(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: -)
أعلام رسول الله المنزلة على رسله   (ابن قتيبة)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: أعلام رسول الله المنزلة على رسله صلى الله عليهم في التوراة والإنجيل والزبور والقرآن وغير ذلك ودلائل نبوته من البراهين النيرة والدلائل الواضحة

المؤلف: أبو محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة الدينوري (ت 276 هـ)

المحقق: محمد بن دليم بن سعد القحطاني

الناشر: دار الصميعي للنشر والتوزيع - الرياض

الطبعة: الأولى، 1441 هـ -2020 م

عدد الصفحات: 268

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 شوّال 1443

রাসূলগণের ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর রাসূলের নিদর্শনসমূহ   (ইবনে কুতায়বাহ)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


কিতাব: তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর, কুরআন ও অন্যান্য কিতাবে আল্লাহর রাসূলগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর রাসূলের নিদর্শনসমূহ এবং তাঁর নবুওয়াতের উজ্জ্বল প্রমাণাদি ও স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ

লেখক: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতায়বাহ আদ-দিনাওয়ারী (মৃত্যু ২৭৬ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ ইবনে দুলাইম ইবনে সাদ আল-কাহতানি

প্রকাশক: দারুস সুমাইয়ি পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪১ হিজরি - ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৮

[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৪ শাওয়াল ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
أعلام رسول الله المنزلة على رسله صلى الله عليهم في التوراة والإنجيل والزبور والقرآن وغير ذلك ودلائل نبوته من البراهين النيِّرَة والدلائل الواضحة

تأليف أبي محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة الدينوري- رحمة الله عليه ورضوانه.

رواية أبي الحسن محمد بن عبد الواحد بن محمد بن جعفر، المعروف: بابن المعدل الحريري، عن الآجري، عن ابن بُكَيْر التميمي، عن المصنف.

[و] رواية الشيخ أبي الحسن المبارك بن عبد الجبار بن أحمد بن القاسم الصيرفي- أيده الله بسره- … .

بسماعه … من حمد بن علي بن أبي … الحبال …

سماع: لمحمد بن أحمد بن عبد الباقي بن الحسن بن محمد بن عبد الله بن طوق- نفعه الله به- رواية الشيخ أبي ياسر أحمد بن بندار بن إبراهيم بن بندار، عن أبي الحسن علي بن محمد بن الحسن بن قشيش، عن الآجري.
তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর, কুরআন ও অন্যান্য কিতাবে অবতীর্ণ আল্লাহর রাসূলের নিদর্শনাবলি—আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এবং তাঁর নবুওয়াতের উজ্জ্বল প্রমাণসমূহ ও সুস্পষ্ট দলিলাদি।

রচনায়: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতায়বাহ আদ-দিনাওয়ারী—আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক।

আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর, যিনি ইবনুল মুয়াদদিল আল-হারীরি নামে পরিচিত, তাঁর বর্ণনা—তিনি আল-আজুররী থেকে, তিনি ইবনে বুকাইর আত-তামিমী থেকে, তিনি মূল গ্রন্থকার থেকে।

[এবং] শায়খ আবুল হাসান আল-মুবারক ইবনে আব্দুল জাব্বার ইবনে আহমদ ইবনুল কাসিম আস-সাইরাফীর বর্ণনা—আল্লাহ তাঁকে তাঁর নিগূঢ় অনুগ্রহ দ্বারা শক্তিশালী করুন— … ।

তাঁর শ্রবণানুসারে … হামাদ ইবনে আলী ইবনে আবি … আল-হাব্বাল থেকে …

শ্রবণ পাঠ: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল বাকি ইবনুল হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে তওক-এর জন্য—আল্লাহ তাঁকে এর দ্বারা উপকৃত করুন—শায়খ আবু ইয়াসির আহমদ ইবনে বুন্দার ইবনে ইবরাহিম ইবনে বুন্দারের বর্ণনা সূত্রে, আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে কুশাইশ থেকে, তিনি আল-আজুররী থেকে।
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
سماع: الشيخ الجليل العالم أبي الكرم المبارك بن الحسن بن أحمد الشهرزوري، نفعه الله به.

سمع جميع هذا الكتاب على الشيخ الأجل العالم الأوحد السيد أبي الكرم المبارك بن الحسن بن الشهرزوري، وسماعه فيه من الشيخ أبي ياسر أخي ثابت، بإسناده المذكور إلى أبي … ، الرئيس الأجل أبو منصور مسعود بن عبد الواحد بن محمد بن الحصين بن المقير، إبراهيم الخباز، وأبو منصور محمد بن مسعود بن محمد بن الحسين الخياط، وأبو بكر محمد … ، وأبو زكريا يحيى بن معالي بن صدقة بن عمروني العاقولي، وإبراهيم … ، وتميم بن سليمان بن معالي العبادي، وأبو المعالي نصر الله بن سلامة بن سالم الهيتي، .... وذلك بقراءة أحمد بن صالح بن شافع بن صالح … الجيلي، وسمع .... ، وسمع من البلاغ الأول إلى ....

أخبرنا الشيخ أبي ياسر أحمد بن بندار بن إبراهيم بن بندار، قراءةً عليه في دار … ، وأنا حاضر أسمع منه، قال أخبرنا أبو الحسن علي بن محمد بن الحسن بن قشيش، في شهر ربيع الآخر من سنة خمس وثلاثين وأربعمائة.

سمعه جميع وبعضه توالي، وسمع المجلس الأول والثالث …
শ্রবণ: মহান শেখ আলেম আবুল করম আল-মুবারক ইবনুল হাসান ইবনে আহমদ আশ-শাহরাযুরি, আল্লাহ তাঁকে এর দ্বারা উপকৃত করুন।

এই সম্পূর্ণ কিতাবটি মহান শেখ, অদ্বিতীয় আলেম, সাইয়্যেদ আবুল করম আল-মুবারক ইবনুল হাসান ইবনে আশ-শাহরাযুরির নিকট শ্রবণ করা হয়েছে; এবং এতে তাঁর শ্রবণ হলো শেখ আবু ইয়াসির সাবিতের ভাই থেকে, আবু … পর্যন্ত তাঁর উল্লিখিত সনদ অনুযায়ী। তিনি হলেন মহান প্রধান আবু মনসুর মাসউদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল মুকাইয়ার, ইব্রাহিম আল-খাব্বায, আবু মনসুর মুহাম্মদ ইবনে মাসউদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-খাইয়্যাত, আবু বকর মুহাম্মদ … , আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মুয়ালি ইবনে সাদাকা ইবনে আমরুনি আল-আকুলি, ইব্রাহিম … , তামিমি ইবনে সুলাইমান ইবনে মুয়ালি আল-আব্বাদি, আবুল মুয়ালি নাসরুল্লাহ ইবনে সালামা ইবনে সালিম আল-হিতি, ....। আর তা ছিল আহমদ ইবনে সালেহ ইবনে শাফি ইবনে সালেহ … আল-জিলির পাঠের মাধ্যমে। তিনি শ্রবণ করেছেন .... , এবং শ্রবণ করেছেন প্রথম পৌঁছানো থেকে .... পর্যন্ত।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শেখ আবু ইয়াসির আহমদ ইবনে বিনদার ইবনে ইব্রাহিম ইবনে বিনদার, তাঁর কাছে … এর গৃহে পাঠ করা অবস্থায়, এবং আমি সেখানে উপস্থিত থেকে তাঁর থেকে শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ইবনে কুশাইশ, চারশত পঁয়ত্রিশ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে।

তিনি এর সম্পূর্ণ এবং কিছু অংশ ধারাবাহিকভাবে শ্রবণ করেছেন, এবং তিনি প্রথম ও তৃতীয় মজলিস শ্রবণ করেছেন …
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৫৫)
المجلس الثالث: الشيخ أبو عبد الله الخير محمد النبهاني، وأبو منصور أحمد بن محمد بن يحيى، وأبو صالح المبارك علي بن أحمد … .

بسم الله الرحمن الرحيم

أخبرنا الشيخ أبو الحسين المبارك بن عبد الجبار بن أحمد بن القاسم الصَّيْرَفِيّ، قراءةً عليه فأقَرَّ به، قال: أخبرنا أبو الحسن محمد بن عبد الواحد بن محمد بن جعفر، المعروف: بابن المعدل الحريري، قراءةً عليه فأقرَّ به في جامع المنصور، قال: أخبرنا
তৃতীয় মজলিস: শায়খ আবু আব্দুল্লাহ আল-খায়ের মুহাম্মদ আল-নাবহানি, এবং আবু মানসুর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, এবং আবু সালেহ আল-মুবারক আলী ইবনে আহমদ … ।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু আল-হুসাইন আল-মুবারক ইবনে আব্দুল জব্বার ইবনে আহমদ ইবনে আল-কাসিম আস-সাইরাফি, তাঁর সম্মুখে পাঠ করা হয়েছে এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর, যিনি ইবনুল মুয়াদ্দিল আল-হারিরি নামে পরিচিত, তাঁর সম্মুখে জামে মানসুরে পাঠ করা হয়েছে এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৫৬)
أبو حفص عمر بن أحمد بن هارون المقرئ الآجُرِّيُّ، قراءةً عليه في الحرم سنة تسعة وسبعين وثلاثمائة، قال: أخبرنا أبو القاسم عبد الله بن أحمد بن عبد الله بن بُكَيْر التميمي، قال: قال لنا أبو محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة الدينوري رحمة الله عليه:

الحمد لله، بارئ الخلق، وقاسم الرزق، المبتلي بالنعم، والموفق للشكر، الذي أسكن قلوبنا معرفَتَه، وعمَّرَها بخشيته، وأثبتها بذكره، والرجاء لوعده، وهدانا لنوره المستبين، وصراطه المستقيم، وعدل بنا عن سبل الخائنين.

وإياه أسأل- أولًا وآخرًا- أن يصلِّي على محمد سيد المرسلين وخاتم النبيين، وعلى جميع أنبيائه الكاملين، وأن يثبت قلوبنا على ما أهداها به من معرفته، والإخلاص بتوحيده، ويختم لنا بما ختم به للمستغفرين من المؤمنين.

