(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: -)
إعجاز القرآن والبلاغة النبوية للرافعي   (مصطفى صادق الرافعي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: إعجاز القرآن والبلاغة النبوية

المؤلف: مصطفى صادق بن عبد الرزاق بن سعيد بن أحمد بن عبد القادر الرافعي (ت 1356هـ)

الناشر: دار الكتاب العربي - بيروت

الطبعة الثامنة - 1425 هـ - 2005 م

عدد الصفحات: 232

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: أبو إبراهيم حسانين

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-রাফিয়ি-র ইজাজুল কুরআন ও নববী অলঙ্কারশাস্ত্র   (মুস্তফা সাদিক আল-রাফিয়ি)

বিভাগ: কুরআনের জ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি


গ্রন্থ: ইজাজুল কুরআন ও নববী অলঙ্কারশাস্ত্র

লেখক: মুস্তফা সাদিক বিন আব্দুল রাজ্জাক বিন সাঈদ বিন আহমদ বিন আব্দুল কাদির আল-রাফিয়ি (মৃত্যু ১৩৫৬ হি.)

প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-আরাবি - বৈরুত

অষ্টম সংস্করণ - ১৪২৫ হি. - ২০০৫ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩২

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা-র জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইবরাহিম হাসানাইন

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ২০)
ـ[إعجاز القرآن والبلاغة النبوية]ـ

المؤلف: مصطفى صادق الرافعي

الناشر: دار الكتاب العربي - بيروت

الطبعة الثامنة - 1425 هـ - 2005 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: أبو إبراهيم حسانين
ـ[কুরআনের অলৌকিকত্ব ও নববী অলঙ্কারশাস্ত্র]ـ

লেখক: মোস্তফা সাদিক আল-রাফেয়ী

প্রকাশক: দার আল-কিতাব আল-আরাবি - বৈরুত

অষ্টম সংস্করণ - ১৪২৫ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইব্রাহিম হাসনাইন
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ২১)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

(رَبِّ أَؤزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ) .

الحمد لله بما حمد به نفسه في كتابه، والصلاة والسلام على نبيه وآله وأصحابه، أما بعد فإنا قد أفردنا هذا الجزء بالكلام في إعجاز القرآن الكريم وفي البلاغة النبوية، وقصرنا من ذلك على ما

كان مرجع أمره إلى اللغة في وضعها ونسقها والغاية منها، إلى ما يتصل بجهة من هذه الجهات، أو يكون مبدأ فيها أو سبباً عنها، أو واسطة إليها.

وهذا هو في الحقيقة وجه الإعجاز الغريب الذي

استبد بالروح اللغوية في أولئك العرب الفصحاء.

فاشتملت به أنفسهم على خلق من العزيمة الحذاء دائباً لا يسكن كأنه روح زلزلة.

فلم تزل من بعده ترجُف بهم الأرض حيث انتقلوا.

ولا يخفين عليك أن ذلك في مرده كأنه باب من فلسفة اللغة، فهو لاحق بما قدمناه من أمرها يستوفي ما تركناه ثمة، ويُبلغ القول في محاسنها وأسرارها، فيكون بعض ذلك تماماً على بعضه، إذ اللغة هناك مفردات واللغة ههنا تراكيب، وليس رجل ذو علم بالكلام العربي وصنعته

ينازع أو يرتاب في أن القرآن معجزة هذه في بلاغة نظمه واتساق أوضاعه وأسراره، فمن ثم كانت مادة الاتصال في نسق التأليف بين هذا الجزء والذي قبله.

على أن القوم من علماثنا رحمهم الله قد أكثروا من الكلام في إعجاز القرآن وجاءوا بقبائل من الرأي لونوا فيها مذاهبهم ألواناً مختلفات وغير مختلفات بيد أنهم يمرون في ذلك عُرضاً

على غير طريق ويشتقون في الكلام ههنا وههنا من كل ما تتمرس به الألسنة في اللدد والخصومة، وما يأخذ بعضه على بعض من مذاهبهم ونحلهم، وليس وراء ذلك كله إلا ما تحصره هذه المقاييس من " صناعة الحق " وإلا أشكال من هذه التراكيب الكلامية، ثم فتنة متماحلة لا تقف عند غاية في اللجاج والعسر.

وقد كان هذا كله من أمرهم وعلمهم، وكان له زمن وموضع، وكانت تبعثهم عليه طبيعة ورغبة، والمرء بروح زمانه أشبه، وبحالة موضعه أشد مناسبة ولا بد من طبقة في الموافقة بين
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

‌‌ভূমিকা

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

“হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন যেন আমি আপনার সেই নিআমতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি, যা আপনি আমাকে দান করেছেন।”

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যেমনটি তিনি তাঁর কিতাবে নিজের প্রশংসা করেছেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবি, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর। অতঃপর, আমরা এই অংশটি পবিত্র কুরআনের অলৌকিকতা (إعجاز) এবং নববী অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة) আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি। আমরা এর পরিধিকে কেবল সেই বিষয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি যার মূল ভিত্তি হলো ভাষা, এর প্রয়োগরীতি, এর গঠনশৈলী এবং এর লক্ষ্য; এছাড়া সেসব বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট দিকসমূহ, অথবা যা এর কোনো মূলনীতি, কারণ কিংবা মাধ্যম হিসেবে গণ্য।

আর এটিই মূলত সেই বিস্ময়কর অলৌকিকতার (إعجاز) স্বরূপ যা সেই সব বাগ্মী আরবদের ভাষাগত চেতনার ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল।

এর ফলে তাঁদের অন্তরে এক অদম্য সংকল্পের সৃষ্টি হয়েছিল যা ছিল বিরামহীন ও চিরজাগ্রত, যেন তা ছিল এক প্রকম্পিত আত্মা।

অতঃপর তাঁরা যেখানেই গিয়েছেন, তাঁদের প্রভাবে পৃথিবী প্রকম্পিত হয়েছে।

আপনার কাছে এটি গোপন নয় যে, এর সারকথা হলো এটি ভাষাদর্শনের একটি অধ্যায়। সুতরাং এটি আমাদের পূর্বে আলোচিত ভাষাবিষয়ক আলোচনারই অনুগামী, যা সেখানে আমাদের বর্জিত বিষয়গুলোকে পূর্ণতা দান করবে এবং ভাষার সৌন্দর্য ও রহস্যের বর্ণনাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাবে। ফলে এক অংশ অন্য অংশের পরিপূরক হবে; কারণ সেখানে ভাষা ছিল একক শব্দাবলি (مفردات) কেন্দ্রিক, আর এখানে ভাষা হলো বাক্যবিন্যাস (تراكيب) কেন্দ্রিক। আরবি ভাষা ও এর শৈল্পিক রূপ সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন এমন কোনো ব্যক্তিই এ বিষয়ে বিতর্ক বা সন্দেহ পোষণ করবেন না যে, কুরআন এর অলঙ্কৃত রচনাশৈলী (نظم), সুসমন্বিত বিন্যাস এবং এর রহস্যের নিরিখে একটি মুজিজা। আর এই যোগসূত্র থেকেই এই খণ্ড এবং পূর্ববর্তী খণ্ডের বিন্যাসের মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয়েছে।

তবে আমাদের পূর্ববর্তী আলিমগণ (رحمهم الله) কুরআনের অলৌকিকতা (إعجاز) সম্পর্কে প্রচুর আলোচনা করেছেন এবং বহুবিধ মতামতের অবতারণা করেছেন, যার মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের চিন্তাধারাকে বিচিত্র রূপ দান করেছেন। তবে তাঁরা অনেক ক্ষেত্রে মূল প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে ভিন্ন পথে বিচরণ করেছেন এবং এখানে-সেখানে এমন সব প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন যা কেবল বাগাড়ম্বর ও বিবাদ-বিসংবাদের কাজে লাগে। তাঁরা একে অপরের মতাদর্শ ও আদর্শিক মতভেদ নিয়ে লিপ্ত হয়েছেন, যার অন্তরালে "সত্যের নির্মাণ" নামক নির্দিষ্ট মানদণ্ড এবং কিছু শাব্দিক বাক্যবিন্যাস ছাড়া আর কিছুই নেই। এরপর রয়েছে এমন এক দীর্ঘস্থায়ী ফিতনা যা হঠকারিতা ও কাঠিন্যের কোনো সীমায় গিয়ে থামে না।

এসবই ছিল তাঁদের কর্ম ও জ্ঞানের অংশ, যার একটি নির্দিষ্ট সময় ও স্থান ছিল। তাঁদের প্রকৃতি ও আকাঙ্ক্ষাই তাঁদেরকে সেদিকে ধাবিত করেছিল। আর মানুষ তার যুগের রূহ বা মানসিকতার সাথেই বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ হয় এবং নিজ পরিবেশের সাথে তার নিবিড় সামঞ্জস্য থাকে। আর এক স্তরের সাথে অন্য স্তরের মিল থাকা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ২২)
الأشياء وأسبابها.

فإن تكن هذه الحوادث هي تاريخ الناس، فإن الناس أنفسهم تاريخ الحوادث.

ولا نطيل عليك باستقصاء القول في آرائهم وكتبهم في الإعجاز، فإن شيئاً من ذلك تفصيل يقع في موضعه مما تستقبل من هذا الكتاب؛ ولكنا نُنبهك إلى ما قسمناه لك من الرأي في هذا

الموضع، وما تكلفناه من الخُطة في هذا التأليف، فإنا لم نسقط عنك كل المؤنة، ولم نعطك إلى حد الكفاية التي تورِث الاستغناء، بل نهجنا لك سبيلاً إلى الفكر تتقدم أنت فيه، وأعنَّاك على جهة

في النظر تبلغ ما وراءها، وتركنا لك متنفساً من الأمر تعرف أنت فيه نفسك، وجمعنا لك بالحرص والكد ما إن تدبرتهُ وأحسنتَ في اعتباره وأجريته على حقه من التثبت والتعرف، كان لك منْبهَة إلى

سائره، ومادة فيما يَجيشُ إليك من الخواطر التي لن تبرح يُنمي بعضها بعضاً.

ولسنا نزعم - حفظك الله - أن كتابنا هذا على ضعفه وقلة الحشد فيه قد أحاط بوجوه الإعجاز من كتاب الله، لا يغادر صغيرة ولا كبيرة إلا أحصاها، وأنا لم ندع من ذلك لغيرنا ما يرفعه أو يضعهُ وما ينقصه أو يَتمّه، فإن من ادعى ذلك زعم باطلاً، وأكبر القولَ فيما زعم وبلغ

بنفسه لعَمري مبلغاً من السرَفِ لا قصدَ معه في التهمة له وسوءِ الظن به، ودعا إليه من النكير ما لا قِبلَ له برده أو بَسطِ العذر فيه، وكان خليقاً أن يكون قد جاء ببهتان يفتريه بين يديه، وأن يكون

ممن لا يَتحاشَؤن الكذب الصرف، ولا يضنون بكرامتهم على الألسنة.

فإن مكارهَ هذا البحث مما

لا يسعة طوق إنسان وإن أسرف على نفسه من القهرِ، ولا يَصلب عليه قلمُ كاتب وإن كان هذا القلم في يد الدهر، ولا بدَّ للباحث في أوله من فلتات الضجر، وإن اعتد، وفي أثنائه من سقطات العزم وإن اشتد، وفي آخره من العجز والانقطاع دون الحد.

على أنا مع ذلك استفرغنا الهمَّ، والتمسنا كل ملتمس، وبَرئنا إلى النفس من تبعة التقصير فيما يبلغ إليه الذرع أو تناله الحيلة، فنهضنا لذلك الأمر نَهضاً وسَبكنا فيه سبكاً مَحضاً، فإن قصرنا فضعف ساقه العجز إلينا، وإن قاربنا فذلك من فضل الله علينا.

وبعد فإنا نقول: إنه لا بد لمن ينظر في كتابنا من إطالة الفكر والتأمل.

فإن ذلك يحدث له روية، وتنشئ له الروية أسباباً إلى الخواطر، وتفتح عليه الخواطر أبواباً من النظر، ويهديه النظر

إلى الاستنباط والاستخراج، فإن وقع دون هذه الغاية فحظه من القراء حيث يقع، وإن بلغها فهناك مَداخل الحجج ومخارجها، وتصاريف الأدلة ومدارجها، ثم الإفضاءُ إلى مذاهب الحكمة على ما اشتهى، ثم الانتهاءُ حيث ترى كل حكيم انتهى.
বস্তুসমূহ এবং সেগুলোর কারণসমূহ।

যদি এই ঘটনাবলি মানুষের ইতিহাস হয়, তবে মানুষ নিজেই হলো ঘটনাবলির ইতিহাস।

কুরআনের অলৌকিকত্ব বিষয়ে তাঁদের মতামত ও গ্রন্থসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা কথা দীর্ঘ করব না, কারণ সেসবের বিবরণ এই গ্রন্থের পরবর্তী যথোপযুক্ত স্থানে আসবে; তবে আমরা আপনাকে এই বিষয়ে আমাদের বিন্যস্ত মতামতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং এই রচনায় আমরা যে কর্মপন্থা অবলম্বন করেছি সে সম্পর্কে অবহিত করছি। কারণ আমরা আপনার থেকে সকল পরিশ্রমের ভার লাঘব করে দেইনি, আবার আপনাকে এমন পর্যাপ্ততাও প্রদান করিনি যা আপনাকে অমুখাপেক্ষী করে তুলবে। বরং আমরা আপনার চিন্তার জন্য এমন একটি পথ তৈরি করে দিয়েছি যাতে আপনি অগ্রসর হতে পারেন এবং আপনাকে দৃষ্টিভঙ্গির এমন একটি দিকে সহায়তা করেছি যা আপনাকে এর গভীরে পৌঁছে দেবে। আর আমরা আপনার জন্য এমন একটি অবকাশ রেখেছি যেখানে আপনি নিজেকে চিনতে পারবেন। আমরা অত্যন্ত আগ্রহ ও শ্রমের সাথে আপনার জন্য এমন কিছু বিষয় সংকলিত করেছি যা যদি আপনি গভীরভাবে অনুধাবন করেন, উত্তমরূপে বিবেচনা করেন এবং একে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই (تثبت) ও পরিচিতির মাপকাঠিতে পরিচালনা করেন, তবে তা আপনার জন্য অবশিষ্ট বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে এক জাগ্রতকারী ও সহায়ক উপাদান হবে এবং আপনার অন্তরে প্রবহমান চিন্তার খোরাক হবে, যার একটি অংশ অন্যটিকে ক্রমশ বৃদ্ধি করতে থাকবে।

আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করুন—আমরা এ দাবি করছি না যে, আমাদের এই কিতাব তার দুর্বল (ضعيف) দিক এবং তথ্যের স্বল্পতা সত্ত্বেও আল্লাহর কিতাবের অলৌকিকত্বের সকল দিককে পরিবেষ্টন করে ফেলেছে, অথবা এটি এমন যে ছোট-বড় কোনো কিছুই বাদ না দিয়ে সব গণনা করে ফেলেছে। আমরা এ দাবিও করছি না যে, আমরা অন্যের জন্য এমন কিছু বাকি রাখিনি যা কেউ উন্নত বা অবনত করবে কিংবা অপূর্ণ রাখবে অথবা পূর্ণ করবে। কেননা যে ব্যক্তি এমন দাবি করে, সে প্রকৃতপক্ষে অসার দাবি করে এবং তার দাবিতে অতিশয়ভক্তি প্রকাশ করে। আমার জীবনের কসম, সে নিজের ক্ষেত্রে এমন এক সীমালঙ্ঘনের পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তার প্রতি অপবাদ ও কুধারণা পোষণ করার কোনো অবকাশ থাকে না। আর সে নিজের জন্য এমন এক চরম আপত্তির পথ উন্মুক্ত করে যা খণ্ডন করার বা তার সপক্ষে অজুহাত পেশ করার সাধ্য তার নেই। বরং এটিই সঙ্গত যে, সে একটি মিথ্যা (كذب) অপবাদ নিয়ে এসেছে যা সে নিজেই রচনা করেছে, এবং সে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা নির্ভেজাল মিথ্যা (كذب) বলতে কুণ্ঠাবোধ করে না এবং মানুষের মুখে নিজেদের সম্মান বিলিয়ে দিতে কার্পণ্য করে না।

কারণ এই গবেষণার প্রতিকূলতা এমন যে, কোনো মানুষের পক্ষেই তা সহ্য করা সম্ভব নয়, যদিও সে নিজের ওপর চরম কঠোরতা আরোপ করে। কোনো লেখকের কলমও এর ওপর অটল থাকতে পারে না, এমনকি সেই কলম যদি মহাকালের হাতেও হয়। গবেষণার শুরুতে গবেষকের মনে বিরক্তির উদ্রেক হওয়া অনিবার্য, যদিও সে প্রস্তুতি গ্রহণ করে; গবেষণার মধ্যপথে সংকল্পের বিচ্যুতি ঘটা স্বাভাবিক, যদিও সে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়; আর গবেষণার শেষে সীমার আগেই অক্ষমতা ও বিচ্ছেদ আসা অবধারিত।

এতদসত্ত্বেও আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করেছি, সম্ভাব্য সকল উপায় অন্বেষণ করেছি এবং আমাদের সাধ্য ও কৌশলের আয়ত্তে থাকা বিষয়ে কোনো প্রকার ত্রুটি করার দায় থেকে নিজেদের মুক্ত রেখেছি। সুতরাং আমরা এই কাজের জন্য সর্বাত্মকভাবে দাঁড়িয়েছি এবং একে বিশুদ্ধভাবে প্রস্তুত করেছি। এরপরও যদি আমরা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হই, তবে তা আমাদের অক্ষমতা জনিত দুর্বল (ضعيف) অবস্থার কারণে; আর যদি আমরা লক্ষ্যের নিকটবর্তী হতে পারি, তবে তা আমাদের ওপর আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ।

পরিশেষে আমরা বলছি: যে ব্যক্তি আমাদের এই কিতাব পাঠ করবে, তার জন্য দীর্ঘ চিন্তা ও গভীর অনুধাবন অপরিহার্য।

কেননা তা তার মধ্যে সূক্ষ্ম চিন্তাবোধ সৃষ্টি করবে, আর এই চিন্তাবোধ তার ভাবনার উপকরণ তৈরি করবে, এবং এই ভাবনা তার ওপর পর্যালোচনার দ্বার উন্মোচন করবে। আর এই পর্যালোচনা তাকে সারমর্ম আহরণ ও নিগূঢ় রহস্য উদঘাটনের দিকে পরিচালিত করবে। যদি সে এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে পাঠক হিসেবে তার অবস্থান হবে সেখানেই যেখানে সে থমকে দাঁড়াবে। আর যদি সে তা অর্জন করতে পারে, তবে সেখানে দলিলের প্রবেশ ও নির্গমনের পথসমূহ, প্রমাণের প্রয়োগ ও স্তরবিন্যাস উন্মোচিত হবে। অতঃপর সে নিজের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী প্রজ্ঞার পথসমূহ লাভ করবে এবং পরিশেষে সেখানে পৌঁছাবে যেখানে সকল প্রাজ্ঞ ব্যক্তি সমাপ্তি টেনেছেন।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌القُرآن

آيات منزلة من حول العرش، فالأرض بها سماء هي منها كواكب، بل الجند الإلهي قد نشر له من الفضيلة علم وانضوت إليه من الأرواح مواكب، أغلقت دونه القلوب فاقتحم أقفالها،

وامتنعت عليها أعراف " الضمائر فابتز " أنفالها".

وكم صدوا عن سبيله صداً، ومن ذا يدافع

السيل إذا هدر؛ واعترضوه بالألسنة ردا، ولعمري من يرد على الله القدر؟ وتخاطروا له بسفهائهم كما تخاطرت الفحول بأذناب وفتحوا عليه من الحوادث كل شدق فيه من كل داهية ناب.

فما كان إلا نور الشمس: لا يزال الجاهل يطمع في سرابه ثم لا يضع منه قطرة في سقائه، ويلقي الصبي غطاءه ليخفيه بحجابه ثم لا يزال النور يتبسط على غطائه.

وهو القرآن كم ظنوا - مما انطوى

تحت ألسنتهم وانتشر - كل ظن في الحقيقة آثم، بل كل ظن بالحقيقة كافر، وحسبوه أمراً هيناً لأنه أنزل في الأرض على بشر.

كما يحسب الأحمق في هذا السماء أرضاً ذات دواب نورانية لأن

هلالها كأنما سقط من حافر، وكم أبرقوا وأرعدوا حتى سالَ بهم وبصاحبهم السيل، وأثاروا من الباطل في بيضاء ليلها كنهارها ليجعلوا نهارها كالليل، فما كان لهم إلا ما قال الله: (بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُونَ (18) .

***

ألفاظ إذا اشتدت فأمواج البحار الزاخرة، وإذا هي لانت فأنفاس الحياة الآخرة، تذكر الدنيا

فمنها عمادها ونظامها وتصف الآخرة فمنها جنتها وصرامها، ومتى وعدت من كرم الله جعلت الثغور تضحك في وجوه الغيوب وإن أوعدت بعذاب الله جعلت الألسنة ترعَد من حمى القلوب.

ومعان بينا هي عذوبة ترويك من ماء البيان، ورقة تستروح منها نسيم الجنان، ونور تبصر به في مرآة الإيمان وجه الأمان. . .

وبينا هي ترف بندى الحياة على زهرة الضمير، وتخلق في أوراقها

من معاني العبرة معنى العبير، وتهب عليها بأنفس الرحمة فتَنِم بسر هذا العالم الصغير. . .

ثم بينا هي تتساقط من الأفواه تساقط الدموع من الأجفان، وتدع القلب من الخشوع كأنه جنازة ينوح

عليها اللسان، وتمثل للمذنب حقيقة الإنسانية حتى يظن أنه صنف آخر من الإنسان - إذ هي بعد ذلك إطباق السحاب وقد انهارت قَواعده والتمعَت ناره وقصفت في الجو رواعده، وإذ هي السماء
আল-কুরআন

আরশের চারপাশ থেকে অবতীর্ণ আয়াতসমূহ; যার মাধ্যমে এই জমিন এক আসমানে রূপান্তরিত হয়েছে এবং এর নক্ষত্ররাজি এই কুরআন থেকেই উৎসারিত। বরং এটি এক ঐশী বাহিনী যার জন্য শ্রেষ্ঠত্বের পতাকা উড্ডীন করা হয়েছে এবং রূহসমূহের কাফেলা এর পতাকাতলে সমবেত হয়েছে। এর মোকাবিলায় হৃদয়সমূহ রুদ্ধ ছিল, কিন্তু এটি সেগুলোর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছে।

বিবেকসমূহের উচ্চতা এর গতিরোধ করতে চেয়েছিল, কিন্তু এটি সেগুলোর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ছিনিয়ে নিয়েছে।

তারা এর পথ থেকে কতই না বাধা প্রদান করেছিল, কিন্তু যখন প্লাবনের গর্জন প্রলয় সৃষ্টি করে, তখন তাকে কে রুখতে পারে? তারা তাদের জিহ্বা দিয়ে একে প্রতিহত করতে চেয়েছিল। আমার জীবনের কসম! আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত তকদিরকে কে ফিরিয়ে দিতে পারে? তারা তাদের নির্বোধদের লেলিয়ে দিয়ে একে তুচ্ছজ্ঞান করতে চেয়েছিল, যেভাবে শক্তিশালী উট তার লেজ ঝাপটিয়ে অন্যকে চ্যালেঞ্জ করে। তারা এর বিরুদ্ধে প্রতিটি দুর্যোগের মুখ ব্যাদান করেছিল, যার প্রতিটি দংষ্ট্রায় ছিল মহাবিপদ।

কিন্তু এটি ছিল সূর্যের আলোর মতোই সমুজ্জ্বল: মূর্খরা সর্বদা এর মরীচিকার মোহে পড়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার পানপাত্রে এক ফোঁটা পানিও সংগ্রহ করতে পারে না। আর শিশু তার চাদর দিয়ে একে ঢেকে রাখতে চায় যাতে তা আড়াল হয়, কিন্তু আলো তার চাদরের ওপরেই বিচ্ছুরিত হতে থাকে।

আর এই কুরআন সম্পর্কে তারা তাদের জিহ্বার মারপ্যাঁচে কত ধারণাই না ছড়িয়েছিল—বাস্তবে যার প্রতিটি ধারণাই ছিল পাপপূর্ণ, বরং প্রতিটি ধারণাই ছিল কুফরি। তারা একে সাধারণ বিষয় মনে করেছিল, কারণ এটি জমিনে একজন মানুষের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে।

যেমন কোনো নির্বোধ এই আসমানকে চতুষ্পদ নূরের প্রাণীবিশিষ্ট এক জমিন মনে করে, কারণ এর বাঁকা চাঁদকে দেখে মনে হয় যেন কোনো খুর থেকে ঝরে পড়েছে। তারা কতই না গর্জন করেছিল এবং বিদ্যুৎ চমকিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই প্লাবন তাদেরকে এবং তাদের সঙ্গীকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। তারা এই শুভ্র জ্যোতির মাঝে মিথ্যার অন্ধকার ছড়িয়েছিল—যার রাত দিনের মতোই উজ্জ্বল—যাতে তারা এর দিনকে রাতের মতো অন্ধকার করে দিতে পারে। কিন্তু তাদের ভাগ্যে তা-ই জুটেছে যা আল্লাহ বলেছেন: (বরং আমি সত্যকে মিথ্যার ওপর নিক্ষেপ করি, ফলে তা মিথ্যার মস্তক চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। আর তোমরা যা বর্ণনা করছ তার জন্য তোমাদের ওপর দুর্ভোগ।) (সূরা আম্বিয়া: ১৮)।

***

এর শব্দাবলী যখন কঠোর হয় তখন যেন উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ, আর যখন তা কোমল হয় তখন যেন পরকালীন জীবনের প্রশান্ত শ্বাস। এটি যখন দুনিয়ার বর্ণনা দেয় তখন এটিই তার স্তম্ভ ও শৃঙ্খলা হয়ে দাঁড়ায়, আর যখন আখেরাতের বর্ণনা দেয় তখন এটিই তার জান্নাত ও সুদৃঢ় রূপ। যখন এটি আল্লাহর অনুগ্রহের ওয়াদা করে, তখন যেন অদৃশ্যের মুখে হাসির রেখা ফুটে ওঠে; আর যখন এটি আল্লাহর আজাবের ভয় দেখায়, তখন অন্তরের কম্পনে জিহ্বা প্রকম্পিত হতে থাকে।

এর অর্থসমূহ কখনো এমন মাধুর্যপূর্ণ যা বাচনভঙ্গির সুধা দিয়ে আপনাকে তৃপ্ত করে, এমন স্নিগ্ধতা যা থেকে আপনি জান্নাতের সমীরণ অনুভব করেন এবং এমন নূর যার মাধ্যমে আপনি ঈমানের আয়নায় নিরাপত্তার প্রতিচ্ছবি দেখতে পান।

কখনো তা হৃদয়ের কলিকায় জীবনের শিশিরবিন্দু হয়ে ঝরে পড়ে এবং তার পাতায় পাতায় শিক্ষার গভীর অর্থের সৌরভ সৃষ্টি করে এবং তার ওপর রহমতের সমীরণ প্রবাহিত করে এই ক্ষুদ্র জগতের রহস্য উন্মোচন করে দেয়।

আবার কখনো তা মুখ থেকে অশ্রুর মতো ঝরে পড়ে এবং হৃদয়ে এমন খোদাভীতি সৃষ্টি করে যেন এটি একটি জানাজা যার ওপর জিহ্বা বিলাপ করছে। এটি অপরাধীর সামনে মানবতার এমন এক বাস্তবতা মূর্ত করে তোলে যে সে নিজেকে অন্য কোনো স্তরের মানুষ মনে করতে থাকে—অতঃপর এটি যেন পুঞ্জীভূত মেঘমালা যার ভিত্তি ধসে পড়েছে, বিজলি চমকাচ্ছে এবং আসমানে যার গর্জন ধ্বনিত হচ্ছে; আর এটিই যেন আসমান...
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد أخذت على الأرض ذنبَها، واستأذنت في صدمة الفزع ربها، فكادت ترجف الراجفة تتبعها

الرادفة: وإنَّما هي عند ذلك زجرة واحدة: فإذا الخلق طعام الفناء وإذا الأرض " مائدة ".

* * *

توهموا السحر ما توهموه، فلما أنزل الله كتابه قالوا: هذا هو السحر المبين. وكانوا يأخذون في ذلك بباطن الظن فأخذوا هذا بحق اليقين (أَفَسِحْرٌ هَذَا أَمْ أَنْتُمْ لَا تُبْصِرُونَ (15) .

