(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: -)
الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة - ت رفعت فوزي   (بدر الدين الزركشي)

القسم: الفقه العام


الكتاب: الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة

المؤلف: بدر الدين الزركشي الشافعي (754 - 794 هـ)

تحقيق وتخريج: د رفعت فوزي عبد المطلب

(أستاذ الشريعة بجامعة القاهرة)

الناشر: مكتبة الخانجي - القاهرة

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 172

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা ইস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবা - তাহকীক: রিফআত ফাওজি   (বদর উদ্দিন আজ-জারকাশী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা ইস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবা

লেখক: বদর উদ্দিন আজ-জারকাশী আশ-শাফিয়ী (৭৫৪ - ৭৯৪ হিজরী)

তাহকীক ও তাখরীজ: ড. রিফআত ফাওজি আব্দুল মুত্তালিব

(কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহর অধ্যাপক)

প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজী - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরী - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭২

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المحقق

الحمد لله رب العالمين، حمدًا كثيرًا طيبا طاهرًا مباركًا فيه.

اللهم إنى أثنى عليك كما أثنيت على نفسك، وكما أثنى عليك أنبياؤك ورسلك، وعبادك الصالحون، وملائكتك المقربون.

وصلى الله تعالى وسلم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد ..

فهذا كتاب "الإجابة"، وهو كتاب فريد رائد في بابه؛ لأن موضوعه هو استدراكات السيدة عائشة، المُحَدِّثة الفقيهة، على الصحابة في رواياتهم، ومن هنا جاءت أهمية هذا الكتاب، إذ يرسى من خلال هذه الاستدراكات قواعد في توثيق سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

فهى تعرض ما يرويه الصحابة على الأصول الثابتة والمشاهدة من أحوال رسول الله صلى الله عليه وسلم، فتجد الكثير الذي أُدِّى أداء متقنًا، كما صدر من رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وتجد بعضه قد اعتراه الخطأ أو الوهم، أو يتعارض مع ما شاهدته أو سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ومن هنا نشأت قواعد النقد الخارجي والداخلي للحديث،

ومنها قواعد الضبط، وعرض السنة على القرآن الكريم، والثابت المتعارف عليه من سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، والأصول الإسلامية الأخرى.

ولم تكن السيدة الصِّدِّيقة وحدها في هذا المجال، وإنما كان هناك من الصحابة من حذا حذوها، أو حذت حذوه، أو تشابها في هذه الاستدراكات، وفى القواعد التي أسست عليها.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌সম্পাদকের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; এমন প্রশংসা যা অগণিত, উত্তম, পবিত্র ও বরকতময়।

হে আল্লাহ! আমি আপনার প্রশংসা করছি যেভাবে আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন এবং যেভাবে আপনার নবীগণ ও রাসূলগণ, আপনার নেককার বান্দাগণ এবং আপনার নিকটবর্তী ফেরেশতাগণ আপনার প্রশংসা করেছেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন। অতঃপর...

এটি হলো "আল-ইজাবাহ" গ্রন্থ, যা স্বীয় বিষয়ে এক অনন্য ও পথিকৃৎ কিতাব; কারণ এর মূল উপজীব্য হলো মুহাদ্দিসা ও ফকিহা সায়্যিদা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কর্তৃক সাহাবায়ে কিরামের বর্ণনাসমূহের ওপর কৃত সংশোধন ও পরিমার্জন। আর এখান থেকেই এই কিতাবটির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়, কারণ এই সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর প্রামাণিকীকরণের কতিপয় মূলনীতি স্থাপন করেছেন।

তিনি সাহাবায়ে কিরামের বর্ণিত বিষয়সমূহকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যাপিত জীবনের সুপ্রতিষ্ঠিত ও প্রত্যক্ষকৃত বিষয়াদির নিরিখে উপস্থাপন করতেন। ফলে আপনি এমন অনেক বর্ণনা পাবেন যা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পাদিত হয়েছে, ঠিক যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তা প্রকাশ পেয়েছিল।

আবার কিছু বর্ণনা এমন পাবেন যেখানে ভুল বা বিভ্রম ঘটেছে, অথবা যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর দেখা বা শোনার পরিপন্থী।

আর এখান থেকেই হাদীসের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার মূলনীতিসমূহ তৈরি হয়েছে,

যার মধ্যে রয়েছে মুখস্থ ও সংরক্ষণের মূলনীতি, সুন্নাহকে পবিত্র কুরআনের আলোকে যাচাই করা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ও অন্যান্য ইসলামী মূলনীতির মাঝে যা সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুপরিচিত তার সাথে মিলিয়ে দেখা।

আর সায়্যিদা সিদ্দিকা এই ক্ষেত্রে একা ছিলেন না; বরং সাহাবীদের মধ্যে এমন অনেকেই ছিলেন যারা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, অথবা তিনি তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, অথবা এই সংশোধনসমূহ এবং যে মূলনীতিগুলোর ওপর ভিত্তি করে এগুলো প্রতিষ্ঠিত, তার ক্ষেত্রে তাঁদের মাঝে সাদৃশ্য ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ৪)
ومن مجموع هذه الاستدراكات التي صدرت من السيدة عائشة، ومن غيرها يمكننا أن نقول: إن السنة خرجت من أيدى الصحابة خالية من الأخطاء والأوهام التي كانت تعترى بعض الصحابة وهم يقومون بدور تبليغها، وهم بشر ليسوا بمعصومين.

ومعنى هذا أيضًا أن السيدة عائشة كان عندها هذه المقاييس وطبقتها على ما عندها السنة كلها فما هو صحيح أَقَرَّته، ولو من طريق السكوت عنه، وما كان فيه خطأ - من وجهة نظرها - بينته.

ولا يَظُنَّ ظَانٌّ أن ما أبدته السيدة عائشة من استدراكات كانت غير قابلة للمناقشة، أو جاءت فيها بالقول الفصل، بل كثير منها اجتهادات تقابلها وجهات نظر أخرى تُقِرُّ ما عليه الآخرون، مما استدركته عليهم بحيث لا تتعارض الروايات التي استدركتها مع ما تراه هي صحيحًا، أو تكون هذه الروايات المستدركة منسوخة وصدر ناسخها دون علم بعض الصحابة الذين يروونها بهذا الناسخ، أو يكون هذا وذاك من باب العام والخاص، أو المطلق والمقيد. بحيث يمكن الجمع بين هذه الروايات التي تبدو متعارضة وهى في الحق ليست بمتعارضة. وكلها بحمد الله تعالى على هذا النحو.

وكل هذا قد فَصَّلَته دراسة يتواكب خروجها مع هذا التحقيق وهى "توثيق السيدة عائشة للسنة" وقد أحلنا عليها، وبينا مواضع التفصيل في القضايا التي تناولها هذا الكتاب بالإيجاز.

وهذا الكتاب يؤكد من طَرْفٍ غير خفى أن الصحابة لم يكونوا يكذبون على رسول الله صلى الله عليه وسلم. فما كان هناك استدراك اتُّهِمَ فيه أحد الصحابة أنه كذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ بل بادرت السيدة عائشة بنفى الكذب في بعض الاستدراكات فقالت: "إنكم لتحدثوني عن غير كاذبين ولا مكذبين، ولكنَّ السمعَ يُخطئ".

ولكن المفيد غاية الفائدة - كما قلنا - أن السيدة عائشة، بهذه الاستدراكات، قد أرست قواعد في النقد الخارجي والداخلي للسنة كانت فيما بعد أدوات لتوثيق السنة، وإبعاد التحريف والزيف والخطأ عنها.
সৈয়দা আয়েশা এবং অন্যদের থেকে প্রকাশিত এই সংশোধনগুলোর সমষ্টি থেকে আমরা বলতে পারি যে: সুন্নাহ সাহাবীগণের হাত থেকে এমনভাবে নির্গত হয়েছে যা ভুলত্রুটি ও বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত ছিল, যা সুন্নাহ প্রচারের দায়িত্ব পালনকালে কোনো কোনো সাহাবীর ক্ষেত্রে ঘটেছিল; যেহেতু তাঁরা মানুষ ছিলেন এবং তাঁরা নিষ্পাপ ছিলেন না।

এর অর্থ আরও এই যে, সৈয়দা আয়েশার কাছে নির্দিষ্ট মানদণ্ড ছিল এবং তিনি তা তাঁর কাছে থাকা সমগ্র সুন্নাহর ওপর প্রয়োগ করেছিলেন। ফলে যা সঠিক ছিল তা তিনি সমর্থন করেছেন, এমনকি তা মৌনতার মাধ্যমে হলেও; আর তাঁর দৃষ্টিতে যাতে ভুল ছিল তা তিনি বর্ণনা করে দিয়েছেন।

কেউ যেন মনে না করেন যে, সৈয়দা আয়েশা যেসব সংশোধন পেশ করেছেন তা অখণ্ডনীয় ছিল অথবা তিনি সেগুলোতে চূড়ান্ত ফয়সালা দিয়েছেন। বরং এগুলোর অনেকগুলোই ছিল ইজতিহাদ বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা, যার বিপরীতে এমন দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান যা অন্য সাহাবীগণের মতকেই সমর্থন করে। ফলে তিনি যে বর্ণনাগুলোর ওপর সংশোধন দিয়েছেন তা তাঁর কাছে সঠিক মনে হওয়া বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক হয় না। অথবা এই সংশোধিত বর্ণনাগুলো মানসুখ বা রহিত হতে পারে, আর এর রহিতকারী দলিলটি সেই সাহাবীদের অজ্ঞাত ছিল যারা তা বর্ণনা করেছিলেন। অথবা এই বিষয়গুলো আম (সাধারণ) ও খাস (বিশেষ), কিংবা মুতলাক (নিবন্ধহীন) ও মুকাইয়্যাদ (নিবন্ধিত)-এর পর্যায়ভুক্ত হতে পারে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে সাংঘর্ষিক মনে হওয়া এই বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব, আসলে এগুলো বাস্তবপক্ষে সাংঘর্ষিক নয়। আল্লাহর শুকরিয়া যে, এ সবই এই ধারার অন্তর্ভুক্ত।

এই গবেষণার সাথে সাথে প্রকাশিতব্য "সৈয়দা আয়েশা কর্তৃক সুন্নাহর প্রমাণীকরণ" শীর্ষক অন্য একটি গবেষণায় এই বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। আমরা সেই গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়েছি এবং বর্তমান গ্রন্থে সংক্ষেপে আলোচিত বিষয়গুলোর বিস্তারিত বর্ণনার স্থানসমূহ নির্দেশ করেছি।

এই গ্রন্থটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সাহাবীগণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপ করতেন না। এমন কোনো সংশোধন নেই যেখানে কোনো সাহাবীকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বরং সৈয়দা আয়েশা কোনো কোনো সংশোধনের ক্ষেত্রে মিথ্যার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন: "তোমরা আমার কাছে যাদের পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করছ তারা মিথ্যাবাদী নন এবং তাঁদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্নও করা হয়নি, বরং শ্রবণে ভুল হতে পারে।"

তবে সবচেয়ে বড় উপকারের বিষয় হলো—যেমনটি আমরা বলেছি—সৈয়দা আয়েশা এই সংশোধনগুলোর মাধ্যমে সুন্নাহর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার এমন কিছু মূলনীতি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যা পরবর্তীতে সুন্নাহর প্রামাণ্যতা নিশ্চিতকরণ এবং তা থেকে বিকৃতি, অলীকতা ও ভুলত্রুটি দূর করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ৫)
إنها في مجال النقد الداخلى عرضت السنة على القرآن الكريم، وعلى السنة النبوية المعروفة والمشهورة أو المشاهدة من رسول الله صلى الله عليه وسلم، وعلى الأصول الإسلامية.

وفى مجال النقد الخارجي بينت خطأ بعض الرواة بما أسهم في اشتراط الضبط في تلقى الأحاديث، وفي أدائها.

وكل ذلك كان له شأن كبير على مر العصور في توثيق سنة رسول الله - صلى الله عليه وسلم الأصل الثاني من أصول التشريع الإسلامي؛ في الدراسات الحديثية والفقهية على حد سواء.

وهذا من بركات السيدة عائشة رضي الله عنها، وما أكثر بركاتها.

ولسنا في حاجة إلى تقديم ترجمة للسيدة عائشة رضي الله عنها، فقد كفانا المؤلف مئونة ذلك، وقدّم ترجمة طيبة لها في أول الكتاب.

 

‌‌ترجمة المؤلف:

أما مؤلف الكتاب فهو الإمام المحدِّث محمد بن عبد الله بن بهادر أبو عبد الله بدر الدين الزَّرْكَشِى، الفقيه، الأصولي، المُحَدَّث، الشافعي المذهب.

ولد في مصر عام (745 هـ) من أسرة تركية، واشتغل أولا بصناعة الزركش، ثم وجهه الله عز وجل نحو العلم من صغره فأخذ عن الشيخين جمال الدين الأسنوى (ت 772) وسراج الدين البلقيني (ت 805) ولازمهما.

ثم رحل للاستزادة من الشيوخ ومن العلم، فرحل إلى حلب فأخذ عن الشيخ شهاب الدين الأذرعى (ت 783)، وسمع الحديث بدمشق وغيرها، وسمع من علماء الشام، كابن قدامة المقدسي (ت 780 هـ) والحافظ أبي الفداء إسماعيل بن كثير (ت 774 هـ) وغيرهما.

وبعد فترة التحصيل انقطع للاشتغال بالعلم، والتدريس والإفتاء. قال ابن حجر: كان الزركشي منقطعًا في منزله لا يتردد إلى أحد، إلا إلى سوق الكتب، وكان يطالع في حانوت الكتبى طول نهاره، ومعه أوراق يعلق فيها ما يعجبه، ثم يرجع فينقله إلى تصانيفه (الدرر الكامنة 3/ 398).
অভ্যন্তরীণ সমালোচনার ক্ষেত্রে তিনি সুন্নাহকে পবিত্র কুরআনের সাথে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুপরিচিত, প্রসিদ্ধ বা প্রত্যক্ষকৃত সুন্নাহর সাথে এবং ইসলামি মূলনীতিসমূহের সাথে তুলনা করে উপস্থাপন করেছেন।

আর বাহ্যিক সমালোচনার ক্ষেত্রে তিনি কিছু বর্ণনাকারীর ভুলভ্রান্তি স্পষ্ট করেছেন, যা হাদীস গ্রহণ এবং তা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর নির্ভুলতার (যাবত) শর্তারোপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আর এই সবকিছুরই যুগ যুগ ধরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে প্রামাণ্য রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এক বিরাট গুরুত্ব ছিল, যা ইসলামি শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস; এবং এটি হাদীস শাস্ত্রীয় ও ফিকহ শাস্ত্রীয় উভয় গবেষণার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

আর এটি সায়্যিদাহ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বরকতসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর তাঁর বরকত কতই না অফুরন্ত!

সায়্যিদাহ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কোনো জীবনী উপস্থাপন করার প্রয়োজন আমাদের নেই; কারণ লেখক নিজেই সেই কষ্টটুকু আমাদের পক্ষ থেকে লাঘব করেছেন এবং বইয়ের শুরুতে তাঁর একটি চমৎকার জীবনী পেশ করেছেন।

 

‌লেখকের জীবনী:

আর এই বইয়ের লেখক হলেন ইমাম, মুহাদ্দিস মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাহাদুর আবু আব্দুল্লাহ বদরুদ্দীন আয-যারকাশী; তিনি ছিলেন একজন ফকীহ, উসুলবিদ, মুহাদ্দিস এবং শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী।

তিনি ৭৪৫ হিজরিতে মিশরের এক তুর্কি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমে তিনি ‘যারকাশ’ (স্বর্ণখচিত সুতা) শিল্পের কাজ করতেন, এরপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাকে শৈশব থেকেই ইলম অন্বেষণের দিকে ধাবিত করেন। ফলে তিনি শায়খ জামালুদ্দীন আল-আসনাবী (মৃত্যু ৭৭২ হিজরি) এবং সিরাজুদ্দীন আল-বুলকিনী (মৃত্যু ৮০৫ হিজরি)—এই দুই শায়খের নিকট ইলম অর্জন করেন এবং তাঁদের সান্নিধ্যে থাকেন।

এরপর তিনি আরও শায়খ এবং আরও ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে ভ্রমণে বের হন। তিনি হালব (আলেপ্পো) গমন করে শায়খ শিহাবুদ্দীন আল-আযরাঈ (মৃত্যু ৭৮৩ হিজরি)-এর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেন। তিনি দামেশক ও অন্যান্য স্থানে হাদীস শ্রবণ করেন এবং শামের উলামায়ে কেরাম যেমন ইবনে কুদামা আল-মাকদিসী (মৃত্যু ৭৮০ হিজরি) এবং হাফেজ আবুল ফিদা ইসমাইল বিন কাসীর (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি) ও অন্যান্যদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেন।

ইলম অর্জনের পর তিনি ইলমি ব্যস্ততা, অধ্যাপনা ও ফতোয়া প্রদানের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেন। ইবনে হাজার বলেন: আয-যারকাশী নির্জনে নিজ গৃহে অবস্থান করতেন এবং বইয়ের বাজার ছাড়া অন্য কোথাও যাতায়াত করতেন না। তিনি সারাদিন বই বিক্রেতার দোকানে পড়াশোনা করতেন এবং তাঁর সাথে কিছু কাগজ থাকত যাতে তিনি পছন্দনীয় বিষয়গুলো লিখে নিতেন; এরপর বাড়িতে ফিরে সেগুলো তাঁর কিতাবসমূহে সংকলিত করতেন (আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/৩৯৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ৬)
وقال أحد تلاميذه: "كان منقطعًا إلى الاشتغال بالعلم لا يشتغل عنه بشيء، وله أقارب يكفونه أمر دنياه".

وتتلمذ عليه الكثيرون منهم العلامة شمس الدين الدين محمد بن عبد الدائم البرماوى الشافعي، والقاضى المفتى نجم الدين بن حجى الدمشقي الشافعي.

 

‌‌مؤلفاته:

وكان الانقطاع للعلم مثمرًا مؤلفاتٍ قَيِّمَةً نذكر منها ما يلي غير كتابنا هذا:

1 - إعلام الساجد بأحكام المساجد، وهو في الفقه، وطبع في المجلس الأعلى للشئون الإسلامية بالقاهرة، بتحقيق أبى الوفا المراغى سنة: (1385 هـ).

2 - البرهان في علوم القرآن.

طبع بتحقيق أبي الفضل إبراهيم في مصر في أربعة مجلدات.

3 - رسالة معنى لا إله إلا الله، في التوحيد.

طبعت بدار البشائر الإسلامية ببيروت - تحقيق على محيى الدين على القرداغى عام (1406 هـ - 1986 م).

4 - التنقيح لألفاظ الجامع الصحيح؛ في الحديث.

وقد طبع في المطبعة العصرية بمصر سنة 1933 م.

5 - تشنيف السامع، شرح جمع الجوامع في أصول الفقه وهو شرح لكتاب جمع الجوامع للإمام السبكى وطبع بمصر في مطبعة شركة التمدن سنة 1382.

كما طبع حديثا في مصر أيضًا في مجلدات عدة.

6 - تخريج أحاديث الشرح الكبير للرافعي في علم الحديث. قال ابن حجر: وخرج أحاديث الرافعى، ومشى فيه على جمع ابن الملقن، لكنه سلك طريق الزيلعي في سوق الأحاديث بأسانيد خرجها فطال الكتاب بذلك. (الدرر 3/ 397).

ولعله ما ذكره الزركشي هنا في الإجابة "الذهب الإبريز في تخريج أحاديث فتح العزيز (ص: 64).
তাঁর জনৈক ছাত্র বলেন: "তিনি জ্ঞানার্জনের কাজে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিবেদিত করেছিলেন, এর বাইরে অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত হতেন না। তাঁর কিছু আত্মীয়-স্বজন ছিল যারা তাঁর পার্থিব বিষয়াদির প্রয়োজন পূরণ করে দিতেন।"

তাঁর নিকট অসংখ্য ছাত্র ইলম অর্জন করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লামা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল দায়িম আল-বারমাওয়ি আশ-শাফেয়ি এবং কাজি মুফতি নাজমুদ্দিন বিন হাজ্জি আদ-দিমাশকি আশ-শাফেয়ি।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

ইলমের প্রতি এই একনিষ্ঠতা মূল্যবান অনেক গ্রন্থের জন্ম দিয়েছে। আমাদের বর্তমান এই কিতাবটি ছাড়াও উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

১ - ই’লামুস সাজিদ বি-আহকামিল মাসাজিদ; এটি ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থ। কায়রোর ‘আল-মাজলিসুল আ’লা লিশ-শুউনিল ইসলামিয়্যাহ’ থেকে ১৩৮৫ হিজরি সালে আবুল ওয়াফা আল-মারাগির তাহকিকসহ মুদ্রিত হয়েছে।

২ - আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন।

মিশরে আবুল ফজল ইবরাহিমের তাহকিকে চার খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

৩ - রিসালাতু মা’না লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ; এটি তাওহিদ বিষয়ক গ্রন্থ।

বৈরুতের ‘দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ’ থেকে ১৪০৬ হিজরি (১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ) সালে আলি মুহিউদ্দিন আলি আল-কারাদাগির তাহকিকসহ মুদ্রিত হয়েছে।

৪ - আত-তানকিহ লি-আলফাজিল জামিউস সহিহ; এটি হাদিস বিষয়ক গ্রন্থ।

১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে মিশরের ‘আল-মাতবাআতুল আসরিয়্যাহ’ থেকে এটি মুদ্রিত হয়েছে।

৫ - তাশনিউস সামি‘, শারহু জামউল জাওয়ামি‘ ফি উসুলিল ফিকহ; এটি ইমাম সুবকির ‘জামউল জাওয়ামি‘ কিতাবটির ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি ১৩৮২ সালে মিশরের ‘মাতবাআতু শারিকাতিত তামাদ্দুন’ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

এছাড়া বর্তমানে এটি মিশর থেকে বেশ কয়েক খণ্ডে পুনরায় মুদ্রিত হয়েছে।

৬ - তাখরিজু আহাদিসিশ শারহিল কাবির লির-রাফেয়ি; এটি হাদিস শাস্ত্রের গ্রন্থ। ইবনে হাজার বলেন: তিনি রাফেয়ির (বর্ণিত) হাদিসগুলো তাখরিজ করেছেন এবং এক্ষেত্রে ইবনুল মুলাক্কিনের সংকলন অনুসরণ করেছেন। তবে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি জায়লায়ির পদ্ধতি অনুসরণ করে স্বীয় সনদে হাদিসগুলো উপস্থাপন করেছেন, ফলে কিতাবটি দীর্ঘ হয়ে গিয়েছে। (আদ-দুরার ৩/৩৯৭)।

সম্ভবত এটিই সেই কিতাব যার কথা যারকাশী এখানে ‘আল-ইজাবাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: ‘আয-যাহাবুল ইব্রিয ফি তাখরিজি আহাদিসি ফাতহিল আযিয’ (পৃষ্ঠা: ৬৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ৭)
7 - البحر المحيط في أصول الفقه:

ومنه نسخة خطية بدار الكتب المصرية برقم (483) أصول.

8 - سلاسل الذهب، في أصول الفقه:

ذكر فيه مسائل هامة أصول الفقه.

وهو محقق بكلية الشريعة والقانون - جامعة الأزهر بتحقيق مأمون عبد القيوم

9 - خبايا الزوايا، في الفقه:

وهو كتاب في المسائل التي ذكرها الرافعى والنووى في غير مظانها، وحققه عبد القادر عبد الله لنيل درجة الماجستير في كلية الشريعة بالأزهر. وقد طبع هذا الكتاب عام 1402 هـ / 1982 م.

10 - النكت على مقدمة ابن الصلاح، وقد نشر هذه الكتاب في أربعة مجلدات بتحقيق د/ زين العابدين بن محمد بلا فريح - أضواء السلف - الرياض 1419 هـ / 1998 م.

11 - زهر العريش في تحريم الحشيس. حققه د/ السيد أحمد فرج - دار الوفاء - مصر 1407 هـ / 1987 م. ومؤلفات غير هذه كثيرة.

وبعد حياة حافلة بالعلم وعطائه؛ اشتغالا بتدريسه، والتأليف فيه توفى بمصر ثالث رجب سنة (794 هـ)(1).

 

‌‌منهج الزركشي في الإجابة

رتب الزركشي كتابه على أسماء الصحابة الذين استدركت عليهم السيدة عائشة رضي الله عنها.

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمة له في:

- شذرات الذهب: (6/ 398).

