(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: -)
الطهارة (مطبوع ضمن مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الثالث)   (محمد بن عبد الوهاب)

القسم: الفقه العام


الكتاب: الطهارة (مطبوع ضمن مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الثالث)

المؤلف: محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي النجدي (ت 1206هـ)

المحقق: صالح بن عبد الرحمن الأطرم، محمد بن عبد الرزاق الدويش

الناشر: جامعة الإمام محمد بن سعود، الرياض، المملكة العربية السعودية

الطبعة: -

عدد الصفحات: 43

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

পবিত্রতা (শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত, ৩য় খণ্ড)   (মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: পবিত্রতা (শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত, ৩য় খণ্ড)

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান আত-তামিমি আন-নাজদি (মৃত্যু ১২০৬ হিজরি)

সম্পাদক: সালিহ বিন আব্দুর রহমান আল-আতরাম, মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রাজ্জাক আদ-দুওয়াইশ

প্রকাশক: ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: -

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

كتاب الطهارة

تأليف: الشيخ محمد بن عبد الوهاب

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وبعد: فهذا كتاب الطهارة للإمام الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله استندنا في نسبته إليه إلى فهارس المكتبة السعودية المدون فيها باسمه تحت رقم 520/86، حيث لم يرد في صلب المخطوطة ما يشير إلى ذلك إلا عبارة نعتقد أن فيها شيئا من التحريف، حيث قال في نهاية المخطوطة: "ولهذا سئل الشيخ محمد بن عبد الوهاب". ولعل صحة العبارة: "وعن هذا سئل الشيخ محمد بن عبد الوهاب". ثم إن أسلوب المخطوطة يتطابق تماما مع أساليب كتاباته وتصانيفه ورسائله رحمه الله تعالى، وخاصة كثرة الإشارة إلى اختيارات شيخ الإسلام.

وقد قمنا بتصحيح صورة المخطوطة المذكورة ومقابلتها على أصلها، ومحاولة بيان وإيضاح بعض عباراتها، وتصحيح أخطائها الإملائية. والإشارة إلى أرقام وأجزاء المراجع التي أشار إليها أحيانا.

وبيان مكان الحديث من الكتب التي عزا إليها الأحاديث التي استدل بها، مع محاولة تكميل الحديث أو بيان موضوعه في حالة الإشارة إليه دون نقل منه للفظه.
ভূমিকা

…

কিতাবুত তাহারাহ (পবিত্রতা অধ্যায়)

রচনায়: শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। এরপর: এটি ইমাম শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক রচিত কিতাবুত তাহারাহ। এটি তাঁর রচনা হিসেবে নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে আমরা সৌদি লাইব্রেরির ক্যাটালগের ওপর নির্ভর করেছি, যেখানে এটি তাঁর নামে ৫২০/৮৬ নম্বর অধীনে তালিকাভুক্ত রয়েছে। যেহেতু পাণ্ডুলিপির মূল পাঠে এমন কোনো বিষয় নেই যা এর রচয়িতার দিকে ইঙ্গিত করে, কেবল একটি বাক্য ব্যতীত যেটিতে আমরা মনে করি কিছুটা বিকৃতি (تحريف) ঘটেছে; পাণ্ডুলিপির শেষে বলা হয়েছে: "এ কারণেই শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।" সম্ভবত সঠিক বাক্যটি হবে: "আর এই বিষয়ে শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।" তাছাড়া পাণ্ডুলিপির শৈলী তাঁর অন্যান্য রচনা, সংকলন ও পত্রাবলির শৈলীর সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষ করে শায়খুল ইসলামের পছন্দসমূহের (اختيارات) প্রতি প্রচুর ইঙ্গিত করার বিষয়টি।

আমরা উল্লিখিত পাণ্ডুলিপির অনুলিপিটি সংশোধন করেছি এবং তা মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি। এর কিছু বাক্যের অর্থ ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করার এবং এর বানানগত ভুলসমূহ সংশোধনের চেষ্টা করেছি। সেই সঙ্গে তিনি মাঝে মাঝে যেসব রেফারেন্সের দিকে ইঙ্গিত করেছেন সেগুলোর খণ্ড ও নম্বর উল্লেখ করেছি।

তিনি যেসব হাদিস দলিল হিসেবে পেশ করেছেন, সেগুলো যেসব কিতাবের দিকে সম্বন্ধ করেছেন সেখানে হাদিসটির অবস্থান নির্দেশ করেছি। সেই সাথে যেখানে হাদিসের শব্দ উল্লেখ না করে কেবল সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, সেখানে হাদিসটি পূর্ণাঙ্গ করার অথবা তার বিষয়বস্তু (موضوع) স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ৪)
رحم الله الإمام المجدد وأجزل له الأجر والمثوبة. وجزى من سعى إلى إحياء مصنفاته. خير الجزاء، وأشركنا معهم في الأجر والثواب إنه سميع مجيب.

وصلى الله على محمد وآله وصحبه.

صالح بن عبد الرحمن الأطرم

محمد بن عبد الرزاق الدويش
আল্লাহ তাআলা সংস্কারক (مجدد) ইমামের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে সওয়াব ও প্রতিদানের পূর্ণতা দান করুন। আর যারা তাঁর গ্রন্থসমূহ পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়াস চালিয়েছেন, আল্লাহ তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আমাদেরকেও তাঁদের সাথে সওয়াব ও নেকির অংশীদার করুন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, প্রার্থনা কবুলকারী।

আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাথীদের ওপর।

সালেহ বিন আব্দুর রহমান আল-আতরাম

মুহাম্মদ বিন আব্দুর রাজ্জাক আদ-দুওয়াইশ
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ৫)
كتاب الطهارة

الطهارة تارة تكون من الأعيان النجسة، وتارة من الأعمال الخبيثة، وتارة من الأعمال المانعة 1.

فمن الأول قوله تعالى: {وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ} 2 على أحد الأقوال.

ومن الثاني قوله تعالى: {يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيراً} 3 ومن الثالث قوله تعالى: {وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُباً فَاطَّهَّرُوا} 4 وهي في الاصطلاح: ارتفاع الحدث، وما في معناه، وزوال الخبث.

‌‌باب أحكام المياه

خلق الماء طهورا [5] ولا تحصل الطهارة بمائع غيره. فإن تغير بغير ممازج، أو بما يشق صون الماء عنه من نابت فيه أو ورق شجر، أو بمجاورة ميتة لم يكره. قال في المبدع 6: بغير خلاف نعلمه.

--------------------------------------------

1 أي المانعة من الصلاة، وتلاوة القرآن، والطواف، وهذا ما يسميه الفقهاء بالحدث الأكبر كالجنابة والحيض والنفاس، فالطهارة منها تكون بالاغتسال".

2 سورة المدثر آية: 4.

3 سورة الأحزاب آية: 33.

4 سورة المائدة آية: 6.

5 هذا السطر متآكل من المخطوطة تماما ولم نستطع استظهاره منها.

6 المبدع مجلد 1: 37 طبعة المكتب الإسلامي.
পবিত্রতা অধ্যায়

পবিত্রতা কখনো অপবিত্র বস্তু থেকে হয়, কখনো মন্দ আমল থেকে হয়, আবার কখনো (ইবাদতে) প্রতিবন্ধক কার্যাবলী থেকে হয় ১।

প্রথম প্রকারের উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনার পোশাক পবিত্র করুন} ২ একটি মত অনুযায়ী।

দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {হে নবী পরিবার! আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে} ৩ আর তৃতীয় প্রকারের উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তোমরা অপবিত্র (جنابة) অবস্থায় থাকো, তবে যথাযথভাবে পবিত্রতা অর্জন করো} ৪ পরিভাষায় পবিত্রতা হলো: অপবিত্রতা (حدث) দূর হওয়া, অথবা এর সমার্থবোধক কিছু হওয়া এবং দৃশ্যমান নাপাকি (خبث) দূরীভূত হওয়া।

‌‌পানির বিধানাবলী পরিচ্ছেদ

পানিকে পবিত্রকারী (طهورا) [৫] হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং পানি ব্যতীত অন্য কোনো তরল পদার্থ দ্বারা পবিত্রতা অর্জিত হয় না। যদি পানি এমন কোনো বস্তুর দ্বারা পরিবর্তিত হয় যা পানির সাথে মিশে যায় না, অথবা এমন কোনো বস্তুর দ্বারা যা থেকে পানিকে রক্ষা করা কঠিন—যেমন তাতে জন্মানো উদ্ভিদ বা গাছের পাতা—অথবা মৃত প্রাণীর সংলগ্নতার কারণে (পরিবর্তিত হয়), তবে তা অপছন্দনীয় হবে না। আল-মুবদি ৬ গ্রন্থে বলা হয়েছে: আমাদের জানা মতে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই।

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ যা নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও তাওয়াফ থেকে বিরত রাখে। আর একেই ফকীহগণ বড় অপবিত্রতা (الحدث الأكبر) বলে অভিহিত করেন, যেমন: জানাবাত (جنابة), ঋতুস্রাব (حيض) ও প্রসবোত্তর রক্তস্রাব (نفاس)। এগুলি থেকে পবিত্রতা অর্জিত হয় গোসল (اغتسال)-এর মাধ্যমে।

২ সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৪।

৩ সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৩।

৪ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬।

৫ এই লাইনটি পাণ্ডুলিপি থেকে সম্পূর্ণ মুছে গেছে এবং আমরা তা উদ্ধার করতে সক্ষম হইনি।

৬ আল-মুবদি, ১ম খণ্ড: ৩৭, আল-মাকতাব আল-ইসলামী সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ৬)
وإن طبخ في الماء ما ليس بطهور سلب طهوريته إجماعا.

قال الشيخ تقي الدين 1: وتجوز الطهارة بكل ما يسمى ماء، وبما خلت به امرأة، وهو مذهب الأئمة الثلاثة، وبمختلط بطاهر وهو مذهب أبي حنيفة، وبمستعمل في رفع حدث وهو رواية عن أحمد اختارها ابن عقيل، وطوائف من العلماء. 2

وإذا شك في نجاسة الماء، أو غيره، أو شك في طهارته بنى على اليقين، لأنه هو الأصل.

قال الشيخ تقي الدين: ويكره الغسل - لا الوضوء - بماء زمزم. 3

ولا ينجس الماء إلا بتغيره 4 وهو رواية عن أحمد ومذهب مالك واختاره الشيخ تقي الدين وابن القيم، ولو كان تغيره في محل التطهير. وإن لم يتغير وهو يسير 5 فهل ينجس؟ على روايتين. الثانية 6: لا ينجس اختاره الشيخ تقي الدين، فإن أضيف إلى الماء النجس طهور كثير أو زال تغيره بنفسه، أو نزح منه فبقي بعده غير متغير طهر; لزوال عين النجاسة.

ولو كان المائع - غير الماء- كثيرا فزال تغيره بنفسه، فقد توقف الشيخ تقي الدين في طهارته.

--------------------------------------------

1 المراد به ابن تيمية رحمه الله.

2 الاختيارات الفقهية: 3.

3 الاختيارات الفقهية 4.

4 يعني "تغيره بنجاسة".

5 ضابط اليسير: ما كان دون القلتين.

6 أما رواية الأولى: فإنه ينجس مطلقا.
যদি পানির মধ্যে এমন কিছু রান্না করা হয় যা পবিত্রকারী (طهور) নয়, তবে সর্বসম্মতভাবে (إجماعا) তা পানির পবিত্রকারী গুণকে নষ্ট করে দেয়।

শায়খ তাকিউদ্দীন ১ বলেন: যাকে পানি বলা হয় এমন সব কিছু দিয়েই পবিত্রতা (الطهارة) অর্জন করা বৈধ। তেমনিভাবে মহিলার একান্তে ব্যবহার করা পানি দিয়েও, যা তিন ইমামের মাযহাব। আর পবিত্র (طاهر) বস্তুর মিশ্রণযুক্ত পানি দিয়েও পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ যা ইমাম আবু হানিফার মাযহাব। এছাড়া অপবিত্রতা বা হাদাস (حدث) দূর করতে ব্যবহৃত পানি দিয়েও পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ, যা ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية), যা ইবনুল আকিল এবং আলেমদের বিভিন্ন দল পছন্দ করেছেন। ২

যদি পানি বা অন্য কিছুর অপবিত্রতা (نجاسة) নিয়ে সন্দেহ হয়, অথবা এর পবিত্রতা (طهارة) নিয়ে সন্দেহ হয়, তবে নিশ্চিত অবস্থার (اليقিন) ওপর ভিত্তি করতে হবে; কেননা সেটিই মূল ভিত্তি (الأصل)।

শায়খ তাকিউদ্দীন বলেন: যমযম পানি দিয়ে গোসল করা অপছন্দনীয় বা মাকরূহ (يكره) - ওযু (الوضوء) নয়। ৩

পানি পরিবর্তিত হওয়া ছাড়া অপবিত্র (ينجس) হয় না ৪, এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) এবং ইমাম মালিকের মাযহাব; শায়খ তাকিউদ্দীন ও ইবনুল কাইয়্যিম এটিই পছন্দ করেছেন, যদিও পানির সেই পরিবর্তন পবিত্র করার স্থানেই ঘটুক না কেন। আর যদি তা পরিবর্তিত না হয় এবং পরিমাণে অল্প (يسير) হয় ৫, তবে কি তা অপবিত্র হবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (روايتين) রয়েছে। দ্বিতীয়টি ৬ হলো: তা অপবিত্র হবে না, যা শায়খ তাকিউদ্দীন পছন্দ করেছেন। সুতরাং যদি অপবিত্র পানির সাথে প্রচুর পরিমাণে পবিত্রকারী (طهور) পানি মেশানো হয়, অথবা পানিটি নিজে নিজেই তার পরিবর্তন কাটিয়ে ফেলে, কিংবা তা থেকে কিছু অংশ তুলে ফেলার পর অবশিষ্ট পানি পরিবর্তিত না থাকে, তবে নাপাকির অস্তিত্ব (عين النجاسة) দূর হওয়ার কারণে তা পবিত্র হয়ে যাবে।

আর যদি পানি ছাড়া অন্য কোনো তরল পদার্থ প্রচুর পরিমাণে হয় এবং নিজে নিজেই তার পরিবর্তন কাটিয়ে ফেলে, তবে তার পবিত্রতার ব্যাপারে শায়খ তাকিউদ্দীন সিদ্ধান্ত স্থগিত (توقف) রেখেছেন।

--------------------------------------------

১ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)।

২ আল-ইখতিয়ারাত আল-ফিকহিয়্যাহ: ৩।

৩ আল-ইখতিয়ারাত আল-ফিকহিয়্যাহ ৪।

৪ অর্থাৎ "নাপাকির কারণে এর পরিবর্তন"।

৫ অল্পের (يسير) মানদণ্ড হলো: যা দুই কুল্লা-র নিচে।

৬ প্রথম বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: তা নিঃশর্তভাবে (مطلقا) অপবিত্র হবে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ৭)
والمايعات كلها حكمها حكم الماء 1 قلت أو كثرت، وهو رواية عن أحمد ومذهب الزهري والبخاري وحكي رواية عن مالك. وذكر الشيخ تقي الدين في شرح العمدة أن نجاسة الماء ليست عينية؟ لأنه يطهر غيره فنفسه أولى. ويعفَى عن يسير النجاسة 2 في غير المايعات 3 ; لأن "الصحابة صلوا مع الدم، ولم يعرف لهم مخالف".

