(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مختصر الصواعق المرسلة على الجهمية والمعطلة القسم: الفرق والردود
الكتاب: مختصر الصواعق المرسلة على الجهمية والمعطلة
مؤلف الأصل: محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد شمس الدين ابن قيم الجوزية (ت 751 هـ)
اختصره: محمد بن محمد بن عبد الكريم بن رضوان البعلي شمس الدين، ابن الموصلي (ت 774 هـ)
المحقق: سيد إبراهيم
الناشر: دار الحديث، القاهرة - مصر
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 616
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জাহমিয়া ও মুআত্তিলাদের ওপর প্রেরিত বজ্রবিদ্যুতের সংক্ষিপ্তসার বিভাগ: বিভিন্ন মতবাদ ও খণ্ডন
বই: জাহমিয়া ও মুআত্তিলাদের ওপর প্রেরিত বজ্রবিদ্যুতের সংক্ষিপ্তসার
মূল লেখক: মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব বিন সাদ শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (মৃত্যু ৭৫১ হি.)
সংক্ষেপকারী: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম বিন রিদওয়ান আল-বালি শামসুদ্দিন, ইবনুল মাওসিলি (মৃত্যু ৭৭৪ হি.)
সম্পাদক: সাইয়্যেদ ইব্রাহিম
প্রকাশক: দারুল হাদিস, কায়রো - মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হি. - ২০০১ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১৬
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
[مقدمة المؤلف]بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَبِهِ نَسْتَعِينُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَهْدِيهِ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ بَعَثَهُ اللَّهُ تَعَالَى بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا فَتَحَ بِهِ أَعْيُنًا عُمْيًا وَآذَانًا صُمًّا وَقُلُوبًا غُلْفًا وَأَقَامَ بِهِ الْمِلَّةَ الْعَوْجَاءَ بِأَنْ قَالُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا.
أَمَّا بَعْدُ، فَهَذَا اسْتِعْجَالُ الصَّوَاعِقِ الْمُرْسَلَةِ عَلَى الْجَهْمِيَّةِ وَالْمُعَطِّلَةِ، انْتَخَبْتُهُ مِنْ كَلَامِ شَيْخِ الْإِسْلَامِ وَقُدْوَةِ الْأَنَامِ نَاصِرِ السُّنَّةِ (شَمْسِ الدِّينِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ قَيِّمِ الْجَوْزِيَّةِ) رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى.
اعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ بَعَثَ رَسُولَهُ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم وَأَهْلُ الْأَرْضِ أَحْوَجُ إِلَى رِسَالَتِهِ مِنْ غَيْثِ السَّمَاءِ وَمِنْ نُورِ الشَّمْسِ الَّذِي يُذْهِبُ عَنْهُمْ حَنَادِسَ الظَّلْمَاءِ، فَضَرُورَتُهُمْ إِلَيْهَا أَعْظَمُ الضَّرُورَاتِ وَحَاجَتُهُمْ إِلَيْهَا مُقَدَّمَةٌ عَلَى جَمِيعِ الْحَاجَاتِ، فَإِنَّهُ لَا حَيَاةَ لِلْقُلُوبِ وَلَا سُرُورَ وَلَا لَذَّةَ وَلَا نَعِيمَ وَلَا أَمَانَ إِلَّا بِأَنْ تَعْرِفَ رَبَّهَا وَمَعْبُودَهَا وَفَاطِرَهَا بِأَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ وَأَفْعَالِهِ وَيَكُونَ ذَلِكَ أَحَبَّ إِلَيْهَا مِمَّا سِوَاهُ، وَيَكُونَ سَعْيُهَا فِيمَا يُقَرِّبُهَا إِلَيْهِ، وَمِنَ الْمُحَالِ أَنْ تَسْتَقِلَّ الْعُقُولُ الْبَشَرِيَّةُ بِإِدْرَاكِ ذَلِكَ عَلَى التَّفْصِيلِ فَاقْتَضَتْ حِكْمَةُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ بِأَنْ بَعَثَ الرُّسُلَ بِهِ مُعَرِّفِينَ وَإِلَيْهِ دَاعِينَ وَلِمَنْ أَجَابَهُمْ مُبَشِّرِينَ وَلِمَنْ خَالَفَهُمْ مُنْذِرِينَ، وَجَعَلَ مِفْتَاحَ دَعَوْتِهِمْ وَزُبْدَةَ رِسَالَتِهِمْ مَعْرِفَةَ الْمَعْبُودِ سُبْحَانَهُ بِأَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ وَأَفْعَالِهِ، وَعَلَى هَذِهِ الْمَعْرِفَةِ تَنْبَنِي مِطَالُ الرِّسَالَةِ جَمِيعِهَا، فَإِنَّ الْخَوْفَ وَالرَّجَاءَ وَالْمَحَبَّةَ وَالطَّاعَةَ وَالْعُبُودِيَّةَ تَابِعَةٌ لِمَعْرِفَةِ الْمَرْجُوِّ الْمَخُوفِ الْمَحْبُوبِ الْمُطَاعِ الْمَعْبُودِ.
وَلَمَّا كَانَ مِفْتَاحُ الدَّعْوَةِ الْإِلَهِيَّةِ مَعْرِفَةَ الرَّبِّ تَعَالَى قَالَ أَفْضَلُ الدَّاعِينَ إِلَيْهِ لِمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَقَدْ أَرْسَلَهُ إِلَى الْيَمَنِ: " «إِنَّكَ تَأْتِي قَوْمًا أَهْلَ كِتَابٍ، فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، فَإِذَا عَرَفُوا اللَّهَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي
[লেখকের ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি; আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই, তাঁরই কাছে হিদায়াত প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন সে-ই সঠিক পথপ্রাপ্ত, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাআলা তাঁকে কিয়ামতের সন্ধিক্ষণে সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাঁর মাধ্যমে তিনি অন্ধ চক্ষু, বধির কর্ণ এবং মোহরাঙ্কিত হৃদয়সমূহ উন্মুক্ত করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে বক্র মিল্লাতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এই ঘোষণার দ্বারা যে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই'। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর, এটি হলো 'আস-সাওয়াইকুল মুরসালা আলাল জাহমিয়্যা ওয়াল মুআত্তিলা' (জাহমিয়্যা ও গুণাবলি অস্বীকারকারীদের ওপর প্রেরিত বজ্রপাত) গ্রন্থের সারসংক্ষেপ; যা আমি শায়খুল ইসলাম, সৃষ্টিজগতের অনুকরণীয় আদর্শ, সুন্নাহর সাহায্যকারী (শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ) —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন— এর বক্তব্য থেকে চয়ন করেছি।
জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন এক সময়ে প্রেরণ করেছেন যখন পৃথিবীবাসী তাঁর রিসালাতের প্রতি আকাশের বৃষ্টি এবং সূর্যের আলোর চেয়েও অধিক মুখাপেক্ষী ছিল, যা তাদের থেকে অন্ধকারের ঘোর অমানিশা দূর করে দেয়। সুতরাং এই রিসালাতের প্রতি তাদের প্রয়োজনীয়তা সবকিছুর চেয়ে মহান এবং তাদের মুখাপেক্ষিতা সকল চাহিদার ঊর্ধ্বে। কেননা, অন্তরের জীবন, প্রশান্তি, স্বাদ, নিআমত এবং নিরাপত্তা কেবল তখনই সম্ভব যখন সে তার রব, তার উপাস্য এবং তার স্রষ্টাকে তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি এবং কার্যাবলির মাধ্যমে চিনতে পারবে এবং তিনি তার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হবেন, আর তার সকল প্রচেষ্টা হবে তাঁর নৈকট্য লাভের পথে। মানব বুদ্ধিবৃত্তির পক্ষে স্বতন্ত্রভাবে এ বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে উপলব্ধি করা অসম্ভব। তাই মহ পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের প্রজ্ঞা এই দাবি করেছে যে, তিনি রাসূলগণকে এ বিষয়ে পরিচয় প্রদানকারী, তাঁর দিকে আহ্বানকারী, যারা তাঁদের ডাকে সাড়া দেবে তাদের সুসংবাদদাতা এবং যারা তাঁদের বিরোধিতা করবে তাদের সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করবেন। তিনি তাঁদের দাওয়াতের চাবিকাঠি এবং তাঁদের রিসালাতের নির্যাস করেছেন মহান উপাস্য সুবহানাহু ওয়া তাআলার নামসমূহ, গুণাবলি এবং কার্যাবলির পরিচয় লাভকে। আর এই পরিচয়ের ওপরই রিসালাতের সকল উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠিত। কেননা ভয়, আশা, ভালোবাসা, আনুগত্য এবং দাসত্ব হচ্ছে সেই সত্তার পরিচয়ের অনুগামী—যাকে আশা করা হয়, ভয় করা হয়, ভালোবাসা হয় এবং যাঁর আনুগত্য ও ইবাদত করা হয়।
যেহেতু ঐশী দাওয়াতের চাবিকাঠি হলো মহান প্রতিপালকের পরিচয় লাভ করা, তাই তাঁর দিকে আহ্বানকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিত্ব (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুআয ইবনে জাবালকে ইয়েমেনে প্রেরণের সময় বলেছিলেন: "তুমি আহলে কিতাবদের একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। সুতরাং তাদের প্রতি তোমার প্রথম দাওয়াত যেন হয় এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। অতঃপর যখন তারা আল্লাহকে চিনতে পারবে, তখন তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন যা..."
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ. . .» " الْحَدِيثَ، وَهُوَ فِي الصَّحِيحَيْنِ وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ، وَقَدْ نَزَّهَ سُبْحَانَهُ نَفْسَهُ عَنْ غَيْرِ مَا يَصِفُهُ بِهِ الْمُرْسَلُونَ فَقَالَ: {سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ - وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ - وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الصافات: 180 - 182] فَنَزَّهَ نَفْسَهُ عَمَّا يَصِفُهُ بِهِ الْخَلْقُ، ثُمَّ سَلَّمَ عَلَى الْمُرْسَلِينَ لِسَلَامَةِ مَا وَصَفُوهُ بِهِ مِنَ النَّقَائِصِ وَالْعُيُوبِ، ثُمَّ حَمِدَ نَفْسَهُ عَلَى تَفَرُّدِهِ بِالْأَوْصَافِ الَّتِي يَسْتَحِقُّ عَلَيْهَا كَمَالَ الْحَمْدِ.
وَمِنْ هُنَا أَخَذَ إِمَامُ السُّنَّةِ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ رحمه الله خُطْبَةَ كِتَابِهِ حَيْثُ قَالَ: " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هُوَ كَمَا وَصَفَ نَفْسَهُ، وَفَوْقَ مَا يَصِفُهُ خَلْقُهُ " فَأَثْبَتَ بِهَذِهِ الْكَلِمَةِ أَنَّ صِفَاتِهِ إِنَّمَا تُتَلَقَّى بِالسَّمْعِ لَا بِآرَاءِ الْخَلْقِ، وَأَنَّ أَوْصَافَهُ فَوْقَ مَا يَصِفُهُ بِهِ الْخَلْقُ، وَقَدْ شَهِدَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ بِالْعِلْمِ لِمَنْ يَرَى أَنَّ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ هُوَ الْحَقُّ لَا آرَاءَ الرِّجَالِ، فَقَالَ تَعَالَى: {وَيَرَى الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ الَّذِي أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ هُوَ الْحَقَّ وَيَهْدِي إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ} [سبأ: 6] وَقَالَ تَعَالَى: {أَفَمَنْ يَعْلَمُ أَنَّمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ الْحَقُّ كَمَنْ هُوَ أَعْمَى} [الرعد: 19] فَمَنْ تَعَارَضَ عِنْدَهُ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ وَآرَاءُ الرِّجَالِ فَقَدَّمَهَا عَلَيْهِ أَوْ تَوَقَّفَ فِيهِ أَوْ قَدَحَتْ فِي كَمَالِ مَعْرِفَتِهِ فَهُوَ أَعْمَى عَنِ الْحَقِّ.
وَقَدْ أَخْبَرَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} [يوسف: 108] وَأَخْبَرَ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ سِرَاجٌ مُنِيرٌ وَأَنَّهُ هَادٍ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ وَبِأَنَّ مَنِ اتَّبَعَ النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ هُوَ الْمُفْلِحُ لَا غَيْرُهُ، وَأَنَّ مَنْ لَمْ يُحَكِّمْهُ فِي كُلِّ مَا تَنَازَعَ فِيهِ الْمُتَنَازِعُونَ وَيَنْقَدْ لِحُكْمِهِ، وَلَا يَكُونُ عِنْدَهُ حَرَجٌ مِنْهُ فَلَيْسَ بِمُؤْمِنٍ، فَكَيْفَ يَجُوزُ عَلَى مَنْ أَخْبَرَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ بِمَا ذَكَرَ أَنْ يَكُونَ قَدْ أَخْبَرَ عَنِ اللَّهِ وَأَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ وَأَفْعَالِهِ بِمَا الْهُدَى فِي خِلَافِ ظَاهِرِهِ، وَالْحَقُّ فِي إِخْرَاجِهِ عَنْ حَقَائِقِهِ وَحَمْلِهِ عَلَى وَحْشِيِّ اللُّغَاتِ وَمُسْتَكْرَهَاتِ التَّأْوِيلَاتِ، وَأَنَّ حَقَائِقَهُ ضَلَالٌ وَتَشْبِيهٌ وَإِلْحَادٌ، وَأَنَّ الْهُدَى وَالْعِلْمَ فِي مَجَازِهِ وَإِخْرَاجِهِ عَنْ حَقَائِقِهِ؟ وَأَحَالَ الْأُمَّةَ فِيهِ عَلَى آرَاءِ الرِّجَالِ الْمُتَحَيِّرِينَ وَعُقُولِ الْمُتَهَوِّكِينَ (الْمُتَحَيِّرِينَ) فَيَقُولُ: إِذَا أَخْبَرْتُكُمْ عَنِ اللَّهِ وَصِفَاتِهِ الْعُلَى
'...দিন ও রাতে...।' এই হাদীসটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত হয়েছে এবং এর শব্দ বিন্যাস ইমাম মুসলিমের। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা রাসূলগণ তাঁর সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন তা ছাড়া অন্য সকল বর্ণনা থেকে নিজেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন: {পবিত্র তোমার প্রতিপালক, যিনি সম্মানের অধিকারী, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি পবিত্র - এবং শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের ওপর - আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক} [আস-সাফফাত: ১৮০-১৮২]। সুতরাং তিনি সৃষ্টির বর্ণনা থেকে নিজেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন, অতঃপর রাসূলদের প্রতি সালাম পাঠিয়েছেন যেহেতু তাঁরা তাঁকে যে গুণাবলীতে ভূষিত করেছেন তা ত্রুটি ও খুঁত থেকে মুক্ত। এরপর তিনি তাঁর ঐ সকল অনন্য গুণাবলীর জন্য নিজের প্রশংসা করেছেন যার কারণে তিনি পূর্ণাঙ্গ প্রশংসার যোগ্য।
এখান থেকেই সুন্নাহর ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইদ্রিস আশ-শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর গ্রন্থের ভূমিকা গ্রহণ করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তিনি ঠিক তেমনই যেমনটি তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাঁর সৃষ্টির বর্ণনার ঊর্ধ্বে।" এই বাণীর মাধ্যমে তিনি এটি সাব্যস্ত করেছেন যে, তাঁর গুণাবলী কেবল শ্রুতির (নকলি দলীল) মাধ্যমেই গৃহীত হবে, সৃষ্টির মতামতের ভিত্তিতে নয়; এবং তাঁর গুণাবলী সৃষ্টির বর্ণনার চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের ইলমের সাক্ষ্য দিয়েছেন যারা দেখেন যে রাসূল আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তা-ই সত্য, মানুষের মতামত নয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: {যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা দেখে যে, আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা-ই সত্য এবং তা পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত আল্লাহর পথে পরিচালিত করে} [সাবা: ৬]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {যে ব্যক্তি জানে যে আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য, সে কি ঐ ব্যক্তির মতো যে অন্ধ?} [আর-রাদ: ১৯]। সুতরাং রাসূল যা নিয়ে এসেছেন এবং মানুষের মতামতের মধ্যে যার নিকট বৈপরীত্য দেখা দেয় এবং সে মানুষের মতামতকে রাসূলের আনীত বার্তার ওপর অগ্রাধিকার দেয় অথবা এ বিষয়ে সংশয়ে থাকে অথবা এটি তার পূর্ণাঙ্গ মারেফাতের ক্ষেত্রে ত্রুটি সৃষ্টি করে, তবে সে সত্য থেকে অন্ধ।
আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি বলেছেন: {বলুন, এটিই আমার পথ, আমি আল্লাহর দিকে আহ্বান করি জাগ্রত জ্ঞান বা দূরদৃষ্টির সাথে, আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা} [ইউসুফ: ১০৮]। মহান আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি এক উজ্জ্বল প্রদীপ এবং তিনি সঠিক পথের দিশারী; আর কেবল তারাই সফলকাম যারা তাঁর সাথে অবতীর্ণ নূরের অনুসরণ করে। আর যে ব্যক্তি সকল বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তাঁকে বিচারক হিসেবে মান্য করে না, তাঁর ফয়সালার অনুগত হয় না এবং তাঁর ফয়সালার ব্যাপারে অন্তরে কোনো দ্বিধা বা সংকীর্ণতা পোষণ করে, সে মুমিন নয়। অতএব, আল্লাহ যার সম্পর্কে এই সংবাদ দিয়েছেন, তার ক্ষেত্রে এটি কীভাবে সম্ভব হতে পারে যে তিনি আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী ও কার্যাবলী সম্পর্কে এমন কিছু সংবাদ দেবেন যার হিদায়াত তার বাহ্যিক অর্থের বিপরীতে নিহিত, আর সত্য নিহিত থাকবে তার প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত করার মাঝে এবং রূপক ও অপ্রচলিত ভাষার প্রয়োগ এবং অপছন্দনীয় ব্যাখ্যার ওপর তা চাপিয়ে দেওয়ার মাঝে? এবং এ কথা বিশ্বাস করা যে তার প্রকৃত অর্থসমূহ ভ্রষ্টতা, সাদৃশ্য প্রদান (তাশবীহ) এবং সত্যবিচ্যুতি (ইলহাদ)? আর হিদায়াত ও জ্ঞান নিহিত রয়েছে রূপক অর্থে এবং শব্দগুলোকে প্রকৃত অর্থ থেকে সরিয়ে ফেলার মাঝে? এবং তিনি কি এই বিষয়ে উম্মতকে সংশয়গ্রস্ত ব্যক্তিদের মতামত এবং বিভ্রান্তদের বিবেকের ওপর সোপর্দ করবেন? তিনি কি এমনটি বলতে পারেন: যখন আমি তোমাদেরকে আল্লাহ এবং তাঁর সুউচ্চ গুণাবলী সম্পর্কে সংবাদ দেব...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بِشَيْءٍ فَلَا تَعْتَقِدُوا حَقِيقَتَهُ وَخُذُوا مَعْرِفَةَ مُرَادِي بِهِ مِنْ آرَاءِ الرِّجَالِ وَمَعْقُولِهَا، فَإِنَّ الْهُدَى وَالْعِلْمَ فِيهِ.
مَعَاذَ اللَّهِ، فَإِنَّهُ لَوْ خَرَجَ عَنْ ظَاهِرِهِ بِتَأْوِيلِ الْمُتَأَوِّلِينَ انْتَقَضَتْ عُرَى الْإِيمَانِ كُلُّهَا، وَكَانَ لَا تَشَاءُ طَائِفَةٌ مِنْ طَوَائِفِ أَهْلِ الضَّلَالِ أَنْ تَتَأَوَّلَ النُّصُوصَ عَلَى مَذْهَبِهَا إِلَّا وَجَدَتِ السَّبِيلَ إِلَيْهِ.
وَالْمَقْصُودُ: أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى كَمَّلَ لِلرَّسُولِ وَلِأُمَّتِهِ بِهِ دِينَهُمْ وَأَتَمَّ عَلَيْهِمْ بِهِ نِعْمَتَهُ، وَمُحَالٌ مَعَ هَذَا أَنْ يَدَعَ مَا خُلِقَ لَهُ الْخَلْقُ وَأُرْسِلَتْ بِهِ الرُّسُلُ وَأُنْزِلَتْ بِهِ الْكُتُبُ وَنُصِبَتْ عَلَيْهِ الْقِبْلَةُ وَأُسِّسَتْ عَلَيْهِ الْمِلَّةُ، وَهُوَ بَابُ الْإِيمَانِ بِهِ وَمَعْرِفَتِهِ وَمَعْرِفَةِ أَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ وَأَفْعَالِهِ، مُلْتَبِسًا مُشْتَبِهًا حَقُّهُ بِبَاطِلِهِ، لَمْ يَتَكَلَّمْ فِيهِ بِمَا هُوَ الْحَقُّ بَلْ تَكَلَّمَ بِمَا هُوَ الْبَاطِلُ، وَالْحَقُّ فِي إِخْرَاجِهِ عَنْ ظَاهِرِهِ، فَكَيْفَ يَكُونُ أَفْضَلُ الرُّسُلِ وَأَجَلُّ الْكُتُبِ غَيْرَ وَافٍ بِتَعْرِيفِ ذَلِكَ عَلَى أَتَمِّ الْوُجُوهِ، مُبَيِّنٍ لَهُ بِأَكْمَلِ الْبَيَانِ، مُوَضِّحٍ لَهُ غَايَةَ الْإِيضَاحِ، مَعَ شِدَّةِ حَاجَةِ النُّفُوسِ إِلَى مَعْرِفَتِهِ، وَهُوَ أَفْضَلُ مَا اكْتَسَبَتْهُ النُّفُوسُ وَأَجَلُّ مَا حَصَّلَتْهُ الْقُلُوبُ.
وَمِنَ الْمُحَالِ أَنْ يَكُونَ صلى الله عليه وسلم قَدْ عَلَّمَهُمْ آدَابَ الْغَائِطِ، قَبْلَهُ وَبَعْدَهُ وَمَعَهُ، وَآدَابَ الْوَطْءِ وَالطَّعَامِ وَالشَّرَابِ، وَيَتْرُكُ أَنْ يُعَلِّمَهُمْ مَا يَقُولُونَهُ بِأَلْسِنَتِهِمْ وَيَعْتَقِدُونَهُ بِقُلُوبِهِمْ فِي رَبِّهِمْ وَمَعْبُودِهِمُ الَّذِي مَعْرِفَتُهُ غَايَةَ الْمَعَارِفِ وَالْوُصُولُ إِلَيْهِ أَتَمُّ الْمَطَالِبِ، وَعِبَادَتُهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ أَقْرَبُ الْوَسَائِلِ، وَيُخْبِرُهُمْ بِمَا ظَاهِرُهُ ضَلَالٌ وَإِلْحَادٌ، وَيُحِيلُهُمْ فِي فَهْمِ مَا أَخْبَرَهُ بِهِ عَنِ اللَّهِ تَعَالَى وَأَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ وَأَفْعَالِهِ عَلَى مُسْتَكْرَهَاتِ التَّأْوِيلِ وَمَا تَحْكُمُ بِهِ عُقُولُهُمْ، هَذَا هُوَ الْقَائِلُ: " «تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْمَحَجَّةِ الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا، لَا يَزِيغُ عَنْهَا إِلَّا هَالِكٌ» "، وَهُوَ الْقَائِلُ: " «مَا بَعَثَ اللَّهُ مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا كَانَ حَقًّا عَلَيْهِ أَنْ يَدُلَّ أُمَّتَهُ عَلَى خَيْرِ مَا يَعْلَمُهُ لَهُمْ» "، وَقَالَ أَبُو ذَرٍّ: " لَقَدْ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَا طَائِرٌ
(আমি যদি) কোনো বিষয়ে কিছু বলি তবে তোমরা তার প্রকৃত অর্থে বিশ্বাস করো না, বরং সে বিষয়ে আমার অভিপ্রায় মানুষের মতামত ও যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা থেকে গ্রহণ করো; কেননা হিদায়াত ও ইলম তাতেই নিহিত রয়েছে।
আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই! কেননা যদি ব্যাখ্যাকরীদের ব্যাখ্যার মাধ্যমে একে এর বাহ্যিক অর্থ থেকে বিচ্যুত করা হয়, তবে ঈমানের সমস্ত রজ্জু ছিন্ন হয়ে যাবে। তখন পথভ্রষ্ট দলসমূহের মধ্যে যে দলই নিজেদের মতাদর্শ অনুযায়ী মূল পাঠসমূহের (নুসুস) ব্যাখ্যা করতে চাইবে, তারা অবশ্যই তার পথ পেয়ে যাবে।
মূল উদ্দেশ্য হলো: আল্লাহ তাআলা রাসূল এবং তাঁর উম্মতের জন্য তাঁদের দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং এর মাধ্যমে তাঁদের ওপর তাঁর নিআমতকে সম্পূর্ণ করেছেন। এমতাবস্থায় এটি অসম্ভব যে, যে মহান উদ্দেশ্যে সৃষ্টিজগৎ সৃষ্টি করা হয়েছে, রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে, যার ওপর কিবলা নির্ধারিত হয়েছে এবং মিল্লাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—আর তা হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর পরিচয় এবং তাঁর নাম, গুণাবলি ও কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভের পথ—সেই বিষয়টি তিনি সংশয়পূর্ণ ও অস্পষ্ট অবস্থায় রেখে দেবেন, যেখানে সত্য ও মিথ্যা সংমিশ্রিত থাকবে; তিনি সত্যের কথা বলবেন না বরং (বাহ্যত) অলীক কথা বলবেন, আর সত্য নিহিত থাকবে বিষয়টিকে এর বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে ফেলার মধ্যে। অথচ আত্মার এই জ্ঞানের প্রতি তীব্র মুখাপেক্ষিতা রয়েছে এবং এটিই আত্মার অর্জিত সর্বোত্তম বিষয় ও অন্তরের প্রাপ্ত সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ; এমতাবস্থায় শ্রেষ্ঠ রাসূল ও মহানতম কিতাব কীভাবে এই বিষয়টি পূর্ণাঙ্গরূপে সংজ্ঞায়িত করতে, সর্বোত্তম পন্থায় বর্ণনা করতে এবং চূড়ান্তভাবে স্পষ্ট করতে অসমর্থ হতে পারে?
এটিও অসম্ভব যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে মলত্যাগের পূর্বের, পরের ও সমকালীন আদবসমূহ এবং সহবাস ও পানাহারের আদবসমূহ শিক্ষা দেবেন, অথচ তাঁদের প্রতিপালক ও মা’বূদ সম্পর্কে তাঁরা মুখে কী বলবেন এবং অন্তরে কী বিশ্বাস করবেন তা শিক্ষা দিতে ছেড়ে দেবেন—যাঁর পরিচয় লাভ করাই জ্ঞানের চূড়ান্ত লক্ষ্য, যাঁর সান্নিধ্য লাভ করাই পরম চাওয়া এবং যাঁর একনিষ্ঠ ইবাদত করাই হচ্ছে নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ উপায়। আর তিনি কি তাঁদের এমন বিষয়ের সংবাদ দেবেন যার বাহ্যিক রূপ হলো পথভ্রষ্টতা ও ধর্মবিচ্যুতি, এবং আল্লাহ তাআলা ও তাঁর নাম, গুণাবলি ও কর্ম সম্পর্কে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা বোঝার ক্ষেত্রে তাঁদেরকে কষ্টকল্পিত ব্যাখ্যা ও বুদ্ধিপ্রসূত সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেবেন? তিনিই তো সেই ব্যক্তি যিনি বলেছেন: "আমি তোমাদেরকে এক উজ্জ্বল শুভ্র রাজপথের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো (আলোকিত); ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।" তিনিই তো বলেছেন: "আল্লাহ এমন কোনো নবী প্রেরণ করেননি যাঁর ওপর এটি কর্তব্য ছিল না যে, তিনি তাঁর উম্মতকে তাঁদের জন্য যা কল্যাণকর তা জানিয়ে দেবেন।" আর আবু যার রাদিআল্লাহু আনহু বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন আকাশের কোনো পাখিও..."
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يُقَلِّبُ جَنَاحَيْهِ فِي السَّمَاءِ إِلَّا ذَكَرَ لَنَا مِنْهُ عِلْمًا "، «وَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: (قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَقَامًا فَذَكَرَ بَدْءَ الْخَلْقِ حَتَّى دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ مَنَازِلَهُمْ وَأَهْلُ النَّارِ مَنَازِلَهُمْ، حَفِظَ ذَلِكَ مَنْ حَفِظَهُ وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ» ) ذَكَرَهُ الْبُخَارِيُّ.
فَكَيْفَ يَتَوَهَّمُ مَنْ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ فِي قَلْبِهِ وَقَارٌ أَنْ يَعْتَقِدَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَمْسَكَ عَنْ بَيَانِ هَذَا الْأَمْرِ الْعَظِيمِ وَلَمْ يَتَكَلَّمْ فِيهِ بِالصَّوَابِ؟ مَعَاذَ اللَّهِ، بَلْ لَا يَتِمُّ الْإِيمَانُ إِلَّا بِأَنْ يَعْتَقِدَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ بَيَّنَ ذَلِكَ أَتَمَّ الْبَيَانِ وَأَوْضَحَهُ غَايَةَ الْإِيضَاحِ، وَلَمْ يَدَعْ بَعْدَهُ لِقَائِلٍ مَقَالًا وَلَا لِمُتَأَوِّلٍ تَأْوِيلًا.
ثُمَّ مِنَ الْمُحَالِ أَنْ يَكُونَ خَيْرُ الْأُمَّةِ وَأَفْضَلُهَا وَأَسْبَقُهَا إِلَى كُلِّ خَيْرٍ قَصَّرُوا فِي هَذَا الْبَابِ فَجَفَوْا عَنْهُ أَوْ تَجَاوَزُوا فَغَلَوْا فِيهِ، وَإِنَّمَا ابْتُلِيَ مَنْ خَرَجَ عَنْ مِنْهَاجِهِمْ بِهَذَيْنِ الدَّاءَيْنِ.
وَقَالَ شَيْخُنَا قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ: وَالْحَالُ فِي هَؤُلَاءِ الْمُبْتَدِعَةِ الَّذِينَ فَضَّلُوا طَرِيقَةَ الْخَلَفِ عَلَى طَرِيقَةِ السَّلَفِ حَيْثُ ظَنُّوا أَنَّ طَرِيقَ السَّلَفِ هِيَ مُجَرَّدُ الْإِيمَانِ بِأَلْفَاظِ الْقُرْآنِ وَالْحَدِيثِ مِنْ غَيْرِ فِقْهٍ وَلَا فَهْمٍ لِمُرَادِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ مِنْهَا، وَاعْتَقَدُوا أَنَّهُمْ بِمَنْزِلَةِ الْأُمِّيِّينَ الَّذِينَ قَالَ اللَّهُ فِيهِمْ: {وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلَّا أَمَانِيَّ} [البقرة: 78] وَأَنَّ طَرِيقَةَ الْمُتَأَخِّرِينَ هِيَ اسْتِخْرَاجُ مَعَانِي النُّصُوصِ، وَصَرْفُهَا عَنْ حَقَائِقِهَا بِأَنْوَاعِ الْمَجَازَاتِ وَغَرَائِبِ اللُّغَاتِ وَمُسْتَكْرَهَاتِ التَّأْوِيلَاتِ، فَهَذَا الظَّنُّ الْفَاسِدُ أَوْجَبَ تِلْكَ الْمَقَالَةَ الَّتِي مَضْمُونُهَا نَبْذُ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَأَقْوَالِ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ، فَجَمَعُوا بَيْنَ الْجَهْلِ بِطَرِيقَةِ السَّلَفِ وَالْكَذِبِ عَلَيْهِمْ وَبَيْنَ الْجَهْلِ وَالضَّلَالِ بِتَصْوِيبِ طَرِيقَةِ الْخَلَفِ، وَسَبَبُ ذَلِكَ اعْتِقَادُهُمْ أَنَّهُ لَيْسَ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ صِفَةٌ دَلَّتْ عَلَيْهَا هَذِهِ النُّصُوصُ، فَلَمَّا اعْتَقَدُوا التَّعْطِيلَ وَانْتِفَاءَ الصِّفَاتِ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ وَرَأَوْا أَنَّهُ لَا بُدَّ لِلنُّصُوصِ مِنْ مَعْنًى بَقَوْا مُتَرَدِّدِينَ بَيْنَ الْإِيمَانِ بِاللَّفْظِ وَتَفْوِيضِ الْمَعْنَى، وَهَذَا الَّذِي هُوَ طَرِيقَةُ السَّلَفِ
"...আকাশে ডানা ঝাপটানো পাখি সম্পর্কেও তিনি আমাদের নিকট কোনো না কোনো জ্ঞান বর্ণনা করেছেন।" এবং উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে এক স্থানে দাঁড়িয়ে সৃষ্টির সূচনা থেকে শুরু করে জান্নাতবাসীদের নিজ নিজ আবাসে এবং জাহান্নামীদের নিজ নিজ আবাসে প্রবেশ করা পর্যন্ত বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। যারা তা মুখস্থ রাখার তারা রেখেছে, আর যারা ভুলে যাওয়ার তারা ভুলে গেছে।" এটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন।
সুতরাং যার অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি সামান্যতম শ্রদ্ধা ও মহিমা বোধ রয়েছে, সে কীভাবে এমন ধারণা করতে পারে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মহান বিষয়টি বর্ণনা করা থেকে বিরত থেকেছেন এবং এ বিষয়ে সঠিক কথা বলেননি? আল্লাহর পানাহ! বরং ঈমান ততক্ষণ পূর্ণ হয় না, যতক্ষণ না এই বিশ্বাস রাখা হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এর চূড়ান্ত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি এরপর কোনো বক্তার জন্য কোনো বক্তব্য কিংবা কোনো ব্যাখ্যাকারীর জন্য কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ অবশিষ্ট রাখেননি।
তদুপরি, এটি অসম্ভব যে, এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ, সর্বোত্তম এবং সর্বপ্রকার কল্যাণে অগ্রগামী ব্যক্তিবর্গ এই বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো কমতি করেছেন বা তা উপেক্ষা করেছেন, অথবা সীমা লঙ্ঘন করে বাড়াবাড়ি করেছেন। বরং যারা তাঁদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তারাই কেবল এই দুটি ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে।
আমাদের শায়খ (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন) বলেন: সেই সব বিদআতিদের অবস্থা—যারা পরবর্তীকালের লোকদের (খালাফ) পথকে সালাফদের (পূর্বসূরিদের) পথের ওপর প্রধান্য দিয়েছে—এমন যে, তারা মনে করেছে সালাফদের পথ ছিল স্রেফ কুরআন ও হাদীসের শব্দমালার ওপর ঈমান আনা, অথচ সেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কী উদ্দেশ্য নিয়েছেন সে সম্পর্কে তাদের কোনো প্রজ্ঞা বা বুঝ ছিল না। তারা ধারণা করেছে যে, সালাফগণ সেই নিরক্ষরদের পর্যায়ভুক্ত যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {আর তাদের মধ্যে এমন কিছু নিরক্ষর লোক আছে, যারা অলীক কল্পনা ছাড়া কিতাবের কোনো জ্ঞান রাখে না} [আল-বাকারা: ৭৮]। তারা আরও মনে করেছে যে, পরবর্তীকালের লোকদের পদ্ধতি হলো নস (মূল পাঠ) থেকে অর্থ উদ্ঘাটন করা এবং বিভিন্ন রূপক, বিরল ভাষাগত প্রয়োগ ও অপ্রীতিকর ব্যাখ্যার মাধ্যমে সেগুলোকে তাদের প্রকৃত অর্থ থেকে সরিয়ে দেওয়া। এই ভ্রান্ত ধারণাই তাদের সেই বক্তব্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে যার সারকথা হলো কিতাব, সুন্নাহ এবং সাহাবী ও তাবিঈদের বাণীসমূহকে উপেক্ষা করা। ফলে তারা সালাফদের পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞতা ও তাঁদের ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ এবং পরবর্তীকালের লোকদের পদ্ধতিকে সঠিক সাব্যস্ত করার মাধ্যমে অজ্ঞতা ও গোমরাহির সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। এর মূল কারণ হলো তাদের এই বিশ্বাস যে, বাস্তবে এমন কোনো গুণ নেই যা এই নসগুলো নির্দেশ করে। ফলে যখন তারা গুণাবলি অস্বীকার এবং বাস্তবে গুণাবলি না থাকার ধারণা পোষণ করল, অথচ দেখল যে নসগুলোর তো একটি অর্থ থাকা আবশ্যক, তখন তারা স্রেফ শব্দের ওপর ঈমান আনা এবং অর্থ সোপর্দ করার মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ল—আর এটিই (তাদের দাবী মতে) সালাফদের পথ।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
عِنْدَهُمْ وَبَيْنَ صَرْفِ اللَّفْظِ عَنْ حَقِيقَتِهِ وَمَا وُضِعَ لَهُ إِلَى مَا لَمْ يُوضَعْ لَهُ وَلَا دَلَّ عَلَيْهِ، بِأَنْوَاعٍ مِنَ الْمَجَازَاتِ وَبِالتَّكَلُّفَاتِ الَّتِي هِيَ بِالْأَلْغَازِ وَالْأَحَاجِيِّ أَشْبَهُ مِنْهَا بِالْبَيَانِ وَالْهُدَى، فَصَارَ هَذَا الْبَاطِلُ مُرَكَّبًا مِنْ فَسَادِ الْعَقْلِ وَالْجَهْلِ بِالسَّمْعِ، فَلَا عَقْلَ وَلَا سَمْعَ، فَإِنَّ النَّفْيَ وَالتَّعْطِيلَ إِنَّمَا اعْتَمَدُوا فِيهِ عَلَى شُبَهَاتٍ فَاسِدَةٍ ظَنُّوهَا مَعْقُولَاتٍ، وَحَرَّفُوا لَهَا النُّصُوصَ السَّمْعِيَّةَ عَنْ مَوَاضِعِهَا.