- الدرر الكامنة: (3/ 397 - 398).

- طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة: (3/ 167 - 168)

- طبقات المفسرين للداودى: (2/ 162 - 163).

৭ - আল-বাহরুল মুহীত ফী উসুলিল ফিকহ:

এর একটি পাণ্ডুলিপি মিশরের 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ'-তে (৪৮৩) 'উসুল' নম্বরে সংরক্ষিত আছে।

৮ - সালাসিলুজ যাহাব, উসুলুল ফিকহ বিষয়ে:

এতে তিনি উসুলুল ফিকহের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাসমূহ আলোচনা করেছেন।

এটি আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ ও আইন অনুষদে মামুন আব্দুল কাইয়ুমের সম্পাদনায় সম্পাদিত হয়েছে।

৯ - খাবায়াল যাওয়ায়া, ফিকহ বিষয়ে:

এটি এমন একটি গ্রন্থ যা ইমাম রাফেয়ী এবং ইমাম নববী তাদের কিতাবের অপ্রাসঙ্গিক স্থানে যে মাসআলাগুলো উল্লেখ করেছেন তা নিয়ে রচিত। আব্দুল কাদির আব্দুল্লাহ আযহারের শরীয়াহ অনুষদে তার স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রির জন্য এটি সম্পাদন করেছেন। এই বইটি ১৪০২ হিজরী / ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়েছে।

১০ - আন-নুকাতে আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ। বইটি ড. যয়নুল আবেদীন বিন মুহাম্মদ বিলা ফারিহ-এর সম্পাদনায় চার খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে - আদওয়াউস সালাফ - রিয়াদ ১৪১৯ হিজরী / ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ।

১১ - যাহরুল আরীশ ফী তাহরীমিল হাশীশ। এটি ড. আস-সাইয়িদ আহমদ ফারাজ সম্পাদন করেছেন - দারুল ওয়াফা - মিশর ১৪০৭ হিজরী / ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ। এগুলি ছাড়াও তাঁর আরও অনেক রচনা রয়েছে।

জ্ঞানচর্চা, শিক্ষা দান এবং গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে এক কর্মমুখর জীবন অতিবাহিত করার পর তিনি ৭৯৪ হিজরীর ৩রা রজব মিশরে ইন্তেকাল করেন।(১)।

 

‌‌আল-ইজাবাহ গ্রন্থে যারকাশীর পদ্ধতি

যারকাশী তাঁর গ্রন্থটি সেই সকল সাহাবীগণের নামের ক্রমানুসারে সাজিয়েছেন যাঁদের ভুল বা অসংগতি সায়্যিদাহ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সংশোধন করে দিয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন:

- শাযারাতুজ যাহাব: (৬/ ৩৯৮)।

- আদ-দুরারুল কামিনাহ: (৩/ ৩৯৭ - ৩৯৮)।

- ইবনে কাজী শুহবার তবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ: (৩/ ১৬৭ - ১৬৮)

- আদ-দাউদীর তবাকাতুল মুফাসসিরীন: (২/ ১৬২ - ১৬৩)।

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ৮)
وتحت اسم كل صحابي يأتى بالأحاديث التي رواها الصحابي، واستدراك السيدة عائشة عليها.

ثم يناقش ويصحّح ويضعف، ويجمع بين الروايات - إن أمكن الجمع بينها.

وفى كل هذا يتجلى سعة علم الزركشى، ومعرفته بالروايات؛ ما يتفق منها وما يختلف، وكثرةُ مصادره، بما يكون فيه إنصاف للسيدة عائشة رضي الله عنها، وإنصاف للصحابة الآخرين الذين استدركت عليهم.

وقد سبق الزركشي في التأليف في هذا الموضوع أبو منصور عبد المحسن بن محمد بن علي الشِّيمى البغدادى ت (406 هـ) في كتابه "استدراك أم المؤمنين عائشة على الصحابة".

وأبو منصور يكتفى بإيراد الأحاديث التي استدركتها السيدة عائشة بإسناده إلى الصحابي الذي رواها دون ترتيب فقد يذكر استدراكًا على ابن عمر، ثم عن أبي هريرة، ثم عن ابن عمر، وهكذا.

وهو يكتفى بإيراد الأحاديث فقط دون تعليق عليها، أو تصحيح، أو تضعيف، أو مناقشة، أو إيراد روايات أخرى، كما يفعل كل هذا الزركشي.

وقد نقل الزركشي عن أبي منصور بعض الروايات التي لم يجدها في مصدر آخر، مما يدل على أنه اطلع على هذا الكتاب.

ولا شك أنه بهذا الإطلاع قد استفاد منه، ولكنها الاستفادة التي قد تنحصر في أنها فتحت للزركشى بعض آفاق هذا الموضوع، ودلته على كثير من رواياته التي تشكل الأساس في الموضوع.

ولكن يبقى للزركشى مصادره المتنوعة، ورواياته الغزيرة، ومادته الواسعة، وجَوَلاته المتعددة؛ على طريق الجمع بين الروايات وتوثيقها، وتصحيح بعضها، وتضعيف بعضها الآخر، والإلمام بجوانب كل موضوع من موضوعات الاستدراكات.

ولا بأس من الإشارة هنا إلى كتاب آخر على علاقة بالإجابة والكلام عنه مفيد
প্রত্যেক সাহাবীর নামের অধীনে সেই সাহাবীর বর্ণিত হাদীসসমূহ এবং সেগুলোর ওপর সায়্যিদাহ আয়িশার সংশোধনীসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর তিনি আলোচনা করেন, (হাদীসকে) সহীহ বা যয়ীফ সাব্যস্ত করেন এবং বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করেন—যদি সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয়।

এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে আয-যারকাশীর জ্ঞানের বিশালতা, বর্ণনাগুলো সম্পর্কে তাঁর পরিচিতি—সেগুলোর কোনটি সঙ্গতিপূর্ণ আর কোনটি ভিন্নতর—এবং তাঁর উৎসের প্রাচুর্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে; যার মাধ্যমে সায়্যিদাহ আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এবং অন্যান্য সাহাবী, যাঁদের ওপর তিনি সংশোধনী দিয়েছেন, তাঁদের উভয়ের প্রতি ইনসাফ প্রদর্শিত হয়েছে।

আয-যারকাশীর পূর্বে আবু মানসুর আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শীমী আল-বাগদাদী (মৃ. ৪০৬ হি.) তাঁর "ইস্তিদরাকু উম্মিল মুমিনীন আয়িশা আলাস সাহাবা" গ্রন্থে এই বিষয়ে রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

আবু মানসুর কেবল সায়্যিদাহ আয়িশা কর্তৃক সংশোধিত হাদীসগুলো যে সাহাবী বর্ণনা করেছেন তাঁর সনদসহ উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন, কোনো প্রকার বিন্যাস ছাড়াই; ফলে তিনি হয়তো ইবনে উমর-এর ওপর একটি সংশোধনী উল্লেখ করেছেন, তারপর আবু হুরায়রা থেকে, এরপর আবার ইবনে উমর থেকে—এভাবেই (লিখেছেন)।

তিনি কোনো মন্তব্য, সহীহ বা যয়ীফ নির্ধারণ, আলোচনা বা অন্য কোনো বর্ণনা উল্লেখ করা ছাড়াই কেবল হাদীসগুলো আনয়নে সীমাবদ্ধ থেকেছেন; যেখানে আয-যারকাশী এ সব কিছুই করেছেন।

আয-যারকাশী আবু মানসুরের নিকট থেকে এমন কিছু বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যা তিনি অন্য কোনো উৎসে পাননি, যা প্রমাণ করে যে তিনি এই গ্রন্থটি অধ্যয়ন করেছিলেন।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই অধ্যয়নের মাধ্যমে তিনি উপকৃত হয়েছেন, তবে সেই উপকারিতা হয়তো আয-যারকাশীর জন্য এই বিষয়ের কিছু দিগন্ত উন্মোচন এবং তাঁকে এমন অনেক বর্ণনার সন্ধান দেওয়ায় সীমাবদ্ধ ছিল যা এই বিষয়ের মূল ভিত্তি গঠন করে।

তবে বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন, সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতা যাচাই, কোনোটিকে সহীহ ও কোনোটিকে যয়ীফ সাব্যস্ত করা এবং সংশোধনীসমূহের প্রতিটি বিষয়ের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবগত হওয়ার ক্ষেত্রে আয-যারকাশীর বৈচিত্র্যময় উৎস, প্রচুর বর্ণনা, বিশাল উপাদান এবং বহুমুখী বিচরণ অনন্য হয়ে রয়েছে।

এখানে 'আল-ইজাবাহ' গ্রন্থের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য একটি কিতাবের প্রতি ইঙ্গিত করা যেতে পারে, যার সম্পর্কে আলোচনা করা ফলপ্রসূ হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ৯)
في بيان منهج الإجابة، ألا وهو: "عين الإصابة في استدراك عائشة على الصحابة" لجلال الدين السيوطي.

لخص في هذا الكتاب الإجابة، ولكنه - كما ذكر في المقدمة - حذف ما رآه أنه ليس من الاستدراكات، كما يبين ذلك في مقدمة الكتاب.

وأهم من هذا أنه رتبه على الموضوعات، وليس على الصحابة كما صنع الزركشي، فجمع ما يتعلق بالطهارة من الاستدراكات في موضع واحد، ثم الصلاة، ثم الجنائز، ثم الصيام، .. وهكذا.

وهو يكتفى بإيراد الحديث فقط في الغالب الأعم، ولا يصول ويجول في الموضوع كما يفعل الزركشي.

 

‌‌عملنا في هذا الكتاب:

هذا الكتاب طبع في طبعته الأولى عام (1358 هـ / 1939 م)، طبعه الأستاذ سعيد الأفغانى على نسخة وحيدة بخط المؤلف.

وقد بذل الأستاذ سعيد جهدًا كبيرًا في قراءة هذا المخطوط، ونقله، فالمخطوط تصعب قراءته، ولولا هذا الجهد الذي بذله، والمعاناة التي عاناها - فلربما ما خرج هذا الكتاب إلى النور، فجزاه الله تعالى خير الجزاء وأحسنه.

وهذه الصعوبة في الخط قد ألقت بظلالها على النسخة المطبوعة على الرغم من هذا الجهد، فهناك بعض الكلمات التي لم يستطع قراءتها أو قرئت قراءة غير صحيحة، وأثبتت كذلك.

كما أن الكتاب لم تخرج أحاديثه بالرجوع إلى مصادر المصنف، والدلالة على مواضع الأحاديث فيها، ومقارنتها بما في هذه المصادر؛ إذ اكتفى المصنف بالعزو إلى هذه المصادر، ولم يصنع شيئًا في هذا المجال صاحب الطبعة الأولى.

هنا كان الكتاب في حاجة إلى إعادة تحقيق وتخريج لأحاديثه، وإعادة لقراءته في ضوء ما في هذه المصادر مقارنة بما في الكتاب، وشرح لغريبه، وتعليق على ما يحتاج إلى تعليق وتوثيق لنصوصه ما أمكن، وهذا ما صنعناه.
জালালুদ্দীন সুয়ূতী বিরচিত 'আল-ইজাবাহ'-এর মানহাজ বা পদ্ধতির বর্ণনায়, যা হলো: 'আইনুল ইসাবাহ ফী ইসতিদরিক আইশা আলাস সাহাবাহ'।

তিনি এই কিতাবে 'আল-ইজাবাহ' গ্রন্থটিকে সংক্ষেপ করেছেন, তবে—যেমনটি তিনি ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন—তিনি এমন বিষয়গুলো বাদ দিয়েছেন যেগুলোকে তিনি প্রকৃত সংশোধনী (ইস্তিদরাক) মনে করেননি, যা তিনি কিতাবের ভূমিকায় স্পষ্ট করেছেন।

এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি এটি বিষয়ভিত্তিক বিন্যস্ত করেছেন, যারকাশী যেমন সাহাবীভিত্তিক বিন্যস্ত করেছিলেন তেমনটি নয়। ফলে তিনি পবিত্রতা সংক্রান্ত সংশোধনীগুলো এক স্থানে জমা করেছেন, এরপর সালাত, এরপর জানাযা, এরপর সিয়াম... এভাবে।

তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল হাদীসটি উল্লেখ করার মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছেন এবং যারকাশীর মতো বিষয়ের গভীরে বিস্তারিত আলোচনা করেননি।

 

এই কিতাবে আমাদের কর্মপদ্ধতি:

এই কিতাবটি ১৩৫৮ হিজরী / ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রথমবার মুদ্রিত হয়। উস্তাদ সাঈদ আল-আফগানী লেখকের নিজ হাতের লেখা একমাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে এটি মুদ্রণ করেন।

উস্তাদ সাঈদ এই পাণ্ডুলিপিটি পাঠ এবং তা অনুলিপি করার ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, কারণ পাণ্ডুলিপিটি পাঠ করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। যদি তাঁর এই প্রচেষ্টা এবং কষ্ট না থাকত, তবে হয়তো এই কিতাবটি আলোর মুখ দেখত না। আল্লাহ তাআলা তাঁকে সর্বোত্তম ও কল্যাণকর প্রতিদান দান করুন।

হস্তলিপির এই অস্পষ্টতা এই প্রচেষ্টার পরেও মুদ্রিত কপির ওপর প্রভাব ফেলেছে; ফলে এমন কিছু শব্দ রয়ে গেছে যা তিনি পড়তে পারেননি অথবা ভুলভাবে পাঠ করেছেন এবং সেভাবেই তা বহাল রাখা হয়েছে।

এছাড়া কিতাবটির হাদীসসমূহ মূল লেখকের উৎসগ্রন্থগুলোর আলোকে তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) করা হয়নি, না সেগুলোতে হাদীসগুলোর স্থান নির্দেশ করা হয়েছে, আর না সেই উৎসগুলোর সাথে সেগুলোর তুলনা করা হয়েছে; কেননা মূল লেখক কেবল সেই উৎসগুলোর নাম উল্লেখ করার মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছেন এবং প্রথম মুদ্রণের সম্পাদক এ ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো কাজ করেননি।

এখানেই কিতাবটির পুনরায় তাহকীক এবং এর হাদীসসমূহের তাখরীজ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেইসাথে মূল উৎসগ্রন্থসমূহের আলোকে কিতাবটির পাঠ পুনঃনিরীক্ষণ করা, কঠিন শব্দগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান, প্রয়োজনীয় টীকা সংযোজন এবং যথাসম্ভব এর পাঠ্যসমূহের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করার প্রয়োজন ছিল। আর আমরা এটিই সম্পন্ন করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ১০)
وبحمد الله عز وجل وعونة وتوفيقه صححنا الكثير من الألفاظ والعبارات بالرجوع إلى مصادر المصنف، والمقارنة بين ما فيها وما في الإجابة، كما يتضح ذلك في الفروق التي أثبتناها في الهوامش.

وخَرَّجْنَا الأحاديث ووثقنا كثيرًا من النصوص من مصادرها، وعلّقنا بالتفصيل على ما في الكتاب، بما يُجَلَّى مراده، وما هدف إليه.

والحق أن الرجوع إلى أغلب المصادر كان بمثابة النسخة الثانية للكتاب الذي لا توجد له إلا نسخة واحدة على أغلب الظن، هي التي طبع عليها الأستاذ سعيد الأفغانى الكتاب والتي حققنا عليها الكتاب كذلك، وهي سقيمة الخط، كما بينا.

وهى في المكتبة الظاهرية بدمشق ضمن مجموع برقم (32) مجاميع وهى من ورقة (68) إلى (114) أي في أربعة وأربعين ورقة وهذه الورقات ليست على وتيرة واحدة - كما نشاهده في معظم المخطوطات فنجد بعضها مزدحمًا بالأسطر، وخاصة ما يُلْحِقه المؤلف في الحواشى مما هو من النص، وبعضها ليس فيه إلا أسطر قليلة، ولهذا فأَفْضَلُ وصف لها هي نشر بعض هذه الصفحات ليتعرف عليها الباحثون واقعا ملموسًا، وليس وصفًا لا يجلِّى طبيعة هذه النسخة.

وفى صفحة العنوان جاء عنوان الكتاب:

"الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة".

تأليف الفقير إلى رحمة ربه وعفوه محمد بن عبد الله الزركشي الشافعي، لطف الله به. آمين ..

وتحت العنوان أسطر فيها كلام للحافظ ابن حجر، ننقله، ثم نعلق عليه، وهو:

"قال أبو الفضل بن حجر: أصل هذا التصنيف للأستاذ الجليل أبي منصور عبد المحسن بن محمد بن علي بن طاهر البغدادى الفقيه المُحَدِّث المشهور، رأيته في مجلدة لطيفة، وجملة ما فيه من الأحاديث (25) حديثًا، وكان الكتاب المذكور عند القاضي برهان الدين بن جماعة، فما أدرى: هل خفى عليه وقت
মহান আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা, তাঁর সাহায্য ও তাওফিকের মাধ্যমে আমরা গ্রন্থকারের মূল উৎসসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে এবং সেই উৎসগুলোর সাথে এই গ্রন্থের বিষয়বস্তুর তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে অনেক শব্দ ও বাক্য সংশোধন করেছি, যা আমাদের টীকাগুলোতে উল্লেখ করা পাঠভেদের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।

আমরা হাদিসগুলোর তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) করেছি এবং অধিকাংশ উদ্ধৃতির মূল উৎস থেকে প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করেছি। এছাড়াও গ্রন্থের বিষয়বস্তুর ওপর বিস্তারিত টীকা প্রদান করেছি, যাতে লেখকের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সত্য কথা এই যে, অধিকাংশ উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করা এই গ্রন্থটির দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির বিকল্প হিসেবে কাজ করেছে, কারণ ধারণা করা হয় যে এর মাত্র একটি পাণ্ডুলিপিই বিদ্যমান। সেই পাণ্ডুলিপিটি থেকেই উস্তাদ সাঈদ আল-আফগানি গ্রন্থটি প্রকাশ করেছিলেন এবং আমরাও সেটির ওপর ভিত্তি করেই গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছি; তবে আমরা যেমনটা ব্যাখ্যা করেছি, সেই পাণ্ডুলিপিটির হস্তলিপি ছিল খুবই অস্পষ্ট ও ত্রুটিপূর্ণ।

এটি দামেস্কের মাকতাবাতুয যাহিরিয়্যাহ-তে ৩২ নম্বর 'মাজমুআ' (সংকলন)-এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ৬৮ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে ১১৪ নম্বর পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত, অর্থাৎ মোট চুয়াল্লিশটি পৃষ্ঠা। এই পৃষ্ঠাগুলো সব একই ধাঁচের নয়—যেমনটা আমরা অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে দেখে থাকি। কোনো কোনো পৃষ্ঠা লাইনে ঠাসা, বিশেষ করে লেখক মূল পাঠের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে টীকায় যা যোগ করেছেন তার কারণে; আবার কোনোটিতে সামান্য কয়েকটি লাইন রয়েছে। তাই এই পাণ্ডুলিপিটির শ্রেষ্ঠ বর্ণনা হলো এর কয়েকটি পৃষ্ঠা প্রকাশ করা, যাতে গবেষকরা এর প্রকৃত রূপ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেতে পারেন, যা কেবল বর্ণনার মাধ্যমে এই পাণ্ডুলিপির প্রকৃতি ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়।

শিরোনামের পাতায় গ্রন্থটির শিরোনাম এভাবে এসেছে:

"আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাসতাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ" (সাহাবায়ে কেরামের ওপর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যেসব বিষয়ে সংশোধনী দিয়েছেন তার উপস্থাপনা)।

রচনায়: তাঁর রবের দয়া ও ক্ষমার মুখাপেক্ষী অভাবী বান্দা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আয-যারকাশি আশ-শাফিয়ি, আল্লাহ তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করুন। আমিন।

শিরোনামের নিচে কয়েক লাইন রয়েছে যেখানে হাফেজ ইবনে হাজারের বক্তব্য উদ্ধৃত আছে, আমরা তা এখানে উল্লেখ করছি এবং এরপর তার ওপর মন্তব্য করব; বক্তব্যটি হলো:

"আবু ফজল ইবনে হাজার বলেন: এই রচনার মূল ভিত্তি হলো প্রখ্যাত ফকিহ ও মুহাদ্দিস মহান উস্তাদ আবু মনসুর আব্দুল মুহসিন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে তাহের আল-বাগদাদির কাজ। আমি এটি একটি ক্ষুদ্র খণ্ডে দেখেছি, যাতে মোট হাদিস ছিল ২৫টি। উল্লিখিত বইটি কাজী বুরহানুদ্দিন ইবনে জামাআহর নিকট ছিল, তবে আমি জানি না সেই সময় কি তাঁর নিকট এটি অস্পষ্ট ছিল..."
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ১১)
تقديم هذا له أو أعلمه به؟ نعم، لمصنف الإجابة حُسْنُ الترتيب والزيادات البَيِّنَة، والعزو إلى التصانيف الكبار، والأول على عادة من تقدم يقتصر على سوق الأحاديث بأسانيده إلى شيوخه، وجملة من أخرج ذلك عنه من شيوخه نحو من ثلاثين شيخًا من شيوخ بغداد ومصر وغيرها، ولا يعزو التخريج إلى أحد. وقد نقل هذا المصنف عن أبي منصور في هذا الكتاب، فعلم أنه وقف عليه، وكان ينبغي له أن ينبه على ذلك، وهذا التصنيف القديم أخبرنا به غير واحد من شيوخنا إجازة عن عبد القادر بن أبي البركات بن القريشي: أنا المُسَلَّم بن عَلَّان سماعًا، عن الخشوعي، عن أبي عبد الله الحسين بن محمد بن خسرو، أخبرنا المصنف سماعًا".

وهذا النص فيه مقارنة بين كتاب أبي منصور البغدادي والإجابة؛ لما قلناه من أن الزركشى قد استفاد من أبي منصور، ولكن ذلك لم يصل به إلى درجة النقل، كما قد يفهم من هذا النص، وكما جاء في نقل للسخاوى عن ابن حجر قوله: "فصل فيمن أخذ تصنيف غيره فادَّعاه لنفسه، وزاد فيه ونقص. قال السخاوى: كذا قرأت بخطه على "الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة" للزركشى، أصل هذا التصنيف .. الخ" وهذا يبين أن كلام ابن حجر السابق إنما هو بخطه.

والحق أن في هذا تَجَنٍّ على الزركشي؛ إذ أنه لم يَدَّع كلام أبي منصور؛ لأن الأخير إنما روى أحاديث فقط عن شيوخه، أما الزركشي فقد نحا نحوًا آخر، وهو عزو الروايات ونقلها عمن رواها من المصنِّفين، أي من غير طرق أبى منصور، وكان يلجأ إلى أبي منصور في الروايات التي لم يجدها عند غيره من المصنفين. وهي قليلة جدًّا، ويعزوها إليه وإلى روايته.

وكما لمس ابن حجر نفسه فـ "لمصنف الإجابة حسن الترتيب، والزيادات البينة، والعزو إلى التصانيف الكبار".

