(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: -)
النجم المضيء بذكر روايات وألفاظ حديث المسيء   (غازي بن سالم أفلح)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: النجم المضيء بذكر روايات وألفاظ حديث المسيء

المؤلف: أبو حمزة غازي بن سالم أفلح

أصل الكتاب: بحث جامعي تحت إشراف د عبد الله بن عتيق المطرفي، الأستاذ المشارك بكلية الحديث بالجامعة الإسلامية (سابقا)

الناشر: طيبة الدمشقية للطباعة والنشر والتوزيع - سوريا

الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2021 م

عدد الصفحات: 424

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 20 رمضان 1443

নামাজে ভুলকারীর হাদিসের বর্ণনা ও শব্দাবলি উল্লেখ প্রসঙ্গে উজ্জ্বল নক্ষত্র   (গাজী বিন সালেম আফলাহ)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ


বই: নামাজে ভুলকারীর হাদিসের বর্ণনা ও শব্দাবলি উল্লেখ প্রসঙ্গে উজ্জ্বল নক্ষত্র

লেখক: আবু হামজা গাজী বিন সালেম আফলাহ

বইয়ের উৎস: ড. আবদুল্লাহ বিন আতিক আল-মুতারিফি-এর তত্ত্বাবধানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা, মদীনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক (সাবেক)

প্রকাশক: তাইবাহ আদ-দিমাশকিয়াহ মুদ্রণ ও প্রকাশনা - সিরিয়া

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৪

[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২০ রমজান ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ৩)
النجم المضيء

بذكر روايات وألفاظ

حديث المسيء

 

تأليف

أبي حمزة غازي بن سالم أفلح

وفقه الله

 

بحث جامعي تحت إشراف

الأستاذ الدكتور عبد الله بن عتيق المطرفي

الأستاذ المشارك بكلية الحديث بالجامعة الإسلامية سابقا
উজ্জ্বল নক্ষত্র

সালাতে ভুলকারীর হাদীসের বর্ণনা ও শব্দসমূহ

উল্লেখ প্রসঙ্গে

 

রচনায়

আবু হামযা গাযী বিন সালিম আফলাহ

আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন

 

তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা

প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ বিন আতীক আল-মুতরাফী

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীস অনুষদের প্রাক্তন সহযোগী অধ্যাপক
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ৪)
حقوق الطبع مباحة لكل مسلم

الطبعة الأولى، 1442 - 2021

 

بحث السنة الثالثة من كلية الحديث الشريف والدراسات الإسلامية

بالجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية

 

تحت إشراف الأستاذ الدكتور عبد الله بن عتيق المطرفي

وقد تمت إجازته بتقدير ممتاز سنة 1422

وراجعه جماعة من أهل العلم
প্রকাশনাস্বত্ব প্রত্যেক মুসলিমের জন্য উন্মুক্ত

প্রথম সংস্করণ, ১৪৪২ - ২০২১

 

হাদিস শরিফ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদের তৃতীয় বর্ষের গবেষণাপত্র

মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে

 

প্রফেসর ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন আতিক আল-মুতরাফির তত্ত্বাবধানে

এবং এটি ১৪২২ হিজরিতে চমৎকার (মুমতাজ) মানসহ অনুমোদিত হয়েছে

এবং একদল আলেম এটি পর্যালোচনা করেছেন
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ، وَنَسْتَعِينُهُ، وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ، فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

أما بعد:

 

فإن العلم خير ما يسعى إليه المرء، إذ الاشتغال به أفضل الأعمال، وأزكاها؛ وما أفنى المرء وقته في شيء خير له من تعلم العلم الشرعي؛ وعلم الحديث من أجل العلوم وأعلاها فهو «علم قديم الفضل، شريف الأصل، دل على شرفه العقل والنقل، وكل حديث في الحث على العلم وفضله فإنه صادق على علم الحديث؛ بل هو العلم الحقيقي والفرد الكامل عند إطلاق لفظ العلم»(1)،

 

وحاجة المتعلم إلية ضرورية: فإن تعلمه والعناية به يقوي الحجة، ويظهر المحجة،

 

وقد صح عن الإمام الشافعي رحمه الله أنه قال:

--------------------------------------------

(1) انظر: مقدمة توضيح الأفكار للأمير الصنعاني رحمه الله.
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর:

 

নিশ্চয়ই জ্ঞান বা ইলম হলো সর্বোত্তম বিষয় যার অন্বেষণে মানুষ প্রচেষ্টা চালায়, যেহেতু এতে নিয়োজিত থাকা সর্বোত্তম ও পবিত্রতম আমল। আর ইলমে শারঈ বা শরীয়তের জ্ঞান অর্জনের চেয়ে উত্তম কোনো কাজে মানুষ তার সময় অতিবাহিত করতে পারে না। আর ইলমে হাদিস হলো অন্যতম মহান ও সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন জ্ঞান। এটি ‘এমন এক জ্ঞান যার মর্যাদা প্রাচীন এবং মূল অতি সম্মানিত; যার শ্রেষ্ঠত্ব বুদ্ধি এবং বর্ণনা উভয় দ্বারা প্রমাণিত। ইলমের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এর মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণিত প্রতিটি হাদিসই মূলত ইলমে হাদিসের ক্ষেত্রে সত্য ও প্রযোজ্য; বরং ইলম শব্দটি যখন নিঃশর্তভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এটিই প্রকৃত ইলম এবং এর পূর্ণাঙ্গ রূপ।’(1)

 

আর শিক্ষার্থীর জন্য এর প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য: কেননা এটি শিক্ষা করা এবং এর প্রতি যত্নশীল হওয়া দলিলকে শক্তিশালী করে এবং সঠিক পথকে সুস্পষ্ট করে তোলে।

 

ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন:

--------------------------------------------

(1) দেখুন: আমির আস-সানআনি (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘তাওদিহুল আফকার’ গ্রন্থের ভূমিকা।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ৬)
1. «مَنْ تَعْلَمَ الْقُرْآنَ(1) عَظُمَتْ قِيمَتُهُ،

2. وَمَنْ نَظَرَ فِي الْفِقْهِ(2) نَبُلَ مِقْدَارُهُ،

3. وَمَنْ كَتَبَ الْحَدِيثَ قَوِيَتْ حُجَّتُهُ،

4. وَمَنْ نَظَرَ فِي اللُّغَةِ(3) رَقَّ طَبْعُهُ،

5. وَمَنْ نَظَرَ فِي الْحِسَابِ(4) جَزَلَ رَأْيُهُ،

6. وَمَنْ لَمْ يَصُنْ نَفْسَهُ لَمْ ينْفَعْهُ عِلْمُهُ(5)»(6).

--------------------------------------------

(1) وفي رواية: (مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ) وفي أخرى: (مَنْ حَفِظَ الْقُرْآنَ).

(2) وفي رواية: (وَمَنْ تَفَقَّهَ) وفي أخرى (وَمَنْ طَلَبَ الْفِقْهَ).

(3) وفي رواية: (وَمَنْ تَعَلَّمَ اللُّغَةَ).

(4) وفي رواية: (وَمَنْ تَعَلَّمَ الْحِسَابَ).

(5) وفي رواية: (لَمْ يَصُنْهُ الْعِلْمُ).

(6) أخرجه الْحَسَن ابن حمكان في الفوائد والأخبار (31)، - ومن طريقه ابن عساكر في التاريخ، ترجمة الشافعي (51/ 409) -؛ وابن عبد البر في جامع بيان العلم (598، 11197)؛ والقاضي عياض في الإلماع إلى معرفة أصول الرواية وتقييد السماع (ص: 221)؛ من طريق الربيع بن سليمان؛ وأخرجه البيهقي في المدخل إلى السنن (405) واللفظ له؛ والخطيب البغدادي في شرف أصحاب الحديث (141) وفي الفقيه والمتفقه (1/ 151)، وفي التاريخ (8/ 218/ ت: بشار)؛ وابن عساكر في التاريخ (ترجمة الحسن بن أحمد بن جعفر (13/ 3) من طريق إسماعيل المزني. وأخرجه الخطيب في التاريخ (12/ 252)، من طريق أبي علي الحسن بن أبي الحسن المقرئ؛ وأخرجه ابن عساكر (ترجمة الحسن بن سعيد بن جعفر/ 13/ 94) وابن الجوزي في كتاب المسلسلات (ح: 60) من طريق يونس بن عبد الأعلى، أربعتهم عن الشافعي رحمه الله. ورواه أبو نعيم في حلية الأولياء وطبقات الأصفياء (9/ 123) بسنده عن الربيع ولفظه: «يَا رَبِيعُ، رِضَى النَّاسِ غَايَةٌ لَا تُدْرَكُ، فَعَلَيْكَ بِمَا يُصْلِحُكَ فَالْزَمْهُ. فَإِنَّهُ لَا سَبِيلَ إِلَى رِضَاهُمْ. وَاعْلَمْ أَنَّ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ جَلَّ فِي عُيونِ النَّاسِ، وَمَنْ تَعَلَّمَ الْحَدِيثَ قَوِيَتْ حُجَّتُهُ، وَمَنْ تَعَلَّمَ النَّحْوَ هِيبَ، وَمَنْ تَعَلَّمَ الْعَرَبِيَّةَ رَقَّ طَبْعُهُ، وَمَنْ تَعَلَّمَ الْحِسَابَ جَلَّ رَأْيُهُ، وَمَنْ تَعَلَّمَ الْفِقْهَ نَبُلَ قَدْرُهُ، وَمَنْ لَمْ يُضِرْ نَفْسَهُ لَمْ يَنْفَعْهُ عِلْمُهُ وَمِلَاكُ ذَلِكَ كُلِّهِ التَّقْوَى» وإسناده ضعيف فإنه يرويه عن شيخه عثمان بن محمد العثماني؛ قال الذهبي في تاريخ الإسلام (8/ 243): أكثر عنه أبو نُعَيم الحافظ في تواليفه، وهو بصري صاحب حديث لكنّه راوية للموضوعات والعجائب ا. هـ
১. «যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করল(১) তার মর্যাদা মহান হলো,

২. আর যে ব্যক্তি ফিকহ(২) চর্চা করল তার সম্মান বৃদ্ধি পেল,

৩. আর যে ব্যক্তি হাদিস লিপিবদ্ধ করল তার দলিল শক্তিশালী হলো,

৪. আর যে ব্যক্তি ভাষা(৩) নিয়ে চর্চা করল তার স্বভাব কোমল হলো,

৫. আর যে ব্যক্তি গণিত(৪) নিয়ে চর্চা করল তার মতামত সুদৃঢ় হলো,

৬. আর যে ব্যক্তি নিজের নফসকে রক্ষা করল না তার জ্ঞান তার কোনো উপকারে আসল না(৫)»(৬)।

--------------------------------------------

(১) অন্য এক বর্ণনায় আছে: (যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করল) এবং অন্য বর্ণনায় আছে: (যে ব্যক্তি কুরআন মুখস্থ করল)।

(২) অন্য এক বর্ণনায় আছে: (আর যে ব্যক্তি ফিকহ অর্জন করল) এবং অন্য বর্ণনায় আছে: (আর যে ব্যক্তি ফিকহ অন্বেষণ করল)।

(৩) অন্য এক বর্ণনায় আছে: (আর যে ব্যক্তি ভাষা শিক্ষা করল)।

(৪) অন্য এক বর্ণনায় আছে: (আর যে ব্যক্তি গণিত শিক্ষা করল)।

(৫) অন্য এক বর্ণনায় আছে: (জ্ঞান তাকে রক্ষা করল না)।

(৬) এটি বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে হামকান ‘আল-ফাওয়াইদ ওয়াল আখবার’ (৩১) গ্রন্থে, - এবং তার সূত্রে ইবনে আসাকির ‘তারিখ’ গ্রন্থে শাফেয়ীর জীবনীতে (৫১/৪০৯); এবং ইবনে আব্দুল বার ‘জামেউ বয়ানিল ইলম’ (৫৯৮, ১১১৯৭) গ্রন্থে; এবং কাজী ইয়াজ ‘আল-ইলমা ইলা মারিফাতি উসুলির রিওয়াইয়া ওয়া তাকয়িদিস সামা’ (পৃ: ২২১) গ্রন্থে; রাবী ইবনে সুলাইমানের সূত্রে; এবং বায়হাকী ‘আল-মাদখাল ইলাস সুনান’ (৪০৫) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দাবলি তার; এবং খতিব বাগদাদী ‘শারাফু আসহাবিল হাদিস’ (১৪১) ও ‘আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ’ (১/১৫১) এবং ‘তারিখ’ (৮/২১৮/ সম্পা: বাশার) গ্রন্থে; এবং ইবনে আসাকির ‘তারিখ’ গ্রন্থে (হাসান ইবনে আহমদ ইবনে জাফরের জীবনীতে ১৩/৩) ইসমাইল আল-মুজানির সূত্রে। আর খতিব ‘তারিখ’ (১২/২৫২) গ্রন্থে আবু আলী হাসান ইবনে আবু হাসান আল-মুকরির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; এবং ইবনে আসাকির (হাসান ইবনে সাঈদ ইবনে জাফরের জীবনীতে ১৩/৯৪) এবং ইবনুল জাওজী ‘কিতাবুল মুসালসালাত’ (হাদিস: ৬০) গ্রন্থে ইউনুস ইবনে আব্দুল আলার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, তারা চারজনই ইমাম শাফেয়ী রহিমাহুল্লাহ থেকে। আর আবু নুয়াইম ‘হিলয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া’ (৯/১২৩) গ্রন্থে রাবী থেকে তার সনদে এটি বর্ণনা করেছেন যার শব্দাবলি হলো: «হে রাবী, মানুষের সন্তুষ্টি এমন এক লক্ষ্য যা অর্জন করা সম্ভব নয়, সুতরাং যা তোমার সংশোধন করে তা আঁকড়ে ধরো। কেননা তাদের সন্তুষ্টি অর্জনের কোনো পথ নেই। আর জেনে রেখো, যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করে সে মানুষের চোখে মহান হয়, যে হাদিস শিক্ষা করে তার দলিল শক্তিশালী হয়, যে নাহু (ব্যাকরণ) শিক্ষা করে সে শ্রদ্ধাভাজন হয়, যে আরবি ভাষা শিক্ষা করে তার স্বভাব কোমল হয়, যে গণিত শিক্ষা করে তার মতামত সুদৃঢ় হয়, যে ফিকহ শিক্ষা করে তার সম্মান মহান হয়, আর যে নিজের নফসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, তার জ্ঞান তাকে উপকার দান করে এবং এই সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো তাকওয়া»। এর সনদটি দুর্বল কেননা তিনি এটি তার শায়খ উসমান ইবনে মুহাম্মদ আল-উসমানী থেকে বর্ণনা করেন; যাহাবী ‘তারিখুল ইসলাম’ (৮/২৪৩) গ্রন্থে বলেন: হাফেজ আবু নুয়াইম তার কিতাবসমূহে তার থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন, তিনি বসরার একজন হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন কিন্তু তিনি জাল ও আজগুবি বিষয়াবলির বর্ণনাকারী ছিলেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ৭)
وقد اعتنى علماء الحديث بهذا العلم الجليل في القديم والحديث،

• فحرروا مسائله،

• وأوضحوا غوامضه،

• وكشفوا عن معانيه،

• وأبانوا عن مجمل مبانيه،

 

فرحم الله أصحاب الحديث، الذين «سَلَكُوا مَحَجَّةَ الصَّالِحِينَ، وَاتَّبَعُوا آثَارَ السَّلَفِ مِنَ الْمَاضِينَ وَدَمَغُوا أَهْلَ الْبِدَعِ وَالْمُخَالِفِينَ بِسُنَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْمَعِينَ؛ مِنْ قَوْمٍ آثَرُوا قَطْعَ الْمَفَاوِزِ وَالْقِفَارِ، عَلَى التَّنَعُّمِ فِي الدِّمَنِ وَالْأَوْطَارِ، وَتَنَعَّمُوا بِالْبُؤْسِ فِي الْأَسْفَارِ، مَعَ مُسَاكَنَةِ الْعِلْمِ وَالْأَخْبَارِ، وَقَنَعُوا عِنْدَ جَمْعِ الْأَحَادِيثِ وَالْآثَارِ بِوُجُودِ الْكِسَرِ وَالْأَطْمَارِ، قَدْ رَفَضُوا الْإِلْحَادَ الَّذِي تَتُوقُ إِلَيْهِ النُّفُوسُ الشَّهْوَانِيَّةُ، وَتَوَابِعُ ذَلِكَ مِنَ الْبِدَعِ وَالْأَهْوَاءِ وَالْمَقَايِيسِ وَالْآرَاءِ وَالزَّيْغِ، جَعَلُوا الْمَسَاجِدَ بُيُوتَهُمْ، وَأَسَاطِينَهَا تَكَّاهُمْ، وَبَوَارِيَها فُرُشَهُمْ»(1)

وبين يديك-أخي الكريم- بحث لطيف، يتعلق بالحديث المشهور في تعليم الصلاة والمعروف عند أهل العلم بـ (حديث المسيء صلاته) أسميته:

--------------------------------------------

(1) من معرفة علوم الحديث للحاكم (ص: 108/ تحقيق أحمد السلوم).
প্রাচীন ও আধুনিককালের হাদীস বিশারদগণ এই মহান বিদ্যার প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন,

• তারা এর মাসআলাসমূহ সুসংবদ্ধ করেছেন,

• এর জটিল বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছেন,

• এর অর্থসমূহ উন্মোচন করেছেন,

• এবং এর অবকাঠামোগত অস্পষ্টতাগুলো ব্যাখ্যা করেছেন,

 

আল্লাহ হাদীস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের ওপর রহম করুন, যারা «নেককারদের পথ অবলম্বন করেছেন, পূর্ববর্তী সালাফদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর মাধ্যমে সকল বিদআতী ও বিরোধীদের চূর্ণ করেছেন; তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা ঘরবাড়ি ও পার্থিব ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকার চেয়ে মরুপ্রান্তর ও জনমানবহীন প্রান্তর পাড়ি দেওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং জ্ঞান ও হাদীসের সান্নিধ্যে থাকার মাধ্যমে সফরের কষ্টকেই পরম সুখ মনে করেছেন। তারা হাদীস ও আছার সংগ্রহের সময় সামান্য শুকনো রুটির টুকরো ও জীর্ণ পোশাকেই সন্তুষ্ট ছিলেন। তারা সেই নাস্তিকতাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন যার প্রতি কুপ্রবৃত্তি লালায়িত হয়, এবং এর আনুষঙ্গিক বিদআত, প্রবৃত্তি পূজা, ভ্রান্ত কিয়াস, নিজস্ব মত ও বিচ্যুতিকেও বর্জন করেছেন। তারা মসজিদসমূহকে তাদের ঘর বানিয়েছেন, এর স্তম্ভগুলোকে তাদের হেলান দেওয়ার স্থান এবং চাটাইগুলোকে তাদের বিছানা বানিয়েছেন»(১)

