(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
الطريق إلى الإسلام (محمد بن إبراهيم الحمد)
القسم: كتب عامة
الكتاب: الطريق إلى الإسلام
المؤلف: محمد بن إبراهيم بن أحمد الحمد
الناشر: دار بن خزيمة
الطبعة: الثانية
عدد الصفحات: 101
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলামের পথ (মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-হামাদ)
বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: ইসলামের পথ
লেখক: মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আহমদ আল-হামাদ
প্রকাশক: দার ইবনে খুজাইমা
সংস্করণ: দ্বিতীয়
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০১
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيمالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهُداه أما بعد:فإن السعادة هدف منشود، ومطلب مُلِحٌّ، وغاية مبتغاة.وكل إنسان يعيش على وجه الأرض يسعى لإسعاد نفسه، وطرد الهم عنها.ولقد حرص الكُتَّاب، والمفكرون، والفلاسفة، والأدباء، والأطباء على البحث في أسباب جلب السعادة، وطرد الهمِّ؛ ولكلٍّ وجهةٌ هو مُوَلِّيها، وقد عَلِمَ كلُّ أُناسٍ مَشْرَبَهُم.ومع ذلك، فإنَّ السعادة التي يصل إليها أكثرهم سعادة مبتورة، أو ناقصة، أو وهمية، أشبه ما تكون بالمخدر يتناوله متعاطيه، فيشعر بنشوة أول وهلة، حتى إذا ذهب أثره رجعت إليه الأحزان أضعافاً مضاعفة.والسبب أن أولئك يغفلون أصل الأصول في جلب السعادة الحقَّة، ألا وهو الإيمان بالله عز وجل فذلك سرُّ السعادة وطريقها الأقوم؛ فلا يجد السعادة الحقَّة الدائمة إلا من آمن بالله، واهتدى بهُداه، فهناك يسعد في دنياه وأُخراه.وهذا الكتاب1 الذي بين يديك يدعوك إلى السعادة العظمى؛ لأنه يهديك إلى الإيمان بربك الذي خلقك، ويدلك على الاعتقاد الحق الذي يؤيده عقلك
--------------------------------------------
1 هذا الكتاب وضع في الأصل لتعريف غير المسلمين بالإسلام ولهذا سوف يلاحظ القارئ قلة الحواشي والتفصيلات والحرص على سهولة العبارة ووضوح المعلومة.
ভূমিকা…পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং যারা তাঁর প্রদর্শিত পথে হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছে তাদের ওপর। অতপর:নিশ্চয়ই সুখ এক কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য, এক জরুরি অন্বেষা এবং একটি অভীষ্ট উদ্দেশ্য।পৃথিবীর বুকে বসবাসকারী প্রত্যেক মানুষই নিজেকে সুখী করতে এবং নিজের থেকে দুশ্চিন্তা দূর করতে সচেষ্ট থাকে।আর লেখক, চিন্তাবিদ, দার্শনিক, সাহিত্যিক এবং চিকিৎসকগণ সুখ আনয়নের এবং দুশ্চিন্তা দূর করার কারণসমূহ অনুসন্ধানে সচেষ্ট হয়েছেন; প্রত্যেকেরই নিজস্ব দিক রয়েছে যা সে অনুসরণ করে এবং প্রতিটি দলই তাদের নিজস্ব উৎস সম্পর্কে অবগত হয়েছে।তা সত্ত্বেও, তাদের অধিকাংশ যে সুখে উপনীত হয় তা হলো খণ্ডিত, অপূর্ণাঙ্গ অথবা কাল্পনিক; যা অনেকটা সেই মাদকদ্রব্যের ন্যায় যা গ্রহণকারী ব্যবহারের প্রথম মুহূর্তেই এক প্রকার মাদকতা অনুভব করে, কিন্তু যখনই তার প্রভাব কেটে যায়, তখন দুঃখ-বেদনা বহুগুণে তার নিকট ফিরে আসে।এর কারণ হলো তারা প্রকৃত সুখ আনয়নের মূল ভিত্তি সম্পর্কে বিমুখ, আর তা হলো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান; এটাই হলো সুখের রহস্য এবং এর সর্বোত্তম পথ। সুতরাং যে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাঁর হেদায়েত অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে সে ব্যতীত অন্য কেউ প্রকৃত ও চিরস্থায়ী সুখ লাভ করতে পারে না; কেবলমাত্র এ পথেই সে তার দুনিয়া ও আখিরাতে সুখী হতে পারে।আপনার হাতের এই কিতাবটি১ আপনাকে পরম সুখের দিকে আহ্বান করছে; কারণ এটি আপনাকে আপনার সেই রবের প্রতি ঈমানের পথ দেখায় যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন এবং এটি আপনাকে সেই সত্য আকিদার দিকে পথপ্রদর্শন করে যা আপনার বিবেক সমর্থন করে।
--------------------------------------------
১ এই কিতাবটি মূলত অমুসলিমদের নিকট ইসলামকে পরিচিত করার জন্য রচনা করা হয়েছে, আর একারণেই পাঠক এতে টীকা ও বিস্তারিত বর্ণনার স্বল্পতা এবং সহজ সাবলীল ভাষা ও তথ্যের স্পষ্টতার প্রতি গুরুত্বারোপ লক্ষ্য করবেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
السليم، وفطرتك السوية، والذي تعرف من خلاله بداية خلق الإنسان ونهايته، والحكمة من إيجاده، وغير ذلك مما ستجده في الصفحات التالية؛ فهذا الكتاب يعرفك بدين الإسلام الذي ختم الله به الأديان، وارتضاه لجميع عباده، وأمرهم بالدخول فيه.وسيتضح لك من خلاله عظمة هذا الدين، وصحة ما جاء به، وصلاحه لكل زمان، ومكان، وأمة.وإذا أردت التفصيل بعد ذلك فما عليك إلا أن تبحث بنفسك، وأن تسأل عما يشكل عليك؛ فالإسلام دين مفتوح لا يُغلق في وجه أحد، ولا يضيق بالأسئلة مهما كثرت وتنوعت؛ فلكل سؤال في دين الإسلام جواب، ولكل قضية حكم؛ فإلى موضوعات الكتاب، والله المستعان، وعليه التكلان، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه.محمد بن إبراهيم الحمدالزلفي ص. ب: 460ط2، 10/1/1426هـwww.toislam.net
সুস্থ (سليم) বিচারবুদ্ধি এবং আপনার সঠিক স্বভাবজাত প্রকৃতি (فطرة), যার মাধ্যমে আপনি মানব সৃষ্টির সূচনা ও পরিণতি, সৃষ্টির উদ্দেশ্য বা প্রজ্ঞা (حكمة) এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে বর্ণিত অন্যান্য বিষয়াবলি সম্পর্কে জানতে পারবেন; এই গ্রন্থটি আপনাকে ইসলাম ধর্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা সকল দ্বীনের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন, যা তিনি তাঁর সকল বান্দার জন্য মনোনীত করেছেন এবং যাতে দাখিল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।এর মাধ্যমে আপনার নিকট এই দ্বীনের মহিমা, এতে যা বর্ণিত হয়েছে তার বিশুদ্ধতা (صحة) এবং সর্বকাল, স্থান ও জাতির জন্য এর উপযোগিতা সুস্পষ্ট হবে।এরপর আপনি যদি বিস্তারিত জানতে চান, তবে আপনাকে নিজে অনুসন্ধান করতে হবে এবং যা আপনার নিকট অস্পষ্ট মনে হয় সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে হবে; কারণ ইসলাম একটি উন্মুক্ত ধর্ম যা কারো জন্য রুদ্ধ নয় এবং প্রশ্নের আধিক্য ও বৈচিত্র্যের কারণে এটি সংকীর্ণ হয়ে পড়ে না; ইসলামে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর এবং প্রতিটি বিষয়ের বিধান (حكم) রয়েছে। এবার বইটির মূল প্রসঙ্গের দিকে অগ্রসর হওয়া যাক। আল্লাহর নিকটই সাহায্য কাম্য এবং তাঁর ওপরই আমাদের নির্ভরতা। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আল-হামাদআল-জুলফি, পোস্ট বক্স: ৪৬০২য় সংস্করণ, ১০/১/১৪২৬ হিজরিwww.toislam.net
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
قصة البشريةتبدأ قصة البشرية منذ أن خلق الله أبا البشر آدم عليه السلام حيث خلقه الله بيده الكريمة من طين، ونفخ فيه من روحه، وعَلَّمَهُ أسماء الأشياء كلها من الطيور، والدواب، وغير ذلك، وأَمرَ الملائكة أن يسجدوا لآدم؛ زيادة في التكريم والتشريف، فسجدوا كلُّهم إلا إبليس أبى واستكبر، فأهبطه الله من ملكوت السموات، وأخرجه ذليلاً مدحوراً، وقضى عليه باللعنة، والشقاء والنار.وبعد ذلك سأل إبليسُ ربَّه أن يُنظِره إلى يوم القيامة، فقال الله - تعالى -: {إِنَّكَ مِنْ الْمُنظَرِينَ} [الأعراف: 15] ، فقال إبليس: {قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لأغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ إِلَاّ عِبَادَكَ مِنْهُمْ الْمُخْلَصِينَ} [ص:، 82 83] ، وقال: {فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ ثُمَّ لآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ} [الأعراف:، 16 17] ، فقال الله عز وجل: {اخْرُجْ مِنْهَا مَذْءُوماً مَدْحُوراً لَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ لأَمْلأَنَّ جَهَنَّمَ مِنْكُمْ أَجْمَعِينَ} [الأعراف: 18] ، فأخرجه الله من الجنة، وأعطاه القدرة على الوسوسة والإغواء، وأمهله إلى يوم القيامة، ليزداد إثماً، فتعظم عقوبته، ويتضاعف عذابه، وليجعله الله مَحَكَّاً يتميز به الخبيث من الطيب.ثم بعد ذلك خلق الله من آدم زوجَه حواء؛ ليسكن إليها، ويأنس بها، وأمرهما أن يسكنا دار النعيم الجنة التي فيها ما لا عين رأت، ولا أذن سمعت،
মানবজাতির ইতিবৃত্তমানবজাতির ইতিহাস তখন থেকে শুরু হয় যখন আল্লাহ মানবপিতা আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেছেন; যেখানে আল্লাহ তাঁকে স্বীয় হাত দিয়ে কাদা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর মধ্যে স্বীয় রূহ ফুঁকে দিয়েছেন। তিনি তাঁকে পক্ষীকুল, চতুষ্পদ জন্তু এবং অন্য সবকিছুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন। আর তিনি ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদমকে সিজদাহ করতে; তাঁর সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে। তখন ইবলিস ব্যতীত তারা সকলে সিজদাহ করল; সে অস্বীকার করল এবং অহংকার করল। ফলে আল্লাহ তাকে আসমানি রাজত্ব থেকে নিচে নামিয়ে দিলেন এবং তাকে লাঞ্ছিত ও বিতাড়িত অবস্থায় বের করে দিলেন। আর তার ওপর অভিশাপ, চিরদুর্ভোগ ও জাহান্নামের ফয়সালা করলেন।এরপর ইবলিস তার প্রতিপালকের নিকট কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অবকাশ প্রার্থনা করল। আল্লাহ তাআলা বললেন: {নিশ্চয়ই তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত} [আল-আরাফ: ১৫]। তখন ইবলিস বলল: {আপনার ইজ্জতের শপথ! আমি তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব; তবে তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দারা ব্যতীত} [সোয়াদ: ৮২-৮৩]। সে আরও বলল: {যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সেহেতু আমি আপনার সরল পথে তাদের জন্য অবশ্যই ওঁত পেতে বসে থাকব। অতঃপর আমি তাদের নিকট আসব তাদের সম্মুখ হতে, তাদের পশ্চাৎ হতে, তাদের ডান দিক হতে এবং তাদের বাম দিক হতে। আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না} [আল-আরাফ: ১৬-১৭]। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বললেন: {এখান থেকে লাঞ্ছিত ও বিতাড়িত অবস্থায় বের হয়ে যাও। তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, আমি অবশ্যই তোমাদের সকলকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করব} [আল-আরাফ: ১৮]। অতঃপর আল্লাহ তাকে জান্নাত থেকে বের করে দিলেন এবং তাকে কুমন্ত্রণা ও বিভ্রান্ত করার ক্ষমতা দান করলেন। আর তাকে কিয়ামত পর্যন্ত সময় দিলেন যেন তার পাপ বৃদ্ধি পায়, ফলে তার শাস্তি কঠোরতর হয় এবং আজাব বহুগুণ বেড়ে যায়; আর আল্লাহ যেন তাকে একটি পরীক্ষার মানদণ্ড বানান যার মাধ্যমে অপবিত্রকে পবিত্র থেকে পৃথক করা যায়।এরপর আল্লাহ আদম থেকে তাঁর স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টি করলেন; যেন তিনি তাঁর নিকট প্রশান্তি লাভ করেন এবং তাঁর সাহচর্য লাভ করেন। তিনি তাঁদের উভয়কে নিয়ামতে ভরপুর জান্নাতে বসবাসের নির্দেশ দিলেন, যেখানে এমন সব নিয়ামত রয়েছে যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি এবং কোনো কান কখনো শোনেনি।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
ولا خطر على قلب بشر، وأخبرهما عز وجل بعداوة إبليس لهما، ونهاهما عن الأكل من شجرة من أشجار الجنة؛ ابتلاءً وامتحاناً، فوسوس لهما الشيطان، وزيَّن لهما الأكل من تلك الشجرة، وأقسم لهما أنه لهما من الناصحين، وقال: صلى الله عليه وسلم إن أكلتما من هذه الشجرة كنتما من الخالدين صلى الله عليه وسلم.فلم يزل بهما حتى أغواهما، فأكلا من الشجرة، وعصيا ربَّهما؛ فندما على ما فعلا أشد الندم، وتابا إلى ربِّهما، فتاب عليهما، واجتباهما، لكنه أهبطهما من الجنة دار النعيم إلى الدنيا دار النصب والتعب، وسكن آدم الأرض، ورزقه الله الذرية التي تكاثرت، وتشعبت إلى يومنا الحاضر، ثم توفاه الله، وأدخله الجنة.ومنذ أن أهبط الله آدم وزوجته إلى الأرض والعداوة قائمة مستمرة بين بني آدم من جهة، وبين إبليس وذريته من جهة، ومنذ ذلك الحين وإبليس وذريته في صراع دائم مع بني آدم؛ لصدهم عن الهدى، وحرمانهم من الخير، وتزيين الشر لهم، وإبعادهم عما يرضي الله؛ حرصاً على شقائهم في الدنيا، ودخولهم النار في الآخرة.ولكن الله عز وجل لم يخلق خلقه سدى، ولم يتركهم هملاً، بل أرسل إليهم الرسل الذين يبيِّنون لهم عبادة ربهم، وينيرون لهم دروب الحياة، ويوصلونهم إلى سعادة الدنيا والآخرة، فأخبر - سبحانه - الجن والإنس أنه إذا أتاكم مني كتاب، أو رسول يهديكم لما يقربكم مني، ويدنيكم من مرضاتي فاتبعوه؛ لأن من اتبع هدى الله، وآمن بكتبه ورسله، وما جاء في الكتب، وما
এবং তা কোনো মানুষের হৃদয়ে কখনও উদিত হয়নি। মহান ও মহীয়ান আল্লাহ তাঁদের উভয়কে ইবলিসের শত্রুতা সম্পর্কে অবহিত করলেন এবং পরীক্ষা ও যাচাইয়ের নিমিত্তে জান্নাতের বৃক্ষরাজির মধ্য থেকে একটি বিশেষ গাছ থেকে ফল খেতে নিষেধ করলেন। অতঃপর শয়তান তাঁদের মনে কুমন্ত্রণা দিল এবং সেই গাছ থেকে ফল খাওয়াকে তাঁদের সামনে সুশোভিত করে তুলল। সে তাঁদের নিকট কসম খেয়ে বলল যে, নিশ্চয়ই সে তাঁদের হিতাকাঙ্ক্ষীদের একজন। এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, শয়তান বলেছিল: "যদি তোমরা এই গাছ থেকে আহার করো, তবে তোমরা চিরঞ্জীবদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে" (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।অতঃপর সে অনবরত প্ররোচনা দিতে থাকল যতক্ষণ না সে তাঁদের বিভ্রান্ত করল। ফলে তাঁরা সেই গাছ থেকে আহার করলেন এবং তাঁদের রবের অবাধ্য হলেন। অতঃপর তাঁরা যা করেছিলেন সে জন্য চরমভাবে অনুতপ্ত হলেন এবং তাঁদের রবের নিকট তাওবা করলেন। ফলে আল্লাহ তাঁদের তাওবা কবুল করলেন এবং তাঁদের মনোনীত করলেন। কিন্তু তিনি তাঁদের নেয়ামতের আলয় জান্নাত থেকে দুঃখ-কষ্ট ও শ্রমের আবাস দুনিয়াতে নামিয়ে দিলেন। আদম (আলাইহিস সালাম) পৃথিবীতে বসবাস করতে লাগলেন এবং আল্লাহ তাঁকে এমন বংশধর দান করলেন যা সংখ্যায় বৃদ্ধি পেল এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত হলো। অতঃপর আল্লাহ তাঁর মৃত্যু দান করলেন এবং তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন।আল্লাহ যখন থেকে আদম ও তাঁর স্ত্রীকে পৃথিবীতে নামিয়ে দিয়েছেন, তখন থেকেই একদিকে আদম সন্তান এবং অন্যদিকে ইবলিস ও তার বংশধরের মধ্যে শত্রুতা অবিরামভাবে চলছে। সেই সময় থেকেই ইবলিস ও তার অনুসারীরা আদম সন্তানের সাথে নিরন্তর দ্বন্দ্বে লিপ্ত; যাতে তাদের হিদায়াত থেকে বিচ্যুত করা যায়, কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রাখা যায়, তাদের সামনে মন্দকে সুশোভিত করা যায় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ থেকে তাদের দূরে সরিয়ে রাখা যায়—তাদের দুনিয়াবী দুর্দশা এবং আখিরাতে জাহান্নামে প্রবেশের তীব্র আকাঙ্ক্ষায়।কিন্তু মহান ও মহীয়ান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে বৃথা সৃষ্টি করেননি এবং তাদের লক্ষ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি; বরং তিনি তাদের নিকট রাসূলদের প্রেরণ করেছেন যারা তাদের নিকট তাদের রবের ইবাদত বর্ণনা করেন, তাদের জীবনপথকে আলোকিত করেন এবং তাদের ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্যের পথে পৌঁছে দেন। সুতরাং পবিত্র ও মহান আল্লাহ জিন ও মানবজাতিকে সংবাদ দিয়েছেন যে, যখনই তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে কোনো কিতাব বা রাসূল আসবে যা তোমাদের আমার নৈকট্য দান করবে এবং আমার সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করবে, তখন তোমরা তাঁর অনুসরণ করো। কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহর হিদায়াত অনুসরণ করবে এবং তাঁর কিতাবসমূহ, রাসূলগণ এবং কিতাবসমূহে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর ঈমান আনবে এবং যা...
