিই সরল পথ। এটি এমন এক কিতাব যার দ্বারা প্রবৃত্তিগুলো সত্য বিচ্যুত হয় না, যার প্রভাবে ভাষাগুলো বিভ্রান্ত হয় না, আলেমগণ এটি পাঠ করে তৃপ্ত হন না, বারবার পাঠেও এটি পুরোনো হয় না এবং যার বিস্ময়কর দিকগুলো শেষ হয় না। এটি সেই কিতাব যা শোনার পর জিনেরা এই কথা না বলে পারেনি যে: 'আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, যা সঠিক পথ প্রদর্শন করে'।" যে ব্যক্তি বলবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ৩)
به صدق، ومن عمل به أجر، ومن حكم به عدل، ومن دعا إليه هَدَى إلى صراط مستقيم".1
ولقد اهتم السلف والخلف من هذه الأمة بكتاب ربها، فتلقاه النبي صلى الله عليه وسلم من الوحي، وتلقفه الصحابة رضي الله عنهم فحفظوه وفهموه وعملوا به، ثم جاءت من بعدهم الأجيال المتعاقبة، جيل من بعد جيل، فألفت فيه التآليف الكثيرة، فكتبٌ في أول ما نزل وآخر ما نزل، وأخرى في ناسخه ومنسوخه وأخرى في محكمه ومتشابهه، وكتبٌ في التفسير بأنواعه، بالإضافة إلى كتب في فضائله. ولو رجعنا إلى محتوى أي كتاب من هذه الكتب لوجدنا الأبواب والفصول الكثيرة التي لا تكاد تحصى، حتى إنه لم يترك شيء يتعلق بالقرآن الكريم إلا دُرس وألِّف فيه، وما ذلك الحفظ إلا لحفظ الله له الذي ذكره بقوله: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (الحجر: 9) .
وإني في هذا البحث الموجز – الذي أقدمه لهذه الندوة المباركة: "عناية المملكة العربية السعودية بالقرآن الكريم وعلومه " التي يعقدها مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة – حاولت جمع ما تيسر لي من الآيات والأحاديث التي تبين العناية بالقرآن الكريم في عهد النبي صلى الله عليه وسلم، سواءً كانت تلك العناية منه صلى الله عليه وسلم أو من صحابته رضوان الله عليهم أجمعين، ولم يكن هدفي استقصاء جميع طرق الحديث
--------------------------------------------
"...যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে কথা বলে, সে সত্য বলেছে; যে ব্যক্তি এর ওপর আমল করে, সে প্রতিদানপ্রাপ্ত হয়; যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে বিচার করে, সে ইনসাফ করে এবং যে ব্যক্তি এর দিকে আহ্বান জানায়, সে সরল পথের দিশা পায়।"১
এই উম্মতের পূর্বসূরি এবং উত্তরসূরিগণ তাদের রবের কিতাবের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি ওহির মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন এবং সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তা নবীজি থেকে গ্রহণ করে মুখস্থ করেছেন, অনুধাবন করেছেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেছেন। এরপর তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মগুলো একের পর এক এসেছে এবং তাঁরা এতে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। যেমন- সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত সংক্রান্ত গ্রন্থ, রহিতকারী ও রহিতকৃত (ناسخ ومنسوخ) সংক্রান্ত গ্রন্থ, সুস্পষ্ট ও অস্পষ্ট (محكم ومتشابه) বিষয়ক গ্রন্থ এবং বিভিন্ন প্রকার তাফসির ও এর ফজিলত বিষয়ক গ্রন্থসমূহ। আমরা যদি এই গ্রন্থগুলোর যেকোনো একটির বিষয়বস্তুর দিকে তাকাই, তবে অসংখ্য অধ্যায় ও পরিচ্ছেদ দেখতে পাব, এমনকি পবিত্র কুরআন সংশ্লিষ্ট এমন কোনো বিষয় নেই যা নিয়ে গবেষণা বা গ্রন্থ রচনা করা হয়নি। আর এই সংরক্ষণ মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকেই একে সংরক্ষণ করার অংশ, যা তিনি তাঁর এই বাণীতে উল্লেখ করেছেন: "নিশ্চয়ই আমিই এই জিকির (কুরআন) নাজিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।" (আল-হিজর: ৯)।
আমি আমার এই সংক্ষিপ্ত গবেষণাপত্রে—যা মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত 'বাদশাহ ফাহদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স' কর্তৃক আয়োজিত "পবিত্র কুরআন ও এর জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রতি সৌদি আরব রাজ্যের যত্ন" শীর্ষক বরকতময় সেমিনারে উপস্থাপন করছি—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কুরআনের প্রতি যত্নশীলতার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলে এমন আয়াত ও হাদিসসমূহ সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছি, চাই তা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে হোক অথবা তাঁর সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন) পক্ষ থেকে। আর আমার উদ্দেশ্য হাদিসের সকল সূত্রসমূহ (طرق) অনুসন্ধান করা ছিল না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ৪)
ورواياته، بل الاستدلال للمسألة التي أنا بصدد الحديث عنها، فإذا وجدت حديثاً في صحيح البخاري مثلاً اكتفيت به ولم أبحث عن بقية طرقه. ولقد بذلت وسعي لئلا أستدل في أصل هذا البحث إلا بحديث صحيح قدر المستطاع، وقد تم لي ذلك ولله الحمد والمنة، غير أحاديث في آخر مبحث منه رأيت أنها في مجموع طرقها لا تنزل عن درجة الحسن أي أنها ليست ضعيفة.
وقد يلحظ القارئ الكريم تكرار الأدلة في مباحث هذا البحث وما ذلك إلا لأن بعض الأدلة فيه دلالة على عدة مسائل، وهذا ما يجعلني أكرر الدليل أو بعضه عند كل مسالة، وقد يكون ذلك أدى إلى بعض الطول في البحث، ولكن هذا الطول غير ممل، إذ القارئ لن يجد في هذا البحث - غالباً - إلا كلام الله وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم، وقد حاولت أن لا أكثر من الشرح خشية الإطالة والملل. وما أدليت بدلوي إلا بتقديم بين يدي الدليل أو إشارة إلى بعض ما يحتويه من المعاني.
أما من ترجمت لهم من الصحابة فقد نقلت تراجمهم من سير أعلام النبلاء للذهبي والإصابة لابن حجر كما هي، مع الإشارة إلى ذلك في الحاشية. وقد اعتمدت في هذا البحث على عدد من المراجع أثبتها في آخره.
وإني أقدم إليك أخي الكريم عذري عن كل سهو أو تقصير وقع في هذا البحث، فالنقص والنسيان صفتان ملازمتان للإنسان، ولو أعدت النظر في هذا البحث مرات ومرات لعدلت وبدلت وقدمت وأخّرت في كل مرة.
فسبحان الله المنزّه عن النقص والعيب، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.
...এবং এর বর্ণনাগুলো, বরং আমি যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি তার স্বপক্ষে দলীল উপস্থাপন করা। সুতরাং যদি আমি উদাহরণস্বরূপ সহীহ বুখারীতে কোনো হাদিস পাই, তবে আমি তাতেই সন্তুষ্ট হয়েছি এবং এর অন্যান্য সূত্রসমূহ (طرق) অনুসন্ধান করিনি। আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি যাতে এই গবেষণার মূল অংশে যতটুকু সম্ভব সহিহ (صحيح) হাদিস ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা দলীল পেশ না করি। আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে আমি তাতে সফল হয়েছি। তবে গবেষণার শেষ পরিচ্ছেদের কিছু হাদিস ব্যতীত, যেগুলোর ব্যাপারে আমি দেখেছি যে সেগুলোর সকল সূত্রের (طرق) সমষ্টিগত বিবেচনায় হাসান (حسن) পর্যায়ের নিচে নয়, অর্থাৎ সেগুলো দুর্বল (ضعيف) নয়।
সম্মানিত পাঠক এই গবেষণার বিভিন্ন পরিচ্ছেদে দলীলের পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করতে পারেন; এটি কেবল এই কারণে যে, কিছু দলীলে একাধিক বিষয়ের নির্দেশনা রয়েছে। আর একারণেই আমি প্রতিটি মাসআলার ক্ষেত্রে দলীল বা দলীলের অংশবিশেষ পুনরায় উল্লেখ করেছি। এর ফলে গবেষণাটি কিছুটা দীর্ঘ হয়ে থাকতে পারে, তবে এই দীর্ঘতা বিরক্তিকর নয়; কারণ পাঠক এই গবেষণায়—সাধারণত—আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ব্যতীত অন্য কিছু পাবেন না। আমি দীর্ঘসূত্রতা ও বিরক্তির আশঙ্কায় ব্যাখ্যা দীর্ঘ না করার চেষ্টা করেছি। আমি কেবল দলীলের পূর্বে ভূমিকা প্রদান অথবা তাতে নিহিত কিছু অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করার মাধ্যমেই আমার সামান্য অবদান পেশ করেছি।
আর আমি যে সকল সাহাবীর জীবনী উল্লেখ করেছি, তাদের জীবনী সরাসরি যাহাবীর সিয়ারু আলামিন নুবালা এবং ইবনে হাজারের আল-ইসাবা থেকে অবিকল উদ্ধৃত করেছি এবং পাদটীকায় সেদিকে ইঙ্গিত করেছি। আমি এই গবেষণায় বেশ কিছু তথ্যসূত্রের ওপর নির্ভর করেছি, যা আমি এর শেষে উল্লেখ করেছি।
হে সম্মানিত ভাই, এই গবেষণায় সংঘটিত যে কোনো ভুল বা ত্রুটির জন্য আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কেননা অপূর্ণতা ও বিস্মৃতি মানুষের চিরন্তন বৈশিষ্ট্য। আমি যদি বারবার এই গবেষণার ওপর পুনরায় দৃষ্টিপাত করতাম, তবে প্রতিবারই এতে পরিমার্জন, পরিবর্তন এবং অগ্র-পশ্চাৎ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতাম।
সুতরাং সমস্ত পবিত্রতা মহান আল্লাহর, যিনি সকল অপূর্ণতা ও খুঁত থেকে মুক্ত। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الفصل الأول: حول القرآن
تعريف القرآن الكريم…تعريف القرآن الكريم
لقد بذل العلماء قديماً وحديثاً كل وسعهم لإيجاد تعريف للفظة القرآن فتناولوها من الجانبين اللغوي والاصطلاحي كما هو معهود عند كل تعريف، وأوردوا في ذلك أقوالاً وآراء يكاد يكون كل واحد منها تكراراً للآخر، غير أن كل واحد من أولئك العلماء الأجلاء رجح رأياً استحسنه ومال إليه، ومن هنا رأيت في بحثي هذا المتواضع أن أضرب عن التعريف اللغوي صفحاً، إذ لا حاجة ولا فائدة من ذكره هنا، أما التعريف الاصطلاحي فسأذكره لأنني فيما بعد سأتعرض للجانب الآخر من الوحي ألا وهو الحديث بقسميه: القدسي والنبوي وذلك عند ذكر الفرق بينهما وبين القرآن الكريم.
وسبب تناولي لهذه التعريفات أن الرسول صلى الله عليه وسلم – كما سيأتي- نَهى عن كتابة شيء عنه غير القرآن وذلك زيادة اهتمام منه صلى الله عليه وسلم بالقرآن حتى لا يختلط به غيره من الحديث بنوعيه، ويعلم من ذلك أن الصحابة رضي الله عنهم كانوا يفرقون بين ما هو قرآن يجب عليهم كتابته وتدوينه، وما هو غير قرآن نهوا عن كتابته.
التعريف الاصطلاحي للقرآن الكريم
وردت عن العلماء تعريفات كثيرة للقرآن الكريم وهذه التعريفات تتفاوت من ناحية الشمول، فبعضها أشمل من بعض، وتتفاوت كذلك من ناحية الألفاظ. وإني - وإن قل الاعتداد بكثرة ألفاظ التعريف أو قلتها - أقر بأن التعريف ينبغي أن يكون دالاً على جميع أجزاء المعرف بأقل لفظ ممكن، مهما كثرت ألفاظه.