وكما قال ابن حجر نفسه في أبى منصور: إن كل عمله "على عادة من تقدم يقتصر على سَوْق الأحاديث بأسانيده إلى شيوخه".
এটি কি তার নিকট পেশ করা হয়েছে নাকি আমি তাকে এ সম্পর্কে অবহিত করেছি? হ্যাঁ, আল-ইজাবাহ গ্রন্থের রচয়িতার বিন্যাস শৈলী চমৎকার, এতে সুস্পষ্ট তাত্ত্বিক সংযোজন রয়েছে এবং বড় বড় কিতাবের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। আর প্রথমোক্ত ব্যক্তি (আবু মনসুর) পূর্বসূরিদের রীতি অনুযায়ী কেবল তার শায়খদের মাধ্যমে সনদসহ হাদিসগুলো বর্ণনা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। তার যে সকল শায়খদের থেকে তিনি এগুলো বর্ণনা করেছেন, তাদের সংখ্যা বাগদাদ, মিসর ও অন্যান্য স্থানের প্রায় ত্রিশজন শায়খ। তিনি কারো দিকে হাদিসের উৎসের উদ্ধৃতি দেননি। আর এই রচয়িতা (যারকাশী) এই কিতাবে আবু মনসুর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, ফলে বোঝা যায় যে তিনি এটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তার উচিত ছিল এ বিষয়ে ইঙ্গিত করা। আর এই প্রাচীন পাণ্ডুলিপিটি সম্পর্কে আমাদের একাধিক শায়খ অনুমতি বা ইজাজত প্রদান করেছেন, তারা বর্ণনা করেছেন আব্দুল কাদির বিন আবিল বারাকাত বিন আল-কুরাইশি থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শ্রবণ বা সামা মারফত বর্ণনা করেছেন আল-মুসাল্লাম বিন আল্লান, তিনি আল-খুশুয়ি থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন খুসরো থেকে, তিনি বলেন: গ্রন্থকার আমাদের নিকট শ্রবণ মারফত সংবাদ দিয়েছেন।

এই পাঠ্যটিতে আবু মনসুর আল-বাগদাদির কিতাব এবং 'আল-ইজাবাহ'র মধ্যে একটি তুলনা করা হয়েছে; যেমনটি আমরা বলেছি যে যারকাশী আবু মনসুর থেকে উপকৃত হয়েছেন। তবে এটি হুবহু নকল করার পর্যায়ে পৌঁছেনি, যেমনটি এই পাঠ থেকে বোঝা যেতে পারে। ইমাম সাখাভী ইমাম ইবনে হাজার থেকে যা বর্ণনা করেছেন সেখানেও বিষয়টি এসেছে, তিনি বলেছেন: "একটি পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি অন্যের রচনা গ্রহণ করে তা নিজের বলে দাবি করে এবং তাতে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটায়। সাখাভী বলেন: আমি যারকাশীর 'আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা ইস্তাদরাকাতহু আইশা আলা আস-সাহাবাহ' গ্রন্থের উপর তার হস্তাক্ষরে এভাবে পড়েছি, 'এই রচনার মূলভিত্তি হচ্ছে... ইত্যাদি'।" এটি স্পষ্ট করে যে, ইবনে হাজারের পূর্বোক্ত কথাগুলো মূলত তার নিজের হাতের লেখাতেই ছিল।

প্রকৃত সত্য হলো, এটি যারকাশীর প্রতি কিছুটা অবিচার; কারণ তিনি আবু মনসুরের বক্তব্যকে নিজের বলে দাবি করেননি। কেননা আবু মনসুর কেবল তার শায়খদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে যারকাশী ভিন্ন পথ অনুসরণ করেছেন, আর তা হলো বর্ণনাগুলোকে সেসব সংকলকদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা এবং তাদের থেকে উদ্ধৃত করা যারা সেগুলো বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ আবু মনসুরের সূত্র ছাড়াও অন্যান্য সূত্রে। তিনি কেবল সেই সব বর্ণনার ক্ষেত্রে আবু মনসুরের শরণাপন্ন হতেন যেগুলো তিনি অন্য কোনো সংকলকের কাছে পাননি। আর এ ধরণের বর্ণনা অত্যন্ত নগণ্য, এবং তিনি সেগুলো তার দিকে ও তার বর্ণনার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।

যেমনটি ইবনে হাজার নিজেই উপলব্ধি করেছেন যে, "আল-ইজাবাহ রচয়িতার বিন্যাস পদ্ধতি অত্যন্ত সুন্দর, এতে সুস্পষ্ট নতুন সংযোজন রয়েছে এবং বড় বড় প্রামাণ্য গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে"৷

যেমনটি ইবনে হাজার নিজেই আবু মনসুর সম্পর্কে বলেছেন: তার সমস্ত কাজই "পূর্বসূরিদের রীতি অনুযায়ী কেবল শায়খদের মাধ্যমে সনদসহ হাদিসগুলো উপস্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ"৷
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ১২)
ومهما يكن من أمر فقد أكد ابن حجر بهذا أن الكتاب للزركشى، ويضاف ذلك إلى البَيِّنَات الأخرى من تسجيل قراءة ابن المصنف ونسخه، كما يتضح من صفحة العنوان، في مربع على اليسار، ففيه:

"فرغه قراءة ونسخًا العبد محمد بن محمد بن الزركشي، عامله الله تعالى بلطفه الخفى".

ومن سماع الابن المذكور الكتاب على والده هو وإخوته وأخواته وقد سجلنا ذلك في آخر الكتاب.

وهناك نَصَّان آخران في صفحة العنوان يتعلقان بأخبار عن السيدة عائشة - رضي الله عنها، وهما:

 

‌‌النص الأول:

"نقلت من كتاب أبى بكر محمد بن عبد الملك التاريخي(1) الذي وضعه أخبار النحاة: حدثنا سوادة بن علي: ثنا محمد بن عبد الله بن نمير: ثنا أبو معاوية: ثنا المنهال بن خليفة عن سلمة بن هشام قال: كانت حفصة وعائشة متآخيتين، وكانت سودة وأم سلمة متآخيتين، فكانت سودة تنشد:

"عَدِيٌّ وتَيْمٌ تَبْتَغِي مَنْ تُحالِفُ"

فقالت عائشة: "ما تُعَرِّضُ إلا بى وبك يا حفصة. فإذا رأيتني قد قمت فأخذت برأسها فأعينينى" فقامت فأخذت برأسها وخافت حفصة فأعانتها، وجاءت أم سلمة فأعانت سودة، فأتى النبي صلى الله عليه وسلم فأخبر، وقيل له: "أدرك نساءك يقتتلن" فقال: "ويحكن ما لكن؟ " فقالت عائشة: "يا رسول الله، ألا تسمعها تقول: "عدى وتيم تبتغى من تحالف"؟ فقال: "ويحكن ليس عَدِيُّكُنَّ ولا تَيْمُكُنَّ، إنما هو عدى تميم، وتيم تميم".

--------------------------------------------

(1) توفى سنة (549) وروى عن محمد بن سلام الجمحى. وقد نقل من الكتاب المذكور البغدادي في خزانة الأدب 1/ 24، 237 - 238، 3/ 37، 64، 5/ 144، 8/ 499، 10/ 346.

যাই হোক না কেন, ইবনে হাজার এর মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে কিতাবটি আল-যারকাশীর। এর সাথে অন্যান্য প্রমাণাদিও যুক্ত হয়, যেমন গ্রন্থকারের পুত্রের পাঠ এবং অনুলিপিকরণের রেকর্ড, যা শিরোনাম পৃষ্ঠার বাম দিকের একটি চতুর্ভুজ বাক্সে স্পষ্ট দেখা যায়, তাতে রয়েছে:

"বান্দা মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-যারকাশী এটি পাঠ এবং অনুলিপি সম্পন্ন করেছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর গোপন দয়া দিয়ে তাঁর সাথে আচরণ করুন।"

আর উক্ত পুত্রের তাঁর পিতার নিকট কিতাবটি শোনার (সামা') বিষয়টিও রয়েছে, তিনি নিজে এবং তাঁর ভাই ও বোনেরাও এটি শুনেছেন, যা আমরা কিতাবের শেষে লিপিবদ্ধ করেছি।

শিরোনাম পৃষ্ঠায় আরও দুটি পাঠ রয়েছে যা সায়্যিদাহ আয়েশা -রাযিয়াল্লাহু আনহা- এর সংবাদ সংশ্লিষ্ট, সেগুলো হলো:

 

‌‌প্রথম পাঠ:

"আমি আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আল-তারীখী(১)-এর কিতাব থেকে উদ্ধৃত করেছি যা তিনি ব্যাকরণবিদদের সংবাদ নিয়ে রচনা করেছেন: সুওয়াদাহ বিন আলী আমাদের বলেছেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমায়ের আমাদের বলেছেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের বলেছেন: মিনহাল বিন খলীফাহ আমাদের বলেছেন সালামাহ বিন হিশাম থেকে, তিনি বলেন: হাফসা ও আয়েশা পরস্পরের সাথে ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সাওদা ও উম্মে সালামা পরস্পরের সাথে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তখন সাওদা আবৃত্তি করতেন:

"আদী এবং তায়ম গোত্র এমন কাউকে খুঁজছে যারা তাদের সাথে সন্ধি করবে"

তখন আয়েশা বললেন: "হে হাফসা! সে আমাকে এবং তোমাকে ছাড়া আর কাউকেই ইঙ্গিত করছে না। সুতরাং যখন তুমি দেখবে আমি দাঁড়িয়ে তাঁর মাথা ধরব, তখন তুমি আমাকে সাহায্য করো।" অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর মাথা ধরলেন এবং হাফসা ভয় পেয়ে তাঁকে সাহায্য করলেন। উম্মে সালামা এসে সাওদাকে সাহায্য করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং তাঁকে সংবাদ জানানো হলো। তাঁকে বলা হলো: "আপনার স্ত্রীদের খবর নিন, তারা তো মারামারি করছে।" তিনি বললেন: "তোমাদের দুর্ভাগ্য, তোমাদের কী হয়েছে?" আয়েশা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি শুনছেন না সে কী বলছে: 'আদী এবং তায়ম সন্ধি করার জন্য কাউকে খুঁজছে'?" তখন তিনি বললেন: "তোমাদের দুর্ভাগ্য, এটি তোমাদের আদী বা তোমাদের তায়ম গোত্র নয়; বরং এটি হলো তামীম গোত্রের আদী এবং তামীম গোত্রের তায়ম।"

--------------------------------------------

(১) তিনি ৫৪৯ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন এবং মুহাম্মদ বিন সাল্লাম আল-জুমাহী থেকে বর্ণনা করেছেন। বাগদাদী উক্ত কিতাব থেকে 'খিযানাতুল আদাব' গ্রন্থের ১/২৪, ২৩৭-২৩৮; ৩/৩৭, ৬৪; ৫/১৪৪; ৮/৪৯৯; ১০/৩৪৬ পৃষ্ঠায় উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ১৩)
قال الكلبي: "تيم تميم هو الرَّبَاب وقيل: إن عَدِيًّا وتَيْمًا وتيم أخوان، قال جرير:

يا تَيْمُ تَيْمَ عَدِيٍّ لا أَبَا لَكُمْ … لا يُوقِعَنَّكُمُ فِي سَوْءَةٍ عُمَرُ

والنص الثاني:

روى أبو نعيم الحافظ في حلية الأولياء(1) في ترجمتها: "حدثنا سليمان بن أحمد، (ثنا أحمد)(2) بن يحيى بن خالد (بن حيان)(2) الرقى، ثنا محمد بن بشر المصرى، ثنا عثمان بن عبد الله، ثنا مالك بن أنس، عن هشام بن عروة، عن أبيه، عن عائشة قالت: "قلت لرسول الله صلى الله عليه وسلم: كيف حبك لي؟ " قال: "كَعُقْدَة الحَبْل" فكنت أقول: "كيف العُقْدَة يا رسول الله؟ " قالت: فيقول: "هي على حالها" اهـ.

هذا، وقد طبع هذا الكتاب طبعة أخرى في مصر، في مطبعة العاصمة بالقاهرة، نشره زكريا على يوسف، وهى نسخة منقولة من نسخة الأستاذ سعيد الأفغانى بعُجَرِها وبُجَرِها مع التعمية في ذلك. وليس عليها تاريخ نشر ولذلك لم نعبأ بها.

 

‌‌سندى إلى بدر الدين الزركشي:

أروى الإجابة وسائر مؤلفات الزركشي عن شيخي المحدّث الكبير محمد الحافظ بن عبد اللطيف الحسنى الحسينى إجازة عن العلامة عبد الحي الكتاني صاحب فهرس الفهارس، عن أحمد رضا على خان، عن آل الرسول الأحمدى، عن عبد العزيز الدهلوى، عن أبيه ولى الله الدهلوى، عن محمد وفد الله بن محمد بن سليمان الرُّدَاني، وأبى الطاهر الكورانى، كلاهما عن محمد بن سليمان الرُّدَانى صاحب صلة الخلف بموصول السلف، عن علي بن أحمد

--------------------------------------------

(1) حلية الأولياء: (2/ 44).

(2) ما بين المعكوفين من الحلية.

কালবি বলেন: "তৈম তামীম হলো আর-রাবাব" এবং বলা হয়েছে যে: আদী এবং তৈম হলো দুই ভাই, জারির বলেছেন:

হে আদির তৈম, তোমাদের কোনো পিতা নেই ... উমর যেন তোমাদের কোনো মন্দ কাজে নিপতিত না করেন।

দ্বিতীয় পাঠ:

হাফেজ আবু নুআইম 'হিলইয়াতুল আউলিয়া'(১) গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে বর্ণনা করেছেন: "আমাদের নিকট সুলায়মান ইবনে আহমদ বর্ণনা করেছেন, (আমাদের নিকট আহমদ)(২) ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ (ইবনে হাইয়ান)(২) আর-রিক্কি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে বিশর আল-মিসরি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মালিক ইবনে আনাস বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললাম: আমার প্রতি আপনার ভালোবাসা কেমন?" তিনি বললেন: "রশির গিঁটের মতো।" এরপর আমি বলতাম: "হে আল্লাহর রাসূল! গিঁটটি কেমন আছে?" তিনি বলতেন: "এটি আগের অবস্থাতেই আছে।" (সমাপ্ত)।

উল্লেখ্য যে, এই বইটি মিশরের কায়রোতে অবস্থিত মাতবাআতুল আসিমাহ থেকে অন্য একটি সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে, যা জাকারিয়া আলী ইউসুফ প্রকাশ করেছেন। এটি মূলত উস্তাদ সাঈদ আল-আফগানির পাণ্ডুলিপি থেকে তার ভালো-মন্দ এবং অস্পষ্টতা সহকারে নকল করা হয়েছে। এতে কোনো প্রকাশকাল উল্লেখ নেই, তাই আমরা এর প্রতি গুরুত্ব দিইনি।

 

‌‌বদরুদ্দিন আল-জারকাশি পর্যন্ত আমার সনদ:

আমি 'আল-ইজাবাহ' এবং আল-জারকাশির অন্যান্য সকল গ্রন্থ আমার শায়খ মহান মুহাদ্দিস মুহাম্মদ হাফেজ ইবনে আব্দুল লতিফ আল-হাসানি আল-হুসাইনি থেকে ইজাজতসূত্রে বর্ণনা করি, তিনি 'ফিহরিসুল ফাহারিস'-এর রচয়িতা আল্লামা আব্দুল হাই আল-কাত্তানি থেকে, তিনি আহমদ রেজা আলী খান থেকে, তিনি আল-ই-রাসূল আল-আহমাদি থেকে, তিনি আব্দুল আজিজ দেহলভি থেকে, তিনি তাঁর পিতা শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ওয়াফদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলায়মান আর-রুদানি এবং আবু তাহির আল-কুরানি থেকে, তাঁরা উভয়ে 'সিলাতুল খালাফ বি-মাওসুলিস সালাফ'-এর রচয়িতা মুহাম্মদ ইবনে সুলায়মান আর-রুদানি থেকে, তিনি আলী ইবনে আহমদ থেকে...

--------------------------------------------

(১) হিলইয়াতুল আউলিয়া: (২/ ৪৪)।

(২) তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশগুলো 'হিলইয়া' থেকে নেওয়া হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ১৪)
الأجهورى وقاضي القضاة شهاب الدين أحمد بن محمد الخفاجي، عن الشمس محمد بن أحمد الرملي، والسراج بن الجاى، والشيخ بدر الدين الكرخي، عن الجلال السيوطي، عن تقى الدين الشهنى، عن والده، عن بدر الدين الزركشي.

* * *

والله أسأل لى ولمن يقرأ هذا الكتاب وينتفع به، وللمسلمين أن يوفقنا إلى ما يحبه ويرضاه، وأن يغفر زلاتنا، ويقبل عثراتنا، ويرحم موتانا وموتى المسلمين، وأن يتجاوز عما قصرت فيه.

وصلى الله تعالى وسلم وبارك على سيدنا وعلى آله وصحبه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

والحمد لله رب العالمين

 

رفعت فوزى عبد المطلب

القاهرة في شعبان من

سنة 1412 هـ / 2000 م.
আল-আজহুরী এবং কাযিউল কুদাত (প্রধান বিচারপতি) শিহাবুদ্দিন আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ আল-খাফাজি, শামস মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ আর-রামলি থেকে, আস-সিরাজ ইবনুল জাই এবং শাইখ বদরুদ্দিন আল-কারখি থেকে, তিনি জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী থেকে, তিনি তাকিউদ্দিন আশ-শামনি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বদরুদ্দিন আয-যারকাশি থেকে।

* * *

আমি আল্লাহর কাছে নিজের জন্য, যারা এই কিতাব পড়বে ও এর দ্বারা উপকৃত হবে তাদের জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমাদের সেই সব কাজের তাওফিক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আর তিনি যেন আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করেন, আমাদের পদস্খলনগুলো মার্জনা করেন, আমাদের মৃত ব্যক্তিদের এবং সকল মুসলিমের মৃতদের প্রতি দয়া করেন, আর আমি যা কিছুতে ত্রুটি করেছি তা ক্ষমা করে দেন।

মহান আল্লাহ সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন আমাদের নেতার ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।

আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

রিফাত ফাওযী আব্দুল মুত্তালিব

কায়রো, শাবান মাস,

১৪১২ হিজরী / ২০০০ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: -)
الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة - ت رفعت فوزي   (بدر الدين الزركشي)

القسم: الفقه العام


الكتاب: الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة

المؤلف: بدر الدين الزركشي الشافعي (754 - 794 هـ)

تحقيق وتخريج: د رفعت فوزي عبد المطلب

(أستاذ الشريعة بجامعة القاهرة)

الناشر: مكتبة الخانجي - القاهرة

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 172

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সাহাবীদের ওপর আয়েশা যে সকল বিষয়ে আপত্তি করেছেন তার সংকলন - সম্পাদনা: রিফাত ফাওজি   (বদরুদ্দিন আজ-যারকাশি)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: সাহাবীদের ওপর আয়েশা যে সকল বিষয়ে আপত্তি করেছেন তার সংকলন

লেখক: বদরুদ্দিন আজ-যারকাশি আশ-শাফিয়ি (৭৫৪ - ৭৯৪ হিজরি)

তাহকিক ও তাখরিজ: ড. রিফাত ফাওজি আব্দুল মুত্তালিব

(কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ বিভাগের অধ্যাপক)

প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজি - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২১ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭২

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المؤلّف

الحمد لله الذي جعل فضل عائشة على النساء كفضل الثريد على سائر الطعام، وأعلى أعلام فتواها بين الأعلام، وألبسها حلَّة الشرف؛ حيث جاء إلى سيد الخلق الملك بها في سَرَقَةٍ(1) من حرير في المنام.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة تَنْظِمُنا في أَبناء أُمهات المؤمنين، وتهدينا إلى سَنَنِ السنة آمنين.

وأشهد أن سيدنا محمدًا عبد الله ورسوله الذي أرشد إلى الشريعة البيضاء، وأعلن بفضل عائشة حتى قيل: خذوا شَطْر دينكم عن الحُمَيْرَاء.

صلى الله عليه وعلى آله وصحبه صباح مساء، وعلى أزواجه اللواتي قيل في حقهن: {لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ} [الأحزاب: 32] صلاة باقية في كل أوان دائمة ما اختلف المَلَوان.

وبعد، فهذا كتاب أجمعُ فيه ما تَفَرَّدَتْ به الصديقة رضي الله عنها، أو خالفت فيه سواها برأى منها، أو كان عندها فيه سُنَّةٌ بَيِّنَة، أَو زيادة عِلْمٍ مُتْقَنَة، أو أنكرت فيه على علماء زمانها، أو رجع فيه إليها أَجِلَّةُ من أَعيان أوانها، أَو حَرَّرَتْه من فتوى، أو اجتهدت فيه من رأى رأته أقوى. مُورِدًا ما وقع إليَّ من اختياراتها، ذاكرًا من الأخبار في ذلك ما وصل إليَّ عن رواتها. غير مدَّع في تمهيدها للاستيعاب، وأن الطاقة أحاطت بجمع(2) ما في هذا الباب. على أنى

--------------------------------------------

(1) سيأتي تخريجه إن شاء الله تعالى.

والسَّرَقَة: شُقَّة حرير بيضاء، قال أبو عبيد: كأنها كلمة فارسية والجمع سَرق.

(2) في المطبوعة: "بجميع": وما أثبتناه من الأصل.
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌লেখকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আয়েশার শ্রেষ্ঠত্বকে নারীদের ওপর তেমন করেছেন যেমন সমস্ত খাবারের ওপর সারীদের শ্রেষ্ঠত্ব; এবং আলেমদের মাঝে তাঁর ফতোয়ার পতাকাকে সমুন্নত করেছেন; আর তাঁকে সম্মানের পোশাকে ভূষিত করেছেন, যখন ফেরেশতা স্বপ্নের মধ্যে এক টুকরো রেশমি কাপড়ে জড়িয়ে তাঁকে সৃষ্টির সেরা মানবের নিকট নিয়ে এসেছিলেন।(১)

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই—এমন এক সাক্ষ্য যা আমাদের উম্মুল মুমিনীনগণের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করে এবং আমাদের নিরাপত্তার সাথে সুন্নাহর পথে পরিচালিত করে।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি শুভ্র শরীয়তের পথ দেখিয়েছেন এবং আয়েশার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেছেন, এমনকি বলা হয়েছে: তোমরা তোমাদের দ্বীনের অর্ধেক এই হুমায়রা (আয়েশা) থেকে গ্রহণ করো।

আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর সকাল-সন্ধ্যা; আরও তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণের ওপর যাদের শানে বলা হয়েছে: {তোমরা নারীদের মধ্যে অন্য কারো মতো নও} [আল-আহযাব: ৩২]। এমন রহমত যা সর্বক্ষণ অব্যাহত থাকবে এবং রাত-দিনের পরিবর্তনের সাথে সাথে চিরস্থায়ী হবে।

অতঃপর, এটি এমন একটি গ্রন্থ যেখানে আমি সিদ্দিকা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর সেই সমস্ত বিষয়গুলো একত্রিত করেছি যাতে তিনি একক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন, অথবা নিজের মতের ভিত্তিতে অন্যদের থেকে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, অথবা যে বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো স্পষ্ট সুন্নাহ ছিল, কিংবা কোনো সুনিপুণ জ্ঞানের আধিক্য ছিল, অথবা যে বিষয়ে তিনি সমসাময়িক আলেমদের ভুল সংশোধন করেছেন, কিংবা যে বিষয়ে তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা তাঁর দিকে ফিরে এসেছেন, অথবা যে বিষয় তিনি ফতোয়া দিয়ে সুনিশ্চিত করেছেন, কিংবা যে বিষয়ে তিনি নিজের কাছে শক্তিশালী মনে হওয়া মতের ভিত্তিতে ইজতিহাদ করেছেন। আমি তাঁর পছন্দকৃত বিষয়গুলো এখানে উল্লেখ করেছি এবং বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে প্রাপ্ত এ সংক্রান্ত সংবাদগুলো বর্ণনা করেছি। তবে এই বিষয়ের উপস্থাপনায় আমি পূর্ণাঙ্গ ব্যাপ্তির দাবি করছি না, কিংবা এমন দাবিও করছি না যে আমার সামর্থ্য এই অধ্যায়ের সব কিছুকে পরিবেষ্টন করতে পেরেছে। যদিও আমি...

--------------------------------------------

(১) ইনশাআল্লাহ সামনে এর সূত্র ও বিশুদ্ধতা উল্লেখ করা হবে।

আর 'সারাকাহ' হলো: এক টুকরো সাদা রেশমি কাপড়; আবু উবাইদ বলেন: এটি সম্ভবত একটি ফারসি শব্দ এবং এর বহুবচন হলো 'সারাক'।

(২) মুদ্রিত কপিতে আছে: "বি-জামি’ই" (সর্ববিষয়ে); আর আমরা মূল পাণ্ডুলিপি থেকে যা সাব্যস্ত করেছি তা-ই এখানে দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ৪)
حَرَّرت ما وقع لى من ذلك تحريرًا، ونَمَّقْتُ بُروده رَقْمًا وتَحْبِيرًا. مع فوائد أَضمها إليه، وفرائد أنثرها عليه، لِيَكُنَّ عقدًا ثمينةٌ جواهرُه، وفَلَكًا منيرة زواهره، ولقد وفقت لجمعها في زمن قريب، وأصبح مأهول ربعها مأوىً لكل غريب. وما هذا إلا ببركة هذا البيت العظيم الفخر، وما هي بأول بركتكم يا آل أبي بكر. وسميته (الإجابة: لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة).

والله أَسأَلُ أَن يجعله خالصًا لوجهه الكريم، موصلًا إلى جنان النعيم.