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
أمرت به الرسل فإنه لا يخاف، ولا يضل، ولا يشقى، بل تحصل له السعادة في الدنيا والآخرة.وهكذا بدأت قصة البشرية، فعاش آدم ومِنْ بعده ذريته عشرةَ قرونٍ وهم على طاعة الله، وتوحيده، ثم حصل الشرك، وعُبِد غير الله مع الله؛ فبعث الله أول رسله وهو نوح عليه السلام يدعو الناس إلى عبادة الله، ونبذ الشرك.ثم تتابع الأنبياء والرسل من بعده على اختلاف بينهم في الأزمنة، والأمكنة، وبعض الشرائع، وتفاصيلها مع الاتفاق في الأصل وهو: الدعوة إلى الإسلام، وعبادة الله وحده، ونبذ ما يُعبد من دونه.إلى أن جاء إبراهيم عليه السلام فدعا قومه إلى ترك عبادة الأصنام وإفراد الله بالعبادة، ثم كانت النبوة في ذريته من بعده في إسماعيل وإسحاق، ثم كانت في ذرية إسحاق.ومن أعظم الأنبياء من ذرية إسحاق: يعقوب، ويوسف، وموسى، وداود، وسليمان، وعيسى عليهم السلام.ولم يكن بعد عيسى نبي من بني إسرائيل.وبعد ذلك انتقلت النبوة إلى فرع إسماعيل؛ فكان أن اصطفى الله عز وجل محمداً صلى الله عليه وسلم ليكون خاتماً للأنبياء والمرسلين، ولتكون رسالته هي الخاتمة، وكتابه الذي أنزل إليه وهو القرآن هو رسالة الله الأخيرة للبشرية.ولهذا جاءت رسالته شاملة، كاملة، عامة للإنس والجن، العرب وغير العرب، صالحة لكل زمان ومكان، وأمة وحال؛ فلا خير إلا دلَّت عليه، ولا شر إذا حذَّرت منه، ولا يقبل الله من أحد ديناً سوى ما جاء به محمد صلى الله عليه وسلم.
রাসূলগণ (رسل) যা নির্দেশ দিয়েছেন, (তা যে অনুসরণ করবে) সে ভীত হবে না, পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগা হবে না; বরং সে দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্য লাভ করবে।এভাবেই মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা। আদম (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর পরবর্তী বংশধরেরা দশটি শতাব্দী পর্যন্ত আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর একত্ববাদ (توحيد)-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। অতঃপর শিরক (شرك) প্রকাশ পায় এবং আল্লাহর সাথে অন্যদের উপাসনা করা শুরু হয়। তখন আল্লাহ তাঁর প্রথম রাসূল (رسول) নূহ (আলাইহিস সালাম)-কে প্রেরণ করেন, যিনি মানুষকে আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান জানান এবং শিরক (شرك) বর্জনের দাওয়াত দেন।অতঃপর যুগ ও স্থানের বিভিন্নতা এবং শরিয়তের (شرائع) শাখা-প্রশাখা ও তার বিস্তারিত বিধানে ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও নবী ও রাসূলগণের (رسل) ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। তবে তাঁরা সবাই একটি মূল বিষয়ে একমত ছিলেন, আর তা হলো: ইসলামের দিকে আহ্বান করা, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য যা কিছুর উপাসনা করা হয় তা বর্জন করা।পরিশেষে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) আসলেন এবং তিনি তাঁর কওমকে মূর্তিপূজা ত্যাগ করে ইবাদতকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করার দাওয়াত দিলেন। এরপর নবুওয়াত (نبوة) তাঁর পরবর্তী বংশধর ইসমাইল ও ইসহাক (আলাইহিমাস সালাম)-এর মাঝে এবং পরবর্তীতে ইসহাক (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধারায় আবর্তিত হতে থাকে।ইসহাক (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধরদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ নবীগণের অন্তর্ভুক্ত হলেন: ইয়াকুব, ইউসুফ, মুসা, দাউদ, সুলায়মান এবং ঈসা (আলাইহিমাস সালাম)।ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর পর বনী ইসরাঈলের মধ্যে আর কোনো নবীর আগমন ঘটেনি।এরপর নবুওয়াত (نبوة) ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধারায় স্থানান্তরিত হয়। ফলে আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নবী ও রাসূলগণের সমাপ্তিকারী (خاتم) হিসেবে মনোনীত করেন এবং তাঁর রিসালাতকে (رسالة) সর্বশেষ হিসেবে নির্ধারণ করেন। তাঁর ওপর অবতীর্ণ কিতাব আল-কুরআন হলো মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত চূড়ান্ত বার্তা।এ কারণেই তাঁর রিসালাত (رسالة) হয়েছে ব্যাপক, পূর্ণাঙ্গ এবং মানুষ ও জিন, আরব ও অনারব নির্বিশেষে সকলের জন্য সাধারণ বা সর্বজনীন। এটি সকল কাল, স্থান, জাতি ও পরিস্থিতির জন্য উপযোগী। এমন কোনো কল্যাণ নেই যার দিকে এটি দিকনির্দেশনা দেয়নি এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে এটি সতর্ক করেনি। মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন (دين) আল্লাহ কারও নিকট থেকে কবুল করবেন না।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
بعثة النبي محمد وخلاصة سيرتة صلى الله علية وسلممقدمة…بعثة النبي محمد وخلاصه وسيرته صلى الله عليه وسلمالحديث عن بعثة النبي محمد صلى الله عليه وسلم وسيرته يطول، ولقد أفرد العلماء في هذا الشأن كتباً كثيرة.والمجال هنا لا يتسع للإطالة والإسهاب، وقد مرَّ بنا في الفقرة الماضية أن رسالة محمد صلى الله عليه وسلم هي الرسالة الخاتمة، وأن الكتاب الذي أُنزِل إليه وهو القرآن هو آخر الكُتب السماوية.ولعل الحديث في الأسطر التالية يتناول الموضوعات التالية من السيرة المباركة:
নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত লাভ এবং তাঁর জীবনচরিতের (سيرة) সারসংক্ষেপভূমিকা…নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত লাভ এবং তাঁর জীবনচরিতের (سيرة) সারসংক্ষেপনবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত এবং তাঁর জীবনচরিত (سيرة) বিষয়ক আলোচনা অত্যন্ত দীর্ঘ, এবং আলেমগণ এই বিষয়ে অনেক স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেছেন।এখানে বিষয়টি বিস্তারিত বা দীর্ঘায়িত করার মতো পর্যাপ্ত অবকাশ নেই। ইতিপূর্বের অনুচ্ছেদে আমরা আলোচনা করেছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনীত বার্তা হলো সর্বশেষ রিসালাত এবং তাঁর প্রতি অবতীর্ণ কিতাব আল-কুরআন হলো সর্বশেষ আসমানি কিতাব।সম্ভবত পরবর্তী পঙক্তিগুলোতে বরকতময় জীবনচরিতের (سيرة) নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করা হবে:
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمْ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [البقرة127: 129: 128] .فاستجاب الله دعوة إبراهيم وإسماعيل، فكان النبي الخاتم محمد عليه الصلاة والسلام من ذريتهما.أما قوله: "وبشرى عيسى" فإن نبي الله عيسى عليه السلام قد بَشَّر بالنبي محمد صلى الله عليه وسلم كما أخبر الله عنه في القرآن، فقال: {وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقاً لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّراً بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ} [الصف: 6] .فعيسى عليه السلام هو آخر نبي من أنبياء بني إسرائيل، وليس بينه وبين محمد صلى الله عليه وسلم نبي؛ فعيسى بَشَّر بنبي يأتي من بعده اسمه أحمد، وأحمد من أسماء النبي محمد صلى الله عليه وسلم.أما "رؤيا أمه" فقد رأت رؤيا صادقة؛ ذلك أن أمه لما أخذها المخاض، فوضعته تَمَثَّل لعينيها ذلك النور الذي أضاءت له بصرى في أرض الشام.2 - كون النبي صلى الله عليه وسلم خرج في أمة العرب: تلك الأمة التي فُضِّلَت على غيرها من الأمم آنذاك، حتى استعدت لهذا الإصلاح الروحي المدني العام، الذي اشتمل عليه دين الإسلام، بالرغم مما طرأ عليها من الأمية، وعبادة الأصنام، وما أحدثت فيها غلبة البداوة من التفرق والانقسام.ومع ذلك، فقد كانت أمة العرب متميزة باستقلال الفكر، وسعة الحرية الشخصية، في الوقت الذي كانت الأمم الأخرى ترسف في عبودية الرياستين
...তাদের মধ্য থেকে, যিনি তাদের নিকট আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} [আল-বাকারাহ ১২৭-১২৯]।অতঃপর আল্লাহ ইবরাহিম ও ইসমাইলের দুআ কবুল করেছেন, ফলে শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।আর তাঁর উক্তি: "ঈসার সুসংবাদ" এর বিষয়টি হলো, আল্লাহর নবী ঈসা আলাইহিস সালাম নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়েছিলেন যেমনটি আল্লাহ কুরআনে তাঁর সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: {আর স্মরণ করুন, যখন মরিয়ম তনয় ঈসা বলেছিলেন, হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং এমন একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা যিনি আমার পরে আসবেন, যাঁর নাম আহমদ।} [আস-সাফ: ৬]।ঈসা আলাইহিস সালাম ছিলেন বনী ইসরাইলের নবীদের মধ্যে সর্বশেষ নবী এবং তাঁর ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাঝে আর কোনো নবী নেই। ঈসা তাঁর পরে আসা একজন নবীর সুসংবাদ দিয়েছিলেন যাঁর নাম আহমদ, আর আহমদ হলো নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম নাম।আর "তাঁর মায়ের স্বপ্ন" এর বিষয়টি হলো, তিনি একটি সত্য স্বপ্ন (رؤيا صادقة) দেখেছিলেন; তা হলো, যখন তাঁর প্রসববেদনা শুরু হয় এবং তিনি তাঁকে ভূমিষ্ঠ করেন, তখন তাঁর চোখের সামনে সেই নূর বা জ্যোতি প্রকাশিত হয় যার আলোতে শাম দেশের বুসরা নগরী উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল।২ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আরব জাতির মধ্যে আবির্ভূত হওয়া: এটি এমন এক জাতি যাকে তৎকালীন অন্যান্য জাতির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করা হয়েছিল, যাতে তারা এই সাধারণ আধ্যাত্মিক ও তামাদ্দুনিক সংস্কারের জন্য প্রস্তুত হতে পারে যা ইসলাম ধর্ম ধারণ করেছে। যদিও তাদের মাঝে নিরক্ষরতা, মূর্তিপূজা এবং বেদুইন সংস্কৃতির আধিক্যের কারণে বিচ্ছিন্নতা ও বিভেদ সৃষ্টি হয়েছিল।তা সত্ত্বেও, আরব জাতি চিন্তার স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ব্যাপকতায় স্বতন্ত্র ছিল, যখন অন্যান্য জাতিসমূহ দ্বিমুখী কর্তৃত্বের দাসত্বের নিগড়ে আবদ্ধ ছিল।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
الدينية والدنيوية، محظوراً عليها أن تفهم غير ما يلقنها الكهنة، ورجال الدين من الأحكام الدينية، أو أن تخالفهم في مسألة عقلية، أو كونية، كما حظرت عليها التصرفات المدنية والمالية.وكانت أمة العرب - أيضاً - متميزة باستقلال الإرادة في جميع الأعمال أيام كانت الأمم مُذَلَّلَةً مُسَخَّرة للملوك والنبلاء، المالكين للرقاب والأموال بحيث يستخدمونهم كما يستخدمون البهائم؛ فلا رأي لهم في سلم، ولا حرب، ولا إرادة لها دونهم في عمل ولا كسب.وكانت أمة العرب متميزة بعزة النفس، وشدة البأس، وقوة الأبدان والقلوب أيام كانت الأمم مؤلفة من رؤساء أفسدهم الإسراف والترف، ومرؤوسين أضعفهم البؤس والشظف، وسادة أبطرهم بغي الاستبداد، ومُسَوَّدين أذلَّهم قَهْرُ الاستعباد.وكانت أمة العرب أقرب إلى العدل بين الأفراد، وكانت ممتازة بالذكاء، وكثيرٍ من الفضائل الموروثة والمكتسبة كإكرام الضيف، وإغاثة الملهوف، والنجدة، والإباء، وعلو الهمة، والسخاء، والرحمة، وحماية اللاجئ، وحرمة الجار أيام كانت الأمم مرهقة بالأثرة، والأنانية، والأنين من ثقل الضرائب والأتاوى الأميرية.وكانت أمة العرب قد بلغت أوج الكمال في فصاحة اللسان، وبلاغة المقال مما جعلها مستعدة للتأثر والتأثير بالبراهين العقلية، والمعاني الخطابية، والشعرية، وللتعبير عن جميع العلوم الإلهية والشرعية، والفنون العقلية، والكونية - أيام
ধর্মীয় ও জাগতিক বিষয়ে তাদের জন্য যাজক ও ধর্মীয় নেতাদের শিখিয়ে দেওয়া ধর্মীয় বিধিবিধান (الأحكام الدينية) ছাড়া অন্য কিছু বোঝা নিষিদ্ধ ছিল; অথবা কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক বা মহাজাগতিক বিষয়ে তাদের বিরোধিতা করাও ছিল নিষিদ্ধ। একইভাবে তাদের জন্য দেওয়ানি ও আর্থিক লেনদেনও নিষিদ্ধ ছিল।আরব জাতি সকল কর্মে তাদের স্বাধীন ইচ্ছার জন্য স্বতন্ত্র ছিল, এমন এক সময়ে যখন অন্যান্য জাতিসমূহ রাজা ও অভিজাতদের বশীভূত ও অনুগত ছিল। ঐসব শাসকরা মানুষের জীবন ও সম্পদের মালিক হয়ে তাদেরকে গবাদি পশুর মতো ব্যবহার করত; শান্তি বা যুদ্ধে তাদের কোনো মতামত ছিল না এবং শাসকদের নিয়ন্ত্রণ ব্যতিরেকে কোনো কাজ বা উপার্জনেও তাদের কোনো স্বাধীন ইচ্ছা ছিল না।আরব জাতি আত্মসম্মান, বীরত্ব এবং দেহ ও হৃদয়ের শক্তির জন্য সুপরিচিত ছিল, এমন এক সময়ে যখন অন্যান্য জাতিগুলো এমন সব নেতাদের দ্বারা গঠিত ছিল যাদেরকে অপব্যয় ও বিলাসিতা কলুষিত করেছিল, আর প্রজারা ছিল দারিদ্র্য ও কঠোরতায় দুর্বল। সেখানে শাসকরা স্বৈরাচারী অত্যাচারে উদ্ধত ছিল এবং শাসিতরা দাসত্বের নিগড়ে লাঞ্ছিত ছিল।আরব জাতি ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে অধিকতর নিকটবর্তী ছিল। তারা বুদ্ধিমত্তা এবং উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ও অর্জিত অনেক গুণাবলীতে শ্রেষ্ঠ ছিল; যেমন—অতিথি পরায়ণতা, আর্তের সেবা, সাহায্য করা, আত্মমর্যাদাবোধ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, দানশীলতা, দয়া, আশ্রয়প্রার্থীর সুরক্ষা এবং প্রতিবেশীর মর্যাদা রক্ষা করা। অথচ সেই সময়ে অন্যান্য জাতিগুলো স্বার্থপরতা, অহংবোধ এবং রাজকীয় কর ও শুল্কের ভারে জর্জরিত ছিল।আরব জাতি বাচনভঙ্গির প্রাঞ্জলতা ও বক্তব্যের অলঙ্কারিতায় শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে পৌঁছেছিল, যা তাদেরকে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ, আলঙ্কারিক ও কাব্যিক অর্থের মাধ্যমে প্রভাবিত হতে এবং অন্যকে প্রভাবিত করতে সক্ষম করে তুলেছিল। এছাড়া তারা সমস্ত ঐশ্বরিক ও শরয়ি (الشرعية) জ্ঞান এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও মহাজাগতিক কলাসমূহ প্রকাশ করার যোগ্যতা অর্জন করেছিল—এমন দিনগুলোতে...
