(খণ্ড: ১)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح العقيدة الطحاوية - ط الرسالة القسم: العقيدة
الكتاب: شرح العقيدة الطحاوية
المؤلف: عليّ بن علي بن محمد بن أبي العز الدمشقي (ت 792 هـ)
حققه وعلق عليه وخرج أحاديثه وقدم له: د عبد الله بن المحسن التركي - شعيب الأرنؤوط [ت 1438 هـ]
الناشر: مؤسسة الرسالة، بيروت - لبنان
الطبعة: الثانية، 1411 هـ - 1990 م
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ - আর-রিসালা প্রকাশনী বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ: শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ
লেখক: আলী ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবিল ইয আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭৯২ হিজরি)
সম্পাদনা, টীকা প্রদান, হাদিস বিশ্লেষণ ও ভূমিকা: ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি - শুআইব আল-আরনাউত [মৃত্যু ১৪৩৮ হিজরি]
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪১১ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২ (একটানা পৃষ্ঠা নম্বর)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
[مقدمة الشارح]
[عِلْمُ أُصُولِ الدِّينِ أَفْضَلُ الْعُلُومِ]بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ.
حَسْبِيَ اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ.
الْحَمْدُ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ، وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلِ فَلَا هَادِيَ لَهُ.
وَأَشْهَدُ أَنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا.
أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّهُ لَمَّا كَانَ عِلْمُ أُصُولِ الدِّينِ أَشْرَفَ الْعُلُومِ، إِذْ شَرَفُ الْعِلْمِ بِشَرَفِ الْمَعْلُومِ، وَهُوَ الْفِقْهُ الْأَكْبَرُ بِالنِّسْبَةِ إِلَى فِقْهِ الْفُرُوعِ، وَلِهَذَا سَمَّى الْإِمَامُ أَبُو حَنِيفَةَ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ مَا قَالَهُ وَجَمَعَهُ فِي أَوْرَاقٍ مِنْ أُصُولِ الدِّينِ: " الْفِقْهَ الْأَكْبَرَ " وَحَاجَةُ الْعِبَادِ إِلَيْهِ فَوْقَ كُلِّ حَاجَةٍ،
[ব্যাখ্যাকারকের ভূমিকা][দ্বীনের মূলনীতি সংক্রান্ত জ্ঞানই শ্রেষ্ঠ জ্ঞান]পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের কর্মসমূহের মন্দ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল; আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর, যেহেতু দ্বীনের মূলনীতি সংক্রান্ত জ্ঞান (উসুলুদ্দীন) হলো শ্রেষ্ঠতম জ্ঞান, কারণ বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমেই জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয়; আর শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত ফিকহের তুলনায় এটি হলো ‘আল-ফিকহুল আকবার’ (বৃহত্তর ফিকহ)। এই কারণেই ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি দ্বীনের মূলনীতি সম্পর্কে যা কিছু বলেছেন এবং যেসব পৃষ্ঠায় তা সংকলন করেছেন তার নাম দিয়েছেন ‘আল-ফিকহুল আকবার’। আর বান্দার নিকট এর প্রয়োজনীয়তা অন্য যেকোনো প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে।
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
وَضَرُورَتُهُمْ إِلَيْهِ فَوْقَ كُلِّ ضَرُورَةٍ، لِأَنَّهُ لَا حَيَاةَ لِلْقُلُوبِ، وَلَا نَعِيمَ وَلَا طُمَأْنِينَةَ، إِلَّا بِأَنْ تَعْرِفَ رَبَّهَا وَمَعْبُودَهَا وَفَاطِرَهَا، بِأَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ وَأَفْعَالِهِ. وَيَكُونَ مَعَ ذَلِكَ كُلِّهِ أَحَبَّ إِلَيْهَا مِمَّا سِوَاهُ، وَيَكُونَ سَعْيُهَا فِيمَا يُقَرِّبُهَا إِلَيْهِ دُونَ غَيْرِهِ مِنْ سَائِرِ خَلْقِهِ.
وَمِنَ الْمُحَالِ أَنْ تَسْتَقِلَّ الْعُقُولُ بِمَعْرِفَةِ ذَلِكَ وَإِدْرَاكِهِ عَلَى التَّفْصِيلِ، فَاقْتَضَتْ رَحْمَةُ الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ أَنْ بَعَثَ الرُّسُلَ بِهِ مُعَرِّفِينَ، وَإِلَيْهِ دَاعِينَ، وَلِمَنْ أَجَابَهُمْ مُبَشِّرِينَ، وَلِمَنْ خَالَفَهُمْ مُنْذِرِينَ، وَجَعَلَ مِفْتَاحَ دَعْوَتِهِمْ، وَزُبْدَةَ رِسَالَتِهِمْ، مَعْرِفَةَ الْمَعْبُودِ سُبْحَانَهُ بِأَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ وَأَفْعَالِهِ، إِذْ عَلَى هَذِهِ الْمَعْرِفَةِ تُبْنَى مَطَالِبُ الرِّسَالَةِ كُلِّهَا مِنْ أَوَّلِهَا إِلَى آخِرِهَا.
[أَعْرَفُ النَّاسِ بِاللَّهِ أَتْبَعُهُمْ لِلطَّرِيقِ الْمُوصِّلِ إِلَيْهِ]ثُمَّ يَتْبَعُ ذَلِكَ أَصْلَانِ عَظِيمَانِ:
أَحَدُهُمَا: تَعْرِيفُ الطَّرِيقِ الْمُوَصِّلِ إِلَيْهِ، وَهِيَ شَرِيعَتُهُ الْمُتَضَمِّنَةُ لِأَمْرِهِ وَنَهْيِهِ.
وَالثَّانِي: تَعْرِيفُ السَّالِكِينَ مَا لَهُمْ بَعْدَ الْوُصُولِ إِلَيْهِ مِنَ النَّعِيمِ الْمُقِيمِ.
فَأَعْرَفُ النَّاسِ بِاللَّهِ عز وجل أَتْبَعُهُمْ لِلطَّرِيقِ الْمُوَصِّلِ إِلَيْهِ، وَأَعْرَفُهُمْ بِحَالِ السَّالِكِينَ عِنْدَ الْقُدُومِ عَلَيْهِ. وَلِهَذَا سَمَّى اللَّهُ مَا أَنْزَلَهُ عَلَى رَسُولِهِ رُوحًا، لِتَوَقُّفِ الْحَيَاةِ الْحَقِيقِيَّةِ عَلَيْهِ، وَنُورًا لِتَوَقُّفِ الْهِدَايَةِ عَلَيْهِ. فَقَالَ تَعَالَى: {يُلْقِي الرُّوحَ مِنْ أَمْرِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ} [غافر: 15] (غَافِرٍ: 15) . وَقَالَ تَعَالَى:
এবং তাঁর প্রতি তাদের প্রয়োজনীয়তা অন্য সকল প্রয়োজনীয়তার ঊর্ধ্বে। কারণ, অন্তরসমূহের কোনো জীবন নেই, নেই কোনো সুখ-শান্তি কিংবা প্রশান্তি, যতক্ষণ না তারা তাদের প্রতিপালক, উপাস্য এবং স্রষ্টাকে তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি এবং কার্যাবলির মাধ্যমে চিনতে পারে। আর সেই সাথে এই সবকিছু ছাড়াও তিনি যেন তাদের কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হন এবং তাদের প্রচেষ্টা যেন তাঁর অন্যান্য সৃষ্টির পরিবর্তে কেবল তাঁরই নৈকট্য অর্জনের জন্য হয়।
আর কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে বিস্তারিতভাবে এসব জানা ও উপলব্ধি করা অসম্ভব। তাই মহা পরাক্রমশালী পরম দয়াময়ের রহমতের দাবি হলো যে, তিনি তাঁর পরিচয় প্রদানকারী, তাঁর দিকে আহ্বানকারী, যারা তাঁদের ডাকে সাড়া দিবে তাদের জন্য সুসংবাদদাতা এবং যারা তাঁদের বিরোধিতা করবে তাদের জন্য সতর্ককারী হিসেবে রাসুলদের পাঠিয়েছেন। আর তিনি তাঁদের দাওয়াতের চাবিকাঠি এবং তাঁদের রিসালাতের সারকথা করেছেন মহান আল্লাহর (যিনি অত্যন্ত পবিত্র) নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলির মাধ্যমে তাঁকে জানাকে। কারণ, এই পরিচয়ের ওপরই রিসালাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যাবতীয় দাবি ও উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠিত।
[মানুষের মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী তারাই, যারা তাঁর কাছে পৌঁছানোর পথের সর্বাধিক অনুসারী]অতঃপর এর অনুসারী হিসেবে দুটি মহান মূলনীতি রয়েছে:
এক: তাঁর নিকট পৌঁছানোর পথের পরিচয় দান; আর তা হলো তাঁর শরিয়ত যা তাঁর আদেশ ও নিষেধকে অন্তর্ভুক্ত করে।
দুই: পথচারীদের জানানো যে, তাঁর কাছে পৌঁছানোর পর তাঁদের জন্য কী চিরস্থায়ী নিয়ামত রয়েছে।
সুতরাং মহান আল্লাহ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী হলো তারা, যারা তাঁর কাছে পৌঁছানোর পথের সর্বাধিক অনুসারী এবং যারা তাঁর সান্নিধ্যে পৌঁছানোর পর পথচারীদের অবস্থা সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত। আর এই কারণেই আল্লাহ তাঁর রাসুলের ওপর যা অবতীর্ণ করেছেন তাকে 'রুহ' (আত্মা) হিসেবে নামকরণ করেছেন, কারণ প্রকৃত জীবন এরই ওপর নির্ভরশীল; আর একে 'নূর' (আলো) বলেছেন কারণ হিদায়াত এরই ওপর নির্ভরশীল। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা তাঁর নির্দেশে রুহ অবতীর্ণ করেন} [গাফির: ১৫] (গাফির: ১৫)। এবং মহান আল্লাহ বলেন:
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
{وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُورًا نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ - صِرَاطِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ أَلَا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الْأُمُورُ} [الشورى: 52 - 53] (الشُّورَى: 52 - 53) . وَلَا رُوحَ إِلَّا فِيمَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ، وَلَا نُورَ إِلَّا فِي الِاسْتِضَاءَةِ بِهِ،
وَهُوَ الشِّفَاءُ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ} [فصلت: 44] (فُصِّلَتْ: 44) . فَهُوَ وَإِنْ كَانَ هُدًى، وَشِفَاءً مُطْلَقًا، لَكِنْ لَمَّا كَانَ الْمُنْتَفِعُ بِذَلِكَ هُمُ (الْمُؤْمِنِينَ) ، خُصُّوا بِالذِّكْرِ.
وَاللَّهُ تَعَالَى أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ، فَلَا هُدَى إِلَّا فِيمَا جَاءَ بِهِ.
[وُجُوبُ الْإِيمَانِ الْمُجْمَلِ عَلَى كُلِّ أَحَدٍ]وَلَا رَيْبَ أَنَّهُ يَجِبُ عَلَى كُلِّ أَحَدٍ أَنْ يُؤْمِنَ بِمَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ إِيمَانًا عَامًّا مُجْمَلًا، وَلَا رَيْبَ أَنَّ مَعْرِفَةَ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ عَلَى التَّفْصِيلِ
{এবং এভাবেই আমি আপনার নিকট আমার নির্দেশে রূহ (ওহী) প্রেরণ করেছি; আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী, কিন্তু আমি একে করেছি একটি নূর, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি। আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করছেন—আল্লাহর পথ, যাঁর অধিকারে আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে সব রয়েছে। জেনে রেখো, সকল বিষয় আল্লাহর দিকেই ফিরে যায়।} [আশ-শুরা: ৫২ - ৫৩] (আশ-শুরা: ৫২ - ৫৩) । আর রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা ব্যতীত কোনো রূহ (জীবন) নেই, এবং তাঁর মাধ্যমে আলো গ্রহণ করা ব্যতীত কোনো নূর নেই,
আর এটিই হলো নিরাময়, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন, এটি মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও নিরাময়} [ফুসসিলাত: ৪৪] (ফুসসিলাত: ৪৪) । সুতরাং এটি যদিও নিরঙ্কুশ হিদায়াত ও নিরাময়, কিন্তু যেহেতু এর দ্বারা উপকৃত ব্যক্তিরা হলেন (মুমিনগণ), তাই বিশেষভাবে তাঁদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আর মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, অতএব তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা ছাড়া কোনো হিদায়াত নেই।
[প্রত্যেকের ওপর সংক্ষিপ্তভাবে ঈমান আনা ওয়াজিব হওয়া]আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর প্রত্যেকের জন্য সাধারণভাবে ও সংক্ষিপ্তভাবে ঈমান আনা ওয়াজিব। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা বিস্তারিতভাবে জানা...
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
فَرْضٌ عَلَى الْكِفَايَةِ، فَإِنَّ ذَلِكَ دَاخِلٌ فِي تَبْلِيغِ مَا بَعَثَ اللَّهُ بِهِ رَسُولَهُ، وَدَاخِلٌ فِي تَدَبُّرِ الْقُرْآنِ وَعَقْلِهِ وَفَهْمِهِ، وَعِلْمِ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ، وَحِفْظِ الذِّكْرِ، وَالدُّعَاءِ إِلَى الْخَيْرِ، وَالْأَمْرِ بِالْمَعْرُوفِ، وَالنَّهْيِ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَالدُّعَاءِ إِلَى سَبِيلِ الرَّبِّ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ، وَالْمُجَادَلَةِ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ، وَنَحْوَ ذَلِكَ مِمَّا أَوْجَبَهُ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ، فَهُوَ وَاجِبٌ عَلَى الْكِفَايَةِ مِنْهُمْ.
وَأَمَّا مَا يَجِبُ عَلَى أَعْيَانِهِمْ: فَهَذَا يَتَنَوَّعُ بِتَنَوُّعِ قُدَرِهِمْ، وَحَاجَتِهِمْ وَمَعْرِفَتِهِمْ، وَمَا أُمِرَ بِهِ أَعْيَانُهُمْ، وَلَا يَجِبُ عَلَى الْعَاجِزِ عَنْ سَمَاعِ بَعْضِ الْعِلْمِ أَوْ عَنْ فَهْمِ دَقِيقِهِ مَا يَجِبُ عَلَى الْقَادِرِ عَلَى ذَلِكَ.
وَيَجِبُ عَلَى مَنْ سَمِعَ النُّصُوصَ، وَفَهِمَهَا مِنْ عِلْمِ التَّفْصِيلِ مَا لَا يَجِبُ عَلَى مَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا، وَيَجِبُ عَلَى الْمُفْتِي وَالْمُحَدِّثِ وَالْحَاكِمِ مَا لَا يَجِبُ عَلَى مَنْ لَيْسَ كَذَلِكَ.
