(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: -)
الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة - ت رفعت فوزي القسم: الفقه العام
الكتاب: الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة
المؤلف: بدر الدين الزركشي الشافعي (754 - 794 هـ)
تحقيق وتخريج: د رفعت فوزي عبد المطلب
(أستاذ الشريعة بجامعة القاهرة)
الناشر: مكتبة الخانجي - القاهرة
الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 172
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা ইস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবা - তাহকীক: রিফআত ফাওজি বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
বই: আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা ইস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবা
লেখক: বদর উদ্দিন আজ-জারকাশী আশ-শাফিয়ী (৭৫৪ - ৭৯৪ হিজরী)
তাহকীক ও তাখরীজ: ড. রিফআত ফাওজি আব্দুল মুত্তালিব
(কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহর অধ্যাপক)
প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজী - কায়রো
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরী - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭২
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المحققالحمد لله رب العالمين، حمدًا كثيرًا طيبا طاهرًا مباركًا فيه.
اللهم إنى أثنى عليك كما أثنيت على نفسك، وكما أثنى عليك أنبياؤك ورسلك، وعبادك الصالحون، وملائكتك المقربون.
وصلى الله تعالى وسلم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد ..
فهذا كتاب "الإجابة"، وهو كتاب فريد رائد في بابه؛ لأن موضوعه هو استدراكات السيدة عائشة، المُحَدِّثة الفقيهة، على الصحابة في رواياتهم، ومن هنا جاءت أهمية هذا الكتاب، إذ يرسى من خلال هذه الاستدراكات قواعد في توثيق سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم.
فهى تعرض ما يرويه الصحابة على الأصول الثابتة والمشاهدة من أحوال رسول الله صلى الله عليه وسلم، فتجد الكثير الذي أُدِّى أداء متقنًا، كما صدر من رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وتجد بعضه قد اعتراه الخطأ أو الوهم، أو يتعارض مع ما شاهدته أو سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ومن هنا نشأت قواعد النقد الخارجي والداخلي للحديث،
ومنها قواعد الضبط، وعرض السنة على القرآن الكريم، والثابت المتعارف عليه من سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، والأصول الإسلامية الأخرى.
ولم تكن السيدة الصِّدِّيقة وحدها في هذا المجال، وإنما كان هناك من الصحابة من حذا حذوها، أو حذت حذوه، أو تشابها في هذه الاستدراكات، وفى القواعد التي أسست عليها.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; এমন প্রশংসা যা অগণিত, উত্তম, পবিত্র ও বরকতময়।
হে আল্লাহ! আমি আপনার প্রশংসা করছি যেভাবে আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন এবং যেভাবে আপনার নবীগণ ও রাসূলগণ, আপনার নেককার বান্দাগণ এবং আপনার নিকটবর্তী ফেরেশতাগণ আপনার প্রশংসা করেছেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন। অতঃপর...
এটি হলো "আল-ইজাবাহ" গ্রন্থ, যা স্বীয় বিষয়ে এক অনন্য ও পথিকৃৎ কিতাব; কারণ এর মূল উপজীব্য হলো মুহাদ্দিসা ও ফকিহা সায়্যিদা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কর্তৃক সাহাবায়ে কিরামের বর্ণনাসমূহের ওপর কৃত সংশোধন ও পরিমার্জন। আর এখান থেকেই এই কিতাবটির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়, কারণ এই সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর প্রামাণিকীকরণের কতিপয় মূলনীতি স্থাপন করেছেন।
তিনি সাহাবায়ে কিরামের বর্ণিত বিষয়সমূহকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যাপিত জীবনের সুপ্রতিষ্ঠিত ও প্রত্যক্ষকৃত বিষয়াদির নিরিখে উপস্থাপন করতেন। ফলে আপনি এমন অনেক বর্ণনা পাবেন যা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পাদিত হয়েছে, ঠিক যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তা প্রকাশ পেয়েছিল।
আবার কিছু বর্ণনা এমন পাবেন যেখানে ভুল বা বিভ্রম ঘটেছে, অথবা যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর দেখা বা শোনার পরিপন্থী।
আর এখান থেকেই হাদীসের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার মূলনীতিসমূহ তৈরি হয়েছে,
যার মধ্যে রয়েছে মুখস্থ ও সংরক্ষণের মূলনীতি, সুন্নাহকে পবিত্র কুরআনের আলোকে যাচাই করা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ও অন্যান্য ইসলামী মূলনীতির মাঝে যা সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুপরিচিত তার সাথে মিলিয়ে দেখা।
আর সায়্যিদা সিদ্দিকা এই ক্ষেত্রে একা ছিলেন না; বরং সাহাবীদের মধ্যে এমন অনেকেই ছিলেন যারা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, অথবা তিনি তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, অথবা এই সংশোধনসমূহ এবং যে মূলনীতিগুলোর ওপর ভিত্তি করে এগুলো প্রতিষ্ঠিত, তার ক্ষেত্রে তাঁদের মাঝে সাদৃশ্য ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ৪)
ومن مجموع هذه الاستدراكات التي صدرت من السيدة عائشة، ومن غيرها يمكننا أن نقول: إن السنة خرجت من أيدى الصحابة خالية من الأخطاء والأوهام التي كانت تعترى بعض الصحابة وهم يقومون بدور تبليغها، وهم بشر ليسوا بمعصومين.
ومعنى هذا أيضًا أن السيدة عائشة كان عندها هذه المقاييس وطبقتها على ما عندها السنة كلها فما هو صحيح أَقَرَّته، ولو من طريق السكوت عنه، وما كان فيه خطأ - من وجهة نظرها - بينته.
ولا يَظُنَّ ظَانٌّ أن ما أبدته السيدة عائشة من استدراكات كانت غير قابلة للمناقشة، أو جاءت فيها بالقول الفصل، بل كثير منها اجتهادات تقابلها وجهات نظر أخرى تُقِرُّ ما عليه الآخرون، مما استدركته عليهم بحيث لا تتعارض الروايات التي استدركتها مع ما تراه هي صحيحًا، أو تكون هذه الروايات المستدركة منسوخة وصدر ناسخها دون علم بعض الصحابة الذين يروونها بهذا الناسخ، أو يكون هذا وذاك من باب العام والخاص، أو المطلق والمقيد. بحيث يمكن الجمع بين هذه الروايات التي تبدو متعارضة وهى في الحق ليست بمتعارضة. وكلها بحمد الله تعالى على هذا النحو.
وكل هذا قد فَصَّلَته دراسة يتواكب خروجها مع هذا التحقيق وهى "توثيق السيدة عائشة للسنة" وقد أحلنا عليها، وبينا مواضع التفصيل في القضايا التي تناولها هذا الكتاب بالإيجاز.
وهذا الكتاب يؤكد من طَرْفٍ غير خفى أن الصحابة لم يكونوا يكذبون على رسول الله صلى الله عليه وسلم. فما كان هناك استدراك اتُّهِمَ فيه أحد الصحابة أنه كذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ بل بادرت السيدة عائشة بنفى الكذب في بعض الاستدراكات فقالت: "إنكم لتحدثوني عن غير كاذبين ولا مكذبين، ولكنَّ السمعَ يُخطئ".
ولكن المفيد غاية الفائدة - كما قلنا - أن السيدة عائشة، بهذه الاستدراكات، قد أرست قواعد في النقد الخارجي والداخلي للسنة كانت فيما بعد أدوات لتوثيق السنة، وإبعاد التحريف والزيف والخطأ عنها.
সৈয়দা আয়েশা এবং অন্যদের থেকে প্রকাশিত এই সংশোধনগুলোর সমষ্টি থেকে আমরা বলতে পারি যে: সুন্নাহ সাহাবীগণের হাত থেকে এমনভাবে নির্গত হয়েছে যা ভুলত্রুটি ও বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত ছিল, যা সুন্নাহ প্রচারের দায়িত্ব পালনকালে কোনো কোনো সাহাবীর ক্ষেত্রে ঘটেছিল; যেহেতু তাঁরা মানুষ ছিলেন এবং তাঁরা নিষ্পাপ ছিলেন না।
এর অর্থ আরও এই যে, সৈয়দা আয়েশার কাছে নির্দিষ্ট মানদণ্ড ছিল এবং তিনি তা তাঁর কাছে থাকা সমগ্র সুন্নাহর ওপর প্রয়োগ করেছিলেন। ফলে যা সঠিক ছিল তা তিনি সমর্থন করেছেন, এমনকি তা মৌনতার মাধ্যমে হলেও; আর তাঁর দৃষ্টিতে যাতে ভুল ছিল তা তিনি বর্ণনা করে দিয়েছেন।
কেউ যেন মনে না করেন যে, সৈয়দা আয়েশা যেসব সংশোধন পেশ করেছেন তা অখণ্ডনীয় ছিল অথবা তিনি সেগুলোতে চূড়ান্ত ফয়সালা দিয়েছেন। বরং এগুলোর অনেকগুলোই ছিল ইজতিহাদ বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা, যার বিপরীতে এমন দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান যা অন্য সাহাবীগণের মতকেই সমর্থন করে। ফলে তিনি যে বর্ণনাগুলোর ওপর সংশোধন দিয়েছেন তা তাঁর কাছে সঠিক মনে হওয়া বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক হয় না। অথবা এই সংশোধিত বর্ণনাগুলো মানসুখ বা রহিত হতে পারে, আর এর রহিতকারী দলিলটি সেই সাহাবীদের অজ্ঞাত ছিল যারা তা বর্ণনা করেছিলেন। অথবা এই বিষয়গুলো আম (সাধারণ) ও খাস (বিশেষ), কিংবা মুতলাক (নিবন্ধহীন) ও মুকাইয়্যাদ (নিবন্ধিত)-এর পর্যায়ভুক্ত হতে পারে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে সাংঘর্ষিক মনে হওয়া এই বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব, আসলে এগুলো বাস্তবপক্ষে সাংঘর্ষিক নয়। আল্লাহর শুকরিয়া যে, এ সবই এই ধারার অন্তর্ভুক্ত।
এই গবেষণার সাথে সাথে প্রকাশিতব্য "সৈয়দা আয়েশা কর্তৃক সুন্নাহর প্রমাণীকরণ" শীর্ষক অন্য একটি গবেষণায় এই বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। আমরা সেই গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়েছি এবং বর্তমান গ্রন্থে সংক্ষেপে আলোচিত বিষয়গুলোর বিস্তারিত বর্ণনার স্থানসমূহ নির্দেশ করেছি।
এই গ্রন্থটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সাহাবীগণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপ করতেন না। এমন কোনো সংশোধন নেই যেখানে কোনো সাহাবীকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বরং সৈয়দা আয়েশা কোনো কোনো সংশোধনের ক্ষেত্রে মিথ্যার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন: "তোমরা আমার কাছে যাদের পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করছ তারা মিথ্যাবাদী নন এবং তাঁদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্নও করা হয়নি, বরং শ্রবণে ভুল হতে পারে।"
তবে সবচেয়ে বড় উপকারের বিষয় হলো—যেমনটি আমরা বলেছি—সৈয়দা আয়েশা এই সংশোধনগুলোর মাধ্যমে সুন্নাহর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার এমন কিছু মূলনীতি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যা পরবর্তীতে সুন্নাহর প্রামাণ্যতা নিশ্চিতকরণ এবং তা থেকে বিকৃতি, অলীকতা ও ভুলত্রুটি দূর করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ৫)
إنها في مجال النقد الداخلى عرضت السنة على القرآن الكريم، وعلى السنة النبوية المعروفة والمشهورة أو المشاهدة من رسول الله صلى الله عليه وسلم، وعلى الأصول الإسلامية.
وفى مجال النقد الخارجي بينت خطأ بعض الرواة بما أسهم في اشتراط الضبط في تلقى الأحاديث، وفي أدائها.
وكل ذلك كان له شأن كبير على مر العصور في توثيق سنة رسول الله - صلى الله عليه وسلم الأصل الثاني من أصول التشريع الإسلامي؛ في الدراسات الحديثية والفقهية على حد سواء.
وهذا من بركات السيدة عائشة رضي الله عنها، وما أكثر بركاتها.
ولسنا في حاجة إلى تقديم ترجمة للسيدة عائشة رضي الله عنها، فقد كفانا المؤلف مئونة ذلك، وقدّم ترجمة طيبة لها في أول الكتاب.
ترجمة المؤلف:أما مؤلف الكتاب فهو الإمام المحدِّث محمد بن عبد الله بن بهادر أبو عبد الله بدر الدين الزَّرْكَشِى، الفقيه، الأصولي، المُحَدَّث، الشافعي المذهب.
ولد في مصر عام (745 هـ) من أسرة تركية، واشتغل أولا بصناعة الزركش، ثم وجهه الله عز وجل نحو العلم من صغره فأخذ عن الشيخين جمال الدين الأسنوى (ت 772) وسراج الدين البلقيني (ت 805) ولازمهما.
ثم رحل للاستزادة من الشيوخ ومن العلم، فرحل إلى حلب فأخذ عن الشيخ شهاب الدين الأذرعى (ت 783)، وسمع الحديث بدمشق وغيرها، وسمع من علماء الشام، كابن قدامة المقدسي (ت 780 هـ) والحافظ أبي الفداء إسماعيل بن كثير (ت 774 هـ) وغيرهما.
وبعد فترة التحصيل انقطع للاشتغال بالعلم، والتدريس والإفتاء. قال ابن حجر: كان الزركشي منقطعًا في منزله لا يتردد إلى أحد، إلا إلى سوق الكتب، وكان يطالع في حانوت الكتبى طول نهاره، ومعه أوراق يعلق فيها ما يعجبه، ثم يرجع فينقله إلى تصانيفه (الدرر الكامنة 3/ 398).
