(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: -)
واحفظوا أيمانكم القسم: مسائل فقهية
الكتاب: واحفظوا أيمانكم
المؤلف: عبد المنان التالبي
عدد الصفحات: 80
[البحث غير مطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الأول 1442
তোমরা তোমাদের শপথসমূহ হিফাযত করো বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: তোমরা তোমাদের শপথসমূহ হিফাযত করো
লেখক: আব্দুল মান্নান আত-তালিবী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০
[গবেষণাটি অপ্রকাশিত]
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ১)
{وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ}
تأليف
د/ عبدالمنان التالبي
مع
ملحق بالفتاوى الشرعية حول الأيمان
لفضيلة القاضي العلامة/ محمد بن إسماعيل العمراني
قدم للكتاب
القاضي العلامة / محمد بن اسماعيل العمراني
الشيخ العلامة الدكتور/ حسن محمد مقبولي الأهدل
الشيخ / محمد الصادق مغلس
{এবং তোমরা তোমাদের শপথসমূহ রক্ষা করো}
রচনায়
ড. আবদুল মান্নান আল-তালিবী
সাথে
শপথ সংক্রান্ত শরয়ী ফাতওয়ার পরিশিষ্ট
প্রখ্যাত বিচারপতি আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমরানী-এর
কিতাবটির মুখবন্ধ লিখেছেন
বিচারপতি আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমরানী
শায়খ আল্লামা ডক্টর হাসান মুহাম্মদ মকবুল আল-আহদাল
শায়খ মুহাম্মদ আস-সাদিক মুগাল্লিস
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ২)
مقدمة: القاضي العلامة / محمد بن اسماعيل العمراني
حفظه الله
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد الأنبياء والمرسلين وعلى آله الطيبين الطاهرين وعلى الصحابة الغر الميامين وعلى التابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين
… وبعد:
فهذا كتاب (واحفظوا أيمانكم) الذي دبجه يراع ولدي العزيز العالم الشاب النشيط: عبد المنان التالبي لمن أحسن المؤلفات العلمية التي خرجت في هذه الأيام لأنه قد تكلم في مؤلفه هذا بكلام جيد وقوي مركز كل مسئلة بدليها الصحيح ولم يحتج بأحاديث نبوية إلا ما كان صحيحا مخرجا وقد نزهه عن الحديث الضعيف ولم يتساهل في الاحتجاج بالأحاديث الواهية لا في الترهيب ولا في الوجوب والتحريم فهو كتاب تشد إليه الرحال ويكتب بماء الذهب لما فيه من الفوائد التي لا تحصى ومن المسائل القيمة التي لا تنحصر فرضي الله عنه وجزاه الله خيراً وزاد في الشباب من أمثاله آمين وسبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم
ربيع ثاني سنة 1430 هـ محمد بن اسماعيل العمراني
ভূমিকা: আল্লামা কাজী মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমরানি (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন)
সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসুলগণের সরদারের ওপর, তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গের ওপর, তাঁর উজ্জ্বল ও বরকতময় সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর
… অতঃপর:
এটি 'ওয়া আহফাযু আইমানাকুম' নামক কিতাব, যা আমার অত্যন্ত প্রিয় সন্তান, প্রাণবন্ত তরুণ আলেম আব্দুল মান্নান আত-তালিবির লেখনী থেকে নিসৃত হয়েছে। এটি বর্তমান সময়ে প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থগুলোর অন্যতম; কেননা লেখক এতে অত্যন্ত চমৎকার, শক্তিশালী ও সুসংহত আলোচনা করেছেন এবং প্রতিটি মাসআলাকে তার সঠিক (صحيح) দলিলের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি কেবল সেই সকল নববী হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যা সঠিক (صحيح) এবং সংকলিত (مخرج)। তিনি গ্রন্থটিকে দুর্বল (ضعيف) হাদিস থেকে মুক্ত রেখেছেন এবং ভীতিপ্রদর্শন (ترهيب), ওয়াজিব অথবা হারামের বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অতি দুর্বল (واهن) হাদিস ব্যবহারের বিষয়ে কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন করেননি। সুতরাং এটি এমন এক গ্রন্থ যা অর্জনের জন্য দীর্ঘ সফর করা সাজে এবং এর মধ্যকার অগণিত উপকারিতা ও অসংখ্য মূল্যবান মাসআলার কারণে এটি স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার যোগ্য। আল্লাহ লেখকের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং যুবসমাজের মধ্যে তাঁর মতো আরও ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি করে দিন। আমিন। আল্লাহ অতি পবিত্র এবং সকল প্রশংসা তাঁরই, মহান আল্লাহ অতি পবিত্র।
রবিউস সানি, ১৪৩০ হিজরি। মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমরানি।
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة: القاضي العلامة / محمد بن اسماعيل العمراني حفظه الله
ভূমিকা: আল-কাদি আল-আল্লামাহ / মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-আমরানি (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ৪)
مقدمة الشيخ / محمد الصادق مغلس
শাইখ মুহাম্মাদ আস-সাদিক মুগাল্লাস-এর ভূমিকা
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمة:الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسوله الأمين وعلى آله الطاهرين وأصحابه الراشدين، والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين
… أما بعد:
فإن من أعظم القُرب وأجل الطاعات التفقه في الدين، ولذا ندب الله تعالى إليه في كتابه الكريم فقال: {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنفِرُوا كَآفَّةً فَلَوْلا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَآئِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} ومدح النبي صلى الله عليه وسلم المتفقهين في الدين وبين أن الله أراد بهم خيراً حين ندبهم صوب هذه الغاية الشريفة، فقال صلى الله عليه وسلم: «من يرد الله به خيراً يفقهه في الدين» متفق عليه.
وبهذا يتبين فضل التفقه في الدين على سائر العلوم، وإن من الفقه في الدين تبصير الناس بأمور دينهم وتحذيرهم من مضلات الهوى ومنزلقات الإغواء ،والأخذ بأيديهم إلى جادة الحق والصواب.
وما من باب من أبواب الفقه إلا وتجد أن للناس فيه شيئاً من المخالفات الشرعية ومن هذا ما يخص الأيمان فإن الناظر إلى حال البعض اليوم يجد أنهم قد حادوا عن هدي النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الباب وذلك بحلفهم بغير أسماء الله تعالى وصفاته بصيغ وألفاظ متعددة منذ عهد قديم وهذا الكتاب على حجمه الصغير عالجت فيه موضوعات مهمة في باب الأيمان وما يتعلق بها من أحكام وما يلحق بها من مخالفات استهان بها الناس كالحلف بالحرام ،والحلف بالطلاق ،والحلف باليمين الزبيرية الذي ما زال البعض يحلف بها ويعتقدها إلى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা:সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত রাসুলের প্রতি, তাঁর পবিত্র বংশধর ও হিদায়াতপ্রাপ্ত সাহাবীগণের প্রতি এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের প্রতি
… অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম এবং শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো দীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করা। এজন্যই আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র কিতাবে এ বিষয়ে উৎসাহিত করে বলেছেন: "আর মুমিনদের সকলের একসাথে অভিযানে বের হওয়া সংগত নয়; তবে তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না যাতে তারা দীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের স্বজাতীয়রা যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা বেঁচে থাকতে পারে।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীনের গভীর জ্ঞান অর্জনকারীদের প্রশংসা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহ যখন তাঁদের এই মহান লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করেন তখন তিনি তাঁদের কল্যাণই চান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।" বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমতে বর্ণিত (متفق عليه)।
এর মাধ্যমেই অন্যান্য সকল ইলমের ওপর দীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট হয়। আর দীনের গভীর জ্ঞানের অন্যতম একটি দিক হলো মানুষকে তাদের ধর্মীয় বিষয়াদি সম্পর্কে সচেতন করা, প্রবৃত্তির বিভ্রান্তি ও প্রলোভনের পিচ্ছিল পথ থেকে তাদের সতর্ক করা এবং সত্য ও সঠিক পথে তাদের পরিচালিত করা।
ফিকহের এমন কোনো অধ্যায় নেই যেখানে আপনি মানুষের মাঝে কিছু শরিয়ত পরিপন্থী কাজ খুঁজে পাবেন না। এর মধ্যে একটি হলো শপথ সংক্রান্ত বিষয়। আজ এক শ্রেণির মানুষের অবস্থার দিকে তাকালে দেখা যায় যে, তারা এই ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই তারা আল্লাহর নাম ও গুণাবলী ব্যতীত বিভিন্ন শব্দ ও বাক্যের মাধ্যমে অন্য কিছুর শপথ করছে। এই ক্ষুদ্র পুস্তিকাটিতে আমি শপথের অধ্যায় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ ও সেই সব বিচ্যুতিসমূহ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করেছি যা মানুষ অবজ্ঞা করে থাকে। যেমন: কোনো কিছু হারাম করার শপথ, তালাকের শপথ এবং জুবাইরিয়া শপথ যার মাধ্যমে এখনও কেউ কেউ শপথ করে এবং বিশ্বাস করে...
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ৬)
يومنا هذا رغم أنها حرام وشرك لا يجوز الحلف بها. كما تطرقت إلى عقوبة اليمين الفاجرة وما يترتب عليها في الدنيا والآخرة لينزجر بذلك من يستهين باليمين ،ويقسم الأيمان الكاذبة ليقتطع بها حقوق الآخرين بغير حق ، وقد حرصت على أن تكون مسائل هذا الكتاب مقترنة بالدليل الشرعي من الكتاب والسنة الصحيحة، مع عزو الأقوال إلى قائليها في مصادرها المعتبرة؛ ليسهل على المطلع فهمها ،والاستفادة منها. وقد استفدت كثيرا من تصويبات وملحوظات مشائخي الأجلاءالذين راجعوا هذا البحث وقدموا له. وإتماماً للفائدة فقد جمعت ما تيسر لي جمعه من فتاوى لفضيلة شيخنا القاضي العلامة /محمد بن إسماعيل العمراني حول الأيمان بصيغها المختلفة ،ومخالفاتها المتعددة ،سائلاً المولى عز وجل أن يجعل هذا الجهد المتواضع خالصاً لوجهه الكريم وأن ينفع به إنه حميد مجيد.
كتبه الفقير إلى الله/ عبد المنان التالبي
altalaby 10@hotmayl.com
বর্তমান সময় পর্যন্ত (তা বিদ্যমান), যদিও তা হারাম ও শিরক এবং এসবের মাধ্যমে শপথ করা জায়েজ নয়। একইভাবে আমি পাপিষ্ঠ শপথের শাস্তি এবং দুনিয়া ও আখিরাতে এর পরিণাম নিয়ে আলোচনা করেছি, যাতে সেই ব্যক্তি বিরত থাকে যে শপথকে তুচ্ছজ্ঞান করে এবং অন্যের অধিকার অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা শপথ করে। আমি এই কিতাবের মাসআলাগুলোকে কুরআন ও সহিহ (صحيحة) সুন্নাহর শরয়ী দলিলের সাথে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি। পাশাপাশি বক্তব্যগুলোকে সেগুলোর নির্ভরযোগ্য মূল উৎস থেকে সংশ্লিষ্ট বক্তার দিকে সম্বন্ধ করেছি, যাতে পাঠকের জন্য তা বোঝা এবং তা থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়। আমি আমার অত্যন্ত সম্মানিত উস্তাদদের সংশোধন ও পর্যবেক্ষণ থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছি, যারা এই গবেষণাটি পর্যালোচনা করেছেন এবং এর ভূমিকা লিখে দিয়েছেন। বিষয়টিকে আরও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে আমি আমাদের শায়খ, আল্লামা কাজি মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমরানির শপথের বিভিন্ন পদ্ধতি এবং এর বিবিধ লঙ্ঘন সংক্রান্ত সহজলভ্য ফতোয়াগুলো সংকলন করেছি। মহান প্রভুর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই বিনম্র প্রচেষ্টাকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং এর দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
আল্লাহর মুখাপেক্ষী আব্দুল মান্নান আত-তালাবি এটি লিখেছেন।
altalaby 10@hotmayl.com
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ৭)
واحفظوا أيمانكم
سنتحدث في ظلال هذا التوجيه الرباني الكريم عن اليمين ، وأحكامها ، وكفارتها، وما يتعلق بها من مخالفات في أربعة مباحث على النحو التالي:
ـ المبحث الأول: اليمين.
ـ المبحث الثاني: أقسام اليمين.
ـ المبحث الثالث: أحكام اليمين.
ـ المبحث الرابع: كفارة اليمين.