فصل

وإن خفي موضع النجاسة من الثوب غسل ما يتيقن به إزالتها. وإن اشتبهت ثياب طاهرة بنجسة يعلم عددها، أَوْ لا 4، صلى في واحد منها بالتحري، اختاره الشيخ تقي الدين.

وإذا شك في النجاسة هل أصابت الثوب أو البدن فمن العلماء من يأمر بنضحه، ويجعل حكم المشكوك فيه النضح، كما هو مذهب مالك؛ ومنهم من لا يوجبه 5، فإذا احتاط ونضح كان حسنا 6 كفعل أنس في نضح الحصير، ونضح عمر ثوبه ونحو ذلك.

ويجزي في بول الغلام الذي لم يأكل الطعام النضح، لحديث أم قيس:

--------------------------------------------

1 بكونها تنجس بالتغير بنجاسة مطلقا، وإن لم تتغير فلا ينجس كثيرها، أما قليلها فعلى روايتين. وبطهارتها إذا تغيرت بنفسها.

2 غير البول والغائط غير ما تبقى من الأثر بعد الاستجمار; لأن نجاستها مغلظة …

3 كالثوب والبدن والبقعة.

4 أي لا يعلم عددها. والقول الآخر: انه إذا علم عدد النجس صلى بعددها وزاد صلاة".

5 لأن الأصل عدم النجاسة.

6 للبعد عن النجاسة على الوجه الأكمل، والاحتياط مسلك الحنابلة في العبادات …
সকল তরল পদার্থের বিধান পানির বিধানের ন্যায়, তা পরিমাণে অল্প হোক বা অধিক। এটি আহমাদ থেকে প্রাপ্ত একটি বর্ণনা (رواية) এবং এটি আয-যুহরি ও আল-বুখারির মাযহাব; আর এটি মালিক থেকে একটি বর্ণনা (رواية) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। শাইখ তাকীউদ্দীন 'শারহুল উমদাহ'-তে উল্লেখ করেছেন যে, পানির অপবিত্রতা সত্তাগত নয়; কারণ এটি অন্য বস্তুকে পবিত্র করে, তাই এটি নিজের ক্ষেত্রে পবিত্র হওয়ার অধিক উপযোগী। আর তরল পদার্থ ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে সামান্য অপবিত্রতা ক্ষমাযোগ্য; কারণ "সাহাবীগণ রক্তের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও সালাত আদায় করেছেন এবং তাদের মাঝে কোনো বিরোধিতাকারী জানা যায়নি।"

পরিচ্ছেদ

যদি কাপড়ের অপবিত্রতার স্থানটি অস্পষ্ট হয়ে যায়, তবে ততটুকু ধৌত করতে হবে যার মাধ্যমে তা দূর করার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়। যদি পবিত্র কাপড় ও অপবিত্র কাপড়ের মাঝে সংশয় তৈরি হয়—সেগুলোর সংখ্যা জানা থাকুক বা না থাকুক ৪—তবে অনুসন্ধানের মাধ্যমে সেগুলোর একটিতে সালাত আদায় করবে, শাইখ তাকীউদ্দীন এই মতটিই গ্রহণ করেছেন।

আর যখন অপবিত্রতা কাপড় বা শরীরে লেগেছে কি না সে বিষয়ে সন্দেহ হয়, তখন আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ তা পানি ছিটিয়ে ধোয়ার নির্দেশ দেন এবং সন্দেহযুক্ত বস্তুর ক্ষেত্রে পানি ছিটানোকেই বিধান হিসেবে গণ্য করেন, যেমনটি ইমাম মালিকের মাযহাব; আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে আবশ্যক ৫ মনে করেন না। এমতাবস্থায় যদি কেউ সতর্কতা অবলম্বন করে এবং পানি ছিটিয়ে দেয় তবে তা উত্তম ৬ হবে, যেমনটি আনাস (রা.) মাদুরের ওপর পানি ছিটিয়েছিলেন এবং উমর (রা.) তাঁর কাপড়ে পানি ছিটিয়েছিলেন ইত্যাদি।

আর যে শিশু এখনো খাবার গ্রহণ শুরু করেনি তার প্রস্রাবের ক্ষেত্রে পানি ছিটিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট, উম্মে কায়সের হাদিসের কারণে:

--------------------------------------------

১. সাধারণভাবে অপবিত্রতার দ্বারা পরিবর্তনের ফলে তা অপবিত্র হওয়ার মাধ্যমে; আর যদি পরিবর্তিত না হয় তবে তা অধিক পরিমাণ হলে অপবিত্র হয় না, আর অল্প হওয়ার ক্ষেত্রে দুটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে। আর এটি নিজে নিজে পরিবর্তিত হয়ে গেলে পবিত্র হওয়ার মাধ্যমে।

২. প্রস্রাব ও মল ব্যতীত এবং পাথর দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের পর অবশিষ্ট চিহ্ন ব্যতীত; কারণ এগুলোর অপবিত্রতা অত্যন্ত গুরুতর …

৩. যেমন কাপড়, শরীর ও স্থান।

৪. অর্থাৎ সেগুলোর সংখ্যা জানা নেই। অন্য মতটি হলো: যদি অপবিত্র বস্তুর সংখ্যা জানা থাকে, তবে সেগুলোর সমপরিমাণ সালাত আদায় করবে এবং একটি সালাত বৃদ্ধি করবে।

৫. কারণ মূলনীতি হলো অপবিত্রতা না থাকা।

৬. পরিপূর্ণভাবে অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকার জন্য; আর ইবাদতের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হাম্বলিগণের কর্মপন্থা …
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ৮)
أنها "أتت بابن لها صغير لم يأكل الطعام إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأجلسه في حجره فبال على ثوبه، فدعا بماء فنضحه ولم يغسله" 1 متفق عليه 2.

ومني الآدمي طاهر، لحديث عائشة: "كانت تفرك المني من ثوب رسول الله صلى الله عليه وسلم" متفق عليه 3.

وبول ما يؤكل لحمه طاهر، لحديث العرنيين المتفق عليه … 4 فإن قيل 5 إن ذلك لأجل التداوي: قلنا لا يصح، لأنه صلى الله عليه وسلم قال: "إن الله لم يجعل شفاء أمتي فيما حرم عليهم". ونص الإمام أحمد رحمه الله أنه إذا سقط عليه ماء من ميزاب ونحوه ولا أمارة على النجاسة، لم يلزمه السؤال عنه 6 بل يكره. 7
তিনি (উম্মে কায়স) তাঁর এক ছোট শিশু সন্তানকে নিয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলেন যে তখনও খাবার (শক্ত খাবার) গ্রহণ করেনি। তিনি তাকে তাঁর কোলে বসালেন, তখন শিশুটি তাঁর কাপড়ে প্রস্রাব করে দিল। অতঃপর তিনি পানি চাইলেন এবং তা (প্রস্রাবের স্থানে) ছিটিয়ে দিলেন, কিন্তু তা ধৌত করলেন না। ১ (এটি) সর্বসম্মত (متفق عليه) ২।

আর মানুষের বীর্য পবিত্র (طاهر), কারণ আয়েশা (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত আছে: "তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাপড় থেকে বীর্য খুঁটে পরিষ্কার করতেন।" (এটি) সর্বসম্মত (متفق عليه) ৩।

এবং যে প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করা হয় তার প্রস্রাব পবিত্র (طاهر), উরাইনাহ গোত্রের লোকদের নিয়ে বর্ণিত সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিসের কারণে … ৪ যদি বলা হয় ৫ যে, তা কেবল চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ছিল; তবে আমরা বলব যে তা সঠিক (صحيح) নয়, কারণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের জন্য যা হারাম (حرام) করেছেন তাতে কোনো নিরাময় রাখেননি।" আর ইমাম আহমাদ (রহ.) সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যদি কারো ওপর বাড়ির পরনালা বা অনুরূপ কিছু থেকে পানি পড়ে এবং নাপাকির (نجاسة) কোনো আলামত বা চিহ্ন না থাকে, তবে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা তার জন্য জরুরি নয় ৬ বরং তা অপছন্দনীয় (مكروه)। ৭
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌باب الآنية

لا يجوز استعمال آنية الذهب والفضة في طهارة ولا غيرها، لحديث حذيفة المتفق عليه. 8

وتصح الطهارة منهما. 9

--------------------------------------------

1 البخاري: الوضوء (223) ، ومسلم: الطهارة (287) والسلام (2214) ، والترمذي: الطهارة (71) ، والنسائي: الطهارة (302) ، وأبو داود: الطهارة (374) ، وابن ماجه: الطهارة وسننها (524) ، وأحمد (6/355) ، ومالك: الطهارة (143) ، والدارمي: الطهارة (741) .

2 فتح الباري ج 1/ 326 رقم الحديث 223. وفي شرح مسلم ج 3/ 194.

3 شرح مسلم 3/ 196.

4 وفيه: أن النبي صلى الله عليه وسلم أمرهم أن يشربوا من أبوال وألبان إبل الصدقة فتح الباري ج 1/ 335.

5 وهذا يرد ممن قال بنجاسة ما يؤكل لحمه.

6 بناء على أن الأصل طهارة الماء.

7 أي السؤال وذلك لما فيه من التكلف …

8 وفيه: وكان حذيفة بالمدائن واستسقى فأتاه دهقان بقدح فضة فرماه … إلى أن قال: وإن النبي صلى الله عليه وسلم نهانا عن الحرير والديباج، والشرب في آنية الذهب والفضة، فتح الباري ج 10/ 94.

9 لعدم تعلق التحريم بالشرط وهو الماء.
পাত্র সংক্রান্ত অধ্যায়

পবিত্রতা অর্জন বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সোনা ও রূপার পাত্র ব্যবহার করা বৈধ নয়, হুজাইফা (রা.) বর্ণিত ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليه) হাদিসের কারণে। 8

তবে এ ধরনের পাত্রের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা সঠিক (صحيح) বলে গণ্য হবে। 9

--------------------------------------------

১. বুখারি: ওজু (২২৩), মুসলিম: পবিত্রতা (২৮৭) ও সালাম (২২১৪), তিরমিজি: পবিত্রতা (৭১), নাসায়ি: পবিত্রতা (৩০২), আবু দাউদ: পবিত্রতা (৩৭৪), ইবনে মাজাহ: পবিত্রতা ও এর সুন্নতসমূহ (৫২৪), আহমদ (৬/৩৫৫), মালিক: পবিত্রতা (১৪৩), দারেমি: পবিত্রতা (৭৪১)।

২. ফাতহুল বারি খণ্ড ১/৩২৬, হাদিস নং ২২৩। এবং শারহ মুসলিম খণ্ড ৩/১৯৪।

৩. শারহ মুসলিম ৩/১৯৬।

৪. এতে বর্ণিত হয়েছে যে: নবী (সা.) তাঁদের সদকার উটের প্রস্রাব ও দুধ পান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন; ফাতহুল বারি খণ্ড ১/৩৩৫।

৫. এটি তাদের মতকে খণ্ডন করে যারা ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর দেহনিঃসৃত বস্তুকে অপবিত্র (نجاسة) বলে গণ্য করেন।

৬. এই মূলনীতির ভিত্তিতে যে, পানির মৌলিক অবস্থা হলো পবিত্রতা।

৭. অর্থাৎ প্রশ্ন করা, আর তা এক প্রকার অহেতুক কৃত্রিমতা হওয়ার কারণে ...

৮. এতে বর্ণিত হয়েছে যে: হুজাইফা (রা.) মাদায়েন শহরে ছিলেন এবং পানি পান করতে চাইলেন। তখন একজন গ্রাম্য প্রধান তাঁর কাছে রূপার পেয়ালা নিয়ে এল, তিনি সেটি ছুড়ে ফেলে দিলেন ... পরিশেষে বললেন: নবী (সা.) আমাদের রেশম ও দিবায (উন্নত রেশমি বস্ত্র) পরিধান করতে এবং সোনা ও রূপার পাত্রে পান করতে নিষেধ করেছেন; ফাতহুল বারি খণ্ড ১০/৯৪।

৯. কারণ নিষেধাজ্ঞাটি শর্তের (অর্থাৎ পানির) সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ৯)
وقال في الاختيارات: ويحرم اتخاذهما 1. وحكم المضبب بهما حكمهما; لأنه إذا استعمله فقد استعملهما. إلا أن تكون الضبة يسيرة من الفضة لتشعب القداح، إذا لم يباشرها بالاستعمال، لما روي "أن قدح النبي صلى الله عليه وسلم انكسر فاتخذ مكان الشعب سلسلة من فضة" 2 رواه البخاري. 3

واختار الشيخ تقي الدين الإباحة إذا كانت أقل مما هي فيه … 4 ويجوز اتخاذ الآنية الطاهرة واستعمالها، ولو كانت ثمينة: كالياقوت، والعقيق، والنحاس، والحديد، والجلود، ونحوها.

ولا يجوز تمويه السقوف بالذهب والفضة، ولا يجوز لطخ اللجام والسرج بالفضة. وعنه 5 ما يدل على الإباحة، وهو مذهب أبي حنيفة، وقال الشيخ تقي الدين في الاختيارات ويباح الاكتحال بميل الذهب والفضة، لأنها حاجة؛ ويباحان لها، قاله أبو المعالي.

ويجوز استعمال أواني أهل الكتاب، وثيابهم ما لم تعلم نجاسته. وهم على قسمين: من لا يستحل الميتة كاليهود فأوانيهم طاهرة.

والثاني: من يستحل الميتات كعبدة الأوثان، والمجوس.

--------------------------------------------

1 الاختيارات: 6.

2 البخاري: فرض الخمس (3109) .

3 فتح الباري ج 10/ 99.

4 انظر الاختيارات: 6.

