(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: -)
مسند الحميدي (الحميدي)
القسم: كتب السنة
اسم الكتاب: مسند الحميدي
المؤلف: أبو بكر عبد الله بن الزبير بن عيسى بن عبيد الله القرشي الأسدي الحميدي المكي (ت 219هـ)
حقق نصوصه وخرج أحاديثه: حسن سليم أسد الدَّارَانيّ
الناشر: دار السقا، دمشق - سوريا
الطبعة: الأولى، 1996 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুসনাদ আল-হুমায়দী (আল-হুমায়দী)
বিভাগ: হাদীসের গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থের নাম: মুসনাদ আল-হুমায়দী
লেখক: আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন আয-যুবাইর বিন ঈসা বিন উবাইদুল্লাহ আল-কুরাশী আল-আসাদী আল-হুমায়দী আল-মাক্কী (মৃত্যু ২১৯ হি.)
পাঠ্য সম্পাদনা ও হাদীস যাচাইকরণ: হাসান সালীম আসাদ আদ-দারানী
প্রকাশক: দারুস সাক্কা, দামেস্ক - সিরিয়া
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৪৮)
أَحَادِيثُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত আবু বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসসমূহ
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৪৮)
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ حَمَّادِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْحَرَّانِيُّ قِرَاءَةُ عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ سَعْدُ اللَّهِ بْنُ نَصْرِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ الدَّجَّاجِيِّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ بِبَغْدَادَ، أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْخَيَّاطِ، أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرْ عَبْدُ الْغَفَّارِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ زَيْدٍ الْمُؤَدِّبُ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ إِسْحَاقَ الصَّوَّافُ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ بِشْرُ بْنُ مُوسَى بْنِ صَالِحِ بْنِ شَيْخِ بْنِ عُمَيْرَةُ الْأَسَدِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ بْنِ عِيسَى الْحُمَيْدِيُّ، 1 - أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ أَبُو مُحَمَّدٍ، ثنا مِسْعَرُ بْنُ كِدَامٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ الثَّقَفِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ الْوَالِبِيِّ، عَنْ أَسْمَاءِ بْنِ الْحَكَمِ الْفَزَارِيِّ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه يَقُولُ: كُنْتُ إِذَا سَمِعْتُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا نَفَعَنِي اللَّهُ عز وجل بِمَا شَاءَ أَنْ يَنَفَعَنِي مِنْهُ، وَإِذَا حَدَّثَنِي غَيْرُهُ اسْتَحْلَفْتُهُ فَإِذَا حَلَفَ لِي صَدَّقْتُهُ، فَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ وَصَدَقَ أَبُو بَكْرٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَيْسَ مِنْ عَبْدٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا فَيَقُومُ فَيَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ إِلَّا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ» . قَالَ سُفْيَانُ وَحَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَزَادَ فِيهِ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: «وَيَتَبَرَّرُ» يَعْنِي يُصَلِّي
শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-হাররানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: শেখ আবু আল-হাসান সা’দুল্লাহ ইবনে নাসর ইবনে সাঈদ ইবনে আদ-দাজ্জাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বাগদাদে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: আবু মানসুর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনুল খাইয়্যাত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু তাহের আবদুল গাফফার ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে যায়েদ আল-মুয়াদ্দিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে ইসহাক আস-সাফফাফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আলী বিশর ইবনে মুসা ইবনে সালিহ ইবনে শাইখ ইবনে উমাইরাহ আল-আসাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে আজ-যুবাইর ইবনে ঈসা আল-হুমাইদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। ১ - আবু মুহাম্মদ সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মিসআর ইবনে কিদাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উসমান ইবনুল মুগিরা আস-সাকাফী থেকে, তিনি আলী ইবনে রাবিআ আল-ওয়ালিবি থেকে, তিনি আসমা ইবনুল হাকাম আল-ফাজারি থেকে বর্ণনা করেন: আমি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে কোনো হাদিস শুনতাম, আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী আমাকে তা থেকে যা ইচ্ছা উপকার দান করতেন। আর যখন তাঁর ব্যতীত অন্য কেউ আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করত, আমি তাকে কসম করতে বলতাম। যখন সে আমার নিকট কসম করত, আমি তাকে বিশ্বাস করতাম। আবু বকর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন—আর আবু বকর সত্য বলেছেন—তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «এমন কোনো বান্দা নেই যে কোনো পাপ করে, অতঃপর সে উঠে দাঁড়ায় এবং অজু করে, আর উত্তমরূপে অজু সম্পন্ন করে, এরপর দুই রাকাত নামাজ পড়ে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেন»। সুফিয়ান বলেন: আসিম আমাদের নিকট আল-হাসানের সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে অতিরিক্ত শব্দ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেছেন: «এবং সে পুণ্য কাজ করে» অর্থাৎ সে নামাজ পড়ে।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৪৯)
2 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ قَالَ: ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ الدِّمَشْقِيُّ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ سُلَيْمَ بْنَ عَامِرٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَوْسَطَ الْبَجَلِيَّ وَهُوَ عَلَى مِنْبَرِ حِمْصٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ يَقُولُ وَهُوَ عَلَى مِنْبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ خَنَقَتْهُ الْعَبْرَةُ ثُمَّ عَادَ فَخَنَقَتْهُ الْعَبْرَةُ ثُمَّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَامَ الْأَوَّلِ: «سَلُوا اللَّهَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فَإِنَّهُ مَا أُوتِيَ عَبْدٌ بَعْدَ يَقِينٍ شَيْئًا خَيْرًا مِنَ الْعَافِيَةِ»
২ - হুমাইদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আদ-দিমাশকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আমি আবদুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ ইবনে জাবিরকে বলতে শুনেছি: আমি সুলাইম ইবনে আমিরকে বলতে শুনেছি: আমি আওসাত আল-বাজালীকে হিমসের মিম্বারে থাকাকালীন বলতে শুনেছি: আমি আবু বকর আস-সিদ্দীককে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিম্বারে আসীন অবস্থায় বলতে শুনেছি: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—অতঃপর কান্নায় তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে গেল, পুনরায় তিনি চেষ্টা করলেন কিন্তু আবারও কান্নায় তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে গেল, এরপর তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রথম বছর বলতে শুনেছি: "তোমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করো, কেননা দৃঢ় বিশ্বাসের (ইয়াকীন) পর কোনো বান্দাকে নিরাপত্তার চেয়ে উত্তম আর কিছু প্রদান করা হয়নি।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৪৯)
3 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ قَالَ: ثنا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ قَامَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ هَذِهِ الْآيَةَ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} [المائدة: 105] وَإِنَّا سَمِعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «النَّاسُ إِذَا رَأَوُا الظَّالِمَ فَلَمْ يَأْخُذُوا عَلَى يَدَيْهِ يُوشِكُ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابٍ» .
