(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الوجيز في إيضاح قواعد الفقة الكلية   (محمد صدقي آل بورنو)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: الوجيز في إيضاح قواعد الفقة الكلية

المؤلف: الشيخ الدكتور محمد صدقي بن أحمد بن محمد آل بورنو أبو الحارث الغزي

الناشر: مؤسسة الرسالة العالمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الرابعة، 1416 هـ - 1996 م

عدد الصفحات: 409

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ওয়াজিজ ফি ইদাহি কাওয়াইদিল ফিকহিল কুল্লিয়াহ   (মুহাম্মাদ সিদকি আল-বুরনো)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি মূলনীতিসমূহ (القواعد الفقهية)


গ্রন্থ: আল-ওয়াজিজ ফি ইদাহি কাওয়াইদিল ফিকহিল কুল্লিয়াহ

লেখক: শায়খ ডক্টর মুহাম্মাদ সিদকি বিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ আল-বুরনো আবুল হারিস আল-গাজ্জি

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ আল-আলামিয়াহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: চতুর্থ, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم.

اسم الكتاب:

الوجيز في إيضاح قواعد الفقه الكلية.

تأليف الشيخ الدكتور:

محمد صدقي بن أحمد بن محمد البورنو أبي الحارث الغزي.

غفر الله له ولوالديه وللمسلمين.

مؤسسة الرسالة.

(المجلد الأول) .
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

গ্রন্থের নাম:

আল-ওয়াজিজ ফি ইদাহি কাওয়াইদিল ফিকহিল কুল্লিয়াহ।

রচনা করেছেন শায়খ ডক্টর:

মুহাম্মদ সিদকী বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-বুরনো আবু আল-হারিস আল-গাজ্জি।

আল্লাহ তাকে, তার পিতা-মাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন।

মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ।

(প্রথম খণ্ড) ।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
--‌‌ القسم الأول:

-- المقدمات والمبادئ
.
--‌‌ প্রথম অংশ:

-- ভূমিকা ও মূলনীতিসমূহ
.
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
--‌‌ المقدمة الأولى:

-- معنى القواعد الفقهية والتعريف بها:

1. المعنى اللغوي للقواعد:

القواعد جمع قاعدة، ومعنى القاعدة: أصل الأُس، وأساس البناء والقواعد الإساس، وقواعد البيت إسَاسُه، ومنه قوله تعالى: (وإذ يرفع إبراهيم القواعد من البيت وإسماعيل ربنا تقبَّل منا) . البقرة، آية (127) .

ومنه قوله تعالى: (فأتى الله بنيانَهم من القواعد) . النحل، آية (26) .

قال الزجاج: القواعد أساطين البناء التي تعمده، وقواعد الهودج خشبات أربع معترضة في أسفله تُرّكب عيدان الهودج فيها.

قال أبو عبيد: قواعد السحاب أصولها المعترضة في آفاق السماء، شُبهت بقواعد البناء.

قال ابن الأثير: أراد بالقواعد ما اعترض منها وسفل تشبيهاً بقواعد البناء.
প্রথম ভূমিকা:

-- ফিকহী মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) অর্থ ও এর পরিচিতি:

১. 'কাওয়াইদ' (القواعد) শব্দের শাব্দিক অর্থ:

'কাওয়াইদ' (القواعد) শব্দটি 'কায়েদাহ' (قاعدة) এর বহুবচন। 'কায়েদাহ' (قاعدة) এর অর্থ হলো: মূল ভিত্তি এবং ইমারতের বুনিয়াদ। 'কাওয়াইদ' (القواعد) হলো ভিত্তি এবং ঘরের 'কাওয়াইদ' (قواعد البيت) বলতে তার বুনিয়াদকে বুঝায়। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী: (এবং স্মরণ করুন, যখন ইবরাহিম ও ইসমাইল কাবার ভিত্তি (القواعد) স্থাপন করছিল তখন তারা বলছিল, হে আমাদের রব! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন)। আল-বাকারা, আয়াত (১২৭)।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর আল্লাহ তাদের দালানকোঠার মূল ভিত্তিমূলে (القواعد) আঘাত করলেন)। আন-নাহল, আয়াত (২৬)।

আয-যাজ্জাজ বলেন: 'কাওয়াইদ' (القواعد) হলো ইমারতের সেই স্তম্ভসমূহ যা তাকে ধরে রাখে। আর হাওদার 'কাওয়াইদ' (قواعد الهودج) হলো এর নিচের দিকে আড়াআড়িভাবে রাখা চারটি কাষ্ঠখণ্ড, যার উপর হাওদার অন্যান্য কাঠগুলো বসানো হয়।

আবু উবাইদ বলেন: মেঘমালার 'কাওয়াইদ' (قواعد السحاب) হলো আকাশের দিগন্তে বিস্তৃত তার মূল অংশসমূহ, যা ইমারতের ভিত্তির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ইবনুল আসীর বলেন: তিনি 'কাওয়াইদ' (القواعد) দ্বারা মেঘের সেই অংশগুলোকে বুঝিয়েছেন যা আড়াআড়িভাবে থাকে এবং নিচের দিকে অবস্থান করে, যা ইমারতের ভিত্তির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
قال ذلك في بيان حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم حين سأل عن سحابة مرَّت فقال: كيف ترون قواعدها وبواسقها. وقالوا في المرأة التي قعدت عن الحيض والأزواج قاعد والجمع قواعد، ومنه قوله تعالى: (والقواعد من النساء التي لا يرجون نِكاحاً) . النور، آية (60) .

ومن معاني القاعدة في اللغة: الضابط وهو: الأمر الكلي ينطبق على جزئيات، مثل قولهم: كل أذون ولود وكل صموخ بيوض.

2. المعنى الاصطلاحي للقاعدة:

وأما معنى القاعدة في الاصطلاح الفقهي فقد اختلف الفقهاء في تعريفها بناء على اختلافهم في مفهومها هل هي قضية كلية أو قضية أغلبية؟ فمن نظر إلى أن القاعدة هي قضية كلية عرَّفها بما يدل على ذلك حيث قالوا في تعريفها: القاعدة هي:

1. قضية كلية منطبقة على جميع جزئياتها.

2. قضية كلية يتعرف منها أحكام جزئياتها.

3. حكم كلي ينطبق على جميع جزئياته ليتعرف أحكامها منه.
এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি হাদিসের বর্ণনায় বলা হয়েছে, যখন তিনি পাশ দিয়ে যাওয়া একটি মেঘ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "তোমরা এর ভিত্তি (قواعد) এবং উচ্চতা (بواسق) কীভাবে দেখছ?" এবং তারা এমন মহিলার ক্ষেত্রেও শব্দটি ব্যবহার করেন যে ঋতুস্রাব ও বিবাহ থেকে বিরত হয়েছে, যার একবচন 'কায়েদ' (قاعد) এবং বহুবচন হলো 'কাওয়ায়েদ' (قواعد)। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: "আর বৃদ্ধা নারীরা (والقواعد من النساء) যারা বিবাহের আশা রাখে না।" (সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬০)।

আভিধানিক অর্থে কায়িদাহ (القاعدة)-এর অন্যতম অর্থ হলো: মূলনীতি (الضابط), আর তা হলো এমন একটি সামগ্রিক বিষয় যা তার অংশসমূহের ওপর প্রযোজ্য হয়। যেমন তাদের প্রবাদ: প্রতিটি কানবিশিষ্ট প্রাণী বাচ্চা প্রসব করে এবং প্রতিটি ছিদ্রহীন কানবিশিষ্ট প্রাণী ডিম পাড়ে।

২. কায়িদাহ (القاعدة)-এর পারিভাষিক অর্থ:

আর ফিকহী পরিভাষায় কায়িদাহ (القاعدة)-এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ফকিহগণ এর ধারণার পার্থক্যের কারণে মতভেদ করেছেন যে, এটি কি একটি সামগ্রিক বিষয় (قضية كلية) নাকি অধিকাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিষয় (قضية أغلبية)? সুতরাং যারা কায়িদাহ (القاعدة)-কে একটি সামগ্রিক বিষয় (قضية كلية) হিসেবে বিবেচনা করেছেন, তারা এর এমন সংজ্ঞা দিয়েছেন যা একথাই নির্দেশ করে। তারা এর সংজ্ঞায় বলেছেন: কায়িদাহ (القاعدة) হলো:

১. এমন একটি সামগ্রিক বিষয় (قضية كلية) যা এর সকল উপ-শাখার ওপর প্রযোজ্য হয়।

২. এমন একটি সামগ্রিক বিষয় (قضية كلية) যার মাধ্যমে এর উপ-শাখাগুলোর বিধান জানা যায়।

৩. এমন একটি সামগ্রিক বিধান (حكم كلي) যা এর সকল উপ-শাখার ওপর প্রযোজ্য হয় যাতে এর মাধ্যমে ওই উপ-শাখাগুলোর বিধান জানা যায়।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
4. حكم كلي ينطبق على جميع جزئياته ليتعرف به أحكام الجزئيات والتي تندرج تحتها من الحكم الكلي.

5. الأمر الكلي الذي ينطبق عليه جزئيات كثيرة تفهم أحكامها منه.

6. أمر كلي منطبق على جزئيات موضوعه.

7. عبارة عن صور كلية تنطبق كل واحدة منها على جزئياتها التي تحتها.

8. هي القضايا الكلية التي تعرف بالنظر فيها قضايا جزئية.

9. قضية كلية يتعرف منها أحكام الجزئيات المندرجة تحت موضوعها.

10. أصول فقهية كلية في نصوص موجزة دستورية تتضمن أحكاماً تشريعية عامة في الحوادث التي تدخل تحت موضوعها.

11. أصول ومبادئ كلية تصاغ في نصوص موجزة تتضمن أحكاماً تشريعية عامة في الحوادث التي تدخل تحت موضوعها.

وهذه التعريفات كلها متقاربة تؤدي معنى متحداً وإن اختلفت عباراتها حيث تفيد جميعها أن القاعدة هي حكم أو أمر كلي أو قضية كلية تفهم منها أحكام
4. এটি একটি সাধারণ বিধান (حكم كلي) যা তার সমস্ত অংশবিশেষের (جزئيات) ওপর প্রযোজ্য হয়, যাতে এর মাধ্যমে ওই সাধারণ বিধানের (حكم كلي) অন্তর্ভুক্ত অংশবিশেষগুলোর (جزئيات) বিধান জানা যায়।

5. এটি এমন একটি সামগ্রিক বিষয় (الأمر الكلي) যার ওপর অনেকগুলো অংশবিশেষ (جزئيات) প্রযোজ্য হয় এবং সেগুলো থেকে ওই বিষয়ের বিধানসমূহ বোঝা যায়।

6. এটি একটি সামগ্রিক বিষয় (أمر كلي) যা তার আলোচ্য বিষয়ের অংশবিশেষগুলোর (جزئيات) ওপর প্রযোজ্য।

7. এটি হলো এমন কিছু সামগ্রিক রূপের অভিব্যক্তি যার প্রতিটি তার অন্তর্ভুক্ত অংশবিশেষের (جزئيات) ওপর প্রযোজ্য হয়।

8. এগুলো হলো সামগ্রিক বিষয়াবলি (القضايا الكلية) যা পর্যালোচনার মাধ্যমে আংশিক বিষয়গুলো (قضايا جزئية) জানা যায়।

9. এটি একটি সামগ্রিক বিষয় (قضية كلية) যা থেকে তার আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত অংশবিশেষগুলোর (جزئيات) বিধান জানা যায়।

10. এগুলো ফিকহশাস্ত্রের সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ (أصول فقهية كلية) যা সংক্ষিপ্ত সাংবিধানিক পাঠ্যরূপে বিদ্যমান এবং যা তার আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ঘটনাবলির সাধারণ আইনি বিধানসমূহকে শামিল করে।

11. সামগ্রিক মূলনীতি ও আদর্শসমূহ (أصول ومبادئ كلية) যা সংক্ষিপ্ত পাঠ্যে রচিত হয় এবং যা তার আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ঘটনাবলির সাধারণ আইনি বিধানসমূহকে ধারণ করে।

এই সংজ্ঞাসমূহ সবই কাছাকাছি এবং অভিন্ন অর্থ প্রদান করে, যদিও এগুলোর শব্দচয়ন ভিন্ন। কারণ এগুলোর সবকটিই এই অর্থ প্রদান করে যে, মূলনীতি (قاعدة) হলো একটি বিধান (حكم) অথবা একটি সামগ্রিক বিষয় (أمر كلي) অথবা একটি সামগ্রিক মূলনীতি (قضية كلية), যা থেকে বিভিন্ন বিধান অনুধাবন করা যায়।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الجزئيات التي تندرج تحت موضوعها وتنطبق عليها.

ومن نظر إلى أن القاعدة الفقهية قضية أغلبية نظراً لما يستثنى منها عرَّفها بأنها حكم أكثري لا كلي، ينطبق على أكثر جزئياته لتعرف أحكامها منه.

وقال في تهذيب الفروق: ومن المعلوم أن أكثر قواعد الفقه أغلبية، والقول إن أكثر قواعد الفقه أغلبية مبني على وجود مسائل مستثناة من تلك القواعد تخالف أحكامها حكم القاعدة، ولذلك قيل: حينما أرجع المحققون المسائل الفقهية عن طريق الاستقراء إلى قواعد كلية كل منها ضابط وجامع لمسائل كثيرة، واتخذوها أدلة لإثبات أحكام تلك المسائل رأوا أن بعض فروع تلك القواعد يعارضه أثر أو ضرورة أو قيد أو علة مؤثرة تخرجها عن الاطراد فتكون مستثناة من تلك القاعدة ومعدولاً بها عن سنن القياس فحكموا عليها بالأغلبية لا بالاطراد.

فمثال الاستثناء بالأثر جواز السلم والإجارة في بيع المعدوم الذي الأصل فيه عدم جوازه، ومثال الاستثناء بالإجماع عقد الاستصناع.

ومثال الاستثناء بالضرورة طهارة الحياض والآبار في الفلوات مع ما تلقيه الريح فيها من البعر والروث وغيره.