فَلَمَّا ابْتُنِيَ أَمْرُهُمْ عَلَى هَاتَيْنِ الْمُقَدَّمَتَيْنِ الْكَاذِبَتَيْنِ كَانَتِ النَّتِيجَةُ اسْتِجْهَالَ السَّابِقِينَ الَّذِينَ هُمْ أَعْلَمُ الْأُمَّةِ بِاللَّهِ وَصِفَاتِهِ، وَاعْتِقَادَ أَنَّهُمْ كَانُوا أُمِّيِّينَ بِمَنْزِلَةِ الصَّالِحِينَ الْبُلْهِ الَّذِينَ لَمْ يَتَبَحَّرُوا فِي حَقَائِقِ الْعِلْمِ بِاللَّهِ، وَأَنَّ الْخَلَفَ هُمُ الْعُلَمَاءُ الَّذِينَ أَحْرَزُوا قَصَبَاتِ السَّبْقِ، وَاسْتَوْلَوْا عَلَى الْغَايَةِ وَظَفِرُوا مِنَ الْغَنِيمَةِ بِمَا فَاتَ السَّابِقِينَ الْأَوَّلِينَ، فَكَيْفَ يَتَوَهَّمُ مَنْ لَهُ أَدْنَى مُسْكَةٍ مِنْ عَقْلٍ وَإِيمَانٍ أَنَّ هَؤُلَاءِ الْمُتَحَيِّرِينَ الَّذِينَ كَثُرَ فِي بَابِ الْعِلْمِ بِاللَّهِ اضْطِرَابُهُمْ، وَغَلُظَ عَنْ مَعْرِفَةِ اللَّهِ حِجَابُهُمْ، وَأَخْبَرَ الْوَاقِفُ عَلَى نِهَايَاتِ إِقْدَامِهِمْ بِمَا انْتَهَى إِلَيْهِ مِنْ مَرَامِهِمْ، وَأَنَّهُ الشَّكُّ وَالْحَيْرَةُ حَيْثُ يَقُولُ:
لَعَمْرِي لَقَدْ طُفْتُ الْمَعَاهِدَ كُلَّهَا
… وَسَايَرْتُ طَرْفِي بَيْنَ تِلْكَ الْمَعَالِمِ
فَلَمْ أَرَ إِلَّا وَاضِعًا كَفَّ حَائِرٍ
… عَلَى ذَقَنٍ أَوْ قَارِعًا سِنَّ نَادِمِ
وَيَقُولُ الْآخَرُ:
نِهَايَةُ إِقْدَامِ الْعُقُولِ عِقَالُ
… وَأَكْثَرُ سَعْيِ الْعَالَمِينَ ضَلَالُ
وَأَرْوَاحُنَا فِي وَحْشَةٍ مِنْ جُسُومِنَا
… وَغَايَةُ دُنْيَانَا أَذًى وَوَبَالُ
وَلَمْ نَسْتَفِدْ مِنْ بَحْثِنَا طُولَ دَهْرِنَا
… سِوَى أَنْ جَمَعْنَا فِيهِ قِيلَ وَقَالُوا
وَقَالَ الْآخَرُ: " لَقَدْ خُضْتُ الْبَحْرَ الْخِضَمَّ وَتَرَكْتُ أَهْلَ الْإِسْلَامِ وَعُلُومَهُمْ، وَخُضْتُ فِي الَّذِي نَهَوْنِي عَنْهُ، وَالْآنَ إِنْ لَمْ يَتَدَارَكْنِي رَبِّي بِرَحْمَتِهِ فَالْوَيْلُ لِي، وَهَا أَنَا ذَا أَمُوتُ عَلَى عَقِيدَةِ أُمِّي "، وَقَالَ الْآخَرُ: " أَكْثَرُ النَّاسِ شَكًّا عِنْدَ الْمَوْتِ أَرْبَابُ الْكَلَامِ "، وَقَالَ آخَرُ:
তাদের নিকট শব্দের হাকীকত ও যার জন্য এটি নির্ধারিত হয়েছে তা থেকে বিচ্যুত করে এমন অর্থে প্রয়োগ করার মধ্যে যা এর জন্য নির্ধারিত নয় এবং যা নির্দেশও করে না; তারা এমন সব রূপক বর্ণনা এবং কৃত্রিম ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছে যা স্পষ্ট বর্ণনা ও হেদায়াতের চেয়ে রহস্যময় ধাঁধা ও প্রহেলিকার অধিক সদৃশ। ফলে এই বাতিল বিষয়টি আকল বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিপর্যয় এবং সম্ (শরিয়তের অকাট্য দলীল) সম্পর্কে অজ্ঞতার এক সংমিশ্রণে পরিণত হয়েছে; এতে না আছে আকল, না আছে সম্। কেননা তারা সিফাত অস্বীকার ও নিষ্ক্রিয়করণের ক্ষেত্রে এমন সব ভ্রান্ত সংশয়ের ওপর নির্ভর করেছে যেগুলোকে তারা বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয় বলে ধারণা করে নিয়েছিল, আর এর জন্য তারা শ্রুত দলীলগুলোকে তাদের স্বস্থান থেকে বিচ্যুত করেছে।
যখন তাদের পুরো বিষয়টি এই দুটি মিথ্যা প্রাঙ্গণ বা ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠল, তখন এর ফলাফল দাঁড়ালো পূর্ববর্তী অগ্রজদের মূর্খ প্রতিপন্ন করা, অথচ তাঁরা ছিলেন আল্লাহ ও তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে এই উম্মতের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী। আর এ বিশ্বাস পোষণ করা যে, তাঁরা ছিলেন এমন এক সাধারণ উম্মি স্তরের লোক যাদের মর্যাদা কেবল ওইসব পুণ্যবান সরল মানুষদের মতো যারা আল্লাহর মারেফাতের হাকীকত বা গভীরতায় অবগাহন করেননি। পক্ষান্তরে পরবর্তী লোকেরাই হলেন সেই আলেম যারা শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত শিখরে আরোহণ করেছেন এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে এমন জ্ঞানভাণ্ডার অর্জন করেছেন যা প্রাথমিক যুগের অগ্রজদের ভাগ্যে জোটেনি। যার সামান্যতম আকল ও ঈমান আছে, সে কীভাবে কল্পনা করতে পারে যে, এই বিভ্রান্ত মানুষগুলো—যাদের আল্লাহ বিষয়ক জ্ঞানের ক্ষেত্রে অস্থিরতা অনেক বেশি এবং আল্লাহর মারেফাতের পথে যাদের আবরণ অত্যন্ত স্থূল; আর তাদের শেষ গন্তব্য সম্পর্কে অবগত ব্যক্তি তাদের প্রাপ্ত ফলাফল সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন তা হলো কেবল সন্দেহ ও অস্থিরতা। যেমনটি তিনি বলেন:
আমার জীবনের কসম! আমি সকল বিদ্যাপিঠ পরিভ্রমণ করেছি
… এবং সেসব জ্ঞানালোকের মাঝে আমার দৃষ্টিকে চালিত করেছি।
কিন্তু আমি কেবল সেখানে কোনো বিভ্রান্ত ব্যক্তিকে তার থুতনিতে হাত দিয়ে বসে থাকতে দেখেছি
… অথবা কোনো অনুতপ্ত ব্যক্তিকে দাঁত দিয়ে আঙুল কামড়াতে দেখেছি।
অন্যজন বলেন:
বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রার শেষ সীমা হলো সীমাবদ্ধতা
… আর পৃথিবীবাসীর অধিকাংশ প্রচেষ্টাই হলো বিভ্রান্তি।
আমাদের আত্মা আমাদের দেহ থেকে এক ভীতিপ্রদ নিঃসঙ্গতার মাঝে রয়েছে
… আর আমাদের এই দুনিয়ার শেষ পরিণতি হলো কষ্ট ও আপদ।
আমাদের দীর্ঘকালের গবেষণা থেকে আমরা কিছুই লাভ করতে পারিনি
… কেবল ‘বলা হয়েছে’ এবং ‘তারা বলেছে’ সংগ্রহ করা ছাড়া।
অন্য একজন বলেছেন: "আমি বিশাল অগাধ সমুদ্রে অবগাহন করেছি এবং আহলে ইসলাম ও তাদের ইলমসমূহকে পরিত্যাগ করেছি। আমি এমন গভীরতায় প্রবেশ করেছি যা থেকে আমাকে নিষেধ করা হয়েছিল। এখন যদি আমার রব তাঁর রহমত দ্বারা আমাকে উদ্ধার না করেন তবে আমার জন্য ধ্বংস অনিবার্য। আর এই যে আমি আমার মায়ের বিশ্বাসের ওপর মৃত্যুবরণ করছি।" অপর একজন বলেছেন: "মৃত্যুর সময় মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংশয়ে থাকে কালাম শাস্ত্রের পণ্ডিতরা।" এবং অন্যজন বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
مِنْهُمْ: " اشْهَدُوا عَلَيَّ أَنِّي أَمُوتُ وَمَا عَرَفْتُ شَيْئًا إِلَّا أَنَّ الْمُمْكِنَ مُفْتَقِرٌ إِلَى وَاجِبٍ "، ثُمَّ قَالَ: " الِافْتِقَارُ أَمْرٌ عَدَمِيٌّ فَلَمْ أَعْرِفْ شَيْئًا "، وَقَالَ آخَرُ وَقَدْ نَزَلَتْ بِهِ نَازِلَةٌ مِنْ سُلْطَانِهِ فَاسْتَغَاثَ بِرَبِّ الْفَلَاسِفَةِ فَلَمْ يُغِثْ، قَالَ: فَاسْتَغَثْتُ بِرَبِّ الْجَهْمِيَّةِ فَلَمْ يُغِثْنِي، ثُمَّ اسْتَغَثْتُ بِرَبِّ الْقَدَرِيَّةِ فَلَمْ يُغِثْنِي، ثُمَّ اسْتَغَثْتُ بِرَبِّ الْمُعْتَزِلَةِ فَلَمْ يُغِثْنِي، قَالَ: فَاسْتَغَثْتُ بِرَبِّ الْعَامَّةِ فَأَغَاثَنِي.
[فصل فِي بَيَانِ حَقِيقَةِ التَّأْوِيلِ لُغَةً وَاصْطِلَاحًا]فَصْلٌ
فِي بَيَانِ حَقِيقَةِ التَّأْوِيلِ لُغَةً وَاصْطِلَاحًا
هُوَ تَفْعِيلٌ مِنْ آلَ يَئُولُ إِلَى كَذَا إِذَا صَارَ إِلَيْهِ، فَالتَّأْوِيلُ التَّصْيِيرُ، وَأَوَّلْتُهُ تَأْوِيلًا إِذَا صَيَّرْتُهُ إِلَيْهِ، قَالَ: وَتَأَوَّلَ وَهُوَ مُطَاوعُ أَوَّلْتُهُ، وَقَالَ الْجَوْهَرِيُّ: التَّأْوِيلُ تَفْسِيرُ مَا يَئُولُ إِلَيْهِ الشَّيْءُ، وَقَدْ أَوَّلْتُهُ وَتَأَوَّلْتُهُ بِمَعْنًى، قَالَ الْأَعْشَى:
عَلَى أَنَّهَا كَانَتْ تَأَوَّلُ حُبَّهَا
… تَأَوُّلَ رِبْعِيِّ السِّقَابِ فَأَصْحَبَا
قَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ: تَأَوُّلُ حُبِّهَا أَيْ: تَفْسِيرُهُ وَمَرْجِعُهُ، أَيْ إِنَّ حُبَّهَا كَانَ صَغِيرًا فِي قَلْبِهِ فَلَمْ يَزَلْ يَشِبُّ حَتَّى أَصْحَبَ فَصَارَ قَدِيمًا، كَهَذَا السَّقْبِ الصَّغِيرِ لَمْ يَزَلْ يَشِبُّ حَتَّى صَارَ كَبِيرًا مِثْلَ أُمِّهِ وَصَارَ لَهُ ابْنٌ يَصْحَبُهُ، وَالسَّقْبِ (بِفَتْحِ السِّينِ) وَلَدُ النَّاقَةِ أَوْ سَاعَةَ يُولَدُ أَوْ خَاصٌّ بِالذَّكَرِ.
ثُمَّ تُسَمَّى الْعَاقِبَةُ تَأْوِيلًا لِأَنَّ الْأَمْرَ يَصِيرُ إِلَيْهَا، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 59] ، وَتُسَمَّى حَقِيقَةُ الشَّيْءِ الْمُخْبَرِ بِهِ تَأْوِيلًا لِأَنَّ الْأَمْرَ يَنْتَهِي إِلَيْهِ، وَمِنْهُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا تَأْوِيلَهُ يَوْمَ يَأْتِي تَأْوِيلُهُ يَقُولُ الَّذِينَ نَسُوهُ مِنْ قَبْلُ قَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ} [الأعراف: 53] فَمَجِيءُ تَأْوِيلِهِ مَجِيءُ نَفْسِ مَا أَخْبَرَتْ بِهِ الرُّسُلُ مِنَ الْيَوْمِ الْآخِرِ
তাদের মধ্যে একজন বলেছেন: "তোমরা আমার ব্যাপারে সাক্ষী থেকো যে, আমি মৃত্যুবরণ করছি অথচ আমি এইটুকু ছাড়া আর কিছুই জানতে পারিনি যে, যা কিছু সম্ভাব্য (মুমকিন) তা এক আবশ্যিক সত্তার (ওয়াজিব) মুখাপেক্ষী।" এরপর তিনি বললেন: "এই মুখাপেক্ষিতা তো একটি অভাবাত্মক বিষয়, তাই আমি আসলে কিছুই জানতে পারিনি।" অন্য একজন ব্যক্তি বলেছেন—যার ওপর তার শাসকের পক্ষ থেকে বড় কোনো বিপদ আপতিত হয়েছিল—তিনি তখন দার্শনিকদের রবের নিকট আর্তনাদ করলেন, কিন্তু কোনো সাহায্য পেলেন না। তিনি বললেন: এরপর আমি জাহমিয়াদের রবের নিকট সাহায্য চাইলাম, তিনি আমাকে সাহায্য করলেন না। এরপর আমি কাদারিয়াদের রবের নিকট সাহায্য চাইলাম, তিনি আমাকে সাহায্য করলেন না। এরপর আমি মুতাজিলাদের রবের নিকট সাহায্য চাইলাম, তিনিও আমাকে সাহায্য করলেন না। পরিশেষে তিনি বললেন: তখন আমি সাধারণ মানুষের (আহলে সুন্নাহর) রবের নিকট সাহায্য চাইলাম এবং তিনি আমাকে উদ্ধার করলেন।
[পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে তাবিলের (ব্যাখ্যা) হাকিকত বর্ণনা প্রসঙ্গে]পরিচ্ছেদ
আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে তাবিলের হাকিকত বর্ণনা প্রসঙ্গে
এটি 'তাফঈল' ছাঁচে গঠিত, যা 'আলা-ইয়াউলু' থেকে এসেছে; যখন কোনো কিছু কোনো পরিণতির দিকে ফিরে যায়। সুতরাং তাবিল মানে হলো কোনো কিছুকে পরিণতির দিকে ফিরিয়ে নেওয়া। আমি একে তাবিল করেছি—এর অর্থ হলো আমি একে সেই পরিণতির দিকে প্রত্যাবর্তিত করেছি। তিনি (গ্রন্থকার) বলেন: 'তাআউওয়ালা' শব্দটি হলো 'আউওয়ালতুহু' এর মুতাবি (প্রতিক্রিয়াশীল রূপ)। জাওহারী বলেন: তাবিল হলো কোনো বস্তু যে পরিণতির দিকে ফিরে যায় তার ব্যাখ্যা। 'আউওয়ালতুহু' এবং 'তাআউওয়ালতুহু' একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। কবি আল-আশা বলেছেন:
যদিও তার প্রতি ভালোবাসার পরিণতি ছিল
… বসন্তকালে জন্ম নেওয়া উষ্ট্রশাবকের পরিণতির মতো, যা পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে
আবু উবাইদাহ বলেন: তার প্রতি ভালোবাসার 'তাআউওয়ুল' অর্থাৎ তার ব্যাখ্যা ও পরিণতি। এর অর্থ হলো তার অন্তরে সেই ভালোবাসা ছিল ক্ষুদ্র, যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে যতক্ষণ না তা পূর্ণতা পায়। এটি সেই ছোট উষ্ট্রশাবকের মতো যা ক্রমাগত বাড়তে বাড়তে তার মায়ের মতো বড় হয়ে যায় এবং একসময় তারও সন্তান হয় যে তার সঙ্গী হয়। 'আস-সাকব' (সীন বর্ণে যবরসহ) উষ্ট্রীর শাবককে বলা হয়, যা সদ্য ভূমিষ্ঠ হয়েছে অথবা এটি বিশেষভাবে পুরুষ শাবকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
অতঃপর পরিণাম বা ফলাফলকে তাবিল নামে অভিহিত করা হয়, কারণ প্রতিটি বিষয় পরিণতির দিকেই ধাবিত হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: {যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই শ্রেষ্ঠতর এবং পরিণামে (তাবিল) অতি উত্তম।} [আন-নিসা: ৫৯]। সংবাদ প্রদান করা হয়েছে এমন বিষয়ের বাস্তব রূপকেও তাবিল বলা হয়, কারণ বিষয়টি সেই বাস্তবতায় গিয়েই শেষ হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কি কেবল এর পরিণামের (তাবিল) অপেক্ষা করছে? যেদিন এর তাবিল আসবে, সেদিন যারা ইতিপূর্বে একে ভুলে গিয়েছিল তারা বলবে: আমাদের রবের রাসুলগণ তো সত্য নিয়ে এসেছিলেন।} [আল-আরাফ: ৫৩]। সুতরাং এর 'তাবিল আসা' বলতে বোঝায় রাসুলগণ পরকাল সম্পর্কে যে সংবাদ দিয়েছিলেন সেই বাস্তবতারই আগমন ঘটা।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وَالْمَعَادِ وَتَفَاصِيلِهِ وَالْجَنَّةِ وَالنَّارِ، وَيُسَمَّى تَعْبِيرُ الرُّؤْيَا تَأْوِيلَهَا بِالِاعْتِبَارَيْنِ، فَإِنَّهُ تَفْسِيرٌ لَهَا وَهُوَ عَاقِبَتُهَا وَمَا تَئُولُ إِلَيْهِ، وَقَالَ يُوسُفُ لِأَبِيهِ: {يَاأَبَتِ هَذَا تَأْوِيلُ رُؤْيَايَ مِنْ قَبْلُ} [يوسف: 100] . أَيْ حَقِيقَتُهَا وَمَصِيرُهَا إِلَى هَاهُنَا. انْتَهَى.
وَتُسَمَّى الْعِلَّةُ الْغَائِيَّةُ وَالْحِكْمَةُ الْمَطْلُوبَةُ بِالْفِعْلِ تَأْوِيلًا لِأَنَّهَا بَيَانٌ لِمَقْصُودِ الْفَاعِلِ وَغَرَضِهِ مِنَ الْفِعْلِ الَّذِي لَمْ يَعْرِفِ الرَّائِي لَهُ غَرَضَهُ بِهِ، وَمِنْهُ قَوْلُ الْخَضِرِ لِمُوسَى بَعْدَ أَنْ ذَكَرَ لَهُ الْحِكْمَةَ الْمَقْصُودَةَ بِمَا فَعَلَهُ مِنْ تَخْرِيقِ السَّفِينَةِ وَقَتْلِ الْغُلَامِ وَإِقَامَةِ الْجِدَارِ بِلَا عِوَضٍ: {سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا} [الكهف: 78] فَلَمَّا أَخْبَرَهُ بِالْعِلَّةِ الْغَائِيَّةِ الَّتِي انْتَهَى إِلَيْهَا فِعْلُهُ قَالَ: {ذَلِكَ تَأْوِيلُ مَا لَمْ تَسْطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا} [الكهف: 82] ، فَالتَّأْوِيلُ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى الْمُرَادُ مِنْهُ حَقِيقَةُ الْمَعْنَى الَّذِي يَئُولُ اللَّفْظُ إِلَيْهِ، وَهِيَ الْحَقِيقَةُ الْمَوْجُودَةُ فِي الْخَارِجِ، فَإِنَّ الْكَلَامَ نَوْعَانِ: خَبَرٌ وَطَلَبٌ، فَتَأْوِيلُ الْخَبَرِ هُوَ الْحَقِيقَةُ، وَتَأْوِيلُ الْوَعْدِ وَالْوَعِيدِ هُوَ نَفْسُ الْمَوْعُودِ وَالْمُتَوَعَّدِ بِهِ، وَتَأْوِيلُ مَا أَخْبَرَ اللَّهُ بِهِ مِنْ صِفَاتِهِ الْعُلَى وَأَفْعَالِهِ نَفْسُ مَا هُوَ عَلَيْهِ سُبْحَانَهُ، وَمَا هُوَ مَوْصُوفٌ بِهِ مِنَ الصِّفَاتِ الْعُلَى، وَتَأْوِيلُ الْأَمْرِ هُوَ نَفْسُ الْأَفْعَالِ الْمَأْمُورِ بِهَا، قَالَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها: " «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ» " يَتَأَوَّلُ الْقُرْآنَ. فَهَذَا التَّأْوِيلُ هُوَ فِعْلُ نَفْسِ الْمَأْمُورِ بِهِ.
فَهَذَا هُوَ التَّأْوِيلُ فِي كَلَامِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ.
وَأَمَّا التَّأْوِيلُ فِي اصْطِلَاحِ أَهْلِ التَّفْسِيرِ وَالسَّلَفِ مِنْ أَهْلِ الْفِقْهِ وَالْحَدِيثِ فَمُرَادُهُمْ بِهِ مَعْنَى التَّفْسِيرِ وَالْبَيَانِ، وَمِنْهُ قَوْلُ ابْنِ جَرِيرٍ وَغَيْرِهِ: الْقَوْلُ فِي تَأْوِيلِ قَوْلِهِ تَعَالَى كَذَا وَكَذَا، وَمِنْهُ قَوْلُ الْإِمَامِ أَحْمَدَ فِي الرَّدِّ عَلَى الْجَهْمِيَّةِ " فِيمَا تَأَوَّلَتْهُ مِنَ الْقُرْآنِ عَلَى غَيْرِ تَأْوِيلِهِ " فَأَبْطَلَ تِلْكَ التَّأْوِيلَاتِ الَّتِي ذَكَرَهَا وَهُوَ تَفْسِيرُهَا الْمُرَادُ بِهَا وَهُوَ تَأْوِيلُهَا عِنْدَهُ، فَهَذَا التَّأْوِيلُ يَرْجِعُ إِلَى فَهْمِ الْمُؤْمِنِ وَيَحْصُلُ فِي الذِّهْنِ وَالْأَوَّلُ يَعُودُ إِلَى وُقُوعِ حَقِيقَتِهِ فِي الْخَارِجِ.
وَأَمَّا الْمُعْتَزِلَةُ وَالْجَهْمِيَّةُ وَغَيْرُهُمْ مِنَ الْمُتَكَلِّمِينَ فَمُرَادُهُمْ بِالتَّأْوِيلِ صَرْفُ اللَّفْظِ عَنْ ظَاهِرِهِ، وَهَذَا هُوَ الشَّائِعُ فِي عُرْفِ الْمُتَأَخِّرِينَ مِنْ أَهْلِ الْأُصُولِ وَالْفِقْهِ.
এবং পরকাল ও এর বিস্তারিত বিবরণ এবং জান্নাত ও জাহান্নাম। আর স্বপ্নের ব্যাখ্যাকে দুইটি দিক বিবেচনায় 'তাবিল' বলা হয়। কেননা এটি স্বপ্নের একটি ব্যাখ্যা, আবার এটিই স্বপ্নের পরিণাম এবং তা যে বিষয়ের দিকে ধাবিত হয়। আর ইউসুফ তার পিতাকে বলেছিলেন: "হে আমার পিতা! এটিই আমার পূর্ববর্তী স্বপ্নের তাবিল (বাস্তবায়ন)" [ইউসুফ: ১০০]। অর্থাৎ, এর বাস্তবতা এবং এখানে এসেই এর সমাপ্তি ঘটেছে। সমাপ্ত।
আর 'চূড়ান্ত কারণ' এবং কোনো কাজের মাধ্যমে উদ্দেশ্যকৃত হিকমতকে 'তাবিল' বলা হয়; কারণ তা সম্পাদনকারীর উদ্দেশ্য এবং কাজের লক্ষ্য স্পষ্ট করে দেয়, যা প্রত্যক্ষকারী আগে অনুধাবন করতে পারেনি। এর একটি উদাহরণ হলো মূসাকে খিজিরের বলা কথাটি, যখন তিনি নৌকা ছিদ্র করা, বালক হত্যা এবং বিনিময়হীনভাবে প্রাচীর নির্মাণের উদ্দেশ্যমূলক হিকমত বর্ণনা করার পর বলেছিলেন: "যে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করতে পারছিলেন না, আমি অচিরেই আপনাকে সেটির তাবিল (প্রকৃত রহস্য) জানিয়ে দেব" [কাহফ: ৭৮]। অতঃপর যখন তিনি তাকে সেই 'চূড়ান্ত কারণ' সম্পর্কে অবহিত করলেন যার দিকে তাঁর কাজগুলো ধাবিত হয়েছিল, তখন তিনি বললেন: "এটিই সেই বিষয়ের তাবিল (বাস্তব ব্যাখ্যা), যে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করতে পারছিলেন না" [কাহফ: ৮২]। সুতরাং মহান আল্লাহর কিতাবে 'তাবিল' বলতে সেই অর্থের বাস্তবতাকে বোঝানো হয়েছে শব্দ যার দিকে প্রত্যাবর্তন করে, আর তা হলো বহিস্থ জগতে বিদ্যমান বাস্তবতা। কেননা কথা দুই প্রকার: সংবাদ এবং নির্দেশ। সুতরাং সংবাদের তাবিল হলো এর বাস্তবতা। আর প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণীর তাবিল হলো খোদ প্রতিশ্রুত বা সতর্কীকৃত বিষয়টি। আর আল্লাহ তাঁর সুউচ্চ গুণাবলি ও কার্যাবলি সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন, তার তাবিল হলো মহান আল্লাহ বাস্তবে যেমন এবং তাঁর সেই সুউচ্চ গুণাবলির প্রকৃত ধরন। আর আদেশের তাবিল হলো আদিষ্ট কাজগুলো স্বয়ং সম্পাদন করা। আয়েশা (রা.) বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রুকু ও সিজদায় বলতেন: 'হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক! আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি'; তিনি কুরআনের তাবিল (বাস্তবায়ন) করতেন।" এই তাবিল হলো খোদ আদিষ্ট বিষয়টি পালন করা।
এটিই মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কালামে ব্যবহৃত 'তাবিল'।
আর মুফাসসিরগণ এবং ফিকহ ও হাদিস বিশারদ সালাফদের পরিভাষায় 'তাবিল' বলতে তাদের উদ্দেশ্য হলো ব্যাখ্যা (তাফসির) ও বিশদ বর্ণনা। এর উদাহরণ হলো ইবনে জারীর ও অন্যান্যদের কথা: "মহান আল্লাহর অমুক অমুক বাণীর তাবিল প্রসঙ্গে আমাদের বক্তব্য..."। এর আরেকটি উদাহরণ হলো জহমিয়াদের খণ্ডনে ইমাম আহমাদের উক্তি: "কুরআনের যে সব আয়াতের তারা ভুল তাবিল (ব্যাখ্যা) করেছে"। এখানে তিনি তাদের উল্লিখিত তাবিলগুলোকে বাতিল করেছেন, যা ছিল তাদের দাবিকৃত ব্যাখ্যা; আর তাঁর নিকট এটিই ছিল সেগুলোর তাবিল। সুতরাং এই তাবিল মুমিনের উপলব্ধির সাথে সম্পর্কিত এবং তা মস্তিষ্কে অর্জিত হয়; আর প্রথম প্রকারের তাবিলটি বহিস্থ জগতে এর বাস্তবতার আবির্ভাবের সাথে সম্পর্কিত।
পক্ষান্তরে মুতাজিলা, জহমিয়া এবং অন্যান্য কালাম শাস্ত্রবিদদের নিকট 'তাবিল' বলতে উদ্দেশ্য হলো শব্দকে তার বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে নেওয়া। আর পরবর্তী যুগের উসুলবিদ ও ফিকহবিদদের পরিভাষায় এটিই বহুল প্রচলিত।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَلِهَذَا يَقُولُونَ: التَّأْوِيلُ عَلَى خِلَافِ الْأَصْلِ. وَالتَّأْوِيلُ يَحْتَاجُ إِلَى دَلِيلٍ، وَهَذَا التَّأْوِيلُ هُوَ الَّذِي صَنَّفَ فِي تَسْوِيغِهِ وَإِبْطَالِهِ مِنَ الْجَانِبَيْنِ، فَمَنْ صَنَّفَ فِي إِبْطَالِ التَّأْوِيلِ عَلَى رَأْيِ الْمُتَكَلِّمِينَ الْقَاضِي أَبُو يَعْلَى وَالشَّيْخُ مُوَفَّقُ الدِّينِ ابْنُ قُدَامَةَ، وَقَدْ حَكَى غَيْرُ وَاحِدٍ إِجْمَاعَ السَّلَفِ عَلَى عَدَمِ الْقَوْلِ بِهِ.
وَمِنَ التَّأْوِيلِ الْبَاطِلِ تَأْوِيلُ أَهْلِ الشَّامِ «قَوْلَهُ صلى الله عليه وسلم لِعَمَّارٍ: " تَقْتُلُكَ الْفِئَةُ الْبَاغِيَةُ» "، فَقَالُوا: نَحْنُ لَمْ نَقْتُلْهُ إِنَّمَا قَتَلَهُ مَنْ جَاءَ بِهِ حَتَّى أَوْقَعَهُ بَيْنَ رِمَاحِنَا، وَهَذَا التَّأْوِيلُ مُخَالِفٌ لِحَقِيقَةِ اللَّفْظِ وَظَاهِرِهِ فَإِنَّ الَّذِي قَتَلَهُ هُوَ الَّذِي بَاشَرَ قَتْلَهُ لَا مَنِ اسْتَنْصَرَ بِهِ، وَلِهَذَا رَدَّ عَلَيْهِمْ مَنْ هُوَ أَوْلَى بِالْحَقِّ وَالْحَقِيقَةِ مِنْهُمْ فَقَالُوا: أَفَيَكُونُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ هُمُ الَّذِينَ قَتَلُوا حَمْزَةَ وَالشُّهَدَاءَ مَعَهُ لِأَنَّهُمْ أَتَوْا بِهِمْ حَتَّى أَوْقَعُوهُمْ تَحْتَ سُيُوفِ الْمُشْرِكِينَ؟
وَمِنْ هَذَا قَوْلُ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ لَمَّا رَوَى حَدِيثَ عَائِشَةَ: " «فُرِضَتِ الصَّلَاةُ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ، فَزِيدَ فِي صَلَاةِ الْحَضَرِ وَأُقِرَّتْ صَلَاةُ السَّفَرِ " فَقِيلَ لَهُ: فَمَا بَالُ عَائِشَةَ أَتَمَّتْ فِي السَّفَرِ؟ قَالَ: تَأَوَّلَتْ كَمَا تَأَوَّلَ عُثْمَانُ» ، وَلَيْسَ مُرَادُهُ أَنَّ عَائِشَةَ وَعُثْمَانَ تَأَوَّلَا آيَةَ الْقَصْرِ عَلَى خِلَافِ ظَاهِرِهَا وَإِنَّمَا مُرَادُهُ أَنَّهُمَا تَأَوَّلَا دَلِيلًا قَامَ عِنْدَهُمَا اقْتَضَى جَوَازَ الْإِتْمَامِ فَعَمِلَا بِهِ، فَكَانَ عَمَلُهُمَا بِهِ هُوَ تَأْوِيلُهُ، فَإِنَّ الْعَمَلَ بِدَلِيلِ الْأَمْرِ هُوَ تَأْوِيلُهُ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَأَوَّلُ قَوْلَهُ تَعَالَى: {فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ} [النصر: 3] بِامْتِثَالِهِ بِقَوْلِهِ " «سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي» "، فَكَأَنَّ عَائِشَةَ وَعُثْمَانَ تَأَوَّلَا
এ কারণেই তাঁরা বলেন: অপব্যাখ্যা বা রূপক ব্যাখ্যা (তাকবিল) মূলনীতির পরিপন্থী। আর তাকবিলের জন্য প্রমাণের প্রয়োজন হয়। এই তাকবিলের বৈধতা ও অসারতা বিষয়ে উভয় পক্ষ থেকেই গ্রন্থ রচিত হয়েছে। মুতাকাল্লিমদের (কালামশাস্ত্রবিদ) অনুসৃত তাকবিলকে বাতিল ঘোষণা করে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন কাজী আবু ইয়ালা এবং শায়খ মুওয়াফ্ফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা। এমনকি একাধিক আলিম এ বিষয়ে সালাফদের ইজমা বা ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা এ ধরনের তাকবিলের প্রবক্তা ছিলেন না।
বাতিল বা ভিত্তিহীন তাকবিলের অন্তর্ভুক্ত হলো আম্মার (রা.)-এর প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী— "তোমাকে একটি বিদ্রোহী দল হত্যা করবে"— এ বিষয়ে সিরিয়াবাসীদের অপব্যাখ্যা। তারা বলেছিল: "আমরা তাকে হত্যা করিনি, বরং সে-ই তাকে হত্যা করেছে যে তাকে নিয়ে এসেছে এবং আমাদের বল্লমের মুখে ঠেলে দিয়েছে।" এই ব্যাখ্যা শব্দের প্রকৃত অর্থ ও বাহ্যিক রূপের বিপরীত। কারণ, হত্যাকারী তো সে-ই যে সরাসরি হত্যা করে, সে নয় যার পক্ষে সে সাহায্য করতে এসেছিল। একারণেই সত্য ও বাস্তবতার অধিক নিকটবর্তী ব্যক্তিগণ তাদের এই দাবি খণ্ডন করে বলেছিলেন: "তাহলে কি রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সাহাবীগণই হামযা (রা.) ও তাঁর সাথী শহীদদের হত্যা করেছেন? কারণ তাঁরাই তো তাঁদের নিয়ে এসেছিলেন এবং মুশরিকদের তরবারির মুখে উপনীত করেছিলেন?"