প্রথম অধ্যায়: কুরআন প্রসঙ্গেপবিত্র কুরআনের সংজ্ঞা…পবিত্র কুরআনের সংজ্ঞা
প্রাচীন ও আধুনিক যুগের আলেমগণ 'কুরআন' শব্দের একটি সংজ্ঞা প্রদানের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। প্রতিটি সংজ্ঞার ক্ষেত্রে যেমনটি নিয়ম, তাঁরা একে ভাষাগত এবং পারিভাষিক—উভয় দিক থেকে আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে তাঁরা এমন সব বক্তব্য ও অভিমত পেশ করেছেন যেগুলোর একটি প্রায় অন্যটিরই পুনরাবৃত্তি। তবে সেই সম্মানিত আলেমগণের প্রত্যেকেই কোনো একটি অভিমতকে প্রাধান্য দিয়েছেন যা তাঁর কাছে উত্তম ও গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। একারণেই আমি আমার এই বিনম্র গবেষণায় ভাষাগত সংজ্ঞা বর্জন করা সমীচীন মনে করছি; কেননা এখানে তা উল্লেখ করার তেমন প্রয়োজন বা উপকারিতা নেই। তবে আমি পারিভাষিক সংজ্ঞাটি উল্লেখ করব, কারণ পরবর্তীতে আমি ওহীর অন্য একটি দিক নিয়ে আলোচনা করব, আর তা হলো—হাদিস; যার দুটি প্রকার রয়েছে: কুদসি (القدسي) এবং নববী (النبوي)। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করার সময় আমি এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
এই সংজ্ঞাসমূহ আলোচনার কারণ হলো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)—যেমনটি সামনে আসবে—কুরআন ব্যতীত তাঁর থেকে অন্য কিছু লিখতে নিষেধ করেছিলেন। এটি ছিল কুরআনের প্রতি তাঁর গভীর গুরুত্বারোপের বহিঃপ্রকাশ, যাতে করে উভয় প্রকারের হাদিস যেন কুরআনের সাথে মিশে না যায়। এ থেকে এটিও জানা যায় যে, সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কোনটি কুরআন—যা লিখে রাখা ও সংকলন করা তাঁদের ওপর আবশ্যক ছিল—এবং কোনটি কুরআন নয়—যা লিখতে তাঁদের নিষেধ করা হয়েছিল—তার মধ্যে পার্থক্য করতে জানতেন।
পবিত্র কুরআনের পারিভাষিক সংজ্ঞা
পবিত্র কুরআনের ব্যাপারে আলেমদের থেকে অনেক সংজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে। এই সংজ্ঞাসমূহ ব্যাপকতার দিক থেকে একটি অন্যটি থেকে ভিন্নতর এবং একইভাবে শব্দ চয়নের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে। যদিও সংজ্ঞার শব্দের আধিক্য বা স্বল্পতার গুরুত্ব আমার কাছে গৌণ, তবুও আমি স্বীকার করি যে, একটি সংজ্ঞা এমন হওয়া উচিত যা সংজ্ঞায়িত বিষয়ের সকল অংশকে সংক্ষিপ্ততম শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে, শব্দসংখ্যা যাই হোক না কেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وعند الرجوع إلى كتب علوم القرآن لمعرفة التعريف الاصطلاحي وجدت كما أشرت سابقاً عدة تعريفات فالشيخ مناع القطان رحمه الله قال نقلاً عن العلماء – كما يقول: "كلام الله المنزل على محمد صلى الله عليه وسلم المتعبد بتلاوته"1.
وقال الشيخ صبحي الصالح رحمه الله: (هو الكلام المعجز المنزل على النبي صلى الله عليه وسلم المكتوب في المصاحف المنقول عنه بالتواتر المتعبد بتلاوته" 2.
ثم قال بعد ذلك: وتعريف القرآن على هذا الوجه متفق عليه بين الأصوليين والفقهاء وعلماء العربية".
وأما الشيخ محمد سالم محيسن فعرفه نقلاً عن إرشاد الفحول قائلاً: "هو كلام الله تعالى المنزل على نبينا محمد صلى الله عليه وسلم المكتوب في المصاحف المنقول إلينا نقلاً متواتراً المتعبد بتلاوته المتحدى بأقصر سورة منه"3.
أما الشيخ الصابوني فقد عرفه بأنه:"كلام الله المعجز المنزل على خاتم الأنبياء والمرسلين بواسطة الأمين جبريل عليه السلام المكتوب في المصاحف المنقول إلينا بالتواتر المتعبد بتلاوته المبدوء بسورة الفاتحة المختتم بسورة الناس"4.
--------------------------------------------
কুরআন বিজ্ঞানের গ্রন্থসমূহের সাহায্য নিয়ে এর পারিভাষিক (اصطلاحي) সংজ্ঞা জানার ক্ষেত্রে, আমি যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করেছি, বেশ কিছু সংজ্ঞা পেয়েছি। শেখ মান্না আল-কাত্তান (রহিমাহুল্লাহ) ওলামাদের থেকে উদ্ধৃত করে বলেছেন: "এটি আল্লাহর বাণী যা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ এবং যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য।" ১।
শেখ সুবহি আল-সালিহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এটি সেই মুজিজাসম্পন্ন বাণী যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ, যা মাসহাফসমূহে লিখিত, যা তাঁর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে (تواتر) বর্ণিত এবং যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য।" ২।
এরপর তিনি বলেছেন: "কুরআনের এই সংজ্ঞাটি উসুলবিদ (الأصوليين), ফকিহ এবং আরবি ভাষাবিদদের মধ্যে সর্বসম্মত।"
আর শেখ মুহাম্মদ সালিম মুহাইসিন ‘ইরশাদুল ফুহুল’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: "এটি মহান আল্লাহর বাণী যা আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ, যা মাসহাফসমূহে লিখিত, যা আমাদের নিকট নিরবচ্ছিন্ন (متواتراً) বর্ণনার মাধ্যমে পৌঁছেছে, যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য এবং যা এর ক্ষুদ্রতম সূরার মাধ্যমেও চ্যালেঞ্জ প্রদানকারী।" ৩।
শেখ আস-সাবুনী একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: "এটি আল্লাহর মুজিজাসম্পন্ন বাণী যা বিশ্বস্ত জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে সর্বশেষ নবী ও রাসূলের ওপর অবতীর্ণ, যা মাসহাফসমূহে লিখিত, যা আমাদের নিকট নিরবচ্ছিন্ন ধারায় (تواتر) বর্ণিত, যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য, যা সূরা আল-ফাতিহা দিয়ে শুরু এবং সূরা আন-নাস দিয়ে শেষ হয়েছে।" ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقد خرجت من مجموع هذه التعريفات بتعريف أرى أنه أجمع من غيره وهو: "القرآن كلام الله الذي أوحاه إلى نبينا محمد صلى الله عليه وسلم يقظة بلفظه ومعناه، المعجز والمتعبد بهما والمنقول إلينا تواتراً والمحفوظ بين دفتي المصحف"1.
وهذه العبارات التي يحتوي عليها التعريف منتقاة من مجموع التعريفات.
--------------------------------------------
এই সংজ্ঞাসমূহের সমষ্টি থেকে আমি এমন একটি সংজ্ঞায় উপনীত হয়েছি যা আমার নিকট অন্যদের তুলনায় অধিকতর পূর্ণাঙ্গ মনে হয়, আর তা হলো: "কুরআন আল্লাহর বাণী যা তিনি জাগ্রত অবস্থায় আমাদের নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এর শব্দ ও অর্থসহ প্রত্যাদেশ (وحياً) করেছেন, যা অলৌকিক ও যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য এবং যা আমাদের নিকট অবিচ্ছিন্ন (تواتراً) সূত্রে বর্ণিত ও মুসহাফের দুই মলাটের মাঝে সংরক্ষিত।"১
সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত এই শব্দমালাগুলো বিভিন্ন সংজ্ঞার সমষ্টি থেকে চয়ন করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الفرق بين القرآن والحديث القدسي والحديث النبويلقد نطق الرسول صلى الله عليه وسلم بالقرآن الكريم كما نطق بالحديث القدسي والحديث النبوي وكان الصحابة رضي الله عنهم حريصين على تسجيل كل ذلك وتدوينه، إذ إن كل ذلك دين ينبغي الحرص عليه، ولكن لما كان من الممكن أن يختلط القرآن بغيره نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن كتابة أي شيء عنه غير القرآن وقد أوردت مبحثاً خاصاً حول هذا النهي.
وعلى هذا رأيت أن أذكر –باختصار - الفرق بين القرآن وغيره مما كان ينطق به الرسول صلى الله عليه وسلم.
কুরআন, হাদিসে কুদসি ও হাদিসে নববির মধ্যে পার্থক্যরাসূলুল্লাহ (সা.) পবিত্র কুরআন যেভাবে ব্যক্ত করেছেন, তেমনি তিনি হাদিসে কুদসি ও হাদিসে নববিও বর্ণনা করেছেন। আর সাহাবী (রা.)-গণ এই সবকিছুর সংরক্ষণ ও লিপিবদ্ধকরণের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন; কেননা এই প্রতিটি বিষয়ই দীনের অন্তর্ভুক্ত যা যথাযথভাবে হিফাজত করা আবশ্যক। তবে কুরআনের সাথে অন্য কিছুর সংমিশ্রণ ঘটে যাওয়ার আশঙ্কায় নবী (সা.) তাঁর নিকট থেকে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখতে নিষেধ করেছিলেন। এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আমি একটি বিশেষ পরিচ্ছেদ আলোচনা করেছি।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমি কুরআন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জবান থেকে নিঃসৃত অন্যান্য বাণীর মধ্যকার পার্থক্য সংক্ষেপে উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ৯)
قلت: والمقصود هنا ذكر فروق القرآن عن نوعي الحديث دون حاجة إلى ذكر الفروق بين هذين النوعين، ومن تعريف القرآن الكريم وتعريف نوعي الحديث تتضح لنا فروق القرآن عنها، وهي:
1- القرآن الكريم نزل بلفظه ومعناه أما الحديث فنزل بمعناه دون لفظه على الصحيح.
2- القرآن الكريم معجز بلفظه ومعناه، بخلاف الحديث فليس فيه صفة الإعجاز والتحدي.
3- القرآن الكريم جميعه منقول بالتواتر وهو قطعي الدلالة، أما الحديث ففيه المتواتر والآحاد.
4- القرآن الكريم تصح به الصلاة ولا تصح بغيره.
5- القرآن الكريم متعبد بلفظه ومعناه فمجرد تلاوته عليها أجر عظيم منصوص عليه في الحديث الصحيح، ولا يجري هذا الأجر على الحديث بنوعيه، وإن كانت قراءته عليها أجر عام غير محدد.
আমি বলছি: এখানে উদ্দেশ্য হলো হাদিসের দুই প্রকারের নিজেদের মধ্যকার পার্থক্য উল্লেখ করার প্রয়োজন ছাড়াই পবিত্র কুরআনের সাথে সেই দুই প্রকারের পার্থক্য বর্ণনা করা। পবিত্র কুরআন এবং দুই প্রকার হাদিসের সংজ্ঞা থেকে আমাদের নিকট এগুলোর মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আর সেগুলো হলো:
1- পবিত্র কুরআন এর শব্দ ও অর্থ উভয়সহ অবতীর্ণ হয়েছে, পক্ষান্তরে বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে হাদিস শব্দ ব্যতিরেকে কেবল এর অর্থসহ অবতীর্ণ হয়েছে।
2- পবিত্র কুরআন এর শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকেই অলৌকিক (معجز); বিপরীতে হাদিসের মধ্যে অলৌকিকত্ব ও চ্যালেঞ্জের বৈশিষ্ট্য নেই।
3- পবিত্র কুরআনের সম্পূর্ণ অংশই অবিচ্ছিন্ন গণবর্ণনা (تواتر) সূত্রে বর্ণিত এবং তা নিশ্চিত অর্থবহ (قطعي الدلالة), পক্ষান্তরে হাদিসের মধ্যে অবিচ্ছিন্ন (متواتر) এবং একক বর্ণনা (آحاد) উভয়ই রয়েছে।
4- পবিত্র কুরআনের মাধ্যমেই সালাত শুদ্ধ হয় এবং তা ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা সালাত শুদ্ধ হয় না।
5- পবিত্র কুরআনের শব্দ ও অর্থ উভয়ই ইবাদত হিসেবে গণ্য, তাই এর নিছক তিলাওয়াতের ওপরও মহান প্রতিদান রয়েছে যা বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসের উভয় প্রকারের ক্ষেত্রে এই প্রতিদান প্রযোজ্য নয়, যদিও হাদিস পাঠের ওপর সাধারণ সওয়াব রয়েছে যা সুনির্দিষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ৯)
فضل القرآن الكريم وفضل تلاوته وأثر ذلك في حياة الناس:القرآن هو كلام الله الذي يخاطب به كل واحد منا صباح مساء، وقد سبقت في المقدمة الإشارة إلى أوصافه التي تعرف بها مكانته، فالفضل كل الفضل في قراءة حروفه وفهم معانيه والوقوف عند حدوده، لعلَّنا أن نكون
মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব, এর তিলাওয়াতের ফযীলত এবং মানুষের জীবনে এর প্রভাব:কুরআন হলো আল্লাহর কালাম, যার মাধ্যমে তিনি সকাল-সন্ধ্যা আমাদের প্রত্যেকের সাথে সম্বোধন করেন। ইতিপূর্বেই ভূমিকার মধ্যে এর এমন সব বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে যার মাধ্যমে এর সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে জানা যায়। সুতরাং এর প্রতিটি অক্ষর পাঠ করা, এর অর্থসমূহ অনুধাবন করা এবং এর নির্ধারিত সীমারেখায় অবিচল থাকার মধ্যেই রয়েছে যাবতীয় শ্রেষ্ঠত্ব; যেন সম্ভবত আমরা হতে পারি—
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ১০)
من أهله فقد ورد عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: " إن لله أهلين" قيل: من هم يا رسول؟ قال: "أهل القرآن، هم أهل الله وخاصته" 1
والحديث عن فضل القرآن وفضل تلاوته وأثر تلاوته في حياة الناس حديث قد يطول، لما للقرآن من فضل، ولما ورد فيه من الأدلة الكثيرة، ولما كان من الصعب حصر كل ذلك في هذا البحث الموجز رأيت أن أقدم إشارات لطيفة إلى بعض ذلك، فما لا يدرك كله لا يترك جله. وإليك أيها القارئ الكريم شيء من تلك الأدلة التي جمعتها وحاولت الربط بينها ربطاً خفيفاً إما بتقديم للآية أو بذكر تفسير مختصر لها.
