(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الناسخ والمنسوخ - قتادة القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: الناسخ والمنسوخ
المؤلف: قتادة بن دعامة بن قتادة بن عزيز، أبو الخطاب السدوسي البصري (ت 117 هـ)
المحقق: حاتم صالح الضامن [ت 1434 هـ]
الناشر: مؤسسة الرسالة
الطبعة: الثالثة، 1418 هـ - 1998 م
عدد الصفحات: 65
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) - কাতাদাহ বিভাগ: উলুমুল কুরআন (علوم القرآن) ও উসুলুত তাফসির (أصول التفسير)
গ্রন্থ: রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ)
লেখক: কাতাদাহ বিন দিয়ামাহ বিন কাতাদাহ বিন আযীয, আবু আল-খাত্তাব আস-সাদূসী আল-বাসরী (মৃত্যু ১১৭ হিজরি)
মুহাক্কিক (المحقق): হাতিম সালিহ আদ-দামেন [মৃত্যু ১৪৩৪ হিজরি]
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৫
[বইয়ের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةهذا كتاب في الناسخ والمنسوخ، وهو واحد من خمسة كتب اعددناها للنشر بمناسبة حلول القرن الخامس عشر الهجرى.
وقد روى هذا الكتاب عن قتادة بن دعامة السدوسى، وهو أقدم كتاب وصل الينا عن الناسخ والمنسوخ.
ولا بد لنا قبل الحديث عن المؤلف والكتاب أن نذكر فصولا تكون كالمقدمة لهذا الكتاب لانه خلا منها، وتشمل هذه المقدمة:
أولا: معنى النسخ (في اللغة والاصطلاح) :
يأتى النسخ في كلام العرب على ثلاثة أوجه: الاول أن يكون مأخوذا من قول العرب: نسخت الكتاب، اذا نقلت
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাএটি নাসিখ (ناسخ) এবং মানসুখ (منسوخ) বিষয়ক একটি গ্রন্থ, এবং হিজরি পঞ্চদশ শতাব্দীর আগমন উপলক্ষে আমরা প্রকাশের জন্য যে পাঁচটি গ্রন্থ প্রস্তুত করেছি, এটি সেগুলোর একটি।
এই গ্রন্থটি কাতাদা ইবনে দিয়ামা আস-সাদুসি থেকে বর্ণিত (روى) হয়েছে। নাসিখ (ناسخ) ও মানসুখ (منسوخ) বিষয়ে আমাদের নিকট পৌঁছানো এটিই প্রাচীনতম গ্রন্থ।
গ্রন্থকার এবং গ্রন্থটি সম্পর্কে আলোচনার পূর্বে আমাদের এমন কিছু পরিচ্ছেদ উল্লেখ করা প্রয়োজন যা এই গ্রন্থের ভূমিকা স্বরূপ হবে; কারণ মূল গ্রন্থটি এ থেকে শূন্য ছিল। এই ভূমিকাটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথমত: নসখ (النسخ) এর অর্থ (আভিধানিক ও পারিভাষিক):
আরবি ভাষায় নসখ (النسخ) শব্দটি তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: প্রথমটি আরবদের কথা "আমি কিতাবটি প্রতিলিপি করেছি (نسخت الكتاب)" থেকে গৃহীত, যখন কোনো কিছু স্থানান্তর করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ما فيه الى كتاب آخر، فهذا لم يغير المنسوخ منه انما صار نظيرا له، أى نسخة ثانية منه.
وهذا النسخ لا يدخل في النسخ الذى هو موضوع بحثنا.
والثانى أن يكون مأخوذا من قول العرب: نسخت الشمس الظل، اذا أزالته وحلت محله، وهذا المعنى هو الذى يدخل في موضوع ناسخ القرآن ومنسوخه.
والثالث أن يكون ماخوذا من قول العرب: نسخت الريح الاثار، اذا أزالتها فلم يبق منها عوض ولا حلت الريح محل الاثار.
هذا هو معنى السنخ في اللغة.
أما النسخ في الاصطلاح فهو رفع الحكم الشرعى بدليل شرعى متأخر.
فالحكم المرفوع بسمى (المنسوخ) ، والدليل الرافع يسمى (الناسخ) ويسمى الرفع (النسخ) .
فعملية النسخ على هذا تقتضى منسوخا وهو الحكم الذى كان مقررا سابقا، وتقتضى ناسخا، وهو الدليل اللاحق (1) .
ثانيا: أين يقع النسخ؟:
لا يقع النسخ الا في الامر والنهى ولو بلفظ الخبر، أما الخبر الذى ليس بمعنى الطلب فلا يدخله النسخ ومنه الوعد والوعيد.
--------------------------------------------
যা তাতে আছে অন্য একটি কিতাব পর্যন্ত; এটি তার রহিত (منسوخ) অংশকে পরিবর্তন করেনি, বরং তা সেটির প্রতিরূপ হয়েছে, অর্থাৎ সেটির দ্বিতীয় একটি কপি।
আর এই রহিতকরণ (النسخ) আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু এমন রহিতকরণের (النسخ) অন্তর্ভুক্ত নয়।
দ্বিতীয়ত, এটি আরবদের এই উক্তি থেকে গৃহীত: "সূর্য ছায়াকে রহিত (نسخت) করেছে", যখন এটি তাকে অপসারিত করে এবং তার স্থলাভিষিক্ত হয়। আর এই অর্থটিই কুরআনের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।
তৃতীয়ত, এটি আরবদের এই উক্তি থেকে গৃহীত: "বাতাস চিহ্নসমূহকে রহিত (نسخت) করেছে", যখন এটি তাকে অপসারিত করে এবং তার কোনো বিনিময় অবশিষ্ট থাকে না এবং বাতাস চিহ্নসমূহের স্থলাভিষিক্ত হয় না।
এটিই হলো আভিধানিক অর্থে নসখ (النسخ) এর অর্থ।
আর পারিভাষিক অর্থে রহিতকরণ (النسخ) হলো পরবর্তী কোনো শরয়ি দলিল দ্বারা শরয়ি বিধানকে রহিত করা।
সুতরাং অপসারিত বিধানটিকে রহিত (المنسوخ) বলা হয়, অপসারণকারী দলিলটিকে রহিতকারী (الناسخ) বলা হয় এবং অপসারণ প্রক্রিয়াটিকে রহিতকরণ (النسخ) বলা হয়।
এই অনুযায়ী রহিতকরণ (النسخ) প্রক্রিয়ার জন্য একটি রহিত (منسوخ) বিধান প্রয়োজন, যা পূর্বে নির্ধারিত ছিল; এবং একটি রহিতকারী (ناسخ) প্রয়োজন, যা হলো পরবর্তী দলিল (১)।
দ্বিতীয়ত: রহিতকরণ (النسخ) কোথায় সংঘটিত হয়?:
আদেশ ও নিষেধ ব্যতিরেকে রহিতকরণ (النسخ) সংঘটিত হয় না, এমনকি তা যদি সংবাদ বা বিবৃতির শব্দে হয় তবুও। আর যে সংবাদ বা বিবৃতি তলব বা দাবির অর্থে ব্যবহৃত হয় না, তাতে রহিতকরণ (النسخ) প্রবেশ করে না, যার অন্তর্ভুক্ত হলো পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি এবং শাস্তির ধমকি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وأجاز بعضهم وقوع النسخ في الخبر المحض، وسمى الاستثناء والتخصيص نسخا، والفقهاء على خلافه (2) .
ثالثا: الفرق بين النسخ والبداء: البداء (بفتح الباء) (3) في اللغة: الظهور بعد الخفاء، يقال: بدا لى بداء، أى ظهر لى آخر، وبدا له في الامر بداء، أى نشأ له فيه رأى، ويقال: بدا لى بداء، أى تغير رأيى على ما كان عليه.
فالبداء استصواب شئ علم بعد أن لم يعلم، وذلك على الله عز وجل غير جائز.
فمعنى البداء اذن في اللغة والاصطلاح هو: أن يستصوب المرء رأيا ثم
ينشأ له رأى جديد لم يكن معلوما له.
فالنسخ غير البداء لان الاول ليس فيه تغيير لعلم الله تعالى، والثانى يفترض وقوع هذا التغيير.
والبداء يستلزم سبق الجهل وحدوث العلم، وكلاهما محال على الله عزوجل، لانه عالم بكل شئ ومحيط به: ما كان، وما هو كائن، وما سيكون.
والنسخ جائز عقلا، وواقع فعلا في القرآن الكريم (4) .