ومن الشعر ما تسمعونه أم أنتم لا تسمعون؛ بل إنه لسحر يغلب حتى يفرق بين المرء وعادته، وينفذ حتى ينصرف

بين القلب وإرادته. ويجري في الخواطر كما تصعد في الشجر قطرات الماء، ويتصل بالروح فإنما

يمد لها بسبب إلى السماء، وإنَّه لسحر، إذ هو ألحاظ لم تعهد كلم أحداقها، وثمرات لم تنبت في قلم أوراقُها، ونوز عليه رونَقُ الماء فكأنما اشتعلت به الغيوم، وماء يتلألأ كالنور فكأنما عصر من

النجوم (1) ، وبلى إنه لشعر ولكن زنة مبانيه في معانيه، وزينة معانيه في مبانيه، فكل معنى ولا جرم

من بحر، وكل لفظ كلؤلؤة في النحر، وإنَّه لشعر، إذ هو آيات لا يجانس كلامها البديعُ غيرَ كمالها، وحقيقة في الوجود لم يكن يعرت غير خيالها، ومرآة في يد الله تقابل كل روح بمثالها.

* * *

يقولون مجنون بعض آلهتنا اعتراه، وأساطير الأولين اكتتبها أم يقولون افتراه، بلى إن العقل الكبير في كماله ليتمثلُ في العقول الصغيرة كأنه جنون، وإن النجم المنير فوق هلاله ليظهر

في العيون القصيرة كأنه نقطة فوق نون، وهل رأوا إلا كلاماً تضيء ألفاظه كالمصابيح، فعصفوا عليه بأفواههم كما تعصف الريح يريدون أن يطفئوا نور الله وأين سراجُ النجم من نفخة ترتفع إليه

كأنما تذهب تُطفيه، ونور القمر من كف يحسب صاحبها أنها في حجمه فيرفعها كأنما يخفيه!

وهيهات هيهات دون ذلك درْجُ الشمس وهي أم الحياة في كفَن، وإنزالها بالأيدي وهي روح النار في قبر من كهوف الزمن.

لا جَرَمَ أن القرآن سر السماء فهو نور الله في أفق الدنيا حتى تزول.

ومعنى الخلود في دولة الأرض إلى أن تدول، وكذلك تمادى العرب في طغيانهم يعمهون، وظلت آياته تلقف ما يأفكون،

فوقع الحق وبطل ما كانوا يعملون.

‌‌فصل

وبعد، فإنا سنقول في القرآن الكريم مما يتعلق بلغته ويتصل ببلاغته ويكشف عن أوجه الإعجاز في ذلك، لا ننفذ في غير سبب لما نحن بسبيله، ولا نذهب في الكلام عن نتيجة من

--------------------------------------------

(1) المراد بهذا الفصل تصوير ما يناسب التخييل السحري كما أن الفصل الذي يليه يرمي إلى ما يتعلق بمثل ذلك في الشعر.
وقদ পৃথিবী তার অপরাধের বোঝা গ্রহণ করেছে এবং ভয়ের প্রচণ্ডতায় তার রবের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করেছে। ফলে প্রকম্পিতকারী (الراجفة) বিষয়টি প্রায় ঘটে যাচ্ছিল, যার পশ্চাতে আসছিল পরবর্তী প্রকম্পন (الرادفة): আর সেই সময় তা কেবল হবে একটিমাত্র বিকট চিৎকার (زجرة واحدة); তখন সৃষ্টিজগত হবে ধ্বংসের অন্ন এবং পৃথিবী হবে এক 'দস্তরখান' (مائدة)।

* * *

তারা জাদুকে নিয়ে যে কল্পনা করার তা করেছে, কিন্তু আল্লাহ যখন তাঁর কিতাব নাযিল করলেন, তখন তারা বলল: এটি তো স্পষ্ট জাদু। তারা সে বিষয়ে ধারণার বশবর্তী (باطن الظن) ছিল, কিন্তু তারা এটিকে অকাট্য বিশ্বাসের (حق اليقين) সাথে প্রত্যক্ষ করল: "এটা কি তবে জাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না? (১৫)"।

আর এটি কি কোনো কবিতা যা তোমরা শুনছ, নাকি তোমরা শুনতে পাচ্ছ না? বরং এটি এমন এক জাদু যা জয়ী হয়, এমনকি মানুষের অভ্যাস ও তার স্বভাবের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায়। এটি অন্তরের গভীরে প্রবেশ করে এমনকি তার ইচ্ছা ও সংকল্পের মাঝেও তা কার্যকর হয়। এটি মানুষের চিন্তায় সেভাবে প্রবাহিত হয় যেভাবে বৃক্ষের মাঝে জলবিন্দু আরোহণ করে। এটি রুহের সাথে যুক্ত হয় এবং আকাশের সাথে তাকে সেতুবন্ধন প্রদান করে। এটি তো অবশ্যই জাদু, কারণ এটি এমন এক দৃষ্টি যার চোখের পলক কখনো দেখা যায়নি, এবং এমন ফল যার পাতাসমূহ কোনো কলমে উৎপন্ন হয়নি। এর ওপর স্বচ্ছ পানির উজ্জ্বলতা ঢেলে দেওয়া হয়েছে, যেন মেঘমালা তাতে প্রজ্বলিত হয়েছে; আর এমন জ্যোতির্ময় পানি যেন নক্ষত্ররাজি হতে নিংড়ানো হয়েছে (১)। আর হ্যাঁ, এটি অবশ্যই কাব্যিক, কিন্তু এর কাঠামোর ভারসাম্য রয়েছে এর অর্থের মাঝে, আর এর অর্থের সৌন্দর্য রয়েছে এর কাঠামোর মাঝে। প্রতিটি অর্থই নিঃসন্দেহে এক মহাসমুদ্র হতে আগত, আর প্রতিটি শব্দ যেন গ্রীবার মুক্তার মালা। এটি অবশ্যই কাব্যময়, কারণ এটি এমন সব আয়াত (آيات) যার চমৎকার বাণীর সমতুল্য কেবল তার পূর্ণতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি জগতের এমন এক বাস্তবতা যা তার কল্পনা ব্যতীত আর কিছু দিয়ে জানা সম্ভব ছিল না, এবং এটি আল্লাহর কুদরতের আয়না যা প্রতিটি রুহকে তার প্রতিচ্ছবিসহ মুখোমুখি করে।

* * *

তারা বলে, আমাদের কোনো উপাস্য তাকে উন্মাদনায় আক্রান্ত করেছে; আবার বলে এটি পূর্ববর্তীদের উপাখ্যান যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; অথবা তারা বলে সে এটি নিজে রচনা করেছে। বস্তুত বৃহৎ বুদ্ধি তার পূর্ণতার কারণে ক্ষুদ্র বুদ্ধির নিকট উন্মাদের ন্যায় প্রতীয়মান হয়। আর প্রোজ্জ্বল নক্ষত্র তার উদিত হওয়ার ঊর্ধ্বে সংকীর্ণ দৃষ্টির নিকট কেবল 'নূন' অক্ষরের ওপর একটি বিন্দুর ন্যায় মনে হয়। তারা কি কেবল এমন এক বাণী প্রত্যক্ষ করেছে যার শব্দাবলি প্রদীপের ন্যায় আলো দেয়? তাই তারা তাদের মুখ দিয়ে ফুৎকার দিল যেমন বাতাস প্রবাহিত হয়; তারা চায় আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে। নক্ষত্রের প্রদীপের সামনে মানুষের ফুঁ-এর কী মর্যাদা যা তাকে নেভাতে তার দিকে উত্থিত হয়? আর চাঁদের আলোর সামনে সেই হাতেরই বা কী শক্তি যার মালিক মনে করে হাতটি চাঁদের সমান এবং সে হাত তুলে তা ঢেকে দিতে চায়!

অসম্ভব, অনেক দূর! জীবনদাত্রী সূর্যকে কাফনে মোড়ানো বা সময়ের গুহার কবরে অগ্নিরূপী আত্মাকে হাত দিয়ে নামিয়ে দেওয়া যেমন অসম্ভব, কুরআনকে নিভিয়ে দেওয়াও তেমনই অসম্ভব।

নিঃসন্দেহে কুরআন হলো আকাশের রহস্য, আর এটি পৃথিবীর দিগন্তে আল্লাহর নূর যতক্ষণ না পৃথিবী বিলীন হয়।

এটি পৃথিবীর রাজত্বে এক শাশ্বত অর্থ যতক্ষণ না তা পরিবর্তিত হয়। এভাবেই আরবরা তাদের সীমালঙ্ঘনে বিভ্রান্ত হয়ে ফিরছিল, আর কুরআনের আয়াতসমূহ (آيات) তাদের মিথ্যাচারকে গ্রাস করে নিচ্ছিল।

ফলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হলো এবং তারা যা করছিল তা বাতিল হয়ে গেল।

‌‌পরিচ্ছেদ

অতঃপর, আমরা পবিত্র কুরআন সম্পর্কে এমন কিছু বলব যা এর ভাষা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) সাথে সংশ্লিষ্ট এবং যা এর অলৌকিকত্বের (إعجاز) বিভিন্ন দিক উন্মোচন করবে। আমরা আমাদের উদ্দেশ্য ও প্রসঙ্গের বাইরে অন্য কিছুতে প্রবেশ করব না এবং কোনো ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করব না যা...

--------------------------------------------

(১) এই পরিচ্ছেদের উদ্দেশ্য হলো জাদুকরী কল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিত্রায়ন করা, যেমনটি পরবর্তী পরিচ্ছেদে কবিতা বিষয়ক আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ২৫)
نتائجه.

ولا يكون من شأننا أن نتزيد بما ينزل من غرضنا منزلة القافية، أو نتكثر مما وراءه بمثبتة أو نافية، فإن هذا القرآن ما زال يهدي للتي هي أقوم، وإن النول فيه ما برح كثير المذاهب متعدد

الجهات متصل الحدود يفضي بعضها إلى بعض، إذ هو كتاب السماء إلى الأرض مُستقرا ومُستودعاً، وقد جاء بالإعجاز الأبدي الذي يشهد على الدهر ويشهد الدهر عليه، فما من جهة من

الكلام وفنونه إلا وأنت واجد إليها متوَجهاً فيه، وما من عصر إلا وهو مقلب صفحة منه حتى

لتنتهي الدنيا عند خاتمته فإذا هي خلاءُ " من الجنة والناس ".

ولقد أراد الله أن لا تضعف قوة هذا الكتاب، وأن لا يكون في أمره على تقادم الزمن خَضغ أو تَطامن، فجاءت هذه القوة فيه بأسبابها المختلفة على مقدار ما أراد، وهي قوة الخلود

الأرضي التي خرج بها القرآن مخرج الشذوذ الطبيعي، فلا سبيل عليه ليد الزمن وحوادثه مما تُبليه أو تستجدُّه، إنما هو روحٌ من أمر الله تعالى هو نزله وهو يحفظه، وقد قال سبحانه (إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ (9) .

(فَلَا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ مُخْلِفَ وَعْدِهِ رُسُلَهُ) .

بَيدَ أنه لا بد لنا من صدر نبتدئ به القولَ في تاريخه وجمعه وتدوينه وقراءته حتى تكون هذه سبباً إلى الكلام في لغته وبلاغته، ثم إعجازه في اللغة والبلاغة، لأن بعض ذلك يريد بعضه،

ونحن نستعين الله ونستمده ونستكفيه، فإن في يده مفتاحَ هذا الباب المغلق وما زال الناس قديماً يأخذون في ناحيته ويختلفون إليه ويعتزمون في ذلك. وقليل منهم من وصل. وقليل من هؤلاء من

اتصل، فاللهم عَونَكَ وتيسيرَك.
তার ফলাফলসমূহ।

আমাদের জন্য এমনটি শোভনীয় নয় যে, আমরা কেবল ছন্দের খাতিরে উদ্দেশ্যহীন কোনো বিষয়ের অবতারণা করব, কিংবা এর উদ্দেশ্য বহির্ভূত কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক বক্তব্যের মাধ্যমে শব্দবাহুল্য তৈরি করব। কেননা এই কুরআন সর্বদা সেই পথের দিশা দেয় যা সর্বাপেক্ষা সুদৃঢ় (أقوم)। এতে জ্ঞান অন্বেষণের পথ ও পদ্ধতি অত্যন্ত বিস্তৃত এবং বহুমুখী

এর প্রতিটি দিক ও সীমা একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত এবং একটি অন্যটির দিকে ধাবিত করে। কারণ এটি হচ্ছে আকাশ থেকে জমিনের প্রতি স্থিতি ও আশ্রয়ের আধার হিসেবে প্রেরিত গ্রন্থ। এটি এমন এক চিরন্তন অলৌকিকত্ব (إعجاز) নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে যা মহাকালের ওপর সাক্ষী এবং মহাকালও এর সত্যতার সাক্ষ্য দেয়। সাহিত্যের এমন কোনো

শাখা বা শিল্প নেই যার গতিপথ আপনি এই কুরআনের দিকে ধাবিত হতে দেখবেন না। এমন কোনো যুগ নেই যা এই কুরআনের পাতা উল্টায়নি; এমনকি দুনিয়া যখন তার সমাপ্তিলগ্নে উপনীত হবে, তখন দেখা যাবে যে এটি "জিন ও মানুষ" থেকে বিমুক্ত হয়ে এক শূন্যতায় পর্যবসিত হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা চেয়েছেন যেন এই কিতাবের শক্তি কখনো ম্লান না হয় এবং সময়ের বিবর্তনে এর বিষয়ে যেন কোনো প্রকার শিথিলতা বা নমনীয়তা প্রকাশ না পায়। তাই তাঁরই অভিপ্রায় অনুযায়ী বিভিন্ন উপায়ে এই কিতাবের মাঝে এমন এক শক্তি সঞ্চার করা হয়েছে যা একে পার্থিব অমরত্ব দান করেছে। কুরআন প্রাকৃতিক সাধারণ নিয়মের ঊর্ধ্বে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে। সময়ের বিবর্তন কিংবা এর জরাজীর্ণকারী বা নবায়নকারী কোনো ঘটনাপ্রবাহের সাধ্য নেই একে স্পর্শ করার। নিশ্চয়ই এটি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে প্রেরিত এক রুহ (روح), তিনি নিজেই এটি নাজিল করেছেন এবং তিনিই এর সংরক্ষণকারী। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশবাণী (الذكر) নাজিল করেছি এবং আমিই এর রক্ষক।" (সুরা হিজর: ৯)

"সুতরাং আপনি কখনই মনে করবেন না যে, আল্লাহ তাঁর রাসুলদের দেওয়া ওয়াদা খেলাফ করবেন।"

তবে এর ইতিহাস, সংকলন (جمع), গ্রন্থায়ন (تدوين) এবং কিরাত (قراءة) সম্পর্কে আলোচনা শুরু করার জন্য আমাদের একটি ভূমিকা প্রয়োজন, যা এর ভাষা ও অলংকারশাস্ত্র (بلاغة) এবং অতঃপর ভাষা ও অলংকারের ক্ষেত্রে এর অলৌকিকত্ব (إعجاز) নিয়ে কথা বলার মাধ্যম হবে। কারণ এই বিষয়গুলোর একটি অন্যটির পরিপূরক।

আমরা আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি, তাঁরই নিকট তাওফিক যাচ্ঞা করছি এবং তাঁরই ওপর ভরসা করছি। কেননা এই রুদ্ধ দুয়ারের চাবিকাঠি কেবল তাঁরই হাতে। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ এর বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা করে আসছে, এই বিষয়ে নানা মতভেদ করেছে এবং এ পথে দৃঢ় সংকল্প করেছে। কিন্তু তাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যকই গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে। আর তাদের মধ্যে আরও নগণ্য সংখ্যকই এই বিষয়ের প্রকৃত রহস্যের সাথে

সম্পৃক্ত হতে পেরেছে। হে আল্লাহ! আপনার সাহায্য ও সহজীকরণ কামনা করছি।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌تاريخ القُرآن

جمعُه وتدوينه

أنزل هذا القرآن مُنَجماً في بضع وعشرين سنة، فربما نزلت الآية المفردة، وربما نزلت آيات عدة إلى عشر، كما صح عن أهل الحديث فيما انتهى إليهم من طرق الرواية، وذلك بحسب

الحاجة التي تكون سبباً في النزول، وليثبت به فؤاد النبي صلى الله عليه وسلم، فإن آياته كالزلازل الروحية، ثم

ليكون ذلك أشد على العرب وأبلغ الحجة عليهم وأظهر لوجه إعجازه وأدعى لأن يجري أمره في مناقلاتهم ويثبت في ألسنتهم ويتسلسل به القول.

ولولا نزوله متفرقاً: آية واحدة إلى آيات قليلة، ما أفحمهم الدليل في تحديهم بأقصر سورة منه. إذ لو أنزل جملة واحدة كما سألوا لكان لهم في ذلك وجه من العذر يُلبِس الحق بالباطل،

وينفس عليهم أمر الإعجاز. ويهون في أنفسهم من الجملة بعضَ ما لا يهون من التفصيل، لأنهم قوم لا يقرأون ولا يَتدارَسون، ولكن الآية أو الآيات القصيرة تنزل في زمن يعرفون مقداره بما ينزل

في عقبها ثم هم يعجزون عن مثلها في مثل هذا الزمن بعينه، وفيما يربو عليه ويُضعِف، وعلى

انفساح المدة وتراخي الأيام بعد ذلك إلى نفس من الدهر طويل - أمر هو يشبه في مذهب الإعجاز

أن يكون دليل التاريخ عليه وأنه ليس في طبعهم ألبتةَ لا قوة ولا حيلة، فإن العجز عن صنع المادة

لا يثبت في التاريخ إلا إذا ثبتت مدة صنعها على وجه التعيين بأي قرينة من القرائن التاريخية.

وبخاصة إذا اعتبرتَ أن أكثر ما أنزل في ابتداء الوحي واستمر بعد ذلك من لَدُن كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأتي حراء فيتحنثُ فيه الليالي، إلى أن هاجر من مكة - إنما هو من قصار السور،

على نَسق يترقى إلى الطول في بعض جهاته. وذلك ولا ريب مما تتهيأ فيه المعارضة بادئ الرأي

إذا كانت ممكنة، لأنه مفصَّل آيات، ثم لقرب غايته ممن ينشط إلى معارضته والأخذ في طريقته،

دون ما يكون ممتد النسق بعيد الغاية، فتصدفُ النفس عن جملته الطويلة، ويُخلف نشاطها فيه لأن

للقوة النفسية حداً إذا حملت على ما وراءه كان من طبعها أن تنتهي إلى ما دونه، وهذا أمر يعرفه من يرى شاعراً يَعذ أبيات القصيدة الرائعة قبل أن يقرأها، أو كاتباً يظر في أعقاب الرسالة الجيدة

ولما يأخذ في أوائلها. وهلمَّ مما يجري هذا المجرى.

وقد كان ابتداء الوحي في سنة 611 للميلاد بمكة، ثم هاجر منها النبي صلى الله عليه وسلم في سنة 622

إلى المدينة، فنزل القرآن مكياً ومدنياً.

وقد اختلفت الروايات في آخر آية نزلت وتاريخ نزولها،
কুরআনের ইতিহাস

এর সংকলন ও লিপিবদ্ধকরণ

এই কুরআন বিশ বছরের কিছু বেশি সময় ধরে খণ্ড খণ্ড ভাবে অবতীর্ণ হয়েছে। কখনো একক আয়াত নাজিল হয়েছে, আবার কখনো দশটি পর্যন্ত একাধিক আয়াত নাজিল হয়েছে, যেমনটি হাদিস বিশারদদের নিকট তাদের নিকট পৌঁছানো বর্ণনা (رواية) সমূহের মাধ্যমে বিশুদ্ধ (صحيح) প্রমাণিত হয়েছে। আর তা ছিল

প্রয়োজনের নিরিখে যা অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হিসেবে দেখা দিত, এবং এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তরকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে। কেননা এর আয়াতসমূহ আধ্যাত্মিক কম্পনের ন্যায়। অতঃপর

এটি যেন আরবদের ওপর অধিক প্রভাব বিস্তারকারী, তাদের বিরুদ্ধে অধিকতর চূড়ান্ত দলিল এবং এর অলৌকিকত্বের দিকটিকে অধিকতর প্রকাশকারী হয়; আর তাদের পারস্পরিক আলোচনার বিষয়ে যেন এটি জারি থাকে, তাদের মুখে মুখে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর বাণীর ধারা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।

যদি এটি বিচ্ছিন্নভাবে—একটি আয়াত থেকে কয়েকটি আয়াত আকারে—নাজিল না হতো, তবে এর সংক্ষিপ্ততম সূরার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জের মুখে দলিল তাদের এভাবে নির্বাক করতে পারত না। তারা যেমনটি চেয়েছিল, যদি এটি একবারে অবতীর্ণ হতো, তবে তাদের ওজর পেশ করার একটি সুযোগ থাকত যা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করত এবং

অলৌকিকত্বের বিষয়টি তাদের কাছে ম্লান করে দিত। আর সামগ্রিক রূপের কিছু বিষয় তাদের নিকট সহজ মনে হতো যা বিস্তারিত রূপের ক্ষেত্রে হতো না, কারণ তারা এমন এক জাতি ছিল যারা পড়তে জানত না এবং শাস্ত্রীয় অধ্যয়নও করত না। কিন্তু আয়াত বা সংক্ষিপ্ত আয়াতসমূহ এমন সময়ে অবতীর্ণ হতো যার পরিমাণ তারা বুঝতে পারত তার পরবর্তী নাজিল হওয়া

আয়াতের মাধ্যমে। তারপর তারা ঠিক সেই সময়ের মধ্যে এবং তার চেয়ে বর্ধিত বা দ্বিগুণ সময়েও এর অনুরূপ কিছু তৈরি করতে অক্ষম হতো। এবং

সময়ের প্রশস্ততা ও দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পরও—যা অলৌকিকত্বের পন্থায় এমন এক বিষয় যার ওপর ইতিহাসই সাক্ষী যে, তাদের স্বভাবে মোটেও সেই শক্তি বা কৌশল ছিল না। কেননা কোনো বিষয় তৈরির অক্ষমতা

ইতিহাসে তখনই প্রমাণিত হয়, যখন ঐতিহাসিক কোনো নিদর্শনের মাধ্যমে তা তৈরির সময় সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত থাকে।

বিশেষত যখন আপনি বিবেচনা করবেন যে, ওহির সূচনালগ্নে যা অবতীর্ণ হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা অব্যাহত ছিল—যখন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেরা গুহায় আসতেন এবং সেখানে রাতভর ইবাদতে মগ্ন থাকতেন, মক্কা থেকে হিজরত করা পর্যন্ত—তা মূলত সংক্ষিপ্ত সূরাসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল,

যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে দীর্ঘ সূরার দিকে ধাবিত হয়েছিল। আর এটি নিঃসন্দেহে এমন বিষয় যেখানে আপাতদৃষ্টিতে বিরোধিতা বা মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হতো

যদি তা সম্ভব হতো; কারণ এটি পৃথক পৃথক আয়াতে বিভক্ত, এবং এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তাদের নাগালের মধ্যেই ছিল যারা এর বিরোধিতা করতে এবং এর পদ্ধতি অনুসরণ করতে উদ্যমী হতো।

এটি দীর্ঘ ধারাবাহিকতা সম্পন্ন ও দূরবর্তী লক্ষ্যের মতো ছিল না, যার ফলে দীর্ঘ অবয়বের কারণে মানুষের মন বিমুখ হয়ে যায় এবং সেই কাজের উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। কারণ

মানসিক শক্তির একটি সীমা রয়েছে, যদি তাকে তার অতিরিক্ত বোঝা বহন করতে বাধ্য করা হয়, তবে স্বভাবতই তা তার চেয়ে কমেই থমকে যায়। এটি এমন এক বিষয় যা সেই ব্যক্তি বুঝতে পারে যে কোনো কবিকে তার চমৎকার কাসিদার পংক্তিগুলো পড়ার আগেই গণনা করতে দেখে, অথবা কোনো লেখককে তার চমৎকার পত্রের শুরুর আগেই শেষ অংশ দেখতে দেখে। এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়গুলোও একই পর্যায়ের।

ওহির সূচনা হয়েছিল ৬১১ খ্রিস্টাব্দে মক্কায়, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৬২২ খ্রিস্টাব্দে সেখান থেকে মদিনায় হিজরত করেন। ফলে কুরআন মক্কি ও মদিনীয় উভয় প্রকারে নাজিল হয়েছে।

আর সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত এবং তা নাজিলের তারিখ সম্পর্কে বর্ণনা (رواية) সমূহে মতভেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ২৭)
وفي بعضها أن ذلك كان قبل موته عليه السلام بأحد وثمانين يوماً، في سنة إحدى عشرة للهجرة،

وأي ذي كان فإن مدة نزول القرآن توفي على العشرين سنة. وإنَّما هي الحكمة التي أومأنا إليها في مذهب إعجازه، وحكمة أخرى معها: وهي استدراج العرب وتصريف أنفسهم بأوامره ونواهيه على

حسب النوازل وكفاءَ الحادثات، ليكون تحؤلهم أشبه بالسنة الطبيعية كما ينمو الحي من باطنه.

وسيقع تفصيل هذا المعنى فيما يأتي:

وكان بعض الصحابة يكتبون ما ينزل من القرآن ابتداء من أنفسهم، أو بأمر من النبي صلى الله عليه وسلم

فيخطونه على ما اتفق لهم يومئذ من العُسُب والكرانيف واللخاف والرقاع وقطع الأديم وعظام الأكتاف والأضلاع من الشاة والإبل، وكل ما أصابوا من مثلها مما يصلح لغرضهم، يكتب كل

منهم ما تيسر له أو يسرته أحواله. ولكن ما ليس فيه ريب أن منهم قوماً جمعوا القرآن كله لذلك

العهد، وقد اختلفوا في تعيينهم، بيد أنهم أجمعوا على نفر، منهم: علي بن أبي طالب، ومعاذ بن جبل، وأبي بن كعب، وزيد بن ثابت، وعبد الله بن مسعود، وهؤلاء كانوا مادة هذا الأمر من

بعدُ، فإن المصاحف حتى اختصت بالثقة كانت ثلاثة: مصحف ابن مسعود، ومصحف أبي، ومصحف زيد، وكلهم قَرَأ القرآن وعَرَضه على النبي صلى الله عليه وسلم، فأما ابن مسعود فقرأ بمكة وعرض

هناك، وأما أبي فإنه قرأ بعد الهجرة وعرض في ذلك الوقت، وأما زيد فقرأه بعدهما وكان عرضه

متأخراً عن الجميع، وهو آخر العرض إذ كان في سنة وفاته صلى الله عليه وسلم وبقراءته كان يقرأ عليه الصلاة

والسلام وكان يصلي إلى أن لحق بربه، ولذلك اختار المسلمون ما كان آخر كما ستعرفه.

أما علي بن أبي طالب فقد ذكروا أن له مصحفاً جمعه لما رأى من الناس طيرةَ عند وفاة النبي صلى الله عليه وسلم.

وفي " الفهرست " لابن النديم أنه رأى عند أبي يعلى حمزة الحسيني مصحفاً بخط علي يتوارثه بنو حسن، ونحن نحسب ذلك خبراً شيعياً، لأنه غير شائع. . .