আর তোমরা তোমাদের শপথসমূহ (أيمان) রক্ষা করো
আমরা এই মহান রব্বানী নির্দেশনার আলোকে শপথ (اليمিন), এর বিধানাবলি (أحكام), এর কাফফারা (كفارة) এবং এ সংশ্লিষ্ট লঙ্ঘনসমূহ নিয়ে নিম্নোক্ত চারটি পরিচ্ছেদে (مباحث) আলোচনা করব:
— প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): শপথ (اليمিন)।
— দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): শপথের প্রকারভেদ (أقسام اليمিন)।
— তৃতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثالث): শপথের বিধানাবলি (أحكام اليمিন)।
— চতুর্থ পরিচ্ছেদ (المبحث الرابع): শপথের কাফফারা (كفارة اليمিন)।
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ৮)
المبحث الأول: اليمين
مقدمة:اليمين وسيلة شرعية من وسائل إثبات الحق، عرفت منذ أقدم العصور، وتعددت أشكالها وطرق أدائها في المجتمعات، بحسب العقائد والأديان والأفكار. وقد كانت سائدة عند العرب في الجاهلية؛ فأقرها الشارع الحكيم بما يتفق مع العقيدة السليمة البعيدة عن الشرك. وقد بقيت اليمين في الشرائع والقوانين حتى عصرنا الحاضر، رغم تباين العقائد وشيوع المذاهب الإلحادية والمادية.
وسأتناولها في خمسة مطالب: -
المطلب الأول: تعريف اليمين - معانيها - سبب تسميتها.
المطلب الثاني: مشروعية اليمين - حكمها - شروطها.
المطلب الثالث: صفة اليمين- حكم الحلف بغير الله- صور من الحلف بغير الله.
المطلب الرابع: الأمر بحفظ الأيمان، والتحذير من الحلف الكاذب.
المطلب الخامس: -صيغ أيمان النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضوان الله عليهم التي كانوا يحلفون بها.
প্রথম পরিচ্ছেদ: শপথভূমিকা:শপথ হলো সত্য প্রমাণের একটি শরয়ি মাধ্যম, যা প্রাচীনকাল থেকে পরিচিত। আকিদা, ধর্ম ও চিন্তাধারার ভিন্নতা অনুযায়ী বিভিন্ন সমাজে এর রূপ ও পালনের পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়। এটি জাহেলি যুগে আরবদের মাঝে প্রচলিত ছিল; অতঃপর প্রজ্ঞাময় বিধানদাতা একে শিরকমুক্ত বিশুদ্ধ আকিদার সাথে সংগতি রেখে অনুমোদন করেছেন। আকিদার ভিন্নতা এবং নাস্তিক্যবাদী ও বস্তুবাদী মতাদর্শের ব্যাপকতা সত্ত্বেও বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন ঐশী বিধান ও মানবীয় আইনে শপথের অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে।
আমি এটি পাঁচটি অনুচ্ছেদে আলোচনা করব: -
প্রথম অনুচ্ছেদ: শপথের সংজ্ঞা - এর অর্থসমূহ - এর নামকরণের কারণ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শপথের বৈধতা - এর বিধান - এর শর্তাবলি।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: শপথের ধরন - আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর নামে কসম করার বিধান - আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর নামে কসম করার বিভিন্ন রূপ।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: শপথ রক্ষা করার নির্দেশ এবং মিথ্যা কসম করার ব্যাপারে সতর্কতা।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমগণের শপথের শব্দাবলি, যার মাধ্যমে তাঁরা কসম করতেন।
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ৯)
المطلب الأول: تعريف اليمين - معانيها- سبب تسميتها
أولاً: تعريف اليمين:اليمين لغة: أصلها اليد اليمنى وجمعها أيمان وأيمُنٌ
(1)، ومنه قوله تعالى: {وَمَا تِلْكَ بِيَمِينِكَ يَا مُوسَى}
(2).
ومن معانيها:
(أ) القوة
(3)، ومنه قوله تعالى: {لأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ}
(4)(ب) الجهة
(5)، ومنه قوله تعالى: (عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ عِزِينَ)
(6)(ج) الحلف والقسم والعهد
(7)، ومنه قوله تعالى: (وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ. .)
(8).
وقوله تعالى: (وَإِنْ نَكَثُوا أَيْمَانَهُمْ مِنْ بَعْدِ عَهْدِهِمْ. .)
(9).
واليمين في الشرع: " هي توكيد الشيء بذكر اسم أو صفة لله" وهذا أخصر التعاريف
… وأقربها
(10).
ثانياً: سبب تسميتها:سمي الحلف يميناً: لأنهم كانوا إذا تحالفوا ضرب كل واحد منهم يمينه على يمين صاحبه فسمي الحلف يميناً مجازاً
(11).
-وقيل: لأن اليد اليمنى من شأنها الحفظ للشيء ، فسمي الحلف بذلك لحفظ المحلوف عليه، وسمي المحلوف عليه يميناً لتلبسه بها
(12).
_ وقيل: لأن الحلف يتقوى بالقسم
(13).
_ وقيل: لإفادته القوة على المحلوف عليه من الفعل والترك
(14).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল-ইয়ামিনের (শপথ) সংজ্ঞা, এর অর্থসমূহ এবং নামকরণের কারণ
প্রথমত: ইয়ামিনের সংজ্ঞা:আভিধানিকভাবে (لغةً) ইয়ামিন: এর মূল অর্থ হলো ডান হাত এবং এর বহুবচন হলো আইমান (أيمان) ও আইমুন (أيمُنٌ)
(১)। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালার বাণী: "হে মুসা, তোমার ডান হাতে ওটা কী?"
(২)এর অন্যান্য অর্থসমূহ:
(ক) শক্তি
(৩), এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালার বাণী: "অবশ্যই আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম (অথবা প্রবল শক্তিতে পাকড়াও করতাম)।"
(৪)(খ) দিক
(৫), এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালার বাণী: "ডান ও বাম দিক থেকে দলে দলে।"
(৬)(গ) কসম, শপথ ও অঙ্গীকার
(৭), এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালার বাণী: "আর তারা আল্লাহর নামে তাদের কঠোর শপথ করে বলে..."
(৮)এবং আল্লাহ তায়ালার বাণী: "আর যদি তারা তাদের অঙ্গীকারের পর তাদের শপথ ভঙ্গ করে..."
(৯)শরিয়তের পরিভাষায় (شرعاً) ইয়ামিন হলো: "আল্লাহর কোনো নাম বা গুণাবলি উল্লেখ করার মাধ্যমে কোনো বিষয়কে সুদৃঢ় করা।" এটিই ইয়ামিনের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত... এবং নিকটতর সংজ্ঞা
(১০)।
দ্বিতীয়ত: এর নামকরণের কারণ:শপথকে ইয়ামিন বলা হয়: কারণ আরবরা যখন পরস্পর চুক্তিবদ্ধ বা শপথবদ্ধ হতো, তখন প্রত্যেকে তার ডান হাত সঙ্গীর ডান হাতের ওপর রাখত। একারণে রূপক অর্থে (مجازاً) শপথকে ইয়ামিন বলা হয়েছে
(১১)।
- অন্যমতে বলা হয়: যেহেতু ডান হাতের কাজ হলো কোনো বস্তুকে সংরক্ষণ করা, তাই শপথকৃত বিষয়টি রক্ষা করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে শপথকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে; আর শপথকৃত বিষয়টিকেও 'ইয়ামিন' বলা হয় এর সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে
(১২)।
_ আবার বলা হয়ে থাকে: কারণ কসমের মাধ্যমে শপথটি শক্তিশালী হয়
(১৩)।
_ আরও বলা হয়: কারণ এটি কোনো কাজ করা বা বর্জন করার ক্ষেত্রে শপথকৃত বিষয়ের ওপর শক্তি প্রদান করে
(১৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ১০)
المطلب الثاني: مشروعية اليمين -حكمها- شروطها
أولاً: مشروعية اليمين: الأصل في مشروعيتها وثبوت حكمها الكتاب والسنة والإجماع.
أما الكتاب فقول الله سبحانه وتعالى: {لا يُؤَاخِذُكُمْ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمْ الأَيْمَانَ. .}
(1).
وقوله تعالى: {وَلا تَنقُضُوا الأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا. .}
(2).
وأمر الله نبيه صلى الله عليه وسلم بالحلف في ثلاثة مواضع:
- قال تعالى: {وَيَسْتَنْبِئُونَكَ أَحَقٌّ هُوَ قُلْ إِي وَرَبِّي إِنَّهُ لَحَقٌّ وَمَا أَنْتُمْ بِمُعْجِزِينَ}
(3).
- وقال سبحانه: {قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتَأْتِيَنَّكُمْ}
(4)- وقال سبحانه {قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ}
(5).
وأما السنة فقول النبي صلى الله عليه وسلم: " والله إن شاء الله، لا أحلف على يمين فأرى غيرها خيراً منها إلا أتيت الذي هو خير وتحللتها"
(6).
وكان أكثر قسم النبي صلى الله عليه وسلم "ومصرف القلوب _ ومقلب القلوب _ والذي نفسي بيده " كما سيأتي لاحقاً.
_ وقد يعتري اليمين الأحكام الخمسة فيكون حكمها حكم ما تفضي إليه: من الوجوب ، أو الحرمة ، أو الندب ، أو الكراهه ، أو الإباحة.
وأجمعت الأمة على مشروعية اليمين ، وثبوت حكمها ، ووضعها في الأصل لتوكيد المحلوف عليه
(7).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শপথের বৈধতা - এর বিধান - এর শর্তাবলি
প্রথমত: শপথের বৈধতা: এর বৈধতা এবং এর বিধান সাব্যস্ত হওয়ার মূল ভিত্তি হলো কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং ঐক্যমত (إجماع)।
কিতাবের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য পাকড়াও করেন না, কিন্তু যে শপথ তোমরা মজবুতভাবে করো, সেটার জন্য তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন...}
(১)।
এবং আল্লাহর বাণী: {তোমরা শপথ মজবুত করার পর তা ভঙ্গ করো না...}
(২)।
আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে (সা.) তিনটি স্থানে শপথ করার নির্দেশ দিয়েছেন:
- মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আপনার কাছে জানতে চায় যে, এটা কি সত্য? বলুন: হ্যাঁ, আমার রবের কসম, এটি অবশ্যই সত্য এবং তোমরা তা ব্যর্থ করতে পারবে না}
(৩)।
- মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন: অবশ্যই হ্যাঁ, আমার রবের কসম, তা তোমাদের কাছে আসবেই}
(৪)।
- মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন: অবশ্যই হ্যাঁ, আমার রবের কসম, তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে}
(৫)।
সুন্নাহর ক্ষেত্রে নবী কারীম (সা.)-এর বাণী: "আল্লাহর কসম, ইনশাআল্লাহ, আমি কোনো বিষয়ে শপথ করার পর যদি তার চেয়ে উত্তম কোনো কিছু দেখি, তবে আমি সেই উত্তম কাজটিই করি এবং শপথের কাফফারা আদায় করে তা থেকে মুক্ত হই"
(৬)।
নবী কারীম (সা.)-এর অধিকাংশ শপথের বাক্য ছিল "অন্তরসমূহের বিবর্তনকারী", "অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী" এবং "সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ", যেমনটি সামনে বিস্তারিত আসবে।
- শপথের ক্ষেত্রে পাঁচটি বিধানও প্রযোজ্য হতে পারে, ফলে এর বিধানটি সেই বিষয়ের অনুরূপ হবে যার দিকে এটি ধাবিত করে: যেমন আবশ্যক (وجوب), নিষিদ্ধ (حرمة), পছন্দনীয় (ندب), অপছন্দনীয় (كراهة) অথবা বৈধ (إباحة)।
উম্মাহ শপথের বৈধতা, এর বিধান সাব্যস্ত হওয়া এবং মূলত শপথকৃত বিষয়টিকে জোরালো করার উদ্দেশ্যে এটি প্রবর্তিত হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছে
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ১১)
ثانياً: كراهة الإكثار من اليمين:الأصل عدم الإكثار من اليمين، لقوله تعالى: {وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ. . .}
(1) قيل: أراد به ترك الحلف. أي: لا تحلفوا. وقيلَ وهو الأصحَ: أراد به إذا حلفتم فلا تحنثوا
(2).
ويكره الإفراط في الحلف بالله تعالى؛ لقوله تعالى: {وَلا تُطِعْ كُلَّ حَلَاّفٍ مَهِينٍ}
(3) وهذا ذم له يقتضي كراهة فعله، فإن لم يخرج إلى حد الإفراط فليس بمكروه إلا أن يقترن به ما يوجب كراهته
(4).
ثالثاً: ركن اليمين القضائية وشروطها:اشترط الفقهاء بالاتفاق على ستة شروط في اليمين القضائية وهي:
1 - أن يكون الحالف مكلفاً (بالغاً، عاقلا، مختاراً) فلا يحلف الصبي والمجنون ولا تعتبر يمين النائم والمستكره.
2 - أن يكون المدعى عليه منكراً حق المدعي فإن كان مقراً فلا حاجة للحلف.
3 - أن يطلب الخصم اليمين من القاضي أو يوجهها القاضي إلى الحالف.