--------------------------------------------
তাদের কেউ কেউ নিছক সংবাদের ক্ষেত্রেও রহিতকরণ (نسخ) সংঘটিত হওয়া জায়েজ গণ্য করেছেন এবং তারা ব্যতিক্রম (استثناء) ও নির্দিষ্টকরণকে (تخصيص) রহিতকরণ (نسخ) নামে অভিহিত করেছেন। তবে ফকিহগণ (فقهاء) এর ভিন্ন মত পোষণ করেন (২)।
তৃতীয়ত: রহিতকরণ (نسخ) ও বদা-এর (بداء) মধ্যে পার্থক্য: বদা (بداء) ('বা' বর্ণে ফাতহা বা জবর যোগে) (৩) আভিধানিক অর্থে: অস্পষ্ট থাকার পর প্রকাশ পাওয়া। বলা হয়ে থাকে: 'বাদা লি বাদাউন', অর্থাৎ আমার নিকট বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। আরও বলা হয়: 'বাদা লাহু ফিল আমরি বাদাউন', অর্থাৎ কোনো বিষয়ে তার নতুন চিন্তার উদয় হয়েছে। আরও বলা হয়: 'বাদা লি বাদাউন', অর্থাৎ আমার পূর্ববর্তী মতের পরিবর্তন ঘটেছে।
সুতরাং 'বদা' হলো অজ্ঞাত থাকার পর কোনো কিছুকে সঠিক বলে জ্ঞান করা, যা মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে জায়েজ নয়।
অতএব, আভিধানিক ও পরিভাষা (اصطلاح) অনুযায়ী 'বদা'-এর অর্থ হলো: কোনো ব্যক্তি একটি মতকে সঠিক মনে করা এবং অতঃপর তার নিকট এমন নতুন কোনো মতের উদয় হওয়া যা আগে তার জানা ছিল না।
তাই রহিতকরণ (نسخ) এবং বদা (بداء) এক নয়। কারণ প্রথমটিতে আল্লাহ তাআলার জ্ঞানে কোনো পরিবর্তন হয় না, কিন্তু দ্বিতীয়টিতে এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা ধরে নেওয়া হয়।
আর বদা (بداء) পূর্ববর্তী অজ্ঞতা এবং নতুন জ্ঞান লাভের উদয় হওয়াকে আবশ্যক করে; আর এ উভয় বিষয়ই মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে অসম্ভব। কেননা তিনি সর্বজ্ঞ এবং সবকিছু তাঁর জ্ঞানের পরিবেষ্টনে রয়েছে: যা ছিল, যা আছে এবং যা কিছু হবে।
আর রহিতকরণ (نسخ) যুক্তির বিচারে জায়েজ এবং পবিত্র কুরআনে তা বাস্তবে সংঘটিত হয়েছে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
رابعا: الفرق بين النسخ والتخصيص: هناك تشابه بين النسخ والتخصيص، فالنسخ يفيد تخصيص الحكم ببعض الازمان، لذا سمى بعض العلماء النسخ تخصيصا، وأدخل بعضهم صورا من التخصيص في باب النسخ، ومن هنا جاء الخلاف في عدد المنسوخ.
أما الفرق بينهما: فالنسخ لايقع في الاخبار، والتخصيص يكون في الاخبار وغيرها.
فالنسخ مقصور على الكتاب والسنة، أما التخصيص
فيكون بهما وبغيرهما كالحس والعقل.
وتراعى في التخصيص قرينة سابقة أو لاحقة أو مقارنة، أما النسخ فلا يقع الا بدليل متراخ عن المنسوخ (5) .
خامسا: فضل هذا العلم: اعتنى السلف الصالح بهذا العلم وقالوا: لا يجوز لاحد أن يفسر كتاب الله تعالى، الا بعد أن يعرف منه الناسخ والمنسوخ.
وقالوا أيضا: ان كل من يتكلم في شئ من علم هذا الكتاب العزيز ولم يعلم الناسخ والمنسوخ كان ناقصا (6) .
وروى عن على بن ابى طالب (رض) أنه دخل يوما مسجد الجامع
--------------------------------------------
চতুর্থত: রহিতকরণ (النسخ) এবং বিশেষিতকরণ (التخصيص)-এর মধ্যে পার্থক্য: রহিতকরণ (النسخ) এবং বিশেষিতকরণ (التخصيص)-এর মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান। মূলত রহিতকরণ (النسخ) কোনো বিধানকে নির্দিষ্ট সময়ের সাথে বিশেষিত করার অর্থ প্রদান করে। এই কারণে কোনো কোনো আলেম রহিতকরণ (النسخ)-কে বিশেষিতকরণ (التخصيص) হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং কেউ কেউ বিশেষিতকরণ (التخصيص)-এর কিছু প্রকারকে রহিতকরণ (النسخ)-এর অধ্যায়ভুক্ত করেছেন। এখান থেকেই মানসুখ (রহিত) (المنسوخ) বিষয়ের সংখ্যা নিয়ে মতপার্থক্যের সূত্রপাত হয়েছে।
আর এই দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্য হলো: রহিতকরণ (النسخ) সংবাদ বা তথ্যের (الاخبار) ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না, কিন্তু বিশেষিতকরণ (التخصيص) সংবাদ (الاخبار) ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে।
রহিতকরণ (النسخ) কেবল কিতাব ও সুন্নাহর মধ্যে সীমাবদ্ধ, পক্ষান্তরে বিশেষিতকরণ (التخصيص)
এই দুটি ছাড়াও অন্যান্য মাধ্যম যেমন সংবেদন (الحس) ও বুদ্ধি (العقل) দ্বারাও সম্পন্ন হতে পারে।
বিশেষিতকরণ (التخصيص)-এর ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী, পরবর্তী বা সমসাময়িক কোনো লক্ষণ বা অনুষঙ্গ (قرينة) বিবেচনা করা হয়। কিন্তু রহিতকরণ (النسخ) কেবল মানসুখ (রহিত) (المنسوخ)-এর তুলনায় বিলম্বে আগত কোনো দলিল (دليل) ছাড়া সংঘটিত হয় না (৫)।
পঞ্চমত: এই শাস্ত্রের মর্যাদা: সালাফে সালেহীন এই শাস্ত্রের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন: আল্লাহর কিতাবের তাফসির করা কারো জন্য বৈধ নয়, যতক্ষণ না সে নাসিখ (রহিতকারী) (الناسخ) এবং মানসুখ (রহিত) (المنسوখ) সম্পর্কে অবগত হয়।
তাঁরা আরও বলেছেন: যে ব্যক্তিই এই মহান কিতাবের কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করে অথচ নাসিখ (রহিতকারী) (الناسخ) ও মানসুখ (রহিত) (المنسوখ) সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না, সে অপূর্ণাঙ্গ (৬)।
আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি একদিন জামে মসজিদে প্রবেশ করলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بالكوفة فرأى فيه رجلا يعرف بعبد الرحمن بن دأب، وكان صاحبا لابى موسى الاشعرى، وقد تحلق عليه الناس يسالونه، وهو يخلط الامر بالنهى والاباحة بالحظر، فقال له على (رض) : أتعرف الناسخ والمنسوخ؟ قال: لا، قال هلكت وأهلكت (7) .
من هذا تتضح لنا مكانة هذا العلم وحاجة العلماء اليه.
--------------------------------------------
কুফায় তিনি আব্দুর রহমান বিন দাব নামক এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন, যিনি আবু মুসা আল-আশআরীর একজন সঙ্গী ছিলেন। লোকজন তাকে ঘিরে ভিড় জমিয়েছিল এবং তাকে নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছিল; এমতাবস্থায় তিনি আদেশকে নিষেধের সাথে এবং বৈধতাকে অবৈধতার সাথে গুলিয়ে ফেলছিলেন। তখন আলী (রা.) তাকে বললেন: "তুমি কি রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوখ) সম্পর্কে অবগত আছো?" সে বলল: "না"। আলী (রা.) বললেন: "তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যকেও ধ্বংস করেছ (৭)।"
এ থেকে আমাদের নিকট এই শাস্ত্রের গুরুত্ব এবং এর প্রতি আলেমদের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
المصنفون في النسخ في القرآنلاقى موضوع النسخ نصيبا وافرا من الدراسة والتدوين عند القدماء، ونتبين هذامما أفرد لهذا العلم من مؤلفات، وقد أحصيت أسماء المؤلفين في هذا الباب وذكرتهم حسب ترتيبهم الزمنى، وهو أول احصاء شامل، وهم:
1 - عطاء بن مسلم، ت 115 هـ.
2 - قتادة بن دعامة، ت 117 هـ.
3 - ابن شهاب الزهرى، ت 124 هـ.
4 - محمد بن السائب الكلبى، ت 146 هـ.
5 - مقاتل بن سليمان، ت 150 هـ.
6 - الحسين بن واقد القرشى، ت 157 هـ.
7 - عبد الرحمن بن زيد بن أسلم، ت 182 هـ.