وقبض رسول الله صلى الله عليه وسلم والقرآن في الصدور، وفيما كتبوه عليه، ثم نهض أبو بكر بأمر

الإسلام، وكانت في مدّته حروب أهل الردة، ومنها غزوة أهل اليمامة، والمحاربون أكثرهم من

الصحابة ومن القراء، فقتل في هذه الغزوة وحدها سبعون قارئاً من الصحابة (ويقال سبعمائة) ،

وكان قد قتل منهم مثل هذا العدد ببئر مَعُونة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم، فهال ذلك عمرَ بن الخطاب،

فدخل على أبي بكر رحمهما الله فقال: إن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم باليمامة يتهافتون تهافُتَ الفَراش

في النار، وإني أخشى أن لا يشهدوا موطناً إلا فعلوا ذلك حتى يُقتلوا، وهم حَمَلة القرآن، فيضيع القرآن وُينسى ولو جمعتَه وكتبته! فنفر منها أبو بكر، وقال: أفعلُ ما لم يفعل رسول الله صلى الله عليه وسلم؟

فتراجعا في ذلك، ثم أرسل أبو بكر إلى زيد بن ثابت. قال زيد: فدخلت عليه وعمرُ مُسربَل؛
কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, এটি তাঁর (সা.) ইন্তেকালের একাশি দিন পূর্বে হিজরি এগারো সনে সংঘটিত হয়েছিল।

যা-ই হোক, কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময়কাল ছিল বিশ বছরের কিছু বেশি। এর পেছনে সেই হিকমত বা প্রজ্ঞা কাজ করেছে যার দিকে আমরা এর মুজিযা হওয়ার অধ্যায়ে ইঙ্গিত করেছি। এর পাশাপাশি আরেকটি হিকমত হলো আরবদের ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করা এবং অবতীর্ণ বিষয় ও উদ্ভূত ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে আদেশ ও নিষেধের মাধ্যমে তাদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আনা, যাতে তাদের এই রূপান্তর একটি প্রাকৃতিক নিয়মের মতো হয়, যেমন কোনো জীব ভেতর থেকে বিকশিত হয়।

এই বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে:

কোনো কোনো সাহাবী কুরআনের যা অবতীর্ণ হতো তা নিজেদের উদ্যোগেই লিখে রাখতেন, অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে লিখতেন

তখন হাতের কাছে যা পাওয়া যেত, যেমন: খেজুরের ডাল, খেজুর গাছের পাতার গোড়া, চওড়া পাথর, কাপড়ের টুকরো, চামড়ার টুকরো এবং ছাগল ও উটের কাঁধ ও পাঁজরের হাড়—এমন যা কিছু লেখার উপযোগী পাওয়া যেত, তার ওপরই তারা লিখে রাখতেন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ সামর্থ্য ও সুবিধা অনুযায়ী লিখে রাখতেন। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সেই সময়ে তাদের মধ্যে এমন একদল লোক ছিলেন যারা সেই সময়কালে পূর্ণ কুরআন একত্র করেছিলেন।

তাদের পরিচয় নিয়ে মতভেদ থাকলেও কতিপয় ব্যক্তির ব্যাপারে সকলে একমত, তারা হলেন: আলী ইবনে আবু তালিব, মুয়াজ ইবনে জাবাল, উবাই ইবনে কাব, যায়িদ ইবনে সাবিত এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ। পরবর্তীতে এরাই ছিলেন এই বিষয়ের মূল ভিত্তি। নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হওয়ার আগ পর্যন্ত মাসহাফ মূলত তিনটি ছিল: ইবনে মাসউদের মাসহাফ, উবাইয়ের মাসহাফ এবং যায়িদের মাসহাফ। তারা সকলেই কুরআন পাঠ করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেশ করেছেন। ইবনে মাসউদ মক্কায় পাঠ করেছিলেন এবং সেখানেই পেশ

করেছিলেন; উবাই হিজরতের পর পাঠ করেছিলেন এবং সেই সময়েই পেশ করেছিলেন; আর যায়িদ তাদের উভয়ের পরে পাঠ করেছিলেন এবং তার পেশ করার বিষয়টি ছিল

সকলের শেষে। এটিই ছিল সর্বশেষ উপস্থাপন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের বছরে সম্পন্ন হয়েছিল। তাঁর সেই পঠনরীতি অনুযায়ীই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করতেন এবং তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম

বর্ষিত হোক, তিনি ইন্তেকাল পর্যন্ত সেই অনুযায়ী নামাজ আদায় করতেন। একারণেই মুসলিমগণ সর্বশেষটিকেই গ্রহণ করেছেন, যা আপনি পরবর্তীতে জানতে পারবেন।

আলী ইবনে আবু তালিব সম্পর্কে বলা হয় যে, তাঁর একটি মাসহাফ ছিল যা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর মানুষের মধ্যে অস্থিরতা দেখে সংকলন করেছিলেন।

ইবুনন নাদিমের আল-ফিহরিস্ত গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, তিনি আবু ইয়ালা হামজা আল-হুসাইনির কাছে আলীর হাতের লেখা একটি মাসহাফ দেখেছিলেন, যা বনু হাসান উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে আসছিলেন। তবে আমরা এটিকে একটি শিয়া ঘরানার সংবাদ (خبر) মনে করি, কারণ এটি সুপ্রসিদ্ধ নয়। . .

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন এমতাবস্থায় যে, কুরআন ছিল মানুষের অন্তরে এবং তখন পর্যন্ত যা কিছুর ওপর লিখে রাখা হয়েছিল তাতে। এরপর আবু বকর ইসলামের দায়িত্বভার গ্রহণ করে

এগিয়ে এলেন। তাঁর শাসনামলে রিদ্দার যুদ্ধসমূহ সংঘটিত হয়, যার মধ্যে একটি ছিল ইয়ামামার যুদ্ধ। এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই ছিলেন

সাহাবী ও কারী। কেবল এই যুদ্ধেই সত্তর জন সাহাবী কারী (এবং বলা হয় সাতশত) শহীদ হন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে বিরে মাউনাতে অনুরূপ সংখ্যক কারী শহীদ হয়েছিলেন। এটি ওমর ইবনুল খাত্তাবকে অত্যন্ত বিচলিত করল।

তিনি আবু বকর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর কাছে গিয়ে বললেন: ইয়ামামার যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীরা আগুনের ওপর পতঙ্গের মতো

ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। আমি আশঙ্কা করছি যে, তারা যেখানেই যুদ্ধ করবেন সেখানেই এমন আত্মত্যাগ করবেন এবং শহীদ হয়ে যাবেন, অথচ তারা হলেন কুরআনের ধারক। ফলে কুরআন হারিয়ে যাওয়ার বা বিস্মৃত হওয়ার ভয় রয়েছে; যদি আপনি তা একত্রিত করে লিখে রাখতেন! আবু বকর এই প্রস্তাব শুনে ইতস্তত বোধ করলেন এবং বললেন: আমি এমন কাজ কীভাবে করব যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি?

তারা এ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে গেলেন। এরপর আবু বকর যায়িদ ইবনে সাবিতকে ডেকে পাঠালেন। যায়িদ বলেন: আমি তাঁর কাছে গেলাম, সেখানে ওমর উপস্থিত ছিলেন;
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ২৮)
فقال لي أبو بكر: إن هذا قد دعاني إلى أمر فأبيت عليه؛ وأنت كاتب الوحي، فإن تكن معه اتبعتكما، وإن توافقني لا أفعلُ، فاقتص أبو بكر قولَ عمرَ وعمرُ ساكت، فنفرتُ من ذلك،

وقلتُ: يفعل ما يفعل رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ إلى أن قال عمر كلمة: وما عليكما لو فعلتما ذلك؟ فذهبنا

ننظر، فقلنا: لا شيء والله، ما علينا في ذلك شيء.

وقال زيد: فأمرني أبو بكر فكتبته في قطع الأدَم وكسَر الأكتاف والعُسُب.

وهذا الذي فعله أبو بكر كأنما استحيا به طائفة من القراء الذين استَحَر بهم القتل بعد ذلك في المواطن التي شهدوها، ولم يعْد به ما وصفنا، ولذا بقي ما اكتتبه زيد نسخة واحدة، وهو قد

تتبع ما فيها من الرقاع والعُسب واللخاف ومن صدور الرجال، إنما ائتمنه أبو بكر لأنه حافظ،

ولأنه من كتبة الوحي، ثم لأنه صاحب العَرضَة الأخيرة؛ وربما كان قد أعانه بغيره في الجمع والتتبع؛ فإن في بعض الروايات أن سالماً مولى أبي حذيفةَ كان أحد الجامعين بأمر أبي بكر، أما

الكتابة فهي لزيد بالإجماع.

وبقيت تلك الصحف عند أبي بكر ينتظرُ بها وقتها أن يحين، حتى إذا توفي سنة 13 هـ

صارت بعده إلى عمر، فكانت عنده حتى مات، ثم كانت عند حَفصة ابنته صدراً من ولاية عثمان،

ويومئذ اتسعت الفتوح وتفرق المسلمون في الأمصار، فأخذ أهل كل مصر عن رجل من بقية القراء.

فأهل دِمَشق وحمص أخذوا عن المقداد بن الأسود، وأهل الكوفة عن ابن مسعود، وأهل البصرة عن أبي موسى الأشعري - وكانوا يسمون مصحفه لباب القلوب - وقرأ كثير من أهل الشام

بقراءة أبي بن كعب، وكانت وجوه القراءة التي يؤدَّى بها القرآن مختلفة باختلاف الأحرف التي نزل

عليها، كما سيمر بك، فكان الذي يسمع هذا الاختلاف من أهل تلك الأمصار - إذا احتوتهم المجامع أو التقوا في المواطن على جهاد أعدائهم - يعجب من ذلك أن تكون هذه الوجوه كلها

على اختلاف ما بينها في كلام واحد، فإذا علم أن جميع القراءات مُسندة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنه

أجازها، لا يمنع أن يَحيك في صدره بعض الشك وأن ينطويَ منها على شيء. وإذا هو كان قد نشأ بعد زمن الدعوة وبعد أن اجتمع العرب على كلمة واحدة، فلا يلبث أن يجري دْلك الاختلاف

مجرى مثله من سائر الكلام، فيرى بعضه خيراً من بعضه، ويظن منه الصريحَ والمدخولَ والعالي والنازل، والأفصح والفصيح، وأشباه ذلكَ، ويعتد ما يراه في القرآن من القرآن، وهذا أمر إن هو

استفاض فيهم ثم مَرَدُوا عليه خرجوا منه ولا ريب إلى المناقضة والملاحاة وإلى أن يرد بعضهم إلى بعض هذا يقول: قراءتي وما أخذت به وذلك يقول: بل قراءتي وما أنا عليه! وليس من وراء هذا

اللجاج إلا التكفير والتأثيم، ولا جرَمَ أنها الفتنة لا تفتأ بعد ذلك من دم.

ولقد نجمت هذه الناشئة يومئذ، فلما كانت غزوة إرمينية، وغزوة أذربيجان، كان فيمن غزاهما مع أهل العراق حذيفة بن اليمان، فرأى كثرة اختلاف المسلمين في وجوه القراءة، أنهم لا يجرون من ذلك على أصل في الفطرة اللغوية كما كان العرب يقرأون بلحونهم، ورأى ما يبدر على
তখন আবু বকর আমাকে বললেন: "এই ব্যক্তি (উমর) আমাকে একটি বিষয়ের দিকে আহ্বান করেছেন কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি; অথচ আপনি ওহী লেখক, আপনি যদি তার সাথে একমত হন তবে আমি আপনাদের উভয়ের অনুসরণ করব, আর আপনি যদি আমার সাথে একমত হন তবে আমি তা করব না।" এরপর আবু বকর উমরের প্রস্তাব বর্ণনা করলেন যখন উমর নীরব ছিলেন। আমি এতে সংকুচিত বোধ করলাম,

এবং বললাম: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেননি তিনি কি তা করবেন?" যতক্ষণ না উমর এই কথাটি বললেন: "যদি আপনারা তা করেন তবে আপনাদের ওপর কিসের দায়?" এরপর আমরা বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে

চিন্তা করতে লাগলাম এবং বললাম: "আল্লাহর কসম, এতে কোনো দোষ নেই, এতে আমাদের কোনো ক্ষতিকর কিছু নেই।"

জায়েদ বললেন: এরপর আবু বকর আমাকে নির্দেশ দিলেন, ফলে আমি তা চামড়ার টুকরো, কাঁধের হাড় এবং খেজুরের ডালপালায় লিখে ফেললাম।

আবু বকর যা করেছিলেন, তা যেন সেই ক্বারীগণের (কুরআন পাঠকারী) এক দলের জন্য স্বস্তিকর ছিল যাদের মাঝে বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল, এবং আমি যা বর্ণনা করেছি এটি তার বাইরে ছিল না। এই কারণে জায়েদ যা লিখেছিলেন তা একটিমাত্র পাণ্ডুলিপি হিসেবেই রয়ে গেল। তিনি

চামড়ার টুকরো, খেজুরের ডাল, পাতলা সাদা পাথর এবং মানুষের অন্তর থেকে যা পেয়েছিলেন তা সংগ্রহ করেছিলেন। আবু বকর তাকে বিশ্বস্ত মনে করেছিলেন কারণ তিনি হেফজকারী (حافظ) ছিলেন,

এবং তিনি ওহী লেখকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, আর এই কারণে যে তিনি শেষ পেশকরণের (العرضة الأخيرة) সময় উপস্থিত ছিলেন। সম্ভবত সংগ্রহের কাজে তাকে অন্য কেউ সাহায্য করেছিলেন; কারণ কোনো কোনো বর্ণনায় আছে যে আবু বকরের আদেশে আবু হুজাইফার মুক্তদাস সালিমও অন্যতম সংগ্রহকারী ছিলেন। তবে

লিখনীটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (الإجماع) অনুযায়ী জায়েদেরই ছিল।

সেই সহীফাগুলো আবু বকরের কাছে যথাযোগ্য সময়ের অপেক্ষায় সংরক্ষিত ছিল, শেষ পর্যন্ত ১৩ হিজরীতে যখন তিনি ইন্তেকাল করেন

তখন তা উমরের নিকট স্থানান্তরিত হয়। তার মৃত্যু পর্যন্ত তা তার কাছেই ছিল। এরপর তা উসমানের খেলাফতের প্রথম দিকে তার কন্যা হাফসার কাছে ছিল।

সেই সময়ে রাজ্য বিজয় ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং মুসলমানগণ বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েন। তখন প্রতিটি জনপদের মানুষ অবশিষ্ট ক্বারীগণের মধ্য হতে কোনো একজনের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতেন।

দামেস্ক ও হিমসবাসী মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ থেকে, কুফাবাসী ইবনে মাসউদ থেকে এবং বসরার অধিবাসীগণ আবু মুসা আশআরী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতেন—তারা তার মুসহাফকে 'অন্তরের নির্যাস' বলতেন। সিরিয়ার অনেক মানুষ

উবাই ইবনে কাবের কিরাত অনুযায়ী তিলাওয়াত করতেন। কুরআনের তিলাওয়াতের এই রূপগুলো বিভিন্ন বাচনরীতির (الأحرف) পার্থক্যের কারণে ভিন্ন ছিল যেগুলোর ওপর এটি নাযিল

হয়েছিল, যেমনটি আপনার সামনে আসবে। বিভিন্ন অঞ্চলের যারা এই পার্থক্য শুনত—যখন তারা কোনো সমাবেশে একত্রিত হতো বা শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদের ময়দানে মিলিত হতো—তারা অবাক হতো যে কীভাবে এই সকল রূপ

তাদের মধ্যকার এই ভিন্নতা সত্ত্বেও একই বাণীর অন্তর্ভুক্ত। যখন সে জানতে পারল যে সকল কিরাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সূত্রযুক্ত (مسندة) এবং তিনি

এগুলো অনুমোদন করেছেন, তখন তার অন্তরে কোনো সংশয় জাগতে বা কোনো কিছু সংকুচিত হতে বাধা থাকে না। যেহেতু সে দাওয়াতের সময়ের পরে এবং আরবদের এক কথায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরে বেড়ে উঠেছে, তাই সেই পার্থক্য অন্যান্য সাধারণ কথার পার্থক্যের মতোই হতে দেরি হয় না। ফলে সে কিছু অংশকে অন্য অংশের চেয়ে উত্তম মনে করতে থাকে এবং এর মধ্যে কোনোটিকে সুস্পষ্ট (الصريح), কোনোটিকে ত্রুটিযুক্ত (المدخول), কোনোটিকে উচ্চতর (العالي), কোনোটিকে নিম্নতর (النازل), আবার কোনোটিকে অধিক বিশুদ্ধ বা বিশুদ্ধ মনে করতে শুরু করে। কুরআনের যা কিছু সে দেখে তা-ই কুরআনের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করে। এই বিষয়টি যদি তাদের মধ্যে

ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা এতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তবে নিঃসন্দেহে তারা পরস্পর বিরোধিতা ও বিতর্কে লিপ্ত হবে এবং একে অপরকে প্রত্যাখ্যান করবে। এ বলবে: "আমার কিরাত এবং আমি যা গ্রহণ করেছি!" আর ও বলবে: "বরং আমার কিরাত এবং আমি যেটির ওপর আছি!" এই

একগুঁয়েমির পরিণতি কেবল কাফের সাব্যস্ত করা (التكفير) এবং পাপী সাব্যস্ত করা (التأثيم) ছাড়া আর কিছুই নয়। আর নিঃসন্দেহে এটি এমন এক ফিতনা যা পরবর্তীতে রক্তপাত ঘটাতেই থাকবে।

এই সমস্যার উদ্ভব তখনই হয়েছিল। যখন আরমেনিয়ার যুদ্ধ এবং আজারবাইজানের যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তখন ইরাকবাসীদের সাথে সেই যুদ্ধে হুজাইফা ইবনুল ইয়ামানও শরিক ছিলেন। তিনি কিরাতের ক্ষেত্রে মুসলমানদের ব্যাপক মতভেদ লক্ষ্য করলেন। তিনি দেখলেন যে আরবরা যেভাবে তাদের নিজস্ব ভাষারীতির সহজাত প্রবণতা অনুযায়ী তিলাওয়াত করত, তারা সেভাবে কোনো মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে চলছে না, এবং তিনি দেখলেন যে...
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ২৯)
ألسنتهم حين يأتي كل فريق منهم بما لم يسمع من غيره، إذ يتمارَؤن فيه حتى يكفر بعضهم بعضاً،

ولم يرَ عندهم نكيراً لذلك ولا إكباراً له، بل كانوا قد ألفوه بين أنفسهم، وصار من عاداتهم

وأمرهم، ففزع إلى عثمان فأخبرَه بالذي رأى، وكان عثمان قد رفع إليه أن شيئاً من ذلك يكون بين

المسلمين الذي يُقرئون الصبية ويأخذونهم بحفظ القرآن فينشأون وبهم من الخلاف بعضهم على

بعض، فأعظمَ رحمه الله أمرَ هذه الفتنة، وأكبره الصحابة جميعاً، لأن الاختلاف في كتاب الله

مَدرَجَة إلى مخالفة ما فيه، ومتى أهملوا بعض معانيه لم يكن بد أن يتصرفوا ببعض ألفاظه، وإنما

هو اجتراء واحد فيوشِك أن يكون ذلكَ مساغ للتحريف والتبديل، فأجمعوا أمرهم أن ينتسخوا الصحفَ الأولى التي كانت عند أبي بكر، وأن يأخذوا الناس بها ويجمعوهم عليها، حذَارَ تلك

الردة المشتبهة، وإشفاقاً على الناس إن يصيروا كلما رُدْوا إلى الفتنة أركِسوا فيها، فأرسل عثمان

إلى حفصة فبعثت إليه بتلك الصحف، ثم أرسل إلى زيد بن ثابت، وإلى عبد الله بن الزبير،

وسعيد بن العاص، وعبد الرحمن بن الحارث بن هشام، فامرهم أن ينسخوها في المصاحف ثم

قال للرهط القرشيين الثلاثة: ما اختلفتم فيه أنتم وزيد فاكتبوه بلسان قريش فإنه بلسانهم.

قال زيد - في بعض الروايات عنه -: فلما فرغتُ عرضتُهُ عرضة فلم أجد فيه هذه الآية: (مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا (23) .

قال: فاستعرضت المهاجرين أسألهم عنها، فلم أجدها عند أحد منهم، ثم استعرضت الأنصار أسألهم عنها فلم أجدها عند أحد منهم، حتى وجدها عند خُزيمة - يعني ابن ثابت - فكتبتها " ثم

عرضته عرضة أخرى فلم أجد فيه هاتين الآيتين: (لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ) - إلى آخر السورة فاستعرضت المهاجرين فلم أجدها عند أحد

منهم، ثم استعرضت الأنصار أسالهم عنها فلم أجدها عند أحد منهم، حتى وجدتها مع رجل آخر
তাদের বক্তব্যসমূহ যখন তাদের প্রতিটি দল এমন কিছু নিয়ে আসে যা তারা অন্যের কাছ থেকে শোনেনি, যেহেতু তারা এ নিয়ে তর্কে লিপ্ত হয় এমনকি একে অপরকে কাফিরও মনে করে।

তিনি তাদের কাছে এর কোনো প্রতিবাদ বা একে বড় কোনো আপদ হিসেবে দেখতে পাননি, বরং তারা নিজেদের মধ্যে এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল এবং এটি তাদের অভ্যাসে ও বিষয়ে পরিণত হয়েছিল।

অতঃপর তিনি আতঙ্কিত হয়ে উসমানের কাছে গেলেন এবং যা দেখেছিলেন তা তাকে জানালেন। উসমানের কাছে এর আগেই সংবাদ পৌঁছেছিল যে, মুসলিমদের মধ্যে যারা কিশোরদের পাঠদান করছে এবং তাদের কুরআন মুখস্থ করাচ্ছে, তাদের মধ্যে এমন কিছু বিষয় ঘটছে যার ফলে তারা একে অপরের প্রতি মতভেদ নিয়ে বেড়ে উঠছে।

আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি এই ফিতনার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে গণ্য করলেন এবং সাহাবীগণ সবাই একে অনেক বড় বিষয় মনে করলেন। কারণ আল্লাহর কিতাবে মতভেদ করা তাতে যা আছে তার বিরুদ্ধাচরণের সোপান হিসেবে কাজ করে।

আর যখনই তারা এর কিছু অর্থের ব্যাপারে অবহেলা করবে, তখন অবধারিতভাবে এর কিছু শব্দের ক্ষেত্রেও তারা যথেচ্ছাচার করবে। এটি মূলত একটি দুঃসাহস যা সম্ভবত বিকৃতি ও পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করে দেবে।

তাই তারা এ বিষয়ে একমত হলেন যে, তারা আবু বকরের কাছে রক্ষিত সেই আদি পাণ্ডুলিপিগুলো প্রতিলিপি করবেন এবং মানুষকে সেই অনুযায়ী চলতে বাধ্য করবেন ও তার ওপরই ঐক্যবদ্ধ করবেন; যাতে সেই বিভ্রান্তিকর বিচ্যুতি বা ধর্মত্যাগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং মানুষের প্রতি মমতাস্বরূপ যেন তারা বারবার ফিতনার দিকে ফিরে না যায় এবং তাতে নিমজ্জিত না হয়।

অতঃপর উসমান হাফসার কাছে লোক পাঠালেন এবং তিনি সেই পাণ্ডুলিপিগুলো তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর তিনি যায়েদ ইবনে সাবিত, আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের, সাঈদ ইবনুল আস এবং আবদুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনে হিশামের কাছে লোক পাঠালেন এবং তাদের নির্দেশ দিলেন যেন তারা সেগুলো মুসহাফসমূহে প্রতিলিপি করেন।

অতঃপর তিনি কুরাইশ বংশীয় তিন ব্যক্তিকে বললেন: কোনো বিষয়ে তোমাদের ও যায়েদের মধ্যে মতভেদ হলে তোমরা তা কুরাইশদের ভাষায় লিপিবদ্ধ করো, কারণ এটি তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে।

যায়েদ বলেন—তাঁর থেকে বর্ণিত কোনো কোনো বর্ণনা (رواية)-এ রয়েছে—: যখন আমি কাজ সম্পন্ন করে একবার তা পর্যালোচনা (عرضة) করলাম, তখন আমি সেখানে এই আয়াতটি পেলাম না: "মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ শাহাদাত বরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে, আর তারা তাদের সংকল্পে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আনেনি।" (সূরা আহযাব: ২৩)।

তিনি বলেন: অতঃপর আমি মুহাজিরদের কাছে গিয়ে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, কিন্তু তাদের কারো কাছে তা পেলাম না। এরপর আমি আনসারদের কাছে গিয়েও জিজ্ঞাসা করলাম, কিন্তু তাদের কারো কাছেও তা পেলাম না। অবশেষে খুজাইমা—অর্থাৎ ইবনে সাবিত—এর নিকট তা পেলাম এবং তা লিপিবদ্ধ করলাম।

এরপর আমি পুনরায় তা পর্যালোচনা (عرضة) করলাম, তখন আমি এই আয়াত দুটি পেলাম না: "তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে এক রাসূল এসেছেন, তোমাদের কষ্ট যাঁর কাছে দুঃসহ, যিনি তোমাদের কল্যাণকামী..." সূরার শেষ পর্যন্ত। আমি মুহাজিরদের কাছে তালাশ করলাম কিন্তু কারো কাছে পেলাম না। অতঃপর আনসারদের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম, তাদেরও কারো কাছে পেলাম না, পরিশেষে অন্য একজন ব্যক্তির কাছে তা পেলাম।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৩০)
يدعى خزيمة أيضاً فأثبتها في آخر براءة ولو تمت ثلاث آيات لجعلها سورة على حدة، ثم عرضته

عرضة أخرى فلم أجد فيه شيئاً، ثم أرسل عثمان إلى حفصة يسألها أن تعطيه الصحيفة، وحلف لها

ليرُدنها إليها فأعطته فعرض المصحف عليها فلم يختلف في شيء، فردها إليها وطابت نفسه، وأمر

الناس أن يكتبوا مصاحف، فلما ماتت حفصة أرسل إلى عبد الله بن عمر في الصحيفة بعزمه

فأعطاهم إياهم فغسلت غسلاً.

قلنا: وكلام زيد نص قاطع في أنه كان يحفظ القرآن كله، لم يذهب عنه شيء منه، إذ كان

يعرض ما في الصحف على ما رُبط في صدره وثبت في حفظه، ثم هو نص كذلك على أن زيداً

كان لا يكتفي بنفسه بل يذهب يستعرض الناس حتى يجد من يؤدي إليه، كيلا ينفرد هو بالحفظ خشيةَ أن يكون موضع ظِنة وإن كان الصحابة رضي الله عنهم قد أجمعوا على الثقة به، فلم

يثبت ما أثبته إلا بشاهدين: أحدهما من حفظ غيره. والآخر من حفظه.

ثم بعث في كل أفق بمصر من تلك المصاحف، وكانت سبعة - في قول مشهور - فأرسل

منها إلى مكة، والشام، واليمن، والبحرين، والبصرة، والكوفة.

وحبس بالمدينة واحداً، وهو مصحفه الذي يسمى الإمام ثم أمر بما عدا ذلك من صحيفة أو مصحف أن يحرق، ولم يجعل

في عزيمته تلك رخصة سائغة لأحد. وكان جمع عثمان في سنة 25 للهجرة.

وإنما أراد عثمان بذلك حَسم مادة الاختلاف، لأنه أمر يمد مع الزمن وتنشعب الأيام به.

وهو إن أمن في عصره لم يَدْر ما يكون بعد عصره، وقد أدرك أن العرب لا يستمرون عرباً على الاختلاف والفتوح، وأن الألسنة تنتقل، واللغات تختلف. ثم هو رأى ما وقع في الشعر وروايته،

وأن الاختلاف كان باباً إلى الزيادة والابتداع، فلم يفعل شيئاً أكثر من أنه حَصَّن القرآن وأحكم الأسوار حوله، ومنع الزمن أن يتطرق إليه بشيء، وجعله بذلك فوق الزمن.

ولم تكن المصاحف التي كتبت قبل مصحف عثمان على هذا الترتيب المعروف في السور إلى اليوم. فإنما هو ترتيب عثمان أما فيما وراء ذلك فقد رووا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا نزلت

سورة دعا بعض من يكتب فقال: ضعوا هذه السورة في الموضع الذي يذكر فيه كذا وكذا، فكان

القرآن مرتب الآيات، غير أنه لم يكن مجموعاً بين دفتين، فلا يؤمن أن يضطرب نَسق مجموعه في أيدي الناس باضطراب القطع التي كتب فيها تقديماً وتأخيراً: ولم يلزم الناس القراءة يومئذ بتوالي

السور، وذلك أن الواحد منهم إذا حفظ سورة أو كتبها ثم خرج في سرية فنزلت سورة أخرى
তাকে খুজায়মাহ নামেও ডাকা হতো, অতঃপর আমি তা সূরা বারাআতের শেষে অন্তর্ভুক্ত করলাম। যদি তা পূর্ণ তিনটি আয়াত হতো, তবে তিনি তা একটি স্বতন্ত্র সূরা হিসেবে গণ্য করতেন। এরপর আমি তা পুনরায়

যাচাই করলাম এবং সেখানে নতুন কিছু পেলাম না। অতঃপর উসমান (রা.) হাফসা (রা.)-এর কাছে লোক পাঠিয়ে সেই পাণ্ডুলিপিটি দেওয়ার অনুরোধ করলেন এবং তাকে প্রতিশ্রুতি দিলেন যে

তা তাকে ফেরত দেওয়া হবে। হাফসা (রা.) তা তাকে প্রদান করলেন। উসমান (রা.) তার সংকলিত মুসহাফটির সাথে তা মিলিয়ে দেখলেন এবং কোনো পার্থক্য পেলেন না। এরপর তিনি তা তাকে ফেরত দিলেন এবং আশ্বস্ত হলেন। তিনি

লোকজনকে নতুন মুসহাফ লেখার নির্দেশ দিলেন। হাফসা (রা.) যখন ইন্তেকাল করলেন, উসমান (রা.) তার দৃঢ় সংকল্প অনুযায়ী আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর কাছে সেই পাণ্ডুলিপিটির জন্য লোক পাঠালেন।

তারা তা তাকে দিলে তিনি তা ধুয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন।

আমরা বলি: জায়েদ (রা.)-এর বক্তব্য একটি অকাট্য দলিল যে, তিনি পূর্ণ কুরআন মুখস্থ রাখতেন এবং তার কোনো অংশই তিনি ভুলে যাননি। কেননা তিনি পাণ্ডুলিপিগুলোতে যা ছিল তা তার বক্ষস্থিত মুখস্থ জ্ঞানের সাথে মিলিয়ে দেখতেন। একইভাবে এই বক্তব্যটি এরও প্রমাণ যে, জায়েদ (রা.)