قلت: وبمعرفة صفات القرآن الكريم الواردة في آياته الكريمة والأحاديث والآثار، وبتدقيق النظر فيها يتجلى لنا فضل القرآن الكريم، ذلك الفضل الذي لم يقتصر على الأمة الإسلامية فقط بل تعداها إلى البشرية بعامة، فالقرآن مصدر الهداية المنزه عن الشك والريب، كيف لا وهو كلام الله الذي قاله بنفسه وأنزله على نبيه محمد صلى الله عليه وسلم لهداية الثقلين الجن والإنس، قال تعالى: {آلم ذَلِكَ الْكِتَابُ لا رَيْبَ فِيهِ هُدىً لِلْمُتَّقِينَ} (البقرة: 1) . وقال تعالى: {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدىً لِلنَّاسِ} (البقرة: 185) . وقال تعالى: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} (الإسراء: 9) .
فأصح طريق وأقومه هو ما هدى وأرشد إليه القرآن الكريم لأنه النور المبين الذي ينير الطريق للبشرية في ظلمة هذه الحياة قال تعالى: {وَلَقَدْ
--------------------------------------------
তাঁর পরিজনদের অন্তর্ভুক্ত; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর কতিপয় পরিজন রয়েছে।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: "কুরআনের ধারক-বাহকগণই আল্লাহর পরিজন ও তাঁর বিশেষ বান্দা।" 1
আর কুরআনের মর্যাদা, এর তিলাওয়াতের ফজিলত এবং মানুষের জীবনে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা দীর্ঘ হতে পারে, কারণ কুরআনের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে এবং এ বিষয়ে বহু দলিল বর্ণিত হয়েছে। যেহেতু এই সংক্ষিপ্ত গবেষণায় সে সবগুলোর বিবরণ দেওয়া কঠিন, তাই আমি এ বিষয়ে কিঞ্চিৎ আলোকপাত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, যা সম্পূর্ণ অর্জন করা যায় না, তার অধিকাংশ ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। হে সম্মানিত পাঠক, আপনার সম্মুখে সেই দলিলগুলোর কিছু অংশ তুলে ধরছি যা আমি সংগ্রহ করেছি এবং এগুলোর মধ্যে সামান্য যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করেছি—কখনো আয়াতের ভূমিকা প্রদানের মাধ্যমে আবার কখনো তার সংক্ষিপ্ত তাফসির উল্লেখের মাধ্যমে।
আমি বলি: কুরআনের আয়াতসমূহ, হাদিস ও আছার (آثار) সমূহে বর্ণিত কুরআনের গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করলে এবং গভীর চিন্তা করলে কুরআনের মর্যাদা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই মর্যাদা শুধু মুসলিম উম্মাহর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমগ্র মানবজাতির জন্য পরিব্যপ্ত। কুরআন হলো সন্দেহাতীত হিদায়াতের উৎস। কেনই বা হবে না, অথচ এটি স্বয়ং আল্লাহর বাণী যা তিনি নিজে বলেছেন এবং তাঁর নবি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর জিন ও ইনসান—উভয় সম্প্রদায়ের হিদায়াতের জন্য নাযিল করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আলিফ লাম মিম। এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকিদের জন্য হিদায়াত} (আল-বাকারাহ: ১)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ} (আল-বাকারাহ: ১৮৫)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ দেখায় যা অধিকতর সুদৃঢ়} (আল-ইসরা: ৯)।
সুতরাং সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও সঠিক পথ হলো সেটিই যার দিকে আল-কুরআন হিদায়াত ও দিকনির্দেশনা দেয়। কারণ এটি হলো উজ্জ্বল নূর যা এই জীবনের অন্ধকারে মানবজাতির পথকে আলোকিত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং অবশ্যই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ১১)
أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ} (البقرة: 99) . وقال تعالى: {الر تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ وَقُرْآنٍ مُبِينٍ} (الحجر: 1) .
ولما له من الأثر العظيم والتأثير البالغ في النفوس ما لبثت الجن حين سمعته أن آمنت به، قال تعالى: {وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَراً مِنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنْصِتُوا فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَى قَوْمِهِمْ مُنْذِرِينَ قَالُوا يَا قَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا كِتَاباً أُنْزِلَ مِنْ بَعْدِ مُوسَى مُصَدِّقاً لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ وَإِلَى طَرِيقٍ مُسْتَقِيمٍ يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ} (الأحقاف: 29-31) .
وقال تعالى مخبراً عنهم مرة أخرى: {قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنً عَجَباً يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ} (الجن:1-2) .
وانظر إلى أحد فصحاء العرب حين استمع القرآن ماذا قال:"والله إن له لحلاوة وإن عليه لطلاوة وإنه يعلو ولا يعلى عليه".1
لكنه تحت تأثير قومه نكص على عقبيه وافترى على الله الكذب قال الله تعالى في خبره: {إِنَّهُ فَكَّرَ وَقَدَّرَ. فَقُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ. ثُمَّ قُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ. ثُمَّ نَظَرَ. ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ. ثُمَّ أَدْبَرَ وَاسْتَكْبَرَ. فَقَالَ إِنْ هَذَا إِلَّا سِحْرٌ يُؤْثَرُ. إِنْ هَذَا إِلَّا قَوْلُ الْبَشَرِ} (المدثر: 18-25) .
بل ولا أبالغ إذا ما قلت إن عدداً كبيراً من المسلمين الأوائل كان سبب إسلامهم وهدايتهم سماعهم لآيات القرآن التي انبهروا بها وعرفوا بتوفيق الله لهم أن هذا الكلام وهذه البلاغة والفصاحة لا يمكن أن تصدر عن بشر.
--------------------------------------------
আমি আপনার প্রতি সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেছি} (আল-বাকারা: ৯৯)। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আলিফ-লাম-রা; এগুলো কিতাবের এবং সুস্পষ্ট কুরআনের আয়াত} (আল-হিজর: ১)।
এর যে সুমহান প্রভাব এবং অন্তরের ওপর যে সুগভীর প্রতিক্রিয়া রয়েছে, তার ফলেই জিন সম্প্রদায় যখন এটি শ্রবণ করল, তারা বিলম্ব না করেই এর প্রতি ঈমান আনয়ন করল। মহান আল্লাহ বলেন: {স্মরণ করুন, যখন আমি আপনার প্রতি একদল জিনকে আকৃষ্ট করেছিলাম যারা কুরআন পাঠ শুনছিল। যখন তারা তার উপস্থিতিতে আসলো, তারা বলল, ‘চুপ থাকো’। যখন পাঠ সমাপ্ত হলো, তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল। তারা বলল, ‘হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা এমন এক কিতাব শুনেছি যা মূসার পরবর্তী সময়ে অবতীর্ণ হয়েছে, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং যা সত্য ও সঠিক পথের দিকে হেদায়াত দান করে। হে আমাদের সম্প্রদায়! আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দাও এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনো’} (আল-আহকাফ: ২৯-৩১)।
মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে পুনরায় সংবাদ দিয়ে বলেন: {বলুন, আমার প্রতি ওহী পাঠানো হয়েছে যে, জিনদের একটি দল এটি শ্রবণ করেছে এবং বলেছে, ‘আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, যা সত্য ও সঠিক পথ প্রদর্শন করে। ফলে আমরা এতে ঈমান এনেছি’} (আল-জিন: ১-২)।
আর আরবের একজন বাগ্মী ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য করুন, যখন তিনি কুরআন শ্রবণ করলেন তখন তিনি কী বলেছিলেন: “আল্লাহর শপথ! এর মধ্যে অবশ্যই এক বিশেষ মাধুর্য রয়েছে, এর ওপর রয়েছে এক অনন্য লাবণ্য; এটি অবশ্যই সমুন্নত হয় এবং এর ওপর কোনো কিছুই বিজয়ী হতে পারে না।” ১
কিন্তু স্বীয় সম্প্রদায়ের প্রভাবে সে পিছুটান দিল এবং আল্লাহর ওপর মিথ্যা (كذب) উদ্ভাবন করল। মহান আল্লাহ তার সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেন: {সে চিন্তা করল এবং একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। সে ধ্বংস হোক, সে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিল! পুনরায় সে ধ্বংস হোক, সে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিল! অতঃপর সে দৃষ্টিপাত করল। তারপর সে ভ্রুকুটি করল এবং মুখ বিকৃত করল। এরপর সে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করল ও দম্ভ প্রদর্শন করল। পরিশেষে সে বলল, ‘এ তো লোকপরম্পরায় প্রাপ্ত জাদু বৈ কিছু নয়। এ তো মানুষের কথা মাত্র’} (আল-মুদ্দাসসির: ১৮-২৫)।
বরং আমি কোনো অত্যুক্তি করছি না যদি বলি যে, প্রথম যুগের মুসলমানদের এক বিশাল অংশের ইসলাম গ্রহণ ও হেদায়াত প্রাপ্তির মূল কারণ ছিল কুরআনের আয়াতসমূহ শ্রবণ করা, যা দেখে তারা বিমোহিত হয়েছিলেন এবং আল্লাহর তাওফিকে তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই বাণী এবং এই অলংকার ও বাগ্মিতা কোনো মানুষের পক্ষ থেকে আসা সম্ভব নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
والآيات في وصف القرآن بأنه مصدر الهداية والإرشاد، والقيادة إلى طريق السعادة والسداد كثيرة جداً، ولكني اقتصرت منها على ما ذكرت. والله ولي التوفيق.
والقرآن كذلك سبب لتنزل رحمة الله على عباده المؤمنين وسبب لمغفرة الذنوب وحصول الأجر والثواب. قال تعالى: {قُلْ إِنَّمَا أَتَّبِعُ مَا يُوحَى إِلَيَّ مِنْ رَبِّي هَذَا بَصَائِرُ مِنْ رَبِّكُمْ وَهُدىً وَرَحْمَةٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} (الأعراف: 203) . وقال تعالى: {وَلَقَدْ جِئْنَاهُمْ بِكِتَابٍ فَصَّلْنَاهُ عَلَى عِلْمٍ هُدىً وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} (الأعراف: 52) وقال تعالى: {وَالَّذِينَ يُمَسِّكُونَ بِالْكِتَابِ وَأَقَامُوا الصَّلاةَ إِنَّا لا نُضِيعُ أَجْرَ الْمُصْلِحِينَ} (الأعراف: 170) .
وقال تعالى: {وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ} (الإسراء 82) .فالرحمة من أوصاف القرآن فهو سبب للرحمة المتنزلة من الله على عباده المؤمنين، فمن حفظه استحق الرحمة، ومن قرأه استحق الرحمة، ومن تدارس معانيه فكذلك، قال صلى الله عليه وسلم: "وما اجتمع قوم في بيت من بيوت الله يتلون كتاب الله ويتدارسونه بينهم إلا نزلت عليهم السكينة وغشيتهم الرحمة وحفتهم الملائكة وذكرهم الله فيمن عنده ومن بطَّأ به عملُه لم يسرع به نسبُه" 1.بل والرحمة بالقرآن تتجاوز حفظه وتدارسه بكثير فمن استمع له وأنصت استحق الرحمة قال تعالى: {وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} (الأعراف: 204) . أسأل الله أن يرحمني وإياكم برحمته.