৩ - আল-হুমায়দী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারওয়ান ইবনে মুআবিয়া আল-ফাজারী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কায়েস ইবনে আবি হাযিম থেকে যে, আবু বকর আল-সিদ্দীক দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপন করলেন, অতঃপর বললেন: হে লোকসকল! তোমরা এই আয়াতটি পাঠ করে থাকো: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর তোমাদের নিজেদের দায়িত্ব। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও, তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না} [আল-মায়িদাহ: ১০৫]। আর আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "মানুষ যখন জালেমকে দেখে অথচ তার হাত ধরে তাকে বাধা দেয় না, তখন অচিরেই আল্লাহ তাদের সকলকে তাঁর শাস্তির অন্তর্ভুক্ত করবেন।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৪৯)
4 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ قَالَ: ثنا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، ثنا مِسْعَرُ بْنُ كِدَامٍ، وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، ثنا عُثْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ الْوَالِبِيِّ، عَنْ أَسْمَاءِ بْنِ الْحَكَمِ الْفَزَارِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: كُنْتُ إِذَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا نَفَعَنِي اللَّهُ بِمَا شَاءَ مِنْهُ، فَإِذَا حَدَّثَنِي غَيْرُهُ اسْتَحْلَفْتُهُ، فَإِذَا حَلَفَ لِي صَدَّقْتُهُ وَأَنَّ أَبَا بَكْرٍ حَدَّثَنِي ⦗ص: 150⦘ وَصَدَقَ أَبُو بَكْرٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ رَجُلٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا فَيَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ» قَالَ مِسْعَرٌ «ثُمَّ يُصَلِّي» وَقَالَ سُفْيَانُ «ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ فَيَسْتَغْفِرُ اللَّهَ إِلَّا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ»
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুমায়দী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি ইবনুল জাররাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মিসআর ইবনু কিদাম ও সুফিয়ান আস-সাওরী, তাঁরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনুল মুগীরাহ আস-সাকাফী থেকে, তিনি আলী ইবনু রাবীআহ আল-ওয়ালিবি থেকে, তিনি আসমা ইবনুল হাকাম আল-ফাজারী থেকে, তিনি আলী ইবনু আবী তালিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। আলী (রা.) বলেন: আমি যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে কোনো হাদীস শুনতাম, তখন আল্লাহ আমাকে তা দ্বারা যতটুকু ইচ্ছা উপকৃত করতেন। আর যখন তাঁর ব্যতীত অন্য কেউ আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করত, তখন আমি তাকে শপথ করতে বলতাম; যখন সে আমার নিকট শপথ করত, তখন আমি তাকে সত্য বলে গ্রহণ করতাম। আর আবু বকর (রা.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৫০⦘ এবং আবু বকর সত্য বলেছেন। তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে কোনো পাপ করে, অতঃপর সে উযূ করে এবং সুন্দরভাবে উযূ সম্পাদন করে» — মিসআর বলেছেন: «অতঃপর সে সালাত আদায় করে» — এবং সুফিয়ান বলেছেন: «অতঃপর সে দুই রাকাত সালাত আদায় করে এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেন।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫০)
5 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ ثنا سَعْدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ يَقُولُ: مَا حَدَّثَنِي مُحَدِّثٌ حَدِيثًا لَمْ أَسْمَعْهُ أَنَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا أَمَرْتُهُ أَنْ يُقْسِمَ بِاللَّهِ لَهُوَ سَمِعَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا أَبُو بَكْرٍ فَإِنَّهُ كَانَ لَا يَكْذِبُ، فَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَا ذَكَرَ عَبْدٌ ذَنْبًا أَذْنَبَهُ فَقَامَ حِينَ يَذْكُرُ ذَنْبَهُ ذَلِكَ فَيَتَوَضَّأُ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ اسْتَغْفَرَ اللَّهَ لِذَنْبِهِ ذَلِكَ إِلَّا غُفِرَ لَهُ»
৫ - আমাদের নিকট হুমায়দী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সা’দ ইবন সা’ঈদ ইবন আবী সা’ঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন সা’ঈদ তাঁর দাদা আবূ সা’ঈদ আল-মাকবুরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আলী ইবন আবী তালিবকে বলতে শুনেছেন: কোনো বর্ণনাকারী যখনই আমার নিকট এমন কোনো হাদীস বর্ণনা করতেন যা আমি নিজে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর থেকে শুনিনি, তখন আমি তাকে আল্লাহর নামে শপথ করতে বলতাম যে সে এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকেই শুনেছে; তবে আবূ বকর এর ব্যতিক্রম, কারণ তিনি মিথ্যা বলতেন না। অতঃপর আবূ বকর আমার নিকট বর্ণনা করলেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন: «কোনো বান্দা যখন তার কৃত কোনো পাপের কথা স্মরণ করে এবং সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে উত্তমরূপে ওযু করে, অতঃপর দুই রাকাত সালাত আদায় করে এবং সেই পাপের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেওয়া হয়।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫০)
6 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، ثنا الْأَعْمَشُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، عَنْ أَبِي بَرْزَةَ قَالَ: مَرَرْتُ عَلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ وَهُوَ يَتَغَيَّظُ عَلَى رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقُلْتُ: يَا خَلِيفَةَ رَسُولِ اللَّهِ مَنْ هَذَا الَّذِي تَغَيَّظُ عَلَيْهِ؟ قَالَ: وَلِمَ تَسْأَلُ عَنْهُ؟ قُلْتُ: أَضْرِبُ عُنُقَهُ، قَالَ: فَوَاللَّهِ لَأَذْهَبَ غَضَبَهُ مَا قُلْتَ ، ثُمَّ قَالَ: «مَا كَانَتْ لِأَحَدٍ بَعْدَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم»