[عَامَّةُ مَنْ ضَلَّ فِي بَابِ الْعَقَائِدِ إِثْمًا لِتَفْرِيطِهِ فِي اتِّبَاعِ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ]وَيَنْبَغِي أَنْ يُعْرَفَ أَنَّ عَامَّةَ مَنْ ضَلَّ فِي هَذَا الْبَابِ أَوْ عَجَزَ فِيهِ
এটি ফরজে কেফায়া; কারণ এটি আল্লাহ তাঁর রাসূলকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা পৌঁছে দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত এবং কুরআনের গভীর চিন্তা-গবেষণা, অনুধাবন ও উপলব্ধি করা, কিতাব ও হিকমতের জ্ঞান অর্জন, জিকির সংরক্ষণ, কল্যাণের দিকে আহ্বান জানানো, সৎ কাজের আদেশ প্রদান, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা এবং প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে রবের পথের দিকে আহ্বান করা ও সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্ক করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা আল্লাহ মুমিনদের ওপর ওয়াজিব করেছেন—এসবেরই অন্তর্ভুক্ত; তাই এটি তাদের ওপর একটি ফরজে কেফায়া।
আর তাদের প্রত্যেকের ওপর ব্যক্তিগতভাবে যা ওয়াজিব: তা তাদের সক্ষমতা, প্রয়োজন, জ্ঞান এবং যে বিষয়ে তাদের ব্যক্তিগতভাবে আদেশ দেওয়া হয়েছে তার ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়। কোনো ইলম (জ্ঞান) শোনা বা তার সূক্ষ্ম বিষয়গুলো বোঝার ব্যাপারে যে অক্ষম, তার ওপর তা ওয়াজিব নয় যা সে বিষয়ে সক্ষম ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব।
যে ব্যক্তি দলিলসমূহ শুনেছে এবং তার বিস্তারিত জ্ঞান অনুধাবন করেছে, তার ওপর এমন কিছু ওয়াজিব যা সেই ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব নয় যে তা শোনেনি। অনুরূপভাবে মুফতি, মুহাদ্দিস এবং বিচারকের ওপর এমন কিছু ওয়াজিব যা সেই ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব নয় যে এমন পদে আসীন নয়।
[আকিদাহর অধ্যায়ে যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তাদের অধিকাংশের এই পথভ্রষ্টতা মূলত রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা অনুসরণে অবহেলার কারণে একটি গুনাহ]এবং এটি জানা উচিত যে, এই অধ্যায়ে যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে বা এতে অক্ষমতা প্রকাশ করেছে তাদের অধিকাংশই...
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
عَنْ مَعْرِفَةِ الْحَقِّ، فَإِنَّمَا هُوَ لِتَفْرِيطِهِ فِي اتِّبَاعِ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ، وَتَرْكِ النَّظَرِ وَالِاسْتِدْلَالِ الْمُوَصِّلِ إِلَى مَعْرِفَتِهِ. فَلَمَّا أَعْرَضُوا عَنْ كِتَابِ اللَّهِ ضَلُّوا، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى - وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى - قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيرًا - قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنْسَى} [طه: 123 - 126] (طه: 123 126) .
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنه: تَكَفَّلَ اللَّهُ لِمَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ وَعَمِلَ بِمَا فِيهِ، أَنْ لَا يَضِلَّ فِي الدُّنْيَا، وَلَا يَشْقَى فِي الْآخِرَةِ ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ.
وَكَمَا فِي الْحَدِيثِ الَّذِي رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَغَيْرُهُ عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتَنٌ قُلْتُ: فَمَا الْمَخْرَجُ مِنْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: كِتَابُ اللَّهِ، فِيهِ نَبَأُ مَا قَبْلَكُمْ، وَخَبَرُ مَا بَعْدَكُمْ، وَحُكْمُ مَا بَيْنَكُمْ، هُوَ الْفَصْلُ، لَيْسَ بِالْهَزْلِ، مَنْ تَرَكَهُ مِنْ
সত্যের জ্ঞান হতে (বিমুখ হওয়া), মূলত রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার অনুসরণে শিথিলতা প্রদর্শন এবং তা জানার পথে পরিচালিত চিন্তা ও দলীল-প্রমাণ বর্জনের কারণেই ঘটে থাকে। সুতরাং তারা যখন আল্লাহর কিতাব থেকে বিমুখ হলো, তখন তারা পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ল; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হেদায়েত আসে, তবে যে ব্যক্তি আমার হেদায়েতের অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। আর যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জন্য অবশ্যই হবে এক সংকীর্ণ জীবন এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় উঠাব। সে বলবে, হে আমার রব! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালেন? অথচ আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম। তিনি বলবেন, এভাবেই তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে; ঠিক সেভাবেই আজ তোমাকে ভুলে যাওয়া হচ্ছে।} [ত্বহা: ১২৩ - ১২৬] (ত্বহা: ১২৩ - ১২৬)।
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তাতে যা রয়েছে সে অনুযায়ী আমল করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য এ জিম্মাদারী নিয়েছেন যে, সে দুনিয়াতে পথভ্রষ্ট হবে না এবং আখিরাতে দুর্ভাগা হবে না; অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন।
আর যেমনটি বর্ণিত হয়েছে সেই হাদীসে যা তিরমিযী ও অন্যান্যরা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই অচিরেই অনেক ফিতনা সৃষ্টি হবে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাব; এতে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ রয়েছে, তোমাদের পরবর্তীদের খবর রয়েছে এবং তোমাদের মধ্যকার বিষয়াবলির ফয়সালা রয়েছে। এটি চূড়ান্ত মীমাংসাকারী, কোনো নিরর্থক বিষয় নয়। যে ব্যক্তি একে ত্যাগ করবে...
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
جَبَّارٍ قَصَمَهُ اللَّهُ، وَمَنِ ابْتَغَى الْهُدَى فِي غَيْرِهِ أَضَلَّهُ اللَّهُ، وَهُوَ حَبْلُ اللَّهِ الْمَتِينُ، وَهُوَ الذِّكْرُ الْحَكِيمُ، وَهُوَ الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ، وَهُوَ الَّذِي لَا تَزِيغُ بِهِ الْأَهْوَاءُ، وَلَا تَلْتَبِسُ بِهِ الْأَلْسُنُ، وَلَا تَنْقَضِي عَجَائِبُهُ، وَلَا يَشْبَعُ مِنْهُ الْعُلَمَاءُ، مَنْ قَالَ بِهِ صَدَقَ، وَمَنْ عَمِلَ بِهِ أُجِرَ، وَمَنْ حَكَمَ بِهِ عَدَلَ، وَمَنْ دَعَا إِلَيْهِ هُدِيَ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ» إِلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِنَ الْآيَاتِ وَالْأَحَادِيثِ، الدَّالَّةِ عَلَى مِثْلِ هَذَا الْمَعْنَى.
কোনো প্রতাপশালী ব্যক্তি এটি বর্জন করলে আল্লাহ তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন; যে ব্যক্তি এটি ছাড়া অন্য কিছুর মাঝে হিদায়াত সন্ধান করে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করেন। এটি আল্লাহর সুদৃঢ় রশি, এটি প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং এটিই সরল পথ। এর প্রভাবে কুপ্রবৃত্তিগুলো সত্যচ্যুত হয় না, এর কারণে জিহ্বাগুলো বিভ্রান্তিতে লিপ্ত হয় না, এর বিস্ময়কর বিষয়াবলি শেষ হয় না এবং আলেমগণ এটি থেকে কখনো তৃপ্ত হন না। যে এর মাধ্যমে কথা বলে, সে সত্য বলে; যে এর অনুযায়ী আমল করে, সে প্রতিদান লাভ করে; যে এর দ্বারা বিচার করে, সে ন্যায়বিচার করে এবং যে এর দিকে আহ্বান জানায়, তাকে সরল পথের দিশা দেওয়া হয়। এ ছাড়াও এমন আরও অনেক আয়াত ও হাদিস রয়েছে, যা এই একই অর্থের ওপর প্রমাণ পেশ করে।
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
وَلَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنَ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ دِينًا يَدِينُونَهُ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ مُوَافِقًا لِدِينِهِ الَّذِي شَرَعَهُ عَلَى أَلْسِنَةِ رُسُلِهِ عليهم السلام.
وَقَدْ نَزَّهَ اللَّهُ تَعَالَى نَفْسَهُ عَمَّا يَصِفُهُ بِهِ الْعِبَادُ، إِلَّا مَا وَصَفَهُ بِهِ الْمُرْسَلُونَ بِقَوْلِهِ سُبْحَانَهُ: {سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ - وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ - وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الصافات: 180 - 182] (الصَّافَّاتِ: 180 - 182) . فَنَزَّهَ نَفْسَهُ سُبْحَانَهُ عَمَّا يَصِفُهُ بِهِ الْكَافِرُونَ، ثُمَّ سَلَّمَ عَلَى الْمُرْسَلِينَ، لِسَلَامَةِ مَا وَصَفُوهُ بِهِ مِنَ النَّقَائِصِ وَالْعُيُوبِ، ثُمَّ حَمِدَ نَفْسَهُ عَلَى تَفَرُّدِهِ بِالْأَوْصَافِ الَّتِي يَسْتَحِقُّ عَلَيْهَا كَمَالَ الْحَمْدِ.
وَمَضَى عَلَى مَا كَانَ عَلَيْهِ الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم خَيْرُ الْقُرُونِ، وَهُمُ الصَّحَابَةُ وَالتَّابِعُونَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ، يُوصِي بِهِ الْأَوَّلُ الْآخِرَ وَيَقْتَدِي فِيهِ اللَّاحِقُ بِالسَّابِقِ. وَهُمْ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ بِنَبِيِّهِمْ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مُقْتَدُونَ، وَعَلَى مِنْهَاجِهِ سَالِكُونَ، كَمَا قَالَ تَعَالَى فِي كِتَابِهِ الْعَزِيزِ: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} [يوسف: 108] (يُوسُفَ: 108) . فَإِنْ كَانَ قَوْلُهُ. وَمَنِ اتَّبَعَنِي مَعْطُوفًا عَلَى الضَّمِيرِ فِي أَدْعُو، فَهُوَ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ أَتْبَاعَهُ هُمُ الدُّعَاةُ إِلَى اللَّهِ. وَإِنْ كَانَ مَعْطُوفًا عَلَى الضَّمِيرِ الْمُنْفَصِلِ، فَهُوَ صَرِيحٌ أَنَّ أَتْبَاعَهُ هُمْ أَهْلُ الْبَصِيرَةِ فِيمَا جَاءَ بِهِ دُونَ غَيْرِهِمْ، وَكِلَا الْمَعْنَيَيْنِ حَقٌّ.
وَقَدْ بَلَّغَ الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم الْبَلَاغَ الْمُبِينَ، وَأَوْضَحَ الْحُجَّةَ لِلْمُسْتَبْصِرِينَ، وَسَلَكَ سَبِيلَهُ خَيْرُ الْقُرُونِ.
ثُمَّ خَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ اتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ،
আল্লাহ পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী কারও কাছ থেকে এমন কোনো দ্বীন গ্রহণ করবেন না যা দিয়ে তারা তাঁর আনুগত্য প্রকাশ করে, যতক্ষণ না তা তাঁর সেই দ্বীনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় যা তিনি তাঁর রাসূলদের (আলাইহিমুস সালাম) মুখে প্রবর্তন করেছেন।
আর আল্লাহ তাআলা বান্দারা তাঁর যে বর্ণনা দেয় তা থেকে নিজেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন, কেবল রাসূলগণ তাঁর যে বর্ণনা দিয়েছেন তা ব্যতীত; তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: “আপনার প্রতিপালক—যিনি সকল সম্মানের অধিপতি—তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি পবিত্র। এবং রাসূলগণের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।” [আস-সাফফাত: ১৮০-১৮২]। সুতরাং তিনি নিজেকে কাফিরদের আরোপিত বর্ণনা থেকে পবিত্র করেছেন, এরপর রাসূলগণের ওপর শান্তি বর্ষণ করেছেন, কারণ তাঁরা তাঁকে যেসব ত্রুটি ও খুঁত থেকে মুক্ত রেখে বর্ণনা করেছেন তা নিরাপদ ও সঠিক। এরপর তিনি এমন সব অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে নিজের প্রশংসা করেছেন যার জন্য তিনি পূর্ণাঙ্গ প্রশংসার দাবিদার।
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে আদর্শের ওপর ছিলেন, তার ওপরই সর্বোত্তম প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছে, আর তাঁরা হলেন সাহাবী এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী তাবিঈগণ; তাঁদের প্রথম দল পরবর্তী দলকে এর অসিয়ত করতেন এবং পরবর্তীরা এ বিষয়ে পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করতেন। এই সবকিছুর ক্ষেত্রে তাঁরা তাঁদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসারী ছিলেন এবং তাঁরই পদ্ধতির ওপর অটল ছিলেন, যেমন আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেছেন: “বলুন, এটিই আমার পথ, আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা জাগ্রত জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টির সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি।” [ইউসুফ: ১০৮]। এখন যদি তাঁর বাণী ‘এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে’ অংশটি ‘আমি আহ্বান করি’ ক্রিয়ার ভেতরে থাকা সর্বনামের সাথে যুক্ত হয়, তবে এটি দলীল যে তাঁর অনুসারীরাই হলেন আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী। আর যদি এটি পৃথক সর্বনামের সাথে যুক্ত হয়, তবে এটি সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে যে তাঁর অনুসারীরাই হলেন তাঁর আনীত আদর্শের ব্যাপারে অন্যদের তুলনায় সঠিক অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন। আর উভয় অর্থই সত্য।
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুস্পষ্টভাবে দ্বীন প্রচার করেছেন, সত্য অন্বেষণকারীদের জন্য দলীলসমূহ স্পষ্ট করেছেন এবং সর্বোত্তম প্রজন্মের লোকেরা তাঁর পথেই চলেছেন।
অতঃপর তাদের পরে এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরিদের আবির্ভাব হলো যারা তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করল,
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وَافْتَرَقُوا، فَأَقَامَ اللَّهُ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ مَنْ يَحْفَظُ عَلَيْهَا أُصُولَ دِينِهَا، كَمَا أَخْبَرَ الصَّادِقُ صلى الله عليه وسلم بِقَوْلِهِ: «لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ.»
আর তারা বিভক্ত হয়ে পড়ল; অতঃপর আল্লাহ এই উম্মতের জন্য এমন ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠিত করলেন যারা এর দ্বীনের মূলনীতিসমূহকে সংরক্ষণ করবে, যেমনটি সত্যবাদী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বাণীর মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন: “আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের সহযোগিতা বর্জন করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।”
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
[التعريف بأبي جعفر الطحاوي]وَمِمَّنْ قَامَ بِهَذَا الْحَقِّ مِنْ عُلَمَاءِ الْمُسْلِمِينَ: الْإِمَامُ أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَامَةَ الْأَزْدِيُّ الطَّحَاوِيُّ، تَغَمَّدَهُ اللَّهُ بِرَحْمَتِهِ، بَعْدَ الْمِائَتَيْنِ، فَإِنَّ مَوْلِدَهُ سَنَةَ تِسْعٍ وَثَلَاثِينَ وَمِائَتَيْنِ، وَوَفَاتُهُ سَنَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ.
فَأَخْبَرَ رحمه الله عَمَّا كَانَ عَلَيْهِ السَّلَفُ، وَنَقَلَ عَنِ الْإِمَامِ أَبِي حَنِيفَةَ النُّعْمَانِ بْنِ ثَابِتٍ الْكُوفِيِّ، وَصَاحِبَيْهِ أَبِي يُوسُفَ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحِمْيَرِيِّ الْأَنْصَارِيِّ، وَمُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الشَّيْبَانِيِّ رضي الله عنهم مَا كَانُوا يَعْتَقِدُونَ مِنْ أُصُولِ الدِّينِ، وَيَدِينُونَ بِهِ رَبَّ الْعَالَمِينَ.
وَكُلَّمَا بَعُدَ الْعَهْدُ، ظَهَرَتِ الْبِدَعُ، وَكَثُرَ التَّحْرِيفُ الَّذِي سَمَّاهُ أَهْلُهُ تَأْوِيلًا لِيُقْبَلَ، وَقَلَّ مَنْ يَهْتَدِي إِلَى الْفَرْقِ بَيْنَ التَّحْرِيفِ وَالتَّأْوِيلِ. إِذْ قَدْ يُسَمَّى صَرْفُ الْكَلَامِ عَنْ ظَاهِرِهِ إِلَى مَعْنًى آخَرَ يَحْتَمِلُهُ اللَّفْظُ فِي الْجُمْلَةِ تَأْوِيلًا، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ ثَمَّ قَرِينَةٌ تُوجِبُ ذَلِكَ، وَمِنْ هُنَا حَصَلَ الْفَسَادُ. فَإِذَا سَمَّوْهُ تَأْوِيلًا قُبِلَ وَرَاجَ عَلَى مَنْ لَا يَهْتَدِي إِلَى الْفَرْقِ بَيْنَهُمَا.