--------------------------------------------
কোরআনের রহিতকরণ (النسخ) বিষয়ক গ্রন্থকারগণপ্রাচীন পণ্ডিতদের নিকট রহিতকরণ (النسخ) বিষয়টি ব্যাপক অধ্যয়ন ও সংকলনের মর্যাদা লাভ করেছে। এই শাস্ত্রের জন্য উৎসর্গীকৃত স্বতন্ত্র গ্রন্থগুলো থেকে আমরা এটি স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারি। আমি এই অধ্যায়ে গ্রন্থকারদের নাম গণনা করেছি এবং তাঁদের কালানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী উল্লেখ করেছি, যা প্রথম পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান। তাঁরা হলেন:
1 - আতা ইবনে মুসলিম, মৃত্যু ১১৫ হিজরি।
2 - কাতাদাহ ইবনে দিয়ামাহ, মৃত্যু ১১৭ হিজরি।
3 - ইবনে শিহাব আল-জুহরি, মৃত্যু ১২৪ হিজরি।
4 - মুহাম্মদ ইবনে সাইব আল-কালবি, মৃত্যু ১৪৬ হিজরি।
5 - মুকাতিল ইবনে সুলাইমান, মৃত্যু ১৫০ হিজরি।
6 - আল-হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ আল-কুরাশি, মৃত্যু ১৫৭ হিজরি।
7 - আবদুর রহমান ইবনে যাইদ ইবনে আসলাম, মৃত্যু ১৮২ হিজরি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
8 - عبد الله بن عبد الرحمن الاصم المسمعى، من أصحاب الامام الصادق، القرن الثانى.
9 - اسماعيل بن زياد (أو ابن أبى زياد) السكونى القرن الثانى.
10 - درام بن قبيصة التميمى الدرامى، من أصحاب الامام الرضا.
11 - أحمد بن محمد بن عيسى القمى، من أصحاب الامام الرضا.
12 - حجاج بن محمد المصيصى الاعور، ت 205 هـ.
13 - عبد الوهاب بن عطاء العجلى، ت 206 هـ.
14 - الحسن بن على فضال، ت 224 هـ.
15 - أبو عبيد القاسم بن سلام، ت 224 هـ.
16 - جعفر بن مبشر الثقفى، ت 234 هـ.
17 - سريج بن يونس، ت 235 هـ.
18 - أحمد بن حنبل، ت 241 هـ.
--------------------------------------------
8 - আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-আসাম আল-মাসমায়ী, ইমাম সাদিক-এর সঙ্গী (أصحاب)-দের অন্তর্ভুক্ত, দ্বিতীয় শতাব্দী।
9 - ইসমাইল বিন যিয়াদ (অথবা ইবনে আবি যিয়াদ) আস-সুকুনি, দ্বিতীয় শতাব্দী।
10 - দরাম বিন কাবিদাহ আল-তামিমি আদ-দরামি, ইমাম রিদা-এর সঙ্গী (أصحاب)-দের অন্তর্ভুক্ত।
11 - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা আল-কুম্মি, ইমাম রিদা-এর সঙ্গী (أصحاب)-দের অন্তর্ভুক্ত।
12 - হাজ্জাজ বিন মুহাম্মদ আল-মাসসিসি আল-আওয়ার, মৃত্যু (ت) ২০৫ হিজরি।
13 - আবদুল ওয়াহহাব বিন আতা আল-ইজলি, মৃত্যু (ت) ২০৬ হিজরি।
14 - আল-হাসান বিন আলী ফাদহাল, মৃত্যু (ت) ২২৪ হিজরি।
15 - আবু উবায়েদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম, মৃত্যু (ت) ২২৪ হিজরি।
16 - জাফর বিন মুবাশির আস-সাকাফি, মৃত্যু (ت) ২৩৪ হিজরি।
17 - সুরাইজ বিন ইউনুস, মৃত্যু (ت) ২৩৫ হিজরি।
18 - আহমদ বিন হাম্বল, মৃত্যু (ت) ২৪১ হিজরি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
19 - سليمان بن الاشعث السجستانى، ت 275 هـ.
20 - محمدبن اسماعيل الترمذى، ت 280 هـ.
21 - ابراهيم بن اسحاق الحربى، ت 285 هـ.
22 - ابراهيم بن عبد الله الكجى، ت 292 هـ.
23 - على بن ابراهيم بن هاشم القمى، القرن الثالث.
24 - سعد بن ابراهيم الاشعرى القمى، ت 301 هـ.
25 - الحسين بن منصور المشهور بالحلاج، ت 309 هـ.
26 - عبد الله بن سليمان الاشعث، ت 316 هـ.
27 - الزبير بن أحمد، ت 317 هـ.
28 - أبو عبد الله محمد بن حزم الاندلسى، ت 320 هـ.
29 - أبو مسلم محمد بن بحر الاصفهانى، ت 322 هـ.
30 - محمد بن عثمان بن مسبح المعروف بالجعد، ت 326 هـ.
31 - ابوبكر محمد بن القاسم الانبارى، ت 328 هـ.
--------------------------------------------
19 - সুলাইমান বিন আল-আশআস আল-সিজিস্তানি, মৃত্যু ২৭৫ হি.
20 - মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল-তিরমিজি, মৃত্যু ২৮০ হি.
21 - ইব্রাহিম বিন ইসহাক আল-হারবি, মৃত্যু ২৮৫ হি.
22 - ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-কাজ্জি, মৃত্যু ২৯২ হি.
23 - আলী বিন ইব্রাহিম বিন হাশিম আল-কুম্মি, তৃতীয় শতাব্দী।
24 - সা'দ বিন ইব্রাহিম আল-আশআরি আল-কুম্মি, মৃত্যু ৩০১ হি.
25 - আল-হুসাইন বিন মানসুর, যিনি আল-হাল্লাজ নামে প্রসিদ্ধ, মৃত্যু ৩০৯ হি.
26 - আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-আশআস, মৃত্যু ৩১৬ হি.
27 - আল-জুবাইর বিন আহমাদ, মৃত্যু ৩১৭ হি.
28 - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন হাজম আল-আন্দালুসি, মৃত্যু ৩২০ হি.
29 - আবু মুসলিম মুহাম্মাদ বিন বাহর আল-ইসফাহানি, মৃত্যু ৩২২ হি.
30 - মুহাম্মাদ বিন উসমান বিন মুসাব্বিহ, যিনি আল-জাদ নামে পরিচিত, মৃত্যু ৩২৬ হি.
31 - আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আল-কাসিম আল-আনবারি, মৃত্যু ৩২৮ হি.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
32 - أحمد بن جعفر البغدادى المعروف بابن المنادى، ت 334.
33 - أبو جعفر أحمدبن محمد النحاس، ت 338 هـ.
34 - محمد بن العباس المعروف بابن الحجام، القرن الرابع.
35 - الحسين بن على البصرى، ت 339 هـ.
36 - قاسم بن أصبغ، ت 340 هـ.
37 - أبو بكر البردعى، ت نحو 350 هـ.
38 - المنذر بن سعيد البلوطي، ت 355 هـ.
39 - أبو سعيد السيرافى النحوى، ت 368 هـ.
40 - أبو الحسين محمد بن محمد النيسابورى، ت 368 هـ.
41 - محمد بن على بن بابويه القمى المعروف بالصدوق، ت 381 هـ.
42 - أبو المطرف بن فطيس، ت 402 هـ.
--------------------------------------------
৩২ - আহমাদ বিন জাফর আল-বাগদাদি, ইবনুল মুনাদি নামে পরিচিত, মৃ. ৩৩৪।
৩৩ - আবু জাফর আহমাদ বিন মুহাম্মদ আন-নাহহাস, মৃ. ৩৩৮ হিজরি।
৩৪ - মুহাম্মদ বিন আব্বাস, ইবনুল হাজ্জাম নামে পরিচিত, চতুর্থ শতাব্দী।
৩৫ - আল-হুসাইন বিন আলী আল-বাসরি, মৃ. ৩৩৯ হিজরি।
৩৬ - কাসিম বিন আসবাগ, মৃ. ৩৪০ হিজরি।
৩৭ - আবু বকর আল-বারদায়ি, মৃ. প্রায় ৩৫০ হিজরি।
৩৮ - আল-মুনজির বিন সাঈদ আল-বালুতি, মৃ. ৩৫৫ হিজরি।
৩৯ - আবু সাঈদ আস-সিরাফি আন-নাহবি, মৃ. ৩৬৮ হিজরি।
৪০ - আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আন-নিশাবুরি, মৃ. ৩৬৮ হিজরি।
৪১ - মুহাম্মদ বিন আলী বিন বাবুওয়াহ আল-কুম্মি, সাদুক (الصدوق) নামে পরিচিত, মৃ. ৩৮১ হিজরি।
৪২ - আবু আল-মুতরিফ বিন ফুতাইস, মৃ. ৪০২ হিজরি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
43 - هبة الله بن سلامة الضرير، ت 410 هـ.
44 - عبد القاهر البغدادى، ت 429 هـ.
45 - مكى بن أبى طالب المغربى، ت 437 هـ.
46 - على بن أحمد بى حزم الظاهرى، ت 456 هـ.
47 - الواحدى، على بن أحمد، ت 468 هـ.
48 - سليمان بن خلف الباجى، ت 474 هـ.