অভ্যন্তরীণ সমালোচনার ক্ষেত্রে তিনি সুন্নাহকে পবিত্র কুরআনের সাথে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুপরিচিত, প্রসিদ্ধ বা প্রত্যক্ষকৃত সুন্নাহর সাথে এবং ইসলামি মূলনীতিসমূহের সাথে তুলনা করে উপস্থাপন করেছেন।
আর বাহ্যিক সমালোচনার ক্ষেত্রে তিনি কিছু বর্ণনাকারীর ভুলভ্রান্তি স্পষ্ট করেছেন, যা হাদীস গ্রহণ এবং তা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর নির্ভুলতার (যাবত) শর্তারোপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আর এই সবকিছুরই যুগ যুগ ধরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে প্রামাণ্য রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এক বিরাট গুরুত্ব ছিল, যা ইসলামি শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস; এবং এটি হাদীস শাস্ত্রীয় ও ফিকহ শাস্ত্রীয় উভয় গবেষণার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।
আর এটি সায়্যিদাহ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বরকতসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর তাঁর বরকত কতই না অফুরন্ত!
সায়্যিদাহ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কোনো জীবনী উপস্থাপন করার প্রয়োজন আমাদের নেই; কারণ লেখক নিজেই সেই কষ্টটুকু আমাদের পক্ষ থেকে লাঘব করেছেন এবং বইয়ের শুরুতে তাঁর একটি চমৎকার জীবনী পেশ করেছেন।
লেখকের জীবনী:আর এই বইয়ের লেখক হলেন ইমাম, মুহাদ্দিস মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাহাদুর আবু আব্দুল্লাহ বদরুদ্দীন আয-যারকাশী; তিনি ছিলেন একজন ফকীহ, উসুলবিদ, মুহাদ্দিস এবং শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী।
তিনি ৭৪৫ হিজরিতে মিশরের এক তুর্কি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমে তিনি ‘যারকাশ’ (স্বর্ণখচিত সুতা) শিল্পের কাজ করতেন, এরপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাকে শৈশব থেকেই ইলম অন্বেষণের দিকে ধাবিত করেন। ফলে তিনি শায়খ জামালুদ্দীন আল-আসনাবী (মৃত্যু ৭৭২ হিজরি) এবং সিরাজুদ্দীন আল-বুলকিনী (মৃত্যু ৮০৫ হিজরি)—এই দুই শায়খের নিকট ইলম অর্জন করেন এবং তাঁদের সান্নিধ্যে থাকেন।
এরপর তিনি আরও শায়খ এবং আরও ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে ভ্রমণে বের হন। তিনি হালব (আলেপ্পো) গমন করে শায়খ শিহাবুদ্দীন আল-আযরাঈ (মৃত্যু ৭৮৩ হিজরি)-এর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেন। তিনি দামেশক ও অন্যান্য স্থানে হাদীস শ্রবণ করেন এবং শামের উলামায়ে কেরাম যেমন ইবনে কুদামা আল-মাকদিসী (মৃত্যু ৭৮০ হিজরি) এবং হাফেজ আবুল ফিদা ইসমাইল বিন কাসীর (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি) ও অন্যান্যদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেন।
ইলম অর্জনের পর তিনি ইলমি ব্যস্ততা, অধ্যাপনা ও ফতোয়া প্রদানের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেন। ইবনে হাজার বলেন: আয-যারকাশী নির্জনে নিজ গৃহে অবস্থান করতেন এবং বইয়ের বাজার ছাড়া অন্য কোথাও যাতায়াত করতেন না। তিনি সারাদিন বই বিক্রেতার দোকানে পড়াশোনা করতেন এবং তাঁর সাথে কিছু কাগজ থাকত যাতে তিনি পছন্দনীয় বিষয়গুলো লিখে নিতেন; এরপর বাড়িতে ফিরে সেগুলো তাঁর কিতাবসমূহে সংকলিত করতেন (আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/৩৯৮)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقال أحد تلاميذه: "كان منقطعًا إلى الاشتغال بالعلم لا يشتغل عنه بشيء، وله أقارب يكفونه أمر دنياه".
وتتلمذ عليه الكثيرون منهم العلامة شمس الدين الدين محمد بن عبد الدائم البرماوى الشافعي، والقاضى المفتى نجم الدين بن حجى الدمشقي الشافعي.
مؤلفاته:وكان الانقطاع للعلم مثمرًا مؤلفاتٍ قَيِّمَةً نذكر منها ما يلي غير كتابنا هذا:
1 - إعلام الساجد بأحكام المساجد، وهو في الفقه، وطبع في المجلس الأعلى للشئون الإسلامية بالقاهرة، بتحقيق أبى الوفا المراغى سنة: (1385 هـ).
2 - البرهان في علوم القرآن.
طبع بتحقيق أبي الفضل إبراهيم في مصر في أربعة مجلدات.
3 - رسالة معنى لا إله إلا الله، في التوحيد.
طبعت بدار البشائر الإسلامية ببيروت - تحقيق على محيى الدين على القرداغى عام (1406 هـ - 1986 م).
4 - التنقيح لألفاظ الجامع الصحيح؛ في الحديث.
وقد طبع في المطبعة العصرية بمصر سنة 1933 م.
5 - تشنيف السامع، شرح جمع الجوامع في أصول الفقه وهو شرح لكتاب جمع الجوامع للإمام السبكى وطبع بمصر في مطبعة شركة التمدن سنة 1382.
كما طبع حديثا في مصر أيضًا في مجلدات عدة.
6 - تخريج أحاديث الشرح الكبير للرافعي في علم الحديث. قال ابن حجر: وخرج أحاديث الرافعى، ومشى فيه على جمع ابن الملقن، لكنه سلك طريق الزيلعي في سوق الأحاديث بأسانيد خرجها فطال الكتاب بذلك. (الدرر 3/ 397).
ولعله ما ذكره الزركشي هنا في الإجابة "الذهب الإبريز في تخريج أحاديث فتح العزيز (ص: 64).
তাঁর জনৈক ছাত্র বলেন: "তিনি জ্ঞানার্জনের কাজে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিবেদিত করেছিলেন, এর বাইরে অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত হতেন না। তাঁর কিছু আত্মীয়-স্বজন ছিল যারা তাঁর পার্থিব বিষয়াদির প্রয়োজন পূরণ করে দিতেন।"
তাঁর নিকট অসংখ্য ছাত্র ইলম অর্জন করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লামা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল দায়িম আল-বারমাওয়ি আশ-শাফেয়ি এবং কাজি মুফতি নাজমুদ্দিন বিন হাজ্জি আদ-দিমাশকি আশ-শাফেয়ি।
তাঁর রচনাবলি:ইলমের প্রতি এই একনিষ্ঠতা মূল্যবান অনেক গ্রন্থের জন্ম দিয়েছে। আমাদের বর্তমান এই কিতাবটি ছাড়াও উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
১ - ই’লামুস সাজিদ বি-আহকামিল মাসাজিদ; এটি ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থ। কায়রোর ‘আল-মাজলিসুল আ’লা লিশ-শুউনিল ইসলামিয়্যাহ’ থেকে ১৩৮৫ হিজরি সালে আবুল ওয়াফা আল-মারাগির তাহকিকসহ মুদ্রিত হয়েছে।
২ - আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন।
মিশরে আবুল ফজল ইবরাহিমের তাহকিকে চার খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
৩ - রিসালাতু মা’না লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ; এটি তাওহিদ বিষয়ক গ্রন্থ।
বৈরুতের ‘দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ’ থেকে ১৪০৬ হিজরি (১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ) সালে আলি মুহিউদ্দিন আলি আল-কারাদাগির তাহকিকসহ মুদ্রিত হয়েছে।
৪ - আত-তানকিহ লি-আলফাজিল জামিউস সহিহ; এটি হাদিস বিষয়ক গ্রন্থ।
১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে মিশরের ‘আল-মাতবাআতুল আসরিয়্যাহ’ থেকে এটি মুদ্রিত হয়েছে।
৫ - তাশনিউস সামি‘, শারহু জামউল জাওয়ামি‘ ফি উসুলিল ফিকহ; এটি ইমাম সুবকির ‘জামউল জাওয়ামি‘ কিতাবটির ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি ১৩৮২ সালে মিশরের ‘মাতবাআতু শারিকাতিত তামাদ্দুন’ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
এছাড়া বর্তমানে এটি মিশর থেকে বেশ কয়েক খণ্ডে পুনরায় মুদ্রিত হয়েছে।
৬ - তাখরিজু আহাদিসিশ শারহিল কাবির লির-রাফেয়ি; এটি হাদিস শাস্ত্রের গ্রন্থ। ইবনে হাজার বলেন: তিনি রাফেয়ির (বর্ণিত) হাদিসগুলো তাখরিজ করেছেন এবং এক্ষেত্রে ইবনুল মুলাক্কিনের সংকলন অনুসরণ করেছেন। তবে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি জায়লায়ির পদ্ধতি অনুসরণ করে স্বীয় সনদে হাদিসগুলো উপস্থাপন করেছেন, ফলে কিতাবটি দীর্ঘ হয়ে গিয়েছে। (আদ-দুরার ৩/৩৯৭)।
সম্ভবত এটিই সেই কিতাব যার কথা যারকাশী এখানে ‘আল-ইজাবাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: ‘আয-যাহাবুল ইব্রিয ফি তাখরিজি আহাদিসি ফাতহিল আযিয’ (পৃষ্ঠা: ৬৪)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ৭)
7 - البحر المحيط في أصول الفقه:
ومنه نسخة خطية بدار الكتب المصرية برقم (483) أصول.
8 - سلاسل الذهب، في أصول الفقه:
ذكر فيه مسائل هامة أصول الفقه.
وهو محقق بكلية الشريعة والقانون - جامعة الأزهر بتحقيق مأمون عبد القيوم
9 - خبايا الزوايا، في الفقه:
وهو كتاب في المسائل التي ذكرها الرافعى والنووى في غير مظانها، وحققه عبد القادر عبد الله لنيل درجة الماجستير في كلية الشريعة بالأزهر. وقد طبع هذا الكتاب عام 1402 هـ / 1982 م.
10 - النكت على مقدمة ابن الصلاح، وقد نشر هذه الكتاب في أربعة مجلدات بتحقيق د/ زين العابدين بن محمد بلا فريح - أضواء السلف - الرياض 1419 هـ / 1998 م.
11 - زهر العريش في تحريم الحشيس. حققه د/ السيد أحمد فرج - دار الوفاء - مصر 1407 هـ / 1987 م. ومؤلفات غير هذه كثيرة.
وبعد حياة حافلة بالعلم وعطائه؛ اشتغالا بتدريسه، والتأليف فيه توفى بمصر ثالث رجب سنة (794 هـ)
(1).
منهج الزركشي في الإجابةرتب الزركشي كتابه على أسماء الصحابة الذين استدركت عليهم السيدة عائشة رضي الله عنها.
--------------------------------------------
৭ - আল-বাহরুল মুহীত ফী উসুলিল ফিকহ:
এর একটি পাণ্ডুলিপি মিশরের 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ'-তে (৪৮৩) 'উসুল' নম্বরে সংরক্ষিত আছে।
৮ - সালাসিলুজ যাহাব, উসুলুল ফিকহ বিষয়ে:
এতে তিনি উসুলুল ফিকহের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহ আলোচনা করেছেন।
এটি আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ ও আইন অনুষদে মামুন আব্দুল কাইয়ুমের সম্পাদনায় সম্পাদিত হয়েছে।
৯ - খাবায়াল যাওয়ায়া, ফিকহ বিষয়ে:
এটি এমন একটি গ্রন্থ যা ইমাম রাফেয়ী এবং ইমাম নববী তাদের কিতাবের অপ্রাসঙ্গিক স্থানে যে মাসআলাগুলো উল্লেখ করেছেন তা নিয়ে রচিত। আব্দুল কাদির আব্দুল্লাহ আযহারের শরীয়াহ অনুষদে তার স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রির জন্য এটি সম্পাদন করেছেন। এই বইটি ১৪০২ হিজরী / ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়েছে।
১০ - আন-নুকাতে আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ। বইটি ড. যয়নুল আবেদীন বিন মুহাম্মদ বিলা ফারিহ-এর সম্পাদনায় চার খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে - আদওয়াউস সালাফ - রিয়াদ ১৪১৯ হিজরী / ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ।
১১ - যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ। এটি ড. আস-সাইয়িদ আহমদ ফারাজ সম্পাদন করেছেন - দারুল ওয়াফা - মিশর ১৪০৭ হিজরী / ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ। এগুলি ছাড়াও তাঁর আরও অনেক রচনা রয়েছে।
জ্ঞানচর্চা, শিক্ষা দান এবং গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে এক কর্মমুখর জীবন অতিবাহিত করার পর তিনি ৭৯৪ হিজরীর ৩রা রজব মিশরে ইন্তেকাল করেন।
(১)।
আল-ইজাবাহ গ্রন্থে যারকাশীর পদ্ধতিযারকাশী তাঁর গ্রন্থটি সেই সকল সাহাবীগণের নামের ক্রমানুসারে সাজিয়েছেন যাঁদের ভুল বা অসংগতি সায়্যিদাহ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সংশোধন করে দিয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ৮)
وتحت اسم كل صحابي يأتى بالأحاديث التي رواها الصحابي، واستدراك السيدة عائشة عليها.
ثم يناقش ويصحّح ويضعف، ويجمع بين الروايات - إن أمكن الجمع بينها.
وفى كل هذا يتجلى سعة علم الزركشى، ومعرفته بالروايات؛ ما يتفق منها وما يختلف، وكثرةُ مصادره، بما يكون فيه إنصاف للسيدة عائشة رضي الله عنها، وإنصاف للصحابة الآخرين الذين استدركت عليهم.
وقد سبق الزركشي في التأليف في هذا الموضوع أبو منصور عبد المحسن بن محمد بن علي الشِّيمى البغدادى ت (406 هـ) في كتابه "استدراك أم المؤمنين عائشة على الصحابة".
وأبو منصور يكتفى بإيراد الأحاديث التي استدركتها السيدة عائشة بإسناده إلى الصحابي الذي رواها دون ترتيب فقد يذكر استدراكًا على ابن عمر، ثم عن أبي هريرة، ثم عن ابن عمر، وهكذا.
