(খণ্ড: ১)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: -)
مشكاة المصابيح القسم: كتب السنة
الكتاب: مشكاة المصابيح
المؤلف: محمد بن عبد الله الخطيب التبريزي
المحقق: محمد ناصر الدين الألباني
الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت
الطبعة: الثالثة، 1985
عدد الأجزاء: 3
تنبيه: أعاد المحقق النظر في كثيرٍ من أحكامه على أحاديث هذا الكتاب؛ حتى إنه صار يُسمّيه في كتبِه "التحقيق الثاني للمشكاة"، وقد طُبع هذا التحقيق الثاني بحواشي "هداية الرواة" لابن حجَر بتحقيق علي بن حسن الحلبي
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মিশকাতুল মাসাবিহ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: মিশকাতুল মাসাবিহ
লেখক: মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-খতিব আত-তাবরিজি
তাহকীককারী: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি
প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামি - বৈরুত
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৯৮৫
খণ্ড সংখ্যা: ৩
সতর্কবার্তা: গবেষক এই কিতাবের হাদিসসমূহের ওপর তাঁর অনেক হুকুম বা সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা করেছেন; এমনকি তিনি তাঁর বিভিন্ন কিতাবে একে "মিশকাতের দ্বিতীয় তাহকীক" হিসেবে নামকরণ করেছেন। এই দ্বিতীয় তাহকীকটি আলী বিন হাসান আল-হালাবির সম্পাদনায় ইবনে হাজারের "হিদায়াতুর রুওয়াত"-এর টীকা (হাশিয়া) সহ মুদ্রিত হয়েছে।
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٣)
مُقَدّمَة الْمُؤلفبِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه نستعين
الْحَمد لله، ونحمده وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمن سيئات أَعمالنَا، من ييهده اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ. وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ شَهَادَةً تَكُونُ لِلنَّجَاةِ وَسِيلَةً، وَلِرَفْعِ الدَّرَجَاتِ كَفِيلَةً، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، الَّذِي بَعثه وطرق الْإِيمَانِ قَدْ عَفَتْ آثَارُهَا، وَخَبَتْ أَنْوَارُهَا، وَوَهَنَتْ أَرْكَانهَا، وَجَهل مَكَانهَا، فشيد صلوَات الله وسلامة عَلَيْهِ من معالمها مَا عَفا، وشفى من الغليل فِي تَأْيِيدِ كَلِمَةِ التَّوْحِيدِ مَنْ كَانَ عَلَى شفى، وأوضح سَبِيل الهادية لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يَسْلُكَهَا، وَأَظْهَرَ كُنُوزَ السَّعَادَةِ لِمَنْ قَصَدَ أَنْ يَمْلِكَهَا. أَمَّا بَعْدُ؛ فَإِنَّ التَّمَسُّكَ بِهَدْيهِ لَا يَسْتَتِبُّ إِلَّا بِالِاقْتِفَاءِ لِمَا صَدَرَ مِنْ مِشْكَاتِهِ، وَالِاعْتِصَامُ بِحَبْلِ اللَّهِ لَا يَتِمُّ إِلَّا بِبَيَانِ كَشْفِهِ، وَكَانَ «كِتَابُ الْمَصَابِيحِ» - الَّذِي صَنَّفَهُ الْإِمَامُ مُحْيِي السُّنَّةِ، قَامِعُ الْبِدْعَةِ، أَبُو مُحَمَّد الْحُسَيْن بن مَسْعُود الْفراء الْبَغَوِيُّ، رَفَعَ اللَّهُ دَرَجَتَهُ - أَجْمَعَ كِتَابٍ صُنِّفَ فِي بَابِهِ، وَأَضْبَطَ لِشَوَارِدِ الْأَحَادِيثِ وَأَوَابِدِهَا. وَلَمَّا سلك رضي الله عنه طَرِيق الِاخْتِصَارَ، وَحَذَفَ الْأَسَانِيدَ؛ تَكَلَّمَ فِيهِ
লেখকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; এমন সাক্ষ্য যা মুক্তির মাধ্যম হবে এবং মর্যাদা বৃদ্ধির জামানত হবে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁকে এমন সময়ে প্রেরণ করেছেন যখন ঈমানের পথসমূহের চিহ্নসমূহ মিটে গিয়েছিল, তার আলোগুলো নিভে গিয়েছিল, তার স্তম্ভসমূহ দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং তার অবস্থান অজ্ঞাত হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক, তিনি ঈমানের নিদর্শনাবলির যা মিটে গিয়েছিল তা পুনর্নির্মাণ করেছেন এবং যারা তাওহিদের বাণীর সমর্থনে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ছিল তাদের অন্তর্জ্বালা নিরাময় করেছেন। যারা হিদায়াতের পথে চলতে চায় তাদের জন্য তিনি পথ সুস্পষ্ট করেছেন এবং যারা সৌভাগ্যের ভাণ্ডার লাভ করতে চায় তাদের জন্য তা প্রকাশ করেছেন। অতঃপর, তাঁর আদর্শের অনুসরণ ব্যতীত তাঁর প্রদর্শিত পথ আঁকড়ে ধরা সুদৃঢ় হয় না, আর আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে ধারণ করা তাঁর ব্যাখ্যা ও উন্মোচন ব্যতীত পূর্ণ হয় না। 'কিতাবুল মাসাবিহ'—যা ইমাম মুহয়িস সুন্নাহ (সুন্নাতকে উজ্জীবিতকারী), বিদআত দমনকারী, আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ আল-ফাররা আল-বাগাভী (আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন) সংকলন করেছেন—তা ছিল এই বিষয়ে সংকলিত সর্বাধিক তথ্যসমৃদ্ধ এবং বিরল ও দুষ্প্রাপ্য হাদিসসমূহ সংরক্ষণে অত্যন্ত নির্ভুল গ্রন্থ। যখন তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সংক্ষেপণের পথ অবলম্বন করলেন এবং সনদসমূহ বিলোপ করলেন, তখন এ নিয়ে আলোচনা হলো।