5 عن أحمد رحمه الله.
তিনি 'আল-ইখতিয়ারাত' গ্রন্থে বলেছেন: এই উভয়টি (স্বর্ণ ও রৌপ্য) গ্রহণ করা নিষিদ্ধ (يحرم) ১। এবং এই দুটির মাধ্যমে জোড়া লাগানো বা প্রলেপ দেওয়া (المضبب) জিনিসের বিধানও এই দুটির বিধানের মতোই; কারণ যখন কেউ এটি ব্যবহার করে, তখন সে প্রকৃতপক্ষে এই দুটিকেই ব্যবহার করে। তবে যদি পাত্রের ফাটল জোড়া দেওয়ার জন্য রৌপ্যের সামান্য প্রলেপ (ضبة) লাগানো হয়, এবং ব্যবহারের সময় সেটি সরাসরি স্পর্শ (يباشرها) না করা হয়, তবে তা বৈধ। কেননা বর্ণিত হয়েছে যে, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি পেয়ালা ভেঙে গিয়েছিল, তখন তিনি সেই ভাঙা স্থানে রৌপ্যের একটি শিকল লাগিয়েছিলেন" ২। এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। ৩

শায়খ তাকিউদ্দিন বৈধতা (الإباحة) বেছে নিয়েছেন যদি এটি মূল জিনিসের তুলনায় নগন্য হয় … ৪ এবং পবিত্র (الطاهرة) পাত্র সংগ্রহ করা ও তা ব্যবহার করা জায়েজ (يجوز), যদিও তা মূল্যবান হয়: যেমন ইয়াকুত, আকিক, তামা, লোহা, চামড়া এবং এই জাতীয় অন্যান্য বস্তু।

স্বর্ণ ও রৌপ্য দিয়ে ছাদ অলঙ্কৃত করা জায়েজ (لا يجوز) নয়, এবং রৌপ্য দিয়ে লাগাম ও জিন রঞ্জিত করাও জায়েজ (لا يجوز) নয়। তাঁর (ইমাম আহমাদ) ৫ থেকে এমন বর্ণনাও রয়েছে যা বৈধতার (الإباحة) ওপর প্রমাণ দেয়, আর এটিই আবু হানিফার মাযহাব। শায়খ তাকিউদ্দিন 'আল-ইখতিয়ারাত' গ্রন্থে বলেছেন: স্বর্ণ ও রৌপ্যের তৈরি শলাকা (ميل) দিয়ে সুরমা লাগানো বৈধ (يباح), কারণ এটি একটি প্রয়োজনীয় বিষয়; আর এ দুটি নারীর জন্য বৈধ (يباحان), এটি আবু আল-মা'আলি বলেছেন।

আহলে কিতাবদের পাত্র এবং পোশাক ব্যবহার করা জায়েজ (يجوز), যতক্ষণ না তার অপবিত্রতা (نجاسته) সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। তারা দুই প্রকার: এক প্রকার যারা মৃত প্রাণীকে হালাল (لا يستحل) মনে করে না, যেমন ইহুদি; তাদের পাত্রসমূহ পবিত্র (طاهرة)।

দ্বিতীয় প্রকার: যারা মৃত প্রাণীকে হালাল (يستحل) মনে করে, যেমন মূর্তিপূজক ও অগ্নিপূজক।

--------------------------------------------

১. আল-ইখতিয়ারাত: ৬।

২. বুখারী: ফারদুল খুমুস (৩১০৯)।

৩. ফাতহুল বারী খণ্ড ১০/ ৯৯।

৪. দেখুন আল-ইখতিয়ারাত: ৬।

৫. ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ১০)
فما لم يستعملوه من آنيتهم فهو طاهر، وما استعملوه فهو نجس، لحديث أبي ثعلبة، وهو متفق عليه 1. وما شرك في استعماله فهو طاهر 2.

وكل جلد ميتة دبغ، أو لم يدبغ فهو نجس. وقال الشيخ تقي الدين: آخر الروايتين عن أحمد أن الدباغ مطهر; لحديث ابن عباس: "أنه صلى الله عليه وسلم مر بشاة ميتة فقال: هلا انتفعتم بجلدها، قالوا: إنها ميتة، قال: إنما حرم أكلها" 3. وفي لفظ: "ألا خذوا إهابها فادبغوه فانتفعوا به" رواه مسلم.

وهل يختص ذلك بكل مأكول، أو ما كان طاهرا في حال الحياة؟ على روايتين …

وصوف الميتة، وشعرها، وريشها، وبيضها طاهر; لأنه لا روح فيه، ولا يحله الموت 4 واختار الشيخ تقي الدين: طهارة قرنها، وعظمها، وظفرها، وما هو من جنسه كالحافر ونحوه، وقال: قاله غير واحد من العلماء.

وكل ميتة نجسة; لقوله تعالى: {حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ} 5 إلا الآدمي، لحديث أبي هريرة، متفق عليه.

وحيوان الماء الذي لا يعيش إلا فيه طاهر إذا مات فيه حلت ميتته،

--------------------------------------------

1 فتح الباري شرح صحيح البخاري الجزء 7/ 75 في باب الذبائح والصيد.

2 لأن الأصل الطهارة …

3 النووي على مسلم 4/ 51.

4 لأنه حلال قبل الموت بخلاف غيره من الأعضاء والتي لا تحل إلا بالموت، فلو قطعت قبل الموت حرمت كاليد والرجل ونحوها …

5 سورة المائدة آية: 3.
তাদের ব্যবহৃত নয় এমন পাত্রসমূহ পবিত্র (طاهر), এবং যা তারা ব্যবহার করেছে তা অপবিত্র (نجس), আবু সালাবা (রা.)-এর হাদিসের কারণে, যা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত (متفق عليه) ১। এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে যা অংশীদারিত্বমূলক তা পবিত্র (طاهر) ২।

মৃত প্রাণীর প্রতিটি চামড়া তা ট্যানিং করা হোক বা না হোক, অপবিত্র (نجس)। শেখ তাকিউদ্দীন বলেন: ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুই বর্ণনার (روايتين) শেষটি হলো যে, ট্যানিং পবিত্রকারী (مطهر); ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিসের কারণে: "রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি মৃত বকরির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন: তোমরা কেন এর চামড়া দ্বারা উপকৃত হলে না? তারা বলল: এটি তো মৃত। তিনি বললেন: কেবল এর ভক্ষণ হারাম করা হয়েছে" ৩। এবং অন্য শব্দে এসেছে: "তোমরা কেন এর কাঁচা চামড়া গ্রহণ করলে না, অতঃপর তা ট্যানিং করতে এবং তা থেকে উপকৃত হতে" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

এবং এটি কি প্রতিটি ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট, নাকি যা জীবিত অবস্থায় পবিত্র (طاهر) ছিল তার ক্ষেত্রে? এটি দুই বর্ণনার (روايتين) ওপর ভিত্তি করে …

মৃত প্রাণীর পশম, চুল, পালক এবং এর ডিম পবিত্র (طاهر); কারণ এতে কোনো প্রাণ নেই এবং মৃত্যু একে অপবিত্র করে না ৪। এবং শেখ তাকিউদ্দীন পছন্দ করেছেন: এর শিং, হাড়, নখ এবং এই জাতীয় খুর ইত্যাদির পবিত্রতা (طهارة)। তিনি বলেছেন: একাধিক আলেম এ কথা বলেছেন।

এবং প্রতিটি মৃত প্রাণীই অপবিত্র (نجسة); মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তোমাদের জন্য মৃত প্রাণী হারাম করা হয়েছে} ৫, কেবল মানুষ ব্যতীত, আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসের কারণে, যা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত (متفق عليه)।

জলের প্রাণী যা কেবল পানিতেই বাস করে, তা পবিত্র (طاهر); যদি তাতে মারা যায় তবে তার মৃতদেহ হালাল হয়,

--------------------------------------------

১ ফাতহুল বারী শরহ সহীহ বুখারী, খণ্ড ৭/৭৫, জবেহ ও শিকার অধ্যায়।

২ কারণ মূল বিধান হলো পবিত্রতা (طهارة) …

৩ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর শরহ ৪/৫১।

৪ কারণ মৃত্যুর পূর্বে এটি হালাল ছিল, অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিপরীতে যা কেবল মৃত্যুর মাধ্যমেই হালাল হয়। সুতরাং যদি মৃত্যুর পূর্বে কোনো অঙ্গ কেটে নেওয়া হয় তবে তা হারাম হবে, যেমন হাত, পা এবং অনুরূপ …

৫ সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৩।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ১১)
لقوله عليه الصلاة والسلام في البحر: "هو الطهور ماؤه الحل ميتته" 1.

وما لا نفس له سائلة إذا مات فهو طاهر إذا لم يكن متولداً من نجاسة.

وتباح الصلاة في ثياب الصبيان، والمربيات وثوب المرأة الذي تحيض فيه، لصلاته صلى الله عليه وسلم وهو حامل أمامة بنت ابنته. قاله في الشرح 2.
সমুদ্র সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "এর পানি পবিত্রকারী এবং এর মৃত (ميتة) প্রাণী হালাল (حلال)।" ১।

আর যার প্রবাহিত রক্ত (نفس سائلة) নেই, তা মারা গেলে তা পবিত্র (طاهر), যদি তা অপবিত্রতা থেকে উৎপন্ন না হয়।

শিশুদের পোশাক, ধাত্রীদের পোশাক এবং ঋতুবতী নারীর পরিহিত পোশাকে সালাত আদায় করা বৈধ (مباح), কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কন্যার কন্যা উমামাহকে বহন করা অবস্থায় সালাত আদায় করেছেন। ‘আশ-শারহ’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করা হয়েছে ২।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌باب الاستنجاء

وهو إزالة خارج من سبيل بماء، أو إزالة حكمه بحجر ونحوه.

يستحب لمن أراد دخول الخلاء أن يقول: بسم الله; لحديث علي 3 رواه ابن ماجه. ويقول: أعوذ بالله من الخبث والخبائث، لحديث أنس، متفق عليه 4.

ويستحب أن يقول عند خروجه: غفرانك، لحديث أنس، رواه الترمذي 5. ويسن أن يقول: الحمد لله الذي أذهب عني الأذى وعافاني، لحديث أنس، رواه ابن ماجه 6. ويقدم رجله اليسرى في الدخول، واليمني في الخروج، عكس مسجد ونعل.

--------------------------------------------

1 الترمذي: الطهارة (69) ، والنسائي: المياه (332) والصيد والذبائح (4350) ، وأبو داود: الطهارة (83) ، وابن ماجه: الطهارة وسننها (386) والصيد (3246) ، وأحمد (2/237 ،2/361) ، ومالك: الطهارة (43) ، والدارمي: الطهارة (729) .

2 هذا ما لم تصبه نجاسة من بول أو دم.

3 نيل الأوطار ج 1/ 85. ونصه ستر ما بين الجن وعورات بني آدم إذا دخل الكنيف أن يقول: بسم الله.

4 النووي على مسلم 4/ 70.

5 نيل الأوطار: ج 1/ 86.

6 نيل الأوطار ج1/ 86.
ইস্তিঞ্জা (শৌচক্রিয়া) পরিচ্ছেদ

এটি হলো পানি দ্বারা রাস্তা (যৌনাঙ্গ ও মলদ্বার) দিয়ে নির্গত বস্তু দূর করা, অথবা পাথর ও অনুরূপ বস্তুর মাধ্যমে এর হুকুম বা প্রভাব দূর করা।

টয়লেটে প্রবেশের ইচ্ছা পোষণকারীর জন্য 'বিসমিল্লাহ' বলা মুস্তাহাব (مستحب); আলী (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসের কারণে যা ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। এবং সে বলবে: 'আউযু বিল্লাহি মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবায়িস' (আমি অপবিত্র পুরুষ ও নারী শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি); আনাস (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসের কারণে, যা সর্বসম্মত (متفق عليه)।

বের হওয়ার সময় 'গুফরা-নাকা' (আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি) বলা মুস্তাহাব (مستحب); আনাস (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসের কারণে যা তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। এবং এটি সুন্নাত (سنة) যে, সে বলবে: 'আলহামদুলিল্লাহিল্লাযী আযহাবা আন্নিল আযা ওয়া আ-ফানি' (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে সুস্থতা দান করেছেন); আনাস (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসের কারণে যা ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। প্রবেশের সময় সে তার বাম পা এবং বের হওয়ার সময় ডান পা আগে দেবে; যা মসজিদ (প্রবেশ) ও জুতা (পরিধানের) বিপরীত।

--------------------------------------------

১. তিরমিযী: পবিত্রতা (৬৯), নাসায়ী: পানি (৩৩২) ও শিকার এবং জবেহকৃত প্রাণী (৪৩৫০), আবু দাউদ: পবিত্রতা (৮৩), ইবনে মাজাহ: পবিত্রতা ও এর সুন্নাতসমূহ (৩৮৬) ও শিকার (৩২৪৬), আহমাদ (২/২৩৭, ২/৩৬১), মালিক: পবিত্রতা (৪৩), দারেমী: পবিত্রতা (৭২৯)।

২. এটি ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না তা প্রস্রাব বা রক্ত দ্বারা নাপাক হয়।

৩. নাইলুল আওতার খণ্ড ১/৮৫। এর পাঠ হলো: জিনদের চোখ এবং আদম সন্তানদের লজ্জাস্থানের মধ্যকার পর্দা হলো, যখন কেউ টয়লেটে প্রবেশ করবে তখন বলবে: 'বিসমিল্লাহ'।

৪. মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যা ৪/৭০।

৫. নাইলুল আওতার: খণ্ড ১/৮৬।

৬. নাইলুল আওতার খণ্ড ১/৮৬।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ১২)
ولا يدخله بشيء فيه اسم الله، لأنه صلى الله عليه وسلم "إذا دخل الخلاء وضع خاتمه" 1، رواه أبو داود 2، وقال حديث منكر. فإن احتاج إلى ذلك دخل، ويستره، لأنه حالة ضرورة.

ويعتمد في جلوسه على رجله اليسرى; لأنه أسهل للخارج، لحديث قيس بن مالك، أخرجه الطبراني 3. وإن كان في الفضاء أبعد واستتر، لحديث المغيرة، رواه أبو داود 4.

ويرتاد لبوله موضعا رخوا، ولا يبول في شق، ولا سرب، لحديث عبد الله بن سرجس رواه أبو داود 5.

ولا يبول في طريق نافع، ولا تحت شجرة مثمرة، لأنه يؤذي الناس بذلك; وقال صلى الله عليه وسلم "اتقوا اللاعنين " 6 رواه مسلم 7.

ولا يستقبل القبلة في القضاء، لحديث أبي أيوب، متفق عليه 8. وفي استدبارها في الفضاء، واستقبالها في البنيان روايتان. قال الشيخ تقي الدين: يحرم استقبال القبلة، واستدبارها عند التخلي مطلقا، سواء الفضاء والبنيان 9. وهو رواية اختارها أبو بكر عبد العزيز.

--------------------------------------------

1 الترمذي: اللباس (1746) ، والنسائي: الزينة (5213) ، وأبو داود: الطهارة (19) ، وابن ماجه: الطهارة وسننها (303) .

2 نيل الأوطار: جم 1/ 86.

3 هذا الحديث ضعفه النووي. وراويه سراقة بن مالك.

4 مختصر شرح وتهذيب سنن أبي داود ج1/ 14.

5 نيل الأوطار ج1/ 98.

6 مسلم: الطهارة (269) ، وأبو داود: الطهارة (25) ، وأحمد (2/372) .

7 النووي على مسلم ج3/ 161.

8 النووي على مسلم ج3/ 152 ، 153.

