(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: -)
أنموذج جليل في أسئلة وأجوبة عن غرائب آي التنزيل القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: أنموذج جليل في أسئلة وأجوبة عن غرائب آي التنزيل
المؤلف: زين الدين أبو عبد الله محمد بن أبي بكر بن عبد القادر الحنفي الرازي (ت 666هـ)
تحقيق: د. عبد الرحمن بن إبراهيم المطرودى
الناشر: دار عالم الكتب المملكة العربية السعودية - الرياض
الطبعة: الأولى، 1413 هـ، 1991 م
عدد الصفحات: 603
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ وَمَنْ تَحَمَّلَ نَفَقَةَ الْكِتَابَةِ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ.
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
অবতরণের বিস্ময়কর আয়াতসমূহ নিয়ে প্রশ্ন ও উত্তরের একটি মহান নমুনা বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতি
গ্রন্থ: অবতরণের বিস্ময়কর আয়াতসমূহ নিয়ে প্রশ্ন ও উত্তরের একটি মহান নমুনা
লেখক: যাইনুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন আব্দুল কাদির আল-হানাফী আর-রাযী (মৃত ৬৬৬ হিজরি)
সম্পাদনা: ড. আব্দুর রহমান বিন ইব্রাহিম আল-মাত্রুদী
প্রকাশক: দারু আলামিল কুতুব, সৌদি আরব রাজ্য - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৩ হিজরি، ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
আল্লাহ এর লেখককে এবং যিনি এর অনুলিখনের ব্যয়ভার বহন করেছেন তাকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন.
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم
ـ[أنموذج جليل في أسئلة وأجوبة عن غرائب آي التنزيل]ـ
المؤلف: زين الدين أبو عبد الله محمد بن أبي بكر بن عبد القادر الحنفي الرازي (المتوفى: 666هـ)
تحقيق: د. عبد الرحمن بن إبراهيم المطرودى
الناشر: دار عالم الكتب المملكة العربية السعودية - الرياض
الطبعة: الأولى، 1413 هـ، 1991 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ وَمَنْ تَحَمَّلَ نَفَقَةَ الْكِتَابَةِ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
[কুরআনের বিস্ময়কর আয়াতসমূহের প্রশ্ন ও উত্তর বিষয়ক একটি মহান সংকলন]
লেখক: জয়নুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে আব্দুল কাদির আল-হানাফি আর-রাজি (মৃত্যু: ৬৬৬ হিজরি)
তাহকিক: ড. আব্দুর রহমান বিন ইব্রাহিম আল-মাত্রুদি
প্রকাশক: দারু আলামিল কুতুব, সৌদি আরব রাজ্য - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৩ হিজরি, ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
আল্লাহ তায়ালা এর লেখককে এবং যিনি এর প্রতিলিপি তৈরির খরচ বহন করেছেন, তাদেরকে সর্বোত্তম এবং পূর্ণ প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة(وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ)
قال الفقير إلى رحمة ربه ومغفرته محمد بن أبى بكر بن عبد القادر الرازي عفا الله عنه وغفر له ولجميع المسلمين؛ هذا مختصر جمعت فيه أنموزجاً يسيراً من أسئلة القرآن المجيد وأجوبتها فمنه ما نقلته من كتب العلماء إلا أنى نقحته ولخصته ومنه ما فتح الله تعالى على به بسبب مذاكرة أخ لي من إخوان الصفا في دين الله ومحبة كتابه، وكان صالحاً تقياً سليم الفطره وقاد الذهن جامعاً لجملة من مكارم الأخلاق، وصفات الكمال الإنسانى أنعم الله تعالى على بصحبته ومذاكرته في معانى كتابه، وكان شديد العناية بها كثير البحث والسؤال عنها، قد هداه الله إليها وفتح عليه فيها بغرايب لم نسمعها من العلماء ولا رأينها في كتبهم فحملتنى فكرته القادحة ونيته الصالحة على جمع هذه الصبابة، وهى تزيد على ألف ومائتي سؤال، وأن كانت بالنسبة إلى ما في القرآن من العجائب والغرائب كالقطرة من الماء والسهى من نجوم السماء، ولكنى قصدت اختصار هذا الأنموذج منها وتقريبه إلى الأفهام، ليكثر الانتفاع به ولا يهجر لدقته وغموضه، وأماالأسئلة التى تتعلق بوجوه الإعراب وبالمعانى التى هى أدق على الأفهام وأخفى، فإنى وضعت لها مختصراً آخر وأودعته أنموذجاً منها فلتطلب منه، وبالله أستعين وعليه أتوكل واليه أتضرع في أن يجعل علمى وعملى خالصاً لوجهه الكريم ويتغمدنى وأخى الصالح بمغفرته ورحمته أنه غفور رحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা(এবং আমার তাওফিক কেবল আল্লাহরই পক্ষ থেকে; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি।)
তাঁর রবের রহমত ও মাগফিরাতের কাঙাল মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর ইবনে আবদুল কাদির আর-রাজি আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন এবং তাঁকে ও সকল মুসলিমকে মার্জনা করুন—বলেন; এটি একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন যাতে আমি কুরআন মাজীদের প্রশ্ন ও তার উত্তরসমূহের সামান্য নমুনা একত্র করেছি। এর মধ্যে কিছু আমি আলিমদের কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃত করেছি, তবে আমি তা পরিমার্জন ও সংক্ষেপ করেছি। আর কিছু এমন যা আল্লাহ তাআলা আমার ওপর উন্মোচিত করেছেন আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর কিতাবের প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে আমার এক অকৃত্রিম বন্ধুর সাথে আলোচনার বদৌলতে। তিনি ছিলেন নেককার, মুত্তাকি, নির্মল স্বভাবের অধিকারী, তীক্ষ্ণ মেধাসম্পন্ন এবং বহুবিধ উন্নত চরিত্র ও মানবিক পূর্ণতার গুণাবলীতে ভূষিত। আল্লাহ তাআলা তাঁর সাহচর্য এবং তাঁর কিতাবের অর্থ নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আমাকে ধন্য করেছেন। তিনি এ বিষয়ে অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন এবং এ নিয়ে প্রচুর গবেষণা ও প্রশ্ন করতেন। আল্লাহ তাঁকে এ পথের দিশা দিয়েছিলেন এবং এমন সব দুর্লভ বিষয় তাঁর সামনে উন্মোচিত করেছিলেন যা আমরা আলিমদের থেকে শুনিনি এবং তাদের কিতাবসমূহেও দেখিনি। তাঁর তীক্ষ্ণ চিন্তা ও নেক নিয়ত আমাকে এই সামান্য অংশটুকু একত্র করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যা বারো শরও অধিক প্রশ্নের সমাহার। যদিও কুরআনের বিস্ময়কর ও দুর্লভ বিষয়াবলির তুলনায় এটি সাগরের তুলনায় এক ফোঁটা পানির মতো এবং আকাশের নক্ষত্ররাজির তুলনায় সুহা সদৃশ। তবে আমি এই নমুনাটি সংক্ষেপ করার এবং বোধগম্য করার সংকল্প করেছি, যাতে এর দ্বারা অধিক উপকার সাধিত হয় এবং এর সূক্ষ্মতা বা অস্পষ্টতার কারণে তা পরিত্যক্ত না হয়। আর যেসব প্রশ্ন ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ এবং এমন সব অর্থ সম্পর্কিত যা অনুধাবন করা অধিকতর সূক্ষ্ম ও অস্পষ্ট, সেগুলোর জন্য আমি অন্য একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করেছি এবং তাতে তার কিছু নমুনা পেশ করেছি; সুতরাং তা সেখান থেকে অন্বেষণ করা উচিত। আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি, তাঁরই ওপর ভরসা করছি এবং তাঁরই কাছে বিনীত ফরিয়াদ জানাচ্ছি যেন তিনি আমার ইলম ও আমলকে একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমাকে ও আমার সেই নেককার ভাইকে তাঁর মাগফিরাত ও রহমত দ্বারা আবৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২)
سورة فاتحة الكتاب* * *
فإن قيل: الرحمن أبلغ في الوصف بالرحمة من الرحيم بالنقل عن الزجاج وغيره، فكيف قدمه وعادة العرب في صفات المدح الترقى من الأدنى إلى الأعلى؟
قلنا: قال الجوهرى وغيره أنهما بمعنى واحد كنديم وندمان فعلى هذا لا يرد السؤال، وعلى القول الأول أنما قدمه لأن الله تعالى أسم خاص بالبارى لا يسمى به غيره، لا مفرداً ولا مضافا فقدمه، والرحيم يوصف به غيره مفرداً ومضافاً فأخره، والرحمن يوصف به غيره مضافاً ولا يوصف به مفرداً إلى الله تعالى فوسطه.
* * *
فإن قيل: كيف قدم العبادة على الإستعانة والإستعانة مقدمة لأن العبد يستعين الله على العبادة فيعينه الله عليها؟
قلنا: الواو لا تدل على الترتيب، أو المراد بهذه العبادة التوحيد، وهوم قدم على الإستعانة على أدآء سائر العبادات، فإن من لم يكن موحداً لا يطلب الإعانة على ادآء العبادات.
* * *
فإن قيل (المرادبالصراط المستقيم الإسلام أو القرآن أو طريق الجنة والمؤمنون مهتدون إلى ذلك، فما معنى قولهم: "اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ") وأنه تحصيل الحاصل؟
قلنا: ثبتنا عليه وأدمنا على سلوكه، خوفاً من سوء الخاتمة، نعوذ بالله من ذلك، كما تقول العرب للواقف قف حتى آتيك معناه دم على وقوفك وأثبت عليه أو معناه طلب زيادة الهدى كما قال تعالى: (وَالَّذِينَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى) وقال
সূরা ফাতহাতুল কিতাব* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: আল-জুজ্জাজ এবং অন্যান্যদের বর্ণনা অনুযায়ী ‘আর-রাহমান’ শব্দটি দয়ার বর্ণনায় ‘আর-রাহিম’ এর তুলনায় অধিকতর অর্থবহ, তবে কেন একে প্রথমে আনা হলো? অথচ প্রশংসার গুণাবলীর ক্ষেত্রে আরবদের রীতি হলো নিম্নতর থেকে উচ্চতরের দিকে অগ্রসর হওয়া?
আমরা বলি: আল-জাওহারি এবং অন্যান্যরা বলেছেন যে, উভয় শব্দই একই অর্থ বহন করে, যেমন ‘নাদিম’ এবং ‘নাদমান’। এই মতানুসারে প্রশ্নটি আর অবান্তর থাকে না। আর প্রথম মতের ভিত্তিতে বলা যায় যে, একে প্রথমে আনা হয়েছে কারণ ‘আল্লাহ’ শব্দটি মহান স্রষ্টার জন্য নির্দিষ্ট একটি নাম, যা দিয়ে অন্য কাউকে অভিহিত করা হয় না—চাই তা একক শব্দ হিসেবে হোক বা সম্বন্ধযুক্ত শব্দ হিসেবে। তাই একে প্রথমে আনা হয়েছে। আর ‘আর-রাহিম’ শব্দটি একক বা সম্বন্ধযুক্ত উভয়ভাবেই অন্য কারো বর্ণনায় ব্যবহৃত হয়, তাই একে শেষে রাখা হয়েছে। আর ‘আর-রাহমান’ শব্দটি সম্বন্ধযুক্তভাবে অন্য কারো ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলেও এককভাবে আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কারো জন্য ব্যবহৃত হয় না, তাই একে মাঝখানে রাখা হয়েছে।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন ইবাদতকে সাহায্যের আবেদনের (ইস্তিআনা) পূর্বে রাখা হলো? অথচ ইস্তিআনা বা সাহায্য প্রার্থনাই অগ্রগামী হওয়ার কথা, কারণ বান্দা ইবাদতের জন্যই আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এবং আল্লাহ তাকে সেই ইবাদতে সহায়তা করেন?
আমরা বলি: ‘ওয়াও’ (এবং) অক্ষরটি ক্রম বা ধারাবাহিকতা বোঝায় না। অথবা, এই ইবাদত বলতে তাওহিদকে বোঝানো হয়েছে, যা অন্যান্য সকল ইবাদত পালনের জন্য সাহায্য প্রার্থনার চেয়েও অগ্রগণ্য। কেননা যে ব্যক্তি তাওহিদপন্থী নয়, সে ইবাদত পালনের জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে না।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: সরল পথ (সিরাতাল মুস্তাকিম) বলতে ইসলাম, কুরআন বা জান্নাতের পথকে বোঝানো হয়েছে, আর মুমিনগণ তো ইতোমধ্যেই সে পথে হেদায়েতপ্রাপ্ত। তাহলে তাদের এই প্রার্থনার অর্থ কী: “আমাদেরকে সরল পথ দেখান”? এটা কি অর্জিত বিষয়কেই পুনরায় অর্জন করার চেষ্টা নয়?
আমরা বলি: এর অর্থ হলো—আমাদের এই পথের ওপর অবিচল রাখুন এবং এই পথে চলা অব্যাহত রাখুন, মন্দ পরিণতির আশঙ্কায়—আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। যেমন আরবরা দণ্ডায়মান ব্যক্তিকে বলে থাকে: “আমি না আসা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকো”, যার অর্থ হলো তোমার দাঁড়িয়ে থাকায় অবিচল থাকো এবং এর ওপর স্থির থাকো। অথবা এর অর্থ হলো হেদায়েত বৃদ্ধির প্রার্থনা করা, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: “যারা হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়েছে, তিনি তাদের হেদায়েত আরও বৃদ্ধি করে দেন” এবং তিনি বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩)
(وَيَزِيدُ اللَّهُ الَّذِينَ اهْتَدَوْا هُدًى) .
* * *
فإن قيل: ما فائدة دخول لا في قوله: (وَلَا الضَّالِّينَ) . وقوله: (غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ) . والضالين كاف في المقصود؟
قلنا: فائدته تأكيد النفى الذي دل عليه غير.
(আর আল্লাহ তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করেন যারা সৎপথ প্রাপ্ত হয়েছে)।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: আল্লাহর বাণী ‘ওয়ালাদ দাল্লীন’-এর মধ্যে ‘লা’ (না) আসার সার্থকতা কী? যেখানে ‘গাইরিল মাগদুব আলাইহিম’ এবং ‘আদ-দাল্লীন’ শব্দগুলোই উদ্দেশ্য প্রকাশের জন্য যথেষ্ট ছিল??
আমরা বলব: এর সার্থকতা হলো সেই নেতিবাচক অর্থকে আরও সুদৃঢ় করা, যা ‘গাইর’ শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৪)
سورة البقرة* * *
فإن قيل: كيف قال: (لَا رَيْبَ فِيهِ) على سبيل الاستغراق وكم ضال قد ارتاب فيه، ويؤيد ذلك قوله تعالى: (وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا) ؟
قلنا: معناه لا ريب فيه عند الله ورسوله والمؤمنين، أو هو نفى معناه نهى أي لا ترتابوا فيه إنه من عند الله، ونظيره قوله تعالى:
(إِنَّ السَّاعَةَ لَآتِيَةٌ لَا رَيْبَ فِيهَا) .