[আবু জাফর আত-তহাবীর পরিচিতি]মুসলিম আলেমদের মধ্যে যারা এই হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, তাঁদের অন্যতম হলেন: ইমাম আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সালামাহ আল-আযদি আত-তহাবী। আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমত দ্বারা আচ্ছাদিত করুন। তিনি দুইশত হিজরির পরবর্তী যুগের আলেম, কেননা তাঁর জন্ম দুইশত উনচল্লিশ হিজরি সনে এবং মৃত্যু তিনশত একুশ হিজরি সনে।
আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি সালাফগণ যে আদর্শের ওপর ছিলেন তা ব্যক্ত করেছেন। তিনি ইমাম আবু হানিফা নুমান বিন সাবিত আল-কুফি এবং তাঁর দুই সঙ্গী আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন ইবরাহিম আল-হিময়ারি আল-আনসারি ও মুহাম্মদ বিন হাসান আশ-শায়বানি (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে দ্বীনের মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে তাঁদের আকিদা এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালকের প্রতি তাঁদের আনুগত্যের বিষয়গুলো বর্ণনা করেছেন।
আর সময় যত অতিবাহিত হতে লাগল, ততই বিদআত প্রকাশ পেতে শুরু করল এবং বিকৃতি (তাহরিফ) বৃদ্ধি পেল, যাকে এর প্রবক্তারা গ্রহণযোগ্য করার জন্য 'ব্যাখ্যা' (তাবিল) বলে নামকরণ করেছিল। আর বিকৃতি ও ব্যাখ্যার মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে সক্ষম এমন মানুষের সংখ্যা কমে গেল। কারণ, কোনো শব্দের বাহ্যিক অর্থ পরিবর্তন করে অন্য কোনো অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে—সামগ্রিকভাবে শব্দটির যে অর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে—সাধারণত ব্যাখ্যা বা 'তাবিল' বলা হয়, যদিও সেখানে এমন কোনো স্পষ্ট প্রমাণ না থাকে যা তা অপরিহার্য করে। আর এখান থেকেই বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং যখন তারা একে 'তাবিল' নাম দেয়, তখন তা গৃহীত হয় এবং যারা এই দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্য বোঝে না, তাদের নিকট তা প্রচলিত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
فَاحْتَاجَ الْمُؤْمِنُونَ بَعْدَ ذَلِكَ إِلَى إِيضَاحِ الْأَدِلَّةِ، وَدَفْعِ الشُّبَهِ الْوَارِدَةِ عَلَيْهَا، وَكَثُرَ الْكَلَامُ وَالشَّغَبُ، وَسَبَبُ ذَلِكَ إِصْغَاؤُهُمْ إِلَى شُبَهِ الْمُبْطِلِينَ، وَخَوْضُهُمْ فِي الْكَلَامِ الْمَذْمُومِ، الَّذِي عَابَهُ السَّلَفُ، وَنَهَوْا عَنِ النَّظَرِ فِيهِ وَالِاشْتِغَالِ بِهِ وَالْإِصْغَاءِ إِلَيْهِ، امْتِثَالًا لِأَمْرِ رَبِّهِمْ، حَيْثُ قَالَ: {وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ} [الأنعام: 68] (الْأَنْعَامِ: 68) فَإِنَّ مَعْنَى الْآيَةِ يَشْمَلُهُمْ.
وَكُلٌّ مِنَ التَّحْرِيفِ وَالِانْحِرَافِ عَلَى مَرَاتِبَ: فَقَدْ يَكُونُ كُفْرًا، وَقَدْ يَكُونُ فِسْقًا، وَقَدْ يَكُونُ مَعْصِيَةً، وَقَدْ يَكُونُ خَطَأً.
[نَبِيُّنَا مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم خَاتَمُ الْأَنْبِيَاءِ]فَالْوَاجِبُ اتِّبَاعُ الْمُرْسَلِينَ، وَاتِّبَاعُ مَا أَنْزَلَهُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ. وَقَدْ خَتَمَهُمُ اللَّهُ بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، فَجَعَلَهُ آخِرَ الْأَنْبِيَاءِ، وَجَعَلَ كِتَابَهُ مُهَيْمِنًا عَلَى مَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنْ كُتُبِ السَّمَاءِ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ، وَجَعَلَ دَعْوَتَهُ عَامَّةً لِجَمِيعِ الثَّقَلَيْنِ، الْجِنِّ وَالْإِنْسِ، بَاقِيَةً إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَانْقَطَعَتْ بِهِ حُجَّةُ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ. وَقَدْ بَيَّنَ اللَّهُ بِهِ كُلَّ شَيْءٍ، وَأَكْمَلَ
এরপর মুমিনদের জন্য দলীলসমূহের ব্যাখ্যা এবং সেগুলোর ওপর উত্থাপিত সংশয়সমূহ নিরসনের প্রয়োজন দেখা দিল। বাদানুবাদ ও হট্টগোল বৃদ্ধি পেল। আর এর কারণ ছিল বাতিলপন্থীদের সংশয়গুলোর প্রতি তাদের কর্ণপাত করা এবং সেই নিন্দনীয় কালামশাস্ত্রে লিপ্ত হওয়া, যার সমালোচনা সালাফগণ করেছেন এবং যাতে দৃষ্টিপাত করা, লিপ্ত হওয়া ও কর্ণপাত করা থেকে তারা নিষেধ করেছেন। এটি ছিল তাদের রবের আদেশের অনুবর্তিতা স্বরূপ, যেখানে তিনি বলেছেন: “আর যখন আপনি তাদেরকে দেখেন যারা আমার আয়াতসমূহ নিয়ে উপহাসমূলক আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন যতক্ষণ না তারা অন্য আলোচনায় প্রবৃত্ত হয়” [আল-আন’আম: ৬৮] (আল-আন’আম: ৬৮)। কেননা এই আয়াতের অর্থ তাদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
আর তাহরীফ (বিকৃতি) এবং ইনহিরাফ (বিচ্যুতি)-এর প্রত্যেকটিরই বিভিন্ন স্তর রয়েছে: কখনো তা কুফর হতে পারে, কখনো তা ফিসক হতে পারে, কখনো তা পাপাচার হতে পারে, আবার কখনো তা ভুল হতে পারে।
[আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশেষ নবী]অতএব রাসূলদের অনুসরণ করা এবং আল্লাহ তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তার অনুসরণ করা অপরিহার্য। আল্লাহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে নবীগণের ধারার সমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং তাকে সর্বশেষ নবী করেছেন। তিনি তার কিতাবকে পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহের ওপর তদারককারী ও প্রামাণ্য করেছেন। তিনি তার ওপর কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন এবং তার দাওয়াতকে জিন ও মানুষ—সকলের জন্য সার্বজনীন করেছেন, যা কিয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে। তার মাধ্যমেই আল্লাহর বিপক্ষে বান্দাদের সমস্ত অজুহাত খণ্ডন হয়েছে। আল্লাহ তার মাধ্যমে প্রতিটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন এবং পূর্ণতা দান করেছেন।
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
لَهُ وَلِأُمَّتِهِ الدِّينَ خَبَرًا وَأَمْرًا، وَجَعَلَ طَاعَتَهُ طَاعَةً لَهُ، وَمَعْصِيَتَهُ مَعْصِيَةً لَهُ، وَأَقْسَمَ بِنَفْسِهِ أَنَّهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوهُ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ، وَأَخْبَرَ أَنَّ الْمُنَافِقِينَ يُرِيدُونَ أَنْ يَتَحَاكَمُوا إِلَى غَيْرِهِ، وَأَنَّهُمْ إِذَا دَعَوْا إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ - وَهُوَ الدُّعَاءُ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ - صَدُّوا صُدُودًا، وَأَنَّهُمْ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ إِنَّمَا أَرَادُوا إِحْسَانًا وَتَوْفِيقًا.
كَمَا يَقُولُهُ كَثِيرٌ مِنَ الْمُتَكَلِّمَةِ وَالْمُتَفَلْسِفَةِ وَغَيْرِهِمْ: إِنَّمَا نُرِيدُ أَنْ نَحُسَّ الْأَشْيَاءَ بِحَقِيقَتِهَا، أَيْ: نُدْرِكَهَا وَنَعْرِفَهَا، وَنُرِيدُ التَّوْفِيقَ بَيْنَ الدَّلَائِلِ الَّتِي يُسَمُّونَهَا الْعَقْلِيَّاتِ، - وَهِيَ فِي الْحَقِيقَةِ: جَهْلِيَّاتٌ - وَبَيْنَ الدَّلَائِلِ النَّقْلِيَّةِ الْمَنْقُولَةِ عَنِ الرَّسُولِ، أَوْ نُرِيدُ التَّوْفِيقَ بَيْنَ الشَّرِيعَةِ وَالْفَلْسَفَةِ. وَكَمَا يَقُولُهُ كَثِيرٌ مِنَ الْمُبْتَدِعَةِ، مِنَ الْمُتَنَسِّكَةِ وَالْمُتَصَوِّفَةِ: إِنَّمَا نُرِيدُ الْأَعْمَالَ بِالْعَمَلِ الْحَسَنِ، وَالتَّوْفِيقَ بَيْنَ الشَّرِيعَةِ وَبَيْنَ مَا يَدْعُونَهُ مِنَ الْبَاطِلِ، الَّذِي يُسَمُّونَهُ: حَقَائِقَ وَهِيَ جَهْلٌ وَضَلَالٌ.
وَكَمَا يَقُولُهُ كَثِيرٌ مِنَ الْمُتَمَلِّكَةِ وَالْمُتَأَمِّرَةِ: إِنَّمَا نُرِيدُ الْإِحْسَانَ بِالسِّيَاسَةِ الْحَسَنَةِ، وَالتَّوْفِيقَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الشَّرِيعَةِ، وَنَحْوَ ذَلِكَ.
[مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ يَدْخُلُ فِيهِ كُلُّ حَقٍّ وَهُوَ كَافٍ كَامِلٌ]وَكُلُّ مَنْ طَلَبَ أَنْ يُحَكِّمَ فِي شَيْءٍ مِنْ أَمْرِ الدِّينِ غَيْرَ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ، وَيَظُنُّ أَنَّ ذَلِكَ حَسَنٌ، وَأَنَّ ذَلِكَ جَمْعٌ بَيْنَ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ وَبَيْنَ مَا يُخَالِفُهُ - فَلَهُ نَصِيبٌ مِنْ ذَلِكَ، بَلْ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ كَافٍ كَامِلٌ، يَدْخُلُ فِيهِ كُلُّ حَقٍّ، وَإِنَّمَا وَقَعَ التَّقْصِيرُ مِنْ كَثِيرٍ مِنَ الْمُنْتَسِبِينَ إِلَيْهِ، فَلَمْ يَعْلَمُوا مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ فِي كَثِيرٍ مِنَ الْأُمُورِ الْكَلَامِيَّةِ الِاعْتِقَادِيَّةِ،
তাঁর ও তাঁর উম্মতের জন্য সংবাদ ও আদেশের দিক থেকে দ্বীনকে নির্ধারিত করেছেন। তিনি তাঁর (রাসূলের) আনুগত্যকে তাঁর নিজেরই আনুগত্য এবং তাঁর অবাধ্যতাকে তাঁর নিজেরই অবাধ্যতা হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি নিজের সত্তার কসম খেয়েছেন যে, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তাঁকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, মুনাফিকরা তাঁর পরিবর্তে অন্যের কাছে বিচার নিয়ে যেতে চায়; আর যখন তাদের আল্লাহর দিকে এবং রাসূলের দিকে আহ্বান করা হয়—যা হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর দিকে আহ্বান—তখন তারা বিমুখ হয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এবং তারা দাবি করে যে তারা কেবল কল্যাণ ও সমন্বয়ই চেয়েছিল।
যেমনটি অনেক কালামবিদ, দার্শনিক এবং অন্যরা বলে থাকে: "আমরা কেবল বস্তুনিচয়কে তাদের প্রকৃতরূপে অনুভব করতে চাই," অর্থাৎ: সেগুলোকে অনুধাবন ও পরিজ্ঞাত হতে চাই, এবং আমরা সেই সকল দলিলের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে চাই যেগুলোকে তারা আকলিয়াত (যুক্তিনির্ভর) বলে অভিহিত করে—অথচ বাস্তবে সেগুলো হলো জাহলিয়াত (মূর্খতাপ্রসূত)—এবং রাসূল থেকে বর্ণিত নাকলি (শ্রুত) দলিলের মধ্যে; অথবা আমরা শরিয়ত ও দর্শনের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে চাই। আর যেমনটি অনেক বিদআতি, ইবাদতগুজার ও সুফি বলে থাকে: "আমরা তো কেবল উত্তম কাজের মাধ্যমে আমল করতে চাই," এবং তারা শরিয়ত ও তাদের দাবিকৃত সেই বাতিলের মধ্যে সমন্বয় করতে চায় যেগুলোকে তারা হাকাইক (প্রকৃত সত্য) বলে নাম দিয়েছে, অথচ সেগুলো হলো মূর্খতা ও পথভ্রষ্টতা।
আর যেমনটি অনেক শাসক ও পদস্থ ব্যক্তিবর্গ বলে থাকে: "আমরা কেবল উত্তম রাজনীতির মাধ্যমে কল্যাণ সাধন করতে চাই এবং সেই রাজনীতি ও শরিয়তের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে চাই," ইত্যাদি।
[রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার মধ্যে প্রতিটি সত্য অন্তর্ভুক্ত এবং তা পর্যাপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ]দ্বীনের কোনো বিষয়ে রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছুকে বিচারক হিসেবে যে ব্যক্তিই অন্বেষণ করবে এবং মনে করবে যে তা উত্তম, এবং রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার সাথে তার বিরোধী বিষয়ের মিলন ঘটানো সম্ভব—তবে তার মধ্যে উক্ত (মুনাফিকদের) স্বভাবের অংশ থাকবে। বরং রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা পর্যাপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ, যার মধ্যে প্রতিটি সত্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মূলত রাসূলের অনুসারী বলে দাবিদার অনেকের মাধ্যমেই ত্রুটি ঘটেছে; ফলে তারা আকিদাগত ও কালামশাস্ত্রীয় বহু বিষয়ে রাসূল যা নিয়ে এসেছেন সে সম্পর্কে অবগত হতে পারেনি,
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وَلَا فِي كَثِيرٍ مِنَ الْأَحْوَالِ الْعِبَادِيَّةِ، وَلَا فِي كَثِيرٍ مِنَ الْإِمَارَةِ السِّيَاسِيَّةِ، أَوْ نَسَبُوا إِلَى شَرِيعَةِ الرَّسُولِ، بِظَنِّهِمْ وَتَقْلِيدِهِمْ مَا لَيْسَ مِنْهَا، وَأَخْرَجُوا عَنْهَا كَثِيرًا مِمَّا هُوَ مِنْهَا.
فَبِسَبَبِ جَهْلِ هَؤُلَاءِ وَضَلَالِهِمْ وَتَفْرِيطِهِمْ، وَبِسَبَبِ عُدْوَانِ أُولَئِكَ وَجَهْلِهِمْ وَنِفَاقِهِمْ، كَثُرَ النِّفَاقُ، وَدَرَسَ كَثِيرٌ مِنْ عِلْمِ الرِّسَالَةِ.
بَلِ الْبَحْثُ التَّامُّ، وَالنَّظَرُ الْقَوِيُّ، وَالِاجْتِهَادُ الْكَامِلُ، فِيمَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم، لِيُعْلَمَ وَيُعْتَقَدَ، وَيُعْمَلَ بِهِ ظَاهِرًا وَبَاطِنًا، فَيَكُونَ قَدْ تُلِيَ حَقَّ تِلَاوَتِهِ، وَأَنْ لَا يُهْمَلَ مِنْهُ شَيْءٌ.