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٤)
بَعْضُ النُّقَّادِ، وَإِنْ كَانَ نَقْلُهُ - وَإِنَّهُ مِنَ الثِّقَاتِ - كَالْإِسْنَادِ، لَكِنْ لَيْسَ مَا فِيهِ أَعْلَامٌ كالأغفال، فاستخرت الله تَعَالَى، واستوفقت مِنْهُ، فأعلمت مَا أغفله، فأودعت كل حَدِيث مِنْهُ فِي مقره كَمَا رَوَاهُ الْأَئِمَّة المنقنون، وَالثِّقَاتُ الرَّاسِخُونَ؛ مِثْلُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيِّ، وَأَبِي الْحُسَيْنِ مُسْلِمِ بْنِ الْحَجَّاجِ الْقُشَيْرَيِّ، وَأَبِي عَبْدِ اللَّهِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ الْأَصْبَحِيِّ، وَأَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ
কতিপয় সমালোচক, যদিও তাঁদের বর্ণনা—এবং তাঁরা নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত—সনদের মতো, কিন্তু যাতে প্রখ্যাত আলেমদের নাম রয়েছে তা অখ্যাতদের মতো নয়। অতঃপর আমি আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তিখারা করলাম এবং তাঁর নিকট তাওফীক কামনা করলাম। অতঃপর তিনি যা উপেক্ষা করেছিলেন তা আমি চিহ্নিত করলাম এবং এর প্রতিটি হাদিসকে তার যথাস্থানে স্থাপন করলাম যেভাবে তা সুনিপুণ ইমামগণ এবং সুদৃঢ় নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করেছেন; যেমন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি, আবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আল-কুশাইরি, আবু আব্দুল্লাহ মালিক বিন আনাস আল-আসবাহি এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন...
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
إِدْرِيسَ الشَّافِعِيِّ، وَأَبِي عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّد بن حَنْبَل الشَّيْبَانِيّ، وَأبي عِيسَى مُحَمَّد بن عِيسَى التِّرْمِذِيِّ، وَأَبِي دَاوُدَ سُلَيْمَانَ بْنِ الْأَشْعَثِ السِّجِسْتَانِيِّ، وَأَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَحْمَدَ بْنِ شُعَيْبٍ النَّسَائِيِّ، وَأبي عبد الله مُحَمَّد بن يزِيد بن مَاجَهْ الْقَزْوِينِيِّ، وَأَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيِّ، وَأَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ عمر
ইদ্রিস আশ-শাফিঈ, এবং আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল আশ-শায়বানি, এবং আবু ঈসা মুহাম্মাদ বিন ঈসা আত-তিরমিযী, এবং আবু দাউদ সুলায়মান বিন আল-আশআস আস-সিজিস্তানি, এবং আবু আব্দুর রহমান আহমাদ বিন শুআইব আন-নাসায়ী, এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইয়াজিদ বিন মাজাহ আল-কাযউইনি, এবং আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আদ-দারিমি, এবং আবু আল-হাসান আলী বিন উমর।
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
الدَّارَقُطْنِيِّ، وَأَبِي بَكْرٍ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ الْبَيْهَقِيِّ، وَأَبِي الْحَسَنِ رَزِينِ بْنِ مُعَاوِيَةَ الْعَبْدَرِيِّ، وَغَيْرِهِمْ وَقَلِيلٌ مَا هُوَ. وَإِنِّي إِذَا نَسَبْتُ الْحَدِيثَ إِلَيْهِمْ كَأَنِّي أَسْنَدْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم؛ لأَنهم قدفرغوا مِنْهُ، وَأَغْنَوْنَا عَنْهُ. وَسَرَدْتُ الْكُتُبَ وَالْأَبْوَابَ كَمَا سَرَدَهَا، وَاقْتَفَيْتُ أَثَرَهُ فِيهَا، وَقَسَّمْتُ كُلَّ بَابٍ غَالِبًا عَلَى فُصُولٍ ثَلَاثَةٍ: أَوَّلُهَا: مَا أَخْرَجَهُ الشَّيْخَانِ أَوْ أَحَدُهُمَا، وَاكْتَفَيْتُ بِهِمَا وَإِنِ اشْتَرَكَ فِيهِ الْغَيْرُ؛ لِعُلُوِّ دَرَجَتِهِمَا فِي الرِّوَايَةِ. وَثَانِيهَا: مَا أَوْرَدَهُ غَيْرُهُمَا مِنَ الْأَئِمَّةِ الْمَذْكُورِينَ.