৬ - আমাদের নিকট হুমাইদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়ালা বিন উবায়েদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমাশ বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি আবুল বাখতারী থেকে, তিনি আবু বারযাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু বকর আস-সিদ্দীক (রা.)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম এমতাবস্থায় তিনি তাঁর সঙ্গীদের মধ্য হতে এক ব্যক্তির ওপর অত্যন্ত রাগান্বিত ছিলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা! এই ব্যক্তিটি কে যার ওপর আপনি ক্রুদ্ধ হচ্ছেন? তিনি বললেন: তুমি তার সম্পর্কে কেন জিজ্ঞাসা করছ? আমি বললাম: আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেব। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, তোমার এই কথাটি তাঁর রাগকে অপসারিত করে দিয়েছে। অতঃপর তিনি বললেন: "মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পর আর কারো জন্য এটি (এই অধিকার) নেই।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫১)
7 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ قَالَ: ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ الرَّصَاصِيُّ، ثنا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي يَزِيدُ بْنُ خُمَيْرٍ قَالَ: سَمِعْتُ سُلَيْمَ بْنَ عَامِرٍ رَجُلًا مِنْ حِمْيَرَ يُحَدِّثُ عَنْ أَوْسَطَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَوْسَطَ الْبَجَلِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ حِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْأَوَّلِ مَقَامِيَ هَذَا ثُمَّ بَكَى فَقَالَ: «عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّهُ مَعَ الْبِرِّ وَهُمَا فِي الْجَنَّةِ، وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّهُ مَعَ الْفُجُورِ وَإِنَّهُمَا فِي النَّارِ، وَاسْأَلُوا اللَّهَ الْعَافِيَةَ فَإِنَّهُ لَمْ يُؤْتَ عَبْدٌ بَعْدَ الْيَقِينِ خَيْرًا مِنَ الْعَافِيَةِ»
৭ - হুমায়দী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান বিন যিয়াদ আর-রাসাসী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ বিন খুমায়র আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আমি হিমইয়ারের এক ব্যক্তি সুলায়ম বিন আমিরকে আওসাত বিন ইসমাঈল বিন আওসাত আল-বাজালী থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর তাঁকে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গত বছর আমার এই দাঁড়ানোর স্থানে দাঁড়িয়েছিলেন, অতঃপর তিনি (আবু বকর) কেঁদে ফেললেন। এরপর তিনি বললেন: “তোমরা সত্যবাদিতাকে আঁকড়ে ধরো, কেননা তা নেক কাজের সাথে থাকে এবং তারা উভয়ই জান্নাতে থাকবে। আর তোমরা মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা তা পাপাচারের সাথে থাকে এবং তারা উভয়ই জাহান্নামে থাকবে। আর তোমরা আল্লাহর নিকট নিরাপত্তার (আফিয়াত) প্রার্থনা করো, কারণ ইয়াকীনের (দৃঢ় বিশ্বাস) পর কোনো বান্দাকে নিরাপত্তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করা হয়নি।”
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫১)
7 - قَالَ: «وَلَا تَقَاطَعُوا، وَلَا تَدَابَرُوا، وَلَا تَبَاغَضُوا، وَلَا تَحَاسَدُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا» .
৭ - তিনি বলেছেন: "তোমরা পরস্পর সম্পর্ক ছিন্ন করো না, একে অপরের প্রতি বিমুখ হয়ো না, একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না এবং একে অপরের প্রতি হিংসা করো না; আর হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও।"।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫২)
أَحَادِيثُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) হতে বর্ণিত উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর হাদিসসমূহ
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫২)
8 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ قَالَ: ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، ثنا الزُّهْرِيُّ سَمِعْتُ أَبَا عُبَيْدٍ يَقُولُ شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَبَدَأَ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ وَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَهَى عَنْ صِيَامِ هَذَيْنِ الْيَوْمَيْنِ: يَوْمِ الْفِطْرِ، وَيَوْمِ الْأَضْحَى ، فَأَمَّا يَوْمُ الْفِطْرِ فَيَوْمُ فِطْرِكُمْ مِنْ صِيَامِكُمْ، وَأَمَّا يَوْمُ الْأَضْحَى فَكُلُوا فِيهِ مِنْ لَحْمِ نُسُكِكُمْ "
8 - হুমায়দী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আয-যুহরী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমি আবু উবাইদকে বলতে শুনেছি যে, আমি উমর ইবনুল খাত্তাবের সাথে ঈদে উপস্থিত ছিলাম। তিনি খুতবার পূর্বে সালাত আরম্ভ করলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুই দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন: ঈদুল ফিতরের দিন এবং ঈদুল আযহার দিন। ঈদুল ফিতর হলো তোমাদের সিয়াম শেষ করার (ইফতারের) দিন, আর ঈদুল আযহার দিনে তোমরা তোমাদের কুরবানীর পশুর গোশত আহার করবে।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫২)
8 - ثُمَّ شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَوَافَقَ ذَلِكَ يَوْمَ جُمُعَةٍ ، فَبَدَأَ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ هَذَا يَوْمٌ اجْتَمَعَ فِيهِ عِيدَانِ لِلْمُسْلِمِينَ فَمَنْ كَانَ هَاهُنَا مِنْ أَهْلِ الْعَوَالِي فَأَحَبَّ أَنْ يَذْهَبَ فَقَدْ أَذِنَّا لَهُ، وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَمْكُثَ فَلْيَمْكُثْ»
8 - অতঃপর আমি উসমান ইবনে আফফানের সাথে ঈদের সালাতে উপস্থিত হলাম; তা জুমুআহ্র দিনে পড়েছিল। তিনি খুতবার পূর্বে সালাত আদায় করলেন, অতঃপর বললেন: "নিশ্চয়ই এটি এমন একটি দিন, যাতে মুসলিমদের জন্য দুটি ঈদ একত্রিত হয়েছে। সুতরাং আল-আওয়ালীর অধিবাসীদের মধ্যে যারা ফিরে যেতে চায়, আমরা তাদের অনুমতি দিলাম। আর যারা অবস্থান করতে চায়, তারা যেন অবস্থান করে।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫২)