وَإِنْ كَانَ الْعَبْدُ عَاجِزًا عَنْ مَعْرِفَةِ بَعْضِ ذَلِكَ، أَوِ الْعَمَلِ بِهِ، فَلَا يَنْهَى عَمَّا عَجَزَ عَنْهُ مِمَّا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ، بَلْ حَسْبُهُ أَنْ يَسْقُطَ عَنْهُ اللَّوْمُ لِعَجْزِهِ، لَكِنَّ عَلَيْهِ أَنْ يَفْرَحَ بِقِيَامِ غَيْرِهِ بِهِ، وَيَرْضَى بِذَلِكَ، وَيَوَدَّ أَنْ يَكُونَ قَائِمًا بِهِ، وَأَنْ لَا يُؤْمِنَ بِبَعْضِهِ وَيَتْرُكَ بَعْضَهُ، بَلْ يُؤْمِنُ بِالْكِتَابِ كُلِّهِ، وَأَنْ يُصَانَ عَنْ أَنْ يُدْخِلَ فِيهِ مَا لَيْسَ مِنْهُ، مِنْ رِوَايَةٍ أَوْ رَأْيٍ، أَوْ يَتَّبِعَ مَا لَيْسَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ، اعْتِقَادًا أَوْ عَمَلًا، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَلَا تَلْبِسُوا الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} [البقرة: 42] (الْبَقَرَةِ: 42) .
وَهَذِهِ كَانَتْ طَرِيقَةَ السَّابِقِينَ الْأَوَّلِينَ، وَهِيَ طَرِيقَةُ التَّابِعِينَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ. وَأَوَّلُهُمُ السَّلَفُ الْقَدِيمُ مِنَ التَّابِعِينَ الْأَوَّلِينَ، ثُمَّ مَنْ بَعْدَهُمْ. وَمِنْ هَؤُلَاءِ أَئِمَّةُ الدِّينِ الْمَشْهُودِ لَهُمْ عِنْدَ الْأُمَّةِ الْوَسَطِ بِالْإِمَامَةِ.
না অনেক ইবাদতগত অবস্থায়, না অনেক রাজনৈতিক প্রশাসনিক ক্ষেত্রে। অথবা তারা তাদের ধারণা ও অন্ধ অনুকরণের মাধ্যমে রাসূলের শরীয়তের দিকে এমন কিছু সম্বন্ধ করেছে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, আবার তা থেকে এমন অনেক কিছু বের করে দিয়েছে যা প্রকৃতপক্ষে তারই অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই সকল লোকের অজ্ঞতা, পথভ্রষ্টতা ও শৈথিল্যের কারণে এবং অন্যদের সীমা লঙ্ঘন, অজ্ঞতা ও মুনাফিকির কারণে নিফাক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রিসালাতের ইলমের অনেকটা অংশ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।
বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান, গভীর দৃষ্টিপাত এবং পরিপূর্ণ ইজতিহাদ প্রয়োজন; যাতে তা জানা যায়, বিশ্বাস করা যায় এবং প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে সে অনুযায়ী আমল করা যায়। ফলে একে যথাযথভাবে অনুসরণ করার হক আদায় হবে এবং এর কোনো অংশই যেন অবহেলিত না থাকে।
আর যদি বান্দা এর কিছু অংশ জানতে বা সে অনুযায়ী আমল করতে অক্ষম হয়, তবে রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার মধ্য থেকে যা পালনে সে অক্ষম তা থেকে যেন সে নিষেধ না করে। বরং তার অক্ষমতার কারণে তার ওপর থেকে তিরস্কার উঠে যাওয়াই তার জন্য যথেষ্ট। তবে তার কর্তব্য হলো অন্য কেউ তা পালন করলে তাতে আনন্দিত হওয়া এবং তাতে সন্তুষ্ট থাকা, আর নিজে তা পালন করতে পারার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা। সে যেন কিতাবের কিছু অংশের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করে আর কিছু অংশ বর্জন না করে; বরং সে যেন পূর্ণ কিতাবের প্রতি ঈমান রাখে। আর কিতাবকে রক্ষা করতে হবে যেন তার মধ্যে এমন কিছু প্রবেশ করানো না হয় যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়—চাই তা কোনো বর্ণনা হোক বা কোনো মত; আর বিশ্বাস বা আমলের ক্ষেত্রে যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয় তা অনুসরণ করা থেকেও বেঁচে থাকতে হবে। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-বুঝে সত্য গোপন করো না।" (সূরা আল-বাকারাহ: ৪২)।
আর এটাই ছিল অগ্রবর্তী প্রথম যুগের মুমিনদের পথ, এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে এটি তাদেরও পথ। তাঁদের মধ্যে প্রথম হলেন প্রাথমিক যুগের তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত প্রাচীন সালাফগণ, অতঃপর যারা তাঁদের পরে এসেছেন। আর এঁদের মধ্যেই রয়েছেন দ্বীনের সেই সকল ইমামগণ, যাদের নেতৃত্বের ব্যাপারে এই মধ্যপন্থী উম্মতের নিকট সাক্ষ্য বিদ্যমান।
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
[نُقُولٌ عَنِ السَّلَفِ فِي ذَمِّ عِلْمِ الْكَلَامِ]فَعَنْ أَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى أَنَّهُ قَالَ لِبِشْرٍ الْمَرِيسِيِّ: الْعِلْمُ بِالْكَلَامِ هُوَ الْجَهْلُ، وَالْجَهْلُ بِالْكَلَامِ هُوَ الْعِلْمُ، وَإِذَا صَارَ الرَّجُلُ رَأْسًا فِي الْكَلَامِ قِيلَ: زِنْدِيقٌ، أَوْ رُمِيَ بِالزَّنْدَقَةِ. أَرَادَ بِالْجَهْلِ بِهِ اعْتِقَادَ عَدَمِ صِحَّتِهِ، فَإِنَّ ذَلِكَ عِلْمٌ نَافِعٌ، أَوْ أَرَادَ بِهِ الْإِعْرَاضَ عَنْهُ أَوْ تَرْكَ الِالْتِفَاتِ إِلَى اعْتِبَارِهِ. فَإِنَّ ذَلِكَ يَصُونُ عِلْمَ الرَّجُلِ وَعَقْلَهُ، فَيَكُونُ عِلْمًا بِهَذَا الِاعْتِبَارِ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
وَعَنْهُ أَيْضًا أَنَّهُ قَالَ: مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ بِالْكَلَامِ تَزَنْدَقَ، وَمَنْ طَلَبَ الْمَالَ بِالْكِيمْيَاءِ أَفْلَسَ، وَمَنْ طَلَبَ غَرِيبَ الْحَدِيثِ كَذَبَ.
وَقَالَ الْإِمَامُ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى: حُكْمِي فِي أَهْلِ الْكَلَامِ أَنْ يُضْرَبُوا بِالْجَرِيدِ وَالنِّعَالِ، وَيُطَافَ بِهِمْ فِي الْعَشَائِرِ وَالْقَبَائِلِ، وَيُقَالُ:
[ইলমুল কালামের নিন্দায় সালাফদের থেকে বর্ণিত উদ্ধৃতিসমূহ]ইমাম আবু ইউসুফ (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বিশর আল-মারীসিকে বলেছিলেন: ইলমুল কালামের জ্ঞানই হলো অজ্ঞতা, আর ইলমুল কালাম সম্পর্কে অজ্ঞ থাকাই হলো প্রকৃত জ্ঞান। যখন কোনো ব্যক্তি ইলমুল কালামে নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন তাকে 'যিন্দিক' বলা হয় অথবা তার বিরুদ্ধে যিন্দিক হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। এখানে 'অজ্ঞতা' দ্বারা তিনি এর অসারতায় বিশ্বাস করাকে বুঝিয়েছেন, কেননা তা একটি উপকারী জ্ঞান। অথবা এর দ্বারা তিনি এটি থেকে বিমুখ থাকা এবং এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা বর্জন করাকে বুঝিয়েছেন। কারণ এটি মানুষের জ্ঞান ও বুদ্ধিকে রক্ষা করে, তাই এই বিবেচনায় এটি একটি জ্ঞান। আর আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি ইলমুল কালামের মাধ্যমে জ্ঞান অন্বেষণ করবে সে যিন্দিক হয়ে যাবে, যে ব্যক্তি কিমিয়া (আলকেমি)-এর মাধ্যমে সম্পদ তালাশ করবে সে দেউলিয়া হয়ে যাবে, আর যে ব্যক্তি বিরল হাদিস অন্বেষণ করবে সে মিথ্যাবাদী হবে।
ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেছেন: ইলমুল কালামের অনুসারীদের ব্যাপারে আমার ফয়সালা হলো এই যে, তাদেরকে খেজুরের ডাল ও জুতা দিয়ে প্রহার করা হবে এবং বিভিন্ন বংশ ও গোত্রের মাঝে ঘোরানো হবে এবং বলা হবে:
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
هَذَا جَزَاءُ مَنْ تَرَكَ الْكِتَابَ وَالسُّنَّةَ وَأَقْبَلَ عَلَى الْكَلَامِ.
وَقَالَ أَيْضًا رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى (شِعْرًا) :
كُلُّ الْعُلُومِ سِوَى الْقُرْآنِ مَشْغَلَةٌ
… إِلَّا الْحَدِيثَ وَإِلَّا الْفِقْهَ فِي الدِّينِ
الْعِلْمُ مَا كَانَ فِيهِ قَالَ حَدَّثَنَا
… وَمَا سِوَى ذَاكَ وَسْوَاسُ الشَّيَاطِينِ
وَذَكَرَ الْأَصْحَابُ فِي الْفَتَاوَى: أَنَّهُ لَوْ أَوْصَى لِعُلَمَاءِ بَلَدِهِ: لَا يَدْخُلُ الْمُتَكَلِّمُونَ، وَلَوْ أَوْصَى إِنْسَانٌ أَنْ يُوقَفَ مِنْ كُتُبِهِ مَا هُوَ مِنْ كُتُبِ الْعِلْمِ، فَأَفْتَى السَّلَفُ أَنْ يُبَاعَ مَا فِيهَا مِنْ كُتُبِ الْكَلَامِ. ذُكِرَ ذَلِكَ بِمَعْنَاهُ فِي الْفَتَاوَى الظَّهِيرِيَّةِ.
فَكَيْفَ يُرَامُ الْوُصُولُ إِلَى عِلْمِ الْأُصُولِ، بِغَيْرِ اتِّبَاعِ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ؟ ! وَلَقَدْ أَحْسَنَ الْقَائِلُ:
أَيُّهَا الْمُغْتَدِي لِيَطْلُبَ عِلْمًا
… كُلُّ عِلْمٍ عَبْدٌ لِعِلْمِ الرَّسُولِ
تَطْلُبُ الْفَرْعَ كَيْ تُصَحِّحَ أَصْلًا
… كَيْفَ أَغْفَلْتَ عِلْمَ أَصْلِ الْأُصُولِ
এটি তারই প্রতিদান যে কিতাব ও সুন্নাহ বর্জন করেছে এবং ইলমুল কালামের দিকে ঝুঁকেছে।
আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি আরও (কবিতার ছন্দে) বলেছেন:
কুরআন ব্যতীত সকল জ্ঞানই সময়ের অপচয়
… কেবল হাদীস এবং দ্বীনি ফিকহ ব্যতীত।
জ্ঞান তো সেটিই যাতে রয়েছে 'তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন'
… আর তা ছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা শয়তানের কুমন্ত্রণা মাত্র।
ফিকহবিদগণ ফতোয়াসমগ্রে উল্লেখ করেছেন যে: যদি কেউ তার শহরের আলেমদের জন্য অসিয়ত করে, তবে তাতে ইলমুল কালামবিদরা অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর যদি কোনো ব্যক্তি তার কিতাবসমূহ থেকে ইলমি কিতাবগুলো ওয়াকফ করার অসিয়ত করে, তবে সালাফগণ ফতোয়া দিয়েছেন যে, তার মধ্যে বিদ্যমান ইলমুল কালামের কিতাবগুলো যেন বিক্রি করে দেওয়া হয়। আল-ফাতাওয়া আজ-জহিরিয়া-তে এর মর্মার্থ এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।
অতএব, রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার অনুসরণ ব্যতীত দ্বীনের মূল মূলনীতির জ্ঞানে পৌঁছানোর ইচ্ছা কীভাবে করা যেতে পারে?! আর প্রবক্তা কতই না চমৎকার বলেছেন:
হে জ্ঞান অন্বেষণে ধাবমান ব্যক্তি!
… প্রতিটি জ্ঞানই রাসূলের আনীত জ্ঞানের দাস।
তুমি মূলকে সঠিক করার জন্য শাখা অন্বেষণ করছ
… কিন্তু মূলের মূল যে জ্ঞান, তা থেকে কীভাবে বিমুখ হলে?
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وَنَبِيُّنَا صلى الله عليه وسلم أُوتِيَ فَوَاتِحَ الْكَلِمِ وَخَوَاتِمَهُ وَجَوَامِعَهُ، فَبُعِثَ بِالْعُلُومِ الْكُلِّيَّةِ وَالْعُلُومِ الْأَوَّلِيَّةِ وَالْآخِرِيَّةِ عَلَى أَتَمِّ الْوُجُوهِ، وَلَكِنْ كُلَّمَا ابْتَدَعَ شَخْصٌ بِدْعَةً اتَّسَعُوا فِي جَوَابِهَا، فَلِذَلِكَ صَارَ كَلَامُ الْمُتَأَخِّرِينَ كَثِيرًا، قَلِيلَ الْبَرَكَةِ، بِخِلَافِ كَلَامِ الْمُتَقَدِّمِينَ، فَإِنَّهُ قَلِيلٌ، كَثِيرُ الْبَرَكَةِ، لَا كَمَا يَقُولُهُ ضُلَّالُ الْمُتَكَلِّمِينَ وَجَهَلَتُهُمْ: إِنَّ طَرِيقَةَ الْقَوْمِ أَسْلَمُ، وَإِنَّ طَرِيقَتَنَا أَحْكَمُ وَأَعْلَمُ، وَكَمَا يَقُولُهُ مَنْ لَمْ يُقَدِّرْهُمْ قَدْرَهُمْ مِنَ الْمُنْتَسِبِينَ إِلَى الْفِقْهِ: إِنَّهُمْ لَمْ يَتَفَرَّغُوا لِاسْتِنْبَاطِهِ، وَضَبْطِ قَوَاعِدِهِ وَأَحْكَامِهِ اشْتِغَالًا مِنْهُمْ بِغَيْرِهِ! وَالْمُتَأَخِّرُونَ تَفَرَّغُوا لِذَلِكَ، فَهُمْ أَفْقَهُ! ! فَكُلُّ هَؤُلَاءِ مَحْجُوبُونَ عَنْ مَعْرِفَةِ مَقَادِيرِ السَّلَفِ، وَعُمْقِ عُلُومِهِمْ، وَقِلَّةِ تَكَلُّفِهِمْ، وَكَمَالِ بَصَائِرِهِمْ. وَتَاللَّهِ مَا امْتَازَ عَنْهُمُ الْمُتَأَخِّرُونَ إِلَّا بِالتَّكَلُّفِ وَالِاشْتِغَالِ بِالْأَطْرَافِ الَّتِي كَانَتْ هِمَّةُ الْقَوْمِ مُرَاعَاةَ أُصُولِهَا،
আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বাণীর প্রারম্ভ, সমাপ্তি এবং জাওয়ামিউল কালিম (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী) প্রদান করা হয়েছে। ফলে তাঁকে পূর্ণাঙ্গতম পন্থায় সামগ্রিক জ্ঞান এবং আদি ও অন্তের জ্ঞানসহ প্রেরণ করা হয়েছে। তবে যখনই কোনো ব্যক্তি নতুন কোনো বিদআতের উদ্ভব ঘটিয়েছে, পরবর্তীগণ তার উত্তরে দীর্ঘ আলোচনার অবতারণা করেছেন। একারণেই পরবর্তী যুগের আলিমদের কথা বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু তাতে বরকত কমে গেছে; যা পূর্ববর্তী সালাফদের কথার বিপরীত, কেননা তাদের কথা ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু বরকতে পরিপূর্ণ। পথভ্রষ্ট মুতাকাল্লিম ও তাদের মূর্খদের বক্তব্য—"পূর্ববর্তীদের পথ অধিক নিরাপদ কিন্তু আমাদের পথ অধিক সুদৃঢ় ও অধিক প্রাজ্ঞ"—সঠিক নয়। অনুরূপভাবে ফিকহের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা সালাফদের যথাযথ মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারেনি তাদের দাবি—"সালাফগণ অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকায় ফিকহী মাসআলা উদ্ভাবন এবং এর মূলনীতি ও বিধিবিধান সুসংবদ্ধ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি, পক্ষান্তরে পরবর্তীগণ এর জন্য একাগ্রচিত্তে সময় ব্যয় করেছেন বিধায় তারা অধিকতর ফকীহ"—এটিও ভ্রান্ত। প্রকৃতপক্ষে এরা সবাই সালাফদের মর্যাদা, তাঁদের ইলমের গভীরতা, তাঁদের অনাড়ম্বরতা এবং তাঁদের অন্তর্দৃষ্টির পূর্ণতা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা থেকে বঞ্চিত। আল্লাহর কসম! পরবর্তীগণ সালাফদের থেকে কেবল কৃত্রিম আড়ম্বরতা এবং খুঁটিনাটি শাখা-প্রশাখা নিয়ে অতিমাত্রায় ব্যস্ততার মাধ্যমেই পৃথক হয়েছে, অথচ সালাফদের মূল লক্ষ্য ছিল দ্বীনের মূলনীতিগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা।
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وَضَبْطَ قَوَاعِدِهَا، وَشَدَّ مَعَاقِدِهَا، وَهِمَمُهُمْ مُشَمَّرَةً إِلَى الْمَطَالِبِ الْعَالِيَةِ فِي كُلِّ شَيْءٍ. فَالْمُتَأَخِّرُونَ فِي شَأْنٍ، وَالْقَوْمُ فِي شَأْنٍ آخَرَ، وَقَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا.