أما بعد: فإنك كتبت تشكو ما فشا بناحيتك من هذه الشكوك، وفساد القلوب بقوم من الملحدين، طعنوا على الكتاب وعلى الرسول، ومالوا إلى قومٍ من ضعفة المسلمين وقُسّامهم وأحداثهم بالتلبس والتمويه، حتى أثروا في القلوب وقدحوا في البصائر، وتسأل أن أكتب إليك كتابا أُبَيِّنُ فيه أعلام رسول الله الباهرة، ودلائله الظاهرة، من كتب الله المتقدمة الموجودة في أيدي أهل الكتاب ومن القرآن، وأن أُعرض عن ما جاء
আবু হাফস উমর ইবন আহমদ ইবন হারুন আল-মুকরি আল-আজুররি, তিনশ ঊনআশি হিজরি সনে হারাম শরিফে তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন বুকাইর আত-তামিমি, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবন মুসলিম ইবন কুতাইবা আদ-দিনাওয়ারি (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের বলেছেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টির নির্মাতা, রিজিক বণ্টনকারী, যিনি নেয়ামত দিয়ে পরীক্ষা করেন এবং শুকরিয়া আদায়ের তাওফিক দান করেন, যিনি আমাদের অন্তরে তাঁর পরিচয় স্থাপন করেছেন, তাঁর ভয়ে অন্তরসমূহকে আবাদ করেছেন, তাঁর জিকির ও তাঁর প্রতিশ্রুতির আশার মাধ্যমে সেগুলোকে সুদৃঢ় করেছেন, এবং আমাদের তাঁর সুস্পষ্ট নূর ও সরল পথের দিকে পরিচালিত করেছেন এবং খেয়ানতকারীদের পথ থেকে আমাদের সরিয়ে রেখেছেন।

আমি তাঁরই নিকট প্রার্থনা করছি—শুরুতে ও শেষে—তিনি যেন রাসুলগণের সরদার ও নবীগণের সমাপ্তিকারী মুহাম্মদ-এর ওপর এবং তাঁর সকল পূর্ণাঙ্গ নবীগণের ওপর রহমত বর্ষণ করেন; আর তিনি যেন আমাদের অন্তরসমূহকে তাঁর দেওয়া পরিচয় এবং তাঁর তাওহিদের একনিষ্ঠতার ওপর অবিচল রাখেন, এবং আমাদের জীবনের সমাপ্তি যেন সেই বিষয়ের মাধ্যমে করেন যার মাধ্যমে তিনি ক্ষমা প্রার্থনাকারী মুমিনদের জীবনের সমাপ্তি ঘটান।

অতঃপর: আপনি আপনার অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই সংশয়গুলো এবং একদল নাস্তিকের মাধ্যমে অন্তরের কলুষতা সম্পর্কে অভিযোগ করে লিখেছেন, যারা কিতাব এবং রাসুলের প্রতি কটাক্ষ করেছে এবং প্রতারণা ও ছদ্মবেশের মাধ্যমে মুসলমানদের একদল দুর্বল, সাধারণ মানুষ ও যুবকদের নিজেদের দিকে ঝুঁকিয়ে নিয়েছে, এমনকি তারা অন্তরসমূহে প্রভাব ফেলেছে এবং অন্তর্দৃষ্টিতে আঘাত হেনেছে। আপনি অনুরোধ করেছেন যেন আমি আপনার কাছে এমন একটি কিতাব লিখি যাতে আমি আল্লাহর রাসুলের উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ এবং তাঁর সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ব্যক্ত করি, যা আহলে কিতাবদের নিকট বিদ্যমান আল্লাহর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ এবং কুরআন থেকে সংগৃহীত হবে; আর যেন আমি সেই সব বিষয় থেকে বিমুখ থাকি যা এসেছে...
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৫৭)
في الحديث من ذلك: «كشكوى البعير»، و «كلام الذئب»، و «مشي الشجرة»،
হাদিসের মধ্যে এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো: «উটের অভিযোগ», «নেকড়ের কথা বলা» এবং «গাছের হেঁটে চলা»।
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৫৮)
و «تفجر الماء من بين أصابعه»، وأشباه هذا إذ كان أكثر هذه الأحاديث لا نَقَلَةَ لها من الثقات.

وإذا كان التابعون أيضًا يعارضونها بالتكذيب، ويدعون عليها الصنعة، وأنها لو كانت صحاحًا لذُكِرَت في القرآن كما ذُكِرت آيات موسى في التوراة والفرقان، وآيات المسيح في الإنجيل والقرآن، وقالوا قد أراده المشركون على أن يرقى في السماء ويأتيهم بكتاب، وعلى أن يفجر لهم الأرض ينبوعًا، وعلى أن يسقط عليهم السماء كسفا،
এবং 'তার আঙ্গুলসমূহের মধ্য থেকে পানি উৎসারিত হওয়া' ও এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়সমূহ; কেননা এই হাদীসগুলোর অধিকাংশেরই নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনাকারী নেই।

আর যখন তাবেয়ীগণও এগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার মাধ্যমে এর বিরোধিতা করতেন এবং এগুলোকে বানোয়াট বলে দাবি করতেন; এবং বলতেন যে এগুলো যদি সহীহ হতো তবে তা অবশ্যই কুরআনে উল্লেখ করা হতো, যেমনভাবে তাওরাত ও ফুরকানে মূসার নিদর্শনসমূহ এবং ইঞ্জীল ও কুরআনে মসীহের নিদর্শনসমূহ বর্ণিত হয়েছে। তারা আরও বলতেন যে, মুশরিকরা তার নিকট এই মর্মে দাবি করেছিল যেন তিনি আকাশে আরোহণ করেন এবং তাদের নিকট একটি কিতাব নিয়ে আসেন, এবং যেন তিনি তাদের জন্য ভূমি থেকে একটি প্রস্রবণ উৎসারিত করে দেন, আর যেন তিনি তাদের ওপর আকাশকে খণ্ডবিখণ্ড করে ফেলে দেন।
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৫৯)
فلم يك عنده إلَّا القرآن والعجز عن ذلك، وقال: {قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنْتُ إِلَّا بَشَرًا رَسُولًا} [الإسراء: 93].

وقالوا؛ والله يقول: {وَمَا مَنَعَنَا أَنْ نُرْسِلَ بِالْآيَاتِ إِلَّا أَنْ كَذَّبَ بِهَا الْأَوَّلُونَ} [الإسراء: 59].

وفي هذا دليل على أنه لم تأته آية كآيات من تقدمه من المرسلين.

وقد رأيتك تشكو ما فشا بناحيتك ما هو فاش بكل ناحية وظاهر بكل بلدة، وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْإِسْلَامَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ».

جعلنا الله وإياك منهم، وحشرنا في زمرتهم، ولا سلبنا ما أودعنا من الإيمان به والتصديق لرسله، فإن نواصينا في قبضته، وقلوبنا بيده يقلبها كيف يشاء.

قال الله عز وجل حكاية عن خليله صلى الله عليه: {وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الْأَصْنَامَ} [إبراهيم: 35].

وحكى عن الراسخين في العلم: {رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ} [آل عمران: 8].

وقال: {وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ وَأَنَّهُ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ} [الأنفال: 24].
তাঁর কাছে কুরআন এবং তা [অলৌকিক নিদর্শন] আনয়নে অপারগতা ছাড়া কিছুই ছিল না। তিনি বলেছিলেন: "বলুন, পবিত্র আমার রব! আমি তো কেবল একজন মানুষ ও রাসূল ছাড়া আর কিছু নই।" [আল-ইসরা: ৯৩]।

এবং তারা বলেছিল; অথচ আল্লাহ বলেন: "পূর্ববর্তীগণ কর্তৃক নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করাই আমাকে নিদর্শনসমূহ পাঠানো হতে বিরত রেখেছে।" [আল-ইসরা: ৫৯]।

এতে এই কথার দলিল রয়েছে যে, তাঁর কাছে পূর্ববর্তী রাসূলদের মতো কোনো নিদর্শন আসেনি।

আমি দেখেছি যে আপনি আপনার অঞ্চলে যা ছড়িয়ে পড়েছে তা নিয়ে অভিযোগ করছেন, অথচ তা প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রতিটি শহরে প্রকাশ পেয়েছে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইসলাম অপরিচিত হিসেবে শুরু হয়েছে এবং শীঘ্রই তা আবার অপরিচিত হয়ে যাবে, সুতরাং অপরিচিতদের জন্য শুভ সংবাদ।"

আল্লাহ আমাদের এবং আপনাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাদের তাদের দলে হাশর করান। তিনি যেন আমাদের থেকে তাঁর ওপর ঈমান এবং তাঁর রাসূলদের সত্যায়ন ছিনিয়ে না নেন যা তিনি আমাদের মাঝে গচ্ছিত রেখেছেন। কেননা আমাদের ললাটসমূহ তাঁর মুষ্টিতে এবং আমাদের অন্তরসমূহ আল্লাহর হাতে, তিনি যেভাবে চান সেভাবে তা পরিবর্তন করেন।

আল্লাহ মহিমান্বিত ও মহান তাঁর খলীল (ইবরাহীম)-এর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "আপনি আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তি পূজা হতে দূরে রাখুন।" [ইবরাহীম: ৩৫]।

আর তিনি ইলমে গভীর জ্ঞানসম্পন্নদের সম্পর্কে বলেছেন: "হে আমাদের রব! আমাদের হিদায়াত দেওয়ার পর আপনি আমাদের অন্তরসমূহকে সত্যবিচ্যুত করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের করুণা দান করুন। নিশ্চয়ই আপনিই একমাত্র দাতা।" [আল-ইমরান: ৮]।

এবং তিনি বলেছেন: "তোমরা জেনে রেখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান এবং নিশ্চয়ই তাঁরই কাছে তোমরা সমবেত হবে।" [আল-আনফাল: ২৪]।
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৬০)
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم في دعائه: «يَا مُقَلِّبَ القُلُوبِ، ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ».

وإذا كان أصفياء الله من خلقه على قلوبهم خائفين، ومن زيغها غير آمنين، فكيف يأمن المستحقون العقوبة من المذنبين.
এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দোয়ায় বলতেন: «হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন।»

আর আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে যারা তাঁর মনোনীত বান্দা, তাঁরাই যদি নিজেদের অন্তরের ব্যাপারে ভীত থাকেন এবং অন্তরের সত্যবিচ্যুতি থেকে নিরাপদ বোধ না করেন, তবে পাপীদের মধ্যে যারা শাস্তির উপযুক্ত তারা কীভাবে নিরাপদ বোধ করতে পারে?
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৬১)
وقد شكرت لك رحمك الله ما نزلت عليه لِما أمَّلتَ في تكلف ذلك من ثواب الله، وجزيل جزائه، ورأيت ابتغائي لما سألت، وإن كنتَ قد ضيقت من الطريق رحبا، وحجرت واسعا، وشرطت من ذلك ذكر الأخبار ما كنت حقيقًا بأشراط ذكره؛ ليكون الكتاب مطابقا للفن الذي قصدت له، لا سيما إذ كان علينا العناء ولك الهناء، وعلينا النصب ولك الفائدة.

وسأقول في ذلك ما يجوز، وأذكر من الأخبار ما كان له شاهد من الكتب والإجماع، مبلغ العلم ومقدار الطاقة، لعل الله يثني به صادقا، ويرد إلى الحق زائغًا، ويزيد المؤمن بصيرة، ويكتب لنا ما نويناه في ذلك، ولا حول ولا قوة إلا بالله.

وأبدأ بذكر أعلام نبينا الموجودة في كتب الله المتقدمة؛ لأنها حجتنا على أهل الكتاب من كتبهم وعلى الملحدين، إذ كان يستحيل عندهم أن يخبر موسى بخبر عيسى وعيسى بخبر محمد، وإذا صح أن ذاكم كان لم يكن إلا عن عَلَّامِ الغيوب كتبوه ودُسَّ.