وأهديته إلى بحر علمٍ ثمينٍ جَوْهَرُه، وأُفق فَضْلِ أَضَاءَ شمشُه وقمرُه، وروضِ آدابٍ يانعة ثمارُهُ، ساطعة أزهاره، سيدى(1) قاضي القضاة برهان الدين بن جماعة(2) الشافعي، أَدام الله عُلُوَّه، وكَبَتَ عدوه؛ إذ لمذهب الشافعي من ثماره أيُّ روضات، وهو لمحرابه إمام يتلو فيه من معجز القول آيات. قد أظهر عرائس فضله المَجْلُوَّة، وأَبرز نفائس نقله المحبَّرة، وبهر العقول بدقائقه التي بهرت، وزاد المباحث رَوْنَقًا بعبارته التي سحرت الأَلباب وما شعرت، تهدى العلوم إليه، وهو حقيقة أدرى من المهدى بهن وأَعلم. وكنت في إهدائه إلى مقامه كمن يهدى إلى البستان أَزهاره؛ وإلى الفلك شموسه وأَقماره، وإلى البحر جَدْوَلًا، وإلى السيل وشَلًا(3)، ولكن عرضت هذا المصنف على ملك الكلام؛ بل أمير المؤمنين في الحديث والإمام لأُثَقِّفَه(4) باطلاعه عليه، والسلام.

والله تعالى يجعل أيامه كلها مواسم، ويُطَرِّزُ التصانيف بفوائده حتى تصير كالثغور البواسم.

* * *

--------------------------------------------

(1) بياض بمقدار كلمة في الأصل.

(2) هو برهان الدين بن جماعة أبو إسحاق إبراهيم بن الخطيب زين الدين أبي محمد عبد الرحيم، قاضى مصر والشام، من كبار الفقهاء، ولد سنة 725 وتوفى سنة 790 هـ. (شذرات الذهب لابن العماد 6/ 311).

(3) الوَشل: الماء القليل يُتَحلَّب من جبل أو صخرة.

(4) ثَقَّفَه: سَوَّاه.
আমি যা সংগ্রহ করেছি তা পরিমার্জন ও সুবিন্যস্ত করেছি এবং এর অলংকারগুলোকে লিখন ও সুচারু শৈলীতে সুশোভিত করেছি। এর সাথে এমন কিছু জ্ঞানগর্ভ শিক্ষা সংযুক্ত করেছি এবং অনন্য তথ্যাবলি এতে ছড়িয়ে দিয়েছি, যাতে এটি একটি মূল্যবান রত্নখচিত হারে এবং উজ্জ্বল নক্ষত্রখচিত আকাশমণ্ডলে পরিণত হয়। আমি অল্প সময়ের মধ্যেই তা সংকলন করার তাওফিক লাভ করেছি এবং এর আঙিনা প্রতিটি বিরল বিষয়ের আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। আর এটি এই মহান ও গৌরবান্বিত গৃহের বরকত ছাড়া আর কিছুই নয়; হে আবু বকরের বংশধরগণ! এটিই আপনাদের প্রথম বরকত নয়। এবং আমি এর নামকরণ করেছি (আল-ইজাবাহ: লি-ইরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়েশা আলাস সাহাবাহ)।

আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি একে তাঁর মহান সত্তার জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং একে জান্নাতুল নাঈমে পৌঁছানোর অসিলা বানান।

আমি এটি উৎসর্গ করেছি জ্ঞানের এক সমুদ্রের প্রতি যার রত্নরাজি অত্যন্ত মূল্যবান, এবং এমন এক মর্যাদার দিগন্তের প্রতি যার সূর্য ও চন্দ্র সুদীপ্ত, এবং এক আদব ও শিষ্টাচারের উদ্যানের প্রতি যার ফলসমূহ সুপক্ক ও ফুলসমূহ সৌরভময়; আমার নেতা(১) প্রধান বিচারপতি বুরহান উদ্দিন ইবনে জামাআহ(২) আশ-শাফিয়ী—আল্লাহ তাঁর মর্যাদা দীর্ঘস্থায়ী করুন এবং তাঁর শত্রুকে পরাস্ত করুন—কেননা শাফিয়ী মাজহাবের জন্য তাঁর কর্মের ফলসমূহ থেকে অনেক বাগান রয়েছে; আর তিনি এর মিহরাবের এমন একজন ইমাম যিনি তাতে অলৌকিক বাণীর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তিনি তাঁর সুপ্রকট শ্রেষ্ঠত্বের মাহাত্ম্য প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর অলঙ্কৃত বর্ণনার মূল্যবান নির্যাস বের করে এনেছেন। তিনি তাঁর সূক্ষ্ম তথ্যাবলি দ্বারা জ্ঞানীদের বুদ্ধিকে বিমোহিত করেছেন এবং তাঁর জাদুকরী বাচনভঙ্গি দ্বারা আলোচনার সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা মানুষকে অলক্ষ্যেই বিমুগ্ধ করে। তাঁর কাছে জ্ঞান উপহার স্বরূপ পেশ করা হয়, অথচ প্রকৃতপক্ষে তিনি সেই উপহার প্রদানকারী অপেক্ষা অধিক অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী। তাঁর সুউচ্চ মকামে এটি উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার অবস্থা ছিল এমন যে—যেমন কেউ বাগানে ফুল উপহার দেয়, আকাশে সূর্য ও চন্দ্র উপহার দেয়, সমুদ্রে একটি ক্ষুদ্র নালা উপহার দেয় কিংবা ঝরনায় এক ফোঁটা পানি(৩) উপহার দেয়। তবে আমি এই গ্রন্থটি বাকশিল্পের অধিপতির নিকট পেশ করেছি; বরং হাদিস শাস্ত্রের আমিরুল মুমিনিন ও ইমামের নিকট তা পেশ করেছি, যাতে তাঁর পর্যালোচনার মাধ্যমে আমি একে পরিমার্জিত(৪) করতে পারি। আসসালাম।

মহান আল্লাহ তাঁর প্রতিটি দিনকে শুভ উৎসবে পরিণত করুন এবং তাঁর জ্ঞানগর্ভ তথ্যাবলি দিয়ে গ্রন্থসমূহকে এমনভাবে সুশোভিত করুন যেন সেগুলো মুচকি হাসিমুখের মতো দীপ্তিময় হয়ে ওঠে।

* * *

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এখানে এক শব্দ পরিমাণ খালি জায়গা রয়েছে।

(২) তিনি হলেন বুরহান উদ্দিন ইবনে জামাআহ আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে খতিব জাইন উদ্দিন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহিম। তিনি মিসর ও শামের বিচারপতি এবং প্রথিতযশা ফকিহ ছিলেন। তিনি ৭২৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৯০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (ইবনুল ইমাদ রচিত শাযারাতুয যাহাব ৬/৩১১)।

(৩) আল-ওয়াশাল: পাহাড় বা পাথর থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় পড়া সামান্য পানি।

(৪) সাক্কাফাহু: একে সোজা বা পরিমার্জিত করা।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الباب الأول(1) في ترجمتهَا وخصائصهَا

 

‌‌(1) فصل في ذكر شيءٍ من حالها

هي أُم المؤمنين، وأُم عبد الله عائشة بنت أَبي بكر؛ الصِّدِّيقَة بنت الصِّدِّيق رضي الله عنه وعنها، حبيبة رسول الله صلى الله عليه وسلم الفقيهة الرَّبَّانيَّةَ. كنيتها أُم عبد الله كناها به النبي صلى الله عليه وسلم، بابن أُختها عبد الله بن الزبير، رواه أبو داود، وقال الحاكم: صحيح الإسناد(2).

وجاء في معجم ابن الأعرابي: أَنها جاءَت بسِقْطٍ فسماه النبي صلى الله عليه وسلم عبد الله، وكناها(3) به وفي إسناده نظر؛ لأن مداره على داود بن المحَبَّر(4) صاحب كتاب العقل.

--------------------------------------------

(1) "الباب الأول في ترجمتها وخصائصها" ليس من المخطوط وقد زاده سعيد الأفغاني في الطبعة الأولى للإجابة، وأبقينا عليه لما فيه من حسن التقسيم - وكذلك رقم الفصل.

(2) د: (5/ 253) (35) كتاب الأدب (78) باب في المرأة تكنى - من طريق مسدد وسليمان بن حرب، عن حماد، عن هشام بن عروة، عن أبيه، عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: يا رسول الله، كل صواحبي لهن كُنَى. قال: فاكتنى بابنك عبد الله - يعنى ابن أختها - عبد الله بن الزبير. رقم: (497).

المستدرك (4/ 278) (41) كتاب الأدب.

من طريق عبد الله بن وهب، عن يحيى بن عبد الله بن سالم وسعيد بن عبد الرحمن، عن هشام بن عروة، عن عباد بن حمزة، عن عائشة رضي الله عنها قالت: يا رسول الله: ألا تكنيني؟ قال: اكتنى بابنك عبد الله بن الزبير، فكانت تكنى أم عبد الله.

قال: هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه. ووافقه الذهبي.

(3) معجم ابن الأعرابي (2/ 918) عن عبد الله بن أيوب، عن داود بن المُحَبَّر، عن محمد بن عروة، عن هشام بن عروة، عن أبيه، عن عائشة قالت: أَسْقَطت لرسول الله صلى الله عليه وسلم سقطًا، فسماه عبد الله، وكناني بأم عبد الله.

(4) قال ابن حجر: "متروك، وأكثر كتاب العقل الذي صنفه موضوعات - مات سنة ست =
প্রথম পরিচ্ছেদ(১) তাঁর জীবনী ও বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে

 

(১) তাঁর অবস্থার কিঞ্চিৎ বিবরণ

তিনি হলেন উম্মুল মুমিনীন (মুমিনদের জননী) এবং উম্মে আব্দুল্লাহ আয়েশা বিনতে আবু বকর; আস-সিদ্দীকা বিনতে আস-সিদ্দীক (আল্লাহ তাঁর এবং তাঁর পিতার প্রতি সন্তুষ্ট হোন), আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়তমা এবং রব্বানি ফকিহ (আল্লাহওয়ালা প্রজ্ঞা সম্পন্ন)। তাঁর কুনিয়া (উপনাম) হলো উম্মে আব্দুল্লাহ; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বোনের ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইরের নামে তাঁর এই কুনিয়া রেখেছিলেন। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম বলেছেন: এর সনদ সহীহ(২)।

ইবনুল আরাবীর মু'জামে এসেছে: তিনি একটি মৃত সন্তান প্রসব করেছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম রেখেছিলেন আব্দুল্লাহ এবং সেই নামেই তাঁর কুনিয়া রেখেছিলেন(৩)। তবে এর সনদে আপত্তি রয়েছে; কারণ এর বর্ণনাসূত্র আবর্তিত হয়েছে কিতাবুল আকল-এর লেখক দাউদ বিন আল-মুহাব্বারকে কেন্দ্র করে(৪)।

--------------------------------------------

(১) "প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবনী ও বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে" - অংশটি মূল পাণ্ডুলিপির অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং সাঈদ আল-আফগানি আল-ইজাবাহ-র প্রথম সংস্করণে এটি সংযোজন করেছেন। বিন্যাসের সৌন্দর্যের খাতিরে আমরা এটি বহাল রেখেছি - এবং পরিচ্ছেদ নম্বরটিও।

(২) আবু দাউদ: (৫/ ২৫৩) (৩৫) কিতাবুল আদব (৭৮) নারীদের কুনিয়া গ্রহণ অধ্যায় - মুসাদ্দাদ ও সুলাইমান বিন হারব-এর সূত্রে, হাম্মাদ থেকে, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার সকল সখীদের কুনিয়া রয়েছে। তিনি বললেন: তবে তুমি তোমার ছেলে আব্দুল্লাহর নামে কুনিয়া গ্রহণ করো - অর্থাৎ তাঁর বোনের ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইর। নম্বর: (৪৯৭)।

আল-মুস্তাদরাক (৪/ ২৭৮) (৪১) কিতাবুল আদব।

আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব-এর সূত্রে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন সালেম এবং সাঈদ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তাঁরা হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি আব্বাদ বিন হামজাহ থেকে, তিনি আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি আমার কোনো কুনিয়া দেবেন না? তিনি বললেন: তুমি তোমার ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবাইরের নামে কুনিয়া গ্রহণ করো, ফলে তাঁর কুনিয়া উম্মে আব্দুল্লাহ হলো।

তিনি বলেন: এই হাদীসটির সনদ সহীহ কিন্তু বুখারী ও মুসলিম তা বর্ণনা করেননি। আয-যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন।

(৩) মু'জাম ইবনুল আরাবী (২/ ৯১৮); আব্দুল্লাহ বিন আইয়ুব থেকে, তিনি দাউদ বিন আল-মুহাব্বার থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছিলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঔরসে একটি মৃত সন্তান প্রসব করেছিলাম, তিনি তার নাম আব্দুল্লাহ রাখেন এবং আমার কুনিয়া উম্মে আব্দুল্লাহ দেন।

(৪) ইবনে হাজার বলেছেন: "পরিত্যক্ত (মাতরুক), এবং তাঁর রচিত কিতাবুল আকল-এর অধিকাংশ বর্ণনা জাল - তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন দুই শত ছয় হিজরি সনে =
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ৬)
وعائشة مأخوذة من العَيش، ويقال أَيضًا: عيشة، لغة حكاها ابن الأَعرابي: وعلى بن حمزة، ولا التفات لإسناد أَبي عبيد في الغريب المصنف ذلك.

وذكر أبو الفضل الفلكي في الألقاب: النبي صلى الله عليه وسلم صغَّر اسمها وقال يا عُوَيْش(1).

وذكر صاحب مسند الفردوس أن الإمام أَحمد في مسنده رواه من حديث أُم سلمة: قالت عائشة: " (يا) رسول الله، علمني دعوة أدعو بها" فقال: "يا عُوَيْشِ، قوله: اللهم رب محمد النبي الأُمِّي أذهب عنى غيظ قلبي وأجزني من مُضلَّات الفتن(2) ".

واستغربه ابن الصلاح في طبقاته.

وفى الصحيحين "يا عايش" على الترخيم(3).

--------------------------------------------

= ومائتين". وقد وهاه أحمد وأثنى عليه ابن معين، واتهمه ابن حبان بالوضع. روى له ابن ماجه (التذكرة للحسيني 1/ 252 رقم 1764 وهوامشه).

(1) طبقات ابن الصلاح (2/ 613) وأبو الفضل الفلكي اسمه على بن الحسين. توفى سنة 427.

(2) لم أعثر على هذا الحديث في مسند أحمد بهذه الصورة، وإنما الذي في مسند أحمد هو طلب أم سلمة ذلك من رسول الله صلى الله عليه وسلم.

حم (6/ 301 - 302) من طريق شهر بن حوشب قال: سمعت أم سلمة تحدث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يكثر في دعائه أن يقول: اللهم مقلب القلوب ثبت قلبي على دينك.

قالت: قلت: يا رسول الله أو إن القلوب لتتقلب؟ قال: نعم، ما من خلق الله من بنى آدم من بشر إلا أن قلبه بين أصبعين من أصابع الله، فإن شاء الله عز وجل أقامه، وإن شاء الله أزاغه، فنسأل الله ربنا ألا يزيغ قلوبنا بعد إذ هدانا، ونسأله أن يهب لنا من لدنه رحمة، إنه هو الوهاب.

قالت: قلت يا رسول الله، ألا تعلمنى دعوة أدعو بها لنفسى. قال: قوله: اللهم رب محمد النبي، اغفر لي ذنبي، وأذهب غيظ قلبي، وأجرنى من مضلات الفتن ما أحييتنا.

قال الهيثمي في مجمع الزوائد (10/ 176): عند الترمذى بعضه. رواه أحمد، وإسناده حسن.

(3) خ: (3/ 35) (62) كتاب فضائل الصحابة (30) باب فضل عائشة رضي الله عنها من طريق يونس، عن ابن شهاب قال أبو سلمة: إن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا عائش، هذا جبريل يقرئك السلام فقلت: وعليه السلام ورحمة الله وبركاته، ترى ما لا أرى، تريد رسول الله صلى الله عليه وسلم رقم: (3768).

م: (4/ 1896) (44) كتاب فضائل الصحابة (13) باب في فضل عائشة رضي الله عنها من طريق شعيب، عن الزهرى به. رقم: (91/ 2447).
আয়েশা (নামটি) ‘আইশ’ (জীবন) থেকে উদ্ভূত। এটিকে ‘আইশাহ’ও বলা হয়, যা ইবনুল আরাবি ও আলী বিন হামজাহ বর্ণনা করেছেন। তবে আবু উবাইদ ‘আল-গারিবুল মুসান্নাফ’ গ্রন্থে এর যে সনদ উল্লেখ করেছেন, তার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই।

আবু ফজল আল-ফালাকি ‘আল-আলকাব’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নামটিকে আদর করে ছোট করে ডাকতেন এবং বলতেন: ‘হে উওয়াইশ’(১)।

‘মুসনাদুল ফিরদাউস’-এর লেখক উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: “(হে) আল্লাহর রাসুল, আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন যা আমি পাঠ করব।” তিনি বললেন: “হে উওয়াইশ, বলো: হে আল্লাহ, উম্মি নবী মুহাম্মাদ-এর রব! আমার অন্তরের ক্রোধ দূর করে দিন এবং বিভ্রান্তিকর ফিতনা থেকে আমাকে রক্ষা করুন(২)।”

ইবনুস সালাহ তাঁর ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে একে গরিব (একক বর্ণনা) বলে অভিহিত করেছেন।

সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ ‘হে আইশ’ শব্দে নামের শেষ অক্ষর বাদ দিয়ে সম্বোধন (তারখিম) হিসেবে এসেছে(৩)।

--------------------------------------------

= ...এবং দুইশত।” ইমাম আহমাদ তাকে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন এবং ইবনে মাইন তার প্রশংসা করেছেন, আর ইবনে হিব্বান তার ওপর হাদিস জাল করার অভিযোগ এনেছেন। ইবনে মাজাহ তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন (আল-হুসাইনি রচিত আত-তাযকিরা ১/২৫২, নম্বর ১৭৬৪ ও এর পাদটীকা)।

(১) তাবাকাতু ইবনুস সালাহ (২/৬১৩); আবু ফজল আল-ফালাকির নাম হলো আলী বিন আল-হুসাইন, তিনি ৪২৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

(২) আমি মুসনাদে আহমাদে এই হাদিসটি এই রূপে পাইনি। বরং মুসনাদে আহমাদে যা আছে তা হলো উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এই প্রার্থনা করেছিলেন।

আহমাদ (৬/৩০১-৩০২), শাহর বিন হাওশাব-এর সূত্রে; তিনি বলেন: আমি উম্মে সালামাহকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দোয়ায় প্রায়ই বলতেন: ‘হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন।’

উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: আমি বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসুল! অন্তর কি আসলেই পরিবর্তিত হয়?’ তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ, আল্লাহর সৃষ্টি বনী আদমের মধ্য থেকে এমন কোনো মানুষ নেই যার অন্তর আল্লাহর আঙুলসমূহের মধ্যে দুটি আঙুলের মাঝে অবস্থিত নয়। এরপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যদি চান তবে তাকে সত্যের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন, আর যদি চান তবে তাকে বিচ্যুত করে দেন। অতএব আমরা আমাদের রব আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদের হিদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে বিচ্যুত না করেন; আর আমরা তাঁর নিকট থেকে রহমত প্রার্থনা করি, নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা।’

তিনি বলেন: আমি বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি আমাকে এমন কোনো দোয়া শিখিয়ে দেবেন না যা আমি নিজের জন্য পাঠ করব?’ তিনি বললেন: ‘বলো: হে আল্লাহ, নবী মুহাম্মাদ-এর রব! আমার গুনাহ ক্ষমা করুন, আমার অন্তরের ক্রোধ দূর করুন এবং যতদিন আমাদের জীবিত রাখেন ততদিন আমাদের বিভ্রান্তিকর ফিতনা থেকে রক্ষা করুন।’

আল-হাইসামি ‘মাজমাউয যাওয়াইদ’ (১০/১৭৬) গ্রন্থে বলেছেন: এর কিছু অংশ তিরমিযিতে রয়েছে। এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান।

(৩) বুখারি: (৩/৩৫) (৬২) সাহাবিদের মর্যাদা অধ্যায় (৩০) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মর্যাদা পরিচ্ছেদ; ইউনুস-এর সূত্রে ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত, আবু সালামাহ বলেন: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ‘হে আইশ, এই যে জিবরাইল তোমাকে সালাম দিচ্ছেন।’ তখন আমি বললাম: ‘তাঁর ওপরও শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আপনি যা দেখতে পান আমি তা দেখতে পাই না’—এ কথা দ্বারা তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে উদ্দেশ্য করেছেন। হাদিস নম্বর: (৩৭৬৮)।

মুসলিম: (৪/১৮৯৬) (৪৪) সাহাবিদের মর্যাদা অধ্যায় (১৩) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মর্যাদা পরিচ্ছেদ; শুআইব-এর সূত্রে যুহরি থেকে বর্ণিত। হাদিস নম্বর: (৯১/২৪৪৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ৭)
وفى الأَول دليل على جواز التصغير كقوله: "يا أبا عُمير" تصغير تحبيب.

وجعل صاحب البسيط من النحويين مثل قوله: "يا حُمَيْرا" تصغير تقريب ما يتوهم أنه بعيد، كقولهم بُعَيْدَ الْعَصْر وقُبَيْلَ الفجر. قال: لأن المراد بها البيضاءَ فكأَنها غير كاملة البياض، قال: وكذلك قوله: "كُنَيْف ملئَ علمًا" اهـ.

وقال أَبو القاسم الثمانيني في شرح اللمع: "قول عمر رضي الله عنه في ابن مسعود: "كُنَيْف ملئَ علمًا"(1) قالوا: إنه أراد بهذا التحقير(2) تعظيمه، كما قالوا في داهية: دويهية وخُوَيخِية(3) ".

قال: والصحيح أن ابن مسعود كان صغير الجسم قصيرًا فقال: (كُنَيْف) مصغرة ليدل على تصغير جسمه لأن كُنَيْفًا تكبيره كِنف، وهو شيءٌ يكون فيه أداة الراعى فأَراد أَنه حافظ لما فيه" اهـ.

وأُمها أَم رُوْمَان، بفتح الراء وضمها بنت عامر بن عوَيمِرِ بن عبد شمس بن كنانة.

روى البخارى لأُم رومان حديثًا واحدًا من حديث الإفك من رواية مسروق عنها(4) ولم يلقها، وقيل: "عن مسروق حدثتني أُم رومان" وهو وهم. ونقل

--------------------------------------------

(1) مصنف عبد الرزاق (10/ 13) كتاب العقول - باب العفو.

عن معمر، قتادة أن عمر بن الخطاب رفع إليه رجل قتل رجلًا، فجاء أولياء المقتول، وقد عفا أحدهم، فقال عمر لابن مسعود، وهو إلى جنبه، ما تقول؟ فقال ابن مسعود: أقول: إنه قد أحرز من القتل. قال: فضرب على كتفه، ثم قال: كُنَيفُ مُلِيء علمًا رقم: (18187).

ورواه الطبراني من طريق (9/ 408) رقم: (9735) وقال الهيثمي في المجمع (6/ 303) ورجاله رجال الصحيح إلا أن قتادة لم يدرك ابن مسعود.

(2) كذا في الأصل، وربما كان هذا خطأ من القلم، وكأنه يريد: "أراد بهذا التصغير".

(3) الخويخية: الداهية.

(4) خ: (3/ 26) (65) كتاب التفسير - تفسير سورة النور - (7) باب {وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ} - عن محمد بن كثير، عن سلمان، عن حصين، عن أبي وائل، عن مسروق، عن أم رومان - أم عائشة - قالت: لما رميت عائشة خرت مغشيًّا عليها. رقم: (4751).

