(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: -)
المستدرك على موسوعة التفسير المأثور   (مجموعة من المؤلفين)

القسم: التفسير


الكتاب: المستدرك على موسوعة التفسير المأثور

إعداد: مركز الدراسات والمعلومات القرآنية بمعهد الإمام الشاطبي بإشراف د. نوح بن يحيى الشهري

تقديم: د. مساعد بن سليمان الطيار

الناشر: (دار وقف أضواء الشاطبية للنشر - جدة)، (دار ابن حزم - بيروت)

الطبعة: الأولى، 1443 هـ - 2022 م

عدد الصفحات: 168

وقد طُبِع ملحقًا بالموسوعة: المجلد 25

أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري، جزاه الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 شعبان 1445

মাউসুআতুত তাফসিরিল মা'সুর-এর ওপর আল-মুস্তাদরাক   (একদল লেখক)

বিভাগ: তাফসির


বই: মাউসুআতুত তাফসিরিল মা'সুর-এর ওপর আল-মুস্তাদরাক

প্রস্তুতি: ড. নূহ বিন ইয়াহইয়া আশ-শাহরির তত্ত্বাবধানে ইমাম শাতিবি ইনস্টিটিউটের কুরআন বিষয়ক গবেষণা ও তথ্য কেন্দ্র

উপস্থাপনা: ড. মুসাঈদ বিন সুলাইমান আত-তাইয়্যার

প্রকাশক: (দারুল ওয়াকফ আদওয়াউশ শাতিবিয়্যাহ প্রকাশনী - জেদ্দা), (দার ইবনে হাজম - বৈরুত)

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৩ হিজরি - ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৮

এটি বিশ্বকোষের পরিশিষ্ট হিসেবে মুদ্রিত হয়েছে: ২৫তম খণ্ড

শামেলা’র জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাজাইরি, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন

[বইটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা’তে প্রকাশের তারিখ: ১৫ শাবান ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌كلمة المشرف العام

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله، وصحبه، ومن والاه، أما بعد. فقد أصدر مركز الدراسات والمعلومات القرآنية بمعهد الإمام الشاطبي في عام 1439 هـ؛ موسوعة التفسير المأثور عن النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين وأتباعهم التي استغرق تصنيفها عشر سنين من العمل الدؤوب، وقد لقيت بفضل الله تعالى استحسان أهل العلم وطلابه.

ومن المعلوم أن أي كتاب بشري مهما بلغ في الجودة والإتقان؛ لا يخلو من خطأ يحتاج إلى تصحيح، ونقص يحتاج إلى تكميل، وعبارة تحتاج إلى تحسين أو توضيح، وتتفاضل الكتب في الجودة والإتقان بمقدار وقوع ذلك فيها.

ومن هذا الباب جاء هذا الكتاب "المستدرك على موسوعة التفسير المأثور" الذي رجع فيه مركز الدراسات والمعلومات القرآنية بمعهد الإمام الشاطبي إلى كتب مسندة صدرت بعد صدور الموسوعة، وكتب فات الموسوعة الرجوع إليها، وكتبٍ كان المركز قد استخرج زوائدها على ما أورده السيوطي في الدر المنثور في التفسير بالمأثور من طبعات وقع فيها سقط وتصحيفات وتحريفات كثيرة في أسماء المفسرين، وفي ألفاظ التفسير؛ فأعاد العمل فيها بالاعتماد على طبعات أفضل، لتكميل الموسوعة بما وجد بعد صدورها، وبما فاتها استخراجه مما كان موجودًا وقت جمعها، والتخلص من آثار تلك الطبعات التي وقع فيها سقط وتصحيفات وتحريفات، ورسمِ منهجِ الاستدراك على الموسوعة، وبيان مصادره، وأنواعه، والفرق بين العمل الابتدائي، والعمل الذي يكون تابعًا له.

وقد جاء المستدرك على موسوعة التفسير المأثور مؤكدًا شمول الموسوعة للتفسير المأثور واستيعابها لأكثر الأحاديث والآثار الواردة عن النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه والتابعين وأتباعهم، وقلة ما فاتها من تفسير السلف، وإن لم يحط المستدرك بما لم تحط به الموسوعة إحاطة تامة، فالإحاطة التامة بذلك؛ لا يمكن الجزم بها، لكن يغلب على الظن بالنظر في هذا المستدرك وتأمله؛ أن ما فات الموسوعة من تفسير السلف قليل جدًا، خاصة مما ورد في الكتب المطبوعة.
সাধারণ তত্ত্বাবধায়কের বক্তব্য

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর। অতপর: ইমাম শাতিবি ইনস্টিটিউটের কুরআন বিষয়ক গবেষণা ও তথ্য কেন্দ্র ১৪৩৯ হিজরিতে ‘মওসূআতুল তাফসীরিল মা’সুর’ (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের অনুসারীদের থেকে বর্ণিত তাফসিরের বিশ্বকোষ) প্রকাশ করেছে, যার সংকলন করতে দশ বছরের নিরলস পরিশ্রম ব্যয় হয়েছে। আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে এটি আলেম সমাজ ও তালিবে ইলমদের নিকট সমাদৃত হয়েছে।

এটি সুপরিচিত যে, মানুষের লেখা যেকোনো কিতাব তা গুণগত মান ও নিপুণতায় যত উচ্চ পর্যায়েই পৌঁছাক না কেন; তা ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত নয় যা সংশোধন প্রয়োজন, অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত নয় যা পূর্ণতা দান প্রয়োজন এবং এমন বর্ণনা থেকে মুক্ত নয় যা পরিমার্জন বা স্পষ্টীকরণ প্রয়োজন। আর কিতাবসমূহের গুণগত মান ও নিপুণতার শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে তাতে এই বিষয়গুলোর উপস্থিতির পরিমাণের ওপর।

এই প্রেক্ষাপট থেকেই "আল-মুস্তাদরাক আলা মওসূআতি তাফসীরিল মা’সুর" (তাফসিরের বিশ্বকোষের পরিশিষ্ট) নামক এই কিতাবটির অবতারণা। এতে ইমাম শাতিবি ইনস্টিটিউটের কুরআন বিষয়ক গবেষণা ও তথ্য কেন্দ্র এমন সব সনদযুক্ত কিতাবসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছে যা বিশ্বকোষটি প্রকাশের পর প্রকাশিত হয়েছে, অথবা এমন কিছু কিতাব যা বিশ্বকোষে অন্তর্ভুক্ত করতে বাদ পড়ে গিয়েছিল। এছাড়া এমন কিছু কিতাব যার অতিরিক্ত অংশগুলো এই কেন্দ্র পূর্বে ইমাম সুয়ূতী রহ.-এর ‘আদ-দুররুল মানসুর ফিত-তাফসীর বিল মা’সুর’-এর এমন কিছু সংস্করণ থেকে সংগ্রহ করেছিল যেগুলোতে মুফাসসিরদের নাম এবং তাফসিরের শব্দাবলিতে প্রচুর বিলুপ্তি, ভুল ও বিকৃতি ছিল। ফলে বিশ্বকোষটি প্রকাশের পর যা পাওয়া গেছে এবং সংকলনকালে যা বাদ পড়েছিল তা দিয়ে বিশ্বকোষটিকে পূর্ণতা দান করতে এবং সেই সব সংস্করণের প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে যাতে বিলুপ্তি, ভুল ও বিকৃতি ছিল, অধিকতর উন্নত সংস্করণের ওপর নির্ভর করে পুনরায় কাজ সম্পাদন করা হয়েছে। সেই সাথে বিশ্বকোষের ওপর এই পরিশিষ্টের কার্যপদ্ধতি প্রণয়ন, এর উৎস ও প্রকারভেদ বর্ণনা এবং মৌলিক কাজ ও তার অনুগামী কাজের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করা হয়েছে।

‘মওসূআতুল তাফসীরিল মা’সুর’-এর এই পরিশিষ্টটি উক্ত বিশ্বকোষের ব্যাপকতা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবী, তাবিঈ ও তাঁদের অনুসারীদের থেকে বর্ণিত অধিকাংশ হাদিস ও আসারকে (বর্ণনা) অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকেই নিশ্চিত করেছে এবং সালাফদের তাফসিরের খুব সামান্য অংশই এতে বাদ পড়েছে। যদিও এই পরিশিষ্ট সেই সবকিছুকে পূর্ণাঙ্গভাবে বেষ্টন করতে পারেনি যা মূল বিশ্বকোষটি পারেনি, কারণ এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ পরিবেষ্টনের দাবি করা সম্ভব নয়; তবে এই পরিশিষ্টটি পর্যবেক্ষণ ও গভীরভাবে চিন্তা করলে প্রবল ধারণা হয় যে, সালাফদের তাফসিরের যা কিছু মূল বিশ্বকোষে বাদ পড়েছিল তা অত্যন্ত নগণ্য, বিশেষ করে মুদ্রিত কিতাবসমূহে যা বিদ্যমান রয়েছে তার মধ্যে।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٦)
والحمد لله وحده، والفضل له أولًا وآخرًا، ثم الشكر لمركز الدراسات والمعلومات القرآنية بمعهد الإمام الشاطبي على قيامه بهذا الاستدراك، ولأصحاب الكتب الذين أمدوه بكتبهم قبل صدورها أو بعده، ونسأل الله عز وجل أن يجزي الجميع خيرًا، وأن يعفو عن خطأنا وتقصيرنا، ويغفر لنا ويرحمنا؛ إنه هو الغفور الرحيم، وصلى الله على رسولنا محمد النبي الأمي، وعلى آله، وصحبه، وسلم.

 

المشرف العام على معهد الإمام الشاطبي وموسوعة التفسير المأثور

أ. د. نوح بن يحيى الشِّهري
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আদি ও অন্তে সকল অনুগ্রহ তাঁরই। অতঃপর ইমাম শাতিবি ইনস্টিটিউটের কুরআন গবেষণা ও তথ্য কেন্দ্রকে এই সংশোধনী সম্পন্ন করার জন্য ধন্যবাদ এবং ঐ সকল কিতাবের রচয়িতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা যারা তাঁদের গ্রন্থ প্রকাশের পূর্বে বা পরে তা সরবরাহ করে সহযোগিতা করেছেন। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করেন, আমাদের ভুল-ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা ক্ষমা করেন এবং আমাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু। আমাদের রাসূল উম্মি নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

ইমাম শাতিবি ইনস্টিটিউট ও মা’সুর তাফসীর বিশ্বকোষের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক

প্রফেসর ড. নূহ ইবনে ইয়াহইয়া আশ-শিহরি
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌تقديم

أ. د. مساعد بن سليمان الطيار

الحمد لله الذي لا يضل ولا ينسى، والصلاة والسلام على رسول الله المعصوم فيما بلغه عن الله تعالى، وعلى آله وصحبه إلى يوم الدين.

أما بعد، فقد ذكرنا في موسوعة التفسير المأثور أننا نتطلع إلى القيام بأعمال كثيرة انطلاقًا منها، وكنت قد اقترحت في محاضرتي "كيف تقرأ موسوعة التفسير المأثور؟ " موضوعات كثيرة يمكن البحث عنها، واستخراجها من الموسوعة، ومن ذلك:

- منهج السلف في التفسير من خلال موسوعة التفسير المأثور.

- تصنيف أقوال السلف وتوجيهها.

- الآيات والمقاطع التي لم يرد للسلف فيها كلام.

- آيات الأحكام عند السلف.

- الجانب الوعظي في تعليق السلف على الآيات.

- تعدد أقوال المفسر.

- الموازنة بين أقوال الشيخ والتلميذ في التفسير، أو بين أقاويل تلاميذ المفسر.

- دراسات عن أسباب اختلاف العلماء في الترجيح في التفسير.

- استخراج إجماع السلف في التفسير من الموسوعة.

- بناء الجوانب البلاغية والإعرابية في التفسير على أقوال السلف.

لكن أولى الأعمال وأقربها صلة بالموسوعة الاستدراك عليها؛ لأنه يعد مراجعة وتقويمًا لها، ولما له من فائدة في تكميلها، والتنبيه على ما وقع فيها من أخطاء وأوهام؛ لا يخلو منها عمل بشري، وإن تعاونت على القيام به لجان عديدة.
উপস্থাপনা

প্রফেসর ড. মুসাঈদ বিন সুলাইমান আত-তাইয়্যার

প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পথ হারান না এবং ভুলেও যান না। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা পৌঁছে দিয়েছেন তাতে তিনি নিষ্পাপ, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত।

অতঃপর, আমরা 'মাওসুআতুত তাফসীর আল-মা'সুর' (তাফসীরে মা'সুরের বিশ্বকোষ)-এ উল্লেখ করেছিলাম যে, আমরা এর ভিত্তিতে আরও অনেক কাজ করার প্রত্যাশা রাখি। আমি আমার "কিভাবে তাফসীরে মা'সুরের বিশ্বকোষ পড়বেন?" শীর্ষক লেকচারে এমন অনেক বিষয়ের প্রস্তাব করেছিলাম যা নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব এবং এই বিশ্বকোষ থেকে আহরণ করা সম্ভব, তার মধ্যে রয়েছে:

- তাফসীরে মা'সুরের বিশ্বকোষের আলোকে তাফসীর শাস্ত্রে সালাফদের পদ্ধতি (মানহাজ)।

- সালাফদের উক্তিগুলোর শ্রেণিবিভাগ ও সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান।

- সেই সকল আয়াত ও অনুচ্ছেদ যেগুলোর ব্যাপারে সালাফদের থেকে কোনো বক্তব্য বর্ণিত হয়নি।

- সালাফদের নিকট বিধান সম্পর্কিত (আহকাম) আয়াতসমূহ।

- আয়াতসমূহের ওপর সালাফদের মন্তব্যে উপদেশমূলক দিক।

- মুফাসসিরের বক্তব্যের বহুবিধতা।

- তাফসীরের ক্ষেত্রে উস্তাদ ও ছাত্রের মতের মধ্যে তুলনা, অথবা মুফাসসিরের ছাত্রদের উক্তিগুলোর মধ্যে তুলনা।

- তাফসীরে কোনো মতকে প্রাধান্য দেওয়ার (তারজীহ) ক্ষেত্রে আলেমদের মতভেদের কারণসমূহ নিয়ে গবেষণা।

- বিশ্বকোষ থেকে তাফসীর বিষয়ে সালাফদের ঐক্যমত (ইজমা) আহরণ করা।

- সালাফদের উক্তির ওপর ভিত্তি করে তাফসীরের আলঙ্কারিক ও ব্যাকরণিক দিকসমূহ বিনির্মাণ করা।

তবে এই বিশ্বকোষের সাথে সংশ্লিষ্ট সবচেয়ে অগ্রাধিকারযোগ্য ও নিকটবর্তী কাজ হলো এর ওপর 'ইস্তিদরাক' (পরিমার্জন ও পরিশিষ্ট সংযোজন) করা; কারণ এটি এই গ্রন্থের একটি পুনঃনিরীক্ষণ ও মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এটি পূর্ণাঙ্গ করতে ও এতে ঘটে যাওয়া ভুলত্রুটি ও ভ্রান্তিগুলো চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে; কেননা মানুষের কোনো কাজই ত্রুটিমুক্ত নয়, যদিও তা সম্পন্ন করতে অনেকগুলো কমিটি পরস্পর সহযোগিতা করে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٨)
وقد تحقق ذلك بهذا المستدرك الذي يشير إلى قلة الفوات على الموسوعة، وإن لم يلتزم بتتبعه تتبعًا تامًّا؛ لأن الفوات ليس له حد معين، لكن المستدرك بيَّن أنواعه، ومواضعه، وطريقة استدراكه التي يسهل بمعرفتها الوصول إليه.

وأما التنبيه على ما وقع في الموسوعة من أخطاء وأوهام فقد وقفنا على بعض ذلك أثناء مراجعة الموسوعة بعد صدورها، ووقف فريق العمل في هذا المستدرك على بعضها، وتلقينا من القراء الكرام ملاحظات عهدنا بها إلى لجنة لدراستها والاستفادة منها، والعمل بمقتضى ما يصح منها في الطبعة القادمة من الموسوعة - إن شاء الله تعالى -.

والحمد لله ملأ الكون أجمعه … ما كان منه وما من بعد قد ياتي

ثم الشكر لمركز الدراسات والمعلومات القرآنية في معهد الإمام الشاطبي على مواصلة العمل في موسوعة التفسير المأثور، ونسأل الله عز وجل لهم العون والتوفيق والسداد.

وصلى الله وسلم على عبد الله ورسوله محمد؛ أفضل الرسل، وخير العباد، وعلى آله وصحبه، ومن تبعهم إلى يوم المعاد.
আর তা এই পরিশিষ্টাংশের (মুস্তাদরাক) মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা বিশ্বকোষে বাদ পড়া বিষয়গুলোর স্বল্পতার প্রতি ইঙ্গিত করে; যদিও এটি প্রতিটি বাদ পড়া বিষয় সম্পূর্ণরূপে অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। কারণ, বাদ পড়া বিষয়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। তবে এই পরিশিষ্টাংশ সেগুলোর প্রকারভেদ, স্থানসমূহ এবং তা সংশোধনের পদ্ধতি স্পষ্ট করেছে, যা অবগত হওয়ার মাধ্যমে সে বিষয়গুলোতে পৌঁছানো সহজ হবে।

আর বিশ্বকোষে সংঘটিত ভুল-ভ্রান্তি ও অসংগতির বিষয়ে সতর্কীকরণের ক্ষেত্রে, আমরা বিশ্বকোষটি প্রকাশের পর তা পর্যালোচনার সময় কিছু বিষয়ের সম্মুখীন হয়েছি। এছাড়া এই পরিশিষ্টাংশের কর্মীবাহিনীও কিছু ভুল চিহ্নিত করেছেন। আমরা সম্মানিত পাঠকদের নিকট থেকেও কিছু পর্যবেক্ষণ পেয়েছি, যা আমরা একটি কমিটির নিকট পর্যালোচনার জন্য এবং তা থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য ন্যস্ত করেছি। ইনশাআল্লাহ তাআলা, বিশ্বকোষের আগামী সংস্করণে সেগুলোর মধ্য থেকে যা সঠিক বলে প্রমাণিত হবে, তদানুযায়ী কাজ করা হবে।

আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যা সমগ্র মহাবিশ্বকে পূর্ণ করে দিয়েছে ... যা অতীতে ছিল এবং যা ভবিষ্যতে আসতে পারে।

অতঃপর ইমাম শাতবি ইনস্টিটিউটের ‘সেন্টার ফর কুরআন স্টাডিজ অ্যান্ড ইনফরমেশন’-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ‘মাউসুআতুত তাফসিরিল মাসুর’-এর কাজ অব্যাহত রাখার জন্য। আমরা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট তাদের সাহায্য, তাওফিক এবং সঠিক পথের দিশা প্রার্থনা করি।

আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদের প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক; যিনি শ্রেষ্ঠ রাসূল এবং সর্বোত্তম বান্দা। আরও রহমত বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের সবার প্রতি।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌مُقَدِّمة

الحمد لله الذي لا إله إلا هو الحي القيوم الذي لا تأخذه سنة ولا نوم، والصلاة والسلام على رسول الله الذي أرسله الله بالهدى ودين الحق، وأنزل عليه الكتاب ليبينه للناس، ويخرجهم من الظلمات إلى النور بإذنه، وبعد:

فقد أصدر مركز الدراسات والمعلومات القرآنية بمعهد الإمام الشاطبي في عام 1439 هـ؛ موسوعة التفسير المأثور عن النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين وأتباعهم؛ معزوًا إلى مصادره الأصلية، ومقرونًا بتعليقات خمسة من أبرز المحققين في التفسير، وهم: ابن جرير (ت 310 هـ) وابن عطية (ت 543 هـ) وابن تيمية (ت 728 هـ) وابن القيم (ت 751 هـ) وابن كثير (ت 774 هـ)، وقدَّم المركز بين يدي ذلك مقدمة تبين المنهج المتبع في تأليف الموسوعة، ومدخلًا إلى التفسير المأثور؛ فجاءت الموسوعة مكونة من أربعة أقسام، وهي على الترتيب:

القسم الأول - مقدمة منهجية تبين المنهج المتبع في جمع مواد الموسوعة وصياغتها وترتيبها، ومدخل إلى التفسير المأثور؛ يعرِّف به، ويبين أهميته، وتاريخه، وأسانيده، ومستنداته، وطريقة التعامل معه.

القسم الثاني - (85730) أثرًا في تفسير القرآن الكريم عن النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين وتابعي التابعين.

القسم الثالث - تعليقات خمسة من أبرز المحققين في التفسير على آثار السلف الصالح في التفسير بتوجيهها، وتوضيحها، والموازنة بينها.

القسم الرابع - خدمة الأحاديث والآثار التفسيرية بتخريجها وعزوها إلى مصادرها، وبيان معاني الكلمات الغريبة فيها، والتنبيه على الأخطاء أو التصحيفات التي وقعت في مصادر بعضها.