8 - ثُمَّ شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ فَبَدَأَ بِالصَّلَاةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ قَالَ: «لَا يَأْكُلَنَّ أَحَدُكُمْ مِنْ لَحْمِ نُسُكِهِ فَوْقَ ثَلَاثٍ» قَالَ أَبُو بَكْرٍ الْحُمَيْدِيُّ قُلْتُ لِسُفْيَانَ: إِنَّهُمْ يَرْفَعُونَ هَذِهِ الْكَلِمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ سُفْيَانُ لَا أَحْفَظُهَا مَرْفُوعَةً وَهِيَ مَنْسُوخَةٌ
৮ - অতঃপর আমি আলী ইবনে আবি তালিবের সাথে ঈদে উপস্থিত হলাম। তিনি খুতবার পূর্বে সালাত আদায় করলেন এবং বললেন: ‘তোমাদের কেউ যেন তার কোরবানির গোশত তিন দিনের অধিক না খায়।’ আবু বকর আল-হুমাইদি বলেন, আমি সুফিয়ানকে বললাম: তারা আলী ইবনে আবি তালিবের সূত্রে এই কথাটিকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেন। সুফিয়ান বললেন, আমি এটি মারফু হিসেবে সংরক্ষণ করিনি এবং এটি মানসুখ (রহিত) হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
9 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ ثنا سُفْيَانُ، ثنا عَاصِمٌ الْأَحْوَلُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَرْجِسَ يَقُولُ: رَأَيْتُ الْأُصَيْلِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَتَى الْحَجَرَ الْأَسْوَدَ فَقَبَّلَهُ، ثُمَّ قَالَ: «وَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ لَا تَضُرُّ وَلَا تَنْفَعُ، وَلَوْلَا أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُكَ مَا قَبَّلْتُكَ»
9 - আল-হুমায়দী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসিম আল-আহওয়াল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে সারজিসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মস্তকমুণ্ডিত ওমর ইবনুল খাত্তাবকে হাজরে আসওয়াদের নিকট আসতে এবং তা চুম্বন করতে দেখেছি, তারপর তিনি বললেন: «আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই জানি যে তুমি কেবল একটি পাথর, তুমি কোনো ক্ষতিও করতে পারো না এবং কোনো উপকারও করতে পারো না। আমি যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম, তবে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
10 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ، ثنا يَحْيَى بْنُ صَبِيحٍ الْخُرَاسَانِيُّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ الْيَعْمَرِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ قَالَ: إِنِّي أَحْسَبُ أَنَّكُمْ تَأْكُلُونَ شَجَرَتَيْنِ يَعْنِي خَبِيثَتَيْنِ الْبَصَلَ وَالثُّومَ فَإِنْ كُنْتُمْ لَا بُدَّ فَاعِلِينَ فَاقْتُلُوهُمَا بِالنُّضْجِ ثُمَّ كُلُوهُمَا فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَجِدُ رِيحَهُ مِنَ الرَّجُلِ فَيَأْمُرُ بِهِ فَيَخْرُجُ إِلَى الْبَقِيعِ " 11 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ، ثنا حُصَيْنٌ سَمِعْتُ سَالِمَ بْنَ أَبِي الْجَعْدِ يُحَدِّثُ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ مِثْلَهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَلَمْ يَذْكُرْ حُصَيْنٌ مَعْدَانَ
১০ - আল-হুমায়দী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাবিহ আল-খুরাসানী আমাদের নিকট কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি সালিম ইবনে আবিল জা'দ থেকে, তিনি মা'দান ইবনে আবি তালহা আল-ইয়ামারী থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি মনে করি তোমরা এমন দুটি উদ্ভিদ ভক্ষণ করছ যা নিকৃষ্ট, অর্থাৎ পেঁয়াজ ও রসুন। যদি তোমাদের তা খেতেই হয়, তবে রান্নার মাধ্যমে সেগুলোর দুর্গন্ধ দূর করে নাও। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি, তিনি যখন কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে এর গন্ধ পেতেন, তখন তাকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন, ফলে তাকে বাকী' (কবরস্থান) পর্যন্ত বের করে দেওয়া হতো।" ১১ - আল-হুমায়দী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সালিম ইবনে আবিল জা'দকে উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে আল্লাহর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি; তবে হুসাইন (তার বর্ণনায়) মা'দানের কথা উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
12 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ، ثنا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ أَوَّلًا قَبْلَ أَنْ نَلْقَى الزُّهْرِيَّ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ قَالَ: أَتَيْتُ بِمِائَةِ دِينَارٍ أَبْغِي بِهَا صَرْفًا، فَقَالَ طَلْحَةُ: عِنْدَنَا صَرْفٌ انْتَظِرْ يَأْتِي خَازِنُنَا مِنَ الْغَابَةِ وَأَخَذَ مِنِّي الْمِائَةَ دِينَارٍ ⦗ص: 154⦘ فَقَالَ لِي عُمَرُ: " لَا تُفْارِقْهُ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «الذَّهَبُ بِالْوَرِقِ رِبًا إِلَّا هَا وَهَا، وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ رِبًا إِلَّا هَا وَهَا، وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ رِبًا إِلَّا هَا وَهَا، وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ رِبًا إِلَّا هَا وَهَا» فَلَمَّا جَاءَ الزُّهْرِيُّ لَمْ يَذْكُرْ هَذَا الْكَلَامَ
১২ - আল-হুমায়দী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবন দীনার যুহরীর সাথে আমাদের সাক্ষাতের পূর্বে আমাদের নিকট এটি প্রথমবার বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবন শিহাব আয-যুহরী থেকে, তিনি মালিক ইবন আওস ইবন আল-হাদাছান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি একশত দীনার নিয়ে আসলাম এবং এর বিনিময়ে মুদ্রা পরিবর্তন করতে চাইলাম। তখন তালহা বললেন: আমাদের নিকট বিনিময়ের মুদ্রা আছে, আপনি অপেক্ষা করুন যতক্ষণ না আমাদের কোষাধ্যক্ষ বনাঞ্চল থেকে ফিরে আসে। এরপর তিনি আমার নিকট থেকে একশত দীনার গ্রহণ করলেন। ⦗পৃষ্ঠা: ১৫৪⦘ তখন উমর আমাকে বললেন: "তুমি তাকে ছেড়ে যেয়ো না, কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য (ক্রয়-বিক্রয়) সুদ, তবে যদি তা হাতে হাতে (নগদ) না হয়; গমের বিনিময়ে গম (বিক্রয়) সুদ, তবে যদি তা হাতে হাতে না হয়; যবের বিনিময়ে যব (বিক্রয়) সুদ, তবে যদি তা হাতে হাতে না হয় এবং খেজুরের বিনিময়ে খেজুর (বিক্রয়) সুদ, তবে যদি তা হাতে হাতে না হয়।»" এরপর যখন যুহরী আসলেন, তিনি এই কথাটি উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫৪)