وقد روى البخارى هذا الحديث في مواضع أخر فيها التصريح بالتحديث أو ما يشبهه: =
প্রথমটির মধ্যে তসগির (শব্দকে ক্ষুদ্রার্থক করা) জায়েয হওয়ার প্রমাণ রয়েছে, যেমন তাঁর বাণী: "হে আবু উমাইর"—এটি স্নেহ প্রকাশার্থে ক্ষুদ্রার্থক করা।

ব্যাকরণবিদদের মধ্যে 'আল-বাসীত' গ্রন্থের লেখক "হে হুমাইরা" এর মতো শব্দকে এমন বিষয়ের নৈকট্য বুঝাতে ক্ষুদ্রার্থক রূপ হিসেবে গণ্য করেছেন যা দূরবর্তী বলে মনে হয়; যেমন তাদের উক্তি: আসরের একটু পরে (বুআইদা) এবং ফজরের একটু আগে (কুবাইলা)। তিনি বলেন: কারণ এর দ্বারা শ্বেতবর্ণা নারী উদ্দেশ্য, ফলে তিনি যেন পূর্ণ শুভ্র নন (বরং লালাভ শুভ্র)। তিনি আরও বলেন: অনুরূপভাবে তাঁর (উমর রা.-এর) বাণী: "জ্ঞানে ভরপুর এক ক্ষুদ্র থলি (কুনাইফ)"।

আবুল কাসেম আস-সামানিনি 'শারহুল লুমা' গ্রন্থে বলেন: "ইবনে মাসউদ (রা.) সম্পর্কে উমর (রা.)-এর উক্তি: 'জ্ঞানে ভরপুর এক ক্ষুদ্র থলি', তাঁরা বলেন: তিনি এই ক্ষুদ্রার্থকরণের মাধ্যমে তাঁর মহিমা প্রকাশ করতে চেয়েছেন, যেমনটি তারা বড় বিপদের ক্ষেত্রে 'দুওয়াইহিয়া' ও 'খুওয়াইখিয়া' শব্দ ব্যবহার করে থাকে।"

তিনি বলেন: সঠিক কথা হলো ইবনে মাসউদ (রা.) শারীরিক গড়নে ছোট ও খাটো ছিলেন, তাই তিনি ক্ষুদ্রার্থক শব্দ 'কুনাইফ' ব্যবহার করেছেন তাঁর শারীরিক ক্ষুদ্রতা বুঝাতে। কারণ 'কুনাইফ' শব্দের মূল রূপ হলো 'কিনফ', যা রাখালের সরঞ্জাম রাখার পাত্র বিশেষ। তিনি এর মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি (ইবনে মাসউদ) তাঁর ভেতরে সংরক্ষিত জ্ঞানের ধারক ও রক্ষক।

আর তাঁর মা হলেন উম্মু রুমান (রা এর জবর ও পেশ উভয়ই পড়া যায়), তিনি আমের ইবনে উওয়াইমির ইবনে আবদ শামস ইবনে কিনানার কন্যা।

ইমাম বুখারি উম্মু রুমান থেকে ইফকের (অপবাদের) ঘটনার একটি মাত্র হাদিস মাসরুকের বর্ণনায় উদ্ধৃত করেছেন, যদিও মাসরুক তাঁর সাক্ষাৎ পাননি। বলা হয়ে থাকে: "মাসরুক থেকে বর্ণিত যে, উম্মু রুমান আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন", কিন্তু এটি একটি ভ্রম। আর বর্ণিত হয়েছে যে—

--------------------------------------------

(১) মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক (১০/১৩), কিতাবুল উকুল - ক্ষমা পরিচ্ছেদ।

মা’মার ও কাতাদা থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে এমন এক ব্যক্তিকে আনা হলো যে একজনকে হত্যা করেছিল। নিহতের অভিভাবকরা আসলেন এবং তাদের একজন ক্ষমা করে দিলেন। উমর তাঁর পাশে থাকা ইবনে মাসউদকে বললেন, আপনার অভিমত কী? ইবনে মাসউদ বললেন: আমি মনে করি সে মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে গেছে। উমর তাঁর কাঁধে চাপড় দিয়ে বললেন: জ্ঞানে ভরপুর এক ক্ষুদ্র থলি। হাদিস নম্বর: ১৮১৮৭।

তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন (৯/৪০৮) নম্বর: ৯৭৩৫ এবং হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (৬/৩০৩) গ্রন্থে বলেন: এর বর্ণনাকারীরা সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারী, তবে কাতাদা ইবনে মাসউদকে পাননি।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, সম্ভবত এটি কলমের ভুল, তিনি হয়তো বুঝাতে চেয়েছেন: "তিনি এই ক্ষুদ্রার্থকরণের (তসগির) মাধ্যমে এটি উদ্দেশ্য করেছেন"।

(৩) আল-খুওয়াইখিয়া: বড় বিপদ বা মহাবিপদ।

(৪) বুখারি: (৩/২৬) (৬৫) কিতাবুত তাফসির - সূরা নূরের তাফসির - (৭) পরিচ্ছেদ: {যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া তোমাদের উপর না থাকত} - মুহাম্মদ ইবনে কাসির থেকে, তিনি সালমান থেকে, তিনি হুসাইন থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আয়েশার মা উম্মু রুমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আয়েশার বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া হলো, তখন তিনি মূর্ছা গিয়ে পড়ে গেলেন। হাদিস নম্বর: ৪৭৫১।

ইমাম বুখারি এই হাদিসটি আরও কিছু স্থানে বর্ণনা করেছেন যেখানে সরাসরি শ্রবণের বা অনুরূপ কিছুর স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে: =
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ৮)
النووي أَن ابن إسحاق سماها في السيرة زينب(1) وفى "الروض للسهيلي": اسمها "دعدة"(2) وذكر محمد بن سعد وغيره: أَن أُم رومان ماتت في حياة

--------------------------------------------

= خ: (2/ 470) (60) كتاب أحاديث الأنبياء (19) باب قول الله تعالى: {لَقَد كَانَ فِي يُوسُفَ وَإِخْوَتِهِ آيَاتٌ لِلسَّائِلِينَ} [يوسف 7]. عن محمد بن سلام، عن ابن فضيل، عن حصين، عن شقيق، عن مسروق قال: سألت أم رومان، وهى أم عائشة لمَّا قيل فيها ما قيل، قالت: بينما أنا مع عائشة جالستان إذ ولجت علينا امرأة من الأنصار، وهى تقول: فعل الله بفلان، وفعل. قالت: فقلت: لم؟ قالت: إنه نَمَى ذكر الحديث، فقالت عائشة: أي حديث؟ فأخبرتها. قالت: فسمعه أبو بكر ورسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قالت: نعم، فخرت مغشيًّا عليها، فما أفاقت إلا وعليها حمى بنافض، فجاء النبي صلى الله عليه وسلم فقال: ما لهذه؟ قلت: حمى أخذتها من أجل حديث تحدث به، فقعدت فقالت: والله لئن حلفت لا تصدقوننى، ولئن اعتذرت لا تَعذروننى، فمثلي ومثلكم كمثل يعقوب وبنيه، والله المستعان على ما تصفون، فانصرف النبي صلى الله عليه وسلم، فأنزل الله ما أنزل، فأخبرها، فقالت: بحمد الله لا بحمد أحد. رقم (3388).

وفي (3/ 126) (64) كتاب المغازى (34) باب حديث الإفك - عن موسى بن إسماعيل، عن أبي عوانة، عن حصين؛ عن أبي وائل، عن مسروق قال: حدثتني أم رومان به. رقم: (4143)

وفي (3/ 244) (65) كتاب التفسير (3) باب: {بَلْ سَوَّلَتْ لَكُمْ أَنْفُسُكُمْ أَمْرًا فَصَبْرٌ جَمِيلٌ} عن موسى، عن أبي عوانه، عن حصين، عن أبي وائل عن مسروق قال: حدثتني أم رومان به. رقم: (14691)

(1) قال ابن هشام في السيرة: وهى أم رومان واسمها زينب بنت عبد دهمان أحد بني فراس بن مالك بن كنانة. (سيرة ابن هشام 3/ 189)

(2) لم أعثر على ذلك في الروض الأنف، وإنما الذي فيه: وأما أم رومان، وهى أم عائشة فقد مر ذكرها في هذا الحديث، وهى زينب بنت عامر بن عويمر بن عبد شمس بن دهمان، وهي من كنانة، واختلف في عمود نسبها، ولدت لأبي بكر عائشة وعبد الرحمن، وكانت قبل أبي بكر عند عبد الله بن الحارث بن سخبرة، فولدت له الطفيل، وتوفيت أم رومان سنة ست من الهجرة، ونزل النبي - صلى الله عليه وسلم في قبرها، وقال: اللهم إنه لم يخف عليك ما لقيت أم رومان فيك، وفي رسولك، وقال: من سره أن ينظر إلى امرأة من الحور العين فلينظر إلى أم رومان.

قال: وروى البخارى حديثا عن مسروق - وهو الحديث السابق - وقال فيه: سألت أم رومان، وهي أم عائشة - عما قيل فيها، ومسروق ولد بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم بلا خلاف فلم ير أم رومان قط، فقيل: إنه وهم في الحديث، وقيل: بل الحديث صحيح، وهو مقدم على ما ذكره أهل السيرة من موتها في حياة النبي صلى الله عليه وسلم: (الروض الأنف 4/ 21).=
নববী উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে ইসহাক সিরাত গ্রন্থে তাঁর নাম জয়নাব রেখেছেন(১) এবং সুহাইলি-র "আর-রওদ" গ্রন্থে তাঁর নাম "দা'দাহ"(২)। মুহাম্মদ ইবনে সাদ এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে, উম্মে রুমান [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের] জীবদ্দশায় ইন্তেকাল করেছিলেন।

--------------------------------------------

= বুখারী: (২/ ৪৭০) (৬০) আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের হাদীসসমূহ অধ্যায় (১৯) আল্লাহর বাণী বিষয়ক পরিচ্ছেদ: {অবশ্যই ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের ঘটনায় প্রশ্নকারীদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে} [ইউসুফ ৭]। মুহাম্মদ ইবনে সালাম থেকে, তিনি ইবনে ফুযাইল থেকে, তিনি হুসাইন থেকে, তিনি শাকীক থেকে, তিনি মাসরুক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উম্মে রুমানকে—যিনি আয়েশা (রা.)-এর মাতা—জিজ্ঞাসা করেছিলাম যখন তাঁর (আয়েশা) ব্যাপারে যা রটানোর তা রটানো হয়েছিল। তিনি বললেন: একদা আমি এবং আয়েশা বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় আনসারদের এক মহিলা আমাদের নিকট প্রবেশ করল এবং বলতে লাগল: আল্লাহ অমুকের প্রতি এমন করুন, তেমন করুন। আমি বললাম: কেন? সে বলল: কারণ সেই এই বিষয়টি (অপবাদ) ছড়িয়েছে। আয়েশা বললেন: কোন সংবাদ? তখন মহিলাটি তাঁকে সব জানালো। আয়েশা বললেন: আবু বকর এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এটি শুনেছেন? মহিলাটি বলল: হ্যাঁ। তখন আয়েশা মুর্ছিত হয়ে পড়ে গেলেন। যখন তাঁর জ্ঞান ফিরল, তখন তিনি প্রবল জ্বরে কাঁপছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং বললেন: এর কী হয়েছে? আমি বললাম: একটি সংবাদের কারণে তাঁর জ্বর এসেছে। এরপর আয়েশা বসলেন এবং বললেন: আল্লাহর কসম, আমি যদি কসম করি তবে আপনারা আমাকে বিশ্বাস করবেন না, আর যদি ওজর পেশ করি তবে আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন না। আমার এবং আপনাদের উদাহরণ ইয়াকুব এবং তাঁর পুত্রদের উদাহরণের মতো; তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে আল্লাহই আমার একমাত্র সাহায্যস্থল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্থান করলেন এবং আল্লাহ যা নাযিল করার তা নাযিল করলেন। নবী তাঁকে সংবাদ দিলেন। তখন আয়েশা বললেন: আল্লাহরই প্রশংসা, অন্য কারো নয়। নম্বর (৩৩৮৮)।

এবং (৩/ ১২৬) (৬৪) মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় (৩৪) ইফক (অপবাদ)-এর ঘটনা পরিচ্ছেদ - মুসা ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি আবু আওয়ানা থেকে, তিনি হুসাইন থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি মাসরুক থেকে বর্ণিত যে, উম্মে রুমান আমাকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। নম্বর: (৪১৪৩)

এবং (৩/ ২৪৪) (৬৫) তাফসীর অধ্যায় (৩) পরিচ্ছেদ: {বরং তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি কাহিনী সাজিয়ে দিয়েছে, সুতরাং ধৈর্যই শ্রেয়} মুসা থেকে, তিনি আবু আওয়ানা থেকে, তিনি হুসাইন থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি মাসরুক থেকে বর্ণিত যে, উম্মে রুমান আমাকে এটি বর্ণনা করেছেন। নম্বর: (৪৬৯১)

(১) ইবনে হিশাম সিরাত গ্রন্থে বলেছেন: তিনি হলেন উম্মে রুমান এবং তাঁর নাম হলো জয়নাব বিনতে আবদ দাহমান, যিনি বনু ফিরাস ইবনে মালিক ইবনে কিনানা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। (সীরাতে ইবনে হিশাম ৩/ ১৮৯)

(২) আমি আর-রওদুল উনুফ গ্রন্থে এটি খুঁজে পাইনি। বরং সেখানে যা আছে তা হলো: আর উম্মে রুমান, যিনি আয়েশার মাতা, তাঁর উল্লেখ এই হাদীসে ইতিপূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে। তিনি হলেন জয়নাব বিনতে আমির ইবনে উওয়াইমির ইবনে আবদ শামস ইবনে দাহমান। তিনি কিনানা গোত্রের লোক। তাঁর বংশপরম্পরার মূল ধারার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। তাঁর গর্ভে আবু বকরের দুই সন্তান আয়েশা এবং আবদুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন। আবু বকরের পূর্বে তিনি আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে সাখবারার স্ত্রী ছিলেন এবং তাঁর গর্ভে তুফাইল জন্মগ্রহণ করেন। উম্মে রুমান হিজরী ষষ্ঠ সনে ইন্তেকাল করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কবরে নেমেছিলেন এবং বলেছিলেন: হে আল্লাহ, উম্মে রুমান আপনার পথে এবং আপনার রাসূলের পথে যে কষ্ট স্বীকার করেছেন তা আপনার কাছে গোপন নয়। তিনি আরও বলেছিলেন: যে ব্যক্তি জান্নাতের হুরদের মধ্য থেকে কোনো নারীকে দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন উম্মে রুমানকে দেখে।

তিনি বলেন: বুখারী মাসরুক থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন—যা পূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে—যাতে তিনি বলেছেন: আমি উম্মে রুমানকে—যিনি আয়েশার মাতা—জিজ্ঞাসা করেছিলাম তাঁর বিরুদ্ধে যা রটানো হয়েছিল সে বিষয়ে। অথচ মাসরুক কোনো মতভেদ ছাড়াই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তিনি কখনোই উম্মে রুমানকে দেখেননি। তাই বলা হয়েছে যে, এই হাদীসে তাঁর ভ্রম হয়েছে। আবার কেউ বলেছেন: বরং হাদীসটি সহীহ এবং সিরাত বিশেষজ্ঞদের বর্ণিত তাঁর মৃত্যুর তথ্যের চেয়ে এটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। (আর-রওদুল উনুফ ৪/ ২১)।=
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ৯)
رسول الله صلى الله عليه وسلم في سنة ست من الهجرة، ونزل رسول الله صلى الله عليه وسلم في قبرها"،

--------------------------------------------

= هذا وقد ضعف ابن حجر في الفتح (7/ 502 - 503): الروايات التي تقول بأن أم رومان قد توفيت في زمن الرسول صلى الله عليه وسلم وأثبت أن الحديث متصل، وأن مسروقًا لقيها، قال:

وقد استشكل قول مسروق "حدثتنى أم رومان" مع أنها ماتت في زمن النبي صلى الله عليه وسلم ومسروق ليست له صحبة؛ لأنه لم يقدم من اليمن إلا بعد موت النبي صلى الله عليه وسلم في خلافة أبي بكر أو عمر، قال الخطيب: لا نعلمه روى هذا الحديث عن أبي وائل غير حصين، ومسروق لم يدرك أم رومان وكان يرسل هذا الحديث عنها ويقول "سئلت أم رومان" فوهم حصين فيه حيث جعل السائل لها مسروقًا، أو يكون بعض النقلة كتب سئلت بألف فصارت "سألت" فقرئت بفتحتين، قال على: إن بعض الرواة قد رواه عن حصين على الصواب يعنى بالعنعنة، قال: وأخرج البخاري هذا الحديث بناء على ظاهر الاتصال، ولم يظهر له علة. انتهى. وقد حكى المزى كلام الخطيب هذا في التهذيب وفي الأطراف، ولم يتعقبه بل أقره وزاد أنه روى عن مسروق عن ابن مسعود عن أم رومان، وهو أشبه بالصواب. كذا قال: وهذه الرواية شاذة وهى من المزيد في متصل الأسانيد على ما سنوضحه. والذي ظهر لي بعد التأمل أن الصواب مع البخارى، لأن عمدة الخطيب ومن تبعه في دعوى الوهم الاعتماد على قول من قال: إن أم رومان ماتت في حياة النبي صلى الله عليه وسلم سنة أربع وقيل سنة خمس وقيل ست وهو شيء ذكره الواقدى، ولا يتعقب الأسانيد الصحيحة بما يأتى عن الواقدى. وذكر الزبير بن بكار بسند منقطع فيه ضعف أن أم رومان ماتت سنة ست في ذى الحجة، وقد أشار البخارى إلى رد ذلك في تاريخه الأوسط والصغير فقال بعد أن ذكر أم رومان في فصل من مات في خلافة عثمان: روى على بن يزيد عن القاسم قال: ماتت أم رومان في زمن النبي صلى الله عليه وسلم سنة ست، قال البخاري: وفيه نظر، وحديث مسروق أسند، أي أقوى إسنادًا وأبين اتصالا انتهى. وقد جزم إبراهيم الحربي بأن مسروقًا سمع من أم رومان وله خمس عشرة سنة، فعلى هذا يكون سماعه منها في خلافة عمر؛ لأن مولد مسروق كان في سنة الهجرة، ولذا قال أبو نعيم الأصبهاني: عاشت أم رومان بعد صلى الله عليه وسلم وقد تعقب ذلك كله الخطيب معتمدًا على ما تقدم عن الواقدى والزبير، وفيه نظر؛ لما وقع عند أحمد من طريق أبي سلمة عن عائشة قالت: "لما نزلت آية التخيير بدأ النبي صلى الله عليه وسلم بعائشة فقال: يا عائشة إنى عارض عليك أمرا فلا تفتاتى فيه بشيء حتى تعرضيه على أبويك أبي بكر وأم رومان … "الحديث، وأصله في الصحيحين دون تسمية أم رومان وآية التخيير نزلت سنة تسع اتفاقا، فهذا دال على تأخر موت أم رومان عن الوقت الذي ذكره الواقدى والزبير أيضا، فقد تقدم في علامات النبوة من حديث عبد الرحمن بن أبى بكر في قصة أضياف أبى بكر: قال عبد الرحمن: "وإنما هو أنا وأبي وأمى وامرأتي وخادم" وفيه عند المصنف في الأدب: "فلما جاء أبو بكر قالت له أمى احتبست عن أضيافك" الحديث، وعبد الرحمن إنما هاجر في هدنة الحديبية، وكانت الحديبية في ذي القعدة سنة ست وهجرة عبد الرحمن في سنة سبع في قول ابن سعد، وفى قول الزبير فيها أو في التي بعدها؛ لأنه روى أن عبد الرحمن خرج في فئة من قريش قبل الفتح إلى النبي صلى الله عليه وسلم فتكون أم رومان تأخرت عن الوقت الذي ذكراه فيه، وفى بعض هذا كفاية في التعقب على الخطيب ومن تبعه فيما تعقبوه =
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরি ষষ্ঠ সনে, এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কবরে নেমেছিলেন।

--------------------------------------------

= ইবনে হাজার আল-ফাতহ গ্রন্থে (৭/ ৫০২ - ৫০৩) সেই বর্ণনাগুলোকে দুর্বল বলেছেন যা দাবি করে যে উম্মে রুমান রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ইন্তেকাল করেছিলেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে হাদিসটি মুত্তাসিল (সংযুক্ত) এবং মাসরুক তাঁর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। তিনি বলেন:

মাসরুকের উক্তি "উম্মে রুমান আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন" এটি নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে, কারণ তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ইন্তেকাল করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়, অথচ মাসরুকের সাহাবি হওয়ার মর্যাদা নেই; কেননা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর আবু বকর অথবা উমরের খেলাফতের সময় ব্যতীত ইয়ামেন থেকে আসেননি। খতিব (আল-বাগদাদি) বলেন: আমরা জানি না যে হোসাইন ব্যতীত অন্য কেউ আবু ওয়াইল থেকে এই হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর মাসরুক উম্মে রুমানকে পাননি এবং তিনি তাঁর পক্ষ থেকে এই হাদিসটি ইরসাল (সূত্র উল্লেখ ছাড়া বর্ণনা) করতেন এবং বলতেন "উম্মে রুমানকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল"। এক্ষেত্রে হোসাইন ভুল করেছেন যেখানে তিনি প্রশ্নকারী হিসেবে মাসরুককে উল্লেখ করেছেন, অথবা কোনো বর্ণনাকারী "জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল (সুইলাত)" শব্দটিকে আলিফ দিয়ে লিখেছেন ফলে তা "আমি জিজ্ঞাসা করেছি (সাআলতু)" হয়ে গেছে এবং জবর দিয়ে পড়া হয়েছে। আলী বলেন: কিছু বর্ণনাকারী হোসাইন থেকে এটি সঠিক উপায়ে অর্থাৎ আনআনার (عنعنة) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইমাম বুখারী বাহ্যিক মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হওয়ার ভিত্তিতে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর নিকট কোনো ত্রুটি প্রকাশ পায়নি। (সমাপ্ত)। আল-মিযযি খতিবের এই বক্তব্য 'তাহজিব' এবং 'আতরাফ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এর কোনো সমালোচনা না করে বরং তা বহাল রেখেছেন। তিনি আরও যোগ করেছেন যে, এটি মাসরুক থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি উম্মে রুমান থেকে বর্ণিত হয়েছে—যা সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তিনি এভাবেই বলেছেন। তবে এই বর্ণনাটি 'শায' (বিচ্ছিন্ন) এবং এটি 'আল-মাযিদ ফি মুত্তাসিলিল আসানিদ'-এর অন্তর্ভুক্ত, যা আমরা সামনে ব্যাখ্যা করব। গভীরভাবে চিন্তা করার পর আমার নিকট যা স্পষ্ট হয়েছে তা হলো সঠিক মতটি ইমাম বুখারীর পক্ষেই রয়েছে। কারণ খতিব এবং তাঁর অনুসারীদের ভুলের দাবির মূল ভিত্তি হলো সেই ব্যক্তির উক্তি যে বলেছে যে, উম্মে রুমান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় হিজরি চতুর্থ, পঞ্চম কিংবা ষষ্ঠ সনে ইন্তেকাল করেছেন। এটি এমন একটি বিষয় যা আল-ওয়াকিদি উল্লেখ করেছেন, অথচ সহিহ সনদসমূহের বিপরীতে আল-ওয়াকিদির বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। যুবাইর ইবনে বাক্কার একটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন) ও দুর্বল সনদে উল্লেখ করেছেন যে, উম্মে রুমান হিজরি ষষ্ঠ সনের জিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেছেন। ইমাম বুখারী তাঁর 'তারিখে আওসাত' এবং 'সগির' গ্রন্থে এর প্রতিবাদ করে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি উসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের পরিচ্ছেদে উম্মে রুমানকে উল্লেখ করার পর বলেছেন: আলী ইবনে ইয়াজিদ আল-কাসিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উম্মে রুমান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হিজরি ষষ্ঠ সনে ইন্তেকাল করেছেন। বুখারী বলেন: এতে আপত্তি আছে, এবং মাসরুকের হাদিসটি অধিক মুসনাদ (অধিক শক্তিশালী সনদ এবং স্পষ্টভাবে সংযুক্ত)। (সমাপ্ত)। ইবরাহিম আল-হারবি দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, মাসরুক পনেরো বছর বয়সে উম্মে রুমান থেকে হাদিস শুনেছেন। সে অনুযায়ী তাঁর শ্রবণ উমরের খেলাফতকালে হতে পারে; কারণ মাসরুকের জন্ম হিজরতের বছরে হয়েছিল। এই কারণেই আবু নুআয়ম আল-আসবাহানি বলেছেন: উম্মে রুমান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে বেঁচে ছিলেন। খতিব আল-বাগদাদি আল-ওয়াকিদি এবং যুবাইরের পূর্বোক্ত কথার ওপর ভিত্তি করে এসবের প্রতিবাদ করেছেন, তবে তাতে আপত্তির অবকাশ আছে। কারণ ইমাম আহমদের বর্ণনায় আবু সালামার সূত্রে আয়েশা (রা.) থেকে এসেছে যে, তিনি বলেন: "যখন এখতিয়ারের আয়াত (আয়াতুত তাখয়ির) নাজিল হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশাকে দিয়ে শুরু করলেন এবং বললেন: হে আয়েশা, আমি তোমার সামনে একটি বিষয় পেশ করছি, তুমি তোমার পিতা-মাতা আবু বকর এবং উম্মে রুমানের সাথে আলোচনা না করে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত দিও না … " (হাদিস)। এই হাদিসের মূল অংশ উম্মে রুমানের নাম উল্লেখ ছাড়াই সহিহাইন (বুখারী ও মুসলিম) গ্রন্থে রয়েছে। আর এখতিয়ারের আয়াত সর্বসম্মতিক্রমে হিজরি নবম সনে নাজিল হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে উম্মে রুমানের ইন্তেকাল আল-ওয়াকিদি ও যুবাইরের উল্লিখিত সময়ের পরে হয়েছে। নবুওয়াতের নিদর্শনাদি (আলামাতুন নুবুওয়াহ) অধ্যায়ে আবদুর রহমান ইবনে আবি বকরের হাদিসে আবু বকরের মেহমানদের কাহিনীতে বর্ণিত আছে যে, আবদুর রহমান বলেন: "আমি, আমার বাবা, আমার মা, আমার স্ত্রী এবং খাদেম ছিলাম"। সেখানে মুসান্নিফের (বুখারীর) আদবুল মুফরাদ গ্রন্থে আছে: "যখন আবু বকর আসলেন, তখন আমার মা তাঁকে বললেন—আপনি মেহমানদের রেখে আটকে গিয়েছিলেন"। আবদুর রহমান হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় হিজরত করেছিলেন। হুদাইবিয়া ছিল হিজরি ষষ্ঠ সনের জিলকদ মাসে এবং ইবনে সাআদের মতে আবদুর রহমানের হিজরত ছিল সপ্তম সনে। যুবাইরের মতে সেই বছর বা তার পরের বছর; কারণ তিনি বর্ণনা করেছেন যে আবদুর রহমান বিজয়ের (মক্কা বিজয়) আগে কুরাইশদের একটি দলের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বেরিয়ে গিয়েছিলেন। সুতরাং উম্মে রুমান তাঁদের বর্ণিত সময়ের পরেও জীবিত ছিলেন। খতিব এবং তাঁর অনুসারীরা যা প্রতিবাদ করেছেন, তার খণ্ডনে এর কিছু অংশই যথেষ্ট। =
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ১০)
وهذا يقوى الإشكال في إخراج البخارى رواية مسروق عنها. لكن أَنكر قوم موتها في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم منهم أبو نعيم الأصفهاني، ولا عمدة لمن أَنكره إلا رواية مسروق.