وقد استغرق إعداد الموسوعة سنين من العمل الدؤوب، وبُذل فيها الوسع من العناية والاستقصاء والمتابعة، ولقيت بفضل الله تعالى القبول والاستحسان من أهل العلم وطلابه. وقد أكدنا في مقدمة الموسوعة أنها قابلة للتعقيب والاستدراك والإضافة، راجين أن يكون ذلك قليلًا؛ لا يبلغ عشر معشار ما جمع فيها، كما بيَّنا العقبات التي اعترضت طريقنا، والصعوبات والإشكالات التي واجهت عملنا.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক, যাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি, যাঁকে আল্লাহ হেদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি তা মানুষের কাছে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন এবং তাঁর অনুমতিক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। অতঃপর:

ইমাম শাতিবি ইনস্টিটিউটের কুরআন বিষয়ক গবেষণা ও তথ্য কেন্দ্র ১৪৩৯ হিজরি সনে 'মা’সুর তাফসীর বিশ্বকোষ' (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবীগণ, তাবিঈগণ এবং তাঁদের অনুসারীদের থেকে বর্ণিত তাফসীর) প্রকাশ করেছে। এটি এর মূল উৎসগুলোর দিকে সম্বন্ধযুক্ত এবং তাফসীর শাস্ত্রের পাঁচজন বিশিষ্ট গবেষকের মন্তব্যের সাথে সংকলিত হয়েছে। তাঁরা হলেন: ইবনু জারীর (মৃত্যু ৩১০ হি.), ইবনু আতিয়্যাহ (মৃত্যু ৫৪৩ হি.), ইবনু তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু ৭২৮ হি.), ইবনুল কাইয়্যিম (মৃত্যু ৭৫১ হি.) এবং ইবনু কাসীর (মৃত্যু ৭৭৪ হি.)। উক্ত কেন্দ্র এর শুরুতে একটি ভূমিকা পেশ করেছে যা এই বিশ্বকোষ রচনার ক্ষেত্রে অনুসৃত পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে এবং মা’সুর তাফসীরের একটি প্রবেশিকা হিসেবে কাজ করে। বিশ্বকোষটি চারটি অংশে গঠিত হয়েছে, যা ক্রমানুসারে নিম্নরূপ:

প্রথম অংশ - পদ্ধতিগত ভূমিকা, যা বিশ্বকোষের বিষয়বস্তু সংগ্রহ, প্রণয়ন ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে অনুসৃত পদ্ধতি বর্ণনা করে। সেই সাথে মা’সুর তাফসীরের একটি প্রবেশিকা; যা এর পরিচয় দেয় এবং এর গুরুত্ব, ইতিহাস, সনদসমূহ, প্রমাণাদি ও তা ব্যবহারের পদ্ধতি বর্ণনা করে।

দ্বিতীয় অংশ - কুরআনুল কারীমের তাফসীর বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), সাহাবীগণ, তাবিঈগণ এবং তাবি-তাবিঈগণ থেকে বর্ণিত ৮৫,৭৩০টি আছর বা বর্ণনা।

তৃতীয় অংশ - তাফসীর সংক্রান্ত সালাফে সালেহীনদের বর্ণনাগুলোর দিকনির্দেশনা, ব্যাখ্যা এবং সেগুলোর মধ্যে তুলনামূলক আলোচনার ওপর তাফসীর শাস্ত্রের পাঁচজন বিশিষ্ট গবেষকের মন্তব্যসমূহ।

চতুর্থ অংশ - তাফসীর বিষয়ক হাদীস ও আছরগুলোর সেবা বা পরিচর্যা; সেগুলোর তাখরীজ ও মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধ করার মাধ্যমে, কঠিন শব্দগুলোর অর্থ বর্ণনা করার মাধ্যমে এবং কোনো কোনো উৎসে ঘটা ভুল বা মুদ্রণপ্রমাদ সম্পর্কে সতর্ক করার মাধ্যমে।

এই বিশ্বকোষটি প্রস্তুত করতে দীর্ঘ বছরের নিরলস পরিশ্রম করতে হয়েছে এবং এতে যত্ন, গভীর অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণে পূর্ণ সামর্থ্য ব্যয় করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে এটি আলেম সমাজ ও শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ও প্রশংসা লাভ করেছে। আমরা বিশ্বকোষের ভূমিকায় এটি নিশ্চিত করেছি যে, এটি পর্যালোচনা, সংশোধন ও সংযোজনযোগ্য; তবে আমরা আশা করি তা হবে অত্যন্ত নগণ্য, যা এতে সংগৃহীত বিষয়ের দশমাংশের এক দশমাংশও হবে না। পাশাপাশি আমরা সেই সকল বাধা-বিপত্তি এবং জটিল সমস্যার কথাও বর্ণনা করেছি যা আমাদের কাজ করার সময় সামনে এসেছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ١٠)
وها نحن اليوم نضيف إلى الموسوعة مستدركًا؛ يدل على أنواع الاستدراكات على الموسوعة؛ رجعنا فيه إلى ما صدر حديثًا من الكتب المسندة بعد صدور الموسوعة، إضافة إلى ما صدر من طبعات جديدة لمصادر الموسوعة التي كانت ناقصة أو ضعيفة التحقيق، وذلك لمعالجة آثار هذا الضعف، وذلك النقص، مع أنواع أخرى من المصادر كما سنبينه، فيما يلي.

 

‌‌مصادر المستدرك:

‌‌النوع الأول - الكتب المسندة التي صدرت بعد صدور الموسوعة:

وهي كتب لم تكن صادرة وقت صدور موسوعة التفسير المأثور، وهذا النوع من مراجع هذا المستدرك يشمل ثلاثة كتب:

1 - تفسير ابن جريج، وقد طبع في عام 1441 هـ؛ بتحقيق د. عبد الرحمن بن حسن قائد، الذي عثر عليه بين خبايا المخطوطات المجهولة المؤلف، وذلك بتتبع أسانيده؛ فوجد أنها النسخة التي يرويها الزعفراني عن حجاج بن محمد المصيصي عن ابن جريج، وفيها من الآثار ما يقارب 330 أثرا. وقد تفضل مشكورًا بإعطائنا نسخة من تحقيقه؛ حيث إن عملنا في المستدرك بدأ قبل وصول الكتاب إلى السعودية؛ فجزاه الله خيرًا.

وابن جريج من بحور العلم وأوعيته، تفرد بالإمامة في الحرم بعد عطاء، ومجاهد، وخلَفَهما، ويُعدّ أول من صنَّف في التفسير، قال ابن تيمية: "إن الناس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم كانوا يكتبون القرآن وكان النبي صلى الله عليه وسلم قد نهاهم أن يكتبوا عنه غير القرآن وقال: "من كتب عني شيئًا غير القرآن فليمحه" ثم نسخ ذلك عند جمهور العلماء؛ حيث أذن في الكتابة لعبد الله بن عمرو وقال: "اكتبوا لأبي شاه" وكتب لعمرو بن حزم كتابًا، قالوا: وكان النهي أولًا خوفًا من اشتباه القرآن بغيره ثم أذن لما أُمن ذلك؛ فكان الناس يكتبون من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم ما يكتبون، وكتبوا أيضًا غيره. ولم يكونوا يصنفون ذلك في كتب مصنفة إلى زمن تابع التابعين؛ فصُنِّف العلم؛ فأول من صنَّف ابن جريج؛ شيئًا في التفسير، وشيئًا في الأموات"(1)، وهو عَلَم من أعلام التفسير بنوعيه الرواية والدراية، وذكرت له كتبُ التراجم أجزاء في التفسير(2).

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى 20/ 322.

(2) ينظر: الإرشاد 1/ 392. وقد أورد الثعلبي تفسيره في مصادره، ينظر: مقدمة تفسير الثعلبي (ط: دار التفسير) 2/ 104.
আজ আমরা এই বিশ্বকোষের সাথে একটি মুস্তাদরাক (পরিশিষ্ট) যুক্ত করছি; যা এই বিশ্বকোষের ওপর বিভিন্ন ধরনের সংযোজনের দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এতে আমরা সেই সকল মুসনাদ কিতাবসমূহের (সূত্রসহ বর্ণিত কিতাব) দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি যা বিশ্বকোষটি প্রকাশের পর নতুনভাবে প্রকাশিত হয়েছে। সেই সাথে বিশ্বকোষের সেই সকল মূল উৎসের নতুন সংস্করণের দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়েছে যা পূর্বে অপূর্ণাঙ্গ ছিল অথবা যার তাহকিক (সম্পাদনা) দুর্বল ছিল; যাতে সেই দুর্বলতা ও অপূর্ণতার প্রভাব কাটিয়ে ওঠা যায়। এর সাথে আরও কিছু প্রকারের উৎস রয়েছে যা আমরা নিম্নে বর্ণনা করব।

 

‌‌মুস্তাদরাকের উৎসসমূহ:

‌‌প্রথম প্রকার - সেই সকল মুসনাদ কিতাব যা বিশ্বকোষটি প্রকাশের পর প্রকাশিত হয়েছে:

এগুলো এমন কিতাব যা ‘মাউসুআতুত তাফসিরিল মাসুর’ (তাফসিরে মাসুর বিশ্বকোষ) প্রকাশের সময় প্রকাশিত হয়নি। এই মুস্তাদরাকের তথ্যসূত্রসমূহের এই প্রকারটি তিনটি কিতাবকে অন্তর্ভুক্ত করে:

১ - তাফসিরে ইবনে জুরাইজ: এটি ১৪৪১ হিজরি সালে ড. আবদুর রহমান ইবনে হাসান কায়িদ-এর তাহকিকে মুদ্রিত হয়েছে। তিনি এটি অজ্ঞাত লেখকদের পাণ্ডুলিপির আড়ালে খুঁজে পেয়েছেন এবং এর সনদসমূহ অনুসরণের মাধ্যমে তিনি এটি শনাক্ত করেছেন। তিনি দেখতে পান যে, এটি সেই অনুলিপি যা জাফরানি, হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদ আল-মিসসিসি থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন। এতে প্রায় ৩৩০টি আসার (বর্ণনা) রয়েছে। তিনি অনুগ্রহ করে তাঁর সম্পাদিত পাণ্ডুলিপির একটি কপি আমাদের প্রদান করেছেন; যেহেতু সৌদি আরবে কিতাবটি আসার পূর্বেই আমাদের মুস্তাদরাকের কাজ শুরু হয়েছিল। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

ইবনে জুরাইজ ছিলেন ইলমের সমুদ্র ও আধারতুল্য। আতা ও মুজাহিদের পর তিনি হারামের ইমামতের ক্ষেত্রে অনন্য সাধারণ ছিলেন এবং তিনি তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। তাঁকে তাফসির শাস্ত্রে প্রথম গ্রন্থকার হিসেবে গণ্য করা হয়। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে মানুষ কুরআন লিখতেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে কুরআন ব্যতীত তাঁর থেকে অন্য কিছু লিখতে নিষেধ করেছিলেন এবং বলেছিলেন: 'যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে'। অতঃপর জমহুর উলামার মতে এটি মানসুখ (রহিত) হয়ে যায়; যখন তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে লেখার অনুমতি প্রদান করেন এবং বলেন: 'তোমরা আবু শাহ-এর জন্য লিখে দাও' এবং তিনি আমর ইবনে হাযমের জন্য একটি পত্র লিখেছিলেন। তাঁরা বলেন: এই নিষেধাজ্ঞাটি শুরুতে ছিল কুরআনের সাথে অন্য কিছুর সংমিশ্রণ ঘটার আশঙ্কায়, অতঃপর যখন সেই আশঙ্কা দূর হলো তখন তিনি অনুমতি প্রদান করেন। ফলে মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসসমূহ লিখে রাখতেন এবং তাঁরা হাদিস ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ও লিখেছিলেন। তবে তাবে-তাবেয়ীদের যুগ পর্যন্ত তাঁরা এগুলোকে সুবিন্যস্ত কিতাব আকারে সংকলন করেননি। অতঃপর ইলম সংকলিত হতে শুরু করল। সর্বপ্রথম যিনি সংকলন করেন তিনি হলেন ইবনে জুরাইজ; তিনি তাফসির বিষয়ে কিছু এবং মৃত ব্যক্তিদের (জানাযার বিধান) বিষয়ে কিছু সংকলন করেন"(১)। তিনি বর্ণনাভিত্তিক ও যুক্তিভিত্তিক উভয় প্রকার তাফসিরে একজন পথিকৃৎ ইমাম ছিলেন এবং জীবনী গ্রন্থসমূহে তাঁর তাফসির সংক্রান্ত বিভিন্ন খণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে(২)।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া ২০/৩২২।

(২) দেখুন: আল-ইরশাদ ১/৩৯২। আস-সালাবি তাঁর কিতাবের উৎসসমূহে তাঁর তাফসিরের উল্লেখ করেছেন, দেখুন: মুকাদ্দিমাতু তাফসিরিস সালাবি (দারুত তাফসির সংস্করণ) ২/১০৪।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ١١)
كما أن له آثارًا روائية لتفسير غيره، واجتهادية من قوله؛ منثورة في كتب التفسير المأثور، وهي مرويات كثيرة، خصوصًا ما رواه عن شيخه عطاء بن أبي رباح (ت: 114)، وعن مجاهد (ت: 102) الذي بلغت مروياته عنه ما يقارب ثلث مروياته في التفسير، أما ما روي من تفسيره الاجتهادي فهو أقل، وقد حاول جمعه بعض المعاصرين.

وقد اعتنى بإيراد تفسيره روايةً ودرايةً جمع من نقلة التفسير المأثور، كتلميذه عبد الرزاق الصنعاني (ت: 211)، وابن جرير (ت: 310)، وابن أبي حاتم (ت: 327)، وأكثر من أخرج تفسيره روايةً ودرايةً ابن المنذر (ت: 318)، يظهر ذلك جليًا فيما طُبع من تفسيره، وما عزاه السيوطي إليه في الدر المنثور. وهي مرويات كثيرة نسبيًا تدل على مدى مبلغ ابن جريج في هذا العلم(1)(2).

2 - أحكام القرآن للشافعي؛ بدراسة وتحقيق أبي عامر عبد الله شرف الدين الداغستاني، وقد صدر عن دار آفاق المعرفة بالرياض، عام 1441 هـ، في مجلد واحد.

3 - التفسير المسند للحافظ ابن مردويه (جزء يبتدئ بسورة ق إلى الناس)؛ أحمد بن موسى (ت 410 هـ) وقد تفضل الدكتور علاء الدين محمد إسماعيل مشكورًا بإعطائنا نسخة من تحقيقه للتفسير المسند للحافظ ابن مردويه قبل طباعته؛ حيث إن عملنا في المستدرك بدأ قبل طباعة تحقيقه، والإحالة إلى تفسير ابن مردويه في المستدرك هي إلى أرقام الأحاديث والآثار في هذه النسخة، وقد نقلنا من كلامه على الأحاديث ما يناسب طريقة الموسوعة في تحقيق الأحاديث، فجزاه الله خيرًا.

--------------------------------------------

(1) وكل ما روته المصادر السابقة من تفسير ابن جريج - وغيرها - ضمته موسوعة التفسير المأثور، وقد بلغ تفسيره الاجتهادي فيها (1015) قولًا تفسيريًّا. ينظر: موسوعة التفسير المأثور 1/ 415.

ومما كتب في جمع تفسيره:

تفسير ابن جريج، جمع: علي حسن عبد الغني، صدر عن مكتبة التراث الإسلامي بمصر، عام 1413 هـ.

"ابن جريج أقواله ومروياته في التفسير من أول القرآن إلى سورة الحج: جمع ودراسة حديثية"، رسالة دكتوراه، أعدتها: أميرة بنت علي الصاعدي الحربي، عام 1424 هـ = 2004 م.

"مرويات وأقوال ابن جريج في التفسير من سورة المؤمنون إلى سورة الحج: جمع ودراسة حديثية"، رسالة ماجستير، أعدتها: جميلة بنت منيع اللقماني الحربي، عام 1428 هـ = 2007 م.

(2) ينظر: تفسير أتباع التابعين: عرض ودراسة، د. خالد الواصل، 1436 هـ = 2015 م، ص 101 - 103، وتفسير السلف: تاريخه وأعلامه ومصادره، د. خالد الواصل، 1443 هـ = 2021 م، ص 248 - 252.
তেমনিভাবে অন্যদের তাফসির বর্ণনার ক্ষেত্রেও তাঁর বর্ণনামূলক প্রভাব রয়েছে এবং তাঁর নিজস্ব বক্তব্য থেকে ইজতিহাদমূলক বর্ণনাও রয়েছে; যা বর্ণনানির্ভর তাফসির গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে আছে। এগুলো প্রচুর পরিমাণে বর্ণিত হয়েছে, বিশেষ করে তাঁর উস্তাদ আতা ইবনে আবি রাবাহ (মৃত্যু: ১১৪ হি.) এবং মুজাহিদ (মৃত্যু: ১০২ হি.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে। মুজাহিদ থেকে তাঁর বর্ণিত বর্ণনাসমূহ তাফসিরে তাঁর মোট বর্ণনার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। আর তাঁর ইজতিহাদমূলক তাফসির যা বর্ণিত হয়েছে তা পরিমাণে কম, এবং সমসাময়িক কিছু গবেষক তা সংকলনের চেষ্টা করেছেন।

তাফসির বিল-মা'সুরের একদল বর্ণনাকারী বর্ণনা ও গবেষণার (রিওয়ায়াত ও দিরায়াত) ভিত্তিতে তাঁর তাফসির উল্লেখ করার প্রতি যত্নশীল ছিলেন, যেমন তাঁর ছাত্র আবদুর রাজ্জাক আস-সানআনি (মৃত্যু: ২১১ হি.), ইবনে জারির (মৃত্যু: ৩১০ হি.), এবং ইবনে আবি হাতিম (মৃত্যু: ৩২৭ হি.)। বর্ণনা ও গবেষণার বিচারে তাঁর তাফসির সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত করেছেন ইবনে আল-মুনজির (মৃত্যু: ৩১৮ হি.)। এটি তাঁর মুদ্রিত তাফসির এবং সুয়ুতি ‘আদ-দুররুল মানসুর’ গ্রন্থে তাঁর দিকে যা নিসবত করেছেন তা থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। এগুলো তুলনামূলকভাবে অনেক বর্ণনা, যা এই ইলমে ইবনে জুরাইজের গভীর পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়(১)(২)।

২ - শাফেয়ির আহকামুল কুরআন; আবু আমির আবদুল্লাহ শারাফুদ্দীন আদ-দাগেস্তানির গবেষণা ও সম্পাদনায়। এটি রিয়াদের দারু আফাকিল মা'রিফাহ থেকে ১৪৪১ হিজরিতে এক খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।

৩ - হাফেজ ইবনে মারদুওয়াইহ-এর আত-তাফসিরুল মুসনাদ (সূরা ক্বাফ থেকে সূরা নাস পর্যন্ত অংশ); আহমদ ইবনে মুসা (মৃত্যু: ৪১০ হি.)। ডক্টর আলাউদ্দীন মুহাম্মাদ ইসমাইল অনুগ্রহ করে আমাদের তাঁর সম্পাদিত হাফেজ ইবনে মারদুওয়াইহ-এর আত-তাফসিরুল মুসনাদ-এর একটি অনুলিপি মুদ্রণের পূর্বে প্রদান করেছেন। যেহেতু আল-মুস্তাদরাকে আমাদের কাজ তাঁর এই গবেষণাটি মুদ্রিত হওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল, তাই আল-মুস্তাদরাকে ইবনে মারদুওয়াইহ-এর তাফসিরের প্রতি হাওয়ালাগুলো এই পাণ্ডুলিপির হাদিস ও আসারগুলোর নম্বর অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে। হাদিসগুলোর ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য থেকে আমরা তা-ই গ্রহণ করেছি যা বিশ্বকোষের হাদিস তাহকিক পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎসসমূহ এবং অন্যান্য উৎস থেকে ইবনে জুরাইজের বর্ণিত সকল তাফসির ‘মাওসুআতুল তাফসির আল-মা'সুর’ (বর্ণনানির্ভর তাফসির বিশ্বকোষ) অন্তর্ভুক্ত করেছে। এতে তাঁর ইজতিহাদমূলক তাফসিরের সংখ্যা (১০১৫)টি তাফসিরি বক্তব্যে পৌঁছেছে। দ্রষ্টব্য: মাওসুআতুল তাফসির আল-মা'সুর ১/৪১৫।

তাঁর তাফসির সংকলনের ক্ষেত্রে যা লেখা হয়েছে:

তাফসিরু ইবনে জুরাইজ, সংকলন: আলী হাসান আব্দুল গনি, মিশরের মাকতাবাতুত তুরাসিল ইসলামি থেকে ১৪১৩ হিজরিতে প্রকাশিত।

"তাফসিরে ইবনে জুরাইজের বক্তব্য ও বর্ণনাসমূহ কুরআনের শুরু থেকে সূরা হজ পর্যন্ত: হাদিসভিত্তিক সংকলন ও গবেষণা", পিএইচডি থিসিস, প্রস্তুতকারী: আমিরা বিনতে আলী আস-সায়িদি আল-হারবি, ১৪২৪ হিজরি = ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ।

"তাফসিরে ইবনে জুরাইজের বর্ণনা ও বক্তব্যসমূহ সূরা আল-মুমিনুন থেকে সূরা হজ পর্যন্ত: হাদিসভিত্তিক সংকলন ও গবেষণা", মাস্টার্স থিসিস, প্রস্তুতকারী: জামিলা বিনতে মানি আল-লুকমানি আল-হারবি, ১৪২৮ হিজরি = ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ।

(২) দ্রষ্টব্য: তাফসিরু আতবাউত তাবিয়িন: আরদুন ওয়া দিরাসাহ, ড. খালিদ আল-ওয়াসিল, ১৪৩৬ হিজরি = ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা ১০১-১০৩; এবং তাফসিরুস সালাফ: তারিখুহু ওয়া আ’লামুহু ওয়া মাসাদিরুহু, ড. খালিদ আল-ওয়াসিল, ১৪৪৩ হিজরি = ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা ২৪৮-২৫২।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ١٢)
ويظهر أن ابن مردويه نحا نحوًا مختلفًا في منهج تفسيره عن باقي مصنفي التفاسير المأثورة المسندة، حيث تميز باعتماده كثيرًا على الآثار المرفوعة في التفسير؛ فقد يكون أكبر مصدر للتفسير النبوي بنوعيه الصريح وغير الصريح، لكنه أورد فيه كثيرًا من الأحاديث المنكرة والموضوعة. وفي المقابل قلَّ لديه تفسير الصحابة، ولم يعتمد تفسير التابعين وأتباعهم إلا نادرًا(1).