আদ-দারা কুতনী, আবু বকর আহমাদ বিন আল-হুসাইন আল-বায়হাকী, আবু আল-হাসান রাযীন বিন মুআবিয়াহ আল-আবদারী এবং অন্যান্যরা, তবে তাঁদের থেকে বর্ণিত হাদিস সংখ্যায় খুবই কম। আর আমি যখন কোনো হাদিসকে তাঁদের দিকে সম্বন্ধ করি, তখন আমি যেন তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকেই সম্বন্ধ করলাম; কেননা তাঁরা এর কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং আমাদেরকে (অতিরিক্ত অনুসন্ধান থেকে) অমুখাপেক্ষী করেছেন। আমি কিতাব ও অধ্যায়সমূহকে সেভাবেই সাজিয়েছি যেভাবে তিনি সাজিয়েছেন এবং আমি এক্ষেত্রে তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি। আমি প্রতিটি অধ্যায়কে সাধারণত তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি: প্রথমটি হলো যা শাইখাইন অথবা তাঁদের কোনো একজন বর্ণনা করেছেন; আমি কেবল তাঁদের উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছি যদিও অন্যরা তাতে শরিক রয়েছেন, রেওয়ায়েতের ক্ষেত্রে তাঁদের উচ্চ মর্যাদার কারণে। দ্বিতীয়টি হলো যা তাঁদের দু’জন ব্যতীত উল্লিখিত অন্যান্য ইমামগণ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
وَثَالِثُهَا: مَا اشْتَمَلَ عَلَى مَعْنَى الْبَابِ مِنْ محلقات مُنَاسِبَةٍ مَعَ مُحَافَظَةٍ عَلَى الشَّرِيطَةِ، وَإِنْ كَانَ مَأْثُورًا عَنِ السَّلَفِ وَالْخَلَفِ. ثُمَّ إِنَّكَ إِنْ فَقَدْتَ حَدِيثًا فِي بَابٍ؛ فَذَلِكَ عَنْ تَكْرِيرٍ أُسْقِطُهُ. وَإِنْ وَجَدْتَ آخَرَ بَعْضَهُ مَتْرُوكًا عَلَى اخْتِصَارِهِ، أَوْ مَضْمُومًا إِلَيْهِ تَمَامُهُ؛ فَعَنْ دَاعِي اهْتِمَامٍ أَتْرُكُهُ وَأُلْحِقُهُ. وَإِنْ عَثَرْتَ عَلَى اخْتِلَافٍ فِي الْفَصْلَيْنِ مِنْ ذِكْرِ غَيْرِ الشَّيْخَيْنِ فِي الْأَوَّلِ، وَذِكْرِهِمَا فِي الثَّانِي؛ فَاعْلَمْ أَنِّي بَعْدَ تتبعي كتابي «الْجمع بَين الصحيحن» لِلْحُمَيْدِيِّ، وَ «جَامِعَ الْأُصُولِ» ؛ اعْتَمَدْتُ عَلَى صَحِيحَيِ الشَّيْخَيْنِ وَمَتْنَيْهِمَا. وَإِنْ رَأَيْتَ اخْتِلَافًا فِي نَفْسِ الْحَدِيثِ؛ فَذَلِكَ مِنْ تَشَعُّبِ طُرُقِ الْأَحَادِيثِ، وَلَعَلِّي مَا أطلعت على تِلْكَ الرِّوَايَة التس سَلَكَهَا الشَّيْخُ رضي الله عنه. وَقَلِيلًا مَا تَجِدُ أَقُولُ: مَا وَجَدْتُ هَذِهِ الرِّوَايَةَ فِي كتب وَجَدْتُ خِلَافَهَا فِيهَا. فَإِذَا وَقَفْتَ عَلَيْهِ فَانْسِبِ الْقُصُورَ إِلَيَّ لِقِلَّةِ الدِّرَايَةِ، لَا إِلَى جَنَابِ الشَّيْخِ رَفَعَ اللَّهُ قَدْرَهُ فِي الدَّارَيْنِ، حَاشَا لِلَّهِ مِنْ ذَلِكَ. رَحِمَ اللَّهُ مَنْ إِذَا وَقَفَ عَلَى ذَلِكَ نَبَّهَنَا عَلَيْهِ، وَأَرْشَدَنَا طَرِيقَ الصَّوَابِ. وَلَمْ آلُ جُهْدًا فِي التَّنْقِيرِ وَالتَّفْتِيشِ بِقَدْرِ الْوُسْعِ وَالطَّاقَةِ، وَنَقَلْتُ ذَلِكَ الِاخْتِلَافَ كَمَا وجدت.
তৃতীয় প্রকার হলো: যা শর্তসমূহ রক্ষা করার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক পরিশিষ্টসমূহ হতে অধ্যায়ের মূল অর্থের অন্তর্ভুক্ত, যদিও তা উত্তরসূরি ও পূর্বসূরিদের (সালাফ ও খালাফ) নিকট থেকে বর্ণিত হয়েছে। এরপর যদি আপনি কোনো অধ্যায়ে কোনো হাদিস না পান, তবে তা পুনরাবৃত্তির কারণে হতে পারে যা আমি বাদ দিয়েছি। আর যদি অন্য কোনো হাদিস পান যার কিছু অংশ সংক্ষিপ্তকরণের জন্য বর্জন করা হয়েছে অথবা তার পূর্ণাঙ্গ রূপটি এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে, তবে তা কোনো বিশেষ গুরুত্বের তাগিদে আমি বর্জন করেছি অথবা যুক্ত করেছি। আর আপনি যদি দুই পরিচ্ছেদে কোনো পার্থক্য লক্ষ্য করেন—যেমন প্রথম পরিচ্ছেদে শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) ব্যতীত অন্য কারো কথা উল্লেখ করা এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে তাঁদের নাম উল্লেখ করা—তবে জেনে রাখুন যে, হুমাইদির ‘আল-জামউ বাইনাস সহিহাইন’ এবং ‘জামেউল উসুল’ গ্রন্থ দুটি পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণের পর আমি শাইখাইনের সহিহ গ্রন্থদ্বয় এবং তাঁদের মূল পাঠের (মতন) ওপর নির্ভর করেছি। আর যদি আপনি খোদ হাদিসের পাঠে কোনো পার্থক্য দেখেন, তবে তা হাদিসের সূত্রসমূহের বৈচিত্র্যের কারণে হয়েছে। সম্ভবত আমি সেই বর্ণনাটি সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি যা শাইখ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) অনুসরণ করেছেন। খুব কমই আপনি আমাকে বলতে শুনবেন যে: ‘আমি এই বর্ণনাটি গ্রন্থসমূহে পাইনি বরং তার বিপরীত পেয়েছি’। সুতরাং যখন আপনি এমন কিছুর সম্মুখীন হবেন, তখন সেই ত্রুটিকে আমার স্বল্পজ্ঞানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করবেন, শাইখ (আল্লাহ উভয় জগতে তাঁর মর্যাদা উচ্চ করুন) এর উচ্চ মাকামের দিকে নয়; আল্লাহর কাছে পানাহ চাই তেমনটি ভাবা থেকে। আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন, যিনি যখনই এমন কিছু লক্ষ্য করবেন আমাদের তা অবগত করবেন এবং সঠিক পথের দিশা দেবেন। আমি আমার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী তন্নতন্ন করে অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই করতে কোনো ত্রুটি করিনি এবং সেই পার্থক্যগুলো যেভাবে পেয়েছি সেভাবেই বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
وَمَا أَشَارَ إِلَيْهِ رضي الله عنه مِنْ غَرِيبٍ أَوْ ضَعِيفٍ أَوْ غَيْرِهِمَا؛ بَيَّنْتُ وَجْهَهُ غَالِبًا، وَمَا لَمْ يُشِرْ إِلَيْهِ مِمَّا فِي الْأُصُولِ؛ فَقَدْ قَفَّيْتُهُ فِي تَرْكِهِ، إِلَّا فِي مَوَاضِع لغَرَض. وَرُبمَا تَجِد مَوَاضِع مهملهة، وَذَلِكَ حَيْثُ لم أطلع على رِوَايَة فَتَرَكْتُ الْبَيَاضَ، فَإِنْ عَثَرْتَ عَلَيْهِ فَأَلْحِقْهُ بِهِ، أَحْسَنَ اللَّهُ جَزَاءَكُ. وَسَمَّيْتُ الْكِتَابَ.
بِ «مِشْكَاةِ الْمَصَابِيحِ»