আপনার সম্মুখে—হে সম্মানিত ভাই—একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা উপস্থাপিত হয়েছে, যা নামায শিক্ষা বিষয়ক প্রসিদ্ধ হাদীস সংশ্লিষ্ট এবং আলেমদের নিকট (সালাতে ভুলকারীর হাদীস) নামে পরিচিত। আমি এর নামকরণ করেছি:

--------------------------------------------

(১) হাকেম প্রণীত ‘মা'রিফাতু উলূমিল হাদীস’ থেকে (পৃষ্ঠা: ১০৮/ আহমাদ আস-সাল্লূম সম্পাদিত)।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ৮)
(النجم المضيء بذكر روايات وألفاظ حديث المسيء)

سِرْتُ فيه على سَنَنِ أهل الحديث:

• فجمعت طرقه

• وتتبعت ألفاظه،

• ونقلت أحكام أهل العلم وتعليلاتهم،

• مع فوائد فرائد،

• ومسائل زوائد،

 

حفزني إليه:

• رغبتي في الوقوف على ألفاظه مجموعة،

• وتشوفي لتحرير القول في كثير من زوائد ألفاظه التي لم تخرج في الصحيحين أو أحدهما،

 

وقد عشت معه دهرا:

• فقد تم إعداده عام 1414 هـ

• ثم استوى على سوقه خلال دراستي في السنة الثالثة في الجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية، عام 1422 هـ تحت إشراف الشيخ الفاضل الأستاذ الدكتور عبد الله بن عتيق المطرفي جزاه الله خيرا،

• ثم هيأ الله تعالى لي اختصاره في وريقات أسميتها بـ (الكوكب المضيء بتخريج حديث المسيء)، وقام بمراجعته قبل طبعه:

• شيخي المشرف الأستاذ المطرفي،

• وشيخي الأستاذ الدكتور عبد الرحمن بن صالح الشمراني،
(সালাতে ভুলকারীর হাদিসের বর্ণনা ও শব্দাবলি বর্ণনায় উজ্জ্বল নক্ষত্র)

আমি এতে আহলুল হাদিসগণের পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

• ফলে আমি এর সূত্রসমূহ একত্র করেছি

• এবং এর শব্দাবলি অনুসন্ধান করেছি,

• আর জ্ঞানীদের সিদ্ধান্ত ও কারণসমূহ বর্ণনা করেছি,

• সাথে রয়েছে বিরল ও মূল্যবান উপকারিতা,

• এবং অতিরিক্ত মাসআলাসমূহ,

 

আমাকে এর প্রতি যা অনুপ্রাণিত করেছে:

• এর শব্দাবলিকে একত্রে দেখার আকাঙ্ক্ষা,

• এবং এর এমন অনেক অতিরিক্ত শব্দাবলির বিষয়ে সূক্ষ্ম ও চূড়ান্ত আলোচনার আকাঙ্ক্ষা যা সহীহাইন বা এর কোনো একটিতেও বর্ণিত হয়নি,

 

আমি এর সাথে দীর্ঘকাল অতিবাহিত করেছি:

• এটি ১৪১৪ হিজরি সনে প্রস্তুত করা হয়েছে

• অতঃপর ১৪২২ হিজরিতে মদিনা নববীর ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার তৃতীয় বর্ষের অধ্যয়নকালীন সময়ে এটি পূর্ণতা লাভ করে; যা শায়খ আল-ফাদিল প্রফেসর ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন আতীক আল-মুতরাফি-এর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন,

• অতঃপর আল্লাহ তাআলা আমার জন্য এটিকে কয়েক পৃষ্ঠায় সংক্ষিপ্ত করার সুযোগ করে দেন, যার নাম দিয়েছি (সালাতে ভুলকারীর হাদিসের তাখরীজে উজ্জ্বল গ্রহ), এবং মুদ্রণের পূর্বে এটি পর্যালোচনা করেছেন:

• আমার তত্ত্বাবধায়ক শায়খ প্রফেসর আল-মুতরাফি,

• এবং আমার শায়খ প্রফেসর ডক্টর আব্দুর রহমান বিন সালিহ আল-শামরানি,
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ৯)
• وشيخي الدكتور صادق بن محمد البيضاني،

• وقد أفدت من ملاحظاتهم جميعا، جزاهم الله خيرا أجمعين،

• وطبعته عام 1424 بسعي مشكور من الشيخ الدكتور صادق البيضاني حفظه الله.

• ثم ألح علي، مشايخي وجمع من إخواني على إخراج الأصل، فأذعنت لطلبهم،

• رجاء أن يجد أحد من الباحثين فيه بغيته،

• وتنالني بالخير دعوته،

• فأعدت في الأصل النظر وراجعته مرة بعد مرة

• مفيدا من الملاحظات الواردة،

• والرسائل والبحوث الحادثة،

• راجيا من الله تعالى أن يجعله خالصا لوجهه الكريم وأن يجعله من العلم النافع في الدارين.

 

‌‌خطة البحث

(1) حاولت تخريج الحديث من جميع مظانه المطبوعة رغبة في الاستقصاء والاستيعاب، وحصر جميع الألفاظ.

(2) تكلمت على كل طريق من طرق الحديث على حدة، جامعا للفظ كل طريق وحده أولا، وأبين ما زاده بعض الرواة من الألفاظ على بعض، وإن كان المعنى واحدا، ثم أجمع لفظ تلك الطرق في سياق واحد، موضحا مدار
• এবং আমার শাইখ ডক্টর সাদিক বিন মুহাম্মদ আল-বাইদানি,

• এবং আমি তাঁদের সকলের পর্যবেক্ষণ থেকে উপকৃত হয়েছি, আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন,

• এবং শাইখ ডক্টর সাদিক আল-বাইদানি (হাফিযাহুল্লাহ)-এর প্রশংসনীয় প্রচেষ্টায় এটি ১৪২৪ হিজরি সালে মুদ্রিত হয়েছে।

• এরপর আমার শাইখগণ এবং আমার ভাইদের একটি দল আমাকে মূল পাণ্ডুলিপিটি প্রকাশের জন্য পীড়াপীড়ি করেন, ফলে আমি তাঁদের অনুরোধ গ্রহণ করি,

• এই আশায় যে কোনো গবেষক এতে তাঁর কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পাবেন,

• এবং তাঁর কল্যাণময় দুআ আমার নসিব হবে,

• তাই আমি মূল পাণ্ডুলিপিতে পুনরায় দৃষ্টিপাত করেছি এবং বারংবার তা পর্যালোচনা করেছি,

• প্রাপ্ত পর্যবেক্ষণগুলো থেকে উপকৃত হয়ে,

• এবং সাম্প্রতিক পত্রাবলী ও গবেষণাসমূহ থেকে (উপকৃত হয়ে),

• আল্লাহ তাআলার কাছে আশা করছি যে তিনি যেন একে নিছক তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং একে উভয় জগতের জন্য উপকারী ইলম হিসেবে কবুল করেন।

 

‌গবেষণার পরিকল্পনা

(১) আমি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান ও ব্যাপকতার আকাঙ্ক্ষায় এবং সমস্ত শব্দাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্যে হাদিসটির সকল সম্ভাব্য মুদ্রিত উৎস থেকে তাখরিজ করার চেষ্টা করেছি।

(২) আমি হাদিসের প্রতিটি সূত্র নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা করেছি, প্রথমে প্রতিটি সূত্রের শব্দাবলি পৃথকভাবে একত্র করেছি এবং কোনো কোনো রাবি যে শব্দগুলো অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন তা স্পষ্ট করেছি, যদিও অর্থ অভিন্ন ছিল। এরপর আমি সেই সব সূত্রের শব্দাবলিকে একটি একক প্রেক্ষাপটে একত্র করেছি এবং বর্ণনার কেন্দ্রবিন্দু স্পষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ১০)
الإسناد من الرواة، لأصل في النهاية إلى لفظ الحديث من جميع الطرق وأسوقه سياقا واحدا.

(3) ترجمت للرواة غير المشهورين وكذا لبعض المشاهير من الحفاظ عند الحاجة كأن يكون مدار الإسناد عليه، وأغفلت كثيرا من الأعلام لشهرتهم، أو لعدم الحاجة إلى تراجمهم.

(4) شملت الترجمة الاسم والنسبة وحال الراوي مع ذكر سنة الوفاة على جهة الاختصار مقتبسا ذلك من تقريب التهذيب للحافظ ابن حجر رحمه الله؛ مع النظر في تحرير التقريب، ومعجم الرواة الذين ترجم لهم العلامة الألباني رحمه الله في كتبه، وكذا الكاشف والسير وغيرها من كتب الذهبي رحمه الله لمعرفة الخلاف في الرواة، وأذكر الراجح عندي من ذلك.

(5) إذا عزوت إلى سنن النسائي، فأعني بذلك أن الحديث في سننه الصغرى، والكبرى.

(6) وإذا عزوت إلى الطحاوي، فمرادي بذلك أن الحديث مخرج في كتابيه، شرح معاني الآثار، وشرح مشكل الآثار.

(7) وما كان خلاف ذلك بينته.

(8) كل من أبرزته من رجال السند فقد صح -عندي-الإسناد إليه.

(9) عند العزو إلى الصحيحين والسنن الأربعة وصحيحي ابن خزيمة وابن حبان، ومنتقى ابن الجارود ومستدرك الحاكم، ونحو هذه المصنفات، أذكر الكتاب واسم الباب ورقم الحديث إن وجد، أو الجزء والصفحة إن لم يوجد ترقيم،

(10) وأما المسانيد ونحوها فإني أذكر رقم الجزء والصفحة وربما ذكرت رقم الحديث إن رجعت فيه إلى طبعة مرقمة.
বর্ণনাকারীদের থেকে সনদসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে পরিশেষে সকল সূত্রের মাধ্যমে হাদিসের মূল পাঠে পৌঁছানো যায় এবং আমি একে একটি ধারাবাহিকতায় উপস্থাপন করেছি।

(৩) আমি অখ্যাত বর্ণনাকারীদের এবং প্রয়োজন অনুসারে কিছু প্রখ্যাত হাফেজগণের জীবনবৃত্তান্ত লিখেছি, যেমন- যদি সনদের মূল ভিত্তি তাঁর ওপর হয়। আর অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির জীবনী তাঁদের প্রসিদ্ধির কারণে অথবা প্রয়োজন না থাকায় উল্লেখ করিনি।

(৪) জীবনবৃত্তান্তের মধ্যে নাম, নিসবত (বংশ বা স্থান সংশ্লিষ্ট নাম) এবং বর্ণনাকারীর অবস্থা সংক্ষেপে মৃত্যুসনসহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা হাফেজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘তাকরিবুত তাহজিব’ থেকে সংগৃহীত; সাথে ‘তাহরিরুত তাকরিব’ এবং আল্লামা আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর গ্রন্থসমূহে যেসব বর্ণনাকারীর জীবনী আলোচনা করেছেন তাঁদের অভিধান, এবং বর্ণনাকারীদের বিষয়ে মতভেদ জানার জন্য জাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘আল-কাশিফ’, ‘আস-সিয়ার’ ও অন্যান্য গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা করেছি। আর এ ক্ষেত্রে আমার নিকট যা অগ্রগণ্য মনে হয়েছে তা উল্লেখ করেছি।

(৫) আমি যখন সুনানে নাসাঈ-এর উদ্ধৃতি দেই, তখন এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হলো হাদিসটি তাঁর সুনানে সুগরা এবং কুবরা উভয় গ্রন্থে রয়েছে।

(৬) আর যখন তাহাবি-এর উদ্ধৃতি দেই, তখন আমার উদ্দেশ্য হলো হাদিসটি তাঁর দুই গ্রন্থ—‘শারহু মাআনিল আসার’ এবং ‘শারহু মুশকিলাল আসার’-এ বর্ণিত হয়েছে।

(৭) এর ব্যতিক্রম কিছু হলে আমি তা ব্যাখ্যা করেছি।

(৮) সনদের ব্যক্তিদের মধ্যে আমি যাঁদের নাম উল্লেখ করেছি, তাঁদের পর্যন্ত সনদটি—আমার নিকট—সহিহ সাব্যস্ত হয়েছে।

(৯) সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম), সুনানে আরবাআ (চার সুনান), সহিহ ইবনে খুজাইমা, সহিহ ইবনে হিব্বান, মুনতাকা ইবনুল জারুদ এবং মুসতাদরাক আল-হাকিম ও এই জাতীয় গ্রন্থসমূহের উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় আমি কিতাবের নাম, অধ্যায়ের নাম এবং হাদিস নম্বর থাকলে তা উল্লেখ করি, অথবা নম্বর না থাকলে খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করি।

(১০) আর মুসনাদ ও এই জাতীয় গ্রন্থসমূহের ক্ষেত্রে আমি খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করি এবং কখনো কখনো হাদিস নম্বরও উল্লেখ করি যদি আমি কোনো নম্বরযুক্ত সংস্করণ ব্যবহার করে থাকি।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ১১)
وقد انتظم هذا البحث في:

(مقدمة، وتمهيد، وثلاثة أبواب، وخاتمة) على النحو التالي:

(1) المقدمة:

ذكرت فيها المنهج الذي سرت عليه مع بعض الفوائد والتنبيهات المتعلقة بالبحث

(2) التمهيد:

ذكرت فيه قصة هذا الحديث إجمالا مع بعض كلمات للأئمة العلماء والسادة الفقهاء في بيان أهمية العناية بهذا الحديث وكيفية الاستدلال به

(3) الباب الأول

وذكرت فيه الحديث من رواية أبي هريرة رضي الله عنه وتحته ثلاثة فصول:

[1] الفصل الأول: في تخريج الحديث وبيان طرقه والخلاف في سنده

[2] الفصل الثاني: في ذكر ألفاظه وتحته مبحثان:

* المبحث الأول: ذكر لفظه من طريق عبيد الله بن عمر العمري،

* وجعلته في خمسة مطالب بعدد رواة هذا الحديث عنه

* المبحث الثاني: ذكر لفظه من طريق عبد الله بن عمر العمري وهو أخي عبيد الله المتقدم

* وجعلته في مطلبين بعدد رواة هذا الحديث عنه

[3] الفصل الثالث: وتحته مبحثان:

* المبحث الأول: في ذكر لفظ الحديث في سياق واحد من جميع الطرق المتقدمة.
এই গবেষণাটি নিম্নোক্ত বিন্যাসে সাজানো হয়েছে:

(ভূমিকা, উপক্রমনিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার) নিম্নরূপভাবে:

(১) ভূমিকা:

এতে আমি গবেষণার ক্ষেত্রে অনুসৃত কর্মপদ্ধতি এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট কিছু উপকারিতা ও সতর্কবার্তা উল্লেখ করেছি।

(২) উপক্রমনিকা:

এতে আমি এই হাদিসের প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি, পাশাপাশি বরেণ্য উলামায়ে কেরাম ও ফকীহগণের কিছু বক্তব্য তুলে ধরেছি, যাতে এই হাদিসের প্রতি গুরুত্বারোপের প্রয়োজনীয়তা এবং এটি দ্বারা দলিল পেশ করার পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে।

(৩) প্রথম অধ্যায়

এতে আমি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছি এবং এর অধীনে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

[১] প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিসের তাখরীজ (সূত্রায়ন), এর সূত্রগুলোর বর্ণনা এবং এর সনদে বিদ্যমান মতপার্থক্য প্রসঙ্গে।

[২] দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসের পাঠসমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রে এবং এর অধীনে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

* প্রথম অনুচ্ছেদ: উবায়দুল্লাহ বিন উমর আল-উমারীর সূত্রে বর্ণিত পাঠের বর্ণনা,

* এবং তাঁর থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এমন বর্ণনাকারীদের সংখ্যা অনুযায়ী আমি একে পাঁচটি উপ-অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি।

* দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আব্দুল্লাহ বিন উমর আল-উমারীর সূত্রে বর্ণিত পাঠের বর্ণনা, যিনি পূর্বে উল্লিখিত উবায়দুল্লাহর ভাই।

* এবং তাঁর থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এমন বর্ণনাকারীদের সংখ্যা অনুযায়ী আমি একে দুটি উপ-অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি।

[৩] তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এর অধীনে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

* প্রথম অনুচ্ছেদ: পূর্বোক্ত সকল সূত্রের সমন্বয়ে হাদিসের পাঠ একই প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ১২)
* المبحث الثاني: في ذكر أهم النتائج.