ولكن العلماء مع ذلك قالوا: إن هذا (أي الاستثناء وعدم الاطراد) لا ينقض كلية تلك القواعد ولا يقدح في عمومها للأسباب الآتية:
সেই শাখা-প্রশাখা বা আংশিক বিষয়সমূহ যা এর আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং যার ওপর এটি প্রয়োগ করা হয়।

আর যারা ফিকহী মূলনীতিকে (القاعدة الفقهية) একটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিষয় (قضية أغلبية) হিসেবে বিবেচনা করেন—এ থেকে যা কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে তার প্রেক্ষাপটে—তারা একে অধিকাংশের বিধান, সামগ্রিক নয় (حكم أكثري لا كلي) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন; যা এর অধিকাংশ শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যেন এর মাধ্যমে সেগুলোর বিধান জানা যায়।

তাহযীবুল ফুরুক গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি সুপরিচিত যে, ফিকহের অধিকাংশ মূলনীতি (قواعد الفقه) হচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর ফিকহের অধিকাংশ মূলনীতি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার দাবিটি এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত কিছু ব্যতিক্রম (مستثناة) মাসআলার অস্তিত্বের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, যেগুলোর বিধান উক্ত মূলনীতির বিধানের পরিপন্থী। এই কারণেই বলা হয়েছে: যখন গবেষকগণ অনুসন্ধান বা আরোহ পদ্ধতির (الاستقراء) মাধ্যমে ফিকহী মাসআলাসমূহকে সামগ্রিক মূলনীতির (قواعد كلية) দিকে ফিরিয়ে নিয়েছেন—যাদের প্রতিটি বহু মাসআলার জন্য সুশৃঙ্খল নিয়ম (ضابط) এবং সমন্বয়কারী (جامع) হিসেবে কাজ করে—এবং সেই মাসআলাগুলোর বিধান প্রমাণের জন্য সেগুলোকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তখন তারা লক্ষ্য করেছেন যে, ঐ মূলনীতিগুলোর কিছু শাখা এমন আছে যা কোনো বর্ণনা (أثر), আবশ্যকতা (ضرورة), শর্ত (قيد) অথবা এমন কোনো কার্যকর কারণের (علة مؤثرة) সাথে সাংঘর্ষিক হয় যা একে নিয়মিত বা ধ্রুব হওয়া (الاطراد) থেকে বের করে দেয়। ফলে সেগুলো সেই মূলনীতি থেকে ব্যতিক্রম (مستثناة) হয়ে যায় এবং কিয়াসের সাধারণ পদ্ধতি (سنن القياس) থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে; তাই তারা সেগুলোকে নিয়মিত বা ধ্রুব হওয়ার (الاطراد) পরিবর্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার রায় দিয়েছেন।

বর্ণনা (الأثر) দ্বারা ব্যতিক্রমের (الاستثناء) উদাহরণ হলো অবিদ্যমান বস্তু বিক্রির ক্ষেত্রে সালাম (السلم) ও ইজারা (الإجارة) বৈধ হওয়া, যার মূল নিয়ম (الأصل) হলো এটি বৈধ না হওয়া। আর ইজমা (الإجماع) দ্বারা ব্যতিক্রমের উদাহরণ হলো পণ্য তৈরির চুক্তি বা ইসতিসনা (الاستصناع)।

আর জরুরি প্রয়োজনের (بالضرورة) কারণে ব্যতিক্রমের উদাহরণ হলো মরুভূমির হাউজ ও কূপগুলোর পবিত্রতা, যদিও বাতাস সেখানে উটের বিষ্ঠা, গোবর বা এই জাতীয় অপবিত্র বস্তু নিক্ষেপ করে।

তবে তা সত্ত্বেও উলামায়ে কিরাম বলেছেন: এই বিষয়টি (অর্থাৎ ব্যতিক্রম এবং নিয়মিত বা ধ্রুব না হওয়া) ঐ মূলনীতিগুলোর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ করে না এবং নিম্নোক্ত কারণসমূহের ভিত্তিতে সেগুলোর ব্যাপকতার ক্ষেত্রেও কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না:
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
أولاً: لما كان مقصد الشارع ضبط الخلق إلى القواعد العامة، وكانت القواعد التي قد جرت بها سنة الله أكثرية لا عامة، وكانت الشريعة موضوعة على مقتضى ذلك الوضع، كان من الأمر الملتفت إليه إجراء القواعد على العموم العادي لا على العموم الكلي العام الذي لا يتخلف عنه جزئي ما.

ويقول الشاطبي في موافقاته تأييداً لهذا: إن الأمر الكلي إذا ثبت فتخلف بعض الجزئيات عن مقتضاه لا يخرجه عن كونه كلياً، وأيضاً فإن الغالب الأكثري معتبر في الشريعة اعتبار القطعي.

ثانياً: إن المتخلفات الجزئية لا ينتظم منها كلي يعارض هذا الكلي الثابت، وهذا شأن الكليات الاستقرائية، وإنما يتصور أن يكون تخلف بعض الجزئيات قادحاً في الكليات العقلية.

فالكليات الاستقرائية صحيحة وإن تخلف عن مقتضاها بعض الجزئيات.

كما يقال كل حيوان يحرك فكه الأسفل حين المضغ، وهذه قاعدة كلية استقرائية خرج عنها: التمساح، حيث يقال: إنه يحرك فكه الأعلى حين المضغ فخروج التمساح عن القاعدة لا يخرجها عن كونها كلية. فكأنه قيل: كلي حيوان يحرك فكه الأسفل حين المضغ إلا التمساح.

فالعموم العادي المبني على الاستقراء لا يوجب عدم التخلف بل الذي
প্রথমত: যেহেতু শরীয়তদাতার (الشارع) উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টিজগতকে সাধারণ নিয়মনীতির (القواعد العامة) অধীনে সুশৃঙ্খল করা, আর আল্লাহর রীতি অনুযায়ী প্রচলিত নিয়মগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (أكثرية), সর্বজনীন (عامة) নয়; এবং যেহেতু শরীয়ত সেই বাস্তবতার নিরিখে প্রবর্তিত হয়েছে, তাই এক্ষেত্রে নিয়মগুলোকে স্বভাবগত সাধারণত্বের (العموم العادي) ওপর প্রয়োগ করাই সংগত, কোনো সামগ্রিক সাধারণত্বের (العموم الكلي العام) ওপর নয় যা থেকে কোনো ক্ষুদ্রাংশও (جزئي) বিচ্যুত হয় না।

ইমাম শাতিবী তার মুওয়াফাকাত গ্রন্থে এর সমর্থনে বলেন: কোনো সামগ্রিক বিষয় (الأمر الكلي) যখন প্রমাণিত হয়, তখন কিছু আংশিক বিষয়ের (الجزئيات) তার দাবি থেকে বিচ্যুত হওয়া তাকে সামগ্রিক হওয়ার বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত করে না। অধিকন্তু, শরীয়তের বিধানে অধিকাংশের (الغالب الأكثري) বিষয়টি অকাট্য (القطعي) হিসেবেই বিবেচিত।

দ্বিতীয়ত: এই আংশিক বিচ্যুতিগুলো একত্রিত হয়ে এমন কোনো সামগ্রিক রূপ ধারণ করে না যা পূর্বনির্ধারিত সামগ্রিক মূলনীতির পরিপন্থী হয়। আর আরোহী সামগ্রিক বিষয়গুলোর (الكليات الاستقرائية) প্রকৃতি এমনই। মূলত আংশিক বিষয়ের বিচ্যুতি কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক বা যৌক্তিক সামগ্রিক বিষয়গুলোর (الكليات العقلية) ক্ষেত্রে ত্রুটি হিসেবে গণ্য হয়।

সুতরাং আরোহী সামগ্রিক বিষয়গুলো (الكليات الاستقرائية) সঠিক ও নির্ভুল, যদিও তার দাবি থেকে কিছু আংশিক বিষয়ের (الجزئيات) ব্যত্যয় ঘটে।

যেমন বলা হয়, সকল প্রাণী চিবানোর সময় তার নিচের চোয়াল নাড়ায়। এটি একটি আরোহী সামগ্রিক মূলনীতি (قاعدة كلية استقرائية), যা থেকে কুমির ব্যতিক্রম। কেননা বলা হয় যে, কুমির চিবানোর সময় তার ওপরের চোয়াল নাড়ায়। সুতরাং কুমিরের এই নিয়মের বাইরে থাকা উক্ত মূলনীতিকে সামগ্রিক (كلية) হওয়া থেকে খারিজ করে দেয় না। এটি যেন এমন বলা হলো: কুমির ব্যতীত প্রতিটি প্রাণীই চিবানোর সময় তার নিচের চোয়াল নাড়ায়।

সুতরাং আরোহের (الاستقراء) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত স্বভাবগত সাধারণত্ব (العموم العادي) কোনো প্রকার বিচ্যুতির অনুপস্থিতিকে অনিবার্য করে না, বরং যা...
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
يوجب عدم التخلف إنما هو العموم العقلي لأن العقليات طريقها البحث والنظر، وأما الشرعيات فطريقها الاستقراء ولا ينقضه تخلف بعض الجزئيات.

ثالثاً: ومن ناحية أخرى فإن تخلف مسألة ما عن حكم قاعدة ما يلزم منه اندراج هذه المسألة تحت حكم قاعدة أخرى، فالمسألة المخرَّجة تندرج ظاهراً تحت حكم قاعدة، ولكنها في الحقيقة مندرجة تحت حكم قاعدة أخرى وهذا من باب تنازع المسألة بين قاعدتين.

فليس إذاً استثناء جزئية من قاعدة ما بقادح في كلية هذه القاعدة ولا بمخرج لتلك الجزئية عن الاندراج تحت قاعدة أخرى.
ব্যতিক্রমহীনতা বজায় রাখা কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যাপকতার (العموم العقلي) ক্ষেত্রে আবশ্যক, কারণ বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের পদ্ধতি হলো অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ; আর শরয়ি বিষয়সমূহের পদ্ধতি হলো আরোহ পদ্ধতি (الاستقراء), তাই কিছু আংশিক বিষয়ের (جزئيات) ব্যতিক্রম ঘটা একে নাকচ করে দেয় না।

তৃতীয়ত: অন্য দিক থেকে বিচার করলে, কোনো একটি মাসয়ালা কোনো একটি মূলনীতির (قاعدة) বিধান থেকে বিচ্যুত হওয়ার অর্থ হলো সেই মাসয়ালাটি অন্য কোনো মূলনীতির বিধানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া। সুতরাং যে মাসয়ালাটি কোনো মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হয়, তা বাহ্যিকভাবে একটি মূলনীতির অধীনে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা অন্য একটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত; আর এটি মূলত দুই মূলনীতির মাঝে কোনো বিষয়ের দ্বন্দ্ব (تنازع) সংক্রান্ত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, কোনো মূলনীতি (قاعدة) থেকে কোনো আংশিক বিষয়কে (جزئية) ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করা ওই মূলনীতির সামগ্রিকতাকে (كلية) ক্ষুণ্ণ করে না, আর না সেই আংশিক বিষয়টি অন্য কোনো মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বের হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
--‌‌ المقدمة الثانية:

-- الفروع بين القواعد الفقهية والقواعد الأصولية:

علم الفقه وعلم أصول الفقه علمان مرتبطان بارتباط وثيق بحيث يكاد المرء يجزم بالوحدة بينهما، وكيف لا يكون ذلك وأحدهما أصل والآخر فرع لذلك الأصل، كأصل الشجرة وفرعها، فالأصولي ينبغي أن يكون فقيهاً، والفقيه ينبغي أن يكون أصولياً وإلا كيف استنباط الحكم من الدليل؟ وكيف يكون مجتهداً من لم يتبحر في علم الأصول؟

ومع ذلك يمكن أن يقال: إنهما علمان متمايزان فأحدهما مستقل عن الآخر من حيث موضوعه واستمداده وثمرته والغاية من دراسته.

وبالتالي فإن قواعد كل علم منهما تتميز عن قواعد الآخر تبعاً لتمايز موضوعي العلمين: فموضوع علم أصول الفقه هو أدلة الفقه الإجمالية والأحكام وما يعرض لكل منها، وأما موضوع علم الفقه فهو أفعال المكلفين وما يستحقه كل فعل من حكم شرعي عملي. وبالتالي فإن قواعد علم أصول الفقه تفترق وتتميز عن قواعد علم الفقه، وإن من أول من فرَّق بين قواعد هذين العلمين وميَّز بينهما الإمام شهاب الدين القرافي في مقدمة كتابه (الفروق) حيث قال: أما بعد فإن الشريعة المعظمة المحمدية زاد الله منارها شرفاً وعلواً اشتملت على أصول وفروع، وأصولها قسمان: أحدهما المسمى بأصول الفقه وهو في غالب أمره ليس فيه إلا قواعد
দ্বিতীয় ভূমিকা:

-- ফিকহী মূলনীতি (القواعد الفقهية) এবং উসূলী মূলনীতির (القواعد الأصولية) মধ্যবর্তী শাখাসমূহ:

ফিকহ শাস্ত্র (علم الفقه) এবং ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (علم أصول الفقه) এমন দুটি শাস্ত্র যা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত, এমনকি এদের একাত্মতা সম্পর্কে মানুষ প্রায় সুনিশ্চিত হতে পারে। আর কেনই বা তা হবে না, যেখানে একটি মূল (أصل) এবং অন্যটি সেই মূলের শাখা (فرع), যেমন গাছের মূল এবং তার শাখা। সুতরাং একজন উসূলবিদের (الأصولي) জন্য ফকীহ (فقيهاً) হওয়া উচিত, আর একজন ফকীহ (الفقيه) এর জন্য উসূলবিদ (أصولياً) হওয়া আবশ্যক; অন্যথায় কীভাবে দলিল থেকে বিধান আহরণ (استنباط) করা সম্ভব হবে? আর যে ব্যক্তি উসূল শাস্ত্রের গভীর জ্ঞানে অবগাহন করেনি, সে কীভাবে মুজতাহিদ (مجتهداً) হবে?

তা সত্ত্বেও বলা যেতে পারে যে: এরা দুটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র; যার একটি অপরটি থেকে এর আলোচ্য বিষয় (موضوعه), উৎসের ভিত্তি (استمداده), ফলাফল (ثمرته) এবং অধ্যয়নের লক্ষ্যের দিক থেকে পৃথক।

ফলস্বরূপ, এই দুই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়ের ভিন্নতার কারণে প্রতিটি শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ (قواعد) একে অপরের থেকে পৃথক হয়ে থাকে। ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতির (علم أصول الفقه) আলোচ্য বিষয় হলো ফিকহ শাস্ত্রের সামগ্রিক দলিলসমূহ (أدلة الفقه الإجمالية), বিধানসমূহ (الأحكام) এবং এগুলোর প্রত্যেকটির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি। পক্ষান্তরে, ফিকহ শাস্ত্রের (علم الفقه) আলোচ্য বিষয় হলো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কার্যাবলি (أفعال المكلفين) এবং প্রতিটি কাজের জন্য প্রাপ্য ব্যবহারিক শরয়ি বিধান (حكم شرعي عملي)। ফলে ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতির (علم أصول الفقه) নিয়মাবলি ফিকহ শাস্ত্রের নিয়মাবলি থেকে পৃথক ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়। এই দুই শাস্ত্রের মূলনীতির মধ্যে সর্বপ্রথম যারা পার্থক্য ও বৈচিত্র্য নিরূপণ করেছেন, তাদের অন্যতম হলেন ইমাম শিহাবুদ্দিন আল-কারাফি তাঁর রচিত আল-ফুরূক গ্রন্থের ভূমিকায়; যেখানে তিনি বলেছেন: অতঃপর, মহান মুহাম্মদী শরীয়ত—আল্লাহ এর আলোকবর্তিকার মর্যাদা ও উচ্চতাকে বৃদ্ধি করুন—মূল (أصول) এবং শাখা (فروع) সম্বলিত। এর মূলসমূহ (أصول) দুই প্রকার: প্রথমটি উসূল আল-ফিকহ নামে পরিচিত, যার অধিকাংশ বিষয়ই মূলনীতি (قواعد) ব্যতীত আর কিছু নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الأحكام الناشئة عن الألفاظ العربية خاصة وما يعر لتلك الألفاظ من النسخ والترجيح ونحو: الأمر للوجوب، والنهي للتحريم، والصبغة الخاصة للعموم ونحو ذلك، وما خرج عن هذا النمط إلا كون القياس حجة وخبر الواحد وصفات المجتهدين.