وهو من أكبر مصادر ابن كثير في تفسيره، وكثيرًا ما يسوق آثاره بسنده، كما أنه من أكبر مصادر السيوطي في الدر المنثور(2) في تفسير القرآن بالسنة.

 

‌‌النوع الثاني - كتب فات الموسوعة الرجوع إليها:

وهذا النوع تحته أنواع:

 

‌‌الأول - كتب تفسير متقدمة غير مسندة، قد يوجد فيها آثار مسندة:

ومن هذا النوع:

1 - تفسير الخمسمئة آية من القرآن في الأمر والنهي والحلال والحرام، عن مقاتل بن سليمان الخراساني (ت 150 هـ)، وقد حققه ودرسه الدكتور نشأت صلاح الدين حسين الدوري، وأصدره مركز البحوث والدراسات الإسلامية بديوان الوقف السني في جمهورية العراق، عام 1429 هـ = 2008 م، ويقع في 326 ص.

2 - تفسير السمرقندي؛ أبي الليث نصر بن محمد بن أحمد بن إبراهيم (ت 373 هـ): "بحر العلوم"؛ وقد اعتمدنا فيه على تحقيق عمر بن غرامة العمروي، الذي طبع بدار الفكر للطباعة والنشر والتوزيع في بيروت، عام 1416 هـ = 1996 م، ويقع في 3 أجزاء.

3 - الكفاية في التفسير للحيري؛ إسماعيل بن أحمد (ت 430 هـ)، وهو من كتب التفسير المتقدمة، ويوجد فيه أحاديث وآثار مسندة، لكن لم يفت الموسوعة الرجوع إليه؛

--------------------------------------------

(1) ينظر: الإمام ابن مردويه ومنهجه في التفسير، د. محمد عبد الله الخضيري، مجلة الدراسات القرآنية ص 42، 43.

(2) بلغ ما أورده عنه أكثر من 4000 رواية، يشكل المرفوع منها نحو الثلاثة أرباع. ينظر المرجع السابق ص 15.
এটি প্রতীয়মান হয় যে, ইবনে মারদাওয়াইহ তাঁর তাফসীর পদ্ধতিতে অন্যান্য সনদভিত্তিক তাফসীরে মা'সুরের সংকলকদের তুলনায় ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন। তিনি তাফসীরের ক্ষেত্রে মারফূ আসার (রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রতি সম্পৃক্ত বর্ণনা)-এর ওপর অত্যধিক নির্ভরতার মাধ্যমে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য লাভ করেছেন; এটি সম্ভবত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় প্রকারের নববী তাফসীরের সবচেয়ে বড় উৎস। তবে তিনি এতে অনেক মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) এবং মাওযূ (জাল) হাদীস উল্লেখ করেছেন। এর বিপরীতে তাঁর কাছে সাহাবীদের তাফসীর কম এবং তিনি তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীদের তাফসীরের ওপর খুব কমই নির্ভর করেছেন।(১)

এটি ইবনে কাসীরের তাঁর তাফসীরে অন্যতম প্রধান উৎস এবং প্রায়শই তিনি এর বর্ণনাগুলো স্বীয় সনদে উল্লেখ করেন। তেমনিভাবে এটি আল-সুয়ূতী'র 'আদ-দুররুল মানসূর' গ্রন্থে সুন্নাহর আলোকে কুরআন তাফসীরের অন্যতম প্রধান উৎস।(২)

 

‌‌দ্বিতীয় প্রকার - এমন গ্রন্থসমূহ যা বিশ্বকোষের উদ্ধৃতি থেকে বাদ পড়েছে:

এই প্রকারের অধীনে আরও কিছু প্রকার রয়েছে:

 

‌‌প্রথম - পূর্ববর্তী তাফসীর গ্রন্থসমূহ যা মুসনাদ নয়, তবে তাতে সনদসহ কিছু বর্ণনা থাকতে পারে:

এই প্রকারের মধ্যে রয়েছে:

১ - মুকাতিল বিন সুলাইমান আল-খুরাসানী (মৃত্যু: ১৫০ হি.) রচিত 'তাফসীরুল খামসিমিআতি আয়াহ মিনাল কুরআন ফিল আমরি ওয়ান নাহয়ি ওয়াল হালালি ওয়াল হারামি'। এটি ড. নাশাআত সালাহুদ্দীন হুসাইন আদ-দাওরী কর্তৃক সম্পাদিত ও গবেষণাকৃত, এবং ইরাক প্রজাতন্ত্রের সুন্নী ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ সেন্টার থেকে ১৪২৯ হি. = ২০০৮ খ্রি. প্রকাশিত, এটি ৩২৬ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত।

২ - আস-সামারকান্দী; আবু লাইস নসর বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইবরাহীম (মৃত্যু: ৩৭৩ হি.) রচিত 'বাহরুল উলূম'; এতে আমরা উমর বিন গারামাহ আল-আমরাবী'র সম্পাদনার ওপর নির্ভর করেছি, যা বৈরুতের দারুল ফিকর মুদ্রণ ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪১৬ হি. = ১৯৯৬ খ্রি. মুদ্রিত হয়েছে এবং এটি ৩ খণ্ডে সমাপ্ত।

৩ - আল-হাইরী; ইসমাইল বিন আহমদ (মৃত্যু: ৪৩০ হি.) রচিত 'আল-কিফায়াহ ফিত তাফসীর'। এটি পূর্ববর্তী তাফসীর গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এতে সনদসহ হাদীস ও আসার বিদ্যমান রয়েছে, তবে বিশ্বকোষ এটি পর্যালোচনা করতে ভুল করেনি;

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-ইমাম ইবনে মারদাওয়াইহ ওয়া মানহাজুহু ফিত তাফসীর, ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-খুদাইরী, মাজাল্লাতুদ দিরাসাতিল কুরআ নিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪২, ৪৩।

(২) তাঁর থেকে বর্ণিত বর্ণনার সংখ্যা ৪০০০-এর বেশি ছাড়িয়ে গেছে, যার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মারফূ বর্ণনা। পূর্বোক্ত সূত্র দ্রষ্টব্য, পৃষ্ঠা ১৫।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ١٣)
لأنه صدر بعد صدور الموسوعة؛ عام 1440 هـ، عن مركز تفسير، في عشرة مجلدات؛ بتحقيق أربعة باحثين، وقد تفضل مركز تفسير مشكورًا بإهدائنا نسختين منه؛ للعمل عليها؛ فجزى الله القائمين عليه خيرًا.

ومن الكتب التي أردنا العمل عليها، ولم نفعل: تفسير النقاش: محمد بن الحسن بن محمد بن زياد (ت 351 هـ): شفاء الصدور من تفسير القرآن، ولم نعمل عليه؛ لأننا لم نجده مطبوعًا طبعة كاملة.

 

‌‌الثاني - كتب وسيطة فات الموسوعة الرجوع إليها:

وهي كتب وقع السهو عن كونها مراجع وسيطة؛ تنقل عن مصادر مفقودة، وإن كان بعضها يتعلق بمكملات التفسير من بيان المبهم والمعرَّب، التي لا يؤثر عدم معرفتها في أصل التفسير، وهو بيان معاني القرآن، وقد ذكرنا من هذا النوع:

1 - العجاب في بيان الأسباب، للحافظ ابن حجر؛ أبي الفضل أحمد بن علي (ت 852 هـ)، وقد اعتمدنا فيه على تحقيق د. عبد الحكيم الأنيس، الذي صدر عن دار ابن الجوزي السعودية، عام 1418 هـ = 1997 م، في مجلدين.

2 - مفحمات الأقران في مبهمات القرآن، للسيوطي؛ عبد الرحمن بن أبي بكر (ت 911 هـ)، واعتمدنا فيه على تحقيق د. مصطفى ديب البغا، وقد نشرته مؤسسة علوم القرآن بدمشق وبيروت، عام 1403 هـ = 1982 م.

3 - المهذب فيما وقع في القرآن من المعرَّب، للسيوطي، واعتمدنا فيه على تحقيق د. التهامي الراجي الهاشمي، الذي طبع في مطبعة فضالة، بإشراف صندوق إحياء التراث الإسلامي، المشترك بين المملكة المغربية، ودولة الإمارات العربية المتحدة.

 

‌‌الثالث - كتب أخرى فائتة؛ ليس لها ضابط معين:

وقد رجعنا إلى كتب أخرى؛ منها:

- لغات القرآن، للفراء (ت 207 هـ)، ولم نجد فيه آثارًا تستدرك على الموسوعة.

- المنتقى من مسموعات الضياء المقدسي (ت 643 هـ) بمرو، وقد صدر عن الهيئة العامة للعناية بطباعة ونشر القرآن الكريم والسنة النبوية وعلومهما؛ بدولة الكويت،
কারণ এটি বিশ্বকোষ প্রকাশের পর ১৪৪০ হিজরি সালে দশ খণ্ডে তাফসির কেন্দ্র (মারকাযুত তাফসির) থেকে চারজন গবেষকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে। তাফসির কেন্দ্র সদয় হয়ে আমাদের এর দুটি কপি কাজ করার জন্য উপহার দিয়েছেন; আল্লাহ এর সাথে সংশ্লিষ্টদের উত্তম প্রতিদান দিন।

আর যে বইগুলো নিয়ে আমরা কাজ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু করা হয়নি, সেগুলো হলো: আন-নাক্কাশের তাফসির: মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ (মৃত্যু ৩৫১ হিজরি): 'শিফাউস সুদুর মিন তাফসিরিল কুরআন'। আমরা এটি নিয়ে কাজ করিনি কারণ আমরা এর কোনো পূর্ণাঙ্গ মুদ্রিত সংস্করণ পাইনি।

 

‌‌দ্বিতীয় - মধ্যবর্তী গ্রন্থসমূহ যা বিশ্বকোষে উদ্ধৃতি দিতে বাদ পড়েছে:

এগুলো এমন সব বই যা মধ্যবর্তী উৎস হওয়া সত্ত্বেও অসাবধানতাবশত বাদ পড়ে গিয়েছিল; এগুলো মূলত বিলুপ্ত উৎসসমূহ থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করে। যদিও এগুলোর কিছু অংশ তাফসিরের সম্পূরক বিষয় যেমন অস্পষ্ট (মুবহাম) ও অনারব (মুআরাব) শব্দাবলি বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট, যা না জানলে তাফসিরের মূল লক্ষ্য অর্থাৎ কুরআনের অর্থ বর্ণনায় কোনো প্রভাব পড়ে না। আমরা এই জাতীয় কিছু বইয়ের উল্লেখ করছি:

১ - আল-উযাব ফি বয়ানিল আসবাব, হাফেজ ইবনে হাজার আবুল ফজল আহমাদ বিন আলীর (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) রচিত। এতে আমরা ড. আব্দুল হাকিম আল-আনিসের সম্পাদনার ওপর নির্ভর করেছি, যা সৌদি আরবের দার ইবনুল জাওযি থেকে ১৪১৮ হিজরি = ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।

২ - মুফহামাতুল আকরান ফি মুবহামাতিল কুরআন, সুয়ুতির (আব্দুর রহমান বিন আবি বকর, মৃত্যু ৯১১ হিজরি) রচিত। এতে আমরা ড. মুস্তফা দীব আল-বুগার সম্পাদনার ওপর নির্ভর করেছি, যা দামেস্ক ও বৈরুতের মুয়াসসাসাতু উলূমিল কুরআন ১৪০৩ হিজরি = ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ করেছে।

৩ - আল-মুহাযযাব ফীমা ওয়াকা'আ ফিল কুরআনি মিনাল মুআরাব, সুয়ুতির রচিত। এতে আমরা ড. আত-তুহামি আর-রাজি আল-হাশিমির সম্পাদনার ওপর নির্ভর করেছি, যা মরক্কো রাজ্য এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের যৌথ ব্যবস্থাপনায় 'ইসলামি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন তহবিল' (সুন্দুক ইহয়ায়িত তুরাছিল ইসলামি)-এর তত্ত্বাবধানে ফাদালা প্রেসে মুদ্রিত হয়েছে।

 

‌‌তৃতীয় - বাদ পড়া অন্যান্য বই; যার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই:

আমরা আরও কিছু বইয়ের শরণাপন্ন হয়েছি; যার মধ্যে রয়েছে:

- লুগাতুল কুরআন, আল-ফাররা (মৃত্যু ২০৭ হিজরি) রচিত; এতে আমরা এমন কোনো বর্ণনা পাইনি যা বিশ্বকোষে পরিমার্জন বা নতুন করে যোগ করার মতো।

- আল-মুনতাকা মিন মাসমুআতিদ দিয়া আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি) বি-মারউ; যা কুয়েত রাষ্ট্রের 'পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ এবং এ সংক্রান্ত জ্ঞানসমূহ মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষ' থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ١٤)
عام 1437 هـ = 2016 م، في أربعة مجلدات، وقد قرأه وخرج نصوصه عمر بن بسام بن الصادق، وراجعه مشهور بن حسن آل سلمان، ومحمد محمدي محمد جميل النورستاني.

 

‌‌النوع الثالث - كتب معادة:

وهي كتب كنا قد استخرجنا زوائدها على ما أورده السيوطي في الدر المنثور في التفسير بالمأثور من طبعات لها؛ وقع فيها سقط وتصحيفات وتحريفات كثيرة في أسماء المفسرين، وفي ألفاظ التفسير؛ فأعدنا العمل فيها بالاعتماد على طبعات أفضل …

وهذا النوع يشمل كتابين: تفسير ابن أبي حاتم (ت 327 هـ) "تفسير القرآن العظيم مسندًا عن الرسول صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين"، وتفسير الثعلبي (ت 427 هـ) "الكشف والبيان عن تفسير القرآن"؛ فقد اعتمدنا في هذا المستدرك في تفسير ابن أبي حاتم على طبعة دار ابن الجوزي، التي صدرت عام 1439 هـ؛ بتحقيق مجموعة من الباحثين، واعتمدنا في تفسير الثعلبي على طبعة دار تفسير، التي صدرت عام 1436 هـ؛ بتحقيق مجموعة من الباحثين، وقد صدرتا بعد انتهاء المراحل الأساسية لإعداد الموسوعة، وقد وجدنا في طبعة دار تفسير لتفسير الثعلبي آثارًا سقطت بأكملها من نسخة تفسير الثعلبي المعتمدة في الموسوعة، ووجدنا آثارًا كثيرة موجودة في نسخة تفسير الثعلبي المعتمدة في الموسوعة، لكنها فاتت على الموسوعة.

 

أحوال التفسير والمفسِّرين الواردين في مصادر المستدرك على موسوعة التفسير المأثور من حيث وجودها في الموسوعة، ورأينا في إدخاله في المستدرك:

1 - أن يكون التفسير والمفسِّر الواردان في مصدر المستدرك غيرَ موجودَين في الموسوعة، وهذه زيادة كاملة، وهذا النوع أعلى أنواع الاستدراك كما كان أعلى أنواع استدراك الموسوعة على الدر، والتفسير الذي لم يرد ذكره في الموسوعة أولى ما يستدرك،
১৪৩৭ হিজরি = ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ, চার খণ্ডে। এটি পাঠ করেছেন এবং এর পাঠ্যসমূহ বিন্যাস করেছেন উমর বিন বাসসাম বিন আস-সাদিক, এবং এটি পর্যালোচনা করেছেন মাশহুর বিন হাসান আল সালমান ও মুহাম্মদ মুহাম্মাদি মুহাম্মদ জামিল আন-নুরিস্তানি।

 

‌‌তৃতীয় প্রকার - পুনরুৎপাদিত গ্রন্থসমূহ:

এগুলো এমন সব গ্রন্থ যেগুলোর বর্ধিত অংশগুলো (যাওয়াইদ) আমরা ইতিপূর্বে সুয়ূতি তাঁর 'আদ-দুররুল মানসুর ফিত-তাফসির বিল-মা'সুর' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোর বিদ্যমান সংস্করণ থেকে বের করেছিলাম; যেগুলোতে মুফাসসিরগণের নাম এবং তাফসিরের শব্দাবলিতে প্রচুর পরিমাণে বাদ পড়া (সাকাত), লিখনশৈলীগত ভুল (তাসহিফ) এবং বিকৃতি (তাহরিফ) বিদ্যমান ছিল। ফলে আমরা অধিকতর উত্তম সংস্করণসমূহের ওপর নির্ভর করে সেগুলোর ওপর পুনরায় কাজ করেছি …

আর এই প্রকারটি দুটি গ্রন্থকে অন্তর্ভুক্ত করে: ইবনে আবি হাতিমের (মৃত্যু ৩২৭ হি.) তাফসির 'তাফসিরুল কুরআনিল আজিম মুসনাদান আনির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস-সাহাবা ওয়াত-তাবিয়ীন', এবং আস-সা'লাবির (মৃত্যু ৪২৭ হি.) তাফসির 'আল-কাশফ ওয়াল-বায়ান আন তাফসিরিল কুরআন'। আমরা এই মুস্তাদরাকে (পরিশিষ্ট) ইবনে আবি হাতিমের তাফসিরের ক্ষেত্রে 'দার ইবনিল জাওজি' থেকে ১৪৩৯ হিজরিতে একদল গবেষকের সম্পাদনায় প্রকাশিত সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি। আর আস-সা'লাবির তাফসিরের ক্ষেত্রে আমরা 'দারু তাফসির' থেকে ১৪৩৬ হিজরিতে একদল গবেষকের সম্পাদনায় প্রকাশিত সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি। এই সংস্করণ দুটি এই বিশ্বকোষ (মাওসুআ) প্রস্তুতির মৌলিক পর্যায়সমূহ সমাপ্ত হওয়ার পর প্রকাশিত হয়েছে। আমরা আস-সা'লাবির তাফসিরের 'দারু তাফসির' সংস্করণে এমন কিছু বর্ণনা (আসার) খুঁজে পেয়েছি যা বিশ্বকোষে ব্যবহৃত আস-সা'লাবির তাফসিরের অনুলিপি থেকে সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়ে গিয়েছিল। এছাড়াও আমরা আস-সা'লাবির তাফসিরের সেই অনুলিপিতে অনেক বর্ণনা পেয়েছি যা বিশ্বকোষে থাকা সত্ত্বেও তা সংকলন থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিল।

 

'মাওসুআতুত তাফসিরিল মা'সুর' এর পরিশিষ্টে (মুস্তাদরাক) উল্লিখিত উৎসসমূহে বিদ্যমান তাফসির এবং মুফাসসিরগণের অবস্থা, বিশ্বকোষে তাদের উপস্থিতির বিচারে এবং মুস্তাদরাকে তা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি:

১ - মুস্তাদরাকের উৎসে বর্ণিত তাফসির এবং মুফাসসির যদি বিশ্বকোষে না থাকে, তবে এটি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ সংযোজন। আর এই প্রকারটি হলো পরিশিষ্টের (ইস্তিদরাক) সর্বোত্তম পর্যায়, যেমনটি আদ-দুররের ওপর বিশ্বকোষের করা পরিশিষ্টের সর্বোত্তম পর্যায় ছিল। যে তাফসির বিশ্বকোষে উল্লেখিত হয়নি, তা-ই পরিশিষ্টে যুক্ত করার জন্য সবচেয়ে অগ্রগণ্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ١٥)
وهو في مصادر هذا المستدرك قليلٌ ومنه ما ورد في الكفاية في التفسير للحيري (وهو في هذا المستدرك برقم 5) عن ابن عباس - من طريق السُّدِّي عن الكلبي عن أبي صالح - في تفسير (الله) قال: لأن الخلق يألهون إليه في الحوائج.