9 الاختيارات: 8.
এবং আল্লাহ্‌র নাম সম্বলিত কোনো কিছু সাথে নিয়ে শৌচাগারে প্রবেশ করবে না; কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) "যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন তখন তাঁর আংটি খুলে রাখতেন।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে প্রত্যাখ্যাত (منكر) হাদিস বলেছেন। তবে যদি এর প্রয়োজন হয় তবে তা সাথে নিয়ে প্রবেশ করবে এবং তা ঢেকে রাখবে; কারণ এটি একটি বিশেষ প্রয়োজন (জরুরি অবস্থা)।

এবং বসার সময় বাম পায়ের ওপর ভর দিয়ে বসবে; কারণ এটি মল-মূত্র নির্গমনের জন্য অধিক সহজতর। এটি কায়েস ইবনে মালিক বর্ণিত হাদিসের কারণে, যা তাবারানি বর্ণনা করেছেন। আর যদি খোলা জায়গায় হয়, তবে দূরে যাবে এবং আড়ালে থাকবে; মুগীরাহ বর্ণিত হাদিসের কারণে, যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

এবং প্রস্রাবের জন্য নরম জায়গা খুঁজবে। কোনো ছিদ্র বা গর্তে প্রস্রাব করবে না; আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস বর্ণিত হাদিসের কারণে, যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

আর কোনো জনচলাচলের পথে কিংবা ফলবান বৃক্ষের নিচে প্রস্রাব করবে না; কারণ এর দ্বারা সে মানুষকে কষ্ট দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা অভিশাপের দুটি কারণ থেকে বেঁচে থাকো।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

প্রয়োজন পূরণের (মল-মূত্র ত্যাগের) সময় কিবলামুখী হবে না; আবু আইয়ুব বর্ণিত হাদিসের কারণে, যা ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه)। আর খোলা জায়গায় কিবলার দিকে পিঠ দেওয়া এবং বসতবাড়ির অভ্যন্তরে কিবলামুখী হওয়ার বিষয়ে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে। শাইখ তাকিউদ্দীন বলেন: মল-মূত্র ত্যাগের সময় কিবলামুখী হওয়া এবং কিবলার দিকে পিঠ দেওয়া সর্বাবস্থায় হারাম, তা খোলা জায়গা হোক কিংবা দালানকোঠা হোক। এটি একটি বর্ণনা (رواية), যা আবু বকর আব্দুল আজিজ গ্রহণ করেছেন।

--------------------------------------------

১ তিরমিজি: পোশাক অধ্যায় (১৭৪৬), নাসায়ি: সৌন্দর্য অধ্যায় (৫২১৩), আবু দাউদ: পবিত্রতা অধ্যায় (১৯), ইবনে মাজাহ: পবিত্রতা ও এর সুন্নতসমূহ (৩০৩)।

২ নাইলুল আওতার: খণ্ড ১/ ৮৬।

৩ এই হাদিসটি ইমাম নববী দুর্বল (ضعيف) বলেছেন। এর বর্ণনাকারী হলেন সুরাকা ইবনে মালিক।

৪ মুখতাসার শারহ ওয়া তাহজিব সুনান আবু দাউদ, খণ্ড ১/ ১৪।

৫ নাইলুল আওতার, খণ্ড ১/ ৯৮।

৬ মুসলিম: পবিত্রতা অধ্যায় (২৬৯), আবু দাউদ: পবিত্রতা অধ্যায় (২৫), আহমাদ (২/৩৭২)।

৭ মুসলিম শরহে নববী, খণ্ড ৩/ ১৬১।

৮ মুসলিম শরহে নববী, খণ্ড ৩/ ১৫২, ১৫৩।

৯ আল-ইখতিয়ারাত: ৮।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ১৩)
ولا يكفي انحرافه عن الجهة. قال في الاختيارات: قلت: وهو ظاهر كلام جده 1.

ولا يمس ذكره بيمينه، ولا يستجمر بها، لحديث أبي قتادة. متفق عليه 2. قال الشيخ تقي الدين: يكره، السلت، والنتر، ولم يصح الحديث في الأمر به 3. والتمشي، والتنحنح عقيب البول بدعة 4.

فصل

ثم يستجمر وترا ; لقوله عليه الصلاة والسلام: "من استجمر فليوتر، من فعل قد أحسن ومن لا فلا حرج" 5 رواه أبو داود 6.

وأثر الاستجمار بنخس يعفى عن يسيره … وعنه أنه طاهر 7، اختاره الشيخ تقي الدين. ثم يستنجي لحديث عائشة 8، قال الترمذي: حديث صحيح. فإن

--------------------------------------------

1 الاختيارات: 8.

2 النووي على مسلم ج3/ 159.

3 يشير إلى ما استدل به بعض الفقهاء على النتر وهو ما ورد أنه قال: إذا بال أحدكم فلينتر، ولم يصح كما أشار.

4 يشير الشيخ إلى ما ذهب إليه البعض من المبالغة المؤدية إلى العنت والمشقة والوسوسة بحجة الاحتياط من البول …

5 البخاري: الوضوء (161 ،162) ، ومسلم: الطهارة (237) ، والنسائي: الطهارة (88) ، وأبو داود: الطهارة (35) ، وابن ماجه: الطهارة وسننها (338 ،409) ، وأحمد (2/236 ،2/254 ،2/277 ،2/278 ،2/308 ،2/314 ،2/351 ،2/356 ،2/360 ،2/387 ،2/401 ،2/463 ،2/482) ، ومالك: الطهارة (33 ،34) ، والدارمي: الطهارة (662) .

6 نيل الأوطار: ج1/ 109.

7 الإنصاف ج1/ 109.

8 المراد به حديث عائشة الذي فيه: مرن أزواجكن أن يستطيبوا بالماء … الحديث / الترمذي 1/ 30.
দিক থেকে বিচ্যুত হওয়াই যথেষ্ট নয়। আল-ইখতিয়ারাত গ্রন্থে বলা হয়েছে: আমি বলছি: এটিই তাঁর দাদার বক্তব্যের স্পষ্ট মর্ম ১।

এবং সে তার ডান হাত দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করবে না এবং তা দিয়ে ইস্তিজমার করবে না, আবু কাতাদা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে। এটি সর্বসম্মত (متفق عليه) ২। শাইখ তাকিউদ্দীন বলেন: লিঙ্গ মোক্ষণ এবং টেনে ঝাড়া অপছন্দনীয়; আর এটি করার নির্দেশের ক্ষেত্রে হাদিসটি বিশুদ্ধ (صحيح) নয় ৩। প্রস্রাবের পর পায়চারি করা এবং গলা খাঁকারি দেওয়া বিদআত ৪।

পরিচ্ছেদ

অতঃপর সে বেজোড় সংখ্যায় ইস্তিজমার করবে; কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি ইস্তিজমার করে সে যেন বেজোড় সংখ্যায় করে। যে তা করল সে ভালো কাজ করল, আর যে করল না তার কোনো সমস্যা নেই" ৫ এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন ৬।

আর ইস্তিজমারের সামান্য অবশিষ্ট চিহ্ন ক্ষমাযোগ্য … এবং তাঁর থেকে বর্ণিত একটি মত অনুযায়ী তা পবিত্র ৭, যা শাইখ তাকিউদ্দীন পছন্দ করেছেন। অতঃপর সে আয়েশা (রা.)-এর হাদিসের কারণে ইস্তিনজা করবে ৮, ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস। যদি

--------------------------------------------

১ আল-ইখতিয়ারাত: ৮।

২ মুসলিমের ওপর নববীর শারহ, খণ্ড ৩/ ১৫৯।

৩ এটি সেই দলিলের দিকে ইঙ্গিত করে যা কোনো কোনো ফকিহ 'নাতর' (টেনে ঝাড়া)-এর স্বপক্ষে পেশ করেছেন এবং যা বর্ণিত হয়েছে এভাবে যে: "যখন তোমাদের কেউ প্রস্রাব করবে সে যেন (লিঙ্গ) টেনে ঝাড়ে"; তবে যেমনটি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা বিশুদ্ধ (صحيح) নয়।

৪ শাইখ এখানে কারো কারো এমন বাড়াবাড়ির দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা প্রস্রাবের ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার দোহাই দিয়ে কষ্ট, কাঠিন্য এবং কুমন্ত্রণার দিকে নিয়ে যায় …

৫ বুখারি: ওজু (১৬১, ১৬২), মুসলিম: পবিত্রতা (২৩৭), নাসাঈ: পবিত্রতা (৮৮), আবু দাউদ: পবিত্রতা (৩৫), ইবনে মাজাহ: পবিত্রতা ও এর সুন্নাতসমূহ (৩৩৮, ৪০৯), আহমদ (২/২৩৬, ২/২৫৪, ২/২৭৭, ২/২৭৮, ২/৩০৮, ২/৩১৪, ২/৩৫১, ২/৩৫৬, ২/৩৬০, ২/৩৮৭, ২/৪০১, ২/৪৬৩, ২/৪৮২), মালিক: পবিত্রতা (৩৩, ৩৪), এবং দারেমি: পবিত্রতা (৬৬২)।

৬ নাইলুল আওতার: খণ্ড ১/ ১০৯।

৭ আল-ইনসাফ খণ্ড ১/ ১০৯।

৮ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আয়েশা (রা.)-এর সেই হাদিস যাতে রয়েছে: "তোমরা তোমাদের স্বামীদের নির্দেশ দাও যেন তারা পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করে..." হাদিস / তিরমিজি ১/ ৩০।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ১৪)
اقتصر على الاستجمار أجزأه إذا نقى وكمل العدد 1، لحديث عائشة، رواه أبو داود 2.

ولا يجزئ أقل من ثلاث مسحات: إما بحجر ذي شعب، أو ثلاثة أحجار، لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا يستنجي أحدكم بدون ثلاثة أحجار" 3 رواه مسلم … 4

ويجوز الاستجمار بكل طاهر منقٍ، لا الروث، والعظام، لحديث ابن مسعود، رواه مسلم. قال في الاختيارات: ويجزئ بعظم، وروث 5.

قلت: وما نهى عنه في ظاهر كلامه لحصول المقصود، وأنه لم ينق، بل لإفساده، فإذا قيل: يزول بطعامنا مع التحريم فهذا أولى 6.

قال في الشرح: والاستجمار بالخشب والخرق وما في معناهما مما ينقي جائز في قول الأكثر 7. وعنه: لا يجزي إلا الأحجار. وهو مذهب داود.

ويجب الاستنجاء بماء، أو الاستجمار بحجر أو نحوه لكل خارج إلا الريح.

--------------------------------------------

1 أي ثلاثا.

2 أبو داود جم1/ 38.

3 مسلم: الطهارة (262) ، والترمذي: الطهارة (16) ، والنسائي: الطهارة (41) ، وأبو داود: الطهارة (7) ، وابن ماجه: الطهارة وسننها (316) ، وأحمد (5/437 ،5/438 ،5/439) .

4 النووي على مسلم 3/ 152.

5 ما أشار إليه من الأجزاء بالعظم والروث هما غير النجسين …

6 الاختيارات: 9.

7 المغني والشرح: مجلد 1/ 94 …
পাথরের মাধ্যমে শৌচকার্য (استجمار) করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা পর্যাপ্ত হবে (أجزأه) যদি তা পরিষ্কার করে এবং সংখ্যা পূর্ণ করে ১, আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন ২।

তিনবার মোছার কম করা পর্যাপ্ত হবে না (لا يجزئ): চাই তা তিন কোণ বিশিষ্ট পাথর দিয়ে হোক অথবা তিনটি পাথর দিয়ে। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন তিনটি পাথরের কম দিয়ে শৌচকার্য (استنجاء) না করে" ৩ যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন … ৪

প্রত্যেক পবিত্র (طاهر) এবং পরিষ্কারকারী (منق) বস্তু দ্বারা পাথরের মাধ্যমে শৌচকার্য (استجمار) করা বৈধ (جائز), তবে গোবর এবং হাড় দ্বারা নয়; ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আল-ইখতিয়ারাত গ্রন্থে তিনি বলেছেন: হাড় এবং গোবর দ্বারাও পর্যাপ্ত হবে (يجزئ) ৫।

আমি বলছি: তিনি যা থেকে নিষেধ করেছেন তার বাহ্যিক বক্তব্য দ্বারা উদ্দেশ্য অর্জিত হওয়া বুঝায়, এবং এটি এমন নয় যে তা পরিষ্কার করে না, বরং তা নষ্ট করার কারণে। সুতরাং যদি বলা হয়: নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের খাদ্য দ্বারা অপবিত্রতা দূরীভূত হয়, তবে এটিই যুক্তিযুক্ত হবে ৬।

আশ-শারহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: কাঠ, ন্যাকড়া এবং এই জাতীয় অন্যান্য পরিষ্কারকারী বস্তু দ্বারা পাথরের মাধ্যমে শৌচকার্য (استجمار) করা অধিকাংশ আলেমের মতে বৈধ (جائز) ৭। তাঁর থেকে একটি বর্ণনা রয়েছে যে: পাথর ব্যতীত অন্য কিছু পর্যাপ্ত হবে না (لا يجزئ)। আর এটিই দাউদ (জাহেরি)-এর মাজহাব (مذهب)।

বায়ু ব্যতীত শরীর থেকে নির্গত প্রতিটি বস্তুর জন্য পানি দ্বারা শৌচকার্য (استنجاء) করা অথবা পাথর বা এই জাতীয় বস্তু দ্বারা পাথরের মাধ্যমে শৌচকার্য (استجمار) করা আবশ্যক (واجب)।

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ তিনবার।

২ আবু দাউদ ১/৩৮।

৩ মুসলিম: পবিত্রতা (২৬২), তিরমিজি: পবিত্রতা (১৬), নাসায়ি: পবিত্রতা (৪১), আবু দাউদ: পবিত্রতা (৭), ইবনে মাজাহ: পবিত্রতা ও এর সুন্নাতসমূহ (৩১৬), আহমাদ (৫/৪৩৭, ৫/৪৩৮, ৫/৪৩৯)।

৪ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে নববী ৩/১৫২।

৫ হাড় ও গোবর দ্বারা পর্যাপ্ত হওয়ার ব্যাপারে তিনি যা ইঙ্গিত করেছেন তা হলো যদি সেগুলো অপবিত্র না হয় …

৬ আল-ইখতিয়ারাত: ৯।

৭ আল-মুগনি ও আশ-শারহ: খণ্ড ১/৯৪ …
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ১৫)
ولا يصح قبله وضوء ولا تيمم; لحديث المقداد المتفق عليه: يغسل ذكره ثم يتوضأ 1. ولو كانت النجاسة على غير السبيلين، أو عليهما غير خارجة منهما: صح الوضوء والتيمم قبل زوالها …
এর আগে অজু বা তায়াম্মুম করা শুদ্ধ (صح) হবে না; মিকদাদ (রা.) থেকে বর্ণিত সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিসের কারণে: "সে যেন তার লজ্জাস্থান ধৌত করে, অতঃপর অজু করে।" আর যদি অপবিত্রতা (نجاسة) মল-মূত্র ত্যাগের দুই পথ (السبيلين) ব্যতীত অন্য কোথাও থাকে, অথবা এই দুই পথের ওপর থাকে কিন্তু তা থেকে নির্গত না হয়: তবে সেই অপবিত্রতা দূর করার আগেই অজু ও তায়াম্মুম করা শুদ্ধ (صح) হবে …
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌باب السواك وسنن الوضوء

السواك بعود لين منق للفم، لا يتفتت، مسنون كل وقت، لحديث: "السواك مطهرة للفم، مرضاة للرب " 2، رواه الشافعي وأحمد وغيرهما 3.