4 - أن تكون اليمين شخصية فلا تقبل اليمين بالنيابة لصلتها بذمة الحالف ودينه فلا يحلف الوكيل أو ولي القاصر ويوقف الأمر حتى يبلغ.
5 - أن لا تكون في الحقوق الخالصة لله تعالى كالحدود والقصاص.
6 - أن تكون في الحقوق التي يجوز الإقرار بها، فلا تجوز اليمين في الحقوق التي لا يجوز الإقرار بها، فلا يحلف الوكيل والوصي والقيم؛ لأنه لا يصح إقرارهم على الغير
(5).
وركنها: - اللفظ المستعمل فيها.
(6)--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: অত্যধিক কসম করা অপছন্দনীয়:মূল বিধান হলো অধিক কসম না করা, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {এবং তোমরা তোমাদের কসমসমূহ হিফাযত করো...}
(১) বলা হয়েছে: এর দ্বারা কসম বর্জন করা উদ্দেশ্য। অর্থাৎ: তোমরা কসম করো না। আবার বলা হয়েছে এবং এটিই অধিক সঠিক (الأصح): এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, যখন তোমরা কসম করবে তখন তা ভঙ্গ করো না
(২)।
মহান আল্লাহর নামে অত্যধিক কসম করা অপছন্দনীয়; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {আর তুমি এমন প্রত্যেক ব্যক্তির আনুগত্য করো না যে অধিক কসমকারী ও লাঞ্ছিত}
(৩) এটি তার জন্য এক প্রকার নিন্দা যা তার কাজের অপছন্দনীয়তাকে আবশ্যক করে। যদি তা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে না পৌঁছায় তবে তা অপছন্দনীয় নয়, যতক্ষণ না এর সাথে এমন কিছু যুক্ত হয় যা একে অপছন্দনীয় করে তোলে
(৪)।
তৃতীয়ত: বিচারিক কসমের রোকন ও এর শর্তাবলি:ফকিহগণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিচারিক কসমের ক্ষেত্রে ছয়টি শর্তারোপ করেছেন, আর সেগুলো হলো:
১ - কসমকারীকে শরয়ি বিধানের দায়বদ্ধ হতে হবে (প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান, স্বেচ্ছাপ্রবৃত্ত); সুতরাং শিশু ও পাগলের কসম বৈধ হবে না এবং ঘুমন্ত ও বাধ্যকৃত ব্যক্তির কসম গণ্য হবে না।
২ - বিবাদী যেন বাদীর দাবিকৃত অধিকারকে অস্বীকারকারী হয়; যদি সে স্বীকৃতি প্রদান করে তবে কসমের কোনো প্রয়োজন নেই।
৩ - প্রতিপক্ষ বিচারকের নিকট কসমের আবেদন করবে অথবা বিচারক কসমকারীকে কসমের নির্দেশ প্রদান করবেন।
৪ - কসম যেন ব্যক্তিগত হয়; প্রতিনিধির মাধ্যমে কসম গ্রহণ করা হবে না। কারণ এটি কসমকারীর জিম্মাদারি ও দ্বীনদারির সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং কোনো উকিল বা নাবালকের অভিভাবক কসম করবেন না এবং বিষয়টি সাবালক হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হবে।
৫ - কসম যেন মহান আল্লাহর জন্য নির্ধারিত বিশুদ্ধ অধিকারের ক্ষেত্রে না হয়, যেমন: হুদুদ (নির্ধারিত দণ্ডবিধি) ও কিসাস (প্রতিশোধ)।
৬ - কসম যেন এমন অধিকারের ক্ষেত্রে হয় যা স্বীকার করা বৈধ; সুতরাং যে অধিকারের ক্ষেত্রে ইকরার (স্বীকৃতি) জায়েজ নয় তাতে কসমও বৈধ নয়। তাই উকিল, অসিয়ত বাস্তবায়নকারী ও রক্ষণাবেক্ষণকারী কসম করবেন না; কারণ অন্যের বিরুদ্ধে তাদের স্বীকৃতি প্রদান করা শুদ্ধ নয়
(৫)।
আর এর রোকন হলো: - কসমে ব্যবহৃত শব্দ বা বাক্য।
(৬)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ১২)
المطلب الثالث: صفة اليمين - حكم الحلف بغير الله - صور من الحلف بغير الله
أولاً: صفة اليمين:واليمين لا تكون إلا باسم من أسماء الله تعالى، أو صفة من صفاته سبحانه، سواءً أكانت من صفات الذات أم من صفات الأفعال.
وأدلة الحلف باسم الله عز وجل ظاهرة؛ ومن ذلك قول النبي صلى الله عليه وسلم: "من كان حالفاً فليحلف بالله أو ليصمت"
(1) وعند أبي داود والترمذي بلفظ: "أو ليسكت"
(2) وفي رواية لمسلم: "من كان حالفاً فلا يحلف إلا بالله"
(3).
قال الإمام النووي - في شرحه للحديث السابق-: "وفي الحديث إباحة الحلف بالله تعالى وصفاته كلها وهذا مجمع عليه"
(4).
أما الحلف بصفات الفعل؛ فلحلفه صلى الله عليه وسلم بمقلب القلوب، وبمصرف القلوب. ففي صحيح البخاري من حديث ابن عمر رضي الله عنهما قال: "كانت يمين النبي صلى الله عليه وسلم لا ومقلب القلوب"
(5).
وفي سنن ابن ماجة "ومصرف القلوب"
(6).
قال الحافظ في الفتح: "قال القاضي أبو بكر بن العربي: في الحديث - يشير إلى حديث لا ومقلب القلوب- جواز الحلف بأفعال الله إذا وصف بها ولم يذكر اسمه
(7) ".
وأما الحلف بصفات الذات فلما، أخرجه الترمذي والنسائي من حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " لما خلق الله الجنة أرسل جبريل، فقال: انظر إليها، وإلى ما أعددت لأهلها فيها. فنظر إليها، فرجع، فقال: لا وعزتك لا يسمع بها أحد إلا دخلها"
(8).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শপথের ধরন - আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করার বিধান - আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করার কতিপয় চিত্র
প্রথমত: শপথের ধরন:শপথ কেবল আল্লাহ তাআলার কোনো নামের মাধ্যমে অথবা তাঁর কোনো গুণের মাধ্যমে হতে পারে, চাই তা সত্তাগত গুণ (সিফাতে জাতিয়া) হোক কিংবা কর্মগত গুণ (সিফাতে ফেইলিয়া) হোক।
আর মহান আল্লাহর নামে শপথ করার দলিলসমূহ সুস্পষ্ট; এর মধ্যে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি শপথ করতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামেই শপথ করে অথবা চুপ থাকে।"
(১) আবু দাউদ ও তিরমিজিতে "অথবা সে যেন নীরব থাকে" শব্দে বর্ণিত হয়েছে।
(২) আর মুসলিম-এর একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "যে ব্যক্তি শপথ করতে চায়, সে যেন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ না করে।"
(৩)।
ইমাম নববী —পূর্বোক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায়— বলেন: "হাদিসটিতে আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর সকল গুণের মাধ্যমে শপথ করার বৈধতা রয়েছে এবং এ বিষয়টি সর্বসম্মত (مجمع عليه)।"
(৪)।
আর কর্মগত গুণের মাধ্যমে শপথের বিষয়টি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তর পরিবর্তনকারী এবং অন্তর বিবর্তনকারীর শপথ করেছেন। সহিহ বুখারিতে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শপথ ছিল: 'না, অন্তর পরিবর্তনকারীর শপথ'।"
(৫)।
এবং সুনান ইবনে মাজাহ-তে "অন্তর বিবর্তনকারীর শপথ" শব্দে বর্ণিত হয়েছে।
(৬)।
হাফিজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারিতে বলেন: "কাযী আবু বকর ইবনুল আরাবি বলেন: হাদিসটি —'না, অন্তর পরিবর্তনকারীর শপথ' হাদিসটির প্রতি ইঙ্গিত করে— আল্লাহর কার্যাবলীর মাধ্যমে শপথ করার বৈধতার প্রমাণ দেয় যখন সেগুলোর মাধ্যমে তাঁর গুণ বর্ণনা করা হয়, যদিও তাঁর (সুস্পষ্ট) নাম উল্লেখ না করা হয়।
(৭)"।
আর সত্তাগত গুণের মাধ্যমে শপথের দলিল হলো যা তিরমিজি ও নাসাঈ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ যখন জান্নাত সৃষ্টি করলেন, তখন জিবরাঈলকে পাঠালেন এবং বললেন: এর দিকে তাকাও এবং আমি এর অধিবাসীদের জন্য সেখানে কী প্রস্তুত করেছি তা দেখো। এরপর তিনি সেটি দেখলেন এবং ফিরে এসে বললেন: 'না, আপনার ইজ্জতের শপথ! যে কেউ এর কথা শুনবে সে অবশ্যই এতে প্রবেশ করবে'।"
(৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد بوب البخاري في صحيحه - باب الحلف بعزة الله وصفاته وكلماته - وأورد أحاديث فيها: منها حديث ابن عباس رضي الله عنهما: كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول: " أعوذ بعزتك" وحديث أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم: "يبقى رجل بين الجنة والنار؛ فيقول: يارب اصرف وجهي عن النار لا وعزتك لا أسألك غيرها"
(1).
ففي الأحاديث السابقة وأمثالها جواز الحلف بصفات الله تعالى كالعزة ونحوها من القدرة والجلال والكبرياء والعظمة.
ثانيا: حكم الحلف بغير الله:الحلف بغير الله غير جائز، قد ورد المنع منه وأنه شرك، ففي سنن أبي داود من حديث ابن عمر- رضي الله عنهما قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "من حلف بغير الله فقد أشرك"
(2).
وفي رواية الترمذي: "فقد كفر أو أشرك "
(3).
قال الحافظ ابن حجر: "والتعبير بقوله فقد كفر أو أشرك للمبالغة في الزجر والتغليظ في ذلك"
(4). وقال ابن عبدالبر: "أجمع العلماء على أن اليمين بغير الله مكروهة منهي عنها لا يجوز لأحد الحلف بها"
(5).
_ وهذا النوع من الشرك: يسمى شرك الألفاظ وهو من الشرك الأصغر كالحلف بالآباء والكعبة والأمانة .... إلخ.
والحكمة من النهي عن الحلف بغير الله" أن الحلف بالشيء يقتضي تعظيمه، والعظمة في الحقيقة إنما هي لله وحده، فلا يضاهي به غيره"
(6).
"ولأن من حلف بغير الله فقد عظم غير الله تعظيماً يشبه تعظيم الرب تبارك وتعالى، ولهذا سمي شركاً لكونه أشرك غير الله مع الله تعالى في تعظيمه بالقسم به. . . "
(7)--------------------------------------------
ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে - আল্লাহর সম্মান, তাঁর গুণাবলি ও বাণীসমূহের মাধ্যমে শপথ করা অধ্যায় - শিরোনামে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন এবং সেখানে এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন যেখানে এ বিষয়টি এসেছে। তন্মধ্যে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: "আমি আপনার সম্মানের আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূত্রে বর্ণিত হাদিস: "জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে এক ব্যক্তি অবশিষ্ট থাকবে; সে বলবে: হে আমার রব! আমার মুখমণ্ডলকে জাহান্নাম থেকে ফিরিয়ে দিন; না, আপনার সম্মানের শপথ! আমি আপনার কাছে এছাড়া অন্য কিছু চাইব না।"
(১).
পূর্বোক্ত হাদিসসমূহ এবং এর অনুরূপ বর্ণনাগুলোতে মহান আল্লাহর গুণাবলি যেমন সম্মান (ইজ্জত) এবং এর ন্যায় কুদরত, প্রতাপ, মহিমা ও মহানত্বের মাধ্যমে শপথ করার বৈধতা প্রমাণিত হয়।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করার বিধান:আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে শপথ করা বৈধ নয়; এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে এবং একে শিরক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সুনানে আবু দাউদে ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে শপথ করল, সে শিরক করল।"
(২).
তিরমিযীর বর্ণনায় এসেছে: "সে কুফরি করল অথবা শিরক করল।"
(৩).
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "'সে কুফরি করল অথবা শিরক করল'—এই অভিব্যক্তির উদ্দেশ্য হলো এ কাজ থেকে সতর্ক করার ক্ষেত্রে কঠোরতা ও আধিক্য প্রদর্শন করা।"
(৪)। ইবনে আব্দুল বার বলেন: "উলামাগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে শপথ করা অপছন্দনীয় ও নিষিদ্ধ, কারও জন্যই তা দিয়ে শপথ করা বৈধ নয়।"
(৫).