--------------------------------------------
কুরআন যে হেদায়েত, দিকনির্দেশনা এবং সুখ ও সঠিক পথের দিকে পরিচালনার উৎস—সে বর্ণনায় আয়াতসমূহ অত্যন্ত অসংখ্য। তবে আমি যা উল্লেখ করেছি তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি। আর আল্লাহই তাওফিক দাতা।
তদ্রূপ কুরআন মুমিন বান্দাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষণ, গুনাহ মাফ এবং প্রতিদান ও সওয়াব হাসিলের কারণ। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, আমি তো কেবল তারই অনুসরণ করি যা আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আমার কাছে ওহী (وحي) পাঠানো হয়। এটি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রমাণসমূহ এবং মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হেদায়েত ও রহমত।} (আল-আরাফ: ২০৩)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আমি তাদের কাছে এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি যা আমি জ্ঞানের ভিত্তিতে বিশদভাবে বর্ণনা করেছি, যা মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হেদায়েত ও রহমত।} (আল-আরাফ: ৫২)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর যারা কিতাবকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে এবং সালাত কায়েম করে, নিশ্চয়ই আমি সংশোধনকারীদের প্রতিদান নষ্ট করি না।} (আল-আরাফ: ১৭০)।
মহান আল্লাহ বলেন: {আমি কুরআনে এমন কিছু নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত।} (আল-ইসরা: ৮২)। সুতরাং রহমত হলো কুরআনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এটি মুমিন বান্দাদের ওপর আল্লাহ প্রদত্ত রহমত বর্ষণের কারণ। তাই যে ব্যক্তি এটি হিফজ করবে সে রহমতের যোগ্য হবে, যে এটি তিলাওয়াত করবে সে রহমতের যোগ্য হবে এবং যে এর অর্থ নিয়ে পর্যালোচনা করবে সেও তদ্রূপ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখনই কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো একটিতে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং নিজেদের মধ্যে তা নিয়ে পর্যালোচনা করে, তখনই তাদের ওপর প্রশান্তি নাযিল হয়, রহমত তাদের ঢেকে নেয়, ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তীগণের কাছে তাদের কথা উল্লেখ করেন। আর যার আমল তাকে পিছিয়ে দেয়, তার বংশমর্যাদা তাকে এগিয়ে নিতে পারে না।" ১। বরং কুরআনের মাধ্যমে রহমত লাভ কেবল হিফজ ও পর্যালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং যে ব্যক্তি এটি মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং নিশ্চুপ থাকবে সেও রহমতের যোগ্য হবে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং নিশ্চুপ থাকো যাতে তোমাদের ওপর রহমত করা হয়।} (আল-আরাফ: ২০৪)। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাকে এবং আপনাদেরকে তাঁর রহমতে সিক্ত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والقرآن كذلك دلالة وعلامة على الإيمان، فلا يقرأه إلا مؤمن، ولا يهجره إلا فاسق، ولا يبغضه إلا كافر صريح الكفر أو منافق، قال تعالى في وصف عباده المؤمنين: {الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلاوَتِهِ أُولَئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ} (البقرة: 121) .
وقال تعالى: {ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا} (فاطر: 32) . فهولاء التالون لكتاب الله هم المؤمنون حقاً الذين يعبدون الله حق عبادته ويرجون رحمته، قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَأَنْفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرّاً وَعَلانِيَةً يَرْجُونَ تِجَارَةً لَنْ تَبُورَ} (فاطر: 29) . وقال تعالى: {فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (الأعراف: 157) والله سبحانه وتعالى زكَّى هؤلاء بالقرآن وجعله مصدراً لتزكية نفوسهم حتى تطهر وتسمو، وأرسل إليهم نبيه محمداً صلى الله عليه وسلم ليزكيهم، قال تعالى: {كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولاً مِنْكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُمْ مَا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ} (البقرة: 151) ويؤكد الله هذا المعنى في آية أخرى فيقول: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولاً مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ} (آل عمران:
তেমনিভাবে কুরআনও ঈমানের একটি নিদর্শন ও প্রমাণ। কেবল মুমিনই তা তিলাওয়াত করে, আর কেবল পাপাচারী (فاسق) তা বর্জন করে, এবং কেবল সুস্পষ্ট কুফরকারী কাফির অথবা মুনাফিকই এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। মহান আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের বর্ণনায় বলেন: {যাদেরকে আমি কিতাব দান করেছি, তারা তা যথাযথভাবে তিলাওয়াত করে; তারাই এর প্রতি ঈমান রাখে।} (আল-বাকারাহ: ১২১) .
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে তাদেরকে, যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি।} (ফাতির: ৩২) . সুতরাং আল্লাহর কিতাবের এই তিলাওয়াতকারীগণই হলেন প্রকৃত মুমিন যারা যথাযথভাবে আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাঁর রহমতের প্রত্যাশা করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন এক ব্যবসার আশা করে যা কখনও ধ্বংস হবে না।} (ফাতির: ২৯) . আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {সুতরাং যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, তাঁকে সম্মান করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং সেই নূরের অনুসরণ করেছে যা তাঁর সাথে নাযিল করা হয়েছে; তারাই সফলকাম।} (আল-আ’রাফ: ১৫৭) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআন দ্বারা এদেরকে পরিশুদ্ধ করেছেন এবং একে তাদের নফসের পবিত্রতার উৎসে পরিণত করেছেন যাতে তারা পবিত্র ও সমুন্নত হতে পারে। তিনি তাদের নিকট তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠিয়েছেন যাতে তিনি তাদেরকে পবিত্র করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যেভাবে আমি তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য হতে একজন রাসূল পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তোমাদেরকে পবিত্র করেন এবং তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; আর তোমাদেরকে এমন বিষয় শিক্ষা দেন যা তোমরা জানতে না।} (আল-বাকারাহ: 151) আল্লাহ অন্য একটি আয়াতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিকট তাদেরই মধ্য হতে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল।} (আলে ইমরান:
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
164) ويؤكد هذا المعنى مرة ثالثة إذ يقول: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولاً مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ} (الجمعة: 2)
والقرآن كذلك نور يضيء الطريق للمؤمنين وقد سمَّاه الله تعالى نوراً في كثير من الآيات، وهو نور بذاته وسبب لكل نور يحصل لعباد الله المؤمنين قال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمْ بُرْهَانٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ نُوراً مُبِيناً} (النساء: 174) .
وقال تعالى: {قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ. يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ} (المائدة: 15،16) . وقال تعالى: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحاً مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلا الْأِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُوراً نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا} (الشورى: 52) . وقال تعالى آمراً عباده المؤمنين بالإيمان بهذا النور بعد أمره إياهم بالإيمان بذاته وبرسوله صلى الله عليه وسلم: {فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالنُّورِ الَّذِي أَنْزَلْنَا وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} (التغابن: 8) .
ومن رحمة الله تعالى بعباده أن جعل القرآن الكريم شفاءً من كثير من الأدواء الحسية والمعنوية قال تعالى: {وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ} (الإسراء: 82) . وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدىً وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ} (يونس: 57) . وقال تعالى: {وَلَوْ جَعَلْنَاهُ قُرْآناً أَعْجَمِيّاً لَقَالُوا لَوْلا فُصِّلَتْ آيَاتُهُ أَأَعْجَمِيٌّ وَعَرَبِيٌّ قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدىً وَشِفَاءٌ} (فصلت: 44) .
وقد ثبت في الأحاديث الصحيحة الاستشفاء بالقرآن الكريم فعن عائشة رضي الله عنها قالت: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا مرض أحد من أهله نفث عليه بالمعوذات فلما مرض مرضه الذي مات فيه
164) তিনি এই অর্থটিকে তৃতীয়বারের মতো জোর দিয়ে বলছেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি নিরক্ষরদের মাঝে তাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদের পবিত্র করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিল।} (সুরা আল-জুমুআ: ২)
অনুরূপভাবে কুরআন হচ্ছে এমন এক নূর (আলো) যা মুমিনদের পথ আলোকিত করে। মহান আল্লাহ অনেক আয়াতে একে নূর হিসেবে অভিহিত করেছেন। এটি স্বয়ং একটি আলো এবং আল্লাহর মুমিন বান্দাদের অর্জিত প্রতিটি নূরের মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {হে লোকসকল! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে অকাট্য প্রমাণ এসেছে এবং আমি তোমাদের প্রতি এক সুস্পষ্ট নূর অবতীর্ণ করেছি।} (সুরা আন-নিসা: ১৭৪)।
মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: {অবশ্যই তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে এবং তাঁর অনুমতিক্রমে তাদের অন্ধকার থেকে নূরের দিকে বের করে আনেন।} (সুরা আল-মায়িদা: ১৫-১৬)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে রূহ (ওহী) প্রেরণ করেছি। আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী; কিন্তু আমি একে নূর করেছি যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি।} (সুরা আশ-শূরা: ৫২)। মহান আল্লাহ তাঁর সত্তার প্রতি এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দেওয়ার পর তাঁর মুমিন বান্দাদের এই নূরের প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিয়ে বলেন: {অতএব তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি এবং সেই নূরের প্রতি যা আমি অবতীর্ণ করেছি। আর তোমরা যা করো সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবহিত।} (সুরা আত-তাগাবুন: ৮)।
বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহর দয়ার একটি দিক হলো তিনি কুরআনুল কারীমকে বহু শারীরিক ও আত্মিক ব্যাধির নিরাময় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি কুরআন থেকে এমন কিছু অবতীর্ণ করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত।} (সুরা আল-ইসরা: ৮২)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {হে লোকসকল! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে উপদেশ এবং অন্তরের ব্যাধির আরোগ্য এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত এসেছে।} (সুরা ইউনুস: ৫৭)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আমি যদি একে অনারবীয় ভাষায় কুরআন করতাম, তবে তারা অবশ্যই বলত, ‘কেন এর আয়াতগুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হলো না? ভাষা অনারবীয় অথচ রাসূল আরবীয়?’ আপনি বলুন, এটি মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও আরোগ্য।} (সুরা ফুসসিলাত: ৪৪)।
সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহে কুরআনুল কারীম দ্বারা আরোগ্য কামনার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তিনি তার ওপর মুআউবিযাত (সুরা ফালাক ও সুরা নাস) পড়ে ফুঁ দিতেন। অতঃপর যখন তিনি তাঁর সেই ব্যাধিতে আক্রান্ত হলেন যাতে তিনি ইন্তেকাল করেন..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
جعلت أنفث عليه وأمسحه بيد نفسه لأنها كانت أعظم بركة من يديَّ"1.