وَأَسْأَلُ اللَّهَ التَّوْفِيقَ وَالْإِعَانَةَ وَالْهِدَايَةَ وَالصِّيَانَةَ، وَتَيْسِيرَ مَا أَقْصِدُهُ، وَأَنْ يَنْفَعَنِي فِي الْحَيَاةِ وَبَعْدَ الْمَمَاتِ، وَجَمِيعَ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ. حَسْبِيَ اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ. وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ.
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কোনো ‘গারিব’, ‘জঈফ’ বা অন্য কোনো প্রকারের যে ইঙ্গিত করেছেন, আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার কারণ স্পষ্ট করেছি। আর মূল উৎসগ্রন্থসমূহে তিনি যা নির্দেশ করেননি, তা বর্জনের ক্ষেত্রে আমি তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি, তবে বিশেষ উদ্দেশ্যে কিছু স্থান ব্যতীত। সম্ভবত আপনি কিছু স্থান অপূর্ণ পাবেন, আর তা এজন্য যে, আমি কোনো বর্ণনা খুঁজে না পাওয়ায় সেখানে শূন্যস্থান রেখেছি; সুতরাং আপনি যদি তা খুঁজে পান তবে তা সেখানে যুক্ত করে দিন, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আর আমি কিতাবটির নাম রেখেছি—
‘মিশকাতুল মাসাবিহ’
আমি আল্লাহর কাছে তাওফিক, সাহায্য, হিদায়াত ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি এবং আমি যা সংকল্প করেছি তা সহজ করার আবেদন জানাচ্ছি। আর তিনি যেন ইহকালে ও পরকালে আমাকে এবং সকল মুসলিম নর-নারীকে এর দ্বারা উপকৃত করেন। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। মহা পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
كتاب الْإِيمَان
ঈমান অধ্যায়
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
الْفَصْل الأول
প্রথম পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
1 - (مُتَّفق عَلَيْهِ)
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لكل امْرِئ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهجرَته إِلَى مَا هَاجر إِلَيْهِ»
১ - (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত্যপ্রাপ্ত)
উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি কেবল তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত পার্থিব দুনিয়া লাভের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই লক্ষ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।»
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
2 -[1] (صَحِيح)
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعْرِ لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فأسند رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخْذَيْهِ وَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِسْلَامِ قَالَ: " الْإِسْلَامُ: أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ". قَالَ: صَدَقْتَ. فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ. قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِيمَانِ. قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» . قَالَ صَدَقْتَ. قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِحْسَانِ. قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» . قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ. قَالَ: «مَا المسؤول عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ» . قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَاتِهَا. قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ» . قَالَ: ثُمَّ انْطَلَقَ فَلَبِثْتُ مَلِيًّا ثُمَّ قَالَ لِي: «يَا عُمَرُ أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ» ؟ قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «فَإِنَّهُ جِبْرِيل أَتَاكُم يعلمكم دينكُمْ» . رَوَاهُ مُسلم
২ -[১] (সহীহ)
উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় আমাদের সামনে এক ব্যক্তি উদিত হলেন যার পোশাক ছিল অত্যন্ত সাদা এবং চুল ছিল অত্যন্ত কালো। তাঁর মাঝে সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁকে চিনত না। অবশেষে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসলেন এবং নিজের হাঁটুদ্বয়কে তাঁর হাঁটুদ্বয়ের সাথে মিলিয়ে দিলেন এবং নিজের দুই হাতের তালু তাঁর উরুর ওপর রাখলেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: "ইসলাম হলো এই যে, তুমি সাক্ষ্য দেবে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, রমজানের সিয়াম পালন করবে এবং বায়তুল্লাহর হজ করবে যদি সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে।" তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। আমরা তাঁর প্রতি বিস্মিত হলাম যে, তিনি তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার তাঁর সত্যায়ন করছেন। তিনি বললেন: আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: «তুমি ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি»। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন»। তিনি বললেন: আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: «এই বিষয়ে যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক অবগত নন»। তিনি বললেন: তবে আমাকে এর আলামতসমূহ সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: «দাসী তার মালিককে জন্ম দেবে এবং তুমি দেখতে পাবে নগ্নপদ, উলঙ্গদেহ ও অভাবী মেষপালকগণ সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে পরস্পর প্রতিযোগিতা করছে»। তিনি (উমর) বলেন: তারপর তিনি চলে গেলেন এবং আমি দীর্ঘ সময় অবস্থান করলাম। অতঃপর তিনি (নবীজী) আমাকে বললেন: «হে উমর! তুমি কি জানো প্রশ্নকারী কে ছিলেন»? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন: «তিনি ছিলেন জিবরীল, তিনি তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে তোমাদের নিকট এসেছিলেন»। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
3 -[2] (مُتَّفق عَلَيْهِ)