وهو يكتفى بإيراد الأحاديث فقط دون تعليق عليها، أو تصحيح، أو تضعيف، أو مناقشة، أو إيراد روايات أخرى، كما يفعل كل هذا الزركشي.
وقد نقل الزركشي عن أبي منصور بعض الروايات التي لم يجدها في مصدر آخر، مما يدل على أنه اطلع على هذا الكتاب.
ولا شك أنه بهذا الإطلاع قد استفاد منه، ولكنها الاستفادة التي قد تنحصر في أنها فتحت للزركشى بعض آفاق هذا الموضوع، ودلته على كثير من رواياته التي تشكل الأساس في الموضوع.
ولكن يبقى للزركشى مصادره المتنوعة، ورواياته الغزيرة، ومادته الواسعة، وجَوَلاته المتعددة؛ على طريق الجمع بين الروايات وتوثيقها، وتصحيح بعضها، وتضعيف بعضها الآخر، والإلمام بجوانب كل موضوع من موضوعات الاستدراكات.
ولا بأس من الإشارة هنا إلى كتاب آخر على علاقة بالإجابة والكلام عنه مفيد
প্রত্যেক সাহাবীর নামের অধীনে সেই সাহাবীর বর্ণিত হাদীসসমূহ এবং সেগুলোর ওপর সায়্যিদাহ আয়িশার সংশোধনীসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর তিনি আলোচনা করেন, (হাদীসকে) সহীহ বা যয়ীফ সাব্যস্ত করেন এবং বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করেন—যদি সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয়।
এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে আয-যারকাশীর জ্ঞানের বিশালতা, বর্ণনাগুলো সম্পর্কে তাঁর পরিচিতি—সেগুলোর কোনটি সঙ্গতিপূর্ণ আর কোনটি ভিন্নতর—এবং তাঁর উৎসের প্রাচুর্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে; যার মাধ্যমে সায়্যিদাহ আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এবং অন্যান্য সাহাবী, যাঁদের ওপর তিনি সংশোধনী দিয়েছেন, তাঁদের উভয়ের প্রতি ইনসাফ প্রদর্শিত হয়েছে।
আয-যারকাশীর পূর্বে আবু মানসুর আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শীমী আল-বাগদাদী (মৃ. ৪০৬ হি.) তাঁর "ইস্তিদরাকু উম্মিল মুমিনীন আয়িশা আলাস সাহাবা" গ্রন্থে এই বিষয়ে রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
আবু মানসুর কেবল সায়্যিদাহ আয়িশা কর্তৃক সংশোধিত হাদীসগুলো যে সাহাবী বর্ণনা করেছেন তাঁর সনদসহ উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন, কোনো প্রকার বিন্যাস ছাড়াই; ফলে তিনি হয়তো ইবনে উমর-এর ওপর একটি সংশোধনী উল্লেখ করেছেন, তারপর আবু হুরায়রা থেকে, এরপর আবার ইবনে উমর থেকে—এভাবেই (লিখেছেন)।
তিনি কোনো মন্তব্য, সহীহ বা যয়ীফ নির্ধারণ, আলোচনা বা অন্য কোনো বর্ণনা উল্লেখ করা ছাড়াই কেবল হাদীসগুলো আনয়নে সীমাবদ্ধ থেকেছেন; যেখানে আয-যারকাশী এ সব কিছুই করেছেন।
আয-যারকাশী আবু মানসুরের নিকট থেকে এমন কিছু বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যা তিনি অন্য কোনো উৎসে পাননি, যা প্রমাণ করে যে তিনি এই গ্রন্থটি অধ্যয়ন করেছিলেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই অধ্যয়নের মাধ্যমে তিনি উপকৃত হয়েছেন, তবে সেই উপকারিতা হয়তো আয-যারকাশীর জন্য এই বিষয়ের কিছু দিগন্ত উন্মোচন এবং তাঁকে এমন অনেক বর্ণনার সন্ধান দেওয়ায় সীমাবদ্ধ ছিল যা এই বিষয়ের মূল ভিত্তি গঠন করে।
তবে বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন, সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতা যাচাই, কোনোটিকে সহীহ ও কোনোটিকে যয়ীফ সাব্যস্ত করা এবং সংশোধনীসমূহের প্রতিটি বিষয়ের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবগত হওয়ার ক্ষেত্রে আয-যারকাশীর বৈচিত্র্যময় উৎস, প্রচুর বর্ণনা, বিশাল উপাদান এবং বহুমুখী বিচরণ অনন্য হয়ে রয়েছে।
এখানে 'আল-ইজাবাহ' গ্রন্থের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য একটি কিতাবের প্রতি ইঙ্গিত করা যেতে পারে, যার সম্পর্কে আলোচনা করা ফলপ্রসূ হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ৯)
في بيان منهج الإجابة، ألا وهو: "عين الإصابة في استدراك عائشة على الصحابة" لجلال الدين السيوطي.
لخص في هذا الكتاب الإجابة، ولكنه - كما ذكر في المقدمة - حذف ما رآه أنه ليس من الاستدراكات، كما يبين ذلك في مقدمة الكتاب.
وأهم من هذا أنه رتبه على الموضوعات، وليس على الصحابة كما صنع الزركشي، فجمع ما يتعلق بالطهارة من الاستدراكات في موضع واحد، ثم الصلاة، ثم الجنائز، ثم الصيام، .. وهكذا.
وهو يكتفى بإيراد الحديث فقط في الغالب الأعم، ولا يصول ويجول في الموضوع كما يفعل الزركشي.
عملنا في هذا الكتاب:هذا الكتاب طبع في طبعته الأولى عام (1358 هـ / 1939 م)، طبعه الأستاذ سعيد الأفغانى على نسخة وحيدة بخط المؤلف.
وقد بذل الأستاذ سعيد جهدًا كبيرًا في قراءة هذا المخطوط، ونقله، فالمخطوط تصعب قراءته، ولولا هذا الجهد الذي بذله، والمعاناة التي عاناها - فلربما ما خرج هذا الكتاب إلى النور، فجزاه الله تعالى خير الجزاء وأحسنه.
وهذه الصعوبة في الخط قد ألقت بظلالها على النسخة المطبوعة على الرغم من هذا الجهد، فهناك بعض الكلمات التي لم يستطع قراءتها أو قرئت قراءة غير صحيحة، وأثبتت كذلك.
كما أن الكتاب لم تخرج أحاديثه بالرجوع إلى مصادر المصنف، والدلالة على مواضع الأحاديث فيها، ومقارنتها بما في هذه المصادر؛ إذ اكتفى المصنف بالعزو إلى هذه المصادر، ولم يصنع شيئًا في هذا المجال صاحب الطبعة الأولى.
هنا كان الكتاب في حاجة إلى إعادة تحقيق وتخريج لأحاديثه، وإعادة لقراءته في ضوء ما في هذه المصادر مقارنة بما في الكتاب، وشرح لغريبه، وتعليق على ما يحتاج إلى تعليق وتوثيق لنصوصه ما أمكن، وهذا ما صنعناه.
জালালুদ্দীন সুয়ূতী বিরচিত 'আল-ইজাবাহ'-এর মানহাজ বা পদ্ধতির বর্ণনায়, যা হলো: 'আইনুল ইসাবাহ ফী ইসতিদরিক আইশা আলাস সাহাবাহ'।
তিনি এই কিতাবে 'আল-ইজাবাহ' গ্রন্থটিকে সংক্ষেপ করেছেন, তবে—যেমনটি তিনি ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন—তিনি এমন বিষয়গুলো বাদ দিয়েছেন যেগুলোকে তিনি প্রকৃত সংশোধনী (ইস্তিদরাক) মনে করেননি, যা তিনি কিতাবের ভূমিকায় স্পষ্ট করেছেন।
এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি এটি বিষয়ভিত্তিক বিন্যস্ত করেছেন, যারকাশী যেমন সাহাবীভিত্তিক বিন্যস্ত করেছিলেন তেমনটি নয়। ফলে তিনি পবিত্রতা সংক্রান্ত সংশোধনীগুলো এক স্থানে জমা করেছেন, এরপর সালাত, এরপর জানাযা, এরপর সিয়াম... এভাবে।
তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল হাদীসটি উল্লেখ করার মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছেন এবং যারকাশীর মতো বিষয়ের গভীরে বিস্তারিত আলোচনা করেননি।
এই কিতাবে আমাদের কর্মপদ্ধতি:এই কিতাবটি ১৩৫৮ হিজরী / ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রথমবার মুদ্রিত হয়। উস্তাদ সাঈদ আল-আফগানী লেখকের নিজ হাতের লেখা একমাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে এটি মুদ্রণ করেন।
উস্তাদ সাঈদ এই পাণ্ডুলিপিটি পাঠ এবং তা অনুলিপি করার ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, কারণ পাণ্ডুলিপিটি পাঠ করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। যদি তাঁর এই প্রচেষ্টা এবং কষ্ট না থাকত, তবে হয়তো এই কিতাবটি আলোর মুখ দেখত না। আল্লাহ তাআলা তাঁকে সর্বোত্তম ও কল্যাণকর প্রতিদান দান করুন।
হস্তলিপির এই অস্পষ্টতা এই প্রচেষ্টার পরেও মুদ্রিত কপির ওপর প্রভাব ফেলেছে; ফলে এমন কিছু শব্দ রয়ে গেছে যা তিনি পড়তে পারেননি অথবা ভুলভাবে পাঠ করেছেন এবং সেভাবেই তা বহাল রাখা হয়েছে।
এছাড়া কিতাবটির হাদীসসমূহ মূল লেখকের উৎসগ্রন্থগুলোর আলোকে তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) করা হয়নি, না সেগুলোতে হাদীসগুলোর স্থান নির্দেশ করা হয়েছে, আর না সেই উৎসগুলোর সাথে সেগুলোর তুলনা করা হয়েছে; কেননা মূল লেখক কেবল সেই উৎসগুলোর নাম উল্লেখ করার মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছেন এবং প্রথম মুদ্রণের সম্পাদক এ ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো কাজ করেননি।
এখানেই কিতাবটির পুনরায় তাহকীক এবং এর হাদীসসমূহের তাখরীজ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেইসাথে মূল উৎসগ্রন্থসমূহের আলোকে কিতাবটির পাঠ পুনঃনিরীক্ষণ করা, কঠিন শব্দগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান, প্রয়োজনীয় টীকা সংযোজন এবং যথাসম্ভব এর পাঠ্যসমূহের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করার প্রয়োজন ছিল। আর আমরা এটিই সম্পন্ন করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ১০)
وبحمد الله عز وجل وعونة وتوفيقه صححنا الكثير من الألفاظ والعبارات بالرجوع إلى مصادر المصنف، والمقارنة بين ما فيها وما في الإجابة، كما يتضح ذلك في الفروق التي أثبتناها في الهوامش.
وخَرَّجْنَا الأحاديث ووثقنا كثيرًا من النصوص من مصادرها، وعلّقنا بالتفصيل على ما في الكتاب، بما يُجَلَّى مراده، وما هدف إليه.
والحق أن الرجوع إلى أغلب المصادر كان بمثابة النسخة الثانية للكتاب الذي لا توجد له إلا نسخة واحدة على أغلب الظن، هي التي طبع عليها الأستاذ سعيد الأفغانى الكتاب والتي حققنا عليها الكتاب كذلك، وهي سقيمة الخط، كما بينا.
وهى في المكتبة الظاهرية بدمشق ضمن مجموع برقم (32) مجاميع وهى من ورقة (68) إلى (114) أي في أربعة وأربعين ورقة وهذه الورقات ليست على وتيرة واحدة - كما نشاهده في معظم المخطوطات فنجد بعضها مزدحمًا بالأسطر، وخاصة ما يُلْحِقه المؤلف في الحواشى مما هو من النص، وبعضها ليس فيه إلا أسطر قليلة، ولهذا فأَفْضَلُ وصف لها هي نشر بعض هذه الصفحات ليتعرف عليها الباحثون واقعا ملموسًا، وليس وصفًا لا يجلِّى طبيعة هذه النسخة.
وفى صفحة العنوان جاء عنوان الكتاب:
"الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة".
تأليف الفقير إلى رحمة ربه وعفوه محمد بن عبد الله الزركشي الشافعي، لطف الله به. آمين ..