এর আরেকটি উদাহরণ হলো উরওয়াহ ইবনুল জুবায়েরের উক্তি, যখন তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করেন যে: "নামাজ শুরুতে দুই রাকাত দুই রাকাত করে ফরজ হয়েছিল; পরবর্তীতে মুকিম অবস্থার নামাজে রাকাত সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয় এবং সফরের নামাজ পূর্বাবস্থায় বহাল রাখা হয়।" তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: "তাহলে আয়েশা (রা.) কেন সফরে পূর্ণ নামাজ পড়তেন?" তিনি বললেন: "তিনি সেভাবেই ব্যাখ্যা (তাকবিল) করেছিলেন যেভাবে উসমান (রা.) করেছিলেন।" এখানে উরওয়াহ-র উদ্দেশ্য এটি নয় যে, আয়েশা ও উসমান (রা.) কসরের আয়াতকে তার বাহ্যিক অর্থের বিপরীতে ব্যাখ্যা করেছেন। বরং তাঁর উদ্দেশ্য হলো, তাঁদের কাছে এমন একটি প্রমাণ বিদ্যমান ছিল যা নামাজ পূর্ণ করার বৈধতা দাবি করছিল এবং তাঁরা সে অনুযায়ী আমল করেছেন। তাঁদের সেই আমলই ছিল এর বাস্তব রূপায়ণ (তাকবিল)। কেননা কোনো নির্দেশের প্রমাণের ওপর আমল করাই হলো তার প্রকৃত বাস্তবায়ন বা তাকবিল; যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সা.) মহান আল্লাহর বাণী— {অতএব আপনি আপনার পালনকর্তার প্রশংসা সহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন} [আন-নাসর: ৩]— এর বাস্তবায়ন (তাকবিল) করতেন তাঁর এই দোয়ার মাধ্যমে: "হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক! আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।" সুতরাং বিষয়টি এমন যে, আয়েশা ও উসমান (রা.) ব্যাখ্যা করেছিলেন
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قَوْلَهُ تَعَالَى: {فَإِذَا اطْمَأْنَنْتُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ} [النساء: 103] فَإِنَّ إِتْمَامَهَا مِنْ إِقَامَتِهَا، وَقِيلَ: تَأَوَّلَتْ عَائِشَةُ أَنَّهَا أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ وَأَنَّ أُمَّهُمْ حَيْثُ كَانَتْ فَكَأَنَّهَا مُقِيمَةٌ بَيْنَهُمْ، وَأَنَّ عُثْمَانَ كَانَ إِمَامَ الْمُسْلِمِينَ فَحَيْثُ كَانَ فَهُوَ مَنْزِلُهُ، أَوْ أَنَّهُ كَانَ قَدْ عَزَمَ عَلَى الِاسْتِيطَانِ بِمِنًى أَوْ أَنَّهُ كَانَ قَدْ تَأَهَّلَ بِهَا، وَمَنْ تَأَهَّلَ بِبَلَدٍ لَمْ يَثْبُتْ لَهُ حُكْمُ الْمُسَافِرِ، أَوْ أَنَّ الْأَعْرَابَ كَانُوا قَدْ كَثُرُوا فِي ذَلِكَ الْمَوْسِمِ فَأَحَبَّ أَنْ يُعَلِّمَهُمْ فَرْضَ الصَّلَاةِ وَأَنَّهَا أَرْبَعُ أَوْ غَيْرُ ذَلِكَ مِنَ التَّأْوِيلَاتِ الَّتِي ظَنَّاهَا أَدِلَّةً مُقَيِّدَةً لِمُطْلِقِ الْقَصْرِ أَوْ مُخَصِّصَةً لِعُمُومِهِ وَإِنْ كَانَتْ كُلُّهَا ضَعِيفَةً، وَالصَّوَابُ هَدْيُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّهُ كَانَ إِمَامَ الْمُسْلِمِينَ وَعَائِشَةُ أُمُّ الْمُؤْمِنِينَ فِي حَيَاتِهِ وَمَمَاتِهِ، وَقَدْ قَصَرَتْ مَعَهُ وَلَمْ يَكُنْ عُثْمَانُ لِيُقِيمَ بِمَكَّةَ وَقَدْ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا رَخَّصَ فِي الْإِقَامَةِ بِهِ لِلْمُهَاجِرِينَ بَعْدَ قَضَاءِ نُسُكِهِمْ ثَلَاثًا، وَالْمُسَافِرُ إِذَا تَزَوَّجَ فِي طَرِيقِهِ لَمْ يَثْبُتْ بِهِ حُكْمُ الْإِقَامَةِ بِمُجَرَّدِ التَّزَوُّجِ مَا لَمْ يُزْمِعِ الْإِقَامَةَ.
وَبِالْجُمْلَةِ فَالتَّأْوِيلُ الَّذِي يُوَافِقُ مَا دَلَّتْ عَلَيْهِ النُّصُوصُ وَجَاءَتْ بِهِ السُّنَّةُ هُوَ التَّأْوِيلُ الصَّحِيحُ وَغَيْرُهُ هُوَ الْفَاسِدُ.
وَالتَّأْوِيلُ الْبَاطِلُ أَنْوَاعٌ:
أَحَدُهَا: مَا لَمْ يَحْتَمِلْهُ اللَّفْظُ بِوَضْعِهِ الْأَوَّلِ مِثْلَ تَأْوِيلٍ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: " «حَتَّى يَضَعَ رَبُّ الْعِزَّةِ فِيهَا رِجْلَهُ» " بِأَنَّ الرِّجْلَ جَمَاعَةٌ مِنَ النَّاسِ، فَإِنَّ هَذَا الشَّيْءَ لَا يُعْرَفُ فِي شَيْءٍ مِنْ لُغَةِ الْعَرَبِ الْبَتَّةَ.
الثَّانِي: مَا لَمْ يَحْتَمِلْهُ اللَّفْظُ بِبِنْيَتِهِ الْخَاصَّةِ مِنْ تَثْنِيَةٍ أَوْ جَمْعٍ، وَإِنِ احْتَمَلَهُ مُفْرَدًا كَتَأْوِيلِ قَوْلِهِ: {لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} [ص: 75] بِالْقُدْرَةِ.
الثَّالِثُ: مَا لَمْ يَحْتَمِلْهُ سِيَاقُهُ وَتَرْكِيبُهُ وَإِنِ احْتَمَلَهُ فِي غَيْرِ ذَلِكَ السِّيَاقِ كَتَأْوِيلِ قَوْلِهِ: {هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا أَنْ تَأْتِيَهُمُ الْمَلَائِكَةُ أَوْ يَأْتِيَ رَبُّكَ أَوْ يَأْتِيَ بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ} [الأنعام: 158] بِأَنَّ إِتْيَانَ الرَّبِّ إِتْيَانُ بَعْضِ آيَاتِهِ الَّتِي هِيَ أَمْرُهُ، وَهَذَا يَأْبَاهُ السِّيَاقُ كُلَّ الْإِبَاءِ، فَإِنَّهُ يَمْتَنِعُ حَمْلُهُ
মহান আল্লাহর বাণী: {যখন তোমরা নিরাপদ হবে, তখন সালাত কায়েম করো} [নিসা: ১০৩]। সালাত পূর্ণাঙ্গরূপে আদায় করা একে কায়েম করারই অন্তর্ভুক্ত। বলা হয়ে থাকে যে, আয়িশা (রা.) ব্যাখ্যা করেছিলেন যে তিনি মুমিনদের জননী; আর জননী যেখানেই থাকুন না কেন, তিনি যেন সেখানে স্থায়ীভাবেই অবস্থান করছেন। উসমান (রা.) ছিলেন মুসলিমদের ইমাম, তাই তিনি যেখানেই থাকতেন সেটিই ছিল তাঁর আবাস। অথবা তিনি মিনায় স্থায়ী বসবাসের সংকল্প করেছিলেন; কিংবা তিনি সেখানে বিয়ে করেছিলেন। আর যে ব্যক্তি কোনো শহরে বিয়ে করে, তার ক্ষেত্রে মুসাফিরের বিধান কার্যকর হয় না। অথবা সেই মৌসুমে আরব্য বেদুঈনদের আধিক্য ছিল, তাই তিনি তাদের সালাতের আবশ্যকতা এবং তা যে চার রাকাত, তা শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন; কিংবা এ জাতীয় অন্যান্য ব্যাখ্যা—যেগুলোকে তাঁরা কসরের (সালাত সংক্ষেপ করা) সাধারণ বিধানকে সীমাবদ্ধকারী বা বিশেষায়িত করার দলিল হিসেবে ধারণা করেছিলেন, যদিও সেগুলোর সবই দুর্বল। সঠিক হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদর্শিত পথ; কারণ তিনি ছিলেন মুসলিমদের ইমাম এবং আয়িশা (রা.) তাঁর জীবদ্দশায় ও ওফাতের পরেও মুমিনদের জননী ছিলেন, তবুও তিনি তাঁর সাথে কসর করেছেন। আর উসমান (রা.) মক্কায় স্থায়ীভাবে অবস্থানের সংকল্প করেননি, কারণ তাঁর কাছে এ সংবাদ পৌঁছেছিল যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাজিরদের হজের কার্যাদি শেষ করার পর সেখানে কেবল তিন দিন থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। আর একজন মুসাফির সফরের পথে বিয়ে করলেই কেবল বিয়ের কারণে তার ক্ষেত্রে মুকিম হওয়ার বিধান সাব্যস্ত হয় না, যতক্ষণ না সে সেখানে অবস্থানের চূড়ান্ত সংকল্প করে।
সারকথা হলো, যে ব্যাখ্যা নস (প্রামাণ্য পাঠ) এবং সুন্নাহর নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিই সঠিক ব্যাখ্যা; আর এর বিপরীত সবই ভ্রান্ত।
বাতিল ব্যাখ্যা কয়েক প্রকার:
প্রথমত: যা শব্দের মৌলিক ভাষাগত অর্থের অনুকূল নয়; যেমন—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যতক্ষণ না ইজ্জতের অধিপতি প্রতিপালক তাতে তাঁর কদম (পা) রাখবেন"—এখানে 'কদম' বা 'পা' শব্দটিকে মানুষের কোনো জামাত বা দল হিসেবে ব্যাখ্যা করা। কারণ আরবি ভাষার কোনো প্রয়োগেই এটি একেবারেই পরিচিত নয়।
দ্বিতীয়ত: যা শব্দের বিশেষ গঠনশৈলী (দ্বিবচন বা বহুবচন) অনুযায়ী অর্থ বহন করে না, যদিও এককভাবে হয়তো সেই অর্থের সম্ভাবনা থাকে। যেমন—আল্লাহর বাণী: {যাকে আমি আমার দুই হাতে সৃষ্টি করেছি} [সোয়াদ: ৭৫]—এখানে 'দুই হাত' শব্দটিকে 'কুদরত' বা ক্ষমতা দ্বারা ব্যাখ্যা করা।
তৃতীয়ত: যা বাক্যের প্রাসঙ্গিকতা (সিয়াক) এবং গঠনশৈলী সমর্থন করে না, যদিও অন্য কোনো প্রেক্ষাপটে হয়তো সেই অর্থ সম্ভব ছিল। যেমন—আল্লাহর বাণী: {তারা কি কেবল এরই অপেক্ষা করছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতা আসবে কিংবা আপনার প্রতিপালক আসবেন অথবা আপনার প্রতিপালকের কোনো নিদর্শন আসবে?} [আনআম: ১৫৮]—এখানে প্রতিপালকের আসাকে তাঁর কোনো নিদর্শনের (যা মূলত তাঁর আদেশ) আগমন হিসেবে ব্যাখ্যা করা। বাক্যের প্রাসঙ্গিকতা একে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে; কারণ একে এভাবে গ্রহণ করা অসম্ভব।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
عَلَى ذَلِكَ مَعَ التَّقْسِيمِ وَالتَّنْوِيعِ وَالتَّرْدِيدِ، وَكَتَأْوِيلِ قَوْلِهِ: " «إِنَّكُمْ تَرَوْنَ رَبَّكُمْ عِيَانًا كَمَا تَرَوْنَ الْقَمَرَ لَيْلَةَ الْبَدْرِ صَحْوًا لَيْسَ دُونَهُ سَحَابٌ، وَكَمَا تَرَوْنَ الشَّمْسَ فِي الظَّهِيرَةِ لَيْسَ دُونَهَا سَحَابٌ» " فَتَأْوِيلُ الرُّؤْيَةِ فِي هَذَا السِّيَاقِ بِمَا يُخَالِفُ حَقِيقَتَهَا وَظَاهِرَهَا فِي غَايَةِ الِامْتِنَاعِ وَهُوَ رَدٌّ وَتَكْذِيبٌ يَسْتَتِرُ صَاحِبُهُ بِالتَّأْوِيلِ.
الرَّابِعُ: مَا لَمْ يُؤْلَفِ اسْتِعْمَالُهُ فِي ذَلِكَ الْمَعْنَى فِي لُغَةِ الْمُخَاطَبِ وَإِنْ أُلِفَ فِي الِاصْطِلَاحِ الْحَادِثِ، وَهَذَا مَوْضِعٌ زَلَّتْ فِيهِ أَقْدَامُ كَثِيرٍ مِنَ النَّاسِ حَيْثُ تَأَوَّلُوا كَثِيرًا مِنْ أَلْفَاظِ النُّصُوصِ بِمَا لَمْ يُؤْلَفِ اسْتِعْمَالُ اللَّفْظِ لَهُ فِي لُغَةِ الْعَرَبِ الْبَتَّةَ وَإِنْ كَانَ مَعْهُودًا فِي اصْطِلَاحِ الْمُتَأَخِّرِينَ وَهَذَا مِمَّا يَنْبَغِي التَّنَبُّهُ لَهُ فَإِنَّهُ حَصَلَ بِسَبَبِهِ مِنَ الْكَذِبِ عَلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ مَا حَصَلَ، كَمَا تَأَوَّلَتْ طَائِفَةٌ قَوْلَهُ تَعَالَى: {فَلَمَّا أَفَلَ} [الأنعام: 76] بِالْحَرَكَةِ وَقَالُوا: اسْتَدَلَّ بِحَرَكَتِهِ عَلَى بُطْلَانِ رُبُوبِيَّتِهِ، وَلَا يُعْرَفُ فِي لُغَةِ الْعَرَبِ الَّتِي نَزَلَ بِهَا الْقُرْآنُ أَنَّ الْأُفُولَ هُوَ الْحَرَكَةُ فِي مَوْضِعٍ وَاحِدٍ الْبَتَّةَ، وَكَذَلِكَ تَأْوِيلُ الْأَحَدِ بِأَنَّهُ الَّذِي لَا يَتَمَيَّزُ مِنْهُ عَنْ شَيْءٍ الْبَتَّةَ، ثُمَّ قَالُوا: لَوْ كَانَ فَوْقَ الْعَرْشِ لَمْ يَكُنْ أَحَدًا ; فَإِنَّ تَأْوِيلَ الْأَحَدِ بِهَذَا الْمَعْنَى لَا يَعْرِفُهُ أَحَدٌ مِنَ الْعَرَبِ وَلَا أَهْلُ اللُّغَةِ إِنَّمَا هُوَ اصْطِلَاحُ الْجَهْمِيَّةِ وَالْفَلَاسِفَةِ وَالْمُعْتَزِلَةِ وَمَنْ رَافَقَهُمْ، وَكَتَأْوِيلِ قَوْلِهِ: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} [الأعراف: 54] بِأَنَّ الْمَعْنَى أَقْبَلَ عَلَى خَلْقِ الْعَرْشِ، فَإِنَّ هَذَا لَا يُعْرَفُ فِي لُغَةِ الْعَرَبِ وَلَا غَيْرِهَا مِنَ الْأُمَمِ، لَا يُقَالُ لِمَنْ أَقْبَلَ عَلَى الرَّحْلِ: اسْتَوَى عَلَيْهِ وَلَا لِمَنْ أَقْبَلَ عَلَى عَمَلٍ مِنَ الْأَعْمَالِ مِنْ قِرَاءَةٍ أَوْ دِرَاسَةٍ أَوْ كِتَابَةٍ أَوْ صِنَاعَةٍ قَدِ اسْتَوَى عَلَيْهَا، وَهَذَا التَّأْوِيلُ بَاطِلٌ مِنْ وُجُوهٍ كَثِيرَةٍ سَنَذْكُرُهَا بَعْدُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى، لَوْ لَمْ يَكُنْ مِنْهُ إِلَّا تَكْذِيبُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِصَاحِبِ هَذَا التَّأْوِيلِ لَكَفَاهُ، فَإِنَّهُ ثَبَتَ فِي الصَّحِيحِ " «إِنَّ اللَّهَ قَدَّرَ مَقَادِيرَ الْخَلَائِقِ قَبْلَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ وَعَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ» " فَكَانَ الْعَرْشُ مَوْجُودًا قَبْلَ خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ فَكَيْفَ يُقَالُ: إِنَّهُ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي
এর ওপর ভিত্তি করে বিভাজন, বৈচিত্র্যকরণ এবং পুনরাবৃত্তিসহ, যেমন মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যা: "নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে চাক্ষুষভাবে দেখতে পাবে যেমন তোমরা মেঘমুক্ত পূর্ণিমার রাতে চাঁদকে দেখতে পাও এবং যেমন তোমরা দ্বিপ্রহরের সূর্যকে দেখতে পাও যার সামনে কোনো মেঘ থাকে না।" সুতরাং এই প্রেক্ষাপটে দর্শনের (রুইয়াত) এমন ব্যাখ্যা করা যা এর প্রকৃত এবং প্রকাশ্য অর্থের পরিপন্থী, তা চূড়ান্তভাবে অসম্ভব। এটি মূলত এমন এক প্রত্যাখ্যান ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করা যার প্রবক্তা ব্যাখ্যার (তাউইল) আড়ালে আত্মগোপন করে।
চতুর্থ: যা সম্বোধিত ব্যক্তির ভাষায় সেই অর্থে ব্যবহৃত হতে দেখা যায় না, যদিও তা পরবর্তীকালের পরিভাষায় পরিচিত হয়ে থাকে। এটি এমন এক স্থান যেখানে বহু মানুষের পা পিছলে গেছে, যেখানে তারা শাস্ত্রীয় পাঠের অনেক শব্দের এমন ব্যাখ্যা করেছে যা আরবি ভাষায় মোটেই পরিচিত ছিল না, যদিও পরবর্তীকালের লোকদের পরিভাষায় তা প্রচলিত ছিল। এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া বাঞ্ছনীয়, কেননা এর ফলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর মিথ্যারোপের ঘটনা ঘটেছে। যেমন একদল মহান আল্লাহর বাণী: {যখন তা অস্তমিত হলো} [আল-আনআম: ৭৬]-কে 'গতিশীলতা' বা 'চলন' দ্বারা ব্যাখ্যা করেছে এবং বলেছে: তিনি (ইবরাহিম আলাইহিস সালাম) এর গতিশীলতার মাধ্যমে এর উপাস্য হওয়ার অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। অথচ যে আরবি ভাষায় কুরআন নাজিল হয়েছে, তাতে কোনো একটি স্থানেও 'উফুল' (অস্তমিত হওয়া) অর্থ 'গতিশীলতা' হিসেবে পরিচিত নয়। তদ্রূপ 'আল-আহাদ' (একক)-এর এমন ব্যাখ্যা করা যে, তিনি এমন সত্তা যার থেকে কোনো কিছুই পৃথক করা যায় না। এরপর তারা বলেছে: তিনি যদি আরশের ওপরে থাকতেন তবে তিনি 'আহাদ' হতেন না। অথচ 'আহাদ'-এর এই অর্থ কোনো আরব বা ভাষাবিদ জানেন না। এটি নিছক জহমিয়া, দার্শনিক, মুতাজিলা এবং তাদের অনুসারীদের পরিভাষা। আরও যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তিনি আরশের ওপর উঠলেন} [আল-আরাফ: ৫৪]-এর ব্যাখ্যা এই করা যে, এর অর্থ হলো 'তিনি আরশ সৃষ্টির দিকে মনোনিবেশ করলেন'। অথচ এটি আরবি ভাষায় বা অন্য কোনো জাতির ভাষায় পরিচিত নয়। কোনো ব্যক্তি যখন সওয়ারির দিকে অগ্রসর হয় তখন বলা হয় না যে 'সে তার ওপর *ইস্তিওয়া* হলো', কিংবা কেউ যখন পাঠ করা, পড়াশোনা, লেখা বা কোনো শিল্পের ন্যায় কোনো কাজের দিকে মনোনিবেশ করে তখন বলা হয় না যে 'সে তার ওপর *ইস্তিওয়া* হয়েছে'। এই ব্যাখ্যা বহু দিক থেকে বাতিল, যা ইনশাআল্লাহ আমরা পরে উল্লেখ করব। যদি এই ব্যাখ্যাকারীর জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা ছাড়া আর কোনো দোষ নাও থাকত, তবে এটিই তার জন্য যথেষ্ট হতো। কেননা সহিহ হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে সৃষ্টিজগত সমূহের তাকদির নির্ধারণ করেছেন এবং তখন তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর।" সুতরাং আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগেই আরশ বিদ্যমান ছিল। তাহলে কীভাবে বলা যেতে পারে যে, তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى خَلْقِ الْعَرْشِ، وَالتَّأْوِيلُ إِذَا تَضَمَّنَ تَكْذِيبَ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم فَحَسْبُهُ ذَلِكَ بُطْلَانًا.
الْخَامِسُ: مَا أُلِفَ اسْتِعْمَالُهُ فِي غَيْرِ ذَلِكَ الْمَعْنَى لَكِنْ فِي غَيْرِ التَّرْكِيبِ الَّذِي وَرَدَ النَّصُّ، فَيَحْمِلُهُ الْمُتَأَوِّلُ فِي هَذَا التَّرْكِيبِ الَّذِي لَا يَحْتَمِلُهُ عَلَى مَجِيئِهِ فِي تَرْكِيبٍ آخَرَ يَحْتَمِلُهُ كَتَأْوِيلِ الْيَدَيْنِ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} [ص: 75] بِالنِّعْمَةِ، وَلَا رَيْبَ أَنَّ الْعَرَبَ تَقُولُ: لِفُلَانٍ عِنْدِي يَدٌ، وَقَالَ عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ لِلصِّدِّيقِ رضي الله عنه: لَوْلَا يَدٌ لَكَ عِنْدِي لَمْ أَجْزِكَ بِهَا لَأَجَبْتُكَ.
وَلَكِنْ وُقُوعُ الْيَدِ فِي هَذَا التَّرْكِيبِ الَّذِي أَضَافَ سُبْحَانَهُ فِيهِ الْفِعْلَ إِلَى نَفْسِهِ ثُمَّ تَعَدَّى الْفِعْلُ إِلَى الْيَدِ بِالْبَاءِ الَّتِي هِيَ نَظِيرُ كَتَبْتُ بِالْقَلَمِ، وَجَعَلَ ذَلِكَ خَاصَّةً خَصَّ بِهَا صَفِيَّهُ آدَمَ دُونَ الْبَشَرِ، كَمَا خَصَّ الْمَسِيحَ بِأَنَّهُ نَفَخَ فِيهِ مِنْ رُوحِهِ، وَخَصَّ مُوسَى بِأَنْ كَلَّمَهُ بِلَا وَاسِطَةٍ.
فَهَذَا مِمَّا يُحِيلُ تَأْوِيلَ الْيَدِ فِي النَّصِّ بِالنِّعْمَةِ، وَإِنْ كَانَتْ فِي تَرْكِيبٍ آخَرَ تَصْلُحُ لِذَلِكَ، فَلَا يَلْزَمُ مِنْ صَلَاحِيَةِ اللَّفْظِ لِمَعْنَى مَا فِي تَرْكِيبِ صَلَاحِيَتِهِ لَهُ فِي كُلِّ تَرْكِيبٍ. وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى: {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ - إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ} [القيامة: 22 - 23] يَسْتَحِيلُ فِيهَا تَأْوِيلُ النَّظَرِ بِانْتِظَارِ الثَّوَابِ، فَإِنَّهُ أَضَافَ النَّظَرَ إِلَى الْوُجُوهِ بِالنَّظْرَةِ الَّتِي لَا تَحْصُلُ إِلَّا مَعَ حُضُورِ مَا يُتَنَعَّمُ بِهِ لَا مَعَ التَّنْغِيصِ بِانْتِظَارِهِ، وَيَسْتَحِيلُ مَعَ هَذَا التَّرْكِيبِ تَأْوِيلُ النَّظَرِ بِغَيْرِ الرُّؤْيَا وَأَنَّ كُلَّ النَّظَرِ بِمَعْنَى الِانْتِظَارِ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {انْظُرُونَا نَقْتَبِسْ مِنْ نُورِكُمْ} [الحديد: 13] ، وَقَوْلِهِ: {فَنَاظِرَةٌ بِمَ يَرْجِعُ الْمُرْسَلُونَ} [النمل: 35] .
وَمِثْلُ هَذَا قَوْلُ الْجَهْمِيِّ الْمُلَبِّسِ: إِذَا قَالَ لَكَ الْمُشَبَّهُ: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: 5] فَقُلْ لَهُ: الْعَرْشُ لَهُ عِدَّةُ مَعَانٍ، وَالِاسْتِوَاءُ لَهُ خَمْسُ مَعَانٍ، فَأَيُّ ذَلِكَ الْمُرَادُ؟ فَإِنَّ الْمُشَبِّهَ يَتَحَيَّرُ وَلَا يَدْرِي مَا يَقُولُ.
فَيُقَالُ لِهَذَا الْجَاهِلِ: وَيْلَكَ، مَا ذَنْبُ الْمُوَحِّدِ الَّذِي سَمَّيْتَهُ أَنْتَ وَأَصْحَابُكَ مُشَبِّهًا وَقَدْ قَالَ لَكَ نَفْسَ مَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى، فَوَاللَّهِ لَوْ كَانَ مُشَبِّهًا كَمَا تَزْعُمُ لَكَانَ أَوْلَى بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ مِنْكَ لِأَنَّهُ لَمْ يَتَعَدَّ النَّصَّ.
ছয় দিনে, অতঃপর তিনি আরশ সৃষ্টির প্রতি মনোনিবেশ করলেন। আর ব্যাখ্যা যদি রাসূলের (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) প্রতি মিথ্যা আরোপকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে তার অসারতা প্রমাণের জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
পঞ্চম প্রকার: এমন শব্দ যা অন্য কোনো অর্থে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়, কিন্তু তা সেই বাক্য বিন্যাসে নয় যাতে মূল পাঠ বর্ণিত হয়েছে। ফলে ব্যাখ্যাকারী এই সুনির্দিষ্ট বিন্যাসে শব্দটিকে সেই অর্থে প্রয়োগ করে যা এই বাক্যটি বহন করার অবকাশ রাখে না; সে এই যুক্তি দেয় যে শব্দটি অন্য কোনো বাক্যে এমন অর্থে এসেছে যা সেই অর্থটি বহন করতে পারে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আমি যাকে আমার দুই হাতে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদাবনত হতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?" [সোয়াদ: ৭৫]—এই আয়াতে 'দুই হাত'-এর ব্যাখ্যা 'নিয়ামত' বা অনুগ্রহ দ্বারা করা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আরবরা বলে থাকে: "আমার প্রতি অমুকের একটি হাত (উপকার) রয়েছে।" উরওয়াহ ইবনে মাসউদ সিদ্দিককে (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছিলেন: "যদি আমার ওপর আপনার এমন একটি হাত (উপকার) না থাকত যার প্রতিদান আমি দিতে পারিনি, তবে আমি অবশ্যই আপনার কথার উত্তর দিতাম।"
কিন্তু এই সুনির্দিষ্ট বাক্যে 'হাত' শব্দের ব্যবহার এমনভাবে হয়েছে যেখানে মহান আল্লাহ ক্রিয়াটিকে নিজের সত্তার দিকে সম্পৃক্ত করেছেন, অতঃপর ক্রিয়াটি 'বা' অব্যয়ের মাধ্যমে হাতের দিকে ধাবিত হয়েছে, যা অনেকটা "আমি কলম দিয়ে লিখলাম" বাক্যরীতির অনুরূপ। আর তিনি বিষয়টিকে তাঁর মনোনীত বান্দা আদমের জন্য একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে নির্দিষ্ট করেছেন যা অন্য কোনো মানুষের জন্য করেননি; যেমনটি তিনি মসীহকে এই মর্মে বিশিষ্টতা দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর মধ্যে তাঁর পক্ষ হতে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন, এবং মূসাকে এই মর্মে বিশিষ্টতা দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর সাথে কোনো মাধ্যম ছাড়াই কথা বলেছেন।
অতএব এটি সেই সব বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যা এই মূল পাঠে 'হাত'-এর ব্যাখ্যা 'নিয়ামত' দ্বারা করাকে অসম্ভব করে তোলে, যদিও শব্দটি অন্য কোনো বাক্য বিন্যাসে সেই অর্থের উপযোগী হতে পারে। কারণ কোনো শব্দ একটি নির্দিষ্ট বাক্যে কোনো বিশেষ অর্থের উপযোগী হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তা প্রতিটি বাক্য বিন্যাসেই সেই অর্থের উপযোগী হবে। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: "সেদিন অনেক মুখমণ্ডল হবে উজ্জ্বল, তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে" [কিয়ামাহ: ২২-২৩]—এখানে তাকানো বা দৃষ্টিপাত করার অর্থ 'পুরস্কারের অপেক্ষা করা' হিসেবে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। কারণ এখানে দৃষ্টিপাত করাকে মুখমণ্ডলের সাথে এমন এক উজ্জ্বলতার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে যা কেবল নেয়ামত প্রাপ্তির মাধ্যমেই অর্জিত হয়, তা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকার যন্ত্রণার মাধ্যমে নয়। এই সুনির্দিষ্ট বাক্য বিন্যাসে দৃষ্টিপাত করার অর্থ 'সাক্ষাৎ দর্শন' ব্যতীত অন্য কিছু হওয়া অসম্ভব। আর মহান আল্লাহর বাণী: "আমাদের জন্য অপেক্ষা করো যাতে আমরা তোমাদের নূর হতে গ্রহণ করতে পারি" [হাদীদ: ১৩] এবং "আমি দেখছি (অপেক্ষা করছি) প্রেরিতরা কী নিয়ে ফিরে আসে" [নামল: ৩৫]—এই আয়াতগুলোতে দৃষ্টিপাত করার অর্থ কেবলই অপেক্ষা বা প্রতীক্ষা করা।
এর উদাহরণ হলো বিভ্রান্তিকারী জাহমীদের বক্তব্য: যখন কোনো 'সাদৃশ্যবাদী' আপনাকে বলে—"পরম করুণাময় আরশের ওপর উঠেছেন" [ত্বহা: ৫], তখন তাকে বলুন: "আরশ শব্দের একাধিক অর্থ রয়েছে এবং উঠা বা ইস্তাওয়ার পাঁচটি অর্থ রয়েছে, এর মধ্যে কোনটি আপনার উদ্দেশ্য?" এর ফলে সেই সাদৃশ্যবাদী কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়বে এবং কী বলবে তা খুঁজে পাবে না।
তখন এই মূর্খ ব্যক্তিকে বলা হবে: তোমার ধ্বংস হোক! সেই তাওহীদবাদীর অপরাধ কী যাকে তুমি এবং তোমার সঙ্গীরা 'সাদৃশ্যবাদী' বলে আখ্যায়িত করেছ, অথচ সে তোমাকে ঠিক তাই বলেছে যা স্বয়ং মহান আল্লাহ বলেছেন? আল্লাহর কসম, তোমার দাবি অনুযায়ী সে যদি সাদৃশ্যবাদী হয়েও থাকে, তবুও সে তোমার চেয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অধিক নিকটবর্তী; কারণ সে মূল পাঠকে লঙ্ঘন করেনি।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَأَمَّا قَوْلُكَ: الْعَرْشُ لَهُ سَبْعَةُ مَعَانٍ وَنَحْوُهُ، وَالِاسْتِوَاءُ لَهُ خَمْسَةُ مَعَانٍ فَتَلْبِيسٌ مِنْكَ عَلَى الْجُهَّالِ وَكَذِبٌ ظَاهِرٌ، فَإِنَّهُ لَيْسَ لِعَرْشِ الرَّحْمَنِ الَّذِي اسْتَوَى عَلَيْهِ إِلَّا مَعْنًى وَاحِدٌ وَإِنْ كَانَ لِلْعَرْشِ مِنْ حَيْثُ الْجُمْلَةِ عِدَّةُ مَعَانٍ فَاللَّامُ لِلْعَهْدِ قَدْ صَارَ بِهَا فِي الْعَرْشِ مُعَيَّنًا وَهُوَ عَرْشُ الرَّبِّ تَعَالَى، الَّذِي هُوَ سَرِيرُ مُلْكِهِ الَّذِي اتَّفَقَتْ عَلَيْهِ الرُّسُلُ وَأَقَرَّتْ بِهِ الْأُمَمُ إِلَّا مَنْ نَابَذَ الرُّسُلَ.
وَقَوْلُكَ: الِاسْتِوَاءُ لَهُ عِدَّةُ مَعَانٍ تَلْبِيسٌ آخَرُ مِنْكَ، فَإِنَّ الِاسْتِوَاءَ الْمُعَدَّى بِأَدَاةِ " عَلَى " لَيْسَ لَهُ إِلَّا مَعْنًى وَاحِدٌ، وَأَمَّا الِاسْتِوَاءُ الْمُطْلَقُ فَلَهُ عِدَّةُ مَعَانٍ، فَإِنَّ الْعَرَبَ تَقُولُ: اسْتَوَى كَذَا: انْتَهَى وَكَمَلَ، وَمِنْهُ قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَاسْتَوَى} [القصص: 14] وَتَقُولُ: اسْتَوَى وَكَذَا إِذَا سَاوَاهُ نَحْوَ قَوْلِهِمْ: اسْتَوَى الْمَاءُ وَالْخَشَبَةُ وَاسْتَوَى اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ، وَتَقُولُ: اسْتَوَى إِلَى كَذَا إِذَا قَصَدَ إِلَيْهِ عُلُوًّا وَارْتِفَاعًا نَحْوَ اسْتَوَى إِلَى السَّطْحِ وَالْجَبَلِ وَاسْتَوَى عَلَى كَذَا أَيِ ارْتَفَعَ عَلَيْهِ وَعَلَا عَلَيْهِ، وَلَا تَعْرِفُ الْعَرَبُ غَيْرَ هَذَا، فَالِاسْتِوَاءُ فِي هَذَا التَّرْكِيبِ نَصٌّ لَا يَحْتَمِلُ غَيْرَ مَعْنَاهُ كَمَا هُوَ نَصٌّ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَاسْتَوَى} [القصص: 14] لَا يَحْتَمِلُ غَيْرَ مَعْنَاهُ، وَنَصٌّ فِي قَوْلِهِمْ: اسْتَوَى اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ فِي مَعْنَاهُ وَلَا تَحْتَمِلُ غَيْرَهُ.
السَّادِسُ: اللَّفْظُ الَّذِي اطَّرَدَ اسْتِعْمَالُهُ فِي مَعْنًى هُوَ ظَاهِرٌ فِيهِ وَلَمْ يُعْهَدِ اسْتِعْمَالُهُ فِي الْمَعْنَى الْمُؤَوَّلِ أَوْ عُهِدَ اسْتِعْمَالُهُ فِيهِ نَادِرًا، فَحَمْلُهُ عَلَى خِلَافِ الْمَعْهُودِ مِنَ اسْتِعْمَالِهِ بَاطِلٌ، فَإِنَّهُ يَكُونُ تَلْبِيسًا يُنَاقِضُ الْبَيَانَ وَالْهِدَايَةَ بَلْ إِذَا أَرَادُوا اسْتِعْمَالَ مِثْلِ هَذَا فِي غَيْرِ مَعْنَاهُ الْمَعْهُودِ حَفُّوا بِهِ مِنَ الْقَرَائِنِ مَا يُبَيِّنُ لِلسَّامِعِ مُرَادَهُمْ بِهِ لِئَلَّا يَسْبِقَ فَهْمُهُ إِلَى مَعْنَاهُ الْمَأْلُوفِ، وَمَنْ تَأَمَّلَ كَمَالَ هَذِهِ اللُّغَةِ وَحِكْمَةَ وَاضِعِهَا تَبَيَّنَ لَهُ صِحَّةُ ذَلِكَ.