ويسن السواك في جميع الأوقات، لحديث عاثشة، رواه مسلم 4. ويتأكد استحبابه في ثلاثة مواضع: عند تغير رائحة الفم، وعند النوم لحديث حذيفة متفق عليه، وعند إرادة الصلاة، لقوله صلى الله عليه وسلم: "لولا أن أشق على أمتي لأمرتهم بالسواك عند كل صلاة" 5 متفق عليه.

ويستحب في سائر الأوقات، ولو لصائم بعد الزوال، قال في الاختيارات: وهو رواية عن أحمد 6، وقاله مالك وغيره.

--------------------------------------------

1 النووي على مسلم: ج3/ 212.

2 النسائي: الطهارة (5) ، وأحمد (6/47 ،6/62 ،6/124 ،6/146 ،6/238) ، والدارمي: الطهارة (684) .

3 نيل الأوطار/ شرح منتقى الأخبار جزء 1/ 125.

4 لعله يريد حديث عائشة الذي نصه في مسلم: "عن عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا دخل بيته بدأ بالسواك" إذا لم يرد في مسلم ما يفيد العموم بلفظه انظر النووي على مسلم ج3/ 144.

5 البخاري: الجمعة (887) ، ومسلم: الطهارة (252) ، والترمذي: الطهارة (22) ، والنسائي: الطهارة (7) ، وأبو داود: الطهارة (46) ، وابن ماجه: الطهارة وسننها (287) ، وأحمد (2/245 ،2/250 ،2/287 ،2/399 ،2/429 ،2/509 ،2/530) ، ومالك: الطهارة (147) ، والدارمي: الطهارة (683) والصلاة (1484) .

6 الاختيارات: 10.
মিসওয়াক এবং ওযুর সুন্নাতসমূহ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

মুখ পরিষ্কারকারী এবং যা ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যায় না এমন নরম ডাল দ্বারা মিসওয়াক করা সর্বদাই সুন্নাত (مسنون); হাদিসের কারণে: "মিসওয়াক মুখের জন্য পবিত্রতা এবং রবের সন্তুষ্টির মাধ্যম।" ২, এটি বর্ণনা করেছেন শাফেয়ী, আহমাদ এবং অন্যান্যরা ৩।

মিসওয়াক করা সকল সময়েই সুন্নাত (يسن), আয়েশা বর্ণিত হাদিসের কারণে যা বর্ণনা করেছেন মুসলিম ৪। তিনটি ক্ষেত্রে এটি মুস্তাহাব (مستحب) হওয়ার বিষয়টি তাকিদপূর্ণ হয়: যখন মুখের গন্ধ পরিবর্তিত হয়, ঘুমের সময় (ঘুম থেকে জাগলে) হুযায়ফা বর্ণিত সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিসের কারণে, এবং সালাতের ইচ্ছা করার সময়; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে: "আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে তাদের প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।" ৫ এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)।

এটি অন্যান্য সব সময়েও মুস্তাহাব (ويستحب), এমনকি রোযাদারের জন্য সূর্য ঢলে পড়ার (যওয়াল) পরেও। আল-ইখতিয়ারাত গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) ৬, এবং ইমাম মালিক ও অন্যান্যরাও এটি বলেছেন।

--------------------------------------------

১. মুসলিমের ওপর আন-নওয়াবীর শারহ: ৩য় খণ্ড/ ২১২।

২. আন-নাসায়ী: তাহারাত (৫), এবং আহমাদ (৬/৪৭, ৬/৬২, ৬/১২৪, ৬/১৪৬, ৬/২৩৮), আদ-দারিমী: তাহারাত (৬৮৪)।

৩. নায়লুল আওতার/ শারহ মুনতাক্বাল আখবার ১ম খণ্ড/ ১২৫।

৪. সম্ভবত তিনি আয়েশার সেই হাদিসটির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যার পাঠ মুসলিমে রয়েছে: "আয়েশা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর ঘরে প্রবেশ করতেন তখন মিসওয়াক দিয়ে শুরু করতেন।" যদি মুসলিমে এমন কোনো বর্ণনা না থাকে যা সরাসরি শব্দ দ্বারা ব্যাপকতা প্রকাশ করে, তবে দেখুন মুসলিমের ওপর আন-নওয়াবীর শারহ ৩য় খণ্ড/ ১৪৪।

৫. আল-বুখারী: জুমুআ (৮৮৭), মুসলিম: তাহারাত (২৫২), আত-তিরমিযী: তাহারাত (২২), আন-নাসায়ী: তাহারাত (৭), আবু দাউদ: তাহারাত (৪৬), ইবনে মাজাহ: তাহারাত ও তার সুন্নাতসমূহ (২৮৭), আহমাদ (২/২৪৫, ২/২৫০, ২/২৮৭, ২/৩৯৯, ২/৪২৯, ২/৫০৯, ২/৫৩০), মালিক: তাহারাত (১৪৭), আদ-দারিমী: তাহারাত (৬৮৩) এবং সালাত (১৪৮৪)।

৬. আল-ইখতিয়ারাত: ১০।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ১৬)
والأفضل بيده اليسرى.

قال الشيخ تقي الدين: وما علمت إماما خالف في ذلك، والسواك ما علمت أحدا كرهه في المسجد، والآثار تدل عليه 1.

ويستاك عرضا مبتدئاً بجانب فمه الأيمن. ويدهن غبا، لأنه صلى الله عليه وسلم "نهى عن الترجل إلا غبا" 2 رواه النسائي والترمذي 3.

قال الشيخ تقي الدين: ويفعل الأصلح في كل بلد بما يناسبه من الدهن والغسل 4. ويكتحل في كل عين وترا ثلاثا قبل أن ينام; لفعله صلى الله عليه وسلم رواه أحمد 5.

وتجب التسمية في الوضوء مع الذكر، لحديث أبي هريرة رواه أحمد 6، وتسقط مع السهو، وكذا مع غسل وتيمم.

ويجب الختان إذا وجبت الطهارة، والصلاة، وينبغي إذا راهق البلوغ، أن يختتن كما كانت العرب تفعل لئلا يبلغ إلا وهو مختون، قاله في الاختيارات 7.

--------------------------------------------

1 الاختيارات: 10.

2 الترمذي: اللباس (1756) ، والنسائي: الزينة (5055) ، وأبو داود: الترجل (4159) .

3 نيل الأوطار على المنتقى ج1/ 152.

4 الاختيارات: 10.

5 نيل الأوطار ج1/ 156.

6 يريد حديث أبي هريرة الذي نصه: "لا صلاة لمن لا وضوء له، ولا وضوء لمن لا يذكر اسم الله عليه" نيل الأوطار ج1/ 165.

7 الاختيارات: 10.
এবং বাম হাত দিয়ে করা উত্তম।

শাইখ তাকিউদ্দীন বলেন: “এ বিষয়ে কোনো ইমাম ভিন্নমত পোষণ করেছেন বলে আমার জানা নেই। আর মসজিদে মেসওয়াক করা কেউ অপছন্দ করেছেন বলে আমি জানি না, এবং বর্ণনা (آثار) সমূহ এর নির্দেশ প্রদান করে।” ১।

এবং মেসওয়াক করতে হবে প্রস্থে, মুখের ডান দিক থেকে শুরু করে। আর বিরতি দিয়ে মাঝে মাঝে তেল ব্যবহার করবে; কারণ তিনি (সা.) “মাঝে মাঝে ছাড়া চুল আঁচড়াতে নিষেধ করেছেন” ২; এটি নাসায়ি এবং তিরমিজি বর্ণনা করেছেন ৩।

শাইখ তাকিউদ্দীন বলেন: “প্রতিটি ভূখণ্ডে তেল ব্যবহার এবং ধৌতকরণের ক্ষেত্রে যা অধিক উপযোগী বা মানানসই তা-ই করা বিধেয় ৪। আর ঘুমানোর আগে প্রত্যেক চোখে বিজোড় সংখ্যায় তিনবার করে সুরমা লাগাবে; কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) এরূপ করতেন।” এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন ৫।

ওজুর সময় স্মরণ থাকলে তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ বলা) ওয়াজিব, আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে যা আহমাদ বর্ণনা করেছেন ৬। তবে ভুলে গেলে তা মওকুফ হয়ে যায়; অনুরূপ বিধান গোসল এবং তায়াম্মুমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

যখন পবিত্রতা ও সালাত ওয়াজিব হয় তখন খতনা করা ওয়াজিব হয়। যখন সাবালক হওয়ার নিকটবর্তী হয়, তখন খতনা করে নেয়া উচিত যেমনটি আরবরা করত, যাতে সে খতনাকৃত অবস্থায় সাবালকত্ব লাভ করে; এটি আল-ইখতিয়ারাত গ্রন্থে বলা হয়েছে ৭।

--------------------------------------------

১. আল-ইখতিয়ারাত: ১০।

২. তিরমিজি: আল-লিবাস (১৭৫৬), নাসায়ি: আজ-জিনাহ (৫০৫৫), এবং আবু দাউদ: আত-তরাজ্জুল (৪১৫৯)।

৩. নায়লুল আওতার আলাল মুনতাকা ১/১৫২।

৪. আল-ইখতিয়ারাত: ১০।

৫. নায়লুল আওতার ১/১৫৬।

৬. তিনি আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত সেই হাদিসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যার পাঠ হলো: “যার ওজু নেই তার সালাত নেই, আর যে আল্লাহর নাম নেয়নি (ওজুর শুরুতে) তার ওজু নেই।” নায়লুল আওতার ১/১৬৫।

৭. আল-ইখতিয়ারাত: ১০।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ১৭)
ويكره القزع، وهو: حلق بعض الرأس وترك بعض،. وكذا حلق القفا لغير حجامة، ونحوها. ويسن إبقاء شعر الرأس، قال أحمد: هو سنة، لو نقوى عليه لاتخذناه لكن له كلفة ومؤنة. ويعفي لحيته، ويحرم حلقها، قاله الشيخ تقي الدين 1. ويكره ترك شعره في المسجد، وإن لم يكن نجسا. ويقلم أظفاره، ويحف شاربه، وينتف إبطيه، ويحلق عانته.

فصل

وسنن الوضوء: السواك، وغسل الكفين ثلاثا، ويجب من نوم ليل، لحديث "إذا قام أحدكم من نومه فلْيغسِلْ يديه ثلاثا قبل أن يدخلهما في الإناء فإنه لا يدري أين باتت يداه" رواه2 مسلم وغيره، قال المجد: وقد حمله بعض أهل العلم على الاستحباب.

ويبدأ بمضمضة ثم الاستنشاق، والمبالغة فيهما، وتخليل اللحية الكثيفة، والأصابع، والتيامن، والغسلة الثانية، والثالثة، ويجوز الاقتصار على الغسلة الواحدة لأنه صلى الله عليه وسلم توضأ مرة مرة، ومرتين مرتين، وثلاثا ثلاثا 3. وفي بعض أعضاء الوضوء مرة، وبعضها مرتين، قاله في الهدي. ولا يسن مسح العنق ولا الكلام على الوضوء.

--------------------------------------------

1 الاختيارات: 10.

2 النووي على مسلم ج3/ 178.

3 نيل الأوطار ج1/ 157.
মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করা এবং কিছু অংশ রেখে দেওয়া—যা ‘কাযা’ (القزع) নামে পরিচিত—তা অপছন্দনীয় (مكروه)। অনুরূপভাবে সিঙা লাগানো বা এ জাতীয় প্রয়োজন ব্যতীত ঘাড়ের পেছনের অংশ মুণ্ডন করাও অপছন্দনীয় (مكروه)। মাথার চুল রাখা সুন্নাত (سنة); ইমাম আহমাদ (রহ.) বলেন: এটি একটি সুন্নাত (سنة), যদি আমাদের সামর্থ্য থাকত তবে আমরা তা পালন করতাম, কিন্তু এতে ব্যয় ও রক্ষণাবেক্ষণের পরিশ্রম রয়েছে। সে দাড়ি লম্বা করবে এবং দাড়ি মুণ্ডন করা হারাম (حرام), এটি শায়খ তাকীউদ্দীন (রহ.) বলেছেন।১ মসজিদে চুল ফেলে রাখা অপছন্দনীয় (مكروه), যদিও তা অপবিত্র (نجس) নয়। সে নখ কাটবে, গোঁফ ছাঁটবে, বগলের পশম উপড়াবে এবং নাভির নিচের পশম মুণ্ডন করবে।

অনুচ্ছেদ (فصل)

ওজুর সুন্নাতসমূহ (سنن) হলো: মেসওয়াক করা এবং দুই হাতের কবজি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করা। আর রাতের ঘুম থেকে জাগার পর তা ধৌত করা ওয়াজিব (واجب); এই হাদিসের কারণে: "তোমাদের কেউ যখন তার ঘুম থেকে জাগে, তখন সে যেন তার হাত দুইটিকে পাত্রে প্রবেশ করানোর পূর্বে তিনবার ধৌত করে। কারণ সে জানে না যে ঘুমের মধ্যে তার হাত দুইটি কোথায় রাত্রিযাপন করেছে।" এটি বর্ণনা করেছেন২ মুসলিম ও অন্যান্যগণ। আল-মাজদ (রহ.) বলেন: কোনো কোনো আলিম একে পছন্দনীয় বা মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার ওপর প্রয়োগ করেছেন।

ওজুর শুরুতে কুলি করা (مضمضة) অতঃপর নাকে পানি দেওয়া (استنشاق) এবং এ দুইটিতে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা সুন্নাত। এছাড়া ঘন দাড়ি ও আঙুলসমূহ খিলাল করা, ডান দিক থেকে শুরু করা এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধৌত করাও সুন্নাত। তবে একবার ধৌত করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা বৈধ (جائز), কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার একবার করে, দুইবার দুইবার করে এবং তিনবার তিনবার করে ওজু করেছেন।৩ আবার ওজুর কোনো কোনো অঙ্গে একবার এবং কোনো কোনো অঙ্গে দুইবার ধৌত করেছেন, যা 'হাদি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর ঘাড় মাসাহ করা এবং ওজুর সময় কথা বলা সুন্নাত (سنة) নয়।

--------------------------------------------

১ আল-ইখতিয়ারাত: ১০।

২ মুসলিমের ওপর নববীর শারহ, ৩য় খণ্ড/ ১৭৮।

৩ নাইলুল আওতার, ১ম খণ্ড/ ১৫৭।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌باب فروض الوضوء وصفته

الفرض شرعا: ما أثيب فاعله، وعوقب تاركه. والوضوء: استعمال ماء طاهر في الأعضاء الأربعة. وكان فرضه مع فرض الصلاة، رواه ابن ماجة1، ذكره في المبدع 2.