2 - أن يكون التفسير والمفسِّر الواردان في مصدر المستدرك موجودَين في الموسوعة، لكن توجد في التفسير في مصدر المستدرك عبارات زائدة، وهذه زيادة جزئية، ولم نر إدخال هذا النوع إلا إن كانت العبارات الزائدة مخالفة أو فيها تقييد أو توضيح لما في الموسوعة أو نحو ذلك …

3 - أن يكون التفسير والمفسِّر الواردان في مصدر المستدرك موجودَين في الموسوعة، لكن تبيَّن من مصدر المستدرك وقوع تصحيف أو تحريف أو سقط يسير في الموسوعة، ولم نر إدخاله؛ لأنه تصحيح جزئي؛ بحسب مصادر المستدرك، وهي محدودة، ولم تظهر لنا فائدة استدراك هذا النوع دون مراجعة كلية، وإن كان تصحيح التحريفات وتعديل التصحيفات من أسباب إعادة العمل في بعض الكتب، لكننا لم نراجع جميع الأحاديث والآثار التي استخرجناها من طبعاتها التي وقع فيها تحريفات وتصحيفات، وإنما أولينا استخراج الزوائد على الموسوعة جل اهتمامنا، مع أن التصحيفات والتحريفات التي تبين لنا من مراجعة مصادر المستدرك وقوعها في الموسوعة قليلة.

4 - عكس السابق؛ يعني: أن يكون التفسير والمفسر الواردان في مصدر المستدرك قد وقع فيهما تصحيف أو تحريف، والموجود في الموسوعة صحيح، وهذا ليس استدراكًا على الموسوعة …

5 - أن يكون التفسير والمفسِّر الواردان في مصدر المستدرك موجودَين في الموسوعة، لكنه في الموسوعة بدون ذكر الراوي عن المفسر (الطريق)، وفي مصدر المستدرك بذكر الطريق أو ذُكر في الموسوعة من طريق، وورد في مصدر الموسوعة من طريق آخر،
এটি এই মুস্তাদরাক-এর উৎসগুলোতে কম এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা আল-হাইরির 'আল-কিফায়াহ ফিত-তাফসির'-এ বর্ণিত হয়েছে (এবং এটি এই মুস্তাদরাক-এর ৫ নম্বরে রয়েছে) ইবনে আব্বাস থেকে - সুদ্দি-এর সূত্রে আল-কালবি থেকে আবু সালিহ-এর মাধ্যমে - 'আল্লাহ' শব্দের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন: কারণ সৃষ্টিজগত তাদের প্রয়োজনে তাঁর দিকেই ধাবিত হয়।

২ - মুস্তাদরাক-এর উৎসগ্রন্থে বর্ণিত তাফসির এবং মুফাসসির (ব্যাখ্যাকারী) বিশ্বকোষে বিদ্যমান থাকা, কিন্তু মুস্তাদরাক-এর উৎসে তাফসিরে অতিরিক্ত কিছু বাক্য থাকা, যা একটি আংশিক আধিক্য। আমরা এই প্রকারটি অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন মনে করিনি যদি না অতিরিক্ত বাক্যগুলো বৈপরীত্যপূর্ণ হয় অথবা তাতে বিশ্বকোষে যা আছে তার কোনো সীমাবদ্ধতা বা স্পষ্টীকরণ বা এই জাতীয় কিছু থাকে ...

৩ - মুস্তাদরাক-এর উৎসগ্রন্থে বর্ণিত তাফসির এবং মুফাসসির বিশ্বকোষে বিদ্যমান থাকা, কিন্তু মুস্তাদরাক-এর উৎস থেকে স্পষ্ট হওয়া যে বিশ্বকোষে সামান্য শব্দগত বিচ্যুতি (তাসহিফ), বিকৃতি (তাহরিফ) বা বাদ পড়ার (সাকত) ঘটনা ঘটেছে। আমরা একে অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন মনে করিনি; কারণ এটি মুস্তাদরাক-এর উৎস অনুযায়ী একটি আংশিক সংশোধন এবং এই উৎসগুলো সীমিত। সামগ্রিক পর্যালোচনা ব্যতীত এই ধরণের বিষয়ের সংশোধন করার উপকারিতা আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়নি। যদিও বিকৃতি সংশোধন এবং শব্দগত বিচ্যুতি পরিমার্জন করা কিছু কিতাবে পুনরায় কাজ করার অন্যতম কারণ হয়ে থাকে, তবে আমরা সেই সমস্ত হাদীস ও আছারসমূহ পর্যালোচনা করিনি যা আমরা এমন সব সংস্করণ থেকে বের করেছি যাতে বিকৃতি ও বিচ্যুতি ঘটেছিল। বরং আমরা বিশ্বকোষের অতিরিক্ত অংশগুলো বের করার প্রতিই আমাদের অধিকাংশ মনোযোগ দিয়েছি, যদিও মুস্তাদরাক-এর উৎসসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে আমাদের নিকট এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, বিশ্বকোষে ঘটা শব্দগত বিচ্যুতি ও বিকৃতির পরিমাণ খুবই নগণ্য।

৪ - পূর্ববর্তীর বিপরীত; অর্থাৎ: মুস্তাদরাক-এর উৎসগ্রন্থে বর্ণিত তাফসির এবং মুফাসসিরের মধ্যে শব্দগত বিচ্যুতি বা বিকৃতি ঘটেছে, অথচ বিশ্বকোষে যা আছে তা সঠিক। এটি বিশ্বকোষের উপর কোনো সংশোধন (মুস্তাদরাক) নয় ...

৫ - মুস্তাদরাক-এর উৎসগ্রন্থে বর্ণিত তাফসির এবং মুফাসসির বিশ্বকোষে বিদ্যমান থাকা, কিন্তু বিশ্বকোষে মুফাসসির থেকে বর্ণনাকারীর (সূত্র) উল্লেখ নেই, অথচ মুস্তাদরাক-এর উৎসে সূত্রের উল্লেখ রয়েছে; অথবা বিশ্বকোষে এক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আর বিশ্বকোষের উৎসে তা অন্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে,
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ١٦)
ولم نر إدخال ما ذكر في الموسوعة من طريق، وورد في مصدر الموسوعة من طريق آخر؛ لأنه ليس من شرط الموسوعة استقصاء واستيعاب جميع طرق الأثر، أما ما وجد في الموسوعة بدون ذكر الطريق، وفي مصدر المستدرك بذكر الطريق؛ فلم نر إدخاله كذلك إلا إذا كان الأثر في مصدر الموسوعة مختلفًا، والمفسر قد ورد عنه التفسير من طرق متعددة.

وإن كان من منهج الموسوعة ذكر الطريق لو وجد مطلقًا، لكن لا يلزم أن يكون شرط المستدرك في ذلك كشرط الموسوعة، كما أنه قد يغتفر في التابع ما لا يغتفر في المتبوع أو يغتفر في الدوام ما لا يغتفر في الابتداء أو يغتفر في الشيء إذا كان تابعًا ما لا يغتفر إذا كان مقصودًا.

6 - أن يكون التفسير والمفسِّر الواردان في مصدر المستدرك موجودَين في الموسوعة، لكنه لم يُحَل على مصدر المستدرك، وهذا يعني أن الزيادة في هذه الحالة زيادة مصدر، ولم نر إدخال هذا النوع من الزيادة في هذا المستدرك؛ لأنه ليس من شرط الموسوعة استقصاء واستيعاب جميع مصادر الأثر.

7 - أن يكون التفسير الذي فسَّر به المفسِّر في مصدر المستدرك موجودًا في الموسوعة عن غيره؛ بنصه أو بنحوه، وهذا يعني أن الزيادة في هذه الحالة زيادة مفسِّر، وقد ترددنا في إدخال هذا النوع من الزيادة في المستدرك؛ بين أمرين:

الأول - أن نفرِّق في هذه الحالة بين الآثار التي فيها هذا النوع من الزيادة:

- فلا ندخل الأثر في المستدرك إن كان عدد المفسرين للآية المذكورين في الموسوعة ثلاثة فأكثر، وإن كان منهج الموسوعة يتضمن ذكر جميع المفسرين للآية؛ سواء اختلفت أقوالهم أو اتفقت، حيث إنه لا يلزم أن يكون شرط المستدرك في ذلك كشرط الموسوعة، كما أن مصادر المستدرك محدودة بينما كانت مصادر الموسوعة تشمل كل كتاب فيه تفسير مسند.
আমরা বিশ্বকোষে (মউসুয়া) কোনো একটি সূত্রের মাধ্যমে উল্লিখিত বর্ণনাকে অন্য একটি সূত্রের মাধ্যমে আসা সত্ত্বেও অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন মনে করিনি; কারণ আছারের (বর্ণনা) সমস্ত সূত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান ও সংগ্রহ করা বিশ্বকোষের শর্তাবলীর অন্তর্ভুক্ত নয়। আর বিশ্বকোষে যা সূত্র উল্লেখ ছাড়াই পাওয়া গেছে, কিন্তু মুস্তাদরাকের মূল উৎসে সূত্রসহ বর্ণিত হয়েছে; সেগুলোকেও আমরা একইভাবে অন্তর্ভুক্ত করা থেকে বিরত থেকেছি, যদি না বিশ্বকোষের মূল উৎসে বর্ণিত আছারটি ভিন্ন হয় এবং মুফাসসির থেকে উক্ত তাফসীরটি একাধিক সূত্রের মাধ্যমে বর্ণিত হয়ে থাকে।

যদিও সাধারণভাবে সূত্র পাওয়া গেলে তা উল্লেখ করা বিশ্বকোষের মানহাজ (পদ্ধতি), তবে এই ক্ষেত্রে মুস্তাদরাকের শর্ত বিশ্বকোষের শর্তের মতো হওয়া আবশ্যক নয়। যেমনটি নিয়ম রয়েছে যে, অনুবর্তী বিষয়ের ক্ষেত্রে যা মার্জনা করা হয় তা অনুসরণীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে করা হয় না, অথবা স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে যা মার্জনা করা হয় তা সূচনার ক্ষেত্রে করা হয় না, অথবা কোনো বিষয় যখন আনুষঙ্গিক হয় তখন তাতে যা মার্জনা করা হয় তা মূল উদ্দেশ্য হলে করা হয় না।

৬ - মুস্তাদরাকের মূল উৎসে বর্ণিত তাফসীর এবং মুফাসসির উভয়ই বিশ্বকোষে বিদ্যমান থাকা, কিন্তু তা মুস্তাদরাকের মূল উৎসের দিকে হাওয়ালা দেওয়া হয়নি। এর অর্থ হলো, এই ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অংশটি কেবল মূল উৎসের আধিক্য। আমরা এই ধরনের অতিরিক্ত অংশকে এই মুস্তাদরাকে অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন মনে করিনি; কারণ আছারের সকল মূল উৎস অনুসন্ধান ও পূর্ণাঙ্গভাবে আয়ত্ত করা বিশ্বকোষের শর্ত নয়।

৭ - মুস্তাদরাকের মূল উৎসে মুফাসসির কর্তৃক প্রদত্ত তাফসীরটি বিশ্বকোষে অন্য কারও সূত্রে হুবহু শব্দে বা সমার্থকভাবে বিদ্যমান থাকা। এর অর্থ হলো, এই ক্ষেত্রে আধিক্যটি কেবল মুফাসসিরের আধিক্য। এই ধরনের আধিক্য মুস্তাদরাকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে আমরা দুটি বিষয়ের মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম:

প্রথমত - এই প্রকারের আধিক্য সংবলিত আছারগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা:

- যদি বিশ্বকোষে উক্ত আয়াতের জন্য উল্লিখিত মুফাসসিরের সংখ্যা তিন বা ততোধিক হয়, তবে আমরা সেই আছারটি মুস্তাদরাকে অন্তর্ভুক্ত করব না। যদিও বিশ্বকোষের মানহাজে আয়াতের সকল মুফাসসিরের উল্লেখ করার কথা রয়েছে, তাদের বক্তব্য ভিন্ন হোক বা অভিন্ন; কারণ এই ক্ষেত্রে মুস্তাদরাকের শর্ত বিশ্বকোষের শর্তের মতো হওয়া আবশ্যক নয়। অধিকন্তু, মুস্তাদরাকের উৎসসমূহ সীমিত, অন্যদিকে বিশ্বকোষের উৎসসমূহের মধ্যে এমন প্রতিটি কিতাব অন্তর্ভুক্ত ছিল যাতে সনদসহ তাফসীর বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ١٧)
- ونُدْخِله إن كان عدد المفسرين للآية المذكورين في الموسوعة أقل من ثلاثة؛ فيُذْكر في المستدرك المفسر الزائد الوارد في مصدر المستدرك لفائدة الوصول إلى الجمع …

الثاني - أن ندخله مطلقًا؛ لأن هدف المستدرك لا بد أن يوافق الموسوعة؛ لأنه مكمل لها؛ فيلزم ذكر أي مفسر جديد من السلف مهما كثر المفسرون، ومهما تكرر القول، والقاعدة في الموسوعة: أن التفسير عن مفسر جديد كالقول الجديد بصرف النظر عن تكرر التفسير، كما أن الموسوعة جُمعت لحصر الأقوال بغض النظر عن تكرر المعنى …

ثم استقر الرأي على إدخال هذا النوع من الزيادة في المستدرك مطلقًا. وقد ذكرنا ترددنا في إدخال بعض أنواع الزيادة؛ لنُعذر إذا فاتنا شيء من هذه الأنواع؛ بأنه كان محلَ ترددٍ عندنا، وأنَّ تركه - ولو عمدًا - له وجه، كما أن ذكره له وجه.

8 - أن يكون التفسير الذي فسَّر به المفسِّر في مصدر المستدرك موجودًا في الموسوعة عن غيره؛ بخلافه في بعض العبارات، وقد أدخلنا هذا النوع من الزيادة في المستدرك.

9 - أن يكون المفسِّر الذي ورد عنه التفسير في مصدر المستدرك شيخًا للمفسر الذي ورد عنه نفس التفسير أو نحوه أو بخلافه في بعض العبارات كما سبق = ولم نتردد في إدخال هذا النوع من الاستدراك؛ لأنه علو في الإسناد، وإحالة على الأفضل، وإن كان فيه مع هذا زيادة مهمة؛ التحق بالحالة الأولى، وهي الزيادة الكاملة.

10 - أن يكون المفسِّر الذي ورد عنه التفسير في مصدر المستدرك تلميذًا للمفسر الذي ورد عنه نفس التفسير أو نحوه أو بخلافه في بعض العبارات، وقد ترددنا في إدخال هذا النوع من الزيادة في المستدرك؛ بين:

أن نفرِّق في هذه الحالة بين الآثار التي فيها هذا النوع من الزيادة:

- فلا ندخل هذا النوع إن لم يكن في قول المفسر زيادة مهمة؛ لأن التفسير الذي ورد عنه؛ قد ورد بنصه أو بنحوه في الموسوعة عمن هو أجل وأفضل (وهو الصحابي إن كان صاحب الأثر تابعيًا، والتابعي إن كان صاحب الأثر تابع التابعي) =
আর আমরা একে অন্তর্ভুক্ত করি যদি বিশ্বকোষে উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যাকারীদের সংখ্যা তিনের কম হয়; ফলে সংগ্রহের সুবিধার্থে মুসতাদরাকের উৎসে বর্ণিত অতিরিক্ত ব্যাখ্যাকারীকে মুসতাদরাকে উল্লেখ করা হয় …

দ্বিতীয়ত - আমরা একে নিঃশর্তভাবে অন্তর্ভুক্ত করি; কারণ মুসতাদরাকের লক্ষ্য অবশ্যই বিশ্বকোষের সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হবে; যেহেতু এটি তার পরিপূরক। সুতরাং সালাফদের মধ্য থেকে যেকোনো নতুন ব্যাখ্যাকারীর উল্লেখ করা আবশ্যক, ব্যাখ্যাকারীর সংখ্যা যত বেশিই হোক না কেন এবং উক্তির পুনরাবৃত্তি যতবারই হোক না কেন। বিশ্বকোষের মূলনীতি হলো: নতুন কোনো ব্যাখ্যাকারীর পক্ষ থেকে আসা তাফসির একটি নতুন উক্তির মতোই গণ্য, তাফসিরের পুনরাবৃত্তির বিষয়টি এখানে বিবেচ্য নয়। যেমনটি বিশ্বকোষটি সংকলিত হয়েছে উক্তিগুলোকে সীমাবদ্ধ করার জন্য, অর্থের পুনরাবৃত্তির বিষয়টি বিবেচনা না করেই …

অতঃপর মুসতাদরাকে এই ধরনের অতিরিক্ত অংশ নিঃশর্তভাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থির হয়েছে। আমরা কিছু প্রকারের অতিরিক্ত অংশ অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিধার কথা উল্লেখ করেছি; যাতে এই প্রকারগুলোর কোনোটি আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে গেলে আমাদের ওজর থাকে যে, এটি আমাদের নিকট দ্বিধার বিষয় ছিল। আর তা পরিত্যাগ করাও—যদি তা উদ্দেশ্যমূলকও হয়—তার একটি যৌক্তিক দিক রয়েছে, যেমন তা উল্লেখ করারও একটি যৌক্তিক দিক রয়েছে।

৮ - মুসতাদরাকের উৎসে ব্যাখ্যাকারী যে তাফসির করেছেন তা বিশ্বকোষে অন্য কারো সূত্রে বিদ্যমান থাকা; যদিও কিছু শব্দগত ভিন্নতা থাকতে পারে। আমরা মুসতাদরাকে এই প্রকারের অতিরিক্ত অংশ অন্তর্ভুক্ত করেছি।

৯ - মুসতাদরাকের উৎসে যাঁর থেকে তাফসিরটি বর্ণিত হয়েছে, তিনি সেই ব্যাখ্যাকারীর উস্তাদ হওয়া যাঁর থেকে সেই একই তাফসির বা তদ্রূপ বা কিছু শব্দগত ভিন্নতাসহ তা বর্ণিত হয়েছে যা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আমরা এই প্রকারের মুসতাদরাক (সংযোজন) অন্তর্ভুক্ত করতে দ্বিধা করিনি; কারণ এটি সনদের উচ্চমর্যাদা এবং অধিকতর উত্তমের দিকে রেফারেন্স করা। আর যদি এর সাথে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত বিষয় থাকে, তবে তা প্রথম অবস্থার সাথে যুক্ত হবে, আর তা হলো পূর্ণাঙ্গ সংযোজন।

১০ - মুসতাদরাকের উৎসে যাঁর থেকে তাফসিরটি বর্ণিত হয়েছে, তিনি সেই ব্যাখ্যাকারীর ছাত্র হওয়া যাঁর থেকে সেই একই তাফসির বা তদ্রূপ বা কিছু শব্দগত ভিন্নতাসহ তা বর্ণিত হয়েছে। আমরা মুসতাদরাকে এই প্রকারের অতিরিক্ত অংশ অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম; যার ভিত্তি হলো:

এই অবস্থায় সেই সকল বর্ণনার মাঝে পার্থক্য করা যেগুলোতে এই ধরনের অতিরিক্ত বিষয় রয়েছে:

- সুতরাং আমরা এই প্রকারটি অন্তর্ভুক্ত করব না যদি ব্যাখ্যাকারীর উক্তিতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত বিষয় না থাকে; কারণ তাঁর থেকে বর্ণিত তাফসিরটি হুবহু বা কাছাকাছি শব্দে বিশ্বকোষে এমন ব্যক্তির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যিনি অধিক মর্যাদাবান ও উত্তম (অর্থাৎ যদি বর্ণনাকারী তাবেয়ি হন তবে তিনি সাহাবি, আর যদি বর্ণনাকারী তাবে-তাবেয়ি হন তবে তিনি তাবেয়ি) =
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ١٨)
- وندخله إن كان في قوله زيادة مهمة.

وبين = أن ندخله مطلقًا؛ لما سبق بيانه في الحالة (7) التي وقع فيها مثل هذا التردد.

ثم استقر الرأي على إدخال هذا النوع من الزيادة في المستدرك مطلقًا.

11 - أن يكون الأثر مذكورًا في الموسوعة في موضع؛ فيُنتبه من مراجعة مصادر المستدرك على أنه صالح لموضع آخر؛ كأن يوضع في الموسوعة في الآثار المتعلقة بالسورة، ويُنْتبه على أنه سبب نزول أو تُذكر في مصدر المستدرك الآية، بينما لم تذكر في الأثر الوارد في الموسوعة؛ ولهذا وُضع الأثر في الموسوعة في الآثار المتعلقة بالآية؛ فيصبح موضعه بعد الوقوف على أن مصدر المستدرك ذُكر فيه الآية = تفسيرَها لا الآثار المتعلقة بها، وهذا يعني أن الاستدراك في هذه الحالة استدراك موضع، ولم نر إدخال هذا النوع من الاستدراك أو الزيادة في المستدرك مع أنه قليل؛ لأننا نضع الأثر الذي يحتمل موضوعين أو أكثر في الموضع الذي تكون علاقته به أظهر، ولا نكرره، وقد وضع في الموسوعة في موضع يحتمله، وإن تبين أن علاقته بموضع آخر أظهر.

ومن المسائل التي ترددنا في استدراكها:

استدراك القصص الطويلة مع أن الرأي في الأصل كان الاقتصار على المختصرة.