 

‌‌أعلام رسول الله في التوراة:

من ذلك قول الله تعالى في السفر الأول لإبراهيم: «قد أجبت دعاك في إسماعيل، وباركتُ عليه وكثرته وعظّمته جدًّا جدًّا، وسيلد اثنا عشر عظيمًا، وأجعلهُ لأمة عظيمًا».
আল্লাহ আপনার ওপর রহমত বর্ষণ করুন, আল্লাহর সওয়াব ও তাঁর মহান প্রতিদানের আশায় আপনি যে প্রস্তাব পেশ করেছেন, সে জন্য আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনি যা চেয়েছেন তা অন্বেষণ করা আমি সমীচীন মনে করেছি, যদিও আপনি একটি প্রশস্ত পথকে সংকীর্ণ করেছেন এবং বিস্তৃত বিষয়কে সীমাবদ্ধ করেছেন। আপনি কেবল সেসব বর্ণনা উল্লেখ করার শর্ত দিয়েছেন যা উল্লেখ করা আমার জন্য যথাযথ ছিল; যাতে বইটি আপনার লক্ষ্যকৃত বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। বিশেষ করে যখন পরিশ্রম আমাদের আর স্বস্তি আপনার, এবং কষ্ট আমাদের আর উপকার আপনার।

এ বিষয়ে আমি তা-ই বলব যা সংগত, এবং বর্ণনাগুলোর মধ্য থেকে এমন সব বিষয় উল্লেখ করব যার স্বপক্ষে আসমানি কিতাবসমূহ ও ইজমা (ঐক্যমত) থেকে প্রমাণ রয়েছে, যতটুকু আমার জ্ঞান ও সামর্থ্যে কুলায়। হতে পারে এর মাধ্যমে আল্লাহ কোনো সত্যবাদীকে সত্যায়ন করবেন, কোনো পথভ্রষ্টকে সত্যের দিকে ফিরিয়ে আনবেন, মুমিনের অন্তর্দৃষ্টি বৃদ্ধি করবেন এবং এ বিষয়ে আমাদের নিয়ত অনুযায়ী সওয়াব লিখে দেবেন। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।

আমি পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহে বর্ণিত আমাদের নবীর নিদর্শনসমূহ আলোচনার মাধ্যমে শুরু করছি; কারণ আহলে কিতাবদের কিতাব থেকেই তাদের বিরুদ্ধে এবং নাস্তিকদের বিরুদ্ধে এগুলো আমাদের দলিল। কারণ তাদের মতে এটি অসম্ভব ছিল যে, মুসা ঈসা সম্পর্কে এবং ঈসা মুহাম্মদ সম্পর্কে সংবাদ দেবেন। অথচ যখন এটি প্রমাণিত যে এমনটি ঘটেছে, তখন তা অদৃশ্য জগতের পরিজ্ঞাতা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে হওয়া অসম্ভব, যা তারা লিপিবদ্ধ করেছে এবং সংরক্ষিত হয়েছে।

 

‌‌তাওরাতে রাসূলুল্লাহর নিদর্শনসমূহ:

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো ইব্রাহিমের প্রতি প্রথম খণ্ডে আল্লাহ তাআলার বাণী: «আমি ইসমাইলের বিষয়ে তোমার দোয়া কবুল করেছি। আমি তাকে বরকতময় করেছি, তাকে বহুগুণে বৃদ্ধি করেছি এবং তাকে অত্যন্ত মহান করেছি। সে বারোজন মহান নেতার জন্ম দেবে এবং আমি তাকে এক বিশাল জাতিতে পরিণত করব।»
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৬২)
ثم أخبر موسى بمثل ذلك في هذا السفر، وزاد شيئًا، قال: «لمَّا هربت هاجر من سارة، تراءى لها ملك الله، وقال: يا هاجر أمة سارة، ارجعي إلى سيدتك واخضعي لها، فإني سأكثر ذريتك وزرعك؛ حتى لا يُحصوا كثرة، وها أنت تحبلين وتلدين ابنا، وتسميه إسماعيل؛ لأن الله قد سمع خشوعك، وتكون يده فوق الجميع، ويد الجميع مبسوطة إليه بالخضوع».

فتدبَّر هذا القول فإن فيه دليلًا بيِّنًا على أن المراد به رسول الله صلى الله عليه وسلم. لأن إسماعيل لم تكن يده فوق يد إسحاق، ولا كانت يد إسحاق مبسوطة إليه بالخضوع، وكيف يكون ذلك والنبوة والملك في بني إسرائيل والعيص، وهما أبناء إسحاق، فلما بُعث رسول الله انتقلت النبوة إلى ولد إسماعيل، فدانت له الملوك وخضعت له الأمم، ونَسخ الله به كل شرعة، وختم به النبيين، وجعل الخلافة والملك في أهل بيته إلى آخر الزمان، فصارت أيديهم فوق أيدي الجميع، وأيدي الجميع بالرغبة إليهم مبسوطة بالخصوع.
অতঃপর মূসা এই পুস্তকে অনুরূপ সংবাদ প্রদান করেছেন এবং কিছু বিষয় যোগ করেছেন। তিনি বলেছেন: “যখন হাজেরা সারা থেকে পালিয়ে গেলেন, তখন আল্লাহর এক ফেরেশতা তার সামনে আত্মপ্রকাশ করলেন এবং বললেন: হে সারার দাসী হাজেরা, তোমার কর্ত্রীর কাছে ফিরে যাও এবং তার অনুগত থাকো; কেননা আমি তোমার বংশ ও সন্ততিকে এমনভাবে বৃদ্ধি করব যে, আধিক্যের কারণে তারা গণনাতীত হবে। আর দেখ, তুমি গর্ভবতী হবে এবং একটি পুত্র সন্তান প্রসব করবে, তার নাম রাখবে ইসমাইল; কারণ আল্লাহ তোমার বিনয় শ্রবণ করেছেন। তার হাত সবার উপরে থাকবে এবং সবার হাত তার প্রতি আনুগত্যের সাথে প্রসারিত থাকবে।”

সুতরাং এই উক্তিটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন, কারণ এতে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। কেননা ইসমাইলের হাত ইসহাকের হাতের উপরে ছিল না, আর ইসহাকের হাতও তার প্রতি আনুগত্যের সাথে প্রসারিত ছিল না। আর এটি কীভাবে সম্ভব যখন নবুওয়াত ও রাজত্ব বনী ইসরাঈল এবং ঈসুর মধ্যে ছিল—যারা উভয়েই ইসহাকের সন্তান? অতঃপর যখন আল্লাহর রাসূল প্রেরিত হলেন, তখন নবুওয়াত ইসমাইলের বংশধরের কাছে স্থানান্তরিত হলো। ফলে রাজন্যবর্গ তার প্রতি অনুগত হলো এবং জাতিসমূহ তার বশ্যতা স্বীকার করল। আল্লাহ তার মাধ্যমে পূর্ববর্তী সকল শরীয়ত রহিত করলেন, তার মাধ্যমে নবীগণের সমাপ্তি ঘটালেন এবং খিলাফত ও রাজত্ব শেষ জামানা পর্যন্ত তার পরিবারবর্গের মধ্যে নিহিত রাখলেন। ফলে তাদের হাত সবার হাতের উপরে প্রতিষ্ঠিত হলো এবং সকলের হাত তাদের প্রতি অনুরাগের সাথে ও আনুগত্যের সাথে প্রসারিত হলো।
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
‌‌ومن أعلامه في التوراة:

قال: «جاء الله من سينا، وأشرف من ساعير، واستعلن من جبال فاران».

وليس بهذا خفاء على من تدبره ولا غموض؛ لأن مجيء الله من سيناء وإنزاله التوراة [على موسى بطور سيناء]، هكذا هو عند أهل الكتاب؛ وعندنا، وكذلك يجب أن يكون، وإشراقه من ساعير إنزاله على المسيح للإنجيل، وكان المسيح يسكن من ساعير أرض الخليل، بقرية تُدعى: ناصرة وباسمها سُمي من تبعه: نصارى.

وكما وجب أن يكون إشراقه من ساعير، فالمسيح كذلك يجب أن يكون استعلانه من جبال فاران، بإنزاله القرآن على محمد من جبال فاران، وهي: جبال مكة. وليس بين المسلمين وأهل الكتاب؛ اختلاف في أن فاران هي: مكة. فإن ادَّعَوا أنها غيرُ مكة، وليس بُدٌّ من تحريفهم وإفكهم. قلنا: ليسَ في التوراة أن إبراهيم أسكن هاجر وإسماعيل فاران؟ وقلنا: دلونا على الموضع الذي استعلن الله منه واسمه فاران، والنبي الذي أُنزل عليه كتابٌ بعد المسيح، أو ليس استعلن وعلن بمعنى واحد! وهو ما ظهر وانكشف، فهل تعلمون دينا ظهر ظهور الإسلام، وفشا في مشارق الأرض ومغاربها فُشُوَّهُ؟
তাওরাতে তাঁর অন্যতম নিদর্শনসমূহ:

তিনি বলেছেন: "আল্লাহ সিনাই থেকে এসেছেন, সায়ীর থেকে উদ্ভাসিত হয়েছেন এবং ফারান পর্বতমালা থেকে প্রকাশিত হয়েছেন।"

যিনি এটি নিয়ে চিন্তা করবেন তার কাছে এর মধ্যে কোনো অস্পষ্টতা বা জটিলতা নেই; কেননা সিনাই থেকে আল্লাহর আগমন এবং [তূর-ই-সিনাই-এ মূসার ওপর] তাওরাত অবতীর্ণ করা আহলে কিতাবদের নিকট এভাবেই স্বীকৃত; এবং আমাদের নিকটও, আর এটাই হওয়া আবশ্যক। আর সায়ীর থেকে তাঁর উদ্ভাসিত হওয়া হলো মসীহ-এর ওপর ইনজিল অবতীর্ণ করা। মসীহ খলিল ভূমির সায়ীর অঞ্চলের 'নাসিরাহ' নামক একটি গ্রামে বসবাস করতেন এবং তাঁর নামানুসারেই তাঁর অনুসারীদের 'নাসারা' নামকরণ করা হয়েছে।