_ এই প্রকারের শিরককে বলা হয় 'শব্দগত শিরক', যা ছোট শিরকের অন্তর্ভুক্ত; যেমন পিতৃপুরুষদের নামে, কাবার নামে বা আমানতের নামে শপথ করা... ইত্যাদি।
আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর শপথ নিষিদ্ধ হওয়ার হিকমত হলো: "কোনো কিছু দিয়ে শপথ করা সেই জিনিসের বড়ত্ব বা সম্মানের দাবি রাখে, আর প্রকৃত বড়ত্ব বা মহানত্ব কেবল মহান আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত। সুতরাং অন্য কোনো কিছুকে তাঁর সমতুল্য করা যাবে না।"
(৬).
"কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর শপথ করল, সে আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে এমনভাবে সম্মান করল যা বরকতময় ও সুউচ্চ রবের সম্মানের সদৃশ। একারণেই একে শিরক বলা হয়েছে, কারণ সে শপথ করার মাধ্যমে সম্মানের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে অন্যকে শরিক করেছে..."
(৭)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ثالثاً: صور من الحلف بغير الله:تعددت صور الحلف بغير الله قديماً وحديثاً، وتهاون بها الناس، غير آبهين بما ورد فيها من نصوص زاجرة.
وسأذكر طرفاً من هذه الصور رغم كثرتها وتعددها، لكن يشملها قول النبي صلى الله عليه وسلم: "كل يمين يحلف بها دون الله شرك" (
1). 1) الحلف بالآباء والأمهات:وهو حلف المشركين في الجاهلية، فقد كانت قريش تحلف بآبائها، وقد ورد النهي عنه في ديننا ففي البخاري ومسلم من حديث ابن عمر
رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أدرك عمر بن الخطاب رضي الله عنه وهو يسير في ركب - يحلف بأبيه ـ فقال: "ألا إن الله ينهاكم أن تحلفوا بآبائكم. . .
(2) ".
قال عمر: فوالله ما حلفت بها منذ سمعت النبي صلى الله عليه وسلم ذاكراً ولا آثراً. والمعنى: ما حلفت بها ولا حكيت ذلك عن غيري.
وفي سنن أبي داود من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تحلفوا بآبائكم ولا بأمهاتكم. . .
(3) "
2) الحلف بالأنداد والطواغيت:لحديث عبدالرحمن بن سمرة رضي الله عنه ــ أنَ النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا تحلفوا بالطواغي. . . "
(4) وعند النسائي "ولا بالطواغيت"
(5)، والطواغي جمع طاغية، وهي الأصنام، سمي باسم المصدر لطغيان الكفار بعبادته لأنه سبب طغيانهم وكفرهم
(6).
وفي سنن أبي داود من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تحلفوا بآبائكم ولا بأمهاتكم ولا بالأنداد ولا تحلفوا إلا بالله ولا تحلفوا إلا وأنتم صادقون"
(7).
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে শপথ করার কিছু স্বরূপ:অতীত ও বর্তমানকালে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে শপথ করার নানা স্বরূপ বিদ্যমান রয়েছে এবং মানুষ এ ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করে, অথচ এ বিষয়ে বর্ণিত কঠোর সতর্কবাণীসমূহের প্রতি তারা ভ্রুক্ষেপ করে না।
আমি এ সকল স্বরূপের সংখ্যাধিক্য ও বৈচিত্র্য সত্ত্বেও তার কিয়দাংশ উল্লেখ করব, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি এর সবটুকুকে অন্তর্ভুক্ত করে: "আল্লাহ ব্যতীত যার মাধ্যমেই শপথ করা হোক না কেন, তা শিরক" (
১)। ১) পিতা ও মাতার নামে শপথ করা:এটি জাহেলি যুগের মুশরিকদের শপথ করার পদ্ধতি ছিল; কেননা কুরাইশরা তাদের পিতৃপুরুষদের নামে শপথ করত। আমাদের দ্বীনে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম-এ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে একটি কাফেলার মধ্যে চলতে দেখলেন এবং এমতাবস্থায় তিনি (উমর) তার পিতার নামে শপথ করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "জেনে রেখো, আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পিতৃপুরুষদের নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন...
(২)"।
উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আল্লাহর কসম, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে এটি শোনার পর থেকে কখনো নিজ থেকে তা উচ্চারণ করিনি এবং অন্য কারো পক্ষ থেকেও তা বর্ণনা করিনি। এর অর্থ হলো: আমি শপথও করিনি এবং অন্য কারো পক্ষ থেকে তা উদ্ধৃতও করিনি।
সুনানে আবু দাউদ-এ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা তোমাদের পিতা ও মাতাদের নামে শপথ করো না...
(৩)"
২) সমকক্ষ ও তাগুতদের নামে শপথ করা:আবদুর রহমান ইবনে সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা ‘তাওয়াগি’-দের নামে শপথ করো না... "
(৪) এবং নাসাঈ-এর বর্ণনায় রয়েছে "এবং তাগুতদের নামেও নয়"
(৫)। ‘তাওয়াগি’ হলো ‘তাগিয়া’-এর বহুবচন, যা মূলত মূর্তি। একে মাসদার (ক্রিয়ামূল)-এর নামে নামকরণ করা হয়েছে কাফেরদের ইবাদতের মাধ্যমে সীমালঙ্ঘন করার কারণে, কারণ এটিই তাদের সীমালঙ্ঘন ও কুফরির মূল কারণ
(৬)।
সুনানে আবু দাউদ-এ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা তোমাদের পিতা ও মাতাদের নামে শপথ করো না এবং সমকক্ষদের নামেও নয়। আর তোমরা আল্লাহ ব্যতীত শপথ করো না এবং যখন তোমরা সত্যবাদী হও তখনই কেবল শপথ করো"
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
3) الحلف باللات والعزى:في البخاري ومسلم من حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من حلف فقال في حلفه باللات والعزى فليقل لا إله إلا الله. . . "
(1).
4) الحلف بالبراءة من الإسلام:في سنن النسائي وأبي داود عن عبدالله بن بريدة عن أبيه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من حلف فقال إني بريء من الإسلام فإن كان كاذباً فهو كما قال: وإن كان صادقاً فلن يرجع إلى الإسلام سالماً"
(2).
5) الحلف بملة غير ملة الإسلام:
في البخاري عن ثابت بن الضحاك رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "من حلف بغير ملة الإسلام فهو كما قال. . . "
(3).
وفي مستدرك الحاكم من حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من حلف على يمين فهو كما حلف، إن قال هو يهودي فهو يهودي، وإن قال هو نصراني فهو نصراني، وإن قال هو بريء من الإسلام فهو بريء من الإسلام"
(4).
6) الحلف بالأمانةفي سنن أبي داود من حديث عبدالله بن بريده عن أبيه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من حلف بالأمانة فليس منا"
(5).
- وفي مسند أحمد بلفظ: "ليس منا من حلف بالأمانة"
(6).
--------------------------------------------
৩) লাত ও উজ্জার নামে শপথ করা:সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম-এ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি শপথ করে এবং তার শপথে লাত ও উজ্জার নাম নেয়, সে যেন বলে: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই)..."
(১).
৪) ইসলাম থেকে সম্পর্কচ্ছেদের নামে শপথ করা:সুনান নাসায়ি ও সুনান আবু দাউদ-এ আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি শপথ করে বলে যে, 'আমি ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন', সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে সে যা বলেছে তা-ই হবে; আর যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে সে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় ইসলামে ফিরে আসবে না"
(২).
৫) ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মের নামে শপথ করা:
সহিহ বুখারি-তে সাবিত ইবনে যাহহাক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মের নামে শপথ করে, সে যা বলেছে তা-ই হবে..."
(৩).
এবং মুসতাদরাক আল-হাকিম-এ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো শপথ করে, সে তা-ই যা সে শপথ করেছে। সে যদি বলে সে একজন ইহুদি, তবে সে ইহুদি; যদি সে বলে সে একজন খ্রিস্টান, তবে সে খ্রিস্টান; আর যদি সে বলে সে ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন, তবে সে ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন"
(৪).
৬) আমানতের নামে শপথ করাসুনান আবু দাউদ-এ আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমানতের নামে শপথ করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়"
(৫).
- এবং মুসনাদ আহমদ-এ এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে আমানতের নামে শপথ করে"
(৬).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
7) الحلف بالكعبة.
في سنن الترمذي من حديث ابن عمر رضي الله عنهما أنه سمع رجلاً يقول: لا والكعبة. فقال ابن عمر: لا تحلف بغير الله، فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من حلف بغير الله فقد كفر أو أشرك"
(1).
وسمع أمير المؤمنين عمر رضي الله عنه ابن الزبير يحلف بالكعبة فقال له: لو أعلم أنك فكرت فيها قبل أن تحلف لعاقبتك، احلف بالله فأثم أو ابرر
(2).
وفي سنن النسائي من حديث عبدالله بن يسار عن قتيلة بنت صيفي رضي الله عنهما أن يهودياً أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: إنكم تنددون وإنكم تشركون، تقولون ما شاء الله وشئت وتقولون والكعبة فأمرهم النبي صلى الله عليه وسلم إذا أرادوا أن يحلفوا أن يقولوا ورب الكعبة، ويقولوا ما شاء الله ثم شئت"
(3).
وفي رواية لها: "من حلف فليحلف برب الكعبة"
(4).
وفي حديث أبي رمثة قال: انطلقت مع أبي نحو النبي صلى الله عليه وسلم ثم إن النبي صلى الله عليه وسلم قال لأبي: آبنك هذا؟ قال أبي: ورب الكعبة قال حقاً قال: أشهد به. قال: فتبسم رسول الله ضاحكاً"
(5).
--------------------------------------------
৭) কাবার নামে শপথ করা.
সুনান তিরমিযীতে ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে, তিনি এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন: "না, কাবার কসম।" তখন ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করো না। কেননা আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করল, সে কুফরি করল অথবা শিরক করল'"
(১).
আমিরুল মুমিনীন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ইবনে যুবায়েরকে কাবার নামে শপথ করতে শুনলেন। তখন তিনি তাকে বললেন: "যদি আমি জানতাম যে তুমি শপথ করার আগে এটি নিয়ে চিন্তা করেছ, তবে আমি তোমাকে শাস্তি দিতাম। আল্লাহর নামে শপথ করো; হয় গুনাহগার হও (মিথ্যা শপথের মাধ্যমে) অথবা নেককার হও (সত্য শপথের মাধ্যমে)"
(২).
সুনান নাসাঈতে আবদুল্লাহ বিন ইয়াসার থেকে কুতাইলা বিনতে সাইফি (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে, এক ইহুদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল: "নিশ্চয়ই আপনারা সমকক্ষ স্থির করছেন এবং আপনারা শিরক করছেন। আপনারা বলেন, 'আল্লাহ যা চান এবং আপনি যা চান' এবং আপনারা বলেন, 'কাবার কসম'।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে আদেশ দিলেন যে, তারা যখন শপথ করতে চাইবে তখন যেন বলে, "কাবার রবের কসম" এবং যেন বলে, "আল্লাহ যা চান অতঃপর আপনি যা চান"
(৩).
তার থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনা (رواية)-এ রয়েছে: "যে ব্যক্তি শপথ করে, সে যেন কাবার রবের নামে শপথ করে"
(৪).
আবু রিমসাহ-এর হাদিসে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি আমার পিতার সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে রওনা হলাম। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার পিতাকে বললেন: 'এটি কি তোমার পুত্র?' আমার পিতা বললেন: 'কাবার রবের কসম, হ্যাঁ।' তিনি বললেন: 'সত্যি?' পিতা বললেন: 'আমি এর সাক্ষ্য দিচ্ছি।' (বর্ণনাকারী) বলেন: তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুচকি হাসলেন"
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المطلب الرابع: الأمر بحفظ الأيمان - والتحذير من الحلف الكاذب
أولاً: الأمر بحفظ الأيمان:أمر الله سبحانه وتعالى بحفظ الأيمان فقال: {وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ. . .}
قال الإمام البغوي: " أراد به إذا حلفتم فلا تحنثوا ، فالمراد منه حفظ اليمين عن الحنث .. "
(1).
قال الإمام القرطبي: والمعنى: " لا تستكثروا من اليمين بالله"
(2)وذم الله المكثرين للحلف فقال: {وَلا تُطِعْ كُلَّ حَلَاّفٍ مَهِينٍ} وهذا ذم له يقتضي كراهة
فعله. قال الشوكاني ـفي تفسير الآية: - "كثير الحلف بالباطل، وقد كانت العرب في الجاهلية تتمادح بقلة الأيمان حتى قال قائلهم:
قليل الألايا حافظ ليمينه ** وإن بدرت منه الأليةُ برّت
(3) "
وقد بين الله في كتابه أن من صفات المنافقين كثرة الحلف بالباطل قال عز وجل في شأنهم: {يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ لِيُرْضُوكُمْ وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَقُّ أَنْ يُرْضُوهُ إِنْ كَانُوا مُؤْمِنِينَ}
(4).
وفي البخاري ومسلم من حديث عبدالله بن مسعودـ رضي الله عنه ـقال: سئل النبي صلى الله عليه وسلم أيُّ الناس خير؟ قال: قرني ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم، ثم يجيء قوم تسبق شهادةُ أحدهم يمينه ويمينُه شهادته"
(5).