واستدراك الآثار المتعلقة بالآية؛ لأننا اختصرنا ما أورده السيوطي من ذلك.

واستدراك القراءات، لكن استقر الرأي على إدخالها في المستدرك، ولاسيما إذا ساقها مصدر المستدرك بالإسناد.

ومما يشكل على من يستدرك على كتاب في الآثار التفسيرية أن يجد في مصادر الاستدراك آثارًا لمفسرين موجودة في الأصل بمعناها عن المفسرين أنفسهم؛ فيحتمل أن يكون مصدر المستدرك قد ذكرها بالمعنى أو تصرف فيها، ولا سيما إذا نسب التفسير إلى أكثر من واحد، وهذا ظاهر في تفسير الثعلبي، وله تعلق بالحالة الثانية من الأحوال المذكورة آنفًا.
এবং আমরা তা অন্তর্ভুক্ত করব যদি তার বক্তব্যের মধ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন থাকে।

এবং বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে যে—আমরা তা নিরঙ্কুশভাবে অন্তর্ভুক্ত করব; ইতিপূর্বে ৭ নং অবস্থায় যা বর্ণনা করা হয়েছে সেই কারণে যেখানে এই ধরণের দ্বিধা তৈরি হয়েছিল।

অতঃপর মুস্তাদরাকে এই ধরণের সংযোজন নিরঙ্কুশভাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থির হয়েছে।

১১ - কোনো বর্ণনা (আসার) বিশ্বকোষের এক স্থানে উল্লিখিত থাকা; কিন্তু মুস্তাদরাকের উৎসসমূহ পর্যালোচনার সময় লক্ষ্য করা যায় যে, এটি অন্য একটি স্থানের জন্যও উপযুক্ত; যেমন বিশ্বকোষে একে সূরার সাথে সংশ্লিষ্ট বর্ণনাসমূহের মধ্যে রাখা হয়েছে, অথচ লক্ষ্য করা গেল যে এটি শানে নুযূল (অবতরণের কারণ), অথবা মুস্তাদরাকের উৎসে আয়াতটি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বিশ্বকোষে উদ্ধৃত বর্ণনায় আয়াতটি উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণেই বর্ণনাটি বিশ্বকোষে আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট বর্ণনাসমূহের মধ্যে রাখা হয়েছে। ফলে মুস্তাদরাকের উৎসে আয়াতটি উল্লিখিত আছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর এর অবস্থান হবে আয়াতের তাফসীর হিসেবে, আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট বর্ণনা হিসেবে নয়। এর অর্থ হলো, এই অবস্থায় মুস্তাদরাকটি মূলত অবস্থানের সংশোধন। আমরা এই ধরণের সংশোধন বা সংযোজন মুস্তাদরাকে অন্তর্ভুক্ত করা সমীচীন মনে করিনি যদিও এর সংখ্যা নগণ্য; কারণ আমরা এমন বর্ণনা যা দুই বা ততোধিক বিষয়ের সম্ভাবনা রাখে, সেটিকে এমন স্থানে রাখি যার সাথে এর সম্পর্ক অধিকতর স্পষ্ট এবং আমরা তার পুনরাবৃত্তি করি না। এটি বিশ্বকোষে এমন এক স্থানে রাখা হয়েছে যা এটি ধারণ করার উপযোগী, যদিও পরে প্রতীয়মান হয়েছে যে অন্য একটি অবস্থানের সাথে এর সম্পর্ক অধিকতর স্পষ্ট।

যেসব বিষয় মুস্তাদরাকে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে আমরা দ্বিধান্বিত ছিলাম:

দীর্ঘ কিচ্ছা-কাহিনীগুলো মুস্তাদরাকে আনা, যদিও মূল সিদ্ধান্ত ছিল কেবল সংক্ষিপ্তগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা।

এবং আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট বর্ণনাসমূহ মুস্তাদরাকে আনা; কারণ সুয়ূতী যা উল্লেখ করেছেন আমরা তা থেকে সংক্ষিপ্ত করেছি।

এবং কিরাতসমূহ মুস্তাদরাকে আনা, তবে শেষ পর্যন্ত এগুলোকে মুস্তাদরাকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত স্থির হয়েছে, বিশেষ করে যখন মুস্তাদরাকের উৎস এগুলোকে সনদের সাথে বর্ণনা করে।

তাফসীরী বর্ণনার কোনো কিতাবের ওপর মুস্তাদরাক তৈরি করতে গিয়ে যে বিষয়টি জটিলতা তৈরি করে তা হলো—মুস্তাদরাকের উৎসগুলোতে এমন সব মুফাসসিরদের বর্ণনা পাওয়া যায় যা মূল গ্রন্থে সেই মুফাসসিরদের পক্ষ থেকেই মর্মগতভাবে বিদ্যমান। ফলে সম্ভাবনা থাকে যে, মুস্তাদরাকের উৎসটি তা মর্মগতভাবে বর্ণনা করেছে অথবা তাতে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে, বিশেষ করে যখন তাফসীরটি একাধিক ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত করা হয়। এটি সা'লাবীর তাফসীরে সুস্পষ্ট এবং এর সম্পর্ক ইতিপূর্বে উল্লিখিত দ্বিতীয় অবস্থার সাথে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ١٩)
استدراك من نوع آخر:

كما يستدرك على موسوعة التفسير المأثور عدم إدخالها آثارًا تفسيرية على شرطها؛ يستدرك عليها عكس ذلك، وهو إيراد آثار تفسيرية ليست على شرطها؛ بذكر بعض أقوال السلف الواردة في تفسير الثعلبي، مع أنه لم يذكر إسناده إليهم في مقدمة كتابه، وإن كان هذا نادرًا أو قليلًا جدًا، لكنه تطلب منا التنبه لمنع وقوعه في هذا المستدرك.

هذه مصادر الاستدراك وأنواعه وما استدرك، وما لم يستدرك في هذا الكتاب، وقد قمنا بعد جمع الأحاديث والآثار المستدركة على الموسوعة بترتيبها وخدمتها بنحو ما عملنا في الموسوعة، إلا أننا لم نقرنها بتعليقات علماء التفسير الخمسة المذكورين في الموسوعة؛ لأن عامتها في معنى ما ورد في الموسوعة؛ فالتعليقات الواردة في الموسوعة تشملها، لكننا ربما قرنا الأثر الذي لا يظهر وجهه بتوجيه الثعلبي، وإن كان الأثر مما ينتقد ذكرنا الانتقاد الوارد عليه؛ من كتب الخمسة أو من غيرها.

ونسأل الله عز وجل لنا ولإخواننا المؤمنين الإعانة والسداد، والهداية والرشاد، وحصول النفع بالأصل، وكماله بالفرع، وصلى الله على نبينا محمد، وعلى آله، وصحبه، وسلم، والحمد لله رب العالمين.

 

مَركز الدِّرَاسَاتِ وَالمَعلومَاتِ القُرْآنيّةِ

بِمَعْهَدِ الإِمَامِ الشَّاطِبِيّ
অন্য এক ধরণের সম্পূরক সংযোজন:

যেভাবে 'মাওসুআতুত তাফসিরিল মাসুর'-এর ক্ষেত্রে তার নিজস্ব শর্তানুযায়ী তাফসিরি বর্ণনাগুলো অন্তর্ভুক্ত না করার ত্রুটি নির্দেশ করা হয়; তেমনি এর বিপরীতটিও পরিলক্ষিত হয়, আর তা হলো এমন সব তাফসিরি বর্ণনা উল্লেখ করা যা তার শর্তের অনুকূলে নয়; যেমন আস-সা'লাবির তাফসির গ্রন্থে বর্ণিত সালাফদের কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করা, যদিও তিনি তাঁর কিতাবের ভূমিকায় তাদের পর্যন্ত কোনো সনদ উল্লেখ করেননি। যদিও এটি বিরল বা অতি সামান্য, তবুও এই মুস্তাদরাক-এ যাতে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক থাকা আমাদের জন্য আবশ্যক ছিল।

এই হলো সম্পূরক সংযোজনের উৎসসমূহ, এর প্রকারভেদ এবং এই কিতাবে যা সংযোজন করা হয়েছে বা হয়নি তার বিবরণ। বিশ্বকোষের (মাওসুআহ) ওপর সম্পূরক হিসেবে হাদীস ও বর্ণনাগুলো সংগ্রহের পর আমরা সেগুলো বিন্যস্ত করেছি এবং বিশ্বকোষে যেভাবে কাজ করেছিলাম সেভাবেই সেগুলোর খেদমত করেছি। তবে, আমরা এগুলোকে বিশ্বকোষে উল্লিখিত পাঁচজন তাফসির বিশারদের মন্তব্যের সাথে যুক্ত করিনি; কারণ এগুলোর অধিকাংশের অর্থ বিশ্বকোষে যা বর্ণিত হয়েছে তারই অন্তর্ভুক্ত। ফলে বিশ্বকোষে বিদ্যমান মন্তব্যগুলো এগুলোকেও শামিল করে। তবে যে বর্ণনার মর্মার্থ স্পষ্ট নয়, সম্ভবত আমরা সেখানে আস-সা'লাবির ব্যাখ্যা যুক্ত করেছি। আর যদি কোনো বর্ণনা সমালোচনার যোগ্য হয়, তবে আমরা সেই পাঁচজন ইমামের কিতাব বা অন্য কোনো উৎস থেকে তার ওপর কৃত সমালোচনা উল্লেখ করেছি।

আমরা মহান আল্লাহর কাছে আমাদের এবং আমাদের মুমিন ভাইদের জন্য সাহায্য, সঠিকতা, হিদায়াত ও সঠিক পথের প্রার্থনা করি; এবং মূল গ্রন্থের মাধ্যমে উপকার লাভ ও এই পরিশিষ্টের মাধ্যমে তার পূর্ণতা কামনা করি। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। আর সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।

 

কুরআন বিষয়ক গবেষণা ও তথ্য কেন্দ্র

ইমাম শাতিবি ইনস্টিটিউট
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌سورة الفاتحة

‌‌أسماء السورة:

1 - عن وكيع أن رجلا أتى الشعبي فشكا إليه وجع الخاصرة، فقال: عليك بأساس القرآن. قال: وما أساس القرآن؟ قال: فاتحة الكتاب. قال الشعبي: سمعت عبد الله بن عباس - غير مرة - يقول: إن لكل شيء أساسًا، وأساس الدنيا مكة؛ لأنها منها دُحيت الأرض، وأساس السماوات عربيًا(1)، وهي السماء السابعة، وأساس الأرض عجيبًا(2)، وهي الأرض السابعة السفلى، وأساس الجنان جنة عدن، وهي سُرَّة الجنان، عليها أُسِّست الجنان، وأساس النار جهنم، وهي الدركة السابعة السفلى، وعليها أُسِّست الدركات، وأساس الخلق آدم عليه السلام، وأساس الأنبياء نوح عليه السلام، وأساس بني إسرائيل يعقوب عليه السلام، وأساس الكتب القرآن، وأساس القرآن الفاتحة، وأساس الفاتحة بسم الله الرحمن الرحيم. فإذا اعتللت أو اشتكيت فعليك بالأساس تُشفى بإذن الله عز وجل(3).

 

‌‌تفسير السورة:

2 - عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: يقول الله تعالى: قسمت الصلاة بيني وبين عبدي نصفين؛ فإذا قال العبد: بسم الله الرحمن الرحيم؛ قال الله تعالى: مجدني عبدي، وإذا قال: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ}؛ قال الله: حمدني عبدي، وإذا قال: {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}؛ قال الله تعالى: أثنى علي عبدي، وإذا قال: {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ}؛ قال الله تعالى: فوَّض إلي عبدي، وإذا قال: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ}؛ قال الله تعالى: هذا بيني وبين عبدي، وإذا قال: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ}؛ قال الله: هذا لعبدي، ولعبدي ما سأل(4).

--------------------------------------------

(1) كذا في المصدر، وفي الطبعة الأخرى: غريبًا، وفي تفسير القرطبي: عريبا، ولم يتبين لنا وجه وصف أساس السماوات بأي وصف من هذه الأوصاف، كما لم يتبين لنا وجه نصبه إن كان عربيًا أو غريبًا بالنصب.

(2) كذا في المصدر، ولم يتبين لنا وجه نصبها على فرض صحة نقلها.

(3) أخرجه الثعلبي بسنده 1/ 498. وهو في الدر لكن بذكر الشعبي دون ابن عباس، وعزاه للثعلبي فقط.

(4) أخرجه الحيري في الكفاية في التفسير بسنده 1/ 17، وقد ورد هذا الحديث في الموسوعة في
‌সূরা আল-ফাতিহা

‌সূরার নামসমূহ:

১ - ওকি' থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি আশ-শা'বির কাছে এসে তাঁর পাজরের ব্যথার অভিযোগ করল। তখন তিনি বললেন: তুমি কুরআনের ভিত্তিকে আঁকড়ে ধরো। সে বলল: কুরআনের ভিত্তি কী? তিনি বললেন: ফাতিহাতুল কিতাব (সূরা ফাতিহা)। আশ-শা'বি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে একাধিকবার বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই প্রতিটি জিনিসের একটি ভিত্তি রয়েছে। পৃথিবীর ভিত্তি হলো মক্কা; কারণ সেখান থেকেই জমিনকে প্রসারিত করা হয়েছে। আসমানসমূহের ভিত্তি হলো 'আরীবান'(১), যা সপ্তম আসমান। জমিনের ভিত্তি হলো 'আজীবান'(২), যা সপ্তম নিম্নতম জমিন। জান্নাতসমূহের ভিত্তি হলো জান্নাতে আদন, যা জান্নাতসমূহের কেন্দ্রবিন্দু; এর উপরেই জান্নাতসমূহ প্রতিষ্ঠিত। জাহান্নামের ভিত্তি হলো 'জাহান্নাম', যা সপ্তম নিম্নতম স্তর; এর উপরেই অন্যান্য স্তরসমূহ প্রতিষ্ঠিত। সৃষ্টির ভিত্তি হলেন আদম (আলাইহিস সালাম), নবীদের ভিত্তি হলেন নূহ (আলাইহিস সালাম), বনী ইসরাঈলের ভিত্তি হলেন ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম), আসমানি কিতাবসমূহের ভিত্তি হলো কুরআন, কুরআনের ভিত্তি হলো ফাতিহা এবং ফাতিহার ভিত্তি হলো 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম'। সুতরাং তুমি যখন অসুস্থ হবে বা ব্যথায় কষ্ট পাবে, তখন এই ভিত্তিকে আঁকড়ে ধরো, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ইচ্ছায় তুমি আরোগ্য লাভ করবে(৩)।

 

‌সূরার তাফসীর:

২ - আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি সালাতকে (সূরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি। যখন বান্দা বলে: ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ (পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি); তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দা আমার মহিমা বর্ণনা করেছে। যখন সে বলে: {আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন} (সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য); তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। যখন সে বলে: {আর-রাহমানির রাহিম} (যিনি পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু); তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দা আমার গুণগান করেছে। যখন সে বলে: {মালিকি ইয়াউমিদ্দিন} (যিনি বিচার দিবসের মালিক); তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দা তার বিষয়াদি আমার ওপর সোপর্দ করেছে। যখন সে বলে: {ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তায়িন} (আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি); তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: এটি আমার ও আমার বান্দার মাঝে। আর যখন সে বলে: {ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম} (আমাদের সরল পথ দেখান); তখন আল্লাহ বলেন: এটি আমার বান্দার জন্য, আর আমার বান্দা যা চেয়েছে তা সে পাবে(৪)।

--------------------------------------------

(১) মূল উৎসে এভাবেই আছে। অন্য সংস্করণে ‘গারীবান’ রয়েছে। আর তাফসীরে কুরতুবীতে ‘আরীবান’ এসেছে। আসমানসমূহের ভিত্তিকে কেন এই বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়; একইভাবে এটি নসব (যবর) অবস্থায় ‘আরীবান’ বা ‘গারীবান’ হওয়ার কারণও আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।

(২) মূল উৎসে এভাবেই আছে। যদি এর উদ্ধৃতি সঠিক হয়ে থাকে, তবে এটি নসব হওয়ার কারণ আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।

(৩) আস-সা'লাবী তাঁর সনদে এটি বর্ণনা করেছেন ১/৪৯৮। এটি ‘আদ-দুররুল মানসুর’-এ বর্ণিত হয়েছে কিন্তু সেখানে ইবনে আব্বাসের উল্লেখ ছাড়াই কেবল আশ-শা'বির উক্তি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং এর সূত্র হিসেবে কেবল আস-সা'লাবীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

(৪) আল-হায়রী ‘আল-কিফায়াহ ফিত তাফসীর’ গ্রন্থে তাঁর সনদে এটি বর্ণনা করেছেন ১/১৭। এই হাদীসটি বিশ্বকোষে (আল-মাওসুআহ) এসেছে...
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌{بِسْمِ اللَّهِ} [الفاتحة: 1]

3 - عن جعفر بن محمد عن أبيه عن جابر بن عبد الله أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "كيف تقول إذا قمت إلى الصلاة؟ " قال: أقول: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ}. قال: "قل: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ"(1).

 

4 - عن عبد الله بن مسعود عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: أول ما علمني جبريل عليه السلام بسم الله الرحمن الرحيم(2).

 

5 - عن ابن عباس - من طريق السُّدِّي عن الكلبي عن أبي صالح - في تفسير (الله) قال: لأن الخلق يألهون إليه في الحوائج(3).

 

6 - عن ابن عباس - من طريق الضحاك - أنه قال في قوله بسم الله الرحمن الرحيم: يُوَحِّد نفسه؛ لأنه المعبود بالحقيقة، ولا معبود سواه بالحقيقة من جميع البشر الجن والإنس(4).

 

7 - وهو معنى قول الضحاك(5).

--------------------------------------------

موضعين (56)، (78) من حديث ابن عباس رضي الله عنهما.

وحديثُ أبي هريرة رضي الله عنه الذي أخرجه الحيري؛ روى مسلم في صحيحه نحوه، دون قوله: "فإذا قال العبد: بسم الله الرحمن الرحيم؛ قال الله تعالى: مجدني عبدي"، وكذا ذكره السيوطي في الدر المنثور 1/ 25 - 26، وعزى ما ذكره إلى: مالك في الموطأ، وسفيان بن عيينة في تفسيره، وأبي عبيد في فضائله، وابن أبي شيبة، وأحمد في مسنده، والبخاري في جزء القراءة، ومسلم في صحيحه، وأبي داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجة، وابن جرير، وابن الأنباري في المصاحف، وابن حبان، والدارقطني، والبيهقي في السنن.

ومع شهرة حديث أبي هريرة، وذكر السيوطي له؛ لم ننتبه على أنه لم يرد ذكره أو الإشارة إليه في الموسوعة!

(1) أخرجه الدارقطني في سننه 1/ 308، والبيهقي في شعب الإيمان 2/ 363، والثعلبي 2/ 326. وقال محققه: إسناده موضوع.

(2) أخرجه الحيري في الكفاية في التفسير 1/ 13، وقال محققه: "لم أجده، وأخرج نحوه ابن أبي حاتم 1/ 13 موقوفًا على ابن عباس، ولفظه: "أول ما نزل جبريل على النبي قال له جبريل: "قل: بسم الله الرحمن الرحيم" … إلخ، وأورده السيوطي في الدر المنثور 1/ 23، وعزاه لابن جريج وابن أبي حاتم، وفي هذا الإسناد (يعني إسناد الحيري): هُذيل بن محمد وأحمد بن سليم، لم أجد لهما ترجمة".

(3) أخرجه الحيري في الكفاية في التفسير 1/ 10.

(4) أخرجه الحيري في الكفاية في التفسير 1/ 9 - 10.

(5) تفسير الثعلبي 2/ 292.
{আল্লাহর নামে} [আল-ফাতিহা: ১]

৩ - জাফর ইবন মুহাম্মদ হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তুমি যখন সালাতে দাড়াও তখন কী বলো?" তিনি বললেন: আমি বলি: {আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন}। তিনি বললেন: "তুমি বলো: বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম"(১).

 

৪ - আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জিবরাঈল আলাইহিস সালাম সর্বপ্রথম আমাকে যা শিখিয়েছেন তা হলো: বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম(২).

 

৫ - ইবন আব্বাস হতে—আস-সুদ্দি সূত্রে আল-কালবি হতে তিনি আবু সালিহ হতে—(আল্লাহ) শব্দের তাফসিরে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: কারণ সৃষ্টিজগত তাদের প্রয়োজনে তাঁর অভিমুখী হয়(৩).

 

৬ - ইবন আব্বাস হতে—দাহহাক সূত্রে—বর্ণিত যে, তিনি 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' বাণীটি সম্পর্কে বলেছেন: তিনি (আল্লাহ) নিজের একত্ব ঘোষণা করছেন; কেননা তিনিই প্রকৃতপক্ষে একমাত্র মাবুদ, এবং সমস্ত মানুষ ও জিনের মধ্যে তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোনো মাবুদ নেই(৪).

 

৭ - আর এটিই দাহহাকের উক্তির অর্থ(৫).

