(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
تلقيح الأفهام العلية بشرح القواعد الفقهية القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: تلقيح الأفهام العلية بشرح القواعد الفقهية
المؤلف: وليد بن راشد السعيدان
راجعه وعلق عليه: الشيخ سلمان بن فهد العودة
[الكتاب مرقم آليا]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ফিকহী মূলনীতিসমূহের ব্যাখ্যা সংবলিত উচ্চতর প্রজ্ঞার বিকাশ বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ
বই: ফিকহী মূলনীতিসমূহের ব্যাখ্যা সংবলিত উচ্চতর প্রজ্ঞার বিকাশ
লেখক: ওয়ালীদ বিন রাশেদ আল-সাঈদান
পর্যবেক্ষণ ও টীকা প্রদান করেছেন: শায়খ সালমান বিন ফাহাদ আল-আওদাহ
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
القاعدة الأولى
1 - العبادات الواردة على وجوهٍ متنوعة تفعل على جميع وجوهها في أوقاتٍ مختلفةاعلم - رحمك الله تعالى - أن العبادات المشروعات نوعان: وذلك التقسيم باعتبار كيفياتها.
الأول: عبادات ليس لها إلا كيفية واحدة لا تتغير ولا تتبدل، فمن أصل شرعيتها شرعت على وجهٍ واحدٍ فقط، كالصلاة المفروضة مثلاً عدد ركعاتها ليس لها إلا وجه وحد، فصلاة الفجر ليس لها إلا كيفية واحدة وكذلك بقية الصلوات المفروضة (1) ، وكذلك صوم رمضان لم يشرع إلا صفة واحدة وهو الإمساك عن المفطرات من طلوع الفجر الثاني إلى غروب الشمس.
فهذا النوع من العبادات لا يدخل معنا في هذه القاعدة ولا تعلق له بها؛ لأن الواجب فيه هو فعله على هذه الصفة التي شرع عليها فقط.
والنوع الثاني: عبادات شرعت على كيفيات متنوعة، بحيث ثبت الدليل الصحيح بجواز فعلها على هذه الصفة وهذه الصفة، فهذه العبادات هي مناط قاعدتنا التي نحن بصدد شرحها، فكيف نفعل مع هذا النوع من العبادات؟ هل نقول: إن الشريعة متعارضة لأنها فعلت عبادة واحدة على وجوهٍ متنوعة؟ أو نقول: إننا نبحث عن الكيفية المتأخرة حتى تكون ناسخة لما قبلها من الصفات؟ أو نقول: نرجح بين هذه الكيفيات؟ أم نقول: بأننا نختار صفة واحدة منها وندع الباقي؟ هذه أسئلة تتوجه على هذا النوع من العبادات وإليك الإجابة عنها بالتفصيل:
السؤال الأول: هل الشريعة متعارضة بهذا التشريع؟
الجواب: بالطبع لا، فإننا نعتقد اعتقادًا جازمًا لاشك فيه أنه لا تعارض أبدًا بين الأدلة الشرعية الصحيحة؛ لأنها من عند حكيمٍ حميد، لا يأتيها الباطل من بين يديها ولا من خلفها، وإثبات التعارض بينها اختلاف وتناقض يجب تنزيه الشريعة عنه فالكل من عند الله، ولو كان من عند غيره لوجدنا فيه اختلافًا وتناقضًا كثيرًا.
--------------------------------------------
প্রথম নীতি
১ - যে সকল ইবাদত বিভিন্ন পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে, তা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সকল পদ্ধতিতেই পালন করা হবেজেনে রাখুন - আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি রহম করুন - শরিয়তসম্মত ইবাদতসমূহ দুই প্রকার। এই বিভাজন মূলত সেগুলোর পদ্ধতির বিবেচনায়।
প্রথম প্রকার: এমন ইবাদত যার কেবল একটিই পদ্ধতি রয়েছে যা পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হয় না। এটি শরিয়তভুক্ত হওয়ার মূল অবস্থা থেকেই শুধুমাত্র একভাবেই বিধিবদ্ধ হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ফরজ সালাত; এর রাকাত সংখ্যার কেবল একটিই পদ্ধতি রয়েছে। যেমন ফজর সালাতের কেবল একটিই পদ্ধতি, তেমনিভাবে অন্যান্য ফরজ সালাতসমূহেরও (১), অনুরূপভাবে রমজানের সিয়ামও কেবল এক পদ্ধতিতেই বিধিবদ্ধ হয়েছে, আর তা হলো দ্বিতীয় ফজর উদয় হওয়া থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সিয়াম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা।
ইবাদতের এই প্রকারটি আমাদের এই নীতির অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এর সাথে এই নীতির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই; কারণ এতে ওয়াজিব হলো এটি যে পদ্ধতিতে বিধিবদ্ধ হয়েছে ঠিক সেভাবেই তা পালন করা।
আর দ্বিতীয় প্রকার: এমন ইবাদত যা বিভিন্ন পদ্ধতিতে বিধিবদ্ধ হয়েছে, যার ফলে এই পদ্ধতিতে বা ঐ পদ্ধতিতে তা পালন করা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে সহিহ দলিল প্রমাণিত হয়েছে। এই প্রকারের ইবাদতগুলোই আমাদের আলোচ্য নীতির মূল ভিত্তি যা আমরা ব্যাখ্যা করছি। তবে এই প্রকারের ইবাদতগুলোর ক্ষেত্রে আমরা কী করব? আমরা কি বলব যে, শরিয়তের বিধানে বৈপরীত্য রয়েছে যেহেতু একই ইবাদত বিভিন্ন পদ্ধতিতে পালন করা হয়েছে? অথবা আমরা কি পরবর্তী পদ্ধতির সন্ধান করব যাতে এটি পূর্বের পদ্ধতিগুলোর জন্য রহিতকারী হিসেবে গণ্য হয়? অথবা আমরা কি এই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেব? নাকি আমরা এর মধ্য থেকে কেবল একটি পদ্ধতি বেছে নেব এবং বাকিগুলো বর্জন করব? এই প্রকারের ইবাদতগুলোর ক্ষেত্রে এই প্রশ্নগুলো সামনে আসে এবং নিচে এগুলোর বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো:
প্রথম প্রশ্ন: এই বিধানের মাধ্যমে কি শরিয়তে বৈপরীত্য সৃষ্টি হয়?
উত্তর: অবশ্যই না। কারণ আমরা দৃঢ়ভাবে ও নিঃসঙ্কোচে বিশ্বাস করি যে, সহিহ শরয়ি দলিলসমূহের মধ্যে কখনোই কোনো বৈপরীত্য নেই; কারণ এগুলো প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এর সামনে বা পেছন থেকে কোনো বাতিল এতে প্রবেশ করতে পারে না। আর দলিলসমূহের মধ্যে বৈপরীত্য সাব্যস্ত করা হলো মতভেদ ও স্ববিরোধিতা, যা থেকে শরিয়তকে পবিত্র রাখা আবশ্যক। কেননা সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে আমরা এতে অনেক মতভেদ ও বৈপরীত্য পেতাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
فهذا السؤال لا يمكن أن يقوله مسلم يعرف كمال الشريعة ويعرف عظمة الله وحكمته البالغة، فهو سؤال باطل ولأننا يمكن أن نجمع بين هذه الوجوه، وإذا أمكن الجمع فلا تعارض.
وأما السؤال الثاني: وهو ادعاء نسخ المتقدم بالمتأخر:
فهو باطل أيضاً؛ لأن النسخ فيه إبطال لأحد الدليلين، ولا يجوز إبطال شيء من الشرع إذا كان العمل به ممكنًا، فلا نقول بالنسخ إلا إذا لم يمكن العمل بكلا الدليلين وهنا يمكن العمل بكلا الدليلين فلا ننتقل إلى النسخ، لأن إعمال الدليلين أولى من إهمال أحدهما ما أمكن، فهذا السؤال باطل أيضًا.
وأما السؤال الثالث: وهو البحث عن الترجيح:
فإن معنى الترجيح هو إبطال الدليل المرجوح إبطالاً تامًا فهو أعظم من النسخ، لأن النسخ إعمال لكلا الدليلين لكن في وقتين مختلفين فالدليل المنسوخ يعمل به قبل النسخ والدليل الناسخ يعمل به بعد النسخ، فالناسخ أبطل الدليل المنسوخ بعد تقرره أعني تقرر الناسخ. وأما الترجيح فهو إبطال للعمل بالدليل المرجوح مطلقًا بحيث أنه يكون دليلاً لم يعمل به قط ولذلك الأصوليون يجعلون الترجيح بين الأدلة متأخرًا في الرتبة عن النسخ إذا جاءوا يجمعون بين الأدلة المتعارضة في الظاهر، فإذا كنا لم نرض بالنسخ فمن باب أولى أننا نبطل سؤال الترجيح.
وأما السؤال الرابع: وهو اختيار أحد هذه الصفات والعمل به وترك الصفات الأخرى:
فهو باطل؛ لأنه ترجيح للصفة المعمول بها ولا مرجح لها؛ ولأن فيه إبطال للصفات الأخرى وهي مشروعة بدليل صحيح وإبطال أو إنكار شيء من الشرع لا يجوز، بل قد يكون كفرًا - والعياذ بالله تعالى -.
فإذا قلت: إذًا كيف العمل في هذا النوع من العبادات؟
এই প্রশ্নটি এমন কোনো মুসলিম করতে পারে না যে শরীয়তের পূর্ণতা এবং আল্লাহর মহিমা ও তাঁর প্রগাঢ় হিকমত (প্রজ্ঞা) সম্পর্কে অবগত। সুতরাং এটি একটি বাতিল প্রশ্ন। আর যেহেতু আমরা এই দিকগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে পারি, তাই সমন্বয় করা সম্ভব হলে কোনো বৈপরীত্য থাকে না।
আর দ্বিতীয় প্রশ্নটি হলো: পরবর্তী দলীলের মাধ্যমে পূর্ববর্তী দলীল রহিত (নাসখ) হওয়ার দাবি করা।
এটিও বাতিল; কারণ রহিতকরণের (নাসখ) মধ্যে দুটি দলীলের একটিকে অকার্যকর করা হয়। অথচ শরীয়তের কোনো কিছুকে অকার্যকর করা বৈধ নয় যতক্ষণ পর্যন্ত সেটির ওপর আমল করা সম্ভব হয়। সুতরাং আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত রহিতকরণের কথা বলব না যতক্ষণ না উভয় দলীলের ওপর আমল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর এখানে উভয় দলীলের ওপর আমল করা সম্ভব, তাই আমরা রহিতকরণের দিকে যাব না। কারণ সম্ভব হলে একটি দলীলকে বাদ দেওয়ার চেয়ে উভয় দলীলের ওপর আমল করাই অধিকতর উত্তম। অতএব, এই প্রশ্নটিও বাতিল।
আর তৃতীয় প্রশ্নটি হলো: প্রাধান্য (তারজীহ) অনুসন্ধান করা।
নিশ্চয়ই প্রাধান্যের অর্থ হলো অপ্রধান (মারজুহ) দলীলটিকে সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর করে দেওয়া। এটি রহিতকরণের (নাসখ) চেয়েও গুরুতর বিষয়। কারণ নাসখ-এর ক্ষেত্রে উভয় দলীলের ওপর আমল করা হয়, তবে তা দুটি ভিন্ন সময়ে। মানসুখ (রহিত) দলীলের ওপর নাসখ হওয়ার আগে আমল করা হয় এবং নাসিখ (রহিতকারী) দলীলের ওপর নাসখ হওয়ার পরে আমল করা হয়। সুতরাং নাসিখ দলীলটি সাব্যস্ত হওয়ার পর মানসুখ দলীলটিকে অকার্যকর করে। কিন্তু প্রাধান্যের (তারজীহ) ক্ষেত্রে অপ্রধান দলীলের ওপর আমল করাকে সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়, যেন সেটি এমন এক দলীল যার ওপর কখনো আমলই করা হয়নি। এই কারণেই উসুলবিদগণ যখন আপাতদৃষ্টিতে বিরোধী দলীলগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে চান, তখন তারা তারজীহ-এর পর্যায়কে নাসখ-এর পরবর্তী স্তরে রাখেন। সুতরাং যখন আমরা নাসখ-কেই গ্রহণ করছি না, তখন স্বাভাবিকভাবেই তারজীহ-এর প্রশ্নটিকেও বাতিল গণ্য করব।
আর চতুর্থ প্রশ্নটি হলো: এই বৈশিষ্ট্যসমূহের (সিফাত) মধ্য থেকে কোনো একটিকে বেছে নেওয়া ও সে অনুযায়ী আমল করা এবং অন্য বৈশিষ্ট্যগুলো বর্জন করা।
এটিও বাতিল; কারণ এটি আমলকৃত বৈশিষ্ট্যের কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই প্রাধান্য দান। তাছাড়া এতে অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলোকে অকার্যকর করা হয়, অথচ সেগুলো সহীহ দলীলের মাধ্যমে প্রমাণিত। আর শরীয়তের কোনো কিছুকে অকার্যকর করা বা অস্বীকার করা বৈধ নয়; বরং এটি কুফরিও হতে পারে—আমরা আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই।
এখন যদি আপনি বলেন: তাহলে এ ধরনের ইবাদতগুলোর ক্ষেত্রে আমলের পদ্ধতি কী?
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
أقول: العمل في هذا النوع من العبادات هو ما ورد في هذه القاعدة، وهو أننا نفعل هذه العبادة على جميع كيفياتها وصفاتها الواردة، فلا نترك صفة واحدة، فنفعلها على هذا الوجه تارة، وعلى الآخر تارة أخرى، وهكذا لأن كل صفة منها قد ثبتت بدليل شرعي صحيح وما ثبت بدليل صحيح فإنه يشرع العمل به ولا يجوز إبطاله، وهذا هو الجواب الصحيح الذي لا يجوز غيره ففيه الجمع بين الأدلة الشرعية، وبه تتآلف ولا يكون بينها اختلاف بوجه، إذا علم هذا فاعلم أن هذا التنويع في كيفية بعض العبادات من كمال الشريعة الإسلامية ومصداقاً لقوله تعالى: {الْيَوْمَ أكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمْ الإِسْلامَ دِينًا} ثم اعلم أن هذا القول الراجح أعني فعل العبادة على جميع وجوهها له فوائد كثيرة:
فمن ذلك: حفظ الشريعة وعدم ضياع أو نسيان شيء منها، فإننا إذا فعلنا العبادة على جميع وجوهها نكون بذلك قد حفظنا جميع وجوهها من النسيان وهذا يدخل في إحياء السنن وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من أحيا سنة من سنتي قد أميتت فله أجرها وأجر من عمل بها) .
ومن ذلك: تنويع العبادة على النفس حتى لا تمل فإن النفس غالبًا تحب التجديد وهذه الصفات المتعددة تشبع رغبة النفس في التبديل والتجديد فتكون النفس على نشاطٍ من فعلها دائمًا، فالنفس تحب ما كان متغيرًا متجددًا أكثر من حبها لما هو ثابت على صفة واحدة.
আমি বলি: এই ধরণের ইবাদতগুলোর ক্ষেত্রে আমল করার পদ্ধতি হলো সেই নীতি যা বর্ণিত হয়েছে, আর তা হলো—আমরা এই ইবাদতগুলো এর বর্ণিত সকল পদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আদায় করব। আমরা কোনো একটি বৈশিষ্ট্যকেও বর্জন করব না; বরং কখনো এই পদ্ধতিতে আদায় করব, আবার কখনো অন্য পদ্ধতিতে। এভাবেই চলতে থাকবে, কারণ এর প্রতিটি বৈশিষ্ট্যই সহীহ শরয়ী দলীল দ্বারা প্রমাণিত। আর যা সহীহ দলীল দ্বারা প্রমাণিত, তার ওপর আমল করা বিধিবদ্ধ এবং তা বাতিল করা বৈধ নয়। এটিই হলো সঠিক উত্তর যা ব্যতীত অন্য কিছু সমীচীন নয়। কেননা এর মাধ্যমেই শরয়ী দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয় এবং এর মাধ্যমে দলীলগুলোর মাঝে সামঞ্জস্য তৈরি হয় ও কোনোভাবেই সেগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য থাকে না। যখন এটি জানা হলো, তখন জেনে রাখুন যে, কিছু ইবাদতের পদ্ধতির এই বৈচিত্র্য ইসলামী শরীয়তের পূর্ণতার অন্তর্ভুক্ত এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর সত্যতার প্রমাণ: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" এরপর জেনে রাখুন যে, এই অগ্রগণ্য মতটি—অর্থাৎ ইবাদতকে এর সকল পদ্ধতিতে আদায় করা—এর অনেক উপকারিতা রয়েছে:
তার মধ্যে একটি হলো: শরীয়তকে সংরক্ষণ করা এবং এর কোনো অংশ হারিয়ে যাওয়া বা ভুলে যাওয়া থেকে রক্ষা করা। কেননা আমরা যখন ইবাদতকে এর সকল পদ্ধতিতে আদায় করব, তখন এর মাধ্যমে আমরা এর সকল রূপকে বিস্মৃতি থেকে রক্ষা করতে পারব। এটি সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহসমূহের মধ্য থেকে এমন কোনো সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করল যা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, তবে সে এর সওয়াব পাবে এবং যারা এর ওপর আমল করবে তাদের সওয়াবের সমপরিমাণ সওয়াবও সে পাবে।"
আরেকটি হলো: মনের জন্য ইবাদতে বৈচিত্র্য আনা যাতে তা একঘেয়েমিতে আক্রান্ত না হয়। কারণ মন সাধারণত নতুনত্ব পছন্দ করে। আর এই নানাবিধ বৈশিষ্ট্যগুলো পরিবর্তন ও নতুনত্বের প্রতি মনের আকাঙ্ক্ষাকে তৃপ্ত করে, ফলে মন সর্বদা তা পালনে উদ্যমী থাকে। কেননা মন একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের ওপর স্থির থাকার চেয়ে পরিবর্তনশীল ও নতুনত্বপূর্ণ বিষয়কে বেশি পছন্দ করে।
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
ومن ذلك: دوام استحضار النية عند العمل وعدم أخذه عادة فإن بعض الناس قد اتخذ العبادات ذات الصفة الواحدة عادة لا عبادة؛ لأن جسمه قد تعود على حركاتها فيأتي بها بلا خشوع ولا حضور قلب، كالصلاة مثلاً فبعض الناس قد تعود على حركاتها فتجده يكبر للإحرام ثم يكملها فإذا سلم إذا به لا يعرف ماذا قرأ وهل ركع أو سجد، فلا نية ولا خشوع لكن العبادات التي لها وجوه متنوعة تجعل الإنسان يستحضر صفتها التي سيفعلها عليه قبل الشروع فيها فيأتي بها شيئًا فشيئًا بنية حاضرة وقلبٍ خاشع وهذا مقصد بحد ذاته.
ومن ذلك: نشرها بين الناس حتى لا تنكر فإننا لو داومنا على صفةٍ من صفات هذه العبادة وتركنا ما عداها، بحيث لا يعرف الناس لهذه العبادة إلا هذه الصفة، فإننا لو غيرناها إلى صفةٍ أخرى ثبتت بدليل صحيح فإن الناس سوف ينكرون ذلك فيقعون في المحظور وهو إنكار شيء من الشرع، لكن لو فعلت هذه العبادة على جميع وجوهها وعرفها الناس بجميع صفاتها لما وقعوا فيما قد وقعوا فيه من قبل وهذا واضح محسوس.
ومن ذلك: أننا نعتقد أن الشارع حكيم لا يشرع شيئًا إلا وفيه حكمة بالغة علمها من علمها وجهلها من جهلها، فكل صفة من هذه الصفات لهذه العبادة تتضمن حكمة بالغة فلو اقتصرنا على بعضها دون بعض لفوتنا مصلحة الصفات المتروكة لكن لو فعلنا جميع الصفات فإننا سوف نكون حزنا جميع هذه الحكم والمصالح ولم نفوت شيئاً منها أبدًا وهذا مطمع كل مؤمن عاقل - والله المستعان -.
إذا علمت هذا فاعلم أن هذه العبادات أعني التي وردت على وجوه متنوعة لا تخلو من حالتين: إما أن يسوغ فعل جميع وجوهها في وقت واحد بحيث لا تتنافى مع بعضها لو جمعت كلها في فعلٍ أو وقتٍ واحد.