আর যেভাবে সায়ীর থেকে তাঁর উদ্ভাসিত হওয়া নিশ্চিত, তেমনিভাবে ফারান পর্বতমালা থেকে তাঁর প্রকাশ পাওয়াও নিশ্চিত—ফারান পর্বতমালা থেকে মুহাম্মাদের ওপর কুরআন অবতীর্ণ করার মাধ্যমে, আর তা হলো মক্কার পর্বতমালা। ফারান যে মক্কা—এ বিষয়ে মুসলিম ও আহলে কিতাবদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। যদি তারা দাবি করে যে এটি মক্কা ব্যতীত অন্য কিছু—আর তাদের বিকৃতি ও মিথ্যাচার তো অনিবার্য—তবে আমরা বলব: তাওরাতে কি এ কথা নেই যে ইব্রাহিম হাজেরা ও ইসমাইলকে ফারানে বসতি স্থাপন করিয়েছিলেন? আমরা আরও বলব: আমাদের সেই জায়গাটি দেখান যেখান থেকে আল্লাহ প্রকাশিত হয়েছেন এবং যার নাম ফারান, আর সেই নবী কে যার ওপর মসীহ-এর পর কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে? নাকি 'প্রকাশ পাওয়া' ও 'প্রকাশিত হওয়া' কি একই অর্থ বহন করে না! আর তা হলো যা প্রকাশ পেয়েছে ও উন্মোচিত হয়েছে। অতএব, আপনারা কি এমন কোনো দ্বীন সম্পর্কে জানেন যা ইসলামের মতো প্রকাশিত হয়েছে এবং পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে এর মতো প্রসার লাভ করেছে?
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
‌‌ومن أعلامه في التوراة:

قال الله سبحانه في التوراة لموسى في السفر الخامس: «إني أقيم لبني إسرائيل نبيًّا من إخوتهم مثلك، وأجعل كلامي على فمه».
তাওরাতে তাঁর কতিপয় নিদর্শন:

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাওরাতের পঞ্চম খণ্ডে মূসাকে বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমি বনী ইসরাঈলের জন্য তাদের ভাইদের মধ্য থেকে তোমার মতো একজন নবী প্রেরণ করব এবং আমি আমার বাণী তাঁর মুখে অর্পণ করব।»
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
فَمَنْ أُخْوَةُ بني إسرائيل؟ إلا بَنو إسماعيل، كما نقول: بكر وتغلب ابنا وائل، ثم نقول: تغلب أخوة، وبنو تغلب إخوة بني بكر، يرجع في ذلك إلى إخوة الأولين. [129/أ]

فإن قالوا: إن هذا النبي الذي وعد الله موسى أن ينبئه لهم؛ هو أيضًا من بني إسرائيل، لأن بني إسرائيل أخوة بني إسرائيل، أكذبتم التوراة، وأكذبتم النظر؛ لأن في التوراة: «إنه لم تقم في بني إسرائيل نبي مثل موسى».

وأما النظر؛ فإنه لو أراد إني أقيم لهم نبيا من بني إسرائيل مثل موسى، لقال: «أقيم لهم من أنفسهم مثل موسى» ولم يقل: «من إخوتهم» كما أن رجلًا لو قال لرسول: «ائتيني برجل من إخوة بني بكر بن وائل» كان يجب أن يأتيه برجل من بني تغلب بن وائل، ولا يجب أن يأتيه برجل من بني بكر.

 

‌‌ومن قول حبقوق النبي في زمن دانيال:

قال حبقوق: «جاء الله- من التيمن والتقديس- من جبال فاران، وامتلأت الأرض من تحميد أحمد وتقديسه، ومَلك الأرض بيمينه ورقاب الأمم».
বনী ইসরাঈলের ভাই কারা? তারা হলো বনী ইসমাঈল ছাড়া আর কেউ নয়। যেমন আমরা বলি: বকর ও তাগলিব হলো ওয়াইলের দুই সন্তান। অতঃপর আমরা বলি: তাগলিব হলো ভাই, এবং বনী তাগলিব হলো বনী বকরের ভাই। এর ভিত্তি হলো তাদের পূর্বপুরুষদের ভ্রাতৃত্ব। [১২৯/অ]

যদি তারা বলে: যে নবীর প্রতিশ্রুতি আল্লাহ মূসার কাছে করেছিলেন যে তিনি তাদের জন্য তাঁকে আবির্ভূত করবেন; তিনিও বনী ইসরাঈলের অন্তর্ভুক্ত, কারণ বনী ইসরাঈল হলো বনী ইসরাঈলেরই ভাই—তবে তোমরা তাওরাতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলে এবং যুক্তিকেও অস্বীকার করলে। কেননা তাওরাতে আছে: «বনী ইসরাঈলের মধ্যে মূসার মতো কোনো নবী আর ওঠেননি»।

আর যুক্তির বিষয়টি হলো; যদি তিনি ইচ্ছা করতেন যে তাদের জন্য বনী ইসরাঈল থেকেই মূসার মতো একজন নবী আবির্ভূত করবেন, তবে তিনি বলতেন: «আমি তাদের নিজেদের মধ্য থেকেই মূসার মতো একজনকে আবির্ভূত করব», তিনি «তাদের ভাইদের মধ্য থেকে» বলতেন না। যেমন কোনো ব্যক্তি যদি তার বার্তাবাহককে বলে: «বনী বকর ইবনে ওয়াইলের ভাইদের মধ্য থেকে একজন লোককে আমার কাছে নিয়ে এসো», তবে তার জন্য বনী তাগলিব ইবনে ওয়াইলের কোনো লোককে নিয়ে আসা আবশ্যক হতো, বনী বকরের কোনো লোককে নিয়ে আসা নয়।

 

‌‌এবং দানিয়ালের সমসাময়িক নবী হাবাক্কুকের বাণী থেকে:

হাবাক্কুক বলেছেন: «আল্লাহ এসেছেন—দক্ষিণ দিক ও পবিত্র ভূমি থেকে—ফারান পর্বতমালা থেকে। পৃথিবী আহমদের প্রশংসা ও তাঁর পবিত্রতায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে, এবং তিনি তাঁর ডান হাত দ্বারা পৃথিবী এবং জাতিসমূহের গ্রীবার মালিক হয়েছেন»।
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৬৬)
وقال أيضًا: «تُضيء لنوره الأرض، وتحمل خيله في البحر».

وزادني بعض أهل الكتاب، أنه قيل في كلام حبقوق: «وسينزع في قِسِيَّك إغراقًا، وترتوي السهام بأمرك يا محمد ارتواء»، وهذا إفصاح باسمه وصفاته. فإن ادَّعَوا أنه غير نبينا وليس ذلك ينكر من جحدهم وتحريفهم؛ فمن أحمد الذي امتلأت الأرض من تحميده، والذي جاء من جبال فاران، فملك الأرضَ ورقاب الأمم؟!

 

‌‌ومن ذكر شعيا له:

قال شعيا عن الله: «عبدي الذي سرت به نفسي».

وترجمه آخر قال: «عبدي خيرتي، رضا نفسي أفيض عليه روحي».

وترجمه آخر، فقال: «أُنزل عليه وحي، فيظهر في الأمم عدلي، ويوصي الأمم بالوصايا، لا يضحك ولا يسمع صوته في الأسواق، ويفتح العيون العور، ويسمع الآذان الصم، ويحيي القلوب الغُلف، وما أعطيه لا أعطي غيره، أحمد يحمد الله حمدًا
এবং তিনি আরও বলেছেন: «তাঁর নূরে পৃথিবী আলোকিত হবে এবং তাঁর অশ্বারোহী দল সমুদ্রে বাহিত হবে।»

আহলে কিতাবের কিছু লোক আমার নিকট আরও বর্ণনা করেছেন যে, হাবাক্কুকের বাণীতে বলা হয়েছে: «তোমার ধনুকগুলো পূর্ণরূপে উন্মোচিত হবে এবং হে মুহাম্মদ, তোমার আদেশে তীরগুলো তৃপ্ত হবে।» এটি স্পষ্টভাবে তাঁর নাম ও গুণাবলী প্রকাশ করে। যদি তারা দাবি করে যে তিনি আমাদের নবী নন—আর তাদের অস্বীকার ও বিকৃতির অভ্যাসের কারণে এটি আশ্চর্যের কিছু নয়—তবে এই 'আহমাদ' কে, যাঁর প্রশংসায় পৃথিবী পরিপূর্ণ হয়ে গেছে এবং যিনি পারান পর্বতমালা থেকে আগমন করেছেন, অতঃপর পৃথিবী ও বিভিন্ন জাতির ওপর কর্তৃত্ব লাভ করেছেন?!

 

‌‌ইসাইয়া কর্তৃক তাঁর বর্ণনার মধ্য হতে:

ইসাইয়া আল্লাহর পক্ষ থেকে বলেছেন: «আমার সেই বান্দা, যাকে দেখে আমার সত্তা আনন্দিত হয়েছে।»

অন্য একজন অনুবাদ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «আমার বান্দা আমার মনোনীত, আমার সত্তার সন্তুষ্টি, আমি তাঁর ওপর আমার রূহ অবতীর্ণ করব।»

অন্য একজন অনুবাদ করেছেন, তিনি বলেছেন: «তাঁর ওপর ওহি নাযিল করা হবে, অতঃপর তিনি জাতিসমূহের মাঝে আমার ন্যায়বিচার প্রকাশ করবেন এবং জাতিসমূহকে উপদেশ প্রদান করবেন; তিনি অট্টহাসি হাসবেন না এবং বাজারে তাঁর কণ্ঠস্বর শোনা যাবে না; তিনি অন্ধ চোখগুলো উন্মোচিত করবেন, বধির কানগুলো শ্রবণযোগ্য করবেন এবং মোহরযুক্ত অন্তরগুলোকে জীবিত করবেন। আমি তাঁকে যা প্রদান করব তা অন্য কাউকে দেব না; আহমাদ আল্লাহর এমন প্রশংসা করবেন যে প্রশংসা...
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৬৭)
حديثًا، يأتي من أقصى الأرض، يفرح البرية وسكانها، ويهللون الله على كل شرف، ويكبر فيه على كل رابية».

وزاد آخر في الترجمة: «لا يضعف ولا يغلب ولا يميل إلى اللهو، ولا يُسمع في [129/ب] الأسواق صوته، ولا يذل الصالحين الذين هم كالقصبة الضعيفة؛ على تقوى الصديقين، وهو ركن للمتواضعين، وهو نور الله الذي لا يطفأ ولا يخصم، حتى تثبت في الأرض حجتي ويقطع به العذر، وإلى توراته تنقاد الجن».

وهذا إفصاحٌ باسمه وبصفاته؛ فإن قالوا أي توراة له قلنا: أراد أنه يأتي بكتاب يقوم مقام التوراة لكم.