وَقَدْ شَرَحَ هَذِهِ الْعَقِيدَةَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْعُلَمَاءِ، وَلَكِنْ رَأَيْتُ بَعْضَ الشَّارِحِينَ قَدْ أَصْغَى إِلَى أَهْلِ الْكَلَامِ الْمَذْمُومِ، وَاسْتَمَدَّ مِنْهُمْ، وَتَكَلَّمَ بِعِبَارَاتِهِمْ.
[كَرَاهَةُ السَّلَفِ التَّكَلُّمَ بِأَلْفَاظٍ لِاشْتِمَالِهَا عَلَى حَقٍّ وَبَاطِلٍ]وَالسَّلَفُ لَمْ يَكْرَهُوا التَّكَلُّمَ بِالْجَوْهَرِ وَالْجِسْمِ وَالْعَرَضِ وَنَحْوِ ذَلِكَ لِمُجَرَّدِ كَوْنِهِ اصْطِلَاحًا جَدِيدًا عَلَى مَعَانٍ صَحِيحَةٍ، كَالِاصْطِلَاحِ عَلَى أَلْفَاظٍ لِعُلُومٍ صَحِيحَةٍ، وَلَا كَرِهُوا أَيْضًا الدَّلَالَةَ عَلَى الْحَقِّ وَالْمُحَاجَّةِ لِأَهْلِ الْبَاطِلِ، بَلْ كَرِهُوهُ لِاشْتِمَالِهِ عَلَى أُمُورٍ كَاذِبَةٍ مُخَالِفَةٍ لِلْحَقِّ، وَمِنْ ذَلِكَ مُخَالَفَتُهَا لِلْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، وَلِهَذَا لَا تَجِدُ عِنْدَ أَهْلِهَا مِنَ الْيَقِينِ وَالْمَعْرِفَةِ مَا عِنْدَ عَوَامِّ الْمُؤْمِنِينَ، فَضْلًا عَنْ عُلَمَائِهِمْ.
وَلِاشْتِمَالِ مُقَدِّمَاتِهِمْ عَلَى الْحَقِّ وَالْبَاطِلِ، كَثُرَ الْمِرَاءُ وَالْجِدَالُ، وَانْتَشَرَ الْقِيلُ وَالْقَالُ، وَتَوَلَّدَ لَهُمْ عَنْهَا مِنَ الْأَقْوَالِ الْمُخَالِفَةِ لِلشَّرْعِ الصَّحِيحِ وَالْعَقْلِ الصَّرِيحِ مَا يَضِيقُ عَنْهُ الْمَجَالُ. وَسَيَأْتِي لِذَلِكَ زِيَادَةُ بَيَانٍ عِنْدَ قَوْلِهِ: " فَمَنْ رَامَ عِلْمَ مَا حُظِرَ عَنْهُ عِلْمُهُ. . . ".
وَقَدْ أَحْبَبْتُ أَنْ أَشْرَحَهَا سَالِكًا طَرِيقَ السَّلَفِ فِي عِبَارَاتِهِمْ، وَأَنْسُجَ عَلَى مِنْوَالِهِمْ، مُتَطَفِّلًا عَلَيْهِمْ، لَعَلِّي أَنْ أُنْظَمَ فِي سِلْكِهِمْ، وَأُدْخَلَ فِي عِدَادِهِمْ، وَأُحْشَرَ فِي زُمْرَتِهِمْ {مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا} [النساء: 69] (النِّسَاءِ: 69) .
এবং এর মূলনীতিগুলো সুসংহত করা এবং এর বন্ধনীগুলো দৃঢ় করার ক্ষেত্রে। তাঁদের সংকল্প প্রতিটি বিষয়ে উচ্চতর লক্ষ্যপানে সচেষ্ট ছিল। সুতরাং পরবর্তী সময়ের লোকেরা এক অবস্থায় রয়েছে, আর সেই পূর্ববর্তী মহৎ ব্যক্তিগণ অন্য এক অবস্থায় ছিলেন। আর আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন।
উলামাদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি এই আকিদাহর ব্যাখ্যা করেছেন, কিন্তু আমি দেখেছি যে কিছু ব্যাখ্যাকারী নিন্দনীয় ইলমুল কালামের অনুসারীদের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন, তাদের থেকে তথ্য গ্রহণ করেছেন এবং তাদের পরিভাষা ব্যবহার করে কথা বলেছেন।
[সত্য ও মিথ্যার সংমিশ্রণ থাকার কারণে নির্দিষ্ট কিছু শব্দ ব্যবহারের প্রতি সালাফদের অনীহা]আর সালাফগণ জাওহার (সত্তা), জিসম (দেহ), আরাজ (লক্ষণ) এবং এই জাতীয় শব্দ ব্যবহারের প্রতি কেবল এজন্যই অনীহা প্রকাশ করেননি যে, এগুলো সঠিক অর্থের জন্য উদ্ভাবিত নতুন পরিভাষা ছিল—যেমনটি অন্যান্য সঠিক ইলমের ক্ষেত্রে নতুন নতুন পরিভাষা ব্যবহার করা হয়; এমনকি তাঁরা সত্যের দিকে নির্দেশনা দেওয়া এবং বাতিলপন্থীদের সাথে বিতর্ক করাকেও অপছন্দ করেননি। বরং তাঁরা এগুলোকে অপছন্দ করেছেন কারণ এতে সত্যবিরোধী মিথ্যা বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে অন্যতম হলো কিতাব ও সুন্নাহর বিরোধিতা। আর এ কারণেই ইলমুল কালামের অনুসারীদের নিকট সাধারণ মুমিনদের মতোও ইয়াকিন (নিশ্চয়তা) ও মা'রিফাত (জ্ঞান) পাওয়া যায় না, তাঁদের আলেমদের কথা তো দূরে থাক।
এবং তাঁদের ভূমিকার মধ্যে সত্য ও মিথ্যার সংমিশ্রণ থাকার কারণে বাদানুবাদ ও বিতর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে, নানা ধরনের কথার ডালপালা ছড়িয়েছে এবং তাঁদের থেকে এমন সব বক্তব্য জন্ম নিয়েছে যা সঠিক শরিয়ত ও স্পষ্ট বিবেকের পরিপন্থী, যার বর্ণনা দেওয়ার অবকাশ এখানে সংকীর্ণ। আর এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে যখন গ্রন্থকার বলবেন: "যে ব্যক্তি এমন জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করবে যা তাঁর থেকে গোপন রাখা হয়েছে..."।
আমি এই আকিদাহর ব্যাখ্যা করতে চেয়েছি তাঁদেরই অভিব্যক্তি অনুসরণ করে সালাফদের পথ ধরে, এবং তাঁদেরই পদ্ধতিতে এটি বুনন করতে চেয়েছি—তাঁদের একজন অনুসারী হিসেবে; যাতে সম্ভবত আমি তাঁদের সিলসিলায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারি, তাঁদের গণনায় স্থান পেতে পারি এবং তাঁদের দলে হাশর হতে পারি {যাদের ওপর আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং নেককারগণ; আর তাঁরা কতই না উত্তম সঙ্গী।} [আন-নিসা: ৬৯] (আন-নিসা: ৬৯)।
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وَلَمَّا رَأَيْتُ النُّفُوسَ مَائِلَةً إِلَى الِاخْتِصَارِ، آثَرْتُهُ عَلَى التَّطْوِيلِ وَالْإِسْهَابِ. {وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} [هود: 88] (هُودٍ: 88) .
وَهُوَ حَسْبُنَا وَنِعْمَ الْوَكِيلُ.
[التَّوْحِيدُ]
[التَّوْحِيدُ هُوَ أَوَّلُ دَعْوَةِ الرُّسُلِ]قَوْلُهُ: (نَقُولُ فِي تَوْحِيدِ اللَّهِ مُعْتَقِدِينَ بِتَوْفِيقِ اللَّهِ: إِنَّ اللَّهَ وَاحِدٌ لَا شَرِيكَ لَهُ) .
ش: اعْلَمْ أَنَّ التَّوْحِيدَ أَوَّلُ دَعْوَةِ الرُّسُلِ، وَأَوَّلُ مَنَازِلِ الطَّرِيقِ، وَأَوَّلُ مَقَامٍ يَقُومُ فِيهِ السَّالِكُ إِلَى اللَّهِ عز وجل. قَالَ تَعَالَى: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَاقَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [الأعراف: 59] (الْأَعْرَافِ: 59) . وَقَالَ هُودٌ عليه السلام لِقَوْمِهِ: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [الأعراف: 65] (الْأَعْرَافِ: 65) . وَقَالَ صَالِحٌ عليه السلام لِقَوْمِهِ: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [الأعراف: 73] (الْأَعْرَافِ: 73) . وَقَالَ شُعَيْبٌ عليه السلام لِقَوْمِهِ: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [الأعراف: 85] (الْأَعْرَافِ: 85) . وَقَالَ تَعَالَى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36] (النَّحْلِ: 36) . وَقَالَ تَعَالَى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25] (الْأَنْبِيَاءِ: 25) . وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ
যখন আমি দেখলাম মানুষের মন সংক্ষিপ্তকরণের প্রতি ঝোঁকপূর্ণ, তখন আমি দীর্ঘায়ন ও বাগবাহুল্যের ওপর সংক্ষিপ্তকরণকেই অগ্রাধিকার দিলাম। {আর আমার তৌফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই, তাঁর ওপরই আমি ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই আমি প্রত্যাবর্তন করি} [হুদ: ৮৮] (হুদ: ৮৮) ।
তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
[তাওহীদ]
[তাওহীদ হলো রাসূলগণের দাওয়াতের প্রথম বিষয়]তাঁর বক্তব্য: (আমরা আল্লাহর তৌফিকে বিশ্বাস রেখে আল্লাহর তাওহীদ সম্পর্কে বলি যে: নিশ্চয়ই আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই) ।
ব্যাখ্যা: জেনে রাখুন যে, তাওহীদ হলো রাসূলগণের দাওয়াতের প্রথম বিষয়, পথের প্রথম মঞ্জিল এবং মহান আল্লাহর দিকে অগ্রসরমান পথিকের প্রথম অবস্থান। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অবশ্যই আমি নূহকে তার কওমের কাছে পাঠিয়েছিলাম, অতঃপর সে বলেছিল, হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই} [আরাফ: ৫৯] (আরাফ: ৫৯) । আর হূদ আলাইহিস সালাম তাঁর কওমকে বলেছিলেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই} [আরাফ: ৬৫] (আরাফ: ৬৫) । আর সালিহ আলাইহিস সালাম তাঁর কওমকে বলেছিলেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই} [আরাফ: ৭৩] (আরাফ: ৭৩) । আর শুআইব আলাইহিস সালাম তাঁর কওমকে বলেছিলেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই} [আরাফ: ৮৫] (আরাফ: ৮৫) । আর আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর অবশ্যই আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} [নাহল: ৩৬] (নাহল: ৩৬) । আর আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার কাছে আমি এই ওহী পাঠাইনি যে, নিশ্চয়ই আমি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো} [আম্বিয়া: ২৫] (আম্বিয়া: ২৫) । আর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি লড়াই করি...
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ» .
মানুষের বিরুদ্ধে, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য প্রদান করে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।» .
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
[أَوَّلُ وَاجِبٍ عَلَى الْمُكَلَّفِ هُوَ الشَّهَادَتَانِ]وَلِهَذَا كَانَ الصَّحِيحُ أَنَّ أَوَّلَ وَاجِبٍ يَجِبُ عَلَى الْمُكَلَّفِ شِهَادَةُ أَنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، لَا النَّظَرُ، وَلَا الْقَصْدُ إِلَى النَّظَرِ، وَلَا الشَّكُّ، كَمَا هِيَ أَقْوَالٌ لِأَرْبَابِ الْكَلَامِ الْمَذْمُومِ. بَلْ أَئِمَّةُ السَّلَفِ كُلُّهُمْ مُتَّفِقُونَ عَلَى أَنَّ أَوَّلَ مَا يُؤْمَرُ بِهِ الْعَبْدُ الشَّهَادَتَانِ، وَمُتَّفِقُونَ عَلَى أَنَّ مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ قَبْلَ الْبُلُوغِ لَمْ يُؤْمَرْ بِتَجْدِيدِ ذَلِكَ عَقِيبَ بُلُوغِهِ، بَلْ يُؤْمَرُ بِالطَّهَارَةِ وَالصَّلَاةِ إِذَا بَلَغَ أَوْ مَيَّزَ عِنْدَ مَنْ يَرَى ذَلِكَ. وَلَمْ يُوجِبْ أَحَدٌ مِنْهُمْ عَلَى وَلِيِّهِ أَنْ يُخَاطِبَهُ حِينَئِذٍ بِتَجْدِيدِ الشَّهَادَتَيْنِ، وَإِنْ كَانَ الْإِقْرَارُ بِالشَّهَادَتَيْنِ وَاجِبًا بِاتِّفَاقِ الْمُسْلِمِينَ، وَوُجُوبُهُ يَسْبِقُ وُجُوبَ الصَّلَاةِ، لَكِنْ هُوَ أَدَّى هَذَا الْوَاجِبَ قَبْلَ ذَلِكَ.