وعن أبي سعيد الخدري قال: كنا في مسير لنا فنزلنا، فجاءت جارية فقالت: إن سيد الحي سليم، وإن نَفَرَنا غيب فهل منكم راق؟ فقام معها رجل ما كنا نأبنه برقية، فرقاه فبرأ، فأمر لنا بثلاثين شاة وسقانا لبناً. فلما رجع قلنا له أكنت تحسن الرقية أو كنت ترقي؟ قال: لا، ما رقيت إلا بأم الكتاب، قلت: لا تحدِثوا شيئاً حتى نأتي أو نسأل النبي فلما قدمنا المدينة ذكرناه للنبي صلى الله عليه وسلم فقال: "وما كان يدريه أنها رقية اقسموا واضربوا لي بسهم".2
وكما أنه سبب في شفاء الأمراض الحسية، هو سبب للوقاية من الأمراض المعنوية وغيرها، وسبب في طرد الشيطان الذي هو سبب لكثير من الأمراض، فعن عائشة رضي الله عنها: "أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا أوى إلى فراشه كل ليلة جمع كفيه ثم نفث فيهما فقرأ فيهما: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} و {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ} و {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ} ثم يمسح بهما ما استطاع من جسده يبدأ بهما على رأسه ووجهه وما أقبل من جسده يفعل ذلك ثلاث مرات".3
وقد ثبت عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: وكَّلني رسول الله صلى الله عليه وسلم بحفظ زكاة رمضان، فأتاني آت فجعل يحثو من الطعام،
--------------------------------------------
"আমি তাঁর ওপর ফুঁ (نفث) দিতাম এবং তাঁর হাত দিয়েই তাঁকে মুছে দিতাম, কেননা তা আমার হাতের চেয়ে অধিক বরকতপূর্ণ ছিল।"১
আবু সাঈদ আল-খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা এক সফরে ছিলাম এবং এক স্থানে যাত্রাবিরতি করলাম। তখন এক দাসী এসে বলল: "নিশ্চয়ই জনপদটির নেতা দংশিত হয়েছেন এবং আমাদের পুরুষরা অনুপস্থিত। আপনাদের মধ্যে কি কোনো ঝাড়ফুঁককারী (راق) আছেন?" তখন একজন লোক তার সাথে উঠে দাঁড়ালেন যাকে আমরা ঝাড়ফুঁকের (رقية) জন্য জানতাম না। এরপর তিনি তাকে ঝাড়ফুঁক (رقية) করলেন এবং তিনি সুস্থ হয়ে গেলেন। তিনি আমাদের জন্য ত্রিশটি বকরি দেওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং আমাদের দুধ পান করালেন। যখন তিনি ফিরে এলেন, আমরা তাঁকে বললাম, "আপনি কি ঝাড়ফুঁক (رقية) ভালো জানতেন নাকি আপনি আগে থেকেই ঝাড়ফুঁক (رقية) করতেন?" তিনি বললেন, "না, আমি কেবল উম্মুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) দিয়েই ঝাড়ফুঁক (رقية) করেছি।" আমি বললাম, "তোমরা নতুন কিছু করো না যতক্ষণ না আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছাই অথবা তাঁকে জিজ্ঞাসা করি।" যখন আমরা মদিনায় আসলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলাম, তখন তিনি বললেন: "সে কীভাবে জানল যে এটি একটি ঝাড়ফুঁক (رقية)? তোমরা এগুলো বণ্টন করো এবং আমার জন্য একটি অংশ রেখো।"২
যেমনটি এটি শারীরিক রোগসমূহ নিরাময়ের কারণ, তেমনি এটি আধ্যাত্মিক ও অন্যান্য রোগ থেকে সুরক্ষার কারণ এবং শয়তান বিতাড়নেরও মাধ্যম, যে অনেক রোগের মূল কারণ। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাতে যখন বিছানায় যেতেন, তখন তাঁর দুই হাতের তালু একত্র করতেন, এরপর তাতে ফুঁ (نفث) দিতেন এবং তাতে ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’, ‘কুল আউজু বিরাব্বিল ফালাক’ এবং ‘কুল আউজু বিরাব্বিন নাস’ পাঠ করতেন। এরপর তাঁর শরীরের যতটুকু সম্ভব দুই হাত দিয়ে মুছে দিতেন। তিনি তাঁর মাথা, মুখমণ্ডল এবং শরীরের সামনের অংশ থেকে শুরু করতেন। তিনি এরূপ তিনবার করতেন।"৩
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রমজানের জাকাত হেফাজতের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তখন এক আগন্তুক আমার কাছে আসল এবং অঞ্জলি ভরে খাবার নিতে লাগল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فأخذته فقلت: لأرفعنك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: إني محتاج وعليَّ عيال ولي حاجة شديدة، قال: فخليت عنه، فأصبحت، فقال النبي صلى الله عليه وسلم:
"يا أبا هريرة ما فعل أسيرك البارحة؟ " قال: قلت يا رسول الله شكا إليَّ حاجة شديدة وعيالاً فرحمته فخليت سبيله قال: "أما إنه قد كذبك وسيعود" فعرفت أنه سيعود لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنه سيعود" فرصدته فجعل يحثو من الطعام، فأخذته فقلت: لأرفعنك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: دعني فإني محتاج وعلي عيال، لا أعود، فرحمته فخليت سبيله فأصبحت فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يا أبا هريرة ما فعل أسيرك؟ " قلت: يا رسول الله. شكا حاجة شديدة وعيالاً فرحمته فخليت سبيله. قال: "أما إنه قد كذبك وسيعود" فرصدته الثالثة فجعل يحثو من الطعام فأخذته فقلت: لأرفعنك إلى رسول الله صلى الله عليه،وهذا آخر ثلاث مرات أنك تزعم لا تعود ثم تعود، قال: دعني أعلمك كلمات ينفعك الله بها، قلت: ما هن؟ قال إذا أويت إلى فراشك فاقرأ آية الكرسي: {اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ} حتى تختم الآية، فإنك لن يزال عليك من الله حافظ ولا يقربنك شيطان حتى تصبح، فخليت سبيله فأصبحت، فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم:"ما فعل أسيرك البارحة؟ " قلت يا رسول الله زعم أنه يعلمني كلمات ينفعني الله بها فخليت سبيله، قال: "ما هي؟ " قلت: قال لي: إذا أويت إلى فراشك فاقرأ آية الكرسي من أولها حتى تختم: {اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ} وقال لي: لن يزال عليك من الله حافظ ولا يقربك شيطان حتى تصبح. -وكانوا أحرص شيء على الخير-. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "أما إنه قد
আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম: "আমি অবশ্যই তোমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে যাব।" সে বলল: "আমি অভাবগ্রস্ত, আমার ওপর পরিবারের ভার আছে এবং আমার প্রয়োজন অত্যন্ত তীব্র।" তিনি (আবু হুরায়রা) বললেন: "তাই আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।" সকাল হলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন:
"হে আবু হুরায়রা! গত রাতে তোমার বন্দি কী করেছে?" তিনি বললেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে আমার কাছে তীব্র অভাব ও পরিবারের অভিযোগ করেছিল, তাই আমি তাকে দয়া করে ছেড়ে দিয়েছি। তিনি বললেন: "সাবধান! নিশ্চয়ই সে তোমার কাছে মিথ্যা বলেছে এবং সে আবারও আসবে।" আমি নিশ্চিত হলাম যে সে আবারও আসবে, কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: "সে আবারও আসবে।" তাই আমি তার অপেক্ষায় ওত পেতে রইলাম। সে পুনরায় খাবার আঁজলা ভরে নিতে লাগল, তখন আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম: "আমি অবশ্যই তোমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে যাব।" সে বলল: "আমাকে ছেড়ে দিন, কারণ আমি অভাবগ্রস্ত এবং আমার ওপর পরিবারের ভার রয়েছে, আমি আর আসব না।" আমি তাকে দয়া করে ছেড়ে দিলাম। সকাল হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন: "হে আবু হুরায়রা! তোমার বন্দি কী করেছে?" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! সে তীব্র অভাব ও পরিবারের অভিযোগ করেছিল, তাই আমি তাকে দয়া করে ছেড়ে দিয়েছি। তিনি বললেন: "সাবধান! নিশ্চয়ই সে তোমার কাছে মিথ্যা বলেছে এবং সে আবারও আসবে।" আমি তৃতীয়বার তার জন্য ওত পেতে রইলাম। সে পুনরায় খাবার আঁজলা ভরে নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম: "আমি অবশ্যই তোমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে যাব। এটি তিনবারের শেষবার যে, তুমি দাবি করেছিলে আর আসবে না, কিন্তু পুনরায় এসেছ।" সে বলল: "আমাকে ছেড়ে দিন, আমি আপনাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দেব যার দ্বারা আল্লাহ আপনার উপকার করবেন।" আমি বললাম: "সেগুলো কী?" সে বলল: "যখন আপনি আপনার বিছানায় যাবেন, তখন আয়াতুল কুরসি পাঠ করবেন: {আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম} আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এর ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বক্ষণ আপনার জন্য একজন রক্ষক থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত কোনো শয়তান আপনার নিকটবর্তী হতে পারবে না।" অতঃপর আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকাল হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন: "গত রাতে তোমার বন্দি কী করেছে?" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! সে দাবি করেছে যে সে আমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দেবে যার দ্বারা আল্লাহ আমার উপকার করবেন, তাই আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। তিনি বললেন: "সেগুলো কী?" আমি বললাম: সে আমাকে বলেছে: যখন আপনি আপনার বিছানায় যাবেন, তখন আয়াতুল কুরসির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করবেন: {আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম}; সে আমাকে আরও বলেছে: "এর ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বক্ষণ আপনার জন্য একজন রক্ষক থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত কোনো শয়তান আপনার নিকটবর্তী হতে পারবে না।" —আর তারা (সাহাবীগণ) কল্যাণের বিষয়ে অত্যন্ত লালায়িত ছিলেন।— অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সাবধান! নিশ্চয়ই সে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
صدقك وهو كذوب، تعلم مَن تخاطب مِن ثلاث ليال يا أبا هريرة؟ " قال: لا، قال: "ذاك شيطان".1
والقرآن تذكرة وموعظة بما جاء فيه من قصص الأمم الغابرة، وبيان ما جوزي به مؤمنها وما عوقب به كافرها، فقد احتوى القرآن على قصص الأنبياء والصالحين وعلى قصص الكافرين والمعاندين فكأنه يذكرنا ويعظنا، يذكرنا بما حصل لهم وبقوة الله وجبروته وقدرته على خلقه، ويعظنا بأن نتبع سبيل الرشد ونبتعد عن سبل الغي والضلال.
قال تعالى: {نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَذَا الْقُرْآنَ وَإِنْ كُنْتَ مِنْ قَبْلِهِ لَمِنَ الْغَافِلِينَ} (يوسف: 3) . وقال: {وَلَقَدْ صَرَّفْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ فَأَبَى أَكْثَرُ النَّاسِ إِلَّا كُفُوراً} (الإسراء: 89) . وقال تعالى: {وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هَذَا الْقُرْآنِ لِلنَّاسِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ وَكَانَ الْأِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلاً. وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى وَيَسْتَغْفِرُوا رَبَّهُمْ إِلَّا أَنْ تَأْتِيَهُمْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ أَوْ يَأْتِيَهُمُ الْعَذَابُ قُبُلاً} (الكهف: 54-55) . وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ} (يونس: 57) . وقال: {وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَا أَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِنَ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ يَعِظُكُمْ بِهِ} (البقرة: 231) .
فالقرآن موعظة بما ضرب الله لنا فيه من الأمثال وقصص وأخبار السابقين وخاصة الكافرين منهم. والمتدبر للآيات السابقة يلمس أن الله سبحانه وتعالى ما ساق لنا هذه الأمثلة والقصص إلا لنتعظ ونعتبر، وهذا ما قد صرح به القرآن أحياناً كثيرة حيث قال تعالى معللاً ذلك: {وَكَذَلِكَ
--------------------------------------------
"সে তোমার কাছে সত্য বলেছে, অথচ সে একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذوب)। হে আবু হুরায়রা! তুমি কি জানো গত তিন রাত ধরে তুমি কার সাথে কথা বলছিলে?" তিনি বললেন: "না।" তিনি বললেন: "সে ছিল শয়তান।"১
আর কুরআন হলো একটি স্মারক ও উপদেশ; এতে অতীত জাতিসমূহের যেসব কাহিনী বর্ণিত হয়েছে এবং তাদের মুমিনদের যে প্রতিদান ও কাফিরদের যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তার বর্ণনার মাধ্যমে। কেননা কুরআন নবীগণ ও সৎকর্মশীলদের কাহিনী এবং কাফির ও অবাধ্যদের কাহিনী ধারণ করে আছে। ফলে এটি যেন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ও উপদেশ প্রদান করে; তাদের সাথে কী ঘটেছিল এবং আল্লাহর শক্তি, প্রতাপ ও তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর সক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। আর আমাদের উপদেশ দেয় যেন আমরা সঠিক পথ অনুসরণ করি এবং ভ্রষ্টতা ও পথভ্রষ্টতার পথ থেকে দূরে থাকি।
মহান আল্লাহ বলেন: {আমি তোমার কাছে এই কুরআন ওহী করার মাধ্যমে সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি, যদিও এর আগে তুমি এ বিষয়ে অনবহিত ছিলে} (ইউসুফ: ৩)। তিনি আরও বলেন: {আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের উপমা বিস্তারিত বর্ণনা করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কুফরি করা ছাড়া আর সবকিছুই অস্বীকার করেছে} (আল-ইসরা: ৮৯)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের উপমা বিস্তারিত বর্ণনা করেছি, কিন্তু মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অত্যন্ত ঝগড়াটে। মানুষের কাছে যখন হেদায়েত এলো, তখন তাদের ঈমান আনা ও তাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা থেকে কেবল এই বিষয়ই বিরত রাখল যে, তাদের কাছে পূর্ববর্তীদের রীতি (আজাব) আসবে অথবা তাদের সামনে সরাসরি আজাব উপস্থিত হবে} (আল-কাহফ: ৫৪-৫৫)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {হে মানবজাতি! তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে} (ইউনুস: ৫৭)। তিনি বলেন: {তোমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামত এবং তোমাদের প্রতি তিনি যে কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন তা স্মরণ করো, যার মাধ্যমে তিনি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন} (আল-বাকারাহ: ২৩১)।
সুতরাং কুরআন হলো একটি উপদেশ, কারণ আল্লাহ এতে আমাদের জন্য অনেক উপমা এবং পূর্ববর্তীদের কাহিনী ও সংবাদ পেশ করেছেন, বিশেষ করে তাদের মধ্যকার কাফিরদের কথা। পূর্বোক্ত আয়াতসমূহ নিয়ে যে ব্যক্তি চিন্তা-গবেষণা করবেন তিনি উপলব্ধি করবেন যে, মহান আল্লাহ আমাদের কাছে এই উপমা ও কাহিনীগুলো কেবল উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণের জন্যই পেশ করেছেন। কুরআন অনেক স্থানেই এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে, যেখানে আল্লাহ তাআলা এর কারণ দর্শিয়ে বলেছেন: {আর এভাবেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
نُفَصِّلُ الْآياتِ وَلِتَسْتَبِينَ سَبِيلُ الْمُجْرِمِينَ} (الأنعام: 55) . ومن تفصيل الآيات ذِكرُ تلك الأمثال والقصص وقد حذرنا الله تعالى من الوقوع في مثل ما وقعوا فيه، قال تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (النور: 63) ، وقال تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيراً} (النساء: 115) .
في السياق نفسه جعل الله في القرآن بيان الوعد والوعيد ترغيباً في إتباع طريق الحق وتحذيراً من سلوك طرق الغي والضلال قال تعالى: {وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَاهُ قُرْآناً عَرَبِيّاً وَصَرَّفْنَا فِيهِ مِنَ الْوَعِيدِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ أَوْ يُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْراً} (طه: 113) .
ومن فضل القرآن أن يبين الله فيه خبر كل شيء قال تعالى: {وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} (الأنعام: 38) . وقال تعالى: {وَلَقَدْ جِئْنَاهُمْ بِكِتَابٍ فَصَّلْنَاهُ عَلَى عِلْمٍ هُدىً وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} (الأعراف: 52) . وقال تعالى: {مَا كَانَ حَدِيثاً يُفْتَرَى وَلَكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ وَهُدىً وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} (يوسف: 111) . وقال: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَاناً لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدىً وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} (النحل: 89) .
ومن عظيم نعمة الله علينا ورحمته أن لم يترك شيئاً مما يهمنا إلا ذَكَرَه في الكتاب فله الحمد وله الشكر.