السَّابِعُ: كُلُّ تَأْوِيلٍ يَعُودُ عَلَى أَصْلِ النَّصِّ بِالْإِبْطَالِ فَهُوَ بَاطِلٌ كَتَأْوِيلِ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: " «أَيُّمَا امْرَأَةٍ أَنْكَحَتْ نَفْسَهَا بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ» " فَيَحْمِلُهُ عَلَى الْأَمَةِ، فَإِنَّ هَذَا التَّأْوِيلَ مَعَ شِدَّةِ مُخَالَفَتِهِ لِظَاهِرِ النَّصِّ يَرْجِعُ عَلَى أَصْلِ النَّصِّ بِالْإِبْطَالِ وَهُوَ قَوْلُهُ: " «فَإِنْ دَخَلَ بِهَا فَلَهَا الْمَهْرُ بِمَا اسْتَحَلَّ مِنْ فَرْجِهَا» "، وَمَهْرُ الْأَمَةِ إِنَّمَا هُوَ لِلسَّيِّدِ فَقَالُوا:
আর আপনার এই কথা যে: আরশের সাতটি অর্থ রয়েছে বা অনুরূপ কিছু, এবং ইস্তিওয়ার পাঁচটি অর্থ রয়েছে—এটি অজ্ঞদের বিভ্রান্ত করার জন্য আপনার পক্ষ থেকে একটি প্রতারণা এবং প্রকাশ্য মিথ্যা। কেননা, রহমানের আরশ—যার ওপর তিনি ইস্তিওয়া করেছেন—তার কেবল একটিই অর্থ রয়েছে। যদিও সামগ্রিকভাবে 'আরশ' শব্দের একাধিক অর্থ থাকতে পারে, তবে এখানে 'আলিফ-লাম' নির্দিষ্টকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যার মাধ্যমে 'আরশ' শব্দটি সুনির্দিষ্ট হয়ে গেছে; আর তা হলো মহান রবের আরশ, যা তাঁর রাজকীয় সিংহাসন। এই ব্যাপারে সকল রাসূল একমত হয়েছেন এবং সকল জাতি তা স্বীকার করেছে, কেবল তারা ব্যতীত যারা রাসূলগণের বিরোধিতা করেছে।
এবং আপনার এই কথা যে: 'ইস্তিওয়া'র একাধিক অর্থ রয়েছে—এটি আপনার পক্ষ থেকে অন্য এক প্রতারণা। কেননা, যে 'ইস্তিওয়া' শব্দ 'আলা' (উপরে) অব্যয়ের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়, তার একটি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো অর্থ নেই। তবে নিঃশর্ত বা সাধারণ 'ইস্তিওয়া'র একাধিক অর্থ থাকতে পারে। কারণ আরবরা বলে থাকে: অমুক জিনিস ইস্তিওয়া হয়েছে, অর্থাৎ তা সমাপ্ত ও পূর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহর বাণীও এই অর্থেই এসেছে: "আর সে যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হলো এবং সুপ্রতিষ্ঠিত (পরিপক্ক) হলো" [কাসাস: ১৪]। আবার আরবরা 'ইস্তিওয়া'র সাথে কোনো কিছুর সমতা বোঝাতে বলে থাকে; যেমন তাদের কথা: 'পানি এবং কাঠ সমান হয়েছে' অথবা 'রাত এবং দিন সমান হয়েছে'। আবার 'ইস্তিওয়া ইলা' বলা হয় যখন কেউ কোনো কিছুর দিকে আরোহণ বা উচ্চতার উদ্দেশ্যে লক্ষ্য স্থির করে; যেমন: সে ছাদের দিকে বা পাহাড়ের দিকে ইস্তিওয়া করেছে (আরোহণ করেছে)। আর 'ইস্তিওয়া আলা' অর্থ হলো তার ওপর উচ্চকিত হওয়া বা আরোহণ করা। আরবরা এর বাইরে অন্য কোনো অর্থ জানে না। সুতরাং এই বাক্যগঠনে 'ইস্তিওয়া' শব্দটি তার সুনির্দিষ্ট অর্থের ব্যাপারে অকাট্য প্রমাণ, যা অন্য কোনো অর্থের অবকাশ রাখে না। ঠিক যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর সে যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হলো এবং সুপ্রতিষ্ঠিত হলো" [কাসাস: ১৪]—এটিও তার অর্থের ব্যাপারে অকাট্য দলিল এবং অন্য কোনো অর্থের অবকাশ রাখে না। ঠিক একইভাবে তাদের কথা: 'রাত ও দিন সমান হয়েছে'—এটিও নিজ অর্থের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট এবং অন্য কিছু বোঝায় না।
ষষ্ঠত: যে শব্দের ব্যবহার কোনো একটি নির্দিষ্ট অর্থে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং তাতেই তা সুস্পষ্ট, অথচ রূপক বা ব্যাখ্যায়িত অর্থে তার ব্যবহারের কোনো নজির নেই অথবা কদাচিৎ পাওয়া যায়, তবে সেই শব্দটিকে তার পরিচিত ব্যবহারের বাইরে অন্য অর্থে গ্রহণ করা বাতিল। কেননা এটি এমন এক বিভ্রান্তি যা সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং হিদায়াতের পরিপন্থী। বরং তারা যখন এই ধরণের শব্দকে পরিচিত অর্থ ব্যতীত অন্য অর্থে ব্যবহার করতে চায়, তখন তারা তার সাথে এমন কিছু লক্ষণ বা অনুষঙ্গ যুক্ত করে দেয় যা শ্রোতার কাছে তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দেয়, যাতে শ্রোতার বোধ তার পরিচিত অর্থের দিকে ধাবিত না হয়। যে ব্যক্তি এই ভাষার পূর্ণাঙ্গতা এবং এর প্রবর্তকের প্রজ্ঞা নিয়ে চিন্তা করবে, তার কাছে এর যথার্থতা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
সপ্তমত: প্রতিটি এমন ব্যাখ্যা যা মূল পাঠ বা 'নস'কে বাতিল করে দেয়, তা অসার। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর ব্যাখ্যা: "যে নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে, তার বিবাহ বাতিল।" এখন কেউ যদি এই 'নারী' শব্দটিকে 'দাসী'র অর্থে গ্রহণ করে, তবে এই ব্যাখ্যাটি মূল পাঠের বাহ্যিক অর্থের চরম বিরোধী হওয়ার পাশাপাশি নসের মূল ভিত্তিকেই বাতিল করে দেয়। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পরবর্তী অংশ হলো: "যদি সে তার সাথে সহবাস করে, তবে তার লজ্জাস্থান হালাল করার বিনিময়ে সেই নারী মোহর পাবে।" অথচ দাসীর মোহর তো তার মালিকের প্রাপ্য। তাই তারা বলেছে:
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
نَحْمِلُهُ عَلَى الْمُكَاتَبَةِ، وَهَذَا يَرْجِعُ عَلَى النَّصِّ بِالْإِبْطَالِ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ، فَإِنَّهُ أَتَى فِيهِ بِأَيِّ الشَّرْطِيَّةِ الَّتِي هِيَ مِنْ أَدَوَاتِ الْعُمُومِ وَأَتَى بِالنَّكِرَةِ فِي سِيَاقِ الشَّرْطِ وَهِيَ تَقْتَضِي الْعُمُومَ، وَعَلَّقَ بُطْلَانَ النِّكَاحِ بِالْوَصْفِ الْمُنَاسِبِ لَهُ الْمُقْتَضِي لِوُجُودِ الْحُكْمِ بِوُجُودِهِ وَهُوَ إِنْكَاحُهَا نَفْسَهَا، فَرَتَّبَهُ عَلَى الْعِلَّةِ الْمُقْتَضِيَةِ لِلْبُطْلَانِ وَهُوَ افْتِئَاتُهَا عَلَى وَلِيِّهَا، وَأَكَّدَ الْحُكْمَ بِالْبُطْلَانِ مَرَّةً بَعْدَ مَرَّةٍ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، فَحَمْلُهُ عَلَى صُورَةٍ لَا تَقَعُ فِي الْعَالَمِ إِلَّا نَادِرًا يَرْجِعُ إِلَى مَقْصُودِ النَّصِّ بِالْإِبْطَالِ، وَأَنْتَ إِذَا تَأَمَّلْتَ عَامَّةَ تَأْوِيلَاتِ الْجَهْمِيَّةِ رَأَيْتَهَا مِنْ هَذَا الْجِنْسِ، بَلْ أَشْنَعَ.
الثَّامِنُ: تَأْوِيلُ اللَّفْظِ الَّذِي لَهُ ظَاهِرٌ لَا يُفْهَمُ مِنْهُ عِنْدَ إِطْلَاقِهِ سِوَاهُ إِلَّا بِالْمَعْنَى الْخَفِيِّ الَّذِي لَا يَطَّلِعُ عَلَيْهِ إِلَّا فُرَادَى مِنْ أَهْلِ النَّظَرِ وَالْكَلَامِ، كَتَأْوِيلٍ لَفْظِ الْأَحَدِ الَّذِي يَفْهَمُهُ الْخَاصَّةُ وَالْعَامَّةُ بِالذَّاتِ الْمُجَرَّدَةِ عَنِ الصِّفَاتِ الَّتِي لَا يَكُونُ فِيهَا مَعْنَيَانِ بِوَجْهٍ، فَإِنَّ هَذَا لَوْ أَمْكَنَ ثُبُوتُهُ فِي الْخَارِجِ لَمْ يُعْرَفْ إِلَّا بَعْدَ مُقَدِّمَاتٍ طَوِيلَةٍ صَعْبَةٍ جِدًّا فَكَيْفَ وَهُوَ مُحَالٌ فِي الْخَارِجِ وَإِنَّمَا يَفْرِضُهُ الذِّهْنُ فَرْضًا، ثُمَّ اسْتَدَلَّ عَلَى وُجُودِ الْخَارِجِيِّ فَيَسْتَحِيلُ وَضْعُ اللَّفْظِ الْمَشْهُودِ عِنْدَ كُلِّ أَحَدٍ لِهَذَا الْمَعْنَى الَّذِي هُوَ فِي غَايَةِ الْخَفَاءِ.
التَّاسِعُ: التَّأْوِيلُ الَّذِي يُوجِبُ تَعْطِيلَ الْمَعْنَى الَّذِي هُوَ غَايَةُ الْعُلُوِّ وَالشَّرَفِ وَيَحْمِلُهُ إِلَى مَعْنًى دُونَهُ بِمَرَاتِبَ، مِثَالُهُ تَأْوِيلُ الْجَهْمِيَّةِ: {وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ} [الأنعام: 18] وَنَظَائِرَهُ بِأَنَّهَا فَوْقِيَّةُ الشَّرَفِ، كَقَوْلِهِمْ: الدَّرَاهِمُ فَوْقَ الْمُفْلِسِ، فَعَطَّلُوا حَقِيقَةَ الْفَوْقِيَّةِ الْمُطْلَقَةِ الَّتِي هِيَ مِنْ خَصَائِصِ الرُّبُوبِيَّةِ الْمُسْتَلْزِمَةِ لِعَظَمَةِ الرَّبِّ تَعَالَى وَحَطُّوهَا إِلَى كَوْنِ قَدْرِهِ فَوْقَ قَدْرِ بَنِي آدَمَ، وَكَذَلِكَ تَأْوِيلُهُمُ اسْتِوَاءَهُ عَلَى عَرْشِهِ بِقُدْرَتِهِ عَلَيْهِ وَأَنَّهُ غَالِبٌ عَلَيْهِ.
فَيَالِلَّهِ الْعَجَبُ، هَلْ شَكَّ عَاقِلٌ فِي كَوْنِهِ غَالِبًا لِعَرْشِهِ قَادِرًا عَلَيْهِ حَتَّى يُخْبِرَ بِهِ سُبْحَانَهُ فِي سَبْعَةِ مَوَاضِعَ مِنْ كِتَابِهِ مُطَّرِدَةٍ بِلَفْظٍ وَاحِدٍ لَيْسَ فِيهَا مَوْضِعٌ وَاحِدٌ يُرَادُ بِهِ الْمَعْنَى الَّذِي أَبْدَاهُ الْمُتَأَوِّلُونَ؟ وَهَذَا التَّمَدُّحُ وَالتَّعْظِيمُ كُلُّهُ لِأَجْلِ أَنْ يُعَرِّفَنَا أَنَّهُ غَلَبَ عَلَى عَرْشِهِ وَقَدَرَ عَلَيْهِ بَعْدَ خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ؟ أَفْتَرَى لَمْ يَكُنْ غَالِبًا لِلْعَرْشِ قَادِرًا عَلَيْهِ فِي مُدَّةٍ تَزِيدُ عَنْ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ ثُمَّ تَجَدَّدَ لَهُ ذَلِكَ بَعْدَ خَلْقِ هَذَا الْعَالَمِ؟
الْعَاشِرُ: تَأْوِيلُ اللَّفْظِ بِمَعْنًى لَمْ يَدُلَّ عَلَيْهِ دَلِيلٌ مِنَ السِّيَاقِ وَلَا قَرِينَةٌ تَقْتَضِيهِ، فَإِنَّ هَذَا لَا يَقْصِدُهُ الْمُبَيِّنُ الْهَادِي بِكَلَامِهِ، إِذْ لَوْ قَصَدَهُ لَحَفَّ بِالْكَلَامِ قَرَائِنَ تَدُلُّ عَلَى الْمَعْنَى الْمُخَالِفِ لِظَاهِرِهِ حَتَّى لَا يُوقِعَ السَّامِعَ فِي اللَّبْسِ، فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَنْزَلَ كَلَامَهُ بَيَانًا
আমরা এটিকে মুকাতাবাহ (চুক্তি সম্পন্নকারী দাসী)-র ওপর প্রয়োগ করি, যা অন্য একটি দৃষ্টিকোণ থেকে মূল পাঠের (নস) কার্যকারিতা বিলোপের নামান্তর। কারণ এতে শর্তবাচক শব্দ ‘আইয়ু’ ব্যবহৃত হয়েছে যা ব্যাপকতা বা ‘উমুম’ নির্দেশক অব্যয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত; তদুপরি শর্তের প্রসঙ্গে ‘নাকিরা’ (অনির্দিষ্ট বিশেষ্য) ব্যবহৃত হয়েছে যা ব্যাপকতা দাবি করে। অধিকন্তু, তিনি নিকাহ বাতিল হওয়াকে এমন এক উপযুক্ত গুণের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন যা বিধানের উপস্থিতিকে অবধারিত করে, আর তা হলো নারী কর্তৃক স্বয়ং নিজের বিয়ে সম্পন্ন করা। ফলে তিনি বিষয়টিকে বাতিলের প্রকৃত কারণের ওপর বিন্যস্ত করেছেন, যা হলো অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত নিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা। তিনি এই বাতিলের বিধানকে একের পর এক তিনবার জোর দিয়ে ব্যক্ত করেছেন। এমতাবস্থায় বিষয়টিকে এমন এক বিরল চিত্রের ওপর প্রয়োগ করা যা পৃথিবীতে কদাচিৎ ঘটে থাকে, মূল পাঠের উদ্দেশ্যের বিলোপ ঘটানোরই নামান্তর। আপনি যদি জাহমিয়াহ সম্প্রদায়ের অধিকাংশ ব্যাখ্যা নিয়ে চিন্তা করেন, তবে সেগুলোকে এই শ্রেণিরই অন্তর্ভুক্ত পাবেন, বরং তার চেয়েও জঘন্য।
অষ্টম: এমন শব্দের অপব্যাখ্যা করা যার একটি সুস্পষ্ট অর্থ (জাহির) রয়েছে এবং সাধারণভাবে উচ্চারিত হলে সেটি ব্যতীত অন্য কিছু বোঝা যায় না; কিন্তু একে এমন এক নিগূঢ় অর্থে পর্যবসিত করা যা তাত্ত্বিক ও দার্শনিক আলোচনাপ্রবণ (আহলুন নাজার ওয়াল কালাম) ব্যক্তিবর্গের হাতেগোনা কয়েক জন ছাড়া আর কেউ জানে না। যেমন—‘আহাদ’ (এক) শব্দের এমন ব্যাখ্যা করা যা বিশিষ্ট ও সাধারণ সকলে সত্তা হিসেবে বুঝলেও দার্শনিকরা একে গুণাবলি বর্জিত নিছক এক সত্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করে, যেখানে কোনোভাবেই দ্বৈত অর্থের অবকাশ নেই। যদি বহির্বিশ্বে এর অস্তিত্ব প্রমাণ করা সম্ভবও হতো, তবে তা অত্যন্ত দীর্ঘ ও অত্যন্ত কঠিন কিছু ভূমিকার পরই কেবল জানা যেত। তাহলে এর বাস্তবতা কেমন হবে যখন বহির্বিশ্বে এর অস্তিত্ব অসম্ভব এবং কেবল মানুষের মস্তিষ্কই তা কল্পনা করে নেয়? এরপর তারা এই কাল্পনিক বিষয়ের বাহ্যিক অস্তিত্বের ওপর প্রমাণ পেশ করে। সুতরাং প্রত্যেকের নিকট সুপরিচিত একটি শব্দকে এমন এক অর্থের জন্য নির্ধারণ করা অসম্ভব, যা চরম পর্যায়ের অস্পষ্ট ও নিগূঢ়।
নবম: এমন অপব্যাখ্যা যা উচ্চ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত পর্যায়ের অর্থকে অকেজো (তা'তীল) করে দেয় এবং একে বহু নিম্নস্তরের অর্থে নামিয়ে আনে। এর উদাহরণ হলো জাহমিয়াহ সম্প্রদায়ের ব্যাখ্যা: ‘তিনিই তাঁর বান্দাদের ওপর প্রবল পরাক্রমশালী’ [সূরা আন-আম: ১৮] এবং এর সদৃশ আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে তারা বলে যে, এটি হলো মর্যাদাগত শ্রেষ্ঠত্ব; যেমন তাদের কথা: ‘নিঃস্ব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে দিরহামের অবস্থান’। এর মাধ্যমে তারা নিরঙ্কুশ উচ্চতার (ফাওকিয়্যাহ) প্রকৃত অর্থকে অকেজো করে দিয়েছে, যা প্রভুত্বের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য এবং যা মহান রবের মহত্ত্বের দাবিদার। তারা একে হীন করে আদমসন্তানের মর্যাদার ওপর তাঁর মর্যাদার উচ্চতা হওয়ার স্তরে নামিয়ে এনেছে। অনুরূপভাবে, আরশের ওপর তাঁর উঠাকে (ইস্তিওয়া) তারা তাঁর ক্ষমতা ও আরশের ওপর তাঁর বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে।
আল্লাহর শপথ! এটি বড়ই আশ্চর্যের বিষয়! কোনো বিবেকবান কি আরশের ওপর তাঁর বিজয়ী ও ক্ষমতাশালী হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছিল যে, মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের সাতটি স্থানে অভিন্ন শব্দে ধারাবাহিকভাবে এর সংবাদ দেবেন, অথচ সেখানে এমন একটি স্থানও নেই যেখানে ব্যাখ্যাকরীদের উপস্থাপিত সেই অর্থটি উদ্দেশ্য করা হয়েছে? এই সকল প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা কি কেবল আমাদের এটি জানানোর জন্য যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পর তিনি আরশের ওপর বিজয়ী হয়েছেন এবং এর ওপর ক্ষমতা লাভ করেছেন? আপনার কি মনে হয়, পঞ্চাশ হাজার বছরেরও অধিক সময়কাল ধরে তিনি কি আরশের ওপর বিজয়ী ও ক্ষমতাশালী ছিলেন না, অতঃপর এই জগত সৃষ্টির পর তাঁর সেই ক্ষমতা নতুন করে অর্জিত হয়েছে?
দশম: শব্দের এমন অর্থ করা যার সপক্ষে প্রসঙ্গের (সিয়াক) কোনো প্রমাণ নেই এবং কোনো পারিপার্শ্বিক আলামতও (কারিনাহ) তা দাবি করে না। কারণ সত্যের দিশারি ও সুস্পষ্ট বর্ণনাকারী তাঁর বাণীর মাধ্যমে এমনটি উদ্দেশ্য করেন না। তিনি যদি এমনটিই উদ্দেশ্য করতেন, তবে তাঁর বক্তব্যের সাথে এমন কিছু আলামত যুক্ত করে দিতেন যা বাহ্যিক অর্থের বিপরীত সেই অর্থকে নির্দেশ করত, যাতে শ্রোতা কোনো প্রকার বিভ্রান্তিতে না পড়ে। কেননা মহান আল্লাহ তাঁর কালামকে সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَهُدًى فَإِذَا أَرَادَ بِهِ خِلَافَ ظَاهِرِهِ وَلَمْ يَحُفَّ بِهِ قَرَائِنَ تَدُلُّ عَلَى الْمَعْنَى الَّذِي يَتَبَادَرُ غَيْرُهُ إِلَى كُلِّ أَحَدٍ لَمْ يَكُنْ بَيَانًا وَلَا هُدًى.
[فصل تَنَازَعَ النَّاسُ فِي كَثِيرٍ مِنَ الْأَحْكَامِ وَلَمْ يَتَنَازَعُوا فِي آيَاتِ الصِّفَاتِ]فَصْلٌ
تَنَازَعَ النَّاسُ فِي كَثِيرٍ مِنَ الْأَحْكَامِ وَلَمْ يَتَنَازَعُوا فِي آيَاتِ الصِّفَاتِ وَأَخْبَارِهَا فِي مَوْضِعٍ وَاحِدٍ بَلِ اتَّفَقَ الصَّحَابَةُ وَالتَّابِعُونَ عَلَى إِقْرَارِهَا وَإِمْرَارِهَا مَعَ فَهْمِ مَعَانِيهَا وَإِثْبَاتِ حَقَائِقِهَا، وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّهَا أَعْظَمُ النَّوْعَيْنِ بَيَانًا وَأَنَّ الْعِنَايَةَ بِبَيَانِهَا أَهَمُّ لِأَنَّهَا مِنْ تَمَامِ تَحْقِيقِ الشَّهَادَتَيْنِ، وَإِثْبَاتَهَا مِنْ لَوَازِمَ التَّوْحِيدِ، فَبَيَّنَهَا اللَّهُ سبحانه وتعالى وَرَسُولُهُ بَيَانًا شَافِيًا لَا يَقَعُ فِيهِ لَبْسٌ يُوقِعُ الرَّاسِخِينَ فِي الْعِلْمِ.
وَآيَاتُ الْأَحْكَامِ لَا يَكَادُ يَفْهَمُ مَعَانِيَهَا إِلَّا الْخَاصَّةُ مِنَ النَّاسِ، وَأَمَّا آيَاتُ الصِّفَاتِ فَيَشْتَرِكُ فِي فَهْمِ مَعْنَاهَا الْخَاصُّ وَالْعَامُّ، أَعَنِي فَهْمَ أَصْلِ الْمَعْنَى لَا فَهْمَ الْكُنْهِ وَالْكَيْفِيَّةِ، وَلِهَذَا أَشْكَلَ عَلَى بَعْضِ الصَّحَابَةِ قَوْلُهُ تَعَالَى: {حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ} [البقرة: 187] حَتَّى يُبَيَّنَ لَهُمْ بِقَوْلِهِ: {مِنَ الْفَجْرِ} [البقرة: 187] وَلَمْ يُشْكِلْ عَلَيْهِ وَلَا عَلَى غَيْرِهِ قَوْلُهُ: {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ} [البقرة: 186] وَغَيْرُهَا مِنْ آيَاتِ الصِّفَاتِ، وَأَيْضًا فَإِنَّ آيَاتِ الْأَحْكَامِ مُجْمَلَةٌ عُرِفَ بَيَانُهَا بِالسُّنَّةِ كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ} [البقرة: 196] فَهَذَا مُجْمَلٌ فِي قَدْرِ الصِّيَامِ وَالْإِطْعَامِ، فَبَيَّنَتْهُ السُّنَّةُ بِأَنَّهُ صِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ أَوْ إِطْعَامُ سِتَّةِ مَسَاكِينَ أَوْ ذَبْحُ شَاةٍ، وَنَظَائِرُهُ كَثِيرَةٌ كَآيَةِ السَّرِقَةِ وَآيَةِ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَالْحَجِّ، وَلَيْسَ فِي آيَاتِ الصِّفَاتِ وَأَحَادِيثِهَا مُجْمَلٌ يَحْتَاجُ إِلَى بَيَانٍ مِنْ خَارِجٍ بَلْ بَيَانُهَا فِيهَا وَإِنْ جَاءَتِ السُّنَّةُ بِزِيَادَةٍ فِي الْبَيَانِ وَالتَّفْصِيلِ.
এবং হিদায়াত। সুতরাং যখন তিনি এর মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য প্রকাশ্য অর্থের বিপরীত কিছু হওয়ার ইচ্ছা করেন এবং এর সাথে এমন কোনো অনুষঙ্গ না থাকে যা সেই অর্থের প্রতি নির্দেশ করে যা প্রত্যেকের মনে সচরাচর আসে না, তখন তা আর সুস্পষ্ট বর্ণনা বা হিদায়াত থাকে না।
[পরিচ্ছেদ: মানুষ বহু বিধানের ব্যাপারে মতভেদ করেছে, কিন্তু সিফাত সংক্রান্ত আয়াতসমূহের ব্যাপারে তারা মতভেদ করেনি]পরিচ্ছেদ
মানুষ বহু আহকাম বা বিধানের ব্যাপারে মতভেদ করেছে, কিন্তু সিফাত সংক্রান্ত আয়াত ও বর্ণনাগুলোতে কোনো একটি ক্ষেত্রেও তারা মতভেদ করেনি। বরং সাহাবী ও তাবিঈগণ এগুলোর অর্থের উপলব্ধি এবং এগুলোর প্রকৃত মর্ম সাব্যস্ত করার সাথে সাথে তা যে অবস্থায় আছে সেভাবেই বহাল রাখার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এটি একথাই প্রমাণ করে যে, এই দুই প্রকারের (আহকাম ও সিফাত) মধ্যে সিফাতের বর্ণনাই অধিকতর সুস্পষ্ট এবং এর বর্ণনার প্রতি মনোযোগ দেওয়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ; কেননা এটি শাহাদাতাইনের পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধির অংশ এবং এগুলো সাব্যস্ত করা তাওহীদের অনিবার্য দাবি। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ও তাঁর রাসূল এই সিফাতসমূহকে এমন এক সন্তোষজনক বর্ণনায় বর্ণনা করেছেন, যার ফলে ইলমে গভীর পারদর্শী ব্যক্তিদের মনে কোনো অস্পষ্টতা সৃষ্টি হয় না।
আহকাম সংক্রান্ত আয়াতসমূহের অর্থ কেবল বিশিষ্ট ব্যক্তিরাই বুঝতে পারেন, পক্ষান্তরে সিফাত সংক্রান্ত আয়াতসমূহের অর্থ অনুধাবনের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ও সাধারণ সকলেই সমান অংশীদার; অর্থাৎ অর্থের মূল ভিত্তি অনুধাবন করার ক্ষেত্রে, এর প্রকৃত স্বরূপ বা ধরন অনুধাবনের ক্ষেত্রে নয়। আর এই কারণেই কোনো কোনো সাহাবীর নিকট আল্লাহ তাআলার এই বাণী বুঝতে সমস্যা হয়েছিল: {যতক্ষণ না তোমাদের নিকট ভোরের সাদা সুতা কালো সুতা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়} [সূরা বাকারাহ: ১৮৭], যতক্ষণ না {ফজর হতে} [সূরা বাকারাহ: ১৮৭] এই বাণীর মাধ্যমে তা সুস্পষ্ট করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর নিকট বা অন্য কারো নিকট আল্লাহর বাণী: {আর যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন আমি তো নিকটেই আছি} [সূরা বাকারাহ: ১৮৬] এবং সিফাত সংক্রান্ত অন্যান্য আয়াতসমূহ বুঝতে কোনো সমস্যা হয়নি। এছাড়া আহকাম সংক্রান্ত আয়াতসমূহ সংক্ষিপ্ত, যেগুলোর বিশদ বর্ণনা সুন্নাহর মাধ্যমে জানা যায়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তবে সিয়াম বা সদকা কিংবা কুরবানির মাধ্যমে ফিদইয়া দেবে} [সূরা বাকারাহ: ১৯৬]। এটি সিয়াম ও আহার করানোর পরিমাণের ক্ষেত্রে অস্পষ্ট ছিল, অতঃপর সুন্নাহ একে স্পষ্ট করেছে যে তা হলো—তিন দিন রোজা রাখা অথবা ছয়জন মিসকীনকে আহার করানো অথবা একটি বকরি জবাই করা। এর উদাহরণ অনেক, যেমন চুরি, সালাত, জাকাত ও হজ সংক্রান্ত আয়াতসমূহ। পক্ষান্তরে সিফাত সংক্রান্ত আয়াত ও হাদিসসমূহে এমন কোনো অস্পষ্টতা নেই যার বর্ণনার জন্য অন্য কোনো বাহ্যিক প্রমাণের প্রয়োজন পড়ে; বরং এগুলোর ব্যাখ্যা এগুলোর ভেতরেই নিহিত আছে, যদিও সুন্নাহর মাধ্যমে বর্ণনায় অধিকতর স্পষ্টতা ও বিশদ বিবরণ যুক্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
[فصل تَعْجِيزِ الْمُتَأَوِّلِينَ عَنْ تَحْقِيقِ الْفَرْقِ بَيْنَ مَا يَسُوغُ تَأْوِيلُهُ مِنْ آيَاتِ الصِّفَاتِ وما لا يسوغ]فَصْلٌ
فِي تَعْجِيزِ الْمُتَأَوِّلِينَ عَنْ تَحْقِيقِ الْفَرْقِ بَيْنَ مَا يَسُوغُ تَأْوِيلُهُ مِنْ آيَاتِ الصِّفَاتِ وَأَحَادِيثِهَا وَمَا لَا يَسُوغُ
لَا رَيْبَ أَنَّ اللَّهَ وَصَفَ نَفْسَهُ بِصِفَاتٍ وَسَمَّى نَفْسَهُ بِأَسْمَاءٍ وَأَخْبَرَ عَنْ نَفْسِهِ بِأَفْعَالٍ، وَأَخْبَرَ أَنَّهُ يُحِبُّ وَيَكْرَهُ وَيَمْقُتُ وَيَرْضَى وَيَغْضَبُ وَيَسْخَطُ وَيَجِيءُ وَيَأْتِي إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا وَأَنَّهُ الْمُسْتَوِي عَلَى عَرْشِهِ وَأَنَّ لَهُ عِلْمًا وَحَيَاةً وَقُدْرَةً وَإِرَادَةً وَسَمْعًا وَبَصَرًا وَوَجْهًا وَأَنَّ لَهُ يَدَيْنِ وَأَنَّهُ فَوْقَ عِبَادِهِ، وَأَنَّ الْمَلَائِكَةَ تَعْرُجُ إِلَيْهِ وَتَتَنَزَّلُ بِالْأَمْرِ مِنْ عِنْدِهِ وَأَنَّهُ قَرِيبٌ وَأَنَّهُ مَعَ الْمُحْسِنِينَ وَمَعَ الصَّابِرِينَ وَمَعَ الْمُتَّقِينَ وَأَنَّ السَّمَاوَاتِ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ، وَوَصَفَهُ رَسُولُهُ بِأَنَّهُ يَفْرَحُ وَيَضْحَكُ وَأَنَّ قُلُوبَ الْعِبَادِ بَيْنَ أَصَابِعِهِ، وَغَيْرِ ذَلِكَ.
فَيُقَالُ لِلْمُتَأَوِّلِ: تَتَأَوَّلُ هَذَا كُلَّهُ عَلَى خِلَافِ ظَاهِرِهِ، أَمْ تُفَسِّرُ الْجَمِيعَ عَلَى ظَاهِرِهِ وَحَقِيقَتِهِ، أَمْ تُفَرِّقُ بَيْنَ بَعْضِ ذَلِكَ وَبَعْضِهِ، فَإِنْ تَأَوَّلْتَ الْجَمِيعَ وَحَمَلْتَهُ عَلَى خِلَافِ حَقِيقَتِهِ كَانَ ذَلِكَ عِنَادًا ظَاهِرًا وَكُفْرًا صُرَاحًا وَجَحْدًا لِرُبُوبِيَّتِهِ، وَهَذَا مَذْهَبُ الدَّهْرِيَّةِ الَّذِينَ لَا يُثْبِتُونَ لِلْعَالَمِ صَانِعًا، فَإِنْ قُلْتَ: أُثْبِتُ لِلْعَالَمِ صَانِعًا وَلَكِنْ لَا أَصِفُهُ بِصِفَةٍ تَقَعُ عَلَى خَلْقِهِ وَحَيْثُ وُصِفَ بِمَا يَقَعُ عَلَى الْمَخْلُوقِ تَأَوَّلْتُهُ، قِيلَ لَهُ: فَهَذِهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى وَالصِّفَاتُ الَّتِي وَصَفَ بِهَا نَفْسَهُ هَلْ تَدُلُّ عَلَى مَعَانٍ ثَابِتَةٍ هِيَ حَقٌّ فِي نَفْسِهَا أَوْ لَا تَدُلُّ؟ فَإِنْ نَفَيْتَ دَلَالَتَهَا عَلَى مَعْنًى ثَابِتٍ كَانَ ذَلِكَ غَايَةَ التَّعْطِيلِ، وَإِنْ أَثْبَتَّ دَلَالَتَهَا عَلَى مَعْنَى هِيَ حَقٌّ فِي نَفْسِهَا ثَابِتٌ، قِيلَ لَكَ: فَمَا الَّذِي سَوَّغَ لَكَ تَأْوِيلَ بَعْضِهَا دُونَ بَعْضٍ؟ وَمَا الْفَرْقُ بَيْنَ مَا أَثْبَتَّهَا وَنَفَيْتَهَا مِنْ جِهَةِ السَّمْعِ أَوِ الْعَقْلِ وَدِلَالَةِ النُّصُوصِ أَنَّ لَهُ سَمْعًا وَبَصَرًا وَعِلْمًا وَقُدْرَةً وَإِرَادَةً وَحَيَاةً وَكَلَامًا كَدَلَالَتِهَا عَلَى أَنَّ لَهُ مَحَبَّةً وَرَحْمَةً وَغَضَبًا وَرِضًا وَفَرَحًا وَضَحِكًا وَوَجْهًا وَيَدَيْنِ، فَدِلَالَةُ النُّصُوصِ عَلَى ذَلِكَ سَوَاءٌ، فَلِمَ نَفَيْتَ حَقِيقَةَ رَحْمَتِهِ وَمَحَبَّتِهِ وَرِضَاهُ وَغَضَبِهِ وَفَرَحِهِ وَضَحِكِهِ، وَأَوَّلْتَهَا نَفْسَ الْإِرَادَةِ؟
فَإِنْ قُلْتَ: إِنَّ إِثْبَاتَ الْإِرَادَةِ وَالْمَشِيئَةِ لَا يَسْتَلْزِمُ تَشْبِيهًا وَتَجْسِيمًا، وَإِثْبَاتَ حَقَائِقِ هَذِهِ الصِّفَاتِ يَسْتَلْزِمُ التَّشْبِيهَ وَالتَّجْسِيمَ فَإِنَّهَا لَا تُعْقَلُ إِلَّا فِي الْأَجْسَامِ، فَإِنَّ الرَّحْمَةَ رِقَّةٌ تَعْتَرِي طَبِيعَةَ الْحَيَوَانِ، وَالْمَحَبَّةَ مَيْلُ النَّفْسِ لِجَلْبِ مَا يَنْفَعُهَا، وَالْغَضَبَ غِلٌّ بِالْقَلْبِ لِوُرُودِ مَا يَرِدُ عَلَيْهِ.
[পরিচ্ছেদ: সিফাত বা গুণাবলি বিষয়ক আয়াতসমূহের মধ্য থেকে যেগুলোর ব্যাখ্যা করা বৈধ এবং যেগুলোর ব্যাখ্যা করা বৈধ নয়—এই দুয়ের মাঝে পার্থক্য নিরূপণে অপব্যাখ্যাকারীদের অক্ষমতা প্রমাণ]পরিচ্ছেদ
সিফাত বা গুণাবলি বিষয়ক আয়াত ও হাদিসসমূহের যেগুলোর ব্যাখ্যা করা বৈধ এবং যেগুলোর ব্যাখ্যা করা বৈধ নয়—এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য নিরসনে অপব্যাখ্যাকারীদের অক্ষমতা প্রসঙ্গে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তাআলা নিজের সত্তাকে কিছু গুণাবলিতে গুণান্বিত করেছেন, নিজের কিছু নাম রেখেছেন এবং নিজের কতিপয় কর্ম সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি ভালোবাসেন, অপছন্দ করেন, ঘৃণা করেন, সন্তুষ্ট হন, রাগান্বিত হন, অসন্তুষ্ট হন, তিনি আগমন করেন এবং দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন। আরও সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর আরশের উপর উর্ধ্বে আরোহণ; এবং তাঁর জ্ঞান, জীবন, ক্ষমতা, ইচ্ছা, শ্রবণ, দৃষ্টি ও চেহারা রয়েছে এবং তাঁর দুটি হাত রয়েছে; আর তিনি তাঁর বান্দাদের উপরে অবস্থান করেন। ফেরেশতারা তাঁর দিকে আরোহণ করে এবং তাঁর নিকট থেকে আদেশ নিয়ে অবতীর্ণ হয়। তিনি অতি নিকটবর্তী এবং তিনি সৎকর্মশীল, ধৈর্যশীল ও মুত্তাকিদের সাথে আছেন; এবং আকাশসমূহ তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে রাখা হবে। তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আনন্দিত হন, হাসেন এবং বান্দাদের অন্তরসমূহ তাঁর আঙুলসমূহের মাঝে রয়েছে—ইত্যাদি।
অতঃপর অপব্যাখ্যাকারীকে বলা হবে: আপনি কি এই সবকিছুর বাহ্যিক অর্থের বিপরীতে রূপক ব্যাখ্যা করবেন, নাকি সবগুলোকে এর বাহ্যিক ও প্রকৃত অর্থেই গ্রহণ করবেন, নাকি এগুলোর মধ্যে পার্থক্য করবেন? যদি আপনি সবকিছুর রূপক ব্যাখ্যা করেন এবং একে এর প্রকৃত অর্থের বিপরীতে প্রয়োগ করেন, তবে তা হবে স্পষ্ট হঠকারিতা, প্রকাশ্য কুফরি এবং তাঁর রুবুবিয়ত বা প্রভুত্বকে অস্বীকার করা। আর এটি হলো দাহরিয়াহ বা বস্তুবাদী নাস্তিকদের মতবাদ, যারা এই জগতের কোনো স্রষ্টা স্বীকার করে না। যদি আপনি বলেন: ‘আমি জগতের একজন স্রষ্টা স্বীকার করি, কিন্তু আমি তাঁকে এমন কোনো গুণে গুণান্বিত করি না যা তাঁর সৃষ্টির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়। সুতরাং যেখানেই এমন গুণের বর্ণনা এসেছে যা সৃষ্টির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, আমি সেটির রূপক ব্যাখ্যা করি।’ তবে তাকে বলা হবে: এই যে সুন্দর নামসমূহ এবং গুণাবলি যার মাধ্যমে তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন, সেগুলো কি এমন কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত অর্থের ওপর প্রমাণ বহন করে যা বাস্তবে সত্য, নাকি করে না? আপনি যদি কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত অর্থের ওপর এদের প্রমাণ বহন করাকে অস্বীকার করেন, তবে তা হবে চূড়ান্ত পর্যায়ের ‘তাতিল’ বা গুণাবলিকে অর্থহীন করা। আর যদি আপনি স্বীকার করেন যে এগুলো এমন অর্থের ওপর প্রমাণ বহন করে যা বাস্তবে সত্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত, তবে আপনাকে বলা হবে: কিসের ভিত্তিতে আপনি কয়েকটির রূপক ব্যাখ্যা করাকে বৈধ মনে করলেন আর অন্যগুলোর ক্ষেত্রে করলেন না? শ্রবণ (দলিল), বুদ্ধি বা অহি-র পাঠের দিক থেকে আপনি যেগুলোকে সাব্যস্ত করেছেন আর যেগুলোকে অস্বীকার করেছেন তাদের মাঝে পার্থক্য কী? নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার শ্রবণ, দৃষ্টি, জ্ঞান, ক্ষমতা, ইচ্ছা, জীবন ও কথা থাকার ব্যাপারে দলিলের প্রমাণ ঠিক তেমনই, যেমনটি প্রমাণ দেয় তাঁর মহব্বত, রহমত, ক্রোধ, সন্তুষ্টি, আনন্দ, হাসি, চেহারা ও দুটি হাত থাকার ব্যাপারে। সুতরাং দলিলের প্রমাণ তো সবকিছুর ক্ষেত্রেই সমান; তবে কেন আপনি তাঁর রহমত, মহব্বত, সন্তুষ্টি, ক্রোধ, আনন্দ ও হাসির প্রকৃত অর্থকে অস্বীকার করলেন এবং এগুলোর ব্যাখ্যায় কেবল ‘ইচ্ছা’ (ইরাদা) অর্থ গ্রহণ করলেন?