* * *
فإن قيل: كيف قال: (هُدًى لِلْمُتَّقِينَ) . والمتقون مهتدون فكأنه تحصيل الحاصل؟
قلنا: إنما صاروا متقين بما استفادوا منه من الهدى، أو أراد أنه ثبات لهم على الهدى، وزيادة فيه، أو خصهم بالذكر لأنهم هم الفائزون بمنافعه حيث قبلوه وأتبعوه كقوله: (إِنَّمَا أَنْتَ مُنْذِرُ مَنْ يَخْشَاهَا) .
أو أراد الفريقين وأختصر على أحدهما كقوله تعالى: (سَرَابِيلَ تَقِيكُمُ الْحَرَّ) .
* * *
فإن قيل: المخادعة أنما تتصور في حق من تخفى عليه الأمور ليتم الخداع في حقه يقال خدعه إذا أراد به المكروه من حيث
সূরা আল-বাকারা* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে সর্বব্যাপী অর্থে বলেছেন: (এতে কোনো সন্দেহ নেই), অথচ বহু পথভ্রষ্ট ব্যক্তি এতে সন্দেহ পোষণ করেছে? এর সমর্থনে মহান আল্লাহর বাণী রয়েছে: (আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা নাযিল করেছি, সে বিষয়ে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো)?
আমরা বলি: এর অর্থ হলো আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের নিকট এতে কোনো সন্দেহ নেই। অথবা এটি এমন এক নাস্তিবাচক বাক্য যার অর্থ হলো নিষেধ করা, অর্থাৎ: তোমরা এতে সন্দেহ করো না যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এর সমরূপ হলো মহান আল্লাহর বাণী:
(নিশ্চয়ই কিয়ামত আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই)।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে বললেন: (মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত)? অথচ মুত্তাকীরা তো হিদায়াতপ্রাপ্তই, ফলে এটি অর্জিত বিষয়কেই পুনরায় অর্জন করার মতো হয়ে যাচ্ছে না কি?
আমরা বলি: তারা মূলত এই হিদায়াত থেকে যা গ্রহণ করেছেন তার মাধ্যমেই মুত্তাকী হয়েছেন। অথবা তিনি উদ্দেশ্য করেছেন যে এটি তাদের জন্য হিদায়াতের ওপর অবিচলতা এবং তাতে প্রবৃদ্ধি স্বরূপ। অথবা তিনি তাদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন কারণ তারাই এর উপকারিতা লাভে সফলকাম, যেহেতু তারা এটি গ্রহণ করেছে এবং এর অনুসরণ করেছে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আপনি কেবল তারই সতর্ককারী যে তাকে ভয় করে)।
অথবা তিনি উভয় দলকে উদ্দেশ্য করেছেন কিন্তু কেবল একটির কথা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (এমন পোশাক যা তোমাদেরকে উত্তাপ থেকে রক্ষা করে)।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: ধোঁকা বা প্রতারণার বিষয়টি কেবল তার ক্ষেত্রেই কল্পনা করা যায় যার কাছে বিষয়াদি গোপন থাকে, যাতে তার প্রতি প্রতারণা সফল হয়। বলা হয় ‘সে তাকে ধোঁকা দিয়েছে’ যখন সে তার অলক্ষ্যে তার কোনো অপকার করতে চায়...
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৫)
لا يعلم، والله تعالى لا يخفى عليه شيء فكيف قال:
(يخادعون الله) .
قلنا: معناه يخادعون رسول الله كقوله تعالى: (إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ) .
وقوله: (مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ) .
أو سمى نفاقهم خداعاً لشبهه بفعل المخادع.
* * *
فإن قيل: كيف حصر الفساد في المنافقين بقوله: (أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ) ومعلوم أن غيرهم مفسد؟
قلنا: المراد بالفساد الفساد بالنفاق وهم كانوا مخصوصين به.
* * *
فإن قيل: كيف قال الله: (اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ) والاستهزاء من باب العبث والسخرية وهو قبيح والله تعالى منزه عن القبيح؟
قلنا: سمى جزاء الاستهزاء استهزاء كقوله: (وَجَزَاءُ سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِثْلُهَا) .
فالمعنى الله يجازيهم جزاء استهزائهم.
* * *
فإن قيل: ما الفائدة في قوله:
(أَوْ كَصَيِّبٍ مِنَ السَّمَاءِ)
ومعلوم أن الصيب لا يكون إلا من السماء؟
قلنا: فائدته أنه ذكر السماء معرفة وأضافه إليها ليدل على أنه من
তিনি জানেন না, অথচ মহান আল্লাহ তাআলার নিকট কোনো কিছুই গোপন থাকে না, তাহলে তিনি কীভাবে বললেন:
(তারা আল্লাহকে প্রতারিত করে)।
আমরা বলি: এর অর্থ হলো তারা আল্লাহর রাসূলকে প্রতারিত করে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই যারা আপনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করে, তারা তো আল্লাহর নিকটই বাইয়াত গ্রহণ করে)।
এবং তাঁর বাণী: (যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল)।
অথবা তাদের নিফাককে প্রতারকের কাজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে 'প্রতারণা' বলে অভিহিত করা হয়েছে।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: মহান আল্লাহর বাণী (জেনে রেখো, তারাই ফাসাদকারী) এর মাধ্যমে কীভাবে ফাসাদ বা বিপর্যয়কে কেবল মুনাফিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করা হলো, অথচ এটি জানা কথা যে তারা ছাড়াও অন্যরাও ফাসাদকারী?
আমরা বলি: এখানে ফাসাদ বলতে নিফাকজনিত ফাসাদ বা বিপর্যয়কে বোঝানো হয়েছে এবং তারা এর সাথেই বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট ছিল।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: আল্লাহ কীভাবে বললেন: (আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন) অথচ উপহাস তো নিরর্থক কাজ ও বিদ্রূপের অন্তর্ভুক্ত, যা অত্যন্ত মন্দ; আর মহান আল্লাহ তো মন্দ কাজ থেকে পবিত্র?
আমরা বলি: উপহাসের প্রতিফলকে 'উপহাস' নামে অভিহিত করা হয়েছে, যেমনটি তাঁর বাণী: (মন্দের প্রতিফল তো তদনুরূপ মন্দ)।
সুতরাং অর্থ হলো, আল্লাহ তাদের উপহাসের জন্য তাদের প্রতিফল প্রদান করবেন।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তাঁর এই বাণীতে কী ফায়দা রয়েছে:
(অথবা আকাশ হতে বর্ষিত মুষলধারে বৃষ্টির মতো)
যেখানে এটি জানা কথা যে মুষলধারে বৃষ্টি কেবল আকাশ থেকেই বর্ষিত হয়?
আমরা বলি: এর ফায়দা হলো তিনি 'আকাশ' শব্দটিকে নির্দিষ্ট (মারেফাহ) হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বৃষ্টির সাথে একে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন এটি বোঝানোর জন্য যে এটি...
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৬)
جميع آفاقها لا من أفق واحد، إذ كل أفق يسمى سماء قال الشاعر: ومن بعد أرض بيننا وسماء.
* * *
فإن قيل: كيف قال: (فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ) .
والمشركون لم يكونوا عالمين أنه لا ندَّ له ولا شريك بل كانوا يعتقدون أن له أنداداً وشركاء؟
قلنا: معناه وأنتم تعلمون أن الأنداد لا تقدرعلى شىء مما سبق ذكره في الآية (أو) وأنتم تعلمون أنه ليس في التوراة والانجيل جواز اتخاذ الأنداد.
* * *
فإن قيل: كيف عرف النار ونكرها في سورة التحريم؟
قلنا: تلك الآية نزلت بمكة قبل هذه الآية، فلم تكن النار التى وقودها الناس والحجارة معروفة فنكرها، ثم نزلت هذه الآية بالمدينة المنورة مشار بها إلى ما عرفوه أولا.
* * *
فإن قيل: قوله: (وَلَا تَلْبِسُوا الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ) .
ليسا فعلين متغايرين لينهوا عن الجمع بينهما بل أحدهما داخل في الآخر؟
قلنا: هما فعلان متغايران لأن المراد بلبسهم الحق بالباطل كتابتهم فى
এর সকল দিগন্ত থেকে, কেবল একটি দিগন্ত থেকে নয়; কারণ প্রতিটি দিগন্তকেই আকাশ বলা হয়। কবি বলেছেন: আর আমাদের মাঝে জমিন ও আকাশের দূরত্ব হওয়ার পর।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে বলেছেন: (অতএব তোমরা আল্লাহর জন্য অংশীদার স্থির করো না, অথচ তোমরা জানো)।
অথচ মুশরিকরা তো জানত না যে তাঁর কোনো সমকক্ষ বা শরিক নেই, বরং তারা বিশ্বাস করত যে তাঁর সমকক্ষ ও শরিক রয়েছে?
আমরা বলি: এর অর্থ হলো, তোমরা জানো যে এই আয়াতে পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার কোনো কিছুর ওপরই এই সমকক্ষরা ক্ষমতা রাখে না; (অথবা) তোমরা জানো যে তাওরাত ও ইঞ্জিলে সমকক্ষ গ্রহণ করার কোনো বৈধতা নেই।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কেন এখানে আগুন শব্দটিকে নির্দিষ্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং সূরা আত-তাহরীমে অনির্দিষ্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন?
আমরা বলি: সেই আয়াতটি এই আয়াতের পূর্বে মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছিল। তখন যে আগুনের জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, তা পরিচিত ছিল না, তাই সেটিকে অনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অতঃপর এই আয়াতটি মদিনা মুনাওয়ারায় অবতীর্ণ হয়, যার মাধ্যমে সেই পূর্বপরিচিত আগুনের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তাঁর বাণী: (তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং সত্য গোপন করো না)।
এগুলো কি ভিন্ন ভিন্ন দুটি কাজ নয় যার একত্রীকরণ থেকে নিষেধ করা হয়েছে, বরং একটি তো অন্যটির অন্তর্ভুক্ত?
আমরা বলি: এই দুটি ভিন্ন ভিন্ন কাজ। কারণ সত্যকে মিথ্যার সাথে তাদের মিশ্রিত করার উদ্দেশ্য হলো তাদের কিতাব লিখনের মধ্যে...
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৭)
التوراة ما ليس منها، وبكتمانهم الحق قولهم: لا نجد في التوراة صفة محمد صلى الله عليه وسلم.
* * *
فإن قيل: قوله تعالى: (الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُمْ مُلَاقُو رَبِّهِمْ وَأَنَّهُمْ إِلَيْهِ رَاجِعُونَ) .
ما فائدة الثانى والأول يدل عليه وبقتضيه؟
قلنا: قوله: (مُلَاقُو رَبِّهِمْ) أي ملاقوا ثواب ربهم وما وعدهم على الصبر والصلاة، وقوله: (وَأَنَّهُمْ إِلَيْهِ رَاجِعُونَ) .
أى موقنون بالبعث، فصار المعنى أنهم موقنون بالبعث، وبحصول الثواب الموعود، ولاتكرار فيه.
* * *
فإن قيل: كيف قال: (فَبَدَّلَ الَّذِينَ ظَلَمُوا قَوْلًا غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُم) .وهم إنما بدلوا القول الذي قيل لهم، لأنهم قيل لهم قولوا حطة فقالوا حنطة؟
قلنا: معناه فبدل الذين ظلموا قولاً قيل لهم، وقالوا قولا غير الذي قيل لهم.
* * *
فإن قيل: قوله تعالي: (وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ) .
العثو: الفساد، فيصير المعنى ولا تفسدوا في الأرض مفسدين؟
قلنا: معناه ولا تعثوا في الأرض بالكفر، وأنتم مفسدون بسائر المعاصى
তাওরাতের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন বিষয় এবং তাদের সত্য গোপন করার বিষয়টি হলো তাদের এই উক্তি: আমরা তাওরাতে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গুণাবলী খুঁজে পাই না।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: মহান আল্লাহর বাণী: (যারা ধারণা করে যে তারা তাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং তারা তাঁরই দিকে ফিরে যাবে)।
দ্বিতীয় অংশের সার্থকতা কী, অথচ প্রথম অংশটি এর ওপর নির্দেশ করে এবং এরই দাবি রাখে?
আমরা বলি: তাঁর বাণী: (তাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে) অর্থাৎ তারা তাদের প্রতিপালকের পুরস্কার এবং ধৈর্য ও সালাতের ওপর তিনি তাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার সাক্ষাৎ পাবে। আর তাঁর বাণী: (এবং তারা তাঁরই দিকে ফিরে যাবে)।
অর্থাৎ তারা পুনরুত্থানের ব্যাপারে নিশ্চিত বিশ্বাসী। সুতরাং অর্থ দাঁড়ালো এই যে, তারা পুনরুত্থান এবং প্রতিশ্রুত সওয়াব প্রাপ্তির ব্যাপারে নিশ্চিত বিশ্বাসী; আর এতে কোনো পুনরাবৃত্তি নেই।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে বললেন: (অতঃপর যালিমরা তাদেরকে যা বলা হয়েছিল তার পরিবর্তে অন্য কথা দিয়ে তা বদলে দিল)।অথচ তারা তো তাদেরকে যে কথাটি বলতে বলা হয়েছিল সেটিই পরিবর্তন করেছিল; কারণ তাদের বলা হয়েছিল ‘হিত্তাহ’ (ক্ষমা) বলতে, কিন্তু তারা বলেছিল ‘হিনতাহ’ (গম)?
আমরা বলি: এর অর্থ হলো, যালিমরা তাদেরকে যা বলা হয়েছিল তা পরিবর্তন করেছিল এবং তাদেরকে যা বলা হয়েছিল তা বাদ দিয়ে অন্য কথা বলেছিল।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: মহান আল্লাহর বাণী: (এবং যমিনে ফাসাদকারী হিসেবে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না)।
‘আল-আসউ’ (العثو) মানে হলো বিপর্যয় সৃষ্টি করা; তাহলে কি এর অর্থ দাঁড়ায় ‘যমিনে বিপর্যয়কারী হিসেবে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না’?
আমরা বলি: এর অর্থ হলো কুফরির মাধ্যমে যমিনে সীমা লঙ্ঘন করো না, এমতাবস্থায় যে তোমরা অন্যান্য পাপাচারে লিপ্ত হওয়ার কারণে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী।
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৮)
فإن قيل: كيف قال: (لَنْ نَصْبِرَ عَلَى طَعَامٍ وَاحِدٍ) . وطعامهم كان المنّ والسلوى وهما طعامان؟
قلنا: المراد أنه دائم غير متبدل، وإن كان نوعين.
* * *
فإن قيل: كيف قال: (وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ الْحَقِّ) .وقتل النبيين لا يكون إلا بغير الحق؟
قلنا: معناه بغير الحق في اعتقادهم، ولأن التصريح بصفة فعلهم القبيح أبلغ في ذمهم، وأن كانت تلك الصفة لازمة للفعل كما في عكسه.