وتحت العنوان أسطر فيها كلام للحافظ ابن حجر، ننقله، ثم نعلق عليه، وهو:
"قال أبو الفضل بن حجر: أصل هذا التصنيف للأستاذ الجليل أبي منصور عبد المحسن بن محمد بن علي بن طاهر البغدادى الفقيه المُحَدِّث المشهور، رأيته في مجلدة لطيفة، وجملة ما فيه من الأحاديث (25) حديثًا، وكان الكتاب المذكور عند القاضي برهان الدين بن جماعة، فما أدرى: هل خفى عليه وقت
মহান আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা, তাঁর সাহায্য ও তাওফিকের মাধ্যমে আমরা গ্রন্থকারের মূল উৎসসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে এবং সেই উৎসগুলোর সাথে এই গ্রন্থের বিষয়বস্তুর তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে অনেক শব্দ ও বাক্য সংশোধন করেছি, যা আমাদের টীকাগুলোতে উল্লেখ করা পাঠভেদের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
আমরা হাদিসগুলোর তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) করেছি এবং অধিকাংশ উদ্ধৃতির মূল উৎস থেকে প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করেছি। এছাড়াও গ্রন্থের বিষয়বস্তুর ওপর বিস্তারিত টীকা প্রদান করেছি, যাতে লেখকের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সত্য কথা এই যে, অধিকাংশ উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করা এই গ্রন্থটির দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির বিকল্প হিসেবে কাজ করেছে, কারণ ধারণা করা হয় যে এর মাত্র একটি পাণ্ডুলিপিই বিদ্যমান। সেই পাণ্ডুলিপিটি থেকেই উস্তাদ সাঈদ আল-আফগানি গ্রন্থটি প্রকাশ করেছিলেন এবং আমরাও সেটির ওপর ভিত্তি করেই গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছি; তবে আমরা যেমনটা ব্যাখ্যা করেছি, সেই পাণ্ডুলিপিটির হস্তলিপি ছিল খুবই অস্পষ্ট ও ত্রুটিপূর্ণ।
এটি দামেস্কের মাকতাবাতুয যাহিরিয়্যাহ-তে ৩২ নম্বর 'মাজমুআ' (সংকলন)-এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ৬৮ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে ১১৪ নম্বর পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত, অর্থাৎ মোট চুয়াল্লিশটি পৃষ্ঠা। এই পৃষ্ঠাগুলো সব একই ধাঁচের নয়—যেমনটা আমরা অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে দেখে থাকি। কোনো কোনো পৃষ্ঠা লাইনে ঠাসা, বিশেষ করে লেখক মূল পাঠের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে টীকায় যা যোগ করেছেন তার কারণে; আবার কোনোটিতে সামান্য কয়েকটি লাইন রয়েছে। তাই এই পাণ্ডুলিপিটির শ্রেষ্ঠ বর্ণনা হলো এর কয়েকটি পৃষ্ঠা প্রকাশ করা, যাতে গবেষকরা এর প্রকৃত রূপ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেতে পারেন, যা কেবল বর্ণনার মাধ্যমে এই পাণ্ডুলিপির প্রকৃতি ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়।
শিরোনামের পাতায় গ্রন্থটির শিরোনাম এভাবে এসেছে:
"আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাসতাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ" (সাহাবায়ে কেরামের ওপর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যেসব বিষয়ে সংশোধনী দিয়েছেন তার উপস্থাপনা)।
রচনায়: তাঁর রবের দয়া ও ক্ষমার মুখাপেক্ষী অভাবী বান্দা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আয-যারকাশি আশ-শাফিয়ি, আল্লাহ তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করুন। আমিন।
শিরোনামের নিচে কয়েক লাইন রয়েছে যেখানে হাফেজ ইবনে হাজারের বক্তব্য উদ্ধৃত আছে, আমরা তা এখানে উল্লেখ করছি এবং এরপর তার ওপর মন্তব্য করব; বক্তব্যটি হলো:
"আবু ফজল ইবনে হাজার বলেন: এই রচনার মূল ভিত্তি হলো প্রখ্যাত ফকিহ ও মুহাদ্দিস মহান উস্তাদ আবু মনসুর আব্দুল মুহসিন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে তাহের আল-বাগদাদির কাজ। আমি এটি একটি ক্ষুদ্র খণ্ডে দেখেছি, যাতে মোট হাদিস ছিল ২৫টি। উল্লিখিত বইটি কাজী বুরহানুদ্দিন ইবনে জামাআহর নিকট ছিল, তবে আমি জানি না সেই সময় কি তাঁর নিকট এটি অস্পষ্ট ছিল..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ১১)
تقديم هذا له أو أعلمه به؟ نعم، لمصنف الإجابة حُسْنُ الترتيب والزيادات البَيِّنَة، والعزو إلى التصانيف الكبار، والأول على عادة من تقدم يقتصر على سوق الأحاديث بأسانيده إلى شيوخه، وجملة من أخرج ذلك عنه من شيوخه نحو من ثلاثين شيخًا من شيوخ بغداد ومصر وغيرها، ولا يعزو التخريج إلى أحد. وقد نقل هذا المصنف عن أبي منصور في هذا الكتاب، فعلم أنه وقف عليه، وكان ينبغي له أن ينبه على ذلك، وهذا التصنيف القديم أخبرنا به غير واحد من شيوخنا إجازة عن عبد القادر بن أبي البركات بن القريشي: أنا المُسَلَّم بن عَلَّان سماعًا، عن الخشوعي، عن أبي عبد الله الحسين بن محمد بن خسرو، أخبرنا المصنف سماعًا".
وهذا النص فيه مقارنة بين كتاب أبي منصور البغدادي والإجابة؛ لما قلناه من أن الزركشى قد استفاد من أبي منصور، ولكن ذلك لم يصل به إلى درجة النقل، كما قد يفهم من هذا النص، وكما جاء في نقل للسخاوى عن ابن حجر قوله: "فصل فيمن أخذ تصنيف غيره فادَّعاه لنفسه، وزاد فيه ونقص. قال السخاوى: كذا قرأت بخطه على "الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة" للزركشى، أصل هذا التصنيف .. الخ" وهذا يبين أن كلام ابن حجر السابق إنما هو بخطه.
والحق أن في هذا تَجَنٍّ على الزركشي؛ إذ أنه لم يَدَّع كلام أبي منصور؛ لأن الأخير إنما روى أحاديث فقط عن شيوخه، أما الزركشي فقد نحا نحوًا آخر، وهو عزو الروايات ونقلها عمن رواها من المصنِّفين، أي من غير طرق أبى منصور، وكان يلجأ إلى أبي منصور في الروايات التي لم يجدها عند غيره من المصنفين. وهي قليلة جدًّا، ويعزوها إليه وإلى روايته.
وكما لمس ابن حجر نفسه فـ "لمصنف الإجابة حسن الترتيب، والزيادات البينة، والعزو إلى التصانيف الكبار".
وكما قال ابن حجر نفسه في أبى منصور: إن كل عمله "على عادة من تقدم يقتصر على سَوْق الأحاديث بأسانيده إلى شيوخه".
এটি কি তার নিকট পেশ করা হয়েছে নাকি আমি তাকে এ সম্পর্কে অবহিত করেছি? হ্যাঁ, আল-ইজাবাহ গ্রন্থের রচয়িতার বিন্যাস শৈলী চমৎকার, এতে সুস্পষ্ট তাত্ত্বিক সংযোজন রয়েছে এবং বড় বড় কিতাবের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। আর প্রথমোক্ত ব্যক্তি (আবু মনসুর) পূর্বসূরিদের রীতি অনুযায়ী কেবল তার শায়খদের মাধ্যমে সনদসহ হাদিসগুলো বর্ণনা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। তার যে সকল শায়খদের থেকে তিনি এগুলো বর্ণনা করেছেন, তাদের সংখ্যা বাগদাদ, মিসর ও অন্যান্য স্থানের প্রায় ত্রিশজন শায়খ। তিনি কারো দিকে হাদিসের উৎসের উদ্ধৃতি দেননি। আর এই রচয়িতা (যারকাশী) এই কিতাবে আবু মনসুর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, ফলে বোঝা যায় যে তিনি এটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তার উচিত ছিল এ বিষয়ে ইঙ্গিত করা। আর এই প্রাচীন পাণ্ডুলিপিটি সম্পর্কে আমাদের একাধিক শায়খ অনুমতি বা ইজাজত প্রদান করেছেন, তারা বর্ণনা করেছেন আব্দুল কাদির বিন আবিল বারাকাত বিন আল-কুরাইশি থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শ্রবণ বা সামা মারফত বর্ণনা করেছেন আল-মুসাল্লাম বিন আল্লান, তিনি আল-খুশুয়ি থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন খুসরো থেকে, তিনি বলেন: গ্রন্থকার আমাদের নিকট শ্রবণ মারফত সংবাদ দিয়েছেন।
এই পাঠ্যটিতে আবু মনসুর আল-বাগদাদির কিতাব এবং 'আল-ইজাবাহ'র মধ্যে একটি তুলনা করা হয়েছে; যেমনটি আমরা বলেছি যে যারকাশী আবু মনসুর থেকে উপকৃত হয়েছেন। তবে এটি হুবহু নকল করার পর্যায়ে পৌঁছেনি, যেমনটি এই পাঠ থেকে বোঝা যেতে পারে। ইমাম সাখাভী ইমাম ইবনে হাজার থেকে যা বর্ণনা করেছেন সেখানেও বিষয়টি এসেছে, তিনি বলেছেন: "একটি পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি অন্যের রচনা গ্রহণ করে তা নিজের বলে দাবি করে এবং তাতে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটায়। সাখাভী বলেন: আমি যারকাশীর 'আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা ইস্তাদরাকাতহু আইশা আলা আস-সাহাবাহ' গ্রন্থের উপর তার হস্তাক্ষরে এভাবে পড়েছি, 'এই রচনার মূলভিত্তি হচ্ছে... ইত্যাদি'।" এটি স্পষ্ট করে যে, ইবনে হাজারের পূর্বোক্ত কথাগুলো মূলত তার নিজের হাতের লেখাতেই ছিল।
প্রকৃত সত্য হলো, এটি যারকাশীর প্রতি কিছুটা অবিচার; কারণ তিনি আবু মনসুরের বক্তব্যকে নিজের বলে দাবি করেননি। কেননা আবু মনসুর কেবল তার শায়খদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে যারকাশী ভিন্ন পথ অনুসরণ করেছেন, আর তা হলো বর্ণনাগুলোকে সেসব সংকলকদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা এবং তাদের থেকে উদ্ধৃত করা যারা সেগুলো বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ আবু মনসুরের সূত্র ছাড়াও অন্যান্য সূত্রে। তিনি কেবল সেই সব বর্ণনার ক্ষেত্রে আবু মনসুরের শরণাপন্ন হতেন যেগুলো তিনি অন্য কোনো সংকলকের কাছে পাননি। আর এ ধরণের বর্ণনা অত্যন্ত নগণ্য, এবং তিনি সেগুলো তার দিকে ও তার বর্ণনার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।
যেমনটি ইবনে হাজার নিজেই উপলব্ধি করেছেন যে, "আল-ইজাবাহ রচয়িতার বিন্যাস পদ্ধতি অত্যন্ত সুন্দর, এতে সুস্পষ্ট নতুন সংযোজন রয়েছে এবং বড় বড় প্রামাণ্য গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে"৷
যেমনটি ইবনে হাজার নিজেই আবু মনসুর সম্পর্কে বলেছেন: তার সমস্ত কাজই "পূর্বসূরিদের রীতি অনুযায়ী কেবল শায়খদের মাধ্যমে সনদসহ হাদিসগুলো উপস্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ"৷
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومهما يكن من أمر فقد أكد ابن حجر بهذا أن الكتاب للزركشى، ويضاف ذلك إلى البَيِّنَات الأخرى من تسجيل قراءة ابن المصنف ونسخه، كما يتضح من صفحة العنوان، في مربع على اليسار، ففيه:
"فرغه قراءة ونسخًا العبد محمد بن محمد بن الزركشي، عامله الله تعالى بلطفه الخفى".
ومن سماع الابن المذكور الكتاب على والده هو وإخوته وأخواته وقد سجلنا ذلك في آخر الكتاب.
وهناك نَصَّان آخران في صفحة العنوان يتعلقان بأخبار عن السيدة عائشة - رضي الله عنها، وهما:
النص الأول:"نقلت من كتاب أبى بكر محمد بن عبد الملك التاريخي
(1) الذي وضعه أخبار النحاة: حدثنا سوادة بن علي: ثنا محمد بن عبد الله بن نمير: ثنا أبو معاوية: ثنا المنهال بن خليفة عن سلمة بن هشام قال: كانت حفصة وعائشة متآخيتين، وكانت سودة وأم سلمة متآخيتين، فكانت سودة تنشد:
"عَدِيٌّ وتَيْمٌ تَبْتَغِي مَنْ تُحالِفُ"
فقالت عائشة: "ما تُعَرِّضُ إلا بى وبك يا حفصة. فإذا رأيتني قد قمت فأخذت برأسها فأعينينى" فقامت فأخذت برأسها وخافت حفصة فأعانتها، وجاءت أم سلمة فأعانت سودة، فأتى النبي صلى الله عليه وسلم فأخبر، وقيل له: "أدرك نساءك يقتتلن" فقال: "ويحكن ما لكن؟ " فقالت عائشة: "يا رسول الله، ألا تسمعها تقول: "عدى وتيم تبتغى من تحالف"؟ فقال: "ويحكن ليس عَدِيُّكُنَّ ولا تَيْمُكُنَّ، إنما هو عدى تميم، وتيم تميم".