--------------------------------------------

ইবন আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিসের দুটি স্থান (৫৬), (৭৮)।

আর আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসটি যা আল-হাইরি বর্ণনা করেছেন; ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁর এই কথাটি ব্যতীত: "যখন বান্দা বলে: বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম; তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দা আমার মহিমা বর্ণনা করল"। অনুরুপভাবে সুয়ুতি 'আদ-দুররুল মানসুর' ১/২৫-২৬ এ এটি উল্লেখ করেছেন এবং যা উল্লেখ করেছেন তার সূত্র দিয়েছেন: মুয়াত্তায় মালিক, সুফিয়ান ইবন উয়ায়না তাঁর তাফসিরে, আবু উবায়দ তাঁর ফাযাইল গ্রন্থে, ইবন আবি শাইবা, মুসনাদে আহমদ, কিরাআত অধ্যায়ে বুখারি, সহিহ মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ি, ইবন মাজাহ, ইবন জারির, মাসাহিফ গ্রন্থে ইবনুল আনবারি, ইবন হিব্বান, দারা কুতনি এবং সুনানে বায়হাকির দিকে।

আবু হুরায়রার হাদিসটি প্রসিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এবং সুয়ুতি এটি উল্লেখ করা সত্ত্বেও, আমরা লক্ষ্য করিনি যে এটি বিশ্বকোষে (মাওসুআ) উল্লেখ করা হয়নি বা এর দিকে ইঙ্গিত করা হয়নি!

(১) দারা কুতনি তাঁর সুনানে ১/৩০৮, বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান' ২/৩৬৩ এবং সালাবি ২/৩২৬ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। এর মুহাক্কিক (সম্পাদক) বলেছেন: এর সনদ মাওজু (জাল)।

(২) আল-হাইরি 'আল-কিফায়া ফিত তাফসির' ১/১৩ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর মুহাক্কিক বলেছেন: "আমি এটি খুঁজে পাইনি। ইবন আবি হাতিম ১/১৩ গ্রন্থে ইবন আব্বাসের উক্তি হিসেবে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, যার শব্দ হলো: 'জিবরাঈল যখন সর্বপ্রথম নবীর ওপর অবতীর্ণ হলেন তখন তিনি তাঁকে বললেন: বলুন: বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' ... ইত্যাদি। সুয়ুতি 'আদ-দুররুল মানসুর' ১/২৩ এ এটি উল্লেখ করেছেন এবং একে ইবন জুরাইজ ও ইবন আবি হাতিমের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। আর এই সনদে (অর্থাৎ হাইরির সনদে): হুযাইল ইবন মুহাম্মদ ও আহমদ ইবন সুলাইম রয়েছেন, যাদের কোনো জীবনীমূলক তথ্য আমি খুঁজে পাইনি"।

(৩) আল-হাইরি 'আল-কিফায়া ফিত তাফসির' ১/১০ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৪) আল-হাইরি 'আল-কিফায়া ফিত তাফসির' ১/৯-১০ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৫) তাফসিরে সালাবি ২/২৯২।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌{الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة: 1]

8 - عن مجاهد - من طريق منصور - قال: الرحمن بأهل الدنيا، والرحيم بأهل الآخرة(1).

 

9 - قال الضحاك: الرحمن بأهل السماء حين أسكنهم السماوات، وطوقهم الطاعات، وجنبهم الآفات، وقطع عنهم المطاعم واللذات. والرحيم بأهل الأرض حين أرسل إليهم الرسل وأنزل عليهم الكتب، وأعذر إليهم في النصيحة وصرف عنهم البلايا(2).

 

10 - وقال عكرمة: الرحمن برحمة واحدة، والرحيم بمائة رحمة(3) *.

 

11 - قال مطر الوراق: الرحمن بغفران السيئات، وإن كن عظيمات، والرحيم بقبول الطاعات، وإن كن غير صافيات(4).

 

12 - عن جعفر بن محمد الصادق: الرحمن اسم خاص بصفة عامة، والرحيم اسم عام بصفة خاصة(5).

 

13 - عن جعفر بن محمد: أنه سئل عن بسم الله الرحمن الرحيم قال: الباء: بهاء الله، والسين سناؤه، والميم مجده، والله إله كل شيء، الرحمن بجميع خلقه، والرحيم خاصة بالمؤمنين(6).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الحيري في الكفاية في التفسير 1/ 11.

(2) تفسير الثعلبي 2/ 304.

(3) تفسير الثعلبي 2/ 304.

* وجه الثعلبي هذا القول بقوله (1/ 304): وهذا المعنى قد اقتبسه من قول النبي صلى الله عليه وسلم الذي حدثناه أبو القاسم الحسن بن محمد النيسابوري، حدثنا أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن يزيد النسفي بمرو، حدثنا أبو هريرة وأحمد بن محمد بن شاردة الكشي، حدثنا جارود ابن معاذ، أخبرنا عمير بن مروان عن عبد الملك أبي سليمان عن عطاء عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن لله تعالى مائة رحمة أنزل منها واحدة إلى الأرض فقسمها بين خلقه، فبها يتعاطفون، وبها يتراحمون، وأخر تسعة وتسعين لنفسه يرحم بها عباده يوم القيامة".

(4) تفسير الثعلبي 2/ 311. في طبعة دار إحياء التراث العربي عن مطهر بن الوراق.

(5) تفسير الثعلبي 2/ 301.

(6) أخرجه الحيري في الكفاية في التفسير 1/ 11.
‌‌{পরম করুণাময়, অতি দয়ালু} [ফাতিহা: ১]

৮ - মুজাহিদ থেকে বর্ণিত - মানসুরের সূত্রে - তিনি বলেছেন: আর-রহমান হলো দুনিয়াবাসীর প্রতি, এবং আর-রাহিম হলো আখিরাতবাসীর প্রতি।

 

৯ - যহহাক বলেছেন: আর-রহমান আকাশবাসীর প্রতি যখন তিনি তাদের আসমানসমূহে বসবাস করতে দিয়েছেন, তাদের আনুগত্যের রজ্জুতে আবদ্ধ করেছেন, তাদের আপদ-বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন এবং তাদের থেকে আহার ও আনন্দ-ভোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। আর আর-রাহিম পৃথিবীবাসীর প্রতি যখন তিনি তাদের নিকট রাসূলদের প্রেরণ করেছেন এবং তাদের উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, উপদেশের মাধ্যমে তাদের অজুহাত পেশের সুযোগ দিয়েছেন এবং তাদের থেকে বালা-মুসিবত দূর করেছেন।

 

১০ - ইকরিমা বলেছেন: আর-রহমান একটি রহমতের সাথে সম্পর্কিত, এবং আর-রাহিম একশত রহমতের সাথে সম্পর্কিত।

 

১১ - মটর আল-ওয়াররাক বলেছেন: আর-রহমান হলো পাপসমূহ ক্ষমা করার মাধ্যমে, যদিও সেগুলো অনেক বড় হয়; আর আর-রাহিম হলো আনুগত্যসমূহ কবুল করার মাধ্যমে, যদিও সেগুলো নিষ্কলুষ না হয়।

 

১২ - জাফর বিন মুহাম্মদ আস-সাদিক থেকে বর্ণিত: আর-রহমান হলো একটি সাধারণ গুণ সম্পন্ন বিশেষ নাম, আর আর-রাহিম হলো একটি বিশেষ গুণ সম্পন্ন সাধারণ নাম।

 

১৩ - জাফর বিন মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত: তাকে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: ‘বা’ (ب) হলো আল্লাহর সৌন্দর্য (বাহাউল্লাহ), ‘সিন’ (س) হলো তাঁর জ্যোতি (সানাউহু), এবং ‘মিম’ (م) হলো তাঁর মহিমা (মাজদুহু)। আল্লাহ হলেন প্রত্যেক জিনিসের ইলাহ, আর-রহমান তাঁর সমস্ত সৃষ্টির প্রতি, এবং আর-রাহিম বিশেষভাবে মুমিনদের জন্য।

--------------------------------------------

(১) আল-হিরি এটি ‘আল-কিফায়া ফিত-তাফসির’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১।

(২) তাফসীরুত ছালাবী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০৪।

(৩) তাফসীরুত ছালাবী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০৪।

* ছালাবী এই কথাটিকে তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন যে (১/৩০৪): এই অর্থটি তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই বাণী থেকে গ্রহণ করেছেন যা আবু কাসিম হাসান বিন মুহাম্মদ আন-নাইসাবুরি আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের শুনিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আন-নাসাফি মার্ভে, তিনি বলেন আমাদের শুনিয়েছেন আবু হুরায়রা ও আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন শারদাহ আল-কাশশি, তিনি বলেন আমাদের শুনিয়েছেন জারুদ ইবনে মুয়ায, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমায়ের বিন মারওয়ান থেকে, তিনি আব্দুল মালিক আবু সুলাইমান থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর একশতটি রহমত রয়েছে, যার মধ্য থেকে তিনি একটি রহমত পৃথিবীতে অবতীর্ণ করেছেন এবং তা তাঁর সৃষ্টির মাঝে বণ্টন করেছেন; যার ফলে তারা একে অপরের প্রতি দয়া ও মমতা প্রদর্শন করে। আর বাকি নিরানব্বইটি তিনি নিজের জন্য রেখে দিয়েছেন, যা দিয়ে কিয়ামতের দিন তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া করবেন।"

(৪) তাফসীরুত ছালাবী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩১১। দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি সংস্করণে মুতাহার বিন ওয়াররাক থেকে বর্ণিত হয়েছে।

(৫) তাফসীরুত ছালাবী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০১।

(৬) আল-হিরি এটি ‘আল-কিফায়া ফিত-তাফসির’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٢٤)
14 - قال ابن المبارك: الرحمن: الذي إذا سئل أعطى، والرحيم إذا لم يسأل غضب(1).

آثار متعلقة بالآية:

 

15 - عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا أم الناس جهر ببسم الله الرحمن الرحيم(2).

 

‌‌{رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الفاتحة: 2]

16 - قال أبو سعيد الخدري: إن لله أربعين ألف عالم، الدنيا من شرقها إلى غربها عالم واحد(3).

 

17 - قال سعيد بن المسيب: لله ألف عالم؛ منها ستمائة في البحر، وأربعمائة في البر(4).

 

18 - قال الضحاك: فمنهم ثلاثمائة وستون عالما حفاة عراة لا يعرفون من خالقهم، وستون عالما يلبسون الثياب(5).

 

19 - وقال وهب [بن منبه]: لله تعالى ثمانية عشر ألف عالم، الدنيا عالم منها، وما العمارة في الخراب إلا كفسطاط في الصحراء(6).

 

20 - قال جعفر بن محمد الصادق: العالمون: أهل الجنة، وأهل النار(7).

--------------------------------------------

(1) تفسير الثعلبي 2/ 306. وأيده الثعلبي بحديث مرفوع.

(2) أخرجه الحيري في الكفاية في التفسير 1/ 16، وأخرجه الدارقطني 1/ 303، وابن عدي في الكامل 5/ 301، والبيهقي 2/ 47، قال ابن حجر: "وهذا قد أخرجه الدارقطني وابن عدي من هذا الوجه فقالا: "قرأ" بدل "جَهَرَ"، وهو المحفوظ عن أبي أويس، على أن أبا أويس ليس بحجة إذا انفرد فكيف إذا خالف؟! ". ينظر: الدراية في تخريج أحاديث الهداية 1/ 133.

(3) تفسير الثعلبي 2/ 395.

(4) تفسير الثعلبي 2/ 395.

(5) تفسير الثعلبي 2/ 394.

(6) تفسير الثعلبي 2/ 395. والشطر الأول أخرجه أبو الشيخ في العظمة، وأبو نعيم في الحلية، وهو مذكور في الموسوعة، ورقمه فيها 99.

(7) تفسير الثعلبي 2/ 393.
১৪ - ইবনুল মুবারক বলেন: আর-রাহমান হলেন তিনি, যাঁর কাছে প্রার্থনা করলে তিনি দান করেন; আর আর-রাহীম হলেন তিনি, যাঁর কাছে প্রার্থনা না করলে তিনি রাগান্বিত হন(১)।

আয়াত সংশ্লিষ্ট বর্ণনা:

 

১৫ - আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মানুষের ইমামতি করতেন, তখন উচ্চস্বরে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' পাঠ করতেন(২)।

 

‌‌{সকল জগতের প্রতিপালক} [আল-ফাতিহা: ২]

১৬ - আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর চল্লিশ হাজার জগত রয়েছে, যার মধ্যে দুনিয়া পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত একটি জগত মাত্র(৩)।

 

১৭ - সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেন: আল্লাহর এক হাজার জগত রয়েছে; তার মধ্যে ছয়শ সমুদ্রে এবং চারশ স্থলে(৪)।

 

১৮ - দাহহাক বলেন: তাদের মধ্যে তিনশ ষাটটি জগত এমন যারা খালি পায়ে ও নগ্ন অবস্থায় থাকে, তারা তাদের স্রষ্টাকে চেনে না; আর ষাটটি জগত পোশাক পরিধান করে(৫)।

 

১৯ - ওয়াহাব [ইবনে মুনাব্বিহ] বলেন: আল্লাহ তাআলার আঠারো হাজার জগত রয়েছে, দুনিয়া তার মধ্যে একটি জগত; আর বিরান ভূমির তুলনায় জনপদ মরুভূমিতে একটি তাঁবুর ন্যায়(৬)।

 

২০ - জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক বলেন: 'আল-আলামীন' (জগতসমূহ) অর্থ হলো: জান্নাতবাসী এবং জাহান্নামবাসী(৭)।

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে ছালাবী ২/ ৩০৬। ছালাবী একে একটি মারফু হাদীস দ্বারা সমর্থন করেছেন।

(২) হাইরী এটি 'আল-কিফায়া ফিত-তাফসীর' ১/ ১৬-তে বর্ণনা করেছেন; দারা কুতনী ১/ ৩০৩-এ, ইবনে আদী 'আল-কামিল' ৫/ ৩০১-এ এবং বায়হাকী ২/ ৪৭-এ এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজার বলেন: "দারা কুতনী ও ইবনে আদী এই সূত্রে বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন, তাঁরা বলেছেন: 'পাঠ করতেন' এর বদলে 'উচ্চস্বরে পাঠ করতেন' যা আবু উওয়াইস হতে সংরক্ষিত। তবে আবু উওয়াইস একক হলে তিনি দলিল হিসেবে গণ্য হন না, তাহলে তিনি যখন বিরোধপূর্ণ বর্ণনা দেন তখন কেমন হবে?!"। দেখুন: আদ-দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়া ১/ ১৩৩।

(৩) তাফসীরে ছালাবী ২/ ৩৯৫।

(৪) তাফসীরে ছালাবী ২/ ৩৯৫।

(৫) তাফসীরে ছালাবী ২/ ৩৯৪।

(৬) তাফসীরে ছালাবী ২/ ৩৯৫। প্রথম অংশটি আবুশ শেখ 'আল-আজমাত' গ্রন্থে এবং আবু নুআইম 'আল-হিলইয়া' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; এটি 'আল-মাওসুআহ' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এতে এর নম্বর ৯৯।

(৭) তাফসীরে ছালাবী ২/ ৩৯৩।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٢٥)
21 - قال مقاتل بن سليمان: لو فسرت العالمين، لاحتجت إلى ألف جلد كل جلد ألف ورقة(1).

 

22 - قال أبو عمرو بن العلاء: هم الروحانيون(2).

 

23 - قال عبد الرحمن بن زيد ابن أسلم: هم المرتزقون(3).

 

24 - قال سفيان بن عيينة: هو جمع للأشياء المختلفة(4).

 

25 - قال النضر بن شميل: هو اسم الجمع الكبير(5).

 

‌‌{مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} [الفاتحة: 4]

26 - الضحاك: الدين: الجزاء(6).

 

‌‌{اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ} [الفاتحة: 6]

27 - عن [عبد الله] بن بريدة - من طريق مسلم بن حيان - في قول الله تعالى: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ} قال: صراط محمد وآله(7).

 

28 - قال أبو سليمان الداراني: يعني طريق العبودية(8).

--------------------------------------------

(1) تفسير الثعلبي 2/ 395.

(2) تفسير الثعلبي 2/ 392. وعلق عليه الثعلبي بقوله: وهو معنى قول ابن عباس: كل ذي روح دب على وجه الأرض.

(3) تفسير الثعلبي 2/ 392.

(4) تفسير الثعلبي 2/ 393.

(5) تفسير الثعلبي 2/ 392. تصحفت في نسخة دار إحياء التراث العربي (1/ 111) إلى: الخضر بن إسماعيل: هو اسم الجمع الكثير.

(6) تفسير الثعلبي 2/ 420. وقال عقبه: يعني: يوم يدين الله العباد بأعمالهم. دليله قوله: {أَإِنَّا لَمَدِينُونَ} [الصافات: 5]، أي: مجزيون.

(7) أخرجه الثعلبي 2/ 448.

(8) تفسير الثعلبي 2/ 448.
21 - মুকাতিল বিন সুলাইমান বলেন: আমি যদি 'আলামীন' (জগতসমূহ) শব্দের ব্যাখ্যা করতাম, তবে আমার এক হাজার চামড়ার মলাটের প্রয়োজন হতো, যার প্রতিটি চামড়ার ভেতরে থাকত এক হাজার পৃষ্ঠা(1).

 

22 - আবু আমর বিন আলা বলেন: তারা হলো আধ্যাত্মিক সত্তাসমূহ(2).

 

23 - আব্দুর রহমান বিন যায়েদ ইবনে আসলাম বলেন: তারা হলো সেই সব সৃষ্টি যারা রিজিকপ্রাপ্ত হয়(3).

 

24 - সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ বলেন: এটি বিভিন্ন বস্তুর সমষ্টি(4).

 

25 - নাদর বিন শুমাইল বলেন: এটি একটি বৃহৎ সমষ্টির নাম(5).

 

‌‌{প্রতিফল দিবসের মালিক} [আল-ফাতিহা: ৪]

26 - দাহহাক: দ্বীন মানে হলো: প্রতিফল(6).

 

‌‌{আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন} [আল-ফাতিহা: ৬]

27 - [আবদুল্লাহ] বিন বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত - মুসলিম বিন হাইয়ানের সূত্রে - মহান আল্লাহর বাণী: {আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন} সম্পর্কে তিনি বলেন: মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের পথ(7).

 

28 - আবু সুলাইমান আদ-দারানি বলেন: অর্থাৎ দাসত্বের পথ(8).

--------------------------------------------

(1) তাফসিরে সালাবি ২/ ৩৯৫।

(2) তাফসিরে সালাবি ২/ ৩৯২। সালাবি এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: এটিই ইবনে আব্বাসের উক্তির অর্থ: প্রতিটি আত্মা যা ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করে।

(3) তাফসিরে সালাবি ২/ ৩৯২।

(4) তাফসিরে সালাবি ২/ ৩৯৩।

(5) তাফসিরে সালাবি ২/ ৩৯২। দার ইহয়াউত তুরাস আল-আরাবি সংস্করণে (১/ ১১১) এটি ভুলবশত ‘খিজর বিন ইসমাইল: এটি একটি বৃহৎ সমষ্টির নাম’ হিসেবে মুদ্রিত হয়েছে।

(6) তাফসিরে সালাবি ২/ ৪২০। এবং তিনি এর পরে বলেছেন: অর্থাৎ, যেদিন আল্লাহ বান্দাদেরকে তাদের কর্মের প্রতিফল দেবেন। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {আমাদেরকে কি অবশ্যই প্রতিফল দেওয়া হবে?} [আস-সাফফাত: ৫৩], অর্থাৎ: শাস্তি বা পুরস্কার দেওয়া হবে।

(7) সালাবি এটি বর্ণনা করেছেন ২/ ৪৪৮।

(8) তাফসিরে সালাবি ২/ ৪৪৮।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌{صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ} [الفاتحة: 7]

29 - قال مالك بن أنس: {أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ} بمتابعة النبي صلى الله عليه وسلم(1).

 

‌‌{الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 7]

30 - قال الواقدي: {الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ} بالمخالفة والعصيان، {وَلَا الضَّالِّينَ} عن الدين والإيمان(2).

* * *

--------------------------------------------

(1) تفسير الثعلبي 2/ 457.

(2) تفسير الثعلبي 2/ 470.
{তাদের পথ, যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন} [আল-ফাতিহা: ৭]

২৯ - মালিক ইবনে আনাস বলেন: {যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন} অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের মাধ্যমে(১).

 

{যাদের ওপর ক্রোধ বর্ষিত হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট নয়} [আল-ফাতিহা: ৭]

৩০ - আল-ওয়াকিদি বলেন: {যাদের ওপর ক্রোধ বর্ষিত হয়েছে} বিরোধিতা ও অবাধ্যতার কারণে, {এবং যারা পথভ্রষ্ট নয়} দ্বীন ও ঈমান থেকে(২).

* * *

--------------------------------------------

(১) তাফসীর আস-সালাবী ২/ ৪৫৭।

(২) তাফসীর আস-সালাবী ২/ ৪৭০।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌سورة البقرة

‌‌{الم} [البقرة: 1]

31 - عن ابن عباس أنه ثناء أثنى الله به على نفسه(1).