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
كانت الأمم الأخرى تنفصم عرى وحدتها بالتعصبات الدينية والمذهبية، والعداوات العرقية.وأعظم مزية امتاز بها العرب، أنهم كانوا أسلم الناس فطرةً، بالرغم من أن أمم الحضارة كانت أرقى منهم في كل فن وصناعة.والإصلاح الإسلامي مبني على تقديم إصلاح النفس باستقلال العقل، والإرادة، وتهذيب الأخلاق على إصلاح ما في الأرض من معدن، ونبات، وحيوان.وبهذا كان الله عز وجل يُعِدُّ هذه الأمة للإصلاح العظيم الذي جاء به محمد صلى الله عليه وسلم.3 - شرف النسب: فقد كان نسبه صلى الله عليه وسلم أشرف الأنساب، وأصرحها، قال - تعالى -: {إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى آدَمَ وَنُوحاً وَآلَ إِبْرَاهِيمَ وَآلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ} [آل عمران:33] .فالله عز وجل اصطفى هؤلاء؛ إذ جعل فيهم النبوة والهداية للمتقدمين، واصطفى قريشاً من كِنانة، واصطفى من قريش بني هاشم، واصطفى من بني هاشم سيد ولد آدم محمداً صلى الله عليه وسلم فكان آل إسماعيل أفضل الأولين والآخرين، كما كان بنو إسحاق أفضل المتوسطين.أما اصطفاء الله لقبيلة قريش فقد كان بما آتاهم الله من المناقب العظام، ولاسيما بعد سُكنى مكة، وخدمة المسجد الحرام؛ إذ كانوا أصرح ولد إسماعيل أنساباً، وأشرفهم أحساباً، وأعلاهم آداباً، وأفصحهم ألسنة، وهم الممهدون
অন্যান্য জাতিসমূহের ঐক্যের বন্ধন ধর্মীয় ও মাযহাবী গোঁড়ামি এবং জাতিগত শত্রুতার কারণে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।আর আরবদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, তারা স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) দিক থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত ছিল, যদিও সমকালীন সভ্য জাতিসমূহ শিল্প ও কারুশিল্পের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের চেয়ে উন্নত ছিল।আর ইসলামী সংস্কারের ভিত্তি হলো বুদ্ধি ও ইচ্ছাশক্তির স্বাধীনতার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি এবং নৈতিকতা পরিমার্জনকে পৃথিবীর খনিজ, উদ্ভিদ ও প্রাণীর সংস্কারের ওপর প্রাধান্য দেওয়া।এভাবেই আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে সেই মহান সংস্কারের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন, যা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়ে এসেছিলেন।৩ - বংশমর্যাদার (نسب) শ্রেষ্ঠত্ব: তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বংশধারা ছিল সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ও বিশুদ্ধ (صريح)। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয় আল্লাহ আদম, নূহ, ইব্রাহিমের বংশধর ও ইমরানের বংশধরকে বিশ্বজগতের ওপর মনোনীত (اصطفى) করেছেন} [আল ইমরান: ৩৩]।সুতরাং আল্লাহ তাআলা এদেরকে মনোনীত করেছেন; যেহেতু তিনি তাঁদের মধ্যে নবুয়ত (نبوة) ও পূর্ববর্তীদের জন্য হিদায়াত (هداية) নিহিত রেখেছেন। তিনি কিনানা থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে এবং বনু হাশিম থেকে আদম সন্তানদের সরদার মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মনোনীত করেছেন। ফলে ইসমাইল (আ.)-এর বংশধরগণ পূর্বাপর সকলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সাব্যস্ত হলেন, যেমন ইসহাক (আ.)-এর বংশধরগণ মধ্যবর্তী সময়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন।কুরাইশ গোত্রকে আল্লাহর মনোনীত (اصطفاء) করার কারণ ছিল তাদেরকে আল্লাহ প্রদত্ত মহান গুণাবলি (مناقب), বিশেষ করে মক্কায় বসবাস এবং মসজিদে হারামের খেদমতের সুযোগ লাভের পর; কেননা তারা বংশমর্যাদার (نسب) দিক থেকে ইসমাইল (আ.)-এর সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ, আভিজাত্যে শ্রেষ্ঠ, শিষ্টাচারে উন্নত এবং ভাষায় ছিল সর্বাধিক সাবলীল; তারাই ছিলেন পথপ্রদর্শক।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
لجمع الكلمة.أما اصطفاء الله لبني هاشم فقد كان لما امتازوا به من الفضائل والمكارم؛ فكانوا أصلح الناس عند الفتن، وخيرهم لمسكين ويتيم.وإنما أطلق لقب هاشم على عمْرو بن عبد مناف؛ لأنه أول من هشم الثريد - وهو طعام لذيذ - للذين أصابهم القحط، وكان يَشْبَعُ منه كلَّ عامٍ أهلُ الموسم كافة، ومائدتُه منصوبةٌ لا ترفع في السراء ولا في الضراء.وزاد على هاشم ولَدُه عبد المطلب جدُّ الرسول صلى الله عليه وسلم فكان يطعم الوحش، وطير السماء، وكان أول من تعبد بغار حراد، وروي أنه حرم الخمر على نفسه.وبالجملة: فقد امتاز آل النبي صلى الله عليه وسلم على سائر قومه بالأخلاق العلية، والفواضل العملية، والفضائل النفسية، ثم اصطفى الله محمداً صلى الله عليه وسلم من بني هاشم؛ فكان خير ولد آدم، وسيدهم.4 - بلوغه صلى الله عليه وسلم الذروة في مكارم الأخلاق: فقد جبله الله عز وجل على كريم الخلال، وحميد الخصال، فكان قبل النبوة أرقى قومه، بل أرقى البشرية في زكاء نفسه، وسلامة فطرته، وحسن خلقه.نشأ يتيماً شريفاً، وشبَّ فقيراً عفيفاً، ثم تزوج محباً لزوجته مخلصاً لها.لم يتولَّ هو لا والده شيئاً من أعمال قريش في دينها ولا دنياها، ولا كان يعبد عبادتهم، ولا يحضر سامرهم، ولا ندواتهم، ولم يُؤْثَرْ عنه قول ولا عمل يدل على حبِّ الرياسة، أو التطلع إليها.وكا يُعرف بالتزام الصدق، والأمانة، وعلو الآداب؛ فبذلك كان له المقام
ঐক্যবদ্ধ করার জন্য।বনু হাশিমের প্রতি আল্লাহর মনোনয়নের কারণ ছিল তাদের অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ফযিলত ও সম্মানজনক গুণাবলি; ফিতনার সময় তারা ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য এবং মিসকিন ও এতিমদের প্রতি সবচেয়ে দয়ালু।মূলত আমর ইবনে আবদ মানাফকে ‘হাশিম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল; কারণ তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি দুর্ভিক্ষকবলিত মানুষের জন্য 'সারীদ'—যা একটি সুস্বাদু খাবার—গুঁড়ো করেছিলেন। হজের মৌসুমে আগত সকল মানুষ প্রতি বছর তা থেকে তৃপ্তি সহকারে আহার করত এবং সুখ-দুঃখ সর্বাবস্থায় তাঁর দস্তরখান উন্মুক্ত থাকত।হাশিমের পুত্র এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাদা আবদুল মুত্তালিব এ ক্ষেত্রে তাঁর পিতাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন; তিনি বন্যপ্রাণী ও আকাশের পাখিদেরও আহার করাতেন। তিনি হেরা গুহায় প্রথম ইবাদত শুরু করেন এবং বর্ণিত (روي) আছে যে, তিনি নিজের জন্য মদ্যপান হারাম করেছিলেন।সারকথা: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরিবার উচ্চতর নৈতিকতা, ব্যবহারিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং আত্মিক ফযিলতের ক্ষেত্রে তাঁদের কওমের অন্যদের তুলনায় অনন্য ছিলেন। অতঃপর আল্লাহ বনু হাশিম থেকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মনোনীত করেন; ফলে তিনি বনি আদমের শ্রেষ্ঠ সন্তান ও তাঁদের নেতা হন।৪ - সচ্চরিত্রের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানো: আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা তাঁকে মহৎ গুণাবলি ও প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্যের ওপর সৃষ্টি করেছিলেন। নবুওয়তের পূর্বেও তিনি তাঁর কওমের মধ্যে, এমনকি সমগ্র মানবজাতির মধ্যে আত্মিক পবিত্রতা, সুস্থ স্বভাবজাত প্রকৃতি এবং উত্তম চরিত্রের দিক থেকে ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।তিনি এক সম্ভ্রান্ত এতিম হিসেবে লালিত-পালিত হন এবং দারিদ্র্যের মধ্যে একজন পবিত্র যুবক হিসেবে বেড়ে ওঠেন। এরপর তিনি বিবাহ করেন এবং তাঁর স্ত্রীর প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও একনিষ্ঠ ছিলেন।তিনি বা তাঁর পিতা কুরাইশদের ধর্মীয় বা পার্থিব কোনো কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। তিনি তাদের মতো উপাসনা করতেন না এবং তাদের সান্ধ্যকালীন আড্ডা বা সভায় উপস্থিত হতেন না। তাঁর থেকে এমন কোনো কথা বা কাজ বর্ণিত (روي) হয়নি যা নেতৃত্বের প্রতি লালসা বা তা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে।তিনি সত্যবাদিতা, আমানতদারি এবং উচ্চতর শিষ্টাচারের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হিসেবে পরিচিত ছিলেন; এ কারণেই তাঁর বিশেষ মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الأرفع قبل النبوة؛ حتى لقبوه بالأمين.وعلى هذه الحال كان صلى الله عليه وسلم حتى بلغ أشده، واستوى، وكملت في جسده الطاهر، ونفسه الزكية جميع القوى، ولا طمع في مال، ولا سمعة، ولا تطلع إلى جاه ولا شهرة، حتى أتاه الوحي من رب العالمين كما سيأتي بيانه بعد قليل.5 - كونه صلى الله عليه وسلم أميّاً لا يقرأ ولا يكتب: فهذا من أعظم المهيئات والدلائل على صدق نبوته؛ فهذا الرجل الأمي الذي لم يقرأ كتاباً، ولم يكتب سطراً، ولم يقل شعراً، ولم يرتجل نثراً، الناشىءُ في تلك الأمة الأمية - يأتي بدعوة عظيمة، وبشريعة سماوية عادلة، تستأصل الفوضى الاجتماعي، وتكفل لمعتنقيها السعادة الإنسانية الأبدية، وتعتقهم من رق العبودية لغير ربِّهم - جل وعلا -.كل ذلك من مهيئات النبوة، ومن دلائل صدقها.