وَهُنَا مَسَائِلُ تَكَلَّمَ فِيهَا الْفُقَهَاءُ: فَمَنْ صَلَّى وَلَمْ يَتَكَلَّمْ بِالشَّهَادَتَيْنِ، أَوْ أَتَى بِغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ خَصَائِصِ الْإِسْلَامِ، وَلَمْ يَتَكَلَّمْ بِهِمَا، هَلْ يَصِيرُ مُسْلِمًا أَمْ لَا؟ وَالصَّحِيحُ أَنَّهُ يَصِيرُ مُسْلِمًا بِكُلِّ مَا هُوَ مِنْ خَصَائِصِ الْإِسْلَامِ. فَالتَّوْحِيدُ أَوَّلُ مَا يَدْخُلُ بِهِ فِي الْإِسْلَامِ، وَآخِرُ مَا يَخْرُجُ بِهِ مِنَ الدُّنْيَا، كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَانَ آخِرُ كَلَامِهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ» . وَهُوَ أَوَّلُ وَاجِبٍ وَآخِرُ وَاجِبٍ.
[মুকাল্লাফের উপর প্রথম ওয়াজিব হলো শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্যবাণী)]আর এই কারণেই সঠিক মত হলো, মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) উপর সর্বপ্রথম যে বিষয়টি ওয়াজিব হয় তা হলো— 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই' এই সাক্ষ্য প্রদান করা; 'নজর' (যৌক্তিক পর্যবেক্ষণ), 'নজরের সংকল্প' কিংবা 'সন্দেহ' নয়— যেমনটি নিন্দিত ইলমুল কালামের অনুসারীদের বক্তব্য। বরং সালাফে সালেহীনের সকল ইমাম এ বিষয়ে একমত যে, বান্দাকে সর্বপ্রথম যে বিষয়ের আদেশ দেওয়া হবে তা হলো শাহাদাতাইন। তারা এ বিষয়েও একমত যে, যে ব্যক্তি বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হওয়ার আগে এটি সম্পন্ন করেছে, তাকে বালেগ হওয়ার পরপরই তা নবায়ন করার আদেশ দেওয়া হবে না। বরং সে বালেগ হলে তাকে পবিত্রতা অর্জন ও সালাত আদায়ের আদেশ দেওয়া হবে, অথবা যারা বালেগ হওয়ার আগে ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা (তাময়ীয) অর্জনকে যথেষ্ট মনে করেন, তাদের মতে তখন থেকেই তাকে এ আদেশ দেওয়া হবে। আর তাদের কেউই বাচ্চার অভিভাবকের উপর এ কথা ওয়াজিব করেননি যে, সে সময় তাকে শাহাদাতাইন নবায়ন করার নির্দেশ দিতে হবে; যদিও মুসলিমদের সর্বসম্মত মতে শাহাদাতাইনের স্বীকৃতি প্রদান করা ওয়াজিব এবং এর আবশ্যকতা সালাতের আবশ্যকতার পূর্ববর্তী, কিন্তু সে তো এই ওয়াজিব আগেই পালন করে ফেলেছে।
আর এখানে এমন কিছু মাসআলা রয়েছে যা নিয়ে ফকীহগণ আলোচনা করেছেন: যেমন কোনো ব্যক্তি সালাত আদায় করল কিন্তু শাহাদাতাইন উচ্চারণ করল না, অথবা ইসলামের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের কোনোটি পালন করল অথচ শাহাদাতাইন উচ্চারণ করল না, তবে সে কি মুসলিম হবে কি না? সঠিক মত হলো, ইসলামের বৈশিষ্ট্যসমূহের যেকোনোটি পালনের মাধ্যমেই সে মুসলিম বলে গণ্য হবে। সুতরাং তাওহীদ হলো সেই বিষয় যার মাধ্যমে ইসলামে প্রবেশ ঘটে এবং যা দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সময়ের শেষ আমল। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যার শেষ কথা হবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" আর এটিই প্রথম ওয়াজিব এবং এটিই শেষ ওয়াজিব।
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
[أنواع التوحيد ومعانيه]فَالتَّوْحِيدُ أَوَّلُ الْأَمْرِ وَآخِرُهُ، أَعْنِي: تَوْحِيدَ الْإِلَهِيَّةِ، فَإِنَّ التَّوْحِيدَ يَتَضَمَّنُ ثَلَاثَ أَنْوَاعٍ:
أَحَدُهَا: الْكَلَامُ فِي الصِّفَاتِ.
وَالثَّانِي: تَوْحِيدُ الرُّبُوبِيَّةِ، وَبَيَانُ أَنَّ اللَّهَ وَحْدَهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ.
وَالثَّالِثُ: تَوْحِيدُ الْإِلَهِيَّةِ، وَهُوَ اسْتِحْقَاقُهُ سبحانه وتعالى أَنْ يُعْبَدَ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ.
[تَوْحِيدُ الصِّفَاتِ]أَمَّا الْأَوَّلُ: فَإِنَّ نُفَاةَ الصِّفَاتِ أَدْخَلُوا نَفْيَ الصِّفَاتِ فِي مُسَمَّى التَّوْحِيدِ، كَالْجَهْمِ بْنِ صَفْوَانَ وَمَنْ وَافَقَهُ، فَإِنَّهُمْ قَالُوا: إِثْبَاتُ
[তাওহীদের প্রকারভেদ ও এর অর্থসমূহ]বস্তুত তাওহীদই হলো সকল বিষয়ের শুরু এবং শেষ; আমি তাওহীদে ইলাহিয়্যাকে বুঝাচ্ছি। কেননা তাওহীদ তিনটি প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথমটি: সিফাত বা গুণাবলী বিষয়ক আলোচনা।
দ্বিতীয়টি: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ, আর তা হলো এই বর্ণনা যে, আল্লাহ একাই প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা।
তৃতীয়টি: তাওহীদে ইলাহিয়্যাহ, আর তা হলো তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এককভাবে ইবাদত পাওয়ার যোগ্য হওয়া, যার কোনো শরীক নেই।
[তাওহীদে সিফাত বা গুণাবলীর তাওহীদ]প্রথমটির ক্ষেত্রে বলা যায়: সিফাত বা গুণাবলী অস্বীকারকারীরা তাওহীদ সংজ্ঞার মধ্যে গুণাবলী অস্বীকার করাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যেমন জাহম ইবন সাফওয়ান এবং যারা তার অনুসরণ করেছে; তারা বলেছে যে, (গুণাবলী) সাব্যস্ত করা...
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
الصِّفَاتِ يَسْتَلْزِمُ تَعَدُّدَ الْوَاجِبِ، وَهَذَا الْقَوْلُ مَعْلُومُ الْفَسَادِ بِالضَّرُورَةِ، فَإِنَّ إِثْبَاتَ ذَاتٍ مُجَرَّدَةٍ عَنْ جَمِيعِ الصِّفَاتِ لَا يُتَصَوَّرُ لَهَا وُجُودٌ فِي الْخَارِجِ، وَإِنَّمَا الذِّهْنُ قَدْ يَفْرِضُ الْمُحَالَ وَيَتَخَيَّلُهُ وَهَذَا غَايَةُ التَّعْطِيلِ.
وَهَذَا الْقَوْلُ قَدْ أَفْضَى بِقَوْمٍ إِلَى الْقَوْلِ بِالْحُلُولِ أَوِ الِاتِّحَادِ، وَهُوَ أَقْبَحُ مِنْ كُفْرِ النَّصَارَى، فَإِنَّ النَّصَارَى خَصُّوهُ بِالْمَسِيحِ، وَهَؤُلَاءِ عَمُّوا جَمِيعَ الْمَخْلُوقَاتِ.
وَمِنْ فُرُوعِ هَذَا التَّوْحِيدِ: أَنَّ فِرْعَوْنَ وَقَوْمَهُ كَامِلُو الْإِيمَانِ، عَارِفُونَ بِاللَّهِ عَلَى الْحَقِيقَةِ.
وَمِنْ فُرُوعِهِ: أَنَّ عُبَّادَ الْأَصْنَامِ عَلَى الْحَقِّ وَالصَّوَابِ، وَأَنَّهُمْ إِنَّمَا عَبَدُوا اللَّهَ لَا غَيْرَهُ.
وَمِنْ فُرُوعِهِ: أَنَّهُ لَا فَرْقَ فِي التَّحْرِيمِ وَالتَّحْلِيلِ بَيْنَ الْأُمِّ وَالْأُخْتِ وَالْأَجْنَبِيَّةِ، وَلَا فَرْقَ بَيْنَ الْمَاءِ وَالْخَمْرِ، وَالزِّنَا وَالنِّكَاحِ، وَالْكُلُّ مِنْ عَيْنٍ وَاحِدَةٍ، لَا بَلْ هُوَ الْعَيْنُ الْوَاحِدَةُ.
وَمِنْ فُرُوعِهِ: أَنَّ الْأَنْبِيَاءَ ضَيَّقُوا عَلَى النَّاسِ، تَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يَقُولُونَ عُلُوًّا كَبِيرًا.
[تَوْحِيدُ الرُّبُوبِيَّةِ]وَأَمَّا الثَّانِي: وَهُوَ تَوْحِيدُ الرُّبُوبِيَّةِ، كَالْإِقْرَارِ بِأَنَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ، وَأَنَّهُ لَيْسَ لِلْعَالَمِ صَانِعَانِ مُتَكَافِئَانِ فِي الصِّفَاتِ وَالْأَفْعَالِ، وَهَذَا التَّوْحِيدُ حَقٌّ لَا رَيْبَ فِيهِ، وَهُوَ الْغَايَةُ عِنْدَ كَثِيرٍ مِنْ أَهْلِ النَّظَرِ وَالْكَلَامِ وَطَائِفَةٍ مِنَ الصُّوفِيَّةِ. وَهَذَا التَّوْحِيدُ لَمْ يَذْهَبْ إِلَى نَقِيضِهِ طَائِفَةٌ مَعْرُوفَةٌ مِنْ بَنِي آدَمَ، بَلِ
গুণাবলি (সাব্যস্ত করা) ইলাহী সত্তার বহুত্বকে অপরিহার্য করে তোলে—এই উক্তির অসারতা স্বতঃসিদ্ধভাবে সুবিদিত। কেননা, সকল গুণাবলি থেকে মুক্ত কোনো সত্তার অস্তিত্ব বাস্তব জগতে কল্পনা করা যায় না। বরং মস্তিষ্ক কেবল অসম্ভব বিষয়কে কল্পনা করতে পারে, আর এটিই হলো চরম পর্যায়ের তা’তীল বা গুণাবলি বর্জন।
আর এই মতবাদটি এক সম্প্রদায়কে হুলুল (সৃষ্টিতে স্রষ্টার অনুপ্রবেশ) অথবা ইত্তিহাদ (সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টি এক হয়ে যাওয়া) এর দিকে ধাবিত করেছে, যা নাসারাদের কুফর অপেক্ষা জঘন্যতর। কেননা নাসারারা একে কেবল মাসীহের সাথে নির্দিষ্ট করেছিল, আর এরা একে সমস্ত সৃষ্টির জন্য সাধারণ করে দিয়েছে।
আর এই (কথিত) তাওহীদের একটি শাখা হলো: ফেরাউন এবং তার সম্প্রদায় ছিল পরিপূর্ণ ঈমানের অধিকারী এবং তারা প্রকৃতপক্ষেই আল্লাহ সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিল।
এর আরেকটি শাখা হলো: মূর্তিপূজকরা সত্য ও সঠিক পথের ওপর ছিল এবং তারা মূলত আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করেনি।
এর আরেকটি শাখা হলো: হারাম ও হারামের বিধানে মা, বোন ও পরনারীর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; এবং পানি ও মদ, কিংবা ব্যভিচার ও বিবাহের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। আর এই সবকিছুই এক মূল সত্তা থেকে উৎপন্ন, বরং তা সেই একই সত্তা।
এর আরেকটি শাখা হলো: নবীগণ মানুষের ওপর জীবনকে সংকীর্ণ করে দিয়েছেন। তারা যা বলে, আল্লাহ তা থেকে অত্যন্ত পবিত্র ও সুমহান।
[তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ]আর দ্বিতীয় প্রকার হলো: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্বের একত্ববাদ), যেমন এই স্বীকৃতি প্রদান করা যে, তিনি প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা এবং এই মহাবিশ্বের গুণাবলি ও কর্মে সমকক্ষ কোনো দুইজন স্রষ্টা নেই। এই তাওহীদ এমন এক সত্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর এটিই হলো অধিকাংশ যুক্তিবাদী ও কালাম শাস্ত্রবিদ এবং সূফীদের একটি দলের নিকট চূড়ান্ত লক্ষ্য। আর আদম সন্তানদের মধ্য হতে কোনো সুপরিচিত দল এই তাওহীদের বিপরীত অবস্থানে যায়নি, বরং...
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
الْقُلُوبُ مَفْطُورَةٌ عَلَى الْإِقْرَارِ بِهِ أَعْظَمَ مِنْ كَوْنِهَا مَفْطُورَةً عَلَى الْإِقْرَارِ بِغَيْرِهِ مِنَ الْمَوْجُودَاتِ، كَمَا قَالَتِ الرُّسُلُ فِيمَا حَكَى اللَّهُ عَنْهُمْ: {قَالَتْ رُسُلُهُمْ أَفِي اللَّهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} [إبراهيم: 10] (إِبْرَاهِيمَ: 10) .
وَأَشْهَرُ مَنْ عُرِفَ تَجَاهُلُهُ وَتَظَاهُرُهُ بِإِنْكَارِ الصَّانِعِ فِرْعَوْنُ، وَقَدْ كَانَ مُسْتَيْقِنًا بِهِ فِي الْبَاطِنِ، كَمَا قَالَ لَهُ مُوسَى: {لَقَدْ عَلِمْتَ مَا أَنْزَلَ هَؤُلَاءِ إِلَّا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بَصَائِرَ} [الإسراء: 102] (الْإِسْرَاءِ: 102) . وَقَالَ تَعَالَى عَنْهُ وَعَنْ قَوْمِهِ. {وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا} [النمل: 14] . وَلِهَذَا قَالَ: {وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ} [الشعراء: 23] ؟ عَلَى وَجْهِ الْإِنْكَارِ لَهُ تَجَاهُلَ الْعَارِفِ، قَالَ لَهُ مُوسَى: {رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ مُوقِنِينَ - قَالَ لِمَنْ حَوْلَهُ أَلَا تَسْتَمِعُونَ - قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ - قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ الَّذِي أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌ - قَالَ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُونَ} [الشعراء: 24 - 28] (الشُّعَرَاءِ: 24 - 28) .
وَقَدْ زَعَمَ طَائِفَةٌ أَنَّ فِرْعَوْنَ سَأَلَ مُوسَى مُسْتَفْهِمًا عَنِ الْمَاهِيَّةِ، وَأَنَّ الْمَسْؤُولَ عَنْهُ لَمَّا لَمْ تَكُنْ لَهُ مَاهِيَّةٌ، عَجَزَ مُوسَى عَنِ الْجَوَابِ وَهَذَا غَلَطٌ. وَإِنَّمَا هَذَا اسْتِفْهَامُ إِنْكَارٍ وَجَحْدٍ، كَمَا دَلَّ سَائِرُ آيَاتِ الْقُرْآنِ عَلَى أَنَّ فِرْعَوْنَ كَانَ جَاحِدًا لِلَّهِ، نَافِيًا لَهُ، لَمْ يَكُنْ مُثْبِتًا لَهُ طَالِبًا لِلْعِلْمِ بِمَاهِيَّتِهِ. فَلِهَذَا بَيَّنَ لَهُمْ مُوسَى أَنَّهُ مَعْرُوفٌ، وَأَنَّ آيَاتِهِ وَدَلَائِلَ رُبُوبِيَّتِهِ أَظْهَرُ وَأَشْهَرُ مِنْ أَنْ يُسْأَلَ عَنْهُ بِمَا هُوَ؟ بَلْ هُوَ سُبْحَانَهُ أَعْرَفُ وَأَظْهَرُ وَأَبْيَنُ مِنْ أَنْ يُجْهَلَ، بَلْ مَعْرِفَتُهُ مُسْتَقِرَّةٌ فِي الْفِطَرِ أَعْظَمَ مِنْ مَعْرِفَةِ كُلِّ مَعْرُوفٍ.