"এভাবেই আমি আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি, যাতে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে" (আল-আনআম: ৫৫)। আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সব উদাহরণ ও কিসসা উল্লেখ করা। আর আল্লাহ তাআলা তাদের মতো অবস্থায় নিপতিত হওয়া থেকে আমাদের সতর্ক করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক আজাব গ্রাস করবে" (আন-নূর: ৬৩)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আর যার কাছে হিদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর সে রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে আমি তাকে সেই পথেই ছেড়ে দেব যা সে বেছে নিয়েছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব; আর তা কতই না নিকৃষ্ট আবাস!" (আন-নিসা: ১১৫)।
একই প্রসঙ্গে, সত্যের পথ অনুসরণে উৎসাহিত করতে এবং বিভ্রান্তি ও গোমরাহীর পথে চলা থেকে সতর্ক করতে আল্লাহ কুরআনে পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুঁশিয়ারি বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর এভাবেই আমি কুরআনকে আরবি ভাষায় নাজিল করেছি এবং এতে নানাভাবে শাস্তির হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছি, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে অথবা এটি তাদের মধ্যে উপদেশ সৃষ্টি করে" (ত্বহা: ১১৩)।
কুরআনের অন্যতম শ্রেষ্ঠত্ব হলো আল্লাহ এতে প্রতিটি বিষয়ের সংবাদ বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল কোনো প্রাণী নেই আর দুই ডানা দিয়ে ওড়ে এমন কোনো পাখি নেই যারা তোমাদের মতো একেকটি উম্মত নয়। আমি এই কিতাবে কোনো কিছু বাদ দিইনি" (আল-আনআম: ৩৮)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আর অবশ্যই আমি তাদের কাছে এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি যা আমি জ্ঞানের ভিত্তিতে বিশদভাবে বর্ণনা করেছি, যা মুমিন কওমের জন্য হিদায়াত ও রহমত" (আল-আরাফ: ৫২)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "এটি কোনো বানিয়ে বলা হাদিস নয়, বরং এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ এবং মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও রহমত" (ইউসুফ: ১১১)। তিনি আরও বলেন: "আর আমি তোমার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত, রহমত এবং মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ" (আন-নাহল: ৮৯)।
আমাদের ওপর আল্লাহর মহান নেয়ামত ও রহমতের একটি হলো, আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমন কোনো কিছুই তিনি কিতাবে উল্লেখ করা ছাড়া ছেড়ে দেননি। সুতরাং সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা কেবল তাঁরই প্রাপ্য।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وبعد أن ذكرت فضل القرآن الكريم وأثره في حياة المؤمنين استحسنت أن أذكر أثره في المعاندين الذين صدوا عنه وأعرضوا، وما نالهم وينالهم من الخسران المبين في الدنيا والآخرة، قال تعالى واصفاً حالهم عند تلاوة القرآن عليهم: {وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا قَالُوا قَدْ سَمِعْنَا لَوْ نَشَاءُ لَقُلْنَا مِثْلَ هَذَا إِنْ هَذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ} (الأنفال: 31) .وقال: {وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِ آيَاتُنَا وَلَّى مُسْتَكْبِراً كَأَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا كَأَنَّ فِي أُذُنَيْهِ وَقْراً فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ} (لقمان: 7) . وقال: {وَإِذَا ذَكَرْتَ رَبَّكَ فِي الْقُرْآنِ وَحْدَهُ وَلَّوْا عَلَى أَدْبَارِهِمْ نُفُوراً} (الإسراء: 46) .
وقال: {وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ قَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُمْ هَذَا سِحْرٌ مُبِينٌ} (الأحقاف: 7) . وقال تعالى: {وَيْلٌ لِكُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ. يَسْمَعُ آيَاتِ اللَّهِ تُتْلَى عَلَيْهِ ثُمَّ يُصِرُّ مُسْتَكْبِراً كَأَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ} (الجاثية: 7-8) . فلما تلي عليهم القرآن وأدركوا قوته وَلَّوْا وأعرضوا عنه، وصمُّوا آذانهم، وأعموا أبصارهم، واتهموه بالسحر لماَّ رأوا ما له من التأثير البالغ.
وقال بعد بيان حال المؤمنين وما أعد الله لهم من النعيم المقيم والفوز المبين: {وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا أَفَلَمْ تَكُنْ آيَاتِي تُتْلَى عَلَيْكُمْ فَاسْتَكْبَرْتُمْ وَكُنْتُمْ قَوْماً مُجْرِمِينَ} (الجاثية: 31) . وقال تعالى: {وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا بَيِّنَاتٍ تَعْرِفُ فِي وُجُوهِ الَّذِينَ كَفَرُوا الْمُنْكَرَ يَكَادُونَ يَسْطُونَ بِالَّذِينَ يَتْلُونَ عَلَيْهِمْ آيَاتِنَا قُلْ أَفَأُنَبِّئُكُمْ بِشَرٍّ مِنْ ذَلِكُمُ النَّارُ وَعَدَهَا اللَّهُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَبِئْسَ الْمَصِيرُ} (الحج 72) . ولكن ليس لهم إلا الحسرة والندامة يوم
পবিত্র কুরআনের মর্যাদা এবং মুমিনদের জীবনে এর প্রভাব বর্ণনা করার পর আমি সেইসব হঠকারীদের ওপর এর প্রভাব উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি যারা কুরআন থেকে বিমুখ হয়েছে এবং এটি থেকে মানুষকে নিবৃত্ত করেছে। দুনিয়া ও আখিরাতে তারা যে সুস্পষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং হবে তা উল্লেখ করছি। মহান আল্লাহ তাদের ওপর কুরআন তেলাওয়াতের সময় তাদের অবস্থার বর্ণনা দিয়ে বলেন: {যখন তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন তারা বলে: আমরা শুনেছি; আমরা ইচ্ছা করলে এর অনুরূপ বলতে পারতাম; এ তো কেবল পূর্ববর্তীদের উপকথা।} (আল-আনফাল: ৩১)। তিনি আরও বলেন: {যখন তার কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে দম্ভভরে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন সে তা শুনতেই পায়নি, যেন তার উভয় কানে বধিরতা রয়েছে। সুতরাং তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ দাও।} (লুকমান: ৭)। তিনি আরও বলেন: {তুমি যখন কুরআনে তোমার এক রবকে স্মরণ করো, তখন তারা ঘৃণাভরে পেছন ফিরে চলে যায়।} (আল-ইসরা: ৪৬)।
তিনি আরও বলেন: {যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন যারা কুফরি করে তাদের কাছে সত্য আসার পর তারা বলে: এ তো এক সুস্পষ্ট জাদু।} (আল-আহকাফ: ৭)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {দুর্ভোগ প্রত্যেক অতি মিথ্যাবাদী পাপীর জন্য, যে আল্লাহর আয়াতসমূহ তার সামনে পঠিত হতে শোনে, অথচ অহংকারের সাথে অটল থাকে যেন সে তা শোনেনি। সুতরাং তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ দাও।} (আল-জাসিয়া: ৭-৮)। যখন তাদের সামনে কুরআন তেলাওয়াত করা হতো এবং তারা এর শক্তি উপলব্ধি করতে পারত, তখন তারা মুখ ফিরিয়ে নিত এবং বিমুখ হতো; তারা তাদের কানে ছিপি এঁটে দিত এবং তাদের চোখ অন্ধ করে ফেলত। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব দেখে তারা একে জাদু বলে অভিযুক্ত করত।
মুমিনদের অবস্থা এবং আল্লাহ তাদের জন্য যে চিরস্থায়ী নিয়ামত ও সুস্পষ্ট সাফল্য প্রস্তুত রেখেছেন তা বর্ণনার পর তিনি বলেন: {আর যারা কুফরি করেছে (তাদের বলা হবে): তোমাদের কাছে কি আমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়নি? অথচ তোমরা অহংকার করেছিলে এবং তোমরা ছিলে এক অপরাধী কওম।} (আল-জাসিয়া: ৩১)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {যখন তাদের নিকট আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন তুমি কাফিরদের চেহারায় অসন্তোষের চিহ্ন দেখতে পাবে। যারা তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে, তারা প্রায় তাদের ওপর চড়াও হতে উদ্যত হয়। বলো: আমি কি তোমাদের এর চেয়েও মন্দ কিছুর সংবাদ দেব? তা হলো আগুন; আল্লাহ কাফিরদের জন্য এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল!} (আল-হাজ: ৭২)। কিন্তু সেদিন তাদের জন্য আক্ষেপ আর অনুশোচনা ছাড়া আর কিছুই থাকবে না...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ২০)
القيامة قال تعالى: {وَسِيقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ زُمَراً حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا فُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ يَتْلُونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِ رَبِّكُمْ وَيُنْذِرُونَكُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا بَلَى وَلَكِنْ حَقَّتْ كَلِمَةُ الْعَذَابِ عَلَى الْكَافِرِينَ} (الزمر: 71) .
وبعد أن ذكر الله إقرارهم على أنفسهم بالكفر ذكر ندمهم واعترافهم بذنوبهم فقال: {وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ. فَاعْتَرَفُوا بِذَنْبِهِمْ فَسُحْقاً لِأَصْحَابِ السَّعِيرِ} (الملك:10-11) . وقال: {أَلَمْ تَكُنْ آيَاتِي تُتْلَى عَلَيْكُمْ فَكُنْتُمْ بِهَا تُكَذِّبُونَ. قَالُوا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْماً ضَالِّينَ. رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ. قَالَ اخْسَأُوا فِيهَا وَلا تُكَلِّمُونِ} (المؤمنون: 105-108) .
والآيات في ذكر حسرتهم وندمهم يوم لا ينفع الندم كثيرة أكثر من أن أحصيها في هذا البحث، نعوذ بالله من الخزي والخسران.
وبعد أن ذكرت طرفاً من الآيات في فضل القرآن الكريم وفضل قراءته وأثره في حياة الناس رأيت أن أذكر طرفاً من أقوال الرسول صلى الله عليه وسلم التي تدل على ذلك، وإليك أخي الكريم فضل القرآن الكريم كما جاءتنا به السنة المطهرة:
القرآن يشفع يوم القيامة لصاحبه، فعن أبي أمامة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: " اقرؤوا القرآن فإنه يأتي يوم القيامة شفيعاً لأصحابه" 1. وعن النواس بن سمعان رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "يؤتى يوم القيامة
--------------------------------------------
কিয়ামতের দিন সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {আর যারা কুফরি করেছে তাদেরকে দলে দলে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে; এমনকি যখন তারা তার কাছে পৌঁছাবে তখন তার দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করা হবে এবং তার রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, 'তোমাদের মধ্য হতে কি তোমাদের নিকট রাসূলগণ আসেননি, যারা তোমাদের নিকট তোমাদের রবের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করতেন এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতের বিষয়ে সতর্ক করতেন?' তারা বলবে, 'হ্যাঁ, অবশ্যই এসেছিলেন; কিন্তু কাফিরদের ওপর আজাবের ফয়সালা অবধারিত হয়ে গেল'} (যুমার: ৭১)।
আল্লাহ তাআলা যখন তাদের নিজেদের বিরুদ্ধে কুফরির স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করেছেন, এরপর তাদের অনুশোচনা ও অপরাধ কবুলের কথা উল্লেখ করে এরশাদ করেন: {আর তারা বলবে, 'যদি আমরা শুনতাম অথবা অনুধাবন করতাম, তবে আমরা জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না।' অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে; সুতরাং জাহান্নামবাসীদের জন্য রয়েছে ধ্বংস} (মুলক: ১০-১১)। তিনি আরও বলেন: {তোমাদের নিকট কি আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হতো না? অথচ তোমরা সেগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে। তারা বলবে, 'হে আমাদের রব! আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের ওপর প্রবল হয়েছিল এবং আমরা ছিলাম এক পথভ্রষ্ট জাতি। হে আমাদের রব! আমাদের এখান থেকে বের করে দিন; অতঃপর আমরা যদি পুনরায় এরূপ করি তবে অবশ্যই আমরা জালিম হব।' তিনি বলবেন, 'তোমরা লাঞ্ছিত অবস্থায় এখানেই পড়ে থাকো এবং আমার সাথে কোনো কথা বলো না'} (মুমিনুন: ১০৫-১০৮)।
অনুশোচনা যেদিন কোনো উপকারে আসবে না, সেদিন তাদের হাহাকার ও অনুতাপ সম্পর্কে আয়াতসমূহ অনেক বেশি, যা এই গবেষণাপত্রে বর্ণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। আমরা লাঞ্ছনা ও ক্ষতি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
পবিত্র কুরআনের ফযিলত, এর তিলাওয়াতের মহিমা এবং মানুষের জীবনে এর প্রভাব সম্পর্কে কুরআনের কিছু আয়াত উল্লেখ করার পর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ সম্পর্কিত কিছু বাণীর কথা উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি। হে সম্মানিত ভাই, পবিত্র সুন্নাহর মাধ্যমে আমাদের কাছে পবিত্র কুরআনের যে ফযিলত পৌঁছেছে তা এখানে তুলে ধরা হলো:
কুরআন কিয়ামতের দিন তার সাথীর (পাঠকারীর) জন্য সুপারিশ করবে। আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তোমরা কুরআন পাঠ করো, কেননা তা কিয়ামতের দিন তার সাথীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে।" ১। নুওয়াস ইবনে সামআন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "কিয়ামতের দিন নিয়ে আসা হবে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
بالقرآن وأهله الذين كانوا يعملون به في الدنيا تقدمه سورة البقرة وآل عمران، وضرب لها رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثة أمثال ما نسيتهن بعد قال: " كأنهما غمامتان أو ظلتان سوداوان بينها شَرق أو كأنهما فرقان من طير صواف تحاجان عن صاحبهما" 1.