নবুওয়াতের পূর্বে (তিনি) সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন; এমনকি তারা তাঁকে ‘আল-আমিন’ (الأمين) উপাধিতে ভূষিত করেছিল।আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই অবস্থায় ছিলেন যতক্ষণ না তিনি পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করলেন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হলেন। তাঁর পবিত্র দেহ ও পরিশুদ্ধ আত্মায় সকল শক্তি পূর্ণতা লাভ করেছিল। তাঁর মাঝে সম্পদের প্রতি কোনো মোহ ছিল না, লোকদেখানো সুখ্যাতির প্রতি কোনো লালসা ছিল না, এবং পদমর্যাদা বা খ্যাতির প্রতি কোনো আকাঙ্ক্ষা ছিল না। পরিশেষে তাঁর নিকট রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে ওহী (وحي) আসলো, যার বর্ণনা শীঘ্রই আসছে।৫ - তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মি (أمي) হওয়া অর্থাৎ তিনি পড়তে বা লিখতে পারতেন না: এটি তাঁর নবুওয়াতের সত্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রস্তুতিমূলক নিদর্শন ও প্রমাণ। কারণ এই উম্মি (أمي) ব্যক্তি—যিনি কোনো কিতাব পড়েননি, কোনো পঙ্ক্তি লেখেননি, কোনো কবিতা বলেননি এবং কোনো গদ্য রচনা করেননি, যিনি সেই উম্মি (أمي) জাতির মধ্যে বেড়ে উঠেছেন—তিনি এক মহান দাওয়াত এবং এক সুষম আসমানী শরীয়ত (شريعة) নিয়ে আসলেন, যা সামাজিক বিশৃঙ্খলাকে সমূলে উৎপাটন করে, তার অনুসারীদের জন্য শাশ্বত মানবিক সুখ নিশ্চিত করে এবং তাদের প্রতিপালক—যিনি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ—ব্যতীত অন্য কারও দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে তাদের মুক্ত করে।এ সব কিছুই নবুওয়াতের পটভূমি এবং এর সত্যতার প্রমাণসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
أولا: مهيئات النبوة:لقد هيأ الله عز وجل للنبي صلى الله عليه وسلم مهيئات كثيرة كانت إرهاصاً لبعثته ونبوته، فمن ذلك ما يلي:1 - دعوة إبراهيم، وبشرى عيسى عليهما السلام ورؤيا أمه آمنة: يقول النبي صلى الله عليه وسلم عن نفسه: "أنا دعوة أبي إبراهيم، وبشرى عيسى، ورأت أمي حين حملت بي كأنه خرج منها نور أضاءت له بصرى من أرض الشام".ومعنى الحديث: أن النبي صلى الله عليه وسلم يقول: أنا مصداق دعوة إبراهيم الخليل عليه السلام لأن إبراهيم لمَّا كان يرفع القواعد من الكعبة في مكة، ومعه ابنه إسماعيل كان يقول - كما أخبرنا الله عنه في القرآن -: {رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولاً
প্রথমত: নবুওয়তের প্রাক-প্রস্তুতিসমূহ:আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য এমন অনেক বিষয় প্রস্তুত করেছিলেন যা তাঁর প্রেরণ ও নবুওয়তের প্রাথমিক অলৌকিক নিদর্শন (إرهاص) স্বরূপ ছিল। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিম্নরূপ:১ - ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর দোয়া (دعوة), ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর সুসংবাদ (بشرى) এবং তাঁর মাতা আমিনার স্বপ্ন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের সম্পর্কে বলেন: "আমি আমার পিতা ইব্রাহিমের দোয়া (دعوة), ঈসার সুসংবাদ (بشرى); আর আমার গর্ভকালীন সময়ে আমার মাতা দেখেছিলেন যে, তাঁর থেকে একটি নূর নির্গত হয়েছে যার মাধ্যমে সিরিয়া ভূখণ্ডের বুসরার প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল।"হাদিসটির অর্থ হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলছেন: আমি ইব্রাহিম খলিল (আলাইহিস সালাম)-এর দোয়ার (دعوة) বাস্তব প্রতিফলন। কারণ ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) যখন মক্কায় কাবার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছিলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর পুত্র ইসমাইল (আলাইহিস সালাম) ছিলেন, তখন তিনি প্রার্থনা করছিলেন—যেমনটি আল্লাহ তাআলা কোরআনে তাঁর সম্পর্কে আমাদের জানিয়েছেন—: {হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর থেকে আপনার এক অনুগত উম্মত (أمة) তৈরি করুন। আমাদের ইবাদতের নিয়মাবলী (مناسك) দেখিয়ে দিন এবং আমাদের তাওবা কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। হে আমাদের রব! তাদের মধ্য থেকে একজন রাসুল (رسول) প্রেরণ করুন...}
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ثانيا نبذة عن نسب النبي صلى الله عليه وسلم وحياته:هو محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن حكيم بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان، وعدنان من العرب، والعرب من ذرية إسماعيل بن إبراهيم عليه السلام.وأُم النبي صلى الله عليه وسلم هي آمنة بنت وهب بن عبد مناف بن زهرة، وزهرة أخو جد النبي صلى الله عليه وسلم.وقد تزوج بها عبد الله والد النبي صلى الله عليه وسلم وأقام معها في بيت أهلها ثلاثة أيام، فلم تلبث أن حملت بالنبي صلى الله عليه وسلم ولم تجد في حمله ثقلاً، ولا وحماً كما هو شأن
দ্বিতীয়ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশপরম্পরা (نسب) ও তাঁর জীবন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ: তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে হাকিম ইবনে মুররা ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নাদর ইবনে কিনানা ইবনে খুজাইমা ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মায়াদ ইবনে আদনান। আর আদনান ছিলেন আরব বংশোদ্ভূত, এবং আরবরা হলো ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের বংশধর।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা হলেন আমিনা বিনতে ওয়াহাব ইবনে আবদে মানাফ ইবনে জুহরা। আর জুহরা ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (উর্ধ্বতন) পিতামহের ভ্রাতা।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিতা আবদুল্লাহ তাঁকে বিবাহ করেন এবং তাঁর পিত্রালয়ে তিন দিন অতিবাহিত করেন। এরপর তিনি শীঘ্রই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গর্ভে ধারণ করেন এবং তিনি গর্ভাবস্থায় কোনো ভার অনুভব করেননি এবং গর্ভাবকালীন কোনো শারীরিক কষ্টও বোধ করেননি যেমনটি সচরাচর হয়ে থাকে...
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المحصنات الصحيحات الأجسام.وقد رأت أمه رؤيا لما حملت به، وقد مَرَّ ذِكْرُ الرؤيا في كلام سابق.وقد ولدته أمه سَويّ الخلق، جميل الصورة، صحيح الجسم، وكانت ولادته عام الفيل الموافق للحادي والسبعين بعد الخمسمائة للميلاد.وقد تُوفي والده وهو حَمْلٌ في بطن أمه، فكفله جده عبد المطلب، وأرضعته أمه ثلاثة أيام ثم عهد جده بإرضاعه إلى امرأة يقال لها حليمة السعدية.وكان من عادة العرب أن يسترضعوا لأولادهم في البوادي؛ حيث تتوافر أسباب النشأة البدنية السليمة.ولقد رأت حليمة السعدية من أمر هذا الرضيع عجباً، ومن ذلك: أنها أتت مع زوجها إلى مكة على أتان هزيلة بطيئة السير، وفي طريق العودة من مكة، وهي تضع الرضيع في حجرها كانت الأتان تعدو عَدْواً سريعاً، وتُخَلِّف وراءها كل الدواب، مما جعل رفاق الطريق كلهم يتعجبون.وتُحدِّث حليمة بأن ثديها لم يكن يُدِرُّ شيئاً من الحليب، وأن طفلها الرضيع كان دائم البكاء من شدة الجوع، فلما ألقمت الثدي رسول الله صلى الله عليه وسلم دَرَّ غزيراً، فأصبحت ترضعه وترضع طفلها حتى يشبعا.وتُحدِّث حليمة عن جدب أرض قومها ديار بني سعد، فلما حظيت بشرف رضاعة هذا الطفل أنتجت أرضها، وماشيتها، وتَبَدَّلت حالها من بؤس وفقر، إلى هناء ويسر.وبعد سنتين عادت به حليمة إلى أمه وجده في مكة، لكن حليمة ألَحَّتْ على
সতী-সাধ্বী ও সুঠাম দেহের অধিকারিণী নারীগণ।যখন তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন, তখন তাঁর মাতা একটি স্বপ্ন প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং সেই স্বপ্নের বিবরণ ইতিপূর্বেই আলোচিত হয়েছে।তাঁর মাতা তাঁকে ত্রুটিমুক্ত অবয়ব, সুশ্রী চেহারা এবং সুঠাম দেহসহ প্রসব করেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল হস্তীবর্ষে, যা ছিল ঈসায়ী পাঁচশ একাত্তর সালের সমকালীন।তিনি যখন মাতৃগর্ভে ছিলেন, তখনই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন; অতঃপর তাঁর পিতামহ আব্দুল মুত্তালিব তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর মাতা তাঁকে তিন দিন স্তন্যপান করান, এরপর তাঁর পিতামহ তাঁকে হালিমা সাদিয়া নাম্নী এক মহিলার নিকট স্তন্যদানের জন্য অর্পণ করেন।আরবের প্রথা ছিল সন্তানদের পল্লী অঞ্চলে স্তন্যদান করানো; যেখানে শারীরিক বিকাশের অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান থাকত।হালিমা সাদিয়া এই দুগ্ধপোষ্য শিশুটির মধ্যে অনেক অলৌকিক বিষয় প্রত্যক্ষ করেন। তার মধ্যে একটি হলো: তিনি যখন স্বামীর সাথে মক্কায় আসেন, তখন তাঁর গাধীটি ছিল অত্যন্ত দুর্বল ও মন্থরগতির। কিন্তু মক্কা থেকে ফেরার পথে শিশুটিকে কোলে নেওয়ার পর সেই গাধীটি এত দ্রুতবেগে ছুটতে লাগল যে, তা অন্যান্য সকল জন্তুকে পেছনে ফেলে দিল; এতে সফরসঙ্গীরা বিস্ময়াভিভূত হয়ে পড়েন।হালিমা বর্ণনা করেন যে, তাঁর স্তন হতে দুধ নিঃসৃত হতো না এবং তাঁর নিজের শিশুটি ক্ষুধার যন্ত্রণায় সর্বদা ক্রন্দন করত। কিন্তু যখন তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্তন্য দান করালেন, তখন তাতে দুধের জোয়ার এল। ফলে তিনি রাসুলুল্লাহ এবং তাঁর নিজ সন্তান উভয়কেই পরিতৃপ্ত হওয়া পর্যন্ত পান করালেন।হালিমা তাঁর স্বজাতি বনু সা’দ গোত্রের বাসভূমির অনাবৃষ্টির কথা ব্যক্ত করেন। অতঃপর যখন তিনি এই শিশুটিকে স্তন্যদানের গৌরব অর্জন করলেন, তখন তাঁর ভূমি ও গবাদি পশু বরকতময় হয়ে উঠল এবং তাঁর অবস্থা দুর্দশা ও দারিদ্র্য থেকে সুখ ও সচ্ছলতায় রূপান্তরিত হলো।দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর হালিমা তাঁকে মক্কায় তাঁর মাতা ও পিতামহের নিকট ফিরিয়ে আনেন, তবে হালিমা একান্ত অনুরোধ করতে থাকেন যেন...
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أمه أن توافق على بقائه عندها مرة ثانية؛ لِمَا رأت من بركته عليها، فوافقت أُمُّه آمنة، فعادت حليمة بالطفل مرة أخرى إلى ديارها والفرحة تملأ قلبها.وبعد سنتين عادت به حليمة إلى أمه، وعمره آنذاك أربع سنوات، فحضنته أمه إلى أن توفيت، وكان له من العمر ست سنين، فكفله جده عبد المطلب سنتين ثم توفي، وقبل وفاته أوصى به ابنه أبا طالب عمَّ النبي صلى الله عليه وسلم فحاطه بعنايته كما يحوط أهله وولده.إلا أنه كان لفقره يعيش عيش الشظف؛ فلم يتعود صلى الله عليه وسلم نعيم الترف، ولعلَّ ذلك من عناية الله بهذا النبي الكريم.وكان صلى الله عليه وسلم قد ألِفَ رعي الغنم مع إخوانه من الرضاع لما كان في بادية بني سعد، فصار يرعى الغنم لأهل مكة؛ فيكفي نفسه بما يأخذه على ذلك من الأجرة، ولا يرهق عمه بالنفقة.ثم سافر مع عمه أبي طالب في تجارة إلى الشام، وله من العمر اثنتا عشرة سنة وشهران وعشرة أيام، وهناك رآه "بحيرا" الراهب، وبشَّر به عمَّه أبا طالب، وحذَّره من عدوان اليهود عليه بعد أن رأى خاتم النبوة بين كتفيه.ثم إنه سافر مرة أخرى مُتَّجراً بمالٍ لخديجة بنت خويلد، فأعطته أفضل مما كانت تعطي غيره؛ إذ جاءت تلك التجارة بأرباح مضاعفة، بل جاءت بسعادة الدنيا والآخرة.وكانت خديجة هذه أعقل وأكمل امرأة في قريش، حتى كانت تدعى في الجاهلية: الطاهرة؛ لِما لها من الصيانة، والعفَّة، والفضائل الظاهرة.
তাঁর মাতা তাঁকে পুনরায় তাঁর নিকট রাখার বিষয়ে সম্মত হলেন; যেহেতু তিনি তাঁর বরকত প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ফলে তাঁর মাতা আমিনা সম্মতি দিলেন এবং হালিমা অত্যন্ত আনন্দিত চিত্তে শিশুটিকে নিয়ে পুনরায় নিজ আবাসে ফিরে গেলেন।দুই বছর পর হালিমা তাঁকে তাঁর মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল চার বছর। অতঃপর তাঁর মাতা ইন্তেকাল পর্যন্ত তাঁকে সস্নেহে লালন-পালন করলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর। এরপর তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব দুই বছর তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন এবং তিনিও ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর পুত্র আবু তালিবকে—যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা—তাঁর রক্ষণাবেক্ষণের অসিয়ত করে যান। ফলে তিনি নবীজিকে অত্যন্ত যত্নসহকারে আগলে রেখেছিলেন যেমনটি তিনি নিজের পরিবার ও সন্তানদের আগলে রাখতেন।তবে চরম দারিদ্র্যের কারণে তিনি অত্যন্ত কৃচ্ছ্রসাধন ও কষ্টকর জীবন অতিবাহিত করতেন; ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাসিতার নেয়ামতে অভ্যস্ত ছিলেন না। সম্ভবত এটিই ছিল এই সম্মানিত নবীর প্রতি মহান আল্লাহর বিশেষ তত্ত্বাবধান।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু সাদ গোত্রের পল্লীতে থাকার সময় তাঁর দুধ-ভাইদের সাথে মেষ চরাতে অভ্যস্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মক্কাবাসীদের মেষ চরাতে শুরু করেন; এর বিনিময়ে প্রাপ্ত পারিশ্রমিক দ্বারা তিনি নিজের প্রয়োজন মেটাতেন এবং তাঁর চাচার ওপর কোনো আর্থিক বোঝা চাপাতেন না।অতঃপর বারো বছর দুই মাস দশ দিন বয়সে তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়া সফর করেন। সেখানে "বাহিরা" নামক সন্ন্যাসী তাঁকে দেখেন এবং তাঁর চাচা আবু তালিবকে তাঁর ব্যাপারে সুসংবাদ দান করেন। তিনি নবীজির দুই কাঁধের মাঝে নবুওয়াতের মোহর প্রত্যক্ষ করার পর তাঁর ওপর ইহুদিদের সম্ভাব্য শত্রুতা সম্পর্কে তাঁকে সতর্ক করেন।এরপর তিনি খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদের সম্পদ নিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক সফরে যান। তিনি নবীজিকে অন্যদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ প্রতিদান দিয়েছিলেন; কেননা সেই ব্যবসায় যেমন দ্বিগুণ মুনাফা অর্জিত হয়েছিল, তেমনি তা দুনিয়া ও আখেরাতের পরম সৌভাগ্য বয়ে এনেছিল।এই খাদিজা ছিলেন কুরাইশ বংশের সবচেয়ে বুদ্ধিমতী ও মহীয়সী নারী, এমনকি তাঁর চারিত্রিক সুরক্ষা (صيانة), পবিত্রতা (عفة) এবং প্রকাশ্য গুণাবলির কারণে জাহেলি যুগেও তাঁকে 'তাহিরা' (পবিত্র) বলে সম্বোধন করা হতো।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ولما حدَّثَها غُلامها ميسرةُ بما رأى من النبي صلى الله عليه وسلم في رحلته معه إلى الشام، من الأخلاق العالية، والفضائل السامية، وما قاله "بحيرا" الراهب لعمه أبي طالب في رحلته الأولى إلى الشام - تعلقت رغبتها به؛ وبأن تتخذه زوجاً لها، وكانت قد تزوجت من قبل، وتوفي عنها زوجها؛ فتمَّ ذلك الزواج الميمون، وكان عمره آنذاك خمسة وعشرين سنة، وعمرها قريب من أربعين سنة.ولم يتزوج عليها طيلة حياتها، ولا أحب مثلها، وتوفيت بعد البعثة النبوية بعشر سنين، فكان كثيراً ما يذكرها، ويتصدق عنها، ويهدي لصاحباتها، وهي الزوجة التي رُزِق منها جميع أولاده عدا إبراهيم؛ فإنه من زوجته ماريا القبطية.هذه بعض أخباره وسيرته قبل النبوة، وبدء الوحي على سبيل الإجمال.