والقسم الثاني: قواعد كلية فقهية جليلة كثيرة العدد عظيمة المدد مشتملة على أسرار الشرع وحِكَمِه، لكل قاعدة من الفروع في الشريعة ما لا يحصى، ولم يذكر منها شيء في أصول الفقه وإن اتفقت الإشارة إليه هنالك على سبيل الإجمال فبقي تفصيله لم يتحصل، وهذه القواعد مهمة في الفقه عظيمة النفع، إلخ ما قال:

وقال في موضع آخر: إن القواعد ليست مستوعبة في أصول الفقه بل للشريعة قواعد كثيرة جداً عند أئمة الفتوى والفقهاء لا توجد في كتب أصول الفقه أصلاً.

وإذا دققنا النظر في قواعد الأصول وقواعد الفقه لرأينا أن فروقاً عدة تميز بينهما منها.

1. أن قواعد الأصول إنما تتعلق بالألفاظ ودلالاتها على الأحكام في غالب أحوالها، وأما قواعد الفقه فتتعلق بالأحكام ذاتها.

2. أن قواعد الأصول إنما وضعت لتضبط للمجتهد طرق الاستنباط واستدلاله وترسم للفقيه مناهج البحث والنظر في استخراج الأحكام الكلية من الأدلة الإجمالية، وأما قواعد الفقه فإنما تراد لتربط المسائل المختلفة الأبواب برباط
আরবি শব্দাবলি থেকে উদ্ভূত বিধানসমূহ এবং এই শব্দাবলির ক্ষেত্রে যা ঘটে থাকে যেমন রহিতকরণ (النسخ) ও প্রাধান্য প্রদান (الترجيح) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো: যেমন আদেশ (الأمر) আবশ্যকতা (الوجوب) বোঝাতে, এবং নিষেধ (النهي) হারাম হওয়া (التحريم) বোঝাতে, আর বিশেষ রূপটি ব্যাপকতা (العموم) বোঝাতে ব্যবহৃত হওয়া ইত্যাদি। আর এই কাঠামোর বাইরে কেবল তুলনা বা অনুমান (القياس) প্রমাণ (حجة) হওয়া, একক সংবাদ (خبر الواحد) এবং মুজতাহিদগণের (المجتهدين) গুণাবলির বিষয়গুলো রয়েছে।

দ্বিতীয় প্রকার: ফিকহের মহান ও সার্বজনীন মূলনীতিসমূহ (قواعد كلية فقهية) যা সংখ্যায় অনেক এবং যার সাহায্য অপরিসীম, যা শরীয়তের রহস্য ও হিকমতসমূহকে ধারণ করে। শরীয়তের অসংখ্য শাখাগত মাসআলা (الفروع) প্রতিটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত। উসুল আল-ফিকহে এগুলোর কোনো উল্লেখ নেই, যদিও সেখানে সংক্ষিপ্তভাবে (الإجمال) এগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে, তবে এর বিস্তারিত বিবরণ অর্জিত হয়নি। ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এই মূলনীতিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর উপকারিতা অপরিসীম... ইত্যাদি যা তিনি বলেছেন।

তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: উসুল আল-ফিকহ এই মূলনীতিগুলোকে পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারেনি, বরং ফতোয়া প্রদানকারী ইমামগণ (أئمة الفتوى) এবং ফকিহগণের (الفقهاء) নিকট শরীয়তের এমন অসংখ্য মূলনীতি রয়েছে যা উসুল আল-ফিকহের কিতাবগুলোতে আদৌ পাওয়া যায় না।

যদি আমরা উসুলের মূলনীতি এবং ফিকহের মূলনীতিগুলোর ওপর গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করি, তবে আমরা এ দুটির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য দেখতে পাব, যার মধ্যে রয়েছে:

1. উসুলের মূলনীতিসমূহ (قواعد الأصول) অধিকাংশ ক্ষেত্রে শব্দাবলি এবং বিধানের (الأحكام) ওপর সেগুলোর নির্দেশিকা বা অর্থব্যঞ্জকতা (دلالاتها) নিয়ে আলোচনা করে, পক্ষান্তরে ফিকহের মূলনীতিসমূহ স্বয়ং বিধানসমূহ (الأحكام) নিয়ে আলোচনা করে।

2. উসুলের মূলনীতিসমূহ (قواعد الأصول) মূলত প্রণয়ন করা হয়েছে যাতে তা মুজতাহিদের জন্য মাসআলা আহরণ (الاستنباط) ও দলীল পেশ করার (استدلاله) পদ্ধতিগুলোকে সুশৃঙ্খল করে এবং সামগ্রিক দলিলসমূহ (الأدلة الإجمالية) থেকে সামগ্রিক বিধানসমূহ (الأحكام الكلية) আহরণের ক্ষেত্রে ফকিহর জন্য গবেষণা ও পর্যালোচনার পথরেখা অঙ্কন করে। আর ফিকহের মূলনীতিগুলোর উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন অধ্যায়ের মাসআলাগুলোকে একটি সুতোয় গেঁথে দেওয়া...
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
متحد وحكم واحد هو الحكم الذي سيقت القاعدة لأجله.

3. إن قواعد الأصول إنما تبنى عليها الأحكام الإجمالية وعن طريقها يستنبط الفقيه أحكام المسائل الجزئية من الأدلة التفصيلية.

وأما قواعد الفقه فإنما تعلل بها أحكام الحوادث المتشابهة وقد تكون أصلاً لها.

4. إن قواعد الأصول محصورة في أبواب الأصول ومواضعه ومسائله، وأما قواعد الفقه العام والفتوى عند جميع المذاهب ولم تجمع للآن في إطار واحد، وكان هذا هو الدافع لتأليف موسوعة القواعد الفقهية التي أرجو الله سبحانه أن يعينني على إتمامها بمنه وكرمه.

5. إن قواعد الأصول إذا اتفق على مضمونها لا يستثنى منها شيء فهي قواعد كلية مطردة كقواعد العربية بلا خلاف.

وأما قواعد الفقه فهي مع الاتفاق على مضمون كثير منها يستثنى من كل منها مسائل تخالف حكم القاعدة بسبب من الأسباب كالاستثناء بالنص أو الإجماع أو الضرورة أو غير ذلك من أسباب الاستثناء ولذلك يطلق عليها كثيرون بأنها قواعد أغلبية أكثرية لا كلية مطردة.

ومع وضوح الفروق بين القواعد الأصولية والقواعد الفقهية فقد نجد قواعد مشتركة بين العلمين ولكن تختلف فيهما زاوية النظر، حيث إن القاعدة الأصولية ينظر إليها من حيث كونها دليلاً إجمالياً يستنبط منه حكم كلي، والقاعدة الفقهية ينظر إليها من حيث كونها حكماً جزئياً لفعل من أفعال المكلفين.

فمثلاً قاعدة: (الاجتهاد لا ينقض) بمثله أو بالاجتهاد، ينظر إليها
অভিন্ন এবং একক বিধান, যা মূলত সেই বিধান যার উদ্দেশ্যে মূলনীতিটি আনয়ন করা হয়েছে।

৩. উসূলের মূলনীতিসমূহের (قواعد الأصول) ওপর ভিত্তি করেই সামগ্রিক বিধানসমূহ (الأحكام الإجمالية) রচিত হয় এবং এর মাধ্যমেই ফকিহ বিস্তারিত দলীলসমূহ (الأدلة التفصيلية) থেকে আংশিক মাসআলাসমূহের বিধান উদ্ভাবন করেন।

পক্ষান্তরে ফিকহী মূলনীতিসমূহের (قواعد الفقه) মাধ্যমে সদৃশ ঘটনাসমূহের বিধানের কারণ দর্শানো হয় এবং কখনও কখনও এটি সেগুলোর মূল ভিত্তিও হয়ে থাকে।

৪. উসূলের মূলনীতিসমূহ উসূলের অধ্যায়, ক্ষেত্র ও মাসআলাসমূহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পক্ষান্তরে সাধারণ ফিকহী মূলনীতি ও ফতোয়া সকল মাযহাবের নিকট বিদ্যমান থাকলেও এখন পর্যন্ত তা কোনো একক কাঠামোর অধীনে সংকলিত হয়নি। আর এটিই ছিল ‘মাউসুআতুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ’ রচনার মূল প্রেরণা। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় আমাকে এটি সম্পন্ন করার তৌফিক দান করেন।

৫. উসূলের মূলনীতিসমূহের বিষয়বস্তুর ব্যাপারে যখন ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তা থেকে কোনো কিছুই বাদ পড়ে না। ফলে এগুলো আরবি ভাষার ব্যাকরণের ন্যায় কোনো প্রকার মতভেদ ছাড়াই সামগ্রিক ও সার্বজনীন মূলনীতি (قواعد كلية مطردة)।

পক্ষান্তরে ফিকহী মূলনীতিসমূহের অধিকাংশের বিষয়বস্তুর ওপর ঐক্যমত থাকা সত্ত্বেও প্রত্যেকটি থেকে এমন কিছু মাসআলা বাদ পড়ে যা বিশেষ কোনো কারণে মূলনীতির বিধানের পরিপন্থী হয়। যেমন: নাস (النص), ইজমা (الإجماع), প্রয়োজনীয়তা (الضرورة) অথবা অন্য কোনো বর্জনীয় কারণের ভিত্তিতে ব্যতিক্রম হওয়া। এই কারণেই অনেকে এগুলোকে সংখ্যাগুরু বা অধিকাংশের মূলনীতি (قواعد أغلبية أكثرية) বলে অভিহিত করেন, সামগ্রিক ও সার্বজনীন মূলনীতি (كلية مطردة) হিসেবে নয়।

উসূলী মূলনীতি ও ফিকহী মূলনীতির মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আমরা উভয় শাস্ত্রের মধ্যে কিছু অভিন্ন মূলনীতিও দেখতে পাই। তবে সেগুলোর ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা রয়েছে। কেননা উসূলী মূলনীতিকে এমন একটি সামগ্রিক দলীল (دليل إجمالي) হিসেবে বিবেচনা করা হয় যা থেকে একটি সামগ্রিক বিধান (حكم كلي) উদ্ভাবিত হয়। আর ফিকহী মূলনীতিকে মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তির কার্যাবলীর একটি আংশিক বিধান (حكم جزئي) হিসেবে দেখা হয়।

উদাহরণস্বরূপ একটি মূলনীতি: (ইজতিহাদ (الاجتهاد) সমপর্যায়ের কিছু দ্বারা বা ইজতিহাদ (الاجتهاد) দ্বারা বাতিল হবে না), এর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়-
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الأصولي من حيث كونها دليلاً يعتمد عليه في بيان عدم جواز نقض أحكام القضاة وفتاوى المفتين إذا تعلقت بها الأحكام على سبيل العموم والإجمال.

وينظر إليها الفقه من حيث تعليل فعل من أفعال المكلفين فيبين حكمه من خلالها، فإذا حكم حاكم أو قاض بنقض حكم في مسألة مجتهد فيها كالخلع هل هو فسخ للعقد أو طلاق، وقد كان حكم حاكم في مسألة بعينها بأن الخلع فسخ، وأجاز العقد على امرأة خالعها زوجها ثلاث مرات أو بعد طلقتين، ثم جاء حاكم آخر فأراد التفريق بين الزوجين؛ لأنه يرى أن الخلع طلاق فيقال له: لا يجوز ذلك؛ لأن الاجتهاد لا ينقض بمثله.

ولكن لك في مسألة أخرى متشابهة أن تحكم فيها باجتهادك لا أن تنقض حكمك أو حكم غيرك في مسألة اجتهادية لا نصية.
একজন উসুলবিদের (নীতিশাস্ত্রবিদ) নিকট এটি এমন একটি প্রমাণ (دليل) হিসেবে বিবেচিত, যার ওপর ভিত্তি করে সাধারণ (عموم) এবং সংক্ষিপ্ত (إجمال) ভাবে সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোর ক্ষেত্রে বিচারকদের রায় এবং মুফতিদের ফতোয়া রদ করার অবৈধতা বর্ণনা করা হয়।

আর ফিকহ (فقه) একে শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের (مكلفين) কর্মের কারণ বিশ্লেষণের (تعليل) দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে থাকে এবং এর মাধ্যমেই সেই কর্মের বিধান স্পষ্ট করে। সুতরাং, যদি কোনো শাসক বা বিচারক এমন কোনো ইজতিহাদলব্ধ (مجتهد فيه) মাসআলায় পূর্ববর্তী রায় রদ করার নির্দেশ দেন—যেমন খোলা (خلع) কি বৈবাহিক চুক্তির বাতিলকরণ (فسخ) নাকি তালাক (طلاق)—অথচ ইতিপূর্বে একজন বিচারক একটি নির্দিষ্ট মাসআলায় খোলাকে বাতিলকরণ (فسخ) হিসেবে রায় দিয়েছিলেন এবং এমন এক মহিলার সাথে পুনরায় বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলেন যাকে তার স্বামী তিনবার বা দুইবার তালাকের পর খোলা করেছিল; অতঃপর অন্য একজন বিচারক এসে সেই দম্পতির মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে চাইলেন, কারণ তিনি মনে করেন যে খোলা হলো তালাক (طلاق); তবে তাকে বলা হবে: এটি বৈধ নয়; কারণ একটি ইজতিহাদ (اجتهاد) অন্য একটি অনুরূপ ইজতিহাদ (اجتهاد) দ্বারা রদ করা যায় না।

তবে অন্য একটি অনুরূপ মাসআলায় আপনি আপনার নিজস্ব ইজতিহাদ (اجتهاد) অনুযায়ী রায় দিতে পারেন, কিন্তু কোনো ইজতিহাদলব্ধ (اجتهادي) বিষয়ে—যা সুস্পষ্ট পাঠভিত্তিক (نصي) নয়—সেখানে আপনার নিজের বা অন্যের রায় আপনি রদ করতে পারবেন না।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
--‌‌ المقدمة الثالثة:

-- ميزة القواعد الفقهية ومكانتها في الشريعة وفوائد دراستها:

قال القرافي: إن القواعد ليست مستوعبة في أصول الفقه بل للشريعة قواعد كثيرة جداً عند أئمة الفتوى والفقهاء لا توجد في كتب أصول الفقه أصلاً.