12 - وَسَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ النَّصْرِيَّ يَقُولُ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «الذَّهَبُ بِالْوَرِقِ رِبًا إِلَّا هَا وَهَا، وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ رِبًا إِلَّا هَا وَهَا، وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ رِبًا إِلَّا هَا وَهَا، وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ رِبًا إِلَّا هَا وَهَا» قَالَ الْحُمَيْدِيُّ: قَالَ سُفْيَانُ: وَهَذَا أَصَحُّ حَدِيثٍ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا يَعْنِي فِي الصَّرْفِ
১২ - আমি যুহরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবন আওস ইবন আল-হাদাসান আন-নাসরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: «রৌপ্যের বিনিময়ে স্বর্ণ (ক্রয়-বিক্রয়) সুদ, তবে হাতে হাতে (নগদ আদান-প্রদান) হলে ভিন্ন কথা। গমের বিনিময়ে গম (ক্রয়-বিক্রয়) সুদ, তবে হাতে হাতে হলে ভিন্ন কথা। যবের বিনিময়ে যব (ক্রয়-বিক্রয়) সুদ, তবে হাতে হাতে হলে ভিন্ন কথা। খেজুরের বিনিময়ে খেজুর (ক্রয়-বিক্রয়) সুদ, তবে হাতে হাতে হলে ভিন্ন কথা।» হুমাইদি বলেন: সুফিয়ান বলেছেন: এই বিষয়ে অর্থাৎ মুদ্রা বিনিময় (সারফ) প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে এটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ হাদীস।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫৪)
13 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ، ثنا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي طَاوُسٌ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ: بَلَغَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَنَّ سَمُرَةَ بَاعَ خَمْرًا فَقَالَ: قَاتَلَ اللَّهُ سَمُرَةَ أَلَمْ يَعْلَمْ أَنَّ ⦗ص: 155⦘ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ حُرِّمَتْ عَلَيْهِمُ الشُّحُومُ فَجَمَلُوهَا فَبَاعُوهَا»
১৩ - আমাদের নিকট হুমাইদী হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফইয়ান থেকে, তিনি আমর ইবনু দীনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাকে তাউস সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি ইবনু আব্বাসকে বলতে শুনেছেন: উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে সামুরা মদ বিক্রয় করেছেন। তখন তিনি বললেন: আল্লাহ সামুরাকে ধ্বংস করুন; তিনি কি জানতেন না যে ⦗পৃষ্ঠা: ১৫৫⦘ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ ইয়াহুদীদের প্রতি লানত বর্ষণ করুন; তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছিল, অতঃপর তারা তা গলিয়ে বিক্রয় করেছিল।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫৫)
14 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، ثنا مِسْعَرٌ، ثنا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي فُلَانٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ رَأَيْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ بِيَدِهِ عَلَى الْمِنْبَرِ هَكَذَا - يَعْنِي يُحَرِّكُهَا يَمِينًا وَشِمَالًا - عُوَيْمِلٌ لَنَا بِالْعِرَاقِ، عُوَيْمِلٌ لَنَا بِالْعِرَاقِ خَلَطَ فِي فَيْءِ الْمُسْلِمِينَ أَثْمَانَ الْخَمْرِ وَالْخَنَازِيرِ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ حُرِّمَتْ عَلَيْهِمُ الشُّحُومُ فَجَمَلُوهَا فَبَاعُوهَا» يَعْنِي أَذَابُوهَا
১৪ - হুমায়দী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মিসআর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মালিক বিন উমাইর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি উমর বিন খাত্তাবকে মিম্বারের ওপর দেখা অবস্থায় বলতে শুনেছি, এমতাবস্থায় তিনি মিম্বারের ওপর নিজের হাত দিয়ে এভাবে ইশারা করছিলেন - অর্থাৎ তিনি হাতটি ডানে ও বামে নাড়াচাড়া করছিলেন - "ইরাকে আমাদের নিযুক্ত এক ছোট কর্মচারী, ইরাকে আমাদের নিযুক্ত এক ছোট কর্মচারী মুসলিমদের ফায়-সম্পদের সাথে মদ ও শুকরের বিক্রয়লব্ধ মূল্য মিশ্রিত করে ফেলেছে। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ ইয়াহূদীদের ওপর লানত করেছেন; তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছিল, এরপর তারা তা গালিয়েছিল এবং বিক্রি করেছিল»।" অর্থাৎ তারা তা আগুনে তাপ দিয়ে তরল করে নিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫৫)
15 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ قَالَ: سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ يَسْأَلُ زَيْدَ بْنَ أَسْلَمَ فَقَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: حَمَلْتُ عَلَى فَرَسٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَرَأَيْتُهُ يُبَاعُ، فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَشْتَرِيهِ؟ فَقَالَ «لَا تَشْتَرِهِ، وَلَا تَعُدْ فِي صَدَقَتِكَ»⦗ص: 156⦘ 16 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ قَالَ، سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ السِّخْتِيَانِيِّ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ مِثْلَهُ إِلَّا أَنَّهُ قَالَ: رَآهَا تُبَاعُ أَوْ بَعْضَ نِتَاجِهَا
১৫ - আল-হুমায়দী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান বলেছেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে যায়েদ ইবনে আসলামকে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: আমি আল্লাহর পথে (জিহাদের জন্য) একটি ঘোড়া দান করেছিলাম, এরপর আমি সেটিকে বিক্রি হতে দেখলাম। তখন আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি সেটি কিনে নেব? তিনি বললেন: "তুমি তা ক্রয় করো না এবং তোমার সদকা ফেরত নিও না।"⦗পৃষ্ঠা: ১৫৬⦘ ১৬ - আল-হুমায়দী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আইয়ুব আস-সিখতিয়ানী থেকে, তিনি ইবনে সীরীন থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; তবে এতে বলা হয়েছে যে, তিনি সেটিকে অথবা তার কোনো শাবককে বিক্রি হতে দেখলেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫৬)