قال الإمام النووي: "هذا ذم لمن يشهد ويحلف مع شهادته"
(6).
وقال الإمام الطحاوي: "أي يكثرون الأيمان في كل شيء حتى يصير لهم عادة فيحلف أحدهم حيث لا يراد منه اليمين ومن قبل أن يستحلف"
(7).
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শপথ রক্ষা করার আদেশ এবং মিথ্যা শপথ করার ব্যাপারে সতর্কবাণী
প্রথমত: শপথ রক্ষা করার আদেশ:মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা শপথ রক্ষা করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {আর তোমরা তোমাদের শপথ রক্ষা করো...}
ইমাম বাগভী বলেছেন: "তিনি এর দ্বারা বুঝিয়েছেন যে, তোমরা যখন শপথ করবে তখন তা ভঙ্গ করো না। সুতরাং এর উদ্দেশ্য হলো শপথকে ভঙ্গ (الحنث) করা থেকে রক্ষা করা..."
(১)।
ইমাম কুরতুবী বলেছেন: এর অর্থ হলো: "তোমরা আল্লাহর নামে অধিক পরিমাণে শপথ করো না"
(২)আল্লাহ অত্যধিক শপথকারীদের নিন্দা করেছেন, তিনি বলেছেন: {আর আপনি আনুগত্য করবেন না এমন প্রত্যেক ব্যক্তির, যে অধিক কসম খায় এবং লাঞ্ছিত।} এটি তার প্রতি একটি নিন্দা যা তার এ কাজের অপছন্দনীয়তা (كراهة) নির্দেশ করে। ইমাম শাওকানী আয়াতটির ব্যাখ্যায় বলেছেন: - "বাতিল বা মিথ্যা বিষয়ে অধিক শপথকারী। জাহেলি যুগে আরবরা শপথের স্বল্পতা নিয়ে প্রশংসা করত, এমনকি তাদের একজন কবি বলেছেন:
সে খুব কম শপথ (الألايا) করে এবং তার শপথ রক্ষা করে ** আর যদি তার মুখ থেকে কোনো শপথ (الألية) প্রকাশ পেয়ে যায়, তবে সে তা পূর্ণ করে
(৩) "
মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন যে, মুনাফিকদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বাতিল বিষয়ে অধিক শপথ করা। তাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা তোমাদের কাছে আল্লাহর নামে শপথ করে যাতে তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করতে পারে, অথচ তারা যদি মুমিন হয় তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিকতর হকদার যে তারা তাঁদেরকে সন্তুষ্ট করবে}
(৪)।
বুখারী ও মুসলিম গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন সময়ের মানুষ সর্বোত্তম? তিনি বললেন: আমার যুগের মানুষ, তারপর যারা তাদের পরবর্তী, তারপর যারা তাদের পরবর্তী। এরপর এমন এক সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে যাদের সাক্ষ্য তাদের শপথের আগে চলে আসবে এবং তাদের শপথ তাদের সাক্ষ্যের আগে চলে আসবে"
(৫)।
ইমাম নববী বলেছেন: "এটি এমন ব্যক্তির প্রতি নিন্দা যে সাক্ষ্য দেয় এবং সাক্ষ্যের সাথে শপথও করে"
(৬)।
ইমাম ত্বহাবী বলেছেন: "অর্থাৎ তারা সব বিষয়ে অধিক শপথ করে, এমনকি এটি তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়। ফলে তাদের কেউ কেউ এমন স্থানেও শপথ করে যেখানে শপথের প্রয়োজন নেই এবং তাকে শপথ করতে বলার আগেই সে তা করে বসে"
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ورع الصحابة عن الحلف بغير الله وحفظهم لأيمانهم:
قال ابن مسعود رضي الله عنه: لأن أحلف بالله كاذباً أحب إليّ من أن أحلف بغير الله صادقاً، وورد مثل قوله عن ابن عمر
(1) وابن عباس ــ رضي الله عنهما ــ
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: معلقاً على كلام ابن مسعود: "لأن حسنة التوحيد أعظم من حسنة الصدق، وسيئة الكذب أسهل من سيئة الشرك، قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ}
(2).
وعندما بلغ أمير المؤمنين عمر رضي الله عنه النهي من النبي صلى الله عليه وسلم عن الحلف بالآباء قال: "والله ما حلفت بها منذ سمعت النبي صلى الله عليه وسلم ذاكراً ولا آثراً"
(3).
وعند ما سمع عمر ابن الزبير يحلف بالكعبة قال: "لو أعلم أنك فكرت فيها قبل أن تحلف لعاقبتك، احلف بالله فأثم أو ابرر"
(4).
وروي عن جبير بن مطعم رضي الله عنه أنه افتدى يمينه بعشرة آلاف درهم، ثم قال: "ورب هذا المسجد لو حلفت حلفت صادقاً وإنما هو شيء افتديت به يميني"
(5). قال الأشعث بن قيس: "اشتريت يميني مرة بسبعين ألفاً"
(6).
وهكذا كان ورع من بعد الصحابة من التابعين وغيرهم في حفظهم لأيمانهم.
قال عامر الشعبي _ رحمه الله_: "ولأن أقسم بالله فأحنث أحب إلي من أن أقسم بغيره فأبر"
(7).
وقال إبراهيم النخعي _ رحمه الله _: "وكان أصحابنا (مشايخنا) ينهوننا، ووردت بلفظ "يضربوننا " ونحن غلمان أن نحلف بالشهادة والعهد". وفي هذا الرغبة في تمرين الصغار على طاعة ربهم ونهيهم عما يضرهم
(8).
وأثر عن الشافعي أنه قال: "ما حلفت بالله صادقاً ولا كاذبا".
--------------------------------------------
আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করা থেকে সাহাবায়ে কিরামের পরহেজগারি এবং তাদের শপথ রক্ষা করা:
ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: “মিথ্যা বলে আল্লাহর নামে শপথ করা আমার নিকট অধিকতর পছন্দনীয়, সত্য বলে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করার চেয়ে।” ইবনে উমর
(১) এবং ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও অনুরূপ উক্তি বর্ণিত হয়েছে।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ইবনে মাসউদের উক্তির ওপর মন্তব্য করে বলেন: “কেননা তাওহীদের পুণ্য সত্যবাদিতার পুণ্যের চেয়ে মহান, আর মিথ্যার পাপ শিরকের পাপের চেয়ে হালকা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না এবং এছাড়া অন্য সব কিছু যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন}
(২)।
যখন আমিরুল মুমিনীন উমর (রা.)-এর নিকট নবী (সা.) কর্তৃক পিতৃপুরুষদের নামে শপথ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন: “আল্লাহর কসম, আমি যখন থেকে নবী (সা.)-কে এই নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ করতে শুনেছি, তখন থেকে নিজে কখনো তা উচ্চারণ করিনি এবং অন্য কারো থেকে বর্ণনাও (آثراً) করিনি।”
(৩)।
উমর যখন ইবনুল জুবায়েরকে কাবার নামে শপথ করতে শুনলেন, তখন বললেন: “যদি আমি জানতাম যে তুমি শপথ করার আগে এটি নিয়ে চিন্তা করেছিলে, তবে আমি তোমাকে শাস্তি দিতাম। আল্লাহর নামে শপথ করো, অতঃপর পাপী হও অথবা পুণ্যবান হও।”
(৪)।
জুবায়ের বিন মুতঈম (রা.) থেকে বর্ণিত (روي) আছে যে, তিনি দশ হাজার দিরহামের বিনিময়ে নিজের শপথকে মুক্ত করেছিলেন, অতঃপর বলেছিলেন: “এই মসজিদের রবের কসম, যদি আমি শপথ করতাম তবে সত্য শপথই করতাম, তবে এটি এমন কিছু যার মাধ্যমে আমি আমার শপথকে মুক্ত করেছি।”
(৫)। আশআস বিন কায়েস বলেন: “আমি একবার সত্তর হাজার দিরহামের বিনিময়ে আমার শপথ ক্রয় করেছিলাম।”
(৬)।
সাহাবীদের পরবর্তী তাবিঈন ও অন্যান্যদের মাঝেও শপথ রক্ষার বিষয়ে এভাবেই পরহেজগারি বিদ্যমান ছিল।
আমির আশ-শা’বী (রহ.) বলেন: “আমি আল্লাহর নামে শপথ করে তা ভঙ্গ (حنث) করাকে বেশি পছন্দ করি, অন্য কারো নামে শপথ করে তা পূর্ণ করার চেয়ে।”
(৭)।
ইবরাহিম আন-নাখঈ (রহ.) বলেন: “আমাদের শাইখগণ আমাদের নিষেধ করতেন—কোনো কোনো বর্ণনায় ‘আমাদের প্রহার করতেন’ শব্দও এসেছে—যখন আমরা কিশোর ছিলাম, যেন আমরা সাক্ষ্য ও অঙ্গীকারের নামে শপথ না করি।” এতে ছোটদেরকে তাদের রবের আনুগত্যের ওপর অভ্যস্ত করার এবং তাদের জন্য ক্ষতিকর বিষয় থেকে নিষেধ করার গুরুত্ব প্রকাশ পেয়েছে।
(৮)।
ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণিত (أثر) আছে যে তিনি বলেছেন: “আমি কখনো সত্য বা মিথ্যা কোনো উদ্দেশ্যেই আল্লাহর নামে শপথ করিনি।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ثانياً: - التحذير من الحلف الكاذب:حذر النبي صلى الله عليه وسلم من الحلف الكاذب ، ففي معجم الطبراني من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنَّ الله جل ذكره أذن لي أن أُحدث عن ديك قد مرقت رجلاه الأرض وعنقه مثنيٌ تحت العرش وهو يقول سبحانك ما أعظمك ربنا، فيردُّ عليه: ما علم ذلك من حلف بي كاذبا"
(1).
والحلف الكاذب من خصال النفاق قال تعالى-حاكياً عن حالهم-: {وَيَحْلِفُونَ عَلَى الْكَذِبِ وَهُمْ يَعْلَمُونَ}
(2) ووصفهم بهذا الوصف في كثير من آيات القرآن الكريم، قال تعالى: {يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ لِيُرْضُوكُمْ وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَقُّ أَنْ يُرْضُوهُ إِنْ كَانُوا مُؤْمِنِينَ}
(3) وقال تعالى: {وَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنَّهُمْ لَمِنْكُمْ وَمَا هُمْ مِنْكُمْ وَلَكِنَّهُمْ قَوْمٌ يَفْرَقُونَ)
(4).
ويزداد إثم اليمين الكاذبة عندما تتعلق بحق آدمي ففي البخاري أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " من حلف على يمين كاذبة ليقتطع بها مال رجل مسلم ــ أو قال أخيه- لقي الله عز وجل وهو عليه غضبان"
(5)فعلى المسلم أن يحذر من الأيمان الكاذبة، وأن يتحرى الصدق في يمينه فما عظَّم الله من حلف به كاذباً قال صلى الله عليه وسلم: " احلفوا بالله وبروا واصدقوا فإن الله يحب أن يحلف به"
(6).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: - মিথ্যা কসম সম্পর্কে সতর্কীকরণ:নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যা কসম করা থেকে সতর্ক করেছেন। তাবারানির মুজাম-এ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে এমন একটি মোরগ সম্পর্কে বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন যার পা দুটি জমিন ভেদ করে চলে গেছে এবং তার ঘাড় আরশের নিচে নত হয়ে আছে। সে বলছে: 'আপনি পবিত্র, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি কতই না মহান!' তখন তাকে উত্তর দেওয়া হয়: 'সে ব্যক্তি তা জানে না যে আমার নামে মিথ্যা কসম করে'"
(১)।
আর মিথ্যা কসম করা মুনাফিকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা তাদের অবস্থা সম্পর্কে বলেন: {আর তারা জেনে-বুঝে মিথ্যা শপথ করে}
(২)। পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতে তাদের এই বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা তোমাদের কাছে আল্লাহর নামে শপথ করে যাতে তোমাদের সন্তুষ্ট করতে পারে; অথচ তারা যদি মুমিন হয়ে থাকে তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিকতর হকদার যে তারা তাঁদের সন্তুষ্ট করবে}
(৩)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এবং তারা আল্লাহর নামে শপথ করে যে তারা অবশ্যই তোমাদের অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তারা এমন এক কওম যারা ভয় পায়}
(৪)।
মিথ্যা শপথের গুনাহ আরও বৃদ্ধি পায় যখন তা মানুষের হকের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের—বা তিনি বলেছেন তার ভাইয়ের—সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা শপথ করবে, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে তিনি তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন"
(৫)সুতরাং মুসলমানের উচিত মিথ্যা শপথ থেকে বেঁচে থাকা এবং নিজের শপথে সত্যবাদিতা বজায় রাখা। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করে, সে আল্লাহকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেনি। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর নামে শপথ করো, নেক কাজ করো এবং সত্য বলো; কারণ আল্লাহ পছন্দ করেন যে তাঁর নামে শপথ করা হোক"
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ২০)
المطلب الخامس: صيغ أيمان النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضوان الله عليهم التي كانوا يحلفون بها
أولاً: أيمان النبي صلى الله عليه وسلم التي كان يحلف بها:كانت يمين النبي صلى الله عليه وسلم التي كان يحلف بها ويكثر منها هي:
(أ) والله:ففي صحيح البخاري من حديث أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "يا أمة محمد والله لو تعلمون ما أعلم لبكيتم كثيراً ولضحكتم قليلاً"
(1).