 

32 - عن ابن عباس: (الألف) آلاء الله، و (اللام) جبريل، والميم محمد، أقسم الله تعالى بهم إن هذا الكتاب لا ريب فيه(2).

 

‌‌{ذَلِكَ الْكِتَابُ} [البقرة: 2]

33 - قال مجاهد =

 

34 - والضحاك =

 

35 - وقتادة: {ذَلِكَ الْكِتَابُ} هو القرآن(3).

 

‌‌{الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ} [البقرة: 3]

36 - عن الضحاك: الغيب: لا إله إلا الله وما جاء به محمد صلى الله عليه وسلم(4).

 

37 - عن عاصم بن أبي النجود - من طريق سفيان - في قوله: {يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ} قال: الغيب: القرآن(5).

 

38 - عن ابن واقد: يعني بالوحي(6).

--------------------------------------------

(1) تفسير الثعلبي 3/ 21.

(2) تفسير الثعلبي 3/ 36.

(3) تفسير الثعلبي 3/ 40.

(4) تفسير الثعلبي 3/ 77.

(5) تفسير الثعلبي 3/ 77.

(6) تفسير الثعلبي 3/ 78. وعقب عليه بقوله: نظيره قوله تعالى: {أَعِنْدَهُ عِلْمُ الْغَيْبِ فَهُوَ يَرَى} [النجم: 35]،
সূরা আল-বাকারাহ

‌{আলিফ-লাম-মীম} [আল-বাকারাহ: ১]

৩১ - ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, এটি একটি প্রশংসা যা দ্বারা আল্লাহ নিজের প্রশংসা করেছেন।

 

৩২ - ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: (আলিফ) আল্লাহর নিয়ামতসমূহ, (লাম) জিবরাঈল এবং (মীম) মুহাম্মদ; আল্লাহ তাআলা এগুলোর কসম খেয়েছেন যে, এই কিতাবে কোনো সন্দেহ নেই।

 

‌{সেই কিতাব} [আল-বাকারাহ: ২]

৩৩ - মুজাহিদ বলেছেন =

 

৩৪ - এবং দাহহাক =

 

৩৫ - এবং কাতাদাহ: {সেই কিতাব} হলো কুরআন।

 

‌{যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে} [আল-বাকারাহ: ৩]

৩৬ - দাহহাক থেকে বর্ণিত: অদৃশ্য (গায়েব) হলো: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন।

 

৩৭ - সুফিয়ানের সূত্রে আসেম ইবনে আবি আন-নুজুদ থেকে আল্লাহর বাণী: {যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে} প্রসঙ্গে বর্ণিত, তিনি বলেন: অদৃশ্য হলো কুরআন।

 

৩৮ - ইবনে ওয়াকিদ থেকে বর্ণিত: অর্থাৎ ওহী।

--------------------------------------------

(১) তাফসিরে ছালাবি ৩/ ২১।

(২) তাফসিরে ছালাবি ৩/ ৩৬।

(৩) তাফসিরে ছালাবি ৩/ ৪০।

(৪) তাফসিরে ছালাবি ৩/ ৭৭।

(৫) তাফসিরে ছালাবি ৩/ ৭৭।

(৬) তাফসিরে ছালাবি ৩/ ৭৮। এবং তিনি এর পর বলেছেন: এর সদৃশ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তার কাছে কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে সে দেখতে পায়?} [আন-নাজম: ৩৫],
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌{وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} [البقرة: 25]

39 - قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه: أقاموا الصلوات المفروضات(1).

 

‌‌{وَأَوْفُوا بِعَهْدِي أُوفِ بِعَهْدِكُمْ} [البقرة: 40]

40 - عن أبي العالية - من طريق الربيع بن أنس - في قوله: {وَأَوْفُوا بِعَهْدِي أُوفِ بِعَهْدِكُمْ} قال: عهده إلى عباده: دين الإسلام أن يتبعوه. و {أُوفِ بِعَهْدِكُمْ} يعني: الجنة(2).

 

‌‌{وَلَا تَكُونُوا أَوَّلَ كَافِرٍ بِهِ} [البقرة: 41].

41 - عن ابن عباس - في تفسير الكلبي -: نزلت في قُريظة، وكانوا أوَّل من كفر من اليهود بمحمد، وتبعهم يهود فَدَك وخيبر(3).

 

‌‌{وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ} [البقرة: 45]

42 - قال أبو روق: يعني العابدين المطيعين(4).

 

‌‌{فَتُوبُوا إِلَى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ} [البقرة: 54]

43 - قال ابن عباس: أبى الله أن يقبل توبة بني إسرائيل إلا بالحال التي كرهوا، أن يقاتلوهم حين عبدوا العجل(5).

--------------------------------------------

وقوله: {فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا} [الجن: 26]، وقوله: {وَمَا هُوَ عَلَى الْغَيْبِ بِضَنِينٍ} [التكوير: 24].

(1) تفسير الثعلبي 3/ 167. وعقب عليه بقوله: دليله قوله تعالى: {وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ الْمُصْلِحِينَ} [الأعراف: 170]. وقد سقط اسم المفسر من طبعة دار إحياء التراث العربي.

(2) أخرجه ابن جرير 1/ 597.

(3) العجاب في بيان الأسباب 1/ 251.

(4) تفسير الثعلبي 3/ 277. ووقع في طبعة دار إحياء التراث العربي: الوراق: العابدين المطيعين.

(5) تفسير الثعلبي 3/ 310. ووقع في طبعة دار إحياء التراث العربي: عن ابن جرير! وهو في الموسوعة (1796) عن إسماعيل السُّدِّي.
‌‌{আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদেরকে সুসংবাদ দিন} [আল-বাকারাহ: ২৫]

৩৯ - আলী ইবনে আবি তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: তারা ফরজ নামাজসমূহ কায়েম করেছে।

 

‌‌{আর তোমরা আমার সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করো, আমিও তোমাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করব} [আল-বাকারাহ: ৪০]

৪০ - আবুল আলিয়া থেকে -রাবি বিন আনাসের সূত্রে- মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা আমার সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করো, আমিও তোমাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করব} সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: বান্দাদের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার হলো: ইসলাম ধর্ম, যাতে তারা এর অনুসরণ করে। আর {আমিও তোমাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করব} এর অর্থ হলো: জান্নাত।

 

‌‌{আর তোমরা এর প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না} [আল-বাকারাহ: ৪১]।

৪১ - ইবনে আব্বাস থেকে -কালবীর তাফসীরে- বর্ণিত: এটি কুরাইজা গোত্রের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে, ইয়াহুদিদের মধ্যে তারাই সর্বপ্রথম মুহাম্মদ (সা.)-কে অস্বীকার করেছিল এবং ফাদাক ও খায়বরের ইয়াহুদিরা তাদের অনুসরণ করেছিল।

 

‌‌{আর নিশ্চয়ই এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ, তবে বিনয়ীদের জন্য নয়} [আল-বাকারাহ: ৪৫]

৪২ - আবু রূক বলেন: অর্থাৎ ইবাদতকারী অনুগত বান্দাগণ।

 

‌‌{অতএব তোমরা তোমাদের স্রষ্টার দিকে তাওবা করো এবং নিজেদের নফসকে হত্যা করো} [আল-বাকারাহ: ৫৪]

৪৩ - ইবনে আব্বাস বলেন: আল্লাহ বনী ইসরাঈলের তাওবা কবুল করতে সেই পরিস্থিতি ছাড়া অস্বীকার করেছিলেন যা তারা অপছন্দ করেছিল; আর তা হলো—যখন তারা বাছুরের পূজা করেছিল তখন তাদের একে অপরকে হত্যা করা।

--------------------------------------------

এবং তাঁর বাণী: {তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না} [আল-জিন: ২৬], এবং তাঁর বাণী: {তিনি অদৃশ্যের বিষয়ে কৃপণ নন} [আত-তাকউইর: ২৪]।

(১) তাফসীরে সা’লাবী ৩/ ১৬৭। তিনি এর উপর মন্তব্য করেছেন এই বলে: এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা নামাজ কায়েম করেছে; নিশ্চয়ই আমি সংশোধনকারীদের প্রতিদান নষ্ট করি না} [আল-আ’রাফ: ১৭০]। দার ইহয়াইত তুরাস আল-আরাবী সংস্করণে মুফাসসিরের নাম বাদ পড়েছে।

(২) ইবনে জারীর বর্ণনা করেছেন ১/ ৫৯৭।

(৩) আল-উজাব ফী বয়ানিল আসবাব ১/ ২৫১।

(৪) তাফসীরে সা’লাবী ৩/ ২৭৭। দার ইহয়াইত তুরাস আল-আরাবী সংস্করণে এসেছে: আল-ওয়াররাক: ইবাদতকারী অনুগত বান্দাগণ।

(৫) তাফসীরে সা’লাবী ৩/ ৩১০। দার ইহয়াইত তুরাস আল-আরাবী সংস্করণে এসেছে: ইবনে জারীর থেকে! অথচ এটি আল-মাওসুআহ (১৭৯৬)-তে ইসমাইল আস-সুদ্দী থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌{وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ الْبَحْرَ} [البقرة: 50]

44 - عن قيس بن عُباد في قوله تعالى: {وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ الْبَحْرَ} قال: هو القُلزم، وكنيته أبو خالد(1).

 

‌‌{وَفُومِهَا} [البقرة: 61]

45 - قال [محمد بن السائب] الكلبي: هو الثوم(2).

 

‌‌{قِرَدَةً خَاسِئِينَ} [البقرة: 65]

46 - قال أبو روق: يعني خُرسًا لا يتكلمون(3).

 

‌‌{وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَذْبَحُوا بَقَرَةً} [البقرة: 67] الآيات إلى {وَإِذْ قَتَلْتُمْ نَفْسًا فَادَّارَأْتُمْ فِيهَا} [البقرة: 72]

47 - قال عكرمة: كان لبني إسرائيل مسجد له اثنا عشر بابًا، لكل سبط منهم باب، فوُجد قتيل على باب سبط، قُتل وجُرَّ إلى باب سبط آخر، فاختصم السبطان فيه(4).

 

48 - قال [محمد بن السائب] الكلبي: قتله ابن أخيه لينكح ابنته، فلما قتله حمله من قريته إلى قرية أخرى فألقاه هناك(5).

--------------------------------------------

(1) عزاه السيوطي إلى تفسير ابن أبي حاتم كما في مفحمات الأقران في مبهمات القرآن (ص 12)، وذكر عن ابن عساكر قوله: كأنه كُني بذلك لطول بقائه.

(2) تفسير الثعلبي 3/ 238.

(3) تفسير الثعلبي 3/ 367. قال الثعلبي عقبه: "دليله قوله عز وجل: {قَالَ اخْسَئُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِ} [المؤمنون: 108] ".

(4) تفسير الثعلبي 3/ 370.

(5) تفسير الثعلبي 3/ 370.
‌‌{আর যখন আমি তোমাদের জন্য সমুদ্রকে বিভক্ত করেছিলাম} [আল-বাকারা: ৫০]

৪৪ - কায়স ইবনে উবাদ থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন আমি তোমাদের জন্য সমুদ্রকে বিভক্ত করেছিলাম} প্রসঙ্গে বর্ণিত, তিনি বলেন: এটি হলো কুলযুম (লোহিত সাগর), আর এর উপনাম হলো আবু খালিদ(১)।

 

‌‌{এবং তার রসুন} [আল-বাকারা: ৬১]

৪৫ - [মুহাম্মদ ইবনে আস-সাইব] আল-কালবি বলেছেন: এটি হলো রসুন(২)।

 

‌‌{ঘৃণিত বানর} [আল-বাকারা: ৬৫]

৪৬ - আবু রওক বলেন: এর অর্থ হলো তারা বোবা হয়ে গিয়েছিল, তারা কথা বলতে পারত না(৩)।

 

‌‌{আর যখন মুসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, আল্লাহ তোমাদের একটি গাভী যবেহ করার নির্দেশ দিচ্ছেন} [আল-বাকারা: ৬৭] আয়াতসমূহ থেকে {আর যখন তোমরা একজনকে হত্যা করেছিলে, অতঃপর সে বিষয়ে একে অপরকে অভিযুক্ত করছিলে} [আল-বাকারা: ৭২] পর্যন্ত।

৪৭ - ইকরিমা বলেন: বনী ইসরাঈলদের একটি মসজিদ ছিল যার বারোটি দরজা ছিল। তাদের প্রতিটি গোত্রের জন্য একটি করে দরজা ছিল। তখন এক গোত্রের দরজায় এক নিহত ব্যক্তিকে পাওয়া গেল; তাকে হত্যা করে অন্য এক গোত্রের দরজায় টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ফলে এ নিয়ে দুই গোত্র বিবাদে জড়িয়ে পড়ল(৪)।

 

৪৮ - [মুহাম্মদ ইবনে আস-সাইব] আল-কালবি বলেছেন: তার ভাতিজা তাকে হত্যা করেছিল তার (চাচার) মেয়েকে বিয়ে করার জন্য। যখন সে তাকে হত্যা করল, তখন সে তাকে তার গ্রাম থেকে অন্য এক গ্রামে বহন করে নিয়ে গেল এবং সেখানে ফেলে রাখল(৫)।

--------------------------------------------

(১) সুয়ূতী একে ইবনে আবি হাতিমের তাফসীরের দিকে নিসবত করেছেন যেমনটি 'মুফহামাতুল আকরান ফি মুবহামাতিল কুরআন' (পৃ. ১২) গ্রন্থে রয়েছে। তিনি ইবনে আসাকির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: মনে হয় দীর্ঘকাল বেঁচে থাকার কারণে তার এই উপনাম দেওয়া হয়েছিল।

(২) তাফসীরুস সা'লাবী ৩/২৩৮।

(৩) তাফসীরুস সা'লাবী ৩/৩৬৭। সা'লাবী এর পরপরই বলেছেন: "এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি বলবেন, তোমরা হীন অবস্থায় এখানেই পড়ে থাক এবং আমার সাথে কথা বলো না} [আল-মুমিনুন: ১০৮]"।

(৪) তাফসীরুস সা'লাবী ৩/৩৭০।

(৫) তাফসীরুস সা'লাবী ৩/৩৭০।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌{قَالُوا ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّنْ لَنَا مَا هِيَ إِنَّ الْبَقَرَ تَشَابَهَ عَلَيْنَا وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَمُهْتَدُونَ} [البقرة: 70]

49 - روي عن سفيان بن عيينة، عن عمرو بن دينار، عن عكرمة، عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "لو أن بني إسرائيل أخذوا أدنى بقرة لأجزأت عنهم، ولولا أنهم قالوا: وإنا إن شاء الله لمهتدون، ما وجدوها"(1).

 

‌‌{ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ} [البقرة: 74]

50 - قال [محمد بن السائب] الكلبي: قالوا بعد ذلك لم نقتله نحن، وأنكروا، فلم يكونوا قط أعمى قلبًا، ولا أشد تكذيبًا منهم لنبيهم عند ذلك(2).

 

‌‌{وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ} [البقرة: 87]

51 - قال الربيع وغيره: هو الروح الذي نفخ فيه(3).

 

‌‌{وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ} [البقرة: 98]

52 - عن معاوية يرفعه قال: "إنما جبريل وميكائيل كقولك: عبد الله وعبد الرحمن"(4).

 

‌‌{وَلَا تُسْأَلُ عَنْ أَصْحَابِ الْجَحِيمِ} [البقرة: 119]

نزول الآية:

 

53 - قال عطاء عن ابن عباس رضي الله عنهما: وذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم قال ذات يوم: "ليت شعري

--------------------------------------------

(1) تفسير السمرقندي = بحر العلوم 1/ 63، ولم نجده مرفوعًا من رواية ابن عباس عند غيره. وهو في الموسوعة من حديث أبي هريرة مرفوعًا (2358، 2359)، وعن عكرمة مرسلا (2360) فلينظر تخريجه هناك.

(2) تفسير الثعلبي 3/ 395. وكأن آخره من كلام الثعلبي.

(3) تفسير الثعلبي 3/ 436. ووقع في طبعة دار إحياء التراث العربي 1/ 232: قال الربيع وعكرمة، وأثبتت هكذا في الموسوعة!

(4) أخرجه الثعلبي 3/ 364 بسنده عن معاوية رضي الله عنه، وهو السند الذي روى به كتاب القراءات لأبي عبيد، وهو كتاب مفقود. كما ذكر المحقق. ووقع في طبعة دار إحياء التراث العربي: عن رجاء عن معاوية برفعه [كذا]. مع سقط أول السند.
‌{তারা বলল, "আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে প্রার্থনা করুন, তিনি যেন আমাদের নিকট স্পষ্ট করে দেন সেটি কী; নিশ্চয় গরু নিয়ে আমাদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। আর আল্লাহ চাইলে অবশ্যই আমরা পথনির্দেশ পাবো।"} [আল-বাকারাহ: ৭০]

৪৯ - সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে বর্ণিত, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যদি বনী ইসরাঈল একটি সাধারণ মানের গরু গ্রহণ করত, তবে তা-ই তাদের জন্য যথেষ্ট হতো; আর তারা যদি 'ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চান) অবশ্যই আমরা পথনির্দেশ পাবো' না বলত, তবে তারা কখনোই তা খুঁজে পেত না"(১)।

 

‌‌{এরপর তোমাদের অন্তরসমূহ কঠোর হয়ে গেল} [আল-বাকারাহ: ৭৪]

৫০ - [মুহাম্মদ ইবনে আস-সাইব] আল-কালবী বলেছেন: তারা এরপর বলেছিল যে, আমরা তাকে হত্যা করিনি এবং তারা তা অস্বীকার করেছিল। সেই সময়ে তাদের চেয়ে অধিক অন্ধ অন্তরের এবং তাদের নবীর প্রতি তাদের চেয়ে কঠোর মিথ্যারোপকারী আর কেউ ছিল না(২)।

 

‌‌{এবং আমি তাকে রুহুল কুদুস (পবিত্র আত্মা) দ্বারা শক্তিশালী করেছি} [আল-বাকারাহ: ৮৭]

৫১ - আর-রাবী এবং অন্যান্যরা বলেছেন: এটি হলো সেই রূহ যা তার মধ্যে ফুঁকে দেওয়া হয়েছিল(৩)।

 

‌‌{এবং জিবরাঈল ও মিকাইল} [আল-বাকারাহ: ৯৮]

৫২ - মুয়াবিয়া থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নিশ্চয় জিবরাঈল ও মিকাইল তোমাদের এই কথার মতো: আব্দুল্লাহ এবং আব্দুর রহমান"(৪)।

 

‌‌{এবং আপনাকে জাহান্নামীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না} [আল-বাকারাহ: ১১৯]

আয়াতটি নাযিলের কারণ:

 

৫৩ - আতা ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন: আর তা হলো, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "হায়, আমি যদি জানতাম...

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে সামারকান্দি = বাহরুল উলূম ১/৬৩, এবং এটি ইবনে আব্বাসের বর্ণনা থেকে মারফু হিসেবে অন্য কোথাও আমরা পাইনি। এটি আল-মাওসূআতে আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে (২৩৫৮, ২৩৫৯) এবং ইকরিমাহ থেকে মুরসাল হিসেবে (২৩৬০) বর্ণিত হয়েছে; সুতরাং সেখানে এর তাখরীজ দেখে নিতে হবে।

(২) তাফসীরে সালাবী ৩/৩৯৫। এর শেষ অংশ সম্ভবত সালাবীর বক্তব্য।

(৩) তাফসীরে সালাবী ৩/৪৩৬। দারু ইহ্ইয়ায়িত তুরাসিল আরাবী সংস্করণে ১/২৩২-এ বলা হয়েছে: রাবী এবং ইকরিমাহ বলেছেন, এবং আল-মাওসূআতেও এভাবেই সাব্যস্ত হয়েছে!

(৪) সালাবী এটি ৩/৩৬৪-এ মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে তার সনদসহ বর্ণনা করেছেন। এটি সেই সনদ যার মাধ্যমে তিনি আবু উবাইদ এর কিতাবুল কিরাআত বর্ণনা করেছেন, যা বর্তমানে একটি হারানো কিতাব। যেমনটি মুহাক্কিক উল্লেখ করেছেন। আর দারু ইহ্ইয়ায়িত তুরাসিল আরাবী সংস্করণে এসেছে: রাজা থেকে মুয়াবিয়া থেকে মারফু সূত্রে [এইভাবে], যেখানে সনদের প্রথম অংশ বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٣١)
ما فعل أبواي" فنزلت هذه الآية"(1).

 

‌‌{وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ} [البقرة: 132]

54 - عن محمد بن عمر الواقدي الأسلمي - من طريق محمد بن سعد - قال: وُلد لإبراهيم إسماعيل وهو ابن تسعين سنة فكان بكر أبيه، وولد إسحاق بعده بثلاثين سنة، وإبراهيم يومئذ ابن عشرين ومائة سنة، وماتت سارة، فتزوج إبراهيم امرأة من الكنعانيين يقال لها قنطورا، فولدت له أربعة نفر: ماذي وزمران وسرحج وسبق، قال: وتزوج امرأة أخرى يقال لها حجوني فولدت له سبعة نفر: نافس ومدين وكيشان وشروخ وأميم ولوطا ويقشان، فجميع ولد إبراهيم ثلاثة عشر رجلا(2).