(4) الباب الثاني

وذكرت فيه الحديث من رواية رفاعة بن رافع رضي الله عنهما وتحته أربعة فصول:

[1] الفصل الأول في ذكر سند الحديث والخلاف فيه

[2] الفصل الثاني: في ذكر ألفظه وتحته سبعة مباحث:

* المبحث الأول: ذكر لفظه من طريق داود بن قيس

* المبحث الثاني: ذكر لفظه من طريق محمد بن عجلان

* المبحث الثالث: ذكر لفظه من طريق محمد بن إسحاق

* المبحث الرابع: ذكر لفظه من طريق يحيى بن علي

* المبحث الخامس: ذكر لفظه من طريق إسحاق بن عبد الله بن أبي طلحة

* المبحث السادس: ذكر لفظه من طريق شريك بن أبي نمر

* المبحث السابع: ذكر لفظه من طريق عبد الله بن عون

[3] الفصل الثالث: في ذكر خطأ بعض الرواة في الحديث وترجيح الصواب في ذلك

[4] الفصل الرابع: في ذكر لفظ الحديث وتحته مبحثان:

* المبحث الأول: سياق الحديث كاملا

* المبحث الثاني: ذكر الألفاظ الزائدة في حديث رفاعة على حديث أبي هريرة رضي الله عنه.
* দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহের আলোচনা প্রসঙ্গে।

(৪) দ্বিতীয় অধ্যায়

এতে আমি রিফায়া ইবনে রাফে (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর বর্ণনা থেকে প্রাপ্ত হাদিস উল্লেখ করেছি এবং এর অধীনে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

[১] প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিসের সনদ ও এর মধ্যকার মতপার্থক্য আলোচনা প্রসঙ্গে

[২] দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর শব্দাবলি আলোচনা প্রসঙ্গে এবং এর অধীনে সাতটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

* প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: দাউদ ইবনে কায়স এর সূত্র থেকে প্রাপ্ত শব্দাবলি

* দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: মুহাম্মদ ইবনে আজলান এর সূত্র থেকে প্রাপ্ত শব্দাবলি

* তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক এর সূত্র থেকে প্রাপ্ত শব্দাবলি

* চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: ইয়াহইয়া ইবনে আলী এর সূত্র থেকে প্রাপ্ত শব্দাবলি

* পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ: ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহা এর সূত্র থেকে প্রাপ্ত শব্দাবলি

* ষষ্ঠ উপ-পরিচ্ছেদ: শারিক ইবনে আবি নামির এর সূত্র থেকে প্রাপ্ত শব্দাবলি

* সপ্তম উপ-পরিচ্ছেদ: আব্দুল্লাহ ইবনে আউন এর সূত্র থেকে প্রাপ্ত শব্দাবলি

[৩] তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসের কতিপয় বর্ণনাকারীর ভুল এবং এই বিষয়ে সঠিক মতটি প্রাধান্য দেওয়া প্রসঙ্গে

[৪] চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হাদিসের শব্দাবলি বর্ণনা প্রসঙ্গে এবং এর অধীনে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

* প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: হাদিসের পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা

* দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের তুলনায় রিফায়া-এর হাদিসে বিদ্যমান অতিরিক্ত শব্দাবলির আলোচনা।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ১৩)
(5) الباب الثالث

ذكرت فيه شرح الحديث من فتح الباري للحافظ ابن حجر مع التعليق عليه

(6) الخاتمة

وضمنتها أهم النتائج والفوائد التي وصل إليها البحث

وختمت هذا البحث بذكر أهم المصادر والمراجع التي استفدت منها على حروف المعجم مع فهرست للآيات والأحاديث والأعلام والمواضيع والفوائد

هذا وأسأل الله تعالى أن يوفقني لكل خير وأن ينفعني بما علمني وأن يجزي عني مشايخي ومن صبر علي في تعليمي خير الجزاء
(৫) তৃতীয় অধ্যায়

এতে আমি হাফেজ ইবনে হাজার বিরচিত ফাতহুল বারী হতে হাদিসের ব্যাখ্যা ও তার ওপর টীকা উল্লেখ করেছি।

(৬) উপসংহার

এতে গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ও উপযোগিতাগুলো সন্নিবেশিত করেছি।

বর্ণানুক্রমিকভাবে আমি যে সকল গুরুত্বপূর্ণ উৎস ও তথ্যসূত্র থেকে উপকৃত হয়েছি তা উল্লেখ করার মাধ্যমে এই গবেষণা সমাপ্ত করেছি। এর সাথে রয়েছে আয়াত, হাদিস, ব্যক্তিবর্গ, বিষয়বস্তু এবং উপযোগিতাসমূহের নির্ঘণ্ট।

পরিশেষে আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে প্রতিটি কল্যাণের তাওফিক দান করেন, আমাকে যা শিখিয়েছেন তা দিয়ে আমাকে উপকৃত করেন এবং আমার শিক্ষকবৃন্দ ও যারা আমার শিক্ষার ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করেছেন তাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌كلمة شكر

ولست أنسى عرفانا بالجميل، واستجابة لحديث النبي الكريم صلى الله عليه وسلم القائل «مَنْ لَا يَشْكُرِ النَّاسَ لَا يَشْكُرِ اللَّهَ»(1)، أن أتقدم بالشكر والتقدير لشيخي الفاضل الأستاذ الدكتور عبد الله بن عتيق المطرفي حفظه الله على ما أبداه من الملاحظات النافعة خلال فترة إشرافه على هذا البحث والتي أسهمت كثيرا في إخراجه بهذه الصورة المشرقة والشكر موصول إلى الشيخ الدكتور عبد الرحمن بن صالح الشمراني والشيخ الدكتور صادق البيضاني وكل من مد لي يد العون وأعانني على إتمام هذا البحث من مشايخي وإخواني طلبة العلم

{وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} [هود: 88].

وكتبه

أبو حمزة

غازي بن سالم بن صالح أفلح البدْوِي

غرة المحرم عام 1422 هـ

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود في سننه، كتاب الأدب، باب في شكر المعروف (4813)؛ والترمذي في جامعه، كتاب البر والصلة، باب ما جاء في الشكر لمن أحسن إليك (2081)؛ وأحمد في المسند (2/ 258، 295، 302، 388، 461، 492)، والبخاري في الأدب المفرد، باب من لم يشكر للناس (218)، وابن حبان في صحيحه، كما في الإحسان لابن بلبان الفارسي، كتاب الزكاة، باب المسألة والأخذ وما يتعلق به من المكافأة والثناء والشكر، (3407)؛ من طرقٍ عن الرَّبِيعِ بْنِ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه به. وسنده صحيح على شرط مسلم؛ وله شواهد، انظر السلسلة الصحيحة (416)، وهو في الجامع الصحيح لشيخنا مقبل رحمه الله. قال المنذري في الترغيب والترهيب: روي هذا الحديث برفع (الله) وبرفع (الناس) وروي أيضا بنصبهما وبرفع (الله) ونصب (الناس) وعكسه أربع روايات ا. هـ ونقل المناوي في فيض القدير نحوه عن ابن العربي، ثم قال: قال الزين العراقي: والمعروف المشهور في الرواية نصبهما. ا. هـ
‌‌কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

আমি কৃতজ্ঞতার স্বীকৃতি দিতে এবং সম্মানিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই হাদীসের প্রতি সাড়া দিতে ভুলব না যাতে তিনি বলেছেন: “যে মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করে না, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে না।”(১) আমি আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ বিন আতিক আল-মুতারিফী (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছি এই গবেষণার তত্ত্বাবধানকালে তার প্রদানকৃত উপকারী মন্তব্যগুলোর জন্য, যা এই গবেষণাকে বর্তমান উজ্জ্বল রূপে প্রকাশ করতে বড় অবদান রেখেছে। আমার কৃতজ্ঞতা আরো পৌঁছে দিচ্ছি শায়খ ড. আব্দুর রহমান বিন সালিহ আশ-শামরানী ও শায়খ ড. সাদিক আল-বায়দানী এবং আমার সেই সকল উস্তাদ ও দ্বীনি ত্বলিবুল ইলম ভাইদের প্রতি যারা আমাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে সাহায্য করেছেন।

{আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে; আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাই।} [হূদ: ৮৮]।

এটি লিখেছেন

আবু হামযা

গাযী বিন সালিম বিন সালিহ আফলাহ আল-বাদভী

পহেলা মুহররম ১৪২২ হিজরী

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ তার সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, আদব অধ্যায়, উত্তম আচরণের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পরিচ্ছেদ (৪৮১৩); তিরমিযী তার জামে গ্রন্থে, নেক কাজ ও আত্মীয়তা রক্ষা অধ্যায়, যে তোমার প্রতি ইহসান করেছে তার শুকরিয়া আদায় পরিচ্ছেদ (২০৮১); আহমাদ মুসনাদ গ্রন্থে (২/ ২৫৮, ২৯৫, ৩০২, ৩৮৮, ৪৬১, ৪৯২), বুখারী আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে, যে মানুষের শুকরিয়া আদায় করে না পরিচ্ছেদ (২১৮), ইবনে হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে, যেমনটি ইবনে বালবান আল-ফারিসীর আল-ইহসান গ্রন্থে রয়েছে, যাকাত অধ্যায়, যাঞ্চা করা ও গ্রহণ এবং এর বিনিময়, প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা পরিচ্ছেদ (৩৪০৭); রাবী বিন মুসলিম-এর সূত্রে মুহাম্মদ বিন যিয়াদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। এর সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ; এর শাহেদ বা সমর্থনকারী বর্ণনা রয়েছে, দেখুন সিলসিলাহ সহীহাহ (৪১৬), এবং এটি আমাদের শায়খ মুকবিল (রহিমাহুল্লাহ)-এর আল-জামেউস সহীহ গ্রন্থে রয়েছে। মুনযিরী তারগীব ওয়াত তারহীব গ্রন্থে বলেছেন: এই হাদীসটি 'আল্লাহ' এবং 'মানুষ' উভয় শব্দ পেশ (রফা) যোগে বর্ণিত হয়েছে, আবার উভয়টি যবর (নসব) যোগেও বর্ণিত হয়েছে, আবার 'আল্লাহ' পেশ ও 'মানুষ' যবর যোগে এবং এর বিপরীত—এভাবে চারটি বর্ণনায় এসেছে। সমাপ্ত। মুনাবী ফয়যুল কাদীর গ্রন্থে ইবনুল আরাবী থেকে অনুরূপ নকল করেছেন, অতঃপর বলেছেন: যায়নুদ্দীন ইরাকী বলেছেন: বর্ণনায় উভয় শব্দ যবর যোগে হওয়াই প্রসিদ্ধ। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌التمهيد
ভূমিকা
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌دلالة حديث المسيء

• حديث المسيء صلاته من الأحاديث الأصول في باب "تعليم صفة الصلاة المجزئة"، فقد اشتمل على جل أركانها وواجباتها، حتى كثر استدلال أهل العلم به، واشتهر في دواوين السنة، فأخرجه أصحاب الصحاح، والمسانيد، والمعاجم، والأجزاء، وكثر المعتنون بشرحه، وتتبع ألفاظه، ورواياته،

• وقد اشتهر وعرف بينهم بـ (حديث الْمُسِيءِ صَلَاتَهُ)(1) لأن هذا الصحابي رضي الله عنه دخل مسجد المدينة فصلى ورسول الله صلى الله عليه وسلم يرمقه، فأخف

--------------------------------------------

(1) ويقال أيضا حديث "المسيء في صلاته" وقد عبر بهذ الوصف الحافظ الدارقطني المتوفى عام (385 هـ) في كتابه التتبع (ح 9) فقال: … قصة الْمُسِيءِ صَلَاتَهُ ا. هـ وتبعه العلماء ممن جاء بعده ولم يوجد من العلماء حسب اطلاعي من أنكر هذه التسمية، لكن وجد في عصرنا من أنكر هذه التسمية أو تحرج من إطلاقها، قال العلامة الشيخ ابن عثيمين رحمه الله في "فتح ذي الجلال والإكرام بشرح بلوغ المرام ط المكتبة الإسلامية (2/ 8) ": هذه العبارة لم ترد عن الصحابة، فلا أحب أن يعبر بها؛ لأن الإساءة إنما تكون في الغالب عن قصد، وهذا الرجل لم يقصد، وعليه إذا لم تثبت عن الصحابة، فنقول: الأولى أن يعبر فيقال: حديث الجاهل في صلاته؛ لأنه جاهل هذا هو حقيقة الأمر ا. هـ وسمعت تسجيلا للشيخ صالح العصيمي حفظه الله يشدد في هذا ويقول ما ملخصه: هذه التسمية متأخرة وهي مهجورة ثم ذكر نحوا مما قاله الشيخ ابن عثيمين رحمه الله. والذي يظهر أنه لا محذور في ذلك والقول بأن فيها إساءة أدب مع الصحابة غير ظاهر، ولا أدل على ذلك من تتابع العلماء على ذلك دون نكير. فليسعنا ما وسعهم. وليس هو من الألفاظ التعبدية التي تحتاج إلى توقيف وكونها لم تعرف في زمن الصحابة بهذا اللفظ لا يدل على كونها خطأ أو سوء أدب بل قد قالوا في وصف الصحابي (إنه لا يتم الصلاة … ) وفي المسند (15/ 494) رقم (9796) - حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ، وَفِي مُؤَخَّرِ الصُّفُوفِ رَجُلٌ، فَأَسَاءَ الصَّلَاةَ، فَلَمَّا سَلَّمَ نَادَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا فُلَانُ، أَلَا تَتَّقِي اللَّهَ؟ أَلَا تَرَى كَيْفَ تُصَلِّي؟ … » الحديث وهو في صحيح مسلم (423/ 108) بلفظ: صَلَّى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ: «يَا فُلَانُ، أَلَا تُحْسِنُ صَلَاتَكَ؟ أَلَا يَنْظُرُ الْمُصَلِّي إِذَا صَلَّى كَيْفَ يُصَلِّي؟ فَإِنَّمَا يُصَلِّي لِنَفْسِهِ، إِنِّي وَاللهِ لَأُبْصِرُ مِنْ وَرَائِي كَمَا أُبْصِرُ مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ» وفي تاريخ واسط (ص: 49) من حديث الْحَكَمِ بْنُ فُضَيْلٍ -وهو ضعيف- عَنْ شَيْبَةَ بْنِ مُسَاوِرٍ عَنِ الْحَكَمِ بْنِ مُرَّةَ صَاحِبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ رَأَى رَجُلا يُصَلِّي فَأَسَاءَ الصَّلاةَ، فَانْفَتَلَ فَقَالَ لَهُ: صَلِّ. فَقَالَ لَهُ: قَدْ صَلَّيْتُ. قَالَ: صَلِّ. قَالَ: قَدْ صَلَّيْتُ. فَأَعَادَ عَلَيْهِ مِرَارًا. فَقَالَ: وَاللَّهِ لَتُصَلِّيَنَّ. وَاللَّهِ لا تَعْصِي اللَّهَ جِهَارًا. والمقصود أن التعبير بالإساءة له أصل، وليس من باب سوء الأدب والله أعلم.
সালাতে ভুলকারীর হাদিসের গুরুত্ব

• সালাতে ভুলকারীর হাদিসটি "পর্যাপ্ত সালাতের পদ্ধতি শিক্ষা" অধ্যায়ের একটি অন্যতম মূল হাদিস। কেননা এটি সালাতের অধিকাংশ রুকন ও ওয়াজিবসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, এমনকি আলেমগণ এর মাধ্যমে প্রচুর দলিল পেশ করেছেন এবং এটি সুন্নাহর সংকলনগুলোতে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। সহিহ, মাসানিদ, মাআজিদ ও আজজা গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর ব্যাখ্যা প্রদান, শব্দ বিশ্লেষণ ও বর্ণনাসমূহ অনুসন্ধানে বহু গবেষক মনোনিবেশ করেছেন।

• এটি তাদের মাঝে "সালাতে ভুলকারীর হাদিস" (হাদিসুল মুসিই সালাতাহু) হিসেবে প্রসিদ্ধ ও পরিচিত(১) কারণ এই সাহাবি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মদিনার মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করেছিলেন এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার দিকে তাকাচ্ছিলেন, অতঃপর তিনি সংক্ষেপে...

--------------------------------------------

(১) একে "নিজের সালাতে ভুলকারীর হাদিস"ও বলা হয়। ৩৮৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী হাফেজ দারাকুতনি তার আত-তাতাব্বু (হাদিস নং ৯) গ্রন্থে এই বর্ণনা ব্যবহার করে বলেছেন: ... সালাতে ভুলকারীর ঘটনা। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। পরবর্তী আলেমগণও তাকে অনুসরণ করেছেন এবং আমার জানামতে আলেমদের মধ্যে এমন কাউকে পাওয়া যায়নি যিনি এই নামকরণের প্রতিবাদ করেছেন। তবে আমাদের যুগে এমন কিছু ব্যক্তিকে পাওয়া গেছে যারা এই নামকরণের বিরোধিতা করেছেন বা এটি ব্যবহারে ইতস্তত বোধ করেছেন। আল্লামা শেখ ইবনে উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) "ফাতহুল জিলালি ওয়াল ইকরাম বি শারহি বুলুগিল মারাম" (মাকতাবাতুল ইসলামিয়া সংস্করণ, ২/৮) গ্রন্থে বলেছেন: "এই বাক্যটি সাহাবিদের থেকে বর্ণিত হয়নি, তাই আমি এটি ব্যবহার করা পছন্দ করি না; কারণ 'ভুল করা' বা 'মন্দ করা' সাধারণত ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকে, অথচ এই ব্যক্তিটি ইচ্ছা করে এমন করেননি। সুতরাং যেহেতু এটি সাহাবিদের থেকে প্রমাণিত নয়, তাই আমরা বলব: উত্তম হলো এটি বলা যে—সালাত সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির হাদিস; কারণ তিনি অজ্ঞ ছিলেন, এটাই প্রকৃত বিষয়।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আমি শেখ সালেহ আল-উসাইমি (হাফিজাহুল্লাহ)-এর একটি রেকর্ড শুনেছি যেখানে তিনি এ বিষয়ে কঠোরতা করেছেন এবং যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো: এই নামকরণটি পরবর্তীকালের এবং এটি পরিত্যক্ত। অতঃপর তিনি শেখ ইবনে উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যের অনুরূপ কথা উল্লেখ করেছেন। তবে যা স্পষ্ট হচ্ছে তা হলো, এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই এবং এতে সাহাবিদের প্রতি বেয়াদবি হওয়ার দাবিটি স্পষ্ট নয়। এর বড় প্রমাণ হলো আলেমদের নিরবচ্ছিন্নভাবে এটি ব্যবহার করে যাওয়া এবং কেউ এর প্রতিবাদ না করা। সুতরাং তাদের জন্য যা প্রশস্ত ছিল আমাদের জন্য তাই প্রশস্ত হওয়া উচিত। আর এটি এমন কোনো ইবাদত সংক্রান্ত শব্দ নয় যার জন্য অকাট্য প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে। সাহাবিদের যুগে এই শব্দে এটি পরিচিত না থাকা এটি ভুল হওয়া বা বেয়াদবি হওয়ার দলিল নয়। বরং তারা সাহাবির বর্ণনায় বলেছেন: "নিশ্চয়ই সে সালাত পূর্ণ করছিল না..."। মুসনাদে আহমাদে (১৫/৪৯৪), হাদিস নং ৯৭৯৬: ইয়াজিদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ অর্থাৎ ইবনে ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে জোহরের সালাত আদায় করলেন। কাতারের পেছনের দিকে একজন লোক ছিল, সে ভুলভাবে সালাত আদায় করল। যখন তিনি সালাম ফিরালেন, তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ডেকে বললেন: "হে অমুক, তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না? তুমি কি দেখছ না তুমি কীভাবে সালাত আদায় করছ?..." হাদিসটি সহিহ মুসলিমেও (৪২৩/১০৮) এই শব্দে রয়েছে: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন সালাত আদায় করলেন, অতঃপর ফিরে বললেন: "হে অমুক, তুমি কি তোমার সালাত সুন্দর করো না? মুসল্লি যখন সালাত আদায় করে, সে কি লক্ষ্য করে না সে কীভাবে সালাত আদায় করছে? সে তো নিজের জন্যই সালাত আদায় করে। আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চয়ই আমার পেছন দিক থেকে তেমনই দেখতে পাই যেমন আমি আমার সামনের দিক থেকে দেখতে পাই।" তারিখে ওয়াসিত (পৃষ্ঠা: ৪৯) গ্রন্থে হাকাম ইবনে ফুদায়েলের হাদিস থেকে বর্ণিত—যা দুর্বল—শাইবাহ ইবনে মুসাওয়ির থেকে, তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবি হাকাম ইবনে মুররাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি এক ব্যক্তিকে সালাত আদায় করতে দেখলেন কিন্তু সে ভুলভাবে সালাত আদায় করল। তিনি ফিরে তাকে বললেন: সালাত আদায় করো। সে তাকে বলল: আমি তো সালাত আদায় করেছি। তিনি বললেন: সালাত আদায় করো। সে বলল: আমি তো সালাত আদায় করেছি। তিনি বারবার তাকে এটি ফিরিয়ে বললেন। অতঃপর বললেন: আল্লাহর কসম, তুমি অবশ্যই সালাত আদায় করবে। আল্লাহর কসম, তুমি প্রকাশ্যে আল্লাহর অবাধ্য হবে না। উদ্দেশ্য হলো, ভুল বা মন্দ হিসেবে এই অভিব্যক্তিটির ভিত্তি রয়েছে এবং এটি বেয়াদবির অন্তর্ভুক্ত নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ১৮)
صلاته، ولم يتم ركوعها ولا سجودها، فلما انصرف جاء فسلم على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فرد عليه النبي صلى الله عليه وسلم وبين له أن صلاته غير صحيحة؛ فأعادها، ثم أعادها، والرسول صلى الله عليه وسلم في كل ذلك يأمره بإحسانها، حتى قال علمني يا رسول الله كيف أصلي؟ فلما سأل التعليمَ، وطلب البيانَ، وكله شوق لمعرفة الصفة الصحيحة للصلاة، علمه النبي صلى الله عليه وسلم كيف يصلي، تعليما واضحا بينا لا يستغني عن معرفته المسلم،

• فصار الحديث بهذا عند العلماء هو الحجة في بيان صفة الصلاة، والمحجة في معرفة الواجب من أفعالها، وما لا تتم الصلاة إلا به من أعمالها.