ولما أخرجه الترمذي عن عبدالله بن عدي بن حمراء قال: "رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم واقفاً على _الحزورة
(2) _ فقال: " والله إنك لخير أرض الله وأحب أرض الله إلى الله ولولا أني أُخرجت منك ما خرجت"
(3).
(ب) والذي نفسي بيده:لما أخرجه البخاري عن جابر بن سمرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " إذا هلك قيصر فلا قيصر بعده، وإذا هلك كسرى فلا كسرى بعده، والذي نفسي بيده لتنفقنَّ كنوزهما في سبيل الله"
(4).
وقد ورد هذا القسم عنه صلى الله عليه وسلم بعدة ألفاظ منها: " والذي نفس محمد بيده "، وبعضها مصدر بلفظ " لا والذي نفسي بيده "، وبعضها بلفظ "أمَا والذي نفسي بيده"، وبعضها بلفظ "وأيم الذي نفسي بيده "، وكلها ألفاظ ثبتت في الصحيح
(5).
وعند أبي داود بلفظ: "والذي نفس أبي القاسم بيده"
(6).
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) শপথের শব্দাবলি যা দিয়ে তাঁরা কসম করতেনপ্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শপথসমূহ যা দিয়ে তিনি কসম করতেন:নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শপথ যা দিয়ে তিনি কসম করতেন এবং যা তিনি অধিক পরিমাণে ব্যবহার করতেন তা হলো:
(ক) আল্লাহর শপথ (والله):সহিহ বুখারিতে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেছেন: "হে মুহাম্মাদের উম্মত! আল্লাহর শপথ (والله), আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে, তবে অবশ্যই তোমরা অধিক কাঁদতে এবং অল্প হাসতে।"
(১)তিরমিজি আবদুল্লাহ বিন আদি বিন হামরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল-হাজওয়ারাহ
(২) নামক স্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। তিনি বলছিলেন: 'আল্লাহর শপথ (والله), তুমি আল্লাহর জমিনের শ্রেষ্ঠ অংশ এবং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ভূখণ্ড; আমাকে যদি এখান থেকে বের করে দেওয়া না হতো, তবে আমি বের হতাম না'।"
(৩) (খ) যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ (والذي نفسي بيده):বুখারি জাবির বিন সামুরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন কায়সার ধ্বংস হবে, তখন তার পরে আর কোনো কায়সার থাকবে না; আর যখন কিসরা ধ্বংস হবে, তখন তার পরে আর কোনো কিসরা থাকবে না। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ (والذي نفسي بيده), অবশ্যই তাদের ধনভাণ্ডার আল্লাহর পথে ব্যয় করা হবে।"
(৪)নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই শপথটি বেশ কিছু শব্দে বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ", আবার কোনোটি শুরু হয়েছে "না, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ" শব্দ দ্বারা, আবার কোনোটি "জেনে রেখো, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ" শব্দ দ্বারা, আর কোনোটি "আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ" শব্দ দ্বারা; আর এর সবগুলোই সহিহ (صحيح) হাদিস হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
(৫)আবু দাউদে এই শব্দে এসেছে: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আবুল কাসেমের প্রাণ।"
(৬)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ২১)
(ج) لا ومقلَّب القلوب:في البخاري من حديث ابن عمر قال كانت يمين النبي صلى الله عليه وسلم "لا ومقلب القلوب"
(1).
(د) لا ومصرف القلوب:لما أخرجه ابن ماجة من حديث ابن عمر قال: " كان أكثر أيمانه لا ومصرف القلوب"
(2).
(هـ) وربَّ الكعبة:لما أخرجه البخاري عن أبي ذر رضي الله عنه قال انتهيت إليه ـ إلى النبي صلى الله عليه وسلم وهو يقول في ظلَّ الكعبة: "هم الأخسرون وربَّ الكعبة، هم الأخسرون ورب الكعبة. . . فقلت من هم بأبي أنت وأمي يا رسول الله؟ قال الأكثرون أموالاً إلَاّ من قال هكذا وهكذا وهكذا"
(3).
ثانياً: أيمان الصحابة رضوان الله عليهم:كانت أيمان الصحابة رضوان الله عليهم كأيمان النبي صلى الله عليه وسلم فقد كانوا يحلفون كحلفه ويتأسون به صلى الله عليه وسلم ومن ذلك الآتي:
(أ) والله:وقد كان أكثر حلفهم به لحديث الأعرابي الذي جاء يسأل عن الإسلام وفيه أنه قال "وَاللَّهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا وَلَا أَنْقُصُ، قَالَ رَسُولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم: أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ"
(4).
- وحديث عائشة وقد نفست في الحج أنها قالت: " لوددت والله أني لم أحج العام .. "
(5).
- وحديث جابر في الخندق وفيه أن أمير المؤمنين عمر رضي الله عنه قال " والله يا رسول الله ما كدت أصلي حتى كادت الشمس تغرب"
(6).
--------------------------------------------
(গ) না, এবং অন্তরসমূহ পরিবর্তনকারীর কসম:সহিহ বুখারিতে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শপথ ছিল— "না, এবং অন্তরসমূহ পরিবর্তনকারীর কসম"
(১)।
(ঘ) না, এবং অন্তরসমূহ বিবর্তনকারীর কসম:ইবনে মাজাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হাদিস উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেন: "তাঁর অধিকাংশ শপথ ছিল— না, এবং অন্তরসমূহ বিবর্তনকারীর কসম"
(২)।
(ঙ) কাবার রবের কসম:বুখারি আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছলাম যখন তিনি কাবার ছায়ায় বসে বলছিলেন: "কাবার রবের কসম, তারাই সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত; কাবার রবের কসম, তারাই সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত... আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, তারা কারা? তিনি বললেন: তারা হলো সেইসব অধিক সম্পদশালী ব্যক্তি, যারা এভাবে, এভাবে এবং এভাবে (ব্যয়) করেনি"
(৩)।
দ্বিতীয়ত: সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর শপথসমূহ:সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর শপথসমূহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শপথের মতোই ছিল। তাঁরা তাঁর মতো করেই শপথ করতেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ অনুসরণ করতেন। এর মধ্য হতে উল্লেখযোগ্য হলো:
(ক) আল্লাহর কসম:তাঁদের অধিকাংশ শপথ এর মাধ্যমেই হতো। যেমন সেই গ্রাম্য ব্যক্তির হাদিসে এসেছে, যে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছিল। তাতে বর্ণিত হয়েছে যে, সে বলেছিল: "আল্লাহর কসম, আমি এর ওপর বৃদ্ধি করব না এবং কমও করব না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সে সফল হবে যদি সত্য বলে থাকে"
(৪)।
- এবং আয়েশা (রা.)-এর হাদিস, যখন হজের সময় তাঁর ঋতুস্রাব শুরু হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন: "আল্লাহর কসম, আমার খুব ইচ্ছা হচ্ছিল যদি এ বছর হজ না করতাম..."
(৫)।
- এবং খন্দকের যুদ্ধে জাবের (রা.)-এর হাদিস, যাতে বর্ণিত হয়েছে যে, আমিরুল মুমিনিন উমর (রা.) বলেছিলেন: "আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসুল! সূর্য প্রায় ডুবে যাওয়ার আগে আমি নামাজ পড়তে পারিনি"
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ২২)
(ب) والذي نفسي بيده:كما في حديث نعيم المجمر، قال: صليت وراء أبي هريرة فقرأ بسم الله الرحمن الرحيم ثم قرأ بأم الكتاب حتى إذا بلغ "غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلا الضَّالِّينَ " قال: آمين فقال الناس: آمين فلما ركع قال: الله أكبر فلما رفع رأسه قال: سمع الله لمن حمده ثم قال: الله أكبر ثم سجد فلما رفع قال: الله أكبر فلما سجد قال: الله أكبر فلما رفع قال: الله أكبر ثم استقبل قائماً مع التكبير فلما قام من الثنتين قال: الله أكبر فلما سلم قال: والذي نفسي بيده إني لأشبهكم صلاة برسول الله صلى الله عليه وسلم "
(1).
(ج) وربَّ الكعبة:لحديث أبي رمثة قال: انطلقت مع أبي نحو النبي صلى الله عليه وسلم ثم إنَّ النبي صلى الله عليه وسلم قال لأبي: " آبنك هذا؟ " قال: إي وربَّ الكعبة. قال حقاً؟ قال: أشهد به. قال: فبتسم رسول الله صلى الله عليه وسلم ضاحكاً."
(2).
(د) وربَّ محمد:ورد ذلك في حديث عائشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " إني لأعلم إذا كنت عني راضية وإذا كنت عليَّ غضبى؛ أما إذا كنت راضيةً فإنك تقولين: لا ورب محمد، وإذا كنت عليَّ غضبى قلت: لا ورب إبراهيم"
(3).
--------------------------------------------
(খ) সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ:যেমনটি নুআইম আল-মুজমিরের হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রা (রা.)-এর পেছনে সালাত আদায় করেছি। তিনি ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে) পাঠ করলেন, অতঃপর উম্মুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) পাঠ করলেন এবং যখন ‘যাদের ওপর তোমার ক্রোধ বর্ষিত হয়েছে তাদের পথে নয় এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে তাদের পথেও নয়’ পর্যন্ত পৌঁছালেন, তখন বললেন: আমিন। মানুষও বলল: আমিন। এরপর যখন তিনি রুকু করলেন, তখন বললেন: আল্লাহু আকবার। যখন তিনি মাথা তুললেন তখন বললেন: সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ। এরপর বললেন: আল্লাহু আকবার। এরপর সিজদা করলেন। যখন মাথা তুললেন তখন বললেন: আল্লাহু আকবার। যখন সিজদা করলেন তখন বললেন: আল্লাহু আকবার। যখন মাথা তুললেন তখন বললেন: আল্লাহু আকবার। অতঃপর তাকবিরসহ দণ্ডায়মান হলেন। যখন দুই রাকাত শেষ করে দাঁড়ালেন তখন বললেন: আল্লাহু আকবার। যখন সালাম ফেরালেন তখন বললেন: “সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের মধ্যে আমিই আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সালাতের সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ সালাত আদায় করি।”
(১).
(গ) কাবার রবের কসম:আবু রিমসা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: আমি আমার বাবার সাথে নবী (সা.)-এর দিকে গেলাম। অতঃপর নবী (সা.) আমার বাবাকে জিজ্ঞেস করলেন: “এটি কি তোমার ছেলে?” তিনি বললেন: হ্যাঁ, কাবার রবের কসম। তিনি (সা.) বললেন: “সত্যিই?” তিনি বললেন: আমি এর সাক্ষ্য দিচ্ছি। বর্ণনাকারী বলেন: তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) হাস্যোজ্জ্বল মুখে মৃদু হাসলেন।
(২).
(ঘ) মুহাম্মদের রবের কসম:এটি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “আমি অবশ্যই জানি তুমি কখন আমার ওপর সন্তুষ্ট থাকো আর কখন রাগান্বিত থাকো। যখন তুমি সন্তুষ্ট থাকো তখন তুমি বলো: ‘না, মুহাম্মদের রবের কসম’। আর যখন রাগান্বিত থাকো তখন বলো: ‘না, ইব্রাহিমের রবের কসম’।”
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الثاني: أقسام اليمينالمطلب الأول: يمين اللغو ـ ماهيتها ـ حكمها.
المطلب الثاني: اليمين المنعقدة ـ ماهيتها ـ حكمها.
المطلب الثالث: اليمين الغموس ـ ماهيتها ـ سبب تسميتها ـ حكمها.
المطلب الرابع: عقوبة اليمين الفاجرة وما يترتب عليها في الدنيا والآخرة.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শপথের (اليمين) প্রকারভেদপ্রথম অনুচ্ছেদ: অনর্থক শপথ (يمين اللغو) — এর স্বরূপ — এর বিধান (حكم)।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দৃঢ়কৃত শপথ (اليمين المنعقدة) — এর স্বরূপ — এর বিধান (حكم)।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নিমজ্জমান শপথ (اليمين الغموس) — এর স্বরূপ — এর নামকরণের কারণ — এর বিধান (حكم)।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: পাপাচারী শপথের (اليمين الفاجرة) শাস্তি এবং দুনিয়া ও আখেরাতে এর ফলে যা বর্তায়।
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المطلب الأول: يمين اللغو ـ ماهيتها ـ حكمهايمين اللغو:
(أولا) معنى اللغو:قال الراغب الأصبهاني: "هو في الأصل ما لا يعتد به من الكلام، والمراد به في الأيمان ما يورد من غير رويَة فيجري مجرى اللغا وهو صوت العصافير ونحوها من الطير"
(1).