ومثل هذا حديث كهمس، عن عبد الله بن شقيق العقيلي، عن كعب قال: «شكا بيت المقدس إلى الله الخراب، فقيل له: لأبدلنك توراة محدثة، وعمالًا محدثين، يزفون بالليل زفيف النسور، وينتحبون عليك كما تحن الحمامة على بيضها، ويملؤونك لي خدودًا سجودًا».
...একটি নতুন সংবাদ, সে পৃথিবীর প্রান্তসীমা থেকে আসবে, মরুভূমি ও এর অধিবাসীরা আনন্দিত হবে, তারা প্রতিটি উচ্চস্থানে আল্লাহর মহিমা কীর্তন করবে এবং প্রতিটি টিলায় তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করবে।

অন্য একজন অনুবাদের ক্ষেত্রে বর্ধিত করেছেন: «তিনি দুর্বল হবেন না, পরাজিত হবেন না এবং আমোদ-প্রমোদের প্রতি অনুরাগী হবেন না। বাজারে তাঁর কণ্ঠস্বর শোনা যাবে না [১২৯/খ], তিনি সেই নেককার ব্যক্তিদের লাঞ্ছিত করবেন না যারা দুর্বল নলের মতো; সত্যবাদীদের তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত, তিনি বিনয়ীদের জন্য এক স্তম্ভ এবং তিনি আল্লাহর এমন এক নূর যা নির্বাপিত হয় না এবং যাকে পরাস্ত করা যায় না, যতক্ষণ না পৃথিবীতে আমার দলিল সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর মাধ্যমে অজুহাত ছিন্ন হয়, আর জিন জাতি তাঁর তাওরাতের অনুগত হবে।»

আর এটি তাঁর নাম ও গুণাবলির একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা; যদি তারা বলে তাঁর জন্য কোন তাওরাত? আমরা বলব: তিনি বুঝিয়েছেন যে তিনি এমন একটি কিতাব নিয়ে আসবেন যা তোমাদের জন্য তাওরাতের স্থলাভিষিক্ত হবে।

অনুরূপ একটি বর্ণনা কাহমাস হতে বর্ণিত, যা তিনি আবদুল্লাহ ইবনে শাকিক আল-উকাইলি থেকে এবং তিনি কাব থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (কাব) বলেন: «বায়তুল মাকদিস আল্লাহর কাছে তার বিরান হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ করেছিল, তখন তাকে বলা হলো: আমি অবশ্যই তোমাকে একটি নতুন তাওরাত এবং নতুন একদল কর্মী প্রদান করব, যারা রাতের বেলায় ঈগল পাখির গতির মতো ক্ষিপ্র হবে এবং তোমার ওপর এমনভাবে বিলাপ করবে যেভাবে কবুতর তার ডিমের ওপর ব্যাকুল হয়ে ডাকে, আর তারা আমার উদ্দেশ্যে সিজদাবনত গণ্ডদেশ দ্বারা তোমাকে পূর্ণ করে দিবে।»
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৬৮)
‌‌ومن ذكر شعيا له:

قال: «أنا الله عظّمتك بالحق، وأيدتك وجعلتك نورا للأمم، وعهدا للشعوب، تفتح أعين العميان، وتنقذ الأسرى من الظلمات إلى النور».

وقال في الفصل الخامس: «إليا؛ آية سلطانه على كتفه»، يريد: علامة نبوته على كتفه- هذا في التفسير من السرياني، وأما في العبراني فإنه يقول: «إن على كتفه علامة النبوة».

 

‌‌ومن ذكر داود له في الزبور:

«وفي الزبور سبحوا الرب تسبيحًا حديثًا، سبحوا الذي هيكله الصالحون، ليفرح إسرائيل بخالقه، وبيوت صهيون من أجل أن الله اصطفى له أمته، وأعطاه النصر، وسدد الصالحين منهم بالكرامة، يسبحون على مضاجعهم، ويكبرون الله بأصوات مرتفعة،
এবং ইশাইয়া কর্তৃক তাঁর বর্ণনার মধ্যে রয়েছে:

তিনি বলেছেন: "আমি আল্লাহ, সত্যের সাথে তোমাকে মহিমান্বিত করেছি, তোমাকে সাহায্য করেছি এবং তোমাকে জাতিসমূহের জন্য আলো ও জনপদসমূহের জন্য অঙ্গীকার হিসেবে নির্ধারণ করেছি, যাতে তুমি অন্ধদের চোখ উন্মোচন করো এবং বন্দীদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে উদ্ধার করো।"

এবং তিনি পঞ্চম অধ্যায়ে বলেছেন: "ইলিয়া; তাঁর কর্তৃত্বের নিদর্শন তাঁর কাঁধের ওপর রয়েছে।" এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন: তাঁর নবুওয়াতের চিহ্ন তাঁর কাঁধের ওপর—এটি সুরিয়ানি ভাষার ব্যাখ্যা থেকে নেওয়া হয়েছে; আর হিব্রু ভাষায় বলা হয়েছে: "নিশ্চয়ই তাঁর কাঁধের ওপর নবুওয়াতের চিহ্ন রয়েছে।"

 

এবং যবুর গ্রন্থে দাউদ কর্তৃক তাঁর বর্ণনার মধ্যে রয়েছে:

"এবং যবুর গ্রন্থে রয়েছে: তোমরা রবের এক নতুন মহিমা বর্ণনা করো, তাঁর মহিমা বর্ণনা করো যাঁর পবিত্র গৃহ সৎকর্মশীল ব্যক্তিগণ; ইসরাঈল যেন তার স্রষ্টাকে নিয়ে আনন্দিত হয় এবং সিয়োনের গৃহসমূহ যেন প্রফুল্ল হয় এই কারণে যে, আল্লাহ তাঁর জন্য তাঁর উম্মতকে মনোনীত করেছেন, তাঁকে সাহায্য ও বিজয় দান করেছেন এবং তাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল তাদেরকে সম্মানের মাধ্যমে সুদৃঢ় করেছেন। তারা তাদের শয্যায় অবস্থানকালে তাসবিহ পাঠ করে এবং উচ্চস্বরে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা (তাকবির) করে।"
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৬৯)
بأيديهم سيوف ذوات شفرتين؛ لينتقموا لله من الأمم الذين لا يعبدونه، يوثقون ملوكهم بالقيود، وأشرافهم بالأغلال».

فمن هذه الأمة التي سيوفها ذات شفرتين غير العرب؟ ومن المنتقم هنا من الأمم الذين لا يعبدونه؟ ومن المبعوث بالسيف من الأنبياء غير نبينا؟

 

‌‌وفي مزمور آخر:

«تقلد أيها الجبار بالسيف، وإنَّ ناموسًا وسرًّا معك، تقرونه لهيبته تميل، وسهامك مسنونة، والأمم يخرون تحتك».

فمن متقلد السيف من الأنبياء غير نبينا؟ ومن خرَّت الأمم تحته غيره؟ ومن قُرنت شرائعه بالهيبة؟ فإما القبول وإما الجزية، وإما السيف ونحوه قوله: «نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ».
তাদের হাতে দুই ধার বিশিষ্ট তলোয়ার রয়েছে; যাতে তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে ঐ সকল জাতির ওপর প্রতিশোধ নিতে পারে যারা তাঁর ইবাদত করে না; তারা তাদের রাজাদের শিকল দিয়ে এবং তাদের অভিজাতদের বেড়ি দিয়ে বন্দি করে।

আরব ব্যতীত আর কোন উম্মত আছে যাদের তলোয়ার দুই ধার বিশিষ্ট? আর এখানে সেই সকল জাতির থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী কে যারা তাঁর ইবাদত করে না? আর নবীদের মধ্যে আমাদের নবী ব্যতীত আর কেইবা তলোয়ার নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন?

 

‌‌অন্য একটি জবুরে বর্ণিত হয়েছে:

«হে পরাক্রমশালী! তলোয়ার ধারণ করুন; নিশ্চয়ই আপনার সাথে একটি বিধান ও রহস্য রয়েছে। তাঁর গাম্ভীর্যের কারণে আপনারা তা পাঠ করেন এবং অবনত হন; আপনার তীরগুলো তীক্ষ্ণ এবং জাতিসমূহ আপনার পদতলে লুটিয়ে পড়ে।»

নবীদের মধ্যে আমাদের নবী ব্যতীত তলোয়ার ধারণকারী আর কে আছেন? আর তিনি ব্যতীত কার পদতলে জাতিসমূহ লুটিয়ে পড়েছে? আর কার শরিয়তসমূহ গাম্ভীর্যের সাথে সুসমন্বিত? হয় (ইসলাম) গ্রহণ, না হয় জিজিয়া, আর না হয় তলোয়ার। আর তাঁর নিম্নোক্ত বাণীর মর্মার্থও অনুরূপ: «আমাকে ভীতি প্রদানের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে»।
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৭০)
‌‌وفي مزمور آخر:

«إن الله أظهر من صهيون إكليلًا محمودًا»، ضرب الإكليل مثلًا للرئاسة والإمامة، و (محمودًا) هو محمد صلى الله عليه وسلم.

 

‌‌وفي مزمور آخر من صفته:

«أنه يجوز من البحر إلى البحر، ومن لدن الأنهار إلى منقطع الأرض، وأنه تخر أهل الجزائر بين يديه على ركبهم، ويلحس أعداؤه التراب، تأتيه الملوك بالقرابين وتسجد له، وتدين له الملوك بالطاعة والانقياد، لأنه يخلص المضطهد البائس ممن هو أقوى منه، وينقذ الضعيف الذي لا ناصر له، ويرأف بالضعفاء والمساكين، وأنه يعطي من ذهب من بلاد سبأ، ويُصلى عليه في كل وقت ويبارك عليه في كل يوم، ويدوم ذكره إلى الأبد».
এবং অন্য একটি মজমুরে (গীতসংহিতায়) বলা হয়েছে:

«নিশ্চয়ই আল্লাহ সিয়োন থেকে এক প্রশংসিত মুকুট প্রকাশ করেছেন», এখানে মুকুটকে নেতৃত্ব ও ইমামতের উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে এবং 'মাহমুদ' (প্রশংসিত) হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

 

‌এবং তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে অন্য একটি মজমুরে রয়েছে:

«তিনি এক সমুদ্র থেকে অন্য সমুদ্র পর্যন্ত এবং নদীসমূহ থেকে পৃথিবীর প্রান্তসীমা পর্যন্ত কর্তৃত্ব করবেন। দ্বীপবাসীগণ তাঁর সম্মুখে হাঁটু গেড়ে অবনত হবে এবং তাঁর শত্রুরা ধূলি চাটবে। রাজন্যবর্গ তাঁর নিকট নজরানা নিয়ে আসবে এবং তাঁকে সিজদাহ করবে। সকল রাজা তাঁর আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকার করবে। কারণ তিনি আর্ত-নিপীড়িতকে তার চেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তির কবল থেকে উদ্ধার করবেন এবং এমন দুর্বলকে রক্ষা করবেন যার কোনো সাহায্যকারী নেই। তিনি দুর্বল ও অভাবীদের প্রতি মমতা প্রদর্শন করবেন। তাঁকে সাবা অঞ্চলের স্বর্ণ প্রদান করা হবে। তাঁর জন্য সর্বক্ষণ দোয়া করা হবে এবং প্রতিদিন তাঁর ওপর বরকত প্রার্থনা করা হবে। তাঁর স্মরণ চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকবে।»
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৭১)
فمن هذا الذي مَلَكَ ما بين البحر والبحر، وما بين دجلة والفرات إلى منقطع الأرض؟ ومن ذا الذي يُصلى عليه، ويبارك في كل وقت من الأنبياء؛ غير نبينا؟

 

‌‌وفي موضع آخر:

«قال داود: اللهم ابعث جاعل السنة حتى يُعلم الناس أنه بشر».

وهذا إخبار عن المسيح وعن محمد عليهما السلام قبلهما بأحقاب، يريد: ابعث محمدًا؛ حتى يعلّم الناس أن المسيح بشر، لعِلم داود أن قومًا سيدّعون المسيح ما ادّعوا.