قال: (رَبِّ احْكُمْ بِالْحَقِّ) . لزيادة معنى في التصريح
بالصفة، ولأن قتل النبى قد يكون بحق كقتل ابراهيم عليه الصلاة والسلام ولده لو وجد كان بحق.
* * *
فإن قيل، كيف قال: (فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ) .
وانتقالهم من صور البشر إلى صور القردة ليس في وسعهم؟
قلنا: هذا أمر إيجاد لا أمر إيجاب، فهو من قوله
تعالى: (كن فيكون)
فإذا قيل كيف قال: (عَوَانٌ بَيْنَ ذَلِكَ) . ولفظة (بين) تقتضى شيئين فصاعدا، فكيف جاز دخولها على ذلك وهو مفرد؟
قلنا: يشار به إلى المفرد والمثنى والمجموع، ومنه قوله تعالى: (قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا) .
যদি বলা হয়: তিনি কীভাবে বললেন: (আমরা এক প্রকার খাদ্যে কখনোই ধৈর্য ধারণ করব না)? অথচ তাদের খাদ্য ছিল মান্ন ও সালওয়া, যা দুইটি ভিন্ন খাদ্য।
আমরা বলি: এর উদ্দেশ্য হলো এটি স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় ছিল, যদিও তা দুই প্রকারের ছিল।
* * *
যদি বলা হয়: তিনি কীভাবে বললেন: (এবং তারা নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত)।আর নবী হত্যা তো অন্যায় ছাড়া অন্য কোনোভাবে হওয়া সম্ভব নয়?আমরা বলি: এর অর্থ হলো তাদের বিশ্বাস অনুযায়ীও তা অন্যায় ছিল। এছাড়া তাদের মন্দ কাজের গুণের সুস্পষ্ট উল্লেখ তাদের নিন্দার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর, যদিও সেই গুণটি উক্ত কাজের জন্য অনিবার্য ছিল, যেমনটি এর বিপরীত ক্ষেত্রেও ঘটে থাকে।
তিনি বলেছেন: (হে আমার রব, আপনি ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করুন)। গুণের সুস্পষ্ট উল্লেখের মাধ্যমে অর্থের গভীরতা বৃদ্ধির জন্য এটি বলা হয়েছে।
এছাড়া কোনো নবীকে হত্যা করা ন্যায়সঙ্গতও হতে পারে, যেমন ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম যদি তাঁর সন্তানকে হত্যা করতেন তবে তা ন্যায়সঙ্গত হতো।
* * *
যদি বলা হয়, তিনি কীভাবে বললেন: (অতঃপর আমি তাদের বললাম, তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও)।
অথচ মানুষের আকৃতি থেকে বানরের আকৃতিতে রূপান্তরিত হওয়া তো তাদের সামর্থ্যের বাইরে ছিল?
আমরা বলি: এটি সৃষ্টির আদেশ, কোনো বিধান পালনের আদেশ নয়। সুতরাং এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত:
(হও, ফলে তা হয়ে যায়)
অতঃপর যদি বলা হয় তিনি কীভাবে বললেন: (উভয়ের মধ্যবর্তী বয়সের)। আর 'বাইন' (মধ্যে) শব্দটি দুই বা ততোধিক বস্তুর দাবি রাখে, তাহলে এটি কীভাবে 'যালিকা' (উহা) শব্দের ওপর প্রযুক্ত হওয়া বৈধ হলো, যা একবচন?
আমরা বলি: এর মাধ্যমে একবচন, দ্বিবচন এবং বহুবচন সবকিছুর দিকেই ইঙ্গিত করা হয়। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর এই বাণী: (বলুন, আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায়; সুতরাং তারা যেন তাতেই আনন্দিত হয়)।
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৯)
(وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ) .
وقوله: (زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنْطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ذَلِكَ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا) .
فمعناه عوان بين الفارض والبكر وسيأتى تمامه فى
قوله: (بين أحد من رسله) . إن شاه الله.
* * *
فإن قيل: قوله: (قَسْوَةً وَإِنَّ مِنَ الْحِجَارَةِ لَمَا يَتَفَجَّرُ مِنْهُ الْأَنْهَارُ وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَشَّقَّقُ فَيَخْرُجُ مِنْهُ الْمَاءُ) .
كلاهما في المعني واحد فما فائدة الثانى؟
قلنا: التفجير يدل على الخررج (بوصف الكثرة والثانى يدل على نفس الخروج) وهما متغايران فلا تكرار.
* * *
فإن قيل: ما الفائدة في قوله: (فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ) والكتابة لا تكون إلا باليد؟
قلنا: فائدته تحقيق مباشرتهم ذلك التحريف بأنفسهم، وذلك زيادة في تقبيح فعلهم، فإنه يقال: كتب فلان كذا وإن لم يباشره بنفسه بل أمر غيره به من كاتب له ونحو ذلك.
* * *
فإن قيل: التولى والاعرض واحد فكيف قال: (ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِنْكُمْ وَأَنْتُمْ مُعْرِضُونَ) ؟
(আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে নিশ্চয়ই তা হবে দৃঢ়সংকল্পের কাজ)।
এবং তাঁর বাণী: (মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে নারী, সন্তান-সন্ততি, রাশি রাশি সোনা-রূপা, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদি পশু এবং ফসলি জমির আসক্তি; এসবই পার্থিব জীবনের ভোগ্যবস্তু)।
এর অর্থ হলো বৃদ্ধ এবং তরুণের মাঝামাঝি অবস্থা এবং এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সামনে আসবে তাঁর বাণী: (তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না) এর আলোচনায়, ইনশাআল্লাহ।
* * *
যদি বলা হয়: তাঁর বাণী: (কঠোরতায়; আর পাথরের মধ্যে এমন কিছু আছে যা থেকে নদী প্রবাহিত হয়, এবং নিশ্চয়ই কিছু পাথর এমনও যা বিদীর্ণ হয় ফলে তা থেকে পানি নির্গত হয়)।
এই উভয়টির অর্থ তো একই, তাহলে দ্বিতীয়টির সার্থকতা কী?
আমরা বলি: প্রবাহিত হওয়া বলতে প্রচুর পরিমাণে নির্গত হওয়া বোঝায় (আর দ্বিতীয়টি কেবল নির্গত হওয়াকেই বোঝায়) এবং এই দুটি ভিন্ন অর্থ বহন করে, তাই কোনো পুনরাবৃত্তি নেই।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তাঁর বাণী: (সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে) এর মধ্যে সার্থকতা কী, অথচ লেখা তো হাত দিয়েই হয়ে থাকে?আমরা বলি: এর সার্থকতা হলো তারা যে সরাসরি নিজেরাই সেই বিকৃতিটি ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত করা, এবং এটি তাদের কাজকে অধিকতর জঘন্য হিসেবে তুলে ধরার জন্য। কারণ অনেক সময় বলা হয়: অমুক ব্যক্তি এটি লিখেছে, যদিও সে নিজে সরাসরি তা করেনি বরং তার কোনো লেখক বা অন্য কাউকে তা করার নির্দেশ দিয়েছে।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: বিমুখ হওয়া এবং উপেক্ষা করা তো একই কথা, তবে তিনি কেন বললেন: (অতঃপর তোমাদের অল্প সংখ্যক ছাড়া তোমরা বিমুখ হয়েছিলে এবং তোমরা ছিলে উপেক্ষা প্রদর্শনকারী)?
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১০)
قلنا: معناه ثم توليتم عن الوفاء بالميثاق والعهد، وأنتم معرضون عن الفكر والنظر في عاقبة ذلك.
* * *
فإن قيل: قوله: (وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ النَّاسِ عَلَى حَيَاةٍ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا) .
ما فائدة قوله: " ومن الذين أشركوا ". وهم من جملة الناس؟
قلنا: إنما خصوا بالذكر بعد العموم لأن حرصهم على الحياة أشد.
أو لأنهم كانوا لا يؤمنون بالبعث.
* * *
فإن قيل. قوله تعالى: (وَمَا أُنْزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ) . يدل على أن الله تعالى أنزل علم السحر على الملكين فلم يكن حراماً؟
قلنا: العمل به حرام، لأنهما، كانا يعلمان الناس السحر ليجتنبوه، كما قال تعالى: (وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَمَا هُمْ بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ) .
ونظيره لو سأل إنسان ما الزنا لوجب بيانه له ليعرفه فيجتنبه.
* * *
فإن قيل: قوله تعالى: (وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ) .
আমরা বলি: এর অর্থ হলো, অতঃপর তোমরা অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা থেকে বিমুখ হয়েছ, এবং তোমরা এর পরিণাম নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও পর্যবেক্ষণ করা থেকে বিমুখ।
* * *
যদি বলা হয়: তাঁর বাণী: "আর আপনি অবশ্যই তাদেরকে জীবনের প্রতি মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি লোভী হিসেবে পাবেন এবং তাদের চেয়েও যারা শিরক করেছে।"
"এবং যারা শিরক করেছে" - এই কথাটির উপযোগিতা কী? অথচ তারা তো মানুষেরই অন্তর্ভুক্ত?
আমরা বলি: সাধারণের পর তাদেরকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ জীবনের প্রতি তাদের লালসা অনেক বেশি।
অথবা এ কারণে যে, তারা পুনরুত্থানে বিশ্বাস করত না।
* * *
যদি বলা হয়: মহান আল্লাহর বাণী: "যা দুই ফেরেশতার ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছিল।" এটি কি প্রমাণ করে যে আল্লাহ তাআলা দুই ফেরেশতার ওপর জাদুর জ্ঞান অবতীর্ণ করেছিলেন, ফলে তা কি হারাম ছিল না?আমরা বলি: এর ওপর আমল করা হারাম। কারণ তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিতেন যাতে তারা তা থেকে বেঁচে থাকতে পারে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "এবং তারা কাউকে তা শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না তারা বলত যে, 'আমরা তো কেবল এক পরীক্ষা, কাজেই তুমি কুফরি করো না।' অতঃপর তারা তাদের নিকট থেকে তা শিখত যার মাধ্যমে তারা স্বামী ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত। অথচ তারা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তার মাধ্যমে কারও কোনো ক্ষতি করতে পারত না। আর তারা এমন কিছু শিখত যা তাদের ক্ষতি করত এবং তাদের কোনো উপকারে আসত না। আর তারা অবশ্যই জানত যে, যে ব্যক্তি তা ক্রয় করবে পরকালে তার কোনো অংশ নেই। আর তারা যার বিনিময়ে নিজেদেরকে বিক্রি করেছে তা কতই না মন্দ, যদি তারা জানত!"
এর উদাহরণ হলো, যদি কোনো ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে যে ব্যভিচার কী, তবে তা চেনার জন্য এবং তা থেকে বেঁচে থাকার জন্য তাকে তা বুঝিয়ে বলা আবশ্যক।
* * *
যদি বলা হয়: মহান আল্লাহর বাণী: "আর তারা অবশ্যই জানত যে, যে ব্যক্তি তা ক্রয় করবে পরকালে তার কোনো অংশ নেই। আর তারা যার বিনিময়ে নিজেদেরকে বিক্রি করেছে তা কতই না মন্দ, যদি তারা জানত!"
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১১)
أثبت لهم العلم أولا مؤكدا بلام القسم ثم نفاه عنهم؟
قلنا: المثبت لهم أنهم علموا أن من اختار السحر ما له في الآخرة من نصيب، والمنفي عنهم أنهم لا يعلمون حقيقة ما يصير إليه من يخسر الآخرة، ولا يكون له نصيب منها، فالمنفى غير المثبت فلا تنافى.
* * *
فإن قيل: كيف قال: (وَلَوْ أَنَّهُمْ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَمَثُوبَةٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ خَيْرٌ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ) .
وأنما يستقيم أن يقال هذا خير من ذلك إذا كان في كل واحد منهما خير، ولا خير في السحر؟
قلنا: خاطبهم على اعتقادهم أن من تعلم السحر خيرا نظراً منهم إلى حصول مقصودهم الدنيوى به.
* * *
فإن قيل: كيف قال هنا: (رَبِّ اجْعَلْ هَذَا بَلَدًا آمِنًا) . وقال في سورة ابراهيم عليه الصلاة والسلام: (رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِنًا) .
قلنا: في الدعوة الأولى كان مكاناً قفراً فطلب منه أن يجعله بلداً وأمناً، وفى الدعوة الثانية كان بلدا غير أمن فعرفه وطلب له الأمن، أو كان بلداً آمناً فطلب له ثبات الأمن ودوامه، وكون هذه السورة
مدنية وسورة إبراهيم مكية لا تنافى في هذا لأن
الواقع من إبراهيم عليه الصلاة والسلام بلغته على الترتيب الذي قلنا
তিনি কি প্রথমে শপথের লাম দ্বারা জোর দিয়ে তাদের জন্য জ্ঞান সাব্যস্ত করেছেন এবং পরবর্তীতে তাদের থেকে তা অস্বীকার করেছেন?
আমরা বলি: তাদের জন্য যা সাব্যস্ত করা হয়েছে তা হলো, তারা জানত যে যে ব্যক্তি জাদু গ্রহণ করবে পরকালে তার কোনো অংশ নেই। আর তাদের থেকে যা অস্বীকার করা হয়েছে তা হলো, যারা পরকাল হারাবে এবং সেখানে যাদের কোনো অংশ থাকবে না তাদের প্রকৃত পরিণাম সম্পর্কে তারা জানে না। সুতরাং যা অস্বীকার করা হয়েছে তা সাব্যস্তকৃত বিষয়ের চেয়ে ভিন্ন, তাই এখানে কোনো বৈপরীত্য নেই।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে বললেন: "আর যদি তারা ঈমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত প্রতিদান অবশ্যই উত্তম হতো, যদি তারা জানত।".
"এটি ওটির চেয়ে উত্তম" বলা তখনই সংগত হয় যখন দুটির মধ্যেই কোনো না কোনো কল্যাণ থাকে, অথচ জাদুর মধ্যে তো কোনো কল্যাণ নেই?