17 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ، ثنا عَاصِمُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْعُمَرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَابِعْ مَا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّ مُتَابَعَةً بَيْنَهُمَا يَزِيدَانِ فِي الْأَجَلِ، وَيَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ الْخَبَثَ» قَالَ سُفْيَانُ: هَذَا الْحَدِيثُ حَدَّثَنَاهُ عَبْدُ الْكَرِيمِ الْجَزَرِيُّ، عَنْ عَبْدَةَ، عَنْ عَاصِمٍ فَلَمَّا قَدِمَ عَبْدَةُ أَتَيْنَاهُ لِنَسْأَلَهُ عَنْهُ فَقَالَ: إِنَّمَا حَدَّثَنِيهِ عَاصِمٌ وَهَذَا عَاصِمٌ حَاضِرٌ فَذَهَبْنَا إِلَى عَاصِمٍ فَسَأَلْنَاهُ فَحَدَّثَنَا بِهِ هَكَذَا، ثُمَّ سَمِعْتُهُ مِنْهُ بَعْدَ ذَلِكَ فَمَرَّةً يَقِفُهُ عَلَى عُمَرَ وَلَا يَذْكُرُ فِيهِ عَنْ أَبِيهِ وَأَكْثَرُ ذَلِكَ كَانَ يُحَدِّثُهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ سُفْيَانُ وَرُبَّمَا سَكَتْنَا عَنْ هَذِهِ الْكَلِمَةِ يَزِيدَانِ فِي الْأَجَلِ فَلَا نُحَدِّثُ بِهَا مَخَافَةَ أَنْ يَحْتَجَّ بِهَا هَؤُلَاءِ - يَعْنِي الْقَدَرِيَّةَ - وَلَيْسَ لَهُمْ فِيهَا حُجَّةٌ
১৭ - হুমায়দী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আসেম ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-উমারি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবিআ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা হজ্জ ও উমরার মাঝে ধারাবাহিকতা বজায় রাখো, কেননা এ দুটির পারম্পর্য আয়ু বৃদ্ধি করে এবং দারিদ্র্য ও গুনাহসমূহ বিদূরিত করে, ঠিক যেমন হাঁপর ময়লা দূর করে দেয়»। সুফিয়ান বলেন: এই হাদীসটি আব্দুল করীম আল-জাজারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদাহ থেকে, তিনি আসেম থেকে। অতঃপর যখন আবদাহ এলেন, তখন আমরা এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য তাঁর নিকট গেলাম। তিনি বললেন: «আসেমই আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন এবং এই যে আসেম উপস্থিত আছেন»। তখন আমরা আসেমের নিকট গেলাম এবং তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি আমাদের নিকট হাদীসটি এভাবেই বর্ণনা করলেন। এরপর আমি তাঁর নিকট থেকে এটি শুনেছি; কখনও তিনি এটি উমর (রা.)-এর সূত্রে স্থগিত রাখতেন এবং তাতে তাঁর পিতার উল্লেখ করতেন না, তবে অধিকাংশ সময় তিনি এটি আব্দুল্লাহ ইবনে আমির থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর (রা.) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করতেন। সুফিয়ান বলেন: কখনও কখনও আমরা ‘তারা উভয়ে আয়ু বৃদ্ধি করে’—এই বাক্যটি বলা থেকে বিরত থাকতাম এবং এই ভয়ে তা বর্ণনা করতাম না যে, পাছে তারা—অর্থাৎ কাদারিয়া সম্প্রদায়—এটিকে দলীল হিসেবে পেশ করে, অথচ এতে তাদের জন্য কোনো দলীল নেই।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫৬)
18 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ، ثنا عَبْدَةُ بْنُ أَبِي لُبَابَةَ حَفِظْنَاهُ مِنْهُ غَيْرَ مَرَّةٍ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ شَقِيقَ بْنَ سَلَمَةَ يَقُولُ كَثِيرًا مَا يَقُولُ: ذَهَبْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ إِلَى الصُّبَيِّ بْنِ مَعْبَدٍ نَسْتَذْكِرُهُ هَذَا الْحَدِيثَ فَقَالَ الصُّبَيُّ: كُنْتُ رَجُلًا نَصْرَانِيًّا فَأَسْلَمْتُ فَخَرَجْتُ أُرِيدُ الْحَجَّ فَلَمَّا كُنْتُ بِالْقَادِسِيَّةِ أَهْلَلْتُ بِالْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ جَمِيعًا، فَسَمِعَنِي سَلْمَانُ بْنُ رَبِيعَةَ وَزَيْدُ بْنُ صُوحَانَ فَقَالَا: لَهَذَا أَضَلُّ مِنْ بَعِيرِ أَهْلِهِ، فَكَأَنَّمَا حُمِلَ عَلَيَّ بِكَلِمَتِهِمَا جَبَلٌ، فَلَقِيتُ عُمَرَ ⦗ص: 157⦘ بْنَ الْخَطَّابِ فَأَخْبَرْتُهُ فَأَقْبَلَ عَلَيْهِمَا فَلَامَهُمَا ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيَّ فَقَالَ: «هُدِيتَ لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ هُدِيتَ لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ» فَقَالَ سُفْيَانُ: يَعْنِي أَنَّهُ قَدْ جَمَعَ بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَجَازَهُ وَلَيْسَ أَنَّهُ فَعَلَهُ هُوَ
১৮ - আল-হুমায়দী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদাহ ইবন আবি লুবাবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—যা আমরা তাঁর কাছ থেকে একাধিকবার মুখস্থ করেছি—তিনি বলেন: আমি আবু ওয়ায়েল শাকিক ইবন সালামাহকে প্রায়শই বলতে শুনেছি যে: আমি এবং মাসরূক সুবাই ইবন মা'বাদের নিকট এই হাদীসটি স্মরণ করার জন্য গেলাম। তখন সুবাই বললেন: আমি একজন খ্রিষ্টান ব্যক্তি ছিলাম, অতঃপর আমি ইসলাম গ্রহণ করি। এরপর আমি হজ্জের সংকল্প নিয়ে বের হই। যখন আমি কাদিসিয়া পৌঁছালাম, তখন হজ্জ ও উমরাহ—উভয়ের জন্য একত্রে ইহরাম পরিধান করলাম। সালমান ইবন রাবিয়া এবং যায়েদ ইবন সূহান আমাকে (তা বলতে) শুনলেন। তাঁরা বললেন: এই ব্যক্তি তার পরিবারের হারিয়ে যাওয়া উটের চেয়েও বেশি বিভ্রান্ত। তাঁদের এই কথায় আমার কাছে মনে হলো যেন আমার ওপর একটি পাহাড় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর আমি উমর ⦗পৃষ্ঠা: ১৫৭⦘ ইবনুল খাত্তাবের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তিনি তাঁদের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁদের তিরস্কার করলেন। অতঃপর আমার দিকে ফিরে বললেন: «তোমাকে তোমার নবীর সুন্নাহর দিকে পরিচালিত করা হয়েছে, তোমাকে তোমার নবীর সুন্নাহর দিকে পরিচালিত করা হয়েছে»। সুফিয়ান বলেন: এর অর্থ হলো, তিনি (উমর) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হজ্জ ও উমরাহ একত্রে পালন করেছিলেন এবং তিনি তা বৈধ করেছেন; এর অর্থ এই নয় যে তিনি (উমর সেই মুহূর্তে) নিজে তা পালন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫৭)
19 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، وَبِشْرُ بْنُ بَكْرٍ قَالَا: ثنا الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ: ثني يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، ثني عِكْرِمَةُ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ وَهُوَ بِوَادِي الْعَقِيقِ: " أَتَانِي اللَّيْلَةَ آتٍ مِنْ رَبِّي، فَقَالَ: صَلِّ فِي هَذَا الْوَادِي الْمُبَارَكِ وَقُلْ عُمْرَةٌ فِي حِجَّةٍ "
