(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: -)
معرفة القراء الكبار على الطبقات والأعصار   (شمس الدين الذهبي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: معرفة القراء الكبار على الطبقات والأعصار

المؤلف: شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قَايْماز الذهبي (ت 748هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية

الطبعة: الأولى 1417 هـ- 1997م

عدد الصفحات: 406

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

স্তর ও যুগ অনুযায়ী শ্রেষ্ঠ কারীদের পরিচিতি   (শামসুদ্দিন আয-যাহাবি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: স্তর ও যুগ অনুযায়ী শ্রেষ্ঠ কারীদের পরিচিতি

লেখক: শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান বিন কায়মাজ আয-যাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হি.)

প্রকাশক: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম ১৪১৭ হি.- ১৯৯৭ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৬

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٣)
ال‌‌مقدمة:

بسم الله الرحمن الرحيم

التعريف بالذهبي:

هو أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قايماز بن عبد الله الذهبي، ولد في شهر ربيع الآخر سنة 673هـ وكان من أسرة تركمانية الأصل، تنتهي بالولاء إلى بني تميم، وقد اهتم الذهبي بقراءة القرآن الكريم، والعناية بدراسة علم القراءات، فتوجه سنة 691هـ، هو ورفقة له إلى شيخ القراء جمال الدين أبي إسحاق إبراهيم بن داود العسقلاني ثم الدمشقي المعروف بالفاضلي، فشرع عليه بالجامع الكبير وكان الفاضلي وصحب الشيخ علم الدين السخاوي المتوفى سنة 643هـ وهو الذي انتمت إليه رياسة الإقراء في زمانه وجمع عليه القراءات السبع وتصدر للإقراء بتربة أم صالح، ولكنه أصيب بطرف من الفالج

فكان يقرئ في بيته وينتهي الذهبي عليه في أواخر سورة القصص، ويزداد الفالج

على الشيخ فيمنعه الطلبة من الدخول عليه ثم يموت سنة 962هـ وتظل قراءة الذهبي على الفاضلي ناقصة، وكان في هذه الأثناء قد شرع يقرأ بالجامع الكبير على الشيخ جمال الدين أبي إسحاق إبراهيم بن غالي المقرئ الدمشقي توفي سنة 708هـ وقرأ خاتمة لمذاهب القراء السبعة بما اشتمل عليه كتاب التيسير للداني وكتاب حرز الأماني للشاطبي على ابن جبريل المصمدي نزيل دمشق، وما لبث الذهبي أن أصبح على معرفة جيدة بالقراءات وأصولها ومسائلها. وهو لما يزل فتى لم يتعد العشرين من عمره، وقد استمد رحمه الله في تحصيل علم القراءات، فكتب المقدمة في التجويد عن مؤلفها المقرئ المجود أبي عبد الله محمد بن جوهر التلعرفي 696هـ، وتلا خاتمة للسبعة على مجد الدين أبي بكر بن محمد المرسي نزيل دمشق 718هـ.

وجمع الختمة على شيخ القراء ببعلبك موفق الدين 695هـ وقرأ بالسبع أيضا على المقرئ شمس الدين أبي عبد الله محمد بن منصور الحلبي 700هـ.

وكان الحلبي هذا من المتصدرين بالعادلية وبالجامع الأموي، وقرأ كتاب المبهج في القراءات السبع لسبط الشيخ أبي منصور الخياط البغدادي، والسبعة لأبي مجاهد وغيرهما، على شيخه أبي حفص عمر بن القواس المتوفى سنة 698هـ. وسمع الشاطبية من غير واحد من القراء.
ভূমিকা:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

আয-যাহাবীর পরিচয়:

তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন উসমান ইবন কায়মায ইবন আব্দুল্লাহ আয-যাহাবী। তিনি ৬৭৩ হিজরির রবিউস সানি মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তুর্কি বংশোদ্ভূত একটি পরিবার থেকে এসেছেন, যাদের আনুগত্যের সম্পর্ক বনু তামীম গোত্রের সাথে ছিল। আয-যাহাবী পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং কিরাআত শাস্ত্রের অধ্যয়নের প্রতি গভীর মনোযোগী ছিলেন। তাই তিনি ৬৯১ হিজরিতে তাঁর কিছু সঙ্গীসহ শায়খুল কুররা জামালুদ্দীন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবন দাউদ আল-আসকালানি (পরবর্তীতে আদ-দিমাশকি), যিনি আল-ফাদিলি নামে পরিচিত ছিলেন, তাঁর কাছে গমন করেন। তিনি জামে কাবিরে তাঁর কাছে পাঠ শুরু করেন। আল-ফাদিলি ছিলেন শায়খ আলামুদ্দীন আস-সাখাভী (মৃত্যু ৬৪৩ হি.)-এর ছাত্র, যাঁর কাছে তৎকালীন কিরাআত শিক্ষার প্রধান নেতৃত্ব ন্যস্ত ছিল এবং যাঁর কাছে তিনি সাত কিরাআত সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি উম্মে সালেহ মাদরাসায় কিরাআত শিক্ষাদানের দায়িত্বে আসীন ছিলেন, কিন্তু তিনি পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হন।

ফলে তিনি নিজ বাড়িতে ছাত্রদের পাঠ দান করতেন। আয-যাহাবী সূরা আল-কাসাস-এর শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে তিলাওয়াত সম্পন্ন করেন। এরপর শায়খের পক্ষাঘাত বৃদ্ধি পায় এবং ছাত্ররা তাঁর নিকট প্রবেশে বাধাগ্রস্ত হয়। অতঃপর ৯৬২ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং আল-ফাদিলির নিকট আয-যাহাবীর কিরাআত পাঠ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ইতিমধ্যে তিনি জামে কাবিরে শায়খ জামালুদ্দীন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবন গালি আল-মুকরি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭০৮ হি.)-এর কাছে পাঠ শুরু করেছিলেন। তিনি দিমাস্কের অধিবাসী ইবন জিবরিল আল-মাসমাদি-এর নিকট আদ-দানির ‘কিতাবুত তায়সির’ এবং আশ-শাতিবির ‘কিতাব হিরজুল আমানি’ গ্রন্থে বর্ণিত সাত ক্বারীর কিরাআত পদ্ধতিসমূহ সম্পন্ন করেন। শীঘ্রই আয-যাহাবী কিরাআত শাস্ত্রের মূলনীতি ও মাসআলা-মাসাইল সম্পর্কে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন, তখনও তিনি যুবক ছিলেন এবং তাঁর বয়স বিশ বছরও অতিক্রম করেনি। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি কিরাআত শাস্ত্র অর্জনে সচেষ্ট থাকেন এবং তাজবিদ শাস্ত্রের উপর রচিত ‘আল-মুকাদ্দিমাহ’ কিতাবটি তার লেখক প্রখ্যাত ক্বারী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন জাওহার আত-তালআরাফি (৬৯৬ হি.)-এর নিকট থেকে লিখে নেন। এছাড়া তিনি দিমাস্কের অধিবাসী মাজদুদ্দীন আবু বকর ইবন মুহাম্মদ আল-মুরসি (৭১৮ হি.)-এর কাছে সাত কিরাআতে পূর্ণ তিলাওয়াত সম্পন্ন করেন।

তিনি বালবাক-এর শায়খুল কুররা মুয়াফ্ফাকুদ্দীন (৬৯৫ হি.)-এর নিকট তিলাওয়াত সমাপ্ত করেন এবং শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন মানসুর আল-হালাবি (৭০০ হি.)-এর কাছেও সাত কিরাআতে পাঠ করেন।

এই আল-হালাবি আদিলিয়্যাহ মাদরাসা এবং উমাইয়া জামে মসজিদে প্রধান ক্বারী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আয-যাহাবী তাঁর শায়খ আবু হাফস ওমর ইবনুল কাওয়াস (মৃত্যু ৬৯৮ হি.)-এর কাছে সিবত শায়খ আবু মানসুর আল-খাইয়্যাত আল-বাগদাদির ‘আল-মুবহিজ ফিল কিরাআত আস-সাব্’ এবং আবু মুজাহিদের ‘আস-সাব্’ সহ অন্যান্য কিতাব পাঠ করেন। এছাড়া তিনি বহুসংখ্যক ক্বারীর নিকট থেকে ‘আশ-শাতিবিয়্যাহ’ শ্রবণ করেন।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٤)
وقد تنازل له عن حلقته بالجامع الأموي الشيخ أبو عبد الله محمد بن عبد العزيز الدمياطي، ثم الدمشقي الشافعي.

تصانيفه كثيرة تقارب المائة، منها:

1- المشتبه في الأسماء والأنساب والكنى والألقاب.

2- العباب في التاريخ.

3- تاريخ الإسلام الكبير.

4- دول الإسلام. ثلاثة أجزاء.

5- سير أعلام النبلاء.

6- تذكرة الحفاظ.

7- العبر في خبر من غبر. 4 أجزاء.

8- طبقات القراء الكبار.

9- المغني في رجال الحديث. جزآن.

10- معرفة القراء الكبار. كتابنا هذا.

وفاته:

أضر الذهبي في آخريات سني حياته قبل موته بأربع سنين أو أكثر بماء نزل في عينيه، فكان يتأذى ويعضب إذا قيل له: لو قدحت هذا لرجع البصر.

ويقول: ليس هذا بماء، وأنا أعرف نفسي؛ لأنني ما زال بصري ينقص قليلا قليلا إلى أن تكامل عدمه.

وتوفي رحمه الله بتربة أم صالح ليلة الاثنين، ثالث ذي القعدة قبل نصف الليل سنة 748هـ، ودفن بمقابر باب الصفير، وحضر الصلاة عليه جملة من العلماء، كان من بينهم تاج الدين السبكي.

وقد رثاه غير واحد من تلامذته، منهم الصلاح الصدفي، والتاج السبكي.
উমাইয়্যাহ জামে মসজিদে শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আদ-দিমইয়াতি, পরবর্তীতে আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি, তাঁর পাঠদান চক্রটি (হালকাহ) তাঁর অনুকূলে ছেড়ে দিয়েছিলেন।

তাঁর রচনাবলি অনেক, যা প্রায় একশর কাছাকাছি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১- আল-মুশতাবিহ ফিল আসমা ওয়াল আনসাব ওয়াল কুনা ওয়াল আলকাব।

২- আল-উবাব ফিত তারিখ।

৩- তারিখুল ইসলাম আল-কাবির।

৪- দুওয়ালুল ইসলাম। তিন খণ্ড।

৫- সিয়ারু আলামিন নুবালা।

৬- তাযকিরাতুল হুফফাজ।

৭- আল-ইবার ফি খাবারি মান গাবার। ৪ খণ্ড।

৮- তাবাকাতুল কুররা আল-কিবার।

৯- আল-মুগনি ফি রিজালিল হাদিস। দুই খণ্ড।

১০- মারেফাতুল কুররা আল-কিবার। এটি আমাদের বর্তমান গ্রন্থ।

তাঁর মৃত্যু:

আয-যাহাবি তাঁর জীবনের শেষ বছরগুলোতে, মৃত্যুর চার বছর বা তারও বেশি আগে চোখে ছানি পড়ার কারণে দৃষ্টিশক্তি হারান। তাঁকে যদি কেউ বলতেন: "আপনি যদি এটি অস্ত্রোপচার করাতেন তবে দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসত", তখন তিনি ব্যথিত ও রাগান্বিত হতেন।

এবং বলতেন: "এটি কেবল ছানি নয়, আমি নিজেকে ভালো জানি; কারণ আমার দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছিল এবং অবশেষে তা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।"

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ৭৪৮ হিজরির ৩রা জিলকদ সোমবার দিবাগত মধ্যরাতের আগে 'তুরবাতু উম্মে সালিহ'-এ ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে 'বাবুস সাগির' গোরস্থানে দাফন করা হয়। একদল আলিম তাঁর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের মধ্যে তাজউদ্দীন আস-সুবকিও ছিলেন।

তাঁর একাধিক ছাত্র তাঁর শোকগাথা রচনা করেছেন, যাঁদের মধ্যে আস-সালাহ আস-সাদাফি এবং আত-তাজ আস-সুবকি অন্যতম।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٥)
وصف المخطوط:

قمنا في تحقيق هذا الكتاب الجليل بفضل الله الواحد الأحد الغني الصمد الذي لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوا أحد بالاستعانة بمخطوطتين خطيتين وهما:

أ- مصدرة بدلين ورمزنا لها بالرمز أ.

ب- مصدرة دار الكتب المصرية ورمزنا لها بالرمز ب.

وفي النهاية أسأل الله أن يوفقنا الله سبحانه وتعالى من تحقيق هذا الكتاب على إتمامه والشكر لمشايخي الذين تلقيت عليهم العلم وهم: الشيخ الحسيني الشيخ، والشيخ جاد الدين رمضان، والشيخ محمد أنيس عبادة، والدكتور كمال عبد العظيم العقاني. جزاهم الله عنا وعن المسلمين خير الجزاء.

طالب العلم،

أبو عبد الله محمد حسن محمد حسن إسماعيل الشافعي

أ، محمد فارس
পাণ্ডুলিপির বিবরণ:

একক, অদ্বিতীয়, অমুখাপেক্ষী ও চিরন্তন আল্লাহর অনুগ্রহে—যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং যাঁকে জন্ম দেওয়া হয়নি এবং যাঁর সমকক্ষ কেউ নেই—আমরা এই মহান গ্রন্থটির সম্পাদনার কাজে দুটি পাণ্ডুলিপির সাহায্য গ্রহণ করেছি, সেগুলো হলো:

ক- বার্লিন থেকে প্রাপ্ত এবং আমরা একে ‘আ’ প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

খ- মিশরের ‘দারুল কুতুব’ থেকে প্রাপ্ত এবং আমরা একে ‘ব’ প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

পরিশেষে, আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের এই কিতাবটির সম্পাদনা সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেন। সেই সাথে আমি আমার ঐ সকল শাইখদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যাঁদের নিকট থেকে আমি ইলম অর্জন করেছি, তাঁরা হলেন: শাইখ আল-হুসাইনি আল-শাইখ, শাইখ জাদউদ্দীন রমাদান, শাইখ মুহাম্মদ আনিস উবাদাহ এবং ডক্টর কামাল আবদুল আজিম আল-আক্কানি। আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে এবং মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

ইলম অন্বেষণকারী,

আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ হাসান মুহাম্মদ হাসান ইসমাইল আশ-শাফিয়ী

আ. মুহাম্মদ ফারিস
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٩)
بسم الله الرحمن الرحيم

وهو حسبي، الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ما لمع نور واختفى، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، سيد الشرفا، وحسبي الله وكفى.

أما بعد، فهذا كتاب فيه معرفة المشهورين من القراء1 الأعيان، أولي الإسناد والإتقان، والتقدم في البلدان على الطبقات والأزمان، والله تعالى المستعان.

‌‌الطبقة الأولى: الذين عرضوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم رضي الله عنهم

باب الطبقة الأولى الذين عرضوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم رضي الله عنهم.

1- عثمان بن عفان بن أبي العاص بن أمية بن عبد شمس بن عبد مناف بن قصي بن كلاب أمير المؤمنين أبو عمرو 2، وأبو عبد الله القرشي الأموي ذو النورين 3 رضي الله عنه.

أحد السابقين الأولين وأحد من جمع4 القرآن على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

1 القراء بضم القاف وتشديد الراء مفتوحة جمع قارئ وهو: من نطق بألفاظ الآية عن نظر أو عن حفظ، أما القراء بفتح القاف وتشديد الراء مفتوحة فهو: من يجيد قراءة القرآن. "انظر المعجم الوجيز ص494-495".

2 كان عثمان يكنى في الجاهلية أبا عمرو، فلما ولدت له في الإسلام رقية غلاما سماه عبد الله واكتنى به. "انظر صفة الصفوة ص154 ج1".

3 سمي ذو النورين لجمعه بين بنتي رسول الله صلى الله عليه وسلم رقية وأم كلثوم رضي الله عنهما. "انظر صفة الصفوة ص154 جـ1".

4 لا بد أن نفرق بين جمع القرآن في عهد أبي بكر وجمعه في عهد عثمان على النحو الآتي: فجمع القرآن في عهد أبي بكر معناه: ترتيب آيات كل سورة على حدة، وإن ظلت السورة بعد ذلك مفرقة، لم يرتب بعضها إثر بعض. أما جمعه في عهد عثمان فمعناه ترتيب سوره ونسخه من الصحف من مصحف واحد جامع لكل آياته وسوره على الترتيب الذي نقرأه به ونشاهد اليوم. فالفرق إذا بين الصحف والمصاحف: أن الصحف هي ما جمع فيها أبو بكر سور القرآن بعد ترتيب آياتها من غير رعاية ترتيب السور. والمصحف: هو ما جمعت فيه تلك الصحف بعد ترتيب سورها. فإذا علمت هذا فاعلم أن القرآن كان في عهد الرسول -صلوات الله وسلامه عليه- محفوظا في الصدور، مكتوبا في الرقاع "جمع رقعة بالضم وهي القطعة من الجلد" والعسب "جمع عسيب وهي جريدة من النخل=
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর সেই বান্দাদের প্রতি সালাম যাদের তিনি মনোনীত করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, যতক্ষণ আলো উদ্ভাসিত হয় ও মিলিয়ে যায়। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তিনি সম্ভ্রান্তদের নেতা; আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই যথেষ্ট।

অতপর, এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে প্রথিতযশা প্রখ্যাত ক্বারীগণ, যারা সনদের ধারাবাহিকতা ও পারদর্শিতার অধিকারী এবং বিভিন্ন স্তর ও যুগে দেশব্যাপী অগ্রগণ্য ছিলেন, তাদের পরিচয় বর্ণনা করা হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলাই সাহায্যকারী।

প্রথম স্তর: যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তিলাওয়াত পেশ করেছেন (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)

প্রথম স্তরের অধ্যায়: যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কুরআন তিলাওয়াত পেশ করেছেন (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)।

১- উসমান বিন আফফান বিন আবুল আস বিন উমাইয়া বিন আবদু শামস বিন আবদু মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব, আমিরুল মুমিনিন, আবু আমর এবং আবু আবদুল্লাহ আল-কুরাশি আল-উমাউয়ি, যুন-নুরাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)।

তিনি প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী অগ্রবর্তীদের একজন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে কুরআন সংকলনকারী ব্যক্তিদের অন্যতম।

--------------------------------------------

১- 'কুররা' (ক্বফ বর্ণের ওপর পেশ এবং র বর্ণের ওপর যবর ও তাশদীদসহ) শব্দটি 'ক্বারী' শব্দের বহুবচন। ক্বারী হলেন তিনি, যিনি দেখে অথবা মুখস্থ করার মাধ্যমে আয়াতের শব্দাবলি উচ্চারণ করেন। আর 'ক্বাররা' (ক্বফ বর্ণের ওপর যবর এবং র বর্ণের ওপর যবর ও তাশদীদসহ) হলেন তিনি, যিনি কুরআন তিলাওয়াতে অত্যন্ত পারদর্শী। (দ্রষ্টব্য: আল-মুজাম আল-ওয়াজিজ, পৃষ্ঠা ৪৯৪-৪৯৫)।

২- জাহেলি যুগে উসমানের কুনিয়া বা ডাকনাম ছিল আবু আমর। অতপর ইসলামি যুগে যখন তাঁর স্ত্রী রুকাইয়ার গর্ভে এক পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে, তখন তিনি তার নাম রাখেন আবদুল্লাহ এবং সেই অনুসারে নিজের ডাকনাম (আবু আবদুল্লাহ) গ্রহণ করেন। (দ্রষ্টব্য: সিফাতুস সাফওয়াহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৫৪)।

৩- তাঁকে 'যুন-নুরাইন' (দুই জ্যোতির অধিকারী) বলা হয় কারণ তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুই কন্যা রুকাইয়া ও উম্মু কুলসুম (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বিবাহ করেছিলেন। (দ্রষ্টব্য: সিফাতুস সাফওয়াহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৫৪)।

৪- আবু বকরের যুগে কুরআন সংকলন এবং উসমানের যুগে কুরআন সংকলনের মধ্যে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে পার্থক্য করা আবশ্যক: আবু বকরের যুগে কুরআন সংকলনের অর্থ ছিল—প্রতিটি সূরার আয়াতসমূহকে পৃথকভাবে বিন্যস্ত করা, যদিও সূরাগুলো তখনো বিচ্ছিন্ন ছিল এবং একটির পর একটির ক্রম অনুসারে সাজানো ছিল না। পক্ষান্তরে উসমানের যুগে সংকলনের অর্থ হলো—সূরার ক্রম বিন্যস্ত করা এবং মূল পাণ্ডুলিপি থেকে একটি একক পূর্ণাঙ্গ সংকলন তৈরি করা, যেখানে সমস্ত আয়াত ও সূরা সেই ক্রম অনুযায়ী থাকবে যেভাবে আমরা আজ তিলাওয়াত করি এবং দেখতে পাই। সুতরাং 'সুহুফ' (বিচ্ছিন্ন লিপিকা) এবং 'মাসহাফ' (সংকলিত গ্রন্থ)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো—'সুহুফ' হলো সেই সংকলন যেখানে আবু বকর সূরার ক্রম রক্ষা না করে কেবল আয়াতগুলো সাজিয়ে একত্রিত করেছিলেন। আর 'মাসহাফ' হলো সেই সংকলন যেখানে ওই লিপিগুলোকে সূরার ক্রম রক্ষা করে একত্রিত করা হয়েছে। আপনি যদি এটি বুঝতে পারেন, তবে জেনে রাখুন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে কুরআন মানুষের অন্তরে সংরক্ষিত ছিল এবং তা রিকা (চামড়ার টুকরো) ও উসুব (খেজুর গাছের ডাল)-এর ওপর লিখিত ছিল।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ١٠)
قرأ عليه المغيرة بن أبي شهاب المخزومي1.

ويقال: قرأ عليه ابن عامر2 وليس بشيء، وإنما قرأ على المغيرة وحدث عنه بنوه أبان وعمرو وسعيد وحمران بن أبان وابن عباس وعبد الله بن عمر بن الخطاب وأنس بن مالك رضي الله عنهم أجمعين، والسائب بن يزيد وأبو أمامة بن سهل وأبو عبد الرحمن السلمي والأحنف بن قيس3 وطارق بن شهاب وخلق كثير.

تزوج بابنة رسول الله صلى الله عليه وسلم رقية رضي الله عنها، فولدت له عبد الله وبه كان يكنى ثم كني، بابنه عمرو، فلما توفيت رقية ليالي بدر زوجه النبي صلى الله عليه وسلم بأختها أم كلثوم رضي الله عنها، وكان معتدل الطول حسن الوجه كبير اللحية أسمر بعيد ما بين المنكبين مخضبا بالصفرة.

قال السائب: رأيته فما رأيت شيخا أجمل منه، قلت: سقت أخباره في تاريخ الإسلام، قتل شهيدا في داره مظلوما، قاتل الله قاتله في ثامن عشر ذي الحجة سنة خمس وثلاثين، وله اثنتان وثمانون سنة على الصحيح -رضي الله عنه4.

--------------------------------------------

= مستقيمة مزال خوصها" واللخاف "ككتاب جمع لخفة بالكسر وهي حجارة بيض رقاق" غير مجموع ولا مرتب السور، وقد نظم بعضهم ذلك فقال:

لم يجمع القرآن في مجلد به … على الصحيح في حياة أحمد

للأمن فيه من خلاف ينشأ … وخيفة النسخ بوحي يطرأ

وكان يكتب على الأكتاف … وقطع الأدم واللخاف

وبعد إغماض النبي فالأحق … أن أبا بكر بجمعه سبق

جمعه غير مرتب السور … بعد إشارة إليه من عمر

ثم تولى الجمع ذو النورين … فضمه ما بين دفتين

مرتب السور والآيات … مخرجا بأفصح اللغات

"انظر لطائف البيان في رسم القرآن شرح مورد الظمآن ص6، 7".

1 انظر ترجمته ضمن الطبقة الثانية.

2 هو عبد الله بن عامر بن يزيد بن تميم بن ربيعة بن عامر اليحصبي بتثليث الصاد. وكنيته أبو عمران ولد سنة إحدى وعشرين من الهجرة، وقيل سنة ثمان منها. وتوفي بدمشق يوم عاشوراء سنة ثماني عشرة ومائة. "انظر تاريخ القراء العشرة ورواتهم وتأثر قراءاتهم ص21".

3 هو أبو بحر المعروف بالأحنف بن قيس التميمي السعدي، كان من سادات التابعين يضرب بحلمه المثل، فعن الحسن قال: ما رأيت شريف قوم أفضل من الأحنف، أدرك عهد النبي صلى الله عليه وسلم وأسلم قومه بإشارته، ولم يغد على رسول الله صلى الله عليه وسلم وله رواية عن عمر وعثمان وعلي رضي الله عنهم، توفي سنة اثنتين وسبعين للهجرة. "انظر شذرات الذهب في أخبار من ذهب ص78 جـ1".