শুধু নিজের ওপরই নির্ভর করতেন না, বরং তিনি লোকজনের কাছে গিয়ে তালাশ করতেন যতক্ষণ না এমন কাউকে পেতেন যিনি তা তার কাছে বর্ণনা করতে পারেন। যাতে তিনি একাকী হিফজ করার ক্ষেত্রে একক না হয়ে যান এবং কোনো সন্দেহের অবকাশ না থাকে, যদিও সাহাবীগণ (রা.) তার ওপর পূর্ণ নির্ভরযোগ্য (الثقة) হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন। তবুও তিনি

যা কিছু অন্তর্ভুক্ত করেছেন তা কেবল দুইজন সাক্ষীর মাধ্যমেই করেছেন: একজন অন্য কারও স্মৃতি থেকে এবং অন্যজন তার নিজের স্মৃতি থেকে।

অতঃপর তিনি সে সকল অঞ্চলের প্রতিটি কেন্দ্রে ওই মুসহাফগুলো থেকে একটি করে পাঠালেন। প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী এগুলোর সংখ্যা ছিল সাতটি। তিনি

তা মক্কা, শাম, ইয়ামেন, বাহরাইন, বসরা এবং কুফায় পাঠিয়েছিলেন।

তিনি মদিনায় একটি মুসহাফ রেখে দিলেন, যা ‘মুসহাফে ইমাম’ নামে পরিচিত। এরপর তিনি এই মুসহাফ ব্যতীত অন্যান্য সমস্ত পাণ্ডুলিপি বা মুসহাফ পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন। তার

এই দৃঢ় সিদ্ধান্তে তিনি কারও জন্য কোনো শিথিলতার সুযোগ রাখেননি। উসমান (রা.)-এর এই সংগ্রহ হিজরি ২৫ সনে সম্পন্ন হয়েছিল।

উসমান (রা.) এর মাধ্যমে মতভেদের মূল কারণটি নির্মূল করতে চেয়েছিলেন। কারণ সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে এবং দিন গড়ানোর সাথে সাথে এটি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারত।

যদিও তার যুগে বিষয়টি নিরাপদ ছিল, কিন্তু পরবর্তী যুগে কী হবে তা জানা ছিল না। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, ফিতনা ও রাজ্য বিজয়ের কারণে আরবদের ভাষা পূর্বের মতো অপরিবর্তিত থাকবে না; বরং বাচনভঙ্গি ও ভাষা পরিবর্তিত হবে। তদুপরি তিনি কবিতা ও তার বর্ণনার ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল তা লক্ষ্য করেছিলেন যে,

কীভাবে মতভেদ সেখানে বিকৃতি ও নবউদ্ভাবনের দ্বার উন্মোচন করেছিল। তাই তিনি কুরআনকে সুরক্ষিত করা এবং এর চারপাশে মজবুত প্রাচীর গড়ে তোলা ছাড়া আর কিছুই করেননি। তিনি সময়কে এতে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত রেখেছেন এবং এর মাধ্যমে কুরআনকে সময়ের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন।

উসমান (রা.)-এর মুসহাফের পূর্বে যে সকল মুসহাফ লেখা হয়েছিল, সেগুলোতে সূরাগুলোর বিন্যাস বর্তমানের মতো পরিচিত ক্রমানুসারে ছিল না। বর্তমান বিন্যাসটি উসমান (রা.)-এর করা। এর আগে যা ছিল সে সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে যে, যখন কোনো

সূরা নাজিল হতো, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) কতিপয় লেখককে ডেকে বলতেন: "এই সূরাটিকে অমুক অমুক বর্ণনার স্থানে রাখো।" সুতরাং

কুরআনের আয়াতগুলোর বিন্যাস নির্ধারিত ছিল, তবে তা দুই মলাটের মাঝে একত্রিত ছিল না। তাই মানুষের কাছে যে টুকরো কাগজগুলোতে কুরআন লেখা ছিল, সেগুলোর বিন্যাস আগে-পাছে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা মুক্ত ছিল না। সে সময় সূরাগুলোর ধারাবাহিকতা অনুযায়ী তিলাওয়াত করা মানুষের জন্য আবশ্যক ছিল না। কারণ তাদের কেউ যখন কোনো সূরা মুখস্থ করত বা লিখে রাখত, আর তারপর কোনো যুদ্ধে বের হতো, তখন অন্য কোনো সূরা নাজিল হতো।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৩১)
فإنه كان إذا رجع يأخذ في حفظ ما ينزل بعد رجوعه، وكتابته، ويتبع ما فاته على حسب ما تسَهَّلَ له أكثره أو قله، فمن ثم يقع فيما يكتبه تأخير المقدم وتقديم المؤخر، فلما جمعه أبو بكر برأي

عمر كتبوه على ما وقَفَهم عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم كانوا في أيام عمر يكتبون بعض المصاحف

منتسقة السور على ترتيب ابن مسعود، وترتيب أبي بن كعب، وكلاهما قد سرده ابن النديم في كتابه (الفهرست) ،

وقال ابن فارس: إن السور في مصحف علي كانت مرتبة على النزول، فكان أوله سورة (اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ) ، ثم المدثر، ثم المزمل، ثم تبَّت، ثم التكوير، وهكذا إلى آخر المكي والمدني، ولا حاجة بنا أن نتع في استقصاء هذا الخلاف.

أما ترتيب مصحف عثمان فهو نسق زيد بن ثابت. وهو صاحب العرضة الأخيرة ولعله كان ترتيب مصحف أبي بكر أيضاً، لما مرَّ في الرواية عن زيد من أنه قابل بين الاثنين معارضة، والله أعلم.

ولم يكن بعد انتشار المصاحف العثمانية وانتساخها على هيئتها إلا أن استوثقت الأمة على

ذلك بالطاعة وأحرق كل امرئ ما كان عنده مما يخالفها ترتيباً أو قراءة، وأطَبق المسلمون على

ذلك النسق وذلك الحرف، ثم أقبلوا يجدون في إخراجها وانتساخها.

ولقد روى المسعودي أنه رُفع من عسكر معاوية في واقعة صفين نحو من خمسمائة مصحف، وهي الخُدعة المشهورة التي

أشار بها عمرو بن العاص في تلك الواقعة، ولم يكن بين جمع عثمان إلى يوم صفين إلا سبع سنوات.

وهنا أمر لا مذهبَ لنا دون التنبيه عليه، وذلك أن جمع القرآن كان استقصاء لما كتب،
কেননা তিনি যখন ফিরতেন, তখন ফিরে আসার পর যা অবতীর্ণ হতো তা মুখস্থ করতে এবং লিখতে শুরু করতেন। আর যা তাঁর থেকে বাদ পড়ে যেত, তা তিনি নিজের জন্য যতটা সহজসাধ্য হতো, কম হোক বা বেশি, তা অনুসরণ করতেন। এই কারণে তিনি যা লিখতেন তাতে অগ্রবর্তী বিষয়কে পরে এবং পরবর্তী বিষয়কে আগে করার ঘটনা ঘটত। অতঃপর যখন আবু বকর (রা.) উমর (রা.)-এর পরামর্শে সংকলন করলেন, তখন তাঁরা তা সেভাবেই লিখেছিলেন যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদেরকে অবগত করেছিলেন।

এরপর উমর (রা.)-এর যুগে তাঁরা সূরার সুশৃঙ্খল বিন্যাস অনুযায়ী কিছু মুসহাফ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর বিন্যাস এবং উবাই বিন কাব (রা.)-এর বিন্যাস অনুযায়ী লিখতেন। ইবনে নাদিম তাঁর আল-ফিহরিস্ত কিতাবে এই উভয়টিই বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন,

এবং ইবনে ফারিস বলেন: আলী (রা.)-এর মুসহাফে সূরাগুলো নাজিলের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত ছিল। তার শুরুতে ছিল সূরা ‘ইকরা বিসমি রাব্বিকা’, এরপর আল-মুদ্দাসসির, এরপর আল-মুয্যাম্মিল, এরপর তাব্বাত, এরপর আত-তাকভীর; এভাবে মক্কী ও মাদানী সূরার শেষ পর্যন্ত। এই মতপার্থক্যের বিস্তারিত অনুসন্ধানে আমাদের শ্রম দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

পক্ষান্তরে উসমানী মুসহাফের বিন্যাস হলো যায়িদ বিন সাবিত (রা.)-এর পদ্ধতি অনুযায়ী। তিনি ছিলেন সর্বশেষ পেশকরণ (العرضة الأخيرة)-এর সাথী। সম্ভবত এটি আবু বকর (রা.)-এর মুসহাফের বিন্যাসও ছিল, কারণ যায়িদ (রা.) থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية)-তে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, তিনি উভয়ের মাঝে তুলনা ও সংকলন করেছিলেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

উসমানী মুসহাফসমূহ ছড়িয়ে পড়া এবং এর সুনির্দিষ্ট অবয়ব অনুযায়ী অনুলিপি তৈরি হওয়ার পর উম্মত আনুগত্যের মাধ্যমে এর ওপর সুদৃঢ় হওয়া ছাড়া আর কিছুই করেনি। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কাছে থাকা সেই সকল পাণ্ডুলিপি পুড়িয়ে ফেলেছিল যা বিন্যাস বা পঠনরীতির দিক থেকে এর পরিপন্থী ছিল। মুসলিমগণ সেই বিন্যাস ও সেই হরফ (الحرف)-এর ওপর ঐক্যমত পোষণ করলেন। অতঃপর তারা এর সংকলন ও অনুলিপি তৈরিতে সচেষ্ট হলেন।

মাসউদী বর্ণনা করেছেন (روى) যে, সিফফিনের যুদ্ধে মুয়াবিয়া (রা.)-এর সৈন্যবাহিনী থেকে প্রায় পাঁচশত মুসহাফ উপরে তোলা হয়েছিল। এটি ছিল সেই বিখ্যাত কৌশল যা

আমর ইবনুল আস (রা.) ঐ যুদ্ধে নির্দেশ করেছিলেন। উসমান (রা.)-এর সংকলন থেকে সিফফিনের যুদ্ধ পর্যন্ত মাত্র সাত বছরের ব্যবধান ছিল।

আর এখানে এমন একটি বিষয় রয়েছে যা সম্পর্কে সতর্ক করা ছাড়া আমাদের কোনো গত্যন্তর নেই, আর তা হলো—কুরআন সংকলন ছিল যা কিছু লেখা হয়েছিল তার যথাযথ অনুসন্ধান।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৩২)
واستيعاباً لما في الصدور، فكانوا لا يقبلون إلا بشهادة قد امتحنوها، أو حلف قد وثقوا من صاحبه، وإلا بعد العرض على من جمعوا وعرضوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم. فإن الصحابة كانوا

يحسنون التهجي، وقد يكتبون ما يقرأون على وجه من وجوه الكتابة، أو يكتبون بحرف من القراءات، كالذي رواه ابن فارس بسنده عن هانئ قال: كتبت عند عثمان رضي الله تعالى عنه

وهم يعرضون المصاحف، فأرسلني بكتِف شاة إلى أبي بن كعب فيها

(لم يَتسَن) و (فأمهل الكافرين) ، و (لا تبديل للخلق) قال: فدعا بالدواة فمحا إحدى اللامين، وكتب " لخلق الله " - ومحا

" فأمهل " وكتب (فمهل) وكتب (يَتسَنه) ألحق فيها هاء والقراءة على هذا الرسم.

فذهب جماعة من أهل الكلام ممن لا صناعة لهم إلا الظن والتأويل، واستخراجُ الأساليب الجدَلية من كل حكم وكل قول " إلى جواز أن يكون قد سقط عنهم من القرآن شيء، حملا على ما وصفوا من كيفية جمعه، وهو باطل من الظن، لما علمته من أنباء حَفَظته الذين جمعوه وعرضوه،

ثم لما رأيت من تثبتهم في ذلك حتى جُمعت لهم الصحة من أطرافها، ثم لإجماع الجم الغفير من الصحابة على أن ما بين دفتي المصحف هو الذي تلقوه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يأته الباطل من بين

يديه ولا من خلفه، ولا اقتطع منه الباطلُ شيئاً.

ونحن فما رأينا الروايات تختلف في شيء من الأشياء فضلَ اختلاف، وتتسَنم في الروايات والتأويل كل طريق وعر؛ كما رأينا من أمرها فيما عدا نصوص ألفاظ القرآن، فإن هذه الألفاظ متواترة إجماعاً لا يَتدارأ فيها الرواة، مَن علا منهم ومَن نزل، وإنما كان ذلك لأن القرآن أصل هو

الدين وما اختلفوا فيه إلا من بعد اتساع الفتن؛ وتألب الأحداث وحين رجع بعض الناس من النفيس

إلى أشد من الأعرابية الأولى، وراغ أكثرهم عن موقع اليقين من نفسه، فاجترأوا على حدود الله

وضربتهم الفتنُ والشبهات مقبلاً بمدبر ومدبراً بمقبل. فصار كل نزع إلى الاختلاف، يريد أن يحمل

من القرآن ما يختلف معه أو يختلف به، وهيهات ذلك إلا أن يَتَدسس في الرواية بمكروه يكون

معه التأويل والأباطيل، وإلا أن يفتح الكلمة السيئة ويبالغ في الحمل على ذمته والعنف بها فهي

أشياء لا ترد إلى الله ولا إلى الرسول، ولا يعرفها الذين يستنبطون من الحق، بل لا يعرفون لها من الحق وجهاً.

ونحسب أن أكثر ذلك مما افترته الملحِدة وتزيْدت به الفئة الغالية، وهم فرق كثيرة يختلفون فيه بغياً بينهم، وكلهم يرجع إلى القرآن بزعمه ويرى فيه حجته على مذهبه وبَينتَه على دعواه
অন্তরে যা সংরক্ষিত ছিল তার পূর্ণ আয়ত্তকরণের লক্ষ্যে, তাঁরা এমন কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ করতেন না যা তাঁরা পরীক্ষা করে দেখেননি, অথবা এমন কোনো শপথ গ্রহণ করতেন না যার প্রদানকারীর ব্যাপারে তাঁরা নিশ্চিত ছিলেন না। আর তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে যারা কুরআন সংকলন করেছেন এবং পেশ করেছেন, তাঁদের নিকট উপস্থাপন করা ব্যতীত কিছু গ্রহণ করতেন না। সাহাবীগণ

শব্দবিন্যাস ও বানানরীতিতে পারদর্শী ছিলেন। তাঁরা যা পাঠ করতেন তা কোনো না কোনো লিখনশৈলীতে লিখে রাখতেন, অথবা বিভিন্ন কিরাআতের (পঠনরীতি) কোনো একটি হরফে লিখতেন। যেমনটি ইবনে ফারিস তাঁর সনদ (سند) সহকারে হানির সূত্রে বর্ণনা করেছেন; হানি বলেন: আমি উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট অবস্থানকালে লিখছিলাম

যখন তাঁরা মাসহাফসমূহ যাচাই করছিলেন। তিনি আমাকে একটি পশুর কাঁধের হাড় দিয়ে উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট পাঠালেন, যাতে লেখা ছিল

(লাম ইয়াতাসান) এবং (ফা আমহিলিল কাফিরীন) এবং (লা তাবদীলা লিল খালক)। তিনি (উবাই) দোয়াত চাইলেন এবং একটি 'লাম' মুছে দিলেন ও লিখলেন "লিল খালকিল্লাহ" - আর মুছে দিলেন

"ফা আমহিল" এবং লিখলেন (ফা মাহহিল) এবং লিখলেন (ইয়াতাসান্নাহ) যাতে একটি 'হা' যুক্ত করলেন। আর এই লিখনশৈলী অনুসারেই কিরাআত প্রচলিত হয়েছে।

অতঃপর ইলমুল কালামের একদল লোক—যাদের কাজ কেবল ধারণা ও ব্যাখ্যা (تأويل) প্রদান করা এবং প্রতিটি হুকুম ও বক্তব্য থেকে বিতর্কিত পদ্ধতি বের করা—এই মত পোষণ করেছেন যে, কুরআন সংকলনের যে পদ্ধতি তাঁরা বর্ণনা করেছেন তার ওপর ভিত্তি করে কুরআন থেকে কিছু অংশ বাদ পড়ে যাওয়া সম্ভব। এটি সম্পূর্ণ বাতিল ধারণা, কারণ আপনি সেই হাফেজদের সংবাদ সম্পর্কে অবগত যারা এটি সংগ্রহ করেছিলেন এবং পেশ করেছিলেন।

অতঃপর আপনি এ বিষয়ে তাঁদের সতর্কতাও দেখেছেন, যার ফলে সব দিক থেকে তাঁদের জন্য বিশুদ্ধতা (صحة) অর্জিত হয়েছে। তদুপরি, সাহাবীদের এক বিশাল জনসমষ্টির ঐক্যমত (إجماع) রয়েছে যে, দুই মলাটের মধ্যবর্তী এই মাসহাফটিই সেই কিতাব যা তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন। এতে সামনে বা পেছন থেকে কোনো বাতিল বা অসত্য প্রবেশ করতে পারেনি,

এবং বাতিল এর থেকে কোনো কিছু কেড়ে নিতেও পারেনি।

আমরা বর্ণনাসমূহের (رواية) মধ্যে এমন কোনো গুরুতর মতভেদ দেখিনি এবং বর্ণনা ও ব্যাখ্যার (تأويل) ক্ষেত্রে এমন কোনো দুর্গম পথ দেখিনি, যা কুরআনের শব্দাবলি ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে দেখা যায়। কারণ কুরআনের এই শব্দাবলি ঐক্যমত (إجماع) অনুযায়ী নিরবিচ্ছিন্ন (متواتر); উচ্চ বা নিম্ন স্তরের কোনো বর্ণনাকারীই (راوي) এ নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেন না। এর কারণ হলো কুরআনই হলো মূল ভিত্তি যা

দ্বীন। লোকেরা কেবল তখনই এতে মতভেদ শুরু করেছিল যখন ফিতনা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং নানাবিধ ঘটনাপুঞ্জ পুঞ্জীভূত হয়েছিল। যখন কিছু মানুষ সেই অমূল্য অবস্থা

থেকে পুনরায় জাহেলী যুগের চরম গ্রাম্য স্বভাবের দিকে ফিরে গিয়েছিল এবং তাদের অধিকাংশের অন্তর থেকে ইয়াকীন বা দৃঢ় বিশ্বাস সরে গিয়েছিল। ফলে তারা আল্লাহর সীমানা লঙ্ঘনে দুঃসাহসী হয়ে ওঠে

এবং ফিতনা ও সংশয় তাদের সামনে-পেছনে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে। ফলে প্রতিটি মতভেদপ্রবণ ব্যক্তি কুরআনের এমন অর্থ গ্রহণ করতে চাইল

যা তার নিজস্ব মতের সাথে খাপ খায়। কিন্তু এটি অসম্ভব ছিল, যদি না বর্ণনার (رواية) মধ্যে কোনো অপছন্দনীয় বিষয় অনুপ্রবেশ করানো হতো যার সাথে

ব্যাখ্যা (تأويل) ও বাতিল বিষয়ের সংমিশ্রণ থাকতো, অথবা কোনো মন্দ কথার সূত্রপাত ঘটিয়ে তা জবরদস্তি করে চাপিয়ে দেওয়া হতো। এগুলো এমন

বিষয় যা আল্লাহ বা তাঁর রাসূলের দিকে ফিরে যায় না এবং যারা সত্য থেকে বিধান উদ্ঘাটন (استنباط) করেন, তাঁরাও এর সাথে পরিচিত নন; বরং তাঁরা এতে সত্যের কোনো চিহ্নই খুঁজে পান না।

আমাদের ধারণা, এসবের অধিকাংশ বিষয় নাস্তিকদের উদ্ভাবন এবং চরমপন্থী দলের বাড়াবাড়ি। তারা অনেক উপদলে বিভক্ত যারা নিজেদের পারস্পরিক বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে এতে মতভেদ করে। তাদের প্রত্যেকেই নিজের ধারণা অনুযায়ী কুরআনের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে এবং কুরআনকেই তার মাযহাবের প্রমাণ ও দাবির সপক্ষে দলিল হিসেবে মনে করে।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ثم أهل الزيغ والعصبية لآرائهم في الحق والباطل، ثم ضعاف الرواة ممن لا يميزون أو ممن تعارضهم الغفلة في التمييز، وذلك سواء كله ظلمات بعضها فوق بعض، (وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ) .

وقد وردت روايات قليلة في أشياء زعموا أنها كانت قرآناً ورفع. على أن

رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقرر الأحكام عن ربه إذا لم ينزل بها قرآن، لأن السنة كانت تأتي مأتاه، ولذلك

قال عليه الصلاة والسلام: " أوتيت الكتاب ومثلَه معه " يعني السنن.

وعلى هذا الحديث يخرج في رأينا كل ما رووه مما حسبوه كان قرآناً فرفع وبطلت تلاوته على قلة ذلك إن صح. لأنه يكون وحياً، وليس كل وحي بقرآن، على أن ما ورد من ذلك ورد

معه اضطرابهم فيه وضعف وزنه في الرواية، وأكبر ظناً أنها روايات متأخرة من محدثات الأمور،

وأن في هذه المحدثات لما هو أشد منها وأجدى بشؤمه. ولو كان من تلك شيء في العهد الأول

لرويت معها أقوال أخرى لأئمة الإثبات الذين كان إليهم المفزعُ من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وهم

كانوا يومثذ متوافرين، وكلهم مُقرن لذلك قوي عليه؛ وكانوا يعلمون أن المراء في القرآن كفر وردة، وإن إنكار بعضه كإنكاره جملة، وإن أجمعوا على ما في مصحف عثمان وأعطوه بَذلَ ألسنتهم في الشهادة، أي قوتها، وما استطاعت من تصديق.

ونحن من جهتنا نمنع كل المنع، ولا نعبأ أن يقال إنه ذهب من القرآن شيء، وإن تأولوا لذلك وتمحلوا، وإن أسندوا الرواية إلى جبريل وميكائيل ونعتد ذلك السوأة الصلعاء التي لا يرحُضها من جاء بها ولا يغسلها عن رأسه بعد قوله الله: (لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ) أفترى باطلهم جاءه من فوقه إذن؟ . .

ولا يتوهمن أحد أن نسبة بعض القول إلى الصحابة نص في أن ذلك القول الصحيح ألبتة،

فإن الصحابة غير معصومين، وقد جاءت روايات صحيحة بها أخطأ فيه بعضهم من فهم أشياء من

القرآن على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وذلك العهد هو ما هو، ثم بما وَهِل عنه بعضهم مما تحدثوا من

أحاديثه الشريفة، فأخطاوا في فهم ما سمعوا، ونقلنا في باب الرواية من تاريخ آداب العرب أن بعضهم كان يرد على بعض فيما يشبه لهم أنه الصواب خوف أن يكونوا قد وهموا.

وثبت أن عمر رضي الله عنه شك في حديث فاطمة بنت قيس، بل شك في حديث عمار بن ياسر في التيمم لخوف الوهم، مع أن عماراً ممن لا يتهم بتعمد الكذب، ولا بالكذب وهلة،

لصحبته وسابقته مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ولذلك أذن له عمر في رواية هذا الحديث مع شكه هو في صحته.
তারপর সত্য ও মিথ্যার ক্ষেত্রে স্বীয় মতাদর্শের প্রতি বিচ্যুতি ও গোঁড়ামিতে লিপ্ত ব্যক্তিবর্গ; অতঃপর দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারীগণ, যারা পার্থক্য করতে সক্ষম নয় অথবা যাদের বিচার-বিবেচনায় অসতর্কতা বা গাফিলতি (غفلة) প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। এ সবকিছুই মূলত অন্ধকারের পুঞ্জীভূত স্তর, যার একটির ওপর আরেকটি অবস্থান করছে। (আর আল্লাহ যাকে আলো দান করেন না, তার জন্য কোনো আলো নেই)।

এমন অল্প কিছু বর্ণনা (روايات) এসেছে যাতে তারা দাবি করেছে যে, সেগুলো কুরআনের অংশ ছিল এবং পরে তা তুলে নেওয়া হয়েছে। অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের পক্ষ থেকে বিধানসমূহ সুনির্ধারিত করে দিতেন যখন সে বিষয়ে কোনো কুরআন নাজিল হতো না। কারণ সুন্নাহ কুরআনের স্থলাভিষিক্ত হিসেবেই আসত। এজন্যই

তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম বলেছেন: "আমাকে কিতাব এবং তার সাথে অনুরূপ আরেকটি বিষয় প্রদান করা হয়েছে", অর্থাৎ সুন্নাহসমূহ।

আমাদের মতে, এই হাদিসের আলোকেই সেই সকল বর্ণনাকে ব্যাখ্যা করা হবে যেগুলোকে তারা কুরআনের অংশ মনে করত এবং পরবর্তীতে তা মানসুখ বা রহিত হয়ে তিলাওয়াত বাতিল হয়ে গেছে বলে গণ্য করত—যদি সেই বর্ণনাগুলো সহিহ (صح) হয়ে থাকে। কারণ সেগুলো ছিল ওহি, আর প্রতিটি ওহিই কুরআন নয়। তা সত্ত্বেও এ জাতীয় যা কিছু বর্ণিত হয়েছে,

তার সাথে বর্ণনাকারীদের অস্থিরতা বা বৈসাদৃশ্য (اضطراب) এবং বর্ণনার মানে দুর্বলতা (ضعف) প্রকাশ পেয়েছে। প্রবল ধারণা এই যে, এগুলো পরবর্তী সময়ে উদ্ভাবিত নবতর বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত বর্ণনা।

আর এই নবতর বিষয়াবলির মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা অধিকতর গুরুতর এবং এর অশুভ প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। যদি ইসলামের প্রাথমিক যুগে এর কোনো অস্তিত্ব থাকত,

তবে নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় (الأثبات) ইমামদের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত অন্যান্য বক্তব্যও বর্ণিত হতো, যারা ছিলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল।

সে সময় তাঁরা বিপুল সংখ্যায় বিদ্যমান ছিলেন এবং প্রত্যেকেই এ বিষয়ে একমত ও শক্তিশালী অবস্থানে ছিলেন। তাঁরা জানতেন যে, কুরআন নিয়ে বিতর্ক করা কুফরি ও ধর্মত্যাগ, এবং এর কিয়দাংশ অস্বীকার করা সমগ্র কুরআন অস্বীকার করার নামান্তর। তাঁরা উসমানের মাসহাফে যা সংকলিত হয়েছিল তার ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন এবং নিজেদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে এর সাক্ষ্য ও সত্যতা নিশ্চিত করেছিলেন।

আমাদের পক্ষ থেকে আমরা এটি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি এবং কুরআন থেকে কিছু হারিয়ে গেছে—এমন কথাকে কোনো গুরুত্ব দেই না; যদিও তারা এর স্বপক্ষে অপব্যাখ্যা বা কূটতর্কের আশ্রয় নেয় এবং যদিও তারা বর্ণনাটিকে জিবরাঈল ও মিকাইলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে। আমরা একে এমন এক কলঙ্কজনক কাজ মনে করি, যা কোনো বর্ণনাকারীই স্খালন করতে পারবে না এবং আল্লাহর এই বাণীর পর নিজের মাথা থেকেও ধুয়ে ফেলতে পারবে না: (মিথ্যা এর সামনে দিয়েও আসতে পারে না, পেছন দিয়েও নয়)। তবে কি তাদের এই বাতিল কথা উপর দিক থেকে এসেছে? . .