 

‌‌{فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ} [البقرة: 144]

نزول الآية:

 

55 - قال مجاهد: نزلت هذه الآية ورسول الله صلى الله عليه وسلم في مسجد بني سلمة، وقد صلى بأصحابه ركعتين من صلاة الظهر، فتحوَّل في الصلاة فاستقبل الميزاب، وحوَّل الرجال مكان النساء والنساء مكان الرجال، فسُمِّي ذلك المسجد مسجد القبلتين(3).

--------------------------------------------

(1) تفسير الثعلبي 4/ 65، وتفسير البغوي 1/ 143.

قال محقق تفسير الثعلبي في طبعة دار تفسير: ذكره الواحدي في أسباب النزول ص 46، وابن حجر في العجاب نقلًا عن الواحدي، وعلق عليه بقوله 1/ 369: وأما قول ابن عباس فنسبه الثعلبي لرواية عطاء عنه، وهي من تفسير عبد الغني بن سعيد، الواهي، وقد أخرجه الطبري من مرسل محمد بن كعب القرظي، وعليه اقتصر الماوردي وابن ظفر وغيرهما، واستبعد الفخر الرازي صحة هذا السبب قال: لأنه صلى الله عليه وسلم يعلم حال من مات كافرًا. انتهى. وفي سنده موسى بن عبيدة، وهو ضعيف.

(2) أخرجه ابن سعد في الطبقات الكبرى 1/ 48. وذكره السيوطي في مفحمات الأقران لكن وقع في مطبوعته ص 16: "شوح وأشبق"، بدل: "سرحج وسبق"، و"حجوى" بدل: "حجوني".

(3) تفسير الثعلبي 4/ 188، تفسير البغوي 1/ 162.
"আমার পিতা-মাতা কী করেছেন?" - তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়(১).

 

‌‌{আর ইবরাহীম তার সন্তানদের এই নির্দেশই দিয়েছিলেন এবং ইয়াকুবও} [আল-বাকারা: ১৩২]

৫৪ - মুহাম্মাদ বিন উমর আল-ওয়াকিদী আল-আসলামী থেকে বর্ণিত - মুহাম্মাদ বিন সা'দ-এর সূত্রে - তিনি বলেন: ইবরাহীমের ঘরে ইসমাঈল জন্মগ্রহণ করেন যখন তাঁর বয়স ছিল নব্বই বছর এবং তিনি ছিলেন তাঁর পিতার প্রথম সন্তান। তাঁর ত্রিশ বছর পর ইসহাক জন্মগ্রহণ করেন, আর সেদিন ইবরাহীমের বয়স ছিল একশত বিশ বছর। সারা ইন্তেকাল করলেন, এরপর ইবরাহীম কেনানীদের একজন নারীকে বিবাহ করেন যাকে কানতুরা বলা হতো। তিনি তাঁর গর্ভে চারটি সন্তান জন্ম দেন: মাযি, যিমরান, সারহাজ এবং সাবাক। তিনি বলেন: তিনি হাজুনী নামক অপর এক নারীকে বিবাহ করেন এবং তিনি তাঁর গর্ভে সাতটি সন্তান জন্ম দেন: নাফিস, মাদয়ান, কায়শান, শারুখ, আমীম, লূত এবং ইয়াকশান। সুতরাং ইবরাহীমের মোট সন্তানের সংখ্যা তেরোজন পুরুষ(২).

 

‌‌{কাজেই অবশ্যই আমি আপনাকে এমন এক কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন। অতএব আপনি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরান; এবং তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তার দিকেই মুখ ফিরাও} [আল-বাকারা: ১৪৪]

আয়াতের অবতরণ:

 

৫৫ - মুজাহিদ বলেন: এই আয়াতটি তখন অবতীর্ণ হয় যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু সালামা মসজিদে ছিলেন। তিনি তখন তাঁর সাহাবীদের নিয়ে যোহরের নামাযের দুই রাকাত আদায় করেছিলেন। অতঃপর তিনি নামাযের মধ্যেই ঘুরে মিযাব অভিমুখী হলেন এবং পুরুষরা মহিলাদের স্থানে এবং মহিলারা পুরুষদের স্থানে স্থান পরিবর্তন করল। ফলে সেই মসজিদকে 'মসজিদ আল-কিবলাতাইন' বলা হয়(৩).

--------------------------------------------

(১) তাফসীরে ছালাবী ৪/ ৬৫, এবং তাফসীরে বাগভী ১/ ১৪৩।

দার তাফসির সংস্করণে তাফসীরে ছালাবীর মুহাক্কিক বলেন: আল-ওয়াহিদী এটি 'আসবাবুন নুযূল' ৪৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, এবং ইবন হাজার আল-ওয়াহিদী থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে 'আল-উযাব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন ১/ ৩৬৯: আর ইবনে আব্বাসের উক্তিটি ছালাবী আতা-এর বর্ণনা থেকে তাঁর দিকে নিসবত করেছেন, যা আব্দুল গনি বিন সাঈদের তাফসীর থেকে নেওয়া এবং তা অত্যন্ত দুর্বল। তাবারী এটি মুহাম্মাদ বিন কাব আল-কুরাযীর মুরসাল বর্ণনা হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন, যার ওপর আল-মাওয়ার্দী, ইবন যুফার ও অন্যরা সীমাবদ্ধ থেকেছেন। ফখর রাযী এই কারণটি সঠিক হওয়াকে অসম্ভব মনে করেছেন, তিনি বলেন: কারণ তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীর অবস্থা জানতেন। সমাপ্ত। এর সনদে মূসা বিন উবাইদাহ রয়েছেন, যিনি দুর্বল।

(২) ইবন সা'দ এটি 'আত-তবাকাতুল কুবরা' ১/ ৪৮ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। সুয়ূতী 'মুফহামাতুল আকরান' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, তবে তাঁর মুদ্রিত কপির ১৬ পৃষ্ঠায় 'সারহাজ ও সাবাক'-এর পরিবর্তে 'শুহ ও আশবাক' এবং 'হাজুনী'-এর পরিবর্তে 'হাজওয়া' এসেছে।

(৩) তাফসীরে ছালাবী ৪/ ১৮৮, তাফসীরে বাগভী ১/ ১৬২।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٣٢)
‌‌{فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ} [البقرة: 152]

56 - قال ابن عباس: اذكروني بطاعتي أذكركم بمعونتي(1).

 

‌‌{إِنَّمَا يَأْمُرُكُمْ بِالسُّوءِ وَالْفَحْشَاءِ} [البقرة: 169]

57 - عن ابن عباس - من طريق أبي صالح باذام - قال: الفحشاء من المعاصي كل ما كان فيه حد في الدنيا، والسوء من الذنوب: ما لا حد فيه(2).

 

‌‌{وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ} [البقرة: 170]

58 - عن ابن عباس - من طريق الضحاك - قال: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ} يعني كفار قريش من بني عبد الدار(3).

 

‌‌{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى} [البقرة: 178]

59 - قال سعيد بن جبير: إنهما كانا حيي الأوس والخزرج(4).

 

60 - وقال [مقاتل] ابن حيان: قريظة والنضير(5).

--------------------------------------------

(1) تفسير الثعلبي 4/ 212.

(2) تفسير الثعلبي 4/ 286. ورد في الموسوعة (4848) تفسير الفحشاء دون السوء.

(3) تفسير الثعلبي 4/ 288.

(4) تفسير الثعلبي 4/ 353. وهو بيان لما أبهم في الموسوعة في الأثر المروي عن عدد من السلف في كون الآية نزلت في حيين من أحياء العرب اقتتلوا في الجاهلية قبل الإسلام بقليل؛ فكانت بينهما قتلى وجراحات؛ لم يأخذها بعضهم من بعض حتى جاء الإسلام.

(5) تفسير الثعلبي 4/ 353.
‌{অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব} [আল-বাকারা: ১৫২]

৫৬ - ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: তোমরা আমার আনুগত্যের মাধ্যমে আমাকে স্মরণ করো, আমি আমার সাহায্যের মাধ্যমে তোমাদের স্মরণ করব(১)।

 

‌‌{নিশ্চয় সে তোমাদের মন্দ ও অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয়} [আল-বাকারা: ১৬৯]

৫৭ - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আবু সালেহ বাযাম-এর সূত্রে বর্ণিত—তিনি বলেন: অবাধ্যতামূলক কাজের মধ্যে ‘ফাহশা’ (অশ্লীলতা) হলো সেসব কাজ যাতে দুনিয়াতে হদ্দ (নির্ধারিত শাস্তি) রয়েছে, আর ‘সু’ (মন্দ) হলো সেসব পাপ যাতে কোনো হদ্দ নেই(২)।

 

‌‌{আর যখন তাদের বলা হয়, ‘আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তার অনুসরণ করো,’ তখন তারা বলে, ‘না, বরং আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের যে বিষয়ের ওপর পেয়েছি তারই অনুসরণ করব।’ এমনকি যদি তাদের পূর্বপুরুষরা কিছুই বুঝত না এবং হেদায়েতপ্রাপ্তও না হয়ে থাকে তবুও?} [আল-বাকারা: ১৭০]

৫৮ - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে দাহহাক-এর সূত্রে বর্ণিত—তিনি {আর যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তার অনুসরণ করো} সম্পর্কে বলেন: এর দ্বারা বনু আবদুদ দার গোত্রের কুরাইশ কাফেরদের বোঝানো হয়েছে(৩)।

 

‌‌{হে মুমিনগণ, নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কিসাস ফরজ করা হয়েছে} [আল-বাকারা: ১৭৮]

৫৯ - সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেন: তারা ছিল আউস ও খাযরাজ গোত্রের দুটি দল(৪)।

 

৬০ - মুকাতিল ইবনে হাইয়ান বলেন: (তারা ছিল) কুরাইযা ও নাযির গোত্র(৫)।

--------------------------------------------

(১) তাফসিরুস সালাবি ৪/ ২১২।

(২) তাফসিরুস সালাবি ৪/ ২৮৬। আল-মাওসুআহ-তে (৪৮৪৮) ‘সু’ ব্যতীত কেবল ‘ফাহশা’-এর ব্যাখ্যা বর্ণিত হয়েছে।

(৩) তাফসিরুস সালাবি ৪/ ২৮৮।

(৪) তাফসিরুস সালাবি ৪/ ৩৫৩। এটি আল-মাওসুআহ-তে অস্পষ্ট থাকা বিষয়টির বর্ণনা যা বেশ কয়েকজন সালাফ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আয়াতটি আরবের দুটি গোত্র সম্পর্কে নাজিল হয়েছিল যারা ইসলামের অল্পকাল পূর্বে জাহেলি যুগে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল; ফলে তাদের মধ্যে হতাহত ও জখমের ঘটনা ঘটেছিল; তাদের কেউ অপরের থেকে তা গ্রহণ করেনি (মীমাংসা করেনি) যতক্ষণ না ইসলাম আসে।

(৫) তাফসিরুস সালাবি ৪/ ৩৫৩।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٣٣)
‌‌{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ} [البقرة: 183]

61 - قال الحسن: إذ سمعت الله تعالى يقول: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا} فأرع لها سمعك، فإنها لأمر تُؤمر به، أو لنهي تُنهى عنه(1).

 

‌‌{وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} [البقرة: 190]

62 - عن مقاتل بن حيان - من طريق بكير بن معروف - قوله: {وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} [البقرة: 190] يقول: هو اعتداء منكم أن تحرِّموا ما أحللتُ لكم، والله لا يحب ذلك(2).

 

‌‌{فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ} [البقرة: 196]

63 - عن سعيد بن جبير =

 

64 - وشهر بن حوشب: الإحصار هو حبس عدو أو قاهر من بني آدم عن الوصول إلى البيت، فأما المرض وسائر الأعذار فهو غير داخل في هذه الآية(3).

 

‌‌{أُولَئِكَ لَهُمْ نَصِيبٌ مِمَّا كَسَبُوا وَاللَّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ} [البقرة: 202]

نزول الآية:

 

65 - عن ابن عباس - من طريق جويبر عن الضحاك - في هذه الآية أن رجلًا أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: يا نبي الله، مات أبي ولم يحج أفأحج عنه؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "لو كان على أبيك دين فقضيته أما كان يُجزئ؟ " قال: نعم، قال: "فدين الله أحق أن يُقضى"، قال:

--------------------------------------------

(1) تفسير الثعلبي 4/ 398. وفي طبعة دار إحياء التراث العربي: فادع لها سمعك، والخبر مشهور عن ابن مسعود رضي الله عنه، وقد ذكر عنه في الدر والموسوعة، وذكر محقق طبعة دار تفسير لتفسير الثعلبي: أنه لم يجده عن الحسن.

(2) أخرجه ابن أبي حاتم 5/ 211.

(3) تفسير الثعلبي 5/ 124.
‌‌{হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে} [আল-বাকারা: ১৮৩]

৬১ - হাসান (বসরী) বলেন: যখন তুমি আল্লাহ তাআলাকে বলতে শোনো: {হে ঈমানদারগণ!}, তখন তুমি সেদিকে কান দাও; কারণ এটি এমন কোনো বিষয় যার আদেশ তোমাকে করা হচ্ছে, অথবা এমন কোনো বিষয় যা থেকে তোমাকে নিষেধ করা হচ্ছে।

 

‌‌{এবং তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না} [আল-বাকারা: ১৯০]

৬২ - মুকাতিল বিন হাইয়ান থেকে বর্ণিত—বুকাইর বিন মারুফ-এর সূত্রে—তাঁর উক্তি: {এবং তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না} [আল-বাকারা: ১৯০] প্রসঙ্গে তিনি বলেন: এটি তোমাদের পক্ষ থেকে এক প্রকার সীমালঙ্ঘন যে, আমি যা তোমাদের জন্য হালাল করেছি তা তোমরা হারাম করবে; আর আল্লাহ তা পছন্দ করেন না।

 

‌‌{অতঃপর তোমরা যদি অবরুদ্ধ হও, তবে যা সহজলভ্য হয় তা কুরবানি করো} [আল-বাকারা: ১৯৬]

৬৩ - সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত =

 

৬৪ - এবং শাহর বিন হাওশাব বলেন: অবরুদ্ধ হওয়া হলো কোনো শত্রু অথবা আদম সন্তানের মধ্য থেকে কোনো পরাক্রমশালী ব্যক্তি কর্তৃক (কা’বা) গৃহে পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত হওয়া। পক্ষান্তরে অসুস্থতা এবং অন্যান্য ওজরসমূহ এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয়।

 

‌‌{তাদেরই জন্য রয়েছে তাদের উপার্জনের অংশ, আর আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী} [আল-বাকারা: ২০২]

আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট:

 

৬৫ - ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত—জুওয়াইবিরের সূত্রে আদ-দাহহাক থেকে—এই আয়াতের বিষয়ে যে, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর নবী, আমার পিতা মারা গেছেন অথচ তিনি হজ করেননি, আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে হজ করব? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যদি তোমার পিতার ওপর কোনো ঋণ থাকত এবং তুমি তা পরিশোধ করতে, তবে কি তা গ্রহণ করা হতো না?" সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "তবে আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করা আরও বেশি হকদার (প্রয়োজনীয়)"। তিনি বললেন:

--------------------------------------------

(১) তাফসীরুত থা’লাবি ৪/ ৩৯৮। এবং দার ইহয়া আত-তুরাস আল-আরাবি সংস্করণে রয়েছে: 'তুমি তাতে কান দাও'। এই বর্ণনাটি ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে প্রসিদ্ধ, যা আদ-দুর এবং আল-মাওসুআহ-তে তাঁর পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। আর তাফসীরুত থা’লাবি-র দার তাফসীর সংস্করণের মুহাক্কিক উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি হাসান (বসরী)-র সূত্রে পাননি।

(২) ইবনে আবি হাতিম ৫/ ২১১।

(৩) তাফসীরুত থা’লাবি ৫/ ১২৪।
(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাদরাক আলা মাওসুআতিত তাফসীরিল মাসুর (পৃষ্ঠা: ٣٤)
فهل لي من أجر؟ فأنزل الله عز وجل: {أُولَئِكَ لَهُمْ نَصِيبٌ مِمَّا كَسَبُوا}(1).

 

‌‌{هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا أَنْ يَأْتِيَهُمُ اللَّهُ فِي ظُلَلٍ مِنَ الْغَمَامِ} [البقرة: 210]

66 - عن الضحاك [بن مزاحم]: {فِي ظُلَلٍ مِنَ الْغَمَامِ}: في قطع من السحاب(2).

 

‌‌{وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى} [البقرة: 238]

67 - عن معاذ =

 

68 - وعمر: أنها صلاة الفجر(3).

 

‌‌{وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} [البقرة: 238].

69 - عن الحسن: قيامًا في الصلاة(4).

 

‌‌{الْقَيُّومُ} [البقرة: 255]

70 - قال سعيد بن جبير: الذي لا بداء له(5).

 

‌‌{يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ} [البقرة: 255]

71 - قال الواقدي: {يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ} يعني: ما كان قبل خلق الملائكة، {وَمَا خَلْفَهُمْ} وما يكون بعد خلقهم(6).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الثعلبي 5/ 240. وقال عقبه: يعني من حج عن ميت كان الأجر بينه وبين الميت. ولم نجده بهذا الإسناد عند غير الثعلبي، وإسناده ضعيف جدًّا؛ جويبر بن سعيد الأزدي ضعيف جدًّا. كما في تقريب التهذيب (987).

(2) تفسير الثعلبي 5/ 336.

(3) تفسير الثعلبي 6/ 349.

(4) تفسير الثعلبي 6/ 423.

(5) تفسير الثعلبي 7/ 82. تحرفت في طبعة دار إحياء التراث العربي إلى: الذي لا نرى له.

(6) تفسير الثعلبي 7/ 101. سقط من طبعة دار إحياء التراث العربي.
তবে কি আমার জন্য কোনো প্রতিদান রয়েছে? তখন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: {তারা যা উপার্জন করেছে, তার অংশ তাদের জন্য রয়েছে}(১).

 

‌‌{তারা কি কেবল এরই প্রতীক্ষা করছে যে, মেঘের ছায়ার মধ্যে আল্লাহ তাদের নিকট আগমন করবেন?} [আল-বাকারাহ: ২১০]

৬৬ - আদ-দাহহাক [ইবনে মুজাহিম] থেকে বর্ণিত: {মেঘের ছায়ার মধ্যে}: মেঘের খণ্ডসমূহের মধ্যে(২).

 

‌‌{এবং মধ্যবর্তী সালাত} [আল-বাকারাহ: ২৩৮]

৬৭ - মুআয থেকে বর্ণিত =

 

৬৮ - এবং উমর থেকে বর্ণিত: নিশ্চয়ই এটি ফজরের সালাত(৩).

 

‌‌{এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াও} [আল-বাকারাহ: ২৩৮].

৬৯ - হাসান থেকে বর্ণিত: সালাতে দণ্ডায়মান হওয়া(৪).

 

‌‌{আল-কাইয়ুম} [আল-বাকারাহ: ২৫৫]

৭০ - সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেছেন: যাঁর কোনো শুরু নেই(৫).

 

‌‌{তিনি জানেন তাদের সামনে যা আছে} [আল-বাকারাহ: ২৫৫]

৭১ - আল-ওয়াকিদি বলেছেন: {তিনি জানেন তাদের সামনে যা আছে} অর্থাৎ: যা ফেরেশতাদের সৃষ্টির পূর্বে ছিল, {এবং তাদের পেছনে যা আছে} এবং যা তাদের সৃষ্টির পরে হবে(৬).

--------------------------------------------

(১) আস-সালাবি এটি বর্ণনা করেছেন ৫/ ২৪০। তিনি এর পরে বলেন: অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোনো মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ করে, তবে সেই সওয়াব তার এবং মৃত ব্যক্তির মাঝে বণ্টিত হবে। আস-সালাবি ব্যতীত অন্য কারো নিকট আমরা এই সনদে এটি পাইনি, এবং এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল; জুবায়ের বিন সাঈদ আল-আযদি অত্যন্ত দুর্বল। যেমনটি তাকরিবুত তাহযিব (৯৮৭) গ্রন্থে রয়েছে।

(২) তাফসিরে আস-সালাবি ৫/ ৩৩৬।

(৩) তাফসিরে আস-সালাবি ৬/ ৩৪৯।

(৪) তাফসিরে আস-সালাবি ৬/ ৪২৩।

(৫) তাফসিরে আস-সালাবি ৭/ ৮২। দারু ইহয়ায়িত তুরাস আল-আরাবি সংস্করণে এটি বিকৃত হয়ে 'যাকে আমরা দেখি না' হিসেবে এসেছে।

(৬) তাফসিরে আস-সালাবি ৭/ ১০১। দারু ইহয়ায়িত তুরাস আল-আরাবি সংস্করণ থেকে এটি বাদ পড়েছে।