4 انظر أسد الغابة "3/ 584"، الإصابة "2/ 455". تاريخ الخلفاء "ص/ 147"، تذكرة الحفاظ "1/ 8". خلاصة تذهيب الكمال "221"، شذرات الذهب "1/ 40". طبقات ابن سعد "3/ 36"، طبقات الشيرازي "40". طبقات القراء لابن الجزري "1/ 507"، العبر "1/ 36". مروج الذهب "2/ 340"، النجوم الذاهدة "1/ 92". حلية الأولياء "1/ 55"، الرياض الناضرة "2/ 82". مرآة الجنان "1/ 90"، العقد الثمين "2/ 32"
মুগিরা বিন আবু শিহাব আল-মাখজুমি তার কাছে তিলাওয়াত করেছেন১।

বলা হয়ে থাকে যে, ইবনে আমির২ তার কাছে তিলাওয়াত করেছেন, তবে এটি সঠিক নয়; বরং তিনি মুগিরার কাছেই তিলাওয়াত করেছিলেন। আর তার পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন তার পুত্রগণ— আবান, আমর, সাঈদ এবং হামরান বিন আবান; আরও বর্ণনা করেছেন ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আল-খাত্তাব, আনাস বিন মালিক (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), সায়েব বিন ইয়াজিদ, আবু উমামা বিন সাহল, আবু আবদুর রহমান আস-সুলামি, আহনাফ বিন কায়স৩, তারিক বিন শিহাব এবং আরও অসংখ্য লোক।

তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা রুকাইয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে বিয়ে করেন। তিনি তার গর্ভে আবদুল্লাহকে জন্ম দেন এবং তার নামানুসারে উসমানের কুনিয়াত (উপনাম) রাখা হয়; পরবর্তীতে তার পুত্র আমরের নামানুসারেও কুনিয়াত রাখা হয়েছিল। যখন বদরের যুদ্ধকালীন দিনগুলোতে রুকাইয়্যাহ ইন্তেকাল করেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বোন উম্মে কুলসুম (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর সাথে তার বিয়ে দেন। তিনি মাঝারি উচ্চতার, সুন্দর চেহারার, বড় দাড়িবিশিষ্ট, শ্যামলা বর্ণের, চওড়া কাঁধের অধিকারী ছিলেন এবং দাড়ি পীত বর্ণে রঞ্জিত করতেন।

সায়েব বলেন: আমি তাকে দেখেছি, তার চেয়ে সুন্দর কোনো বৃদ্ধ আমি দেখিনি। আমি (লেখক) বলছি: আমি তার ঘটনাবলি 'তারিখুল ইসলাম'-এ সবিস্তারে বর্ণনা করেছি। তিনি পঁয়ত্রিশ হিজরির জিলহজ মাসের আঠারো তারিখ নিজ ঘরে মজলুম অবস্থায় শহীদ হন; আল্লাহ তার হত্যাকারীকে ধ্বংস করুন। সঠিক মতানুসারে তার বয়স হয়েছিল বিরাশি বছর— আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন৪।

--------------------------------------------

= সোজা এবং পাতা সরানো হয়েছে এমন" এবং আল-লিখাফ "যেমন কিতাব শব্দের ওজনে লিখফাহ শব্দের বহুবচন, যা সাদা পাতলা পাথরকে বোঝায়", যা সংকলিত বা সূরা অনুসারে বিন্যস্ত ছিল না। কেউ কেউ এটি কবিতায় বর্ণনা করেছেন এভাবে:

সহিহ মতানুসারে আহমাদ (সা.)-এর জীবদ্দশায় কুরআন কিতাব আকারে সংকলিত হয়নি …

যেন কোনো মতবিরোধ সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে … এবং অহির মাধ্যমে কোনো আয়াত রহিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে মুক্ত থাকতে

আর তা লেখা হতো কাঁধের হাড়ে … চামড়ার টুকরোয় এবং পাতলা পাথরে

নবীজির ইন্তেকালের পর যার অধিকার সবচেয়ে বেশি ছিল … সেই আবু বকরই এটি সংগ্রহের ক্ষেত্রে অগ্রণী ছিলেন

তিনি এটি সূরা বিন্যস্ত না করেই সংগ্রহ করেছিলেন … উমরের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে ইঙ্গিত পাওয়ার পর

অতঃপর যুন-নুরাইন (উসমান) এর সংকলনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন … এবং একে দুই মলাটের মাঝে একত্রিত করেন

সূরা এবং আয়াত বিন্যস্ত করে … সবচেয়ে প্রাঞ্জল ভাষায় তা প্রকাশ করেন

"দেখুন: লাতায়িফুল বয়ান ফি রাসমিল কুরআন শারহু মাওয়ারিদিজ জামআন, পৃষ্ঠা ৬, ৭"।

১ তার জীবনী দ্বিতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত দেখুন।

২ তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন আমির বিন ইয়াজিদ বিন তামিইম বিন রাবিয়াহ বিন আমির আল-ইয়াহসুবি (সোয়াদ বর্ণে তিন প্রকার হরকত সহ)। তার কুনিয়াত আবু ইমরান, তিনি হিজরি ২১ সালে জন্মগ্রহণ করেন, মতান্তরে হিজরি ৮ সালে। তিনি হিজরি ১১৮ সালের আশুরার দিনে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন। "দেখুন: তারিখুল কুররাউল আশারাহ ওয়া রুওয়াতুহুম পৃষ্ঠা ২১"।

৩ তিনি আবু বাহর, যিনি আহনাফ বিন কায়স আত-তামিমি আস-সাদি নামে পরিচিত। তিনি শ্রেষ্ঠ তাবেঈদের একজন ছিলেন, তার ধৈর্য ও সহনশীলতাকে উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়। হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আহনাফের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো গোত্রীয় সরদার দেখিনি। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ পেয়েছেন এবং তার ইশারাতেই তার কওম ইসলাম গ্রহণ করেছিল, যদিও তিনি নিজে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গমনের সৌভাগ্য পাননি। তিনি উমর, উসমান ও আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ৭২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। "দেখুন: শাযারাতুজ জাহাব ফি আখবারু মান জাহাব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭৮"।

৪ দেখুন: আসাদুল গাবাহ (৩/৫৮৪), আল-ইসাবাহ (২/৪৫৫), তারিখুল খুলাফা (পৃষ্ঠা ১৪৭), তাযকিরাতুল হুফফায (১/৮), খুলাসাতু তাহযিবিল কামাল (২২১), শাযারাতুজ জাহাব (১/৪০), তাবাকাতু ইবনু সাদ (৩/৩৬), তাবাকাতুশ শিরাজী (৪০), তাবাকাতুল কুররা লিবনিল জাযারি (১/৫০৭), আল-ইবার (১/৩৬), মুরুজুয যাহাব (২/৩৪০), আন-নুজুমুয যাহিরাহ (১/৯২), হিলইয়াতুল আউলিয়া (১/৫৫), আর-রিয়াদুয নাযিরাহ (২/৮২), মিরআতুল জানান (১/৯০), আল-ইকদুস সামিন (২/৩২)।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ١١)
2- علي بن أبي طالب بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب أمير المؤمنين أبو الحسن الهاشمي رضي الله عنه.

أحد السابقين الأولين، لم يسبقه الى الإسلام إلا خديجة رضي الله عنها.

واختلف فيه وفي أبي بكر رضي الله عنهما أيهما أسلم أول، ولكن إسلام الصديق كان أنفع للإسلام وأكمل، لأن عليا رضي الله عنهما أسلم وله ثماني سنين.

وقيل: تسع سنين.

وقيل: ابن عشر سنين، وقيل ابن اثنتي عشرة سنة، وقيل ابن ثلاث عشرة، وقيل ابن خمس عشرة.

قال ابن عيينة1 عن جعفر الصادق2 عن أبيه أن عليا قتل وهو ابن ثمان وخمسين سنة.

قال المؤلف: هذا يطابق أنه أسلم وله ثماني سنين، لأن النبي صلى الله عليه وسلم بعث فأقام بمكة عشرا وبالمدينة عشرا، وعلى قول من يقول أقام بمكة ثلاث عشرة سنة كما قال الشاعر: "ثوى في قريش بضع عشرة حجة" فيكون علي أسلم وله خمس سنين أو نحوها.

وروى عبد الله بن محمد بن عقيل عن ابن الحنفية3 قال: قتل أبي وله ثلاث وستون سنة.

وكذا قال أبو إسحاق السبيعي وأبو بكر بن عياش وجماعة، ورواه فرات بن السائب

--------------------------------------------

1 هو شيخ الحجاز وأحد الأعلام أبو محمد بن سفيان بن عيينة الهلالي مولاهم الكوفي الحافظ نزيل مكة، قال الشافعي: لولا مالك وابن عيينة لذهب علم الحجاز وقال ابن وهب: لا أعلم أحدا أعلم بالتفسير من ابن عيينة، وقال أحمد العجلي: كان حديثه نحوا من سبعة آلاف حديث. توفي في الأول من رجب سنة ثمان وتسعين ومائة وله إحدى وتسعون سنة: "انظر شذرات الذهب ص354 جـ1".

2 هو أبو عبد الله جعفر الصادق بن أبي جعفر محمد الباقر بن علي زين العابدين بن الحسين السبط بن علي بن أبي طالب، كان سيد بني هاشم في زمانه وقد توفي في آخر سنة48 عن ثمان وستين سنة "العبر: 20811".

3 ابن الحنفية: هو أبو القاسم -ويقال: أبو عبد الله- محمد بن علي بن أبي طالب، وأمه خولة بنت جعفر بن قيس بن سلمة، من بني حنيفة بن لجيم، وقد كان عالما فاضلا شجاعا، وتوفي في سنة81 "تهذيب التهذيب 9/ 354، والعبد: 1/ 93، ومشاهير علماء الأمصار رقم419".
২- আলী ইবন আবু তালিব ইবন আবদুল মুত্তালিব ইবন হাশিম ইবন আবদে মানাফ ইবন কুসাই ইবন কিলাব, আমীরুল মুমিনীন, আবুল হাসান আল-হাশিমী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

তিনি প্রথম অগ্রগামীদের একজন, খাদিজা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ব্যতীত অন্য কেউ ইসলামের পথে তাঁর অগ্রগামী হতে পারেননি।

তাঁর এবং আবু বকর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)—এই দুজনের মধ্যে কে প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে; তবে সিদ্দীকের ইসলাম গ্রহণ ছিল ইসলামের জন্য অধিকতর উপকারী ও পরিপূর্ণ, কারণ আলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল আট বছর।

আর বলা হয়েছে: নয় বছর।

আরও বলা হয়েছে: দশ বছর বয়সে, আবার বলা হয়েছে বারো বছর বয়সে, কেউ বলেছেন তেরো বছর এবং কেউ বলেছেন পনেরো বছর বয়সে।

ইবন উয়াইনা জাফর আস-সাদিক থেকে এবং তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আলী যখন শহিদ হন তখন তাঁর বয়স ছিল আটান্ন বছর।

লেখক বলেন: এটি তাঁর আট বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণের তথ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কেননা নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) প্রেরিত হওয়ার পর মক্কায় দশ বছর এবং মদীনায় দশ বছর অবস্থান করেছিলেন। আর যারা বলেন যে তিনি মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেছেন—যেমন কবি বলেছেন: "তিনি কুরাইশদের মাঝে দশ বছরের কিছু অধিক কাল অবস্থান করেছিলেন"—সেই মতে আলীর ইসলাম গ্রহণের সময় তাঁর বয়স ছিল পাঁচ বছর বা তার কাছাকাছি।

আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আকীল ইবনুল হানাফিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার পিতা তেষট্টি বছর বয়সে নিহত হয়েছেন।

আবু ইসহাক আস-সুবাইয়ি, আবু বকর ইবন আইয়াশ এবং একদল আলেমও অনুরূপ বলেছেন; আর এটি ফুরাত ইবন আস-সায়িব বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন হিজাযের শাইখ এবং অন্যতম প্রসিদ্ধ ইমাম, আবু মুহাম্মাদ ইবন সুফিয়ান ইবন উয়াইনা আল-হিলালী, তাঁদের আযাদকৃত গোলাম, আল-কূফী আল-হাফিয, যিনি মক্কায় বসবাস করতেন। শাফিঈ বলেছেন: যদি মালিক এবং ইবন উয়াইনা না থাকতেন তবে হিজাযের ইলম হারিয়ে যেত। ইবন ওয়াহাব বলেন: ইবন উয়াইনার চেয়ে তাফসীর বিষয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে আমি জানি না। আহমাদ আল-ইজলী বলেন: তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ছিল প্রায় সাত হাজার। তিনি ১৯৮ হিজরীর পহেলা রজব ৯১ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন: "দেখুন শাযারাতুয যাহাব, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৫৪"।

২ তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ জাফর আস-সাদিক ইবন আবু জাফর মুহাম্মাদ আল-বাকির ইবন আলী যাইনুল আবিদীন ইবন আল-হুসাইন আস-সিবত ইবন আলী ইবন আবু তালিব। তিনি তাঁর সমসাময়িক কালে বনী হাশিমের নেতা ছিলেন এবং ১৪৮ হিজরীর শেষভাগে ৬৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। "আল-ইবার: ১/২০৮"।

৩ ইবনুল হানাফিয়্যাহ: তিনি হলেন আবুল কাসিম—বলা হয় আবু আবদুল্লাহ—মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন আবু তালিব। তাঁর মাতা খাওলা বিনতে জাফর ইবন কাইস ইবন সালামাহ, যিনি বনী হানীফা ইবন লুজাইম গোত্রের ছিলেন। তিনি একজন আলিম, ফযীলতপূর্ণ ও সাহসী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ৮১ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। "তাহযীবুত তাহযীব ৯/৩৫৪, আল-ইবার ১/৯৩, এবং মাশাহীরু উলামাইল আমসার নং ৪১৯"।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ١٢)
عن ميمون بن مهران عن ابن عمر وهو رواية أخرى عن أبي جعفر الباقر1.

وقال الهيثم بن عدي وأبو بكر بن البرقي: عاش سبعا وخمسين سنة، ومناقب علي رضي الله عنه يضيق المكان عنها، وقد أفردت سيرته في كتاب سميته فتح المطالب في أخبار علي بن أبي طالب.

أجمع المسلمون على أنه قتل شهيدا يوم قتل، وما على وجه الأرض بدري أفضل منه، ضربه ابن ملجم المرادي2 صبيحة سابع عشرة من رمضان سنة أربعين من الهجرة بالكوفة، وكان قد جمع القرآن بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم.

وقال الشعبي3: لم يجمع القرآن أحد من الخلفاء الأربعة إلا عثمان.

وقال أبو بكر بن عياش عن عاصم قال: ما أقرأني أحد حرفا إلا أبو عبد الرحمن السلمي.

وكان قد قرأ على علي رضي الله عنه فكنت أرجع من عنده فأعرض على زر4، وكان زر قد قرأ على ابن مسعود، فقلت لعاصم: لقد استوثقت قلت هذا يرد على الشعبي قوله.

وقال علي بن رباح: جمع القرآن في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم أربعة، علي -عثمان- وأبي بن كعب وعبد الله بن مسعود.

وقال حماد بن زيد: أنا أيوب عن ابن سيرين5. قال مات أبو بكر رضي الله عنه ولم يختم القرآن.

وقال ابن علية عن منصور بن عبد الرحمن عن الشعبي: قبض أبو بكر وعمر وعلي رضي الله عنهم ولم يجمعوا القرآن.

--------------------------------------------

1 هو أبو جعفر، محمد الباقر بن علي بن الحسين السبط بن علي بن أبي طالب، ولد في سنة56 من الهجرة، وروى عن أبي سعيد الخدري وجابر بن عبد الله، ثم كان من فقهاء المدينة. وتوفي في سنة 114 "العبر: 1/ 142، ومشاهير علماء الأمصار رقم420".

2 عبد الرحمن بن ملجم، المرادي، الحميري، هو الفاتك الثائر الذي اغتال أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه، قتل في سنة40 من الهجرة عقيب جريمته.

3 الشعبي: هو عامر بن شراحبيل، ثقة مشهور، فقيه "انظر التهذيب 5/ 45، التقريب 1/ 387".

4 هو أبو مريم زر بن حبيش الأسدي القارئ بالكوفة، توفي سنة اثنتين وثمانين وله من العمر مائة وعشرون سنة "انظر شذرات الذهب ص91 جـ1".

5 محمد بن سيرين: هو شيخ البصرة إمام المعبرين كاتب أنس بن مالك بفارس، توفي يوم الجمعة من شهر شوال بالبصرة سنة عشر ومائة "انظر شذرات الأصب ص138 جـ1".
মাইমুন ইবনে মিহরান থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটি আবু জাফর আল-বাকিরের১ থেকে বর্ণিত আরেকটি বর্ণনা।

হাইসাম ইবনে আদি এবং আবু বকর ইবনুল বারকি বলেছেন: তিনি সাতান্ন বছর বেঁচে ছিলেন। আর আলী (রা.)-এর গুণাবলি বর্ণনা করার মতো পর্যাপ্ত স্থান এখানে নেই। আমি তার জীবনী নিয়ে একটি পৃথক গ্রন্থ রচনা করেছি, যার নামকরণ করেছি ‘ফাতহুল মাতালিব ফি আখবারি আলী বিন আবি তালিব’।

মুসলিমগণ এই বিষয়ে একমত যে, যেদিন তাকে হত্যা করা হয়েছিল সেদিন তিনি শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর সেই সময় পৃথিবীর বুকে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কোনো ব্যক্তি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন না। হিজরি ৪০ সনের ১৭ই রমজান সকালে কুফায় ইবনে মুলজিম আল-মুরাদি২ তাকে আঘাত করে। আর তিনি নবী (সা.)-এর ওফাতের পর কুরআন সংকলন করেছিলেন।

শা'বি৩ বলেন: চার খলিফার মধ্যে উসমান ছাড়া আর কেউ পূর্ণ কুরআন সংকলন করেননি।

আবু বকর ইবনে আইয়াশ আসিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু আবদুর রহমান আস-সুলামি ছাড়া আর কেউ আমাকে একটি বর্ণও পাঠ করাননি।

তিনি আলী (রা.)-এর কাছে পাঠ করেছিলেন। তাই আমি তার কাছ থেকে ফিরে এসে জির৪-এর কাছে তা উপস্থাপন করতাম। আর জির ইবনে মাসউদের কাছে পাঠ করেছিলেন। আমি আসিমকে বললাম: আপনি বিষয়টি সুনিশ্চিত করেছেন। আমি বললাম যে, এটি শা'বির বক্তব্যকে খণ্ডন করে।

আলী ইবনে রাবাহ বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় চারজন কুরআন সংকলন করেছিলেন—আলী, উসমান, উবাই ইবনে কাব এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ।

হাম্মাদ ইবনে যাইদ বলেন: আইয়ুব থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে সিরিন৫ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আবু বকর (রা.) মৃত্যুবরণ করেন অথচ তিনি কুরআন (পূর্ণাঙ্গভাবে) শেষ করতে পারেননি।

ইবনে উলাইয়্যা মানসুর ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি শা'বি থেকে বর্ণনা করেন: আবু বকর, উমর এবং আলী (রা.) ইন্তেকাল করেছেন অথচ তারা পূর্ণ কুরআন সংকলন করেননি।

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন আবু জাফর মুহাম্মদ আল-বাকির ইবনে আলী ইবনে আল-হুসাইন আস-সিবত ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব। তিনি ৫৬ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং আবু সাঈদ আল-খুদরি ও জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীতে তিনি মদিনার ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ১১৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইবার: ১/১৪২ এবং মাশাহিরু উলামাইল আমসার নং ৪২০)।

২ আবদুর রহমান ইবনে মুলজিম আল-মুরাদি আল-হিময়ারি; সে ছিল সেই বিদ্রোহী আততায়ী যে আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-কে হত্যা করেছিল। তার এই অপরাধের পর ৪০ হিজরি সনেই তাকে হত্যা করা হয়।

৩ শা'বি: তিনি হলেন আমির ইবনে শারাহবিল; একজন নির্ভরযোগ্য ও বিখ্যাত ব্যক্তি, ফকিহ (দেখুন আত-তাহজিব ৫/৪৫, আত-তাকরিব ১/৩৮৭)।

৪ তিনি হলেন আবু মারিয়াম জির ইবনে হুবাইশ আল-আসাদি, কুফার ক্বারি। তিনি ৮২ হিজরি সনে একশত বিশ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। (দেখুন শাজারাতুজ জাহাব পৃষ্ঠা ৯১, খণ্ড ১)।

৫ মুহাম্মদ ইবনে সিরিন: তিনি বসরার শায়খ এবং স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারীদের ইমাম। তিনি পারস্যে আনাস ইবনে মালিকের লেখক ছিলেন। তিনি ১১০ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের শুক্রবার বসরায় মৃত্যুবরণ করেন। (দেখুন শাজারাতুল আসাব পৃষ্ঠা ১৩৮, খণ্ড ১)।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ١٣)
وقال يحيى بن آدم: قلت لأبي بكر بن عياش: تقولون إن عليا رضي الله عنه لم يقرأ القرآن قال: أبطل من قال هذا.

وروى عاصم بن أبي النجود عن أبي عبد الرحمن السلمي قال: ما رأيت أحدا كان أقرأ من علي.

وقال ابن سيرين: يزعمون أن عليا كتب القرآن على تنزيله، فلو أصبت ذلك الكتاب لكان فيه علم1.

3- أبي بن كعب بن قيس بن عبيد بن زيد بن معاوية بن عمرو بن مالك بن النجار أبو المنذر الأنصاري رضي الله عنه.

أقرأ الأمة، عرض2 القرآن على النبي صلى الله عليه وسلم، أخذ عنه القراءة ابن عباس وأبو هريرة وعبد الله بن السائب وعبد الله بن عياش بن أبي ربيعة وأبو عبد الرحمن السلمي، وحدث عنه سويد بن غفلة، وعبد الرحمن بن أبزي وأبو المهلب، وآخرون.

شهد بدرا والمشاهد كلها ومناقبه كثيرة، وكان ربعة3 من الرجال شيخا أبيض الرأس واللحية.

روى سلام عن زيد العمي عن أبي الصديق الناجي عن أبي سعيد الخدري4 رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أرحم هذه الأمة بها أبو بكر" وذكر الحديث وفيه: "وأقرؤهم لكتاب الله أبي بن كعب سلام" "ضعيف"، وزيد حسن الحديث5.

وقال حماد بن سلمة6 عن عاصم الأحول عن أبي قلابة، إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:

--------------------------------------------

1 انظر، أسد الغابة "4/ 91"، الإصابة "2/ 501". تاريخ بغداد "9/ 133"، تاريخ الخلفاء "166". تذكرة الحفاظ "1/ 10"، الخلاصة "320". شذرات الذهب "1/ 194"، طبقات ابن سعد "3/ 211". طبقات الشيرازي "41"، طبقات القراء لابن الجزري "1/ 546". العبر "1/ 46". مروج الذهب "2/ 358"، النجوم الزاهدة "1/ 119".

2 يقال عرض القرآن أو الكتاب أي: قرأه عن ظهر قلب. "انظر المعجم الوجيز ص413".

3 الربعة: الوسيط القامة. "انظر المعجم الوجيز ص253".

4 هو سعد بن مالك، الأنصاري، أحد فقهاء الصحابة وأعيانهم، شهد الخندق وغيرها، وشهد بيعة الرضوان، وتوفي من سنة 74 "العبر: 1/ 74".

5 بل زيد هذا ضعيف الحديث، فقد نقل المصنف تضعيفه عن ابن معين وأبي صاتم والنسائي.

انظر/ الميزان "2/ 102". والحديث صحيح: أخرجه الترمذي "3793". وابن ماجه "154". والإمام أحمد "3/ 184"، والحاكم "3/ 422".

6 حماد بن سلمة يكن أبا سلمة مولى لبني تميم، وهو ابن أخت حميد الطويل. عن عبد الرحمن بن مهدي قال: لو قيل لحماد بن سلمة: إنك تموت غدا ما قدر أن يزيد من العمل شيئا. وأسند عن خلف لا يحصون من التابعين. وتوفي في سنة ثمان وستين ومائة بينما كان يصلي في المسجد "انظر صفة الصفوة ص 243، 244 ج3".
ইয়াহইয়া ইবনে আদম বলেছেন: আমি আবু বকর ইবনে আইয়াশকে বললাম: আপনারা বলেন যে আলী (রা.) কুরআন তিলাওয়াত করেননি? তিনি বললেন: যে এটি বলে সে মিথ্যাবাদী।

আসিম ইবনে আবি আল-নাজুদ আবু আবদুর রহমান আল-সুলামি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলীর চেয়ে বড় কোনো ক্বারী (কুরআন পাঠকারী) দেখিনি।

ইবনে সিরিন বলেছেন: তারা দাবি করে যে, আলী কুরআনকে তার নাযিল হওয়ার ক্রমানুসারে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। আমি যদি সেই কিতাবটি পেতাম, তবে তাতে অনেক জ্ঞান থাকত ১।

৩- উবাই ইবনে কাব ইবনে কায়স ইবনে উবাইদ ইবনে যায়েদ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আমর ইবনে মালিক ইবনে আল-নাজ্জার আবু আল-মুনজির আল-আনসারী (রা.)।

উম্মতের শ্রেষ্ঠ ক্বারী। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে কুরআন পেশ ২ করেছেন। তাঁর নিকট থেকে কিরাআত শিক্ষা করেছেন ইবনে আব্বাস, আবু হুরায়রা, আবদুল্লাহ ইবনে আল-সাইব, আবদুল্লাহ ইবনে আইয়াশ ইবনে আবি রাবিয়া এবং আবু আবদুর রহমান আল-সুলামি। তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন সুওয়াইদ ইবনে গাফালাহ, আবদুর রহমান ইবনে আবযা, আবু আল-মুহাল্লাব এবং আরও অনেকে।

তিনি বদর এবং সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর অনেক মর্যাদা রয়েছে। তিনি ছিলেন মাঝারি ৩ উচ্চতার একজন ব্যক্তি এবং তাঁর চুল ও দাড়ি ছিল সাদা।

সাল্লাম যায়েদ আল-আম্মি থেকে, তিনি আবু আল-সিদ্দিক আল-নাজি থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি ৪ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এই উম্মতের মধ্যে উম্মতের প্রতি সবচেয়ে দয়ালু হলেন আবু বকর।" এরপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন যাতে রয়েছে: "আর তাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাবের শ্রেষ্ঠ ক্বারী হলেন উবাই ইবনে কাব।" সাল্লাম "যয়ীফ" (দুর্বল), আর যায়েদ "হাসানুল হাদীস" ৫।

হাম্মাদ ইবনে সালামাহ ৬ আসিম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

--------------------------------------------

১ দেখুন: উসদুল গাবাহ (৪/৯১), আল-ইসাবাহ (২/৫০১), তারিখু বাগদাদ (৯/১৩৩), তারিখুল খুলাফা (১৬৬), তাযকিরাতুল হুফফাজ (১/১০), আল-খুলাসাত (৩২০), শাযারাতুয যাহাব (১/১৯৪), তাবাকাত ইবনে সাদ (৩/২১১), তাবাকাতুশ শিরাজী (৪১), তাবাকাতুল কুররা লি ইবনিল জাযারি (১/৫৪৬), আল-ইবার (১/৪৬), মুরুজুয যাহাব (২/৩৫৮), আন-নুজুমুয যাহিরাহ (১/১১৯)।

২ বলা হয়, কুরআন বা কিতাব পেশ করা মানে হলো মুখস্থ পাঠ করা। দেখুন: আল-মুজাম আল-ওয়াজিজ, পৃষ্ঠা ৪১৩।

৩ রাব'আ: মাঝারি উচ্চতা। দেখুন: আল-মুজাম আল-ওয়াজিজ, পৃষ্ঠা ২৫৩।

৪ তিনি হলেন সা’দ ইবনে মালিক আল-আনসারী, সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম ফকীহ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনি খন্দকসহ অন্যান্য যুদ্ধে এবং বায়আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি ৭৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (আল-ইবার: ১/৭৪)।

৫ বরং এই যায়েদ "যয়ীফ উল হাদীস" (হাদীস বর্ণনায় দুর্বল)। লেখক ইবনে মাঈন, আবু হাতিম এবং নাসাঈর থেকে তার দুর্বলতার কথা উদ্ধৃত করেছেন।

দেখুন: আল-মিজান (২/১০২)। তবে হাদীসটি সহীহ: তিরমিযী (৩৭৯৩), ইবনে মাজাহ (১৫৪), ইমাম আহমাদ (৩/১৮৪) এবং হাকেম (৩/৪২২) এটি বর্ণনা করেছেন।

৬ হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, তাঁর উপনাম আবু সালামাহ, বনু তামীমের আযাদকৃত গোলাম। তিনি হুমাইদ আত-তাবীলের ভাগ্নে। আবদুর রহমান ইবনে মাহদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যদি হাম্মাদ ইবনে সালামাহকে বলা হতো যে আপনি আগামীকাল মারা যাবেন, তবে তিনি তাঁর আমলের পরিমাণ আর বৃদ্ধি করতে পারতেন না। তিনি অনেক তাবেয়ী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ১৬৮ হিজরিতে মসজিদে নামাযরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: সিফাতুস সাফওয়াহ, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৪৩, ২৪৪।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ١٤)
"أقرؤهم أبي بن كعب" 1 هذا مرسل جيد، وقال ابن أبي مليكة سمعت ابن عباس يقول: قال عمر رضي الله عنه أقضانا علي، وأقرؤنا أبي2.

وقال قتادة عن أنس رضي الله عنه، إن النبي صلى الله عليه وسلم قال لأبي "إني أمرت أن أقرأ عليك"، وفي لفظ "أن أقرئك القرآن" ، قال: الله سماني لك. قال: "نعم" فبكى أبي"3.