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আমলের সময় সর্বদা নিয়তকে উপস্থিত রাখা এবং একে নিছক অভ্যাসে পরিণত না করা। কেননা কিছু মানুষ একক পদ্ধতিবিশিষ্ট ইবাদতগুলোকে ইবাদত হিসেবে না নিয়ে বরং অভ্যাস হিসেবে গ্রহণ করেছে; কারণ তাদের দেহ এর অঙ্গভঙ্গিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, ফলে তারা এতে একাগ্রতা ও হৃদয়ের উপস্থিতি ছাড়াই তা সম্পাদন করে। উদাহরণস্বরূপ সালাতের কথা বলা যায়; কিছু মানুষ এর অঙ্গভঙ্গিতে এমন অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে, আপনি তাকে দেখবেন সে তাকবীরে তাহরীমা বলল এবং এরপর সালাত সম্পন্ন করল, কিন্তু যখন সে সালাম ফেরাল তখন সে জানেই না যে সে কী পাঠ করেছে অথবা সে রুকু বা সিজদা করেছে কি না। ফলে সেখানে না থাকে নিয়ত, না থাকে খুশু। কিন্তু যেসব ইবাদতের বৈচিত্র্যময় পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলো মানুষকে তা শুরু করার পূর্বেই সে কোন পদ্ধতিতে এটি সম্পাদন করবে তা স্মরণ করতে বাধ্য করে। ফলে সে উপস্থিত নিয়ত ও বিনীত অন্তরের সাথে ধাপে ধাপে তা সম্পাদন করে, আর এটি নিজেই একটি স্বতন্ত্র উদ্দেশ্য।
এর অন্তর্ভুক্ত আরও হলো: মানুষের মাঝে এর প্রসার ঘটানো যাতে তা অস্বীকৃত না হয়। কারণ আমরা যদি এই ইবাদতের কোনো একটি পদ্ধতির ওপর স্থায়ী থাকি এবং অন্যগুলো বর্জন করি, এমনভাবে যে মানুষ এই ইবাদতের কেবল এই পদ্ধতিটিই চেনে, তবে আমরা যদি সহীহ দলীল দ্বারা প্রমাণিত অন্য কোনো পদ্ধতিতে তা পরিবর্তন করি, তবে মানুষ তা অস্বীকার করবে। ফলে তারা নিষিদ্ধ বিষয়ে লিপ্ত হবে, আর তা হলো শরীয়তের কোনো বিষয়কে অস্বীকার করা। কিন্তু যদি এই ইবাদতটি এর সকল পদ্ধতিতে পালন করা হয় এবং মানুষ এর সকল পদ্ধতির সাথে পরিচিত থাকে, তবে তারা পূর্বে যে অবস্থায় পড়েছিল তাতে পড়বে না। আর এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও অনুভবযোগ্য।
এর অন্তর্ভুক্ত আরও হলো: আমরা বিশ্বাস করি যে, শরীয়ত প্রণেতা পরম প্রজ্ঞাময়, তিনি কোনো বিধান দেন না যাতে সুগভীর প্রজ্ঞা নিহিত নেই; যে জানার সে তা জানে আর যে জানে না সে জানে না। সুতরাং এই ইবাদতের প্রতিটি পদ্ধতির মধ্যেই সুগভীর প্রজ্ঞা নিহিত রয়েছে। যদি আমরা কিছু পদ্ধতির ওপর সীমাবদ্ধ থেকে অন্যগুলো ছেড়ে দেই, তবে আমরা পরিত্যক্ত পদ্ধতিগুলোর কল্যাণ ও উপকারিতা হতে বঞ্চিত হব। কিন্তু যদি আমরা সকল পদ্ধতি অনুসরণ করি, তবে আমরা এই সকল প্রজ্ঞা ও কল্যাণ লাভে ধন্য হব এবং এর কোনো কিছুই আমাদের হাতছাড়া হবে না। আর এটিই প্রত্যেক বুদ্ধিমান মুমিনের কাম্য—আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
আপনি যখন এটি অবগত হলেন, তখন জেনে রাখুন যে, এই ইবাদতগুলো—অর্থাৎ যেগুলো বিভিন্ন পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে—তা দুটি অবস্থার বাইরে নয়: হয় সেগুলোর সকল পদ্ধতি একই সময়ে আদায় করা বৈধ হবে, যাতে এক সাথে সকল পদ্ধতি কোনো একটি কাজে বা একই সময়ে একত্রিত করলে একটি অন্যটির সাথে সাংঘর্ষিক না হয়।
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وإما أن لا يسوغ ذلك، فإن ساغ جمعها في فعلٍ أو وقتٍ واحد فلا بأس أن تفعل جميعًا في وقتٍ واحد كأذكار الركوع والسجود ونحوها (1) ، وإن كان جمعها في فعلٍ أو وقتٍ واحدٍ لا يجوز فإننا نفردها فنفعل هذه العبادة على صفاتها المتنوعة في أفعالٍ أو أوقاتٍ متعددة كالأذان والإقامة على ما سيأتي توضيحه - إن شاء الله تعالى -، إذا علمت هذا فإلى الفروع حتى تتضح القاعدة ويزول الإشكال: فأقول:
منها: الأذان: فهو عبادة وردت بصفتين لا ثالث لها، الصفة الأولى: أذان بلال. والصفة الثانية: أذان أبي محذورة، فأذان بلال هو الوارد في حديث عمر الطويل الذي رواه مسلم، وفي حديث عبد الله بن زيد بن عبد ربه الذي رواه أحمد وأبو داود وغيرهما وهو أذاننا المشهور في بلادنا السعودية – حفظها الله في طاعته – وليس فيه ترجيع، وأما أذان أبي محذورة فقد رواه مسلم وأصحاب السنن إلا أن مسلمًا ذكر التكبير في أوله مرتين ورواه الخمسة فذكروه مربعًا، وهو بترجيع، والترجيع هو قول الشهادتين بصوت منخفض يسمعه القريب ثم إعادتهما بصوتٍ مرتفع يسمعه البعيد، وهو الأذان المشهور في الدولة العثمانية في زمنها، فإذًا السنة هو أن نؤذن بأذان أبي محذورة في وقتٍ أو قطرٍ ونؤذن بأذان بلال في وقتٍ آخر أو قطرٍ آخر ولا يجوز أن يؤذن المؤذن الواحد في الوقت الواحد بأذانين بهذا وبهذا فهذا من البدعة ولكن يُؤَذِّن بهذا تارة وبهذا تارة وهذا واضح.
--------------------------------------------
অথবা যদি এটি সম্ভব না হয়, তবে যদি সেগুলোকে একটি কাজ বা একটি সময়ে একত্রিত করা বৈধ হয়, তবে সেগুলোকে রুকু ও সিজদার যিকির এবং তদনুরূপ অন্যান্য বিষয়ের মতো একই সময়ে পালন করাতে কোনো অসুবিধা নেই (১)। আর যদি সেগুলোকে একটি কাজ বা একটি সময়ে একত্রিত করা জায়েয না হয়, তবে আমরা সেগুলোকে পৃথক পৃথকভাবে আদায় করব। সুতরাং আমরা এই ইবাদতকে এর বিভিন্ন পদ্ধতি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন কাজে বা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পালন করব, যেমন আযান ও ইকামতের ক্ষেত্রে; যার ব্যাখ্যা সামনে আসবে—ইনশাআল্লাহ তাআলা। যখন আপনি বিষয়টি জানলেন, তখন এর শাখা-প্রশাখাগুলোর দিকে লক্ষ্য করুন যাতে মূলনীতিটি স্পষ্ট হয় এবং সংশয় দূর হয়। আমি বলছি:
তন্মধ্যে একটি হলো: আযান। এটি এমন একটি ইবাদত যা দুটি পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে, যার তৃতীয় কোনোটি নেই। প্রথম পদ্ধতি: বেলালের আযান। দ্বিতীয় পদ্ধতি: আবু মাহযুরার আযান। বেলালের আযান সেটিই যা মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত উমরের দীর্ঘ হাদীসে এসেছে, এবং আহমাদ, আবু দাউদ ও অন্যান্যদের দ্বারা বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ ইবনে আবদু রাব্বিহ-এর হাদীসেও এসেছে। এটিই আমাদের সৌদি আরবে—আল্লাহ একে তাঁর আনুগত্যে হিফাযত করুন—প্রচলিত প্রসিদ্ধ আযান, এবং এতে 'তারজী' (শাহাদাতাইন নিচু স্বরে বলার পর পুনরায় উচ্চ স্বরে বলা) নেই। আর আবু মাহযুরার আযান মুসলিম এবং সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন। তবে মুসলিম এর শুরুতে তাকবীর দুইবার উল্লেখ করেছেন, আর পাঁচজন হাদীস গ্রন্থকার এটি বর্ণনা করেছেন এবং তারা চারবার তাকবীর উল্লেখ করেছেন। এটি 'তারজী' বিশিষ্ট আযান। আর 'তারজী' হলো কালিমায়ে শাহাদাতদ্বয় নিম্নস্বরে বলা যা নিকটবর্তী ব্যক্তিরা শুনতে পায়, অতঃপর তা উচ্চস্বরে পুনরায় বলা যা দূরবর্তী ব্যক্তিরা শুনতে পায়। এটি উসমানী খিলাফতের আমলে তাদের সময়ে প্রসিদ্ধ আযান ছিল। সুতরাং সুন্নাত হলো এই যে, আমরা কোনো সময়ে বা কোনো অঞ্চলে আবু মাহযুরার আযান দেব এবং অন্য সময়ে বা অন্য অঞ্চলে বেলালের আযান দেব। একই মুয়াজ্জিনের জন্য একই সময়ে এই পদ্ধতিতে এবং ঐ পদ্ধতিতে—উভয়ভাবে আযান দেওয়া জায়েয নয়, কারণ এটি বিদআতের অন্তর্ভুক্ত। বরং কখনও এটি দিয়ে আযান দেবে এবং কখনও অন্যটি দিয়ে আযান দেবে; আর এটি স্পষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ومنها: الإقامة: فهي عبادة وردت بصفتين، إقامة بلال وهي بالوتر في غير التكبير والإقامة أي في غير قوله (قد قامت الصلاة) وهي الإقامة المشهورة عندنا في هذه البلاد – زادها الله شرفاً ورفعة – وإقامة أبي محذورة وهي كأذان بلال بالضبط، فمن أذن بأذان بلالٍ سن أن يقيم بإقامته، ومن أذن بأذان أبي محذورة سن أن يقيم كإقامته، فنفعل هذه الإقامة تارة وهذه تارة (1) .
ومنها: صفة التورك في التشهد الأخير في الصلاة التي لها تشهدان: فهو عبادة ورد بثلاث صفات: الأولى: نصب اليمنى وإخراج اليسرى مفروشة تحت ساق اليمنى والقعود على المقعدة.
والثانية: فرش اليمنى وإخراج اليسرى بين فخذ اليمنى وساقها.
والثالثة: هي كالصفة الأولى لكن مع فرش اليمنى، وكلها ثبتت بأدلة صحيحة فمن السنة أن نفعل الصفة الأولى في صلاةٍ والثانية في صلاةٍ أخرى والثالثة في صلاة أخرى وهكذا، والله أعلم.
ومنها: صلاة الخوف فقد وردت على وجوهٍ مختلفة ومن السنة فعلها على جميع وجوهها في أوقاتٍ مختلفة وتفصيل صفاتها يطلب من كتب الحديث.
ومنها: مناسك الحج، من إفرادٍ وتمتعٍ وقران، يسن للإنسان أن يفعلها جميعها في سنين مختلفة، وهذا الفرع في النفس منه شيء؛ لأن بعض هذه الأنساك أفضل من بعض بالدليل الشرعي.
ومنها: ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم توضأ مرتين مرتين وثلاثًا ثلاثًا، وبعض الأعضاء ثلاثًا وبعضها مرتين، فيسن أن نفعل هذه الوجوه في أوقاتٍ مختلفة والله أعلم.
ومنها: صفة صلاة الوتر يسن أن تفعل على جميع وجوهها وهي معروفة في كتب الفقهاء.
--------------------------------------------
এবং তার মধ্যে রয়েছে: ইকামত: এটি এমন এক ইবাদত যা দুটি পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে; বিলালের ইকামতের পদ্ধতি, যা তাকবীর এবং ‘ইকামত’ অর্থাৎ ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’ বাক্যটি ব্যতীত অন্যান্য বাক্যগুলো বেজোড় শব্দে পাঠ করা হয়। এটিই আমাদের এই ভূখণ্ডে—আল্লাহ একে সম্মান ও মর্যাদায় বৃদ্ধি করুন—প্রসিদ্ধ ইকামত। আর আবু মাহযুরার ইকামতের পদ্ধতি, যা হুবহু বিলালের আযানের মতোই। সুতরাং যে ব্যক্তি বিলালের আযানের মতো আযান দিবে, তার জন্য বিলালের ইকামতের মতো ইকামত দেওয়া সুন্নাত। আর যে ব্যক্তি আবু মাহযুরার আযানের মতো আযান দিবে, তার জন্য তার ইকামতের মতো ইকামত দেওয়া সুন্নাত। অতএব আমরা কখনো এই পদ্ধতিতে ইকামত দেব এবং কখনো ওই পদ্ধতিতে ইকামত দেব (১)।
এবং তার মধ্যে রয়েছে: দুই তাশাহহুদ বিশিষ্ট নামাযের শেষ তাশাহহুদে তাওয়াররুক করার পদ্ধতি: এটি এমন এক ইবাদত যা তিনটি পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে: প্রথমটি: ডান পা খাড়া রাখা এবং বাম পা বিছিয়ে দিয়ে ডান পায়ের নলার নিচ দিয়ে বের করে দেওয়া এবং নিতম্বের ওপর বসা।
দ্বিতীয়টি: ডান পা বিছিয়ে দেওয়া এবং বাম পা ডান উরু ও নলার মাঝখান দিয়ে বের করা।
তৃতীয়টি: এটি প্রথম পদ্ধতির মতোই কিন্তু ডান পা বিছানো অবস্থায় থাকবে। এগুলোর প্রতিটিই সহীহ দলীল দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং সুন্নাত হলো কোনো এক সালাতে প্রথম পদ্ধতিটি আমল করা, অন্য সালাতে দ্বিতীয়টি এবং অন্য আরেকটি সালাতে তৃতীয়টি আমল করা। এভাবেই করা উচিত, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
এবং তার মধ্যে রয়েছে: সালাতুল খাওফ (ভীতি অবস্থায় নামায)। এটি বিভিন্ন পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে। সুন্নাত হলো বিভিন্ন সময়ে এর সকল পদ্ধতিই অনুসরণ করা। এর পদ্ধতিগুলোর বিস্তারিত বিবরণ হাদীসের কিতাবসমূহ হতে অন্বেষণ করতে হবে।
এবং তার মধ্যে রয়েছে: হজ্জের নিয়মাবলী, যেমন ইফরাদ, তামাত্তু এবং ক্বিরান। মানুষের জন্য সুন্নাত হলো বিভিন্ন বছরে এর সবগুলোই পালন করা। তবে এই মাসআলাটি নিয়ে অন্তরে কিছুটা দ্বিধা রয়েছে; কারণ শরঈ দলীলের ভিত্তিতে হজ্জের এই প্রকারগুলোর কোনোটি অন্যটির চেয়ে উত্তম।
এবং তার মধ্যে রয়েছে: এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযুতে অঙ্গসমূহ দুই-দুই বার করে এবং তিন-তিন বার করে ধুয়েছেন; আবার কোনো কোনো অঙ্গ তিনবার এবং কোনোটি দুইবারও ধুয়েছেন। সুতরাং সুন্নাত হলো বিভিন্ন সময়ে এই সকল পদ্ধতি অনুসরণ করা, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
এবং তার মধ্যে রয়েছে: বিতর সালাতের পদ্ধতি। এটি এর বর্ণিত সকল পদ্ধতিতে আদায় করা সুন্নাত, যা ফকীহগণের কিতাবসমূহে সুপরিচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
والفروع كثيرة جدًا، وفيما مضى كفاية - إن شاء الله تعالى -، فمن فهم هذه القاعدة فهمًا جليًا فإنه سوف يحل كثيرًا من الخلافات الفقهية التي يثيرها الفقهاء بسبب تنوع هذه الوجوه، والله الموفق والهادي إلى سواء السبيل وهو أعلى وأعلم.
القاعدة الثانية
2 - لا يجوز تقديم العبادة على سبب وجوبها ويجوز بعد السبب وقبل شرط الوجوبوهذه القاعدة أيضًا من القواعد المهمة في الفقه، لكن تنتظر حتى تفهم لمعرفة ما هو سبب العبادة؟ وما هو شرط وجوبها؟ وإليك البيان.
এবং শাখাগত বিষয়সমূহ অত্যন্ত অধিক, আর যা অতিবাহিত হয়েছে তা-ই যথেষ্ট - ইনশাআল্লাহ তাআলা -। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মূলনীতিটি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবে, সে ফকিহগণের উত্থাপিত অনেক ফিকহী মতভেদ নিরসন করতে সক্ষম হবে যা এই দিকগুলোর বৈচিত্র্যের কারণে সৃষ্টি হয়। আর আল্লাহ-ই তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারী, আর তিনি সুউচ্চ ও সর্বজ্ঞ।
দ্বিতীয় মূলনীতি
২ - ইবাদতকে তার ওয়াজিব হওয়ার কারণের পূর্বে সম্পাদন করা জায়েজ নয়, তবে কারণের পর এবং ওয়াজিব হওয়ার শর্তের পূর্বে তা জায়েজ।এই মূলনীতিটিও ফিকহ শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত; তবে ইবাদতের কারণ কী এবং তার ওয়াজিব হওয়ার শর্ত কী—তা বোঝার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। নিম্নে এর বর্ণনা দেওয়া হলো।
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
اعلم – رحمك الله تعالى – أن الشروط نوعان: شروط وجوب، وشروط صحة. والمراد هنا هو شروط الوجوب، أي الشيء الذي لا يتم وجوب العبادة إلا به، كالحنث لوجوب الكفارة فالكفارة في اليمين لا تجب إلا بعد الحنث أي مخالفة مقتضى اليمين، وكذلك زهوق النفس لوجوب كفارة القتل فكفارة القتل يشترط لوجوبها زهوق النفس وهكذا، فالشرط الذي تعنيه القاعدة هو ما لا يتم الوجوب إلا به، لا ما لا يتم الواجب إلا به، فإنه قد تقرر في الأصول أن هناك فرق بين الوجوب والواجب، فشرط الوجوب هو الذي يخصنا في هذه القاعدة فإن شرط الواجب هو ما لا يصح الفعل إلا به، كالطهارة للصلاة والإسلام لصحة العبادات، لكن الفعل يجب بدونه فالصلاة تجب ولو لم يتطهر الإنسان، والعبادات تجب على الكافر ولو لم يسلم، لكن لا تصح الصلاة إلا بالطهارة ولا العبادات إلا بالإسلام، وأما شرط الوجوب فهو الذي لا يتم وجوب العبادة أصلاً إلا به، فإذا تخلف فإنه يتخلف وجوبها، وهذا واضح جداً، وأما السبب الذي نعنيه هنا فهو الذي يتوقف عليه جواز الفعل لا وجوبه، أي إذا تحقق فإنه يجوز الفعل لكن لا يجوز قبل تحققه كعقد اليمين فهو سبب انعقاد الكفارة، والجرح الموت هو سبب انعقاد الدية ودخول وقت الأولى من الصلاة المجموعة سبب لانعقاد فعل الثانية منهما، وهكذا، إذا علمت هذا فإن هذه القاعدة لا تدخل إلا في عبادة لها سبب وجوب وشرط وجوب، أما ما ليس له سبب وجوب فلا تدخل معنا كصيام شهر رمضان وصلاة الفريضة التي ليست بمجموعة إلى غيرها.
إذا علمت هذا فاعلم أن العبادة التي لها سبب وجوب وشرط وجوب لها ثلاث حالات:
জেনে রাখুন—আল্লাহ তাআলা আপনার প্রতি রহম করুন—নিশ্চয়ই শর্তাবলি দুই প্রকার: ওয়াজিব হওয়ার শর্ত এবং শুদ্ধ হওয়ার শর্ত। আর এখানে উদ্দেশ্য হলো ওয়াজিব হওয়ার শর্ত, অর্থাৎ এমন বিষয় যা ছাড়া ইবাদত ওয়াজিব হওয়া পূর্ণ হয় না; যেমন কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার জন্য কসম ভঙ্গ করা। কেননা কসমের ক্ষেত্রে কাফফারা কসম ভঙ্গ করা—অর্থাৎ কসমের দাবির পরিপন্থী কাজ করা—ব্যতিরেকে ওয়াজিব হয় না। অনুরূপভাবে হত্যার কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার জন্য প্রাণহানি ঘটা প্রয়োজন; সুতরাং হত্যার কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত হলো প্রাণহানি ঘটা, এবং এভাবেই অন্যান্য বিষয়। সুতরাং এই নীতিমালায় যে শর্তটি উদ্দেশ্য, তা হলো সেটিই যা ছাড়া 'ওয়াজিব হওয়া' পূর্ণ হয় না; তা নয় যা ছাড়া 'ওয়াজিব কাজ' সম্পন্ন হয় না। কেননা উসুল শাস্ত্রে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, 'ওয়াজিব হওয়া' এবং 'ওয়াজিব'-এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অতএব, ওয়াজিব হওয়ার শর্তই এই নীতিমালার সাথে সংশ্লিষ্ট। কেননা ওয়াজিবের শর্ত হলো সেটি যা ছাড়া কোনো কাজ শুদ্ধ হয় না; যেমন সালাতের জন্য পবিত্রতা এবং ইবাদতসমূহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইসলাম। তবে সেই কাজ বা ইবাদত শর্তটি ছাড়াও ওয়াজিব হয়ে থাকে। যেমন মানুষ পবিত্র না থাকলেও সালাত তার ওপর ওয়াজিব হয়, এবং অমুসলিমের ওপরও ইবাদতসমূহ ওয়াজিব হয় যদিও সে ইসলাম গ্রহণ করেনি। কিন্তু পবিত্রতা ব্যতীত সালাত শুদ্ধ হয় না এবং ইসলাম ব্যতীত ইবাদতসমূহ সঠিক হয় না। আর ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হলো সেটিই যা ছাড়া মূলত ইবাদত ওয়াজিবই হয় না। সুতরাং যদি শর্তটি অনুপস্থিত থাকে, তবে ইবাদত ওয়াজিব হওয়াও রহিত হয়ে যায়; আর এটি অত্যন্ত স্পষ্ট। আর এখানে আমরা যে 'কারণ' উদ্দেশ্য করছি, তা হলো সেটি যার ওপর কাজটি বৈধ হওয়া নির্ভর করে, ওয়াজিব হওয়া নয়। অর্থাৎ সেটি পাওয়া গেলে কাজটি করা জায়েজ হয়, কিন্তু তা পাওয়ার আগে জায়েজ হয় না; যেমন কসমের চুক্তি করা হলো কাফফারা সাব্যস্ত হওয়ার কারণ। এবং জখম বা মৃত্যু হলো রক্তপণ বা দিয়ত সাব্যস্ত হওয়ার কারণ, আর একত্রে দুই সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে প্রথম সালাতের ওয়াক্তে প্রবেশ করা দ্বিতীয় সালাতটি আদায়ের বৈধতার কারণ, এভাবেই চলতে থাকে। আপনি যখন এটি জানলেন, তখন বুঝে নিন যে এই নীতিমালা কেবল সেই ইবাদতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে যার ওয়াজিব হওয়ার কারণ এবং ওয়াজিব হওয়ার শর্ত উভয়ই রয়েছে। কিন্তু যার ওয়াজিব হওয়ার কোনো স্বতন্ত্র কারণ নেই, তা আমাদের এই আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হবে না; যেমন রমজান মাসের সিয়াম এবং এমন ফরজ সালাত যা অন্য সালাতের সাথে জমা করা হয় না ইত্যাদি।
যখন আপনি এটি জানলেন, তখন জেনে রাখুন যে, যে সকল ইবাদতের ওয়াজিব হওয়ার কারণ এবং ওয়াজিব হওয়ার শর্ত রয়েছে, সেগুলোর তিনটি অবস্থা রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
إما أن تفعل قبل سبب وجوبها، وإما أن تفعل بعد تحقق السبب لكن قبل شرط الوجوب، وإما أن تفعل بعد شرط الوجوب، فإذا فعلت قبل سبب الوجوب فإنها لا تصح؛ لأن وقتها بعد لم يتحقق فكأنه صلى الظهر قبل دخول وقتها، وذلك كمن أخرج الكفارة قبل عقد اليمين فإنها تكون صدقة وليست بكفارة، وأما إذا فعلت بعد سبب الوجوب وقبل شرط الوجوب فإن هذا الفعل جائز، كمن أخرج الكفارة بعد عقد اليمين وقبل الحنث، وأما إذا فعلها بعد شرط الوجوب فإنها تجب حينئذٍ كمن كفر بعد الحنث.