কেউ যেন এটি মনে না করেন যে, কোনো বক্তব্য সাহাবীদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া মানেই তা চূড়ান্তভাবে সহিহ (صحيح)।

কেননা সাহাবীগণ নিষ্পাপ নন। এমন অনেক সহিহ (صحيحة) বর্ণনা রয়েছে যেখানে দেখা যায়, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে স্বয়ং সাহাবীদের কেউ কেউ কুরআনের কিছু বিষয় বুঝতে ভুল করেছিলেন। এরপর তাঁর সম্মানিত হাদিসসমূহ বর্ণনা করার ক্ষেত্রেও কেউ কেউ বিভ্রমে (وهم) পতিত হয়েছেন, ফলে যা শুনেছেন তা বুঝতে ভুল করেছেন। আমরা ‘তারিখে আদাবিল আরব’-এর বর্ণনা অধ্যায়ে উল্লেখ করেছি যে, সাহাবীদের কেউ কেউ অপরের ভুল সংশোধনে কুণ্ঠাবোধ করতেন না যখন তাঁদের কাছে সঠিক বিষয়টি প্রতিভাত হতো, এই ভয়ে যে—পাছে অন্যজন ভুল বা বিভ্রমে (وهم) লিপ্ত হন।

এটি প্রমাণিত যে, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ফাতিমা বিনতে কাইসের বর্ণিত হাদিস নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন; এমনকি তিনি আম্মার ইবনে ইয়াসিরের তায়াম্মুম সংক্রান্ত হাদিস নিয়েও সংশয় পোষণ করেছিলেন বিভ্রমের (وهم) আশঙ্কায়। অথচ আম্মার এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন না যার ওপর ইচ্ছাকৃত মিথ্যাচারের (تعمد الكذب) কিংবা মুহূর্তের জন্যও মিথ্যার কোনো অভিযোগ আনা যায়,

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য এবং ইসলামে তাঁর অগ্রগণ্য হওয়ার কারণে। তা সত্ত্বেও উমর তাঁকে এই হাদিস বর্ণনার অনুমতি দিয়েছিলেন যদিও তিনি নিজে এর বিশুদ্ধতা বা সহিহ (صحة) হওয়া নিয়ে সংশয়ে ছিলেন।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
على أن تلك الروايات القليلة إن صحت أسانيدها أو لم تصح: فهي على ضعفها وقلتها مما لا حفل به؛ ما دام إلى جانبها إجماعُ الأمة وتظاهر الروايات الصحيحة وتواتر النقل والأداء على التوثيق.

وبعد فما تلك الردة التي كانت بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم والفتن التي تعاقبت والأحداث التي

استفاضت، والانشقاق الذي ارفضت به عصا الإسلام - بأقل شأناً ولا أضعف خطراً من هذا كله

ومثله معه من ضروب الأقاويل؛ حتى لا يقتحم مجترئ ولا يستهدف مفتر ولا يبالغ مبطل ولا ينحرف متأول، وحتى لا يروى من أشباه ذلك دقيق أو جليل؛ وإنَّما قياس الباطل بالعلم الحق،

وقياس الظن باليقين الثقة، وأنت تعلم أن كل ما رووه لم يأت من قِبَل الإجماع، وليس له من هذه

الحجة مادة ولا قوة، ولو أن الأمر كان إلى الرأي والنظر لقلنا: لعله ولعلنا، ولكنها الرواية وملاكها، والأدلة واشتراكها (وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ عَلَى حَرْفٍ فَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ اطْمَأَنَّ بِهِ وَإِنْ أَصَابَتْهُ فِتْنَةٌ انْقَلَبَ عَلَى وَجْهِهِ خَسِرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةَ) .
সেই স্বল্পসংখ্যক বর্ণনাগুলোর সনদসমূহ (أسانيد) সহিহ (صحيح) হোক বা না হোক: সেগুলোর দুর্বলতা (ضعف) ও স্বল্পতার কারণে সেগুলো গুরুত্বহীন; যতক্ষণ না সেগুলোর বিপরীতে উম্মাহর ঐক্যমত (إجماع), সহিহ (صحيحة) বর্ণনাগুলোর প্রাচুর্য এবং নির্ভরযোগ্যতা সাব্যস্ত করার (توثيق) ক্ষেত্রে বর্ণনা ও হস্তান্তরের নিরবচ্ছিন্নতা (تواتر) বিদ্যমান থাকে।

বস্তুত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর সংঘটিত সেই ধর্মত্যাগ (ردة), একের পর এক আসা ফিতনাহ (فتن) এবং ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া (استفاضة) ঘটনাবলি এবং সেই বিভেদ যার ফলে ইসলামের সংহতি বিনষ্ট হয়েছিল—তা এসব নানাবিধ কথাবার্তার চেয়ে কোনো অংশেই কম গুরুত্বপূর্ণ বা কম বিপজ্জনক নয়;

যাতে কোনো দুঃসাহসী আক্রমণ করতে না পারে, কোনো মিথ্যাচারী লক্ষ্যবস্তু বানাতে না পারে, কোনো বাতিলপন্থী অতিরঞ্জন না করে এবং কোনো অপব্যাখ্যাকারী বিচ্যুত না হয়। আর যাতে ছোট বা বড় কোনো বিষয়ই এ জাতীয় বিষয়ের ভিত্তিতে বর্ণিত (رواية) না হয়। বরং মিথ্যার পরিমাপ করতে হবে সত্য জ্ঞানের মাধ্যমে,

আর ধারণা (ظن)-কে যাচাই করতে হবে নিশ্চিত (يقين) নির্ভরযোগ্য (ثقة) জ্ঞানের মাধ্যমে। আপনি জানেন যে, তারা যা কিছু বর্ণনা (رواية) করেছে তার কোনোটিই উম্মাহর ঐক্যমতের (إجماع) ভিত্তি থেকে আসেনি এবং এই প্রমাণের (حجة) স্বপক্ষে কোনো উপাদান বা শক্তি নেই। যদি বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত অভিমত (رأي) বা চিন্তাপ্রসূত হতো, তবে আমরা বলতাম: 'হয়তো সে বা হয়তো আমরা', কিন্তু এটি হলো বর্ণনা (رواية) ও তার ভিত্তি এবং দলিলসমূহের (أدلة) সমষ্টিগত সমন্বয়। (আর মানুষের মধ্যে এমনও কেউ আছে যে আল্লাহর ইবাদত করে এক কিনারায় দাঁড়িয়ে; যদি সে কল্যাণের সম্মুখীন হয় তবে তাতে প্রশান্তি লাভ করে, আর যদি কোনো ফিতনাহ (فتنة) বা বিপদের সম্মুখীন হয় তবে সে পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়; সে ইহকাল ও পরকাল উভয়ই হারালো)।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌القراءة وطرق الأداء

وهذا الفصل مما نتأذى به إلى الكلام في لغة القرآن، فهو سبيلنا إليها في نَسق التأليف، إذ القراءة والأداء أمران يتعلقان باللفظ ويبنيان على وجوه اللغة التي قام بها.

وليس من همنا فيما نأتي به إلا نقضي حق التاريخ اللغوي، منصرفين ما وَسعنا الانصراف عن الجهة الفنية التي هي جانب من علمي القراءات والتجويد، فإن الكلام في هذه الجهة يتسع،

وهو غير ما نحن فيه، وما زالت الجهة الفنية من كل علم هي فرغ من أصله في التاريخ.

نزل القرآن على رسول الله صلى الله عليه وسلم بأفصح ما تسمو إليه لغة العرب في خصائصها العجيبة وما

تقوم به، مما هو السبب في جزالتها ودقة أوضاعها وإحكام نظمها واجتماعها من ذلك على تأليف صوتي يكاد يكون موسيقياً محضاً، في التركيب، والتناسب بين أجراس الحروف والملاءمة بين طبيعة المعنى وطبيعة الصوت الذي يؤديه، كما بيناه في بابه من الجزء الأول

فكان مما لا بدَّ منه بالضرورة أن يكون القرآن أملكَ بهذه الصفات كلها، وأن يكون ذلك التأليف

أظهرَ الوجوهِ التي نزل عليها، ثم أن تتعدد فيه مناحي هذا التأليف تعدداً يكافئ الفروع اللسانية

التي سبقت بها فطرة اللغة في العرب، حتى يستطيع كل عربي أن يوقع بأحرفه وكلماته على لحنه الفطري ولهجة قومه، توقيعاً يطلق من نفسه الأصوات الموسيقية التي يشيع بها الطرب في

هذه النفس، بما يسمونه في لغة العرب بياناً وفصاحة. وهو في لغة الحقيقة الموسيقى اللغوية.

وإذا تم هذا النظم للقرآن مع بقاء الإعجاز الذي تحدى به، ومع اليأس من معارضته،

على ما يكون في نظمه من تقلب الصور اللفظية في بعض الأحرف والكلمات بحسب ما يلائم تلك الأحوال في مناطق العرب، فقد تم له التمام كله، وصار إعجازه إعجازاً للفطرة اللغوية في

نفسها حيث كانت وكيف ظهرت ومهما يكن من أمرها: ومتى كان العجز فطرياً فقد ثبت بطبيعته، وإن لجَّ فيه الناس جميعاً، لأنه شيء في تلك الفطرة يفهم منه صريحا ثم لا تنكر هي

موضعه منها وموقعه، وإن كابرت فيه الألفاظ وبالغت الأهواء في جَحده والانتفاء منه مراءً ومغالبة.

والطبيعة قد توجد في مفردات لغتها مترادفات، بحيث يكون الشيئان لمعنى واحد، ولكن لا توجد فيها الأضداد بحال من الأحوال، فلا يكون الشيء الطبيعي محتملاً بصورته الواحدة لأن

بكون إقراراً وإنكاراً معاً، ومن ثم لا يستقيم للعرب أن يعارضوا القرآن، إذ كان مأتى العجز من
কিরাআত (القراءة) এবং আদায়ের (الأداء) পদ্ধতিসমূহ

এই অধ্যায়টি আমাদের কুরআনের ভাষা সংক্রান্ত আলোচনার দিকে নিয়ে যাবে; রচনার বিন্যাসের ক্ষেত্রে এটি আমাদের জন্য সেই পথ, কারণ কিরাআত (القراءة) ও আদায় (الأداء) এমন দুটি বিষয় যা সরাসরি শব্দের উচ্চারণের সাথে সম্পৃক্ত এবং ভাষার সেসব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত যার মাধ্যমে ভাষা গড়ে উঠেছে।

আমাদের বর্তমান আলোচনার উদ্দেশ্য হলো কেবল ভাষাতাত্ত্বিক ইতিহাসের দাবি পূরণ করা। আমরা যতটা সম্ভব কিরাআত (القراءات) ও তাজবিদ (التجويد) বিজ্ঞানের কারিগরি বা কৌশলগত দিকটি এড়িয়ে চলব, কারণ এই দিকের আলোচনা অত্যন্ত বিস্তৃত।

আর তা আমাদের বর্তমান বিষয়ের বহির্ভূত। প্রতিটি শাস্ত্রের কারিগরি দিকটি মূলত ইতিহাসে তার মূলভিত্তি থেকে উৎসারিত শাখা মাত্র।

কুরআন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে আরবী ভাষার সেই বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য ও সক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রাঞ্জল রূপ নিয়ে, যা এর শব্দের দৃঢ়তা, প্রয়োগের সূক্ষ্মতা ও বাক্যবিন্যাসের নিপুণতার কারণ। একইসাথে এটি এমন এক ধ্বনিমাধুর্যের সমন্বয় ঘটিয়েছে যা রচনার ক্ষেত্রে প্রায় বিশুদ্ধ সংগীতের মতো; যেখানে অক্ষরের সুরের মধ্যে সামঞ্জস্য এবং অর্থের প্রকৃতির সাথে তা আদায়ের শব্দের প্রকৃতির গভীর মিল বিদ্যমান, যা আমরা প্রথম খণ্ডের সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে বর্ণনা করেছি।

ফলে এটি অপরিহার্য ছিল যে, কুরআন এই সমস্ত গুণের ওপর পূর্ণ আধিপত্য রাখবে এবং এই বিশেষ বিন্যাসই হবে এর অবতীর্ণ হওয়ার সবচেয়ে সুস্পষ্ট রূপ। অতঃপর এই রচনারীতির বহুমুখিতা এমন হবে যা আরবের স্বভাবজাত ভাষাতাত্ত্বিক শাখাগুলোর সমতুল্য হয়। এর ফলে প্রত্যেক আরব নাগরিক যেন তার সহজাত সুর এবং স্বীয় গোত্রের কথ্য রীতি অনুযায়ী এর অক্ষর ও শব্দগুলো উচ্চারণ করতে পারে; এমন এক উচ্চারণ যা তার অন্তরের গভীরে সেই সংগীতময় সুরকে জাগিয়ে তুলবে যার মাধ্যমে সে আনন্দ লাভ করে। একেই তারা আরবী ভাষায় অলঙ্কার (بيان) ও প্রাঞ্জলতা (فصاحة) বলে অভিহিত করে। আর এটি মূলত বাস্তব অর্থে ভাষাতাত্ত্বিক সংগীত।

কুরআনের এই অনন্য বিন্যাস যখন তার অলৌকিকত্ব (إعجاز) অক্ষুণ্ণ রেখেই পূর্ণতা পেল—যার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং যার মোকাবিলা করার ব্যাপারে মানুষ নিরাশ হয়েছিল—যদিও আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের কথ্য রীতি অনুযায়ী এর বিন্যাসে কিছু অক্ষর ও শব্দের রূপগত বৈচিত্র্য বিদ্যমান ছিল, তখন এর পূর্ণতা পুরোপুরি সাধিত হলো। এর অলৌকিকত্ব (إعجاز) হয়ে দাঁড়ালো খোদ ভাষাতাত্ত্বিক স্বভাবজাত প্রকৃতির জন্য একটি বিস্ময়—তা যেখানেই থাকুক এবং যেভাবে প্রকাশিত হোক না কেন। যখন কোনো অক্ষমতা স্বভাবজাত বা প্রকৃতিগত হয়, তখন তা প্রাকৃতিকভাবেই প্রমাণিত হয়ে যায়, যদিও সমস্ত মানুষ তা নিয়ে তর্কে লিপ্ত হয়। কারণ এটি স্বভাবজাত প্রকৃতির এমন একটি বিষয় যা থেকে সত্য স্পষ্টভাবে অনুভূত হয় এবং প্রকৃতি এর গুরুত্ব ও অবস্থানকে অস্বীকার করতে পারে না; যদিও শব্দ দ্বারা তার বিরুদ্ধে বিতর্ক করা হয় কিংবা কুপ্রবৃত্তি বশত তাকে অস্বীকার করার ও তার থেকে বিমুখ হওয়ার চরম প্রচেষ্টা চালানো হয়।

প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী কোনো ভাষার শব্দভাণ্ডারে প্রতিশব্দ থাকতে পারে, যেখানে দুটি শব্দ একই অর্থ প্রকাশ করে; কিন্তু সেখানে কোনোভাবেই বিপরীতধর্মী বিষয় থাকতে পারে না। কোনো প্রাকৃতিক বিষয় তার অভিন্ন রূপের কারণে একই সাথে স্বীকৃতি ও অস্বীকৃতি হওয়ার অবকাশ রাখে না। তাই আরবদের পক্ষে কুরআনের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; কারণ অক্ষমতার উৎসটি মূলত...
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فطرتهم اللغوية، ولا يتوهم ذلك وإن انتشرت لهم في الخلافِ كل قالة.

ذلك فيما ترى هو السبب الأول الذي من أجله اختلفت بعض ألفاظ القرآن في قراءتها

وأدائها اختلافاً صح جميعه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحت قراءته؛ وهو كان أعلمَ العرب بوجوه

لغتها، كما سيأتي في موضعه؛ إذ لا وجه عندنا للاختلاف الصحيح إلا هذا، فإن القرآن لو نزل

على لفظ واحد ما كان بضائره شيئاً وهو ما هو إحكاماً وإبداعاً، فهذه واحدة.

وحكمة أخرى، وهي تيسير القراءة والحفظ على قوم أميين لم يكن حفظ الشرائع مما عرفوه فضلاً عن أن يكون مما ألفوه.

وثالثة تلحق بمعاني الإعجاز، وهي أن تكون الألفاظُ في أختلاف بعض صورها مما يتهيأ معه استنباط حكم أو تحقيق معنى من معاني الشريعة، ولذا كانت القراءات من حجة الفقهاء في

الاستنباط والاجتهاد، وهذا المعنى مما انفرد به القرآن الكريم ثم هو مما لا يستطيعه لغوي أو بياني

في تصوير خيالٍ فضلاً عن تقرير شريعة.

ومن أعجب ما رأيناه في إعجاز القرآن وإحكام نظمه، أنك تحسب ألفاظَه هي التي تنقاد لمعانيه. ثم تتعرف ذلك وتتغلغل فيه فتنتهي إلى أن معانيه منقادة لألفاظه، ثم تحسب العكس وتتعرفه متثَبتاً فتصير منه إلى عكس ما حسبت وما إن تزال متردداً على منازعة الجهتين كلتيهما،

حتى ترده إلى الله الذي خلق في العرب فطرة اللغة، ثم أخرج من هذه اللغة ما أعجز تلك الفطرة.

لأن ذلك التوالي بين الألفاظ ومعانيها. وبين المعاني وألفاظها، مما لا يعرف مثله إلا في الصفات

الروحية العالية. إذ تتجاذب روحان قد ألفت بينهما حكمة الله فركبتهما تركيباً مَزجياً بحيث لا يجري حكم في هذا التجاذب على إحداهما حتى يَشملها جميعاً.

ووجوه الاختلاف الطبيعي - كاختلاف القراءات في العرب - مما لا تفهم له تلك الطباع المختلفة به وجهاً، لأن كل عربي قد ثَبت على لحنه في النطق أو القراءة فيحسب ذلك الاختلاف مما لا يحتمله الشيء الثابت.

ولهذا جاءت بعض روايات عن الصحابة رضي الله عنهم

تصف نبضاً من الشك ربما كانت تضرب به قلوبهم، حين يسمعون الاختلاف بين قراءة وقراءة

حتى يصرف الله عنهم ذلك ويربط على قلوبهم كما روي عن عمر بن الخطاب، قال: سمعت

هشام بن حكيم يقرأ سورة الفرقانَ في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فاستمعت لقراءته، فإذا هو يقرؤها على

حروف كثيرة لم يقرئنِيها رسول الله صلى الله عليه وسلم كذلك، فكدت أساوره في الصلاة فصبرت حتى سلَّم،

فلما سلَّم لبَّبته بردائه فقلت. مَن أقرأك هذه السورة التي سمعتك تقرؤها؛ قال: أقرأنيها
তাদের ভাষাগত প্রকৃতি; আর এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি বা কল্পনা করা উচিত নয়, যদিও তাদের মতভেদের বিষয়ে নানা কথা ছড়িয়ে পড়েছে।

তোমার দৃষ্টিতে এটাই প্রথম কারণ যার ফলে কুরআনের কিছু শব্দের কিরাত (পাঠপদ্ধতি) এবং আদায়ের ক্ষেত্রে এমন ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় যা সবটুকুই রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে সহিহ (صحيح) পন্থায় সাব্যস্ত হয়েছে এবং এর কিরাতও শুদ্ধ (صحيح) প্রমাণিত হয়েছে। তিনি ছিলেন আরবদের মধ্যে তাদের ভাষার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত, যেমনটি তার যথাযোগ্য স্থানে আলোচিত হবে; কেননা আমাদের নিকট সহিহ (صحيح) মতভেদের আর কোনো কারণ নেই এটি ছাড়া। কুরআন যদি কেবল এক শব্দে অবতীর্ণ হতো তবে এর সুসংবদ্ধতা ও অলৌকিকত্বের কোনো ক্ষতি হতো না। এটি হলো প্রথম কারণ।

দ্বিতীয় আর একটি হিকমত হলো, এক নিরক্ষর জাতির জন্য কিরাত এবং হিফজ সহজসাধ্য করা, যাদের নিকট শরিয়তের বিধান মুখস্থ রাখা পরিচিত কোনো বিষয় ছিল না, অভ্যস্ত হওয়া তো দূরের কথা।

তৃতীয় কারণটি কুরআনের মোজেজা বা অলৌকিকত্বের অর্থের সাথে সম্পৃক্ত। তা হলো শব্দের রূপভেদের কারণে তা থেকে কোনো বিধান আহরণ (استنباط) বা শরিয়তের কোনো গূঢ় অর্থ অনুধাবন করা সহজ হয়। এ কারণেই ফকিহগণের নিকট ইস্তিম্বাত (استنباط) এবং ইজতিহাদের (اجتهاد) ক্ষেত্রে বিভিন্ন কিরাতসমূহ প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়। এই বৈশিষ্ট্যটি কেবল পবিত্র কুরআনেরই অনন্যতা, যা কোনো ভাষাবিদ বা অলঙ্কারশাস্ত্রবিদের পক্ষে নিছক কল্পনাচিত্র অঙ্কনের ক্ষেত্রেও সম্ভব নয়, শরিয়ত প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তো সুদূরপরাহত।

কুরআনের অলৌকিকত্ব এবং এর সুশৃঙ্খল বিন্যাসের মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় যা আমরা দেখেছি তা হলো, প্রাথমিক দৃষ্টিতে মনে হবে এর শব্দগুলো যেন অর্থের অনুগামী। এরপর যখন তুমি তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, তখন দেখবে এর অর্থগুলোই যেন শব্দের অনুগামী। পুনরায় এর বিপরীত চিন্তা করবে এবং স্থিরভাবে পর্যালোচনার পর আগের ধারণার উল্টোটা দেখতে পাবে। এভাবে দুই প্রান্তের দোলাচলে তুমি দুলতে থাকবে, যতক্ষণ না বিষয়টি আল্লাহর ওপর সোপর্দ করবে যিনি আরবদের মাঝে ভাষার প্রকৃতি দান করেছেন এবং সেই ভাষা থেকেই এমন কিছু বের করে এনেছেন যা খোদ সেই প্রকৃতিকে হার মানিয়েছে।

কেননা শব্দ ও তার অর্থের মধ্যে এবং অর্থ ও তার শব্দের মধ্যে এই যে অবিচ্ছিন্ন পর্যায়ক্রম, এর দৃষ্টান্ত কেবল উচ্চতর আধ্যাত্মিক গুণাবলির মধ্যেই পাওয়া সম্ভব। যেমন দুটি আত্মার মধ্যে যখন আকর্ষণ সৃষ্টি হয় এবং আল্লাহর হিকমতে তাদের মাঝে এক গভীর মেলবন্ধন ঘটে, তখন তাদের এমন এক মিশ্রণে পরিণত করা হয় যে একটির ওপর কোনো বিধান কার্যকর হলে তা উভয়কেই শামিল করে।

আর প্রকৃতিগত পার্থক্যের দিকগুলো—যেমন আরবদের মধ্যে বিভিন্ন কিরাতের ভিন্নতা—এমন এক বিষয় যা বিভিন্ন মেজাজের মানুষের পক্ষে সহজে বোধগম্য হয় না; কারণ প্রত্যেক আরব তার উচ্চারণভঙ্গি বা পাঠরীতিতে অটল থাকে, ফলে তারা এই ভিন্নতাকে কোনো স্থির বিষয়ের জন্য অসম্ভব বলে মনে করে।

এই কারণেই সাহাবীগণ (রা.) থেকে এমন কিছু বর্ণনা (رواية) এসেছে যা তাদের অন্তরে জেগে ওঠা সংশয়ের স্পন্দনকে চিত্রায়িত করে, যখন তারা এক কিরাতের সাথে অন্য কিরাতের ভিন্নতা শুনতেন; যতক্ষণ না আল্লাহ তাদের অন্তর থেকে তা দূর করে দেন এবং তাদের হৃদয়কে দৃঢ় করেন। যেমন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে, তিনি বলেন: আমি হিশাম ইবনে হাকিমকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় সূরা আল-ফুরকান তিলাওয়াত করতে শুনলাম। আমি তার তিলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শুনলাম এবং দেখলাম তিনি অনেকগুলো হরফে (পদ্ধতিতে) পাঠ করছেন যা রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে সেভাবে পড়াননি। নামাজের মধ্যেই আমি তাকে পাকড়াও করতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু ধৈর্য ধরলাম যতক্ষণ না তিনি সালাম ফেরালেন।

সালাম ফেরানোর পর আমি তার চাদর পেঁচিয়ে তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম, তোমাকে এই সূরাটি কে শিখিয়েছে যা আমি তোমাকে তিলাওয়াত করতে শুনলাম? তিনি বললেন: আমাকে এটি শিখিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقلت: كذبت، فوالله إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لهو أقرأني هذه السورة. فانطلقت به أقوده

إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت: يا رسول الله، إني سمعت هذا يقرأ سورة الفرقان على حروف لم تقرئنيها، وأنت أقرأتني سورة الفرقان. فقال رسول الله جتَ: " اقرأ يا هشام "، فقرأ عليه القراءة التي

سمعته يقرؤها، فقال: " هكذا نزلت "، ثم قال: " اقرأ يا عمر "، فقرأت القراءة التي أقرأني رسول الله لمجم، فقال: " هكذا نزلت "، ثم قال: " إن هذا القرآن نزل على سبعة أحرف فاقرأوا ما تيسر منها ".

فتأمل قوله " ما تيسر " تصِب منها شرحاً طويلاً، وسنقول في هذه السبعة بعد.

ورووا أن عبد الله بن مسعود لما خرج من الكوفة اجتمع إليه أصحابه فودعهم ثم قال: لا تَنازعوا في القرآن، فإنه لا يختلف ولا يتلاشى ولا ينفَد لكثرة الرد. وإنه شريعةَ الإسلام وحدوده

وفرائضه فيه واحدة، ولو كان شيء من الحرفين ينهَى عن شيء يامر به الآخر كان ذلك الاختلافُ.

ولكنه جامع ذلك كله، لا تختلف فيه الحدود ولا الفرائضُ ولا شيء من شرائع الإسلام، ولقد رأيتُنا نتنازعُ فيه عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فيأمرنا نقرأ عليه فيخبرنا أن كلنا محسن؛ ولو

أعلم أحداً أعلم بما أنزلَ الله على رسوله مني لطلبتُه حتى أزدادَ علمه إلى علمي، ولقد قرأت من لسان رسول الله صلى الله عليه وسلم سبعين سورةَ، وقد كنت علمتُ أنه يعرضُ عليه القرآن في كل رمضان، حتى

كان عامُ قبِضَ فعُرض عليه مرتين، فكان إذا فرغ أقرأ عليه فيخبرني أني مُحسن.

فمن قرأ على قراءتي فلا يدعتَها رغبة عنها، ومن قرأ على شيء من هذه الحروف فلا يدعئه رغبة عنه، فإن من

جحد بآية جحد به كلهِ.