যদি আপনি বলেন: ‘ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা সাব্যস্ত করলে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য প্রদান বা দেহধারী সাব্যস্তকরণ আবশ্যক হয় না, কিন্তু এই গুণাবলিগুলোর প্রকৃত অর্থ সাব্যস্ত করলে সাদৃশ্য প্রদান ও দেহধারী সাব্যস্তকরণ অনিবার্য হয়ে পড়ে। কেননা এগুলো দেহধারী বস্তু ছাড়া অন্য কিছুর ক্ষেত্রে কল্পনা করা যায় না। কারণ, রহমত বা দয়া হলো প্রাণিকুলের স্বভাবজাত একটি কোমলতা; মহব্বত বা ভালোবাসা হলো নিজের উপকারী কিছু পাওয়ার জন্য মনের ঝোঁক; আর ক্রোধ হলো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ের আগমনে হৃদয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা।’
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قِيلَ لَكَ: وَكَذَلِكَ الْإِرَادَةُ هِيَ مَيْلُ النَّفْسِ إِلَى جَلْبِ مَا يَنْفَعُهَا وَدَفْعِ مَا يَضُرُّهَا، وَكَذَلِكَ جَمِيعُ مَا أَثْبَتَّهُ مِنَ الصِّفَاتِ إِنَّمَا هِيَ أَغْرَاضٌ قَائِمَةٌ بِالْأَجْسَامِ فِي الشَّاهِدِ، فَإِنَّ الْعِلْمَ انْطِبَاعُ صُورَةِ الْمَعْلُومِ فِي نَفْسِ الْعَالِمِ، أَوْ صِفَةٌ عَرَضِيَّةٌ قَائِمَةٌ بِهِ، وَكَذَلِكَ السَّمْعُ وَالْبَصَرُ وَالْحَيَاةُ أَعْرَاضٌ قَائِمَةٌ بِالْمَوْصُوفِ، فَكَيْفَ لَزِمَ التَّشْبِيهُ وَالتَّجْسِيمُ مِنْ إِثْبَاتِ تِلْكَ الصِّفَاتِ وَلَمْ يَلْزَمْ مِنْ إِثْبَاتٍ هَذِهِ؟
فَإِنْ قُلْتَ: أَنَا أُثْبِتُهَا عَلَى وَجْهٍ لَا يُمَاثِلُ صِفَاتِنَا وَلَا يُشْبِهُهَا.
قِيلَ لَكَ: فَهَلَّا أَثْبَتَّ الْجَمِيعَ عَلَى وَجْهٍ لَا يُمَاثِلُ صِفَاتِ الْمَخْلُوقِينَ؟
فَإِنْ قُلْتَ: هَذَا لَا يُعْقَلُ، قِيلَ لَكَ: فَكَيْفَ عَقَلْتَ سَمْعًا وَبَصَرًا وَحَيَاةً وَإِرَادَةً وَمَشِيئَةً، لَيْسَتْ مِنْ جِنْسِ صِفَاتِ الْمَخْلُوقِينَ؟
فَإِنْ قُلْتَ: أَنَا أُفَرِّقُ بَيْنَ مَا يُتَأَوَّلُ وَمَا لَا يُتَأَوَّلُ بِأَنَّ مَا دَلَّ الْعَقْلُ عَلَى ثُبُوتِهِ يَمْتَنِعُ تَأْوِيلُهُ كَالْعِلْمِ وَالْحَيَاةِ وَالْقُدْرَةِ وَالسَّمْعِ وَالْبَصَرِ، وَمَا لَا يَدُلُّ عَلَيْهِ الْعَقْلُ يَجِبُ أَوْ يَسُوغُ تَأْوِيلُهُ كَالْيَدِ وَالْوَجْهِ وَالضَّحِكِ وَالْفَرَحِ وَالْغَضَبِ وَالرِّضَى، فَإِنَّ الْفِعْلَ الْمُحْكَمَ دَلَّ عَلَى الْإِرَادَةِ فَيَمْتَنِعُ مُخَالَفَةُ مَا دَلَّ عَلَيْهِ صَرِيحُ الْعَقْلِ.
قِيلَ لَكَ: وَكَذَلِكَ الْإِنْعَامُ وَالْإِحْسَانُ وَكَشْفُ الضُّرِّ وَتَفْرِيجُ الْكُرُبَاتِ دَلَّ عَلَى الرَّحْمَةِ كَدِلَالَةِ التَّخْصِيصِ عَلَى الْإِرَادَةِ سَوَاءٌ، وَالتَّخْصِيصُ بِالْكَرَامَةِ وَالِاصْطِفَاءِ وَالِاخْتِيَارِ دَالٌّ عَلَى الْمَحَبَّةِ كَدِلَالَةِ مَا ذَكَرْتَ عَلَى الْإِرَادَةِ، وَالْإِهَانَةُ وَالطَّرْدُ وَالْإِبْعَادُ وَالْحِرْمَانُ دَالٌّ عَلَى الْمَقْتِ وَالْبُغْضِ كَدِلَالَةِ ضِدِّهِ عَلَى الرِّضَى وَالْحُبِّ، وَالْعُقُوبَةُ وَالْبَطْشُ وَالِانْتِقَامُ دَالٌّ عَلَى الْغَضَبِ كَدِلَالَةِ ضِدِّهِ عَلَى الرِّضَى.
وَنَقُولُ ثَانِيًا: هَبْ أَنَّ الْعَقْلَ لَا يَدُلُّ عَلَى إِثْبَاتِ هَذِهِ الصِّفَاتِ الَّتِي نَفَيْتَهَا فَإِنَّهُ لَا يَنْفِيهَا، وَالسَّمْعُ دَلِيلٌ مُسْتَقِلٌّ بِنَفْسِهِ، بَلِ الطُّمَأْنِينَةُ إِلَيْهِ فِي هَذَا الْبَابِ أَعْظَمُ مِنَ الطُّمَأْنِينَةِ إِلَى مُجَرَّدِ الْعَقْلِ، فَمَا الَّذِي يُسَوِّغُ لَكَ نَفْيَ مَدْلُولِهِ؟
وَيُقَالُ ثَالِثًا: إِنْ كَانَ ظَاهِرُ النُّصُوصِ يَقْتَضِي تَشْبِيهًا وَتَجْسِيمًا فَهُوَ يَقْتَضِيهِ فِي الْجَمِيعِ، فَأَوِّلِ الْجَمِيعَ، وَإِنْ كَانَ لَا يَقْتَضِي ذَلِكَ لَمْ يَجُزْ تَأْوِيلُ شَيْءٍ مِنْهُ، وَإِنْ زَعَمْتَ أَنَّ بَعْضَهَا يَقْتَضِيهِ وَبَعْضَهَا لَا يَقْتَضِيهِ طُولِبْتَ بِالْفَرْقِ بَيْنَ الْأَمْرَيْنِ.
وَلَمَّا تَفَطَّنَ بَعْضُهُمْ لِتَعَذُّرِ الْفِرَاقِ قَالَ: مَا دَلَّ عَلَيْهِ الْإِجْمَاعُ كَصِفَاتِ السَّمْعِ لَا يَتَأَوَّلُ، وَمَا لَمْ يَدُلَّ عَلَيْهِ الْإِجْمَاعُ فَإِنَّهُ يَتَأَوَّلُ، وَهَذَا كَمَا تَرَاهُ مِنْ أَفْسَدِ الْفُرُوقِ، فَإِنَّ مَضْمُونَهُ أَنَّ الْإِجْمَاعَ أَثْبَتَ مَا يَدُلُّ رَأْيُ التَّجْسِيمِ وَالتَّشْبِيهِ، وَهَذَا قَدْحٌ فِي الْإِجْمَاعِ، فَإِنَّهُ لَا يَنْعَقِدُ عَلَى بَاطِلٍ.
আপনাকে বলা হবে: তদ্রূপ ‘ইচ্ছা’ (ইরাদা) হলো কোনো আত্মিক প্রবণতা, যা নিজের কল্যাণ অর্জন এবং অকল্যাণ দূর করার দিকে ধাবিত হয়। একইভাবে আপনি যেসব গুণাবলি (সিফাত) সাব্যস্ত করেছেন, দৃশ্যমান জগতে (শাহেদ) সেগুলো কেবল জড়দেহের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু উদ্দেশ্য বা অবস্থা মাত্র। কেননা জ্ঞান (ইলম) হলো কোনো জ্ঞাত বস্তুর প্রতিচ্ছবি জ্ঞানীর অন্তরে অঙ্কিত হওয়া, অথবা এটি এমন এক আপতিক গুণ (আরদ) যা তার সত্তায় বিদ্যমান থাকে। অনুরূপভাবে শ্রবণ, দর্শন এবং জীবনও গুণান্বিত সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু আপতিক বিষয়। অতএব, ওইসব সিফাত সাব্যস্ত করলে যদি সাদৃশ্য প্রদান (তাشবিহ) ও দেহবিশিষ্টকরণ (তাজসিম) অপরিহার্য হয়, তবে এই সিফাতগুলো সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কেন তা অপরিহার্য হবে না?
যদি আপনি বলেন: আমি এগুলোকে এমনভাবে সাব্যস্ত করি যা আমাদের গুণাবলির সদৃশ বা অনুরূপ নয়।
তবে আপনাকে বলা হবে: আপনি কেন সমস্ত সিফাতকেই এমনভাবে সাব্যস্ত করছেন না যা সৃষ্টির গুণাবলির সদৃশ হবে না?
যদি আপনি বলেন: এটি বুদ্ধিগ্রাহ্য নয়। তবে আপনাকে বলা হবে: আপনি শ্রবণ, দর্শন, জীবন, ইচ্ছা ও অভিপ্রায়কে এমনভাবে কীভাবে বুদ্ধিগ্রাহ্য মনে করলেন যা সৃষ্টির গুণাবলির পর্যায়ভুক্ত নয়?
যদি আপনি বলেন: আমি ব্যাখ্যার (তাউইল) যোগ্য এবং ব্যাখ্যার অযোগ্য বিষয়ের মধ্যে এভাবে পার্থক্য করি যে, যেসব বিষয় সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে বিবেক-বুদ্ধি প্রমাণ দেয়, সেগুলোর ব্যাখ্যা করা অসম্ভব; যেমন জ্ঞান, জীবন, ক্ষমতা, শ্রবণ ও দর্শন। আর বিবেক-বুদ্ধি যেগুলোর ব্যাপারে প্রমাণ দেয় না, সেগুলোর ব্যাখ্যা করা আবশ্যক বা বৈধ; যেমন হাত, চেহারা, হাসি, আনন্দ, ক্রোধ ও সন্তুষ্টি। কেননা সুনিপুণ কর্ম ‘ইচ্ছা’র প্রমাণ দেয়, তাই স্পষ্ট বিবেকের দলীলের বিরোধিতা করা অসম্ভব।
আপনাকে বলা হবে: তদ্রূপ অনুগ্রহ দান, ইহসান, বিপদ দূরীকরণ এবং সংকট মোচন ‘রহমত’-এর প্রমাণ দেয়, যেভাবে কোনো কিছুকে নির্দিষ্ট করা ‘ইচ্ছা’-র প্রমাণ দেয়। তদ্রূপ মর্যাদা দান, মনোনীত করা ও নির্বাচনের মাধ্যমে বিশিষ্ট করা ‘মহব্বত’ (ভালোবাসা)-এর প্রমাণ দেয়, যেমনটি আপনি ইচ্ছার ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন। আর লাঞ্ছনা, বহিষ্কার, দূরীকরণ এবং বঞ্চিত করা ‘বিদ্বেষ’ ও ঘৃণার প্রমাণ দেয়, যেমনটি এর বিপরীত বিষয়গুলো সন্তুষ্টি ও ভালোবাসার প্রমাণ দেয়। আর শাস্তি প্রদান, পাকড়াও এবং প্রতিশোধ গ্রহণ ক্রোধের প্রমাণ দেয়, যেমনটি এর বিপরীত বিষয় সন্তুষ্টির প্রমাণ দেয়।
দ্বিতীয়ত আমরা বলি: ধরে নিলাম আপনি যেসব সিফাত অস্বীকার করেছেন, বিবেক-বুদ্ধি সেগুলো সাব্যস্ত করার স্বপক্ষে প্রমাণ দেয় না, কিন্তু বিবেক তো সেগুলো অস্বীকারও করে না। আর শ্রবণ তথা ওহীর দলীল নিজেই একটি স্বতন্ত্র প্রমাণ। বরং এই ক্ষেত্রে নিছক বিবেকের চেয়ে ওহীর ওপর নির্ভরতাই অধিকতর প্রশান্তিদায়ক। অতএব, ওহীর দলীলের মর্মার্থকে অস্বীকার করার বৈধতা আপনি কোথায় পেলেন?
তৃতীয়ত বলা হবে: যদি নসসমূহের (কুরআন-সুন্নাহর বাণী) প্রকাশ্য রূপ সাদৃশ্য প্রদান ও দেহবিশিষ্টকরণকে আবশ্যক করে, তবে তা সবগুলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। সেক্ষেত্রে আপনি সবগুলোরই ব্যাখ্যা করুন। আর যদি তা এমনটা দাবি না করে, তবে কোনোটিরই ব্যাখ্যা করা বৈধ হবে না। আর যদি আপনি দাবি করেন যে কিছু নস এটি দাবি করে আর কিছু করে না, তবে আপনার কাছে এই দুইয়ের পার্থক্যের প্রমাণ চাওয়া হবে।
যখন তাদের কেউ কেউ এই পার্থক্য নিরূপণের অসাধ্যতা বুঝতে পারল, তখন সে বলল: ইজমা (ঐক্যমত) যেগুলোর ব্যাপারে প্রমাণ দিয়েছে—যেমন শ্রবণের গুণ—সেগুলোর ব্যাখ্যা করা যাবে না। আর ইজমা যেগুলোর ব্যাপারে প্রমাণ দেয়নি, সেগুলোর ব্যাখ্যা করা হবে। এটি আপনি দেখতেই পাচ্ছেন যে অত্যন্ত অসার একটি পার্থক্য। কারণ এর অর্থ দাঁড়ায় এই যে, ইজমা এমন বিষয় সাব্যস্ত করেছে যা দেহবিশিষ্টকরণ ও সাদৃশ্য প্রদানের মতবাদের দিকে নিয়ে যায়। আর এটি ইজমার ওপর এক বড় অপবাদ, কারণ ইজমা কখনো বাতিলের ওপর সংঘটিত হয় না।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ثُمَّ يُقَالُ: إِنْ كَانَ الْإِجْمَاعُ دَلَّ عَلَى هَذِهِ الصِّفَاتِ وَظَاهِرُهَا يَقْتَضِي التَّشْبِيهَ وَالتَّجْسِيمَ بَطَلَ نَفْيُكُمْ لِذَلِكَ، وَإِنْ لَمْ يَنْعَقِدْ عَلَيْهَا بَطَلَ التَّفْرِيقُ بِهِ.
ثُمَّ يُقَالُ: خُصُومُكُمْ مِنَ الْمُعْتَزِلَةِ لَمْ تُجْمِعْ عَلَى ثُبُوتِ هَذِهِ الصِّفَاتِ.
فَإِنْ قُلْتُمْ: انْعَقَدَ الْإِجْمَاعُ قَبْلَهُمْ، قِيلَ: صَدَقْتُمْ وَاللَّهِ، وَالَّذِينَ أَجْمَعُوا قَبْلَهُمْ عَلَى إِثْبَاتِ هَذِهِ الصِّفَاتِ أَجْمَعُوا عَلَى إِثْبَاتِ سَائِرِ الصِّفَاتِ وَلَمْ يَخُصُّوهَا بِسَبْعٍ، بَلْ تَخْصِيصُهَا بِالسَّبْعِ خِلَافُ قَوْلِ السَّلَفِ، وَقَوْلِ الْجَهْمِيَّةِ وَالْمُعْتَزِلَةِ، فَالنَّاسُ كَانُوا طَائِفَتَيْنِ: سَلَفِيَّةٍ وَجَهْمِيَّةٍ، فَحَدَثَتِ الطَّائِفَةُ السَّبْعِيَّةُ وَاشْتَقَّتْ قَوْلًا بَيْنَ قَوْلَيْنِ، فَلَا لِلسَّلَفِ اتَّبَعُوا وَلَا مَعَ الْجَهْمِيَّةِ بَقُوا.
وَقَالَتْ طَائِفَةٌ أُخْرَى: مَا لَمْ يَكُنْ ظَاهِرُهُ جَوَارِحَ وَأَبْعَاضًا، كَالْعِلْمِ وَالْحَيَاةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْإِرَادَةِ وَالْكَلَامِ لَا يَتَأَوَّلُ، وَمَا كَانَ ظَاهِرُهُ جَوَارِحَ وَأَبْعَاضًا كَالْوَجْهِ وَالْيَدَيْنِ وَالْقَدَمِ فَإِنَّهُ يَتَعَيَّنُ تَأْوِيلُهُ لِاسْتِلْزَامِ إِثْبَاتِهِ التَّرْكِيبَ وَالتَّجْسِيمَ.
قَالَ الْمُثْبِتُونَ: جَوَابُنَا لَكُمْ هُوَ عَيْنُ الَّذِي تُجِيبُونَ بِهِ خُصُومَكُمْ مِنَ الْجَهْمِيَّةِ وَالْمُعْتَزِلَةِ نُفَاةِ الصِّفَاتِ، فَهُمْ قَالُوا لَكُمْ: لَوْ قَامَ بِهِ سُبْحَانَهُ صِفَةٌ وُجُودِيَّةٌ كَالسَّمْعِ وَالْبَصَرِ وَالْعِلْمِ وَالْقُدْرَةِ وَالْحَيَاةِ لَكَانَ مَحَلًّا لِلْأَعْرَاضِ وَلَزِمَ التَّرْكِيبَ وَالتَّجْسِيمَ وَالِانْقِسَامَ، كَمَا قُلْتُمْ: لَوْ كَانَ لَهُ وَجْهٌ وَيَدٌ وَإِصْبَعٌ لَزِمَ التَّرْكِيبَ وَالِانْقِسَامَ وَحِينَئِذٍ فَمَا هُوَ جَوَابُكُمْ لِهَؤُلَاءِ نُجِيبُكُمْ بِهِ؟
فَإِنْ قُلْتُمْ: نَحْنُ نُثْبِتُ هَذِهِ الصِّفَاتِ عَلَى وَجْهٍ لَا تَكُونُ أَعْرَاضًا وَلَا نُسَمِّيهَا أَعْرَاضًا فَلَا يَسْتَلْزِمُ تَرْكِيبًا وَلَا تَجْسِيمًا.
قِيلَ لَكُمْ: وَنَحْنُ نُثْبِتُ الصِّفَاتِ الَّتِي أَثْبَتَهَا اللَّهُ لِنَفْسِهِ وَنَفَيْتُمُوهَا أَنْتُمْ عَنْهُ عَلَى وَجْهٍ لَا يَسْتَلْزِمُ الْأَبْعَاضَ وَالْجَوَارِحَ وَلَا يُسَمَّى الْمُتَّصِفُ بِهَا مُرَكَّبًا وَلَا جِسْمًا وَلَا مُنْقَسِمًا.
فَإِنْ قُلْتُمْ: هَذَا لَا يُعْقَلُ مِنْهَا إِلَّا الْأَجْزَاءُ وَالْأَبْعَاضُ، قُلْنَا لَكُمْ: وَتِلْكَ لَا يُعْقَلُ مِنْهَا إِلَّا الْأَعْرَاضُ.
فَإِنْ قُلْتُمْ: الْعَرَضُ لَا يَبْقَى زَمَانَيْنِ، وَصِفَاتُ الرَّبِّ تَعَالَى بَاقِيَةٌ دَائِمًا أَبَدِيَّةٌ فَلَيْسَتْ أَعْرَاضًا، قُلْنَا: وَكَذَلِكَ الْأَبْعَاضُ هِيَ مَا جَازَ مُفَارَقَتُهَا وَانْفِصَالُهَا، وَذَلِكَ فِي حَقِّ الرَّبِّ تَعَالَى مُحَالٌ، فَلَيْسَتْ أَبْعَاضًا وَلَا جَوَارِحَ، فَمُفَارَقَةُ الصِّفَاتِ الْإِلَهِيَّةِ لِلْمَوْصُوفِ بِهَا مُسْتَحِيلٌ مُطْلَقًا فِي نَوْعَيْنِ، وَالْمَخْلُوقُ يَجُوزُ أَنْ تُفَارِقَهُ أَبْعَاضُهُ وَأَعْرَاضُهُ.
অতঃপর বলা হবে: যদি ঐক্যমত (ইজমা) এই গুণাবলির প্রমাণ দেয় এবং এগুলোর বাহ্যিক রূপ সাদৃশ্যারোপ ও দেহবিশিষ্টিরণ দাবি করে, তবে তোমাদের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা বাতিল হয়ে যায়। আর যদি এগুলোর ওপর ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত না হয়ে থাকে, তবে এর মাধ্যমে পার্থক্য করার অবকাশও বাতিল হয়ে যায়।
এরপর বলা হবে: মুতাজিলাদের মধ্য থেকে তোমাদের প্রতিপক্ষরা এই গুণাবলির সাব্যস্তকরণের ওপর একমত হয়নি।
যদি তোমরা বলো: তাদের পূর্বেই ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তবে বলা হবে: আল্লাহর কসম, তোমরা সত্য বলেছ। কিন্তু যারা তাদের পূর্বে এই গুণাবলি সাব্যস্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছিলেন, তারা অন্যান্য সকল গুণাবলি সাব্যস্ত করার বিষয়েও একমত হয়েছিলেন এবং সেগুলোকে কেবল সাতটিতে সীমাবদ্ধ করেননি। বরং এগুলোকে সাতটিতে সীমাবদ্ধ করা সালাফগণের মতের পরিপন্থী, আবার জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের মতেরও পরিপন্থী। প্রকৃতপক্ষে মানুষ তখন দুটি দলে বিভক্ত ছিল: সালাফি ও জাহমিয়া। এরপর এই 'সাতটি গুণে বিশ্বাসী' দলটির উদ্ভব ঘটে এবং তারা দুই মতের মাঝে এক নতুন মত উদ্ভাবন করে; ফলে তারা না সালাফদের অনুসারী হতে পারল, না জাহমিয়াদের কাতারে থাকতে পারল।
অপর একটি দল বলে: যে গুণাবলির বাহ্যিক রূপ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা খণ্ডাংশ বোঝায় না—যেমন জ্ঞান, জীবন, ক্ষমতা, ইচ্ছা ও কথা—সেগুলোর রূপক ব্যাখ্যা করা হবে না। কিন্তু যেগুলোর বাহ্যিক রূপ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা খণ্ডাংশ নির্দেশ করে—যেমন মুখমণ্ডল, দুই হাত ও পা—সেগুলোর রূপক ব্যাখ্যা করা অপরিহার্য। কারণ এগুলো সাব্যস্ত করলে গঠন-সংযুক্তি ও দেহবিশিষ্টিরণ আবশ্যক হয়ে পড়ে।
গুণাবলি সাব্যস্তকারীরা বলেন: তোমাদের প্রতি আমাদের উত্তর ঠিক সেটিই, যা তোমরা গুণাবলি অস্বীকারকারী জাহমিয়া ও মুতাজিলা প্রতিপক্ষদের দিয়ে থাকো। তারা তোমাদের বলেছে: যদি মহান আল্লাহর সাথে শ্রবণ, দর্শন, জ্ঞান, ক্ষমতা ও জীবনের মতো কোনো অস্তিত্বশীল গুণ বিদ্যমান থাকে, তবে তা ক্ষণস্থায়ী বৈশিষ্ট্যের আধার হয়ে পড়বে এবং এর ফলে গঠন-সংযুক্তি, দেহবিশিষ্টিরণ ও বিভাজন অনিবার্য হয়ে দাঁড়াবে; যেমনটি তোমরা বলেছিলে: যদি তাঁর মুখমণ্ডল, হাত ও আঙুল থাকে তবে গঠন-সংযুক্তি ও বিভাজন অনিবার্য হবে। এমতাবস্থায় তাদের প্রতি তোমাদের উত্তর যা হবে, তোমাদের প্রতি আমাদের উত্তরও তাই হবে।
যদি তোমরা বলো: আমরা এই গুণাবলিকে এমনভাবে সাব্যস্ত করি যাতে সেগুলো ক্ষণস্থায়ী বৈশিষ্ট্য না হয় এবং আমরা সেগুলোকে ক্ষণস্থায়ী বৈশিষ্ট্যও বলি না, ফলে তা কোনো গঠন-সংযুক্তি বা দেহবিশিষ্টিরণকেও আবশ্যক করে না।
তবে তোমাদের বলা হবে: আমরাও আল্লাহ নিজের জন্য যে গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন এবং তোমরা যা অস্বীকার করেছ, সেগুলোকে এমনভাবে সাব্যস্ত করি যা কোনো খণ্ডাংশ বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আবশ্যক করে না এবং এসকল গুণে গুণান্বিত সত্তাকে গঠন-সংযুক্ত, দেহবিশিষ্ট বা বিভাজ্যও বলা হয় না।
যদি তোমরা বলো: এগুলোর ক্ষেত্রে অংশ বা খণ্ডাংশ ব্যতীত অন্য কিছু কল্পনা করা সম্ভব নয়, তবে আমরা তোমাদের বলব: ওগুলোর ক্ষেত্রেও ক্ষণস্থায়ী বৈশিষ্ট্য ব্যতীত অন্য কিছু কল্পনা করা সম্ভব নয়।
যদি তোমরা বলো: ক্ষণস্থায়ী বৈশিষ্ট্য দুই মুহূর্তকাল টিকে থাকে না, অথচ মহান রবের গুণাবলি চিরস্থায়ী ও চিরকাল বিদ্যমান থাকে, তাই সেগুলো ক্ষণস্থায়ী বৈশিষ্ট্য নয়। তবে আমরা বলব: তেমনিভাবে খণ্ডাংশ হলো এমন কিছু যা বিচ্ছিন্ন বা আলাদা হওয়া সম্ভব; অথচ মহান রবের ক্ষেত্রে তা অসম্ভব। সুতরাং এগুলো খণ্ডাংশ বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নয়। বরং উভয় প্রকার গুণাবলির ক্ষেত্রই গুণান্বিত সত্তা থেকে পৃথক হওয়া সম্পূর্ণরূপে অসম্ভব। কেবল সৃষ্টির ক্ষেত্রেই তার খণ্ডাংশ ও ক্ষণস্থায়ী বৈশিষ্ট্যগুলো পৃথক হওয়া সম্ভব।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فَإِنْ قُلْتُمْ: إِنْ كَانَ الْوَجْهُ عَيْنُ الْيَدِ وَعَيْنُ السَّاقِ وَالْإِصْبَعِ فَهُوَ مُحَالٌ، وَإِنْ كَانَ غَيْرَهُ يَلْزَمُ التَّمَيُّزُ وَيَلْزَمُ التَّرْكِيبُ، قُلْنَا لَكُمْ: وَإِنْ كَانَ السَّمْعُ هُوَ عَيْنُ الْبَصَرِ وَهُمَا نَفْسُ الْعِلْمِ وَهِيَ نَفْسُ الْحَيَاةِ وَالْقُدْرَةِ فَهُوَ مُحَالٌ، وَإِنْ تَمَيَّزَ لَزِمَ التَّرْكِيبُ، فَمَا هُوَ جَوَابُكُمْ؟ فَالْجَوَابُ مُشْتَرَكٌ.
فَإِنْ قُلْتُمْ: نَحْنُ نَعْقِلُ صِفَاتٍ لَيْسَتْ أَعْرَاضًا تَقُومُ بِغَيْرِ جِسْمٍ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ فِي الشَّاهِدِ نَظِيرٌ، وَنَحْنُ لَا نُنْكِرُ الْفَرْقَ بَيْنَ النَّوْعَيْنِ فِي الْجُمْلَةِ، وَلَكِنْ فَرْقٌ غَيْرُ نَافِعٍ لَكُمْ فِي التَّفْرِيقِ بَيْنَ النَّوْعَيْنِ، وَإِنَّ أَحَدَهُمَا يَسْتَلْزِمُ التَّجْسِيمَ وَالتَّرْكِيبَ وَالْآخَرَ لَا يَسْتَلْزِمُهُ.
وَلَمَّا أَخَذَ هَذَا الْإِلْزَامُ بِخِنَاقِ الْجَهْمِيَّةِ قَالُوا: الْبَابُ كُلُّهُ عِنْدَنَا وَاحِدٌ وَنَحْنُ نَنْفِي الْجَمِيعَ.
فَتَبَيَّنَ أَنَّهُ لَا بُدَّ لَكُمْ مِنْ وَاحِدٍ مِنْ أَمْرَيْنِ: إِمَّا هَذَا النَّفْيُ وَالتَّعْطِيلُ، وَإِمَّا أَنْ تَصِفُوا اللَّهَ بِمَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ وَبِمَا وَصَفَهُ بِهِ رَسُولُهُ وَتَتَّبِعُوا فِي ذَلِكَ سَبِيلَ السَّلَفِ الَّذِينَ هُمْ أَعْلَمُ الْأُمَّةِ بِهَذَا الشَّأْنِ نَفْيًا وَإِثْبَاتًا، وَأَشَدُّ تَعْظِيمًا لِلَّهِ وَتَنْزِيهًا لَهُ عَمَّا لَا يَلِيقُ بِجَلَالِهِ، فَإِنَّ الْمَعَانِيَ الْمَفْهُومَةَ مِنَ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ لَا تُرَدُّ بِالشُّبَهَاتِ فَيَكُونُ رَدُّهَا مِنْ بَابِ تَحْرِيفِ الْكَلِمِ عَنْ مَوَاضِعِهِ، وَلَا يُتْرَكُ تَدَبُّرُهَا وَمَعْرِفَتُهَا فَيَكُونُ ذَلِكَ مُشَابَهَةً لِلَّذِينِ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلَّا أَمَانِيَّ، بَلْ هِيَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ دَالَّةٌ عَلَى أَشْرَفِ الْمَعَانِي وَأَجَلِّهَا، قَائِمَةٌ حَقَائِقُهَا فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَالْإِيمَانَ، إِثْبَاتًا بِلَا تَشْبِيهٍ، وَتَنْزِيهًا بِلَا تَعْطِيلٍ، كَمَا قَالَتْ حَقَائِقُ سَائِرِ صِفَاتِ الْكَمَالِ فِي قُلُوبِهِمْ كَذَلِكَ، فَكَانَ الْبَابُ عِنْدَهُمْ بَابًا وَاحِدًا، وَعَلِمُوا أَنَّ الصِّفَاتِ حُكْمُهَا حُكْمُ الذَّاتِ، فَكَمَا ذَاتُهُ لَا تُشْبِهُ الذَّوَاتِ فَكَذَا صِفَاتُهُ لَا تُشْبِهُ الصِّفَاتِ.
قَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: (التَّشْبِيهُ أَنْ تَقُولَ: يَدٌ كَيَدٍ أَوْ وَجْهٌ كَوَجْهٍ، فَأَمَّا إِثْبَاتُ يَدٍ لَيْسَتْ كَالْأَيْدِي وَوَجْهٍ لَيْسَ كَالْوُجُوهِ فَهُوَ إِثْبَاتُ ذَاتٍ لَيْسَتْ كَالذَّوَاتِ، وَحَيَاةٍ لَيْسَتْ كَغَيْرِهَا مِنَ الْحَيَاةِ، وَسَمْعٍ وَبَصَرٍ لَيْسَ كَالْأَسْمَاعِ وَالْأَبْصَارِ، وَلَيْسَ إِلَّا هَذَا الْمَسْلَكُ، وَمَسْلَكُ التَّعْطِيلِ الْمَحْضِ وَالتَّنَاقُضِ الَّذِي لَا يَثْبُتُ لِصَاحِبِهِ قَدَمٌ فِي النَّفْيِ وَلَا فِي الْإِثْبَاتِ، وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ) وَحَقِيقَةُ الْأَمْرِ أَنَّ كُلَّ طَائِفَةٍ تَتَأَوَّلُ كُلَّ مَا يُخَالِفُ نِحْلَتَهَا وَأَصْلَهَا، فَالْعِيَارُ عِنْدَهُمْ فِيمَا يُتَأَوَّلُ وَمَا لَا يُتَأَوَّلُ هُوَ الْمَذْهَبُ الَّذِي ذَهَبَتْ إِلَيْهِ، مَا وَافَقَهَا أَقَرُّوهُ وَلَمْ يَتَأَوَّلُوهُ وَمَا خَالَفَهَا تَأَوَّلُوهُ.