وقد اختلف في تأويلها على أقوال: أشهرها: وهو مذهب جمهور العلماء، أنَّهُ كلام الرجل لا والله وبلى والله من غير أن يقصد اليمين، لما أخرجه أبو داود في سننه عن إبراهيم الصائغ قال: سألت عطاء عن اللغو في اليمين؟ قال: ـ قالت عائشة ـ إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "هو كلام الرجل كلا والله وبلى والله "
(2).
وقد ورد الحديث عن عائشة رضي الله عنها موقوفاً، كما في البخاري، ومرفوعاً كما في
… صحيح ابن حبان.
(ثانيا) حكمها:لا كفارة فيها ولا مؤاخذة عليها.
لقوله تعالى: {لا يُؤَاخِذُكُمْ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ. . .}
(3).
قال الشوكاني - في تفسير هذه الآية-: " وفي الآية دليل على أنَّ أيمان اللغو لا يؤاخذ الله الحالف بها، ولا تجب فيها الكفارة"
(4).
قال الإمام ابن قدامة: " وأكثر أهل العلم على أن لغو اليمين لا كفارة فيه.
وقال ابن عبد البر: أجمع المسلمون على هذا "
(5)--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: অহেতুক শপথ (يمين اللغو) — এর স্বরূপ — এর বিধানঅহেতুক শপথ (يمين اللغو):
(প্রথমত) ‘লাগভ’ (অহেতুক)-এর অর্থ:রাগেব আল-আসফাহানি বলেন: "এটি মূলত কথাবার্তার এমন অংশ যা ধর্তব্য নয়। আর শপথের ক্ষেত্রে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই কথা যা কোনো চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই বলা হয়, যা চড়ুই বা এই জাতীয় পাখির কিচিরমিচির শব্দের ন্যায় গণ্য হয়।"
(১)।
এর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে একাধিক অভিমত রয়েছে। তার মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ এবং অধিকাংশ আলিমের অভিমত (مذهب جمهور العلماء) হলো— এটি মানুষের সেই কথা ‘না, আল্লাহর কসম’ এবং ‘হ্যাঁ, আল্লাহর কসম’, যা সে শপথের উদ্দেশ্য ছাড়া বলে থাকে। যেমনটি আবু দাউদ তার সুনানে ইব্রাহিম আস-সায়িগ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আতা-কে শপথে ‘লাগভ’ (অহেতুক) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম? তিনি বললেন—আয়েশা (রা.) বলেছেন—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এটি মানুষের সেই কথা ‘না, আল্লাহর কসম’ এবং ‘হ্যাঁ, আল্লাহর কসম’"
(২)।
হাদিসটি আয়েশা (রা.) থেকে মওকুফ (موقوف) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি বুখারিতে রয়েছে; আবার এটি মারফু (مرفوع) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে
... সহিহ ইবনে হিব্বান গ্রন্থে।
(দ্বিতীয়ত) এর বিধান:এতে কোনো কাফফারা নেই এবং এর জন্য কোনো পাকড়াও বা জবাবদিহিতা নেই।
মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আল্লাহ তোমাদের অহেতুক শপথের জন্য তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন না...}
(৩)।
আশ-শাওকানি — এই আয়াতের তাফসিরে — বলেন: "এই আয়াতে এই বিষয়ে দলিল রয়েছে যে, অহেতুক শপথের (يمين اللغو) কারণে আল্লাহ শপথকারীকে পাকড়াও করবেন না এবং এতে কোনো কাফফারা ওয়াজিব হবে না"
(৪)।
ইমাম ইবনে কুদামা বলেন: "অধিকাংশ আলিম এই বিষয়ে একমত যে, অহেতুক শপথের (يمين اللغو) কোনো কাফফারা নেই।
আর ইবনে আব্দুল বার বলেন: মুসলিমগণ এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন"
(৫)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المطلب الثاني: اليمين المنعقدة ـ ماهيتها ـ حكمهااليمين المنعقدة:
(أولا) ماهيتها:اليمين المنعقدة: منفعلة من العقد، وهي عقد القلب في المستقبل ألَاّ يفعل ففعل أو ليفعلَنَّ فلا يفعل
(1).
(ثانيا): حكمها:وجوب الوفاء بما حلف عليه ، فإن حنث وجبت الكفارة.
قال تعالى: {لا يُؤَاخِذُكُمْ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ}
(2).
وقال سبحانه: {لا يُؤَاخِذُكُمْ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمْ الأَيْمَانَ. . .}
(3).
وقال صلى الله عليه وسلم: "من حلف على يمين فرأى غيرها خيراً منها فليأت الذي هو خير وليكفر عن يمينه"
(4).
قال ابن عبدالبر: " اليمين التي فيها الكفارة بإجماع المسلمين هي التي على المستقبل من الأفعال"
(5).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুদৃঢ় শপথ (اليمين المنعقدة) — এর স্বরূপ ও বিধানসুদৃঢ় শপথ (اليمين المنعقدة):
(প্রথমত) এর স্বরূপ:সুদৃঢ় শপথ (اليمين المنعقدة): এটি ‘আকদ’ (عقد — সংকল্প/চুক্তি) থেকে উদ্ভূত। আর তা হলো ভবিষ্যতে কোনো কাজ না করার ব্যাপারে অন্তরের দৃঢ় সংকল্প করা কিন্তু পরে তা করা, অথবা কোনো কাজ করার সংকল্প করা কিন্তু পরে তা না করা
(১)।
(দ্বিতীয়ত): এর বিধান:যে বিষয়ের ওপর শপথ করা হয়েছে তা পূর্ণ করা আবশ্যক (واجب); আর যদি শপথ ভঙ্গ (حنث) করা হয়, তবে কাফফারা (كفارة) প্রদান করা আবশ্যক (واجب)।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের অসার শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদের পাকড়াও করবেন না; কিন্তু তোমাদের অন্তরের অর্জিত সংকল্পের জন্য তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও সহনশীল।}
(২)।
তিনি আরও বলেন: {তোমাদের অসার শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদের পাকড়াও করবেন না; কিন্তু তোমরা যে শপথ সুদৃঢ়ভাবে (عقدتم) করো, সেগুলোর জন্য তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন...}
(৩)।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে শপথ করল, অতঃপর তার বিপরীতটি তার কাছে অধিক কল্যাণকর মনে হলো, তবে সে যেন কল্যাণকর কাজটিই করে এবং তার শপথের কাফফারা (كفارة) আদায় করে"
(৪)।
ইবনে আব্দুল বার বলেন: "মুসলিমদের ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী যে শপথে কাফফারা (كفارة) প্রযোজ্য হয়, তা হলো ভবিষ্যতের কোনো কাজের ওপর কৃত শপথ"
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المطلب الثالث: اليمين الغموسماهيتها ـ سبب تسميتها ـ حكمها
اليمين الغموس: وتسمى اليمين الصابرة.
(أولا) ماهيتها:اليمين الغموس: قال المناوي: اليمين الغموس الحلف على فعل أو ترك ماضٍ كاذباً
(1). وقد ورد تفسيرها عن النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث الذي أخرجه البخاري والترمذي والنسائي من حديث عبدالله بن عمرو بن العاص
رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " الكبائر الإشراك بالله، وعقوق الوالدين، واليمين الغموس" وفي رواية أن أعرابياً جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله ما الكبائر؟ قال: "الإشراك بالله، قال: ثم ماذا؟ قال: "اليمين الغموس؟ " قُلتُ: وما اليمين الغموس؟ قال: "الذي يقتطع مال امرئ مسلم بيمين هو فيها كاذب"
(2).
وفي مستدرك الحاكم من حديث ابن مسعود رضي الله عنه قال: كٌنَّا نعد من الذنب الذي ليس له كفارة اليمين الغموس. قيل: وما اليمين الغموس؟ قال: الرجل يقتطع بيمينه مال الرجل"
(3).
(ثانيا) سبب تسميتها:قال الحافظ: سميت بذلك لأنَّها تغمس صاحبها في الإثم، ثم في النار. وقيل: الأصل في ذلك أنهم كانوا إذا أرادوا أن يتعاهدوا أحضروا جفنة فجعلوا فيها طيبا أو دماً أو رماداً ثم يحلفون عندما يدخلون أيديهم فيها ليتم لهم بذلك المراد من تأكيد ما أرادوا، فسميت تلك اليمين إذا غدر صاحبها غموساً لكونه بالغاً في نقض العهد وكأنها على هذا مأخوذة من اليد المغموسة. . . "
(4).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইয়ামিনে গামুস (মিথ্যা শপথ)এর স্বরূপ — নামকরণের কারণ — এর বিধান
ইয়ামিনে গামুস: একে ইয়ামিনে সাবিরাহ-ও (ধৈর্য পরীক্ষা কারী শপথ) বলা হয়।
(প্রথমত) এর স্বরূপ:ইয়ামিনে গামুস: আল-মুনাউয়ি বলেন: ইয়ামিনে গামুস হলো অতীতকালে কোনো কাজ করা বা না করার বিষয়ে মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে শপথ করা।
(১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর ব্যাখ্যা সেই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যা বুখারি, তিরমিজি এবং নাসায়ি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কবিরা গুনাহসমূহ হলো—আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করা (শিরক), পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এবং ইয়ামিনে গামুস।" অন্য এক বর্ণনায় আছে, এক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসূল! কবিরা গুনাহ কী কী? তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করা।" সে বলল: এরপর কোনটি? তিনি বললেন: "ইয়ামিনে গামুস।" আমি বললাম: ইয়ামিনে গামুস কী? তিনি বললেন: "যা দ্বারা কোনো মুসলিম ব্যক্তির সম্পদ আত্মসাৎ করা হয় এমন এক শপথের মাধ্যমে, যাতে শপথকারী মিথ্যাবাদী।"
(২).
মুস্তাদরাক আল-হাকিম-এ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: "আমরা ইয়ামিনে গামুসকে এমন গুনাহের অন্তর্ভুক্ত মনে করতাম যার কোনো কাফফারা নেই। জিজ্ঞাসা করা হলো: ইয়ামিনে গামুস কী? তিনি বললেন: কোনো ব্যক্তি তার শপথের মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পদ আত্মসাৎ করা।"
(৩).
(দ্বিতীয়ত) নামকরণের কারণ:আল-হাফিজ বলেন: একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি এর অধিকারীকে প্রথমে পাপে নিমজ্জিত করে, অতঃপর জাহান্নামের আগুনে নিমজ্জিত করে। বলা হয়েছে: এর মূল কারণ হলো, তারা যখন কোনো অঙ্গীকার করতে চাইত, তখন একটি বড় পাত্র উপস্থিত করত এবং তাতে সুগন্ধি বা রক্ত অথবা ছাই রাখত। এরপর তারা তাতে হাত ডুবিয়ে শপথ করত যাতে তাদের কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের দৃঢ়তা নিশ্চিত হয়। সুতরাং সেই শপথকারী যখন বিশ্বাসভঙ্গ করত, তখন তাকে 'গামুস' বলা হতো; কারণ সে অঙ্গীকার ভঙ্গের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে। আর এটি সম্ভবত 'নিমজ্জিত হাত' (আল-ইয়াদ আল-ম্যাগমুসাহ) থেকে গৃহীত হয়েছে। . . "
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(ثالثا) حكمها:اليمين الغموس كبيرة من كبائر الذنوب، لا كفارة لها عند جمهور العلماء، لأنها يمين مكر وخديعة وكذب قد باء الحالف بإثمها.
قال تعالى: {وَلا تَتَّخِذُوا أَيْمَانَكُمْ دَخَلاً بَيْنَكُمْ فَتَزِلَّ قَدَمٌ بَعْدَ ثُبُوتِهَا وَتَذُوقُوا السُّوءَ بِمَا صَدَدْتُمْ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَلَكُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ}
(1).
وفيها نزل قول الله تعالى: {إِنّ الّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَناً قَلِيلاً أُوْلََئِكَ لا خَلاقَ لَهُمْ فِي الاخِرَةِ وَلا يُكَلّمُهُمُ اللهُ وَلا يَنظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلا يُزَكّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}
(2).
وفي مسند أحمد من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " خمسٌ ليس لهن كفارة: الشرك بالله، وقتل النفس بغير حق، وبهت مؤمن، والفرار من الزحف، ويمين صابرة يقتطع بها مالاً بغير حق"
(3).
قال ابن مسعود " كنا نعد من الذنب الذي ليس له كفارة اليمين الغموس"
(4).