وَرَوَاهُ أَبُو هُرَيْرَة مَعَ اخْتِلَافٍ وَفِيهِ: " وَإِذَا رَأَيْتَ الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الصُّمَّ الْبُكْمَ مُلُوكَ الْأَرْضِ فِي خَمْسٍ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا اللَّهُ. ثُمَّ قَرَأَ: (إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ)
الْآيَة
৩ -[২] (বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মত)
এবং আবু হুরায়রা (রা.) এটি কিছুটা ভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: "আর যখন আপনি দেখবেন যে নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, বধির ও মূক ব্যক্তিবর্গ জমিনের অধিপতি হয়ে গেছে; (কিয়ামতের সময়কাল) সেই পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।" এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে এবং তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন)
আয়াতটি।
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
4 -[3] (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالْحَجِّ وَصَوْمِ رَمَضَانَ "
৪ -[৩] (সর্বসম্মত)
ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, হজ সম্পাদন করা এবং রমাদানের সিয়াম পালন করা।"
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
5 -[4] (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْإِيمَانُ بضع وَسَبْعُونَ شُعْبَة فأفضلها: قَول لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَدْنَاهَا: إِمَاطَةُ الْأَذَى عَن الطَّرِيق والحياة شُعْبَة من الايمان "
৫ -[৪] (বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমতে বর্ণিত)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে। তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' এ কথা বলা, এবং তার মধ্যে সর্বনিম্ন হলো: রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি শাখা।"
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
6 -[5] (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ» هَذَا لَفْظُ الْبُخَارِيِّ وَلِمُسْلِمٍ قَالَ: " إِنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: أَيُّ الْمُسْلِمِينَ خَيْرٌ؟ قَالَ: مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ من لِسَانه وَيَده "
৬ -[৫] (মুত্তাফাকুন আলাইহি)
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে এবং প্রকৃত মুহাজির সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা পরিত্যাগ করে» এটি বুখারীর শব্দ। আর মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: মুসলিমদের মধ্যে কে সর্বোত্তম? তিনি বললেন: যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।"
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
7 -[6] (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ»
৭ -[৬] (সর্বসম্মতভাবে বর্ণিত)
আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।"
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
8 -[7] (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ بِهِنَّ حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ: مَنْ كَانَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَمَنْ أَحَبَّ عَبْدًا لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ
⦗ص: 11⦘ وَمَنْ يَكْرَهُ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ بَعْدَ أَنْ أَنْقَذَهُ اللَّهُ مِنْهُ كَمَا يكره أَن يلقى فِي النَّار "
৮ -[৭] (ঐক্যমতে বর্ণিত)
আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে সে ঈমানের মিষ্টতা লাভ করবে: যার নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অন্য সবকিছু অপেক্ষা অধিক প্রিয় হবে, যে কোনো ব্যক্তিকে কেবল আল্লাহর জন্যই ভালোবাসবে,
⦗পৃষ্ঠা: ১১⦘ এবং আল্লাহ তাকে কুফর থেকে মুক্তি দেওয়ার পর পুনরায় কুফুরিতে ফিরে যাওয়াকে সে তেমন অপছন্দ করবে যেমন সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে।"
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
9 -[8] (صَحِيح)
وَعَن الْعَبَّاس بن عبد الْمطلب قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «ذَاقَ طَعْمَ الْإِيمَانِ مَنْ رَضِيَ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
৯ -[৮] (সহিহ)
আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «সেই ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করেছে, যে আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রাসূল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছে»। মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
10 -[9] (صَحِيحٌ)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا يسمع بِي أحدق مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ يَهُودِيٌّ وَلَا نَصْرَانِيٌّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَّا كَانَ من أَصْحَاب النَّار» . رَوَاهُ مُسلم
১০ -[৯] (সহিহ)
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সেই সত্তার কসম যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ রয়েছে, এই উম্মতের কোনো ইহুদি বা খ্রিস্টান যদি আমার কথা শোনে এবং আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার ওপর ঈমান না এনেই মৃত্যুবরণ করে, তবে সে অবশ্যই জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।» মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
11 -[10] (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " ثَلَاثَةٌ لَهُمْ أَجْرَانِ: رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمَنَ بِنَبِيِّهِ وَآمَنَ بِمُحَمَّدٍ وَالْعَبْدُ الْمَمْلُوكُ إِذَا أَدَّى حَقَّ اللَّهِ وَحَقَّ مَوَالِيهِ وَرَجُلٌ كَانَتْ عِنْدَهُ أَمَةٌ يَطَؤُهَا فَأَدَّبَهَا فَأَحْسَنَ تَأْدِيبَهَا وَعَلَّمَهَا فَأَحْسَنَ تَعْلِيمِهَا ثُمَّ أَعْتَقَهَا فَتَزَوَّجَهَا فَلَهُ أَجْرَانِ "