যদি আপনারা বলেন: যদি চেহারা হস্তের সদৃশ হয় এবং নলার ও আঙুলের সদৃশ হয়, তবে তা অসম্ভব। আর যদি তা ভিন্ন হয়, তবে পৃথক হওয়া এবং সংমিশ্রণ অনিবার্য হয়ে পড়ে। আমরা আপনাদের বলব: যদি শ্রবণ দৃষ্টির সদৃশ হয় এবং এ উভয়ই যদি ইলম বা জ্ঞানের অনুরূপ হয় এবং ইলম যদি জীবন ও কুদরতের অনুরূপ হয়, তবে তা অসম্ভব। আর যদি তারা পরস্পর পৃথক হয়, তবে সংমিশ্রণ অনিবার্য হয়। সুতরাং আপনাদের উত্তর কী? এর উত্তর উভয়ের ক্ষেত্রে অভিন্ন।
যদি আপনারা বলেন: আমরা এমন গুণের কল্পনা করতে পারি যা দৈহিক গুণাবলি নয় এবং যা শরীর ব্যতীত প্রতিষ্ঠিত থাকে, যদিও দৃশ্যমান জগতে এর কোনো নজির নেই। আমরা সাধারণভাবে এই দুই প্রকারের মধ্যে পার্থক্য অস্বীকার করি না, তবে এই পার্থক্যটি আপনাদের জন্য ফলপ্রসূ নয় যে, এর একটি দেহরূপ দান ও সংমিশ্রণকে অনিবার্য করে আর অন্যটি করে না।
যখন এই বাধ্যবাধকতামূলক যুক্তি জাহমিয়াদের কণ্ঠরোধ করল, তখন তারা বলল: আমাদের কাছে বিষয়টি একই এবং আমরা সব কিছুকেই অস্বীকার করি।
সুতরাং এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আপনাদের সামনে দুটি পথ ছাড়া গত্যন্তর নেই: হয় এই অস্বীকার ও অকার্যকরকরণ, অথবা আল্লাহকে সেইসব গুণে গুণান্বিত করা যেগুলোর মাধ্যমে তিনি স্বয়ং নিজেকে গুণান্বিত করেছেন এবং তাঁর রাসূল তাঁকে গুণান্বিত করেছেন। আর এই ক্ষেত্রে সেই সালাফদের পথ অনুসরণ করা যারা অস্বীকার ও প্রমাণের ক্ষেত্রে এই বিষয়ে উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন এবং আল্লাহর প্রতি সর্বাধিক সম্মান প্রদর্শনকারী এবং তাঁর মর্যাদার সাথে সংগতিহীন বিষয়াদি থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণাকারী ছিলেন। কেননা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত অর্থসমূহ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে প্রত্যাখ্যান করা যায় না, কারণ তেমনটি করলে তা হবে শব্দের সঠিক অর্থ থেকে বিচ্যুতি ঘটানোর নামান্তর। আর সেগুলোর মর্ম অনুধাবন ও জ্ঞান অর্জন পরিত্যাগ করা যাবে না, অন্যথায় এটি তাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হবে যারা অলীক কল্পনা ছাড়া কিতাব সম্পর্কে কিছুই জানে না। বরং এগুলো স্পষ্ট নিদর্শন যা অত্যন্ত মহৎ ও মহান অর্থের দিকে নির্দেশ করে, যার বাস্তবতা ওইসব ব্যক্তিদের অন্তরে বিদ্যমান যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান প্রদান করা হয়েছে; যা কোনো সাদৃশ্য প্রদান ছাড়াই প্রমাণ এবং অস্বীকার ছাড়াই পবিত্রতা ঘোষণা। যেভাবে অন্যান্য সকল পূর্ণ গুণাবলির বাস্তবতা তাদের অন্তরে প্রতিষ্ঠিত ছিল, তেমনি এই বিষয়টিও তাদের নিকট অভিন্ন ছিল। তারা জানতেন যে, গুণাবলির বিধান সত্তার বিধানের মতোই; অর্থাৎ যেভাবে তাঁর সত্তা অন্য কোনো সত্তার সদৃশ নয়, তেমনি তাঁর গুণাবলিও অন্য কোনো গুণের সদৃশ নয়।
ইমাম আহমাদ বলেন: (সাদৃশ্য দেওয়া হলো এই বলা যে: হাত মানুষের হাতের মতো অথবা চেহারা মানুষের চেহারার মতো। পক্ষান্তরে, এমন হাত সাব্যস্ত করা যা সাধারণ হাতের মতো নয় এবং এমন চেহারা সাব্যস্ত করা যা সাধারণ চেহারার মতো নয়, তা তো তেমনই যেমন এমন এক সত্তা সাব্যস্ত করা যা অন্য কোনো সত্তার মতো নয়, এমন জীবন যা অন্য কোনো জীবনের মতো নয় এবং এমন শ্রবণ ও দৃষ্টি যা অন্য কারো শ্রবণ ও দৃষ্টির মতো নয়। এই পথ এবং চরম অস্বীকার ও স্ববিরোধিতার পথ ছাড়া আর কোনো পথ নেই, যে পথে অবলম্বনকারীর অস্বীকার বা প্রমাণ কোনো ক্ষেত্রেই পা স্থির থাকে না। আর আল্লাহর মাধ্যমেই সাফল্য অর্জিত হয়।) প্রকৃত বিষয় হলো, প্রতিটি দলই তাদের মতাদর্শ ও মূলনীতির পরিপন্থী বিষয়গুলোর অপব্যাখ্যা করে থাকে। সুতরাং তাদের নিকট কোনটি ব্যাখ্যা করা হবে আর কোনটি হবে না, তার মানদণ্ড হলো তাদের নিজস্ব মতবাদ; যা তাদের অনুকূলে যায় তা তারা মেনে নেয় এবং সেটির ব্যাখ্যা করে না, আর যা তাদের প্রতিকূলে যায় সেটির অপব্যাখ্যা করে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
[فصل إِلْزَامِهِمْ فِي الْمَعْنَى الَّذِي جَعَلُوهُ تَأَوُّلًا نَظِيرَ مَا فَرُّوا مِنْهُ]فَصْلٌ
فِي إِلْزَامِهِمْ فِي الْمَعْنَى الَّذِي جَعَلُوهُ تَأَوُّلًا نَظِيرَ مَا فَرُّوا مِنْهُ
وَهُوَ فَصْلٌ بَدِيعٌ يُعْلَمُ مِنْهُ أَنَّ الْمُتَأَوِّلِينَ لَمْ يَسْتَفِيدُوا بِتَأْوِيلِهِمْ إِلَّا تَعْطِيلَ حَقَائِقِ النُّصُوصِ، وَأَنَّهُمْ لَمْ يَتَخَلَّصُوا مِمَّا ظَنُّوهُ مَحْذُورًا بَلْ هُوَ لَازِمٌ لَهُمْ فِيمَا فَرُّوا إِلَيْهِ كَلُزُومِهِ فِيمَا فَرُّوا مِنْهُ، بَلْ قَدْ يَنْفُونَ مَا هُوَ أَعْظَمُ مَحْذُورًا، كَحَالِ الَّذِينَ تَأَوَّلُوا نُصُوصَ الْعُلُوِّ وَالْفَوْقِيَّةِ وَالِاسْتِوَاءِ فِرَارًا مِنَ التَّحَيُّزِ وَالْحَصْرِ، ثُمَّ قَالُوا: هُوَ فِي كُلِّ مَكَانٍ بِذَاتِهِ، فَنَزَّهُوهُ عَنِ اسْتِوَائِهِ عَلَى عَرْشِهِ وَمُبَايَنَتِهِ لِخَلْقِهِ وَجَعَلُوهُ فِي أَجْوَافِ الْبُيُوتِ وَالْآبَارِ وَالْأَوَانِي وَالْأَمَاكِنِ الَّتِي يُرْغَبُ عَنْ ذِكْرِهَا.
وَلَمَّا عَلِمَ مُتَأَخَّرُو الْجَهْمِيَّةِ فَسَادَ ذَلِكَ قَالُوا: لَيْسَ وَرَاءَ الْعَالَمِ وَلَا فَوْقَ الْعَرْشِ إِلَّا الْعَدَمُ الْمَحْضُ، وَلَيْسَ هُنَاكَ رَبٌّ يُعْبَدُ وَلَا إِلَهٌ يُصَلَّى لَهُ وَيُسْجَدُ، وَلَا هُوَ أَيْضًا فِي الْعَالَمِ، فَجَعَلُوا نِسْبَتَهُ إِلَى الْعَرْشِ كَنِسْبَتِهِ إِلَى أَخَسِّ مَكَانٍ.
فَإِذَا تَأَوَّلَ الْمُتَأَوِّلُ الْمَحَبَّةَ وَالرَّحْمَةَ وَالرِّضَى وَالْغَضَبَ بِالْإِرَادَةِ، قِيلَ لَهُ: يَلْزَمُكَ فِي الْإِرَادَةِ مَا لَزِمَكَ فِي هَذِهِ الصِّفَاتِ، كَمَا تَقَدَّمَ تَقْرِيرُهُ، وَإِذَا تَأَوَّلَ الْوَجْهَ بِالذَّاتِ لَزِمَهُ فِي الذَّاتِ مَا يَلْزَمُهُ فِي الْوَجْهِ، فَإِنَّ لَفْظَ الذَّاتِ يَقَعُ عَلَى الْقَدِيمِ وَالْمُحْدَثِ، وَإِذَا تَأَوَّلَ لَفْظَ الْيَدِ بِالْقُدْرَةِ، يُوصَفُ بِهَا الْخَالِقُ وَالْمَخْلُوقُ، وَإِذَا تَأَوَّلَ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ بِالْعِلْمِ لَزِمَهُ مَا فَرَّ مِنْهُ فِي الْعِلْمِ، وَإِذَا تَأَوَّلَ الْفَوْقِيَّةَ بِفَوْقِيَّةِ الْقَهْرِ لَزِمَهُ فِيهَا مَا فَرَّ مِنْهُ مِنْ فَوْقِيَّةِ الذَّاتِ، فَإِنَّ الْقَاهِرَ مَنِ اتَّصَفَ بِالْقُوَّةِ وَالْغَلَبَةِ، وَلَا يُعْقَلُ هَذَا إِلَّا جِسْمًا، فَإِنْ أَثْبَتَهُ الْعَقْلُ غَيْرَ جِسْمٍ لَمْ يَعْجِزْ عَنْ إِثْبَاتِ فَوْقِيَّةِ الذَّاتِ لِغَيْرِ جِسْمٍ، وَكَذَلِكَ مَنْ تَأَوَّلَ الْإِصْبَعَ بِالْقُدْرَةِ فَإِنَّ الْقُدْرَةَ أَيْضًا صِفَةٌ قَائِمَةٌ بِالْمَوْصُوفِ وَعَرَضٌ مِنْ أَعْرَاضِهِ، فَفَرَّ مِنْ صِفَةٍ إِلَى صِفَةٍ، وَكَذَلِكَ مَنْ تَأَوَّلَ الضَّحِكَ بِالرِّضَى بِالْإِرَادَةِ إِنَّمَا فَرَّ مِنْ صِفَةٍ إِلَى صِفَةٍ، فَهَلَّا أَقَرَّ النُّصُوصَ عَلَى مَا هِيَ عَلَيْهِ وَلَمْ يَنْتَهِكْ حُرْمَتَهَا؟ فَإِنَّ الْمُتَأَوِّلَ إِمَّا أَنْ يَذْكُرَ مَعْنًى ثُبُوتِيًّا أَوْ يَتَأَوَّلَ اللَّفْظَ بِمَا هُوَ عَدَمٌ مَحْضٌ، فَإِنْ تَأَوَّلَهُ بِمَعْنًى ثُبُوتِيٍّ كَائِنٍ لَزِمَهُ فِيهِ نَظِيرُ مَا فَرَّ مِنْهُ.
[فَصْلٌ شبهات الجهمي في الوجه والعين والجنب والساق والجواب عليها]فَصْلٌ
قَالَ الْجَهْمِيُّ: وَرَدَ فِي الْقُرْآنِ ذِكْرُ الْوَجْهِ وَالْأَعْيُنِ وَالْعَيْنِ الْوَاحِدَةِ، فَلَوْ أَخَذْنَا بِالظَّاهِرِ لَزِمَنَا إِثْبَاتُ شَخْصٍ لَهُ وَجْهٌ وَعَلَى ذَلِكَ الْوَجْهِ أَعْيُنٌ كَثِيرَةٌ وَلَهُ جَنْبٌ وَاحِدٌ،
[পরিচ্ছেদ: যে অর্থকে তারা অপব্যাখ্যা হিসেবে গ্রহণ করেছে, তাতে তাদের ওপর সেই একই বিষয় অপরিহার্য করা যা থেকে তারা পলায়ন করেছিল]পরিচ্ছেদ
যে অর্থকে তারা অপব্যাখ্যা হিসেবে নির্ধারণ করেছে, তাতে তাদের ওপর সেই একই বিষয় অপরিহার্য করা যা থেকে তারা পলায়ন করেছিল
এটি একটি অনন্য পরিচ্ছেদ, যা থেকে এটি জানা যায় যে, অপব্যাখ্যাকারীরা তাদের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে মূল ভাষ্যসমূহের (নুসুস) প্রকৃত অর্থকে অকার্যকর করা ছাড়া আর কিছুই অর্জন করতে পারেনি। তারা যেটিকে আপত্তিকর মনে করেছিল, তা থেকে তারা নিষ্কৃতি পায়নি; বরং যে অর্থের দিকে তারা পলায়ন করেছিল, সেখানেও সেই একই বিষয় তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা থেকে তারা পলায়ন করতে চেয়েছিল। এমনকি কখনও কখনও তারা এমন বিষয়কে অস্বীকার করে বসে যা আরও বেশি আপত্তিকর। যেমন- যারা স্থান বা সীমাবদ্ধতার আশঙ্কায় মহান আল্লাহর উচ্চতা (উলুউ), ঊর্ধ্বমুখিতা (ফাওকিয়্যাহ) এবং আরশের ওপর উঠার (ইস্তিওয়া) ভাষ্যসমূহকে অপব্যাখ্যা করেছে, অতঃপর বলেছে: 'তিনি স্বয়ং (যাতীভাবে) প্রতিটি স্থানে বিরাজমান'। এভাবে তারা আল্লাহকে তাঁর আরশের ওপর উঠা এবং সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক হওয়া থেকে পবিত্র ঘোষণা করতে গিয়ে তাঁকে ঘরবাড়ি, কুয়া, পাত্র এবং এমন সব নোংরা স্থানের অভ্যন্তরে সাব্যস্ত করল যা উল্লেখ করতেও রুচিতে বাধে।
যখন পরবর্তী যুগের জিলহমীয়রা এর অসারতা বুঝতে পারল, তখন তারা বলল: 'জগতের বাইরে বা আরশের উপরে কেবল পরম অনস্তিত্ব ছাড়া আর কিছুই নেই। সেখানে ইবাদত করার মতো কোনো রব নেই এবং কোনো ইলাহ নেই যার উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করা যায় বা সিজদা করা যায়।' আবার তারা এও বলল যে, তিনি জগতের ভেতরেও নেই। ফলে তারা আরশের সাথে আল্লাহর সম্পর্ককে নিকৃষ্টতম স্থানের সাথে সম্পর্কের মতো করে দিল।
যদি কোনো অপব্যাখ্যাকারী মহব্বত (ভালোবাসা), রহমত (দয়া), সন্তুষ্টি এবং ক্রোধকে 'ইরাদা' (ইচ্ছা)-র মাধ্যমে অপব্যাখ্যা করে, তবে তাকে বলা হবে: ইরাদার ক্ষেত্রেও তোমার ওপর সেই একই বিষয় আপত্তিকর হিসেবে বর্তাবে যা এই গুণাবলিগুলোর ক্ষেত্রে তুমি মনে করেছিলে—যেমনটি পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। আর যদি সে 'ওয়াজহ' (চেহারা)-কে 'যাত' (সত্তা) দিয়ে অপব্যাখ্যা করে, তবে সত্তার ক্ষেত্রেও তার ওপর সেই একই বিষয় অপরিহার্য হবে যা চেহারার ক্ষেত্রে হয়েছিল; কারণ 'যাত' বা সত্তা শব্দটি অনাদি (কাদীম) এবং সৃষ্টি (মুহদাস) উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। আর যদি সে 'হাত' শব্দটিকে 'ক্ষমতা' দিয়ে অপব্যাখ্যা করে, তবে ক্ষমতা গুণটি স্রষ্টা এবং সৃষ্টি উভয়ের ক্ষেত্রেই বর্ণিত হয়। যদি সে শ্রবণ ও দর্শনকে 'জ্ঞান' দিয়ে অপব্যাখ্যা করে, তবে জ্ঞানের ক্ষেত্রেও তাকে সেই আপত্তির সম্মুখীন হতে হবে যা থেকে সে পলায়ন করেছিল। আর যদি সে ঊর্ধ্বমুখিতাকে 'আধিপত্যের ঊর্ধ্বমুখিতা' (ফাওকিয়্যাতুল কাহর) দিয়ে অপব্যাখ্যা করে, তবে সেখানেও তার ওপর সেই বিষয় আপত্তিকর হবে যা থেকে সে 'সত্তাগত ঊর্ধ্বমুখিতার' ক্ষেত্রে পলায়ন করেছিল। কারণ আধিপত্যকারী সেই, যে শক্তি ও বিজয়ী হওয়ার গুণে গুণান্বিত, আর দেহ (জিসম) ছাড়া এর কল্পনা করা যায় না। সুতরাং বিবেক যদি দেহ ব্যতিরেকে একে সাব্যস্ত করতে পারে, তবে দেহ ব্যতিরেকে সত্তাগত ঊর্ধ্বমুখিতা সাব্যস্ত করতেও তা অক্ষম হবে না। একইভাবে যে ব্যক্তি 'আঙুল'-কে 'ক্ষমতা' দিয়ে অপব্যাখ্যা করে, তার জানা উচিত যে ক্ষমতাও সত্তার সাথে বিদ্যমান একটি গুণ এবং তার একটি বৈশিষ্ট্য (আরয)। মূলত সে এক গুণ থেকে পলায়ন করে অন্য গুণে আশ্রয় নিল মাত্র। একইভাবে যে ব্যক্তি 'হাসি'-কে সন্তুষ্টির মাধ্যমে এবং সন্তুষ্টিকে ইচ্ছার মাধ্যমে অপব্যাখ্যা করে, সে তো কেবল এক গুণ থেকে পলায়ন করে অন্য গুণে গেল। সে কেন মূল ভাষ্যসমূহকে (নুসুস) তার নিজের অবস্থায় বহাল রাখল না এবং এর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করল না? কেননা অপব্যাখ্যাকারী হয় কোনো ইতিবাচক (সুবুতী) অর্থ উল্লেখ করবে, অথবা শব্দটিকে নিছক অনস্তিত্ব দ্বারা অপব্যাখ্যা করবে। যদি সে একে কোনো বিদ্যমান ইতিবাচক অর্থ দিয়ে অপব্যাখ্যা করে, তবে সেখানেও তার ওপর সেই একই বিষয় অপরিহার্য হবে যা থেকে সে পলায়ন করেছিল।
[পরিচ্ছেদ: চেহারা, চোখ, পার্শ্ব এবং নলার ক্ষেত্রে জিলহমীদের সংশয় ও তার উত্তর]পরিচ্ছেদ
জিলহমী বলে: কুরআনে চেহারা (ওয়াজহ), অনেকগুলো চোখ (আ’ইউন) এবং একটি চোখের (আইন) উল্লেখ এসেছে। এখন আমরা যদি বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করি, তবে আমাদের এমন এক সত্তা সাব্যস্ত করতে হবে যার একটি চেহারা আছে এবং সেই চেহারার ওপর অনেকগুলো চোখ রয়েছে এবং তাঁর মাত্র একটি পার্শ্ব (জানব) রয়েছে,
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَعَلَيْهِ أَيْدٍ كَثِيرَةٌ، وَلَهُ سَاقٌ وَاحِدٌ، وَلَا نَرَى فِي الدُّنْيَا شَخْصًا أَقْبَحَ صُورَةً مِنْ هَذِهِ الصُّورَةِ الْمُتَخَيَّلَةِ.
قَالَ السُّنِّيُّ الْمُعَظِّمُ حُرُمَاتِ اللَّهِ تَعَالَى: قَدِ ادَّعَيْتَ أَيُّهَا الْجَهْمِيُّ أَنَّ ظَاهِرَ الْقُرْآنِ الَّذِي هُوَ حُجَّةُ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ، وَالَّذِي هُوَ خَيْرُ الْكَلَامِ وَأَصْدَقُهُ وَأَحْسَنُهُ وَأَفْصَحُهُ وَهُوَ الَّذِي هَدَى اللَّهُ بِهِ عِبَادَهُ وَجَعَلَهُ شِفَاءً لِمَا فِي الصُّدُورِ، وَهُدًى وَرَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِينَ، وَلَمْ يُنْزِلْ كِتَابًا مِنَ السَّمَاءِ أَهْدَى مِنْهُ وَلَا أَحْسَنَ وَلَا أَكْمَلَ، فَانْتَهَكْتَ حُرْمَتَهُ وَعَظَمَتَهُ وَنَسَبْتَهُ إِلَى أَقْبَحِ النَّقْصِ وَالْعَيْبِ، وَادَّعَيْتَ أَنَّ ظَاهِرَهُ وَمَدْلُولَهُ إِثْبَاتُ شَخْصٍ لَهُ وَجْهٌ وَلَهُ أَعْيُنٌ كَثِيرَةٌ، وَلَهُ سَاقٌ وَاحِدٌ، وَادَّعَيْتَ أَنَّ ظَاهِرَ مَا وَصَفَ اللَّهُ بِهِ نَفْسَهُ فِي كِتَابِهِ يَدُلُّ عَلَى هَذِهِ الصِّفَةِ الشَّنِيعَةِ، فَيَكُونُ سُبْحَانَهُ قَدْ وَصَفَ نَفْسَهُ بِأَقْبَحِ الصِّفَاتِ فِي ظَاهِرِ كَلَامِهِ، فَأَيُّ طَعْنٍ فِي الْقُرْآنِ أَعْظَمُ مِنْ طَعْنِ مَنْ يَجْعَلُ هَذَا ظَاهَرَهُ؟ وَلَمْ يَدَّعِ أَحَدٌ مِنْ أَعْدَاءِ الرَّسُولِ الَّذِينَ ظَاهَرُوهُ بِالْمُحَارَبَةِ أَنَّ ظَاهِرَ كَلَامِهِ أَبْطَلَ الْبَاطِلِ، فَلَوْ كَانَ ذَلِكَ ظَاهِرُ الْقُرْآنِ لَكَانَ ذَلِكَ مِنْ أَقْرَبِ الطُّرُقِ لَهُمْ إِلَى الطَّعْنِ فِيهِ، وَقَالُوا: كَيْفَ تَدْعُونَا إِلَى عِبَادَةِ رَبٍّ صُورَتُهُ هَذِهِ الصُّورَةُ الشَّنِيعَةُ؟ وَهُمْ يُورِدُونَ عَلَيْهِ مَا هُوَ أَقَلَّ مِنْ هَذَا بِكَثِيرٍ، كَمَا أَوْرَدُوا عَلَيْهِ الْمَسِيحَ لَمَّا قَالَ: {إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ} [الأنبياء: 98] فَتَعَلَّقُوا بِظَاهِرِ مَا لَمْ يَدُلَّ عَلَيْهِ مَا أَوْرَدَهُ، وَهُوَ دُخُولُ الْمَسِيحِ فِيمَا عُبِدَ مِنْ دُونِ اللَّهِ، إِمَّا بِعُمُومِ لَفْظِ (مَا) وَإِمَّا بِعُمُومِ الْمَعْنَى، وَأَوْرَدَ أَهْلُ الْكِتَابِ عَلَى قَوْلِهِ: {يَاأُخْتَ هَارُونَ مَا كَانَ أَبُوكِ امْرَأَ سَوْءٍ} [مريم: 28] أَنَّ بَيْنَ هَارُونَ وَعِيسَى مَا بَيْنَهُمَا، وَلَيْسَ ظَاهِرُ الْقُرْآنِ أَنَّهُ هَارُونُ بْنُ عِمْرَانَ بِوَجْهٍ، وَكَانُوا يَتَعَنَّتُونَ فِيمَا يُورِدُونَهُ عَلَى الْقُرْآنِ بِهَذَا وَدُونَهُ، فَكَيْفَ يَجِدُونَ ظَاهِرَهُ إِثْبَاتَ رَبٍّ شَأْنُهُ هَذَا وَلَا يُنْكِرُونَهُ؟
وَالْجَوَابُ أَنَّ قَوْلَهُ تَعَالَى: {تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا} [القمر: 14] وَدَعْوَى الْجَهْمِيِّ أَنَّ ظَاهِرَ هَذَا إِثْبَاتُ أَعْيُنٍ كَثِيرَةٍ كَذِبٌ ظَاهِرٌ، فَإِنَّهُ إِنْ دَلَّ ظَاهِرُهُ عَلَى أَعْيُنٍ كَثِيرَةٍ وَأَيْدٍ كَثِيرَةٍ، دَلَّ عَلَى خَلْقَيْنِ كَثِيرَيْنِ، فَإِنَّ لَفْظَ الْأَيْدِي مُضَافٌ إِلَى ضَمِيرِ الْجَمْعِ، فَادَّعِ أَيُّهَا الْجَهْمِيُّ: ظَاهِرُهُ إِثْبَاتُ أَيْدٍ كَثِيرَةٍ لِآلِهَةٍ مُتَعَدِّدَةٍ، وَإِلَّا فَدَعَوَاكَ أَنَّ ظَاهِرَهُ أَيْدٍ كَثِيرَةٍ لِذَاتٍ وَاحِدَةٍ بِخِلَافِ الظَّاهِرِ، وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى: {تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا} [القمر: 14] وَإِنَّمَا ظَاهِرُهُ بِزَعْمِكَ أَعْيُنٌ عَلَى ذَوَاتٍ مُتَعَدِّدَةٍ لَا عَلَى ذَاتٍ وَاحِدَةٍ.
আর তাঁর অনেক হাত রয়েছে, এবং তাঁর একটি মাত্র পা আছে; আমরা এই পার্থিব জগতে এই কল্পিত আকৃতির চেয়ে অধিক কুৎসিত অবয়ব সম্পন্ন কোনো সত্তাকে দেখি না।
আল্লাহ তায়ালার পবিত্র বিষয়সমূহের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সুন্নি আলিম বললেন: হে জাহমি! তুমি দাবি করেছ যে কুরআনের প্রকাশ্য অর্থ—যা বান্দাদের ওপর আল্লাহর অকাট্য প্রমাণ, যা সর্বশ্রেষ্ঠ, সত্যতম, সর্বোত্তম ও অলঙ্কারপূর্ণ বাণী, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের হেদায়েত করেছেন এবং যাকে অন্তরের ব্যাধির আরোগ্যকারী ও মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও রহমতস্বরূপ অবতীর্ণ করেছেন, এবং আসমান থেকে এর চেয়ে অধিক হেদায়েতপূর্ণ, উত্তম ও পূর্ণাঙ্গ কোনো কিতাব তিনি নাযিল করেননি—সেই কুরআনের মর্যাদা ও মহিমা তুমি লঙ্ঘন করেছ। তুমি একে জঘন্যতম ত্রুটি ও দোষের দিকে নিসবত করেছ এবং দাবি করেছ যে, এর বাহ্যিক পাঠ ও অর্থ এমন এক সত্তাকে সাব্যস্ত করে যার একটি মুখমণ্ডল ও অনেক চোখ রয়েছে এবং যার একটি মাত্র পা রয়েছে। তুমি আরও দাবি করেছ যে, আল্লাহ তাঁর কিতাবে নিজের যে বর্ণনা দিয়েছেন তার বাহ্যিক রূপটি এই বীভৎস গুণেরই ইঙ্গিত দেয়। ফলে (তোমার দাবি অনুযায়ী) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বাণীর প্রকাশ্য অর্থের মাধ্যমে নিজেকে নিকৃষ্টতম গুণে বিশেষিত করেছেন। সুতরাং কুরআনের প্রতি সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় অপবাদ আর কে দিতে পারে, যে এর বাহ্যিক রূপকে এমন সাব্যস্ত করে? অথচ রাসূলের সেই চরম শত্রুরাও—যারা তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল—কখনো দাবি করেনি যে কুরআনের বাণীর বাহ্যিক অর্থ চরম অসত্য ও বাতিল। যদি কুরআনের বাহ্যিক অর্থ আসলেই তাই হতো, তবে এটি তাদের জন্য কুরআনকে আক্রমণ করার সহজতম পথ হতো। তখন তারা বলত: ‘তুমি আমাদের এমন এক রবের ইবাদতের দিকে ডাকছো যার রূপ এই বীভৎস অবয়বের মতো?’ অথচ তারা এর চেয়ে অনেক নগণ্য বিষয়েও আপত্তি তুলত, যেমনটি তারা মসীহ (আ.)-এর ক্ষেত্রে তুলেছিল যখন তিনি (কুরআনের ভাষায়) বলেছিলেন: {নিশ্চয়ই তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত করো, তারা জাহান্নামের ইন্ধন হবে} [আম্বিয়া: ৯৮]। তখন তারা এমন এক বাহ্যিক অর্থের আশ্রয় নিয়েছিল যার প্রতি আয়াতটির কোনো প্রকৃত নির্দেশনা ছিল না; আর তা হলো—মসীহ নিজেও সেই উপাস্যদের অন্তর্ভুক্ত যারা আল্লাহর পরিবর্তে পূজিত হন, চাই তা 'যা' (মা) শব্দটির আক্ষরিক ব্যাপকতা দিয়ে হোক কিংবা অর্থের ব্যাপকতা দিয়ে হোক। অনুরূপভাবে আহলে কিতাবরা আল্লাহর এই বাণীর ওপর আপত্তি তুলেছিল: {হে হারুনের বোন! তোমার পিতা কোনো অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না} [মারইয়াম: ২৮]। তারা বলেছিল যে, হারুন ও ঈসার মাঝে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান রয়েছে। অথচ কুরআনের বাহ্যিক অর্থের কোনো দিক থেকেই এটি প্রতীয়মান হয় না যে, এখানে হারুন ইবনে ইমরানের কথা বলা হয়েছে। তারা তো কুরআন নিয়ে এই ধরণের সামান্য বিষয়গুলোতেই অনর্থক বিতর্ক ও বিরুদ্ধাচরণ করত; তাহলে তারা যদি কুরআনের বাহ্যিক অর্থে এমন এক রবকে দেখতে পেত যার অবস্থা (তোমার দাবি অনুযায়ী) এই রূপ, তবে কি তারা তা অস্বীকার না করে ছেড়ে দিত?
এর উত্তর হলো: আল্লাহ তায়ালার বাণী—{তা আমাদের চোখের সামনে প্রবাহিত হচ্ছিল} [ক্বামার: ১৪]—এর ব্যাপারে জাহমিদের এই দাবি যে, এর প্রকাশ্য অর্থ অনেক চোখ সাব্যস্ত করা, তা এক স্পষ্ট মিথ্যাচার। কারণ এর বাহ্যিক অর্থ যদি অনেক চোখ এবং অনেক হাত নির্দেশ করে, তবে তা অনেক স্রষ্টাকেও নির্দেশ করবে। যেহেতু 'হাতসমূহ' (আইদি) শব্দটি বহুবচনের সর্বনামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, তাই হে জাহমি, তুমি তবে দাবি করো যে এর বাহ্যিক অর্থ হলো একাধিক ইলাহর জন্য অনেক হাত সাব্যস্ত করা। অন্যথায় একটি একক সত্তার জন্য অনেক হাত সাব্যস্ত করার যে দাবি তুমি করছ, তা বাহ্যিক অর্থের পরিপন্থী। অনুরূপভাবে আল্লাহ তায়ালার বাণী—{তা আমাদের চোখের সামনে প্রবাহিত হচ্ছিল} [ক্বামার: ১৪]—এর ক্ষেত্রেও তোমার দাবি অনুযায়ী এর প্রকাশ্য অর্থ হবে একাধিক সত্তার জন্য বহু চোখ সাব্যস্ত করা, কোনো একক সত্তার জন্য নয়।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الثَّانِي: أَنَّ دَعْوَاكَ أَنَّ ظَاهِرَ الْقُرْآنِ إِثْبَاتُ أَيْدٍ كَثِيرَةٍ فِي جَنْبٍ وَاحِدٍ كَذِبٌ آخَرُ، فَأَيْنَ فِي ظَاهِرِ الْقُرْآنِ أَنَّ الْأَيْدِي فِي الْجَنْبِ؟ وَكَذَلِكَ إِنَّمَا أَخَذْتَ هَذَا مِنَ الْقِيَاسِ عَلَى بَنِي آدَمَ فَشَبَّهْتَ أَوَّلًا، وَعَطَّلْتَ ثَانِيًا، وَكَذَلِكَ جَعْلُكَ الْأَعْيُنَ الْكَثِيرَةَ فِي الْوَجْهِ الْوَاحِدِ لَيْسَ فِي ظَاهِرِ الْقُرْآنِ مَا يَدُلُّ عَلَى هَذَا، وَإِنَّمَا أَخَذْتَهُ مِنَ التَّشْبِيهِ بِالْآدَمِيِّ، وَلِهَذَا قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ: إِنَّ كُلَّ مُعَطِّلٍ مُشَبِّهٌ، وَلَا يَسْتَقِيمُ لَكَ التَّعْطِيلُ إِلَّا بَعْدَ التَّشْبِيهِ.
الثَّالِثُ: أَيْنَ فِي الْقُرْآنِ إِثْبَاتُ سَاقٍ وَاحِدٍ لِلَّهِ تَعَالَى وَجَنْبٍ وَاحِدٍ؟ فَإِنَّهُ سبحانه وتعالى قَالَ: {يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ} [القلم: 42] وَقَالَ: {أَنْ تَقُولَ نَفْسٌ يَاحَسْرَتَا عَلَى مَا فَرَّطْتُ فِي جَنْبِ اللَّهِ} [الزمر: 56] فَعَلَى تَقْدِيرٍ أَنْ يَكُونَ السَّاقُ وَالْجَنْبُ مِنَ الصِّفَاتِ فَلَيْسَ فِي ظَاهِرِ الْقُرْآنِ مَا يُوجِبُ أَلَّا يَكُونَ لَهُ إِلَّا جَنْبٌ وَاحِدٌ وَسَاقٌ وَاحِدٌ، وَلَوْ دَلَّ عَلَى مَا ذَكَرْتَ لَمْ يَدُلَّ عَلَى نَفْيٍ مَا أَرَادَ عَلَى ذَلِكَ لَا بِمَنْطُوقِهِ وَلَا بِمَفْهُومِهِ، حَتَّى الْقَائِلِينَ بِمَفْهُومِ اللَّقَبِ لَا يَدُلُّ ذَلِكَ عِنْدَهُمْ عَلَى نَفْيٍ مَا عَدَا الْمَذْكُورَ، لِأَنَّهُ مَتَى كَانَ لِلتَّخْصِيصِ بِالذِّكْرِ سَبَبٌ غَيْرَ الِاخْتِصَاصِ بِالْحُكْمِ لَمْ يَكُنِ الْمَفْهُومُ مُرَادًا بِالِاتِّفَاقِ، وَلَيْسَ الْمُرَادُ بِالْآيَتَيْنِ إِثْبَاتَ الصِّفَةِ حَتَّى يَكُونَ تَخْصِيصُ أَحَدِ الْأَمْرَيْنِ بِالذِّكْرِ مُرَادًا، بَلِ الْمَقْصُودُ حُكْمٌ آخَرُ، وَهُوَ إِثْبَاتُ تَفْرِيطِ الْعَبْدِ فِي حَقِّ اللَّهِ تَعَالَى، وَبَيَانُ سُجُودِ الْخَلَائِقِ إِذَا كُشِفَ عَنْ سَاقٍ، وَهَذَا حُكْمٌ قَدْ يَخْتَصُّ بِالْمَذْكُورِ دُونَ غَيْرِهِ، فَلَا يَكُونُ لَهُ مَفْهُومٌ.
الرَّابِعُ: هَبْ أَنَّهُ سُبْحَانَهُ أَخْبَرَ أَنَّهُ يَكْشِفُ عَنْ سَاقٍ وَاحِدَةٍ هِيَ صِفَةٌ، فَمِنْ أَيْنَ فِي ظَاهِرِ الْقُرْآنِ أَنَّهُ لَيْسَ لَهُ سُبْحَانَهُ إِلَّا تِلْكَ الصِّفَةُ الْوَاحِدَةُ، وَأَنْتَ لَوْ سَمِعْتَ قَائِلًا يَقُولُ: كَشَفْتُ عَنْ عَيْنِي وَأَبْدَيْتُ عَنْ رُكْبَتِي وَعَنْ سَاقِي، هَلْ يُفْهَمُ مِنْهُ أَنَّهُ لَيْسَ لَهُ إِلَّا ذَلِكَ الْوَاحِدُ فَقَطْ، فَلَوْ قَالَ لَكَ أَحَدٌ: لَمْ يَكُنْ هَذَا ظَاهِرَ كَلَامِهِ، فَكَيْفَ يَكُونُ ظَاهِرُ أَفْصَحِ الْكَلَامِ وَأَبَيْنِهِ ذَلِكَ.
الْخَامِسُ: أَنَّ الْمُفْرَدَ الْمُضَافَ يُرَادُ بِهِ أَكْثَرُ مِنْ وَاحِدٍ، كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا} [إبراهيم: 34] وَقَوْلِهِ: {وَصَدَّقَتْ بِكَلِمَاتِ رَبِّهَا وَكُتُبِهِ} [التحريم: 12] وَقَوْلِهِ {أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ} [البقرة: 187] فَلَوْ كَانَ الْجَنْبُ وَالسَّاقُ صِفَةٌ لَكَانَ بِمَنْزِلَةِ قَوْلِهِ: {بِيَدِهِ الْمُلْكُ} [الملك: 1] {بِيَدِكَ الْخَيْرُ} [آل عمران: 26] {وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي} [طه: 39] .