هذا حين كان الاختلاف مما تقتضيه الفطرة اللغوية ومذاهبها، فلما انتَفَضت هذه الفطرة، واختبلت الألسنة بعد اتساع الفتوح، وانسياح العرب في الأقطار، ومخالطتهم الأعاجمَ - لمَ يعد

لذلك الاختلاف وجه يتصل بحكمة من الرأي، بل صار كأنه دُرْبةَ لإفساد هذا الأمر واختلاف المادة نفسها على وجه يُنكرُ من حقيقتها بما يضيفُ إليها أو يخلط بها أو يغير منها، وإلى هذا نظر

رسول الله صلى الله عليه وسلم حين عرض عليه القرآنُ العرضةَ الأخيرة، وما كان يعلم أنها الأخيرة لولا ما علمه

الله، فاختار قراءة زيد بن ثابت صاحب هذه العرضة، وبها كان يقرأ وكان يصلي إلى أن انتقل إلى جوار ربه. ومن ثم اختارها المسلمون بعده وكتبوا القرآن عليها زمن أبي بكر كما مر، ثم تركوا
আল্লাহর রাসুল (সা.), আমি বললাম: ‘তুমি মিথ্যা বলেছ। আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাকে এই সুরাটি এভাবেই পড়িয়েছেন।’ অতঃপর আমি তাকে টেনে নিয়ে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর কাছে গেলাম

এবং বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি এই ব্যক্তিকে সুরা আল-ফুরকান এমন সব পদ্ধতিতে পাঠ করতে শুনেছি যা আপনি আমাকে পড়াননি, অথচ আপনিই আমাকে সুরা আল-ফুরকান পড়িয়েছেন।’ তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন: ‘হে হিশাম, পড়ো।’ অতঃপর তিনি তাঁর সামনে সেই পদ্ধতিতেই পাঠ করলেন যেভাবে আমি তাকে পড়তে শুনেছিলাম। তখন তিনি বললেন: ‘এভাবেই নাজিল হয়েছে।’ অতঃপর তিনি বললেন: ‘হে ওমর, তুমি পড়ো।’ তখন আমি সেই পদ্ধতিতে পড়লাম যেভাবে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাকে পড়িয়েছিলেন। তিনি বললেন: ‘এভাবেই নাজিল হয়েছে।’ তারপর তিনি বললেন: ‘নিশ্চয়ই এই কুরআন সাতটি পদ্ধতিতে (سبعة أحرف) নাজিল হয়েছে, সুতরাং এর মধ্য থেকে যা সহজ হয় তা-ই পড়ো।’

তাঁর এই বাণী ‘যা সহজ হয়’—এর প্রতি লক্ষ্য করলে আপনি এর একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যা পাবেন। আর এই সাত পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা পরে আলোচনা করব।

বর্ণিত আছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) যখন কুফা থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন তাঁর সঙ্গীরা তাঁর নিকট সমবেত হলেন। তিনি তাঁদের বিদায় জানালেন এবং বললেন: ‘তোমরা কুরআন নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়ো না; কেননা এটি বৈচিত্র্যপূর্ণ হলেও এতে কোনো বৈপরীত্য নেই, এটি বিলীন হয়ে যায় না এবং বারবার পাঠেও এর আবেদন ফুরিয়ে যায় না। নিশ্চয়ই এটি ইসলামের শরিয়ত, আর এর হুদুদ (বিধানসমূহ) এবং

ফারায়েজ (আবশ্যিক কার্যাবলি) অভিন্ন। যদি দুই পদ্ধতির (الحرفين) মধ্যে এমন হতো যে একটি কোনো কিছু থেকে নিষেধ করছে আর অন্যটি তা করার নির্দেশ দিচ্ছে, তবেই কেবল তা মতভেদ (اختلاف) হিসেবে গণ্য হতো।

কিন্তু এটি এই সবকিছুরই ধারক; এতে হুদুদ, ফারায়েজ কিংবা ইসলামের কোনো বিধানের ক্ষেত্রেই কোনো ভিন্নতা নেই। আমি আমাদের দেখেছি যে, আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর উপস্থিতিতে এটি নিয়ে তর্কে লিপ্ত হতাম, তখন তিনি আমাদের তাঁর সামনে পড়ার নির্দেশ দিতেন এবং আমাদের জানাতেন যে আমরা প্রত্যেকেই উত্তমরূপে সম্পাদনকারী (محسن)। আল্লাহ তাঁর রাসুলের ওপর যা নাজিল করেছেন সে সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞাত কাউকে যদি আমি জানতাম, তবে আমি অবশ্যই তাঁর তালাশ করতাম যাতে আমার জ্ঞানের সাথে তাঁর জ্ঞান যোগ করতে পারি। আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর পবিত্র জবান থেকে সত্তরটি সুরা গ্রহণ করেছি। আর আমি জানতাম যে, প্রতি রমজানে তাঁর কাছে কুরআন পেশ করা হতো,

এমনকি যে বছর তাঁর ওফাত হয়, সে বছর তাঁর নিকট দুইবার কুরআন পেশ করা হয়েছিল। যখনই তিনি তা সম্পন্ন করতেন, আমি তাঁর সামনে পড়তাম এবং তিনি আমাকে জানাতেন যে আমি উত্তমরূপে সম্পাদনকারী (محسن)।

সুতরাং যে ব্যক্তি আমার কিরাত (قراءتي) অনুযায়ী পড়ে, সে যেন অনাগ্রহবশত তা ত্যাগ না করে। আর যে ব্যক্তি এই পদ্ধতিগুলোর (الحروف) কোনো একটি অনুযায়ী পাঠ করে, সেও যেন অনাগ্রহবশত তা বর্জন না করে; কেননা কুরআনের কোনো একটি আয়াত অস্বীকার করা মানে পুরো কুরআনকেই অস্বীকার করা।’

এই মতভেদ (اختلاف) ছিল তখনকার জন্য যখন তা ভাষাগত প্রকৃতি ও এর বিভিন্ন বাচনভঙ্গির দাবি অনুযায়ী ছিল। কিন্তু যখন এই ভাষাগত প্রকৃতিতে পরিবর্তন এল এবং দিগ্বিজয় বিস্তৃতির ফলে আরবরা বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে অনারবদের সাথে মেলামেশা শুরু করল, তখন জিহ্বা বা উচ্চারণে জড়তা বা পরিবর্তন দেখা দিল। ফলে

সেই মতভেদের (اختلاف) আর কোনো প্রজ্ঞাপূর্ণ বা যুক্তিযুক্ত পর্যায় রইল না। বরং এটি যেন এই দ্বীনি বিষয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করার একটি উপায়ে পরিণত হলো এবং মূল বিষয়ের মধ্যে এমনভাবে পরিবর্তনের পথ খুলে দিল যা এর প্রকৃত রূপকে অস্বীকার করার শামিল—তা কোনো কিছু সংযোজন, সংমিশ্রণ বা পরিবর্তনের মাধ্যমেই হোক না কেন। আর এরই প্রেক্ষাপটে আল্লাহর রাসুল (সা.) লক্ষ্য রেখেছিলেন যখন তাঁর কাছে শেষবারের মতো কুরআন পেশ (العرضة الأخيرة) করা হয়েছিল। আল্লাহ তাঁকে না জানালে তিনি হয়তো জানতেন না যে এটিই শেষবার। তখন তিনি জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর কিরাতকে (قراءة) পছন্দ করেছিলেন যিনি এই শেষবারের পেশকালে উপস্থিত ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর রবের সান্নিধ্যে চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই কিরাত (قراءة) অনুযায়ী পাঠ করতেন এবং নামাজ পড়তেন। অতঃপর তাঁর পরবর্তী মুসলিমগণ এটিকেই বেছে নিয়েছিলেন এবং আবু বকর (রা.)-এর যুগে এর ভিত্তিতেই কুরআন সংকলন করেছিলেন যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এরপর তাঁরা...
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
للناس أسانيدهم، إذ كانت الفطرة سليمة بعد.

فلما كانت الطيرة والاختلاف لعهد عثمان، وأشفقوا من الضلال في معَاسف الرأي ومعاني حملوا الناسَ عليها حملاً وكتبوا بها المصاحف كما تقدم.
মানুষের নিকট তাদের নিজস্ব বর্ণনাধারা (أسانيد) বিদ্যমান ছিল, যেহেতু তখন পর্যন্ত মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি (الفطرة) নিষ্কলুষ ছিল।

অতঃপর উসমানের যুগে যখন অস্থিরতা ও মতভেদ দেখা দিল, এবং তারা ব্যক্তিগত অভিমত (الرأي) ও বিভিন্ন ব্যাখ্যার গোলকধাঁধায় পথভ্রষ্টতার (الضلال) আশঙ্কা করলেন—যার ওপর তারা মানুষকে পরিচালিত করেছিলেন—তখন তারা সেই অনুযায়ী পবিত্র কুরআনের পাণ্ডুলিপিগুলো সংকলন করলেন, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌القُرَّاء

يرجعُ عهد القراء الذين أقاموا الناسَ على طرائقهم في التلاوة إلى عهد الصحابة رضي الله

عنهم، فقد اشتهر بالإقراء منهم سبعة: عثمان، وعلي، وأبي، وزيدُ بن ثابت، وابن مسعود، وأبو الدرداء، وأبو موسى الأشعري؛ وعنهم أخذ كثير من الصحابة والتابعين في الأمصار، وكلهم يُسنِدُ

إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم. فلما كانت أواخر عهد التابعين في المائة الأولى تجرد قوم واعتنَوا بضبط

القراءة أتم عناية، لِما رأوا من المساسِ إلى ذلك بعد اضطراب السَّلائق، وجعلوها علماً، كما فعلوا يومئذ بالحديث والتفسير، فكانوا فيها الأئمة الذين يُرحَلُ إليهم ويؤخَذُ عنهم؛ ثم اشتهر منهم

ومن الطبقة التي تَلتهُم أولئك الأئمة السبعة الذين تُنسبُ إليهم القراءات إلى اليوم، وهم: أبو عمرو بن العلاء شيخُ الرُّواة المتوفى سنة 154 هـ،

وعبد الله بن كثير المتوفى سنة 120 هـ،

ونافعُ بن نعيم المتوفى سنة 169 هـ، وعبد الله بن عامر اليَحصُبي المتوفى سنة 118 هـ، وعاصمُ بنُ بَهدَلة الأسَدي المتوفى سنة 128 هـ، وحمزةُ بن حبيب الزيات العِجلي المتوفى سنة 156 هـ،

وعلي بن حمزة الكِسائي إمام النحاة الكوفيين المتوفى سنة 189 هـ.

وقراءات هؤلاء السبع هي المتفقُ عليها إجماعاً، ولكل منهم سَنَد في روايته، وطريق الرواية عنه؛ وكل ذلك محفوظ مثبَت في كتب هذا العلم.

ثم اختاروا من أئمة القراءة غير مَن ذكرناهم ثلاثة صخت قراءتهم وتواترت وهم: أبو جعفر يزيدُ بن القَعقاع المدني المتوفى سنة 132 هـ، ويعقوب ابن إسحاق الحضرمي المتوفى سنة 185 هـ، وخلفُ بن هشام بن طالب (ولم نقف على تاريخ وفاته) . وهؤلاء وأولئك هم أصحاب

القراءات العَشر، وما عداها فشاذ، كقراءة اليزيدي، والحسن، وأعمش، وغيرهم.

ولا يذهَبن عنك أن هذا الاختيار إنما هو للعلماء المتأخرين في المائة الثالثة، وإلا فقد كان الأئمة الموثوق بعلمهم كثيرين، وكان الناس على رأس المائتين بالبَصرة، على قراءة أبي عمرو
কিরাত বিশেষজ্ঞগণ

যেসব কিরাত বিশেষজ্ঞ বা কারীগণের তিলাওয়াত পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে মানুষ কুরআন তিলাওয়াত করে আসছে, তাঁদের সেই ধারা সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-দের যুগ থেকেই চলে আসছে।

তাঁদের মধ্য থেকে সাতজন কিরাত শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন: উসমান, আলী, উবাই, যাইদ ইবনে সাবিত, ইবনে মাসউদ, আবু দারদা এবং আবু মুসা আল-াশআরী। তাঁদের নিকট থেকেই বিভিন্ন জনপদের বহু সংখ্যক সাহাবী ও তাবিঈ কিরাত শিক্ষা করেছেন এবং তাঁরা সকলেই রাসুলুল্লাহ (সালллаল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে এর সনদ (سند) পৌঁছিয়েছেন। যখন প্রথম হিজরি শতকের শেষের দিকে তাবিঈদের যুগ শেষ পর্যায়ে ছিল, তখন একদল আলিম সম্পূর্ণ নিবেদিত হয়ে কিরাত সংরক্ষণের কাজে পরম যত্নবান হলেন; কারণ তারা দেখতে পেলেন যে, মানুষের স্বভাবজাত বাচনভঙ্গিতে বিচ্যুতি ঘটার কারণে এর বিশেষ প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

তাঁরা কিরাতকে একটি স্বতন্ত্র বিদ্যায় পরিণত করলেন, যেমনটি তাঁরা সেই সময়ে হাদিস ও তাফসিরের ক্ষেত্রে করেছিলেন। ফলে তাঁরা ছিলেন এ শাস্ত্রের এমন ইমাম যাঁদের নিকট জ্ঞানার্জনের জন্য সফর করা হতো এবং যাঁদের নিকট থেকে কিরাত গ্রহণ করা হতো। এরপর তাঁদের মধ্য থেকে

এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরের (طبقة) মধ্য থেকে সেই সাতজন ইমাম প্রসিদ্ধি লাভ করেন, যাঁদের কিরাতের দিকে আজও কিরাতসমূহকে সম্পৃক্ত করা হয়। তাঁরা হলেন: বর্ণনাকারীদের (رواية) শায়খ আবু আমর ইবনুল আলা, যিনি ১৫৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন;

আবদুল্লাহ ইবনে কাসির, মৃত্যু ১২০ হি.;

নাফি ইবনে নুয়াইম, মৃত্যু ১৬৯ হি.; আবদুল্লাহ ইবনে আমির আল-ইয়াহসুবি, মৃত্যু ১১৮ হি.; আসিম ইবনে বাহদালা আল-আসাদি, মৃত্যু ১২৮ হি.; হামজা ইবনে হাবিব আজ-জায়্যাত আল-ইজলি, মৃত্যু ১৫৬ হি.;

এবং কুফার ব্যাকরণবিদদের ইমাম আলী ইবনে হামজা আল-কিসায়ি, মৃত্যু ১৮৯ হি.।

এই সাতজনের কিরাতসমূহ সর্বসম্মতিক্রমে (إجماعاً) স্বীকৃত এবং তাঁদের প্রত্যেকের বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে রয়েছে নির্দিষ্ট সনদ (سند) এবং বর্ণনা করার তরীকা বা পথ (طريق); আর এসবই এই শাস্ত্রের গ্রন্থাবলিতে সংরক্ষিত ও প্রমাণিত।

এরপর তাঁরা কিরাতের ইমামদের মধ্য থেকে উল্লেখিত ব্যক্তিগণ ছাড়াও আরও তিনজনকে মনোনীত করেন যাঁদের কিরাত সহিহ (صحت) এবং মুতাওয়াতির (تواترت) পর্যায়ের। তাঁরা হলেন: আবু জাফর ইয়াজিদ ইবনুল কাকা আল-মাদানি (মৃত্যু ১৩২ হি.), ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-হাদরামি (মৃত্যু ১৮৫ হি.) এবং খালাফ ইবনে হিশাম ইবনে তালিব (যাঁর মৃত্যুর তারিখ আমাদের জানা নেই)। এই সাতজন এবং বাকি তিনজন হলেন

দশ কিরাতের ইমাম। এছাড়া যা কিছু আছে তা শায বা বিরল (شاذ), যেমন ইয়াজিদি, হাসান এবং আমাশসহ অন্যান্যদের কিরাত।

তবে আপনার মনে রাখা উচিত যে, এই নির্বাচনটি মূলত তৃতীয় হিজরি শতকের পরবর্তী সময়ের আলিমদের দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে। অন্যথায় জ্ঞানের গভীরতায় নির্ভরযোগ্য (الموثوق) ইমামগণের সংখ্যা ছিল অনেক। এমনকি দ্বিতীয় হিজরি শতকের শেষভাগে বসরার অধিবাসীগণ আবু আমরের কিরাতের ওপরই নির্ভরশীল ছিলেন।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৪০)
ويعقوب؛ وبالكوفة، على قراءة حمزة وعاصم؛ وبالشام، على قراءة ابن عامر؛ وبمكة، على قراءة ابن كثير؛ وبالمدينة، على قراءة نافع، وكان هؤلاء هم السبعة! فلما كان على رأس المائة الثالثة،

أثبت أبو بكر ابن مجاهد اسم الكسائي وحذف منهم اسم يعقوب.

قال بعضهم: والسببُ في الاقتصار على السبعة مع أن في أئمة القراء من هو أجل منهم قدراً، أو مثلهم إلى عدد أكثرَ من السبعة! هو أن الرواة عن الأئمة كانوا كثيراً جداً، فلما تقاصَرَتِ الهممُ اقتصروا مما يوافق خط المصحَفِ على ما يسهلُ حفظه وتنضبط القراءة به، فنظروا إلى من

اشتهر بالثقة والأمانة وطول العمر في ملازمة القراءة به والاتفاق على الأخذ عنه، فأفردوا من كل مصر إماماً واحداً. ولم يتركوا مع ذلك نقل ما كان عليه الأئمة غير هؤلاء من القراءات وما القراءةَ به كقراءة يعقوب، وأبي جعفر، وشيبةَ، وغيرهم. قال: وقد صنف ابنُ جبر المكي مثلَ ابن

مجاهد كتاباً في القراءات فاقتصر على خمسة، اختار من كل مصر إماماً، وإنما اقتصر على ذلك لأن المصاحف التي أرسلها عثمان كانت خمسة، إلى هذه الأمصار، ويقال إنه وجه بسبعة: هذه

الخمسةِ ومصحف إلى اليمن، ومصحف إلى البحرين، لكن لما لم يسمع لهذين المصحفين خبر وأراد ابن مجاهد وغيره " مراعاة عدد المصاحف " استبدلوا من مصحف البحرين واليمن قارئين كمل بهما العدد. اهـ.

وأول من تتبع وجوه القراءات وألَّقها وتقصى الأنواعَ الشاذة فيها وبحث عن أسانيدها من صحيح ومصنوع، هارونُ بن موسى القارئ النحوي المتوفى سنة 170 هـ. وكان رأساً في القراءة والنحو، ولكن أولَ من صنف فيها إنما هو أبو عبيد القاسمُ بن سلام الراوية المتوفى سنة 224 هـ،

وكان أول من استقصاها في كتاب. ويقال إنه أحصى منها خمساً وعشرين قراءة مع السبع المشهورة.
...এবং ইয়াকুব; আর কুফায় হামজা ও আসিমের কিরাআতের ওপর ভিত্তি করে; সিরিয়ায় ইবনে আমিরের কিরাআতের ওপর; মক্কায় ইবনে কাসীরের কিরাআতের ওপর; এবং মদিনায় নাফি'র কিরাআতের ওপর; আর এরাই ছিলেন সেই সাতজন! অতঃপর যখন তৃতীয় শতাব্দীর শুরু হলো,

আবু বকর ইবনে মুজাহিদ কিসায়ীর নাম অন্তর্ভুক্ত করলেন এবং তাদের মধ্য থেকে ইয়াকুবের নাম বাদ দিলেন।

তাদের কেউ কেউ বলেন: সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কারণ হলো—যদিও কিরাআতের ইমামগণের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা মর্যাদায় তাদের চেয়েও মহান অথবা তাদের সমতুল্য এবং সংখ্যায় সাতের অধিক—মূলত ইমামদের নিকট থেকে বর্ণনাকারীদের সংখ্যা ছিল অত্যধিক। ফলে যখন মানুষের উদ্যম কমে গেল, তখন তারা মুসহাফের লিপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিরাআতগুলোর মধ্য থেকে সেগুলোর ওপরই সীমাবদ্ধ হলেন যা মুখস্থ করা সহজ এবং যার মাধ্যমে পাঠপদ্ধতি সুশৃঙ্খল থাকে। অতঃপর তারা এমন ব্যক্তিদের প্রতি দৃষ্টি দিলেন যারা

নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) ও আমানতদারী (الأمانة) এবং দীর্ঘকাল কিরাআত চর্চায় নিবিষ্ট থাকার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং যাদের থেকে কিরাআত গ্রহণের ব্যাপারে ঐকমত্য ছিল। ফলে তারা প্রতিটি অঞ্চল থেকে একজন করে ইমামকে নির্বাচন করলেন। তা সত্ত্বেও তারা এই ইমামগণ ব্যতীত অন্যান্য ইমামদের কিরাআত এবং যেসব কিরাআত প্রচলিত ছিল—যেমন ইয়াকুব, আবু জাফর, শায়বাহ এবং অন্যদের কিরাআত—বর্ণনা করা বর্জন করেননি। তিনি বলেন: ইবনে জাবর আল-মাক্কি ইবনে

মুজাহিদের ন্যায় কিরাআতের ওপর একটি কিতাব রচনা করেছেন যেখানে তিনি পাঁচজনের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন; তিনি প্রতিটি অঞ্চল থেকে একজন করে ইমাম বেছে নিয়েছেন। তিনি এই সংখ্যার ওপর সীমাবদ্ধ ছিলেন কারণ উসমান (রাযি.) যেসব মুসহাফ প্রেরণ করেছিলেন সেগুলো ছিল পাঁচটি, যা এই অঞ্চলগুলোতে পাঠানো হয়েছিল। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি সাতটি মুসহাফ প্রেরণ করেছিলেন: এই

পাঁচটি এবং একটি ইয়েমেনে ও একটি বাহরাইনে। কিন্তু যেহেতু এই দুটি মুসহাফ সম্পর্কে কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি এবং ইবনে মুজাহিদ ও অন্যান্যরা "মুসহাফের সংখ্যার অনুসরণ" করতে চেয়েছিলেন, তারা বাহরাইন ও ইয়েমেনের মুসহাফ দুটির পরিবর্তে দুইজন কারীকে স্থলাভিষিক্ত করলেন যার মাধ্যমে সংখ্যাটি পূর্ণ হলো। (সমাপ্ত)।

কিরাআতের বিভিন্ন দিক যারা সর্বপ্রথম অনুসন্ধান করেছেন, সংকলন করেছেন এবং এর মধ্যে থাকা বিচ্ছিন্ন (شاذة) প্রকারভেদগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেছেন এবং সেগুলোর বিশুদ্ধ (صحيح) ও বানোয়াট (مصنوع) সনদসমূহ (أسانيد) নিয়ে গবেষণা করেছেন, তিনি হলেন হারুন বিন মুসা আল-কারি আল-নাহবি (মৃত্যু ১৭০ হিজরি)। তিনি কিরাআত ও ব্যাকরণ শাস্ত্রে শীর্ষস্থানীয় ছিলেন, তবে এই বিষয়ে সর্বপ্রথম যিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি হলেন বর্ণনাকারী আবু উবায়েদ কাসিম বিন সাল্লাম (মৃত্যু ২২৪ হিজরি),

এবং তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি একটি কিতাবে এগুলো সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি প্রসিদ্ধ সাতটি কিরাআতের পাশাপাশি পঁচিশটি কিরাআত সংকলন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌وُجوه القِرَاءة

ومنذ بدأت القراءةُ تتميز بأنها علم يتدارسُ ويتلقى، بدأت فيها الصناعة العلمية؛ فحُصِرت

وجوهها وعينت مذاهبها؛ ومن شأن كل علم أن يكون ضبطُ الصحيح فيه حذاً لغير الصحيح، وقد

تكون الأمثلة التي تُنزع من العلم للتمثيل بها على صحيحه مما يقتضي التمثيل بضدها على فاسده،

فتُقلب القاعدة أو الكلمة على وجوهها المتباينة مما اطرد أو شذ؛ وبهذا يُدل على المذاهب الضعيفة ويُطرق إلى معرفتها. فعسى أن يكون ممن يقفون عليها من تنقطع به المعرفة عندها، أو يقف به الهوى على حدها، أو يعجبه منها إن كان له أن يكون صاحبَ غريب، وأمره عند العامة

والجمهور ما عرفت في باب الرواية وأن يتدافعه الناس رَاد معه وراذ عليه، أن يكون هو ضعيف البصر بهذا الأمر قليلَ التمييز فيه، أو يكون خبيث الدخلةُ مستجمَّ الباطل، أو من أصحاب العلَلِ والمِراءِ أو شيء مما يَجري هذا المجرى، فلا يلبث أن يأخذ بها دون الصحيح. ويتقفَد

أمرها على وهنه واضطرابه، فيَعْتَسِرَ الكلام فيها، ويبالغ في النضح عنها والدفع لما عداها،

ويتكلف لتصحيح هذا الفساد كما يتكلفُ لإفساد الصحيح وتوهينه؛ ومن ثمَّ ينشأ من العلم علم آخر لم يكن قبل إلا حاجة من التمثيل به لغيره! فاتسع حتى صار في حاجة إلى التمثيل له بغيره.

كذلك نشأت القراءات الغريبة في رأينا، فإن هذا الشاذ وهذا الضعيف وهذا المنكر مما لا تحسبه كان معروفاً متلقى بالإسناد الذي لا مغمز فيه وإن لم يقرأ به أصحابه إلا على أنه معروف مُوثق الأسانيد.

ولا بد أن تكون قد شذت وجوه كثيرة من القراءات قبل مصحف عثمان، وخاصة فيمن يقرأ من عَرَب الأمصار من الأوشاب المستضعفين الذين لم تخلُص فطرتهم ولم تتوقح طباعهم، وكل

أولئك قد كان لهم في أحيائهم من يُقرئهم القرآن، فإن كان قد وقع أمر من ذلك لأصحاب القراءات ومن يتتبعون وجوهها فأخذ به لأنه عن متقدم يُسنده أو يزعمه صحيحاً عمن يُسنده فذلك

أيضاً قول ومذهب.

والعلماءُ على أن القراءات متواترة وآحاذ وشاذة. وجعلوا المتواتر السبع والأحادَ الثلاثَ المتممةَ لعشرها ثم ما يكون من قراءات الصحابة رضي الله عنهم مما لا يوافق ذلك. وما بقي فهو شاذ.

والقياسق عندهم موافقة القراءة للعربية بوجه من الوجوه، سواء كان أفصحَ أم فصيحاً،
‌কিরাতের প্রকারভেদ (وجوه القراءة)

যবে থেকে কিরাত বা পাঠপদ্ধতি একটি অধীত ও শ্রুত বিদ্যা হিসেবে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য লাভ করতে শুরু করেছে, তবে থেকেই এতে পদ্ধতিগত শাস্ত্রীয় কাঠামোর সূচনা হয়েছে; ফলে এর রূপসমূহকে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে এবং এর মাযহাব বা মতাদর্শসমূহকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যার স্বভাবই হলো, তাতে সঠিক (صحيح) বিষয়কে আয়ত্ত করার মাধ্যমেই ভুল বিষয় থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব হয়। অনেক সময় কোনো বিদ্যা থেকে কোনো সহিহ (صحيح) বিষয়ের উদাহরণ আহরণ করা হলে, তার বিপরীতে থাকা অশুদ্ধ বিষয়ের উদাহরণ দেওয়ারও প্রয়োজন পড়ে। ফলে সেই মূলনীতি বা শব্দটিকে এর বিভিন্ন বিচিত্র দিক থেকে উল্টেপাল্টে দেখা হয়, চাই তা নিয়মিত হোক বা বিচ্যুত (شاذ) হোক; এর মাধ্যমেই দুর্বল (ضعيف) মতাদর্শসমূহকে নির্দেশ করা হয় এবং তা চেনার পথ উন্মোচিত হয়। ফলে হতে পারে যে ব্যক্তি এগুলোর মুখোমুখি হবেন, তার জ্ঞান সেখানেই থমকে যাবে, অথবা প্রবৃত্তি তাকে এর সীমানায় আটকে দেবে, কিংবা এর মাঝে থাকা অপরিচিত (غريب) বিষয়গুলো তাকে মুগ্ধ করবে—যদি সে বিরল বিষয়ের অনুরাগী হয়ে থাকে। সাধারণ মানুষের নিকট এবং জমহুর বা সংখ্যাগুরু আলিমদের নিকট তার অবস্থা বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে তেমনই যা আপনি জেনেছেন। মানুষ তার ব্যাপারে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকবে—কেউ তাকে সমর্থনকারী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করবে আবার কেউ তার বিপক্ষে অবস্থান নেবে। সে হতে পারে এই বিষয়ে কম দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও সামান্য বিচারক্ষমতার অধিকারী, কিংবা সে হতে পারে অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বাতিলের সংগ্রাহক, অথবা সে হতে পারে ক্রটি (علة) অন্বেষণকারী ও ঝগড়াটে প্রকৃতির কিংবা এই জাতীয় অন্য কিছুর অধিকারী। এমতাবস্থায় সে সহিহ (صحيح) বিষয়কে বাদ দিয়ে এগুলোকে গ্রহণ করতে দেরি করবে না। সে এর দুর্বলতা ও অস্থিরতা (اضطراب) সত্ত্বেও এর পেছনে লেগে থাকবে, ফলে এ নিয়ে কথা বলা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। সে একে সমর্থন করার জন্য এবং এর বাইরের বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করার জন্য অতিশয়োক্তি করবে। এই অশুদ্ধতাকে সহিহায়ন (تصحيح) করার জন্য সে কসরত করবে যেমনটি সে সহিহ (صحيح) বিষয়কে অশুদ্ধ ও দুর্বল (توهين) প্রমাণের জন্য কসরত করে। এর ফলে এক বিদ্যা থেকে এমন এক নতুন বিদ্যার জন্ম নেয় যা পূর্বে কেবল অন্য বিষয়ের উদাহরণের প্রয়োজনে ছিল! পরে তা বিস্তৃত হয়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তার জন্যই অন্যের উদাহরণের প্রয়োজন পড়ে।

আমাদের মতে এভাবেই অপরিচিত (غريب) কিরাতগুলোর উদ্ভব হয়েছে। কেননা এই বিচ্যুত (شاذ), দুর্বল (ضعيف) এবং অস্বীকৃত (منكر) বিষয়গুলো এমন নয় যা কোনো নিখুঁত সনদ (إسناد) এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ও পরিচিত ছিল বলে আপনি গণ্য করবেন, যদিও এর প্রবক্তারা একে পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য সনদসম্পন্ন হিসেবেই পাঠ করতেন।

অবশ্যই উসমানি মুসহাফের পূর্বে কিরাতের অনেক রূপ বিচ্যুত (شاذ) হয়ে গিয়েছিল, বিশেষ করে বিভিন্ন জনপদের সেই সব মিশ্র আরবদের মাঝে যারা দুর্বল হিসেবে গণ্য ছিল, যাদের প্রকৃতি বিশুদ্ধ ছিল না এবং স্বভাব বলিষ্ঠ ছিল না। তাদের প্রত্যেকের গোত্রেই এমন লোক ছিল যারা তাদের কুরআন পাঠ করাতেন। যদি কিরাত বিশেষজ্ঞ এবং কিরাতের প্রকারভেদ অন্বেষণকারীদের নিকট এমন কিছু ঘটে থাকে যে, তিনি তা গ্রহণ করেছেন কারণ তা কোনো পূর্বসূরি থেকে বর্ণিত হয়েছে যিনি একে সনদ (إسناد) সহ বর্ণনা করেছেন অথবা একে সহিহ (صحيح) বলে দাবি করেছেন, তবে তাও একটি বক্তব্য ও মাযহাব হিসেবে গণ্য।

ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে একমত যে কিরাতসমূহ মুতাওয়াতির (متواتر), একক (آحاد) এবং বিচ্যুত (شاذ) এই তিন প্রকারের হয়। তারা সাত কিরাতকে মুতাওয়াতির (متواتر) সাব্যস্ত করেছেন এবং তিন কিরাতকে এর সাথে মিলিয়ে দশ পূর্ণ করার মাধ্যমে একক (آحاد) সাব্যস্ত করেছেন, অতঃপর সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এর সেই সকল কিরাত যা এর সাথে মিল খায় না, সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এছাড়া বাকি যা আছে তা বিচ্যুত (شاذ)।

তাদের নিকট কিরাতের মানদণ্ড (قياس) হলো কোনো না কোনোভাবে আরবি ভাষার সাথে এর সঙ্গতি থাকা, চাই তা অধিকতর প্রাঞ্জল হোক বা সাধারণ প্রাঞ্জল হোক।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৪২)
مُجمعاً عليه أم مختلفاً فيه اختلافاً لا يضر مثلُه؛ لأن القراءة سنة متبَعة، يلزم قبولُها؛ والمصير إليها

بالإسناد لا بالرأي، ثم يشترط في تلك القراءة أن توافق أحدَ المصاحف العثمانية ولو احتمالا

وأن تكون مع ذلك صحيحة الإسناد، فإن اجتمعت الأركان الثلاثة: موافقة العربية، ورسم المصحف، وصحة السند؛ فتلك هي القراءة الصحيحة، ومتى اختل ركن منها أو أكثر أطلِقَ عليها

أنها ضعيفة أو شاذة أو باطلة؛ ولتجىء بعد ذلك عن كائن من كان.