--------------------------------------------
যাই হোক না কেন, ইবনে হাজার এর মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে কিতাবটি আল-যারকাশীর। এর সাথে অন্যান্য প্রমাণাদিও যুক্ত হয়, যেমন গ্রন্থকারের পুত্রের পাঠ এবং অনুলিপিকরণের রেকর্ড, যা শিরোনাম পৃষ্ঠার বাম দিকের একটি চতুর্ভুজ বাক্সে স্পষ্ট দেখা যায়, তাতে রয়েছে:
"বান্দা মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-যারকাশী এটি পাঠ এবং অনুলিপি সম্পন্ন করেছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর গোপন দয়া দিয়ে তাঁর সাথে আচরণ করুন।"
আর উক্ত পুত্রের তাঁর পিতার নিকট কিতাবটি শোনার (সামা') বিষয়টিও রয়েছে, তিনি নিজে এবং তাঁর ভাই ও বোনেরাও এটি শুনেছেন, যা আমরা কিতাবের শেষে লিপিবদ্ধ করেছি।
শিরোনাম পৃষ্ঠায় আরও দুটি পাঠ রয়েছে যা সায়্যিদাহ আয়েশা -রাযিয়াল্লাহু আনহা- এর সংবাদ সংশ্লিষ্ট, সেগুলো হলো:
প্রথম পাঠ:"আমি আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আল-তারীখী
(১)-এর কিতাব থেকে উদ্ধৃত করেছি যা তিনি ব্যাকরণবিদদের সংবাদ নিয়ে রচনা করেছেন: সুওয়াদাহ বিন আলী আমাদের বলেছেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমায়ের আমাদের বলেছেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের বলেছেন: মিনহাল বিন খলীফাহ আমাদের বলেছেন সালামাহ বিন হিশাম থেকে, তিনি বলেন: হাফসা ও আয়েশা পরস্পরের সাথে ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সাওদা ও উম্মে সালামা পরস্পরের সাথে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তখন সাওদা আবৃত্তি করতেন:
"আদী এবং তায়ম গোত্র এমন কাউকে খুঁজছে যারা তাদের সাথে সন্ধি করবে"
তখন আয়েশা বললেন: "হে হাফসা! সে আমাকে এবং তোমাকে ছাড়া আর কাউকেই ইঙ্গিত করছে না। সুতরাং যখন তুমি দেখবে আমি দাঁড়িয়ে তাঁর মাথা ধরব, তখন তুমি আমাকে সাহায্য করো।" অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর মাথা ধরলেন এবং হাফসা ভয় পেয়ে তাঁকে সাহায্য করলেন। উম্মে সালামা এসে সাওদাকে সাহায্য করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং তাঁকে সংবাদ জানানো হলো। তাঁকে বলা হলো: "আপনার স্ত্রীদের খবর নিন, তারা তো মারামারি করছে।" তিনি বললেন: "তোমাদের দুর্ভাগ্য, তোমাদের কী হয়েছে?" আয়েশা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি শুনছেন না সে কী বলছে: 'আদী এবং তায়ম সন্ধি করার জন্য কাউকে খুঁজছে'?" তখন তিনি বললেন: "তোমাদের দুর্ভাগ্য, এটি তোমাদের আদী বা তোমাদের তায়ম গোত্র নয়; বরং এটি হলো তামীম গোত্রের আদী এবং তামীম গোত্রের তায়ম।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قال الكلبي: "تيم تميم هو الرَّبَاب وقيل: إن عَدِيًّا وتَيْمًا وتيم أخوان، قال جرير:
يا تَيْمُ تَيْمَ عَدِيٍّ لا أَبَا لَكُمْ
… لا يُوقِعَنَّكُمُ فِي سَوْءَةٍ عُمَرُ
والنص الثاني:
روى أبو نعيم الحافظ في حلية الأولياء
(1) في ترجمتها: "حدثنا سليمان بن أحمد، (ثنا أحمد)
(2) بن يحيى بن خالد (بن حيان)
(2) الرقى، ثنا محمد بن بشر المصرى، ثنا عثمان بن عبد الله، ثنا مالك بن أنس، عن هشام بن عروة، عن أبيه، عن عائشة قالت: "قلت لرسول الله صلى الله عليه وسلم: كيف حبك لي؟ " قال: "كَعُقْدَة الحَبْل" فكنت أقول: "كيف العُقْدَة يا رسول الله؟ " قالت: فيقول: "هي على حالها" اهـ.
هذا، وقد طبع هذا الكتاب طبعة أخرى في مصر، في مطبعة العاصمة بالقاهرة، نشره زكريا على يوسف، وهى نسخة منقولة من نسخة الأستاذ سعيد الأفغانى بعُجَرِها وبُجَرِها مع التعمية في ذلك. وليس عليها تاريخ نشر ولذلك لم نعبأ بها.
سندى إلى بدر الدين الزركشي:أروى الإجابة وسائر مؤلفات الزركشي عن شيخي المحدّث الكبير محمد الحافظ بن عبد اللطيف الحسنى الحسينى إجازة عن العلامة عبد الحي الكتاني صاحب فهرس الفهارس، عن أحمد رضا على خان، عن آل الرسول الأحمدى، عن عبد العزيز الدهلوى، عن أبيه ولى الله الدهلوى، عن محمد وفد الله بن محمد بن سليمان الرُّدَاني، وأبى الطاهر الكورانى، كلاهما عن محمد بن سليمان الرُّدَانى صاحب صلة الخلف بموصول السلف، عن علي بن أحمد
--------------------------------------------
কালবি বলেন: "তৈম তামীম হলো আর-রাবাব" এবং বলা হয়েছে যে: আদী এবং তৈম হলো দুই ভাই, জারির বলেছেন:
হে আদির তৈম, তোমাদের কোনো পিতা নেই
... উমর যেন তোমাদের কোনো মন্দ কাজে নিপতিত না করেন।
দ্বিতীয় পাঠ:
হাফেজ আবু নুআইম 'হিলইয়াতুল আউলিয়া'
(১) গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে বর্ণনা করেছেন: "আমাদের নিকট সুলায়মান ইবনে আহমদ বর্ণনা করেছেন, (আমাদের নিকট আহমদ)
(২) ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ (ইবনে হাইয়ান)
(২) আর-রিক্কি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে বিশর আল-মিসরি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মালিক ইবনে আনাস বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললাম: আমার প্রতি আপনার ভালোবাসা কেমন?" তিনি বললেন: "রশির গিঁটের মতো।" এরপর আমি বলতাম: "হে আল্লাহর রাসূল! গিঁটটি কেমন আছে?" তিনি বলতেন: "এটি আগের অবস্থাতেই আছে।" (সমাপ্ত)।
উল্লেখ্য যে, এই বইটি মিশরের কায়রোতে অবস্থিত মাতবাআতুল আসিমাহ থেকে অন্য একটি সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে, যা জাকারিয়া আলী ইউসুফ প্রকাশ করেছেন। এটি মূলত উস্তাদ সাঈদ আল-আফগানির পাণ্ডুলিপি থেকে তার ভালো-মন্দ এবং অস্পষ্টতা সহকারে নকল করা হয়েছে। এতে কোনো প্রকাশকাল উল্লেখ নেই, তাই আমরা এর প্রতি গুরুত্ব দিইনি।
বদরুদ্দিন আল-জারকাশি পর্যন্ত আমার সনদ:আমি 'আল-ইজাবাহ' এবং আল-জারকাশির অন্যান্য সকল গ্রন্থ আমার শায়খ মহান মুহাদ্দিস মুহাম্মদ হাফেজ ইবনে আব্দুল লতিফ আল-হাসানি আল-হুসাইনি থেকে ইজাজতসূত্রে বর্ণনা করি, তিনি 'ফিহরিসুল ফাহারিস'-এর রচয়িতা আল্লামা আব্দুল হাই আল-কাত্তানি থেকে, তিনি আহমদ রেজা আলী খান থেকে, তিনি আল-ই-রাসূল আল-আহমাদি থেকে, তিনি আব্দুল আজিজ দেহলভি থেকে, তিনি তাঁর পিতা শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ওয়াফদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলায়মান আর-রুদানি এবং আবু তাহির আল-কুরানি থেকে, তাঁরা উভয়ে 'সিলাতুল খালাফ বি-মাওসুলিস সালাফ'-এর রচয়িতা মুহাম্মদ ইবনে সুলায়মান আর-রুদানি থেকে, তিনি আলী ইবনে আহমদ থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الأجهورى وقاضي القضاة شهاب الدين أحمد بن محمد الخفاجي، عن الشمس محمد بن أحمد الرملي، والسراج بن الجاى، والشيخ بدر الدين الكرخي، عن الجلال السيوطي، عن تقى الدين الشهنى، عن والده، عن بدر الدين الزركشي.
* * *
والله أسأل لى ولمن يقرأ هذا الكتاب وينتفع به، وللمسلمين أن يوفقنا إلى ما يحبه ويرضاه، وأن يغفر زلاتنا، ويقبل عثراتنا، ويرحم موتانا وموتى المسلمين، وأن يتجاوز عما قصرت فيه.
وصلى الله تعالى وسلم وبارك على سيدنا وعلى آله وصحبه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
والحمد لله رب العالمين
رفعت فوزى عبد المطلب
القاهرة في شعبان من
سنة 1412 هـ / 2000 م.
আল-আজহুরী এবং কাযিউল কুদাত (প্রধান বিচারপতি) শিহাবুদ্দিন আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ আল-খাফাজি, শামস মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ আর-রামলি থেকে, আস-সিরাজ ইবনুল জাই এবং শাইখ বদরুদ্দিন আল-কারখি থেকে, তিনি জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী থেকে, তিনি তাকিউদ্দিন আশ-শামনি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বদরুদ্দিন আয-যারকাশি থেকে।
* * *
আমি আল্লাহর কাছে নিজের জন্য, যারা এই কিতাব পড়বে ও এর দ্বারা উপকৃত হবে তাদের জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমাদের সেই সব কাজের তাওফিক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আর তিনি যেন আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করেন, আমাদের পদস্খলনগুলো মার্জনা করেন, আমাদের মৃত ব্যক্তিদের এবং সকল মুসলিমের মৃতদের প্রতি দয়া করেন, আর আমি যা কিছুতে ত্রুটি করেছি তা ক্ষমা করে দেন।
মহান আল্লাহ সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন আমাদের নেতার ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
রিফাত ফাওযী আব্দুল মুত্তালিব
কায়রো, শাবান মাস,
১৪১২ হিজরী / ২০০০ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: -)
الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة - ت رفعت فوزي القسم: الفقه العام
الكتاب: الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة
المؤلف: بدر الدين الزركشي الشافعي (754 - 794 هـ)
تحقيق وتخريج: د رفعت فوزي عبد المطلب
(أستاذ الشريعة بجامعة القاهرة)
الناشر: مكتبة الخانجي - القاهرة
الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 172
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সাহাবীদের ওপর আয়েশা যে সকল বিষয়ে আপত্তি করেছেন তার সংকলন - সম্পাদনা: রিফাত ফাওজি বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
বই: সাহাবীদের ওপর আয়েশা যে সকল বিষয়ে আপত্তি করেছেন তার সংকলন
লেখক: বদরুদ্দিন আজ-যারকাশি আশ-শাফিয়ি (৭৫৪ - ৭৯৪ হিজরি)
তাহকিক ও তাখরিজ: ড. রিফাত ফাওজি আব্দুল মুত্তালিব
(কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ বিভাগের অধ্যাপক)
প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজি - কায়রো
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২১ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭২
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلّفالحمد لله الذي جعل فضل عائشة على النساء كفضل الثريد على سائر الطعام، وأعلى أعلام فتواها بين الأعلام، وألبسها حلَّة الشرف؛ حيث جاء إلى سيد الخلق الملك بها في سَرَقَةٍ
(1) من حرير في المنام.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة تَنْظِمُنا في أَبناء أُمهات المؤمنين، وتهدينا إلى سَنَنِ السنة آمنين.
وأشهد أن سيدنا محمدًا عبد الله ورسوله الذي أرشد إلى الشريعة البيضاء، وأعلن بفضل عائشة حتى قيل: خذوا شَطْر دينكم عن الحُمَيْرَاء.
صلى الله عليه وعلى آله وصحبه صباح مساء، وعلى أزواجه اللواتي قيل في حقهن: {لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ} [الأحزاب: 32] صلاة باقية في كل أوان دائمة ما اختلف المَلَوان.
وبعد، فهذا كتاب أجمعُ فيه ما تَفَرَّدَتْ به الصديقة رضي الله عنها، أو خالفت فيه سواها برأى منها، أو كان عندها فيه سُنَّةٌ بَيِّنَة، أَو زيادة عِلْمٍ مُتْقَنَة، أو أنكرت فيه على علماء زمانها، أو رجع فيه إليها أَجِلَّةُ من أَعيان أوانها، أَو حَرَّرَتْه من فتوى، أو اجتهدت فيه من رأى رأته أقوى. مُورِدًا ما وقع إليَّ من اختياراتها، ذاكرًا من الأخبار في ذلك ما وصل إليَّ عن رواتها. غير مدَّع في تمهيدها للاستيعاب، وأن الطاقة أحاطت بجمع
(2) ما في هذا الباب. على أنى
--------------------------------------------
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখকের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আয়েশার শ্রেষ্ঠত্বকে নারীদের ওপর তেমন করেছেন যেমন সমস্ত খাবারের ওপর সারীদের শ্রেষ্ঠত্ব; এবং আলেমদের মাঝে তাঁর ফতোয়ার পতাকাকে সমুন্নত করেছেন; আর তাঁকে সম্মানের পোশাকে ভূষিত করেছেন, যখন ফেরেশতা স্বপ্নের মধ্যে এক টুকরো রেশমি কাপড়ে জড়িয়ে তাঁকে সৃষ্টির সেরা মানবের নিকট নিয়ে এসেছিলেন।
(১)আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই—এমন এক সাক্ষ্য যা আমাদের উম্মুল মুমিনীনগণের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করে এবং আমাদের নিরাপত্তার সাথে সুন্নাহর পথে পরিচালিত করে।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি শুভ্র শরীয়তের পথ দেখিয়েছেন এবং আয়েশার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেছেন, এমনকি বলা হয়েছে: তোমরা তোমাদের দ্বীনের অর্ধেক এই হুমায়রা (আয়েশা) থেকে গ্রহণ করো।
আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর সকাল-সন্ধ্যা; আরও তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণের ওপর যাদের শানে বলা হয়েছে: {তোমরা নারীদের মধ্যে অন্য কারো মতো নও} [আল-আহযাব: ৩২]। এমন রহমত যা সর্বক্ষণ অব্যাহত থাকবে এবং রাত-দিনের পরিবর্তনের সাথে সাথে চিরস্থায়ী হবে।
অতঃপর, এটি এমন একটি গ্রন্থ যেখানে আমি সিদ্দিকা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর সেই সমস্ত বিষয়গুলো একত্রিত করেছি যাতে তিনি একক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন, অথবা নিজের মতের ভিত্তিতে অন্যদের থেকে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, অথবা যে বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো স্পষ্ট সুন্নাহ ছিল, কিংবা কোনো সুনিপুণ জ্ঞানের আধিক্য ছিল, অথবা যে বিষয়ে তিনি সমসাময়িক আলেমদের ভুল সংশোধন করেছেন, কিংবা যে বিষয়ে তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা তাঁর দিকে ফিরে এসেছেন, অথবা যে বিষয় তিনি ফতোয়া দিয়ে সুনিশ্চিত করেছেন, কিংবা যে বিষয়ে তিনি নিজের কাছে শক্তিশালী মনে হওয়া মতের ভিত্তিতে ইজতিহাদ করেছেন। আমি তাঁর পছন্দকৃত বিষয়গুলো এখানে উল্লেখ করেছি এবং বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে প্রাপ্ত এ সংক্রান্ত সংবাদগুলো বর্ণনা করেছি। তবে এই বিষয়ের উপস্থাপনায় আমি পূর্ণাঙ্গ ব্যাপ্তির দাবি করছি না, কিংবা এমন দাবিও করছি না যে আমার সামর্থ্য এই অধ্যায়ের সব কিছুকে পরিবেষ্টন করতে পেরেছে। যদিও আমি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ৪)
حَرَّرت ما وقع لى من ذلك تحريرًا، ونَمَّقْتُ بُروده رَقْمًا وتَحْبِيرًا. مع فوائد أَضمها إليه، وفرائد أنثرها عليه، لِيَكُنَّ عقدًا ثمينةٌ جواهرُه، وفَلَكًا منيرة زواهره، ولقد وفقت لجمعها في زمن قريب، وأصبح مأهول ربعها مأوىً لكل غريب. وما هذا إلا ببركة هذا البيت العظيم الفخر، وما هي بأول بركتكم يا آل أبي بكر. وسميته (الإجابة: لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة).