هذه المقولة الصادقة من عالم مدقق فاحص تعطينا ميزات عظيمة من ميزات القواعد الفقهية وهي كونها قواعد كثيرة جداً غير محصورة بعدد، وهي منثورة في كتب الفقه العام والفتاوى والأحكام، وهو رحمة الله قد أراد من تأليف كتابه الفروق جمع هذه القواعد في كتاب واحد يجمع شتاتها ويكشف أسرارها وحكمها، ولكنه رحمه الله ما استوعب ولا قارب.

والميزة الثانية من ميزات القواعد أنها تمتاز بإيجاز عبارتها مع عموم معناها وسعة استيعابها للمسائل الجزئية إذ تصاغ القاعدة في جملة مفيدة مكونة من كلمتين أو بضع كلمات من ألفاظ العموم، مثل قاعد (العادة محكمة) وقاعدة: (الأعمال بالنيات) أو (الأمور بمقاصدها) وقاعدة (المشقة تجلب التيسير) فكل من هذه القواعد تعتبر من جوامع الكلم إذ يندرج تحت كل منها ما لا يحصى من المسائل الفقهية المختلفة.

والميزة الثالثة من ميزات القواعد أنها تمتاز بأن كلأ منها ضابط يضبط فروع الأحكام العملية ويربط بينها برابطة تجمعها وإن اختلفت موضوعاتها وأبوابها، قال الأستاذ مصطفى الزرقا مد الله في عمره في الخير: لولا هذه القواعد لبقيت الأحكام الفقهية فروعاً مشتتة قد تتعارض ظواهرها دون أصول تمسك بها وتبرز من
‌ তৃতীয় ভূমিকা:

-- ফিকহী মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) বৈশিষ্ট্য, শরিয়তে এগুলোর মর্যাদা এবং এগুলো অধ্যয়নের উপকারিতা:

আল-কারাফি বলেন: ফিকহী মূলনীতিসমূহ (القواعد الفقهية) কেবল উসুলুল ফিকহের (أصول الفقه) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মুফতি ও ফকীহগণের নিকট শরিয়তের এমন অসংখ্য মূলনীতি রয়েছে যা উসুলুল ফিকহের কিতাবসমূহে একেবারেই পাওয়া যায় না।

একজন সূক্ষ্মদর্শী ও গবেষক আলেমের এই সত্য ভাষণ আমাদের ফিকহী মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) এমন কিছু মহান বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবহিত করে, যা হলো—এগুলো অত্যন্ত অসংখ্য এবং কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। এগুলো সাধারণ ফিকহ, ফতোয়া ও আহকামের কিতাবসমূহে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর আল-ফুরুক কিতাবটি রচনার মাধ্যমে এই বিচ্ছিন্ন মূলনীতিগুলোকে এক কিতাবে সংকলন করতে চেয়েছিলেন যা এগুলোর বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করবে এবং এগুলোর রহস্য ও হিকমত উন্মোচন করবে। কিন্তু তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) এর সবগুলোকে আয়ত্ত করতে পারেননি এবং তার কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেননি।

ফিকহী মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলোর শব্দচয়ন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এর অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক এবং এটি গৌণ মাসআলাসমূহকে (المسائل الجزئية) ব্যাপকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ মূলনীতিটি এমন একটি অর্থবহ বাক্যে গঠন করা হয় যা দুই বা ততোধিক ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ (ألفاظ العموم) দ্বারা গঠিত। যেমন: 'প্রথা বিচারক হিসেবে গণ্য' (العادة محكمة) মূলনীতিটি, এবং 'আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল' (الأعمال بالنيات) বা 'উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ বিবেচিত' (الأمور بمقاصدها) মূলনীতিটি, এবং 'কষ্ট সহজসাধ্যতাকে টেনে আনে' (المشقة تجلب التيسير) মূলনীতিটি। এই প্রতিটি মূলনীতিই সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ কথার (جوامع الكلم) অন্তর্ভুক্ত; কারণ এগুলোর প্রত্যেকটির অধীনে অগণিত ভিন্ন ভিন্ন ফিকহী মাসআলা অন্তর্ভুক্ত হয়।

ফিকহী মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলোর প্রতিটিই এক একটি মানদণ্ড (ضابط), যা আমলি আহকামের শাখা-প্রশাখাগুলোকে সুশৃঙ্খল করে এবং এগুলোর বিষয়বস্তু ও অধ্যায় ভিন্ন ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও একটি সূত্রের মাধ্যমে সেগুলোর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে। অধ্যাপক মুস্তাফা আল-জারকা (আল্লাহ তাঁকে কল্যাণের সাথে দীর্ঘজীবী করুন) বলেন: "যদি এই মূলনীতিসমূহ (القواعد) না থাকত, তবে ফিকহী বিধানসমূহ এমন কিছু বিচ্ছিন্ন শাখা হিসেবে থেকে যেত যেগুলোর বাহ্যিক রূপের মধ্যে পরস্পর বিরোধিতা পরিলক্ষিত হতো; সেগুলোকে ধরে রাখার মতো কোনো মূলনীতি (أصول) থাকত না যা থেকে সেগুলো প্রকাশিত হয়..."
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
خلالها العلل الجامعة.

وأما فوائد القواعد الفقهية فهي كثيرة جداً نكتفي بذكر بعضٍ منها:

أولاً: ذكرنا أن من ميزات القواعد الفقهية أنها تضبط الفروع الفقهية وتجمع شتاتها تحت ضابط واحد مهما اختلفت موضوعاتها إذا اتحد حكمها. فهي بذلك تيسر على الفقهاء والمفتين ضبط الفقه بأحكامه فهو كما قال القرافي: (من ضبط الفقه بقواعده استغنى عن حفظ أكثر الجزئيات لاندراجها في الكليات) . لأن حفظ جزئيات الفقه وفروعه يستحيل أن يقدر عليه إنسان، لكن حفظ القواعد مهما كثرت يدخل تحت الإمكان.

ثانياً: إن دراسة القواعد الفقهية تكوِّن عند الباحث ملكة فقهية قوية تنير أمامه الطريق لدراسة أبواب الفقه الواسعة والمتعددة ومعرفة الأحكام الشرعية واستنباط الحلول للوقائع المتجددة والمسائل المتكررة.

ثالثاً: إن دراسة هذه القواعد الفقهية والإلمام بها واستيعابها يعين القضاة والمفتين والحكام عند البحث عن حلول للمسائل المعروضة والنوازل الطارئة بأيسر سبيل وأقرب طريق.

ولذلك قال بعضهم: إن حكم دراسة القواعد الفقهية والإلمام بها على القضاة والمفتين فرض عين وعلى غيرهم فرض كفاية.

رابعاً: لما كانت القواعد الفقهية في أكثرها موضع اتفاق بين الأئمة المجتهدين ومواضع الخلاف فيها قليلة فإن دراسة القواعد والإلمام بها تربي عند الباحث
যার মাধ্যমে সমন্বিত কারণসমূহ (العلل الجامعة) জানা যায়।

আর ফিকহি মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) উপকারিতা অনেক; আমরা এখানে কেবল কিছু উল্লেখ করছি:

প্রথমত: আমরা উল্লেখ করেছি যে, ফিকহি মূলনীতিসমূহের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি ফিকহের শাখাগত বিষয়সমূহকে (الفروع الفقهية) সুশৃঙ্খল করে এবং সেগুলোর বিভিন্ন বিষয়বস্তু হওয়া সত্ত্বেও অভিন্ন বিধানের ভিত্তিতে একটি একক নিয়মের (ضابط) অধীনে একত্রিত করে। ফলে এটি ফকিহ ও মুফতিদের জন্য ফিকহের বিধানসমূহ আয়ত্ত করা সহজ করে দেয়। যেমনটি আল-কারাফি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ফিকহকে তার মূলনীতিসমূহের মাধ্যমে আয়ত্ত করবে, সে অধিকাংশ খুটিনাটি বিষয় (الجزئيات) মুখস্থ করার প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্তি পাবে, কারণ সেগুলো সামষ্টিক মূলনীতিসমূহের (الكليات) অন্তর্ভুক্ত।" কেননা ফিকহের সকল খুটিনাটি বিষয় ও শাখা-প্রশাখা মুখস্থ করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব, কিন্তু মূলনীতিসমূহ যত বেশিই হোক না কেন, তা আয়ত্ত করা সম্ভবপর।

দ্বিতীয়ত: ফিকহি মূলনীতিসমূহের অধ্যয়ন গবেষকের মধ্যে একটি শক্তিশালী ফিকহি যোগ্যতা (ملكة فقهية) তৈরি করে, যা তার সামনে ফিকহের বিস্তৃত ও বহুবিধ অধ্যায়গুলো অধ্যয়ন করার পথকে আলোকিত করে। এর ফলে সে শরিয়তের বিধানসমূহ জানতে পারে এবং নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতি ও বারবার ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোর সমাধান উদ্ঘাটন করতে পারে।

তৃতীয়ত: এই ফিকহি মূলনীতিসমূহ অধ্যয়ন, এ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান ও তা অনুধাবন করা বিচারক, মুফতি ও শাসকদের উপস্থাপিত সমস্যা এবং উদ্ভূত সংকটময় বিষয়সমূহের (النوازل الطارئة) সহজ ও সংক্ষিপ্ততম উপায়ে সমাধান খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

এজন্য কেউ কেউ বলেছেন: বিচারক ও মুফতিদের জন্য ফিকহি মূলনীতিসমূহ অধ্যয়ন করা এবং এ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য (فرض عين), আর অন্যদের জন্য এটি সামষ্টিক আবশ্যিক কর্তব্য (فرض كفاية)।

চতুর্থত: যেহেতু অধিকাংশ ফিকহি মূলনীতি মুজতাহিদ ইমামদের (الأئمة المجتهدين) মধ্যে ঐকমত্যের বিষয় এবং এতে মতভেদের ক্ষেত্রগুলো খুব সীমিত, তাই এই মূলনীতিগুলো অধ্যয়ন ও এ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা গবেষকের মধ্যে...
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ملكة المقارنة بين المذاهب المختلفة وتوضح له وجهاً من وجوه الاختلاف وأسبابه بين المذاهب.

خامساً: إن دراسة القواعد الفقهية وإبرازها تظهر مدى استيعاب الفقه الإسلامي للأحكام، ومراعاته للحقوق والواجبات، وتسهل على غير المختصين بالفقه الاطلاع على محاسن هذا الدين، وتبطل دعوة من ينتقصون الفقه الإسلامي ويتهمونه بأنه إنما يشتمل على حلول جزئية وليس قواعد كلية.
বিভিন্ন মাযহাবের মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনার যোগ্যতা (ملكة) তৈরি করে এবং এটি মাযহাবসমূহের মধ্যকার মতভেদের স্বরূপ ও এর কারণসমূহ সুস্পষ্ট করে।

পঞ্চমত: ফিকহী মূলনীতিসমূহ (القواعد الفقهية) অধ্যয়ন এবং তা ফুটিয়ে তোলা বিধিবিধানের (الأحكام) ক্ষেত্রে ইসলামী ফিকহের ব্যাপকতা এবং অধিকার ও কর্তব্যের প্রতি এর সজাগ দৃষ্টির বিষয়টি ফুটিয়ে তোলে। এটি ফিকহ শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ নন এমন ব্যক্তিদের জন্য এই দ্বীনের সৌন্দর্য সম্পর্কে অবগত হওয়া সহজ করে দেয়। এছাড়া এটি ঐসব ব্যক্তিদের দাবিকে অসার প্রমাণ করে যারা ইসলামী ফিকহকে খাটো করে দেখে এবং এই অভিযোগ করে যে, এটি কেবল আংশিক সমাধান (حلول جزئية) প্রদান করে, কোনো সামগ্রিক মূলনীতি (قواعد كلية) নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
--‌‌ المقدمة الرابعة:

-- أنواع القواعد الفقهية ومراتبها:

القواعد الفقهية ليست نوعاً واحداً، ولا كلها في مرتبة واحدة، وإنما هي أنواع وراتب، ويرجع هذا التنوع إلى سببين رئيسيين:

الأول: من حيث شمول القاعدة وسعة استيعابها للفروع والمسائل الفقهية.

الثاني: من حيث الاتفاق على مضمون القاعدة أو الاختلاف فيه.

فمن حيث الشمول والسعة تنقسم القواعد الفقهية إلى ثلاث مراتب:

المرتبة الأولى: القواعد الكلية الكبرى ذوات الشمول العام والسعة العظيمة للفروع والمسائل حيث يندرج تحت كلِّ منها جُلُّ أبواب الفقه ومسائله وأفعال المكلفين إن لم يكن كلها.

وهذه القواعد ست هي:

1. قاعدة (إنما الأعمال بالنيات) أو (الأمور بمقاصدها) .

2. قاعدة (اليقين لا يزول، أو لا يرتفع بالشك) .

3. قاعدة (المشقة تجلب التيسير) .

4. قاعدة (لا ضرر ولا ضرار) أو (الضرر يزال) .

5. قاعدة (العادة محكَّمة) .

6. قاعدة (إعمال الكلام أولى من إهماله) .

المرتبة الثانية: قواعد أضيق مجالاً من سابقاتها (وإن كانت ذوات شمول وسعة) حيث يندرج تحت كل منها أعداد لا تحصى من مسائل الفقه في الأبواب المختلفة، وهي
চতুর্থ ভূমিকা:

-- ফিকহী মূলনীতিসমূহের প্রকারভেদ ও স্তরসমূহ:

ফিকহী মূলনীতিসমূহ কেবল এক প্রকারের নয় এবং সবগুলো একই স্তরেরও নয়। বরং এগুলো বিভিন্ন প্রকার ও স্তরের হয়ে থাকে। এই বৈচিত্র্যের মূলে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে:

প্রথম: মূলনীতির ব্যাপকতা এবং ফিকহী শাখা-প্রশাখা ও মাসআলাসমূহ অন্তর্ভুক্ত করার পরিধির দিক থেকে।

দ্বিতীয়: মূলনীতির বিষয়বস্তুর ওপর ঐকমত্য বা মতভেদের দিক থেকে।

ব্যাপকতা ও পরিধির দিক থেকে ফিকহী মূলনীতিসমূহকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে:

প্রথম স্তর: প্রধান সর্বজনীন মূলনীতিসমূহ, যেগুলোর ব্যাপকতা সাধারণ এবং শাখা-প্রশাখা ও মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে এগুলোর পরিধি অত্যন্ত বিশাল। এগুলোর প্রত্যেকটির অধীনে ফিকহের অধিকাংশ অধ্যায়, মাসআলা এবং শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত হয়, যদি না তার সবগুলোই অন্তর্ভুক্ত হয়।

এই মূলনীতিগুলো সংখ্যায় ছয়টি, যা হলো:

১. মূলনীতি: (সকল কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল) অথবা (উদ্দেশ্য অনুযায়ী কার্যাবলীর হুকুম নির্ধারিত হয়)।

২. মূলনীতি: (নিশ্চয়তা সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না)।

৩. মূলনীতি: (কষ্ট বা সংকীর্ণতা সহজতা বয়ে আনে)।

৪. মূলনীতি: (ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্তও হওয়া যাবে না) অথবা (ক্ষতি দূর করতে হবে)।

৫. মূলনীতি: (প্রথা বা অভ্যাস ফয়সালার ভিত্তি হিসেবে গণ্য)।

৬. মূলনীতি: (বক্তব্যকে অর্থবহ করা তা বর্জন করার চেয়ে উত্তম)।

দ্বিতীয় স্তর: এমন মূলনীতিসমূহ যেগুলোর ক্ষেত্র পূর্বোক্তগুলোর তুলনায় কিছুটা সংকীর্ণ (যদিও এগুলোর মধ্যেও ব্যাপকতা ও বিশালতা রয়েছে), যেখানে এগুলোর প্রত্যেকটির অধীনে বিভিন্ন অধ্যায়ের অগণিত ফিকহী মাসআলা অন্তর্ভুক্ত হয়। আর সেগুলো হলো:
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
قسمان:

(ا) قسم يندرج تحت القواعد الكبرى ويتفرع عليها.