১৯ - আল-হুমাইদী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম এবং বিশর ইবনে বকর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আল-আওযায়ী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আকীক উপত্যকায় থাকা অবস্থায় বলতে শুনেছি: "আজ রাতে আমার রবের পক্ষ থেকে একজন আগন্তুক আমার কাছে এসেছেন এবং বললেন: এই বরকতময় উপত্যকায় সালাত আদায় করুন এবং বলুন, হজের সাথে উমরাহ।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫৮)
20 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ، ثنا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، سَمِعْتُ عَاصِمَ بْنَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أَقْبَلَ اللَّيْلُ مِنْ هَاهُنَا، وَأَدْبَرَ النَّهَارُ مِنْ هَاهُنَا، وَغَابَتِ الشَّمْسُ فَقَدْ أَفْطَرَ الصَّائِمُ»
২০ - আল-হুমাইদী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে উরওয়া আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আমি আসিম ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাবকে তাঁর পিতা থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন এদিক থেকে রাত ঘনিয়ে আসে এবং ওদিক থেকে দিন চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায়, তখন রোযাদার ইফতার করল।”
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫৮)
21 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ، عَنْ مَعْمَرٍ وَغَيْرِهِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ حُوَيْطِبِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى، عَنِ ابْنِ السَّعْدِيِّ، أَنَّهُ قَدِمَ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ مِنَ الشَّامِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ تَلِي أَعْمَالًا مِنْ أَعْمَالِ الْمُسْلِمِينَ فَتُعْطَى عُمَالَتَكَ فَلَا تَقْبَلُ، فَقُلْتُ: أَجَلْ إِنَّ لِي أَفْرَاسًا أَوْ لِي أَعْبُدًا وَأَنَا بِخَيْرٍ، وَأُرِيدُ أَنْ يَكُونَ عَمَلِي صَدَقَةً عَلَى الْمُسْلِمِينَ، فَقَالَ عُمَرُ: فَلَا تَفْعَلْ فَإِنِّي قَدْ أَرَدْتُ مِثْلَ الَّذِي أَرَدْتَ وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُعْطِينِي الْعَطَاءَ فَأَقُولُ: أَعْطِهِ مَنْ هُوَ أَحْوَجُ مِنِّي، وَإِنَّهُ أَعْطَانِي مَرَّةً مَالًا فَقُلْتُ: أَعْطِهِ مَنْ هُوَ أَحْوَجُ إِلَيْهِ مِنِّي فَقَالَ: «يَا عُمَرُ مَا أَتَاكَ اللَّهُ بِهِ مِنْ هَذَا الْمَالِ عَنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ وَلَا إِشْرَافِ نَفْسٍ فَخُذْهُ، فَتَمَوَّلْهُ وَتَصَدَّقْ بِهِ، وَمَا لَا فَلَا تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ»
21 - হুমাইদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মা’মার ও অন্যান্যদের থেকে, তাঁরা যুহরী থেকে, তিনি সায়িব ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি হুওয়াইতিব ইবনে আবদিল উযযা থেকে, তিনি ইবনে আস-সা’দী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি শাম থেকে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট আসলেন। উমর তাঁকে বললেন: আমাকে কি জানানো হয়নি যে, তুমি মুসলিমদের সরকারি কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব পালন করছ, কিন্তু তোমাকে যখন এর পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, তখন তুমি তা গ্রহণ করো না? আমি বললাম: হ্যাঁ, আমার অনেক ঘোড়া ও গোলাম রয়েছে এবং আমি সচ্ছল অবস্থায় আছি; তাই আমি চাই আমার কাজটুকু মুসলিমদের জন্য সদকাহ হিসেবে গণ্য হোক। উমর বললেন: এমনটি করো না। কারণ আমিও তোমার মতো ইচ্ছা করেছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে কিছু দান করতেন, তখন আমি বলতাম: এটি তাকে দিন যে আমার চেয়ে বেশি অভাবী। একদা তিনি আমাকে কিছু সম্পদ দিলেন, তখন আমি বললাম: এটি তাকে দিন যে আমার চেয়ে এর বেশি মুখাপেক্ষী। তখন তিনি (সা.) বললেন: "হে উমর! আল্লাহ এই সম্পদের মধ্য থেকে যা তোমার কাছে কোনো যাচ্ঞা বা লালসা ছাড়াই পৌঁছান, তা তুমি গ্রহণ করো এবং নিজের মালিকানাধীন করো; অতঃপর তা নিজে ভোগ করো অথবা সদকাহ করে দাও। আর যা এরূপে তোমার নিকট আসে না, সেটির পেছনে নিজের প্রাণকে ছুটিয়ে দিও না।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫৯)
22 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ، ثنا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، وَمَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ سَمِعَ مَالِكَ بْنَ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ يَقُولُ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ: «إِنَّ أَمْوَالَ بَنِي النَّضِيرِ كَانَتْ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِمَّا لَمْ يُوجِفِ الْمُسْلِمُونَ عَلَيْهِ بِخَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ» فَكَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَالِصَةً، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ مِنْهُ نَفَقَةَ سَنَةٍ وَمَا بَقِي جَعَلَهُ فِي الْكُرَاعِ وَالسِّلَاحِ عُدَّةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ " قَالَ أَبُو بَكْرٍ: وَكَانَ سُفْيَانُ إِنَّمَا قَالَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ: يَحْبِسُ مِنْهُ نَفَقَةَ سَنَةٍ
২২ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হুমায়দী, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে দীনার এবং মা'মার, তাঁরা ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মালিক ইবনে আওস ইবনুল হাদাসানকে বলতে শুনেছেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি: “নিশ্চয়ই বনু নাদীরের সম্পদসমূহ ছিল সেই মালের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ তাঁর রাসূলকে প্রদান করেছিলেন এবং যার জন্য মুসলিমরা ঘোড়া বা উট চালিয়ে যুদ্ধ করেনি।” তাই এটি বিশেষভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে তাঁর পরিবারের জন্য এক বছরের খরচ নির্বাহ করতেন এবং যা অবশিষ্ট থাকত তা আল্লাহর পথে সমরাস্ত্র ও যুদ্ধের ঘোড়া হিসেবে সরঞ্জামাদির জন্য ব্যয় করতেন। আবু বকর বলেন: সুফিয়ান এই হাদীসে বলেছিলেন: “তিনি তা থেকে এক বছরের ভরণপোষণ জমা রাখতেন।”
