(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ১)
ـ[فتاوى اللجنة الدائمة - المجموعة الأولى]ـ
المؤلف: اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء
جمع وترتيب: أحمد بن عبد الرزاق الدويش
عدد الأجزاء: 26 جزءا
الناشر: رئاسة إدارة البحوث العلمية والإفتاء - الإدارة العامة للطبع - الرياض
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
স্থায়ী কমিটির ফতোয়াসমূহ - প্রথম সংকলন]
লেখক/উৎস: আল-লাজনাহ আদ-দা'ইমাহ লিল-বুহুসিল ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা (বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটি)
সংকলন ও বিন্যাস: আহমাদ বিন আবদুর রাযযাক আদ-দুওয়াইশ
খণ্ডের সংখ্যা: ২৬টি খণ্ড
প্রকাশক: রিয়াসাতু ইদারাতিল বুহুসিল ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা (বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া প্রদান বিভাগের প্রধান কার্যালয়) - সাধারণ মুদ্রণ বিভাগ - রিয়াদ
[বইটির ক্রমিক সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি পাদটীকা (হাশিয়া) দ্বারা সজ্জিত।]
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৫১)
صفحة فارغة
ফাঁকা পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৫২)
صفحة فارغة
খালি পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৫৩)
العقائد
আকীদা-বিশ্বাস
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৫৪)
أقسام التوحيد
السؤال الأول من فتوى رقم (9772) :
س1: ما المقصود بتوحيد الربوبية، وتوحيد الألوهية، وتوحيد الأسماء والصفات والذات؟
ج1: توحيد الربوبية: هو توحيد الله بأفعاله من الخلق والرزق والإحياء والإماتة ونحو ذلك، وتوحيد الألوهية: هو إفراد الله بالعبادة من صلاة وصوم وحج وزكاة ونذر وذبح ونحو ذلك. وتوحيد الأسماء والصفات أن تصف الله بما وصف به نفسه، أو وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم، وتسميه بما سمى به نفسه، أو سماه به رسوله صلى الله عليه وسلم من غير تشبيه ولا تمثيل ومن غير تحريف ولا تعطيل.
وبالله التوفيق. وصلى الله على نبينا محمد، وآله وصحبه وسلم.
اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء
عضو ... نائب رئيس اللجنة ... الرئيس
عبد الله بن غديان ... عبد الرزاق عفيفي ... عبد العزيز بن عبد الله بن باز
তাওহীদের প্রকারভেদ

ফতোয়া নং (৯৭৭২)-এর প্রথম প্রশ্ন:

**প্রশ্ন ১:** তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদে উলূহিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাত ওয়ায-যাত বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

**উত্তর ১:**

**তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ:** এটি হলো সৃষ্টি, রিযিক প্রদান, জীবন দান, মৃত্যু দান এবং অনুরূপ বিষয়াদিতে আল্লাহর কর্মসমূহের ক্ষেত্রে তাঁকে একক সাব্যস্ত করা।

**তাওহীদে উলূহিয়্যাহ:** এটি হলো সালাত, সাওম, হজ, যাকাত, মান্নত (নযর), যবেহ এবং অনুরূপ ইবাদতসমূহের মাধ্যমে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা।

**তাওহীদে আসমা ওয়া সিফাত:** এটি হলো আল্লাহ নিজের জন্য যে সকল গুণাবলী (সিফাত) বর্ণনা করেছেন, অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জন্য যে সকল গুণাবলী বর্ণনা করেছেন, সেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর গুণাবলী বর্ণনা করা; এবং তিনি নিজের জন্য যে সকল নাম রেখেছেন, অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জন্য যে সকল নাম রেখেছেন, সেগুলোর মাধ্যমে তাঁকে নামকরণ করা— কোনো প্রকার সাদৃশ্য স্থাপন (তাশবীহ) বা তুলনা (তামসীল) করা ব্যতীত এবং কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরীফ) বা অস্বীকার (তা'তীল) করা ব্যতীত।

আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীগণের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

**স্থায়ী কমিটি ফর স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা**
(আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ লিল বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা)

| সদস্য | কমিটির সহ-সভাপতি | সভাপতি |
| :--- | :--- | :--- |
| আব্দুল্লাহ ইবনে গুদাইয়ান | আব্দুল রাযযাক আফীফী | আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বায |
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৫৫)
السؤال الأول من الفتوى رقم (8943) :
س1: ما هي أنواع التوحيد مع تعريف كل منها؟
ج1: أنواع التوحيد ثلاثة: توحيد الربوبية، وتوحيد الإلهية، وتوحيد الأسماء والصفات، فتوحيد الربوبية: هو إفراد الله تعالى بالخلق والرزق والإحياء والإماتة وسائر أنواع التصريف والتدبير لملكوت السماوات والأرض، وإفراده تعالى بالحكم والتشريع بإرسال الرسل وإنزال الكتب، قال الله تعالى: {أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} (¬1) وتوحيد الألوهية: هو إفراد الله تعالى بالعبادة فلا يعبد غيره، ولا يدعى سواه، ولا يستغاث ولا يستعان إلا به، ولا ينذر ولا يذبح ولا ينحر إلا له، قال الله تعالى: {قل إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} (¬2) {لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ} (¬3) وقال: {فصل لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} (¬4) وتوحيد الأسماء والصفات: هو وصف الله تعالى وتسميته بما وصف وسمى به نفسه وبما وصفه وسماه به رسوله صلى الله عليه وسلم في الأحاديث الصحيحة، وإثبات ذلك له من غير تشبيه ولا تمثيل ومن
¬__________
(¬1) سورة الأعراف الآية 54
(¬2) سورة الأنعام الآية 162
(¬3) سورة الأنعام الآية 163
(¬4) سورة الكوثر الآية 2
ফতোয়া নং (৮৯৪৩) এর প্রথম প্রশ্ন:

**প্রশ্ন ১:** তাওহীদের প্রকারভেদ কী কী এবং প্রত্যেকটির সংজ্ঞা কী?

**উত্তর ১:** তাওহীদের প্রকারভেদ তিনটি: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদে উলূহিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাত।

**তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ:** এটি হলো আল্লাহ তাআলাকে সৃষ্টি, রিযিক প্রদান, জীবন দান, মৃত্যু দান এবং আসমান ও যমীনের রাজত্বের সকল প্রকার পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একক সাব্যস্ত করা। আর রাসূল প্রেরণ ও কিতাব নাযিলের মাধ্যমে শাসন ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও তাঁকে একক সাব্যস্ত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন:
{জেনে রাখো, সৃষ্টি ও নির্দেশ দানের ক্ষমতা তাঁরই। বরকতময় আল্লাহ, যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক।} (১)

**তাওহীদে উলূহিয়্যাহ:** এটি হলো আল্লাহ তাআলাকে ইবাদতের ক্ষেত্রে একক সাব্যস্ত করা। সুতরাং তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না, তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা যাবে না, তাঁর কাছে ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য বা সহযোগিতা চাওয়া যাবে না, এবং তাঁর জন্য ছাড়া অন্য কারো নামে মানত করা, যবেহ করা বা নহর করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:
{বলো, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানি (নিয়ম-কানুন), আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।} (২) {তাঁর কোনো শরীক নেই। আর আমাকে এরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আমিই প্রথম মুসলিম।} (৩) তিনি আরও বলেন: {অতএব, তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো এবং নহর করো (কুরবানি করো)।} (৪)

**তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাত:** এটি হলো আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য যে সকল নাম ও গুণাবলী বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহীহ হাদীসসমূহে তাঁর জন্য যে সকল নাম ও গুণাবলী বর্ণনা করেছেন, সেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলাকে বর্ণনা করা ও নামকরণ করা। আর কোনো সাদৃশ্য বা তুলনা স্থাপন ব্যতিরেকে সেগুলোকে তাঁর জন্য সাব্যস্ত করা এবং...