وقال أيوب: سمعت أبا قلابة عن أبي المهلب، قال: كان أبي يختم القرآن في ثمان، إسناده صحيح، وقال له النبي صلى الله عليه وسلم: "ليهنك العلم أبا المنذر" 4.

وقال عمر رضي الله عنه يوم موت أبي: اليوم مات سيد المسلمين5 توفي بالمدينة.

قال ابن معين: سنة عشرين أو تسع عشرة.

وقال الواقدي ومحمد بن عبد الله بن نمير ومحمد بن يحيى والترمذي سنة اثنتين وعشرين6، قلت: أبي بن كعب أقرأ من أبي بكر ومن عمر، وبعد هذا فما استخلف النبي صلى الله عليه وسلم أبيا بل استخلف أبا بكر على الصلاة.

وقد قال صلى الله عليه وسلم: " يؤم القوم أقرؤهم لكتاب الله" الحديث، وهذا مشكل.

قال أبو وائل عن مسروق عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما، إن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: "استقرئوا القرآن من أربعة: عبد الله بن مسعود، وسالم مولى أبي حذيفة، ومعاذ بن جبل، وأبي بن كعب" 7 رضي الله عنهم8.

4- عبد الله بن مسعود بن غافل بن حبيب بن شمخ بن فار بن مخزوم ابن

--------------------------------------------

1 أخرجه الترمذي في المناقب "3793"، وابن ماجه "154".

2 أخرجه البخاري في التفسير "4481"، والإمام أحمد في مسنده "5/ 113".

3 أخرجه البخاري في المناقب "4959"، والترمذي في المناقب "3895"، والإمام أحمد في مسنده "3/ 130".

4 أخرجه مسلم في صلاة المسافرين "810". وأبو داود في الوتر "1460". والإمام أحمد في مسنده "5/ 142".

5 انظر، طبقات ابن سعد "3/ 61". صفة الصفوة "1/ 246".

6 وفي رواية مات في سنة ثلاثين. انظر صفة الصوفة "1/ 246". تهذيب الكمال "2/ 271-272".

7 أخرجه البخاري في الفضائل "3758".

8 انظر أسد الغابة "1/ 61"، الإصابة "1/ 31". تذكرة الحفاظ "1/ 16"، خلاصة تذهيب الكمال "21".

شذرات الذهب "1/ 31"، طبقات ابن سعد "3/ 59". طبقات الشيرازي "244"، طبقات القراء لابن الجذري "1/ 31"، العبر "1/ 23".
"তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ক্বারী হলেন উবাই ইবনে কাব" ১ এটি একটি উত্তম মুরসাল বর্ণনা। ইবনে আবু মুলাইকা বলেন, আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি যে, ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক হলেন আলী এবং আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ক্বারী হলেন উবাই।২

কাতাদা আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উবাইকে বলেছিলেন: "আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি আপনাকে পড়ে শুনাই।" অন্য এক শব্দে এসেছে: "যেন আমি আপনাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শুনাই।" তিনি (উবাই) জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহ কি আমার নাম আপনার কাছে উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তখন উবাই কাঁদতে লাগলেন।৩

আইয়ুব বলেন: আমি আবু কিলাবা থেকে, তিনি আবু মুহাল্লাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবাই আট দিনে কুরআন খতম করতেন; এর সনদ সহীহ। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বলেছিলেন: "হে আবুল মুনযির! জ্ঞান তোমার জন্য আনন্দদায়ক হোক।" ৪

ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উবাইয়ের ইন্তেকালের দিন বলেছিলেন: আজ মুসলিমদের নেতা মৃত্যুবরণ করলেন।৫ তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

ইবনে মাঈন বলেন: (মৃত্যু সাল) বিশ হিজরি অথবা উনিশ হিজরি।

ওয়াকিদি, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া এবং তিরমিযী বলেন বাইশ হিজরি৬। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: উবাই ইবনে কাব আবু বকর এবং ওমর অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ক্বারী ছিলেন; কিন্তু এতদসত্ত্বেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উবাইকে স্থলাভিষিক্ত করেননি, বরং নামাজের জন্য আবু বকরকে স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন।

অথচ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: "লোকদের ইমামতি করবে সে ব্যক্তি, যে আল্লাহর কিতাব সবচেয়ে ভালো পাঠ করতে পারে" (হাদীস); আর এটি একটি জটিল বা ব্যাখ্যাসাপেক্ষ বিষয়।

আবু ওয়ায়েল মাসরুক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: "তোমরা চারজনের কাছ থেকে কুরআন শেখো: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবু হুযায়ফার মুক্তদাস সালেম, মুয়ায ইবনে জাবাল এবং উবাই ইবনে কাব" ৭ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)।৮

4- আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ইবনে গাফিল ইবনে হাবীব ইবনে শামখ ইবনে ফার ইবনে মাখযুম ইবনে...

--------------------------------------------

১ এটি তিরমিযী মানাকিব অধ্যায়ে (৩৭৯৩) এবং ইবনে মাজাহ (১৫৪) বর্ণনা করেছেন।

২ এটি বুখারী তাফসীর অধ্যায়ে (৪৪৮১) এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে (৫/ ১১৩) বর্ণনা করেছেন।

৩ এটি বুখারী মানাকিব অধ্যায়ে (৪৯৫৯), তিরমিযী মানাকিব অধ্যায়ে (৩৮৯৫) এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে (৩/ ১৩০) বর্ণনা করেছেন।

৪ এটি মুসলিম মুসাফিরদের নামাজ অধ্যায়ে (৮১০), আবু দাউদ বিতর অধ্যায়ে (১৪৬০) এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে (৫/ ১৪২) বর্ণনা করেছেন।

৫ দেখুন, ইবনে সাদের তবাকাত (৩/ ৬১), সিফাতুস সাফওয়াহ (১/ ২৪৬)।

৬ অন্য এক বর্ণনায় তিনি ত্রিশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দেখুন সিফাতুস সাফওয়াহ (১/ ২৪৬), তাহযীবুল কামাল (২/ ২৭১-২৭২)।

৭ এটি বুখারী ফাযায়েল অধ্যায়ে (৩৭৫৮) বর্ণনা করেছেন।

৮ দেখুন আসাদুল গাবাহ (১/ ৬১), আল-ইসাবাহ (১/ ৩১), তাযকিরাতুল হুফফায (১/ ১৬), খুলাসাতু তাহযীবিল কামাল (২১), শাযারাতুয যাহাব (১/ ৩১), ইবনে সাদের তবাকাত (৩/ ৫৯), তবাকাতুশ শিরাযী (২৪৪), ইবনুল জাযারীর তবাকাতুল কুররা (১/ ৩১), আল-ইবার (১/ ২৩)।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ١٥)
صاهلة بن كاهل بن الحارث بن تميم بن سعد بن هذيل بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار أبو عبد الرحمن الهذلي المكي حليف بني زهرة رضي الله عنه.

كان من السابقين الأولين ومن مهاجرة الحبشة.

شهد بدرا واحتز رأس أبي جهل، فأتى به النبي صلى الله عليه وسلم، وكان أحد من جمع القرآن على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأقرأه وكان يقول: حفظت من في رسول الله صلى الله عليه وسلم سبعين سورة، قرأ عليه علقمة ومسروق والأسود، وزر بن حبيش وأبو عبد الرحمن السلمي وطائفة.

وتفقه به خلق كثير، وكانوا لا يفضلون عليه أحدا في العلم، وأمه أم عبد هذلية أيضا من المهاجرات الأول، وكان ابن أم عبد يخدم النبي صلى الله عليه وسلم ويلزمه ويحمل نعل النبي صلى الله عليه وسلم إذا خلعها، وكان آدم1 خفيف اللحم لطيف القد2 أحمش الساقين حسن البزة3 طيب الرائحة، موصوفا بالذكاء والفطنة.

أسلم قبل عمر رضي الله عنه وقال: قال له النبي صلى الله عليه وسلم: "إنك لغليم 4 معلم" 5.

وقال حماد بن سلمة عن ثابت عن أنس رضي الله عنه: إن النبي صلى الله عليه وسلم آخى بين الزبير وابن مسعود6.

وقال أبو موسى: ما كنت أحسب ابن مسعود وأمه إلا من أهل البيت؛ لكثرة دخولهم وخروجهم7.

--------------------------------------------

1 الآدم في اللغة: الشديد السمرة. "انظر المعجم الوجيز ص10".

2 دقيق الساقين. "انظر المعجم الوجيز".

3 البزة بفتح الباء الموحدة وتشديد الزاي المعجمة مفتوحة يعني: الهيئة أو السلاح، والمعنى الأول هو المقصود. "انظر المعجم الوجيز ص49".

4 أخرجه الإمام أحمد في مسنده "1/ 379".

5 عن زر بن حبيش، عن عبد الله بن مسعود، قال: كنت غلاما يافعا أرعى غنما لعقبة بن أبي معيط، فجاء النبي صلى الله عليه وسلم وأبو بكر وقد نقرا من المشركين فقالا: يا غلام هل عندك من لبن تستقينا؟ فقلت: إني مؤتمن ولست ساقيكما. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "هل عندك من جذعة لم ينز عليها الفحل؟ " قلت: نعم، فأتيتهما بها فاعتقلها النبي صلى الله عليه وسلم ومسح الضرع ودعا فحفل الضرع "أي: امتلأ وسال" ثم أتاه أبو بكر بصخرة منقعرة فاحتلب فيها فشرب أبو بكر ثم شربت: ثم قال للضرع: "اقلص"، فقلص "أي: تدانى وانقبض" قال: فأتيته بعد ذلك فقلت: علمن من هذا القول. قال: "إنك غلام معلم". فأخذت من فيه سبعين سورة لا ينازعن فيها أحد. "انظر صفة الصفوة ص208 جـ1".

6 أخرجه الحاكم "3/ 314".

7 متفق عليه: أخرجه البخاري في الفضائل "3763". ومسلم في الفضائل "2460". والترمذي "3808".
সাহিলা বিন কাহিল বিন আল-হারিস বিন তামিইম বিন সাদ বিন হুযাইল বিন মুদরিকা বিন ইলিয়াস বিন মুদার বিন নিযার আবু আব্দুর রহমান আল-হুযালী আল-মাক্কী, বনু জুহরার মিত্র, আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন।

তিনি প্রথম পর্যায়ের অগ্রগামীদের অন্তর্ভুক্ত এবং হাবশায় হিজরতকারীদের অন্যতম ছিলেন।

তিনি বদরে উপস্থিত ছিলেন এবং আবু জাহেলের মাথা বিচ্ছিন্ন করেছিলেন, এরপর তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কুরআন সংগ্রহকারীদের একজন ছিলেন এবং তিনি তা পাঠ করাতেন। তিনি বলতেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখ থেকে সরাসরি সত্তরটি সূরা মুখস্থ করেছি। আলকামা, মাসরুক, আল-আসওয়াদ, যির বিন হুবাইশ, আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী এবং একটি দল তাঁর কাছে কিরাত পাঠ করেছেন।

অসংখ্য মানুষ তাঁর মাধ্যমে ফিকহ অর্জন করেছেন এবং তাঁরা ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর কাউকে শ্রেষ্ঠত্ব দিতেন না। তাঁর মা উম্মু আবদও হুযাইল গোত্রের ছিলেন এবং প্রথম পর্যায়ের হিজরতকারী নারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইবনে উম্মু আবদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমত করতেন, তাঁর সাথে লেগে থাকতেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জুতো খুলতেন তখন তিনি তা বহন করতেন। তিনি ছিলেন শ্যামবর্ণের১, হালকা গড়নের, সুঠাম দেহাবয়বের২, চিকন পায়ের নলাবিশিষ্ট, সুন্দর বেশভূষাধারী৩ ও সুগন্ধযুক্ত এবং তিনি বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতায় ভূষিত ছিলেন।

তিনি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তুমি একজন শিক্ষিত বালক৪"৫।

হাম্মাদ বিন সালামাহ সাবিত থেকে এবং তিনি আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইর এবং ইবনে মাসউদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেছিলেন৬।

আবু মুসা বলেন: ইবনে মাসউদ ও তাঁর মায়ের অধিক যাতায়াতের কারণে আমি তাঁদেরকে আহলে বাইতের সদস্য ছাড়া অন্য কিছু মনে করতাম না৭।

--------------------------------------------

১ অভিধানে 'আল-আদম' অর্থ: গাঢ় শ্যামবর্ণ। "দেখুন: আল-মু'জামুল ওয়াজিজ, পৃষ্ঠা ১০"।

২ চিকন দুই পা বিশিষ্ট। "দেখুন: আল-মু'জামুল ওয়াজিজ"।

৩ 'আল-বিযযাহ' (ব-এর ওপর ফাতহা এবং যা-এর ওপর তাশদীদ ও ফাতহা যোগে) অর্থ: বাহ্যিক রূপ বা অস্ত্র, এখানে প্রথম অর্থটিই উদ্দেশ্য। "দেখুন: আল-মু'জামুল ওয়াজিজ, পৃষ্ঠা ৪৯"।

৪ ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন (১/৩৭৯)।

৫ যির বিন হুবাইশ থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ বিন মাসউদ বলেন: আমি তখন কিশোর বালক ছিলাম, উকবা বিন আবি মুআইতের ছাগল চরাতাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর আসলেন, যখন তাঁরা মুশরিকদের থেকে আত্মগোপন করেছিলেন। তাঁরা বললেন: হে বালক! তোমার কাছে কি দুধ আছে যা দিয়ে তুমি আমাদের তৃষ্ণা মেটাতে পারো? আমি বললাম: আমি আমানতদার, আমি আপনাদের পান করাতে পারব না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমার কাছে কি এমন কোনো অল্পবয়সী মাদি ছাগল আছে যার কাছে পাঠা বা পুরুষ ছাগল আসেনি?" আমি বললাম: হ্যাঁ। আমি তা তাঁদের কাছে নিয়ে আসলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটিকে ধরলেন এবং ওলান মর্দন করলেন ও দুআ করলেন। ফলে ওলানটি দুধে ভরে উঠল (অর্থাৎ পূর্ণ হয়ে উপচে পড়তে লাগল)। তারপর আবু বকর একটি গর্তওয়ালা পাথর নিয়ে আসলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাতে দুধ দোহন করলেন। আবু বকর পান করলেন, এরপর আমি পান করলাম। এরপর তিনি ওলানকে বললেন: "সংকুচিত হও", তখন সেটি সংকুচিত হয়ে গেল (অর্থাৎ ছোট হয়ে গেল)। ইবনে মাসউদ বলেন: এরপর আমি তাঁর কাছে এসে বললাম: আমাকে এই কথাগুলো শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি একজন শিক্ষিত বালক।" এরপর আমি তাঁর মুখ থেকে সত্তরটি সূরা গ্রহণ করেছি যা নিয়ে কেউ আমার সাথে বিতর্ক করতে পারবে না। "দেখুন: সিফাতুস সাফওয়াহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৮"।

৬ হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন (৩/৩১৪)।

৭ মুত্তাফাকুন আলাইহি: বুখারী ফাযায়িল অধ্যায়ে (৩৭৬৩), মুসলিম ফাযায়িল অধ্যায়ে (২৪৬০) এবং তিরমিযী (৩৮০৮) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ١٦)
وكان النبي صلى الله عليه وسلم يطلع ابن مسعود على أسراره ونجواه1. وكان يتولى فراش النبي صلى الله عليه وسلم ووساده وسواكه ونعله وطهوره2.

وروى عبيدة السلماني عن ابن مسعود أن النبي صلى الله عليه وسلم بشره بالجنة، وعده في العشرة وأسقط أبا عبيدة بن الحجاج وجعل عبد الله بدله، وقال صلى الله عليه وسلم: " من أحب أن يقرأ القرآن غضا كما أنزل فليقرأ قراءة ابن أم عبد" 3.

وسمعه يدعو فقال: "سل تعطه" 4.

وقال: "لرجل عبد الله في الميزان أثقل من أحد" 5.

وقال: "تمسكوا بعهد ابن أم عبد" 6.

وقال حذيفة: ما أعلم أحدا أقرب سمتا ولا هديا ودلا برسول الله صلى الله عليه وسلم حتى يواريه بيته من ابن أم عبد7. وقال أبو وائل عن عبد الله قال: لقد علم أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أني أقرؤهم لكتاب الله عز وجل.

وقال أبو مسعود: والله لا أعلم أحدا تركه رسول الله صلى الله عليه وسلم أعلم بكتاب الله تعالى من هذا، وأشار إلى ابن مسعود، رواه مسلم8.

وقال زيد بن وهب: جاء ابن مسعود الى مجلس عمر رضي الله عنهما فجعل يكلم عمر ويضاحكه، فكاد الجلوس يوازونه من قصره، فلما ولى قال عمر: كنيف ملئ علما9.

وقال أبو موسى10: مجلس كنت أجالسه ابن مسعود أوثق في نفسي من عمل سنة.

--------------------------------------------

1 أخرجه الإمام أحمد في مسنده "1/ 385".

2 أخرجه ابن سعد "3/ 108".

3 أخرجه ابن ماجه "138"، والإمام أحمد في مسنده "1/ 7". والبيمقى "1/ 452"، والحاكم "3/ 368".

4 أخرجه الإمام أحمد في مسنده "1/ 25، 26".

5 أخرجه الإمام أحمد في مسنده "1/ 114".

6 أخرجه الترمذي في المناقب "3810"، وابن ماجه في المقدمة "97"، والإمام أحمد في مسنده "5/ 385".

7 أخرجه البخاري في الأدب "6097"، والترمذي في المناقب "3809"، والإمام أحمد في مسنده "5/ 401، 402".

8 الحديث "3/ 1/ 2461".

9 أخرجه ابن سعد "3/ 110".

10 أبو موسى: عبد الله بن قيس، الأشعري، الأمير، المقرئ، صحابي جليل، استعمله النبي صلى الله عليه وسلم على عدن، واستعمله عمر على الكوفة والبصرة، وفتحت على يديه عدة أمصار، وتوفي في شهر ذي الحجة من سنة 44 "العبر: 1/ 52"، مشاهير علماء الأمصار "رقم216".
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবনে মাসউদকে তাঁর গোপন বিষয় ও একান্ত আলাপ সম্পর্কে অবহিত করতেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিছানা, বালিশ, মিসওয়াক, জুতা এবং পবিত্রতার (অজুর) পানির দায়িত্ব পালন করতেন।

উবায়দাহ আস-সালমানি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁকে সেই দশজনের (আশারায়ে মুবাশশারা) অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আর আবু উবায়দাহ ইবনুল হাজ্জাজকে বাদ দিয়ে তাঁর স্থলে আবদুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআনকে অবতীর্ণ হওয়ার সময়ের মতো সজীব ও টাটকা অবস্থায় পাঠ করতে পছন্দ করে, সে যেন ইবনে উম্মে আবদ (ইবনে মাসউদ)-এর পাঠ অনুযায়ী পাঠ করে।" ৩

তিনি তাঁকে দোয়া করতে শুনে বললেন: "চাও, তোমাকে দেওয়া হবে।" ৪

তিনি আরও বলেছেন: "মিজানের পাল্লায় আবদুল্লাহর পা উহুদ পাহাড়ের চেয়েও বেশি ভারী।" ৫

তিনি আরও বলেছেন: "তোমরা ইবনে উম্মে আবদ-এর অঙ্গীকারকে আঁকড়ে ধরো।" ৬

হুজায়ফা (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্বভাব-চরিত্র, আচার-আচরণ এবং চালচলনে ইবনে উম্মে আবদের চেয়ে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ আমি আর কাউকে চিনি না, এমনকি তিনি যখন তাঁর ঘরে প্রবেশ করে দৃষ্টির আড়াল হন তখনও। ৭ আবু ওয়ায়েল আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ জানতেন যে, আমি তাঁদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী।

আবু মাসউদ বলেন: আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পেছনে এমন কাউকে রেখে যাননি যে এই ব্যক্তির চেয়ে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী, আর তিনি ইবনে মাসউদের দিকে ইশারা করলেন; এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। ৮

জায়েদ ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইবনে মাসউদ ওমর (রা.)-এর মজলিসে আসলেন এবং ওমরের সাথে কথা বলতে ও হাস্যরসে লিপ্ত হলেন। তাঁর খাটো আকৃতির কারণে মজলিসে বসা লোকজনের উচ্চতার সাথে তাঁর উচ্চতা প্রায় সমান হয়ে যাচ্ছিল। যখন তিনি চলে গেলেন, ওমর (রা.) বললেন: এটি একটি আধার যা জ্ঞানে ভরপুর। ৯

আবু মুসা ১০ বলেন: ইবনে মাসউদের সাথে আমার এক মজলিসে বসা আমার কাছে এক বছরের আমলের চেয়েও অধিক নির্ভরযোগ্য।

--------------------------------------------

১ ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন (১/৩৮৫)।

২ ইবনে সাদ এটি বর্ণনা করেছেন (৩/১০৮)।

৩ ইবনে মাজাহ (১৩৮), ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে (১/৭), বায়হাকি (১/৪৫২) এবং হাকেম (৩/৩৬৮) এটি বর্ণনা করেছেন।

৪ ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন (১/২৫, ২৬)।

৫ ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন (১/১১৪)।

৬ তিরমিযী 'মানাকিব' অধ্যায়ে (৩৮১০), ইবনে মাজাহ 'মুকাদ্দিমা'য় (৯৭) এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে (৫/৩৮৫) এটি বর্ণনা করেছেন।

৭ বুখারি 'আদাব' অধ্যায়ে (৬০৯৭), তিরমিযী 'মানাকিব' অধ্যায়ে (৩৮০৯) এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে (৫/৪০১, ৪০২) এটি বর্ণনা করেছেন।

৮ হাদিস নম্বর ৩/১/২৪৬১।

৯ ইবনে সাদ এটি বর্ণনা করেছেন (৩/১১০)।

১০ আবু মুসা: তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে কাইস আল-আশআরি; জনৈক আমির, প্রখ্যাত কারী ও সাহাবী। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে এডেনের শাসক হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন এবং ওমর (রা.) তাঁকে কুফা ও বসরার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে বেশ কিছু শহর বিজিত হয়েছিল। তিনি হিজরি ৪৪ সনের জিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেন (আল-ইবার: ১/৫২), মাশাহির উলামাউল আমসার (নম্বর ২১৬)।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ١٧)
وقال الأعمش1 عن عمارة بن عمير عن حريث بن ظهير قال: جاء نعي عبد الله إلى أبي الدرداء2 فقال: ما ترك بعده مثله، اتفق أن عبد الله وفد من الكوفة فمات بالمدينة في آخر سنة اثنتين وثلاثين -رضي الله عنه3.

5- زيد بن ثابت بن الضحاك بن زيد بن لوذان بن عمرو بن عبد عوف ابن غنم بن مالك بن النجار أبو سعيد وأبو خارجة الأنصاري الخزرجي النجاري المقري الفرضي.

كاتب النبي صلى الله عليه وسلم وأمينه على الوحي رضي الله عنه، كان أسن من أنس بسنة، وكان شابا ذكيا ثقفا، جمع القرآن على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وجمعه في صحف لأبي بكر الصديق رضي الله عنه، ثم تولى كتابة مصحف عثمان رضي الله عنه، الذي بعث به عثمان نسخا إلى الأمصار، قرأ عليه أبو هريرة وابن عباس في قول.

وروى عنه ابنه خارجة وابن عمر وأنس وعبيد بن السباق، وعطاء بن يسار4 وحجر المدري وعروة5 وطاوس6 وآخرون، وشهد الخندق وبيعة الرضوان، وكان عمر رضي الله عنه يستخلفه على المدينة إذا حج.

--------------------------------------------

1 هو أبو محمد سليمان بن مهران الأسدي الكاهلي مولاهم الأعمش، روى عن ابن أبي أوفى وأبي وائل والكبار، وكان محدث الكوفة وعالمها، قال ابن المدني: للأعمش نحو ألف وثلاثمائة حديث وقال ابن عيينة: كان أقرأهم لكتاب الله وأعلمهم بالفرائض وأحفظهم للحديث، وقال يحيى القطان: هو علامة الإسلام، قال وكيع: بقي الأعمش قريبا من سبعين سنة لم تفته التكبيرة الأولى. توفي في ربيع الأول سنة ثمان وأربعين ومائة للهجرة "انظر شذرات الذهب في أنبار من ذهب ص220".

2 أبو الدرداء: هو عويمر بن زيد -ويقال: ابن عبد الله- الأنصاري، الخزرجي، أسلم بعد غزوة بدر، وكان حكم هذه الأمة، ولي قضاء دمشق، وبها توفي في سنة 32 "العبر: 1/ 33".

3 انظر أسد الغابة "3/ 384"، الإصابة "2/ 360". تاريخ بغداد "1/ 147"، تذكرة الحفاظ "1/ 31". خلاصة تذهيب الكمال "181"، شذرات الذهب "1/ 38". طبقات ابن سعد "3/ 106"، طبقات الشيرازي "43". طبقات القراء لابن الجزري "1/ 458"، العبر "1/ 33". النجوم الزاهرة "1/ 89".

4 هو عطاء بن يسار المدني الفقيه مولى ميمونة أم المؤمنين، ثقة إمام، كان يقضي بالمدينة، وروى عن كبار الصحابة: قاله الذهبي، وقال ابن قتيبة: كان عطاء قاضيا ويرى القدر ويكنى أبا محمد توفي سنة ثلاث ومائة وهو ابن أربع وثمانين. "انظر شذرات الذهب ص125 جـ1".

5 هو أبو محمد عروة بن الزبير بن العوام الأسدي المدني الفقيه الحافظ، أحد فقهاء المدينة السبعة جمع العلم والسيادة والعبادة، حفظ عن والدة وكان يصوم الدهر ومات صائما، واشتهر أنه قطعت رحيله وهو في الصلاة لأكلة وقعت فيها ولم يتحرك، وكان عبد الملك بن مروان يقول: من سره أن ينظر إلى رجل من أهل الجنة فلينظر إلى عروة بن الزبير، ولد سنة تسع وعشرين للهجرة وتوفي سنة أربع وتسعين "انظر شذرات الذهب ص103 جـ1".