قال الشيخ تقي الدين: لم يرد الوضوء بمعنى غسل اليد والفم إلا في لغة اليهود 3.

وهو من خصائص هذه الأمة كما جاءت به الأحاديث الصحيحة، وليس عند أحد من أهل الكتاب خبر أن واحدا من الأنبياء أنه كان يتوضأ وضوء المسلمين، بخلاف الاغتسال من الجنابة فإنه كان مشروعا عندهم، ولم يكن لهم تيمم إذا عدموا الماء.

فصل

وفروض الوضوء ستة: أحدها: غسل الوجه والفم، والأنف منه 4، فالمضمضة والاستنشاق واجبان في الطهارتين 5 لأن غسل الوجه فيهما واجب بغير خلاف; وهما منه ظاهرا بدليل أحكام خمسة:

1- إفطار الصائم بتعمد وصول القيء إليهما.

2- ولا يفطر بوصول الطعام إليهما.

--------------------------------------------

1 زاد المعاد ج1/ 99.

2 المبدع ج1/ 113.

3 الاختيارات: 10.

4 يريد المضمضة والاستنشاق.

5 يعني الطهارة عن الحدث الأكبر والحدث الأصغر..
অধ্যায়: ওজুর ফরজ (فرض) সমূহ ও এর পদ্ধতি

শরয়ী পরিভাষায় ফরজ (فرض) হলো: এমন কাজ যার পালনকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হন এবং বর্জনকারী শাস্তির যোগ্য হন। আর ওজু হলো: নির্দিষ্ট চারটি অঙ্গে পবিত্র পানি ব্যবহার করা। নামাজের ফরজিয়াতের সাথেই ওজুর ফরজিয়াত সাব্যস্ত হয়েছে, যা ইবনে মাজা বর্ণনা করেছেন১ এবং আল-মুবদি' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করা হয়েছে২।

শাইখ তাকিউদ্দিন (রহ.) বলেন: হাত ও মুখ ধৌত করার অর্থে 'ওজু' শব্দের ব্যবহার ইহুদিদের পরিভাষা ছাড়া আর কোথাও আসেনি৩।

সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহে বর্ণিত হওয়া অনুযায়ী ওজু এই উম্মতের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আহলে কিতাবদের কারও কাছে এমন কোনো বর্ণনা নেই যে, কোনো নবী মুসলিমদের ওজুর মতো ওজু করতেন; তবে জানাবাত থেকে গোসল করার বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এটি তাদের বিধানেও বিদ্যমান ছিল। কিন্তু পানি না থাকলে তাদের জন্য তায়াম্মুমের কোনো বিধান ছিল না।

পরিচ্ছেদ

ওজুর ফরজ (فرض) ছয়টি: প্রথমটি হলো মুখমণ্ডল ধৌত করা এবং মুখ ও নাক মুখমণ্ডলেরই অন্তর্ভুক্ত৪। সুতরাং উভয় প্রকার পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ওয়াজিব (واجب)৫; কেননা কোনো মতভেদ ছাড়াই উভয় ক্ষেত্রে মুখমণ্ডল ধৌত করা ওয়াজিব (واجب)। পাঁচটি বিধানের দলিলের ভিত্তিতে এ দুটি স্পষ্টত মুখমণ্ডলেরই অংশ হিসেবে গণ্য:

১- রোজাদার ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এ দুটি পর্যন্ত বমি নিয়ে আসে তবে রোজা ভেঙে যায়।

২- কিন্তু খাবার এ দুটি পর্যন্ত পৌঁছালে রোজা ভঙ্গ হয় না।

--------------------------------------------

১ যাদুল মাআদ ১/৯৯।

২ আল-মুবদি' ১/১১৩।

৩ আল-ইখতিয়ারাত: ১০।

৪ এর দ্বারা কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া উদ্দেশ্য।

৫ অর্থাৎ বড় নাপাকি (حدث أكبر) এবং ছোট নাপাকি (حدث أصغر) থেকে পবিত্রতা অর্জন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ১৯)
3- لا يحد بوضع الخمر فيهما.

4- ولا ينشر الرضاع وصول اللبن إليهما.

5- ويجب غسلهما من النجاسة.

وهذه أحكام الظاهر. ولو كانا باطنين انعكست هذه الأحكام. وعنه: أنهما واجبان في الأكبر دون الأصغر 1. وقال مالك والشافعي: مسنونان فيهما.

الثاني: غسل اليدين مع المرفقين.

والثالث: مسح الرأس، والأذنان منه، لقوله صلى الله عليه وسلم: "الأذنان من الرأس"2 رواه ابن ماجه … 3

الرابع: غسل الرجلين إلى الكعبين; لقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ} 4 الآية.

الخامس: الترتيب على ما ذكر الله، لأنه أدخل الممسوح بين مغسولين، ولا نعلم لهذا فائدة غير الترتيب.

السادس: الموالاة، وهي أن لا يؤخر غسل عضو حتى ينشف الذي قبله، لأنه صلى الله عليه وسلم "رأى رجلا يصلي، وفي قدمه لمعة لم يصبها الماء، فأمره أن يعيد الوضوء" 5 رواه أحمد وغيره. 6

1 الإنصاف 1/ 152.

2 الترمذي: الطهارة (37) ، وابن ماجه: الطهارة وسننها (444) .

3 نيل الأوطار ج1/ 177.

4 سورة المائدة آية: 6.

5 مسلم: الطهارة (243) ، وأبو داود: الطهارة (173) ، وابن ماجه: الطهارة وسننها (666) ، وأحمد (1/21 ،1/23) .

6 أبو داود ج1/ 128.
3- সে দুটিতে (নাক ও কানের ছিদ্র) মদ প্রবেশ করালে হদ (শাস্তি) কার্যকর হবে না।

4- সেখানে দুধ পৌঁছানোর মাধ্যমে দুগ্ধপানজনিত সম্পর্ক (رضاع) সাব্যস্ত হবে না।

5- অপবিত্রতা (نجاسة) থেকে সেগুলো ধৌত করা ওয়াজিব (واجب)।

আর এগুলো হলো বাহ্যিক অংশের বিধান। যদি সেগুলো অভ্যন্তরীণ ধরা হতো, তবে এই বিধানগুলো বিপরীত হতো। তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: বড় নাপাকির (الأكبر) ক্ষেত্রে সে দুটি ধৌত করা ওয়াজিব (واجب), তবে ছোট নাপাকির (الأصغر) ক্ষেত্রে নয় ১। আর ইমাম মালিক ও শাফিঈ বলেছেন: উভয় ক্ষেত্রেই সেগুলো সুন্নাত (مسنون)।

দ্বিতীয়: কনুইসহ উভয় হাত ধৌত করা।

তৃতীয়: মাথা মাসহ করা, আর কান মাথারই অন্তর্ভুক্ত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "উভয় কান মাথারই অংশ" ২। এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন ... ৩

চতুর্থ: টাখনু পর্যন্ত দুই পা ধৌত করা; আল্লাহ তায়ালার বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসহ করো আর তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত ধৌত করো} ৪ - আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

পঞ্চম: আল্লাহ যেভাবে উল্লেখ করেছেন সেই অনুযায়ী ধারাবাহিকতা (الترتيب) বজায় রাখা; কারণ তিনি মাসহ করার অঙ্গকে ধৌত করা হয় এমন দুটি অঙ্গের মাঝে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর আমরা ধারাবাহিকতা (الترتيب) রক্ষা করা ছাড়া এর অন্য কোনো হিকমত বা উপকারিতা জানি না।

ষষ্ঠ: বিরতিহীনতা (الموالاة); আর তা হলো—এক অঙ্গ ধৌত করতে এত বিলম্ব না করা যাতে তার পূর্বের অঙ্গটি শুকিয়ে যায়। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "এক ব্যক্তিকে সালাত আদায় করতে দেখলেন যার পায়ের পাতায় একটি শুকনো অংশ ছিল যেখানে পানি পৌঁছেনি, তখন তিনি তাকে অজু পুনরায় করার নির্দেশ দিলেন" ৫। এটি আহমাদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। ৬

১ আল-ইনসাফ ১/ ১৫২।

২ তিরমিযী: আত-তহারাহ (৩৭), এবং ইবনে মাজাহ: আত-তহারাহ ওয়া সুনানুহা (৪৪৪)।

৩ নাইলুল আওতার খণ্ড ১/ ১৭৭।

৪ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬।

৫ মুসলিম: আত-তহারাহ (২৪৩), আবু দাউদ: আত-তহারাহ (১৭৩), ইবনে মাজাহ: আত-তহারাহ ওয়া সুনানুহা (৬৬৬), আহমাদ (১/২১, ১/২৩)।

৬ আবু দাউদ খণ্ড ১/ ১২৮।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ২০)
والنية شرط لطهارة الأحداث كلها، لحديث عمر المتفق عليه 1. فينوي رفع الحدث، أو يقصد الطهارة لما لا يباح إلا بها.

قال الشيخ تقي الدين: وتجب النية لطهارة الحدث لا الخبث، وهو مذهب جمهور العلماء 2. ولا يجب نطقه بها سرا باتفاق الأئمة الأربعة؛ واتفق الأئمة الأربعة على أنه لا يشرع الجهر بها، ولا تكرارها، وينبغي تأديب من اعتاده. وكذا في بقية العبادات لا يستحب النطق بها 3 والجهر بلفظها منهي عنه عند الشافعي وسائر أئمة المسلمين، ويعزل عن الإمامة إن لم يتب، انتهى 4.

والوضوء مرة مرة; أن النبي صلى الله عليه وسلم توضأ مرة مرة، لحديث رواه ابن ماجه 5.

فصل

وصفة الوضوء أن ينوي، ويسمي، ويغسل كفيه ثلاثا، ثم يتمضمض ويستنشق ثلاثا، ثم يغسل وجهه ثلاثا، وحده من منابت شعر الرأس إلى ما انحدر من اللحيين والذقن طولا، ومن الأذن إلى الأذن عرضا، وما فيه من شعر خفيف. ثم يغسل يديه إلى المرفقين ثلاثا، ويدخلهما 6 في الغسل.

--------------------------------------------

1 يريد حديث: إنما الأعمال بالنيات … الحديث انظر نيل الأوطار ج1/ 147.

2 الاختيارات: 11.

3 إلا عند الإحرام وذبح المتقرب بها كالأضحية والعقيقة والهدي.

4 الاختيارات: 11.

5 نيل الأوطار ج1/ 189.

6 أي المرفقين.
সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা (الأحداث) থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য নিয়ত (النية) একটি শর্ত (شرط), উমর (রা.) বর্ণিত মুত্তাফাকুন আলাইহি (المتفق عليه) হাদিসের ভিত্তিতে। সুতরাং সে অপবিত্রতা দূর করার (رفع الحدث) নিয়ত করবে, অথবা এমন বিষয়ের জন্য পবিত্রতা অর্জনের সংকল্প করবে যা পবিত্রতা ছাড়া বৈধ নয়।

শাইখ তাকিউদ্দীন (রহ.) বলেন: অপবিত্রতা (الحدث) থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য নিয়ত (النية) ওয়াজিব (تجب), কিন্তু দৃশ্যমান নাপাকি (الخبث) দূর করার জন্য নয়; আর এটিই জুমহুর (جمهور) আলিমগণের মাযহাব (مذهب)। চার ইমামের ঐকমত্য (اتفاق) অনুযায়ী নিভৃতে বা মনে মনে নিয়ত উচ্চারণ করা ওয়াজিব (يجب) নয়; আর চার ইমাম এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, উচ্চৈঃস্বরে নিয়ত করা (الجهر بها) এবং এর পুনরাবৃত্তি করা শরিয়তসম্মত (يشرع) নয় এবং যে ব্যক্তি এতে অভ্যস্ত তাকে সংশোধন করা উচিত। একইভাবে অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রেও নিয়ত উচ্চারণ করা মুস্তাহাব (يستحب) নয় এবং ইমাম শাফেয়ি ও মুসলিমদের অন্যান্য ইমামগণের নিকট শব্দের সাথে নিয়ত উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ (منهي عنه); আর যদি সে তওবা না করে তবে তাকে ইমামতি থেকে অপসারিত করা হবে। সমাপ্ত।

আর ওজু হবে একবার একবার করে; কারণ নবি (সা.) একবার একবার করে ওজু করেছেন, যেমনটি ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত হাদিসে এসেছে।

পরিচ্ছেদ (فصل)

ওজুর পদ্ধতি হলো এই যে, সে নিয়ত (ينوي) করবে, বিসমিল্লাহ পাঠ (يسمي) করবে এবং উভয় কবজি তিনবার ধৌত করবে। তারপর কুলি করবে ও নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করবে তিনবার। এরপর মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করবে; যার সীমানা হলো দৈর্ঘ্যে মাথার চুল গজানোর স্থান থেকে চোয়ালের দুই হাড়ের নিচের অংশ ও চিবুক পর্যন্ত এবং প্রস্থে এক কান থেকে অন্য কান পর্যন্ত। সেই সাথে মুখমণ্ডলের পাতলা পশমও ধৌত করবে। এরপর উভয় হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করবে এবং উভয়কে (৬) ধৌত করার অন্তর্ভুক্ত করবে।

--------------------------------------------

১ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" ... হাদিসটি। দেখুন: নাইলুল আওতার, খণ্ড ১/ ১৪৭।

২ আল-ইখতিয়ারাত: ১১।

৩ তবে ইহরাম বাঁধার সময় এবং কুরবানি, আকিকা ও হাদির মতো ইবাদত হিসেবে পশু জবাই করার সময় ব্যতীত।

৪ আল-ইখতিয়ারাত: ১১।

৫ নাইলুল আওতার, খণ্ড ১/ ১৮৯।

৬ অর্থাৎ কনুইদ্বয়।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ২১)
ثم يمسح رأسه كله، لحديث عبد الله بن زيد 1. عنه يجزئ مسح بعضه، لحديث المغيرة 2.

قال في الاختيارات: ويجوز مسح بعض الرأس لعذر، قاله القاضي في التعليق 3. ولا يسن تكرار مسح جميعه، وهو ظاهر مذهب الإمام مالك 4 وأحمد 5 وأبي حنيفة 6. ثم يغسل رجليه - إلى الكعبين - ويدخلهما في الغسل.

ثم يرفع نظره إلى السماء ويقول ما ورد في الهدي. وكل حديث في أذكار الوضوء التي تقال عليه فكذب غير التسمية في أوله، وقول: "أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، اللهم اجعلني من التوابين" إلى آخر الحديث 7.

ولو كان تحت أظفاره وسخ يمنع وصول الماء إلى ما تحته لم تصح طهارته، وقيل تصح، وهي الصحيح، واختاره 8. وألحق به كل يسير منع حيث كان من البدن كدم وعجين. انتهى 9.

--------------------------------------------

1 نيل الأوطار ج1/ 171.

2 نيل الأوطار ج1/ 184.

3 الاختيارات: 11.

4 شرح منح الجليل مختصر خليل ج1/ 47.