দ্বিতীয়ত: আপনার এই দাবি যে, কুরআনের বাহ্যিক পাঠ এক পার্শ্বে অনেক হাত থাকার বিষয়টি সাব্যস্ত করে—এটি আরেকটি মিথ্যাচার। কুরআনের বাহ্যিক পাঠের কোথায় আছে যে হাতগুলো পার্শ্বে অবস্থিত? একইভাবে, আপনি এটি কেবল আদম সন্তানের ওপর কিয়াস (অনুমান) করে গ্রহণ করেছেন। ফলে আপনি প্রথমে আল্লাহর সাথে সৃষ্টির সাদৃশ্য প্রদান করেছেন, আর দ্বিতীয়ত আল্লাহর গুণ অস্বীকার করেছেন। তদ্রূপ, এক মুখমণ্ডলে অনেক চোখ থাকার যে বিষয়টি আপনি অবতারণা করেছেন, কুরআনের বাহ্যিক পাঠে এমন কোনো প্রমাণ নেই যা একে নির্দেশ করে। বরং আপনি এটি মানুষের সাথে সাদৃশ্য কল্পনা করে গ্রহণ করেছেন। এই কারণেই কোনো কোনো আহলে ইলম (বিদ্বান) বলেছেন: প্রত্যেক ‘মুআত্তিল’ (গুণ অস্বীকারকারী) মূলত একজন ‘মুসাব্বিহ’ (সাদৃশ্যপ্রদানকারী); কারণ সাদৃশ্য কল্পনা করার পরই কেবল আপনার পক্ষে আল্লাহর গুণ অস্বীকার করা সম্ভব হয়েছে।
তৃতীয়ত: কুরআনের কোথায় মহান আল্লাহর জন্য একটি মাত্র পায়ের নলা এবং একটি মাত্র পার্শ্ব সাব্যস্ত করা হয়েছে? কেননা মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {যেদিন পায়ের নলা উন্মোচিত করা হবে} [আল-কলম: ৪২] এবং তিনি বলেছেন: {যাতে কোনো ব্যক্তিকে বলতে না হয়, হায় আফসোস! আল্লাহর প্রতি কর্তব্যে (পার্শ্বে) আমি যে অবহেলা করেছি তার জন্য} [আজ-জুমার: ৫৬]। যদি ধরেও নেওয়া হয় যে 'সাক' (পায়ের নলা) এবং 'জানব' (পার্শ্ব) আল্লাহর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত, তবে কুরআনের বাহ্যিক পাঠে এমন কিছু নেই যা আবশ্যক করে যে আল্লাহর একটি মাত্র পার্শ্ব বা একটি মাত্র পায়ের নলা থাকবে। আপনি যা উল্লেখ করেছেন তা যদি নির্দেশিতও হয়, তবে তা উল্লিখিত বিষয়ের অতিরিক্ত কিছুকে অস্বীকার করার ওপর তার শব্দের দ্বারাও দালালত করে না, আর মর্মের দ্বারাও দালালত করে না। এমনকি যারা 'মাফহুমুল লাকাব' (নামবাচক বিশেষ্যের অন্তর্নিহিত অর্থ) গ্রহণ করেন, তাঁদের মতেও এটি উল্লিখিত বিষয় ব্যতীত অন্য কিছুকে অস্বীকার করার ওপর দালালত করে না। কেননা, যখন কোনো বিষয়কে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করার পেছনে বিধানের বিশেষত্ব ব্যতীত অন্য কোনো কারণ থাকে, তখন সর্বসম্মতভাবে তার বিপরীত মর্ম উদ্দেশ্য হয় না। আর এই আয়াতদ্বয় দ্বারা গুণাবলি সাব্যস্ত করাই মূল উদ্দেশ্য নয় যে দুটি বিষয়ের একটিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করাটা উদ্দেশ্যমূলক হবে; বরং এখানে উদ্দেশ্য হলো অন্য একটি বিধান—আর তা হলো আল্লাহর হকের ক্ষেত্রে বান্দার অবহেলার প্রমাণ এবং পায়ের নলা উন্মোচিত হওয়ার সময় সৃষ্টিজগতের সিজদাবনত হওয়ার বর্ণনা। এটি এমন একটি বিধান যা অন্য সব কিছু বাদ দিয়ে কেবল উল্লিখিত বিষয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে, তাই এর কোনো বিপরীত মর্ম থাকে না।
চতুর্থত: তর্কের খাতিরে যদি মেনেও নেওয়া হয় যে মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি একটি পায়ের নলা উন্মোচিত করবেন যা তাঁর একটি গুণ, তবে কুরআনের বাহ্যিক পাঠের কোথায় এমন কথা আছে যে তাঁর এই একটি গুণ ছাড়া আর কিছু নেই? আপনি যদি কাউকে বলতে শোনেন: "আমি আমার চোখ উন্মোচন করলাম এবং আমার হাঁটু ও পায়ের নলা প্রকাশ করলাম", তবে কি এর থেকে এমনটি বোঝা যায় যে তার কাছে কেবল একটি মাত্র অঙ্গই রয়েছে? যদি কেউ আপনাকে এমন কথা বলে, তবে কি তা তার কথার বাহ্যিক অর্থ হবে? সুতরাং সর্বোত্তম এবং প্রাঞ্জলতম বাণীর বাহ্যিক অর্থ কীভাবে তেমনটি হতে পারে?
পঞ্চমত: ইজাফাতকৃত একবচন (মুফরাদ মুদাফ) দ্বারা একের অধিক উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ গণনা করো, তবে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না} [ইব্রাহীম: ৩৪]। এবং তাঁর বাণী: {সে তার প্রতিপালকের বাণীসমূহ ও তাঁর কিতাবসমূহকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল} [আত-তাহরীম: ১২]। এবং তাঁর বাণী: {সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমনাগমন হালাল করা হয়েছে} [আল-বাকারা: ১৮৭]। সুতরাং যদি 'পার্শ্ব' এবং 'পায়ের নলা' গুণ হিসেবে গণ্য হয়, তবে তা মহান আল্লাহর এই বাণীগুলোর মতোই হবে: {তাঁর হাতেই রাজত্ব} [আল-মুলক: ১], {আপনার হাতেই কল্যাণ} [আলে ইমরান: ২৬], {যাতে তুমি আমার চোখের সামনে প্রতিপালিত হও} [তহা: ৩৯]।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
السَّادِسُ: أَنْ يُقَالَ: مِنْ أَيْنَ فِي ظَاهِرِ الْقُرْآنِ إِثْبَاتُ جَنْبٍ وَاحِدٍ هُوَ صِفَةٌ لِلَّهِ؟ وَمِنَ الْمَعْلُومِ أَنَّ هَذَا لَا يُثْبِتُهُ أَحَدٌ مِنْ بَنِي آدَمَ، وَأَعْظَمُ النَّاسِ إِثْبَاتًا لِلصِّفَاتِ هُمْ أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْحَدِيثِ، لَا يُثْبِتُونَ أَنَّ لِلَّهِ تَعَالَى جَنْبًا وَاحِدًا وَلَا سَاقًا وَاحِدًا.
قَالَ عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ فِي نَقْضِهِ عَلَى الْمَرِيسِيِّ:
وَادِّعَاءُ الْمُعَارِضِ زُورًا عَلَى قَوْمٍ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ فِي تَفْسِيرِ قَوْلِهِ تَعَالَى: {يَاحَسْرَتَا عَلَى مَا فَرَّطْتُ فِي جَنْبِ اللَّهِ} [الزمر: 56] أَنَّهُمْ يَعْنُونَ بِذَلِكَ الْجَنْبِ الَّذِي هُوَ الْعُضْوُ وَلَيْسَ ذَلِكَ عَلَى مَا يَتَوَهَّمُونَهُ، قَالَ الدَّارِمِيُّ: فَيُقَالُ لِهَذَا الْمُعَارِضِ: مَا أَرْخَصَ الْكَذِبَ عِنْدَكَ وَأَخَفَّهُ عَلَى لِسَانِكَ: فَإِنْ كُنْتَ صَادِقًا فِي دَعْوَاكَ فَأَشِرْ بِهَا إِلَى أَحَدٍ مِنْ بَنِي آدَمَ، قَالَ: وَإِلَّا فَلِمَ تُشَنِّعُ بِالْكَذِبِ عَلَى قَوْمٍ هُمْ أَعْلَمُ بِهَذَا التَّفْسِيرِ مِنْكَ، إِنَّمَا تَفْسِيرُهَا عِنْدَهُمْ: تَحَسُّرُ الْكُفَّارِ عَلَى مَا فَرَّطُوا فِي الْإِيمَانِ وَالْفَضَائِلِ الَّتِي تَدْعُو إِلَى ذَاتِ اللَّهِ وَاخْتَارُوا عَلَيْهَا الْكُفْرَ وَالسُّخْرِيَةَ، فَمَنْ أَنْبَأَكَ أَنَّهُمْ قَالُوا: جَنْبٌ مِنَ الْجُنُوبِ؟ فَإِنَّهُ لَا يَجْهَلُ هَذَا الْمَعْنَى كَثِيرٌ مِنْ عَوَامِّ الْمُسْلِمِينَ فَضْلًا عَنْ عُلَمَائِهِمْ، وَقَدْ قَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رضي الله عنه: " الْكَذِبُ مُجَانِبٌ لِلْإِيمَانِ " وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ رضي الله عنه: " لَا يَجُوزُ الْكَذِبُ جِدًّا وَلَا هَزْلًا " وَقَالَ الشَّعْبِيُّ: " مَنْ كَانَ كَاذِبًا فَهُوَ مُنَافِقٌ ".
وَالتَّفْرِيطُ فِعْلٌ أَوْ تَرْكُ فِعْلٍ، وَهَذَا لَا يَكُونُ قَائِمًا بِذَاتِ اللَّهِ لَا بِجَنْبٍ وَلَا غَيْرِهِ، بَلْ لَا يَكُونُ مُنْفَصِلًا عَنِ اللَّهِ تَعَالَى، وَهُوَ مَعْلُومٌ بِالْحِسِّ وَالْمُشَاهَدَةِ.
السَّابِعُ: هَبْ أَنَّ الْقُرْآنَ دَلَّ عَلَى إِثْبَاتِ جَنْبٍ هُوَ صِفَةٌ، فَمِنْ أَيْنَ لَكَ ظَاهِرُهُ أَوْ بَاطِنُهُ عَلَى أَنَّهُ جَنْبٌ وَاحِدٌ وَشِقٌّ وَاحِدٌ؟ وَمَعْلُومٌ أَنَّ إِطْلَاقَ مِثَالِ هَذَا لَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ شِقٌّ وَاحِدٌ كَمَا «قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ: " صَلِّ قَائِمًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ» "، وَهَذَا لَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُ لَيْسَ لِلْمَرْءِ إِلَّا جَنْبٌ وَاحِدٌ.
ষষ্ঠত: বলা যায় যে, কুরআনের বাহ্যিক বর্ণনা থেকে মহান আল্লাহর গুণ হিসেবে একটি মাত্র পার্শ্ব সাব্যস্ত করার অবকাশ কোথায়? এটি সুবিদিত যে, আদম সন্তানদের কেউ এমনটি সাব্যস্ত করে না। আর গুণাবলি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য হলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল হাদীস; তাঁরাও মহান আল্লাহর জন্য একটি মাত্র পার্শ্ব কিংবা একটি মাত্র নলা সাব্যস্ত করেন না।
উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি তাঁর ‘নাকদ আলাল মারিসি’ গ্রন্থে বলেছেন:
আর বিরোধিতাকারীর একদল লোকের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা দাবি যে, তারা মহান আল্লাহর বাণী: {হায় আফসোস! আল্লাহর পার্শ্বে (আনুগত্যে) আমি যে ত্রুটি করেছি তার জন্য} [সূরা যুমার: ৫৬]-এর তাফসীরে উদ্দেশ্য গ্রহণ করেছে সেই পার্শ্ব যা একটি শারীরিক অঙ্গ—বিষয়টি তাদের ধারণাপ্রসূত নয়। আদ-দারিমি বলেন: তবে এই বিরোধিতাকারীকে বলা হবে: মিথ্যা তোমার কাছে কতই না সস্তা আর তোমার রসনায় তা কতই না সহজ! তোমার দাবিতে যদি সত্যবাদী হও, তবে আদম সন্তানদের মধ্য হতে একজনের দিকে হলেও ইঙ্গিত করো (যে এমনটি বলেছে)। তিনি বলেন: অন্যথায় কেন এমন একদল লোকের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে কলঙ্কিত করছ যারা তোমার তুলনায় এই তাফসীর সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখেন? তাঁদের নিকট এর তাফসীর হলো: কাফেরদের অনুশোচনা করা সেই ঈমান ও ফযীলতসমূহে অবহেলা করার কারণে যা আল্লাহর সত্তার দিকে আহ্বান করে এবং যার পরিবর্তে তারা কুফর ও উপহাসকে বেছে নিয়েছিল। তোমাকে কে খবর দিল যে, তারা একে ‘পার্শ্বসমূহের মধ্য হতে একটি পার্শ্ব’ বলেছে? কেননা সাধারণ মুসলিমদের অনেকেই এই অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞ নয়, তাঁদের আলেমদের কথা তো বলাই বাহুল্য। আর আবু বকর সিদ্দীক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বলেছেন: “মিথ্যা ঈমানের পরিপন্থী।” ইবনে মাসউদ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বলেছেন: “গম্ভীরভাবে হোক বা কৌতুকচ্ছলে, কোনোভাবেই মিথ্যা বলা বৈধ নয়।” আশ-শাবি বলেন: “যে মিথ্যাবাদী, সে মুনাফিক।”
আর অবহেলা বা ত্রুটি হলো কোনো কাজ করা বা বর্জন করা, আর এটি আল্লাহর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, চাই তা পার্শ্বদেশ হোক বা অন্য কিছু। বরং এটি মহান আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়, যা সাধারণ অনুভূতি ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই জানা যায়।
সপ্তম: তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া হলো যে, কুরআন একটি পার্শ্ব সাব্যস্ত করার প্রতি নির্দেশ করছে যা একটি গুণ, কিন্তু আপনি এর প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য বর্ণনা থেকে এই ধারণা কোথায় পেলেন যে এটি একটি মাত্র পার্শ্ব বা একটি মাত্র পাশ? এটি সুপরিজ্ঞাত যে, এ ধরণের শব্দপ্রয়োগ এটি একটি মাত্র পাশ হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে না। যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইমরান ইবনে হুসাইন-কে বলেছিলেন: “দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো, যদি সক্ষম না হও তবে বসে, আর যদি তাতেও সক্ষম না হও তবে পার্শ্বদেশের ওপর (কাত হয়ে)।” আর এটি এর ওপর প্রমাণ পেশ করে না যে মানুষের কেবল একটিই পার্শ্বদেশ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فَإِنْ قِيلَ: الْمُرَادُ عَلَى جَنْبٍ مِنْ جَنْبِكَ، قُلْنَا: فَقَدْ عُلِمَ أَنَّ ذِكْرَ الْجَنْبِ مُفْرَدًا لَا يَدُلُّ عَلَى نَفْيِ أَنْ يَكُونَ لَهُ جَنْبٌ آخَرُ، وَنَظِيرُ هَذَا الْقَدَمُ إِذَا ذُكِرَ مُفْرَدًا لَا يَدُلُّ عَلَى نَفْيِ قِدَمٍ آخَرَ، كَمَا فِي الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ: " «حَتَّى يَضَعَ رَبُّ الْعِزَّةِ عَلَيْهَا قَدَمَهُ» ".
الثَّامِنُ: مِنْ أَيْنَ فِي ظَاهِرِ الْقُرْآنِ أَنَّ لِلَّهِ سَاقًا وَلَيْسَ مَعَكَ إِلَّا قَوْلُهُ تَعَالَى: {يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ} [القلم: 42] وَالصَّحَابَةُ مُتَنَازِعُونَ فِي تَفْسِيرِ الْآيَةِ عَلَى الْمُرَادِ بِهَا: أَنَّ الرَّبَّ تَعَالَى يَكْشِفُ عَنْ سَاقِهِ، وَلَا يُحْفَظُ عَنِ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ نِزَاعٌ فِيمَا يُذْكَرُ أَنَّهُ مِنَ الصِّفَاتِ أَمْ لَا فِي غَيْرِ هَذَا الْمَوْضِعِ، وَلَيْسَ فِي ظَاهِرِ الْقُرْآنِ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ ذَلِكَ صِفَةٌ لِلَّهِ تَعَالَى لِأَنَّهُ سُبْحَانَهُ لَمْ يُضِفِ السَّاقَ إِلَيْهِ وَإِنَّمَا ذَكَرَهُ مُجَرَّدًا عَنِ الْإِضَافَةِ مُنَكَّرًا، وَالَّذِينَ أَثْبَتُوا ذَلِكَ صِفَةً كَالْيَدَيْنِ لَمْ يَأْخُذُوا ذَلِكَ مِنْ ظَاهِرِ الْقُرْآنِ، إِنَّمَا أَثْبَتُوهُ بِحَدِيثِ أَبَى سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ الْمُتَّفَقِ عَلَى صِحَّتِهِ، وَهُوَ حَدِيثُ الشَّفَاعَةِ الطَّوِيلُ، وَفِيهِ: " «فَيَكْشِفُ الرَّبُّ عَنْ سَاقِهِ» . . . " الْحَدِيثَ. وَمَنْ حَمَلَ الْآيَةَ عَلَى ذَلِكَ قَالَ: قَوْلُهُ تَعَالَى: {يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ} [القلم: 42] مُطَابِقًا لِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: " «يَكْشِفُ عَنْ سَاقِهِ» " وَتَنْكِيرُهُ لِلتَّعْظِيمِ وَالتَّفْخِيمِ كَأَنَّهُ قَالَ: يَكْشِفُ عَنْ سَاقٍ عَظِيمَةٍ، قَالُوا: وَحَمْلُ الْآيَةِ عَلَى الشِّدَّةِ لَا يَصِحُّ بِوَجْهٍ، فَإِنَّ لُغَةَ الْقَوْمِ أَنْ يُقَالَ: كَشَفَ الشِّدَّةَ عَنِ الْقَوْمِ لَا كَشَفَ عَنْهَا، كَقَوْلِهِ تَعَالَى: {فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الْعَذَابَ} [الزخرف: 50] فَالْعَذَابُ هُوَ الْمَكْشُوفُ لَا الْمَكْشُوفُ عَنْهُ، وَأَيْضًا فَهُنَاكَ تَحْدُثُ شِدَّةٌ لَا تَزُولُ إِلَّا بِدُخُولِ الْجَنَّةِ، وَهُنَا لَا يُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ، دَائِمًا يُدْعَوْنَ إِلَيْهِ أَشَدَّ مَا كَانَتِ الشِّدَّةُ.
التَّاسِعُ: أَنْ يُقَالَ: ذِكْرُ الْعَيْنِ الْمُفْرَدَةِ مُضَافَةٌ إِلَى الضَّمِيرِ الْمُفْرَدِ، وَالْأَعْيُنِ مَجْمُوعَةٌ مُضَافٌ إِلَى ضَمِيرِ الْجَمْعِ، وَذِكْرُ الْعَيْنِ مُفْرَدَةً لَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّهَا عَيْنٌ وَاحِدَةٌ لَيْسَ إِلَّا كَقَوْلِكَ: أَفْعَلُ هَذَا عَلَى عَيْنِي وَأُحِبُّكَ عَلَى عَيْنِي، وَلَا يُرِيدُ أَنَّ لَهُ عَيْنًا وَاحِدَةً، وَإِنَّمَا إِذَا أُضِيفَتِ الْعَيْنُ إِلَى اسْمِ الْجَمْعِ ظَاهِرًا وَمُضْمَرًا، فَالْأَحْسَنُ جَمْعُهُ مُشَاكَلَةً لِلَّفْظِ، كَقَوْلِهِ: {تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا} [القمر: 14] وَقَوْلِهِ: {وَاصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا} [هود: 37] وَهَذَا نَظِيرُ
যদি বলা হয় যে: এর উদ্দেশ্য হলো আপনার পার্শ্বদেশের কোনো এক পার্শ্ব, তবে আমরা বলব: এটি সর্বজনবিদিত যে, একবচনে 'পার্শ্ব' উল্লেখ করা অন্য একটি পার্শ্ব থাকাকে অস্বীকার করার প্রমাণ নয়। এর দৃষ্টান্ত হলো 'পা', যা একবচনে উল্লেখ করা হলে তা অন্য একটি পা থাকাকে নাকচ করে না, যেমনটি সহীহ হাদীসে এসেছে: "যতক্ষণ না মহিমান্বিত রব তার ওপর নিজের পা স্থাপন করবেন।"
অষ্টম: কুরআনের বাহ্যিক ভাষ্য থেকে এটি কোথায় পাওয়া যায় যে আল্লাহর 'জঙ্ঘা' রয়েছে? অথচ আপনার নিকট কেবল মহান আল্লাহর এই বাণীটিই বর্তমান: "সেদিন জঙ্ঘা উন্মোচন করা হবে" [আল-কালাম: ৪২]। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য কী—সে বিষয়ে সাহাবীগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে: অর্থাৎ রব তা'আলা তাঁর জঙ্ঘা উন্মোচন করবেন। এই স্থানটি ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে কোনো বিষয় সিফাত বা গুণ কি না, তা নিয়ে সাহাবী এবং তাবিঈদের মাঝে কোনো মতভেদ সংরক্ষিত নেই। আর কুরআনের বাহ্যিক শব্দে এমন কিছু নেই যা নির্দেশ করে যে এটি মহান আল্লাহর একটি গুণ, কেননা তিনি 'জঙ্ঘা' শব্দটিকে নিজের দিকে সম্পর্কিত করেননি, বরং এটি সম্বন্ধহীন ও অনির্দিষ্ট অবস্থায় উল্লেখ করেছেন। আর যারা একে 'দুই হাত'-এর ন্যায় সিফাত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, তারা একে কুরআনের বাহ্যিক ভাষ্য থেকে গ্রহণ করেননি, বরং আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত সেই হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত করেছেন যার বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে; আর সেটি হলো শাফায়াতের দীর্ঘ হাদীস, যাতে রয়েছে: "অতঃপর রব তাঁর জঙ্ঘা উন্মোচন করবেন..."। যারা আয়াতের অর্থ এর ওপর প্রয়োগ করেছেন তারা বলেন: মহান আল্লাহর বাণী: "সেদিন জঙ্ঘা উন্মোচন করা হবে" [আল-কালাম: ৪২] রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "তিনি তাঁর জঙ্ঘা উন্মোচন করবেন"-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর এর অনির্দিষ্টকরণ করা হয়েছে এর মাহাত্ম্য ও গাম্ভীর্য প্রকাশের জন্য, যেন তিনি বলেছেন: তিনি এক মহান জঙ্ঘা উন্মোচন করবেন। তারা আরও বলেন: আয়াতের অর্থ 'কঠিন বিপদ' হিসেবে গ্রহণ করা কোনোভাবেই সঠিক নয়, কারণ ভাষাভাষীদের রীতি হলো এটি বলা যে: 'মানুষের ওপর থেকে কঠিন অবস্থা দূর করা হয়েছে', এটি নয় যে 'কঠিন অবস্থা থেকে উন্মোচন করা হয়েছে'। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর যখন আমি তাদের ওপর থেকে আযাব সরিয়ে নিলাম" [আয-যুখরুফ: ৫০]। এখানে আযাবই হলো অপসারিত বস্তু, সেটি নয় যা থেকে আবরণ সরানো হয়েছে। তদুপরি, সেখানে এমন এক কঠিন অবস্থার সৃষ্টি হবে যা জান্নাতে প্রবেশ ব্যতীত দূর হবে না, অথচ এখানে তাদের সিজদাহ করার জন্য আহ্বান করা হবে না; বরং যখন বিপদ চরমে থাকবে তখন সর্বদা তাদের সিজদাহর জন্য আহ্বান করা হবে।
নবম: এটি বলা যে, একবচন 'চোখ' শব্দটি একবচন সর্বনামের সাথে এবং বহুবচন 'চোখসমূহ' শব্দটি বহুবচন সর্বনামের সাথে যুক্ত হয়ে উল্লিখিত হয়েছে। একবচনে 'চোখ' উল্লেখ করা কেবল একটিই চোখ থাকার প্রমাণ দেয় না। যেমন আপনার উক্তি: "আমি এটি আমার চোখের সামনে করছি" এবং "আমি তোমাকে আমার চোখের ওপর ভালোবাসি"; এর দ্বারা বক্তা এটি বুঝাতে চান না যে তাঁর একটি মাত্র চোখ রয়েছে। মূলত যখন 'চোখ' শব্দটি প্রকাশ্য বা উহ্য বহুবচন বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধিত হয়, তখন শব্দের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য একে বহুবচনে ব্যবহার করাই অধিকতর উত্তম। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "যা আমার চোখের সামনে প্রবহমান" [আল-ক্বামার: ১৪] এবং তাঁর বাণী: "এবং আমার চোখের সামনে নৌকাটি তৈরি কর" [হূদ: ৩৭]। আর এটি এর সদৃশ...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
الْمُشَاكَلَةِ فِي لَفْظِ الْيَدِ الْمُضَافَةِ إِلَى الْمُفْرَدِ: {بِيَدِهِ الْمُلْكُ} [الملك: 1] {بِيَدِكَ الْخَيْرُ} [آل عمران: 26] وَإِنْ أُضِيفَتْ إِلَى ضَمِيرِ جَمْعٍ جُمِعَتْ: كَقَوْلِهِ: {أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا خَلَقْنَا لَهُمْ مِمَّا عَمِلَتْ أَيْدِينَا أَنْعَامًا} [يس: 71] وَكَذَلِكَ إِضَافَةُ الْيَدِ وَالْعَيْنِ إِلَى اسْمِ الْجَمْعِ الظَّاهِرِ كَقَوْلِهِ: {بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ} [الروم: 41] وَقَوْلِهِ: {فَأْتُوا بِهِ عَلَى أَعْيُنِ النَّاسِ} [الأنبياء: 61] .
وَقَدْ نَطَقَ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ بِذِكْرِ الْيَدِ مُضَافَةً إِلَيْهِ بِلَفْظٍ مُفْرَدَةٍ، مَجْمُوعَةً وَمُثَنَّاةً، وَبِلَفْظِ الْعَيْنِ مُضَافَةً إِلَيْهِ مُفْرِدَةً وَمَجْمُوعَةً، وَنَطَقَتِ السُّنَّةُ بِإِضَافَتِهَا إِلَيْهِ مُثَنَّاةً كَمَا قَالَ عَطَاءٌ عَنْ أَبَى هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: " «إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا قَامَ فِي الصَّلَاةِ قَامَ بَيْنَ عَيْنَيِ الرَّحْمَنِ، فَإِذَا الْتَفَتَ قَالَ لَهُ رَبُّهُ: إِلَى مَنْ تَلْفِتُ، إِلَى خَيْرٍ لَكَ مِنِّي» "، وَقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: " «إِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ» " صَرِيحٌ بِأَنَّهُ لَيْسَ الْمُرَادُ إِثْبَاتُ عَيْنٍ وَاحِدَةٍ، فَإِنَّ ذَلِكَ عَوَرٌ ظَاهِرٌ، تَعَالَى اللَّهُ عَنْهُ، وَهَلْ يُفْهَمُ مِنْ قَوْلِ الدَّاعِي: " اللَّهُمَّ احْرُسْنَا بِعَيْنِكَ الَّتِي لَا تَنَامُ " أَنَّهَا عَيْنٌ وَاحِدَةٌ لَيْسَ إِلَّا إِلَّا ذِهْنٌ أَقْلَفُ وَقَلْبٌ أَغْلَفُ.
قَالَ ابْنُ تَمِيمٍ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ كَثِيرٍ قَالَ: قِيلَ لِإِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ: هَذَا السَّبُعُ، فَنَادَى يَا قَسْوَرَةُ إِنْ كُنْتَ أُمِرْتَ فِينَا بِشَيْءٍ وَإِلَّا بِعَيْنِي فَاذْهَبْ، فَضَرَبَ بِذَنَبِهِ وَوَلَّى مُدْبِرًا، فَنَظَرَ إِبْرَاهِيمُ إِلَى أَصْحَابِهِ وَقَالَ: قُولُوا: اللَّهُمَّ احْرُسْنَا بِعَيْنِكَ الَّتِي لَا تَنَامُ، وَاكْنُفْنَا بِكَنَفِكَ الَّذِي لَا يُرَامُ، وَارْحَمْنَا بِقُدْرَتِكَ عَلَيْنَا، لَا نَهْلِكُ وَأَنْتَ الرَّجَاءُ. وَقَالَ عُثْمَانُ الدَّارِمِيُّ: الْأَعْوَرُ ضِدَّ الْبَصِيرِ بِالْعَيْنَيْنِ.
একবচন শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত 'হাত' শব্দের ব্যবহারের ভাষাগত সঙ্গতি: {তাঁর হাতেই রাজত্ব} [আল-মুলক: ১], {আপনার হাতেই কল্যাণ} [আল-ইমরান: ২৬]। আর যদি তা বহুবচনবোধক সর্বনামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, তবে তা বহুবচনের রূপে আসে: যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমার হাতসমূহ যা নির্মাণ করেছে, তা থেকে আমি তাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি} [ইয়াসিন: ৭১]। তদ্রূপ প্রকাশ্য বহুবচনবোধক বিশেষ্যের দিকে 'হাত' ও 'চোখ' শব্দের সম্বন্ধ করার বিষয়টিও; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {মানুষের হাতসমূহ যা অর্জন করেছে তার কারণে} [আর-রুম: ৪১] এবং তাঁর বাণী: {তবে তাকে মানুষের চোখের সামনে উপস্থিত করো} [আল-আম্বিয়া: ৬১]।
কুরআন ও সুন্নাহতে আল্লাহর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত 'হাত' শব্দটি একবচন, বহুবচন ও দ্বিবচন রূপে উল্লিখিত হয়েছে। আর 'চোখ' শব্দটি তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হয়ে একবচন ও বহুবচন রূপে এসেছে; এবং সুন্নাহতে তা দ্বিবচন রূপেও বর্ণিত হয়েছে। যেমন আতা আবু হুরাইরাহ (রাযি.) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই বান্দা যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে পরম করুণাময়ের দুই চোখের সামনে দাঁড়ায়। অতঃপর যখন সে অন্যমনস্ক হয়, তখন তার রব তাকে বলেন: ‘তুমি কার দিকে তাকাচ্ছ? আমার চেয়ে কি উত্তম কারো দিকে?’" এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক একচক্ষুবিশিষ্ট (ট্যারা) নন।" এটি এই বিষয়ে সুস্পষ্ট যে, এখানে কেবল একটি চোখ সাব্যস্ত করা উদ্দেশ্য নয়; কেননা তা একটি প্রকাশ্য ত্রুটি, আর আল্লাহ তাআলা তা থেকে পরম পবিত্র। আর দোয়াকারীর এই কথা: "হে আল্লাহ! আপনার সেই চোখ দিয়ে আমাদের রক্ষা করুন যা কখনো ঘুমায় না" থেকে কেবল একটি চোখই উদ্দেশ্য—এমনটি কেবল স্থূল বুদ্ধি ও মোহরাঙ্কিত হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তিই বুঝতে পারে।
ইবনে তামীম বলেন: আমাদের কাছে আব্দুল জাব্বার ইবনে কাসীর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহীম ইবনে আদহামকে বলা হলো: "এই যে সিংহ!" তিনি ডাক দিয়ে বললেন: হে সিংহ! যদি আমাদের বিষয়ে তোমাকে কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে (তবে তা পালন করো), অন্যথায় আমার চোখের আড়াল হয়ে যাও। তখন সিংহটি লেজ নেড়ে পিঠ দেখিয়ে চলে গেল। অতঃপর ইব্রাহীম তাঁর সঙ্গীদের দিকে তাকিয়ে বললেন: তোমরা বলো: "হে আল্লাহ! আপনার সেই চোখ দিয়ে আমাদের রক্ষা করুন যা কখনো ঘুমায় না, আপনার সেই আশ্রয়ে আমাদের আগলে রাখুন যা অজেয়, আর আমাদের প্রতি আপনার ক্ষমতার উসিলায় আমাদের দয়া করুন; আপনি আমাদের আশা-ভরসা হওয়া সত্ত্বেও যেন আমরা ধ্বংস না হই।" উসমান আদ-দারিমী বলেন: "একচক্ষুবিশিষ্ট হওয়া হলো উভয় চোখে দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন হওয়ার বিপরীত।"
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَقَدِ اسْتَدَلَّ السَّلَفُ عَلَى إِثْبَاتِ الْعَيْنَيْنِ لَهُ تَعَالَى بِقَوْلِهِ: {تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا} [القمر: 14] ، وَمِمَّنْ صَرَّحَ بِذَلِكَ إِثْبَاتًا وَاسْتِدْلَالًا أَبُو الْحَسَنِ الْأَشْعَرِيُّ فِي كُتُبِهِ كُلِّهَا، فَقَالَ فِي كِتَابِ الْمَقَالَاتِ وَالْإِبَانَةِ، وَالْمُوجَزِ، وَهَذَا لَفْظُهُ فِيهَا: وَأَنَّ لَهُ عَيْنَيْنِ بِلَا كَيْفٍ كَمَا قَالَ: {تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا} [القمر: 14] فَهَذَا الْأَشْعَرِيُّ وَغَيْرُهُ لَمْ يَفْهَمُوا مِنَ الْأَعْيُنِ أَعْيُنًا كَثِيرَةً، وَلَا مِنَ الْأَيْدِي أَيَادٍ كَثِيرَةً عَلَى شِقٍّ وَاحِدٍ.
وَلَمَّا رَدَّ أَهْلُ السُّنَّةِ تَأْوِيلَ الْجَاهِلِينَ لَمْ يَقْدِرِ الْجَهْمِيَّةُ عَلَى أَخْذِ الثَّأْرِ مِنْهُمْ إِلَّا بِأَنْ سَمُّوهُمْ مُشَبِّهَةً، مُمَثِّلَةً، مُجَسِّمَةً، حَشَوِيَّةً، وَلَوْ كَانَ لِهَؤُلَاءِ عُقُولٌ لَعَلِمُوا أَنَّ التَّلْقِيبَ بِهَذِهِ الْأَلْقَابِ لَيْسَ لَهُمْ، وَإِنَّمَا هُوَ لِمَنْ جَاءَ بِهَذِهِ النُّصُوصِ وَتَكَلَّمَ بِهَا، وَدَعَا الْأُمَّةَ إِلَى الْإِيمَانِ بِهَا، وَنَهَاهُمْ عَنْ تَحْرِيفِهَا وَتَبْدِيلِهَا، وَلَوْ كَانَ خُصُومُكُمْ كَمَا زَعَمْتُمْ وَحَاشَاهُمْ مُشَبِّهَةً مُمَثِّلَةً مُجَسِّمَةً لَكَانُوا أَقَلَّ تَنَقُّصًا لِرَبِّ الْعَالَمِينَ مِنْكُمْ وَكِتَابِهِ وَأَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ بِكَثِيرٍ، لَوْ كَانَ قَوْلُهُمْ يَقْتَضِي التَّنْقِيصَ، فَكَيْفَ وَهُوَ لَا يَقْتَضِيهِ لَوْ صَرَّحُوا بِهِ فَإِنَّهُمْ يَقُولُونَ: نَحْنُ أَثْبَتْنَا لَهُ غَايَةَ الْكَمَالِ وَنُعُوتَ الْجَلَالِ وَوَصَفْنَاهُ بِكُلِّ صِفَةِ كَمَالٍ، فَإِنْ لَزِمَ مِنْ هَذَا تَجْسِيمٌ وَتَشْبِيهٌ لَمْ يَكُنْ هَذَا نَقْضًا وَلَا عَيْبًا بِوَجْهٍ مِنَ الْوُجُوهِ، فَإِنَّ لَازِمَ الْحَقِّ حَقٌّ، وَمَا لَزِمَ مِنْ إِثْبَاتِ كَمَالِ الرَّبِّ لَيْسَ بِنَقْصٍ.
وَأَمَّا أَنْتُمْ فَنَفَيْتُمْ عَنْهُ صِفَاتِ الْكَمَالِ، وَلَا رَيْبَ أَنَّ لَازِمَ هَذَا النَّفْيِ وَصْفُهُ بِأَضْدَادِهَا مِنَ الْعُيُوبِ وَالنَّقَائِصِ، فَمَا سَوَّى اللَّهُ وَلَا رَسُولُهُ وَلَا عُقَلَاءُ عِبَادِهِ بَيْنَ مَنْ نَفَى كَمَالَهُ الْمُقَدَّسَ حَذَرًا مِنَ التَّجْسِيمِ، وَبَيْنَ مَنْ أَثْبَتَ كَمَالَهُ الْأَعْظَمَ وَصِفَاتِهِ الْعُلَى بِلَوَازِمِ ذَلِكَ، كَائِنَةً مَا كَانَتْ.