• قال الإمام أبو زكريا يحيى بن شرف النووي (ت: 676) رحمه الله:
তার সালাত; তিনি এর রুকু এবং সিজদাহ পরিপূর্ণ করেননি। যখন তিনি শেষ করলেন, তখন ফিরে এসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালামের উত্তর দিলেন এবং তাকে স্পষ্ট করে দিলেন যে তার সালাত সঠিক হয়নি। অতঃপর তিনি সালাত পুনরায় আদায় করলেন, এরপর আবারও করলেন; আর প্রতিবারই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তা সুন্দরভাবে আদায় করার নির্দেশ দিচ্ছিলেন। অবশেষে তিনি বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে শিখিয়ে দিন আমি কীভাবে সালাত আদায় করব?' যখন তিনি শিক্ষা ও ব্যাখ্যা প্রার্থনা করলেন এবং সালাতের সঠিক পদ্ধতি জানার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে শেখালেন যে কীভাবে সালাত আদায় করতে হয়; এমন এক স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল শিক্ষা যার জ্ঞান অর্জন করা কোনো মুসলিমের জন্য অপরিহার্য।

• এর ফলে এই হাদিসটি আলেমদের নিকট সালাতের পদ্ধতি বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রধান দলিল এবং সালাতের কার্যাবলির মধ্যে ওয়াজিবসমূহ ও যেসব কাজ ছাড়া সালাত সম্পন্ন হয় না তা জানার জন্য মূল মানদণ্ড হিসেবে গণ্য হয়েছে।

• ইমাম আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ আন-নববী (মৃত্যু: ৬৭৬ হিজরি) রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন:
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ১৯)
"هَذَا الْحَدِيث مُشْتَمِل عَلَى فَوَائِد كَثِيرَة، وَلْيُعْلَم أَوَّلًا أَنَّهُ مَحْمُول عَلَى بَيَان الْوَاجِبَات دُون السُّنَن … وَفِيهِ أَنَّ مَنْ أَخَلَّ بِبَعْضِ وَاجِبَات الصَّلَاة لَا تَصِحّ صَلَاته، وَلَا يُسَمَّى مُصَلِّيًا بَلْ يُقَال: لَمْ تُصَلِّ" ا. هـ(1)

• وقال الإمام تقي الدين محمد بن علي القشيري المشهور بابن دقيق العيد (ت: 702) رحمه الله:

" تَكَرَّرَ مِنْ الْفُقَهَاءِ الِاسْتِدْلَال عَلَى وُجُوبِ مَا ذُكِرَ فِي الْحَدِيثِ، وَعَدَمِ وُجُوبِ مَا لَمْ يُذْكَرْ فِيهِ. فَأَمَّا وُجُوبُ مَا ذُكِرَ فِيهِ: فَلِتَعَلُّقِ الْأَمْرِ بِهِ

وَأَمَّا عَدَمُ وُجُوبِ غَيْرِهِ: فَلَيْسَ ذَلِكَ لِمُجَرَّدِ كَوْنِ الْأَصْلِ عَدَمَ الْوُجُوبِ، بَلْ لِأَمْرٍ زَائِدٍ عَلَى ذَلِكَ. وَهُوَ أَنَّ الْمَوْضِعَ مَوْضِعُ تَعْلِيمٍ، وَبَيَانٍ لِلْجَاهِلِ، وَتَعْرِيفٍ لِوَاجِبَاتِ الصَّلَاةِ. وَذَلِكَ يَقْتَضِي انْحِصَارَ الْوَاجِبَاتِ فِيمَا ذَكَرَ. وَيُقَوِّي مَرْتَبَةَ الْحَصْرِ: أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ مَا تَعَلَّقَتْ بِهِ الْإِسَاءَةُ مِنْ هَذَا الْمُصَلِّي، وَمَا لَمْ تَتَعَلَّقْ بِهِ إسَاءَتُهُ مِنْ وَاجِبَاتِ الصَّلَاةِ. وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ لَمْ يُقْصِرْ الْمَقْصُودَ عَلَى مَا وَقَعَتْ فِيهِ الْإِسَاءَةُ فَقَطْ …

• ثم قال رحمه الله: إلَّا أَنَّ عَلَى طَالِبِ التَّحْقِيقِ فِي هَذَا ثَلَاثَ وَظَائِفَ:

أَحَدُهَا: أَنْ يَجْمَعَ طُرُقَ هَذَا الْحَدِيثِ، وَيُحْصِيَ الْأُمُورَ الْمَذْكُورَةَ فِيهِ وَيَأْخُذَ بِالزَّائِدِ فَالزَّائِدِ. فَإِنَّ الْأَخْذَ بِالزَّائِدِ وَاجِبٌ … إلخ ا. هـ(2)

--------------------------------------------

(1) شرح صحيح مسلم (4/ 327).

(2) إحكام الأحكام (259 - 260)
"এই হাদীসটি অনেক উপকারের ধারক। সর্বপ্রথম এটি জানা উচিত যে, এটি সুন্নাতসমূহ ব্যতীত কেবল ওয়াজিবসমূহ বর্ণনার ওপর প্রয়োগযোগ্য … এবং এতে প্রমাণিত হয় যে, যে ব্যক্তি সালাতের কিছু ওয়াজিব পালনে ত্রুটি করবে তার সালাত শুদ্ধ হবে না, আর তাকে সালাত আদায়কারী বলা হবে না বরং বলা হবে: 'তুমি সালাত আদায় করোনি'।" (সমাপ্ত)(১)

• এবং ইমাম তাকিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আলী আল-কুশায়রী, যিনি ইবনে দাকীক আল-ঈদ (মৃ. ৭০২) নামে পরিচিত, রহিমাহুল্লাহ বলেন:

"ফকীহদের পক্ষ থেকে বারবার এই হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওয়াজিব হওয়া এবং যা বর্ণিত হয়নি তার ওয়াজিব না হওয়ার ব্যাপারে দলীল প্রদান করা হয়েছে। এই হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো তার সাথে নির্দেশ সংশ্লিষ্ট থাকা।

আর এটি ব্যতীত অন্য বিষয়গুলো ওয়াজিব না হওয়ার কারণ কেবল এটি নয় যে মূল ভিত্তি হলো ওয়াজিব না হওয়া, বরং এর অতিরিক্ত একটি কারণ রয়েছে; তা হলো এটি শিক্ষা প্রদান ও অজ্ঞ ব্যক্তির জন্য বর্ণনার ক্ষেত্র এবং সালাতের ওয়াজিবসমূহ পরিচিত করার স্থান। এটি দাবি করে যে ওয়াজিবসমূহ যা বর্ণিত হয়েছে তাতেই সীমাবদ্ধ। এই সীমাবদ্ধতার পর্যায়কে যা শক্তিশালী করে তা হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন যেগুলোতে এই সালাত আদায়কারীর ভুল হয়েছিল এবং সালাতের সেই ওয়াজিবগুলোও উল্লেখ করেছেন যাতে তার ভুল হয়নি। এটি প্রমাণ করে যে তিনি কেবল সেই বিষয়ের ওপর উদ্দেশ্য সীমাবদ্ধ রাখেননি যাতে ভুল সংঘটিত হয়েছিল …

• অতঃপর তিনি রহিমাহুল্লাহ বলেন: তবে এ বিষয়ে সূক্ষ্ম সত্য অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তির তিনটি দায়িত্ব রয়েছে:

এক: এই হাদীসের সকল সূত্র একত্রিত করা, এতে উল্লিখিত বিষয়গুলো গণনা করা এবং উত্তরোত্তর যা যা অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে তা গ্রহণ করা। কেননা অতিরিক্ত বর্ণনা গ্রহণ করা ওয়াজিব … ইত্যাদি (সমাপ্ত)(২)

--------------------------------------------

(১) শারহু সহীহ মুসলিম (৪/ ৩২৭)।

(২) ইহকামুল আহকাম (২৫৯ - ২৬০)
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ২০)
• وقال شيخ الإسلام أبو العباس أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية (ت: 728) رحمه الله:

فَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ ذَلِكَ الْمُسِيءَ فِي صَلَاتِهِ بِأَنْ يُعِيدَ الصَّلَاةَ.

وَأَمْرُ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إذَا أُطْلِقَ كَانَ مُقْتَضَاهُ الْوُجُوبَ

وَأَمَرَهُ إذَا قَامَ إلَى الصَّلَاةِ بِالطُّمَأْنِينَةِ كَمَا أَمَرَهُ بِالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ.

وَأَمْرُهُ الْمُطْلَقُ عَلَى الْإِيجَابِ.

وَأَيْضًا: قَالَ لَهُ «فَإِنَّك لَمْ تُصَلِّ» فَنَفَى أَنْ يَكُونَ عَمَلُهُ الْأَوَّلُ صَلَاةً

وَالْعَمَلُ لَا يَكُونُ مَنْفِيًّا إلَّا إذَا انْتَفَى شَيْءٌ مِنْ وَاجِبَاتِهِ. فَأَمَّا إذَا فُعِلَ كَمَا أَوْجَبَهُ اللَّهُ عز وجل فَإِنَّهُ لَا يَصِحُّ نَفْيُهُ لِانْتِفَاءِ شَيْءٍ مِنْ الْمُسْتَحَبَّاتِ الَّتِي لَيْسَتْ بِوَاجِبَةٍ. وَأَمَّا مَا يَقُولُهُ بَعْضُ النَّاسِ: إنَّ هَذَا نَفْيٌ لِلْكَمَالِ. كَقَوْلِهِ: «لَا صَلَاةَ لِجَارِ الْمَسْجِدِ إلَّا فِي الْمَسْجِدِ»(1) فَيُقَالُ لَهُ: نَعَمْ هُوَ لِنَفْيِ الْكَمَالِ لَكِنْ لِنَفْيِ كَمَالِ الْوَاجِبَاتِ أَوْ لِنَفْيِ كَمَالِ الْمُسْتَحَبَّاتِ؟

--------------------------------------------

(1) ضعيف مرفوعا؛ روي من حديث أبي هريرة، وجابر بن عبد الله، وعائشة رضي الله عنهم، وروي عن علي موقوفا؛ قال الحافظ في التلخيص الحبير ط العلمية (2/ 77) مَشْهُورٌ بَيْنَ النَّاسِ وَهُوَ ضَعِيفٌ لَيْسَ لَهُ إسناد ثابت أخرجه الدَّارَقُطْنِيُّ عَنْ جَابِرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَهُوَ ضَعِيفٌ أَيْضًا ا. هـ قلت: قوله: (وفي الباب عن علي) يعني موقوفا. أخرجه الدارقطني (1/ 420) كتاب الصلاة: باب الحث لجار المسجد على الصلاة فيه إلا من عذر، من طريق أبي إسحاق السبيعي عن الحارث عن علي رضي الله عنه قال: «من كان جار المسجد فسمع المنادي ينادي فلم يجبه من غير عذر فلا صلاة له». قال صاحب "التعليق المغني": الحارث هو الأعور ضعيف جدا لا يحتج به ا. هـ وصح عن علي من وجه آخر.

قال الحافظ في "الدراية في تخريج أحاديث الهداية" (2/ 293): … وَقَالَ ابْن حزم هَذَا الحَدِيث ضَعِيف وَقد صَحَّ من قَول عَلّي رضي الله عنه انْتَهَى وَهُوَ عِنْد الشَّافِعِي من طَرِيق أبي حَيَّان التَّيْمِيّ عَنْ أَبِيه عَنْ عَلّي بِهِ وَزَاد قيل وَمن جَار الْمَسْجِد قَالَ من أسمعهُ الْمُنَادِي وَرِجَاله ثِقَات ا. هـ قلت: رواه السفيانان وهشيم وغيرهم عن أبي حيان به. كما في مصنفي عبد الرزاق (1915) وابن أبي شيبة (3488). وأبو حيان هو يحيى بن سعيد بن حيان ثقة روى له الجماعة ووالده وثقه العجلي وذكره ابن حبان في الثقات، واعتمد ذلك الذهبي في الكاشف فقال عنه: ثقة. وهو الصواب. وانظر: الإرواء (491)؛ والسلسلة الضعيفة (183)، كلاهما للشيخ الألباني رحمه الله.
শায়খুল ইসলাম আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ (ওফাত: ৭২৮ হি.) রহিমাহুল্লাহ বলেছেন:

অতএব নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামাযে ভুলকারী সেই ব্যক্তিকে পুনরায় নামায আদায় করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ যখন নিঃশর্তভাবে আসে, তখন তার দাবি হয় ওয়াজিব (আবশ্যিকতা)।

এবং তিনি যখন নামাযে দাঁড়ালেন তখন তাকে স্থিরতা (তুমানীনাহ) অবলম্বনের নির্দেশ দিলেন, যেমনটি তাকে রুকু ও সিজদার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আর তাঁর নিঃশর্ত নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

তদুপরি, তিনি তাকে বলেছিলেন: "কেননা তুমি নামায পড়নি"; এর মাধ্যমে তিনি তার প্রথম আমলটি নামায হওয়াকে অস্বীকার করেছেন।

আর কোনো আমল তখনই অস্বীকার করা হয়, যখন তার ওয়াজিবসমূহের মধ্য থেকে কোনো কিছু অনুপস্থিত থাকে। পক্ষান্তরে যখন তা মহান আল্লাহ যেভাবে ওয়াজিব করেছেন সেভাবে আদায় করা হয়, তখন এমন কোনো মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) বিষয় যা ওয়াজিব নয়, তা না থাকার কারণে সেই আমলটিকে অস্বীকার করা সঠিক হবে না। আর কিছু লোক যা বলে থাকে যে, এটি হলো পূর্ণতা অস্বীকার করা—যেমন তাঁর বাণী: "মসজিদের প্রতিবেশীর নামায মসজিদ ছাড়া হয় না"(১)—তাদের উত্তরে বলা হবে: হ্যাঁ, এটি পূর্ণতা অস্বীকার করার জন্যই, তবে তা কি ওয়াজিব পূর্ণতা অস্বীকার করা, নাকি মুস্তাহাব পূর্ণতা অস্বীকার করা?