وإذا كانت القاعدة بهذا الشرح لازالت لم تفهم فهاك الفروع حتى تتضح أكثر:
فمن ذلك: كفارة اليمين هي عبادة لها سبب وجوب وشرط وجوب، فلا يجوز إخراج الكفارة قبل عقد اليمين؛ لأنه سبب وجوبها، ويجوز إخراجها بعد عقد اليمين وقبل الحنث لتحقق سبب وجوبها، ويجب إخراجها بعد الحنث؛ لأنه شرط وجوبها. وعلى ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: (إني والله إن شاء الله لا أحلف على يمين فأرى غيرها خيرًا منها إلا كفرت عن يميني وأتيت الذي هو خير) فهذا دليل على جواز إخراج الكفارة بعد عقدها وقبل الحنث خلافًا لمن منع ذلك.
ومنها: الصلاة المجموعة كالظهرين والعشائين، يصير وقتهما كالوقت الواحد كما هو معلوم عند الفقهاء، فدخول وقت الأولى منهما أعني الظهر أو المغرب سبب لوجوب فعل الثانية أعني العصر والعشاء، ودخول وقت الثانية شرط لوجوبها، إذًا لا يجوز فعل الصلاة الثانية قبل دخول وقت الأولى، ويجوز فعلها بعد دخول وقت الأولى لتحقق سبب وجوبها لكنها لا تجب، إلا إذا دخل وقتها فتجب حينئذٍ، والله أعلم.
হয় কোনো কাজ ওয়াজিব হওয়ার কারণের পূর্বে করা হয়, অথবা কারণ সংঘটিত হওয়ার পর কিন্তু ওয়াজিব হওয়ার শর্তের পূর্বে করা হয়, অথবা ওয়াজিব হওয়ার শর্তের পরে করা হয়। যদি ওয়াজিব হওয়ার কারণের পূর্বে করা হয়, তবে তা সহিহ হবে না; কারণ তখনো তার সময় উপস্থিত হয়নি, যেমন কেউ যোহরের ওয়াক্ত হওয়ার আগেই যোহরের সালাত আদায় করল। এর উদাহরণ হলো, কেউ শপথ করার আগেই তার কাফফারা প্রদান করল; এমতাবস্থায় তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে, কাফফারা হিসেবে নয়। আর যদি ওয়াজিব হওয়ার কারণের পর কিন্তু ওয়াজিব হওয়ার শর্তের পূর্বে করা হয়, তবে তা করা জায়েয। যেমন কেউ শপথ করার পর কিন্তু শপথ ভঙ্গের আগেই কাফফারা প্রদান করল। আর যদি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত পূরণ হওয়ার পর তা করে, তবে তা তখন ওয়াজিব হয়ে যায়; যেমন কেউ শপথ ভঙ্গের পর কাফফারা আদায় করল।
যদি এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে মূলনীতিটি এখনো বোধগম্য না হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করার জন্য কিছু শাখা মাসয়ালা নিচে দেওয়া হলো:
তার মধ্যে একটি হলো: শপথের কাফফারা এমন একটি ইবাদত যার ওয়াজিব হওয়ার একটি কারণ এবং একটি শর্ত রয়েছে। সুতরাং শপথ করার আগে কাফফারা আদায় করা জায়েয নয়; কারণ এটি ওয়াজিব হওয়ার কারণ। আর শপথ করার পর কিন্তু শপথ ভঙ্গের আগে কাফফারা আদায় করা জায়েয, কারণ ওয়াজিব হওয়ার কারণটি সংঘটিত হয়েছে। আর শপথ ভঙ্গের পর কাফফারা আদায় করা ওয়াজিব; কারণ এটি হলো ওয়াজিব হওয়ার শর্ত। এর সপক্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী হলো: "আল্লাহর কসম, ইনশাআল্লাহ আমি কোনো শপথ করার পর যদি তার চেয়ে উত্তম কিছু দেখি, তবে আমি আমার শপথের কাফফারা আদায় করি এবং যা উত্তম তাই করি।" এটি শপথ করার পর এবং শপথ ভঙ্গের আগে কাফফারা আদায়ের বৈধতার দলিল, যা যারা এটি নিষেধ করেন তাদের মতের পরিপন্থী।
আরেকটি হলো: একত্রে আদায়কৃত সালাতসমূহ যেমন যোহর-আসর এবং মাগরিব-এশা। ফকিহগণের নিকট পরিচিত মাসয়ালা অনুযায়ী এগুলোর ওয়াক্ত একটি ওয়াক্তের মতো হয়ে যায়। সুতরাং প্রথম সালাতের ওয়াক্ত প্রবেশ করা—অর্থাৎ যোহর বা মাগরিব—হলো দ্বিতীয় সালাত অর্থাৎ আসর বা এশা ওয়াজিব হওয়ার কারণ। আর দ্বিতীয় সালাতের ওয়াক্ত প্রবেশ করা হলো তা ওয়াজিব হওয়ার শর্ত। অতএব, প্রথমটির ওয়াক্ত হওয়ার আগে দ্বিতীয় সালাত আদায় করা জায়েয নয়। তবে প্রথমটির ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর তা আদায় করা জায়েয, কারণ ওয়াজিব হওয়ার কারণটি পাওয়া গেছে, কিন্তু তা ওয়াজিব হয়নি। যতক্ষণ না দ্বিতীয় সালাতের নির্দিষ্ট ওয়াক্ত শুরু হয় ততক্ষণ তা ওয়াজিব হয় না। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومنها: كفارة القتل لها سبب وجوب وشرط وجوب، فسبب وجوبها هو الجرح القاتل، وشرط وجوبها هو الزهوق أعني زهوق روح المجروح فعلى هذا، لا تصح الكفارة أعني كفارة القتل قبل الجرح؛ لأنه سبب وجوبها، ولا يصح فعل العبادة قبل سبب وجوبها، ويجوز إخراجها بعد الجرح وقبل الزهوق لتحقق سبب وجوبها، أما إذا زهقت النفس فتجب حينئذٍ (1) ، والله أعلم.
ومنها: الزكاة عبادة لها سبب وجوب وشرط وجوب، فسبب وجوبها هو تمام النصاب، وشرط وجوبها حولان الحول، فعلى هذا، فلا زكاة قبل تمام النصاب لعدم انعقاد سبب وجوبها، وتجوز بعد تمام النصاب وقبل حولان الحول، أما إذا حال الحول فتجب حينئذٍ، وهذه القاعدة تؤيد قول من قال بجواز تقديم الزكاة بعد تمام النصاب لعامٍ أو عامين، والله تعالى أعلى وأعلم.
ومنها: صلاة الجمعة لها سبب وجوب وشرط وجوب، فسبب وجوبها هو يومها وشرط وجوبها هو الزوال فلا يجوز فعلها قبل سبب وجوبها ويجوز بعده وتجب بعد الزوال، وهذا دليل (2) لمن قال بجواز فعلها قبل الزوال كما هو المذهب، ولكن في النفس من هذا الفرع شيء كبير فالله تعالى أعلم.
--------------------------------------------
এর মধ্যে রয়েছে: হত্যার কাফফারা। এর জন্য ওয়াজিব হওয়ার একটি কারণ এবং একটি শর্ত রয়েছে। এর ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো প্রাণঘাতী জখম করা এবং ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হলো প্রাণবায়ু নির্গত হওয়া অর্থাৎ আহত ব্যক্তির রূহ বের হয়ে যাওয়া। এই ভিত্তিতে, জখম করার পূর্বে কাফফারা আদায় করা অর্থাৎ হত্যার কাফফারা প্রদান করা সহীহ নয়; কারণ এটি ওয়াজিব হওয়ার কারণ। আর ইবাদত ওয়াজিব হওয়ার কারণ ঘটার পূর্বে তা পালন করা সহীহ নয়। তবে জখম করার পর এবং রূহ বের হওয়ার পূর্বে তা আদায় করা বৈধ, কারণ ওয়াজিব হওয়ার কারণটি বাস্তবায়িত হয়েছে। আর যখন রূহ বের হয়ে যায়, তখন তা ওয়াজিব হয়ে যায় (১), আল্লাহই ভালো জানেন।
এর মধ্যে রয়েছে: জাকাত। এটি এমন একটি ইবাদত যার জন্য ওয়াজিব হওয়ার কারণ ও শর্ত রয়েছে। এর ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো নিসাব পূর্ণ হওয়া এবং ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হলো বছর পূর্ণ হওয়া। সুতরাং এই ভিত্তিতে, নিসাব পূর্ণ হওয়ার পূর্বে কোনো জাকাত নেই, কারণ ওয়াজিব হওয়ার কারণটি সাব্যস্ত হয়নি। আর নিসাব পূর্ণ হওয়ার পর এবং বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে তা প্রদান করা বৈধ। আর যখন বছর পূর্ণ হয়ে যায়, তখন তা ওয়াজিব হয়ে যায়। এই মূলনীতিটি সেই ব্যক্তির মতকে সমর্থন করে যিনি নিসাব পূর্ণ হওয়ার পর এক বা দুই বছরের জন্য অগ্রিম জাকাত প্রদান করা বৈধ বলেছেন। আল্লাহ তাআলা সুউচ্চ এবং তিনি সর্বাধিক জ্ঞাত।
এর মধ্যে রয়েছে: জুমার সালাত। এর জন্য ওয়াজিব হওয়ার কারণ ও শর্ত রয়েছে। এর ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো জুমার দিন এবং ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হলো সূর্য ঢলে পড়া। অতএব এর ওয়াজিব হওয়ার কারণ ঘটার পূর্বে তা আদায় করা বৈধ নয়, তবে এর পরে (অর্থাৎ দিন শুরু হওয়ার পর) তা আদায় করা বৈধ এবং সূর্য ঢলে পড়ার পর তা ওয়াজিব হয়। যারা সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বে জুমা আদায় করা বৈধ বলেন—যেমনটি মাযহাবের অভিমত—এটি তাদের জন্য একটি দলিল (২)। তবে এই মাসআলাটি নিয়ে মনে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে, আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ومنها: الطهارة عبادة لها سبب وجوب وشرط وجوب، فسبب وجوبها الحدث وشرط وجوبها القيام إلى الصلاة فتجوز الطهارة بعد الحدث وقبل القيام إلى الصلاة وتجب عند إرادة القيام إلى الصلاة؛ لأنه شرط وجوبها، والله أعلم.
وأحسب أنه بهذه الفروع قد فهمت هذه القاعدة فهمًا جليًا وعليها فقس، لكن كما ذكرت سابقًا أن فهمهما متوقف على معرفة سبب الوجوب وشرط الوجوب، والله تعالى أعلى وأعلم.
القاعدة الثالثة
3 - لا ينقض الأمر المتيقن ثبوتًا أو نفيًا بشك عارضهذه من القواعد الخمس الكبرى، وتدخل في غالب أبواب الفقه وبالتحديد تدخل هذه القاعدة في كل فرعٍ يتجاذبه يقين وشك فتسقط الشك وتحكم باليقين ذلك؛ لأن الشك لا يقوى على رفع اليقين؛ لأنه أضعف منه، والضعيف لا يقوى على رفع القوي ولها أدلة كثيرة من الكتاب والسنة.
فمن ذلك: قوله تعالى: {إنْ يَتَّبِعُونَ إِلا الظَّنَّ وَإنَّ الظَّنَّ لا يُغْنِي مِنْ الْحَقِّ شَيْئًا} فالحق هو اليقين والظن هو الشك فعاب الله جل وعلا على من اتبع الظنون الكاذبة وترك الحق الثابت بالدليل الواضح.
ومن ذلك: قوله صلى الله عليه وسلم: (إذا شك أحدكم في صلاته فلم يدر كم صلى أثلاثًا أم أربعًا فليطرح الشك وليبن على ما استيقن) الحديث، وهو نص في القاعدة فقد أمر بإطراح الشك والبناء على اليقين وهو معنى قولنا: (اليقين لا يزول بالشك) .
ومنه: قوله صلى الله عليه وسلم في حديث عبد الله بن زيد عند الشيخين: أنه شكى إلى الرسول صلى الله عليه وسلم الرجل الذي يخيل إليه أنه يجد الشيء في الصلاة، فقال: (لا ينصرف أو لا ينفتل حتى يسمع صوتًا أو يجد ريحًا) أي فيبقى على يقين الطهارة حتى يتأكد من خروج الريح الناقضة للوضوء وهو نص في هذه القاعدة.
এর মধ্যে একটি হলো: পবিত্রতা এমন একটি ইবাদত যার ওয়াজিব হওয়ার কারণ এবং ওয়াজিব হওয়ার শর্ত রয়েছে। পবিত্রতা ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো অপবিত্রতা, আর এটি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হলো নামাজের জন্য দণ্ডায়মান হওয়া। সুতরাং অপবিত্র হওয়ার পর এবং নামাজের জন্য দাঁড়ানোর আগে পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ এবং নামাজের জন্য দাঁড়ানোর ইচ্ছা করার সময় এটি ওয়াজিব হয়; কারণ এটি পবিত্রতা ওয়াজিব হওয়ার শর্ত। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
আমি মনে করি যে, এই শাখা-উপশাখাগুলোর মাধ্যমে এই মূলনীতিটি স্পষ্টভাবে বোঝা গেছে এবং এর ওপর ভিত্তি করেই অন্যান্য বিষয় অনুমান করুন। তবে আমি আগে যেমন উল্লেখ করেছি যে, এগুলো বোঝা ওয়াজিব হওয়ার কারণ এবং ওয়াজিব হওয়ার শর্ত জানার ওপর নির্ভরশীল। আর মহান আল্লাহ অধিক অবগত।
তৃতীয় মূলনীতি
৩ - সাব্যস্ত হওয়া বা না হওয়ার ক্ষেত্রে নিশ্চিত কোনো বিষয় আকস্মিক সন্দেহের কারণে বাতিল হয় নাএটি পাঁচটি প্রধান মূলনীতির অন্যতম এবং ফিকহ শাস্ত্রের অধিকাংশ অধ্যায় এর অন্তর্ভুক্ত। বিশেষভাবে, এই মূলনীতিটি এমন প্রতিটি শাখাগত বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে নিশ্চিত বিশ্বাস ও সন্দেহ পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকে। এমতাবস্থায় সন্দেহকে বর্জন করা হয় এবং নিশ্চিত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়; কারণ সন্দেহ নিশ্চিত বিশ্বাসকে দূরীভূত করার ক্ষমতা রাখে না, যেহেতু এটি তার চেয়ে দুর্বল। আর দুর্বল সবলকে হটিয়ে দেওয়ার শক্তি রাখে না। কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর স্বপক্ষে বহু দলিল রয়েছে।
যেমন: মহান আল্লাহর বাণী: "তারা কেবল ধারণারই অনুসরণ করে, অথচ সত্যের মোকাবিলায় ধারণার কোনো কার্যকারিতা নেই।" এখানে সত্য বলতে নিশ্চিত বিশ্বাস এবং ধারণা বলতে সন্দেহকে বোঝানো হয়েছে। সুতরাং যারা মিথ্যা ধারণার অনুসরণ করে এবং স্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সত্যকে ত্যাগ করে, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাদের নিন্দা করেছেন।
আরও রয়েছে: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যখন তোমাদের কেউ তার নামাজে সন্দেহ করে এবং বুঝতে না পারে যে সে কত রাকাত নামাজ পড়েছে—তিন রাকাত নাকি চার রাকাত—তখন সে যেন সন্দেহ বর্জন করে এবং যা নিশ্চিত তার ওপর ভিত্তি করে।" এই হাদিসটি এই মূলনীতির ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট ভাষ্য। এখানে সন্দেহ ছুড়ে ফেলে দেওয়ার এবং নিশ্চিত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের এই কথার সমার্থক যে: "নিশ্চিত বিশ্বাস সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না।"
আরও রয়েছে: শাইখাইন কর্তৃক বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে অভিযোগ করা হলো যার কাছে মনে হয় যে নামাজে থাকা অবস্থায় সে কিছু অনুভব করছে (ওজু ভেঙেছে বলে ভ্রম হওয়া)। তখন তিনি বললেন: "সে যেন নামাজ ত্যাগ না করে যতক্ষণ না শব্দ শোনে অথবা গন্ধ পায়।" অর্থাৎ সে পবিত্র থাকার নিশ্চিত বিশ্বাসের ওপর অটল থাকবে যতক্ষণ না ওজু ভঙ্গকারী বায়ু নির্গত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়। এটি এই মূলনীতির একটি অকাট্য প্রমাণ।
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومن ذلك: حديث أبي هريرة عند مسلم، وعن ابن عباس نحوه عند البزار وكذا للحاكم عن أبي سعيد وغير ذلك كثير، بل والاعتبار الصحيح يقتضي ذلك كما ذكرنا أن الضعيف لا يقوى على رفع القوي؛ لأن ما تيقن ثبوته بدليل أو استصحاب حال، أقوى مما شك فيه أهو ثابت أم لا؟ فإذا سئلت عن سؤال فيه تجاذب بين شيء متيقن وشيء مشكوك فيه، فاعرف أنه داخل تحت هذه القاعدة فأسقط الشك واحكم باليقين، ثم اعلم أن قاعدة الأصول في الأشياء داخلة تحت هذه القاعدة الكبرى، كما سيأتي - إن شاء الله تعالى -.
فإن قلت: إذا كان الشك لا يرفع اليقين فهل يرتفع اليقين بيقين مثله؟
قلت: نعم، إن اليقين لا يزول بالشك لكن يزول بيقين مثله، وغلبة الظن منزلة منزلة اليقين، وعلى ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: (فلا ينصرف حتى يسمع صوتًا أو يجد ريحًا) أي حتى يأتي يقين آخر أي يقين الحدث ليرفع يقين الطهارة وإلا فهو باقٍ على طهارته ولا مزيد على هذا لكن نضرب بعض الفروع حتى يتضح التطبيق عليها:
فمنها: إذا سئلت عن رجلٍ توضأ للعصر ثم دخل وقت المغرب وأراد أن يصليها فشك هل أحدث أو لا؟ فقل: أنت تيقنت الطهارة الذي هو وضوء العصر، وشككت في الحدث، فأنت على ما تيقنته وهو الطهارة؛ لأن اليقين لا يزول بالشك.
ومنها: شك رجل هل صلى الفجر أو لا؟ فقل: إن اليقين هو أنك لم تصل؛ لأن الأصل عدم الصلاة والشك حصل في وجودها فنبقى على الأصل الذي هو عدم الصلاة واليقين لا يزول بالشك فعليك أن تصلي الآن.
ومنها: رجل أكل شاكًا في طلوع الفجر فإذا هو قد طلع، فقل له: إن اليقين هو بقاء الليل وطلوع الفجر مشكوك فيه واليقين لا يزول بالشك فالأصل بقاء الليل فصيامك صحيح لأنك عملت باليقين (1) .