وقال الخطيب: لم يسمع مسروق من أُم رومان شيئًا. والعجب كيف خفى ذلك على البخارى وقد فطن مسلم له(1).

تزوجها رسول الله صلى الله عليه وسلم بمكة قبل الهجرة بسنتين، وقيل بثلاث بعد موت خديجة وقبل سودة بنت زمعة، وقيل: "بعدها" وهذا هو الأشهر.

والأول حكاه ابن عبد البر عن غير واحد(2)، ويشهد له ما أخرجه مسلم في صحيحه من حديث هشام عن أَبيه عن عائشة أنها قالت: "ما رأيت امرأة أحب أَن أكون في مِسْلاخِها من سودة بنت زمعة … الحديث"(3). وقالت في آخره في بعض طرقه: "وكانت أول امرأة تزوجها بعدى"(4).

وتزوجها وهى بنت ست أو سبع، والأول أصح. وبنى بها بالمدينة وهى بنت تسع في شوال منصرفه صلى الله عليه وسلم من بدر في السنة الثانية من مقدمه. وقال الواقدي: "في الأولى" وصححه الدمياطى، وأما ابن دحية فَوَهَّى الواقدى(5).

--------------------------------------------

= على هذا الجامع الصحيح والله المستعان. وقد تلقى كلام الخطيب بالتسليم صاحب المشارق، والمطالع، والسهيلى، وابن سيد الناس، وتبع المِزّى الذهبي في مختصراته، والعلائي في المراسيل، وآخرون، وخالفهم صاحب الهدى.

(1) انظر التعليق السابق، ففيه ترجيح اتصال روايات البخارى، وأنه أخرج رواياته بناء على ذلك. والله تعالى أعلم.

(2) الاستيعاب (4/ 356 - 357).

(3) م: (2/ 1085) (17) كتاب الرضاع (14) باب جواز هبتها نوبتها لضرتها - عن زهير بن حرب، عن جرير، عن هشام بن عروة، عن أبيه، عن عائشة قالت: ما رأيت امرأة أحب إلى أن أكون في مسلاخها من سودة بنت زمعة من امرأة فيها جدَّة. قالت: فلما كبرت جعلت يومها من رسول الله صلى الله عليه وسلم لعائشة رقم (47/ 1463).

ومعنى "في مسلاخها" المسلاخ: الجلد، أي أن أكون في هيئتها ومثلها.

(4) م: (الموضع السابق) من طرق عن هشام بن عروة به. رقم: (48/ 1463)

(5) في المطبوعة: "وأما ابن دحية فوهاه الواقدى" وكذلك في المخطوط وهي عبارة غير صحيحة؛ لأن ابن دحية أبا الخطاب بعد الواقدى بزمن، وهو الذي وهَّىَ الواقدى، كما في كتابه الابتهاج (ص 8 - 9).
এটি উম্মে রুমান থেকে মাসরূকের বর্ণনার ক্ষেত্রে বুখারীর গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে সংশয়কে আরও জোরালো করে। কিন্তু একদল লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, তাঁদের মধ্যে আবু নুআইম আল-আসফাহানী অন্যতম। আর যারা এটি অস্বীকার করেছেন, মাসরূকের বর্ণনা ছাড়া তাঁদের অন্য কোনো ভিত্তি নেই।

খতীব বলেন: মাসরূক উম্মে রুমান থেকে কিছু শোনেননি। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, বিষয়টি বুখারীর কাছে কীভাবে অস্পষ্ট থাকল অথচ মুসলিম তা বুঝতে পেরেছিলেন(১)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের দুই বছর আগে মক্কায় তাঁকে বিয়ে করেন। আবার বলা হয়েছে তিন বছর আগে; খাদীজা রাদিয়াল্লাহু আনহার মৃত্যুর পর এবং সাওদা বিনতে জামআ রাদিয়াল্লাহু আনহার আগে। কেউ কেউ বলেছেন: "তার পরে", আর এটিই অধিক প্রসিদ্ধ।

ইবন আবদুল বার একাধিক ব্যক্তি থেকে প্রথম মতটি বর্ণনা করেছেন। সহীহ মুসলিমে হিশাম তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তা এর সাক্ষ্য দেয়; তিনি বলেছেন: "আমি সাওদা বিনতে জামআ ব্যতীত অন্য কোনো মহিলাকে দেখিনি যার অবয়বে থাকা আমার কাছে অধিক প্রিয় হতো... (হাদীসটি শেষ পর্যন্ত)"(৩)। এর কোনো কোনো সূত্রে শেষে তিনি বলেছেন: "এবং তিনি আমার পরে প্রথম মহিলা যাকে তিনি বিবাহ করেছিলেন।"(৪)।

তিনি তাকে বিবাহ করেন যখন তার বয়স ছিল ছয় বা সাত বছর, এবং প্রথম মতটিই অধিক বিশুদ্ধ। তিনি তার সাথে সংসার শুরু করেন মদীনায় যখন তার বয়স ছিল নয় বছর; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে বদর থেকে ফিরে শাওয়াল মাসে। ওয়াকিদী বলেন: "প্রথম বর্ষে", আদ-দিমইয়াতী এটিকে সঠিক বলেছেন। আর ইবন দিহয়াহ ওয়াকিদীকে দুর্বল বলেছেন(৫)।

--------------------------------------------

= এই জামেউস সহীহের উপর, আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়। মাশারিক, মাতালি, সুহাইলী ও ইবন সাইয়িদুন নাস-এর লেখকগণ খতীবের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন এবং মিযযী তাঁর সারসংক্ষেপগুলোতে যাহাবীর অনুসরণ করেছেন, আল-আলাই 'আল-মারাসীল'-এ এবং আরও অনেকে; তবে 'আল-হুদা'র লেখক তাঁদের বিরোধিতা করেছেন।

(১) পূর্ববর্তী টীকাটি দেখুন, সেখানে বুখারীর বর্ণনাগুলোর নিরবচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এর ভিত্তিতেই তাঁর বর্ণনাগুলো সংকলন করেছেন। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।

(২) আল-ইসতিআব (৪/ ৩৫৬ - ৩৫৭)।

(৩) মু: (২/ ১০৮৫) (১৭) কিতাবুর রাযা (১৪) বাব: সতীনকে নিজের পালা দান করা বৈধ হওয়া সম্পর্কে - যুহাইর ইবন হারব থেকে, তিনি জারীর থেকে, তিনি হিশাম ইবন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি সাওদা বিনতে জামআ অপেক্ষা অন্য কোনো মহিলার অবয়বে হওয়া আমার কাছে অধিক প্রিয় দেখিনি, যিনি একজন গাম্ভীর্যপূর্ণ নারী ছিলেন। তিনি বলেন: যখন তিনি বৃদ্ধা হলেন, তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যের জন্য তাঁর নির্ধারিত দিনটি আয়িশাকে প্রদান করেন। নং (৪৭/ ১৪৬৩)।

আর 'ফি মিসলাখিহা' অর্থ হলো চর্ম বা চামড়া, অর্থাৎ তাঁর মতো আকৃতি ও সদৃশ হওয়া।

(৪) মু: (পূর্বোক্ত স্থান) হিশাম ইবন উরওয়াহ থেকে একাধিক সূত্রে। নং: (৪৮/ ১৪6৩)

(৫) মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: "আর ইবন দিহয়াহকে ওয়াকিদী দুর্বল বলেছেন" এবং পাণ্ডুলিপিতেও তাই আছে, যা সঠিক নয়; কেননা আবু আল-খাত্তাব ইবন দিহয়াহ ওয়াকিদীর অনেক পরের সময়ের মানুষ, আর তিনিই ওয়াকিদীকে দুর্বল বলেছেন, যেমনটি তাঁর 'আল-ইবতিহাজ' (পৃ. ৮-৯) গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ১১)
وأَقامت في صحبته ثمانية أَعوام وخمسة أَشهر وتوفى عليه الصلاة والسلام وهي ابنة ثماني عشرة(1) سنة، وعاشت خمسًا وستين وولدت سنة أَربع من النبوة، وتوفيت بالمدينة زمن معاوية ليلة الثلاثاء لسبع عشرة خلت من رمضان سنة سبع وخمسين، وقيل ثمان وخمسين، وأَوصت أن يصلى عليها أَبو هريرة.

وذكر الواقدى: "أنها ماتت بعد الوتر وأَمرت أَن تدفن من ليلتها فاجتمع الأَنصار وحضروا، فلم نر ليلة أَكثر ناسا منها، نزل أهل العوالى فدفنت بالبقيع"(2).

قال الواقدي: "فحدثني ابن جريج عن نافع قال: شهدت أَبا هريرة صلى على عائشة بالبقيع وابن عمر في الناس لا ينكره. وكان مروان اعتمر في تلك السنة واستخلف أبا هريرة(3).

رُوى لها عن النبي صلى الله عليه وسلم أَلفا حديث ومائتا حديث وعشرة أحاديث، اتفق البخارى ومسلم منها على مائة وأربعة وسبعين حديثًا، وانفرد البخارى بأَربعة وخمسين، ومسلم بثمانية وستين(4).

روى عنها خلق من الصحابة والتابعين(5) من متأخريهم: مسروق والأَسود

--------------------------------------------

(1) في الأصل: "ثمانية عشر".

(2) المستدرك (4/ 6) (31) كتاب معرفة الصحابة.

قال ابن عمر (الواقدى): فحدثني ابن أبي سبرة، عن موسى بن ميسرة، عن سالم سبلان قال: ماتت عائشة … الخ.

وانظر طبقات ابن سعد: (8/ 54)

(3) طبقات ابن سعد: (8/ 53)

(4) أعلام النبلاء (2/ 139) وفيه: "وانفرد البخارى بتسعة وستين".

(5) ذكر الذهبي في سير أعلام النبلاء من حدثوا عن عائشة (/136) - 139) فقال:

حدَّثَ عنها إبراهيمُ بنُ يزيد النخعى مرسلًا، وإبراهيم بنُ يزيد التيمي كذلك، وإسحاقُ بن طلحة، وإسحاق بن عُمر، والأسودُ بن يزيد، وأيمنُ المكّى، وثُمامةُ بن حَزْن، وجبير بن نُفير، وجُميع بن عُمير. والحارث بن عبد الله بن أبي ربيعة المخزومى، والحارث بن نوفل، والحسنُ، وحمزةُ بنُ عبد الله بن عمر، وخالد بن سعد، وخالدُ بن معدان - وقيل: لم يسمع منها - وخَبَّاب [صاحب] المقصورة، وخُبيبُ بنُ عبد الله بن الزُّبير، وخلاس الهَجَرى، وخِيَارُ بن سلمة، وخَيْثَمَةُ =
তিনি তাঁর (রাসূলুল্লাহর) সাহচর্যে আট বছর পাঁচ মাস অতিবাহিত করেন এবং যখন নবী (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ইন্তেকাল করেন তখন তাঁর বয়স ছিল আঠারো বছর(১)। তিনি পঁয়ষট্টি বছর জীবিত ছিলেন এবং নবুয়তের চতুর্থ বছরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মুয়াবিয়া (রা.)-এর শাসনামলে সাতান্ন হিজরি সালের সতেরো রমজান মঙ্গলবার রাতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। কেউ কেউ বলেন আঠান্ন হিজরি। তিনি অসিয়ত করেছিলেন যেন আবু হুরায়রা (রা.) তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান।

ওয়াকিদি উল্লেখ করেছেন: "তিনি বিতর নামাজের পর ইন্তেকাল করেন এবং নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তাঁকে সেই রাতেই দাফন করা হয়। ফলে আনসাররা সমবেত ও উপস্থিত হলেন; আমরা সেই রাতের চেয়ে বেশি জনসমাগম আর কোনো রাতে দেখিনি। আউয়ালি-র বাসিন্দারাও নিচে নেমে এলেন এবং তাঁকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হলো।"(২)

ওয়াকিদি বলেন: "ইবনে জুরাইজ আমার নিকট নাফে থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উপস্থিত ছিলাম যখন আবু হুরায়রা বাকিতে আয়েশার জানাজার নামাজ পড়ান এবং ইবনে উমর তখন উপস্থিত লোকদের মধ্যে ছিলেন, যা তিনি অস্বীকার করেননি। সেই বছর মারওয়ান ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন এবং আবু হুরায়রাকে স্থলাভিষিক্ত করে গিয়েছিলেন।"(৩)

নবী (সা.) থেকে তাঁর দুই হাজার দুইশ দশটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে বুখারি ও মুসলিম একশ চুয়াত্তরটি হাদিসের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। বুখারি এককভাবে চুয়ান্নটি এবং মুসলিম এককভাবে আটষট্টিটি হাদিস বর্ণনা করেছেন(৪)।

সাহাবী এবং তাবেয়ীদের এক বিশাল দল তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন(৫), যাদের মধ্যে পরবর্তী যুগের ছিলেন: মাসরুক এবং আসওয়াদ।

--------------------------------------------

(১) মূলে রয়েছে: "আঠারো"।

(২) আল-মুস্তাদরাক (৪/ ৬) (৩১) কিতাব মা'রিফাতুস সাহাবা।

ইবনে উমর (ওয়াকিদি) বলেন: ইবনে আবি সাবরা আমার নিকট মুসা ইবনে মায়সারা থেকে, তিনি সালেম সাবলান থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: আয়েশা ইন্তেকাল করেন... ইত্যাদি।

দ্রষ্টব্য: তাবাকাত ইবনে সাদ: (৮/ ৫৪)

(৩) তাবাকাত ইবনে সাদ: (৮/ ৫৩)

(৪) আলামুন নুবালা (২/ ১৩৯) এবং এতে রয়েছে: "বুখারি এককভাবে ঊনসত্তরটি হাদিস বর্ণনা করেছেন"।

(৫) যাহাবি 'সিয়ারু আলামিন নুবালা'-তে আয়েশা (রা.) থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের কথা উল্লেখ করে (১৩৬/২-১৩৯) বলেন:

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে ইয়াজিদ আল-নাখয়ি (মুরসাল হিসেবে), ইব্রাহিম ইবনে ইয়াজিদ আল-তায়মি (একইভাবে), ইসহাক ইবনে তালহা, ইসহাক ইবনে উমর, আসওয়াদ ইবনে ইয়াজিদ, আয়মান আল-মাক্কি, সুমামাহ ইবনে হাযন, জুবায়ের ইবনে নুফাইর, জুমা'ই ইবনে উমাইর, আল-হারিস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি রাবিআহ আল-মাখজুমি, আল-হারিস ইবনে নওফাল, হাসান, হামজা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, খালিদ ইবনে সাদ, খালিদ ইবনে মাদান—বলা হয় তিনি তাঁর থেকে শোনেননি—খাব্বাব [মাকসুরার অধিবাসী], খুবাইব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-জুবায়ের, খিলাস আল-হাজারি, খিয়ার ইবনে সালামাহ এবং খাইসামা।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ১২)
وسعيد بن المسيب، وعروة ابن أُختها، والقاسم ابن أخيها وأبو سلمة بن عبد الرحمن والشعبي، ومجاهد، وعطاء، وعكرمة وعمرة بنت عبد الرحمن، ونافع مولى ابن عمر وآخرون.

--------------------------------------------

= ابن عبد الرحمن، وذكوانُ السمان؛ ومولاها ذكوان، وربيعةُ الجُرَشى - وله صُحبة، وزاذان أبو عمر الكندى، وزُرارةُ بن أوفى، وزِرُّ بنُ حُبَيش، وزيد بن أسلم، وسالم بن أبي الجعد - ولم يسمعا منها - وزيدُ بن خالد الجُهَنى، وسالم بن عبد الله، وسالم سَبَلان، والسائب بنُ يزيد، وسعدُ بن هشام، وسعيدُ المَقْبُرى، وسعيد بن العاص، وسعيد بن المسيب، وسليمانُ بن يسار، وسُليمانُ بن بريدة، وشُرَيحُ بنُ أرطاة، وشُريحُ بن هانئ، وشَرِيقُ الهَوْزَنى، وشقيق أبو وائل، وشَهْرُ بنُ حوشب، وصالح بن ربيعة بن الهدير، وصَعْصَعَة عم الأحنف، وطاووسٌ، وطلحةُ بنُ عبد الله التَّيمى، وعابسُ بنُ ربيعة، وعاصمُ بنُ حُميد السَّكُونى، وعامرُ بن سعد، والشَّعبي، وعبَّادُ بنُ عبد الله بن الزبير، وعُبادة بنُ الوليد، وعبد الله بن بُريدة، وأبو الوليد عبدُ الله بن الحارث البصرى، وابنُ الزبير ابن أختها عبد الله، وأخوه عُروة، وعبد الله بن شَدَّاد اللَّيثى، وعبد الله بن شقيق، وعبدُ الله بن شهاب الخولاني، وعبدُ الله بنُ عامر بن ربيعة، وابن عمر، وابن عباس، وعبدُ الله بن فَرُّوخ، وعبدُ الله بن أبي مُليكة، وعبد الله بن عبيد بن عُمير، وأبوه، وعبدُ الله بن عُكيم، وعبد الله بن أبي قيس، وابنا أخيها: عبدُ الله والقاسمُ، ابنا محمد، وعبدُ الله بن أبى عتيق محمد، ابن أخيها عبد الرحمن، وعبدُ الله بن واقد العُمرى، ورَضيعُها عبد الله بن يزيد، وعبدُ الله البَهى، وعبدُ الرحمن بن الأسود، وعبد الرحمن بن الحارث بن هشام، وعبدُ الرحمن بن سعيد بن وهب الهَمْداني، وعبد الرحمن بن شُمَاسة، وعبد الرحمن بنُ عَبد الله بن سابط الجُمَحى، وعبدُ العزيز، والد ابن جُريج، وعبيدُ الله بن عبد الله، وعبيد الله بنُ عياض، وعراك - ولم يلقها - وعُروةُ المُزَنى، وعطاءُ بنُ أبي رباح، وعطاءُ بن يَسار، وعكرمةُ، وعلقمةُ، وعلقمةُ بن وقاص، وعليُّ بن الحسين، وعمرو بن سعيد بن سعيد الأشدق، وعمرو بنُ شرحبيل، وعمرو بن غالب، وعمرو بن ميمون، وعمرانُ بنُ حِطَّان، وعوف بن الحارث، رضيعُها، وعياضُ بن عُروة، وعيسى بنُ طَلحة، وغُضَيفُ بن الحارث، وفروة بن نوفل، والقعقاع بن حكيم، وقيس بن أبي حازم، وكثيرُ بن عُبيد الكوفى. رضيعُها، وكُريب، ومالك بن أبي عامر، ومجاهدٌ، ومحمد بن إبراهيم التيمي - إن كان لقيها - ومحمد بن الأشعث، ومحمد بن زياد الجُمَحى، وابن سيرين، ومحمد بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام، وأبو جعفر الباقر - ولم يلقها ومحمد بن قيس بن مَخْرَمة، ومحمد بن المنتشر، ومحمد بن المُنْكَدِر - وكأنه مرسل - ومروان العقيلي أبو لُبابة، ومَسروقٌ، ومِصْدَعٌ أبو يحيى، ومُطرّفُ بن الشَّخّير، ومِقْسَمٌ، مولى ابن عباس، والمطَّلِبُ بنُ عبد الله بن حَنْطَب، ومكحول - ولم يلحقها - وموسى بن طلحة، وميمون بن أبي شَبِيب، وميمونُ بنُ مِهران، ونافع بنُ جُبَير، ونافعُ بنُ عطاء، ونافعُ العُمرى، والنُّعمانُ بن بشير، وهَمَّامُ بن الحارث، وهِلالُ بنُ بِسَاف، ويحيى بن الجزار، ويحيى بنُ عبد الرحمن بن حاطب، ويحيى بنُ يَعْمَر، ويزيدُ بن بَابَنُوس، ويزيدُ بنُ الشّخُير، ويعلى بنُ عُقبة، ويوسف بن مَاهَك، =
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, উরওয়াহ — যিনি তার বোনের ছেলে, আল-কাসিম — যিনি তার ভাইয়ের ছেলে, আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান, আশ-শা’বি, মুজাহিদ, আতা, ইকরিমাহ, আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান, ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফে এবং আরও অনেকে।