যখন তাঁর গোলাম মায়সারা সিরিয়া সফরের সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে দেখা সুউচ্চ নৈতিকতা ও মহৎ গুণাবলি এবং তাঁর প্রথম সিরিয়া সফরের সময় পাদ্রী "বুহাইরা" তাঁর চাচা আবু তালিবকে যা বলেছিলেন সে সম্পর্কে বর্ণনা করলেন—তখন তাঁর (খাদিজার) মনে নবীজিকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করার আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হলো। ইতিপূর্বে তিনি বিবাহিতা ছিলেন এবং তাঁর স্বামী ইন্তেকাল করেছিলেন। অতঃপর সেই বরকতময় বিবাহ সম্পন্ন হলো; সে সময় নবীজির বয়স ছিল পঁচিশ বছর এবং খাদিজা (রা.)-এর বয়স ছিল চল্লিশের কাছাকাছি।তাঁর জীবদ্দশায় নবীজি অন্য কোনো বিবাহ করেননি এবং তাঁর মতো আর কাউকে ভালোবাসেননি। নবুওয়াত প্রাপ্তির (بعثة) দশম বছরে তিনি ইন্তেকাল করেন। নবীজি প্রায়ই তাঁকে স্মরণ করতেন, তাঁর পক্ষ থেকে সদকা করতেন এবং তাঁর বান্ধবীদের নিকট উপহার পাঠাতেন। তিনি ছিলেন সেই স্ত্রী যাঁর গর্ভে ইব্রাহিম ব্যতীত নবীজির সকল সন্তান জন্মলাভ করেছিলেন; কেননা ইব্রাহিম ছিলেন তাঁর স্ত্রী মারিয়া কিবতিয়ার সন্তান।এগুলো ছিল নবুওয়াত এবং ওহি (وحي) শুরুর পূর্বে তাঁর জীবনের কিছু সংবাদ ও সীরাতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ثالثا: بدء الوحي:بَلَغَ النبي صلى الله عليه وسلم أشُدَّه وقَرُب من الأربعين، واكتملت قواه العقلية والبدنية، وكان أول ما بدأ به من الوحي الرؤيا الصالحة، فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مِثْلَ فَلَق الصبح واضحة كما رآها في منامه.ثم بعد ذلك حُبِّبَ إليه الخلاء، فكان يخلو بنفسه في غار حراء في مكة، فيتعبد الله الليالي ذوات العدد، ثم يرجع إلى خديجة فيتزود بالطعام والشراب، حتى جاءه الحق، وهو على هذا الشأن بنزول القرآن عليه في شهر رمضان، وذلك بأن تَمَثَّل له المَلَكُ جبريل، ولقَّنَه عن ربِّه أول ما نزل من القرآن، فقال: {اقًرأً} فقال: "ما أنا بقارئ"، فقال له: {اقًرأً} فقال: "ما أنا بقارئ"، فقال: {اقًرأً} فقال: "ما أنا بقارئ"، وكان جبريل بعد كل جواب من الأجوبة
তৃতীয়ত: ওহির (الوحي) সূচনা:নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করলেন এবং চল্লিশ বছর বয়সের নিকটবর্তী হলেন, আর তাঁর মানসিক ও শারীরিক শক্তি পূর্ণতা লাভ করল। তাঁর নিকট অহি (الوحي) আসার সূচনা হয়েছিল সত্য স্বপ্নের (الرؤيا الصالحة) মাধ্যমে। তিনি স্বপ্নে যা-ই দেখতেন, তা প্রভাতের আলোর ন্যায় সুস্পষ্ট হয়ে প্রকাশ পেত।অতঃপর তাঁর নিকট নির্জনতা (الخلاء) প্রিয় হয়ে উঠল। তিনি মক্কার হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন এবং সেখানে বেশ কয়েক রাত আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। এরপর তিনি খাদিজার নিকট ফিরে আসতেন এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানীয় সংগ্রহ করে নিতেন। অবশেষে এই অবস্থায় থাকাকালীন রমজান মাসে তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে তাঁর কাছে সত্যের আগমন ঘটল। তখন ফেরেশতা জিবরাইল তাঁর নিকট আত্মপ্রকাশ করলেন এবং তাঁর রবের পক্ষ থেকে কুরআনের প্রথম অবতীর্ণ অংশ তাঁকে শিক্ষা দিলেন। তিনি বললেন: {পাঠ করুন}, উত্তরে তিনি বললেন: "আমি পাঠ করতে জানি না"। তিনি পুনরায় তাঁকে বললেন: {পাঠ করুন}, তিনি বললেন: "আমি পাঠ করতে জানি না"। তিনি আবারও বললেন: {পাঠ করুন}, তিনি বললেন: "আমি পাঠ করতে জানি না"। প্রতিটি উত্তরের পর জিবরাইল...
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الثلاثة يضمه على صدره، ويعصره حتى يبلغ منه الجهد.ولما تركه جبريل في المرة الثالثة ألقى عليه أول آيات أُنزلت من القرآن، وهي {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ، خَلَقَ الإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ ، اقْرَأْ وَرَبُّكَ الأَكْرَمُ ، الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ، عَلَّمَ الإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} [العلق 5: 1] .بهذه الآيات العظيمة التي تأمر بالعلم، وتبيِّن بداية خلق الإنسان - بدأ نزول الوحي على النبي صلى الله عليه وسلم فرجع النبي إلى زوجته خديجة يرجف فؤاده، ولكنه حفظ رشاده، فقال: "زملوني زملوني"، يعني: لففوني بالثياب، ففعلوا، حتى إذا ذهب عنه الروع، أخبر خديجة الخبر، وقال: "لقد خشيت على نفسي".فقالت خديجة رضي الله عنها: "كلا والله لا يخزيك الله أبداً؛ إنك لتصل الرحم، وتحمل الكلّ، وتكسب المعدوم، وتقري الضعيف، وتعين على نوائب الحق".وهكذا استدلت هذه المرأة العاقلة على أن من كان هذا شأنه في محبة الخير للناس فلن يخذله الله؛ فسنَّة الله تقتضي بأن الجزاء من جنس العمل.ثم انطلقت بعد ذلك خديجة بالنبي صلى الله عليه وسلم حتى أتت ابن عمها ورقة بن نوفل، وكان قد تنصَّر في الجاهلية، ويكتب الإنجيل بالعبرانية، وكان شيخاً كبيراً قد عمي، فقالت خديجة له: اسمع من محمد ما يقول، فقال ورقة: يا ابن أخي، ماذا ترى؟ فأخبره صلى الله عليه وسلم خبر ما رأى، فقال ورقة: هذا الناموس الذي أُنزل على موسى، يا ليتني فيها جذعاً - أي: شاباً - ليتني أكون حياً إذ يخرجك قومك.فقال له الرسول صلى الله عليه وسلم: "أَوَمُخْرِجيَّ هم؟ " قال: نعم؛ لم يأت رجل قط بمثل ما
তিনবারই তিনি তাঁকে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলেন এবং প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করলেন যতক্ষণ না তাঁর সহ্যসীমার শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেলেন।যখন জিবরাঈল তৃতীয়বার তাঁকে ছেড়ে দিলেন, তখন তিনি তাঁর ওপর কুরআনের অবতীর্ণ হওয়া প্রথম আয়াতগুলো পেশ করলেন, যা হলো: {পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না} [আল-আলাক: ১-৫]।এই মহান আয়াতগুলো—যা জ্ঞানের নির্দেশ দেয় এবং মানব সৃষ্টির সূচনা বর্ণনা করে—তার মাধ্যমেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ওহি (وحي) নাজিল হওয়া শুরু হলো। এরপর নবী তাঁর স্ত্রী খাদিজার নিকট ফিরে আসলেন এমতাবস্থায় যে, তাঁর হৃদয় কাঁপছিল। তবে তিনি তাঁর স্থিরতা বজায় রাখলেন এবং বললেন: "তোমরা আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত করো, আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত করো।" অর্থাৎ: আমাকে পোশাকে জড়িয়ে দাও। তারা তা-ই করল, যতক্ষণ না তাঁর ভয় দূর হলো। এরপর তিনি খাদিজার নিকট পুরো ঘটনা বিবৃত করলেন এবং বললেন: "আমি আমার নিজের জীবনের ব্যাপারে আশঙ্কা বোধ করছি।"তখন খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: "কখনই নয়, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না; নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অক্ষমদের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, দুর্বলদের আতিথেয়তা প্রদান করেন এবং হকের পথে আসা বিপদ-আপদে সাহায্য করেন।"এভাবেই এই বিদুষী নারী প্রমাণ করলেন যে, মানুষের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী হওয়া যাঁর বৈশিষ্ট্য, আল্লাহ তাঁকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না; কেননা আল্লাহর সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী কর্মের অনুরূপ প্রতিদান প্রদান করা হয়।অতঃপর খাদিজা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওরাকা ইবনে নওফলের নিকট গেলেন। তিনি জাহেলি যুগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং হিব্রু ভাষায় ইনজিল লিখতেন। তিনি ছিলেন একজন অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি এবং দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েছিলেন। খাদিজা তাঁকে বললেন: মুহাম্মাদ কী বলেন তা শুনুন। ওরাকা বললেন: হে ভাতিজা, তুমি কী দেখছ? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দেখেছিলেন তা তাঁকে জানালেন। তখন ওরাকা বললেন: ইনি সেই মহান রহস্যবাহী দূত (الناموس) যাঁকে মূসার ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছিল। হায়! আমি যদি সেই সময় তরুণ থাকতাম! হায়! আমি যদি সেই সময় জীবিত থাকতাম যখন আপনার সম্প্রদায় আপনাকে বের করে দেবে!তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: "তারা কি আমাকে বের করে দেবে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ; কোনো ব্যক্তিই এমন কিছু নিয়ে আসেনি যা...
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
جئت به إلا عُودِيَ، وإن يدركني يومك أَنْصُرْك نصراً مؤزراً، ثم توفي ورقة، وفتر الوحي.واستمرت فترة الوحي ثلاث سنين، قوي فيها استعداد النبي، واشتدَّ شوقه وحنينه.قال صلى الله عليه وسلم: "بينما أنا أمشي سمعت صوتاً من السماء، فرفعت بصري، فإذا الملك الذي جاءني في حراء".وذكر أنه رعب منه، ولكن ذلك دون الرَّعبة الأولى، فرجع إلى أهله فتزَمَّلَ، وتَدَثَّرَ - أي: تغطى بالثياب -.ثم أنزل الله عليه قوله - تعالى -: {يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ ، قُمْ فَأَنذِرْ ، وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ ، وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ ، وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ} [المدثر] .أي: يا أيها الذي تدثر بثيابه قم فأنذر الناس بالقرآن، وبلغهم دعوة الله، وطهر ثيابك وأعمالك من أدران الشرك، واهجر الأصنام، وتبرأ من أهلها.ثم حمي الوحي بعد ذلك، وتتابع، وبلَّغ صلى الله عليه وسلم دعوة ربه، حيث أمره وأوحى إليه بأن يدعو الناس إلى عبادة الله وحده، وإلى دين الإسلام الذي ارتضاه الله، وختم به الأديان؛ فقام النبي صلى الله عليه وسلم يدعو إلى سبيل ربه بالحكمة، والموعظة الحسنة، والمجادلة بالتي هي أحسن.فاستجاب له أول من استجاب: خديجة من النساء، وأبو بكر الصديق من الرجال، وعلي بن أبي طالب من الصبيان، ثم توالى دخول الناس في دين الله، فاشتدَّ عليه أذى المشركين، وأخرجوه من مكة، وآذوا أصحابه أشدَّ الأذى،
"আপনি যে বাণী নিয়ে এসেছেন, অনুরূপ বাণী নিয়ে যে-ই এসেছেন তাঁর সাথেই শত্রুতা করা হয়েছে। আর আমি যদি আপনার সেই বিশেষ দিনটি প্রত্যক্ষ করি, তবে আমি আপনাকে বলিষ্ঠ সাহায্য করব।" অতঃপর ওয়ারাাকাহ ইন্তেকাল করেন এবং ওহি (وحي) স্থগিত হয়ে যায়।ওহি (وحي) স্থগিত থাকার এই সময়কাল তিন বছর পর্যন্ত স্থায়ী ছিল, যাতে নবী (সা.)-এর প্রস্তুতি সুদৃঢ় হয়েছিল এবং তাঁর ব্যাকুলতা ও আকাঙ্ক্ষা তীব্রতর হয়েছিল।রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: "আমি যখন হাঁটছিলাম, তখন হঠাৎ আকাশ থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। আমি আমার দৃষ্টি উপরে তুললাম এবং দেখলাম সেই ফেরেশতা, যিনি হেরা গুহায় আমার নিকট এসেছিলেন।"বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁকে দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলেন, তবে তা প্রথম বারের ভয়ের মতো প্রবল ছিল না। এরপর তিনি তাঁর পরিজনের নিকট ফিরে আসলেন এবং নিজেকে বস্ত্রাবৃত ও চাদরাবৃত করলেন—অর্থাৎ কাপড় দিয়ে ঢেকে নিলেন।অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর তাঁর বাণী নাজিল করলেন: {হে চাদরাবৃত! উঠুন এবং সতর্ক করুন, আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন, আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন এবং অপবিত্রতা বর্জন করুন} [আল-মুদ্দাসসির]।অর্থাৎ: হে চাদর দিয়ে আবৃত ব্যক্তি! আপনি উঠে দাঁড়ান এবং কুরআনের মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করুন, তাদের নিকট আল্লাহর দাওয়াত পৌঁছে দিন এবং শিরকের কলুষতা থেকে আপনার পোশাক ও আমলসমূহকে পবিত্র রাখুন, প্রতিমা বর্জন করুন এবং প্রতিমাপূজারীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করুন।অতঃপর ওহি (وحي) দ্রুতগতিতে এবং নিয়মিতভাবে অবতীর্ণ হতে শুরু করল। নবী (সা.) তাঁর রবের দাওয়াত পৌঁছে দিলেন, যেভাবে আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং ওহি (وحي) পাঠিয়েছিলেন যে, তিনি যেন মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে এবং ইসলাম ধর্মের দিকে আহ্বান করেন, যা আল্লাহ মনোনীত করেছেন এবং যা দ্বারা সকল ধর্মকে সমাপ্ত করেছেন। অতঃপর নবী (সা.) হিকমত (প্রজ্ঞা), উত্তম উপদেশ এবং সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্কের মাধ্যমে তাঁর রবের পথের দিকে দাওয়াত দিতে থাকেন।তাঁর দাওয়াতে সর্বপ্রথম সাড়াদানকারীরা হলেন: নারীদের মধ্যে খাদিজা, পুরুষদের মধ্যে আবু বকর সিদ্দিক এবং বালকদের মধ্যে আলি ইবনে আবি তালিব। এরপর ক্রমান্বয়ে মানুষ আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে শুরু করল, যার ফলে তাঁর ওপর মুশরিকদের নির্যাতনও তীব্রতর হতে লাগল। তারা তাঁকে মক্কা থেকে বের করে দিল এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর চরম নির্যাতন চালাল,
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فهاجر إلى المدينة، وتتابع عليه نزول الوحي، واستمر في دعوته، وجهاده، وفتوحاته، حتى عاد إلى مكة ظافراً فاتحاً.وبعد ذلك أكمل الله له الدين، وأقرَّ عينه بعز الإسلام وظهور المسلمين، ثم توفاه الله وعمره ثلاث وستون سنة، أربعون منها قبل النبوة وثلاث وعشرون نبياً رسولاً.وبه ختم الله الرسالات السماوية، وأوجب طاعته على الجن والإنس؛ فمن أطاعه سعد في الدنيا، ودخل الجنة في الآخرة، ومن عصاه شقي في الدنيا، ودخل النار في الآخرة.وبعدما توفاه الله عز وجل تابع أصحابه مسيرته، وبلَّغوا دعوته، وفتحوا البلدان بالإسلام، ونشروا الدين الحق حتى بلغ ما بلغ من الليل والنهار.ودينه صلى الله عليه وسلم باقٍ إلى يوم القيامة.فما القول في أميّ نشأ بين أميين، قام بذلك الإصلاح الذي تغيَّر به تاريخ البشر أجمعين، في الشرائع، والسياسات، وسائر أمور الدنيا والدين؟ وامتدَّ مع لغته في قرن واحد من الحجاز إلى آخر حدود أوربا وأفريقيا من الغرب، وإلى حدود الصين من جهة الشرق حتى خضعت له الأمم، ودانت له الدول، وأقبلت إليه الأرواح قبل الأشباح، وكانت تتبعه في كل فتوحه الحضارة والمدنية، والعدل والرحمة، والعلوم العقلية والكونية على أيدي تلك الأمة الحديثة العهد بالأمية، التي زكَّاها القرآن، وعلَّمها أن إصلاح الإنسان يتبعه إصلاح الأكوان؛ فهل يمكن أن يكون هذا إلا بوحي من لدن حكيم عليم.وتأييد سماوي من الإله العزيز القدير الرحيم؟
অতঃপর তিনি মদিনায় হিজরত করেন এবং তাঁর ওপর অবিরত ওহি অবতীর্ণ হতে থাকে। তিনি তাঁর দাওয়াত, জিহাদ ও বিজয় অভিযান অব্যাহত রাখেন, অবশেষে তিনি বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রত্যাবর্তন করেন।এরপর আল্লাহ তাঁর জন্য দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলেন এবং ইসলামের মর্যাদা ও মুসলিমদের বিজয়ের মাধ্যমে তাঁর চক্ষু শীতল করলেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর ওফাত দান করলেন, যখন তাঁর বয়স ছিল তেষট্টি বছর। এর মধ্যে চল্লিশ বছর ছিল নবুয়তের পূর্বের এবং তেইশ বছর ছিল নবী ও রাসূল হিসেবে।তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ আসমানি রিসালাতসমূহের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং জিন ও মানুষের ওপর তাঁর আনুগত্য আবশ্যক করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করবে সে দুনিয়ায় সৌভাগ্যবান হবে এবং আখেরাতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে তাঁর অবাধ্য হবে সে দুনিয়ায় হতভাগ্য হবে এবং আখেরাতে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।আল্লাহ তাআলা তাঁর ওফাত দান করার পর তাঁর সাহাবীগণ তাঁর পথ অনুসরণ করেন এবং তাঁর দাওয়াত পৌঁছে দেন। তাঁরা ইসলামের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ জয় করেন এবং সত্য দ্বীন প্রচার করেন, যা রাত ও দিনের বিস্তৃতি পর্যন্ত পৌঁছে যায়।আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বীন কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে।একজন নিরক্ষর ব্যক্তি সম্পর্কে কী-ই বা বলার থাকতে পারে, যিনি নিরক্ষরদের মধ্যেই বেড়ে উঠেছেন, অথচ এমন এক সংস্কার সাধন করেছেন যার মাধ্যমে শরিয়ত, রাজনীতি এবং দুনিয়া ও দ্বীনের অন্যান্য সকল বিষয়ে সমগ্র মানবজাতির ইতিহাস পরিবর্তিত হয়ে গেছে? মাত্র এক শতাব্দীর মধ্যে তাঁর ভাষার সাথে সাথে তাঁর প্রভাব হেজাজ থেকে পশ্চিমে ইউরোপ ও আফ্রিকার শেষ সীমানা পর্যন্ত এবং পূর্বে চীনের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে; এমনকি জাতিসমূহ তাঁর বশ্যতা স্বীকার করেছে, রাষ্ট্রসমূহ তাঁর আনুগত্য গ্রহণ করেছে এবং দেহের আগেই আত্মাগুলো তাঁর দিকে ধাবিত হয়েছে। তাঁর প্রতিটি বিজয়ের সাথে সাথে সভ্যতা, কৃষ্টি, ন্যায়বিচার, রহমত এবং আকলি ও মহাজাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞান সেই জাতির হাতে পৌঁছেছে, যারা মাত্র কিছুকাল আগেই নিরক্ষর ছিল; যাদেরকে কুরআন পবিত্র করেছে এবং শিক্ষা দিয়েছে যে, মানুষের সংশোধনই বিশ্বজগতের সংশোধনের পথপ্রদর্শক। প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহি ব্যতীত এটি কি সম্ভব হতে পারে?এবং মহা পরাক্রমশালী, সর্বশক্তিমান ও পরম দয়ালু ইলাহের পক্ষ থেকে আসা আসমানি সমর্থন ব্যতীত?