--------------------------------------------
এর মধ্যে রয়েছে: মুসলিমে বর্ণিত আবু হুরাইরার হাদিস, এবং ইবনে আব্বাস থেকে আল-বাজ্জারে বর্ণিত অনুরূপ হাদিস, একইভাবে আল-হাকিমে আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত এবং এ ছাড়াও আরও অনেক। বরং সঠিক বিবেচনাও এরই দাবি করে, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি যে, দুর্বল কোনো কিছু সবলকে অপসারিত করার ক্ষমতা রাখে না; কারণ যা কোনো দলিল বা অবস্থার ধারাবাহিকতা দ্বারা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত, তা যার ব্যাপারে সন্দেহ করা হয়েছে—এটি প্রমাণিত কি না—তার চেয়ে অধিক শক্তিশালী। সুতরাং আপনাকে যখন এমন কোনো প্রশ্ন করা হয় যাতে একটি নিশ্চিত বিষয় এবং একটি সন্দেহযুক্ত বিষয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে, তবে জেনে রাখুন যে তা এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত, তাই সন্দেহকে বাদ দিন এবং নিশ্চিতের ভিত্তিতে ফয়সালা দিন। এরপর জেনে রাখুন যে, শাস্ত্রীয় মূলনীতির বিষয়গুলো এই প্রধান মূলনীতিরই অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি সামনে আসবে - ইনশাআল্লাহ তায়ালা।
আপনি যদি বলেন: যদি সন্দেহ নিশ্চিত বিশ্বাসকে অপসারিত করতে না পারে, তবে নিশ্চিত বিশ্বাস কি তার সমতুল্য অন্য কোনো নিশ্চিত বিশ্বাসের দ্বারা অপসারিত হতে পারে?
আমি বলব: হ্যাঁ, নিশ্চয়ই নিশ্চিত বিশ্বাস সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না, তবে তা সমতুল্য অন্য কোনো নিশ্চিত বিশ্বাসের দ্বারা দূরীভূত হয়। আর প্রবল ধারণা নিশ্চিত বিশ্বাসের স্থলাভিষিক্ত হয়। এর ভিত্তিতেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (সে যেন নামাজ ত্যাগ না করে যতক্ষণ না সে শব্দ শোনে অথবা গন্ধ পায়) অর্থাৎ যতক্ষণ না অন্য একটি নিশ্চিত বিশ্বাস আসে, তথা অপবিত্র হওয়ার নিশ্চিত জ্ঞান, যা পবিত্রতার নিশ্চিত বিশ্বাসকে অপসারিত করবে। অন্যথায় সে তার পবিত্রতার ওপরেই বহাল থাকবে এবং এর চেয়ে বাড়তি আর কিছু নেই। তবে আমরা কিছু উপশাখা উল্লেখ করছি যাতে এর প্রয়োগ স্পষ্ট হয়:
এর মধ্যে রয়েছে: আপনাকে যদি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে আসরের নামাজের জন্য ওজু করেছে, এরপর মাগরিবের ওয়াক্ত প্রবেশ করল এবং সে নামাজ পড়তে চাইল, এমতাবস্থায় সে সন্দেহ করল যে তার ওজু ভেঙেছে কি না? তবে বলুন: আপনি পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন যা আসরের ওজু ছিল, আর অপবিত্র হওয়ার ব্যাপারে আপনি সন্দেহ করেছেন। অতএব আপনি যে বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন তার ওপরেই থাকবেন আর তা হলো পবিত্রতা; কারণ নিশ্চিত বিশ্বাস সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না।
এর মধ্যে রয়েছে: এক ব্যক্তি সন্দেহ করল যে সে ফজরের নামাজ পড়েছে কি না? তবে বলুন: নিশ্চিত বিষয় হলো আপনি নামাজ পড়েননি; কারণ মূল অবস্থা হলো নামাজ না পড়া, আর নামাজ আদায়ের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং আমরা মূল অবস্থার ওপরেই বহাল থাকব যা হলো নামাজ না পড়া, আর নিশ্চিত বিশ্বাস সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না। অতএব আপনাকে এখনই নামাজ পড়তে হবে।
এর মধ্যে রয়েছে: এক ব্যক্তি সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ থাকা অবস্থায় খাবার গ্রহণ করল, এরপর দেখা গেল যে সুবহে সাদিক উদিত হয়ে গিয়েছে। তাকে বলুন: নিশ্চিত বিষয় হলো রাত বাকি থাকা, আর সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার বিষয়টি ছিল সন্দেহযুক্ত। আর নিশ্চিত বিশ্বাস সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না, তাই মূল অবস্থা হলো রাত বাকি থাকা, সুতরাং আপনার রোজা শুদ্ধ কারণ আপনি নিশ্চিত বিশ্বাসের ওপর আমল করেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ومنها: رجل تيقن النكاح وشك في الطلاق، فنقول: اليقين هو النكاح والمشكوك فيه هو الطلاق، فأنت على نكاحك؛ لأن اليقين لا يزول بالشك.
ومنها: شك إنسانٌ هل صلى ثلاثًا أم أربعًا؟ فنقول: اليقين هو أنك صليت ثلاثًا والركعة الرابعة مشكوك فيها والأصل عدمها فعليك أن تجعلها ثلاثًا وتسجد للسهو قبل السلام (1) وعلى ذلك دل حديث أبي سعيد عند مسلم.
ومنها: طاف وشك هل طاف سبعًا أو ستًا فاليقين أنه طاف ستًا والسابع مشكوك فيه فيزيد واحدًا، والقول الجامع في هذا هو أن كل شيء الأصل عدمه وشك في فعله فيحكم بعدم الفعل (2) ، وكل شيء الأصل ثبوته وشك في عدمه فالأصل بقاؤه. وعلى ذلك فقس، والله تعالى أعلى وأعلم.
القاعدة الرابعة
4- لا يعتبر الشك بعد الفعل ومن كثير الشكهذه القاعدة فرع من القاعدة السابقة وخلاصتها: أن الشك يصدر من أحد رجلين، إما أن يصدر من رجلٍ كثير الشك فهو مريض بالوسواس - والعياذ بالله - من ذلك، وإما أن يصدر الشك من رجل معتدل الشكوك.
فالأول: شكه غير معتبر وليس معمولاً به أبدًا لأن مراعاة شك هذا الرجل وبال عليه وتكليف له بما لا يطاق وتكليف ما لا يطاق منتفٍ شرعًا، بل يعالج هذا الرجل بعدم الالتفات إلى شكه بل يفعل الفعل بجزم وحزم ولا يفكر في أي شك يتطرق إليه، إذًا شك كثير الشكوك ليس بمعتبر أي لا نبني عليه حكماً.
--------------------------------------------
এর মধ্যে একটি হলো: একজন ব্যক্তি বিবাহের ব্যাপারে নিশ্চিত কিন্তু তালাকের ব্যাপারে সন্দিহান। তখন আমরা বলি: নিশ্চিত বিষয়টি হলো বিবাহ এবং সন্দেহযুক্ত বিষয়টি হলো তালাক। সুতরাং আপনি আপনার বিবাহের ওপরই বহাল রয়েছেন; কারণ নিশ্চিত বিষয় সন্দেহের কারণে দূরীভূত হয় না।
এর মধ্যে আরও একটি হলো: কোনো মানুষ যদি সন্দেহ করে যে সে তিন রাকাত পড়েছে না চার রাকাত? তখন আমরা বলি: নিশ্চিত বিষয়টি হলো আপনি তিন রাকাত পড়েছেন এবং চতুর্থ রাকাতটি সন্দেহযুক্ত, আর মূল নীতি হলো সেটি না থাকা। সুতরাং আপনার কর্তব্য হলো একে তিন রাকাত হিসেবে গণ্য করা এবং সালাম ফেরানোর আগে সাহু সিজদা প্রদান করা (১)। মুসলিম শরীফে বর্ণিত আবু সাঈদ-এর হাদিস এই বিষয়ের ওপরই প্রমাণ পেশ করে।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: কেউ তাওয়াফ করল এবং সন্দেহ করল সে কি সাতবার তাওয়াফ করেছে না ছয়বার? এক্ষেত্রে নিশ্চিত বিষয়টি হলো সে ছয়বার করেছে এবং সপ্তমটি সন্দেহযুক্ত, তাই সে আরও একটি বৃদ্ধি করবে। এ বিষয়ে সারকথা হলো: প্রতিটি বিষয়ের মূল নীতি হলো সেটি না থাকা, আর যদি তার সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ হয় তবে সেটি না হওয়ার হুকুম দেওয়া হবে (২)। আর যে বিষয়টির মূল নীতি হলো সেটি সাব্যস্ত থাকা, কিন্তু সেটি দূরীভূত হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ হয়, তবে মূল নীতি হলো সেটি বহাল থাকা। আর এর ওপরই অন্যান্য বিষয় অনুমান করুন। আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক অবগত।
চতুর্থ নীতি
৪- কাজ শেষ হওয়ার পর এবং অধিক সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তির সন্দেহের কোনো গুরুত্ব নেইএই নীতিটি পূর্ববর্তী নীতির একটি শাখা এবং এর সারসংক্ষেপ হলো: সন্দেহ দুই ধরণের ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রকাশ পায়—হয় তা এমন এক ব্যক্তির থেকে প্রকাশ পাবে যে অধিক সন্দেহপ্রবণ এবং সে ওয়াসওয়াসা নামক ব্যাধিতে আক্রান্ত—আল্লাহর কাছে তা থেকে আশ্রয় চাই—আর না হয় সন্দেহটি এমন এক ব্যক্তির থেকে প্রকাশ পাবে যার সন্দেহ করার প্রবণতা স্বাভাবিক।
প্রথম ব্যক্তি: তার সন্দেহের কোনো গুরুত্ব নেই এবং তা কখনোই কার্যকর হবে না। কারণ এই ব্যক্তির সন্দেহের প্রতি লক্ষ্য রাখা তার জন্য বিপত্তির কারণ এবং তাকে সাধ্যাতীত বিষয়ে বাধ্য করার শামিল, আর সাধ্যাতীত কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া শরীয়তে নেই। বরং এই ব্যক্তির চিকিৎসা হলো তার সন্দেহের দিকে ভ্রূক্ষেপ না করা, বরং সে দৃঢ়তা ও সংকল্পের সাথে কাজটি সম্পন্ন করবে এবং মনে যে সন্দেহই আসুক না কেন তা নিয়ে চিন্তা করবে না। সুতরাং, অধিক সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তির সন্দেহ ধর্তব্য নয় অর্থাৎ এর ওপর ভিত্তি করে আমরা কোনো বিধান প্রদান করি না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وأما: إن صدر الشك من رجلٍ معتدل الشكوك فهذا لا يخلو من حالتين: إما أن يصدر هذا الشك أثناء الفعل أي في حال فعل العبادة، وإما أن يصدر بعد فعلها وانتهائه منها، فإذا صدر الشك بعد العبادة فهو شك ملغىً أي ليس معتبراً؛ لأن الأصل أن الإنسان فعل العبادة تامة وهذا الشك من وسوسة الشيطان وعلاجه عدم الالتفات إليه. وأما إن صدر هذا الشك في أثناء العبادة فهو شك معتبر يعمل به حينئذٍ؛ لأن الشيء الذي شك فيه الإنسان في العبادة الأصل عدمه.
ومن شك في فعلٍ هل فعله أو لم يفعله؟ فالأصل أنه لم يفعله فيأتي بالشيء الذي شك فيه؛ لأن اليقين لا يزول بالشك، إذًا صار الشك عندنا لا يعتبر في حالتين ويعتبر في حالة واحدة، فلا يعتبر الشك من كثير الشكوك مطلقًا سواءً أثناء العبادة أو بعدها ولا يعتبر الشك من معتدل الشكوك بعد الانتهاء من العبادة، ويعتبر الشك من معتدل الشكوك في أثناء العبادة وبهذا تكون القاعدة قد بانت معالمها وفي ذلك قلت:
والشك بعد الفعل ليس يعتبر
… ... ومن كثير الشك أيضًا مغتفر
ونضرب بعض الفروع على كل الحالات الثلاث حتى تتضح القاعدة أكثر فأقول:
منها: رجل كثيرة شكوكه فصلى العصر ثم شك هل جلس للتشهد الأول أو لا؟ فالجواب: هذا الشك لا يعتبر سواءً صدر من كثير الشك أو من معتدل الشك، أما عدم اعتباره من كثير الشك فلما مضى أن كثير الشكوك مريض يعالج بأمره بترك شكه وأما وجه عدم اعتباره من معتدل الشك فلأن هذا الشك لم يقع إلا بعد الفعل أي بعد الانتهاء من صلاة العصر والشك من معتدل الشك بعد انتهاء الفعل لا يؤثر، إذًا نقول: صلاة العصر من هذا الرجل صحيحة على كل اعتبار ولا يلتفت إلى شكه مطلقًا ما لم يحصل عنده يقين أنه ترك ذلك.
আর যদি পরিমিত পরিমাণে সন্দেহ পোষণকারী কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে সন্দেহ সৃষ্টি হয়, তবে তা দুই অবস্থার বাইরে নয়: হয় এই সন্দেহ কাজের ভেতরে অর্থাৎ ইবাদত পালনরত অবস্থায় হবে, অথবা তা পালনের পর এবং তা শেষ করার পর হবে। সুতরাং যদি ইবাদত শেষ করার পর সন্দেহ সৃষ্টি হয়, তবে সেই সন্দেহ বাতিল বা অগ্রাহ্য; কারণ মূলনীতি হলো মানুষ ইবাদতটি পূর্ণাঙ্গভাবেই সম্পাদন করেছে এবং এই সন্দেহ শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে উদ্ভূত, আর এর প্রতিকার হলো এর প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করা। কিন্তু যদি এই সন্দেহ ইবাদতের মাঝখানে সৃষ্টি হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য সন্দেহ এবং তখন সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে; কারণ ইবাদতের মধ্যে কোনো বিষয়ে সন্দেহ হলে মূলনীতি হলো সেটি সংঘটিত হয়নি বলে গণ্য হবে।
আর যে ব্যক্তি কোনো কাজ সম্পর্কে সন্দেহ করে যে সে তা করেছে কি করেনি? তবে মূলনীতি হলো সে তা করেনি, তাই সে সেই বিষয়টি সম্পাদন করবে যা নিয়ে তার সন্দেহ হয়েছে; কারণ নিশ্চিত বিষয় সন্দেহের দ্বারা অপসারিত হয় না। সুতরাং আমাদের নিকট সন্দেহ দুই অবস্থায় অগ্রাহ্য এবং এক অবস্থায় গ্রহণযোগ্য। অত্যধিক সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তির সন্দেহ কোনোভাবেই ধর্তব্য নয়, চাই তা ইবাদতের মধ্যে হোক বা পরে। আর পরিমিত সন্দেহকারীর সন্দেহ ইবাদত শেষ হওয়ার পর ধর্তব্য নয়। আর পরিমিত সন্দেহকারীর সন্দেহ ইবাদত চলাকালীন অবস্থায় ধর্তব্য। এর মাধ্যমে নীতিমালার বৈশিষ্ট্যসমূহ সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং এ বিষয়ে আমি বলেছি:
কাজের পরের সন্দেহ ধর্তব্য নয়
… ... এবং অত্যধিক সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তির পক্ষ থেকেও তা মার্জনীয় (ধর্তব্য নয়)
আমরা তিনটি অবস্থার প্রতিটির ওপর কিছু শাখা-মাসআলা বর্ণনা করব যাতে নীতিমালাটি আরও স্পষ্ট হয়, তাই আমি বলছি:
সেগুলোর মধ্যে একটি হলো: একজন ব্যক্তি যার সন্দেহ অনেক বেশি, সে আসরের সালাত আদায় করল এবং এরপর সন্দেহ করল যে সে প্রথম তাশাহহুদের জন্য বসেছিল কি না? উত্তর হলো: এই সন্দেহ ধর্তব্য নয়, চাই তা অত্যধিক সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তির থেকে হোক কিংবা পরিমিত সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তির থেকে। অত্যধিক সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি অগ্রাহ্য হওয়ার কারণ আগে অতিবাহিত হয়েছে যে, অত্যধিক সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তি একজন রোগী, যাকে তার সন্দেহ বর্জন করার নির্দেশ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। আর পরিমিত সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি অগ্রাহ্য হওয়ার কারণ হলো এই সন্দেহটি কাজের পরে অর্থাৎ আসরের সালাত শেষ হওয়ার পরে উদয় হয়েছে, আর কাজ শেষ হওয়ার পর পরিমিত সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তির সন্দেহ কোনো প্রভাব ফেলে না। অতএব আমরা বলব: এই ব্যক্তির আসরের সালাত সব দিক থেকেই শুদ্ধ এবং সে তার সন্দেহের দিকে মোটেও ভ্রূক্ষেপ করবে না যতক্ষণ না তার নিকট নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে সে তা ছেড়ে দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ومنها: رجل يطوف وشك وهو أثناء الطواف هل طاف أربعًا أم خمسًا فما الحكم؟ الجواب: أننا نسأل أولاً هل هذا الرجل ذو شكوك كثيرة أو معتدل الشك فإن كان الرجل ذا شكوك كثيرة فنقول لا تلتفت إلى هذا الشك؛ لأنك مريض بكثرة هذه الشكوك واجزم في الفعل ولا تلتفت إلى هذا الشك، وإن كان الشك من معتدل الشكوك فنقول شكك معتبر ولم تطف إلا ثلاثة أشواط لأن الأصل عدم الرابع وقلنا شكه معتبر (1) ، لأنه معتدل الشك ووقع أثناء الفعل.
ومنها: رجل توضأ وانتهى ثم شك هل مسح رأسه أو لا؟ فنقول: إن كان كثير الشك فلا يلتفت إليه مطلقًا وإن كان معتدل الشك أيضًا لا يلتفت إليه؛ لأنه حصل بعد الانتهاء من الفعل والشك بعد الفعل لا يؤثر.
ومنها: رجل في أثناء رمي الجمرات شك هل رمى سبعًا أم ستًا؟ فالجواب: إن كان كثير الشك فلا يلتفت إليه ويرمي ما في يده إن بقى معه شيء وإلا فليمض وإن كان معتدل الشك فشكه معتبر ويزيد سابعة (2) ؛ لأن الأصل عدمها وهكذا.
وبهذا تكون القاعدة قد بانت ولا إشكال فيها - إن شاء الله تعالى -.
وخلاصة الكلام أنه إذا وجه إليك سؤال فيه شك فقبل الجواب تسأل عن سؤالين:
الأول: هل الذي صدر منه الشك كثير الشكوك أو معتدل الشكوك، فإن كان الأول فأبطل شكه، وإن كان الثاني فاسأل هل حدث الشك بعد انتهاء الفعل أو في أثناء الفعل، فإن كان الأول فأبطل شكه، وإن كان الثاني فهو شك معتبر، والله تعالى أعلى وأعلم.
القاعدة الخامسة
5 - إذا تعذر الأصل يصار إلى البدل--------------------------------------------
এগুলোর মধ্যে একটি উদাহরণ হলো: একজন ব্যক্তি তাওয়াফ করছেন এবং তাওয়াফরত অবস্থায় তার সন্দেহ হলো যে তিনি চারবার নাকি পাঁচবার তাওয়াফ করেছেন, এমতাবস্থায় বিধান কী? উত্তর হলো: আমরা প্রথমে জিজ্ঞাসা করব এই ব্যক্তিটি কি অধিক সন্দেহপ্রবণ নাকি স্বাভাবিক সন্দেহপ্রবণ? যদি লোকটি অধিক সন্দেহপ্রবণ হয়, তবে আমরা বলব এই সন্দেহের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করবেন না; কারণ আপনি অধিক সন্দেহের রোগে আক্রান্ত, তাই আপনি আপনার কাজের ব্যাপারে দৃঢ় থাকুন এবং এই সন্দেহের দিকে ভ্রুক্ষেপ করবেন না। আর যদি সন্দেহটি স্বাভাবিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে হয়, তবে আমরা বলব আপনার সন্দেহটি ধর্তব্য এবং আপনি কেবল তিনটি চক্কর দিয়েছেন (বলে গণ্য হবে), কারণ মূল নীতি হলো চতুর্থটি না হওয়া। আমরা বলেছি তার সন্দেহটি ধর্তব্য (১), যেহেতু সে স্বাভাবিক এবং এটি আমল চলাকালীন ঘটেছে।
এগুলোর মধ্যে আরও একটি উদাহরণ: একজন ব্যক্তি অজু করলেন এবং কাজ শেষ করলেন, অতঃপর তার সন্দেহ হলো যে তিনি মাথা মাসেহ করেছেন কি না? আমরা বলব: যদি সে অধিক সন্দেহপ্রবণ হয় তবে এর প্রতি মোটেও ভ্রুক্ষেপ করবে না। আর যদি সে স্বাভাবিক হয় তবে তখনও এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবে না; কারণ আমল শেষ করার পর এই সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে এবং আমল শেষ হওয়ার পরের সন্দেহ কোনো প্রভাব ফেলে না।
এগুলোর মধ্যে আরও একটি উদাহরণ: একজন ব্যক্তি পাথর নিক্ষেপ (রামিউল জিমার) করার সময় সন্দেহ করলেন যে তিনি সাতটি নাকি ছয়টি পাথর নিক্ষেপ করেছেন? উত্তর হলো: যদি সে অধিক সন্দেহপ্রবণ হয় তবে এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবে না এবং তার হাতে যা অবশিষ্ট আছে তা নিক্ষেপ করবে, আর যদি হাতে কিছু না থাকে তবে চলে যাবে। কিন্তু যদি সে স্বাভাবিক হয় তবে তার সন্দেহ ধর্তব্য এবং সে সপ্তমটি যোগ করবে (২); কারণ মূল নীতি হলো তা না ঘটা এবং এভাবেই চলবে।
এর মাধ্যমে নিয়মটি স্পষ্ট হয়ে গেল এবং এতে আর কোনো জটিলতা রইল না - ইনশাআল্লাহ তাআলা।
কথার সারমর্ম হলো, যদি আপনার কাছে সন্দেহ সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন আসে, তবে উত্তর দেওয়ার আগে আপনি দুটি বিষয় জিজ্ঞাসা করবেন:
প্রথমত: যার থেকে সন্দেহটি প্রকাশ পেয়েছে সে কি অধিক সন্দেহপ্রবণ নাকি স্বাভাবিক? যদি প্রথমটি হয় তবে তার সন্দেহ বাতিল গণ্য করুন। আর যদি দ্বিতীয়টি হয় তবে জিজ্ঞাসা করুন সন্দেহটি কি আমল শেষ হওয়ার পর হয়েছে নাকি আমল চলাকালীন হয়েছে? যদি প্রথমটি হয় তবে তার সন্দেহ বাতিল করুন, আর যদি দ্বিতীয়টি হয় তবে তা ধর্তব্য সন্দেহ। আর আল্লাহ তাআলা সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।
পঞ্চম নিয়ম
৫ - যখন মূলটি অসম্ভব হয়ে পড়ে তখন বিকল্পের দিকে ফিরে যেতে হয়--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
العبادات عندنا نوعان: عبادة إذا فاتت لا يشرع لها بدل كالوقوف بعرفة إذا فات يومه لا بدل له، وكالصلوات المفروضات إذا فوتها الإنسان ولم يؤدها فإنه لا بدل لها، بل لا كفارة لها إلا فعلها بعينها ونحو ذلك، فهذه العبادات لا تدخل معنا في هذه القاعدة وحكمها أنها تسقط المطالبة بها بالعجز عن أداتها مطلقًا لا إلى بدل.