6 هو طاوس بن كيان يكنى أبا عبد الرحمن، قال الواقدي: كان طاوس مولى بعير بن ريسان الحميدي وكان ينزل الجند، وقال الفضل ابن دكين: هو مولى لهمدان وقال عبد المنعم بن إدريس: هو مولى لابن هوذة الهمداني. أدرك طاوس خلقا كثيرا من الصحابة وأكثر روايته عن ابن عباس، وروى عنه من التابعين: مجاهد، وعطاء، وعمرو بن دينار، وأبو الزبير ومحمد بن المنكدر والزهري ووهب بن منبه "انظر صفة الصفوة ص188، 19 جـ3".
আমারা বিন উমাইর থেকে এবং তিনি হুরাইস বিন জুহাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু দারদার (২) কাছে আবদুল্লাহর (ইবনে মাসউদ) মৃত্যুর খবর পৌঁছালে তিনি বললেন: তিনি তাঁর পরে তাঁর মতো কাউকে রেখে যাননি। ঘটনাচক্রে আবদুল্লাহ কুফা থেকে প্রতিনিধি হিসেবে এসেছিলেন এবং বত্রিশ হিজরি সালের শেষ দিকে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন - আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন (৩)।

৫- যায়েদ বিন সাবিত বিন আদ-দাহহাক বিন যায়েদ বিন লাওযান বিন আমর বিন আবদ আউফ ইবনে গানাম বিন মালিক বিন আন-নাজ্জার আবু সাঈদ এবং আবু খারিজাহ আল-আনসারি আল-খাযরাজি আন-নাজ্জারি আল-মুকরি আল-ফারদি।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লেখক এবং ওহীর ব্যাপারে তাঁর বিশ্বস্ত আমানতদার, আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন। তিনি আনাস (রা.)-এর চেয়ে এক বছরের বড় ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও দক্ষ যুবক। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কুরআন সংকলন করেন এবং আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর জন্য তা সহীফা আকারে একত্রিত করেন। এরপর তিনি উসমান (রা.)-এর মুসহাফ (কুরআনের পাণ্ডুলিপি) তৈরির দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যার কপিগুলো উসমান (রা.) বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়েছিলেন। এক বর্ণনা মতে, আবু হুরায়রা এবং ইবনে আব্বাস তাঁর কাছে কুরআন পাঠ করেছিলেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর ছেলে খারিজাহ, ইবনে উমর, আনাস, উবাইদ বিন আস-সাব্বাক, আতা বিন ইয়াসার (৪), হুজর আল-মাদারি, উরওয়াহ (৫), তাউস (৬) এবং আরও অনেকে। তিনি খন্দকের যুদ্ধ এবং বাইয়াতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। উমর (রা.) যখন হজে যেতেন, তখন তাঁকে মদিনার প্রতিনিধি নিযুক্ত করতেন।

--------------------------------------------

১. তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ সুলায়মান বিন মিহরান আল-আসাদি আল-কাহিলি, তাঁদের মুক্তদাস আল-আমাশ। তিনি ইবনে আবি আউফা, আবু ওয়ায়িল এবং বড় বড় আলেমদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি কুফার মুহাদ্দিস ও আলিম ছিলেন। ইবনুল মাদিনি বলেন: আমাশের প্রায় এক হাজার তিনশ হাদিস রয়েছে। ইবনে উয়াইনা বলেন: তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে আল্লাহর কিতাবের শ্রেষ্ঠ পাঠক, ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রে সবচেয়ে জ্ঞানী এবং হাদিস মুখস্থ রাখায় পারদর্শী। ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বলেন: তিনি ইসলামের একজন মহাজ্ঞানী (আল্লামা)। ওয়াকি বলেন: আমাশ প্রায় সত্তর বছর বেঁচে ছিলেন, এর মধ্যে তাঁর কোনোদিন তাকবিরে উলা (প্রথম তাকবির) মিস হয়নি। তিনি হিজরি একশ আটচল্লিশ সালের রবিউল আউয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন। "দেখুন: শাযারাতুয যাহাব ফি আখবারিন মিন যাহাব, পৃ. ২২০"।

২. আবু দারদা: তিনি হলেন উওয়াইমির বিন যায়েদ -বলা হয়: ইবনে আবদুল্লাহ- আনসারি, খাযরাজি। তিনি বদরের যুদ্ধের পর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তিনি ছিলেন এই উম্মতের বিজ্ঞ হাকীম। তিনি দামেস্কের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানেই ৩২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। "আল-ইবার: ১/৩৩"।

৩. দেখুন আসাদুল গাবাহ "৩/৩৮৪", আল-ইসাবাহ "২/৩৬০"। তারিখে বাগদাদ "১/১৪৭", তাযকিরাতুল হুফফায "১/৩১"। খুলাসাতু তাসহিবিল কামাল "১৮১", শাযারাতুয যাহাব "১/৩৮"। তাবাকাত ইবনে সাদ "৩/১০৬", তাবাকাতুশ শিরাজী "৪৩"। তাবাকাতুল কুররা লিল জাযারি "১/৪৫৮", আল-ইবার "১/৩৩"। আন-নুজুমুয যাহিরাহ "১/৮৯"।

৪. তিনি হলেন আতা বিন ইয়াসার আল-মাদানি আল-ফকিহ, উম্মুল মুমিনীন মায়মুনার মুক্তদাস, বিশ্বস্ত ইমাম। তিনি মদিনায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করতেন এবং বড় বড় সাহাবীদের থেকে বর্ণনা করেছেন: এটি আয-যাহাবি বলেছেন। ইবনে কুতাইবাহ বলেন: আতা বিচারক ছিলেন এবং তিনি কদরের (তকদির) মাসআলায় ভিন্নমত পোষণ করতেন, তাঁর কুনিয়াহ ছিল আবু মুহাম্মদ। তিনি একশ তিন হিজরিতে চুরাশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। "দেখুন: শাযারাতুয যাহাব, পৃ. ১২৫, খণ্ড ১"।

৫. তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ উরওয়াহ বিন আয-যুবাইর বিন আল-আওয়াম আল-আসাদি আল-মাদানি আল-ফকিহ আল-হাফিয। তিনি মদিনার সাত ফকিহের একজন। তিনি জ্ঞান, নেতৃত্ব এবং ইবাদতকে একত্রিত করেছিলেন। তিনি তাঁর খালামণি (আয়েশা রা.) থেকে হাদিস সংগ্রহ করেন। তিনি সর্বদা রোজা রাখতেন এবং রোজা রাখা অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করেন। এটি প্রসিদ্ধ যে, তাঁর পায়ে গ্যাংগ্রিন হওয়ার কারণে নামাজের মধ্যে থাকা অবস্থায় তাঁর পা কাটা হয়েছিল কিন্তু তিনি নড়াচড়া করেননি। আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান বলতেন: যাকে জান্নাতি কোনো মানুষকে দেখে আনন্দিত হতে ইচ্ছা হয়, সে যেন উরওয়াহ বিন আয-যুবাইরকে দেখে। তিনি হিজরি উনত্রিশ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং চুরানব্বই সালে মৃত্যুবরণ করেন। "দেখুন: শাযারাতুয যাহাব, পৃ. ১০৩, খণ্ড ১"।

৬. তিনি হলেন তাউস বিন কায়সান, তাঁর উপনাম আবু আব্দুর রহমান। আল-ওয়াকিদি বলেন: তাউস ছিলেন বুহাইর বিন রাইসান আল-হিমইয়ারির মুক্তদাস এবং তিনি আল-জানদে বসবাস করতেন। ফাদল বিন দুকাইন বলেন: তিনি হামদানের মুক্তদাস। আব্দুল মুনইম বিন ইদ্রিস বলেন: তিনি ইবনে হাওযাহ আল-হামদানির মুক্তদাস। তাউস সাহাবীদের বিশাল একটি দলের সান্নিধ্য পেয়েছেন এবং তাঁর অধিকাংশ বর্ণনা ইবনে আব্বাস থেকে। তাঁর থেকে তাবেয়ীদের মধ্যে বর্ণনা করেছেন: মুজাহিদ, আতা, আমর বিন দিনার, আবু যুবাইর, মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির, আয-যুহরি এবং ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ। "দেখুন: সিফাতুস সাফওয়াহ, পৃ. ১৮৮, ১৯, খণ্ড ৩"।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ١٨)
قال أنس: جمع القرآن على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم زيد وأبي ومعاذ وأبو زيد الأنصاريون1.

قال محمد بن سعد: حدثنا محمد بن عمر حدثني الضحاك بن عثمان عن الزهري قال، قال ثعلبة بن أبي مالك: سمعت عثمان يقول: من يعذرني من ابن مسعود غضب إذ لم أوله نسخ القرآن، فهلا غضب على أبي بكر وعمر وهما عزلاه عن ذلك، ووليا زيدا، فاتبعت أمرهما.

وقال وكيع عن سفيان عن خالد الحذاء عن أبي قلابة عن أنس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "أفرض أمتي زيد بن ثابت" 2.

وقال الشعبي: غلب زيد الناس على القرآن والفرائض.

وعن داود بن أبي هند عن الشعبي قال: لم يجمع القرآن في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم غير ستة كلهم من الأنصار.

زيد بن ثابت، وأبو زيد ومعاذ بن جبل وأبي بن كعب وأبو الدرداء، ونسي السادس، رواه إسماعيل بن أبي خالد عن الشعبي فسمى السادس سعد بن عبيد، وزاد آخر وهو مجمع بن جارية، فقال: قرأ أيضا القرآن إلا سورة أو سورتين أو ثلاثا.

قال حفص عن عاصم عن أبي عبد الرحمن قال: لم أخالف عليا في شيء من قراءته إلا في التابوت، كان زيد يقرؤها بالهاء وعلي بالتاء، قلت له مناقب جمة، وتوفي سنة خمس وأربعين3 على الأصح4.

6- أبو موسى الأشعري عبد الله بن قيس بن سليم بن حضار الأشعري اليماني رضي الله عنه.

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري "4619".

2 تقدم تخريجه.

3 قال غير الواقدي مات سنة إحدى أو اثنتين وخمسين. وقال آخر: مات سنة خمس وخمسين. "انظر صفة الصفوة ص359".

4 انظر أسد الغابة "2/ 278"، الإصابة "1/ 43". تذكرة الحفاظ "31"، خلاصة تذهيب الكمال "108". شذرات الذهب "1/ 54"، طبقات الشيرازي "46". طبقات القراء لابن الجزري "1/ 296"، العبر "1/ 53". النجوم الذاهدة "1/ 31".
আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আনসারদের মধ্য থেকে চারজন ব্যক্তি কুরআন সংকলন করেছিলেন— যায়িদ, উবাই, মুআয এবং আবু যায়িদ।

মুহাম্মদ ইবনে সাদ বলেন: মুহাম্মদ ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যাহহাক ইবনে উসমান যুহরি থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সালাবা ইবনে আবি মালিক বলেছেন: আমি উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি: ইবনে মাসউদের ব্যাপারে আমাকে কে সমর্থন করবে? তিনি রাগান্বিত হয়েছেন যেহেতু আমি তাঁকে কুরআন প্রতিলিপি করার দায়িত্ব দেইনি। অথচ তিনি কি আবু বকর এবং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমার ওপর রাগান্বিত হয়েছিলেন যখন তাঁরা দুজনেই তাঁকে এ কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন এবং যায়িদকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন? আমি তো কেবল তাঁদের আদেশেরই অনুসরণ করেছি।

ওয়াকি সুফিয়ান থেকে, তিনি খালিদ আল-হিযা থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রে সবচেয়ে বিজ্ঞ হলেন যায়িদ ইবনে সাবিত।"

শা'বি বলেন: কুরআন এবং ফারায়েয শাস্ত্রে যায়িদ মানুষের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছিলেন।

দাউদ ইবনে আবি হিন্দ শা'বি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় আনসারদের ছয়জন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ পূর্ণাঙ্গ কুরআন সংগ্রহ করেননি।

যায়িদ ইবনে সাবিত, আবু যায়িদ, মুআয ইবনে জাবাল, উবাই ইবনে কাব এবং আবু দারদা; তবে তিনি ষষ্ঠ জনের নাম ভুলে গিয়েছিলেন। ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ শা'বি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ষষ্ঠ ব্যক্তির নাম সাদ ইবনে উবাইদ উল্লেখ করেছেন। তিনি অন্য একজনের নামও যোগ করেছেন, যিনি হলেন মুজাম্মি ইবনে জারিয়া। তিনি বলেন: তিনিও একটি, দুটি বা তিনটি সূরা বাদে পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াত করেছিলেন।

হাফস আসিম থেকে এবং তিনি আবু আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলীর কিরাআতের কোনো বিষয়ে আমি তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করিনি কেবল 'তাবুত' শব্দটা ছাড়া। যায়িদ একে 'হা' দিয়ে পড়তেন এবং আলী একে 'তা' দিয়ে পড়তেন। আমি বলব, তাঁর অসংখ্য মর্যাদা রয়েছে। সঠিক মতানুসারে তিনি পঁয়তাল্লিশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

৬- আবু মুসা আল-আশআরি আবদুল্লাহ ইবনে কায়েস ইবনে সুলাইম ইবনে হাযার আল-আশআরি আল-ইয়ামানি রাযিয়াল্লাহু আনহু।

--------------------------------------------

১ বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন "৪৬১৯"।

২ এর উৎস পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

৩ ওয়াকিদি ছাড়া অন্যান্যরা বলেন যে তিনি একান্ন বা বায়ান্ন হিজরিতে মারা যান। অন্য একজন বলেছেন: তিনি পঞ্চান্ন হিজরিতে মারা যান। "দেখুন সিফাতুস সাফওয়া পৃষ্ঠা ৩৫৯"।

৪ দেখুন আসাদুল গাবাহ "২/২৭৮", আল-ইসাবাহ "১/৪৩", তাযকিরাতুল হুফফায "৩১", খুলাসাতু তাযহিবিল কামাল "১০৮", শাযারাতুয যাহাব "১/৫৪", তাবাকাতুশ শিরাজী "৪৬", তাবাকাতুল কুররা লিবনিল জাযারি "১/২৯৬", আল-ইবার "১/৫৩", আন-নুজুম আয-যাহিরাহ "১/৩১"।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ١٩)
هاجر إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقدم عليه عند فتح خيبر وحفظ القرآن والعلم، ولئن قصرت مدة صحبته فلقد كان من نجباء الصحابة، وكان من أطيب الناس صوتا، سمع النبي صلى الله عليه وسلم قراءته فقال: "لقد أوتي هذا مزمارا من مزامير آل داود" 1، وقد استغفر له النبي صلى الله عليه وسلم واستعمله على زبيد وعدن.

ثم ولي إمرة الكوفة والبصرة لعمر رضي الله عنه، وحكمه علي رضي الله عنه على نفسه في شأن الخلافة لجلالته وفضله، فمكر به عمرو وخدعه، وقرأ عليه أبو رجاء العطاردي2 وحطان الرقاشي.

روى عنه بنوه أبو بكر وأبو بردة وموسى وإبراهيم وربعي بن حراش وزهدم الجري وسعيد بن المسيب وخلق سواهم.

وافتتح أصبهان زمن عمر ومحاسنه كثيرة، توفي في ذي الحجة سنة أربع وأربعين على الصحيح -رضي الله3 عنه4.

7- أبو الدرداء 5 عويمر بن زيد، ويقال ابن عبد الله ويقال ابن ثعلبة الأنصاري الخزرجي رضي الله عنه.

حكيم هذه الأمة، قرأ القرآن في عهد النبي صلى الله عليه وسلم، وقد تأخر إسلامه عن بدر وأبلى يوم أحد بلاء حسنا.

وآخى رسول الله صلى الله عليه وسلم بينه وبين سلمان، وكان عند مقدمه المدينة آخى بين المهاجرين

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري "5048" ومسلم "2498" وعن أبي سلمة قال: كان عمر بن الخطاب يقول لأبي موسى: ذكرنا ربنا تعالى فيقرأ. وعن أبي عثمان النهدي قال: صلى بنا أبو موسى الأشعري صلاة الصبح فما سمعت صوت صنح ولا بربط "هو المزهر الذي يضرب عليه" كان أحبن صوتا منه. وهذا يدل على حسن صوته "انظر صفة الصفوة ص285 جـ1".

2 أبو رجاء: هو عمران بن ملحان العطاردي البصري، أدرك زمن النبي ولم يره وهو ثقة. "انظر: التهذيب 2140 التقريب 2/ 85".

3 قال: أصحاب السير: توفى أبو موسى سنة اثنتين وخمسين، وقيل: اثنتين وأربعين وقيل: أربع وأربعين. ودفن بمكة. وقيل: دفن بالتوبة على ميلين من الكوفة. "انظر صفة الصفوة ص287 جـ1".

4 انظر أسد الغابة "306016"، تذكرة الحفاظ "1/ 3"، خلاصة تذهيب الكمال "178". طبقات الشيرازي "404"، طبقات القراء لابن الجزري "1/ 442"، العدد "1/ 521"، النجوم الذاهدة "1/ 1406".

5 الأدرد أو الدرداء: الذي سقطت أسنانه أو أسنانها. ويقال أدرده: إذا أسقط أسنانه كلها. وفي الحديث: "لزمت السواك حتى خشيت أنه يدردني" "انظر المعجم الوجيز ص225".
তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে হিজরত করেন এবং খায়বার বিজয়ের সময় তাঁর নিকট উপস্থিত হন। তিনি কুরআন ও ইলম হিফজ করেন। যদিও তাঁর সাহচর্যের সময়কাল সংক্ষিপ্ত ছিল, তবুও তিনি সাহাবীদের মধ্যে অত্যন্ত মেধাবী ও মর্যাদাবান ছিলেন। তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর তিলাওয়াত শুনে বলেছিলেন: "একে দাউদ আলাইহিস সালামের বংশধরদের সুরের মধ্য থেকে একটি সুর প্রদান করা হয়েছে।" ১ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং তাঁকে জাবিদ ও আদনের শাসক নিযুক্ত করেছিলেন।

অতঃপর তিনি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পক্ষ থেকে কুফা ও বসরার শাসনভার লাভ করেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর মহান মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে খিলাফতের বিষয়ে তাঁকে নিজের উপর বিচারক নিযুক্ত করেছিলেন। তবে আমর তাঁর সাথে কৌশল করেন এবং তাঁকে প্রতারিত করেন। আবু রাজা আল-আতারদি ২ এবং হিত্তান আল-রাকাশি তাঁর নিকট কুরআন পাঠ করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর পুত্রগণ—আবু বকর, আবু বুরদাহ, মুসা ও ইব্রাহিম। এছাড়াও রাবি ইবনে হিরাশ, যাহদাম আল-জারমি, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এবং আরও অনেক মানুষ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিনি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে ইসফাহান বিজয় করেন এবং তাঁর অনেক গুণাবলি রয়েছে। সঠিক মতানুসারে তিনি ৪৪ হিজরি সালের জিলহজ মাসে মৃত্যুবরণ করেন—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

৭- আবু দারদা ৫ উওয়াইমির ইবনে যায়েদ, তাঁকে ইবনে আব্দুল্লাহ এবং ইবনে সা'লাবা আল-আনসারি আল-খাজরাজিও বলা হয়, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

তিনি এই উম্মতের বিজ্ঞ পণ্ডিত (হাকিম), তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কুরআন পাঠ সম্পন্ন করেছিলেন। বদরের যুদ্ধের পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং উহুদের যুদ্ধে অত্যন্ত বীরত্বের পরিচয় দেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এবং সালমানের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন করে দেন। তিনি যখন মদিনায় আসলেন, তখন মুহাজিরদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেন

--------------------------------------------

১. বুখারি (৫০৪৮) ও মুসলিম (২৪৯৮) এটি বর্ণনা করেছেন। আবু সালামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব আবু মুসাকে বলতেন: "আমাদেরকে আমাদের রবের কথা স্মরণ করিয়ে দিন," তখন তিনি তিলাওয়াত করতেন। আবু উসমান আন-নাহদি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু মুসা আশআরি আমাদের সাথে ফজরের সালাত আদায় করলেন, আমি তখন কোনো সানজ বা বারবাত (তন্ত্রীযুক্ত বাদ্যযন্ত্র বিশেষ) শুনিনি যার সুর তাঁর কণ্ঠের চেয়ে সুন্দর ছিল। এটি তাঁর কণ্ঠের সৌন্দর্যের প্রমাণ দেয় (দেখুন: সিফাতুস সাফওয়াহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৫)।

২. আবু রাজা: তিনি হলেন ইমরান ইবনে মিলহান আল-আতারদি আল-বসরি। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ পেয়েছেন কিন্তু তাঁকে দেখেননি, তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারী। (দেখুন: আত-তাহজীব ২/১৪০, আত-তাকরিব ২/৮৫)।

৩. ইতিহাসবিদগণ বলেছেন: আবু মুসা ৫২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, কেউ বলেছেন ৪২ হিজরিতে, আবার কেউ বলেছেন ৪৪ হিজরিতে। তাঁকে মক্কায় দাফন করা হয়েছে। মতান্তরে কুফা থেকে দুই মাইল দূরে আত-তাওবাহ নামক স্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। (দেখুন: সিফাতুস সাফওয়াহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৭)।

৪. দেখুন: আসাদুল গাবাহ (৩০৬০১৬), তাযকিরাতুল হুফফাজ (১/৩), খুলাসাহ তাযহীবিল কামাল (১৭৮), তাবাকাতুশ শিরাজী (৪০৪), তাবাকাতুল কুররা ইবনুল জাজারী (১/৪৪২), আল-আদাদ (১/৫২১), আন-নুজুম আয-যাহিরাহ (১/১৪০৬)।

৫. আল-আদরাদ বা আদ-দারদা: যার দাঁত বা যার দাঁতগুলো পড়ে গেছে। বলা হয় 'আদরাদাহু': যদি তার সব দাঁত ফেলে দেওয়া হয়। হাদিসে এসেছে: "আমি মিসওয়াক করতে থাকলাম যতক্ষণ না আমি ভয় পেলাম যে এটি আমাকে দাঁতহীন করে ফেলবে" (দেখুন: আল-মু'জামুল ওয়াজিজ, পৃষ্ঠা ২২৫)।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٢٠)
والأنصار، وهذان أسلما بعد ذلك بمدة، فآخى بينهما، وقد ولي أبو الدرداء قضاء دمشق، وكان من العلماء الحلماء الألباء1 يقال إن عبد الله بن عامر قرأ عليه.

وروى عنه أنس وأبو أمامة وزوجته أم الدرداء، وابنه بلال وعلقمة وخبير بن نقير، وسعيد بن المسيب، وما أحسبه لقيه، وأبو إدريس الخولاني وخالد بن معدان وغيرهم، توفي سنة اثنتين وثلاثين.

وما خلف بالشام كلها بعده مثله رضي الله عنه.

قال سويد بن عبد العزيز: كان أبو الدرداء إذا صلى الغداة في جامع دمشق اجتمع الناس للقراءة عليه فكان يجعلهم عشرة عشرة وعلى كل عشرة عريفا، ويقف هو في المحراب يرمقهم ببصره، فإذا غلط أحدهم رجع إلى عريفه فإذا غلط عريفهم رجع إلى أبي الدرداء يسأله عن ذلك.

وكان ابن عامر عريفا على عشرة كذا قال سويد، فلما مات أبو الدرداء خلفه ابن عامر.

وعن سام ابن مشكم قال: قال لي أبو الدرداء: اعدد من يقرأ عندي القرآن. فعددتهم ألفا وستمائة ونيفا2، وكان لكل عشرة منهم مقرىء.

وكان أبو الدرداء يكون عليهم قائما وإذا أحكم الرجل منهم تحول إلى أبي الدرداء رضي الله عنه، فهؤلاء الذين بلغنا أنهم حفظوا القرآن في حياة النبي صلى الله عليه وسلم، وأخذ عنهم عرضا، وعليهم دارت أسانيد قراءة الأئمة العشرة.

وقد جمع القرآن غيرهم من الصحابة كمعاذ بن جبل وأبي زيد وسالم مولى أبي حذيفة، وعبد الله بن عمر وعتبة بن عامر، ولكن لم تتصل بنا قراءتهم فلهذا اقتصرت على هؤلاء السبعة رضي الله عنهم، واختصرت أخبارهم، فلو سقتها كلها لبلغت خمسين كراسا3.

--------------------------------------------

1 الألباء: جمع لبيب وهو: ذو اللب. "انظر المعجم الوجيز ص549".

2 النيف: الزائد على غيره. والزائد على العقد من واحد إلى ثلاثة، وما كان من أربعة إلى تسعة فهو بضع. يقال: عشرة ونيف، وألف ونيف. ولا يقال: خمسة عشر ونيف، ولا نيف وعشرة. ولا يستعمل إلا بعد العقد. "انظر المعجم الوجيز ص640".

3 له ترجمة من: أسد الغابة 6/ 97، تذكرة الحفاظ 1/ 24، خلاصة تذهيب الكمال 254، للشذرات الذهب 1/ 39، الطبقات للشيرازي 47، طبقات ابن الجزري 1/ 306، العبر 1/ 33، النجوم الزاهرة 1/ 89.
এবং আনসারগণ। এই দুইজন এর বেশ কিছুকাল পর ইসলাম গ্রহণ করেন, অতঃপর তিনি তাঁদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন তৈরি করে দেন। আবু দারদা দামেস্কের বিচারকের (কাজীর) দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ছিলেন ধৈর্যশীল ও অত্যন্ত বুদ্ধিমান আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ১। বলা হয় যে, আবদুল্লাহ বিন আমির তাঁর নিকট কিরাত পাঠ করেছিলেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আনাস, আবু উমামা, তাঁর স্ত্রী উম্মুদ দারদা, তাঁর পুত্র বিলাল, আলকামা, খুবাইর ইবনে নুকাইর, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব—তবে আমার মনে হয় না যে তিনি তাঁর সাক্ষাৎ পেয়েছেন—আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি, খালিদ ইবনে মা’দান এবং আরও অনেকে। তিনি বত্রিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

তিনি তাঁর পরে সমগ্র শাম (সিরিয়া) ভূখণ্ডে নিজের মতো দ্বিতীয় কাউকে রেখে যাননি (অর্থাৎ তাঁর সমতুল্য কেউ ছিল না), আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন।

সুওয়াইদ ইবনে আবদুল আজিজ বলেন: আবু দারদা যখন দামেস্কের জামে মসজিদে ফজরের সালাত আদায় করতেন, তখন তাঁর কাছে কিরাত পাঠ করার জন্য লোকজন সমবেত হতো। তিনি তাদের দশজন দশজন করে দলে বিভক্ত করে দিতেন এবং প্রতি দশজনের ওপর একজন করে তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করতেন। তিনি নিজে মেহরাবে দাঁড়িয়ে তাদের দিকে নজর রাখতেন। যদি তাদের কেউ ভুল করত, তবে সে তার দলের তত্ত্বাবধায়কের কাছে ফিরে যেত। আর যদি তাদের তত্ত্বাবধায়ক ভুল করত, তবে সে আবু দারদার কাছে ফিরে আসত এবং সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করত।

ইবনে আমিরও দশজনের ওপর একজন তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন, সুওয়াইদ এমনই বলেছেন। যখন আবু দারদা ইন্তেকাল করেন, তখন ইবনে আমির তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।

সাম ইবনে মুশকাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু দারদা আমাকে বললেন: যারা আমার কাছে কুরআন পাঠ করে তাদের গণনা করো। আমি তাদের গণনা করে এক হাজার ছয়শোরও কিছু বেশি ২ পেলাম। তাঁদের প্রতি দশজনের জন্য একজন করে ক্বারী (শিক্ষক) ছিলেন।

আবু দারদা তাঁদের তত্ত্বাবধানে দাঁড়িয়ে থাকতেন। যখন তাঁদের কেউ কুরআন পাঠে পারদর্শী হয়ে উঠত, তখন সে আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে চলে আসত। এঁরাই সেই ব্যক্তিবর্গ যাদের সম্পর্কে আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় কুরআন হিফজ করেছিলেন এবং তাঁদের নিকট পেশ করার (পঠন শুনানোর) মাধ্যমে কুরআন গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁদের ওপরই দশ ইমামের কিরাতের সনদসমূহ আবর্তিত হয়েছে।

তাঁদের ছাড়াও অন্যান্য সাহাবীগণ কুরআন সংকলন (হিফজ) করেছিলেন, যেমন মুয়াজ ইবনে জাবাল, আবু জায়েদ, আবু হুজাইফার মুক্তদাস সালিম, আবদুল্লাহ ইবনে উমর এবং উকবা ইবনে আমির। তবে তাঁদের কিরাত (মুতাওয়াতির সূত্রে) আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেনি, তাই আমি এই সাতজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) এবং তাঁদের বৃত্তান্ত সংক্ষেপ করেছি। যদি আমি সব বর্ণনা করতাম, তবে তা পঞ্চাশটি খাতা ৩ ছাড়িয়ে যেত।

--------------------------------------------

১ আল-আলিব্বা: এটি লাবিব-এর বহুবচন, যার অর্থ: বুদ্ধিমান। "দ্রষ্টব্য: আল-মু'জাম আল-ওয়াজিজ, পৃষ্ঠা ৫৪৯"।

২ আন-নাইফ: অন্যের চেয়ে অতিরিক্ত। দশকের ঘরের সংখ্যার সাথে এক থেকে তিন পর্যন্ত অতিরিক্ত সংখ্যা; আর চার থেকে নয় পর্যন্ত হলে তাকে 'বিদ'উন' বলা হয়। বলা হয়ে থাকে: দশ ও কিছু বেশি, এক হাজার ও কিছু বেশি। কিন্তু পনেরো ও কিছু বেশি বা কিছু বেশি ও দশ—এভাবে বলা হয় না। এটি কেবল দশকের ঘরের সংখ্যার পরেই ব্যবহৃত হয়। "দ্রষ্টব্য: আল-মু'জাম আল-ওয়াজিজ, পৃষ্ঠা ৬৪০"।

৩ তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে: উসুদুল গাবাহ ৬/৯৭, তাজকিরাতুল হুফফাজ ১/২৪, খুলাসাতু তাজহিিবিল কামাল ২৫৪, শাজারাতুজ জাহাব ১/৩৯, আত-তাবাকাত লিশ-শিরাজি ৪৭, তাবাকাত ইবনুল জাজারি ১/৩০৬, আল-ইবার ১/৩৩, আন-নুজুমুজ জাহেরা ১/৮৯।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌الطبقة الثانية: وهم الذين عرضوا على بعض المذكورين قبلهم

1- أبو هريرة:

في اسمه عدة أقوال أقواها وأشهرها عبد الله بن صخر الدوسي الحافظ رضي الله عنه، وكان اسمه في الجاهلية عبد شمس، أسلم سنة سبع هو وأمه وروى ما لا يوصف عن النبي صلى الله عليه وسلم.