--------------------------------------------

= ইবনে আবদুর রহমান এবং যাকওয়ান আস-সাম্মান; তার মুক্তদাস যাকওয়ান, রাবিয়াহ আল-জুারাশি — এবং তিনি সাহাবি ছিলেন, যাযান আবু আমর আল-কিন্দি, যুরারাহ ইবনে আওফা, যির ইবনে হুবাইশ, যায়িদ ইবনে আসলাম, সালিম ইবনে আবিল জাদ — তারা উভয়ে তার থেকে শোনেননি — যায়িদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি, সালিম ইবনে আবদুল্লাহ, সালিম সাবলান, আস-সাইব ইবনে ইয়াযিদ, সাদ ইবনে হিশাম, সাঈদ আল-মাকবুরি, সাঈদ ইবনুল আস, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, সুলাইমান ইবনে ইয়াসার, সুলাইমান ইবনে বুরাইদাহ, শুরাইহ ইবনে আরতাহ, শুরাইহ ইবনে হানি, শারিক আল-হাওযানি, শাকিক আবু ওয়ায়েল, শাহর ইবনে হাওশাব, সালিহ ইবনে রাবিয়াহ ইবনুল হুদাইর, সাসায়াহ — যিনি আল-আহনাফের চাচা, তাউস, তালহা ইবনে আবদুল্লাহ আত-তাইমি, আবিস ইবনে রাবিয়াহ, আসিম ইবনে হুমাইদ আস-সাকুনি, আমির ইবনে সাদ, আশ-শা’বি, আব্বাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর, উবাদাহ ইবনুল ওয়ালিদ, আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ, আবুল ওয়ালিদ আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস আল-বাসরি, তার বোনের ছেলে আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর এবং তার ভাই উরওয়াহ, আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ আল-লাইসি, আবদুল্লাহ ইবনে শাকিক, আবদুল্লাহ ইবনে শিহাব আল-খাওলানি, আবদুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবিয়াহ, ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনে ফাররুখ, আবদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকাহ, আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উমাইর এবং তার পিতা, আবদুল্লাহ ইবনে উকাইম, আবদুল্লাহ ইবনে আবি কাইস, তার ভাইয়ের দুই ছেলে: মুহাম্মদের দুই পুত্র আবদুল্লাহ ও আল-কাসিম, এবং তার ভাই আবদুর রহমানের ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে আবি আতিক মুহাম্মদ, আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াকিদ আল-উমারি, তার দুগ্ধপোষ্য পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযিদ, আবদুল্লাহ আল-বাহি, আবদুর রহমান ইবনুল আসওয়াদ, আবদুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনে হিশাম, আবদুর রহমান ইবনে সাঈদ ইবনে ওয়াহাব আল-হামদানি, আবদুর রহমান ইবনে শুমাসাহ, আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাবিত আল-জুমাহি, আবদুল আজিজ — যিনি ইবনে জুরাইজের পিতা, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ, উবাইদুল্লাহ ইবনে ইয়াদ, ইরাক — তিনি তার সাক্ষাত পাননি, উরওয়াহ আল-মুযানি, আতা ইবনে আবি রাবাহ, আতা ইবনে ইয়াসার, ইকরিমাহ, আলক্বামাহ, আলক্বামাহ ইবনে ওয়াক্কাস, আলী ইবনুল হুসাইন, আমর ইবনে সাঈদ ইবনে সাঈদ আল-আশদাক, আমর ইবনে শুরাহবিল, আমর ইবনে গালিব, আমর ইবনে মাইমুন, ইমরান ইবনে হিত্তান, তার দুগ্ধপোষ্য পুত্র আওফ ইবনুল হারিস, ইয়াদ ইবনে উরওয়াহ, ঈসা ইবনে তালহা, গুদাইফ ইবনুল হারিস, ফারওয়াহ ইবনে নাওফাল, আল-কাক্কা ইবনে হাকিম, কাইস ইবনে আবি হাযিম, তার দুগ্ধপোষ্য পুত্র কাসির ইবনে উবাইদ আল-কুফি, কুরাইব, মালিক ইবনে আবি আমির, মুজাহিদ, মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমি — যদি তিনি তার সাক্ষাত পেয়ে থাকেন, মুহাম্মদ ইবনুল আশআছ, মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ আল-জুমাহি, ইবনে সিরিন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনে হিশাম, আবু জাফর আল-বাকির — তিনি তার সাক্ষাত পাননি, মুহাম্মদ ইবনে কাইস ইবনে মাখরামাহ, মুহাম্মদ ইবনুল মুনতাশির, মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির — এবং এটি মুরসাল বলে মনে হয়, মারওয়ান আল-উকাইলি আবু লুবাবাহ, মাসরুক, মিসদা আবু ইয়াহইয়া, মুতাররিফ ইবনুশ শিখখির, মিকসাম — ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস, আল-মুত্তালিব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হানতাব, মাকহুল — তিনি তার যুগ পাননি, মুসা ইবনে তালহা, মাইমুন ইবনে আবি শাবিব, মাইমুন ইবনে মিহরান, নাফে ইবনে জুবায়ের, নাফে ইবনে আতা, নাফে আল-উমারি, নুমান ইবনে বাশির, হাম্মাম ইবনুল হারিস, হিলাল ইবনে বিসাফ, ইয়াহইয়া আল-জাযযার, ইয়াহইয়া ইবনে আবদুর রহমান ইবনে হাতিব, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর, ইয়াযিদ ইবনে বাবানুস, ইয়াযিদ ইবনুশ শিখখির, ইয়ালা ইবনে উকবাহ, ইউসুফ ইবনে মাহাক। =
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ১৩)
وكان مسروق إذا حدث عنها قال: "حدثتنى الصِّدِّيقة بنت الصِّدِّيق حبيبة حبيب الله المبرَّأَة السماء"(1).

وروى بسند حسن عن علي رضي الله عنه: أنه ذكر عائشة فقال: "خليلة رسول الله صلى الله عليه وسلم "(2).

وكذلك قال عمار بن ياسر لرجل نال منها: "اعْزُبُ مَقْبُوحًا مَنْبُوحًا أَتَؤذى حبيبة رسول الله صلى الله عليه وسلم "(3).

--------------------------------------------

= وأبو أُمامة بنُ سهل، وأبو بُردة بنُ أبي موسى، وأبو بكر بن عبد الرحمن بن الحارث، وأبو الجوزاء الرَّبَعى، وأبو حُذيفة الأرحبى، وأبو حفصة، مولاها، وأبو الزُّبير المكى - وكأنه مرسل - وأبو سلمة بن عبد الرحمن. وأبو الشَّعثاء المُحَاربي، وأبو الصِّدِّيق الناجى، وأبو ظبيان الجنبي، وأبو العالية رُفَيع الرياحي، وأبو عبد الله الجدلى، وأبو عُبيدة بن عبد الله بن مسعود، وأبو عثمان النَّهدى، وأبو عطية الوادعى، وأبو قلابة الجَرْمى - ولم يلقها - وأبو المليح الهذلى، وأبو موسى، وأبو هُريرة، وأبو نوفل بن أبى عقرب، وأبو يونس مولاها، وبُهَيَّة مولاة الصديق، وجَسرةُ بنتُ دَجاجة، وحفصةُ بنتُ أخيها عبد الرحمن، وخيرة والدة الحسن البصرى، وذفرة بنت غالب، وزينبُ بنتُ أبي سلمة، وزينبُ بنت نصر، وزينبُ السهمية، وسُميَّة البصرية، وشُمَيْسَة العتكية، وصفيَّةُ بنتُ شيبة، وصفيةُ بنتُ أبى عبيد، وعائشةُ بنت طلحة، وعَمرةُ بنتُ عبد الرحمن، ومرجانةُ، والدةُ علقمة بن أبي علقمة، ومُعاذَةُ العدوية، وأُمُّ كلثوم التيمية، أختُها، وأُمُّ محمد، امرأةُ والد على بن زيد بن جُدعان. وطائفة سوى هؤلاء.

(1) الحلية لأبي نعيم: (2/ 44) من طريق ابن أبي شيبة، عن جعفر بن عون، عن مِسْعَر بن كدام، عن حبيب بن أبي ثابت، عن أبي الضحى عن مسروق به.

(2) سير أعلام النبلاء (2/ 176 - 177) علقه عن زياد بن أيوب، عن مصعب بن سلام، عن محمد بن سوقة، عن عاصم بن كليب، عن أبيه قال: انتهينا إلى على رضي الله عنه، فذكر عائشة فقال: خليلة رسول الله.

علق الذهبي على ذلك بقوله: هذا حديث حسن، ومصعب فصالح لا بأس به، وهذا يقوله أمير المؤمنين في حق عائشة مع ما وقع بينهما، فرضي الله عنهما، ولا ريب أن عائشة ندمت ندامة كلية على مسيرها إلى البصرة، وحضورها يوم الجمل، وما ظنت أن الأمر يبلغ ما بلغ، فعن عمارة بن عمير، عمن سمع عائشة إذا قرأت: {وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ} [الأحزاب 33] بكت حتى تبل خمارها …

(3) سنن الترمذى (5/ 707) (50) كتاب المناقب (63) باب فضل عائشة رضي الله عنها عن محمد بن بشار، عن عبد الرحمن بن مهدى، عن سفيان، عن أبي إسحاق عن عمرو بن =
মাসরূক যখন তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন তখন বলতেন: "আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সিদ্দীকের কন্যা সিদ্দীকা, আল্লাহর প্রিয়তমের প্রিয়তমা, আকাশ হতে যাঁর পবিত্রতা অবতীর্ণ হয়েছে"(১)।

আর হাসান সনদে আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আয়েশার কথা উল্লেখ করে বললেন: "তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একান্ত প্রিয়া"(২)।

একইভাবে আম্মার বিন ইয়াসির এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন যে তাঁর (আয়েশার) সমালোচনা করেছিল: "দূর হ রে কুৎসিত কুকুর! তুই কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয়াকে কষ্ট দিচ্ছিস?"(৩)।

--------------------------------------------

= এবং আবু উমামা ইবনে সাহল, আবু বুরদাহ ইবনে আবি মুসা, আবু বকর ইবনে আব্দুর রহমান ইবনুল হারিস, আবু আল-জাওযা আর-রাবায়ি, আবু হুযাইফা আল-আরহাবি, আবু হাফসা (তাঁর মুক্তদাস), আবু আল-যুবাইর আল-মাক্কী—এবং এটি মুরসাল মনে হয়—ও আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান। এবং আবু আল-শা’সা আল-মুহারিবি, আবু আস-সিদ্দীক আন-নাজি, আবু যাবইয়ান আল-জানবি, আবু আল-আলিয়া রুফাই আর-রিয়াহি, আবু আব্দুল্লাহ আল-জাদালি, আবু উবাইদাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবু উসমান আন-নাহদি, আবু আতিয়্যাহ আল-ওয়াদি’ই, আবু কিলাবাহ আল-জারমি—যিনি তাঁর সাক্ষাৎ পাননি—এবং আবু আল-মালিহ আল-হুযালি, আবু মুসা, আবু হুরাইরা, আবু নাওফাল ইবনে আবি আকরাব, আবু ইউনুস (তাঁর মুক্তদাস), বুহাইয়াহ (সিদ্দীকের মুক্তদাসী), জাসরাহ বিনতে দাজাজাহ, হাফসাহ (তাঁর ভাই আব্দুর রহমানের কন্যা), খাইরাহ (হাসান বসরীর মাতা), যাফরাহ বিনতে গালিব, যাইনাব বিনতে আবি সালামাহ, যাইনাব বিনতে নাসর, যাইনাব আস-সাহমিয়্যাহ, সুমাইয়াহ আল-বাসরিয়্যাহ, শুমাইসাহ আল-আতাকিয়্যাহ, সাফিয়্যাহ বিনতে শাইবাহ, সাফিয়্যাহ বিনতে আবি উবাইদ, আয়েশা বিনতে তালহা, আমরাহ বিনতে আব্দুর রহমান, মারজানাহ (আলক্বামাহ ইবনে আবি আলক্বামাহর মাতা), মুআযাহ আল-আদাবিয়্যাহ, উম্মে কুলসুম আত-তাইমিয়্যাহ (তাঁর বোন), এবং উম্মে মুহাম্মদ (আলী ইবনে যাইদ ইবনে জুদআনের পিতার স্ত্রী)। এ ছাড়াও আরও একদল রাবী।

(১) আবু নুয়াইমের আল-হিলইয়াহ: (২/ ৪৪), ইবনে আবি শাইবাহর সূত্রে, জাফর ইবনে আউন থেকে, মিসআর ইবনে কিদাম থেকে, হাবীব ইবনে আবি সাবিত থেকে, আবুল দুহা থেকে, মাসরূক সূত্রে বর্ণিত।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা (২/ ১৭৬ - ১৭৭), যিয়াদ ইবনে আইয়ুব থেকে মুআল্লাক হিসেবে, তিনি মুসআব ইবনে সালাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সাওকাহ থেকে, তিনি আসিম ইবনে কুলাইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: আমরা আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিকট পৌঁছলাম, তখন তিনি আয়েশার কথা উল্লেখ করে বললেন: আল্লাহর রাসূলের একান্ত প্রিয়া।

আয-যাহাবি এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: এটি একটি হাসান হাদিস, আর মুসআব সালেহ (নির্ভরযোগ্য), তাতে কোনো সমস্যা নেই। আর আমীরুল মুমিনীন এটি আয়েশার শানে বলেছেন তাঁদের মাঝে যা ঘটেছিল তা সত্ত্বেও; আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আয়েশা বসরা অভিমুখে তাঁর যাত্রার জন্য এবং জঙ্গে জামালে উপস্থিত হওয়ার জন্য চূড়ান্তভাবে অনুতপ্ত হয়েছিলেন, আর তিনি ভাবেননি যে বিষয়টি এতটা গড়াবে। উমারাহ ইবনে উমাইর থেকে বর্ণিত, তিনি এমন একজনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যিনি আয়েশাকে শুনেছেন যে, যখন তিনি {এবং তোমরা নিজগৃহে অবস্থান করো} [আল-আহযাব ৩৩] আয়াতটি পাঠ করতেন, তখন এত কাঁদতেন যে তাঁর ওড়না ভিজে যেত …

(৩) সুনানে তিরমিযি (৫/ ৭০৭) (৫০) মানাকিব অধ্যায় (৬৩) আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার মর্যাদা পরিচ্ছেদ; মুহাম্মদ ইবনে বাশশার থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমর ইবনে থেকে...।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌ومن مواليها رضي الله عنها -:

1 - " بَرِيرة": وهى التي كان فيها ثلاث سنن، وحديثها مشهور في الصحيح(1).

روت عن النبي صلى الله عليه وسلم: "إن الرجل ليدفع عن باب الجنة بعد أن ينظر إليها على محجمة من دم يريقه من مسلم" يعنى بغير حق. روته لعبد الملك بن مروان(2).

رواه عنها زيد بن واقد: وهو من ثقات الشاميين لقى واثلة بن الأسقع.

2 - ومنهن: "سايبة": روى عنها نافع مولى ابن عمر عن سايبة: "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن قتل الحيات التي في البيوت إلا ذا الطُفيتَين(3) والأبتر

--------------------------------------------

= غالب أن رجلًا نال من عائشة عند عمار بن ياسر فقال: اعْزب مقبوحًا منبوحًا، أتؤذى حبيبة رسول الله صلى الله عليه وسلم رقم (3888).

قال: هذا حديث حسن.

وقال الذهبي في سير أعلام النبلاء: صححه الترمذى في بعض النسخ (سير 2/ 179)

(1) متفق عليه:

خ: (2/ 407) (68) كتاب الطلاق (14) باب لا يكون الأمة طلاقًا

من طريق مالك عن ربيعة بن أبي عبد الرحمن، عن القاسم بن محمد، عن عائشة قالت: كان في بريرة ثلاث سنن: إحدى السنن أنها أعتقت فخيرت في زوجها، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الولاء لمن أعتق، ودخل رسول الله صلى الله عليه وسلم، والبُرْمَة تفور بلحم، فقرب إليه خبز وأدم من أدم البيت، فقال: ألم أر البرمة فيها لحم؟ قالوا: بلى، ولكن ذلك لحم تصدق به على بريرة، وأنت لا تأكل الصدقة. قال: عليها صدقة ولنا هدية. رقم: (5279).

م: (2/ 1141 - 1145) (20) كتاب العتق (2) باب إنما الولاء لمن أعتق -

من طريق مالك به. رقم: (1504)

(2) ذكره أبو عمر بن عبد البر في الاستيعاب (4/ 249 - 250) قال: روى عبد الخالق بن زيد بن واقد قال: حدثني أبى أن عبد الملك بن مروان حدثهم قال: كنت أجالس بريرة بالمدينة قبل أن أَلِىَ هذا الأمر، فكانت تقول لى: يا عبد الملك، إني أرى فيك خصالًا، وإنك لخليق أن تلى هذا الأمر، فإن وليت هذا الأمر فاحذر الدماء؛ فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: إن الرجل ليدفع عن باب الجنة، بعد أن ينظر إليها بملء محجمة من دم يريقه من مسلم بغير حق.

قال أبو عمر: زيد بن واقد هذا ثقة من ثقات الشاميين لقى وائلة بن الأسقع.

(3) ذو الطُّفيتين: من الحيات ما على ظهره خطان أسودان كالخوصتين.
এবং তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আযাদ করা দাসীদের মধ্যে -:

১ - "বারীরাহ": তিনিই সেই নারী যার ব্যাপারে তিনটি সুন্নাত (বিধান) সাব্যস্ত হয়েছে এবং তাঁর হাদিস ‘সহীহ’ গ্রন্থে প্রসিদ্ধ(১)।

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তিকে জান্নাতের দরজা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে—সেটির দিকে তাকানোর পর—এক শিঙা পরিমাণ রক্তের কারণে, যা সে কোনো মুসলিমের শরীর থেকে অন্যায়ভাবে ঝরিয়েছে।" তিনি এটি আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের নিকট বর্ণনা করেছেন(২)।

তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন যায়েদ ইবনে ওয়াকিদ; তিনি শাম (সিরিয়া) অঞ্চলের নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি ওয়াসিলা ইবনে আসকা (রা)-এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন।

২ - তাদের মধ্যে আরও একজন: "সাইয়্যেবাহ": ইবনে উমরের আযাদ করা দাস নাফে' সাইয়্যেবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরের ভেতরের সাপ মারতে নিষেধ করেছেন, কেবল পৃষ্ঠদেশে দুটি রেখাধারী সাপ (যুত্তুফায়তাইন) এবং লেজকাটা সাপ (আবতার) ব্যতীত।"

--------------------------------------------

= অধিকাংশ ক্ষেত্রে যখন আম্মার ইবনে ইয়াসিরের সামনে কোনো ব্যক্তি আয়েশা (রা)-এর সমালোচনা করত, তখন তিনি বলতেন: তুমি দূর হও, কদাকার ও বিতাড়িত ব্যক্তি! তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়তমাকে কষ্ট দিচ্ছ? হাদিস নম্বর (৩৮৮৮)।

তিনি বলেছেন: এটি একটি হাসান (উত্তম) হাদিস।

ইমাম যাহাবী ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে বলেছেন: ইমাম তিরমিযী কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে একে সহীহ বলেছেন (সিয়ার ২/১৭৯)।

(১) মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে বর্ণিত):

বুখারী: (২/৪০৭) (৬৮) তালাক অধ্যায় (১৪) পরিচ্ছেদ: দাসী তালাক হয় না।

মালেক—রাবিআ ইবনে আবি আব্দুর রহমান—কাসেম ইবনে মুহাম্মদ—আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত পথ ধরে, তিনি বলেন: বারীরাহর ক্ষেত্রে তিনটি সুন্নাত (বিধান) ছিল: তার মধ্যে একটি হলো, তাকে আযাদ করা হয়েছিল এবং তার স্বামীর ব্যাপারে তাকে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "মীরাসের অধিকার (ওয়ালা) কেবল আযাদকারীর জন্যই।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন, এমতাবস্থায় একটি হাঁড়ি গোশত নিয়ে টগবগ করে ফুটছিল, তখন তাঁর সামনে ঘরের সাধারণ রুটি ও তরকারি পেশ করা হলো। তিনি বললেন: "আমি কি হাঁড়িতে গোশত দেখিনি?" তারা বলল: হ্যাঁ, কিন্তু এটি এমন গোশত যা বারীরাহকে সদকা হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, আর আপনি তো সদকা ভক্ষণ করেন না। তিনি বললেন: "এটি তার জন্য সদকা, আর আমাদের জন্য উপহার।" নম্বর: (৫২৭৯)।

মুসলিম: (২/১১৪১ - ১১৪৫) (২০) আযাদ করা অধ্যায় (২) পরিচ্ছেদ: মীরাসের অধিকার (ওয়ালা) কেবল আযাদকারীর জন্যই—

মালেকের সূত্রে উক্ত হাদিস। নম্বর: (১৫০৪)।

(২) এটি আবু ওমর ইবনে আব্দুল বার ‘আল-ইসতিআব’ গ্রন্থে (৪/২৪৯-২৫০) উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আব্দুল খালেক ইবনে যায়েদ ইবনে ওয়াকিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার পিতা আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন যে, আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি এই শাসনভার গ্রহণ করার আগে মদিনায় বারীরাহর সাথে বসতাম। তিনি আমাকে বলতেন: হে আব্দুল মালিক, আমি তোমার মধ্যে কিছু গুণ দেখতে পাচ্ছি এবং তুমি এই খিলাফতের দায়িত্ব পাওয়ার উপযুক্ত। সুতরাং তুমি যদি এই দায়িত্ব পাও, তবে রক্তপাত থেকে সাবধান থেকো; কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তিকে জান্নাতের দরজা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে—সেটির দিকে তাকানোর পর—পূর্ণ এক শিঙা পরিমাণ রক্তের কারণে, যা সে কোনো মুসলিমের শরীর থেকে অন্যায়ভাবে ঝরিয়েছে।"

আবু ওমর বলেন: এই যায়েদ ইবনে ওয়াকিদ শাম অঞ্চলের একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী, তিনি ওয়াসিলা ইবনে আসকা (রা)-এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন।

(৩) যুত্তুফায়তাইন: এমন সাপ যার পিঠে খেজুর পাতার মত দুটি কালো রেখা থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ১৫)
فإنهما يخطفان البصر ويطرحان ما في بطون النساء".

رواه مالك في الموطَّأ عن نافع به(1).

وقد وصله ثقات من أَصحاب نافع عن سائبة عن عائشة(2).

3 - ومنهن: "مرجانة" وهى أُم علقمة بن أبي علقمة أحد شيوخ مالك.

4 - ومنهم: "أبو يونس" روى عنه القعقاع بن حكيم، القعقاع بن حكيم، أخرج مالك عن زيد بن أسلم عن القعقاع بن حكيم عن أبي يونس مولى عائشة أم المؤمنين أنه قال: "أَمرتنى عائشة أن أكتب لها مصحفًا ثم قالت: "إذا بلغت هذه الآية فَآذِنِّي: {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى} فلما بلغتها قالت: وصلاة العصر، سمعتها من رسول الله صلى الله عليه وسلم "(3).

5 - ومنهم "أبو عمرو "كما رواه الشافعي في مسنده عن عبد الله بن أبي مليكة: "أنه كان يأتى عائشة بأعلى الوادى هو وعبيد بن عمير، والمسور بن مخرمة وناس كثير فيؤمهم(4) أَبو عمرو مولى عائشة وهو غلامها يومئذ لم يعتق"(5).

--------------------------------------------

(1) ط: (2/ 976) (54) كتاب الاستئذان (12) باب ما جاء في قتل الحيات وما يقال في ذلك - رقم (32)

وهو مرسل، وموصول في الصحيحين بنحوه من حديث ابن عمر، وعائشة وأبي لبابة [خ: 59 كتاب بدء الخلق 15 باب خير مال المسلم.

م: 39 كتاب السلام 37 باب قتل الحيات وغيرها، رقم 128 - 134]

(2) حم: (6/ 49) من طريق عبيد الله، عن نافع، عن سائبة، عن عائشة وفي (6/ 83) من طريق جرير بن حازم، عن نافع به.

وفى (6/ 147) من طريق شعبة، عن عبد رب بن سعيد، عن نافع به. وفي المطبوع "سابية".

ولكن ابن حجر نبه في إطراف المسند المعتلى أن اسمها "سَيّابة" (9/ 308) وهو اسم قلبه الراوى عن سائبة.

(3) ط: (1/ 138 - 139) (8) كتاب صلاة الجماعة (8) باب الصلاة الوسطى رقم (25) م: (1/ 437 - 438) (5) كتاب المساجد ومواضع الصلاة (36) باب الدليل لمن قال: الصلاة الوسطى هي صلاة العصر - عن يحيى بن يحيى، عن مالك به. رقم: (207/ 629).

(4) في المطبوعة: "فيعرفهم" بدل "فيؤمهم" وهو خطأ مخالف للمخطوط.