 

‌‌وفي شعيا:

«قيل لي: قم نظارًا فانظر فإذا ترى تخبّر به، قلت: أرى راكبين مقبلين أحدهما على حمار والآخر على جمل، يقول أحدهما لصاحبه: سقطت بابل وأصنامه المنَجَّرةْ».
তবে তিনি কে যিনি দুই সমুদ্রের মধ্যবর্তী অঞ্চল এবং দজলা ও ফোরাত হতে পৃথিবীর প্রান্তসীমা পর্যন্ত রাজত্ব করেছেন? আর আমাদের নবী ব্যতীত নবীদের মধ্যে এমন কে আছেন, যাঁর ওপর প্রতিটি সময়ে দরুদ ও বরকত পাঠ করা হয়?

 

এবং অন্য এক স্থানে রয়েছে:

«দাউদ (আলাইহিস সালাম) বললেন: হে আল্লাহ! আপনি সুন্নাহ প্রতিষ্ঠাকারীকে প্রেরণ করুন যাতে মানুষ জানতে পারে যে তিনি একজন মানুষ মাত্র।»

এটি ঈসা মসিহ এবং মুহাম্মদ (তাঁদের উভয়ের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) সম্পর্কে তাঁদের আগমনের বহু যুগ পূর্বের সংবাদ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: মুহাম্মদকে প্রেরণ করুন; যাতে তিনি মানুষকে শিক্ষা দেন যে ঈসা মসিহ একজন মানুষ। কারণ দাউদ (আলাইহিস সালাম) জানতেন যে, ভবিষ্যতে এমন এক জাতি ঈসা মসিহ সম্পর্কে এমন দাবি করবে যা তারা পরবর্তীতে করেছিল।

 

এবং ইশাইয়া কিতাবে রয়েছে:

«আমাকে বলা হলো: প্রহরীর ন্যায় দাঁড়াও এবং পর্যবেক্ষণ করো, যা দেখবে তা ব্যক্ত করো। আমি বললাম: আমি দু’জন আরোহীকে এগিয়ে আসতে দেখছি, যাদের একজন গাধার পিঠে এবং অপরজন উটের পিঠে সওয়ার। তাদের একজন তার সঙ্গীকে বলছে: ব্যবিলন এবং তার খোদাইকৃত মূর্তিসমূহ ভূপাতিত হয়েছে।»
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৭২)
وصاحب الحمار عندنا وعند النصارى هو: المسيح، وإذا كان صاحب الحمار المسيح! فلم لا يكون محمد صاحب الجمل؟ أوليس سقوط بابل والأصنام المنَجَّرَةْ به وعلى يديه، لا بالمسيح؟ ولم يزل في إقليم بابل ملوك يعبدون الأوثان من لدن إبراهيم عليه السلام؟ أوليس هو بركوب الجمل أشهر من المسيح بركوب الحمار؟

 

‌‌ذكر المسيح للنبي في الإنجيل:

«قال المسيح للحواريين: أنا أذهب وسيأتيكم البارقليط، روح الحق الذي لا يتكلم من قبل نفسه، إنما هو كما يقال له، وهو يشهد عليّ وأنتم تشهدون، لأنكم معي من قبل الناس، وكل شيء أعدّه الله لكم يخبركم به».

 

‌‌وفي حكاية يوحنا عن المسيح:

أنه قال: «البارقليط لا يجيئكم ما لم أذهب، فإذا جاء وبَّخ العالم على الخطيئة،
আমাদের নিকট এবং খ্রিস্টানদের নিকট গাধার আরোহী হলেন মসীহ। আর যদি গাধার আরোহী মসীহ হন, তবে মুহাম্মদ কেন উটের আরোহী হবেন না? বাবিল (ব্যাবিলন) এবং এর খোদাই করা মূর্তিসমূহের পতন কি তাঁর মাধ্যমে এবং তাঁর হাতেই ঘটেনি, মসীহের মাধ্যমে তো নয়? ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সময় থেকে বাবিল অঞ্চলে কি সর্বদা মূর্তিপূজক রাজারা বিদ্যমান ছিল না? তিনি কি উটে আরোহণের মাধ্যমে মসীহের গাধায় আরোহণের চেয়ে অধিক প্রসিদ্ধ নন?

 

‌‌ইঞ্জিলে মসীহ কর্তৃক নবীর উল্লেখ:

«মসীহ তাঁর শিষ্যদের (হাওয়ারী) বলেছিলেন: আমি চলে যাচ্ছি এবং তোমাদের নিকট পারাকলিট আসবে, যিনি সত্যের আত্মা, যিনি নিজের পক্ষ থেকে কথা বলেন না, বরং তাঁকে যা বলা হয় তিনি শুধু তাই বলেন। তিনি আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দেবেন এবং তোমরাও সাক্ষ্য দেবে, কারণ তোমরা মানুষের পূর্ব থেকেই আমার সাথে আছো। আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু প্রস্তুত করেছেন, তিনি তোমাদের তা জানিয়ে দেবেন।»

 

‌‌ইউহান্নার বর্ণনায় মসীহ সম্পর্কে:

নিশ্চয়ই তিনি বলেছেন: «আমি না যাওয়া পর্যন্ত পারাকলিট তোমাদের নিকট আসবেন না; অতঃপর তিনি যখন আসবেন, জগতকে পাপের জন্য তিরস্কার করবেন,
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
ولا يقول من تلقاء نفسه شيئًا، ولكنه مما يسمع به يكلمكم ويسوسكم بالحق، ويخبركم بالحوادث والغيوب».

 

‌‌وفي حكاية أخرى:

«إن الفارقليط روح الحق الذي يرسله أبي باسمي، هو يعلمكم كل شيء، وقال: إني سائل أبي أن يبعث إليكم بارقليط آخر، يكون معكم إلى الأبد، وهو يعلمكم كل شيء».

‌‌وفي حكاية أخرى:

«ابن البشر ذاهب والبارقليط من بعده، يجني لكم الأسرار ويفسر لكم كل شيء، وهو يشهد لي كما شهدت له، فإنّي أجيئكم بالأمثال وهو يأتيكم بالتأويل».

وهذه الأشياء على اختلافها متقاربة، وإنما اختلفت لأن من نقل الإنجيل عن المسيح من الحواريين عدة، والبارقليط هو بلغتهم: لفظ من الحمد، إما أحمد، وإما محمود، وإما محمد، وما أشبه ذلك.
তিনি নিজের পক্ষ থেকে কিছুই বলবেন না, বরং যা শুনবেন তা-ই তোমাদের বলবেন এবং সত্যের পথে তোমাদের পরিচালনা করবেন এবং তোমাদেরকে ঘটে যাওয়া বিষয়সমূহ ও অদৃশ্যের সংবাদ দেবেন।

 

‌‌অন্য এক বর্ণনায়:

«নিশ্চয়ই ফারাক্লিত হলো সত্যের আত্মা, যাকে আমার পিতা আমার নামে প্রেরণ করবেন, তিনি তোমাদের সব কিছু শিক্ষা দেবেন। এবং তিনি বলেছেন: আমি আমার পিতার নিকট আবেদন করছি যেন তিনি তোমাদের নিকট অন্য একজন বারাক্লিত প্রেরণ করেন, যিনি চিরকাল তোমাদের সাথে থাকবেন এবং তিনি তোমাদের সবকিছু শিক্ষা দেবেন।»

‌‌অন্য এক বর্ণনায়:

«আদমসন্তান চলে যাচ্ছেন এবং তাঁর পরে বারাক্লিত আসবেন, তিনি তোমাদের জন্য রহস্যসমূহ উম্মোচন করবেন এবং সবকিছু ব্যাখ্যা করে দেবেন। তিনি আমার সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবেন যেমনটি আমি তাঁর সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছি। আমি তোমাদের নিকট উপমার মাধ্যমে এসেছি আর তিনি তোমাদের নিকট ব্যাখ্যা নিয়ে আসবেন।»

এই বিষয়গুলো ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও একে অপরের নিকটবর্তী। এগুলোর মধ্যে পার্থক্যের কারণ হলো, হাওয়ারিদের মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তি মাসীহের নিকট থেকে ইঞ্জিল বর্ণনা করেছেন। আর বারাক্লিত শব্দটি তাদের ভাষায় ‘হামদ’ (প্রশংসা) ধাতু থেকে উদ্ভূত একটি শব্দ; যা হয় আহমদ, অথবা মাহমুদ, কিংবা মুহাম্মদ অথবা এই জাতীয় কিছু।
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৭৪)
وهو في الإنجيل الحبشي، أو الرومي: «بن نعطيس»، فمن هذا الذي هو روح الحق الذي لا يتكلم إلا بما يوحى إليه؟ ومن العاقب للمسيح، والشاهد له بأنه قد بلَّغ؟

ومن الذي أخبر بالحوادث في الأزمنة مثل: «خروج الدجال»، و «ظهور الدابة»،
আর হাবশী বা রোমান ইনজিলে তিনি হলেন: «বান-নাতিস»; সুতরাং এই সত্যের আত্মা কে, যিনি তাঁর প্রতি যা ওহী করা হয় তা ব্যতীত কোনো কথা বলেন না? এবং মসীহের পরবর্তী অনুসারী ও তাঁর পক্ষে এই মর্মে সাক্ষ্যদানকারী কে যে, তিনি নিশ্চয়ই (বার্তা) পৌঁছে দিয়েছেন?

আর কে সেই ব্যক্তি যিনি মহাকালের ঘটনাবলী সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, যেমন: «দাজ্জালের বহিঃপ্রকাশ» এবং «জন্তুর আবির্ভাব»?
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৭৫)
و «طلوع الشمس من مغربها»، وأشباه هذا؟ وبالغيوب من أمر القيامة والحساب، والجنة والنار، وأشباه ذلك، مما لم يُذكر في التوراة والإنجيل والزبور؛ غير [131/أ] نبينا محمد.