49 - عبد الملك بن حبيب، ت 489 هـ.
50 - محمد بن بركات السعيدى المصرى، ت 520 هـ.
51 - أبو العباس الاشبيلى، ت 531 هـ.
52 - محمد بن عبد الله المعروف بابن العربى، ت 543 هـ.
53 - أبو الفرج عبد الرحمن بن الجوزى، ت 597 هـ.
--------------------------------------------
৪৩ - হিবাতুল্লাহ বিন সালামাহ আদ-দারির, ওফাত ৪১০ হিজরি।
৪৪ - আব্দুল কাহির আল-বাগদাদি, ওফাত ৪২৯ হিজরি।
৪৫ - মাক্কি বিন আবু তালিব আল-মাগরিবি, ওফাত ৪৩৭ হিজরি।
৪৬ - আলি বিন আহমাদ বিন হাজম আজ-জহিরি, ওফাত ৪৫৬ হিজরি।
৪৭ - আল-ওয়াহিদি, আলি বিন আহমাদ, ওফাত ৪৬৮ হিজরি।
৪৮ - সুলাইমান বিন খালাফ আল-বাজি, ওফাত ৪৭৪ হিজরি।
৪৯ - আব্দুল মালিক বিন হাবিব, ওফাত ৪৮৯ হিজরি।
৫০ - মুহাম্মাদ বিন বারাকাত আস-সাঈদি আল-মিসরি, ওফাত ৫২০ হিজরি।
৫১ - আবুল আব্বাস আল-ইশবিলি, ওফাত ৫৩১ হিজরি।
৫২ - মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ যিনি ইবনুল আরাবি নামে পরিচিত, ওফাত ৫৪৩ হিজরি।
৫৩ - আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান ইবনুল জাওজি, ওফাত ৫৯৭ হিজরি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
54 - على بن محمد المعروف بابن الحصار، ت 611 هـ.
54 أ - ابن الشواش، أبو عبد الله محمد بن أحمد، ت 619 هـ.
55 - هبة الله بن ابراهيم بن البارزى، ت 738 هـ.
56 - يحيى بن عبد الله الواسطى، ت 738 هـ.
57 - على بن شهاب الدين الهمذانى، ت 786 هـ.
58 - عبد الرحمن بن محمد العتائقى الحلى، ت 790 هـ.
59 - أحمد بن المتوج البحرانى، ت 836 هـ.
60 - أحمد بن اسماعيل الابشيطى، ت 883 هـ.
61 - جلال الدين السيوطى، ت 911 هـ.
62 - مرعى بن يوسف الكرمى، ت 1033 هـ.
--------------------------------------------
৫৪ - আলি বিন মুহাম্মদ, যিনি ইবনুল হাসসার নামে পরিচিত, মৃত্যু ৬১১ হিজরি।
৫৪ ক - ইবনুশ শাওওয়াশ, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ, মৃত্যু ৬১৯ হিজরি।
৫৫ - হিবাতুল্লাহ বিন ইবরাহিম আল-বারীজি, মৃত্যু ৭৩৮ হিজরি।
৫৬ - ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ আল-ওয়াসিতি, মৃত্যু ৭৩৮ হিজরি।
৫৭ - আলি বিন শিহাবুদ্দিন আল-হামাদানি, মৃত্যু ৭৮৬ হিজরি।
৫৮ - আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-আতাইকি আল-হিল্লি, মৃত্যু ৭৯০ হিজরি।
৫৯ - আহমদ বিন আল-মুতাওয়াজ আল-বাহরানি, মৃত্যু ৮৩৬ হিজরি।
৬০ - আহমদ বিন ইসমাইল আল-আবশিতি, মৃত্যু ৮৮৩ হিজরি।
৬১ - জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতি, মৃত্যু ৯১১ হিজরি।
৬২ - মারয়ি বিন ইউসুফ আল-কারমি, মৃত্যু ১০৩৩ হিজরি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
63 - عطية الله بن عطية الاجهورى، ت 1190 هـ.
وهناك مؤلفون آخرون لم أقف على سنة وفاة كل منهم بعد، وهم:
64 - الحارث بن عبد الرحمن.
65 - هشام بن على بن هشام.
66 - أبو اسماعيل الزبيدى.
67 - عيسى الجلودى.
68 - كمال الدين بن محمد العبادى الناصرى.
69 - المظفر بن الحسين بن خزيمة.
70 - أبو عبد الله محمد بن عبد الله الاسفرايينى.
71 - ومن المؤلفين من أنكر النسخ، ومن هؤلاء: أبو على محمد ابن أحمد بن الجنيد المتوفى سنة 381 هـ، له كتاب (الفسخ على من أجاز النسخ) .
* * * أما المحدثون فلعل أهم ما أفردوه في الناسخ والمنسوخ هو:
--------------------------------------------
63 - আতিয়াতুল্লাহ ইবনে আতিয়াহ আল-উজহুরি, ওফাত ১১৯০ হিজরি।
এবং আরও কিছু লেখক রয়েছেন যাদের প্রত্যেকের মৃত্যুর সাল আমি এখনও জানতে পারিনি, তাঁরা হলেন:
64 - আল-হারিস ইবনে আবদুর রহমান।
65 - হিশাম ইবনে আলি ইবনে হিশাম।
66 - আবু ইসমাইল আজ-জুবাইদি।
67 - ঈসা আল-জুলুদি।
68 - কামালুদ্দিন ইবনে মুহাম্মদ আল-আব্বাদি আন-নাসিরি।
69 - আল-মুজাফ্ফার ইবনে আল-হুসাইন ইবনে খুজাইমাহ।
70 - আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-ইসফারায়িনি।
71 - এবং লেখকদের মধ্যে এমন কেউও ছিলেন যারা রহিতকরণ (النسخ) অস্বীকার করেছেন। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন: আবু আলি মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল জুনাইদ, ওফাত ৩৮১ হিজরি। তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে (আল-ফাসখু আলা মান আজাযান নাসখ)।
* * * পক্ষান্তরে মুহাদ্দিসগণ রহিতকারী ও রহিত (الناسخ والمنسوخ) বিষয়ে সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা পৃথকভাবে রচনা করেছেন তা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
1 - النسخ في القرآن الكريم: د. مصطفى زيد.
2 - فتح المنان في نسخ القرآن: الشيخ على حسن العريض.
3 - نطرية النسخ في الشرائع السماوية: د. شعبان محمد اسماعيل.
4 - النسخ في الشريعة الاسلامية: عبد المتعال الجبرى.
وقد وهم بعض المحققين فأدرج كتب ناسخ الحديث ومنسوخه مع كتب ناسخ القرآن ومنسوخه ومن هؤلاء الاستاذ محمد أبوالفضل ابراهيم
فقد ذكر في البرهان 2 / 28 كتاب (أخبار أهل الرسوخ في الناسخ والمنسوخ) لابن الجوزى على أنه في الناسخ والمنسوخ في القرآن الكريم، والصواب أنه في المنسوخ من الحديث، وهو مطبوع.
ووهم الاستاذ مصطفى بعد الواحد في مقدمة تحقيقه لكتاب (الوفا في تاريخ المصطفى) اذا جعل كتاب (أخبار الرسوخ) أيضا ضمن علوم القرآن.
১ - পবিত্র কুরআনে রহিতকরণ (النسخ): ড. মোস্তফা যায়িদ।
২ - ফাতহুল মান্নান ফি নাসখিল কুরআন: শায়খ আলী হাসান আল-আরীজ।
৩ - আসমানী শরীয়তসমূহে রহিতকরণ (النسخ) তত্ত্ব: ড. শাবান মুহাম্মদ ইসমাইল।
৪ - ইসলামী শরীয়তে রহিতকরণ (النسخ): আবদুল মুতাল জিবরী।
কোনো কোনো গবেষক ভুলবশত হাদিসের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়ক গ্রন্থগুলোকে কুরআনের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়ক গ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছেন। উস্তাদ মুহাম্মদ আবুল ফজল ইব্রাহিম তাঁদের অন্যতম।
তিনি আল-বুরহান গ্রন্থের ২/২৮ পৃষ্ঠায় ইবনুল জাওযীর রচিত 'আখবারু আহলির রুসুখ ফিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ' কিতাবটিকে পবিত্র কুরআনের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়ক কিতাব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ সঠিক তথ্য হলো, এটি হাদিসের রহিত (منسوخ) বিষয়বস্তুর ওপর রচিত এবং এটি বর্তমানে মুদ্রিত।
উস্তাদ মোস্তফা আবদুল ওয়াহিদও তাঁর সম্পাদিত 'আল-ওফা ফি তারিখিল মোস্তফা' কিতাবের ভূমিকায় ভুল করেছেন, যখন তিনি 'আখবারুর রুসুখ' কিতাবটিকে উলুমুল কুরআনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قتادة بن دعامة وكتابه المؤلف:هو أبو الخاطب قتادة بن دعامة بن قتادة بن عزيز السدوسى البصرى، من التابعين (1) .