(ب) قسم آخر لا يندرج تحت أي منها.

فمثال القسم الأول: قاعدة: (الضرورات تبيح المحظورات، وهي تتفرع على قاعدة (المشقة تجلب التيسير) وقاعدة (لا ينكر تغير الأحكام الاجتهادية بتغير الأزمان) وهي مندرجة تحت قاعدة (العادة محكَّمة) .

ومثال القسم الثاني: قاعدة: (الاجتهاد لا ينقض بالاجتهاد، أو بمثله) .

وقاعدة: (التصرف على الرعية منوط بالمصلحة) .

المرتبة الثالثة: القواعد ذوات المجال الضيق التي لا عموم فيها حيث تختص بباب أو جزء باب، وهذه التي تسمى بالضوابط جمع ضابط أو ضابطة، وفي هذا يقول الإمام عبد الوهاب بن السبكي رحمه الله فالقاعدة: (الأمر الكلي الذي ينطبق عليه جزئيات كثيرة تفهم أحكامها منها) . ومنها ما لا يختص بباب كقولنا: (اليقين لا يرفع بالشك) ومنها ما يختص كقولنا: (كل كفارة سببها معصية فهي على الفور) .

والغالب فيما قصد بباب وقُصد به نظم صور متشابهة أن يسمى (ضابطاً) . وأما من حيث الاتفاق على مضمون القاعدة والاختلاف فيها فهي تنقسم إلى مرتبتين:

المرتبة الأولى: القواعد المتفق على مضمونها عند جميع الفقهاء ومختلف المذاهب.

فمن قواعد هذه المرتبة: كل القواعد الكلية الكبرى وأكثر القواعد الأخرى.
দুই প্রকার:

(ক) এমন একটি প্রকার যা মৌলিক প্রধান নিয়মাবলীর (القواعد الكبرى) অন্তর্ভুক্ত এবং তা থেকে শাখা হিসেবে নির্গত হয়।

(খ) অপর একটি প্রকার যা এগুলোর কোনোটিরই অন্তর্ভুক্ত নয়।

প্রথম প্রকারের উদাহরণ: নীতি (قاعدة): (জরুরি অবস্থা নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে (الضرورات تبيح المحظورات))। এটি (কাঠিন্য সহজসাধ্যতাকে আনয়ন করে (المشقة تجلب التيسير)) নীতির একটি শাখা। অনুরূপভাবে (যুগের পরিবর্তনের সাথে ইজতিহাদলব্ধ বিধানের পরিবর্তন অনস্বীকার্য (لا ينكر تغير الأحكام الاجتهادية بتغير الأزمان)) নীতিটি (প্রথা বা রীতি বিচার্য বিষয় (العادة محكَّمة)) নীতির অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ: নীতি (قاعدة): (ইজতিহাদ ইজতিহাদ দ্বারা বা তার অনুরূপ দ্বারা বাতিল হয় না (الاجتهاد لا ينقض بالاجتهاد، أو بمثله))।

এবং নীতি (قاعدة): (প্রজাসাধারণের ব্যাপারে শাসক বা জিম্মাদারের হস্তক্ষেপ জনস্বার্থের সাথে সম্পৃক্ত (التصرف على الرعية منوط بالمصلحة))।

তৃতীয় স্তর: সংকীর্ণ পরিধির নিয়মাবলী যেগুলোতে ব্যাপকতা নেই, কারণ এগুলো কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায় (باب) বা অধ্যায়ের আংশিক বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। এগুলোকে বিশেষ মূলনীতি (الضوابط) বলা হয়, যা 'নিয়ন্ত্রক' (ضابط) বা (ضابطة)-এর বহুবচন। এ প্রসঙ্গে ইমাম আব্দুল ওয়াহাব ইবনে সুবকী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, নীতি (القاعدة) হলো: (এমন একটি সামগ্রিক বিষয় যা অনেকগুলো আংশিক বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয় এবং তা থেকে সেগুলোর বিধান বোঝা যায়)। এগুলোর মধ্যে এমন কিছু আছে যা কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায়ের (باب) সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, যেমন আমাদের কথা: (নিশ্চিত বিশ্বাস সংশয়ের কারণে দূর হয় না (اليقين لا يرفع بالشك))। আবার এমন কিছু আছে যা নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন আমাদের কথা: (পাপের কারণে যে কাফফারা ওয়াজিব হয়, তা অবিলম্বে আদায়যোগ্য (كل كفارة سببها معصية فهي على الفور))।

সাধারণত যা কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায় (باب) এবং সদৃশ বিষয়গুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়, তাকে 'নিয়ন্ত্রক' (ضابطاً) বলা হয়। আর নীতির বিষয়বস্তুর ওপর ঐক্যমত্য বা মতপার্থক্যের বিচারে এটি দুই স্তরে বিভক্ত:

প্রথম স্তর: এমন নিয়মাবলী যার বিষয়বস্তুর ওপর সকল ফকিহ (الفقهاء) এবং বিভিন্ন মাযহাব (المذاهب) একমত পোষণ করেছেন।

এই স্তরের নিয়মাবলীর অন্তর্ভুক্ত হলো: সকল মৌলিক প্রধান নিয়মাবলী (القواعد الكلية الكبرى) এবং অধিকাংশ অন্যান্য নীতি।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
المرتبة الثانية: القواعد المذهبية التي تختص بمذهب دون مذهب أو يعمل بمضمونها بعض الفقهاء دون الآخرين مع شمولها وسعة استيعابها لكثير من مسائل الفقه من أبواب مختلفة.

وهذه تعتبر من أسباب اختلاف الفقهاء من إصدار الأحكام تبعاً لاختلاف النظرة في مجال تعليل الأحكام.

ومن أمثلة هذه المرتبة: قاعدة: (لا حجة مع الاحتمال الناشئ عن دليل) . وأساسها قولهم: (إن التهمة إذا تطرقت إلى فعل الفاعل حكم بفساد فعله) . وهذه القاعدة يعمل بها الحنفية والحنابلة دون الشافعية، وقد يعمل بها المالكية ضمن قيود، ومنها عند الحنفية: (الأصل أن جواز البيع يتبع الضمان) .

وأما عند الشافعي: (فإن جواز البيع يتبع الطهارة) . ويأتي بيان ذلك في موضعه إن شاء الله.

مسألة: رأينا أن القواعد ذوات المجال الضيق (أي التي تختص بباب أو جزء باب) هي ضوابط إذ مجالها التطبيقي بعض الفروع الفقهية من باب واحد من أبواب الفقه، أو هي تختص بنوع من الأحكام الفرعية لا يعمم في غير مجاله.

ومثال الضابط: (إن المحرم إذا أخر النسك عن الوقت الموقت له أو قدَّمه لزمه دم) .

وهذا الضابط عند أبي حنيفة رحمه الله، وخالفه في ذلك الفقهاء الآخرون ومنهم تلميذاه أبو يوسف ومحمد بن الحسن.

فما الفروق بين القاعدة والضابط؟

مع أن الفقهاء كثيراً ما يستعملون لفظ (القاعدة) ويعنون بها الضابط،
দ্বিতীয় স্তর: মাযহাব-ভিত্তিক মূলনীতিসমূহ (القواعد المذهبية) যা কোনো বিশেষ মাযহাবের জন্য নির্দিষ্ট অথবা যেগুলোর মর্ম অনুযায়ী কিছু ফকিহ আমল করেন এবং অন্যরা করেন না, যদিও তা বিভিন্ন অধ্যায়ের অসংখ্য ফিকহি মাসআলাকে অন্তর্ভুক্ত করার মতো ব্যাপকতা রাখে।

বিধানের কারণ অনুসন্ধানের (تعليل الأحكام) ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার কারণে ফকিহদের মাঝে বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে মতভেদের অন্যতম কারণ হিসেবে এগুলো বিবেচিত হয়।

এই স্তরের অন্যতম উদাহরণ হলো একটি মূলনীতি (قاعدة): "দলিলজাতীয় কোনো সম্ভাবনার উপস্থিতিতে কোনো দাবিই অকাট্য প্রমাণ (حجة) হতে পারে না।" এর ভিত্তি হলো ফকিহদের এই উক্তি: "যদি কোনো কাজের কর্তার কাজের মধ্যে সন্দেহের (التهمة) অবকাশ থাকে, তবে তার কাজটি ফাসেদ বা বাতিল (فساد) বলে গণ্য হবে।" শাফেয়িগণ এই মূলনীতি (القاعدة) অনুসরণ না করলেও হানাফি ও হাম্বলিগণ এটি অনুসরণ করেন এবং মালেকিগণ কিছু শর্তসাপেক্ষে এটি অনুসরণ করতে পারেন। এর অন্তর্ভুক্ত একটি উদাহরণ হানাফি মাযহাবে হলো: "মূলনীতি (الأصل) হলো ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধতা জমানতের (الضمان) ওপর নির্ভরশীল।"

অন্যদিকে ইমাম শাফেয়ির মতে: "ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধতা পবিত্রতার (الطهارة) ওপর নির্ভরশীল।" ইনশাআল্লাহ, যথাস্থানে এর বিস্তারিত বিবরণ আসবে।

মাসআলা: আমরা দেখেছি যে সংকীর্ণ পরিধির মূলনীতিসমূহ (অর্থাৎ যেগুলো কোনো একটি অধ্যায় বা অধ্যায়ের কিছু অংশের সাথে নির্দিষ্ট) সেগুলো হলো 'যাবিতাহ' (ضوابط); কারণ এগুলোর প্রয়োগক্ষেত্র হলো ফিকহের কোনো একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ের কিছু উপ-শাখা মাত্র, অথবা এগুলো কোনো বিশেষ ধরণের উপ-শাখা সংক্রান্ত বিধানের (الأحكام الفرعية) সাথে নির্দিষ্ট যা অন্য ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হয় না।

যাবিতাহর (الضابط) উদাহরণ হলো: "ইহরামকারী যদি হজের কোনো বিধান নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে আদায় করে, তবে তার ওপর দম (دم) বা পশু কুরবানি করা ওয়াজিব হয়।"

এই যাবিতাহটি (الضابط) ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মতে প্রযোজ্য, তবে অন্যান্য ফকিহগণ এ ব্যাপারে তাঁর বিরোধিতা করেছেন, যাদের মধ্যে তাঁর দুই ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ বিন হাসানও রয়েছেন।

তাহলে 'কায়িদাহ' (القاعدة) এবং 'যাবিতাহ' (الضابط)-এর মধ্যে পার্থক্য কী? যদিও ফকিহগণ অনেক সময় 'কায়িদাহ' (القاعدة) শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন এবং তা দ্বারা 'যাবিতাহ' (الضابط) উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ويستعملون لفظ (الضابط) ويعنون به القاعدة، فالملاحظ أن بين القاعدة والضابط فرقين رئيسين هما:

الفرق الأول: أن القاعدة (كما سبق) تجمع فروعاً من أبواب شتى ويندرج تحتها من مسائل الفقه ما لا يحصى، وأما الضابط فإنه مختص بباب واحد من أبواب الفقه تعلل به مسائله، أو يختص بفرع واحد فقط.

الفرق الثاني: أن القاعدة في الأعم الأغلب متفق على مضمونها بين المذاهب أو أكثرها.

وأما الضابط فهو يختص بمذهب معين (إلا ما ندر عمومه) بل منه ما يكون وجهة نظر فقيه واحد في مذهب معين قد يخالفه فيه فقهاء آخرون من نفس المذهب، كما سبق في الضابط المتقدم.
তারা ‘সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক নীতি’ (الضابط) শব্দটি ব্যবহার করেন এবং এর দ্বারা ‘সাধারণ মূলনীতি’ (القاعدة) বুঝিয়ে থাকেন। লক্ষ্যণীয় যে, ‘সাধারণ মূলনীতি’ (القاعدة) এবং ‘সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক নীতি’ (الضابط)-এর মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য রয়েছে, সেগুলো হলো:

প্রথম পার্থক্য: ‘সাধারণ মূলনীতি’ (القاعدة) (যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে) বিভিন্ন অধ্যায়ের বিবিধ শাখাসমূহকে একত্রিত করে এবং এর অধীনে ফিকহ শাস্ত্রের অগণিত মাসআলা অন্তর্ভুক্ত হয়। পক্ষান্তরে, ‘সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক নীতি’ (الضابط) ফিকহ শাস্ত্রের কেবল একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে যার মাধ্যমে ওই অধ্যায়ের মাসআলাগুলোর কারণ ব্যাখ্যা করা হয়, অথবা এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট শাখার সাথে বিশিষ্ট থাকে।

দ্বিতীয় পার্থক্য: ‘সাধারণ মূলনীতি’ (القاعدة)-এর বিষয়বস্তুর ব্যাপারে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সকল মাযহাব (المذهب) অথবা অধিকাংশ মাযহাবের (المذهب) মধ্যে ঐক্যমত্য থাকে।

পক্ষান্তরে, ‘সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক নীতি’ (الضابط) কোনো একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের (المذهب) সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে (খুব অল্প সংখ্যক সাধারণ নীতি ব্যতীত); বরং এর কোনো কোনোটি একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের (المذهب) কোনো একজন ফকিহ (الفقيه)-এর ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গিও হতে পারে, যাতে একই মাযহাবের (المذهب) অন্যান্য ফকিহগণ (الفقيه) তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন, যেমনটি ইতিপূর্বে আলোচিত ‘সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক নীতি’ (الضابط)-এর বর্ণনায় অতিবাহিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
--‌‌ المقدمة الخامسة:

-- مصادر القواعد الفقهية:

أعني بمصادر القواعد الفقهية منشأ كل قاعدة منها وأساس ورودها.