فَلَوْ فَرَضْنَا فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ مَنْ يَقُولُ: لَهُ سَمْعٌ كَسَمْعِ الْمَخْلُوقِ وَبَصَرٌ كَبَصَرِهِ وَيَدٌ كَيَدِهِ، لَكَانَ أَدْنَى إِلَى الْحَقِّ مِمَّنْ يَقُولُ: لَا سَمْعَ وَلَا بَصَرَ وَلَا يَدَ، وَلَوْ فَرَضْنَا قَائِلًا يَقُولُ: إِنَّهُ مُتَحَيِّزٌ عَلَى عَرْشِهِ، تُحِيطُ بِهِ الْحُدُودُ وَالْجِهَاتُ لَكَانَ أَقْرَبَ إِلَى الصَّوَابِ مِنْ قَوْلِ مَنْ يَقُولُ: لَيْسَ فَوْقَ الْعَرْشِ إِلَهٌ يُعْبَدُ وَلَا تُرْفَعُ إِلَيْهِ الْأَيْدِي وَلَا يَصْعَدُ إِلَيْهِ شَيْءٌ، وَلَا هُوَ فَوْقَ خَلْقِهِ وَلَا مُحَايِثُهُمْ وَلَا مُبَايِنُهُمْ، فَإِنَّ هَذَا مُعَطِّلٌ مُكَذِّبٌ لِلَّهِ رَادٌّ عَلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَذَلِكَ الْمُشَبِّهُ غَالِطٌ مُخْطِئٌ فِي فَهْمِهِ، فَالْمُشَبِّهُ عَلَى زَعْمِكُمُ الْكَاذِبِ لَمْ يُشَبِّهْهُ تَنَقُّصًا لَهُ وَجَحْدًا لِكَمَالِهِ، بَلْ ظَنًّا أَنَّ إِثْبَاتَ الْكَمَالِ لَا يُمْكِنُ إِلَّا بِذَلِكَ، فَقَابَلْتُمُوهُ بِتَعْطِيلِ كَمَالِهِ، وَذَلِكَ غَايَةُ التَّنْقِيصِ.
সালাফগণ আল্লাহ তাআলার জন্য দুই চোখের সাব্যস্তকরণের পক্ষে তাঁর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: {যা আমাদের চোখের সামনে চলত} [ক্বামার: ১৪]। এই বিষয়টি সাব্যস্তকরণ ও দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে যারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তাদের মধ্যে আবুল হাসান আল-আশআরি তাঁর সকল কিতাবে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি আল-মাকালাত, আল-ইবানাহ এবং আল-মুজায কিতাবে বলেছেন—এবং এটিই সেখানে তাঁর শব্দমালা: "তাঁর কোনো ধরণ ছাড়াই দুটি চোখ রয়েছে, যেমনটি তিনি বলেছেন: {যা আমাদের চোখের সামনে চলত} [ক্বামার: ১৪]।" সুতরাং এই আল-আশআরি এবং অন্যান্যরা 'আ’ইউন' (বহুবচন) থেকে অনেকগুলো চোখ বুঝেননি, এবং 'আইদি' (বহুবচন) থেকেও একপাশে অনেকগুলো হাত বুঝেননি।
যখন আহলুস সুন্নাহ মূর্খদের অপব্যাখ্যাকে প্রত্যাখ্যান করল, তখন জাহমিয়্যারা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার কোনো পথ খুঁজে পেল না, কেবল তাদেরকে 'মুশাব্বিহা' (সদৃশকারী), 'মুমাস্সিলা' (উপমাদানকারী), 'মুজাস্সিমা' (দেহবাদী) ও 'হাশাউয়্যাহ' নামে ভূষিত করা ছাড়া। যদি তাদের নূন্যতম বুদ্ধি থাকত, তবে তারা জানত যে এই উপাধিগুলো তাদের জন্য নয়; বরং এই উপাধিগুলো মূলত তাঁর জন্য যিনি এই নসুস (মূল পাঠসমূহ) নিয়ে এসেছেন, এগুলো পাঠ করেছেন, উম্মতকে এগুলোর ওপর ঈমান আনার দাওয়াত দিয়েছেন এবং এগুলোর বিকৃতি ও পরিবর্তন করতে নিষেধ করেছেন। আর আপনাদের প্রতিপক্ষরা যদি আপনাদের দাবি অনুযায়ী 'মুশাব্বিহা', 'মুমাস্সিলা' বা 'মুজাস্সিমা' হতোও—আল্লাহ তাদের এ থেকে পবিত্র রাখুন—তবুও তারা আপনাদের তুলনায় রব্বুল আলামিন, তাঁর কিতাব এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে অনেক কম অবমাননাকারী হতো—যদি ধরেও নেওয়া হয় যে তাদের বক্তব্য অবমাননার দাবি রাখে। অথচ তাদের কথা মোটেও অবমাননাকর নয়, এমনকি যদি তারা তা স্পষ্টভাবেও বলত। কারণ তারা বলে: "আমরা তাঁর জন্য চূড়ান্ত পূর্ণতা ও মহিমার গুণাবলি সাব্যস্ত করেছি এবং তাঁকে প্রতিটি পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত করেছি।" এখন এর থেকে যদি দেহবাদ বা সাদৃশ্যবিধানের কিছু অনিবার্য হয়েও পড়ে, তবে তা কোনোভাবেই কোনো ত্রুটি বা দোষ বলে গণ্য হবে না। কেননা সত্যের অনিবার্য ফলাফল সত্যই হয়, আর রবের পূর্ণতা প্রমাণের ক্ষেত্রে যা কিছু আবশ্যকীয় হিসেবে আসে তা নুকসান বা ত্রুটি নয়।
পক্ষান্তরে আপনারা তাঁর থেকে পূর্ণতার গুণাবলিকে অস্বীকার করেছেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই অস্বীকৃতির অনিবার্য ফল হলো তাঁকে এর বিপরীত দোষ ও ত্রুটিসমূহ দ্বারা গুণান্বিত করা। সুতরাং আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাঁর বুদ্ধিমান বান্দারা কখনোই ঐ ব্যক্তির মধ্যে সমতা বিধান করেন না—যে দেহবাদের ভয়ে তাঁর পবিত্র পূর্ণতাকে অস্বীকার করেছে, আর ঐ ব্যক্তির মধ্যে—যে তাঁর মহান পূর্ণতা ও সুউচ্চ গুণাবলিকে তার যাবতীয় অনিবার্য ফলাফলসহ সাব্যস্ত করেছে, সেই ফলাফল যা-ই হোক না কেন।
যদি আমরা এই উম্মতের মধ্যে এমন কাউকে কল্পনা করি যে বলে: 'তাঁর শ্রবণ মাখলুকের শ্রবণের মতো, তাঁর দৃষ্টি মাখলুকের দৃষ্টির মতো এবং তাঁর হাত মাখলুকের হাতের মতো', তবে সে ঐ ব্যক্তির তুলনায় সত্যের অধিক নিকটবর্তী যে বলে: 'তাঁর কোনো শ্রবণ নেই, দৃষ্টি নেই এবং হাত নেই'। আর যদি আমরা এমন কোনো বক্তাকে কল্পনা করি যে বলে: 'তিনি তাঁর আরশের ওপর সীমাবদ্ধ, তাঁকে সীমানা ও দিকসমূহ পরিবেষ্টন করে আছে', তবে সে ঐ ব্যক্তির কথার চেয়ে সঠিকের অধিক নিকটবর্তী যে বলে: 'আরশের ওপর উপাসনাযোগ্য কোনো ইলাহ নেই, তাঁর দিকে হাত উত্তোলন করা হয় না এবং তাঁর দিকে কোনো কিছুই আরোহণ করে না; তিনি তাঁর সৃষ্টির ওপরেও নন, সৃষ্টির সাথে মিশেও নেই আবার সৃষ্টি থেকে আলাদা বা বিচ্ছিন্নও নন'। কেননা এই ব্যক্তি তো মূলত গুণাবলি রদকারী, মিথ্যা প্রতিপন্নকারী এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যানকারী। আর ঐ 'মুশাব্বিহা' (সদৃশকারী) তার উপলব্ধিতে ভুলকারী ও বিভ্রান্ত। আপনাদের মিথ্যা দাবি অনুযায়ী ঐ 'মুশাব্বিহা' আল্লাহকে খাটো করার জন্য কিংবা তাঁর পূর্ণতাকে অস্বীকার করার জন্য সাদৃশ্য প্রদান করেনি; বরং সে মনে করেছিল যে পূর্ণতা সাব্যস্ত করা কেবল এভাবেই সম্ভব। কিন্তু আপনারা এর মোকাবিলা করেছেন তাঁর পূর্ণতাকে নস্যাৎ করার মাধ্যমে, যা চরম অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
الْعَاشِرُ: أَنَّ لُغَةَ الْعَرَبِ مُتَنَوِّعَةٌ فِي إِفْرَادِ الْمُضَافِ وَتَثْنِيَتِهِ وَجَمْعِهِ بِحَسْبِ أَحْوَالِ الْمُضَافِ إِلَيْهِ، فَإِنْ أَضَافُوا الْوَاحِدَ الْمُتَّصِلَ إِلَى مُفْرَدٍ أَفْرَدُوهُ، وَإِنْ أَضَافُوا إِلَى اسْمِ جَمْعٍ كَقَوْلِهِ: {فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا} [التحريم: 4] وَإِنَّمَا هُمَا قَلْبَانِ، وَكَقَوْلِهِ: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا} [المائدة: 38] وَتَقُولُ الْعَرَبُ: اضْرِبْ أَعْنَاقَهُمَا، وَهَذَا أَفْصَحُ اسْتِعْمَالِهِمْ، وَتَارَةً يُفْرِدُونَ الْمُضَافَ فَيَقُولُونَ: لِسَانُهُمَا وَقَلْبُهُمَا، وَتَارَةً يُثَنُّونَ كَقَوْلِهِ: " ظَهْرَاهُمَا مِثْلَ ظُهُورِ التُّرْسَيْنِ " الْقُرْآنُ إِنَّمَا نَزَلَ بِلُغَةِ الْعَرَبِ لَا بِلُغَةِ الْعَجَمِ وَالطَّمَاطِمِ وَالْأَنْبَاطِ الَّذِينَ أَفْسَدُوا الدِّينَ وَتَلَاعَبُوا بِالنُّصُوصِ فَجَعَلُوهَا عُرْضَةً لِتَأْوِيلِ الْجَاهِلِينَ.
وَإِذَا كَانَ مِنْ لُغَتِهِمْ وَضْعُ الْجَمْعِ مَوْضِعَ التَّثْنِيَةِ لِئَلَّا يَجْمَعُوا فِي لَفْظٍ وَاحِدٍ بَيْنَ تَثْنِيَتَيْنِ، فَلَأَنْ يُوضَعَ الْجَمْعُ مَوْضِعَ التَّثْنِيَةِ فِيمَا إِذَا كَانَ الْمُضَافُ إِلَيْهِ تَثْنِيَةً أَوْلَى بِالْجَوَازِ، يَدُلُّ عَلَى أَنَّكَ لَا تَجِدُ فِي كَلَامِهِمْ عَيْنَانِ وَيَدَانِ وَنَحْوَ ذَلِكَ، وَلَا يَلْتَبِسُ عَلَى السَّمْعِ قَوْلُ الْمُتَكَلِّمِ: نَرَاكَ بِأَعْيُنِنَا وَنَأْخُذُ بِأَيْدِينَا، وَلَا يَفْهَمُ مِنْهُ بَشَرٌ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ عُيُونًا كَثِيرَةً عَلَى وَجْهٍ وَاحِدٍ.
الْحَادِي عَشَرَ: أَنَّ لَفْظَ الْيَدِ جَاءَ فِي الْقُرْآنِ عَلَى ثَلَاثَةِ أَنْوَاعٍ: مُفْرَدًا وَمُثَنًّى وَمَجْمُوعًا، فَالْمُفْرَدُ كَقَوْلِهِ: {بِيَدِهِ الْمُلْكُ} [الملك: 1] وَالْمُثَنَّى كَقَوْلِهِ: {خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} [ص: 75] وَالْمَجْمُوعُ {عَمِلَتْ أَيْدِينَا} [يس: 71] فَحَيْثُ ذَكَرَ الْيَدَ مُثَنَّاةً أَضَافَ الْفِعْلَ إِلَى نَفْسِهِ بِضَمِيرِ الْإِفْرَادِ وَعَدَّى الْفِعْلَ بِالْبَاءِ إِلَيْهَا فَقَالَ {خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} [ص: 75] وَحَيْثُ ذَكَرَهَا مَجْمُوعَةً أَضَافَ الْعَمَلَ إِلَيْهَا وَلَمْ يُعَدِّ الْفِعْلَ بِالْبَاءِ، فَهَذِهِ ثَلَاثَةُ فُرُوقٍ فَلَا يَحْتَمِلُ {خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} [ص: 75] مِنَ الْمَجَازِ مَا يَحْتَمِلُهُ {عَمِلَتْ أَيْدِينَا} [يس: 71] فَإِنَّ كُلَّ أَحَدٍ يَفْهَمُ مِنْ قَوْلِهِ: {عَمِلَتْ أَيْدِينَا} [يس: 71] مَا
দশম: আরবের ভাষাশৈলী 'মুদাফ' (সম্বন্ধযুক্ত পদ)-কে একবচন, দ্বিবচন বা বহুবচন হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে 'মুদাফ ইলাইহি' (যার সাথে সম্বন্ধ করা হয়)-এর অবস্থার প্রেক্ষিতে বৈচিত্র্যময় হয়ে থাকে। যদি তারা একটি অবিচ্ছেদ্য অংশকে একবচনের দিকে সম্বন্ধ করে, তবে তারা সেটিকে একবচন হিসেবে ব্যবহার করে। আর যদি তারা এমন কোনো বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধ করে যা দ্বিবচন নির্দেশ করে, তবে তারা ক্ষেত্রবিশেষে বহুবচন ব্যবহার করে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের উভয়ের অন্তর বিচ্যুত হয়েছে" [আত-তাহরীম: ৪], অথচ এখানে অন্তর মূলত দুটি। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও" [আল-মায়িদাহ: ৩৮]। আরবরা আরও বলে থাকে: "তাদের উভয়ের ঘাড় (বহুবচন) উড়িয়ে দাও", আর এটিই তাদের ভাষাসাহত্যের অধিকতর প্রাঞ্জল প্রয়োগ। আবার কখনও তারা মুদাফকে একবচন হিসেবে ব্যবহার করে; যেমন তারা বলে: "তাদের উভয়ের জিহ্বা" এবং "তাদের উভয়ের অন্তর"। আবার কখনও তারা দ্বিবচনও ব্যবহার করে, যেমন কবির উক্তি: "তাদের উভয়ের পিঠ দুটি ঢালের পিঠের মতো"। নিশ্চয়ই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে আরবদের ভাষায়, অনারব, তোতামাখোর কিংবা নবতীদের ভাষায় নয়—যারা ধর্মকে কলুষিত করেছে এবং পবিত্র পাঠ্যসমূহ (নুসুস) নিয়ে খেল-তামাশা করে সেগুলোকে মূর্খদের অপব্যাখ্যার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
যখন তাদের ভাষারীতিতে একই শব্দের মধ্যে দুটি দ্বিবচনের সমাবেশ এড়াতে দ্বিবচনের স্থলে বহুবচন ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে, তখন যেখানে মুদাফ ইলাইহি দ্বিবচন, সেখানে বহুবচনের ব্যবহার ব্যাকরণগতভাবে অধিকতর সঙ্গত। এর প্রমাণ হলো, আপনি তাদের সাধারণ কথাবার্তায় 'দুই চোখ' বা 'দুই হাত' [সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায়] এভাবে দ্বিবচন হিসেবে পাবেন না। আবার কোনো বক্তার এই কথা: "আমরা আমাদের চোখের মাধ্যমে তোমাকে দেখি এবং আমাদের হাতের মাধ্যমে ধরি"—এটি শ্রবণকারীর কাছে মোটেও অস্পষ্ট থাকে না; এবং পৃথিবীর কোনো মানুষই এর দ্বারা একটি চেহারায় অনেকগুলো চোখ আছে বলে বুঝতে পারে না।
একাদশ: আল-কুরআনে 'হাত' (ইয়াদ) শব্দটি তিনভাবে এসেছে: একবচন, দ্বিবচন এবং বহুবচন। একবচন হিসেবে যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "যাঁর হাতে রাজত্ব" [আল-মুলক: ১]। দ্বিবচন হিসেবে যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "যাকে আমি আমার দুই হাতে সৃষ্টি করেছি" [সোয়াদ: ৭৫]। এবং বহুবচন হিসেবে যেমন: "যা আমাদের হাতসমূহ তৈরি করেছে" [ইয়াসিন: ৭১]। লক্ষ্যণীয় যে, যেখানে তিনি হাত শব্দটিকে দ্বিবচন হিসেবে উল্লেখ করেছেন, সেখানে একবচনের সর্বনাম যোগে ক্রিয়াটিকে সরাসরি নিজের দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং 'বা' অব্যয়ের মাধ্যমে ক্রিয়াটিকে হাতের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন; যেমন তিনি বলেছেন: "আমি আমার দুই হাতে সৃষ্টি করেছি" [সোয়াদ: ৭৫]। পক্ষান্তরে যেখানে তিনি হাতকে বহুবচন হিসেবে উল্লেখ করেছেন, সেখানে কাজটিকে হাতের দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং ক্রিয়াটির সাথে 'বা' অব্যয় ব্যবহার করেননি। এই তিনটি সূক্ষ্ম পার্থক্য প্রমাণ করে যে, "আমি আমার দুই হাতে সৃষ্টি করেছি" আয়াতটি এমন কোনো রূপক অর্থ বহন করে না, যা "আমাদের হাতসমূহ তৈরি করেছে" আয়াতটি করতে পারে। কেননা প্রত্যেকেই "আমাদের হাতসমূহ তৈরি করেছে" কথাটি থেকে যা বোঝে তা হলো...
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
يَفْهَمُهُ مِنْ قَوْلِهِ: عَمِلْنَا وَخَلَقْنَا، كَمَا يَفْهَمُ ذَلِكَ مِنْ قَوْلِهِ: {فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ} [الشورى: 30] ، وَأَمَّا قَوْلُهُ: {خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} [ص: 75] فَلَوْ كَانَ الْمُرَادُ مِنْهُ مُجَرَّدَ الْفِعْلِ لَمْ يَكُنْ لِذِكْرِ الْيَدِ بَعْدَ نِسْبَةِ الْفِعْلِ إِلَى الْفَاعِلِ مَعْنًى، فَكَيْفَ وَقَدْ دَخَلَتْ عَلَيْهَا الْبَاءُ؟ فَكَيْفَ إِذَا ثُنِّيَتْ؟
وَسِرُّ الْفَرْقِ أَنَّ الْفِعْلَ قَدْ يُضَافُ إِلَى يَدِ ذِي الْيَدِ الْمُرَادِ الْإِضَافَةِ إِلَيْهِ كَقَوْلِهِ: {بِمَا قَدَّمَتْ يَدَاكَ} [الحج: 10] {فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ} [الشورى: 30] وَأَمَّا إِذَا أُضِيفَ إِلَيْهِ الْفِعْلُ ثُمَّ عُدِّيَ بِالْبَاءِ إِلَى يَدِهِ مُفْرَدَةً أَوْ مُثَنَّاةً فَهُوَ مِمَّا بَاشَرَتْهُ بِهِ، وَلِهَذَا قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو: (إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَخْلُقْ بِيَدِهِ إِلَّا ثَلَاثًا: خَلَقَ آدَمَ بِيَدِهِ، وَغَرَسَ جَنَّةَ الْفِرْدَوْسِ بِيَدِهِ، وَكَتَبَ التَّوْرَاةَ بِيَدِهِ) . فَلَوْ كَانَتِ الْيَدُ هِيَ الْقُدْرَةُ لَمْ يَكُنْ لَهَا اخْتِصَاصٌ بِذَلِكَ وَلَا كَانَتْ لِآدَمَ فَضِيلَةٌ بِذَلِكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ مِمَّا خَلَقَ بِالْقُدْرَةِ) .
وَقَدْ أَخْبَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ أَهْلَ الْمَوْقِفِ يَأْتُونَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَقُولُونَ: " «يَا آدَمُ أَنْتَ أَبُو الْبَشَرِ خَلَقَكَ اللَّهُ بِيَدِهِ» " وَكَذَلِكَ قَالَ آدَمُ لِمُوسَى فِي مُحَاجَّتِهِ لَهُ: " «اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِكَلَامِهِ وَخَطَّ لَكَ الْأَلْوَاحَ بِيَدِهِ» "، وَفِي لَفْظٍ آخَرَ: " كَتَبَ لَكَ التَّوْرَاةَ بِيَدِهِ " وَهُوَ مِنْ أَصَحِّ الْأَحَادِيثِ، وَكَذَلِكَ الْحَدِيثُ الْمَشْهُورُ " «أَنَّ الْمَلَائِكَةَ قَالُوا: يَا رَبِّ خَلَقْتَ بَنِي آدَمَ يَأْكُلُونَ وَيَشْرَبُونَ وَيَنْكِحُونَ وَيَرْكَبُونَ، فَاجْعَلْ لَهُمُ الدُّنْيَا وَلَنَا الْآخِرَةَ، فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: لَا أَجْعَلُ صَالِحَ ذَرِّيَّةِ مَنْ خَلَقْتُ بِيَدَيَّ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي كَمَنْ قُلْتُ لَهُ كُنْ
আল্লাহর বাণী: "আমরা করেছি" এবং "আমরা সৃষ্টি করেছি" থেকে যে অর্থ অনুধাবন করা যায়, ঠিক তেমনটিই বোঝা যায় তাঁর এই বাণী থেকে: "যা তোমাদের হাত অর্জন করেছে" [আশ-শুরা: ৩০]। তবে তাঁর বাণী: "যাকে আমি আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি" [সোয়াদ: ৭৫] - এর ক্ষেত্রে যদি কেবল কাজের উদ্দেশ্য হতো, তবে কর্তার দিকে কাজটির সম্বন্ধ করার পর 'হাত' উল্লেখ করার কোনো অর্থ থাকতো না। আর যখন এর সাথে 'বা' (অব্যয়) যুক্ত হয়েছে, তখন এর গুরুত্ব কতটুকু? আবার যখন একে দ্বিবচন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, তখন এর তাৎপর্যই বা কতটুকু?
এই পার্থক্যের রহস্য হলো, কখনো কোনো কাজ হাত বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতের দিকে সম্বন্ধিত করা হয় যাতে ব্যক্তির দিকেই সম্বন্ধ উদ্দেশ্য থাকে, যেমন তাঁর বাণী: "যা তোমার দুই হাত অগ্রিম পাঠিয়েছে" [আল-হজ: ১০] এবং "যা তোমাদের হাত অর্জন করেছে" [আশ-শুরা: ৩০]। কিন্তু যখন কাজটিকে সরাসরি ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধ করার পর 'বা' (অব্যয়) যোগে তাঁর একবচন বা দ্বিবচন হাতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, তখন তা সরাসরি সেই হাতের মাধ্যমে সম্পাদন করা বোঝায়। এ কারণেই আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তিনটি বিষয় ছাড়া আর কিছুই তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেননি: তিনি আদমকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, জান্নাতুল ফিরদাউস তাঁর হাত দিয়ে রোপণ করেছেন এবং তাওরাত তাঁর হাত দিয়ে লিখেছেন।" এখন 'হাত' অর্থ যদি কেবল 'কুদরত' বা শক্তি হতো, তবে এই বিষয়গুলোর জন্য কোনো বিশেষত্ব থাকতো না এবং শক্তির মাধ্যমে যা কিছু সৃষ্টি করা হয়েছে, সেগুলোর ওপর এই বিশেষ সৃষ্টির মাধ্যমে আদমের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হতো না।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে উপস্থিত লোকজন আদমের কাছে আসবে এবং বলবে: "হে আদম, আপনি মানবজাতির পিতা, আল্লাহ আপনাকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।" অনুরূপভাবে আদম ও মুসার মধ্যকার বিতর্কের সময় আদম মুসাকে বলেছিলেন: "আল্লাহ আপনাকে তাঁর কালামের মাধ্যমে মনোনীত করেছেন এবং স্বহস্তে আপনার জন্য ফলকগুলো লিখেছেন।" অন্য বর্ণনায় এসেছে: "স্বহস্তে আপনার জন্য তাওরাত লিখেছেন।" এটি অন্যতম সহিহ হাদিস। তদ্রূপ সেই প্রসিদ্ধ হাদিসটিও রয়েছে যেখানে বর্ণিত হয়েছে: "ফেরেশতারা বলেছিল: হে রব, আপনি আদম সন্তান সৃষ্টি করেছেন যারা আহার করে, পান করে, বিবাহ করে এবং সওয়ার হয়; সুতরাং তাদের জন্য দুনিয়া নির্ধারণ করে দিন এবং আমাদের জন্য পরকাল। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: আমি সেই ব্যক্তির সৎ বংশধরদের - যাকে আমি আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি এবং যার মধ্যে আমার রুহ ফুঁকে দিয়েছি - তার সমতুল্য করব না, যার সম্পর্কে আমি কেবল বলেছি 'হও'।"
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
فَكَانَ» " وَهَذَا التَّخْصِيصُ إِنَّمَا فُهِمَ مِنْ قَوْلِهِ: {خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} [ص: 75] فَلَوْ كَانَ مِثْلَ قَوْلِهِ: {مِمَّا عَمِلَتْ أَيْدِينَا} [يس: 71] لَكَانَ هُوَ وَالْأَنْعَامُ فِي ذَلِكَ سَوَاءً.
فَلَمَّا فَهِمَ الْمُسْلِمُونَ أَنَّ قَوْلَهُ: {مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} [ص: 75] يُوجِبُ لَهُ تَخْصِيصًا وَتَفْضِيلًا بِكَوْنِهِ مَخْلُوقًا بِالْيَدَيْنِ عَلَى مَنْ أُمِرَ أَنْ يَسْجُدَ لَهُ، وَفَهِمَ ذَلِكَ أَهْلُ الْمَوْقِفِ حِينَ جَعَلُوهُ مِنْ خَصَائِصِهِ، كَانَتِ التَّسْوِيَةُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ قَوْلِهِ: {أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا خَلَقْنَا لَهُمْ مِمَّا عَمِلَتْ أَيْدِينَا أَنْعَامًا} [يس: 71] خَطَأً مَحْضًا، كَذَلِكَ قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَدِيثِ الصَّحِيحِ: " «يَقْبِضُ اللَّهُ سَمَاوَاتِهِ بِيَدِهِ وَالْأَرْضَ بِالْيَدِ الْأُخْرَى» " وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: " «يَمِينُ اللَّهِ مَلْأَى لَا يُغِيضُهَا نَفَقَةٌ سَحَّاءُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْفَقَ مُنْذُ خَلَقَ؟ فَإِنَّهُ لَمْ يَغِضْ مَا فِي يَمِينِهِ، وَبِيَدِهِ الْأُخْرَى الْقِسْطُ يَخْفِضُ وَيَرْفَعُ» " وَقَالَ تَعَالَى: {وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُوا بِمَا قَالُوا بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ} [المائدة: 64] وَفِي الْحَدِيثِ الَّذِي رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي صَحِيحِهِ، فِي أَعْلَى أَهْلِ الْجَنَّةِ مَنْزِلَةً: " «أُولَئِكَ الَّذِينَ غَرَسْتُ كَرَامَتَهُمْ بِيَدَيَّ وَخَتَمْتُ عَلَيْهَا» ".
وَقَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " «خَلَقَ اللَّهُ جَنَّةَ عَدْنٍ وَغَرَسَ أَشْجَارَهَا بِيَدِهِ فَقَالَ لَهَا: تَكَلَّمِي، فَقَالَتْ: قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ» "، وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ:
"সুতরাং এই বৈশিষ্ট্যটি কেবল তাঁর বাণী: 'যাকে আমি আমার দুই হাতে সৃষ্টি করেছি' [ছোয়াদ: ৭৫] থেকেই অনুধাবন করা হয়েছে। যদি এটি তাঁর বাণী: 'যা আমাদের হাতসমূহ তৈরি করেছে' [ইয়াসীন: ৭১]-এর ন্যায় হতো, তবে তিনি (আদম) এবং গবাদি পশুরা এ ক্ষেত্রে সমান হতেন।
অতঃপর মুসলিমগণ যখন বুঝতে পারলেন যে, তাঁর বাণী: 'যাকে আমি আমার দুই হাতে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদাহ করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?' [ছোয়াদ: ৭৫] - উক্তিটি যাকে সিজদাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তার তুলনায় আদমের জন্য দুই হাতে সৃষ্ট হওয়ার কারণে একটি বিশেষত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত করে, এবং হাশরের ময়দানে উপস্থিত লোকজনও যখন একে তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করে এটি অনুধাবন করেছিলেন, তখন এই আয়াত এবং তাঁর বাণী: 'তারা কি দেখে না যে, আমি তাদের জন্য আমার হাতসমূহ দ্বারা যা তৈরি করেছি তা থেকে গবাদি পশু সৃষ্টি করেছি?' [ইয়াসীন: ৭১]-এর মধ্যে সমতা বিধান করা ছিল একটি সুস্পষ্ট ভ্রান্তি। অনুরূপভাবে সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: 'আল্লাহ তাঁর আসমানসমূহকে এক হাতে এবং জমিনকে অন্য হাতে ধারণ করবেন।' এবং তাঁর বাণী: 'আল্লাহর ডান হাত পরিপূর্ণ, দিন-রাতের নিরন্তর দানও তা কমাতে পারে না। তোমরা কি লক্ষ্য করেছ, সৃষ্টির শুরু থেকে তিনি যা ব্যয় করেছেন? নিশ্চয়ই তা তাঁর ডান হাতের ভাণ্ডারকে সামান্যও হ্রাস করতে পারেনি; আর তাঁর অন্য হাতে রয়েছে দাঁড়িপাল্লা, তিনি তা অবনমিত করেন এবং উন্নীত করেন।' আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: 'আর ইয়াহূদীরা বলে, আল্লাহর হাত রুদ্ধ। তাদের হাতই রুদ্ধ হোক এবং তাদের উক্তির জন্য তারা অভিশপ্ত হোক। বরং তাঁর উভয় হাতই প্রসারিত' [আল-মায়িদাহ: ৬৪]। এবং সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদীসে জান্নাতীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্নদের সম্পর্কে বলা হয়েছে: 'তারাই তারা, যাদের সম্মানের বৃক্ষ আমি নিজ হাতে রোপণ করেছি এবং তার ওপর মোহর মেরে দিয়েছি'।
আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: 'আল্লাহ আদন জান্নাত সৃষ্টি করেছেন এবং এর বৃক্ষরাজি নিজ হাতে রোপণ করেছেন। অতঃপর তিনি জান্নাতকে বললেন: কথা বলো। সে বলল: অবশ্যই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে।' আর আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস বলেছেন:"
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুস সাওয়াইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুআত্তিলাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " «إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ ثَلَاثَةَ أَشْيَاءَ بِيَدِهِ: خَلَقَ آدَمَ بِيَدِهِ، وَكَتَبَ التَّوْرَاةَ بِيَدِهِ، وَغَرَسَ الْفِرْدَوْسَ بِيَدِهِ، ثُمَّ قَالَ: وَعِزَّتِي لَا يَدْخُلُهَا مُدْمِنُ خَمْرٍ وَلَا دَيُّوثٌ» "، وَفِي الصَّحِيحِ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم: " «تَكُونُ الْأَرْضُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ خُبْزَةً وَاحِدَةً يَتَكَفَّأُهَا الْجَبَّارُ بِيَدِهِ كَمَا يَتَكَفَّأُ أَحَدُكُمْ خُبْزَتَهُ فِي السَّفَرِ نُزُلًا لِأَهْلِ الْجَنَّةِ» ".
وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي اسْتِفْتَاحِ الصَّلَاةِ: " «لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ بِيَدِكَ» " وَفِي الصَّحِيحِ أَيْضًا عَنْهُ صلى الله عليه وسلم: " «إِنَّ اللَّهَ يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللَّيْلِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ النَّهَارِ، وَيَبْسُطُ يَدَهُ بِالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ اللَّيْلِ» " وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " «الْأَيْدِي ثَلَاثَةٌ: فَيَدُ اللَّهِ الْعُلْيَا، وَيَدُ الْمُعْطِي الَّتِي تَلِيهَا، وَيَدُ السَّائِلِ السُّفْلَى» " وَفِي الصَّحِيحِ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " «الْمُقْسِطُونَ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ، وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِينٌ» ".
وَفِي الْمُسْنَدِ وَغَيْرِهِ مِنْ حَدِيثِ أَبَى هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: " «لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ وَنَفَخَ فِيهِ الرُّوحَ عَطَسَ فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، فَحَمِدَ اللَّهَ بِإِذْنِ اللَّهِ، فَقَالَ لَهُ رَبُّهُ: يَرْحَمُكَ رَبُّكَ يَا آدَمُ، وَقَالَ لَهُ: اذْهَبْ إِلَى أُولَئِكَ الْمَلَائِكَةِ إِلَى نَفَرٍ جُلُوسٍ فَقُلِ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، فَذَهَبَ فَقَالُوا: وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى رَبِّهِ، فَقَالَ: هَذِهِ تَحِيَّتُكَ وَتَحِيَّةُ بَنِيكَ بَيْنَهُمْ، فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى، وَيَدَاهُ مَقْبُوضَتَانِ: اخْتَرْ أَيَّهُمَا شِئْتَ، فَقَالَ: اخْتَرْتُ يَمِينَ رَبِّي، وَكِلْتَا يَدَيْ رَبِّي يَمِينٌ مُبَارَكَةٌ، ثُمَّ بَسَطَهَا فَإِذَا فِيهَا آدَمُ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তিনটি বস্তু নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন: তিনি আদমকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, তাওরাত নিজ হাতে লিখেছেন এবং ফিরদাউস নিজ হাতে রোপণ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: আমার সম্মানের কসম, কোনো মদ্যপায়ী এবং কোনো দাইয়ুস এতে প্রবেশ করবে না।" এবং সহীহ গ্রন্থে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: "কিয়ামত দিবসে পৃথিবী একটি রুটির মতো হয়ে যাবে, যাকে পরাক্রমশালী আল্লাহ নিজ হাতে এমনভাবে উল্টেপাল্টে নেবেন যেমন তোমাদের কেউ সফরের সময় তার রুটিকে উল্টেপাল্টে নেয়; এটি হবে জান্নাতবাসীদের জন্য মেহমানদারি স্বরূপ।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের প্রারম্ভিক দোয়ায় বলতেন: "আমি আপনার দরবারে হাজির ও আপনার আজ্ঞাবহ, এবং সকল কল্যাণ আপনার হাতেই।" এবং সহীহ গ্রন্থে আরও বর্ণিত আছে যে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ রাতে তাঁর হাত প্রসারিত করেন যাতে দিনের অপরাধী তওবা করে, এবং দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন যাতে রাতের অপরাধী তওবা করে।" আর আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হাত তিন প্রকার: আল্লাহর হাত সর্বোচ্চ, এরপর দাতার হাত, এবং সাহায্যপ্রার্থীর হাত হলো সর্বনিম্ন।" এবং সহীহ গ্রন্থে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন: "ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট পরম দয়াময় রহমানের ডান পার্শ্বে নূরের মিম্বরসমূহে আসীন থাকবেন; আর তাঁর উভয় হাতই ডান (অর্থাৎ কল্যাণ ও বরকতময়)।"
মুসনাদ ও অন্যান্য কিতাবে আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত: "যখন আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করলেন এবং তাঁর মধ্যে রূহ ফুঁকে দিলেন, তখন তিনি হাঁচি দিলেন এবং বললেন: 'আলহামদুলিল্লাহ' (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য)। আল্লাহর অনুমতিক্রমেই তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন। তখন তাঁর রব তাঁকে বললেন: 'হে আদম, তোমার রব তোমার ওপর দয়া করুন।' আরও বললেন: 'তুমি ওই ফেরেশতাদের দলের কাছে যাও যারা সেখানে বসে আছে এবং বলো—আসসালামু আলাইকুম।' তিনি গেলেন এবং তারা উত্তরে বলল—'ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।' অতঃপর তিনি তাঁর রবের নিকট ফিরে এলেন। আল্লাহ বললেন: 'এটিই তোমার এবং তোমার সন্তানদের পারস্পরিক অভিবাদন।' অতঃপর আল্লাহ তাআলা—এমতাবস্থায় যে তাঁর উভয় হাত মুষ্টিবদ্ধ ছিল—বললেন: 'তুমি এই দুটির মধ্যে যেটি চাও পছন্দ করো।' তিনি বললেন: 'আমি আমার রবের ডান হাতটি পছন্দ করলাম, আর আমার রবের উভয় হাতই ডান এবং বরকতময়।' অতঃপর তিনি তা প্রসারিত করলেন এবং দেখা গেল তাতে আদম..."