والنوع الثاني: عبادات إذا فاتت فإنها تفوت إلى بدل يعني لها بدل يقوم مقامها يجزئ عنها وتتحقق منه المصلحة التي تتحقق من المبدل، فهذه العبادات الأصل أن تفعل هي ولا يجوز الانتقال إلى أبدالها إلا عند تعذرها أو العجز عنها، فإذا تعذرت أو عجزنا عنها فإننا ننتقل إلى بدلها، إذًا البدل لا يجزئ ولا يدخل في حيز المطالبة إلا إذا تعذر أصله، فمن انتقل إلى البدل مع القدرة على الأصل، فإن البدل لا يجزئه ويأثم بتفويت الأصل وهو قادر عليه، بل قال بعضهم: إن البدل لا يدخل في حيز العبادات إلا بعد العجز عن أصله، ولهذا القول وجه من النظر، والمراد: أنه لا يجوز الانتقال إلى البدل إلا إذا عدمنا المبدل، ثم اعلم: أن البدل إذا تعذر اصله فإنه يقوم بجميع ما يقوم به أصله وإن اختلف معه في الصورة، وبالفروع يتضح الكلام فأقول:
আমাদের নিকট ইবাদত দুই প্রকার: এমন ইবাদত যা ছুটে গেলে তার জন্য কোনো শরয়ী বিকল্প নেই; যেমন আরাফায় অবস্থান, যদি তার নির্ধারিত দিনটি অতিবাহিত হয়ে যায় তবে এর কোনো বিকল্প নেই। এবং যেমন ফরজ নামাজসমূহ, যদি মানুষ তা ছেড়ে দেয় এবং আদায় না করে তবে তার কোনো বিকল্প নেই; বরং স্বয়ং সেটি সম্পাদন করা ব্যতীত এর অন্য কোনো কাফফারা নেই এবং অনুরূপ অন্যান্য ইবাদত। সুতরাং এই ইবাদতগুলো আমাদের এই নিয়মের আওতাভুক্ত নয় এবং এগুলোর বিধান হলো যে, এগুলো আদায় করতে অক্ষম হলে তা পালনের বাধ্যবাধকতা নিরঙ্কুশভাবে রহিত হয়ে যায়, কোনো বিকল্পের দিকে যায় না।
দ্বিতীয় প্রকার: এমন ইবাদত যা ছুটে গেলে বিকল্পের দিকে স্থানান্তরিত হয়। অর্থাৎ সেটির এমন বিকল্প রয়েছে যা তার স্থলাভিষিক্ত হয়, তার পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত হয় এবং মূল ইবাদত থেকে যে কল্যাণ অর্জিত হওয়ার কথা ছিল তা এই বিকল্পের মাধ্যমেও অর্জিত হয়। এই ইবাদতগুলোর ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো মূলটিই সম্পাদন করা এবং সেটি অসম্ভব হওয়া বা তা পালনে অক্ষম হওয়া ব্যতীত বিকল্পের দিকে যাওয়া বৈধ নয়। সুতরাং যখন তা অসম্ভব হয়ে পড়ে বা আমরা তা পালনে অক্ষম হই, তখন আমরা তার বিকল্পের দিকে স্থানান্তরিত হই। অতএব, বিকল্পটি ততক্ষণ পর্যন্ত যথেষ্ট হবে না এবং পালনের দাবির অন্তর্ভুক্ত হবে না যতক্ষণ না তার মূলটি পালন অসম্ভব হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি মূলটি পালনে সক্ষম থাকা সত্ত্বেও বিকল্প গ্রহণ করবে, তবে সেই বিকল্প তার জন্য যথেষ্ট হবে না এবং সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও মূলটি নষ্ট করার কারণে সে গুনাহগার হবে। এমনকি তাদের কেউ কেউ বলেছেন: মূলটি পালনে অক্ষম হওয়ার আগে বিকল্পটি ইবাদতের সীমানায় প্রবেশ করে না। আর এই বক্তব্যের একটি জোরালো দিক রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো: মূলটি অনুপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত বিকল্পের দিকে যাওয়া বৈধ নয়। এরপর জেনে রাখুন: মূলটি পালন করা অসম্ভব হলে বিকল্পটি সে সমস্ত কাজ সম্পাদন করে যা তার মূলটি করত, যদিও উভয়ের রূপ ভিন্ন হতে পারে। শাখা মাসআলাগুলোর মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হবে, আমি বলছি:
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
منها: الطهارة الصغرى عن الحدث الأصغر أو الكبرى عن الحدث الأكبر لها بدل وهو التيمم بالتراب الطاهر، فإذا كان الإنسان يجد الماء ويقدر على استعماله فلا يجوز له حينئذٍ أن ينتقل إلى التيمم، وأما إذا عدم الماء أو وجده ولكن لا يستطيع استعماله لعذرٍ من حرقٍ ونحوه، أو لأن البئر عميقة والماء غائر ولا دلو معه ولا حبل، فيجوز له حينئذٍ أن ينتقل إلى التيمم، وعلى ذلك قال تعالى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا} فإذا انعدم ما يطلق عليه ماء فينتقل إلى التيمم، وهذا قول الجمهور، أما الحنفية فإنهم يجيزون الوضوء بالنبيذ إذا لم يشتد لحديث يروونه لكن فاتهم الصواب، وحديثهم ضعيف جدًا، والله تعالى أعلى وأعلم.
ومنها: أن الإنسان إذا عجز عن الركوع والسجود الذي هو الأصل فإنه ينتقل إلى الإيماء بهما ويجعل سجوده أخفض من ركوعه لكن مادام قادرًا على حني ظهره لركوع تام ووضع جبهته على الأرض لسجود تام فيكون هو المتعين عليه، ولا ينتقل عنه، والله تعالى أعلم.
ومنها: الأصل أن من حج متمتعًا أو قارنًا فإنه يجب عليه الهدي وهو أن يذبح من بهيمة الأنعام يوم النحر ما يجزئه، لكن إذا عجز الإنسان عن الهدي فإنه ينتقل إلى البدل وهو الصيام ثلاثة أيام في الحج وسبعة إذا رجع إلى أهله تلك عشرة كاملة كما في سورة البقرة، إذًا لا يجوز العدول عن الأصل مع القدرة عليه.
ومنها: الأصل في كفارة اليمين هو أن يكفر الإنسان بثلاثة أشياء على التخيير وهي: إطعام عشرة مساكين أو كسوتهم أو تحرير رقبة، فالحالف مخير بين هذه الأشياء الثلاثة أي واحد فعله فإنه يجزئ عنه ولو كان قادرًا على غيره، لكن إذا عجز الحالف عن كل هذه الثلاثة فإنه ينتقل إلى البدل عنها وهو أن يصوم ثلاثة أيام، إذًا لا يجوز الانتقال إلى الصوم إلا إذا عدمنا هذه الثلاثة؛ لأنه لا يجوز الانتقال إلى البدل إلا إذا عدم الأصل.
এগুলোর মধ্যে রয়েছে: ছোট অপবিত্রতা থেকে ছোট পবিত্রতা অর্জন অথবা বড় অপবিত্রতা থেকে বড় পবিত্রতা অর্জনের একটি বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে, যা হলো পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করা। সুতরাং যদি কোনো ব্যক্তি পানি পায় এবং তা ব্যবহার করতে সক্ষম হয়, তবে সেই অবস্থায় তার জন্য তায়াম্মুমের দিকে ফিরে যাওয়া বৈধ নয়। আর যদি পানি না থাকে অথবা পানি পাওয়া যায় কিন্তু কোনো ওজর বা কারণবশত তা ব্যবহার করতে না পারে—যেমন পুড়ে যাওয়া বা অনুরূপ কোনো জখম, অথবা কূপটি অনেক গভীর এবং পানি অনেক নিচে আর তার কাছে কোনো বালতি বা দড়ি নেই—তবে সেই অবস্থায় তার জন্য তায়াম্মুমের দিকে ফিরে যাওয়া বৈধ। আর এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো।" সুতরাং যাকে 'পানি' বলা যায় এমন বস্তু যদি অনুপস্থিত থাকে, তবেই তায়াম্মুমের দিকে যেতে হবে। এটিই জমহুর বা সংখ্যাধিক্য আলিমের অভিমত। তবে হানাফিগণ নাবীজ (খেজুর বা কিসমিস ভেজানো পানি) দ্বারা ওজু করা জায়েজ মনে করেন যদি তাতে তীব্রতা বা নেশা সৃষ্টি না হয়; এটি একটি হাদিসের ভিত্তিতে যা তারা বর্ণনা করেন। কিন্তু তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন এবং তাদের বর্ণিত হাদিসটি অত্যন্ত দুর্বল। আর আল্লাহ তাআলাই সমধিক অবগত।
এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: মানুষ যখন রুকু ও সিজদা করতে অক্ষম হয়—যা ইবাদতের মূল ভিত্তি—তখন সে এই দুটির পরিবর্তে ইশারার দিকে চলে যাবে এবং সিজদার ইশারাকে রুকুর ইশারার চেয়ে বেশি নিচু করবে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত সে পূর্ণাঙ্গ রুকুর জন্য পিঠ বাঁকাতে এবং পূর্ণাঙ্গ সিজদার জন্য কপাল মাটিতে রাখতে সক্ষম হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেটিই তার জন্য অবধারিত থাকবে এবং তা থেকে অন্য উপায়ে যাওয়া যাবে না। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: মূল নিয়ম হলো, যে ব্যক্তি তামাত্তু বা কিরান হজ পালন করবে, তার ওপর হাদি বা কুরবানি করা ওয়াজিব। আর তা হলো নহরের দিনে গবাদি পশু থেকে এমন কিছু জবেহ করা যা শরিয়ত অনুযায়ী যথেষ্ট হয়। কিন্তু মানুষ যদি হাদি দিতে অক্ষম হয়, তবে সে এর বিকল্প পন্থায় চলে যাবে, আর তা হলো হজের সময় তিন দিন রোজা রাখা এবং যখন পরিবারের কাছে ফিরে আসবে তখন সাত দিন—এভাবে পূর্ণ দশটি, যেমনটি সূরা আল-বাকারায় উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং, মূল বিধান পালনে সক্ষম থাকা অবস্থায় তা বর্জন করা বৈধ নয়।
এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: কসমের কাফফারার ক্ষেত্রে মূল নিয়ম হলো, মানুষ তিনটি বিষয়ের যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার মাধ্যমে কাফফারা আদায় করবে। সেগুলো হলো: দশজন মিসকিনকে অন্নদান করা অথবা তাদের বস্ত্রদান করা অথবা একজন দাস মুক্ত করা। কসমকারী ব্যক্তি এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে পছন্দের ইখতিয়ার রাখে; সে যেকোনো একটি পালন করলে তা যথেষ্ট হবে, এমনকি সে অন্যটি পালনে সক্ষম হলেও। কিন্তু কসমকারী যদি এই তিনটি বিষয়ের সবকটিতেই অক্ষম হয়, তবে সে এর বিকল্প ব্যবস্থার দিকে যাবে, যা হলো তিন দিন রোজা রাখা। সুতরাং, এই তিনটি বিষয় না পাওয়া পর্যন্ত রোজার দিকে যাওয়া জায়েজ নয়; কারণ মূল বিষয় অনুপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত বিকল্পের দিকে যাওয়া বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومنها: الأصل أن كل قادرٍ على الحج بنفسه أنه يجب عليه أن يحج ببدنه لكن إذا عجز عن الحج بنفسه لمرض كالمعضوب ونحوه وقدر بماله فعليه أن يقيم من يحج عنه، وهذا بدل عن الحج بنفسه، ولم يجز ذلك إلا لأن الأصل تعذر وإذا تعذر الأصل صرنا إلى البدل.
ومنها: الأصل أن قراءة الفاتحة ركن في الصلاة على كل قادرٍ على تعلمها، لكن إن عجز الإنسان عن تعلمها أو ضاق وقت الصلاة ولم يتعلمها بعد، فينتقل إلى البدل وهو التسبيح والتهليل والتكبير والحوقلة، ودليلها حديث أبي أوفى (1) ، فلما عجزنا عن الأصل انتقلنا إلى البدل.
ومنها: كفارة الظهار والقتل الخطأ أو شبه العمد هي على الترتيب فلا يجوز الانتقال إلى الثاني إلا إذا عدم الأصل، والله أعلم.
مسألة: إذا عجز الإنسان عن الأصل ثم انتقل إلى البدل ثم قدر على الأصل فهل يلزمه أن ينتقل إلى الأصل لزوال المانع أو يجزئه البدل؟
الجواب: هذا سؤال مهم جدًا، وجوابه أن يقال: إذا قدر الإنسان على الأصل بعد الانتقال إلى البدل فلا يخلو من ثلاث حالات:
الأولى: أن يقدر على الأصل قبل الشروع في البدل أو فيما يكون البدل شرطًا فيه، فهذا يجب عليه الانتقال إلى الأصل ولا يجزئه البدل، كمن قدر على الماء قبل الشروع في الصلاة فيلزمه إعادة التطهر بالماء وتبطل طهارة التراب، وكمن قدر على الهدي قبل الشروع في الصيام فيلزمه أن يذبح الهدي فلو صام بعد القدرة على الهدي لانقلب صيامه نفلاً ولا يجزئه عن الهدي، وكمن قدر على إحدى خصال الكفارة قبل الشروع في الصوم فيلزمه أن يكفر بالمقدور عليه منها، وذلك لأننا أجزنا له الانتقال إلى البدل لأن الأصل قد تعذر، فشرط الانتقال إلى البدل هو تعذر الأصل فلما قدر عليه مرة أخرى زال الشرط الذي به يباح البدل فالأصل مقدور عليه الآن وإذا قدرنا على الأصل لم يجز الانتقال للبدل.
--------------------------------------------
এর মধ্যে একটি হলো: মূল নীতি হলো যে ব্যক্তি নিজে হজ করতে সক্ষম, তার ওপর সশরীরে হজ করা আবশ্যক। তবে যদি সে বার্ধক্য বা এমন কোনো স্থায়ী রোগের কারণে নিজে হজ করতে অক্ষম হয় যা তাকে চলৎশক্তিহীন করে দেয়, অথচ তার আর্থিক সামর্থ্য থাকে, তবে তার পক্ষ থেকে হজ পালন করার জন্য কাউকে নিযুক্ত করা তার ওপর আবশ্যক। এটি সশরীরে হজ করার স্থলাভিষিক্ত বা বিকল্প। আর এটি কেবল তখনই বৈধ হয় যখন মূলটি (সশরীরে হজ করা) অসম্ভব হয়ে পড়ে; আর যখন মূল বিষয়টি অসম্ভব হয়, তখনই আমরা বিকল্পের দিকে ধাবিত হই।
এর মধ্যে আরেকটি হলো: মূল বিধান হলো সুরা ফাতিহা পাঠ করা সেই ব্যক্তির সালাতের একটি রোকন (অপরিহার্য অংশ) যে তা শিখতে সক্ষম। কিন্তু যদি মানুষ তা শিখতে অক্ষম হয় অথবা সালাতের সময় সংকীর্ণ হয়ে আসে অথচ সে তখনো তা শিখতে পারেনি, তবে সে বিকল্পের দিকে স্থানান্তরিত হবে। আর সেই বিকল্প হলো তাসবিহ (আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা), তাহলিল (একত্ববাদ ঘোষণা), তাকবির (আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা) এবং হাওকালা (লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ) পাঠ করা। এর দলিল হলো আবু আওফার বর্ণিত হাদিস (১)। সুতরাং যখন আমরা মূলটি পালনে অক্ষম হলাম, তখন আমরা বিকল্পের দিকে স্থানান্তরিত হলাম।
এর মধ্যে রয়েছে: জিহার, ভুলবশত হত্যা বা ইচ্ছাকৃত সদৃশ হত্যার কাফফারা ক্রমানুসারে আদায়যোগ্য। সুতরাং মূলটি (প্রথম পদ্ধতিটি) না পাওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয়টির দিকে যাওয়া বৈধ নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
মাসআলা: যদি কোনো ব্যক্তি মূল বিষয়টি পালনে অক্ষম হওয়ার কারণে বিকল্পের দিকে স্থানান্তরিত হয় এবং অতঃপর সে পুনরায় মূলটি পালনের সক্ষমতা ফিরে পায়, তবে বাধা দূর হওয়ার কারণে তার জন্য কি মূলের দিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক, নাকি বিকল্পটিই তার জন্য যথেষ্ট হবে?
উত্তর: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। এর উত্তর হলো: বিকল্পের দিকে স্থানান্তরিত হওয়ার পর মানুষ যদি মূল বিষয়ের ওপর সক্ষমতা লাভ করে, তবে তা তিনটি অবস্থার বাইরে নয়:
প্রথম অবস্থা: বিকল্পটি শুরু করার আগে অথবা বিকল্পটি যার জন্য শর্ত এমন কোনো কাজ শুরু করার আগে যদি মূল বিষয়ের ওপর সক্ষমতা ফিরে আসে। এমতাবস্থায় তার ওপর মূলের দিকে ফিরে যাওয়া ওয়াজিব এবং বিকল্পটি তার জন্য যথেষ্ট হবে না। যেমন: সালাত শুরু করার আগেই কেউ পানি পেয়ে গেল, এমতাবস্থায় তাকে পুনরায় পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করতে হবে এবং মাটির মাধ্যমে অর্জিত পবিত্রতা (তায়াম্মুম) বাতিল হয়ে যাবে। আবার কেউ সিয়াম শুরু করার আগেই হাদি (কুরবানির পশু) প্রদানে সক্ষম হলো, তবে তার ওপর হাদি জবেহ করা আবশ্যক। যদি সে হাদি প্রদানের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সিয়াম পালন করে, তবে তার সিয়াম নফল হিসেবে গণ্য হবে এবং তা হাদির বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট হবে না। একইভাবে কেউ সিয়াম শুরু করার আগেই কাফফারার কোনো একটি খাসলত বা পদ্ধতির মাধ্যমে তা পালনে সক্ষম হলো, তবে তার ওপর সক্ষমতাপ্রাপ্ত সেই পদ্ধতির মাধ্যমেই কাফফারা আদায় করা আবশ্যক। কারণ, আমরা তাকে বিকল্পের দিকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলাম মূলটি অসম্ভব হওয়ার কারণে। সুতরাং বিকল্পের দিকে যাওয়ার শর্তই হলো মূলটি অসম্ভব হওয়া। যখন সে পুনরায় সেটির সক্ষমতা ফিরে পেল, তখন সেই শর্তটি দূরীভূত হলো যার মাধ্যমে বিকল্পটি বৈধ হয়েছিল। তাই এখন মূলটি পালন করা সম্ভব, আর যখন মূলটি পালনে সক্ষমতা থাকে, তখন বিকল্পের দিকে যাওয়া বৈধ নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الحالة الثانية: أن لا يقدر على الأصل إلا بعد الفراغ من فعل البدل أو فعل ما يشترط البدل لصحته فهذا يجزئه فعل البدل وفعل ما يشترط البدل لصحته كمن قدر على الهدي بعد الانتهاء من الصوم فهذا لا يلزمه الهدي لأن المطالبة سقطت بفعل البدل، وكمن قدر على الماء بعد الفراغ من الصلاة فهذا صلاته صحيحة ولا يلزمه إعادتها، بل ليس من السنة إعادتها وعلى ذلك حديث أبي سعيد (1) ، وكمن قدر على الحج بنفسه بعد فراغ وكيله من أعمال الحج فهذا سقط عنه الحج الواجب وإن حج بعد ذلك فنافلة.