تنقسم مصادر القواعد الفقهية إلى أقسام ثلاثة رئيسية:

القسم الأول: قواعد فقهية مصدرها النصوص الشرعية من كتاب وسنة، فما كان مصدره نصاً من الكتاب الكريم هو أعلى أنواع القواعد وأولاها بالاعتبار حيث إن الكتاب الكريم هو أصل الشريعة وكليتها وكل ما عداه من الأدلة راجع إليه، فمن آيات الكتاب التي جرت مجرى القواعد:

1. قوله تعالى: (وأحلَّ الله البيعَ وحرَّم الرِبا) . البقرة، آية (275) فقد جمعت هذه الآية على وجازة لفظها أنواع البيوع ما أحل منها وما حرَّم عدا ما استثنى.

2. ومنها قوله تعالى: (ولا تأكلوا أموالكُم بينَكم بالباطل) . البقرة، آية (188) . فهذه قاعدة شاملة لتحريم كل تعامل وتصرف يؤدي إلى أكل أموال الناس وإتلافها بالباطل من غير وجه مشروع يحله الله ورسوله، كالسرقة والغصب، الربا، والجهالة، والضرر، والغرر، فكل عقد باطل يعتبر نوعاً من أكل أموال الناس بالباطل.

3. ومنها قوله تعالى: (خُذِ العفو وأمُر بالعُرفِ وأعرِض عَنِ الجاهلين) . الأعراف، آية (199) .

فكما قال القرطبي وغيره: هذه الآية من ثلاث كلمات (أي جُمَل) تضمنت قواعد
পঞ্চম ভূমিকা:

-- ফিকহী মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) উৎসসমূহ:

ফিকহী মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) উৎস বলতে আমি প্রতিটি মূলনীতির উৎপত্তিস্থল এবং এর অবতারণার ভিত্তিকে বুঝিয়েছি।

ফিকহী মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) উৎসসমূহ তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত:

প্রথম বিভাগ: এমন ফিকহী মূলনীতিসমূহ (قواعد فقهية) যার উৎস হলো কুরআন ও সুন্নাহর শরয়ী ভাষ্যসমূহ (النصوص الشرعية)। যে সকল মূলনীতির উৎস পবিত্র কুরআনের কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص), তা হলো সর্বোচ্চ প্রকারের মূলনীতি এবং বিবেচনার ক্ষেত্রে সর্বাধিক অগ্রাধিকারযোগ্য; কেননা পবিত্র কুরআন হলো শরিয়তের মূল এবং এর সামগ্রিক রূপ, আর এটি ছাড়া অন্যান্য সকল দলিল (الأدلة) এরই দিকে প্রত্যাবর্তন করে। পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহের মধ্যে যেগুলি মূলনীতির ন্যায় প্রচলিত, সেগুলি হলো:

১. মহান আল্লাহর বাণী: "আর আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন এবং সুদকে (الربا) হারাম করেছেন।" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৭৫]। এই আয়াতটি তার সংক্ষিপ্ত শব্দচয়ন সত্ত্বেও সকল প্রকার ক্রয়-বিক্রয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে—চাই তা হালাল হোক বা হারাম, যা কিছু স্বতন্ত্রভাবে ব্যতিক্রম করা হয়েছে তা ব্যতীত।

২. মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৮]। এটি একটি ব্যাপক মূলনীতি (قاعدة), যা মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ এবং তা বিনষ্ট করার দিকে পরিচালিত করে এমন সকল লেনদেন ও কর্মকাণ্ডকে হারাম সাব্যস্ত করে, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক নির্ধারিত বৈধ পন্থার বহির্ভূত। যেমন: চুরি, জবরদখল (غصب), সুদ (الربا), অজ্ঞতা (الجهالة), ক্ষতি (الضرر), এবং ধোঁকা (الغرر); সুতরাং প্রতিটি বাতিল চুক্তিই (عقد باطل) মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করার একটি প্রকার হিসেবে গণ্য।

৩. মহান আল্লাহর বাণী: "আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন, সৎকাজের নির্দেশ দিন এবং মূর্খদের এড়িয়ে চলুন।" [সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৯৯]।

যেমনটি ইমাম কুরতুবী এবং অন্যান্যরা বলেছেন: এই আয়াতটি তিনটি বাক্য (অর্থাৎ বাক্যসমষ্টি) নিয়ে গঠিত যা অনেক মূলনীতি (قواعد) ধারণ করে আছে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
الشريعة في المأمورات والمنهيات.

فقوله سبحانه: (خُذِ العَفو) دخل فيه صلة القاطعين، والعفو عن المذنبين، والرفق بالمؤمنين، وغير ذلك من أخلاق المطيعين.

ودخل في قوله: (وَأمُر بالعُرفِ) صلة الأرحام وتقوى الله في الحلال والحرام وغض الأبصار، والاستعداد لدار القرار.

وفي قوله: (وأَعرِض عن الجاهلين) الحض على التعلق بالعلم، والإعراض عن أهل الظلم، والتنزه عن منازعة السفهاء، ومساواة الجهلة الأغبياء، وغير ذلك من الأخلاق الحميدة والأفعال الرشيدة.

وهذه الآية هي الجامعة لمكارم الأخلاق. قال جعفر الصادق: أمر الله نبيه بمكارم الأخلاق في هذه الآية، وليس في القرآن آية أجمع لمكارم الأخلاق من هذه الآية.

4. ومنها قوله تعالى: (يا أيها الذينَ آمنوا أوفُوا بالعُقُودِ) . المائدة، آية (1) . فالأمر يقتضي الوفاء بكل عقد مشروع، واحترام كل ما يلتزم به الإنسان مع الناس.
আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে শরীয়ত।

মহান আল্লাহর বাণী: (আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন) এর অন্তর্ভুক্ত হলো—সম্পর্ক ছিন্নকারীদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা, অপরাধীদের ক্ষমা করা, মুমিনদের প্রতি কোমল হওয়া এবং আনুগত্যশীলদের অন্যান্য সচ্চরিত্র।

এবং তাঁর বাণী: (সদাচারের নির্দেশ দিন) এর অন্তর্ভুক্ত হলো—আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা, হালাল ও হারামের ক্ষেত্রে আল্লাহভীতি অবলম্বন করা, দৃষ্টি অবনত রাখা এবং পরকালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

আর তাঁর বাণী: (আর মূর্খদের এড়িয়ে চলুন) এর মধ্যে রয়েছে—জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা, জালেমদের থেকে বিমুখ থাকা, নির্বোধদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকা, মূর্খ ও অজ্ঞদের সমপর্যায়ে যাওয়া থেকে বেঁচে থাকা এবং এ জাতীয় অন্যান্য প্রশংসনীয় চরিত্র ও সঠিক কার্যাবলি।

এই আয়াতটি সচ্চরিত্রের যাবতীয় বিষয়কে একত্রিতকারী। জাফর আস-সাদিক বলেন: আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে তাঁর নবীকে সচ্চরিত্রের নির্দেশ দিয়েছেন; আর পবিত্র কুরআনে সচ্চরিত্রের বিষয়গুলোকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে এই আয়াতের চেয়ে অধিক ব্যাপক আর কোনো আয়াত নেই।

৪. এর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: (হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো)। সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত (১)। এখানে এই নির্দেশটি প্রতিটি শরীয়তসম্মত চুক্তি পূর্ণ করা এবং মানুষের সাথে করা যাবতীয় অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াকে আবশ্যক করে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
5. قوله تعالى في الآية الجامعة الفاذة: (فَمَن يعمل مِثقال ذرَّةٍ خيراً يَرَه ومن يعمل مِثقالَ ذرةٍ شراً يَرَه) . الزلزلة، الآيتان (7 و8) .

وغير ذلك في كتاب الله كثير.

ومن الأحاديث الشريفة الجامعة التي جرت مجرى القواعد إلى جانب مهمتها التشريعية فإن الرسول صلى الله عليه وسلم أوتي جوامع الكلم واختصر له الكلام اختصاراً.

1. قوله عليه الصلاة والسلام وقد سئل عن حكم أنواع من الأشربة فقال عليه الصلاة والسلام: (كل مسكر حرام) . فدل هذا الحديث على وجازة لفظه على تحريم كل مسكر من عنب أو غيره مائع أو جامد، نباتي أو حيواني أو مصنوع.

2. ومنها قوله عليه الصلاة والسلام: (لا ضرر ولا ضرار) . القاعدة الكلية الكبرى، فهذا الحديث نص في تحريم الضرر بأنواعه لأن لا النافية تفيد استغراق الجنس فالحديث وإن كان خبراً لكنه في معنى النهي، فيصير المعنى (اتركوا كل ضرر وكل ضرار) .

3. ومنها قوله عليه الصلاة والسلام (المسلمون عند شروطهم) فظاهر المعنى وجوب احترام كل ما رضيه المتعاقدان من الشروط، إلا الشروط التي تحل الحرام أو تحرم الحلال، كما ورد في رواية.

القسم الثاني: ما كان من غير النصوص:
5. মহান আল্লাহ তাআলার বাণী এই ব্যাপক ও অনন্য আয়াতে: (অতঃপর যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ সৎকাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে এবং যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ অসৎকাজ করবে, সে তা দেখতে পাবে)। সূরা আল-যিলযাল, আয়াত (৭ ও ৮)।

এবং আল্লাহর কিতাবে এ জাতীয় আরও অনেক আয়াত রয়েছে।

আর সে সকল ব্যাপক অর্থবোধক হাদিসসমূহ যা এর আইনি ভূমিকার পাশাপাশি মূলনীতি হিসেবেও গণ্য হয়; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা’ (جوامع الكلم) দান করা হয়েছে এবং তাঁর জন্য বক্তব্যকে অত্যন্ত সংকুচিত ও সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।

1. তাঁর (রাসূলের) বাণী, যখন তাঁকে বিভিন্ন প্রকার পানীয়র বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেন: (প্রত্যেক মাদকদ্রব্যই হারাম)। সুতরাং এই হাদিসটি এর শব্দের সংক্ষিপ্ততা সত্ত্বেও আঙ্গুর বা অন্য কিছুর তৈরি প্রতিটি মাদকদ্রব্য—তা তরল বা কঠিন, উদ্ভিদজাত বা প্রাণীজাত অথবা কৃত্রিম যা-ই হোক না কেন—হারাম হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

2. এবং তাঁর (রাসূলের) বাণী: (ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না)। এটি একটি বৃহৎ সর্বজনীন মূলনীতি; সুতরাং এই হাদিসটি সকল প্রকার ক্ষতি হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট বক্তব্য (نص), কারণ 'লা' (لا) না-বোধক অব্যয়টি সম্পূর্ণ শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্ত করার (استغراق الجنس) অর্থ প্রদান করে। হাদিসটি যদিও বর্ণনাভঙ্গিতে সংবাদমূলক (خبر), কিন্তু এটি নিষেধের (نهي) অর্থ প্রদান করে। ফলে এর অর্থ দাঁড়ায় (তোমরা সকল প্রকার অনিষ্ট ও ক্ষতি বর্জন করো)।

3. এবং তাঁর (রাসূলের) বাণী: (মুসলিমরা তাদের শর্তাবলীতে অটল থাকবে)। এর বাহ্যিক (ظاهر) অর্থ হলো চুক্তি সম্পাদনকারী পক্ষদ্বয় যে সকল শর্তে সম্মত হয়েছে তা মেনে চলা আবশ্যিক, তবে সেই সকল শর্ত ব্যতীত যা হারামকে হালাল করে বা হালালকে হারাম করে, যেমনটি একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে।

দ্বিতীয় অংশ: যা দলিলসমূহ (نصوص) বহির্ভূত:
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وهو أنواع:

النوع الأول: قواعد فقهية مصدرها الإجماع المستند إلى الكتاب والسنة، فمن أمثلة قواعد هذا المصدر:

1. قولهم: (لا اجتهاد مع النص) فهذه القاعدة تفيد تحريم الاجتهاد في حكم مسألة ورد فيها نص من الكتاب أو السنة أو الإجماع لأنه إنما يحتاج للاجتهاد عند عدم وجود النص، أما عند وجوده فلا اجتهاد إلا في فهم النص ودلالته.

2. قولهم (الاجتهاد لا ينتقض بمثله) أو بالاجتهاد وهذا أمر مجمع عليه والمراد أن الأحكام الاجتهادية إذا فصلت بها الدعوى على الوجه الشرعي ونفذت أنه لا يجوز نقضها بمثلها لأن الاجتهاد الثاني ليس أولى من الاجتهاد الأول، ولأنه إذا نقض الأول جاز أيضاً نقض الثاني بثالث والثالث بغيره فلا يمكن أن تستقر الأحكام.

ولكن إذا تبين مخالفة الاجتهاد للنص الشرعي أو لمخالفته طريق الاجتهاد الصحيح، أو وقوع خطأ فاحش، فينقض حينئذٍ.

النوع الثاني: وهو قسمان:

الأول: قواعد فقهية أوردها الفقهاء المجتهدون مستنبطين لها من أحكام الشرع العامة ومستدلين لها بنصوص تشملها من الكتاب والسنة والإجماع ومعقول النصوص مثل:

1. قاعدة (الأمور بمقاصدها) مستدلين لها بقوله عليه الصلاة والسلام: (إنما الأعمال بالنيات) وقد جعلنا هذا الحديث رأس القاعدة وعنواناً دالاً عليها لا دليلاً لها، وصُدِّرت به موسوعة القواعد الفقهية تيمناً واقتداء.