 

‌‌وفي إنجيل متى:

«أنه لمَّا حُبس يحيى بن زكريا ليُقتل، بعث بتلاميذه إلى المسيح، وقال لهم: قولوا له: أنت هو الآتي، أو نتوقع غيرك؟ فأجابه المسيح، وقال: الحق اليقين أقول لكم، أنه لم تقم النساء عن أفضل من يحيى بن زكريا، وأن التوراة وكتب الأنبياء يتلو بعضها بعضًا، بالنّبُوّة والوحي حتى جاء يحيى، فأما الآن فإن شئتم فاقبلوا أن إليا هو مزمع أن يأتي، فمن كانت له أذنان سامعتان فليستمع».
এবং «পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়» ও এই জাতীয় বিষয়সমূহ? এবং কিয়ামত ও হিসাব-নিকাশ, জান্নাত ও জাহান্নাম সংক্রান্ত অদৃশ্যের বিষয়সমূহ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়, যা আমাদের নবী মুহাম্মদ [১৩১/ক] ব্যতীত তাওরাত, ইঞ্জিল ও জবুরে উল্লিখিত হয়নি।

 

‌‌এবং মথি লিখিত সুসমাচারে (ইঞ্জিলে):

«যখন ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে বন্দি করা হলো, তখন তিনি তাঁর শিষ্যদের মসীহের কাছে পাঠালেন এবং তাদের বললেন: তাঁকে বলো: আপনিই কি সেই আগমনকারী, নাকি আমরা অন্য কারো প্রতীক্ষা করব? তখন মসীহ তাদের উত্তর দিলেন এবং বললেন: আমি তোমাদের নিশ্চিত সত্য বলছি যে, নারীদের গর্ভে ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়ার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কেউ জন্ম নেয়নি। তাওরাত ও নবিগণের কিতাবসমূহ নবুওয়াত ও ওহীর মাধ্যমে একের পর এক আসছিল ইয়াহইয়ার আগমন পর্যন্ত। আর এখন তোমরা যদি চাও তবে গ্রহণ করো যে, সেই ইলিয়াসই (ইলিয়া) আগমনের অপেক্ষায় আছেন। সুতরাং যার শোনার মতো কান আছে সে যেন শোনে।»
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৭৬)
وليس يخلوا هذا الاسم من إحدى خلال: إما أن يكون قال: إن أحمد مزمع أن يأتي، فغيروا الاسم؛ كما قال الله عز وجل: {يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ} [النساء: 46]، وجعلوه إلياهو، وإما أن يكون قال: إن إيل مزمع أن يأتي، وإيل هو الله تعالى، ومجيء الله مجيء رسوله بكتابه، كما قال في التوراة: «جاء الله من سيناء» أراد: جاء موسى من سيناء بكتاب الله، ولم يأت كتاب بعد المسيح إلا القرآن، وإمَّا أن يكون أراد النبيَّ المسَمَّى بهذا الاسم، وهذا لا يجوز عندهم؛ لأنهم مجمعون على أنه لا نبي بعد المسيح.

 

‌‌ذكر مكة والبيت الحرام في الكتب المتقدمة:

في كتاب شعيا: «أنه ستمتلي البادية والمدن بقصور قيدار يسبحون، ومن رؤوس الجبال ينادون، هم الذين يجعلون لله الكرامة، ويبثون تسبيحه في البر والبحر»، وقال: «ارفع عَلَمًا لجميع الأمم من بعيد، فيُصفر لهم من أقاصي الأرض، فإذا هم سراع يأتون».

وبنو قيدار هم العرب، لأن قيدار هو ابن إسماعيل بإجماع الناس، والعَلَمُ الذي يرفع هو النبوة، والصفير بهم: دعاؤهم من أقاصي الأرض للحج، فإذا هم سراع يأتون،
আর এই নামটি নিচের বিষয়গুলোর কোনো একটি থেকে মুক্ত নয়: হয় তিনি বলেছিলেন যে, আহমাদ আসার প্রতীক্ষায় আছেন, ফলে তারা নামটি পরিবর্তন করে দিয়েছে; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা শব্দসমূহকে তাদের স্ব-স্ব স্থান থেকে বিকৃত করে} [আন-নিসা: ৪৬], এবং তারা একে 'ইলিইয়াহু' বানিয়ে দিয়েছে। অথবা তিনি বলেছিলেন যে, 'ঈল' আসার প্রতীক্ষায় আছেন, আর 'ঈল' হলেন মহান আল্লাহ। আল্লাহর আসা বলতে তাঁর কিতাবসহ তাঁর রাসূলের আগমনকে বোঝানো হয়েছে, যেমনটি তাওরাতে বলা হয়েছে: «আল্লাহ সিনাই থেকে এসেছেন», এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: মূসা সিনাই থেকে আল্লাহর কিতাব নিয়ে এসেছেন। আর মসীহের পর কুরআন ছাড়া অন্য কোনো কিতাব আসেনি। অথবা তিনি এই নামে নামধারী নবীকে উদ্দেশ্য করেছেন, যা তাদের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ তারা এ বিষয়ে একমত যে, মসীহের পর আর কোনো নবী নেই।

 

‌পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে মক্কা ও বাইতুল হারামের উল্লেখ:

ইশাইয়া কিতাবে রয়েছে: «মরুভূমি এবং নগরসমূহ কাইদারের প্রাসাদসমূহে পরিপূর্ণ হবে, তারা তাসবীহ (মহিমা) পাঠ করবে এবং পাহাড়ের চূড়া থেকে উচ্চৈঃস্বরে আহ্বান করবে; তারাই আল্লাহর জন্য সম্মান নিবেদন করবে এবং স্থলে ও জলে তাঁর প্রশংসা ছড়িয়ে দেবে», এবং তিনি বলেছেন: «দূর থেকে সকল জাতির জন্য একটি নিশান (ঝাণ্ডা) উত্তোলন করো, ফলে পৃথিবীর প্রান্তসমূহ থেকে তাদের জন্য সংকেত দেওয়া হবে, আর তখনই তারা দ্রুতবেগে চলে আসবে»।

আর কাইদারের বংশধররাই হলো আরব জাতি, কারণ সর্বসম্মত মতে কাইদার হলেন ইসমাইলের পুত্র। আর যে নিশানটি উত্তোলন করা হবে তা হলো নবুওয়াত, এবং তাদের প্রতি সংকেত বা আহ্বান হলো: হজ পালনের জন্য পৃথিবীর প্রান্তসমূহ থেকে তাদের ডাকা, ফলে তারা দ্রুতবেগে চলে আসে।
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
وهو قول الله تعالى: {وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ} [الحج: 27].

 

‌‌وفي موضع آخر من كتاب شعيا:

«سأبعث من الصَّبَا قوما، فيأتون من المشرق مجيبين بالتلبية أفواجًا، كالصعيد كثرة، ومثل الطيان الذي يدوس برجله الطين، والصَّبَا تأتي من مطلع الشمس، يبعث الله من هناك قومًا من خراسان ومن صاقبها، وممن هو نازل بمهب الصَّبَا، فيأتون مجيبين بالتلبية أفواجًا كالتراب كثرة»، ومثل الطيان الذي يدوس برجليه الطين، يريد أن منهم رجالة كالّين، وقد يجوز أن يكون أراد: الهرولة إذا طافوا بالبيت.

 

‌‌وقال في ذكر الحجر المسلم:

قال شعيا: «قال الرب السيد: ها أنا ذا مؤسس بصهيون، وهو بيت الله حجرًا، يحسنه في زاوية مكرمة، فمن كان مؤمنًا فلا يستعجلن، وأجعل العدل مثل: الشاقول، والصدق مثل: الميزان، فيهلك الذين وقعوا بالكذب». والحجر على ما ذكر الله عز وجل في زاوية البيت، والكرامة أن يلثم ويستلم.
এটি মহান আল্লাহর বাণী: {এবং মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে, তারা আসবে দূর-দূরান্তের গভীর পথ অতিক্রম করে।} [আল-হজ: ২৭]।

 

‌‌শাইয়া (ইসাইয়াহ) কিতাবের অন্য এক স্থানে রয়েছে:

«আমি পুবালি বাতাসের দিক থেকে একদল লোককে পাঠাব, তারা প্রাচ্য থেকে দলবদ্ধভাবে তালবিয়া পাঠ করতে করতে আসবে। তারা সংখ্যার আধিক্যে মাটির উপরিভাগের মতো হবে, আর সেই কাদা মাড়ানো শ্রমিকের মতো হবে যে তার পা দিয়ে কাদা মাড়ায়। পুবালি বাতাস সূর্যোদয়ের স্থান থেকে প্রবাহিত হয়; আল্লাহ সেখান থেকে খোরাসান ও তার নিকটবর্তী অঞ্চলসমূহ এবং পুবালি বাতাসের প্রবাহস্থলে যারা বসবাস করে, তাদের মধ্য থেকে একদল লোককে পাঠাবেন। তারা দলবদ্ধভাবে তালবিয়া পাঠ করতে করতে আসবে, সংখ্যার দিক থেকে তারা হবে ধূলিকণার মতো অগণিত», আর সেই কাদা মাড়ানো শ্রমিকের মতো যে তার দুই পা দিয়ে কাদা মাড়ায়। এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, তাদের মধ্যে এমন পদাতিক লোক থাকবে যারা ক্লান্ত হয়ে পড়বে। আবার এর দ্বারা 'হারওয়ালা' বা দ্রুত চলা উদ্দেশ্য হওয়াও সম্ভব, যা তারা বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করার সময় করে থাকে।

 

‌‌হাজরে আসওয়াদ (চুম্বনকৃত পাথর) সম্পর্কে তিনি বলেছেন:

শাইয়া বলেন: «প্রভু মালিক বলেছেন: দেখ, আমি সিয়োনে—যা আল্লাহর ঘর—একটি পাথর স্থাপন করছি, যা একটি সম্মানিত কোণে সুশোভিত। সুতরাং যে মুমিন হবে, সে যেন তাড়াহুড়ো না করে। আমি ন্যায়বিচারকে ওলন দড়ির মতো এবং সত্যকে তুলাদণ্ডের মতো স্থাপন করব, ফলে যারা মিথ্যায় লিপ্ত হয়েছে তারা ধ্বংস হবে»। আর আল্লাহ আজযা ওয়া জাল্লা যেমনটি উল্লেখ করেছেন, পাথরটি ঘরের এক কোণে অবস্থিত। আর এর মর্যাদা বা সম্মান হলো একে চুম্বন করা এবং স্পর্শ করা।
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৭৮)
‌‌وقال شعيا في ذكر مكة:

«سُرِّي واهتزِّي أيتها العاقر التي لم تلد، وانطقي بالتسبيح وافرحي إذ لم تحبلي، فإن أهلك يكونون أكثر من أهلي»، يعني بأهله: أهل بيت المقدس من بني إسرائيل، وأراد أن أهل مكة: يكونون بمن يأتيهم من الحجاج والعمّار أكثر من أهل بيت المقدس، فشبّه مكة بامرأة عاقر لم تلد، لأنه لم يكن فيها قبل النبي إلا إسماعيل وحده، ولم ينزل بها كتاب، ولا يجوز أن يكون أراد بالعاقر بيت المقدس؛ لأنه بيت الأنبياء ومهبط الوحي، فلا يشبه بالعاقر من النساء.