ولد قتادة ضريرا سنة ستين بالبادية فلما ترعرع شرع في تحصيل العلم وصار من حفاظ أهل زمانه، جالس سعيد بن المسيب أياما، فقال له سعيد: قم يا أعمى فقد أنزفتنى.
لكثرة ما سأله.
وجالس الحسن البصرى اثنتى عشرة سنة (2) .
وروى عن أنس بن مالك وأبى سعيد الخدرى وابن سيرين وعطاء بن أبى رباح وعكرمة اضافة الى سعيد بن المسيب والحسن اليصرى.
وروى عنه أيوب السختيانى ومعمر بن عبد الرزاق وهمام بن يحيى وسعيد بن أبى عروبة والاوزاعى وغيرهم (3) .
علمه: كان قتادة ثقة مأمونا حجة في الحديث (4) .
--------------------------------------------
কাতাদা বিন দিয়ামাহ এবং তাঁর সংকলিত গ্রন্থ:তিনি হলেন আবু আল-খাত্তাব কাতাদা বিন দিয়ামাহ বিন কাতাদা বিন আজিজ আল-সাদুসি আল-বাসরি, যিনি তাবেয়ীদের (التابعين) (১) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
কাতাদা ৬০ হিজরি সনে মরু অঞ্চলে জন্মান্ধ হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। যখন তিনি বড় হলেন, তখন তিনি ইলম অর্জনে প্রবৃত্ত হলেন এবং তাঁর সমসাময়িক যুগের হাফেজদের (حفاظ) অন্তর্ভুক্ত হলেন। তিনি কয়েকদিন সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িবের সান্নিধ্যে ছিলেন; তখন সাঈদ তাঁকে বলেছিলেন: "হে অন্ধ! ওঠো, তুমি তো আমাকে নিঃশেষ করে ফেলেছ।"
অতিরিক্ত প্রশ্ন করার কারণে তিনি এ কথা বলেছিলেন।
তিনি বারো বছর হাসান বসরীর সান্নিধ্যে অবস্থান করেন (২)।
তিনি আনাস বিন মালিক, আবু সাঈদ আল-খুদরি, ইবনে সিরিন, আতা বিন আবি রাবাহ এবং ইকরামা ছাড়াও সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব এবং হাসান বসরী থেকে বর্ণনা করেছেন।
তাঁর থেকে আইয়ুব আল-সাখতিয়ানি, মা'মার বিন আব্দুল রাজ্জাক, হাম্মাম বিন ইয়াহইয়া, সাঈদ বিন আবি আরুবাহ, আল-আওযায়ী এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন (৩)।
তাঁর জ্ঞান: কাতাদা হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (ثقة), বিশ্বস্ত (مأمونا) এবং প্রমাণযোগ্য (حجة) ছিলেন (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قال عنه الامام أحمد بن حنبل: قتادة عالم بالتفسير وباختلاف العلماء (5) .
وكان قتادة عالما بالانساب والعربية واللغة وأيام العرب، قال أبو عمرو بن العلاء: كان قتادة من أنسب الناس، كان قد أدرك دغفلا (6) .
وقال الذهبى: ومع حفظ قتادة وعمله بالحديث كان رأسا في العربية واللغة وأيام العرب والنسب (7) .
وروى أبو عبيدة، قال: (ما كنا نفقد في كل أيام راكبا من ناحية بنى أمية ينيخ على باب قتادة يسأله عن خبر أو نسب أو شعر، وكان قتادة أجمع الناس) (8) .
وقد كان الرجلان من بنى أمية يختلفان في البيت من الشعر، فيبردان بريدا الى قتادة، فيسألانه عن ذلك (9) .
لكل هذا ترجم له ياقوت في معجم الادباء والقفطى في انباه الرواة.
قوة حفظه: أما عن قوة حفظه فنكتفى بذكر أقوال العلماء: - قال ابن حنبل: كان قتادة أحفظ أهل البصرة، لا يسمع شيئا الا حفظه، قرئت عليه صحيفة جابر مرة فحفظها (10) .
- وقال ابن سيرين: قتادة أحفظ الناس (11) .
--------------------------------------------
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: কাতাদা তাফসির (تفسير) এবং আলেমদের মতবিরোধ সম্পর্কে বিজ্ঞ (عالم) (৫)।
কাতাদা বংশবিদ্যা, আরবি ভাষা, সাহিত্য এবং আরবদের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সম্পর্কে বিজ্ঞ (عالم) ছিলেন। আবু আমর ইবনুল আলা বলেছেন: কাতাদা বংশবিদ্যার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন; তিনি দাগফালকে পেয়েছিলেন (৬)।
ইমাম যাহাবি বলেছেন: কাতাদার মুখস্থ করার শক্তি এবং হাদিস বিষয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি তিনি আরবি ভাষা, সাহিত্য, আরবদের ইতিহাস এবং বংশবিদ্যার ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় ছিলেন (৭)।
আবু উবায়দাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (আমরা প্রতিদিন বনু উমাইয়ার পক্ষ থেকে কোনো না কোনো আরোহীকে কাতাদার দরজায় উট বসাতে দেখতাম, যারা তাঁকে কোনো সংবাদ, বংশধারা অথবা কবিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত; আর কাতাদা ছিলেন সর্বাধিক জ্ঞানসমাহারকারী ব্যক্তি) (৮)।
বনু উমাইয়ার দুজন ব্যক্তি কোনো এক পঙক্তি কবিতা নিয়ে মতবিরোধ করলে তারা কাতাদার কাছে পত্রবাহক পাঠাতেন এবং এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন (৯)।
এই সব কারণেই ইয়াকুত 'মুজামুল উদাবা' গ্রন্থে এবং কিফতি 'ইনবাহুর রুওয়াত' গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন।
তাঁর মুখস্থ শক্তি: তাঁর মুখস্থ শক্তির ব্যাপারে আমরা আলেমদের কিছু বক্তব্য উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করছি: - ইবনে হাম্বল বলেছেন: কাতাদা ছিলেন বসরার অধিবাসীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্মৃতিধর (أحفظ), তিনি যা-ই শুনতেন তা-ই মুখস্থ করে ফেলতেন; তাঁর সামনে জাবেরের সাহিফা একবার পাঠ করা হয়েছিল এবং তিনি তা মুখস্থ করে ফেলেছিলেন (১০)।
- ইবনে সিরিন বলেছেন: কাতাদা মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্মৃতিধর (أحفظ) (১১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
- وقال بكير بن عبد الله المزنى: ما رأيت (12) الذى هو أحفظ منه ولا أجدر أن يؤدى الحديث كما سمعه.
- وقيل: من أراد أن ينظر الى أحفظ أهل زمانه فلينظر الى قتادة (13) .
- وروى ابن حجر: انه لما قدم قتاده على سعيد بن المسيب فجعل يسأله أياما وأكثر قفال له سعيد: أكل ما سألتنى عنه تحفظه؟ قال: نعم، سألتك عن كذا فقلت فيه كذا، وسألتك عن كذا فقلت فيه كذا، وقال فيه الحسن كذا حتى رد عليه حديثا كثيرا.
فقال سعيد: ما كنت أظن أن الله خلق مثلك (14) .
- وقال قتادة: ما قلت لمحدث قط أعد على وما سمعت أذناى شيئا قط الا وعاه قلبى (15) .
مذهبه: قال ابن سعد: كان يقول بشئ من القدر (16) .
وقال الذهبى: وكان يرى القدر.
وقال: ومع هذا الاعتقاد الردى ما تأخر أحد عن الاحتجاج بحديثه سامحه الله (17) .
وقال ياقوت: وكان يقول بشئ من القدر ثم رجع عنه (18) .