ومثل قاعدة (اليقين لا يزول بالشك) المستَدَلّ لها بأحاديث كثيرة عن
এবং এটি বিভিন্ন প্রকারের:

প্রথম প্রকার: ফিকহী মূলনীতি (قواعد فقهية) যার উৎস হলো কুরআন ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে হওয়া সর্বসম্মতি (إجماع); এই উৎসের মূলনীতিসমূহের কিছু উদাহরণ হলো:

1. তাঁদের উক্তি: (স্পষ্ট দলিলের [النص] উপস্থিতিতে কোনো ইজতিহাদ [الاجتهاد] নেই)। এই মূলনীতিটি সেই বিষয়ের হুকুম বর্ণনায় ইজতিহাদকে (الاجتهاد) নিষিদ্ধ করে যেখানে কুরআন, সুন্নাহ বা সর্বসম্মতি (إجماع) থেকে কোনো স্পষ্ট দলিল (النص) বিদ্যমান রয়েছে। কেননা ইজতিহাদের (الاجتهاد) প্রয়োজন কেবল তখনই হয় যখন কোনো স্পষ্ট দলিল (النص) পাওয়া না যায়; কিন্তু দলিলের উপস্থিতিতে কেবল সেই টেক্সট বা দলিলের (النص) মর্ম ও উদ্দেশ্য বোঝার ক্ষেত্রেই ইজতিহাদ (الاجتهاد) হতে পারে।

2. তাঁদের উক্তি: (ইজতিহাদ [الاجتهاد] তার অনুরূপ ইজতিহাদ দ্বারা বাতিল হয় না) অথবা ইজতিহাদের দ্বারা। এটি একটি সর্বসম্মত (مجمع عليه) বিষয়। এর উদ্দেশ্য হলো—যখন কোনো ইজতিহাদপ্রসূ (اجتهادية) হুকুমের মাধ্যমে আইনি বিবাদ শরয়ি পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করা হয় এবং তা কার্যকর হয়, তখন অনুরূপ ইজতিহাদ দ্বারা তা বাতিল করা বৈধ নয়। কারণ দ্বিতীয় ইজতিহাদটি প্রথম ইজতিহাদের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য নয়। আর যদি প্রথমটিকে বাতিল করা হয়, তবে দ্বিতীয়টিকে তৃতীয়টির দ্বারা এবং তৃতীয়টিকে অন্যটির দ্বারা বাতিল করা জায়েজ হয়ে যাবে, যার ফলে হুকুম বা সিদ্ধান্তসমূহ কখনো স্থিতিশীল হতে পারবে না।

তবে যদি প্রতীয়মান হয় যে, ইজতিহাদটি (الاجتهاد) শরয়ি দলিলের (النص) পরিপন্থী, কিংবা ইজতিহাদের (الاجتهاد) সঠিক পদ্ধতির বরখেলাপ হয়েছে, অথবা তাতে বড় ধরনের কোনো ভুল সংঘটিত হয়েছে, তবে সেই ক্ষেত্রে তা বাতিল করা হবে।

দ্বিতীয় প্রকার: এটি দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথমত: সেই সকল ফিকহী মূলনীতি (قواعد فقهية) যা মুজতাহিদ (مجتهدون) ফকিহগণ শরীয়তের সাধারণ হুকুমসমূহ থেকে উদ্ভাবন করেছেন এবং কুরআন, সুন্নাহ, সর্বসম্মতি (إجماع) ও দলিলের যৌক্তিক বিশ্লেষণের (معقول النصوص) মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন। যেমন:

1. মূলনীতি (কাজসমূহ তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল [الأمور بمقاصدها])। তাঁরা এর সপক্ষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। আমরা এই হাদিসটিকে এই মূলনীতির শীর্ষ এবং পরিচায়ক শিরোনাম হিসেবে নির্ধারণ করেছি, কেবল দলিল হিসেবে নয়; এবং বরকত ও অনুসরণের উদ্দেশ্যে মউসুআতুল কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ এর শুরুতে এটি নিয়ে আসা হয়েছে।

এবং যেমন মূলনীতি (নিশ্চয়তা সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না [اليقين لا يزول بالشك]) যার সপক্ষে অনেক হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
رسول الله صلى الله عليه وسلم، مثل قوله عليه الصلاة والسلام (إذا شك أحدكم في صلاته فلم يدر كم صلى أثلاثاً أم أربعاً، فليطرح الشك وليبن على ما استيقن) . الحديث.

ومثل قاعدة: (المشقة تجلب التيسير) وهي قاعدة رفع الحرج وقاعدة الرخص الشرعية.

وأدلتها كثيرة من الكتاب والسنة والإجماع والمعقول.

ومثل قاعدة: (العادة محكَّمة) وهي قاعدة اعتبار العرف وتحكيمه فيما لا نص فيه وأدلتها من الكتاب والسنة والإجماع كثيرة منها قوله تعالى: (خُذ العفو وأمر بالعرف وأعرض عن الجاهلين) . الأعراف، آية (199) .

وقوله سبحانه (وعاشِروهن بالمعروف) . النساء، آية (19) .

ومنها قوله صلى الله عليه وسلم لهند (خذي ما يكفيك وولدك بالمعروف) .

ومنها قاعدة: (إعمال الكلام أولى من إهماله) ومن أدلتها قوله تعالى: (ما يلفظ من قول إلا لديه رقيب عتيد) . ق. آية (18) .

وقوله عليه الصلاة والسلام: (إن الله تعالى عند كل لسان قائل فليتق الله عبد ولينظر ما
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যেমন তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বাণী: (যদি তোমাদের কেউ তার সালাতে সন্দেহ করে এবং বুঝতে না পারে যে সে তিন রাকাত না চার রাকাত পড়েছে, তবে সে যেন সন্দেহ বর্জন করে এবং যা নিশ্চিত তার ওপর ভিত্তি করে)। হাদিস।

এবং যেমন মূলনীতি (قاعدة): (কষ্ট বা কাঠিন্য সহজসাধ্যতাকে আনয়ন করে), এটি হলো সংকীর্ণতা দূরীকরণের মূলনীতি (قاعدة) এবং শারয়ী অনুমোদন বা সহজীকরণের (رخص) মূলনীতি (قاعدة)।

এর প্রমাণাদি কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা এবং যৌক্তিক প্রমাণ (المعقول) হতে বহুবিধ বিদ্যমান।

এবং যেমন মূলনীতি (قاعدة): (অভ্যাস বা প্রথা বিচার্য), এটি হলো সামাজিক প্রথা (العرف) বিবেচনা করা এবং যে বিষয়ে কোনো অকাট্য দলিল (نص) নেই তাতে একে ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করার মূলনীতি (قاعدة)। এর স্বপক্ষে কিতাব, সুন্নাহ এবং ইজমা হতে অনেক দলিল রয়েছে, তন্মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: (তুমি ক্ষমা অবলম্বন করো, সৎকাজের (بالعرف) নির্দেশ দাও এবং মূর্খদের এড়িয়ে চলো)। সূরা আল-আরাফ, আয়াত (১৯৯)।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: (তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে (بالمعروف) জীবনযাপন করো)। সূরা আন-নিসা, আয়াত (১৯)।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো হিন্দের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (তুমি সদ্ভাবে (بالمعروف) তোমার ও তোমার সন্তানের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্রহণ করো)।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো মূলনীতি (قاعدة): (বাক্যকে অর্থবহ বা প্রয়োগ করা তা বর্জন করার চেয়ে শ্রেয়)। এর অন্যতম দলিল মহান আল্লাহর বাণী: (সে যে কথাই উচ্চারণ করে না কেন, তার নিকট সদা প্রস্তুত পর্যবেক্ষক নিয়োজিত থাকে)। সূরা ক্বাফ, আয়াত (১৮)।

এবং তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বাণী: (নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ প্রত্যেক বক্তার জিহ্বার নিকট অবস্থান করেন; সুতরাং বান্দার উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং লক্ষ্য রাখা সে কী...
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
يقول) . إحدى روايات الحديث.

الثاني: قواعد فقهية أوردها الفقهاء المجتهدون في مقام الاستدلال القياسي الفقهي، حيث تعتبر تعليلات الأحكام الفقهية الاجتهادية ومسالك الاستدلال القياسي عليها، أعظم مصدر لتقعيد هذه القواعد وإحكام صيغها عند استقرار المذاهب الفقهية الكبرى وانصراف أتباعها إلى تحريرها وترتيب أصولها وأدلتها، كما قال أستاذنا الزرقا.

وهذه القواعد التي استنبطها الفقهاء المتأخرون من خلال أحكام المسائل التي أوردها أئمة المذاهب في كتبهم أو نقلت عنهم لا تخرج عن نطاق أدلة الأحكام الشرعية الأصلية أو التبعية الفرعية، فالناظر لهذه القواعد والباحث عن أدلة ثبوتها وأساس التعليل بها يراها تندرج كل منها تحت دليل شرعي إما من الأدلة المتفق عليها كالكتاب والسنة والإجماع، وإما من الأدلة الأخرى كالقياس والاستصحاب والمصلحة أو الاستصلاح والعرف، والاستقراء، وغير ذلك مما يستدل به على الأحكام؟ لأنه لا يعقل ويستبعد جداً أن يبني فقيه مجتهد حكماً لمسألة فقهية، أو يعلل لمسائل فقهية معتمداً على مجرد الرأي غير المدعوم بأدلة الشرع أو معتمداً على الهوى والتشهي، فهم رحمة الله عليهم كانوا أجلَّ وأورع وأتقى وأخشى لله من أن يفتي أحدهم أو يحكم في مسألة أو يقضي بحكم غير مستند إلى دليل شرعي مقرر، وسواء اتفق عليه أم اختلف الفقهاء في اعتباره فمن استند إلى القياس لا يقال: إنه حكم بغير ما أنزل الله: لأن هناك من يُنكر القياس ولا يعمل به.

وكذلك من استند في حكمه إلى المصلحة الغالبة أو مصلحة غلب على ظنه
বলেন) । হাদিসের অন্যতম একটি বর্ণনা (رواية)।

দ্বিতীয়: ফিকহী মূলনীতিসমূহ (قواعد فقهية), যা মুজতাহিদ (مجتهد) ফকিহগণ ফিকহী সাদৃশ্যবিধানের (القياس) দালিলিক পর্যায়ে উপস্থাপন করেছেন। যেখানে ইজতিহাদী ফিকহী বিধানসমূহের কারণসমূহ (تعليل) এবং সেগুলোর ওপর সাদৃশ্যবিধানের (القياس) পদ্ধতিসমূহকে এই মূলনীতিগুলো প্রণয়ন (تقعيد) এবং সেগুলোর রূপরেখা সুসংহত করার সর্বশ্রেষ্ঠ উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়; এটি তখন ঘটে যখন বড় বড় ফিকহী মাযহাবসমূহ (مذهب) স্থিতিশীল হয় এবং অনুসারীরা সেগুলোকে পরিমার্জন এবং সেগুলোর উসুল (أصل) ও প্রমাণাদি (دليل) বিন্যস্ত করার দিকে মনোনিবেশ করেন; যেমনটি আমাদের উস্তাদ আয-যারকা বলেছেন।

পরবর্তী যুগের (متأخرون) ফকিহগণ মাযহাবের (مذهب) ইমামদের কিতাবসমূহে বর্ণিত বা তাঁদের থেকে বর্ণিত মাসয়ালাগুলোর বিধান থেকে যে সকল মূলনীতি উদ্ভাবন (استنباط) করেছেন, সেগুলো শরয়ি বিধানের মৌলিক (أصلي) অথবা আনুষঙ্গিক শাখা-প্রশাখা (فرعي) সংক্রান্ত দলিলের (دليل) আওতাবহির্ভূত নয়। সুতরাং এই সকল মূলনীতি পর্যবেক্ষণকারী এবং এগুলোর সাব্যস্ত হওয়ার দলিল (دليل) ও এগুলোর মাধ্যমে কারণ দর্শানোর ভিত্তি অনুসন্ধানকারী দেখতে পাবেন যে, এর প্রতিটিই কোনো না কোনো শরয়ি দলিলের (دليل شرعي) অন্তর্ভুক্ত। হয় তা সর্বসম্মত (متفق عليه) দলিলসমূহের মধ্য থেকে, যেমন কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ (السنة) ও ইজমা (الإجماع); অথবা অন্যান্য দলিলসমূহ থেকে, যেমন সাদৃশ্যবিধান (القياس), ইস্তিসহাব (الاستصحاب), জনকল্যাণ (المصلحة) বা ইস্তিসলাহ (الاستصلاح), প্রথা (العرف), আরোহ পদ্ধতি (الاستقراء) এবং বিধানের সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত অন্যান্য বিষয়াদি। কারণ এটি যুক্তিগ্রাহ্য নয় এবং অত্যন্ত সুদূরপরাহত যে, একজন মুজতাহিদ (مجتهد) ফকিহ কোনো ফিকহী মাসয়ালার বিধান শরয়ি দলিল (دليل) দ্বারা সমর্থিত নয় এমন নিছক মতামত (رأي)-এর ওপর ভিত্তি করে প্রদান করবেন, অথবা প্রবৃত্তি (هوى) ও খেয়ালখুশি (تشهي)-এর ওপর নির্ভর করে কোনো ফিকহী মাসয়ালার কারণ বর্ণনা করবেন। তাঁরা (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আল্লাহকে এতটাই সম্মান করতেন এবং এতটাই পরহেজগার ও আল্লাহভীরু ছিলেন যে, কোনো প্রতিষ্ঠিত শরয়ি দলিলের (دليل شرعي) ওপর নির্ভর না করে কোনো বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করা বা ফয়সালা দেওয়া বা কোনো বিধান প্রদান করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব ছিল না; চাই সেই দলিলের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে ফকিহগণ একমত (متفق عليه) হোন বা ভিন্নমত (مختلف فيه) পোষণ করুন। সুতরাং যে ব্যক্তি সাদৃশ্যবিধানের (القياس) ওপর নির্ভর করেছেন, তাঁকে এ কথা বলা যাবে না যে: তিনি আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা ফয়সালা দিয়েছেন। কারণ এমন লোকও আছেন যারা সাদৃশ্যবিধানকে (القياس) অস্বীকার করেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেন না।

তেমনিভাবে যে ব্যক্তি তার ফয়সালায় প্রাধান্য বিস্তারকারী জনকল্যাণ (المصلحة الغالبة) অথবা এমন কোনো জনকল্যাণের (المصلحة) ওপর নির্ভর করেছেন যার ব্যাপারে তার প্রবল ধারণা (غلبة الظن) জন্মেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وجودها لا يقال: إن حكمه مخالف للشرع لأن غيره من الفقهاء قد لا يعمل بالمصلحة ولا يستدل بها، أو لا يرى في هذه المسألة مصلحة، وكذلك بالنسبة للعرف أو قول الصحابي، أو شرع من قبلنا، أو سد الذرائع أو الاستقراء أو غير ذلك من الأدلة أو مواطن الاستدلال التي ما عمل بها من عمل إلا مستدلاً لها بأدلة من الكتاب أو السنة أو المعقول المبني على قواعد الشرع وحِكمه.

من أمثلة هذه القواعد المستنبطة والمعلل بها قولهم:

1. (إنما يثبت الحكم بثبوت السبب) هذه قاعدة أصولية فقهية استنبطها الفقهاء المجتهدون من الإجماع ومعقول النصوص، فمثلاً: يثبت وجوب صلاة الظهر وتعلقها في ذمة المكلف بزوال الشمس، فزوال الشمس سبب لثبوت الوجوب للصلاة، فلو لم يثبت الزوال لم يثبت الوجوب، وقد يستدل لها بقوله تعالى: (أقِم الصلاة لِدُلوكِ الشمس) الإسراء، آية (78) ومنها قولهم: (الأيمان في جميع الخصومات موضوعة في جانب المدعى عليه إلا في القسامة) .