--------------------------------------------

(১) এটি মারফু হিসেবে যঈফ (দুর্বল); এটি আবু হুরায়রা, জাবির বিন আব্দুল্লাহ এবং আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এর হাদীস থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর আলী (রা.) থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। হাফিয (ইবনে হাজার) 'আত-তালখীসুল হাবীর' (ইলমিয়্যাহ সংস্করণ, ২/৭৭) গ্রন্থে বলেছেন: এটি মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধ হলেও যঈফ, এর কোনো সাব্যস্ত সনদ নেই। আদ-দারাকুতনী এটি জাবির ও আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এই পরিচ্ছেদে আলী (রা.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে এবং সেটিও যঈফ। ইতি। আমি (টীকা লেখক) বলছি: তাঁর উক্তি: "এই পরিচ্ছেদে আলী থেকে বর্ণিত" অর্থাৎ মাওকুফ হিসেবে। আদ-দারাকুতনী (১/৪২০), সালাত অধ্যায়: ওজর ব্যতীত মসজিদের প্রতিবেশীকে সেখানে নামায পড়তে উৎসাহিত করা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদে আবু ইসহাক আস-সাবিঈ সূত্রে হারিস থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি মসজিদের প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও আযান শুনল কিন্তু কোনো ওজর ছাড়া তাতে সাড়া দিল না, তার কোনো নামায নেই।" 'আত-তালীকুল মুগনী'র লেখক বলেছেন: হারিস হলেন আল-আওয়ার, তিনি অত্যন্ত দুর্বল, তাঁর দ্বারা দলিল পেশ করা যায় না। ইতি। তবে আলী (রা.) থেকে অন্য সূত্রে এটি সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে।

হাফিয 'আদ-দিরাইয়াহ ফি তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়াহ' (২/২৯৩) গ্রন্থে বলেছেন: ... এবং ইবনে হাযম বলেছেন, এই হাদীসটি যঈফ, তবে আলী (রা.) এর উক্তি হিসেবে এটি সহীহ সাব্যস্ত হয়েছে। ইতি। এটি ইমাম শাফেয়ীর নিকট আবু হাইয়ান আত-তাইমী সূত্রে তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে অতিরিক্ত রয়েছে যে, জিজ্ঞাসা করা হলো মসজিদের প্রতিবেশী কে? তিনি বললেন: যাকে আযান দানকারী শোনায় (অর্থাৎ যে আযান শুনতে পায়), আর এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। ইতি। আমি বলছি: সুফিয়ানদ্বয়, হুশাইম এবং অন্যরা এটি আবু হাইয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক (১৯১৫) ও মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা (৩৪৮৮)-তে রয়েছে। আবু হাইয়ান হলেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বিন হাইয়ান, তিনি সিকাহ (নির্ভরযোগ্য), জামাআত তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর পিতাকে আল-ইজলী সিকাহ বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আয-যাহাবী 'আল-কাশিফ' গ্রন্থে এর ওপর নির্ভর করে তাকে সিকাহ বলেছেন। আর এটিই সঠিক। দেখুন: আল-ইরওয়া (৪৯১); আস-সিলসিলাতুদ দাঈফাহ (১৮৩), উভয়টিই শায়খ আলবানী রহিমাহুল্লাহর।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ২১)
فَأَمَّا الْأَوَّلُ فَحَقٌّ. وَأَمَّا الثَّانِي: فَبَاطِلٌ لَا يُوجَدُ مِثْلُ ذَلِكَ فِي كَلَامِ اللَّهِ عز وجل وَلَا فِي كَلَامِ رَسُولِهِ قَطُّ وَلَيْسَ بِحَقِّ. فَإِنَّ الشَّيْءَ إذَا كَمُلَتْ وَاجِبَاتُهُ فَكَيْفَ يَصِحُّ نَفْيُهُ؟ وَأَيْضًا فَلَوْ جَازَ لَجَازَ نَفْيُ صَلَاةِ عَامَّةِ الْأَوَّلِينَ والآخرين لِأَنَّ كَمَالَ الْمُسْتَحَبَّاتِ مِنْ أَنْدَرِ الْأُمُورِ. وَعَلَى هَذَا: فَمَا جَاءَ مِنْ نَفْيِ الْأَعْمَالِ فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ فَإِنَّمَا هُوَ لِانْتِفَاءِ بَعْضِ وَاجِبَاتِهِ. كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65]،

وقَوْله تَعَالَى: {وَيَقُولُونَ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالرَّسُولِ وَأَطَعْنَا ثُمَّ يَتَوَلَّى فَرِيقٌ مِنْهُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَمَا أُولَئِكَ بِالْمُؤْمِنِينَ} [النور: 47]، وقَوْله تَعَالَى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا} [الحجرات: 15] الْآيَةَ، وقَوْلِه: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِذَا كَانُوا مَعَهُ عَلَى أَمْرٍ جَامِعٍ لَمْ يَذْهَبُوا حَتَّى يَسْتَأْذِنُوهُ} [النور: 62] الْآيَةَ؛ وَنَظَائِرُ ذَلِكَ كَثِيرَةٌ.
প্রথমটি তো সত্য। আর দ্বিতীয়টি বাতিল; মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণীতে এর কোনো নজির কখনোই পাওয়া যায় না এবং তা সত্য নয়। কেননা কোনো জিনিসের ওয়াজিবসমূহ (অপরিহার্য অংশসমূহ) যখন পূর্ণ হয়ে যায়, তখন তাকে অস্বীকার করা কীভাবে সঠিক হতে পারে? তাছাড়াও, এটি যদি বৈধ হতো, তবে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সাধারণ সকল মানুষের সালাতকে অস্বীকার করাও বৈধ হয়ে যেত; কারণ মুস্তাহাবসমূহের পূর্ণতা অর্জন করা অত্যন্ত বিরল বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। সেই অনুযায়ী, কিতাব ও সুন্নাহতে আমলসমূহকে অস্বীকার করার যে বর্ণনা এসেছে, তা কেবল আমলের কিছু ওয়াজিব (অপরিহার্য অংশ) অনুপস্থিত থাকার কারণেই। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "না, তোমার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তোমাকে বিচারক মান্য করে, অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধাবোধ না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।" [আন-নিসা: ৬৫],

এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তারা বলে, ‘আমরা আল্লাহর ওপর এবং রাসূলের ওপর ঈমান এনেছি এবং আমরা আনুগত্য করেছি।’ অতঃপর এরপরও তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়; মূলত তারা মুমিন নয়।" [আন-নূর: ৪৭], এবং মহান আল্লাহর বাণী: "মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, অতঃপর তারা কোনো সন্দেহ পোষণ করেনি..." [আল-হুজুরাত: ১৫] আয়াতটি, এবং তাঁর বাণী: "মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে এবং যখন তারা তাঁর সাথে কোনো সামষ্টিক কাজে থাকে, তখন তাঁর অনুমতি না নিয়ে তারা চলে যায় না..." [আন-নূর: ৬২] আয়াতটি; এ জাতীয় দৃষ্টান্ত অনেক রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ২২)
وَمِنْ ذَلِكَ: قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «لَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ»(1)

و «لَا صَلَاةَ إِلَّا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ»(2)

--------------------------------------------

(1) حسن لغيره، روي من حديث أنس وابن عمر وابن مسعود وابن عباس وأبي هريرة وأبي أمامة وثوبان وعبادة بن الصامت وأبي موسى الأشعري رضي الله عنهم وبعض هذه الطرق تصلح للاعتبار ويشهد بعضها لبعض؛ وقد فصلت طرقه وتكلمت عليه في بحث مستقل، وأمثلها حديث أنس رضي الله عنه: أخرجه أحمد 3/ 135، 154، 210 وغيره من طرق عن أبي هلال الراسبي، قال: حدثنا قتادة عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: ما خطبنا نبي الله صلى الله عليه وسلم إلا قال: فذكره؛ وزاد: «وَلَا دِينَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَهُ». وأبو هلال الراسبي ضعفه جماعة منهم البخاري والنسائي ووثقه أبو داود وابن معين في رواية والدارقطني كما في سؤالات الحاكم، فهو حسن الحديث، وقد توبع فقد أخرجه أحمد 3/ 251 قال: حدثنا عفان، حدثنا حماد، حدثنا المغيرة بن زياد الثقفي، سمع أنس بن مالك رضي الله عنه يقول: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فذكره. لكن المغيرة هذا مجهول لا يعرف إلا في هذا الإسناد. وأخرجه ابن خزيمة في صحيحه (2146) قال: حدثنا عيسى بن إبراهيم الغافقي، حدثنا ابن وهب، عن عمرو بن الحارث، والليث بن سعد، عن يزيد بن أبي حبيب، عن سنان بن سعد الكندي، عن أنس بن مالك رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا إيمان لمن لا أمان له، والمعتدي في الصدقة كمانعها». وأخرجه أبو داود (1585) والترمذي (646) وابن ماجة (1808) من طريق الليث بن سعد عن يزيد بن أبى حبيب عن سعد بن سنان عن أنس بن مالك به (الجملة الثانية فقط). قال أبو عيسى الترمذي: حديث أنس حديث غريب من هذا الوجه، وقد تكلم أحمد ابن حنبل في سعد بن سنان، وهكذا يقول الليث بن سعد: عن يزيد بن أبي حبيب، عن سعد بن سنان، عن أنس بن مالك. ويقول عمرو بن الحارث، وابن لهيعة: عن يزيد بن أبي حبيب، عن سنان بن سعد، عن أنس. قال: وسمعت محمدا يقول: والصحيح سنان بن سعد ا. هـ قلت: وسنان بن سعد مختلف فيه وثقه ابن معين وأحمد بن صالح المصري والعجلي، وضعفه آخرون. وقال فيه الحافظ في التقريب: صدوق له أفراد ا. هـ

(2) رواه بهذا اللفظ: أبو عوانة في المستخرج (1668) عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: فِي كُلِّ صَلَاةٍ قِرَاءَةٌ فَمَا أَسْمَعَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْمَعْنَاكُمْ، وَمَا أَخْفَى عَنَّا أَخْفَيْنَا عَنْكُمْ سَمِعْتُهُ يَقُولُ: «لَا صَلَاةَ إِلَّا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ» وإسناده صحيح. والحديث أيضا بنحوه متفق عليه، أخرجه البخاري في كتاب الأذان، باب وجوب القراءة للإمام والمأموم فى الصلوات كلها … رقم (756)، ومسلم في كتاب الصلاة، باب وجوب قراءة الفاتحة فى كل ركعة … (900)، من حديث عبادة بن الصامت صلى الله عليه وسلم بلفظ: «لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب»
এর অন্তর্ভুক্ত হলো নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "যার আমানতদারি নেই তার ঈমান নেই।"(১)

এবং "সুরা ফাতিহা ব্যতীত কোনো সালাত নেই।"(২)

--------------------------------------------

(১) এটি হাসান লি-গাইরিহি (অন্যান্য বর্ণনার মাধ্যমে হাসান)। এটি আনাস, ইবনে উমর, ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস, আবু হুরায়রা, আবু উমামা, সাওবান, উবাদাহ ইবনুস সামিত এবং আবু মুসা আল-াশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহুমের হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে। এর কিছু সূত্র বিবেচনার যোগ্য এবং একটি অন্যটির জন্য সমর্থক। আমি এর সূত্রগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি এবং একটি স্বতন্ত্র গবেষণায় এ নিয়ে কথা বলেছি। এর মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হলো আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস: ইমাম আহমাদ এটি ৩/১৩৫, ১৫৪, ২১০ এবং অন্যান্যরা আবু হিলাল আল-রাসিবি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: কাতাদা আমাদের কাছে আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিতেন তখনই বলতেন—অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন এবং তাতে আরও যুক্ত করেন: "যার প্রতিশ্রুতি রক্ষার গুণ নেই তার কোনো দ্বীন নেই।" আবু হিলাল আল-রাসিবীকে একদল আলেম দুর্বল বলেছেন, যাদের মধ্যে বুখারি ও নাসাঈ রয়েছেন। আবু দাউদ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং ইবনে মাঈন এক বর্ণনায় ও দারা কুতনি—যেমনটি আল-হাকিমের সুওয়ালাত-এ রয়েছে—তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন; সুতরাং তার বর্ণিত হাদিস হাসান। এর সমর্থনকারী বর্ণনাও (মুতাবায়াত) রয়েছে। ইমাম আহমাদ এটি ৩/২৫১-তে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আফফান আমাদের বলেছেন, হাম্মাদ আমাদের বলেছেন, মুগীরা বিন জিয়াদ আস-সাকাফি আমাদের বলেছেন, তিনি আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন। তবে এই মুগীরা অজ্ঞাত (মাজহুল), এই সনদ ছাড়া তাকে চেনা যায় না। ইবনে খুজাইমা তার সহিহ গ্রন্থে (২১৪৬) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ঈসা বিন ইবরাহিম আল-গাফেকি আমাদের বলেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের বলেছেন আমর বিন আল-হারিস ও লাইস বিন সাদ থেকে, তারা ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে, তিনি সিনান বিন সাদ আল-কিন্দি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যার আমানতদারি নেই তার কোনো ঈমান নেই, আর সদকার ক্ষেত্রে যে সীমালঙ্ঘনকারী সে সদকা প্রদান নাকারীর মতো।" আবু দাউদ (১৫৮৫), তিরমিজি (৬৪৬) এবং ইবনে মাজাহ (১৮০৮) এটি লাইস বিন সাদের সূত্রে ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে, তিনি সাদ বিন সিনান থেকে, তিনি আনাস বিন মালিকের বরাতে বর্ণনা করেছেন (কেবল দ্বিতীয় বাক্যটি)। আবু ঈসা তিরমিজি বলেছেন: আনাস বর্ণিত হাদিসটি এই সূত্রে গরিব। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল সাদ বিন সিনানের ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন। একইভাবে লাইস বিন সাদ বলেন: ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে, সাদ বিন সিনান থেকে, আনাস বিন মালিক থেকে। আর আমর বিন আল-হারিস ও ইবনে লাহিয়া বলেন: ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে, সিনান বিন সাদ থেকে, আনাস থেকে। তিনি (তিরমিজি) বলেন: আমি মুহাম্মদকে (ইমাম বুখারি) বলতে শুনেছি যে: সঠিক হলো সিনান বিন সাদ। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: সিনান বিন সাদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে; ইবনে মাঈন, আহমাদ বিন সালেহ আল-মিসরি এবং আল-ইজলি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, আর অন্যরা তাকে দুর্বল বলেছেন। হাফেজ (ইবনে হাজার) আত-তাকরিব গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলেছেন: তিনি সত্যবাদী, তবে তার কিছু একক বর্ণনা রয়েছে।

(২) এই শব্দে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন: আবু আওয়ানা আল-মুস্তাখরাজ গ্রন্থে (১৬৬৮) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে। তিনি বলেন: প্রত্যেক সালাতেই কেরাত রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের যা শুনিয়েছেন, আমরাও তোমাদের তা শোনাচ্ছি; আর যা তিনি আমাদের থেকে গোপন রেখেছেন (উচ্চস্বরে পড়েননি), আমরাও তোমাদের কাছে তা গোপন রাখছি। আমি তাকে বলতে শুনেছি: "সুরা ফাতিহা ছাড়া কোনো সালাত নেই।" এর সনদ সহিহ। হাদিসটি প্রায় একই অর্থবোধক শব্দে মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে বর্ণিত)। ইমাম বুখারি এটি আজান অধ্যায়ে, 'ইমাম ও মুক্তাদির জন্য সকল সালাতে কেরাত পাঠ ওয়াজিব' অনুচ্ছেদে... নম্বর (৭৫৬) এবং ইমাম মুসলিম সালাত অধ্যায়ে, 'প্রত্যেক রাকাতে ফাতিহা পাঠ ওয়াজিব' অনুচ্ছেদে... (৯০০), উবাদাহ ইবনুস সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি কিতাবের মূল সুরা (ফাতিহা) পাঠ করল না, তার সালাত নেই।"
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ২৩)
و: «لَا صَلَاةَ إِلَّا بِوُضُوءٍ»(1)؛ وَأَمَّا قَوْلُهُ: «لَا صَلَاةَ لِجَارِ الْمَسْجِدِ إِلَّا فِي الْمَسْجِدِ»(2) فَهَذَا اللَّفْظُ قَدْ قِيلَ: إنَّهُ لَا يُحْفَظُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. وَذَكَرَ عَبْدُ الْحَقِّ الإشبيلي: أَنَّهُ رَوَاهُ بِإِسْنَادِ كُلُّهُمْ ثِقَاتٌ وَبِكُلِّ حَالٍ: فَهُوَ مَأْثُورٌ عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه وَلَكِنَّ نَظِيرَهُ فِي السُّنَنِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ، ثُمَّ لَمْ يُجِبْ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ فَلَا صَلَاةَ لَهُ»(3). وَلَا رَيْبَ أَنَّ هَذَا يَقْتَضِي أَنَّ إجَابَةَ الْمُؤَذِّنِ الْمُنَادِيَ وَالصَّلَاةَ فِي جَمَاعَةٍ: مِنْ الْوَاجِبَاتِ كَمَا ثَبَتَ فِي الصَّحِيحِ: أَنَّ ابْنَ أُمِّ مَكْتُومٍ رضي الله عنه قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إنِّي رَجُلٌ شَاسِعُ الدَّارِ وَلِي قَائِدٌ لَا يُلَائِمُنِي. فَهَلْ تَجِدُ لِي رُخْصَةً أَنْ أُصَلِّيَ فِي بَيْتِي؟ «قَالَ: هَلْ تَسْمَعُ النِّدَاءَ؟ قَالَ: نَعَمْ قَالَ: مَا أَجِدُ

--------------------------------------------

(1) جاء من طرق ضعيفة ومن حديث جماعة من الصحابة رضي الله عنهم، منهم أبو سبرة وأبو سعيد، وسهل، وغيرهم وتمامه: «وَلَا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ»، وفي معناه حديث ابن عمر رضي الله عنهما في صحيح مسلم: «لَا تُقْبَلُ صَلَاة بِغَيْرِ طَهُورٍ».

(2) صحيح موقوفا عن علي رضي الله عنه كما تقدم وكما سيأتي في كلام شيخ الإسلام رحمه الله.