--------------------------------------------
- এবং বুকাইর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুযানী বলেন: আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ মুখস্থকারী (أحفظ) এবং শ্রবণকৃত হাদিস হুবহু বর্ণনার (يؤدى) জন্য অধিকতর উপযুক্ত কাউকে দেখিনি। (১২)
- এবং বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি তার যুগের শ্রেষ্ঠ মুখস্থকারীকে (أحفظ) দেখতে চায়, সে যেন কাতাদাহর প্রতি লক্ষ্য করে। (১৩)
- ইবনে হাজার বর্ণনা করেছেন: কাতাদাহ যখন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের নিকটে আসলেন, তখন তিনি তাকে কয়েক দিন ধরে প্রচুর প্রশ্ন করতে থাকলেন। সাঈদ তাকে বললেন: তুমি আমাকে যা কিছু জিজ্ঞাসা করেছ তার সব কি মুখস্থ (تحفظه) রেখেছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি আপনাকে অমুক বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আর আপনি সে সম্পর্কে এমন বলেছিলেন, আমি আপনাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আর আপনি সেই বিষয়ে এই কথা বলেছিলেন, এবং হাসান সেই বিষয়ে এই কথা বলেছিলেন—এভাবে তিনি তার নিকট অনেক হাদিস বর্ণনা করলেন।
সাঈদ বললেন: আমি ধারণাও করিনি যে আল্লাহ তোমার মতো কাউকে সৃষ্টি করেছেন। (১৪)
- কাতাদাহ বলেন: আমি কোনো হাদিস বর্ণনাকারীকে (محدث) কখনো বলিনি যে কথাটি পুনরায় বলুন, আর আমার কান যা কিছু শুনেছে আমার অন্তর তা আয়ত্ত (وعاه) করে নিয়েছে। (১৫)
তার মাজহাব: ইবনে সাদ বলেন: তিনি কিছুটা তাকদির (القدر) সংক্রান্ত মতবাদ পোষণ করতেন। (১৬)
যাহাবি বলেন: তিনি তাকদির (القدر) সংক্রান্ত মত পোষণ করতেন।
তিনি আরও বলেন: এই মন্দ আকিদা সত্ত্বেও তার হাদিসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করতে কেউ পিছুপা হয়নি; আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। (১৭)
ইয়াকুত বলেন: তিনি তাকদির (القدر) সংক্রান্ত মত পোষণ করতেন, অতঃপর তিনি তা থেকে ফিরে এসেছিলেন। (১৮)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ونقل سعيد بن أبى عروبة عن قتادة أنه قال: كل شئ بقدر الا المعاصى (19) .
وقال معمر: سألت أبا عمرو بن العلاء عن قوله تعالى: * (وما كنا له مقرنين) * فلم يجبنى، فقلت: انى سمعت قتادة يقول: مطيقين، فسكت، فقلت له: ما تقول ياأبا عمرو؟ فقال: حسبك قتادة، فلولا كلامه في القدر - وقد قال (ص) : اذا ذكر القدر فأمسكوا - لما عدلت به أحدا من أهل دهره (20) .
تجريحه: ومع غزارة علمه وقوة حفظه لم يسلم من التجريح فقد اتهم بالتدليس (21) .
قال ابن حبان عنه: كان مدلسا (22) .
وقال الذهبى: وكان معروفا بالتدليس (23) .
وقال عنه أيضا: حافظ ثقة ثبت لكنه مدلس (24) .
وقال الخزرجى: أحد الائمة الاعلام، حافظ مدلس.
وقد احتج به أرباب الصحاح (25) .
--------------------------------------------
সাঈদ ইবনে আবু আরুবাহ কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "পাপকাজ ব্যতীত সবকিছুই তকদির বা পূর্বনির্ধারিত অনুযায়ী ঘটে" (১৯)।
মা’মার বলেন: আমি আবু আমর ইবনুল আলা-কে মহান আল্লাহর বাণী: "আর আমরা তা বশীভূত করতে সক্ষম ছিলাম না" সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে কোনো উত্তর দেননি। তখন আমি বললাম: আমি কাতাদাহকে বলতে শুনেছি যে, এর অর্থ "সক্ষম", তখন তিনি চুপ থাকলেন। আমি তাকে বললাম: হে আবু আমর, আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: তোমার জন্য কাতাদাহ-ই যথেষ্ট। তকদির সম্পর্কে তাঁর মতামত না থাকলে—অথচ রাসুল (সা.) বলেছেন: 'যখন তকদির সম্পর্কে আলোচনা করা হবে, তখন তোমরা বিরত থাকো'—তবে আমি তাঁর সমকক্ষ তাঁর সময়ের কাউকে মনে করতাম না (২০)।
তাঁর সমালোচনা (تجريح): তাঁর অগাধ জ্ঞান এবং প্রখর স্মৃতিশক্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি সমালোচনা (تجريح) থেকে রক্ষা পাননি; কেননা তাঁর বিরুদ্ধে তাদলীস (تدليس)-এর অভিযোগ আনা হয়েছিল (২১)।
ইবনে হিব্বান তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি একজন তাদলীসকারী (مدلس) ছিলেন (২২)।
ইমাম যাহাবী বলেছেন: তিনি তাদলীস (تدليس)-এর জন্য পরিচিত ছিলেন (২৩)।
তিনি তাঁর সম্পর্কে আরও বলেন: তিনি হাফিজ (حافظ), নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সুদৃঢ় (ثبت), তবে তিনি তাদলীসকারী (مدلس) (২৪)।
খাযরাজী বলেন: তিনি শ্রেষ্ঠ ইমামগণের একজন, হাফিজ (حافظ) ও তাদলীসকারী (مدلس)।
আর সহীহ গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ তাঁর বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন (২৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وفاته: توفى قتادة سنة سبع عشرة ومائة بواسط.
وذهب الاصمعى الى أن وفاته كانت بالبصرة.
وقيل: توفى سنة ثمانى عشرة ومائة وله سبع وخمسون سنة (26) .
مؤلفاته: ذكر الداودى أن له تفسيرا رواه عنه شيبان بن عبد الرحمن التميمى (27) .
وله أيضا
كتاب الناسخ والمنسوخ الذى ننشره اليوم.
كتاب الناسخ والمنسوخ.
أولا: توثيقه: ذكر ابن سلامة كتاب قتادة بين المصادر التى استمد منها كتابه، ولكنه أضاف الى ذلك أن راوى الكتاب عن قتادة هو سعيد بن أبى عروبة (28) وهو أثبت الناس رواية عن قتادة.
وذكر الزركشى قتادة على رأس الذين ألفوا في الناسخ والمنسوخ (29) .
--------------------------------------------
মৃত্যু: কাতাদাহ একশত সতেরো হিজরি সনে ওয়াসিত নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন।
আসমায়ী এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বসরায়।
আবার বলা হয়েছে: তিনি একশত আঠারো হিজরি সনে সাতান্ন বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন (২৬)।
তাঁর রচনাবলি: আদ-দাউদি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর একটি তাফসির রয়েছে যা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন (رواه) শায়বান ইবনে আবদুর রহমান আল-তামিমি (২৭)।
এছাড়াও তাঁর রয়েছে
কিতাবুন নাসিখ ওয়াল মানসুখ যা আমরা আজ প্রকাশ করছি।
কিতাবুন নাসিখ ওয়াল মানসুখ।
প্রথমত: এর নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ (توثيق): ইবনে সালামাহ তাঁর কিতাবের উৎসগুলোর মধ্যে কাতাদাহর কিতাবটির কথা উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি এর সাথে এও যোগ করেছেন যে, কাতাদাহর নিকট থেকে এই কিতাবের বর্ণনাকারী (راوي) হলেন সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ (২৮), যিনি কাতাদাহর নিকট থেকে বর্ণনা করার (رواية) ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুদৃঢ় (أثبت)।
আয-যারকাশি নাসিখ ও মানসুখ বিষয়ে গ্রন্থনা করা ব্যক্তিদের তালিকার শীর্ষে কাতাদাহর নাম উল্লেখ করেছেন (২৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ومما قطع الشك في نسبة الكتاب الى قتادة هذه النقول الكثيرة التى نراها عند النحاس ومكى بن أبى طالب، فقد أورد النحاس في كتابه الناسخ والمنسوخ أقوال قتادة في آيات كثيرة كما (30) كما أورد مكى نقولا أخرى عن قتادة في كتابه الايضاح (31) وهذه الاقوال جميعا تنفق مع ما ورد في كتاب قتادة.
وثمة أقوال أخرى في تفسير الطبرى (32) وأسباب النزول للواحدى (33) تطابق ما جاء في كتابنا.
الا أننى في الحقيقة استبعد أن يكون قتادة قد ألف كتابا في الناسخ والمنسوخ لان تصنيف الكتب بدأ في منتصف القرن الثانى ولعل قولة الامام أحمد بن حنبل في أبى الوليد بن جريج تسند ما ذهبت اليه، قال: (كان من أوعية العلم، وهو وابن أبى عروبة أول من صنف الكتب) (34) .
وابن جريج توفى ستة 150 هـ وابن أبى عروبة توفى ستة 156 هـ.
وكذا قول الذهبى في ترجمة سعيد بن أبى عروبة: (وهو أول من صنف الابواب بالبصرة) (35) .
ولكن النص الذى ننشره جاء برواية همام بن يحيى الذى دون ما سمع من شيخه ثم ذكرت هذه المرويات على أنها كتب اعتمد عليها المصنفون في الموضوع.