***
(১) সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত ৫৪
(২) সূরা আল-আন'আম, আয়াত ১৬২
(৩) সূরা আল-আন'আম, আয়াত ১৬৩
(৪) সূরা আল-কাউসার, আয়াত ২
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৫৬)
غير تأويل ولا تعطيل، {ليس كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} (¬1)
وبالله التوفيق. وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء
عضو ... عضو ... نائب رئيس اللجنة ... الرئيس
عبد الله بن قعود ... عبد الله بن غديان ... عبد الرزاق عفيفي ... عبد العزيز بن عبد الله بن باز
¬__________
(¬1) سورة الشورى الآية 11
কোনো রূপ রূপক ব্যাখ্যা (তা'বীল) বা অস্বীকার (তা'তীল) ব্যতিরেকে।
"তাঁর (আল্লাহর) মতো কিছু নেই, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" (১)

আর আল্লাহর নিকটই তাওফীক (সফলতা)। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

স্থায়ী কমিটি ফর স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা (ফতোয়া ও গবেষণা বিষয়ক স্থায়ী কমিটি)

সদস্য ... সদস্য ... কমিটির সহ-সভাপতি ... সভাপতি
আব্দুল্লাহ ইবনে কুঊদ ... আব্দুল্লাহ ইবনে গুদাইয়ান ... আব্দুর রাযযাক আফীফী ... আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বায

(১) সূরা আশ-শূরা, আয়াত ১১।
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৫৭)
توحيد الربوبية
তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৫৮)
التصرف في الكون
السؤال الأول من الفتوى رقم (9272) :
س1: هل من يعتقد تصرف أحد في الكون سوى الله كافر؟
ج1: من يعتقد ذلك كافر؛ لأنه أشرك مع الله غيره في الربوبية، بل هو أشد كفرا من كثير من المشركين الذين أشركوا مع الله غيره في الألوهية.
وبالله التوفيق. وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء
نائب رئيس اللجنة ... الرئيس
عبد الرزاق عفيفي ... عبد العزيز بن عبد الله بن باز
মহাবিশ্বের কর্তৃত্ব

ফতোয়া নং (৯২৭২)-এর প্রথম প্রশ্ন:

**প্রশ্ন ১:** আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ মহাবিশ্বের কর্তৃত্ব করে বলে যে বিশ্বাস করে, সে কি কাফির?

**উত্তর ১:** যে ব্যক্তি এরূপ বিশ্বাস করে, সে কাফির; কারণ সে রুবুবিয়্যাতে (প্রভুত্বে) আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক করেছে। বরং সে বহু মুশরিকের চেয়েও অধিক কঠোর কাফির, যারা আল্লাহর সাথে উলূহিয়্যাতে (ইবাদতের ক্ষেত্রে) অন্যকে শরীক করেছে।

আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

**স্থায়ী কমিটি ফর স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা**

| কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান | চেয়ারম্যান |
| :--- | :--- |
| আব্দুল্লাহ বিন বায | আব্দুল্লাহ বিন বায |
| আব্দুল্লাহ বিন বায | আব্দুল্লাহ বিন বায |
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৫৮)
السؤال الثالث والرابع من الفتوى رقم (782) :
س3: نصه: (عندنا أولاد ونريدهم يتفكرون بما خلق الله سبحانه وتعالى، هل الأرض التي على سطح الماء ماذا يحملها عن
ফতোয়া নং (৭৮২) এর তৃতীয় ও চতুর্থ প্রশ্ন:

প্রশ্ন ৩: এর পাঠ হলো: (আমাদের সন্তান-সন্ততি আছে এবং আমরা চাই যে তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা যা সৃষ্টি করেছেন, সে সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করুক। এই পৃথিবী, যা পানির উপরিভাগে রয়েছে, তাকে কী ধরে রাখে... [প্রশ্নটি এখানে অসমাপ্ত])
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৫৯)
الماء، وقالوا: إن الأرض من سبع طبقات، وكل طبقة بها سكان، ومن عرض ما قالوا لنا: إن من طبقات الأرض سجيل أحر من النار يحط- يضع- الله بها أرواح المذنبين والكفار، وقالوا لنا: هاروت وماروت إنهم في الأرض ملائكة معذبين، جزاكم الله خيرا ما هو عذابهم) ؟
ج3: أولا: ليس هناك أرض على سطح الماء حتى تسأل عما يحملها عن الماء، وإنما فوق الماء الهواء والسماء، وقد تماسكت الكونيات كلها ولزم كل منها مكانه بقدرة الله تعالي، قال الله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ أَنْ تَزُولَا وَلَئِنْ زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِنْ بَعْدِهِ} (¬1) وقد يكون هذا التماسك بسر أودعه الله الكائنات يعرفه من هيأ الله له أسباب معرفته من علماء السنن الكونية وغيرهم، وفي [صحيح البخاري] عن علي رضي الله عنه: «حدثوا الناس بما يعرفون أتريدون أن يكذب الله ورسوله (¬2) » .
ثانيا: أخبر الله بأن الأرض سبع طبقات فقال: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ} (¬3) الآية، والعلماء الذين قالوا باجتهادهم: أنها طبقات بعضها فوق بعض بينها هواء، ويسكن كل
¬__________
(¬1) سورة فاطر الآية 41
(¬2) البخاري (1 / 41) طبعة محمد أوزدمير.
(¬3) سورة الطلاق الآية 12
(পানি। এবং তারা বলেছে যে পৃথিবী সাতটি স্তর দ্বারা গঠিত এবং প্রতিটি স্তরেই অধিবাসী রয়েছে। তাদের বক্তব্যের মধ্যে আরও যা আমাদের কাছে পেশ করা হয়েছে তা হলো: পৃথিবীর স্তরসমূহের মধ্যে 'সিজ্জীল' (Sijjeel) নামক একটি স্তর রয়েছে যা আগুনের চেয়েও উত্তপ্ত। আল্লাহ সেখানে পাপী ও কাফিরদের রূহসমূহ রাখেন। তারা আরও বলেছে যে হারূত ও মারূত পৃথিবীতে শাস্তিপ্রাপ্ত ফেরেশতা। আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন, তাদের শাস্তি কী?)

উত্তর ৩: প্রথমত: পানির উপরিভাগে এমন কোনো ভূমি নেই যার কারণে আপনি প্রশ্ন করবেন যে পানি থেকে তাকে কী ধরে রেখেছে। বরং পানির উপরে রয়েছে বাতাস ও আকাশ। আল্লাহ তাআলার কুদরতে সমগ্র সৃষ্টিজগত সুসংহতভাবে নিজ নিজ স্থানে স্থির রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

{নিশ্চয় আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে ধরে রাখেন, যাতে তারা স্থানচ্যুত না হয়। যদি তারা স্থানচ্যুত হয়, তবে তিনি ছাড়া আর কেউ সেগুলোকে ধরে রাখতে পারবে না।} (১)

আর এই সুসংহতি এমন এক রহস্যের কারণে হতে পারে যা আল্লাহ সৃষ্টিকুলের মধ্যে স্থাপন করেছেন। মহাজাগতিক বিধানের (সুন্নান কাওনিয়্যাহ) বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্যদের মধ্যে যাদের জন্য আল্লাহ এর জ্ঞান অর্জনের পথ সহজ করে দিয়েছেন, তারা তা জানতে পারে। [সহীহ বুখারী]-তে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে: «মানুষের সাথে এমন বিষয়ে কথা বলো যা তারা বোঝে। তোমরা কি চাও যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক?» (২)

দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা জানিয়েছেন যে পৃথিবী সাতটি স্তর দ্বারা গঠিত। তিনি বলেছেন:

{আল্লাহই তিনি যিনি সৃষ্টি করেছেন সপ্ত আকাশ এবং পৃথিবীও তাদের অনুরূপ।} (৩) আয়াত।

আর যে সকল আলেম তাদের ইজতিহাদের ভিত্তিতে বলেছেন যে, এই স্তরগুলো হলো একটির উপরে আরেকটি, যার মাঝে বাতাস রয়েছে এবং প্রতিটি স্তরেই অধিবাসী রয়েছে...

***
(১) সূরা ফাতির, আয়াত ৪১।
(২) বুখারী (১/৪১), মুহাম্মাদ উযদেমির সংস্করণ।
(৩) সূরা আত-তালাক, আয়াত ১২।
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৬০)
طبقة خلق من خلق الله، مستدلين بقوله تعالى: {يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} (¬1) الآية، ومنهم من قال: إنها سبع طبقات متلاصقة بعضها فوق بعض، ويستدلون بحديث: «من اقتطع شبرا من أرض طوقه يوم القيامة من سبع أرضين (¬2) » .
ثالثا: (سجين) من الأمور الغيبية التي يجب علينا أن نمسك عن الخوض فيها إلا بقدر ما بين الله في كتابه أو رسوله صلى الله عليه وسلم، وقد قال تعالى: {كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ} (¬3) {وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ} (¬4) {كِتَابٌ مَرْقُومٌ} (¬5) فيجب أن نؤمن بذلك ولا نزيد عليه قولا من عند أنفسنا، وإلا وقعنا فيما نهى الله عنه بقوله: {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ} (¬6)
رابعا: هاروت وماروت ملكان من ملائكة الله امتحن الله بهما عباده، ولم يفعلا إلا ما أمرهما الله به، فكانا بذلك مطيعين لله فيما كلفا، ولله أن يختبر عباده ويمتحنهم بما شاء كيف شاء لا منازع له في قضائه وشرعه، قال الله تعالى: {وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنْزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ} (¬7) الآية.
¬__________
(¬1) سورة الطلاق الآية 12
(¬2) متفق عليه.
(¬3) سورة المطففين الآية 7
(¬4) سورة المطففين الآية 8
(¬5) سورة المطففين الآية 9
(¬6) سورة الإسراء الآية 36
(¬7) سورة البقرة الآية 102
আল্লাহর সৃষ্টির একটি স্তর। তারা এ বিষয়ে আল্লাহর বাণী দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন: {যাতে তোমরা জানতে পারো যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান} (১) আয়াতটি। আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, এগুলো সাতটি স্তর, যা একটির উপর আরেকটি সংলগ্ন অবস্থায় রয়েছে। তারা এ বিষয়ে হাদিস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন: «যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণ জমি অন্যায়ভাবে দখল করবে, কিয়ামতের দিন সাত স্তর যমীন তার গলায় বেড়ি হিসেবে পরিয়ে দেওয়া হবে (২) »।