والله أَسأَلُ أَن يجعله خالصًا لوجهه الكريم، موصلًا إلى جنان النعيم.
وأهديته إلى بحر علمٍ ثمينٍ جَوْهَرُه، وأُفق فَضْلِ أَضَاءَ شمشُه وقمرُه، وروضِ آدابٍ يانعة ثمارُهُ، ساطعة أزهاره، سيدى
(1) قاضي القضاة برهان الدين بن جماعة
(2) الشافعي، أَدام الله عُلُوَّه، وكَبَتَ عدوه؛ إذ لمذهب الشافعي من ثماره أيُّ روضات، وهو لمحرابه إمام يتلو فيه من معجز القول آيات. قد أظهر عرائس فضله المَجْلُوَّة، وأَبرز نفائس نقله المحبَّرة، وبهر العقول بدقائقه التي بهرت، وزاد المباحث رَوْنَقًا بعبارته التي سحرت الأَلباب وما شعرت، تهدى العلوم إليه، وهو حقيقة أدرى من المهدى بهن وأَعلم. وكنت في إهدائه إلى مقامه كمن يهدى إلى البستان أَزهاره؛ وإلى الفلك شموسه وأَقماره، وإلى البحر جَدْوَلًا، وإلى السيل وشَلًا
(3)، ولكن عرضت هذا المصنف على ملك الكلام؛ بل أمير المؤمنين في الحديث والإمام لأُثَقِّفَه
(4) باطلاعه عليه، والسلام.
والله تعالى يجعل أيامه كلها مواسم، ويُطَرِّزُ التصانيف بفوائده حتى تصير كالثغور البواسم.
* * *
--------------------------------------------
আমি যা সংগ্রহ করেছি তা পরিমার্জন ও সুবিন্যস্ত করেছি এবং এর অলংকারগুলোকে লিখন ও সুচারু শৈলীতে সুশোভিত করেছি। এর সাথে এমন কিছু জ্ঞানগর্ভ শিক্ষা সংযুক্ত করেছি এবং অনন্য তথ্যাবলি এতে ছড়িয়ে দিয়েছি, যাতে এটি একটি মূল্যবান রত্নখচিত হারে এবং উজ্জ্বল নক্ষত্রখচিত আকাশমণ্ডলে পরিণত হয়। আমি অল্প সময়ের মধ্যেই তা সংকলন করার তাওফিক লাভ করেছি এবং এর আঙিনা প্রতিটি বিরল বিষয়ের আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। আর এটি এই মহান ও গৌরবান্বিত গৃহের বরকত ছাড়া আর কিছুই নয়; হে আবু বকরের বংশধরগণ! এটিই আপনাদের প্রথম বরকত নয়। এবং আমি এর নামকরণ করেছি (আল-ইজাবাহ: লি-ইরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়েশা আলাস সাহাবাহ)।
আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি একে তাঁর মহান সত্তার জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং একে জান্নাতুল নাঈমে পৌঁছানোর অসিলা বানান।
আমি এটি উৎসর্গ করেছি জ্ঞানের এক সমুদ্রের প্রতি যার রত্নরাজি অত্যন্ত মূল্যবান, এবং এমন এক মর্যাদার দিগন্তের প্রতি যার সূর্য ও চন্দ্র সুদীপ্ত, এবং এক আদব ও শিষ্টাচারের উদ্যানের প্রতি যার ফলসমূহ সুপক্ক ও ফুলসমূহ সৌরভময়; আমার নেতা
(১) প্রধান বিচারপতি বুরহান উদ্দিন ইবনে জামাআহ
(২) আশ-শাফিয়ী—আল্লাহ তাঁর মর্যাদা দীর্ঘস্থায়ী করুন এবং তাঁর শত্রুকে পরাস্ত করুন—কেননা শাফিয়ী মাজহাবের জন্য তাঁর কর্মের ফলসমূহ থেকে অনেক বাগান রয়েছে; আর তিনি এর মিহরাবের এমন একজন ইমাম যিনি তাতে অলৌকিক বাণীর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তিনি তাঁর সুপ্রকট শ্রেষ্ঠত্বের মাহাত্ম্য প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর অলঙ্কৃত বর্ণনার মূল্যবান নির্যাস বের করে এনেছেন। তিনি তাঁর সূক্ষ্ম তথ্যাবলি দ্বারা জ্ঞানীদের বুদ্ধিকে বিমোহিত করেছেন এবং তাঁর জাদুকরী বাচনভঙ্গি দ্বারা আলোচনার সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা মানুষকে অলক্ষ্যেই বিমুগ্ধ করে। তাঁর কাছে জ্ঞান উপহার স্বরূপ পেশ করা হয়, অথচ প্রকৃতপক্ষে তিনি সেই উপহার প্রদানকারী অপেক্ষা অধিক অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী। তাঁর সুউচ্চ মকামে এটি উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার অবস্থা ছিল এমন যে—যেমন কেউ বাগানে ফুল উপহার দেয়, আকাশে সূর্য ও চন্দ্র উপহার দেয়, সমুদ্রে একটি ক্ষুদ্র নালা উপহার দেয় কিংবা ঝরনায় এক ফোঁটা পানি
(৩) উপহার দেয়। তবে আমি এই গ্রন্থটি বাকশিল্পের অধিপতির নিকট পেশ করেছি; বরং হাদিস শাস্ত্রের আমিরুল মুমিনিন ও ইমামের নিকট তা পেশ করেছি, যাতে তাঁর পর্যালোচনার মাধ্যমে আমি একে পরিমার্জিত
(৪) করতে পারি। আসসালাম।
মহান আল্লাহ তাঁর প্রতিটি দিনকে শুভ উৎসবে পরিণত করুন এবং তাঁর জ্ঞানগর্ভ তথ্যাবলি দিয়ে গ্রন্থসমূহকে এমনভাবে সুশোভিত করুন যেন সেগুলো মুচকি হাসিমুখের মতো দীপ্তিময় হয়ে ওঠে।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ৫)
الباب الأول(1) في ترجمتهَا وخصائصهَا
(1) فصل في ذكر شيءٍ من حالهاهي أُم المؤمنين، وأُم عبد الله عائشة بنت أَبي بكر؛ الصِّدِّيقَة بنت الصِّدِّيق رضي الله عنه وعنها، حبيبة رسول الله صلى الله عليه وسلم الفقيهة الرَّبَّانيَّةَ. كنيتها أُم عبد الله كناها به النبي صلى الله عليه وسلم، بابن أُختها عبد الله بن الزبير، رواه أبو داود، وقال الحاكم: صحيح الإسناد
(2).
وجاء في معجم ابن الأعرابي: أَنها جاءَت بسِقْطٍ فسماه النبي صلى الله عليه وسلم عبد الله، وكناها
(3) به وفي إسناده نظر؛ لأن مداره على داود بن المحَبَّر
(4) صاحب كتاب العقل.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ(১) তাঁর জীবনী ও বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে (১) তাঁর অবস্থার কিঞ্চিৎ বিবরণতিনি হলেন উম্মুল মুমিনীন (মুমিনদের জননী) এবং উম্মে আব্দুল্লাহ আয়েশা বিনতে আবু বকর; আস-সিদ্দীকা বিনতে আস-সিদ্দীক (আল্লাহ তাঁর এবং তাঁর পিতার প্রতি সন্তুষ্ট হোন), আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়তমা এবং রব্বানি ফকিহ (আল্লাহওয়ালা প্রজ্ঞা সম্পন্ন)। তাঁর কুনিয়া (উপনাম) হলো উম্মে আব্দুল্লাহ; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বোনের ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইরের নামে তাঁর এই কুনিয়া রেখেছিলেন। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম বলেছেন: এর সনদ সহীহ
(২)।
ইবনুল আরাবীর মু'জামে এসেছে: তিনি একটি মৃত সন্তান প্রসব করেছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম রেখেছিলেন আব্দুল্লাহ এবং সেই নামেই তাঁর কুনিয়া রেখেছিলেন
(৩)। তবে এর সনদে আপত্তি রয়েছে; কারণ এর বর্ণনাসূত্র আবর্তিত হয়েছে কিতাবুল আকল-এর লেখক দাউদ বিন আল-মুহাব্বারকে কেন্দ্র করে
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ৬)
وعائشة مأخوذة من العَيش، ويقال أَيضًا: عيشة، لغة حكاها ابن الأَعرابي: وعلى بن حمزة، ولا التفات لإسناد أَبي عبيد في الغريب المصنف ذلك.
وذكر أبو الفضل الفلكي في الألقاب: النبي صلى الله عليه وسلم صغَّر اسمها وقال يا عُوَيْش
(1).
وذكر صاحب مسند الفردوس أن الإمام أَحمد في مسنده رواه من حديث أُم سلمة: قالت عائشة: " (يا) رسول الله، علمني دعوة أدعو بها" فقال: "يا عُوَيْشِ، قوله: اللهم رب محمد النبي الأُمِّي أذهب عنى غيظ قلبي وأجزني من مُضلَّات الفتن
(2) ".
واستغربه ابن الصلاح في طبقاته.
وفى الصحيحين "يا عايش" على الترخيم
(3).
--------------------------------------------
আয়েশা (নামটি) ‘আইশ’ (জীবন) থেকে উদ্ভূত। এটিকে ‘আইশাহ’ও বলা হয়, যা ইবনুল আরাবি ও আলী বিন হামজাহ বর্ণনা করেছেন। তবে আবু উবাইদ ‘আল-গারিবুল মুসান্নাফ’ গ্রন্থে এর যে সনদ উল্লেখ করেছেন, তার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই।
আবু ফজল আল-ফালাকি ‘আল-আলকাব’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নামটিকে আদর করে ছোট করে ডাকতেন এবং বলতেন: ‘হে উওয়াইশ’
(১)।
‘মুসনাদুল ফিরদাউস’-এর লেখক উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: “(হে) আল্লাহর রাসুল, আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন যা আমি পাঠ করব।” তিনি বললেন: “হে উওয়াইশ, বলো: হে আল্লাহ, উম্মি নবী মুহাম্মাদ-এর রব! আমার অন্তরের ক্রোধ দূর করে দিন এবং বিভ্রান্তিকর ফিতনা থেকে আমাকে রক্ষা করুন
(২)।”
ইবনুস সালাহ তাঁর ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে একে গরিব (একক বর্ণনা) বলে অভিহিত করেছেন।
সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ ‘হে আইশ’ শব্দে নামের শেষ অক্ষর বাদ দিয়ে সম্বোধন (তারখিম) হিসেবে এসেছে
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ৭)
وفى الأَول دليل على جواز التصغير كقوله: "يا أبا عُمير" تصغير تحبيب.
وجعل صاحب البسيط من النحويين مثل قوله: "يا حُمَيْرا" تصغير تقريب ما يتوهم أنه بعيد، كقولهم بُعَيْدَ الْعَصْر وقُبَيْلَ الفجر. قال: لأن المراد بها البيضاءَ فكأَنها غير كاملة البياض، قال: وكذلك قوله: "كُنَيْف ملئَ علمًا" اهـ.
وقال أَبو القاسم الثمانيني في شرح اللمع: "قول عمر رضي الله عنه في ابن مسعود: "كُنَيْف ملئَ علمًا"
(1) قالوا: إنه أراد بهذا التحقير
(2) تعظيمه، كما قالوا في داهية: دويهية وخُوَيخِية
(3) ".
قال: والصحيح أن ابن مسعود كان صغير الجسم قصيرًا فقال: (كُنَيْف) مصغرة ليدل على تصغير جسمه لأن كُنَيْفًا تكبيره كِنف، وهو شيءٌ يكون فيه أداة الراعى فأَراد أَنه حافظ لما فيه" اهـ.
وأُمها أَم رُوْمَان، بفتح الراء وضمها بنت عامر بن عوَيمِرِ بن عبد شمس بن كنانة.