(3) رواه ابن ماجه (163) وغيره، من حديث ابن عباس رضي الله عنهما، قال ابن عبد الهادي في المحرر، والحافظ في بلوغ المرام: إسناده على شرط مسلم، وقد أعل بالوقف. وقال ابن رجب في " فتح الباري" (5/ 449): وَقْفُهُ هو الصحيحُ عندَ الإمامِ أحْمَدَ وغيرِه ا. هـ وانظر: الإرواء (551)، وتخريج المحرر للشيخ سليم (371).
এবং: «উযু ব্যতীত কোনো সালাত নেই»(১); আর তাঁর বাণী: «মসজিদের প্রতিবেশীর সালাত মসজিদ ব্যতীত হয় না»(২) এই শব্দগুলোর ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে (মারফু হিসেবে) সংরক্ষিত নয়। তবে আব্দুল হক আল-ইশবিলি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীদের সকলেই নির্ভরযোগ্য। আর যে কোনো অবস্থাতেই হোক: এটি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। কিন্তু সুনান গ্রন্থসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর সমার্থক বর্ণনা রয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি আজান শুনল, অতঃপর কোনো ওজর ব্যতীত তাতে সাড়া দিল না, তার কোনো সালাত নেই»(৩)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি দাবি করে যে—আহ্বানকারী মুয়াজ্জিনের ডাকে সাড়া দেওয়া এবং জামাতে সালাত আদায় করা ওয়াজিবসমূহের অন্তর্ভুক্ত; যেমনটি সহিহ গ্রন্থে প্রমাণিত হয়েছে যে: ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি এমন এক ব্যক্তি যার বাড়ি দূরে এবং আমার এমন একজন পথপ্রদর্শক আছে যে আমার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। এমতাবস্থায় আপনি কি আমার জন্য বাড়িতে সালাত আদায়ের কোনো অনুমতি দেখছেন? তিনি বললেন: «তুমি কি আজান শুনতে পাও? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আমি (তোমার জন্য কোনো অনুমতি) পাচ্ছি না।»

--------------------------------------------

(১) এটি কিছু দুর্বল সূত্রে একদল সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত হয়েছে, যাঁদের মধ্যে আবু সাবরা, আবু সাঈদ, সাহল ও অন্যান্যরা রয়েছেন। এর পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো: «আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম নেয়নি তার কোনো উযু নেই»। আর এর সমার্থক হিসেবে সহিহ মুসলিমে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস রয়েছে: «পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল করা হয় না»।

(২) এটি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মওকুফ হিসেবে সহিহ, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং শাইখুল ইসলাম রহ.-এর বক্তব্যে সামনে আসবে।

(৩) এটি ইবনে মাজাহ (১৬৩) ও অন্যান্যরা ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্দুল হাদি 'আল-মুহাররার' গ্রন্থে এবং হাফেজ (ইবনে হাজার) 'বুলুগুল মারাম' গ্রন্থে বলেছেন: এর সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী, তবে এটি মওকুফ হওয়ার কারণে ত্রুটিযুক্ত (ইলাল) বলা হয়েছে। ইবনে রজব 'ফাতহুল বারী' (৫/৪৪৯) গ্রন্থে বলেছেন: ইমাম আহমাদ ও অন্যদের নিকট এটি মওকুফ হওয়াই সঠিক। সমাপ্ত। আরও দেখুন: আল-ইরওয়া (৫৫১), এবং শাইখ সালিম কর্তৃক মুহাররার-এর তাখরিজ (৩৭১)।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ২৪)
لَك رُخْصَةً»(1) لَكِنْ إذَا تَرَكَ هَذَا الْوَاجِبَ فَهَلْ يُعَاقَبُ عَلَيْهِ وَيُثَابُ عَلَى مَا فَعَلَهُ مِنْ الصَّلَاةِ أَمْ يُقَالُ: إنَّ الصَّلَاةَ بَاطِلَةٌ عَلَيْهِ إعَادَتُهَا كَأَنَّهُ لَمْ يَفْعَلْهَا؟.

هَذَا فِيهِ نِزَاعٌ بَيْنَ الْعُلَمَاءِ.

وَعَلَى هَذَا قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم «إذَا فَعَلْت هَذَا فَقَدْ تَمَّتْ صَلَاتُك وَمَا انْتَقَصْت مِنْ هَذَا فَإِنَّمَا انْتَقَصْت مِنْ صَلَاتِك»(2).

فَقَدْ بَيَّنَ أَنَّ الْكَمَالَ الَّذِي نُفِيَ هُوَ هَذَا التَّمَامُ الَّذِي ذَكَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم. فَإِنَّ التَّارِكَ لِبَعْضِ ذَلِكَ قَدْ انْتَقَصَ مِنْ صَلَاتِهِ بَعْضَ مَا أَوْجَبَهُ اللَّهُ فِيهَا. وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ فِي الْحَدِيثِ الْآخَرِ: «فَإِذَا فَعَلَ هَذَا فَقَدَ تَمَّتْ صَلَاتُهُ»(3). وَيُؤَيِّدُ هَذَا: أَنَّهُ أَمَرَهُ بِأَنْ يُعِيدَ الصَّلَاةَ. وَلَوْ كَانَ الْمَتْرُوكُ مُسْتَحَبًّا لَمْ يَأْمُرْهُ بِالْإِعَادَةِ. وَلِهَذَا يُؤْمَرُ مِثْلُ هَذَا الْمُسِيءِ بِالْإِعَادَةِ كَمَا أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم هَذَا ا. هـ(4)

• فتبين من ذلك: أن هذا الحديث العظيم قد اشتمل على ذكر جملة من واجبات الصلاة،

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم في صحيحه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال أتى النبي صلى الله عليه وسلم رجل أعمى فقال يا رسول الله إنه ليس لى قائد يقودنى إلى المسجد. فسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يرخص له فيصلي في بيته فرخص له فلما ولى دعاه فقال «هل تسمع النداء بالصلاة». فقال نعم. قال «فأجب» واللفظ الذي ذكره المصنف قريب من رواية أحمد (3/ 423) وأبي داود (552) وابن ماجة (792) للقصة من حديث ابن أم مكتوم رضي الله عنه. وانظر المسند الجامع (10701).

(2) هو من روايات حديث المسيء وسيأتي تخريجه.

(3) ورد نحوه في بعض روايات حديث المسيء وسيأتي تخريجه، فلعله المراد والله أعلم.

(4) مجموع الفتاوى (22/ 529 - 532).
তোমার জন্য অনুমতি রয়েছে»(১) কিন্তু যখন কেউ এই ওয়াজিব (আবশ্যিক বিধান) ত্যাগ করে, তখন কি সে জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া হবে এবং তার কৃত সালাতের জন্য সওয়াব দেওয়া হবে, নাকি বলা হবে যে: নিশ্চয়ই সালাত বাতিল এবং তাকে তা পুনরায় আদায় করতে হবে যেন সে তা আদায়ই করেনি?।

এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে।

এবং এরই ভিত্তিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী: «তুমি যখন এটি করলে, তখন তোমার সালাত পূর্ণ হলো; আর তুমি এর থেকে যা কিছু কমিয়ে দিলে, তা মূলত তোমার সালাত থেকেই কমিয়ে দিলে»(২)।

সুতরাং তিনি এটি স্পষ্ট করেছেন যে, যে পূর্ণতাটি অস্বীকার করা হয়েছে তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক উল্লিখিত এই সালাতের পূর্ণতা। কেননা এর কোনো অংশ বর্জনকারী ব্যক্তি তার সালাতে আল্লাহ যা কিছু ওয়াজিব করেছেন, তারই কিছু অংশ কমিয়ে ফেলেছে। একইভাবে অন্য হাদিসে তাঁর বাণী: «যখন সে এটি করল, তখন তার সালাত পূর্ণ হলো»(৩)। এটি এই বিষয়টিকে সমর্থন করে যে: তিনি তাকে সালাত পুনরায় আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদি পরিত্যক্ত বিষয়টি মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) হতো, তবে তিনি তাকে তা পুনরায় আদায়ের নির্দেশ দিতেন না। আর একারণেই সালাতে এই প্রকার ভুলকারী ব্যক্তিকে পুনরায় সালাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়, যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সমাপ্ত।(৪)

• এ থেকে এটি স্পষ্ট হলো যে: এই মহান হাদিসটি সালাতের বেশ কিছু ওয়াজিব বা আবশ্যিক বিষয়ের বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত,

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এক অন্ধ ব্যক্তি এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে মসজিদে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো পথপ্রদর্শক নেই। অতঃপর তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অনুমতি চাইলেন যেন তিনি নিজ ঘরে সালাত আদায় করতে পারেন, তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। অতঃপর যখন তিনি ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাকে ডেকে বললেন, «তুমি কি সালাতের আযান শুনতে পাও?». তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, «তবে সাড়া দাও (মসজিদে আসো)»। আর গ্রন্থকার কর্তৃক উল্লিখিত শব্দসমূহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এই ঘটনার ক্ষেত্রে আহমাদ (৩/৪২৩), আবু দাউদ (৫৫২) এবং ইবনে মাজাহ (৭৯২) এর বর্ণনার কাছাকাছি। দেখুন আল-মুসনাদ আল-জামি' (১০৭০১)।

(২) এটি সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির হাদিসের অন্যতম বর্ণনা এবং সামনে এর তথ্যসূত্র আসবে।

(৩) সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির হাদিসের কিছু বর্ণনায় এর অনুরূপ বিষয় এসেছে এবং সামনে এর তথ্যসূত্র আসবে। সম্ভবত এটিই উদ্দেশ্য, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

(৪) মাজমু' আল-ফাতাওয়া (২২/৫২৯ - ৫৩২)।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ২৫)
• وهذا يوضح أهمية الوقوف على ألفاظه مجموعة وتمييز صحيحها من ضعيفها؛ ذلك أن السنة النبوية الصحيحة هي المصدر الذي يقف المسلم من خلاله على بيان الأمر المجمل بالصلاة، الذي ورد في قول الله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ} [البقرة: 43، 83، 110؛ النور: 56، الروم: 31، المزمل: 20]، لأنَّ «النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم هُوَ الْمُبَيِّنُ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إلَيْهِمْ وَسُنَّتُهُ تُفَسِّرُ الْكِتَابَ وَتُبَيِّنُهُ وَتَدُلُّ عَلَيْهِ وَتُعَبِّرُ عَنْهُ وَفِعْلُهُ إذَا خَرَجَ امْتِثَالًا لِأَمْرِ أَوْ تَفْسِيرًا لِمُجْمَلِ: كَانَ حُكْمُهُ حُكْمَ مَا امْتَثَلَهُ وَفَسَّرَهُ. وَهَذَا كَمَا أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم لَمَّا كَانَ يَأْتِي فِي كُلِّ رَكْعَةٍ بِرُكُوعِ وَاحِدٍ وَسُجُودَيْنِ كَانَ كِلَاهُمَا وَاجِبًا. وَكَانَ هَذَا امْتِثَالًا مِنْهُ لِمَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ مِنْ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وَتَفْسِيرًا لِمَا أُجْمِلَ ذِكْرُهُ فِي الْقُرْآنِ وَكَذَلِكَ الْمَرْجِعُ إلَى سُنَّتِهِ فِي كَيْفِيَّةِ السُّجُودِ»(1)

• وهذا الحديث العظيم أصل في بيان وجوب الطمأنينة في الصلاة وأن الصلاة لا تصح إلا بها، ويؤيده: «أنه صلى الله عليه وسلم: كَانَ يُصَلِّي الْفَرِيضَةِ وَالنَّافِلَةِ. وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ عَلَى عَهْدِهِ وَلَمْ يُصَلِّ قَطُّ إلَّا بِالِاعْتِدَالِ عَنْ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ وبالطمأنينة فِي أَفْعَالِ الصَّلَاةِ كُلِّهَا. وَكَذَلِكَ كَانَتْ صَلَاةُ أَصْحَابِهِ عَلَى عَهْدِهِ.

وَأَيْضًا: فَقَدْ ثَبَتَ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم فِي صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ: أَنَّهُ قَالَ لِمَالِكِ بْنِ الحويرث

وَصَاحِبِهِ رضي الله عنهما «إذَا حَضَرَتْ الصَّلَاةُ فَأَذِّنَا وَأُقِيمَا وَلْيَؤُمَّكُمَا أَكْبَرُكُمَا. وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي»(2) فَأَمَرَهُمْ أَنْ يُصَلُّوا كَمَا رَأَوْهُ يُصَلِّي

--------------------------------------------

(1) انظر: مجموع الفتاوى (22/ 566 - 567).

(2) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب الأذان، باب الأذان للمسافر إذا كانوا جماعة (631).
• আর এটি তার শব্দাবলিকে একত্রে পর্যবেক্ষণ করা এবং এর মধ্যকার সহীহকে যয়ীফ থেকে পৃথক করার গুরুত্বকে স্পষ্ট করে। এর কারণ হলো, সহীহ নববী সুন্নাহই হলো সেই উৎস যার মাধ্যমে একজন মুসলিম সালাত আদায় করার সংক্ষিপ্ত নির্দেশের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জানতে পারেন, যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে এসেছে: {তোমরা সালাত কায়েম করো} [আল-বাকারাহ: ৪৩, ৮৩, ১১০; আন-নূর: ৫৬, আর-রূম: ৩১, আল-মুযযাম্মিল: ২০], কেননা «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন মানুষের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তার বর্ণনাকারী এবং তাঁর সুন্নাহ কিতাবকে (কুরআনকে) ব্যাখ্যা করে, একে স্পষ্ট করে, এর দিকে পথনির্দেশ করে এবং এর ভাব প্রকাশ করে। তাঁর কর্ম যখন কোনো নির্দেশের আনুগত্যস্বরূপ অথবা কোনো সংক্ষিপ্ত বিষয়ের ব্যাখ্যা হিসেবে প্রকাশিত হয়, তখন তার বিধান সেটিই হয় যার তিনি আনুগত্য করেছেন এবং যা তিনি ব্যাখ্যা করেছেন। আর এটি ঠিক যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাকাআতে একটি রুকু ও দুটি সিজদাহ করতেন, ফলে উভয়টিই ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হয়েছে। এটি ছিল রুকু ও সিজদাহ সম্পর্কে আল্লাহর নির্দেশের আনুগত্য এবং কুরআনে যা সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা। একইভাবে সিজদাহ করার পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তাঁর সুন্নাহই হলো মূল নির্দেশক»(১)

• আর এই মহান হাদীসটি সালাতে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা ওয়াজিব হওয়ার বর্ণনায় একটি মূল ভিত্তি এবং ধীরস্থিরতা ব্যতীত সালাত শুদ্ধ হয় না। এর সমর্থনে বর্ণিত আছে যে: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয ও নফল সালাত আদায় করতেন। তাঁর যুগে মানুষ সালাত আদায় করত। তিনি রুকু ও সিজদাহ থেকে সোজা হওয়া এবং সালাতের সকল কার্যাবলিতে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা ব্যতীত কখনোই সালাত আদায় করেননি। অনুরূপভাবে তাঁর যুগে তাঁর সাহাবীদের সালাতও এমনই ছিল।

আরও প্রমাণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস এবং তাঁর সঙ্গীকে (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছিলেন: «যখন সালাতের সময় উপস্থিত হবে তখন তোমরা আযান ও ইকামত দেবে এবং তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় সে যেন ইমামতি করে। আর তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ»(২) সুতরাং তিনি তাঁদেরকে সেভাবেই সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন যেভাবে তাঁরা তাঁকে সালাত আদায় করতে দেখেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (২২/ ৫৬৬ - ৫৬৭)।

(২) বুখারী এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, আযান অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: মুসাফিররা যখন জামাতবদ্ধ থাকে তখন তাদের জন্য আযান (৬৩১)।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَقَدْ ثَبَتَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رضي الله عنهما أَنَّهُ قَالَ: لَقَدْ رَأَيْت رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَكَبَّرَ وَكَبَّرَ النَّاسُ مَعَهُ وَرَاءَهُ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ ثُمَّ رَجَعَ فَنَزَلَ الْقَهْقَرَى حَتَّى سَجَدَ فِي أَصْلِ الْمِنْبَرِ ثُمَّ عَادَ حَتَّى فَرَغَ مِنْ آخِرِ صَلَاتِهِ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ. فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ إنَّمَا صَنَعْت هَذَا لِتَأْتَمُّوا بِي وَلِتَعْلَمُوا صَلَاتِي»(1). وَهَذَا إجْمَاعُ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم. فَإِنَّهُمْ كَانُوا لَا يُصَلُّونَ إلَّا مُطْمَئِنِّينَ. وَإِذَا رَأَى بَعْضُهُمْ مَنْ لَا يَطْمَئِنُّ أَنْكَرَ عَلَيْهِ وَنَهَاهُ. وَلَا يُنْكِرُ وَاحِدٌ مِنْهُمْ عَلَى الْمُنْكَرِ لِذَلِكَ. وَهَذَا إجْمَاعٌ مِنْهُمْ عَلَى وُجُوبِ السُّكُونِ وَالطُّمَأْنِينَةِ فِي الصَّلَاةِ قَوْلًا وَفِعْلًا. وَلَوْ كَانَ ذَلِكَ غَيْرَ وَاجِبٍ لَكَانُوا يَتْرُكُونَهُ أَحْيَانًا كَمَا كَانُوا يَتْرُكُونَ مَا لَيْسَ بِوَاجِبِ.

وَأَيْضًا: فَإِنَّ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ فِي لُغَةِ الْعَرَبِ لَا يَكُونُ إلَّا إذَا سَكَنَ حِينَ انْحِنَائِهِ وَحِينَ وَضْعِ وَجْهِهِ عَلَى الْأَرْضِ. فَأَمَّا مُجَرَّدُ الْخَفْضِ وَالرَّفْعِ عَنْهُ: فَلَا يُسَمَّى ذَلِكَ رُكُوعًا وَلَا سُجُودًا. وَمَنْ سَمَّاهُ رُكُوعًا وَسُجُودًا فَقَدْ غَلِطَ عَلَى اللُّغَةِ.