تلاوة القرآن سبب في رفعة الدرجات في جنات النعيم فعن عبد الله بن عمرو عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "يقال لصاحب القرآن: اقرأ وارق ورتل كما كنت ترتل في الدنيا فإن منزلتك عند آخر آية تقرأ بها" 2، وعن عائشة رضي الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "مثل الذي يقرأ القرآن وهو حافظ له مع السفرة الكرام البررة ومثل الذي يقرأ القرآن وهو يتعاهده وهو عليه شديد فله أجران " 3.
قراءة القرآن سبب في زيادة الحسنات ورضا الرب سبحانه وتعالى: فعن عبد الله ابن مسعود: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من قرأ حرفاً من كتاب الله فله به حسنة والحسنة بعشر أمثالها لا أقول آلم حرف ولكن ألف حرف ولام حرف وميم حرف".4 وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "يجيء القرآن يوم القيامة فيقول: "يارب حله فيلبس تاج الكرامة ثم يقول: يارب زده فيلبس حلة
--------------------------------------------
কুরআন এবং তার অনুসারীদের (যারা দুনিয়াতে সে অনুযায়ী আমল করত) উপস্থিত করা হবে, যাদের অগ্রভাগে থাকবে সূরা আল-বাকারা এবং আলে ইমরান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলোর জন্য তিনটি উপমা বর্ণনা করেছেন যা আমি এরপর কখনো ভুলিনি। তিনি বলেন: "সেগুলো যেন দুটি মেঘখণ্ড অথবা দুটি কালো ছায়া যার মাঝখানে আলোক রশ্মি রয়েছে অথবা সেগুলো যেন ডানা বিস্তারকারী সারিবদ্ধ পাখির দুটি ঝাক, যা তাদের পাঠকারীর পক্ষ হয়ে বিতর্ক (সুপারিশ) করবে।" ১।
কুরআন তিলাওয়াত জান্নাতুন নাঈমে মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কুরআনের অধিকারীকে বলা হবে: তুমি পাঠ করো এবং উপরে আরোহণ করো, আর ঠিক সেভাবে তারতীলের সাথে পাঠ করো যেভাবে তুমি দুনিয়াতে পাঠ করতে। কেননা তোমার মর্যাদা হবে তোমার পঠিত শেষ আয়াতের নিকট।" ২, এবং আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং সে তা হিফজকারী (حافظ), সে সম্মানিত ও পুণ্যবান ফিরিশতাদের সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তা আয়ত্তে রাখার চেষ্টা করে অথচ তা তার জন্য কষ্টকর, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।" ৩।
কুরআন পাঠ নেকি বৃদ্ধি এবং মহান রবের সন্তুষ্টির কারণ। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য রয়েছে একটি নেকি। আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। আমি বলি না যে, 'আলিফ-লাম-মীম' একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর।" ৪। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "কিয়ামতের দিন কুরআন উপস্থিত হয়ে বলবে: 'হে আমার রব! একে অলঙ্কৃত করুন।' তখন তাকে সম্মানের মুকুট পরানো হবে। এরপর সে বলবে: 'হে আমার রব! তাকে আরও বাড়িয়ে দিন।' তখন তাকে সম্মানের পোশাক পরানো হবে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الكرامة ثم يقول يارب ارض عنه فيرضى عنه فيقال له: اقرأ وارق وتزاد بكل آية حسنة" 1.
القرآن يرفع مكانة صاحبه ويكون سبباً في تقديمه على غيره فعن أبي مسعود الأنصاري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يؤم القوم أقرؤهم لكتاب الله" 2. وعن عامر بن واثلة أن نافع بن عبدا لحارث لقي عمر بعسفان وكان عمر يستعمله على مكة فقال: من استعملت على أهل الوادي؟ فقال: ابن أبزى، قال: ومن ابن أبزى؟ قال مولى من موالينا، قال: فاستخلفت عليهم مولى؟ قال: إنه قارئ لكتاب الله عز وجل، وإنه عالم بالفرائض، قال عمر: أما إن نبيكم صلى الله عليه وسلم قال: "إن الله يرفع بهذا القرآن أقواماً ويضع به آخرين " 3. ومعلوم في قصة غزوة بدر أن الرسول صلى الله عليه وسلم عند دفن الشهداء رضي الله عنهم كان يقدم أقرأهم لكتاب الله إلى القبلة ثم الذي يليه في القراءة وهكذا.
ضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل طيب الطعم والرائحة لقارئ القرآن فعن أبي موسى الأشعري عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "مثل الذي يقرأ القرآن كالأترجة طعمها طيب وريحها طيب والذي لا يقرأ القرآن كالتمرة طعمها طيب ولا ريح فيها، ومثل الفاجر الذي يقرأ القرآن كمثل الريحانة ريحها طيب وطعمها مر، ومثل الفاجر الذي لا يقرأ القرآن
--------------------------------------------
সম্মানের মুকুট। এরপর তিনি বলবেন: হে প্রতিপালক! আপনি তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। তখন তিনি (আল্লাহ) তার ওপর সন্তুষ্ট হবেন। এরপর তাকে বলা হবে: তুমি পাঠ করো এবং উপরে আরোহণ করতে থাকো। আর প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে একটি করে নেকি বৃদ্ধি করা হবে।" ১।
কুরআন তার অধিকারীর মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং তাকে অন্যের ওপর অগ্রাধিকার প্রদানের কারণ হয়। আবু মাসউদ আনসারি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী ব্যক্তিই কওমের ইমামতি করবেন।" ২। আমের ইবনে ওয়াসিলা থেকে বর্ণিত যে, নাফে ইবনে আব্দুল হারিস 'উসফান' নামক স্থানে ওমরের সাথে সাক্ষাৎ করেন। ওমর তাকে মক্কার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি (ওমর) জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি উপত্যকাবাসীদের ওপর কাকে দায়িত্ব দিয়ে এসেছেন?" তিনি বললেন: "ইবনে আবযা-কে।" ওমর বললেন: "ইবনে আবযা কে?" তিনি বললেন: "আমাদের মুক্ত করা দাসদের (مولى) একজন।" ওমর বললেন: "আপনি তাদের ওপর একজন মুক্ত করা দাসকে (مولى) প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন?" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তিনি মহান আল্লাহর কিতাবের একজন কারী এবং তিনি ফরায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রে অভিজ্ঞ।" ওমর বললেন: "শোনো, তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ এই কুরআনের মাধ্যমে অনেক জাতিকে উন্নত করেন এবং এর দ্বারা অন্যদের অবনমিত করেন'।" ৩। আর এটি জানা কথা যে, বদর যুদ্ধের ঘটনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শহীদদের (রা.) দাফন করার সময় তাদের মধ্যে যারা আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অধিক পারদর্শী ছিলেন, তাদেরকেই কিবলার দিকে আগে রাখতেন, তারপর তার পরবর্তী পর্যায়ের ব্যক্তিকে এবং এভাবেই চলত।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআন পাঠকারীর উদাহরণ উত্তম স্বাদ ও সুগন্ধির সাথে তুলনা করেছেন। আবু মুসা আল-আশআরি থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে মুমিন কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো আতরুজ্বা (লেবু জাতীয় ফল)-র মতো, যার স্বাদও চমৎকার এবং ঘ্রাণও চমৎকার। আর যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো খেজুরের মতো, যার স্বাদ চমৎকার কিন্তু কোনো ঘ্রাণ নেই। আর যে পাপাচারী কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো রাইহানা (সুগন্ধি উদ্ভিদ)-র মতো, যার ঘ্রাণ চমৎকার কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যে পাপাচারী কুরআন পাঠ করে না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
كمثل الحنظلة طعمها مر ولا ريح لها" 1. انظر أخي رعاك الله إلى الأثر العظيم لقراءة القرآن كيف أن المنافق والفاجر أصبحت لهما رائحة زكية كرائحة الريحانة بسبب قراءة القرآن، مع أنهما بعيدان عن الإيمان والقرآن كل البعد؟
وقراءة القرآن سبب في تنزل السكينة والرحمة على قارئه قال صلى الله عليه وسلم في الحديث الطويل الذي رواه أبو هريرة: "وما اجتمع قوم في بيت من بيوت الله يتلون كتاب الله ويتدارسونه بينهم إلا نزلت عليهم السكينة وغشيتهم الرحمة وحفتهم الملائكة وذكرهم الله فيمن عنده ومن بطأ به عمله لم يسرع به نسبه" 2. وعن أسيد بن حضير قال: بينما هو يقرأ من الليل سورة البقرة وفرسه مربوط عنده إذ جالت الفرس فسكت فسكنت، فقرأ فجالت الفرس، فسكت وسكنت الفرس، ثم قرأ فجالت الفرس، فانصرف وكان ابنه يحيى قريباً منها فأشفق أن تصيبه فلما اجتره رفع رأسه إلى السماء حتى ما يراها فلما أصبح حدث النبي صلى الله عليه وسلم فقال له: "اقرأ يابن حضير، اقرأ يابن حضير"، قال: فأشفقت يا رسول الله أن تطأ يحيى وكان منها قريباً، فرفعت رأسي فانصرفت إليه فرفعت رأسي إلى السماء فإذا مثل الظلة، فيها أمثال المصابيح فخرجت حتى لا أراها. قال: "وتدري ما ذاك؟ قال: لا، قال: "تلك الملائكة دنت لصوتك ولو قرأت لأصبحت ينظر الناس إليها لا تتوارى منهم" 3.
--------------------------------------------
...তিতা তরমুজের মতো, যার স্বাদ তিক্ত এবং তাতে কোনো সুগন্ধ নেই।" ১. হে আমার ভাই, আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করুন, কুরআন পাঠের সুমহান প্রভাবের দিকে লক্ষ্য করুন—কীভাবে কুরআন পাঠের কারণে মুনাফিক (منافق) এবং পাপাচারীর (فاجر) সুগন্ধি রায়হান ফুলের মতো সুবাসিত হয়ে ওঠে, যদিও তারা ঈমান ও কুরআন থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে?
এবং কুরআন পাঠ তার পাঠকারীর ওপর প্রশান্তি ও রহমত নাযিল হওয়ার কারণ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে বলেছেন: "যখনই কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো একটি ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং নিজেদের মধ্যে তা নিয়ে শিক্ষা ও আলোচনা করে, তবে অবশ্যই তাদের ওপর প্রশান্তি নাযিল হয়, রহমত তাদের আচ্ছন্ন করে নেয়, ফেরেশতারা তাদের ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ তাঁর নিকটস্থদের কাছে তাদের কথা উল্লেখ করেন। আর যার আমল তাকে পিছিয়ে দেয়, তার বংশমর্যাদা তাকে এগিয়ে নিতে পারে না।" ২. এবং উসাইদ বিন হুদায়র (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা রাতে তিনি সূরা আল-বাকারা পাঠ করছিলেন এবং তাঁর ঘোড়াটি তাঁর পাশেই বাঁধা ছিল। এমতাবস্থায় ঘোড়াটি অস্থির হয়ে উঠল। তিনি পাঠ বন্ধ করলেন, ফলে ঘোড়াটিও শান্ত হয়ে গেল। তিনি পুনরায় পড়তে শুরু করলেন, ঘোড়াটি আবার অস্থির হয়ে উঠল। তিনি আবারও পাঠ বন্ধ করলেন, ঘোড়াটিও শান্ত হলো। এরপর তিনি আবার পড়লে ঘোড়াটি আবারও অস্থির হয়ে উঠল। তখন তিনি নামাজ শেষ করলেন। তাঁর পুত্র ইয়াহইয়া ঘোড়াটির কাছেই ছিল, তিনি ভয় পেলেন পাছে সে আঘাত পায়। যখন তিনি ইয়াহইয়াকে সরিয়ে নিলেন, তখন আকাশের দিকে মাথা তুললেন, এমনকি তিনি সেটা আর দেখতে পাচ্ছিলেন না। পরদিন সকালে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ ঘটনা জানালেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "হে ইবনে হুদায়র, তুমি পড়তে থাকতে! হে ইবনে হুদায়র, তুমি পড়তে থাকতে!" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমি ভয় পেয়েছিলাম যে ঘোড়াটি ইয়াহইয়াকে পদদলিত করবে, কারণ সে তার কাছেই ছিল। আমি মাথা তুলে তাঁর দিকে গেলাম এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে মেঘের ছায়ার মতো কিছু একটা দেখলাম, যার মধ্যে প্রদীপের মতো অনেক কিছু ছিল। এরপর আমি সেদিকে বের হলাম যতক্ষণ না সেটি অদৃশ্য হয়ে গেল।" তিনি (নবীজি) বললেন: "তুমি কি জানো সেটা কী ছিল?" তিনি বললেন: "না।" নবীজি বললেন: "ওরা ছিল ফেরেশতা, তোমার কণ্ঠস্বর শোনার জন্য তারা কাছে এসেছিল। তুমি যদি পাঠ চালিয়ে যেতে, তবে সকালবেলা মানুষ তাদের দেখতে পেত এবং তারা মানুষের দৃষ্টি থেকে আড়ালে থাকত না।" ৩.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وأخرج البخاري من طريقه عن أبي إسحاق قال: سمعت البراء بن عازب رضي الله عنهما يقول: قرأ رجل الكهف وفي الدار الدابة فجعلت تنفر فسلم الرجل فإذا ضبابة أو سحابة غشيته فذكره للنبي صلى الله عليه وسلم فقال: "اقرأ فلان فإنها السكينة نزلت للقرآن أو تنزلت للقرآن" 1.