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
رابعاً: من أخلاق النبي صلى الله علية وسلم:كان النبي صلى الله عليه وسلم أكرم الخلق أخلاقاً، وأعلاهم فضائل وآداباً، امتاز بذلك في الجاهلية قبل عهد النبوة فكيف بأخلاقه بعد النبوة؟.وقد خاطبه ربُّه تبارك وتعالى بقوله له: {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم:4] .لقد أدَّبهُ ربُّه، فأحسن تأديبه، وربَّاه فأحسن تربيته، فكان خُلُقهُ القرآن الكريم، يتأدب به، ويؤدب الناس به، فمن أخلاقه صلى الله عليه وسلم أنه كان أحلم الناس، وأعدلهم، وأعفَّهم، وأسخاهم.وكان يخصف النعل، ويرقع الثوب، ويعين أهله في المنزل، ويقطع اللحم معهن، وكان أشد الناس حياءً، لا يثبت بصره في وجه أحد.وكان يجيب الدعوة من أي أحد، ويقبل الهدية ولو قلَّت، ويكافىء عليها، وكان يغضب لربِّه، ولا يغضب لنفسه، وكان يجوع أحياناً فيعصب الحجر على بطنه من الجوع، ومرة يأكل ما حضر، ولا يرد ما وجد، ولا يعيب طعاماً قط، إن وجد تمراً أكله، وإن وجد شواءً أكله، وإن وجد خبزَ برٍّ أو شعير أكله، وإن وجد حلواً أو عسلاً أكله، وإن وجد لبناً دون خبز اكتفى به، وإن وجد بطيخاً أو رطباً أكله.وكان يعود المرضى، ويشهد الجنائز، ويمشي وحده بين أعدائه بلا حارس.وكان أشد الناس تواضعاً، وأسكنهم من غير كِبْر، وأبلغهم من غير تطويل،
চতুর্থত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মহান চরিত্র:নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন চরিত্রের দিক থেকে সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে সম্মানিত এবং মর্যাদা ও শিষ্টাচারের দিক থেকে সর্বোচ্চ। নবুওয়াত-পূর্ব জাহেলিয়াত যুগেও তিনি এ গুণের কারণে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন; তাহলে নবুওয়াতের পরবর্তী সময়ে তাঁর চরিত্র কেমন ছিল (তা সহজেই অনুমেয়)?।তাঁর বরকতময় ও সুউচ্চ পালনকর্তা তাঁকে সম্বোধন করে বলেছেন: {আর নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত} [আল-কলম: ৪] ।তাঁর পালনকর্তাই তাঁকে শিষ্টাচার শিখিয়েছেন এবং সর্বোত্তমভাবে তা সম্পন্ন করেছেন। তিনি তাঁকে লালন-পালন করেছেন এবং সর্বোত্তমভাবে তা পূর্ণ করেছেন। ফলে পবিত্র কুরআনই ছিল তাঁর চরিত্র; তিনি এর মাধ্যমেই শিষ্টাচার অবলম্বন করতেন এবং এর মাধ্যমেই মানুষকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিতেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গুণাবলির মধ্যে অন্যতম ছিল যে, তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সবচেয়ে সহনশীল, সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ, সবচেয়ে পবিত্র ও সংযমী এবং সবচেয়ে দানশীল।তিনি নিজ হাতে জুতো সেলাই করতেন, কাপড়ে তালি দিতেন, ঘরে তাঁর পরিবারকে সাহায্য করতেন এবং তাঁদের সাথে গোশত কাটতেন। তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাধিক লজ্জাশীল; তিনি কারোর চেহারার দিকে চোখ স্থির করে তাকাতেন না।তিনি যে কারোর দাওয়াত কবুল করতেন, উপহার গ্রহণ করতেন তা পরিমাণে সামান্য হলেও এবং তার প্রতিদান দিতেন। তিনি তাঁর রবের সন্তুষ্টির জন্য রাগান্বিত হতেন, কিন্তু নিজের ব্যক্তিগত কারণে রাগান্বিত হতেন না। কখনো তিনি ক্ষুধার্ত থাকতেন এবং ক্ষুধার যন্ত্রণায় পেটে পাথর বাঁধতেন। আবার কখনো যা উপস্থিত থাকত তাই আহার করতেন, বিদ্যমান খাবার ফিরিয়ে দিতেন না এবং কোনো খাবারের কখনো দোষ ধরতেন না। খেজুর পেলে তা খেতেন, ভুনা গোশত পেলে তা আহার করতেন, গমের বা যবের রুটি পেলে তা গ্রহণ করতেন, মিষ্টি বা মধু পেলে তা খেতেন; এমনকি যদি রুটি ছাড়া শুধু দুধ পেতেন তবে তাতেই সন্তুষ্ট থাকতেন এবং তরমুজ বা পাকা খেজুর পেলে তাও আহার করতেন।তিনি অসুস্থদের সেবা করতেন, জানাজায় শরিক হতেন এবং কোনো দেহরক্ষী ছাড়াই শত্রুদের মাঝে একাকী চলাচল করতেন।তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সবচেয়ে বিনয়ী এবং অহংকারমুক্তভাবে সবচেয়ে শান্ত স্বভাবের, আর তিনি ছিলেন অনর্থক দীর্ঘসূত্রতা ব্যতিরেকেই সবচেয়ে প্রাঞ্জলভাষী।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
وأحسنهم بشراً، لا يهوله شيء من أمور الدنيا.وكان يلبس ما وجد، فمرة شملة، ومرة جبة صوف، فما وجد من المباح لبس.يركب ما أمكنه، مرة فرساً، ومرة بعيراً، ومرة بغلة شهباء، ومرة حماراً، أو يمشي راجلاً حافياً.يجالس الفقراء، ويؤاكل المساكين، ويكرم أهل الفضل في أخلاقهم، ويتألف أهل الشرف في البر لهم، ويصل ذوي الرحم من غير أن يؤثرهم على من هو أفضل منهم.لا يجفو على أحد، يقبل معذرة المعتذر إليه، يمزح ولا يقول إلا حقاً، يضحك من غير قهقهة، يسابق أهله، ترفع الأصوات عليه فيصبر.وكان لا يمضي عليه وقت في غير عمل لله - تعالى - أو فيما لابد له منه من صلاح نفسه.لا يحتقر مسكيناً لفقره وزمانته، ولا يهاب مَلِكاً لمُلكِهِ، يدعو هذا وهذا إلى الله دعاء مستوياً، قد جمع الله له السيرة الفاضلة، والسياسة التامة، وهو أمي لا يقرأ ولا يكتب.نشأ في بلاد الفقر والصحاري في فقره، وفي رعاية الغنم يتيماً، لا أب له، فعلمه الله - تعالى - جميع محاسن الأخلاق والطرق الحميدة، وأخبار الأولين والآخرين، وما فيه النجاة والفوز في الآخرة، والغبطة والخلاص في الدنيا.ما كان يأتيه أحد إلا قام معه في حاجته، ولم يكن فظاً، ولا غليظاً، ولا
তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রফুল্ল চেহারার অধিকারী, পার্থিব কোনো বিষয়ই তাঁকে আতঙ্কিত করতে পারত না।তিনি যা পেতেন তা-ই পরিধান করতেন; কখনো চাদর, কখনো পশমি জুব্বা। যা-ই বৈধ (مباح) পেতেন, তা-ই তিনি পরিধান করতেন।তিনি সম্ভবপর বাহনের ওপর আরোহণ করতেন; কখনো ঘোড়া, কখনো উট, কখনো ধূসর রঙের খচ্চর, আবার কখনো গাধার পিঠে চড়তেন। অথবা তিনি পায়ে হেঁটে কিংবা খালি পায়ে চলাচল করতেন।তিনি দরিদ্রদের সাথে উপবেশন করতেন, অভাবগ্রস্তদের সাথে আহার করতেন, গুণী ব্যক্তিদের তাঁদের সচ্চরিত্রের কারণে সম্মান করতেন এবং সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সদাচরণের মাধ্যমে তাঁদের অন্তর জয় করতেন। তিনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতেন, তবে তাঁদের আত্মীয় হওয়ার কারণে এমন কারো ওপর প্রাধান্য দিতেন না যিনি তাঁদের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ।তিনি কারো প্রতি রূঢ় আচরণ করতেন না, কেউ ওজর পেশ করলে তিনি তা গ্রহণ করতেন। তিনি কৌতুক করতেন তবে সত্য ভিন্ন কিছুই বলতেন না। তিনি অট্টহাসি ছাড়াই হাসতেন। তিনি নিজ পরিবারের সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন। তাঁর সামনে উচ্চস্বরে কথা বলা হলেও তিনি ধৈর্য ধারণ করতেন।মহান আল্লাহর ইবাদত অথবা নিজের সংশোধনের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় বিষয় ছাড়া তাঁর কোনো সময় অতিবাহিত হতো না।তিনি কোনো অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে তার দারিদ্র্য বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণে তুচ্ছজ্ঞান করতেন না এবং কোনো রাজাকে তাঁর রাজত্বের কারণে ভয় পেতেন না। তিনি এদের উভয়কেই সমভাবে আল্লাহর দিকে আহ্বান করতেন। মহান আল্লাহ তাঁর মাঝে শ্রেষ্ঠ জীবনচরিত এবং পূর্ণাঙ্গ শাসননীতি একত্রিত করে দিয়েছিলেন, অথচ তিনি ছিলেন নিরক্ষর (أمي), যিনি পড়তে বা লিখতে জানতেন না।তিনি অভাব ও মরুভূমির দেশে দরিদ্র অবস্থায় এবং ইয়াতীম হিসেবে পিতা ছাড়াই মেষ চারণের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁকে সমস্ত উত্তম চরিত্র ও প্রশংসনীয় পথ শিক্ষা দিয়েছেন এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের সংবাদ এবং যাতে পরকালের মুক্তি ও সফলতা এবং দুনিয়ার আনন্দ ও পরিত্রাণ নিহিত রয়েছে, তা শিখিয়েছেন।কেউ তাঁর কাছে কোনো প্রয়োজনে এলে তিনি তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে তা পূরণ করতেন। তিনি কটুভাষী বা কঠোর স্বভাবের ছিলেন না এবং...