وَأَيْضًا: فَإِنَّ اللَّهَ أَوْجَبَ الْمُحَافَظَةَ وَالْإِدَامَةَ عَلَى الصَّلَاةِ وَذَمَّ إضَاعَتَهَا وَالسَّهْوَ عَنْهَا. فَقَالَ تعالى: {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ * الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ} … إلى قوله: {وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ} [المؤمنون: 1 - 9] وَكَذَلِكَ فِي سُورَةِ سَأَلَ سَائِلٌ قَالَ: {إِنَّ الْإِنْسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا * إِذَا

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب الجمعة، باب الخطبة على المنبر (917)، ومسلم في صحيحه كتاب المساجد، باب جواز الخطوة والخطوتين في الصلاة (1216).
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ সাহল ইবনে সা'দ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি, তিনি মিম্বারের ওপর দাঁড়ালেন এবং তাকবীর দিলেন, আর মানুষও তাঁর পেছনে তাঁর সাথে তাকবীর দিল। তিনি মিম্বারের ওপর থাকা অবস্থায় (তাকবীর দিলেন), অতঃপর পেছনে ফিরে পিছিয়ে নামলেন এমনকি মিম্বারের গোড়ায় সিজদাহ করলেন। এরপর পুনরায় ফিরে গেলেন যতক্ষণ না তাঁর সালাতের শেষ পর্যন্ত পূর্ণ করলেন। এরপর মানুষের দিকে ফিরে বললেন: «হে লোকসকল, আমি কেবল এটি করেছি যাতে তোমরা আমাকে অনুসরণ করতে পারো এবং আমার সালাত শিখতে পারো»(১)। আর এটি সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ইজমা বা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। কেননা তাঁরা সালাতে স্থিতি বা প্রশান্তি (তমেনীনাহ) বজায় রাখা ছাড়া সালাত আদায় করতেন না। আর যখন তাঁদের কেউ কাউকে দেখতেন যে সে প্রশান্তি বজায় রাখছে না, তখন তাঁরা তার প্রতিবাদ করতেন এবং তাকে নিষেধ করতেন। আর তাঁদের কেউই সেই প্রতিবাদের ওপর আপত্তি জানাতেন না। এটি কথা ও কাজের মাধ্যমে সালাতে স্থিরতা ও প্রশান্তির আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়ার ওপর তাঁদের পক্ষ থেকে একটি ইজমা। যদি তা ওয়াজিব না হতো, তবে তাঁরা মাঝেমধ্যে তা বর্জন করতেন যেমনটি তাঁরা ওয়াজিব নয় এমন কাজগুলো বর্জন করতেন।

আরও বিষয় হলো: আরবীয় ভাষাতে রুকু এবং সিজদাহ ততক্ষণ হয় না যতক্ষণ না অবনত হওয়ার সময় এবং মাটিতে চেহারা রাখার সময় স্থিরতা অবলম্বন করা হয়। কিন্তু কেবল অবনত হওয়া এবং সেখান থেকে মাথা তোলাকে রুকু বা সিজদাহ বলা হয় না। আর যে একে রুকু ও সিজদাহ বলে অভিহিত করবে, সে ভাষার ক্ষেত্রে ভুল করবে।

আরও বিষয় হলো: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সালাতের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং তা নিয়মিত পালন করাকে ওয়াজিব করেছেন এবং তা নষ্ট করা ও সে সম্পর্কে উদাসীন থাকাকে নিন্দা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই সফলকাম হয়েছে মুমিনগণ * যারা তাদের সালাতে বিনয়ী (খুশু অবলম্বনকারী)} … তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {এবং যারা তাদের সালাতসমূহের হিফাজত করে} [আল-মুমিনুন: ১ - ৯]। অনুরূপভাবে সূরা 'সাআলা সা-ইলুন'-এ (সূরা আল-মা'আরিজ) তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই মানুষকে অতিশয় অস্থিরমনা হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে * যখন

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, জুমুআ অধ্যায়, মিম্বারের ওপর খুতবা প্রদান পরিচ্ছেদ (৯১৭); এবং ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে, মাসজিদ অধ্যায়, সালাতে এক বা দুই ধাপ হাঁটার বৈধতা পরিচ্ছেদ (১২১৬)।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ২৭)
مَسَّهُ الشَّرُّ … جَزُوعًا * وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا * إِلَّا الْمُصَلِّينَ * الَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ دَائِمُونَ * … إلى قوله: {وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ} [المعارج: 19 - 34] وَقَالَ تَعَالَى: {فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا} [مريم: 59] وغير ذلك من الآيات الدالة على ذَمِّ مَنْ تَرَكَ شَيْئًا مِنْ وَاجِبَاتِ الصَّلَاةِ وَإِنْ كَانَ فِي الظَّاهِرِ مُصَلِّيًا مِثْلَ أَنْ يَتْرُكَ الْوَقْتَ الْوَاجِبَ أَوْ يَتْرُكَ تَكْمِيلَ الشَّرَائِطِ وَالْأَرْكَانِ مِنْ الْأَعْمَالِ الظَّاهِرَةِ وَالْبَاطِنَةِ وَبِذَلِكَ فَسَّرَهَا السَّلَفُ.

فَعَنْ قتادة: {وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ}، عَلَى وُضُوئِهَا وَمَوَاقِيتِهَا وَرُكُوعِهَا.(1)

وعن أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ: إنَّ اللَّهَ أَكْثَرَ ذِكْرَ الصَّلَاةِ فِي الْقُرْآنِ {الَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ دَائِمُونَ} {الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ} {وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ} فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ رضي الله عنه: ذَلِكَ عَلَى مَوَاقِيتِهَا فَقَالُوا: مَا كُنَّا نَرَى ذَلِكَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إلَّا التَّرْكَ. قَالَ: تَرْكُهَا كُفْرٌ.(2)

--------------------------------------------

(1) صحيح. أخرجه ابن أبي حاتم في التفسير (4/ 1346/ رقم: 7622) بسند صحيح عنه ولفظه: … أَيْ عَلَى وُضُوئِهَا وَمَوَاقِيتِهَا وَرُكُوعِهَا وَسُجُودِهَا ا. هـ وعزاه السيوطي في الدر المنثور (6/ 89) إلى عبد بن حميد وابن المنذر أيضا.

(2) أبو عبد الرحمن هو القاسم بن عبد الرحمن بن عبد الله بن مسعود الكوفي حفيد ابن مسعود، ولم يدركه. لكنه صحح موصولا كما سيأتي. أخرجه علي بن الجعد في مسنده (1924) -ومن طريقه اللالكائي في شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة (4/ 908/ 1532) -؛ ورواه الطبراني في المعجم الكبير (8938) من طريق أَبي نُعَيْمٍ؛ و (8939) حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، و (8940) من طريق أسد بن موسى ورواه الخلال في السنة (1409)، واللالكائي في الاعتقاد (1234) من طريق يحيى بن سعيد، واللالكائي (8846) والطبراني من طريق أسد بن موسى، كلهم (علي بن الجعد وأبو نعيم وحماد ويحى وأسد) عن الْمَسْعُودِيُّ، عَنِ الْقَاسِمِ قَالَ: قِيلِ لِعَبْدِ اللَّهِ فذكره. لكن لفظ حماد مختصر: عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: «مَنْ تَرَكَ الصَّلَاةَ كَفَرَ» وأعله الهيثمي في مجمع الزوائد (7/ 129) بالانقطاع بين القاسم وابن مسعود.

ورواه عبد الله بن الإمام أحمد في السنة (773)، وأبو بكر الخلال في السنة (1390)؛ وابن جرير الطبري في تفسير سورة مريم؛ والمروزي في تعظيم قدر الصلاة (62) وابن بطة في الإبانة الكبرى (886) من طرق عن وكيع نا المسعودي عن القاسم والحسن بن سعد قالا قال عبدالله فذكره، بعض الطرق مطول وبعضها مختصر وهذا منقطع أيضا القاسم والحسن لم يدركا ابن مسعود

وقد جاء موصولا: أخرجه ابن أبي عمر العدني في الإيمان (26) وابن المنذر في الأوسط (1039) من طريق المقرئ [وتحرف في الأوسط إلى "المقبري"]، وأبو بكر الخلال في السنة (1385) واللالكائي في الإعتقاد (1234) من طريق يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، والطبراني في الكبير (8846) من طريق أسد بن موسى، وابن عبد البر في التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد (4/ 230) من طريق يزيد بن زريع كلهم: (يحيى والمقرئ وأسد ويزيد بن زريع) عَنِ الْمَسْعُودِيِّ، قَالَ: ثنا الْحَسَنُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ بن مسعود: فذكره. وهذا موصول، والمسعودي وإن كان مختلطا فإن سماع يحيى بن سعيد القطان كان قبل الاختلاط، وكذا يزيد بن زريع فيما رجحه الأبناسي وابن الكيال وقد نص القطان بذلك عن نفسه عندما أخبر أنه لم يسأله عن شيء ولم يكلمه بعد اختلاطه. وقد توبع المسعودي فقد رواه ابن أبي شيبة في مصنفه (3211) قال: حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، {الَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ دَائِمُونَ} [المعارج: 23] قَالَ: «عَلَى مَوَاقِيتِهَا»
যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে … সে অস্থির হয়ে পড়ে * আর যখন তাকে কল্যাণ স্পর্শ করে তখন সে কৃপণ হয়ে যায় * তবে মুসল্লিগণ ব্যতীত * যারা তাদের সালাতে সর্বদা কায়েম থাকে * … তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {এবং যারা তাদের সালাতসমূহের হিফাজত করে} [আল-মাআরিজ: ১৯ - ৩৪]। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর তাদের পরে এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরিদের আবির্ভাব ঘটল যারা সালাত নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসারী হলো, সুতরাং তারা অচিরেই ধ্বংসের সম্মুখীন হবে} [মারইয়াম: ৫৯]। এছাড়াও আরও অনেক আয়াত রয়েছে যা সালাতের কোনো ওয়াজিব বর্জনকারীর নিন্দার ওপর প্রমাণ বহন করে, যদিও সে বাহ্যিকভাবে একজন মুসল্লি হয়; যেমন সালাতের ওয়াজিব সময় বর্জন করা অথবা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আমলসমূহের শর্তাবলি ও রুকনগুলো পরিপূর্ণ করা বর্জন করা। আর সালাফগণ এভাবেই এর ব্যাখ্যা করেছেন।

কাতাদাহ থেকে বর্ণিত: {এবং যারা তাদের সালাতসমূহের হিফাজত করে}, অর্থাৎ এর অজু, এর সময়সমূহ এবং এর রুকুর হিফাজত করে।(১)

আবু আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহকে বলা হলো: আল্লাহ কুরআনে সালাতের কথা অনেক বেশি উল্লেখ করেছেন {যারা তাদের সালাতে সর্বদা কায়েম থাকে}, {যারা তাদের সালাতে বিনয়ী} এবং {যারা তাদের সালাতসমূহের হিফাজত করে}। তখন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: তা হলো সালাতের সঠিক সময়সমূহের ব্যাপারে। তারা বলল: হে আবু আব্দুর রহমান, আমরা তো মনে করতাম তা কেবল সালাত ছেড়ে দেওয়া সম্পর্কে। তিনি বললেন: সালাত বর্জন করা তো কুফরি।(২)

--------------------------------------------

(১) সহিহ। ইবনে আবি হাতিম তার তাফসিরে (৪/১৩৪৬/ নম্বর: ৭৬২২) তার থেকে সহিহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দমালা হলো: … অর্থাৎ এর অজু, এর সময়সমূহ, এর রুকু এবং এর সিজদার হিফাজত করা। সমাপ্ত। আর সুয়ূতী আদ-দুররুল মানসুর-এ (৬/৮৯) একে আবদ বিন হুমাইদ এবং ইবনুল মুনজিরের দিকেও নিসবত করেছেন।

(২) আবু আব্দুর রহমান হলেন আল-কাসিম বিন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ আল-কুফি, যিনি ইবনে মাসউদের পৌত্র, তবে তিনি তাকে সরাসরি পাননি। কিন্তু এটি নিরবচ্ছিন্ন সনদে সহিহ প্রমাণিত হয়েছে যেমনটি সামনে আসবে। আলি বিন আল-জাদ তার মুসনাদে (১৯২৪) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার সূত্র ধরে লালকাঈ শারহু উসুলিল ইতিকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (৪/৯০৮/ ১৫৩২)-তে বর্ণনা করেছেন। তাবারানি এটি আল-মুজাম আল-কাবীর-এ (৮৯৩৮) আবু নুয়াইমের সূত্রে, (৮৯৩৯) হাম্মাদ বিন সালামাহর সূত্রে এবং (৮৯৪০) আসাদ বিন মুসার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। খাল্লাল এটি আস-সুন্নাহ-তে (১৪০৯), এবং লালকাঈ আল-ইতিকাদ-এ (১২৩৪) ইয়াহইয়া বিন সাঈদের সূত্রে, এবং লালকাঈ (৮৮৪৬) ও তাবারানি আসাদ বিন মুসার সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তারা সবাই (আলি বিন আল-জাদ, আবু নুয়াইম, হাম্মাদ, ইয়াহইয়া এবং আসাদ) আল-মাসউদী থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে বর্ণনা করেছেন; অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। তবে হাম্মাদের শব্দমালা সংক্ষিপ্ত: ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «যে ব্যক্তি সালাত ছেড়ে দিল সে কুফরি করল»। হাইসামি মাজমাউয যাওয়ায়েদ-এ (৭/১২৯) আল-কাসিম ও ইবনে মাসউদের মাঝে সনদ বিচ্ছিন্নতার কারণে একে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন।

ইমাম আহমদের পুত্র আব্দুল্লাহ আস-সুন্নাহ-তে (৭৭৩), আবু বকর আল-খাল্লাল আস-সুন্নাহ-তে (১৩৯০), ইবনে জারির তাবারানি সূরা মারইয়ামের তাফসিরে, মারওয়াযী তাজিমু কাদরিস সালাহ-তে (৬২) এবং ইবনে বাত্তাহ আল-ইবানাহ আল-কুবরা-তে (৮৮৬) বিভিন্ন সূত্রে ওয়াকি থেকে, তিনি আল-মাসউদী থেকে, তিনি আল-কাসিম ও হাসান বিন সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা দুজনেই বলেছেন: আব্দুল্লাহ বলেছেন... এরপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। কোনো কোনো সূত্র দীর্ঘ এবং কোনো কোনোটি সংক্ষিপ্ত, আর এটিও বিচ্ছিন্ন; কারণ আল-কাসিম এবং হাসান ইবনে মাসউদকে পাননি।

আর এটি নিরবচ্ছিন্ন সনদেও এসেছে: ইবনে আবি উমার আল-আদানি আল-ঈমান-এ (২৬) এবং ইবনুল মুনজির আল-আওসাত-এ (১০৩৯) আল-মুক্রির সূত্রে [যা আল-আওসাত-এ বিকৃত হয়ে "আল-মাকবুরি" হয়েছে], আবু বকর আল-খাল্লাল আস-সুন্নাহ-তে (১৩৮৫) এবং লালকাঈ আল-ইতিকাদ-এ (১২৩৪) ইয়াহইয়া বিন সাঈদের সূত্রে, তাবারানি আল-কাবীর-এ (৮৮৪৬) আসাদ বিন মুসার সূত্রে এবং ইবনে আব্দুল বার আত-তামহীদ-এ (৪/২৩০) ইয়াযীদ বিন যুরাইয়ের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তারা সবাই (ইয়াহইয়া, আল-মুক্রি, আসাদ এবং ইয়াযীদ বিন যুরাই) আল-মাসউদী থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাসান বিন সাদ বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন মাসউদকে বলা হলো... এরপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন সনদ। আর মাসউদী যদিও স্মৃতিবিভ্রম ঘটানো বর্ণনাকারী ছিলেন, তবে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তানের শ্রবণ ছিল তার স্মৃতিবিভ্রমের পূর্বে। অনুরূপভাবে ইয়াযীদ বিন যুরাইয়ের বর্ণনাও (স্মৃতিবিভ্রমের পূর্বের), যা আল-আবনাদী ও ইবনুল কায়্যাল প্রাধান্য দিয়েছেন। আল-কাত্তান নিজেই নিজের ব্যাপারে এটি স্পষ্টভাবে বলেছেন যখন তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি স্মৃতিবিভ্রমে আক্রান্ত হওয়ার পর মাসউদীকে কোনো কিছু জিজ্ঞেস করেননি এবং তার সাথে কথাও বলেননি। আল-মাসউদী সমর্থিত হয়েছেন, কারণ ইবনে আবি শাইবা তার মুসান্নাফ-এ (৩২১১১) বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আবু খালিদ বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ থেকে, তিনি হাসান বিন সাদ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে {যারা তাদের সালাতে সর্বদা কায়েম থাকে} [আল-মাআরিজ: ২৩] আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «অর্থাৎ তাদের সালাতের নির্দিষ্ট সময়সমূহে»।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَرَوَى سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ مَسْرُوقٍ فِي قَوْلِ اللَّهِ: {وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ} قَالَ: «عَلَى مَوَاقِيتِهَا» فَقَالُوا: مَا كُنَّا نَرَى ذَلِكَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إلَّا التَّرْكَ. قَالَ: «تَرْكُهَا كُفْرٌ(1)»(2)

--------------------------------------------

(1) إسناده صحيح؛ وأخرجه الطبري (17/ 14) وابن أبي حاتم (7621) وعزاه السيوطي في الدر المنثور سورة المؤمنون إلى سعيد بن منصور، وعزاه في سورة المعارج إلى عبد بن حميد.

(2) من مجموع الفتاوى (22/ 532 فما بعدها) بتصرف
সাঈদ ইবনে মানসুর বর্ণনা করেছেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুসলিম থেকে, তিনি মাসরুক থেকে আল্লাহর বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: {আর যারা তাদের সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করে} তিনি বলেন: «তাদের নির্ধারিত সময়ের ওপর (রক্ষণাবেক্ষণ করা)» তখন তাঁরা বললেন: হে আবু আবদুর রহমান, আমরা তো একে কেবল (সালাত) ত্যাগ করা হিসেবেই গণ্য করতাম। তিনি বললেন: «সালাত ত্যাগ করা হলো কুফর(১)»(২)

--------------------------------------------

(১) এর সনদ সহিহ; তাবারী (১৭/১৪) ও ইবনে আবি হাতিম (৭৬২১) এটি বর্ণনা করেছেন এবং সুয়ূতী ‘আদ-দুররুল মানসুর’-এ সূরা আল-মুমিনুনে একে সাঈদ ইবনে মানসুরের দিকে এবং সূরা আল-মাআরিজে একে আবদ ইবনে হুমাইদের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন।

(২) মাজমুউল ফাতাওয়া (২২/৫৩২ ও পরবর্তী পৃষ্ঠা) থেকে পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌من عناية النبي صلى الله عليه وسلم بالصلاة:

• ولما كانت الصلاة من أجل العبادات، وأعظم القربات، بينها النبي صلى الله عليه وسلم للناس: قولاً، وفعلاً، وتقريراً، وأمر أن يلتزم المسلم فيها بهديه الكريم؛

• كما في حديث مَالِكِ بْنِ الحُوَيْرِثِ رضي الله عنه، قَالَ: أَتَيْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، وَنَحْنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُونَ، فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً، فَظَنَّ أَنَّا اشْتَقْنَا أَهْلَنَا، وَسَأَلَنَا عَمَّنْ تَرَكْنَا فِي أَهْلِنَا، فَأَخْبَرْنَاهُ، وَكَانَ رَفِيقًا رَحِيمًا، فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ، فَعَلِّمُوهُمْ وَمُرُوهُمْ، وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي، وَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ، فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ، ثُمَّ لِيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ»(1)

• وفي صحيح مسلم، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ: «يَا فُلَانُ، أَلَا تُحْسِنُ صَلَاتَكَ؟ أَلَا يَنْظُرُ الْمُصَلِّي إِذَا صَلَّى كَيْفَ يُصَلِّي؟ فَإِنَّمَا يُصَلِّي لِنَفْسِهِ، إِنِّي وَاللهِ لَأُبْصِرُ مِنْ وَرَائِي كَمَا أُبْصِرُ مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ».(2)

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب الأذان، باب الأذان للمسافر إذا كانوا جماعة (631).