আমরা বলি: তিনি তাদের সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে সম্বোধন করেছেন যে জাদু শিক্ষা করা কল্যাণকর; কারণ তারা এর মাধ্যমে তাদের পার্থিব উদ্দেশ্য হাসিলের দিকে লক্ষ্য করত।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি এখানে কেন বললেন: "হে আমার রব, আপনি একে একটি নিরাপদ শহর বানান।" আর সূরা ইবরাহিমে (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বললেন: "হে আমার রব, আপনি এই শহরটিকে নিরাপদ করুন।"
আমরা বলি: প্রথম দোয়ার সময় এটি ছিল একটি জনমানবহীন উষর স্থান, তাই তিনি প্রার্থনা করেছিলেন যেন একে একটি শহরে পরিণত করা হয় এবং নিরাপত্তা দান করা হয়। আর দ্বিতীয় দোয়ার সময় এটি একটি শহরে পরিণত হয়েছিল তবে নিরাপদ ছিল না, তাই তিনি একে নির্দিষ্ট করে এর জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করেছিলেন। অথবা এটি তখন একটি নিরাপদ শহরই ছিল, কিন্তু তিনি সেই নিরাপত্তার স্থায়িত্ব ও ধারাবাহিকতা প্রার্থনা করেছিলেন। আর এই সূরাটি মাদানি এবং সূরা ইবরাহিম মক্কি হওয়া এতে কোনো বৈপরীত্য সৃষ্টি করে না, কারণ ইবরাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) থেকে যা সংঘটিত হয়েছিল তা আমরা যেভাবে বলেছি সেই ধারাবাহিকতা অনুযায়ীই বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১২)
والإخبار عنه في القرآن على غير ذلك الترتيب أو لأن المكى منه ما نزل قبل الهجرة، فيكون المدنى متأخرا عنه، ومنه ما نزل بعد فتح مكة، فيكون متأخراً عن المدنى، فلم قلتم أن سورة ابراهيم عليه الصلاة والسلام
من المكى الذي نزل قبل الهجرة.
* * *
فإن قيل: أي مدح وشرف لإبراهيم عليه الصلاة والسلام في قوله تعالى: (وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ) .
مع ما له من شرف الرسالة والخلة؟
قلنا: قال الزجاج المراد بقوله من الصالحين أي من الفائزين.
قإن قيل: الموت ليس في وسع الإنسان وقدرته حتى يصح أن ينهى عنه على صفة أو يؤمر به على صفة، فكيف قال: (فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ) ؟
قلنا: معناه أثبتوا على الإسلام حتي إذا جاءكم الموت متم على دين الإسلام، فهو في المعنى أمر بالثبات على الإسلام والدوام عليه أو نهى عن تركه
* * *
فإن قيل: قوله تعالى: (فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا) .إن أريد به الله تعالى فلا مثل له وإن أريد به دين الإسلام فلا مثل له أيضاً، لأن دين الحق واحد؟
قلنا: كلمة "مثل " زائدة معناه فإن آمنوا بما آمنتم به، يعنى بمن آمنتم به وهو الله تعالى أو بما آمنتم به وهو دين الإسلام و"مثل"
এবং কুরআনে এর সংবাদ প্রদান সেই ক্রম অনুযায়ী নয় অথবা যেহেতু মক্কী সূরা হলো তা যা হিজরতের আগে অবতীর্ণ হয়েছে, ফলে মাদানী সূরা তার পরবর্তী হবে; আবার কিছু মক্কা বিজয়ের পর অবতীর্ণ হয়েছে যা মাদানী সূরারও পরবর্তী হবে। তাহলে আপনারা কেন বললেন যে ইবরাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম সূরাটি
হিজরতের পূর্বে অবতীর্ণ মক্কী সূরাসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: মহান আল্লাহর বাণী "নিশ্চয়ই সে পরকালেও পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত" -এর মধ্যে ইবরাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর জন্য কী প্রশংসা ও মর্যাদা রয়েছে,
যেখানে তাঁর রিসালাত ও খলীল (বন্ধুত্ব)-এর সুউচ্চ মর্যাদা পূর্বেই বিদ্যমান?
আমরা বলি: আয-যাজ্জাজ বলেছেন, পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত কথাটির অর্থ হলো সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত।
যদি প্রশ্ন করা হয়: মৃত্যু মানুষের সাধ্য ও ক্ষমতার অধীন নয় যাতে কোনো বিশেষ অবস্থায় তা থেকে নিষেধ করা বা কোনো বিশেষ অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া সঠিক হবে, তাহলে তিনি কেন বললেন: "তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না"?
আমরা বলি: এর অর্থ হলো তোমরা ইসলামের ওপর অটল থাকো যাতে যখন তোমাদের নিকট মৃত্যু আসে, তখন তোমরা দ্বীন ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করো। সুতরাং এর অর্থগত দিক হলো ইসলামের ওপর অবিচল ও স্থায়ী থাকার নির্দেশ অথবা তা ত্যাগ করা থেকে নিষেধ।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: মহান আল্লাহর বাণী "অতঃপর তোমরা যাতে ঈমান এনেছ, তারা যদি তার অনুরূপ ঈমান আনে, তবে তারা অবশ্যই সুপথ পাবে"।যদি এর দ্বারা মহান আল্লাহকে উদ্দেশ্য করা হয় তবে তাঁর কোনো সদৃশ নেই, আর যদি এর দ্বারা ইসলাম ধর্মকে উদ্দেশ্য করা হয় তবে তারও কোনো সদৃশ নেই, কারণ সত্য দ্বীন তো একটাই?
আমরা বলি: "অনুরূপ" শব্দটি এখানে অতিরিক্ত, এর অর্থ হলো তারা যদি তাতে ঈমান আনে যাতে তোমরা ঈমান এনেছ। অর্থাৎ যাঁর ওপর তোমরা ঈমান এনেছ তিনি হলেন মহান আল্লাহ, অথবা যার ওপর তোমরা ঈমান এনেছ তা হলো দ্বীন ইসলাম। আর "অনুরূপ" শব্দটি...
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قد تزاد في الكلام كقوله تعالى:
(لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ) .
وقوله: (مثله في الظلمات) . ومثل بمعنى واحد، وقيل: الباء زائدة كما في قوله تعالى: (بِجِذْعِ النَّخْلَةِ) .
أى مثل إيمانكم باالله أو بدين الإسلام.
* * *
فإن قيل: كيف قال: (وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنْتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّنْ يَنْقَلِبُ عَلَى عَقِبَيْهِ) .
وهو لم يزل عالماً بذلك
قلنا: معناه لنعلمه واقعاً موجوداً، أو أراد بالعلم التمييز للعباد
كقوله تعالى: (لِيَمِيزَ اللَّهُ الْخَبِيثَ مِنَ الطَّيِّبِ) .
* * *
فإن قيل: كيف قال: (فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا) . وهذا يدل علي أنه صلى الله عليه وسلم لم يكن راضياً بالتوجيه إلى بيت المقدس، مع أن التوجيه إليه كان بأمر الله تعالى وحكمه؟
قلنا: المراد بهذا الرضا رضا المحبة بالطبع لا رضا التسليم والإنقياد لأمر الله.
* * *
فإن قيل: كيف قال: (وَمَا أَنْتَ بِتَابِعٍ قِبْلَتَهُمْ) .
ولهم قبلتان لليهود قبلة وللنصارى قبلة؟
এটি কথাবার্তায় অতিরিক্ত হিসেবে আসতে পারে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী:
"তাঁর সদৃশ কিছুই নেই।"
এবং তাঁর বাণী: "অন্ধকারসমূহের মধ্যে তাঁর সদৃশ।" এখানে 'মিসল' ও 'মাসাল' একই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আবার বলা হয়েছে: 'বা' বর্ণটি অতিরিক্ত, যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "খেজুর গাছের কান্ডের সাহায্যে।"
অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি তোমাদের ঈমানের ন্যায় অথবা ইসলাম ধর্মের ন্যায়।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে বললেন: "আপনি যে কিবলার ওপর ছিলেন তা আমি কেবল এ জন্য নির্ধারণ করেছিলাম যেন আমি জেনে নিতে পারি কে রাসূলের অনুসরণ করে আর কে তার দুই গোড়ালির ওপর ভর দিয়ে ফিরে যায়।"
অথচ তিনি সর্বদাই সে বিষয়ে অবগত।
আমরা বলি: এর অর্থ হলো যেন আমি তা বাস্তবে বিদ্যমান অবস্থায় প্রকাশিত হতে দেখি, অথবা 'জ্ঞান' দ্বারা তিনি বান্দাদের মধ্যে পার্থক্য করা উদ্দেশ্য নিয়েছেন।
যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "যাতে আল্লাহ অপবিত্রকে পবিত্র থেকে পৃথক করেন।"
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে বললেন: "সুতরাং আমি অবশ্যই আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন।" এটি তো একথার প্রমাণ দেয় যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করার বিষয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না, অথচ সেদিকে মুখ করা ছিল মহান আল্লাহর নির্দেশ ও বিধান অনুযায়ী?
আমরা বলি: এখানে সন্তুষ্টি বলতে স্বভাবজাত ভালোবাসার সন্তুষ্টি বোঝানো হয়েছে, আল্লাহর নির্দেশের প্রতি আত্মসমর্পণ ও আনুগত্যের সন্তুষ্টির অভাব বোঝানো হয়নি।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে বললেন: "এবং আপনি তাদের কিবলার অনুসারী নন।"
অথচ তাদের কিবলা তো দুটি—ইহুদীদের একটি কিবলা এবং খ্রিষ্টানদের আরেকটি কিবলা?
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قلنا: كلا القبلتين باطلة مخالفة لقبلة الحق، فكانتا بحكم الاتحاد بالبطلان قبلة واحدة.
* * *
فإن قيل: كيف يكون للظالمين من اليهود أو غيرهم حجة على المؤمنين حتي قال: (للِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَيْكُمْ حُجَّةٌ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ) ؟
قلنا: معناه إلا أن يقولوا ظلماً وباطلاً، كقول الرجل لصاحبه ما لك عندى حق إلا أن تظلم، وإلا أن يقول الباطل.
وقيل: معناه والذين ظلموا منهم، فلا هنا بمعنى واو العطف كما في قوله تعالى: (إِنِّي لَا يَخَافُ لَدَيَّ الْمُرْسَلُونَ (10) إِلَّا مَنْ ظَلَمَ) .
وقيل لا فيهما بمعنى لكن.
وحجتهم أنهم كانوا يقولون لما توجه النبى صلى الله عليه وسلم إلى بيت المقدس ما درى محمد أين قبلته حتى هديناه، وكانوا يقولون أيضاً يخالفنا محمد في ديننا ويتبع قبلتنا، فلما حوله الله تعالى إلى
الكعبة انقطعت هذه الحجة، فعادوا يقولون لم تركت قبلة بيت المقدس إن كانت باطلة فقد صليت إليها زماناً، وإن كانت حقاً فقد انتقلت عنها فهذا هو المراد بقوله: (إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ) .
وقيل: المراد به قولهم ما ترك محمد قبلتنا إلا ميلاً إلى
دين قومه وحباً لوطنه، وقيل: المراد به قول المشركين قد عاد محمد إلى قبلتنا لعلمه أن ديننا حق فسوف يعود إلى ديننا، وإنما
আমরা বলেছি: উভয় কিবলাই বাতিল এবং সত্য কিবলার পরিপন্থী, তাই বাতিলের ক্ষেত্রে এক হওয়ার কারণে উভয়টিই এক কিবলা হিসেবে গণ্য হয়েছিল।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: ইহুদি বা অন্যদের মধ্য থেকে যারা জালেম, মুমিনদের বিরুদ্ধে তাদের দলিল বা যুক্তি কীভাবে থাকতে পারে, এমনকি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (যাতে তোমাদের বিরুদ্ধে মানুষের কোনো দলিল না থাকে, তবে তাদের মধ্যে যারা জালেম তারা ছাড়া) ?
আমরা বলি: এর অর্থ হলো, তারা যেন জুলুম ও বাতিল কথা না বলে। যেমন কোনো ব্যক্তি তার সঙ্গীকে বলে, 'আমার কাছে তোমার কোনো অধিকার নেই, তবে তুমি যদি জুলুম করো বা বাতিল কথা বলো (সেটা ভিন্ন কথা)।'
আর বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো ‘এবং তাদের মধ্য থেকে যারা জালেম’। এখানে ‘না’ শব্দটি ‘এবং’ (সংযোজক অব্যয়) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে রয়েছে: (নিশ্চয়ই আমার সান্নিধ্যে রাসূলগণ ভয় পান না, তবে যে জুলুম করেছে সে ছাড়া)।
আর বলা হয়েছে যে, উভয় ক্ষেত্রে ‘না’ শব্দটি ‘কিন্তু’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
তাদের যুক্তি ছিল এই যে, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন, তখন তারা বলত, 'মুহাম্মদ জানতেন না তাঁর কিবলা কোথায়, যতক্ষণ না আমরা তাকে পথ দেখিয়েছি।' তারা আরও বলত, 'মুহাম্মদ আমাদের দ্বীনের বিরোধিতা করেন অথচ আমাদের কিবলা অনুসরণ করেন।' অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা কিবলা পরিবর্তন করে কাবার দিকে করে দিলেন, তখন এই যুক্তিটি অসার হয়ে গেল। তখন তারা পুনরায় বলতে শুরু করল, 'তুমি কেন বায়তুল মুকাদ্দাসের কিবলা ত্যাগ করলে? যদি তা বাতিল হয়ে থাকে তবে তুমি এতদিন সেদিকে মুখ করে সালাত পড়েছ কেন? আর যদি তা সত্য হয়ে থাকে তবে তা থেকে কেন ফিরে এলে?' এটিই হলো আল্লাহর এই বাণীর উদ্দেশ্য: (তবে তাদের মধ্যে যারা জালেম তারা ছাড়া)।
আর বলা হয়েছে: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাদের এই কথা যে, 'মুহাম্মদ নিজের কওমের ধর্মের প্রতি ঝুঁকে পড়ার কারণে এবং স্বদেশের প্রতি ভালোবাসার কারণেই আমাদের কিবলা ত্যাগ করেছেন।' আবার কেউ কেউ বলেছেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুশরিকদের এই উক্তি যে, 'মুহাম্মদ আমাদের কিবলার দিকে ফিরে এসেছেন কারণ তিনি জেনেছেন যে আমাদের ধর্মই সত্য, সুতরাং শীঘ্রই তিনি আমাদের ধর্মের দিকেও ফিরে আসবেন।' এবং মূলত...
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
سمى باطلهم حجة لمشابهة الحجة في الصورة كما قال: (حُجَّتُهُمْ دَاحِضَةٌ) . وقال: (فَرِحُوا بِمَا عِنْدَهُمْ مِنَ الْعِلْمِ) .
* * *
فإن قيل: ما الفائدة في قوله: (ولا تكفرون) بعد قوله: (وَاشْكُرُوا لِي) والشكر نقيض الكفران، فمتى وجد الشكر انتفى الكفران؟
قلنا: قوله واشكروا لي معناه استعينوا بنعمتى على طاعتى، وقوله
ولا تكفرون معناه ولا تستعينوا بنعمتى على معصيتى، وقيل: الأول أمر بالشكر والثانى أمر بالثبات عليه.
* * *
فإن قيل: كيف قال: (وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ) .وأهل دينه لا يلعنونه إذا مات على دينهم؟
قلنا: المراد بالناس المؤمنون فقط، أو على عمومه وأهل دينه يلعنونه في الآخرة.
قال تعالى: (ثُمَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُ بَعْضُكُمْ بِبَعْضٍ وَيَلْعَنُ بَعْضُكُمْ بَعْضًا) .