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
صخَّاباً في الأسواق، وما كان يجزي السيئة بالسيئة، ولكن يعفو ويصفح.وكان من خُلُقه أن يبدأ من لقيه بالسلام، ومَنْ قادَمَهُ لحاجةٍ صابره حتى يكون القادم هو المنصرف.وما أخذ أحد بيده فيرسل يده حتى يرسلها الآخر.وكان إذا لقي أحداً من أصحابه بدأه بالمصافحة، ثم أخذ بيده فشابكه، ثم شدَّ قبضته عليه.وكان أكثر جلوسه أن ينصب ساقيه جميعاً، ويمسك بيديه عليهما، ولم يكن يُعْرَفُ مجلسُهُ من مجلس أصحابه؛ لأنه كان يجلس حيث انتهى به المجلس.وما رُئِيَ قط ماداً رجليه بين أصحابه؛ حتى لا يضيقَ بهما على أحد إلا أن يكون المجلس واسعاً لا ضيق فيه.وكان يكرم من يدخل عليه حتى ربما بسط ثوبه لمن ليس بينه وبينه قرابة يُجْلِسه عليه.وكان يؤثر الداخل عليه بالوسادة التي تحته، فإن أبى أن يقبلها عزم عليه حتى يفعل.وما استصفاه أحد إلا ظن أنه أكرم الناس عليه؛ وكان يعطي من جلس إليه نصيبه من وجهه، وسمعه، وحديثه، ولطيف محاسنه، وتوجيهه.ومَجْلسُه مع ذلك مجلسُ حياء، وتواضع، وأمانة.وكان يدعو أصحابه بكناهم؛ إكراماً لهم، واستمالة لقلوبهم، وكان يكني من لم تكن له كنية، وكان يكني النساء اللاتي لهن أولاد، واللاتي لم يلدن يبتدىء
তিনি বাজারে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন না, এবং মন্দের প্রতিফল মন্দের দ্বারা দিতেন না, বরং তিনি ক্ষমা ও মার্জনা করতেন।তাঁর স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, যাঁর সাথেই তাঁর সাক্ষাৎ হতো, তিনি তাঁকে প্রথমে সালাম দিতেন। কেউ কোনো প্রয়োজনে তাঁর নিকট আসলে তিনি তাঁর সাথে ততক্ষণ ধৈর্য ধারণ করতেন যতক্ষণ না সেই আগন্তুক ব্যক্তি নিজেই প্রস্থান করত।কেউ তাঁর হাত ধরলে তিনি নিজে থেকে হাত ছাড়তেন না, যতক্ষণ না অপর ব্যক্তি তা ছেড়ে দিত।তিনি যখন তাঁর সাহাবীদের (صحابة) কারো সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন মুসাফাহা (করমর্দন) দিয়ে শুরু করতেন, অতঃপর তাঁর হাত ধরে আঙুলের ফাঁকে আঙুল প্রবেশ করাতেন এবং তাঁর হাতের মুষ্ঠি শক্ত করে ধরতেন।তাঁর বসার অধিকাংশ ধরন ছিল এমন যে, তিনি তাঁর উভয় হাঁটু খাড়া করে রাখতেন এবং হাত দিয়ে তা বেষ্টন করে ধরতেন। তাঁর মজলিসকে তাঁর সাহাবীদের (صحابة) মজলিস থেকে আলাদা করে চেনা যেত না; কারণ তিনি মজলিসের যেখানেই স্থান সমাপ্ত হতো (যেখানে বসার জায়গা শেষ হতো) সেখানেই বসে পড়তেন।সাহাবীদের (صحابة) মাঝে তাঁকে কখনও পা প্রসারিত করে বসতে দেখা যায়নি, যাতে তাঁর কারণে কারও স্থান সংকীর্ণ না হয়; তবে মজলিস যদি প্রশস্ত হতো তবে তা ভিন্ন কথা।তিনি তাঁর কাছে আগমনকারীকে অত্যন্ত সম্মান করতেন, এমনকি কখনও কখনও কোনো অনাত্মীয় ব্যক্তির বসার জন্য নিজের চাদর বিছিয়ে দিতেন।তিনি নিজের ব্যবহৃত বালিশটি আগন্তুক ব্যক্তিকে ব্যবহারের জন্য দিয়ে দিতেন; সে যদি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাত, তবে তিনি তাকে তা গ্রহণে পীড়াপীড়ি করতেন যতক্ষণ না সে তা গ্রহণ করত।যিনিই তাঁর একান্ত সাহচর্য লাভ করতেন, তিনি নিজেকে তাঁর কাছে সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তি মনে করতেন। তাঁর মজলিসে উপবিষ্ট ব্যক্তিকে তিনি তাঁর চেহারা, শ্রবণ, আলোচনা এবং তাঁর সুনিপুণ শিষ্টাচার ও মনোযোগের পূর্ণ অংশ দান করতেন।এতদসত্ত্বেও তাঁর মজলিস ছিল লজ্জা, বিনয় এবং বিশ্বস্ততার মজলিস।তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে (صحابة) সম্মানের উদ্দেশ্যে এবং তাঁদের চিত্ত জয়ের জন্য তাঁদের কুনিয়াহ (كنية) ধরে ডাকতেন। যাঁর কোনো কুনিয়াহ (كنية) ছিল না, তিনি তাঁকে কুনিয়াহ (كنية) প্রদান করতেন। তিনি সন্তানবতী নারী এবং যারা সন্তান জন্ম দেয়নি তাঁদেরকেও কুনিয়াহ (كنية) প্রদান করতেন এবং তিনি শুরু করতেন...
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
لهن الكنى، وكان يكني الصبيان فيستلين قلوبهم.وكان أبعد الناس غضباً، وأسرعهم رضاً، وكان أرأف الناس بالناس، وخير الناس للناس، وأنفع الناس للناس.وكان يحب اليسر، ويكره العسر، ولا يشافه أحد بما يكره، ومن رآه بديهة هابه، ومن خالطه معرفة أحبه.هذه بعض أخلاقه وشمائله صلى الله عليه وسلم.
তাদের জন্য উপনাম (الكنى) থাকত; আর তিনি শিশুদেরও উপনামে ডাকতেন যেন তাদের অন্তর জয় করা যায়।তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে ক্রোধের দিক থেকে সবচেয়ে দূরে এবং সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে সবচেয়ে দ্রুত। তিনি ছিলেন মানুষের প্রতি সবচেয়ে দয়ালু, মানুষের জন্য সর্বোত্তম এবং মানুষের জন্য সর্বাধিক উপকারী।তিনি সহজতা পছন্দ করতেন এবং কঠোরতা অপছন্দ করতেন। কোনো ব্যক্তি যা অপছন্দ করে তা নিয়ে তিনি তার সরাসরি সম্মুখীন হতেন না। যে ব্যক্তি তাকে হঠাৎ দেখত সে তাকে সমীহ করত, আর যে ব্যক্তি পরিচয়ের মাধ্যমে তার সাথে মেলামেশা করত সে তাকে ভালোবেসে ফেলত।এগুলো তাঁর মহান চরিত্র ও অনন্য গুণাবলির (الشمائل) কিয়দাংশ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
خامسا: شهادة الفيلسوف الإنجليزي توماس كارليل على صدق رسالة النبي صلى الله عليه وسلم:كل عاقل منصف لا يسعه إلا التصديق برسالة النبي صلى الله عليه وسلم ذلك أن الأمارات الكثيرة شاهدة ناطقة بصدقه.ولا ريب أن شهادة المخالف لها مكانتها؛ فالفضل - كما قيل - ما شهدت به الأعداء.وفيما يلي شهادة للفيلسوف الإنجليزي الشهير "توماس كارليل" الحائز على جائزة نوبل، حيث قال في كتابه "الأبطال" كلاماً طويلاً عن النبي صلى الله عليه وسلم يخاطب به قومه النصارى، ومن ذلك قوله: "لقد أصبح من أكبر العار على أي فرد متحدث هذا العصر أن يصغي إلى ما يقال من أن دين الإسلام كذب، وأن محمداً خدّاع مزوِّر.وإن لنا أن نحارب ما يشاع من مثل هذه الأقوال السخيفة المخجلة؛ فإن الرسالة التي أدَّاها ذلك الرسول ما زالت السراج المنير مدة اثني عشر قرناً لنحو مائتي مليون من الناس، أفكان أحدكم يظن أن هذه الرسالة التي عاش بها ومات عليها هذه الملايين الفائقة الحصر والإحصاء أكذوبة وخدعة؟!أما أنا فلا أستطيع أن أرى هذا الرأي أبداً، ولو أن الكذب والغش يروجان عند خلق الله هذا الرواج، ويصادفان منهم مثل هذا القبول، فما الناس إلا بُلْهٌ مجانين، فوا أسفا! ما أسوأ هذا الزعم، وما أضعف أهله، وأحقهم بالرثاء والرحمة.
৫ম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের সত্যতার ওপর ইংরেজ দার্শনিক থমাস কার্লাইলের সাক্ষ্য:প্রত্যেক বিবেকবান ও ইনসাফপ্রিয় ব্যক্তির পক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতকে সত্য বলে স্বীকার করা ছাড়া কোনো উপায় নেই; কেননা অসংখ্য নিদর্শন তাঁর সত্যবাদিতার সপক্ষে মুখর সাক্ষ্য দিচ্ছে।আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিরোধীদের সাক্ষ্যের একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে; কারণ যেমনটি বলা হয়ে থাকে—প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব তা-ই, যার সাক্ষ্য শত্রুরাও দেয়।নিচে নোবেল বিজয়ী প্রখ্যাত ইংরেজ দার্শনিক "থমাস কার্লাইল"-এর একটি সাক্ষ্য উল্লেখ করা হলো। তিনি তাঁর "অন হিরোস" গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তাঁর খ্রিস্টান জাতির উদ্দেশ্যে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন; তার মধ্যে তাঁর এই বক্তব্যটি অন্যতম: "বর্তমান সময়ের যেকোনো বক্তার জন্য এটি অত্যন্ত লজ্জার বিষয় যে, সে এ ধরনের কথা কান পেতে শুনবে—ইসলাম ধর্ম মিথ্যা (كذب) এবং মুহাম্মদ একজন প্রতারক ও জালিয়াত (مزوِّر)।আমাদের উচিত এই ধরনের হাস্যকর ও লজ্জাজনক বক্তব্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা; কারণ এই রাসূল যে বাণী প্রচার করেছেন তা বারো শতাব্দী ধরে প্রায় বিশ কোটি মানুষের জন্য 'সিরাজাম মুনিরা' বা প্রদীপ্ত চেরাগ হিসেবে বিদ্যমান। আপনাদের মধ্যে কি কেউ মনে করতে পারেন যে, যে বাণীর ওপর ভিত্তি করে অগণিত মানুষ জীবন কাটিয়েছে এবং মৃত্যুবরণ করেছে, তা একটি মিথ্যা (كذب) ও প্রতারণা ছিল?!ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনোই এমন মত পোষণ করতে পারি না। যদি মিথ্যা (كذب) ও প্রতারণা আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে এতটা প্রসার লাভ করত এবং তাদের কাছে এমন গ্রহণযোগ্যতা পেত, তবে মানুষ নির্বোধ ও পাগল ছাড়া আর কিছুই হতো না। হায় আফসোস! এই ধারণাটি কতই না জঘন্য এবং এর প্রবক্তারা কতই না দুর্বল; তারা কেবল করুণা ও দয়ারই পাত্র।"
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وبعد، فعلى من أراد أن يبلغ منزلة ما في علوم الكائنات ألا يصدق شيئاً البتة من أقوال أولئك السفهاء؛ فإنها نتائج جيل كفر، وعصر جحود وإلحاد، وهي دليل على خبث القلوب، وفساد الضمائر، وموت الأرواح في حياة الأبدان.ولعل العالَم لم ير قط رأياً أكفر من هذا وأَلأَم، وهل رأيتم قط معشر الإخوان، أن رجلاً كاذباً يستطيع أن يوجد ديناً وينشره علناً؟والله إن الرجل الكاذب لا يقدر أن يبني بيتاً من الطوب؛ فهو إذا لم يكن عليماً بخصائص الجير، والجص، والتراب، وما شاكل ذلك - فما ذلك الذي يبنيه ببيت، وإنما هو تل من الأنفاق، وكثيب من أخلاط المواد.نعم، وليس جديراً أن يبقى على دعائمه اثني عشر قرناً يسكنه مائتا مليون من الأنفس، ولكنه جدير أن تنهار أركانه، فينهدم؛ فكأنه لم يكن".إلى أن قال: "وعلى ذلك، فلسنا نَعُدُّ محمداً هذا قط رجلاً كاذباً متصنعاً، يتذرع بالحيل والوسائل إلى بغيته، ويطمح إلى درجة ملك أو سلطان، أو إلى غير ذلك من الحقائر.وما الرسالة التي أدَّاها إلا حق صراح، وما كلمته إلا قول صادق.كلا، "ما محمد بالكاذب"، ولا المُلفِّق، وهذه حقيقة تدفع كل باطل، وتدحض حُجة القوم الكافرين.ثم لا ننسى شيئاً آخر، وهو أنه لم يتلق دروساً على أستاذ أبداً، وكانت صناعة الخط حديثه العهد إذ ذاك في بلاد العرب - وعجيب وأيم الله أُمِّيَةَ العرب - ولم يقتبس محمد من نور أي إنسان آخر، ولم يغترف من مناهل غيره، ولم يكن
এরপর, যে ব্যক্তি সৃষ্টিজগতের জ্ঞান-বিজ্ঞানে কোনো উচ্চ শিখরে পৌঁছাতে চায়, তার উচিত ওই নির্বোধদের কোনো কথাকেই আদৌ বিশ্বাস না করা; কেননা এগুলো হচ্ছে কুফরি প্রজন্মের ফসল এবং অস্বীকার ও নাস্তিকতার যুগের ফলশ্রুতি। আর তা অন্তরের কলুষতা, বিবেকের বিকৃতি এবং জীবিত দেহের মাঝে আত্মার মৃত্যুর প্রমাণ।সম্ভবত বিশ্ব এর চেয়ে অধিক কুফরি ও জঘন্য কোনো দৃষ্টিভঙ্গি কখনও দেখেনি। হে ভ্রাতৃবৃন্দ, আপনারা কি কখনও দেখেছেন যে, কোনো মিথ্যাবাদী (كاذب) ব্যক্তি একটি দ্বীন তৈরি করতে পারে এবং তা প্রকাশ্যে প্রচার করতে পারে?আল্লাহর কসম, একজন মিথ্যাবাদী (كاذب) ব্যক্তি ইটের একটি ঘরও তৈরি করতে সক্ষম হয় না; সে যদি চুন, সুরকি, মাটি এবং এই জাতীয় দ্রব্যাদির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সম্যক অবগত না হয়—তবে সে যা নির্মাণ করবে তা কোনো ঘর হবে না, বরং তা হবে নিছক গর্তের স্তূপ এবং বিভিন্ন উপকরণের বিশৃঙ্খল সংমিশ্রণ।হ্যাঁ, আর এটি এমন কোনো বিষয় নয় যা বারো শতাব্দী ধরে তার স্তম্ভের ওপর অটল থাকবে এবং বিশ কোটি মানুষ সেখানে বসবাস করবে; বরং তা এর খুঁটিগুলো ভেঙে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়ারই যোগ্য ছিল; যেন এর কোনো অস্তিত্বই ছিল না।তিনি আরও বলেন: "সেই অনুযায়ী, আমরা মুহাম্মদকে কখনও একজন মিথ্যাবাদী (كاذب) এবং কৃত্রিমতাপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করি না, যিনি স্বীয় উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ছলচাতুরী ও কূটকৌশলের আশ্রয় নেন এবং কোনো রাজপদ বা সুলতানি ক্ষমতার মতো তুচ্ছ বিষয়ের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন।তিনি যে রিসালাত বা বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন তা সুস্পষ্ট সত্য ছাড়া আর কিছুই নয় এবং তাঁর বাণী সত্যবাদী (صادق) কথা বৈ কিছু নয়।কখনোই নয়, "মুহাম্মদ কোনো মিথ্যাবাদী (كاذب) নন", আর না তিনি কোনো কৃত্রিম বর্ণনাকারী (ملفق), এবং এটি এমন এক ধ্রুব সত্য যা সকল বাতিলকে প্রতিহত করে এবং কাফের সম্প্রদায়ের যুক্তিকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়।অতঃপর আমরা অন্য একটি বিষয়ও বিস্মৃত হই না, আর তা হলো তিনি কখনও কোনো শিক্ষকের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেননি এবং সেই যুগে আরব ভূখণ্ডে লিখন পদ্ধতি ছিল একেবারেই নতুন—আল্লাহর কসম, আরবদের নিরক্ষরতা এক বিস্ময়কর বিষয়—মুহাম্মদ অন্য কোনো মানুষের আলো থেকে কোনো জ্ঞান আহরণ করেননি এবং অন্যের ঝরনাধারা থেকেও কোনো কিছু গ্রহণ করেননি (لم يغترف), এবং তিনি ছিলেন না...