(2) أخرجه مسلم في صحيحه كتاب الصلاة؛ باب الأمر بتحسين الصلاة وإتمامها والخشوع فيها (985)
সালাতের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যত্ন:

• যেহেতু সালাত অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মহান মাধ্যম, তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা মানুষের নিকট কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতির মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যেন মুসলিম ব্যক্তি এতে তাঁর মহিমান্বিত আদর্শকে অনুসরণ করে চলে;

• যেমন মালিক ইবনে হুওয়াইরিস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম যখন আমরা প্রায় সমবয়সী যুবক ছিলাম। আমরা তাঁর নিকট বিশ রাত অবস্থান করলাম। তিনি অনুভব করলেন যে আমরা আমাদের পরিবারের অভাব বোধ করছি, তাই তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলেন আমরা পরিবারে কাদের রেখে এসেছি। আমরা তাঁকে তা জানালাম। তিনি ছিলেন অত্যন্ত কোমল ও দয়ালু। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তোমরা তোমাদের পরিবারের নিকট ফিরে যাও, তাদের শিক্ষা দাও ও নির্দেশ দাও। আর তোমরা ঠিক সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ। যখন সালাতের সময় উপস্থিত হবে, তখন তোমাদের কেউ যেন আযান দেয় এবং তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় সে যেন তোমাদের ইমামতি করে।”(১)

• এবং সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সালাত আদায় করলেন, তারপর সালাত শেষ করে বললেন: “হে অমুক, তুমি কি তোমার সালাত সুন্দরভাবে আদায় করবে না? মুসল্লি যখন সালাত আদায় করে, তখন সে কি লক্ষ্য করে না যে সে কীভাবে সালাত আদায় করছে? সে তো মূলত নিজের জন্যই সালাত আদায় করে। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আমি আমার পিছন থেকে ঠিক তেমনই দেখতে পাই যেমন আমি আমার সম্মুখ থেকে দেখতে পাই।”(২)

--------------------------------------------

(১) বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, আযান অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: মুসাফিররা যখন জামাতবদ্ধ হয় তখন তাদের জন্য আযান (৬৩১)।

(২) মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, সালাত অধ্যায়; অনুচ্ছেদ: সালাত সুন্দরভাবে আদায় করা, তা পূর্ণাঙ্গ করা এবং তাতে খুশু অবলম্বন করার নির্দেশ (৯৮৫)
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ৩১)
• وفيه عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه أَنَّ نَبِيَّ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَتِمُّوا الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ».(1)

• عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ فَلَمَّا قَضَى الصَّلَاةَ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ، فَقَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ، إِنِّي إِمَامُكُمْ، فَلَا تَسْبِقُونِي بِالرُّكُوعِ وَلَا بِالسُّجُودِ، وَلَا بِالْقِيَامِ وَلَا بِالِانْصِرَافِ»(2)

• وعَنْ أَبِيْ مُوسَى الأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه قال: «إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَنَا فَبَيَّنَ لَنَا سُنَّتَنَا وَعَلَّمَنَا صَلَاتَنَا … » الحديث رواه مسلم.(3).

• وعَنْ أَبِي مَالِكٍ سَعْدِ بنِ طَارِقِ بنِ أَشْيَمَ الْأَشْجَعِيِّ، عَنْ أَبِيهِ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ الرَّجُلُ إِذَا أَسْلَمَ، عَلَّمَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الصَّلَاةَ، ثُمَّ أَمَرَهُ أَنْ يَدْعُوَ بِهَؤُلَاءِ الْكَلِمَاتِ: «اللهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي» رواه مسلم(4)

• وفي رواية عند البزار: قَالَ رضي الله عنه: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِذَا أَسْلَمَ الرَّجُلُ كَانَ أَوَّلُ مَا يُعَلِّمُنَا الصَّلَاةَ أَوْ قَالَ: عَلَّمَهُ الصَّلَاةَ»(5)

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق؛ رقم (988)

(2) المرجع السابق؛ رقم (989)

(3) أخرجه مسلم في صحيحه كتاب الصلاة؛ باب التشهد فى الصلاة. (931)

(4) أخرجه مسلم في صحيحه كتاب الذكر والدعاء والتوبة؛ باب فضل التهليل والتسبيح والدعاء. (2697)

(5) مسند البزار "البحر الزخار" (7/ 197/ رقم 2765) وصححه الألباني في السلسلة الصحيحة (3030)، وشيخنا الشيخ مقبل الوادعي في الجامع الصحيح (ح 52)
• এবং এতে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন: «তোমরা রুকু ও সিজদা পূর্ণভাবে সম্পন্ন করো।»(১)

• আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন এবং বললেন: «হে লোকসকল! আমি তোমাদের ইমাম, সুতরাং তোমরা রুকু, সিজদা, কিয়াম (দাঁড়ানো) এবং সালাত শেষ করার (ফিরে যাওয়ার) ক্ষেত্রে আমার আগে বেড়ে যেও না»(২)

• এবং আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন, অতঃপর আমাদের নিকট আমাদের সুন্নাত বর্ণনা করলেন এবং আমাদের সালাত শিক্ষা দিলেন...» হাদিসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।(৩).

• এবং আবু মালিক সা’দ বিন তারিক বিন আশইয়াম আল-আশজাঈ থেকে তার পিতা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: কোনো ব্যক্তি যখন ইসলাম গ্রহণ করত, নবী (সা.) তাকে সালাত শিক্ষা দিতেন, অতঃপর তাকে এই বাক্যগুলো দ্বারা দুআ করতে নির্দেশ দিতেন: «হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে হিদায়াত দিন, আমাকে সুস্থতা দিন এবং আমাকে জীবিকা দান করুন» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন(৪)

• এবং আল-বাযযারের এক বর্ণনায় আছে: তিনি (রা.) বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রীতি ছিল যে, কোনো ব্যক্তি যখন ইসলাম গ্রহণ করত, তখন তিনি তাকে সর্বপ্রথম যা শিক্ষা দিতেন তা হলো সালাত; অথবা তিনি বলেছেন: তাকে সালাত শিক্ষা দিতেন»(৫)

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস; নম্বর (৯৮৮)

(২) পূর্বোক্ত উৎস; নম্বর (৯৮৯)

(৩) মুসলিম এটি তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: সালাত অধ্যায়; সালাতে তাশাহহুদ পরিচ্ছেদ। (৯৩১)

(৪) মুসলিম এটি তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: যিকর, দুআ ও তওবা অধ্যায়; তাহলীল, তাসবীহ ও দুআর মর্যাদা পরিচ্ছেদ। (২৬৯৭)

(৫) মুসনাদে বাযযার "আল-বাহরুজ যাখখার" (৭/ ১৯৭/ নম্বর ২৭৬৫); আলবানি আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ-তে (৩০৩০) একে সহিহ বলেছেন এবং আমাদের শায়খ শেখ মুকবিল আল-ওয়াদঈ আল-জামি’উস সহিহ-তে (হাদিস ৫২) একে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ৩২)
• وعَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْأَشْعَرِيِّ رضي الله عنه عنْ أُمَرَاءِ الْأَجْنَادِ: عَمْرو بْنُ الْعَاصِ، وَخَالِد بْنُ الْوَلِيدِ، وَيَزِيد بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، وَشُرَحْبِيل بْنُ حَسَنَةَ، عنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَوا: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِأَصْحَابِهِ، ثُمَّ جَلَسَ فِي طَائِفَةٍ مِنْهُمْ، فَدَخَلَ رَجُلٌ، فَقَامَ يُصَلِّي، فَجَعَلَ يَرْكَعُ وَيَنْقُرُ فِي سُجُودِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَتَرَوْنَ هَذَا، مَنْ مَاتَ عَلَى هَذَا مَاتَ عَلَى غَيْرِ مِلَّةِ مُحَمَّدٍ، يَنْقُرُ صَلَاتَهُ كَمَا يَنْقُرُ الْغُرَابُ الدَّمَ، إِنَّمَا مَثَلُ الَّذِي يَرْكَعُ وَيَنْقُرُ فِي سُجُودِهِ كَالْجَائِعِ لَا يَأْكُلُ إِلَّا التَّمْرَةَ وَالتَّمْرَتَيْنِ، فَمَاذَا تُغْنِيَانِ عَنْهُ، فَأَسْبِغُوا الْوُضُوءَ، وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ، أَتِمُّوا الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ»(1)

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري في التاريخ الكبير (4/ 247) وابن خزيمة في صحيحه (665) والآجري في "الأربعون حديثا" (21)، وابن أبي عاصم في الآحاد والمثاني (494) وأبو يعلى الموصلي في المسند (7184، 7350) وعنه أبو الشيخ الأصبهاني في أمثال الحديث (278) -؛ والطبراني في المعجم الكبير (4/ 115) رقم (3840) وفي مسند الشاميين (1624) -وعنه وعن غيره أبو نعيم في معرفة الصحابة (6588، 6589) - والبيهقي في السنن الكبرى للبيهقي (2/ 126) رقم (2573) من طرق عن الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَةُ بْنُ الْأَحْنَفِ الْأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَامٍ الْأَسْوَدُ، نا أَبُو صَالِحٍ الْأَشْعَرِيُّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِأَصْحَابِهِ، … فذكره؛ قَالَ أَبُو صَالِحٍ: فَقُلْتُ لِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْأَشْعَرِيِّ: مَنْ حَدَّثَكَ بِهَذَا الْحَدِيثِ؟ فَقَالَ: أُمَرَاءُ الْأَجْنَادِ: عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ، وَخَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ، وَيَزِيدُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، وَشُرَحْبِيلُ بْنُ حَسَنَةَ، كُلُّ هَؤُلَاءِ سَمِعُوهُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. ورواه ابن ماجه مختصرا (455) مقترا على قوله صلى الله عليه وسلم: «أَتِمُّوا الْوُضُوءَ، وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ» وقال الترمذي في العلل الكبير (ص 35): قَالَ مُحَمَّدٌ - يعني البخاري-: وَحَدِيثُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْأَشْعَرِيِّ: «وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ» هُوَ حَدِيثٌ حَسَنٌ ا. هـ والحديث حسنه المنذري في الترغيب (752) والهيثمي في مجمع الزوائد ومنبع الفوائد (2/ 121) رقم (2728) والشيخ الألباني في صفة الصلاة (2/ 642) وفي تعليقه عل صحيح ابن خزيمة.
• আবু আব্দুল্লাহ আল-আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বাহিনীর সেনাপতিদের থেকে বর্ণনা করেছেন: আমর ইবনুল আস, খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ, ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ান এবং শুরাহবিল ইবনে হাসানাহ। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তাঁরা বলেছেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, অতঃপর তাঁদের একটি দলের সাথে বসলেন। এমতাবস্থায় একজন লোক প্রবেশ করল এবং দাঁড়িয়ে সালাত পড়তে লাগল। সে রুকু করছিল এবং সিজদার সময় ঠোকর দিচ্ছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমরা কি একে দেখছ? যে ব্যক্তি এই অবস্থায় মারা যাবে, সে মুহাম্মাদের আদর্শের বাইরে অন্য কোনো দ্বীনের ওপর মারা যাবে; সে তার সালাতে এমনভাবে ঠোকর দিচ্ছে যেমন কাক রক্তে ঠোকর দেয়। নিশ্চয়ই যে রুকু করে এবং সিজদায় ঠোকর দেয় তার উদাহরণ হলো সেই ক্ষুধার্ত ব্যক্তির মতো যে কেবল একটি বা দুটি খেজুর খায়, যা তার কোনো উপকারে আসে না। সুতরাং তোমরা পূর্ণাঙ্গরূপে ওজু করো, (অসম্পূর্ণ ওজুর কারণে) গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের আগুনের দুর্ভোগ রয়েছে। তোমরা রুকু ও সিজদা পূর্ণ করো।»(১)

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি তারিখুল কাবিরে (৪/ ২৪৭), ইবনে খুজাইমা তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৬৬৫), আজুরি 'আল-আরবাউন হাদিসান' গ্রন্থে (২১), ইবনে আবি আসিম আল-আহাদ ওয়াল মাসানি গ্রন্থে (৪৯৪), আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি আল-মুসনাদ গ্রন্থে (৭১৮৪, ৭৩৫০) এবং তাঁর সূত্রে আবুশ শাইখ আল-আসবাহানি আমসালুল হাদিস গ্রন্থে (২৭৮) বর্ণনা করেছেন; তাবারানি আল-মুজামুল কাবিরে (৪/ ১১৫) হাদিস নম্বর (৩৮৪০) এবং মুসনাদুশ শামিয়্যিন গ্রন্থে (১৬২৪) বর্ণনা করেছেন; তাঁর এবং অন্যদের সূত্রে আবু নুয়াইম মারিফাতুস সাহাবাহ গ্রন্থে (৬৫৮৮, ৬৫৮৯) এবং বায়হাকি আস-সুনানুল কুবরা লিল-বায়হাকি গ্রন্থে (২/ ১২৬) হাদিস নম্বর (২৫৭৩) ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইবাহ ইবনুল আহনাফ আল-আওজায়ি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালাম আল-আসওয়াদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ আল-আশআরি, আবু আব্দুল্লাহ আল-আশআরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন... (অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন); আবু সালিহ বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ আল-আশআরিকে বললাম, কে আপনাকে এই হাদিস বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: বাহিনীর সেনাপতিগণ: আমর ইবনুল আস, খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ, ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ান এবং শুরাহবিল ইবনে হাসানাহ; তাঁরা সবাই এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন। ইবনে মাজাহ এটি সংক্ষিপ্তভাবে (৪৫৫) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর ওপর সীমাবদ্ধ রেখে বর্ণনা করেছেন: «তোমরা ওজু পূর্ণ করো, গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের আগুনের দুর্ভোগ রয়েছে।» তিরমিজি আল-ইলালুল কাবিরে (পৃ. ৩৫) বলেছেন: মুহাম্মাদ অর্থাৎ ইমাম বুখারি বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহ আল-আশআরির হাদিস: «গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের আগুনের দুর্ভোগ রয়েছে»—এটি একটি হাসান হাদিস। আল-মুনজিরি তারগিব গ্রন্থে (৭৫২), হাইসামি মাজমাউয যাওয়ায়েদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ গ্রন্থে (২/ ১২১) হাদিস নম্বর (২৭২৮) এবং শেখ আলবানি সিফাতুস সালাত (২/ ৬৪২) ও সহিহ ইবনে খুজাইমার টিকায় হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আন-নাজমুল মুদীউ বিযিকরি রিওয়ায়াতি ওয়া আলফাজি হাদিসিল মুসী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
• قال الحافظ ابن رجب رحمه الله:

وأما المثل المضروب في هذا الحديث لمن لا يتم ركوعه ولا سجوده ففي غاية الحسن، فإن الصلاة هي قوت قلوب المؤمنين وغذاؤها، بما اشتملت عليه من ذكر الله ومناجاته وقربه فمن أتم صلاته فقد استوفى غذاء قلبه وروحه، فما دام على ذلك كملت قوته، ودامت صحته وعافيته، ومن لم يتم صلاته فلم يستوف قلبه وروحه قوتها وغذاءها، فجاع قلبه وضعف، وربما مرض أو مات؛ لفقد غذائه، كما يمرض الجسد ويسقم إذا لم يكمل تناول غذائه وقوته الملائم له ا. هـ(1)

• وَعَنْ هَانِئِ بْنِ مُعَاوِيَةَ الصَّدَفِيِّ، قَالَ:

حَجَجْتُ زَمَانَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رضي الله عنه، فَجَلَسْتُ فِي مَسْجِدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَإِذَا رَجُلٌ يُحَدِّثُهُمْ، قَالَ:

كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا، فَأَقْبَلَ رَجُلٌ، فَصَلَّى فِي هَذَا الْعَمُودِ، فَعَجَّلَ قَبْلَ أَنْ يُتِمَّ صَلَاتَهُ، ثُمَّ خَرَجَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:

«إِنَّ هَذَا لَوْ مَاتَ لَمَاتَ وَلَيْسَ مِنَ الدِّينِ عَلَى شَيْءٍ، إِنَّ الرَّجُلَ لَيُخَفِّفُ صَلَاتَهُ وَيُتِمُّهَا».

--------------------------------------------

(1) فتح الباري (7/ 162)
• হাফেজ ইবনে রাজাব (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

আর এই হাদিসে যার রুকু ও সিজদা পূর্ণ হয় না, তার ব্যাপারে যে উদাহরণ দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত চমৎকার। কেননা সালাত হলো মুমিনদের অন্তরের শক্তি ও খোরাক; যেহেতু এতে আল্লাহর জিকির, তাঁর সাথে একান্তে কথোপকথন এবং তাঁর নৈকট্য বিদ্যমান। সুতরাং যে ব্যক্তি তার সালাত পূর্ণ করল, সে তার অন্তর ও আত্মার খোরাক পুরোপুরি লাভ করল। আর যতক্ষণ সে এর ওপর অটল থাকে, তার শক্তি পূর্ণতা পায় এবং তার সুস্থতা ও কল্যাণ বজায় থাকে। আর যে ব্যক্তি তার সালাত পূর্ণ করল না, তার অন্তর ও আত্মা এর শক্তি ও খোরাক পুরোপুরি পেল না। ফলে তার অন্তর ক্ষুধার্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় খোরাকের অভাবে তা রুগ্ন হয়ে যায় অথবা মরে যায়; যেমন শরীর রুগ্ন ও অসুস্থ হয়ে পড়ে যখন সে তার উপযুক্ত খাদ্য ও শক্তি গ্রহণ পূর্ণ করে না। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।(১)

• হানি ইবনে মুয়াবিয়া আস-সাদাফি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

আমি উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে হজ করেছিলাম। তখন আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মসজিদে বসলাম। সেখানে এক ব্যক্তি লোকদের নিকট হাদিস বর্ণনা করছিলেন, তিনি বললেন:

একদা আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি আসলেন এবং এই স্তম্ভের নিকট সালাত আদায় করলেন। তিনি সালাত পূর্ণ করার আগেই তাড়াহুড়ো করে শেষ করলেন এবং বেরিয়ে গেলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন:

«এই ব্যক্তি যদি এই অবস্থায় মারা যেত, তবে সে দীনের ওপর না থেকেই মারা যেত। নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি তার সালাত সংক্ষিপ্ত করেও তা পূর্ণাঙ্গ করতে পারে।»

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারি (৭/ ১৬২)