তৃতীয়ত: (সিজ্জীন/সাজ্জীন) হলো গায়েবী বিষয়াদির অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে আল্লাহ তাঁর কিতাবে অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যতটুকু বর্ণনা করেছেন, তার অতিরিক্ত আলোচনা বা গভীর অনুসন্ধান থেকে আমাদের বিরত থাকা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {কখনোই না! নিশ্চয়ই পাপাচারীদের আমলনামা সিজ্জীনে রয়েছে} (৩) {আর আপনি কি জানেন সিজ্জীন কী?} (৪) {তা হলো লিখিত কিতাব} (৫)। অতএব, আমাদের কর্তব্য হলো এর প্রতি ঈমান আনা এবং নিজেদের পক্ষ থেকে কোনো কথা এর সাথে যোগ না করা। অন্যথায়, আমরা সেই নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ব, যা সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {আর যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না} (৬)।

চতুর্থত: হারূত ও মারূত আল্লাহর ফেরেশতাদের মধ্যে দুজন ফেরেশতা। আল্লাহ তাদের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করেছেন। তারা কেবল তাই করেছেন যা আল্লাহ তাদের আদেশ করেছেন। সুতরাং, তারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে আল্লাহর অনুগত ছিলেন। আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে যা ইচ্ছা, যেভাবে ইচ্ছা পরীক্ষা করার এবং যাচাই করার অধিকার রাখেন। তাঁর বিধান ও ফয়সালার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তারা অনুসরণ করত শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বকালে যা আবৃত্তি করত। সুলাইমান কুফরি করেননি, বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিল। তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত এবং (তারা অনুসরণ করত) যা বাবেলে হারূত ও মারূত নামক দুজন ফেরেশতার উপর অবতীর্ণ হয়েছিল। আর তারা কাউকে শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না বলত, ‘আমরা তো কেবল একটি পরীক্ষা, সুতরাং তুমি কুফরি করো না’} (৭) আয়াতটি।

***
(১) সূরা আত-তালাক, আয়াত ১২
(২) মুত্তাফাকুন আলাইহি (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম উভয়ে বর্ণিত)।
(৩) সূরা আল-মুতাফফিফীন, আয়াত ৭
(৪) সূরা আল-মুতাফফিফীন, আয়াত ৮
(৫) সূরা আল-মুতাফফিফীন, আয়াত ৯
(৬) সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৩৬
(৭) সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১০২
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৬১)
وأما أنهما كانا ملكين ومسخا رجلين، وأنهما أساءا بارتكاب المعاصي وحجبا عن السماء، وأنهما يعذبان في الدنيا أو معلقان من شعورهما، فكل هذا وأمثاله من كلام الكذابين من القصاص، فيجب على المسلم ألا يقبله منهم، وأن يتجنب القراءة في الكتب التي ليست مأمونة مثل كتاب [بدائع الزهور في وقائع الدهور] فإن مؤلفه وأمثاله هم الذين يذكرون مثل هذه الافتراءات. والله أعلم.
وبالله التوفيق. وصلى الله على نبينا محمد، وآله وصحبه وسلم.
اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء
عضو ... عضو ... نائب رئيس اللجنة
عبد الله بن سليمان بن منيع ... عبد الله بن عبد الرحمن بن غديان ... عبد الرزاق عفيفي
আর এই যে, তারা দুজন ফেরেশতা ছিল এবং দুজন মানুষে রূপান্তরিত হয়েছিল, আর তারা পাপ কাজ করে খারাপ কাজ করেছিল এবং আসমান থেকে আড়াল হয়ে গিয়েছিল, আর তাদেরকে দুনিয়াতে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে অথবা তাদের চুল ধরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে—এই সব এবং এর মতো অন্যান্য কথা হলো মিথ্যাবাদী কিসসাকারদের (গল্পকথকদের) কথা।

সুতরাং, মুসলিমের জন্য আবশ্যক হলো তাদের কাছ থেকে এগুলো গ্রহণ না করা, এবং এমন কিতাব পড়া থেকে বিরত থাকা যা নির্ভরযোগ্য নয়, যেমন [বাদা'ই'উয যুহুর ফি ওয়াকা'ই'ইদ দুহুর] নামক কিতাব। কেননা এর লেখক এবং তার মতো লোকেরাই এই ধরনের মিথ্যাচার উল্লেখ করে থাকে।

আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।

আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা। আর আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

স্থায়ী গবেষণা ও ফতোয়া কমিটি

সদস্য ... সদস্য ... কমিটির উপ-সভাপতি
আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনে মানী' ... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে গুদাইয়ান ... আব্দুর রাযযাক আফীফী
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৬১)
س4: نصه (صخرة المقدس التي ركب المعراج عليها يوم يعرج النبي صلى الله عليه وسلم قالوا لنا: إنها معلقة بالقدرة) ، أفتونا جزاكم الله خيرا.
ج4: كل شيء قائم في مقره بإذن الله سواء في ذلك السماوات وما فيها والأرضون وما فيهن حتى الصخرة المسؤول عنها، قال الله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ أَنْ تَزُولَا وَلَئِنْ زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِنْ بَعْدِهِ} (¬1) وقال سبحانه: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ تَقُومَ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ بِأَمْرِهِ} (¬2) الآية، وليست صخرة بيت المقدس معلقة في الفضاء وحولها هواء من جميع نواحيها، بل
¬__________
(¬1) سورة فاطر الآية 41
(¬2) سورة الروم الآية 25
**প্রশ্ন ৪:** প্রশ্নটির বক্তব্য হলো: (পবিত্র শিলাখণ্ড, যার উপর আরোহণ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মি'রাজের রাতে ঊর্ধ্বগমন করেছিলেন। তারা আমাদের বলেছে: এটি আল্লাহর কুদরতে শূন্যে ঝুলে আছে)। আপনারা আমাদের ফতোয়া দিন, আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।

**উত্তর ৪:** প্রতিটি জিনিসই আল্লাহর অনুমতিক্রমে তার নিজ স্থানে প্রতিষ্ঠিত আছে। এর মধ্যে আসমানসমূহ ও তার ভেতরের সবকিছু এবং জমিনসমূহ ও তার ভেতরের সবকিছু অন্তর্ভুক্ত, এমনকি প্রশ্নকৃত শিলাখণ্ডটিও।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
$$ ext{إِنَّ اللَّهَ يُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ أَنْ تَزُولَا وَلَئِنْ زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِنْ بَعْدِهِ}$$
**অর্থ:** {নিশ্চয় আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ধরে রাখেন, যাতে তারা স্থানচ্যুত না হয়। যদি তারা স্থানচ্যুত হয়, তবে তিনি ছাড়া আর কেউ সেগুলোকে ধরে রাখতে পারবে না।} (১)

আর তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন:
$$ ext{وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ تَقُومَ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ بِأَمْرِهِ}$$
**অর্থ:** {আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তাঁরই আদেশে আকাশ ও পৃথিবী প্রতিষ্ঠিত থাকে...} (২) আয়াতটি।

বাইতুল মুকাদ্দাসের এই শিলাখণ্ডটি মহাশূন্যে ঝুলে নেই এবং এর চারপাশ দিয়ে সব দিক থেকে বাতাসও নেই। বরং [এটি অন্যান্য বস্তুর মতোই দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত]।