وقال سعيد بن المسيب "هي من الكبائر وهي أعظم من أن تكفر"
(5).
والواجب فيها التوبة ورد الحقوق إلى أصحابها.
--------------------------------------------
(তৃতীয়ত) এর বিধান:ইয়ামিন আল-গামুস (মিথ্যা শপথ) কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত। জমহুর উলামাদের (অধিকাংশ আলেম) মতে এর কোনো কাফফারা নেই; কারণ এটি হলো চক্রান্ত, প্রতারণা ও মিথ্যার শপথ, যার পাপের বোঝা শপথকারী বহন করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা তোমাদের শপথগুলোকে একে অপরের মধ্যে প্রতারণার মাধ্যম বানিও না, অন্যথায় পা সুদৃঢ় হওয়ার পর পিছলে যাবে এবং আল্লাহর পথে বাধা দেওয়ার কারণে তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করবে। আর তোমাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি}
(১)।
আর এই প্রেক্ষাপটেই আল্লাহ তাআলার এই বাণী অবতীর্ণ হয়েছে: {নিশ্চয় যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি}
(২)।
এবং মুসনাদ আহমদে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পাঁচটি বিষয় এমন যার কোনো কাফফারা নেই: আল্লাহর সাথে শিরক করা, অন্যায়ভাবে কোনো প্রাণ সংহার করা, মুমিনকে অপবাদ দেওয়া, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং এমন শপথ যা দ্বারা অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ আত্মসাৎ করা হয়"
(৩)।
ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, "আমরা ইয়ামিন আল-গামুসকে এমন গুনাহের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করতাম যার কোনো কাফফারা নেই"
(৪)।
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব বলেন, "এটি কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি কাফফারা প্রদানের চেয়েও অধিক গুরুতর"
(৫)।
এর ক্ষেত্রে আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো তাওবা করা এবং হকদারদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المطلب الرابع: عقوبة اليمين الفاجرة وما يترتب عليها في الدنيا والآخرةلليمين الفاجرة التي يقتطع بها المسلم مال أخيه آثار تترتب عليها، وعقوبات تنال صاحبها منها ما هو عاجل في الدنيا، ومنها ما هو آجل يوم القيامة، سأذكرها في هذا المطلب مُفَصَلةً: ـ
(أولا) عقوبة اليمين الفاجرة وأثرها على صاحبهافي الدنيا.
(أ) اليمين الفاجرة التي اقتطع المسلم بها مال أخيه تُذهب المال الذي حلف من أجله:لحديث عبدالرحمن بن عوف رضي الله عنه أنَّ النبي صلى الله عليه وسلم قال: "اليمين الفاجرة تُذهب المال، أو تذهب بالمال"
(1).
(ب) اليمين الفاجرة نكتة سوداء في قلب صاحبها إلى يوم القيامة:لحديث عبدالله بن أُنيس الجهني _رضي الله عنه_ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "وما حلف حالف بالله يمين صبر، فأدخل فيها مثل جناح بعوضة، إلَاّ جُعلت نُكتةً في قلبه إلى يوم القيامة"
(2).
وقال صلى الله عليه وسلم: "من اقتطع مال امرئٍ مسلم بيمينٍ كاذبة كانت نُكتة سوداء في قلبه لا يُغيرها شيءً إلى يوم القيامة"
(3).
(ج) اليمين الفاجرة تقفر الديار وتذرها بلاقع.
ففي حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ليس مما عُصيَ الله به هو أعجل عِقاباً من البغي، وما من شيء أطيع الله فيه أسرع ثواباً من الصلة، واليمينُ الفاجرة تدعُ الديار بلاقع"
(4).
وبلاقع: جمع بلقع وهي الأرضُ القفر التي لا شيء بها. يريد أن الحالف بها يفقر ويذهب ما في بيته من الرزق، وقيل: هو أن يفرق الله شمله، ويغير عليه ما أولاه من نعمة"
(5).
وفي حديث أبي هريرة رضي الله عنه أيضا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "وإن أعجل المعصية عقوبة البغي والخيانة، واليمين الغموس تُذهب المال وتذر الديار بلاقع"
(6).
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পাপিষ্ঠ শপথের (اليمين الفاجرة) শাস্তি এবং দুনিয়া ও আখেরাতে এর পরিণামপাপিষ্ঠ শপথের (اليمين الفاجرة) মাধ্যমে কোনো মুসলিম তার ভাইয়ের সম্পদ জবরদখল করলে তার কিছু অনিবার্য প্রভাব ও শাস্তি রয়েছে যা শপথকারীকে ভোগ করতে হয়। এর কিছু দুনিয়াতে দ্রুত কার্যকর হয়, আর কিছু আখেরাতে কিয়ামতের দিন কার্যকর হবে। এই পরিচ্ছেদে আমি তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করছি: —
(প্রথমত) দুনিয়াতে পাপিষ্ঠ শপথের (اليمين الفاجرة) শাস্তি ও কসমকারীর ওপর এর প্রভাব.
(ক) পাপিষ্ঠ শপথ (اليمين الفاجرة), যার মাধ্যমে একজন মুসলিম তার ভাইয়ের সম্পদ আত্মসাৎ করে, তা সেই সম্পদকে ধ্বংস করে দেয় যার জন্য শপথ করা হয়েছিল:আব্দুর রহমান বিন আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুসারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "পাপিষ্ঠ শপথ (اليمين الفاجرة) সম্পদকে বিনাশ করে, অথবা সম্পদ নিয়ে যায়"
(১).
(খ) পাপিষ্ঠ শপথ (اليمين الفاجرة) কিয়ামত পর্যন্ত কসমকারীর অন্তরে একটি কালো দাগ হয়ে থাকে:আব্দুল্লাহ বিন উনাইস আল-জুহানি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখনই কেউ আল্লাহর নামে কোনো নিরবচ্ছিন্ন শপথ (যাতে আবদ্ধ করা হয়) (يمين صبر) করে এবং তাতে মশার ডানার সমপরিমাণ মিথ্যার অনুপ্রবেশ ঘটায়, তখন সেটি কিয়ামত পর্যন্ত তার অন্তরে একটি বিন্দু বা দাগ হিসেবে থেকে যায়"
(২).
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথের (اليمين الكاذبة) মাধ্যমে কোনো মুসলিম ব্যক্তির সম্পদ আত্মসাৎ করবে, কিয়ামত পর্যন্ত তার অন্তরে সেটি একটি কালো দাগ হয়ে থাকবে, যা কোনো কিছুই পরিবর্তন করতে পারবে না"
(৩).
(গ) পাপিষ্ঠ শপথ (اليمين الفاجرة) ঘরবাড়ি জনশূন্য ও বিরান করে দেয়.
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর নাফরমানি করা হয় এমন কাজগুলোর মধ্যে বিদ্রোহের চেয়ে দ্রুত শাস্তিযোগ্য আর কিছু নেই এবং আল্লাহর আনুগত্য করা হয় এমন কাজগুলোর মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার চেয়ে দ্রুত সওয়াবযোগ্য আর কিছু নেই; আর পাপিষ্ঠ শপথ (اليمين الفاجرة) ঘরবাড়িগুলোকে জনশূন্য ও বিরান অবস্থায় ফেলে রাখে"
(৪).
'বালাকি' (بلاقع): এটি 'বালকা' (بلقع) শব্দের বহুবচন, যার অর্থ হলো এমন জনশূন্য ভূমি যেখানে কিছুই নেই। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে, এই শপথকারী ব্যক্তি দরিদ্র হয়ে পড়ে এবং তার ঘরে থাকা রিযিক চলে যায়। আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো আল্লাহ তার সংহতি নষ্ট করে দেন এবং তাকে যে নেয়ামত দিয়েছিলেন তা বদলে দেন"
(৫).
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত অন্য এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "গুনাহের মধ্যে বিদ্রোহ ও খিয়ানত দ্রুততম সময়ে শাস্তি বয়ে আনে এবং নিমজ্জমান শপথ (اليمين الغموس) সম্পদ বিনাশ করে ও ঘরবাড়ি জনশূন্য করে দেয়"
(৬).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াহফাজু আইমানাকুম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
(د) اليمين الفاجرة يُعجل لصاحبها العقوبة في الدنيا قبل الآخرة:لقوله صلى الله عليه وسلم: "من قطع رحماً أو حلف على يمين فاجرة رأى وباله قبل أن يموت"
(1).
(هـ) اليمين الفاجرة صاحبها منزوع البركة بدعوة النبي صلى الله عليه وسلم:ففي حديث سعيد بن زيد القرشي قال: أشهدُ لسمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: " من اقتطع مال امرئِ مسلم بيمين فلا بارك الله فيه"
(2).
(ثانيا) عقوبة اليمين الفاجرة وأثرها على صاحبها في الآخرة.
(أ) أنها من أعظم الخطايا عند الله تعالى يوم القيامة:لحديث أبي رهم السُمعي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ". . . وإنَّ من أعظم الخطايا من اقتطع مال امرئٍ مسلم بغير حق. . . "
(3).
(ب) اليمين الفاجرة سبب في غضب الله على العبد يوم القيامة:فعن عبدالله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من حلف على يمين صبر يقتطع بها مال امرئٍ مسلم لقي الله وهو عليه غضبان، فأنزل الله تصديق ذلك: {إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَناً قَلِيلاً أُوْلَئِكَ لا خَلاقَ لَهُمْ فِي الآخِرَةِ وَلا يُكَلِّمُهُمْ اللَّهُ وَلا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}
(4).
فدخل الأشعث بن قيس فقال: ما حدثكم أبو عبدالرحمن؟ فقالوا: كذا وكذا قال: فيَّ أُنزلت. كانت لي بئر في أرض ابن عم لي فأتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: بينتُك أو يمينه. قلت: إذاً يحلف عليها يا رسول الله. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من حلف على يمين صبر وهو فيها فاجر يقتطع بها مال امرئٍ مسلم لقي الله يوم القيامة وهو عليه غضبان"
(5).
قال الحافظ: "وفيه التشديد على من حلف باطلاً ليأخذ حق مسلم وهو عند الجميع محمول على من مات على غير توبة صحيحة
(6).
--------------------------------------------
(ঘ) মিথ্যা কসম (اليمين الفاجرة)কারীর শাস্তি আখেরাতের পূর্বেই দুনিয়াতে ত্বরান্বিত করা হয়:রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: "যে ব্যক্তি আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করে অথবা মিথ্যা কসম (اليمين الفاجرة) খায়, সে মৃত্যুর পূর্বেই তার অশুভ পরিণাম দেখতে পায়"
(১)।
(ঙ) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বদদোয়ার কারণে মিথ্যা কসম (اليمين الفاجرة)কারীর বরকত ছিনিয়ে নেওয়া হয়:সাঈদ ইবনে যাইদ আল-কুরাশি বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি মিথ্যা কসমের মাধ্যমে কোনো মুসলিম ব্যক্তির সম্পদ আত্মসাৎ করে, আল্লাহ তাতে বরকত দেন না"
(২)।
(দ্বিতীয়ত) আখেরাতে মিথ্যা কসমের (اليمين الفاجرة) শাস্তি ও এর প্রভাব।
(ক) কিয়ামতের দিন এটি মহান আল্লাহর নিকট অন্যতম কবীরা গুনাহ হিসেবে গণ্য হবে:আবু রুহম আস-সামঈ বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ". . . আর অন্যতম কবীরা গুনাহ হলো কোনো মুসলিম ব্যক্তির সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করা . . ."
(৩)।
(খ) মিথ্যা কসম (اليمين الفاجرة) কিয়ামতের দিন বান্দার ওপর আল্লাহর রাগান্বিত হওয়ার কারণ:আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হলফ (يمين صبر) করে, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন।" অতঃপর এর সত্যতার সমর্থনে আল্লাহ তাআলা নাযিল করেন: {নিশ্চয় যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি}
(৪)।
অতঃপর আশআস ইবনে কাইস প্রবেশ করে জিজ্ঞেস করলেন: আবু আবদুর রহমান (ইবনে মাসউদ) তোমাদের কাছে কী বর্ণনা করেছেন? তারা তাকে বিস্তারিত বললে তিনি বললেন: এটি আমার ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে। আমার চাচাতো ভাইয়ের জমিতে আমার একটি কূপ ছিল। আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে (বিচার নিয়ে) আসলাম। তিনি বললেন: "তোমার প্রমাণ উপস্থাপন করো অথবা সে কসম খাবে।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! তাহলে তো সে কসম খেয়ে ফেলবে। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা জেনেও জেনে-বুঝে মিথ্যা কসম (يمين صبر) করে, কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন"
(৫)।
হাফিজ (ইবনে হাজার আসকালানি) বলেন: "এতে ওই ব্যক্তির প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি রয়েছে যে কোনো মুসলিমের হক আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা কসম করে। সকল আলিমের মতে, এটি ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে সঠিক তওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করেছে
(৬)।
--------------------------------------------