অন্তরসমূহ তাঁর (আল্লাহর) স্বীকৃতির ওপর এমনভাবে সৃজিত হয়েছে যা অন্যান্য বিদ্যমান বস্তুর স্বীকৃতির চেয়েও অধিক সুদৃঢ়। যেমনটি রাসূলগণ বলেছেন, আল্লাহ তাঁদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: "তাঁদের রাসূলগণ বলেছিলেন: আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা আল্লাহ সম্পর্কে কি কোনো সন্দেহ আছে?" [ইবরাহীম: ১০]।
স্রষ্টাকে অস্বীকার করার ভান করা এবং এ বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত ব্যক্তি হলো ফেরাউন। অথচ সে অন্তরের অন্তস্থলে এ বিষয়ে নিশ্চিত বিশ্বাসী ছিল, যেমনটি মূসা তাকে বলেছিলেন: "তুমি অবশ্যই জানো যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রবই এই চাক্ষুষ নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেছেন।" [আল-ইসরা: ১০২]। আল্লাহ তাআলা তার এবং তার সম্প্রদায় সম্পর্কে বলেছেন: "অবিচার ও উদ্ধতবশত তারা নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো সত্য বলে নিশ্চিত বিশ্বাস করেছিল।" [আন-নামল: ১৪]। এই কারণেই সে বলেছিল: "আর জগতসমূহের রব কে?" [আশ-শুআরা: ২৩]। এটি ছিল সত্য জানা সত্ত্বেও অস্বীকারকারী হিসেবে অজ্ঞতা প্রকাশের ছলে করা একটি প্রশ্ন। মূসা তাকে বললেন: "তিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও। ফেরাউন তার চারপাশের লোকদের বলল: তোমরা কি শুনছ না? মূসা বললেন: তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও রব। ফেরাউন বলল: তোমাদের কাছে প্রেরিত তোমাদের এই রাসূল তো নিশ্চয়ই একজন উন্মাদ। মূসা বললেন: তিনি পূর্ব ও পশ্চিম এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, যদি তোমরা জ্ঞানসম্পন্ন হও।" [আশ-শুআরা: ২৪-২৮]।
একদল লোক দাবি করেছে যে, ফেরাউন মূসাকে আল্লাহর স্বরূপ সম্পর্কে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছিল। আর যেহেতু যা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে তার কোনো (কল্পনাযোগ্য) স্বরূপ নেই, তাই মূসা উত্তর দিতে অক্ষম হয়েছিলেন। এটি একটি ভুল ধারণা। বরং এটি ছিল অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যানসূচক প্রশ্ন। যেমনটি কুরআনের অন্যান্য আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফেরাউন আল্লাহকে অস্বীকারকারী ও প্রত্যাখ্যানকারী ছিল। সে আল্লাহকে স্বীকার করে তাঁর স্বরূপ সম্পর্কে জ্ঞান অন্বেষণকারী ছিল না। এই কারণেই মূসা তাদের কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি (আল্লাহ) সুপরিচিত এবং তাঁর রুবুবিয়াতের নিদর্শন ও প্রমাণাদি এতই সুস্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ যে, 'তিনি কী?'—এভাবে প্রশ্ন করার অবকাশ নেই। বরং তিনি পবিত্র এবং এতই পরিচিত, প্রকাশ্য ও স্পষ্ট যে তাঁকে নিয়ে অজ্ঞ থাকা সম্ভব নয়। প্রকৃতপক্ষে তাঁর পরিচয় স্বভাবজাত প্রবৃত্তি বা ফিতরাতের মধ্যে অন্য যে কোনো পরিচিত বিষয়ের চেয়ে অধিক দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত।
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
وَلَمْ يُعْرَفْ عَنْ أَحَدٍ مِنَ الطَّوَائِفِ أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ الْعَالَمَ لَهُ صَانِعَانِ مُتَمَاثِلَانِ فِي الصِّفَاتِ وَالْأَفْعَالِ، فَإِنَّ الثَّنَوِيَّةَ مِنَ الْمَجُوسِ، وَالْمَانَوِيَّةَ الْقَائِلِينَ بِالْأَصْلَيْنِ: النُّورِ وَالظُّلْمَةِ، وَأَنَّ الْعَالَمَ صَدَرَ عَنْهُمَا: مُتَّفِقُونَ عَلَى أَنَّ النُّورَ خَيْرٌ مِنَ الظُّلْمَةِ، وَهُوَ الْإِلَهُ الْمَحْمُودُ، وَأَنَّ الظُّلْمَةَ شِرِّيرَةٌ مَذْمُومَةٌ، وَهُمْ مُتَنَازِعُونَ فِي الظُّلْمَةِ، هَلْ هِيَ قَدِيمَةٌ أَوْ مُحْدَثَةٌ؟ فَلَمْ يُثْبِتُوا رَبَّيْنِ مُتَمَاثِلَيْنِ.
وَأَمَّا النَّصَارَى الْقَائِلُونَ بِالتَّثْلِيتِ، فَإِنِّهَمْ لَمْ يُثْبِتُوا لِلْعَالَمِ ثَلَاثَةَ أَرْبَابٍ يَنْفَصِلُ بَعْضُهُمْ عَنْ بَعْضٍ، بَلْ مُتَّفِقُونَ عَلَى أَنَّ صَانِعَ الْعَالَمِ وَاحِدٌ، وَيَقُولُونَ: بِاسْمِ الْأَبِ وَالِابْنِ وَرُوحِ الْقُدُسِ إِلَهٌ وَاحِدٌ.
وَقَوْلُهُمْ فِي التَّثْلِيثِ مُتَنَاقِضٌ فِي نَفْسِهِ، وَقَوْلُهُمْ فِي الْحُلُولِ أَفْسَدُ مِنْهُ، وَلِهَذَا كَانُوا مُضْطَرِبِينَ فِي فَهْمِهِ، وَفِي التَّعْبِيرِ عَنْهُ، لَا يَكَادُ وَاحِدٌ مِنْهُمْ يُعَبِّرُ عَنْهُ بِمَعْنًى مَعْقُولٍ، وَلَا يَكَادُ اثْنَانِ يَتَّفِقَانِ عَلَى مَعْنًى وَاحِدٍ، فَإِنَّهُمْ يَقُولُونَ: هُوَ وَاحِدٌ بِالذَّاتِ، ثَلَاثَةٌ بِالْأُقْنُومِ! وَالْأَقَانِيمُ يُفَسِّرُونَهَا تَارَةً بِالْخَوَاصِّ، وَتَارَةً بِالصِّفَاتِ، وَتَارَةً بِالْأَشْخَاصِ. وَقَدْ فَطَرَ اللَّهُ الْعِبَادَ عَلَى
কোনো সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেই এমনটি জানা যায় না যে কেউ বলেছে: এই জগতের গুণাবলি ও কার্যাবলীতে সমান দুইজন স্রষ্টা রয়েছে। কেননা অগ্নিপূজকদের মধ্য হতে দ্বৈতবাদী এবং মানোবাদী—যারা আলো ও অন্ধকার নামক দুটি মূল উপাদানে বিশ্বাসী এবং মনে করে যে জগত এই দুটি থেকেই উদ্ভূত হয়েছে—তারাও এ বিষয়ে একমত যে, আলো অন্ধকারের চেয়ে উত্তম এবং তা প্রশংসিত ইলাহ, আর অন্ধকার হলো মন্দ ও নিন্দিত। তারা অন্ধকারের প্রকৃতি নিয়ে বিবাদে লিপ্ত যে এটি অনাদি নাকি নতুনভাবে সৃষ্ট? সুতরাং তারাও দুইজন সমগুণসম্পন্ন রবের অস্তিত্ব প্রমাণ করেনি।
আর ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসী নাসারাদের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, তারাও জগতের জন্য এমন তিনজন রব সাব্যস্ত করেনি যারা একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক; বরং তারা এ বিষয়ে একমত যে জগতের স্রষ্টা একজনই। তারা বলে থাকে: পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে, একই ইলাহ।
তাদের ত্রিত্ববাদ সংক্রান্ত বক্তব্যটি স্ববিরোধী, আর অবতারবাদ সংক্রান্ত তাদের বক্তব্য তার চেয়েও অধিক ভ্রান্ত। একারণেই তারা এটি উপলব্ধি করতে এবং ব্যাখ্যা করতে বিভ্রান্তির শিকার। তাদের মধ্যে প্রায় কেউই একে কোনো যুক্তিসঙ্গত অর্থে ব্যাখ্যা করতে পারে না এবং প্রায় কোনো দুইজন ব্যক্তি একই অর্থের ওপর একমত হতে পারে না। তারা বলে থাকে: তিনি সত্তাগতভাবে এক, কিন্তু উকনুম বা ব্যক্তিত্বে তিন! আর এই উকনুমসমূহকে তারা কখনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য, কখনো গুণাবলি, আবার কখনো ব্যক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করে। আর আল্লাহ বান্দাদেরকে স্বভাবজাতভাবে সৃষ্টি করেছেন...
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
فَسَادِ هَذِهِ الْأَقْوَالِ بَعْدَ التَّصَوُّرِ التَّامِّ. وَفِي الْجُمْلَةِ فَهُمْ لَا يَقُولُونَ بِإِثْبَاتِ خَالِقَيْنِ مُتَمَاثِلَيْنِ.
وَالْمَقْصُودُ هُنَا: أَنَّهُ لَيْسَ فِي الطَّوَائِفِ مَنْ يُثْبِتُ لِلْعَالَمِ صَانِعَيْنِ مُتَمَاثِلَيْنِ، مَعَ أَنَّ كَثِيرًا مِنْ أَهْلِ الْكَلَامِ وَالنَّظَرِ وَالْفَلْسَفَةِ تَعِبُوا فِي إِثْبَاتِ هَذَا الْمَطْلُوبِ وَتَقْرِيرِهِ. وَمِنْهُمْ مَنِ اعْتَرَفَ بِالْعَجْزِ عَنْ تَقْرِيرِ هَذَا بِالْعَقْلِ، وَزَعَمَ أَنَّهُ يُتَلَقَّى مِنَ السَّمْعِ.
وَالْمَشْهُورُ عِنْدَ أَهْلِ النَّظَرِ إِثْبَاتُهُ بِدَلِيلِ التَّمَانُعِ، وَهُوَ: أَنَّهُ لَوْ كَانَ لِلْعَالَمِ صَانِعَانِ فَعِنْدَ اخْتِلَافِهِمَا مِثْلَ أَنْ يُرِيدَ أَحَدُهُمَا تَحْرِيكَ جِسْمٍ وَآخَرُ تَسْكِينَهُ، أَوْ يُرِيدُ أَحَدُهُمَا إِحْيَاءَهُ وَالْآخَرُ إِمَاتَتَهُ: فَإِمَّا أَنْ يَحْصُلَ مُرَادُهُمَا، أَوْ مُرَادُ أَحَدِهِمَا، أَوْ لَا يَحْصُلُ مُرَادُ وَاحِدٍ مِنْهُمَا. وَالْأَوَّلُ مُمْتَنَعٌ، لِأَنَّهُ يَسْتَلْزِمُ الْجَمْعَ بَيْنَ الضِّدَّيْنِ، وَالثَّالِثُ مُمْتَنَعٌ، لِأَنَّهُ يَلْزَمُ خُلُوُّ الْجِسْمِ عَنِ الْحَرَكَةِ وَالسُّكُونِ، وَهُوَ مُمْتَنَعٌ، وَيَسْتَلْزِمُ أَيْضًا عَجْزَ كُلٍّ مِنْهُمَا، وَالْعَاجِزُ لَا يَكُونُ إِلَهًا، وَاذَا حَصَلَ مُرَادُ أَحَدِهِمَا دُونَ الْآخَرِ، كَانَ هَذَا هُوَ الْإِلَهَ الْقَادِرَ، وَالْآخَرُ عَاجِزًا لَا يَصْلُحُ لِلْإِلَهِيَّةِ، وَتَمَامُ الْكَلَامِ عَلَى هَذَا الْأَصْلِ مَعْرُوفٌ فِي مَوْضِعِهِ.
[تَوْحِيدُ الْإِلَهِيَّةِ الْمُتَضَمِّنُ تَوْحِيدَ الرُّبُوبِيَّةِ]وَكَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ النَّظَرِ يَزْعُمُونَ أَنَّ دَلِيلَ التَّمَانُعِ هُوَ مَعْنَى قَوْلِهِ تَعَالَى: {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا} [الأنبياء: 22] (الْأَنْبِيَاءِ: 22) . لِاعْتِقَادِهِمْ أَنَّ تَوْحِيدَ الرُّبُوبِيَّةِ الَّذِي قَرَّرُوهُ هُوَ تَوْحِيدُ الْإِلَهِيَّةِ الَّذِي بَيَّنَهُ الْقُرْآنُ، وَدَعَتْ إِلَيْهِ الرُّسُلُ عليهم السلام، وَلَيْسَ الْأَمْرُ كَذَلِكَ، بَلِ التَّوْحِيدُ الَّذِي
এই মতবাদগুলোর পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধির পর এগুলোর অসারতা স্পষ্ট হয়। সংক্ষেপে, তারা দুজন সমকক্ষ স্রষ্টা সাব্যস্ত করার কথা বলে না।
এখানে উদ্দেশ্য হলো: দলগুলোর মধ্যে এমন কেউ নেই যারা জগতের জন্য দুজন সমকক্ষ কারিগর বা স্রষ্টা সাব্যস্ত করে, যদিও কালামশাস্ত্রবিদ, গবেষক ও দার্শনিকদের অনেকে এই বিষয়টি প্রমাণ ও সুপ্রতিষ্ঠিত করতে অনেক শ্রম ব্যয় করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এটি প্রতিষ্ঠা করতে অক্ষমতা স্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এটি কেবল শ্রুতিনির্ভর দলিলের মাধ্যমেই জানা যায়।
আর গবেষকদের নিকট প্রসিদ্ধ হলো 'তামানু' (পরস্পর বাধা প্রদান) এর দলিলের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করা। তা হলো: যদি জগতের জন্য দুজন স্রষ্টা থাকতেন, তবে তাদের মতভেদের সময়—যেমন একজন কোনো বস্তুকে গতিশীল করতে চাইলেন আর অন্যজন স্থির রাখতে চাইলেন, অথবা একজন তাকে জীবিত করতে চাইলেন আর অন্যজন মৃত করতে চাইলেন—সেক্ষেত্রে হয় উভয়ের ইচ্ছা পূরণ হবে, অথবা যে কোনো একজনের ইচ্ছা পূরণ হবে, অথবা কারো ইচ্ছাই পূরণ হবে না। প্রথমটি অসম্ভব, কারণ এর অর্থ দাঁড়াবে দুটি বিপরীত বিষয়কে একসাথে একত্র করা। তৃতীয়টিও অসম্ভব, কারণ এর ফলে বস্তুটি গতি ও স্থিতি উভয় অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা অসম্ভব; এটি উভয়ের অক্ষমতাও সাব্যস্ত করে, আর অক্ষম সত্তা ইলাহ হতে পারেন না। আর যদি একজনের ইচ্ছা পূরণ হয় এবং অন্যজনের না হয়, তবে তিনিই হবেন সক্ষম ইলাহ, আর অন্যজন হবেন অক্ষম যিনি ইলাহ হওয়ার অযোগ্য। এই মূলনীতির ওপর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা সংশ্লিষ্ট স্থানে সুপরিচিত।
[উলুহিয়্যাহর তাওহিদ যা রুবুবিয়্যাহর তাওহিদকে অন্তর্ভুক্ত করে]গবেষকদের অনেকেই দাবি করেন যে, 'তামানু'র দলিলই হলো মহান আল্লাহর এই বাণীর মর্মার্থ: "যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া অন্য অনেক ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।" [আল-আম্বিয়া: ২২]। কারণ তাদের বিশ্বাস হলো, রুবুবিয়্যাহর তাওহিদ যা তারা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন, সেটিই হলো উলুহিয়্যাহর তাওহিদ যা কুরআন বর্ণনা করেছে এবং রাসুলগণ (আলাইহিমুস সালাম) যার দিকে আহ্বান করেছেন। অথচ বিষয়টি তেমন নয়, বরং সেই তাওহিদ যা...