وقرأ القرآن على أبي بن كعب، قرأ عليه غير واحد، وروى عنه نحو من ثمانمائة نفس، وحديثه في مسند بقي بن مخلد أكثر من خمسة آلاف حديث، وكان إماما مفتيا فقيها صالحا حسن الأخلاق متواضعا محببا إلى الأمة.

روى عنه سعيد بن المسيب1 وأبو سلمة بن عبد الرحمن2 وعبيد الله بن عبد الله3، وأبو صالح السمان4 وأبو حازم الأشجعي5 وعروة6 وابن سيرين7 وهمام

--------------------------------------------

1 هو الإمام السيد الجليل أبو محمد سعيد بن المسيب المخزومي المدني أحد أعلام الدنيا سيد التابعين، قال ابن عمر: لو رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا لسره، وقال مكحول وقتادة والزهري وغيرهم: ما رأينا أعلم من ابن المسيب، قال علي بن المدني: لا أعلم في التابعين أوسع علما منه وجل روايته عن أبي هريرة وكان تزوج ابنته، وهو من فقهاء المدينة جمع بين الحديث والتفسير والفقه والورع والعبادة. ولو لسنتين مضتا من خلافة عمر، وتوفي بالمدينة سنة أربع وتسعين للهجرة. "انظر شذرات الذهب من أخبار من ذهب ص102 جـ1".

2 هو أبو سلمة بن عبد الرحمن بن عوف الفقيه واسمه عبد الله، ولي شرطة سعيد بن العاص أمه تماضر بنت الأصبع الكلبية "انظر جمهرة أنساب العرب ص131".

3 هو عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود الهذلي الضرير أحد الفقهاء مؤدب عمر بن عبد العزيز توفي سنة ثمان وتسعين للهجرة "انظر شذرات الذهب في أخبار من ذهب ص114 جـ1".

4 واسمه عبد الرحمن بن قيس أخو طليعة كذا ذكره ابن سعد وقال البخاري: يكن أبا سالم إبراهيم مؤذن بني حنيفة. أسند عن علي وابن مسعود وحذيفة وآخرين. "انظر صفة الصفوة ص47 جـ3".

5 هو أبو حازم سلمة بن دينار الأعرج مولى لقوم من بني ليث بن بكر أسند أبو حازم عن ابن عمر وسهل بن مسعد وأنس بن مالك وقيل إنه رأى أبا هريرة، وسمع من كبار التابعين كسعيد بن المسيب وأبي سلمة وعروة وغيرهم وتوفي في بغداد سنة أربعين ومائة من خلافة المنصور "انظر صفة الصفوة ص111، 113 جـ2".

6 مرت ترجمته.

7 مرت ترجمته.
দ্বিতীয় স্তর: তাঁরা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যারা তাঁদের পূর্বে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের কারো কারো কাছে (কুরআন) পেশ করেছেন।

১- আবু হুরায়রা:

তাঁর নামের ব্যাপারে বেশ কয়েকটি মত রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রসিদ্ধ হলো আব্দুল্লাহ বিন সাখর আদ-দাওসী আল-হাফিজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। জাহেলী যুগে তাঁর নাম ছিল আব্দু শামস। তিনি ও তাঁর মা সপ্তম হিজরীতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অবর্ণনীয় সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন।

তিনি উবাই বিন কা’বের কাছে কুরআন পাঠ করেছেন, আর তাঁর কাছে পাঠ করেছেন একাধিক ব্যক্তি। প্রায় আটশ ব্যক্তি তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং বাকী বিন মাখলাদের মুসনাদে তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা পাঁচ হাজারের অধিক। তিনি ছিলেন একজন ইমাম, মুফতী, ফকীহ, নেককার, উত্তম চরিত্রের অধিকারী, বিনয়ী এবং উম্মতের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তিত্ব।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন সা’ঈদ বিন আল-মুসাইয়্যিব১, আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান২, উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ৩, আবু সালিহ আস-সাম্মান৪, আবু হাযিম আল-আশজাঈ৫, উরওয়াহ৬, ইবনে সীরীন৭ এবং হাম্মাম

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন সুমহান ইমাম ও সাইয়্যিদ আবু মুহাম্মদ সা’ঈদ বিন আল-মুসাইয়্যিব আল-মাখযূমী আল-মাদানী, যিনি পৃথিবীর অন্যতম বিশিষ্ট আলেম এবং তাবেঈগণের সরদার। ইবনে উমর বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি তাঁকে দেখতেন তবে অবশ্যই আনন্দিত হতেন।" মাকহুল, কাতাদাহ, যুহরী এবং অন্যান্যরা বলেছেন: "আমরা ইবনে আল-মুসাইয়্যিবের চেয়ে বড় কোনো আলেম দেখিনি।" আলী বিন আল-মাদীনী বলেছেন: "তাবেঈগণের মধ্যে তাঁর চেয়ে প্রশস্ত জ্ঞানের অধিকারী কাউকে আমি চিনি না।" তাঁর অধিকাংশ বর্ণনা আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি তাঁর কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি মদীনার ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং হাদীস, তাফসীর, ফিকহ, তাকওয়া ও ইবাদতের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। তিনি উমরের খেলাফতের দুই বছর অতিক্রান্ত হওয়ার সময় জন্মগ্রহণ করেন এবং হিজরী চুরানব্বই সালে মদীনায় ইন্তেকাল করেন। "দেখুন: শাযারাতুয যাহাব ফী আখবারি মান যাহাব, ১ম খণ্ড, ১০২ পৃষ্ঠা"।

২ তিনি হলেন আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আওফ আল-ফকীহ, তাঁর নাম আব্দুল্লাহ। তিনি সা’ঈদ বিন আল-আস-এর শাসনকালে পুলিশ বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তাঁর মা ছিলেন তিমাযির বিনতে আল-আসবাহ আল-কালবিয়্যাহ। "দেখুন: জামহারাতু আনসাবিল আরব, ১৩১ পৃষ্ঠা"।

৩ তিনি হলেন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবাহ বিন মাসউদ আল-হুযালী আদ-দারীর, ফকীহগণের অন্যতম এবং উমর বিন আব্দুল আযীযের শিক্ষক। তিনি হিজরী আটানব্বই সালে ইন্তেকাল করেন। "দেখুন: শাযারাতুয যাহাব ফী আখবারি মান যাহাব, ১ম খণ্ড, ১১৪ পৃষ্ঠা"।

৪ তাঁর নাম আব্দুর রহমান বিন কাইস, তালি’আহর ভাই। ইবনে সাদ এভাবেই উল্লেখ করেছেন। বুখারী বলেছেন: তাঁর কুনিয়াত ছিল আবু সালিম ইব্রাহীম, তিনি বনী হানীফার মুয়াযযিন ছিলেন। তিনি আলী, ইবনে মাসউদ, হুযায়ফা এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। "দেখুন: সিফাতুস সাফওয়াহ, ৩য় খণ্ড, ৪৭ পৃষ্ঠা"।

৫ তিনি হলেন আবু হাযিম সালামাহ বিন দীনার আল-আ’রাজ, বনী লায়স বিন বকর গোত্রের মুক্তদাস। আবু হাযিম ইবনে উমর, সাহল বিন মাসআদ এবং আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে তিনি আবু হুরায়রাকে দেখেছিলেন। তিনি বড় বড় তাবেঈ যেমন সা’ঈদ বিন আল-মুসাইয়্যিব, আবু সালামাহ, উরওয়াহ প্রমুখ থেকে শুনেছেন এবং মানসূরের খেলাফতকালে হিজরী একশ চল্লিশ সালে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন। "দেখুন: সিফাতুস সাফওয়াহ, ২য় খণ্ড, ১১১, ১১৩ পৃষ্ঠা"।

৬ তাঁর জীবনী পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

৭ তাঁর জীবনী পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٢٢)
ابن منبه1 وسعيد المقبري، وكان آدم بعيد ما بين المنكبين ذا ضفيرتين أفرق الثنيتين يخضب بالحمرة وقد ذاق جوعا وفاقة، ثم استعمله عمر رضي الله عنه، فأثرى وكثر ماله وولي إمرة المدينة زمن معاوية.

وكان كثير العبادة والذكر؛ وقد مر في ولايته وهو يحمل حزمة حطب ويقول أوسع الطريق للأمير.

روى محمد بن عمر الأسلمي حدثنا عبد الحميد بن جعفر عن أبيه عن زياد بن مينا قال: كان ابن عباس وابن عمر وأبو هريرة وأبو سعيد وجابر وغيرهم من الصحابة يفتون في المدينة ويحدثون من لدن توفي عثمان رضي الله عنه وعنهم إلى أن توفوا.

وإلى هؤلاء الخمسة صارت الفتوى، توفي أبو هريرة سنة سبع وقيل سنة ثمان وخمسين والقولان مشهوران، وقال الواقدي سنة تسع وخمسين ولعله الصحيح، لأنه صلى على أم سلمة ومات في شوال سنة تسع وخمسين، قيل في كنيته أبو الأسود2.

2- عبد الله بن عباس بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف الحبر، البحر أبو العباس ابن عم رسول الله صلى الله عليه وسلم، رضي الله عنه.

قرأ القرآن على أبي، وروى عن النبي صلى الله عليه وسلم وعمر وعثمان وعلي وأبي ذر ووالده، وأبي سفيان رضي الله عنهم وغيرهم، قرأ عليه مجاهد3 وسعيد بن جبير4 والأعرج5

--------------------------------------------

1 هو أبو عبد الله بن وهب بن منبه الصنعاني من أبناء الفرس الذين بعث بهم كسرى إلى اليمن. روى عن ابن عباس، قيل: وأبو هريرة وغيره من الصحابة. توفي بصنعاء سنة أربع عشرة ومائة "انظر شذرات الذهب ص150 جـ1".

2 انظر، أسد الغابة "6/ 318"، تذكرة الحفاظ "1/ 32". خلاصة تذهيب الكمال "397"، شذرات الذهب "1/ 63". طبقات ابن سعد "4/ 52"، طبقات القراء لابن الجزري "1/ 307"، العبر "1/ 72"، النجوم الزاهرة "1/ 151".

3 هو الإمام أبو الحجاج مجاهد بن جبر، الإمام المكي، قال خصيف: كان أعلمهم بالتفسير توفي بمكة سنة ثلاث ومائة للهجرة وهو ابن ثلاث وثمانين عاما "انظر شذرات الذهب ص125 جـ1".

4 يكني أبا عبد الله بن الحارثية، من ابن أسد بن خزيمة. أسند سعيد بن جبير عن علي "عليه السلام"، وابن عمر، وابن عمرو، وأبي موسى وابن المغفل، وعدي بن حاتم، وأبي هريرة، وغيرهم. وأكثر رواياته عن ابن عباس، وقتل في سنة أربع وتسعين، وقيل سنة خمس وتسعين "انظر صفة الصفوة ص49، 54 جـ3".

5 هو عبد الرحمن بن هرمز الأعرج أبو داود المدني مولى محمد بن ربيعة. روى ابن لهيعة عن أبي النظر قال: كان عبد الرحمن بن هرمز الأعرج، أول من وضع العربية، وكان من أعلم الناس بأنساب قريش، توفي في الإسكندرية من سنة سبع عشرة ومائة. "للمزيد من حياته انظر ترجمته ص61، 62".
ইবনে মুনাব্বিহ ও সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে বর্ণিত; আদম (আবু হুরায়রা) ছিলেন গমের বর্ণের, প্রশস্ত কাঁধবিশিষ্ট, তার দুটি বেণী ছিল, সামনের দুই দাঁতের মাঝে ফাঁক ছিল, তিনি লাল খেজাব ব্যবহার করতেন। তিনি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের স্বাদ গ্রহণ করেছিলেন। অতঃপর ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে নিযুক্ত করেন, ফলে তিনি সম্পদশালী হন এবং তার সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং মুয়াবিয়ার আমলে তিনি মদীনার শাসনভার লাভ করেন।

তিনি প্রচুর ইবাদত ও জিকির করতেন। তার শাসনকাল চলাকালে একবার তিনি এক আঁটি কাঠ বহন করে যাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, "আমিরের জন্য পথ ছেড়ে দাও।"

মুহাম্মদ ইবনে ওমর আল-আসলামি বর্ণনা করেছেন, আব্দুল হামিদ ইবনে জাফর তার পিতা থেকে, তিনি জিয়াদ ইবনে মিনা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস, ইবনে ওমর, আবু হুরায়রা, আবু সাঈদ, জাবির এবং অন্যান্য সাহাবীগণ মদীনায় ফতোয়া দিতেন এবং উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর ইন্তেকাল থেকে শুরু করে তাদের মৃত্যু পর্যন্ত হাদীস বর্ণনা করতেন।

ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব এই পাঁচজনের কাছেই ছিল। আবু হুরায়রা সাতান্ন হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, আবার কারো মতে আটান্ন হিজরীতে; এই উভয় উক্তিই প্রসিদ্ধ। ওয়াকিদী বলেন, ঊনষাট হিজরীতে এবং সম্ভবত এটিই সঠিক, কারণ তিনি উম্মে সালামার জানাজা পড়িয়েছিলেন এবং ঊনষাট হিজরীর শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন। বলা হয়ে থাকে যে তার কুনিয়া (উপনাম) ছিল আবুল আসওয়াদ।

২- আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশেম ইবনে আব্দে মানাফ, আল-হাবর (মহা পণ্ডিত), আল-বাহর (জ্ঞানের সমুদ্র), আবুল আব্বাস, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচাতো ভাই, রাদিয়াল্লাহু আনহু।

তিনি উবাই ইবনে কাবের কাছে কুরআন পাঠ করেছেন এবং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ওমর, উসমান, আলী, আবু যার, তার পিতা ও আবু সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তার কাছে মুজাহিদ, সাঈদ ইবনে জুবায়ের এবং আল-আ'রাজ কুরআন পাঠ করেছেন।

--------------------------------------------

১. তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ আস-সানআনী, পারস্য সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত যাদের কিসরা ইয়েমেনে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন; বলা হয়ে থাকে: এবং আবু হুরায়রা ও অন্যান্য সাহাবী থেকেও। তিনি ১১৪ হিজরীতে সানআয় মৃত্যুবরণ করেন। "দেখুন: শাযারাতুয যাহাব, ১ম খণ্ড, ১৫০ পৃষ্ঠা"।

২. দেখুন: আসাদুল গাবাহ (৬/৩১৮), তাযকিরাতুল হুফফায (১/৩২), খুলাসাহ তাহযিবিল কামাল (৩৯৭), শাযারাতুয যাহাব (১/৬৩), তাবাকাত ইবনে সাদ (৪/৫২), তাবাকাতুল কুররা লিবনিল জাযারি (১/৩০৭), আল-ইবার (১/৭২), আন-নুজুম আয-যাহিরা (১/১৫১)।

৩. তিনি হলেন ইমাম আবুল হাজ্জাজ মুজাহিদ ইবনে জাবর, মক্কার ইমাম। খুসাইফ বলেন: তিনি তাদের মধ্যে তাফসীর বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। তিনি একশ তিন হিজরীতে তিরাশি বছর বয়সে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন। "দেখুন: শাযারাতুয যাহাব, ১ম খণ্ড, ১২৫ পৃষ্ঠা"।

৪. তার কুনিয়া ছিল আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিছিয়া, আসাদ ইবনে খুযাইমা বংশের। সাঈদ ইবনে জুবায়ের আলী (আলাইহিস সালাম), ইবনে ওমর, ইবনে আমর, আবু মুসা, ইবনুল মুগাফফাল, আদি ইবনে হাতিম, আবু হুরায়রা ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তার অধিকাংশ বর্ণনা ইবনে আব্বাস থেকে। তিনি চুরানব্বই হিজরীতে, মতান্তরে পঁচানব্বই হিজরীতে শহীদ হন। "দেখুন: সিফাতুস সাফওয়াহ, ৩য় খণ্ড, ৪৯, ৫৪ পৃষ্ঠা"।

৫. তিনি হলেন আব্দুর রহমান ইবনে হুরমুয আল-আ'রাজ আবু দাউদ আল-মাদানি, মুহাম্মদ ইবনে রাবিআহর আযাদকৃত গোলাম। ইবনে লাহিয়া আবু আন-নজর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে হুরমুয আল-আ'রাজ সর্বপ্রথম আরবী ব্যাকরণ সংকলন করেন এবং তিনি কুরাইশদের বংশতালিকা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। তিনি একশ সতের হিজরীতে আলেকজান্দ্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন। "তার জীবন সম্পর্কে আরও জানতে তার জীবনী দেখুন, পৃষ্ঠা ৬১, ৬২"।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٢٣)
وعكرمة بن خالد1 وسلمان بن قتة شيخ عاصم الجحدري2. وأبو جعفر3 وغيرهم وحدث عنه عكرمة4 وعطاء5 وطاوس6 وأبو الشعثاء7 وعلي بن الحسين8 وخلق لا يحصون.

دعا له النبي صلى الله عليه وسلم، وقال: جمعت المفصل9 على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وذكر أنه كان في حجة الوداع، وقد ناهز الاحتلام وكان أبيض طويلا مشربا صفرة، جسيما وسيما مليح الوجه، يخضب بالحناء مديد القامة، قال عطاء: ما رأيت البدر إلا ذكرت وجه ابن عباس، وقال سعيد بن جبير عن ابن عباس: بت عند خالتي فوضعت لرسول الله صلى الله عليه وسلم غسلا فقال: "من وضع هذا؟ " ، قالوا: عبد الله.

قال: "اللهم علمه التأويل وفقهه في الدين" 10، رواه أيضا عبيد الله بن أبي يزيد عن ابن عباس.

--------------------------------------------

1 هو عكرمة مولى ابن عباس، أحد فقهاء مكة، من التابعين والأعلام، أصله من البربر، وهب لابن عباس فاجتهد في تعليمه ورحل إلى مصر وفراسان واليمن وأصبهان والمغرب وغيرها، وكانت الأمراد تكرمت أذن له مولاه بالفتوى، قيل لسعيد بن جبير: هل تعلم أحدا أعلم منك؟ فقال: عكرمة. توفي سنة خمس ومائة للهجرة أو قبلها أو بعدها بسنة. "انظر شذرات الذهب ص130جـ1".

2 هو عاصم بن أبي الصباح الحجدري البصري. قال ابن الجزري: "قراءته في الكمال والاتضاح فيها مناكير ولا يثبت سندها، والسند إليه صحيح" غاية النهاية في طبقات القراء للجزري "1/ 349".

3 هو يزيد بن القعقاع أحد العشرة، مدني مشهور رفيع الذكر، قرأ القرآن على مولاه عبد الله بن عياش بن ربيعة المخزومي وفاقا "انظر ترجمته ص58".

4 مرت ترجمته.

5 مرت ترجمته.

6 مرت ترجمته.

7 هو أبو الشعثاء جابر بن زيد الأنصاري. عن ابن سيرين قال: كان أبو الشعثاء مسلما عند الدينار والدرهم. وأسند أبو الشعثاء عن ابن عمر وابن عباس. وتوفي سنة ثلاث "ومائة انظر صفة الصفوة ص158 جـ3".

8 هو علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب عليهم السلام، أمه أم ولد اسمها غزالة وهو علي الأصغر. وأما الأكبر فإنه قتل مع الحسين عليهما السلام. أسند علي بن الحسين عن أبيه وابن عباس وجابر بن عبد الله وصفية وأم سلمة وغيرهم من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وعند خلف كثير من التابعين. وتوفي بالمدينة سنة أربع وتسعين، وقيل اثنتين وتسعين، ودفن بالبقيع وهو ابن ثمان وخمسين سنة. رضي الله عنه "انظر صفة الصفوة ص66، 72 جـ3".

9 المفصل كمعظم من القرآن. من الحجرات إلى آخره من الأصح أو من الجاثية أو القتال أو قاف عن النواوي أو الصافات أو الصف أو تبارك عن ابن أبي الصيف أو إنا فتحا عن الدزمادي أو سبح اسم ربك عن الفركاح أو الضحى عن الخطابي وسمي لكثرة الفصول بين سوره أو لقلة المنسوخ فيه. "انظر القاموس المحيط ص30 جـ4 فصل الفاء باب اللام".

10 أخرجه الإمام أحمد في مسنده "1/ 266".
এবং ইকরামা ইবনে খালিদ১ ও সালমান ইবনে কাত্তাহ যিনি আসিম আল-জাহদারীর শিক্ষক২। আবু জাফর৩ এবং আরও অনেকে এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন ইকরামা৪, আতা৫, তাউস৬, আবুল শা'সা৭, আলী ইবনুল হুসাইন৮ এবং অগণিত ব্যক্তি।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য দোয়া করেছেন এবং তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মুফাসসাল৯ অংশ একত্রিত করেছি। এবং উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি বিদায় হজের সময় সাবালক হওয়ার কাছাকাছি ছিলেন। তিনি গৌরবর্ণ, দীর্ঘদেহী এবং হলদেটে আভার মিশ্রণযুক্ত ছিলেন, সুঠামদেহী, সুদর্শন ও লবণীয় চেহারার অধিকারী ছিলেন, মেহেদি দিয়ে রঙ করতেন এবং দীর্ঘাকৃতির ছিলেন। আতা বলেন: আমি যখনই পূর্ণিমার চাঁদ দেখতাম, তখনই ইবনে আব্বাসের চেহারার কথা মনে পড়ে যেত। সাঈদ ইবনে জুবায়ের ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: আমি আমার খালার কাছে রাত কাটিয়েছিলাম, তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ওজুর পানি রাখলাম। তিনি বললেন: "এটি কে রেখেছে?" তারা বললেন: আবদুল্লাহ।

তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! তাকে ব্যাখ্যাতত্ত্ব শিক্ষা দিন এবং তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করুন।"১০ এটি ওবায়দুল্লাহ ইবনে আবু ইয়াজিদও ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন ইকরামা, ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস, মক্কার অন্যতম ফকীহ, তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত এবং একজন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব। তাঁর আদি নিবাস বারবার। ইবনে আব্বাসের নিকট তাঁকে দান করা হয়েছিল, অতঃপর তিনি তাঁর শিক্ষায় কঠোর পরিশ্রম করেন। তিনি মিশর, খোরাসান, ইয়ামেন, ইস্পাহান, মাগরিব এবং অন্যান্য স্থানে ভ্রমণ করেছেন। জনপদসমূহে তাঁকে সম্মান করা হতো। তাঁর মনিব তাঁকে ফতোয়া দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। সাঈদ ইবনে জুবায়েরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "আপনি কি আপনার চেয়ে জ্ঞানী কাউকে চেনেন?" তিনি বললেন: "ইকরামা"। তিনি হিজরী একশত পাঁচ সালে বা তার এক বছর আগে অথবা পরে মৃত্যুবরণ করেন। "দেখুন শাজারাতুজ জাহাব, ১ম খণ্ড, ১৩০ পৃষ্ঠা।"

২ তিনি হলেন আসিম ইবনে আবিস সাবাহ আল-জাহদারী আল-বাসরী। ইবনুল জাজারী বলেন: "তাঁর কিরাত পূর্ণতা ও স্পষ্টতার দিক থেকে ঠিক থাকলেও তাতে কিছু অপরিচিত বিষয় রয়েছে এবং এর সনদ সুপ্রতিষ্ঠিত নয়, তবে তাঁর পর্যন্ত পৌঁছানোর সনদটি সহীহ।" গায়াতুন নিহায়াহ ফি তাবাকাতিল কুররা, জাজারী (১/৩৪৯)।

৩ তিনি হলেন ইয়াজিদ ইবনুল কা'কা, দশজন ক্বারীর অন্যতম, মদিনার বিখ্যাত এবং সুউচ্চ সম্মানের অধিকারী। তিনি তাঁর মনিব আবদুল্লাহ ইবনে আইয়্যাশ ইবনে আবি রাবিআহ আল-মাখজুমীর কাছে কুরআন পাঠ করেছেন। "দেখুন তাঁর জীবনী, ৫৮ পৃষ্ঠা।"

৪ তাঁর জীবনী পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

৫ তাঁর জীবনী পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

৬ তাঁর জীবনী পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

৭ তিনি হলেন আবুল শা'সা জাবির ইবনে যায়েদ আল-আনসারী। ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: দিরহাম ও দীনারের ক্ষেত্রে আবুল শা'সা ছিলেন একজন খাটি মুসলিম। আবুল শা'সা ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি একশত তিন হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। "দেখুন সিফাতুস সাফওয়াহ, ৩য় খণ্ড, ১৫৮ পৃষ্ঠা।"

৮ তিনি হলেন আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব আলাইহিমুস সালাম। তাঁর মাতা ছিলেন উম্মে ওয়ালাদ, যাঁর নাম ছিল গাজালা। তিনি ছিলেন আলী আল-আসগার। আর আলী আল-আকবার হুসাইন আলাইহিমাস সালামের সাথে শহীদ হয়েছিলেন। আলী ইবনুল হুসাইন তাঁর পিতা, ইবনে আব্বাস, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ, সাফিয়্যাহ, উম্মে সালামাহ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য সাহাবীদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে অগণিত তাবেয়ী বর্ণনা করেছেন। তিনি চুরানব্বই হিজরীতে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে বিরানব্বই হিজরীতে, এবং জান্নাতুল বাকিতে তাঁকে দাফন করা হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল আটান্ন বছর। রাদিআল্লাহু আনহু। "দেখুন সিফাতুস সাফওয়াহ, ৩য় খণ্ড, ৬৬, ৭২ পৃষ্ঠা।"

৯ মুফাসসাল কুরআনের একটি অংশ। বিশুদ্ধতম মতানুসারে সূরা হুজুরাত থেকে শেষ পর্যন্ত; অথবা সূরা জাছিয়া, সূরা কিতাল কিংবা সূরা কাফ থেকে—যা নববী বর্ণনা করেছেন। অথবা সূরা সাফফাত, সূরা সাফ অথবা সূরা তাবারক থেকে যা ইবনে আবি সাইফ থেকে বর্ণিত; অথবা সূরা ফাতহ থেকে যা দাজমাদী থেকে বর্ণিত; অথবা সূরা সাব্বিহিসমা থেকে যা ফারকাহ থেকে বর্ণিত অথবা সূরা আদ-দুহা থেকে যা খাত্তাবী থেকে বর্ণিত। এর সূরাগুলোর মধ্যে অধিক বিচ্ছেদের কারণে অথবা এতে মানসুখ আয়াতের স্বল্পতার কারণে একে এই নামকরণ করা হয়েছে। "দেখুন আল-কামুস আল-মুহিত, ৪র্থ খণ্ড, ৩০ পৃষ্ঠা, ফা-ল অধ্যায়।"

১০ ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন (১/২৬৬)।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وروى كريب1 عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم دعا له أن يزيده الله فهما وعلما، ومناقب ابن عباس غزيرة وسعة علمه إليه المنتهى.