وقال: (كُلَّمَا دَخَلَتْ أُمَّةٌ لَعَنَتْ أُخْتَهَا) .
* * *
فإن قيل: ما الفائدة في قوله تعالى: (إِلَهٌ وَاحِدٌ) .
ولو قال: (والهكم واحد) . فكان أحصر وأوجز؟
তাদের বাতিলকে 'দলিল' (হুজ্জাত) বলা হয়েছে বাহ্যিক রূপের দিক থেকে দলিলের সাথে সদৃশ হওয়ার কারণে, যেমনটি তিনি বলেছেন: (তাদের দলিল অসার)। আর তিনি বলেছেন: (তাদের কাছে যে জ্ঞান ছিল তা নিয়ে তারা আনন্দিত ছিল)।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তাঁর বাণী (এবং আমার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ো না)-এর কী ফায়দা রয়েছে তাঁর বাণী (এবং আমার শুকরিয়া আদায় করো)-এর পর? অথচ শুকরিয়া হলো অকৃতজ্ঞতার বিপরীত। সুতরাং যখনই শুকরিয়া বিদ্যমান থাকে, তখনই তো অকৃতজ্ঞতা অপসারিত হয়?
আমরা বলি: তাঁর কথা "আমার শুকরিয়া আদায় করো"-এর অর্থ হলো আমার নেয়ামত দ্বারা আমার আনুগত্যের কাজে সাহায্য গ্রহণ করো। আর তাঁর কথা "এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না"-এর অর্থ হলো আমার নেয়ামত দ্বারা আমার অবাধ্যতার কাজে লিপ্ত হয়ো না। আবার কেউ কেউ বলেছেন: প্রথমটি হলো শুকরিয়া আদায়ের নির্দেশ, আর দ্বিতীয়টি হলো তার ওপর অবিচল থাকার নির্দেশ।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: কীভাবে তিনি বললেন: (এবং সকল মানুষ)।অথচ তার ধর্মের অনুসারীরা তো তাকে অভিশাপ দেয় না যদি সে তাদের ধর্মের ওপর মৃত্যুবরণ করে?
আমরা বলি: এখানে মানুষ বলতে শুধু মুমিনদের বোঝানো হয়েছে, অথবা এটি তার ব্যাপক অর্থেই ব্যবহৃত এবং তার ধর্মের লোকেরা তাকে আখেরাতে অভিশাপ দেবে।
মহান আল্লাহ বলেন: (অতঃপর কিয়ামতের দিন তোমরা একে অপরকে অস্বীকার করবে এবং একে অপরকে লানত করবে)।
তিনি আরও বলেন: (যখনই কোনো জাতি প্রবেশ করবে, সে তার সহোদর জাতিকে অভিশাপ দেবে)।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: মহান আল্লাহর বাণী (এক ইলাহ)-এর মধ্যে কী ফায়দা রয়েছে?
যদি তিনি বলতেন (আর তোমাদের ইলাহ এক), তবে তা কি আরও সুনির্দিষ্ট ও সংক্ষিপ্ত হতো না?
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قلنا: لو قال: "وإلهكم واحد" لكان ظاهره إخبار عن كونه واحداً في الألهية، يعنى لا إله غيره، ولم يكن اخباراً عن توحده في ذاته، بخلاف ما إذا كرر ذكر الألهة، والآية إنما سيقت لإثبات أحديته في ذاته ونفى ما يقوله النصارى إنه واحد والأقانيم ثلاثة
أى الأصول أن زيداً واحداً وأعضاؤه متعددة فلما قال: "إله واحد".
دل على أحدية الذت والصفة، ولقائل أن يقول قوله واحد يحتمل الأحدية في الذات، ويحتمل الأحدية في الصفة سواء كرر ذكر لا إله أو لم يكرر فلا يتم الجواب.
* * *
فإن قيل: كيف وجه صحة التشبيه في قوله تعالى: (وَمَثَلُ الَّذِينَ كَفَرُوا كَمَثَلِ الَّذِي يَنْعِقُ) . وظاهره تشبيه الكفار بالراعى؟
قلنا: فيه إضمار تقديره ومثلك يا محمد مع الكفار كمثل الراعى مع الأنعام، أو تقديره ومثل الذين كفروا كمثل بهائم الراعى أو مثل واعظ الذين كفروا كمثل الراعى أو ومثل الذين كفروا في دعائهم الأصنام كمثل الراعى.
* * *
فإن قيل: كيف يخص المنعوق به بأنه لا يسمع إلا دعاء ونداء مع أن كل عاقل كذلك أيضاً لا يسمع إلا دعاء ونداء؟
قلنا: المراد بقوله: "لا يسمع " لا يفهم أساء سمعاً فأساء اجابة أي أساء فهماً.
আমরা বলি: যদি তিনি বলতেন: "তোমাদের ইলাহ এক," তবে তার বাহ্যিক অর্থ হতো উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর এক হওয়ার সংবাদ প্রদান করা, অর্থাৎ তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। এটি তাঁর সত্তাগত একত্বের সংবাদ হতো না। পক্ষান্তরে যখন 'ইলাহ' শব্দের পুনরাবৃত্তি করা হয়, তখন বিষয়টি ভিন্ন হয়। আয়াতটি মূলত তাঁর সত্তাগত একত্ব প্রমাণ করার জন্য এবং নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) সেই দাবির খণ্ডন করার জন্য এসেছে যেখানে তারা বলে যে তিনি এক, কিন্তু তাঁর মূল সত্তা (আকানিম) তিনটি।
অর্থাৎ মূলনীতি হলো জায়েদ একজন ব্যক্তি, কিন্তু তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অনেক। সুতরাং যখন তিনি বললেন: "এক ইলাহ।"
এটি সত্তা ও গুণের একত্ব নির্দেশ করে। কোনো প্রশ্নকারী বলতে পারেন যে, তাঁর "এক" বাণীটি সত্তাগত একত্বের সম্ভাবনা রাখে এবং গুণগত একত্বেরও সম্ভাবনা রাখে, চাই 'লা ইলাহা' (কোনো ইলাহ নেই) কথাটির পুনরাবৃত্তি করা হোক বা না হোক। ফলে উত্তরটি পরিপূর্ণ হয় না।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: মহান আল্লাহর বাণী—"আর কাফিরদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে চিৎকার করে ডাকে"—এখানে উপমার সঠিকতার দিকটি কী? কেননা এর বাহ্যিক অর্থ কাফিরদের রাখালের সাথে তুলনা করা বোঝাচ্ছে।আমরা বলি: এখানে একটি উহ্য শব্দ (ইযমার) রয়েছে। এর সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো: "হে মুহাম্মাদ, কাফিরদের সাথে তোমার উদাহরণ হলো গবাদি পশুর সাথে রাখালের উদাহরণের মতো।" অথবা এর ব্যাখ্যা হলো: "কাফিরদের উদাহরণ হলো রাখালের পশুর মতো।" অথবা "কাফিরদের উপদেশদাতার উদাহরণ হলো রাখালের মতো।" অথবা "কাফিরদের মূর্তিপূজার ক্ষেত্রে ডাক দেওয়ার উদাহরণ হলো রাখালের উদাহরণের মতো।"
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: যাকে ডাকা হচ্ছে (পশু) তাকে কেন এভাবে সুনির্দিষ্ট করা হলো যে সে ডাক ও চিৎকার ব্যতীত কিছুই শোনে না, অথচ প্রতিটি বুদ্ধিমান সত্তাও তো ডাক ও চিৎকার ব্যতীত অন্য কিছু শোনে না?
আমরা বলি: তাঁর বাণী "শোনে না"-এর উদ্দেশ্য হলো "বোঝে না"। সে মন্দভাবে শুনেছে, তাই মন্দভাবে উত্তর দিয়েছে, অর্থাৎ সে মন্দভাবে বুঝেছে।
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فإن قيل: كيف قال: (وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ)
وقال في موضيع آخر: (فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ (92) عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ) ؟
قلنا: المنفى كلام التلطف والاكرام والمثبت سؤال التوبيخ والاهانة فلا تنافى.
* * *
فإن قيل: كيف قال: (كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى) .
أى فرض، والقصاص ليس بفرض بل الولى مخير فيه بل مندوب إلى تركه؟
قلنا: المراد به فرض على القاتل التمكين، لا أنه فرض على الولى الاستيفاء.
* * *
فإن قيل: كيف قال: (الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ) .عطف الأقربين على الوالدين، وهما أقرب الأقربين والعطف يقتضى المغايرة؟
قلنا: والوالدين ليسا من الأقربين. لأن القريب من يدلى إلى غيره بواسطة كالأخ والعم ونحوهما والوالدان ليسا كذلك، ولو كانا منهم لكان خصا بالذكر كقوله تعالى: (وَمَلَائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ) .
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে বলেছেন: (কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না)
এবং অন্য স্থানে বলেছেন: (তোমার রবের কসম, আমি অবশ্যই তাদের সকলকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব)?
আমরা বলব: যা অস্বীকার করা হয়েছে তা হলো অনুগ্রহ ও সম্মানের কথা, আর যা সাব্যস্ত করা হয়েছে তা হলো তিরস্কার ও লাঞ্ছনার প্রশ্ন; সুতরাং এতে কোনো বৈপরীত্য নেই।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে বলেছেন: (নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কিসাস বিধিবদ্ধ করা হয়েছে)।
অর্থাৎ ফরজ করা হয়েছে, অথচ কিসাস ফরজ নয় বরং অভিভাবক এক্ষেত্রে ইখতিয়ার বা পছন্দের অধিকারী, এমনকি তা ছেড়ে দেওয়া মুস্তাহাব?
আমরা বলব: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঘাতকের ওপর (দণ্ড কার্যকর করতে) সুযোগ দেওয়া ফরজ করা হয়েছে, অভিভাবকের ওপর তা আদায় করা ফরজ করা হয়নি।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে বলেছেন: (পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য অসিয়ত করা)।এখানে 'নিকটাত্মীয়দের' শব্দটিকে 'পিতামাতা'র ওপর সংযুক্ত করা হয়েছে, অথচ তাঁরাই তো সর্বাপেক্ষা নিকটতম আত্মীয়, আর সংযুক্তি ভিন্নতা দাবি করে?
আমরা বলব: পিতামাতা 'নিকটাত্মীয়' (পরিভাষাগত নিকটবর্তী) পর্যায়ভুক্ত নন। কারণ নিকটাত্মীয় বলা হয় তাকে যে অন্যের সাথে কোনো মাধ্যমে সম্পর্কযুক্ত হয়, যেমন ভাই, চাচা এবং অনুরূপ ব্যক্তিরা; কিন্তু পিতামাতা এমন নন। যদি তাঁরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হতেন, তবে তাঁদেরকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হতো যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: (এবং তাঁর ফেরেশতাগণ ও তাঁর রাসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাইল)।
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فإن قيل: كيف قال: (كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ) . وصوم هذه الأمة ليس كصوم أمة موسى وعيسى عليهما الصلاة والسلام؟
قلنا: التشيه في أصل الصوم لا في كيفيته، أو في كيفية الإفطار، فإنه كان في أول الأمر الإفطار مباح من غروب الشمس إلى وقت النوم فقط، كما كان في صوم من قبلنا ثم نسخ بقوله تعالى:
(وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ) .
أو في العدد أيضاً على ما روى عن ابن عباس أنه فرض على النصارى صوم رمضان بعينه، فقدموا عشرة وأخروا عشرة لئلا يقع في الصيف، وجبروا التقديم والتأخير بزيادة عشرين فصار صومهم خمسين يوماً بين الصيف والشتاء.
* * *
فإن قيل: ما فائدة قوله: (وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى) . بعد قوله: (هُدًى لِلنَّاسِ) ؟
قلنا: ذكر أولاً أنه هدى ثم ذكر أنه بينات من جملة ما هدى الله به عبيده، وفرق به بين الحق والباطل من الكتب السماوية الهادية الفارقة بين الحق والباطل فلا تكرار.
যদি প্রশ্ন করা হয়: কীভাবে তিনি বললেন: "তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল।" অথচ এই উম্মতের রোজা মুসা ও ঈসা (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর উম্মতের রোজার মতো নয়?
আমরা বলি: সাদৃশ্যটি রোজার মূল বিধানের ক্ষেত্রে, এর পদ্ধতির ক্ষেত্রে নয়, অথবা ইফতারের পদ্ধতির ক্ষেত্রে। কেননা প্রাথমিক অবস্থায় সূর্যাস্ত থেকে কেবল ঘুমানোর সময় পর্যন্ত ইফতার করা বৈধ ছিল, যেমনটি আমাদের পূর্ববর্তীদের রোজার ক্ষেত্রে ছিল। অতঃপর মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে তা রহিত করা হয়:
"আর তোমরা আহার করো ও পান করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। অতঃপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো। আর তোমরা যখন মসজিদে ইতিকাফরত থাকো তখন তাদের সাথে সহবাস করো না। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা, কাজেই এর ধারেকাছেও যেও না। এভাবেই আল্লাহ মানুষের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে।"
অথবা সংখ্যার ক্ষেত্রেও হতে পারে, যেমনটি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, খ্রিস্টানদের ওপর নির্দিষ্টভাবে রমজানের রোজাই ফরজ করা হয়েছিল। পরে তারা দশ দিন এগিয়ে নিয়েছিল এবং দশ দিন পিছিয়ে দিয়েছিল যাতে তা গ্রীষ্মকালে না পড়ে। আর এই এগিয়ে নেওয়া ও পিছিয়ে দেওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা বিশ দিন বৃদ্ধি করেছিল, ফলে তাদের রোজা গ্রীষ্ম ও শীতের মাঝামাঝি সময়ে পঞ্চাশ দিনে পরিণত হয়েছিল।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: "মানুষের জন্য হেদায়েত" বলার পর "হেদায়েতের সুস্পষ্ট প্রমাণাদি" বলার সার্থকতা কী?
আমরা বলি: প্রথমে তিনি উল্লেখ করেছেন যে এটি হেদায়েত, এরপর উল্লেখ করেছেন যে এটি সেইসব জিনিসের অন্তর্ভুক্ত সুস্পষ্ট প্রমাণাদি যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের হেদায়েত দান করেছেন। এবং এর মাধ্যমে তিনি সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করেছেন এমন সব আসমানি কিতাব থেকে যা হেদায়েতকারী এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী। সুতরাং এখানে কোনো পুনরাবৃত্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فإن قيل: ما فائدة إعادة ذكر المريض والمسافر؟
قلنا: فائدته أن الآية المتقدمة نسخ مما فيها تخيير الصحيح، وكان فيها تخيير المريض والمسافر أيضاً، فأعيد ذكرهما لئلا يتوهم أن تخييرهما نسخ كما نسخ تخيير الصحيح.
* * *
فإن قيل: قوله تعالى: (فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ) .يدل على أنه يجيب دعاء الداعين، ونحن نرى كثيراً من الداعين لا يستجاب لهم؟
قلنا: روى عن النبى صلى الله عليه وسلم أنه قال: ما من مسلم دعا الله بدعوة ليس فيها قطيعة رحم ولا إثم إلا أعطاه الله بها إحدى
ثلاث خصال، إما أن يعجل دعوتة، وإما أن يدخرها له في الأخرة.