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إلا كجميع أشباهه من الأنبياء والعظماء، أولئك الذين أشبِّههم بالمصابيح الهادية في ظلمات الدهور.وقد رأيناه طول حياته راسخ المبدأ، صادق العزم بعيداً، كريماً بَرًّا، رؤوفاً، تقياً، فاضلاً، حراً، رجلاً، شديد الجد، مخلصاً، وهو مع ذلك سهل الجانب، ليِّن العريكة، جم البشر والطلاقة، حميد العشرة، حلو الإيناس، بل ربما مازح وداعب، وكان - على العموم - تضيء وجهه ابتسامةٌ مشرقة من فؤاد صادق؛ لأن من الناس من تكون ابتسامته كاذبة ككذب أعماله وأقواله".إلى أن قال: "كان عادلاً، صادق النية، كان ذكي اللب، شهم الفؤاد، لوذعياً، كأنما بين جنبيه مصابيح كل ليل بهيم، ممتلئاً نوراً، رجلاً عظيماً بفطرته، لم تثقفه مدرسة، ولا هذبه معلم، وهو غني عن ذلك.ويزعم المتعصبون من النصارى والملحدين أن محمداً لم يكن يريد بقيامه إلا الشهرة الشخصية، ومفاخر الجاه والسلطان.كلا - وأيم الله - لقد كان في فؤاد ذلك الرجل ابن القفار والفلوات، المتوقد المقلتين، العظيم النفس، المملوء رحمة وخيراً وحكمة، وحِجَى - أفكار غير الطمع الدنيوي، ونوايا خلاف طلب السلطة والجاه، وكيف لا، وتلك نفس صامتة كبيرة، ورجل من الذين لا يمكنهم إلا أن يكونوا مخلصين جادين؛ فبينما ترى آخرين يرضون الاصطلاحات الكاذبة، ويسيرون طبق الاعتبارات الباطلة إذ ترى محمداً لم يرض أن يَتَلَفَّع بمألوف الأكاذيب، ويتوشح بمبتدع الأباطيل.لقد كان منفرداً بنفسه العظيمة، وبحقائق الأمور والكائنات، لقد كان سرُّ
তিনি ছিলেন তাঁর সদৃশ অন্যান্য সকল নবী ও মহাপুরুষদের ন্যায়, যাঁদেরকে আমি মহাকালের অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগে পথপ্রদর্শক প্রদীপের সাথে তুলনা করি।আমরা তাঁকে তাঁর সারা জীবনব্যাপী সুদৃঢ় আদর্শসম্পন্ন, সুদূরপ্রসারী সত্যনিষ্ঠ সংকল্পের অধিকারী, মহানুভব, সদাচারী, পরম দয়ালু, তাকওয়াবান (تقي), গুণী, স্বাধীনচেতা, পৌরুষদীপ্ত, অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং নিষ্ঠাবান (مخلص) হিসেবে পেয়েছি; তদুপরি তিনি ছিলেন অমায়িক, কোমল স্বভাবের, অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ও প্রফুল্লচিত্ত, প্রশংসনীয় সাহচর্যদানকারী এবং মধুর সংশ্রবপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। এমনকি কখনও কখনও তিনি কৌতুক ও রসিকতাও করতেন। সামগ্রিকভাবে তাঁর চেহারায় এক উজ্জ্বল হাসি উদ্ভাসিত থাকত, যা এক সত্যনিষ্ঠ অন্তর থেকে উৎসারিত হতো; কেননা কিছু মানুষের হাসি তাদের কর্ম ও কথার ন্যায় মিথ্যা (كذب) হয়ে থাকে।এক পর্যায়ে তিনি বলেন: "তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ (عادل), নিয়তে সত্যবাদী (صادق), প্রখর মেধাসম্পন্ন, সাহসী হৃদয়ের অধিকারী এবং অত্যন্ত তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন; যেন তাঁর পাঁজরের ভেতরে ঘোর অন্ধকার রাতের প্রদীপসমূহ জ্বলছে। তিনি নূরে উদ্ভাসিত ছিলেন এবং ছিলেন প্রকৃতিগতভাবেই এক মহান পুরুষ। কোনো বিদ্যালয় তাঁকে শিক্ষিত করেনি এবং কোনো শিক্ষক তাঁকে শিষ্টাচার শেখাননি, আর তিনি এর মুখাপেক্ষীও ছিলেন না।খ্রিস্টান ও নাস্তিকদের মধ্য হতে যারা গোঁড়া, তারা দাবি করে যে মুহাম্মদ তাঁর উত্থানের মাধ্যমে ব্যক্তিগত খ্যাতি, আভিজাত্য ও রাজকীয় ক্ষমতার গৌরব অর্জন ছাড়া অন্য কিছু কামনা করেননি।কখনোই নয়—আল্লাহর কসম—সেই মরুচারী মানুষটি, যাঁর দুচোখ ছিল তেজোদীপ্ত, আত্মা ছিল মহান এবং হৃদয় ছিল দয়া, কল্যাণ ও প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ; তাঁর অন্তরে পার্থিব লোভ-লালসা ভিন্ন অন্য চিন্তা ছিল এবং ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি লাভের আকাঙ্ক্ষার বিপরীত নিয়ত ছিল। আর তা হবেই না কেন? তিনি ছিলেন এক নিভৃতচারী মহান আত্মার অধিকারী এবং এমন এক ব্যক্তিত্ব যাঁদের পক্ষে নিষ্ঠাবান (مخلص) ও কঠোর পরিশ্রমী হওয়া ছাড়া অন্য কিছু হওয়া সম্ভব ছিল না। যখন আপনি অন্যদের দেখেন যে তারা মিথ্যা পরিভাষাগুলো গ্রহণ করে সন্তুষ্ট থাকছে এবং বাতিল (باطل) ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী চলছে, তখন আপনি মুহাম্মদকে দেখেন যে তিনি প্রচলিত মিথ্যাচার (كذب) দিয়ে নিজেকে আবৃত করতে এবং উদ্ভাবিত (مبتدع) বাতিল (باطل) বিষয়সমূহ দ্বারা সজ্জিত হতে সম্মত হননি।তিনি তাঁর মহান সত্তা এবং সৃষ্টিজগত ও বিষয়াবলির প্রকৃত রহস্য নিয়ে একাকী নিমগ্ন থাকতেন। নিশ্চয়ই রহস্য ছিল
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الوجود يسطع لعينيه - كما قلت - بأهواله، ومخاوفه، وروانقه، ومباهره، ولم يكن هناك من الأباطيل ما يحجب ذلك عنه، فكان لسان حال ذلك السر الهائل يناجيه: ها أنا ذا، فمثل هذا الإخلاص لا يخلو من معنى إلهي مقدس، فإذا تكلم هذا الرجل فكل الآذان برغمها صاغية، وكل القلوب واعية، وكل كلام ما عدا ذلك هباء، وكل قول جفاء".إلى أن قال: "إذاً فلنضرب صفحاً عن مذهب الجائرين أن محمداً كاذب، ونعد موافقتهم عاراً، وسبة، وسخافة، وحمقاً؛ فلنربأ بأنفسنا عنه".إلى أن قال: "وإن ديناً آمن به أولئك العرب الوثنيون، وأمسكوه بقلوبهم النارية لجدير أن يكون حقاً، وجدير أن يصدق به.وإنما أودع هذا الدين من القواعد هو الشيء الوحيد الذي للإنسان أن يؤمن به.وهذا الشيء هو روح جميع الأديان، وروح تلبس أثواباً مختلفة، وأثواباً متعددة، وهي في الحقيقة شيء واحد.وبإتباع هذه الروح يصبح الإنسان إماماً كبيراً لهذا المعبد الأكبر - الكون - جارياً على قواعد الخالق، تابعاً لقوانينه، لا مجادلاً عبثاً أن يقاومها ويدافعها.لقد جاء الإسلام على تلك الملل الكاذبة، والنحل الباطلة، فابتلعها، وحق له أن يبتلعها؛ لأنه حقيقة، وما كان يظهر الإسلام حتى احترقت فيه وثنيات العرب، وجدليات النصرانية، وكل ما لم يكن بحق؛ فإنها حطب ميت".إلى أن قال: "أيزعم الأفَّاكون الجهلة أنه مشعوذ ومحتال؟
অস্তিত্ব তার চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—আমি যেমনটি বলেছি—তার বিভীষিকা, ভীতি, রূপমাধুর্য এবং বিস্ময়কর সব উপাদান নিয়ে। সেখানে এমন কোনো অসারতা (أباطيل) ছিল না যা তার থেকে সেই সত্যকে আড়াল করতে পারে। সেই বিশাল রহস্যের অন্তঃসার যেন তার সাথে একান্তে কথা বলছিল: 'এই তো আমি'। এমন একনিষ্ঠতা কোনো পবিত্র ঐশী অর্থ থেকে শূন্য নয়। ফলে এই ব্যক্তি যখন কথা বলেন, তখন সকল কর্ণ অনিচ্ছা সত্ত্বেও তা শোনে, সকল হৃদয় তা উপলব্ধি করে। এছাড়া অন্য সকল কথা অসার এবং সকল বক্তব্যই রূঢ়তা।"তিনি আরও বলেন: "অতএব, যালিমদের সেই মতাদর্শকে আমাদের বর্জন করা উচিত যে, মুহাম্মদ একজন মিথ্যাবাদী (كاذب)। তাদের সাথে ঐকমত্য পোষণ করাকে আমাদের লজ্জা, কলঙ্ক, অসারতা ও মূর্খতা হিসেবে গণ্য করা উচিত; আমাদের নিজেদেরকে এসব থেকে উর্ধ্বে রাখা কর্তব্য।"তিনি আরও বলেন: "এবং যে দ্বীনের ওপর সেই মূর্তিপূজারি আরবরা ঈমান এনেছে এবং তাদের অগ্নিসম হৃদয় দিয়ে একে আঁকড়ে ধরেছে, তা অবশ্যই সত্য হওয়ার যোগ্য এবং তা সত্যায়ন করার দাবি রাখে।এই দ্বীনের মাঝে যেসব মূলনীতি নিহিত রয়েছে, তা-ই একমাত্র বিষয় যা কোনো মানুষের জন্য বিশ্বাসযোগ্য।আর এই বিষয়টিই হলো সকল ধর্মের প্রাণ; এমন এক রূহ যা বিভিন্ন ও নানাবিধ অবয়ব ধারণ করে, অথচ বাস্তবে তা অভিন্ন।এই প্রাণশক্তি অনুসরণের মাধ্যমে মানুষ এই মহাবিশ্ব নামক বিশাল উপাসনালয়ের একজন মহান ইমামে পরিণত হয়; যা স্রষ্টার বিধিবদ্ধ নিয়মানুযায়ী পরিচালিত হয় এবং তাঁর আইনের অনুগামী হয়, একে প্রতিহত করার জন্য বৃথা বিতর্কে লিপ্ত হয় না।ইসলাম সেই সব মিথ্যা ধর্মাদর্শ এবং বাতিল (باطلة) মতবাদগুলোর ওপর বিজয়ী হয়ে আবির্ভূত হয়েছে এবং সেগুলোকে বিলীন করে দিয়েছে। আর তা বিলীন করার পূর্ণ অধিকার ইসলামের রয়েছে; কারণ ইসলাম একটি ধ্রুব সত্য। ইসলাম ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি যতক্ষণ না আরবের মূর্তিপূজা, খ্রিষ্টধর্মীয় বিতর্ক এবং সত্য বহির্ভূত যা কিছু ছিল—তা ইসলামের তাপে ভস্মীভূত হয়েছে; কারণ সেসব ছিল মৃত কাষ্ঠখণ্ড।"তিনি আরও বলেন: "সেই চরম মিথ্যাবাদী (أفاكون) ও অজ্ঞরা কি দাবি করে যে, তিনি একজন জাদুকর ও প্রতারক?"
(খণ্ড: ১)
আত-তারীকু ইলাল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
كلا، ثم كلا، ما كان قط ذلك القلب المحتدم الجائش كأنه تَنور فِكْر يضور ويتأجج - ليكون قلب محتال ومشعوذ، لقد كانت حياته في نظره حقاً، وهذا الكون حقيقة رائعة كبيرة".إلى أن قال: "مثل هذه الأقوال، وهذه الأفعال ترينا في محمد أخ الإنسانية الرحيم، أخانا جميعاً الرؤوف الشفيق، وابن أمنا الأولى، وأبينا الأول.وإنني لأحب محمداً لبراءة طبعه من الرياء والتصنع، ولقد كان ابن القفار رجلاً مستقل الرأي، لا يقول إلا عن نفسه، ولا يدّعي ما ليس فيه، ولم يكن متكبراً، ولكنه لم يكن ذليلاً ضَرِعاً، يخاطب بقوله الحرَّ المبين قياصرة الروم وأكاسرة العجم، يرشدهم إلى ما يجب عليهم لهذه الحياة، وللحياة الآخرة، وكان يعرف لنفسه قدرها.ولم تخل الحروب الشديدة التي وقعت له مع الأعراب من مشاهد قوة، ولكنها كذلك لم تخل من دلائل رحمة وكرم وغفران، وكان محمد لا يعتذر من الأولى، ولا يفتخر بالثانية".إلى أن قال: "وما كان محمد بعابث قط، ولا شابَ شيئاً من قوله شائبةُ لعبٍ ولهوٍ، بل كان الأمر عنده أمر خسران وفلاح، ومسألة فناء وبقاء، ولم يكن منه بإزائها إلا الإخلاص الشديد، والجد المرير.فأما التلاعب بالأقوال، والقضايا المنطقية، والعبث بالحقائق - فما كان من شأنه قط، وذلك عندي أفظع الجرائم؛ إذ ليس هو إلا رقدة القلب، ووسن العين عن الحق، وعيشة المرء في مظاهر كاذبة.
না, কক্ষনোই না, সেই উত্তপ্ত প্রজ্জ্বলিত হৃদয়—যা ছিল যেন চিন্তা ও প্রজ্ঞার এক প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ড—তা কোনো প্রতারক বা জাদুকরের হৃদয় হতে পারে না। তাঁর নিজের দৃষ্টিতে তাঁর জীবন ছিল পরম সত্য, আর এই মহাবিশ্ব ছিল এক বিশাল ও বিস্ময়কর বাস্তবতা।".যে পর্যন্ত তিনি বললেন: "এই ধরনের কথা ও কাজ আমাদের দেখায় যে মুহাম্মদ হলেন মানবতার এক দয়ালু ভ্রাতা, আমাদের সবার স্নেহশীল ও করুণাময় ভাই, আমাদের আদি মাতা ও আদি পিতার সন্তান।আমি মুহাম্মদকে ভালোবাসি তাঁর স্বভাবের লোকদেখানো (رياء) ও কৃত্রিমতা থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে। মরুভূমির এই সন্তান ছিলেন স্বাধীনচেতা একজন মানুষ, তিনি কেবল নিজের পক্ষ থেকেই কথা বলতেন এবং নিজের মাঝে নেই এমন কোনো গুণের দাবি করতেন না। তিনি অহংকারী ছিলেন না, আবার হীন বা লাঞ্ছিতও ছিলেন না; তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ও স্বাধীন ভাষায় রোমান সম্রাট ও পারস্য রাজাদের সম্বোধন করতেন, ইহকাল ও পরকালের পাথেয় সম্পর্কে তাঁদের পথনির্দেশ দিতেন এবং তিনি নিজের মর্যাদা সম্পর্কে অবগত ছিলেন।বেদুইনদের সাথে তাঁর যে ভয়াবহ যুদ্ধগুলো হয়েছিল তাতে যেমন শক্তির মহড়া ছিল, তেমনি তা রহমত, মহানুভবতা ও ক্ষমার নিদর্শনেও কম ছিল না। মুহাম্মদ প্রথমটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করতেন না এবং দ্বিতীয়টি নিয়ে গর্ববোধ করতেন না।".যে পর্যন্ত তিনি বললেন: "মুহাম্মদ কখনোই ক্রীড়া-কৌতুকে মত্ত ছিলেন না এবং তাঁর কোনো কথায় খেলাধুলা বা তামাশার কোনো মিশ্রণ ছিল না। বরং তাঁর নিকট বিষয়টি ছিল মুক্তি ও বিনাশের, অস্তিত্ব ও ধ্বংসের বিষয়। আর এই বিষয়ের বিপরীতে তাঁর মাঝে কেবল ছিল গভীর একনিষ্ঠতা (إخلاص) ও কঠোর গাম্ভীর্য।আর কথার চাতুরি, যৌক্তিক কূটতর্ক এবং সত্য নিয়ে উপহাস করা—এসব কখনোই তাঁর স্বভাবজাত ছিল না; আর আমার দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। কারণ এটি হৃদয়ের অসাড়তা এবং সত্যের প্রতি বিমুখতা ছাড়া আর কিছুই নয়, যেখানে মানুষ কেবল মিথ্যা বাহ্যিকতায় জীবন অতিবাহিত করে।