5 الإنصاف ج1/ 163.

6 بدائع الصنائع ج1/ 22.

7 تكملته: واجعلني من المتطهرين، انظر شرح النووي على صحيح مسلم و 3/ 121.

8 أي شيخ الإسلام ابن تيمية إلا أنه نص على اليسير في الاختيارات: 12.

9 من الاختيارات: 12.
অতঃপর তিনি তাঁর সম্পূর্ণ মাথা মাসাহ করবেন, আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদের হাদিস ১ এর কারণে। তাঁর (ইমামের) পক্ষ থেকে বর্ণিত আছে যে, মাথার কিয়দাংশ মাসাহ করা যথেষ্ট হবে, মুগিরার হাদিস ২ এর কারণে।

আল-ইখতিয়ারাত-এ বলা হয়েছে: ওজরের কারণে মাথার কিছু অংশ মাসাহ করা বৈধ; কাজী 'আত-তালিক'-এ এটি উল্লেখ করেছেন ৩। সম্পূর্ণ মাথা মাসাহ করার পুনরাবৃত্তি করা সুন্নাত নয়; এটিই ইমাম মালিক ৪, আহমদ ৫ এবং আবু হানিফা ৬-এর মাজহাবের বাহ্যিক মত। এরপর তিনি তাঁর দুই পা—টাখনু পর্যন্ত—ধৌত করবেন এবং ধৌত করার সময় উভয় (টাখনু) অন্তর্ভুক্ত করবেন।

এরপর তিনি আসমানের দিকে দৃষ্টি উত্তোলন করবেন এবং রাসুলের আদর্শে যা বর্ণিত হয়েছে তা পাঠ করবেন। ওজুর সময় যে সকল জিকির পাঠ করা হয় সে সম্পর্কিত প্রতিটি হাদিসই মিথ্যা (كذب), কেবল শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা এবং এই দোয়াটি ব্যতীত: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। হে আল্লাহ, আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন" হাদিসের শেষ পর্যন্ত ৭।

যদি নখের নিচে এমন ময়লা থাকে যা তার নিচের অংশে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তবে তার পবিত্রতা অর্জন শুদ্ধ হবে না। বলা হয়েছে যে, তা শুদ্ধ হবে এবং এটিই সঠিক (الصحيح) মত, যা তিনি পছন্দ করেছেন ৮। শরীরের যেখানেই রক্ত বা আটার মতো সামান্য কিছু পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাকেও এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সমাপ্ত ৯।

--------------------------------------------

১ নাইলুল আওতার, খণ্ড ১/ ১৭১।

২ নাইলুল আওতার, খণ্ড ১/ ১৮৪।

৩ আল-ইখতিয়ারাত: ১১।

৪ শারহু মানহিল জালিল মুখতাসারু খলিল, খণ্ড ১/ ৪৭।

৫ আল-ইনসাফ, খণ্ড ১/ ১৬৩।

৬ বাদায়িউস সানায়ি, খণ্ড ১/ ২২।

৭ এর পরিশিষ্টাংশ হলো: "এবং আমাকে পবিত্রদের অন্তর্ভুক্ত করুন", দেখুন সহিহ মুসলিমের ওপর নববীর শারহ, ৩/ ১২১।

৮ অর্থাৎ শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, তবে তিনি আল-ইখতিয়ারাত-এর ১২ পৃষ্ঠায় সামান্য পরিমাণের কথা উল্লেখ করেছেন।

৯ আল-ইখতিয়ারাত থেকে: ১২।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ২২)
ويكره الزيادة على الثلاث، لحديث عمرو بن شعيب، رواه أبو داود والنسائي 1. ويكره الإسراف في الماء، لحديث سعيد رواه ابن ماجه. وتباح معاونته، ويباح تنشيف أعضائه من ماء الوضوء، وقال في الهدي: ولم يكن يعتاد تنشيف أعضائه في الوضوء 2.
এবং তিনবারের অধিক করা মাকরূহ (مكروه), আমর ইবন শুআইব বর্ণিত হাদিসের কারণে যা আবু দাউদ এবং নাসায়ি বর্ণনা করেছেন ১। আর পানিতে অপচয় করা মাকরূহ (مكروه), সা’ঈদের বর্ণিত হাদিসের কারণে যা ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। তাকে সহযোগিতা করা বৈধ (مباح), এবং অজুর পানি থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মুছে ফেলা বা শুকানো বৈধ (مباح); ‘আল-হাদি’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিনি অজুর সময় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শুকানোতে অভ্যস্ত ছিলেন না ২।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌باب المسح على الخفين

يجوز المسح على الخفين من غير خلاف; لحديث جرير متفق عليه 3.

قال في الاختيارات: وهل المسح أفضل، أم غسل الرجلين أفضل، أم هما سواء؟ قال الشيخ تقي الدين: وفصل الخطاب أن الأفضل في حق كل واحد ما هو الموافق لحال قدمه.

فالأفضل لمن قدماه مكشوفتان غسلهما، وبالعكس. ويجوز المسح على الجوارب، والجراميق ; لحديث المغيرة: "مسح على الجوربين والنعلين" 4 رواه الترمذي 5.

قال أحمد: يذكر المسح على الجوربين عن سبعة أو ثمانية من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم.

ويشترط في الجورب أن يكون صفيقا يستر القدم، وأن يثبت في القدمين بنفسه من غير شد.

--------------------------------------------

1 نيل الأوطار ج1/ 190.

2 الهدي النبوي لابن القيم: 1/ 101.

3 نيل الأوطار ج1/ 195.

4 الترمذي: الطهارة (99) ، والنسائي: الطهارة (125) ، وأبو داود: الطهارة (159) ، وابن ماجه: الطهارة وسننها (559) ، وأحمد (4/252) .

5 نيل الأوطار ج1/ 199.
চামড়ার মোজার (খুফ্ফাইন) ওপর মাসেহ করার অধ্যায়

কোনো প্রকার মতভেদ ছাড়াই চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করা বৈধ; জারির (রা.) বর্ণিত সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিসের কারণে।

‘আল-ইখতিয়ারাত’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: মাসেহ করা কি উত্তম, নাকি দুই পা ধোয়া উত্তম, নাকি উভয়টি সমান? শাইখ তাকিউদ্দীন বলেন: মীমাংসিত কথা হলো, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে তার পায়ের অবস্থার সাথে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ সেটিই উত্তম।

সুতরাং যার পা অনাবৃত রয়েছে তার জন্য পা ধৌত করা উত্তম, এবং এর বিপরীত অবস্থায় (অর্থাৎ মোজা পরিহিত থাকলে) মাসেহ করা উত্তম। সাধারণ মোজা এবং জিব্বা বা এক প্রকার বড় মোজার (জারামিক) ওপরও মাসেহ করা বৈধ; মুগিরা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে: "তিনি দুই মোজা ও জুতার ওপর মাসেহ করেছেন", যা তিরমিজি বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আহমাদ বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাত বা আটজন সাহাবি থেকে মোজার ওপর মাসেহ করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।

মোজার ক্ষেত্রে শর্ত হলো তা পুরু বা ঘন হতে হবে যা পা ঢেকে রাখে এবং কোনো প্রকার বন্ধনী ছাড়াই তা পায়ে নিজে নিজে স্থির থাকে।

--------------------------------------------

১. নায়লুল আওতার, খণ্ড ১/ ১৯০।

২. ইবনুল কাইয়্যিমের আল-হাদিউন নাবাবি: ১/ ১০১।

৩. নায়লুল আওতার, খণ্ড ১/ ১৯৫।

৪. তিরমিজি: পবিত্রতা অধ্যায় (৯৯), নাসায়ি: পবিত্রতা অধ্যায় (১২৫), আবু দাউদ: পবিত্রতা অধ্যায় (১৫৯), ইবনে মাজাহ: পবিত্রতা ও এর সুন্নতসমূহ (৫৫৯), আহমাদ (৪/২৫২)।

৫. নায়লুল আওতার, খণ্ড ১/ ১৯৯।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ২৩)
والجورب ما يلبسه في الرجل على هيئة الخف من غير الجلد.

ويشترط في الجرموق أن يجاوز الكعبين.

قال الشيخ تقي الدين: ويجوز المسح على اللفائف في أحد الوجهين، حكاه ابن تميم وغيره، وعلى الخف المخرق ما دام اسمه باقيا، والمشي فيه ممكنا، وهو قديم قولي الشافعي. انتهى 1.

ويختص المسح بالطهارة الصغرى دون الكبرى، لحديث صفوان، رواه ابن ماجه 2 وفيه إلا من جنابة لكن غائط وبول ونوم، إلا الجبيرة فإنه يمسح عليها في الكبرى أيضا إلا أن يحلها; لحديث صاحب الشحية 3.

فصل

ويمسح المقيم يوما وليلة، والمسافر ثلاثة أيام بلياليهن، لحديث علي رواه مسلم 4.

قال الشيخ تقي الدين: ولا تتوقف مدة المسح في حال المسافر الذي شق اشتغاله بالخلع واللبس كالبريد المجهز في مصلحة المسلمين، وعليه قصة عقبة بن عامر، وهو نص مالك وغيره ممن لا يرى التوقيت انتهى 5.

وابتداء مدة المسح بعد اللبس إلى مثله لقوله: يمسح المسافر ثلاثة أيام الحديث. يعني يستبيح المسح، وإنما يستبيحه من حين الحدث، وعنه:

--------------------------------------------

1 الاختيارات: 13.

2 نيل الأوطار ج1/ 201.

3 مختصر شرح وتهذيب سنن أبي داود ج1/ 208.

4 شرح النووي على صحيح مسلم ج;3- 175.

5 الاختيارات:15.
জাওরাব (মোজাই) হলো তা যা চামড়া ব্যতীত চামড়ার মোজার (خف) আকৃতিতে পায়ে পরিধান করা হয়।

জারমুকের (উপরি-মোজা) ক্ষেত্রে শর্ত হলো সেটি যেন টাখনুদ্বয়কে অতিক্রম করে।

শায়খ তাকিউদ্দিন (রহ.) বলেন: দু’টি অভিমতের একটি অনুযায়ী পট্টির (لفائف) ওপর মাসেহ করা জায়েজ, যা ইবনে তামীম ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন। এছাড়া ছেঁড়া মোজার (خف) ওপরও মাসেহ করা জায়েজ যতক্ষণ পর্যন্ত এর সত্তাগত নাম অবশিষ্ট থাকে এবং তাতে হাঁটা সম্ভব হয়। এটি ইমাম শাফেঈর দু’টি বক্তব্যের মধ্যে পুরাতন (قديم) বক্তব্য। সমাপ্ত ১।

মাসেহ করার বিধানটি ছোট পবিত্রতার (طهارة صغرى) জন্য নির্দিষ্ট, বড় পবিত্রতার (طهارة كبرى) জন্য নয়; সাফওয়ান বর্ণিত হাদিসের কারণে, যা ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন ২। সেখানে উল্লেখ আছে: "তবে জানাবাত (অপবিত্রতা) ব্যতীত, কিন্তু মলত্যাগ, প্রস্রাব ও ঘুমের ক্ষেত্রে (মাসেহ করা যাবে)।" তবে জাবীরাহ (ক্ষতের ওপর পট্টি) এর বিষয়টি ভিন্ন, কেননা বড় নাপাকির ক্ষেত্রেও এর ওপর মাসেহ করা যাবে যতক্ষণ না তা খোলা হয়; সাহিবে শাহিয়াহ-এর হাদিসের কারণে ৩।

পরিচ্ছেদ

মুকিম (অবস্থানকারী) এক দিন ও এক রাত মাসেহ করবেন এবং মুসাফির (ভ্রমণকারী) তিন দিন ও তিন রাত মাসেহ করবেন; আলী (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন ৪।

শায়খ তাকিউদ্দিন (রহ.) বলেন: এমন মুসাফিরের ক্ষেত্রে মাসেহ করার সময়সীমা নির্ধারিত থাকবে না যার জন্য মোজা খোলা ও পরা কষ্টসাধ্য, যেমন মুসলিমদের জনস্বার্থে নিয়োজিত দ্রুতগামী ডাক-বাহক। উকবা ইবনে আমের (রা.) এর ঘটনাটি এরই সপক্ষে। এটি ইমাম মালিক ও অন্যদের সুস্পষ্ট মত (نص), যারা সময়সীমা নির্ধারণ করার (توقيت) প্রবক্তা নন। সমাপ্ত ৫।

মাসেহ করার মেয়াদের শুরু হবে মোজা পরার পর থেকে অনুরূপ সময় পর্যন্ত; কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী: "মুসাফির তিন দিন মাসেহ করবেন" (হাদিস)। অর্থাৎ তিনি মাসেহ করার অনুমতি লাভ করবেন, আর তিনি কেবল অপবিত্র (حدث) হওয়ার সময় থেকেই এই অনুমতি লাভ করেন। আর তাঁর থেকে বর্ণিত রয়েছে যে:

--------------------------------------------

১ আল-ইখতিয়ারাত: ১৩।

২ নায়লুল আওতার খণ্ড ১/ ২০১।

৩ মুখতাসার শারহ ওয়া তাহযীব সুনানে আবু দাউদ খণ্ড ১/ ২০৮।

৪ সহীহ মুসলিমের ওপর শারহে নববী খণ্ড ৩/ ১৭৫।

৫ আল-ইখতিয়ারাত: ১৫।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ২৪)
من المسح بعده; لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمرنا بالمسح ثلاثة أيام، فاقتضى أن يكون الثلاثة كلها يمسح فيها. ومتى مسح ثم انقضت المدة وخلع قبلها بطلت طهارته، وعنه يجزئ مسح رأسه، وغسل قدميه.

قال في الاختيارات: ولو غسل الرجلين في الخفين بعد أن لبسهما محدثا جاز المسح، وهو مذهب أبي حنيفة، وقول مخرج في مذهب أحمد 1.

ومن مسح مسافرا، ثم أقام أتم مسح مقيم، وعنه مسح مسافر، واختار هذه الرواية أبو بكر عبد العزيز. وقال: رجع أحمد رحمه الله عن القول الأول إلى هذا.

ويجوز المسح على العمامة إذا كانت محنكة، وذات ذؤابة ساترة لجميع الرأس إلا ما جرت العادة بكشفه عفي عنه للحرج.

فصل

ويشترط في المسح على جميع ذلك: أن يلبسه على طهارة كاملة، لحديث المغيرة: وفيه: فقال: "دعهما، فإني أدخلتهما طاهرتين. ومسح عليهما" 2 متفق عليه 3.

ويلبس بعد كمال الطهارة. وعنه لا يشترط كمالها، اختاره الشيخ تقي الدين، وصاحب الفائق. ويجوز المسح على الجبيرة، لحديث صاحب الشيخة، رواه أبو داود 4.

--------------------------------------------

1 الاختيارات: 15.

2 البخاري: الوضوء (206) ، ومسلم: الطهارة (274) ، والترمذي: الطهارة (98) ، والنسائي: الطهارة (79) ، وأبو داود: الطهارة (151) ، وابن ماجه: الطهارة وسننها (545) ، وأحمد (4/245 ،4/252 ،4/253) ، والدارمي: الطهارة (713) .