الحالة الثالثة: وهي محط قوة الخلاف وإلا فالخلاف في الحالة الثانية قليل، لكن هذه الحالة هي التي كثر خلاف العلماء فيها وهي أن يقدر على الأصل في أثناء فعل البدل أو في أثناء فعل ما يشترط البدل لصحته فهذا كمن قدر على الحج بنفسه بعد شروع وكيله في الحج وقبل الانتهاء من أعمال الحج، وكمن قدر على الهدي بعد الشروع في الصيام وقبل الفراغ منه، وكمن وجد الماء بعد البدء في الصلاة وقبل الفراغ منها، وكمن قدر على التكفير بأحد الخصال الثلاث بعد الشروع في الصوم وقبل الفراغ منه، فهل يكمل فعل البدل حتى مع القدرة على الإتيان بالأصل أو يقطع البدل وينتقل إلى الأصل؟
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অবস্থা: মূল বিষয়ের ওপর সক্ষমতা না আসা যতক্ষণ না বিকল্প কাজ সম্পন্ন করা হয় অথবা এমন কাজ সম্পন্ন করা হয় যার শুদ্ধতার জন্য বিকল্পটি শর্ত। এক্ষেত্রে তার বিকল্প কাজ এবং যে কাজের শুদ্ধতার জন্য বিকল্পটি শর্ত ছিল তা যথেষ্ট হবে। যেমন কেউ রোজা শেষ করার পর হাদি (কুরবানি) দিতে সক্ষম হলো, এমতাবস্থায় তার ওপর হাদি দেওয়া আবশ্যক হবে না; কারণ বিকল্প পালনের মাধ্যমে দাবিটি রহিত হয়ে গেছে। এবং যেমন কেউ নামাজ শেষ করার পর পানি পেল, এমতাবস্থায় তার নামাজ সঠিক এবং তা পুনরায় আদায় করা তার ওপর আবশ্যক নয়, বরং পুনরায় আদায় করা সুন্নাতও নয়। আবু সাঈদের হাদিস (১) এর ওপরই ভিত্তি করে। আর যেমন কেউ তার প্রতিনিধির হজের কার্যাবলি সম্পন্ন করার পর নিজে হজ পালনের সক্ষমতা অর্জন করল, তার ওপর থেকে ওয়াজিব হজ রহিত হয়ে গেল। এরপর যদি সে হজ করে তবে তা নফল হিসেবে গণ্য হবে।
তৃতীয় অবস্থা: এটিই প্রবল মতভেদের ক্ষেত্র, অন্যথায় দ্বিতীয় অবস্থায় মতভেদ সামান্যই। তবে এই অবস্থাতেই আলেমদের মাঝে প্রচুর মতভেদ হয়েছে। আর তা হলো বিকল্প কাজ চলাকালীন সময়ে অথবা যে কাজের শুদ্ধতার জন্য বিকল্পটি শর্ত তার চলাকালীন সময়ে মূল বিষয়ের ওপর সক্ষমতা লাভ করা। এটি ঐ ব্যক্তির মতো যে তার প্রতিনিধির হজ শুরু করার পর এবং হজের কার্যাবলি শেষ করার আগে নিজে হজ পালনের সক্ষমতা লাভ করল। আর যেমন কেউ রোজা শুরু করার পর এবং তা শেষ করার আগে হাদি প্রদানের সক্ষমতা পেল। আর যে ব্যক্তি নামাজ শুরু করার পর এবং তা শেষ করার আগে পানি পেল। আর যে ব্যক্তি রোজা শুরু করার পর এবং তা শেষ করার আগে (কাফফারার) তিনটি বিষয়ের কোনো একটির মাধ্যমে সক্ষমতা পেল। এমতাবস্থায় সে কি মূল বিষয়টি পালনে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও বিকল্প কাজটির পূর্ণতা দেবে, নাকি বিকল্পটি বন্ধ করে দিয়ে মূলের দিকে ফিরে যাবে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
في المسألة قولان: قيل: بإجزاء البدل، وقيل: بوجوب الانتقال إلى الأصل، وبعضهم فرق بين المسائل المذكورة ففي بعضها أفتى بالإجزاء وفي بعضها أفتى بوجوب الانتقال إلى الأصل [وإني بقيت ردحاً من الزمان أبحث عن ضابط يفرق بين المسائل التي يلزم فيها الإنسان أن ينتقل إلى الأصل حال القدرة عليه والتي لا يلزمه الانتقال إليه ولو مع القدرة، فلم أجد لذلك أثرًا في كتب الفقهاء، إلا ما وجدته في كتاب "القواعد" لابن رجب ولكنه فارق ليس بواضح كثيرًا؛ ولأنه جعل فيه مسائل مترددة بين الأصلين زادت من وهج المشكلة، ثم لما انقطعت الحبال في يدي توجهت إلى الله تعالى بالدعاء أن يفرج كربي وأن ينفس همي وأن يدلني على ضابط هذه المسائل فاستجاب لي ولم يخيب رجائي وإني والله لأحقر من أن يلتفت الله لدعائي لأنه يعلم ما عندي من الذنوب والمعاصي، ولكنه الراحم المتفضل، فهداني إلى ضابط عظيم جدًا قست عليه جميع المسائل فوجدتها مطردة عليه، بل ويوافق تخريجها على هذا الضابط كل الأدلة وما قاله الفقهاء فحمدت الله تعالى وسجدت له شكرًا على هذه النعمة، وإنها والله لأغلى عندي من نعمة الولد والزوجة والمال، بل وأغلى عندي من نعمة الحياة ذاتها فارتاح خاطري وهدأت نفسي، وإليك الآن شرح هذا الضابط لأنه يحتاج إلى شيء من الفهم] .
فأقول: إن الانتقال من الأصل إلى البدل لا يخلو من حالتين:
এই বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে: বলা হয়েছে, বিকল্প (বদল) যথেষ্ট হবে; আবার বলা হয়েছে, মূলে (আসলে) ফিরে যাওয়া ওয়াজিব। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ উল্লেখিত মাসয়ালাগুলোর মধ্যে পার্থক্য করেছেন; ফলে কোনোটিতে তিনি বিকল্প যথেষ্ট হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন, আবার কোনোটিতে মূলে ফিরে যাওয়া ওয়াজিব হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন। [আমি দীর্ঘকাল ধরে এমন একটি মূলনীতি খুঁজছিলাম যা সেই মাসয়ালাগুলোর মধ্যে পার্থক্য করবে যেখানে কোনো ব্যক্তি সক্ষম হওয়া মাত্রই মূলে ফিরে যেতে বাধ্য হয়, আর সেই মাসয়ালাগুলো যেখানে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তাকে মূলে ফিরে যেতে হয় না। ফকিহগণের কিতাবসমূহে আমি এর কোনো চিহ্ন খুঁজে পাইনি, কেবল ইবনে রজব-এর 'আল-কাওয়ায়িদ' কিতাবে যা পেয়েছি তা ছাড়া। কিন্তু সেটিও খুব একটা স্পষ্ট পার্থক্যকারী বিষয় নয়; কারণ তিনি সেখানে এমন কিছু মাসয়ালা উল্লেখ করেছেন যা দুটি মূলনীতির মাঝে দোদুল্যমান, যা সমস্যার জটিলতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অতঃপর যখন আমার সব উপায় রুদ্ধ হয়ে গেল, তখন আমি মহান আল্লাহর নিকট দোয়ার মাধ্যমে মনোনিবেশ করলাম যেন তিনি আমার কষ্ট লাঘব করেন, আমার দুশ্চিন্তা দূর করেন এবং আমাকে এই মাসয়ালাগুলোর মূলনীতির দিকে পরিচালিত করেন। তিনি আমার ডাকে সাড়া দিলেন এবং আমার আশা ভঙ্গ করেননি। আল্লাহর কসম, আমি অত্যন্ত নগণ্য যে আল্লাহ আমার দোয়ার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবেন, কারণ তিনি আমার গুনাহ ও নাফরমানি সম্পর্কে অবগত আছেন; কিন্তু তিনি পরম দয়ালু ও অনুগ্রহকারী। অতঃপর তিনি আমাকে এক মহান মূলনীতির দিশা দিলেন, যার ওপর আমি সকল মাসয়ালা পরিমাপ করে দেখলাম যে সেগুলো এর সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বরং এই মূলনীতির ভিত্তিতে মাসয়ালাগুলোর উদ্ভাবন সমস্ত দলিল এবং ফকিহগণের বক্তব্যের সাথে মিলে যায়। ফলে আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করলাম এবং এই নিআমতের শুকরিয়া স্বরূপ সিজদাবনত হলাম। আল্লাহর কসম, এটি আমার কাছে সন্তান, স্ত্রী এবং সম্পদের নিআমতের চেয়েও অধিক মূল্যবান, এমনকি খোদ জীবন নামক নিআমতের চেয়েও দামী। এতে আমার চিত্ত প্রশান্ত হলো এবং আমার মন স্থির হলো। এখন তোমার সামনে এই মূলনীতির ব্যাখ্যা তুলে ধরছি, কারণ এটি বোঝার জন্য কিছুটা বোধশক্তির প্রয়োজন।]
আমি বলছি: মূল থেকে বিকল্পের দিকে যাওয়া দুটি অবস্থার বাইরে নয়:
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
إما أن يكون انتقال ضرورة، وإما أن يكون انتقال رخصة فإن كان الانتقال انتقال ضرورة فإننا نأمر من قدر على الأصل بعد تعذره أن ينتقل إليه ولو بعد الشروع في البدل لأن الانتقال إلى البدل في هذه الحالة أجازته الضرورة، والضرورة تقدر بقدرها، وقد زالت هذه الضرورة بالقدرة على الأصل، فعاد الحكم كما كان، أما إذا كان الانتقال انتقال رخصة وتوسعة على المكلف فإنه لا يلزم بالانتقال إلى الأصل عند القدرة على الأصل؛ لأن المقصود هو التوسعة على المكلف وإلزامه بالانتقال إلى الأصل بعد الشروع في البدل منافٍ لهذا المقصود فقلنا: يجزئه البدل،والذي يدل على إرادة التوسعة والرخصة هو أن المكلف قادر على أن يأتي بالأصل لكن مع نوع كلفةٍ ومشقة، فنزل المكلف منزلة عدم القادر لوجود هذه الكلفة والمشقة، إذًا الشريعة تريد إزالة هذه الكلفة والمشقة عنه فرخصت له الإتيان بالبدل، إذًا صار الانتقال إلى البدل انتقال رخصة لا ضرورة.
هذا هو الضابط من ناحية التنظير، ويبقى أن نخرج الفروع عليه لنرى هل هي متجهة موافقة للدليل أم لا؟
فأقول: منها: من قدر على الهدي بعد الشروع في الصيام فهل يلزمه الانتقال إلى الهدي أم لا؟ نقول: إن الانتقال من الهدي إلى الصيام انتقال رخصة لا انتقال ضرورة بدليل أن المكلف قد يقدر على الهدي لكن بنوع كلفة كشرائه بدين في ذمته، أو استلاف ثمنه، أو كطلبه من مظانه من المتصدقين والمحسنين لكن هذا لا يلزمه فإذا تيقنا أنه انتقال رخصة فنقول: يستمر في الصوم ولا يلزمه الانتقال إلى الأصل وإن خالف وانتقل إلى الأصل فإنه يجزئه عندنا أي المذهب لأنه قد جاء بالأصل المأمور به وخرج من العهدة بفعله، وليس الصيام عبادة لا يجوز قطعها وهذا واضح والله أعلم.
স্থানান্তরটি হয় ‘জরুরি প্রয়োজন’ ভিত্তিক হতে পারে অথবা ‘অনুমতি’ (রুকসাত) স্বরূপ হতে পারে। যদি স্থানান্তরটি জরুরি প্রয়োজনবশত হয়, তবে মূল ইবাদত পালনে অক্ষমতার পর পুনরায় সক্ষমতা ফিরে এলে আমরা তাকে মূল ইবাদতের দিকে প্রত্যাবর্তন করার নির্দেশ দেব, যদিও সে বিকল্প ইবাদত শুরু করে দিয়ে থাকে। কারণ এমতাবস্থায় বিকল্পের দিকে যাওয়াটা কেবল জরুরি প্রয়োজনের কারণেই বৈধ করা হয়েছিল। আর জরুরি প্রয়োজনকে তার নির্ধারিত সীমা অনুযায়ীই বিবেচনা করা হয়। যেহেতু মূল ইবাদত পালনের সক্ষমতা অর্জনের ফলে সেই জরুরি প্রয়োজন অপসারিত হয়েছে, তাই বিধানটি তার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবে। কিন্তু যদি স্থানান্তরটি মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) প্রতি সহজতা ও প্রশস্ততা প্রদানের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, তবে মূল ইবাদত পালনে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তার জন্য মূলের দিকে ফিরে আসা আবশ্যক নয়। কেননা এখানে উদ্দেশ্য হলো মুকাল্লাফের জন্য বিষয়টি সহজ করা; আর বিকল্প ইবাদত শুরু করার পর তাকে পুনরায় মূলের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য করা এই উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। তাই আমরা বলি: তার জন্য বিকল্পটিই যথেষ্ট হবে। প্রশস্ততা ও অনুমতির সংকল্পের প্রমাণ হলো, মুকাল্লাফ ব্যক্তি মূল ইবাদতটি পালন করতে সক্ষম হলেও তাতে এক প্রকার কষ্ট ও ক্লেশ বিদ্যমান থাকে। ফলে এই কষ্ট ও ক্লেশের উপস্থিতির কারণে মুকাল্লাফকে অক্ষম ব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। সুতরাং শরীয়ত তার থেকে এই কষ্ট ও ক্লেশ দূর করতে চায় বিধায় তাকে বিকল্প পালনের অনুমতি দিয়েছে। অতএব, বিকল্পের দিকে এই স্থানান্তরটি অনুমতির (রুকসাত) পর্যায়ভুক্ত, জরুরি প্রয়োজন (জরুরত) নয়।
তাত্ত্বিক বিবেচনার ক্ষেত্রে এটিই হলো মূলনীতি। এখন আমাদের এই মূলনীতির আলোকে শাখাগত বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন, যাতে দেখা যায় সেগুলো দলিলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কি না।
আমি বলব: এর একটি উদাহরণ হলো: যে ব্যক্তি রোজা রাখা শুরু করার পর হাদি (কুরবানির পশু) লাভে সক্ষম হলো, তার জন্য কি পুনরায় হাদির দিকে ফিরে আসা আবশ্যক? আমরা বলব: হাদি থেকে রোজার দিকে স্থানান্তরটি হলো অনুমতিস্বরূপ, জরুরি প্রয়োজনবশত নয়। এর দলিল হলো, মুকাল্লাফ ব্যক্তি হয়তো হাদি লাভে সক্ষম হতে পারে তবে কিছুটা কষ্টের বিনিময়ে; যেমন: নিজের জিম্মায় ঋণ নিয়ে তা ক্রয় করা, অথবা মূল্য ধার নেওয়া, কিংবা দানশীল ও ইহসানকারীদের কাছে তা পাওয়ার চেষ্টা করা। কিন্তু এগুলো করা তার ওপর আবশ্যক নয়। সুতরাং যখন আমরা নিশ্চিত হলাম যে এটি একটি অনুমতিমূলক (রুকসাত) স্থানান্তর, তখন আমরা বলব: সে রোজা রাখা চালিয়ে যাবে এবং মূলের (হাদি) দিকে ফিরে যাওয়া তার জন্য আবশ্যক নয়। তবে সে যদি এর অন্যথা করে মূল ইবাদতের দিকে ফিরে যায়, তবুও আমাদের নিকট অর্থাৎ মাযহাব অনুযায়ী তা যথেষ্ট হবে; কারণ সে আদেশকৃত মূল ইবাদতটিই সম্পাদন করেছে এবং তার এই কার্যের মাধ্যমে সে দায়মুক্ত হয়েছে। আর রোজা এমন কোনো ইবাদত নয় যা ভঙ্গ করা জায়েজ নয়। এই বিষয়টি সুস্পষ্ট, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ومنها: من قدر على الحج بنفسه بعد شروع وكيله في الإحرام فهل يلزمه الانتقال إلى الأصل أم لا؟ نقول: إن الانتقال من الحج بالنفس إلى الحج بالغير انتقال رخصة لا انتقال ضرورة بدليل أن المكلف قد يقدر على الحج بنفسه لكن بنوع كلفة ومشقة كحمله والتوكيل عنه في الرمي ونحوه، أو أن ينتظر لعله يبرأ، لكن كل هذا لا يجب عليه فدل على أن الأمر رخصة وتوسعة، فنقول: يجزئه فعل وكيله ويسقط عنه الحج الواجب وإن أراد أن يحج عن نفسه بعد القدرة فله ذلك وتنقلب حجة وكيله نفلاً عن نفسه، والله أعلم.
ومنها: من قدر على إحدى خصال الكفارة بعد الشروع في الصوم فإنه لا يلزمه الانتقال لها ويجزئه التكفير بالصوم لأن الانتقال هنا انتقال رخصة بدليل أن الحالف قد يقدر على التكفير بإحداها ولكن بنوع كلفة ومشقة، والله أعلم.
وعلى ذلك فقس، فإذا لاح لك أن الانتقال انتقال رخصة فاعلم أن البدل بعد الشروع يجزئ ولو قدر على الأصل كما في الأمثلة الماضية.
وأما إذا لاح لك أن الانتقال انتقال ضرورة فاحكم ببطلان البدل عند القدرة على الأصل وإليك فروع ذلك فأقول:
منها: المرأة الحائض عليها أن تعتد بالحيض لكن إذا ارتفع إن كانت تدري ما رفعه فتعتد سنة كاملة، وإن كانت لا تدري ما رفعه فإنها تعتد عدة الآيسة والصغيرة ثلاثة أشهر، فإذا نزل حيضها بعد الشروع في الأشهر فإنه يلزمها أن تنتقل إلى الأصل الذي هو الاعتداد بالحيض لأن هذا الانتقال من الحيض إلى الأشهر انتقال ضرورة، يعني لم يجيزوا لها الانتقال إلى الأشهر إلا بعد التأكد التام من انعدام الأصل ولذلك قالوا: من ارتفع حيضها لا تدري ما رفعه تعتد سنة كاملة حتى تتأكد أنها ليست ممن يحيض وليست حاملاً، إذاً لاح لنا أن الانتقال انتقال ضرورة فألزمناها بالانتقال إلى الأصل عند القدرة عليه.
এর মধ্যে রয়েছে: যে ব্যক্তি তার প্রতিনিধির ইহরাম শুরু করার পর নিজে হজ করতে সক্ষম হয়, তবে তার জন্য কি মূলের (নিজে হজ করা) দিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক কি না? আমরা বলি: সশরীরে হজ করা থেকে অন্যের মাধ্যমে হজ করানোর দিকে স্থানান্তর একটি অনুমোদিত সুযোগ (রুখসাহ), এটি নিরুপায় অবস্থার (জরুরত) কারণে স্থানান্তর নয়। এর প্রমাণ হলো, মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) সশরীরে হজ করতে সক্ষম হতে পারে তবে তা কিছুটা কষ্ট ও শ্রমসাধ্য হওয়ার মাধ্যমে, যেমন তাকে বহন করে নিয়ে যাওয়া এবং পাথর নিক্ষেপ (রামি) ও অনুরূপ কাজে অন্যকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা; অথবা সে আরোগ্য লাভের আশায় অপেক্ষা করতে পারে। কিন্তু এসব তার ওপর ওয়াজিব নয়। এটি প্রমাণ করে যে বিষয়টি একটি প্রশস্ততা ও সুযোগ। অতএব আমরা বলি: তার প্রতিনিধির কাজই তার জন্য যথেষ্ট হবে এবং তার ওপর থেকে ফরজ হজটি আদায় হয়ে যাবে। যদি সক্ষম হওয়ার পর সে নিজে হজ করতে চায়, তবে তা করার অধিকার তার আছে এবং তার প্রতিনিধির হজটি সেই প্রতিনিধির জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: যে ব্যক্তি রোজা শুরু করার পর কাফফারার অন্য কোনো প্রকার পালনে সক্ষম হয়, তবে তার জন্য সেটির দিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক নয় এবং রোজার মাধ্যমে কাফফারা আদায় করাই তার জন্য যথেষ্ট হবে। কারণ এখানকার স্থানান্তরটি একটি সুযোগ (রুখসাহ)। এর প্রমাণ হলো, শপথকারী হয়তো সেই প্রকারগুলোর কোনো একটির মাধ্যমে কাফফারা দিতে সক্ষম হতে পারে, তবে তা কিছুটা কষ্ট ও শ্রমসাধ্য হওয়ার কারণে তাকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।
এর ওপর ভিত্তি করেই অন্যান্য বিষয়কে অনুমান করুন। যখন আপনার কাছে স্পষ্ট হবে যে স্থানান্তরটি একটি অনুমোদিত সুযোগ (রুখসাহ), তখন জেনে রাখুন যে, মূল কাজে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও বিকল্পটি শুরু করার পর সেটিই যথেষ্ট হবে, যেমনটি পূর্ববর্তী উদাহরণগুলোতে দেখা গেছে।
আর যদি আপনার নিকট স্পষ্ট হয় যে স্থানান্তরটি নিরুপায় অবস্থার (জরুরত) কারণে হয়েছে, তবে মূল কাজে সক্ষম হওয়ার সাথে সাথে বিকল্পটি বাতিল হওয়ার ফয়সালা প্রদান করুন। এর কিছু শাখা মাসয়ালা নিচে দেওয়া হলো:
এর মধ্যে রয়েছে: ঋতুবতী মহিলার ওপর ঋতুস্রাবের (হায়েজ) মাধ্যমে ইদ্দত পালন করা আবশ্যক। কিন্তু যদি ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, তবে এর কারণ জানা থাকলে তাকে পূর্ণ এক বছর ইদ্দত পালন করতে হবে। আর যদি বন্ধ হওয়ার কারণ জানা না থাকে, তবে সে ঋতুবন্ধ হওয়া বৃদ্ধা ও নাবালিকা মেয়ের মতো তিন মাস ইদ্দত পালন করবে। যদি মাস গণনার মাধ্যমে ইদ্দত পালন শুরু করার পর তার পুনরায় ঋতুস্রাব শুরু হয়, তবে তার জন্য মূল পদ্ধতিতে অর্থাৎ ঋতুস্রাবের মাধ্যমে ইদ্দত পালনের দিকে ফিরে আসা আবশ্যক। কারণ ঋতুস্রাব থেকে মাসের দিকে এই স্থানান্তরটি ছিল নিরুপায় অবস্থার (জরুরত) কারণে। অর্থাৎ মূলটি (ঋতুস্রাব) না থাকার ব্যাপারে পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া ছাড়া ফকীহগণ তার জন্য মাস গণনার দিকে যাওয়া বৈধ করেননি। এই কারণেই তাঁরা বলেছেন: যার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গেছে এবং এর কারণ জানা নেই, সে এক বছর ইদ্দত পালন করবে যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সে ঋতুবতী নয় এবং গর্ভবতীও নয়। সুতরাং আমাদের কাছে স্পষ্ট হলো যে, এই স্থানান্তরটি ছিল নিরুপায় অবস্থার (জরুরত) কারণে, তাই মূলটি পালনে সক্ষম হওয়ার সময় আমরা তাকে মূলের দিকেই ফিরে যেতে বাধ্য করেছি।
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ومنها: وهو أخطرها: من قدر على التطهر بالماء أثناء الصلاة التي دخلها بالتيمم لعدم الماء فهل يقطعها أم لا؟ نقول: إن الانتقال من المطالبة بالطهارة المائية حال عدمها إلى التيمم انتقال ضرورة، لأنه لا يجوز له التيمم إلا بعد التأكد التام من عدم الماء، فإذا قدر على الماء سواءً بشراءٍ ولو في الذمة أو هبة أو بدلالةٍ ونحوه، فإن التيمم لا يجوز لكن إذا لم يجد الماء ولم يقدر عليه بأي وجه فينتقل إلى التيمم، إذًا صار الانتقال إلى التيمم انتقال ضرورة لا رخصة، فإذا وجد الماء وقدر عليه ولو في أثناء الصلاة وجب عليه الانتقال إليه، وعلى ذلك دلت الأدلة فمن ذلك قوله تعالى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا} وهذا عام في كل وقت سواءً قبل الشروع في الصلاة أو في أثنائها أو بعدها، وخص الدليل صحة الصلاة بالبدل بعدها وهو حديث أبي سعيد وبقيت الآية عامة في كل وقت، فمن وجد الماء فلا يتيمم، ومن لم يجده فيتيمم بنص الآية، فمن خص من ذلك شيئاً فعليه الدليل ولا دليل له.