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৫৯)
23 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ، ثنا أَيُّوبُ السِّخْتِيَانِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي الْعَجْفَاءِ السُّلَمِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ: " أَلَا لَا تُغْلُوا صُدُقَ النِّسَاءِ فَإِنَّهَا لَوْ كَانَتْ مَكْرُمَةً فِي الدُّنْيَا، أَوْ تَقْوًى عِنْدَ اللَّهِ كَانَ أَوْلَاكُمْ أَوْ أَحَقُّكُمْ بِهَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، مَا عَلِمْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِ، وَلَا أَنْكَحَ ابْنَةً مِنْ بَنَاتِهِ عَلَى أَكْثَرَ مِنْ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً، وَإِنَّ أَحَدَكُمُ الْيَوْمَ لَيُغْلِي بِصَدَقَةِ الْمَرْأَةِ حَتَّى تَكُونَ لَهَا عَدَاوَةً فِي نَفْسِهِ يَقُولُ: كَلِفْتُ إِلَيْكِ عَلَقَ الْقِرْبَةِ ⦗ص: 160⦘ قَالَ: وَكُنْتُ غُلَامًا شَابَّا فَلَمْ أَدْرِ مَا عَلَقُ الْقِرْبَةِ "
23 - আল-হুমাইদী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সুফিয়ান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আইয়ুব আস-সিখতিয়ানী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন থেকে, তিনি আবু আল-আজফা আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি: "সাবধান! তোমরা নারীদের মোহরানার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করো না। কারণ যদি এটি পার্থিব সম্মান বা আল্লাহর নিকট তাকওয়ার বিষয় হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে অগ্রগণ্য বা অধিক হকদার হতেন। আমার জানামতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোনো স্ত্রীকে বিবাহ করেননি এবং তাঁর কোনো কন্যাকেও বারো উকিয়ার অধিক মোহরানায় বিবাহ দেননি। অথচ আজ তোমাদের কেউ কেউ নারীর মোহরানা এতটা বাড়িয়ে দেয় যে, তার মনে ঐ নারীর প্রতি শত্রুতা সৃষ্টি হয় এবং সে বলে: 'তোমার জন্য আমি মশক ঝুলানোর ন্যায় ভারী বোঝা বহন করেছি' ⦗পৃষ্ঠা: ১৬০⦘ তিনি বলেন: আমি তখন একজন যুবক কিশোর ছিলাম, ফলে 'মশক ঝুলানোর কষ্ট' বলতে কী বোঝায় তা আমি বুঝতে পারিনি।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৬০)
23 - قَالَ: وَأُخْرَى تَقُولُونَهَا لِبَعْضِ مَنْ يُقْتَلُ فِي مَغَازِيكُمْ هَذِهِ قُتِلَ فُلَانٌ شَهِيدًا، أَوْ مَاتَ فُلَانٌ شَهِيدًا، وَلَعَلَّهُ أَنْ يَكُونَ قَدْ أَوْقَرَ دُفَّ رَاحِلَتِهِ أَوْ عَجُزَهَا ذَهَبًا، وَقَامَ يَلْتَمِسُ التِّجَارَةَ فَلَا تَقُولُوا ذَاكُمْ، وَلَكِنْ قُولُوا كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَوْ كَمَا قَالَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ فِي الْجَنَّةِ» قَالَ سُفْيَانُ: كَانَ أَيُّوبُ أَبَدًا يَشُكُّ فِيهِ هَكَذَا أَوْ قَالَ سُفْيَانُ: فَإِنْ كَانَ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَ بِهِ هَكَذَا وَإِلَّا فَلَمْ يَحْفَظْ
২৩ - তিনি বললেন: তোমরা তোমাদের এই যুদ্ধাভিযানগুলোতে নিহত হওয়া কোনো কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে আরও একটি কথা বলে থাকো যে, ‘অমুক ব্যক্তি শহীদ হয়ে নিহত হয়েছে’ অথবা ‘অমুক ব্যক্তি শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে’। অথচ হতে পারে যে, সে তার সওয়ারির সামনের অংশ অথবা তার পেছনের অংশ স্বর্ণ দিয়ে পূর্ণ করেছিল এবং সে ব্যবসার অন্বেষণে লিপ্ত ছিল। সুতরাং তোমরা ওকথা বলো না; বরং তোমরা সেভাবেই বলো যেভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অথবা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেভাবে বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, সে জান্নাতে রয়েছে»। সুফিয়ান বলেন: আইয়ুব সর্বদা এ বিষয়ে এভাবেই সংশয় প্রকাশ করতেন। অথবা সুফিয়ান বলেন: যদি হাম্মাদ ইবনে যাইদ এটি এভাবেই বর্ণনা করে থাকেন (তবে ঠিক আছে), অন্যথায় তিনি এটি যথাযথভাবে মুখস্থ রাখতে পারেননি।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল হুমায়দী
(পৃষ্ঠা: ১৬০)
24 - حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ، ثني عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي يَزِيدَ، أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ: أَرْسَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِلَى شَيْخٍ مِنْ بَنِي زُهْرَةَ مِنْ أَهْلِ دَارِنَا قَدْ أَدْرَكَ الْجَاهِلِيَّةَ فَجِئْتُ مَعَ الشَّيْخِ إِلَى عُمَرَ وَهُوَ فِي الْحِجْرِ، فَسَأَلَهُ عُمَرُ عَنْ وِلَادٍ مِنْ وِلَادِ الْجَاهِلِيَّةِ، فَقَالَ الشَّيْخُ: أَمَّا النُّطْفَةُ فَمِنْ فُلَانٍ، وَأَمَّا الْوَلَدُ فَعَلَى فِرَاشِ فُلَانٍ، فَقَالَ عُمَرُ صَدَقْتَ «وَلَكِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى بَالْفِرَاشِ» فَلَمَّا وَلَّى الشَّيْخُ دَعَاهُ عُمَرُ فَقَالَ " أَخْبِرْنِي عِنْ بِنَاءِ الْكَعْبَةِ فَقَالَ إِنَّ قُرَيْشًا تَقَرَّبَتْ لِبِنَاءِ الْكَعْبَةِ فَعَجَزُوا وَاسْتَقْصَرُوا فَتَرَكُوا بَعْضًا فِي الْحِجْرِ فَقَالَ عُمَرُ: صَدَقْتَ "
২৪ - হুমাইদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন উবায়দুল্লাহ ইবনে আবি ইয়াজিদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব বনু জুহরা গোত্রের আমাদের মহল্লার এমন একজন বৃদ্ধের নিকট লোক পাঠালেন যিনি জাহেলিয়াতের যুগ পেয়েছিলেন। আমি সেই বৃদ্ধের সাথে উমরের নিকট আসলাম, তখন তিনি হিজরে (হাতীমে কা’বা) অবস্থান করছিলেন। উমর তাকে জাহেলি যুগের একটি জন্ম সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। বৃদ্ধটি বললেন: বীর্য তো অমুকের ছিল, আর সন্তানটি অমুকের শয্যায় (জাত)। তখন উমর বললেন: আপনি সত্য বলেছেন, “তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শয্যার (মালিকের) অনুকূলে ফয়সালা দিয়েছেন।” যখন বৃদ্ধটি প্রস্থান করছিলেন তখন উমর তাকে ডেকে বললেন: “আমাকে কা’বা নির্মাণ সম্পর্কে অবহিত করুন।” তিনি বললেন: কুরাইশরা কা’বা নির্মাণের মাধ্যমে নৈকট্য লাভের সংকল্প করেছিল, কিন্তু তারা (পূর্ণাঙ্গ নির্মাণে) অক্ষম হয় এবং সামর্থ্যের স্বল্পতার কারণে কিছু অংশ হিজরের মধ্যে ছেড়ে দেয়। উমর বললেন: “আপনি সত্য বলেছেন।”