***
(১) সূরা ফাতির, আয়াত ৪১
(২) সূরা আর-রূম, আয়াত ২৫
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৬২)
لا تزال متصلة من جانب بالجبل التي هي جزء منه متماسكة معه، وهي وجبلها قائمان في مقرهما بالأسباب الكونية العادية المفهومة، شأنهما في ذلك شأن غيرهما من الكائنات، ولا ننكر قدرة الله على أن يمسك جزءا من الكونيات في الفضاء فمجموع المخلوقات كلها قائمة في الفضاء بقدرة الله كما تقدم، وقد رفع الله الطور فوق قوم موسى حينما امتنعوا من العمل بما أتاهم به موسى من الشرائع وكان محمولا بقدرة الله، قال تعالى: {وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّورَ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُمْ بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُوا مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} (¬1) وقال {وَإِذْ نَتَقْنَا الْجَبَلَ فَوْقَهُمْ كَأَنَّهُ ظُلَّةٌ وَظَنُّوا أَنَّهُ وَاقِعٌ بِهِمْ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُمْ بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُوا مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} (¬2) ولكن القصد بيان الواقع، وأن الصخرة التي في بيت المقدس ليست معلقة في الفضاء من جميع جوانبها منفصلة عن الجبل انفصالا كليا، بل هي متصلة به متماسكة معه.
وبالله التوفيق. وصلى الله على نبينا محمد، وآله وصحبه وسلم.
اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء
عضو ... عضو ... نائب رئيس اللجنة
عبد الله بن سليمان بن منيع ... عبد الله بن عبد الرحمن بن غديان ... عبد الرزاق عفيفي
¬__________
(¬1) سورة البقرة الآية 63
(¬2) سورة الأعراف الآية 171
এটি (শিলাটি) একদিক থেকে পর্বতের সাথে সংযুক্ত, যার (পর্বতের) এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর সাথে সুসংহত। এটি এবং এর পর্বত স্বাভাবিক, বোধগম্য জাগতিক কারণসমূহের ভিত্তিতে তাদের স্থানে বিদ্যমান, যেমনটি অন্যান্য সৃষ্টিসমূহের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

আমরা মহাশূন্যে মহাবিশ্বের কোনো অংশকে ধরে রাখার ক্ষেত্রে আল্লাহর ক্ষমতাকে অস্বীকার করি না। যেমনটি পূর্বে বলা হয়েছে, সমস্ত সৃষ্টিই আল্লাহর ক্ষমতাবলে মহাশূন্যে বিদ্যমান।

আর আল্লাহ তাআলা মূসা (আ.)-এর কওমের উপর ‘তূর’ পর্বতকে উত্তোলন করেছিলেন, যখন তারা মূসা (আ.) কর্তৃক আনীত শরীয়ত অনুযায়ী আমল করতে অস্বীকার করেছিল। আর তা আল্লাহর ক্ষমতাবলেই বাহিত হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন:

**{وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّورَ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُمْ بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُوا مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ}** (১)

“আর যখন আমি তোমাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং তোমাদের উপর তূর পর্বতকে উত্তোলন করেছিলাম, (বলেছিলাম) আমি তোমাদের যা দিয়েছি তা দৃঢ়তার সাথে গ্রহণ করো এবং তাতে যা আছে তা স্মরণ করো, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো।”

এবং তিনি আরও বলেন:

**{وَإِذْ نَتَقْنَا الْجَبَلَ فَوْقَهُمْ كَأَنَّهُ ظُلَّةٌ وَظَنُّوا أَنَّهُ وَاقِعٌ بِهِمْ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُمْ بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُوا مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ}** (২)

“আর যখন আমি পর্বতকে তাদের উপর উপড়ে তুলেছিলাম, যেন তা এক মেঘপুঞ্জ, আর তারা ধারণা করেছিল যে তা তাদের উপর পতিত হবে। (বলেছিলাম) আমি তোমাদের যা দিয়েছি তা দৃঢ়তার সাথে গ্রহণ করো এবং তাতে যা আছে তা স্মরণ করো, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো।”

কিন্তু (এখানে) উদ্দেশ্য হলো বাস্তব অবস্থা বর্ণনা করা। আর তা হলো, বাইতুল মাকদিসে অবস্থিত শিলাটি তার সকল দিক থেকে মহাশূন্যে ঝুলন্ত নয় এবং পর্বত থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্নও নয়; বরং এটি এর সাথে সংযুক্ত এবং সুসংহত।

আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীগণের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

**স্থায়ী কমিটি: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া প্রদান**

| সদস্য | সদস্য | কমিটির সহ-সভাপতি |
| :--- | :--- | :--- |
| আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনে মানী’ | আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে গুদাইয়্যান | আব্দুর রাযযাক আফীফী |

***
(১) সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত ৬৩
(২) সূরা আল-আ’রাফ, আয়াত ১৭১
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৬৩)
الفتوى رقم (8805) :
س: هل يوجد في القرآن الكريم الأرضون السبع أو عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأن فيه اختلافا بيننا؟ وفي أي سورة من القرآن الكريم أو حديث عن النبي صلى الله عليه وسلم؟ جزاكم الله خير الجزاء.
ج: ثبت في القرآن الكريم أن الله تعالى خلق سبع أرضين، كما خلق سبع سماوات، قال سبحانه: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا} (¬1) وثبت أيضا في الحديث الصحيح: أن الأرضين سبع، فقد روى البخاري ومسلم، عن سعيد بن زيد رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من اقتطع شبرا من الأرض ظلما طوقه الله يوم القيامة من سبع أرضين (¬2) » ، وفي الصحيحين عن عائشة مرفوعا مثله.
وبالله التوفيق. وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء
عضو ... عضو ... نائب رئيس اللجنة ... الرئيس
عبد الله بن قعود ... عبد الله بن غديان ... عبد الرزاق عفيفي ... عبد العزيز بن عبد الله بن باز
¬__________
(¬1) سورة الطلاق الآية 12
(¬2) صحيح البخاري بدء الخلق (3198) ، صحيح مسلم المساقاة (1610) ، سنن الترمذي الديات (1418) ، مسند أحمد بن حنبل (1/190) ، سنن الدارمي البيوع (2606) .
ফতোয়া নং (৮৮০৫):

**প্রশ্ন:** আমাদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ থাকায়, কুরআনুল কারীম অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসে কি সাতটি পৃথিবীর (আল-আরদূন আস-সাব') উল্লেখ আছে? কুরআনুল কারীমের কোন সূরায় অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন হাদীসে তা উল্লেখ করা হয়েছে? আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।

**উত্তর:** কুরআনুল কারীমে এটি প্রমাণিত যে আল্লাহ তাআলা সাতটি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, যেমন তিনি সাতটি আকাশ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:

{আল্লাহ্ই তিনি যিনি সৃষ্টি করেছেন সপ্ত আকাশ এবং পৃথিবীও সেই একই রকম। তাদের মধ্যে নেমে আসে তাঁর নির্দেশ, যাতে তোমরা জানতে পারো যে, আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং আল্লাহ্ তাঁর জ্ঞান দ্বারা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।} (১)

সহীহ হাদীসেও এটি প্রমাণিত যে পৃথিবী সাতটি। ইমাম বুখারী ও মুসলিম সাঈদ ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

«যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এক বিঘত পরিমাণ জমিও দখল করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সাতটি পৃথিবীর (মাটি) দ্বারা বেষ্টন করে দেবেন।» (২)

অনুরূপ বর্ণনা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকেও মারফূ’ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

আল্লাহর নিকটই তাওফীক (সাফল্য)। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

***

(১) সূরা আত-তালাক, আয়াত ১২।
(২) সহীহ বুখারী, সৃষ্টিজগতের সূচনা (৩১৯৮), সহীহ মুসলিম, মুসাকাত (১৬১০), সুনান আত-তিরমিযী, দিয়াত (১৪১৮), মুসনাদ আহমাদ ইবনে হাম্বল (১/১৯০), সুনান আদ-দারিমী, ক্রয়-বিক্রয় (২৬০৬)।

***

**স্থায়ী কমিটি ফর স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা (আল-লাজনাহ আদ-দা'ইমাহ)**

**সভাপতি:** আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বায
**সহ-সভাপতি:** আব্দুর রাযযাক আফীফী
**সদস্য:** আব্দুল্লাহ ইবনে গুদাইয়ান
**সদস্য:** আব্দুল্লাহ ইবনে কাঊদ
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৬৪)
السؤال الأول من الفتوى رقم (1542) :
س: نشاهد ونقرأ في بعض الصحف العربية عن عمليات يقوم بها بعض الأطباء في أوروبا يتحول بها الذكر إلى أنثى والأنثى إلى ذكر فهل ذلك صحيح، ألا يعتبر ذلك تدخلا في شؤون الخالق الذي انفرد بالخلق والتصوير؟ وما رأي الإسلام في ذلك؟
ج1: لا يقدر أحد من المخلوقين أن يحول الذكر إلى أنثى ولا الأنثى إلى ذكر، وليس ذلك من شؤونهم ولا في حدود طاقتهم مهما بلغوا من العلم بالمادة ومعرفة خواصها. إنما ذلك إلى الله وحده، قال تعالى: {لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ يَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ الذُّكُورَ} (¬1) {أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا وَيَجْعَلُ مَنْ يَشَاءُ عَقِيمًا إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ} (¬2)
فأخبر سبحانه في صدر الآية بأنه وحده هو الذي يملك ذلك ويختص به. وختم الآية ببيان أصل ذلك الاختصاص، وهو: كمال علمه وقدرته، ولكن قد يشتبه أمر المولود فلا يدرى أذكر هو أم أنثى، وقد يظهر في بادئ الأمر أنثى وهو في الحقيقة ذكر أو بالعكس، ويزول الإشكال في الغالب وتبدو الحقيقة واضحة عند البلوغ فيعمل له الأطباء عملية جراحية تتناسب مع واقعه من
¬__________
(¬1) سورة الشورى الآية 49
(¬2) سورة الشورى الآية 50
ফতোয়া নং (১৫৪২)-এর প্রথম প্রশ্ন।

**প্রশ্ন:** আমরা কিছু আরব সংবাদপত্রে দেখি ও পড়ি যে ইউরোপের কিছু ডাক্তার এমন অপারেশন করে যার মাধ্যমে পুরুষ নারীতে এবং নারী পুরুষে রূপান্তরিত হয়। এটা কি সঠিক? এটা কি সৃষ্টিকর্তার বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে গণ্য হবে না, যিনি সৃষ্টি ও আকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে একক? এ বিষয়ে ইসলামের অভিমত কী?