--------------------------------------------
ক্বাতাদাহ-এর প্রতি বইটির সম্বন্ধ (نسبة)-এর ব্যাপারে যে বিষয়টি সন্দেহের অবকাশ রাখে না তা হলো আন-নাহহাস এবং মাক্কী ইবন আবি তালিবের নিকট প্রাপ্ত এই প্রচুর উদ্ধৃতিসমূহ। আন-নাহহাস তার নাসিখ ওয়াল মানসুখ কিতাবে অনেক আয়াতের ক্ষেত্রে ক্বাতাদাহ-এর বক্তব্যসমূহ উল্লেখ করেছেন (৩০), যেমনটি মাক্কী তার আল-ঈজাহ কিতাবে ক্বাতাদাহ থেকে প্রাপ্ত অন্যান্য উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন (৩১)। এই সকল বক্তব্যই ক্বাতাদাহ-এর কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এছাড়া তাফসিরে তবারি (৩২) এবং আল-ওয়াহিদির আসবাবুন নুযুল-এ (৩৩) অন্যান্য এমন কিছু বক্তব্য রয়েছে যা আমাদের কিতাবে বর্ণিত তথ্যের সাথে হুবহু মিলে যায়।
তবে প্রকৃতপক্ষে আমি ক্বাতাদাহ রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) বিষয়ে কোনো কিতাব রচনা করেছেন—এ বিষয়টি সুদূরপরাহত মনে করি; কারণ গ্রন্থ সংকলন (تصنيف) শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় হিজরি শতকের মাঝামাঝি সময়ে। সম্ভবত আবু ওয়ালিদ ইবনে জুরাইজ সম্পর্কে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের উক্তিটি আমার এই অভিমতকে সমর্থন করে; তিনি বলেছেন: (তিনি ছিলেন ইলমের আধার, তিনি এবং ইবনে আবি আরুবাহ সর্বপ্রথম কিতাব সংকলন (صنف) করেন) (৩৪)।
ইবনে জুরাইজ ১৫০ হিজরিতে এবং ইবনে আবি আরুবাহ ১৫৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
অনুরূপভাবে সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ-এর জীবনীতে (ترجمة) ইমাম যাহাবির উক্তি: (তিনিই সর্বপ্রথম বসরায় অধ্যায়ভিত্তিক (الأبواب) সংকলন করেন) (৩৫)।
কিন্তু আমরা যে পাঠটি প্রকাশ করছি তা হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়ার বর্ণনা (رواية) সূত্রে প্রাপ্ত, যিনি তার উস্তাদের নিকট থেকে যা শুনেছেন তা লিপিবদ্ধ করেছিলেন। পরবর্তীতে এই বর্ণিত রিওয়ায়াতসমূহ (المرويات) এমন কিতাব হিসেবে প্রসিদ্ধি পায় যার ওপর এই বিষয়ের সংকলকগণ নির্ভর করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ثانيا: مخطوطة الكتاب:نسخة حديثة جيدة، كتب بخط معتاد فيه بعض الشكل: رؤوس الفقر مكتوبة بالحمرة.
وتقع النسخة في مجموع رقمه 7899 تحتفظ به دار الكتب الظاهرية (36) .
وقد أرفقت صورة لهذا الكتاب رغبة في اطلاع القراء عليه.
ثالثا: منهج التحقيق: أهم ما يجب ذكره في منهج التحقيق هو أننى خرجت الايات القرآنية وحصرتها بين قوسين مزهرين ثم حضرت ما أضفته بين قوسين مربعين كما عرفت بالاعلام تعريفا موجزا وأحلت دائما على كتب الناسخ والمنسوخ المطبوعة والمخطوطة ونبهت على أقوال قتادة التى ذكرها النحاس ومكى في كتابيهما توثيقا للكتاب.
وأخيرا أرجو ان يكون عملى خالصا لوجهه، والحمد لله على ما أنعم، انه نعم المولى ونعم النصير.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি:এটি একটি উত্তম আধুনিক অনুলিপি, যা সাধারণ হস্তাক্ষরে লিখিত এবং এতে কিছু স্বরচিহ্ন (شكل) প্রদান করা হয়েছে; অনুচ্ছেদগুলোর শিরোনাম লাল কালিতে লিখিত।
এই অনুলিপিটি ৭৮৯৯ নম্বর সম্বলিত একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত, যা যাহিরিয়া লাইব্রেরি (৩৬) সংরক্ষণ করছে।
পাঠকদের অবগতির জন্য এই গ্রন্থের একটি চিত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।
তৃতীয়ত: সম্পাদনা পদ্ধতি: সম্পাদনা পদ্ধতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো, আমি কুরআনের আয়াতসমূহ চিহ্নিত করেছি এবং সেগুলোকে বিশেষ পুষ্প-বন্ধনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছি। এরপর আমি যা নিজে যোগ করেছি তা বর্গাকার বন্ধনীর মধ্যে স্থাপন করেছি। পাশাপাশি আমি ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি প্রদান করেছি এবং নাসিখ ও মানসুখ (الناسخ والمنسوخ) সংক্রান্ত মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি উভয় প্রকার গ্রন্থের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি। এছাড়া গ্রন্থটির নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) নিশ্চিতকরণে কাতাদাহর সেই বক্তব্যগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যা নাহহাস এবং মাক্কি তাদের গ্রন্থদ্বয়ে উল্লেখ করেছেন।
পরিশেষে আমি আশা করি যে, আমার এই কাজ যেন শুধুমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত হয়। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তিনি যা নেয়ামত দান করেছেন তার জন্য; নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الورقة الاولى من الناسخ والمنسوخ.
রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) বিষয়ক প্রথম পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
صلة الورقة الاولى من الناسخ والمنسوخ
রহিতকারী ও রহিত (الناسخ والمنسوخ) বিষয়ক প্রথম পত্রের অনুবৃত্তি।
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الورقة الثانية من الناسخ والمنسوخ
রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) বিষয়ক দ্বিতীয় পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
صلة الورقة الثانية من الناسخ والمنسوخ
রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) বিষয়ক দ্বিতীয় পত্রের ধারাবাহিকতা
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الورقة الثالثة من الناسخ والمنسوخ
রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) বিষয়ক তৃতীয় পত্র।
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
كتاب الناسخ والمنسوخ في كتاب الله تعالي
عن قتادة بن دعامة السدوسي
من
سورة البقرةأخبرنا الفقيه المكي أبو الحرم مكي بن عبد الرحمن بن سعيد بن عتيق 1وجماعة قال أنا الحافظ شيخ الإسلام فخر الأنام جمال الحفاظ أبو طاهر أحمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن إبراهيم بن سلفة السلفي الأصبهاني2 في العشر الآخر من صفر سنة اثنتين وسبعين وخمس مائة بثغر الإسكندربة في منزله قراءة عليه وأنا أسمع قلت وفي طبقة السماع بخط السلفي هذا تسميع صحيح كما كتب وكتب أحمد بن محمد الأصبهاني قال أخبرنا الشيخ أبو الحسين 3المبارك بن
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর কিতাবে রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) বিষয়ক গ্রন্থ
কাতাদাহ ইবনে দি’আমাহ আস-সাদুসি থেকে বর্ণিত
থেকে
সুরা আল-বাকারাহমক্কার ফকিহ আবু আল-হারাম মক্কি ইবনে আবদুর রহমান ইবনে সাঈদ ইবনে আতিক এবং একটি দল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তারা বলেন, হাফিজ (الحافظ), শাইখুল ইসলাম, সৃষ্টির গর্ব, হাফিজগণের (الحفاظ) সৌন্দর্য আবু তাহির আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে সিলাফাহ আস-সিলাফি আল-আসবাহানি আমাদের নিকট ৫৭২ হিজরি সনের সফর মাসের শেষ দশকে আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরের তাঁর নিজ বাসভবনে পাঠের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং আমি তা শুনছিলাম। আমি বলছি, আস-সিলাফির হস্তাক্ষরে শ্রবণলিপিতে এটি একটি সহিহ (صحيح) শ্রবণ হিসেবে লিপিবদ্ধ রয়েছে যেমনটি আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-আসবাহানি লিখেছেন। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু আল-হুসাইন আল-মুবারক ইবনে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
عبد الجبار بن أحمد الصيرفي1 ببغداد من أصل سماعه أنا أبو طاهر محمد بن علي بن يوسف بن العلاف2 أنا أبو بكر أحمد بن جعفر3 ابن محمد بن سلم الختلي أنا أبو خليفة الفضل بن الحباب الجمحي4 ثنا محمد بن كثير العبدي5 ثنا همام بن يحيى 66 ب قال سمعت قتادة يقول في قول الله عز وجل: {فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ7} قال كانوا يصلون نحو بيت المقدس ورسول الله صلى الله عليه وسلم بمكة قبل الهجرة وبعدما هاجر رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى نحو بيت المقدس ستة عشر شهرا ثم وجهه الله تعالى نحو الكعبة البيت الحرام8.
وقال في آية أخرى {فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ} 9 أي تلقاءه ونسخت هذه ما كان قبلها من أمر القبلة10.