روى البخارى لأُم رومان حديثًا واحدًا من حديث الإفك من رواية مسروق عنها
(4) ولم يلقها، وقيل: "عن مسروق حدثتني أُم رومان" وهو وهم. ونقل
--------------------------------------------
প্রথমটির মধ্যে তসগির (শব্দকে ক্ষুদ্রার্থক করা) জায়েয হওয়ার প্রমাণ রয়েছে, যেমন তাঁর বাণী: "হে আবু উমাইর"—এটি স্নেহ প্রকাশার্থে ক্ষুদ্রার্থক করা।
ব্যাকরণবিদদের মধ্যে 'আল-বাসীত' গ্রন্থের লেখক "হে হুমাইরা" এর মতো শব্দকে এমন বিষয়ের নৈকট্য বুঝাতে ক্ষুদ্রার্থক রূপ হিসেবে গণ্য করেছেন যা দূরবর্তী বলে মনে হয়; যেমন তাদের উক্তি: আসরের একটু পরে (বুআইদা) এবং ফজরের একটু আগে (কুবাইলা)। তিনি বলেন: কারণ এর দ্বারা শ্বেতবর্ণা নারী উদ্দেশ্য, ফলে তিনি যেন পূর্ণ শুভ্র নন (বরং লালাভ শুভ্র)। তিনি আরও বলেন: অনুরূপভাবে তাঁর (উমর রা.-এর) বাণী: "জ্ঞানে ভরপুর এক ক্ষুদ্র থলি (কুনাইফ)"।
আবুল কাসেম আস-সামানিনি 'শারহুল লুমা' গ্রন্থে বলেন: "ইবনে মাসউদ (রা.) সম্পর্কে উমর (রা.)-এর উক্তি: 'জ্ঞানে ভরপুর এক ক্ষুদ্র থলি', তাঁরা বলেন: তিনি এই ক্ষুদ্রার্থকরণের মাধ্যমে তাঁর মহিমা প্রকাশ করতে চেয়েছেন, যেমনটি তারা বড় বিপদের ক্ষেত্রে 'দুওয়াইহিয়া' ও 'খুওয়াইখিয়া' শব্দ ব্যবহার করে থাকে।"
তিনি বলেন: সঠিক কথা হলো ইবনে মাসউদ (রা.) শারীরিক গড়নে ছোট ও খাটো ছিলেন, তাই তিনি ক্ষুদ্রার্থক শব্দ 'কুনাইফ' ব্যবহার করেছেন তাঁর শারীরিক ক্ষুদ্রতা বুঝাতে। কারণ 'কুনাইফ' শব্দের মূল রূপ হলো 'কিনফ', যা রাখালের সরঞ্জাম রাখার পাত্র বিশেষ। তিনি এর মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি (ইবনে মাসউদ) তাঁর ভেতরে সংরক্ষিত জ্ঞানের ধারক ও রক্ষক।
আর তাঁর মা হলেন উম্মু রুমান (রা এর জবর ও পেশ উভয়ই পড়া যায়), তিনি আমের ইবনে উওয়াইমির ইবনে আবদ শামস ইবনে কিনানার কন্যা।
ইমাম বুখারি উম্মু রুমান থেকে ইফকের (অপবাদের) ঘটনার একটি মাত্র হাদিস মাসরুকের বর্ণনায় উদ্ধৃত করেছেন, যদিও মাসরুক তাঁর সাক্ষাৎ পাননি। বলা হয়ে থাকে: "মাসরুক থেকে বর্ণিত যে, উম্মু রুমান আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন", কিন্তু এটি একটি ভ্রম। আর বর্ণিত হয়েছে যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ৮)
النووي أَن ابن إسحاق سماها في السيرة زينب
(1) وفى "الروض للسهيلي": اسمها "دعدة"
(2) وذكر محمد بن سعد وغيره: أَن أُم رومان ماتت في حياة
--------------------------------------------
নববী উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে ইসহাক সিরাত গ্রন্থে তাঁর নাম জয়নাব রেখেছেন
(১) এবং সুহাইলি-র "আর-রওদ" গ্রন্থে তাঁর নাম "দা'দাহ"
(২)। মুহাম্মদ ইবনে সাদ এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে, উম্মে রুমান [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের] জীবদ্দশায় ইন্তেকাল করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ৯)
رسول الله صلى الله عليه وسلم في سنة ست من الهجرة، ونزل رسول الله صلى الله عليه وسلم في قبرها"،
--------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরি ষষ্ঠ সনে, এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কবরে নেমেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ১০)
وهذا يقوى الإشكال في إخراج البخارى رواية مسروق عنها. لكن أَنكر قوم موتها في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم منهم أبو نعيم الأصفهاني، ولا عمدة لمن أَنكره إلا رواية مسروق.
وقال الخطيب: لم يسمع مسروق من أُم رومان شيئًا. والعجب كيف خفى ذلك على البخارى وقد فطن مسلم له
(1).
تزوجها رسول الله صلى الله عليه وسلم بمكة قبل الهجرة بسنتين، وقيل بثلاث بعد موت خديجة وقبل سودة بنت زمعة، وقيل: "بعدها" وهذا هو الأشهر.
والأول حكاه ابن عبد البر عن غير واحد
(2)، ويشهد له ما أخرجه مسلم في صحيحه من حديث هشام عن أَبيه عن عائشة أنها قالت: "ما رأيت امرأة أحب أَن أكون في مِسْلاخِها من سودة بنت زمعة
… الحديث"
(3). وقالت في آخره في بعض طرقه: "وكانت أول امرأة تزوجها بعدى"
(4).
وتزوجها وهى بنت ست أو سبع، والأول أصح. وبنى بها بالمدينة وهى بنت تسع في شوال منصرفه صلى الله عليه وسلم من بدر في السنة الثانية من مقدمه. وقال الواقدي: "في الأولى" وصححه الدمياطى، وأما ابن دحية فَوَهَّى الواقدى
(5).
--------------------------------------------
এটি উম্মে রুমান থেকে মাসরূকের বর্ণনার ক্ষেত্রে বুখারীর গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে সংশয়কে আরও জোরালো করে। কিন্তু একদল লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, তাঁদের মধ্যে আবু নুআইম আল-আসফাহানী অন্যতম। আর যারা এটি অস্বীকার করেছেন, মাসরূকের বর্ণনা ছাড়া তাঁদের অন্য কোনো ভিত্তি নেই।
খতীব বলেন: মাসরূক উম্মে রুমান থেকে কিছু শোনেননি। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, বিষয়টি বুখারীর কাছে কীভাবে অস্পষ্ট থাকল অথচ মুসলিম তা বুঝতে পেরেছিলেন
(১)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের দুই বছর আগে মক্কায় তাঁকে বিয়ে করেন। আবার বলা হয়েছে তিন বছর আগে; খাদীজা রাদিয়াল্লাহু আনহার মৃত্যুর পর এবং সাওদা বিনতে জামআ রাদিয়াল্লাহু আনহার আগে। কেউ কেউ বলেছেন: "তার পরে", আর এটিই অধিক প্রসিদ্ধ।
ইবন আবদুল বার একাধিক ব্যক্তি থেকে প্রথম মতটি বর্ণনা করেছেন। সহীহ মুসলিমে হিশাম তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তা এর সাক্ষ্য দেয়; তিনি বলেছেন: "আমি সাওদা বিনতে জামআ ব্যতীত অন্য কোনো মহিলাকে দেখিনি যার অবয়বে থাকা আমার কাছে অধিক প্রিয় হতো... (হাদীসটি শেষ পর্যন্ত)"
(৩)। এর কোনো কোনো সূত্রে শেষে তিনি বলেছেন: "এবং তিনি আমার পরে প্রথম মহিলা যাকে তিনি বিবাহ করেছিলেন।"
(৪)।
তিনি তাকে বিবাহ করেন যখন তার বয়স ছিল ছয় বা সাত বছর, এবং প্রথম মতটিই অধিক বিশুদ্ধ। তিনি তার সাথে সংসার শুরু করেন মদীনায় যখন তার বয়স ছিল নয় বছর; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে বদর থেকে ফিরে শাওয়াল মাসে। ওয়াকিদী বলেন: "প্রথম বর্ষে", আদ-দিমইয়াতী এটিকে সঠিক বলেছেন। আর ইবন দিহয়াহ ওয়াকিদীকে দুর্বল বলেছেন
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ১১)
وأَقامت في صحبته ثمانية أَعوام وخمسة أَشهر وتوفى عليه الصلاة والسلام وهي ابنة ثماني عشرة
(1) سنة، وعاشت خمسًا وستين وولدت سنة أَربع من النبوة، وتوفيت بالمدينة زمن معاوية ليلة الثلاثاء لسبع عشرة خلت من رمضان سنة سبع وخمسين، وقيل ثمان وخمسين، وأَوصت أن يصلى عليها أَبو هريرة.
وذكر الواقدى: "أنها ماتت بعد الوتر وأَمرت أَن تدفن من ليلتها فاجتمع الأَنصار وحضروا، فلم نر ليلة أَكثر ناسا منها، نزل أهل العوالى فدفنت بالبقيع"
(2).
قال الواقدي: "فحدثني ابن جريج عن نافع قال: شهدت أَبا هريرة صلى على عائشة بالبقيع وابن عمر في الناس لا ينكره. وكان مروان اعتمر في تلك السنة واستخلف أبا هريرة
(3).
رُوى لها عن النبي صلى الله عليه وسلم أَلفا حديث ومائتا حديث وعشرة أحاديث، اتفق البخارى ومسلم منها على مائة وأربعة وسبعين حديثًا، وانفرد البخارى بأَربعة وخمسين، ومسلم بثمانية وستين
(4).
روى عنها خلق من الصحابة والتابعين
(5) من متأخريهم: مسروق والأَسود
--------------------------------------------
তিনি তাঁর (রাসূলুল্লাহর) সাহচর্যে আট বছর পাঁচ মাস অতিবাহিত করেন এবং যখন নবী (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ইন্তেকাল করেন তখন তাঁর বয়স ছিল আঠারো বছর
(১)। তিনি পঁয়ষট্টি বছর জীবিত ছিলেন এবং নবুয়তের চতুর্থ বছরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মুয়াবিয়া (রা.)-এর শাসনামলে সাতান্ন হিজরি সালের সতেরো রমজান মঙ্গলবার রাতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। কেউ কেউ বলেন আঠান্ন হিজরি। তিনি অসিয়ত করেছিলেন যেন আবু হুরায়রা (রা.) তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান।
ওয়াকিদি উল্লেখ করেছেন: "তিনি বিতর নামাজের পর ইন্তেকাল করেন এবং নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তাঁকে সেই রাতেই দাফন করা হয়। ফলে আনসাররা সমবেত ও উপস্থিত হলেন; আমরা সেই রাতের চেয়ে বেশি জনসমাগম আর কোনো রাতে দেখিনি। আউয়ালি-র বাসিন্দারাও নিচে নেমে এলেন এবং তাঁকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হলো।"
(২)ওয়াকিদি বলেন: "ইবনে জুরাইজ আমার নিকট নাফে থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উপস্থিত ছিলাম যখন আবু হুরায়রা বাকিতে আয়েশার জানাজার নামাজ পড়ান এবং ইবনে উমর তখন উপস্থিত লোকদের মধ্যে ছিলেন, যা তিনি অস্বীকার করেননি। সেই বছর মারওয়ান ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন এবং আবু হুরায়রাকে স্থলাভিষিক্ত করে গিয়েছিলেন।"
(৩)নবী (সা.) থেকে তাঁর দুই হাজার দুইশ দশটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে বুখারি ও মুসলিম একশ চুয়াত্তরটি হাদিসের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। বুখারি এককভাবে চুয়ান্নটি এবং মুসলিম এককভাবে আটষট্টিটি হাদিস বর্ণনা করেছেন
(৪)।
সাহাবী এবং তাবেয়ীদের এক বিশাল দল তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন
(৫), যাদের মধ্যে পরবর্তী যুগের ছিলেন: মাসরুক এবং আসওয়াদ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ১২)
وسعيد بن المسيب، وعروة ابن أُختها، والقاسم ابن أخيها وأبو سلمة بن عبد الرحمن والشعبي، ومجاهد، وعطاء، وعكرمة وعمرة بنت عبد الرحمن، ونافع مولى ابن عمر وآخرون.
--------------------------------------------
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, উরওয়াহ — যিনি তার বোনের ছেলে, আল-কাসিম — যিনি তার ভাইয়ের ছেলে, আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান, আশ-শা’বি, মুজাহিদ, আতা, ইকরিমাহ, আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান, ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফে এবং আরও অনেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وكان مسروق إذا حدث عنها قال: "حدثتنى الصِّدِّيقة بنت الصِّدِّيق حبيبة حبيب الله المبرَّأَة السماء"
(1).
وروى بسند حسن عن علي رضي الله عنه: أنه ذكر عائشة فقال: "خليلة رسول الله صلى الله عليه وسلم "
(2).
وكذلك قال عمار بن ياسر لرجل نال منها: "اعْزُبُ مَقْبُوحًا مَنْبُوحًا أَتَؤذى حبيبة رسول الله صلى الله عليه وسلم "
(3).
--------------------------------------------
মাসরূক যখন তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন তখন বলতেন: "আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সিদ্দীকের কন্যা সিদ্দীকা, আল্লাহর প্রিয়তমের প্রিয়তমা, আকাশ হতে যাঁর পবিত্রতা অবতীর্ণ হয়েছে"
(১)।
আর হাসান সনদে আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আয়েশার কথা উল্লেখ করে বললেন: "তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একান্ত প্রিয়া"
(২)।
একইভাবে আম্মার বিন ইয়াসির এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন যে তাঁর (আয়েশার) সমালোচনা করেছিল: "দূর হ রে কুৎসিত কুকুর! তুই কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয়াকে কষ্ট দিচ্ছিস?"
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن مواليها رضي الله عنها -:
1 - " بَرِيرة": وهى التي كان فيها ثلاث سنن، وحديثها مشهور في الصحيح
(1).
روت عن النبي صلى الله عليه وسلم: "إن الرجل ليدفع عن باب الجنة بعد أن ينظر إليها على محجمة من دم يريقه من مسلم" يعنى بغير حق. روته لعبد الملك بن مروان
(2).
رواه عنها زيد بن واقد: وهو من ثقات الشاميين لقى واثلة بن الأسقع.
2 - ومنهن: "سايبة": روى عنها نافع مولى ابن عمر عن سايبة: "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن قتل الحيات التي في البيوت إلا ذا الطُفيتَين
(3) والأبتر
--------------------------------------------
এবং তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আযাদ করা দাসীদের মধ্যে -:
১ - "বারীরাহ": তিনিই সেই নারী যার ব্যাপারে তিনটি সুন্নাত (বিধান) সাব্যস্ত হয়েছে এবং তাঁর হাদিস ‘সহীহ’ গ্রন্থে প্রসিদ্ধ
(১)।
তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তিকে জান্নাতের দরজা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে—সেটির দিকে তাকানোর পর—এক শিঙা পরিমাণ রক্তের কারণে, যা সে কোনো মুসলিমের শরীর থেকে অন্যায়ভাবে ঝরিয়েছে।" তিনি এটি আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের নিকট বর্ণনা করেছেন
(২)।
তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন যায়েদ ইবনে ওয়াকিদ; তিনি শাম (সিরিয়া) অঞ্চলের নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি ওয়াসিলা ইবনে আসকা (রা)-এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন।
২ - তাদের মধ্যে আরও একজন: "সাইয়্যেবাহ": ইবনে উমরের আযাদ করা দাস নাফে' সাইয়্যেবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরের ভেতরের সাপ মারতে নিষেধ করেছেন, কেবল পৃষ্ঠদেশে দুটি রেখাধারী সাপ (যুত্তুফায়তাইন) এবং লেজকাটা সাপ (আবতার) ব্যতীত।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فإنهما يخطفان البصر ويطرحان ما في بطون النساء".