**উত্তর ১:** সৃষ্টিকুলের কারো পক্ষে পুরুষকে নারীতে বা নারীকে পুরুষে রূপান্তরিত করা সম্ভব নয়। বস্তুজগৎ সম্পর্কে এবং এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তারা যতই জ্ঞান অর্জন করুক না কেন, এটি তাদের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় নয় এবং তাদের ক্ষমতার সীমার মধ্যেও পড়ে না। এটি একমাত্র আল্লাহরই এখতিয়ার।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
{আসমানসমূহ ও যমীনের সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।} (১) {অথবা তাদেরকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।} (২)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আয়াতের শুরুতে জানিয়ে দিয়েছেন যে একমাত্র তিনিই এর মালিক এবং এই ক্ষমতা তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট। আর তিনি আয়াতের সমাপ্তি টেনেছেন এই বিশেষত্বের মূল কারণ বর্ণনা করে, আর তা হলো: তাঁর জ্ঞানের পূর্ণতা এবং তাঁর ক্ষমতার পূর্ণতা।

তবে, কখনও কখনও নবজাতকের বিষয়টি সন্দেহজনক হতে পারে, ফলে সে পুরুষ না নারী তা বোঝা যায় না। কখনও বা প্রাথমিকভাবে তাকে নারী মনে হলেও বাস্তবে সে পুরুষ হতে পারে, অথবা এর বিপরীতও হতে পারে। সাধারণত, বয়ঃসন্ধিকালে এই জটিলতা দূর হয়ে যায় এবং বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখন ডাক্তারগণ তার বাস্তব অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি অস্ত্রোপচার করে থাকেন...

***
পাদটীকা:
(১) সূরা আশ-শূরা, আয়াত ৪৯।
(২) সূরা আশ-শূরা, আয়াত ৫০।
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৬৫)
ذكورة أو أنوثة، وقد لا يحتاج إلى شق ولا جراحة، فما يقوم به الأطباء في مثل هذه الأحوال إنما هو كشف عن واقع حال المولود بما يجرونه من عمليات جراحية، لا تحويل الذكر إلى أنثى ولا الأنثى إلى ذكر، وبهذا يعرف أنهم لم يتدخلوا فيما هو من شأن الله إنما كشفوا للناس عما هو من خلق الله. والله أعلم.
وصلى الله على نبينا محمد، وآله وصحبه وسلم.
اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء
عضو ... عضو ... نائب رئيس اللجنة ... الرئيس
عبد الله بن قعود ... عبد الله بن غديان ... عبد الرزاق عفيفي ... عبد العزيز بن عبد الله بن باز
পুরুষত্ব নাকি নারীত্ব। আবার কখনও কখনও এর জন্য কোনো কাটাছেঁড়া বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও হয় না। সুতরাং, এই ধরনের পরিস্থিতিতে ডাক্তারগণ যা করেন, তা হলো— অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তারা কেবল নবজাতকের প্রকৃত অবস্থা উন্মোচন করেন, পুরুষকে নারীতে বা নারীকে পুরুষে রূপান্তরিত করা নয়।

এর মাধ্যমে জানা যায় যে, তারা আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেননি, বরং তারা মানুষের সামনে আল্লাহর সৃষ্টির বাস্তবতাকে প্রকাশ করেছেন মাত্র।

আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

**স্থায়ী কমিটি ফর স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা**
(আল-লাজনাহ আদ-দা'ইমাহ লিল-বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল-ইফতা)

সদস্য ... সদস্য ... কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ... চেয়ারম্যান
আব্দুল্লাহ ইবনে কুঊদ ... আব্দুল্লাহ ইবনে গুদাইয়ান ... আব্দুর রাযযাক আফীফী ... আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বায
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৬৫)
السؤال الرابع من الفتوى رقم (189) :
س4: هذا الولد من عطاء المرشد، وهذا الذي يزيد في الرزق وينقص. ما الحكم في هذا الاعتقاد؟
ج4: من اعتقد أن الولد من عطاء غير الله وأن أحدا سوى الله يزيد في الرزق وينقص منه فهو مشرك شركا أشد من شرك العرب وغيرهم في الجاهلية، فإن العرب ونحوهم كانوا في جاهليتهم إذا سئلوا عمن يرزقهم من السماء والأرض وعمن يخرج الحي من الميت ويخرج الميت من الحي، قالوا: الله، وإنما عبدوا آلهتهم الباطلة لزعمهم أنها تقربهم إلى الله زلفى، قال الله تعالى: {قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَمَّنْ يَمْلِكُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَمَنْ يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَمَنْ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ فَسَيَقُولُونَ اللَّهُ فَقُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ} (¬1)
¬__________
(¬1) سورة يونس الآية 31
ফতোয়া নং (১৮৯) এর চতুর্থ প্রশ্ন:

**প্রশ্ন ৪:** এই সন্তান 'মুর্শিদের' দান, এবং এই [মুর্শিদই] রিযিক বৃদ্ধি করে ও হ্রাস করে। এই ধরনের বিশ্বাসের হুকুম কী?

**উত্তর ৪:** যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে সন্তান আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো দান, এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ রিযিক বৃদ্ধি বা হ্রাস করে, সে মুশরিক। তার এই শিরক জাহেলিয়াতের আরব ও অন্যান্যদের শিরকের চেয়েও মারাত্মক।

কারণ আরব ও তাদের মতো লোকেরা তাদের জাহেলিয়াতের যুগে যখন তাদের জিজ্ঞাসা করা হতো যে আকাশ ও পৃথিবী থেকে কে তাদের রিযিক দেন, কে মৃত থেকে জীবিতকে এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন, তখন তারা বলত: আল্লাহ। তারা তাদের বাতিল উপাস্যদের কেবল এই ধারণায় ইবাদত করত যে তারা তাদেরকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

{বলো, কে তোমাদেরকে আকাশ ও পৃথিবী থেকে রিযিক দেন? অথবা কে শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তির মালিক? আর কে মৃত থেকে জীবিতকে এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন? আর কে সকল বিষয় পরিচালনা করেন? তারা অবশ্যই বলবে: আল্লাহ। সুতরাং বলো, তবুও কি তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে না?} (১)

---
(১) সূরা ইউনুস, আয়াত ৩১।
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৬৬)
وقال: {وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِي مَا هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ كَاذِبٌ كَفَّارٌ} (¬1) وقال: {أَمَّنْ هَذَا الَّذِي يَرْزُقُكُمْ إِنْ أَمْسَكَ رِزْقَهُ} (¬2)
وثبت في السنة أن العطاء والمنع إلى الله وحده، من ذلك ما رواه البخاري في باب الذكر بعد الصلاة من صحيحه أن ورادا كاتب المغيرة بن شعبة قال: أملي علي المغيرة بن شعبة في كتاب إلى معاوية أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول في دبر كل صلاة مكتوبة: «لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، وهو على كل شيء قدير. اللهم لا مانع لما أعطيت، ولا معطي لما منعت، ولا ينفع ذا الجد منك الجد (¬3) » . لكن قد يعطي الله عبده ذرية ويوسع له في رزقه بدعائه إياه ولجئه إليه وحده كما هو واضح في سورة إبراهيم من دعاء إبراهيم الخليل ربه وإجابة الله دعاءه، وفي سورة مريم والأنبياء وغيرهما من دعاء زكريا ربه وإجابته دعاءه، وكما ثبت عن أنس رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من سره أن يبسط له في رزقه وينسأ له في أجله، فليصل رحمه (¬4) » رواه البخاري
¬__________
(¬1) سورة الزمر الآية 3
(¬2) سورة الملك الآية 21
(¬3) صحيح البخاري الأذان (844) ، صحيح مسلم المساجد ومواضع الصلاة (593) ، سنن النسائي السهو (1341) ، سنن أبو داود الصلاة (1505) ، مسند أحمد بن حنبل (4/250) ، سنن الدارمي الصلاة (1349) .
(¬4) صحيح البخاري الأدب (5986) ، صحيح مسلم البر والصلة والآداب (2557) ، سنن أبو داود الزكاة (1693) ، مسند أحمد بن حنبل (3/247) .
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে অভিভাবক (বা উপাস্য) রূপে গ্রহণ করে, তারা বলে: ‘আমরা তো তাদের ইবাদত করি শুধু এই জন্য যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে।’ তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে, আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে সে বিষয়ে ফয়সালা করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মিথ্যাবাদী ও ঘোর অকৃতজ্ঞকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।} (১)