واما أن يدفع عنه من السوء، مثلها، ولأن قبول الدعاء شرطه الطاعة لله، وأكل الحلال، وحضور القلب وقت الدعاء، فمتى اجتمعت هذه
الشروط حصلت الاجابة، ولأن الداعى قد يعتقد مصلحته في الإجابة، والله يعلم أن مصلحته في تأخير ما سأل أو منعه عنه، فيجيبه إلى مقصوده الأصلى وهو طلب المصلحة، فيكون قد أجيب
وهو يعتقد أنه منع.
* * *
فإن قيل: ما فائدة قوله تعالي: (تِلْكَ عَشَرَةٌ) . ومعلوم أن ثلاثة وسبعة عشرة، ثم ما فائدة قوله: (كَامِلَةٌ) والعشرة لا تكون إلا كاملة، وكذا جميع أسماء العدد لا تصدق على أقل من المذكور ولاعلى أكثر منه؟
যদি বলা হয়: অসুস্থ ও মুসাফিরের কথা পুনরায় উল্লেখ করার রহস্য কী?
আমরা বলব: এর রহস্য হলো এই যে, পূর্ববর্তী আয়াতটিতে সুস্থ ব্যক্তির জন্য যে এখতিয়ার ছিল তা রহিত করা হয়েছে, আর সেখানে অসুস্থ ও মুসাফিরের জন্যও এখতিয়ার ছিল। তাই তাদের বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে যাতে কেউ এমনটা ধারণা না করে যে, সুস্থ ব্যক্তির এখতিয়ার রহিত হওয়ার সাথে সাথে তাদের এখতিয়ারও রহিত হয়ে গেছে।
* * *
যদি বলা হয়: মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী, যখন কোনো আহ্বানকারী আমাকে আহ্বান করে, আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই)।এটি প্রমাণ করে যে তিনি আহ্বানকারীদের দোয়া কবুল করেন, অথচ আমরা অনেক দোয়াকারীকে দেখি যাদের দোয়া কবুল করা হয় না?
আমরা বলব: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: কোনো মুসলিম যখন আল্লাহর কাছে এমন কোনো দোয়া করে যাতে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বা কোনো পাপের বিষয় থাকে না, আল্লাহ তাকে এর বিনিময়ে তিনটি বিষয়ের কোনো একটি অবশ্যই দান করেন—হয় তার দোয়া দ্রুত কবুল করেন, অথবা সেটি তার জন্য পরকালের জন্য জমা রাখেন।
অথবা সেই দোয়ার সমপরিমাণ কোনো অনিষ্ট তার থেকে দূর করে দেন। এছাড়া দোয়া কবুল হওয়ার শর্ত হলো আল্লাহর আনুগত্য করা, হালাল খাবার গ্রহণ করা এবং দোয়া করার সময় অন্তরের উপস্থিতি থাকা। সুতরাং যখন এই শর্তগুলো একত্রিত হয়, তখন দোয়া কবুল হয়।
আরও কারণ হলো, দোয়াকারী হয়তো মনে করে যে দোয়াটি পূরণ হওয়ার মধ্যেই তার কল্যাণ রয়েছে, কিন্তু আল্লাহ জানেন যে তার কল্যাণ রয়েছে যা সে চেয়েছে তা বিলম্বিত করার মধ্যে অথবা তা থেকে তাকে বিরত রাখার মধ্যে। ফলে আল্লাহ তার মূল উদ্দেশ্য পূরণ করেন যা হলো কল্যাণ লাভ করা। এমতাবস্থায় তার দোয়া কবুল করা হয়েছে, যদিও সে মনে করে যে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
* * *
যদি বলা হয়: মহান আল্লাহর বাণী: (এগুলো পূর্ণ দশ) এর রহস্য কী? অথচ এটি জানাই আছে যে তিন এবং সাত মিলে দশ হয়। আবার 'পূর্ণ' (কামিলাহ্) শব্দটিরই বা রহস্য কী? যেখানে দশ সংখ্যাটি তো পূর্ণই হয়ে থাকে, একইভাবে সংখ্যার সকল নামই তো উল্লেখিত সংখ্যার চেয়ে কম বা বেশির ওপর প্রযোজ্য হয় না?
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২০)
قلنا: فائدة قوله: (تلك عشرة) . أن لا يتوهم أن الواو بمعنى أو
كما في قوله تعالى: (فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ) . ولا تحل التسع جملة فنفى في قوله: (تلك عشرة) ظن وجوب أحد العددين فقط، أما الثلاثة في الحج أو
السبعة بعد الرجوع، وأن يعلم العدد من جهتين جملة وتفصيلا، فيتأكد العلم به، ونظيره فذلكة الحساب وتنصيف الكتاب، وأما قوله: (كاملة)
فتأكيد كما في قوله تعالى: (حولين كاملين) .
أو معناه كاملة في الثواب مع وقوعها بدلاً عن الهدى، أو في وقوعها موقع المتتابع مع تفرقها أو في وقوعها (موقع الصوم في الصوم في الحج) مع وقوع بعضها بعده أو في وقوعها موقع الصوم بمكة مع وقوع بعضها في غير مكة فالحاصل أنه كمال وصفاً لا ذاتاً.
* * *
فإن قيل: ما فائدة تكرار الأمر بالذكر في قوله تعالى: (فَإِذَا أَفَضْتُمْ مِنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللَّهَ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ وَاذْكُرُوهُ كَمَا هَدَاكُمْ) ؟
قلنا: انما كرره تنبيهاً علي أنه أراد ذكراً مكرراً لا ذكراً واحداً، بل مرة بعد أخرى، ولأنه زاد في الثانى فائدة أخرى، وهى قوله: (كَمَا هَدَاكُمْ) .
يعنى اذكروه بتوحيده كما ذكركم بهدايته.
ولأنه أراد
আমরা বলি: তাঁর বাণী "এই দশটি"-র তাৎপর্য হলো যেন কেউ এই বিভ্রান্তিতে না পড়ে যে "এবং" অব্যয়টি "অথবা" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে
যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "অতঃপর নারীদের মধ্য থেকে তোমাদের যাদের ভালো লাগে তাদের বিয়ে করো—দুই, তিন কিংবা চার।" সেখানে মোট নয়জন (একত্রে) বৈধ নয়। সুতরাং তিনি তাঁর বাণী "এই দশটি"-র মাধ্যমে এই ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন যে কেবল দুই সংখ্যার কোনো একটি পালন করা আবশ্যক; অর্থাৎ হয় হজের মধ্যে তিনটি অথবা
ফিরে আসার পর সাতটি। বরং এর মাধ্যমে সংখ্যাটিকে সামগ্রিক এবং বিস্তারিত—উভয় দিক থেকে জানা যায়, ফলে বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়। এর দৃষ্টান্ত হলো হিসাবের সারসংক্ষেপ প্রদান করা এবং কিতাবের পরিচ্ছেদ বিন্যাস করা। আর তাঁর বাণী "পূর্ণাঙ্গ"
হলো গুরুত্বারোপের জন্য, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী "পূর্ণ দুই বছর"-এর ক্ষেত্রে হয়েছে।
অথবা এর অর্থ হলো সওয়াবের দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ, যদিও তা হাদির (কোরবানির পশুর) বিকল্প হিসেবে পালিত হয়েছে। অথবা এটি বিচ্ছিন্নভাবে পালন করা সত্ত্বেও তা ধারাবাহিকভাবে পালনের মর্যাদা রাখে অথবা এটি হজের সময়ের রোজার স্থলাভিষিক্ত হওয়া যদিও এর কিছু অংশ হজের পরে সম্পাদিত হয়েছে অথবা এটি মক্কায় রোজার স্থলাভিষিক্ত হওয়া যদিও এর কিছু অংশ মক্কার বাইরে সম্পাদিত হয়েছে। সুতরাং সারকথা হলো, এটি গুণগত দিক থেকে পূর্ণাঙ্গতা, সত্তাগত দিক থেকে নয়।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: মহান আল্লাহর বাণী "অতঃপর যখন তোমরা আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন করবে, তখন মাশআরে হারামের নিকট আল্লাহকে স্মরণ করো এবং তাঁকে স্মরণ করো যেভাবে তিনি তোমাদের পথপ্রদর্শন করেছেন"-এ জিকিরের নির্দেশ পুনরাবৃত্তি করার তাৎপর্য কী?আমরা বলি: তিনি এটি পুনরাবৃত্তি করেছেন এই বিষয়ে সতর্ক করার জন্য যে, তিনি এখানে পুনঃপুন জিকির উদ্দেশ্য নিয়েছেন, একবার মাত্র জিকির নয়; বরং বারবার জিকির করা। তাছাড়া তিনি দ্বিতীয় নির্দেশে অতিরিক্ত একটি উপকারিতা যুক্ত করেছেন, আর তা হলো তাঁর বাণী: "যেভাবে তিনি তোমাদের পথপ্রদর্শন করেছেন"।
অর্থাৎ তোমরা তাঁর তাওহিদের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করো, যেভাবে তিনি তোমাদের তাঁর হেদায়েতের মাধ্যমে স্মরণ করেছেন।
আর যেহেতু তিনি চেয়েছিলেন
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২১)
بالذكر الأول الجمع بين الصلاتين بمزدلفة، وبالثاني الدعاء بعد الفجر بها فلا تكرار.
* * *
فإن قيل: كيف قال: (فَإِذَا أَفَضْتُمْ مِنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللَّهَ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ وَاذْكُرُوهُ كَمَا هَدَاكُمْ وَإِنْ كُنْتُمْ مِنْ قَبْلِهِ لَمِنَ الضَّالِّينَ (198) ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ) .
وأراد به الإفاضة من عرفات بلا خلاف، وبعد المجيء إلى مزدلفة والذكر فيها مرتين كما فسرنا كيف يفيضون من عرفات؟
قلنا: فيه تقديم وتأخير وتقديره: من ربكم ثم أفيضوا من حيث أفاض الناس، فإذ أفضتم من عرفات.
* * *
فإن قيل: كيف قال: (فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ) . ومعلوم أن المتعجل التارك بعض الرمى إذا لم يكن عليه إثم لا يكون على المتأخر الآتى بالرمى كاملاً.
قلنا: كان أهل الجاهلية فريقين منهم من جعل المتعجل آثماً، ومنهم
من جعل المتأخر آثماً فأخبر الله تعالى بنفى الإثم عنهما جميعاً أو معناه لا إثم على المتأخر في ترك الأخذ بالرخصة، مع أن الله يحب أن تؤتى رخصه كما تؤتى عزائمه، أو معناه أن انتفاء الإثم عنهما موقوف على التقوى لا على مجرد الرخصة أو العزيمة في الرمى، ثم قيل: المراد به تقوى المعاصى في الحج.
وقيل: تقوى المعاصى بعد الحج في بقية العمر بالوفاء بما عاهد الله
প্রথম জিকিরের মাধ্যমে মুজদালিফায় দুই সালাত একত্রে আদায় করাকে বোঝানো হয়েছে, আর দ্বিতীয়টির মাধ্যমে সেখানে ফজরের পর দোয়া করাকে বোঝানো হয়েছে, সুতরাং এখানে কোনো পুনরাবৃত্তি নেই।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে বললেন: (অতঃপর যখন তোমরা আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন করবে, তখন মাশআরে হারামের নিকট আল্লাহকে স্মরণ করো। আর তাঁকে স্মরণ করো যেভাবে তিনি তোমাদেরকে পথপ্রদর্শন করেছেন, যদিও এর আগে তোমরা বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে (১৯৮)। অতঃপর তোমরা সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করো, যেখান থেকে মানুষ প্রত্যাবর্তন করে)।
আর এর দ্বারা কোনো মতভেদ ছাড়াই আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তনকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে; অথচ মুজদালিফায় আসা এবং আমরা যেভাবে ব্যাখ্যা করেছি সেখানে দুইবার জিকির করার পর কীভাবে তারা আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন করবে?
আমরা বলি: এতে শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ হয়েছে এবং এর নিহিতার্থ হলো: 'তোমাদের রবের পক্ষ থেকে, অতঃপর সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করো যেখান থেকে মানুষ প্রত্যাবর্তন করে, সুতরাং যখন তোমরা আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন করলে।'
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে বললেন: (অতঃপর যে ব্যক্তি দুই দিনের মধ্যে তাড়াহুড়া করে চলে আসে, তার কোনো গুনাহ নেই; আর যে বিলম্ব করে, তারও কোনো গুনাহ নেই)। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, যে ব্যক্তি তাড়াহুড়া করে কিছু পাথর নিক্ষেপ ত্যাগ করল তার যদি কোনো গুনাহ না হয়, তবে যে ব্যক্তি বিলম্ব করে পূর্ণাঙ্গভাবে পাথর নিক্ষেপ সম্পন্ন করল তার তো গুনাহ না থাকাটা আরও স্বাভাবিক।আমরা বলি: জাহেলি আমলের লোকেরা দুই দলে বিভক্ত ছিল; তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাড়াহুড়াকারীকে গুনাহগার মনে করত, আবার কেউ কেউ বিলম্বকারীকে গুনাহগার মনে করত। ফলে আল্লাহ তাআলা তাদের উভয়ের থেকেই গুনাহর বিষয়টি নাকচ করে সংবাদ দিয়েছেন। অথবা এর অর্থ হলো: বিলম্বকারীর জন্য রুখসত বা বিশেষ সুযোগ গ্রহণ না করাতে কোনো গুনাহ নেই, যদিও আল্লাহ পছন্দ করেন যে তাঁর দেওয়া রুখসতসমূহ পালন করা হোক যেমনটি তিনি পছন্দ করেন তাঁর নির্ধারিত আজিমত বা বিধানসমূহ পালন করা হোক। অথবা এর অর্থ হলো: তাদের উভয়ের থেকে গুনাহ নাকচ হওয়া তাকওয়ার ওপর নির্ভরশীল, কেবল পাথর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে রুখসত বা আজিমতের ওপর নয়। অতঃপর বলা হয়েছে: এর দ্বারা হজের সময় পাপাচার থেকে বেঁচে থাকাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
আর বলা হয়েছে: হজের পরে অবশিষ্ট জীবনে আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করার মাধ্যমে পাপাচার থেকে বেঁচে থাকাকে বোঝানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২২)
تعالى عليه في عرفة وغيرها من مواقف الحج من التوبة والإنابة، والمشكل في هذه الآية قوله تعالى:
(فى يومين) .
والتعجل المرخص فيه إنما هو التعجل في اليوم الثانى من أيام التشريق، فكيف ذكر لفظ "اليومين " وأراد بهما اليوم الثانى فقط.