এর মধ্যে একটি বিষয়, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: যে ব্যক্তি পানির অভাবে তায়াম্মুম করে সালাতে প্রবেশ করার পর সালাত চলাকালীন পানি ব্যবহারে সক্ষম হয়, তবে সে কি সালাত ভেঙে ফেলবে নাকি না? আমরা বলি: পানির অনুপস্থিতিতে পানিনির্ভর পবিত্রতার আবশ্যকতা থেকে তায়াম্মুমের দিকে যাওয়া হলো একটি জরুরি পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতামূলক পরিবর্তন; কারণ পানির অনুপস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া ছাড়া তার জন্য তায়াম্মুম করা জায়েয নয়। সুতরাং সে যদি পানির সামর্থ্য লাভ করে—চাই তা ক্রয়ের মাধ্যমে হোক (এমনকি বাকিতে হলেও), অথবা উপহার হিসেবে, কিংবা কারও পথপ্রদর্শনের মাধ্যমে বা অনুরূপ কোনো উপায়ে—তবে তায়াম্মুম জায়েয হবে না। কিন্তু যদি সে পানি না পায় এবং কোনোভাবেই তাতে সক্ষম না হয়, তবে সে তায়াম্মুমের দিকে ফিরে যাবে। অতএব, তায়াম্মুমের দিকে যাওয়াটা একটি জরুরি অবস্থার বাধ্যবাধকতা হিসেবে গণ্য হয়েছে, কোনো সাধারণ শিথিলতা হিসেবে নয়। সুতরাং সে যদি পানি পায় এবং তা ব্যবহারে সক্ষম হয়—এমনকি সালাত চলাকালীন হলেও—তবে তার জন্য পানির দিকে ফিরে যাওয়া (অর্থাৎ পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা) ওয়াজিব। দলীলসমূহ এই বিষয়েরই প্রমাণ দেয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে তোমরা তায়াম্মুম করো।" এটি সব সময়ের জন্য একটি সাধারণ বিধান; চাই তা সালাত শুরু করার আগে হোক, সালাত চলাকালীন হোক কিংবা সালাত পরবর্তী সময়ে হোক। দলীল (সুন্নাহ) কেবল সালাত আদায় শেষ হওয়ার পর তায়াম্মুমের মাধ্যমে কৃত সালাতটি সঠিক হওয়ার বিষয়টিকে সুনির্দিষ্ট করেছে, যা আবু সাঈদের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তবে আয়াতটি সব সময়ের জন্য সাধারণ হুকুম হিসেবেই বহাল রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি পানি পাবে, সে তায়াম্মুম করবে না; আর যে পানি পাবে না, সে আয়াতের ভাষ্য অনুযায়ী তায়াম্মুম করবে। এমতাবস্থায় কেউ যদি এর মধ্য থেকে কোনো অবস্থাকে নির্দিষ্ট করতে চায়, তবে তাকে দলীল পেশ করতে হবে, অথচ তার স্বপক্ষে কোনো দলীল নেই।
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ومن ذلك: قوله صلى الله عليه وسلم: (فإذا وجد الماء فليتق الله وليمسه بشرته) هو عام أيضًا في جميع الأوقات وخص منه ما إذا انتهى من الفعل بالدليل فبقي ما قبل الفعل وفي أثناء الفعل داخل في هذا العموم، فنقول لمن وجد الماء في أثناء الصلاة: اتق الله وأمِسَّه بشرتك، ولأننا رجحنا أن التيمم رافع للحدث رفعًا مؤقتًا حتى يوجد الماء فإذا وجد الماء انتهى حكم التيمم وعاد الحدث كما كان، فإن كان حدثًا أصغر وجب الوضوء وإن كان حدثًا أكبر وجب الغسل بدليل حديث عمران: (خذ هذا وأفرغه عليك) بعد أن قال: (عليك بالصعيد فإنه يكفيك) وللحديث السابق: (فإذا وجد الماء فليتق الله وليمسه بشرته) فإذا تيمم لعدم الماء فقد ارتفع حدثه، فإذا دخل في الصلاة فقد دخل بطهارة تامة وعلى وجهٍ مأمورٍ به شرعًا لكن إذا وجد الماء أو قدر على استعماله فإن حكم التيمم يبطل ويعود الحدث كما كان، والصلاة مع الحدث باطلة، فيلزمه قطعها ويكون قطعها على وجهٍ مأمورٍ به شرعًا، ولا يأثم في ذلك ولا يعد مخالفًا لقوله تعالى: {وَلا تُبْطِلُوا أعْمَالَكُمْ} (1) لأن صلاته بطلت بوجود الماء، فيلزمه أن يخرج منها بلا سلام ويتوضأ ويستأنفها، ويقال أيضًا: إننا أجمعنا معكم أنه إذا وجد الماء قبل الدخول في الصلاة أن تيممه يبطل ويلزمه استئناف الطهارة بالماء، فكذلك إذا وجده في أثنائها، فالأصل هو وجود الماء قبل الدخول في الصلاة، والفرع هو وجود الماء بعد الدخول في الصلاة، والعلة هي بطلان التيمم وعود وصف الحدث في كلٍ، والحكم هو أنه كما بطل التيمم قبل الصلاة وعاد وصف الحدث فكذلك يبطل التيمم في أثنائها ويعود وصف الحدث، وهو قياس صحيح، وأما وجه صحة صلاته إذا لم يجد الماء إلا بعد الفراغ من الصلاة فلأمرين: أحدهما: لأن الأدلة دلت على صحة الصلاة
--------------------------------------------
এর মধ্যে রয়েছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী: "যখন সে পানি পাবে, তখন সে যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং তা যেন নিজের চামড়ায় স্পর্শ করায়।" এটিও সকল সময়ের জন্য সাধারণ এবং দলিলের ভিত্তিতে কেবল আমল শেষ করার বিষয়টি এর থেকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ফলে আমল শুরু করার পূর্বের এবং আমল চলাকালীন সময়টি এই সাধারণ নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত রয়ে গেছে। তাই আমরা সালাত রত অবস্থায় যে ব্যক্তি পানি পেয়েছে তাকে বলি: আল্লাহকে ভয় করুন এবং আপনার চামড়ায় তা স্পর্শ করান। কারণ আমরা এই মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছি যে, তায়াম্মুম সাময়িকভাবে অপবিত্রতা দূর করে যতক্ষণ না পানি পাওয়া যায়। সুতরাং যখন পানি পাওয়া যাবে, তখন তায়াম্মুমের বিধান শেষ হয়ে যাবে এবং অপবিত্রতা পূর্বের ন্যায় ফিরে আসবে। যদি তা ছোট অপবিত্রতা হয় তবে ওজু করা ওয়াজিব হবে, আর যদি বড় অপবিত্রতা হয় তবে গোসল করা ওয়াজিব হবে। এর দলিল হলো ইমরানের বর্ণিত হাদিস: "এটি নাও এবং তোমার নিজের ওপর ঢেলে দাও," যখন তিনি ইতিপূর্বে বলেছিলেন: "তুমি পবিত্র মাটি ব্যবহার করো, কারণ এটিই তোমার জন্য যথেষ্ট।" এছাড়া পূর্বোক্ত হাদিসের কারণেও: "যখন সে পানি পাবে, তখন সে যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং তা যেন নিজের চামড়ায় স্পর্শ করায়।" অতএব যখন পানির অভাবে কেউ তায়াম্মুম করবে তখন তার অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে। ফলে সে যখন সালাতে প্রবেশ করবে, তখন সে পূর্ণ পবিত্রতা নিয়েই এবং শরয়ি নির্দেশিত পদ্ধতিতেই তাতে প্রবেশ করবে। কিন্তু যদি সে পানি পেয়ে যায় অথবা তা ব্যবহারে সক্ষম হয়, তবে তায়াম্মুমের বিধান বাতিল হয়ে যাবে এবং অপবিত্রতা আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। আর অপবিত্র অবস্থায় সালাত বাতিল। সুতরাং তার জন্য সালাত ছেড়ে দেওয়া আবশ্যক এবং এই সালাত ত্যাগ করা শরয়ি নির্দেশিত পদ্ধতিতেই হবে। এতে সে গুনাহগার হবে না এবং আল্লাহর এই বাণীর বিরোধী হিসেবে গণ্য হবে না যে: "তোমরা তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না" (১)। কারণ পানি পাওয়ার মাধ্যমে তার সালাত বাতিল হয়ে গেছে। তাই তার জন্য আবশ্যক হলো সালাম ছাড়াই সালাত থেকে বেরিয়ে আসা, ওজু করা এবং নতুন করে সালাত শুরু করা। আমরা আরও বলি: আমাদের ও আপনাদের মাঝে এ বিষয়ে ঐক্যমত রয়েছে যে, সালাতে প্রবেশের পূর্বে যদি কেউ পানি পায় তবে তার তায়াম্মুম বাতিল হয়ে যায় এবং পানি দিয়ে পুনরায় পবিত্রতা অর্জন করা তার ওপর আবশ্যক হয়। ঠিক তেমনি সালাত চলাকালীন পানি পেলেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে। এখানে মূল ভিত্তি হলো সালাতে প্রবেশের পূর্বে পানি পাওয়া, আর শাখা হলো সালাতে প্রবেশের পর পানি পাওয়া। উভয় ক্ষেত্রে কারণ হলো তায়াম্মুম বাতিল হওয়া এবং পুনরায় অপবিত্রতার বৈশিষ্ট্য ফিরে আসা। আর বিধান হলো—যেহেতু সালাতের পূর্বে তায়াম্মুম বাতিল হয়েছিল এবং অপবিত্রতা ফিরে এসেছিল, তেমনিভাবে সালাত চলাকালীনও তায়াম্মুম বাতিল হবে এবং অপবিত্রতা ফিরে আসবে। এটি একটি সঠিক তুলনা (কিয়াস)। আর সালাত শেষ করার পর পানি পাওয়া গেলে সালাত সহিহ হওয়ার কারণ দুটি: প্রথমত, দলিলসমূহ সালাত সহিহ হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وإن وجد الماء في الوقت كحديث أبي سعيد. والثاني: أنه صلى بالتيمم والتيمم رافع فإذا دخل في الصلاة فقد دخل بطهارة كاملة وعلى وجهٍ مأمورٍ به شرعًا فإذا تمت صلاته فلا وجه لإبطالها فإذا وجد الماء بعد الصلاة فيبطل تيممه لكن قد انتهى من فعل الصلاة وليس من شروط صحة الصلاة بقاء الطهارة بعد الفراغ، وهذا واضح وأحسب أنه الراجح بالدليل الأثري والنظري.
ونكون بهذا قد أتممنا الكلام على هذه القاعدة العظيمة ونستغفر الله تعالى ونتوب إليه وهو أعلى وأعلم ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.
القاعدة السادسة
6 - كل فعل توفر سببه على عهد النبي صلى الله عليه وسلم ولم يفعله فالمشروع تركهاعلم أن فعل النبي صلى الله عليه وسلم يؤخذ منه تشريع إذا كان المراد به التشريع، وكذلك تركه يؤخذ منه تشريع أيضًا. وهذه القاعدة في تركه، وتفيدنا أن الأفعال التي تيسر فعلها للنبي صلى الله عليه وسلم وتركها باختياره أننا نتعبد لله بتركها لأنها لو كانت مشروعة لما تركها، فلما تركها دل على أنها ليست من الشريعة في شيء، فإنه صلى الله عليه وسلم قد بلغ البلاغ المبين، وأتم الله جل وعلا به الدين، فما ترك خيرًا إلا دلنا عليه، ولا شرًا إلا حذرنا منه، فتركه تشريع كما أن فعله تشريع أيضًا، فهو قدوتنا وإمامنا كما قال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أسْوَة حَسَنَةٌ} أي هو قدوتنا في فعله وتركه، فكما أننا نتأسى به في فعله فكذلك علينا أن نتأسى به في تركه، وخاصة الفعل الذي قدر أن يفعله ولم يمنعه من فعله شيء ومع ذلك تركه فيدل ذلك أن المشروع تركه.
وفروع هذه القاعدة كثيرة جدًا لكن نذكر منها ما يدلك على باقيها: فأقول:
আর যদি সময়ের মধ্যেই পানি পাওয়া যায়, যেমনটি আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিসে এসেছে। দ্বিতীয়ত: তিনি তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করেছেন এবং তায়াম্মুম হলো নাপাকি দূরকারী। সুতরাং যখন তিনি সালাতে প্রবেশ করেছেন, তখন তিনি পূর্ণ পবিত্রতা নিয়েই প্রবেশ করেছেন এবং শরয়ি নির্দেশিত পদ্ধতিতেই তা সম্পন্ন করেছেন। যখন তার সালাত সমাপ্ত হয়ে গেছে, তখন তা বাতিল করার কোনো কারণ নেই। আর যদি সালাতের পর পানি পাওয়া যায়, তবে তায়াম্মুম বাতিল হয়ে যাবে, কিন্তু সালাত আদায়ের কাজ তো শেষ হয়ে গেছে। আর সালাত শেষ করার পর পবিত্রতা অবশিষ্ট থাকা সালাত সহিহ হওয়ার কোনো শর্ত নয়। এটি স্পষ্ট বিষয় এবং আমি মনে করি আসারী (বর্ণনাভিত্তিক) ও নজরী (যুক্তিভিত্তিক) প্রমাণের নিরিখে এটিই অগ্রগণ্য।
এর মাধ্যমে আমরা এই মহান মূলনীতিটির আলোচনা সমাপ্ত করলাম। আমরা মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই নিকট তওবা করছি। তিনি সুউচ্চ ও সর্বজ্ঞ। মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আর কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই।
ষষ্ঠ মূলনীতি
৬ - প্রতিটি কাজ যার কারণ বা প্রেক্ষাপট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তিনি তা করেননি, তবে তা বর্জন করাই শরয়ি বিধান।জেনে রাখুন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাজ থেকে বিধান গ্রহণ করা হয় যদি তা দ্বারা বিধান প্রণয়ন উদ্দেশ্য হয়। একইভাবে তাঁর কোনো কাজ বর্জন করা থেকেও বিধান গ্রহণ করা হয়। এই মূলনীতিটি তাঁর বর্জন (তরক) সংক্রান্ত। এটি আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে, যেসব কাজ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য করা সহজসাধ্য ছিল কিন্তু তিনি তা স্বেচ্ছায় বর্জন করেছেন, তবে আমরা সেগুলো বর্জন করার মাধ্যমেই আল্লাহর ইবাদত করব। কারণ যদি সেগুলো শরয়ি বিধান হতো তবে তিনি তা বর্জন করতেন না। সুতরাং যখন তিনি তা বর্জন করেছেন, তা প্রমাণ করে যে এগুলো শরীয়তের কোনো অংশ নয়। কেননা তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্টভাবে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন এবং মহান আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন। তিনি এমন কোনো কল্যাণ বাকি রাখেননি যার দিকে আমাদের পথনির্দেশ করেননি, এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে আমাদের সতর্ক করেননি। সুতরাং তাঁর বর্জন করাও একটি বিধান যেমন তাঁর কোনো কাজ করাও একটি বিধান। তিনি আমাদের আদর্শ ও ইমাম যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ}। অর্থাৎ তাঁর কাজ এবং বর্জন উভয় ক্ষেত্রেই তিনি আমাদের আদর্শ। সুতরাং আমরা যেভাবে তাঁর কাজের অনুসরণ করি, সেভাবে আমাদের উচিত তাঁর বর্জনকৃত বিষয়গুলোতেও তাঁর অনুসরণ করা। বিশেষ করে এমন কাজ যা তিনি করতে সক্ষম ছিলেন এবং তা করতে কোনো বাধাও ছিল না, তবুও তিনি তা বর্জন করেছেন; এটি প্রমাণ করে যে তা বর্জন করাই শরয়ি পদ্ধতি।
এই মূলনীতির শাখা-প্রশাখা অনেক, তবে আমি তার মধ্য থেকে কিছু উল্লেখ করছি যা আপনাকে অবশিষ্টাংশ সম্পর্কে ধারণা দেবে। আমি বলছি:
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
منها: الطواف حول القبور: يَدَّعِي الصوفية وعباد القبور أنه عبادة وأن فعله من أعظم القربات، فنقول: إن القبور كانت موجودة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم وكان يزور المقابر ويسلم على أهلها ولكن لم يكن يطوف بها مع أن الطواف بها قد توفر سببه فلما لم يطف بها دل على أن المشروع هو ترك الطواف، إذ لو كان عبادة لفعله فلما لم يفعله دل على أنه ليس بعبادة بل هو داخل تحت قوله صلى الله عليه وسلم: (من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد) متفق عليه، والله أعلم.
ومنها: الذكر الجماعي بعد الصلاة: فعلٌ توفر سببه على عهد النبي صلى الله عليه وسلم فقد كانت الجماعة للصلاة تقام في عهده وكانوا يذكرون الله بعد الصلاة الذكر المشروع، ولم يثبت عنه أنه أمرهم بالاجتماع في الذكر بألفاظٍ واحدة، فلو كان مشروعًا لفعله، فلما لم يفعله دل على أن المشروع هو تركه إذ لو كان مشروعًا لفعله فلما لم يفعله دل على أنه ليس بعبادة، والله تعالى أعلم.
ومنها: السواك عند دخول المسجد خاصة، فعلٌ توفر سببه على عهده صلى الله عليه وسلم فقد كان السواك موجودًا وكان صلى الله عليه وسلم يدخل إلى المسجد ومع ذلك لم يثبت أنه استاك عند الدخول إلى المسجد، إذًا المشروع تركه، أو نقول: لا ينبغي للمسلم اعتقاد فضيلة السواك عند الدخول للمسجد خاصة بل السواك في كل وقت سنة، لكن من قال بفضيلته أجبنا عنه بهذه القاعدة إذ لو كان فيه فضيلة لفعله مع توفر سببه، والله أعلم.