أما اشتراط موافقة العربية على أي وجوهها، فذلك إطلاق يناسب ما قدمناه من أمر الفطرة

ومن أجله كان صحيحاً أن لا يُعول أئمة القراءة في أمر الجواز على ما هو أفشى في اللغة وأقيس في العربية، دون ما هو أثبتُ في الأثر وأصح في النقل؛ لأن العرب متفاوتون في خلوص اللغة

وقوة المنطق فإن قرأوا فلكل قبيل لهجه.

وأما موافقةُ رسم أحد المصاحف العثمانية، فذلك لما صح عندهم من أن الصحابة رضي الله عنهم اجتهدوا في الرسل على حسب ما عرفوا من لغات القراءة فكتبوا (الصراط) مثلاً في قول تعالى: (اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ (6) . بالصاد المبدَلة من السين، وعدلوا عن السين التي هي،

الأصل، لتكون قراءة السين (السراط) إن خالفت الرسم من وجه، فقد أتت على الأصل اللغوي

المعروف، فيعتدلان، وتكون قراءة الإشمام محتملة لذلك.

وأما اشتراط صحة الإسناد فهو أمر ظاهر ما دامت القراءة سنة متبعة، وكثيراً ما ينكر بعض أهل العربية قراءة من القراءات؛ لخروجها عن القياس، أو لضعفها في اللغة؛ ولا يحفل أئمةُ

القراءة بإنكارهم شيئاً؛ كقراءة من قرأ (فتوبوا إلى بارئكم) بسكون الهمزة، ونحوها مما أحصوه فى كتبهم. -

وأول من اشتهر من القراء بالشواذ؛ وعُني بجمع ذلك واستقصائه وإظهاره دون الصحيح؛ أبو الفضل محمد بن جعفر الخزاعي في أواخر المائة الثانية، فقد جمع قراءة نسبها إلى الإمام أبي حنيفة رحمه الله، ومنها (إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ) وقد أكذبوه في إسناده وجعلوه مثلاً
তা সর্বসম্মত (مجمع عليه) হোক কিংবা এমন মতপার্থক্যপূর্ণ হোক যার প্রভাব ক্ষতিকর নয়; কারণ কিরাত হলো একটি অনুসৃত সুন্নাহ (سنة متبعة), যা গ্রহণ করা আবশ্যক; এবং এটি সাব্যস্ত করার ভিত্তি হলো সনদ (إسناد), নিজস্ব রায় বা মতামত নয়। অতঃপর সেই কিরাতের জন্য শর্ত হলো যে, তা উসমানি মুসহাফসমূহের কোনো একটির অন্তত সম্ভাব্য রূপের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে

এবং এর পাশাপাশি কিরাতের সনদটি সহিহ (صحيحة الإسناد) হতে হবে। সুতরাং যদি এই তিনটি স্তম্ভ অর্থাৎ—আরবি ভাষার সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া, মুসহাফের লিখন পদ্ধতির অনুগামী হওয়া এবং সনদের বিশুদ্ধতা (صحة السند) একত্রিত হয়, তবে সেটিই হলো সহিহ কিরাত (القراءة الصحيحة)। আর যখন এর কোনো একটি বা একাধিক স্তম্ভ অনুপস্থিত থাকে, তখন তাকে অভিহিত করা হয়

দুর্বল (ضعيفة), শায (شاذة) বা বাতিল (باطلة) হিসেবে; চাই তা পরবর্তী সময়ে যার মাধ্যমেই বর্ণিত হোক না কেন।

আর আরবি ভাষার যে কোনো রূপের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার শর্তারোপের বিষয়টি হলো একটি সাধারণ নীতি, যা ফিতরাত সম্পর্কে আমাদের পূর্বোক্ত আলোচনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আর এই কারণেই এটি সঠিক যে, কিরাতের ইমামগণ কিরাত বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে কেবল ভাষাগত প্রসিদ্ধি বা আরবির ব্যাকরণগত নিয়মের ওপর নির্ভর না করে বরং যা বর্ণনায় সুপ্রতিষ্ঠিত (أثر) এবং বর্ণনাসূত্রে অধিক বিশুদ্ধ (نقل) তার ওপর নির্ভর করেছেন; কারণ আরবি ভাষার বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে আরবদের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান

এবং বাচনভঙ্গির শক্তির ক্ষেত্রেও; ফলে তারা যখন পাঠ করতেন তখন প্রতিটি গোত্রের নিজস্ব লাহজা বা টান থাকত।

আর উসমানি মুসহাফের কোনো একটির লিখন পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্য হওয়ার শর্তটির কারণ হলো, তাঁদের নিকট এটি প্রমাণিত যে, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) কিরাতের বিভিন্ন ভাষা সম্পর্কে তাঁদের জানাশোনা অনুযায়ী তা লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহ তাআলার বাণী: (اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ) এর মধ্যে তারা 'সিন'-এর পরিবর্তে 'সদ' দিয়ে (الصراط) লিখেছেন। অথচ মূল বর্ণটি ছিল 'সিন', যা তারা পরিহার করেছেন,

যাতে করে 'সিন' যোগে কিরাত (السراط) একদিক দিয়ে লিখন পদ্ধতির বিপরীত হলেও তা যেন সুপরিচিত ভাষাগত মূলের অনুসারী হয়। ফলে উভয়টি সমপর্যায়ের হয়ে যায় এবং 'ইশমাম' যুক্ত কিরাতের সম্ভাবনাও এতে বজায় থাকে।

আর সনদের বিশুদ্ধতার (صحة الإسناد) শর্তারোপের বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, যতক্ষণ পর্যন্ত কিরাত একটি অনুসৃত সুন্নাহ হিসেবে গণ্য হয়। আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞদের অনেকেই প্রায়শই কোনো কোনো কিরাতকে প্রত্যাখ্যান করেন কারণ তা ব্যাকরণগত নিয়মের বহির্ভূত অথবা ভাষায় এর দুর্বলতার কারণে; তবে কিরাতের ইমামগণ

তাদের সেই আপত্তির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেন না; যেমন কারও কিরাতে (فتوبوا إلى بارئكم) শব্দে 'হামজা' বর্ণটিকে সাকিন করে পড়া এবং এই জাতীয় অন্যান্য কিরাত যা তাঁরা তাঁদের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করেছেন। -

আর কিরাতের ইমামদের মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি শায (شاذة) কিরাতসমূহের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন এবং সহিহ (صحيح) কিরাত বাদ দিয়ে কেবল এই ধরনের সংকলন, অনুসন্ধান ও তা প্রকাশের প্রতি মনোযোগ দিয়েছিলেন, তিনি হলেন দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগের আবু ফজল মুহাম্মদ বিন জাফর আল-খুজায়ি। তিনি একটি কিরাত সংকলন করেছিলেন যা তিনি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর দিকে নিসবত করেছিলেন। তার মধ্যে একটি হলো: (إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ)। তারা তার সনদের (إسناد) ব্যাপারে তাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছেন এবং একে একটি উদাহরণ হিসেবে গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
بينهم في القراءات الموضوعة المردودة.

ثم اجترأ الناس على القرآن بما فشا من مقالات أهل الزيغ والإلحاد بعد المائة الثانية، ولكن ذلك لم يتناول قراءته، بل تناول مسائلَ من أمر الاعتقاد فيه؛ ثم ظهر ابن شُنبوذ المتوفى سنة 228 هـ، وكان رجلاً كثير اللحن قليلَ العلم، فيه سلامةَ وحمق وغفلة؛ فكان من أشهر القراء

بالشواذ، ثم أخذ في سبيله أبو بكر العطار النحوي المتوفى سنة 354 هـ، وكان من أعرَف الناس

بالقراءات، وإنما أفسد عليه أمره أنه من أئمة نحاة الكوفيين، فخالف الإجماع وصنع في ذلك

صنعاً كوفياً. . . فاستخرج لقراءته وجوهاً من اللغة والمعنى، ومن ذلك قراءته في قوله تعالى:

(فَلَمَّا اسْتَيْأَسُوا مِنْهُ خَلَصُوا نَجِيًّا) فإن هذا الأحمق قرأها (نُجُباً) فأزالها بذلك عن أحسن وجوه البيان العربي، ولم يبال ما صنع إذا هو قد انفرد بها على عادة الكوفيين في الرواية. . . كما مرَّ في

باب الرواية في الجزء الأول من تاريخ آداب العرب.

أما بعد هؤلاء الرؤوس. وبعد أن انطوت أيامهم، فإن القراءة قد استوثقَ أمرها ولم يعد للشاذ وجه ولا أقيم له وزن؛ إذ كانت قد دُونت العلوم في اللغة العربية وفي القراءات. وأخمَلَ الناسُ أهل الشواذ، والخلفاء والأمراء فمن دونهم، واعتدوا لهم السوء والإثمَ، ورأوا أمرهم الفتنة

التي لا يُستقالُ فيها البلاء؛ فما زالوا بهم حتى قطعَ الله دابرهم وغابرهم.

هذا، وقد أورد ابنُ النديم في كتابه (الفهرست) أسماء كثير من أهل الشواذ في كثير من الأمصار، فارجع إليه إن شئت تستقصي فيما لا يفيد.

* * *
জাল (الموضوعة) এবং বর্জনীয় (المردودة) কিরাতসমূহের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে।

এরপর দ্বিতীয় শতাব্দীর পর পথভ্রষ্টতা ও নাস্তিকতার মতবাদসমূহের প্রসারের ফলে মানুষ কুরআনের বিষয়ে স্পর্ধিত হয়ে ওঠে। তবে তা এর কিরাতের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেনি, বরং তা আকিদাহ বা বিশ্বাস সংক্রান্ত বিষয়সমূহে সংশ্লিষ্ট ছিল। অতঃপর ইবনে শানবুজ (মৃত্যু ২২৮ হিজরি) আবির্ভূত হন; তিনি ছিলেন কিরাত বা ব্যাকরণে অনেক ভুলকারী (اللحن) ও স্বল্প জ্ঞানের অধিকারী এক ব্যক্তি। তাঁর মাঝে সরলতা (سلامة), বোকামি এবং অসতর্কতা (غفلة) বিদ্যমান ছিল। তিনি বিরল (الشواذ) কিরাত পাঠকারী হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন।

অতঃপর তাঁর পথ অনুসরণ করেন ব্যাকরণবিদ আবু বকর আল-আত্তার (মৃত্যু ৩৫৪ হিজরি), যিনি কিরাতসমূহের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে অত্যন্ত অভিজ্ঞ ছিলেন। তবে তাঁর বিষয়টি বিনষ্ট হওয়ার কারণ ছিল যে, তিনি কুফী ব্যাকরণবিদদের ইমামদের একজন ছিলেন, ফলে তিনি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (الإجماع) বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেন এবং এই ক্ষেত্রে কুফীদের পদ্ধতি অবলম্বন করেন। . . তিনি তাঁর কিরাতের স্বপক্ষে ভাষা ও অর্থের দিক থেকে বিভিন্ন দিক বের করতেন। এর মধ্যে একটি উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তারা যখন তার নিকট হতে নিরাশ হলো, তখন তারা নির্জনে পরামর্শ করতে বসল।" এই নির্বোধ ব্যক্তিটি সেখানে 'নাজিয়্যান' শব্দের স্থলে 'নুজুবান' পাঠ করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি একে আরবি ভাষার সর্বোত্তম অলঙ্কারিক প্রকাশ থেকে বিচ্যুত করেন। তিনি কী করেছেন সে ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করেননি, যেহেতু তিনি বর্ণনার (الرواية) ক্ষেত্রে কুফীদের রীতি অনুযায়ী একক (انفرد) বর্ণনা প্রদান করেছেন। . . যেমনটি তারিখু আদাবিল আরবের বর্ণনা অধ্যায়ে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

তবে এই প্রধান ব্যক্তিদের পর এবং তাঁদের সময় অতিবাহিত হওয়ার পর কিরাতের বিষয়টি সুসংহত হয়ে যায়। তখন আর বিরল (الشاذ) কিরাতের কোনো গ্রহণযোগ্যতা বা গুরুত্ব অবশিষ্ট থাকেনি; কারণ ততদিনে আরবি ভাষা এবং কিরাত সংক্রান্ত জ্ঞানসমূহ লিপিবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। তখন মানুষ বিরল (الشواذ) কিরাত পাঠকারীদের গুরুত্বহীন করে দেয়। এমনকি খলিফা, আমির এবং তাদের অধীনস্থরাও তাদের কাজকে মন্দ ও পাপ বলে গণ্য করেন। তাঁরা মনে করতেন তাদের বিষয়টি এমন এক ফিতনা (الفتنة) যার বিপর্যয় থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া দুষ্কর। এভাবে আল্লাহ তাদের সমূলে বিনাশ করা পর্যন্ত তাঁরা তাঁদের পিছু ছাড়েননি।

ইবনে নাদিম তাঁর আল-ফিহরিস্ত গ্রন্থে বিভিন্ন অঞ্চলের বহু বিরল (الشواذ) কিরাত পাঠকারীর নাম উল্লেখ করেছেন; সুতরাং আপনি যদি অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান করতে চান তবে সেই গ্রন্থের সাহায্য নিতে পারেন।

* * *
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৪)
‌‌قراءة التَلحِيْن

ومما ابتدع في القراءة والأداء، هذا التلحين الذي بقيَ إلى اليوم يتناقله المفتونةُ قلوبُهم وقلوبُ من يعجبهم شأنهم، ويقرأون به على ما يشبه الإقناع وهو الغناء التقي. . . ومن أنواعه عندهم في أقسام النغم (الترعيد) وهو أن يرعد القارئ صوته، قالوا كأنه يرعَد من البرد اً ا

الألم. . . (والترقيص) وهو أن يروم السكوتَ على الساكن ثم ينقر مع الحركة كأنه في عدو هَرولة؛ (والتطريب) وهو أن يترنم بالقرآن ويتنغمَ به فيمد في غير مواضع المد ويزيد في المد ما

أصاب موضعه، (والتحزين) وهو أن يأتي بالقراءة على وجه حزين يكاد يبكي مع خشوع وخضوعا

ثم (الترديد) وهو رد الجماعة على القارئ في ختام قراءته بلحن واحد على وجه من تلك الوجوه.

وإنما كانت القراءة تحقيقاً، أو حدراً، أو تدويرا فلما كانت المائة الثانية كان أول من قام بالتلحين والتطنين عبيدَ الله بن بَكرة، وكانت قراءته حزنا ليس على شيء من ألحان الغناء والحداء، فورث ذلك عنه حفيده عبد الله بن عمر بن عبيد الله، فهو الذي يقال له قراءة ابن عمرة

وأخذها عنه الإباضي، ثم أخذ سعيد بن العلاف وأخوه عن الإباضي، وصار سعيد رأس هذا القراءة في زمنه وعرفت به، لأنه اتصل بالرشيد فأعجب بقراءته وكان يحظيه ويعطيه حتى عرف بين

الناس بقارئ أمير المؤمنين.

وكان القراء بعده: كالهيثم، وأبان، وابن أعين، وغيرهم ممن يقرأون في المجالس المساجد، يدخلون في القراءة من ألحان الغناء والحداء، والرهبانية، فمنهم من كان يدس الشيء من ذلك دساً خفياً، ومنهم من يجهر به حتى يسلخه، فمن هذا قراءة الهيثم (أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَاكِينَ) فإنه كان يختلس المد اختلاساً فيقرؤها (لمسكين) ، وإنما سلخه من صوت الغناء كهيئة

اللحن في قول الشاعر:

أما القطاة فإني سوف أنعتها نعتاً … يوافق عندي بعض (مَفِيها)

أي ما فيها، وكان ابن أعين يدخل الشيء من ذلك ويخفيه، حتى كان الترمذي محمد بن سعيد في المائة الثالثة، وكان الخلفاء والأمراء يومئذ قد أولعوا بالغناء وافتَنوا فيه، فقرأ محمد هذه.
‌‌সুর মিলিয়ে তিলাওয়াত (قراءة التلحين)

তিলাওয়াত ও শব্দোচ্চারণের ক্ষেত্রে যেসব বিদআত (بدعة) বা নতুনত্বের উদ্ভব ঘটেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো এই সুর মিলিয়ে তিলাওয়াত করা (التلحين), যা আজ অবধি বিদ্যমান। যাদের অন্তর ফিতনায় আক্রান্ত এবং যারা এ জাতীয় কাজে মুগ্ধ হয়, তাদের মাধ্যমে এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে আসছে। তারা এমনভাবে তিলাওয়াত করে যা বাহ্যিকভাবে মানুষকে সন্তুষ্ট করার মতো হলেও মূলত তা এক প্রকার কৃত্রিম ধর্মীয় সংগীত... সুরের প্রকারভেদ অনুযায়ী তাদের কাছে এর বিভিন্ন ধরণ রয়েছে। যেমন: ‘কণ্ঠস্বর প্রকম্পিত করা’ (الترعيد), যাতে তিলাওয়াতকারী তার আওয়াজকে প্রকম্পিত করে। তারা বলে যে, তিলাওয়াতকারী যেন শীত বা ব্যথার চোটে কাঁপছে...।

‘ছন্দময় তিলাওয়াত’ (الترقيص), যাতে তিলাওয়াতকারী সাকিন বর্ণের ওপর বিরতি নিতে চায় কিন্তু হারাকাতের সাথে এমনভাবে শব্দের বিন্যাস ঘটায় যেন সে দ্রুত দৌড়াচ্ছে; ‘সুরের মূর্ছনা’ (التطريب), যাতে কুরআনের মাধ্যমে গুঞ্জরণ তোলা হয় এবং সুর করা হয়। ফলে যেখানে দীর্ঘ করার কথা নয় সেখানে দীর্ঘ (مد) করা হয় এবং যেখানে দীর্ঘ করা উচিত সেখানে মাত্রাতিরিক্ত দীর্ঘ করা হয়;

‘বিষণ্ণ সুরে পাঠ’ (التحزين), যাতে অত্যন্ত করুণ ও বিষণ্ণ ভঙ্গিতে তিলাওয়াত করা হয়, যা বিনয় ও নম্রতার সাথে প্রায় কান্নার উপক্রম তৈরি করে।

অতঃপর ‘সমবেত পুনরাবৃত্তি’ (الترديد), যা হলো তিলাওয়াত শেষে উপস্থিত জামাত কর্তৃক উল্লিখিত কোনো এক পদ্ধতিতে সমস্বরে তিলাওয়াতকারীর পাঠের পুনরাবৃত্তি করা।

মূলত তিলাওয়াত ছিল ধীর ও স্পষ্ট (تحقيقاً), অথবা দ্রুত পঠন (حدراً), কিংবা মধ্যম গতির (تدويراً)। যখন দ্বিতীয় শতাব্দী অতিবাহিত হচ্ছিল, তখন উবায়দুল্লাহ ইবনে বাকরাহ সর্বপ্রথম সুর ও তালের মাধ্যমে তিলাওয়াতের সূচনা করেন। তার তিলাওয়াত ছিল বিষণ্ণতাপূর্ণ, যা সাধারণ গান বা মরুচারী উটচালকদের সুরের মতো ছিল না। অতঃপর তার নাতি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে উবায়দুল্লাহ তার কাছ থেকে এটি উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেন, আর তার এই পাঠশৈলীকেই ‘ইবনে উমরার ক্বিরাআত’ বলা হয়।

অতঃপর আল-ইবাদি তার থেকে এটি গ্রহণ করেন। এরপর সাঈদ ইবনে আল-আল্লাফ এবং তার ভাই আল-ইবাদির নিকট থেকে এটি শেখেন। সাঈদ তার যুগে এই তিলাওয়াত পদ্ধতির প্রধান ব্যক্তিত্বে পরিণত হন এবং এটি তার নামেই পরিচিতি পায়। কারণ তিনি খলিফা হারুনুর রশিদের সাথে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। খলিফা তার তিলাওয়াতে মুগ্ধ হয়ে তাকে উচ্চমর্যাদা ও পুরস্কার দান করতেন, ফলে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘আমীরুল মুমিনীনের ক্বারী’ হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

তার পরবর্তী ক্বারীগণ—যেমন হাইসাম, আবান, ইবনুল আ’ইয়ুন এবং অন্যরা—যারা বিভিন্ন মজলিস ও মসজিদে তিলাওয়াত করতেন, তারা তিলাওয়াতের মধ্যে গান, উটচালকদের সুর এবং বৈরাগ্যবাদের সুর প্রবেশ করান। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অতি সুক্ষ্মভাবে এসবের অনুপ্রবেশ ঘটাতেন, আবার কেউ কেউ তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতেন। এর একটি উদাহরণ হলো হাইসামের তিলাওয়াত: (أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَاكِينَ), যেখানে তিনি দীর্ঘস্বরকে (مد) এমনভাবে সংকুচিত (اختلاساً) করতেন যে তিনি পড়তেন (لمسكين)। মূলত গানের সুরের সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই তিনি এটি করতেন, যেমনটি একজন কবির পঙক্তিতে সুরের প্রয়োগ দেখা যায়:

“কাতা পাখি সম্পর্কে আমি এমন এক বর্ণনা দেব... যা আমার নিকট (মফিহা/مفيها) শব্দের সাথে মিলে যায়।”

অর্থাৎ ‘মা ফিহা’ (ما فيها)। ইবনুল আ’ইয়ুন তিলাওয়াতে এসবের সংমিশ্রণ ঘটাতেন এবং তা গোপন রাখতেন। অবশেষে তৃতীয় শতাব্দীতে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আত-তিরমিজির সময় আসে। তৎকালীন খলিফা ও আমীরগণ গানের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ও আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন, ফলে মুহাম্মদ এই পদ্ধতিতে তিলাওয়াত করতে শুরু করেন।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
على الأغاني المولدة المحدثة، سلخها في القراءة بأعيانها.

وقال صاحب (جمال القراءة) : إن أول ما غني به القرآن قراءة الهيثم " أما السفينة " كما تقدم،

فلعل ذلك أول ما ظهر منه.

ولم يكن يعرف من مثل هذا شيء لعهد النبي صلى الله عليه وسلم ولا لعهد أصحابه وتابعيهم إلا ما رواه

الترمذي في (الشمائل) واختلفوا في تفسيره؛ فقد روي بإسناده عن عبد الله بن مُغفِل قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم على ناقة يوم الفتح (فتح مكة) وهو يقرأ (إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا (1) لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ)

قال: فقرأ ورجعَ. وفسره ابن مغفل بقوله: آآآ بهمزة مفتوحة بعدها ألف ساكنة، ثلاث مرات ولا خلاف بينهم في أن هذا الترجيع لم يكن ترجيع غناء.

وكان في الصحابة والتابعين رضي الله عنهم من يحكم القراءة على أحسن وجوهها ويؤديها بأفصح مخرج وأسراه، فكأنما يسمع منه القرآنَ غضاً طَرَياً، لفصاحته وعذوبة منطقه وانتظام نَبراته،

وهو لحن اللغة نفسها في طبيعتها لا لحن القراءة في الصناعة، على أن كثيراً من العرب كانوا يقرأون القرآن ولا يعفون ألسنتهم مما اعتادته في هيئة إنشاد الشعر، مما لا يحل بالأداء، ولكنه

يعطي القراءة شبهاً من الإنشاد قريباً، لتمكن ذلك منهم وانطباع الأوزان في الفطرة، حتى قيل في بعضهم: إنه يقرأ القرآن كأه رَجز الأعراب.

وهذا عندنا هو الأصل فيما فشا بعد ذلك من الخروج عن هيئة الإنشاد إلى هيئة التلحين، وخاصة بعد أن ابتدع الزنادقة في إنشاد الشعر هذا النوع الذي يسمونه التغيير، ولم يكن معروفاً من

إنشاد الشعراء قبل ذلك وهو أنهم يتناشدون الشعر بالألحان فيطربون ويرقصون ويرهجون؛

ويقال لمن يفعلون ذلك: المغبرة. وعن الشافعي رحمه الله. أرى الزنادقة وضعوا هذا التغيير ليصدوا الناس عن ذكر الله وقراءة القرآن.

وبالجملة فإن التعبد بفهم معاني القرآن في وزن التعبد بتصحيح ألفاظه وإقامة حروفه على الصفة المتلقاة من أئمة القراءةِ المتصلةِ بالنبي صلى الله عليه وسلم.

وقد عد العلماء القراءة بغير هذا التجويد لحناً خفياً، لأن المختص بمعرفته وتمييزه هم أهل القراءة الذين تلقوه من أفواه العلماء، وضبطوه من ألفاظ أئمة أهل الأداء.