ولم يكن على وجه الأرض في زمانه أحد أعلم منه، توفي بالطائف سنة ثمان وستين وصلى عليه محمد بن الحنفية2 وقال اليوم مات رباني الأمة، وقد كف بصره في أواخر عمره -رضي الله عنه3.

3- عبد الله بن السائب بن أبي السائب، صيفي بن عابد بن عمر بن مخزوم المخزومي.

قارئ أهل مكة أبو السايب، وقيل أبو عبد الرحمن له صحبة ورواية يسيرة، وهو من صغار الصحابة.

وأبوه أو جده رضي الله عنهم فكان شريك النبي صلى الله عليه وسلم قبل النبوة، قرأ عبد الله القرآن على أبي بن كعب، وروى أيضا عن عمر رضي الله عنه، عرض عليه القرآن مجاهد وعبد الله بن كثير4 فيما قيل، وحدث عنه ابن أبي مليكة وعطاء وابن بنته محمد بن عباد بن جعفر وآخرون قال مسلم وابن أبي حاتم وغيرهما: له صحبة.

وقال الزبير بن بكار حدثنا أبو ضمرة أنس5 عمن حدثه عن أبي السائب عبد الله بن السائب المخزومي، قال: كان جدي في الجاهلية يكنى أبا السائب وبه اكتنيت.

وكان خليطا للنبي صلى الله عليه وسلم في الجاهلية، فكان عليه السلام إذا ذكره قال: نعم الخليط،

--------------------------------------------

1 هو مولى ابن عباس، وكان كثير العلم كنزا له، كبير السن والقدر، قال موسى بن عقبة: وضع كريب عندنا عدل بعير من كتب ابن عباس، توفي سنة ثمان وتسعين للهجرة. "انظرشذرات الذهب صض122 جـ1".

2 هو أبو القاسم -ويقال: أبو عبد الله -محمد بن علي بن أبي طالب وأمه خولة بنت جعفر بن قيس، ابن بني حنيفة بن الحبير، وقد كان محمد عالما فاضلا. شجاعا، وتوفي في سنة81 "تهذيب التهذيب 9/ 354، والعير: 1/ 93، ومشاهير علماء الأمصار رقم419".

3 انظر، أسد الغابة "3/ 290"، الإصابة "1/ 322". تاريخ بغداد "1/ 173"، التذكرة "41"، خلاصة تذهيب الكمال. "172" 0شذرات الذهب "1/ 75". طبقات الشيرازي "48"، طبقات ابن الجزري "1/ 425". العبر "1/ 86"، النجوم الزاهرة "1/ 182". نكت الهميان "180".

4 ويكن أبا معيد إمام أهل مكة في القراءة ولد بمكة سنة خمس وأربعين ولقي بها من الصحابة أبا أيوب الأنصاري، وأنس بن مالك وغيرهما فهو من التابعين وأخذ القراءة عرضا عن عبد الله بن السائب وغيره، وكان فصيحا بليغا مفوها عليه السكينة والوقار، ومات سنة عشرين ومائة. "انظر تاريخ القراء العشرة".

5 هو خادم رسول الله صلى الله عليه وسلم: أبو حمزة أنس بن مالك بن نصر، الأنصاري، قدم على النبي صلوات الله وسلامه عليه وسنه عشرة سنين، ومات في سنة 93، ويقال: في سنة 90، ويقال: في سنة 91، ويقال: في سنة 92 "العبر: 1/ 107، والبدء والتاريخ 5/ 117".
কুরাইব তাঁর থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য দুআ করেছিলেন যেন আল্লাহ তাঁর বুঝ ও জ্ঞান বৃদ্ধি করে দেন। ইবনে আব্বাসের মর্যাদা ও গুণাবলি অপরিসীম এবং তাঁর জ্ঞানের গভীরতা ছিল চূড়ান্ত।

তাঁর সময়ে পৃথিবীর বুকে তাঁর চেয়ে বড় কোনো আলিম ছিল না। ৬৮ হিজরিতে তিনি তায়েফে ইন্তেকাল করেন এবং মুহাম্মাদ ইবনে আল-হানাফিয়্যাহ তাঁর জানাজা পড়ান। তিনি বললেন, আজ এই উম্মতের রব্বানি আলিম ইন্তেকাল করলেন। জীবনের শেষ দিকে তাঁর দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছিল—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

৩- আবদুল্লাহ ইবনে আস-সাইব ইবনে আবি আস-সাইব, সাইফি ইবনে আবিদ ইবনে উমর ইবনে মাখজুম আল-মাখজুমি।

মক্কাবাসীদের কারী, উপনাম আবু আস-সাইব, আবার বলা হয় আবু আবদুর রহমান। তিনি সাহাবি ছিলেন এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা কম। তিনি ছোট সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

তাঁর পিতা অথবা তাঁর দাদা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নবুওয়াতের পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। আবদুল্লাহ উবাই ইবনে কাবের কাছে কুরআন পাঠ করেছেন এবং উমর (রা.) থেকেও বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত আছে যে, মুজাহিদ এবং আবদুল্লাহ ইবনে কাসীর তাঁর কাছে কুরআন পেশ (শুনানি) করেছেন। তাঁর থেকে ইবনে আবি মুলাইকাহ, আতা, তাঁর দৌহিত্র মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ ইবনে জাফর এবং আরও অনেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। মুসলিম, ইবনে আবি হাতিম এবং অন্যরা বলেছেন: তিনি সাহাবি ছিলেন।

যুবাইর ইবনে বাক্কার বলেন, আবু যামরা আনাস এমন এক ব্যক্তি থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যিনি আবু আস-সাইব আবদুল্লাহ ইবনে আস-সাইব আল-মাখজুমি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাহিলিয়াত যুগে আমার দাদার উপনাম ছিল আবু আস-সাইব এবং তাঁর নামেই আমার উপনাম রাখা হয়েছে।

জাহিলিয়াত যুগে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই তাঁর কথা স্মরণ করতেন, বলতেন: তিনি কতই না উত্তম অংশীদার!

--------------------------------------------

১. তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্ত দাস, প্রচুর জ্ঞানের অধিকারী এবং তাঁর জ্ঞানের ভাণ্ডার ছিলেন। তিনি দীর্ঘজীবী এবং উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। মূসা ইবনে উকবা বলেন: কুরাইব আমাদের কাছে ইবনে আব্বাসের কিতাবসমূহ ভর্তি একটি উটের বোঝা পরিমাণ পাণ্ডুলিপি রেখে গিয়েছেন। ৯৮ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। (দেখুন: শাযারাতুয যাহাব, ১ম খণ্ড, ১২২ পৃষ্ঠা)।

২. তিনি হলেন আবু কাসিম—কেউ বলেন আবু আবদুল্লাহ—মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব। তাঁর মা ছিলেন খাওলা বিনতে জাফর ইবনে কায়স, যিনি বনু হানিফা ইবনে হাবীর গোত্রের কন্যা ছিলেন। মুহাম্মাদ একজন জ্ঞানী ও মহৎ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি অত্যন্ত বীর পুরুষ ছিলেন এবং ৮১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। (তাহযীবুত তাহযীব ৯/৩৫৪; আল-ইবার ১/৯৩; মাশাহীরু উলামাইল আমসার নং ৪১৯)।

৩. দেখুন: উসদুল গাবাহ (৩/২৯০), আল-ইসাবাহ (১/৩২২), তারিখে বাগদাদ (১/১৭৩), আত-তাযকিরাহ (৪১), খুলাসাুতু তাহযীবিল কামাল (১৭২), শাযারাতুয যাহাব (১/৭৫), তাবাকাতুশ শিরাজী (৪৮), তাবাকাতু ইবনিল জাযারি (১/৪২৫), আল-ইবার (১/৮৬), আন-নুজুমুয যাহিরাহ (১/১৮২), নুকাতুল হিমইয়ান (১৮০)।

٤. তাঁর উপনাম আবু মাবাদ, তিনি কিরাআতের ক্ষেত্রে মক্কাবাসীদের ইমাম। ৪৫ হিজরিতে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে সাহাবি আবু আইয়ুব আনসারি, আনাস ইবনে মালিক ও অন্যদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে। সুতরাং তিনি তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আস-সাইব ও অন্যদের কাছে সরাসরি কিরাআত পেশ করেছেন। তিনি অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাষী ও বাগ্মী ছিলেন এবং তাঁর মধ্যে গাম্ভীর্য ও প্রশান্তি ছিল। ১২০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। (দেখুন: তারিখুল কুররাউল আশারাহ)।

৫. তিনি হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম: আবু হামজা আনাস ইবনে মালিক ইবনে নাসর আল-আনসারি। দশ বছর বয়সে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে আসেন। ৯৩ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন; কেউ বলেন ৯০, ৯১ বা ৯২ হিজরিতে। (আল-ইবার ১/১০৭; আল-বাদউ ওয়াত তারিখ ৫/১১৭)।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٢٥)
كان أبو السائب لا يشاري ولا يماري، عن ابن عيينة1 عن داود بن شابور عن مجاهد، قال: كنا نفخر على الناس بقارينا عبد الله بن السائب، وبفقيهنا ابن عباس، وبمؤذننا أبي محذورة وبقاصنا عبيد بن عمير اليئي.

قلت: توفي في حدود سنة سبعين في إمرة ابن الزبير2، قال ابن أبي مليكة، رأيت ابن عباس قام على قبر عبد الله بن السائب فدعا له ثم انصرف، قاله ابن نمير عن ابن جريح عن ابن أبي مليكة3.

4- المغيرة بن أبي شهاب المخزومي.

قرأ القرآن على عثمان رضي الله عنه، وعليه قرأ عبد الله بن عامر اليحصبي، وأحسبه كان يقرئ بدمشق في دولة معاوية، ولا يكاد يعرف إلا من قراءة ابن عامر عليه، قرأت بخط القطاع أنه مات سنة إحدى وتسعين، وله تسعون سنة، واسم أبيه عبد الله بن عمرو بن المغيرة بن ربيعة بن عمرو بن مخزوم.

5- حطان بن عبد الله الدقاشي ويقال السدوسي البصري، قرأ على أبي موسى الأشعري، قرأ عليه الحسن البصري 4، وسمع من علي وعبادة بن الصامت 5 رضي الله عنهما.

--------------------------------------------

1 هو شيخ الحجاز وأحد الأعلام أبو محمد بن سفيان بن عيينة الهلالي مولاهم الكوفي الحافظ تنزيل مكة، قال الشافعي: لولا مالك وابن عيينة لذهب علم الحجاز وقال ابن وهب: لا أعلم أحدا أعلم بالتفسير من ابن عيينة، وقال أحمد العجلي: كان حديثه نحوا من سبعة آلاف حديث توفي في الأول من رجب سنة ثمان وتسعين ومائة وله إحدى وتسعون سنة "انظر شذرات الذهب ص354 جـ1".

2 هو أبو بكر -وأبو خبيب أيضا- عبد الله بن الزبير بن خويلد بن أسد بن عبد العزي، وأمه أسماء ذات النطاقين بنت أبي بكر الصديق وهو أول مولود في الإسلام بالمدينة قتله الحجاج بن يوسف الثقفي في المسجد الحرام سنة 72 في عهد عبد الملك بن مروان ثم صلبة، وقيل: كان ذلك من سنة 73 "مشاهير علماء الأمصار رقم 154، والعبر: 1/ 81 وتهذيب التهذيب: 5/ 213، ومروج الذهب: 3/ 891".

3 انظر، سير أعلام النبلاء "3/ 388"، طبقات القراء لابن الجزري "1/ 419". تهذيب التهديب "5/ 229".

4 هو الحسن بن أبي حسن البصري أبو سعيد، إمام أهل البصرة وخير أهل زمانه، ولد لسنتين بقضاء خلافة عمر، وسمع خطبة عثمان وشهد يوم الدار، أبوه مولى زيد بن ثابت، وأمه مولاة أم سلمة، كان جامعا عالما رقيقا فيها حجة مأمونا عابدا ناسكا كثير العلم. قال أبو بكر الهزلي: قال لي السفاح: بأي شيء بلغ حسنكم ما بلغ؟ فقلت: جمع القرآن وهو ابن اثنتين عشرة سنة، ثم لم يخرج من سورة إلى غيرها حتى يعرف تأويلها وفيما أنزلت، ولم يقلب درهما من تجارة ولا ولي سلطانا ولا أمر بشيء حتى فعله ولا نهى عن شيء، حتى ودعه، توفي سنة عشر ومائة. "انظر شذرات الذهب ص136 جـ1".

5 هو عبادة بن الصامت بن قيس بن أصرم من النقباء وشهد بدرا وما بعدها ووجهه عمر إلى الشام قاضيا ومعلما، أقام بحمص ثم انتقل إلى فلسطين ومات فيها، وقيل بالرملة ودفن ببيت المقدس توفي سنة خمس وثلاثين. "انظر شذرات الذهب ص40 جـ1" وانظر جمهرة أنساب بالعرب ص354 جـ1".
আবু সাইব কোনো ঝগড়া বা তর্কে জড়াতেন না। ইবনে উয়াইনা১ থেকে দাউদ ইবনে শাবুর হতে বর্ণিত, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা আমাদের ক্বারী আবদুল্লাহ ইবনে সাইবকে নিয়ে, আমাদের ফকিহ ইবনে আব্বাসকে নিয়ে, আমাদের মুয়াজ্জিন আবু মাহজুরাকে নিয়ে এবং আমাদের ওয়ায়েজ উবাইদ ইবনে উমাইর আল-লাইসিকে নিয়ে মানুষের সামনে গর্ব করতাম।"

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তিনি সত্তর হিজরির আশেপাশে ইবনে যুবাইরের২ শাসনকালে ইন্তেকাল করেন। ইবনে আবি মুলাইকা বলেন, আমি ইবনে আব্বাসকে আবদুল্লাহ ইবনে সাইবের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর জন্য দোয়া করতে দেখেছি, তারপর তিনি ফিরে যান। ইবনে নুমাইর এটি ইবনে জুরাইজ হতে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকা হতে বর্ণনা করেছেন৩।

৪- মুগিরা ইবনে আবি শিহাব আল-মাখজুমি।

তিনি উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর নিকট কুরআন পাঠ করেছেন। তাঁর নিকট আবদুল্লাহ ইবনে আমির আল-ইয়াহসুবি কুরআন পাঠ করেছেন। আমার মনে হয় তিনি মুয়াবিয়ার শাসনামলে দামেস্কে কুরআন শিক্ষা দিতেন। ইবনে আমিরের তাঁর নিকট পাঠ করা ছাড়া তিনি খুব একটা পরিচিত নন। আমি আল-কাত্তা-এর হস্তলিপিতে পড়েছি যে, তিনি একানব্বই হিজরিতে নব্বই বছর বয়সে মারা যান। তাঁর পিতার নাম আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে মুগিরা ইবনে রাবিআ ইবনে আমর ইবনে মাখজুম।

৫- হিত্তান ইবনে আবদুল্লাহ আদ-দাকাশি, এবং তাকে আল-সাদুসি আল-বাসরিও বলা হয়। তিনি আবু মুসা আল-আশআরির নিকট কুরআন পাঠ করেছেন। হাসান আল-বাসরি৪ তাঁর নিকট পাঠ করেছেন এবং তিনি আলী ও উবাদা ইবনে সামিত৫ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে হাদীস শুনেছেন।

--------------------------------------------

১ তিনি হিজাজের শাইখ এবং অন্যতম প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব আবু মুহাম্মাদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা আল-হিলালি, তাদের মুক্ত দাস, আল-কুফি আল-হাফিয, মক্কায় বসবাসকারী। শাফিঈ বলেন: যদি মালিক ও ইবনে উয়াইনা না থাকতেন, তবে হিজাজের ইলম হারিয়ে যেত। ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমি ইবনে উয়াইনার চেয়ে তাফসীর বিষয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে জানি না। আহমাদ আল-ইজলি বলেন: তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ছিল প্রায় সাত হাজার। তিনি একশত আটানব্বই হিজরির রজব মাসের প্রথম তারিখে একানব্বই বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। "দেখুন: শাযারাতুজ যাহাব, পৃষ্ঠা ৩৫৪, খণ্ড ১।"

২ তিনি হলেন আবু বকর —এবং আবু খুবাইব-ও— আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর ইবনে খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযা। তাঁর মা হলেন আসমা যাতুন নিতাকাইন, যিনি আবু বকর সিদ্দিকের কন্যা। তিনি মদিনায় ইসলামের প্রথম নবজাতক। হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আস-সাকাফি তাকে বাহাত্তর হিজরিতে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের যুগে মসজিদে হারামে হত্যা করে এবং তারপর তাকে শূলে চড়ায়। বলা হয় যে, এটি তিয়াত্তর হিজরিতে হয়েছিল। "মাশাহিরু উলামাইল আমসার, নম্বর ১৫৪; আল-ইবার: ১/৮১; তাহযিবুত তাহযিব: ৫/২১৩; মুরুজুয যাহাব: ৩/৮৯১।"

৩ দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (৩/৩৮৮), ইবনুল জাযারির তাবাকাতুল কুররা (১/৪১৯), তাহযিবুত তাহযিব (৫/২২৯)।

৪ তিনি হাসান ইবনে আবিল হাসান আল-বাসরি আবু সাঈদ, বসরার ইমাম এবং তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। তিনি উমর (রা.) এর খিলাফতের সমাপ্তির দুই বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি উসমানের খুতবা শুনেছেন এবং ইয়াওমুত দারের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। তাঁর পিতা যায়িদ ইবনে সাবিতের মুক্ত দাস এবং মা উম্মে সালামার মুক্ত দাসী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন বিদগ্ধ আলিম, কোমল হৃদয়ের অধিকারী, দলিলে পারদর্শী, বিশ্বস্ত, ইবাদতকারী, সংসারবিরাগী এবং অগাধ ইলমের অধিকারী। আবু বকর আল-হুযালি বলেন: সাফফাহ আমাকে বললেন: হাসান কিসের মাধ্যমে এই সুউচ্চ মাকামে পৌঁছেছেন? আমি বললাম: তিনি বারো বছর বয়সে কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেছিলেন, তারপর কোনো একটি সূরার ব্যাখ্যা এবং তা নাজিলের প্রেক্ষাপট না জানা পর্যন্ত অন্য সূরায় যেতেন না। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যে কখনো একটি দিরহামও এদিক-সেদিক করেননি, কখনো কোনো ক্ষমতার পদে বসেননি। কোনো কাজ নিজে না করে তার নির্দেশ দিতেন না এবং কোনো কাজ নিজে না ছেড়ে সে ব্যাপারে নিষেধ করতেন না। তিনি একশত দশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। "দেখুন: শাযারাতুজ যাহাব, পৃষ্ঠা ১৩৬, খণ্ড ১।"

৫ তিনি উবাদা ইবনে সামিত ইবনে কায়েস ইবনে আসরাম, অন্যতম নকীব এবং বদরসহ পরবর্তী সকল যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। উমর (রা.) তাকে বিচারক ও শিক্ষক হিসেবে শামে প্রেরণ করেন। তিনি হিমসে অবস্থান করেন এবং পরে ফিলিস্তিনে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। বলা হয়, তিনি রামলায় ইন্তেকাল করেন এবং বাইতুল মাকদিসে সমাহিত হন। তিনি পঁয়ত্রিশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। "দেখুন: শাযারাতুজ যাহাব, পৃষ্ঠা ৪০, খণ্ড ১" এবং "জামহারাতু আনসাবিল আরব, পৃষ্ঠা ৩৫৪, খণ্ড ১" দেখুন।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٢٦)
روى عنه الحسن ويونس بن جبير وأبو مجاز لاحق بن حميد، وكان كبير القدر صاحب ورع وعلم، أحسبه مات سنة نيف وسبعين1.

6- الأسود بن يزيد النخعي:

أبو عمرو أخذ القراءة عرضا عن ابن مسعود رضي الله عنه، وحدث عن أبي بكر وعمر وعثمان وعلي ومعاذ، وبلال، وعائشة رضي الله عنهم وجماعة.

قرأ عليه يحيى بن وثاب وإبراهيم النخعي، وأبو إسحاق السبيعي، وكان أسن من علقمة بسنوات.

قال منصور عن إبراهيم: كان الأسود يختم القرآن في كل ست، وفي رمضان في كل ليلتين، وكان علقمة يختم في خمس.

وروى يزيد بن عطاء عن علقمة ابن مرثد، قال: كان الأسود بن يزيد يصوم حتى يخضر جسده، ولقد حج ثمانين من حجة وعمرة، قلت: كان الأسود بن يزيد رأسا في العلم والعمل، وكان من كبار أصحاب ابن مسعود روى عنه إبراهيم النخعي وابنه عبد الرحمن بن الأسود وأخوه عبد الرحمن وعمارة بن عمير، وأبو إسحاق.

قال المدائني: توفي سنة خمس وسبعين، وقال غيره قبل ذلك2.

7 - علقمة بن قيس بن عبد الله بن مالك أبو شبل النخعي 3، الفقيه عم الأسود بن يزيد، وخال إبراهيم النخعي.

ولد في حياة النبي صلى الله عليه وسلم، وقرأ القرآن على ابن مسعود، وسمع من عمر وعلي وأبي الدرداء، وعائشة رضي الله عنهم وطائفة.

قرأ عليه يحيى بن وثاب وعبيد بن نضيلة وأبو إسحاق وغيرهم، وتفقه به إبراهيم والشعبي.

--------------------------------------------

1 انظر، طبقات ابن الجزري "2/ 305".

2 انظر، تذكرة الحفاظ "1/ 50"، تهذيب التهذيب "1/ 342"، خلاصة تذهيب الكمال "32"، شذرات الذهب "1/ 82"، طبقات ابن سعد "6/ 46"، طبقات الشيرازي "79"، طبقات القراء لابن الجزري "1/ 171"، العبر "1/ 86".

3 النخعي: بفتح النون والخاء: منسوب إلى النخع جد قبيلة.
হাসান, ইউনুস বিন জুবাইর এবং আবু মিজলাজ লাহিক বিন হুমাইদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, পরহেজগার এবং ইলমের অধিকারী। আমার ধারণা তিনি সত্তরের কিছু বছর পরে ইন্তেকাল করেছেন১।

৬- আল-আসওয়াদ বিন ইয়াজিদ আন-নাখয়ী:

আবু আমর; তিনি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর নিকট হতে তিলাওয়াত পেশ করার মাধ্যমে (কিরাআত) গ্রহণ করেছেন। তিনি আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, মুয়াজ, বিলাল এবং আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সহ একদল সাহাবীর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

তাঁর নিকট তিলাওয়াত করেছেন ইয়াহইয়া বিন ওস্সাব, ইব্রাহিম আন-নাখয়ী এবং আবু ইসহাক আস-সাবিঈ। তিনি আলকামা অপেক্ষা কয়েক বছরের বড় ছিলেন।

মানসুর ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন: আসওয়াদ প্রতি ছয় দিনে একবার কুরআন খতম করতেন, আর রমজানে প্রতি দুই রাতে একবার; আর আলকামা পাঁচ দিনে একবার খতম করতেন।

ইয়াজিদ বিন আতা আলকামা ইবনে মারসাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আসওয়াদ বিন ইয়াজিদ এতো বেশি রোজা রাখতেন যে তাঁর দেহ বিবর্ণ (সবুজাভ) হয়ে যেত। তিনি আশিবার হজ ও ওমরাহ পালন করেছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আসওয়াদ বিন ইয়াজিদ ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি ইবনে মাসউদের বড় মাপের ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর থেকে ইব্রাহিম আন-নাখয়ী, তাঁর পুত্র আব্দুর রহমান বিন আল-আসওয়াদ, তাঁর ভাই আব্দুর রহমান, উমারা বিন উমাইর এবং আবু ইসহাক বর্ণনা করেছেন।

মাদাইনি বলেছেন: তিনি পঁচাত্তর হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, আর অন্যান্যরা এর আগের কথা বলেছেন২।

৭ - আলকামা বিন কায়স বিন আব্দুল্লাহ বিন মালিক আবু শিবল আন-নাখয়ী ৩, ফকিহ; তিনি আসওয়াদ বিন ইয়াজিদের চাচা এবং ইব্রাহিম আন-নাখয়ীর মামা।

তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবদ্দশায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ইবনে মাসউদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করেন। তিনি উমর, আলী, আবু দারদা এবং আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সহ আরও একদল সাহাবীর থেকে (হাদিস) শুনেছেন।

তাঁর নিকট ইয়াহইয়া বিন ওস্সাব, উবাইদ বিন নজিলাহ, আবু ইসহাক এবং অন্যান্যরা তিলাওয়াত করেছেন। ইব্রাহিম ও শা'বি তাঁর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন।

--------------------------------------------

১ দেখুন, ইবনে আল-জাযারির 'তাবাকাত' "২/ ৩০৫"।

২ দেখুন, 'তাযকিরাতুল হুফফাজ' "১/ ৫০", 'তাহযিবুত তাহযিব' "১/ ৩৪২", 'খুলাসাতু তাযহিবিল কামাল' "৩২", 'শাযারাতুয যাহাব' "১/ ৮২", 'তাবাকাতে ইবনে সাদ' "৬/ ৪৬", 'তাবাকাতুশ শিরাজি' "৭৯", ইবনে আল-জাযারির 'তাবাকাতুল কুররা' "১/ ১৭১", 'আল-ইবার' "১/ ৮৬"।

৩ আন-নাখয়ী: নুন এবং খা বর্ণের ওপর ফাতহা (যবর) সহকারে: এটি 'নাখ' নামক গোত্রপিতার সাথে সম্পর্কিত একটি নিসবত।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وروى عنه إبراهيم بن سويد وأبو الضحى والقاسم بن مخيمرة وآخرون، وكان أشبه الناس بابن مسعود سمتا وهديا وعلما، وكان أعرج من أحسن الناس صوتا بالقرآن.