 

‌‌وفي شعيا أيضًا من ذكر مكة:

«قد أقسمت بنفسي؛ كقسم أيام نوح؛ أني لا أغرق الأرض بالطوفان، كذلك أقسمت أن لا أسخط عليك ولا أرفضك، وأن الجبال تزول، والتلاع تنحط، ونعمتي عليك لا تزول»، ثم قال: «يا مسكينة، يا مضطهدة، ها أنا ذا، بان بالحسن حجارتك، ومزينك بالجواهر، ومكلل باللؤلؤ سقفك، وبالزبرجد أبوابك، وتبعدين من الظلم، فلا تخافي من الضعف ولا تضعفي، وكل سلاح يصنع لا يعمل فيك، وكل لسان ولغة يقوم معك بالخصومة تفلحين معها».
মক্কা প্রসঙ্গে ইশাইয়া যা বলেছেন:

«হে বন্ধ্যা, যে সন্তান প্রসব করোনি, তুমি আনন্দিত হও এবং উল্লাস করো; তুমি তাসবিহ পাঠ করো এবং খুশি হও যেহেতু তুমি গর্ভধারণ করোনি। কেননা তোমার অধিবাসী আমার অধিবাসীদের চেয়েও অধিক হবে», এখানে 'আমার অধিবাসী' বলতে তিনি বনী ইসরাঈলের বাইতুল মাকদিসের অধিবাসীদের বুঝিয়েছেন। আর তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, মক্কার অধিবাসী—সেখানে আগত হজ্জ ও উমরাহ পালনকারীদের কারণে—বাইতুল মাকদিসের অধিবাসীদের চেয়ে সংখ্যায় অধিক হবে। তিনি মক্কাকে এমন এক বন্ধ্যা নারীর সাথে তুলনা করেছেন যে সন্তান জন্ম দেয়নি, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনের পূর্বে সেখানে ইসমাইল ছাড়া আর কোনো নবী ছিলেন না এবং সেখানে কোনো কিতাবও নাযিল হয়নি। আর 'বন্ধ্যা' দ্বারা বাইতুল মাকদিসকে উদ্দেশ্য করা সমীচীন নয়; কারণ সেটি নবীদের আবাসস্থল এবং ওহী অবতরণের কেন্দ্রস্থল। তাই তাকে নারীদের মধ্যে বন্ধ্যার সাথে তুলনা করা চলে না।

 

‌মক্কা প্রসঙ্গে ইশাইয়াতে আরও বর্ণিত হয়েছে:

«আমি নিজের নামে শপথ করেছি; যেমন নূহের সময়ের দিনগুলোতে শপথ করেছিলাম যে, আমি মহাপ্লাবন দ্বারা ভূমিকে নিমজ্জিত করব না; তদ্রূপ আমি শপথ করেছি যে, আমি তোমার ওপর রাগান্বিত হব না এবং তোমাকে বর্জন করব না। পাহাড়সমূহ অপসারিত হতে পারে এবং টিলাসমূহ ধসে পড়তে পারে, কিন্তু তোমার ওপর থেকে আমার নেয়ামত অপসারিত হবে না», অতঃপর তিনি বলেন: «হে নিঃস্ব, হে উৎপীড়িত, এই তো আমি; তোমার পাথরগুলোকে সৌন্দর্য দ্বারা নির্মাণ করব, তোমাকে মণি-মুক্তা দিয়ে সুশোভিত করব, তোমার ছাদ মুক্তা দ্বারা এবং তোমার প্রবেশদ্বারগুলো যমররদ দ্বারা সজ্জিত করব। তুমি জুলুম থেকে দূরে থাকবে, তাই দুর্বলতাকে ভয় করো না এবং হীনবল হয়ো না। যে অস্ত্রই তৈরি করা হোক না কেন তা তোমার বিরুদ্ধে কার্যকর হবে না, এবং যে জিহ্বা বা ভাষাই তোমার সাথে বিবাদে লিপ্ত হবে, তুমি তার বিরুদ্ধে জয়ী হবে।»
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৭৯)
ثم قال: «وسيسميك الله اسمًا جديدًا»، يريد أن سُمِّي المسجد الحرام، وكان قبل ذلك يُسمَّى الكعبة: «فقومي فأشرقي، فإنه قد دنا نورك ووقار الله عليك، انظري بعينك حولك، فإنهم مجتمعون، يأتوك بنوك وبناتك عَدْوًا، فحينئذ تسرين وتزهرين، ويخاف عدوك ويتسع قلبك، وكل غنم قيدار تجمع إليك، وسادات نباوث يخدمونك»، ونباوث هو: ابن إسماعيل، وقيدار هو: أبو النبي، وهو: أخو نباوث.
এরপর তিনি বললেন: «এবং আল্লাহ তোমার এক নতুন নামকরণ করবেন», এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে এর নাম রাখা হয়েছে মসজিদে হারাম, আর এর আগে এর নাম ছিল কাবা: «সুতরাং ওঠো ও আলোকিত হও, কেননা তোমার জ্যোতি নিকটবর্তী হয়েছে এবং আল্লাহর গাম্ভীর্য তোমার ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। তোমার চারদিকে তাকাও, কেননা তারা সমবেত হচ্ছে, তোমার পুত্র ও কন্যারা দৌড়ে তোমার কাছে আসছে; তখন তুমি আনন্দিত ও প্রফুল্ল হবে, তোমার শত্রু ভীত হবে এবং তোমার অন্তর প্রশস্ত হবে। আর কেদারের সমস্ত মেষপাল তোমার কাছে একত্রিত করা হবে এবং নাবায়োতের সর্দাররা তোমার সেবা করবে।» আর নাবায়োত হলো: ইসমাইলের পুত্র, এবং কেদার হলো: নবীর পূর্বপুরুষ, আর সে হলো: নাবায়োতের ভাই।
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৮০)
ثم قال: «وتفتح أبوابك دائمًا الليل والنهار لا تغلق، ويتخذونك قبلة، وتدعين بعد ذلك مدينة إليا»، أي: بيت الله تعالى.

 

‌‌وفي موضع آخر من شعيا:

«ارفعي إلى من حولك بصرك فستبتهجين وتفرحين؛ من أجل أنه تميل إليك ذخائر البحر، ويحج إليك عساكر الأمم؛ حتى تعمرك قطر الإبل الموبلة، وتضيق أرضك عن القطرات التي تجتمع إليك، وتساق إليك كباش مدين، ويأتيك أهل سبأ، ويسير إليك بأغنام قاذار. ويخدمك رجالات نباوث»، يعني: سدنة البيت، أنهم من ولد نباوث بن إسماعيل.

 

‌‌ذكر طريق مكة في شعيا:

وفي شعيا عن الله: «إني أعطي البادية كرامة، وبها الكرمال»، ......
এরপর তিনি বলেন: «এবং তোমার দরজাগুলো রাত-দিন সর্বদা খোলা থাকবে, কখনো বন্ধ হবে না; তারা তোমাকে কিবলা হিসেবে গ্রহণ করবে এবং এরপর তোমাকে ইলিয়া নগরী হিসেবে ডাকা হবে», অর্থাৎ: মহান আল্লাহর ঘর।

 

‌‌ইশাইয়ার অন্য এক স্থানে রয়েছে:

«তোমার চারপাশের দিকে তোমার দৃষ্টি তোলো, তবেই তুমি আনন্দিত ও প্রফুল্ল হবে; কারণ সমুদ্রের ধনভাণ্ডার তোমার দিকে ধাবিত হবে এবং জাতিসমূহের বাহিনীসমূহ তোমার কাছে হজ্জ করতে আসবে; এমনকি উটের পালের সারি তোমাকে জনাকীর্ণ করবে এবং তোমার নিকট সমবেত হওয়া পালের আধিক্যে তোমার ভূমি সংকীর্ণ হয়ে পড়বে। মাদয়ানের মেষগুলো তোমার দিকে তাড়িয়ে আনা হবে, সাবার অধিবাসীগণ তোমার কাছে আসবে এবং কাদার-এর মেষপাল তোমার দিকে চালিত হবে। আর নাবাউতের ব্যক্তিরা তোমার সেবা করবে», অর্থাৎ: পবিত্র ঘরের খাদেমগণ, কারণ তারা ইসমাইলের পুত্র নাবাউতের বংশধর।

 

‌‌ইশাইয়ার গ্রন্থে মক্কার পথের বর্ণনা:

এবং ইশাইয়ায় আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণিত আছে: «নিশ্চয়ই আমি মরুভূমিকে মর্যাদা দান করব এবং তাতে আঙুর বাগান দান করব», ......
(খণ্ড: ১) আলামু রাসূলিল্লাহিল মুনযালা আলা রুসুলিহি (পৃষ্ঠা: ১৮১)
وكرمال ولبنان: الشام وبيت المقدس، يريد: أجعل الكرامة التي كانت هناك بالوحي وظهور الأنبياء للبادية بالحج وبالنبي صلى الله عليه وسلم.

ثم قال: «ويشق في البادية مياه وسواقي أرض الفلاة، ويكون الفيافي والأماكن العطاش ينابيع ومياها، ويصير هناك محجة، وطريق الحرام لا يمر به أنجاس الأمم، والجاهلية لا تصل هناك، ولا يكون به سباع ولا أسد، ويكون هناك ممر المخلصين».

وفي كتاب حزقيل أنه ذكر معاصي بني إسرائيل وشبههم بكرمة غذاها فقال: «لم تلبث تلك الكرامة أن قلعت بالسخطة، ورمى بها عن الأرض، وأحرقت السماء ثم ثمارها، فعند ذلك غرس عرش في البدو، وفي الأرض المهمة العطشى، وخرجت من أغصانها الفاضلة نار أكلت ثمار تلك؛ حتى لم يوجد فيها عصا قوية ولا قضيب».
এবং কারমাল ও লেবানন: সিরিয়া ও বাইতুল মুকাদ্দাস; তিনি বুঝাতে চেয়েছেন: ওহী ও নবীদের আবির্ভাবের মাধ্যমে সেখানে যে মর্যাদা বিদ্যমান ছিল, তা আমি হজ্জ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে মরুপ্রান্তরের জন্য নির্ধারিত করব।

এরপর তিনি বললেন: «আর মরুপ্রান্তরে পানি ও মরুভূমির নালাসমূহ বিদীর্ণ হবে, এবং বিস্তীর্ণ প্রান্তর ও তৃষ্ণার্ত স্থানসমূহ ঝরনা ও জলাশয়ে পরিণত হবে। সেখানে একটি রাজপথ তৈরি হবে, পবিত্র পথে অপবিত্র জাতিসমূহ অতিক্রম করবে না এবং জাহেলিয়াত সেখানে পৌঁছাবে না। সেখানে কোনো হিংস্র জন্তু বা সিংহ থাকবে না এবং তা হবে একনিষ্ঠদের যাতায়াতের পথ»।

হিযকীল-এর কিতাবে বর্ণিত আছে যে, তিনি বনী ইসরাঈলের পাপাচারসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং তাদেরকে একটি লালিত আঙ্গুরলতার সাথে তুলনা করে বলেছেন: «সেই মর্যাদা বিলীন হতে দেরি হয়নি বরং তা ক্রোধের বশবর্তী হয়ে উপড়ে ফেলা হয়েছে, জমিন থেকে তা ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং আকাশ তার ফলসমূহ পুড়িয়ে দিয়েছে। সেই সময়ে মরুপ্রান্তরে এবং তৃষ্ণার্ত নির্জন ভূমিতে একটি আরশ স্থাপন করা হলো, এবং তার শ্রেষ্ঠ শাখাগুলো থেকে এমন আগুন নির্গত হলো যা সেই ফলগুলোকে গ্রাস করে নিল; এমনকি সেখানে কোনো শক্তিশালী লাঠি বা দণ্ডও অবশিষ্ট রইল না»।