* * *
فإن قيل: كيف قال: (وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ) . وهو يدل على أنها كانت إلى غيره كقولهم رجع إلى فلان عبده ومنصبه؟
قلنا: هو خطاب لمن كان يعبد غير الله، وينسب أفعاله إلى سواه، فأخبرهم أنهم إذا كشف لهم الغطاء يوم القيامة ردوا إليه ما أضافوه إلى غيره بسبب كفرهم وجهلهم، ولأن رجع تستعمل بمعنى صار
ووصل كقولهم رجع على من فلان مكروه (ومنه قول لبيد) :
وما المرء إلا كالشهاب وضوئه
… يجود رمادا بعد إذ هو ساطع.
ولأنها كانت إليه قبل خلق عبيده، فلما خلقهم ملكهم بعضها خلافة ونيابة، ثم رجعت إليه بعد هلاكهم، ومنه قوله: (لِمَنِ الْمُلْكُ الْيَوْمَ) . وقوله: (الْمُلْكُ يَوْمَئِذٍ الْحَقُّ لِلرَّحْمَنِ) .
وإنه قال: (وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ) . ولم يقل: واليه، وإن كان قد سبق ذكره مرة لقصد التفخيم والعظيم، وذلك ينافى الإيجاز والاختصار.
মহান আল্লাহ আরাফাত ও হজের অন্যান্য অবস্থানে তওবা ও তাঁর অভিমুখী হওয়ার জন্য অনুগ্রহ করেছেন। আর এই আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী “(দুই দিনে)”-এর মধ্যে একটি সমস্যা বা জটিলতা রয়েছে।
কারণ যে দ্রুততা বা তাড়াহুড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা হলো তাশরিকের দিনসমূহের দ্বিতীয় দিনে তাড়াহুড়া করা। তবে কেন “দুই দিন” শব্দ উল্লেখ করা হলো এবং এর দ্বারা কেবল দ্বিতীয় দিনকেই উদ্দেশ্য করা হলো?
* * *
তবে যদি বলা হয়: তিনি কীভাবে বললেন, “(আর আল্লাহর নিকটই সকল বিষয় ফিরে যায়)”? এটি কি ইঙ্গিত দেয় যে, বিষয়গুলো অন্য কারও নিকট ছিল, যেমন বলা হয়: অমুকের কাছে তার গোলাম ও তার পদমর্যাদা ফিরে এসেছে?আমরা বলি: এটি তাদের প্রতি সম্বোধন যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করত এবং নিজেদের কর্মকাণ্ডকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের দিকে সম্বন্ধ করত। তাই তিনি তাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, কিয়ামতের দিন যখন তাদের চোখের পর্দা উন্মোচিত হবে, তখন তাদের কুফরি ও অজ্ঞতার কারণে তারা যা অন্যের দিকে সম্বন্ধ করত, তা তারা আল্লাহর দিকেই ফিরিয়ে দিবে। অধিকন্তু ‘ফিরে যাওয়া’ শব্দটি ‘হওয়া’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়।
এবং ‘পৌঁছানো’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেমন তাদের কথা: অমুকের নিকট থেকে আমার কাছে অপছন্দনীয় কিছু পৌঁছেছে (আর এরই অন্তর্ভুক্ত লাবিদের পঙ্ক্তি):
মানুষ তো উল্কাপিণ্ড ও তার আলোর মতো ছাড়া আর কিছু নয় … যা প্রজ্জ্বলিত থাকার পর ছাই হয়ে যায়।
আর এই কারণে যে, তাঁর বান্দাদের সৃষ্টির পূর্বে সকল বিষয় তাঁরই অধিকারে ছিল। এরপর যখন তিনি তাদের সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি তাদের খিলাফত ও প্রতিনিধিত্ব স্বরূপ সেগুলোর কিছুর মালিক বানিয়েছিলেন। অতঃপর তাদের ধ্বংসের পর বিষয়গুলো পুনরায় তাঁরই কাছে ফিরে এসেছে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহর বাণী: “(আজ রাজত্ব কার?)” এবং তাঁর বাণী: “(সেদিন সত্য রাজত্ব হবে পরম করুণাময়ের)”।
আর তিনি বলেছেন: “(আর আল্লাহর নিকটই সকল বিষয় ফিরে যায়)”। তিনি ‘এবং তাঁর নিকট’ বলেননি, যদিও ইতিপূর্বে একবার তাঁর উল্লেখ হয়েছিল; আর এটি করা হয়েছে মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের উদ্দেশ্যে, যা সংক্ষিপ্তকরণের পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فإن قيل: كيف طابق الجوب السؤال في قوله: (يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ قُلْ مَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ خَيْرٍ فَلِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ) .فإنهم سألوا عن بيان ما ينفقون، وأجيبوا ببيان المصرف؟
قلنا: قد تضمن قوله تعالى "قل ما أنفقتم من خير" بيان ما ينفقونه وهو كل خير، ثم زيدوا على الجواب ببيان المصرف.
ونظيره قوله تعالى: (وَمَا تِلْكَ بِيَمِينِكَ يَا مُوسَى (17) قَالَ هِيَ عَصَايَ أَتَوَكَّأُ عَلَيْهَا وَأَهُشُّ بِهَا عَلَى غَنَمِي وَلِيَ فِيهَا مَآرِبُ أُخْرَى) .
وقوله عليه الصلاة والسلام وقد سئل عن الوضوء بماء البحر " هو الطهور ماؤه الحل ميتته ".
* * *
فإن قيل: كيف جاء يسألونك ثلاث مرات بغير واو: (يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ) . (يَسْأَلُونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ) . (يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ)
ثم جاء ثلاث مرات بالواو: (وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ) . (وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَى) . (وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ) ؟
قلنا: لأن سؤالهم عن الحوادث الأول وقع متفرقاً، وعن الحوادث الآخر وقع في وقت واحد، فجىء بحرف الجمع دلالة على ذلك.
যদি বলা হয়: মহান আল্লাহর বাণী— “তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে যে তারা কী ব্যয় করবে? আপনি বলুন, তোমরা যে ধন-সম্পদ ব্যয় করবে তা তো পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য” —এই আয়াতে উত্তরটি কীভাবে প্রশ্নের সাথে সংগতিপূর্ণ হলো?কেননা তারা ব্যয়ের বস্তু সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল, অথচ তাদের উত্তর দেওয়া হয়েছে ব্যয়ের খাত বর্ণনার মাধ্যমে।?
আমরা বলি: মহান আল্লাহর বাণী “আপনি বলুন, তোমরা যা কিছু কল্যাণকর বস্তু ব্যয় করো” এর মধ্যে তারা কী ব্যয় করবে তার বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, আর তা হলো প্রতিটি কল্যাণকর বস্তু (মাল)। অতঃপর ব্যয়ের খাত বর্ণনার মাধ্যমে উত্তরের ওপর অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করা হয়েছে।
এর সদৃশ হলো মহান আল্লাহর বাণী: “হে মুসা! তোমার ডান হাতে ওটা কী? তিনি বললেন, এটি আমার লাঠি; আমি এতে ভর দিই, এর দ্বারা আমার বকরির জন্য পাতা ঝেড়ে ফেলি এবং এতে আমার আরও অন্যান্য প্রয়োজন রয়েছে।”
এবং তাঁর (রাসূলুল্লাহর) ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, যখন তাঁকে সমুদ্রের পানি দিয়ে অজু করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তখন তাঁর বাণী: “এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল।”
* * *
যদি বলা হয়: “তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে” বাক্যটি কেন তিনবার ‘ওয়াও’ (এবং) ব্যতিরেকে এসেছে: “তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে যে তারা কী ব্যয় করবে”, “তারা আপনাকে নিষিদ্ধ মাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে”, “তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে”।
অতঃপর কেন তা তিনবার ‘ওয়াও’ (এবং) সহকারে এসেছে: “এবং তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে যে তারা কী ব্যয় করবে”, “এবং তারা আপনাকে এতিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে”, “এবং তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে”?
আমরা বলি: কারণ প্রথম দিকের বিষয়গুলো সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞাসা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সংঘটিত হয়েছিল, আর শেষের দিকের বিষয়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা একই সময়ে সংঘটিত হয়েছিল। তাই তা নির্দেশ করার জন্য সংযোগকারী অব্যয় (ওয়াও) আনা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فإن قيل: كيف قال: (وَإِنْ عَزَمُوا الطَّلَاقَ فَإِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ) . وعزمهم الطلاق مما يعلم لا مما يسمع؟
قلنا: الغالب أن العازم على الطلاق وترك الغى لا يخلوا عن مقاولة ودمدمة، وإن خلا عنها فلابد له أن يحدث نفسه ويناجيها بما عزم عليه، وذلك حديث لا يسمعه إلا الله تعالى، كما يسمع وسوسة الشيطان.
* * *
فإن قيل: كيف قال: (وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ) . ولا حق للنساء في الرجعة، وأفعل تقتضى الاشتراك؟
قلنا: المراد أن الزوج إذا أراد الرجعة وأبت المرأة وجب إيثار قوله على قولها، لا أن لها حقاً في الرجعة.
* * *
فإن قيل: كيف قال: (وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَلِكَ إِنْ أَرَادُوا إِصْلَاحًا) ، والزوج أحق بالرجعة سواء أراد الإصلاح أو الإضرار بها بتطويل العدة؟
قلنا: المراد أن الرجعة أصوب وأعدل إن قصد الزوج بها الاصلاح، وتركها أصوب وأعدل إن قصد الإضرار بها.
* * *
فإن قيل: كيف الجمع بين قوله تعالى: (فَقَالَ لَهُمُ اللَّهُ مُوتُوا ثُمَّ أَحْيَاهُمْ) وقوله تعالى. (لَا يَذُوقُونَ فِيهَا الْمَوْتَ إِلَّا الْمَوْتَةَ الْأُولَى) .؟
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কেন বলেছেন: (এবং তারা যদি তালাকের সংকল্প করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ)। অথচ তাদের তালাকের সংকল্প এমন একটি বিষয় যা জানা যায়, শোনা যায় না?
আমরা বলি: সাধারণত তালাক দেওয়ার এবং বিমুখতা ত্যাগের সংকল্পকারী ব্যক্তি কোনো না কোনো বাক্য বিনিময় বা কথোপকথন থেকে মুক্ত থাকে না। আর যদি সে তা থেকে মুক্তও থাকে, তবুও সে যা সংকল্প করেছে তা নিয়ে নিজের মনের সাথে কথা বলে ও সলাপরামর্শ করে; আর এটি এমন এক কথা যা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কেউ শোনে না, যেমন তিনি শয়তানের কুমন্ত্রণা শোনেন।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কেন বলেছেন: (এবং তাদের স্বামীরা তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে অধিক হকদার)। অথচ ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের কোনো অধিকার নেই, আর 'অধিক হকদার' শব্দটি তো অংশীদারিত্বের দাবি রাখে?আমরা বলি: এর উদ্দেশ্য হলো, স্বামী যখন ফিরিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা করে এবং স্ত্রী তা অস্বীকার করে, তখন স্ত্রীর কথার উপর স্বামীর কথাকে প্রাধান্য দেওয়া ওয়াজিব; এর অর্থ এটি নয় যে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্ত্রীর কোনো অধিকার রয়েছে।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কেন বলেছেন: (এবং তাদের স্বামীরা তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে অধিক হকদার যদি তারা সংশোধনের ইচ্ছা করে), অথচ স্বামী ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে অধিক হকদার, চাই সে সংশোধনের ইচ্ছা করুক বা ইদ্দত দীর্ঘ করার মাধ্যমে তাকে কষ্ট দেওয়ার ইচ্ছা করুক?
আমরা বলি: উদ্দেশ্য হলো, স্বামী যদি এর মাধ্যমে সংশোধনের সংকল্প করে তবে ফিরিয়ে নেওয়াই অধিক সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত; আর যদি সে তাকে কষ্ট দেওয়ার সংকল্প করে তবে তাকে ফিরিয়ে না দেওয়াই অধিক সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: আল্লাহ তাআলার বাণী: (অতঃপর আল্লাহ তাদের বললেন, তোমরা মৃত্যুবরণ করো, তারপর তিনি তাদের জীবিত করলেন) এবং তাঁর বাণী: (সেখানে তারা প্রথম মৃত্যু ব্যতীত আর কোনো মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে না) - এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে?
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قلنا: المراد بالآية الأولى إماتة العقوبة مع بقاء الأجل، وبالآية الثانية الإماتة بانتهاء الأجل، ونظيره قوله تعالى في قصة موسى عليه الصلاة والسلام: (ثُمَّ بَعَثْنَاكُمْ مِنْ بَعْدِ مَوْتِكُمْ) .
لأنها كانت إماتة عقوبة، أو كان احياءهم آية لنبيهم على ما عرف في قصتهم، فصار كإحياء العزير حين مر على القرية، وآيات الأنبياء نوادر مستثناة فكان المراد بالآية الثانية الموتة التى ليست بسبب آية لنبى من الأنبياء، وإحياء قوم موسى آية له أيضاً فكان هذا جواباً عاماً، مع أن في أصل السؤال نظراً لأن الضمير في قوله: " لا يذوقون " للمتقين.
وفى قوله "فيها" للجنات على ما يأتى بيانه في سورة الدخان إن شاء الله تعال على وجه يندفع به السؤال من أصله.
* * *
فإن قيل: كيف قال: (وَاللَّهُ يُؤْتِي مُلْكَهُ مَنْ يَشَاءُ) .
والله تعالى لا يؤتى ملكه أحداً؟
قلنا: المراد بهذا الملك السلطنة والرياسة التى أنكروا أعطاها لطالوت، وليس المراد أنه يوتى كل ملكه لأحد.
لأن سياق الآية يمنعه.
* * *
فإن قيل: كيف قال في الماء (ومن لم يطعمه) ولم يقل ومن لم يشربه والماء مشروب لا مأكول؟
قلنا: طعم بمعنى أكل وبمعنى ذاق، والذوق هو المراد هنا وهو يعم.
আমরা বলি: প্রথম আয়াতের উদ্দেশ্য হলো নির্ধারিত আয়ু অবশিষ্ট থাকা সত্ত্বেও শাস্তিস্বরূপ মৃত্যু দান করা, আর দ্বিতীয় আয়াতের উদ্দেশ্য হলো নির্ধারিত আয়ু শেষ হওয়ার কারণে মৃত্যু দান করা। এর উদাহরণ হলো মূসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের কাহিনীতে আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতঃপর তোমাদের মৃত্যুর পর আমি তোমাদেরকে পুনর্জীবিত করেছি।"
কারণ এটি ছিল শাস্তিস্বরূপ মৃত্যু দান, অথবা তাদের পুনর্জীবন ছিল তাদের নবীর জন্য একটি নিদর্শন, যেমনটি তাদের কাহিনীতে জানা যায়। ফলে এটি উজাইরের পুনর্জীবিত হওয়ার মতো হলো যখন তিনি একটি জনপদ অতিক্রম করেছিলেন। আর নবীদের নিদর্শনসমূহ বিরল ও ব্যতিক্রমধর্মী হয়ে থাকে। অতএব দ্বিতীয় আয়াতের উদ্দেশ্য হলো এমন মৃত্যু যা কোনো নবীর নিদর্শন হওয়ার কারণে নয়। আর মূসার সম্প্রদায়ের পুনর্জীবনও তাঁর জন্য একটি নিদর্শন ছিল, ফলে এটি একটি সাধারণ উত্তর হলো। তাছাড়া মূল প্রশ্নের মধ্যেই পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, কারণ "তারা আস্বাদন করবে না" একথায় সর্বনামটি মুত্তাকিদের দিকে ফিরেছে।
আর "তাতে" শব্দে সর্বনামটি জান্নাতসমূহের দিকে ফিরেছে, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সূরা আদ-দুখানে বিস্তারিত বর্ণনা আসবে এমনভাবে যা দ্বারা মূল প্রশ্নটিই নিরসন হয়ে যাবে।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে বললেন: "আর আল্লাহ তাঁর রাজত্ব যাকে ইচ্ছা দান করেন"?
অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁর রাজত্ব কাউকে দান করেন না?
আমরা বলি: এই রাজত্ব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ক্ষমতা ও নেতৃত্ব যা তালুতকে প্রদান করার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেছিল। এর উদ্দেশ্য এই নয় যে, তিনি তাঁর সমগ্র রাজত্ব কাউকে দিয়ে দেন।
কারণ আয়াতের পূর্বাপর প্রসঙ্গ এটি হতে বাধা দেয়।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: পানির ক্ষেত্রে তিনি কীভাবে বললেন "আর যে তা আস্বাদন করবে না", কেন তিনি বললেন না "আর যে তা পান করবে না"? অথচ পানি পান করার বস্তু, খাওয়ার বস্তু নয়?
আমরা বলি: আস্বাদন করা শব্দটি আহার করা এবং স্বাদ গ্রহণ করা—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আর এখানে স্বাদ গ্রহণ করাই উদ্দেশ্য এবং তা ব্যাপক অর্থ বহন করে।
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فإن قيل: كيف خص موسى وعيسى من بين الأنبياء بالذكر في قوله تعالى: (تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ مِنْهُمْ مَنْ كَلَّمَ اللَّهُ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَاتٍ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ
الْقُدُسِ) ؟
قلنا: لما أوتيا من الآيات الظاهرة والمعجزات الباهرة مع الكاتبين العظيمين المشهورين.
* * *
فإن قيل: كيف قال: (مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَ يَوْمٌ لَا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ وَلَا شَفَاعَةٌ) .وفى يوم القيامة شفاعة للأنبياء وغيرهم بدليل قوله تعالى: (مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ) . وقوله: (وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى) .
وقوله: (وَلَا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ عِنْدَهُ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ) ؟
قلنا: هذه الآيات لا تدل على وجود الشفاعة يوم القيامة بل تدل على أنها لا توجد ولا تنفع بغير إذنه، ولا توجد لغير مرضى عنده، وبهذا لا ينافى (نفى) وجودها
যদি বলা হয়: আম্বিয়া কিরামের মধ্য থেকে মূসা ও ঈসাকে কেন বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণীতে: (সেই রাসূলগণ, আমি তাদের কতককে কতকের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং কতককে তিনি উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আর আমি মারইয়াম তনয় ঈসাকে দান করেছি স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এবং তাঁকে আমি শক্তিশালী করেছি পবিত্র আত্মার
দ্বারা)?
আমরা বলি: যেহেতু তাঁদের উভয়কে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ ও উজ্জ্বল মুজিযাসমূহ দান করা হয়েছিল এবং তাঁদের সাথে ছিল দুই মহান ও প্রসিদ্ধ কিতাব ধারী দুইজন।
* * *
যদি বলা হয়: তিনি কীভাবে বলেছেন: (সেই দিন আসার পূর্বেই, যাতে নেই কোনো ক্রয়-বিক্রয়, নেই কোনো বন্ধুত্ব এবং নেই কোনো সুপারিশ)।অথচ কিয়ামতের দিন নবীগণ ও অন্যদের জন্য সুপারিশ সাব্যস্ত রয়েছে, যার দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: (কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করবে?)। এবং তাঁর বাণী: (যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট তারা ব্যতীত তারা আর কারো জন্য সুপারিশ করে না)।
এবং তাঁর বাণী: (তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট কোনো সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না)?
আমরা বলি: এই আয়াতগুলো কিয়ামতের দিন সুপারিশের অস্তিত্বহীনতা নির্দেশ করে না, বরং এগুলো নির্দেশ করে যে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া সুপারিশের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং তা ফলপ্রসূও হবে না, আর আল্লাহর নিকট যারা মনোনীত নয় তাদের জন্যও তা হবে না। আর এর দ্বারা সুপারিশের অস্তিত্বের কোনো বিরোধিতা (বা অস্বীকৃতি) হয় না।
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بل المنافى له الإخبار عن وجودها لا الإخبار عن إمكان وجوها، ولو سلم فالمراد به نفى شفاعة الأصنام والكواكب التى كانوا يعتقدونها، ولهذا عرض بذكر الكفار بقوله تعالى: (وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُون (َ.
وقيل: المراد أنه لا شفاعة في إثم ترك الواجبات.
لأن الشفاعه في الآخرة في زيادة الفضل لا غير، والخطاب مع المؤمنين في النفقة الواجبة وهى الزكاة.
* * *
فإن قيل: كيف قال: (وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُونَ) .
على جهة الحصر وغيرهم ظالم أيضاً؟
قلنا: لأن ظلمهم أشد فكأنه لا ظالم إلا هم، ونظيره: (إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ) .
* * *
فإن قيل: كيف قال: (اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ) .بلفظ المضارع، ولم يقل أخرجهم بلفظ الماضي، والإخراج قد وجد لأن الإيمان قد وجد؟
قلنا: لفظ المضارع فيه دلالة على استمرار ذلك الإخراج من الله تعالى في الزمن المستقبل في حق من آمن، بزيادة كشف الشبهة
ومضاعفة الهداية، وفى حق من لم يؤمن ممن قضى الله أنه سيؤمن بابتداء الهداية وزيادتها أيضاً، ولفظ الماضي لا يدل على هذا المعنى.
* * *
فإن قيل: متى كان المؤمنون في ظلمات الكفر، والكافرون في نور الإيمان ليخرجوا من ذلك؟
বরং এর পরিপন্থী হলো সেগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া, সেগুলোর অস্তিত্বের সম্ভাবনা সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া নয়। আর যদি তা মেনেও নেওয়া হয়, তবে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঐসব প্রতিমা ও নক্ষত্ররাজির সুপারিশ অস্বীকার করা যেগুলোর প্রতি তারা বিশ্বাস রাখত। একারণেই মহান আল্লাহর বাণী 'আর কাফিররাই মূলত জালিম' এর মাধ্যমে কাফিরদের উল্লেখ করে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আর বলা হয়েছে: এর উদ্দেশ্য হলো ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় কার্যাবলি বর্জনের গুনাহের ক্ষেত্রে কোনো সুপারিশ নেই।
কারণ পরকালে সুপারিশ কেবল মর্যাদা বৃদ্ধির জন্যই হবে অন্য কিছুর জন্য নয়, আর মুমিনদের প্রতি এই সম্বোধনটি আবশ্যকীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে করা হয়েছে যা হলো জাকাত।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে বললেন: 'আর কাফিররাই মূলত জালিম'।
সীমাবদ্ধতার অর্থে, অথচ অন্যরাও তো জালিম?
আমরা বলি: কারণ তাদের জুলুম অত্যন্ত ভয়াবহ, ফলে মনে হয় যেন তারা ছাড়া আর কোনো জালিম নেই। এর সদৃশ উদাহরণ হলো: 'আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে'।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে বললেন: 'আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক, তিনি তাদের বের করে আনেন'।বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন শব্দযোগে, অথচ তিনি অতীতকালীন শব্দযোগে 'তাদের বের করে এনেছেন' বলেননি, যেখানে ঈমান অর্জিত হওয়ার কারণে বের করে আনার বিষয়টি ইতোমধ্যেই ঘটে গেছে?
আমরা বলি: বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন শব্দের মধ্যে ঐ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই বের করে আনা অব্যাহত থাকার প্রমাণ রয়েছে যারা ঈমান এনেছে, আর তা সংশয় দূরীকরণের বৃদ্ধির মাধ্যমে
এবং হেদায়েত বহুগুণ করার মাধ্যমে। আর যারা এখনো ঈমান আনেনি কিন্তু আল্লাহ ফয়সালা করে রেখেছেন যে তারা ঈমান আনবে, তাদের ক্ষেত্রে হেদায়েতের সূচনা এবং তা বৃদ্ধির মাধ্যমেও এটি অব্যাহত থাকবে। কিন্তু অতীতকালীন শব্দ এই অর্থ প্রদান করে না।
* * *
যদি প্রশ্ন করা হয়: মুমিনরা কখন কুফরির অন্ধকারের মধ্যে ছিল এবং কাফিররাই বা কখন ঈমানের আলোর মধ্যে ছিল যে তাদের সেখান থেকে বের করে আনা হবে?
(খণ্ড: ১)
উনমুজাজুন জালীল ফী আসইলাতিন ওয়া আজবিবাতিন আন গারাইবি আয়িত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قلنا: الإخراج يستعمل بمعنى المنع عن الدخول، يقال لمن امتنع عن الدخول في أمر وخرج منه وأخرج نفسه منه، واذ لم يكن دخل
فيه، فعصمة الله تعالى المؤمنين عن الدخول في ظلمات الضلال إخراج لهم منها، وتزيين قرناء الكفار لهم الباطل الذي يصدونهم به عن الحق إخراج لهم من نور الهدى، ولأن إيمان أهل الكتاب بالنبى
صلى الله عليه وسلم قبل أن يظهر كان نوراً لهم وكفرهم به بعد ظهوره خروج منه إلي ظلمات الكفر، ولأنه لما ظهرت معجزاته عليه الصلاة والسلام كان موافقه ومتبعه خارجاً من ظلمات الجهل إلى
نور العلم، ومخالفه خارجاً من نور العلم إلى ظلمات الجهل.
* * *
فإن قيل: كيف انتقل إبراهيم عليه الصلاة والسلام إلى حجة أخرى وعدل عن نصرة الأولى، مع أنها لم تنقطع بما عارضه به نمرود منقتل أحد المحبوسين وإطلاق الآخر، فإن إبراهيم عليه الصلاة والسلام ما أراد هذا الاحياء والإماتة؟
قلنا: إما لأنه رأى خصمه قاصر الفهم عن ادراك معنى الإحياء والإماتة التى أضافها إبراهيم عليه الصلاة والسلام إلى الله تعالى.
حيث عارض معارضة لفظية، وعمى عن اختلاف المعنيين، أو لأنه علم أنه فهم الحجة لكنه قصد التمويه والتلبيس. على أتباعه واشياعه.
فعدل إبراهيم عليه الصلاة والسلام إلى أمر ظاهر، يفهمه كل أحد ولا يقع فيه تمويه ولا تلبيس.
* * *
فإن قيل: كيف طبع الله على قلبه فلم يعارض بالعكس في طلوع الشمس؟
قلنا: لأنه لو عارض به لم يأت الله بها من المغرب:
لأن ذلك أمارة
আমরা বলি: ‘বের করা’ (ইখরাজ) পরিভাষাটি প্রবেশের পথে বাধা দেওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলা হয় যে কোনো বিষয়ে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকে, তা থেকে বেরিয়ে যায় বা নিজেকে বের করে নেয়, যদিও সে তাতে প্রবেশ করেনি
। সুতরাং মুমিনদের গোমরাহির অন্ধকারে প্রবেশ করা থেকে মহান আল্লাহর রক্ষা করা তাদের জন্য সেখান থেকে বের করে আনারই নামান্তর। এবং কাফিরদের সঙ্গীদের পক্ষ থেকে তাদের সামনে বাতিলকে সুশোভিত করা, যার মাধ্যমে তারা তাদের সত্য থেকে বিমুখ করে রাখে, তা তাদের হিদায়াতের নূর থেকে বের করে দেওয়ারই শামিল। আর যেহেতু নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের পূর্বে তাঁর প্রতি আহলে কিতাবদের ঈমান ছিল তাদের জন্য একটি নূর, তাই তাঁর আগমনের পর তাঁর প্রতি তাদের কুফরি করা সেই নূর থেকে বের হয়ে কুফরির অন্ধকারের দিকে যাওয়ার নামান্তর। এবং এজন্য যে, যখন তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) মুজিজাসমূহ প্রকাশ পেল, তখন তাঁর সাথে একমত পোষণকারী ও তাঁর অনুসারী অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে
ইলমের নূরের দিকে বেরিয়ে আসল, আর তাঁর বিরোধিতাকারী ইলমের নূর থেকে অজ্ঞতার অন্ধকারের দিকে বেরিয়ে গেল।
* * *
যদি বলা হয়: ইবরাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম কেন অন্য দলীলে চলে গেলেন এবং প্রথম দলিলটির সমর্থনে অটল থাকা থেকে বিমুখ হলেন, অথচ নমরুদএকজন কারাবন্দীকে হত্যা করে এবং অপরজনকে ছেড়ে দিয়ে যে বিরোধিতা করেছিল, তার ফলে তা অসার হয়ে যায়নি? কারণ ইবরাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম এই প্রকারের জীবনদান ও মৃত্যুদান উদ্দেশ্য করেননি?
আমরা বলি: হয়তো এজন্য যে তিনি দেখেছিলেন যে তাঁর প্রতিপক্ষ সেই জীবনদান ও মৃত্যুদানের অর্থ উপলব্ধিতে অক্ষম, যা ইবরাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম মহান আল্লাহর দিকে নিসবত করেছিলেন।
যেহেতু সে কেবল শাব্দিক বিরোধিতা করেছে এবং উভয় অর্থের ভিন্নতার ব্যাপারে অন্ধ ছিল। অথবা এ কারণে যে তিনি জানতেন যে সে দলিলটি বুঝেছে, কিন্তু তার অনুসারী ও দলবলদের ওপর বিভ্রান্তি ও সত্য গোপন করার সংকল্প করেছে।
তাই ইবরাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম এমন এক সুস্পষ্ট বিষয়ের দিকে ফিরে গেলেন যা প্রত্যেকেই বোঝে এবং যাতে কোনো বিভ্রান্তি বা সত্য গোপনের অবকাশ থাকে না।
* * *
যদি বলা হয়: আল্লাহ কীভাবে তার অন্তরে মোহর মেরে দিলেন যে সে এর বিপরীতে সূর্য উদিত হওয়ার ব্যাপারে পাল্টা দাবি করল না?
আমরা বলি: কারণ সে যদি এর বিরোধিতা করতও, তবে আল্লাহ সূর্যকে পশ্চিম দিক থেকে আনতেন না:
কারণ তা হচ্ছে (কিয়ামতের) আলামত।