১১ -[১০] (বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত্যপ্রাপ্ত)
আবু মুসা আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তিন প্রকার ব্যক্তি রয়েছে যাদের জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান আছে: আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত এমন ব্যক্তি যে তার নিজের নবীর প্রতি ঈমান এনেছে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতিও ঈমান এনেছে; আর সেই মালিকানাধীন দাস যে আল্লাহর হক আদায় করে এবং তার মনিবদের হকও আদায় করে; এবং সেই ব্যক্তি যার কাছে কোনো দাসী ছিল যার সাথে সে সহবাস করত, অতঃপর সে তাকে আদব শিক্ষা দিয়েছে এবং অত্যন্ত উত্তমভাবে আদব শিক্ষা দিয়েছে, আর তাকে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছে এবং অত্যন্ত উত্তমভাবে জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছে, এরপর তাকে মুক্ত করে দিয়েছে এবং তাকে বিবাহ করেছে—তার জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান রয়েছে।"
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
12 -[11] (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَق الْإِسْلَام وحسابهم على الله. إِلَّا أَنَّ مُسْلِمًا لَمْ يَذْكُرْ» إِلَّا بِحَقِّ الْإِسْلَام "
১২ -[১১] (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মত)
ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "আমাকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আর তারা সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে। যখন তারা এগুলো করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে—ইসলামের হক ব্যতীত; আর তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।" তবে ইমাম মুসলিম "ইসলামের হক ব্যতীত" কথাটি উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
13 -[12] (صَحِيح)
وَعَن أنس أَنَّهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَلَّى صَلَاتَنَا وَاسْتَقْبَلَ قِبْلَتَنَا وَأَكَلَ ذَبِيحَتَنَا فَذَلِكَ الْمُسْلِمُ الَّذِي لَهُ ذِمَّةُ اللَّهِ وَذِمَّةُ رَسُولِهِ فَلَا تُخْفِرُوا اللَّهَ فِي ذمَّته» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
১৩ -[১২] (সহীহ)
আনাস (রা.) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমাদের মতো সালাত আদায় করল, আমাদের কিবলার দিকে মুখ ফিরল এবং আমাদের জবেহকৃত পশু আহার করল, সেই হলো মুসলিম যার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিরাপত্তা রয়েছে। অতএব আল্লাহর দেওয়া নিরাপত্তার বিষয়ে তোমরা তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না»। এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
14 -[13] (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: أَتَى أَعْرَابِيٌّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ إِذَا عَمِلْتُهُ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ. قَالَ: «تَعْبُدُ اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ
⦗ص: 12⦘ وَتُؤَدِّي الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ وَتَصُومُ رَمَضَانَ» . قَالَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا شَيْئًا وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُ. فَلَمَّا وَلَّى قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْجنَّة فَلْينْظر إِلَى هَذَا»
১৪ -[১৩] (মুত্তাফাকুন আলাইহি)
আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: একজন গ্রাম্য ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলে দিন যা করলে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব। তিনি বললেন: «তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরীক করবে না, ফরয সালাত কায়েম করবে
⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘ নির্ধারিত যাকাত প্রদান করবে এবং রমযানের রোযা রাখবে»। সে বলল: সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, আমি এর ওপর কোনো কিছু বৃদ্ধি করব না এবং তা থেকে কোনো কিছু কমাবও না। অতঃপর যখন সে চলে গেল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «যাকে জান্নাতী কোনো মানুষকে দেখে আনন্দিত হওয়া খুশি করে, সে যেন এই ব্যক্তির দিকে তাকায়»।
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
15 -[14] (صَحِيح)
وَعَن سُفْيَان بن عبد الله الثَّقَفِيّ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ قُلْ لِي فِي الْإِسْلَامِ قَوْلًا لَا أَسْأَلُ عَنْهُ أَحَدًا بَعْدَكَ وَفِي رِوَايَةٍ: غَيْرَكَ قَالَ: " قُلْ: آمَنْتُ بِاللَّه ثمَّ اسْتَقِم. رَوَاهُ مُسلم
১৫ -[১৪] (সহীহ)
সুফইয়ান বিন আবদুল্লাহ আস-সাকাফী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ইসলাম সম্পর্কে আমাকে এমন একটি কথা বলে দিন, যা আপনার পর আমি আর কাউকে জিজ্ঞাসা করব না। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: আপনি ছাড়া আর কাউকে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তুমি বলো: আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি, অতঃপর তাতে অবিচল থাকো।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
16 -[15] (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
وَعَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ ثَائِرُ الرَّأْسِ نَسْمَعُ دَوِيَّ صَوْتِهِ وَلَا نَفَقَهُ مَا يَقُولُ حَتَّى دَنَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الْإِسْلَامِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَمْسُ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ» . فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُنَّ؟ فَقَالَ: " لَا إِلَّا أَنْ تَطَّوَّعَ. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: وَصِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ ". قَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُ؟ قَالَ: «لَا إِلَّا أَنْ تَطَّوَّعَ» . قَالَ: وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الزَّكَاةَ فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهَا؟ فَقَالَ: " لَا إِلَّا أَنْ تَطَّوَّعَ. قَالَ: فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ: وَاللَّهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَفْلح الرجل إِن صدق»
১৬ -[১৫] (সর্বসম্মত)
তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নজদবাসীদের মধ্য থেকে উস্কোখুস্কো চুলবিশিষ্ট এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আগমন করল। আমরা তার কণ্ঠের গুঞ্জন শুনতে পাচ্ছিলাম কিন্তু সে কী বলছিল তা আমরা বুঝতে পারছিলাম না, যতক্ষণ না সে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটবর্তী হলো। তখন দেখা গেল যে সে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা।» সে বলল: "আমার ওপর কি এগুলো ছাড়া অন্য কোনো সালাত আছে?" তিনি বললেন: "না, তবে তুমি যদি নফল হিসেবে আদায় করো।" আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বললেন: "এবং রমজান মাসের সিয়াম পালন করা।" সে বলল: "আমার ওপর কি এগুলো ছাড়া অন্য কোনো সিয়াম আছে?" তিনি বললেন: «না, তবে তুমি যদি নফল হিসেবে পালন করো।» বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নিকট যাকাতের বিধান উল্লেখ করলেন। সে বলল: "আমার ওপর কি এগুলো ছাড়া অন্য কোনো যাকাত আছে?" তিনি বললেন: "না, তবে তুমি যদি নফল হিসেবে দান করো।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর লোকটি এই বলতে বলতে প্রস্থান করল: "আল্লাহর শপথ! আমি এর ওপর কোনো বৃদ্ধি করব না এবং এর থেকে কিছু কমাবও না।" তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে সে সফলকাম হলো।»
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
17 -[16] (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: إِنَّ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ لَمَّا أَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَنِ الْقَوْمُ؟ أَوْ: مَنِ الْوَفْدُ؟ " قَالُوا: رَبِيعَةُ. قَالَ: " مَرْحَبًا بِالْقَوْمِ أَوْ: بِالْوَفْدِ غَيْرَ خَزَايَا وَلَا نَدَامَى ". قَالُوا: يَا رَسُول الله إِنَّا لَا نستطيع أَن نَأْتِيَكَ إِلَّا فِي الشَّهْرِ الْحَرَامِ وَبَيْنَنَا وَبَيْنَكَ هَذَا الْحَيُّ مِنْ كُفَّارِ مُضَرَ فَمُرْنَا بِأَمْرٍ فصل نخبر بِهِ مَنْ وَرَاءَنَا وَنَدْخُلُ بِهِ الْجَنَّةَ وَسَأَلُوهُ عَنِ الْأَشْرِبَةِ. فَأَمَرَهُمْ بِأَرْبَعٍ وَنَهَاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ:
⦗ص: 13⦘ أَمَرَهُمْ بِالْإِيمَانِ بِاللَّهِ وَحْدَهُ قَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا الْإِيمَانُ بِاللَّهِ وَحْدَهُ؟» قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَصِيَامِ رَمَضَانَ وَأَنْ تُعْطُوا مِنَ الْمَغْنَمِ الْخُمُسَ»
وَنَهَاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ: عَنِ الْحَنْتَمِ وَالدُّبَّاءِ وَالنَّقِيرِ وَالْمُزَفَّتِ وَقَالَ: «احْفَظُوهُنَّ وَأَخْبِرُوا بِهِنَّ مَنْ وَرَاءَكُمْ» وَلَفظه للْبُخَارِيّ
১৭ -[১৬] (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত পোষণকৃত)
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধিদল যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "এরা কোন সম্প্রদায়? অথবা এই প্রতিনিধিদলটি কারা?" তারা বলল: "রাবিআ"। তিনি বললেন: "এই সম্প্রদায়কে অথবা এই প্রতিনিধিদলকে স্বাগতম, যারা লাঞ্ছিত ও অনুতপ্ত না হয়েই এসেছে।" তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কেবল পবিত্র মাসগুলো ছাড়া আপনার কাছে আসতে সক্ষম নই, কারণ আমাদের এবং আপনার মাঝে মুদার গোত্রের এই কাফির সম্প্রদায়টি বসবাস করে। অতএব আপনি আমাদের এমন কিছু চূড়ান্ত নির্দেশ প্রদান করুন যা আমরা আমাদের পেছনে থাকা লোকদের জানিয়ে দিতে পারি এবং যার মাধ্যমে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। আর তারা তাঁকে পানীয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তখন তিনি তাদের চারটি বিষয়ের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি বিষয় হতে নিষেধ করলেন:
⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘ তিনি তাদের এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: "তোমরা কি জানো এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কী?" তারা বলল: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন: "এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; নামায কায়েম করা; যাকাত প্রদান করা; রমযানের রোযা রাখা এবং গনীমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করা।"
আর তিনি তাদের চারটি পাত্র থেকে নিষেধ করলেন: হানতাম, দুব্বা, নাকীর এবং মুযাফফাত। তিনি বললেন: "এগুলো মনে রেখো এবং তোমাদের পেছনে যারা আছে তাদের জানিয়ে দিও।" আর হাদীসের এই শব্দাবলী বুখারীর।
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
18 -[17] (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَحَوْلَهُ عِصَابَةٌ مِنْ أَصْحَابِهِ: " بَايَعُونِي عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا تَسْرِقُوا وَلَا تَزْنُوا وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ وَلَا تَأْتُوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ وَلَا تَعْصُوا فِي مَعْرُوفٍ فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ بِهِ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا ثُمَّ سَتَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ إِلَى اللَّهِ: إِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ وَإِنْ شَاءَ عَاقَبَهُ " فَبَايَعْنَاهُ عَلَى ذَلِك