وهذه القاعدة مستنبطة من الحديث: (البينة على المدعي واليمين على المدَّعى عليه) ، ومنها قولهم: (إذا اجتمعت الإشارة والعبارة واختلف موجبهما غُلِّبت الإشارة) .
তাদের অস্তিত্বের কারণে এটি বলা যাবে না যে, তাঁর হুকুম শরিয়ত পরিপন্থী; কারণ অন্য ফকিহগণ হয়তো জনকল্যাণ (المصلحة) অনুযায়ী আমল করেন না কিংবা তা থেকে দলিল গ্রহণ করেন না, অথবা তিনি এই মাসআলায় কোনো জনকল্যাণ (مصلحة) দেখতে পান না। একইভাবে প্রথা (العرف), সাহাবীর বক্তব্য (قول الصحابي), আমাদের পূর্ববর্তীদের শরিয়ত (شرع من قبلنا), অশুভের পথ বন্ধ করা (سد الذرائع), আরোহ পদ্ধতি (الاستقراء) কিংবা অন্যান্য দলিলসমূহ (الأدلة) বা ইস্তিদলালের ক্ষেত্রসমূহের ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য। যারা এগুলোর মাধ্যমে আমল করেছেন, তারা কুরআন, সুন্নাহ (السنة) কিংবা শরিয়তের মূলনীতি ও হিকমতের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত যৌক্তিক দলিলাদির মাধ্যমেই তা করেছেন।

এই ধরণের উদ্ভাবিত এবং কারণ দর্শানো মূলনীতিগুলোর কিছু উদাহরণ হলো তাদের এই উক্তি:

1. (নিশ্চয়ই কারণ সাব্যস্ত হওয়ার মাধ্যমেই বিধান সাব্যস্ত হয়); এটি একটি উসূলি ও ফিকহি মূলনীতি (قاعدة أصولية فقهية) যা মুজতাহিদ ফকিহগণ (الفقهاء المجتهدون) ঐক্যমত (الإجماع) এবং শরয়ি পাঠের (النصوص) যৌক্তিক অনুধাবন থেকে উদ্ভাবন করেছেন। উদাহরণস্বরূপ: জোহরের সালাত ওয়াজিব বা আবশ্যক (الوجوب) হওয়া এবং শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তির (المكلف) ওপর তা বর্তানো সূর্য ঢলে পড়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং সূর্য ঢলে পড়া হলো সালাতের আবশ্যকতা (الوجوب) সাব্যস্ত হওয়ার কারণ (السبب)। যদি সূর্য ঢলে পড়া সাব্যস্ত না হয়, তবে সেই আবশ্যকতাও (الوجوب) সাব্যস্ত হবে না। এর স্বপক্ষে আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করা যায়: (সূর্য হেলে পড়ার পর সালাত কায়েম করো) সূরা আল-ইসরা, আয়াত (৭৮)। তাদের আরেকটি উক্তি হলো: (কাসামাহ বা গণ-শপথ ব্যতীত সকল প্রকার বিরোধের (الخصومات) ক্ষেত্রে শপথ বিবাদীর (المدعى عليه) ওপর ন্যস্ত হয়)।

এই মূলনীতিটি হাদিস থেকে সংগৃহীত: (প্রমাণ (البينة) পেশ করার দায়িত্ব বাদীর (المدعي) আর শপথ করার দায়িত্ব বিবাদীর (المدعى عليه)), তাদের আরেকটি মূলনীতি হলো: (যখন ইঙ্গিত (الإشارة) এবং ভাষ্য (العبارة) একত্রিত হয় এবং তাদের দাবি ভিন্ন হয়, তখন ইঙ্গিতকেই (الإشارة) প্রাধান্য দেওয়া হয়)।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
هذه القاعدة مستنبطة من المعقول والعرف.

ومنها قولهم: (إذا وجبت مخالفة أصل أو قاعدة وجب تقليل المخالفة ما أمكن) .

فهذه القاعدة مستنبطة من معقول النصوص الرافعة للحرج والمشقة مثل قوله تعالى: (لا يكلف الله نفساً إلا وسعها) . البقرة، آية (286) .

ومثل قوله عليه الصلاة والسلام: (إذا أمرتكم بشيء فخذوا منه ما استطعتم) .
এই নীতিটি যৌক্তিক বিচারবুদ্ধি এবং প্রথা থেকে আহরিত।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁদের এই উক্তি: (যখন কোনো মূলনীতি বা নিয়মের লঙ্ঘন অনিবার্য হয়ে পড়ে, তখন যতটুকু সম্ভব সেই লঙ্ঘনের মাত্রা কমিয়ে আনা আবশ্যক)।

এই নীতিটি সংকীর্ণতা ও কষ্ট লাঘবকারী দালিলিক পাঠসমূহের যৌক্তিক ভিত্তি থেকে উদ্ভূত, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যাতীত ভার অর্পণ করেন না)। সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত (২৮৬)।

এবং যেমন তাঁর (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) বাণী: (আমি যখন তোমাদের কোনো নির্দেশ প্রদান করি, তখন তোমরা তোমাদের সাধ্যানুযায়ী তা পালন করো)।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
--‌‌ المقدمة السادسة:

-- حكم الاستدلال بالقواعد الفقهية على الأحكام:

هذه المسألة على جانب كبير من الأهمية حيث تتعلق بأمر عظيم وهو مصادر الأحكام وأدلتها، وهل تعتبر القواعد الفقهية أحد أدلة الأحكام فيستند إليها عند عدم وجود نص أو إجماع أو قياس في المسألة؟

وبعبارة أخرى: هل يجوز أن تجعل القاعدة الفقهية دليلاً شرعياً يستنبط منه حكم شرعي؟

وفي التقرير الذي صدرت به مجلة الأحكام العدلية قالوا: (فحكام الشرع ما لم يقفوا على نقل صريح لا يحكمون بمجرد الاستناد إلى واحدة من هذه القواعد، إلا أن لها فائدة كلية في ضبط المسائل، فمن اطلع عليها من المطالعين يضبط المسائل بأدلتها، وسائر المأمورين يرجعون إليها في كل خصوص.

وبهذه القواعد يمكن للإنسان تطبيق معاملاته على الشرع الشريف أو في الأقل التقريب.

وقالوا: أيضاً في المقالة الأولى من المقدمة وهي المادة الأولى من مواد المجلة: إن المحققين من الفقهاء قد أرجعوا المسائل الفقهية إلى قواعد كلية، كل منها ضابط وجامع لمسائل كثيرة، وتلك القواعد مُسلمة معتبرة في الكتب الفقهية تتخذ أدلة إثبات المسائل وتفهمها في بادئ الأمر، فذكرها يوجب الاستئناس بالمسائل ويكون وسيلة لتقررها في الأذهان.
ষষ্ঠ ভূমিকা:

-- বিধানের (الأحكام) ক্ষেত্রে ফিকহি মূলনীতি (القواعد الفقهية) দ্বারা দলিল পেশ করার বিধান:

এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একটি মহান বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো বিধানের উৎস ও তার প্রমাণাদি। ফিকহি মূলনীতিকে (القواعد الفقهية) কি বিধানের অন্যতম দলিল হিসেবে গণ্য করা হবে, যাতে করে কোনো বিষয়ে যখন কোনো নস (نص), ঐক্যমত (إجماع) বা কিয়াস (قياس) পাওয়া যাবে না, তখন এর ওপর নির্ভর করা যায়?

ভিন্ন শব্দে বলতে গেলে: ফিকহি মূলনীতিকে (القاعدة الفقهية) কি এমন একটি শরিয়তসম্মত দলিল (دليل شرعي) হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ, যা থেকে শরিয়তের বিধান (حكم شرعي) উদ্ভাবন (استنباط) করা যায়?

'মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়া' যে রিপোর্টের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছে: (শরিয়তের বিচারকগণ যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট বর্ণনা (نقل صريح) না পান, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা কেবল এই মূলনীতিগুলোর কোনো একটির ওপর নির্ভর করে ফয়সালা দেন না। তবে মাসআলাগুলো সুসংহত করার ক্ষেত্রে এগুলোর সামগ্রিক উপযোগিতা রয়েছে। পাঠকদের মধ্যে যারা এগুলোর ওপর দৃষ্টিপাত করেন, তারা দলিলসহ মাসআলাগুলো আয়ত্ত করতে পারেন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রতিটি বিশেষ ক্ষেত্রে এগুলোর দিকেই প্রত্যাবর্তন করেন।

এই মূলনীতিগুলোর মাধ্যমে মানুষ তার লেনদেনসমূহকে সম্মানিত শরিয়তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পারে অথবা অন্ততপক্ষে তার কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে।

তারা ভূমিকার প্রথম পরিচ্ছেদে অর্থাৎ মাজাল্লার প্রথম ধারায় আরও বলেছেন: গবেষক ফকিহগণ ফিকহি মাসআলাগুলোকে কিছু সামগ্রিক মূলনীতির (قواعد كلية) দিকে ফিরিয়ে নিয়েছেন, যার প্রতিটি অনেক মাসআলার জন্য নিয়ন্ত্রক (ضابط) এবং সংকলক (جامع)। এই মূলনীতিগুলো ফিকহি গ্রন্থসমূহে স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য, যা মাসআলা প্রমাণের দলিল এবং প্রাথমিকভাবে সেগুলো বোঝার মাধ্যম হিসেবে গৃহীত হয়। সুতরাং এগুলো উল্লেখ করা মাসআলাগুলোর সাথে পরিচিতি বৃদ্ধি করে এবং তা মস্তিষ্কে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যম হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ওয়াজীয ফী ঈদ্বাহি কাওয়ায়িদুল ফিকহিল কুল্লিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وقال ابن نجيم في الفوائد الزينية كما نقله عنه الحموي في غمز عيون البصائر: لا يجوز الفتوى بما تقتضيه الضوابط لأنها ليست كلية بل أغلبية، خصوصاً وهي لم تثبت عن الإمام بل استخرجها المشايخ من كلامه.

وقال استاذنا الجليل الشيخ مصطفى الزرقا:

ولذلك كانت تلك القواعد الفقهية قلما تخلو إحداهما من مستنيات في فروع الأحكام التطبيقية خارجة عنها، إذ يرى الفقهاء أن تلك الفروع المستثناة من القاعدة هي أليق بالتخريج على قاعدة أخرى، أو أنها تستدعي أحكاماً استحسانية خاصة، ومن ثم لم تسوغ المجلة أن يقتصر القضاة في أحكامهم على الاستناد إلى شيء من هذه القواعد الكلية فقط دون نص آخر خاص أو عام يشمل بعمومه الحادثة المقضي فيها، لأن تلك القواعد الكلية على ما لها من قيمة واعتبار هي كثيرة المستثنيات، فهي دساتير للتفقيه لا نصوص للقضاء.

فهذه النقول وأمثالها تفيد أنه لا يسوغ اعتبار القواعد الفقهية أدلة شرعية لاستنباط الأحكام لسببين:

الأول: أن هذه القواعد ثمرة للفروع المختلفة وجامع ورابط لها، وليس من المعقول أن يجعل ما هو ثمرة وجامع دليلاً لاستنباط أحكام الفروع.

الثاني: أن معظم هذه القواعد لا تخلو عن المستثنيات، فقد تكون المسألة المبحوث عن حكمها من المسائل والفروع المستثناة، ولذلك لا يجوز بناء الحكم على أساس هذه القواعد، ولا يسوغ تخريج أحكام الفروع عليها، ولكنها
ইবনে নুজাইম আল-ফাওয়াইদুজ জয়নিয়্যাহ গ্রন্থে বলেছেন, যেমনটি হামাভী গামজু উয়ুনিল বাসাইর গ্রন্থে তার থেকে উদ্ধৃত করেছেন: ফিকহি নীতিমালা (ضوابط) যা দাবি করে, সে অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করা জায়েজ নয়; কারণ সেগুলো সার্বিক (كلية) নয় বরং অধিকাংশের (أغلبية) ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বিশেষ করে যখন সেগুলো ইমাম থেকে সাব্যস্ত হয়নি, বরং মাশায়েখগণ তার বক্তব্য থেকে সেগুলো বের করেছেন।

আমাদের মহান উস্তাদ শায়খ মুস্তফা আজ-জারকা বলেছেন:

এই কারণেই সেই ফিকহি মূলনীতিগুলোর (القواعد الفقهية) মধ্যে খুব কমই এমন পাওয়া যাবে যা প্রয়োগিক বিধানের শাখা-প্রশাখায় (فروع) এর আওতা বহির্ভূত কোনো ব্যতিক্রম (مستثنيات) থেকে মুক্ত। কারণ ফকিহগণ মনে করেন, মূলনীতি থেকে সেই ব্যতিক্রমী শাখাগুলো অন্য কোনো মূলনীতির আলোকে বের করা অধিকতর উপযুক্ত, অথবা সেগুলো বিশেষ ইস্তিহসানমূলক (استحسانية) বিধানের দাবি রাখে। এ কারণেই মাজাল্লা বিচারকদের জন্য তাদের রায়ে শুধুমাত্র এই সার্বিক মূলনীতিগুলোর (القواعد الكلية) ওপর নির্ভর করাকে বৈধ করেনি যতক্ষণ না অন্য কোনো বিশেষ (خاص) বা সাধারণ (عام) দলীল (نص) পাওয়া যায় যা তার সাধারণত্বের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ এই সার্বিক মূলনীতিগুলো (القواعد الكلية) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এগুলোর অনেক ব্যতিক্রম (مستثنيات) রয়েছে। সুতরাং এগুলো ফিকহ চর্চার জন্য দিকনির্দেশিকা স্বরূপ, বিচারকার্যের জন্য মূল ভাষ্য (نصوص) নয়।

সুতরাং এই সকল উদ্ধৃতি ও এর সদৃশ বর্ণনাগুলো প্রমাণ করে যে, ফিকহি মূলনীতিগুলোকে (القواعد الفقهية) বিধান আহরণের জন্য শরয়ি দলীল (أدلة شرعية) হিসেবে গণ্য করা দুটি কারণে বৈধ নয়:

প্রথমত: এই মূলনীতিগুলো বিভিন্ন শাখা-মাসায়েলের (فروع) ফলাফল এবং এগুলোর সমন্বয়ক ও সংযোজক। আর যা ফলাফল এবং সমন্বয়ক, তাকে শাখা-মাসায়েলের বিধান আহরণের দলীল (دليلاً) হিসেবে গ্রহণ করা যুক্তিসঙ্গত নয়।

দ্বিতীয়ত: এই মূলনীতিগুলোর (قواعد) অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম (المستثنيات) বিদ্যমান। ফলে যে মাসআলাটির বিধান নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে, সেটি হয়তো সেই ব্যতিক্রমী বিষয় বা শাখাগুলোর (الفروع المستثناة) অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এ কারণে এই মূলনীতিগুলোর ভিত্তিতে বিধান প্রদান করা জায়েজ নয় এবং শাখা-বিধানগুলোকে এগুলোর ওপর ভিত্তি করে বের করাও সংগত নয়। তবে এগুলো...