قال عبد الرحمن بن يزيد النخعي: قال ابن مسعود: ما أعلم شيئا أو ما أقرأ إلا وعلقمة يعلمه.

وقال قابوس بن أبي ظبيان: قلت لأبي: لأي شيء كنت تأتي علقمة وتدع الصحابة؟ قال: أدركت ناسا من الصحابة وهم يسألونه ويستفتونه، وقال إبراهيم النخعي: قرأ علقمة على عبد الله، فكأنه عجل فقال: فداك أبي وأمي رتل فإنه زين القرآن.

وقال علقمة: قرأت القرآن في سنتين، وقال إبراهيم: كان علقمة يقرأ القرآن في خمس، وقد قام بالقرآن في ليلة عند البيت، توفي علقمة سنة اثنتين وستين1.

8- أبو عبد الرحمن السلمي مقرئ الكوفة، عبد الله بن حبيب بن ربيعة، ولأبيه صحبة.

وولد هو في حياة النبي صلى الله عليه وسلم، وقرأ القرآن وجوده وبرع في حفظه، وعرض على عثمان وعلي وابن مسعود رضي الله عنهم وغيرهم وحدث عن عمر وعثمان رضي الله عنهما.

قال أبو عمرو الداني: أخذ القراءة عرضا عن عثمان وعلي وابن مسعود وزيد بن ثابت وأبي بن كعب رضي الله عنهم.

وأخذ عنه القراءة عرضا عاصم بن أبي النجود ويحيى بن وثاب وعطاء بن السائب وعبد الله بن عيسى بن أبي ليلى ومحمد بن أيوب أبو عون الثقفي والشعبي وإسماعيل بن أبي خالد وعرض عليه الحسن والحسين رضي الله عنهما.

قال حسين بن علي الجعفي عن محمد بن أبان عن علقمة بن مرثد: أن أبا عبد الرحمن السلمي تعلم القرآن من عثمان بن عفان، وعرض على علي رضي الله عنهما.

وقال أبو إسحاق السبيعي: إن أبا عبد الرحمن كان يقرئ الناس في المسجد الأعظم أربعين سنة.

--------------------------------------------

1 انظر/ سير أعلام النبلاء "4/ 53" تهذيب التهذيب "7/ 276" النجوم الزاهرة "1/ 157". تذكرة الحفاظ "1/ 157".
এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে সুওয়াইদ, আবু আদ-দুহা, আল-কাসিম ইবনে মুখাইমিরাহ ও অন্যান্যগণ। তিনি চালচলন, আচার-আচরণ ও ইলমের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে ইবনে মাসউদের সবচেয়ে বেশি সদৃশ ছিলেন। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা (খুঁড়িয়ে চলা) সত্ত্বেও কুরআনের তিলাওয়াতে অন্যতম সুন্দর কণ্ঠস্বরের অধিকারী ছিলেন।

আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ আল-নাখায়ী বলেন: ইবনে মাসউদ বলেছেন: আমি যা কিছু জানি বা যা কিছু পাঠ করি, আলকামা তা জানে না—এমন কিছু আমার জানা নেই।

কাবুস ইবনে আবি জবইয়ান বলেন: আমি আমার পিতাকে বললাম: আপনি কেন সাহাবীদের ছেড়ে আলকামার কাছে আসতেন? তিনি বললেন: আমি সাহাবীদের মধ্য থেকে এমন কিছু মানুষকে পেয়েছি যারা তাঁর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতেন এবং ফতোয়া নিতেন। ইবরাহিম আল-নাখায়ী বলেন: আলকামা আব্দুল্লাহর নিকট তিলাওয়াত করলেন, মনে হচ্ছিল তিনি কিছুটা দ্রুত পড়ছেন। তখন তিনি বললেন: আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আপনি ধীরস্থিরভাবে তিলাওয়াত করুন; কারণ তা কুরআনের সৌন্দর্য।

আলকামা বলেন: আমি দুই বছরে কুরআন সম্পন্ন করেছি। ইবরাহিম বলেন: আলকামা পাঁচ দিনে কুরআন খতম করতেন এবং তিনি কাবার কাছে এক রাতেই পুরো কুরআন পাঠ করে নামাজে দাঁড়িয়েছেন। আলকামা ৬২ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।১

৮- আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী, কুফার কারী, আব্দুল্লাহ ইবনে হাবীব ইবনে রাবীআহ। তাঁর পিতার সাহাবী হওয়ার গৌরব ছিল।

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুরআন পাঠ করেছেন, তা তাজউইদসহ সম্পন্ন করেছেন এবং এর হিফজে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি উসমান, আলী এবং ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম ও অন্যদের নিকট কিরাত পেশ করেছেন এবং ওমর ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

আবু আমর আদ-দানি বলেন: তিনি সরাসরি তিলাওয়াত পেশের মাধ্যমে উসমান, আলী, ইবনে মাসউদ, যায়েদ ইবনে সাবিত এবং উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুমের নিকট থেকে কিরাত গ্রহণ করেছেন।

আর তাঁর নিকট সরাসরি তিলাওয়াত পেশের মাধ্যমে কিরাত গ্রহণ করেছেন আসিম ইবনে আবি আন-নাজুদ, ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াসসাব, আতা ইবনে আস-সাইব, আব্দুল্লাহ ইবনে ঈসা ইবনে আবি লায়লা, মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব আবু আউন আস-সাকাফি, আশ-শাবি এবং ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ। আর হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমাও তাঁর কাছে তিলাওয়াত পেশ করেছেন।

হুসাইন ইবনে আলী আল-জুফী, মুহাম্মদ ইবনে আবান থেকে, তিনি আলকামা ইবনে মারসাদ থেকে বর্ণনা করেন: আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী উসমান ইবনে আফফানের নিকট কুরআন শিক্ষা করেছেন এবং আলীর নিকট তিলাওয়াত পেশ করেছেন, আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন।

আবু ইসহাক আস-সাবিঈ বলেন: আবু আব্দুর রহমান জামে মসজিদে মানুষকে চল্লিশ বছর যাবত কুরআন শিক্ষা দিতেন।

--------------------------------------------

১ দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/৫৩, তাহযীবুত তাহযীব ৭/২৭৬, আন-নুজুমুজ জাহেরা ১/১৫৭, তাযকিরাতুল হুফফাজ ১/১৫৭।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وقال شعبة1: عن علقمة بن مرثد عن سعد بن عبيدة إن أبا عبد الرحمن أقرأ في خلافة عثمان رضي الله عنه، إلى أن توفي في إمرة الحجاج.

وقال زهير عن أبي إسحاق عن أبي عبد الرحمن قال: والدي علمني القرآن فإن أبي كان من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، قد شهد معه.

وقال حجاج بن محمد قال شعبة: لم يسمع أبو عبد الرحمن السلمي من عثمان لم يتابع شعبة على هذا.

وروى أبان بن يزيد عن عاصم عن أبي عبد الرحمن قال: أخذت القراءة عن علي ومنصور بن المعتمر عن تميم بن سلمة، أن أبا عبد الرحمن كان إمام المسجد، وكان يحمل في الطين في اليوم المطير.

وقال عطاء بن السائب فيما حدث به حماد بن زيد وغيره: إن أبا عبد الرحمن السلمي قال: إنا أخذنا، القرآن عن قوم أخبرونا أنهم كانوا إذا تعلموا عشر آيات لم يجاوزوهن إلى العشر الأخر، حتى يعلموا ما فيهن، فكنا نتعلم القرآن والعمل به، وإنه سيرث القرآن بعدنا قوم يشربونه شرب الماء لا يجاوز تراقيهم، بل لا يجاوز ههنا ووضع يده على حلقه.

وروى عبد الحميد بن أبي جعفر الفراء عن أبيه عن أبي عبد الرحمن أنه جاء وفي الدار جلال2 وجزر3 وقالوا: بعث بها عمرو بن حريث لأنك علمت ابنه القرآن قال: رد إنا لا نأخذ على كتاب الله أجرا.

وقال عاصم بن بهدلة: كنا نأتي أبا عبد الرحمن ونحن أغيلمة يفاع، فيقول: لا تجالسوا القصاص، غير أبي الأحوص.

--------------------------------------------

1 هو بسطام شعبة بن الحجاج بن الورد العتكي الأزدي مولاهم الواسطي شيخ البصرة وأمير المؤمنين في الحديث. روى عن معاوية بن قرة، وعمرة بن عمرة وخلق من التابعين وقال الشافعي: لولا شعبة ما عرف الحديث من وكان موصوفا بالعلم والزهد والقناعة والرحمة والخير، وكان رأسا في العربية والشعر، قال أبو عبد الرحمن النسائي: أمناء الله على علم رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثة: شعبة بن الحجاج ويحيى بن سعيد القطان ومالك بن أنس، توفي سنة ستين ومائة لثلاث بقين من جمادى الآخرة. "انظر شذرات الذهب ص247 جـ1".

2 الجلال الدواب "والجل" واحد "جلال" وجمع الجلال أجلة. "انظر مختار الصحاح ص107 مادة ج ل ل".

3 الجزر بضمتين من الإبل يطلق على الذكر والأنثى وهي تؤنث ومفردها الجزور. "انزر مختار الصحاح ص102 مادة ج ز ر".
শুবা ১ বলেন: আলকামা ইবন মারসাদ থেকে, তিনি সাদ ইবন উবাইদাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু আব্দুর রহমান উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে কুরআন পড়ানো শুরু করেন এবং হাজ্জাজ [ইবন ইউসুফ]-এর শাসনকাল পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখেন এবং সেই সময়েই তিনি ইন্তেকাল করেন।

যুহাইর আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন, কারণ আমার পিতা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি তাঁর সাথে [যুদ্ধে বা বিভিন্ন ঘটনায়] উপস্থিত ছিলেন।

হাজ্জাজ ইবন মুহাম্মদ বলেন, শুবা বলেছেন: আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে [সরাসরি হাদীস] শোনেননি। তবে শুবাকে এই বিষয়ে অন্য কেউ সমর্থন করেননি।

আবান ইবন ইয়াযিদ আসিম থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নিকট থেকে কিরাআত গ্রহণ করেছি। মানসুর ইবন আল-মুতামির তামীম ইবন সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু আব্দুর রহমান মসজিদের ইমাম ছিলেন এবং বৃষ্টির দিনেও কাদার মধ্য দিয়ে তাঁকে বহন করে নিয়ে যাওয়া হতো।

আতা ইবন আস-সাইব হাম্মাদ ইবন যায়িদ ও অন্যান্যদের নিকট বর্ণনা করেন যে, আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি বলেছেন: আমরা সেই কাওমের নিকট থেকে কুরআন গ্রহণ করেছি যারা আমাদের জানিয়েছেন যে, তারা যখন দশটি আয়াত শিখতেন, তখন পরবর্তী দশটি আয়াতে যেতেন না যতক্ষণ না সেগুলোর মধ্যকার বিষয়বস্তু জেনে নিতেন। ফলে আমরা কুরআন এবং এর ওপর আমল উভয়ই শিখতাম। আর আমাদের পরে এমন এক কওম কুরআনের উত্তরাধিকারী হবে যারা পানির মতো কুরআন পান করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না; বরং তা এখানেই থেকে যাবে—এ কথা বলে তিনি তাঁর হাত কণ্ঠনালীর ওপর রাখলেন।

আব্দুল হামীদ ইবন আবু জাফর আল-ফাররা তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি [বাড়িতে] আসলেন এবং দেখলেন ঘরের মধ্যে পশুর ঝাল ২ ও যবেহকৃত উট ৩ রাখা হয়েছে। লোকেরা বলল: আমর ইবন হুরাইস এগুলো পাঠিয়েছেন কারণ আপনি তাঁর ছেলেকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বললেন: এগুলো ফেরত দাও, কারণ আমরা আল্লাহর কিতাবের বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করি না।

আসিম ইবন বাহদালা বলেন: আমরা যখন কিশোর ছিলাম তখন আবু আব্দুর রহমানের নিকট আসতাম। তিনি বলতেন: তোমরা আবু আল-আহওয়াস ব্যতীত অন্য কিসসা-কাহিনীকারদের সাথে বসবে না।

--------------------------------------------

১. তিনি হলেন বিসতাম শুবা ইবনুল হাজ্জাজ ইবনুল ওয়ারদ আল-আতাকি আল-আযদি, তাঁদের আযাদকৃত দাস, আল-ওয়াসিতি, বসরার শাইখ এবং হাদীসের ক্ষেত্রে ‘আমীরুল মুমিনীন’। তিনি মুআবিয়া ইবন কুররাহ, আমরাহ বিনতে আমরাহ এবং বহু সংখ্যক তাবিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন। শাফিঈ বলেন: যদি শুবা না থাকতেন তবে হাদীস চেনা যেত না। তিনি জ্ঞান, যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা), অল্পে তুষ্টি, দয়া ও কল্যাণের গুণে গুণান্বিত ছিলেন। তিনি আরবী ভাষা ও কাব্যের প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ী বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইলমের ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানতদার হলেন তিনজন: শুবা ইবনুল হাজ্জাজ, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-কাত্তান এবং মালিক ইবন আনাস। তিনি ১৬০ হিজরীর জুমাদাল আখিরা মাস শেষ হওয়ার তিন দিন বাকি থাকতে ইন্তেকাল করেন। "দেখুন: শাযারাতুয যাহাব, ১ম খণ্ড, ২৪৭ পৃষ্ঠা"।

২. আল-জিলাল অর্থ পশুর ঝাল বা গদি; 'জুল' শব্দের একবচন হলো 'জিলাল' এবং 'জিলাল'-এর বহুবচন হলো 'আঝিল্লাহ'। "দেখুন: মুখতারুস সাহাহ, পৃষ্ঠা ১০৭, ধাতু: জ-ল-ল"।

৩. আল-জুযুর (উভয় পেশের সাথে) বলতে উট বোঝায়, যা পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং এটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দ; এর একবচন হলো 'জাযুর'। "দেখুন: মুখতারুস সাহাহ, পৃষ্ঠা ১০২, ধাতু: জ-য-র"।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وروى سعد بن عبيدة عن أبي عبد الرحمن عن عثمان رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "خيركم من علم القرآن أو تعلمه" 1.

قال أبو عبد الرحمن: فذلك الذي أقعدني هذا المقعد، وقال إسماعيل بن أبي خالد: كان أبو عبد الرحمن السلمي يعلمنا القرآن خمس آيات خمس آيات.

وقال أبو حصين: كنا نذهب بأبي عبد الرحمن من مجلسه وكان أعمى. وقال عطاء بن السائب: كنت أقرأ على أبي عبد الرحمن وهو يمشي.

وروى أبو بكر بن عياش عن عاصم أن أبا عبد الرحمن قرأ على علي رضي الله عنه، وعن عاصم عن أبي عبد الرحمن قال: خرج علينا علي رضي الله عنه وأنا أقرأ.

وقال أبو جناب الكلبي: حدثني أبو عون الثقفي، قال: كنت أقرأ على أبي عبد الرحمن السلمي، وكان الحسن بن علي رضي الله عنهما يقرأ عليه.

وقال عبد الواحد بن أبي هاشم: حدثنا محمد بن عبيد الله المقرئ، حدثنا عبيد الله بن عبد الرحمن، حدثنا أبي حدثنا حفص بن عمر عن عاصم بن بهدلة وعطاء بن السائب، ومحمد بن أبي أيوب الثقفي، وعبد الله بن عيسى بن أبي ليلى، أنهم قرءوا على أبي عبد الرحمن، وذكروا أنه أخبرهم أنه قرأ على عثمان رضي الله عنه عامة القرآن، وكان يسأله عن القرآن وكان ولي الأمر فشق عليه وكان يسأله عن القرآن فيقول: إنك تشغلني عن أمر الناس فعليك بزيد بن ثابت فإنه يجلس للناس ويتفرغ لهم ولست أخالفه في شيء من القرآن.

قال: وكنت ألقى عليا رضي الله عنه فأسأله فيخبرني، ويقول: عليك بزيد بن ثابت، فأقبلت على زيد فقرأت عليه القرآن ثلاث عشرة سنة.

وعن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن قال: حدثني الذين كانوا يقرءوننا عثمان وابن مسعود وأبي بن كعب رضي الله عنهم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقرئهم العشر فلا يجاوزنها إلى عشر أخرى، حتى يتعلموا ما فيها من العمل فتعلمنا القرآن والعمل جميعا.

وقال أحمد بن أبي خيثمة: ثنا يحيى بن السري ثنا وكيع عن عطاء بن السائب، قال: كان رجل يقرأ على أبي عبد الرحمن فأهدى له قوسا فردها، وقال: ألا كان هذا قبل القراءة.

وقال عطاء بن السائب: دخلنا على أبي عبد الرحمن نعوده، فذهب بعضهم يرجيه، فقال: أنا أرجو ربي وقد صمت له ثمانين رمضانا، قلت: وقول حجاج عن شعبة، إن أبا عبد

--------------------------------------------

1 تقدم تخريجه.
সাদ ইবনে উবাইদাহ আবু আবদুর রহমান থেকে, তিনি উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে কুরআন শিক্ষা করে অথবা শিক্ষা দেয়।" ১।

আবু আবদুর রহমান বলেন: এই কথাটিই (হাদিসটিই) আমাকে এই আসনে বসিয়েছে। ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ বলেন: আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী আমাদের পাঁচ আয়াত পাঁচ আয়াত করে কুরআন শিক্ষা দিতেন।

আবু হুসাইন বলেন: আমরা আবু আবদুর রহমানকে তাঁর মজলিস থেকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতাম, কারণ তিনি অন্ধ ছিলেন। আতা ইবনে সাইব বলেন: আমি আবু আবদুর রহমানের সাথে হাঁটতাম আর তাঁর কাছে কুরআন পাঠ করে শুনাতাম।

আবু বকর ইবনে আইয়াশ আসিম থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু আবদুর রহমান আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট কুরআন পাঠ করেছেন। আসিম থেকে বর্ণিত, আবু আবদুর রহমান বলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন এমতাবস্থায় যে আমি কুরআন পাঠ করছিলাম।

আবু জানাব আল-কালবী বলেন: আবু আউন আস-সাকাফী আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আবদুর রহমান আস-সুলামীর নিকট কুরআন পাঠ করতাম, আর হাসান ইবনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-ও তাঁর নিকট পাঠ করতেন।

আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আবি হাশিম বলেন: মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-মুকরি আমাদের বলেছেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আমাদের বলেছেন, আমার পিতা আমাদের বলেছেন, হাফস ইবনে উমর আসিম ইবনে বাহদালা, আতা ইবনে সাইব, মুহাম্মদ ইবনে আবি আইয়ুব আস-সাকাফী এবং আবদুল্লাহ ইবনে ঈসা ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা আবু আবদুর রহমানের কাছে কুরআন পাঠ করেছেন। তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁদের জানিয়েছেন যে তিনি উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে কুরআনের অধিকাংশ অংশ পাঠ করেছেন। তিনি তাঁকে কুরআন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। তিনি (উসমান) রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন, ফলে এটি তাঁর জন্য কষ্টসাধ্য ছিল। তিনি যখন তাঁকে কুরআন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন, তখন তিনি বলতেন: "তুমি আমাকে মানুষের কাজ থেকে ব্যস্ত করে ফেলছ, সুতরাং তুমি যাইদ ইবনে সাবিতের কাছে যাও। কারণ তিনি মানুষের শিক্ষার জন্য বসেন এবং তাদের জন্য সময় দেন। আর আমি কুরআনের কোনো বিষয়েই তাঁর বিরোধিতা করি না।"

তিনি বলেন: আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে সাক্ষাৎ করতাম এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করতাম, তিনি আমাকে উত্তর দিতেন। তিনি আরও বলতেন: "তুমি যাইদ ইবনে সাবিতের কাছে যাও।" ফলে আমি যাইদের প্রতি মনোযোগী হলাম এবং তাঁর কাছে তেরো বছর কুরআন পাঠ করলাম।

আতা ইবনে সাইব আবু আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যাঁরা আমাদের কুরআন শিক্ষা দিতেন—যেমন উসমান, ইবনে মাসউদ এবং উবাই ইবনে কাব (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)—তাঁরা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের দশটি করে আয়াত শিক্ষা দিতেন। তাঁরা সেই দশটি আয়াত অতিক্রম করে পরবর্তী দশ আয়াতের দিকে যেতেন না, যতক্ষণ না তাঁরা সেই দশ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত আমলসমূহ শিখতেন। ফলে আমরা কুরআন এবং আমল উভয়ই একত্রে শিখেছি।

আহমাদ ইবনে আবি খাইসামাহ বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আস-সারী আমাদের বলেছেন, ওকী আতা ইবনে সাইব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আবু আবদুর রহমানের কাছে কুরআন পাঠ করতেন, তিনি তাঁকে একটি ধনুক উপহার দিলেন। তিনি সেটি ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন: "এটি যদি কুরআন পাঠ শুরু করার আগে হতো (তবে হয়তো নিতাম)।"

আতা ইবনে সাইব বলেন: আমরা আবু আবদুর রহমানকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে গেলাম। তাঁদের মধ্যে কেউ একজন তাঁর মনে আশা জোগাতে চাইলেন। তিনি বললেন: "আমি আমার রবের প্রতি আশা রাখি, কারণ আমি তাঁর সন্তুষ্টির জন্য আশিটি রমজানে সিয়াম পালন করেছি।" আমি বলি: শু'বা থেকে হাজ্জাজের বক্তব্য এই যে, আবু আবদ...

--------------------------------------------

১ এর আগে এর সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٣٠)
الرحمن لم يسمع من عثمان بن عفان رضي الله عنه ليس بشيء، فإنه ثبت لقيه لعثمان، وكان ثقة كبير القدر وحديثه مخرج في الكتب الستة توفي في سنة أربع وسبعين.

وقيل: سنة ثلاث وسبعين.

وقيل: في إمرة بشر على العراق.

وقيل: في أوائل ولاية الحجاج والله أعلم.

وقد روى عنه إبراهيم النخعي وسعيد بن جبير وعلقمة بن مرثد، وعطاء بن السائب وإسماعيل السدي وغيرهم، وأما قول ابن قانع هكذا بالأصل ولعله نافع مات سنة خمس ومائة فغلط فاحش1.

9- عبد الله بن عياش بن ربيعة المخزومي المكي ثم المدني القارئ أبو الحارث.

ولد بالحبشة فقيل إنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم، قرأ القرآن على أبي بن كعب وسمع من عمر وابن عباس وأبيه عياش وغيرهم رضي الله عنهم، قرأ عليه مولاه أبو جعفر القارئ2 ويزيد بن رومان3 وشيبة4 ومسلم بن جندب5 وغيرهم.

وحدث عنه ابن الحارث، ونافع مولى ابن عمر، وسليمان بن يسار وجماعة، وكان أقرأ أهل المدينة في زمانه.

قال خليفة في الطبقات: إنه استشهد بسجستان مع عبيد الله بن أبي بكرة سنة ثمان وسبعين. وقال في تاريخه: إن الذي قتل بسجستان عبد الله بن عياش بن ربيعة بن الحارث الهاشمي.

وقيل: إن ابن عياش المخزومي مات بعد سنة سبعين6 والله أعلم.

--------------------------------------------

1 انظر/ تاريخ بغداد "12/ 296" تذكرة الحفاظ "1/ 48". تهذيب التهذيب "7/ 276" خلاصة تذهيب الكمال "239". شذرات الذهب "1/ 516" العدد "1/ 66". طبقات القراء لابن الجزري "1/ 70". طبقات ابن سعد "6/ 57"، طبقات الشيرازي "79" مرآة الجنان "1/ 137". النجوم الزاهرة "15/ 157".

2 انظر ترجمته ضمن رجال الطبقة الثالثة.

3 انظر ترجمته ضمن رجال الطبقة الثالثة.

4 انظر ترجمته ضمن رجال الطبقة الثالثة.

5 انظر ترجمته ضمن رجال الطبقة الثالثة.

6 انظر تذكرة الحفاظ "1/ 58" تهذيب التذهيب "5/ 183". خلاصة تذهيب الكمال "2164". طبقات ابن سعد "6/ 119". طبقات ابن الجزري "1/ 413". نكت الهميان "178".
আবু আব্দুর রহমান উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে হাদীস শোনেননি—এ কথাটি সঠিক নয়। কারণ উসমানের সাথে তাঁর সাক্ষাতের বিষয়টি প্রমাণিত। তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস কুতুবে সিত্তাহ-তে (ছয়টি হাদীস গ্রন্থে) সংকলিত হয়েছে। তিনি ৭৪ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

কেউ কেউ বলেন: ৭৩ হিজরি সনে।

কেউ কেউ বলেন: ইরাকে বিশরের শাসনামলে।

আবার কেউ বলেন: হাজ্জাজের শাসনের শুরুর দিকে। আল্লাহই ভালো জানেন।

তাঁর থেকে ইব্রাহিম আন-নাখয়ী, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, আলকামা ইবনে মারসাদ, আতা ইবনে সাইব, ইসমাইল আস-সুদ্দী এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে কানি‘র বক্তব্য—যা মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে সম্ভবত তিনি নাফি’—যে তিনি ১০৫ হিজরিতে মারা গেছেন, এটি একটি চরম ভুল।১

৯- আবদুল্লাহ ইবনে আইয়াশ ইবনে রাবিআ আল-মাখজুমি আল-মাক্কি, অতঃপর আল-মাদানি আল-ক্বারি আবু আল-হারিস।

তিনি হাবাশায় (আবিসিনিয়া) জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয় যে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছিলেন। তিনি উবাই ইবনে কাবের নিকট কুরআন পাঠ করেছেন এবং উমর, ইবনে আব্বাস ও তাঁর পিতা আইয়াশ এবং অন্যান্যদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে শ্রবণ করেছেন। তাঁর নিকট তাঁর মুক্তদাস আবু জাফর আল-ক্বারি২, ইয়াজিদ ইবনে রুমান৩, শায়বাহ৪, মুসলিম ইবনে জুনদুব৫ এবং আরও অনেকে কিরাআত পাঠ করেছেন।

তাঁর থেকে ইবনুল হারিস, ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফি’, সুলাইমান ইবনে ইয়াসার এবং আরও একদল বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর সময়ে মদীনার সবচেয়ে বড় কারী (কুরআন পাঠকারী) ছিলেন।

খলিফা (ইবনে খাইয়াত) ‘আত-তবাকাত’ গ্রন্থে বলেন: তিনি ৭৮ হিজরিতে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি বকরার সাথে সিজিস্তানে শহীদ হন। তিনি তাঁর ‘তারিখ’ গ্রন্থে আরও বলেন: সিজিস্তানে যিনি নিহত হয়েছিলেন তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আইয়াশ ইবনে রাবিআ ইবনে আল-হারিস আল-হাশেমি।

কেউ কেউ বলেন: ইবনে আইয়াশ আল-মাখজুমি ৭০ হিজরির পরে ইন্তেকাল করেছেন।৬ আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

১. দেখুন/ তারিখ বাগদাদ "১২/ ২৯৬", তাজকিরাতিল হুফফাজ "১/ ৪৮", তাহজিবুত তাহজিব "৭/ ২৭৬", খুলাসাতু তাজহিবি কামাল "২৩৯", শাজারাতুজ জাহাব "১/ ৫১৬" সংখ্যা "১/ ৬৬", তাবাকাতুল কুররা (ইবনুল জাযারি) "১/ ৭০", তাবাকাত ইবনে সাদ "৬/ ৫৭", তাবাকাতুশ শিরাজী "৭৯", মিরআতুল জিনান "১/ ১৩৭", আন-নুজুমুজ জাহেরা "১৫/ ১৫৭"।

২. তাঁর জীবনী তৃতীয় স্তরের ব্যক্তিদের মধ্যে দেখুন।

৩. তাঁর জীবনী তৃতীয় স্তরের ব্যক্তিদের মধ্যে দেখুন।

৪. তাঁর জীবনী তৃতীয় স্তরের ব্যক্তিদের মধ্যে দেখুন।

৫. তাঁর জীবনী তৃতীয় স্তরের ব্যক্তিদের মধ্যে দেখুন।

৬. দেখুন তাজকিরাতিল হুফফাজ "১/ ৫৮", তাহজিবুত তাহজিব "৫/ ১৮৩", খুলাসাতু তাজহিবি কামাল "২১৬৪", তাবাকাত ইবনে সাদ "৬/ ১১৯", তাবাকাত ইবনুল জাযারি "১/ ৪১৩", নুকাতিম হিময়ান "১৭৮"।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٣١)
10- أبو رجاء العطاردي عمران بن تيم البصري:

أخذ القراءة عرضا عن ابن عباس رضي الله عنهما وتلقن القرآن من أبي موسى، ولقي أبا بكر رضي الله عنهما.