১৮ -[১৭] (সর্বসম্মতভাবে বর্ণিত)
উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—সে সময় তাঁর চারপাশে তাঁর সাহাবীগণের একটি দল উপস্থিত ছিল—: "তোমরা আমার নিকট এই মর্মে বায়আত (অঙ্গীকার) গ্রহণ করো যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না এবং তোমরা তোমাদের হাত ও পায়ের সামনে (জেনেশুনে) কোনো মিথ্যা অপবাদ রটনা করবে না এবং কোনো সৎ কাজে অবাধ্য হবে না। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই অঙ্গীকার পূর্ণ করবে, তার পুরস্কার আল্লাহর জিম্মায়। আর যে ব্যক্তি এগুলোর কোনো একটিতে লিপ্ত হবে এবং দুনিয়াতে তাকে এজন্য শাস্তি দেওয়া হবে, তবে তা হবে তার জন্য কাফফারা (পাপমোচন)। আর যে ব্যক্তি এগুলোর কোনো একটিতে লিপ্ত হবে এবং আল্লাহ দুনিয়াতে তা গোপন রাখবেন, তবে তা আল্লাহর ইচ্ছাধীন: তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন এবং চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন।" অতঃপর আমরা এই শর্তাবলির ওপর তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করলাম।
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
19 -[18] (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أَضْحًى أَوْ فِطْرٍ إِلَى الْمُصَلَّى فَمَرَّ عَلَى النِّسَاءِ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ فَإِنِي أُرِيتُكُنَّ أَكْثَرَ
⦗ص: 14⦘ أَهْلِ النَّارِ فَقُلْنَ وَبِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ مَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَذْهَبَ لِلُبِّ الرجل الحازم من إحداكن قُلْنَ وَمَا نُقْصَانُ دِينِنَا وَعَقْلِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ أَلَيْسَ شَهَادَةُ الْمَرْأَةِ مِثْلَ نِصْفِ شَهَادَةِ الرَّجُلِ قُلْنَ بَلَى قَالَ فَذَلِكَ مِنْ نُقْصَان عقلهَا أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تَصِلِّ وَلَمْ تَصُمْ قُلْنَ بَلَى قَالَ فَذَلِكَ مِنْ نُقْصَانِ دِينِهَا
১৯ -[১৮] (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মত)
আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিআল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের দিনে ঈদগাহের অভিমুখে বের হলেন। অতঃপর তিনি নারীদের নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে বললেন, "হে নারী সম্প্রদায়! তোমরা সদাকা করো, কেননা আমাকে দেখানো হয়েছে যে জাহান্নামীদের অধিকাংশ তোমরাই।"
⦗পৃষ্ঠা: ১৪⦘ তারা আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! এর কারণ কী?" তিনি বললেন, "তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশাপ দাও এবং স্বামীর অকৃতজ্ঞতা করো। বুদ্ধি ও দ্বীনের ক্ষেত্রে অপূর্ণতা থাকা সত্ত্বেও তোমাদের কারো চেয়ে অধিক সুদৃঢ় পুরুষের বুদ্ধি হরণকারী আমি আর কাউকে দেখিনি।" তারা আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের দ্বীন ও বুদ্ধির অপূর্ণতা কী?" তিনি বললেন, "একজন নারীর সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়?" তারা বললেন, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "এটাই তার বুদ্ধির অপূর্ণতা। আর নারী যখন ঋতুবতী হয়, তখন কি সে সালাত ও সাওম বর্জন করে না?" তারা বললেন, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "এটাই তার দ্বীনের অপূর্ণতা।"
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
20 -[19] (صَحِيحٌ)
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: " قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ اللَّهُ كَذبَنِي ابْن آدم وَلم يكن لَهُ ذَلِك وَشَتَمَنِي وَلم يكن لَهُ ذَلِك أما تَكْذِيبه إيَّايَ أَن يَقُول إِنِّي لن أُعِيدهُ كَمَا بَدأته وَأما شَتمه إيَّايَ أَن يَقُول اتخذ الله ولدا وَأَنا الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ أَلِدْ وَلَمْ أُولَدْ وَلَمْ يكن لي كُفؤًا أحد (لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفؤًا أحد)
كُفؤًا وكفيئا وكفاء وَاحِد
20 -[১৯] (সহিহ)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন: আদম সন্তান আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, অথচ তার জন্য এটি সমীচীন ছিল না; এবং সে আমাকে গালি দিয়েছে, অথচ তার জন্য এটি সমীচীন ছিল না। তার আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার বিষয়টি হলো তার এই উক্তি যে, আমি তাকে পুনরায় জীবিত করব না যেভাবে তাকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছি। আর তার আমাকে গালি দেওয়ার বিষয়টি হলো তার এই উক্তি যে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন; অথচ আমি হলাম অমুখাপেক্ষী সত্তা, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং যাঁকে জন্ম দেওয়া হয়নি, এবং আমার সমকক্ষ কেউ নেই (তিনি জন্ম দেননি এবং তাঁকে জন্ম দেওয়া হয়নি এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই)।"
'কুফুআন', 'কাফিআন' এবং 'কিফাউন'—সবগুলো একই অর্থবোধক।
(খণ্ড: ١)
মিশকাতুল মাসাবীহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
21 -[20] (صَحِيح)
وَفِي رِوَايَة عَن ابْنِ عَبَّاسٍ: " وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّايَ فَقَوْلُهُ: لِي وَلَدٌ وَسُبْحَانِي أَنْ أَتَّخِذَ صَاحِبَةً أَوْ وَلَدًا "
২১ -[২০] (সহিহ)
এবং ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় রয়েছে: "আর আমার প্রতি তার গালি প্রদান হলো তার এই কথা বলা যে: আমার সন্তান আছে; অথচ আমি পবিত্র এর থেকে যে আমি কোনো সঙ্গিনী বা সন্তান গ্রহণ করব।"