***
নব্য উদ্ভাবিত আধুনিক গানগুলোর অনুকরণে, সেগুলোকে ঠিক একইভাবে তিলাওয়াতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‘জামালুল কিরাআত’ গ্রন্থের রচয়িতা বলেন: কুরআনকে সুর করে গাওয়ার বিষয়টি সর্বপ্রথম হাইসামের তিলাওয়াতের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যেমনটি ‘আম্মাস সাফিনাহ’ তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্ভবত এটিই ছিল সেই বিষয়ের প্রথম বহিঃপ্রকাশ।

নবী (সা.)-এর যুগে, তাঁর সাহাবীগণ কিংবা তাবেয়ীদের যুগে এই জাতীয় কোনো কিছুর অস্তিত্ব ছিল না; কেবল তিরমিযী তাঁর ‘শামায়েল’ গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন তা ব্যতীত, আর আলেমগণ এর ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ করেছেন। তাঁর সনদ (إسناد) অনুযায়ী আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে, তিনি বলেন: আমি মক্কা বিজয়ের দিনে নবী (সা.)-কে তাঁর উটের ওপর বসে তিলাওয়াত করতে দেখেছি: “নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি (১) যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যৎ গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন (২)”।

তিনি বলেন: নবী (সা.) তিলাওয়াত করলেন এবং তারজী (رجع) করলেন। ইবনে মুগাফফাল এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন ‘আ আ আ’ (জবরযুক্ত হামযাহর পর সাকিন আলিফ) দিয়ে তিনবার উচ্চারণ করার মাধ্যমে। আলেমদের মাঝে এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, এই তারজী (ترجيع) কোনো গানের সুর ছিল না।

সাহাবী এবং তাবেয়ীদের (রা.) মধ্যে এমন ব্যক্তিবর্গ ছিলেন যাঁরা তিলাওয়াতকে সর্বোত্তম পদ্ধতিতে সুচারুরূপে সম্পন্ন করতেন এবং অত্যন্ত স্পষ্ট ও মার্জিত মাখরাজ (مخرج) থেকে তা আদায় করতেন। ফলে তাঁর থেকে শ্রবণকৃত কুরআনকে একদম সজীব ও প্রাণবন্ত মনে হতো; এর কারণ ছিল তাঁর প্রাঞ্জলতা, সুমিষ্ট বাচনভঙ্গি এবং স্বরভঙ্গির সুসামঞ্জস্যতা।

এটি ছিল ভাষার সহজাত শৈল্পিক মাধুর্য, কৃত্রিমভাবে তৈরি তিলাওয়াতের সুর নয়। তবে অনেক আরব যখন কুরআন তিলাওয়াত করতেন, তখন কবিতা আবৃত্তির যে শৈলী তাদের জিহ্বায় অভ্যস্ত ছিল, তা থেকে তারা নিজেদের মুক্ত রাখতেন না; যা যদিও বিশুদ্ধ আদায়ের পরিপন্থী নয়, কিন্তু তিলাওয়াতের মধ্যে কবিতা আবৃত্তির একটি নিকটতর সাদৃশ্য তৈরি করত। তাদের ওপর সেই অভ্যাসের প্রভাব এবং স্বভাবজাত ছন্দের বিন্যাস এমনভাবে গেঁথে ছিল যে, তাদের কারো কারো সম্পর্কে বলা হতো: তিনি যেন বেদুঈনদের ‘রাজায’ ছন্দের মতো করে কুরআন পাঠ করছেন।

আমাদের মতে এটিই ছিল সেই মূল ভিত্তি যেখান থেকে পরবর্তীতে কবিতা আবৃত্তির শৈলী থেকে বিচ্যুত হয়ে সুর বা সংগীতের রূপ পরিগ্রহ করার প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে যখন ধর্মহীনরা (الزندقة) কবিতা আবৃত্তির ক্ষেত্রে এমন এক নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবন করল যাকে তারা ‘তাগয়ীর’ বলত। কবিদের কবিতা আবৃত্তিতে এর আগে এটি পরিচিত ছিল না; আর তা হলো সুরের মূর্ছনায় কবিতা আবৃত্তি করা, যার ফলে তারা বিমোহিত হতো, নৃত্য করত এবং হট্টগোল সৃষ্টি করত।

যারা এই কাজ করত তাদেরকে ‘মুগাব্বিরাহ’ বলা হতো। ইমাম শাফিঈ (রহ.) থেকে বর্ণিত (عن) হয়েছে যে, তিনি বলেন: আমি মনে করি ধর্মহীনরা (الزندقة) এই ‘তাগয়ীর’ প্রথাটি উদ্ভাবন করেছে মানুষকে আল্লাহর স্মরণ এবং কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিমুখ করার জন্য।

সারকথা হলো, কুরআনের মর্মার্থ অনুধাবনের মাধ্যমে ইবাদত করা ঠিক সমপর্যায়ের ইবাদত যেমনটি এর শব্দসমূহকে সঠিকভাবে উচ্চারণ করা এবং নবী (সা.)-এর সাথে অবিচ্ছিন্ন কিরাআতের ইমামদের থেকে প্রাপ্ত গুণাবলি অনুযায়ী হরফসমূহকে আদায় করার মাধ্যমে করা হয়।

আলেমগণ এই তাজবিদ (تجويد) ব্যতিরেকে তিলাওয়াত করাকে সূক্ষ্ম বিচ্যুতি (لحن خفي) হিসেবে গণ্য করেছেন; কারণ এটি চেনা এবং পার্থক্য করার বিষয়টি কিরাআতের বিশেষজ্ঞদের জন্য নির্ধারিত, যারা আলেমদের মুখ থেকে এটি গ্রহণ করেছেন এবং কিরাআতের ইমামদের উচ্চারণ শৈলী থেকে তা আয়ত্ত করেছেন।

***
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
‌‌لغة القرآن

الأصلُ فيمن نزل القرآن بلغتهم، قريش، وقد سلف لنا في مبحث اللغة كلام في معنى الإصلاح الذي خلصت به لغتُهم إلى التهذيب، وكيف واروا بينهم في لغات العرب ممن كان

يجتمع إليهم من الحجيج أو ينزل بهم من العرب في كل موسم ومُتَسوق. وكان طبيعياً أن يكون

القرآن بلغة قريش، لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم قُريشي، ثم ليكون هذا الكلام زعيمَ اللغات كلها كما

استمازت قريش من العرب بجوار البيت، وسقاية الحاج، وعمارةِ المسجد الحرام، وغيرها من خصائصهم؛ وقد ألف العرب أمرهم ذلك واحتملوا عليه وأفردوهم به، فلأن يألفوا مثلَه في كلام الله أؤلى.

وهذه حكمة بالغة في سياسة أولئك الجفاة وتألفهم وضم نشرهم، فإن هذا القرآن لو لم يكن بلسان قريش ما اجتمع له العرب ألبتة ولو كانت بلاغته مما يميت ويحيي، ثم كانواً لا يَعْدون في

اعتبارهم إياه أنه ضَرب من تلك الضروب التي كانت لهم من خوارق العادات، كالسحر والكهانة

وما إليهما، وهو الذي افترته قريش ليصرفوا به وجوه العرب ويميلوا رؤوسهم عن الإصغاء إلى

النبي صلى الله عليه وسلم، فقالوا: ساحر، وكاهن وشاعرَ، ومجنون. وتقوَّلوا من أمثال ذلك يبتغون به أن يحدثوا

في قلوب الناس لهذا الأمر خفة الشأن؛ وأن يهونوا عليهم منه بما هونته العادة، وهم كانوا أعلم بعادات القوم وما يبلغ بهم، حين قعدوا يصدون عن سبيل الله ويبغونها عوجاً.

وههنا أصل آخر، وهو أن القرآن لو نزل بغير ما ألفَه النبي صلى الله عليه وسلم من اللغة القرشية وما اتصل بها، كان ذلك مَغمزاً فيه، إذ لا تستقيم لهم المقابلة حينئذ بين القرآن وأساليبه، وبين ما يأثرونه من

كلام النبي صلى الله عليه وسلم فيهون ذلك على قريش، ثم على العرب، فيجدون لكل قبيلة مذهباً من القول فيه،

فتنشق الكلمة، ثم يصير الأمر من العصبية والمشاحنة والبغضاء إلى حال لا يلتئم عليه أبداً، ولو أن شاعراً من شعرائهم ظهر فيهم بدين خيالي وأقامهم عليه، لكان من الرجاء والاحتمال أن يستجيبوا

له دون صاحب القرآن الذي ينزل عليه بلغة غير لغة قبيلته.

وإنما وطأنا بهذا النبذِ من القول لأن طائفة من الناس يذهبون إلى أن القرآن لو هو قد نزل على النبي صلى الله عليه وسلم بغير القرشية، لكان ذلك وجهاً من إعجازه تلتمَس به الحجة ويستبين الظفر، ولخلَّى

عنه العرب فترة وعجزاً. وهو زعم لا يقول به إلا أحد رجلين: من يدري كيف يقول، أو من يقول

ولا يبالي أن يدري أنك مطلعَ منه على جهل وسفَه.

ولما كان الوجه الذي أقبل به القرآن على العرب وجه تلك البلاغة المعجزة، فقد كان من
কুরআনের ভাষা

মূলনীতি (أصل) হলো কুরআন যাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে তারা হলো কুরাইশ। ইতিপূর্বে ভাষার আলোচনায় কুরাইশদের ভাষা যে সংস্কারের মাধ্যমে পরিমার্জিত রূপ লাভ করেছিল, সে সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য অতিক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া হজের মৌসুমে বা আরবের বিভিন্ন মেলায় আগত আরবদের বিভিন্ন ভাষা থেকে তারা কীভাবে নিজেদের জন্য ভাষার শুদ্ধতম অংশগুলো গ্রহণ করেছিল, সে সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে।

যারা হজের মৌসুমে তাদের কাছে সমবেত হতো অথবা আরবের বিভিন্ন বিপণি-কেন্দ্রে তাদের সান্নিধ্যে আসত। আর এটাই স্বাভাবিক ছিল যে,

কুরআন কুরাইশদের ভাষায় হবে, কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন কুরাইশ বংশীয়। এছাড়া কুরাইশরা যেভাবে কাবার সান্নিধ্য, হাজীদের পানি পান করানো এবং মসজিদুল হারামের রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের কারণে আরবদের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছিল, তেমনি এই বাণীও যেন সমস্ত ভাষার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। আরবরা কুরাইশদের এই মর্যাদা স্বীকার করে নিয়েছিল, তা মেনে নিয়েছিল এবং তাদের এই অনন্য সাধারণ স্বকীয়তা প্রদান করেছিল। সুতরাং আল্লাহর বাণীর ক্ষেত্রেও তারা অনুরূপ বিষয় মেনে নেওয়া ছিল অধিকতর সমীচীন।

সেই রূঢ় স্বভাবের লোকেদের শাসন করা, তাদের অন্তর জয় করা এবং তাদের অনৈক্য দূর করে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে এটি ছিল এক সুগভীর হিকমত। কেননা এই কুরআন যদি কুরাইশদের ভাষায় না হতো, তবে এর অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة) যদি জীবন দানকারী বা মৃত্যু ঘটানোর মতো প্রভাবশালীও হতো, তবুও আরবরা কখনোই এর ওপর ঐক্যবদ্ধ হতো না। অধিকন্তু, তাদের বিবেচনায় এটি

জাদুমন্ত্র বা গণনার মতো তৎকালীন প্রচলিত অলৌকিক বিষয়গুলোর চেয়ে ভিন্ন কিছু হতো না।

আর এই অপবাদগুলোই কুরাইশরা রটিয়েছিল যাতে আরবদের বিমুখ করা যায় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর প্রতি তাদের মনোযোগ থেকে সরিয়ে নেওয়া যায়। তারা বলেছিল: তিনি একজন জাদুকর, গণক, কবি এবং উন্মাদ। মানুষের হৃদয়ে এই বিষয়টি যাতে গুরুত্বহীন হয়ে যায়, সেজন্য তারা এ জাতীয় নানা কথা রটিয়েছিল;

যাতে সাধারণ অভ্যাসের দোহাই দিয়ে একে মানুষের কাছে সহজবোধ্য ও তুচ্ছ করে তোলা যায়। তারা যখন আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা দেওয়ার এবং বক্রতা খোঁজার হীন উদ্দেশ্যে লিপ্ত হয়েছিল, তখন তারা কওমের স্বভাব ও মানসিকতা এবং কিসের মাধ্যমে তারা প্রভাবিত হয় সে সম্পর্কে খুব ভালোভাবেই অবগত ছিল।

এখানে আরেকটি মূলনীতি (أصل) রয়েছে, আর তা হলো—কুরআন যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিচিত কুরাইশ ভাষা বা তৎসংশ্লিষ্ট ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় অবতীর্ণ হতো, তবে তা সমালোচনার একটি বড় সুযোগ তৈরি করত। কারণ তখন কুরআনের শৈলী এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণিত বাণীর মধ্যে তুলনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হতো না। ফলে বিষয়টি কুরাইশদের কাছে এবং পরবর্তীতে আরবদের কাছে তুচ্ছ মনে হতো। তারা তখন প্রতিটি গোত্রের ভাষার ব্যবহারের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত খুঁজে পেত।

এতে করে অনৈক্য দেখা দিত এবং বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িকতা, দলাদলি ও বিদ্বেষের এমন পর্যায়ে পৌঁছাত যা কখনো মিটমাট হওয়ার মতো ছিল না। যদি তাদের কোনো কবি কাল্পনিক কোনো ধর্ম নিয়ে তাদের মাঝে আবির্ভূত হতেন এবং তাদের সেই পথে আহ্বান করতেন, তবে সেই কুরাইশ কবির ডাকে সাড়া দেওয়ার যতটা সম্ভাবনা ছিল, নিজের গোত্রের ভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় ওহীপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির ডাকে সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা ততটা ছিল না।

আমরা এই আলোচনার অবতারণা এজন্যই করেছি যে, একদল লোক মনে করে যে, কুরআন যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কুরাইশ ভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় অবতীর্ণ হতো, তবে তা অলৌকিকত্বের (إعجاز) একটি দিক হতো যার মাধ্যমে অকাট্য প্রমাণ (حجة) পেশ করা সম্ভব হতো এবং শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পেত। এর ফলে আরবরা হতবিহ্বল ও অক্ষম হয়ে একে মেনে নিত। এটি এমন এক অমূলক ধারণা যা কেবল দুই ধরণের মানুষই করতে পারে: হয় সে জানে না সে কী বলছে, অথবা সে জেনেশুনে এমন কথা বলছে যেখানে তার মূর্খতা ও নির্বুদ্ধিতা প্রকাশ পাওয়া সম্পর্কে সে মোটেও ভ্রুক্ষেপ করছে না।

যেহেতু কুরআন আরবদের নিকট সেই অলৌকিক অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) রূপ নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল, তাই এটি ছিল...
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
إعجازه أن يأتيهم بأفصح ما تنتهي إليه لغات العرب جميعاً، وإنما سبيل ذلك من لغة قريش.

وهذه اللغات وإن اختلفت في اللحن والاستعمال، إلا أنها تتفق في المعنى الذي من أجله صار العرب جميعاً يخشعون للفصاحة من أي قبيل جاءتهم، وهذا المعنى هو مناسبة التركيب في أحرف الكلمة

الواحدة. ثم ملاءمتُها للكلمة التي بإزائها، ثم اتساق الكلام كله على هذا الوجه حتى يكون الذي

يُصب في الأذن صبّا، فيجري أضعفهُ في النسق مجرى أقواه، لأن جملته مُفرغة على تناسب واحد.

وقد استوفى القرآن أحسن ما في تلك اللغات من ذلك المعنى، وبان منها بهذه المناسبة العجيبة التي أظهرته على تنوُّعه في الأوضاع التركيبية مظهرَ النوع الواحد وهي مناسبة معجزة في

نفسها، لأن التأليف بين المواد المختلفة على وجه متناسب ممكن، ولكن التأليف بينها على وجه يجمعها ويجمع الأذواق المختلفة عليها كما اتفق القرآن، أمرٌ لا يقول بإمكانه من يعرف معنى الإمكان.

وسنفصل ذلك في موضع هو أملكُ به متى انتهينا إلى القول في حقيقة الإعجاز.

أما اللغات التي نزل بها القرآن غير لغة قريش، فهي لغة بني سعد بن بكر الذين كان النبي صلى الله عليه وسلم مُسترضعاً فيهم، وهي إحدى لغات العجُز، من هوازن، ثم سائر هذه اللغات وهي جُشمُ بن بكر،

ونصرُ بن معاوية وثقيف، وتلك هي أفصح لغات العرب جملة، ثم خزاعة، وهذيل، وكنانة، وأسَد وضئة، وكانوا على قرب من مكة يكثرون التردد إليها ومن بعدهم قيس وألفافُها التي في وسط الجزيرة.

قال بعض العلماء: وقد كانت في القرآن ألفاظ من لغات أخرى كقوله:

(لَا يَلِتْكُمْ مِنْ أَعْمَالِكُمْ) أي لا ينقصكم بلغة بني عبس، ونقل الواسطي في كتابه الذي وضعه في القراءات العشر

أن في القرآن من أربعين لغة عربية، وهي: قريش، وهذيل، وكنانة، وخثعَم، والخزرَج، وأشعر، ونمير، وقيس عَيلان، وجُرهُم، واليمن، وأزد شَنوءة، وتميم، وكندة، وحفير، ومَديَن، ولَخم،

وسعد العشيرة، وحضر موت، وسَدوس، والعمالقة، وأنمار، وغسان، ومِذحج، وخُزاعة، وغَطفان، وسبأ، وعُمانَ، وبنو حنيفة، وثعلب، وطي، وعمر بن صَغصَعَة، وأوس، ومُزينة، وثقيف، وجذام، وبَلى، وعُذرة، وهوازن، والنَمِر، واليمامة. 1 هـ.

ولا سبيل إلى تحقيق ذلك؛ لدروس هذه اللغات وتداخلها وتقطع أسباب المقارنة بينها وبين لغة قريش التي مضوا على استعمالها بعد القرآن وأطبقوا عليها، والعلماء إنما يذكرون من أكثر هذه

اللغات في القرآن الكلمة والكلمتين، إلى الكلمات القليلة؛ وانظر أين يقع مبلغ ذلك من لغة بجملتها؟

ولقد ائتلفت لغة القرآن الكريم على وجه يستطيع العرب أن يقرأوه بلحونهم وإن اختلفت
এর অলৌকিকত্ব (إعجاز) এই যে, এটি তাদের কাছে আরবদের সকল উপভাষার চূড়ান্ত সাবলীলতা (فصاحة) নিয়ে এসেছে, আর এর মূল পথ হলো কুরাইশদের ভাষা।

আর এই উপভাষাগুলো উচ্চারণভঙ্গি ও ব্যবহারের দিক থেকে ভিন্ন হলেও, তারা সেই বিষয়ের ওপর একমত (اتفاق) যার কারণে সমস্ত আরব জাতি যেকোনো গোত্র থেকে আগত সাবলীলতার (فصاحة) প্রতি বিনম্র হতো। আর এই বিষয়টি হলো একক শব্দের

বর্ণসমূহের বিন্যাসের সামঞ্জস্য। এরপর তার পার্শ্ববর্তী শব্দের সাথে তার উপযোগিতা, তারপর পুরো বক্তব্যের (كلام) ধারাবাহিকতা এমনভাবে বজায় থাকে যে, যা

কানে সুধাবর্ষণের মতো বর্ষিত হয়। ফলে এর বিন্যাসে সবচেয়ে দুর্বল অংশটিও শক্তিশালী অংশের ন্যায় প্রবাহিত হয়, কারণ এর পুরো কাঠামোটি একটি অভিন্ন সামঞ্জস্যের ওপর ভিত্তি করে গঠিত।

কুরআন এই ভাষাগুলোর মধ্য থেকে সেই অলঙ্কারিক বিষয়ের সর্বোত্তম দিকগুলো গ্রহণ করেছে। এই চমৎকার সামঞ্জস্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, বিভিন্ন গঠনশৈলী থাকা সত্ত্বেও এটি একক রূপ ধারণ করেছে। এই সামঞ্জস্য নিজেই এক অলৌকিক (معجزة) বিষয়

নিজের মধ্যে, কারণ বিভিন্ন উপকরণের মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংকলন সম্ভব হলেও, কুরআন যেভাবে বিভিন্ন শৈলীকে একত্রিত করেছে এবং বিচিত্র রুচিকে এক জায়গায় শামিল করেছে, তার সম্ভাবনা সম্পর্কে এমন কেউ দাবি করতে পারবে না যে কি না 'সম্ভাবনা' শব্দের প্রকৃত অর্থ জানে।

আমরা এর বিস্তারিত আলোচনা যথাযথ স্থানে করব যখন আমরা অলৌকিকত্বের (إعجاز) প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে আলোচনা শেষ করব।

কুরাইশ ভাষা ব্যতীত অন্য যে সব উপভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, তা হলো বনু সাদ বিন বকর গোত্রের ভাষা, যাদের মাঝে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুগ্ধপান করেছিলেন। এটি হাওয়াজিন গোত্রের 'আজুয' উপভাষাগুলোর একটি। এরপর অন্যান্য ভাষাগুলো হলো জুশাম বিন বকর,

নাসর বিন মুয়াবিয়া এবং সাকিফ। এগুলোই সামগ্রিকভাবে আরবদের সর্বাধিক সাবলীল (أفصح) উপভাষা। এরপর খুযাআহ, হুযাইল, কিনানাহ, আসাদ এবং দায়াহ; তারা মক্কার নিকটবর্তী ছিল এবং সেখানে প্রায়ই যাতায়াত করত। তাদের পরে কাইস এবং জাযিরাতুল আরবের মধ্যভাগের সংশ্লিষ্ট গোত্রসমূহ।

কোনো কোনো আলেম বলেছেন: কুরআনে অন্যান্য ভাষার শব্দও রয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী:

(لَا يَلِتْكُمْ مِنْ أَعْمَالِكُمْ) অর্থাৎ বনু আবস গোত্রের উপভাষায় এর অর্থ 'তোমাদের আমল থেকে কোনো অংশ হ্রাস করবেন না'। আল-ওয়াসিতি দশ কিরাত বিষয়ক তার কিতাবে বর্ণনা (نقل) করেছেন

যে, কুরআনে চল্লিশটি আরবি উপভাষা রয়েছে, সেগুলো হলো: কুরাইশ, হুযাইল, কিনানাহ, খাসআম, খাজরাজ, আশআর, নুমাইর, কাইস আইলান, জুরহুম, ইয়ামেন, আযদ শানুয়াহ, তামিম, কিনদাহ, হাফির, মাদইয়ান, লাখম,

সাদ আল-আশিরাহ, হাদরামাউত, সাদূস, আমালিকা, আনমার, গাসসান, মিযহাজ, খুযাআহ, গাতাফান, সাবা, ওমান, বনু হানিফা, সালাব, তাই, উমর বিন সাগসায়াহ, আওস, মুযাইনাহ, সাকিফ, জুযাম, বালি, উযরাহ, হাওয়াজিন, আন-নামির এবং ইয়ামামাহ। (১ম হিজরি)।

তবে এটি যাচাই (تحقيق) করার কোনো উপায় নেই; কারণ এই উপভাষাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে, একে অপরের সাথে মিশে গেছে এবং কুরাইশ উপভাষার সাথে তুলনা করার পথগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে—যে ভাষাটি কুরআনের পর আরবরা ব্যবহার করে এসেছে এবং যার ওপর তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আলেমগণ সাধারণত কুরআনে থাকা এই সব

উপভাষার একটি বা দুটি শব্দ, অথবা খুব অল্প কিছু শব্দের কথা উল্লেখ করেন; কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ উপভাষার তুলনায় সেই অল্প কিছু শব্দের পরিমাণ কতটুকুই বা হতে পারে?

কুরআনুল কারিমের ভাষা এমন এক অপূর্ব সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে যে, আরবরা তাদের নিজস্ব উচ্চারণরীতি অনুযায়ী তা পাঠ করতে সক্ষম যদিও তা ভিন্ন হয়।
(খণ্ড: ১) ইজাযুল কুরআন ওয়াল বালাগাতুন নববিয়্যাহ লির-রাফেয়ী (পৃষ্ঠা: ৪৮)
وتناقضت؛ ثم بقي مع ذلك على فصاحته وخلوصه. لأن هذه الفصاحة هي في الوضع التركيبي، كما أومأنا إليه آنفاً، وتلك سياسة لغوية استدرج بها العرب إلى الإجماع على منطق واحد ليكونوا

جماعة واحدة، كما وقع ذلك من بعد؛ فجرت لغة القرآن على أحرف مختلفات في منطق الكلام، كتحقيق الهمز وتخفيفه، والمد والقَصر، والفتح والإمالة وما بينهما، والإظهار والإدغام؛ وضم

الهاء وكسرها من عليهم وإليهم، وإلحاق الواو فيهما وفي لفظتي منهمو وعنهمو، وإلحاق الياء في، إليه وعليه وفيه، ونحو ذلك، فكان أهل كل لحن يقرأونه بلَحنهم.

وربما استعمل القرآن الكلمة الواحدة على منطق أهل اللغات المختلفة فجاء بها على وجهين، لمناسبة في نظمه: كَبرَاء، وبريء، فإن أهل الحجاز يقولون: أنا منك براء، لا يعدونها، وتميم وساثر العرب يقولون: أنا منك بريء، واللغتان: في القرآن. وكذلك قوله: (فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ) ،

قوله: (وَاللَّيْلِ إِذَا يَسْرِ) فإن الأولى لغة قريش؛ يقولون: أسريت؛ وغيرهم من العرب يقولون:

سريت، وهذا باب من اللغة لم يقع إلينا مستقصى؛ ولكن علماء الأدب ربما أشاروا إلى بعض ألفاظه في كتبهم، كما تصيب من ذلك في " الكامل للمبرد وغيره.

وبالوجوه التي أومأنا إليها تختلف القراءات على حسب الطرق التي تجيء منها؛ فالناقلون عمن قرأ بلغة قبيلة ينقلون بتلك اللغة في الأكثر، ولذا قيل: إن القراءات السبع متواترة فيما لم يكن من قبيل الأداء أما ما هو من قبيله كالمد والإمالة ونحوها فغير متواتر، وهو الوجه المتقبل.

ولقد أحصى علماء القراءة في كتبهم ما ورد من ألفاظ القرآن على أحد تلك الوجوه، ومن
এবং এটি বৈপরীত্যপূর্ণ ছিল; তৎসত্ত্বেও এটি তার সাবলীলতা ও বিশুদ্ধতার ওপর অটল রয়েছে। কারণ এই সাবলীলতা হলো গঠনশৈলীর বিন্যাসে, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি। আর এটি ছিল একটি ভাষাগত কৌশল যার মাধ্যমে আরবদের একটি অভিন্ন ভাষার ওপর একমত হওয়ার জন্য ধাপে ধাপে আনা হয়েছিল, যাতে তারা হতে পারে

একটি একক জাতি, যেমনটি পরবর্তীতে সংঘটিত হয়েছিল। ফলে কোরআনের ভাষা বাকরীতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপভাষার (أحرف) ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত হয়েছে; যেমন হামযাহর স্পষ্ট উচ্চারণ (تحقيق) ও সহজীকরণ (تخفيف), দীর্ঘায়ন (مد) ও হ্রস্বায়ন (قصر), ফাতহ (فتح) ও ইমালাহ (إمالة) এবং এই দুটির মধ্যবর্তী অবস্থা, স্পষ্ট উচ্চারণ (إظهار) ও সন্ধি (إدغام); এবং

‘আলাইহিম’ ও ‘ইলাইহিম’ শব্দে ‘হা’ বর্ণে পেশ ও যের প্রদান, এই উভয় শব্দে এবং ‘মিনহুমু’ ও ‘আনহুমু’ শব্দদ্বয়ে ‘ওয়াও’ যুক্ত করা, এবং ‘ইলাইহি’, ‘আলাইহি’ ও ‘ফিহি’ শব্দগুলোতে ‘ইয়া’ যুক্ত করা এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। ফলে প্রতিটি উপভাষার অনুসারীরা তাদের নিজস্ব বাচনভঙ্গিতে (لحن) তা পাঠ করত।

সম্ভবত কোরআন কোনো একটি শব্দকে বিভিন্ন ভাষাভাষী লোকদের বাচনভঙ্গি অনুযায়ী ব্যবহার করেছে, ফলে এর বিন্যাসের সংগতির কারণে এটি দুটি রূপে এসেছে: যেমন ‘বারা’ এবং ‘বারী’। হিজাজবাসীরা বলত: ‘আনা মিনকা বারা’, তারা শব্দটিকে পরিবর্তন করত না; অন্যদিকে তামীম গোত্র ও অন্যান্য আরবরা বলত: ‘আনা মিনকা বারী’। আর উভয় ভাষাই কোরআনে বিদ্যমান। অনুরূপভাবে আল্লাহর বাণী: (ফাসরি বিআহলিকা),

এবং আল্লাহর বাণী: (ওয়াল্লাইলি ইযা ইয়াসরি)। প্রথমটি কুরাইশদের ভাষা; তারা বলত ‘আসরাইতু’; আর অন্যান্য আরবরা বলত:

‘সারাইতু’। ভাষার এই অধ্যায়টি পূর্ণাঙ্গভাবে আমাদের কাছে পৌঁছেনি; তবে সাহিত্য বিশারদগণ সম্ভবত তাঁদের গ্রন্থসমূহে এর কিছু শব্দের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যেমনটি আপনি মুবাররাদ-এর আল-কামিল ও অন্যান্য গ্রন্থে পাবেন।

আমরা যে দিকগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি, সেগুলোর ভিত্তিতে কিরাআতসমূহ (قراءات) ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে সেগুলোর সূত্র অনুযায়ী। যারা কোনো নির্দিষ্ট গোত্রের ভাষায় পাঠকারীর কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই ভাষাতেই বর্ণনা করেছেন। এজন্য বলা হয়েছে: সাত কিরাআত (القراءات السبع) হলো নিরবচ্ছিন্ন (متواترة) সেসব ক্ষেত্রে যা উচ্চারণ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যা এর অন্তর্ভুক্ত যেমন দীর্ঘায়ন (مد), ইমালাহ (إمالة) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো, সেগুলো নিরবচ্ছিন্ন (متواتر) নয়; আর এটিই গ্রহণযোগ্য অভিমত।

কিরাআত (قراءة) বিশেষজ্ঞগণ তাঁদের গ্রন্থসমূহে কোরআনের সেই শব্দগুলোকে তালিকাভুক্ত করেছেন যা এই রূপগুলোর কোনো একটির ওপর ভিত্তি করে বর্ণিত হয়েছে, এবং যারা