3 شرح النووي على صحيج مسلم ج3- 170.

4 مختصر شرح وتهذيب سنن أبي داود جم1/ 208.
এরপর মাসাহ করা থেকে; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের তিন দিন মাসাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যা দাবি করে যে এই পুরো তিন দিনই মাসাহ করা হবে। যখন কেউ মাসাহ করে এবং এরপর সময়সীমা শেষ হয়ে যায় অথবা এর আগেই তা খুলে ফেলে, তবে তার পবিত্রতা বাতিল হয়ে যাবে। তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে বর্ণিত অপর এক মতানুসারে, কেবল মাথা মাসাহ করা এবং পা ধুয়ে নেওয়াই যথেষ্ট হবে।

আল-ইখতিয়ারাত-এ বলা হয়েছে: যদি কেউ অপবিত্র অবস্থায় মোজা পরিধান করার পর মোজার ভেতরেই পা ধুয়ে নেয়, তবে মাসাহ করা জায়েজ হবে। এটি ইমাম আবু হানিফার মাযহাব এবং ইমাম আহমাদের মাযহাবের একটি উদ্ধৃত মত (قول مخرج) ১।

যদি কেউ মুসাফির থাকাবস্থায় মাসাহ করে এবং এরপর মুকীম হয়ে যায়, তবে সে মুকীমের ন্যায় মাসাহ পূর্ণ করবে। তাঁর থেকে অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, সে মুসাফিরের ন্যায় মাসাহ করবে এবং আবু বকর আব্দুল আজিজ এই বর্ণনাটিকে পছন্দ করেছেন। তিনি বলেন: ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) প্রথম উক্তি থেকে ফিরে এসে এই মতটি গ্রহণ করেছেন।

পাগড়ির ওপর মাসাহ করা জায়েজ যদি তা চিবুকের নিচ দিয়ে প্যাঁচানো থাকে এবং তাতে একটি ঝুলন্ত অংশ থাকে, যা মাথার সেই অংশগুলো ছাড়া সবটুকু ঢেকে রাখে যা সচরাচর খোলা রাখার অভ্যাস রয়েছে—কষ্টের কারণে তা ক্ষমাযোগ্য।

পরিচ্ছেদ

এই সবকিছুর ওপর মাসাহ করার জন্য শর্ত হলো পূর্ণ পবিত্র অবস্থায় তা পরিধান করা। মুগিরা বর্ণিত হাদিসের কারণে, যাতে রয়েছে: তিনি (নবীজি) বললেন: "এগুলো থাকতে দাও, কারণ আমি পবিত্র অবস্থায় এগুলো পরিধান করেছি। অতঃপর তিনি সেগুলোর ওপর মাসাহ করলেন" ২। এটি সর্বসম্মত (متفق عليه) ৩।

পূর্ণ পবিত্রতার পর তা পরিধান করতে হবে। তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে অন্য বর্ণনায় পবিত্রতা পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়; শেখ তাকিউদ্দিন এবং আল-ফাইক এর লেখক এই মতটি পছন্দ করেছেন। জখমের পটির ওপর মাসাহ করা জায়েজ, সাহেবে শাইখার হাদিসের ভিত্তিতে, যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন ৪।

--------------------------------------------

১ আল-ইখতিয়ারাত: ১৫।

২ বুখারি: ওজু (২০৬), মুসলিম: পবিত্রতা (২৭৪), তিরমিজি: পবিত্রতা (৯৮), নাসায়ি: পবিত্রতা (৭৯), আবু দাউদ: পবিত্রতা (১৫১), ইবনে মাজাহ: পবিত্রতা ও এর সুন্নত (৫৪৫), আহমাদ (৪/২৪৫, ৪/২৫২, ৪/২৫৩), দারেমি: পবিত্রতা (৭১৩)।

৩ সহিহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৭০।

৪ সুনানে আবু দাউদ এর সারসংক্ষেপ ব্যাখ্যা ও পরিমার্জন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৮।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ২৫)
وفي اشتراط تقدم الطهارة لها روايتان. قال في الاختيارات: وإذا حل الجبيرة فهل تنتقض طهارته كالخف على من يقول به، أو لا تنتقض كحلق الرأس؟ والذي ينبغي ألا تنتقض بناء على أنها طهارة أصل لوجوبها في الطهارتين، وعدم توقيتها، وأن الجبيرة بمنزلة باقي السترة; لأن الفرض استتر بما يمنع وصول الماء إليه فانتقل الفرض إلى الحامل في الطهارتين. قال في الشرح: ولا مدخل لحائل في الطهارة الكبرى إلا في الجبيرة; لحديث صفوان 1، فأما الجبيرة فيجوز، لحديث صاحب الشجة.

ويشترط: أن لا يتجاوز بالشد موضع الحاجة، ويمسح عليها إلى أن يحلها، والمرأة كالرجل في جميع ذلك، لأنه ثبت؛ وما ثبت رخصة استوى فيه الرجل، والمرأة كسائر الرخص.

ويمسح أكثر ظاهر مقدم الخف، ويسن أن يمسح بأصابع يده من أصابعه إلى ساقه. يمسح بيده اليمنى رجله اليمنى، ورجله اليسرى بيده اليسرى، وكيف مسح أجزأه.. ويكره غسله وتكرار مسحه …
এর জন্য (পট্টি বা ব্যান্ডেজ) পূর্বেই পবিত্রতা অর্জনের শর্তারোপের বিষয়ে দুটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে। ‘আল-ইখতিয়ারাতে’ বলা হয়েছে: যদি কেউ পট্টি খুলে ফেলে, তবে কি তার পবিত্রতা মোজার মতো নষ্ট হয়ে যাবে—যারা এই মত পোষণ করেন তাদের নিকট, নাকি মাথা মুণ্ডন করার মতো নষ্ট হবে না? সঙ্গত মত হলো এটি ভঙ্গ হবে না; এর ভিত্তি হলো এটি একটি মৌলিক পবিত্রতা, কারণ উভয় প্রকার পবিত্রতার ক্ষেত্রেই এর আবশ্যকতা রয়েছে এবং এর কোনো সময়সীমা নির্ধারিত নেই। এছাড়া পট্টি অন্যান্য আবরণের স্থলাভিষিক্ত; কেননা ফরজ অঙ্গটি এমন কিছু দ্বারা আবৃত যা পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, ফলে উভয় প্রকার পবিত্রতার ক্ষেত্রে বিধানটি আবরণের ওপর স্থানান্তরিত হয়েছে। ‘আশ-শারহে’ বলা হয়েছে: বড় পবিত্রতার ক্ষেত্রে পট্টি ব্যতীত অন্য কোনো অন্তরালের অবকাশ নেই; সাফওয়ানের ১ হাদিসের কারণে। আর পট্টির ক্ষেত্রে তা বৈধ, ‘সাহেবে শাজ্জাহ’ (মস্তকে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি) এর হাদিসের কারণে।

এবং শর্ত হলো: পট্টি বাঁধার সময় তা যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্থান অতিক্রম না করে এবং এটি খোলার আগ পর্যন্ত এর ওপর মাসাহ করবে। নারী এই সকল বিষয়ে পুরুষের মতোই; কারণ এটি সাব্যস্ত হয়েছে। আর যা সহজসাধ্য বিধান (رخصة) হিসেবে প্রমাণিত, অন্যান্য সকল সহজসাধ্য বিধান (رخصة)-এর ন্যায় নারী ও পুরুষ তাতে সমান।

সে মোজার অগ্রভাগের উপরিভাগের অধিকাংশ স্থান মাসাহ করবে এবং হাতের আঙুল দিয়ে পায়ের আঙুল থেকে নলা পর্যন্ত মাসাহ করা সুন্নাহ। সে তার ডান হাত দিয়ে ডান পা এবং বাম হাত দিয়ে বাম পা মাসাহ করবে। যেভাবে মাসাহ করা হোক না কেন তা যথেষ্ট হবে। তবে এটি ধৌত করা এবং মাসাহর পুনরাবৃত্তি করা মাকরুহ …
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌باب نواقض الوضوء

وهي ثمانية: الأول. الخارج من السبيلين قليلا كان أو كثيرا بغير خلاف، لقوله سبحانه: {أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ} 2.

إلا الدائم كالسلس والاستحاضة فلا ينقض للضرورة. قال الشيخ تقي الدين: الأحداث اللازمة كدم الاستحاضة وسلس البول لا تنقض الوضوء ما لم يوجد المعتاد، وهو مذهب مالك.

--------------------------------------------

1 نيل الأوطار ج1/ 201.

2 سورة النساء آية: 43.
অজু ভঙ্গের কারণসমূহ সংক্রান্ত অধ্যায়

সেগুলো আটটি: প্রথমটি হলো দুই রাস্তা দিয়ে নির্গত হওয়া বস্তু, চাই তা পরিমাণে সামান্য হোক বা অধিক, এতে কোনো মতভেদ নেই। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা তোমাদের মধ্যে কেউ শৌচাগার থেকে আসলে} ২।

তবে নিরবচ্ছিন্ন নির্গমন যেমন—মূত্র ঝরা এবং ইস্তিহাযা এর ব্যতিক্রম; বিশেষ প্রয়োজনের কারণে এগুলো অজু ভঙ্গ করে না। শায়খ তাকিউদ্দীন বলেন: ইস্তিহাযার রক্ত এবং অনবরত প্রস্রাবের মতো অপরিহার্য অপবিত্রতাসমূহ অজু ভঙ্গ করে না যতক্ষণ না স্বাভাবিক কোনো কারণ পরিলক্ষিত হয়; এবং এটি ইমাম মালিকের মাযহাব।

--------------------------------------------

১ নায়লুল আওতার, ১ম খণ্ড/ ২০১।

২ সূরা নিসা, আয়াত: ৪৩।
(খণ্ড: ১) আত-তাহারাহ (মাতবুউ দিমনা মুআল্লাফাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস সালিস) (পৃষ্ঠা: ২৬)
والدم، والقيح وغيرهما من النجاسات الخارجة من غير المخرج المعتاد لا تنقض ولو كثرت، وهو مذهب مالك والشافعي. انتهى 1.

الثاني. خروج سائر النجاسات من سائر البدن، وهي نوعان:

الأول. غائط وبول فينقض قليله وكثيره لدخوله في عموم النص.

الثاني. دم وقيح فينقض كثيره; لحديث فاطمة وفيه: "إنه دم عرق فتوضئي لكل صلاة" رواه الترمذي 2. ولا ينقض يسيره; لقول ابن عباس في الدم: "إذا كان فاحشا فعليه الإعادة".

الثالث. زوال العقل: وهو نوعان:

أحدهما. النوم فلا يخلو من أربعة أحوال:

أحدهما. أن يكون مضطجعا أو متكئا، أو معتمدا على شيء فينقض قليله وكثيره، للخبر وفيه: إلا من غائط وبول ونوم … 3.

الثاني. أن يكون جالسا غير معتمد على شيء فلا ينقض قليله، لحديث أنس وفيه: "كانوا ينتظرون العشاء فينامون قعودا ثم يصلون، ولا يتوضؤون" رواه مسلم 4.

الثالث. القائم: وفيه روايتان: أولاهما إلحاقه بحالة الجلوس; لأنه في معناه.

الرابع. الراكع والساجد: ففيه روايتان أولاهما أنه كالمضطجع.

ض

--------------------------------------------

1 الاختيارات: 15.

2 مختصر شرح وتهذيب سنن أبي داود ج1/ 187.

3 نيل الأوطار ج1/ 210.

4 نيل الأوطار ج1/ 212.
রক্ত, পুঁজ এবং সাধারণ নির্গমন পথ ব্যতীত অন্য কোনো স্থান থেকে নির্গত অন্যান্য অপবিত্রতা অযু নষ্ট করে না, যদিও তা পরিমাণে অধিক হয়। আর এটি ইমাম মালিক ও শাফিঈ-এর মাযহাব। সমাপ্ত ১।

দ্বিতীয়: শরীরের অন্যান্য অংশ থেকে অবশিষ্ট নাপাকি নির্গত হওয়া, আর এটি দুই প্রকার:

প্রথম: মল ও মূত্র; এর অল্প বা অধিক পরিমাণ অযু নষ্ট করে, যেহেতু এটি সাধারণ মূল পাঠের (النص) অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয়: রক্ত ও পুঁজ; এর অধিক পরিমাণ অযু নষ্ট করে; ফাতিমা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে যাতে রয়েছে: "নিশ্চয়ই এটি ধমনী থেকে নির্গত রক্ত, সুতরাং প্রতিটি সালাতের জন্য অযু কর।" এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন ২। আর এর সামান্য পরিমাণ অযু নষ্ট করে না; রক্তের বিষয়ে ইবনে আব্বাস (রা.)-এর উক্তির কারণে: "যখন তা অত্যধিক (فاحشا) হয়, তখন পুনরায় অযু করা আবশ্যক।"

তৃতীয়: জ্ঞান লোপ পাওয়া: আর এটি দুই প্রকার:

এক: ঘুম; এটি চারটি অবস্থা থেকে মুক্ত নয়:

প্রথম অবস্থা: যদি শায়িত অবস্থায়, অথবা হেলান দিয়ে, অথবা কোনো কিছুর ওপর ভর দিয়ে ঘুমানো হয়, তবে এর অল্প বা অধিক পরিমাণ অযু নষ্ট করে। এর সপক্ষে বর্ণিত বর্ণনা (الخبر) রয়েছে যাতে বলা হয়েছে: মল, মূত্র ও ঘুম ব্যতিরেকে … ৩।

দ্বিতীয় অবস্থা: যদি কোনো কিছুর ওপর ভর না দিয়ে বসা অবস্থায় থাকে, তবে এর অল্প পরিমাণে অযু নষ্ট হয় না। আনাস (রা.)-এর হাদিসের কারণে যাতে বর্ণিত আছে: "তাঁরা এশার সালাতের অপেক্ষা করতেন, এমতাবস্থায় তাঁরা বসা অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়তেন এরপর সালাত আদায় করতেন এবং অযু করতেন না।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন ৪।

তৃতীয় অবস্থা: দণ্ডায়মান ব্যক্তি: এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে: যার প্রথমটি হলো একে বসা অবস্থার সাথে তুলনা করা; কারণ এটি একই অর্থের পর্যায়ভুক্ত।

চতুর্থ অবস্থা: রুকুকারী ও সিজদাকারী: এ বিষয়েও দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে, যার মধ্যে প্রথমটি হলো এটি শায়িত ব্যক্তির মতো।

ض

--------------------------------------------

১ আল-ইখতিয়ারাত: ১৫।

২ মুখতাসার শারহ ওয়া তাহজিব সুনান আবি দাউদ, খণ্ড ১/ ১৮৭।

৩ নাইলুল আওতার, খণ্ড ১/ ২১০।

৪ নাইলুল আওতার, খণ্ড ১/ ২১২।