قرأ عليه القرآن أبو الأشهب العطاردي.

قال ابن معين: مات سنة خمس ومائة، وله مائة وسبع وعشرون سنة.

قال أبو الأشهب: كان أبو رجاء يختم القرآن في كل عشر ليال.

وعن أبي رجاء قال: كان أبو موسى يعلمنا القرآن خمس آيات خمس آيات1.

11- أبو الأسود الدؤلي قاضي البصرة واسمه على الأصح: ظالم بن عمرو.

قرأ على علي رضي الله عنه، وكان من وجوه شيعبة، وروى عن عمر، وأبي بن كعب، وابن مسعود، وأبي ذر رضي الله عنهم والكبار وهو أول من وضع مسائل في النحو بإشارة علي رضي الله عنه، فلما عرضها على علي قال: ما أحسن هذا النحو، الذي نحوت، فمن ثم سمي النحو نحوا، أخذ عنه ولده أبو حرب بن أبي الأسود ويحيى بن يعمر وعبد الله بن بريدة وجماعة.

وقد أسلم في حياة النبي صلى الله عليه وسلم ولم يره، وثقه أحمد العجلي وغيره، توفي سنة تسع وستين في طاعون الجارف بالبصرة.

قال المدائني: حدثني من أدرك الجارف قال: كان ثلاثة أيام فمات فيها في كل يوم نحو من سبعين ألفا.

وقال أبو اليقظان وغيره: مات لأنس بن مالك رضي الله عنه في طاعون الجارف سبعون ولدا يعني من أولاده وأولاد أولاده2.

12- أبو العالية الرياحي رفيع بن مهران البصري مولى امرأة من بني رياح بن يربوع، أسلم في خلافة أبي بكر رضي الله عنه، ودخل عليه وصلى خلف عمر.

--------------------------------------------

1 انظر/ تذكرة الحفاظ "1/ 66" سير أعلام النبلاء "4/ 253". العبر "1/ 129". تهذيب التهذيب "8/ 140". الإصابة "4/ 74". خلاصة تذهيب الكمال "296". شذرات الذهب "1/ 130". الإصابة "4/ 74".

2 انظر/ شذرات الذهب "1/ 76". العبر "1/ 77". النجوم الذاهرة "1/ 184". خلاصة تذهيب الكمال "443".
১০- আবু রাজা আল-উতারিদী ইমরান বিন তাইম আল-বাসরী:

তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট উপস্থাপনপূর্বক কিরাত গ্রহণ করেছেন এবং আবু মুসা থেকে কুরআন শিক্ষা করেছেন, আর তিনি আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন।

আবু আল-আশহাব আল-উতারিদী তাঁর নিকট কুরআন তিলাওয়াত করেছেন।

ইবনে মাইন বলেন: তিনি একশ পাঁচ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর বয়স ছিল একশ সাতাশ বছর।

আবু আল-আশহাব বলেন: আবু রাজা প্রতি দশ রাতে একবার কুরআন খতম করতেন।

আবু রাজা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু মুসা আমাদের পাঁচ আয়াত পাঁচ আয়াত করে কুরআন শিক্ষা দিতেন১।

১১- আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালী, বসরার বিচারক, তাঁর সঠিক নাম হলো: জালিম বিন আমর।

তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট তিলাওয়াত করেছেন এবং তিনি তাঁর বিশিষ্ট অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি উমর, উবাই ইবনে কাব, ইবনে মাসউদ, আবু জার (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং প্রবীণ সাহাবীদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নির্দেশনায় তিনিই সর্বপ্রথম নাহু (ব্যাকরণ)-এর মাসআলাসমূহ সংকলন করেন। যখন তিনি তা আলীর নিকট পেশ করেন, তখন তিনি বলেন: "তুমি যে পথের (নাহু) দিকে ধাবিত হয়েছ তা কতই না উত্তম।" সেই থেকেই নাহুকে 'নাহু' নামকরণ করা হয়েছে। তাঁর থেকে তাঁর পুত্র আবু হারব বিন আবি আল-আসওয়াদ, ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার, আব্দুল্লাহ বিন বুরাইদাহ এবং একদল তাবিঈ জ্ঞান গ্রহণ করেছেন।

তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু তাঁকে দেখেননি। আহমদ আল-ইজলী ও অন্যান্যরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তিনি বসরার 'তাউন আল-জারিফ' (সর্বগ্রাসী মহামারি)-এর সময় উনসত্তর হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

আল-মাদায়িনী বলেন: যারা 'জারিফ' মহামারি প্রত্যক্ষ করেছেন এমন এক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন: এটি তিন দিন স্থায়ী হয়েছিল এবং প্রতিদিন প্রায় সত্তর হাজার করে মানুষ মারা গিয়েছিল।

আবু আল-ইয়াকজান ও অন্যান্যরা বলেন: তাউন আল-জারিফ-এ আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সত্তরজন সন্তান মারা গিয়েছিল, অর্থাৎ তাঁর নিজের সন্তান এবং নাতি-নাতনিরা২।

১২- আবু আল-আলিয়া আল-রিয়াহী রুফাই বিন মিহরান আল-বাসরী, তিনি বনু রিয়াহ বিন ইয়ারবু গোত্রের এক মহিলার মুক্তদাস ছিলেন। তিনি আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে ইসলাম গ্রহণ করেন, তাঁর নিকট প্রবেশ করেন এবং উমরের পেছনে সালাত আদায় করেন।

--------------------------------------------

১ দেখুন/ তাযকিরাতুল হুফফায "১/ ৬৬", সিয়ারু আলামিন নুবালা "৪/ ২৫৩"। আল-ইবার "১/ ১২৯"। তাহযিবুত তাহযিব "৮/ ১৪০"। আল-ইসাবাহ "৪/ ৭৪"। খুলাসাতু তাহযিবিল কামাল "২৯৬"। শাযারাতুয যাহাব "১/ ১৩০"। আল-ইসাবাহ "৪/ ৭৪"।

২ দেখুন/ শাযারাতুয যাহাব "১/ ৭৬"। আল-ইবার "১/ ৭৭"। আন-নুজুমুয যাহিরাহ "১/ ১৮৪"। খুলাসাতু তাহযিবিল কামাল "৪৪৩"।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٣٢)
وقرأ القرآن على أبي، وروى عن عمر وعلي وأبي ذر وابن مسعود وأبي موسى وطائفة رضي الله عنهم.

قال أبو عمرو الداني: أخذ القراءة عرضا عن أبي وزيد بن ثابت وابن عباس، ويقال قرأ على عمر رضي الله عنهم، قرأ عليه شعيب بن الحبحاب والربيع بن أنس والأعمش1، ويقال قرأ عليه أبو عمرو وروى عنه خالد الحذاء وعاصم الأحول وخلق.

وقد روى معتمر وغيره عن هشام عن حفصة بنت سيرين، قالت: قال لي أبو العالية قرأت على عمر بن الخطاب رضي الله عنه القرآن ثلاث مرات، وهذا حديث صحيح غريب رواه جماعة عن هشام بن حسان.

وروى محمد بن عبد الله الأنصاري عن أبي خلدة أن أبا العالية قال: قرأت على عمر بن الخطاب رضي الله عنه القرآن ثلاث مرات، نقله ابن المنادي، وقال أبو العالية: كنت آتي ابن عباس وهو أمير البصرة فيجلسني على السرير.

وقال مغيرة: كان أشبه أهل البصرة علما بإبراهيم النخعي أبو العالية، قلت: كان أبو العالية إماما في القرآن والتفسير والعلم والعمل، مات سنة تسعين وقيل سنة ثلاث وتسعين، فهؤلاء الذين دارت عليهم أسانيد القراءات المشهورة ورواياتهم والله أعلم2.

--------------------------------------------

1 هو أبو محمد سليمان بن عمران الأسدي الكاهلي مولاهم الأعمش، ورى عن ابن أبي أوفى وأبي وائل والكبار، وكان محدث الكوفة وعالمها، قال ابن المديني: للأعمش نحو ألف وثلاثمائة حديث، وقال ابن عيينة: كان أقرأهم لكتاب الله وأعلمهم بالفرائض وأحفظهم للحديث، وقال يحيى القطان: هو علامة الإسلام، قال وكيع: بقي الأعمش قريبا من سبعين سنة لم تفته التكبيرة الأولى. توفى في ربيع الأول سنة ثمان وأربعين ومائة للهجرة "انظر شذرات الذهب في أخبار من ذهب من 220 جـ1".

2 انظر/ تذكرة الحفاظ "1/ 61". تهذيب التهذيب "3/ 483". خلاصة تذهيب الكمال "101". شذرات الذهب "1/ 102". طبقات ابن سعد "7/ 81". طبقات الشيرازي "88". طبقات القراء لابن الجزري "1/ 284". طبقات المفسرين "1/ 172" العبر "1/ 180". اللباب "1/ 483".
তিনি উবাই-এর নিকট কুরআন পাঠ করেছেন এবং উমর, আলী, আবু যার, ইবনে মাসউদ, আবু মুসা ও একদল সাহাবীর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু আমর আদ-দানি বলেন: তিনি উবাই, যায়িদ বিন সাবিত এবং ইবনে আব্বাসের নিকট পেশ করার মাধ্যমে (আরদান) কিরাত গ্রহণ করেছেন। আরও বলা হয় যে, তিনি উমরের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নিকট পাঠ করেছেন। শুআইব ইবনুল হাবহাব, রাবী বিন আনাস এবং আমাশ১ তাঁর নিকট কিরাত পাঠ করেছেন। আরও বলা হয় যে, আবু আমর তাঁর নিকট পাঠ করেছেন এবং খালিদ আল-হাদ্দা, আসিম আল-আহওয়াল ও আরও বহু লোক তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

মুতামির ও অন্যান্যরা হিশামের সূত্রে হাফসা বিনতে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-আলিয়া আমাকে বলেছেন, আমি উমর ইবনুল খাত্তাবের (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নিকট তিনবার কুরআন পাঠ করেছি। এটি একটি সহীহ গরীব হাদীস যা একদল বর্ণনাকারী হিশাম বিন হাসসান থেকে বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী আবু খালদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু আল-আলিয়া বলেছেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবের (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নিকট তিনবার কুরআন পাঠ করেছি। ইবনুল মুনাদী এটি উদ্ধৃত করেছেন। আবু আল-আলিয়া বলেন: আমি ইবনে আব্বাসের নিকট আসতাম—যখন তিনি বসরার গভর্নর ছিলেন—তখন তিনি আমাকে তখতের উপরে বসাতেন।

মুগীরা বলেন: ইলমের দিক থেকে ইব্রাহীম নাখাঈর সাথে বসরার অধিবাসীদের মধ্যে আবু আল-আলিয়া সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। আমি বলছি: আবু আল-আলিয়া ছিলেন কুরআন, তাফসীর, ইলম এবং আমলের ক্ষেত্রে একজন ইমাম। তিনি নব্বই হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, আবার কারো মতে তা ছিল বিরানব্বই হিজরি। এঁরাই হলেন সেই সকল ব্যক্তি যাঁদের ওপর প্রসিদ্ধ কিরাতসমূহের সনদ ও বর্ণনা আবর্তিত হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ২।

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ সুলায়মান বিন ইমরান আল-আসাদী আল-কাহিলি, তাঁদের মুক্তদাসী—আমাশ। তিনি ইবনে আবি আওফা, আবু ওয়ায়িল এবং প্রবীণদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন কুফার মুহাদ্দিস ও আলিম। ইবনুল মাদিনী বলেন: আমাশের প্রায় এক হাজার তিনশ হাদীস রয়েছে। ইবনে উইয়াইনাহ বলেন: তিনি ছিলেন আল্লাহর কিতাবের সবচেয়ে বড় ক্বারী, ফরায়েজ শাস্ত্রে সবচেয়ে জ্ঞানী এবং হাদীস সংরক্ষণে অনন্য। ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বলেন: তিনি ইসলামের আল্লামা। ওকী বলেন: আমাশ প্রায় সত্তর বছর যাবত এমনভাবে ছিলেন যে, তাঁর প্রথম তাকবীর কখনো ছুটে যায়নি। তিনি হিজরি একশত আটচল্লিশ সালের রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন। "দেখুন: শাযারাতুয যাহাব ফি আখবারি মান যাহাব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২০।"

২ দেখুন/ তাযকিরাতুল হুফফাজ (১/৬১)। তাহযীবুত তাহযীব (৩/৪৮৩)। খুলাসাতু তাহযীবিল কামাল (১০১)। শাযারাতুয যাহাব (১/১০২)। তাবাকাতে ইবনে সাদ (৭/৮১)। তাবাকাতে শিরাজি (৮৮)। তাবাকাতুল কুররা—ইবনুল জাযারি (১/২৮৪)। তাবাকাতুল মুফাসসিরিন (১/১৭২)। আল-ইবার (১/১৮০)। আল-লুবাব (১/৪৮৩)।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٣٣)
‌‌الطبقة الثالثة: وهم من التابعين

1- يحيى بن وثاب الأسدي الكوفي القارئ العابد أحد الأعلام، مولى بني أسد

روى عن ابن عباس وابن عمر رضي الله عنهم وعن مسروق وعبيدة السلماني وزر، وأبي عبد الرحمن السلمي وأبي عمرو الشيباني وعلقمة والأسود، وقرأ على بعضهم.

قال أبو عمرو الداني: أخذ القراءة عرضا عن علقمة والأسود ومسروق والشيباني وأبي عبد الرحمن، قلت: الثابت هكذا بالأصل ولعله الثابت أنه قرأ القرآن كله على عبيد بن نضيلة صاحب علقمة كل يوم آية.

قال أبو بكر بن عياش عن عاصم، قال: تعلم يحيى بن وثاب من عبيد بن نضيلة آية آية، وكان والله قارئا.

قلت: قرأ عليه الأعمش وطلحة بن مصرف وأبو حصين الأسدي وحمران بن أعين، وحدث عنه عاصم بن أبي النجود وأبو العميس عتبة المسعودي، وأبو حصين عثمان بن عاصم وآخرون.

قال محمد بن جرير الطبري: يحيى بن وثاب مولى بني كاهل من بني أسد بن خزيمة، كان مقرئ الكوفة في زمانه.

وقال أحمد بن عبد الله العجلي:1 تابعي ثقة الكوفة، وكان يؤم قومه، فأمر الحجاج أن لا يؤم بالكوفة إلا عربي.

فقال ليحيى قومه: اعتزل. فقال الحجاج: من هذا؟ قالوا: يحيى بن وثاب.

--------------------------------------------

1 العجلي هو: هارون بن سعد العجلي ويقال: الجعفي الكوفي الأعور روى عنه أبو حازم الأشجعي وأبو إسحاق السبيعي وأبو الضحى والأعمش وغيرهم، وعنه شجت والثورى وشريل وقيس بن الربيع والحسن بن حسين وعبد الرحيم بن هارون الغساني، وآخرون. قال أحمد: روى عنه الناس وهو صالح. وكان عثمان الدارمي عن ابن معين ليس به بأس. وكان ابن أبي حاتم: سألت أبي عنه فقال: لا بأس به. وذكره ابن حيان في الثقات. "التبصير ص75. وتهذيب التهذيب 11/ 6".
তৃতীয় স্তর: আর তারা তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত

১- ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াসসাব আল-আসাদি আল-কুফি, আল-ক্বারি, আল-আবিদ, অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ইমাম, বনু আসাদের মুক্তদাস।

তিনি ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), এবং মাসরুক, উবাইদাহ আস-সালমানি, যিরর, আবু আবদুর রহমান আস-সুলামি, আবু আমর আশ-শাইবানি, আলক্বামাহ ও আসওয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের কারো কারো নিকট কিরাত পাঠ করেছেন।

আবু আমর আদ-দানি বলেন: তিনি আলক্বামাহ, আসওয়াদ, মাসরুক, শাইবানি এবং আবু আবদুর রহমানের নিকট পেশ করার মাধ্যমে কিরাত গ্রহণ করেছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: মূল পাঠে এভাবেই সাব্যস্ত হয়েছে, আর সম্ভবত এটিই সাব্যস্ত যে তিনি আলক্বামাহর সাথী উবাইদ বিন নাযিলাহ-এর নিকট প্রতিদিন এক আয়াত করে পুরো কুরআন পাঠ করেছিলেন।

আবু বকর ইবনে আইয়াশ আসিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াসসাব উবাইদ বিন নাযিলাহ থেকে এক এক আয়াত করে শিখেছেন, এবং আল্লাহর কসম, তিনি একজন (প্রকৃত) ক্বারি ছিলেন।

আমি বলছি: আমাশ, তালহা বিন মুসাররিফ, আবু হুসাইন আল-আসাদি এবং হুমরান ইবনে আয়ান তাঁর নিকট কিরাত পাঠ করেছেন। আর তাঁর থেকে আসিম ইবনে আবি আল-নাজুদ, আবুল উমাইস উতবাহ আল-মাসউদি, আবু হুসাইন উসমান বিন আসিম এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মদ ইবনে জারির আত-তাবারী বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াসসাব বনু খুজাইমাহর বনু আসাদের শাখা বনু কাহিলের মুক্তদাস ছিলেন; তিনি তাঁর সময়ে কুফার প্রধান ক্বারি ছিলেন।

আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ইজলি (১) বলেন: কুফার একজন নির্ভরযোগ্য তাবেয়ী। তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের ইমামতি করতেন, এরপর হাজ্জাজ নির্দেশ দিল যে, কুফায় আরব্য বংশোদ্ভূত ব্যক্তি ছাড়া কেউ যেন ইমামতি না করে।

তখন ইয়াহইয়ার সম্প্রদায় তাঁকে বলল: আপনি সরে দাঁড়ান। হাজ্জাজ জিজ্ঞাসা করল: এ কে? তারা বলল: ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াসসাব।

--------------------------------------------

১. আল-ইজলি হলেন: হারুন বিন সাদ আল-ইজলি, তাঁকে আল-জু'ফি আল-কুফি আল-আওয়ার বলা হয়। তাঁর থেকে আবু হাযিম আল-আশজায়ী, আবু ইসহাক আস-সাবিঈ, আবু আদ-দুহা, আমাশ এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর থেকে শু'বাহ, সাওরী, শারীক, কাইস বিন রাবী, হাসান বিন হুসাইন, আব্দুর রাহীম বিন হারুন আল-গাসসানী এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। আহমদ বলেন: মানুষ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছে এবং তিনি নেককার। উসমান আদ-দারিমি ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি আমার পিতাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বললেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিক্বাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। "আত-তাবসীর, পৃষ্ঠা ৭৫; তাহযীবুত তাহযীব ১১/৬"।
(খণ্ড: ১) মারিফাতুল কুররাইল কিবার আলাত তাবাকতি ওয়াল আসার (পৃষ্ঠা: ٣٤)
قال: ما له؟ قالوا: أمرت أن لا يؤم إلا عربي فنحاه قومه، فقال: ليس عن مثل هذا نهيت، وقال: فصلى بهم يوما. ثم قال: اطلبوا إماما غيري، إنما أردت أن لا تستذلوني، فإذا صار الأمر إلي فأنا لا أؤمكم.

وقال الأعمش: كان يحيى بن وثاب إذا قضى الصلاة مكث ما شاء الله تعرف فيه كآبة الصلاة، وقال عبيد الله بن موسى: كان الأعمش يقول: يحيى بن وثاب أقرأ من بال على تراب.

وقال شعيب الصريفيني: ثنا يحيى بن آدم سمعت حسن بن صالح يقول: قرأ يحيى على علقمة وقرأ علقمة على ابن مسعود، فأي قراءة أفضل من هذه.

وروي عن زائدة قلت للأعمش: على من قرأ يحيى؟ قال: على علقمة والأسود ومسروق.

وقال يحيى بن معين: ثنا ابن أبي زائدة قال: قال الأعمش: كان يحيى بن وثاب لا يقرأ بسم الله الرحمن الرحيم لا في عرض ولا في غيره، وقال يحيى بن عيسى الرملي عن الأعمش، قال: كان يحيى بن وثاب من أحسن الناس قراءة، وربما اشتهيت تقبيل رأسه لحسن قراءته وكان إذا قرأ لم يحس في المسجد حركة كأن ليس في المسجد أحد.

قلت: كان يحيى بن وثاب ثقة إماما كبير القدر، قال الأعمش: كنت إذا "رأيته قلت: هذا قد وقف للحساب يقول: أي رب أذنبت كذا أذنبت"1.

قال أبو محمد بن قتيبة: توفي سنة ثلاث ومائة.

أحمد بن عبد العزيز 2:

أبو جعفر بن القاص البغدادي القطفتي3 الزاهد المقرئ، قرأ الروايات على ابن بدران الحلواني، وأبي الخير المبارك بن الغسال، وسمع أبا القاسم بن بيان.

أقرأ الناس وحدث عنه أبو القاسم بن صصري وجماعة، توفي سنة ثلاث وسبعين

--------------------------------------------

1 انظر/ تذكرة الحفاظ "1/ 106". تهذيب التهذيب "11/ 294". شذرات الذهب "11/ 125". طبقات ابن الجزري "2/ 380".

2 ما بين المعكوفتين تراجم لا علاقة لها بطبقة التابعين أثبتناها كما هي في الأصل "أ" فتنبه.

3 نسبة إلى قطف بضمتين قرية دون ثنية العقاب في طرف البرية من ناحية حمص.
তিনি বললেন: তার কী হয়েছে? তারা বলল: আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে কোনো অনারব যেন ইমামতি না করে, তাই তার গোত্র তাকে সরিয়ে দিয়েছে। তিনি বললেন: এমন কোনো বিষয়ে আমাকে নিষেধ করা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি একদিন তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এরপর বললেন: তোমরা আমি ছাড়া অন্য ইমাম খুঁজে নাও; আমি কেবল চেয়েছিলাম তোমরা যেন আমাকে অপদস্থ না করো। আর যেহেতু বিষয়টি এখন আমার ইচ্ছাধীন হয়েছে, তাই আমি তোমাদের ইমামতি করব না।

আমাশ বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াসসাব যখন সালাত শেষ করতেন, তখন আল্লাহ যতক্ষণ চাইতেন তিনি সেখানে অবস্থান করতেন এবং তাঁর মধ্যে সালাতের গাম্ভীর্য ও একাগ্রতা পরিলক্ষিত হতো। উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা বলেন: আমাশ বলতেন, ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াসসাব ছিলেন পৃথিবীর বুকে শ্রেষ্ঠ ক্বারী।

শুআইব আস-সারিফিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আদম বর্ণনা করেছেন, তিনি হাসান ইবনে সলিহকে বলতে শুনেছেন: ইয়াহইয়া আলক্বামার নিকট কিরাত পড়েছেন এবং আলক্বামা ইবনে মাসউদের নিকট পড়েছেন; সুতরাং এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কিরাত আর কোনটি হতে পারে!

যায়িদা থেকে বর্ণিত হয়েছে, আমি আমাশকে বললাম: ইয়াহইয়া কার কাছে কিরাত পড়েছেন? তিনি বললেন: আলক্বামা, আসওয়াদ এবং মাসরুকের কাছে।

ইয়াহইয়া ইবনে মাইন বলেন: আমাদের নিকট ইবনে আবি যায়িদা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাশ বলেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াসসাব 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' পড়তেন না—কিরাত প্রদর্শনের সময়ও নয়, অন্য সময়ও নয়। ইয়াহইয়া ইবনে ঈসা আর-রামলি আমাশ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াসসাব ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর কিরাত পাঠকারীদের একজন; তাঁর কিরাতের সৌন্দর্যের কারণে মাঝে মাঝে আমার তাঁর কপালে চুমু খেতে ইচ্ছে করত। তিনি যখন কিরাত পড়তেন তখন মসজিদে কোনো নড়াচড়া অনুভূত হতো না, যেন মসজিদে কেউ নেই।

আমি বলি: ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াসসাব ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ইমাম এবং সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি। আমাশ বলেন: আমি যখন তাঁকে দেখতাম তখন মনে মনে বলতাম—ইনি যেন হিসাবের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন এবং বলছেন: 'হে আমার রব, আমি অমুক পাপ করেছি, অমুক পাপ করেছি' ১।

আবু মুহাম্মদ ইবনে কুতাইবা বলেন: তিনি একশত তিন হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

আহমদ ইবনে আব্দুল আজিজ ২:

আবু জাফর ইবনুল কাস আল-বাগদাদি আল-কুতাফতি ৩, তিনি ছিলেন একজন জাহিদ ও ক্বারী। তিনি ইবনে বদরান আল-হালওয়ানি এবং আবুল খায়ের আল-মুবারক ইবনুল গাসসালের নিকট বিভিন্ন রিওয়ায়াত পাঠ করেছেন এবং আবুল কাসেম ইবনে বায়ানের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন।

তিনি মানুষকে কিরাত শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাঁর থেকে আবুল কাসেম ইবনে সিসরি ও একদল বর্ণনাকারী হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি তিনশত তিয়াত্তর হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

--------------------------------------------

১. দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফাজ (১/১০৬), তাহযিবুত তাহযিব (১১/২৯৪), শাযারাতুয যাহাব (১১/১২৫), তাবাকাতু ইবনিল জাযারি (২/৩৮০)।

২. বন্ধনীভুক্ত জীবনীগুলোর সাথে তাবেঈদের স্তরের কোনো সম্পর্ক নেই; মূল পাণ্ডুলিপি 'আলিফ'-এ যেভাবে ছিল আমরা সেভাবেই তা এখানে উল্লেখ করেছি, সুতরাং সতর্ক থাকুন।

৩. এটি 'কুতাফ' (দুই পেশ দিয়ে) এর সাথে সম্পর্কিত, যা হিমস অঞ্চলের মরুভূমির প্রান্তে সানিয়াতুল উক্বাবের নিকটবর্তী একটি গ্রাম।