তিনি (আল্লাহ) আরও বলেন: {অথবা তিনি যদি তাঁর রিযিক বন্ধ করে দেন, তবে কে আছে যে তোমাদেরকে রিযিক দেবে?} (২)

সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত যে, দান করা ও বন্ধ করে দেওয়া একমাত্র আল্লাহরই এখতিয়ারে। এর প্রমাণস্বরূপ বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের ‘সালাতের পর যিকির’ অধ্যায়ে যা বর্ণনা করেছেন, তা হলো: মুগীরাহ ইবনে শু‘বার লেখক ওয়াররাদ বলেন, মুগীরাহ ইবনে শু‘বাহ মু‘আবিয়ার নিকট প্রেরিত এক পত্রে আমাকে লিখে দেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরয সালাতের পর বলতেন: «আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই। আর তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আপনি যা দান করেন, তা রোধ করার কেউ নেই; আর আপনি যা রোধ করেন, তা দান করার কেউ নেই। আর কোনো সম্পদশালী ব্যক্তির সম্পদ আপনার (শাস্তি) থেকে তাকে রক্ষা করতে পারবে না।» (৩)

তবে আল্লাহ তাঁর বান্দাকে তাঁর কাছে একনিষ্ঠভাবে দু‘আ করার এবং একমাত্র তাঁরই কাছে আশ্রয় চাওয়ার কারণে সন্তান-সন্ততি দান করতে পারেন এবং তার রিযিকে প্রশস্ততা দিতে পারেন। যেমনটি স্পষ্ট হয়েছে সূরা ইবরাহীমে, যেখানে ইবরাহীম খলীল (আ.) তাঁর রবের কাছে দু‘আ করেছিলেন এবং আল্লাহ তাঁর দু‘আ কবুল করেছিলেন। অনুরূপভাবে সূরা মারইয়াম, সূরা আম্বিয়া এবং অন্যান্য সূরায় যাকারিয়া (আ.)-এর তাঁর রবের কাছে দু‘আ করা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর দু‘আ কবুল করার ঘটনা রয়েছে। আর যেমনটি আনাস (রা.) থেকে প্রমাণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি চায় যে তার রিযিক প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।» বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন। (৪)

***

(১) সূরা আয-যুমার, আয়াত ৩
(২) সূরা আল-মুলক, আয়াত ২১
(৩) সহীহ বুখারী, আযান (৮৪৪); সহীহ মুসলিম, মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদি‘উস সালাত (৫৯৩); সুনান আন-নাসাঈ, আস-সাহু (১৩৪১); সুনান আবূ দাঊদ, সালাত (১৫০৫); মুসনাদ আহমাদ ইবনে হাম্বল (৪/২৫০); সুনান আদ-দারিমী, সালাত (১৩৪৯)।
(৪) সহীহ বুখারী, আদাব (৫৯৮৬); সহীহ মুসলিম, আল-বির্র ওয়াস-সিলাহ ওয়াল-আদাব (২৫৫৭); সুনান আবূ দাঊদ, যাকাত (১৬৯৩); মুসনাদ আহমাদ ইবনে হাম্বল (৩/২৪৭)।
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৬৭)
ومسلم في صحيحيهما. والله أعلم.
وصلى الله على نبينا محمد، وآله وصحبه وسلم.
اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء
عضو ... عضو ... نائب رئيس اللجنة
عبد الله بن سليمان بن منيع ... عبد الله بن عبد الرحمن بن غديان ... عبد الرزاق عفيفي
এবং মুসলিম তাদের সহীহদ্বয়ে (বর্ণনা করেছেন)। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাঃ), তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

**স্থায়ী বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইফতা কমিটি**

সদস্য ... সদস্য ... কমিটির সহ-সভাপতি

আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন মানী’ ... আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন গুদাইয়ান ... আব্দুর রাযযাক আফীফী
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৬৭)
السؤال السادس من الفتوى رقم (9688) :
س6: هل هناك من الإنسان يجري الرزق إلى غيره من المخلوقات أو يدفع الضر عنه؟
ج6: الله هو الرزاق ذو القوة المتين، وهو الذي يجيب المضطر إذا دعاه ويكشف السوء ويدفع الضر، أما الإنسان الحي فقد يجعله الله سببا في كسب الرزق لإنسان آخر ودفع الضر عنه بإذن الله تعالى، أما هو في نفسه فلا يملك لنفسه ولا لغيره نفعا ولا ضرا.
وبالله التوفيق. وصلى الله على نبينا محمد، وآله وصحبه وسلم.
اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء
عضو ... نائب رئيس اللجنة ... الرئيس
عبد الله بن غديان ... عبد الرزاق عفيفي ... عبد العزيز بن عبد الله بن باز
ফতোয়া নং (৯৬৮৮)-এর ষষ্ঠ প্রশ্ন:

**প্রশ্ন ৬:** কোনো মানুষ কি অন্য কোনো সৃষ্টির জন্য রিযিক (জীবিকা) সরবরাহ করতে পারে, অথবা তাদের থেকে ক্ষতি (দুর্ভোগ) দূর করতে পারে?

**উত্তর ৬:** আল্লাহই হলেন আর-রাযযাক (রিযিকদাতা), যিনি মহাশক্তিধর ও সুদৃঢ়। তিনিই সেই সত্তা যিনি বিপদগ্রস্তের ডাকে সাড়া দেন, মন্দ দূর করেন এবং ক্ষতি প্রতিহত করেন।

তবে জীবিত মানুষ—আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে—অন্য মানুষের জন্য রিযিক উপার্জনের মাধ্যম হতে পারে এবং তাদের থেকে ক্ষতি দূর করার কারণ হতে পারে। কিন্তু সে (মানুষ) নিজে তার সত্তার দিক থেকে নিজের বা অন্যের জন্য কোনো উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না।

আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

**স্থায়ী কমিটি ফর স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা**
(আল-লাজনাহ আদ-দা'ইমাহ লিল-বুহুস আল-ইলমিয়্যাহ ওয়াল-ইফতা)

| সদস্য | উপ-সভাপতি | সভাপতি |
| :--- | :--- | :--- |
| আব্দুল্লাহ বিন গুদাইয়ান | আব্দুর রাযযাক আফীফী | আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায |
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৬৮)
السؤال الثاني من الفتوى رقم (10909) :
س2: يقول بعض الناس: كيف يكون الرزق كله من الله وأنا يمكنني أن أزيد في عملي اليوم من أجل أن أحصل رزق أكثر، فكيف يكون مقدر علي الرزق ومكتوب علي لا دخل لي في زيادته أو نقصانه؟
وهل هناك كتب تبحث في مثل هذه القضايا لتدلوننا عليها؟
ج2: الرزق من عند الله إيجادا وتقديرا وإعطاء وكسبا وتسببا، فالعبد يباشر السبب أيا كان صعبا أو سهلا كثيرا أو قليلا، والله يقدر السبب ويوجده فضلا منه ورحمة، فينسب الرزق إلى الله تقديرا وإعطاء وإلى العبد تسببا وكسبا.
وبالله التوفيق. وصلى الله على نبينا محمد، وآله وصحبه وسلم.
اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء
عضو ... نائب رئيس اللجنة ... الرئيس
عبد الله بن غديان ... عبد الرزاق عفيفي ... عبد العزيز بن عبد الله بن باز
ফতোয়া নং (১০৯০৯)-এর দ্বিতীয় প্রশ্ন:

**প্রশ্ন ২:** কিছু লোক বলে: রিযিক কীভাবে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, অথচ আমি আমার আজকের কাজে বৃদ্ধি ঘটিয়ে আরও বেশি রিযিক অর্জন করতে পারি? তাহলে কীভাবে রিযিক আমার জন্য নির্ধারিত ও লিখিত হয়, যেখানে এর বৃদ্ধি বা হ্রাসে আমার কোনো হাত নেই? এই ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এমন কোনো কিতাব কি আছে, যা আপনারা আমাদের জানাতে পারেন?