এর মধ্যে রয়েছে: কবরের চারদিকে তাওয়াফ করা: সুফি এবং কবরপূজারীরা দাবি করে যে এটি একটি ইবাদত এবং এটি সম্পাদন করা মহান নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। আমরা বলি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কবর বিদ্যমান ছিল এবং তিনি কবর যিয়ারত করতেন ও কবরবাসীদের সালাম দিতেন, কিন্তু তিনি এগুলোর চারদিকে তাওয়াফ করতেন না, যদিও তাওয়াফ করার প্রেক্ষাপট বিদ্যমান ছিল। যখন তিনি তাওয়াফ করেননি, তখন তা প্রমাণ করে যে শরীয়তসম্মত কাজ হলো তাওয়াফ বর্জন করা। কারণ যদি এটি ইবাদত হতো তবে তিনি অবশ্যই তা করতেন; যখন তিনি তা করেননি, তা প্রমাণ করে যে এটি কোনো ইবাদত নয়, বরং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন বিষয় উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। আল্লাহ ভালো জানেন।
এর মধ্যে রয়েছে: সালাতের পর সম্মিলিত জিকির: এটি এমন একটি কাজ যার প্রেক্ষাপট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে বিদ্যমান ছিল। কেননা তাঁর যুগে জামাআতে সালাত কায়েম হতো এবং তাঁরা সালাতের পর শরীয়তসম্মত জিকির করতেন, কিন্তু তাঁর থেকে এটি প্রমাণিত নয় যে তিনি তাঁদেরকে অভিন্ন শব্দে একত্রে জিকির করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং যদি এটি শরীয়তসম্মত হতো তবে তিনি তা করতেন; যখন তিনি তা করেননি, তা প্রমাণ করে যে শরীয়তসম্মত কাজ হলো এটি বর্জন করা। কারণ যদি এটি শরীয়তসম্মত হতো তবে তিনি অবশ্যই তা করতেন, আর যখন তিনি তা করেননি, তা প্রমাণ করে যে এটি ইবাদত নয়। মহান আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন।
এর মধ্যে রয়েছে: বিশেষভাবে মসজিদে প্রবেশের সময় মিসওয়াক করা: এটি এমন একটি কাজ যার প্রেক্ষাপট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে বিদ্যমান ছিল। কেননা মিসওয়াক করার সরঞ্জাম বিদ্যমান ছিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করতেন, তা সত্ত্বেও এটি প্রমাণিত নয় যে তিনি মসজিদে প্রবেশের সময় মিসওয়াক করেছেন। অতএব, শরীয়তসম্মত কাজ হলো এটি বর্জন করা। অথবা আমরা বলি: একজন মুসলিমের জন্য বিশেষভাবে মসজিদে প্রবেশের সময় মিসওয়াক করার ফযিলতে বিশ্বাস রাখা উচিত নয়, বরং সব সময় মিসওয়াক করা সুন্নাত। তবে যারা এর ফযিলতের কথা বলেন, আমরা এই মূলনীতির মাধ্যমে তাঁদের উত্তর দেই যে, যদি এতে কোনো ফযিলত থাকত তবে প্রেক্ষাপট বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তিনি অবশ্যই তা করতেন। আল্লাহ ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومنها: قول المأموم (استعنا بالله) أو (بالله أستعين) عند قول الإمام في الفاتحة (إياك نعبد وإياك نستعين) : فإن بعض الناس يقول ذلك، فنقول: هذا القول توفر سببه على عهد النبي صلى الله عليه وسلم ولم يفعله ولم يأمر به الصحابة أن يفعلوه مما يدل على أن المشروع تركه إذ لو كان هذا القول سنة لأمر به أو فعله (1) ، فلما لم يأمر به ولم يفعله عرفنا بذلك أن المشروع تركه، والله أعلى وأعلم.
ومنها: صلاة الرغائب: توفر سببها على عهد النبي صلى الله عليه وسلم ولم يفعلها فالمشروع عدم فعلها، إذ لو كانت مشروعة لفعلها ولو مرة واحدة، فلما لم يفعلها دل على أنها ليست من الشريعة في شيء، والله أعلم.
ومنها: صيام رجب كله أو بعضه لاعتقاد فضيلته: فعلٌ توفر سببه على عهد الرسول صلى الله عليه وسلم ولم يصمه، فدل على أن المشروع تركه.
ولعل القاعدة بهذه الفروع قد اتضحت، والضابط في هذه القاعدة أن يبحث الفقيه عن هذا القول أو هذا الفعل هل هو مما فعله أو قاله رسول الله صلى الله عليه وسلم أو لا؟ فإن كان الجواب: نعم، فهذا لا كلام فيه. وإن كان الجواب: لا، فقل: لو كان مشروعًا لفعله لتوفر سببه فهو لم يتركه إلا لأنه ليس بمشروع، والله تعالى أعلى وأعلم.
مسألة: إن قلت: هل تركه صلى الله عليه وسلم يدل على كراهة الفعل أو القول المتروك أم يدل على تحريمه؟ قلت: إن تركه للفعل لا يخلو من حالتين: إما أن يكون مجردًا عن نهي قولي، وإما أن يكون مقروناً بنهي قولي، فإن كان مقرونًا بنهيٍ قولي فإنه يدل على تحريم الفعل كتركه للبناء على القبور فعلٌ اقترن بالنهي عن البناء عليها في قوله صلى الله عليه وسلم: (ولا قبرًا مشرفًا إلا سويته) وغير ذلك، فهذا الترك يدل على تحريم الفعل.
--------------------------------------------
তার মধ্য থেকে একটি হলো: ইমাম যখন সূরা ফাতিহায় 'আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই' বলেন, তখন মুক্তাদীর 'আমরা আল্লাহর সাহায্য চাইছি' বা 'আমি আল্লাহর সাহায্য চাইছি' বলা। কেননা কিছু মানুষ তা বলে থাকে। আমরা এর উত্তরে বলি: এই কথাটি বলার প্রেক্ষাপট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগেও বিদ্যমান ছিল, কিন্তু তিনি তা করেননি এবং সাহাবীগণকেও তা করার নির্দেশ দেননি। এটি প্রমাণ করে যে, এটি বর্জন করাই শরীয়তসম্মত। কেননা এই কথাটি যদি সুন্নাত হতো, তবে তিনি অবশ্যই এর নির্দেশ দিতেন অথবা নিজে তা করতেন (১)। যেহেতু তিনি এর নির্দেশ দেননি এবং নিজেও করেননি, তাই আমরা এর মাধ্যমে বুঝতে পারি যে, এটি বর্জন করাই শরীয়তসম্মত। আর আল্লাহই সর্বোচ্চ ও সর্বজ্ঞ।
তার মধ্য থেকে আরেকটি হলো: সালাতুর রাগায়িব। এর প্রেক্ষাপট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে বিদ্যমান ছিল, কিন্তু তিনি তা আদায় করেননি। তাই এটি আদায় না করাই শরীয়তসম্মত। কারণ এটি যদি শরীয়তসম্মত হতো, তবে তিনি অন্তত একবার হলেও তা আদায় করতেন। যেহেতু তিনি তা করেননি, এটি প্রমাণ করে যে শরীয়তের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
তার মধ্য থেকে আরেকটি হলো: বিশেষ ফজিলতের বিশ্বাস নিয়ে পুরো রজব মাস বা এর অংশবিশেষ রোজা রাখা। এটি এমন একটি কাজ যার প্রেক্ষাপট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে বিদ্যমান ছিল, কিন্তু তিনি এই রোজা রাখেননি। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, এটি বর্জন করাই শরীয়তসম্মত।
সম্ভবত এই শাখাগুলোর মাধ্যমে মূলনীতিটি স্পষ্ট হয়েছে। এই মূলনীতির মানদণ্ড হলো, ফকীহ (ফقه বিশেষজ্ঞ) অনুসন্ধান করবেন যে, এই কথা বা কাজটি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন বা বলেছেন কি না? উত্তর যদি 'হ্যাঁ' হয়, তবে এ বিষয়ে কোনো কথা নেই। আর উত্তর যদি 'না' হয়, তবে বলবেন: যদি এটি শরীয়তসম্মত হতো, তবে তিনি অবশ্যই তা করতেন, কারণ এর প্রেক্ষাপট বিদ্যমান ছিল। তিনি এটি কেবল একারণেই বর্জন করেছেন যে এটি শরীয়তসম্মত নয়। আর মহান আল্লাহ তাআলা সর্বোচ্চ ও সর্বজ্ঞ।
মাসআলা: আপনি যদি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো বিষয় বর্জন করা কি সেই বর্জিত কাজ বা কথার অপছন্দনীয়তা (কারাহাত) বুঝায়, নাকি তা হারাম হওয়া বুঝায়? আমি বলব: তাঁর কোনো কাজ বর্জন করা দুই অবস্থার বাইরে নয়: হয় তা কোনো মৌখিক নিষেধ থেকে মুক্ত হবে, অথবা মৌখিক নিষেধের সাথে যুক্ত হবে। যদি তা মৌখিক নিষেধের সাথে যুক্ত হয়, তবে তা উক্ত কাজ হারাম হওয়ার প্রমাণ দেয়। যেমন কবরের উপর ইমারত নির্মাণ বর্জন করা; এটি এমন একটি বর্জন যা কবরের ওপর ইমারত নির্মাণের নিষেধাজ্ঞার সাথে যুক্ত হয়েছে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "কোনো উঁচু কবরকে সমান করা ব্যতীত ছাড়বে না" এবং এই জাতীয় অন্যান্য নির্দেশ। সুতরাং এই বর্জন কাজটি হারাম হওয়ার প্রমাণ দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وإن كان تركًا مجردًا عن قول فإنه لا يدل إلا على كراهة الفعل إذا اعتقد القربة بهذا الفعل، كالسواك عند دخول المسجد يكره إذا كان يعتقد فضيلة السواك في هذا المكان بالذات، والله تعالى أعلى وأعلم.
القاعدة السابعة
7- الشروط في باب المأمورات لا تسقط بالجهل والنسيان وفي التروك تسقط بهمااعلم - رحمك الله تعالى - أن الشروط عندنا نوعان: شروط صحة، وشروط وجوب. فشروط الصحة هي التي لا يصح الفعل إلا بها كالطهارة شرط لصحة الصلاة وكذلك استقبال القبلة وستر العورة وإزالة النجاسة.
وشروط الوجوب هي التي لا تعلق لها بالصحة وإنما لها تعلق بالوجوب فلا يجب الفعل إلا بها لكن يصح بدونها كشرط المحرم للمرأة في الحج، لا يجب عليها الحج إلا عند توفر المحرم، لكن لو حجت بلا محرم فحجها صحيح مع الإثم، كاشتراط الإقامة لوجوب الصوم، فلو صام المسافر لصح صيامه لكن لا يجب عليه إلا بالإقامة، وهكذا
إذا علمت هذا فاعلم أن قولنا في القاعدة (الشروط) إنما نعني بها شروط الصحة لا شروط الوجوب فانتبه لهذا حتى لا تشكل عليك بعض الفروع.
ثم اعلم أن شروط الصحة عندنا نوعان: الأول: شروط كانت معدومة فأمر المكلف بإيجادها، فهذه هي المراد بقولي: (في باب المأمورات) يعني أن المكلف أمر بإيجادها، كالطهارة للصلاة كانت معدومة فأمر المكلف بإيجادها عند كل صلاةٍ إذا كان محدثًا، فالطهارة شرط مأمور بإيجاده. الثاني: شروط أمر المكلف بعدم التلبس بها أي باجتنابها والابتعاد عنها، فهذه هي المرادة بقولي: (في باب التروك) يعني أن المكلف أمر بتركها، كإزالة النجاسة هو شرط تركي بمعنى أن المكلف أمر باجتناب النجاسة والابتعاد عنها لا بفعلها، وإن أشكل عليك ذلك فإليك هذين السؤالين اللذين يوضحان الفرق: فأقول: إذا أشكل عليك شرط من شروط الصحة هل هو من شروط الإيجاد أو من شروط الترك؟ فاسأل نفسك سؤالين:
যদি কোনো উক্তি ব্যতিরেকে কেবল বর্জন হয়ে থাকে, তবে তা কেবল আমলটি মাকরুহ হওয়ার ওপরই প্রমাণ বহন করবে, যদি সেই আমলের মাধ্যমে নৈকট্য অর্জনের বিশ্বাস করা হয়। যেমন মসজিদে প্রবেশের সময় মিসওয়াক করা; এটি মাকরুহ হবে যদি কেউ বিশেষ করে এই স্থানে মিসওয়াক করার ফযিলত বিশ্বাস করে। আর আল্লাহ তাআলা সর্বজ্ঞাত।
সপ্তম নীতি
৭- আদেশমূলক বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে শর্তাবলি অজ্ঞতা ও বিস্মৃতির কারণে রহিত হয় না, তবে বর্জনীয় বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে এই দুটির কারণে তা রহিত হয়ে যায়জেনে রাখুন—আল্লাহ তাআলা আপনার ওপর রহম করুন—আমাদের নিকট শর্ত দুই প্রকার: বৈধতার শর্ত এবং ওয়াজিব হওয়ার শর্ত। বৈধতার শর্ত হলো সেগুলো, যা ছাড়া আমলটি শুদ্ধ হয় না। যেমন পবিত্রতা নামাজের শুদ্ধতার জন্য শর্ত, তদ্রূপ কিবলামুখী হওয়া, সতর ঢাকা এবং অপবিত্রতা দূর করা।
আর ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হলো সেগুলো, যেগুলোর শুদ্ধতার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, বরং ওয়াজিব হওয়ার সাথে সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং সেই শর্তটি বিদ্যমান না থাকলে আমলটি ওয়াজিব হয় না, তবে তা ছাড়াই আমলটি করলে তা শুদ্ধ হয়ে যায়। যেমন হজের ক্ষেত্রে মহিলার জন্য মাহরামের শর্ত। মাহরামের উপস্থিতি ছাড়া তার ওপর হজ ওয়াজিব হয় না, কিন্তু মাহরাম ছাড়া হজ করলে গুনাহ হওয়া সত্ত্বেও তার হজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। যেমন রোজা ওয়াজিব হওয়ার জন্য মুকিম হওয়ার শর্ত। সুতরাং মুসাফির যদি রোজা রাখে তবে তার রোজা শুদ্ধ হবে, কিন্তু তা কেবল মুকিম হওয়ার দ্বারাই ওয়াজিব হতো। এভাবেই অন্যান্য বিষয়গুলো।
আপনি যখন এটি জানতে পারলেন, তখন জেনে নিন যে, নীতিমালায় আমাদের বক্তব্য 'শর্তাবলি' দ্বারা আমরা কেবল বৈধতার শর্তাবলিকেই বুঝিয়েছি, ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি নয়। সুতরাং বিষয়টি লক্ষ্য রাখুন যাতে কোনো কোনো শাখা মাসআলায় আপনার জন্য জটিলতা সৃষ্টি না হয়।
অতঃপর জেনে নিন যে, আমাদের নিকট বৈধতার শর্তাবলি দুই প্রকার: প্রথমত: এমন কিছু শর্ত যা অনুপস্থিত ছিল এবং মুকাল্লাফকে তা অর্জন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এটিই আমার বক্তব্য 'আদেশমূলক বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে' দ্বারা উদ্দেশ্য। অর্থাৎ মুকাল্লাফকে তা সম্পাদন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। যেমন নামাজের জন্য পবিত্রতা; এটি আগে থেকে ছিল না, ফলে অপবিত্র অবস্থায় থাকলে মুকাল্লাফকে প্রত্যেক নামাজের জন্য তা অর্জন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং পবিত্রতা হলো এমন এক শর্ত যা সম্পাদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত: এমন সব শর্ত যেগুলোতে লিপ্ত না হওয়ার জন্য মুকাল্লাফকে আদেশ দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ তা থেকে বেঁচে থাকা এবং দূরে থাকা। এটিই আমার বক্তব্য 'বর্জনীয় বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে' দ্বারা উদ্দেশ্য। অর্থাৎ মুকাল্লাফকে তা বর্জনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। যেমন অপবিত্রতা দূর করা হলো একটি বর্জনীয় শর্ত; এর অর্থ হলো মুকাল্লাফকে অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকার এবং তা থেকে দূরে থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা করার আদেশ দেওয়া হয়নি। যদি বিষয়টি আপনার নিকট অস্পষ্ট মনে হয়, তবে এই দুটি প্রশ্ন আপনার সামনে পেশ করছি যা পার্থক্যটি স্পষ্ট করবে: আমি বলছি: যদি বৈধতার কোনো শর্ত আপনার নিকট অস্পষ্ট হয়ে পড়ে যে এটি কি অর্জনের শর্ত নাকি বর্জনের শর্ত? তবে নিজেকে দুটি প্রশ্ন করুন:
(খণ্ড: ১)
তালকীহুল আফহামিল আলিয়্যাহ বিশারহিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
هل الله أمرنا بالإتيان بهذا الشرط أي بإيجاده وقد كان معدومًا؟ أم أن الله أمرنا بتركه واجتنابه والابتعاد عنه؟
إذا كان الجواب بالأول:نعم، أي أن الله أمرنا بإيجاده فاعرف أنه من شروط المأمورات.
وإذا كان الجواب بالثاني:نعم، أي أن الله أمرنا بتركه واجتنابه والابتعاد عنه فاعرف أنه من شروط التروك، كالطهارة لصحة الصلاة، وترك الأكل لصحة الصيام.
فتقول: هل الله أمرني بفعل الطهارة وإيجادها والتلبس بها أو أمرني بترك الطهارة؟ الجواب: نعم أمرك الله بإيجاد الطهارة عند إرادة الصلاة، إذًا الطهارة شرط مأمور بإيجاده فلا يسقط بالجهل والنسيان.
وتقول: هل الله أمرني إذا صمت أن أوجد الأكل والشرب أو أترك الأكل والشرب؟ الجواب: هو أن أترك الأكل والشرب، إذًا الأكل والشرب لصحة الصوم شرط تركي فيسقط بالجهل والنسيان وهذا واضح جدًا.
وقولنا: (لا تسقط بالجهل والنسيان) المراد به هو الجهل الذي لا يعذر فيه صاحبه كالجهل الذي يقدر المكلف أن يرفعه عن نفسه لكنه فرط في ذلك. وأما النسيان فهو عارض طبيعي يغطي على التفكير ويقطع اتصاله، ولا يؤاخذ الإنسان به في حالٍ دون حال، إذا علمت هذا فاعلم أن دليل هذه القاعدة هو الاستقراء التام لأدلة الشريعة كما سنذكره الآن في بعض الفروع، والله أعلم. فمنها: رجل صلى بلا ستر عورة ناسيًا أو جاهلاً فما الحكم؟ نقول: هل ستر العورة مما أمر المكلف بإيجاده والتلبس به أو مما أمر المكلف بتركه واجتنابه؟ لاشك أن الجواب هو الأول إذا هو شرط مأمور بإيجاده، والشروط المأمور بإيجادها لا تسقط بالجهل والنسيان إذاً صلاته باطلة ويلزمه إعادتها، والله أعلم.
আল্লাহ কি আমাদের এই শর্তটি পালন করতে অর্থাৎ এটি অস্তিত্বহীন থাকা অবস্থায় একে অস্তিত্বে আনয়ন করার আদেশ দিয়েছেন? নাকি আল্লাহ আমাদের এটি বর্জন করতে, এটি থেকে বিরত থাকতে এবং এটি থেকে দূরে থাকার আদেশ দিয়েছেন?
যদি উত্তর প্রথমটি হয়: হ্যাঁ, অর্থাৎ আল্লাহ আমাদের এটি অস্তিত্বে আনয়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন, তবে জেনে রাখুন যে এটি আদেশকৃত কার্যাবলির শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত।
আর যদি উত্তর দ্বিতীয়টি হয়: হ্যাঁ, অর্থাৎ আল্লাহ আমাদের এটি বর্জন করতে, এটি থেকে বিরত থাকতে এবং এটি থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, তবে জেনে রাখুন যে এটি বর্জনীয় কার্যাবলির শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত; যেমন সালাত সহীহ হওয়ার জন্য পবিত্রতা অর্জন এবং সিয়াম সহীহ হওয়ার জন্য পানাহার বর্জন করা।
অতএব আপনি বলবেন: আল্লাহ কি আমাকে পবিত্রতা অর্জন করতে, তা অস্তিত্বে আনতে এবং তা ধারণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন নাকি আমাকে পবিত্রতা বর্জন করতে নির্দেশ দিয়েছেন? উত্তর: হ্যাঁ, সালাত আদায়ের সংকল্প করার সময় আল্লাহ আপনাকে পবিত্রতা অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং পবিত্রতা এমন একটি শর্ত যা পালন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে; তাই অজ্ঞতা বা বিস্মৃতির কারণে এটি রহিত হয়ে যায় না।
এবং আপনি বলবেন: আমি যখন সিয়াম পালন করি, তখন কি আল্লাহ আমাকে পানাহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন নাকি পানাহার বর্জন করতে নির্দেশ দিয়েছেন? উত্তর হলো: আমি যেন পানাহার বর্জন করি। সুতরাং সিয়াম সহীহ হওয়ার জন্য পানাহার বর্জন একটি বর্জনীয় শর্ত; তাই অজ্ঞতা ও বিস্মৃতির কারণে তা রহিত হয়ে যায় এবং এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট।
আর আমাদের উক্তি: (অজ্ঞতা ও বিস্মৃতির কারণে রহিত হয় না)—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই অজ্ঞতা যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয় না; যেমন এমন অজ্ঞতা যা দূর করতে মুকাল্লাফ সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও সে ক্ষেত্রে অবহেলা করেছে। আর বিস্মৃতি হলো একটি প্রাকৃতিক বিষয় যা চিন্তাশক্তিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং এর ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন করে দেয়; কোনো বিশেষ অবস্থায় মানুষকে এর জন্য দায়ী করা হয় আবার কোনো অবস্থায় করা হয় না। আপনি যখন এটি জানলেন, তখন জেনে রাখুন যে এই মূলনীতির দলীল হলো শরীয়তের প্রমাণাদির পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান, যা আমরা এখন কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে উল্লেখ করব; আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। যেমন: এক ব্যক্তি ভুলে গিয়ে অথবা না জেনে সতর না ঢেকেই সালাত আদায় করল, তবে এর বিধান কী? আমরা বলব: সতর ঢাকা কি এমন বিষয় যা মুকাল্লাফকে পালন করার ও ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নাকি এমন বিষয় যা তাকে বর্জন ও পরিহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? নিঃসন্দেহে উত্তর হলো প্রথমটি; যেহেতু এটি এমন একটি শর্ত যা পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর যে সকল শর্ত পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা অজ্ঞতা ও বিস্মৃতির কারণে রহিত হয় না; সুতরাং তার সালাত বাতিল এবং তা পুনরায় আদায় করা তার জন্য আবশ্যক; আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।