--------------------------------------------
ইমাম বুখারি তাঁর সূত্রে আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বারা বিন আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছি যে, এক ব্যক্তি সূরা আল-কাহাফ পাঠ করছিলেন এবং ঘরে একটি চতুষ্পদ জন্তু ছিল। এমতাবস্থায় জন্তুটি অস্থির হয়ে ছুটোছুটি করতে শুরু করলে সেই ব্যক্তি (সালাম ফিরিয়ে নামাজ) শেষ করলেন। তখন দেখলেন একখণ্ড কুয়াশা বা মেঘ তাকে ঢেকে ফেলেছে। তিনি বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "হে অমুক! তুমি পড়তে থাকো, কেননা এটি ছিল প্রশান্তি (السكينة), যা কুরআন তিলাওয়াতের কারণে অবতীর্ণ হয়েছিল (অথবা তিনি বলেছিলেন: যা কুরআনের জন্য অবতীর্ণ হচ্ছিল)।" ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ذكر فضائل بعض السور والآياتوقد رأيت بعد أن ذكرت فضل القرآن وقراءته وقارئه أن أذكر شيئاً من فضائل بعض السور والآيات -كأمثلة - ولم أقصد الحصر، ومن أراد أن يعرف المزيد من ذلك فعليه الرجوع إليه في محله في كتب الحديث وفضائل القرآن.
ولم أجعل عنواناً لكل سورة أو آية أذكر فضلها، وإنما اكتفيت بذكر الآية والحديث فقط ومنها:
قول النبي صلى الله عليه وسلم لأبي سعيد بن المعلى: " ألا أعلمك أعظم سورة في القرآن قبل أن تخرج من المسجد؟ " فأخذ بيدي فلما أردنا أن نخرج قلت: يا رسول الله، إنك قلت: "ألا أعلمك أعظم سورة في القرآن؟ قال: " {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} هي السبع المثاني والقرآن العظيم الذي أوتيته" 2.
وروى الإمام مسلم بسنده عن أبي أمامة الباهلي قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "اقرؤوا القرآن فإنه يأتي يوم القيامة شفيعاً
--------------------------------------------
কতিপয় সূরা ও আয়াতের ফযিলতের বর্ণনাকুরআন, এর তিলাওয়াত এবং তিলাওয়াতকারীর ফযিলত বর্ণনা করার পর আমি কতিপয় সূরা ও আয়াতের ফযিলত সম্পর্কে কিছু (উদাহরণস্বরূপ) উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি; তবে এখানে সব কিছু সীমাবদ্ধ করা আমার উদ্দেশ্য নয়। আর যে ব্যক্তি এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চায়, তাকে হাদিসের কিতাবসমূহ এবং 'ফাযাইলুল কুরআন' (কুরআনের ফযিলত) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের সংশ্লিষ্ট অধ্যায়গুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
আমি যে সকল সূরা বা আয়াতের ফযিলত বর্ণনা করছি, সেগুলোর জন্য আলাদা কোনো শিরোনাম নির্ধারণ করিনি; বরং কেবল আয়াত এবং হাদিস উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি, যার মধ্যে রয়েছে:
আবু সাঈদ ইবনুল মুআল্লা (রা.)-এর প্রতি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমি কি তোমাকে মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগে কুরআনের শ্রেষ্ঠতম সূরাটি শিখিয়ে দেব না?" এরপর তিনি আমার হাত ধরলেন। যখন আমরা বের হতে উদ্যত হলাম, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বলেছিলেন যে, "আমি তোমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতম সূরাটি শিখিয়ে দেব?" তিনি বললেন: "(তা হলো) 'আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' (সূরা ফাতিহা); এটিই হলো বারবার পঠিত সাতটি আয়াত (আস-সাবউল মাছানি) এবং মহান কুরআন যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে।" ২।
ইমাম মুসলিম তাঁর সনদ (سند) সহকারে আবু উমামা আল-বাহিলি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তোমরা কুরআন পাঠ করো, কারণ কিয়ামতের দিন এটি সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
لأصحابه، اقرؤوا الزهراوين: البقرة وسورة آل عمران فإنهما يأتيان يوم القيامة كأنهما غمامتان أو كأنهما غيايتان أو كأنهما فرقان من طير صواف تحاجان عن أصحابهما، اقرؤوا سورة البقرة، فإن أخذها بركة وتركها حسرة ولا يستطيعها البطلة" 1، ففي أول هذا الحديث نص صلى الله عليه وسلم على فضل القرآن كله وأنه يشفع لصاحبه يوم القيامة ثم خص من بين سور القرآن سورتي البقرة وآل عمران وضرب لهما مثلاً وهو أنهما تظلان صاحبهما يوم القيامة وتحاجان عنه، ثم خص من بين السورتين سورة البقرة وما يترتب على أخذها، وما يترتب كذلك على تركها، فأخذها بركة تحصل لصاحبها ولمنزله وأهله. وتركها حسرة تنتاب من تركها يوم القيامة – عياذاً بالله - ولا تستطيعها البطلة وهم السحرة وقيل مردة الجن، وقد ورد في حديث أخرجه الإمام الترمذي عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا تجعلوا بيوتكم مقابر وإن البيت الذي تقرأ فيه البقرة لا يدخله الشيطان " 2.
وقد خصت آيات من سورة البقرة بالفضل مثل آية الكرسي التي ورد في فضلها أحاديث كثيرة، فقد أخرج الإمام مسلم عن أبي بن كعب قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يا أبا المنذر أتدري أي آية من كتاب الله معك أعظم؟ قال: قلت: الله ورسوله أعلم، قال: "يا أبا المنذر أتدري
--------------------------------------------
...তার সাথীদের জন্য: তোমরা 'আয-যাহরাওয়াইন' (উজ্জ্বল দুটি সূরা) অর্থাৎ সূরা আল-বাকারাহ ও সূরা আলে-ইমরান পাঠ করো। কেননা কিয়ামতের দিন এ দুটি এমনভাবে আসবে যেন তারা দুটি মেঘখণ্ড অথবা দুটি ছায়া অথবা ডানা বিস্তারকারী পাখির দুটি ঝাঁক, যা তাদের পাঠকারীদের পক্ষ হয়ে বিতর্ক বা সুপারিশ করবে। তোমরা সূরা আল-বাকারাহ পাঠ করো, কারণ তা গ্রহণ করা বরকতময় এবং বর্জন করা অনুতাপের কারণ; আর 'বাতাল্লাহ' (জাদুকররা) এর মোকাবিলা করতে পারে না।" ১। এই হাদিসের প্রথমাংশে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমগ্র কুরআনের মর্যাদার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তা কিয়ামতের দিন এর পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে। অতঃপর তিনি কুরআনের সূরাগুলোর মধ্য থেকে বিশেষভাবে সূরা আল-বাকারাহ ও সূরা আলে-ইমরানকে নির্দিষ্ট করেছেন এবং এ দুটির জন্য একটি উপমা পেশ করেছেন যে, এগুলো কিয়ামতের দিন তাদের পাঠকারীকে ছায়া দেবে এবং তার পক্ষ হয়ে সুপারিশ করবে। এরপর তিনি এই দুই সূরার মধ্য থেকে সূরা আল-বাকারাহ এবং তা গ্রহণ করার ও বর্জন করার পরিণামকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তা গ্রহণ করা পাঠকারী, তার ঘর ও পরিবারের জন্য বরকত স্বরূপ। আর তা বর্জন করা কিয়ামতের দিন বর্জনকারীর জন্য আক্ষেপ বা অনুতাপের কারণ হবে—আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই। আর 'বাতাল্লাহ' অর্থাৎ জাদুকররা—মতান্তরে বিদ্রোহী জিনেরা—এর মোকাবিলা করতে পারে না। ইমাম তিরমিজি কর্তৃক আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না। নিশ্চয়ই যে ঘরে সূরা আল-বাকারাহ পাঠ করা হয়, সেখানে শয়তান প্রবেশ করে না" ২।
সূরা আল-বাকারাহর কিছু আয়াতকে বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করা হয়েছে, যেমন আয়াতুল কুরসি। এর ফজিলত সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম মুসলিম উবাই ইবনে কাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে আবুল মুনযির! তুমি কি জানো তোমার কাছে থাকা আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মহান?" তিনি বললেন: আমি বললাম: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বললেন: "হে আবুল মুনযির! তুমি কি জানো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أي آية من كتاب الله معك أعظم؟ " قال: قلت: {اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ} قال: فضرب في صدري وقال: "ليهنك العلم أبا المنذر".1
وعن أبي مسعود رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "من قرأ بالآيتين من آخر سورة البقرة في ليلة كفتاه" 2. وأخرج البخاري من طريقه عن أبي إسحاق: سمعت البراء بن عازب رضي الله عنهما يقول: قرأ رجل الكهف وفي الدار الدابة فجعلت تنفر فسلم الرجل فإذا ضبابة أو سحابة غشيته فذكره للنبي صلى الله عليه وسلم فقال: "اقرأ فلان فإنها السكينة نزلت للقرآن أو تنزلت للقرآن" 3. وعن أبي الدرداء أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من حفظ عشر آيات من أول سورة الكهف عصم من فتنة الدجال" 4، وعن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن سورة من القرآن ثلاثون آية شفعت لرجل حتى غفر له، وهي سورة: {تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ} " 5، وعن أبي سعيد الخدري أن رجلا سمع رجلاً يقرأ: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} يرددها، فلما أصبح جاء إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر ذلك له، وكأن الرجل تقالها، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "والذي نفسي بيده إنها لتعدل ثلث القرآن" 6، وعن عقبة بن عامر
--------------------------------------------
"আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি আপনার নিকট সবচেয়ে মহিমান্বিত?" তিনি বলেন: আমি বললাম: {আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু আল-হাইয়্যুল কাইয়্যুম}। তিনি বলেন: তখন তিনি আমার বুকে মৃদু আঘাত করলেন এবং বললেন: "হে আবুল মুনজির! জ্ঞান তোমার জন্য আনন্দদায়ক হোক।" ১
আবু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।" ২। এবং বুখারি তাঁর সূত্রে আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন: আমি বারা ইবনে আযিব (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি সূরা কাহাফ পাঠ করছিলেন এবং বাড়িতে একটি পশু ছিল, যা ভীত হয়ে ছটফট করতে শুরু করল। ঐ ব্যক্তি সালাম ফিরালেন, তখন দেখা গেল একখণ্ড কুয়াশা বা মেঘ তাকে ঢেকে নিয়েছে। তিনি বিষয়টি নবী (সা.)-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "হে অমুক, তুমি তিলাওয়াত করো, কারণ এটি ছিল প্রশান্তি (السكينة), যা কুরআনের কারণে অবতীর্ণ হয়েছে বা অবতীর্ণ হচ্ছিল।" ৩। আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে।" ৪। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কুরআনের একটি সূরা যাতে ত্রিশটি আয়াত রয়েছে, তা এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেছে যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করা হয়েছে; আর সেটি হলো সূরা: {তাবারাকাল্লাযি বিয়াদিহিল মুলক}।" ৫। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে {কুল হুয়াল্লাহু আহাদ} বারবার পাঠ করতে শুনলেন। যখন সকাল হলো, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। মনে হচ্ছিল যেন ঐ ব্যক্তি একে সামান্য মনে করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয়ই এটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য।" ৬। উকবা ইবনে আমির (রা.) থেকে বর্ণিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনায়াহ বিল কুরআনিল কারীম ফিল আহদিন নববিশ শরীফ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ألم تر آيات أنزلت الليلة لم ير مثلهن قط؟ {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ} و {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ} "1.
--------------------------------------------
তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "তুমি কি আজ রাতে অবতীর্ণ হওয়া এমন কিছু আয়াত দেখনি, যার সদৃশ ইতিপূর্বে কখনো দেখা যায়নি? (সেগুলো হলো) {বলুন: আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের} এবং {বলুন: আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের}।" 1.
--------------------------------------------