**উত্তর ২:** রিযিক আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে—সৃষ্টি, নির্ধারণ, প্রদান, উপার্জন এবং কারণ গ্রহণের (চেষ্টার) দিক থেকে। সুতরাং বান্দা কারণ গ্রহণ করে (চেষ্টা করে), তা কঠিন হোক বা সহজ, বেশি হোক বা কম। আর আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও রহমতস্বরূপ সেই কারণকে নির্ধারণ করেন এবং তা সৃষ্টি করেন। অতএব, রিযিককে আল্লাহর দিকে সম্পর্কিত করা হয় নির্ধারণ ও প্রদানের দিক থেকে, আর বান্দার দিকে সম্পর্কিত করা হয় কারণ গ্রহণ ও উপার্জনের দিক থেকে।

আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

**স্থায়ী কমিটি ফর স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা**

সদস্য: আব্দুল্লাহ ইবনে গুদাইয়ান
কমিটির সহ-সভাপতি: আব্দুল রাযযাক আফীফী
সভাপতি: আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বায
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৬৮)
نظرية التطور والارتقاء
السؤال الخامس من الفتوى رقم (5167) :
س5: هناك من يقول: إن الإنسان منذ زمن بعيد كان قردا وتطور، فهل هذا صحيح، وهل من دليل؟
ج5: هذا القول ليس بصحيح، والدليل على ذلك أن الله بين في القرآن أطوار خلق آدم، فقال تعالى: {إِنَّ مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ} (¬1)
¬__________
(¬1) سورة آل عمران الآية 59
বিবর্তন ও উন্নয়নের তত্ত্ব

ফতোয়া নং (৫১৬৭) থেকে পঞ্চম প্রশ্ন:

**প্রশ্ন ৫:** এমন কিছু লোক আছে যারা বলে যে, মানুষ বহু প্রাচীনকালে বানর ছিল এবং পরে বিবর্তিত হয়েছে। এটা কি সঠিক? এর কি কোনো প্রমাণ আছে?

**উত্তর ৫:** এই বক্তব্য সঠিক নয়। এর প্রমাণ হলো, আল্লাহ তাআলা কুরআনে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির বিভিন্ন পর্যায় বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

{নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত হলো আদমেরই মতো। তাকে তিনি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।} (১)

***
(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৫৯।
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৬৯)
ثم إن هذا التراب بل حتى صار طينا لازبا يعلق بالأيدي، فقال تعالى: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ سُلَالَةٍ مِنْ طِينٍ} (¬1) وقال تعالى: {إِنَّا خَلَقْنَاهُمْ مِنْ طِينٍ لَازِبٍ} (¬2) ثم صار حمأ مسنونا، قال تعالى: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ صَلْصَالٍ مِنْ حَمَإٍ مَسْنُونٍ} (¬3) ثم لما يبس صار صلصالا كالفخار، قال تعالى: {خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ صَلْصَالٍ كَالْفَخَّارِ} (¬4) وصوره الله على الصورة التي أرادها ونفخ فيه من روحه، قال تعالى: {وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي خَالِقٌ بَشَرًا مِنْ صَلْصَالٍ مِنْ حَمَإٍ مَسْنُونٍ} (¬5) {فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ} (¬6) هذه هي الأطوار التي مرت على خلق آدم من جهة القرآن، وأما الأطوار التي مرت على خلق ذرية آدم فقال تعالى: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ سُلَالَةٍ مِنْ طِينٍ} (¬7) {ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَكِينٍ} (¬8) {ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنْشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ} (¬9)
¬__________
(¬1) سورة المؤمنون الآية 12
(¬2) سورة الصافات الآية 11
(¬3) سورة الحجر الآية 26
(¬4) سورة الرحمن الآية 14
(¬5) سورة الحجر الآية 28
(¬6) سورة الحجر الآية 29
(¬7) سورة المؤمنون الآية 12
(¬8) سورة المؤمنون الآية 13
(¬9) سورة المؤمنون الآية 14
অতঃপর এই মাটি (ধীরে ধীরে) এমন আঠালো কাদায় পরিণত হলো যা হাতে লেগে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর অবশ্যই আমরা মানুষকে মাটির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি।} (১) তিনি আরও বলেন: {নিশ্চয় আমরা তাদেরকে আঠালো কাদা থেকে সৃষ্টি করেছি।} (২)

এরপর তা 'হামা’ মাসনূন' (কালো, দুর্গন্ধযুক্ত, পরিবর্তিত কাদা)-তে পরিণত হলো। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর অবশ্যই আমরা মানুষকে পচা কাদার শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।} (৩)

এরপর যখন তা শুকিয়ে গেল, তখন তা পোড়ামাটির মতো ঠনঠনে কাদায় (সালসাল) পরিণত হলো। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনি মানুষকে পোড়ামাটির মতো ঠনঠনে কাদা থেকে সৃষ্টি করেছেন।} (৪)

আর আল্লাহ তাকে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী আকৃতি দান করলেন এবং তাতে তাঁর রূহ ফুঁকে দিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর স্মরণ করো, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বলেছিলেন, ‘নিশ্চয় আমি পচা কাদার শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।} (৫) {‘সুতরাং যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তাতে আমার রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হয়ে যেও।’} (৬)

কুরআনের দৃষ্টিকোণ থেকে আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সৃষ্টির ক্ষেত্রে এইগুলোই হলো পর্যায়ক্রমিক ধাপ। আর আদম-সন্তানদের সৃষ্টির ক্ষেত্রে যে পর্যায়গুলো অতিক্রম করা হয়েছে, সে সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন:

{আর অবশ্যই আমরা মানুষকে মাটির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি।} (৭) {অতঃপর আমরা তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সুরক্ষিত স্থানে স্থাপন করেছি।} (৮) {এরপর আমরা শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিণ্ডে পরিণত করেছি, এরপর মাংসপিণ্ডকে অস্থিতে পরিণত করেছি, অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি। এরপর আমরা তাকে এক ভিন্ন সৃষ্টি রূপে দাঁড় করিয়েছি। সুতরাং সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কতই না বরকতময়!} (৯)

***
(১) সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত ১২
(২) সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ১১
(৩) সূরা আল-হিজর, আয়াত ২৬
(৪) সূরা আর-রাহমান, আয়াত ১৪
(৫) সূরা আল-হিজর, আয়াত ২৮
(৬) সূরা আল-হিজর, আয়াত ২৯
(৭) সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত ১২
(৮) সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত ১৩
(৯) সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত ১৪
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৭০)
أما زوجة آدم حواء فقد بين الله تعالى أنه خلقها منه، فقال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً} (¬1) الآية.
وبالله التوفيق. وصلى الله على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه وسلم.
اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء
عضو ... عضو ... نائب رئيس اللجنة ... الرئيس
عبد الله بن قعود ... عبد الله بن غديان ... عبد الرزاق عفيفي ... عبد العزيز بن عبد الله بن باز
¬__________
(¬1) سورة النساء الآية 1
আর আদম (আঃ)-এর স্ত্রী হাওয়া (আঃ)-এর ক্ষেত্রে, আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি তাকে (হাওয়াকে) আদম (আঃ) থেকেই সৃষ্টি করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি (নফস) থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের দুজন থেকে বহু পুরুষ ও নারী বিস্তার করেছেন।} (১) আয়াতটি।

আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

গবেষণামূলক আলোচনা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি (আল-লাজনাহ আদ-দা'ইমাহ)

সদস্য ... সদস্য ... কমিটির সহ-সভাপতি ... সভাপতি
আব্দুল্লাহ ইবনে কুঊদ ... আব্দুল্লাহ ইবনে গুদাইয়ান ... আব্দুর রাযযাক আফীফী ... আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বায

***
(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত ১।
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৭০)
كيفية خلق الإنسان
السؤال السادس من الفتوى رقم (2612) :
س6: هل نفهم من نفخ الروح في الجنين بعد أربعة أشهر أن الحيوان المنوي المتحد ببيضة المرأة والذي يتكون الجنين منه لا روح فيه أو ماذا؟
ج6: لكل من الحيوان المنوي وبويضة المرأة حياة تناسبه -إذا سلم من الآفات- تهيأ كلا منهما بإذن الله وتقديره للاتحاد بالآخر، وعند ذلك يتكون الجنين إن شاء الله ذلك، ويكون حيا أيضا حياة تناسبه حياة النمو والتنقل في الأطوار المعروفة، فإذا نفخ
মানুষের সৃষ্টি প্রক্রিয়া

ফতোয়া নং (২৬১২)-এর ষষ্ঠ প্রশ্ন:

**প্রশ্ন ৬:** চার মাস পর ভ্রূণের মধ্যে রূহ ফুঁকে দেওয়া থেকে আমরা কি এই বুঝি যে, নারীর ডিম্বাণুর সাথে মিলিত যে শুক্রাণু থেকে ভ্রূণ গঠিত হয়, তার মধ্যে কোনো রূহ নেই, নাকি অন্য কিছু?