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
دَعَتْ إِلَيْهِ الرُّسُلُ، وَنَزَلَتْ بِهِ الْكُتُبُ، هُوَ تَوْحِيدُ الْإِلَهِيَّةِ الْمُتَضَمِّنُ تَوْحِيدَ الرُّبُوبِيَّةِ، وَهُوَ عِبَادَةُ اللَّهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، فَإِنَّ الْمُشْرِكِينَ مِنَ الْعَرَبِ كَانُوا يُقِرُّونَ بِتَوْحِيدِ الرُّبُوبِيَّةِ، وَأَنَّ خَالِقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاحِدٌ، كَمَا أَخْبَرَ تَعَالَى عَنْهُمْ بِقَوْلِهِ: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} [لقمان: 25] (لُقْمَانَ: 25) . {قُلْ لِمَنِ الْأَرْضُ وَمَنْ فِيهَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ - سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ} [المؤمنون: 84 - 85] (الْمُؤْمِنُونَ: 84 - 85) . وَمِثْلُ هَذَا كَثِيرٌ فِي الْقُرْآنِ.
وَلَمْ يَكُونُوا يَعْتَقِدُونَ فِي الْأَصْنَامِ أَنَّهَا مُشَارِكَةٌ لِلَّهِ فِي خَلْقِ الْعَالَمِ، بَلْ كَانَ حَالُهُمْ فِيهَا كَحَالِ أَمْثَالِهِمْ مِنْ مُشْرِكِي الْأُمَمِ مِنَ الْهِنْدِ وَالتُّرْكِ وَالْبَرْبَرِ وَغَيْرِهِمْ، تَارَةً يَعْتَقِدُونَ أَنَّ هَذِهِ تَمَاثِيلُ قَوْمٍ صَالِحِينَ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ وَالصَّالِحِينَ، وَيَتَّخِذُونَهُمْ شُفَعَاءَ، وَيَتَوَسَّلُونَ بِهِمْ إِلَى اللَّهِ، وَهَذَا كَانَ أَصْلَ شِرْكِ الْعَرَبِ، قَالَ تَعَالَى حِكَايَةً عَنْ قَوْمِ نُوحٍ. {وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدَّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا} [نوح: 23] (نُوحٍ: 23) ، وَقَدْ ثَبَتَ فِي صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ، وَكُتُبِ التَّفْسِيرِ، وَقَصَصِ الْأَنْبِيَاءِ وَغَيْرِهَا، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، وَغَيْرِهِ مِنَ السَّلَفِ، أَنَّ هَذِهِ أَسْمَاءُ قَوْمٍ صَالِحِينَ فِي قَوْمِ نُوحٍ، فَلَمَّا مَاتُوا عَكَفُوا عَلَى قُبُورِهِمْ، ثُمَّ صَوَّرُوا تَمَاثِيلَهُمْ، ثُمَّ طَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ، فَعَبَدُوهُمْ وَأَنَّ هَذِهِ الْأَصْنَامَ بِعَيْنِهَا صَارَتْ إِلَى قَبَائِلِ الْعَرَبِ، ذَكَرَهَا ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَبِيلَةً قَبِيلَةً.
রাসূলগণ এ দিকেই দাওয়াত দিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ এ নিয়েই অবতীর্ণ হয়েছে। এটি হলো উলুহিয়্যাতের তাওহীদ, যা রুবুবিয়্যাতের তাওহীদকেও অন্তর্ভুক্ত করে। আর তা হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা যার কোনো শরীক নেই। কেননা আরবের মুশরিকরা রুবুবিয়্যাতের তাওহীদ স্বীকার করত এবং (বিশ্বাস করত) যে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা একজনই। যেমন মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে জানিয়েছেন: "যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, কে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ" [লুকমান: ২৫] (লুকমান: ২৫)। "বলুন, এই পৃথিবী এবং এতে যা আছে তা কার? যদি তোমরা জান। তারা বলবে, আল্লাহর। বলুন, তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবেন না?" [আল-মুমিনুন: ৮৪ - ৮৫] (আল-মুমিনুন: ৮৪ - ৮৫)। কুরআনে এই ধরনের উদাহরণ অনেক রয়েছে।
তারা মূর্তিসমূহ সম্পর্কে এমন বিশ্বাস পোষণ করত না যে তারা বিশ্বজগত সৃষ্টিতে আল্লাহর সাথে অংশীদার। বরং তাদের অবস্থা ছিল ভারত, তুর্কী, বার্বার এবং অন্যান্য মুশরিক জাতিসমূহের মতো। কখনো তারা মনে করত যে এগুলো নবী এবং নেককার ব্যক্তিদের মধ্য থেকে কিছু সৎ লোকের প্রতিকৃতি এবং তারা তাদের সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করত এবং তাদের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট অসিলা তালাশ করত। আর এটাই ছিল আরবের শিরকের মূল ভিত্তি। মহান আল্লাহ নূহের কওম সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "এবং তারা বলেছিল, তোমরা তোমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করো না; পরিত্যাগ করো না ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগুস, ইয়াঊক ও নাসরকে" [নূহ: ২৩] (নূহ: ২৩)। সহীহ বুখারী, তাফসীর গ্রন্থসমূহ, নবীদের কাহিনী এবং অন্যান্য কিতাবে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ও অন্যান্য সালফে সালেহীন থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, এগুলো ছিল নূহের কওমের কিছু নেককার লোকের নাম। যখন তারা মারা গেল, তখন তারা তাদের কবরে অবস্থান করতে শুরু করল, অতঃপর তাদের মূর্তি তৈরি করল, এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তারা তাদের ইবাদত করতে শুরু করল। আর এই মূর্তিসমূহ পরবর্তীতে আরবের বিভিন্ন গোত্রের নিকট চলে আসে, যা ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) একেকটি গোত্রের নাম উল্লেখ করে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
وَقَدْ ثَبَتَ فِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ عَنْ أَبِي الْهَيَّاجِ الْأَسْدِيِّ، قَالَ: قَالَ لِي عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه: «أَلَا أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ أَمَرَنِي أَنْ لَا أَدَعَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلَّا سَوَّيْتُهُ، وَلَا تِمْثَالًا إِلَّا طَمَسْتُهُ»
وَفِي الصَّحِيحَيْنِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ فِي مَرَضِ مَوْتِهِ:
এবং সহীহ মুসলিমে আবুল হাইয়্যাজ আল-আসাদী থেকে সাব্যস্ত হয়েছে, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে বলেছেন, "আমি কি তোমাকে এমন এক কাজে পাঠাব না যে কাজে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, আমি যেন কোনো উঁচু কবরকে সমান করে দেওয়া ব্যতিরেকে এবং কোনো মূর্তিকে মিটিয়ে দেওয়া ব্যতিরেকে না ছাড়ি।"
এবং সহীহাইন-এ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন বলেছিলেন:
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
«لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى، اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ» يُحَذِّرُ مَا فَعَلُوا، قَالَتْ عَائِشَةُ رضي الله عنها: وَلَوْلَا ذَلِكَ لَأُبْرِزَ قَبْرُهُ، وَلَكِنْ كَرِهَ أَنْ يُتَّخَذَ مَسْجِدًا، وَفِي الصَّحِيحَيْنِ «أَنَّهُ ذُكِرَ فِي مَرَضِ مَوْتِهِ كَنِيسَةٌ بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ، وَذُكِرَ لَهُ مِنْ حُسْنِهَا وَتَصَاوِيرَ فِيهَا، فَقَالَ: إِنَّ أُولَئِكَ إِذَا مَاتَ فِيهِمُ الرَّجُلُ الصَّالِحُ بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا، وَصَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ التَّصَاوِيرَ، أُولَئِكَ شِرَارُ الْخَلْقِ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
» وَفِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ بِخَمْسٍ: «إَنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُونَ قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ وَصَالِحِيهِمْ مَسَاجِدَ، أَلَا فَلَا تَتَّخِذُوا الْقُبُورَ مَسَاجِدَ، فَإِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ ذَلِكَ» .
"আল্লাহ ইহুদি ও খ্রিস্টানদের প্রতি লানত করেছেন, তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।" তারা যা করেছিল সে সম্পর্কে তিনি সতর্ক করছিলেন। আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: "যদি এই আশঙ্কা না থাকত, তবে তাঁর কবরটি উন্মুক্ত রাখা হতো, কিন্তু তিনি অপছন্দ করেছেন যে সেটিকে যেন মসজিদে পরিণত করা হয়।" এবং সহীহদ্বয়ে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর অসুস্থ থাকাকালীন হাবাশা ভূমির একটি গির্জার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল এবং তাঁর কাছে সেটির সৌন্দর্য ও তাতে থাকা চিত্রগুলোর কথা আলোচনা করা হয়েছিল। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই ওইসব লোক—যখন তাদের মধ্যে কোনো নেককার মানুষ মারা যেত, তারা তার কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করত এবং তাতে ওইসব চিত্র অঙ্কন করত। কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট তারাই সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
" এবং সহীহ মুসলিমে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ইন্তেকালের পাঁচ দিন পূর্বে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তীগণ তাদের নবী ও নেককার ব্যক্তিদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করত। সাবধান! তোমরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করো না। নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে তা থেকে নিষেধ করছি।"
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وَمِنْ أَسْبَابِ الشِّرْكِ عِبَادَةُ الْكَوَاكِبِ، وَاتِّخَاذُ الْأَصْنَامِ بِحَسَبِ مَا يُظَنُّ أَنَّهُ مُنَاسِبٌ لِلْكَوَاكِبِ مِنْ طِبَاعِهَا. وَشِرْكُ قَوْمِ إِبْرَاهِيمَ عليه السلام كَانَ - فِيمَا يُقَالُ - مِنْ هَذَا الْبَابِ. وَكَذَلِكَ الشِّرْكُ بِالْمَلَائِكَةِ وَالْجِنِّ، وَاتِّخَاذُ الْأَصْنَامِ لَهُمْ.
وَهَؤُلَاءِ كَانُوا مُقِرِّينَ بِالصَّانِعِ، وَأَنَّهُ لَيْسَ لِلْعَالَمِ صَانِعَانِ، وَلَكِنِ اتَّخَذُوا هَؤُلَاءِ شُفَعَاءَ، كَمَا أَخْبَرَ عَنْهُمْ تَعَالَى بِقَوْلِهِ: {وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} [الزمر: 3] (الزُّمَرِ: 3) . وَقَالَ تَعَالَى: {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [يونس: 18] (يُونُسَ: 18) .
وَكَذَلِكَ كَانَ حَالُ الْأُمَمِ السَّالِفَةِ الْمُشْرِكِينَ الَّذِينَ كَذَّبُوا الرُّسُلَ. كَمَا حَكَى اللَّهُ تَعَالَى فِي قِصَّةِ صَالِحٍ عليه السلام عَنِ التِّسْعَةِ رَهْطٍ الَّذِينَ تَقَاسَمُوا بِاللَّهِ، أَيْ: تَحَالَفُوا بِاللَّهِ، لَنُبِيِّتَنَّهُ وَأَهْلَهُ. فَهَؤُلَاءِ الْمُفْسِدُونَ الْمُشْرِكُونَ تَحَالَفُوا بِاللَّهِ عِنْدَ قَتْلِ نَبِيِّهِمْ وَأَهْلِهِ، وَهَذَا يُبَيِّنُ أَنَّهُمْ كَانُوا مُؤْمِنِينَ بِاللَّهِ إِيمَانَ الْمُشْرِكِينَ.
فَعُلِمَ أَنَّ التَّوْحِيدَ الْمَطْلُوبَ هُوَ تَوْحِيدُ الْإِلَهِيَّةِ، الَّذِي يَتَضَمَّنُ تَوْحِيدَ الرُّبُوبِيَّةِ. قَالَ تَعَالَى: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} [الروم: 30] إِلَى قَوْلِهِ: {إِذَا هُمْ يَقْنَطُونَ} [الروم: 36] (الرُّومِ: 30 - 36) .
শিরকের অন্যতম কারণ হলো নক্ষত্রপুঞ্জের ইবাদত করা এবং নক্ষত্ররাজির স্বভাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করে প্রতিমা গ্রহণ করা। কথিত আছে যে, ইবরাহীম আলাইহিস সালামের কওমের শিরক ছিল এই পর্যায়েরই। অনুরূপভাবে ফেরেশতা ও জিনের সাথে শিরক করা এবং তাদের জন্য প্রতিমা গ্রহণ করাও এর অন্তর্ভুক্ত।
এরা সবাই স্রষ্টার অস্তিত্ব স্বীকার করত এবং এটিও বিশ্বাস করত যে মহাবিশ্বের জন্য দুইজন স্রষ্টা নেই। কিন্তু তারা এদেরকে সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করেছিল, যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: {আর যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে (তারা বলে), আমরা এদের ইবাদত কেবল এজন্যই করি যেন এরা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়} (যুমার: ৩)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর তারা আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না এবং উপকারও করতে পারে না; আর তারা বলে, এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি আসমান ও যমীনে জানেন না? তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে} (ইউনুস: ১৮)।
অনুরূপ অবস্থা ছিল পূর্ববর্তী সেই সব মুশরিক জাতির যারা রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। যেমন আল্লাহ তাআলা সালিহ আলাইহিস সালামের কাহিনীতে সেই নয়জন ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যারা আল্লাহর নামে শপথ করেছিল, অর্থাৎ আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করেছিল যে, আমরা অবশ্যই তাকে ও তার পরিবারকে রাতের আঁধারে আক্রমণ করব। সুতরাং এই অনিষ্টকারী মুশরিকরা তাদের নবী এবং তাঁর পরিবারকে হত্যা করার সময় আল্লাহর নামে শপথ করেছিল। এটি প্রমাণ করে যে, তারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী ছিল, তবে তা ছিল মুশরিকদের পর্যায়ের বিশ্বাস।
এর মাধ্যমে জানা গেল যে, কাঙ্ক্ষিত তাওহীদ হলো তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ, যা তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহকে অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {সুতরাং আপনি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন। আল্লাহর সেই স্বভাবজাত ধর্ম (ফিতরাত) যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই সঠিক দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না} [রূম: ৩০] থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {তখন তারা হতাশ হয়ে পড়ে} (রূম: ৩০-৩৬)।
(খণ্ড: ١)
শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ - ত-আর রিসালাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
وَقَالَ تَعَالَى: {أَفِي اللَّهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} [إبراهيم: 10] (إِبْرَاهِيمَ: 10) . وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: «كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ، فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ أَوْ يُمَجِّسَانِهِ» وَلَا يُقَالُ: إِنَّ مَعْنَاهُ يُولَدُ سَاذِجًا لَا يَعْرِفُ تَوْحِيدًا وَلَا شِرْكًا، كَمَا قَالَهُ بَعْضُهُمْ - لِمَا تَلُونَا، وَلِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا يَرْوِي عَنْ
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ সম্পর্কে কি কোনো সন্দেহ আছে, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা?} [ইব্রাহিম: ১০] (ইব্রাহিম: ১০)। এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «প্রত্যেক নবজাতকই ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি বানায়, অথবা খ্রিস্টান বানায়, অথবা অগ্নিপূজক বানায়»। আর এ কথা বলা যাবে না যে: এর অর্থ হলো সে এমন সাদাসিধে অবস্থায় জন্ম নেয় যে সে তাওহীদও চেনে না এবং শিরকও চেনে না, যেমনটি তাদের কেউ কেউ বলেছেন—আমরা যা তিলাওয়াত করেছি তার কারণে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা বর্ণনা করেছেন তাতে তাঁর বাণীর কারণে...