(5) ترتيب مسند الإمام الشافعي: (1/ 106 - 107) الباب السابع في الجماعة، وأحكام =
কেননা তারা দৃষ্টিশক্তি হরণ করে এবং গর্ভবতী নারীদের গর্ভপাত ঘটায়।"

মালিক এটি মুওয়াত্তায় নাফে’র সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন(১)।

নাফে’র নির্ভরযোগ্য ছাত্ররা সায়েবার সূত্রে আয়েশা (রা.) থেকে এটিকে সংযুক্ত সনদে (মাওসুল) বর্ণনা করেছেন(২)।

৩ - তাদের মধ্যে রয়েছেন: "মারজানা", তিনি ইমাম মালিকের অন্যতম শিক্ষক আলকামা ইবনে আবি আলকামার মাতা।

৪ - তাদের মধ্যে রয়েছেন: "আবু ইউনুস", তাঁর থেকে ক্বাক্বা ইবনে হাকিম বর্ণনা করেছেন। মালিক এটি যায়িদ ইবনে আসলামের সূত্রে, তিনি ক্বাক্বা ইবনে হাকিমের সূত্রে, তিনি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-এর মুক্তদাস আবু ইউনুসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "আয়েশা (রা.) আমাকে তাঁর জন্য একটি কুরআন (মুসহাফ) লিখে দিতে আদেশ দিলেন এবং বললেন: 'যখন তুমি এই আয়াতে পৌঁছাবে তখন আমাকে জানিও: {তোমরা সালাতসমূহের এবং মধ্যবর্তী সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করো}।' যখন আমি সেখানে পৌঁছলাম, তিনি বললেন: 'এবং আসরের সালাত'। আমি এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি"(৩)।

৫ - তাদের মধ্যে রয়েছেন: "আবু আমর", যেমনটি শাফেয়ী তাঁর মুসনাদে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকার সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "তিনি এবং উবাইদ ইবনে উমাইর, মিসওয়ার ইবনে মাখরামা এবং আরও অনেক লোক উপত্যকার উপরের অংশে আয়েশা (রা.)-এর কাছে আসতেন; তখন আয়েশা (রা.)-এর মুক্তদাস আবু আমর তাঁদের ইমামতি করতেন(৪)। তিনি তখন তাঁর কিশোর দাস ছিলেন এবং তখনও মুক্ত হননি"(৫)।

--------------------------------------------

(১) মুওয়াত্তা: (২/ ৯৭৬) (৫৪) ইস্তিজান (অনুমতি গ্রহণ) অধ্যায়, (১২) পরিচ্ছেদ: সাপ হত্যা এবং এ বিষয়ে যা বলা হয়েছে - নম্বর (৩২)।

এটি মুরসাল (বিচ্ছিন্ন সনদ), তবে সহীহাইন-এ ইবনে উমর, আয়েশা এবং আবু লুবাবার হাদীস থেকে এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে [বুখারী: ৫৯, সৃষ্টির সূচনা অধ্যায়, ১৫ পরিচ্ছেদ: মুসলিমের সর্বোত্তম সম্পদ।

মুসলিম: ৩৯, সালাম অধ্যায়, ৩৭ পরিচ্ছেদ: সাপ ও অন্যান্য জীব হত্যা, নম্বর ১২৮ - ১৩৪]।

(২) মুসনাদে আহমাদ: (৬/ ৪৯) উবায়দুল্লাহর সূত্রে, নাফে’ থেকে, সায়েবার সূত্রে, আয়েশা (রা.) থেকে। এবং (৬/ ৮৩) তে জারীর ইবনে হাযিমের সূত্রে, নাফে’ থেকে বর্ণিত।

এবং (৬/ ১৪৭) তে শু’বার সূত্রে, আবদ রাব্বি ইবনে সাঈদের সূত্রে, নাফে’ থেকে বর্ণিত। আর মুদ্রিত কপিতে "সাবিয়া" এসেছে।

কিন্তু ইবনে হাজার 'ইতরাফুল মুসনাদ আল-মু'তালি' গ্রন্থে (৯/ ৩০৮) সতর্ক করেছেন যে, তাঁর নাম "সাইয়্যাবা", যা জনৈক বর্ণনাকারী 'সায়েবা' থেকে পরিবর্তন করে ফেলেছেন।

(৩) মুওয়াত্তা: (১/ ১৩৮ - ১৩৯) (৮) জামাতে সালাত অধ্যায়, (৮) পরিচ্ছেদ: মধ্যবর্তী সালাত, নম্বর (২৫)। মুসলিম: (১/ ৪৩৭ - ৪৩৮) (৫) মসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ অধ্যায়, (৩৬) পরিচ্ছেদ: যারা বলেন মধ্যবর্তী সালাত হলো আসরের সালাত তাদের দলীল - ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়ার সূত্রে, মালিক থেকে বর্ণিত। নম্বর: (২০৭/ ৬২৯)।

(৪) মুদ্রিত কপিতে "ফাউম্মুহুম" (ইমামতি করতেন) এর বদলে "ফায়ারিফুহুম" এসেছে, যা ভুল এবং পাণ্ডুলিপির বিপরীত।

(৫) তারতীব মুসনাদ আল-ইমাম আশ-শাফেয়ী: (১/ ১০৬ - ১০৭) সপ্তম অধ্যায়: জামাত ও এর বিধান।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وفى رواية لابن أبي شيبة في مصنفه: "أَنها كانت دبَّرته"(1).

وقوله بأَعلى الوادى: يريد وادى مكة كانوا يأتونها للزيارة والاستفتاء، وذلك عندما تحج. ولما خرجت إلى مكة مغاضبة لعثمان في السنة التي قتل فيها، قاله ابن الأثير في شرح المسند.

ولها خصائص كثيرة لم يشركها أَحد من أزواجه فيها.

* * *

--------------------------------------------

= الإمامة - عن عبد المجيد بن عبد العزيز، عن ابن جريج، عبد الله بن عبيد الله بن أبي مليكة أنهم كانوا يأتون عائشة أم المؤمنين بأعلى الوادى هو وعبيد بن عمير، والمسور بن مخرمة وناس كثير، فيؤمهم أبو عمرو مولى عائشة رضي الله عنها، وأبو عمرو غلامها يومئذ لم يعتق. قال: وكان إمام بني محمد بن أبي بكر وعروة. رقم (312)

(1) مصنف ابن أبي شيبة (1/ 218) كتاب الصلوات - في إمامة العبد - عن روح بن عبادة، عن ابن جريج به. وفيه: "وأبو عمرو حينئذ غلام لم يعتق".

ومن طريق وكيع، عن هشام بن عروة، عن أبي بكر بن أبي مليكة، عن عائشة أنه كان يؤمها مُدَبَّرٌ لها. (1/ 217) ودبرته: أعتقته عن دبر، أي بعد وفاتها.

وليس فيه أنه هو أبو عمرو.
ইবনে আবি শায়বার তাঁর 'মুসান্নাফ'-এ বর্ণিত একটি রেওয়ায়েতে রয়েছে: "তিনি তাকে মুদাব্বার (মৃত্যুর পর মুক্তির প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত দাস) করেছিলেন"(১).

আর 'উপত্যকার উপরিভাগে' বলতে তিনি মক্কার উপত্যকাকে বুঝিয়েছেন; যিয়ারত এবং ফতোয়া নেওয়ার জন্য তারা তাঁর কাছে আসতেন, আর তা ছিল যখন তিনি হজ করতেন। আর যখন তিনি উসমানের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন সেই বছরে যাতে তিনি (উসমান) শহীদ হন, ইবনুল আসির 'শারহুল মুসনাদ'-এ এটি বলেছেন।

এবং তাঁর (আয়েশার) অনেক বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাতে তাঁর (রাসূলুল্লাহর) স্ত্রীদের মধ্যে আর কেউ তাঁর সাথে শরিক ছিলেন না।

* * *

--------------------------------------------

= আল-ইমামাহ - আব্দুল মজিদ ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি এবং উবায়েদ ইবনে উমাইর, মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ এবং আরও অনেক মানুষ উপত্যকার উপরিভাগে উম্মুল মুমিনীন আয়েশার কাছে আসতেন; তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার মুক্তদাস আবু আমর তাদের ইমামতি করতেন। আবু আমর সেদিন তাঁর এমন এক গোলাম ছিলেন যাকে তখনও মুক্ত করা হয়নি। তিনি বলেন: তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর এবং উরওয়ার সন্তানদের ইমাম ছিলেন। নম্বর (৩১২)

(১) মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ (১/ ২১৮) কিতাবুস সালাত - ক্রীতদাসের ইমামতি অধ্যায় - রূহ ইবনে উবাদাহ থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে এই সূত্রে। তাতে রয়েছে: "আর আবু আমর তখন এমন এক গোলাম ছিলেন যাকে মুক্ত করা হয়নি।"

এবং ওয়াকি-এর সূত্রে, হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে আবি মুলাইকা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর জনৈক 'মুদাব্বার' দাস তাঁর ইমামতি করতেন। (১/ ২১৭) আর 'দাব্বারাতহু' (তিনি তাকে মুদাব্বার করেছেন) অর্থ হলো: তিনি তাকে তাঁর মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য মুক্ত করে দিয়েছিলেন, অর্থাৎ তাঁর ইন্তেকালের পর।

আর এতে এটি উল্লেখ নেই যে তিনি আবু আমর ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌(2) [فصل في خصائصها الأربعين]

الأولى: - أنه صلى الله عليه وسلم لم يتزوج بكرًا غيرها(1).

فإن قلت: "كيف حث على نكاح الأبكار وتزوج من الثُّيَّاب أكثر؟ " فيه أربعة أجوبة: قلت: تقليلًا للاستلذاذ؛ لأن الأَبكار أَعذب أَفواهًا، ولذلك قال: "فَهَلَّا بكرًا تلاعبها وتلاعبك"، وتكثيرًا لتوسعة الأحكام؛ إذ هنَّ بالفهم والتبليغ أعلق، وجبرًا لما فاتهن من البكارة كما قُدِّمْنَ في قوله تعالى: {ثَيِّبَاتٍ وَأَبْكَارًا} [التحريم: 5]، أو للإشارة إلى تعظيم عائشة وتمييزها بهذه الفضيلة وَحْدَها دونهن؛ لئلا يُشارك فيها، فكأَنها في كِفَّةٍ وهنَّ في كفة أُخرى.

الثانية: أَنها خُيّرت واختارت الله ورسوله على الفور، وكن تبعًا لها في ذلك(2).

--------------------------------------------

(1) خ: (3/ 357) (67) كتاب النكاح (9) باب نكاح الأبكار - قال البخاري: وقال ابن أبي مليكة: قال ابن عباس لعائشة: لم ينكح النبي صلى الله عليه وسلم بكرًا غيرك - ومن طريق هشام بن عروة، عن أبيه، عن عائشة رضي الله عنها قالت: قلت يا رسول الله، أرأيت لو نزلت واديًا وفيه شجرة قد أكل منها، ووجدت شجرًا لم يؤكل منها، في أيها كنت ترتع بعيرك؟ قال: في التي لم يُرتع منها - يعني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يتزوج بكرًا غيرها. رقم: (5077)

سير أعلام النبلاء (2/ 141) من طريق على بن زيد بن جدعان، عن جدته عن عائشة أنها قالت: لقد أعطيت تسعًا ما أعطيتها امرأة بعد مريم بنت عمران … وذكرت منها: ولقد تزوجنى بكرا، وما تزوج بكرا غيرى.

وقال الذهبي: رواه أبو بكر الآجرى. وإسناده جيد، وله إسناد آخر صححه الحاكم ووافقه الذهبي (4/ 10 - 11).

نقول: فيه على بن زيد بن جُدعان، وهو ضعيف، وجَدَّتُهُ لا تعرف، والحق أن تزوج عائشة من رسول الله صلى الله عليه وسلم وهى بكر مستفيض لا يحتاج إلى دليل، والله عز وجل وتعالى أعلم.

(2) خ: (3/ 277) (65) كتاب التفسير (4) باب {قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا}.

عن أبي اليمان، عن شعيب، عن الزهرى، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن أن عائشة رضي الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم أخبرته أن رسول الله صلى الله عليه وسلم جاءها حين أمر الله أن يخير أزواجه، فبدأ =
(২) [তাঁর চল্লিশটি বৈশিষ্ট্যের আলোচনা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ]

প্রথমত: - রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ছাড়া আর কোনো কুমারীকে বিবাহ করেননি(১)।

যদি আপনি প্রশ্ন করেন: "তিনি কীভাবে কুমারী বিবাহের প্রতি উৎসাহ প্রদান করলেন অথচ নিজেই বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা নারীদের বেশি বিবাহ করেছেন?" এর চারটি উত্তর রয়েছে: আমি বলি: প্রথমত, সম্ভোগের আকাঙ্ক্ষা কমানোর জন্য; কারণ কুমারীদের মুখ অধিকতর সুমিষ্ট হয়, এই কারণেই তিনি বলেছিলেন: "তুমি কেন কোনো কুমারীকে বিবাহ করলে না যার সাথে তুমি খেলা করতে আর সেও তোমার সাথে খেলা করত"। দ্বিতীয়ত, শরয়ি বিধি-বিধানের পরিসর বৃদ্ধির জন্য; কেননা তারা (বিবাহিতা মহিলারা) বিষয়বস্তু বুঝাপড়া ও তা প্রচারের ক্ষেত্রে অধিক সংলগ্ন ছিলেন। তৃতীয়ত, তাদের কুমারীত্ব হারানোর ক্ষতিপূরণ স্বরূপ, যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে তাদের আগে উল্লেখ করা হয়েছে: {বিধবা এবং কুমারীগণ} [সূরা আত-তাহরীম: ৫]। অথবা আয়েশার মর্যাদাকে সুমহান করার ইঙ্গিতস্বরূপ এবং অন্যদের বাদ দিয়ে তাঁকে এককভাবে এই ফযিলতের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করার জন্য; যাতে এতে কেউ অংশীদার না হতে পারে। যেন তিনি পাল্লার এক পাশে আর অন্য স্ত্রীগণ পাল্লার অন্য পাশে।

দ্বিতীয়ত: তাঁকে (পছন্দ করার) ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি তৎক্ষণাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে বেছে নিয়েছিলেন, আর অন্য স্ত্রীগণ এই বিষয়ে তাঁরই অনুসরণ করেছিলেন(২)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি: (৩/ ৩৫৭) (৬৭) কিতাবুন নিকাহ (৯) অনুচ্ছেদ: কুমারী বিবাহ - ইমাম বুখারি বলেন: ইবনে আবি মুলাইকা বলেছেন: ইবনে আব্বাস আয়েশাকে বলেছিলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি ছাড়া অন্য কোনো কুমারীকে বিবাহ করেননি - এবং হিশাম ইবনে উরওয়ার সূত্রে, তার পিতা থেকে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কি মনে করেন যদি আপনি কোনো উপত্যকায় অবতরণ করেন যেখানে এমন একটি গাছ আছে যার ফল ইতিপূর্বে খাওয়া হয়েছে এবং এমন একটি গাছ পান যার ফল খাওয়া হয়নি, তবে কোনটিতে আপনি আপনার উট চরাবেন? তিনি বললেন: যাতে ইতিপূর্বে চড়ানো হয়নি তাতে - অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ছাড়া অন্য কোনো কুমারীকে বিবাহ করেননি। নম্বর: (৫০৭৭)

সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (২/ ১৪১) আলি বিন যায়েদ বিন জুদআন-এর সূত্রে, তার দাদী থেকে, আয়েশা থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: আমাকে নয়টি বৈশিষ্ট্য দেওয়া হয়েছে যা মারইয়াম বিনতে ইমরানের পর অন্য কোনো নারীকে দেওয়া হয়নি... এবং তিনি এর মধ্যে উল্লেখ করেন: তিনি আমাকে কুমারী অবস্থায় বিবাহ করেছেন, আর আমি ছাড়া অন্য কোনো কুমারীকে তিনি বিবাহ করেননি।

ইমাম যাহাবি বলেন: আবু বকর আল-আজুরি এটি বর্ণনা করেছেন। এর সানাদ উত্তম, এবং এর আরেকটি সানাদ রয়েছে যা হাকেম সহিহ বলেছেন এবং যাহাবি তার সাথে একমত হয়েছেন (৪/ ১০ - ১১)।

আমরা বলি: এতে আলি বিন যায়েদ বিন জুদআন রয়েছে, যে দুর্বল, এবং তার দাদীকে চেনা যায় না। তবে সত্য এই যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আয়েশাকে কুমারী অবস্থায় বিবাহ করার বিষয়টি প্রসিদ্ধ (মুস্তাফিয), যার নতুন করে প্রমাণের প্রয়োজন নেই। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ও তাআলা এ বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।

(২) বুখারি: (৩/ ২৭৭) (৬৫) কিতাবুত তাফসির (৪) অনুচ্ছেদ {হে নবী, আপনার স্ত্রীদের বলুন, যদি তোমরা পার্থিব জীবন ও তার চাকচিক্য কামনা করো, তবে এসো, আমি তোমাদের ভোগসামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই এবং সুন্দরভাবে তোমাদের বিদায় দেই}।

আবুল ইয়ামান থেকে, তিনি শুআইব থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আবু সালামা বিন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁকে অবহিত করেছেন যে, যখন আল্লাহ তাঁর স্ত্রীদের ইখতিয়ার (পছন্দ করার অধিকার) দেওয়ার নির্দেশ দিলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট আসলেন এবং তাঁকে দিয়েই শুরু করলেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইজাবাহ লি ঈরাদি মাসতাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ - ত রিফআত ফাওযী (পৃষ্ঠা: ১৮)
(الثالثة): - أَنها حيث خيرت كان خيارها على التراخى بلا خلاف.

وأَما الخلاف في أن جوابهن: هل كان مشروطًا بالفور أم لا؟ ففى غيرها.

هكذا قاله القاضي أبو الطيب الطبرى في تعليقه، فإنه حكى الخلاف، وصحح الفورية، ثم قال: "والخلاف في التخيير المطلق، فأما إذا قال لها: "اختارى أي وقت شئت، كان على التراخى بالإجماع". قال: وعائشة من هذا القبيل لقوله: "ولا عليك ألَّا تعجلى حتى تستأْمرى أبويك" اهـ.

وهو تقييد يرتبط(1) به إطلاق "الشرح" و"الروضة"، ولم يقف ابن الرُّفْعَة على هذا النقل، فقال في شرح الوسيط: "وفي طَرْد ذلك في بقية أزواجه صلى الله عليه وسلم كلهن نظر، من جهة أن المُهْلَ في التخيير إنما قيل لعائشة فقط، وسببه - والله أعلم - أنها كانت أحدث نسائه سنًّا، وأحب نسائه إليه، فكان قوله لها: "لا تبادرينى بالجواب" خوفًا من أن تبتدره باختيار الدنيا. ومغبته ألا يطرد الحكم في غيرها لاسيما إذا نظرنا إلى ما جاء في الصحيح من تخصيص ذلك بها، كأن ذلك يُنَزَّل منزلة ما لو قال الواحد منا لبعض نسائه: "اختارى متى شئت" وقال لأُخرى: "اختارى" فإن خيار الأُولى يكون على التراخى، والأُخرى على الفور.

(الرابعة): - نزول آية التيمم بسبب عقدها حين حبس رسول الله صلى الله عليه وسلم الناس، وقال لها أُسيد بن حضير "ما هي بأَول بركتكم يا آل أبي بكر"(2).

--------------------------------------------

= بي رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: إني ذاكر لك أمرًا، فلا عليك أن تستعجلى حتى تستأمرى أبويك، وقد علم أن أبوى لم يكونا يأمرانى بفراقه. قالت: ثم قال: إن الله قال: {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ} إلى تمام الآيتين. فقلت له: ففى أي هذا أستأمر أبوى؟ فإنى أريد الله ورسوله والدار الآخرة. رقم (4785)

وفى (5) باب {وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الْآخِرَةَ فَإِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ} الآية.

قال البخارى: وقال الليث حدثني يونس، عن ابن شهاب .. فذكر نحوه. رقم: (4786)

وفي آخره: قالت: ثم فعل أزواج رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل ما فعلت، ثم قال البخاري: تابعه موسى بن أعين، عن معمر، عن الزهري قال: أخبرني أبو سلمة. وقال عبد الرزاق، وأبو سفيان المعمرى، عن معمر، عن الزهرى، عن عروة، عن عائشة.

(1) في المطبوعة: "مرتبط" وما أثبتناه من الأصل.

(2) خ: (1/ 125) (7) كتاب التيمم - باب رقم (1)، قال الإمام البخارى =
(তৃতীয়ত): - তাকে (আয়িশা রা.) যখন পছন্দ করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল, তখন কোনো মতভেদ ছাড়াই তার সেই স্বাধীনতা বিলম্বিত সময়ের (তারাকি) জন্য কার্যকর ছিল।

আর তাদের (রাসূলের স্ত্রীদের) উত্তরের ক্ষেত্রে যে মতভেদ রয়েছে—তা কি তাৎক্ষণিকতার শর্তযুক্ত ছিল নাকি নয়—সেটি তার (আয়িশা রা.) ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে।

কাজী আবু তাইয়্যেব তাবারী তাঁর 'তালিক'-এ এভাবেই বলেছেন। তিনি মতভেদ বর্ণনা করেছেন এবং তাৎক্ষণিকতাকে বিশুদ্ধ বলেছেন, এরপর বলেছেন: "মতভেদ হলো শর্তহীন স্বাধীনতার ক্ষেত্রে; কিন্তু যদি তাকে বলা হয়: 'তুমি যখন ইচ্ছা পছন্দ করো', তবে সর্বসম্মতিক্রমে তা বিলম্বিত সময়ের জন্য কার্যকর হবে।" তিনি বলেন: আয়িশা (রা.) এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী হলো: "তুমি তোমার পিতামাতার সাথে পরামর্শ করার আগে তড়িঘড়ি না করলে তোমার কোনো দোষ নেই।" সমাপ্ত।

এটি এমন একটি সীমাবদ্ধতা যা 'শারহ' এবং 'রাওদা'-এর সাধারণ বক্তব্যের সাথে সম্পর্কিত। ইবনুর রিফ'আহ এই উদ্ধৃতিটি পাননি, তাই তিনি 'শারহুল ওয়াসীত'-এ বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাকি স্ত্রীদের ক্ষেত্রেও এই হুকুমটি একইভাবে প্রযোজ্য কি না সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে; কারণ নির্বাচনের জন্য যে অবকাশ দেওয়া হয়েছিল, তা কেবল আয়িশা (রা.)-এর জন্য বলা হয়েছিল। এর কারণ—আল্লাহই ভালো জানেন—তিনি ছিলেন স্ত্রীদের মধ্যে বয়সে সর্বকনিষ্ঠ এবং তাঁর নিকট সবচেয়ে প্রিয়। তাই তাকে এ কথা বলার কারণ ছিল: 'তুমি আমাকে উত্তরের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করো না', যেন পার্থিব জীবন নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি তাড়াহুড়ো না করে ফেলেন। এর ফলাফল হলো, এই হুকুম অন্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হওয়া, বিশেষ করে যখন আমরা সহীহ হাদিসের দিকে তাকাই যেখানে বিষয়টিকে তাঁর সাথে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এটি যেন এমন যে আমাদের মধ্যে কেউ তার কোনো স্ত্রীকে বলল: 'তুমি যখন চাও পছন্দ করো' এবং অন্য একজনকে বলল: 'তুমি পছন্দ করো'; তবে প্রথমজনের পছন্দ করার সুযোগ হবে বিলম্বিত সময়ের জন্য, আর অন্যজনের জন্য হবে তাৎক্ষণিক।"

(চতুর্থত): - তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ হওয়া তাঁর হারের কারণে, যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ লোকদের আটকে রেখেছিলেন এবং উসাইদ ইবন হুদাইর তাকে বলেছিলেন, "হে আবু বকরের পরিবার! এটিই আপনাদের প্রথম বরকত নয়"(২)।

--------------------------------------------

= রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার কাছে আসলেন এবং বললেন: "আমি তোমার কাছে একটি বিষয় উল্লেখ করছি, সুতরাং তোমার পিতামাতার সাথে পরামর্শ করার আগে তড়িঘড়ি না করলে তোমার কোনো দোষ নেই।" অথচ তিনি জানতেন যে আমার পিতামাতা আমাকে তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আদেশ দেবেন না। তিনি বলেন: তারপর তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ বলেছেন: {হে নবী, আপনার স্ত্রীদের বলুন...} আয়াত দুটির শেষ পর্যন্ত। তখন আমি তাকে বললাম: "আমি কোন বিষয়ে পিতামাতার সাথে পরামর্শ করব? নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং পরকাল চাই।" নম্বর (৪৭৮৫)

এবং (৫) অধ্যায়: {আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পরকাল চাও, তবে আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন...} আয়াত।

ইমাম বুখারী বলেন: লাইস বলেছেন, ইউনুস ইবনু শিহাব থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন... এরপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। নম্বর: (৪৭৮৬)

এর শেষে বলা হয়েছে: তিনি (আয়িশা) বললেন: এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অন্য স্ত্রীরাও সেরূপ করলেন যেরূপ আমি করেছি। অতঃপর বুখারী বলেন: মুসা ইবন আয়ান তাঁকে অনুসরণ করেছেন মা’মার থেকে, যুহরী থেকে, তিনি বলেন: আবু সালামা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। আব্দুর রাজ্জাক এবং আবু সুফিয়ান আল-মা’মারী বর্ণনা করেছেন মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে।

(১) মুদ্রিত কপিতে: "মুরতাবিত" (সম্পর্কিত), আর আমরা মূল পাণ্ডুলিপি থেকে যা সাব্যস্ত করেছি তা-ই লিখেছি।

(২) বুখারী: (১/ ১২৫) (৭) কিতাবুত তায়াম্মুম - অধ্যায় নম্বর (১), ইমাম বুখারী বলেছেন =