رواه مالك في الموطَّأ عن نافع به
(1).
وقد وصله ثقات من أَصحاب نافع عن سائبة عن عائشة
(2).
3 - ومنهن: "مرجانة" وهى أُم علقمة بن أبي علقمة أحد شيوخ مالك.
4 - ومنهم: "أبو يونس" روى عنه القعقاع بن حكيم، القعقاع بن حكيم، أخرج مالك عن زيد بن أسلم عن القعقاع بن حكيم عن أبي يونس مولى عائشة أم المؤمنين أنه قال: "أَمرتنى عائشة أن أكتب لها مصحفًا ثم قالت: "إذا بلغت هذه الآية فَآذِنِّي: {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى} فلما بلغتها قالت: وصلاة العصر، سمعتها من رسول الله صلى الله عليه وسلم "
(3).
5 - ومنهم "أبو عمرو "كما رواه الشافعي في مسنده عن عبد الله بن أبي مليكة: "أنه كان يأتى عائشة بأعلى الوادى هو وعبيد بن عمير، والمسور بن مخرمة وناس كثير فيؤمهم
(4) أَبو عمرو مولى عائشة وهو غلامها يومئذ لم يعتق"
(5).
--------------------------------------------
কেননা তারা দৃষ্টিশক্তি হরণ করে এবং গর্ভবতী নারীদের গর্ভপাত ঘটায়।"
মালিক এটি মুওয়াত্তায় নাফে’র সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন
(১)।
নাফে’র নির্ভরযোগ্য ছাত্ররা সায়েবার সূত্রে আয়েশা (রা.) থেকে এটিকে সংযুক্ত সনদে (মাওসুল) বর্ণনা করেছেন
(২)।
৩ - তাদের মধ্যে রয়েছেন: "মারজানা", তিনি ইমাম মালিকের অন্যতম শিক্ষক আলকামা ইবনে আবি আলকামার মাতা।
৪ - তাদের মধ্যে রয়েছেন: "আবু ইউনুস", তাঁর থেকে ক্বাক্বা ইবনে হাকিম বর্ণনা করেছেন। মালিক এটি যায়িদ ইবনে আসলামের সূত্রে, তিনি ক্বাক্বা ইবনে হাকিমের সূত্রে, তিনি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-এর মুক্তদাস আবু ইউনুসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "আয়েশা (রা.) আমাকে তাঁর জন্য একটি কুরআন (মুসহাফ) লিখে দিতে আদেশ দিলেন এবং বললেন: 'যখন তুমি এই আয়াতে পৌঁছাবে তখন আমাকে জানিও: {তোমরা সালাতসমূহের এবং মধ্যবর্তী সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করো}।' যখন আমি সেখানে পৌঁছলাম, তিনি বললেন: 'এবং আসরের সালাত'। আমি এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি"
(৩)।
৫ - তাদের মধ্যে রয়েছেন: "আবু আমর", যেমনটি শাফেয়ী তাঁর মুসনাদে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকার সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "তিনি এবং উবাইদ ইবনে উমাইর, মিসওয়ার ইবনে মাখরামা এবং আরও অনেক লোক উপত্যকার উপরের অংশে আয়েশা (রা.)-এর কাছে আসতেন; তখন আয়েশা (রা.)-এর মুক্তদাস আবু আমর তাঁদের ইমামতি করতেন
(৪)। তিনি তখন তাঁর কিশোর দাস ছিলেন এবং তখনও মুক্ত হননি"
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وفى رواية لابن أبي شيبة في مصنفه: "أَنها كانت دبَّرته"
(1).
وقوله بأَعلى الوادى: يريد وادى مكة كانوا يأتونها للزيارة والاستفتاء، وذلك عندما تحج. ولما خرجت إلى مكة مغاضبة لعثمان في السنة التي قتل فيها، قاله ابن الأثير في شرح المسند.
ولها خصائص كثيرة لم يشركها أَحد من أزواجه فيها.
* * *
--------------------------------------------
ইবনে আবি শায়বার তাঁর 'মুসান্নাফ'-এ বর্ণিত একটি রেওয়ায়েতে রয়েছে: "তিনি তাকে মুদাব্বার (মৃত্যুর পর মুক্তির প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত দাস) করেছিলেন"
(১).
আর 'উপত্যকার উপরিভাগে' বলতে তিনি মক্কার উপত্যকাকে বুঝিয়েছেন; যিয়ারত এবং ফতোয়া নেওয়ার জন্য তারা তাঁর কাছে আসতেন, আর তা ছিল যখন তিনি হজ করতেন। আর যখন তিনি উসমানের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন সেই বছরে যাতে তিনি (উসমান) শহীদ হন, ইবনুল আসির 'শারহুল মুসনাদ'-এ এটি বলেছেন।
এবং তাঁর (আয়েশার) অনেক বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাতে তাঁর (রাসূলুল্লাহর) স্ত্রীদের মধ্যে আর কেউ তাঁর সাথে শরিক ছিলেন না।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
(2) [فصل في خصائصها الأربعين]الأولى: - أنه صلى الله عليه وسلم لم يتزوج بكرًا غيرها
(1).
فإن قلت: "كيف حث على نكاح الأبكار وتزوج من الثُّيَّاب أكثر؟ " فيه أربعة أجوبة: قلت: تقليلًا للاستلذاذ؛ لأن الأَبكار أَعذب أَفواهًا، ولذلك قال: "فَهَلَّا بكرًا تلاعبها وتلاعبك"، وتكثيرًا لتوسعة الأحكام؛ إذ هنَّ بالفهم والتبليغ أعلق، وجبرًا لما فاتهن من البكارة كما قُدِّمْنَ في قوله تعالى: {ثَيِّبَاتٍ وَأَبْكَارًا} [التحريم: 5]، أو للإشارة إلى تعظيم عائشة وتمييزها بهذه الفضيلة وَحْدَها دونهن؛ لئلا يُشارك فيها، فكأَنها في كِفَّةٍ وهنَّ في كفة أُخرى.
الثانية: أَنها خُيّرت واختارت الله ورسوله على الفور، وكن تبعًا لها في ذلك
(2).
--------------------------------------------
(২) [তাঁর চল্লিশটি বৈশিষ্ট্যের আলোচনা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ]প্রথমত: - রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ছাড়া আর কোনো কুমারীকে বিবাহ করেননি
(১)।
যদি আপনি প্রশ্ন করেন: "তিনি কীভাবে কুমারী বিবাহের প্রতি উৎসাহ প্রদান করলেন অথচ নিজেই বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারীদের বেশি বিবাহ করেছেন?" এর চারটি উত্তর রয়েছে: আমি বলি: প্রথমত, সম্ভোগের আকাঙ্ক্ষা কমানোর জন্য; কারণ কুমারীদের মুখ অধিকতর সুমিষ্ট হয়, এই কারণেই তিনি বলেছিলেন: "তুমি কেন কোনো কুমারীকে বিবাহ করলে না যার সাথে তুমি খেলা করতে আর সেও তোমার সাথে খেলা করত"। দ্বিতীয়ত, শরয়ি বিধি-বিধানের পরিসর বৃদ্ধির জন্য; কেননা তারা (বিবাহিতা মহিলারা) বিষয়বস্তু বুঝাপড়া ও তা প্রচারের ক্ষেত্রে অধিক সংলগ্ন ছিলেন। তৃতীয়ত, তাদের কুমারীত্ব হারানোর ক্ষতিপূরণ স্বরূপ, যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে তাদের আগে উল্লেখ করা হয়েছে: {বিধবা এবং কুমারীগণ} [সূরা আত-তাহরীম: ৫]। অথবা আয়েশার মর্যাদাকে সুমহান করার ইঙ্গিতস্বরূপ এবং অন্যদের বাদ দিয়ে তাঁকে এককভাবে এই ফযিলতের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করার জন্য; যাতে এতে কেউ অংশীদার না হতে পারে। যেন তিনি পাল্লার এক পাশে আর অন্য স্ত্রীগণ পাল্লার অন্য পাশে।
দ্বিতীয়ত: তাঁকে (পছন্দ করার) ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি তৎক্ষণাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে বেছে নিয়েছিলেন, আর অন্য স্ত্রীগণ এই বিষয়ে তাঁরই অনুসরণ করেছিলেন
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
(الثالثة): - أَنها حيث خيرت كان خيارها على التراخى بلا خلاف.
وأَما الخلاف في أن جوابهن: هل كان مشروطًا بالفور أم لا؟ ففى غيرها.
هكذا قاله القاضي أبو الطيب الطبرى في تعليقه، فإنه حكى الخلاف، وصحح الفورية، ثم قال: "والخلاف في التخيير المطلق، فأما إذا قال لها: "اختارى أي وقت شئت، كان على التراخى بالإجماع". قال: وعائشة من هذا القبيل لقوله: "ولا عليك ألَّا تعجلى حتى تستأْمرى أبويك" اهـ.
وهو تقييد يرتبط
(1) به إطلاق "الشرح" و"الروضة"، ولم يقف ابن الرُّفْعَة على هذا النقل، فقال في شرح الوسيط: "وفي طَرْد ذلك في بقية أزواجه صلى الله عليه وسلم كلهن نظر، من جهة أن المُهْلَ في التخيير إنما قيل لعائشة فقط، وسببه - والله أعلم - أنها كانت أحدث نسائه سنًّا، وأحب نسائه إليه، فكان قوله لها: "لا تبادرينى بالجواب" خوفًا من أن تبتدره باختيار الدنيا. ومغبته ألا يطرد الحكم في غيرها لاسيما إذا نظرنا إلى ما جاء في الصحيح من تخصيص ذلك بها، كأن ذلك يُنَزَّل منزلة ما لو قال الواحد منا لبعض نسائه: "اختارى متى شئت" وقال لأُخرى: "اختارى" فإن خيار الأُولى يكون على التراخى، والأُخرى على الفور.
(الرابعة): - نزول آية التيمم بسبب عقدها حين حبس رسول الله صلى الله عليه وسلم الناس، وقال لها أُسيد بن حضير "ما هي بأَول بركتكم يا آل أبي بكر"
(2).
--------------------------------------------
(তৃতীয়ত): - তাকে (আয়িশা রা.) যখন পছন্দ করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল, তখন কোনো মতভেদ ছাড়াই তার সেই স্বাধীনতা বিলম্বিত সময়ের (তারাকি) জন্য কার্যকর ছিল।
আর তাদের (রাসূলের স্ত্রীদের) উত্তরের ক্ষেত্রে যে মতভেদ রয়েছে—তা কি তাৎক্ষণিকতার শর্তযুক্ত ছিল নাকি নয়—সেটি তার (আয়িশা রা.) ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে।
কাজী আবু তাইয়্যেব তাবারী তাঁর 'তালিক'-এ এভাবেই বলেছেন। তিনি মতভেদ বর্ণনা করেছেন এবং তাৎক্ষণিকতাকে বিশুদ্ধ বলেছেন, এরপর বলেছেন: "মতভেদ হলো শর্তহীন স্বাধীনতার ক্ষেত্রে; কিন্তু যদি তাকে বলা হয়: 'তুমি যখন ইচ্ছা পছন্দ করো', তবে সর্বসম্মতিক্রমে তা বিলম্বিত সময়ের জন্য কার্যকর হবে।" তিনি বলেন: আয়িশা (রা.) এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী হলো: "তুমি তোমার পিতামাতার সাথে পরামর্শ করার আগে তড়িঘড়ি না করলে তোমার কোনো দোষ নেই।" সমাপ্ত।
এটি এমন একটি সীমাবদ্ধতা যা 'শারহ' এবং 'রাওদা'-এর সাধারণ বক্তব্যের সাথে সম্পর্কিত। ইবনুর রিফ'আহ এই উদ্ধৃতিটি পাননি, তাই তিনি 'শারহুল ওয়াসীত'-এ বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাকি স্ত্রীদের ক্ষেত্রেও এই হুকুমটি একইভাবে প্রযোজ্য কি না সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে; কারণ নির্বাচনের জন্য যে অবকাশ দেওয়া হয়েছিল, তা কেবল আয়িশা (রা.)-এর জন্য বলা হয়েছিল। এর কারণ—আল্লাহই ভালো জানেন—তিনি ছিলেন স্ত্রীদের মধ্যে বয়সে সর্বকনিষ্ঠ এবং তাঁর নিকট সবচেয়ে প্রিয়। তাই তাকে এ কথা বলার কারণ ছিল: 'তুমি আমাকে উত্তরের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করো না', যেন পার্থিব জীবন নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি তাড়াহুড়ো না করে ফেলেন। এর ফলাফল হলো, এই হুকুম অন্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হওয়া, বিশেষ করে যখন আমরা সহীহ হাদিসের দিকে তাকাই যেখানে বিষয়টিকে তাঁর সাথে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এটি যেন এমন যে আমাদের মধ্যে কেউ তার কোনো স্ত্রীকে বলল: 'তুমি যখন চাও পছন্দ করো' এবং অন্য একজনকে বলল: 'তুমি পছন্দ করো'; তবে প্রথমজনের পছন্দ করার সুযোগ হবে বিলম্বিত সময়ের জন্য, আর অন্যজনের জন্য হবে তাৎক্ষণিক।"
(চতুর্থত): - তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ হওয়া তাঁর হারের কারণে, যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ লোকদের আটকে রেখেছিলেন এবং উসাইদ ইবন হুদাইর তাকে বলেছিলেন, "হে আবু বকরের পরিবার! এটিই আপনাদের প্রথম বরকত নয়"
(২)।
--------------------------------------------