--------------------------------------------
আব্দুল জব্বার ইবনে আহমদ আস-সাইরাফি১ বাগদাদে তার শ্রবণ (سماع) করা মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ণনা করেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ ইবনুল আল্লাফ২; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনে জাফর৩ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালম আল-খাতলি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু খলিফা আল-ফাদল ইবনুল হুবাব আল-জুমাহি৪; আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে কাসীর আল-আবদি৫; আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাম্মাম ইবনে ইয়াহইয়া৬। তিনি বলেন, আমি কাতাদাহ-কে আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে বলতে শুনেছি: {অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহর চেহারা বিদ্যমান৭}। তিনি বলেন, তারা বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের পূর্বে মক্কায় ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করার পর ষোলো মাস বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করলেন, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাকে পবিত্র ঘর কাবার দিকে মুখ ফেরানোর নির্দেশ দিলেন৮।
তিনি অন্য একটি আয়াতের বিষয়ে বলেন: {সুতরাং আমি অবশ্যই আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন। অতএব আপনি আপনার চেহারা মসজিদুল হারামের দিকে ফিরান। আর তোমরা যেখানেই থাকো, তোমাদের চেহারা সেদিকেই ফিরাও৯} অর্থাৎ তার অভিমুখে; এবং এই আয়াতটি কিবলার নির্দেশ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী বিধানকে রহিত (نسخت) করেছে১০।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وعن قوله عز وجل: {وَدَّ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُمْ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّاراً حَسَداً مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ} 1 فأمر الله عز وجل: نبيه صلى الله عليه وسلم أن يعفو عنهم ويصفح حتى يأتي الله بأمره ولم يؤمر يومئذ بقتالهم فأنزل الله عز وجل: في براءة فأتى الله فيها بأمره وقضائه فقال {قَاتِلُوا الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ} إلى {وَهُمْ صَاغِرُونَ} 2 فنسخت هذه الآية ما كان قبلها وأمر فيها بقتال أهل الكتاب حتى يسلموا أو يفدوا بالجزية3.
وعن قوله عز وجل: {وَلا تُقَاتِلُوهُمْ عِنْدَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ حَتَّى يُقَاتِلُوكُمْ فِيهِ فَإِنْ قَاتَلُوكُمْ فَاقْتُلُوهُمْ} 4 فأمر الله عز وجل: نبيه صلى الله عليه وسلم ألا يقاتلهم عند المسجد الحرام إلا أن يبدأوا فيه بقتال5.
وقال في آية أخرى {يَسْأَلونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ قُلْ قِتَالٌ فِيهِ كَبِيرٌ} 6 كان القتال فيه كبيراً كما قال الله عز وجل: فنسخ هاتين الآيتين في براءة {فَإِذَا انْسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ} 7 وقال عز وجل: {وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً} يعني بالكافة جميعا {كَمَا
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে: {আহলে কিতাবদের অনেকেই আকাঙ্ক্ষা করে যে, যদি তারা তোমাদের ঈমান আনার পর পুনরায় কাফেরে পরিণত করতে পারত; তাদের নিজেদের পক্ষ থেকে হিংসাবশত, অথচ তাদের কাছে সত্য স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। সুতরাং তোমরা ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসেন} ১। মহান আল্লাহ তাঁর নবী (সা.)-কে তাদের ক্ষমা করতে এবং উপেক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে। সেই সময় তাদের সাথে যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এরপর মহান আল্লাহ সুরা বারাআতে তাঁর নির্দেশ ও ফয়সালা নাজিল করেন। তিনি বলেন, {তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না} ২ পর্যন্ত {এবং তারা হবে অবনত}। সুতরাং এই আয়াতটি তার পূর্ববর্তী আয়াতকে রহিত (نسخ) করেছে এবং এতে আহলে কিতাবদের সাথে যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা ইসলাম গ্রহণ করে অথবা জিজিয়া প্রদানের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করে ৩।
এবং মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে: {মসজিদুল হারামের নিকট তাদের সাথে যুদ্ধ করো না যতক্ষণ না তারা সেখানে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে। কিন্তু তারা যদি তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে, তবে তোমরা তাদের হত্যা করো} ৪। মহান আল্লাহ তাঁর নবী (সা.)-কে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি মসজিদুল হারামের নিকট তাদের সাথে যুদ্ধ না করেন, যতক্ষণ না তারা সেখানে যুদ্ধ শুরু করে ৫।
এবং তিনি অন্য আয়াতে বলেছেন: {তারা তোমাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, তাতে যুদ্ধ করা গুরুতর (كبير)} ৬। তাতে যুদ্ধ করা গুরুতর বিষয় ছিল যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন। অতঃপর সুরা বারাআতে এই দুটি আয়াতকে রহিত (نسخ) করা হয়েছে: {অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসসমূহ অতিবাহিত হবে, তখন মুশরিকদের যেখানেই পাবে হত্যা করো, তাদের বন্দি করো, তাদের অবরুদ্ধ করো এবং প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের জন্য ওত পেতে থাকো} ৭। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করো} অর্থাৎ 'কাফফাতান' (كافة) অর্থ সকলে একত্রে {যেমন...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - কাতাদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً} 1 وقال {الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ} قال كان عهد بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين قريش أربعة أشهر بعد يوم النحر كانت تلك بقية مدتهم ومن لا عهد له لا نسلاخ في المحرم فأمر الله عز وجل: لنبيه صلى الله عليه وسلم إذا مضى الأجل أن يقاتلهم في الحل والحرم وعند البيت حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله2.
وعن قوله عز وجل: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلاثَةَ قُرُوءٍ} 3 فجعل عدة المطلقة ثلاث حيض ثم أنه نسخ منها عدة المطلقة التي طلقت ولم يدخل بها زوجها قال الله عز وجل: في سورة الأحزاب4: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَكَحْتُمُ الْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُّونَهَا فَمَتِّعُوهُنَّ وَسَرِّحُوهُنَّ سَرَاحاً جَمِيلاً} فهذه ليس عليها عدة إن شاءت تزوجت من يومها.
وقد نسخ من الثلاثة قروء اثنان {وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِنْ نِسَائِكُمْ} 5 فهذه العجوز قد قعدت من الحيض {وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ} 6 فهذه البكر التي لم تبلغ الحيض فعدتها ثلاثة أشهر وليس الحيض من أمرهما في شيء.
ثم نسخ من الثلاثة قروء الحامل {وَأُولاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ
--------------------------------------------
{তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে যুদ্ধ করে} ১ এবং তিনি বলেছেন {নিষিদ্ধ মাসসমূহ}। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং কুরাইশদের মধ্যে কুরবানির দিনের পর চার মাসের একটি অঙ্গীকার ছিল; যা ছিল তাদের অবশিষ্ট সময়কাল। আর যাদের সাথে কোনো অঙ্গীকার ছিল না, তাদের জন্য মুহররম মাস অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত সময় ছিল। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নির্দেশ দিলেন যে, যখন এই সময়সীমা পার হয়ে যাবে, তখন তিনি যেন তাদের সাথে হিল্ল (হারামের বাইরের এলাকা) ও হারামের এলাকায় এবং বাইতুল্লাহর নিকট যুদ্ধ করেন, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল ২।
আর আল্লাহ তা'আলার বাণী: {তালাকপ্রাপ্তা নারীরা নিজেদের তিন ঋতুকাল পর্যন্ত প্রতীক্ষায় রাখবে} ৩ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে তালাকপ্রাপ্তা নারীর ইদ্দত (عدة) তিন ঋতু নির্ধারণ করা হয়েছে। অতঃপর তা থেকে এমন তালাকপ্রাপ্তা নারীর ইদ্দত (عدة) রহিত (نسخ) করা হয়েছে যার সাথে তার স্বামী সহবাস করেনি। আল্লাহ তা'আলা সূরা আল-আহযাবে ৪ ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা মুমিন নারীদের বিবাহ করো এবং তাদের স্পর্শ করার পূর্বেই তালাক প্রদান করো, তখন তোমাদের জন্য তাদের পালনীয় কোনো ইদ্দত (عدة) নেই। সুতরাং তোমরা তাদের কিছু সামগ্রী প্রদান করো এবং সৌজন্যের সাথে তাদের বিদায় করো}। এদের ক্ষেত্রে কোনো ইদ্দত (عدة) নেই, তারা চাইলে সেদিন থেকেই বিবাহ করতে পারবে।
আর "তিন ঋতুকাল" থেকে আরও দুটি ক্ষেত্র রহিত (نسخ) করা হয়েছে: {তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ঋতুবতী হওয়ার বয়স পার করে ফেলেছে} ৫ অর্থাৎ সেই বৃদ্ধা নারী যার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গেছে, এবং {যারা এখনো ঋতুবতী হয়নি} ৬ অর্থাৎ সেই কুমারী যে ঋতুস্রাবের বয়সে পৌঁছায়নি; তাদের ইদ্দত (عدة) হলো তিন মাস এবং তাদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের কোনো বিষয় নেই।
অতঃপর তিন ঋতুকাল থেকে গর্ভবতী নারীর বিধান রহিত (نسخ) করা হয়েছে: {আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল হলো যে...
--------------------------------------------