**উত্তর ৬:** শুক্রাণু এবং নারীর ডিম্বাণু উভয়ের জন্যই তাদের উপযোগী জীবন রয়েছে—যদি তা ত্রুটিমুক্ত থাকে। আল্লাহর অনুমতি ও নির্ধারণক্রমে তাদের প্রত্যেকে অন্যটির সাথে মিলিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। আর তখনই ভ্রূণ গঠিত হয়, যদি আল্লাহ তা চান। এবং সেটিও তার উপযোগী জীবন নিয়ে জীবিত থাকে—যা হলো বৃদ্ধি এবং পরিচিত স্তরসমূহে স্থানান্তরের জীবন। অতঃপর যখন রূহ ফুঁকে দেওয়া হয়... (ফতোয়াটি এখানে অসমাপ্ত)।
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৭১)
فيه الروح، سرت فيه حياة أخرى بإذن الله اللطيف الخبير، ومهما بذل الإنسان وسعه ولو كان طبيبا ماهرا فلن يحيط علما بأسرار الحمل وأسبابه وأطواره، إنما يعرف عنه بما أوتي من علم وفحص وتجارب بعض الأعراض والأحوال، قال الله تعالى: {اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنْثَى وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِمِقْدَارٍ} (¬1) {عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ} (¬2) وقال: {إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ} (¬3)
وبالله التوفيق. وصلى الله على نبينا محمد، وآله وصحبه وسلم.
اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء
عضو ... عضو ... نائب رئيس اللجنة ... الرئيس
عبد الله بن قعود ... عبد الله بن غديان ... عبد الرزاق عفيفي ... عبد العزيز بن عبد الله بن باز
¬__________
(¬1) سورة الرعد الآية 8
(¬2) سورة الرعد الآية 9
(¬3) سورة لقمان الآية 34
তাতে রূহ (আত্মা) প্রবেশ করে, এবং আল্লাহ্‌র অনুমতিতে—যিনি সূক্ষ্মদর্শী (আল-লাতীফ), সর্বজ্ঞ (আল-খাবীর)—তাতে অন্য একটি জীবন সঞ্চারিত হয়। মানুষ যতই চেষ্টা করুক না কেন, এমনকি সে যদি একজন দক্ষ চিকিৎসকও হয়, তবুও সে গর্ভধারণের রহস্য, এর কারণসমূহ এবং এর পর্যায়গুলো সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করতে পারবে না। বরং সে কেবল তার অর্জিত জ্ঞান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এর কিছু লক্ষণ ও অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
{আল্লাহ জানেন প্রত্যেক নারী যা গর্ভে ধারণ করে এবং জরায়ু যা হ্রাস করে ও যা বৃদ্ধি করে। আর তাঁর কাছে প্রতিটি বস্তুই নির্দিষ্ট পরিমাপে রয়েছে।} (১)
{তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, মহান, সর্বোচ্চ।} (২)

এবং তিনি বলেন:
{নিশ্চয় আল্লাহ্‌র কাছেই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জরায়ুতে যা আছে, তা তিনিই জানেন।} (৩)

আর আল্লাহ্‌র কাছেই তাওফীক (সাফল্য)। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

**স্থায়ী কমিটি: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া প্রদান**

| সদস্য | সদস্য | কমিটির সহ-সভাপতি | সভাপতি |
| :--- | :--- | :--- | :--- |
| আব্দুল্লাহ ইবনে কাঊদ | আব্দুল্লাহ ইবনে গুদাইয়ান | আব্দুর রাযযাক আফীফী | আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বায |

***
(১) সূরা আর-রা'দ, আয়াত ৮
(২) সূরা আর-রা'দ, আয়াত ৯
(৩) সূরা লুকমান, আয়াত ৩৪
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৭১)
أنتم خلفاء الله في أرضه
السؤال الأول من الفتوى رقم (3014) :
س1: وجدت في بعض الكتب عبارة (وأنتم أيها المسلمون خلفاء الله في أرضه) فما حكم ذلك؟
আপনারা আল্লাহর যমীনে তাঁর খলীফা (বা প্রতিনিধি)

ফতোয়া নং (৩ ০১৪)-এর প্রথম প্রশ্ন:

**প্রশ্ন ১:** আমি কিছু কিতাবে এই বাক্যটি পেয়েছি: (আর আপনারা, হে মুসলিমগণ, আল্লাহর যমীনে তাঁর খলীফা/প্রতিনিধি)। এর বিধান কী?
(খণ্ড: ১১) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দাইমাহ - আল-মাজমুআতুল উলা (পৃষ্ঠা: ৭২)
ج1: هذا التعبير غير صحيح من جهة معناه؛ لأن الله تعالى هو الخالق لكل شيء، المالك له، ولم يغب عن خلقه وملكه، حتى يتخذ خليفة عنه في أرضه، وإنما يجعل الله بعض الناس خلفاء لبعض في الأرض، فكلما هلك فرد أو جماعة أو أمة جعل غيرها خليفة منها يخلفها في عمارة الأرض، كما قال تعالى: {وَهُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ الْأَرْضِ وَرَفَعَ بَعْضَكُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آتَاكُمْ} (¬1) وقال تعالى: {قَالُوا أُوذِينَا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَأْتِيَنَا وَمِنْ بَعْدِ مَا جِئْتَنَا قَالَ عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يُهْلِكَ عَدُوَّكُمْ وَيَسْتَخْلِفَكُمْ فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ} (¬2) ، وقال: {وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً} (¬3) أي: نوعا من الخلق يخلف من كان قبلهم من مخلوقاته.
وبالله التوفيق. وصلى الله على نبينا محمد، وآله وصحبه وسلم.
اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء
عضو ... عضو ... نائب رئيس اللجنة ... الرئيس
عبد الله بن قعود ... عبد الله بن غديان ... عبد الرزاق عفيفي ... عبد العزيز بن عبد الله بن باز
¬__________
(¬1) سورة الأنعام الآية 165
(¬2) سورة الأعراف الآية 129
(¬3) سورة البقرة الآية 30
উত্তর ১: এই অভিব্যক্তিটি (বা, এই বাক্যটি) তার অর্থের দিক থেকে সঠিক নয়; কারণ আল্লাহ তাআলাই হলেন প্রতিটি জিনিসের সৃষ্টিকর্তা, সেগুলোর মালিক। তিনি তাঁর সৃষ্টি ও রাজত্ব থেকে অনুপস্থিত নন যে, তিনি তাঁর পক্ষ থেকে পৃথিবীতে কোনো খলিফা (প্রতিনিধি) নিযুক্ত করবেন।

বরং আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে কিছু মানুষকে অন্যদের স্থলাভিষিক্ত (খলিফা) করেন। যখনই কোনো ব্যক্তি, দল বা জাতি ধ্বংস হয়ে যায়, তখনই তিনি অন্য কাউকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেন, যারা পৃথিবীতে তাদের জায়গায় আবাদ (উন্নয়ন) করে।

যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
{তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীর খলিফা (স্থলাভিষিক্ত) করেছেন এবং তোমাদের কাউকে কারো ওপর মর্যাদায় উন্নীত করেছেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন।} (১)

এবং তিনি আরও বলেছেন:
{তারা বলল, আপনি আমাদের কাছে আসার আগেও আমরা নির্যাতিত হয়েছি এবং আপনার আসার পরেও। তিনি বললেন, সম্ভবত তোমাদের রব তোমাদের শত্রুকে ধ্বংস করে দেবেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে স্থলাভিষিক্ত করবেন। অতঃপর তিনি দেখবেন, তোমরা কেমন কাজ করো।} (২)

এবং তিনি বলেছেন:
{আর স্মরণ করো, যখন তোমার রব ফেরেশতাদেরকে বলেছিলেন, আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা (প্রতিনিধি/স্থলাভিষিক্ত) সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।} (৩) অর্থাৎ: এমন এক প্রকার সৃষ্টি, যারা তাদের পূর্বেকার সৃষ্টিকুলকে স্থলাভিষিক্ত করবে।

তাওফীক (সফলতা) আল্লাহর পক্ষ থেকে। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

স্থায়ী কমিটি: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফতোয়া প্রদান

সদস্য ... সদস্য ... কমিটির সহ-সভাপতি ... সভাপতি
আব্দুল্লাহ ইবনে কুঊদ ... আব্দুল্লাহ ইবনে গুদাইয়ান ... আব্দুর রাযযাক আফীফী ... আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বায

(১) সূরা আল-আনআম, আয়াত ১৬৫
(২) সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত ১২৯
(৩) সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৩০